বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৪২ / ২১১ · ৪,১০১৪,২০০ / ২১,১৩২

৪,১০১.
'জগতের যত বড় বড় জয়, বড় বড় অভিযান। মাতা ভগ্নি বধুদের ত্যাগে হইয়াছে মহান।' - কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) নারী
  2. খ) রাজা-প্রজা
  3. গ) সাম্যবাদী
  4. ঘ) কুলি-মজুর
সঠিক উত্তর:
ক) নারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নারী
ব্যাখ্যা
- 'জগতের যত বড় বড় জয়, বড় বড় অভিযান
মাতা ভগ্নি বধুদের ত্যাগে হইয়াছে মহান।' - কাজী নজরুল ইসলামের 'নারী' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
- 'নারী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী পুস্তিকার অন্তর্ভুক্ত।

                   নারী কবিতা
             – কাজী নজরুল ইসলাম

স্বর্ণ-রৌপ্যভার,
নারীর অঙ্গ-পরশ লভিয়া হয়েছে অলঙ্কার।
নারীর বিরহে, নারীর মিলনে‌ নর পেল কবি-প্রাণ
যত কথা হইল কবিতা, শব্দ হইল গান।
নর দিল ক্ষুধা, নারী দিল সুঢা,সুঢায় ক্ষুধায় মিলে’
জন্ম লভিছে মহামানবের মহাশিশু তিলে তিলে।
জগতের যত বড় বড় জয়, বড় বড় অভিযান
মাতা ভগ্নি বধুদের ত্যাগে হইয়াছে মহান।
কোন রণে কত খুন দিল নর, লেখা আছে ইতিহাসে
কত নারী দিল সিঁথির সিদুর, লেখা নাই তার পাশে।
কত মাতা দিল হৃদয় উপড়ি, কত বোন দিল সেবা
বীর স্মৃতি স্তম্ভের গায়ে লিখিয়া রেখেছে কেবা?
কোন কালে একা হয়নি ক জয়ী পুরুষের তরবারী
প্রেরণা দিয়েছে, শক্তি দিয়েছে বিজয় লক্ষী নারী।
রাজা করিতেছে রাজ্য শাসন, রাজারে শাসিছে রানী,
রানীর দরদে ধুইয়া গেছে রাজ্যের যত গ্লানি।
                                               (কবিতার শেষাংশ)


• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি বলা হয়।
- তিনি অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার নাগরিকত্ব প্রদান করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পার্শ্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় কাজী নজরুল ইসলামকে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা (প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যাথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১০২.
'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থটি কার লেখা?
  1. হুমায়ুন আহমেদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

• কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক ও সাহিত্য-সমালোচক।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলোঃ
- মানচিত্র (১৯৬১),
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ (১৯৬২),
- লেলিহান পান্ডুলিপি (১৯৭৫),
- নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ (১৯৮৩),
- সাজঘর (১৯৯০) ও
- শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৮৭)।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ'। এটি তাঁর মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত নাটকঃ
- মরক্কোর যাদুকর (১৯৫৯),
- মায়াবী প্রহর (১৯৬৩) ও
- ধন্যবাদ (১৯৫১),
- নিঃশব্দ যাত্রা (১৯৭২),
- নরকে লাল গোলাপ (১৯৭২) ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৪,১০৩.
সমর সেনের পিতামহ কে ছিলেন?
  1. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. গিরিশ্চন্দ্র সেন
  3. সুকুমার সেন
  4. অচিন্ত্যকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• সমর সেন:
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- ১৯৮৭ সালের ২৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২. বাংলাপিডিয়া।
৪,১০৪.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন-
  1. কবি ও ছান্দসিক
  2. কবি ও লোক সঙ্গীতকার
  3. কবি ও নাট্যকার
  4. কবি ও উপন্যাসিক
সঠিক উত্তর:
কবি ও ছান্দসিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি ও ছান্দসিক
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি 'ছন্দের জাদুকর' ও ' ছন্দোরাজ' নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী' প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১০৫.
'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতাটির কবি কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• ‘স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ - কবিতাটি লিখেছেন নির্মলেন্দু গুণ।
- এটি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে নিয়ে লেখা কবিতা।
- কবি এই ভাষণকে কবিতার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
------------------------
কবিতাটি শেষ হয়েছে এভাবে- 

"শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন৷
তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল,
হদৃয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার
সকল দুয়ার খোলা৷ কে রোধে তাঁহার বজ্রকন্ঠ বাণী?
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি:
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম৷’
-------
---------
সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের৷"।
 --------------------------- 
⇒ নির্মলেন্দু গুণ: 
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো : 
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• ইসক্রা,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভগলার তীরে,
- গীনসাবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়ালেখার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, ‘স্বাধীনতা, এ শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ - কবিতা।
৪,১০৬.
"ভলগার তীরে" ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• "ভলগার তীরে" ভ্রমণকাহিনি:
- ১৯৮২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভ্রমণ করেছিলেন নির্মলেন্দু গুণ। সেই স্মৃতিকে লিপিবদ্ধ করেছেন "ভলগার তীরে" গ্রন্থটিতে।
- এতে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বাস্তবচিত্র পরিস্ফুটিত হয়েছে। লেনিন সম্পর্কে তার নিজস্ব অভিমত ও সোভিয়েত জনগণ সম্পর্কে নতুন কিছু জানা যাবে।

গ্রন্থের ভূমিকায় লেখক বলেন-
যাঁর কল্যাণে আমার এই ভ্রমণ সম্ভব হয়েছে, তাঁকে নিয়েই প্রথম লিখলাম। 'ভলগার তীরে, যে জায়গাটায় লেনিনের জন্ম এবং তাঁর জীবনের প্রথম সতেরো বছর কেটেছে, সেই জায়গাটি নিয়েই আমার এই গ্রন্থ। মস্কো এবং লেনিনগ্রাড নিয়ে প্রচুর লেকা হয়েছে, কিন্তু উলিয়ানাভোস্ক সম্পর্কে জানার মতো বই আমাদের একটিও নেই। সেদিক থেকে বইটির অনন্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লেনিনের জীবনের প্রথম অধ্যায়টি জানা থাকলে, মানব-ইতিহাসের এই অনন্য প্রতিভাবে হৃদয়ঙ্গম করাটা সহজ ও আনন্দদায়ক হবে বলেই মনে করি।

উৎস: "ভলগার তীরে" ভ্রমণকাহিনি।
৪,১০৭.
“ফেরারী সূর্য” উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. রাবেয়া খাতুন
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. জাহানারা ইমাম
সঠিক উত্তর:
রাবেয়া খাতুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাবেয়া খাতুন
ব্যাখ্যা

- “ফেরারী সূর্য” মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটির রচয়িতা- রাবেয়া খাতুন। 
--------------
• “ফেরারী সূর্য” উপন্যাস নিয়ে কিছু কথা:
- রাবেয়া খাতুন রচিত “ফেরারী সূর্য” বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত অন্যতম প্রথমদিকের গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস। এতে ১৯৭১ সালের নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের শ্বাসরুদ্ধকর দিনগুলো, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা এবং সাধারণ মানুষের দুর্দশা ও সংগ্রামের চিত্র সাবলীল ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে পুরান ঢাকার জীবন, যুদ্ধের আতঙ্ক, অবরুদ্ধ পরিস্থিতি এবং মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম এই উপন্যাসে বাস্তবধর্মীভাবে ফুটে উঠেছে। “ফেরারী সূর্য” শুধু একটি যুদ্ধভিত্তিক কাহিনী নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মানুষের জীবন, অনুভূতি ও ত্যাগের এক বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে।
----------------  
• রাবেয়া খাতুন:
রাবেয়া খাতুন ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার। 
সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর বিক্রমপুরে (বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ৫০টিরও বেশি উপন্যাস এবং ৪০০টিরও বেশি ছোটগল্প রচনা করেছেন।
- সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৩ সালে একুশে পদক এবং ২০১৭ সালে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার লাভ করেন। 
- এছাড়াও তিনি ‘একাত্তরের নয় মাসে’ গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।
- তিনি ৩ জানুয়ারি ২০২১ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- 
- মধুমতী,
- সাহেব বাজার, 
- ফেরারী সূর্য (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
- ঘাতক রাত্রি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
- প্রথম বধ্যভূমি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
- বাগানের নাম মালনিছড়া,
- হানিফের ঘোড়া, 
-  মন এক শ্বেত কপোতী,
- অনন্ত অন্বেষা,
- রাজাবাগ, 
- অনেক জনের একজন,
- জীবনের আর এক নাম দিবস রজনী,
- বায়ান্ন গলির এক গলি,
- এই বিরহকাল,
- প্রিয় গুলশানা।

উৎস:
কালি ও কলম; 
দ্যা ডেইলি স্টার বাংলা পত্রিকা [ লিঙ্ক]। 

৪,১০৮.
সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য কাকে 'রায়বাহাদুর' উপাধি প্রদান করা হয়?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. মুহম্মদ এনামুল হক
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

• দীনেশচন্দ্র সেন:
- দীনেশচন্দ্র সেন (১৮৬৬-১৯৩৯) শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।

- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির।
- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খণ্ড, সম্পাদনা: ১৯১৪),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য (১৯২২),
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য (১৯২২),
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খণ্ড, ১৯৩৫),
- আশুতোষ-স্মৃতিকথা (১৯৩৬),
- বাংলার পুরনারী (১৯৩৯),
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান (১৯৪০)।

অন্যদিকে, 
• কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়-কে "বাংলার মিল্টন" বলা হয়। তিনি মূলত বাংলা ভাষায় মহাকাব্য রচনা এবং জন মিল্টনের মত মহাকাব্যিক শৈলী অনুসরণের জন্য এই উপাধিতে ভূষিত হন। 
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর উপাধি ছিলো- স্বপ্নাতুর কবি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪,১০৯.
কোনটি সার্থক মঙ্গলকাব্যের অংশ নয়?
  1. ক) শ্রুতিফল
  2. খ) মর্ত্যখন্ড
  3. গ) আত্মপরিচয়
  4. ঘ) বর্ণনাখন্ড
সঠিক উত্তর:
ঘ) বর্ণনাখন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বর্ণনাখন্ড
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য / উপ্যনাস মঙ্গলকাব্য হচ্ছে দেবদেবীর মাহাত্ন্য নির্ভর কাব্য।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন - মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ -
- বন্দনা,
- আত্নপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখণ্ড এবং
- শ্রুতিফল।

• বর্ণনাখণ্ড নামে কোন খণ্ড নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১১০.
“একটি কালো মেয়ের কথা” উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র- 
  1. ডেভিড আর্মস্ট্রং
  2. রাফায়েল
  3. নাজমা
  4. ববিতা 
সঠিক উত্তর:
নাজমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাজমা
ব্যাখ্যা

