বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ২০ / ২১১ · ১,৯০১২,০০০ / ২১,১৩২

১,৯০১.
বঙ্গবন্ধু কেন্দ্রিক একটি উপন্যাস-
  1. জন্মভূমি
  2. আগস্টের একরাত
  3. একদা এক রাজ্যে
  4. কি চাহ শঙ্খচিল
সঠিক উত্তর:
আগস্টের একরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগস্টের একরাত
ব্যাখ্যা
'আগস্টের একরাত' উপন্যাস:
- এই উপন্যাসের রচয়িতা সেলিনা হোসেন।
- বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যাকান্ডের পটভূমিতে রচিত হিউম্যান ট্রাজেডির উপাখ্যান।
- হত্যাকান্ডের বিচারে ৬১ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।
- সাক্ষীদের এইসব জবানবন্দি কাহিনীর প্রয়োজনে উপন্যাসজুড়ে ব্যবহৃত হয়েছে।
- লেখক একদিকে গল্প বানিয়েছেন অন্যদিকে জবানবন্দি উপস্থাপন করে ঘটনার বিবরণ সংযুক্ত করেছেন।
- ফলে উপন্যাসে সাধু ও চলিত ভাষার ব্যবহার অনিবার্য ছিল।
- নিঃসন্দেহে বলা যায় ভাষার এই দুই ধারা উপন্যাসের আঙ্গিকে ভিন্নতা এনেছে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্ররা মৃত।
- ভিন্নধর্মী আঙ্গিকের কারণে উপন্যাসের পৃষ্ঠাজুড়ে তাদের উপস্থিতি ছিল।
- এই উপন্যাসে সময় উথালপাথাল চরিত্র। কাহিনী নির্মাণের প্রয়োজনে সময়ের ধারাবাহিকতার আগপিছ করা হয়েছে।

সেলিনা হোসেন:
- কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন, রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিনা হোসেন বর্তমানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ পরবাসী,
- একাত্তরের ঢাকা,
- নির্ভয় করো হে।

তার রচিত গল্প:
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনূঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা,
- মৃত্যুর নীল পদ্ম ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) 'আগস্টের একরাত' উপন্যাস
১,৯০২.
'পথ ও বিপথ' নাটকটি রচনা করেন-
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) কাজী আবদুল ওদুদ
  3. গ) আহসান হাবীব
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলি
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী আবদুল ওদুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
কাজী আবদুল ওদুদ (১৮৯৪- ১৯৭০): শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ। জন্ম ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে।
নদীবক্ষে ও আজাদ (১৯৪৮) তাঁর দু’টি উপন্যাস।
নাটকও রচনা করেন দু’টি, পথ ও বিপথ (১৯৩৯) এবং মানব-বন্ধু (১৯৪১)। মানব-বন্ধু পরবর্তীকালে তরুণ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১,৯০৩.
শামসুদ্দীন আবুল কালাম সম্পাদিত পত্রিকা-
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. মাহেনও
  3. বঙ্গদর্শন
  4. কালিকলম
সঠিক উত্তর:
মাহেনও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহেনও
ব্যাখ্যা
• 'মাহেনও' আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা।

• শামসুদ্দীন আবুল কালাম:

- ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে আবুল কালাম শামসুদ্দীন জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘আবুল কালাম শামসুদ্দীন’।
- ষাটের দশকে তিনি রোম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট উপাধি এবং রোমের এক্সপেরিমেন্টাল সেন্টার অব সিনেমাটোগ্রাফি থেকে চলচ্চিত্র বিষয়ক ডিপ্লোমা লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুজিবনগর সরকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
- শামসুদ্দীনের মুখ্য পরিচয় একজন কথাশিল্পী হিসেবে।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৪ সালে ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ লাভ করেন।
- ১৯৯৭ সালের ১০ জানুয়ারি রোমে তাঁর মৃত্যু হয় এবং ঢাকায় তিনি সমাহিত হন।

• তাঁর রচনাসমূহ হলো:
• গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।

• উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম,
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- 'বঙ্গদর্শন' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ‘কালিকলম' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৯০৪.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. দিকশূণ্য ভট্টাচার্য
  2. ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা
  3. শ্রীমতি মধ্যমা
  4. অনুরূপা দেবী
সঠিক উত্তর:
অনুরূপা দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুরূপা দেবী
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, 
--------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন, এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূণ্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা,
- শ্রীমতি মধ্যমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯০৫.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস-
  1. ফেরারী সূর্য
  2. কবর
  3. আর্তনাদ
  4. জলাংগী
সঠিক উত্তর:
আর্তনাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্তনাদ
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আর্তনাদ
- এটি শওকত ওসমান রচনা করেন।
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
• মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক - কবর।
• 'ফেরারী সূর্য’ রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ।
• শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - জলাংগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১,৯০৬.
শেখ ওয়াজেদ আলি রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বিশ শতকের মেয়ে
  2. খ) ভবিষ্যতের বাঙালী
  3. গ) বিশ শতকের বাঙালি
  4. ঘ) স্বরূপের সন্ধানে
সঠিক উত্তর:
খ) ভবিষ্যতের বাঙালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভবিষ্যতের বাঙালী
ব্যাখ্যা
শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
তিনি ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ
- জীবনের শিল্প
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য 
- ভবিষ্যতের বাঙালী 
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

অন্যদিকে,
• 'স্বরূপের সন্ধানে' গ্রন্থটির রচিয়তা অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান
• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ - 'বিশ শতকের বাঙালি',
• ড. নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস- বিশ শতকের মেয়ে

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯০৭.
বাংলা সাহিত্যে 'ছান্দসিক কবি' বলা হয় কাকে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. আব্দুল কাদির
  3. সুকুমার রায়
  4. যতিন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
আব্দুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল কাদির
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যে আবদুল কাদিরকে ছান্দসিক কবি বলা হয়।

আবদুল কাদির:
- কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক ও সম্পাদক।
- ১৯২৬ সালে 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর নেতৃত্বে ঢাকার বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের তিনি প্রধান উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করেন।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজ থেকে প্রকাশিত ‘শিখা' পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক (১৯২৭) ছিলেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
কবিতা :
- দিলরুবা (১৯৩৩),
- উত্তর বসন্ত (১৯৬৭)।

প্রবন্ধ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস : মুসলিম সাধনার ধারা,
- কবি নজরুল,
- কাজী আবদুল ওদুদ,
- লোকায়ত সাহিত্য।

অন্যদিকে, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত “ছন্দের জাদুকর” এবং “ছন্দের রাজা” হিসেবে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯০৮.
'কৃষ্ণপক্ষ' গল্পগ্রন্থেরর রচয়িতা কে?
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালের উলানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'ডানপিটে শওকত' (১৯৫৩)। এটি একটি শিশুতোষ গ্রন্থ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের নাম 'কৃষ্ণপক্ষ' (১৯৫৯)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' (১৯৬০)।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো / একুশে ফেব্রুয়ারি / আমি কি ভুলিতে পারি।' গানটি রচনা করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

• আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

• তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯০৯.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের পুথি কত সালে মুদ্রিত হয়?
  1. ১৯১৪ সালে
  2. ১৯১৫ সালে
  3. ১৯১৬ সালে
  4. ১৯১৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা
• "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন":
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।

- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।

- পুথিটির মাঝখানের এবং শেষের কয়েকটি পত্র না থাকায় এর নাম জানা যায়নি। তাই এর বিষয়বস্ত্ত কৃষ্ণলীলাবিষয়ক বলে নাম রাখা হয়েছে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।

- ১৩২৩ বঙ্গাব্দে (১৯১৬) এই নামে বসন্তরঞ্জনের সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে পুথিটি মুদ্রিত হলে গবেষক মহলে আলোড়নের সৃষ্টি হয় এবং বাংলা ভাষার উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে গবেষণার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়। পুথিটি থেকে বাংলা লিপির বিবর্তন সম্পর্কেও অনেক ধারণা পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৯১০.
'মৃত্যুক্ষুধা' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) মানিক বন্দোপাধ্যায়
  2. খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস বাঁধন-হারা। তাঁর রচিত আরও দুটি উপন্যাস হচ্ছে মৃত্যুক্ষুধা ও কুহেলিকা।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১,৯১১.
'জোহরা' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় কোন কাব্যগ্রন্থে?
  1. ক) রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. খ) কবর
  3. গ) মহাশ্মশান
  4. ঘ) অশ্রুমালা
সঠিক উত্তর:
গ) মহাশ্মশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
• 'মহাশ্মশান' (১৯০৫) কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এটি একটি মহাকাব্য।
- এটি ধারাবাহিকভাবে 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ।
- মহাশ্মশান কাব্যের মোট তিনটি খন্ড রয়েছে এবং ৬০টি সর্গ আছে।
- এর চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা বেগম, হিরণ বালা, আতা খাঁ, ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯১২.
কোনটি জীবনানন্দ দাশের উপাধি?
  1. তিমির হননের কবি
  2. রূপসী বাংলার কবি
  3. ধুসরতার কবি
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ - ধুসরতার কবিতিমির হননের কবিরূপসী বাংলার কবি

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। নমাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯১৩.
ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন -
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. বিষ্ণু দে
  3. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।
- ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৯১৪.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতা 'মুক্তি' প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকা থেকে? 
  1. সওগাত
  2. লাঙল
  3. বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকা
  4. নবযুগ
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকা
ব্যাখ্যা

মুক্তি:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতা: মুক্তি।
- প্রকাশিত হয় বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকা থেকে।
- এই কবিতাটি ১৩২৬ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়।

• কাজী নজরুল ইসলামের যা কিছু প্রথম প্রকাশিত-
- তার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: অগ্নিবীণা (১৯২২)।
- প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস: বাঁধন-হারা (১৯২৭)।
- প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ: তুর্কি মহিলার ঘোমটা খোলা।
- প্রথম প্রকাশিত নাটক: ঝিলিমিলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১,৯১৫.
খনার বচনে বিষয়বস্তু নয় কোনটি?
  1. স্বাস্থ্য
  2. ঋতু
  3. পুঁথি
  4. আবহাওয়া
সঠিক উত্তর:
পুঁথি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুঁথি
ব্যাখ্যা
খনার বচন:
- খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি। ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
- শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি।
- বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যাতিশাস্ত্র সম্পর্কিত। এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯১৬.
"ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।" - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন পালার অন্তর্ভুক্ত?
  1. মহুয়া
  2. কমলা
  3. চন্দ্রাবতী
  4. বিদ্যাসুন্দর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা

'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। 

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে, 
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯১৭.
অমিত্রাক্ষর ছন্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ :
  1. ক) হাইকু
  2. খ) ‘সনেট’
  3. গ) ব্লাংকভার্স
  4. ঘ) লিমেরিক
সঠিক উত্তর:
গ) ব্লাংকভার্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ব্লাংকভার্স
ব্যাখ্যা
• অমিত্রাক্ষর ছন্দ ইংরেজি হচ্ছে Blank verse (ব্লাংকভার্স)।

