বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ১১০ / ২১১ · ১০,৯০১১১,০০০ / ২১,১৩২

১০,৯০১.
"বং বঙ্গ বাঙ্গালা বাংলাদেশ" - গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. রিজিয়া রহমান
  2. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
  3. আহমদ শরীফ
  4. আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

• "বং বঙ্গ বাঙ্গালা বাংলাদেশ" গ্রন্থটি বিশিষ্ট আইনবিদ, লেখক ও ভাষাবিদ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান রচনা করেছেন।
- গ্রন্থটি - ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------------
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সম্পর্কে তথ্য:
জন্ম: ৩ ডিসেম্বর ১৯২৮।
মৃত্যু: ১১ জানুয়ারি ২০১৪।
তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা।
- ভাষা, সাহিত্য ও আইনশাস্ত্রে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে।
- ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি পদে অভিষিক্ত হন।
- তিনি একুশে পদক (১৯৯৮) ও স্বাধীনতা পুরস্কার (২০০৯) পেয়েছেন।

উল্লেখ্য,
যথাশব্দ সংকলনটি প্রথম ভাব অভিধান সংকলনও বটে।
এছাড়াও তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ধর্ম অভিধান 'যার যা ধর্ম' সংকলন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; প্রথম আলো আর্কাইভ।

১০,৯০২.
'সংস্কৃতির সংকট' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. বদরুদ্দীন উমর
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা

• বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির সংকট

বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৯০৩.
চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা কে?
  1. কুক্কুরীপা
  2. ভুসুকুপা
  3. লুইপা 
  4. কাহ্নপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ। চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদে সর্বাধিক পদরচয়িতা কবি কাহ্নপা। তিনি মোট ১৩টি পদ রচনা করেন।
- দ্বিতীয় সর্বাধিক পদরচয়িতা কবি ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন সরহপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (৪টি; ২২,৩২, ৩৮, ৩৯)।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন কুক্কুরীপা (৩টি; ২, ২০, ৪৮)। তবে তাঁর রচিত ৪৮ নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৯০৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যকে ‘অণুবিশ্ব’ বলা হয়?
  1. ক) মানসী
  2. খ) সোনার তরী
  3. গ) বলাকা
  4. ঘ) গীতাঞ্জলি
সঠিক উত্তর:
ক) মানসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মানসী
ব্যাখ্যা
এটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ ভ্রমণ করেন। এ কাব্যেই রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হয়ে উঠেন। গাজীপুর জেলায় বসে লিখেছেন। 

মানসী সম্পর্কে সমালোচকদের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য : 
• ‘কবির সঙ্গে একজন শিল্পী এসে যোগ দিলো।’
• ‘মানসী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অণুবিশ্ব।’

গুরুত্বপূর্ণ কবিতা :
- সিন্ধুতরঙ্গ,
- নিষ্ফল কামনা,
- নারীর উক্তি,
- পুরুষের উক্তি,
- বধূ,
- ব্যক্তপ্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্তপ্রেম,
- বর্ষার দিনে,
- সুরদাসের প্রার্থনা,
- মেঘদূত,
- অহল্যার প্রতি।

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
১০,৯০৫.
কালীপ্রসন্ন সিংহ এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম কোনটি?
  1. পরশুরাম
  2. লীলাময় রায়
  3. কালকূট
  4. হুতোম পেঁচা
সঠিক উত্তর:
হুতোম পেঁচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুতোম পেঁচা
ব্যাখ্যা

• কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম — হুতোম পেঁচা।

• অন্যদিকে,:
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম 'পরশুরাম'।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম 'লীলাময় রায়'। 
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট'। 

• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- তিনি ছিলেন একাধারে সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক ।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ মাত্র তেরো বছর বয়সে 'বিদ্যোৎসাহিনী সভা' প্রতিষ্ঠা করেন।

- তিনি "হুতোম প্যাঁচার নকশা” (১৮৬২) ও "সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য অনুবাদ" (১৮৬৬) এই দুটি গ্রন্থের জন্য অমর হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ।

১০,৯০৬.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ফরিদপুর
  2. রংপুর
  3. নীলফামারী
  4. কুড়িগ্রাম
সঠিক উত্তর:
রংপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রংপুর
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর,
- সুলতানার স্বপ্ন,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৯০৭.
'মামা গো!' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আসাদ চৌধুরী
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) শামসুর রহমান
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা


সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম। কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই তিনি সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করতে পারতেন। তাঁর কাব্যে হাস্যরসের সঙ্গে সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে। 
তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো: আবোল-তাবোল (১৯২৩), হ-য-ব-র-ল (১৯২৪), পাগলা দাশু (১৯৪০), বহুরূপী (১৯৪৪), খাইখাই (১৯৫০), অবাক জলপান, শব্দকল্পদ্রুম, ঝালাপালা ইত্যাদি। 
এছাড়া বাংলা ও ইংরেজিতে রচিত তাঁর কিছু গুরুগম্ভীর প্রবন্ধও রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৯০৮.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক প্রথম উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ "বঙ্গভাষা ও সাহিত্য'' কার রচনা ?
  1. সুকুমার সেন
  2. আশুতোষ চৌধুরী
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• ''বঙ্গভাষা ও সাহিত্য'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ যা দীনেশচন্দ্র সেন রচনা করেন ১৮৯৬ সালে।

- কিশোর বয়স থেকে দীনেশচন্দ্র সেন সাহিত্য-অনুরাগী ছিলেন। কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গ্রন্থ কুমার ভূপেন্দ্রসিংহ (১৮৯০)। এটি একটি আখ্যান কাব্য।

- কুমিল্লায় অবস্থানকালে তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রাচীন বাংলার পুথি সংগ্রহ করেন। ব্যাপক শ্রমসাধ্য এ কাজে তিনি গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন এবং দীর্ঘ সময়ের গবেষণায় কুমিল্লা থেকে ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর বঙ্গভাষা ও সাহিত্য শীর্ষক একটি আকরগ্রন্থ।

- প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের ওপর এটি একটি সুশৃঙ্খল ও ধারাবাহিক তথ্যসমৃদ্ধ গবেষণাগ্রন্থ যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ সমকালের পন্ডিতদের প্রশংসা লাভ করে। এ অসাধারণ গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনায় দীনেশচন্দ্র সেন এ বিষয়ে পথিকৃৎ-এর সম্মান ও পান্ডিত্যের স্বীকৃতি লাভ করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,৯০৯.
'পথে প্রবাসে' - গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী 
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা

• 'পথে প্রবাসে' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা - অন্নদাশঙ্কর রায়।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।

----------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

• উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনী:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৯১০.
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) অর্কেস্ট্রা
  2. খ) প্রথম পার্থ
  3. গ) উর্বশী ও আর্টেমিস
  4. ঘ) মহাপৃথিবী
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহাপৃথিবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ - মহাপৃথিবী।

জীবনানন্দ দাশ

জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- পাশ্চাত্যের মডার্নিজম ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বঙ্গীয় সমাজের বিদগ্ধ মধ্যবিত্তের মনন ও চৈতন্যের সমন্বয় ঘটে ওই কাব্যান্দোলনে।
- জীবনানন্দের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই।
- স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- মূলত কবি হলেও তিনি অসংখ্য  ছোটগল্প, কয়েকটি  উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ- 
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯১১.
"অক্টোপাস" উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. মুনির চৌধুরী
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৯১২.
'হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন, পর ধন লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি' এ কবিতাংশটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) জীবনানন্দ দাশ
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূধন দত্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাইকেল মধুসূধন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাইকেল মধুসূধন দত্ত
ব্যাখ্যা
উপরিউক্ত কবিতাটি মাইকেল মুধুসূদন দত্তের ' কবি-মাতৃভাষা' কবিতার অংশ।
তিনি ইউরোপে প্রবাসকালে মাতৃভূমির স্মৃতি-উদ্ভাসিত মনে বাল্যস্মৃতি, হিন্দুদের পূজাউৎসব, পূবর্তন কবিদের স্মৃতিতপর্ণ ইত্যাদি বহুবিধ বৈশিষ্ট্য নিয়ে কবিতা রচনা করেছেন। ফলে এসব কবিতায় তার মানসিক অবস্থার সার্থক প্রতিফলন ঘটেছে।

বঙ্গভাষা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;--
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি।
অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ,
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;--
কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন!

স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে--
“ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি?
যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!”
পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে
মাতৃ-ভাষা-রূপে খনি, পূর্ণ মণিজালে॥"

- 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির ''চতুর্দশপদী কবিতাবলী''র অন্তর্ভূক্ত।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
১০,৯১৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটক বৌ ঠাকুরাণীর হাট উপন্যাস অবলম্বনে লেখা?
  1. ডাকঘর
  2. রক্তকরবী
  3. বিসর্জন
  4. প্রায়শ্চিত্ত
সঠিক উত্তর:
প্রায়শ্চিত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা
• প্রায়শ্চিত্ত নাটক (১৯০৯) :
- রবীন্দ্রনাথের 'বৌঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'।
 - 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানবভূমিক নাটক। 
- এই নাটকেই ধনঞ্জয় বৈরাগীর আবির্ভাব।
- নাটকটি পঞ্চাঙ্কের। 
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় ধনঞ্জয় বৈরাগীর চরিত্রের মাধ্যমে।। 
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্র: সুরমা, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি। 
- ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ ‘পরিত্রাণ’ নাটক।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয় ।

• রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য নাটকসমূহ:
• গীতিনাট্য:
- বসন্ত (১৯২৩): নজরুলকে উৎসর্গ করা হয়েছে।
- কালমৃগয়া (১৮৮২)

• কাব্যনাট্য:
- প্রকৃতির প্রতিশোধ,
- মায়ার খেলা,
- বিদায় অভিশাপ।

• রূপক-সাংকেতিক নাটক:
- শারদোৎসব, 
- রাজা,
- ডাকঘর,  
- অচলায়তন,  
- ফাল্গুনী,  
- গুরু (১৯১৮): এটি অচলায়তনের সংক্ষিপ্ত রূপ।
- অরূপরতন,  
- মুক্তধারা, 
- রক্তকরবী, 
- কালের যাত্রা,  
- তাসের দেশ।

