বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ১০১ / ২১১ · ১০,০০১১০,১০০ / ২১,১৩২

১০,০০১.
‘শিক্ষার হেরফের’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন ধরনের রচনা?
  1. ছোটগল্প
  2. গদ্য সংকলন
  3. প্রবন্ধ
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• ‘শিক্ষার হেরফের’ প্রবন্ধ:
- শিক্ষা ও রাজনৈতিক বিষয়ে কবির দৃষ্টিভঙ্গি ছিল স্পষ্ট ও বলিষ্ঠ। ‘শিক্ষার হেরফের’ (১৮৯২) প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করার প্রস্তাব দেন। 
- রাজশাহীতে অবস্থানকালে রবীন্দ্রনাথ 'শিক্ষার হেরফের' শীর্ষক এই প্রবন্ধ রচনা করেন।

গ্রন্থের ভূমিকায় কবি লেখেন-
শিক্ষার হেরফেরনামক প্রবন্ধ যখন লিখিত হয় তখন মনে করি নাই যে, বর্তমান শিক্ষাপ্রণালী অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রুটি প্রদর্শনে কাহারো হৃদয়ে আঘাত লাগিবে। বিশেষত উক্ত প্রবন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সম্মুখেই পঠিত হয়। সেখানে রাজশহী কলেজের অধ্যক্ষ ও অধ্যাপক অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তাঁহারা কেহ কোনোরূপ ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাই; বরং যতদূর জানা গিয়াছিল অনেকেই অনুকূলভাবে লেখকের মতের অনুমোদন করিয়াছিলেন।

অবশেষে উক্ত প্রবন্ধ সাধনায় প্রকাশিত হইলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধিধারী পাঠক উহা ইংরেজিতে অনুবাদ করিবার জন্য ঔৎসুক্য প্রকাশ করেন এবং কলেজের অনেক পুরাতন ছাত্রের নিকট উহার ঐকমত শুনা যায়। বঙ্কিমবাবু, গুরুদাসবাবু এবং আনন্দমোহন বসু মহাশয় তৎসম্বন্ধে যে-পত্র লিখিয়াছিলেন তাও পাঠকগণ অবগত আছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি যাঁহাদের হৃদয়নিকুঞ্জে প্রিয়স্থান অধিকার করিয়াছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্ভুক্ত লোকের মুখে তাহার কোনোরূপ অমর্যাদার কথা শুনিলে তাঁহাদের মধ্যে কাহারো মনক্ষোভ উপস্থিত হইতে পারে সন্দেহ নাই, অতএব বর্তমান আলোচনায় প্রবৃত্ত হওয়া আমি আমার পক্ষে দুর্ভাগ্য বিবেচনা করি। কেবল, বিশ্ববিদ্যালয়ের যাঁহারা গৌরবস্থল এমন অনেক মহোদয়ের উৎসাহবাক্যে আমি নিজের লজ্জা নিবারণে সক্ষম হইতেছি।

উৎস: ‘শিক্ষার হেরফের’ প্রবন্ধ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১০,০০২.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. খেলারাম খেলে যা
  2. সীমানা ছাড়িয়ে
  3. পরানের গহীন ভিতর
  4. নীল দংশন
সঠিক উত্তর:
পরানের গহীন ভিতর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরানের গহীন ভিতর
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
 - 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত কাব্যনাট্য।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১০,০০৩.
‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটকটি সমাজের কোন সমস্যার ওপর ভিত্তি করে রচিত? 
  1. অশিক্ষা
  2. জমিদারি শোষণ
  3. কুসংস্কার
  4. দারিদ্র্য
সঠিক উত্তর:
কুসংস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসংস্কার
ব্যাখ্যা

'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক 'কুলীনকুলসর্বস্ব' (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয়নি।
- 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি 'নাটুকে নারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১০,০০৪.
ভাষা-আন্দোলনের প্রক্ষাপটে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. শেষ বিকালের মেয়ে
  3. আর কতদিন
  4. বরফ গলা নদী
সঠিক উত্তর:
আরেক ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো' এই উপন্যাসের সংলাপ।
- এই উপন্যাসে বাঙ্গালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত কা হয়েছে।
- উপন্যাসের চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসূল, সালমা, 
-----------------------------------------
• তাঁর রচিত উপন্যাস :
- শেষ বিকালের মেয়ে;
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু,
- বরফ গলা নদী,
- আর কত দিন,
- আরেক ফাল্গুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০০৫.
'পুরুষ আধিপত্য ছেড়ে দিলেই মেয়ে আধিপত্য শুরু করবে।' বলেছেন-
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আহমদ ছফা
  3. শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি উপন্যাস।
• এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ
- অমিত রায়,
- কেতকী,
- লাবণ্য,
- শোভনলাল ইত্যাদি।
• এই উপন্যাসের কয়েকটি বিখ্যাত উক্তিঃ
- 'ফ্যাশনটা হলো মুখোশ স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।',
- 'পুরুষ আধিপত্য ছেড়ে দিলেই মেয়ে অধিপত্য শুরু করবে।',
- 'বিধাতার রাজ্যে ভালো জিনিস অল্প হয় বলেই তা ভালো।',
- 'ভালোবাসা খানিকটা অত্যাচার চায়, অত্যাচার করেও।'
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং শেষের কবিতা উপন্যাস।

 
১০,০০৬.
’বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী’ গল্পটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. নবযুুগ
  2. সওগাত
  3. বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য
  4. গণবাণী
সঠিক উত্তর:
সওগাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সওগাত
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম :
- তিনি ২৪ মে ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- নজরুলের কবি ও শিল্পী জীবনের শুরু এ লেটোদল থেকেই।
- নজরুল সাহিত্যকর্ম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলায় পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, মৌলবাদ এবং দেশি-বিদেশি শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি ।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ কবি মৃত্যু বরণ করেন।

• কাজী নজরুলের প্রথম প্রকাশিত প্রথম গল্প।
- বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী ।

- এটি ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে সওগাত পত্রিকার মে-জুন সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

• কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ : 
• ব্যথার দান:
• রিক্তের বেদন;
• শিউলিমালা।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,০০৭.
কোন লেখকের উপাধি "মহামহােপাধ্যায়"?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন।
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) উপাধি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০০৮.
স্বর্ণকুমারী দেবীর রচিত ‘মেবার রাজ’ কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. কাব্য
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবীর রচিত ‘মেবার রাজ’ একটি উপন্যাস। 

স্বর্ণকুমারী দেবী
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- দীর্ঘ ৩০ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন।
- প্রথম উপন্যাস: দীপনির্বাণ

উল্লেখযোগ্য রচনা:
- উপন্যাস: দীপনির্বাণ, মেবার রাজ, মালতী, বিদ্রোহ, বিচিত্রা, স্বপ্নবাণী, মিলনরাত্রি। 
- কাব্যগ্রন্থ: গাঁথা, কবিতা ও গান। 
- নাটক: বসন্ত উৎসব, দেব কৌতুক। 

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া। 

১০,০০৯.
বাংলা ভাষার সার্থক মহাকাব্য কোনটি?
  1. ক) মেঘনাদবধ
  2. খ) বৃত্রসংহার
  3. গ) কুরুক্ষেত্র
  4. ঘ) মহাশ্মশান
সঠিক উত্তর:
ক) মেঘনাদবধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মেঘনাদবধ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য মেঘনাদবধ কাব্য। মেঘনাদবধ কাব্যে মোট ৯ টি সর্গ আছে। যথা- অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোকবন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী ও সংক্রিয়া।
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১০,০১০.
জসীমউদদীন রচিত 'হলদে পরীর দেশ' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) কবিতা
  2. খ) শিশুতোষ
  3. গ) ভ্রমণ কাহিনী
  4. ঘ) আত্মজীবনী
সঠিক উত্তর:
গ) ভ্রমণ কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভ্রমণ কাহিনী
ব্যাখ্যা

জসীমউদদীনের চলে মুসাফির, হলদে পরীর দেশ, যে দেশে মানুষ বড় ভ্রমণ বিষয়ক গ্রন্থ।

তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- জীবন কথা
- ঠাকুর বাড়ির আঙিনা
- যাদের দেখেছি

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) এবং বাংলাভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,০১১.
'লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়।' - উক্তিটি কার?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়।'- উক্তিটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের।

• ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধ:
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ গ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশ বিশেষ।
- 'সংস্কৃতি কথা' তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করেছেন।
- প্রবন্ধে বলা হয়েছে - "মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। জীবসত্তা সেই ঘরের নিচের তলা, আর মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব উপরের তলা। জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা, শিক্ষাই আমাদের মানবসত্তার ঘরে নিয়ে যেতে পারে।"

• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর (১৯০৩-১৯৫৬) জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি তাঁর রচনায় সংস্কৃতি, ধর্ম, মানবতাবোধ ও মানুষের জীবনাচরণের মৌলিক বিষয়গুলি সংজ্ঞায়িত ও উন্মোচিত করতে চেয়েছেন এবং বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচার মধ্যে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
- সংস্কৃতি কথা (১৯৫৮) তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- দ্বিতীয় গ্রন্থ সুখ (১৯৬৫) বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের।
- তৃতীয় গ্রন্থ সভ্যতা (১৯৬৫) ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০১২.
কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস?
  1. উত্তরফাল্গুনী
  2. হাওয়া বদল
  3. রেখাচিত্র
  4. একদা তুমি প্রিয়ে
সঠিক উত্তর:
একদা তুমি প্রিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একদা তুমি প্রিয়ে
ব্যাখ্যা
⇒ ‘একদা তুমি প্রিয়ে’ উপন্যাস:
- ‘একদা তুমি প্রিয়ে’ বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৩ সালে।
- পলাশ ও রেবার মধ্যে যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তারই স্মৃতি ধরে উভয়ের মনে এক জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়। রেবা নতুনভাবে প্রেমের অভিষেক করতে চায় কিন্তু পলাশ বুঝতে পারে তা সম্ভবপর নয়। এরকম একটি কাহিনি নিয়ে বুদ্ধদেব বসু রচিত এই উপন্যাসটি।

⇒ বুদ্ধদেব বসু:
- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০১৩.
বদরুদ্দীন ওমর রচনা করেছেন-
  1. সংস্কৃতি কথা
  2. সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই
  3. সংস্কৃতির সংকট
  4. সভ্যতার সংকট
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতির সংকট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতির সংকট
ব্যাখ্যা
• 'সংস্কৃতির সংকট' বদরুদ্দীন ওমর রচিত গ্রন্থ।

• বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি 'সংস্কৃতি' সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সংকট,
- সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধ পূর্ব বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ ইত্যাদি।

• 'সংস্কৃতি' নামে কিছু গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা - ড. আহমদ শরীফ। 
- সংস্কৃতি কথা - মোতাহের হোসেন চৌধুরী। 
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই - শওকত ওসমান। 
- সংস্কৃতির রুপান্তর-  গোপাল হালদার। 
- সংস্কৃতির ভাঙা সেতু - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। 
- সভ্যতার সংকট - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০১৪.
নিচের কোনটি আল মাহমুদ রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. পানকৌড়ির রক্ত
  2. উপমহাদেশ
  3. কালের কলস
  4. বখতিয়ারের ঘোড়া
সঠিক উত্তর:
পানকৌড়ির রক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানকৌড়ির রক্ত
ব্যাখ্যা
• 'পানকৌড়ির রক্ত' আল মাহমুদ রচিত গল্পগ্রন্থ।

