বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৮৩ / ২১১ · ৮,২০১৮,৩০০ / ২১,১৩২

৮,২০১.
দীনেশচন্দ্র সেন কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডি.লিট ডিগ্রী লাভ করেন?
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  3. মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• দীনেশচন্দ্র সেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডি.লিট ডিগ্রী লাভ করেন।

দীনেশচন্দ্র সেন:
- তিনি ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লী অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে প্রাচীন বাংলা পুঁথি ও লোককথা সংগ্রহ করেন।
- তাঁর সংগৃহীত পুঁথি থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' রচনা করেন।
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- তাঁর রচিত একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ - 'বঙ্গসাহিত্য পরিচয়'।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডি.লিট ডিগ্রী (১৯২১), জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯৩১), ও ভারত সরকার কর্তৃক রায় বাহাদুর (১৯২১) লাভ করেন।
- ১৯৩৯ সালের ২০ নভেম্বর বেহালায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,২০২.
'সীতার বনবাস' নাটকটি রচনা করেছেন -
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- 'সীতার বনবাস' নাটকটি রচনা করেছেন - গিরিশচন্দ্র ঘোষ। 
- নাটকটি ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়। 

গিরিশচন্দ্র ঘোষ:

- তিনি নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা ছিলেন।
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- তিনি প্রথমে হেয়ার স্কুল এবং পরে ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতে অধ্যয়ন করেন।
- কিন্তু বাল্যকালে পিতামাতার মৃত্যু হলে গিরিশচন্দ্র লেখাপড়ার প্রতি অনেকটা অমনোযোগী হয়ে ওঠেন।
- ১৮৬২ সালে পাইকপাড়া স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে এখানেই তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে।
- অবশ্য পরবর্তী জীবনে তিনি বন্ধু ব্রজবিহারী সোমের প্রভাবে প্রচুর পড়াশোনা করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- আগমনী
- অভিমন্যুবধ
- সীতার বনবাস 
- সীতাহরণ
- পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস 
- প্রফুল্ল 
- জনা 
- বলিদান 
- সিরাজদ্দৌলা
- মীরকাশিম 
- ছত্রপতি শিবাজী
- শঙ্করাচার্য

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলাপিডিয়া।
৮,২০৩.
কোনটি সেলিম আল দীন রচিত উপন্যাস?
  1. অমৃত উপাখ্যান
  2. জুলান
  3. যৈবতী কন্যার মন
  4. বাসন
ব্যাখ্যা

• ‘অমৃত উপাখ্যান’ উপন্যাস: 
- সেলিম আল দীন তাঁর ‘অমৃত উপাখ্যান’ উপন্যাসে ব্যক্তিগত জীবনের এক ঘটনাচিত্র উপস্থাপন করেছেন।

- তিনি বলেন, ‘কখনও আত্মজীবনীতে আমার ব্যক্তিগত প্রসঙ্গের লুপ্ত অংশগুলো যদি প্রকাশিত হয় তবে এ গল্পের উৎসাভাস পাঠকরা পাবেন নিশ্চয়ই’। আবার লেখক এই উপন্যাসকে ‘উপাখ্যানের লক্ষণযুক্ত’ বলে মনে করেছেন। এজন্যই তিনি তাঁর এই উপন্যাসের শুরুতেই বলেছেন, ‘উপাখ্যান হচ্ছে বিকেলের আলোয় মর্ত-পৃথিবীর উল্টা ছায়া। আঁধারের পাঁচ আঙ্গুল’। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, ‘উপাখ্যান হলো-বলতে বলতে মধ্যরাতে-কালীগঙ্গার ঢালুতীর-নেশাকর ধোঁয়া বাস্তবে মিশে গুপীযন্ত্রের সাথে হাত ধরাধরি করে নাচে’।

- মনজুরুল হাসান হাসু এবং এলিজার প্রেম কাহিনি ‘অমৃত উপাখ্যান’ উপন্যাসটির মূল উপজীব্য।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
এই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র হাসান একজন টেলিভিশন প্রডিউসার বা প্রযোজক। নবীন প্রযোজক হিসেবে বিতর্ক অনুষ্ঠান, আলোচনা অনুষ্ঠান প্রযোজনা করাই তার কাজ। একদিন টেলিভিশন স্টুডিওতে এক বিতর্ক অনুষ্ঠান ক্যামেরায় ধারণ করার সময় এলিজা চুপচাপ বসেছিল দর্শকসারিতে। ক্যামেরাম্যান কৌতূহলবশত এলিজাকে একাধিকবার ক্লোজশটে ধারণ করে। প্যানেলে বসে এলিজার সেই দৃশ্য হাসান অবলোকন করে আনন্দ মনে। শুধু তাই নয়, ক্যামেরার ক্লোজশটে মেয়েটির ছবি দেখার পর হাসানের মনে ‘এক অনামা নীলবর্ণ নদী রেখা’ তৈরি হয়।

অতঃপর শহরের একটি গানের দোকানে ক্যাসেটে গান রেকর্ডিং করতে গিয়ে হাসান ও এলিজার মধ্যে পরিচয় হয়। এই পরিচয় থেকেই ক্রমে তাদের মধ্যে রোমান্টিক প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। শেষ পর্যন্ত এলিজার আত্মহত্যার মধ্যদিয়ে এর কাহিনি সমাপ্ত হয়।

প্রেমের এই দৃশ্যপটের সঙ্গে হাসানের কল্পনা ও জীবন বাস্তবতার বিচিত্র ঘটনা এবং নানা চরিত্রের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং সুখ ও দুঃখ চিত্রিত হয়েছে অমৃত উপাখ্যান উপন্যাসটিতে। 

------------------------
সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- জুলান,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘অমৃত উপাখ্যান’ উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,২০৪.
‘ইতল বিতল’ শিশুতোষ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আহসান হাবীব
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. সুফিয়া কামাল
  4. ফররুখ আহমেদ
ব্যাখ্যা
‘ইতল বিতল’ শিশুতোষ গ্রন্থ: 
- সুফিয়া কামালের একগুচ্ছ ছড়া নিয়ে 'ইতল বিতল' প্রথমবার প্রকাশিত হয় ১৯৬৫ সালে।
- চট্টগ্রাম থেকে বইটি প্রকাশ করেন সৈয়দ মোঃ শফি, তাঁর শিশু সাহিত্য বিতানের মাধ্যমে।
- ছড়াগুলোর সাথে ছবি ও প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন তখন তরুণ, আজ প্রখ্যাত শিল্পী হাশেম খান।

⇒ সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘ইতল বিতল’ গ্রন্থ।
৮,২০৫.
চণ্ডীমঙ্গলের  সর্বশ্রেষ্ঠ কবি কে? 
  1. দ্বিজ মাধব
  2. মানিক দত্ত
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. দ্বিজরাম দেব
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীমঙ্গলের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
-------------------
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- চণ্ডীমঙ্গল মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান শাখা।
- এখানে লৌকিক দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য এবং পৃথিবীতে তাঁর পূজা প্রতিষ্ঠার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- এই ধারার আদি কবি হিসেবে খ্যাত- মানিক দত্ত। 
- এই ধারার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী বিশেষভাবে খ্যাত।
- তাঁর রচনায় চণ্ডীমঙ্গল সর্বাধিক সাহিত্যিক উৎকর্ষ লাভ করে।
- মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলে দেবীমাহাত্ম্যের পাশাপাশি সমসাময়িক বাঙালি সমাজের বাস্তব চিত্র স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিগণ হলেন -
- মানিকদত্ত, দ্বিজ মাধব, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, দ্বিজরাম দেব, মুক্তরাম সেন।

- এ কাব্যের প্রধান চরিত্র হলো -
- ফুল্লরা, কালকেতু, ধনপতি, ভাড়ুদত্ত, মুরারী শীল৷ বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঠগ চরিত্র ভাড়ুদত্ত।

- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য মূলত দুটি প্রধান কাহিনির সমন্বয়ে গঠিত—
• ব্যাধ কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, যা ‘আখেটিক খণ্ড’ নামে পরিচিত,
• এবং বণিক ধনপতি সদাগর ও খুল্লনার কাহিনি, যা ‘বণিক খণ্ড’ নামে অভিহিত।

- অধিকাংশ চণ্ডীমঙ্গলে কাব্যের কাঠামো দেবখণ্ড ও নরখণ্ডে বিভক্ত।
- দেবখণ্ডে দেবী চণ্ডীর সতী ও পার্বতী রূপের পৌরাণিক আখ্যান বর্ণিত হয়।
- আর নরখণ্ডে ব্যাধ ও বণিক শ্রেণির মানবজীবনের কাহিনি স্থান পায়।

- আখেটিক খণ্ডে দেখা যায়—
- দেবী চণ্ডীর ইচ্ছায় স্বর্গচ্যুত নীলাম্বর মর্ত্যে কালকেতু নামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এবং ছায়া দেবী ফুল্লরা রূপে আবির্ভূত হন।
- দরিদ্র ব্যাধ দম্পতির দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে চণ্ডীর কৃপায় গুজরাট নগরী প্রতিষ্ঠার কাহিনি এখানে বর্ণিত হয়েছে।