• প্রহসন:
- বৈকুণ্ঠের খাতা,
- চিরকুমারসভা,
- গোড়ায় গলদ, 
- হাস্যকৌতুক,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯১৪.
চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯০৯ সালে
  2. ১৯১৩ সালে
  3. ১৯১৬ সালে
  4. ১৯১৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা

১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।

• চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৯১৫.
শামসুর রহমানের রচনা কোনটি?
  1. ক) নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  2. খ) কয়েকটি কবিতা
  3. গ) নিরালোকে দিব্যরথ
  4. ঘ) উত্তরাধিকার
  5. ঙ) পদাতিক
সঠিক উত্তর:
গ) নিরালোকে দিব্যরথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিরালোকে দিব্যরথ
ব্যাখ্যা
নিরালোকে দিব্যরথ কাব্য কবি শামসুর রহমানের। এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়। নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি, কয়েকটি কবিতা, উত্তরাধিকার ও পদাতিক গ্রন্থসমুহ যথাক্রমে সেলিনা হোসেন, সত্যেন সেন, শহীদ কাদরি এবং সুভাষ মুখোপাধ্যায় রচিত।(সূত্র: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য- মোহসীনা নাজিলা)
১০,৯১৬.
‘কল্যাণী’ নিচের কোন গল্পের চরিত্র?
  1. রবিবার
  2. অনধিকার প্রবেশ
  3. অপরিচিতা
  4. মণিহারা
সঠিক উত্তর:
অপরিচিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরিচিতা
ব্যাখ্যা
⇒ “অপরিচিতা” ছোটগল্প:
“অপরিচিতা” গল্পে অপরিচিতা বিশেষণের আড়ালে যে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী নারীর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে, তার নাম কল্যাণী। অমানবিক যৌতুক প্রথার নির্মম বলি হয়েছে এমন নারীদের গল্প ইতঃপূর্বে রচনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু এই গল্পেই প্রথম যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের কথকতা শোনালেন তিনি।

• কাহিনি সংক্ষেপ:
এ গল্পে পিতা শম্ভুনাথ সেন এবং কন্যা কল্যাণীর স্বতন্ত্রবীক্ষা ও আচরণে সমাজে গেড়ে-বসা ঘৃণ্য যৌতুকপ্রথা প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে। পিতার বলিষ্ঠ প্রতিরোধ এবং কন্যা কল্যাণীর দেশচেতনায় ঋদ্ধ ব্যক্তিত্বের জাগরণ ও তার অভিব্যক্তিতে গল্পটি সার্থক। “অপরিচিতা” উত্তম পুরুষের জবানিতে লেখা গল্প। গল্পের কথক অনুপম বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকের যুদ্ধসংলগ্ন সময়ের সেই বাঙালি যুবক, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর উপাধি অর্জন করেও ব্যক্তিত্বরহিত, পরিবারতন্ত্রের কাছে অসহায় পুতুলমাত্র। তারই বিয়ে উপলক্ষ্যে যৌতুক নিয়ে নারীর চরম অবমাননাকালে শম্ভুনাথ সেনের কন্যা-সম্প্রদানে অসম্মতি গল্পটির শীর্ষ মুহূর্ত।

উৎস: সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১০,৯১৭.
'তিমির হননের কবি' কোন কবির উপাধি?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) ফররুখ আহমদ
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
ক) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ: 
- জীবনানন্দ দাশ একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। 
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। 
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি। 
- রূপসী বাংলার কবি বলা জীবননান্দ দাশকে। 

তাঁর উপাধি সমূহ: 
- ধুসরতার কবি, 
- তিমির হননের কবি
- রূপসী বাংলার কবি, 
- নির্জনতার কবি। 

তাঁর রচিত কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরাপালক, 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯১৮.
"ভানুমতি-চিত্তবিলাস" - এর রচয়িতা কে?
  1. ক) তারাচরণ শিকদার
  2. খ) রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. গ) যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) হরচন্দ্র ঘোষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) হরচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হরচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
• হরচন্দ্র ঘোষ কয়েকটি অনুবাদমূলক নাটক লিখেছিলেন।
যেমন -
• ভানুমতি-চিত্তবিলাস - শেক্সপিয়রের "মার্চেন্ট অফ ভেনিস" অবলম্বনে।
• চারুমুখচিত্তহারা - রোমিও-জুলিয়েট এর গল্প অবলম্বনে।
তার আরো দুটি নাটক - কৌরব বিয়োগ ও রজতগিরিনন্দিনী।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
১০,৯১৯.
'ছুটি খাঁনী' মহাভারত খ্যাত গ্রন্থের লেখক কে?
  1. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. শ্রীকর নন্দী
  3. কৃত্তিবাস ওঝা
  4. দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
সঠিক উত্তর:
শ্রীকর নন্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকর নন্দী
ব্যাখ্যা
• 'ছুটি খাঁনী' মহাভারত:
- চট্টগ্রামের শাসনকর্তা পরাগল খান মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ছুটি খাঁ সভাসদ শ্রীকর নন্দীকে মহাভারত অনুবাদের নির্দেশ দেন।
- ছুটিখানের আদেশে জৈমিনি মহাভারতের ওপর নির্ভর করে কেবল ‘অশ্বমেধ পর্বের’ অংশ নিয়ে শ্রীকর নন্দী 'ভারত পাঁচালী' রচনা করেন।
- শ্রীকর নন্দী রচিত ভারত পাঁচালী 'ছুটি খাঁনী' মহাভারত নামেও পরিচিত।
- কেউ কেউ বলে পরাগলী মহাভারতের অসম্পূর্ন অংশ সম্পূর্ণ করেছেন শ্রীকর নন্দী।

অন্যদিকে,
-----------------
• 'পরাগলী মহাভারত:
- 'পরাগলী মহাভারত' খ্যাত গ্রন্থের লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি।
- নবাব হুসেন শাহ্‌ (১৪৯৩-১৫১৮) চট্টগ্রাম শাসনের জন্য পরাগল খাঁ নামক এক লস্কর নিযুক্ত করেন।
- যুদ্ধপ্রিয় পরাগল খাঁ মহাভারতের যুদ্ধকাহিনি শুনে গ্রন্থটি অনুবাদের জন্য পরমেশ্বর দাসকে নির্দেশ দেন।
- তাই কবীন্দ্র পরমেশ্বর এর অনুবাদকৃত মহাভারতকে 'পরাগলী মহাভারত' বলা হয়।
- কবীন্দ্র তাঁর রচিত মহাভারতের নাম দিয়েছেন ‘ভারত পাঁচালী’।

• দ্বৈপায়ন ব্যাসদেবের ‘মহাভারত’:
- ‘মহাভারত' কাব্যের মূল রচয়িতা হচ্ছেন কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকের নাম কাশীরাম দাস। ‘মহাভারত' কাব্যগ্রন্থ টি সংস্কৃত ভাষায় রচিত।


• কৃত্তিবাস ওঝা সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০,৯২০.
"আজি এ প্রভাতে রবির কর, কেমনে পশিল প্রাণের পর।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. স্বরবিতান
  2. নিরুদ্দেশ যাত্রা
  3. নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
  4. প্রভাতসংগীত
সঠিক উত্তর:
প্রভাতসংগীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রভাতসংগীত
ব্যাখ্যা

•'প্রভাতসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রভাতসঙ্গীত কাব্যগ্রন্থটি ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে।
- এতে একুশটি কবিতা আছে।
- এ কাব্যের গুরুত্বপূর্ণ কবিতা 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ'।

'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতাটির অংশ বিশেষ:

আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের পর,
কেমনে পশিল  গুহার আঁধারে
প্রভাত-পাখির গান।
না জানি কেন রে  এতদিন পরে
জাগিয়া উঠিল প্রাণ।

উৎস: রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৯২১.
বাংলায় টপ্পার প্রচলন হয় কত শতকে?
  1. ক) সপ্তদশ শতকে
  2. খ) ঊবিংশ শতকে
  3. গ) অষ্টাদশ শতকে
  4. ঘ) বিংশ শতকে
সঠিক উত্তর:
গ) অষ্টাদশ শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অষ্টাদশ শতকে
ব্যাখ্যা
- বাংলায় অষ্টাদশ শতকের শেষ ভাগ থেকে টপ্পার প্রচলন।
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধু (বাবু)।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)।
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে বহু সংগীতজ্ঞ সুললিত, অপূর্ব টপ্পা রচনা করে গেছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন রাধামোহন সেন, কালিকা মির্জা, শ্রীধর কথক, দাশরথী রায় বিশেষভাবে  উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯২২.
শ্রীরামপুর মিশন কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১৮০০
  2. খ) ১৮০২
  3. গ) ১৮১২
  4. ঘ) ১৮১৩
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮০০
ব্যাখ্যা

১৮০০ সালের ১০ জানুয়ারি উইলিয়াম কেরি শ্রীরামপুর মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
ভারতীয়দের খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে শ্রীরামপুর মিশন প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
১৮১৮ সালে দেশীয়দের ধর্মশিক্ষা দেওয়ার উদ্দ্যেশে শ্রীরামপুর কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
১৮৪৫ সালে শ্রীরামপুর মিশন বন্ধ হয়ে যায়।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

১০,৯২৩.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত “Buddhist Mystic Songs” গ্রন্থে, চর্যাপদের কত জন কবির কথা বলা হয়েছে?
  1. ২১
  2. ২৩
  3. ২৪
  4. ২৬
সঠিক উত্তর:
২৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩
ব্যাখ্যা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত - Buddhist Mystic Song গ্রন্থে ২৩ জন কবির কথা বলা হয়েছে।
আবার ড. সুকুমার সেনের ''বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস'' - গ্রন্থে ২৪ জন কবির নাম পাওয়া যায়।
তাই বলা হয় চর্যাপদের কবি সংখ্যা ২৩, মতান্তরে ২৪ জন।
উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১০,৯২৪.
'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তাকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- তিনি রবীন্দ্র কাব্য ধারার 'গীতিকবিতা' রচনা করতেন।
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া'।
- বেগম রোকেয়ার সামাজিক আদর্শ সুফিয়া কামালকে আজীবন প্রভাবিত করেছে। তিনি রোকেয়ার ওপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' সংকলনটি উৎসর্গ করেন।
- এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- মায়া কাজল,
- শান্তি ও প্রার্থনা,
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মৃত্তিকার ঘ্রাণ,
- মোর জাদুদের সমাধি পরে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১০,৯২৫.
'ন্যাড়া' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন গল্পের চরিত্র?
  1. বিন্দুর ছেলে
  2. মেজদিদি
  3. বিলাসী
  4. মহেশ
সঠিক উত্তর:
বিলাসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলাসী
ব্যাখ্যা
'বিলাসী' ছোটগল্প:
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।
- গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচারণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে।
- বিলাসী গল্পে 'ন্যাড়া' চরিত্রের মধ্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর নিজের ছায়াপাত ঘটেছে।
- বিলাসী গল্পের বিখ্যাত উক্তি - “টিকিয়া থাকাই চরম সার্থকতা নয়, অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল,
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৯২৬.
প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম কী?
  1. হুতোম প্যাঁচা
  2. বনফুল 
  3. টেকচাঁদ ঠাকুর
  4. ভোরের পাখি
সঠিক উত্তর:
টেকচাঁদ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেকচাঁদ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম হলো টেকচাঁদ ঠাকুর।  

