বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ১০৫ / ২১১ · ১০,৪০১১০,৫০০ / ২১,১৩২

১০,৪০১.
আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বিশ শতকের মেয়ে
  2. খ) বাঙালি মুসলমানের মন
  3. গ) বিশ শতকের বাঙালি
  4. ঘ) বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস
সঠিক উত্তর:
গ) বিশ শতকের বাঙালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিশ শতকের বাঙালি
ব্যাখ্যা

• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থঃ
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।
• বাঙালি মুসলমানের মন ও বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস আহমদ ছফা রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,৪০২.
"যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।" - উক্তিটি কে করেছেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রুপাত্নক প্রবন্ধ রচনাকারী, গদ্য সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ইতালীয় সনেটের প্রবর্তকও হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর ছদ্মনাম বীরবল।
- তিনি সবুজপত্র (১৯১৪) ও বিশ্বভারতী, রূপ ও রীতি এবং অলকা পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল- নুন -লাকড়ী।
- বীরবলের হালখাতা (চলিত রীতির প্রথম গদ্য রচনা)।
- নানাকথা।
- আমাদের শিক্ষা।
- রায়তের কথা।
- নানাচর্চা।

• তাঁর বিখ্যাত কিছু উক্তি:
- ‘ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়'।
- 'যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়'।
- 'বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে আর নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে'।
- 'কাব্য জগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা'।
- 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪০৩.
হুমায়ূন আহমেদের কোন গ্রন্থটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নয়?
  1. আগুনের পরশমণি
  2. জোছনা ও জননীর গল্প
  3. নীল অপরাজিতা
  4. শ্যামল ছায়া
সঠিক উত্তর:
নীল অপরাজিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল অপরাজিতা
ব্যাখ্যা
• হুমায়ূন আহমেদের কোন গ্রন্থটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নয় - নীল অপরাজিতা

হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে' (১৯৭২)।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'শঙ্খনীল কারাগার' (১৯৭৩)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনিল বাগচীর একদিন।

তাঁর রচিত প্রধান গ্রন্থ:
- নীল অপরাজিতা,
- প্রিয়তমেষু,
- জয়জয়ন্তী,
- দূরে কোথাও,
- এই সব দিনরাত্রি,
- মহাপুরুষ,
- নিশিকাব্য,
- সম্রাট,
- দুই দুয়ারী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,৪০৪.
নিচের কোন গ্রন্থটি নাটক?
  1. রাজর্ষি
  2. রক্তকরবী
  3. নৌকাডুবি
  4. যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। 
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান। 
 
• তাঁর রচিত কিছু উপন্যাস: 
- বউ ঠাকুরাণীর হাট, 
- রাজর্ষি
- চোখের বালি, 
- নৌকাডুবি
- ঘরে-বাইরে, 
- যোগাযোগ ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
• 'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত।
- তখন এর নামকরণ হয়েছিল যক্ষপুরী।
- ১৩৩০ সনের আশ্বিন মাসে যখন প্রবাসীতে প্রকাশিত হয় তখন এর নাম হয় রক্তকরবী।
- মানুষের অসীম লোভ কীভাবে জীবনের সব সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করে মানুষকে নিছক যন্ত্র ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত করেছে এবং এর ফলে তার বিরুদ্ধে মানুষের
প্রতিবাদ কীরূপ ধারণ করেছে এরই প্রতিফলন ঘটেছে এ নাটকটিতে।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো;
- নন্দিনী,
- রঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৪০৫.
নিচের কোন ছদ্মনামটি মোহিতলাল মজুমদার ব্যবহার করেন?
  1. ক) কৃত্তিবাস ওঝা
  2. খ) সব্যসাচী
  3. গ) শ্রী সত্যসুন্দর দাস
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- মোহিতলাল মজুমদার তাঁর সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলিতে ‘কৃত্তিবাস ওঝা’, ‘সব্যসাচী’, ‘শ্রী সত্যসুন্দর দাস’  ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন

মোহিতলাল মজুমদার:
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলির বলাগড়ে।
- ১৯২৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন এবং ১৯৪৪ সালে অবসরে যান।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- স্বপন পসারী 
- স্মরগরল 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য 
- বাংলা কবিতার ছন্দ 
- কবি শ্রীমধুসূদন 
- সাহিত্য বিচার 
- বাংলা ও বাঙালী 
- কবি রবীন্দ্র ও রবীন্দ্রকাব্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১০,৪০৬.
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. চণ্ডীদাস
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. জয়দেব
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা

‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের রচয়িতা হচ্ছে বড়ু চণ্ডীদাস। 

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:

- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' মধ্যযুগের প্রথম কাব্য লোকসমাজে প্রচলিত রাধাকৃষ্ণ প্রেম-সম্পর্কিত গ্রাম্য গল্প অবলম্বনে রচিত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে পুঁথি আকারে অযত্নে রক্ষিত এ কাব্য আবিষ্কার করেন।
- বাংলা সাহিত্যে এক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন ঘটনা বৈষ্ণব মহান্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র-বংশজাত দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের অধিকারে এই গ্রন্থটি রক্ষিত ছিল।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় গ্রন্থটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।

এই গ্রন্থের প্রধান চরিত্র:
- এই গ্রন্থের প্রধান চরিত্র তিনটি।
- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।

উৎস: ১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১০,৪০৭.
"দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই। রাতি ভইলে কামরু জাই।”- পদটির রচয়িতা কে? 
  1. ঢেণ্ডনপা 
  2. ধর্মপা 
  3. সরহপা 
  4. কুক্কুরীপা 
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা 
ব্যাখ্যা

"দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই। রাতি ভইলে কামরু জাই।”- পদটির রচয়িতা- কুক্কুরীপা । 
--------------------------------- 
• কুক্কুরীপা: 
- বাংলা ভাষার প্রথম মহিলা কবি হিসেবে কুক্কুরীপাকে ধরা হয়।
- ড. সুকুমার সেন মনে করেন কুক্কুরীপার ভাষার সঙ্গে নারীদের ভাষার মিল রয়েছে।
- তিনি মোট ৩টি পদ রচনা করেছেন।
- ২ ও ২০ নম্বর পদ পাওয়া গেছে। 
- কিন্তু ৪৮ নম্বর পদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
- কুক্কুরীপা রচিত ২ নং পদটি হচ্ছে- "দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই। রাতি ভইলে কামরু জাই।”
- এর অর্থ হচ্ছে- 'দিনে বউটি কাকের ভয়ে ভীত থাকলেও রাত হলে সে কামরূপে যায়'। 
------------------------------------- 
অন্যদিকে,
• ঢেণ্ডনপা নবম শতকের কবি ছিলেন।
- পেশায় তিনি তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাপদে তাঁর রচিত একটিমাত্র পদ পাওয়া যায়।
- ঢেণ্ডনপা চর্যাপদের ৩৩ নম্বর পদ রচনা করেছেন।

• ধর্মপা জন্মেছিলেন নবম শতকে, বিক্রমশীলার এক ব্রাহ্মণ বংশে।
- তাঁর গুরু ছিলেন কাহ্নপা।
- চর্যাপদের ৪৭ নম্বর পদটি ধর্মপা রচিত।
- তিনি ভিক্ষু ও সিদ্ধা ছিলেন।

• সরহপা অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন।
- তার পদাবলীর ভাষা বঙ্গ-কামরূপী।
- সরহপা চর্যাপদে মোট ৪টি পদ রচনা করেছেন।
- তার রচিত পদগুলো হলো ২২, ৩২, ৩৮ এবং ৩৯ নম্বর।
 
উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১০,৪০৮.
কোনটি হযরত মুহম্মদ (স) -এর জীবনী গ্রন্থ?
  1. ক) মরুমায়া
  2. খ) মরু ভাস্কর
  3. গ) মরুতীর্থ
  4. ঘ) মরু কুসুম
সঠিক উত্তর:
খ) মরু ভাস্কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মরু ভাস্কর
ব্যাখ্যা
- মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনী নিয়ে মরুভাস্কর রচনা করেন।
- এর প্রকাশকাল ১৯৪১ সাল। 
- মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী একজন মুসলিম স্বাতন্ত্রবাদী লেখক।

উল্লেখ্য,
- মহানবী স. এর জীবনীকাব্য 'মরু-ভাস্কর'এর রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১০,৪০৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম মহিলা কবি-
  1. নুরুন্নেসা খাতুন
  2. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. রহিমুন্নেসা
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
রহিমুন্নেসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রহিমুন্নেসা
ব্যাখ্যা
• কবি রহিমুন্নেসা:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম মহিলা কবি রহিমুন্নেসা।
- কবি রহিমুন্নেসা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একমাত্র মুসলিম মহিলা কবি। ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক এই মহিলা কবির (আবির্ভাবকাল) ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ নির্ধারণ করেন। 
- তিনি (১৮শ শতক) বা অন্ত্যমধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর রচিত  লায়লী-মজনু কাব্যে সে সময়কার বাংলা ভাষার বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয়।

অন্যদিকে, 
• নুরুন্নেসা খাতুন (১৮৯৪-১৯৭৫) - প্রথম মুসলিম মহিলা ঔপন্যাসিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪১০.
'সত্যপীরের পুঁথি' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. আবদুল হাকিম
  3. আলাওল
  4. ফকির গরীবুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ফকির গরীবুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফকির গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'সত্যপীরের পুঁথি' কাব্যের রচয়িতা - ফকির গরীবুল্লাহ।

• ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪১১.
চর্যাপদের ভাষা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সর্বপ্রথম আলোকপাত করেন কোন মনীষী?
  1. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  4. মুনিদত্ত
সঠিক উত্তর:
বিজয়চন্দ্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজয়চন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
• ১৯২০ সালে 'বিজয়চন্দ্র মজুমদার' প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

চর্যাপদের ভাষা আলোচনা নিয়ে কিছু গুরুত্বপুর্ণ তথ্য:  
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা সংক্রান্ত আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 
- ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে - চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 

- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
- ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
- বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৌদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪১২.
’রাখালী’ কাব্যগ্রন্থটি কতসালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৪
  2. ১৯২৯
  3. ১৯২৭
  4. ১৯২৬
সঠিক উত্তর:
১৯২৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৭
ব্যাখ্যা

রাখালী:
- জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- রাখালী।
- এই কাব্যে ১৯টি কবিতা আছে।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ গুলো হচ্ছে:
- নক্সীকাঁথার মাঠ, 
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না,
- সকিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৪১৩.
‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে মাসিক 'বঙ্গদর্শন' প্রকাশিত হয়। 
- এ পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা গদ্যের প্রভুত উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে বঙ্কিমচন্দ্র একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে তোলেন। 
- বঙ্কিমচন্দ্রের মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ 'বঙ্গদর্শন' সম্পাদনা করেন।
---------------------
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও  দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই  সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,৪১৪.
'ইব্রাহিম কার্দি' বিখ্যাত চরিত্রটি কোন গ্রন্থে পাওয়া যায়? 
  1. বিষাদ সিন্ধু 
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর 
  3. নীল দর্পণ 
  4. জমিদার দর্পণ
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর 
ব্যাখ্যা
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪১৫.
ফররুখ আহমদের "নৌফেল ও হাতেম" - কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. কাহিনিকাব্য
  2. গীতিককাব্য
  3. কাব্যনাট্য
  4. মহাকাব্য
সঠিক উত্তর:
কাব্যনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যনাট্য
ব্যাখ্যা

