বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ১০৩ / ২১১ · ১০,২০১১০,৩০০ / ২১,১৩২

১০,২০১.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের ‘প্রথম শিল্পী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
- বিদ্যাসাগর গদ্যরীতির মধ্যে লালিত্যসঞ্চার ও নমনীয়তা আনয়নপূর্বক ভাষারীতি হিসেবে গদ্যের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে গৌরবময় অগ্রগতি সাধন করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার অন্তর্নিহিত ধ্বনিপ্রবাহ অনুধাবন করে বাক্যে স্বাভাবিক শব্দানুবৃত্তির রূপ প্রদান পূর্বক গদ্যরীতিতে পরিমিতিবোধ সৃষ্টি করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরই বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের ‘প্রথম শিল্পী’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থের নাম হলো:
• 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (হিন্দি বৈতালপৈচ্চিসির বঙ্গানুবাদ ১৮৪৭)।
• 'শকুন্তলা' (কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটকের উপাখ্যান ভাগের বঙ্গানুবাদ, ১৮৫৪)।
• 'সীতার বনবাস’ (ভবভূতির উত্তররাম চরিত নাটকের প্রথম অঙ্কের ও রামায়ণের উত্তর কাণ্ডের বঙ্গানুবাদ, ১৮৬০)।
• ‘ভ্রান্তিবিলাস' (শেক্সপিয়ারের Comedy of Errors-এর বঙ্গানুবাদ, ১৮৬৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০,২০২.
দোভাষী পুঁথি সাহিত্যের প্রথম ও সার্থক কবি কে?
  1. ক) শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. খ) রাধারমণ গোঁফ
  3. গ) ফকির গরীবুল্লাহ
  4. ঘ) রামনিধি গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
গ) ফকির গরীবুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফকির গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা

- দোভাষী পুঁথি বা পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, আদি, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি ফকির গরীবুল্লাহ।
- ফকির গরীবুল্লাহ না থাকলে উত্তর হবে সৈয়দ হামজা।
- মর্সিয়া‌ সাহিত্যের আদি কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,২০৩.
‘রেইনকোট’ গল্পটি কোন প্রকৃতির?
  1. মনস্তাত্ত্বিক
  2. দ্বান্দ্বিক
  3. রূপক
  4. প্রতীকী
সঠিক উত্তর:
প্রতীকী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতীকী
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট গল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প।
মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে।
উৎস : সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড বই।
১০,২০৪.
‘মানবতন্ত্র’ কার লেখা?
  1. ক) আবু রুশদ
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) আব্দুল কাদির
  4. ঘ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
আবুল ফজল (১৯০৩-১৯৮৩) রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘মানবতন্ত্র’তে মানুষের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
এখানে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানের চেষ্টা আছে।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১০,২০৫.
‘অশনি সংকেত’ - উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সত্যজিৎ রায়
  2. খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

‘অশনি সংকেত’ উপন্যাসের রচয়িতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষম ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ। আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি। এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে। তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায়
প্রকাশিত।

তার রচিত অন্যান্য উপন্যাস-
- পথের পাঁচালী (১৯২৯),
- অপরাজিত (১৯৩১),
- দৃষ্টি প্রদীপ (১৯৩৫),
- আরণ্যক (১৯৩৮),
- আদর্শ হিন্দু হােটেল (১৯৪০),
- দেবযান (১৯৪৪),
- ইছামতী (১৯৪৯),
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,২০৬.
কোনটি বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস?
  1. ক) যুগলাঙ্গুরীয়
  2. খ) রামের সুমতি
  3. গ) শ্রীকান্ত
  4. ঘ) পথের দাবী
সঠিক উত্তর:
ক) যুগলাঙ্গুরীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যুগলাঙ্গুরীয়
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস:
- দুর্গেশনন্দিনী
- কপালকুন্ডলা
- চন্দ্রশেখর
- মৃণালিনী
- যুগলাঙ্গুরীয়
- কৃষ্ণকান্তের উইল
- সীতারাম
- রজনী

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া

 
১০,২০৭.
'যৌবনের গান' কাজী নজরুল ইসলামের একটি-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. অভিভাষণ
  3. নাটিকা
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
অভিভাষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিভাষণ
ব্যাখ্যা
• ''যৌবনের গান'' ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে মুসলিম যুব সমাজের অভিনন্দনের উত্তরে তাদের উদ্দেশ্যে কাজী নজরুল ইসলাম যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তারই পরিমার্জিত লিখিত রূপ।
- ভাষণের এ ধরনের লিখিত রূপকে/ এ ধরনের রচনাকে বলা হয় অভিভাষণ।
- এটি ''দুর্দিনের যাত্রী'' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২০৮.
‘সবুজপত্র’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শামসুর রহমান
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

‘সবুজপত্র’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন প্রমথ চৌধুরী। 

• ‘সবুজপত্র’ পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতির ব্যবহার এই পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করে। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১০,২০৯.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অরণ্যবহ্নি
  2. একটি কালো মেয়ের কথা
  3. কালিন্দী
  4. অভিযান
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা
একটি কালো মেয়ের কথা:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখিত উপন্যাস একটি কালো মেয়ের কথা রচনা করেছিলেন শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
• উপন্যাসের পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি কালো মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে 'স্পাই' হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।

জবানবন্দিতে ডেভিড বলেছে :
'এরই মধ্যে এই দেশটাকে এমন করে ভালবেসে ফেললাম যে এই আমার সব থেকে ভালো দেশ, এর থেকে ভালো দেশ আর নেই। আর এই দেশই আমার দেশ।'

• এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে। 

অন্যদিকে,
- সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি’। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'কালিন্দী’ নদীর বুকে উৎপন্ন চর কে কেন্দ্র করে তৈরি বিবাদ নিয়ে রচিত উপন্যাস।
- ‘অভিযান’ উপন্যাসে মফস্বল অঞ্চলের ট্যাকসি ড্রাইভারেদের জীবন চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।

=========
⇒ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১) একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
• তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়। এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 
• প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

তারাশঙ্কর প্রায় দুইশত গ্রন্থ রচনা করেন সেগুলির মধ্যে:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ উপন্যাসগ্রন্থ।
১০,২১০.
'প্রভাতফেরির মিছিল যাবে/ ছড়াও ফুলের বন্যা,/ বিষাদগীতি গাইছে পথে/ তিতুমীরের কন্যা।' - কার লেখা?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. আহসান হাবীব
  4. আবদুল গাফ্‌ফার  চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

• ‘প্রভাতফেরির মিছিল যাবে/ ছড়াও ফুলের বন্যা,/ বিষাদগীতি গাইছে পথে/ তিতুমীরের কন্যা।’ — এই চরণগুলো আল মাহমুদের ‘একুশের কবিতা’ থেকে নেওয়া।

• 'আল মাহমুদ' সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
আল মাহমুদ একজন প্রথিতযশা কবি। বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা। আধুনিক বাংলা কবিতার নগরকেন্দ্রিক প্রেক্ষাপটে ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহ তাঁর কবিতার বিশেষ উপাদান।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

একুশের কবিতা' এর অংশবিশেষ

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
দুপুর বেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায় ?
বরকতের রক্ত।

হাজার যুগের সূর্যতাপে
জ্বলবে এমন লাল যে,
সেই লোহিতেই লাল হয়েছে
কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে !

প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে
ছড়াও ফুলের বন্যা
বিষাদগীতি গাইছে পথে
তিতুমীরের কন্যা।

-------------------
অন্যান্য অপশন সম্পর্কিত তথ্য:

(ক) শামসুর রাহমান: 
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।

(গ) আহসান হাবীব:
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬।

(ঘ) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- তিনি ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানের রচয়িতা হিসেবে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, একুশে কবিতা।

১০,২১১.
কোন পদকর্তার চর্যাপদে কোনো পদ খুঁজে পাওয়া যায়নি?
  1. জয়নন্দী
  2. লাড়ীডোম্বীপা
  3. তাড়কপা
  4. মহীধরপা
সঠিক উত্তর:
লাড়ীডোম্বীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাড়ীডোম্বীপা
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের কবি: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ের মোট চব্বিশ জন পদকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়।
- গানের মাঝে ও শেষে তাঁরা ভণিতা দিয়েছেন। তবে কারও কারও গুরুর ভণিতা আছে। নামের শেষে গৌরবসূচক ‘পা’ যোগ করা হয়েছে।

চর্যার চব্বিশ জন পদকর্তা হলেন: 
- লুই, কুক্কুরী, বিরুপা, গুণ্ডরী, চাটিল, ভুসুকু, কাহ্ন, কামলি, ডোম্বী, শান্তি, মহিত্তা, বীণা, সরহ, সবর, আজদেব, ঢেণ্ঢণ, দারিক, ভাদে, তাড়ক, কঙ্কণ, জয়নন্দী, ধাম, তন্ত্রী ও লাড়ীডোম্বী।

- লাড়ীডোম্বীপার কোন পদ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য,
- জয়নন্দী ৪৬ নম্বর পদের রচয়িতা।
- জয়নন্দী ৪৬ নম্বর পদের রচয়িতা। 
- তাড়কপা ৩৭ নম্বর পদ রচয়িতা। 
- মহীধরপা ১৬ নম্বর পদের রচয়িতা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,২১২.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুক্তফ্রন্ট সরকারের কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন?
  1. অর্থ ও পরিকল্পনা
  2. শিল্প ও বাণিজ্য
  3. কৃষি ও সমবায়
  4. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য
সঠিক উত্তর:
কৃষি ও সমবায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষি ও সমবায়
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- ৪ এপ্রিল এ কে ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে ৫ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়।
- ১৪ মে এই মন্ত্রিসভায় আওয়ামীলীগ যোগদান করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বন, সমবায় এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হন।
- তবে ৩০শে মে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়।
(তথ্যসূত্রঃ অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,২১৩.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  2. আর্তনাদ
  3. স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
  4. দুই ব্রিগেডিয়ার
সঠিক উত্তর:
আর্তনাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্তনাদ
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ নয়- আর্তনাদ।
- এটি শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। 
- এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' - শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ।
• 'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' মমতাজ উদ্দিন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক৷
• 'দুই ব্রিগেডিয়ার'- শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধের গল্প।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,২১৪.
সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি'- এই অমর বাক্যাংশের রচয়িতা কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• 'কবিতার কথা' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবি জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'কবিতার কথা'।
- এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি হলো, 'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।'
- জীবনানন্দ দাশ কবি হলেও তিনি মূলত উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থও লিখেছেন।

-----------------
জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি। তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে "চিত্ররূপময়" কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- মাল্যবান;
- সতীর্থ;
- কল্যাণী।

জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,২১৫.
কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৮৯৯ সালে; আর একজন বিখ্যাত কবিও একই সালে জন্মগ্রহণ করেন, তিনি কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৮৯৯ সালে; আর জীবনানন্দ দাশও জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯৯ সালে। 