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী ও ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল 'টেকচাঁদ ঠাকুর'।
- কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরির ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে ১৮৩৬ সালে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
- তিনি বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ হিসেবে খ্যাত।
- সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব হলো 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে পরিচিত।
- প্যারীচাঁদের উদ্যোগে অল্পশিক্ষিতা মহিলাদের জন্য বাংলা ভাষায় একটি মাসিক পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়, যার নাম 'মাসিক পত্রিকা' এবং প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল ১৬ আগস্ট ১৮৫৪।
- ১৯৭৭ সালে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

উল্লেখযোগ্য রচিত গ্রন্থসমূহ:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- গীতাঙ্কুর,
- যৎকিঞ্চিৎ,
- অভেদী। 

অন্যদিকে, 
- হুতোম প্যাঁচা হলো কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম।  
- বনফুল হলো বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম।  
- 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে গীতি কাব্য-ধারার 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেছেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৯২৭.
'মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।' উক্তিটি কার?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা

সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মোতাহের হোসেন চৌধুরীর মৃত্যুর পর সিকান্দার আবু জাফরের সমকাল প্রকাশনী কতৃক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রবন্ধগুলো নিয়ে প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'সংস্কৃতি কথা'।
- ত্রিশটি প্রবন্ধ একত্রিত করে 'সংস্কৃতি কথা' শিরোনামে তাঁর প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ বের করে বাংলা একাডেমি ১৯৭০ সালে।

'সংস্কৃতির কথা' প্রবন্ধগ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি:
- 'মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।',
- 'ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।'

সংস্কৃতি-কথা' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কিছু উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ হলো-
- মেরুদণ্ড,
- নবযুগ,
- আমাদের দৈন্য,
- মনুষ্যত্ব,
- জীবন ও বৃক্ষ,
- লাইব্রেরী,
- বর্ষাপঞ্জী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা 'সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৯২৮.
'সেক শুভোদয়া' গ্রন্থে বাংলার কোন শাসকের সময়কালের বর্ণনা পাওয়া যায়?
  1. শশাঙ্ক
  2. লক্ষণ সেন
  3. বখতিয়ার খলজী
  4. আলাউদ্দীন খলজী
সঠিক উত্তর:
লক্ষণ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা
• সেক শুভোদয়া:
- সেক শুভোদয়া বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের এবং মিশ্র অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় রচিত একটি গ্রন্থ।
- অনেক গবেষকের মতে, গ্রন্থটির রচনাকাল ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যে।
- গদ্য-পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে। এরপর পুথি খণ্ডিত।
- জাললুদ্দিন তাব্রিজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান (সেক) রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় চমৎকার ও চিত্তাকর্ষক গল্প পরিবেশনের মাধ্যমে সবার মনে বিস্ময় সৃষ্টি করে। রাজা লক্ষ্মণ সেন সেককে পুরস্কৃত ও সংবর্ধিত করেন। গ্রন্থটিতে উক্ত সেক সম্পর্কে বর্ণনা পাওয়া যায়।

- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- তবে প্রচুর ভুল সংস্কৃত ব্যবহারও আছে। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে 'dog sanskrit' বলেছেন।
- ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু 'কায়স্থ' পত্রিকায় গ্রন্থটির ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন।
- পরে ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯২৯.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1.  কবর
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. একুশের গল্প
  4. জীবন থেকে নেওয়া
সঠিক উত্তর:
আরেক ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো:
- মুমিন,
- আসাদ,
- রসুল,
- সালমা।

------------------
• 'কবর' নাটক:
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান। এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

• 'একুশের গল্প' (জহির রায়হান):
- জহির রায়হানের অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম 'একুশের গল্প'। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পটি ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে ফুটিয়ে তোলে।
- গল্পের প্রধান চরিত্র তপু, রেণু ও রাহাত। এক উদ্দাম, প্রাণবন্ত তরুণ ভাষা শহিদ হয়; কিন্তু পুলিশ তাঁর লাশ গুম করে ফেলে। পরবর্তীতে তাঁর কঙ্কাল মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া এক বন্ধু আবিষ্কার করে। এই গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলি (২য় খণ্ড) থেকে নেওয়া হয়েছে।

• জীবন থেকে নেওয়া:
- 'জীবন থেকে নেওয়া' জহির রায়হান পরিচালিত একটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র যা ১৯৭০ সালের ১০ এপ্রিল মুক্তি পায়।
- চলচ্চিত্রটি পারিবারিক আবহে নির্মিত হলেও এর অন্তর্নিহিত পটভূমি ছিলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম।
- ছবিতে প্রতীকী কাহিনীর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয় এবং জনগণকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৯৩০.
Sultana’s Dream গ্রন্থটির অনুবাদক কে?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) বেগম রোকেয়া
  3. গ) জাহানারা ইমাম
  4. ঘ) নীলিমা ইব্রাহীম
সঠিক উত্তর:
খ) বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
• Sultana’s Dream গ্রন্থটি বেগম রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 

• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯৩১.
বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সারদামঙ্গল
  2. বঙ্গসুন্দরী
  3. বন্ধু বিয়োগ
  4. স্বপ্নদর্শন
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

সারদামঙ্গল কাব্য:
- কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদামঙ্গল' (১৮৭৯)।
- এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল 'আর্যদর্শন' পত্রিকায়। আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।
- এটি পাঁচটি সর্গে বিভক্ত। ভোরের পাখি খ্যাত রোমান্টিক কবি বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন।
- কাব্যগ্রন্থটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন, "সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।"

অন্যদিকে, 
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'সারদামঙ্গল'কাব্য।

১০,৯৩২.
মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম কোথায়?
  1. কুমিল্লা
  2. নোয়াখালী
  3. চট্টগ্রাম
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
নোয়াখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ। 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৩৩.
বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য করে তোলেন কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন।
- বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০,৯৩৪.
'নিরঞ্জনের উষ্মা' কবিতাটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  2. গীতগোবিন্দম্
  3. শূণ্যপুরাণ
  4. মঙ্গলকাব্য
সঠিক উত্তর:
শূণ্যপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূণ্যপুরাণ
ব্যাখ্যা
'শূণ্যপুরাণ':
- 'অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ। গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপুজাপদ্ধতি। এতে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪
বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।
- 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূণ্যপুরাণ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা। নিরঞ্জনের উম্মা অংশের মূল প্রতিপাদ্য হলো: বর্ণ-হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন। এই অত্যাচারে বিরূপ হয়ে দেব নিরঞ্জন ধর্মঠাকুর 'যবন' মুসলমানের রূপ ধারণ করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- কবিতাটি থেকে প্রমাণিত হয় যে তা 'মুসলমান তুর্কি কর্তৃক বঙ্গবিজয়ের পরের, অন্তত এয়োদশ শতাব্দীর শেষের দিকের রচনা।

অন্যদিকে,
- "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন” একটি নাট্যধর্মী কাহিনি কাব্য।

- বৈষ্ণব কবি জয়দেবের রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে 'গীতগোবিন্দম্' রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০,৯৩৫.
একুশের প্রথম সংকলনের সম্পাদক কে?
  1. ক) মাহবুবর রহমান
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) আ ন ম গাজীউল হক
  4. ঘ) আলতাফ মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
খ) হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• একুশের প্রথম সংকলনের নাম ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।
- এটি সম্পাদনা করেছেন কবি হাসান হাফিজুর রহমান
- ১৯৫৩ সালে পুঁথিপত্র প্রকাশনী থেকে সংকলনটি প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশক ছিলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী মোহাম্মদ সুলতান ।
- এই সংকলনের অসাধারণ স্কেচগুলো করেন মুর্তজা বশীর।
- হাসান হাফিজুর রহমানের অনুরোধে নিজ হাতে উৎসর্গপত্রটি লিখে দেন আনিসুজ্জামান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯৩৬.
'সুবচন নির্বাসনে' নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. লুৎফর রহমান
  3. আবদুল্লাহ আল-মুতী
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• 'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক।

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)। তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।

তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯৩৭.
'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি কয়টি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে?
  1. দুই 
  2. তিন 
  3. চার 
  4. পাঁচ 
সঠিক উত্তর:
তিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন 
ব্যাখ্যা

• ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই। 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্টিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত।
- তন্মধ্যে 'মহরম পর্ব্বে' উপক্রমণিকা ও ছাব্বিশটি প্রবাহ, 'উদ্ধার পর্ব্বে' ত্রিশটি প্রবাহ, 'এজিদ-বধ পর্ব্বে' পাঁচটি প্রবাহ ও উপসংহার-অংশ রয়েছে।
- প্রথমত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কাহিনি সাধারণ মুসলিম পাঠকের কাছে এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
- দ্বিতীয়ত 'বিষাদ-সিন্ধু'র জাদুকরী রচনাগুণের জন্যে সাহিত্যরসিকজনের কাছেও গ্রন্থটি আদরণীয়।
- জয়নাবের রূপে বিমোহিত এজিদ এবং এই রূপতৃষ্ণার পরিণামে বহু মানুষের বিপর্যয় ও ধ্বংসের যে কথকতা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রন্থটিকে সর্বজনীন করে তুলেছে।
- 'বিষাদ-সিন্ধু'র কাহিনিতে অ্যান্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট চেতনা মূলত মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকেই মীর মশাররফ হোসেন গ্রহণ করেছেন।