• আল মাহমুদ:

- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,০১৫.
'আফতাব সংগীত' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. শাহ আবদুল করিম
  2. লালন শাহ
  3. সঞ্জীব চৌধুরী
  4. হাসন রাজা
সঠিক উত্তর:
শাহ আবদুল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ আবদুল করিম
ব্যাখ্যা
- 'আফতাব সংগীত' গ্রন্থের লেখক শাহ আবদুল করিম। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে। 

শাহ আবদুল করিম:
- লোকসঙ্গীত শিল্পী, গীতিকার, সুরকার শাহ আবদুল করিমের জন্ম ১৯১৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ধলআশ্রম গ্রামে। 
- প্রথম জীবনে তিনি বাউল, ভক্তিমূলক, জারি, সারি, রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পালাগান গেয়েছেন।
- কিন্তু পরিণত বয়সে তিনি গণসঙ্গীত রচনা ও পরিবেশনে খ্যাতি অর্জন করেন।
- সঙ্গীতজীবনের একদিকে তিনি ছিলেন গণচেতনার সঙ্গীত রচয়িতা, সুরকার ও গায়ক, অন্যদিকে ছিলেন বাউল-আঙ্গিকের সঙ্গীতশিল্পী। 
- ১৯৫৪ সালে শাহ আবদুল করিম প্রণীত গণসঙ্গীত গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
 
তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য গানের সংকলন হলো:
- কালনীর ঢেউ,
- ভাটির চিঠি,
- ধলমেলা,
- কালনীর কূলে।
 
তাঁর লেখা ও সুর করা কয়েকটি গান নিম্নরূপ- 
- বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে
- আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
- গাড়ি চলে না
- রঙ এর দুনিয়া তরে চায় না
- আমি কূলহারা কলঙ্কিনী
- কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া
- কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু
- আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু
- গান গাই আমার মনরে বুঝাই প্রভৃতি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০১৬.
নিচের কোন জন বৈষ্ণব কবিতার কবি নন?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) চণ্ডীদাস
  3. গ) গোবিন্দচন্দ্র
  4. ঘ) জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তর:
গ) গোবিন্দচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গোবিন্দচন্দ্র
ব্যাখ্যা
- বৈষক কবিতা বাংলা কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
- চতুর্দশ শতকের শেষ দিক থেকে বৈষ্ণব কবিতা রচিত হতে থাকে। এর প্রধান পাত্র-পাত্রী রাধা ও কৃষ্ণ।

- বৈষ্ণবপদাবলির আদি পদকর্তা হলেন - বাঙ্গালি কবি জয়দেব।
- বৈষ্ণব কবিতার চার মহাকবি হলেন: বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, গোবিন্দদাস ও জ্ঞানদাস।

গোবিন্দচন্দ্র - নামে বৈষ্ণব পদাবলীর কোনো কবি ছিলেন না।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১০,০১৭.
বাংলা সাহিত্যের কোন সময়কালকে 'অন্ধকার যুগ' হিসেবে অভিহিত করা হয়?
  1. ৬৫০ – ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ১২০১ – ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৩৫১ – ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১২০১ – ১৪৫০ খ্রিস্টাব্দ
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
১২০১ – ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২০১ – ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা

অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিত।
- এই সময় বাংলা সাহিত্যের লিখিত কোন নিদর্শন পাওয়া যায়নি। তাই অনেক লেখক এই সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলে থাকেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগে কোন সাহিত্য কর্ম পাওয়া যায় নি এ কথাটি সত্য নয়।
- এ সমইয়ের প্রথমেই 'প্রাকৃতপৈঙ্গলের' মত প্রাকৃত ভাষার গীতিকবিতা গ্রন্থ সংকলিত হয়।

এ সময়ের অন্যান্য সাহিত্যকর্ম:
- রামাই পণ্ডিতের 'শূন্যপুরাণ' এবং 'কলিম জালাল' বা 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'
- ডাক ও খনার বচন
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভোদয়া'

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,০১৮.
'গেরিলা' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
  2. বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. বন্দী শিবির থেকে
  4. উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ
সঠিক উত্তর:
বন্দী শিবির থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দী শিবির থেকে
ব্যাখ্যা

• 'গেরিলা' কবিতাটি শামসুর রাহমানের 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা', 'স্বাধীনতা তুমি' এবং 'রক্তাক্ত প্রান্তরে' বিখ্যাত কবিতাগুলো এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

গেরিলা,
- শামসুর রাহমান

দেখতে কেমন তুমি?কী রকম পোশাক-আশাক
প'রে করো চলাফেরা? মাথায় আছে কি জটাজাল?
পেছনে দেখাতে পারো জ্যোতিশ্চক্র সন্তের মতন?
টুপিতে পালক গুঁজে অথবা জবরজং, ঢোলা
পাজামা কামিজ গায়ে মগডালে এক শিস দাও
পাখির মতোই; কিংবা চা-খানায় বসো ছায়াচ্ছন্ন?

শামসুর রাহমান রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল, 
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০,০১৯.
বাংলা কবিতায় 'ধ্রুপদী রীতির প্রবর্তক' বলা হয় কাকে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা ভাষার একজন প্রধান আধুনিক কবি।
- বিংশ শতকের ত্রিশ দশকের যে পাঁচ জন কবি বাংলা কবিতায় রবীন্দ্র প্রভাব কাটিয়ে আধুনিকতার সূচনা ঘটান তাদের মধ্যে সুধীন্দ্রনাথ অন্যতম।
- তাকে বাংলা কবিতায় 'ধ্রুপদী রীতির প্রবর্তক' বলা হয়।

• সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থগুলো হলো-
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- দশমী।

• এছাড়াও তাঁর দুটি প্রবন্ধ গ্রন্থ আছে -
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০২০.
'গোপীচন্দ্রের গান' কোন ধারার সাহিত্য?
  1. ক) মঙ্গলকাব্য
  2. খ) অনুবাদ সাহিত্য
  3. গ) নাথসাহিত্য
  4. ঘ) মর্সিয়া সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
গ) নাথসাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাথসাহিত্য
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য  নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা। 
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনী হলো শেখ ফয়জুল্লাহর গোরক্ষবিজয়।
- রাজা মানিকচন্দ্রের গীত, ময়নামতীর গান বা  গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার কাহিনী।
- ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানে গার্হস্থ্য জীবনের আধারে যোগজীবনের নির্দেশিকা স্থান পেয়েছে।
- এতে ধর্মীয় মতবাদ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার চেয়ে কাব্যগুণ প্রাধান্য লাভ করেছে। 
- গোরক্ষবিজয়ের চেয়ে ময়নামতীর গান বা  গোপীচন্দ্রের গানে মানবিক আবেদন অপেক্ষাকৃত বেশি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০২১.
'রমনা পার্কে' গল্পটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহীম
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) নীলিমা ইব্রাহীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নীলিমা ইব্রাহীম
ব্যাখ্যা
'রমনা পার্কে' গল্পটি রচনা করেছেন- 'নীলিমা ইব্রাহীম'। 

নীলিমা ইব্রাহিম 
- নীলিমা ইব্রাহিমের ১৯২১ সালে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।  
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত। 
- তিনি বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।
-  বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন 

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে 
- এক পথ দুই বাঁক 
- কেয়াবন সঞ্চারিণী 
- বহ্নিবলয়। 

তাঁর রচিত নাটক: 
- দুয়ে দুয়ে চার 
- যে অরণ্যে আলো নেই 
- রোদ জ্বলা বিকেল 
- সূর্যাস্তের পর

কথানাট্য
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি (২ খন্ড)

ছোটগল্প
রমনা পার্কে

আত্মজীবনী
- বিন্দু-বিসর্গ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০২২.
'আয়নায় বন্ধুর মুখ' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. রণেশ দাশগুপ্ত
  4. নীলামা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
- "আয়নায় বন্ধুর মুখ" মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটকটির রচয়িতা আবদুল্লাহ আল মামুন।
- এটি ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পথ হারানো তারুণ্য, ঘরের বাইরে বাঙালি মেয়েদের সীমাবদ্ধতা- এসবই ছিল আয়নায় বন্ধুর মুখ-এর উপজীব্য।

• আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,০২৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. চোখের বালি
  2. যোগাযোগ
  3. মালঞ্চ
  4. শেষ সপ্তক
সঠিক উত্তর:
শেষ সপ্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষ সপ্তক
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

অন্যদিকে,
• শেষ সপ্তক:
- 'শেষ সপ্তক' (১৯৩৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থের কবিতাগুলি গদ্যছন্দে লিখিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১০,০২৪.
রামমোহন রায় রচিত ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা কোনটি?
  1. বেদান্তসার
  2. গোস্বামীর সহিত বিচার
  3. বেদান্তগ্রন্থ
  4. ভট্টাচার্যের সহিত বিচার
সঠিক উত্তর:
বেদান্তগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেদান্তগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
বেদান্তগ্রন্থ:
- ‘বেদান্তগ্রন্থ’ (১৮১৫) রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা
- বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।

রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন।
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
১০,০২৫.
'মুক্তল হোসেন' কোন ধারার সাহিত্য?
  1. লোকসাহিত্য
  2. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  3. মর্সিয়া
  4. নাথসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া
ব্যাখ্যা
•'মুক্তল হোসেন' কাব্য:
- 'মুক্তল হোসেন' মুহম্মদ খান রচিত ফারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।
- মুহম্মদ খান 'মক্তুল হোসেন' কাব্য রচনা করে যথেষ্ট খ্যাতি লাভ করেছিলেন।
- ১৬৪৫ সালে 'মক্তুল হোসেন' কাব্য রচিত হয়। এই কাব্যটি ফারসি 'মক্তুল হোসেন' কাব্যের ভাবানুবাদ।
- কবির বৃদ্ধ অবস্থায় এটি রচিত। কাব্যটিতে কবি প্রতিভার উৎকর্ষের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে।

মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- আরবি ‘মর্সিয়া’ শব্দের অর্থ শোক।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তার গ্রন্থের নাম জয়নাবের চৌতিশা (১৫৭০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০,০২৬.
প্রথম বাঙালি কবি বিবেচনা করা হয় কাকে?
  1. ক) মীননাথ
  2. খ) ভুসুকুপা
  3. গ) শবরপা
  4. ঘ) লুইপা
সঠিক উত্তর:
ক) মীননাথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মীননাথ
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটিতে ''চর্যাপদের প্রথম বাঙালি কবি'' কে সেটা জানতে চাওয়া হয়নি। বরং ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে প্রথম বাঙালি কবি কে সেটা জানতে চাওয়া হয়েছে।
ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন,
১) শবর পা চর্যাপদের আদি কবি।
২) মৎস্যেন্দ্রনাথ তথা মীননাথ প্রথম বাঙালি কবি। মীননাথের চর্যাপদে কোন পদ নেই। ২১ নং চর্যার টীকাতে কেবল ৪টি পঙক্তির উল্লেখ রয়েছে।