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে অন্তমিল থাকে না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৯১৮.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. ইছামতী
  2. দেবযান
  3. যাত্রাবদল
  4. আরণ্যক
সঠিক উত্তর:
যাত্রাবদল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাত্রাবদল
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প 'উপেক্ষিতা' প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তিনি চিত্রলেখা (১৯৩০) নামে একটি সিনেমা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তাছাড়া হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯১৯.
'অভেদী' - উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।দ তাঁর ছন্দনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র। সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আলালের ঘরে দুলাল,
- আধ্যাত্নিকা,
- অভেদী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯২০.
চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য ছিলেন -
  1. গোবিন্দদাস
  2. বিজয়গুপ্ত
  3. বিদ্যাপতি
  4. জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
জ্ঞানদাস:
- সম্ভবত ষোল শতকে বর্ধমান জেলায় কবি জ্ঞানদাসের জন্ম।
- তিনি চণ্ডীদাসের কাব্যাদর্শ অনুসরণ করে এবং তার সঙ্গে নিজের মৌলিক প্রতিভার সমন্বয়ে রাধাকৃষ্ণের লীলাবর্ণনার মাধ্যমে মানবমানবীর শাশ্বত প্রেমবেদনার কথা ব্যক্ত করেছেন।
- তিনি ছিলেন চণ্ডীদাসের - ভাবশিষ্য।
- তিনি ব্রজবুলি ও বাংলায় পদ রচনা করেছিলেন, তবে বাংলা পদেই তাঁর কৃতিত্ব বেশি।
- জ্ঞানদাস পদাবলিতে সৌন্দর্যের ব্যঞ্জনা দিয়েছেন, আবেগের সূক্ষ্ম কারুকর্ম ফুটিয়ে তুলেছেন।
- তিনি মানবজীবনের বাতায়নে বসে ভাব বৃন্দাবনের কিশোর কিশোরীর লীলা প্রত্যক্ষ করে শিল্পী হয়ে উঠেছেন।
- তিনি তপস্বিনী রাধার মূর্তিটি নিরাভরণ ও নিরলঙ্কার ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
- নায়িকার রূপবর্ণনা, অতৃপ্ত প্রণয়াকাঙ্ক্ষার তীব্রজ্বালা, মিলনের জন্য ব্যাকুলতা, মিলনের গভীর উল্লাস ও বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি কুশলতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৯২১.
ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত কবিতা হচ্ছে-
  1. কৃষ্ণকলি
  2. মানসী
  3. উর্বশী
  4. মরণ
সঠিক উত্তর:
মরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরণ
ব্যাখ্যা

• ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।  
• উল্লেখযোগ্য কবিতা : মরণ, প্রশ্ন।

‘মরণ’ কবিতার অংশবিশেষ :
"মরণ রে,
তুঁহুঁ মম শ্যামসমান।"

• “ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী” কাব্যের সারসংক্ষেপ:
১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয় :
ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি। প্রকাশক

• ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে। এই পদগুলোর প্রথম চরণ হচ্ছে :

১. বসন্ত আওল রে, ২. শুনহ শুনহ বালিকা, ৩. হৃদয়ক সাধ মিশাওল হৃদয়ে, ৪. শ্যাম রে, নিপট কঠিন মন তোর, ৫. সজনি সজনি রাধিকা লো, ৬. বঁধুয়া, হিয়া' পর আও রে. ৭. শুন সখি, বাজই বাঁশি, ৮. গহন কসমকঞ্জমাঝে ৯. সতিমির রজনা, সচকিত সজনী, ১০. বাজাও রে মোহন বাশি, ১১. আজু সাখ, মুহু মুহু, ১২. শ্যাম, মুখে তব মধুর অধরমে, ১৩. সজনি গো শাঙনগগনে ঘোর ঘনঘটা, ১৪. বাদরবরখন নীরদগরজন ১৫. মাধব, না কহ আদরবাণী, ১৬. সখি লো, সখি লো, নিকরুণ মাধব ১৭. বার বার সখি, বারণ করিনু ১৮. হম যব না রব সজনী, ১৯. মরণ রে তুঁহু মম শ্যামসমান ও ২০. কো তুঁহুঁ বোলবি মোয় ।
'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' যখন প্রকাশিত হয়, তখন কবির বয়স ছিল ২৩ বছর। ১১ সংখ্যক পদ ‘আজু সখি মুহু মুহু' ও ১৯ সংখ্যক পদ 'মরণ রে তুঁহু মম শ্যামসমান' কবির ‘ছবি ও গান' (১২৯০) গ্রন্থে সংকলিত হয়। ২০ সংখ্যক পদ ‘কো তুঁহু বোলবি মোয়' ১২৯৩ সনে প্রকাশিত 'কড়ি ও কোমল'-এর প্রথম সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত ছিল । 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী'তে সংকলিত পদের সিংহভাগই গ্রন্থবদ্ধ

উৎস: ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,৯২২.
নীলিমা ইব্রাহিম রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ -
  1. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  2. বিশ শতকের মেয়ে
  3. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  4. বিন্দু বিসর্গ
  5. দুয়ে দুয়ে চার
সঠিক উত্তর:
বিন্দু বিসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিন্দু বিসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'বিন্দু বিসর্গ' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত আত্মজীবনী।
- গ্রন্থটি ১৯৯১ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• ‘বিন্দু বিসর্গ’ বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।

------------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• 'বিন্দু বিসর্গ' তাঁর রচিত আত্মজীবনী।

• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ গবেষণাগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯২৩.
কোনটি প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. পদচারণ
  2. দুর্দিনের যাত্রী
  3. চার ইয়ারী কথা
  4. যুগবাণী
সঠিক উত্তর:
চার ইয়ারী কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার ইয়ারী কথা
ব্যাখ্যা

'চার ইয়ারী কথা' 
- এটি প্রমথ চৌধুরীর গল্পগ্রন্থ। এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এখানে বর্ণিত হয়েছে চার বন্ধুর প্রেমের কাহিনী। গল্পগ্রন্থের নায়িকা চারজনই ইউরোপীয়।
- গল্পগ্রন্থে প্রথম নায়িকা উন্মাদ, দ্বিতীয় নায়িকা চোর, তৃতীয় নায়িকা প্রতারক ও চতুর্থ নায়িকা মৃত্যুর পর ভালোবাসা ব্যক্ত করেছে।
- এটিতে ভাষার চাতুর্য, পরিহাসপ্রিয়তা এবং সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ উদ্ভাসিত হয়েছে ভাবালু প্রেমকাহিনী প্রতিবাদী রূপে।

অন্যদিকে,
- 'পদচারণ' প্রমথ চৌধুরীর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ: 'যুগবাণী', দুর্দিনের যাত্রী'। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৯২৪.
'দুর্গাদাস' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) দীনবন্ধু মিত্র
  4. ঘ) নুরুল মোমেন
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
'দুর্গাদাস' ঐতিহাসিক নাটকের রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। তাঁর রচিত অন্যান্য ঐতিহাসিক নাটক- সাজাহান, প্রতাপসিংহ, মেবার পতন, নুরজাহান, চন্দ্রগুপ্ত, সিংহল বিজয় ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯২৫.
'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' নামে খ্যাত কবি কে?
  1. ক) জ্ঞানদাস
  2. খ) দৌলত কাজী
  3. গ) বিজয় গুপ্ত
  4. ঘ) গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
গোবিন্দদাস:
- গোবিন্দদাস ছিলেন বৈষ্ণব পদকর্তা। 
- তিনি ছিলেন চৈতন্যত্তোরকালে খ্যাতি অর্জনকারী কবিদের একজন। 
- তিনি 'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' নামে খ্যাত কবি। 
- তার কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ৷ 
- তার রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম 'সংগীতমাধব'। 
- তিনি পূর্বরাগ, অভিসার, মান, কলহস্তরিতা, বাসকসজ্জা, মাথুর প্রভৃতি পর্যায়ের পদকর্তা। 
- অভিসার পদ পর্যায়ে গােবিন্দদাস শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। 
- সমালােচকের মতে অভিসার পর্যায়ে তিনি রাজাধিরাজ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১,৯২৬.
আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ছায়া হরিণ
  2. সারা দুপুর
  3. আশায় বসতি
  4. রাত্রিশেষ
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষ
ব্যাখ্যা
আহসান হাবিব ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক।
তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ।
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- ছায়া হরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাব, দুই হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি। অরণ্যে নীলিমা, রানী খালের সাঁকো তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯২৭.
নবীনচন্দ্র সেন কোন দুটি ধর্মগ্রন্থ কাব্যানুবাদ করেছিলেন?
  1. বাইবেল ও কোরআন
  2. রামায়ণ ও মহাভারত
  3. ভগবদগীতা ও চণ্ডী
  4. ত্রিপিটক ও উপনিষদ
সঠিক উত্তর:
ভগবদগীতা ও চণ্ডী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভগবদগীতা ও চণ্ডী
ব্যাখ্যা
• নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন একজন কবি ছিলেন।
- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন।
- প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
 - তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।
- রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস, নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।
- ১৯০৯ সালের ২৩ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।  

• নবীনচন্দ্রের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।

- তিনি ভগবদগীতা ও চণ্ডীর কাব্যানুবাদ করেন।

• তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ: 
- আমার জীবন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯২৮.
শামসুর রাহমানের 'স্বাধীনতা তুমি' কবিতায় মিছিল কীরূপ ছিল?
  1. ক) পতাকা-শোভিত
  2. খ) শ্লোগান-মুখর
  3. গ) ঝাঁঝালো
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা তুমি
রবিঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান।
স্বাধীনতা তুমি
কাজী নজরুল ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো
মহান পুরুষ, সৃষ্টিসুখের উল্লাসে কাঁপা-
স্বাধীনতা তুমি
শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা
স্বাধীনতা তুমি
পতাকা-শোভিত শ্লোগান-মুখর ঝাঁঝালো মিছিল।

-- (স্বাধীনতা তুমি – শামসুর রাহমান)
১,৯২৯.
কোন বিশ্ববিদ্যালয় কবি জসীম উদ্‌দীনকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধি প্রদান করে?
  1. করাচি বিশ্ববিদ্যালয়
  2. রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  3. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীম উদ্‌দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি 'Field of the Embroidery Quilt' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

• জসীম উদ্‌দীন অর্জিত পুরস্কার ও সম্মাননা:
- জসীম উদ্‌দীন বাংলা সাহিত্যের একজন বিশেষ সম্মানিত ও বহু পুরস্কারে পুরস্কৃত কবি। তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮) অর্জন করেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার ডিগ্রি (১৯৬৯), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- তিনি ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কারের জন্যও মনোনীত হয়েছিলেন, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করেন। 

 • তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- সোজন বাদিয়ার ঘাট 
- মা যে জননী কান্দে 

 • তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

 • শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,৯৩০.
"আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট।" - এই কথা কে বলেছেন?
  1. শামসুর রাহমান
  2. শহীদ কাদরী
  3. সমর সেন
  4. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা

• সমর সেন:
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- ১৯৮৭ সালের ২৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২. বাংলাপিডিয়া।

১,৯৩১.
ব্যতিক্রম কোনটি?
  1. উভশৃঙ্গ
  2. চৌরসন্ধি
  3. পুরাতন খঞ্জর
  4. রাজসাক্ষী
সঠিক উত্তর:
উভশৃঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উভশৃঙ্গ
ব্যাখ্যা
• ব্যতিক্রম - উভশৃঙ্গ
- এটি শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ।
- বাকিগুলো শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস।

শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পিঁজরাপোল, 
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- প্রস্তর ফলক, 
- উভশৃঙ্গ
- শ্রেষ্ঠ গল্প,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯৩২.
“পিপীলিকার পাখা উড়ে মরিবার তরে
কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে।।”
উদ্ধৃতিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. সারদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা

একটি অতি প্রচলিত প্রবাদবাক্য “পিপীলিকার পাখা ওঠে মরিবার তরে”
মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের ‘কালকেতু ও ফুল্লরা উপাখ্যান’ থেকে উদ্ধৃতিটি নেওয়া হয়েছে।

- মধ্যযুগের প্রখ্যাত কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর চন্ডীমঙ্গল কাব্যে প্রবাদটির ব্যবহার আছে।
- চণ্ডীমঙ্গল যখন অপরূপ সুন্দরী নারী মূর্তি ধারণ করে কালকেতুর কুঁড়েঘরটি আলোকিত করে বসে থাকলেন, কালকেতুর স্ত্রী ফুল্লরা এই নারীকে দেখে স্বামীকে সন্দেহ করলো।
- তার সে সন্দেহ দৃঢ়মূল হলো যখন মেয়েটি জানালো বনের মধ্যে তিনি একা একা বিচরণ করছিলেন, ফুল্লরার স্বামী কালকেতুই তাঁকে ধরে নিয়ে এসেছে।
- মেয়েটির কথা শুনে ফুল্লরার পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে গেল। মেয়েটি ফুল্লরার কথায় গৃহত্যাগ করতে রাজি নয়। কালকেতু তাঁকে নিয়ে এসেছে, কাজেই কালকেতুর নির্দেশ ছাড়া তিনি গৃহত্যাগ করবেন না।
- কালকেতু তখন হাটে গেছে মাংস বিক্রি করতে। ফুল্লরার ধারণা, ঘরে তার সতীন এসেছে। রাগে, দুঃখে, ক্ষোভে অভিমানে ফুল্লরা হাটের দিকে যায় স্বামীকে মোকাবিলা করতে।
স্বামীকে পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে উচ্চারণ করে:
“পিপীলিকার পাখা ওঠে মরিবার তরে /
কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে?”

উৎস : কালকেতু ও ফুল্লরা উপাখ্যান এবং ইত্তেফাক আর্কাইভ।

১,৯৩৩.
'সংবাদ প্রভাকর' প্রথম প্রকাশিত হয় কার সম্পাদনায় 
  1. প্রমথ চৌধুরী 
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি হিসেবে পরিচিত।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন যুগসন্ধিক্ষণের কবি (১৭৬১ – ১৮৬০)।
- তাকে যুগসন্ধিক্ষণের  কবি বলা হয় কারণ তার রচনায় মধ্যযুগের সাহিত্যরীতি ও বিষয়বস্তু যেমন ছিল, তেমনি আধুনিক যুগের প্রভাবও ছিল স্পষ্ট।
- তিনি ছিলেন দুই যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন।
- অল্পদিনের মধ্যেই এটি বন্ধ হলেও ১৮৩৬ সালে পুনরায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে ১৮৩৯ সালে ‘সংবাদ প্রভাকর’ বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকায় পরিণত হয়।
- এছাড়া ‘সংবাদ প্রভাকর’ ছাড়াও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকাও সম্পাদনা করেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে উদ্দেশ করে এই উক্তিটি করেন-  “এতো বড় প্রতিভা কেবলই ইয়ার্কিতে ফুরালো।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অসামান্য প্রতিভা মূলত ব্যঙ্গ-রসাত্মক ও অপ্রধান বিষয়নির্ভর রচনাতেই নষ্ট হয়েছে, যা সাহিত্যকে গভীরতা বা স্থায়ী মূল্য দিতে পারেনি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।

১,৯৩৪.
'মরণ রে,
তুঁহুঁ মম শ্যামসমান।'
- কোন কবিতার লাইন?
  1. প্রাণ
  2. সিন্ধুতরঙ্গ
  3. মরণ
  4. বৃষ্টি পরে টাপুর টুপুর
সঠিক উত্তর:
মরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরণ
ব্যাখ্যা
• ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।  
• উল্লেখযোগ্য কবিতা: মরণ,

‘মরণ’ কবিতার অংশবিশেষ :
"মরণ রে,
তুঁহুঁ মম শ্যামসমান।"

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি। 

উৎস:
১) ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১০।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৩) বাংলাপিডিয়া।
১,৯৩৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রক্তকরবী' নাটক নিচের কোন বিষয়টি চিত্রায়িত করা হয়েছে?
  1. ধনের উপর ধান্যের প্রাধান্য
  2. শক্তির উপর প্রেমের জয়
  3. মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ' রক্তকরবী' নাটকের রচয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• 'রক্তকরবী' নাটক সম্পর্কিত আলোচনা:
- রক্তকরবী (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সাংকেতিক নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি 'প্রবাসী' পত্রিকার আশ্বিন সংখ্যায় প্রকাশিত।

- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের প্রাধান্য, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকের চরিত্র - নন্দিনী, রঞ্জন।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। 
------------------ 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- তিনি অসংখ্য কবিতা, গান, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, নৃত্যনাট্য, ভ্রমণকাহিনি, চিঠিপত্র রচনা করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- বাংলাদেশের শাহজাদপুর, পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে আসেন।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।
-----------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের চরিত্র:
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'। 
- পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'। 
- তাঁর 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র: কুমুদিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও রবীন্দ্র রচনা সমগ্র।
১,৯৩৬.
‘ঘুম থেকে জেগে বৈশাখী ঝড়ে কুড়ায়েছি ঝরা আম’ এই লাইনটির লেখক বা কবি কে?
  1. বেগম সুফিয়া কামাল
  2. সুফিয়া আহম্মদ
  3. আহসান হাবীব
  4. সানাউল হক
সঠিক উত্তর:
বেগম সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
- 'ঘুম থেকে জেগে বোইশাখী ঝড়ে কুড়ায়েছি ঝরা আম' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - সুফিয়া কামাল
- লাইনটি কবি সুফিয়া কামালের 'পল্লী স্মৃতি' নামক কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 

পল্লী স্মৃতি
বেগম সুফিয়া কামাল
"বহুদিন পরে মনে পড়ে আজি পল্লী ময়ের কোল,
ঝাউশাখে যেথা বনলতা বাঁধি হরষে খেয়েছি দোল
কুলের কাটার আঘাত লইয়া কাঁচা পাকা কুল খেয়ে,
অমৃতের স্বাদ যেন লভিয়াছি গাঁয়ের দুলালী মেয়ে
পৌষ পার্বণে পিঠা খেতে বসে খুশীতে বিষম খেয়ে,
আরো উল্লাস বাড়িয়াছে মনে মায়ের বকুনি পেয়ে।
চৈত্র নিশির চাঁদিমায় বসি‘ শুনিয়াছি রূপকথা,
মনে বাজিয়াছে সুয়ো দুয়োরাণী দুখিনি মায়ের ব্যথা।
তবু বলিয়াছি মার গলা ধরে, “মাগো, সেই কথা বল,
রাজার দুলালে পাষাণ করিতে ডাইনী করে কি ছল!
সাতশ‘ সাপের পাহারা কাটায়ে পাতালবাসিনী মেয়ে,
রাজার ছেলেরে বাঁচায়ে কি করে পৌঁছিল দেশে যেয়ে।”
কল্পপূরীর স্বপনের কাঠি বুলাইয়া শিশু চোখে
তন্দ্রদোলায় লয়ে যেত মোরে কোথা দূর ঘুমলোকে
ঘুম হতে জেগে বৈশাখী ঝড়ে কুড়ায়েছি ঝরা আম
খেলার সাথীরা কোথা আজ তারা? ভুলিয়াও গেছি নাম।
নববর্ষার জলে অবগাহি কভু পুলকিত মনে
গান গাহিয়াছি মল্লার রাগে বাদলের ধারা সনে;
শিশির সিক্ত শেফালী ফুলের ঘন সৌরভে মাতি‘
শারদ প্রভাতে সখীগন সাথে আনিয়াছি মালা গাঁথি‘।
পল্লী নদীর জলে ভাসাইয়া মোচার খেলার তরী,
কাঁদিয়া ফিরেছি সাঁঝের আলোতে পুতুল বিদায় করি‘।
আগামী দিনের আশা-ভরসার কত না মধুর ছবি
ফুঁটিয়া উঠেছে আঁখির পাতায় ডুবেছে যখন রবি"। 

উৎস: পল্লী স্মৃতি কবিতা – বেগম সুফিয়া কামাল। 
১,৯৩৭.
'আত্মচরিত' আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) কাজী আবদুল ওদুদ
  4. ঘ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
সঠিক উত্তর:
ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত বাংলা গদ্যে রচিত প্রথম আত্মজীবনী- বিদ্যাসাগর চরিত/আত্মচরিত। উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৯৩৮.
সুকুমার সেন 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' গ্রন্থে চর্যাপদের কতজন পদকর্তার উল্লেখ করেছেন?
  1. ২৩ জন
  2. ২২ জন
  3. ২৪ জন
  4. ২১ জন
সঠিক উত্তর:
২৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ জন
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। 

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- অন্যদিকে, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন।
- আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

১,৯৩৯.
চণ্ডীচরণ মুনশী কোন গ্রন্থটি রচনা করেন?
  1. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  2. লিপিমালা
  3. কথোপকথন
  4. তোতা ইতিহাস
সঠিক উত্তর:
তোতা ইতিহাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোতা ইতিহাস
ব্যাখ্যা
তোতা ইতিহাস:
- চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি গল্পগ্রন্থ। যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে। এটি ফারসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত।

চণ্ডীচরণ মুনশী:
- তিনি ছিলেন বাঙ্গালী লেখক।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্যদিকে, 
উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ - কথোপকথন (১৮০১)
রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ - রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১) ও লিপিমালা (১৮০২)। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৯৪০.
পউআঁ খালের উল্লেখ পাওয়া যায় চর্যার কোন কবির পদে?
  1. লুইপা
  2. শবরপা
  3. ঢেণ্ডণপা
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত চর্যার পদগুলো হলো- ৬নং/ ২১নং/ ২৩নং/ ২৭নং/ ৩০নং/ ৪১নং/ ৪৩নং/ ৪৯নং।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- তিনি তাঁর রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পউআঁ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' (৬নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