---------------------------
মীর মশাররফ হোসেন রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়। 

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৯৩৮.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক 'যে অরণ্যে আলো নেই' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) মামুনুর রশিদ
  2. খ) নীলিমা ইব্রাহীম
  3. গ) বন্দে আলী মিয়া
  4. ঘ) বদরুদ্দীন ওমর
সঠিক উত্তর:
খ) নীলিমা ইব্রাহীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নীলিমা ইব্রাহীম
ব্যাখ্যা
'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত নাটক। 

তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক
- দুইয়ে দুইয়ে চা
- যে অরণ্যে আলো নেই (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক)
- রোদজ্বলা বিকেল 
- সূর্যাস্তের পর

তাঁর রচিত উপন্যাস
- বিশ শতকের মেয়ে 
- এক পথ দুই বাক
- কেয়াবন সঞ্চারিনী 
- বহ্নিবলয়

গল্প: 
- রমনা পার্কে

প্রবন্ধ
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি
- শরৎ প্রতিভা
- বাংলার কবি মধুসূদন (১৯৬১)
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছদিত কন্যা আমি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৩৯.
কত খ্রিস্টাব্দে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'জগত্তারিণী' পদক লাভ করেন? 
  1. ১৯১৬
  2. ১৯২৩
  3. ১৯৩৩
  4. ১৯০৩
সঠিক উত্তর:
১৯২৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৩
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বাংলা কথা-সাহিত্যে দুর্লভ জনপ্রিয়তার অধিকারী।
- ১৯০৩ সালে ভাগ্যের সন্ধানে তিনি বার্মা যান এবং রেঙ্গুনে অ্যাকাউন্ট্যাট অফিসে কেরানি পদে চাকরি করেন ।
- প্রবাস জীবনেই তার সাহিত্য সাধনা শুরু হয় এবং তিনি খ্যাতি লাভ করেন।
- ১৯১৬ সালে তিনি কলকাতা ফিরে আসেন এবং নিয়মিতভাবে সাহিত্য সাধনা শুরু করেন।
- তিনি ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জগত্তারিণী পদক’ এবং ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি. লিট উপাধি লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র ১৬ই জানুয়ারি ১৯৩৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তার উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ:
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- গৃহদাহ,
- পল্লিসমাজ,
- চরিত্রহীন,
- পথের দাবী,
- দেনা পাওনা।

উল্লেখ্য,
• বাংলাপিডিয়া অনুসারে, জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩ সালে) লাভ করেন।
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে, জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩ সালে) লাভ করেন।
• উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা বই অনুসারে,জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩ সালে) লাভ করেন।
• বাংলা একাডেমি চরিতাবিধান অনুসারে, জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩ সালে) লাভ করেন।
• তবে,
বাংলা সাহিত্য ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর বইয়ে ১৯২০ সাল দেওয়া আছে। যদিও তথ্যটি ভুল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা একাডেমি চরিতাবিধান, বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৯৪০.
কুক্কুরীপা চর্যাগীতির কয়টি গানের রচয়িতা?
  1. ৮টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
• কুক্কুরীপা:
- কুক্কুরীপা চর্যাগীতির তিনটি গানের রচয়িতা। এদের মধ্যে একটি গান [৪৮ সংখ্যক পুথির লুপ্ত অংশ ছিল।

- তিনি উচ্চবংশীয় ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর চর্যার ভাষা সে ইঙ্গিত বহন করে। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'যোগভাবনাপ্রদেশ', 'স্রবপরিচ্ছদ'।

- কুক্কুরীপা তান্ত্রিক নাম কিংবা ছদ্মনাম। কুলীন বা উচ্চবংশীয় হলেও কাব্যমূর্তির কারণে বা তান্ত্রিকতার আকর্ষণে তিনি এ নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। নামের সঙ্গে 'পা' যুক্ত থাকায় কেউ কেউ একে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাসূচক ছদ্মনাম বলে মনে করেন। তারানাথের মতে, সঙ্গে সবসময় একটি কুকুরী থাকত বলে তাঁর নামকরণ হয়েছে কুক্কুরীপা।

- কুক্কুরীপা বাংলার উত্তরখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য হিন্দিভাষীরা তাঁকে কপিলাবস্তু বা বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লোক বলেছেন।

- সংস্কৃত রচনা 'মহামায়াসাধন'-এর রচয়িতা হিসেবে কুকুরীপার নাম পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমিত হয়, তিনি মহামায়ার উপাসক ছিলেন। ড. শহীদুল্লাহ্ মতে, কুকুরীপা ৭৪০ থেকে ৮২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ধর্মপালের শাসনামলে কুক্কুরীপা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক।
১০,৯৪১.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মরু-ভাস্কর' কোন ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. ছোটগল্প
  4. ভ্রমণকাহিনি
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'মরু-ভাস্কর' কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ 'মরু-ভাস্কর'।
- এটি হযরত মোহাম্মদ (স.) এর জীবনীকাব্য। ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ থেকে কাব্যটি রচিত হয়।
- ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে(১৯৫০) গ্রন্থাকারে ছাপা হয়। এ কাব্যের চারটি সর্গ। মোহাম্মদ (স.) জন্ম, শৈশব, কৈশোর, বিয়ে ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
কাজী নজরুল ইসলামের অন্য একটি জীবনীকাব্য- চিত্তনামা।

কাজী নজরুল ইসলাম:

- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা, 
- সাম্যবাদী, 
- ঝিঙে ফুল, 
- ভাঙার গান, 
- দোলনচাঁপা, 
- সিন্ধু হিন্দোল, 
- চক্রবাক, 
- জিঞ্জিরা, 
- নতুন চাঁদ, 
- প্রলয় শিখা, 
- মরু-ভাস্কর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৪২.
'অজ্ঞাতবাস' কার রচিত উপন্যাস?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা

অন্নদাশঙ্কর রায়: একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক ও বিশিষ্ট ছড়াকার৷ তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।

তার রচিত কবিতাগ্রন্থ:
- রাখী (১৯৩২),
- কালের শাসন (১৯৩৩),
- কামনা পঞ্চবিংশতি (১৯৩৪),
- নূতন রাধা (১৯৪৩) প্রভৃতি।

উপন্যাস:
- যার যেথা দেশ (১৯৩২);
- অজ্ঞাতবাস (১৯৩৩),
- কঙ্কাবতী (১৯৩৪),
- দুঃখমােচন (১৯৩৬),
- মর্তের স্বর্গ (১৯৪০),
- অপসরণ (১৯৪২)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

 
১০,৯৪৩.
মৌর্য যুগে বাংলার রাজধানী ছিলো কোথায়?
  1. পাটালীপুত্র
  2. পুন্ড্রনগর
  3. কর্ণসুবর্ণ
  4. রোহিতগিরি
সঠিক উত্তর:
পুন্ড্রনগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুন্ড্রনগর
ব্যাখ্যা
- আলেকজান্ডারের ভারত ত্যাগের পর চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য খ্রিস্টপূর্ব ৩২১ অব্দে উত্তর ভারতে মৌর্য সাম্রাজ্য স্থাপন করেন। সম্রাট অশোকের সময়ে (২৬৯-২৩২ খ্রি. পূর্ব) উত্তর বাংলা প্রথম মৌর্য শাসনের অধীনে আসে যা পরবর্তীতে সমতট পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিলো।
- মৌর্য বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয় প্রাচীন পুণ্ড্রনগরে। মৌর্য সাম্রাজ্যের পর গুপ্ত আমলেও পুণ্ড্রনগর বাংলার রাজধানী ছিলো।
- পুণ্ড্রনগর ছিলো প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ। এখানে প্রাপ্ত শিললিপি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো বলে স্বীকৃত।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,৯৪৪.
'হায় চিল' কবিতার কবি কে?
  1. জসীমউদ্‌দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৪৫.
"কালের ধুলোয় লেখা" — আত্মস্মৃতিটি কে লিখেছেন?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. শওকত আলী 
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

• 'কালের ধুলোয় লেখা’ আত্মস্মৃতি:
- 'কালের ধুলোয় লেখা' (২০০৪) শামসুর রাহমান রচিত একটি — আত্মস্মৃতি।
- 'কালের ধুলোয় লেখা' তাঁর আত্মজীবনীতে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি শুধু নয়, বৈশ্বিক পটভূমিতে কাছ থেকে দেখা বাঙালির গণ-সংস্কৃতির ইতিহাস যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনি প্রতিভাত হয়েছে তার কাব্যসত্তার ভেতর- বাহির।
- এই গ্রন্থে জীবনে ঘটেছে এমন কোনো ঘটনাকে লুকোতে চান নি তিনি। মুখোমুখি হয়েছেন বারবার।
- বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শামসুর রাহমান অনেক অজানা ইতিহাসকে খোলসা করেছেন স্পষ্টভাবে যার মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ সত্যাশ্রয়ী আত্মজীবনী লেখার একটি সংস্কৃতি চালু করেন।

শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১০,৯৪৬.
বাংলা সাহিত্যের কোন যুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল?
  1. যুগসন্ধিক্ষণের যুগে
  2. প্রাচীন যুগে
  3. মধ্যযুগে
  4. বর্তমান যুগে
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মধ্যযুগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যযুগে
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা:
১. প্রাচীন যুগ,
২. মধ্যযুগ,
৩. আধুনিক যুগ।

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
•  বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
• আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্য হয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯৪৭.
'আগুন পাখি' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

'আগুন পাখি' উপন্যাস:
- 'আগুন পাখি' হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস।
- 'আগুনপাখি' হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ওই এলাকার মানুষের সংগ্রামী
- জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার যথাযথ রূপায়ণ।
- মেঝ বউ চরিত্রটি উপন্যাসের মূল এবং সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংবদ্ধতার প্রতীকে পরিণত।

হাসান আজিজুল হক রচিত রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নামহীন গোত্রহীন,
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন,
- রোদে যাবো,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে।

উৎস: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৯৪৮.
'কবি' উপন্যাসে নিতাইচরণ কোন সম্প্রদায়ের লোক?
  1. বণিক
  2. ব্রাহ্মণ
  3. ডোম
  4. কায়স্থ
সঠিক উত্তর:
ডোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডোম
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'কবি' উপন্যাসে 'ডোম' সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