এটা নিয়ে অবশ্য বিভেদ আছে। যেমনভাবে - বিভেদ আছে প্রাচীন ও মধ্য যুগের আরও অনেক তথ্য নিয়ে। তবে, প্রশ্নে স্পেসিফিক তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।
তাই, উত্তর পুরোপুরি ঠিক আছে।

সুত্র: [বাংলা সাহিত্যের কথা - ১ম খন্ড ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, বাংলা সাহত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল হক]
১০,০২৭.
বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র কোনটি? 
  1. সমাচার দর্পন
  2. বঙ্গদর্শন 
  3. কল্লোল 
  4. দৈনিক আজাদী 
সঠিক উত্তর:
সমাচার দর্পন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাচার দর্পন
ব্যাখ্যা

• 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র- 'সমাচার দর্পণ'।  
- পত্রিকাটি ছিল সাপ্তাহিক।
- ১৮১৮ সালের মে মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

• জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
- দিগদর্শন,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া ও
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১০,০২৮.
A Code of Gentoo Laws কে রচনা করেন?
  1. ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. ব্রাশি হ্যালহ্যাড
  3. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ব্রাশি হ্যালহ্যাড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাশি হ্যালহ্যাড
ব্যাখ্যা

ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড,(১৭৫১-১৮৩০) প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক।
> তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও বাংলা লিপি ব্যবহার করেন। এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান রচনার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
> তিনি শেরিডনের সঙ্গে যৌথ প্রচেষ্টায় The Love Epistles of Aristaenetus শীর্ষক গ্রন্থটি গ্রিক ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করে বেশ খ্যাতি ও সুনাম অর্জন করেন।
> হেস্টিংসের অনুরোধে তিনি এক বিশাল আইনগ্রন্থ রচনা করেন: A Code of Gentoo Laws, or Ordinations of the Pundits। গ্রন্থটি ১৭৭৬ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়। এটি মূলত হিন্দু আইনশাস্ত্রের একটি সারসংকলন, যা এগারোজন ব্রাহ্মণ পন্ডিত সংস্কৃত ভাষায় সংকলন করেন। পরে একজন মুন্সি এটি প্রথমে ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেন এবং সেখান থেকে হ্যালহেড ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। 
> তাঁর A Grammar of the Bengal Language গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থ প্রকাশের পর হ্যালহেড লন্ডনে ফিরে যান ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

১০,০২৯.
চর্যাপদের নিচের কোন পদটি সম্পূর্ণভাবে পাওয়া গেছে?
  1. ২৪ নং
  2. ২৫ নং
  3. ৪৮ নং
  4. ৪৬ নং
সঠিক উত্তর:
৪৬ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৬ নং
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে  মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের মোট পদের সংখ্যা - ৫১টি ও প্রাপ্ত পদ সাড়ে ৪৬টি।
- চর্যাপদের ২৩ নম্বর পদটি খণ্ডিত পাওয়া গেছে।
- এই পদের ৬ টি পঙক্তি পাওয়া গেছে, বাকি ৪ টি পঙক্তি পদ পাওয়া যায়নি।
- এর রচয়িতা - ভুসুকুপা।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায় নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,০৩০.
‘উদয়াচল প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং হাউস’ এর পরিচালনার সাথে জড়িত ছিলেন কোন সাহিত্যিক?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. আবু ইসহাক
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

 মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। 
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে স্থাপন করা থেকে ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি সহোদরের সঙ্গে যৌথভাবে ‘উদয়াচল প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং হাউস’ পরিচালনা করেন।
- একইসঙ্গে তিনি বঙ্গশ্রী (১৯৩৭-৩৯) পত্রিকার সহকারী সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জননী' (১৯৩৫)।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী', 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
-  ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- সোনার চেয়ে দামী,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- অমৃতস্য পুত্রা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প ইত্যাদি৷

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,০৩১.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোন গ্রন্থে প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন?
  1. বর্ণপরিচয়
  2. ভ্রান্তিবিলাস
  3. শকুন্তলা
  4. বেতাল পঞ্চবিংশতি
সঠিক উত্তর:
বেতাল পঞ্চবিংশতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেতাল পঞ্চবিংশতি
ব্যাখ্যা

বেতাল পঞ্চবিংশতি:
- 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। এটি হিন্দি বৈতাল পচ্চীসীর অনুবাদ।
- গ্রন্থটি ১৮৪৭ সালে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক পদবী বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- তাঁকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। তিনি প্রথম গদ্যে যতিচিহ বা বিরামচিহ্নের ব্যবহার শুরু করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কে ১৮৩৯ সালে কলকাতা'র সংস্কৃত কলেজ থেকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়। অসাধারণ মেধার কারণে তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,০৩২.
বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক কোনটি?
  1. তপস্বী ও তরঙ্গিণী
  2. পরিক্রমা
  3. কঙ্কাবতী
  4. লালমেঘ
সঠিক উত্তর:
তপস্বী ও তরঙ্গিণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তপস্বী ও তরঙ্গিণী
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক - তপস্বী ও তরঙ্গিণী

বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।
- হুমায়ুন কবিরের সাথে তাঁর সম্পাদিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা 'চতুরঙ্গ'।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- মৌলিনাথ,
- নীলাঞ্জনের খাতা,
- রাত ভরে বৃষ্টি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী
- বন্দীর বন্দনা
- কঙ্কাবতী
- যে আধাঁর আলোর অধিক
- মরচেপড়া পেরেকের গান
- একদিন চিরদিন
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়ামালঞ্চ
- তপস্বী ও তরঙ্গিণী
- কলকাতার ইলেক্ট্রা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,০৩৩.
ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যাপদের কোন ভাষার অনুবাদ প্রকাশিত হয়?
  1. সংস্কৃত ভাষার 
  2. তিব্বতি ভাষার
  3. সান্ধ্য ভাষার 
  4. বাংলা ভাষার 
সঠিক উত্তর:
তিব্বতি ভাষার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিব্বতি ভাষার
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।
- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।

- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।
চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।

- ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'। নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন।

- মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন। কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'।

- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১০,০৩৪.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত বাংলা ভাষা বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিহাস'
  2. 'বাঙ্গলা সাহিত্যের ইতিহাস'
  3. 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত'
  4. 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত'
সঠিক উত্তর:
'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত'
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত'
ব্যাখ্যা
• 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
- এটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত হয়। 
- গ্রন্থটি বাংলা ভাষার উৎপত্তি, বিকাশ ও ইতিহাস নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগ্রন্থ।

অন্যদিকে,
'বাঙ্গলা সাহিত্যের ইতিহাস' - এটি সুকুমার সেনের গ্রন্থ।
'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' - এটি মুহম্মদ আবদুল হাইর গ্রন্থ।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভাণ্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৩৫.
'বেহুলা গীতাভিনয়' কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. প্রবন্ধ
  4. আত্মজীবনী
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
• 'বেহুলা গীতাভিনয়' মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি - নাটক।

মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর (১৮৩১) ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
উপন্যাস:
- রত্নবতী।
- বিষাদ-সিন্ধু।
- উদাসীন পথিকের মনের কথা।
- তহমিনা।
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী ইত্যাদি।

• নাটক:
- বসন্তকুমারী নাটক।
- জমিদার দর্পণ।
- নিয়তি কি অবনতি।
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রবন্ধ:
- গো-জীবন।
- এসলামের জয়।

প্রহসন:
- এর উপায় কি।
- টালা অভিনয়।

কাব্য:
- গোরাই-ব্রিজ অথবা গৌরী-সেতু।
- মদিনার গৌরব।
- মোসলেম বীরত্ব।
- বাজীমাত।

আত্মজীবনী:
- আমার জীবনী।
- আমার জীবনীর জীবনী বিবি কুলসুম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৩৬.
'বায়ান্নোর জবানবন্দী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  3. আকবর আলী খান
  4. এম. আর আখতার মুকুল
সঠিক উত্তর:
এম. আর আখতার মুকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. আর আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা
• 'বায়ান্নোর জবানবন্দী' গ্রন্থের রচয়িতা - এম. আর আখতার মুকুল। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৭ সালে।

এম. আর আখতার মুকুল:

- এম আর আখতার মুকুল সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান ‘চরমপত্র’-এর কথক।
- তাঁর জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে।
- ১৯৮৭ সালে দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র সম্পাদনার দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছুদিন কাজ করেছেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- রূপালী বাতাস,
- রূপালী বাতাস সোনালী আকাশ,
- মুজিবের রক্তলাল,
- ভাসানী মুজিবের রাজনীতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,০৩৭.
‘কালকেতু’ কোন মঙ্গলকাব্যের চরিত্র?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৩৮.
বিরুপার গুরু ছিলেন -
  1. কুক্কুরীপা
  2. শান্তিপা
  3. লুইপা
  4. জালন্ধরীপা
সঠিক উত্তর:
জালন্ধরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জালন্ধরীপা
ব্যাখ্যা
বিরুপা:
- বিরুপা'র অবস্থান ছিলো, অষ্টম শতকের ত্রিপুরায়।
- বিরুপার গুরু ছিলেন - জালন্ধরীপা। তার রচর্যাপদে পদের সংখ্যা একটি। তিনি ৩নং পদ রচনা করেন।
- এই পদে বর্ণিত হয়েছে, শুঁড়িবাড়ির উপযুক্ত চিত্র। বলা হয়েছে, এক শুঁড়িনী দুই ঘরে ঢুকে বাকল দিয়ে মদের পাত্র বাধেঁ।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
১০,০৩৯.
বৌদ্ধদের কোন সম্প্রদায়ের সাধকগণ চর্যাপদ রচনা করেন?
  1. মহাযানী
  2. সহজযানী
  3. হীনযানী
  4. বজ্রযানী
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সহজযানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহজযানী
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন ⎯ চর্যাপদ। এটি মূলত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। চর্যাপদের বিষয়বস্তু ছিল বৌদ্ধ ধর্মমতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।

সহজিয়া বলতে বোঝায়-
• সহজিয়া একটি বিশেষ ধর্মসম্প্রদায়, যারা সহজপথে সাধনা করে। ‘সহজ’ শব্দের অর্থ যা সঙ্গে সঙ্গেই জন্মায়। জীব বা জড়ের বাহ্য রূপের সঙ্গে সঙ্গে তার ভেতরেও একটি শাশ্বত স্বরূপ জন্মলাভ করে। এই শাশ্বত স্বরূপই ‘সহজ’। এর উপলব্ধির মধ্য দিয়েই যাবতীয় প্রাণী ও বস্ত্তর উপলব্ধি হয়। আর এই উপলব্ধির প্রণালীই হলো সহজপথ।

• সহজিয়ারা দুই ভাগে বিভক্ত বৌদ্ধ সহজিয়া ও বৈষ্ণব সহজিয়া। বৌদ্ধ সহজিয়াদের উদ্ভব বজ্রযানী বৌদ্ধদের থেকে এবং তাদেরই অনুকরণে বৈষ্ণবদের একটি অংশ বৈষ্ণব সহজিয়া নামে পরিচিত হয়।

