বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৪৫ / ২১১ · ৪,৪০১৪,৫০০ / ২১,১৩২

৪,৪০১.
শওকত আলীর ত্রয়ী উপন্যাস 'দক্ষিণায়নের দিনে'র শেষখণ্ড কোনটি?
  1. ক) দক্ষিণায়ণের দিন
  2. খ) কুলায় কালস্রোত
  3. গ) পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
  4. ঘ) পিঙ্গল আকাশ
সঠিক উত্তর:
গ) পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
ব্যাখ্যা
'দক্ষিণায়নের দিন' প্রখ্যাত বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক শওকত আলী রচিত একটি সমকালীন উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকশিত হয়।
- একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের উত্থান, পতন, সংগ্রাম, ভালোবাসার সমন্বয়ে বহুস্তর জীবনের পূর্ণ রূপ তুলে ধরা হয়েছে। 
উপন্যাসের তিনিটি খণ্ড: 
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত এবং
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন 

- তিনটি উপন্যাসেই পাত্র পাত্রী একই হওয়ায় প্রকাশক এই ত্রয়ী উপন্যাসকে একত্রে দক্ষিণায়নের দিন নামে প্রকাশ করেন।

উৎস: দক্ষিণায়নের দিন, শওকত আলী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪০২.
বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের ভাবানুবাদ করেন -
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) মুনীর চৌধুরী
  3. গ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. ঘ) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
সঠিক উত্তর:
গ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মোতাহের হোসেন চৌধুরী

মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩ - ১৯৫৬) একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও লেখক ছিলেন। নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মোতাহের হোসেন চৌধুরী বাঙালী মুসলমান সমাজের অগ্রগতির আন্দোলন হিসেবে পরিচিত "বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন" এর সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন। এর নানা সভা ও সম্মেলনে তিনি অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন প্রবন্ধ পাঠ করেন। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- সংস্কৃতি কথা (১৯৫৮) 
- সভ্যতা (১৯৬৫): ক্লাইভ বেলের Civilization গ্রন্থের ভাবানুবাদ।
- সুখ (১৯৬৫): বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের ভাবানুবাদ

প্রবন্ধ:
- জীবন ও বৃক্ষ (সংস্কৃতি কথা)
- শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব (সংস্কৃতি কথা)
- আমাদের দৈন্য (১৯৩১)
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী (১৯৩২)
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা (১৯৩৪)
- রবীন্দ্রনাথ ও বৈরাগ্যবিলাস (১৯৩১): মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র শিখার পঞ্চম বর্ষে ১৯৩১ সালে এটি প্রকাশিত হয়।


তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪,৪০৩.
ড. সুকুমার সেন এর মতে চর্যাপদের একমাত্র মহিলা কবি কে ছিলেন?
  1. ক) শান্তিপা
  2. খ) বীনাপা
  3. গ) লুইপা
  4. ঘ) কুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুক্কুরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

কোন সুনিশ্চিত প্রমাণ নেই। তবে ড. সুকুমার সেন মনে করেন, কুক্কুরীপার ভাষার সঙ্গে নারীদের ভাষার মিল আছে।
তাই কুক্কুরীপাকে চর্যাপদের মহিলা কবি হিসেবে অনুমান/ধারণা করা হয়।
কুক্কুরীপা ৩টি পদ (খুঁজে না পাওয়া ৪৮নং পদসহ) রচনা করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৪০৪.
কোনটি রাধাকৃষ্ণ প্রেম বিষয়ক রচনা?
  1. বীরঙ্গনা
  2. ব্রজঙ্গনা
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. শর্মিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
ব্রজঙ্গনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রজঙ্গনা
ব্যাখ্যা
'ব্রজঙ্গনা'  মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ প্রেম বিষয়ক  গীতিকাব্য।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 

- মহাকবি, নাট্যকার, মধুসূদন বাংলা সাহিত্যের তিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার জনক ও পথ নির্মাতা।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকবি।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম প্রহসন রচয়িতা।
- ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন বাংলার এই মহা কবি কপর্দকহীন অবস্থায় জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য (রাধা-কৃষ্ণ প্রেম বিষয়ক),
- মেঘনাদবধ কাব্য (মহাকাব্য),
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী (সনেট)।

•তাঁর রচিত মহাকাব্য:
মেঘনাদবধ কাব্য।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী,
 - মায়াকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৪০৫.
'সূর্যগ্রহণ' গল্পটি কে রচনা করেছেন?
  1. আবু ইসহাক
  2. জহির রায়হান
  3. শওকত ওসমান
  4. হুমায়ুন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• জহির রায়হানের প্রথম গল্পগ্রন্থ- 'সূর্যগ্রহণ'।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়।

• জহির রায়হান: 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রদান করা হয়। 

জহির রায়হানের উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪০৬.
‘ময়নামতির গান’- কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. ক) মর্সিয়া সাহিত্য
  2. খ) জীবনী সাহিত্য
  3. গ) নাথ সাহিত্য
  4. ঘ) লোকসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
গ) নাথ সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাথ সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• মীননাথের প্রতিষ্ঠিত নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনী অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য।
- নাথ সাহিত্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি - শেখ ফয়জুল্লাহ।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
• গোরক্ষ বিজয় - শেখ ফয়জুল্লাহ।
• গোপীচন্দ্রের সন্যাস - শুকুর মুহম্মদ।
• মীনচেতন - শ্যামাদাস সেন।
• ময়নামতির গান - ভবানী দাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৪০৭.
’রূপজালাল’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  3. সুফিয়া কামাল
  4. জাহানারা ইমাম
সঠিক উত্তর:
নওয়াব ফয়জুন্নেসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব ফয়জুন্নেসা
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- তিনি একজন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা আহমদ আলী চৌধুরি ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন।
- মুসলমানদের কঠিন পর্দাপ্রথার মধ্যে থেকেও ফয়জুন্নেসা আরবি, ফারসি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দু খানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৪০৮.
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) সংকর সংকীর্তন
  2. খ) পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. গ) দেয়াল
  4. ঘ) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
সঠিক উত্তর:
গ) দেয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দেয়াল
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস নয়- 'দেয়াল'।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics,
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪০৯.
রঙ্গপুর বার্তাবহ প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৮৪৭ সালে
  2. খ) ১৯৪৭ সালে
  3. গ) ১৯৫২ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৪ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮৪৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮৪৭ সালে
ব্যাখ্যা
রঙ্গপুর বার্তাবহ  পূর্ববঙ্গ থেকে প্রকাশিত সর্বপ্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- রংপুরের কুনডি পরগণার জমিদার কালীচন্দ্র রায়ের আর্থিক আনুকূল্যে ১৮৪৭ সালের আগস্ট মাসে (বাংলা ভাদ্র, ১২৫৪) পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ১৮৫৪ সাল পর্যন্ত তেমন কোন উল্লেখযোগ্য বিরতি ছাড়াই এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন গুরুচরণ শর্মা রায়।
- প্রাথমিক পর্যায়ে পত্রিকাটি ছিল সরকারঘেঁষা এবং ভূস্বামীদের প্রশংসা করা ছিল এর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
- পরবর্তীকালে পত্রিকাটি বিদেশী শাসন এবং জনগণের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সমালোচনামুখর হয়ে ওঠে।
- ১৮৫৭ সালে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৪১০.
ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ অনুকরণে কাব্য রচনা করেন কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সোমেন চন্দ
  3. সত্যেন সেন
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৪১১.
"সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছ বাঙালি ক’রে, মানুষ কর নি।"
চরণদুটি কোন কবিতা থেকে সংকলিত?
  1. সভ্যতার প্রতি
  2. তপোবন
  3. বঙ্গমাতা  
  4. অজ্ঞাত বিশ্ব
সঠিক উত্তর:
বঙ্গমাতা  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গমাতা  
ব্যাখ্যা
সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছ বাঙালি ক’রে, মানুষ কর নি। - চরণদুটি বঙ্গমাতা কবিতা থেকে সংকলিত।

- বঙ্গমাতা হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি বিখ্যাত বাংলা কবিতা।
- এটি তার চৈতালি কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এতে সর্বমোট ৭৮টি কবিতা রয়েছে।

বঙ্গমাতা- কবিতাংশ,

পুণ্যে পাপে দুঃখে সুখে পতনে উত্থানে
মানুষ হইতে দাও তোমার সন্তানে
হে স্নেহার্ত বঙ্গভূমি, তব গৃহক্রোড়ে
চিরশিশু করে আর রাখিয়ো না ধরে।
দেশদেশান্তর-মাঝে যার যেথা স্থান
খুঁজিয়া লইতে দাও করিয়া সন্ধান।
পদে পদে ছোটো ছোটো নিষেধের ডোরে
বেঁধে বেঁধে রাখিয়ো না ভালোছেলে করে।
প্রাণ দিয়ে, দুঃখ স'য়ে, আপনার হাতে
সংগ্রাম করিতে দাও ভালোমন্দ-সাথে।
শীর্ণ শান্ত সাধু তব পুত্রদের ধরে
দাও সবে গৃহছাড়া লক্ষ্মীছাড়া ক'রে।
সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছ বাঙালী করে, মানুষ কর নি।

তথ্যসূত্র:

১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) চৈতালি কাব্য।
৪,৪১২.
মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনি অবলম্বনে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. হেক্টরবধ কাব্য
  3. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  4. বীরাঙ্গনা কাব্য
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা
• তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য:
- 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য।
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- কাব্যটি মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বনে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৮৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

--------------------
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• 'হেক্টরবধ' হোমারের 'ইলিয়াড' এর বঙ্গানুবাদ মূলক কাব্য (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৪১৩.
বুদ্ধদেব বসু জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় কোন পত্রিকা প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
  1. চতুরঙ্গ
  2. কবিতা
  3. প্রগতি
  4. বাসন্তিকা
সঠিক উত্তর:
বাসন্তিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাসন্তিকা
ব্যাখ্যা
⇒ বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক ও সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।
- বুদ্ধদেব বসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় তার সম্পাদনায় ‘বাসন্তিকা’ পত্রিকা প্রকাশিত হতো যা এখনো প্রকাশিত হয়। 
- তিনি প্রগতি (১৯২৭-২৯) ও কবিতা (১৩৪২-৪৭) নামে আরো দুটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- এছাড়া তিনি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বিখ্যাত ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘চতুরঙ্গ’ ও সম্পাদনা করতেন।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪১৪.
বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) সেক শুভোদয়া
  2. খ) মঙ্গল সমাচার
  3. গ) মিলন (মিশন) সমাচার
  4. ঘ) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
সঠিক উত্তর:
খ) মঙ্গল সমাচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মঙ্গল সমাচার
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলা গদ্যের অনুশীলনের ক্ষেত্রে প্রথম সার্থকতা লক্ষ করা যায় খ্রিষ্টান মিশনারিদের প্রচেষ্টার মধ্যে। শ্রীরামপুরের মিশনারিদের প্রচেষ্টার সার্থকতার নিদর্শনস্বরূপ ১৮০০ সালে বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্টের Gospel of St. Mathews অংশের অনুবাদ ‘মঙ্গল সমাচার’ মথীয়ের রচিত গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। কলকাতায় চার্লস উইকিন্সের নির্দেশানুযায়ী পঞ্চানন কর্মকার মুদ্রণোপযোগী বাংলা অক্ষর তৈরি করেছিলেন বাইবেলের অনুবাদ ‘মঙ্গল সমাচার’ মুদ্রণে তা ব্যবহৃত হয়। এই ভাষার মধ্যেই বাংলা গদ্যের ভবিষ্যৎ মুক্তির সম্ভাবনা নিহিত ছিল।
 