- অন্যদিকে বণিক খণ্ডে ধনপতি সদাগর ও তাঁর দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনার জীবনকাহিনি উঠে আসে।
- দেবী চণ্ডীর পূজা প্রচারের উদ্দেশ্যে ধনপতির সিংহল যাত্রা, সেখানে তাঁর বন্দিত্ব এবং শেষ পর্যন্ত চণ্ডীর অনুগ্রহে মুক্তিলাভ এই অংশের মূল ঘটনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৮,২০৬.
'কপিল দাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কপিলদাস একজন-
  1. ক) চাকমা
  2. খ) মারমা
  3. গ) সাওতাল
  4. ঘ) খাসিয়া
ব্যাখ্যা
'কপিল দাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পটি শওকত আলীর ‘লেলিহান সাধ' (১৯৭৭) গ্রন্থ থেকে সংকলন করা হয়েছে।
- কপিলদাস মুর্মু এক বৃদ্ধ সাঁওতাল।
- ভূমির অধিকার নিয়ে সাঁওতালদের রয়েছে রক্তে রঞ্জিত গৌরবােজ্জ্বল ঐতিহ্য।
- মাটির কাছাকাছি থাকা এই প্রবীণের এই অনিঃশেষ সংগ্রামশীলতার নান্দনিক রূপায়ণ ঘটেছে এই গল্পে। 

কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর বিখ্যাত উপন্যাস: 
- ওয়ারিশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- যাত্রা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস),
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের ক্ষেপ,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,২০৭.
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা'র সংগ্রাহক হলেন -
  1. জসীম উদ্দীন
  2. আশুতোষ চৌধুরী
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক। ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।
- দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,২০৮.
বিধ্বস্ত নীলিমা’র কবি কে?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) শহীদ কাদরী
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও একজন নাগরিক কবি ছিলেন শামসুর রহমান (১৯২৯-২০০৬)।
শামসুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- শূন্যতায় তুমি শোকসভা,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- শুনি হৃদয়ের ধ্বনি,
- অন্ধকার থেকে আলোয় ইত্যাদি।

শামসুর রহমান রচিত আত্মস্মৃতি গ্রন্থ:
- স্মৃতির শহর,
- কালের ধুলোয় লেখা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৮,২০৯.
কোনটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম ছিল না?
  1. নবকুমার
  2. কলমগীর
  3. ত্রিবিক্রম বর্মণ
  4. ভ্রমর
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন।
যেমন,
নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম ছিলো - 'ভ্রমর'।

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
 - কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত  ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম  লিখেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,২১০.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়?
  1.  ১৮৫৫ সালে
  2.  ১৮৫৬ সালে
  3.  ১৮৫৮ সালে
  4.  ১৮৬৮ সালে
ব্যাখ্যা

• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস। প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা। এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

-----------------
• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী। ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র। সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।

তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- আধ্যাত্রিকা,
- অভেদী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,২১১.
"আদবকায়দা শিক্ষা; স্ত্রীশিক্ষা"- গ্রন্থ কে রচনা করেন?
  1. বেগম রোকেয়া 
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. ড. লুৎফুর রহমান 
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী: 
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি "আদবকায়দা শিক্ষা; স্ত্রীশিক্ষা"- নামক গ্রন্থ রচনা করেন। এসব গ্রন্থে সমাজ ও সংসারের অভীপ্সিত উন্নতি ও কল্যাণ যে শিক্ষা ও স্বাধীনতা আনয়ন কর্মতে পারে তা বুক্ত হয়েছে। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- অনল প্রবাহ, 
- আকাঙ্ক্ষা, 
- উচ্ছ্বাস, 
- উদ্বোধন, 
- নব উদ্দীপনা, 
- স্পেন বিজয় কাব্য, 
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- রায়নন্দিনী, 
- তারাবাঈ, 
- ফিরোজা বেগম, 
- নূরুদ্দীন। 

তাঁর রচিত  প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন, 
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা। 

ভ্রমণ কাহিনী: 
 -তুরস্ক ভ্রমণ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৮,২১২.
'বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস'- প্রবন্ধটির রচয়িতা কে?
  1. আহমদ শরীফ
  2. আহমদ ছফা
  3. এস. ওয়াজেদ আলী
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• 'বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস'- প্রবন্ধটির রচয়িতা: আহমদ ছফা। 
------------------  
আহমদ ছফা:
- তিনি ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি 'উত্থানপর্ব' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- সূর্য তুমি সাথী, 
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- মরণ বিলাস, 
- বিহঙ্গ পুরাণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- জাগ্রত বাংলাদেশ,
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস,
- যদ্যপি আমার গুরু।

• তাঁর রচিত কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- গো হাকিম,
- দোলা আমার কনকচাঁপা।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নিহত নক্ষত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,২১৩.
কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্ম নয়?
  1. বিলাসী
  2. বিরাজ বৌ
  3. স্বদেশ অন্বেষা
  4. স্বদেশ ও সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• 'বিলাসী, বিরাজ বৌ, স্বদেশ ও সাহিত্য'- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্ম।

অন্যদিকে,
• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা - স্বদেশ অন্বেষা, স্বদেশ চিন্তা, সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা।
-----------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- দত্তা,
- বিরাজ-বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- পল্লীসমাজ,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী, 
- মামলার ফল ইত্যাদি।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ - স্বদেশ ও সাহিত্য।
- এটি সাহিত্য ও সাহিত্যিক বিষয়ক প্রবন্ধ। 
- এটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,২১৪.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. চণ্ডীচরণ মুনশী
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি আনুমানিক ১৭৩২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরির সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজর বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা
- তিনি ১৮১৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,২১৫.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. ক) সংবাদ প্রভাকর
  2. খ) সংবাদ প্রভাতী
  3. গ) পূর্বাশা
  4. ঘ) স্বদেশ
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত একজন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ।
- তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর’ এর সম্পাদক।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- বাংলা সাহিত্যে যুগ সন্ধিকাল ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ।
- বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
• ঈশ্বরচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ভারতচন্দ্র রায়, রামপ্রসাদ সেন, নিধুগুপ্ত, হরু ঠাকুর ও কয়েকজন কবিয়ালের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮,২১৬.
বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি করেন কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. সুকুমার রায় 
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি 'ছন্দের জাদুকর' ও ' ছন্দোরাজ' নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী' প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,২১৭.
'সাতটি তারার ঝিকিমিকি' গ্রন্থটি কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

• 'সাতটি তারার ঝিকিমিকি' শিশু-কিশোর গল্পগ্রন্থ রচনা করেন - জাহানারা ইমাম

জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮,২১৮.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. অনুপমা দেবী
  2. অনুরূপা দেবী
  3. নীহারিকা দেবী
  4. অন্নকালী দেবী
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্ৰী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৮,২১৯.
মোহিতলাল মজুমদার রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. কবি শ্রীমধূদন
  2. কাব্য সঞ্চয়ন
  3. হেমন্ত গোধূলী
  4. সন্ধিক্ষণ
ব্যাখ্যা
• মোহিতলাল মজুমদার : 
- কবি, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যসমালোচক। 
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলির বলাগড়ে।
- পেশায় তিনি একজন অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।
- তিনি তাঁর সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলিতে ‘কৃত্তিবাস ওঝা’, ‘সব্যসাচী’, ‘শ্রী সত্যসুন্দর দাস’ ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তিনি মৃত্যুবরণ করেন ২৬ জুলাই ১৯৫২ সালে। 

• তাঁর প্রকশিত কাব্যগ্রন্থ :
- স্বপন,
- বিস্ময়,
- স্মরগল,
- হেমন্ত গোধূলী,

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ : 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- সাহিত্যকথা,
- বিচিত্র কথা,
- কবি শ্রীমধূদন,

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ :
- সন্ধিক্ষণ ,
- কাব্য সঞ্চয়ন

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,২২০.
'কঙ্ক ও লীলা' নিচের কোনটির অন্তর্গত?
  1. ক) পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  2. খ) মৈমনসিংহ গীতিকা
  3. গ) মধ্যযুগের গীতিকবিতা
  4. ঘ) নাথ গীতিকা
ব্যাখ্যা
উল্লেখযোগ্য ময়মনসিংহ গীতিকাগুলো হলো:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮,২২১.
কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি? 
  1. বেনু ও বীনা
  2. মাল্য ও নির্মাল্য
  3. আলো ও ছায়া
  4. দীপ ও ধূপ
ব্যাখ্যা

'বেনু ও বীনা' সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ।

কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক এবং পেশায় বিচারক ছিলেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক লাভ করেন।
- কামিনী রায় ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- আলো ও ছায়া (প্রথম কাব্যগ্রন্থ, ১৮৮৯),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত,
- অম্বা (নাটককাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে,
- পৌরাণিকী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া। 

৮,২২২.
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) হুমায়ুন আজাদ
  2. খ) হুমায়ুন কবির
  3. গ) দীনেশচন্দ্র সেন
  4. ঘ) জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা

- দীনেশচন্দ্র সেন রচিত গ্রন্থ 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৬ সালে।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ।
- 'বাংলা সাহিত্যের কথা' প্রবন্ধের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত প্রবন্ধের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থের রচয়িতা সুকুমার সেন।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৮,২২৩.
নিচের কোন সাল বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ?
  1. ১৮৫৭ খ্রি.
  2. ১৮৬৫ খ্রি.
  3. ১৮৬১ খ্রি.
  4. ১৯০৫ খ্রি.
ব্যাখ্যা
⇒ ১৮৬১ সন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'এর জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (বাংলা ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ)।
• বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক মহাকাব্য মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- মধুসূদনের শ্রেষ্ঠ নাটক কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১) বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি।

তাছাড়া, 
• 'ঢাকা প্রকাশ' ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা।
• এটি ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ প্রথম প্রকাশিত হয়।
• প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,২২৪.
’বনফুল’ ছদ্মনামে লিখতেন কে?
  1. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. নীহাররঞ্জন গুপ্ত
ব্যাখ্যা
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
- তিনি একজন কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার।
- তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে পরিচিত।
- জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই বিহারের পূর্ণিয়া জেলার মণিহারী গ্রামে।
- বলাইচাঁদের পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল হুগলি জেলার শিয়ালখালায়। 
- স্কুলে পড়ার সময়ে তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে কবিতা রচনা করেন।

তাঁর রচিত কাব্যসংকলন:
-  বনফুলের কবিতা ,
- অঙ্গারপর্ণী,
- চতুর্দশী ,
- আহবনীয়,
- করকমলেষু , 
- বনফুলের ব্যঙ্গ কবিতা,
- নতুন বাঁকে,
- প্রভৃতি তাঁর কাব্য সংকলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৮,২২৫.
'সাত ভাই চম্পা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• 'সাত ভাই চম্পা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- বিষ্ণু দে। 
- কাব্যটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
--------------- 
বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
 
তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
 
৮,২২৬.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ -
  1. গীতিগুচ্ছ
  2. ছাড়পত্র
  3. হরতাল
  4. আকাল
ব্যাখ্যা
আকাল:
- ‘আকাল' (১৯৪৩) একটি সংকলন। পঞ্চাশের মন্বন্তর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৮,২২৭.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. যে রাতে পূর্ণিমা ছিল
  2. হাঙর নদী গ্রেনেড
  3. ফাঁদ
  4. উজান বাঁশি
ব্যাখ্যা
'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়। তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি। হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।

অন্যদিকে,
- শহীদুল জহিরের রচিত উপন্যাস 'যে রাতে পূর্ণিমা ছিল জীবন'। এটি একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা উপন্যাস। এটি ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস।
৮,২২৮.
'শব্দতত্ত্ব' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
• 'শব্দতত্ত্ব':
- শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গ্রন্থ হলো- 'শব্দতত্ত্ব'।
- 'শব্দতত্ত্ব' বইটিতে রবীন্দ্রনাথের প্রায় সারাজীবনের ভাষাচিন্তা, মতান্তর, বিশ্লেষণ-প্রবণতা, ধারণার বিবর্তন ইত্যাদি মুদ্রিত হয়ে আছে।
- মূলত এখানে বাংলাভাষার স্বভাব ও স্বাতন্ত্র্য আবিষ্কারের চেষ্টা করা হয়েছে।

---------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবিপ্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনেরো বছর বয়সে তাঁর বনফুল কাব্য প্রকাশিত হয়। এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- সভ্যতার সংকট,
- মানুষের ধর্ম।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক সমূহ:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ,
- চণ্ডালিকা।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- বৌ ঠাকুরাণীর হাট,
- প্রজাপতির নির্বন্ধ,
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চতুরঙ্গ,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: 'শব্দতত্ত্ব' প্রবন্ধগ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,২২৯.
'বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার' কার রচনা?
  1. ক) সানাউল হক
  2. খ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. গ) শহীদ কাদরী
  4. ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (১৮৯০-১৯৭৭): শিক্ষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক।
- সুনীতিকুমার ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৩৮০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো ''অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ '' (১৯২৬)।

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- Bengali Phonetic Reader (১৯২৮),
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা (১৯২৯),
- পশ্চিমের যাত্রী (১৯৩৮),
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা (১৯৪৪),
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ (১৯৪৫),
- ভারত সংস্কৃতি (১৯৫৭),
- সংস্কৃতি কী (১৯৬১),
- Languages and Literatures of Modern India (১৯৬৩),
- World Literature and Tagore (১৯৭১)।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

৮,২৩০.
মধ্যযুগের কোন কাব্যে লোক সাহিত্যের মোটিফ হিসাবে 'শুক পাখি'র অবতারণা করা হয়?
  1. মধুমালতী
  2. চন্দ্রাবতী
  3. পদ্মাবতী
  4. লায়লী মজনু
ব্যাখ্যা
আলাওল রচিত পদ্মাবতী কাব্যে, বাস্তবতা ও কাল্পনিকতার চমৎকার মিশেল আছে।
- লোক সাহিত্যের মোটিফ হিসাবে হীরামনি বা শুকপাখির অবতারনা।
- এই শুকপাখি অবশ্য সুফিবাদের প্রভাবজাত। পাখিত্ব ছাড়া আর সবই তার মনুষ্য প্রজাতির মতো।
- পদ্মাবতীর রূপ বর্ণনার অংশ আন্তরিক ও কবির দূরদৃষ্টির পরিচায়ক। রত্নসেন-পদ্মাবতীর বিয়ের অনুষ্ঠান সামাজিকতায় পরিপূর্ণ।
- উভয়ের দেহমিলন স্থূল হতে পারে, কিন্তু বর্ণনা বাস্তব, কাল্পনিক নয়।
- অতএব, বাস্তবতা ও অলৌকিকতার সংমিশ্রণে পদ্মাবতী একটি চমৎকার কাব্য।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৮,২৩১.
‘যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ’ - প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. বদরুদ্দীন উমর
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

‘যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ’ প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ‘যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ’ বদরুদ্দীন উমর রচিত ও সম্পাদিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- যে প্রবন্ধগুলি এই সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সেগুলি সবই ১৯৭০ সালের ফেব্রুয়ারী থেকে ১৯৭১ সালের মার্চ পর্যন্ত সাপ্তাহিক 'গণশক্তি' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিলো।
- তখন 'গণশক্তি'র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে বদরুদ্দীন উমর পত্রিকাটি সম্পাদনার যাবতীয় দায়িত্ব পালন করতেন।
- 'যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ' নামে মুজিব আমলে লিখিত রাজনৈতিক প্রবন্ধগুলির যে সংকলন ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়েছে সেগুলির সাথে 'যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ' নামক এই সংকলনের প্রবন্ধগুলি মিলিয়ে পাঠ করলে চিন্তার ধারাবাহিকতা সহজেই বোঝা যাবে।

বদরুদ্দীন উমর:
- বদরুদ্দীন উমর ১৯৩১ সালের ২০শে ডিসেম্বর পশ্চিম বঙ্গের বর্ধমানে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ‘যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ’ প্রবন্ধগ্রন্থ।

৮,২৩২.
'সন্দেশ' পত্রিকা কার সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
  2. খ) সুকুমার রায়
  3. গ) সত্যজিৎ রায়
  4. ঘ) অন্নদাশংকর রায়
ব্যাখ্যা
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা 'সন্দেশ' প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও  কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।
- দেশবিদেশের গল্প, হাস্যকৌতুক, জ্ঞান বিজ্ঞানের কথা ইত্যাদি লেখার পাশাপাশি নিজের আঁকা নানা বুদ্ধিদীপ্ত ছবি সংযোজনের মাধ্যমে সন্দেশকে তিনি তরুণ হূদয়ের যোগ্য একটি পত্রিকা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র সুকুমার রায় 'সন্দেশ' পত্রিকা পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,২৩৩.
শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস-  
  1. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. তস্কর লস্কর
  4. কাঁকর মণি
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস- ' ক্রীতদাসের হাসি'। 

• 'ক্রীতদাসের হাসি':
- 'ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসে শওকত ওসমান স্বৈরাচারী শাসকের অধীনে মানুষের দুঃখ-কষ্ট, অধিকারহীনতা ও সমাজের অন্ধকার বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন।
- আইয়ুব খানের দমনমূলক শাসনব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করেই উপন্যাসটি নির্মিত।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র- হাবসি ক্রীতদাস তাতারী, মেহেরজান, এবং আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশিদ।
- এ উপন্যাসে লেখক তাতারীর হাসি এবং মেহেরজানের সঙ্গে তার সম্পর্কের মধ্য দিয়ে সমাজের শোষণ ও বঞ্চনার প্রতীকী উপস্থাপন করেছেন।
--------------------------------------
শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নাম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে;
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস : আর্তনাদ।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৮,২৩৪.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত মহাকাব্য কোনটি?
  1. বৃত্রসংহার
  2. অশ্রুমালা
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
• "মহাশ্মশান" মহাকাব্য:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মোহাম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যটি তিনটি খণ্ড রচিত। প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান।

মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম, 
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

অন্যদিকে, 
• 'বৃত্রসংহার' হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনি অবলম্বনে রচিত হয়েছে এ কাব্যটি এবং এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।

• মাইকেল মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।

• আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদের গীতিকাব্য 'অশ্রুমালা' (১৮৯৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,২৩৫.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক রচনা কোনটি?
  1. জলাংগী
  2. কী চাহ শঙ্খচিল
  3. বর্ণচোরা
  4. আর্তনাদ
ব্যাখ্যা

• 'আর্তনাদ' উপন্যাস:
- দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারে দগ্ধ জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানের লেখা উপন্যাসের নাম- আর্তনাদ।
- 'আর্তনাদ' শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীন প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় বেড়ে ওঠা জনগোষ্ঠী ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রাচীন চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ও ধর্মাশ্রয়ী শাসকগোষ্ঠীর আচরণ- এই দুই মেরুদণ্ডে গড়ে উঠেছে এ উপন্যাসের কাঠামো।

- অপেক্ষাকৃত দুর্বল মেরুদণ্ডটির ভাঙন শুরু হলো একুশের চেতনার মধ্য দিয়ে। যার ফলপ্রসূ সমাপ্তি ঘটল একাত্তরের বিজয়ের মধ্য দিয়ে। এ ভূখণ্ডে শহুরে সভ্যতার সূচনালগ্নের তরুণ আলী জাফর এই উপন্যাসের ব্যক্তি চরিত্র। আলী জাফরের মতো তখন গ্রাম ছেড়ে শহরে আসছে শত শত মানুষ, যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই।

অন্যদিকে,
• 'কী চাহ শঙ্খচিল'; বর্ণচোরা - মমতাজউদদীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
• শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - জলাংগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'আর্তনাদ' উপন্যাস শওকত ওসমান।

৮,২৩৬.
'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. সাবিরিদ খান
  2. আবদুল হাকিম
  3. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  4. নওয়াজিস খান
ব্যাখ্যা
- 'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের রচয়িতা - সাবিরিদ খান।
- তিনি মধ্যযুগের কবি ছিলেন।
- এ কাব্য রচনায় তিনি প্রচলিত কাহিনি অবলম্বন করেছেন।
- বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি কালিকামঙ্গলের অন্তর্গত।

সাবিরিদ খান তিনখানি আখ্যানমূলক কাব্য রচনা করেন
- বিদ্যাসুন্দর,
- রসুল বিজয় ও
- হানিফা-কয়রাপরী

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,২৩৭.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস -
  1. জোহরা
  2. নীড় সন্ধানী
  3. দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
  4. নিশুতি রাতের গাথা
ব্যাখ্যা
'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস:
- সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
- বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।
- একজন প্রধান শিক্ষক তাহের উদ্দীন খন্দকারের আত্মোপলব্ধি, অন্বেষণ ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধে জলেশ্বরীর দুর্বার ভূমিকার কথা।
- বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা জলেশ্বরীর সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তাহেরের স্মৃতিচারণায়।

অন্যদিকে,
আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস - নিশুতি রাতের গাথা, নীড় সন্ধানী।
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রচিত উপন্যাস - জোহরা।

সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস:
- নিষিদ্ধ লোবান,
- নীল দংশন,
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,২৩৮.
নিচের কোনটি বিংশ শতাব্দীর পত্রিকা?
  1. ঢাকা প্রকাশ
  2. গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
সবুজপত্র পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।

অন্যদিকে,
- কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার সম্পাদিত - ঢাকা প্রকাশ (১৮৬১- উনিশ শতক) হল ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা পত্রিকা।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকা - (১৮৬৩ -উনিশ শতক) পত্রিকা হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে প্রকাশিত হয়।
• তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা- (১৮৪৩ - উনিশ শতক) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,২৩৯.
'বেলা অবেলা কালবেলা' এর লেখক কে?
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) জীবনানন্দ দাশ
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) সমরেশ মজুমদার
ব্যাখ্যা
'বেলা অবেলা কালবেলা' গ্রন্থটি লিখেছেন জীবনানন্দ দাশ।
• জীবনানন্দ দাশ:
- ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় “রূপসী বাংলা” এবং “বেলা অবেলা কালবেলা” নামক কাব্য।

জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,২৪০.
"কবিতা" পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. বিষ্ণু দে
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• "কবিতা" পত্রিকা:
- কবিতাবিষয়ক পত্রিকা 'কবিতা' এর সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু।

- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।

- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন। পত্রিকাটি ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।

- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো।
- কবিতাবিষয়ক 'কবিতা' পত্রিকাটি তখন সাহিত্যিক মহলে উচ্চ প্রশংসা লাভ করে; রবীন্দ্রোত্তর কবিতা-আন্দোলনেও এর ভূমিকা স্বীকৃত। বুদ্ধদেব নিজেও রবীন্দ্র- প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে আসেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,২৪১.
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা কোন প্রতিষ্ঠান হতে প্রকাশিত হয়?
  1. আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  4. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

• পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরণের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।
- দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- ​পূর্ববঙ্গ-গীতিকা (১৯২৬) নামে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,২৪২.
'ভদ্রার্জুন' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ভবানীচরণ চট্টোপাধ্যায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. তারাচরণ শিকদার
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
ভদ্রার্জুন:
- ১৮৫২ সালে তারাচরণ শিকদারের ‘ভদ্রার্জুন’ নামক দুটি নাটক প্রকাশিত হয়।
- ‘কীর্তিবিলাস’ হচ্ছে বিয়োগান্ত নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- আর ‘ভদ্রার্জুন’ ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- ‘ভদ্রার্জুন’ নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ।
- মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,২৪৩.
'বঙ্গ আমার জননী আমার'- দেশাত্মবোধক গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জাহানারা ইমাম
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) রফিক আজাদ
  4. ঘ) হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা
'বঙ্গ আমার জননী আমার'- দেশাত্মবোধক গানটির রচয়িতা: 'দ্বিজেন্দ্রলাল রায়'। 
- পরাধীন ভারতে বাঙালিদের মধ্যেই যেমন প্রথম বিপ্লবীর জন্ম হয়েছিল, তেমনি বাঙালির কণ্ঠেই প্রথম জলদমন্দ্র ধ্বনিত হয়েছিল দ্বিজেন্দ্রলালের ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’ গানের মধ্য দিয়ে।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:

- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) কবি, নাট্যকার, গীতিকার। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়। ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।

দ্বিজেন্দ্রলালের উলে­খযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
• কাব্য:
- আর্য্যগাথা,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

• নকশা-প্রহসন:
- একঘরে,
- সমাজ-বিভ্রাট ও কল্কি অবতার,
- ত্র্যহস্পর্শ,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- পুনর্জন্ম।

• পৌরাণিক নাটক:
- পাষাণী,
- সীতা,
- ভীষ্ম।

• সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

"বঙ্গ আমার জননী আমার"- কবিতা,
------------- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। 

বঙ্গ আমার জননী আমার
ধাত্রী আমার, আমার দেশ
কেন গো মা তোর শুস্ক নয়ন?
কেন গো মা তোর রুক্ষ কেশ?
কেন গো মা তোর ধুলায় আসন?
কেন গো মা তোর মলিন বেশ?
.
শত কোটি সন্তান যার
ডাকে উপচে আমার দেশ।
কিসের দুঃখ, কিসের দৈন্য,
কিসের লজ্জা, কিসের ক্লেশ?
শত কোটি মিলিত কণ্ঠে
ডাকে যখন আমার দেশ।।
.
উদিল যেখানে বৌদ্ধ আত্মা
মুক্ত করিতে মোক্ষ দ্বার,
আজিও জুড়িয়া অর্ধ জগৎ
ভক্তি প্রণতঃ চরণে যার।
অশোক যাহার কীর্তি ছায়িল
গান্ধার হতে জলধি শেষ
তুই কিনা মা গো তাদের জননী?
তুই কিনা মা গো তাদের দেশ।।

একদা যাহার বিজয় সেনানী
হেলায় লঙ্কা করিল জয়
একদা যাহার অর্ণবপোত
ভ্রমিল ভারত সাগরময়।
সন্তান যার তিব্বততীর
জাপানে গঠিল উপনীদেশ
তার কি না ধুলায় আসন,
তার কি না এই চ্ছিন বেশ?
.
উদিল যেখানে মোরজ মন্ত্রে
নিমাই কণ্ঠে মধুর ও তান
ন্যায়ের বিধান দিল রঘুমনি,
চন্ডীদাসও গাইল গান
যুদ্ধ করিল প্রতাপাদিত্য
তুই কিনা সেই ধন্য দেশ,
ধন্য আমরা যদি এ শিরায়
রহে যদি তাদের রক্ত লেশ।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,২৪৪.
"ভালো আছি, ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো" - বিখ্যাত এই গানটির গীতিকার কে?
  1. ক) খান আতাউর রহমান
  2. খ) রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) আপেল মাহমুদ
  4. ঘ) নজরুল ইসলাম বাবু
ব্যাখ্যা
- "ভালো আছি ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখ" - রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর লিখা একটি গান। 