• বৌদ্ধ সহজিয়া মতবাদ সহজযান নামে পরিচিত। বজ্রযানী বৌদ্ধদের মধ্যে মন্ত্র-তন্ত্র, পূজার্চনা, ব্রত-নিয়ম, শাস্ত্রপাঠ ইত্যাদির প্রাবল্য দেখা দিলে তাদেরই একটি অংশ উপলব্ধি করে যে, এসব শাস্ত্রাচার পালন নিরর্থক; প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই বোধি বা বুদ্ধ আছেন এবং কেবল সহজ-সাধনায় তাঁকে উপলব্ধি করতে পারলেই মোক্ষলাভ করা যায়। এভাবেই পাল রাজাদের আমলে বাংলায় বৌদ্ধ সহজিয়া মতের উদ্ভব হয়।

• বৃহত্তর অর্থে বৌদ্ধধর্মের যে মহাযান ধর্মমত, তাই পরে বজ্রযান, কালচক্রযান, মন্ত্রযান, সহজযান ইত্যাদি উপবিভাগে বিভক্ত হয়।
• চর্যাপদের রচয়িতাগণ বৌদ্ধধর্মের সহজযান মতের অনুসারী ছিলেন।

• সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে ‘বৌদ্ধ সহজিয়াগণ’ বা সহজযান বৌদ্ধরা ছিলেন চর্যাপদের কবি। সুতরাং অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে অপশন ‘সহজযানী’ গ্রহণ করা হলো।

চর্যাপদ সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্য:

- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।
- চর্যাপদের ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। এবং চর্যাপদের ২৪, ২৫, ৪৮নং পদগুলো পাওয়া যায়নি। 
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, বীণাপা, আর্যদেব, ঢেণ্ডুণপা প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা (১ম খণ্ড), গোপাল হালদার; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১০,০৪০.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য-
  1. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. ইমপ্রেস অফ ইন্ডে
  4. নীল দর্পণ অর দি ইন্ডিগো প্ল্যান্টিং মিরর
সঠিক উত্তর:
ব্রজাঙ্গনা কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রজাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মহাকবি, নাট্যকার, মধুসূদন বাংলা সাহিত্যের তিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার জনক ও পথ নির্মাতা।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শৈশবে মা জাহ্নবী দেবীর কাছে শিক্ষার শুরু; রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ প্রভৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠেন মায়ের মাধ্যমেই।
- ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন বাংলার এই মহা কবি কপর্দকহীন অবস্থায় জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

♦♦ সাহিত্যকর্ম:
- মাইকেল রচিত বাংলা ভাষায় প্রকাশিত ১২টি গ্রন্থ এবং ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ৫টি গ্রন্থ রয়েছে।
- ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক।
- এটিই বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সার্থক মৌলিক নাটক।
- হোমারের ইলিয়াড অবলম্বনে ১৮৭১ সালে তিনি রচনা করেন হেক্টরবধ।
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য।
- তাঁর শেষ রচনা মায়াকানন নাটক।

♦ মাইকেল ও অমিত্রাক্ষর ছন্দ:
- ১৮৬০ সালে তিনি গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনী নিয়ে রচনা করেন পদ্মাবতী নাটক।
- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্য - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।

♦ অনুবাদ গ্রন্থ:
হেক্‌টর-বধ।

♦ কাব্যনাট্য:
রিজিয়া: ইমপ্রেস অফ ইন্ডে।

♦ অনুবাদ নাটক: 
- শর্মিষ্ঠা, 
- নীল দর্পণ অর দি ইন্ডিগো প্ল্যান্টিং মিরর।

♦ প্রবন্ধ সাহিত্য: 
- দি অ্যাংলো-স্যাক্সন অ্যান্ড দ্য হিন্দু।

তথ্যসূত্র -
১..বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
২. ডেইলি স্টার বাংলা,
৩. জনকণ্ঠ।
৪. বাংলাপিডিয়া।
১০,০৪১.
আব্দুল্লাহ আল মুতী কত সালে ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক কলিঙ্গ পুরস্কার  লাভ করেন? 
  1. ক) ১৯৮৩
  2. খ) ১৯৭৩
  3. গ) ১৯৬৩
  4. ঘ) ১৯৭৪
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৮৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৮৩
ব্যাখ্যা
- আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন (১ জানুয়ারি ১৯৩০ - ৩০ নভেম্বর ১৯৯৮) বাংলাদেশের একজন শিক্ষাবিদ, –বিজ্ঞান লেখক, বিজ্ঞান কর্মী এবং সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন।
- তিনি আবদুল্লাহ আল-মুতী নামেই সমধিক পরিচিত।
- বিজ্ঞান জনপ্রিয়করার জন্য ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক কলিঙ্গ পুরস্কার (১৯৮৩)।


উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১০,০৪২.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ?
  1. রুদ্রমঙ্গল
  2. মানুষের শিক্ষা
  3. পঞ্চভূত
  4. ধর্ম শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
পঞ্চভূত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চভূত
ব্যাখ্যা

• 'পঞ্চভূত' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ১৮৯৭ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়ারি' নামে ছাপা হয়।
- ক্ষিতি, স্রোতস্বিনি, দীপ্তি, সমীর ও গগন এই পাঁচটি চরিত্রের মধ্যে আলোচনার রীতিতে মূলত তত্ত্ব বিষয়ক সমস্যার সরস ও গভীর বিশ্লেষণ।
- রঙ্গ-ব্যঙ্গ সাহিত্যের মধ্যেও কেউ কেউ ফেলেন ।
- আসলে রবীন্দ্রনাথের পরিবারের ৫ জন ব্যক্তির অভিজ্ঞতার আলোকে লিখিত হয়েছে।
- এটি ‘লেখক ভূতনাথ বাবু’ লেখক নামে সাধনা পত্রিকায় ‘পঞ্চভূতের ডায়েরি' নামে ছাপা হতো।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- মানুষের ধর্ম।

অন্যদিকে,
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ- রুদ্রমঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,০৪৩.
'দেশে বিদেশে' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - সৈয়দ মুজতবা আলী। এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- এটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৪৪.
নিচের কোনটি আবুল মনসুর আহমদের গল্পগ্রন্থ নয়?
  1. ক) ফুড কনফারেন্স
  2. খ) জীবনক্ষুধা
  3. গ) আসমানী পর্দা
  4. ঘ) আয়না
সঠিক উত্তর:
খ) জীবনক্ষুধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জীবনক্ষুধা
ব্যাখ্যা
সত্য মিথ্যা, জীবনক্ষুধা, আবে হায়াত আবুল মনসুর আহমদের উপন্যাস। আয়না, ফুড কনফারেন্স ও আসমানী পর্দা তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০,০৪৫.
'ওঙ্কার' উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. আহমদ ছফা
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. হাসান হাফিজুল হক
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
• 'ওঙ্কার' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'আহমদ ছফা'। 

• 'ওঙ্কার' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে।
- আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে।
- আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 
-------------------
• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। 
- ষাটের দশকে তাঁর সাহিত্য-জীবনের সূচনা হয়।
- সৃষ্টিধর্মী লেখক হিসেবে তিনি গল্প,  উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ,  শিশুসাহিত্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব দেখান।
- ছফার চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে তাঁর দুটি উল্লেখযোগ্য রচনা বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস ও বাঙালি মুসলমানের মন-এ।
- তাঁর মৃত্যু হয় ২০০১ সালের ২৮ জুলাই।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্পবৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১০,০৪৬.
‘অন্তরে যাদের এত গোলামির ভাব, তারা বাইরের গোলামি থেকে রেহাই পাবে কী করে?’। -কার রচনার অংশ?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ‘অন্তরে যাদের এত গোলামির ভাব, তারা বাইরের গোলামি থেকে রেহাই পাবে কী করে?’ এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অন্তর্গত। 

⇒ কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্প ‘বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী’।
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ ৩টি। যথা:
- ব্যাথার দান (প্রথম প্রকাশিত),
- শিউলিমালা ও
- রিক্তের বেদন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৪৭.
মুনীর চৌধুরী রচিত 'কবর' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. প্রহসন
  2. কারা- সাহিত্য
  3. রম্যরচনা
  4. জীবনীসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
কারা- সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারা- সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• মুনীর চৌধুরী রচিত 'কবর' কে কারা- সাহিত্য বলা হয়। 

• কারা- সাহিত্য:
- কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় রচিত সাহিত্য 'কারা- সাহিত্য' হিসেবে স্বীকৃত।
- তবে কারাগার থেকে বাইরে গিয়েও এ ধরনের লেখা হতে পারে।
- রচয়িতার জেলে জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
- কারাগারের সংকীর্ণ জীবনের বাইরে কল্পনার বিস্তার ঘটাবেন সত্য কিন্তু কারাজীবনের অভিজ্ঞতার ছাপ থাকবে তার রচনায়।
- অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যেমন কারাসাহিত্য লিখেছেন তেমনি অনেক শিল্পী ও সাহিত্যিক কারা সাহিত্য রচনা করেছেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম জেলে বসে লেখেন 'রাজবন্দীর জবানবন্দী, সত্যেন সেন লেখেন 'অভিশপ্ত নগরী' ও পাপের সন্তান';
- মুনীর চৌধুরীর 'কবর' কারা সাহিত্য হিসেবে গণ্য।
- শেখ মুজিবুর রহমানের 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বা 'কারাগারের রোজনামচা', মতিয়া চৌধুরীর 'দেয়াল দিয়ে ঘেরা' ইত্যাদিও এ ধারার গ্রন্থ।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১০,০৪৮.
”নির্জন স্বাক্ষর” উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আমিয় চক্রবর্তী
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. আবুল হাসান
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• "নির্জন স্বাক্ষর" উপন্যাস:
- উপন্যাসটির রচয়িতা- বুদ্ধদেব বসু।

- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র সোমেন, যিনি মূলত একজন লেখক।
- সোমেন প্রথমে অধ্যাপক হিশেবে কলকাতার একটি কলেজে চাকরি নেয়; কিন্তু ঐ চাকরির টাকায় সংসার চালাতে ব্যর্থ হয়ে সে একটি বেসরকারি বিজ্ঞাপন কোম্পানিতে চাকরি নেয়।
- ফলে সোমেন লেখা বাদ দিয়ে প্রথাগত জীবনে ঢুকে পড়ে।
- এভাবেই সোমেন স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে প্রথাগত জীবন চালাতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
- নির্জন স্বাক্ষর নামে জীবনানন্দ দাশের একটি মায়াবী কবিতাও আছে।

• বুদ্ধদেব বসু:

- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা-প্রগতি (১৯২৭-১৯), কবিতা (১৩৪২-৪৭)
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় তিনি 'বাসন্তিকা' পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- হুমায়ুন কবিরের সাথে তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা 'চতুরঙ্গ'।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,০৪৯.
কোন লেখকের ছদ্মনাম 'দাদাভাই'?
  1. প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
  2. রোকনুজ্জামান খান
  3. বিমল মিত্র
  4. বিমল ঘোষ
সঠিক উত্তর:
রোকনুজ্জামান খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোকনুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
রোকনুজ্জামান খান:
- তিনি সাংবাদিক, শিশুসংগঠক ছিলেন।
- নূরজাহান সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৫৫ সালে তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় যোগদান করে ‘দাদাভাই’ ছদ্মনামে শিশুদের পাতায়।
- ‘কচি-কাঁচার আসর’ সম্পাদনা শুরু করেন এবং আমৃত্যু এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- আর এ থেকেই তিনি ‘দাদাভাই’ নামে দেশব্যাপী পরিচিত হয়ে ওঠেন।