৪৯নং পদ-
বাজ ণাব পাড়ী পউআঁ খালেঁ বাহিউ.
অদঅ বঙ্গাল দেশ লুড়িউ।। 
আজি ভুসুকু ভইলী। 
নিঅ ঘরিণী চণ্ডালেঁ লেল।। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
১,৯৪১.
‘চাঁদের অমাবস্যা’  সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত একটি-
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
⇒ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
• তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
• বাংলা একাডেমি পুরস্কার(১৯৬১), আদমজি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৮৩) লাভ করেন।

⇒ চাঁদের অমাবস্যা:
• ‘চাঁদের অমাবস্যা’ ১৯৬৪ সালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত একটি উপন্যাস।
• চাঁদের অমাবস্যায় যুবক শিক্ষকের ভয় ও আত্ম-প্রবঞ্চনার প্রতিফলনের সমাচার আঁকতে গিয়ে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ মানবিক অস্তিত্ব-সংকট এবং ব্যক্তির দায় ও ভারবোধের প্রসঙ্গাদি পরিবেশন করেছেন।
• এই গ্রন্থে প্রকৃতি, রাত, চাঁদ, অন্ধকার, আলো, কুয়াশা, নদী, বাঁশির শব্দ, বাতাসের আওয়াজ; ব্যক্তির সংশয়, সারল্য, আত্মনিমগ্নতা- এইসব বিষয় ও অনুভব সারিবদ্ধভাবে হাজির হয়েছে পাঠকের সামনে।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪২.
কোনটি জসীমউদ্দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি?
  1. বিলাতে সাড়ে সাত শ' দিন
  2. দেশে বিদেশে
  3. যে দেশে মানুষ বড়
  4. পথে প্রবাসে
সঠিক উত্তর:
যে দেশে মানুষ বড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে দেশে মানুষ বড়
ব্যাখ্যা
⇒ ‘যে দেশে মানুষ বড়’ জসীমউদ্দীন রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।
- ভ্রমণকাহিনিটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।
- এই ভ্রমনকাহিনিতে মস্কো শহর, তাসখন্দ, রাশিয়া ইত্যাদি জায়গায় বর্ণনা আছে।

অন্যদিকে,
• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ভ্রমণকাহিনি ‘বিলাতে সাড়ে সাত শ' দিন’।
• 'পথে প্রবাসে' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়।
• 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি।

============
⇒ জসীমউদ্দীন: 
- কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা ইত্যাদি।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪৩.
বুদ্ধদেব বসুর জন্মস্থান-
  1. কুমিল্লা
  2. কলকাতা
  3. বিক্রমপুর
  4. ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৪৪.
নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়কোবাদকে কোন উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. সাহিত্যরত্ন
  2. সাহিত্যবিশারদ
  3. সাহিত্যসাগর
  4. কাব্যকণ্ঠ
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যরত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যরত্ন
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি, তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা এবং আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।

- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়কোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

অন্যদিকে,
• বিখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গবেষক আবদুল করিমকে নদীয়া সাহিত্য সভা তাকে "সাহিত্যসাগর" খেতাব এবং চট্টল ধর্মমণ্ডলী "সাহিত্যবিশারদ" খেতাব প্রদান করে। 

• 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধিতে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪৫.
'আধুনিক কবি ও কবিতা' প্রবন্ধটি রচনা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ - আধুনিক কবি ও কবিতা

হাসান হাফিজুর রহমান:
- ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারি”।
- এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়। সম্পাদক ছিলেন - হাসান হাফিজুর রহমান।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র র সম্পাদকও তিনি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪৬.
“তোমরা আনিবে ফুল ও ফসল পাখি-ডাকা রাঙা ভোর
জগৎ করিবে মধুময়, প্রাণে প্রাণে বাঁধি প্রীতিডোর।" - কোন কবির শিশু সাহিত্য?
  1. বেগম সুফিয়া কামাল
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. সুকুমার রায়
  4. কামিনী রায় 
সঠিক উত্তর:
বেগম সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

কবিতাংশটুকু কবি সুফিয়া কামালের 'আজিকার শিশু' কবিতার অংশবিশেষ। 
------------------------------------------------
"আজিকার শিশু"
   —সুফিয়া কামাল

"আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা।
তোমরা এ যুগে সেই বয়সেই লেখাপড়া কর মেলা।
আমরা যখন আকাশের তলে ওড়ায়েছি শুধু ঘুড়ি
তোমরা এখন কলের জাহাজ চালাও গগন জুড়ি।
উত্তর মেরু, দক্ষিণ মেরু সব তোমাদের জানা,
আমরা শুনেছি সেখানে রয়েছে জিন, পরী, দেও, দানা।
পাতালপুরীর অজানা কাহিনী তোমরা শোনাও সবে
মেরুতে মেরুতে জানা পরিচয় কেমন করিয়া হবে।
তোমাদের ঘরে আলোর অভাব কভু নাহি হবে আর
আকাশ-আলোক বাঁধি আনি দূর করিবে অন্ধকার।
শস্য-শ্যামলা এই মাটি মা'র অঙ্গ পুষ্ট করে
আনিবে অটুট স্বাস্থ্য, সবল দেহ-মন ঘরে ঘরে।
তোমাদের গানে, কল-কলতানে উছসি উঠিবে নদী—
সরস করিয়া তৃণ ও তরুরে বহিবে সে নিরবধি।
তোমরা আনিবে ফুল ও ফসল পাখি-ডাকা রাঙা ভোর
জগৎ করিবে মধুময়, প্রাণে প্রাণে বাঁধি প্রীতিডোর।
------------------------------------------------
সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।

• তাঁর  উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর বিখ্যাত গল্প: ‘কেয়ার কাঁটা’। 
• স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে কবির উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

• কবি সুফিয়া কামালের শিশু সাহিত্যেও উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
- তাঁর ‘ইতল বিতল’ এবং ‘নওল কিশোরের দরবারে’ গ্রন্থ দুটি শিশুদের জন্য রচিত ছড়া ও কবিতার সংকলন।
- গ্রন্থ দুইটি বাংলা শিশু সাহিত্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
- এসব রচনায় শিশুদের কল্পনা, আনন্দ ও মানসিক জগৎ অত্যন্ত সহজ ও প্রাণবন্তভাবে ফুটে উঠেছে।

• এ ছাড়া শিশুদের কেন্দ্র করে লেখা তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘আজিকার শিশু’ শিশু সাহিত্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি রচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস:
‘আজিকার শিশু’ কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১,৯৪৭.
'নিশুতি রাতের গাঁথা' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. খ) আনোয়ার পাশা
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
খ) আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা(১৯২৮-১৯৭১):
 বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক আনোয়ার পাশার জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে। 
- আনোয়ার পাশা ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়। 
- তাঁর দু দশকের সাহিত্যজীবনে প্রকাশিত হয় মোট দশটি গ্রন্থ ও পনেরোটি প্রবন্ধ।
- তার মধ্যে আছে দুটি কাব্যসংকলন, একটি গল্পসংকলন, তিনটি  উপন্যাস ও দুটি সমালোচনা গ্রন্থ। 

তাঁর  উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে:
- নদী নিঃশেষিত হলে (১৯৬৩),
- রবীন্দ্র ছোটগল্প সমীক্ষা (২ খন্ড ১৯৬৩, ১৯৭৩),
- নীড় সন্ধানী (১৯৬৮),
- নিশুতি রাতের গাঁথা (১৯৬৮),
- সাহিত্যশিল্পী আবুল ফজল (১৯৬৮),
- নিরুপায় হরিণী (১৯৭০),
- রাইফেল-রোটি-আওরাত (১৯৭৩),
- সমুদ্র শঙ্খলতা উজ্জয়িনী ও অন্যান্য কবিতা (১৯৭৪) ইত্যাদি।

- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আল বদরদের একটি দল তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসা থেকে চোখ বেঁধে নিয়ে যায় এবং মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাছে হত্যা করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪৮.
"মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।" - রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ইব্রাহিম কার্দি
  2. নবাব সুজাউদ্দৌলা
  3. জোহরা
  4. হিরণবালা
সঠিক উত্তর:
নবাব সুজাউদ্দৌলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব সুজাউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর':
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিনঅঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪৯.
‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ কোন ঘটনার পটভূমিতে রচিত?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন 
  3. ব্রিটিশ শাসন
  4. সমাজ সংস্কার
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তক ঘটনার পটভূমিতে রচিত। 

শওকত ওসমান:
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী,
- জাহান্নম হইতে বিদায়। 

তাঁর রচিত একটি নাটক:
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,৯৫০.
'সোহিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ছোটগল্পের চরিত্র?
  1. রবিবার
  2. দেনাপাওনা
  3. ল্যাবরেটরি
  4. একরাত্রি
সঠিক উত্তর:
ল্যাবরেটরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যাবরেটরি
ব্যাখ্যা

• 'ল্যাবরেটরি' গল্প:
- 'ল্যাবরেটরি' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একেবারে শেষের দিকের রচনা।
- গল্পটিতে রবীন্দ্রভাবনার অত্যাধুনিক মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।
- গল্পটির মূল চরিত্রে রয়েছে সোহিনী। বিজ্ঞান পাগল নন্দকিশোর নিজের জীবনের সাথে সোহিনীকে জড়িয়ে নিজের মতো করে গড়ে নিতে চেয়েছিলেন।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "রবিবার" গল্পটি একটি জটিল মানব সম্পর্কের গল্প, যার কেন্দ্রে রয়েছে অভীককুমার নামে এক তরুণ নাস্তিক এবং বিভা নামে এক ধর্মপ্রাণ তরুণীর মধ্যে গভীর আবেগপ্রবণ সম্পর্ক।

• 'দেনাপাওনা' ছোটগল্প: 'দেনাপাওনা' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গল্পগুচ্ছ' থেকে সংকলিত হয়েছে। এ গল্পে তৎকালীন হিন্দু সমাজে পণপ্রথার কুফল সম্পর্কে জানা যায় এবং পণপ্রথার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়াস উপলব্ধি করা যায়। লেখক গল্পটিতে যৌতুক নামক সামাজিক ব্যাধির এক নির্মম চিত্র তুলে ধরেছেন, যা যৌতুক গ্রহণকারীদের প্রতি ঘৃণার জন্ম দেয়। 'দেনাপাওনা' গল্পের নায়িকা- নিরূপমার।

• 'একরাত্রি' ছোটগল্প: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ গল্পসমূহের মধ্যে 'একরাত্রি' বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৯ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা 'সাধনা' পত্রিকায়। ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ছোটগল্প' শীর্ষক রবীন্দ্র গল্পগ্রন্থে এটি প্রথম গ্রন্থিত হয়। গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- 'সুরবালা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