নাজমা উপন্যাসের মূল চরিত্র, যদিও আখ্যান ডেভিডের জবানবন্দির মাধ্যমে এসেছে। 
------------------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮–১৯৭১) ছিলেন বাংলা কথাসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ লেখক।
- পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুরের জমিদার পরিবারে এই সাহিত্যিকের জন্ম।
- সাধারণ মানুষের জীবন, যেমন বেদে, পটুয়া, লাঠিয়াল, চৌকিদার, বাগদী, বোষ্টম, ডোম প্রভৃতি সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর বাস্তব জীবনচিত্র তিনি গল্পে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প:
- ‘রসকলি’,
- ‘বেদেনী’,
- ‘ডাকহরকরা'।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- জলসাঘর,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন—ইত্যাদি।
--------------------------- 
“একটি কালো মেয়ের কথা” নিয়ে কিছু কথা: 
- “একটি কালো মেয়ের কথা” উপন্যাসটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে লিখেছেন।
- উপন্যাসে অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান যুবক ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর জবানবন্দির মাধ্যমে ২৫শে মার্চের ভয়াবহ ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। 

- “একটি কালো মেয়ের কথা”-এর প্রধান চরিত্র নাজমা।
- নাজমা একজন নির্যাতিত, ভাগ্যবিড়ম্বিত কিন্তু দৃঢ়চেতা কালো মেয়ে।
- লেখক নাজমার চরিত্রের মধ্য দিয়ে ১৯৭১-এর অসহায় বাঙালি নারীর প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন। 
- নাজমা ভিক্ষাজীবী হলেও তার চোখে জীবনের গভীর বোধ প্রতিফলিত হয়।
- গভীর জীবনবোধের প্রভাবে নাজমা হয়ে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের নীরব সাক্ষী ও প্রতীক।
- উপন্যাসটিতে  নাজমার করুণ প্রেমকাহিনী ও তুলে ধরা হয়েছিলো। 
- যুদ্ধ ও প্রেমের সংমিশ্রণে লেখা এই উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম দিকের বাংলা উপন্যাসগুলোর মধ্যে অন্যতম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৪,১১১.
“রমেশ” শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) পল্লী সমাজ
  2. খ) বিরাজবউ
  3. গ) চরিত্রহীন
  4. ঘ) গৃহদাহ
সঠিক উত্তর:
ক) পল্লী সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পল্লী সমাজ
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬-১৯৩৮) জন্মগ্রহণ করেন হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে।
• তাঁর বিখ্যাত ‘পল্লী সমাজ’ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ
- রমা,
- রমেশ,
- বেণী,
- বলরাম প্রমুখ।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- শ্রীকান্ত,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪,১১২.
'মুখরা রমণী বশীকরণ' - নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. জহির রায়হান
  2. শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু ) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট কমেডি। ।
- পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা। ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরােনা নামক স্থানের যুবক পেট্রুশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে।
- মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন :কাহিনিটি স্থুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভােগ্য।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,১১৩.
“যুগলাঙ্গুরীয়” গ্রন্থের রচিয়তা কে?
  1. ক) প্যারিচাঁদ মিত্র
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) মোশাররফ হোসেন
  4. ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস:
- যুগলাঙ্গুরীয়
- দুর্গেশনন্দিনী
- কপালকুন্ডলা
- চন্দ্রশেখর
- মৃণালিনী
- কৃষ্ণকান্তের উইল
- সীতারাম
- রজনী

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,১১৪.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা-
  1. বিলাসী
  2. সেঁজুতি
  3. মহেশ
  4. সতী
সঠিক উত্তর:
সেঁজুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেঁজুতি
ব্যাখ্যা
• "সেঁজুতি" কাব্যগ্রন্থ: 
- সেঁজুতি হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বাংলা কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের কাব্য রচনার অন্ত্যপর্বের অন্তর্গত একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। এতে সর্বমোট ২২-টি কবিতা রয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথ "সেঁজুতি" কাব্যগ্রন্থটি তাঁঁর বন্ধু ডাক্তার সার্ নীলরতন সরকারকে উৎসর্গ করেন।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ছোটগল্প- 
- বিলাসী,
- মহেশ,
- সতী, 

উৎস: "সেঁজুতি" কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১১৫.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রণসঙ্গীতটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. কালিকলম
  2. প্রগতি
  3. শিখা
  4. যুগবাণী
সঠিক উত্তর:
শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিখা
ব্যাখ্যা
• 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ ও রণসঙ্গীত:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে এই সঙ্গীত অন্তর্ভুক্ত আছে।
- রণসঙ্গীত হিসেবে মূল কবিতাটির ২১ চরণ গৃহীত।
- রণসঙ্গীতটি ‘নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্‌ চল্‌'। 

- সঙ্গীতটির কিছু চরণ:
‘চল্ চল্ চল্!/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,/ অরুণ প্রাতের
তরুণ দল-’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১১৬.
বিখ্যাত ‘তিলোত্তমা’ চরিত্রটি কার সৃষ্টি?
  1. জহির রায়হান
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সত্যজিৎ রায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• দুর্গেশনন্দিনী:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।

উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- বীরেন্দ্র সিংহ,
- ওসমান,
- জগৎসিংহ,
- তিলোত্তমা,
- আয়েশা,
- বিমলা প্রমুখ।

-------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১১৭.
মঙ্গলকাব্যের পাঁচটি অংশের মধ্যে কোনটি দেবতার মহিমা ও কার্য বর্ণনা করে?
  1. স্বর্গ খণ্ড
  2. বন্দনা
  3. আত্মপরিচয়
  4. মর্ত্যখণ্ড
সঠিক উত্তর:
স্বর্গ খণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর্গ খণ্ড
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্যের পাঁচটি অংশের মধ্যে দেবখণ্ড বা স্বর্গ খণ্ড অংশে মূলত স্বর্গীয় দেবতাদের মহিমা, কার্য, পৌরাণিক ও লৌকিক দেবতার পারস্পরিক সম্পর্ক, দেবতার শ্রেষ্ঠত্ব এবং স্বর্গীয় পটভূমিতে তাদের দ্বন্দ্ব ও চক্রান্ত বর্ণিত হয়। এখানে দেবতার পৃথিবীতে পূজা প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা হয়েছে।
-------------------------- 
মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য হলো মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি আখ্যানধর্মী কাব্য।
- এই কাব্যের মূল সাধারণত দেব-দেবী ও তাদের আখ্যানভাগ।
- এই যুগের কবিরা স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে কাব্য রচনা শুরু করতেন এবং প্রায়শই সর্বসিদ্ধিদাতা গণেশ, পিতা-মাতা বা রাজাদের স্তুতি দিয়ে কাহিনি শুরু হত।
- মঙ্গলকাব্যের কাহিনিতে নায়করা সাধারণত স্বর্গভ্রষ্ট বা শাপভ্রষ্ট দেবতা, যারা স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে মর্ত্যে মানুষ রূপে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাদের স্ত্রীও একইভাবে জন্ম নেন।
- মর্ত্যে তারা মানুষের মতো আচরণ করেন এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে দেবীর পূজা প্রচারের পরে শাপমুক্ত হয়ে আবার স্বর্গে ফিরে যান।

- মঙ্গলকাব্য সমাজ ও ধর্মের বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে।
- এতে দেখা যায় দুঃখের কাহিনি, বারমাসী গান, চৌতিশা, নারীর পতি নিন্দা, রন্ধনশিল্প ইত্যাদির বর্ণনা।
- কাব্যটি ছন্দপয়ার ও ত্রিপদী আকারের হয়, যা মূলত পাঁচালি ধরনের এবং মঞ্চে উপস্থাপন করা হত।

- একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত পাঁচটি অংশ থাকে:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখণ্ড, এবং
- শ্রুতিফল।

- মঙ্গলকাব্যকে দুটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
- প্রথম হলো লৌকিক ধারা, যা খাঁটি মঙ্গলকাব্য হিসাবে পরিচিত। 
- এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত-
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর),
- সারদামঙ্গল,
- শিবমঙ্গল,
- শীতলামঙ্গল,
- রায়মঙ্গল,
- ষষ্ঠীমঙ্গল,
- সূর্যমঙ্গল।

- দ্বিতীয় হলো পৌরাণিক ধারা, যা বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক।
- এর মধ্যে রয়েছে- 
- অন্নদামঙ্গল,
- গৌরীমঙ্গল,
- ভবানীমঙ্গল,
- দুর্গামঙ্গল,
- কমলামঙ্গল,
- গঙ্গামঙ্গল,
- চণ্ডিকামঙ্গল।

- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা হলো তিনটি—
- মনসামঙ্গল, যা তুলনামূলকভাবে প্রাচীনতম,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- এবং তুলনামূলকভাবে আধুনিক- অন্নদামঙ্গল। 
-------------------------- 
অন্যদিকে, 
- 'বন্দনা অংশ'- বিভিন্ন দেব-দেবী, গুরু এবং সম্মানীয় ব্যক্তিদের স্তুতি বা অর্চনাকে কেন্দ্র করে রচিত।

- ‘আত্মপরিচয়’ অংশে কবি নিজের পরিচয়, ভৌগোলিক অবস্থান, বংশপরিচয়, এবং স্বপ্নাদেশ বা দৈবনির্দেশে গ্রন্থ রচনার কারণ বর্ণনা করেন।

- মঙ্গলকাব্যের ‘মর্ত্যখণ্ড’ (বা নরখণ্ড/মানুষের কাহিনী) অংশটি মূলত লৌকিক দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচার এবং মর্ত্যলোকে তাঁদের পূজা প্রতিষ্ঠা করার কাহিনী নিয়ে রচিত। এই অংশে বর্ণিত হয় কিভাবে লৌকিক দেব-দেবী মানুষের দুঃখ-কষ্ট দূর করে পূজা আদায় করেন।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,১১৮.
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।' - চরণগুলি কে লিখেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ - সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে ‘ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক।
- ব্রিটিশ বিরােধী রচনা এখানে ছাপা হতাে।
- নজরুলের কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে।
- এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।
 
রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে 
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।'
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৬।
৪,১১৯.
'সাহিত্যরত্ন' উপাধিটি নিচের কোন সাহিত্যিকের?
  1. আবদুল করিম
  2. রামনারায়ণ
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. ভারতচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
• নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন।
• সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি 'সাহিত্যরত্ন' উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে,
- আবদুল করিম এর উপাধি সাহিত্যবিশারদ।
- রামনারায়ণ এর উপাধি তর্করত্ন।
- ভারতচন্দ্র এর উপাধি রায়গুণাকর।

• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রায়গঞ্জের হাটি কুমরুল গ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন।
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

