বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা / ২১১ · ২০১৩০০ / ২১,১৩২

২০১.
'আদর্শ হিন্দু হোটেল' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 
১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টম্বর পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম। তাঁর পৈতৃক নিবাস ওই জেলারই ব্যারাকপুর গ্রামে। পিতা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত; পান্ডিত্য ও কথকতার জন্য তিনি ‘শাস্ত্রী’ উপাধিতে ভূষিত হন।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- অপরাজিত,
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- চাঁদের পাহাড়,
- কিন্নরদল,
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- মরণের ডঙ্কা বাজে,
- স্মৃতির রেখা,
- দেবযান,
- হীরামানিক জ্বলে,
- উৎকর্ণ,
- হে অরণ্য কথা কও।

• আদর্শ হিন্দু হোটেল:
- 'আদর্শ হিন্দু হোটেল' উপন্যাসটির রচয়িতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্খাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০২.
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।' - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন পালার অন্তর্ভুক্ত?
  1. কমলা
  2. মহুয়া
  3. চন্দ্রাবতী
  4. রূপবতী
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা
'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০৩.
"মুহূর্ত তুলিয়া শির একত্র দাঁড়াও দেখি সবে,
যার ভয়ে তুমি ভীত সে অন্যায় ভীরু তোমা চেয়ে,
যখনি জাগিবে তুমি তখনি সে পলাইবে ধেয়ে।"- কে লিখেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
ব্যাখ্যা

• "মুহূর্ত তুলিয়া শির একত্র দাঁড়াও দেখি সবে,
যার ভয়ে তুমি ভীত সে অন্যায় ভীরু তোমা চেয়ে,
যখনি জাগিবে তুমি তখনি সে পলাইবে ধেয়ে।" - কবিতাংশুটুকুর রচয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এটি তাঁর 'চিত্রা' কাব্যগ্রন্থের এবার ফিরাও মোরে- কবিতার অংশবিশেষ।

'চিত্রা' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ 'চিত্রা'।
- ১৩০২ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৩৫টি কবিতা রয়েছে।

এবার ফিরাও মোরে- কবিতার অংশবিশেষ- 

মুহূর্ত তুলিয়া শির একত্র দাঁড়াও দেখি সবে,
যার ভয়ে তুমি ভীত সে অন্যায় ভীরু তোমা চেয়ে,
যখনি জাগিবে তুমি তখনি সে পলাইবে ধেয়ে;
যখনি দাঁড়াবে তুমি সম্মুখে তাহার, তখনি সে
পথকুক্কুরের মতো সংকোচে সত্রাসে যাবে মিশে;
দেবতা বিমুখ তারে, কেহ নাহি সহায় তাহার,
মুখে করে আস্ফালন, জানে সে হীনতা আপনার
মনে মনে। (সংক্ষেপিত)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, চিত্রা কাব্যগ্রন্থ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বাংলাপিডিয়া।

২০৪.
'বড়াই' কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. ক) অন্নদামঙ্গল
  2. খ) সারদামঙ্গল
  3. গ) মনসামঙ্গল
  4. ঘ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি- কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই। রাধা কৃষ্ণের মাঝে সংযোগ সৃষ্টিকারী অনুঘটক চরিত্র বড়াই।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০৫.
'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।
তাঁর প্রথম গদ্য রচনা- ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী।

তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণীমনসা,
- জিঞ্জির,
- প্রলয় শিখা,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২০৬.
মৈমনসিংহ গীতিকা গ্রন্থে কয়টি পালা ও গীতিকা স্থান পেয়েছে?
  1. ১২টি 
  2. ১৩টি 
  3. ১১টি 
  4. ১০টি
সঠিক উত্তর:
১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০টি
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি পালা ও গীতিকা স্থান পেয়েছে। 

যেমন:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা,
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২০৭.
প্রমথ চৌধুরী রচিত কাব্যগ্রন্থ - 
  1. চার-ইয়ারি কথা
  2. আহুতি
  3. তেল-নুন-লাকড়ি
  4. সনেট পঞ্চাশৎ
সঠিক উত্তর:
সনেট পঞ্চাশৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সনেট পঞ্চাশৎ
ব্যাখ্যা

• "সনেট পঞ্চাশৎ" কাব্যগ্রন্থ লিখেছেন প্রমথ চৌধুরী। 

প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরী মূলত একজন প্রাবন্ধিক।
- তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিয়ে করেন।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ফরাসি সনেটরীতি ট্রিয়লেট, তের্জারিমা ইত্যাদি বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম প্রবর্তন করেন।
- সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- ১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- পরবর্তীতে বীরবল' ছদ্মনামে সবুজপত্র পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। 
- এ ছদ্মনাম থেকে পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ, 
- আহুতি

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি
- বীরবলের হালখাতা।
- নানাকথা।
- নানা চর্চা।
- রায়তের কথা।
- প্রবন্ধ সংগ্রহ (১ম খণ্ড-১৯৫২, ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২০৮.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. পলাশী থেকে পাকিস্তান
  2. সাগরতীর্থে
  3. সাদা হাওয়া
  4. রাঙামাটি
সঠিক উত্তর:
পলাশী থেকে পাকিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলাশী থেকে পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন:
- আবুল কালাম শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর  ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।।
- তিনি ১৯১৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আইএ পাস করার পর কলকাতার রিপন কলেজে বিএ শ্রেণিতে ভর্তি হন।
- ১৯২২ সালে মাসিক  মোহাম্মদী পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হিসেবে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- ১৯৪৯ সালে পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা-কমিটির সদস্য হন। 
-  ২৩ ফেব্রুয়ারি  ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে প্রথমবার যে  শহীদ মিনার নির্মিত হয়, আবুল কালাম শামসুদ্দীন তার উদ্বোধন করেন।

• তাঁর রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কচি পাতা (শিশুসাহিত্য)
- ত্রিস্রোতা (অনুবাদ),
- পোড়োজমি বা অনাবাদী জমি,
- দৃষ্টিকোণ (প্রবন্ধ সংকলন),
- ইলিয়ড (বঙ্গানুবাদ),
- পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস)
- অতীত দিনের স্মৃতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত গ্রন্থ:
- সাগরতীর্থে,
- সাদা হাওয়া,
- রাঙামাটি।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০৯.
মুসলমান কবিদের মধ্যে পদাবলি রচনা করেছেন-
  1. শেখ কবির
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ্
  3. সৈয়দ আইনুদ্দিন
  4. উপরের সবাই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
• পদাবলি সাহিত্যে মুসলমান কবি:
পদাবলি সাহিত্যে মুসলমান কবিগণের বিশিষ্ট অবদান রয়েছে। একদল মুসলিম কবি উৎকৃষ্ট শ্রেণির বৈষ্ণবপদ রচনা করে বিচিত্র কাব্যপ্রতিভার পরিচয় রেখে গেছেন।

- ড. আহমদ শরীফের মতে, 'তাদের কেউ কেউ করেছেন নেশার ঝোঁকে আর কেউ কেউ করেছেন পেশা হিসাবে।'
- মুসলমান পদকর্তার সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব হয় নি। যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য 'বাংলার বৈষ্ণবভাবাপন্ন মুসলমান কবি' গ্রন্থে শতাধিক মুসলমান কবির নামোল্লেখ করেছেন।
- মুসলমান পদকর্তাদের মধ্যে প্রথম কবি হিসাবে 'শেখ কবির'কে বিবেচনা করা হয়।
- অন্যান্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : আফজাল, শেখ ফয়জুল্লাহ্, সৈয়দ আইনুদ্দিন, সৈয়দ মুর্তজা, আলাওল, আলি রজা, কমর আলী, সৈয়দ সুলতান, নওয়াজিস প্রমুখ।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম।
২১০.
'গ্রানাডার শেষ বীর' উপন্যাসটির রচয়িতা -
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) আবুল মনসুর
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলি
  4. ঘ) ইব্রাহীম খাঁ
সঠিক উত্তর:
গ) এস ওয়াজেদ আলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এস ওয়াজেদ আলি
ব্যাখ্যা
• এস ওয়াজেদ আলি
- শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:

প্রবন্ধ
- জীবনের শিল্প, 
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, 
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা, 
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

উপন্যাস
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনী
- পশ্চিম ভারত, 
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২১১.
'হাতেমতায়ী' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) নীলিমা ইব্রাহিম
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
'হাতেমতায়ী' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- ফররুখ আহমদ। 

ফররুখ আহমদ
- তিনি ১৯১৮ সাল মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন। 
- হাতেমতায়ী একটি ফররুখ আহমদ এর কাহিনিকাব্য।
- নৌফেল ও হাতেম ফররুখ আহমদ এর কাব্যনাট্য। 
- সাত সাগরের মাঝি ফররুখ আহমদ এর প্রথম প্রকাশিত কাব্য। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য
- সাত সাগরের মাঝি 
- সিরাজাম মুনিরা
- নৌফেল ও হাতেম 
- মুহূর্তের কবিতা
- হাতেমতায়ী 
- হাবেদা মরুর কাহিনী  ইত্যাদি।

তাঁর শিশুতোষ রচনা
- পাখির বাসা 
- হরফের ছড়া 
- ছড়ার আসর  ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২১২.
ময়ূর ভট্ট, রূপরাম চক্রবর্তী, শ্যাম পণ্ডিত, সীতারাম দাস প্রমুখ কবিদের সৃষ্টি কোন কাব্য?
  1. অন্নদা মঙ্গল
  2. মনসা মঙ্গল
  3. চণ্ডী মঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
⇒ ধর্মমঙ্গল কাব্য:
• ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্ম অনার্য দেবতা এবং সূর্য কিংবা বুদ্ধের প্রতিরূপ হিসেবে কল্পিত।
- প্রাচীন বঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে এর উদ্ভব ও পূজা সীমিত ছিল।

• ধর্মমঙ্গল ধারার আদি কবি ময়ূরভট্ট। তাঁর কাল খ্রিষ্টীয় পঞ্চদশ শতক বা এর কাছাকাছি অনুমান করা হয়, কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
• ধর্মমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তাঁর কাব্যের রচনাকাল ১৭১১ খ্রিষ্টাব্দ বা আঠারো শতক । তাঁর রচিত গ্রন্থ লাউসেনের কাহিনি অবলম্বনে ‘শ্রীধর্মমঙ্গল’।
• এরপর আর যাঁরা ধর্মমঙ্গল রচনা করেছেন তাঁরা হলেন রূপরাম চক্রবর্তী, সতীরাম দাস, শ্যাম পণ্ডিত, সহদেব চক্রবর্তী, নরসিংহ বসু, হৃদয়রাম সাউ, গোবিন্দরাম প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২১৩.
কোন দুটি রচনা একই শ্রেণির?
  1. ক) গীতাঞ্জলি ও বিষাদ-সিন্ধু
  2. খ) অগ্নিবীণা ও শ্রীকান্ত
  3. গ) নীলদর্পণ ও ডাকঘর
  4. ঘ) লালসালু ও বলাকা
সঠিক উত্তর:
গ) নীলদর্পণ ও ডাকঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নীলদর্পণ ও ডাকঘর
ব্যাখ্যা

অপশন-(ক):
'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি কাব্যগ্রন্থ।
'বিষাদ-সিন্ধু' মীর মশাররফ হোসেনের ঐতিহাসিক উপন্যাস।

অপশন-(খ):
'অগ্নিবীণা' কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি জীবনচরিত মূলক উপন্যাস।

অপশন-(গ):
'নীল দর্পণ' হল দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি বাংলা নাটক।
'ডাকঘর' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক।

অপশন-(ঘ):
'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত একটি উপন্যাস।
'বলাকা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গতিচেতনা বিষয়ক কাব্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

২১৪.
নিচের কোনটি সেলিনা হোসেন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস?
  1. গায়ত্রী সন্ধ্যা
  2. যাপিত জীবন
  3. চাঁদবেনে
  4. হাঙর নদী গ্রেনেড
সঠিক উত্তর:
গায়ত্রী সন্ধ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গায়ত্রী সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা
♦ ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস:
• গায়ত্রী সন্ধ্যা' সেলিনা হোসেন রচিত একটি ত্রয়ী উপন্যাস।
• গ্রন্থটি একই শিরোনামে ৩টি পটভূমিতে ৩টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
• সেলিনা হোসেন রচিত 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাসের পটভূমি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত সময়।
• দীর্ঘ আটাশ বছরের অর্থ- সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক পটভূমিতে রচিত হয়েছে এ উপন্যাস।