• ‘নৌফেল ও হাতেম’ কাব্যনাট্য:
- আরব্য উপন্যাসের বিখ্যাত কাহিনি থেকে কবি ফররুখ আহমদ ‘নৌফেল ও হাতেম’ নামে একটি — কাব্যনাট্য রচনা করেছেন। ১৯৬১ সালে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউটে ঢাকা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীবৃন্দ ‘নৌফেল ও হাতেম’ নাটকটি মঞ্চস্থ করেন এবং নাট্যমোদীদের দ্বারা তা উচ্চ প্রশংসিত হয়।

- ইতিপূর্বে ‘মাহে নও’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সালের জুন মাসে পাকিস্তান লেখক সংঘের পক্ষে ড. কাজী মোতাহার হোসেন তা প্রকাশ করেন।

- ইসলামি রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ ‘নৌফেল ও হাতেম’ নাটকটিতে ইয়েমেনের শাহজাদা হাতেমকে মানবতাবাদী চরিত্র ও প্রতীকরূপে গ্রহণ করেছেন। হাতেমকে আদর্শবাদী ‘ন্যায়পরায়ণ’, পরোপকারী, সেবাব্রতী, অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী ও মহৎ মানবতাবাদীরূপে চিত্রিত করেছেন। অন্যদিকে নৌফেল ঈর্ষাপরায়ণ, অত্যাচারী, অহংকারী বাদশাহর প্রতীকে চিত্রিত করেছেন। বিজয় দেখিয়েছেন মানবতার। মুক্তি দেখিয়েছেন ইনসাফের।

-----------------
ফররুখ আহমদ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
-নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: ‘নৌফেল ও হাতেম’ কাব্যনাট্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৪১৬.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যগ্রন্থে জীবাত্মা বা প্রাণিকূলের প্রতীক কে?
  1. ক) কৃষ্ণ
  2. খ) বড়ায়ি
  3. গ) রাধা
  4. ঘ) যশোদা
সঠিক উত্তর:
গ) রাধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাধা
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
এই গ্রন্থে প্রধান চরিত্র আছে তিনটি। যথা: কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
চরিত্রগুলোর প্রতীক:
- কৃষ্ণ > পরমাত্মা বা ঈশ্বর;
- রাধা > জীবাত্মা বা প্রাণিকূল;
- বড়ায়ি > এ দুয়ের সংযােগ সৃষ্টিকারী অনুঘটক।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,৪১৭.
কাজী নজরুল ইসলাম কোন কবিতা রচনার জন্য কারাভোগ করেন?
  1. বিদ্রোহী
  2. খেয়া পারের তরণী
  3. ধূমকেতু
  4. আনন্দময়ীর আগমনে
সঠিক উত্তর:
আনন্দময়ীর আগমনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনন্দময়ীর আগমনে
ব্যাখ্যা
• 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা রচনার জন্য কাজী নজরুল ইসলাম ১ বছর কারাভোগ করেন।

• 'আনন্দময়ীর আগমনে:
- ধূমকেতু পত্রিকার ১৯২২ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত হয় ‘আনন্দময়ীর আগমনে'।
- "আনন্দময়ীর আগমনে" কবিতাটি কবির " দোলনচাঁপা" কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’, ত্যাড়া ক্ষ্যাপা, নজর আলি, নুরু, ব্যাঙাচি।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- বাংলা সাহিত্যে মুক্তক ছন্দের প্রবর্তক।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ই ভাদ্র (১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট) মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ: 
- কাজী নজরুল ইসলামের মোট কাব্যগ্রন্থ ২২টি।
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মণসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয়শিখা,
- সিন্দু-হিন্দোল ইত্যাদি।
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 

অন্যদিকে,
- বিদ্রোহী, খেয়া পারের তরণী, ধূমকেতু কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের কবিতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪১৮.
"এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার নীচে সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি" এর রচয়িতা-
  1. জহির রায়হান
  2. গাফ্ফার চৌধুরী
  3. শামসুর রাহমান
  4. মাহবুব আলম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মাহবুব আলম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহবুব আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ - এই কবিতাটি রচনার প্রেক্ষাপট 'ভাষা আন্দোলন'।
------------------ 
• কবিতাটি রচনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা:   
- ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী।
- এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম কবিতা।
- মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী প্রগতিশীল মাসিক সীমান্ত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং চট্টগ্রামের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী গুলি চালিয়ে হত্যা করে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে মিছিলরত তরুণদের। সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।
মাহবুব উল আলম চৌধুরী তখন অসুস্থ; তাঁর শরীরে জলবসন্তের চিহ্ন। রাত জেগে তিনি লিখলেন আগুনঝরা কবিতা: ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতেই চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে রাজনৈতিক কর্মী হারুনুর রশীদ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান।
--------------- 
মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী:
- মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী কবি, সাংবাদিক, লেখক, ভাষা সৈনিক এবং ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার রচয়িতা।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে (২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২) আন্দোলনকারী ভাষা সৈনিকদের ওপর পুলিশের গুলি এবং ছাত্র নিহত হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ স্বরূপ কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী  ’একুশে’ শিরোনামে রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা ’কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’ যা ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতা হিসেবে স্বীকৃত।
- মাহবুব উল আলম চৌধুরীর জন্ম ৭ নভেম্বর ১৯২৭, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের আসাদ চৌধুরীর বাড়িতে। 

---------------
কবিতার কিছু অংশ:

এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে
রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার তলায়
যেখানে আগুনের ফুলকির মতো
এখানে-ওখানে জ্বলছে অসংখ্য রক্তের ছাপ
সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি।
আজ আমি শোকে বিহ্বল নই
আজ আমি ক্রোধে উন্মত্ত নই
আজ আমি প্রতিজ্ঞায় অবিচল।
যে শিশু আর কোনোদিন তার
পিতার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ার
সুযোগ পাবে না
----------------  
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১০,৪১৯.
'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি'- বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. সুকুমার রায় 
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ফররুখ আহমদ 
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) 'কিশোর সভা' বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি'- সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৪২০.
কাজী নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন - 
  1. ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৯
  2. ২০ মার্চ, ১৮৮৯
  3. ২৪ মে, ১৮৯৯
  4. ১৫ ডিসেম্বর, ১৮৯৯
সঠিক উত্তর:
২৪ মে, ১৮৯৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ মে, ১৮৯৯
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১০,৪২১.
'বছির এবং আজহার' চরিত্র জসীম উদ্‌দীনের কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. বেদের মেয়ে
  2. বোবা কাহিনী
  3. পল্লীবধূ
  4. পদ্মাপাড়
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
ব্যাখ্যা
'বোবা কাহিনী' উপন্যাস:
- এটি পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম এবং একমাত্র উপন্যাস।
- ১৯৬৪ সালে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবন ভিত্তিক।
- এই উপন্যাসের বিষবস্তু হচ্ছে, মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া।
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়, 
- বেদের মেয়ে, 
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা, 
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪২২.
‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কোন ধরণের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. কবিতা
  3. উপন্যাস
  4. পত্রিকা
সঠিক উত্তর:
কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতা
ব্যাখ্যা
• ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতা: 
- প্রখ্যাত কবি হেলাল হাফিজ তাঁর অনন্য সৃষ্টি ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতা মাধ্যমে যুগান্তকারী ভাবনা ও প্রতিবাদী চেতনার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।
- হেলাল হাফিজের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'যে জলে আগুন জ্বলে' প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮৬ সালে।
- তারো ১৭ বছর আগে তার কবিতা 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে।

নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়- কবিতা,
- হেলাল হাফিজ (যে জলে আগুন জ্বলে)

এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
মিছিলের সব হাত
কন্ঠ
পা এক নয়।

সেখানে সংসারী থাকে, সংসার বিরাগী থাকে,
কেউ আসে রাজপথে সাজাতে সংসার।

----------------------- 
• হেলাল হাফিজ:
- ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি দৈনিক পূর্বদেশে সার্বক্ষণিক সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেলাল হাফিজ। 

• তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ-
- যে জলে আগুন জ্বলে (১৯৮৬)।
- কবিতা ৭১ (বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায়, একুশে বইমেলা ২০১২)।
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা (২০১৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪২৩.
বঙ্কিমচন্দ্রের কোন উপন্যাসে 'নবকুমার' চরিত্রটি রয়েছে?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. মৃণালিনী
  3. বিষবৃক্ষ
  4. কপালকুণ্ডলা
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
• কপালকুণ্ডলা বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।

• এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়। কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।

• বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ:
- দুর্গেশনন্দিনী - চরিত্র- আয়েশা, তিলোত্তমা।
- কপালকুণ্ডলা - চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার।
- মৃণালিনী - চরিত্র- হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- বিষবৃক্ষ - চরিত্র- কুন্দনন্দিনী,নগেন্দ্রনাথ।
- কৃষ্ণকান্তের উইল'- রোহিনী, ভ্রমর এবং গোবিন্দলাল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪২৪.
চর্যাপদের ১নং পদের রচয়িতা কে?
  1. কাহ্নপা
  2. শবরপা
  3. ভুসুকুপা
  4. লুইপা
সঠিক উত্তর:
লুইপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা

লুইপা:
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- 'লুইপা' রচিত চর্যার পদ সংখ্যা দুইটি। লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।
- মুহাম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত - ছিলেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।
- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। অনেক পণ্ডিত লুইপাকে ও প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে।
- সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল।
- হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন।

লুইপা রচিত চর্যাপদের প্রথম পদ-
'কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।'

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলাপিডিয়া।

১০,৪২৫.
রত্নসেন ও নাগমতী কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. মধুমালতী
  2. পদ্মাবতী
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. লায়লী-মজনু
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা

হিন্দি কবি মালিক জায়সীর রচিত পদুমাবৎ কাব্যের অনুবাদরূপে বাঙালি কবি আলাওল রচিত পদ্মাবতী। এর চরিত্র - রত্নসেন, গন্ধর্ব সেন, চম্পাবতী, নাগমতী, হিরামন পাখি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

১০,৪২৬.
’কড়ি ও কোমল’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• কড়ি ও কোমল:
- 'কড়ি ও কোমল' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত -কাব্যগ্রন্থ।