অন্যদিকে,
⇒ ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থ:
• রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এর লিপি ছিল রোমান।

• আর কথোপকথন বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গ্রন্থ।

[ ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি  বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য হলেও এর ভাষা/লিপি ছিল রোমান। এতএব প্রশ্নে চাওয়া বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ হিসেবে অপশন খ ‘মঙ্গল সমাচার’ অধিক গ্রহণযোগ্য।
----------------
১৭৭৮ সালে চুঁচুড়ায় বাংলা মুদ্রণের সূচনা হয়। এর ২২ বছর পরে শ্রীরামপুরে শুরু হয় মুদ্রণ।
১৮০০ সালের ১৩ জানুয়ারি কেরী তাঁদের সঙ্গে যোগ দিলে শ্রীরামপুর মিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। মার্চ মাসে ওয়ার্ডের নেতৃত্বে ছাপাখানার কাজ শুরু হয়।
প্রথমদিকে ওয়ার্ড নিজের হাতেই কম্পোজ করতেন। এভাবে আগস্ট মাসের মধ্যেই নিউটেস্টামেন্টের সেন্টম্যাথুজ ছাপা হয়। মথীয়ের রচনায় মঙ্গল সমাচার নামে এটি প্রকাশ করা হয়। এটি বাংলা হরফে মুদ্রিত প্রথম গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,৪১৫.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯০৯ সালে
  2. ১৯১৬ সালে
  3. ১৯২৩ সালে
  4. ১৯২৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৪১৬.
চর্যার বিলপ্ত পদের মধ্যে কোনটির তিব্বতী অনুবাদ পাওয়া গিয়েছে?
  1. ২৩ নং 
  2. ৪৯ নং 
  3. ২৫ নং 
  4. ৪৮ নং 
সঠিক উত্তর:
২৫ নং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫ নং 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, যা ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত বৌদ্ধ সহজিয়া পদাবলী। এই পদগুলো মূলত প্রাচীন বাংলা, মৈথিলি, ওড়িয়া, এবং অসমীয়ার মতো পূর্ব ভারতীয় ভাষার মিশ্রণে রচিত। চর্যাপদের পাণ্ডুলিপি প্রথম আবিষ্কৃত হয় তিব্বতে, এবং এগুলো তিব্বতী ভাষায় অনুবাদিত বা টীকাকৃত আকারে পাওয়া যায়।

- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত, (অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়) অনুসারে, চর্যাপদের খণ্ডিত পদগুলো (২৩, ২৪, ২৫, এবং ৪৮ নং) তিব্বতী অনুবাদ থেকে প্রাচীন বাংলায় রূপান্তর করেছেন সুকুমার সেন। তিনি আনুমানিকভাবে প্রাচীন বাংলায় রূপান্তর করেছেন।

- ১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন। এই পাণ্ডুলিপিতে ২৩ এর খণ্ডিত, ২৪, ২৫, এবং ৪৮ নং পদগুলো ছিল লুপ্ত। অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত অনুসারে, মূল পুথির চারখানা পাতা লুপ্ত। এই চর্যাটির শেষ চার পঙ্‌ক্তি ও টীকা, ২৪ নং চর্যার সমস্ত অংশ ও টীকা এবং তার পরের অর্থাৎ ২৫ নং চর্যার মূল ও টীকার প্রথম অংশ বিনষ্ট। তবে এই চর্যাগুলির তিব্বতী অনুবাদ পাওয়া গিয়েছে।

- ডক্টর প্রবোধচন্দ্র বাগচী সেই অনুবাদ প্রকাশ করেন ১৯৪২ সালে। সেই অনুবাদ অবলম্বনে এই চর্যাগুলির মূল কী ছিল তা অনুমান করে একটি পাঠ-পরিকল্পনা দিয়েছেন ডক্টর হুকুমার সেন তাঁর 'চর্যাীতি পদাবলী' গ্রন্থের ৭৬ থেকে ৭৯ পৃষ্ঠায়।

 উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়; চর্যাগীতি_পরিক্রমা- ড. নির্মল দাশ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস-সুকুমার সেন, Buddhist Mystic Songs- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৪১৭.
রামনারায়ণ তর্করত্ন ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করে কোন নাটকটি রচনা করে?
  1. ক) শকুন্তলা
  2. খ) মালতীমাধব
  3. গ) কুলীনকুলসর্বস্ব
  4. ঘ) রত্নাবলী
সঠিক উত্তর:
গ) কুলীনকুলসর্বস্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কুলীনকুলসর্বস্ব
ব্যাখ্যা
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
- ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

• সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেন:
- শকুন্তলা
- মালতীমাধব
- রত্নাবলী

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,৪১৮.
রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন রচিত ‘মতিচুর’ গ্রন্থটি কত খণ্ডে রচিত?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা

'মতিচুর' রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
গ্রন্থটি দুইখণ্ডে রচিত।
প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৯০৪ সালে। দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালে। 
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে,
-আবরোধবাসীনি
-পদ্মরাগ-
-Sultana's Dream ইত্যাদি। 

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৪,৪১৯.
"ঠকচাচা" কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. পুতুল নাচের ইতিকথা
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
  4. হাজার বছর ধরে
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা

ঠকচাচা আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসের একটি চরিত্র। 

আলালের ঘরের দুলাল:
- 'আলালের ঘরের দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- প্রকাশ: ১৮৫৮ সালে।
- উপন্যাসে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখকের অভিমত প্রকাশ পেয়েছে।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গের কারণে শিক্ষার অবহেলায় অধঃপতনে পড়ে।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সম্পত্তি নষ্ট করে।
- সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- অন্যান্য চরিত্র: বাবুরাম, মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- জন্ম: ২২ জুলাই ১৮১৪, কলকাতা।
- পেশা: লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- সাহিত্যিক ছদ্মনাম: টেকচাঁদ ঠাকুর
- শিক্ষা: ১৮২৭ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি, হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে শিক্ষা।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ।
- মৃত্যু: ২৩ নভেম্বর ১৮৮৩।

অন্যদিকে, 
ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস হচ্ছে পুতুল নাচের ইতিকথা। 
- এর চরিত্রগুলো হলো: শশী, কুমুদ। 

গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প হচ্ছে খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন। 
- এর প্রধান চরিত্র হলো: রাইচরণ। 

ঘ) জহির রায়হান  রচিত উপন্যাস হচ্ছে হাজার বছর ধরে। 
- এর চরিত্রগুলো হলো: টুনি, মন্ত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৪,৪২০.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- 
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. দুই সৈনিক
  3. জলাঙ্গী 
  4. সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 
- কর্মজীবনের প্রাথমিক সময়ে স্বল্পকাল তিনি কৃষক পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ মে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:  
- জাহান্নম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- জলাঙ্গী; 
- নেকড়ে অরণ্য।
--------------------------------------------- 
শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসসমূহ নিয়ে কিছু তথ্য: 

- ‘জাহান্নম হইতে বিদায়’: 
- ‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা।
- এবং ১৯৭১ সালেই প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি, নৈতিক দিক এবং সেই সময়ের সামাজিক ও মানবিক সংকটকে তুলে ধরে।

- ‘দুই সৈনিক’:
- শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘দুই সৈনিক’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে।
- ধানশীষ প্রকাশনী থেকে, স্বাধীনতা দিবসে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- শওকত ওসমান ‘দুই সৈনিক’ উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানি সেনাদের বর্বরতা ও সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব, বিশেষ করে নারী নির্যাতনের মর্মান্তিক চিত্র তুলে ধরেছেন। 

- ‘জলাঙ্গী’:
- শওকত ওসমানের ‘জলাঙ্গী’ উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাঁকাজল গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবন, মানসিক টানাপোড়েন, ও হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধ চিত্রিত হয়েছে।

উৎস:
সংশ্লিষ্ট উপন্যাসসমূহ; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৪,৪২১.
'আসাদের শার্ট' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. রণেশ দাশ গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• আসাদের শার্ট:
- শহীদ আসাদ স্মরণে কবি শামসুর রাহমান লিখেছিলেন কালজয়ী কবিতা ‘আসাদের শার্ট’।
- ১৯৬৯ সালের ২০জানুয়ারি শামসুর রাহমান রচনা করেন ‘আসাদের শাট’র্ কবিতাটি।
- তাঁর লেখা ‘আসাদের শার্ট’ কবিতাটির পিছনে রয়েছে পুলিশের গুলিতে নিহত আসাদের শার্ট উঁচুতে তুলে ধরে প্রতিবাদী এক বিশাল মিছিলের মুখোমুখি হওয়া কবির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া।

তাতে কবি লিখেছিলেন -
''আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।’'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া ও শামসুর রাহমানের কবিতা সংকলন।
৪,৪২২.
"মনোরমা" রবীন্দ্রনাথের কোন গল্পের চরিত্র?
  1. ক) মহামায়া
  2. খ) নিশীথে
  3. গ) সমাপ্তি
  4. ঘ) ক্ষুধিত পাষাণ
সঠিক উত্তর:
খ) নিশীথে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিশীথে
ব্যাখ্যা
"মনোরমা" চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "নিশীথে" ছোটগল্পের একটি চরিত্র।
জমিদার দক্ষিণাচরণবাবুর সংক্ষিপ্ত জীবন কাহিনির একটা চমৎকার রূপ নির্মাণ দেখা যায় 'নিশীথে' গল্পের কাহিনি বিন্যাসে।
'মনোরমা' ছিলেন দক্ষিণাচরণবাবুর দ্বিতীয় স্ত্রী ও হারান ডাক্তারের কন্যা।