• এই আটাশ বছর সময়ের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে নানা ঘটনা।যেমন-
⇒ ১৯৪৭ সালে বৃটিশ ভারত দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে লাভ করেছিল স্বাধীনতা। ধোপে টেকেনি এ স্বাধীনতার আদর্শগত ভিত্তি।
⇒ ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জয়ী হয়ে বাঙালি অর্জন করে একটি পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত এবং স্বাধীন ভূখণ্ড। এ জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্নে অনুপ্রাণিত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
⇒ ১৯৭৫ সালে তাঁর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে পট-পরিবর্তন হয় ইতিহাসের। শুরু হয় বাঙালির - উল্টো যাত্রা। 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস এই সময়ের শিল্পিত শব্দরূপ। 

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন উপন্যাসের ভূমিকায় লেখেন-
একটি স্বপ্নের ঘোরে আমি 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' ত্রয়ী উপন্যাসটি লিখি। এর অখণ্ড প্রকাশের প্রুফ দেখার সময় বারবারই মনে হয়েছে কীভাবে লিখলাম।
স্বপ্ন ছিল একটি ট্রিলজি লেখার। বড় পটভূমি নিয়ে কাজ করব এমন তাগিদ ছিল নিজের ভেতরে। কতটা হয়েছে সেটা সময় বিচার করবে। আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, এটুকু আমার সান্ত্বনা। 

সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও ফিলিপ্স সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

 • গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

• শিশু-কিশোর উপযোগ্য রচনা:
- সাগর,
- বাংলা একাডেমী গল্পে বর্ণমালা,
- বর্ণমালার গল্প,
- জ্যোৎস্নার রঙে আঁকা ছবি,
- চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ ইত্যাদি। 

অভিসম্বন্ধ: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস সেলিনা হোসেন।
২১৫.
কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ-
  1. সঞ্চয়িতা
  2. বাঁধনহারা
  3. নতুন চাঁদ
  4. অগ্নি-গিরি
সঠিক উত্তর:
নতুন চাঁদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নতুন চাঁদ
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।
• 'অগ্নি-গিরি' তাঁর রচিত একটি গল্প। এটি তাঁর শিউলিমালা গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত।
• 'বাঁধনহারা' তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস।
• 'সঞ্চয়িতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ।
• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কয়েকটি কাব্যগ্রন্থঃ
- অগ্নিবীণা,
- নতুন চাঁদ,
- মরুভাস্কর,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- দোলনচাঁপা,
- সন্ধ্যা,
- চক্রবাক,
- চন্দ্রবিন্দু,
- ছায়ানট,
- বিষের বাঁশি,
- সর্বহারা,
- পুবের হাওয়া,
- সাম্যবাদী,
- ঝিঙ্গে-ফুল,
- ফনিমনসা,
- প্রলয়-শিখা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২১৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. সাধনা
  3. বঙ্গদূত
  4. ভারতী
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদূত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদূত
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গদূত' — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকা নয়।
- ‘বঙ্গদূত’ নীলমণি হালদার সম্পাদিত পত্রিকা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকাসমূহ:
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে মাসিক 'বঙ্গদর্শন' প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা গদ্যের প্রভুত উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে বঙ্কিমচন্দ্র একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে তোলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ 'বঙ্গদর্শন' সম্পাদনা করেন।

• 'সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

• ‘ভারতী' পত্রিকা :
- ‘ভারতী' একটি মাসিক পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ (১২৮৪ বঙ্গাব্দ) সালে।
- প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর। স্বর্ণকুমারী দেবী ১২৯১-১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ ঠাকুর বাড়ির অনেকেই সম্পাদনা করেন।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
২১৭.
আনোয়ারা উপন্যাসের প্রতিপাদ্য বিষয় কী?
  1. অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব
  2. ধর্ম ও সত্যের জয়
  3. গ্রামীণ জীবন
  4. ধর্মব্যবসা
সঠিক উত্তর:
ধর্ম ও সত্যের জয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্ম ও সত্যের জয়
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ নজিবুর রহমান: 
- পাবনা জেলার শাহজাদপুরের চরবেলতৈল গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মূলত একজন ঔপন্যাসিক।
- তাঁর জনপ্রিয় প্রথম সামাজিক উপন্যাস- আনোয়ারা।
-  আনোয়ারা উপন্যাসের প্রতিপাদ্য বিষয় - ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয়, আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা।
-  সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন।
- ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রায়গঞ্জের হাটি কুমরুল গ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত অন্য উপন্যাস: 
- চাঁদতারা,
- পরিনাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়ার আর চাই না,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২১৮.
'সব্যসাচী' শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. পথের দাবী
  2. চরিত্রহীন
  3. গৃহদাহ
  4. বড়দিদি
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী
ব্যাখ্যা

'পথের দাবী' উপন্যাস:
- পথের দাবী (১৯২৬) একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ। 
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।  
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। 
- বঙ্গবাণী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২১৯.
নামের আগে 'হাবিলদার' লিখতেন কোন কবি?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম:
• কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
• তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

• কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী' ইত্যাদি নামে ডাকা হতো।

• বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।

• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
• বিদ্রোহী কবিতা রচনা ও বিদ্রোহী কবি নামে পরিচিত হওয়ার আগে কবি কাজী নজরুল ইসলাম 'হাবিলদার নজরুল' বলে পরিচয় দিতে আগ্রহী ছিলেন। এবং নামের আগে লিখতেনও হাবিলদার। 
• বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশ হওয়ার পর কবি নজরুলকে বিদ্রোহী কবিতার কবি / বিদ্রোহীর কবি/ বিদ্রোহী কবি বলে পরিচিতজনেরা অভিহিত করেছেন।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২২০.
'বখতিয়ারের ঘোড়া' আল মাহমুদ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক 
  2. উপন্যাস 
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্পগ্রন্থ 
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'বখতিয়ারের ঘোড়া' কবি আল মাহমুদ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 

-------------------
• আল মাহমুদ:

- প্রথিতযশা কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২২১.
সৈয়দ শামসুল হক কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বরিশাল
  2. কুড়িগ্রাম
  3. ঢাকা
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- তাঁর জীবনের প্রথম মঞ্চনাটক- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’।
- ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ তাঁর মঞ্চসফল অপর একটি নাটক।
- তাঁর রচিত ‘রক্ত গোলাপ’ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে প্রথম জাদুবাস্তবতা নিয়ে আসে পাঠকের কাছে। 

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্য:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২২২.
দেবমাহাত্ম্যমূলক বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য কোনটি?
  1. মহাভারত
  2. রামায়ণ
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. মঙ্গলকাব্য
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা।
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- কালক্রমে শিবঠাকুরও মঙ্গলকাব্যের বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং তৎকেন্দ্রিক কাব্যধারার নাম শিবায়ন বা শিবমঙ্গল।

অন্যদিকে,
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত। এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস। এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ। গঠনগত বা আঙ্গিকগতভাবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন একটি নাট্যগীতি বা বর্ণনাত্মক নাটকও বলা যায়। এখানে গীত বা গানের আকারে গাওয়া হতো, আবার নাটকীয়তাও আছে। তাই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনকে নাট্যগীতি বলা যায়।

• রামায়ণ:
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন 'বাল্মীকি'।
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন- কৃত্তিবাস ওঝা। গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস ওঝা বাংলায় 'রামায়ণ' অনুবাদ করেন। 
- রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক ছিলেন 'চন্দ্রাবতী'।  

• মহাভারত: 
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য। মূল রচয়িতা - কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন - কবীন্দ্র পরমেশ্বর। তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম - পরাগলী মহাভারত।
- অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন - বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক - কাশীরাম দাস। মহাভারতের আদি, সভা, বন, ও বিরাট পর্ব রচনার পর কাশীরাম দাস ইহলোক ত্যাগ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২২৩.
“ভালো আছি, ভালো থেকো” গানের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জয় গোস্বামী
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

“ভালো আছি, ভালো থেকো” গানের রচয়িতা- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।

→ রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (১৯৫৬-১৯৯১) ছিলেন একজন প্রতিবাদী ও রোমান্টিক কবি, গীতিকার এবং সাহিত্যিক।
- তিনি তার প্রতিবাদী চেতনা ও প্রেমিকাভঙ্গির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
- তার প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পরে তিনি ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ রূপে গ্রহণ করেন।
- তিনি ১৬ অক্টোবর ১৯৫৬ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার সাবেড়হাট গ্রামে।
 মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ২১ জুন ১৯৯১ সালে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
- স্বল্পায়ু জীবনে তিনি একাধিক কাব্যগ্রন্থ এবং অসংখ্য গান রচনা করেছেন।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো:
- ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’,
- ‘উপদ্রুত উপকূলে’,
- ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’,
- ‘মানুষের মানচিত্র’,
- ‘ছোবল’,
- ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’,
- ‘মৌলিক মুখোশ’ ইত্যাদি।

- এছাড়া, তিনি ‘ভালো আছি ভালো থেকো’সহ অর্ধশতাধিক গান রচনা করেছেন ও সুর দিয়েছেন।
- তার কাব্যনাট্য ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’ও উল্লেখযোগ্য।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

২২৪.
বিশ শতকের পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. নওরোজ
  2. নবজীবন
  3. নবনূর
  4. নারায়ণ
সঠিক উত্তর:
নবজীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবজীবন
ব্যাখ্যা
• বিশ শতকের পত্রিকা নয় - নবজীবন
- এটি ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- অক্ষয়চন্দ্র সরকার এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

অন্যদিকে,
• 'নওরোজ' পত্রিকা ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- মোহাম্মদ আফজাল-উল হক এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• 'নবনূর' পত্রিকা ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- সৈয়দ এমদাদ আলী এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• 'নারায়ণ' পত্রিকা ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২৫.
বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্যের মূল উপজীব্য কী?
  1. রাম-সীতার বনবাস
  2. রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা
  3. শিব-পার্বতীর লীলা
  4. দুর্গা-মহিষাসুরের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল বৈষ্ণব পদাবলি।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।
- জয়দেব-বিদ্যাপতি-চণ্ডীদাস থেকে সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত বৈষ্ণব গীতিকবিতার ধারা প্রবাহিত হলেও প্রকৃতপক্ষে ষোল-সতের শতকে এই সৃষ্টিসম্ভার প্রাচুর্য ও উৎকর্ষপূর্ণ ছিল।
- পদাবলি সাহিত্য বৈষ্ণবতত্ত্বের রসভাষ্য। বৈষ্ণব পদাবলি বৈষ্ণব সমাজে মহাজন পদাবলি এবং বৈষ্ণব পদকর্তাগণ মহাজন নামে পরিচিত। 
- বৈষ্ণবমতে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক বিদ্যমান। এই প্রেম সম্পর্ককে বৈষ্ণব মতাবলম্বীগণ রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার রূপকের মাধ্যমে উপলব্ধি করেছেন।
- রাধা ও শ্রীকৃষ্ণের রূপাশ্রয়ে ভক্ত ও ভগবানের নিত্যবিরহ ও নিত্যমিলনের অপরূপ আধ্যাত্মিক লীলা কীর্তিত হয়েছে। বৈষ্ণবদের উপাস্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ । তাঁর আনন্দময় আনন্দময় তথা তথা প্রেমময় প্রকাশ ঘটেছে রাধার মাধ্যমে। রাধা মানবী নয়, শ্রীকৃষ্ণরূপ পূর্ণ ভগবৎ-তত্ত্বের। ভগবৎ-তত্ত্বের অংশ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২২৬.
‘যে তুমি হরণ করো’ কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আবুল হাসান
  2. আল মাহমুদ
  3. আহমদ ছফা
  4. আবুল হুসেন
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
•  ‘যে তুমি হরণ করো’ আবুল হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

আবুল হাসান:

- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া
- আবুল হাসান তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- তিনি একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- যে তুমি হরণ করাে,
- রাজা যায় রাজা আসে,
- পৃথক পালঙ্ক।
• তার মৃত্যুর পরে প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন' (১৯৮৮);
• গল্প সংকলন: আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ (১৯৯০)।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২৭.
সারদামঙ্গল কাব্য কয়টি সর্গে বিভক্ত?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
সঠিক উত্তর:
পাঁচটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচটি
ব্যাখ্যা
• সারদামঙ্গল কাব্য:
- কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদামঙ্গল' (১৮৭৯)।
- এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল 'আর্যদর্শন' পত্রিকায়। আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন, "সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।"

- এটি পাঁচটি সর্গে বিভক্ত। ভোরের পাখি খ্যাত রোমান্টিক কবি বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন।
- এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'সারদামঙ্গল'কাব্য।
২২৮.
'মহেন্দ্র ও মোহিনী' কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. চোখের বালি
  2. নৌকাডুবি
  3. রাজর্ষি
  4. করুণা
সঠিক উত্তর:
করুণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করুণা
ব্যাখ্যা
• 'করুণা' উপন্যাস:
- 'করুণা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা প্রথম উপন্যাস, কিন্তু গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নয় (প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'বউ ঠাকুরানীর হাট')।
- মাসিক 'ভারতী' পত্রিকায় এক বছর ধরে (আশ্বিন-ভাদ্র ১২৮৪-৮৫) 'করুণা' উপন্যাসটি ছাপা হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবৎকালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়নি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'জীবনস্মৃতি'তেও এই রচনার কোনো উল্লেখ করেন নি।
- পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত 'রবীন্দ্র রচনাবলি'তে (১৯৬১) 'করুণা' প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় সাতাশ পরিচ্ছেদ বিশিষ্ট এই উপন্যাসটি।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- মহেন্দ্র,
- মোহিনী,
- রজনী।

অন্যদিকে, 
• 'চোখের বালি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
• 'নৌকাডুবি' উপন্যাসের মূল চরিত্রগুলো হচ্ছে: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু, নলিনাক্ষ।
• 'রাজর্ষি' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: গোবিন্দমাণিক্য, পুরোহিত রঘুপতি, হাসি ও তাতা, জয়সিংহ, নক্ষত্ররায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২২৯.
মধ্যযুগের শেষ কবি বলা হয়-
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. মালাধর বসু
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
-  ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' বলা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৩০.
বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. আহসান হাবীব 
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)  আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি। তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

অন্যদিকে,
• ফররুখ আহমদ ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
• মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
• আহসান হাবীব ছিলেন একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশি কবি ও সাহিত্যিক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৩১.
‘দেনা পাওনা’ উপন্যাসটি কোন নামে নাটক হিসেবে মঞ্চায়িত হয়?
  1. ক) ষোড়শী
  2. খ) বিজয়া
  3. গ) দেবদাস
  4. ঘ) পণের টাকা
সঠিক উত্তর:
ক) ষোড়শী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ষোড়শী
ব্যাখ্যা

এই তিনটি মনে রাখুনঃ
দেনা পাওনা (১৯২৩): ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার নারীদের প্রতি অবিচার ও পণপ্রথার কদর্যরূপ দর্শিত হয়েছে। জীবনানন্দ ও ষোড়শী উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র। উপন্যাসটি “ষোড়শী” নামে নাট্যায়িত হয়।
দত্তা (১৯১৮): উপন্যাসটি “বিজয়া” নামে নাট্যায়িত হয়। বনমালী, রাসবিহারী, বিজয়া, নরেন্দ্র ইত্যাদি প্রধান চরিত্র।
পল্লী সমাজ (১৯১৬): রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম ইত্যাদি প্রধান চরিত্র। উপন্যাসটি “রমা” নামে নাট্যায়িত হয়।

২৩২.
সৈয়দ মুজতবা আলীর পৈতৃক নিবাস কোন জেলায়?
  1. বরিশাল
  2. ঝালকাঠি
  3. নরসিংদী
  4. হবিগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
হবিগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী, (১৯০৪-১৯৭৪) শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন,
- কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম,
- শত্রু-ইয়ার।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়।

• তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩৩.
'রক্তকরবী' নাটক কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী
  2. সাধনা
  3. কল্লোল
  4. প্রবাসী
সঠিক উত্তর:
প্রবাসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবাসী
ব্যাখ্যা

 'রক্তকরবী' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- চরিত্র - নন্দিনী, রঞ্জন। 
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। 
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। 
- শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ রচিত আরো নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- বৈকুন্ঠের খাতা
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৩৪.
‘শনিবারের চিঠি’ কি ধরনের সাহিত্য পত্রিকা?
  1. ক) তথ্য সমৃদ্ধ
  2. খ) হাস্যরসাত্নক
  3. গ) নীতিকথা
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) হাস্যরসাত্নক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাস্যরসাত্নক
ব্যাখ্যা
‘শনিবারের চিঠি পত্রিকা’ এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।

শনিবারের চিঠি পত্রিকা
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা।
- প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা  হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে।
- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে।
- হাস্য-কৌতুক ও তীর্যক মন্তব্যের মাধ্যমে শনিবারের চিঠি ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে।

লেখকদের মধ্যে উলেখযোগ্য ছিলেন:
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
- অশোক চট্টোপাধ্যায়
- সুবিমল রায়
- মোহিতলাল মজুমদার
- সজনীকান্ত দাস
- যোগানন্দ দাস
- নীরদ চন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৩৫.
'হেমাঙ্গিনী' ও 'কাদম্বিনী' কোন বিখ্যাত গল্পের দুই চরিত্র?
  1. মহেশ
  2. বড় দিদি
  3. মেজদিদি
  4. হরিলক্ষী
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মেজদিদি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজদিদি
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ হলো মেজদিদি। এই গল্পের বিখ্যাত দুই চরিত্র হলো হেমাঙ্গিনী ও কাদম্বিনী।

২৩৬.
কাহ্নপা রচিত কত নং পদটি পাওয়া যায় নি?
  1. ১২নং
  2. ২৪নং
  3. ১৮নং
  4. ৪৫নং
সঠিক উত্তর:
২৪নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪নং
ব্যাখ্যা

 কাহ্নপা:
- চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন - কাহ্নপা।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- কাহ্নপা ১৩টি পদ রচনা করেন। কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- চর্যাপদে তাঁর কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নাম পাওয়া যায়।
- তাঁর রচিত পদগুলো: ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫ নং পদ উদ্ধার হয়েছে, কিন্তু ২৪ নং পদ টি পাওয়া যায় নি।
- তাই চর্যাপদে কাহ্নপার প্রাপ্ত পদ সংখ্যা ১২ টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৩৭.
শিশুতোষ গ্রন্থ ‘ইতল বিতল’ - এর রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন 
  2. সকুমার রায়
  3. সুফিয়া কামাল
  4. আহসান হাবীব 
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

সুফিয়া কামাল: 
- তিনি ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল কুমিল্লায়। 
- কলকাতায় ১৯১৮ সালে বেগম রোকেয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়।  
- তাঁকে জননী সাহসিকা বলা হয়।
- তিনি মূলত কবি হিসেবে পরিচিত। 
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর, ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

• শিশুতোষ গ্রন্থ 'ইতল বিতল' এর রচয়িতা - সুফিয়া কামাল। 
- তাঁর অপর শিশুতোষ গ্রন্থ- নওল কিশোরের দরবারে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
কবিতা:
- সাঁঝের মায়া 
- মন ও জীবন
- উদাত্ত পৃথিবী
- অভিযাত্রিক 
- মোর যাদুদের সমাধি পরে
- মায়া কাজল ইত্যাদি।
গল্প:
- কেয়ার কাঁটা 
শিশুতোষ:
- ইতল বিতল
- নওল কিশোরের দরবারে 
আত্মজীবনী:
- একালে আমাদের কাল 
ডায়েরি:
- একাত্তরের ডায়রী 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৩৮.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য-
  1. নূরলদীনের সারা জীবন
  2. এখানে এখন
  3. একদা এক রাজ্যে
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর:
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

• পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য |
- এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে। 
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি |

সৈয়দ শামসুল হক

- সৈয়দ শামসুল হক বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য হলো পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।

প্রধান কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারা জীবন,
- এখানে এখন। 

কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি। 

উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি,
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২৩৯.
'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতাটি আহসান হাবীবের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) দু'হাতে দুই আদিম পাথর
  2. খ) ছায়াহরিণ
  3. গ) মেঘ বলে চৈত্রে যাব
  4. ঘ) আশায় বসতি
সঠিক উত্তর:
ক) দু'হাতে দুই আদিম পাথর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দু'হাতে দুই আদিম পাথর
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীব (১৯১৭-১৯৮৫): কবি ও সাংবাদিক।
'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতাটি তাঁর 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' (১৯৮০) কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা৷ এই কবিতাতে শহুরে মানুষের গ্রামে ফেরার কথা আছে৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর৷
২৪০.
'শিখা' পত্রিকা প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২৭ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৯২৫ সালে
  4. ১৯৩০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা
'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৪১.
মধ্যযুগের মহিলাকবি চন্দ্রাবতী'র পিতা ছিলেন-
  1. দ্বিজ কানাই
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. দ্বিজ বংশীদাস
  4. চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ বংশীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রাবতী:
- চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন।
- তাঁর পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'।
- চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়৷
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য:
- রামায়ণ,
- মলুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৪২.
কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. উজানে মৃত্যু
  2. তরঙ্গভঙ্গ
  3. নয়নচারা
  4. সুড়ঙ্গ
সঠিক উত্তর:
নয়নচারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নয়নচারা
ব্যাখ্যা
• ব্যতিক্রম - নয়নচারা
- এটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থ।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। 
- এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা 'ভোরের আলো' সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৫ সালে আদমজি পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৭১ সালের ১০ই অক্টোবর, প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু

অন্যদিকে,
বাকিগুলো তাঁর রচিত নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৪৩.
'সুবচন নির্বাসনে' নাটকটির রচয়িতা হলেন-
  1. সেলিম আল দীন
  2. আলাউদ্দীন আল আজাদ
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. জিয়া হায়দার
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মামুন একজন নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা।
তিনি ১৯৪২ সালের ১৩ জুলাই জামালপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর গ্রন্থাকারে প্রকাশিত ও মঞ্চস্থ নাটকগুলোর মধ্যে:
- সুবচন নির্বাসনে
- এখনও দুঃসময় 
- এবার ধরা দাও 
- শপথ 
- সেনাপতি 
- অরক্ষিত মতিঝিল
- ক্রস রোডে ক্রসফায়ার 
- শাহজাদীর কালো নেকাব 
- আয়নার বন্ধুর মুখ 
- এখনও ক্রীতদাস 
- তোমরাই 
- দূরপাল্লা 
- তৃতীয় পুরুষ 
- আমাদের সন্তানেরা 
- কোকিলারা 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া ]
২৪৪.
‘আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ’ কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) ছোটো গল্প
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
সঠিক উত্তর:
ক) প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
শামসুর রহমান রচিত উপন্যাস- অক্টোপাস, অদ্ভুত আঁধার এক, নিয়ত মন্তাজ, এলো সে অবেলায়। তার প্রবন্ধঃ আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
২৪৫.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য কোনটি?
  1. বীরাঙ্গনা কাব্য
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  3. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
• বীরাঙ্গনা কাব্য:
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য। এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম। এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র আছে।
- রোমান কাব্য 'হেরোইদাইদস' কাব্যের অনুসরণে 'বীরাঙ্গনা' কাব্যগ্রন্থটি বাংলায় রচিত।
- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৪৬.
'হাজারি ঠাকুর' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. অপরাজিত
  2. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  3. আরণ্যক
  4. চাঁদের পাহাড়
সঠিক উত্তর:
আদর্শ হিন্দু হোটেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদর্শ হিন্দু হোটেল
ব্যাখ্যা
• "আদর্শ হিন্দু হোটেল" উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে।
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্ক্ষাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- উপন্যাসের চরিত্র হাজারি ঠাকুর নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৪৭.
বাংলা সাহিত্যে 'পঞ্চপাণ্ডব' কাকে বলা হয়?
  1. ক) ৫ জন যোদ্ধাকে
  2. খ) ৫ জন সমালোচককে
  3. গ) ৫ জন নাট্যকারকে
  4. ঘ) ৫ জন কবিকে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৫ জন কবিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৫ জন কবিকে
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে তিরিশের দশকের ৫ জন বিখ্যাত কবিকে পঞ্চপাণ্ডব বলা হয়।
- কিন্তু তারা রবীন্দ্র কাব্যধারার বিরোধী কাব্যচর্চা করলেও অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একান্ত সচিব ছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে বহু দেশ ভ্রমণও করেছেন।
তাঁরা হলেন-
- জীবনানন্দ দাশ,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু ও
- বিষ্ণু দে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪৮.
'লৌহকপাট' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. জরাসন্ধ
  3. আবুল হোসেন
  4. মনোজ বসু
সঠিক উত্তর:
জরাসন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জরাসন্ধ
ব্যাখ্যা
• জরাসন্ধ: 
- জরাসন্ধের আসল নাম চারুচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯০২-৮১)।
- তিনি কারাগারের কাহিনি লিখে একসময় পাঠক সমাজকে মুগ্ধ করে রেখেছিলেন।
- কারাগারের জীবন, রাজনীতি, বাস্তুহারা সমস্যা, সমাজের দুর্বিষহ বেকারত্ব প্রভৃতি নিয়ে তাঁর সাহিত্য রূপায়িত হয়ে উঠেছে।
- জরাসন্ধের জন্ম বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামে।
- অর্থনীতি বিষয় নিয়ে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বি এ অনার্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
- বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৩০ সালে কারাবিভাগের চাকরিতে যোগদান করেন। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হল :
- লৌহকপাট (৪খণ্ড),
- মসিরেখা,
- ন্যায়দণ্ড,
- মল্লিকা,
- মহাশ্বেতার ডায়েরি, 
- মানসকন্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৪৯.
ফররুখ আহমদের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সিন্দাবাদ
  2. নৌফেল ও হাতেম
  3. সাত সাগরের মাঝি
  4. হাতেমতায়ী
সঠিক উত্তর:
সাত সাগরের মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাত সাগরের মাঝি
ব্যাখ্যা