অন্যদিকে,
শ্রীমতী রাধামণি দেবী - প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়।
মৌমাছি - বিমল ঘোষ।
জাবালি - বিমল মিত্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৫০.
কোন রাজার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগের সূচনা হয়?
  1. গোপাল
  2. লক্ষ্মণ সেন
  3. সম্রাট আকবর
  4. সিরাজউদ্দৌলা
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মণ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মণ সেন
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ রচিত হয়েছিলো ৯৫০ - ১২০০  অব্দের মধ্যে। 
- এর পরপরই বাংলা সাহিত্যে নেমে এসেছিলো করুণ অন্ধকার, সে আঁধার প্রায় দেড়শো বছর টিকেছিলো। 
- ১২০০-১৩৫০ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে লেখা কোন সাহিত্য আমাদের নেই। 
- এই জন্য বাংলা সাহিত্যে এই সময়টাকে বলা হয় অন্ধকার যুগ।
- ১২০০ থেকে ১২০৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে বাঙলায় আসে মুসলমানেরা।
- অনেকে মনে করেন মুসলমানেরা এত অত্যাচার উৎপীড়ন চালিয়েছিলো যে কারো মনে সাহিত্যের কথা জাগে নি। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১০,০৫১.
চর্যাপদের পদকর্তাদের নামের সঙ্গে যুক্ত ‘পা’ এর অর্থ কী?
  1. পদ
  2. সাধক
  3. কবি
  4. বাউল
সঠিক উত্তর:
কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
চর্যাপদের পদকর্তারা ‘পদ’ (কবিতা) রচনা করতেন বলে তাদেরকে সম্মান করে ‘পাদ’ (কবি) বলা হত।
- ‘পাদ’ শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ হলো ‘পা’, যার অর্থ কবি।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,০৫২.
‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ কার লেখা?
  1. ক) এস. ওয়াজেদ আলী
  2. খ) আবুল হাসেম
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) আবুল হুসেন
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৮) গ্রন্থটির রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ
- এটি একটি আত্মজীবনী মূলক বই।
আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক আরেকটি গ্রন্থ হলো: ‘শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু’ (১৯৭৩)।

তার অন্যান্য সাহিত্যকর্ম:
আত্মজীবনী: – আত্মকথা।
শিশু সাহিত্যে:- মুসলমানী কথা, ছোটদের কাসাসুল আম্বিয়া, গালিভারের সফরনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৫৩.
'বেদান্তগ্রন্থ' কোন গ্রন্থের অনুবাদ ও টীকা?
  1. গীতা
  2. ব্রহ্মসূত্র
  3. উপনিষদ
  4. বেদ
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মসূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মসূত্র
ব্যাখ্যা
‘বেদান্তগ্রন্থ’:
- এটি রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা। বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।

রামমোহন রায় রচিত গ্রন্থ:
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৫৪.
’সধবার একাদশী’ প্রহসনের রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা

• সধবার একাদশী:
- 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনি নিয়ে নাটকটির রচিত।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নিমচাঁদ,
- কেনারাম,
- সৌদামিনী,
- গিন্নী,
- কাঞ্চন ইত্যাদি।

• দীনবন্ধু মিত্র:

- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

• তাঁর রচিত নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০,০৫৫.
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সময়সীমা কবে থেকে শুরু?
  1. ১৭৫৭
  2. ১৮০১
  3. ১৮৫৭
  4. ১৮১৮
সঠিক উত্তর:
১৮০১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০১
ব্যাখ্যা
আধুনিক যুগ:
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- ১৮০০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়টুকু ছিলো প্রথম পর্যায়।
- ১৮০১ সালে শুরু হয় আধুনিক যুগ।
- ১৮৬০ সাল থেকে আধুনিক যুগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়।
- আধুনিক যুগের প্রথম পর্যায়ে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হয়।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্য রচিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ' কাব্যের মাধ্যমে মহাকাব্যের ধারার প্রবর্তন হয়।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৫৬.
'কালের কলস' কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'কালের কলস' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা: 'আল মাহমুদ'। 

• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
-  তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- 'সোনালি কাবিন' তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
- ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ৮২ বছর বয়সে ঢাকার ধানমণ্ডির ইবনে সিনা হাসপাতা‌লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর।
- কালের কলস।
- সোনালী কাবিন।
- বখতিয়ারের ঘোড়া।
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না।
- পাখির কাছে ফুলের কাছে।
- প্রেমের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,০৫৭.
‘গুণরাজ খাঁ’ উপাধি কোন কাব্যের জন্য দেওয়া হয়?
  1. ক) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন 
  2. খ) শ্রীকৃষ্ণবিজয়
  3. গ) শূন্যপুরাণ
  4. ঘ) রামায়ণ
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীকৃষ্ণবিজয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীকৃষ্ণবিজয়
ব্যাখ্যা
‘গুণরাজ খাঁ’ উপাধি শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্যের জন্য দেওয়া হয়।
- মালাধর বসু সংস্কৃত শ্রীমদ্ভাগবত অবলম্বনে পয়ার ছন্দে কৃষ্ণলীলা বিষয়ক উপাখ্যান  শ্রীকৃষ্ণবিজয় রচনা করেন ১৪৮০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। এই কাব্যের জন্য গৌড়েশ্বর তাঁকে ‘গুণরাজ খাঁ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- এটি ‘মঙ্গল’ বা ‘বিজয়’ জাতীয় পাঁচালি বা আখ্যানকাব্য হিসেবে পরিচিত তাই এর অন্য নাম গোবিন্দমঙ্গল বা গোবিন্দবিজয়।
- এই পাঁচালিকাব্য বাংলার অনুবাদ শাখার ও একটি প্রাচীনতম নিদর্শন বলে অনেকে মনে করেন।
- শ্রীকৃষ্ণবিজয় মালাধর বসু (১৫শ-১৬শ শতক) রচিত একটি আখ্যানকাব্য। এটি সংস্কৃত ভাগবতের দশম
ও একাদশ অধ্যায় অনুসরণে রচিত।

উৎস : বাংলাপিডিয়া।
১০,০৫৮.
কবি কাজী নজরুল ইসলামের - 'বিদ্রোহী' কবিতাটি কোন ছন্দে লিখিত হয়েছে?
  1. মাত্রাবৃত্ত
  2. অক্ষরবৃত্ত
  3. অমিত্রাক্ষর
  4. স্বরবৃত্ত 
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
ব্যাখ্যা

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা। 
- ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

- ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় “মাত্রাবৃত্ত ছন্দ” ব্যবহৃত হয়েছে। কবিতাটি ২ + ৬ + ৪ পূর্ণমাত্রাকারে সুবিন্যস্ত।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।এর মূলে রয়েছে বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

উল্লেখ্য,
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া, প্রথম আলো পত্রিকা।

১০,০৫৯.
'কাশিমের লড়াই' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) হায়াত মাহমুদ
  2. খ) আলাওল
  3. গ) বাহারাম খান
  4. ঘ) শেরবাজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) শেরবাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শেরবাজ
ব্যাখ্যা
কবি শেরবাজ চৌধুরীর আদি নিবাস ত্রিপুরা জেলায়। তিনি সতের শতকের শেষার্ধের কবি বলে অনুমান করা হয়। তাঁর রচিত কাব্য কাশিমের লড়াই। মহররমের একটি ক্ষুদ্র বিবরণী এ কাব্যে স্থান পেয়েছে। তাঁর অন্যান্য কাব্য- ফক্করনামা বা মল্লিকার হাজার সওয়াল, ফাতেমার সুরতনামা। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১০,০৬০.
'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা কে?
  1. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. নবীনচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা- 'গোবিন্দচন্দ্র দাস'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

• গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি  ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের স্বভাব কবি হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর কবিতায় পূর্ববঙ্গের প্রাকৃতিক শোভা, বস্ত্তনিষ্ঠতা এবং গভীর পত্নিপ্রেম ফুটে উঠেছে। 
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন। কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

 • তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস (১৯১০) ইত্যাদি।
এছাড়াও তিনি অ্যালেন হিউমের অ্যায়োত্রক কবিতা এবং ভগবদ্গীতার কাব্যানুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,০৬১.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. কবি কঙ্কন
  2. কবি কণ্ঠহার
  3. কবিরত্ন
  4. কবিরঞ্জন
সঠিক উত্তর:
কবিরত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিরত্ন
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম - কবিরত্ন

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। 
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র-আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থরেণু, 
- তীর্থ-সলিল,
- মণি মঞ্জুষা।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- চীনের ধূপ, 
- ছন্দ-সরস্বতী।

অন্যদিকে,
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি - কবি কঙ্কন।
• বিদ্যাপতির উপাধি - কবি কণ্ঠহার।
• রামপ্রসাদ সেনের উপাধি - কবিরঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,০৬২.
আবদুল্লাহ গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) নাম না জানা ভোর
  2. খ) দিলরুবা
  3. গ) কলকাতা
  4. ঘ) উত্তর বসন্ত
সঠিক উত্তর:
ক) নাম না জানা ভোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নাম না জানা ভোর
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস হলোঃ ‘নাম না জানা ভোর’ (১৯৬২) এতে ভাগ্যান্বেষী এক গ্রাম্য যুবকের শহুরে উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে উত্তরণের ইতিকথা বর্ণিত হয়েছে। ‘ দিলরুবা’ ও ‘ উত্তর বসন্ত’ হলো আবদুল কাদির রচিত কাব্য। ‘কলকাতা’ হলো আবদুল মান্নান সৈয়দ এর উপন্যাস। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১০,০৬৩.
স্বর্ণকুমারী দেবী কোন পত্রিকা সম্পাদনা করে খ্যাতি লাভ করেন?
  1. সাধনা 
  2. বলাকা 
  3. ভারতী 
  4. বালক 
সঠিক উত্তর:
ভারতী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতী 
ব্যাখ্যা

• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী। তিনি ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণকুমারী সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রাখেন এবং জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল ও সাহিত্য কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে সক্রিয় স্বর্ণকুমারী দেবী বিধবা ও দরিদ্র নারীদের সাহায্যার্থে 'সখী সমিতি' নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক 'জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে' ভূষিত হন।
- ১৯২৯ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা,
- কবিতা ও গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,০৬৪.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. কুহেলিকা
  2. বাঁধন-হারা
  3. মৃত্যু-ক্ষুধা
  4. অগ্নিবীণা
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ২৪ মে ১৮৯৯ সালে।
- তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- নজরুলের কবি ও শিল্পী জীবনের শুরু এ লেটোদল থেকেই।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- জাতীয় কবি মৃত্যু বরণ করেন ২৯ আগস্ট ১৯৭৬।
- কাজী নজরুলের রচিত উপন্যাস সমূহ: 