• কাজী নজরুল ইসলাম: 
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক্তি’।  

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,২১৬.
নিচের কোন চরিত্রটি 'মৃণালিনী' উপন্যাসে রয়েছে?
  1. কুন্দনন্দিনী
  2. রোহিণী
  3. নবকুমার
  4. মনোরমা
সঠিক উত্তর:
মনোরমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোরমা
ব্যাখ্যা
• 'মৃণালীনি' উপন্যাস:
- বাংলা উপন্যাসের জনক বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস হচ্ছে - মৃণালীনি।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণের ঐতিহাসিক পটভূমি এ উপন্যাসের উপজীব্য বিষয়।

এ উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- হেমচন্দ্র, মৃণালিনী, মনোরমা

• অন্য অপশনের চরিত্রগুলো -  
- 'নবকুমার' চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্র এর 'কপালকুন্ডলা' নামক একটি রোমান্সমূলক উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- 'কুন্দনন্দিনী' চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের চরিত্র 'ভ্রমর', গোবিন্দলাল, রোহিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২১৭.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রের সংগৃহীত রূপকথার সংকলন নয় কোনটি?
  1. দাদা মশায়ের থলে
  2. ঠাকুরমার ঝুলি
  3. ঠানদিদির ঝুলি
  4. ঠাকুরদাদার ঝুলি
সঠিক উত্তর:
ঠানদিদির ঝুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠানদিদির ঝুলি
ব্যাখ্যা
- "ঠানদিদির ঝুলি" দক্ষিণারঞ্জন মিত্রের সংগৃহীত রূপকথার সংকলন নয়। 

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র রচিত রূপকথার গ্রন্থ হচ্ছে- ঠানদিদির থলে।

------------------------
• ঠাকুরমার ঝুলি:
- 'ঠাকুরমার ঝুলি' বাংলাদেশের প্রচলিত বিভিন্ন রূপকথার সংকলন।
- রূপকথার সাথে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট্যও আছে।
- কারণ পশু-পাখির মুখ দিয়েও কাহিনী বর্ণিত হয়েছে এই গ্রন্থে।
- এ গ্রন্থের ভূমিকা লিখে দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- গ্রন্থটি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- তিনি ঢাকা জেলার উলাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিশু সাহিত্যিক ও লোক সংগ্রাহক হিসেবে খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।
- তিনি 'সুধা' নামের একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন।

• তাঁর রচিত সংগৃহিত কাহিনি গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি
- ঠাকুরদাদার ঝুলি
- দাদা মশায়ের থলে
- ঠানদিদির থলে।
- খোকা বাবুর খেলা।
- আমাল বই।
- কিশোরদের মন।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১০,২১৮.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা নয়?
  1. ক) ছায়ানট
  2. খ) চক্রবাক
  3. গ) রুদ্রমঙ্গল
  4. ঘ) বালুচর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বালুচর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বালুচর
ব্যাখ্যা
ছায়ানট, চক্রবাক ও রুদ্রমঙ্গল - কাজী নজরুল ইসলামের রচনা।
কবি জসিমউদ্‌দীনের কাব্যগ্রন্থ - বালুচর, রাখালী, ধানক্ষেত, রূপবতী, মাটির কান্না, সুচয়নী।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১০,২১৯.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রাখী
  2. কামনা পঞ্চবিংশতি
  3. প্রকৃতির পরিহাস
  4. কঙ্কাবতী
সঠিক উত্তর:
কঙ্কাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঙ্কাবতী
ব্যাখ্যা

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস - কঙ্কাবতী।

অন্নদাশঙ্কর রায়:

- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ। 

তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০,২২০.
জ্ঞানদাসকে আর কী নামে ডাকা হতো? 
  1. গোবিন্দ দাস
  2. শ্রীমঙ্গল
  3. মদনমোহন
  4. শ্রীকান্ত
সঠিক উত্তর:
শ্রীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীমঙ্গল
ব্যাখ্যা

• জ্ঞানদাস:
জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কাঁদড়া গ্রামে এক মঙ্গল-ব্রাহ্মণ বংশে তাঁর জন্ম।
এজন্য তিনি — মঙ্গল ঠাকুর, শ্রীমঙ্গল, মদন-মঙ্গল প্রভৃতি নামেও পরিচিত ছিলেন।

- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।

উল্লেখ্য,
পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চণ্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

১০,২২১.
'শচীশ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. শেষের কবিতা
  2. চতুরঙ্গ
  3. মালঞ্চ
  4. যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা

• 'চতুরঙ্গ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যতম উপন্যাস 'চতুরঙ্গ'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাসগুলোর মধ্যে সমালোচকদের সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তিতে ফেলেছে চতুরঙ্গ। 
- ১৩২১ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন সংখ্যা পর্যন্ত মাসিক ‘সবুজপত্রে’ এই উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। 
- ‘সবুজপত্র’র তৎকালীন পাঠকরা ধরে নিয়েছিলেন যে তাঁরা রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে আলাদা আলাদা গল্প উপহার পাচ্ছেন।
- বস্তুত পত্রিকায় প্রকাশিত হবার সময় উপন্যাসের অধ্যায়গুলোকে আলাদা আলাদা গল্পের শিরোনাম দিয়ে ছাপা হচ্ছিল। 
গল্পগুলোর নাম ছিল যথাক্রমে- জ্যাঠামশায়, শচীশ, দামিনী, শ্রীবিলাস। এই বইখানির নাম একত্রে 'চতুরঙ্গ'। ‘জ্যাঠামশায়’, ‘শচীশ’, ‘দামিনী’ ও ‘শ্রীবিলাস’ ইহার চারটি অংশ। 

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- জ্যাঠামশায়, 
- শচীশ, 
- দামিনী,   
- শ্রীবিলাস, 

অন্যদিকে, 
• 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্র-  আমিত, লাবণ্য, কেতকী প্রমুখ।
• 'মালঞ্চ' উপন্যাসের চরিত্র-  নীরজা, আদিত্য, সরলা প্রমুখ।
• 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র কুমুদিনী, মধুসূদন প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'চতুরঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১০,২২২.
"দশবর রঅণ হরিঅ দশ দিসেঁ।
বিদ্যাকরি দম জা অহিলেসেঁ॥" - চর্যাপদের চরণটির রচয়িতা কে?
  1. সরহপা
  2. কাহ্নপা
  3. বীণাপা
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা

দশবর রঅণ হরিঅ দশ দিসেঁ।
বিদ্যাকরি দম জা অহিলেসেঁ॥ - এই চরণটির রচয়িতা কাহ্নপা

কাহ্নপা:
- তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি। কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।

কাহ্নপা রচিত চর্যাগীতির একটি নিদর্শন:

এবংকার দৃঢ় বাখোড় মোড়িউ।
বিবিহ বিআপক বান্ধণ তোড়িউ॥
কাহ বিলসঅ আসব মাতা।
সহজ নলিনীবণ পইসি নিবিতা॥
জিম জিম করিণা করিণিরে রিসঅ।
তিম তিম তথতা মঅগল বরিসঅ ৷ ছড়গই সঅল সহাবে সুধ।
ভাবাভাব বলাগ ন দুধ।
দশবর রঅণ হরিঅ দশ দিসেঁ।
বিদ্যাকরি দম জা অহিলেসেঁ॥

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১০,২২৩.
উইলিয়াম কেরির 'কথোপকথন' দ্বিভাষিক গ্রন্থটি কোন কোন ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. সংস্কৃত ও ফারসি
  2. বাংলা ও ইংরেজি 
  3. ইংরেজি ও সংস্কৃত 
  4. বাংলা ও সংস্কৃত 
সঠিক উত্তর:
বাংলা ও ইংরেজি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা ও ইংরেজি 
ব্যাখ্যা

• 'কথোপকথন' গ্রন্থ:
- উইলিয়াম কেরি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে বিদেশীর ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী করে ১৮০১ সালে 'কথোপকথন' গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।

- গ্রন্থে গৃহীত কথোপকথনগুলো সে আমলের কলকাতা- শ্রীরামপুর অঞ্চলের সকল স্তরের স্ত্রীপুরুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সামাজিক রীতিনীতি, ধর্ম ও আচারব্যবহার নিয়ে রচিত।

- এই গ্রন্থে চাকর ভাড়াকরণ, সাহেবের হুকুম, সাহেব ও মুনশীর পরামর্শ, ভোজনের কথা, যাত্রা, পরিচয়, ভূমির কথা, মহাজন, আসামি, বাগান করার হুকুম, ভদ্রলোকে ভদ্রলোকে কথাবার্তা, প্রাচীনে প্রাচীনে কথাবার্তা, সুপারিশ, মজুরের কথাবার্তা, খাতক মহাজনি, ঘটকালি, হাটের বিষয়, স্ত্রীলোকের হাট করা, জেলেদের কথাবার্তা, ভিক্ষুকের কথা, কাজের চেষ্টার কথা, কোন্দল বা ঝগড়া, স্ত্রীলোকে স্ত্রীলোকে কথাবার্তা, 'মাইয়া কন্দল', জমিদার রায়তের কথা ইত্যাদি বিষয়াবলম্বনে কথোপকথন রচিত হয়েছে।

- উইলিয়াম কেরি সহজ ও বাস্তব ভঙ্গিতে বক্তব্য পরিবেশন করেছেন। গ্রন্থের কোথাও অবিমিশ্র সাধু আবার কোথাও কথ্য ভাষাশ্রিত রচনারীতি স্থান পেয়েছে।

- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত। সে যুগের সামাজিক ও ব্যবহারিক রীতিনীতির বিশেষ পরিচয় হিসেবেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কথোপকথন গ্রন্থটি ছিল দ্বিভাষিক– এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

১০,২২৪.
'সকলের তরে সকলে আমরা / প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  2. কামিনী রায়
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. কুসুমকুমারী দাস
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

আলোচ্য পঙ্‌ক্তিটি কবি কামিনী রায় রচিত "সুখ" কবিতা থেকে গৃহীত হয়েছে।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

সুখ
কামিনী রায়
"আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে 
আসে নাই কেহ অবনী পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।"

কামিনী রায়:
-  ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) সুখ, কামিনী রায়।