সাত সাগরের মাঝি:
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।

- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে।
- এই গ্রন্থের মাধ্যমে ফররুখ আহমদ ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্য‑সমৃদ্ধ কাব্য চেতনা তুলে ধরেন
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
• এর কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা- 
- সাত সাগরের মাঝি
- সিন্দবাদ
- বার দরিয়ায়
- দরিয়ার শেষ রাত্রি
- শাহরিয়ার আকাশ নাবিক
- বন্দরে সন্ধ্যা
- ডাহুক
- পাঞ্জেরী
- স্বর্ণমঙ্গল
- লাশ
- তুফান ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• ফররুখ আহমদ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৫০.
নিচের কোন কবি ভারত সরকার কর্তৃক ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত হন?
  1. বিষ্ণু দে
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
⇒ অমিয় চক্রবর্তী:  
→ জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ। 
→ অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে (ব্যক্তিগত সচিব) এসেছিলেন।
→ বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ এবং;   
→ ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন। 

→ তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।  
→ অন্য চারজন হলেন জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও বিষ্ণু দে।  
→ তিনি ত্রিশের দশকের কবি হিসেবে পরিচিত।   

→ তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী'।      
⇒ তাঁর বিশেষ কাব্যগ্রন্থগুলো:    
• খসড়া, 
• এক মুঠো, 
• মাটির দেয়াল, 
• পারাপার, 
• পালাবদল, 
• ঘরে ফেরার দিন, 
• পুষ্পিত ইমেজ, 
• অনিঃশেষ, 
• অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।  
→ ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।   

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৫১.
বাংলায় সেন রাজত্বকাল ও তুর্কি আক্রমণের অব্যবহিত পূর্ব সময়ের প্রেক্ষাপটে নিচের কোন উপন্যাসটি রচিত?
  1. পিঙ্গল আকাশ
  2. কুলায় কালস্রোত
  3. প্রদোষে প্রাকৃতজন
  4. ওয়ারিশ
সঠিক উত্তর:
প্রদোষে প্রাকৃতজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রদোষে প্রাকৃতজন
ব্যাখ্যা

প্রদোষে প্রাকৃতজন (১৯৮৪) উপন্যাস এর লেখক শওকত আলী।
- সেন রাজাদের রাজত্বকাল এবং তুর্কি আক্রমণের অব্যবহিত পূর্ব সময়ের পটভূমিতে এই কাহিনী রচিত।
- অত্যাচারী সামন্তবর্গের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে অন্ত্যজ হিন্দু ও বৌদ্ধের দল।
- বাংলার গণমানুষ এই উপন্যাসে সামষ্টিকভাবে নায়ক করা হয়েছে; কোনো একক নায়ক নেই।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)

২৫২.
“সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি” - উক্তিটি নিচের কোন কবির?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. বিষ্ণু দে
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

- “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”  উক্তিটি কবি জীবনানন্দ দাশের।
 
• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯১৫),  বি এম কলেজ থেকে আই.এ (১৯১৭) এবং কলকাতার  প্রেসিডেন্সি কলেজ
থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ (১৯১৯) ও ইংরেজিতে এম.এ (১৯২১) পাস করেন।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

- কবি জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘কবিতার কথা’।
- এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি হলো, ‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’
 
জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।
 
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।
 
উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।
 
প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা। 
 
তথ্যসূত্র:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৫৩.
'দেশে বিদেশে' কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) ভ্রমণকাহিনী
  2. খ) কাব্য
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) নাটক
সঠিক উত্তর:
ক) ভ্রমণকাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভ্রমণকাহিনী
ব্যাখ্যা
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনী
- কাবুল শহরে অবস্থান ও ভ্রমণ করে যে বিচিত্র অভিজ্ঞতা লাভ করেছে তা এই গ্রন্থে তুলে ধরেছেন।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
-  তিনি ১৯০৪ সালে পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল 'দেশে-বিদেশে' ভ্রমণকাহিনী।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র।
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৫৪.
কোনটি শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস?
  1. যাপিত জীবন
  2. অলাতচক্র
  3. আর্তনাদ
  4. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
সঠিক উত্তর:
আর্তনাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্তনাদ
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস 'আর্তনাদ'। এটি শওকত ওসমান রচনা করেন। উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

-------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি।

অন্যদিকে, 
• সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস-  'যাপিত জীবন' ও 'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি'।
• 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৫৫.
'যাত্রা' প্রবন্ধগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. শওকত ওসমান
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সত্যেন সেন
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'যাত্রা' প্রবন্ধগ্রন্থটির রচয়িতা - সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উল্লেখ্য, শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - যাত্রা। 

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, লেখক, পণ্ডিত।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন পূর্ববর্তী স্বদেশী ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটদের একজন।
- একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে তিনি ইংরেজি সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও আইনে বিশেষ ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। 
- প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগ করে। 
- তাঁর অনুজ সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।
- তিনি বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘ভ্রমর’ সম্পাদনা করেন। অতঃপর তিনি ‘বঙ্গদর্শন’- এর সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন।
- তিনি 'Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities' (১৮৬৪) গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৫৬.
'ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ', কাজী নজরুল ইসলাম রচিত এই কালজয়ী গান কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
 বিদ্রোহী নজরুল, সাম্যবাদী নজরুল
-বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে (জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’।
- পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন।

- ১৯১৭ সালে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন।
- ১৯২৬ সালে তিনি প্রথমবারের মত ঢাকায় আসেন।
- ১৯৪২ সালে পিকস্ ডিজিজে অসুস্থ হয়ে দীর্ঘ ৩৪ বছর তিনি অসহনীয় নির্বাক জীবন কাটিয়েছেন। 

- ১৯৭২ সালের ২৪ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে কবি সপরিবারে বাংলাদেশে আসেন।
- কাজী নজরুল ইসলামকে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।
- মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশেই ছিলেন। 

- একটি অগ্রন্থিত গানে তিনি ইচ্ছা প্রকাশ করেন, 
'মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই, 
যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই।’

- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) মৃত্যুবরণ করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। 
- মৃত্যুর পর কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
- কবিকে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

♦♦ সাহিত্যকর্ম
- ১৯২২ সালে ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটির মধ্য দিয়ে সাড়া ফেলেন। 
- নজরুল ইসলাম তাঁর ‘সঞ্চিতা’ কাব্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেন তাঁর রবীন্দ্রনাথকে।

'ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ'
- ঈদুল ফিতর নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৩১ সালে রচনা করেন এই কালজয়ী গান।
- এই গানে ঈদের আনন্দ, সৌন্দর্য এবং আধ্যাত্মিক দিক তুলে ধরা হয়েছে। 
- গানটি প্রথম আব্বাসউদ্দীনের কণ্ঠে রেকর্ড করা হয়।
- ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে গানটি প্রকাশ করা হয়।

- নজরুলের প্রেম ও প্রকৃতির কবিতার প্রথম সংকলন দোলন-চাঁপা প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালের অক্টোবরে।
- এতে সংকলিত দীর্ঘ কবিতা ‘পূজারিণী’-তে নজরুলের রোমান্টিক প্রেম-চেতনার বহুমাত্রিক স্বরূপ  প্রকাশিত হয়েছে।  
- সাম্যবাদী কাব্যের  ১১ টি কবিতার সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

- অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯২০ সালের ১২ জুলাই এ.কে ফজলুল হকের (শেরে-বাংলা) সম্পাদনায় সান্ধ্য দৈনিক নবযুগ প্রকাশিত হয়। 
- 'নবযুগ' এর মাধ্যমেই নজরুলের সাংবাদিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে। 
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা - ধূমকেতু, লাঙ্গল।  

♦ প্রথম সবকিছু
-  প্রথম প্রকাশিত সাহিত্য বা প্রথম প্রকাশিত গল্প - বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী (সওগাত, মে ১৯১৯)।
- প্রথম প্রকাশিত কবিতা - ‘মুক্তি’ (বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯)।
- প্রথম প্রকাশিত কাব্য - অগ্নিবীণা।

- প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় - ‘যুগবাণী’। ১৯২২ সালে। 
- প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ - ব্যাথার দান।
- প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস - বাঁধন হারা (পত্রোপন্যাস)।
- প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ - তুর্কি মহিলার ঘোমটা খোলা।
- প্রথম প্রকাশিত নাট্যগ্রন্থ - ঝিলিমিলি।

♦ অগ্নিবীণা 
- প্রথম প্রকাশিত কাব্য।
- এই গ্রন্থে মোট ১২টি কবিতা আছে।
- প্রথম কবিতা - প্রলয়োল্লাস।
- 'বিদ্রোহী' এই কাব্যের দ্বিতীয় কবিতা।
- এটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ-কে উৎসর্গ করে লেখা। 
- প্রকাশকাল - ২৫শে অক্টোবর, ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দ।

♦ বিদ্রোহী নজরুল 
- নজরুলের 'সন্ধ্যা' কাব্যের 'চল চল চল' কবিতার প্রথম ২১ চরণ বাংলাদেশের রণসংগীত হিসাবে গৃহীত।
-  ধূমকেতু পত্রিকায় তাঁর প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে পত্রিকার ওই সংখ্যাটি (৮ নভেম্বর ১৯২২) নিষিদ্ধ করা হয়।
 - ২২ জানুয়ারি ১৯২৩, নজরুল যখন হুগলির আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি তখন রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'বসন্ত' গীতিনাট্য তাঁকে উৎসর্গ করেন।
- এ ঘটনায় উল্লসিত নজরুল জেলখানায় বসে তাঁর অনুপম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ রচনা করেন।
- ১৯২৩ সালে জেলে বসেই নজরুল রচনা করেন ‘এই শিকল-পরা ছল মোদের এ শিকল-পরা ছল’।
- সর্বহারা গ্রন্থের 'কাণ্ডারি হুশিয়ার' কবিতায় তিনি অসাম্প্রদায়িক সংগ্রামের আহ্বান করেছেন। 

- ১৯২২ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত কাজী নজরুল ইসলামের ৫টি বই বাজেয়াপ্ত করা হয়। 
- প্রথম গ্রন্থ হিসাবে যুগবাণী প্রবন্ধ বাজেয়াপ্ত হয় - ২৩ নভেম্বর ১৯২২।
- বিষের বাঁশী এবং ভাঙ্গার গান যথাক্রমে ২য় এবং ৩য়। (১৯২৪ সাল)।
- প্রলয়–শিখা এবং চন্দ্রবিন্দু ৪র্থ এবং ৫ম গ্রন্থ হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেয়াপ্ত হয় ১৯৩১ সালে।