১,৯৫১.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের কতজন কবির নাম উল্লেখ করেন?
  1. ২৩ জন
  2. ২৪ জন
  3. ২৫ জন
  4. ২৬ জন
সঠিক উত্তর:
২৩ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ জন
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা কাহ্নপা। তিনি মোট ১৩ টি পদ রচনা করেন। তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা হচ্ছেন ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯৫২.
’সুবচন নির্বাসনে‘ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিম আল দ্বীন
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) জিয়া হায়দার
  4. ঘ) আলাউদ্দীন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
‘সুবচন নির্বাসনে‘ নাটকটির রচয়িতা - আবদুল্লাহ আল মামুন। 

আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত বিখ্যাত নাটক- 
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত), 
- এখন দুঃসময়, 
- এবার ধরা দাও, 
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
-  চারদিকে যুদ্ধ, 
- এখনো ক্রীতদাস,
-  কোকিলারা,
-  মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

 উপন্যাস- 
- মানব তোমার সারাজীবন, 
- তাহাদের যৌবনকাল, 
- হায় পার্বতী, 
- এই চুনীলাল,
-  গুন্ডাপান্ডা বাবা, 
- খলনায়ক ইত্যাদি।
১,৯৫৩.
সুফিয়া কামাল সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. বাসন্তী
  2. শিলালিপি
  3. নারীশক্তি
  4. বেগম
সঠিক উত্তর:
বেগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম
ব্যাখ্যা

• 'বেগম' পত্রিকা:
- 'বেগম' বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা। ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে আনার লক্ষ্যে সাহিত্যচর্চার পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে বেগমের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন সুফিয়া কামাল।
- পরে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন নূরজাহান বেগম।

------------------
• সুফিয়া কামাল:

- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম 'ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন'-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে 'মহিলা সংগ্রাম পরিষদ' (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

অন্যদিকে, 
• নারী সমাজের উন্নতির জন্য 'নারীশক্তি' নামে পত্রিকাটির প্রকাশক ও সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।
• 'শিলালিপি' সেলিনা পারভীন সম্পাদিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৯৫৪.
'সেক শুভোদয়া' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. রামাই পণ্ডিত
  2. রাধারমণ গোপ
  3. হলায়ুধ মিশ্র
  4. বড়ু চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
হলায়ুধ মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হলায়ুধ মিশ্র
ব্যাখ্যা

সেক শুভোদয়া:
- 'সেক শুভোদয়া' এর রচয়িতা হলেন হলায়ুধ মিশ্র।
- অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি গ্রন্থ হলো- সেক শুভোদয়া। এটি সংস্কৃত গদ্য-পদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- অনেকে একে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ুধ মিশ্রের রচনা বলে মনে করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, সেক শুভোদয়া খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারের গোড়ার দিকের রচনা। গদ্য ও পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- এই গ্রন্থটিতে বেশকিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রচুর ভুল সংস্কৃত ব্যবহারও আছে। তাই ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে 'dog sanskirt' বলেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১,৯৫৫.
নিচের কোনটি অন্ধকার যুগের সাহিত্যকর্ম নয়?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. শূন্যপুরাণ
  3. নিরঞ্জনের রুষ্মা
  4. বিদ্যাসুন্দর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাসুন্দর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাসুন্দর
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাসুন্দর মধ্যযুগের (‘মঙ্গলকাব্য’ ধারার) সাহিত্যকর্ম।

অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।
- সেক শুভোদয়া।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৫৬.
'মৈমনসিংহ গীতিকা'র পালাগানগুলো মূলত বৃহত্তর ময়মনসিংহের কোন অঞ্চলের লোকসংগীত?
  1. উত্তর ও পশ্চিমের পাহাড়ি অঞ্চল
  2. নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চল
  3. জামালপুর ও শেরপুরের সমতল ভূমি
  4. টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়াঞ্চল
সঠিক উত্তর:
নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চল
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা: 
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে:
 যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৯৫৭.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন কোনটি?
  1. বৈকুণ্ঠের খাতা
  2. সধবার একাদশী
  3. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  4. একেই কি বলে সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা

• সধবার একাদশী:
- 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনি নিয়ে নাটকটির রচিত।

- উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নিমচাঁদ,
- কেনারাম,
- সৌদামিনী,
- গিন্নী,
- কাঞ্চন ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র: 
- তিনি একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রহসনগুলি হচ্ছে:
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ,
- সধবার একাদশী,
- জামাই বরিক।

অন্যদিকে:
- 'একেই কি বলে সভ্যতা' এবং 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ' মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রহসন।
- 'বৈকুণ্ঠের খাতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রহসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯৫৮.
কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের উপাধি-
  1. বনফুল
  2. ছন্দের জাদুকর
  3. কালপুরুষ
  4. শঙ্খচিল
সঠিক উত্তর:
ছন্দের জাদুকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছন্দের জাদুকর
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত :
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর উপাধি ছিল -  ছন্দের জাদুকর, ছন্দের রাজা।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের চুপী গ্রামে।
- ১৯২২ সালের ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর বিখ্যাত কবিতাগ্রন্থ:
-সবিতা (১৯০০),
- সন্ধিক্ষণ (১৯০৫),
- বেণু ও বীণা (১৯০৬),
- কুহু ও কেকা (১৯১২),
- অভ্র ও আবীর (১৯১৬),
- হসন্তিকা (১৯১৯),
- বেলা শেষের গান (১৯২৩),
- বিদায় আরতি (১৯২৪),
- কাব্য সঞ্চয়ন (১৯৩০)।

অন্যদিকে,
- মুহাম্মাদ আব্দুল আলিরে ছদ্মনাম ছিল- শঙ্খচিল।
- বলাই চাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল- বনফুল।
- সুবোধ ঘোষের ছদ্মনাম ছিল- কালপুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৫৯.
খনা ছিলেন-
  1. ক) কৃষানী
  2. খ) কৃষকের কন্যা
  3. গ) সিংহলের রাজকন্যা
  4. ঘ) সিংহলের বিখ্যাত চিকিৎসক
সঠিক উত্তর:
গ) সিংহলের রাজকন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিংহলের রাজকন্যা
ব্যাখ্যা
ডাক ও খনার ব্যক্তি পরিচয় সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় নি।
- খনা ছিলেন জ্যোতির্বিদ। 
- তাঁর সম্পর্কে প্রচলিত গল্পে বলা হয়েছে - খনা ছিলেন সিংহলের রাজকন্যা। 
- মহারাজ বিক্রমাদিত্যর রাজসভার নবরত্নের অন্যতম ছিলেন জ্যোতির্বিদ বরাহ। 
- বরাহের সিংহল প্রবাসী পুত্র রাজকন্যা খনা কে বিয়ে করে উজ্জয়িনীতে নিয়ে আসেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১,৯৬০.
''এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে'' কবিতায় - ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট ________?
  1. শঙ্খমালা
  2. লক্ষ্মীপেঁচা
  3. শঙ্খচিল
  4. সুদর্শন
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মীপেঁচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মীপেঁচা
ব্যাখ্যা
• 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে কবিতায় ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট হলো - লক্ষ্মীপেঁচা। 
----------------- 
কবিতাংশ:
এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে—সবচেয়ে সুন্দর করুণ : 
সেখানে সবুজ ডাঙা ভ’রে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল;
সেখানে গাছের নামঃ কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল;
সেখানে ভোরের মেঘে নাটার র’ঙের মতো জাগিছে অরুণ;
সেখানে বারুণী থাকে গঙ্গাসাগরের বুকে,—সেখানে বরুণ
কর্ণফুলী ধলেশ্বরী পদ্মা জলাঙ্গীরে দেয় অবিরল জল;
সেইখানে শঙ্খচিল পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল,

সেইখানে লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট, তরুণ;
সেখানে লেবুর শাখা নূয়ে থাকে অন্ধকারে ঘাসের উপর
সুদর্শন উড়ে যায় ঘরে তার অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে;
সেখানে হলুদ শাড়ি লেগে থাকে রূপসীর শরীরের ’পর—
শঙ্খমালা নাম তারঃ এ-বিশাল পৃথিবীর কোনো নদী ঘাসে
তারে আর খুঁজে তুমি পাবে নাকো—বিশালাক্ষী দিয়েছিলো বর
তাই সে জন্মিছে নীল বাংলার ঘাস আর ধানের ভিতর।
--------------------- 
• জীবনানন্দ দাশ: 
- ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- 'বনলতা সেন' কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং “বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, এসএসসি প্রোগ্রাম- বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে- কবিতা, জীবনানন্দ দাস।
১,৯৬১.
নিচের কোনটি মমতাজ উদ্দীন আহমদ রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক নাটক?  
  1. বিবাহ
  2. কী চাহ শঙ্খচীল
  3. সাত ঘাটের কানাকড়ি
  4. স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
বিবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবাহ
ব্যাখ্যা

মমতাজ উদ্দীন আহমদ রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক নাটক- বিবাহ। 
------------------------------------- 
• মমতাজ উদ্দীন আহমদ:
- বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যকার, কথাশিল্পী ও ভাষাসৈনিক প্রফেসর মমতাজ উদ্দীন আহমদ।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি, তৎকালীন মালদাহ জেলার হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে, যা বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার অংশ।
- তাঁর পিতার নাম কলিমুদ্দিন আহমদ।
- ১৯৪৭ সালের দেশ-বিভাগের পর পরিবার স্থায়ীভাবে ভোলাহাট উপজেলার কানারহাট গ্রামে বসতি স্থাপন করেন।

- মমতাজ উদ্দীন আহমদ রচনা করেছেন অসংখ্য নাটক ও চিত্রনাট্য।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলির মধ্যে রয়েছে:
• নাট্যত্রয়ী,
• হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
• বকুলপুরের স্বাধীনতা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
• স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
• কী চাহ শঙ্খচীল (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
• জমীদার দর্পণ,
• সাত ঘাটের কানাকড়ি (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)। 

- তাঁর চিত্রনাট্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রচনাগুলো হল:
• লাল সবুজের পালা,
• জোহরা,
• কাঠগড়া (রবীন্দ্রনাথের গল্প অবলম্বনে),
• বিরাজ বউ। 

- এছাড়া নাটক বিষয়ে তাঁর প্রবন্ধ ও গবেষণার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
• বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত,
• বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত,
• নীলদর্পন (সম্পাদনা),
• সিরাজউদ্দোলা (সম্পাদনা)।

- তাঁর গদ্য রচনার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য- 
• চার্লি চ্যাপলিন-ভাড় নয় ভব ঘুরে নয়,
• বাংলাদেশ প্রসঙ্গ বঙ্গবন্ধু,
• আমার ভেতরের আমি,
• আমার সময়। 