• বাঁধন-হারা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস বাঁধন-হারা।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।

• মৃত্যু-ক্ষুধা:
- মৃত্যু-ক্ষুধা উপন্যাসটি একটি সামাজিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে সওগত পত্রিকায় চাপা হয়।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র - আনাস, রুবি, মেজো- বৌ, প্যাঁকালে, কুর্শি।

• কুহেলিকা: 
- কুহেলিকা উপন্যাসটি রাজনৈতিক উপন্যাস ।
- ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে এটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,০৬৫.
'ভবিষ্যতের বাঙালি' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) এস ওয়াজেদ আলী
  2. খ) কাজী আবদুল ওদুদ
  3. গ) আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
ক) এস ওয়াজেদ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
এস ওয়াজেদ আলী রচিত প্রবন্ধ- ভবিষ্যতের বাঙালি, প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, আকবরের রাষ্ট্র সাধনা, জীবনের শিল্প ইত্যাদি।  
১০,০৬৬.
অমিয় চক্রবর্তীর 'বাংলাদেশ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. এক মুঠো
  2. মাটির দেয়াল
  3. অনিঃশেষ
  4. খসড়া
সঠিক উত্তর:
অনিঃশেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিঃশেষ
ব্যাখ্যা

'বাংলাদেশ' কবিতা: 
- এটি ‘অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- বাংলাদেশ কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত। 
- এর রচয়িতা অমিয় চক্রবর্তী।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- এতে উল্লেখ আছে পদ্মা, যমুনা নদী ও প্রকৃতির কথা ।

উল্লেখ্য,
- অমিয় চক্রবর্তীর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে।
- তিনি জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- খসড়া, 
- এক মুঠো, 
- মাটির দেয়াল, 
- অভিজ্ঞান বসন্ত, 
- অনিঃশেষ, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,০৬৭.
অমিয় চক্রবর্তীকে ‘দেশিকোত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  3. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমী
সঠিক উত্তর:
বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী ছিলেন একজন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন। পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)। এবং রবীন্দ্রনাথে সাথে তিনি বহুদেশ ভ্রমণ করেন।
- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫। তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই ‘কবিতাবলী’। 
- বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৬৮.
বিদ্রোহের বাণী বহনকারী 'রঞ্জন' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটকে?
  1. বিসর্জন
  2. রক্তকরবী
  3. অচলায়তন
  4. প্রায়শ্চিত্ত
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
ব্যাখ্যা

• 'রক্তকরবী' নাটক:
- "রক্তকরবী" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি রূপক-সাংকেতিক নাটক, যা প্রথমত 'যক্ষপুরী' নামে লেখা হয়েছিল এবং ১৯২৪ সালে 'প্রবাসীতে' প্রকাশিত হওয়ার পর এর নামকরণ হয় 'রক্তকরবী'।

- নাটকটি একটি স্বৈরাচারী রাজ্যের অধীনে থাকা এক সাহসী নারীর গল্প বলে, যেখানে যক্ষপুরীর অর্থনীতি তার সোনার খনির উপর নির্ভরশীল, এবং কেন্দ্রীয় চরিত্র নন্দিনীর মৃত্যুর মাধ্যমে এর ট্র্যাজিক পরিণতি ঘটে। 

- রক্তকরবীতে 'ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের' জয়গান গাওয়া হয়েছে।

- নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- নন্দিনী ও রঞ্জন। নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।  'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে।শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

অন্যদিকে, 
-------------------------------
• 'বিসর্জন' নাটক:
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির মধ্যে অন্যতম। এই নাটকে রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং নিজে প্রধান দুটি চরিত্র অভিনয় করেন। ১৮৯০-এ রঘুপতি, এবং ১৯২৩-এ জয়সিংহের ভূমিকায়।
- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। এই নাটকের বিষয়বস্তু হচ্ছে, উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনি বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র গুলো হলো: রঘুপতি, গুণবতী, গোবিন্দমাণিক্য, অপর্ণা, জয়সিংহ।

• 'অচলায়তন’ নাটক: 
- 'অচলায়তন’ নাটকে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক প্রাধান‍্য পেয়েছে, দ্বন্দ্বের মধ‍্য দিয়ে সেই সম্পর্ক স্পষ্টতা লাভ করেছে। মানুষের তৈরি বহুদিনের অর্জিত অন্ধ ও বিকৃত সংস্কার এবং অনুশাসনগুলি সমাজকে কীভাবে নাগপাশের সহস্র বন্ধনে বেঁধে রেখেছে তার স্বরূপ প্রকাশ করে সেখান থেকে মুক্তির কথা বলেছেন ‘অচলায়তন’ নাটকে।
- 'অচলায়তন' নাটকের প্রধান চরিত্রগুলি হলো-  পঞ্চক, গুরু, মহাপঞ্চক, সূতসোম, এবং অন্যান্য অচলায়তনের ছাত্র ও শিক্ষকরা। 

• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথের 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'। এই নাটকেই ধনঞ্জয় বৈরাগী চরিত্রের আবির্ভাব। নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানবভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।  টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ 'পরিত্রাণ' নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: সুরমা, ধনঞ্জয় বাউল, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,০৬৯.
সেক্সপীয়রের 'মার্চেন্ট অব ভেনিস' অবলম্বনে হরচন্দ্র ঘোষের অনুবাদ নাটক কোনটি?
  1. অভিজ্ঞান শকুন্তলা
  2. কংসবধ 
  3. বেণীসংহার
  4. ভানুমতী চিত্তবিলাস
সঠিক উত্তর:
ভানুমতী চিত্তবিলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভানুমতী চিত্তবিলাস
ব্যাখ্যা

• অনুবাদ নাটক বাংলা নাটকের বিকাশের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল। এই ক্ষেত্রে হরচন্দ্র ঘোষের অনুবাদ নাটকের কথা উল্লেখযোগ্য।
- তাঁর 'ভানুমতী চিত্তবিলাস' (১৮৫২) যথাক্রমে সেক্সপীয়রের 'মার্চেন্ট অব ভেনিস' এর ভাবানুবাদ এবং 'চারুমুখ চিত্তহারা' (১৮৬৪) যথাক্রমে 'রোমিও জুলিয়েটে'র ভাবানুবাদ।

অন্যদিকে, 
• অভিজ্ঞান শকুন্তলা, বেণীসংহার ও কংসবধ রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত নাটক।   

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১০,০৭০.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্য কোনটি?
  1. অষ্টপ্রহর
  2. তিন পুরুষ
  3. সন্ধিক্ষণ
  4. সাত নম্বর ওয়ার্ড
সঠিক উত্তর:
সন্ধিক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধিক্ষণ
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্য - সন্ধিক্ষণ

অন্যদিকে,
• সরদার জয়েনউদ্‌দীন রচিত ছোটগল্প - অষ্টপ্রহর।
• সমর সেন রচিত কাব্যগ্রন্থ - তিন পুরুষ।
• সত্যেন সেন রচিত উপন্যাস - সাত নম্বর ওয়ার্ড।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
 - কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত  ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম  লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,০৭১.
কোনটি রাজিয়া খান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস?
  1. ফেরারী সূর্য
  2. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  3. দ্রৌপদী
  4. অদ্ভুত আঁধার এক
সঠিক উত্তর:
দ্রৌপদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রৌপদী
ব্যাখ্যা
⇒ 'দ্রৌপদী' উপন্যাস:
• রাজিয়া খান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'দ্রৌপদী' এপার ওপার দুই বাংলায় বেশ সমাদৃত। 
• ১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। এবং শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোগে কলকাতা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
• উপন্যাস বিষয়ে রাজিয়া খান বলেন: আমার যেসব শিক্ষক, ছাত্র, বন্ধু হানাদারদের হাতে খুন হয়েছেন তাঁদের স্মৃতির ভার কিছুটা লাঘব হয়েছে, এ উপন্যাস লিখে। যেসব চক্রান্ত দুই বাংলার মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে, মুক্তিযুদ্ধের মহিমাকে খাটো করেছে, তার বিরুদ্ধেও এ এক ধরনের প্রতিবাদ। যদিও রাজনৈতিক প্রচারে উপন্যাসের পরিমণ্ডল দুষ্ট করতে আমি চাই নি।

⇒ রাজিয়া খান:
• রাজিয়া খান ১৯৩৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
• রাজিয়া খান এম.এ. পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পর কর্মজীবনের শুরু করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে। 
• পরবর্তীতে ইংল্যান্ড থেকে ফিরে তিনি অবজারভার পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীতে যোগ দেন এবং নিয়মিত ভাবে ব্যঙ্গ কলাম- 'কালচার কেটল' লেখা শুরু করেন। 
• পঞ্চাশ দশকে সাহিত্য ও সংস্কৃতির অনুরাগী ও প্রগতিবাদী লেখিকা হিসেবে লেখালেখি করেছেন রাজিয়া খান। বাংলাদেশের উপন্যাসে নারীভাবমূর্তি সৃষ্টিতে নারী লেখকদের মধ্যে তাই আকিমুন রহমান তাকে প্রথম দিককার একজন মনে করেন।
• আর ১৫ বছর বয়সেই পুরোদস্তুর উপন্যাস লিখতে শুরু করেন তিনি, আর ১৮ বছর বয়সেই লেখা হয়ে যায় ‘বট তলার উপন্যাস’। ১৮ বছর বয়সে তাঁর লেখা 'বটতলার উপন্যাস' জনপ্রিয়তা পায়।
•  তিনি খুব বেশি লিখে গিয়েছেন তেমন নয়, কিন্তু যা লিখে গেছেন তাতে জটিলায়তন নগরজীবন-অন্তর্গত ব্যক্তিমানুষের নৈঃসঙ্গ, বিচ্ছিন্নতা ও আত্মরক্তক্ষরণের শিল্পরূপায়ন করেছেন।

অন্যদিকে,
- 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ গবেষণাগ্রন্থ।
- ‘ফেরারী সূর্য’ রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ।
- ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ শামসুর রহমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: 'দ্রৌপদী' উপন্যাস রাজিয়া খান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৭২.
মীর মশাররফ হােসেন সাহিত্য রচনা করেছেন কোন ছদ্মনামে ?
  1. ক) কমলাকান্ত
  2. খ) উদাসীন পথিক
  3. গ) পরশুরাম
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) উদাসীন পথিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উদাসীন পথিক
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন- 
- গৌড়তটবাসী মশা 
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

• 'উদাসীন পথিক' ছদ্মনামে মশাররফ হোসেন তাঁর ব্যক্তিজীবনের পটভূমিতে রচনা করেছেন 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' (১৮৯০)। 
- গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবন নির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনা মিশেল উপন্যাসসূলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা। 

• 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে মশাররফ হোসেন তাঁর কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনী মূলক রচনা 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী'।
- এতে লেখক নিজেকে ভেড়াকান্ত নামে উল্লেখ করেন। 
- এতে বঙ্কিমের 'কমলাকান্তের দপ্তর' -এর প্রভাব পাওয়া যায়। 