তথ্যসূত্র - ১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
২. প্রথম আলো,
৩. ডেইলি স্টার বাংলা,
৪. আনন্দবাজার, 
৫. বাংলাপিডিয়া,
৬. কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকথা, মুজাফফর আহমদ।
২৫৭.
’মেঘনাদবধ’ কাব্যে সর্গের সংখ্যা কতটি?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯টি
ব্যাখ্যা
মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত মহাকাব্য মেঘনাদবধ কাব্য
- এ কাব্য গৃহীত হয়েছে রামায়ণ থেকে।
- ’মেঘনাদবধ’ কাব্যের ৯টি সর্গের  আখ্যানভাগ।
- প্রথম সর্গ মেঘনাদবধ কাব্যের প্রথম সর্গের নাম 'অভিষেক'। 
- দ্বিতীয় সর্গ> দ্বিতীয় সর্গের নাম 'অস্ত্রলাভ'। 
- তৃতীয় সর্গ >তৃতীয় সর্গের নাম 'সমাগম'। 
- চতুর্থ সর্গ >চতুর্থ সর্গের নাম 'অশোকবন'।
- পঞ্চম সর্গ >পঞ্চম সর্গের নাম 'উদ্যোগ'। 
- ষষ্ঠ সর্গ> ষষ্ঠ সর্গের নাম 'বধ'। 
- সপ্তম সর্গ> সপ্তম সর্গের নাম 'শক্তিনির্ভেদ'। 
- অষ্টম সর্গ> অষ্টম সর্গের নাম 'শক্তিনির্ভেদ'। 
- নবম সর্গ>নবম সর্গের নাম 'সংস্ক্রিয়া'। 
---------------------------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো:

• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৫৮.
শহীদুল্লা কায়সারের প্রকৃত নাম কী?
  1. সৈয়দ শহীদুল্লাহ মোহাম্মদ
  2. মোহাম্মদ আযহার শহীদুল্লাহ
  3. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক শহীদুল্লা কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ।

তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ
- সারেং বৌ
- সংশপ্তক 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ
- তিমির বলয়
- দিগন্তে ফুলের আগুন
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা
- চন্দ্রভানের কন্যা
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)

> ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষলগ্নে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তার স্থানীয় সহযোগী আল-বদরের হাতে অপহৃত হন। ধারণা করা হয় যে, অপহরণকারীদের হাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫৯.
‘অনিল বাগচীর একদিন’ কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য
  2. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক উপন্যাস
  3. সামাজ সমস্যামূলক নাটক
  4. মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• অনিল বাগচীর একদিন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ রচিত 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার।
- এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।
- পিতার হত্যা-সংবাদ ও বোনের অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের খবর পেয়ে গ্রামে ফিরবে বলে অনিলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা- সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি করে।
- পাকবাহিনীর সদস্যরা অনিলকে হত্যা করে।
- অনিল বাগচীর একদিন সমাপ্ত হয় চিরতরে কিন্তু বাংলাদেশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।

---------------------------
• হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- ছাত্রজীবনে লেখা 'নন্দিত নরকে' শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'শঙ্খনীল কারাগার' (১৯৭৩)। [প্রথম রচিত উপন্যাস; কিন্তু দ্বিতীয় প্রকাশিত]

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- শ্যামল ছায়া,
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৬০.
আলি এঁ কালি এঁ বাট রুন্ধেলা। তা দেখি কাহ্ন বিমনা ভইলা।" উক্তিটি কার রচনা ?
  1. শান্তিপা 
  2. ভুসুকুপা
  3. শবরপা
  4. কাহ্নপা 
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা 
ব্যাখ্যা
কাহ্নপা:
-
তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
তাঁর নামে প্রচলিত কয়েকটি গ্রন্থ হচ্ছে:
-কাহ্নপাদগীতিকা,
- শ্রীহেবজ্রপঞ্জিকা যোগরত্নমালা,
- হেবজ্রসাধন তত্ত্বোদ্যোৎকর,
- বহেবজ্রপদ্ধতি মন্ডলবিধি ইত্যাদি।

কাহ্ন পা রচিত চর্যাগীতির একটি নিদর্শন:
এবংকার দৃঢ় বাখোড় মোড়িউ ।
বিবিহ বিআপক বান্ধণ তোড়িউ ॥
কাহ্ল বিলসঅ আসব মাতা ৷
সহজ নলিনীবণ পইসি নিবিতা ॥
জিম জিম করিণা করিণিরে রিসঅ ।
তিম তিম তথতা মঅগল বরিসঅ ॥
ছড়গই সঅল সহাবে সুধ ।
ভাবাভাব বলাগ ন ছুধা ।।
দশবর রঅণ হরিঅ দশ দিসে।
বিদ্যাকরি দম জা অহিলেসেঁ ॥ 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৬১.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) বেদান্ত সার
  2. খ) বেদান্ত চন্দ্রিকা
  3. গ) প্রবোধ চন্দ্রিকা
  4. ঘ) রাজাবলি
সঠিক উত্তর:
ক) বেদান্ত সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বেদান্ত সার
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অন্যতম পন্ডিত হলেন মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার । তার রচিত গ্রন্থ হলঃ বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ, রাজাবলি, প্রবোধ চন্দ্রিকা, বেদান্ত চন্দ্রিকা। রাজা রামমোহন রচিত গ্রন্থ বেদান্ত সার। রেফারেন্সঃ বাংলা পিডিয়া।
২৬২.
শওকত ওসমানের “আর্তনাদ” উপন্যাসটি কিসের পটভূমিতে রচিত? 
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
  3. গ্রামীণ জীবন
  4. গোয়েন্দা কাহিনী 
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমানের “আর্তনাদ” উপন্যাসটি  ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।

• “আর্তনাদ”:
- ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানের আর্তনাদ (১৯৮৫) উপন্যাসটি ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে। 
- এতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনচেতা বাঙালি মধ্যবিত্ত ও পশ্চিম পাকিস্তানের ধর্মনির্ভর শাসকগোষ্ঠীর আদর্শিক দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে।
- একুশের চেতনার মধ্য দিয়ে সমাজের ভাঙন ও নতুন চেতনার উদয় উপন্যাসে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- উপন্যাসের কাহিনী পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের ভিন্ন চিন্তাধারা, ধর্মীয় রক্ষণশীলতা বনাম প্রগতিশীলতার দ্বন্দ্ব এবং এর ফলে সৃষ্ট সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা ঘিরে আবর্তিত হয়েছে।
- উপন্যাসটি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করে।
--------------------------------------------
শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
- সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন- 
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার,
- আদমজী সাহিত্য পুরস্কার,
- পাকিস্তান সরকারের প্রেসিডেন্ট পুরস্কার,
- একুশে পদক,
- মাহবুবউল্লাহ ফাউন্ডেশন পুরস্কার,
- মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার,
- স্বাধীনতা দিবস।
- দীর্ঘ দিন সাহিত্যচর্চার পর তিনি ১৯৯৮ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
দৈনিক জনকন্ঠ;
বাংলাপিডিয়া। 

২৬৩.
'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বেগম রোকেয়া
  3. সুফিয়া কামাল
  4. আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাসটির স্রষ্টা - আবু ইসহাক

আবু ইসহাক:
- তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান (২ খন্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) এবং ‘শিশু একাডেমি পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৬৪.
'বাঁধন-হারা' উপন্যাসের নায়ক চরিত্র কোনটি?
  1. রবিউল
  2. মাহাবুব
  3. জাহাঙ্গীর
  4. নুরুল হুদা
সঠিক উত্তর:
নুরুল হুদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নুরুল হুদা
ব্যাখ্যা

• 'বাঁধন-হারা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস। এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সময় নজরুল এর দুটি নাম ঠিক করেন ‘বাধন-হারা ও 'তাহমিনা'। পরে ‘বাধন-হারা' নামেই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা। অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৬৫.
'মানব-বন্দনা' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) জীবন-বন্দনা
  2. খ) কনকাঞ্জলি
  3. গ) এষা
  4. ঘ) প্রদীপ
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রদীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রদীপ
ব্যাখ্যা
'মানব-বন্দনা' কবিতাটি অক্ষয়কুমার বড়াল এর 'প্রদীপ' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

বড়াল, অক্ষয়কুমার (১৮৬০-১৯১৯)  উনিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- তাঁর প্রথম কবিতা 'রজনীর মৃত্যু' বঙ্গদর্শন কবিতায় প্রকাশিত হয়। 
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'প্রদীপ'।

অক্ষয়কুমার কাব্য ও নাটক মিলে অনেকগুলি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
তাঁর মধ্যে প্রধান কয়েকটি:
- প্রদীপ (১৮৮৪),
- কনকাঞ্জলি (১৮৮৫),
- ভুল (১৮৮৭),
- শঙ্খ (১৯১০),
- এষা (১৯১২),
- চন্ডীদাস (১৯১৭) ইত্যাদি।
তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থগুলির মধ্যে রাজকৃষ্ণ রায়ের কবিতা (১৮৮৭) এবং গিরীন্দ্রমোহিনী দাসীর অশ্রুমালা (১৮৮৭) উল্লেখযোগ্য।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
২৬৬.
'কবর' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. মাত্রাবৃত্ত
  2. অমিত্রাক্ষর
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. স্বরবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
ব্যাখ্যা

'কবর' (কবিতা):
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।

কবর
জসীমউদ্‌দীন

এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,

তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।

জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৬৭.
'উটপাখি' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শঙ্খ ঘোষ
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত এবং একান্নবর্তী  পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গ্রন্থের রচিয়তা হাসান আজিজুল হক। এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে।
এই গ্রন্থে মোট আটটি গল্প রয়েছে।
যথা -
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পরবাসী,
- সারাদুপুর,
- অন্তর্গত নিষাদ,
- মারী,
- উটপাখি,
- সুখের সন্ধানে,
- আমৃত্যু আজীবন
 
তার অন্যান্য গল্পগ্রন্থ-
- আমরা অপেক্ষা করেছি
- নামহীন গোত্রহীন
- সমুদ্রের স্বপ্ন
- শীতের অরণ্য
- জীবন ঘষে আগুন

হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৬৮.
'আর্য্যগাথা' গীতসংকলনটি কার রচনা?
  1. কামিনী রায়
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• 'আর্য্যগাথা' গীতসংকলন:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় খুব অল্পবয়স থেকেই গান রচনা করতেন এবং নিজেই সুর দিয়ে গাইতেন। বিলেত যাওয়ার আগে মাত্র সতেরো বছর বয়সের মধ্যে লেখা একশো আটটি গান নিয়ে তাঁর প্রথম গীতসংকলন আর্য্যগাথা (প্রথম ভাগ) ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়।

কিশোর বয়সে লেখা এ গানগুলিতে প্রকৃতির মনোরম সৌন্দর্য ও লাবণ্য, জগতের শোক-জরাজাত দুঃখাবসন্নতা, ঈশ্বরভক্তি এবং স্বদেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে।

• এ পর্বের একটি গান হলো:
‘গগনভূষণ তুমি জনগণমনোহারী!/
কোথা যাও নিশানাথ, হে নীল নভোবিহারী!।’

--------------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ও তাঁর সঙ্গীতশিক্ষা:
দ্বিজেন্দ্রলালের সঙ্গীতশিক্ষার হাতেখড়ি পিতার নিকট। তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন পিতার নিকট থেকে। তারপর বিলেতে থাকা অবস্থায় তিনি পাশ্চাত্য  সঙ্গীত শিক্ষার মাধ্যমে তাঁর সঙ্গীতপ্রতিভাকে শানিত করেন, যা পরবর্তীকালে বাংলা গানের ক্ষেত্রে নতুন নতুন ধারা উদ্ভাবনে সহায়ক হয়।