দক্ষিণাচরণবাবুর প্রথম স্ত্রী যখন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তখন হারান ডাক্তার তার চিকিৎসা করছিলেন।
এক পর্যায়ে যখন সবাই বুঝেছিল যে তার ব্যামো আর সেরে উঠবে না তখন তিনি স্বামীকে বলেছিলেন -
“যখন ব্যামোও সারিবে না এবং শীঘ্র আমার মরিবার আশাও নাই, তখন আর-কতদিন এই জীবন্মৃতকে লইয়া কাটাইবে। তুমি আর-একটা বিবাহ করো।”

এই কথার প্রতিউত্তরে দক্ষিণাচরণবাবু বলেছিলেন, "যতদিন এই দেহে জীবন আছে, এ জীবনে আর কাহাকেও ভালোবাসিতে পারিব না।" 

কিন্তু স্ত্রীর মৃত্যুর কিছু দিনের মধ্যে দক্ষিণাচরণবাবু হারান ডাক্তারের কন্যা মনোরমাকে বিবাহ করেন।
মনোরমার সাথে প্রেমালাপকালে যখন তিনি বলেছিলেন “মনোরমা, তুমি আমাকে বিশ্বাস কর না, কিন্তু তোমাকে আমি ভালোবাসি। তোমাকে আমি কোনোকালে ভুলিতে পারিব না।”
কথাটা বলামাত্র তার মনে পড়ে, ঠিক এই কথাটা আর-একদিন আর-কাউকেও তিনি বলেছিলেন। প্রথমা স্ত্রীর সংলাপ আর অতীত স্মৃতিচারণ মনোরমার সাথে তার দাম্পত্য জীবনকে বিষিয়ে তোলে। তিনি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ ও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

উৎস: নিশীথে ছোটগল্প, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
------------

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাংলা ছোট গল্পের জনক বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্পগুলি ‘গল্পগুচ্ছ’ গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
- বীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প - ভিখারিনী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প - দেনাপাওনা। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক উল্লেখযোগ্য চারটি ছোটগল্প হলো:
- দেনাপাওনা 
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা 
- যজ্ঞেশ্বর যজ্ঞ
- অনধিকার প্রবেশ 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অতিপ্রাকৃত গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- কঙ্কাল,
- নিশীথে ও
- মণিহারা।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৪,৪২৩.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস কোনটি?
  1. একাত্তরের দিনগুলি
  2. চিলেকোঠার সেপাই
  3. অনীল বাগচীর একদিন
  4. যে অরণ্যে আলো নেই
সঠিক উত্তর:
অনীল বাগচীর একদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনীল বাগচীর একদিন
ব্যাখ্যা
• 'অনিল বাগচীর একদিন' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ রচিত 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার।
- এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে, তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
গল্পের মূল চরিত্র হচ্ছে অনিল বাগচী। পিতা সুরেশ বাগচী ও বোন অতশীকে ছেড়ে সে চাকরিজীবী হিসেবে ঢাকার এক মেচে থাকে। ২৪ বছরের একজন যুবক হওয়া সত্ত্বেও সে অসম্ভব ভীতু ধরনের একটি ছেলে। ভয় পাওয়ার বেশিরভাগ ঘটনাই অহেতুক। যেমন, ঘরে একা থাকা অবস্থায় দরজায় সাধারণ টোকা পড়লেও তার ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। মেচের এক প্রতিবেশী গফুর সাহেবের নিকট হঠাৎ একদিন রুপেশ্বর থেকে একটি খোলা চিঠি আসে। সেই চিঠিতে অনিল বাগচীর জন্যে অপেক্ষা করছিল ভয়াবহ একটি দুঃসংবাদ। গফুর সাহেব পরদিন অনিল বাগচীকে সেই দুঃসংবাদ জানালে হঠাৎ করেই অনিল সাহসী হয়ে উঠে। পিতার হত্যা-সংবাদ ও বোনের অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের খবর পেয়ে গ্রামে ফিরবে বলে অনিলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা- সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি করে। পাকবাহিনীর সদস্যরা অনিলকে হত্যা করে। অনিল বাগচীর একদিন সমাপ্ত হয় চিরতরে কিন্তু বাংলাদেশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনীল বাগচীর একদিন।

অন্যদিকে, 
• জাহানারা ইমাম রচিত গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ।
• 'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।
• “যে অরণ্যে আলো নেই” ড. নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি নাটক (১৯৭৪)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৪২৪.
'হিতোপদেশ' লিখেছেন কে?
  1. ক) তারিণীচরণ
  2. খ) রাজীবলোচণ
  3. গ) চণ্ডীচরণ
  4. ঘ) রামকিশোর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রামকিশোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রামকিশোর
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখক তারিণীচরণ লিখেছিলেন এশপের কাহিনী (১৮০৩),
চণ্ডীচরণ লিখেছিলেন তোতা ইতিহাস (১৮০৫),
রাজীবলোচণ লিখেছিলেন মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫),
রামকিশোর লিখেছিলেন হিতোপদেশ (১৮০৮)।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ

৪,৪২৫.
বাংলা সাধু ভাষার জনক কে?
  1. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. হরলাল রায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষা  বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ; এর নবীন ও বর্তমানে বহুল প্রচলিত রূপটি হলো চলিত।
- বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন বিদ্যাসাগর। 
- এর আগে তা ছিলো প্রস্তরবৎ। 
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিন্যাস ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। 
- বাংলা গদ্যের অন্তর্নিহিত ধ্বনিঝংকার ও সুরবিন্যাস তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন এবং বাংলা গদ্যকে শ্বাসপর্ব ও অর্থপর্ব অনুসারে ভাগ করে সেখানে যতিচিহ্ন স্থাপন করেন। 
- বিদ্যাসাগরের পরিকল্পিত সাধুভাষা তাই পরবর্তীকালে আদর্শ সাধুভাষা রূপে গৃহীত হয়। 
- তাই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে সাধু ভাষার জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪২৬.
নিচের কোন চরিত্রে শরৎচন্দ্রের ছায়াপাত ঘটেছে?
  1. দত্তা
  2. রমেশ
  3. মহেশ
  4. ন্যাড়া
সঠিক উত্তর:
ন্যাড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যাড়া
ব্যাখ্যা
• ‘বিলাসী’ ছোটগল্প:
- ‘বিলাসী’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি ছোটগল্প।
- ‘বিলাসী’ গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচরণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে। গল্পের ন্যাড়া চরিত্র আসলে লেখক নিজেই।
- এই গল্পে ন্যাড়া চরিত্রের শধ্যে শরৎচন্দ্রের নিজের ছায়াপাত ঘটেছে।

--------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়।
- তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে।
- তবে নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতন ও তার সংস্কারবন্দি জীবনের রূপায়ণে তিনি বিপ্লবী লেখক, বিশেষত গ্রামের অবহেলিত ও বঞ্চিত বাঙালি নারীর প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধা তুলনাহীন।
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্প:
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৪২৭.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত বাংলা ভাষায় প্রথম মৌলিক গদ্য কোনটি?
  1. বেতাল পঞ্চবিংশতি
  2. প্রভাবতী সম্ভাষণ
  3. অতি অল্প হইল
  4. বর্ণপরিচয়
সঠিক উত্তর:
প্রভাবতী সম্ভাষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রভাবতী সম্ভাষণ
ব্যাখ্যা

‘প্রভাবতী সম্ভাষণ’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য। এটি ১৮৯২ সালে প্রকাশিত হয়।
বিদ্যাসাগরের মৌলিক গদ্যগুলো হলো :
- অতি অল্প হইল
- আবার অতি অল্প হইল
- ব্রজবিলাস
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা
- রত্ন পরীক্ষা
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৪২৮.
‘আনোয়ারা’ - চরিত্রটি কোন লেখকের সৃষ্টি?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. মোজাম্মেল হক
  3. বেগম রোকেয়া
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
'আনোয়ারা':
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়য়।
- এটি তার রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা। 
- উপন্যাসের চরিত্র: আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লাহ, গোলাপজান ইত্যাদি। 

মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরবেলতৈল এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।

লেখকের অন্যান্য রচনা: 
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৪,৪২৯.
'কাটাকুঞ্জে বসি তুই গাঁথিবি মালিকা
দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টীকা'
-এই উদ্ধৃতাংশটি কোন কবির রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. বেনজীর আহমেদ
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
'কাটা-কুঞ্জে বসি' তুই গাঁথিবি মালিকা,
দিয়া গেনু ভালে তাের বেদনার টীকা।'- পঙ্‌ক্তিটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'দারিদ্র্য' কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

• ‘সিন্ধু হিন্দোল’ কাব্যগ্রন্থ:

- 'দারিদ্র' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘সিন্ধু হিন্দোল’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ‘সিন্ধু হিন্দোল’ কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- মোট ১৯টি কবিতা রয়েছে এই কাব্যগ্রন্থে।

------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম ‘মুক্তি’।
- 'মুক্তি' কবিতাটি বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ‘অগ্নি-বীণা’ কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- কাজী নজরুলের রচিত প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা’।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধের নাম তুর্কিমহিলার ঘোমটা খোলা।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক - ঝিলিমিলি।

কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশী,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ঝিঙে ফুল,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- নতুন চাঁদ,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৩০.
'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. নীলিমা ইব্রাহীম
  2. আবদুল্লাহ আল মামুন 
  3. মমতাজউদ্দীন আহমদ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
মমতাজউদ্দীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মমতাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা

• 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকটির রচয়িতা মমতাজউদ্দীন আহমদ।
- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে তিনি মুক্তিযুদ্ধপরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে মানুষের পাওয়া না পাওয়ার বেদনা, হারানোর বেদনার মূর্তি নির্মাণ করেছেন। আজকাল যে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে কথা হয় তাঁরই একটি চিত্র চিত্রিত হয়েছে এই নাটকে।
-মুক্তিযুদ্ধকালীন নারী নির্যাতনের গল্প নিয়ে রচিত এই নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র "রৌশনারা"।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ-
মতাজউদ্দীন আহমেদের 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একাত্তরে পাকসেনা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার রৌশনারাকে কেন্দ্র করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীনের সাথে সাথে পাকিস্তানিদের বাংকার থেকে মুক্ত হয়ে রৌশনারা ঘরে ফিরে আসেন। রৌশনারার এই প্রত্যাবর্তনে পরিবারের সবাই আপাত খুশি হলেও তার পিছনে ছিল তাদের আত্মপ্রতিষ্ঠার লোভ।
রৌশনারার জীবনের বিষাদময় আখ্যানকে পুঁজি করে তার স্বামী-শ্বশুর সবাই সামাজিক প্রতিষ্ঠা ও প্রতিপত্তি লাভ করেছে। স্বার্থসিদ্ধির পর রৌশনারার স্বামী-শ্বশুর অচিরেই শুরু করে তার গর্ভের সন্তান 'লালন' কে নিয়ে সন্দেহ। ৬ বছরের শিশু সন্তান লালনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রৌশনারার স্বামী। ছেলেকে বাঁচানোর জন্য রৌশনারাকে মানসিক হাসপাতালে পাগল চিহ্নিত করে ভর্তি করিয়ে দেন তার শ্বশুর জনাব আলী সাহেব (৬০)।