অন্যদিকে, 
কমলাকান্ত - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
পরশুরাম - রাজশেখর বসু এর ছদ্মনাম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৭৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম জীবনীগ্রন্থ কোনটি?
  1. চৈতন্য-মঙ্গল
  2. চৈতন্য-পাদবলি
  3. চৈতন্য-ভাগবত
  4. চৈতন্য-চরিতমৃত
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-ভাগবত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-ভাগবত
ব্যাখ্যা

পরীক্ষা চলাকালীন অপশনে 'চৈতন্য-ভাগবত' এর পরিবর্তে 'চৈতন্য-ভাগতব' ছিল। 
বিষয়টি নজরে আসায় সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে। 
-------------- 

চৈতন্য-ভাগবত:
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- নিত্যনন্দ প্রভুর উৎসাহে চৈতন্যদেবের মৃত্যুর পনের বছরের মধ্যেই গ্রন্থটি রচিত বলে পণ্ডিতগণ মনে করেন।
- চৈতন্যদেবের জীবতে অনুচরদের মুখ থেকে তথ্য বৃত্তান্ত সংগ্রহ করে এই জীবনী রচিত হয়েছিলো।

অন্যদিকে,
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,০৭৪.
’আমীর হামজা’ কাব্য রচনা করেন কে?
  1. ক) আলাওল
  2. খ) ফকির গরীবুল্লাহ
  3. গ) সৈয়দ হামজা
  4. ঘ) রেজাউদৌলা
সঠিক উত্তর:
খ) ফকির গরীবুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফকির গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ফকির গরীবুল্লাহ্‌।
- তিনি ’আমীর হামজা’ কাব্য রচনা করেন।

• ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য-
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- সােনাভান,
- জঙ্গনামা,
- সত্যপীরের পুঁথি ও
- ইউসুফ জোলেখা। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১০,০৭৫.
'বেঙ্গল গেজেট' - কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা

'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,০৭৬.
’পথের পাঁচালী’ উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকায়?
  1. বঙ্গদর্শন 
  2. দিকদর্শন 
  3. বিচিত্রা
  4. সবুজপত্র
সঠিক উত্তর:
বিচিত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচিত্রা
ব্যাখ্যা
• পথের পাঁচালী:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৭৭.
মীর মোশাররফ হোসেন রচিত ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস -
  1. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  2. জমীদার দর্পণ
  3. বসন্তকুমারী
  4. বিষাদ সিন্ধু
সঠিক উত্তর:
বিষাদ সিন্ধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষাদ সিন্ধু
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৭৮.
আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ছায়া হরিণ
  2. সারা দুপুর
  3. রাত্রিশেষে
  4. দু'হাতে দুই আদিম পাথর
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
ব্যাখ্যা
'রাত্রিশেষে' কাব্যগ্রন্থ:
- কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'রাত্রিশেষে'।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।  
- কাব্যগ্রন্থে চার ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।
- এতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৮ টি। 

আহসান হাবীব:

- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবিব-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।   

আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত), 
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, 
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর, 
- ছায়া হরিণ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৭৯.
নিচের কোনটি নবীনচন্দ্র সেনের আত্মজীবনী?
  1. ক) আমার জীবন
  2. খ) প্রভাস
  3. গ) রৈবতক
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক) আমার জীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আমার জীবন
ব্যাখ্যা
• 'আমার জীবন' নবীনচন্দ্র সেনের আত্মজীবনী। 

• নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি।
- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

• রৈবতক (১৮৮৭), কুরুক্ষেত্র (১৮৯৩) ও প্রভাস (১৮৯৬) কাব্যত্রয়ী নবীনচন্দ্রের কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ। এগুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত। কাহিনীর বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।

নবীনচন্দ্রের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।

- তিনি ভগবদ্গীতা ও চন্ডীর কাব্যানুবাদ করেন।
- তাঁর আত্মজীবনী আমার জীবন  গ্রন্থখানি উপন্যাসের মতো সুখপাঠ্য এবং সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও প্রশাসন সম্পর্কিত একটি প্রামাণ্য দলিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,০৮০.
'বনের পরে বন চলেছে বনের নাহি শেষ,
ফুলের ফলের সুবাস ভরা এ কোন পরির দেশ?' - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• বনের পরে বন চলেছে বনের নাহি শেষ,
ফুলের ফলের সুবাস ভরা এ কোন্ পরীর দেশ? - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা জসীম উদ্‌দীন। 
----------------------
দেশ - কবিতা, ---'মাটির কান্না'কাব্যগ্রন্থ।
- জসীম উদ্‌দীন। 

খেতের পরে খেত চলেছে, খেতের নাহি শেষ
সবুজ হাওয়ায় দুলছে ও কার এলো মাথার কেশ।
সেই কেশেতে গয়না ও পরায় প্রজাপতির ঝাঁক,
চঞ্চুতে জল ছিটায় সেথা কালো কালো কাক।
সাদা সাদা বক-কনেরা রচে সেথায় মালা,
শরৎকালের শিশির সেথা জ্বালায মানিক আলা।
তারি মায়ায় থোকা থোকা দোলে ধানের ছড়া,
মার আঁচলের পরশ যেন সকল অভাব-হরা।
সেই ফসলে আসমানীদের নেইকো অধিকার,
জীর্ণ পাঁজর বুকের হাড়ে জ্বলছে হাহাকার।

বনের পরে বন চলেছে বনের নাহি শেষ,
ফুলের ফলের সুবাস ভরা এ কোন্ পরীর দেশ? (সংক্ষেপিত)।
--------------- 
জসীমউদদীন: 

- কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দিন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) দেশ - কবিতা, জসীমউদ্‌দীন। 
১০,০৮১.
'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. কায়কোবাদ
  4. বেগম রোকেয়া
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা

• “চাষার দুক্ষু” বেগম রোকেয়া রচিত - প্রবন্ধ।

• 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধ: 

- 'চাষার দুক্ষু' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত প্রবন্ধ।
- 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয় 'চাষার দারিদ্র্য'।
- 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে 'ধান ভানতে শিবের গীত' বাগ্‌ধারার উল্লেখ আছে।
- 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত বাংলা একাডেমি প্রকাশিত 'রোকেয়া রচনাবলী' থেকে চয়ন করা হয়েছে।
- এ প্রবন্ধে লেখক তৎকালীন সভ্যতার নামে এক শ্রেণির মানুষের বিলাসিতা ও অন্যদিকে দারিদ্র্যপীড়িত কৃষকদের বঞ্চনার কথা ব্যক্ত করেছেন।
- কৃষকদের এই মুমূর্ষু অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য তিনি শিক্ষা বিস্তারে পাঠশালা প্রতিষ্ঠার উপর এবং গ্রামীণ কুটির শিল্পের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
- 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধ থেকে,
- আমাদের বঙ্গভূমি সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা,-তবু চাষার উদরে অন্ন নাই কেন? ইহার উত্তর শ্রদ্ধাস্পদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দিয়াছেন, “ধান্য তার বসুন্ধরা যার”। তাইতো অভাগা চাষা কে? সে কেবল “ক্ষেতে ক্ষেতে পুইড়া মরিবে”, হাল বহন করিবে, আর পাট উৎপাদন করিবে। 

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
• বাংলায় নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া তার স্বামীর অনুপ্রেরণায় সাহিত্য চর্চা শুরু করেন।
- তিনি সমাজের প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লেখনি ধারণ করেন ।
- নারীর অধিকার আদায়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মুসলিম মহিলা সমিতি |

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ)
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

১০,০৮২.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক -
  1. চাঁদের অমাবস্যা
  2. লালসালু
  3. তরঙ্গভঙ্গ
  4. প্রসন্ন পাষাণ
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গভঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গভঙ্গ
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক - তরঙ্গভঙ্গ।

‘তরঙ্গভঙ্গ’ নাটক (১৯৬৬):
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌র পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক ‘তরঙ্গভঙ্গ’।
- অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
-  এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে - বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার, সাক্ষী মতলুব আলী।
- মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে  সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।
- এ নাটকের একটি সংলাপ ‘ভেবেছিলেন জজ  সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।’

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উল্লেখ্য,
প্রসন্ন পাষাণ - রশীদ করীম রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৮৩.
চলিত রীতি প্রতিষ্ঠায় কোন পত্রিকার নাম স্মরণীয়?
  1. সবুজপত্র
  2. শিখা
  3. দিগদর্শন
  4. সমকাল
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যের চলতি রীতির প্রচলণের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে সবুজপত্র পত্রিকা। 
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 
- ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১০,০৮৪.
বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপান্ডবের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন-
  1. ক) বিষ্ণু দে
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক) বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপান্ডব বলে পরিচিত কবিরা রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় রবীন্দ্র বলয়ের বাইরে গিয়ে কবিতা রচনা করেছিলেন।
এই পাঁচজন কবি হচ্ছেন -
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- জীবনানন্দ দাস,
- বিষ্ণু দে এবং
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

তারা সবাই কল্লোল পত্রিকায় লিখতেন। এই পঞ্চপান্ডবেরাই আধুনিক বাংলা কবিতার সূচনা করেছিলেন। শুধু রবীন্দ্রবলয়ের কথা বললে তাদেরকে খাটো করে দেখা হবে, মৌলিকত্ব এবং মানে তাদের রচনা সত্যিই অসাধারণ ছিলো।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,০৮৫.
'মধুমালতী' কাব্যের কাহিনী কোন অঞ্চলের?
  1. পারস্য
  2. গ্রিক
  3. ভারতীয়
  4. আরবীয়
সঠিক উত্তর:
ভারতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতীয়
ব্যাখ্যা

'মধুমালতী' কাব্য:
- মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন। এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন। তবে একমাত্র সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,০৮৬.
"আজি এ প্রভাতে রবির কর, কেমনে পশিল প্রাণের পর।" - পঙ্‌ক্তিদ্বয় বিখ্যাত কবিতার অন্তর্গত?
  1. প্রভাত
  2. নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
  3. মরণ
  4. কড়ি কোমল
সঠিক উত্তর:
নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
ব্যাখ্যা

'প্রভাতসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রভাতসঙ্গীত কাব্যগ্রন্থটি ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে।
- এতে একুশটি কবিতা আছে।
- এ কাব্যের গুরুত্বপূর্ণ কবিতা 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ'।

'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতাটির অংশ বিশেষ:

আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের পর,
কেমনে পশিল  গুহার আঁধারে
প্রভাত-পাখির গান।
না জানি কেন রে  এতদিন পরে
জাগিয়া উঠিল প্রাণ।