• তাঁর উপন্যাস হলো:
- আনোয়ারা,
- প্রেমের সমাধি,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমণি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাইনা ও
- মেহেরুন্নিসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১২০.
কোনটি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত প্রবন্ধ?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. উচ্ছ্বাস
  3. নব উদ্দীপনা
  4. তুর্কি নারী জীবন
সঠিক উত্তর:
তুর্কি নারী জীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুর্কি নারী জীবন
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম বলেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন।
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি জমিদার ও মহাজন বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন।
- তিনি ১৯৩১ সালের ১৭ই জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারা-বাঈ,
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,১২১.
মুক্তিযুদ্ধের উপর রচিত প্রথম উপন্যাস রচনা করেন কে?
  1. জহির রায়হান
  2. আনোয়ার পাশা
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম উপন্যাস রাইফেল রোটি আওরাত
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার ' রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪,১২২.
'সুচরিতা এবং কৃষ্ণদয়াল' চরিত্র দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. গোরা
  2. নৌকাডুবি
  3. ঘরে-বাইরে
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
গোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরা
ব্যাখ্যা
'গোরা' উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১২৩.
‘আত্মঘাতী বাঙালি' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. ক) অশোক মিত্র
  2. খ) অতুল সুর
  3. গ) নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) নীরদচন্দ্র চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নীরদচন্দ্র চৌধুরী
ব্যাখ্যা
নীরদচন্দ্র চৌধুরী রচিত গ্রন্থ- ‘আত্মঘাতী বাঙালী’। 
- আহমদ শরীফ রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ গবেষণা গ্রন্থ - বিচিত চিন্তা (১৯৮৬), স্বদেশ অন্বেষা (১৯৭০), বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, স্বদেশ চিন্তা ইত্যাদি।
- 'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থটির রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ- 'বাঙালির বাংলা'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,১২৪.
মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজ ব্যবস্থার চিত্র নিয়ে রচিত 'আর কতদিন' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. রশীদ হায়দার
  2. আনিসুল হক
  3. জহির রায়হান
  4. শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• 'আর কতদিন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজ ব্যবস্থার চিত্র পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'আর কতদিন' উপন্যাসে।
- যুদ্ধকালীন বাস্তবতা, লাঞ্ছিত মানবতার আর্তি ও শান্তির স্বপক্ষে জোরালো আবেদন জানিয়ে জহির রায়হানের 'আর কতদিন' উপন্যাসটি ১৯৭০ সালে প্রথম প্রকাশ পায়।
- গ্রন্থটির প্রকাশকাল ও ঘটনা বিন্যাসের আলোকে বুঝতে পারা যায় যে মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন মুখর প্রেক্ষাপটে আসন্ন যুদ্ধের একটি ভয়াবহ সম্ভাবনা লেখকের হৃদয়ে উদয় হয়েছিল।
- শান্তি ও ভালোবাসার জন্য মানুষের চিরন্তন অন্বেষা উপন্যাসটির মূল উপজীব্য। আর উপন্যাসটির চরিত্র ইভা ও তপু শাশ্বত শান্তি ও ভালোবাসার মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠে।

--------------------
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

জহির রায়হানের অন্যান্য উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১২৫.
'অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যের চেয়েও মুক্তি বড়।'- উক্তিটি কোন প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. জীবন ও বৃক্ষ
  2. বই পড়া
  3. শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
  4. সংস্কৃতি কথা
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
ব্যাখ্যা
• 'অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যের চেয়েও মুক্তি বড়।' - উক্তিটি মোতাহার হোসেন চৌধুরীর 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত।

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব:
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ গ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশ বিশেষ।
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করেছেন।
- প্রবন্ধে বলা হয়েছে - "মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। জীবসত্তা সেই ঘরের নিচের তলা, আর মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব উপরের তলা। জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা, শিক্ষাই আমাদের মানবসত্তার ঘরে নিয়ে যেতে পারে।"
- 'অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যের চেয়েও মুক্তি বড়।' - উক্তিটি এই প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে ১৯০৩ সালে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।
- ১৯৫৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

অন্যদিকে, 
• ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
• প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ ‘বই পড়া'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১২৬.
’অভয়া' চরিত্রটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসে রয়েছে?
  1. দেবদাস
  2. শ্রীকান্ত
  3. চরিত্রহীন
  4. পথের দাবী
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা
'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনী নামে প্রকাশ পায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- শ্রীকান্ত, অভয়া, রোহিণী, গুরুদেব, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চরিত্রহীন,
- পণ্ডিতমশাই,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- শ্রীকান্ত,
- পরিণীতা,
- বিরাজবৌ,
- দত্তা,
- চরিত্রহীন,
- বামুনের মেয়ে,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেনাপাওনা,
- পথের দাবী,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১২৭.
জীবনানন্দ দাশকে ‘প্রকৃতির কবি’ উপাধি কে দিয়েছিলেন?  
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশকে ‘প্রকৃতির কবি’ উপাধি দিয়েছিলেন - বুদ্ধদেব বসু।
-----------------------------------
বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু  (১৯০৮–১৯৭৪) ছিলেন পঞ্চপাণ্ডব এর একজন।
- তিনি কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, অনুবাদক ও সম্পাদক হিসেবে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন।
- বুদ্ধদেব বসু ‘কবিতা’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- তাঁর আত্মজীবনীমূলক রচনাগুলোর মধ্যে ‘আমার ছেলেবেলা’, ‘আমার যৌবন’ এবং ‘আমাদের কবিতাভবন’ উল্লেখযোগ্য।
- তিনি ছিলেন রবীন্দ্রোত্তর বাংলা সাহিত্যের এক সব্যসাচী প্রতিভা।
----------------------------------------------
জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দাশ দুজনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- তাঁকে বলা হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’, কারণ তাঁর কাব্যে বাংলার প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও স্মৃতিমগ্ন সৌন্দর্য গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।   
- এছাড়াও তাঁকে বলা হয়:
• ‘ধূসরতার কবি’,
• ‘নিঃসঙ্গতার কবি’,
• ‘তিমির-হননের কবি’,
• পরাবাস্তবতার কবি,
• বিপন্ন মানবতার নীলকন্ঠ কবি,
• শুদ্ধতম কবি, 
এবং বুদ্ধদেব বসু তাঁকে উপাধি দিয়েছিলেন ‘প্রকৃতির কবি’।

• তার উপন্যাসগুলো হলো : 
- কল্লাণী,
- মাল্যবান,
- বিভা,
- সুতীর্থ ,
- চারজন।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- ‘বনলতা সেন’,
- ‘রূপসী বাংলা’,
- ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’,
- ‘ঝরাপালক’,
- ‘সাতটি তারার তিমির’,
- বেলা অবেলা কালবেলা,
- রূপসী বাংলা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ - কবিতার কথা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৪,১২৮.
কোনটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত প্রথম কাব্য?
  1. পুনর্জন্ম
  2. ত্রিবেণী
  3. আলেখ্য
  4. আর্যগাথা
সঠিক উত্তর:
আর্যগাথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্যগাথা
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত প্রথম কাব্য 'আর্যগাথা'। কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে।
- লেখকের ছাত্রজীবনে কাব্যটি লিখিত ও প্রকাশিত হয়।

-----------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:

- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) কবি, নাট্যকার, গীতিকার। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়। ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।

দ্বিজেন্দ্রলালের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
• কাব্য:
- আর্য্যগাথা,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

• নকশা-প্রহসন:
- একঘরে,
- সমাজ-বিভ্রাট ও কল্কি অবতার,
- এ্যহস্পর্শ,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- পুনর্জন্ম।

• পৌরাণিক নাটক:
- পাষাণী,
- সীতা,
- ভীষ্ম।

• সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১২৯.
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল?
  1. ক) নেপালের রাজ দরবার থেকে
  2. খ) গোয়ালঘর থেকে
  3. গ) পাঠশালা থেকে
  4. ঘ) মন্দির থেকে
সঠিক উত্তর:
খ) গোয়ালঘর থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গোয়ালঘর থেকে
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে এর পুঁথি
আবিষ্কার করেন।
- ১৩২৩ বঙ্গাব্দে (১৯১৬) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নামে বসন্তরঞ্জনের সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে পুঁথিটি মুদ্রিত হয়। - শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো
- রাধা, কৃষ্ণ ও বড়াই। - রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু ।
- এটি মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,১৩০.
'জাফরানী রং পায়রা' আহসান হাবীব রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবন্ধগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
অরণ্য নীলিমা, জাফরানী রং পায়রা ও রানী খালের সাঁকো আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস। এছাড়াও তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ, ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দুই হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৪,১৩১.
নিচের কোনটি চেতনা প্রবাহরীতির উপন্যাস?
  1. সুড়ঙ্গ
  2. উজানে মৃত্যু
  3. নয়নচারা
  4. কাঁদো নদী কাঁদো
সঠিক উত্তর:
কাঁদো নদী কাঁদো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁদো নদী কাঁদো
ব্যাখ্যা
• 'কাঁদো নদী কাঁদো' উপন্যাস:
- ১৯৬৮ সালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি উপন্যাস।
- আঙ্গিক প্রকরণে পাশ্চাত্যের প্রভাব থাকলেও এর সমাজজীবন, পরিবেশ ও চরিত্রাদি স্বদেশীয়।
- তবারক ভূঁইয়া নামে এক স্টিমারযাত্রীর মুখে বিবৃত কুমুরডাঙ্গার ছোট হাকিম মুহাম্মদ মুস্তফার জীবনালেখ্য ও অন্তর্জীবনের ইতিকথা এর বিষয়বস্তু।
- প্রকৃতপক্ষে তা মুহাম্মদ মুস্তফারই অবচেতন মনের বিবৃতি।
- এরূপ আঙ্গিকের জন্য চরিত্রের মতো আখ্যানভাগও আপাত জটিল ও খাপছাড়া বলে প্রতিভাত হয়।
- একদিকে নিয়তি তাড়িত মুহাম্মদ মুস্তফার করুণ জীবনোপাখ্যান।
- অপরদিকে শুকিয়ে যাওয়া বাকাল নদীর প্রভাবতাড়িত কুমুরডাঙ্গার মানুষের ব্যতিব্যস্ত জীবনচিত্র জীবন ও নিসর্গ, বাস্তব ও পরাবাস্তব, মানবচৈতন্য ও অবচেতনা, বিশ্বাস ও সংস্কার সবকিছু মিলে অস্তিত্ববাদ ও নিয়তিবাদের সমন্বয়ে এক অভিনব ও জটিল শৈল্পিক নৈপুণ্যে গ্রন্থখানি বাংলা উপন্যাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত গল্পগ্রন্থ 'নয়নচারা'।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত নাটক 'উজানে মৃত্যু' এবং'সুড়ঙ্গ'।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রাবস্থায় তিনি 'ভরের আলো' নামের হাটে লেখা পত্রিকা সম্পাদন করেন।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু
- দি আগলি এশিয়ান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,১৩২.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'কবি' গ্রন্থটিতে কোন্ বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে?
  1. অসম ভালোবাসা
  2. আদিবাসীদের জীবন চিত্র
  3. ডোম সম্প্রদায়ের জীবন কাহিনী
  4. পঞ্চাশের মন্বন্তর
সঠিক উত্তর:
ডোম সম্প্রদায়ের জীবন কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডোম সম্প্রদায়ের জীবন কাহিনী
ব্যাখ্যা