১০,২২৫.
'কৃষ্ণ গুণার্ণব' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. রামপ্রসাদ সেন
  4. দ্বিজ বংশীদাস
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ বংশীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
দ্বিজ বংশীদাস:
- তিনি ষোড়শ শতাব্দীর কবি।
- তিনি পাতোয়ারি গ্রাম, কিশোরগঞ্জ এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সংস্কৃত, পুরাণ, আগম, তন্ত্রাদি শাস্ত্রে সুপণ্ডিত ছিলেন। তিনি 'পদ্মাপুরাণ' বা 'মনসামঙ্গল' কাব্যের অন্যতম প্রধান কবি।
- তিনি তাঁর কাব্যে বেহুলার দুঃখের চিত্র ও চাঁদ সওদাগরের চরিত্রের দৃঢ়তা, দৃঢ়তার সঙ্গে অঙ্কন করেন।
- দ্বিজ বংশীদাস রচিত অন্য কাব্যগুলো: কৃষ্ণ গুণার্ণব, রামসীতা ও চণ্ডী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২২৬.
'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।' উক্তিটির উৎস?
  1. বঙ্কিমচন্দ্রের ‘দুর্গেশনন্দিনী’
  2. বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বিষবৃক্ষ'
  3. রবীন্দ্রনাথের ‘শেষের কবিতা'
  4. বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কপালকুণ্ডলা'
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কপালকুণ্ডলা'
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কপালকুণ্ডলা'
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র- নবকুমার ও কপালকুণ্ডলা।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তিঃ
• 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ’ কপালকুণ্ডলা নবকুমারকে বলে।
• 'তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?'
• 'প্রদীপ নিবিয়া গেল।'
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,২২৭.
'রানার' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) সঞ্জীব চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) সোমেন চন্দ
সঠিক উত্তর:
ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
এই কবিতাটি কবির ‘ছাড়পত্র’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
১০,২২৮.
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার অন্যতম কথাসাহিত্যক হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল পত্রিকায় পত্রিকায় ১৯৬০ সালে ‘শকুন’ শীর্ষক গল্প প্রকাশের মধ্য দিয়ে হাসান আজিজুল হক সাহিত্যাঙ্গনে তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ
- শীতের অরণ্য (১৯৬৪)
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ (১৯৬৭)
- জীবন ঘষে আগুন (১৯৭৩)
- নামহীন গোত্রহীন (১৯৭৫)
- পাতালে হাসপাতালে (১৯৮১)
- নির্বাচিত গল্প (১৯৮৭)
- আমরা অপেক্ষা করছি (১৯৮৮)
- রাঢ়বঙ্গের গল্প (১৯৯১)
- রোদে যাবো (১৯৯৫) ইত্যাদি

- ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর, হাসান আজিজুল হক তার রাজশাহীর বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো এবং বাংলাপিডিয়া
১০,২২৯.
মুক্তিযুদ্ধ-কেন্দ্রিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) যাত্রা
  2. খ) দুই সৈনিক
  3. গ) রাইফেল রোটি আওরাত
  4. ঘ) নীল ময়ূরের যৌবন
সঠিক উত্তর:
ঘ) নীল ময়ূরের যৌবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নীল ময়ূরের যৌবন
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস- দুই সৈনিক (১৯৭৩), নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩), জাহান্নাম হইতে বিদায়, জলাঙ্গী ইত্যাদি। রাইফেল রোটি আওরাত - আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস। শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - 'যাত্রা'' যা ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়। ‘নীল ময়ূরের যৌবন’ সেলিনা হোসেনের উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১০,২৩০.
কোনটি আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস?
  1. জাল
  2. সূর্য দীঘল বাড়ী
  3. পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. মহাপতঙ্গ
সঠিক উত্তর:
জাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাল
ব্যাখ্যা
• আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'। 

• 'জাল' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'।
- উপন্যাসটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত।
- ১৯৫০ সালে সরকারি কর্মকর্তা থাকাকালীন সময়ে 'জাল নোট' এর কয়েকটা মামলার তদন্তের ভার পড়েছিলো লেখকের ওপর।
- সেই অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করেই তাঁর 'জাল' উপন্যাসটি রচিত।
=============== 
• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক ও একজন অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

• তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- 'হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।

• তাঁর রচিত একমাত্র নাটক:
- জয়ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘জাল’ উপন্যাসের ভূমিকা; বাংলাপিডিয়া।
১০,২৩১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

------------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,২৩২.
'কচি কাঁচাগুলি ডাঁটো করে তুলি
বাঁচিবার তরে সমান যুঝি।'- কবিতাংশটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'কচি কাঁচাগুলি ডাঁটো করে তুলি
বাঁচিবার তরে সমান যুঝি।' - কবিতাংশটির রচয়িতা - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
- এটি তাঁর রচিত 'অভ্র-আবীর' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'মানুষ জাতি' কবিতার অংশ।

মানুষ জাতি,
 ---সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
 
জগৎ জুড়িয়া এক জাতি আছে
সে জাতির নাম মানুষ জাতি;
এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত
একই রবি শশী মোদের সাথি।
শীতাতপ ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালা
সবাই আমরা সমান বুঝি,
কচি কাঁচাগুলি ডাঁটো করে তুলি
বাঁচিবার তরে সমান যুঝি।
দোসর খুঁজি ও বাসর বাঁধি গো,
জলে ডুবি, বাঁচি পাইলে ডাঙা,
কালো আর ধলো বাহিরে কেবল
ভিতরে সবারই সমান রাঙা।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। 
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র-আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; অভ্র-আবীর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।
১০,২৩৩.
‘সেক শুভোদয়া’ গ্রন্থটি কোন ভাষার মিশ্রণে রচিত?
  1. সংস্কৃত ও ফারসি
  2. বাংলা ও সংস্কৃত
  3. বাংলা ও পালি
  4. বাংলা ও ফারসি
সঠিক উত্তর:
বাংলা ও সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা ও সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
সেক শুভোদয়া:
- হলায়ুধ মিশ্র ছিলেন রাজা লক্ষ্মণ সেন এর সভাকবি।
- 'সেক শুভোদয়া' হলো বাংলা এবং সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি চম্পুকাব্য।
- এর রচনাকাল ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যে। গদ্য-পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- গ্রন্থটি রাজা লক্ষ্মন সেন ও শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজীর অলৌকিক কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- 'শেখের শুভোদয়' অর্থাৎ শেখের গৌরব ব্যাখ্যাই এই পুস্তিকার উদ্দেশ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২৩৪.
'তিন‌ পুরুষ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সত্যেন সেন
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) জয়েনউদ্দিন
সঠিক উত্তর:
গ) সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সমর সেন
ব্যাখ্যা

- সমর সেন বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের নাগরিক কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো- কয়েকটি কবিতা, গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা, নানাকথা, খোলাচিঠি, তিন পুরুষ, সমর সেনের কবিতা।
- তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ- বাবু বৃত্তান্ত (আত্মজীবনী)।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,২৩৫.
বাংলা লোক সাহিত্যে নিচের কোনটি 'কর্মসঙ্গীত' নামে পরিচিত?
  1. সারি গান
  2. গম্ভীরা
  3. লেটো গান
  4. আলকাপ গান
সঠিক উত্তর:
সারি গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারি গান
ব্যাখ্যা
- সারি গান  এক প্রকার  লোকসঙ্গীত, যা শ্রমসঙ্গীত বা কর্মসঙ্গীত নামেও পরিচিত।
- নৌকার মাঝি-মাল্লাদের গান হিসেবেই এর প্রধান পরিচয়।
- মাঝিরা সারিবদ্ধভাবে বসে বৈঠা টানার তালে তালে এ গান গায় বলেই এর নাম হয়েছে সারি গান।
- দলবদ্ধভাবে গানের তালে তালে কাজ করলে শ্রম লাঘব হয়, কাজে উদ্দীপনা বাড়ে এবং কঠিন কাজও সহজ হয়ে যায়।
- এ কারণে শ্রমিকদের মধ্যে সারি গানের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
- সারি গানের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় মধ্যযুগের কবি বিজয়গুপ্তের পদ্মাপুরাণে।
- সেখানে  সঙ্গীত অর্থেই ‘সারি’ শব্দের প্রয়োগ হয়েছে।
- পরবর্তীকালে মোগল নৌ-সেনাদের নৌকাবাইচের অনুকরণে গ্রামবাংলায়  নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার প্রচলন হলে তাতে এ গানের প্রসার ঘটে। 
উৎস : বাংলা পিডিয়া।
১০,২৩৬.
‘গোর্খবিজয়’ নাথ সাহিত্যের রচয়িতা কে?
  1. ভবানী দাস
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. শ্যামাদাস সেন
  4. ভীমসেন রায়
সঠিক উত্তর:
ভীমসেন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভীমসেন রায়
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
- ‘গোরাক্ষ বিজয়’ এর রচয়িতা - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- ‘গোপীচন্দ্রের সন্যাস’ এর রচয়িতা - শুকুর মাহমুদ।
- ‘মীনচেতন’ এর রচয়িতা - শ্যামাদাস সেন।
- ‘ময়নামতির গান’ এর রচয়িতা - ভবানী দাস।
- ‘গোর্খবিজয়’ এর রচয়িতা - ভীমসেন রায়।

• নাথ গীতিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রাপ্ত পুথির ভিত্তিতে ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানের তিনজন কবির সন্ধান পাওয়া যায় দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও শুকুর মাহমুদ।
- দুর্লভ মল্লিকের কাব্যের নাম গোবিন্দচন্দ্র গীত; সম্পাদনা করেন শিবচন্দ্র শীল।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় ভবানী দাসের ময়নামতীর গান এবং শুকুর মাহমুদের গোপীচাঁদের সন্ন্যাস কাব্যদুটি ঢাকা সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
১০,২৩৭.
সৈয়দ শামসুল হক কত বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান?
  1. ক) ২৫
  2. খ) ২৮
  3. গ) ৩০
  4. ঘ) ৩১
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩১
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ শামসুল হক
জন্ম - ১৯৩৫ সালে
বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ - ১৯৬৬ সালে (৩১ বছর বয়সে)

সৈয়দ শামসুল হক সবচেয়ে কম বয়সে বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেছেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
১০,২৩৮.
এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে।
এবেঁ মই বুঝিল সদ্ গুরু বোহেঁ।। - পদটি রচনা করেন কে?
  1. লুইপা
  2. ভাদেপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কাহ্নপা
সঠিক উত্তর:
ভাদেপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাদেপা
ব্যাখ্যা

এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে। 
এবেঁ মই বুঝিল সদ্ গুরু বোহেঁ।।
(অর্থাৎ এতকাল আমি স্বমোহে ছিলাম, এখন সদগুরু বুঝলাম । ) - পদটি রচয়িতা - ভাদেপা
- এটি চর্যাপদের ৩৫ নম্বর পদ।

ভাদেপা:
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে ছিলো।
- তিনি শ্রাবন্তী এলাকায় অবস্থান ছিলো।
- ভাদেপা'র গুরু ছিলো জালন্ধরীপা, মতান্তরে কাহ্নপা।
- চর্যাপদের ৩৫ নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,২৩৯.
বন্দে আলী মিয়া রচিত 'ময়নামতীর চর' একটি?
  1. ক) কাব্য
  2. খ) ভ্রমনকাহিণি
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) শিশুসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্য
ব্যাখ্যা
বন্দে আলী মিয়া (১৯০৬-১৯৭৯)  
সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা,  উপন্যাস, নাটক, জীবনী,  শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:

কাব্য
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী;

উপন্যাস
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
- শেষ লগ্ন,
- অরণ্য গোধূলি,
- নীড়ভ্রষ্ট 
- গল্পগ্রন্থ তাসের ঘর

নাটক
-  মসনদ;

শিশুসাহিত্য
- চোর জামাই
- মেঘকুমারী
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা
- সোনার হরিণ
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা
- কুঁচবরণ কন্যা
- সাত রাজ্যের গল্প এবং