- কড়ি ও কোমল ১৮৮৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- তারুণ্যের উচ্ছলতা, নারী দেহের প্রতি আকর্ষণ ও মৃত্যুর রহস্যময়তার প্রতি আকর্ষণ এই তিনটি লক্ষণে কাব্যাটি বিশিষ্ট।
- রবীন্দ্রনাথের বৌদি কাদম্বরীর আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু রবীন্দ্রমনে যে বিরাগ সৃষ্টি করেছিল তার প্রভাব এই কাব্যগ্রন্থে লক্ষ্য করা যায়।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: চুম্বন, বাহু, চরণ, কেন, মোহ।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পুনশ্চ,
- জন্মদিনে,
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৪২৭.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. ক) লাঙল
  2. খ) স্বদেশ
  3. গ) পূর্বাশা
  4. ঘ) সংবাদ প্রভাকর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংবাদ প্রভাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত একজন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ।
- তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর’ এর সম্পাদক।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- বাংলা সাহিত্যে যুগ সন্ধিকাল ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ।
- বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
• ঈশ্বরচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ভারতচন্দ্র রায়, রামপ্রসাদ সেন, নিধুগুপ্ত, হরু ঠাকুর ও কয়েকজন কবিয়ালের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,৪২৮.
কোনটি মৈমনসিংহ গীতিকা?
  1. রূপবতী
  2. মদিনা
  3. কঙ্কবতী
  4. দেওয়ান
সঠিক উত্তর:
রূপবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপবতী
ব্যাখ্যা
• ‘রূপবতী’ মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত একটি পালা।
- পালাটির কবির নাম অজ্ঞত।

অন্যদিকে,
• মদিনা, কঙ্কবতী ও দেওয়ান ময়মনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত পালা নয়।

উল্লেখ্য,
• ‘দেওয়ান মদিনা নামে মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত একটি পালা রয়েছে।

---------------------------
মৈমনসিংহ গীতিকা:

• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও 
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া
১০,৪২৯.
নিচের কোনটি মহাকাব্য?
  1. ক) চিত্তবিকাশ
  2. খ) বৃত্রসংহার
  3. গ) আশাকানন
  4. ঘ) দশমহাবিদ্যা
সঠিক উত্তর:
খ) বৃত্রসংহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বৃত্রসংহার
ব্যাখ্যা
- 'বৃত্রসংহার' হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য।
-  মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত হয়েছে এ কাব্যটি এবং এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এতে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
- 'বৃত্রসংহার' মহাকাব্যের প্রথম খণ্ড ১৮৭৫ ও দ্বিতীয় খণ্ড ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত হয়।

• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
-  হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী (হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়)।
- আশাকানন।
- ছায়াময়ী।
- দশমহাবিদ্যা।
- চিত্তবিকাশ।
- বীরবাহু কাব্য (এটি আখ্যানকাব্য যা ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৩০.
পদ্মা মেঘনা যমুনা’ - উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা

আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত উপন্যাসঃ ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০)-- তিনটি ত্রয়ী উপন্যাস।
এছাড়াও তিনি - দেয়াল, পরিত্যাক্ত স্বামী ইত্যাদি উপন্যাস রচনা করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,৪৩১.
'বিষাদ সিন্ধু' কত পর্বে লেখা উপন্যাস?
  1. ২ পর্ব
  2. ৩ পর্ব
  3. ৫ পর্ব
  4. ৯ পর্ব
সঠিক উত্তর:
৩ পর্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ পর্ব
ব্যাখ্যা

• ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্টিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত।
- তন্মধ্যে 'মহরম পর্ব্বে' উপক্রমণিকা ও ছাব্বিশটি প্রবাহ, 'উদ্ধার পর্ব্বে' ত্রিশটি প্রবাহ, 'এজিদ-বধ পর্ব্বে' পাঁচটি প্রবাহ ও উপসংহার-অংশ রয়েছে।
- প্রথমত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কাহিনি সাধারণ মুসলিম পাঠকের কাছে এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
- দ্বিতীয়ত 'বিষাদ-সিন্ধু'র জাদুকরী রচনাগুণের জন্যে সাহিত্যরসিকজনের কাছেও গ্রন্থটি আদরণীয়।
- জয়নাবের রূপে বিমোহিত এজিদ এবং এই রূপতৃষ্ণার পরিণামে বহু মানুষের বিপর্যয় ও ধ্বংসের যে কথকতা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রন্থটিকে সর্বজনীন করে তুলেছে।
- 'বিষাদ-সিন্ধু'র কাহিনিতে অ্যান্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট চেতনা মূলত মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকেই মীর মশাররফ হোসেন গ্রহণ করেছেন।


• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৪৩২.
"মুক্ত করো ভয়, আপনা মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়।" - কে লিখেছেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. হেলাল হাফিজ
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• "মুক্ত করো ভয়, আপনা মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
 - এটি একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত এর অংশবিশেষ। এই কালজয়ী গানটির রচয়িতা হলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

সঙ্কোচের বিহ্বলতা- এর অংশবিশেষ, 

সঙ্কোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান।
সঙ্কটের কল্পনাতে হোয়ো না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত করো ভয়, আপনা-মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়।
দুর্বলেরে রক্ষা করো, দুর্জনেরে হানো,
নিজেরে দীন নিঃসহায় যেন কভু না জানো।
মুক্ত করো ভয়, নিজের 'পরে করিতে ভর না রেখো সংশয়।
ধর্ম যবে শঙ্খরবে করিবে আহ্বান
নীরব হয়ে নম্র হয়ে পণ করিয়ো প্রাণ।
মুক্ত করো ভয়, দুরূহ কাজে নিজেরি দিয়ো কঠিন পরিচয়॥

উৎস: রবীন্দ্রসঙ্গীত সংকলন।
১০,৪৩৩.
চর্যাপদের কোন কোন পদগুলো সম্পূর্ণ পাওয়া যায়নি?
  1. ২৩, ২৪, ৪৮
  2. ২৩, ২৫, ৪৮
  3. ২৩, ২৪, ২৫
  4. ২৪, ২৫, ৪৮
সঠিক উত্তর:
২৪, ২৫, ৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪, ২৫, ৪৮
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ 'চর্যাপদ'।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে চর্যাপদ নেপাল থেকে আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশ করেন।
- চর্যাপদের ২৪, ২৫, ৪৮ নং পদগুলো সম্পূর্ণ পাওয়া যায়নি।
- তবে ২৩ নং পদটির অর্ধেক পাওয়া গেছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,৪৩৪.
বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. তিথিডোর
  2. পরিক্রমা
  3. কঙ্কাবতী
  4. সানন্দা
সঠিক উত্তর:
কঙ্কাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঙ্কাবতী
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কঙ্কাবতী’ কবিতাগ্রন্থ:
- ‘কঙ্কাবতী’ বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ/কবিতাগ্রন্থ।
- এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম।
- সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। 

• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- অভিনয়,
- অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৩৫.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত 'হিতকারী' পত্রিকাটি কোথায় থেকে প্রকাশিত হতো?
  1. রংপুর
  2. কুষ্টিয়া
  3. বরিশাল
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
কুষ্টিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
• "হিতকারী" পত্রিকা:
- 'হিতকারী' পত্রিকাটি ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। পরে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দিন খান।

- পত্রিকার প্রথম বর্ষে 'হিতকরী' একটি পাক্ষিক পত্রিকা হিসেবে কুমারখালীর মথুরানাথ যন্ত্রলায়ে মুদ্রিত হয়ে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে প্রকাশিত হতো। তখন পত্রিকার প্রকাশক ও মুদ্রাকার ছিলেন যথাক্রমে দেবনাথ বিশ্বাস ও রজনীকান্ত ঘোষ। তখন প্রতি সংখ্যার মূল্য ছিল দুই পাই।

- হিতকরী পাক্ষিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে কিন্তু পাঠকদের চাহিদার কারণে দ্বিতীয় বর্ষে দাশাহিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় বর্ষে পত্রিকার শুধু এই রদবদল হয়েছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৩৬.
'বিশ্বভারতী' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. ক) ভানুসিংহ
  2. খ) টেকচাঁদ ঠাকুর
  3. গ) যাযাবর
  4. ঘ) বীরবল
সঠিক উত্তর:
ঘ) বীরবল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বীরবল
ব্যাখ্যা
বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬)'র ছদ্মনাম বীরবল। 
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে।
- স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন।
- তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।
- তাঁর সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা হলো
- বিশ্বভারতী (১৩৪৯-৫০),
- রূপ ও রীতি (১৩৪৭-৪৯) এবং
- অলকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৩৭.
'সোনালী কাবিন' এর রচয়িতা কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

--------------------
• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৩৮.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস?
  1. বাঁধন-হারা
  2. কুহেলিকা 
  3. মৃত্যু-ক্ষুধা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা 
ব্যাখ্যা

কুহেলিকা :
- কুহেলিকা উপন্যাসটি একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত মাসিক নওরোজ পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাসের প্রথম অংশ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে এটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

'বাঁধন-হারা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস 'বাঁধন-হারা'।
- 'বাঁধন-হারা' বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের চরিত্রের মধ্যে রয়েছে- নুরু, রবিউল, রাবেয়া, সোফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

'মৃত্যু-ক্ষুধা'উপন্যাস:
- 'মৃত্যুক্ষুধা' কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী উপন্যাস। ১৯২৭-১৯৩০ এসময়ের মধ্যে উপন্যাসটি রচিত এবং সওগাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মুদ্রিত হয় ।
- 'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাসটি একটি সামাজিক উপন্যাস, যা প্রধানত দারিদ্র্য, ক্ষুধা, ধর্মান্তরণ, সাম্যবাদী চেতনা এবং নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনসংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১০,৪৩৯.
'মেঘমল্লার' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'মেঘমল্লার' গ্রন্থটি রচনা করেন - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
- এটি তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'তৃণাঙ্কুর' (১৯৪৩)।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৪০.
প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা’ প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী
  2. সাধনা
  3. বঙ্গদূত
  4. সবুজপত্র
সঠিক উত্তর:
ভারতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতী
ব্যাখ্যা
⇒ প্রমথ চৌধুরী:
• বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
• বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্যের সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। 
- ‘তেল নুন লকড়ি’ প্রমথ চৌধুরীর একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। 

• প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল নুন লকড়ি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৪১.
'অসমাপিকা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. খ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. গ) আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
'অসমাপিকা' উপন্যাসের রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস।
তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস গুলো হলো -
- যার যেথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৪২.
"সকলেই কবি নন কেউ কেউ কবি"- উক্তিটি কার?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধ গ্রন্থ 'কবিতার কথা'।
- এই গ্রন্থের প্রথম বাক্যই হলো, 'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।'

জীবনানন্দ দাশ:
-জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।
- তাঁর রচিত 'বনলতা সেন' কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

•তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- কল্যাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৪৩.
কোনটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. রাজসিংহ
  2. আনন্দমঠ
  3. সীতারাম
  4. দেবী চৌধুরানী
সঠিক উত্তর:
রাজসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজসিংহ
ব্যাখ্যা

• 'রাজসিংহ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয়।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস হচ্ছে - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৪৪৪.
ব্রিটিশ সরকার নওয়াব ফয়জুন্নেসা -কে 'নওয়াব' উপাধি প্রদান করেন৷ কারণ-
  1. ক) তিনি সম্পদশালী ছিলেন
  2. খ) তিনি ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী ছিলেন
  3. গ) তিনি দানশীল ছিলেন
  4. ঘ) তিনি মেধাবী ছিলেন
সঠিক উত্তর:
গ) তিনি দানশীল ছিলেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তিনি দানশীল ছিলেন
ব্যাখ্যা