• 'কবি' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- 'কবি' উপন্যাসটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা দ্বাদশ উপন্যাস। এ উপন্যাসটি প্রকৃতপক্ষে তাঁর লেখা একটি পূর্ব-প্রকাশিত ছোটগল্পের বিস্তৃত রূপ।
- রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় এর সম্পাদনায় প্রকাশিত প্রবাসী মাসিকপত্রে গল্পটি ১৯৪১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগে "কবি" উপন্যাসটি পাটনা থেকে প্রকাশিত প্রভাতী পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ১৯৪২ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। কবি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৪৩ সালে।
- এই উপন্যাসে ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র নিতাইচরণ। 
- এই উপন্যাসের 'জীবন এতো ছোট ক্যানে?' সংলাপটি ক্ল্যাসিক মর্যাদা পেয়েছে। 

----------------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ। তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসসমুহ: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- পঞ্চগ্রাম,
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'কবি' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,১৩৩.
'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. চিত্তরঞ্জন দাস
  2. সমরেশ বসু
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা - কাজী নজরুল ইসলাম।

'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ:

- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালে। 
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ আষাঢ় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ দার্জিলিং এ মৃত্যুবরণ করেন।
- এ মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে কবি সমকালীন পত্রিকায় কবিতা লিখেন। 
- এসকল কবিতা নিয়ে 'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ বের করেন।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৪,১৩৪.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে ভারত সরকার কত সালে “পদ্মভূষণ” উপাধি প্রদান করে?
  1. ক) ১৯৩১
  2. খ) ১৯৩৩
  3. গ) ১৯৩৫
  4. ঘ) ১৯৩৬
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৩৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৩৬
ব্যাখ্যা
ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে এক অনবদ্য রচনা - The Origin and Development of Bengali Language (ODBL)। ১৯৩৬ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মভূষন উপাধিতে ভূষিত করেন। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৪,১৩৫.
‘ইবলিশ’ নাটকটির রচয়িতা-
  1. ক) মামুনুর রশিদ
  2. খ) মাহমুদুল হক
  3. গ) মীর মশাররফ হোসেন
  4. ঘ) মমতাদি
সঠিক উত্তর:
ক) মামুনুর রশিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মামুনুর রশিদ
ব্যাখ্যা
• ‘ইবলিশ’ নাটকটির রচয়িতা মামুনুর রশিদ।

- মামুনুর রশিদ ১৯৪৮ সালের ১৯শে ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মামুনুর রশিদ মূলত একজন নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।

তাঁর প্রকাশিত নাটকগুলো হলো : 
- ওরা কদম আলী
- ওরা আছে বলেই
- মে দিবস
- ইবলিশ
- এখানে নোঙর
- গিনিপিগ
- সমতট
- পাথর
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

- ১৯৭৮ সালে ‘ওরা কদম আলী’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে মামুনুর রশিদের আবির্ভাব ঘটে নাট্যকার হিসেবে।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮২) এবং আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯০)।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৩৬.
'নবান্ন' নাটকের বিষয়বস্তু কী?
  1. সাঁওতাল বিদ্রোহ
  2. গণ অভ্যুত্থান
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. পঞ্চাশের মন্বন্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চাশের মন্বন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চাশের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা
'নবান্ন' নাটক:
- এটি বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন।
- এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন।

বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন। এই আন্দোলনকে 'থার্ড থিয়েটার' নামেও অভিহিত করা হয়।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক।
- তিনি নাটক রচনায় মার্কসবাদকে প্রাধান্য দেন।
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
- কলকাতার আশুতোষ কলেজ ও রিপন কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি জাতীয় আন্দোলনে যোগ দেন এবং মহিষবাথানে লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন।
- নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক বিজন ভট্টাচার্য গণজীবনের সংগ্রাম ও দুঃখ-দুর্দশা, শোষণ-বঞ্চনা, প্রগতিশীল চিন্তা ও সমাজবোধ নিয়ে নাটক রচনা করে এবং এ ক্ষেত্রে তিনি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পটভূমিকায় তিনি রচনা করেন জীয়নকন্যা নাটক। এছাড়া তাঁর আরও দুটি নাটক হলো মরাচাঁদ ও কলঙ্ক।

তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,১৩৭.
'অতীত জীবনের স্মৃতি' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলী
  3. গ) আহসান হাবীব
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন এর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ অতীত জীবনের স্মৃতি। কচি পাতা তাঁর শিশুসাহিত্য ও দৃষ্টিকোণ তাঁর প্রবন্ধ সংকলন। পলাশী থেকে পাকিস্তান গ্রন্থের রচিতও তিনি। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৪,১৩৮.
বন্দে আলী মিয়া রচিত উপন্যাস -
  1. মধুমতীর চর
  2. পদ্মানদীর চর
  3. অরণ্য গোধূলি
  4. ময়নামতীর চর
সঠিক উত্তর:
অরণ্য গোধূলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরণ্য গোধূলি
ব্যাখ্যা

 • বন্দে আলী মিয়া রচিত উপন্যাস - অরণ্য গোধূলি।

বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- তিনি ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কিছুদিন ইসলাম দর্শন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার পর কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
- দেশ-বিভাগের পর তিনি ঢাকা ও রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে চাকরি করেন।

বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্য:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী;

বন্দে আলী মিয়া রচিত উপন্যাস:
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
- শেষ লগ্ন,
- অরণ্য গোধূলি,
- নীড়ভ্রষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,১৩৯.
'গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা' পত্রিকাটি প্রথম কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. কানাহরি দত্ত
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. হরিনাথ মজুমদার
সঠিক উত্তর:
হরিনাথ মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিনাথ মজুমদার
ব্যাখ্যা
• গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা:
- বাংলার মফস্বল থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র মাসিক 'গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা'।
- ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন নদীয়া বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থেকে কুমারখালী বাংলা পাঠশালা'র প্রধান শিক্ষক হরিনাথ মজুমদারের (কাঙাল হরিনাথ) সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
- প্রাথমিকভাবে এটি কলকাতার গিরিশ বিদ্যারত্ন প্রেসে ছাপা হতো। প্রকাশনাটি ১৮৬৪ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মথুরানাথ প্রেসে স্থানান্তরিত হয়। এরপর কুষ্টিয়া থেকে সংবাদ পরিবেশন করা হতো। তবে বর্তমানে আর পত্রিকাটির অস্তিত্ব নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৪০.
কোনটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. ব্যথার দান
  2. দোলনচাঁপা
  3. সোনার তরী
  4. শিউলিমালা
সঠিক উত্তর:
সোনার তরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনার তরী
ব্যাখ্যা
• 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থ: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।
- 'সোনার তরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা।
- এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন।
- সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত।
- এর অধিকাংশ পঙক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।

এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো :
- সোনার তরী,
- বিম্ববতী,
- বর্ষাযাপন,
- সুপ্তোত্থিতা,
- হিং টিং ছট,
- বসুন্ধরা,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা।

----------------
অন্যদিকে,
- তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: দোলনচাঁপা। 

গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- শিউলিমালা। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)।
৪,১৪১.
'গঙ্গা' উপন্যাসের পটভূমি প্রধানত কী বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে?
  1. রাজনীতি
  2. জেলেজীবন
  3. শহুরে জীবন
  4. কৃষিজীবন
সঠিক উত্তর:
জেলেজীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেলেজীবন
ব্যাখ্যা
'গঙ্গা' উপন্যাস:
- 'গঙ্গা' উপন্যাসটি সমরেশ বসুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত।
- গঙ্গার পটভূমি একটাই, জল-জাল-জেলে; বিশেষত অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের (মাছমারা) জীবনসংগ্রামের কাহিনি। গঙ্গা উপন্যাসের চরিত্রগুলো সামনে অতটা উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়নি।
- সমরেশ বসুর মূল বিষয় চরিত্র চিত্রণ নয়, মূল বিষয় জেলেজীবন।
- জেলেজীবনের সংগ্রাম চিত্রণ করতে যা যা প্রয়োজন, তা করেছেন। চরিত্রের ক্ষেত্রেও তাই।
- এখানে মোটা দাগে যারা রয়েছে: সাইদার নিবারণ, নিবারণের ছোট ভাই পাঁচু ও ছেলে বিলাস, বশীর, সয়ারাম, পাচী (ছায়া), রসিক, দুলাল; অপরদিকে অমর্তের বউ, দামিনী, হিমি, হিমির সখী আতর, মহাজন ব্রজেন ঠাকুর প্রমুখ।
- আপাতদৃষ্টিতে এই উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা হলো বিলাস ও হিমি। কিন্তু সব চরিত্র যার ছায়া অবলম্বনে, তিনি হলো নিবারণ। সেদিক থেকে নিবারণ হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৪২.
'মাল্য ও নির্মাল্য' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. কামিনী রায়
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• 'মাল্য ও নির্মাল্য' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - কামিনী রায়।
- এটি ১৯১৩ সালে প্রকাশিত হয়।

----------------
• কামিনী রায়:

- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- তিনি 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- মাল্য ও নির্মাল্য, 
- অশোক সঙ্গীত (সনেট সংগ্রহ),
- অম্বা (নাট্যকাব্য)
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে, 
- একলব্য,
- দ্রোণ-ধৃষ্টদ্যুম্ন,
- শ্রাদ্ধিকী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৪৩.
'আলবেরুনী' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. খ) সত্যেন সেন
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) সিকান্দার আবু জাফর
সঠিক উত্তর:
খ) সত্যেন সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালে প্রকাশিত সত্যেন সেন রচিত জীবন ভিত্তিক উপন্যাস 'আলবেরুনী'। বইটির পাণ্ডুলিপি তিনি জেলে বসে লিখেছেন।

সত্যেন সেন রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ভোরের বিহঙ্গী, ‌
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড,
- পদচিহ্ন,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ, ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৪৪.
ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে কোন প্রতিষ্ঠান? 
  1. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ 
  2. সংস্কৃত কলেজ 
  3. হিন্দু কলেজ 
  4. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় 
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত কলেজ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত কলেজ 
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,১৪৫.
ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২৬ সালে
  2. ১৯৩৮ সালে
  3. ১৯৩৬ সালে
  4. ১৯২৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৩৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩৮ সালে
ব্যাখ্যা
• চর্যার তিব্বতি অনুবাদ:
- ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।

- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'। নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন। সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন।

- কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

- চর্যাপদের পুঁথিটি যে-রূপে পাওয়া গেছে তাতে বোঝা যায়, এটি বিভিন্ন সময়ে আবির্ভূত বিভিন্ন কবির রচিত কবিতা-সমষ্টির সংকলন। কবিতাগুলোর বক্তব্য ও প্রকাশভঙ্গিতে যে দুর্বোধ্যতা ছিল তা দূর করার জন্য মুনিদত্ত পদগুলোকে একত্রিত করে সংস্কৃত ভাষায় পদগুলোর সহজবোধ্য টীকা রচনা করেছিলেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,১৪৬.
'যুগবাণী' প্রবন্ধ সংকলনটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সমাচার দর্পণ
  2. নবযুগ
  3. সবুজপত্র
  4. বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর:
নবযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবযুগ
ব্যাখ্যা

'যুগবাণী' প্রবন্ধ সংকলন:
- 'নবযুগ' পত্রিকায় লেখা কাজী নজরুল ইসলামের কয়েকটি প্রবন্ধের সংকলন 'যুগবাণী'।
- নজরুলের প্রবন্ধগ্রন্থ যুগবাণী বাজেয়াপ্ত হয় ২৩ নভেম্বর ১৯২২। একই দিনে নজরুলকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করে কলকাতায় আনা হয়।
- বিচারাধীন বন্দি হিসেবে ১৯২৩ সালের ৭ জানুয়ারি নজরুল আত্মপক্ষ সমর্থন করে চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট সুইনহোর আদালতে যে জবানবন্দী প্রদান করেন, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তা 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' নামে সাহিত্য-মর্যাদা পেয়ে আসছে। ১৬ জানুয়ারি বিচারের রায়ে নজরুল এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।
- তাঁকে 'বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,১৪৭.
'ফেরদৌসি চরিত' গদ্যগ্রন্থটি রচনা করেন?
  1. বিষ্ণু দে
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. বিজন ভট্টাচার্য
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুসলিম সমাজের কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, গোঁড়ামি, পশ্চাৎপদতা ও আত্মবিস্মৃতির বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ ও সংগঠনের মাধ্যমে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি মনসুর,
- ফেরদৌসি চরিত ইত্যাদি।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রচিত উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৪৮.
মোজাম্মেল হক রচিত কাব্যগ্রন্থটির নাম কী?
  1. দরাফ খান গাজী
  2. হজরত মহাম্মদ
  3. মহর্ষি মনসুর
  4. শালবনের রাজা
সঠিক উত্তর:
হজরত মহাম্মদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হজরত মহাম্মদ
ব্যাখ্যা
- মোজাম্মেল হকের রচিত কাব্যগ্রন্থটির নাম - হজরত মহাম্মদ।

• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি মোসলেম ভারত সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন। 
- ১৯৩৩ সালের ৩০ নভেম্বর শান্তিপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
-  কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- হজরত মহাম্মদ,
- জাতীয় ফোয়ারা,

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ: 
- মহর্ষি মনসুর,
- ফেরদৌসী চরিত,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৪৯.
নিচের কোনটি অন্ধকার যুগের সাহিত্যকর্ম?
  1. মুক্তল হোসেন
  2. কলিমা জালাল
  3. গুলে বকাওলী
  4. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
সঠিক উত্তর:
কলিমা জালাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলিমা জালাল
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর ‘কলিমা জালাল’ বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা',
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'।

• হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’।
 
অন্যদিকে,
• ‘মুক্তল হোসেন’ হচ্ছে মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।
• সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল ও গুলে বকাওলী মধ্যযুগের রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সাহিত্যকর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: মিথ বনাম বাস্তবতা।
৪,১৫০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয়
  2. খ) বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
  3. গ) বৃহৎবঙ্গ 
  4. ঘ) বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত 
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর-  বঙ্গভাষা ও সাহিত্য 

- বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (১৮৯৬)- বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।
- বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয় এর বর্ণনা রয়েছে।
- বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (১৯১৪), বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, বৃহৎবঙ্গ (প্রাচীনকাল থেকে পলাশী যুদ্ধ পর্যন্ত বাংলার ইতিহাস)– গ্রন্থগুলো ড. দীনেশচন্দ্র সেন রচনা করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত- মুহাম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান কর্তৃক রচিত।
- দীনেশচন্দ্র সেন রচিত আরো উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ হলো: History of bengali Language and Literature, বাংলার পুরনারী, প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান, হিন্দু সমাজ ও বৈষ্ণব ধর্ম, ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য, রামায়ণী কথা, কৃত্তিবাসী রামায়ণ।
- দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদনা করেন– মৈমনসিংহ গীতিকা এবং পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৪,১৫১.
'মেঘনাদবধ কাব্যে'র কাহিনির সময়সীমা?
  1. ক) দুই দিন তিন রাত
  2. খ) দুই দিন দুই রাত
  3. গ) তিন দিন দুই রাত
  4. ঘ) তিন দিন তিন রাত
সঠিক উত্তর:
গ) তিন দিন দুই রাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তিন দিন দুই রাত
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'
- এটি তাঁর রচিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ'র ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। 
- ১৮৫৭ সালের সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন। 
- নয় সর্গে রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে। 
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৫২.
‘গরিবের মেয়ে’ কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. ক) আত্মজীবনীমূলক
  2. খ) কাব্যধর্মী
  3. গ) আঞ্চলিক
  4. ঘ) সামাজিক
সঠিক উত্তর:
ক) আত্মজীবনীমূলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আত্মজীবনীমূলক
ব্যাখ্যা
আনোয়ারা, প্রেমের সমাধি, গরিবের মেয়ে, মেহেরুন্নেছা উপন্যাসগুলোর রচয়িতা মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন। উৎস: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৪,১৫৩.
সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা হয় চর্যার কোন কবিকে?
  1. কুক্কুরীপা 
  2. বীণাপা 
  3. লুইপা 
  4. কাহ্নপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা

• কাহ্নপা:
- চর্যাপদের কবিগণের মধ্যে সর্বাধিক পদরচয়িতার গৌরবের অধিকারী কাহ্নপা। তাঁর তেরটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে গৃহীত হয়েছে। এই সংখ্যাধিক্যের পরিপেক্ষিতে তাঁকে কবি ও সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা যায়।

- কাহ্নপা রচিত পদ সংখ্যা-১৩ টি, কিন্তু প্রাপ্ত পদ সংখ্যা-১২ টি। তার রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- কানু পা কৃষ্ণপাদ ইত্যাদি নামেও তিনি পরিচিত। বিভিন্ন পদে কাহ্ন, কাহ্ন, কাহ্নু, কাহ, কাহ্নি, কাহ্নিলা, কাহ্নিল্য প্রভৃতি ভণিতা লক্ষ করা যায়।

- খ্রিস্টিয় অষ্টম শতকে কানু পার আবির্ভাব হয়েছিল বলে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মনে করেন। কাহ্নপার বাড়ি ছিল উড়িষ্যায়, তিনি সোমপুর বিহারে বাস করতেন। রাহুল সংকৃত্যায়ন কাহ্ন পা বা কৃষ্ণ পাদ বা কৃষ্ণাচার্য পাদ বা কৃষ্ণবজ্র পাদকে অভিন্ন ব্যক্তি মনে করেন। তিনি দেব পালের রাজত্বকালে বর্তমান ছিলেন। তাঁর জীবৎকালের ঊর্ধ্বসীমা ৮৪০ সাল তিনি বর্ণে ব্রাহ্মণ এবং ভিক্ষু ও সিদ্ধ। তিনি পণ্ডিত-ভিক্ষু নামে খ্যাত ছিলেন।

- চর্যাপদ ছাড়াও তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন। বিষয়বস্তুর বিচারে বিচারে কাহ্ন পা সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের যোগী ছিলেন বলে অনুমিত হয়। ড. সুকুমার সেনের মতে, 'কাঙ্গুর চর্যাগীতির রচনারীতিতে অস্পষ্টতা নাই।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৪,১৫৪.
'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি'- বিখ্যাত উক্তিটি কার রচনা?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুকুমার রায়
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি। তাঁকে কিশোরকবি বলা হয়।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) 'কিশোর সভা' বিভাগ সম্পাদনা করতেন।

- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু। তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।

- 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি'- সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- অভিযান,
- মিঠেকড়া,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৫৫.
কোনটি  মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস?
  1. ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
  2. কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
  3. জ্বলো চিতাবাঘ
  4. সব কিছু ভেঙে পড়ে
সঠিক উত্তর:
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
ব্যাখ্যা

• 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস:
- হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস- 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' (১৯৯৪)।
- এই উপন্যাস প্রকাশের মধ্য দিয়ে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রাশেদকে উপন্যাসটি উৎসর্গ করা হয়।

----------------
• হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস:
- আব্বুকে মনে পড়ে,
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল,
- সব কিছু ভেঙে পড়ে [হুমায়ুন আজাদের 'সব কিছু ভেঙ্গে পড়ে'র বিষয় নারীপুরুষের শারীরিক ও হৃদয়সম্পর্কের কাঠামোটি।]
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- রাজনীতিবিদগণ,
- কবি অথবা দণ্ডিত পুরুষ,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক)।

• হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে'
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস।

৪,১৫৬.
'পদ্মরাগ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  2. সুফিয়া কামাল
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস। এটি ১৯২৪ সালে প্রাকশিত হয়।
- এই উপন্যাসে মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
- অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ উপন্যাসে।
- 'পদ্মরাগ' উৎসর্গ করা হয় তাঁর জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, দুই খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),
- সুলতানার স্বপ্ন (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৫৭.
‘নদী নিঃশেষিত হলে’ আনোয়ার পাশা রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘নদী নিঃশেষিত হলে’ আনোয়ার পাশা রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

⇒ আনোয়ার পাশা:

- আনোয়ার পাশা ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তাঁর জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
- তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার। 
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়ার যায়।

• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

• গল্পগ্রন্থ: নিরুপায় হরিণী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৫৮.
আবু ইসহাক সম্পাদিত অভিধান কোনটি?
  1. বানান অভিধান
  2. সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান
  3. আঞ্চলিক ভাষার অভিধান
  4. সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান
সঠিক উত্তর:
সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান
ব্যাখ্যা
• আবু ইসহাক ‘সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান’ (২ খণ্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন।

• ‘সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান’:

- অভিধান প্রণেতা হিসেবেও আবু ইসহাকের একটি বিশিষ্ট পরিচয় আছে। 
- তাঁর প্রণীত অভিধানের বিশেষত্ব হলো শব্দের শুধু অর্থ নয়, সব ধরনের প্রতিশব্দ বা সমর্থক প্রদান।
- তাঁর অভিধানে ‘অন্ধকার’ শব্দের ১২৭টি সমর্থক শব্দ আছে।

• আবু ইসহাক:
- তিনি ১৯২৬ সালে শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) এবং ‘শিশু একাডেমি পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।