উৎস: রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,০৮৭.
কীর্তিচন্দ্র কোন ভাষায় চর্যাপদ অনুবাদ করেন?
  1. সংস্কৃত ভাষায়
  2. তিব্বতী ভাষায়
  3. হিন্দি ভাষায়
  4. বাংলা ভাষায় 
সঠিক উত্তর:
তিব্বতী ভাষায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিব্বতী ভাষায়
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন। আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতী ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন এবং তা প্রকাশ করে চর্যার জট উন্মোচন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,০৮৮.
সরহপা'র শিষ্য কে ছিলেন?
  1. রাজা দেবপাল
  2. রাজা বিজয়পাল
  3. রাজা রত্নপাল
  4. রাজা ধর্মপাল
সঠিক উত্তর:
রাজা রত্নপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রত্নপাল
ব্যাখ্যা
সরহপা:
- সরহপা ছিলেন ব্রাহ্মণ। তাঁর জন্মস্থান রাজ্ঞীদেশ সম্ভবত উত্তরবঙ্গ-কামরূপ।
- কামরূপের রাজা রত্নপাল (১০০০-৩০ সাল) ছিলেন তাঁর শিষ্য। তিনি এগার শতকের প্রথমার্ধে জীবিত ছিলেন।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন। তাঁর পদাবলীর ভাষা বঙ্গ-কামরূপী।
- তিনি ছিলেন ভিক্ষু ও সিদ্ধা। তিনি বহু গ্রন্থের রচয়িতা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০,০৮৯.
"গ্যাব্রোভোবাসীর রস-রসিকতা" - প্রবন্ধটির রচয়িতা কে?
  1. সুফী মোতাহার হোসেন
  2. মুহাম্মদ এনামুল হক
  3. সেলিনা হোসেন 
  4. মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ এনামুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা

• 'গ্যাব্রোভোবাসীর রস-রসিকতা' গ্রন্থটির রচয়িতা- মুহাম্মদ এনামুল হক। 
------------------------- 
• মুহম্মদ এনামুল হক: 
- ১৯০২ সালে বর্তমান চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় অন্যতম প্রধান পন্ডিত ব্যক্তি।  
- মুহম্মদ এনামুল হক মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ও ইতিহাস এবং বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ বিষয়ে দুরূহ গবেষণা কর্মে বিশেষ অবদান রেখেছেন। 
- ১৯২৯ হতে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি পেয়ে এনামুল হক অধ্যাপক  সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের অধীনে গবেষণা করেন।
- তাঁর গবেষণার বিষয়বস্ত্ত ছিল ‘History of Sufism in Bengal’। 
- বাংলা একাডেমী তাঁর নামে ‘মুহম্মদ এনামুল হক সাহিত্য পদক’ প্রচলন করে।
- ১৯৮২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

• মুহম্মদ এনামুল হক রচিত গ্রন্থ:
- আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য
- 'মনীষা মঞ্জুষা',
- ঝর্ণাধারা (১৯২৮, কবিতা সংকলন),
- বঙ্গে সূফী প্রভাব (১৯৩৫),
- ব্যাকরণ মঞ্জুরি (১৯৫২)।
-----------
'গ্যাব্রোভোবাসীর রস-রসিকতা':
- তার বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি- বুলগেরিয়া ভ্রমণ।
- 'গ্যাব্রোভোবাসীর রস-রসিকতা' ভ্রমনকাহিনির রচয়িতা মুহম্মদ এনামুল হক। 
- মুহম্মদ এনামুল হকের 'গ্যাব্রোভোবাসীর রস-রসিকতা' একটি বিখ্যাত বাংলা প্রবন্ধ যা বুলগেরিয়ার গ্যাব্রোভো শহরের মানুষের কৃপণতা ও তাদের নিয়ে প্রচলিত মজার মজার কৌতুক এবং জীবনযাত্রার বর্ণনা দেয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,০৯০.
'গাছপাথর' ছদ্মনামে লিখতেন-
  1. ক) শামসুজ্জামান খান
  2. খ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. গ) সরদার জয়েনউদ্দিন
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
খ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী একজন বাংলাদেশি লেখক, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক। বাকস্বাধীনতা, মানবিক অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক আন্দোলনের পুরোধা। দীর্ঘকাল তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্য যাদের নিরলস অবদানে সমৃদ্ধ, তিনি তাঁদের মাঝে অন্যতম। তিনি মার্কসবাদী চিন্তা-চেতনায় উদ্বুদ্ধ, প্রগতিশীল ও মুক্তমনা। তিনি নতুন দিগন্ত পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। ১৯৮০-এর দশকে 'গাছপাথর' ছদ্মনামে তিনি দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন লিখে খ্যাতি অর্জন করেন।‌ শিক্ষায় অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন।
১০,০৯১.
'রঘুপতি ও গুণবতী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত কোন নাটকের চরিত্র?
  1. রক্তকবরী
  2. বিসর্জন
  3. ডাকঘর
  4. প্রায়শ্চিত্ত
সঠিক উত্তর:
বিসর্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্জন
ব্যাখ্যা
'বিসর্জন' নাটক:
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির মধ্যে অন্যতম।
- এই নাটকে রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং নিজে প্রধান দুটি চরিত্র অভিনয় করেন।
- ১৮৯০-এ রঘুপতি, এবং ১৯২৩-এ জয়সিংহের ভূমিকায়। এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু হচ্ছে, উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনি বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র গুলো হলো:
- রঘুপতি,
- গুণবতী
,
- গোবিন্দমাণিক্য,
- অপর্ণা,
- জয়সিংহ।

---------------------
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৯২.
'ছায়াময়ী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'ছায়াময়ী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। 

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- ১৮৫৯ সালে  প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে তিনি বিএ পাস করেন।
- ১৮৬১ সালে তিনি এলএল এবং ১৮৬৬ সালে বিএল ডিগ্রি লাভ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ চিন্তাতরঙ্গিণী ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা হচ্ছে বৃত্রসংহার (২ খন্ড, ১৮৭৫-৭) মহাকাব্য।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী
- বীরবাহু 
- আশাকানন 
- ছায়াময়ী 
- দশমহাবিদ্যা 
- নলিনী বসন্ত
- রোমিও-জুলিয়েট
- চিত্তবিকাশ ইত্যাদি।
খণ্ডকবিতা:
- জীবনসঙ্গীত
- গঙ্গার উৎপত্তি
- পদ্মের মৃণাল
- ভারতকাহিনী
- অশোকতরু প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,০৯৩.
সংশপ্তক উপন্যাসটির কে রচনা করেছেন?
  1. আল মাহমুদ
  2. শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. মাহমুদুল হক
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লাহ কায়সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লাহ কায়সার
ব্যাখ্যা
'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস।
- সংশপ্তক অর্থ হচ্ছে যে সৈনিকেরা জীবনমরণ বাজি রেখে যুদ্ধে লড়াই করে।
- জাহেদ আমাদের সেই সংশপ্তক যে মৃত্যুর আগেও লড়াই চালিয়ে যাবে।
- সংশপ্তক' উপন্যাস বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বাস্তবতার এক প্রামাণ্য দলিল।
- হিন্দু-মুসলিমের সহঅবস্থানে অসাম্প্রদায়িক জীবনবােধ উপন্যাসের অন্যতম অসাধারণ বিষয়।
- এই উপন্যাস দেশ, জাতি, মানুষ বাঁচানোর সংগ্রাম শুধু নয়, মানবিক চেতনাবোধ, আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক সমাজে গঠনের আবেদন ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে জানান দিয়েছেন লেখক ।
- সংশপ্তক কোনো উপন্যাস নয়, সংশপ্তক লেখকের রেখে যাওয়া বাঙালির ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য চিঠি। 
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জাহেদ, হুরমতি, লেকু, রমজান, রাবেয়া খাতুন (রাবু), সেকেন্দার, মালু, রামদয়াল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস সমূহ:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'সংশপ্তক' উপন্যাস।
১০,০৯৪.
নিচের কোনটি ভ্রমণ কাহিনী?
  1. ক) প্রাচ্য ও প্রতীচ্য
  2. খ) পশ্চিম ভারত
  3. গ) আকবরের রাষ্ট্র সাধনা
  4. ঘ) মাশুকের দরবার
সঠিক উত্তর:
খ) পশ্চিম ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পশ্চিম ভারত
ব্যাখ্যা
শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
তিনি ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালী (১৯৪৩),
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা (১৯৪৯),
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত (১৯৪৮),
- মোটর যোগে রাঁচী সফর (১৯৪৯) প্রভৃতি।
গল্প-
- গুলদাস্তা (১৯২৭),
- মাশুকের দরবার (১৯৩০),
- বাদশাহী গল্প (১৯৪৪),
- গল্পের মজলিশ (১৯৪৪);

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
১০,০৯৫.
জীবনানন্দ দাশ রচিত ''মৃত্যুর আগে'' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) বনলতা সেন
  2. খ) ধূসর পান্ডুলিপি
  3. গ) রূপসী বাংলা
  4. ঘ) বেলা অবেলা কালবেলা
  5. ঙ) সাতটি তারার তিমির
সঠিক উত্তর:
খ) ধূসর পান্ডুলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধূসর পান্ডুলিপি
ব্যাখ্যা
কবি জীবনান্দ দাশ রচিত ''মৃত্যুর আগে কবিতাটি'' ধূসর পান্ডুলিপি কাব্যের অন্তর্গত। এটির সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ বি ইয়েটস রচিত কবিতাটির The falling of the Leaves মিল রয়েছে। তার বিখ্যাত বনলতা সেন ও আবার আসিব ফিরে কবিতা দুটি যথাক্রমে বনলতা সেন ও রূপসী বাংলা কাব্যের অন্তর্গত।(সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
১০,০৯৬.
বাঙালির জাতীয় ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা কোনটি?
  1. ক) শিক্ষা আন্দোলন
  2. খ) ছয়দফা আন্দোলন
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধ
  4. ঘ) ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

অন্যদিকে,
- শিক্ষা আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬২ সালে।
- ছয়দফা আন্দোলন আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬৬-৬৮ সময়ে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৭১ সালে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,০৯৭.
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রের নাম কী?
  1. ক) ওরা এগারো জন
  2. খ) বসুন্ধরা
  3. গ) একাত্তরের যীশু
  4. ঘ) আবার তোরা মানুষ হ
সঠিক উত্তর:
খ) বসুন্ধরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বসুন্ধরা
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র'।
- 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র 'বসুন্ধরা' 
- ১৯৭৭ সালে এটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কায় পায়। 

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হলো :
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন
- কর্ণফুলী
- ক্ষুধা ও আশা
- খসড়া কাগজ
- স্বপ্নশিলা
- বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৯৮.
'কুহেলিকা' কাজী নজরুল ইসলামের কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়। 
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। 
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১০,০৯৯.
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল-
  1. ক) বৈষ্ণব পদাবলি
  2. খ) মঙ্গলকাব্য
  3. গ) রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. ঘ) নাথ সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
ক) বৈষ্ণব পদাবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বৈষ্ণব পদাবলি
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল - বৈষ্ণব পদাবলি।
'হুমায়ুন আজাদের ভাষায় - রাধা ও কৃষ্ণকে নিয়ে মধ্যযুগে সবচেয়ে সৌরভময় ফুল ফুটেছিলো৷ সে ফুলের নাম বৈষ্ণব কবিতা। বৈষ্ণব কবিতা বাংলা কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। একে যদি আলোর সাথে তুলনা করি তাহলে বলবো মধ্যযুগে এমন আলো আর জ্বলে নি।'
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ
১০,১০০.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে অধ্যাপনা করেন কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুন্শী‌
  2. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. জোশুয়া মার্শম্যান
  4. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীচরণ মুন্শী‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীচরণ মুন্শী‌
ব্যাখ্যা
চণ্ডীচরণ মুন্শী‌:
- চণ্ডীচরণ মুন্শী‌ অষ্টাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালী লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এটি ফারসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।