নওয়াব ফয়জুন্নেসা (জন্ম ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু ১৯০৩):
ত্রিপুরার পশ্চিমগাঁয়ে (বর্তমান লাকসাম) এক সামন্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি দানশীল ছিলেন। ব্রিটিশ সরকার এজন্য তাকে নওয়াব উপাধি প্রদান করে।
বাংলাদেশে তিনি একমাত্র মহিলা যিনি এই উপাধি পান।
তার একমাত্র সাহিত্যকীর্তি হলো ''রূপজালাল'' নামক গ্রন্থ। এটি গদ্য ও কবিতায় রচিত আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১০,৪৪৫.
‘কাদম্বিনী’ - কোন গল্পের প্রধান চরিত্র?
  1. নষ্টনীড়
  2. দেনাপাওনা
  3. জীবিত ও মৃত
  4. সমাপ্তি
সঠিক উত্তর:
জীবিত ও মৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবিত ও মৃত
ব্যাখ্যা

'জীবিত ও মৃত' ছোটগল্প:
- 'জীবিত ও মৃত' ১৮৯২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত একটি বাংলা ছোটগল্প।
- এটি রবীন্দ্রনাথের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প। গল্পটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছে অন্তর্ভুক্ত আছে।
- গল্পটি সাহিত্যের দুটি অনন্য রূপকে একত্রিত করেছে: অতিপ্রাকৃত গল্প এবং ব্যঙ্গাত্মক উপমা । তবে এটি কোনো নিখুঁত অতিপ্রাকৃত গল্প নয়।
- গল্পটির প্রধান চরিত্র কাদম্বিনী। কাদম্বিনীর অস্তিত্ব অতিপ্রাকৃত। এতে জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে আটকে থাকার ধারণা চিত্রিত হয়েছে। সংক্ষেপে, এটি মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করে।
- 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই'- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবিত ও মৃত' গল্প থেকে নেয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৪৪৬.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' রচনা করেন কে?
  1. সহদেব চক্রবর্তী
  2. সুকুর মামুদ
  3. রামাই পণ্ডিত
  4. জায়সী
সঠিক উত্তর:
সুকুর মামুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুর মামুদ
ব্যাখ্যা

• নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্য প্রধান দুই ভাগে বিভক্ত।
যথা:

 ১. মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২. রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।
- গোরক্ষবিজয়ের পুথি অষ্টাদশ শতকে, বাংলায় সহদেব চক্রবর্তী ও রামাই পণ্ডিতের  'ধর্ম পুরাণে' বা 'অনিল পুরাণে' পাওয়া যায়।
- গোপীচন্দ্র কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় জায়সীর  'পদুমাবৎ' এ।
- এ বিষয়ে প্রথম বাংলা গ্রন্থ নেপালে রচিত সপ্তদশ শতাব্দীর নাটক 'গোপীচন্দ্র নাটক'।

- 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' রচনা করেন - সুকুর মামুদ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাপিডিয়ায় 'শুকুর মাহমুদ' দেওয়া আছে। মূলত তারা একই ব্যক্তি।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,।

১০,৪৪৭.
"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।" - পঙ্‌ক্তিগুলো কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. কড়ি ও কমল
  2. পুনশ্চ
  3. শেষের কবিতা
  4. শেষলেখা
সঠিক উত্তর:
কড়ি ও কমল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কড়ি ও কমল
ব্যাখ্যা
"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।" - পঙ্‌ক্তিগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'প্রাণ' কবিতার 'কড়ি ও কমল' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
 
প্রাণ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।
এই সূর্য্য করে এই পুষ্পিত কাননে
জীবন্ত হৃদয় মাঝে যদি স্থান পাই!"


তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৪৪৮.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর পূর্বে চর্যাপদ-সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহে প্রথম প্রবৃত্ত হন কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. রাজা রাজেন্দ্র লাল মিত্র
  3. রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রাহুল সংকৃত্যায়ন
সঠিক উত্তর:
রাজা রাজেন্দ্র লাল মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রাজেন্দ্র লাল মিত্র
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ আবিষ্কারের তথ্য: 
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীও বৌদ্ধধর্মে'র ইতিবৃত্ত সন্ধানেই নেপাল যাত্রা করে এ-পর্যন্ত প্রাপ্ত বাংলা সাহিত্যে আদি নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। শাস্ত্রী মশায়ের পূর্বে, এ-সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহে প্রথম প্রবৃত্ত হন — রাজা রাজেন্দ্র লাল মিত্র।
- সম্ভবত তিনিই প্রথম নেপাল যাত্রা করে সংস্কৃতে রচিত অনেকগুলি বৌদ্ধ ধর্ম' ও সাহিত্যের পুথি প্রাপ্ত হন এবং ১৮৮২ খ্রীষ্টাব্দে Sanskrit Buddhist Literature In Nepal নাম দিয়ে সে সবের একটি তালিকাও প্রকাশ করেন। 

• রাজেন্দ্রলাল মিত্রের পর তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে নেপালে পুথি সংগ্রহের চেষ্টায় যান হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
- তিনি ধর্ম ঠাকুরকে প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধ বলে মনে করেছিলেন - 'নানা কারণে আমার সংস্কার হইয়াছিল যে, ধর্মমঙ্গলের ধর্মঠাকুর বৌদ্ধ ধর্মের শেষ'।
- শাস্ত্রী মশায়ের এ সিদ্ধান্ত পরবর্তীকালে অসার প্রমাণিত হয়েছে।
- তিনবার তিনি নেপালে যান, ১৮৯৭-৯৮ খ্রীষ্টাব্দে দুবার এবং শেষবার ১৯০৭ খ্রীষ্টাব্দে।
- এই শেষবার তিনি ১৯০৭ সালে সাহিত্যের মূল্যবান সম্পদ আবিষ্কার করেন। তিনি  বলেন- নেপালে গিয়া আমি কয়েকখানি পুথি দেখিতে পাইলাম। একখানির নাম চর্য্যাচয্যবিনিশ্চয়, উহাতে কতকগুলি কীর্ত্তনের গান আছে ও তাহার সংস্কৃত টীকা আছে। গানগুলি বৈষ্ণবদের কীর্ত্তনের মত, গানের নাম চর্যাপদ।

উৎস: চর্যাগীতিকা- মুহম্মদ আবদুল হাই।

১০,৪৪৯.
‘জাগিয়া উঠেছে প্রাণ,
ওরে উথলি উঠেছে বারি,
ওরে প্রাণের বাসনা প্রাণের আবেগ রুধিয়া রাখিতে নারি।' - উদ্ধৃতাংশটি কোন কবির রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ‘জাগিয়া উঠেছে প্রাণ,
ওরে উথলি উঠেছে বারি,
ওরে প্রাণের বাসনা প্রাণের আবেগ রুধিয়া রাখিতে নারি।' - উদ্ধৃতাংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা।
- এটি 'প্রভাতসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতার অংশ।

নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ, 
----- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের পর,
কেমনে পশিল গুহার আঁধারে প্রভাতপাখির গান!
না জানি কেন রে এত দিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ।
জাগিয়া উঠেছে প্রাণ,
ওরে উথলি উঠেছে বারি,
ওরে প্রাণের বাসনা প্রাণের আবেগ রুধিয়া রাখিতে নারি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা,
- চৈতালী, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপুট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষ লেখা।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৫০.
রামপ্রসাদ সেনকে 'কবিরঞ্জন' উপাধি দিয়েছিলেন কে?
  1. জমিদার কৃষ্ণকান্ত
  2. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  3. রাজা রঘুনাথ রায়
  4. রাজা শিবসিংহ
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা
রামপ্রসাদ সেন:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- তিনি আনুমানিক ১৭২০ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি, পারসি ভাষা জানতেন।
- রামপ্রসাদের গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- রামপ্রসাদের গান শুনে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা  অভিভূত হয়েছিলেন।
- রামপ্রসাদের উপাধি ছিল 'কবিরঞ্জন'রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এই উপাধি দিয়েছিলেন।
- রামপ্রসাদের শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।
- 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই' - রামপ্রসাদ সেনের উক্তি।
- রামপ্রসাদের আর একটি বিখ্যাত গান:

'মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলত সোনা।'

- তিনি ১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৫১.
‘কবিরাজ’ মধ্যযুগের কোন কবির উপাধি ছিল?
  1. গোবিন্দদাস
  2. জ্ঞানদাস
  3. মালধর বসু
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
• গোবিন্দদাস: 
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস। তিনি দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামেও খ্যাত।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।     

গোবিন্দদাস রচিত পদের অংশ বিশেষ:
ঢল ঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি,
আবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ-হিলোলে
মদন মুরছা পায়।।

অন্যদিকে,
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল ‘কবিকঙ্কন’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৫২.
'পথে প্রবাসে' অন্নদাশংকর রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) ভ্রমণকাহিনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভ্রমণকাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভ্রমণকাহিনী
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও। অন্নদাশঙ্কর 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন। পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণ কাহিনী। এছাড়াও তাঁর রচিত উপন্যাস- অসমাপিকা (প্রথম উপন্যাস), আগুন নিয়ে খেলা, পুতুল নিয়ে খেলা, সত্যাসত্য ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০,৪৫৩.
ইউনেসকোর বিশ্ব স্মৃতি (মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড) তালিকায় স্থান পেয়েছে-
  1. সুলতানা’স ড্রিম
  2. পুতুলনাচের ইতিকথা
  3. পদ্মা নদীর মাঝি
  4. চিলেকোঠার সেপাই
সঠিক উত্তর:
সুলতানা’স ড্রিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতানা’স ড্রিম
ব্যাখ্যা

Sultana’s Dream:
- Sultana’s Dream গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর ‘বিশ্বস্মৃতি’ বা ‘ওয়ার্ল্ড মেমোরি’র তালিকায় স্থান পেয়েছে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের লেখা নারীর মুক্তিপ্রত্যাশী উপন্যাস ‘সুলতানা’স ড্রিম’।
- এর মধ্য দিয়ে বাংলা অঞ্চলে নারীস্বাধীনতার অন্যতম পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ঐতিহ্যগত উত্তরাধিকারের স্বীকৃতি পায় বাংলাদেশ।
- মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলান বাটোরে ইউনেসকোর ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড কমিটি ফর এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক’ বা মৌক্যাপের দশম সাধারণ সভায় ঘোষণাটি দেওয়া হয়।

⇒ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মৌক্যাপের কাছে ‘সুলতানা’স ড্রিম’-এর নামের আবেদন জানিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
- ৮ - ১০ মে, ২০২৪ মঙ্গোলিয়ার উলান বাটোরে অনুষ্ঠিত হয় মৌক্যাপের সাধারণ সভা।
- সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ স্বীকৃতি গ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। 