• তার অন্যান্য সাহ্যিতকর্ম:
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'বানান অভিধান' এর সম্পাদক জামিল চৌধুরী।
- 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' এর সম্পাদক মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
- 'সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 
২. বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৪,১৫৯.
‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাসটি ইংরেজিতে কী নামে অনূদিত হয়েছে?
  1. The Gentle Boy
  2. The Spoiled Child
  3. The Child of Luxury
  4. The Smart Uncle
সঠিক উত্তর:
The Spoiled Child
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The Spoiled Child
ব্যাখ্যা
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্র বা টেকচাঁদ ঠাকুর রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা উপন্যাস রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এটি ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত হয়। এতে যে কথ্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা ‘আলালী ভাষা’ নামে পরিচিত।
- এ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মোকাজান মিঞা বা ঠকচাচা।
- 'ঠকচাচা' চরিত্রটি ধূর্ততা, বৈষয়িক বুদ্ধি, ও প্রাণময়তা নিয়ে এ গ্রন্থের সর্বাপেক্ষা জীবন্ত চরিত্র।
- উপন্যাসটি ‘The Spoiled Child’ নামে ইংরেজীতে অনূদিত হয়েছে।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি দি ইংলিশম্যান, ইন্ডিয়ান ফিল্ড, হিন্দু প্যাট্রিয়ট, ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া এবং বেঙ্গল স্পেক্টেটর পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- তিনি ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৬০.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক "রেইনকোট" ছোটগল্পটি কোন গল্পগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে?
  1. জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল
  2. খোঁয়ারি
  3. অন্য ঘরে অন্য স্বর
  4. দোজখের ওম
সঠিক উত্তর:
জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল
ব্যাখ্যা
• "রেইনকোট" ছোটগল্প:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প। 'রেইনকোট' গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প।
- মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে।
- এই গল্পটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
- 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৬১.
'খাঁচার পাখি ছিল সোনার খাঁচাটিতে, বনের পাখি ছিল বনে। একদা কী করিয়া মিলন হ'ল দোঁহে, কী ছিল বিধাতার মনে।' কবিতাংশটুকুর কবি কে?
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) সুকুমার রায়
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• আলোচ্য পঙক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'খাঁচার পাখি ছিল সোনার খাঁচাটিতে' রবীন্দ্রসঙ্গীত এর অন্তর্গত।
এটি গীতবিতান (বিশ্বভারতী, কার্তিক ১৪১২)-এর পাঠ: নাট্যগীতি পর্যায়ের ৫২ সংখ্যক গান।

দুই পাখি 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খাঁচার পাখি ছিল     সোনার খাঁচাটিতে
               বনের পাখি ছিল বনে।
একদা কী করিয়া     মিলন হল দোঁহে,
        কী ছিল বিধাতার মনে।
বনের পাখি বলে,  খাঁচার পাখি ভাই,
       বনেতে যাই দোঁহে মিলে।
খাঁচার পাখি বলে-- বনের পাখি, আয়
        খাঁচায় থাকি নিরিবিলে।'

উৎস: গীতবিতান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৪,১৬২.
‘অশীতিপর শর্মা’ ছদ্মনামে লিখতেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মোহিতলাল মজুমদার
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো:
- নবকুমার,
- কবিরত্ন,
- অশীতিপর শর্মা,
- ত্রিবিক্রম বর্মণ,
- কলমগীর।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম 'হাবু শর্মা'।
• মোহিতলাল মজুমদার তাঁর সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলিতে ‘কৃত্তিবাস ওঝা’, ‘সব্যসাচী’, ‘শ্রী সত্যসুন্দর দাস’  ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৬৩.
সুকুমার সেনের মতে চর্যাপদের পদসংখ্যা কয়টি?
  1. ৫১টি
  2. ৫০টি
  3. ৪৯টি
  4. ৪৬টি
সঠিক উত্তর:
৫১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫১টি
ব্যাখ্যা
• সুকুমার সেন সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থরে নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী'।
- যদিও সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন।

----------------------
• চর্যাপদের পদসংখ্যা বিষয়ক আলোচনা:
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ শুধু প্রাচীন বাংলা সাহিত্যেরই নিদর্শন নয়, প্রাচীন বাংলা গানেরও নিদর্শন।

• সুকুমার সেন রচিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী'।
- যদিও সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন।
- টীকাকারের কাছে মূল চর্যার পুঁথিতে আরো অন্তত একটি বেশি চর্যা ছিল (১১ ও ১২ তম চর্যার মাঝখানে)। এই চর্যাটির ব্যাখ্যা না থাকায় লিপিকার উদ্ধৃত করেন নি, শুধু 'টীকা নাই' এই মন্তব্যটুকু করিয়াছেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs’ গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির কথা বলেছেন। এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

• উল্লেখ্য, চর্যাপদের একটি পদ ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে, সেখান থেকেই এই মতবিরোধের সৃষ্টি।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৪,১৬৪.
'সাবিত্রী ও কিরণময়ী' চরিত্রদ্বয় কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চরিত্রহীন
  2. গৃহদাহ
  3. দত্তা
  4. দেবদাস
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা
• "চরিত্রহীন" উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন।

- গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে। প্রধান দুটি নারী চরিত্রের নাম সাবিত্রী ও কিরণময়ী। ছোট দুটি নারী চরিত্রের নাম সুরবালা ও সরোজিনী। সাবেক দুই চরিত্রহে (চরিত্রহীন) হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে উপন্যাসের চারটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

উপন্যাসের চরিত্রগুলোর বর্ণনা:
সাবিত্রী চরিত্রটি বিশুদ্ধ, সে তার ভালবাসার মানুষ সতীশ-এর প্রতি অনুগত। সুরবালা উপেন্দ্রনাথের স্ত্রী। তিনি বয়সে তরুণ, ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে অন্ধবিশ্বাসের কারণে তার চরিত্রও চিত্তাকর্ষক। সরোজিনী পাশ্চাত্য শৈলীতে শিক্ষিত এবং চিন্তা-ভাবনায় অগ্রসর কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতিত এবং একটি জাদরেল মা দ্বারা তার জীবনযাপন অবরুদ্ধ। সরোজিনী শেষতক সতীশকে বিয়ে করেন। উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র কিরণময়ী। তরুণ এবং অত্যন্ত সুন্দরী, বুদ্ধিমতী। তবে তার আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাগুলি সর্বদা বিবাহিত বিষয়গুলির তুলনায় স্বামীকে শিক্ষাদান করার জন্য এবং স্বামী ও শাশুড়ীর দ্বারা সর্বদা দমিত হয়।

অন্যদিকে, 
- 'গৃহদাহ' উপন্যাসের চরিত্র- অচলা, মহিম, সুরেশ।
- 'দত্তা' উপন্যাসের চরিত্র- বিজয়া, নরেন, রাসবিহারী, বনমালী।
- 'দেবদাস' উপন্যাসের চরিত্র- দেবদাস, পার্বতী, চন্দ্রমূখী, চুনিলাল, ধর্মদাস।

উৎস: "চরিত্রহীন" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৬৫.
’ললিতা তথা মানস’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সুকুমার রায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক,।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ললিতা তথা মানস।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৬৬.
আহসান হাবীবের উপন্যাস কোনটি?
  1. আশায় বসতি
  2. অরণ্য নীলিমা
  3. ছায়া হরিণ
  4. মেঘ বলে চৈত্র যাবো
সঠিক উত্তর:
অরণ্য নীলিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরণ্য নীলিমা
ব্যাখ্যা
অরণ্য নীলিমা আহসান হাবীবের উপন্যাস।

আহসান হাবিব:

- ২ জানুয়ারি, ১৯১৭ সালে পিরোজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
-তিনি  'দৈনিক বাংলা' পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন করেন।

• তাঁর উপন্যাস: 
- অরণ্য নীলিমা (১৯৬০) 
- রাণীখালের সাঁকো (১৯৬৫)।
- জাফরানি রিং পায়রা।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ :
- ছায়াহরিণ (১৯৬২),
- সারা দুপুর (১৯৬৪),
- আশায় বসতি (১৯৭৪),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬),
- দুহাতে দু আদিম পাথর (১৯৮০),
- প্রেমের কবিতা (১৯৮১),
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ (১৯৮৫)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,১৬৭.
"নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. কাজী কাদের নেওয়াজ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• "নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।"
- কবিতাংশটুকু কাজী নজরুল ইসলামের 'মানুষ' কবিতার অন্তর্গত।
---------------
মানুষ- কবিতা,  
– কাজী নজরুল ইসলাম

গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান!
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।
 -------------
-------------      

খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয় সেখানে তালা?
সব দ্বার এর খোলা রবে, চালা হাতুড়ি-শাবল চালা!
হায় রে ভজনালয়,
তোমার মিনারে চড়িয়াভণ্ড গাহে স্বার্থের জয়!

উৎস: মানুষ- কবিতা, কাজী নজরুল ইসলাম।
৪,১৬৮.
’দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী’ কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. বিজন ভট্টাচার্য
  2. বিষ্ণু দে
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা

• নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

• নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর হ দু্ঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,১৬৯.
গিরিশচন্দ্র ঘোষের প্রথম বিয়োগান্তক নাটক-
  1. ক) বলিদান
  2. খ) প্রফুল্ল‌
  3. গ) রাবণবধ
  4. ঘ) জনা
সঠিক উত্তর:
খ) প্রফুল্ল‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রফুল্ল‌
ব্যাখ্যা

• গিরিশচন্দ্র ঘোষের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ বিয়োগান্ত নাটক প্রফুল্ল‌।
• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীর কাসিম,
- ছত্রপতি শিবাজী,
- মায়াবসান,
- বলিদান,
- রাবণবধ,
- সীতার বনবাস,
- লক্ষ্ণণ বর্জন,
- সীতাহরণ,
- জনা,
- শঙ্করাচার্য,
- মুকুলমুঞ্জরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪,১৭০.
"কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও" - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন? 
  1. ঘরে-বাইরে 
  2. বউ ঠাকুরাণীর হাট
  3. শেষের কবিতা
  4. গোরা
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

• 'শেষের কবিতা' উপন্যাস: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।

- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।
যেমন:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

• এই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র - 
- অমিত,
- কেতকী ও
- লাবণ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৪,১৭১.
বাংলা ভাষার রচিত প্রথম নাটক কোনটি?
  1. ভদ্রার্জুন
  2. নীল দর্পন
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. চণ্ডালিকা
সঠিক উত্তর:
ভদ্রার্জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভদ্রার্জুন
ব্যাখ্যা
 ⇒ ‘ভদ্রার্জুন’ ও ‘কীর্তিবিলাস’ নাটক:
- ১৮৫২ সালে যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্তের ‘কীর্তিবিলাস’ এবং তারাচরণ শিকদারের ‘ভদ্রার্জুন’ নামক দুটি নাটক প্রকাশিত হয়।
-  ‘কীর্তিবিলাস’ হচ্ছে বিয়োগান্ত নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- আর ‘ভদ্রার্জুন’ ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- ‘ভদ্রার্জুন’ নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ। মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
⇒ 'নীল দর্পণ' নাটক:
- 'নীল দর্পণ' হল দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি বাংলা সামাজিক নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি নীল চাষের জন্য সাধারণ কৃষকদের উপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন।
- ১৮৬০ সালে দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীল-দর্পণ নাটক প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সাহিত্যকর্ম।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন। অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