উনিশ শতকের শেষদিকে এবং বিশ শতকের প্রথমদিকে বাংলা গানের আধুনিকীকরণে যে পঞ্চ গীতিকবি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন, দ্বিজেন্দ্রলাল তাঁদের অন্যতম। রবীন্দ্রযুগে বাংলা কাব্যসঙ্গীতে বিভিন্ন ধারা প্রয়োগ ও  আধুনিক গান রচনায় তিনি ছিলেন একজন সার্থক রূপকার। নাটক রচনা ও পরিচালনায় তাঁর অসামান্য অবদান থাকলেও তিনি সঙ্গীতকার হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন বিষয়ে তিনি প্রায় পাঁচশত গান রচনা করেন। প্রথমদিকে তাঁর গান ‘দ্বিজুবাবুর গান’ নামে পরিচিতি ছিল; পরবর্তীকালে তা ‘দ্বিজেন্দ্রগীতি’ নামে পরিচিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
২৬৯.
এবংকার দৃঢ় বাখোড় মোড়িউ।
বিবিহ বিআপক বান্ধণ তোড়িউ ॥ - চরণটির রচয়িতা কে?
  1. শান্তিপা
  2. কাহ্নপা
  3. ভুসুকুপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• এবংকার দৃঢ় বাখোড় মোড়িউ।
বিবিহ বিআপক বান্ধণ তোড়িউ ॥ চরণটির রচয়িতা- কাহ্নপা। 

কাহ্নপা:

- তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি। কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।

কাহ্ন পা রচিত চর্যাগীতির একটি নিদর্শন:

এবংকার দৃঢ় বাখোড় মোড়িউ।
বিবিহ বিআপক বান্ধণ তোড়িউ॥
কাহ বিলসঅ আসব মাতা।
সহজ নলিনীবণ পইসি নিবিতা ॥
জিম জিম করিণা করিণিরে রিসঅ।
তিম তিম তথতা মঅগল বরিসঅ॥ ছড়গই সঅল সহাবে সুধ।
ভাবাভাব বলাগ ন দুধ।
দশবর রঅণ হরিঅ দশ দিসে।
বিদ্যাকরি দম জা অহিলেসে॥

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭০.
সতীনাথ ভাদুড়ী কোন উপন্যাসের জন্য রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন?
  1. পালামৌ
  2. জাগরী
  3. ভোরের বিহঙ্গী
  4. ঢোঁড়াইচরিত মানস
সঠিক উত্তর:
জাগরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাগরী
ব্যাখ্যা
'জাগরী' উপন্যাস:
- এটি সতীনাথ ভাদুড়ী রচিত উপন্যাস।
- ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত জাগরী উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন।
- সতীনাথ ভাদুড়ী ১৯৫০ সালে এই উপন্যাসের জন্য রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন।
- এটি রাজনৈতিক উপন্যাস হিসেবে বাংলা সাহিত্যে এর একটি বিশেষ স্থান আছে।

সতীনাথ ভাদুড়ী:
- তিনি কথাশিল্পী, রাজনীতিক ছিলেন।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ‘চিত্রগুপ্ত’।
- ১৯০৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিহারে পিতার কর্মস্থল পূর্ণিয়ায় তাঁর জন্ম।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জাগরী,
- ঢোঁড়াইচরিত মানস।

অন্যদিকে,
- 'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনিটি লিখছেন - সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- 'ভোরের বিহঙ্গী' উপন্যাসটির রচয়িতা - সত্যেন সেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭১.
নীলিমা ইব্রাহীমের বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম—
  1. ক) আমি বাঙ্গালি বলছি
  2. খ) আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  3. গ) বীরাঙ্গনার গাথা
  4. ঘ) বাঙ্গালি জীবনে রমনী
সঠিক উত্তর:
খ) আমি বীরাঙ্গনা বলছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আমি বীরাঙ্গনা বলছি
ব্যাখ্যা
'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ গবেষণাগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনীনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'। 
- যাদের দুঃখ কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন - তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা। 
- তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনী কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।
- বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭২.
উদাসী বাউলের জীবনদর্শনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয় মীর মশাররফ হোসেনের কোন রচনায়?
  1. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  2. বেহুলা গীতাভিনয়
  3. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  4. বসন্তকুমারী
সঠিক উত্তর:
গাজী মিয়াঁর বস্তানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাজী মিয়াঁর বস্তানী
ব্যাখ্যা

'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' আত্মজৈবনিক উপন্যাস:
• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস। গাজী মিয়াঁর বস্তানীতে উদাসী বাউলের জীবনদর্শনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

• এটি উপন্যাস জাতীয় রস-রচনা। কর্মজীবননির্ভর আত্মজীবনীমূলক এই রচনায় ব্যঙ্গরসের উপস্থাপন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

• এর প্রথম অংশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়; দ্বিতীয় অংশ পুস্তকাকারে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে মীর রচিত আত্মজীবনী আমার জীবনী-তে এর কিয়দংশ মুদ্রিত হয়। গ্রন্থের প্রচ্ছদপটে গ্রন্থকার হিসেবে মীর মশাররফ হোসেনের নাম মুদ্রিত হয়নি; স্বত্বাধিকারী হিসেবে তাঁর ছদ্মনাম ‘উদাসীন পথিক’ মুদ্রিত হয়েছে।

• এ গ্রন্থে অনেক চরিত্রের সমাবেশ-ঘটেছে, তবে কোনো একটি মূল ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাহিনি ও চরিত্র আবর্তিত বা বিবর্তিত হয়নি। মূলত লেখক ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে তৎকালীন সমাজের অন্যায়-অবিচার, অনাচার-দুর্নীতি, সমাজের মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ও বর্বরোচিত আচরণ চিত্রিত করেছেন।

• সোনাবিবি ও মনিবিবি নামে দুই বিধবা মহিলা জমিদারের দ্বন্দ্ব উপন্যাসের মূল ঘটনা। উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা ও স্থানের নামকরণ অভিনব, যেমন- অরাজকপুর, যমদ্বার, নচ্ছারপুর, পয়জারন্নেসা, সবলোট চৌধুরী, ভেড়াকান্ত, জয়ঢাক ইত্যাদি। ভেড়াকান্ত চরিত্রে লেখকের নিজের ছায়াপাত আছে বলে গ্রন্থখানিকে আত্মজৈবনিক রচনা বলে অভিহিত করা হয়। 

• গাজী মিয়াঁর বস্তানীর বিষয় ও অঙ্গসজ্জা সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় লিখেছেন- "গাজী মিয়ার বস্তানী একখানি বিচিত্র সমাজচিত্র, সুশোভিত, সুলিখিত উপন্যাস।"

---------------------
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'গাজী মিয়ার বস্তানী' গ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

২৭৩.
“পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?” এই উক্তিতে পথিক কে?
  1. কাপালিক
  2. নবকুমার
  3. কপালকুন্ডলা
  4. অমিত
সঠিক উত্তর:
নবকুমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবকুমার
ব্যাখ্যা

- কপালকুন্ডলা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক রোমান্টিক উপন্যাস৷
- এই উপন্যাসের 'পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছো?' উক্তিটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উক্তি।

এ উপনাসের উল্লেখযোগ্য কথোপকথনঃ
“অনন্তর সমুদ্রের জনহীন তীরে, এইরূপে বহুক্ষণ দুইজনে চাহিয়া রহিলেন। অনেক্ষণ পরে তরুণীর কণ্ঠস্বর শুনা গেল।
তিনি অতি মৃদুস্বরে কহিলেন, “পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?” এই কণ্ঠস্বরের সঙ্গে নবকুমারের হৃদয়বীণা বাজিয়া উঠিল।”

দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) বাংলা সাহিত্যে প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃত কারণ এটি প্রথম আধুনিক উপন্যাস এবং রোমান্টিক উপাদান প্রবর্তন করে। তবে, কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) প্রথম সার্থক রোমান্টিক উপন্যাস এবং এর ‘পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ!’ উক্তিটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উক্তি হিসেবে বিবেচিত কারণ এটি প্রকৃতি, প্রেম, এবং রহস্যের কাব্যিক সমন্বয় ঘটায়। এই উক্তিটি রোমান্টিক ভাবধারার প্রতিনিধিত্ব করে এবং বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিসিজমের গভীর প্রকাশের সূচনা করে।

উৎস: কপালকুণ্ডলা, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

২৭৪.
শিশুতোষ গল্প 'ইতল বিতল' কে রচনা করেছেন?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. শামসুর রহমান
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• শিশুতোষ গ্রন্থ 'ইতল বিতল' এর রচয়িতা সুফিয়া কামাল।
- তাঁর অপর শিশুতোষ গ্রন্থ- নওল কিশোরের দরবারে।

• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'সৈনিক বধূ'।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:

- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
কেয়ার কাঁটা।

• ডায়েরি:
- একাত্তরের ডায়েরী।

• আত্মজীবনী:
- একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭৫.
শৈবাল দীঘিরে বলে উচ্চ করি শির: লিখে রেখ, এক ফোঁটা দিলেম শিশির' এ অংশটুকুর মূল প্রতিপাদ্য বিষয়-
  1. ক) প্ৰতিদান
  2. খ) প্রত্যুপকার
  3. গ) অকৃতজ্ঞতা
  4. ঘ) অসহিঞ্চুতা
সঠিক উত্তর:
গ) অকৃতজ্ঞতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অকৃতজ্ঞতা
ব্যাখ্যা
"শৈবাল দিঘিরে বলে উচ্চ করি শির লিখে রেখ এক ফোঁটা দিলেম শিশির"।
- এ বাক্যের মূলভাব হলো এ জগতে এমন কিছু লোক আছে যারা উপকারীর উপকার স্বীকার করে না। বরং তারা সমান্য উপকার করতে পারলেই উপকৃত ব্যক্তির কাছে তার উপকারের কথাটি প্রচার করে বেড়ায়।
- যা তাদের অকৃতজ্ঞতাকে প্রকাশ করে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।
২৭৬.
"ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি
আমার দেশের মাটি।।" - পঙ্‌ক্তিগুলোর লেখক কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• "ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি
আমার দেশের মাটি।।" - পঙ্‌ক্তিগুলোর লেখক "কাজী নজরুল ইসলাম"।
- এটা নজরুল গীতির অংশ এবং একটা দেশাত্মবোধক গান।

"ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি" গীতিটির অংশবিশেষ:
ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি
আমার দেশের মাটি।।
এই দেশেরই মাটি জলে
এই দেশেরই ফুলে ফলে
তৃষ্ণা মিটাই মিটাই ক্ষুধা পিয়ে এরি দুধের বাটি।।
এই মায়েরই প্রসাদ পেতে
মন্দিরে এর এঁটো খেতে
তীর্থ ক’রে ধন্য হতে আসে কত জাতি।

উল্লেখ্য,
খাঁটি সোনা- কবিতা,
-সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।
মধুর চেয়ে আছে মধুর
সে এই আমার দেশের মাটি
আমার দেশের পথের ধূলা
খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।

উৎস: নজরুল গীতি - কাজী নজরুল ইসলাম।

২৭৭.
প্রমথ চৌধুরী রচিত 'চার-ইয়ারী কথা' গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী 
  2. সবুজপত্র
  3. পরিচয় 
  4. কবিতা
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
ব্যাখ্যা

• 'চার-ইয়ারী কথা' গল্প:
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'চার-ইয়ারী কথা' গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'সবুজপত্র' পত্রিকায়। ১৩২২ বঙ্গাব্দের চৈত্র, ১৩২৩-এর বৈশাখ ও জৈষ্ঠ্য সংখ্যায় তিন কিস্তিতে গল্পটি প্রকাশিত হয়। বহু প্রশংসিত হবার পর, এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সাধারণাব্দে।

- প্রমথ চৌধুরী বইটি উৎসর্গ করেন স্ত্রী ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণীকে। ১৯৪৪-এ এই বইটির ইন্দিরা দেবীকৃত ইংরেজি তর্জমা 'Tale of Four Friends' প্রকাশ করে বিশ্বভারতী। এই কাহিনি সম্পর্কে অভিযোগ উঠেছিল, এটি আনাতোল ফ্রাঁসের গল্পের অনুকরণে গড়া।