অন্যদিকে,
- অপশনের বাকি তিনটি স্থান পায়নি।

উৎস:
i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।

১০,৪৫৪.
'কবিকণ্ঠহার' উপাধিটি কার?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. ভারতচন্দ্র
  3. বিদ্যাপতি
  4. রূপরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• ‘কবিকন্ঠহার’ উপাধি ছিলো মধ্যযুগের কবি বিদ্যাপতির ।

অন্যদিকে,
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল 'কবিকঙ্কন' ।
- ভারতচন্দ্রের উপাধি ছিল ‘রায়গুণাকর’।
----------------
• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন  পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- তাকে 'অভিনব জয়দেব' নামেও ডকা হয়।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে একটি পঙক্তি না লিখেও স্মরণীয় হয়ে আছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০,৪৫৫.
কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. পরিচয় 
  2. পূর্বাশা
  3. পূর্বমেঘ 
  4. প্রগতি
সঠিক উত্তর:
পূর্বাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বাশা
ব্যাখ্যা

• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি।
- পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা। আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

অন্যদিকে, 
• পূর্বমেঘ ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাংলা ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা, যা রাজশাহী থেকে প্রকাশিত হতো এবং জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী ও মুস্তাফা নূরউল ইসলাম সম্পাদনা করতেন। 

• সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক হিসেবে পরিচয় পত্রিকা কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে। বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতার আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।

- ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিক পত্রিকা 'প্রগতি'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৪৫৬.
'মীর কাসিম' নাটকের রচয়িতা কে ছিলেন?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) জসীমউদ্‌দীন
  3. গ) গিরিশ্চন্দ্র ঘোষ
  4. ঘ) কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
গ) গিরিশ্চন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গিরিশ্চন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
গিরিশ্চন্দ্র ঘোষ অভিনেতা ও প্রতিভাশালী নাট্যকার ১৮৪৪ সালে জন্মগ্রহন করেন। মৃত্যুবরণ করেন ১৯১২ সালে।
তাঁর রচিত গীতিনাট্যগুলো হলো।
- মণিমালা,
- স্বপ্নের ফুল,
- আবু হোসেন প্রভৃতি।

ঐতিহাসিক নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীর কাসিম,
- ছত্রপতি শিবাজী প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
১০,৪৫৭.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড নয় কোনটি? 
  1. তাম্বুল খণ্ড
  2. মৃত্যু খণ্ড
  3. বৃন্দাবন খণ্ড
  4. যমুনা খণ্ড
সঠিক উত্তর:
মৃত্যু খণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যু খণ্ড
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড নয়-  মৃত্যু খণ্ড। 

• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:

- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস। এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনি ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি- ১. কৃষ্ণ (পরমাত্মা), ২. রাধা (জীবাত্মা), ৩. বড়াই (এ দুয়ের সংযোগকারী অনুঘটক / দূতী)।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো-
১. জন্ম খণ্ড,
২. তাম্বুল খণ্ড,
৩. দান খণ্ড,
৪. নৌকা খণ্ড,
৫. ভার খণ্ড,
৬. ছত্র খণ্ড,
৭. বৃন্দাবন খণ্ড,
৮. কালিয়দমন খণ্ড,
৯. যমুনা খণ্ড,
১০. হার খণ্ড,
১১. বাণ খণ্ড,
১২. বংশী খণ্ড ও
১৩. বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১০,৪৫৮.
'মুকুলমুঞ্জরা' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) কুসুমকুমারী দাশ
  2. খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) জসীম উদদীন
সঠিক উত্তর:
খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষের উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো- প্রফুল্ল, মায়াবসান, বলিদান, রাবণবধ, সীতার বনবাস, লক্ষ্ণণ বর্জন, সীতাহরণ, পান্ডবের অজ্ঞাতবাস, জনা, চৈতন্যলীলা, বিল্বমঙ্গল ঠাকুর, শঙ্করাচার্য, মুকুলমুঞ্জরা, সিরাজদ্দৌলা, মীর কাসিম, ছত্রপতি শিবাজী।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৫৯.
চর্যাপদের ভাষাকে পশ্চিমবঙ্গের উপভাষা বলে মনে করেছিলেন কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

উত্তর: খ) সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়।

চর্যাপদের ভাষা কোন অঞ্চলের উপভাষা?
• সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, চর্যাপদের ভাষা পশ্চিমবঙ্গের উপভাষা।
• কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদ করে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে, চর্যাপদের ভাষা বাংলাদেশের কোনো অঞ্চলের নয়, বরং এটি “প্রাচীন বঙ্গ-কামরূপী ভাষা”। একে 'বৈজ্ঞানিকভাবে প্রাচীন বঙ্গ-কাম-রূপী ভাষা বলাই সঙ্গত” বলে তিনি মনে করেছেন।

একটি কথা মনে রাখতে হবে যে, কেবল শব্দ বিচার করে এই ভাষাকে কোনো একটি বিশেষ অঞ্চলের উপভাষা স্থির করতে গেলে ভ্রান্তির সম্ভাবনা খুবই বেশী। বড়, চন্ডীদাসের রচনায় এমন কিছু, কিছু, বৈশিষ্ট লক্ষ্য করা যায় যা এখন পশ্চিম বঙ্গে নেই, কিন্তু পূর্ববঙ্গে রয়েছে।

উৎস: চর্যাগীতিকা; মুহম্মদ আব্দুল হাই ও আনোয়ার পাশা।

১০,৪৬০.
মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কে?
  1. শ্রীকর নন্দী
  2. কৃত্তিবাস ওঝা
  3. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  4. কাশীরাম দাস
সঠিক উত্তর:
কাশীরাম দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাশীরাম দাস
ব্যাখ্যা

মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য।
- এই কাব্যের মূল রচয়িতা- কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- এই গ্রন্থ প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন- কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি পরাগলী খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম- পরাগলী মহাভারত।
- কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন-বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক- কাশীরাম দাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৪৬১.
নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম কী?
  1. মইনুদ্দিন আহমেদ
  2. আবদুল্লাহ আল দীন
  3. সেলিম মইনুদ্দিন
  4. মোহাম্মদ সেলিম মইনুদ্দিন
সঠিক উত্তর:
মইনুদ্দিন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মইনুদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• সেলিম আল দীন:
- বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার হলেন সেলিম আল দীন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।
- তিনি ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ, নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৬২.
'আমার পরিচয়' কবিতাটি সৈয়দ শামসুল হকের কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. পরানের গহীন ভিতর
  2. শ্রেষ্ঠ কবিতা
  3. শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা
  4. আনন্দের মৃত্যু
সঠিক উত্তর:
শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা
ব্যাখ্যা
শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা:
- ছোটদের জন্যে সৈয়দ শামসুল হকের নির্বাচিত ছড়াকবিতা নিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থ 'শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা'।
- 'আমার পরিচয়' কবিতাটি এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

আমার পরিচয়

আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি,
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে হাজার বছর চলি।
চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে ।
তেরোশত নদী শুধায় আমাকে কোথা থেকে তুমি এলে?

আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে।
আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে।
আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে।
আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে।

এসেছি বাঙালি পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার থেকে।
এসেছি বাঙালি জোড়বাংলার মন্দির-বেদি থাক।
এসেছি বাঙালি বরেন্দ্রভূমে সোনা মসজিদ থেকে।
এসেছি বাঙালি আউল বাউল মাটির দেউল থেকে।

আমি তো এসেছি সার্বভৌম বারো ভূঁইয়ার থেকে।
আমি তো এসেছি কমলার দিঘি মহুয়ার পালা থেকে।
আমি তো এসেছি তিতুমীর আর হাজী শরীয়ত থেকে।
আমি তো এসেছি গীতাঞ্জলি ও অগ্নিবীণার থেকে।

এসেছি বাঙালি ক্ষুদিরাম আর সূর্য সেনের থেকে।
এসেছি বাঙালি জয়নুল আর অবন ঠাকুর থেকে।
এসেছি বাঙালি রাষ্ট্রভাষার লাল রাজপথ থেকে।
এসেছি বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর থেকে।

আমি যে এসেছি জয়বাংলার বজ্রকণ্ঠ থেকে।
আমি যে এসেছি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে।
এসেছি আমার পেছনে হাজার চরণচিহ্ন ফেলে।
শুধাও আমাকে, এতদূর তুমি কোন প্রেরণায় এলে?

তবে তুমি বুঝি বাঙালি জাতির বীজমন্ত্রটি শোনো নাই-
'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

 • তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৬৩.
নিচের কোনটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নয়-
  1. ক) গণনায়ক
  2. খ) এখানে এখন
  3. গ) বাংলার মাটি বাংলার জল
  4. ঘ) দেয়ালের দেশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেয়ালের দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেয়ালের দেশ
ব্যাখ্যা
দেয়ালের দেশ সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস। তাঁর রচিত কাব্যনাট্য গুলো হলো- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, গণনায়ক, নুরুলদীনের সারাজীবন, এখানে এখন, বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০,৪৬৪.
কাজী মোতাহার হোসেন কোন পত্রিকার মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন?
  1. শিখা
  2. সাধনা
  3. কল্লোল
  4. প্রগতি
সঠিক উত্তর:
শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিখা
ব্যাখ্যা
• কাজী মোতাহার হোসেন: 
- ‘শিখা' পত্রিকার মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন।
- তিনি ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।
- জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন ১৯৭৫ সালে।
- 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। - কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন, 
- নজরুল কাব্য পরিচিতি, 
- সে পথ লক্ষ্য করে, 
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস, 
- আলোক বিজ্ঞান। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৬৫.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ উপন্যাসের কালো মেয়েটির নাম কী?
  1. জরিনা
  2. সেলিনা
  3. আমেনা
  4. নাজমা
সঠিক উত্তর:
নাজমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাজমা
ব্যাখ্যা
একটি কালো মেয়ের কথা:
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখিত উপন্যাস ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ রচনা করেছিলেন শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
উপন্যাসের পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি কালো মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে 'স্পাই' হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।
• এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে। 

জবানবন্দিতে ডেভিড বলেছে:
'এরই মধ্যে এই দেশটাকে এমন করে ভালবেসে ফেললাম যে এই আমার সব থেকে ভালো দেশ, এর থেকে ভালো দেশ আর নেই। আর এই দেশই আমার দেশ।'

-------------------------------- 
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়: 
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১) একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
• তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়। এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 
• প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

তারাশঙ্কর প্রায় দুইশত গ্রন্থ রচনা করেন সেগুলির মধ্যে:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ উপন্যাসগ্রন্থ।
১০,৪৬৬.
কোন কবির উপাধি 'কবিরাজ'?
  1. জ্ঞানদাস
  2. গোবিন্দদাস
  3. শেখ ফজলুল করিম
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
➝ কবি গোবিন্দদাসের উপাধি ছিলো ⎯ কবিরাজ।
➝ তার আরো একটি উপাধি হলো ⎯ কবীন্দ্র।