উৎস: 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক মমতাজউদ্দীন আহমেদ এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৪৩১.
"আমারে নিবা মাঝি লগে?"- উক্তিটি কোন উপন্যাসের?
  1. ক) কপালকুণ্ডলা
  2. খ) লাল সালু
  3. গ) পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. ঘ) পদ্মা নদীর মাঝি
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদ্মা নদীর মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদ্মা নদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর- জীবন এর মূল কাহিনি।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিঞা ইত্যাদি।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক' তাঁর ডাকনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং পদ্মানদীর মাঝি ।
৪,৪৩২.
'নয়ানচাঁদ ঘোষ' রচিত পালা নিচের কোনটি?
  1. ক) মহুয়া
  2. খ) মলুয়া
  3. গ) চন্দ্রাবতী
  4. ঘ) দস্যু কেনারাম
সঠিক উত্তর:
গ) চন্দ্রাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা

ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত কয়েকটি পালা এবং এদের রচয়িতাঃ
মহুয়া পালা রচনা করেন দ্বিজ কানাই
চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র রচনা করেন নয়ানচাঁদ ঘোষ
দস্যু কেনারাম, রামায়ণ পালা রচনা করেন চন্দ্রাবতী
বিদ্যাসুন্দর রচনা করেন কবিকঙ্ক।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৪,৪৩৩.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ উপন্যাস কোনটি?
  1. আরণ্যক
  2. ইছামতী
  3. পথের পাঁচালী
  4. অশনি সংকেত
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ উপন্যাস: পথের পাঁচালী। 
---------------------- 
• পথের পাঁচালী:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
- 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো- 
- অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, সর্বজয়া।
---------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
 
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ হলো:
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত, 
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল, 
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
 
৪,৪৩৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. বিজ্ঞান রহস্য
  2. বিশ্বপরিচয়
  3. বিজ্ঞান পরিচয়
  4. বিশ্বকোষ
সঠিক উত্তর:
বিশ্বপরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বপরিচয়
ব্যাখ্যা
• বিশ্বপরিচয়:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'বিশ্বপরিচয়' (১৯৩৭)।
- মূলত কিশোর-কিশোরীদের জন্য রচিত হলেও বয়স্কদের উপভোগ্য।
- এখানে রবীন্দ্রনাথ বহু পরিভাষা প্রস্তুত করেন এবং বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গের উপযোগী ভাষারীতি প্রয়োগ করেন।

উল্লেখ্য,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত গ্রন্থ - শব্দতত্ত্ব (১৯০৯)।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী ও চিঠিপত্র:
- জীবনস্মৃতি, 
- চরিত্রপূজা , 
- ছেলেবেলা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৩৫.
"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো
একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।" গানটি প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ১৯৫২
  2. খ) ১৯৫৩
  3. গ) ১৯৫৪
  4. ঘ) ১৯৫৫
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৩
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরনে রচিত গান:
"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো
একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।"
- গানটির রচয়িতা - আবদুল গাফ্ফা‌র চৌধুরী  
- গানটির প্রথম সুরকার - আবদুল লতিফ 
- গানটির পরিবর্তিত সুরকার - আলতাফ মাহমুদ।

- গানটি হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারি' (১৯৫৩) সংকলনে প্রথম প্রকাশিত হয়।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৩৬.
'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।' উক্তিটি কার?
  1. ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. খ) দৌলত কাজী
  3. গ) গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. ঘ) ভারতচন্দ্র রায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভারতচন্দ্র রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভারতচন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা

• মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গলকাব্য।
• এই কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।<b
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত কিছু পঙক্তি হলো:
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৪৩৭.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত "মরুভাস্কর" কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. গল্প
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

মরুভাস্কর:
- কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি - কাব্যগ্রন্থ
- এটি হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনী - কাব্য।
- এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে।
- হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনী নিয়ে চারটি সর্গ। এবং ১৮ টি খণ্ড-কবিতা স্থান পেয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ: 
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৪৩৮.
‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন কে?
  1. কৃত্তিবাস ওঝা
  2. সুবোধ ঘোষ
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- সাহিত্য-সাধনার প্রথমপর্বে তিনি ‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

অন্যদিকে
- ‘সুবোধ ঘোষ’ এর ছদ্মনাম - কালপুরুষ।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৩৯.
কাহ্নপা পরবর্তী সর্বোচ্চ পদকর্তা কে?
  1. ক) লুইপা
  2. খ) কাহ্নপা
  3. গ) ভুসুকুপা
  4. ঘ) শবরপা
সঠিক উত্তর:
গ) ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা কাহ্নপা। তিনি মোট ১৩ টি পদ রচনা করেন। তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা হচ্ছেন ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড.সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৪০.
'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন কে?
  1. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  2. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. জোশুয়া মার্শম্যান
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা

হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- 'ইয়ংবেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা  ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৪৪১.
'মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।'- উক্তিটি কোন রচনার অন্তর্ভুক্ত?
  1. সাজাহান
  2. কবর 
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. নুরলদীনের সারাজীবন
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

• 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত। রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।

- 'মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা,
- হিরণবালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়-এর লেখা ১৯০৯ সালে প্রকাশিত একটি ঐতিহাসিক নাটক হলো 'সাজাহান'।

• ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'। নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়। নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• 'নুরলদীনের সারাজীবন' একটি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক নাটক, যা লিখেছেন প্রখ্যাত বাঙালি নাট্যকার সৈয়দ শামসুল হক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৪,৪৪২.
প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. কালিকলম
  2. স্বদেশ
  3. ভারতী
  4. মাসিক পত্রিকা
সঠিক উত্তর:
কালিকলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিকলম
ব্যাখ্যা
‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম।
- যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

অন্যদিকে,
- ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকার নাম - 'স্বদেশ'।
- মাসিক পত্রিকা প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদারের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪,৪৪৩.
'ফুড কনফারেন্স' গ্রন্থে কোন পটভূমির চিত্র অঙ্কিত হয়েছে?
  1. ১৯৪৬ এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা 
  2. রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ 
  3. পঞ্চাশের মন্বন্তর
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
পঞ্চাশের মন্বন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চাশের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা

• 'ফুড কনফারেন্স' গল্পগ্রন্থ:
- আবুল মনসুর আহমদ রচিত ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪) একটি গল্পগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থে ১৩৫০ সালের (পঞ্চাশের মন্বন্তর) দুর্ভিক্ষের বাস্তব করুণ চিত্র বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আকার চেষ্টা করেছেন।
- এই গ্রন্থে মোট ৯টি গল্প রয়েছে।

-----------------------
• আবুল মনসুর আহমেদ:
- আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

• গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা।

• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী),
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবন ক্ষুধা,
- আবে-হায়াৎ
- অন্যান্য রচনা
- বাংলাদেশের কালচার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৪৪৪.
'সেই ধন্য নরকুলে, লোকে যারে নাহি ভুলে' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
'সেই ধন্য নরকুলে, লোকে যারে নাহি ভুলে' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা = মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- এটি তাঁর 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার পঙ্‌ক্তি।

বঙ্গভূমির প্রতি

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

রেখো মা দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে
সাধিতে মনের সাধ,
ঘটে যদি পরমাদ,
মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে।
প্রবাসে দৈবের বশে,
জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে, - খেদ নাহি তাহে।
জন্মিলে মরিতে হবে,
অমর কে কোথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে?
কিন্তু যদি রাখ মনে,
নাহি, মা, ডরি শমনে;
মক্ষিকাও গলে না গো, পড়িলে অমৃত-হ্রদে!
সেই ধন্য নরকুলে,
লোকে যারে নাহি ভুলে,
মনের মন্দিরে সদা সেবে সর্ব্বজন; -
কিন্তু কোন্ গুণ আছে,
যাচিব যে তব কাছে,
হেন অমরতা আমি, কহ, গো, শ্যামা জন্মদে!

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
৪,৪৪৫.
মুজিবনগর সরকারের মুখপত্র ছিল কোন পত্রিকা?
  1. সাপ্তাহিক জয় বাংলা
  2. বাংলার সৈনিক
  3. বাংলাদেশের হৃদয় হতে
  4. সাপ্তাহিক সৈনিক
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক জয় বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক জয় বাংলা
ব্যাখ্যা

- মুজিবনগর সরকারের মুখপত্র ছিল 'সাপ্তাহিক জয় বাংলা'।
- এর সম্পাদক ছিলেন আব্দুল মান্নান।
- তমদ্দুন মজলিসের মুখপত্র ছিল 'সাপ্তাহিক সৈনিক'।
- ছায়ানটের মুখপত্র ছিল 'বাংলাদেশের হৃদয় হতে'।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৪,৪৪৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত নাটক- 
  1. ডাকঘর 
  2. বাল্মীকি প্রতিভা
  3. অচলায়তন 
  4. রক্তকরবী 
সঠিক উত্তর:
বাল্মীকি প্রতিভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাল্মীকি প্রতিভা
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি অবলম্বনে গ্রন্থ Song offerings এর জন্য নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪০ সালে তাকে অক্সফোর্ড থেকে ডি. লিট উপাধি দেয়া হয়।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কবিতা 'হিন্দুমেলার উপহার'।
- প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'কবি-কাহিনী।
- প্রথম প্রকাশিত নাটক 'বাল্মীকি প্রতিভা'।
- প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'বৌ ঠাকুরাণীর হাট'।
- প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম 'ভিখারিণী'।
- প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'বিবিধ প্রসঙ্গ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৪৪৭.
কোনটি সাধুরীতির শব্দ নয়?
  1. ক) আজ
  2. খ) মিনতি
  3. গ) জল
  4. ঘ) জোছনা
সঠিক উত্তর:
ঘ) জোছনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জোছনা
ব্যাখ্যা
• ‘জোছনা’ চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধুরূপ জ্যোৎস্না।
অন্যদিকে,
‘আজ’ শব্দটিও চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধুরূপ আদ্য/আজি।

(অপশনে একের অধিক উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো।)