- গল্প প্রকাশের সময় অনেকেই প্রমথ চৌধুরীকে মুখে বলেছেন: তাঁর নায়িকাগুলির বর্ণনা, কথোপকথন ও চরিত্রাঙ্কন এত নিখুঁত যে মনে হওয়াই স্বাভাবিক যে 'চার ইয়ারি কথা'-র চারটি নায়িকার সঙ্গে বিলেতে তাঁর নিশ্চয়ই পরিচয় ছিল। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছাড়া এমন লেখা সম্ভব নয়।
প্রত্যুত্তরে প্রমথ চৌধুরী বলেন: "প্রথম নায়িকা হচ্ছে পাগল, দ্বিতীয়টি চোর, তৃতীয়টি জুয়াচ্চোর, আর চতুর্থটি ভূত। বলা বাহুল্য, একরকম চারটি সম্পূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রের নায়িকার একটির পর একটির সঙ্গে পরিচয় হওয়া অসম্ভব। এই চারটিই আমার মনগড়া। তবে এর ভিতর তৃতীয় গল্পের নায়িকার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল, যাকে আমি রিণী নামে গড়ে তুলেছি।"

- সেকালে পাঠক সমাজের বিশেষ উৎসাহ ছিল তৃতীয় গল্পের রহস্যময়ী নায়িকা রিণীকে নিয়ে। বিশেষত রিণীর সঙ্গে লেখকের কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা তা-ই নিয়ে। আত্ম-কথা-য় এ বিষয়ে প্রমথ চৌধুরী যা লিখেছিলেন তার অনেকটাই হারিয়ে গেছে। আর যে-কিছুটা অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে তা বৈশাখী-তে (১৩৫২) প্রকাশিত হয়েছে।

----------------
প্রমথ চৌধুরী রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• প্রবন্ধ:
- তেল-নুন-লকড়ী,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- ভাষার কথ,
- আমাদের শিক্ষা,
- নানাচর্চা। 

• গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত,
- ঘোষালে ত্রিকথা।

উৎস: 'চার-ইয়ারী কথা' গল্প গ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৭৮.
'ছিন্নমুকুল' কার রচিত উপন্যাস?
  1. সোমেন চন্দ
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা
- স্বর্ণকুমারী দেবী আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস-
- ছিন্নমুকুল,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- কাহাকে,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত নাটক:
- বিবাহ উৎসব,
- দেব কৌতুক,
- বসন্ত উৎসব।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২৭৯.
পূর্ববঙ্গ গীতিকা কোন অঞ্চলের পালা?
  1. ক) নেত্রকোণা
  2. খ) চাঁদপুর
  3. গ) লক্ষ্মীপুর
  4. ঘ) নোয়াখালী
সঠিক উত্তর:
ঘ) নোয়াখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
ড. দীনেশচন্দ্র সেন নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে এগুলো সংগ্রহ করেন। ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ নামে তিন খ-ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
২৮০.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) তারা- বাঈ
  2. খ) অনল প্রবাহ
  3. গ) রায়নন্দিনী
  4. ঘ) স্বজাতি প্রেম
সঠিক উত্তর:
খ) অনল প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা
'অনল প্রবাহ'- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত 'কাব্যগ্রন্থ'।  

'অনল প্রবাহ'
কাব্যগ্রন্থ
- এটি তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে ব্রিটিশ সরকার তা বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলোর মধ্যে: অনল প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্চ্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ, মরক্কো সংকটে উল্লেখযোগ্য। 

তাছাড়া,
তারা- বাঈ, রায়নন্দিনী- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস।
স্বজাতি প্রেম-  সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত প্রবন্ধ। 

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ
- অনল প্রবাহ
- আকাঙ্ক্ষা
- উচ্ছ্বাস 
- উদ্বোধন
- নব উদ্দীপনা
- স্পেন বিজয় কাব্য
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী 
- প্রেমাঞ্জলি 

তাঁর রচিত উপন্যাস 
- রায়নন্দিনী
- তারাবাঈ
- ফিরোজা বেগম
- নূরুদ্দীন 

তাঁর রচিত  প্রবন্ধ 
- স্বজাতি প্রেম 
- তুর্কি নারী জীবন 
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা 

ভ্রমণ কাহিনী: 
 -তুরস্ক ভ্রমণ  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
২৮১.
'আমি পুড়েছি জ্বালা ও আগুনে' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) দীনেশচন্দ্র সেন
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) দাউদ হায়দার
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
গ) দাউদ হায়দার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দাউদ হায়দার
ব্যাখ্যা
দাউদ হায়দার একজন বাংলাদেশী বাঙালী কবি, লেখক ও সাংবাদিক, যিনি ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে দেশ থেকে নির্বাসনের পর বর্তমানে জার্মানীতে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। তিনি একজন আধুনিক কবি যিনি সত্তর দশকের কবি হিসাবে চিহ্নিত। তার একটি বিখ্যাত কাব্যের নাম 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ'। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ- সংগস অব ডেস্পায়ার, এই শাওনে এই পরবাসে, বানিশম্যান্ট, আমি পুড়েছি জ্বালা ও আগুনে, এলোন ইন ডার্কনেস অ্যান্ড আদার পোয়েমস, অবসিডিয়ান।
২৮২.
'রাজাবলি' গদ্য গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. তারিণীচরণ মিত্র
  3. রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
  4. গোলোকনাথ শর্মা
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• 'রাজাবলি':
- কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত 'রাজাবলি' (১৮০৮) গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে।
- আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৮৩.
'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' গল্পটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. গল্পসল্প
  2. গল্পগুচ্ছ
  3. তিন সঙ্গী
  4. হিতবাদীর উপহার
সঠিক উত্তর:
গল্পগুচ্ছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগুচ্ছ
ব্যাখ্যা

'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন'।
- 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' গল্পটি রবীন্দ্রনাথের 'গল্পগুচ্ছ' গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। গল্পটি ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ সংখ্যা 'সাধনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সাধু-ভাষায় রচিত এ গল্পে রবীন্দ্র ছোটগল্পের প্রথম পর্বের শিল্পবৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আবেগ এবং গীতিময়তা, প্রকৃতি ও মানুষের বিজড়িত অস্তিত্ব, মানব জীবনের বিশেষ কোন পরিণাম সংগঠনে প্রকৃতির ভূমিকা ইত্যাদি ভাব ও অনুষঙ্গ আলোচ্য গল্পের প্রধান শিল্পলক্ষণ।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
- অনুকুলবাবুর শিশুপুত্র খোকাবাবু পদ্মা নদীতে পড়ে চিরতরে হারিয়ে যায়। এ-জন্যে ভৃত্য রাইচরণের মনোবেদনার শেষ নেই। খোকাবাবুর মৃত্যুর কিছুদিন পরেই রাইচরণের স্ত্রী একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন। রাইচরণের দৃঢ় বিশ্বাস, খোকাবাবুই তার যন্ত্রণাকে প্রশমিত করার জন্যে তার ঘরে এসে জন্মলাভ করেছে। তাই সে তার পুত্রকে খোকাবাবু জ্ঞানে ভিন্নভাবে আদর-যত্ন আর হে ভালবাসায় বড় করে তোলে। রাইচরণের খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন বিষয়ক ভাবনাই তার পরিণতিকে ত্বরান্বিত করেছে।

গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- অনুকূলবাবু,
- রাইচরণ,
- খোকাবাবু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্প।

২৮৪.
কোন কবির প্রাপ্ত উপাধি - ‘গুণরাজ খান’?
  1. কৃত্তিবাস ওঝা
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. মালাধর বসু
  4. চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
ব্যাখ্যা
গ) মালাধর বসু-র প্রাপ্ত উপাধি হলো - 'গুণরাজ খান'।

• মালাধর বসু ও তাঁর উপাধি: গুণরাজ খান।
মালাধর বসুকে গুণরাজ খান উপাধি দেওয়া হয়েছিল। তবে এই উপাধি কে দিয়েছিলেন, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কারণ, তাঁর কাব্যরচনার সময় দুইজন গৌড়েশ্বর ছিলেন:

এরা হলেন - 
• রুকনুদ্দিন বরবক শাহ – কাব্য রচনার প্রথম পর্যায় গৌড়েশ্বর।
• শামসুদ্দিন ইউসুফ শাহ – কাব্য রচনার শেষ পর্যায় গৌড়েশ্বর।

তবে কবির নিজ কাব্য থেকেই পাওয়া যায় এই উক্তি-
“গুণ নাই, অধম মুই, নাহি কোন জ্ঞান।
 গৌড়েশ্বর দিল নাম গুণরাজ খান।”

এই পদ থেকেই ধারণা করা হয়, মালাধর বসুকে গুণরাজ খান উপাধি দিয়েছিলেন রুকনুদ্দিন বরবক শাহ।

উল্লেখ্য:
মালাধর বসু ছিলেন গৌড়ের সুলতান রুকনুদ্দিন বরবক শাহের উচ্চপদস্থ কর্মচারী। তিনি সংস্কৃতপটু, হিন্দু ধর্মালম্বী হয়েও মুসলিম শাসকের কাছ থেকে এই সম্মান লাভ করেন, যা তৎকালীন সময়ের ধর্মীয় সহনশীলতার নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
২৮৫.
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম কী? 
  1. নীল উপাধ্যায়
  2. বনফুল
  3. হাবু শর্মা
  4. দৃষ্টিহীন
সঠিক উত্তর:
বনফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনফুল
ব্যাখ্যা

• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম ‘বনফুল’।

• অন্যদিকে,
​সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম- 'নীল উপাধ্যায়'।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- হাবু শর্মা।
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার এর ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

২৮৬.
'রানার' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) বন্দে আলী মিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে ‘রানার’ কবিতাটি লিখেছেন সুকান্ত ভট্টাচার্য। এ কবিতাটি মূলত ডাক হরকরাদের নিয়ে লেখা। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২৮৭.
‘কালান্তর’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. গদ্যরচনা
  2. প্রবন্ধের সংকলন
  3. নাটক
  4. ছোটগল্প
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধের সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধের সংকলন
ব্যাখ্যা
• কালান্তর:
- 'কালান্তর' (১৯৩৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভারতবর্ষীয় রাজনৈতিক সমস্যা বিষয়ক বিভিন্ন প্রবন্ধের সংকলন।
- রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক মতের বিকাশের সামগ্রিক পরিচয় এই গ্রন্থে পাওয়া যায়।

----------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- মানুষের ধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮৮.
'আমি কি দুঃখেরে ডরাই' উক্তিটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) রামপ্রাসাদ সেন
  2. খ) দাশরথি রায়
  3. গ) রামনিধি গুপ্ত
  4. ঘ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
সঠিক উত্তর:
ক) রামপ্রাসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রামপ্রাসাদ সেন
ব্যাখ্যা
- 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই' উক্তিটি রচনা করেছেন- রামপ্রাসাদ সেন। 

রামপ্রসাদ সেন
:
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- তাঁর রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।
- শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত হয়েছিলেন - রামপ্রসাদ সেন।
- বিখ্যাত গান "মনরে কৃষি কাজ জান না এমন মানবজমিন রইল পতিত আবাদ করলে ফলতো সোনা।"
- তার গান শুনে বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদৌলা অভিভূত হয়েছিলেন ।
- রামপ্রসাদ সেনকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র 'কবিরঞ্জন' উপাধি দিয়েছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)। 
২৮৯.
'জোহরা' ও 'ইব্রাহীম কার্দী' চরিত্র দুটি নিচের কোন সাহিত্যে পাওয়া যায়?
  1. বিষাদসিন্ধু
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. নীলদর্পণ
  4. দুর্গেশনন্দিনী
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

•‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি

অন্যদিকে,
- বিষাদসিন্ধু - ইমাম হোসেন এজিদ।
- নীলদর্পণ: নবীন মাধব, তোরাপ।
- দুর্গেশনন্দিনী: আয়েশা, তিলোত্তমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৯০.
কোন উপন্যাসের মাধ্যমে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন?
  1. অলৌকিক ইস্টিমার
  2. জ্বলো চিতাবাঘ
  3. সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
  4. ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
সঠিক উত্তর:
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
ব্যাখ্যা

'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস:
- হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস- 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' (১৯৯৪)।
- এই উপন্যাস প্রকাশের মধ্য দিয়ে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রাশেদকে উপন্যাসটি উৎসর্গ করা হয়।

হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ।

হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২৯১.
কায়কোবাদের জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. ঢাকা
  2. ফরিদপুর
  3. বরিশাল
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯২.
মনসামঙ্গল কাব্যকে আর কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. চণ্ডিকামঙ্গল 
  2. সূর্যমঙ্গল 
  3. গৌরীমঙ্গল
  4. কেতকামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
কেতকামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেতকামঙ্গল
ব্যাখ্যা