• গোবিন্দদাস: 
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।

- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।

- গোবিন্দদাস রচিত একটি পদ:
'ঢল ঢল কাঁচা 
অঙ্গের লাবণি
অবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ- হিল্লোলে
মদন মুরুছা পায়।।'
⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯
অন্য অপশন:
ক) জ্ঞানদাস: জ্ঞানদাস মধ্যযুগের একজন বিখ্যাত বৈষ্ণব পদকর্তা। তিনি "পদকর্তা ত্রয়ী"র অন্যতম সদস্য। জ্ঞানদাস রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা বিষয়ক অসংখ্য পদ রচনা করেছেন। 

গ) শেখ ফজলল করিম: শেখ ফজলুল করিম আধুনিক যুগের একজন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি মূলত গদ্যকার হিসেবে বেশি পরিচিত। 'শেখ ফজলুল করিম' এর উপাধি - সাহিত্য বিশারদ।

ঘ) আল মাহমুদ: আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯) বাংলাদেশের একজন আধুনিক কবি ও ঔপন্যাসিক। তিনি "লোক লোকান্তর", "সোনালী কাবিন", "কালের কলস" প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থের জন্য বিখ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৬৭.
'পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি' - উক্তিটি কার লেখায় পাওয়া যায়?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন' কবিতার একটি লাইন।
           হে মহাজীবন
 হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝংকার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো।
প্রয়ােজন নেই কবিতার স্নিগ্ধতা—
কবিতা তােমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়ঃ
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল‍্সানাে রুটি।।

- অভুক্ত, দরিদ্র, ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে কাব্য কিংবা কবিতা অনর্থক। তাদের কাছে সবকিছুই গদ্য অর্থাৎ বাস্তবতা হলো ক্ষুধা মিটানোর অন্ন ছাড়া আর কিছুই নয়। এটাই এই পঙক্তির মূলভাব।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৫ই আগস্ট ১৯২৬ - ১৩ই মে ১৯৪৭) বাংলা সাহিত্যের মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ)।
১০,৪৬৮.
'জননী' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) আবুল মনসুর
সঠিক উত্তর:
খ) শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
জননী (১৯৫৮) শওকত ওসমান রচিত প্রথম উপন্যাস এবং প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
-,সন্তানের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য একজন মা (গোপনে) যে কোনো পথ অবলম্বন করতে পারে শওকত ওসমানের জননী উপন্যাসে সে কথাই ব্যক্ত।

- শওকত ওসমান (১৯১৭-৯৮) বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের সমকালমনস্ক এক জীবনবাদী কথাশিল্পী। সমাজ ও সময়ের কাছে দায়বদ্ধ থেকে তিনি আমৃত্যু লিখে গেছেন। তাঁর রচনায় আমাদের জাতীয় আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ ভিন্ন এক শিল্পমাত্রা লাভ করেছে।
- মুক্তিযুদ্ধকে পটভূমি করে তিনি লিখেছেন চারটি উপন্যাস –
১. জাহান্নাম হইতে বিদায়,
২. দুই সৈনিক,
৩. নেকড়ে অরণ্য ও
৪. জলাংগী।

• জাহান্নাম হইতে বিদায় উপন্যাসটি ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরে কলকাতা বসে লেখা। দেশ পত্রিকার শারদীয় সংখ্যায় প্রকাশের জন্য সম্পাদক সাগরময় ঘোষ তাড়া দিয়ে এটি লেখান। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এটাই সম্ভবত প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা প্রথম উপন্যাস। এ-উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের একেবারে প্রথমদিকের চালচিত্র উঠে এসেছে।

সুত্র: কালি ও কলম পত্রিকা।
১০,৪৬৯.
কোন কবির মৃত্যুর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের অবসান ঘটে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. ভারত চন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মানিক দত্ত
  4. আব্দুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
ভারত চন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত চন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যুর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটে।
- ভারতচন্দ্র রায়গুনাকরের মৃত্যু (১৭৬০ খ্রি.) থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বলা হয় যুগসন্ধিক্ষণ।
- মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি বলা হয় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে।
- ঘনরাম ও মুকুন্দরাম হল মধ্যযুগের কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৭০.
'বুলবুলিস্তান' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) দাউদ হায়দার
  3. গ) কায়কোবাদ
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• 'বুলবুলিস্তান' কবি গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে। 

• গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭-১৯৬৪)  কবি ও লেখক।
-  তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।
- তার কাব্যের প্রধান বিষয়বস্তু ইসলাম ও প্রেম। 

• গোলাম মোস্তফা রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ (১৯২৪),
- খোশরোজ (১৯২৯),
- কাব্য-কাহিনী (১৯৩২),
- সাহারা (১৯৩৬),
- হাস্নাহেনা (১৯৩৮),
- তারানা-ই-পাকিস্তান (১৯৫৬),
- বনি আদম (১৯৫৮),
- গীতিসঞ্চালন (১৯৬৮) ইত্যাদি তাঁর মৌলিক কাব্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৭১.
ত্রিশের দশকের সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত -
  1. শওকত ওসমান
  2. সমর সেন
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু:
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশ দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগ্ননাথ হলের ছাত্র অবস্থায় তিনি 'বাসন্তিকা' পত্রিকা প্রকাশের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। 
- 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।
- ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে।
- এছাড়া 'স্বাগত বিদায়' কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (১৯৭৪) লাভ করেন।
- ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যু হয়।

 তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের গান,
- একদিন চিরদিন,
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি,
- কালের পুতুল,
- সাহিত্যচর্চা,
- রবীন্দ্রনাথ: কথাসাহিত্য ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- মৌলিনাথ,
- রাত ভরে বৃষ্টি,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনের খাতা ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৭২.
"রূপলাগি আঁখি ঝুরে গুণে মনভোর,
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।"- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. চণ্ডীদাস
  3. জ্ঞানদাস
  4. ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
• জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কাঁদড়া গ্রামে এক মঙ্গল-ব্রাহ্মণ বংশে আনুমানিক ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর জন্ম।
- জ্ঞানদাস পদ রচনার ক্ষেত্রে মধ্যযুগের গতানুগতিক ধারা পরিহার করে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক অর্থাৎ রাধাকৃষ্ণের রূপাশ্রয়ে ভক্ত-ভগবানের আধ্যাত্মিক লীলা বর্ণনা করেন।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়।

জ্ঞানদাস রচিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু উক্তি:
- সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু
অনলে পুড়িয়ে গেল।

- রূপলাগি আঁখি ঝুরে গুণে মনভোর,
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।

 - রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল,
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০,৪৭৩.
বৈষ্ণবগীতিকাব্যের গ্রন্থ 'মাথুর ও মুরলীশিক্ষা' রচনা করেন কে?
  1. জ্ঞানদাস
  2. লোচনদাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত "মাথুর" এবং "মুরলীশিক্ষা" বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি অমূল্য গ্রন্থ, যা বাংলা সাহিত্যে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৭৪.
‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটক কোন উপন্যাস অবলম্বনে রচিত?
  1. শেষের কবিতা
  2. বউ ঠাকুরাণীর হাট
  3. চতুরঙ্গ
  4. ঘরে বাইরে
সঠিক উত্তর:
বউ ঠাকুরাণীর হাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বউ ঠাকুরাণীর হাট
ব্যাখ্যা
'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথের 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত' এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
- ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ ‘পরিত্রাণ’ নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ধনঞ্জয় বৈরাগী,
- সুরমা,
- উদয়াদিত্য,
- বিভা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৭৫.
"আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলি।
নিঅ ঘরিণী চণ্ডালী লেলী।" - কে লিখেছেন?
  1. লুইপা
  2. কাহ্নপা
  3. ভুসুকুপা
  4. ঢেণ্ডণপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• ভুসুকুপা:
- চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচিয়তা ভুসুকুপা। 
- তিনি আটটি পদ রচনা করেন।
- তিনি ৬, ২১, ২৩, ২৭, ৩০, ৪১, ৪৩, ৪৯ নং পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা তাঁর ছদ্মনাম, প্রকৃত নাম শান্তিদেব। তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন। সেজন্য ভুক্তির ভু, সুপ্তির সু এবং কুটিরের কু এই তিন আদ্যক্ষর যোগে তাঁকে ভুসুকু বলে পরিহাস করা হত।

'আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলি।
নিঅ ঘরিণী চণ্ডালী লেলী।'
-- ভুসুকুর এই উক্তিকে প্রমাণ স্বরূপ মনে করে তাঁকে বাঙালি অনুমান করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
১০,৪৭৬.
'ফণি-মনসা' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আহসান হাবীব
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ‘ফণি-মনসা’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।

• কাজী নজরুল ইসলাম:

- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৭৭.
‘লও তুমি যত পার, শাস্ত্রের সন্ধান’ কার লেখা?
  1. আব্দুল হাকিম
  2. শাহ গরীবুল্লাহ
  3. আলাওল
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

''লও তুমি যত পার, শাস্ত্রের সন্ধান'' উক্তিটি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের |

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয় |
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (৬ মার্চ ১৮১২ - ২৩ জানুয়ারি ১৮৫৯) ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ।

- তিনি সংবাদ প্রভাকর এর সম্পাদক |
কিন্তু ব্যাপকার্থে তিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন কবি ও সাহিত্যিক।

- তাঁর হাত ধরেই বাংলা কবিতা জগত মধ্যযুগীয় সীমানা অতিক্রম করে আধুনিকতার পথে পা বাড়িয়েছিল।

- তিনি ''গুপ্ত কবি'' নামেও পরিচিত ছিলেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)

১০,৪৭৮.
চর্যার সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা হয় কাকে?
  1. লুইপা
  2. কাহ্নপা
  3. সরহপা
  4. ঢেগুণপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• কাহ্নপা:
- চর্যাপদের কবিগণের মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন কাহ্নপা।
- কাহ্নপা সর্বমোট ১৩টি পদ রচনা করেন।
- এই সংখ্যাধিক্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে কবি এবং সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা যায়।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলো হল : ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ২৪, ৩৬, ৪০, ৪২ ও ৪৫।
- তাঁর রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলোতে- নিপুণ কবিত্ব শক্তি এবং তৎকালীন সমাজচিত্র ফুটে উঠেছে।
- চর্যাপদে কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নামে লিখতেন। 

অন্যদিকে,
• চর্যাপদের প্রথম পদটি লুইপা রচনা করেছেন। সেই হিসেবে লুইপাকে চর্যাপদের আদি কবি মনে করা হয়। তাঁর রচিত ১নং ও ২৯নং পদটি।
• তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন সরহপা। তাঁর রচিত পদগুলো হলো- ৪টি; ২২, ৩২, ৩৮, ৩৯।
• চর্যাপদের কবি ঢেগুণপা একজন তাঁতি ছিলেন। তিনি নবম শতকের কবি। চর্যাপদের ৩৩নং পদটি তিনি রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৭৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতিকবি কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী 
  3. নবীনচন্দ্র সেন 
  4. গোলাম মোস্তফা 
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী 
ব্যাখ্যা