• 'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'কবি'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে। এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- এই উপন্যাসটি ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের  ''জীবন এতো ছোট ক্যানে? '' - সংলাপটি ক্ল্যাসিক মর্যাদা পেয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৪৯.
আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি ছিলেন-
  1. ক) মাগন ঠাকুর
  2. খ) দৌলত কাজী
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) দৌলত উজির
সঠিক উত্তর:
খ) দৌলত কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
• আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি দৌলত কাজী।

• আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ:
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- মরদন,
- আবদুল করিম খন্দকার,
- শমসের আলী ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১০,৯৫০.
'শূন্যপুরাণ' কোন যুগের সাহিত্য নিদর্শন?
  1. আধুনিক যুগ
  2. প্রাচীন যুগ
  3. অন্ধকার যুগ
  4. বৈষ্ণব যুগ
সঠিক উত্তর:
অন্ধকার যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্ধকার যুগ
ব্যাখ্যা
• 'শূন্যপুরাণ'- অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।

• 'শূন্যপুরাণ':
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। এতে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ'- 'শূন্যপুরাণ'।
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূন্যপুরাণ অন্তর্গত একটি কবিতা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯৫১.
'ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প' কার রচনা?
  1. মাহমুদুল হক
  2. শহীদ কাদরী
  3. ফজলে লোহানী
  4. শহীদুল জহির
সঠিক উত্তর:
শহীদুল জহির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদুল জহির
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের অকলা প্রয়াত লেখক, বাংলা সাহিত্যে ম্যাজিক রিয়েলিজমের সার্থক প্রয়োগদাতা শহীদুল জহিরের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ ‘ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্যা গল্প’।
তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ হলো :
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা,
- সে রাতে পূণিমা ছিল,
- মুখের দিকে দেখি,
- ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১০,৯৫২.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত "দি পীস" পত্রিকাটি কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯২০
  2. খ) ১৯২১
  3. গ) ১৯২৪
  4. ঘ) ১৯২৩
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯২৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯২৩
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯):
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর জন্ম ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে।
- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্র বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন।
- আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫)
- বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২১) হিসেবে
- তাঁর সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।
তাঁর অন্যান্য সম্পাদিত পত্রিকা -
- ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস (১৯২৩)
- বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং
- পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৫৩.
'হিস্ট্রি অব বেঙ্গলি লিটেরেচার' গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
দীনেশচন্দ্র সেন
- দীনেশচন্দ্র সেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। 
- ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলায় তাঁর জন্ম।

- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসনির্ভর গ্রন্থ ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ রচনা করেন।
- তার সুবিখ্যাত গ্রন্থ “হিস্ট্রি অব বেঙ্গলি লিটেরেচার” ১৯১১ সালে প্রকাশিত হলে তা সর্বমহলের ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে।
- দীনেশচন্দ্র সেন গ্রামবাংলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে প্রাচীন বাংলার পুঁথি সংগ্রহ করেন এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনা করেন।
- লেখনীর মাধ্যমে তিনি গ্রামবাংলার লোকসাহিত্য বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছেন।
- তিনি মৈমনসিংহ গীতিকা ও পূর্ববঙ্গ গীতিকা সম্পাদনা করেন।
- এই গ্রন্থগুলোর পালাগান, গীতিকা বা কাব্যগুলো সংগ্রহ করে দেন চন্দ্রকুমার দে। 
- ১৯৩৯ সালের ২০ নভেম্বর কলকাতার বেহালায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৫৪.
'সারাদুপুর' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শঙ্খ ঘোষ
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত এবং একান্নবর্তী  পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গ্রন্থের রচিয়তা হাসান আজিজুল হক।
এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে।
এই গ্রন্থে মোট আটটি গল্প রয়েছে।
যথা -
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পরবাসী,
- সারাদুপুর,
- অন্তর্গত নিষাদ,
- মারী,
- উটপাখি,
- সুখের সন্ধানে,
- আমৃত্যু আজীবন

তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ-
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ
- আমরা অপেক্ষা করেছি
- নামহীন গোত্রহীন
- পাতালে হাসপাতালে
- সমুদ্রের স্বপ্ন
- শীতের অরণ্য
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- বৃত্তায়ন 
- শিউলি 
- আগুনপাখি 
- সাবিত্রী উপাখ্যান 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- কথাসাহিত্যের কথকতা 
- অপ্রকাশের ভার 
- কথা লেখা কথা 

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক: একাত্তর-করতলে ছিন্নমাথা 
সম্পাদনা: অসীমন্তিক 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
১০,৯৫৫.
'তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  2. খ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) হুমায়ুন আজাদ
  4. ঘ) মুহাম্মদ আবদুল হাই
সঠিক উত্তর:
গ) হুমায়ুন আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন আজাদের ভাষাবিজ্ঞানবিষয়ক দুটি গ্রন্থ,
- তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান (১৯৮৮),
- অর্থবিজ্ঞান (১৯৯৯)।

সাহিত্যস্রষ্টা হিসেবে তাঁর প্রতিভা ও মননের এক অসাধারণ দিক উন্মোচিত হয়েছে শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা কিছু গ্রন্থে, যেখানে তাঁর ব্যঞ্জনাধর্মী ভাষা সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।
যেমন-
- লাল নীল দীপাবলি (১৯৭৬),
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না (১৯৮৫),
- কতো নদী সরোবর (১৯৮৭),
- আববুকে মনে পড়ে (১৯৮৯),
- বুকপকেটে জোনাকিপোকা (১৯৯৩),
- আমাদের শহরে একদল দেবদূত (১৯৯৬),
- অন্ধকারে গন্ধরাজ (২০০৩)
প্রভৃতি বইয়ে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। 
সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৮৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৫৬.
কোন খণ্ডটি শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) বৃন্দাবন
  2. খ) কালিয়দমন
  3. গ) জন্ম
  4. ঘ) সুখ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুখ
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে 'সুখ' শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের কোনো খণ্ড নয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের প্রথম কাব্যগ্রন্থ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চন্ডীদাস। এটি ১৩ খন্ডের কাব্য।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) শ্রী বসন্তরঞ্জন রায় পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাছে কাকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে এই পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষায় কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ এখানে রাধা কৃষ্ণ কাব্যের আড়ালে ঈশ্বরের প্রতি জীবকুলের আকুলতা প্রকাশিত।
- কাব্যেগ্রন্থটির প্রধান চরিত্র রাধা, কৃষ্ণ এবং বড়ায়ি।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের ১৩টি খন্ড হচ্ছে -
- জন্ম খন্ড, তাম্বুল খন্ড, দান খন্ড, নৌকা খন্ড, ভার খন্ড, ছত্র খন্ড, বৃন্দাবন খন্ড, কালীয়দমন খন্ড, যমুনা খন্ড, হার খন্ড, বাণ খন্ড, বংশী খন্ড ও বিরহ খন্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৫৭.
মুসলমান নারী জাগরণের কবি-
  1. ফজিলাতুন্নেছা
  2. ফয়জুন্নেছা
  3. বেগম রোকেয়া
  4. শামসুন্নাহার
সঠিক উত্তর:
শামসুন্নাহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুন্নাহার
ব্যাখ্যা
• বিতর্কিত প্রশ্ন।
- বেগম রোকেয়াকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়৷
- আর নারী জাগরণের কবি শামসুন্নাহার মাহমুদ।
[কেননা, বেগম রোকেয়ার কোনো কবিতার বই নেই; তাই তাকে ঠিক কবি বলা যাচ্ছে না।]

------------------------
• শামসুন্নাহার মাহমুদ:
• শামসুন্নাহার মাহমুদ ছিলেন একজন (১৯০৮-১৯৬৪) শিক্ষাবিদ ও লেখক।
• তিনি ডায়েসিমন কলেজ থেকে আই এ (১৯২৮), প্রাইভেটে ডিস্টিংকশনসহ বিএ (১৯৩২) এবং এম এ (১৯৪২) পাস করেন। বি এ পাস করার পর বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাইস্কুল থেকে তাঁকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। পরে তিনি বেগম রোকেয়ার নারীশিক্ষা ও নারীমুক্তি আন্দোলনের অংশীদার হন।

• শামসুন্নাহারের প্রথম লেখা কবিতা প্রকাশিত হয় কিশোরদের ‘আঙ্গুর’ নামক মাসিক পত্রিকায়।
• আই.এ পড়ার সময় তিনি নওরোজ ও আত্মশক্তি পত্রিকার মহিলা বিভাগ সম্পাদনা করতেন। কলকাতা থেকে প্রকাশিত বুলবুল (১৯৩৩) পত্রিকা হবীবুল্লাহ্ বাহার ও শামসুন্নাহার যুগ্মভাবে সম্পাদনা করেন। তাঁর লেখায় সমাজ ও সংস্কৃতি-প্রীতির প্রকাশ ঘটেছে।
• কাজী নজরুল তাঁর সিন্ধু-হিন্দোল (১৯২৭) কাব্যখানি ‘বাহার-নাহার’কে উৎসর্গ করেন।
• নারী শিক্ষা ও নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ শামসুন্নাহার মাহমুদকে ১৯৮১ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সমাজসেবার জন্য মরণোত্তর স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার প্রদান করেন।
• ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকার বেগম শামসুন নাহার মাহমুদকে মরণোত্তর, ‘বেগম রোকেয়া পদক’ প্রদান করা হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
- পুণ্যময়ী,
- ফুলবাগিচা,
- বেগম মহল,
- রোকেয়া জীবনী,
- শিশুর শিক্ষা,
- আমার দেখা তুরষ্ক,
- নজরুলকে যেমন দেখেছি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৫৮.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৯৭৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে। এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে। আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস।
১০,৯৫৯.
"আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কার?
  1. মালা
  2. কপিলা
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. কুপি
সঠিক উত্তর:
কপিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপিলা
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• এ উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
-কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক ও দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস কপালকুণ্ডলা।
- উপন্যাসের চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক।