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,২৪০.
বাংলায় প্রবন্ধ রচনায় প্রথম কৃতিত্ব দেখিয়েছেন কোন লেখক?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
খ) রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
- বাংলা প্রবন্ধ রচনার প্রথম কৃতিত্ব রাজা রামমোহন রায় এর।
- তিনি হিন্দুধর্মের মহান সংস্কারক।

রাজা রামমোহন রায়
- জন্মগ্রহণ করেন ২২ মে, ১৭৭২ সালে এবং  ১৮৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- রামমোহনের প্রথম দিকের রচনাসমূহ ছিল আরবি ও ফারসি ভাষায়।
- তিনি দিল্লির বাদশাহ কর্তৃক ১৮৩০ সালে রাজা উপাধি পান।
- ১৮২১ সালে রামমোহন সম্বাদ কৌমুদী নামে বাংলা সংবাদপত্র ও ১৮২২ সালে মিরাত-উল-আখবার নামে ফারসি সংবাদপত্র প্রকাশ করেন

তাঁর লিখিত গ্রন্থগুলো হলো:
» বেদান্তগ্রন্থ
» বেদান্তসার
» ভট্টাচার্যের সহিত বিচার- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত ‘বেদান্তচন্দ্রিকার’ব জবাবে লিখিত।
» সহমরণ বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ
» গৌড়ীয় ব্যাকরণ- বাঙ্গালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,২৪১.
সৈয়দ সুলতান রচিত 'নবীবংশ' গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ড কোনটি? 
  1. রসুল চরিত
  2. জ্ঞানপ্রদীপ
  3. সত্যপীরের পুথি
  4. জ্ঞানচৌতিশা
সঠিক উত্তর:
রসুল চরিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রসুল চরিত
ব্যাখ্যা
- 'নবীবংশে'র দ্বিতীয় খণ্ডের নাম- রসুল চরিত। 

সৈয়দ সুলতান: 
- সৈয়দ সুলতান ১৫৫০ সালে চট্টগ্রামের পটিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য মুসলিম কবি। 
- তিনি পীর সৈয়দ হাসানের ভক্ত ছিলেন। 
- 'নবীবংশ' গ্রন্থটি রচনার জন্য বিখ্যাত হয়েছেন। 
- 'নবীবংশ' কাব্যটি পারসি কাব্য কাসাসুল আম্বিয়া কাব্যের অনুসরণে রচিত হয়। 
- এটি ১৫৮৪ সালে রচনা করেন যা হযরত মুহম্মদের জীবনীকাব্য নিয়ে রচিত। 
- মধ্যযুগে রচিত হযরত মুহম্মদের পূর্ণাঙ্গ জীবনী হিসেবে 'রসুল চরিত'ই শ্রেষ্ঠ কাব্য। 
- জ্ঞানপ্রদীপ ও জ্ঞানচৌতিশা তার রচিত গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১০,২৪২.
কোন গ্রন্থটি মহাকাব্য?
  1. আশাকানন
  2. ছায়াময়ী
  3. চিত্তবিকাশ
  4. বৃত্রসংহার
সঠিক উত্তর:
বৃত্রসংহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃত্রসংহার
ব্যাখ্যা
'বৃত্রসংহার' কাব্য:
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্যের নাম 'বৃত্রসংহার'।
- এ মহাকব্যের প্রকাশকাল ১৮৭৫-৭৭ খ্রিষ্টাব্দে। দুই খণ্ডে এটি প্রকাশিত হয়।
- পৌরাণিক কাহিনির নতুন ব্যাখ্যা, ঊনবিংশ শতাব্দীর জীবনজিজ্ঞাসা, অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার ইত্যাদির ব্যাপারে তিনি ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাধবধ কাব্যে'র অনুসারী। ঊনবিংশ শতাব্দীতে এই কাব্য ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী (হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়),
- আশাকানন,
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ,
- বীরবাহু কাব্য (এটি আখ্যানকাব্য যা ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,২৪৩.
কোন গ্রন্থে নেপালের রাজ দরবারে বাংলা সাহিত্যের নিদর্শন থাকার সম্ভাবনার কথা প্রথম জানা যায়?
  1. ক) Buddist Mystic Song
  2. খ) The Sanskrit Buddhist Literature of Nepal
  3. গ) Buddha Gaya, the Hermitage of Sakya Muni
  4. ঘ) The Origin and Development of the Bengali Language
সঠিক উত্তর:
খ) The Sanskrit Buddhist Literature of Nepal
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) The Sanskrit Buddhist Literature of Nepal
ব্যাখ্যা
১৮৮২ সালে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র তাঁর ‘Sanskrit Buddhist Literature in Nepal’ গ্রন্থে নেপালে বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন। এই গ্রন্থের মাধ্যমে নেপালের রাজ দরবারে বাংলা সাহিত্যের নিদর্শন থাকার সম্ভাবনার কথা প্রথম জানা যায়। সূত্রঃ Livemcq লেকচার পিডিএফ।
১০,২৪৪.
আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. পানকৌড়ির রক্ত
  2. অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না
  3. ডাহুকী
  4. আগুনের মেয়ে
সঠিক উত্তর:
অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না
ব্যাখ্যা

• আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ - অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না।

আল মাহমুদ:

- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,২৪৫.
বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন কোনটি?
  1. শূন্যপুরাণ
  2. গীতগোবিন্দম্
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. মঙ্গলকাব্য
সঠিক উত্তর:
গীতগোবিন্দম্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতগোবিন্দম্
ব্যাখ্যা
• আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন হচ্ছে - "গীতগোবিন্দম্"।

• গীতগোবিন্দম্:
- জয়দেবের বিখ্যাত রচনা ‘গীতগোবিন্দম্’ কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।
- এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মুখ্য বিষয়।
- ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে এটি রচিত।
- বর্ণিত বিষয়ের তত্ত্বনির্দেশক বারোটি ভিন্ন ভিন্ন নামে সর্গগুলির নামকরণ করা হয়েছে।
- কাব্যের নায়ক-নায়িকা রাধা-কৃষ্ণ হলেও তাঁদের প্রতীকে জীবাত্মা-পরমাত্মার সম্পর্ক এবং নর-নারীর চিরন্তন প্রেমই এর মূল বক্তব্য।
- রাগমূলক গীতসমূহ এ কাব্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। পরবর্তীকালের বাংলা পদাবলি সাহিত্যে এর গভীর প্রভাব পড়েছে।
- বৈষ্ণব সম্প্রদায় ও সাহিত্য-রসিকদের নিকট গীতগোবিন্দম্ এক সময় পরম শ্রদ্ধার বিষয় ছিল।
- গীতগোবিন্দম্-এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে চরণশেষে অন্তমিল অনুসৃত হয়েছে, যা সংস্কৃত সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রায়শই দুর্লভ।

• জয়দেব:
- জয়দেব (বার’শ শতক) বাঙালি কবি। তবে তাঁর সাহিত্য ভাষা ছিল সংস্কৃত।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- জয়দেব ছিলেন লক্ষ্মণসেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,২৪৬.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের রচনা নয় কোনটি?
  1. অবরোধবাসিনী
  2. পদ্মরাগ
  3. মতিচূর
  4. সুলতানার দুঃস্বপ্ন
সঠিক উত্তর:
সুলতানার দুঃস্বপ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতানার দুঃস্বপ্ন
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের রচনা নয় - সুলতানার দুঃস্বপ্ন
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নকশাধর্মী রচনা - সুলতানার স্বপ্ন।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন: 
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' বা 'মুসলিম মহিলা সমিতি'। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত 'Lady Land' বা 'নারীস্থান' মূলত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনেরই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
- তিনি ৯ই ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
 
 • তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, দুই খণ্ড: ১ম খণ্ড - ১৯০৪, ২য় খণ্ড - ১৯২২),  
- সুলতানার স্বপ্ন (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,২৪৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. রাজর্ষি
  2. মালঞ্চ
  3. একরাত্রি
  4. গোরা
সঠিক উত্তর:
একরাত্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একরাত্রি
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস নয় - একরাত্রি
- 'একরাত্রি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- একরাত্রি,
- মহামায়া,
- সমাপ্তি,
- দৃষ্টিদান,
- মাল্যদান,
- মধ্যবর্তিনী,
- শাস্তি,
- প্রায়শ্চিত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০,২৪৮.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্যকর্ম নয় কোনটি?
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. একুশের গল্প
  3. কবর
  4. জীবন আমার বোন
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্যকর্ম নয় - জীবন আমার বোন
- এটি মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

অন্যদিকে,
• জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আরেক ফাল্গুন।
• জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক ছোটগল্প - একুশের গল্প।
• মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক - কবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২৪৯.
কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. বাঁধন হারা
  2. রিক্তের বেদন
  3. মৃত্যু-ক্ষুধা
  4. কুহেলিকা
সঠিক উত্তর:
রিক্তের বেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিক্তের বেদন
ব্যাখ্যা

• 'রিক্তের বেদন' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।

• 'রিক্তের বেদন' গল্পগ্রন্থ:

- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রিক্তের বেদন' দ্বিতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে।
- এই গল্পগ্রন্থের প্রতিটি গল্পই সমকালীন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- গল্পগুলোর প্রধান বিষয় হলো- প্রেম। এই গ্রন্থে প্রেমকে কেন্দ্র করে পারিপার্শ্বিক ঘটনা ও নারীদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

'রিক্তের বেদন' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো:
- রিক্তের বেদন,
- বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী,
- মেহের নেগার,
- সাঁঝের তারা,
- রাক্ষুসী,
- স্বামী হারা,
- দুরন্ত পথিক।

অন্যদিকে,
-------------------
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া এবং 'রিক্তের বেদন' গল্পগ্রন্থ।

১০,২৫০.
স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) মেবার-রাজ
  2. খ) মালতী
  3. গ) দীপনির্বাণ
  4. ঘ) স্বপ্নবাণী
সঠিক উত্তর:
গ) দীপনির্বাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দীপনির্বাণ
ব্যাখ্যা

- স্বর্ণকুমারী দেবী আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'।
- তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস- ছিন্নমুকুল, মেবার রাজ, মালতী, বিদ্রোহ, কাহাকে, বিচিত্রা, স্বপ্নবাণী, মিলনরাত্রি ইত্যাদি।
- বিবাহ উৎসব, বসন্ত উৎসব ইত্যাদি তাঁর রচিত নাটক।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১০,২৫১.
ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি কে?
  1. রূপরাম চক্রবর্তী
  2. ঘনরাম চক্রবর্তী
  3. কানাহরি দত্ত
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ঘনরাম চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘনরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।

• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট।
- ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।
- রূপরাম, সীতারাম দাস ধর্মমঙ্গলের উল্লেখযোগ্য কবি।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত:
- রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনী।
- লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২৫২.
ভোর হলো দোর খোল/খুকুমনি ওঠো রে - কবিতার কবি কে?
  1. ক) মোহিতলাল মজুমদার
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) কুসুম কুমারী দাশ
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম
প্রভাতী

ভোর হলো দোর খোলো
খুকুমণি ওঠ রে!
ঐ ডাকে যুঁই-শাখে
ফুল-খুকি ছোটরে!
রবি মামা দেয় হামা
গায়ে রাঙা জামা ঐ,
দারোয়ান গায় গান
শোন ঐ, রামা হৈ!'