মনসামঙ্গল:
- মনসামঙ্গল হলো সেই কাব্যগুলো যা মূলত সাপের দেবী মনসাকে কেন্দ্র করে রচিত।
- মনসার অপর নাম কেতকা বা পদ্মা।
- তাই মনসামঙ্গলের অন্য নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয় কেতকামঙ্গল বা পদ্মাপুরাণ।
- মনসামঙ্গল কাব্য মঙ্গলকাব্যের আদি ও প্রাচীনতম ধারা হিসেবে পরিচিত।
- এর কাহিনি পূর্ববঙ্গের বনজঙ্গল, নদী, খাল ও বিলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত।

- ‘মনসামঙ্গল কাব্য’-এর আদি কবি কানহরিদত্ত হলেও শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে স্বীকৃত বিজয়গুপ্ত।
- বিজয়গুপ্ত ‘পদ্মপুরাণ’ নামে এই কাব্য রচনা করেন।
- এখানে দেবী মনসার জন্ম ও চাঁদ সওদাগরের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- এছাড়া এটি সর্পদেবী মনসার পূজা প্রতিষ্ঠা, তাঁর মাহাত্ম্য, শক্তি ও মানবজীবনে তাঁর প্রভাবকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে।

- কাহিনীর মূল চরিত্র চাঁদ সওদাগর।
- তিনি প্রথমে মনসাকে তুচ্ছ করলেও পরে দেবীর অলৌকিক শক্তি স্বীকার করে নেন।
- এই বিরোধ, সংকট ও গ্রহণের মধ্য দিয়েই কাব্যের গল্প এগোতে থাকে।
- মনসামঙ্গলে কেবল পৌরাণিক আখ্যানই নয়, সমাজবাস্তবতার দিকও প্রকাশ পেয়েছে।
- চাঁদ ও মনসার দ্বন্দ্বে আর্য–অনার্য সংঘাত, দেব–মানব বিরোধ, এবং সমাজের শ্রেণী-বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছিল।

- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
• দেবী মনসা,
• চাঁদ সওদাগর,
• বেহুলা,
• লক্ষিন্দর,
• সনকা ও
• নেতাইধোপানি।

- মধ্যযুগের সাহিত্যে চাঁদ সওদাগর সর্বাধিক প্রতিবাদী পুরুষ চরিত্র হিসেবে বিবেচিত। 
- আর বেহুলা সেই যুগের সর্বাধিক প্রতিপ্রাণা নারী চরিত্র— যিনি স্বামীর প্রাণ রক্ষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত ছিলেন। 

উৎস: 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস – মাহবুবুল আলম; 
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ। 

২৯৩.
'অভীক' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পের নায়ক?
  1. দেনাপাওনা
  2. রবিবার
  3. ল্যাবরেটরি
  4. ক্ষুধিত পাষাণ
সঠিক উত্তর:
রবিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবিবার
ব্যাখ্যা
• 'অভীক' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘রবিবার’ গল্পের প্রধান চরিত্র। 

• 'অভীক' চরিত্র বিষয়ক আলোচনা:
গল্পে অভয়াচরণ (অভীক) নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ পণ্ডিত ঘরের সন্তান। সে হয়ে উঠেছে ঘোর নাস্তিক। যত রকম নিয়মভঙ্গে সিদ্ধ। বেয়াদবি আচরণে তার যত উৎসাহ। সে যেমন কলকব্জা সারাতে পারে আবার ছবি আঁকতেও দক্ষ। নিষিদ্ধ মাংস খায়, অগাধ পয়সা থাকা সত্ত্বেও কারখানায় শৌখিন মজদুরি করে। গ্যাঁটের পয়সা খরচা করে নিজের আঁকা ছবির প্রদর্শনী করে প্রশংসা পাবে বলে।

----------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর ছোটগল্পসমূহ:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ‘ভিখারিনী’।
- ‘ভারতী’ পত্রিকার ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) শ্রাবণ-ভাদ্র সংখ্যায় প্রকাশিত হয় - রবীন্দ্রনাথের ভিখারিণী গল্পটি।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো: 
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: রবিবার’ গল্প; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২৯৪.
বাংলা গজল গানের জনপ্রিয়তা ও বিস্তার ঘটান কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
গজল গান ও নজরুল:
• বাংলা গজল গানের জনপ্রিয়তা ও বিস্তার ঘটান - কাজী নজরুল ইসলাম। গণসঙ্গীত ও গজলে যৌবনের দুটি বিশিষ্ট দিক সংগ্রাম ও প্রেমের পরিচর্যাই ছিল মুখ্য। নজরুল গজল আঙ্গিক সংযোজনের মাধ্যমে বাংলা গানের প্রচলিত ধারায় বৈচিত্র্য আনয়ন করেন।

• তাঁর অধিকাংশ গজলের বাণীই উৎকৃষ্ট কবিতা এবং তার সুর রাগভিত্তিক। আঙ্গিকের দিক থেকে সেগুলি উর্দু গজলের মতো তালযুক্ত ও তালছাড়া গীত। নজরুলের বাংলা গজল গানের জনপ্রিয়তা সমকালীন বাংলা গানের ইতিহাসে ছিল তুলনাহীন।

• ১৯২৬-২৭ সালে কৃষ্ণনগর জীবনে নজরুল উভয় ধারায় বহুসংখ্যক গান রচনা করেন। ওই সময়ে তিনি নিজের গানের স্বরলিপি প্রকাশ করতে থাকেন। এসব গান থেকে স্পষ্ট হয় যে, নজরুলের সৃজনশীল মৌলিক সঙ্গীত প্রতিভার প্রথম স্ফুরণ ঘটে ১৯২৬-২৭ সালে কৃষ্ণনগরে। অথচ নজরুলের কৃষ্ণনগর জীবন ছিল অভাব-অনটন, রোগ-শোক ও দুঃখ-দারিদ্র্যক্লিষ্ট। তখনও পর্যন্ত নজরুল কোনো প্রচার মাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হননি, তবে দিলীপকুমার রায় ও সাহানা দেবীর মতো বড় মাপের শিল্পী ও সঙ্গীতজ্ঞ নজরুলের গানকে বিভিন্ন আসরে ও অনুষ্ঠানে পরিবেশন করে জনপ্রিয় করে তোলেন।

অন্যদিকে, 
• গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭-১৯৬৪) ছিলেন কবি ও লেখক। যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।গোলাম মোস্তফা গীতিকার ও গায়ক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর গানের বিষয় ছিল ইসলামি সংস্কৃতি ও দেশপ্রেম। 

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) ছিলেন কবি, নাট্যকার ও গীতিকার। দ্বিজেন্দ্রলালের সঙ্গীতশিক্ষার হাতেখড়ি পিতার নিকট। তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন পিতার নিকট থেকে। তারপর বিলেতে থাকা অবস্থায় তিনি পাশ্চাত্য সঙ্গীত শিক্ষার মাধ্যমে তাঁর সঙ্গীতপ্রতিভাকে শানিত করেন, যা পরবর্তীকালে বাংলা গানের ক্ষেত্রে নতুন নতুন ধারা উদ্ভাবনে সহায়ক হয়। উনিশ শতকের শেষদিকে এবং বিশ শতকের প্রথমদিকে বাংলা গানের আধুনিকীকরণে যে পঞ্চ গীতিকবি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন, দ্বিজেন্দ্রলাল তাঁদের অন্যতম। 

• হুমায়ুন কবির (১৯০৬-১৯৬৯) ছিলেন রাজনীতিবিদ, লেখক ও দার্শনিক। সাহিত্যক্ষেত্রে প্রথমত কবি হিসেবেই হুমায়ুন কবিরের আত্মপ্রকাশ ঘটে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৯৫.
“স্বাধীনতা-হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে,
কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে,
কে পরিবে পায়।।”
- বিখ্যাত পঙক্তি টি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. পৌষপার্বণ
  2. পদ্মিনী উপাখ্যান
  3. শূরসুন্দরী
  4. কাঞ্চীকাবেরী
সঠিক উত্তর:
পদ্মিনী উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মিনী উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মিনী উপাখ্যান' নামক এক আখ্যায়িকা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'স্বাধিনতা' কবিতা। 
- এ কবিতার বিখ্যাত পঙক্তি - “স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়?”
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৫৮ সালে। 
- তিনি কাব্যের কাহিনী আরোহন করেছেন টডের রাজস্থান কাহিনী নামক বই থেকে। 

কবির উল্লেখযোগ্য অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
- পদ্মিনী উপাখ্যান (১৮৫৮)
- কর্মদেবী(১৮৬২)
- শূরসুন্দরী(১৮৬৮)
- কাঞ্চীকাবেরী(১৮৭৯)
- ভেক-মূষিকের যুদ্ধ(১৮৫৮),
- হোমারের কাব্যের অনুবাদ।[৩]
- নীতি কুসুমাঞ্জলি (১৮৭২)

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলাপিডিয়া।

২৯৬.
‘কাজলরেখা’ কোন গীতিকার অন্তর্ভুক্ত রচনা?
  1. চট্টগ্রাম গীতিকা
  2. মৈমনসিংহ গীতিকা
  3. নাথ গীতিকা
  4. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা

• কাজলরেখা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত কয়েকটি পালা ও রূপকথা মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনে সংকলিত হয়।
- "কাজলরেখা" মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
- এদের মধ্যে কাজলরেখা কোনো পালা নয়। এটা পদ্য ও গল্পাকারে বর্ণিত রূপকথা।
- এর রচয়িতা কে তা জানা যায় নি।

উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্র:
- ধনেশ্বর,
- কাজলরেখা,
- রত্নেশ্বর,
- শুকপাখি।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,মাহবুবুল আলম।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩. বাংলাপিডিয়া।

২৯৭.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসটি কে রচনা করেছেন?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. আব্দুল্লাহ আল মুতী
  4. আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর:
অদ্বৈত মল্লবর্মণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্বৈত মল্লবর্মণ
ব্যাখ্যা
• 'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'অদ্বৈত মল্লবর্মণ'।

• 'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাস:
- উপন্যাসটির রচয়িতা- অদ্বৈত মল্লবর্মণ।
- উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসে তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর ( জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের রীতি- নীতি, ধর্ম- সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের কাহিনি বর্ণিত।
- ঋত্বিক ঘোটক উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ণ করেন ১৯৭৩ সালে।
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'।
- উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনী রূপ দিয়েছেন।

• অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৯৮.
'অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।' - বিখ্যাত পঙক্তিটি কোন কবিতার অংশ?
  1. মানুষ
  2. বিদ্রোহী
  3. সাম্যবাদী
  4. নারী
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
নারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারী
ব্যাখ্যা
"অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।" পঙক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের 'নারী' কবিতার অন্তর্গত।
কবিতাটি নিম্নরূপ-

নারী,
কাজী নজরুল ইসলাম।

" সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!
বিশ্বে যা-কিছু মহান্‌ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।"

‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে।
গ্রন্থটিতে মোট কবিতা রয়েছে ১১টি।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২৯৯.
'লালসালু' উপন্যাস কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৫৮
  2. ১৯৩৮
  3. ১৯৪৮
  4. ১৯২৮
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮
ব্যাখ্যা
• 'লালসালু' উপন্যাস: 
- উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু হচ্ছে, ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা। 
- উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী প্রতিবাদের প্রতীক।
- লালসালু একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো: মজিদ, খালেক, ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরে বাপ, হাসুনির মা।
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) সালে খ্যাতি অর্জন করে।
---------------------- 
 সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ:
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
-  আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ডিস্টিংকশনসহ বি.এ (১৯৪৩) পাস করেন।
-  তিনি হাতে লেখা পত্রিকা ভোরের আলো  সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর।

নাটক: 
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ, 
- সুড়ঙ্গ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া। 
৩০০.
বাংলা সাহিত্যে “অন্ধকার যুগ” নামে পরিচিত সময়কাল কত বছর ধরে বিস্তৃত?
  1. ১০০ বছর
  2. ১৫০ বছর
  3. ২০০ বছর
  4. ২৫০ বছর
সঠিক উত্তর:
১৫০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫০ বছর
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায়নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল,
- কলিমা জালাল,
- 'শূণ্যপূরাণ,
- সেক শুভদয়ার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।