⇒ 'শর্মিষ্ঠা' নাটক: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক-শর্মিষ্ঠা। 
- তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনি অবলম্বনে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক।
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার। 
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে নাটকটি প্রকাশিত ও একই সালের ৩রা সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়। 
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- যযাতি, দেবযানি, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ। 

⇒ ‘চণ্ডালিকা’ নাটক:
- চণ্ডালিকা (১৯৩৩) সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক।
- এর কথাবস্তু পালি শার্দুল-কর্ণাবদলা থেকে গৃহীত।
- ১৯৩৮ সালে রবীন্দ্রনাথ এই নাটকটিকে নৃত্যনাট্যে রূপ দেন। কথা সুরের সমন্বয়ে এটি রবীন্দ্রনাথের অন্যতম সৃষ্টি।

অতএব, অপশনে উল্লেখ্য নাটক সমূহের রচনাকাল অনুসারে বাংলা ভাষার রচিত ও প্রকাশিত প্রথম নাটক ‘ভদ্রার্জুন’।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৭২.
চর্যাপদ কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৯০৫ সালে 
  2. ১৯০৭ সালে 
  3. ১৯০৯ সালে 
  4. ১৯১৭ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯০৭ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৭ সালে 
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, চর্যাগীতিকা, মুহম্মদ আব্দুল হাই ও আনোয়ার পাশা।

৪,১৭৩.
'আবোল-তাবোল' কার লেখা?
  1. উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী
  2. সত্যজিৎ রায়
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  4. সুকুমার রায়
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• শিশুতোষ সাহিত্যে 'আবোল তাবোল' গ্রন্থটি রচনা করেন - সুকুমার রায়

সুকুমার রায়:
- তিনি ১৮৮৭ সালের ৩০শে অক্টোবর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল কিশোরগঞ্জ জেলার মাসুয়া গ্রামে।
- তিনি মূলত শিশুসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তিনি অনুপম ভাষায় গল্প, নাটক, কবিতা ও প্রবন্ধ লিখে শিশুদের মন জয় করতেন।
- তাঁর পিতার নাম উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী এবং তাঁর ছেলের নাম সত্যজিৎ রায়।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- আবোল তাবোল
- হ-য-ব-র-ল
- পাগলা দাশু
- বহুরূপী
- খাই খাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৭৪.
'কুমুদিনী' চরিত্রটি কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. ঘরে বাইরে
  2. গোরা
  3. চোখের বালি
  4. যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ
ব্যাখ্যা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'বৌঠাকুরানীর হাট' (১৮৮৩)।
- কিন্তু প্রথম লেখা উপন্যাস 'করুণা'। 'করুণা' উপন্যাসটি অসমাপ্ত তাই একে পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস হিসেবে গণ্য করা হয় না।
তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাসঃ
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও যোগাযোগ উপন্যাস।
৪,১৭৫.
সেলিম আল দীন রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) নিঃশব্দ যাত্রা
  2. খ) হাতহদাই
  3. গ) কীত্তনখোলা
  4. ঘ) যৈবতী কন্যার মন
সঠিক উত্তর:
ক) নিঃশব্দ যাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নিঃশব্দ যাত্রা
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন রচিত নাটকগুলো হলোঃ জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, কীত্তনখোলা, হাতহদাই, বাসন, শকুন্তলা, মুনতাসীরঃ, কেরামতমঙ্গল, চাকা, হরগজ, প্রাচ্য, নিমজ্জন, ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি। অন্যদিকে নিঃশব্দ যাত্রা হলো আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত নাটক। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৪,১৭৬.
‘রূপলাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর’ - পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) দ্বিজ চণ্ডীদাস
  2. খ) বলরাম দাস
  3. গ) জ্ঞানদাস
  4. ঘ) দ্বিজ বংশীদাস
সঠিক উত্তর:
গ) জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
‘রূপলাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর’ - পঙক্তিটির রচয়িতা জ্ঞানদাস।
জ্ঞানদাস একমাত্র কবি যিনি বাংলা ও ব্রজবুলি দুই ভাষা মিলিয়ে পদ রচনা করেছেন।
তাঁর রচিত গ্রন্থ ‘মাথুর’ ও ‘মুরলীশিক্ষা’।
জ্ঞানদাস চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য ছিলেন।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৪,১৭৭.
‘ল্যাবরেটরি’ গল্পের প্রধান চরিত্র কে?
  1. চারুলতা
  2. সোহিনী
  3. লাবণ্য
  4. অমিত
সঠিক উত্তর:
সোহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোহিনী
ব্যাখ্যা
'ল্যাবরেটরি' গল্প:
- 'ল্যাবরেটরি' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একেবারে শেষের দিকের রচনা।
- গল্পটিতে রবীন্দ্রভাবনার অত্যাধুনিক মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।
- গল্পটির মূল চরিত্রে রয়েছে সোহিনী। বিজ্ঞান পাগল নন্দকিশোর নিজের জীবনের সাথে সোহিনীকে জড়িয়ে নিজের মতো করে গড়ে নিতে চেয়েছিলেন।

অন্যদিকে,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পের চরিত্র - চারুলতা।
- অমিত, লাবণ্য' - শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্র।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৭৮.
টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম কী?
  1. শ্যামা সংগীত
  2. গীতরত্ন
  3. গীতিকল্লোল
  4. রাগতরঙ্গিণী
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
গীতরত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতরত্ন
ব্যাখ্যা
• সঙ্গীত সংকলনের নাম - গীতরত্ন (১৮৩২)।

টপ্পা সঙ্গীত:

- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্থানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।

- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা-
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৭৯.
'জেগে আছি' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. আবু ইসহাক
  2. আল মাহমুদ
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'জেগে আছি' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা - আলাউদ্দিন আল আজাদ

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি ৬ মে, ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক। 
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব। 
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'জেগে আছি' (১৯৫০)। এটি একটি গল্পগ্রন্থ।
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি লেখার জন্য তিনি জনপ্রিয়। এটি 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- তাঁর 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাসটি 'বসুন্ধরা' নামে চলচ্চিত্রায়িত হয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
- তিনি ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- মৃগনাভি,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- যখন সৈকত,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার,
- জীবনজমিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,১৮০.
কবি জীবনানন্দ দাসের রচিত উপন্যাস:
  1. কুসুম কুমারী
  2. বিভা
  3. ফাল্গুন
  4. করবী
সঠিক উত্তর:
বিভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভা
ব্যাখ্যা

- 'বিভা' জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস।
- এটি তাঁর মৃত্যুর অনেক পরে, ১৯৯৫ সালে প্রথমবার গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯১৫), বি এম কলেজ থেকে আই.এ (১৯১৭) এবং কলকাতার  প্রেসিডেন্সি কলেজ
থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ (১৯১৯) ও ইংরেজিতে এম.এ (১৯২১) পাস করেন।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৪,১৮১.
বাউল মতের উদ্ভব হয় কত শতাব্দীতে?
  1. ক) সপ্তদশ
  2. খ) অষ্টাদশ
  3. গ) ঊনবিংশ
  4. ঘ) বিংশ
সঠিক উত্তর:
ক) সপ্তদশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সপ্তদশ
ব্যাখ্যা
বাউল মতের উদ্ভব সপ্তদশ শতাব্দীতে।
বাউল মত জনপ্রিয় হয় ঊনবিংশ শতাব্দীতে।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
৪,১৮২.
নিচের কোনটি চতুর্দশপদী কবিতা নয়?
  1. বঙ্গভাষা
  2. কবি
  3. আসমানী
  4. চতুর্দশপদী
সঠিক উত্তর:
আসমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসমানী
ব্যাখ্যা
• "বঙ্গভাষা", "কবি", এবং "চতুর্দশপদী" এই তিনটি চতুর্দশপদী কবিতার উদাহরণ।

তবে, 
"আসমানী" একটি চতুর্দশপদী কবিতা নয়; এটি জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি গীতিকবিতা।

অপশনের চতুর্দশপদী কবিতার রচয়িতা:
• 'বঙ্গভাষা' - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
• 'কবি' - মাইকেল মধুসূদন দত্ত
• 'চতুর্দশপদী' - শামসুর রাহমান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - ড. মাহবুবুল আলম।
৪,১৮৩.
শওকত ওসমানের ‘ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৬২ সালে
  3. ১৯৬৮ সালে
  4. ১৯৭০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬২ সালে
ব্যাখ্যা
⇒ ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৮৪.
'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) উইলিয়াম কেরি
  2. খ) রামরাম বসু
  3. গ) চণ্ডীচরণ মুন্‌শী
  4. ঘ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
খ) রামরাম বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
রামরাম বসু রচিত প্রথম গ্রন্থ - রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত।
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- কেরী সাহেবের মুন্শি‌ হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
- তিনি ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক। 
- রামরাম বসুর আরো একটি গ্রন্থ হচ্ছে - লিপিমালা (১৮০২)।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৮৫.
১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. খেলাঘর
  2. কালো ঘোড়া
  3. জীবন আমার বোন
  4. কালো বরফ
সঠিক উত্তর:
কালো বরফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালো বরফ
ব্যাখ্যা

• 'কালো বরফ' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হকের 'কালো বরফ' ছেচল্লিশের দাঙ্গা ও ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত।
- উপন্যাসটিতে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ-দাঙ্গা, দ্বেষ-ক্ষোভ এবং মিলন-বিরহ পরিস্ফুটিত হয়েছে।
- প্রধান চরিত্র: আব্দুল খালেক।

অন্যদিকে, 
• 'খেলাঘর' (১৯৮৮): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস। চরিত্র: রেহানা, মুকল ও ইয়াকুব। ২০০৬ সালে উপন্যাসটির চলচ্চিত্রায়ন করা হয়।
• 'কালো ঘোড়া' ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি উপন্যাস।
• 'জীবন আমার বোন' (১৯৭২): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর ঠিক আগের অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ২৭ মার্চের ঢাকা শহরের সমাজ ও রাজনীতির উত্তেজনা জায়গা করে নিয়েছে কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল কবির খোকার বয়ানের মাধ্যমে।

উৎস: 'কালো বরফ' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৪,১৮৬.
কোন লেখক বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
 - বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন - মোতাহের হোসেন চৌধুরী।

• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:

-তিনি ১৯০৩ সালেনোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।।
- তিনি ছিালেন একজন গদ্যশিল্পী।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থগুলো: 
- সংস্কৃতি-কথা
- সভ্যতা,
- সুখ,