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ(১৯৫৬-১৯৯১):
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জন্ম বরিশালে, ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর।
- পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্য—উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯) ও ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,২৪৫.
‘হোসেনের শৃঙ্খল নিয়ম’ এর সাথে কোন নামটি জড়িত?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী 
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. আবুল হোসেন 
  4. সেলিনা হোসেন 
ব্যাখ্যা

কাজী মোতাহার হোসেন ও ‘হোসেনের শৃঙ্খল নিয়ম’:
তিনি ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৩৮ সালে  পরিসংখ্যান বিষয়ে ডিপ্লোমা এবং একই সঙ্গে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত শাস্ত্রে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন।
- ‘পরীক্ষণ প্রকল্প’ (Design of Experiments) শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫১ সালে পরিসংখ্যান শাস্ত্রে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন। কাজী মোতাহার হোসেনের ‘পরীক্ষণ প্রকল্প’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভ পরিসংখ্যান গবেষণায় এক নতুন পদ্ধতির প্রবর্তন করে, যা ‘হোসেনের শৃঙ্খল নিয়ম’ (Husain’s Chain Rule) নামে পরিচিত।
----------------------

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য কর,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহা,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,২৪৬.
'এলো সে অবেলায়' ও  'অদ্ভুত আঁধার এক' শামসুর রাহমান রচিত- 
  1. উপন্যাস ও কাব্যগ্রন্থ 
  2. দুটিই কাব্যগ্রন্থ 
  3. কাব্যগ্রন্থ ও উপন্যাস
  4. দুটিই উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৮ আগস্ট ২০০৬ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন

• তাঁর রচিত  উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- অদ্‌ভুত আঁধার এক,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়। 

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:

- রোদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- শূন্যতায় তুমি শোকসভা,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- প্রেমের কবিতা,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয় ইত্যাদি।

• আত্মস্মৃতি:
- স্মৃতির শহর, 
- কালের ধূলোয় লেখা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,২৪৭.
সুফিয়া কামালের 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দে
  2. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দে
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দে
ব্যাখ্যা
• তাহারেই পড়ে মনে:
- কবিতাটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে এবং প্রথম প্রকাশিত হয় মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়।
- কবিতার মূল বক্তব্য- কবিজীবনের খ্যাতির অন্তরালে বেদনাকে স্মরণ।
- 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার স্তবক সংখ্যা ৫টি এবং পঙ্‌তি সংখ্যা ৩০টি। 
- 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা। 
- কবিতায় মাঘ ও ফাল্গুন দুটি বাংলা মাসের নামের উল্লেখ রয়েছে।

----------------
সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,২৪৮.
আবদুল মান্নান সৈয়দ কোন ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন?
  1. মান্নান আলী
  2. সোহেল সৈয়দ
  3. অশোক সৈয়দ
  4. সৈয়দ আশরাফ
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), নজরুল পুরস্কার (১৯৯৮), নজরুল পদক (২০০১) ইত্যাদি পদক ও পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০১০ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর,
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন,

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা আর তিন পরী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- স্মৃতির নোটবুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,২৪৯.
'যে অরণ্যে আলো নেই' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটকের নাট্যকার হলেন-
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. মামুনুর রশীদ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
• 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

--------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• 'বিন্দু বিসর্গ' তাঁর রচিত আত্মজীবনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,২৫০.
'সুভা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি - 
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্য
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর]] এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর। 
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সুভা’ গল্প: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছোটগল্প 'সুভা'। 
- গল্পটির কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম 'সুভা'। 
- সুভার বাবা তাঁর বড়ো দুই বোনের নামের সাথে মিল রেখে ছোট বোনের নাম রেখেছিলেন 'সুভাষিণী'। 
- তাঁর বড় দুই বোনের নাম- 'সুকেশিনী' ও 'সুহাসিনী'। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
উপন্যাস: 
- বৌঠাকুরাণীর হাট; 
- রাজর্ষি; 
- চোখের বালি; 
- নৌকাডুবি; 
- ঘরে-বাইরে; 
- যোগাযোগ ইত্যাদি। 

ছোটগল্প: 
- ভিখারিনী; 
- ছুটি; 
- কাবুলিওয়ালা; 
- পোস্টমাস্টার; 
- সুভা
- সমাপ্তি; 
- অপরিচিতা; 
- হৈমন্তী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮,২৫১.
মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বাংলা ভাষার ও সাহিত্য
  2. খ) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস
  3. গ) সাহিত্য কথা
  4. ঘ) বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
ব্যাখ্যা
পাঠ্যপুস্তকের অভাব দূর করার জন্য মুহম্মদ আবদুল হাই সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে যৌথভাবে রচনা করেন বাংলা বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক যুগ, ১৯৬৮)। 
- অপরদিকে আহমদ শরীফ, মনসুরউদ্দীন, আনিসুজ্জামান ও আনোয়ার পাশার সহযোগে মধ্যযুগের পুথি, লোকসাহিত্য এবং আধুনিক যুগের গদ্য ও পদ্য গ্রন্থের সংকলন ও সম্পাদনা প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে। 
- এই গ্রন্থ রচনার জন্য তিনি সমালোচিত হত। 
- এই গ্রন্থে সম্প্রদায়গত দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ ঘটেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,২৫২.
আলাওল রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. তোহফা
  2. চন্দ্রাবতী
  3. মধুমালতী
  4. গুলে বকাওলী
ব্যাখ্যা
'তোহফা' আলাওল রচিত নীতিকাব্য। গ্রন্থটি ১৬৬৪ সালে প্রকাশিত হয়। 

অন্যদিকে, 
• 'চন্দ্রাবতী' কোরেশী মাগন ঠাকুরের অন্যতম একটি কাব্যগ্রন্থ।
• হিন্দি কবি মনঝনের 'মধুমালত' বা সাধনের 'মৈনাসত' কাব্যের অনুসরণে মুহম্মদ কবীর বাংলায় রচনা করেন 'মধুমালতী'। 
• 'গুলে বকাওলী' রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য। সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে গুলে বকাওলী কাব্য রচনা করেন। এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী, উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

--------------
• আলাওল:
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- 'পদ্মাবতী' তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল,
- রাগতালনামা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,২৫৩.
'নবকুমার' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা
• 'নবকুমার' হচ্ছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের চরিত্র।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সম্বাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম- 'ললিতা তথা মানস'।
- তাকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।

• কপালকুণ্ডলা উপন্যাস:
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ:
- কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর। 
- দুর্গেশনন্দিনী - চরিত্র- আয়েশা, তিলোত্তমা, 
- কপালকুণ্ডলা - চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক। 
- মৃণালিনী - চরিত্র- হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- বিষবৃক্ষ - চরিত্র- কুন্দনন্দিনী,নগেন্দ্রনাথ,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,২৫৪.
কোনটি জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক?
  1. রূপবতী
  2. বালুচর
  3. মাটির কান্না
  4. পল্লীবধূ
ব্যাখ্যা
• 'পল্লীবধূ' জসীমউদ্দীন রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।

-----------------
• জসীম উদ্‌দীন:

- জসীম উদ্‌দীন ছিলেন কবি ও শিক্ষাবিদ। ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।

- জসীম উদ্‌দীনের কবিত্ব শক্তির প্রকাশ ঘটে ছাত্রজীবনেই। কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।

- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। 
- জসীমউদ্দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন। 
- 'পল্লীকবি' হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে।

------------------
• তাঁর রচিত উপন্যাস: বোবা কাহিনী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নকশী কাঁথার মাঠ।
- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- মাটির কান্না।
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে।
- বালুচর।
- রাখালী (তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে)।
- রূপবতী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়।
- বেদের মেয়ে।
- পল্লীবধূ।
- মধুমালা।
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী।
- হাসু।
- ডালিম কুমার।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির।
- হলদে পরীর দেশ।
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,২৫৫.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রহসন নয়?
  1. বৈকুণ্ঠের খাতা
  2. চিরকুমার সভা
  3. গোড়ায় গলদ
  4. রাজা
ব্যাখ্যা
• 'রাজা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রহসন নয়।
• 'রাজা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রূপক ও সাংকেতিক নাটক।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রহসন:

- বৈকুণ্ঠের খাতা,
- গোড়ায় গলদ,
- হাস্যকৌতুক,
- চিরকুমার সভা,
- হাস্যকৌতুক,
- শেষ রক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,২৫৬.
চণ্ডীমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি কে?
  1. কবি জয়দেব
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. কানা হরি দত্ত
  4. ঘনরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা - কবি জয়দেব।
• মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি- কানা হরি দত্ত।
• ধর্মমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি- ঘনরাম চক্রবর্তী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,২৫৭.
"সংস্কৃতি কথা" প্রবন্ধটি কার রচনা?
  1. আহমদ শরীফ
  2. কাজী আবদুল ওদুদ
  3. মােতাহের হােসেন চৌধুরী
  4. মোহাম্মদ লুত্‌ফর রহমান
ব্যাখ্যা
• "সংস্কৃতি কথা":
সংস্কৃতির পূর্বাপর বিশ্লেষণে মােতাহের হােসেন চৌধুরী কোনাে দুঃসাধ্য পথের যাত্রী নন। তাঁর কাছে সংস্কৃতিই জীবন। অর্থাৎ, যত উন্নত সংস্কৃতি তত উন্নত জীবন। যেখানে থাকবে প্রেম, সৌন্দর্য ও আনন্দ। মােতাহের হােসেনের এ বিষয়ক বিস্তারিত চিন্ত-চেতনার পরিচয় আছে তার 'সংস্কৃতি-কথা’ শীর্ষক বহুখ্যাত প্রবন্ধটিতে।

এখানে তিনি বলেছেন-
একশ্রেণির মানুষ শিক্ষিত, অশিক্ষিত নির্বিশেষে কালচার বা সংস্কৃতি অর্থে সংকীর্ণ চিত্তে কেবল নাচ, গান, সাহিত্য, শিল্প, সিনেমা, থিয়েটার প্রভৃতিতে বিবেচনা করেন। তারা জানতে চেষ্টা করেন না যে, সংস্কৃতি কথাটি আরাে ব্যাপক ও গভীর তাৎপর্য বহন করে। মােতাহের হােসেন মনে করেন, চিত্তগঠনের যাবতীয় উপাদানই সংস্কৃতি।

মােতাহের হােসেন চৌধুরীর মতে, যারা সাংস্কৃতিবান তাঁদের জীবনে বাইরের কোনাে আদেশ-নিষেধের প্রয়ােজন হয় না। তাঁরা আদেশপন্থী নন-অনুপ্রেরণাপন্থী। এসব বিষয়াদি বিবেচনায় তিনি ঘােষণা করেন, সংস্কৃতি শিক্ষিত, মার্জিত মানুষের ধর্ম। শিক্ষিত মানুষ প্রেম, সৌন্দর্য ও আনন্দের পূজারি-যা তারা গ্রহণ করে সংস্কৃতি থেকে। আর সাধারণ মানুষ বিষয়গুলাে পায় বা সন্ধান কর ধর্মের মধ্যে। তিনি ধর্মকে বাইরে থেকে গ্রহণের ঘােরবিরােধী। কেননা বাইরের ধর্মকে যারা গ্রহণ করে তারা আল্লাকে জীবনপ্রেরণারূপে পায় না, ঠোটের বুলি রূপে পায়।

উৎস: "সংস্কৃতি কথা" প্রবন্ধ।
৮,২৫৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ট্রাজেডি নাটকের রচয়িতা কে?
  1. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  2. তারাচরণ শিকদার
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা
১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়।
- নাটকটির রচয়িতা - তারাচরণ শিকদার। এটি একটি কমেডি নাটক।

১৮৫২ সালেই প্রকাশিত হয় প্রথম ট্রাজেডি নাটক। এর নাম - কীর্তিবিলাস
- কীর্তিবিলাসের রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত

১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি
- এর নাম - কৃষ্ণকুমারী। রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
৮,২৫৯.
নিচের কোন পত্রিকাটি প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত নয়?
  1. ক) বিশ্বভারতী
  2. খ) ভারতী
  3. গ) রূপ ও রীতি
  4. ঘ) অলকা
ব্যাখ্যা
ভারতী পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে, রবীন্দ্র-ভ্রাতা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায়।

- ‘সবুজপত্র’ ১৯১৪ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত বিশিষ্ট সাহিত্য পত্রিকা।
- বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং তের বছর চলে।
- তাঁর ‘বীরবল’ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

তাঁর সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা হলো : 
- বিশ্বভারতী
- রূপ ও রীতি এবং 
- অলকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,২৬০.
মুনীর চৌধুরী রচিত 'মীর মানস' কোন জাতীয় গ্রন্থ?
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. গল্পগ্রন্থ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'মীর মানস':
- মুনীর চৌধুরী রচিত - প্রবন্ধগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটির জন্য তিনি 'দাউদ পুরস্কার' (১৯৬৫) লাভ করেন।
------------------- 
• মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- তিনি শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- ঢাকার প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ, কমিউনিস্ট পার্টি, ভাষা আন্দোলন ইত্যাদির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। 
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,২৬১.
সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের গ্রন্থ কোনটি?
  1. রহু চণ্ডালের হাড়
  2. কৈবর্ত খণ্ড
  3. ফুল বউ
  4. অলীক মানুষ
ব্যাখ্যা

• "অলীক মানুষ" উপন্যাস:
- "অলীক মানুষ" সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ রচিত একটি বিখ্যাত বাংলা উপন্যাস। এটি উনিশ-বিশ শতকের পটভূমিতে একটি মুসলিম পীর পরিবারের জীবন নিয়ে লেখা, যেখানে লৌকিক ও অলৌকিক ঘটনার মিশ্রণ ঘটেছে।
- উপন্যাসটি কোলাজ পদ্ধতিতে লেখা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ, মিথ ও কিংবদন্তী, এমনকি ব্যক্তিগত ডায়েরি ও সংবাদপত্রের কাটিংও ব্যবহার করা হয়েছে।
- এই উপন্যাসে বাঙালি হিন্দু-মুসলিম জীবনের একটি অনাবিষ্কৃত দিক তুলে ধরা হয়েছে।‘অলীক মানুষ’ বইয়ের প্রাপ্ত পুরস্কার গুলির নাম ও সালঃ
- ভুয়ালকা পুরস্কার - ১৯৯০।
- বঙ্কিম স্মৃতি পুরস্কার - ১৯৯৪।
- সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার - ১৯৯৪।
- সুরমা চৌধুরী মেমোরিয়াল আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার - ২০০৮।

উৎস: "অলীক মানুষ" উপন্যাস।

৮,২৬২.
স্বাধীন পূর্ব বাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্য পত্রিকা ছিল -
  1. ক) পূর্বাশা
  2. খ) কালিকলম
  3. গ) পূর্বমেঘ
  4. ঘ) নয়া সড়ক
ব্যাখ্যা
'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্য পত্র। 
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলীর যৌথ সম্পাদনায়। 
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর স্বাধীন পূর্ব বাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্য পত্রিকা ছিল 'নয়া সড়ক'। 
- এ সাহিত্য পত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। 
অন্যদিকে, 
- 'পূর্বাশা' পত্রিকাটি সঞ্জয় ভট্টাচার্য এর সম্পাদনায় ১৯৩২ সালে কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্য বিষয়ক 'কালিকলম' পত্রিকাটি প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় ১৯২৬ (১৩৩৩ বঙ্গাব্দ) সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- 'পূর্বমেঘ' সাহিত্য পত্রিকাটি জিল্লুর রহমানের সম্পাদনায় ১৯৬০ সালে রাজশাহী থেকে প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,২৬৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আমার সোনার বাংলা' গানটি কবে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে?
  1. ক) ২ মার্চ, ১৯৭১
  2. খ) ৩ মার্চ, ১৯৭১
  3. গ) ৭ মার্চ, ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানের জনসভায় রবীন্দ্রনাথের এ গানকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকে এই গানের প্রথম দশ লাইনকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে অনুমোদন দেয়া হয়। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৮,২৬৪.
আমার দেশের পথের ধূলা,
খাটি সোনার চাইতে খাঁটি। - পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. কামিনী রায়
  3. সত্যেন্দ্রনাথ রায়
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

আমার দেশের পথের ধূলা,
খাটি সোনার চাইতে খাঁটি। - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা রচয়িতা - সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের 'খাঁটি সোনা কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া ও 'খাঁটি সোনা কবিতা।

৮,২৬৫.
'নয়া সড়ক' পত্রিকা কোন ধরনের পত্রিকা ছিল?
  1. বার্ষিক
  2. ষান্মাসিক
  3. মাসিক
  4. দৈনিক
ব্যাখ্যা
'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র।
- পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমীর 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,২৬৬.
হে বঙ্গ ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে অবোধ আমি অবহেলা করি
- কবিতার চরণদ্বয় কোন ছন্দে রচিত?
  1. ক) স্বরবৃত্ত ছন্দে
  2. খ) অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
  3. গ) মাত্রাবৃত্ত ছন্দে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
হে বঙ্গ ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে অবোধ আমি অবহেলা করি- কবিতার চরণদ্বয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দে বদ্ধস্বর কখনো একমাত্রা এবং কখনো দুই মাত্রা বহন করে। অর্থাৎ পর্বে মাত্রা গণনা রীতি কোথাও স্বরবৃত্তের আবার কোথাও মাত্রাবৃত্তের মতো বাহিত হয়। বদ্ধস্বর যদি শব্দের প্রথমে বা মাঝে থাকে তবে তা  একমাত্রা সুরের তরঙ্গ সৃষ্টি করে। মন্থর বা ধীর লয় বা গতির এ ছন্দ সাধারণত দু্ পর্বের হয় এবং ৬, ৮ ও ১০ মাত্রার পর্বই এ ছন্দে বেশি দেখা যায়।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বঙ্গভাষা’ কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা। কবিতাটির অংশ বিশেষ-
হে বঙ্গ ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে অবোধ আমি অবহেলা করি