• অন্তরের একান্ত আবেগ উচ্ছ্বাস যখন কাব্য ময় হয়ে বানীরুপ লাভ  করে তখন তাকে বলা হয় গীতি কবিতা।
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে পরিচিত।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের একজন কবি এবং গীতিকার ছিলেন। তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে ও পরিচিত।
- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায় এবং তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিহারীলাল গীতি কবিতা শুনিয়েছে বলে তাকে বাংলা গীতি কবিতার ভোরের পাখি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ তাকে এ উপাধি দিয়েছেন। 
- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলা হয় কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন যে তাঁর গীতিকবিতা বাংলা কবিতার নবজাগরণের সূচনা করেছিল, ঠিক যেমন ভোরের প্রথম পাখির ডাক নতুন দিনের আগমনী বার্তা বহন করে। তাঁর কাব্যধারা ছিল বিশুদ্ধ গীতিকাব্য।
- বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ সারদামঙ্গল।

∗ বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
- সঙ্গীতশতক;
- বন্ধুবিয়োগ;
 - প্রেমপ্রবাহিণী;
- নিসর্গসন্দর্শন;
- বঙ্গসুন্দরী;
- সারদামঙ্গল;
- নিসর্গসঙ্গীত;
- সাধের আসন,
- ধূমকেতু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১০,৪৮০.
‘দেশে বিদেশে’ ভ্রমণকাহিনি গ্রন্থে মূলত কোন শহরের বর্ণনা রয়েছে?
  1. কাবুল 
  2. তেহরান
  3. কায়রো
  4. বাগদাদ
সঠিক উত্তর:
কাবুল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাবুল 
ব্যাখ্যা

• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা-  সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০,৪৮১.
'আগুন পাখি' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. রফিক আজাদ
  4. হাসান আজিজুল হক 
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক 
ব্যাখ্যা
• 'আগুন পাখি' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'হাসান আজিজুল হক'। 

• হাসান আজিজুল হক:
-  হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।
- “আগুন পাখি” কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।
- তাঁর একমাত্র কিশোর উপন্যাস- লাল ঘোড়া আমি।

• 'আগুন পাখি' উপন্যাস: 
- ‘আগুনপাখি’ হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ওই এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার যথাযথ রূপায়ণ।
 - মেঝ বউ চরিত্রটি উপন্যাসের মূল এবং সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংবদ্ধতার প্রতীকে পরিণত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নামহীন গোত্রহীন, 
- সমুদ্রের স্বপ্ন, 
- আত্নজা ও একটি করবী গাছ, 
- শীতের অরণ্য, 
- জীবন ঘষে আগুন, 
- রোদে যাবো, 
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- বৃত্তায়ন।
- শিউলি।
- আগুন পাখি।
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

উৎস: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৮২.
গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র -
  1. সুদীপ্ত শাহিন 
  2. ওসমান
  3. আজাদ 
  4. অধ্যাপক রায়হান 
সঠিক উত্তর:
ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওসমান
ব্যাখ্যা

• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১০,৪৮৩.
চর্যার কোন কবির পদে নারীদের নৌকা চালনা, নৌকার জলসিঞ্চন, লোক পারাপারের মতো কর্মে যুক্ত থাকার উল্লেখ পাওয়া যায়?
  1. ভাদেপা
  2. কুক্কুরীপা
  3. কাহ্নপা
  4. ডোম্বীপা
সঠিক উত্তর:
ডোম্বীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডোম্বীপা
ব্যাখ্যা
• ডোম্বীপা:
- চর্যাপদের পদকর্তাদের মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন-ডোম্বীপা।
- তিনি চর্যাপদের ১৪নং পদটির রচয়িতা।
- ডোম্বীপার গুরু ছিলেন বিরূপা।
- ডোম্বীপাদের ১৪নং পদে নারীদের নৌকা চালনা, নৌকার জলসিঞ্চন, লোক পারাপার ইত্যাদির মতো কর্মে যুক্ত থাকার উল্লেখ পাওয়া যায়। তাছাড়া নারীরা গুরুর স্থানও অধিকার করেছিল।
- গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র এবং গঙ্গা ও যমুনা নদীতে কড়ি ছাড়াই নদী পার হওয়া যেত বলে ডোম্বীপা রচিত পদ থেকে জানা যায়।

অন্যদিকে,
• কুক্কুরীপা একটি পদে (২নং) লিখেছেন, গৃহবধূটি বেশ ছল জানে। সে দিনের বেলায় কাকের ডাক শুনেই ভয় পায়, কিন্তু রাতে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে যায়।

• কাহ্নপা একটি পদে (১০নং) জানিয়েছেন, এক ডোমিনী নগরে তাঁত ও চেঙারি বিক্রি করে। কাহ্নপার অন্য একটি পদে (১৮নং) ডোমনীর 'ছিনালী' করার কথা আছে।

• ভাদেপা চর্যার ৩৫নং পদ রচনা করেন। এই পদের মূলকথা হচ্ছে- ধর্মীয় তত্ত্বকথার বর্ণনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৮৪.
'স্বাধীনতা এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. শামসুর রহমান
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
'স্বাধীনতা এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতাটি নির্মলেন্দু গুণের "চাষাভূষার কাব্য' এর অন্তর্গত। 
- বাংলাদেশের কবি সাহিত্যিক নির্মলেন্দু গুণের জন্ম ২১ জুন ১৯৪৫ সালে।
- তাকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়ে থাকে।

- ১৯৭০ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রেমাংশুর রক্ত চাই প্রকাশিত হবার পর জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
এ-গ্রন্থের অন্তর্ভূত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা হুলিয়া কবিতাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা-
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই (১৯৭০)
- না প্রেমিক না বিপ্লবী (১৯৭২)
- কবিতা, অমিমাংসিত রমণী (১৯৭৩)
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী (১৯৭৪)
- চৈত্রের ভালোবাসা (১৯৭৫)
- ও বন্ধু আমার (১৯৭৫)
- আনন্দ কুসুম (১৯৭৬)
- বাংলার মাটি বাংলার জল (১৯৭৮)
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র (১৯৭৯)
- চাষাভুষার কাব্য (১৯৮১)
- অচল পদাবলী (১৯৮২)
- পৃথিবীজোড়া গান (১৯৮২)
- দূর হ দুঃশাসন (১৯৮৩)
- নির্বাচিতা (১৯৮৩)
- শান্তির ডিক্রি (১৯৮৪)
- ইসক্রা (১৯৮৪)
- প্রথম দিনের সূর্য প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য বই ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৮৫.
'বীরবলের হালখাতা' প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯০০ সালে
  2. খ) ১৯০২ সালে
  3. গ) ১৯১২ সালে
  4. ঘ) ১৯১৪ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯০২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯০২ সালে
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী ৭ই আগষ্ট ১৮৬৮ সালে যশোর জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয় প্রমথ চৌধুরীকে।
- তিনি ছদ্মনাম ‘বীরবল’ ব্যবহার করে অনেক রচনা প্রকাশ করেন।

- চরিত রীতিতে তার প্রথম গদ্যরচনা হলো ‘বীরবলের হালখাতা’ ।
- ‘বীরবলের হালখাতা’ ভারতীয় পত্রিকা ‘ভারতী’তে ১৯০২ সালে প্রকাশিত হয়।

- ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) প্রমথ চেীধুরী সম্পাদিত বিশিষ্ট সাহিত্য পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৮৬.
কবি গানের প্রথম কবি কে?
  1. ক) গোঁজলা পুট [গুই]
  2. খ) হরু ঠাকুর
  3. গ) ভবানী ঘোষ
  4. ঘ) নিতাই বৈরাগী
সঠিক উত্তর:
ক) গোঁজলা পুট [গুই]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গোঁজলা পুট [গুই]
ব্যাখ্যা
গোঁজলা গুঁইকে বলা হয় কবিগানের আদি কবিয়াল।
- তাঁর আবির্ভাবকাল আঠারো শতকের প্রথমার্ধ।
- উনিশ শতকের কলকাতায় যে কয়জন কবিয়াল বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে হরু ঠাকুর (১৭৪৯-১৮২৪), নিতাই বৈরাগী (১৭৫১-১৮২১), রাম বসু (১৭৮৬-১৮২৮), ভোলা ময়রা, এন্টনি ফিরিঙ্গি প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৮৭.
কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. দেবযান
  2. দৃষ্টি প্রদীপ
  3. যাত্রাবদল
  4. চাঁদের পাহাড়
সঠিক উত্তর:
যাত্রাবদল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাত্রাবদল
ব্যাখ্যা
• যাত্রাবদল:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ- যাত্রাবদল।
- 'যাত্রাবদল' নামে এই গ্রন্থে একটি গল্পোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

'যাত্রাবদল' গল্পগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৪ সালে। এর গল্পসমূহ হলো-
- ভণ্ডুলমামার বাড়ি,
- পেয়ালা,
- উইলের খেয়াল,
- কনে দেখা,
- সার্থকতা,
- একটি দিন,
- বাইশ বছর,
- বৈদ্যনাথ,
- ডানপিটে,
- যাত্রাবদল।

---------------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

• তাঁর রচিত গল্পেগ্রন্থগুলো হলো:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- জন্ম ও মৃত্যু,
- কিন্নর দল,
- বিধু মাস্টার,
- রূপহলুদ,
- কুশল পাহাড়ী
- নবাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৮৮.
’একটি কালো মেয়ের কথা’-উপন্যাসের উপজীব্য কী?
  1. দেশভাগ
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• একটি কালো মেয়ের কথা:
- প্রকাশকালের বিবেচনায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মতো একটি অপরিহার্য বিষয় নিয়ে লেখা প্রথম উপন্যাস হলো তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘একটি কালো মেয়ের কথা'।
- প্রকাশকাল: ১৯৭১ সালের  ১৩৭৮ বঙ্গাব্দ, উল্টোরথের পুজো সংখ্যা, নবকল্লোল।
- ডেভিড আর্মস্ট্রং ওরফে মনসুর আলীর জবানীতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের নৃশংসতা বর্ণনা অনুষঙ্গে উপন্যাসটির মূল প্রেক্ষাপটের সূচনা ঘটেছে।
- জীবনের সায়াহ্নে লেখকের দায়বোধ থেকে রোগশয্যাতে জর্জরিত অশান্ত ও উদ্বিগ্ন তারাশঙ্কর নাজমা নামক এক কালো মেয়েকে হাজারো নির্যাতিতা নারীর প্রতীকরূপে উপস্থাপন করে মুক্তিযুদ্ধের শুরুর পর্বের পাক হানাদারদের নৃশংসতা বিচিত্র করেছেন।
- এই উপন্যাসের নাম-চরিত্র/প্রধান চরিত্র নাজমা নামের একটি কালো মেয়ে।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
• তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৪৮৯.
'নবান্ন' নাটকের রচয়িতা -
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. মামুনুর রশীদ
  3. সেলিম আল দীন
  4. বিজন ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
'নবান্ন' নাটক: 
- এটি বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন।
- এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন।

বিজন ভট্টাচার্য:
-তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।  
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। 
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
 