১০,২৫৩.
কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক চরিত্র কোনটি?
  1. নুরুল হুদা
  2. মাহবুব 
  3. রবিউল
  4.  জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
 জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা

• 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

অন্যদিকে,
• কাজী নজরুল ইসলামের 'বাঁধনহারা' উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো- নুরুল হুদা, মাহবুবা, রাবেয়া, আয়েশা, মনুয়র, সোফিয়া, রবিউল এবং রোকেয়া (মা)। 

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,২৫৪.
কোন চর্যাকার বাংলাদেশের লোক ছিলেন?
  1. ক) ভুসুকুপা
  2. খ) ধর্মপা
  3. গ) ভাদেপা
  4. ঘ) কুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর:
ক) ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা

- চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচিয়তা ভুসুকুপা। 
- তিনি আটটি পদ রচনা করেন।
- তিনি ৬, ২১, ২৩, ২৭, ৩০, ৪১, ৪৩, ৪৯ নং পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা তাঁর ছদ্মনাম, প্রকৃত নাম শান্তিদেব। তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন। সেজন্য ভুক্তির ভু, সুপ্তির সু এবং কুটিরের কু এই তিন আদ্যক্ষর যোগে তাঁকে ভুসুকু বলে পরিহাস করা হত।

'আজি ভুসুকু বাঙালি ভইলি।
নিএ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী।'
-- ভুসুকুর এই উক্তিকে প্রমাণ স্বরূপ মনে করে তাঁকে বাঙালি অনুমান করা হয়।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

উল্লেখ্য,
 ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শবরপা বাঙ্গালি কবি ছিলেন ও তার জন্ম এই অঞ্চলে হয়েছিলো।
- প্রশ্নের অপশনে ভুসুকপা না থাকলে শবরপা সঠিক উত্তর হবে।

১০,২৫৫.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাঁকিল্যা গ্রাম কেন উল্লেখযোগ্য?
  1. শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মস্থান
  2. বড়ু চণ্ডীদাসের জন্মস্থান
  3. চর্যাপদের প্রাপ্তিস্থান
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তন কাব্যের প্রাপ্তিস্থান
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তন কাব্যের প্রাপ্তিস্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তন কাব্যের প্রাপ্তিস্থান
ব্যাখ্যা
• পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি আবিষ্কার হওয়ায় বাংলা সাহিত্যে এই গ্রাম উল্লেখযোগ্য।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:

- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।

- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনি ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি ⎯ কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই।

• মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত। খণ্ডগুলো হলো:
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বূল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড (রাধাবিরহ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০,২৫৬.
'পদ্মা মেঘনা যমুনা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. আবু ইসহাক
  4. আবুল মনসুর আহমেদ
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা

 'পদ্মা মেঘনা যমুনা' উপন্যাস:
• প্রায় সাত বছরের নিষ্ঠাবান পরিশ্রমে মহাকাব্যিক আখ্যান 'পদ্মা মেঘনা যমুনা' রচনা সম্পন্ন করেছিলেন আবু জাফর শামসুদ্দীন।
- ১৯৬৮ সালে পাণ্ডুলিপি তৈরির কাজ শেষ হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরই এর প্রথম প্রকাশনা সম্ভব হয়।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics,
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,২৫৭.
'অশনি সংকেত' উপন্যাসটি প্রথম কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. মাসিক মাতৃভূমি
  3. সওগাত
  4. ভারতী
সঠিক উত্তর:
মাসিক মাতৃভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক মাতৃভূমি
ব্যাখ্যা

অশনি সংকেত: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান, 
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০,২৫৮.
পল্লীকবি কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
  2. গোবিন্দপুর গ্রামে
  3. তাম্বুলখানা গ্রামে
  4. সাগরদাঁড়ি গ্রামে 
সঠিক উত্তর:
তাম্বুলখানা গ্রামে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাম্বুলখানা গ্রামে
ব্যাখ্যা

• পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একাধারে কবি, কাব্যোপন্যাসিক, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, ভ্রমণকাহিনীকার, নাট্যকার, স্মৃতিকথক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক ইত্যাদি বহুবিধ পরিচয়ে পরিচিত।
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে তাঁর জন্ম। পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।
- ছাত্র থাকা অবস্থায় তার 'কবর' কবিতা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্য তালিকাভুক্ত করা হয়।
- তিনি ১৯৩৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে লেকচারার পদে যোগ দেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- তাঁর রচিত কবিতায় গ্রামীণ জীবনের নিখুঁত চিত্র অঙ্কিত হয়।
- তাঁর নক্সী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতি-কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম।
- 'বোবা কাহিনী' তাঁর প্রথম উপন্যাস।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- হাসু,
- মাটির কান্না,
- এক পয়সার বাঁশী,
- মা যে জননী কান্দে,
- পদ্মা নদীর দেশে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,২৫৯.
'লালসালু' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শেখ ওয়াজেদ আলি
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. সিকান্দার আবু জাফর 
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

• লালসালু - উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচিত। 

• 'লালসালু':
- লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি  শ্রেষ্ঠ সামাজিক উপন্যাস।

- এটি সমাজে প্রচলিত নানা কুসংস্কার ও অন্ধআচারের ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে।
- এখানে ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে প্রতারণার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- এই উপন্যাসের মূল ভাবনা হলো - ধর্মীয় ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে কিভাবে ঠকানো হয়।
- এবং সেই সুযোগে কিভাবে ছদ্মধর্ম প্রচারের মাধ্যমে মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত লাভ অর্জন করা যায়।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মজিদ একজন ছদ্মধর্মপ্রচারক।
- মজিদ এসব কুসংস্কারকে হাতিয়ার করে নিজের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি কিভাবে গড়ে তোলে তাই এই উপন্যাসে দেখানো হয়েছে।
-----------------------------------------
• সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ  ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত ছোট গল্প:

- নয়নচারা;
- একটি তুলসি গাছের কাহিনী।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা;
- কাঁদো নদী কাঁদো;
- লালসালু।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত নাটক:
- বহিপীর;
- তরঙ্গভঙ্গ;
- সুরঙ্গ;
- উজানে মৃত্যু।

উৎস:
লালসালু উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও  সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১০,২৬০.
জহির রায়হানের জীবদ্দশায় প্রকাশিত তাঁর একমাত্র গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. একুশের গল্প
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. সূর্যগ্রহণ
  4. সোনার কাজল
সঠিক উত্তর:
সূর্যগ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্যগ্রহণ
ব্যাখ্যা
• জহির রায়হানের জীবদ্দশায় প্রকাশিত তাঁর একমাত্র গল্পগ্রন্থ — সূর্যগ্রহণ।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়।

• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা মওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক এবং ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ ।
- ‘শহীদুল্লা কায়সার’ তাঁর ভাই ছিলেন।
- ছাত্রজীবনেই তিনি লেখালেখিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। 
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ 'সূর্যগ্রহণ' প্রকাশিত হয়।
- তাঁর সৃষ্টি তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানের প্রথম রঙিন ছবি - সঙ্গম ।
- নিগার পুরস্কার প্রাপ্ত ছবি - কাঁচের দেয়াল ।

উল্লেখ্য,
- তাঁর পরিচালিত ছবি - সোনার কাজল।
- জহির রায়হান রচিত গল্প - একুশের গল্প।
- 'আরেক ফাল্গুন' তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,২৬১.
'অসমাপিকা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ। 

তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,২৬২.
‘জীবনক্ষুধা’ - উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. আল মাহমুদ
  2. আবুল হুসেন
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'জীবনক্ষুধা' উপন্যাসের রচয়িতা - আবুল মনসুর আহমদ।

আবুল মনসুর আহমদ:
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে।
- সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি দি মুসলমান পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত।
- আবুল মনসুর ১৯৩৮ সালের ডিসেম্বর মাসে দৈনিক কৃষক পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

আবুল মনসুর আহমদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স,
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১০,২৬৩.
'হানিফা কয়রাপরী' রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের পর্যায়ভুক্ত কাব্যটি কার রচনা?
  1. আলাওল
  2. সাবিরিদ খান
  3. নওয়াজিস খান
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ 
সঠিক উত্তর:
সাবিরিদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাবিরিদ খান
ব্যাখ্যা

• 'হানিফা কয়রাপরী' কাব্য:
- 'হানিফা কয়রাপরী' কাব্যের রচয়িতা সাবিরিদ খান/শাহ বারিদ খান।
- 'হানিফা কয়রাপরী' জঙ্গনামাজাতীয় যুদ্ধকাব্য হলেও প্রেমকাহিনির জন্য তা রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের পর্যায়ভুক্ত।
- কবির কাব্যটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে কাব্যের নাম নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

----------------
• সাবিরিদ খান:
- সাবিরিদ খান মধ্যযুগের আখ্যানকবি।
- সাবিরিদ খান 'বিদ্যাসুন্দর', 'রসুল বিজয়' ও 'হানিফা-কয়রাপরী' নামে তিনখানি আখ্যানমূলক কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যের প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলি খণ্ডিত হওয়ায় কবির ব্যক্তিগত পরিচয় জানা যায় না।
- ভনিতার সামান্য তথ্য থেকে বলা যায়, কবি চট্টগ্রামের নানুপুরের অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি ভারতীয় উৎস থেকে বিদ্যাসুন্দর এবং আরব-ইরান উৎস থেকে রসুল বিজয় ও হানিফা-কয়রাপরী কাব্য রচনা করেন।
- বিদ্যাসুন্দর ও হানিফা-কয়রাপরী রোমান্সসূলভ প্রণয়কাব্য, রসুল বিজয় ইসলামের গৌরব-গাথা।
- হানিফা-কয়রাপরী ও রসুল বিজয় কাব্যে যুদ্ধ-বিগ্রহের প্রাধান্য থাকায় উভয় কাব্যকে জঙ্গনামা নামেও চিহ্নিত করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,২৬৪.
'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আকরম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আকরম খাঁ
ব্যাখ্যা