- তাঁর ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক তাঁর অন্যতম নাটক হলো- ‘বিবাহ’। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,৯৬২.
রুদ্রমঙ্গল কী ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্য
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় ‘যুগবাণী’ নামক প্রবন্ধগ্রন্থ। ‘নবযুগ’ পত্রিকায় সাত মাসে প্রকাশিত সম্পাদকীয় ও অন্য নিবন্ধগুলো থেকে বাছাই করে ২১টি প্রবন্ধ নিয়ে প্রকাশ করেন ‘যুগবাণী’ সংকলন গ্রন্থ। তাঁর ক্ষুরধার কলম সাহস করে সেই সব কথাই বলেছে, যা নিপীড়িত, লাঞ্ছিত, পরাধীন মানুষের অন্তরের কথা। তিনি তাদের মধ্যে জাগরণের মন্ত্র তুলে দিয়েছেন। যেসব লেখার কারণে ‘নবযুগ’ রাজরোষে পড়েছিল, সেসব লেখার সংকলন প্রকাশের কয়েকদিনের মধ্যে তা সরকার নিষিদ্ধ করে। এই নিষেধাজ্ঞা ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বহাল ছিল। নজরুলের প্রথম গদ্যগ্রন্থটিই শুধু বাজেয়াপ্ত হয়নি, তাঁর আরও দুটি প্রবন্ধগ্রন্থও পরবর্তীকালে বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ‘রুদ্রমঙ্গল’ (১৯২৬) প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বাজেয়াপ্ত হয়। এটিও দেশভাগের পর মুক্ত হয়। ১৯২৬ সালে প্রকাশিত অপর প্রবন্ধগ্রন্থ ‘দুর্দিনের যাত্রী’রও একই ভাগ্য ঘটে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
১,৯৬৩.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের কোন খণ্ডে শরৎকালের উল্লেখ আছে?
  1. ভার খণ্ড
  2. যমুনা খণ্ড
  3. তাম্বুল খণ্ড
  4. বিরহ খণ্ড
সঠিক উত্তর:
ভার খণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভার খণ্ড
ব্যাখ্যা
ভার খণ্ড:
- শরৎকালে শুকনো পথঘাটে হেঁটেই মথুরাতে গিয়ে দুধ-দই বিক্রি করা যায়। কিন্তু রাধা আর বাড়ির বাইরে আসে না। রাধা অদর্শনে কৃষ্ণ কাতর।
- সে বড়ায়িকে দিয়ে রাধার শাশুড়িকে বোঝায়, ঘরে বসে থেকে কি হবে, রাধা দুধ-দই বেচে কটি পয়সা তো আনতে পারে। শাশুড়ির নির্দেশে রাধা বাইরে বের হয়।
- কিন্তু প্রচণ্ড রোদে কোমল শরীরে দুধ-দই বহন করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
- এ সময় কৃষ্ণ ছদ্মবেশে মজুরি করতে আসে। পরে ভার বহন অর্থাৎ মজুরির বদলে রাধার আলিঙ্গন কামনা করে। রাধা এই চতুরতা বুঝতে পারে। সেও কাজ আদায়ের লক্ষ্যে মিথ্যে আশ্বাস দেয়। কৃষ্ণ আশায় আশায় রাধার পিছু পিছু ভার নিয়ে মথুরা পর্যন্ত চলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৬৪.
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা 'হুলিয়া' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মহাদেব সাহা
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• ‘হুলিয়া’ কবিতাটির রচয়িতা: নির্মলেন্দু গুণ। 
-------------------
• কবি নির্মলেন্দু গুণের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো প্রেমাংশুর রক্ত চাই।
- এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের একটি বিখ্যাত কবিতা হলো 'হুলিয়া'।

• 'নির্মলেন্দু গুণ': 
- ২১ জুন ১৯৪৫, কাশবন, নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাকনাম রতন।
- তিনি মূলত একজন কবি ছিলেন।
- তাকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়।
 
তাঁর কাব্যগ্রন্থ গুলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবি,
- বাঙলার মাটি বাংলার জ্বল,
- চাষাভূষার কাব্য,
- মুজিব লেলিন ইন্দিরা,
- হুলিয়া।
 
কবিতা:
- হুলিয়া,
- স্বাধীনতা,
- এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো।
 
উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।
 
ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসাবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়াখেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৬৫.
'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প নয় কোনটি?
  1. ঘুমের ঘোরে
  2. রাজবন্দীর চিঠি
  3. হেনা
  4. অগ্নি-গিরি
সঠিক উত্তর:
অগ্নি-গিরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নি-গিরি
ব্যাখ্যা

'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ:
- ছয়টি গল্প নিয়ে 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- 'ব্যথার দান' নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই।
- এই গ্রন্থের গল্পগুলোর ভাষা আবেগাশ্রয়ী, বক্তব্য নরনারীর প্রেমকেন্দ্রিক।

• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- হেনা,
- অতৃপ্ত কামনা,
- বাদল-বরিষণে,
- ঘুমের ঘোরে,
- রাজবন্দীর চিঠি

অন্যদিকে,
'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প - অগ্নি-গিরি।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ: 
- ব্যাথার দান,
- রিক্তের বেদন, 
- শিউলিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯৬৬.
'গরিবের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) বদরুদ্দীন উমর
  2. খ) নজিবর রহমান
  3. গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. ঘ) মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
খ) নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
আনোয়ারা, প্রেমের সমাধি, গরিবের মেয়ে, মেহেরুন্নিসা, পরিণাম, দুনিয়া আর চাই না, চাঁদতারা বা হাসন গঙ্গাবাহমতি ইত্যাদি উপন্যাসের রচয়িতা মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১,৯৬৭.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সেরা কবি আব্দুল হাকিমের জন্মস্থান কোথায়?
  1. সন্দ্বীপ
  2. কুতুবদিয়া
  3. খুলনা
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
সন্দ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্দ্বীপ
ব্যাখ্যা

আব্দুল হাকিম:
- কবি আবদুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি ছিলেন।
- তিনি ১৬২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- নোয়াখালী জেলার বাবুপুর (মতান্তরে সন্দ্বীপের সুধারাম) ছিল কবির আবাসভূমি।
- তাঁর পিতা শাহ্ রাজ্জাক ছিলেন একজন পন্ডিত ব্যক্তি এবং তাঁর পীর ছিলেন সাহাবুদ্দীন।
-আবদুল হাকিম আরবি, ফারসি ও সংস্কৃত ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপন্ন ছিলেন।
- হাদীস, আল-কুরআন, ফেকাহ প্রভৃতি শাস্ত্র এবং রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণ সম্পর্কেও তাঁর গভীর পান্ডিত্য ছিল।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৯৬৮.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মানুষ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. অগ্নিবীণা
  2. ফণিমনসা
  3. বিষের বাঁশী
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মানুষ' কবিতাটি 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।

মানুষ- কবিতা,
কাজী নজরুল ইসলাম।

গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড়ো কিছু নাই,
নহে কিছু মহীয়ান!
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,
সব দেশে, সবে কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি
(সংক্ষিপ্ত)

• 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলিমজুর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ।

১,৯৬৯.
’প্রভাতসঙ্গীত’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. ফররুখ আহমেদ
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

 'প্রভাতসঙ্গীত':
- ”প্রভাতসঙ্গীত” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এখানে মোট ২১টি কবিতা রয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, 'প্রভাতসঙ্গীত আমার অন্তর প্রকৃতির প্রথম বহির্মুখী উচ্ছ্বাস।'
- এই গ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা: নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ।

রবীন্দ্রনাথা ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর। 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।

তাঁর রচিক কাব্যগ্রন্থ: 
-  প্রকৃতির প্রতিশোধ,
- কড়ি ও কোমল, 
- মায়ার খেলা,
- মানসী,
- সোনর তরী,
- গীতাঞ্জলী,
- বলাকা,
- পূরবী,
- চৈতালী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯৭০.
'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' সাহিত্য ধারার কবি নন কে?
  1. আবদুল হাকিম
  2. মুহম্মদ খান
  3. শাহ মুহম্মদ সগীর
  4. সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ খান
ব্যাখ্যা
• 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' সাহিত্য ধারার কবি নন - মুহম্মদ খান

রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'। 
- 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন- শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, আবদুল হাকিম, আলাওল প্রমুখ।
- 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কারবালা ও ইসলামিক বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের কবি মুহম্মদ খান

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯৭১.
কোন গ্রন্থটি মহাকাব্য?
  1. অবকাশ রঙ্গিনী
  2. বৃত্র সংহার
  3. বিরহ বিলাপ
  4. বীরঙ্গনা কাব্য 
সঠিক উত্তর:
বৃত্র সংহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃত্র সংহার
ব্যাখ্যা

• 'বৃত্রসংহার' মহাকাব্য:
- 'বৃত্রসংহার' হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য।
- মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত হয়েছে এ কাব্যটি এবং এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এতে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
- 'বৃত্রসংহার' মহাকাব্যের প্রথম খণ্ড ১৮৭৫ ও দ্বিতীয় খণ্ড ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
-  হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী (হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়)।
- আশাকানন।
- ছায়াময়ী।
- দশমহাবিদ্যা।
- চিত্তবিকাশ।
- বীরবাহু কাব্য (এটি আখ্যানকাব্য যা ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত হয়)।

অন্যদিকে, 
• 'বিরহ বিলাপ' (১৮৭০) হলো মহাকবি কায়কোবাদ রচিত ও প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
• বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসুদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য। এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৯৭২.
অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' কাব্যটি কার রচনা?
  1. কৃত্তিবাস ওঝা
  2. বিদ্যাপতি
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. গোবিন্দদাস
  5. কানাহরি দত্ত
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন।
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৯৭৩.
"মনে মনে সকলেই যাহা জানে মুখ ফুটিয়া তাহা বলিবার অধিকার তাহার নাই।" - উক্তিটি কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. ক) হাজার বছর ধরে
  2. খ) পদ্মা নদীর মাঝি
  3. গ) তিতাস একটি নদীর নাম
  4. ঘ) দুই বোন
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্মা নদীর মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পদ্মা নদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
উক্তিটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের অন্তর্গত। উক্তিটি উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কুবের সম্পর্কে করা হয়েছে।

“গরিবের মধ্যে সে গরিব , ছোটলোকের মধ্যে আরও বেশী ছোটলোক। এমনভাবে তাহাকে বঞ্চিত করিবার অধিকারটা সকলে তাই প্রথার মতো , সামাজিক ও ধর্মসম্পর্কীয় দশটা নিয়মের মতো, অসংকোচে গ্রহণ করিয়াছে। সে প্রতিবাদ করিতেও পারিবে না। মনে মনে সকলেই যাহা জানে মুখ ফুটিয়া তাহা বলিবার অধিকার তাহার নাই।”