• সাধু ভাষা  
- বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ; এর নবীন ও বর্তমানে বহুল প্রচলিত রূপটি হলো চলিত।
- সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের এবং  চলিত ভাষা সর্বসাধারণের জীবন-ঘনিষ্ঠ। ভাষার এই দ্বিধারিক প্রপঞ্চকে বলা হয় দ্বি-ভাষারীতি।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত। এ ভাষায়  তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি। এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির রূপ মৌখিক ভাষার রূপ অপেক্ষা পূর্ণতর।
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।

• চলিতরীতি
- বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে -চলিতরীতি/চলনরীতি। 
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রুপ লাভ করে।
- চলিত ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৪৪৮.
“বাতায়ন পাশে গুবাক তরুর সারি” - কাজী নজরুল ইসলামের এ কবিতায় 'গুবাক' শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) খেজুর
  2. খ) সুপারি
  3. গ) নারিকেল
  4. ঘ) ঝাউ
সঠিক উত্তর:
খ) সুপারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুপারি
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত চক্রবাক কাব্যগ্রন্থের অন্যতম কবিতা “বাতায়ন পাশে গুবাক তরুর সারি” ।
- এখানে গুবাক অর্থ সুপারি।
- এটি একটি প্রেমের কাব্য ।
নজরুল রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে - অগ্নিবীণা (কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ), সঞ্চিতা, মরুভাস্কর, চিত্তনামা, ছায়ানট, বিষের বাশী, সন্ধ্যা, দোলন চাপা, জিন্জির, চক্রবাক, প্রলয়শিখা, ফণিমনসা, সর্বহারা, সিন্ধু হিন্দোল, ভাঙ্গার গান, ঝিঙে ফুল, সাম্যবাদী।

গুবাক, গূবাক (বিশেষ্য):
১. সুপারি (বিশ্বাসে গুবাক পান খান তার হাতে-ঘনরাম চক্রবর্তী)।
২. সুপারি গাছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর) ও বাংলা একাডেমি অভিধান।

৪,৪৪৯.
নিম্নোক্ত কোন উপন্যাসে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধোত্তর সময়ের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে?
  1. দেবেশ রায়ের 'তিস্তাপাড়ের বৃত্তান্ত'
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'পূর্ব-পশ্চিম'
  3. শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের 'যাও পাখি'
  4. অভিজিৎ সেনের 'রহুচণ্ডালের হাড়'
সঠিক উত্তর:
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'পূর্ব-পশ্চিম'
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'পূর্ব-পশ্চিম'
ব্যাখ্যা
'পূর্ব-পশ্চিম' উপন্যাস:
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বিশিষ্ট, ব্যতিক্রমী ও বড়ো মাপের এই উপন্যাস, 'পূর্ব-পশ্চিম'।
• ধারাবাহিকভাবে 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত সেই সুদীর্ঘ উপন্যাসের প্রথম দুটি পর্ব-সূচনাপর্ব ও যৌবন-নিয়েই 'পূর্ব-পশ্চিম'-এর এই প্রথম খণ্ড।
• বিশাল ক্যানভাসে চিত্রিত এই উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহ একইসঙ্গে ছুঁয়ে আছে এপার এবং ওপার বাংলা। শুরু সেই পঞ্চাশের মধ্যভাগে। দু-বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রের পালাবদলের স্রোত কীভাবে এসে মিশেছে এই আশির দশকের মোহনায়, এ-উপন্যাস তার এক জীবন্ত দলিল।

• একদিকে নেহরুর মৃত্যু, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, লালবাহাদুরের অকালপ্রয়াণ, ইন্দিরার অভ্যুত্থান, অর্থনৈতিক ক্রমাবনতি, তরুন সমাজের মধ্যে জেগে-ওঠা বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা-উম্মাদনা, উগ্রপন্থী রাজনীতি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-যুদ্ধ; অন্যদিকে ভাষা-আন্দোলনের অব্যবহিত পরবর্তী সময়, গনতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন, বাংলাদেশ মুক্তি-আন্দোলন, স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে যুবসমাজের হতাশা, মুজিব-হত্যা-এ-সমস্ত কিছুকে ছুঁয়ে প্রবাহিত 'পূর্ব-পশ্চিম'-এর ঘটনাস্রোত।

• দুই বাংলার দুই পরিবারকে কেন্দ্র করে রচিত এই উপন্যাস বিশেষ কোন চরিত্রকে মূল চরিত্র বলা যাবে না। একই সঙ্গে অনেকগুলি
প্রধান চরিত্র। এইসব চরিত্রের কেউ-কেউ আবার পূর্ব বা পশ্চিম বাংলার গণ্ডিতেই আবর্তিত নয়, ইউরোপ-আমেরিকাতেও গেছে।

উৎস: 'পূর্ব-পশ্চিম' উপন্যাস সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।
৪,৪৫০.
'আমার পূর্ব বাংলা' কবিতাটির রচয়িতা কে? 
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. সিকান্‌দার আবু জাফর
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
• ‘আমার পূর্ব বাংলা' সৈয়দ আলী আহসানের একটি বিখ্যাত কবিতা।

• সৈয়দ আলী আহাসান:
- সৈয়দ আলী আহাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা,
- সমুদ্রেই যাব,
- রজনীগন্ধা ইত্যাদি।

• অনুবাদগ্রন্থ:
- হুইটম্যানের কবিতা,
- ইডিপাস।

• প্রবন্ধ:
- সতত স্বাগত।

• আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

আমার পূর্ব বাংলা- কবিতা;
সৈয়দ আলী আহসান

আমার পূর্ব-বাংলা এক গুচ্ছ স্নিগ্ধ/ অন্ধকারের তমাল
অনেক পাতার ঘনিষ্ঠতায়/ একটি প্রগাঢ় নিকুঞ্জ
নিকুঞ্জের তমাল কনক-লতায় ঘেরা
রাশি রাশি ধান মাটি আর পানির/ কেমন নিশ্চেতন করা গন্ধ
কত দশা বিরহিণীর- এক দুই তিন/ দশটি (বৈষ্ণব কবিতায় বর্ণিত রাধার বিরহের দশটি অবস্থার প্রতি কবি ইঙ্গিত করেছেন।)
ঘর আর বিদেশ আঙিনা
তিনটি ফুল আর একটি পাতা নিয়ে/ কদম্ব তরুর একটি শাখা মাটি/ ছুঁয়েছে
আরও অনেক গাছ পাতা লতা/ নীল হলুদ বেগুনি অথবা সাদা
কাকের চোখের মতো কালোচুল/ এলিয়ে
হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া স্নিগ্ধ নীলাম্বরীতে দেহ ঘিরে (বৃষ্টিভেজা পূর্ব বাংলা যেনো নীল শাড়ি পরা কোনো নারী)
তুমি আমার পূর্ব-বাংলা-/ পুলকিত সচ্ছলতায়, প্রগাঢ় নিকুঞ্জ।।

উল্লেখ্য,
কবিতাটি লেখকের ''একক সন্ধ্যায় বসন্ত'' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, আমার পূর্ব বাংলা- কবিতা, বাংলাপিডিয়া। 
৪,৪৫১.
'ভোরের বিহঙ্গী' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. সমর সেন
  2. সত্যেন সেন
  3. মহাদেব সাহা
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সত্যেন সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
• 'ভোরের বিহঙ্গী' উপন্যাসটির রচয়িতা — সত্যেন সেন। 
--------------------- 
• সত্যেন সেন: 
- ১৯০৭ সালের ২৮ মে মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলার সোনারঙ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৫৪ সালে দৈনিক  সংবাদ-এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- এ দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে সত্যেন সেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘের সংগঠক এবং উদীচী (১৯৬৯) সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা।
- তিনি ছিলেন  রবীন্দ্রসঙ্গীত ও গণসঙ্গীতের সুকণ্ঠ গায়ক এবং গণসঙ্গীত রচয়িতা।
-  তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় চল্লিশ।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- অভিশপ্ত নগরী,
- ভোরের বিহঙ্গী,
- পাপের সন্তান,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড,
- পদচিহ্ন,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- আলবেরুনী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশু সাহিত্য: 
- পাতাবাহার,
- অভিযাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৫২.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক উপন্যাস?
  1. নৌকাডুবি 
  2. কালান্তর 
  3. গোরা
  4. চতুরঙ্গ 
সঠিক উত্তর:
গোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরা
ব্যাখ্যা

• 'গোরা' উপন্যাস:
- 'গোরা' উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো 'ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়'।
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির অন্তর্ভুক্ত চরিত্রগুলো হলো: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।

অন্যদিকে,
• 'কালান্তর' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে রচিত একটি রাজনৈতিক প্রবন্ধ সংকলন।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নৌকাডুবি' একটি সামাজিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যতম উপন্যাস 'চতুরঙ্গ'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে। এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৪৫৩.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন কে?
  1. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4.  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
সঠিক উত্তর:
 হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
ব্যাখ্যা
মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' শিরোনামে প্রকাশ করে। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

- তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- কাঞ্চন মালা (উপন্যাস),
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বৌদ্ধধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৫৪.
‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দাশ
  3. গ) কালিদাস রায়
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 
• জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- রূপসী বাংলা,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।
 
• ‘রূপসী বাংলা’ ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলির গঠন সনেটের। এদরে বিষয় বাংলার গ্রাম-প্রিকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান। এ কাব্যের একটি বিখ্যাত পঙক্তি হলো-

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৫৫.
ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক শরৎচন্দ্রের নিষিদ্ধ গ্রন্থ কোনটি?
  1. গৃহদাহ
  2. পথের দাবী
  3. পল্লীসমাজ
  4. চরিত্রহীন
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী
ব্যাখ্যা
'পথের দাবী' উপন্যাস:
• 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। গ্রন্থাকারে এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।

• 'বঙ্গবাণী' পত্রিকায় ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবী' ধারাবাহিকরূপে প্রকাশিত হয়।

• এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কারো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়।নান্দনিক মানদণ্ডে 'পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।

• 'আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য, আমার একটি মাত্র সাধনা।'- এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

-------------
তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো- 
- পরিণীতা,
- বৈকুণ্ঠের উইল,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- নিষ্কৃতি,
- শ্রীকান্ত,
- দত্তা,
- গৃহদাহ,
- দেনা-পাওনা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৫৬.
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন-
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. মহাদেব সাহ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম। এইজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তী কাব্যগ্রন্থ গুলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গসঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউলবিংশতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৫৭.
ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি প্রদান করেন কে?
  1. রাজা কৃষ্ণনাথ
  2. রাজা কীর্তিচন্দ্র রায়
  3. রাজা লক্ষ্মণ সেন
  4. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর: 
- মঙ্গলযুগ তথা মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি। 
- তিনি ১৭১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার পাণ্ডুয়া গ্রামে জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।  রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন। 
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন। 
- তিনি ১৭৬০ সালে ৪৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)।
৪,৪৫৮.
কাজী মোতাহার হোসেন রচিত ‘সঞ্চয়ন’ একটি -
  1. গল্পসংকলন
  2. প্রবন্ধসংকলন
  3. কবিতাসংকলন
  4. নাট্যসংকলন
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধসংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধসংকলন
ব্যাখ্যা