• 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা।
- ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
- পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১০,২৬৫.
‘যে তুমি হরণ করো’ কার লেখা?
  1. ক) আবুল হুসেন
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. ঘ) আবুল হাসান
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
আবুল হাসান (১৯৪৭-১৯৭৫) এর কবিতায় আত্মগত দুঃখবোধ, মৃত্যুচেতনা, নিঃসঙ্গতাবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রাধান্য পায়।
রাজা যায় রাজা আসে, যে তুমি হরণ করো, পৃথক পালঙ্ক - তার কাব্যগ্রন্থ।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১০,২৬৬.
‘চিলেকোঠার সেপাই’ উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র-
  1. ক) ওসমান
  2. খ) হাসু
  3. গ) কুবের
  4. ঘ) রসু
সঠিক উত্তর:
ক) ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ওসমান
ব্যাখ্যা
‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
• এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
• তার অন্য আরেকটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস এর নাম খোয়াব নামা।
• ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান
• কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান। জনজীবনের সমগ্রতাকে, বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের সমস্ত মানুষকে ঔপন্যাসিক এ উপন্যাসে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২৬৭.
‘সুদীপ্ত শাহীন’ কোন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. জাহান্নম হইতে বিদায়
  3. জলাংগী
  4. রাইফেল রোটি আওরাত
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার 'রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দু'রাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

আনোয়ার পাশা:
- তিনি ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডবকাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সমালোচক ছিলেন।
- তিনি ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১০,২৬৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি কাকে বলা হয়? 
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী 
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১০,২৬৯.
"একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব।"- বিখ্যাত উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব।"- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উক্তি।  

------------------------
• 'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনি:
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ভ্রমণকাহিনি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পালামৌ'।
- বর্তমানে পালামৌ ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের একটি জেলা। 
- 'পালামৌ' বিহারের একটি স্থানের নাম লেখক চাকরিসূত্রে যখন বিহারে ছিলেন, সেই সময়ের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তিনি তাঁর এই রচনায় লিখেন।
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশ হয়।

'পালামৌ' রচনার ব্যবহৃত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাক্য-
- "বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।"
- "মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"
- "যাহার ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন।"
- "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব।"
- "যে হারে, সেই রাগে।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,২৭০.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধকে অবলম্বন করে রচিত উপন্যাস?
  1. মায়ের কাছে যাচ্ছি
  2. আমার যত গ্লানি
  3. খোয়াবনামা
  4. প্রসন্ন পাষাণ
সঠিক উত্তর:
আমার যত গ্লানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার যত গ্লানি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস:

• রশীদ করীম রচিত 'আমার যত গ্লানি' উপন্যাস মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক। 
• এটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়। 
• এটি উত্তম পুরুষে রচিত। 
• এই উপন্যাসের এরফান চৌধুরী নামের এক মধ্যবিত্তের আত্মগ্লানি দেখানো হয়েছে।
• স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিক অস্থিরতাকে আশ্রয় করে তিনি এটি রচনা করেন। 
• এতে ১৯৪৭ সাল থেকে ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সালের মধ্যকার কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে।
• উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ঢাকার একটি বহুজাতিক ফার্মের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণির এরফান চৌধুরী।
• উল্লেখ্য, 'মায়ের কাছে যাচ্ছি' ও ‘প্রসন্ন পাষান’ উপন্যাসের লেখক- রশীদ করীম।
• রশীদ করীমের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘উত্তম পুরুষ’ (১৯৬১)।
• 'খোয়াবনামা' আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১০,২৭১.
‘বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’ - বাক্যটি কার সৃষ্টি?
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
  4. শহীদুল্লা কায়সার
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• পালামৌ: 
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সর্বোত্তম সাহিত্যকর্ম হলো পালামৌ।
- এটি একটি ভ্রমণকাহিনি। 
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশ হয়।
- ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- ‘বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’ - এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য। সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
- বাংলা ভাষায় সাহিত্য পদবাচ্য ভ্রমণকাহিনী হিসেবে পালামৌই প্রথম।
- কথিত হয় যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি পাঠ করে ভ্রমণে উৎসাহিত হয়েছিলেন।

• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, লেখক, পন্ডিত।
- পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন পূর্ববর্তী স্বদেশী ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটদের একজন।
- একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে তিনি ইংরেজি সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও আইনে বিশেষ ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। 
- প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগ করে। 
 - তাঁর অনুজ সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। 
- তিনি বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘ভ্রমর’ সম্পাদনা করেন। অতঃপর তিনি ‘বঙ্গদর্শন’- এর সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন।
- তিনি 'Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities' (১৮৬৪) গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,২৭২.
রবীন্দ্রনাথ যে নাটকটি শরৎচন্দ্র কে উৎসর্গ করেন-
  1. ক) কালের যাত্রা
  2. খ) শেষ প্রশ্ন
  3. গ) শ্যামা
  4. ঘ) সঞ্চিতা
সঠিক উত্তর:
ক) কালের যাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কালের যাত্রা
ব্যাখ্যা

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কালের যাত্রা নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কে উৎসর্গ করেন ।
- তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে তাসের দেশ নাটকটি উৎসর্গ করেন ।
- এবং বসন্ত নাটকটি কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেন ।

তার রচিত অন্যান্য নাটক গুলি হল:
- রুদ্রচন্দ্র
- বাল্মিকী প্রতিভা
- শ্যামা
- ডাকঘর
- চিত্রাঙ্গদা
- মালিনী প্রভৃতি

উৎস: বাংলা সাহিত্য( নবম-দশম শ্রেণি) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,২৭৩.
"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।" পদটি কোন কবির রচনা?
  1. ঢেগুণপা 
  2. শবরপা 
  3. কুক্কুরীপা
  4. ডোম্বীপা
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

• কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা। তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায় নি।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন কুক্কুরীপা (৩টি)।

কুক্কুরীপা রচিত অতিপরিচিত দুটি পঙ্‌ক্তি হলো:
"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।" চর্যাপদের ২নং পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,২৭৪.
'বৃত্রসংহার' মহাকাব্যটি রচনা করেন কে?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) নবীনচন্দ্র সেন
  4. ঘ) কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
খ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বৃত্রসংহার:
-'বৃত্রসংহার' হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য।

-  মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত হয়েছে এ কাব্যটি এবং এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এতে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
- 'বৃত্রসংহার' মহাকাব্যের প্রথম খণ্ড ১৮৭৫ ও দ্বিতীয় খণ্ড ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত হয়।

• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
-  হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী (হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়)।
- আশাকানন।
- ছায়াময়ী।
- দশমহাবিদ্যা।
- চিত্তবিকাশ।
- বীরবাহু কাব্য (এটি আখ্যানকাব্য যা ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,২৭৫.
“জালি লাউয়ের ডগার মতোন বাহু দু’খান সরু”- উক্তিটি কার সম্পর্কে করা হয়েছে?
  1. ক) আসমানী
  2. খ) রুপাই
  3. গ) সোজন
  4. ঘ) দুলি
সঠিক উত্তর:
খ) রুপাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রুপাই
ব্যাখ্যা

কবি জসীমউদ্দিনের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ - নক্সী কাঁথার মাঠ। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- উদ্ধৃতিটি জসীমউদদীন রচিত নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থের রুপাই সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- প্রচলিত পল্লীগীতিকার চেয়ে ব্যতিক্রম হয়ে রচনাটিতে তিনি কাহিনীর আবর্তনে অসম্ভব দক্ষতার পরিচয় দেন।
- গ্রন্থটি বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে |
- গ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদের নাম “Field of Embroidered Quilt’’ এর অনুবাদক E M Milford.
- “কাঁচা ধানের পাতার মতো কচি মুখের মায়া’’ রুপার সম্পর্কে এই কাব্যের অন্যতম উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)

১০,২৭৬.
বাংলা একাডেমির ‘উত্তরাধিকার’ সাহিত্য পত্রিকাটি প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৯৮ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৮৩ সালে
  4. ১৯৭৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
• ‘উত্তরাধিকার’ পত্রিকা:
- মাসিক উত্তরাধিকার ১৯৭৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- দশ বছর পত্রিকাটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে চালু থাকলেও ১৯৮৩ সাল থেকে ত্রৈমাসিকে রূপান্তরিত হয় এবং পত্রিকাটি ধীরে ধীরে অনিয়মিত হয়ে পড়ে।
- ২০০৯ সালের আগে পর্যন্ত এটি ত্রৈমাসিক আকারেই প্রকাশিত হতো।
- বাংলা একাডেমির প্রথম অঙ্গিকারের কথা মনে রেখেই সম্প্রতি উত্তরাধিকার পত্রিকাকে আবার নব পর্যায়ে এবং নতুন আঙ্গিক ও বিন্যাসে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং জুলাই ২০০৯ থেকে মাসিক হিসেবে এটি প্রতিমাসে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।
- এতে সৃজনশীল রচনা, যথা: গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, গ্রন্থ-সমালোচনা ইত্যাদি মুদ্রিত হয়।

---------------------
• বাংলা একাডেমি থেকে ছয়টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এগুলো হচ্ছে-
 
১. বাংলা একাডেমি পত্রিকা: 
- গবেষণামূলক ত্রৈমাসিক। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উপর বিশেষ গুরুত্বসহ অন্যান্য বিষয়েও বাংলায় রচিত গবেষণামূলক প্রবন্ধ এতে প্রকাশিত হয়।
 
২. উত্তরাধিকার: 
- মাসিক পত্রিকা। এতে সৃজনশীল রচনা, যথা: গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, গ্রন্থ-সমালোচনা ইত্যাদি মুদ্রিত হয়।
 
৩. ধানশালিকের দেশ: 
- ত্রৈমাসিক কিশোর পত্রিকা। কিশোরোপযোগী গল্প, কবিতা, ছড়া ইত্যাদি এই পত্রিকায় মুদ্রিত হয়।
 
৪. বাংলা একাডেমি বিজ্ঞান পত্রিকা
- ষাণ্মাসিক এই পত্রিকাটি বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার সমন্বয়ে প্রকাশিত হয়। এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।
 
৫. বাংলা একাডেমি জার্নাল: 
- ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ষাণ্মাসিক পত্রিকা। বাংলা সাহিত্যের নির্বাচিত রচনা ইংরেজির অনুবাদ এবং বাংলা সাহিত্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইংরেজি ভাষায় রচিত মৌলিক রচনা এতে প্রকাশিত হয়।এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।
 
৬. বার্তা:
- একাডেমির কার্যক্রম ও যাবতীয় কর্মকাণ্ডের বিবরণ এতে উপস্থাপিত হয়ে থাকে। বর্তমানে এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

অন্যদিকে,
- ‘শিল্পকলা’ আবদুল মান্নান সৈয়দ ও আবদুল সেলিম সম্পাদিত পত্রিকা।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২৭৭.
'সারদামঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায় কোন কাব্যগ্রন্থ কে?
  1. স্বপ্নদর্শন
  2. সাধের আসন
  3. সঙ্গীতশতক
  4. নিসর্গসন্দর্শন
সঠিক উত্তর:
সাধের আসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধের আসন
ব্যাখ্যা
"সাধের আসন" কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন' (১৮৮৯)।
-'সাধের আসন'কে 'সারদামঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির 'সারদামঙ্গল' কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন, "তুমি কাকে ধ্যান কর?"।
- এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল 'সাধের আসন' লিখেছিলেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম। এইজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী কাব্যগ্রন্থ গুলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গসঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউলবিংশতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,২৭৮.
“জলে ডাঙ্গায়” কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) ভ্রমণকাহিনী
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) রম্য
সঠিক উত্তর:
ক) ভ্রমণকাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভ্রমণকাহিনী
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ভ্রমণ কাহিনীর জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
- 'দেশে বিদেশে' ও 'জলে ডাঙ্গায়' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।