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পদ্মা নদীর মাঝি' ১৯৩৪ সাল থেকে ‘পূর্বাশা’ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ হয় ১৯৩৬ সালে।

- কুবের ‘পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।  
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
 - কপিলা
- মালা,
- হোসেন মিয়া,
- ধনঞ্জয়,
- শীতলবাবু।

উৎস: পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৭৪.
শেক্সপীয়রের 'কমেডি অব এররস' নাটকটি বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

'ভ্রান্তিবিলাস':
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'ভ্রান্তিবিলাস' শেক্সপীয়রের 'কমেডি অব এররস' নাটকের অনুবাদ।
- ভ্রান্তিবিলাস রচিত হয় ১৮৬৯ সালে, বিদ্যাসাগরের প্রথম রচনা বেতালপঞ্চবিংশতির বাইশ বছর পরে।
- ভ্রান্তিবিলাস বিশ্বখ্যাত নাট্যকার শেক্সপীয়রের 'কমেডি অব এররস' নাটক অবলম্বনে রচিত।

• বইয়ের 'বিজ্ঞাপন' শিরোনাম অংশে তিনি লিখেছেন:
'কিছু দিন পূর্বে, ইংলন্ডের অদ্বিতীয় কবি শেক্সপীয়রের প্রণীত ভ্রান্তিপ্রহসন পড়িয়া আমার বোধ হইয়াছিল, এতদীয় উপাখ্যানভাগ বাঙ্গালাভাষায় সঙ্কলিত হইলে লোকের চিত্তরঞ্জন হইতে পারে। তদনুসারে ঐ প্রহসনের উপাখ্যানভাগ বাঙ্গালাভাষায় সঙ্কলিত ও ভ্রান্তিবিলাস নামে প্রচারিত হইল।'
এরপরে তিনি বলেছেন যে এই নাটকের কাব্য-অংশ শেক্সপীয়রের অন্যান্য নাটকের চেয়ে 'নিকৃষ্ট', কিন্তু এর কাহিনী-অংশ কৌতুকপূর্ণ।
সেজন্য তিনি এই নাটকটি বাংলাভাষায় রূপান্তরের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন।
- বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'ভ্রান্তিবিলাস' গ্রন্থ।

১,৯৭৫.
চর্যাপদের কবি ভুসুকুপা কয়টি পদ রচনা করেন?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ১২টি
  4. ১০টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত চর্যার পদগুলো হলো- ৬নং/ ২১নং/ ২৩নং/ ২৭নং/ ৩০নং/৪১নং/৪৩নং/৪৯নং।
-  মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতে তিনি পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- তিনি তাঁর রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পঁউআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসে হরিণা বৈরী' (৬নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯৭৬.
'কালকূট' — কার ছদ্মনাম?
  1. সতীনাথ ভাদুড়ী
  2. মণীশ ঘটক
  3. সমরেশ বসু
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সমরেশ বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা

• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম- 'কালকূট'।

অন্যদিকে,
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,৯৭৭.
'বঙ্গসুন্দরী' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. আব্দুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গীতি কবিতার প্রবর্তক বিহারীলাল চক্রবর্তী।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- সারদামঙ্গল (এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা),
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধুবিয়োগ,
- সাধের আসন,
- ধুমকেতু ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

১,৯৭৮.
মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী?
  1. বাংলা ধ্বনিবিজ্ঞান
  2. আধুনিক বাংলা ধ্বনিবিজ্ঞান
  3. ধ্বনিবিজ্ঞানের কথা
  4. ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব।

• ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব:
- বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশে­ষণ দিয়ে রচিত তাঁর ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে।
- ‘ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব’ গ্রন্থটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটির বর্ণনাভঙ্গি বিজ্ঞানানুগ, এর ভাষাভঙ্গি ও রচনাকৌশল বিবেচনায় এখানে নিরস তত্ত্বকথাও রসপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে এ বিষয়ে অনভিজ্ঞ পাঠকও সহজে আকৃষ্ট হয়।
- ভাষাতত্ত্বের মৌলিক বিষয় নিয়ে এরূপ উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণাগ্রন্থ দুই বাংলার মধ্যে তিনি প্রথম রচনা করেন।
- ধ্বনিবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রন্থটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়।

-----------------------------
• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

• মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৭৯.
‘বঙ্গবন্ধু সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা’ - গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. শওকত আলী
  2. শামসুর রাহমান
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. শামসুজ্জামান খান
সঠিক উত্তর:
শামসুজ্জামান খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
• ‘বঙ্গবন্ধু সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা’ গ্রন্থটি রচনা করেন - শামসুজ্জামান খান।

শামসুজ্জামান খান:

- শামসুজ্জামান খান ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মায়ের নাম শামসুন্নাহার খানম এবং বাবার নাম আবদুর রহমান খান।
- তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি’র মহাপরিচালক হন।
-  তিনি অগ্রণী ব্যাংক পুরস্কার, কালুশাহ পুরস্কার, দীনেশচন্দ্র সেন ফোকলোর পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার , মীর মশাররফ হোসেন স্বর্ণপদক ইত্যাদি পুরস্কার ও পদকে ভূষিত হন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা প্রসঙ্গ, 
- গণসঙ্গতি, 
- মাটি থেকে মহীরুহ, 
- বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ প্রাসঙ্গিক কথকতা, 
- ফোকলোরচর্চা।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৮০.
'পণ্ডিত ঠাকুর' মধ্যযুগের কোন কবির উপাধি?
  1. গোবিন্দদাস 
  2. বিদ্যাপতি
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. জয়দেব 
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা

• বিদ্যাপতি:
- বিদ্যাপতি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর।
- বাঙালী কবি না হয়েও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
- বিদ্যাপতি মৈথিলী, অবহষ্ঠ ও সংস্কৃত ভাষায় বহু গ্রন্থ ও পদ রচনা করেন। শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন। কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি। সুমধুর এই বৈষ্ণব পদাবলির জন্যই তিনি বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছেন।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।

তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল:
- নব কবিশেখর,
- কবিরঞ্জন,
- কবিকণ্ঠহার,
- পণ্ডিত ঠাকুর,
- সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,৯৮১.
কথাসাহিত্যক হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস -
  1. জোছনা ও জননীর গল্প
  2. আগুনের পরশমণি
  3. শ্যামল ছায়া
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ:
- কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনিল বাগচীর একদিন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৮২.
সুকুমার সেন কোন কবির পাঁচালিকে দুর্লভ ও শ্রেষ্ঠ পাঁচালি বলে মন্তব্য করেছেন?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. বিদ্যাপতি
  3. মানিক দত্ত
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (আনু. ১৫৪০-১৬০০):
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার দামুন্যা গ্রামে। 
- রাজা বীর বংকুর রায় কবিকে তাঁর পুত্রের গৃহশিক্ষক নিযুক্ত করা হয়।
- রঘুনাথ তাঁকে গুরুরূপে গ্রহণ করেন এবং তাঁর অনুরোধে বিখ্যাত পাঁচালি চন্ডীমঙ্গল রচনা করেন।

- যুবরাজের পৃষ্ঠপোষকতা ও আনুকূল্যে জনৈক প্রসাদ দেব এ কাব্য সঙ্গীতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন।
- তিনি কবি এবং সঙ্গীতশিল্পী উভয়কেই প্রচুর অলংকার সামগ্রী, বিলাসবহুল পোষাক-পরিচ্ছদ এবং ভ্রমণের জন্য ঘোড়া দিয়ে পুরস্কৃত করেন।

- এজন্য কবিকে তিনি বিশেষভাবে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন। 
- সুকুমার সেন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী রচিত পাঁচালিকে একটি দুর্লভ শ্রেষ্ঠ পাঁচালি হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এটি এ শ্রেণীর কাব্যের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৮৩.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন গল্পের জন্য কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন?
  1. মন্দির
  2. মহেশ
  3. সতী
  4. বিলাসী
সঠিক উত্তর:
মন্দির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্দির
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৮৪.
'নগেন্দ্রনাথ' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. চরিত্রহীন
  2. যোগাযোগ
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. বিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাস
- 'বিষবৃক্ষ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এতে বিধবা বিবাহ,পুরুষের একাধিক বিবাহ,নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- বাল্য বিধবা কুন্দনন্দিনী এ উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ:
- কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর। 
- দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের চরিত্র: আয়েশা, তিলোত্তমা। 
- মৃণালিনী  উপন্যাসের চরিত্র: হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- বিষবৃক্ষ  উপন্যাসের চরিত্র: কুন্দনন্দিনী,নগেন্দ্রনাথ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৮৫.
প্রাচীন বাংলার জনপদ ও অর্থনীতি নিয়ে নীহাররঞ্জন রায়ের বইটির নাম কী?
  1. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
  2. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
  3. বাঙ্গালীর ইতিহাস(আদি পর্ব)
  4. বাংলা সাহিত্যের কথা
সঠিক উত্তর:
বাঙ্গালীর ইতিহাস(আদি পর্ব)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঙ্গালীর ইতিহাস(আদি পর্ব)
ব্যাখ্যা

• নীহাররঞ্জন রায় 'বাঙ্গালীর ইতিহাস' গ্রন্থটি লিখেছেন। 

• নীহাররঞ্জন রায়: 
- নীহাররঞ্জন রায়, ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন।
- মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।
-------------------------------- 
• ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ: 
- তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ।
- এই ক্লাসিক সৃষ্টি রাজনৈতিক পরিভাষায় ইতিহাস বিশ্লেষণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পরিবর্তনের সূচনা ঘটায় এবং তা সাধারণ মানুষকে ইতিহাসবিদদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করে তোলে।
- গ্রন্থটির সাহিত্যমূল্যের ক্ষেত্রেও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
- ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনকালে ১৯৪২ সালে তিনি কারাবন্দি হন এবং জেলখানায়ই ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ রচনার কাজ শুরু করেন।
- বার্মাতেই তাঁর মনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অবিচ্ছিন্নতার ধারণা দৃঢ়বদ্ধ হয়, যা পূর্ণ পরিণতি লাভ করে ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত তাঁর বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art, 
- বাঙ্গালীর ইতিহাস, 
- Nationalism in India, 
- Idea and Image of Indian Art.