--------------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কথাসাহিত্যিক।
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ প্রকাশিত হয়।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস: ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯৬০.
অন্ধকার যুগের স্থায়িত্ব কাল কত বছর?
  1. ক) ১০০ বছর
  2. খ) ১৫০ বছর
  3. গ) ২০০ বছর
  4. ঘ) ২৫০ বছর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৫০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৫০ বছর
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ রচিত হয়েছিলো ৯৫০-১২০০ অব্দের মধ্যে। 
কিন্তু এর পরেই বাঙলা সাহিত্যের পৃথিবীতে নেমে আসে এক করুণ অন্ধকার, আর সে অন্ধকার প্রায় দেড়শো বছর টিকেছিলো।
- ১২০০ অব্দ থেকে ১৩৫০ অব্দ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে লেখা কোন সাহিত্য নেই। 
- এ সময়ের মধ্যে কোনো সাহিত্যকর্ম পাওয়া যায়নি বলে এ সময়কে বলা হয় অন্ধকার যুগ। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১০,৯৬১.
মণীন্দ্রমোহন বসু 'সেক শুভোদয়া' গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশ করেন?
  1. ব্রাহ্মণ
  2. ভারতী
  3. নারায়ণ
  4. কায়স্থ
সঠিক উত্তর:
কায়স্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়স্থ
ব্যাখ্যা

• সেক শুভোদয়া: 
- ‘সেক শুভোদয়া’ অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘সেক শুভোদয়া’ কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভদয়া’ খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন। 
- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগ্‌ধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন ‘কায়স্থ’ পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১০,৯৬২.
সাপ্তাহিক 'সুধাকর'-এর প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন? 
  1. শেখ আব্দুর রহিম
  2. ইসমাইল হোসেন সিরাজী 
  3. শেখ আলিমুল্লাহ
  4. মো: ইয়াকুব আলী চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
শেখ আব্দুর রহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ আব্দুর রহিম
ব্যাখ্যা

• ‘সুধাকর’ পত্রিকা:
- সুধাকর কলকাতা থেকে ১৮৮৯ সালের ৮ নভেম্বর (১২৯৬ বঙ্গাব্দের ২৩ কার্তিক) প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- রেয়াজুদ্দীন আহমদ, মোহাম্মদ রেয়াজউদ্দীন আহমদ ও শেখ আবদুর রহিমের প্রচেষ্টায় এটি প্রকাশিত হয় এবং এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন শেখ আবদুর রহিম (মতান্তরে মোহাম্মদ রেয়াজউদ্দীন আহমদ)।

- পত্রিকা প্রকাশের লক্ষ ও উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের অতীত গৌরব ও ইসলামের মাহাত্ম্য প্রচার করা। এক পর্যায়ে এটি মিহির ও সুধাকর নামে প্রকাশিত হয়।
- খ্রিস্টান মিশনারিদের পরিচালিত খ্রিস্টীয় বান্ধব পত্রিকার সঙ্গে সুধাকরের ধর্মবিষয়ে বহু বিতর্ক হয়; এমনকি গো-হত্যার ব্যাপারে টাঙ্গাইলের মৌলবি নইমুদ্দীনের পক্ষে এবং মীর মশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে এটি প্রচারাভিযান চালায়। ধর্ম, সমাজ, ইতিহাস, ঐতিহ্য ইত্যাদি ছাড়াও সাহিত্যবিষয়ক মৌলিক রচনাও এতে প্রকাশিত হতো।
- ১৯১০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১০,৯৬৩.
বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেমপ্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০,৯৬৪.
তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে।- উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মৃণালিনী
  2. বিষবৃক্ষ
  3. চন্দ্রশেখর
  4. আনন্দমঠ
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রশেখর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রশেখর
ব্যাখ্যা
⇒ ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাস:
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রশেখর (১৮৭৫) উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ।
• প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।
• এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে ‘তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।
• উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
• ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে ।

বঙ্কিমচন্দ্রের কয়েকটি উপন্যাসের পটভূমি:
⇒ মৃণালিনী: ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ - এর পটভূমি।
⇒ বিষবৃক্ষ: সামাজিক উপন্যাস; সমাজের নানা সমস্যা যেমন - বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ, পুরুষের রূপতৃষ্ণা ও নৈতিক দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ইত্যাদি এই উপন্যাসের উপজীব্য।
⇒ আনন্দমঠ: ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিতে সন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯৬৫.
কোন গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের উপন্যাস রচনা প্রথম প্রয়াস?
  1. কলিকাতা কমলালয়
  2. নববাবু বিলাস
  3. নববিবি বিলাস
  4. ফুলমণি ও করুণার বিবরণ
সঠিক উত্তর:
ফুলমণি ও করুণার বিবরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুলমণি ও করুণার বিবরণ
ব্যাখ্যা

উনিশ শতকের প্রথম দিকে বাংলা সাহিত্যে উপন্যাসের উদ্ভব ঘটে ।
- এর মূলে রয়েছে পাশ্চাত্য সাহিত্যের প্রভাব ।

- ফুলমণি ও করুণার বিবরণ ( ১৮৫২) উপন্যাস তৈরির একটি প্রচেষ্টা ।
- কাল গত দিক দিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাসের প্রয়াস হেনা ক্যাথারিন ম্যালেন্স রচিত ফুলমণি ও করুণার বিবরণ ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)

১০,৯৬৬.
'সূচয়িনী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. জীবনানন্দ দাশ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'সূচয়িনী' জসীম উদ্‌দীন রচিত কবিতার সংকলন।

• জসীম উদ্‌দীন:

- পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীন (১৯০৩-১৯৭৬) একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
 - তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'বোবা কাহিনী' তাঁর একমাত্র উপন্যাস।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- রূপবতী,
- মাটির কান্না,
- সুচয়িনী,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত আত্মকথা:
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
-ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১০,৯৬৭.
'ভাঁড়ুদত্ত' কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. মনসাবিজয়
  4. চণ্ডীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯৬৮.
সাতজন পরির থেকে শোনা সাতটি গল্পের সংকলিত গ্রন্থ-
  1. ক) নূরনামা
  2. খ) তোহফা
  3. গ) সপ্তপয়কর
  4. ঘ) সিকান্দারনামা
সঠিক উত্তর:
গ) সপ্তপয়কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সপ্তপয়কর
ব্যাখ্যা
⇒ 'সপ্ত পয়কর' কাব্য:
- সপ্তপয়কর নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি ‘হফত্ পয়কর’ কাব্যের বাংলা অনুবাদ।
- 'সপ্তপয়কর' সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোনো এক সময়ের রচনা। 
- আরাকান রাজসভায় সৈয়দ আলাওল কাব্যটি রচনা করেন।
- রাজপুত্র বাহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তাঁর সংকলন হচ্ছে 'সপ্তপয়কর' কাব্যটি। 
- পারসি ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 

• সৈয়দ আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম: 
- পদ্মাবতী,
- সপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর বইতে সপ্তপয়কর বইটি ‘হপ্তপয়কর’ নামে বর্ণনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৬৯.
জীবনানন্দ দাশের উপাধি নয় কোনটি?
  1. রূপসী বাংলার কবি
  2. নির্জনতার কবি
  3. পল্লিকবি
  4. তিমির হননের কবি
সঠিক উত্তর:
পল্লিকবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পল্লিকবি
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ হলো:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

অন্যদিকে,
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৭০.
কোনটি আনোয়ার পাশা রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. ক) নীড় সন্ধানী
  2. খ) নিশুতি রাতের গাথা
  3. গ) নিরুপায় হরিণী
  4. ঘ) নদী নিঃশেষিত হলে
সঠিক উত্তর:
গ) নিরুপায় হরিণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিরুপায় হরিণী
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা
- তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়।
- ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাকে হত্যা করে পাকিস্তানিরা।
- আনোয়ার পাশাকে ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) প্রদান করে।

• আনোয়ার পাশা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত।

• গল্পগ্রন্থ:
- নিরুপায় হরিণী।
১০,৯৭১.
'মুহাজিরিন হত্যার জন্য দায়ী কে?' প্রবন্ধের রচয়িতা কে? 
  1. আল মাহমুদ 
  2. হেলাল হাফিজ 
  3. কাজী নজরুল ইসলাম 
  4. বুদ্ধদেব বসু 
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম 
ব্যাখ্যা

'মুহাজিরিন হত্যার জন্য দায়ী কে?' প্রবন্ধটি  কাজী নজরুল ইসলাম রচিত যুগবাণী প্রবন্ধগ্রন্থের একটি প্রবন্ধ।
​​
​• 'যুগবাণী' :

​- 'যুগবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই।
- প্রবন্ধ গ্রন্থটি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ হয়।
- ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়।
- প্রবন্ধ গুলোতে স্বদেশি চিন্তা চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

- এ গ্রন্থে প্রবন্ধের সংখ্যা ২১ টি। 
​- ​নবযুগ, 
​​- গেছে দেশ দুঃখ নাই আবার তোরা মানুষ হ, 
​​- ডায়ারের স্মৃতিস্তম্ভ, 
​- ​ধর্মঘট, 
​​- লোকমান্য তিলকের মৃত্যুতে বেদনাতুর কলিকাতার দৃশ্য, 
​​- মুহাজিরিন হত্যার জন্য দায়ী কে?, 
​- ​ছুঁৎমার্গ,
​​-  উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন, 
​​- মুখবন্ধ, 
​​- রোজ-কেয়ামত বা প্রলয়-দিন, 
​- ​বাঙালির ব্যবসাদারী, 
​- ​আমাদের শক্তি স্থায়ী হয় না কেন, 
​- ​কালা আদমীকে গুলি মারা, 
​- ​শ্যাম রাখি না কুল রাখি, 
​- ​লাট-প্রেমিক আলী ইমাম, 
​- ​ভাব ও কাজ, 
​- ​জাতীয় শিক্ষা, 
​​- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, 
​- জাগরণী।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও যুগবাণী প্রবন্ধ।

১০,৯৭২.
'প্রেমাংশুর রক্ত চাই' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) মহাদেব সাহা
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) নির্মলেন্দু গুণ
  4. ঘ) বিনয় মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কবিদের কবি নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরীর জম্ম ১৯৪৫ সালের ২১ জুন।
- নির্মলেন্দু গুণের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭০ সালে

তাঁর রচিত আরো কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো-
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর দু্ঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৭৩.
‘বাঁধন-হারা' পত্রোপন্যাসে মোট কয়টি পত্র রয়েছে?
  1. এগারোটি
  2. আঠারোটি
  3. পনেরোটি
  4. সতেরোটি
সঠিক উত্তর:
আঠারোটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঠারোটি
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা;
- মৃত্যুক্ষুধা;
- কুহেলিকা। 

• ‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস: 
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯৭৪.
"নবচর্যাপদ" কার সম্পাদনায় সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদারের
  2. ড. শশিভূষণ দাশগুপ্তের
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর
  4. ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের
সঠিক উত্তর:
ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের
ব্যাখ্যা
• 'নবচর্যাপদ' সম্পাদকা বিষয়ক তথ্য:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক চর্যাগীতির পুথি আবিষ্কারের প্রায় অর্ধশতক বছর পর ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত নেপাল থেকে ২০টি পুথি অবলম্বনে ২৫০টি চর্যাগীতি খুঁজে বের করেন।
এগুলোর মধ্য থেকে ৯৮টি চর্যাগীতি 'নবচর্যাপদ' নামে প্রকাশের উদ্যোগ নেন তিনি। কিন্তু তাঁর আকস্মিক মৃত্যু ঘটলে ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে সেগুলো প্রকাশিত হয়।

- এই গ্রন্থে সংকলিত চর্যাগীতিপুথির প্রথম ১৯টির রচনাকাল দশম থেকে দ্বাদশ শতক। পরবর্তী ৪৪টি চর্যাগীতি ত্রয়োদশ থেকে চতুর্দশ শতকের রচনা। বাকি ৩৫টি চর্যাগীতির রচনাকাল পঞ্চদশ শতক।

- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে নবচর্যাপদগুলির বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে। প্রথমত ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতক সম্পর্কে সাধারণ ধারণা, বাংলা সাহিত্যর তথাকথিত এই অন্ধকার কালপঠে এদেশে সাহিত্য রচিত হয় নি। কিন্তু নবচর্যাগীতিগুলি আবিষ্কারের পর এ প্রমাণ পাওয়া গেছে সেসময়ও সাহিত্য রচনা অব্যাহত ছিল।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক।
১০,৯৭৫.
'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন কে?
  1. লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. প্যারিচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- 'ইয়ংবেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা  ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯৭৬.
'খাচার ভিতর অচিন পাখি' - গানটির রচয়িতা কে?
  1. হাছন রাজা
  2. দ্বিজ কানাই
  3. পাগলা কানাই
  4. লালন শাহ্
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ্
ব্যাখ্যা

"খাচার ভিতর অচিন পাখি"- গানটির রচয়িতা লালন শাহ্‌।

• লালন শাহ্:
- তিনি বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- তাঁর জন্ম ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে।
- লালনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না, কিন্তু নিজ সাধনাবলে তিনি হিন্দু-মুসলমান উভয় ধর্মের শাস্ত্র সম্পর্কে গভীর জ্ঞান লাভ করেন।
- তাঁর রচিত গানে সেই জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়।
- কুষ্টিয়ার  কাঙাল হরিনাথ এবং মীর মশাররফ হোসেন লালন শাহ ও তাঁর গানের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন।
- হরিনাথ তাঁর অতি প্রিয় শিষ্য ছিলেন। 
-  রবীন্দ্রনাথ লালন শাহর ২৯৮টি গান সংগ্রহ করেন এবং সেগুলি থেকে ২০টি গান তিনি  প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশ করেন।

• লালন শাহ্ রচিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান:
- আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।
- আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।
- খাচার ভিতর অচিন পাখি।
- বাড়ির কাছে আরশিনগর।
- সব লােকে কয় লালন কি জাত সংসারে।
- সময় গেলে সাধন হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০,৯৭৭.
আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা উপন্যাস কোনটি?
  1. ব্যোমকেশ
  2. ফেলুদা
  3. কাকাবাবু
  4. জাল
সঠিক উত্তর:
জাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাল
ব্যাখ্যা

• 'জাল' উপন্যাস:
​- 'জাল' বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক আবু ইসহাকের একটি গোয়েন্দা উপন্যাস। 
- ​এই উপন্যাসটি ১৯৫০ সালে জাল নোটের কয়েকটি মামলার তদন্তের অভিজ্ঞতার আলোকে রচিত। 
- ​'জাল' একটি ভিন্ন স্বাদের উপন্যাস, গতানুগতিক ডিটেকটিভ উপন্যাস নয় । তা'ছাড়া এর ভেতর আছে অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে আবু ইসহাকের উদ্ভাবিত কিছু মৌলিক পদ্ধতি।
- উপন্যাসটি ১৯৮৮ সালে 'আনন্দপত্র' ঈদ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয় । কিছু পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনার পর এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় নসাস থেকে।

​অন্যদিকে, 
• 'শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত- ব্যোমকেশ। 
• সত্যজিৎ রায় রচিত- ফেলুদা। 
 • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত- কাকাবাবু। 
​​
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৯৭৮.
প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. বীরবলের হালখাতা
  2. চার-ইয়ারি কথা
  3. আহুতি
  4. নীললোহিত
সঠিক উত্তর:
বীরবলের হালখাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরবলের হালখাতা
ব্যাখ্যা

• বীরবলের হালখাতা প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

• প্রমথ চৌধুরী:

- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরী মূলত একজন প্রাবন্ধিক। 
- তাঁর পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন একজন জমিদার।
- তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিয়ে করেন।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ফরাসি সনেটরীতি ট্রিয়লেট,তের্জারিমা ইত্যাদি বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম প্রবর্তন করেন।
- সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- পরবর্তীতে  বীরবল’ ছদ্মনামে সবুজপত্র পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। এ ছদ্মনাম থেকে পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।
- আহুতি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি।
- বীরবলের হালখাতা।
- নানাকথা।
- নানা চর্চা।
- রায়তের কথা।
- প্রবন্ধ সংগ্রহ ( ১ম খণ্ড-১৯৫২, ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৯৭৯.
'অশনি সংকেত' উপন্যাসের উপজীব্য কী?
  1. কলিঙ্গ যুদ্ধ
  2. দুর্ভিক্ষ
  3. তেভাগা আন্দোলনের
  4. ১ম বিশ্বযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
দুর্ভিক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্ভিক্ষ
ব্যাখ্যা
'অশনি সংকেত' উপন্যাস: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান, 
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৮০.
'কালো হাওয়া’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) অমিয় চক্রবর্তী
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
ঘ) বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু
- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়',
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯৮১.
"কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি কালিনী নইকুলে।
কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি এ গোঠ গোকুলে।।
আকুল শরীর মোর বেআকুল মন।
বাঁশীর শবদেঁ মো আউলাইলোঁ রান্ধন॥" - পঙক্তিটির রচয়িতা কে রচয়িতা-
  1. ক) ভারতচন্দ্র
  2. খ) গোবিন্দদাস
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) বড়ু চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) বড়ু চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
- বড়ু চণ্ডীদাস আমাদের প্রথম মহাকবি।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।

- তাঁর কবিতা থেকে কিছু অংশ হলো:
কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি কালিনী নইকুলে।
কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি এ গোঠ গোকুলে।।
আকুল শরীর মোর বেআকুল মন।
বাঁশীর শবদেঁ মো আউলাইলোঁ রান্ধন॥
কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি সে না কোন জনা।
দাসী হআঁ তার পাত্র নিশিবোঁ আপনা ॥...
অঝর ঝরএ মোর নয়নের পাণী।
বাঁশীর শবদেঁ বড়ায়ি হারায়িলোঁ পরাণী ॥

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১০,৯৮২.
‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’ কাব্যটি কার লেখা?
  1. শামসুর রহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. আবুল ফজল
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ। 
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে ৩৯টি কবিতা রয়েছে।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা হচ্ছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কবিতা।  

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো: 
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা, 
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি', 
- 'মাগো, ওরা বলে',
- কোন এক মাকে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৮৩.
‘কী চাহ শঙ্খচিল’ নাটকটি রচনা করেন-
  1. মামুনুর রশীদ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. শামসুর রাহমান
  4. মমতাজউদদীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
মমতাজউদদীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মমতাজউদদীন আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকটির রচয়িতা-  মমতাজউদদীন আহমদ।

• মমতাজউদদীন আহমদ:  
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক: 
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯৮৪.
নিচের কোনটি বিষ্ণু দের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) সাত ভাই চম্পা
  2. খ) চিত্ররূপমত্ত পৃথিবী
  3. গ) সন্দ্বীপের চর
  4. ঘ) নিসর্গ সন্দর্শন
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিসর্গ সন্দর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিসর্গ সন্দর্শন
ব্যাখ্যা
সন্দ্বীপের চর, উর্বশী ও আর্টেমিস, চোরাবালি, সাত ভাই চম্পা, নাম রেখেছি কোমল গান্ধার, তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ, দিবানিশি চিত্ররূপমত্ত পৃথিবী, উত্তরে থাকে মৌন, আমার হৃদয়ের বাঁচো ইত্যাদি বিষ্ণু দের কাব্যগ্রন্থ।
নিসর্গ সন্দর্শন কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বিহারীলাল চক্রবর্তী।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১০,৯৮৫.
"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি" -গানের রচয়িতা কে?
  1. আবুল মনসুর আহমেদ
  2. আবুল ফজল
  3. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী। 

আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

গল্পগ্রন্থ:
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

 তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯৮৬.
ফররুখ আহমেদ রচিত ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯৪৪ সালে
  2. খ) ১৯৬৬ সালে
  3. গ) ১৯৫২ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৩ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৪৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৪৪ সালে
ব্যাখ্যা

ফররুখ আহমেদ রচিত ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়
এই বইয়ের ১৯টি কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
- পাঞ্জেরী,
- সিন্দবাদ,
- আকাশ-নাবিক,
- ডাহুক,
- এই সব রাত্রি
- লাশ
- আউলাদ
- দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও সাত সাগরের মাঝি]

১০,৯৮৭.
'মণি মঞ্জুষা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) রাজা রামমোহন রায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) মুহম্মদ এনামুল হক
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
'মণি মঞ্জুষা' সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত একটি অনুবাদ কাব্য। 
- প্রকাশিত হয় ১৯১১৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- লেখকের অপর একটি অনুবাদ কাব্য তীর্থরেণু।