কাজী মোতাহার হোসেন রচিত ‘সঞ্চয়ন’ একটি প্রবন্ধসংকলন। 

কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭–১৯৮১) একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি ‘শিখা’ পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন এবং ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
- এছাড়া তিনি ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’ এর সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯২৬ সালে কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন ও আবুল ফজলের সহযোগিতায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সংস্থার মুখপত্র ‘শিখা’ পত্রিকা অল্প সময় সম্পাদনা করেন। 
- শিক্ষা ও গবেষণায় তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সরকার তাঁকে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাবে ভূষিত করে।

উল্লেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৪৫৯.
প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  3. ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বিজয়চন্দ্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজয়চন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। 
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 
- ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 
- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
- ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৪,৪৬০.
‘বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন’ কার লেখা?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. অন্নদাশংকর রায়
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আবদুল হাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
'বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন': 
- এই ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা মুহম্মদ আবদুল হাই। 
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।

মুহম্মদ আবদুল হাই:
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের জন্ম ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে।
- পাঠ্যপুস্তকের অভাব দূর করার জন্য মুহম্মদ আবদুল হাই সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে যৌথভাবে রচনা করেন বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক যুগ, ১৯৬৮)।
- তিনি ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রকাশিত 'সাহিত্য পত্রিকা'র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।

তাঁর অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৬১.
চর্যাপদের পুঁথি কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়?
  1. কলকাতার সাহিত্য পরিষৎ
  2. সোমপুর বিহার
  3. নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার
  4. তিব্বত
সঠিক উত্তর:
নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। র্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং  বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৬২.
বাংলা গদ্যের পথিকৃৎ বলা হয় কাকে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. রাজা রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা
• উইলিয়াম কেরি:
- উইলিয়াম কেরিকে বাংলা গদ্যের পথিকৃৎ বলা হয়।
- তিনি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথকিৃৎরূপে বিদেশী ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী করে ১৮০১ সালে ‘ কথোপকথন’ গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।
- ‘কথোপকথন’ গ্রন্থটি ছিল ‍দ্বিভাষিক - এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।
- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত।

================
উল্লেখ্য,
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। 
- বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,৪৬৩.
'সত্য পীরের পাঁচালি' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• 'সত্য পীরের পাঁচালি' গ্রন্থটির রচয়িতা- 'ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর'। 

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর: 
- ভারতচন্দ্রের আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- তার রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম সত্যপীরের পাঁচালি (১৭৩৭-৩৮)।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল'। 
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের রচনা: 
'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল
অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৬৪.
কার নির্দেশে কবীন্দ্র পরমেশ্বর 'মহাভারত' অনুবাদ করেন?
  1. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  2. আলাওল
  3. পরাগল খাঁ
  4. ছুটি খাঁ
সঠিক উত্তর:
পরাগল খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাগল খাঁ
ব্যাখ্যা

পরাগলী মহাভারত:
- 'পরাগলী মহাভারত' খ্যাত গ্রন্থের লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি।
- নবাব হুসেন শাহ্‌ (১৪৯৩-১৫১৮) চট্টগ্রাম শাসনের জন্য পরাগল খাঁ নামক এক লস্কর নিযুক্ত করেন।
- যুদ্ধপ্রিয় 'পরাগল খাঁ' মহাভারতের যুদ্ধকাহিনি শুনে গ্রন্থটি অনুবাদের জন্য পরমেশ্বর দাসকে নির্দেশ দেন।
- তাই কবীন্দ্র পরমেশ্বর এর অনুবাদকৃত মহাভারতকে 'পরাগলী মহাভারত' বলা হয়।
- কবীন্দ্র তাঁর রচিত মহাভারতের নাম দিয়েছেন ‘ভারত পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪,৪৬৫.
‘প্রাগৈতিহাসিক‘ ছোটগল্পের রচিয়তা কে?
  1. ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর:
ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়,  (১৯০৮-১৯৫৬)  কথাসাহিত্যিক।
• ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
• ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু। 

• তার কিছু উপন্যাসের চরিত্র হলো--
- জননী :- মার্ক্সসীয় দৃষ্টির উপর লেখা। প্রধান চরিত্র :- শ্যামা
- দিবারাত্রির কাব্য :- তিন জোড়া নারী পুরুষের কথা। চরিত্র:- সুপ্রিয়া,মালতি,আনন্দ,অশোক, হেরম্ব
- পুতুল নাচের ইতিকথা :- সামন্ততন্ত্রের প্রতি জেহাদ। চরিত্র :- কুসুম,শশী।
- পদ্মানদীর মাঝি :- ধীবর পল্লীর জীবন যাত্রা এর প্রধান বিষয়। খেটে খাওয়া মানুষের কথা এখানে দেখনো হয়েছে। চরিত্র:- কুবের, হোসেন মিঞা।
- শহরতলী :- চরিত্র :- সত্যপ্রিয় চক্রবর্তী, যশোদা
- সহরবাসের ইতিকথা :- চরিত্র:- শ্রীপতি, সন্ধ্যা
- চিহ্ন :- চরিত্র:- অক্ষয়,সুধা
- চতুস্কোণ :- চরিত্র:- গিরি,মনোরমা।

• ছোটগল্প
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প (১৯৩৫)
- প্রাগৈতিহাসিক (১৯৩৭)
- সরীসৃপ (১৯৩৯)
- সমুদ্রের স্বাদ (১৯৪৩)
- ভেজাল (১৯৪৪)
- ছোট বকুলপুরের যাত্রী (১৯৪৯)
- আত্নহত্যার অধিকার

• নাটক
- ভিটেমাটি (১৯৪৬)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৬৬.
"চিন্তার স্বাধীনতা, বুদ্ধির স্বাধীনতা, আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা, যেখানে নেই"— "শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব" প্রবন্ধে অনুসারে - সেখানে কী নেই?
  1. মনুষ্যত্ব
  2. শান্তি
  3. মুক্তি
  4. সমৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
মুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তি
ব্যাখ্যা
• "শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব" প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
চিন্তার স্বাধীনতা, বুদ্ধির স্বাধীনতা, আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা যেখানে নেই সেখানে মুক্তি নেই।
মানুষের অন্নবস্ত্রের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে এই মুক্তির দিকে লক্ষ রেখে। ক্ষুৎপিপাসায় কাতর মানুষটিকে তৃপ্ত রাখতে না পারলে আত্মার অমৃত উপলব্ধি করা যায় না বলেই ক্ষুৎপিপাসার তৃপ্তির প্রয়োজন। একটা বড় লক্ষ্যের দিকে দৃষ্টি রেখেই অন্নবস্ত্রের সমাধান করা ভালো, নইলে আমাদের বেশি দূর নিয়ে যাবে না।
------------
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-১৯৫৬):
মোতাহের হোসেন চৌধুরী একজন শিক্ষাবিদ এবং লেখক, যিনি নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরী এবং মননে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব স্পষ্ট। তিনি সংস্কৃতি, ধর্ম, মানবতাবোধ, এবং মানুষের জীবনাচরণ নিয়ে মৌলিক বিষয়গুলোকে উন্মোচিত করতে চেয়েছেন এবং বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচার মাধ্যমে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন।

• প্রধান গ্রন্থসমূহ: 
সংস্কৃতি কথা (১৯৫৮): এটি তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
সুখ (১৯৬৫): বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের ভাবানুবাদ।
সভ্যতা (১৯৬৫): ক্লাইভ বেল-এর Civilisation গ্রন্থের ভাবানুবাদ।

বিশেষ খ্যাতি: 
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী, এবং মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন।

উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ:
• আমাদের দৈন্য, 
• আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী, 
• মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস:
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
• বাংলাপিডিয়া।
• "শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব" প্রবন্ধ - মোতাহের হোসেন চৌধুরী।
৪,৪৬৭.
আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) জীবন ক্ষুধা
  2. খ) আসমানী পর্দা
  3. গ) শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু
  4. ঘ) সত্যমিথ্যা
সঠিক উত্তর:
গ) শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু
ব্যাখ্যা
• আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯): সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সর্বাধিক পরিচিত।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ব্যঙ্গধারার সাহিত্য রচনা করেন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না 
- ফুড কনফারেন্স
- আসমানী পর্দা।

• রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ: 
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯);
- শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)

• তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- সত্যমিথ্যা
- জীবন ক্ষুধা ও
- আবে-হায়াত।
 
• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৬৮.
‘মধুমালা’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত - 
  1. নৃত্যনাট্য
  2. উপন্যাস 
  3. গীতিনাট্য
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গীতিনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতিনাট্য
ব্যাখ্যা

 • ‘মধুমালা’ গীতিনাট্য:
- মধুমালা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গীতিনাট্য।
- রূপকথা বা ঐতিহ্যের আদলে রচিত নাটকটি ১৯৬০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- মধুমালা,
- মদনকুমার,
- কাঞ্চনমালা,

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা (গীতিনাট্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘মধুমালা’ নাটক।

৪,৪৬৯.
'তরঙ্গভঙ্গ' নাটকটি কার রচনা?
  1. সানাউল হক
  2. সরদার জয়েন উদ্দিন
  3. সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌
  4. সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
• 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌র পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক 'তরঙ্গভঙ্গ'।
- অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
- এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার, সাক্ষী মতলুব আলী।
- এ নাটকের একটি সংলাপ 'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।'

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ- 
মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৭০.
‘কবিতার কথা’ জীবনানন্দ দাশ রচিত কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. কবিতার সংকলন 
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

‘কবিতার কথা’ জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ। 
-------------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দাশ দুজনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- তাঁকে বলা হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’, কারণ তাঁর কাব্যে বাংলার প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও স্মৃতিমগ্ন সৌন্দর্য গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তার রচিত বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো:
- কল্লাণী,
- মাল্যবান,
- বিভা,
- সুতীর্থ ,
- চারজন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ- কবিতার কথা।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- ‘সাতটি তারার তিমির’,
- ‘বনলতা সেন’,
- ‘রূপসী বাংলা’,
- ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি',
- ‘ঝরাপালক’,
- বেলা অবেলা কালবেলা,
- রূপসী বাংলা।
------------------------ 
কবিতার কথা’ প্রবন্ধ সম্পর্কিত কিছু কথা:
- জীবনানন্দ দাশের প্রবন্ধ সংকলন ‘কবিতার কথা’ ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এটি জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ
- প্রবন্ধটি কবিতা, কবির স্বরূপ, ভাষা, উপমা ও চিত্রকল্প এবং জীবনের সঙ্গে কবিতার সম্পর্ক নিয়ে লেখা।
- তিনি তাঁর নিজস্ব কাব্য-দর্শন এখানে তুলে ধরেছেন।
- প্রবন্ধে বলা হয়েছে যে সকলেই কবি নন, কবিকে অবশ্যই তাঁর 'সারবত্তা'-র প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হয়।
- এই প্রবন্ধের বিখ্যাত উক্তি- 'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।' 
 