- উল্লেখ্য,
• বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারবিরোধী একটি প্রগতিশীল আন্দোলন।
- ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল হুসেনের নেতৃত্বে ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠানটির মুখপত্র হিসেবে ‘শিখা’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করত।
- যার প্রতিটি সংখ্যায় লেখা থাকত ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।
- বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন গঠিত হয় কয়েকজন আলোকিত মানুষের উদ্যোগে, তাঁদের মধ্যে ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল হুসেন, কাজী আবদুল ওদুদ, আবদুল কাদির প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৮৭.
রবীন্দ্রনাথের ‘বলাকা’ কাব্যে ব্যবহৃত ছন্দের নাম :
  1. ক) মুক্তক ছন্দ
  2. খ) স্বরবৃত্ত ছন্দ
  3. গ) গদ্যছন্দ
  4. ঘ) মন্দাক্রান্তা ছন্দ
সঠিক উত্তর:
ক) মুক্তক ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মুক্তক ছন্দ
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথের ‘বলাকা’ কাব্যে ব্যবহৃত ছন্দের নাম: 'মুক্তক ছন্দ' বা 'মুক্তবন্ধ ছন্দ'।

• ‘বলাকা’ কাব্যের কয়েকটি লাইন -
হে বিরাট নদী,
অদৃশ্য নিঃশব্দ তব জল
অবিচ্ছিন্ন অবিরল
চলে নিরবধি।
স্পন্দনে শিহরে শূন্য তব রুদ্র কায়াহীন বেগে;
বস্ত্তহীন প্রবাহের প্রচন্ড আঘাত লেগে
পুঞ্জ পুঞ্জ বস্ত্তফেনা উঠে জেগে;
আলোকের তীব্রচ্ছটা বিচ্ছুরিয়া উঠে বর্ণস্রোতে
ধাবমান অন্ধকার হতে;
ঘূর্ণাচক্রে ঘুরে ঘুরে মরে
স্তরে স্তরে
সূর্যচন্দ্রতারা যত
বুদবুদের মতো।

- 'বলাকা' কাব্যে ব্যবহৃত ছন্দের বৈশিষ্ট্যকে বোঝাতে গিয়ে কেউ কেউ ছন্দের এরূপ মুক্ত স্বভাবকে নাম দিয়েছেন ‘মুক্তক ছন্দ’ বা ‘মুক্তবন্ধ ছন্দ’। আবার কেউ কেউ এছন্দকে অমিত্রাক্ষর ছন্দেরই রবীন্দ্রনাথকৃত অভিনবরূপ বলে মনে করেন যা অন্ত্যানুপ্রাসযুক্ত। পাশ্চাত্য সাহিত্যে বহুল ব্যবহূত এ ছন্দকে free verse  বা verse-libre বলে।

উৎস: বলাকা ও বাংলাপিডিয়া।
৪,১৮৮.
মধ্যযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. অনুবাদ সাহিত্য
  2. নাথ সাহিত্য
  3. লোক সাহিত্য
  4. বৈষ্ণব সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্য
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যুযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,১৮৯.
‘জীবন আমার বোন’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটি লিখেছেন কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. মাহমুদুল হক
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
মাহমুদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা
'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা - নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- অন্যান্য চরিত্র: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, জাহিদুল করিম খোকা প্রমুখ।

মাহমুদুল হক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কালো বরফ,
- খেলাঘর,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৯০.
‘কাল নিরবধি’ গ্রন্থটি কার আত্মজীবনি?
  1. ক) আনিসুজ্জামান
  2. খ) মাহমুদুল হক
  3. গ) আবদুল্লাহ আল সায়ীদ
  4. ঘ) বাদশাহ বাবর
সঠিক উত্তর:
ক) আনিসুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
- ‘কাল নিরবধি’ গ্রন্থটি অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের লেখা।
- তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ, লেখক ও জাতীয় অধ্যাপক।
- প্রবন্ধ গবেষণায় অবদানের জন্য ১৯৭০ সালে তিনি বাংলা একাডেমি থেকে প্রদত্ত বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখ্যযোগ্য গ্রন্থ -
- স্বরূপের সন্ধানে
- পুরোনো বাংলা গদ্য
- আমার একাত্তর
- মুক্তিযুদ্ধ এবং তারপর 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৯১.
‘বিজয়া’ চরিত্রটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) গৃহদাহ
  2. খ) দেবদাস
  3. গ) অরক্ষণীয়
  4. ঘ) দত্তা
সঠিক উত্তর:
ঘ) দত্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দত্তা
ব্যাখ্যা
• ‘দত্তা’ উপন্যাস:
- ‘দত্তা’(১৯১৮) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সুখপাঠ্য প্রেমের উপন্যাস।
- ১৩২৪-২৫ বঙ্গাব্দে ‘ভারতবর্ষে’ প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসটি ‘বিজয়া’ (১৯৪৩) নামে নাট্যায়িত হয়। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: বিজয়া, নরেন, রাসবিহারী, বনমালী।
--------------------

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকা’য় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,১৯২.
পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।

কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম :
- শকুন্তলা, 
- সীতার বনবাসের, 
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

• অন্যদিকে:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- অন্নদাশঙ্কর রায় ওড়িশার দেশীয় রাজ্য ঢেঙ্কানালের এক শাক্ত পরিবারে অন্নদাশঙ্কর রায়ের জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৯৩.
'ল্যাবরেটরি' ছোটগল্পের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'ল্যাবরেটরি' ছোটগল্প:
- 'ল্যাবরেটরি' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একেবারে শেষের দিকের রচনা।
- গল্পটিতে রবীন্দ্রভাবনার অত্যাধুনিক মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। গল্পটির মূল চরিত্রে রয়েছে সোহিনী।
- বিজ্ঞান পাগল নন্দকিশোর নিজের জীবনের সাথে সোহিনীকে জড়িয়ে নিজের মতো করে গড়ে নিতে চেয়েছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৯৪.
নিচের কোনটি কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. আগুনের মেয়ে
  2. পানকৌড়ির রক্ত
  3. উপমহাদেশ
  4. লোক লোকান্তর
সঠিক উত্তর:
লোক লোকান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোক লোকান্তর
ব্যাখ্যা

• 'লোক-লোকান্তর' কাব্যগ্রন্থ:
-' লোক-লোকান্তর' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- আল মাহমুদ।
- এটি কবির আত্মপরিচয়মূলক কবিতা।
- কবির উল্লেখযোগ্য সনেটের মধ্যে এটি একটি।

------------------
• আল মাহমুদ:
- মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯): যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,১৯৫.
'একরাত্রি' গল্পের নায়িকার নাম কি?
  1. সুরবালা
  2. মৃন্ময়ী
  3. সুভা
  4. রতন
সঠিক উত্তর:
সুরবালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরবালা
ব্যাখ্যা

 • একরাত্রি ছোট গল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ গল্পসমূহের মধ্যে ‘একরাত্রি' বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৯ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা 'সাধনা' পত্রিকায়।
- ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ছোটগল্প' শীর্ষক রবীন্দ্র গল্পগ্রন্থে এটি প্রথম গ্রন্থিত হয়।
- গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'সুরবালা'।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এই পরিবারের পূর্বপুরুষ পূর্ববঙ্গ থেকে ব্যবসায়ের সূত্রে কলকাতায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন।
- তিনি একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ‘একরাত্রি’ ছোট গল্প।

৪,১৯৬.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. অনিল বাগচীর একদিন
  2. দেয়াল
  3. জোছনা ও জননীর গল্প
  4. আগুনের পরশমণি
সঠিক উত্তর:
দেয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেয়াল
ব্যাখ্যা
• দেয়াল:
- বাংলাদেশের প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক হুমায়ুন আহমেদের শেষ উপন্যাস দেয়াল।
- এটি তাঁর লেখা একটি ইতিহাসাশ্রয়ী উপন্যাস যার ভিত্তি মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে সপরিবারে হত্যা ও সেই সময়কার ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনার মাধ্যমে এই উপন্যাসের পরিসমাপ্তি ঘটে।
- এটি তার মৃত্যুর এক বছর পর গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

---------------------------
• হুমায়ূন আহমেদ:

- হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক এর জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩)।
- গল্প, উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, শিশুতোষ গ্রন্থ, নাটক, প্রবন্ধ, আত্মজৈবনিক রচনা প্রভৃতি মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক।

• মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- শ্যামল ছায়া,
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; ‘দেয়াল’ উপন্যাস।
৪,১৯৭.
'বুড়াে শালিকের ঘাড়ে রো’ প্রবচনটি বােঝায়-
  1. ক) কষ্টের উপর আরাে কষ্ট
  2. খ) দুরারােগ্য ব্যাধি
  3. গ) বুড়াের ভীমরতি
  4. ঘ) নতুন যৌবনপ্রাপ্তি
সঠিক উত্তর:
গ) বুড়াের ভীমরতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বুড়াের ভীমরতি
ব্যাখ্যা

বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ - বৃদ্ধ বয়সে শিশু বা যুবকের মতো আচরণ।
ভীমরতি - অতিশয় বার্ধক্যবশত বুদ্ধি।

অর্থাৎ, 'বুড়াে শালিকের ঘাড়ে রো’ প্রবচনটির অর্থ বুড়ো বয়সে ভীমরতি বা বুড়োর ভীমরতি।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

৪,১৯৮.
'মামলার ফল' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক
  2. নিবন্ধ
  3. ছোটগল্প
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
ছোটগল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
• 'মামলার ফল' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি ছোটগল্প।
'মামলার ফল' গল্পে দুই ভাইয়ের (শিবু ও শম্ভু) মামলায় নিঃসন্তান সঙ্গামণির অপত্য স্নেহ শিশু গয়ারামকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত হয়েছে।

--------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত গল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৯৯.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. জোছনা ও জননীর গল্প
  2. আগুনের পরশমণি
  3. অনিল বাগচীর একদিন
  4. নন্দিত নরকে
সঠিক উত্তর:
নন্দিত নরকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নন্দিত নরকে
ব্যাখ্যা

নন্দিত নরকে হুমায়ূন আহমেদের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। 
- এটি মূলত একটি পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে লেখা, যা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস হিসেবে পরিচিত নয়। 

হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন একাধারে লেখক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র পরিচালক, গীতিকার ও শিক্ষক।
- তাঁর জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলায় মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক নিবাস নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে।
- তাঁর ছোট ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং জনপ্রিয় লেখক।

সাহিত্যকর্ম:
- ছাত্রজীবনে লেখা ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যে আত্মপ্রকাশ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তাঁর গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে: শ্যামল ছায়া, আগুনের পরশমণি, অনিল বাগচীর একদিন ও জোছনা ও জননীর গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,২০০.
‘জোটে যদি মোটে একটি পয়সা
খাদ্য কিনিও ক্ষুদার লাগি
দুটি যদি জোটে অর্ধেকা তার
ফুল কিনে নিও, হে অনুরাগী।’ এই পঙক্তিগুলোর কবি-
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) সঞ্জীব চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘ফুলের ফসল’ নামক কবিতা থেকে এই পঙক্তিগুলো চয়ন করা হয়েছে।