অন্যদিকে, মুহম্মদ এনামুল হক রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ 'মনীষা মঞ্জুষা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯৮৮.
গদ্যরীতিতে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. শেষলেখা
  2. পুনশ্চ
  3. শ্যামলী
  4. মানসী
সঠিক উত্তর:
পুনশ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনশ্চ
ব্যাখ্যা
• পুনশ্চ: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গদ্যছন্দে রচিত প্রথম সার্থক কাব্যগ্রন্থ ’পুনশ্চ’।
- রবীন্দ্রনাথের কাব্যের ইতিহাসে তথা আধুনিক বাংলা কবিতার ইতিহাসে এই কাব্যের ভূমিকা বৈপ্লবিক।
- এ কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- ছেলেটা;
- শেষ চিঠি;
- ক্যামেলিয়া;
- সাধারণ মেয়ে;
- বাশিঁ;
- খ্যাতি।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে। ১৮৭৬ সালে পনের বছর বয়সে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বনফুল'। অতঃপর কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণসাহিত্য, রম্যরচনা, সংগীত ইত্যাদি শাখায় রবীন্দ্রনাথ রেখে গেছেন তাঁর অসামান্য শিল্প-প্রতিভার স্বাক্ষর।
- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।' এ বিদ্যালয়ই পরবর্তীকালে 'বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়'-এ রূপলাভ করে।
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- বাংলা কবিতাকে তিনিই প্রথম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রসারিত করেন। বাংলা ছোটগল্পকে তিনিই বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠিত করেন। গীতিকার ও চিত্রশিল্পী হিসেবেও রবীন্দ্রনাথের অবদান অনন্যসাধারণ।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:   
-  মানসী,
- সোনারতরী, চিত্রা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- শেষলেখা;
- প্রভাহসঙ্গীত;
- সেঁজুতি;

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- ঘরে বাইরে,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা।

• প্রবন্ধ:
- আধুনিক সাহিত্য,
- মানুষের ধর্ম, কালান্তর,
- সাহিত্যের স্বরূপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯৮৯.
কাজী মোতাহার হোসেন 'শিখা' পত্রিকার কত তম সংখ্যার সম্পাদনা করেন?
  1. ক) প্রথম সংখ্যা
  2. খ) দ্বিতীয় সংখ্যা
  3. গ) চতুর্থ সংখ্যা
  4. ঘ) পঞ্চম সংখ্যা
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিতীয় সংখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিতীয় সংখ্যা
ব্যাখ্যা
মুসলিম সাহিত্য-সমাজ  ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। 
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র শিখা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে।
- শিখার মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল।
- প্রথম সংখ্যা আবুল হুসেন,
- দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যা কাজী মোতাহার হোসেন,
- চতুর্থ সংখ্যা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ এবং
- পঞ্চম সংখ্যা আবুল ফজল সম্পাদনা করেন।

- শিখার প্রতিটি সংখ্যায় মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সাময়িক অধিবেশন ও বার্ষিক সম্মেলনের বিবরণ এবং সাহিত্য-সভায় পঠিত রচনা প্রকাশিত হত।
- শিখার মুখবাণী ছিল -‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৯০.
বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্যের রচয়িতা কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. ফররুখ আহমদ
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

অন্যদিকে,
• ফররুখ আহমদ ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
• মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
• 'পল্লীকবি' উপাধিতে ভূষিত, জসীম উদ্‌দীন আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে লালিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ আধুনিক কবি। জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৯১.
"কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যা বেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো।" উক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• "কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যা বেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো" উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "যোগাযোগ" উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।

• 'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- যোগাযোগ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসে অর্থনৈতিক শ্রেণিদ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপট ফুটে উঠেছে।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ঘরে বাইরে, 
- মালঞ্চ, 
- চতুরঙ্গ, 
- চার অধ্যায়
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- গোরা,
- রাজর্ষি, 
- শেষের কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৯২.
বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৪৮ সালে
  2. ১৮৩৮ সালে
  3. ১৮২৮ সালে
  4. ১৮১৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮১৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮১৮ সালে
ব্যাখ্যা

• 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র- 'সমাচার দর্পণ'।
- ১৮১৮ সালের ২৩ মে (শনিবার) মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান। এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৯৯৩.
'শর্মিষ্ঠা' নাটকের অন্তর্গত চরিত্র কোনটি?
  1. মাধব্য
  2. ধনদাস
  3. জগৎসিংহ
  4. মদনিকা
সঠিক উত্তর:
মাধব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাধব্য
ব্যাখ্যা
• 'শর্মিষ্ঠা' নাটকের অন্তর্গত চরিত্র 'মাধব্য'।
- মদনিকা, জগৎসিংহ এবং ধনদাস ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটকের অন্তর্গত চরিত্র।

• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:

- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম:
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৯৪.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. সভ্যতার সংকট
  2. সংস্কৃতির সংকট
  3. সংস্কৃতির ভাঙা সেতু
  4. সংস্কৃতি রূপান্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতির ভাঙা সেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতির ভাঙা সেতু
ব্যাখ্যা
 • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ: 'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু'।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

অন্যদিকে,
• সভ্যতার সংকট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
• সংস্কৃতির সংকট বদরুদ্দিন উমর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ।
• সংস্কৃতির রূপান্তর গোপাল হালদার রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৯৫.
মৈমনসিংহ গীতিকায় মোট কতটি গীতিকা ও রূপকথা অন্তর্ভুক্ত আছে?
  1. ৮টি
  2. ১০টি
  3. ১২টি
  4. ১৪টি
সঠিক উত্তর:
১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০টি
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও 
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৯৬.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট পদ সংখ্যা কয়টি?
  1. ৪১০ টি
  2. ৪১৭ টি
  3. ৪১৮ টি
  4. ৪৫০ টি
সঠিক উত্তর:
৪১৮ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪১৮ টি
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- এটি একটি বৈষ্ণব কাব্য।
- এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
-  রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ। 
- এটি ১৩ খন্ডের কাব্য। 
- মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮ টি পদে এটি বিন্যস্ত। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- রাধা,
- কৃষ্ণ এবং
- বড়ায়ি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া 
২)বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৯৯৭.
'আমায় ভাসাইলি রে আমায় ডুবাইলি রে
অকুল দরিয়ার বুঝি কূল নাইরে' গানটির রচয়িতা-
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) জসীমউদদীন
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) আপেল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
খ) জসীমউদদীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জসীমউদদীন
ব্যাখ্যা
- পল্লীকবি জসীম উদদীন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী অনেক গান রচনা করেছেন।
- বাংলার বিখ্যাত লোক সংগীতের গায়ক আব্বাস উদ্দিনের সহযোগিতায় কিছু অবিস্মরণীয় লোকগীতি নির্মাণ করেছেন।

• এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- আমায় ভাসাইলি রে আমায় ডুবাইলি রে
অকুল দরিয়ার বুঝি কূল নাইরে

- নিশিতে যাইও ফুলবনে, ও ভোমরা
- আমার সোনার ময়না পাখি
- আমার হার কালা করলাম রে
- আমায় এতো রাতে
- নদীর কূল নাই কিনার নাই
- প্রাণ সখিরে, ঐ শোন কদম্ব তলে বংশী বাজায় কে
- রঙিলা নায়ের মাঝি ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও প্রথম আলো পত্রিকা আর্কাইভ।
১০,৯৯৮.
কোন সাহিত্যিকের রচিত উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় - রচিত উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। 

• পথের পাঁচালী:

- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
- 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো- 
- অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, সর্বজয়া।
------------------------- 
• 'অপরাজিত' উপন্যাস: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত প্রথম উপন্যাস হলো পথের পাঁচালী (১৯২৯)।
- ‘অপরাজিত’ (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে মাসিক ‘প্রবাসী’তে প্রথম প্রকাশিত হয়। পুস্তকাকারে উপন্যাসটি দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
- উপন্যাসটির প্রথমে নামকরণ করা হয়েছিল 'আলোক সারথী'। 
--------------------- 
 বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ হলো:
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত, 
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল, 
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৯৯৯.
'ঠাকুরমার ঝুলি' এর সম্পাদক কে?
  1. ক) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  2. খ) দীনেশচন্দ্র সেন
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
সঠিক উত্তর:
ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
ব্যাখ্যা
'ঠাকুরমার ঝুলি' এর সম্পাদক দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার। 
- প্রকাশিত হয় ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে।
- বইগুলো বাংলাদেশে প্রচলিত বিভিন্ন রূপকথার সংকলন। 
- রূপকথার সঙ্গে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট আছে।
- কারন এখানে পশুপাখির মুখদিয়েও কাহিনী বর্ণিত আছে।

দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার সম্পাদিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কয়েটি গ্রন্থ:
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- ঠানদিদির থলে,
- দাদামশায়ের থলে,
- খোকা বাবুর খেলা, 
- আমাল বই, 
- কিশোরদের মন, 
- বাংলার সোনার ছেলে, 
- পৃথিবীর রূপকথা ও 
- সবুজ লেখা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,০০০.
“নদীর কূল নাই-কিনার নাইরে”- গানের রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• “নদীর কূল নাই-কিনার নাইরে” জসীম উদ্‌দীন রচিত ‘রঙিলা নায়ের মাঝি’ গানের সংকলনের অন্তর্ভুক্ত একটি গান।
- গানের সংকলনটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• গানটি সংক্ষেপে দেয়া হলো-
-------------------
নদীর কূল নাই-কিনার নাইরে
- জসীম উদ্‌দীন
নদীর কূল নাই-কিনার নাইরে;
আমি কোন কূল হইতে কোন কূলে যাব
কাহারে শুধাইরে?
ওপারে মেঘের ঘটা, কনক বিজলী ছটা,
মাঝে নদী বহে সাঁই সাঁইরে;
আমি এই দেখিলাম সোনার ছবি
আবার দেখি নাইরে;
আমি দেখিতে দেখিতে সে রূপ
আবার দেখি নাইরে।

---------------------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউ দ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- ‘সুচয়নী’ জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• তাঁর রচিত গানের সংকলন:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,

• তাঁর রচিত আত্মকথা:
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ:
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘নদীর কূল নাই-কিনার নাইরে’ গান এবং বাংলাপিডিয়া।