তাঁর রচিত রম্যরচনাঃ
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী,

তাঁর রচিত ছোটগল্পঃ
- চাচা কাহিনী,
- টুনি মেম। 

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১০,২৭৯.
স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র কোনটি?
  1. অগত্যা
  2. কণ্ঠস্বর
  3. নয়া সড়ক
  4. ক্রান্তি
সঠিক উত্তর:
নয়া সড়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নয়া সড়ক
ব্যাখ্যা
'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র
- পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমীর 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২৮০.
আধুনিক বাংলা নাটক মূলত কয়টি পর্বে বিভক্ত?
  1. ৬টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা

• নাটক: 
মঞ্চে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সাহায্যে মানবজীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা যখন সংলাপের আশ্রয়ে দর্শকদের সামনে উপস্থিত করা হয়, তখন তাকে নাটক বলে। মঞ্চে অভিনেতা-অভিনেত্রী কর্তৃক অভিনীত হবে-এ উদ্দেশ্য নিয়েই নাটকের সৃষ্টি। নাটক শব্দটির মধ্যেই রয়েছে এর ইঙ্গিত। নট, নাট্য, নাটক -তিনটি শব্দেরই মূল হল নট্। আর নট্-এর অর্থ হল নড়াচড়া করা, অঙ্গচালনা করা ইত্যাদি।

• একটি নাটকের গঠনকে - ৫টি পর্বে বিভক্ত করা যায়।

পর্ব পাঁচটি নিম্নরূপ-
১. কাহিনির আরম্ভ Exposition (মুখ);
২. কাহিনির ক্রমব্যাপ্তি Rising Action (প্রতিমুখ);
৩. উৎকর্ষ বা চূড়ান্ত দ্বন্দ্ব Climax (গর্ভ);
৪. গ্রন্থিমোচন Falling Action (বিমর্ষ);
৫. যবনিকাপাত Conclusion Denouement (উপসংহতি)।

ওপরের পাঁচটি পর্যায়কে অবলম্বন করে রচিত হয় পঞ্চাঙ্ক নাটক। একটি পর্যায় নিয়ে লেখা হয় একটি অঙ্ক। অ্যারিস্টটলের মতে, পঞ্চাঙ্ক নাটকই হচ্ছে আদর্শ নাটক। বর্তমান কালে নাট্যকারেরা পাঁচের চেয়ে কম অঙ্কে নাটক রচনা করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কখনো বা এক অঙ্কের পরিসরেই পাঁচটি পর্যায়কে ধারণ করে উৎকৃষ্ট নাটক লেখা হচ্ছে।

প্রতিটি নাটকের মধ্যে প্রধান চারটি উপাদান থাকে।
যেমন- 
১. কাহিনি বা বিষয়;
২. চরিত্র;
৩. সংলাপ এবং;
৪. পরিবেশ।

বাংলা নাটকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
খ্রিস্টপূর্ব কাল থেকেই গ্রিসে নাট্যচর্চার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা জানা যায়। পেরিক্লিসের গ্রিসে এবং পরবর্তীকালে এলিজাবেথের ইংল্যান্ডে নাট্যচর্চায় ব্যাপক সমৃদ্ধি এসেছিল। বর্তমানে পৃথিবীর সব দেশেই নাট্যচর্চা আছে। বাংলা নাটকের ইতিহাস সুদীর্ঘ কালের।

তবে আধুনিক অর্থে যাকে আমরা নাটক বলি, বাংলা ভাষায় তা প্রথম পাই আজ থেকে প্রায় দুশো বছর পূর্বে। ১৭৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর কলকাতার 'বেঙ্গলি থিয়েটারে' মঞ্চস্থ হয় প্রথম বাংলা নাটক 'কাল্পনিক সংবদল'। রুশদেশীয় যুবক হেরাসিম লেবেডফ ইংরেজি নাটক 'দ্য ডিসগাইজ' বাংলায় রূপান্তর করে মঞ্চস্থ করেন। 'দ্য ডিসগাইজ'-এরই রূপান্তরিত বাংলা নাম 'কাল্পনিক সংবদল'। নাটকটি বাংলায় রূপান্তর করতে গিয়ে লেবেডফ পণ্ডিত গোলকনাথ দাসের সহায়তা গ্রহণ করেছিলেন। এখানে একটি কথা আপনি মনে রাখবেন- ১৭৯৫ সালে প্রথম বাংলা নাটকের সাক্ষাৎ পাওয়া গেলেও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির নানা শাখায় বিপুল পরিমাণ নাট্য-উপাদান বহু পূর্ব থেকেই বর্তমান ছিল।

মঙ্গলকাব্য, লোকসঙ্গীত, পালাগান, গাজীর গান, কবিগান, ময়মনসিংহ গীতিকা প্রভৃতির মধ্যে নাটকের নানা উপাদান পাওয়া যায়। লোক-নাটকের অন্যতম উপাদান নৃত্য ও গীতের সাক্ষাৎ আমরা এসব রচনায় পাই। কালক্রমে এসব উপাদান থেকেই আধুনিক যুগের বাংলা নাটকের উদ্ভব ঘটে।

উৎস: মাধ্যমিক উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।

১০,২৮১.
‘শেষের কবিতা’ কোন ধরণের রচনা?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) কবিতা
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা

শেষের কবিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
এ উপন্যাসের চরিত্র গুলাে হলাে- অমিত, লাবণ্য, কেতকী রায় এবং শােভনলাল ইত্যাদি।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,২৮২.
'পূর্ণিমা মিলন' নামে সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন কে? 
  1. বিষ্ণু দে
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. মানিক বন্ধ্যোপাধ্যায়
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়: 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে ‘Lyrics of Ind’ (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধন ধান্য পুষ্পভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
 - তারাবাঈ,
 - প্রতাপ সিংহ,
 - দুর্গাদাস,
 - নূরজাহান,
 - মেবার পতন,
 - সাজাহান,
 - চন্দ্রগুপ্ত,
 - সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
 - পরপারে,
 - বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,২৮৩.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য কোন পুরস্কার লাভ করেন?
  1. আলাওল সাহিত্য পুরস্কার
  2. বাংলা একাডেমি পুরস্কার
  3. সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার
ব্যাখ্যা
• 'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- ঐতিহাসিক উপাদান নির্ভর উপন্যাস 'খোয়াবনামা' এর রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনলেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ সালের-এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান নিপুনভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।
- তিনি ১৯৯৫ সালে 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য 'সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার' ও ১৯৯৬ সালে কলকাতার 'আনন্দ পুরস্কার' লাভকরেন।

উল্লেখ্য, 
• বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘বাংলা একাডেমী পুরস্কার’ (১৯৮২)। 

------------
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)। 

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,২৮৪.
'গুণরাজ খান' কোন সাহিত্যিকের উপাধি? 
  1. বিদ্যাপতি
  2. মালাধর বসু
  3. ভারতচন্দ্র
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
ব্যাখ্যা
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেন। 
- মালাধর বসু গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে ‘গুণরাজ খান’ উপাধি লাভ করেছিলেন
- মালাধর বসু ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক। 
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ। 
- মালাধর বসুর একমাত্র কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'য়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ বঙ্গাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (মাহবুবুল হক) এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,২৮৫.
ত্রিশোত্তর বাংলা নব্যধারার আন্দোলনের কোন কবি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা

• ত্রিশোত্তর বাংলা নব্যধারার আন্দোলনের মধ্যে বিষ্ণু দে মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। তাঁর কবিতায় সমাজবাদী ও মার্কসবাদী দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

------------------
• বিষ্ণু দে:

- বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে 'পরিচয়' পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে 'সাহিত্যপত্র'।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিস্যৎ,
- সেই অন্ধকার চাই,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

অন্যদিকে,
-------------------
• অমিয় চক্রবর্তী: তিনি আধ্যাত্মিকতা ও রোমান্টিকতার দিকে ঝুঁকেছিলেন। মার্কসবাদের সঙ্গে তাঁর কবিতার সরাসরি যোগাযোগ ছিল না; তাঁর লেখায় ব্যক্তিগত অনুভূতি ও দার্শনিক চিন্তা প্রাধান্য পেত।

• জীবনানন্দ দাশ: জীবনানন্দ প্রকৃতি, নিসর্গ ও অস্তিত্বের সূক্ষ্ম অনুভূতির কবি। তাঁর কবিতায় মার্কসবাদী চেতনার চেয়ে ব্যক্তিগত ও প্রকৃতিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি বেশি প্রকাশ পায়।

• বুদ্ধদেব বসু: তিনি আধুনিকতা ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের উপর জোর দিয়েছিলেন। তাঁর কবিতা ও লেখায় মার্কসবাদের পরিবর্তে পাশ্চাত্য আধুনিকতা ও নান্দনিকতার প্রভাব বেশি ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,২৮৬.
'গোরাক্ষ বিজয়' কে রচনা করেছেন?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. শ্যামাদাস সেন
  3. শুকুর মুহাম্মদ
  4. ভীমসেন রায়
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
- ‘গোরাক্ষ বিজয়’ এর রচয়িতা - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- ‘গোপীচন্দ্রের সন্যাস’ এর রচয়িতা - শুকুর মাহমুদ।
- ‘মীনচেতন’ এর রচয়িতা - শ্যামাদাস সেন।
- ‘ময়নামতির গান’ এর রচয়িতা - ভবানী দাস।
- ‘গোর্খবিজয়’ এর রচয়িতা - ভীমসেন রায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া
১০,২৮৭.
"কুড়ানি" রবিঠাকুর রচিত কোন ছোটগল্পের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. কাবুলিওয়ালা 
  2. মাল্যদান
  3. পোস্টমাস্টার 
  4. ব্যবধান
সঠিক উত্তর:
মাল্যদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাল্যদান
ব্যাখ্যা

- কুড়ানি- 'মাল্যদান' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র। 
------------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে  কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তাকে "গুরুদেব", "কবিগুরু" ও "বিশ্বকবি" বলা হয়।  
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম: ভানুসিংহ ঠাকুর।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর ও দার্শনিক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি-এর ইংরেজি অনুবাদের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।

• রবিঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প:
- নষ্টনীড়,
- একরাত্রি,
- সমাপ্তি,,
- পোস্টমাস্টার,
- ব্যবধান,
- হৈমন্তী,
- অতিথি,
- খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন,
- মাল্যদান,
- ফেল,
- কাবুলিওয়ালা
-------------------------- 
• 'মাল্যদান' গল্প নিয়ে কিছু কথা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মাল্যদান’ একটি করুণ ও রোমান্টিক ছোটগল্প। 
- গল্পটি কলকাতার প্লেগ মহামারীর প্রেক্ষাপটে রচিত।
- 'মাল্যদান' গল্পের চরিত্রগুলো হলো- কুড়ানি, যতিন।  