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৪,৪৭১.
‘রাখী’ অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম
  1. প্রবন্ধ
  2. কবিতা
  3. ছোটগল্প
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতা
ব্যাখ্যা
• ‘রাখী’ অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত একটি কবিতা।
- কবিতাটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়।

----------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি ও চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।
- ‘তিনটি প্রশ্ন’ ১৯২০ সালে প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত অন্নদাশঙ্করের প্রথম লেখা।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- বিনুর বই,
- দেশকাল পাত্র,
- জীয়ন কাটি,
- ইশারা,
- নতুন করে বাঁচা ইত্যাদি।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ছোটগল্প:
- কামিনী কাঞ্চন,
- যৌবন জ্বালা,
- মন পবন,
- প্রকৃতির পরিহাস।

• উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৭২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস - 
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. আলালের ঘরের দুলাল
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা

'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।  এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

অন্যদিকে,
- প্যারীচাঁদ মিত্র বা টেকচাঁদ ঠাকুর রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা উপন্যাস রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৪,৪৭৩.
’রুখের তেন্তুলি কুম্ভীরে খাঅ।’- চর্যাপদের এ চরণটির রচিতা কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. কুক্কুরীপা
  3. লুইপা
  4. কাহ্নাপা
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

• কুক্‌কুরীপা:
• কুক্‌কুরি পাদ ৩টি পদ রচনা করেছেন।
- তিনি ২, ২০ ও ৪৮ নং পদ রচনা করেন।

• এগুলোর মধ্যে ৪৮ নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
• চর্যাপদের ২নং পদের রচয়িতা কুক্‌কুরী পা।
পদটি হলো:
"দুলি দুহি পিটা ধরণ ন জাই।
রুখের তেন্তুলি কুম্ভীরে খাঅ।।"

উৎস: 'চর্যাগীতি পাঠ' ড. মাহবুবুল হক।

৪,৪৭৪.
‘শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু’ - গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) আবুল মনসুর আহ্‌মদ
  3. গ) আতাউর রহমান
  4. ঘ) মুহম্মদ আব্দুল হাই
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল মনসুর আহ্‌মদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল মনসুর আহ্‌মদ
ব্যাখ্যা
‘শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু’ - গ্রন্থের রচয়িতা আবুল মনসুর আহ্‌মদ।

• আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।
তাঁর বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক রচনা হচ্ছে:
- আয়না
- ফুড কনফারেন্স

• তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে-
- সত্যমিথ্যা
- জীবন ক্ষুধা
- আবে-হায়াৎ

• স্মৃতিকথা:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর
- শের-ই-বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)

• তাঁর আত্মচরিত:
- আত্মকথা

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৭৫.
নজরুলের মোট কতটি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়েছিল?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৫টি
  3. গ) ২টি
  4. ঘ) ৩টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৫টি
ব্যাখ্যা

নজরুলের মোট ৫টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়৷
- প্রথম নিষিদ্ধ গ্রন্থ - 'যুগবাণী'।
- 'বিষের বাঁশি' নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ৷
তাছাড়া, ভাঙার গান, প্রলয় শিখা, চন্দ্রবিন্দু - গ্রন্থগুলোও নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও প্রথম আলো আর্কাইভ।

৪,৪৭৬.
কোনটি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
  2. ভাষা ও সাহিত্য
  3. ব্যাকরণ মঞ্জুরি
  4. বাংলা সাহিত্যের কথা
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ মঞ্জুরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ মঞ্জুরি
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন। এবং ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

তার উল্লেখযোগ্য রচনা:
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত।

অন্যদিকে,
মুহম্মদ এনামুল হক রচিত গ্রন্থ - ব্যাকরণ মঞ্জুরি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৭৭.
নিচের কোনটি আলাওল রচিত নীতিকাব্য? 
  1. পদ্মাবতী
  2. সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী
  3. সিকান্দরনামা
  4. তোহফা 
সঠিক উত্তর:
তোহফা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোহফা 
ব্যাখ্যা

সৈয়দ আলাওল:
- কবি সৈয়দ আলাওল মধ্যযুগের একজন কিংবদন্তি মুসলিম কবি।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা।
- সৈয়দ আলাওল ছিলেন মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের মুসলিম কবিদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। 
- তাঁর পাণ্ডিত্য ও সাহিত্যকর্ম শতাব্দী ধরে পাঠক ও গবেষককে মুগ্ধ করেছে।
- তিনি বহুভাষাবিদ ও পণ্ডিত ছিলেন।
- যোগশাস্ত্র, আরবি, ফারসি, মৈথিলী, প্রাকৃতপৈঙ্গল, ব্রজবুলি, বাংলা ও সংস্কৃতসহ বিভিন্ন ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।
- অনুবাদ ও নীতিকাব্যচর্চায়ও তিনি সিদ্ধহস্ত ছিলেন।

- আলাওল প্রায় ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- জন্মস্থান নিয়ে কিছু মতবিরোধ থাকলেও অধিকাংশ পণ্ডিত ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জামালপুর গ্রাম উল্লেখ করেন।
- আবার কিছু পণ্ডিতের মতে তাঁর জন্মস্থান চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারীতে।
- তিনি আরাকান রাজসভার রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য পদ্মাবতী, যা হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর পদুমাবৎ কাব্যের অনুবাদ।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে- 
- ‘পদ্মাবতী’,
- ‘সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’,
- ‘সপ্তপয়কর’, 
- ‘সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল’,
- ‘সিকান্দরনামা’,
- ‘তোহফা’ (নীতিকাব্য),
- ‘রাগতালনামা’ (সঙ্গীতবিষয়ক)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া

৪,৪৭৮.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. অনিল বাগচীর একদিন
  2. শ্যামল ছায়া
  3. সূর্যের দিন
  4. জোছনা ও জননীর গল্প
সঠিক উত্তর:
সূর্যের দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্যের দিন
ব্যাখ্যা
• ‘সূর্যের দিন' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস সূর্যের দিন। 
- উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসে ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় অর্জন থেকে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বাঙালির মানসিক অবস্থার ভাষারূপ অংকিত হয়েছে।

---------------------------
• হুমায়ূন আহমেদ:
- কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন (বর্তমানে আয়েশা ফয়েজ নামে পরিচিত)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনিল বাগচীর একদিন ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৭৯.
বৈষ্ণব পদাবলিতে 'শৃঙ্গার রস'কে কী নামে ডাকা হয়?
  1. মধুররস
  2. সখ্যরস
  3. দাস্যরস
  4. শান্তরস
সঠিক উত্তর:
মধুররস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুররস
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।
- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে।
যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

• মধুর রস’কে শৃঙ্গার রসও বলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাল নীল দীপাবলি হুমায়ুন আজাদ।
৪,৪৮০.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কবিতা কোনটি?
  1. বঙ্গবাণী
  2. পদ্মাবতী
  3. কপোতাক্ষ নদ
  4. কবিতার কথা 
সঠিক উত্তর:
কপোতাক্ষ নদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপোতাক্ষ নদ
ব্যাখ্যা

• ‘কপোতাক্ষ নদ' কবিতাটির রচয়িতা- 'মাইকেল মধুসূদন দত্ত'।

অন্যদিকে,
• পদ্মাবতী - মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক। 
• ‘বঙ্গবাণী' কবিতাটি কবি আবদুল হাকিমের নূরনামা কাব্যে সংকলন করা হয়েছে।
• জীবনানন্দ দাশ ‘কবিতার কথা’ নামে প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
-  ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
-  বাংলা ভাষার সনেট এর প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা।
- পদ্মাবতী।
- কৃষ্ণকুমারী।

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম
- একেই কি বলে সভ্যতা।
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।
----------------
কপোতাক্ষ নদ- কবিতা,
-মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।
সতত যেমনি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া যন্ত্র ধ্বনি তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে।

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, মাইকেল মুধুসূধন দত্ত এর রচনা।

৪,৪৮১.
'শেখ আজিজুর রহমান' কোন কথাসাহিত্যিকের প্রকৃত নাম?
  1. শওকত আলী 
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. শওকত ওসমান
  4. আবুল ফজল 
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয় তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী, 
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর, আর্তনাদ,
- রাজপুরুষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• শমসের উল আজাদ ছদ্মনামে লিখতেন আবুল ফজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৪৮২.
নিচের কোনটি দিলেরা হাসেম রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. ঘর মন জানালা
  2. আমি ভাল আছি তুমি
  3. একদা এবং অনন্ত
  4. আমলকির মৌ
সঠিক উত্তর:
আমি ভাল আছি তুমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি ভাল আছি তুমি
ব্যাখ্যা
দিলারা হাসেম: 
- দিলারা হাসেম একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯৩৬ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।  

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- ঘর মন জানালা,
- একদা এবং অনন্ত,
- স্তব্ধতার কানে কানে,
- আমলকির মৌ,
- বাদামী বিকেলের গল্প,
- কাকতালীয়,
- শঙ্খকরাত,
- অনুক্ত পদাবলী। 

অন্যদিকে,
- "আমি ভাল আছি তুমি" দাউদ হায়দার রচিত গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৮৩.
মুস্তাফা মনোয়ার নির্মিত জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র কোনটি?
  1. ক) টুকটুকি
  2. খ) হালুম
  3. গ) মিনা
  4. ঘ) বাটুল
সঠিক উত্তর:
গ) মিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিনা
ব্যাখ্যা
শিশুতোষ জনপ্রিয় 'মিনা' কার্টুনের নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার। 
- ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি জন্মগ্রহন করেন। 
- কবি গোলাম মোস্তফা ছিলেন তাঁর পিতা। 
- তিনি কিছুকাল বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। 
- ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৮৪.
’চোরাবালি’ কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2.  বিষ্ণু দে
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
 বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা

• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিস্যৎ,
- সেই অন্ধকার চাই,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৪৮৫.
"মহামহোপাধ্যায়" - উপাধিটি কার?
  1. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা

হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি - মহামহোপাধ্যায়।

অন্যদিকে,
- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি পান।
- ব্রিটিশ সরকার ১৯১৫ সালের ৩রা জুন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নাইটহুড বা 'স্যার' উপাধি প্রদান করে৷

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত ছিলেন।
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়' উপাধি (মহারানী ভিক্টোরিয়ার ৬০তম রাজ্যাঙ্কে প্রবর্তিত);
- ১৯১১ সালে ‘সি.আই.ই' উপাধি; ১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির অনারারি মেম্বার মনোনয়ন পান। 
- ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট উপাধি লাভ করেন।

তার রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে,
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৪৮৬.
'হাসনাহেনা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) কায়কোবাদ
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ- হাসনাহেনা, রক্তরাগ, খোশরোজ, কাব্যকাহিনী, সাহারা, বনি আদম, গীতি সঞ্চয়ন, বুলবুলিস্তান ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৮৭.
'নজর আলী' নামে ডাকা হতো কোন কবি কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. এস ওয়াজেদ আলী
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কবি নজরুল জীবনী।
৪,৪৮৮.
কোনটি মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র?
  1. ভাঁড়ুদত্ত
  2. সনকা
  3. ধনপতি
  4. ফুল্লরা
সঠিক উত্তর:
সনকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সনকা
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গল কাব্য:
- সাপের দেবী মনসাকে কেন্দ্র করে যে কাব্যগুলো রচিত হয়েছে তাই মনসামঙ্গল। মনসার অপর নাম কেতকা বা পদ্মা। তাই মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম কেতকামঙ্গল বা পদ্মাপুরাণ। মনসামঙ্গলকাব্য মঙ্গলকাব্যের আদি ও প্রাচীনতম ধারা। এখানের মানুষের সংগ্রামের কাহিনি দেখানো হয়।

কাব্যের চরিত্র:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- সনকা,
- বেহুলা,
- লখিন্দর।

অন্যদিকে,
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: - কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৮৯.
‘ঢাকা থিয়েটার’ প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. রামেন্দু মজুমদার
  2. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  3. সেলিম আল দীন
  4. মমতাজউদদীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
⇒ সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন (১৯৪৯-২০০৮) বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশে তিনি অন্যান্যদের সঙ্গে গঠন করেন ‘ঢাকা থিয়েটার’ ও ‘বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার’।
- মূলত ঢাকা থিয়েটারের সাংগঠনিক কাঠামো থেকে তিনি তাঁর সুবিস্তৃত নিরীক্ষামূলক নাট্য রচনা ও তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। 

• তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ, নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৯০.
'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. শামসুর রাহমান
  2. ফররুখ আহমদ
  3. শওকত ওসমান
  4. আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' আহসান হাবীব রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
- গ্রন্থটি  ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয়। 

-------------------
• আহসান হাবীব:

- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই। সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র।

• আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ।

• আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস:
- অরণ্য নীলিমা,
- রানী খালের সাঁকো।

• তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৯১.
কার আদেশে কবি আলাওল ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন?
  1. দৌলত উজির বাহরাম খান
  2. গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
  3. কেরশী মাগন ঠাকুর
  4. মালিক মুহম্মদ জায়সী
সঠিক উত্তর:
কেরশী মাগন ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেরশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

• আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 
 
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহ্ফা,
- সপ্তপয়কর  ,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, 
- রাগতালনামা,
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৪৯২.
কোনটি শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের চরিত্র?
  1. বড়ায়ি
  2. কৃষ্ণ
  3. রাধা
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- এটি একটি বৈষ্ণব কাব্য। এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৩ খন্ডের কাব্য।মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮ টি পদে এটি বিন্যস্ত।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- রাধা,
- কৃষ্ণ এবং
- বড়ায়ি

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪,৪৯৩.
কৃষ্ণনগরের দরিদ্র হিন্দু-মুসলিম-খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. বাঁধন হারা
  3. পথের পাঁচালী
  4. চাঁদের পাহাড় 
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুক্ষুধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুক্ষুধা
ব্যাখ্যা

• ‘মৃত্যুক্ষুধা’ উপন্যাস: 
- ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল নজরুলের রাজনৈতিক উপন্যাস মৃত্যুক্ষুধা।
- কাজী নজরুল ইসলাম 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটি বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন।
- ১৯২৭ সাল থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে তিনি মৃৎশিল্পের কেন্দ্রভূমি পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরের ছিলেন।
- এ কৃষ্ণনগরের চাঁদসড়কের দরিদ্র হিন্দু-মুসলিম-খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দারিদ্র ও দুঃখ ভরা জীবন নিয়ে উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো- 
গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া
 
প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৪৯৪.
"আমার সোনার বাংলা" গানটির সুরকার কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. দেবাশীষ রায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

’আমার সোনার বাংলা’ সঙ্গীত:
- এটি 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ১৩১২ (১৯০৫) সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ব্রিটিশদের 'বঙ্গভঙ্গ' প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে তিনি অনেকগুলো সঙ্গীতটি রচনা করেন তার মধ্যে এটি একটি। 
- 'আমার সোনার বাংলা' সঙ্গীতটির প্রথম ১০ পঙ্‌ক্তি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।
- সঙ্গীতটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গীতবিতান'র স্বরবিতান অংশভুক্ত।
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বদেশ পর্যায়ের গান।
- এই গানের সুর করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং, তবে এতে বাউল গগন হরকরার সুরের প্রভাব পড়েছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৪৯৫.
এস ওয়াজেদ আলি রচিত ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. পশ্চিম ভারত
  2. পথে প্রবাসে
  3. দেশে বিদেশে
  4. গ্রানাডার শেষ বীর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিম ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিম ভারত
ব্যাখ্যা
• এস ওয়াজেদ আলি রচিত ভ্রমণকাহিনি 'পশ্চিম ভারত'।

• এস ওয়াজেদ আলি:
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে 'গুলিস্তাঁ' নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:
• প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

• উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

• ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- পথে প্রবাসে আন্নদাশঙ্কর রায়ের বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনীমূলক গ্রন্থটির  রচয়িতা- 'সৈয়দ মুজতবা আলী'।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৯৬.
'আধ্যাত্মিকা' উপন্যাসের লেখক-
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. কাজী আব্দুল ওয়াদুদ
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী। তিনি ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর ছদ্মনাম 'টেকচাঁদ ঠাকুর'।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরির ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে ১৮৩৬ সালে প্যারীচাঁদ মিত্রের কর্মজীবন শুরু হয়।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র।
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- বাংলা- সাহিত্যেও তিনি একটি বিশেষ স্থান জুড়ে আছেন। তাঁরই চেষ্টায় অল্পশিক্ষিতা মহিলাদের উপযোগী একটি মাসিক-পত্রিকা বাংলা ভাষায় সর্ব্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। নাম- 'মাসিক পত্রিকা'। প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল- ১৬ আগস্ট ১৮৫৪।

প্যারীচাঁদের রচিত বাংলা গ্রন্থের সংখ্যা নিতান্ত অল্প নয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-
- আলালের ঘরের দুলাল (ইং ১৮৫৮),
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯),
- রামারঞ্জিকা (১৮৬০),
- কৃষি পাঠ (১৮৬১),
- গীতাঙ্কুর (১৮৬১),
- যৎকিঞ্চিৎ (১৮৬৫),
- অভেদী (১৮৭১),
- ডেভিড হেয়ারের জীবন চরিত (১৮৭৮),
- এতদ্দেশীয় স্ত্রীলোকদিগের পূর্ব্বাবস্থা (১৮৭৮),
- আধ্যাত্মিকা (১৮৮০),
- বামাতোষিণী (১৮৮১)।

উৎস: 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের লেখক জীবনী এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৯৭.
১৯০৩ সালে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার প্রাপ্ত গল্প কোনটি?
  1. মন্দির
  2. মহেশ
  3. বিলাসী
  4. মামলার ফল
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মন্দির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্দির
ব্যাখ্যা
• 'মন্দির' গল্প:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি মন্দির গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অমরনাথ,
- অপর্ণা প্রমুখ।

-----------
• তাঁর রচিত অন্যান্য ছোটগল্প:
- কাশীনাথ,
- মন্দির,
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল,
- মেজদিদি ইত্যাদি।

উৎস: 'মহেশ' গল্প; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৯৮.
'বাংলাদেশের কবিদের কবি' বলা হয় কাকে?
  1. জসীমউদ্দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4.  শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা

নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ নেত্রকোনার কাশবন গ্রামে ১৯৪৫ সালের ২১ জুন জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাকনাম ছিল রতন।
- নির্মলেন্দু গুণকে 'বাংলাদেশের কবিদের কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- তাঁর কবিতায় প্রেম, বিপ্লব, গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রা, সমাজের বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক চেতনা গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
- কবিতার পাশাপাশি তিনি অনুবাদকবিতা ও ছোটগল্পও রচনা করেছেন।

• কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবি,
- চাষাভূষার কাব্য,
- মুজিব লেলিন ইন্দিরা,
- নিশিকাব্য।

• অনুবাদকবিতা:
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- তোহু,
- রাজনৈতিক কবিতা।

• ছোটগল্প:
- অন্তর্জাল,
- আপনদলের মানুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৪৯৯.
'পালামৌ' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. নবীনচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনি:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ভ্রমণকাহিনি। ‘পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- বিহারের পালামৌ এলাকায় দুই বছর ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে এর স্মৃতিচারণ নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী পালামৌ।
- ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- সঞ্জীবচন্দ্র এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশ হয়।

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৫০০.
নিচের কোনটি দীনবন্ধু মিত্রের রচনা?
  1. টালা অভিনয়
  2. কমলে কামিনী
  3. সীতার বনবাস
  4. কংসবধ
সঠিক উত্তর:
কমলে কামিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমলে কামিনী
ব্যাখ্যা
কমলে কামিনী:
- দীনবন্ধু মিত্রের 'কমলে কামিনী' তাঁর শেষ রচনা এবং সর্বশেষ নাটক। 
- এ নাটকের পটভূমি কাছাড় অঞ্চল।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাজা,সমরকেতু, শশাঙ্কশেখর, গান্ধারী, সুশীলা, সুরবালা।

অন্যদিকে,
- 'টালা অভিনয়' নাটক রচনা করেন মীর মশাররফ হোসেন।
- 'কংসবধ' নাটক রচনা করেন রামনারায়ণ তর্করত্ন।
- 'সীতার বনবাস' রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।  

দীনবন্ধু মিত্র:
- তিনি ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
 -  নীল দর্পন,
 - নবীন তপস্বিন,
 - লীলাবত,
 - কমলে কামিনী। 

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।