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাঙ্গালীর ইতিহাস(আদি পর্ব)।

১,৯৮৬.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম কী?
  1. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  2. ব্যাকরণ মঞ্জুরী
  3. বাঙ্গালা ব্যাকরণ 
  4. ব্যাকরণ কৌমুদী
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

• তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' এর লেখক - ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
• 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' এর রচয়িতা-ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। 
• 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' এর রচয়িতা-  রাজা রামমোহন রায়। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৯৮৭.
নিচের কোনটি শামসুর রাহমানের উপন্যাস?
  1. বন্দী শিবির থেকে
  2. এলো সে অবেলায়
  3. রৌদ্র করোটিতে
  4. পরানের গহীন ভিতর
সঠিক উত্তর:
এলো সে অবেলায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এলো সে অবেলায়
ব্যাখ্যা

"এলো সে অবেলায়"  শামসুর রাহমান উপন্যাস।

অন্যদিকে,
• 'পরানের গহীন ভিতর' কাব্যের রচয়িতা - সৈয়দ শামসুল হক।

• শামসুর রাহমান:

- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• তাঁর রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- অন্ধকার থেকে আলোয়,
- হরিণের হাড়,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯৮৮.
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে' - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. নন্দলাল বসু
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনি:
- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনী হচ্ছে 'পালামৌ'।
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে' - এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য। তিনি এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা, 
- মাধবীলতা, 
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৮৯.
হাসান আজিজুল হক রচিত “আগুনপাখি” উপন্যাসটি কোন প্রেক্ষাপট নিয়ে রচিত?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. দেশ বিভাগ
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. কৃষক বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
দেশ বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশ বিভাগ
ব্যাখ্যা
- হাসান আজিজুল হকের “আগুনপাখি” উপন্যাসটি দেশ বিভাগের পটভূমিতে লেখা।
- আগুনপাখি ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসের কাহিনী বর্ধমান জেলার বাঁকুড়া অঞ্চলের প্রত্যন্ত এক গ্রামের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারের ও পরিবারের আশেপাশের হিন্দু মুসলমানদের জীবন থেকে নেয়া।
- ১৯৩৯ সালে হাসান আজিজুল হক পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার,
- ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার,
- ১৯৯৯ সালে একুশে পদক,
- ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন। 


অন্যান্য উপন্যাসগুলো হল-
- বৃত্তায়ন
- শিউলি
- আগুনপাখি
- সাবিত্রী উপাখ্যান

উল্লেখ্য, গত ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন। 


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৯৯০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) সত্যাসত্য
  2. খ) বিষাদ-সিন্ধু
  3. গ) চিলেকোঠার সেপাই
  4. ঘ) গোরা
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যাসত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যাসত্য
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।

বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস 'সত্যাসত্য'। 
'সত্যাসত্য' ছয় খন্ডে ছয়টি নামে প্রকাশিত হয়। 
যথাক্রমে-
- যার যেথা দেশ (১৯৩২),
- অজ্ঞাতবাস (১৯৩৩),
- কলঙ্কবতী (১৯৩৪),
- দুঃখমোচন (১৯৩৬),
- মর্ত্যের স্বর্গ (১৯৪০),
- অপসরণ (১৯৪২)।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি। 

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
১,৯৯১.
'বেনামী বন্দর' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. খ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. গ) ফররুখ আহমেদ
  4. ঘ) ফজিলতুন্নেসা
সঠিক উত্তর:
ক) প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
- 'বেনামী বন্দর' গল্পগ্রন্থটি রচনা করেন প্রেমেন্দ্র মিত্র

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর, বেনামী বন্দর, পুতুল ও প্রতিমা, মৃত্তিকা, অফুরন্ত, মহানগর, ধূলিধূসর, নিশীথ নগরী, কুড়িয়ে ছড়িয়ে, সামনে চড়াই, প্রেমেন্দ্র মিত্রের শ্রেষ্ঠগল্প, সপ্তপদী, জল পায়রা, নানা রঙে বোনা।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- প্রথমা, সম্রাট, সাগর থেকে ফেরা, ফেরারী ফৌজ, হরিণ চিতা চিল, কখনো মেঘ, অথবা কিন্নর,  নদীর নিকটে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- পাঁক, কুয়াশা, মিছিল, উপনয়ন, আগামীকাল, প্রতিশোধ, প্রতিধ্বনি ফেরে, অন্য এক নাম, পা বাড়ালেই রাস্তা, পতাকা যারে দাও, স্তব্ধ প্রহর, মনুদ্বাদশ, অমলতাস, স্বপ্নতনু, দিগ্বলয়, যিনি বিধাতা, সেই যে শহর রাজোলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৯৯২.
মুনিদত্ত সংস্কৃত ভাষায় চর্যার কত নং পদ ব্যাখ্যা করেননি?
  1. ১৫ নং 
  2. ৩৩ নং 
  3. ১১ নং 
  4. ৯ নং 
সঠিক উত্তর:
১১ নং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ নং 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামেও পরিচিত হয়। তবে সংক্ষেপে এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

- এতে তেইশজন পদকর্তার ৪৭টি পদ আছে। চর্যার কবিদের কাল খ্রিস্টীয় নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে ধরা হয়। অবশ্য মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতে চর্যার কোনো কোনো পদকর্তার আবির্ভাবকাল সপ্তম অথবা অষ্টম শতক।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন। আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: ‘চর্যািগীতিকা’ মুহম্মদ আবদুল হাই; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯৯৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদ্যাপতির কাব্যকে কী বলে অভিহিত করেছেন?
  1. বিদ্যাপতির কবিতা স্বর্ণহার
  2. রাজকণ্ঠের মণিমালা
  3. হীরকখণ্ডের কাব্যধারা
  4. জীবনের আলো ও আঁধার
সঠিক উত্তর:
রাজকণ্ঠের মণিমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজকণ্ঠের মণিমালা
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- বিদ্যাপতি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। বাঙালী কবি না হয়েও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
- তিনি মাতৃভাষা মৈথিলি ছাড়াও সংস্কৃত, অবহঠট ও ব্রজবুলি ভাষায় পদাবলি রচনা করেন।
- শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন।

- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত। তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল-নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায়, রাজপণ্ডিত ইত্যাদি।

- কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি। বিদ্যাপতি সহস্রাধিক পদাবলি রচনা করেছিলেন। রাধাকৃষ্ণের উল্লেখ আছে এমন পদের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। অন্যগুলোতে রাধাকৃষ্ণের উল্লেখ না থাকলেও তাদের প্রেমলীলা বিষয়ক পদ হিসেবে গ্রহণ করতে বাধা নেই।

- মিথিলার ঐশ্বর্যপূর্ণ রাজসভায় বিদ্যাপতি অসাধারণ পাণ্ডিত্যের সঙ্গে সংস্কৃত ও প্রাকৃতের ভাষা ভাব শব্দ ছন্দ ও অলঙ্কারের খনি থেকে রত্নরাজি আহরণ করে রাধার প্রেম বর্ণনা করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, 'বিদ্যাপতির কবিতা স্বর্ণহার, বিদ্যাপতির গান মুরজবীণাসঙ্গিনী স্ত্রীকণ্ঠগীতি।' আর রবীন্দ্রনাথ বিদ্যাপতির কাব্যকে 'রাজকণ্ঠের মণিমালা' বলে অভিহিত করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৯৪.
শেখ ফয়জুল্লাহ কত শতকের কবি?
  1. ১৬শ শতক
  2. ১৫শ শতক
  3. ১৭শ শতক
  4. ১৪শ শতক
সঠিক উত্তর:
১৬শ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬শ শতক
ব্যাখ্যা
শেখ ফয়জুল্লাহ:
- তিনি ১৬শ শতক মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।

শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত সাহিত্যকর্ম:
- গোরক্ষবিজয়,
- গাজীবিজয়,
- সত্যপীর (১৫৭৫),
- জয়নবের চৌতিশা এবং
- রাগনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১,৯৯৫.
'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন - 
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রাজা রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা

হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- 'ইয়ংবেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা  ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৯৯৬.
নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ ছিলেন-
  1. তারাচরণ শিকদার
  2. বিজন ভট্টাচার্য
  3. মাইকেল মধুসূদন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ১৯০৬ সালে ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- তিনি ছিলেন নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- ১৯৪২ সালে সক্রিয় কর্মী হিসেবে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন।
- এছাড়া তিনি ভারত ছাড় আন্দোলন, জনযুদ্ধ-নীতি প্রচার, ফ্যাসিবাদ বিরোধী লেখক ও শিল্পিসঙ্ঘ স্থাপন এবং প্রগতি লেখক সঙ্ঘ
- এবং ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
- ১৯৭৮ সালের ১৯ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

অন্যদিকে, 
• তারাচরণ শিকদার রচিত নাটক- ‘ভদ্রার্জুন' (১৮৫২):
- এটি বাঙালি কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম নাটক।
• মাইকেল মধুসূদন রচি নাটক : ‘শর্মিষ্ঠা', 'পদ্মাবতী', ‘কৃষ্ণকুমারী’, ‘মায়াকানন ।
• দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক:  ‘নীলদর্পণ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৯৭.
নিচের কোনটি মৈমনসিংহ গীতকা নয়?
  1. দেওয়ান ভাবনা
  2. দস্যু কেনারামের পালা
  3. রতন ঠাকুর
  4. রূপবতী
সঠিক উত্তর:
রতন ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রতন ঠাকুর
ব্যাখ্যা
- মৈমনসিংহ গীতকা নয় - রতন ঠাকুর।
- এটি হচ্ছে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা।

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
যথা:
১. মহুয়া,
২. মলুয়া,
৩. চন্দ্রাবতী,
৪. কমলা,
৫. দেওয়ান ভাবনা,
৬. দস্যু কেনারামের পালা,
৭. রূপবতী,
৮. কঙ্ক ও লীলা,
৯ কাজলরেখা ও
১০. দেওয়ানা মদিনা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৯৯৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক বলা হয় কাকে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী। তাঁর ছন্দনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র। সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত। রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- প্যারীচাঁদ মিত্রকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক বলা হয়ে থাকে। তাই তাকে, বাংলা সাহিত্যধারার প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ বলা হয়

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯৯৯.
বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ "বঙ্গভাষা ও সাহিত্য" এর রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. আহমদ শরীফ
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• বঙ্গভাষা ও সাহিত্য: 
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' (১৮৯৬) দীনেশচন্দ্র সেন রচিত বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয়ের মনোজ্ঞ 
বিবিরণ লিপিবদ্ধ আছে এই গ্রন্থে।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাসগ্রন্থ যেখানে সাহিত্য ও সমাজের গূঢ় সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়া হয়।
---------------- 
• দীনেশচন্দ্র সেন:
- তিনি ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মাতুলালয়, বগজুড়ি গ্রাম, ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লী অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে প্রাচীন বাংলা পুঁথি ও লোককথা সংগ্রহ করেন।
- তাঁর সংগৃহীত পুঁথি থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' রচনা করেন।
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- তাঁর রচিত একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ - 'বঙ্গসাহিত্য পরিচয়' (১৯১৪)।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০০০.
'চর্যাপদ' কোন ধরনের রচনা?
  1. গল্প সংকলন
  2. নৃত্যনাট্য
  3. কবিতা সংকলন
  4. রূপকথার সংকলন
সঠিক উত্তর:
কবিতা সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতা সংকলন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ / কবিতা সংকলন / গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ। চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ। এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের ভাষাকে 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা' বলে উল্লেখ করেছেন। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্য শেখর।