তাঁর রচিত নাটক: 
- নবান্ন, 
- জনপদ, 
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৯০.
বার্ট্রান্ড রাসেলের ‘Conquest of Happiness’ গ্রন্থের ভাবানুবাদ করেন কে?
  1. ক) ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) মীর মোশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
খ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা

মোতাহের হোসেন চৌধুরী(১৯০৩-১৯৫৬) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, লেখক। নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
তিনি তাঁর রচনায় সংস্কৃতি, ধর্ম, মানবতাবোধ ও মানুষের জীবনাচরণের মৌলিক বিষয়গুলি সংজ্ঞায়িত ও উন্মোচিত করতে চেয়েছেন এবং বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচার মধ্যে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন।

- তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ - সংস্কৃতি কথা (১৯৫৮)।
- দ্বিতীয় গ্রন্থ সুখ (১৯৬৫) বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং তৃতীয় গ্রন্থ সভ্যতা (১৯৬৫) ক্লাইভ বেল-এর Civilization গ্রন্থের ভাবানুবাদ।

১৯৫৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১০,৪৯১.
কোন গ্রন্থটির নাম জীবনান্দ দাশ রাখেনি?
  1. ক) মাল্যবান
  2. খ) রূপসী বাংলা
  3. গ) ধূসর পান্ডুলিপি
  4. ঘ) সতীর্থ
সঠিক উত্তর:
খ) রূপসী বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত রূপসী বাংলা কাব্যের নাম তিনি রাখেননি।
- ‘বাংলা ত্রস্ত নীলিমা’ নামে তিনি একটি গ্রন্থ লিখতে চেয়েছিলেন। এইটিই রূপসী বাংলা নামে প্রকাশিত হয়।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১০,৪৯২.
মুনীর চৌধুরি ’কবর’ নাটকটি কোথায় রচনা করেন?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
  2. লন্ডন
  3. মানিকগঞ্জে
  4. জেলাখানায়
সঠিক উত্তর:
জেলাখানায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেলাখানায়
ব্যাখ্যা
• কবর:
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- নাটকের রচয়িতা  মুনীর চৌধুরি
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।
- নাটকটিতে জেলের রাজবন্দিরা অভিনয় করেন।
- এ নাটকে মুনীর চৌধুরি কোনো নারী চরিত্র রাখেন নাই।
-------------------------------------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৯৩.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের পত্রোপন্যাস?
  1. বাঁধন হারা
  2. মৃত্যক্ষুধা
  3. কুহেলিকা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বাঁধন হারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধন হারা
ব্যাখ্যা
• বাঁধন-হারা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস'
- এটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অনেকের মতে নুরুল হুদা কাজী নজরুল ইসলাম নিজেই।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে রবিউল, রাবেয়া, সোফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস সংখ্যা ৩টি।
এগুলো হলো:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৯৪.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. চৈতালী ঘূর্ণি
  2. একটি কালো মেয়ের কথা
  3. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  4. কালিন্দী
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা

• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

- উপন্যাসের পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি কালো মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে 'স্পাই' হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে। এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে।

---------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৪৯৫.
'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না- ইহা দূরেও ঠেলিয়া ফেলে।'- উক্তিটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের?
  1. পরিণীতা
  2. দেবদাস
  3. শ্রীকান্ত
  4. চরিত্রহীন
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা
⇒ 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস: 
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। উপন্যাসটি চারটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭)' শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশিত হয়। 
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রী শ্রীকান্ত শর্মা'। 
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। 
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়। 
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র হচ্ছে- 'ইন্দ্রনাথ'। 

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: 
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- রোহিণী,
- কমললতা প্রমুখ।

এ উপন্যাসের বিখ্যাত কিছু উক্তি: 
- 'মধু থাকলেই মৌমাছি এসে জোটে তারা দেশ-বিদেশের বিচার করে না।'
- 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না- ইহা দূরেও ঠেলিয়া ফেলে।' (শ্রীকান্ত ও বাইজি রাজলক্ষ্মীর বিচ্ছেদের প্রসঙ্গে এই কথাটি বলা হয়েছে।)

===========
⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়  ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, শরৎচন্দ্র রচনাবলী এবং 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস।
১০,৪৯৬.
'অগত্যা' পত্রিকা কোথায় থেকে প্রকাশ হতো?
  1. ঢাকার লালবাগ
  2. ঢাকার ইসলামপুর
  3. ঢাকার সাভার
  4. নারায়ণগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
ঢাকার ইসলামপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকার ইসলামপুর
ব্যাখ্যা
'অগত্যা' পত্রিকা:
- ১৯৪৯ সালে (১৩৫৬ সালের আষাঢ় মাসে) মাসিকপত্র হিসেবে 'অগত্যা' ঢাকার ইসলামপুর থেকে প্রকাশ হয়।

- এর সম্পাদক ছিলেন ফজলে লোহানী, প্রকাশক ও মুদ্রাকর আবু সাঈদ নাসির।
- পত্রিকায় দাবি করা হয়: রাজনীতির সঙ্গে অগত্যার সম্পর্ক নেই। তবে প্রগতিশীল সাহিত্য, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, কারুকলা ইত্যাদি চর্চার ক্ষেত্র এ পত্রিকা। যে-সময় উর্দুভাষা বাংলার উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলে সে-সময় খিচুড়ি উর্দুর ব্যঙ্গধর্মী রচনা প্রকাশ করে 'অগত্যা' সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
- মূলত তরুণদের পত্রিকা ছিল এটি। তরুণ শামসুর রাহমান (তখন'রহমান' নামে লিখতেন), বোরহানউদ্দীন খান জাহাঙ্গীর, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আনিস চৌধুরী, মুস্তাফা নূরউল ইসলাম এ পত্রিকায় লিখেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৯৭.
'কে হায় হৃদয় খুঁড়ে
বেদনা জাগাতে ভালােবাসে!' - কবিতাংশটি কার লেখা?
  1. জসীমউদ্‌দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• কে হায় হৃদয় খুঁড়ে
  বেদনা জাগাতে ভালােবাসে! - কবিতাংশটি জীবনানন্দ দাশের লেখা।
- এটি তাঁর রচিত 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'হায় চিল' কবিতার অংশবিশেষ।

হায় চিল
জীবনানন্দ দাশ

হায় চিল, সােনালি ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে
তুমি আর কেঁদো নাকো উড়ে উড়ে ধানসিড়ি নদীটির পাশে।
তােমার কান্নার সুরে বেতের ফলের মতাে তার স্নান চোখ মনে আসে।
পৃথিবীর রাঙা রাজকন্যাদের মতাে সে যে চলে গেছে রূপ নিয়ে দূরে;
আবার তাহারে কেন ডেকে আন? কে হায় হৃদয় খুঁড়ে
বেদনা জাগাতে ভালােবাসে!
হায় চিল, সােনালি ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে
তুমি আর উড়ে উড়ে কেঁদো নাকো ধানসিড়ি নদীটির পাশে।

জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ, জীবনানন্দ দাশ।
১০,৪৯৮.
‘বিশ্বনবী’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মীর মশারফ হোসেন
  2. খ) কাজী ইমদাদুল হক
  3. গ) আসকার ইবনে শাইখ
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা, (১৮৯৭-১৯৬৪)  কবি ও লেখক। যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।

• গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন। তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।

- রক্তরাগ 
-খোশরোজ 
- কাব্য-কাহিনী
- সাহারা 
- হাস্নাহেনা
-  বুলবুলিস্তান 
- তারানা-ই-পাকিস্তান
- বনিআদম 
- গীতিসঞ্চালন ইত্যাদি তাঁর মৌলিক কাব্য ।

তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে বিশ্বনবী (১৯৪২), ইসলাম ও কমিউনিজম (১৯৪৬), ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭), আমার চিন্তাধারা (১৯৫২), পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি প্রধান। তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
- গোলাম মোস্তফার কাব্যের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সহজ ও শিল্পসম্মত প্রকাশভঙ্গি এবং ছন্দোলালিত্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১০,৪৯৯.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম উপন্যাস রচনা করেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যে প্রথম উপন্যাস রচনা করেন- প্যারীচাঁদ মিত্র। 

• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:

- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল।'
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- এ উপন্যাসে প্যারীচাঁদ মিত্র প্রথমবারের মতো বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত গদ্যরীতির নিয়ম ভেঙ্গে চলিত ভাষারীতি প্রয়োগ করেন।
- সাধারণ মানুষের মুখে ব্যবহৃত কথ্য ভাষা 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

------------------
প্যারীচাঁদ মিত্র:
• প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তাকে বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ বলা হয় ৷
• তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে লিখতেন।
• তাঁর রচিত কথিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮)। ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ‘মাসিক পত্রিকা'য় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।

• প্যারীচাঁদের অন্যান্য গ্রন্থ:
- ‘রামারঞ্জিকা' (১৮৬০) স্ত্রীশিক্ষামূলক গ্রন্থ।

• তাঁর প্রবন্ধ পুস্তক:
- 'কৃষিপাঠ' (১৮৬১),
- 'যৎকিঞ্চিৎ' (১৮৬৫),
- 'ডেবিড হেয়ারের জীবনচরিত' (১৮৭৮) প্রভৃতি।

• সংলাপপ্রধান গল্পমূলক রচনা:
- 'অভেদী' (১৮৭১),
- 'আধ্যাত্মিকা' (১৮৮০) ইত্যাদি গ্রন্থ সংলাপপ্রধান গল্পমূলক রচনা এবং মূলত নীতিবিষয়ক।

• 'এতদ্দেশীয় স্ত্রীলোকদিগের পূর্বাবস্থা' (১৮৭৮) গ্রন্থে প্রাচীন ভারতের নারীদের শিক্ষা ও মহত্ত্বের পরিচয় উপলক্ষে পৌরাণিক নারীচরিত্রের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

• 'গীতাঙ্কুর' (৩য় সংস্করণ, ১৮৭০) ব্রহ্মবিষয়ক গানের সমষ্টি।
• 'বামাতোষিণী' (১৮৮১) প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশেষ রচনা-নারীশিক্ষার উদ্দেশ্যে গ্রন্থটির রচিত।

অন্যদিকে,
• বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাসের রচয়িতা। 
• মুসলিম লেখকদের মধ্যে প্রথম উপন্যাস রচয়িতা - মীর মশাররফ হোসেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১০,৫০০.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রহসন?
  1. বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. সধবার একাদশী
  3. চিরকুমারসভা
  4. একেই কি বলে সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
চিরকুমারসভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিরকুমারসভা
ব্যাখ্যা
চিরকুমারসভা:
-
এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে। 
- প্রজাপতির নির্বন্ধ উপন্যাসের নাট্যরূপ।
- চিরকুমারসভা বিষয়বস্তু হচ্ছে:
- বিয়ে না করার প্রতিজ্ঞা এবং পরবর্তীতে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করা হাস্যরসাত্মকভাবে দেখানো হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য প্রহসন গুলো:
- বৈকুণ্ঠের খাতা,
- গোড়ায় গলদ,
- হাস্যকৌতুক।

অন্যদিকে,
মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রহসন হচ্ছে:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১৩।