- গল্পের কেন্দ্রবিন্দু কুড়িয়ে পাওয়া বালিকা কুড়ানি-র নিঃস্বার্থ প্রেম এবং তার করুণ পরিণতি।
- কুড়ানি সরল ও নিষ্পাপ হলেও ধীরে ধীরে তার হৃদয়ে নারীর প্রেম জাগ্রত হয়।
- প্লেগ মহামারী ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে তার প্রেমের পূর্ণতা ঘটে না। 
- কুড়ানির ট্রাজিক মৃত্যু পাঠককে গভীর বেদনায় মুগ্ধ করে।
---------------
অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী ছোটগল্প ‘কাবুলিওয়ালা’-র প্রধান চরিত্রগুলো—
- কাবুলিওয়ালা (রহমত), ছোট্ট মেয়ে মিনি, মিনির বাবা (কথক) এবং মিনির মা।

- রবি ঠাকুরের 'পোস্টমাস্টার' ছোট গল্পের চরিত্র-
- পোস্টমাস্টার ও রতন।

- 'ব্যবধান' গল্পের প্রধান চরিত্রগুলো হলো-
- অনাথ ও কুসুম।

উৎস:
'মাল্যদান' গল্প; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১০,২৮৮.
কাজী নজরুল ইসলাম এর 'ধূমকেতু' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বিদ্রোহী
  2. অগ্নিবীণা
  3. প্রলয়োল্লাস
  4. আনন্দময়ীর আগমনে
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা

• 'ধূমকেতু' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

--------------------
• 'অগ্নিবীণা' কাব্য:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ কে উৎসর্গ করেন।
- এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা 'প্রলয়োল্লাস' এবং এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী' 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম

------------------
'ধূমকেতু' কবিতা
- কাজী নজরুল ইসলাম।

আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুন মহাবিপ্লব হেতু
এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু!
সাত- সাতশো নরক-জ্বালা জলে মম ললাটে,
মম ধূম-কুণ্ডলী করেছে শিবের ত্রিনয়ন ঘন ঘোলাটে।
আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ,
আমি স্রষ্টার বুকে সৃষ্টি-পাপের অনুতাপ-তাপ-হাহাকার-
আর মর্তে সাহারা-গোবি-ছাপ,
আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ! (সংক্ষেপিত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া ও অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ।

১০,২৮৯.
"নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?" কোন মঙ্গলকাব্যের উক্তি?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,২৯০.
নিচের কোনটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সাহিত্যকর্ম?
  1. খোঁয়ারি
  2. দোজখের ওম
  3. দুধভাতে উৎপাত
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস: 
- পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস। 

⇒ তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প:
• অন্য ঘরে অন্য স্বর,
• খোঁয়ারি,
• দুধভাতে উৎপাত,
• জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল,  
• দোজখের ওম। 

⇒ উপন্যাস: 
• চিলেকোঠার সেপাই,   
• খোয়াবনামা। 
→ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মহাকাব্যিক উপন্যাস ‘চিলেকোঠার সেপাই’।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র: ওসমান।  
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
১০,২৯১.
‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. ক) শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• প্যারীচাঁদ মিত্র: 
- প্যারীচাঁদ মিত্র ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।
-  প্যারীচাঁদ মিত্র ২২শে জুলাই ১৮১৪ সালে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ২৩শে নভেম্বর ১৮৮৩ সালে মৃত্যবরণ করেন।
- প্যারীচাঁদ বেঙ্গল টি কোম্পানি এবং ডারাং টি কোম্পানির ডিরেক্টর ছিলেন ।
- এছাড়া প্যারীচাঁদ মিত্র অ্যান্ড সন্স বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ছিলেন।

• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস: 
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
১০,২৯২.
'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' সম্পাদনা করেন কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. রফিক আজাদ
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৩২ - ১৯৮৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন।
- ১৯৩২ সালের ১লা জুন জামালপুর শহরে তাঁর জন্ম।
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ: বিমুখ প্রান্তর।
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারী"। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' সম্পাদনা করেন

হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারী, 
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,২৯৩.
কাকে "মরমি কবি" বলা হয়?
  1. গোবিন্দদাস
  2. আব্দুল করিম
  3. হাছন রাজা
  4. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
হাছন রাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাছন রাজা
ব্যাখ্যা
হাছন রাজা:
- তিনি ছিলেন মরমি কবি, সাধক।
- তাঁর প্রকৃত নাম দেওয়ান হাসন রজা চৌধুরী।
- ১২৬১ বঙ্গাব্দের ৭ পৌষ (১৮৫৪ সালের ২৪ জানুয়ারি) সিলেট জেলার সুনামগঞ্জে লক্ষ্মণশ্রী গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সহজ-সরল সুরে আঞ্চলিক ভাষায় প্রায় এক হাজার আধ্যাত্মিক গান রচনা করেন।
- তাঁর সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার ভারতীয় দর্শন কংগ্রেসের অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে বলেছিলেন, ‘পূর্ববঙ্গের একজন গ্রাম্য কবির গানে দর্শনের একটি বড় তত্ত্ব পাই সেটি এই যে, ব্যক্তিস্বরূপের সহিত সম্বন্ধসূত্রেই বিশ্ব সত্য।’

তাঁর কয়েকটি বিখ্যাত গান নিম্নরূপ:
- আঁখি মঞ্জিয়া দেখ রূপ রে। 
- আগুন লাগাইয়া দিল কুনে, হাছন রাজার মনে। 
- সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইলো। 
- নিশা লাগিল রে বাঁকা দুই নয়নে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,২৯৪.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে ভনিতা কয়টি?
  1. ক) ৪০৩ টি
  2. খ) ৪১৮ টি
  3. গ) ৩০৪ টি
  4. ঘ) ৩১৮ টি
সঠিক উত্তর:
ক) ৪০৩ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৪০৩ টি
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। ১৯০৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শ্রী বসন্তরঞ্জন রায় কর্তৃক আবিষ্কৃত হয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য। ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চন্ডীদাস। এতে ১৩টি খন্ড রয়েছে। রাধা, কৃষ্ণ ও বড়াই প্রধান তিনটি চরিত্র। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে ৪০৩ টি ভনিতা রয়েছে। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
১০,২৯৫.
মার্ক্সসিস্ট কবি হিসেবে খ্যাত ছিলেন-
  1. ক) অমিয় চক্রবর্তী
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) বিষ্ণুদে
সঠিক উত্তর:
গ) সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সমর সেন
ব্যাখ্যা
মার্কসিস্ট কবি হিসেবে সমর সেন (১৯১৬-৮৭) স্বল্প সময়ে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। 
"আমি রোমান্টিক কবি নই, মার্কসিস্ট" - বিখ্যাত উক্তিটি কবি সমর সেন-এর। 
- সমর সেনের জন্ম কলকাতায়। 
- সাম্যবাদী কবি সমর সেন মাত্র দেড় দশক কবিতা রচনা করেন 
- তিনি কবিতা লেখা ক্ষান্ত দিলেন এই বলে যে- 'এখন আর কবিতা লিখে হবে না; তরবারি চাই, যুদ্ধ করতে হবে। "

তাঁর প্রকাশিত কাব্যের নাম:
- কয়েকটি কবিতা 
- গ্রহণ
- নানা কথা
- খোলা চিঠি
- তিনপুরুষ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১০,২৯৬.
'শাশ্বত বঙ্গ' কাজী আবদুল ওদুদ রচিত-
  1. ক) গল্পগ্রন্থ
  2. খ) নাটক
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

• কাজী আবদুল ওদুদ একজন বাঙালি প্রাবন্ধিক, বিশিষ্ট সমালোচক, নাট্যকার ও জীবনীকার ছিলেন।
• তাঁর রচিত প্রবন্ধঃ
- শাশ্বত বঙ্গ,
- সমাজ ও সাহিত্য,
- হিন্দু-মুসলমান বিরোধ।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- আজাদ,
- নদীবক্ষে।
• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থঃ
- মির পরিবার (গল্প),
- পথ ও বিপথ (নাটক) এবং
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত জনপ্রিয় বাংলা অভিধানঃ ব্যবহারিক শব্দকোষ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১০,২৯৭.
’গোলাম মোস্তফা’-এর উপাধি কী ছিলো?
  1. স্বভাব কবি
  2. স্বপ্নাতুর কবি
  3. সাহিত্যরত্ন
  4. কাব্য সুধাকর
সঠিক উত্তর:
কাব্য সুধাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্য সুধাকর
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা  উপাধি ছিলো= কাব্য সুধাকর।
--------------------------------------
অন্যদিকে,
- ’গোবিন্দচন্দ্র দাস’ উপাধি ছিলো=  স্বভাব কবি 
- ’সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী’ উপাধি ছিলো=  স্বপ্নাতুর কবি
- ’নজিবর রহমান’ উপাধি ছিলো=  সাহিত্যরত্ন

উল্লেখ্য,
• গোলাম মোস্তফা:
১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি ও লেখক।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
-গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,২৯৮.
"জলে-ডাঙায়" ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. শহীদুল্লা কায়সার
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

'জলে ডাঙায়':
- 'জলে ডাঙায়' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি। 
-  'জলে ডাঙায়' মোটামুটিভাবে ছোটদের জন্যে লেখা, কিন্তু লেখার প্রসাদগুণে পাঠকও অনায়াসে লেখকের সঙ্গী হয়ে যান সিংহল থেকে মালদ্বীপ, ভূমধ্যসাগর থেকে আফ্রিকা, সুয়েজ খাল থেকে পিরামিডের রহস্যময়তায়। আর এভাবেই উপভোগ্য হয়ে ওঠে 'জলে ডাঙায়'।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলীশিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।

সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:
• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম,
- শহর-ইয়ার।

• ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়।

উৎস: 'জলে ডাঙায়' ভ্রমণকাহিনি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,২৯৯.
‘হৃৎকলমের টানে’ - কার রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. বিষ্ণু দে
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• ‘হৃৎকলমের টানে’ - সৈয়দ শামসুল হক রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ।

সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি একজন প্রখ্যাত কবি, কথা-সাহিত্যিক, ও নাট্যকার।
- কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, অনুবাদ তথা সাহিত্যের সকল শাখায় অনলস পদচারণার কারণে তিনি সর্বমহলে ‘সব্যসাচী’ লেখক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ ইত্যাদি।

সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৩০০.
ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক কবি-
  1. মালাধর বসু
  2. কাশীরাম দাস
  3. শ্রীকর নন্দী
  4. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
ব্যাখ্যা
• মালাধর বসু:
- মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
- চৈতন্যদেবের সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে ভাগবতকে প্রথম বাংলায় প্রচার ও জনপ্রিয় করে তোলার কৃতিত্ব মালাধর বসুর।
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।
- গৌড়েশ্বর রাজকর্মচারী মালাধর বসুর কর্মদক্ষতা, বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যবুদ্ধি প্রভৃতি গুণে প্রীত হয়ে এই উপাধি দান করেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।