মাত্রা বিশ্লেষণ:
হে বঙ্ গ ভান্ ডারে কব / বি বি ধ র তন / = ৮+৬ = ১৪
তা স বে অ বোধ আ মি / অ ব হে লা ক রি / = ৮+৬ = ১৪

কবিতাটিতে যুক্তাক্ষরে একমাএা করে আছে। বদ্ধক্ষার শব্দের শুরুতেও আছে আবার শব্দের শেষেও আছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,২৬৭.
​ ​আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. সূর্য তুমি সাথী
  2. অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী
  3. যদ্যপি আমার গুরু
  4. গাভী বিত্তান্ত 
ব্যাখ্যা

• 'যদ্যপি আমার গুরু' স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ:
​- 'যদ্যপি আমার গুরু' বাংলাদেশের অগ্রণী চিন্তাবিদ ও কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফা রচিত একটি বিখ্যাত স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ।
- দীর্ঘ স্মৃতিচারণ মূলক রচনাটি ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে বই আকারে প্রকাশের আগে দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার সাহিত্য পাতায় প্রায় চার মাস ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংবদন্তি জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের সাথে লেখকের বিভিন্ন বিষয়ে কথোপকথনসমূহের বিবরণ পাওয়া যায় এই গ্রন্থে।
- লেখক দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে রাজ্জাক স্যারের সান্নিধ্য লাভ করেছেন।

​আহমদ ছফা রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- উদ্ধার,
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- অলাতচক্র,
- ওঙ্কার,
- গাভী বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্পবৃক্ষ ও
- বিহঙ্গ পুরাণ।

উৎস: 'যদ্যপি আমার গুরু' আহমদ ছফা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,২৬৮.
বেগম রোকেয়া রচিত Sultana’s Dream একটি -
  1. উপন্যাস
  2. গদ্যগ্রন্থ
  3. নকশাধর্মী রচনা
  4. কাব্য
ব্যাখ্যা
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
- বেগম রোকেয়া বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং প্রথম বাঙালি নারীবাদী।
- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

- ১৯০২-এ ‘পিপাসা’ নামে একটি বাংলা গল্পের মধ্য দিয়ে তিনি সাহিত্যজগতে পা রাখেন।
- রোকেয়ার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে
- ‘মতিচূর’ (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream উপন্যাস (নকশাধর্মী রচনা),
- ‘পদ্মরাগ’ (উপন্যাস),
- ‘অবরোধবাসিনী’ (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।
- তার লেখাগুলো নবনূর, সওগাত, মোহাম্মদী ইত্যাদি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

- ১৯০৯ সালের ১ অক্টোবর স্বামীর প্রদত্ত অর্থে পাঁচটি ছাত্রী নিয়ে তিনি ভাগলপুরে ‘সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস’ স্কুল স্থাপন করেন।
- ১৯১৬ সালে তিনি মুসলিম বাঙালি নারীদের সংগঠন 'আনজুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম' প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: ১.ড. সৌমিত্র শেখর রচিত বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. দৈনিক প্রথম আলো।
৮,২৬৯.
'ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী' শওকত ওসমান রচিত কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী' গল্পগ্রন্থ:
- নয়টি ছোট গল্পের অনন্য সংকলন এই ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী বইটি। প্রথম গল্প ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী গল্পের নামে বইয়ের নামকারণ করা হয়েছে।
- প্রতিটা গল্পই বিষয়গত দিক থেকে অনন্য। শওকত ওসমানের শৈল্পিক লিখনের প্রতিচ্ছবি প্রতিটি গল্প।

অন্যান্য গল্পগুলো হলো:
- কুটিলা ভবেৎ,
- শিবগঞ্জের মেলা,
- অনন্ত বাসর,
- ভূবন পাগলার সমস্যা,
- জনপদে,
- নিদয়-নিদয়া,
- কোন মৌন এবং
- স্বৈরণী। 

-----------------
• শওকত ওসমান:

- শওকত ওসমান (১৯১৭-১৯৯৮) ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। বিদেশি ভাষার অনেক উপন্যাস, ছোটগল্প ও নাটক তিনি বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন। গ্রন্থ সম্পাদনার ক্ষেত্রেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:

• উপন্যাস:
জননী, ক্রীতদাসের হাসি, সমাগম, চৌরসন্ধি, রাজা উপাখ্যান, জাহান্নম হইতে বিদায়, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য, পতঙ্গ পিঞ্জর, আর্তনাদ, রাজপুরুষ। 

• গল্পগ্রন্থ:
জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প, মনিব ও তাহার কুকুর, ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী। 

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
ভাব ভাষা ভাবনা, সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই, মুসলিম মানসের রূপান্তর। 

• নাটক:
আমলার মামলা, পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা। 

• শিশুতোষ গ্রন্থ: 
ওটেন সাহেবের বাংলো, মস্কুইটোফোন, ক্ষুদে সোশালিস্ট, পঞ্চসঙ্গী।  

• স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ:
স্বজন সংগ্রাম, কালরাত্রি খন্ডচিত্র, অনেক কথন, গুড বাই জাস্টিস মাসুদ, মুজিবনগর, অস্তিত্বের সঙ্গে সংলাপ, সোদরের খোঁজে স্বদেশের সন্ধানে, মৌলবাদের আগুন নিয়ে খেলা, আর এক ধারাভাষ্য ইত্যাদি। 

• অনূদিত গ্রন্থ:
নিশো, লুকনিতশি, বাগদাদের কবি, টাইম মেশিন, পাঁচটি কাহিনী (লিও টলস্টয়, ১৯৫৯), স্পেনের ছোটগল্প, পাঁচটি নাটক (মলিয়ার, ১৯৭২), ডাক্তার আব্দুল্লাহর কারখানা, পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে মানুষ, সন্তানের স্বীকারোক্তি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী' গল্পগ্রন্থ।
৮,২৭০.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. আমলার মামলা
  2. চন্দ্রশেখর
  3. জমিদার দর্পণ
  4. গো-জীবন
ব্যাখ্যা
'চন্দ্রশেখর' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রশেখর (১৮৭৫) উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে 'তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।
- উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
- ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

অন্যদিকে,
- 'গো-জীবন' মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রবন্ধ।
- লেখক-মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক 'জমিদার দর্পণ'।
- 'আমলার মামলা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,২৭১.
‘জাতির মননের প্রতীক’ বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) জাতীয় স্মৃতিসৌধকে
  2. খ) বাংলা একাডেমিকে
  3. গ) নজরুল ইনস্টিটিউটকে
  4. ঘ) অমর একুশে বইমেলাকে
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়।
বাঙালি সংস্কৃতি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ধারক ও বাহক হিসেবে বাংলা একাডেমিকে জাতির মননের প্রতীক বলা হয়।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৮,২৭২.
“রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?" - কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সিরাজাম মুনীরা
  2. নৌফেল ও হাতেম
  3. সাত সাগরের মাঝি
  4. মুহূর্তের কবিতা
ব্যাখ্যা

• “রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?" - ফররুখ আহমদ এর 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• 'পাঞ্জেরি' কবিতা:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।

পাঞ্জেরি- কবিতা,
ফররুখ আহমদ

রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি? (সংক্ষিপ্ত)

• ফররুখ আহমদ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,২৭৩.
মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) তোহফা
  2. খ) বিষাদ সিন্ধু
  3. গ) রত্নবতী
  4. ঘ) জমিদার দর্পণ
ব্যাখ্যা
 • বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ 'রত্নবতী'। 

মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী' (১৮৬৯)।
- এটি মুসলমান সাহিত্যিক রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) প্রকাশের চার বছর পর 'রত্নবতী' উপন্যাস প্রকাশিত হয়।
- লেখকের নাম পৃষ্ঠায় 'কৌতুকাবহ উপন্যাস' বলে উল্লেখ করেছেন। 
- প্রকৃতপক্ষে এটি রূপকথা জাতীয় শিক্ষামূলক একটি দীর্ঘ গল্প। 

- 'তোহফা' আলাওল রচিত নীতি কাব্য।
- 'বিষাদ সিন্ধু' (১৮৮৫-১৮৯১) মীর মশাররফ হোসেনের একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) নাটকের রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,২৭৪.
কোনটি জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ঝরা পালক
  2. মহাপৃথিবী
  3. বনলতা সেন
  4. আবার আসিব ফিরে
ব্যাখ্যা
• 'আবার আসিব ফিরে' জীবনানন্দের কাব্যগ্রন্থ নয়। 
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,২৭৫.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক কোনটি?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. নীলদর্পণ
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. জমিদার দর্পণ
ব্যাখ্যা

• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক।
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,২৭৬.
আবু ইসহাক রচিত গল্পগ্রন্থ হলো-
  1. ক) জাল
  2. খ) পদ্মার পলিদ্বীপ
  3. গ) মহাপতঙ্গ
  4. ঘ) জয়ধ্বনি
ব্যাখ্যা

আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩): কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷

- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
- তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ দুটি - হারেম (১৯৬২) ও মহাপতঙ্গ (১৯৬৩)।
- তাঁর রচিত একমাত্র নাটক জয়ধ্বনি।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

উল্লেখ্য, বাংলাপিডিয়াতে 'মহাপতঙ্গ' গল্পটিকে 'মহাপাত্র' হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

৮,২৭৭.
মৈমনসিংহ গীতিকায় কয়টি গীতিকা রয়েছে?  
  1. ১০টি
  2. ১৫টি
  3. ২০টি
  4. ২৫টি 
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকা:  
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে। 

- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে। 
যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৮,২৭৮.
কোনটি কাব্যনাট্য?
  1. খেলারাম খেলে যা
  2. নীল দংশন
  3. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. নিষিদ্ধ লোবান
ব্যাখ্যা

'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কাব্যনাট্য:
- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তযুদ্ধবিষয়ক কাব্যনাট্য। এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

সৈয়দ শামসুল হক রচিত  উপন্যাস:
- নিষিদ্ধ লোবান
- নীল দংশন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- ত্রাহী,
- দেয়ালের দেশ;
- খেলারাম খেলে যা;
- তুমি সেই তরবারী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,২৭৯.
''যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার, বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?''- চরণ দুটি কার লেখা?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. ফররুখ আহমদ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
কবিতাংশটি কাজী নজরুল ইসলাম এর 'খেয়া পারের তরুনী' কবিতার অন্তর্গত।
- এ কবিতাটি 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 

'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
 - কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।

অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থ। 
৮,২৮০.
নজরুল প্রতিভার প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে কোন পত্রিকাটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে?
  1. মোসলেম ভারত
  2. সওগাত
  3. শিখা
  4. যুগবাণী
ব্যাখ্যা
⇒ ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা:
• কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ (১৯২০) মাসে মাসিক ‘মোসলেম ভারত’ প্রকাশিত হয়।
• প্রথম বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হয়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৭টি সংখ্যা বেরিয়েছে।
• রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো।
‘মোসলেম ভারত' নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। প্রতি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়।
• নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, সাত ইল বিদ্রোহী, বাঁধন-হারা আরব, বিদ্রোহী, (উপন্যাস, কিস্তিতে) ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকার পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,২৮১.
"আমার বাড়ি যাইও ভোমর,
বসতে দেব পিঁড়ে,
জলপান যে করতে দেব
শালি ধানের চিঁড়ে।" - কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 

  1. ক) হাসু
  2. খ) ধানক্ষেত
  3. গ) বালুচর
  4. ঘ) মাটির কান্না
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিগুলো পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ 'হাসু' এর 'আমার বাড়ি' কবিতার অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৮ সালে। 

তাঁর রচিত অন্যান্য শিশুতোষ গ্রন্থ -
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

আমার বাড়ি যাইও ভোমর,
বসতে দেব পিঁড়ে,
জলপান যে করতে দেব
শালি ধানের চিঁড়ে।
শালি ধানের চিঁড়ে দেব,
বিন্নি ধানের খই,
বাড়ির গাছের কবরী কলা,
গামছা-বাঁধা দই।
আম-কাঁঠালের বনের ধারে
শুয়ো আঁচল পাতি,
গাছের শাখা দুলিয়ে বাতাস
করব সারা রাতি।
চাঁদমুখে তোর চাঁদের চুমো
মাখিয়ে দেব সুখে
তারা ফুলের মালা গাঁথি,
জড়িয়ে দেব বুকে।
গাই দোহনের শব্দ শুনি
জেগো সকাল বেলা,
সারাটা দিন তোমায় লয়ে
করব আমি খেলা।
আমার বাড়ি ডালিম গাছে
ডালিম ফুলের হাসি,
কাজলা দীঘির কাজল জলে
কাঁসগুলি যায় ভাসি।
আমার বাড়ি যাইও ভোমর,
এই বরাবর পথ,
মৌরী ফুলের গন্ধ শুঁকে
থামিও তব রথ।

উৎস: হাসু কাব্যগ্রন্থ।
৮,২৮২.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত উপন্যাস ও প্রবন্ধগুলো কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হতো?
  1. ভারতী 
  2. বঙ্গদর্শন
  3. তত্ত্ববোধিনী 
  4. সংবাদ প্রভাকর 
ব্যাখ্যা

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপন্যাস ও প্রবন্ধগুলো মূলত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রকাশিত হতো, যেখানে তিনি 'মজলিস'-এর সদস্য হিসেবে এবং পরে একজন প্রধান লেখক হিসেবে প্রায় ৩০টি রচনা লেখেন। 

----------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, এবং সংস্কৃতের পন্ডিত। হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ২২ অগ্রহায়ণ ১২৬০/ ৬ ডিসেম্বর ১৮৫৩। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে। 

- ১৮৭১ সালে এন্ট্রান্স, ১৮৭৩ সালে ফার্স্ট আর্টস, ১৮৭৬ সালে বি.এ এবং ১৮৭৭ সালে সংস্কৃতে অনার্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। অতঃপর হরপ্রসাদ এম.এ ডিগ্রি ও ‘শাস্ত্রী’ উপাধি অর্জন করেন।

- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের আবিষ্কারক। তিনি 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে 'চর্যাপদ' সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

- হরপ্রসাদের সারাজীবনের গবেষণায় রাজকৃষ্ণের ইতিহাসতত্ত্ব সম্পর্কিত গূঢ় চিন্তাভাবনা প্রভাব বিস্তার করেছে। রাজকৃষ্ণই হরপ্রসাদকে বঙ্কিমচন্দ্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাঁর ছাত্র বয়সের গবেষণা নিবন্ধ ‘ভারত মহিলা’ ১২৮২ বঙ্গাব্দের বঙ্গদর্শন পত্রিকার মাঘ-ফাল্গুন-চৈত্র তিন সংখ্যায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। বঙ্গদর্শন-এর ‘মজলিস’-এর কনিষ্ঠ সদস্য হরপ্রসাদ এরপরে এই পত্রিকার অন্যতম প্রধান লেখক হয়ে ওঠেন। উপন্যাস ও বিচিত্র বিষয়ে প্রবন্ধ মিলিয়ে তাঁর প্রায় ৩০টি রচনা বঙ্গদর্শন-এ প্রকাশিত হয় এবং বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী প্রতিষ্ঠা পায়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাঞ্চনমালা ও
- বেণের মেয়ে।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ-
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- মেঘদূত ব্যাখ্যা,
- ভারত মহিলা,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,২৮৩.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার লেখক নয় কে?
  1. আলাওল
  2. শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. ঘনরাম চক্রবর্তী
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার লেখক নয় - ঘনরাম চক্রবর্তী। তিনি ধর্মমঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি।

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা।
- মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,২৮৪.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বর্ধমান জেলায়
  2. হুগলি জেলায়
  3. চব্বিশ পরগনা
  4. বীরভূম জেলায়
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- তিনি ১৬ই জানুয়ারি, ১৯৩৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,২৮৫.
'আমি মরু-কবি-গাহি সেই বেদে বেদুঈনদের গান,' - কাজী নজরুল ইসলাম রচিত পঙক্তিটিতে কবি আরও যে কয়টি যতিচিহ্ন ব্যবহার করেছিলেন-
  1. ক) একটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) একটিও নয়
ব্যাখ্যা


জীবন-বন্দনা
- কাজী নজরুল ইসলাম

প্রশ্নে বলা হয়েছে কবি প্রশ্নোক্ত বাক্যে আরো কয়টি যতিচিহ্ন ব্যবহার করেছেন।
তিনি প্রশ্নে উল্লিখিত যতি চিহ্নের বাইরে আর কোনো চিহ্ন ব্যবহার করেন নি বলে উত্তর হবে 'একটিও নয়'।

৮,২৮৬.
'যে দেশে মানুষ বড়' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. ইব্রাহীম খাঁ
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
• 'যে দেশে মানুষ বড়' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - জসীম উদ্‌দীন।
- এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।

• জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,২৮৭.
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান
  2. সংকর সংকীর্তন
  3. দেয়াল
  4. পদ্মা মেঘনা যমুনা
ব্যাখ্যা
⇒ আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন। তিনটি উপন্যাসের যোগসূত্র একটি পরিবার।

অন্যদিকে,
• দেয়াল (উপন্যাস):
আবু জাফর শামসুদ্দীন-এর ‘দেয়াল’ (১৯৮৬) উপন্যাসটির সূচনা ঘটেছে পঁচিশে মার্চের ভয়াল কালরাত্রির নারকীয় গণহত্যার বর্ণনা দিয়ে। সারা জীবন পাকিস্তানি আদর্শের ধ্বজাধারী আবদুল্লাহর স্ত্রী ও কিশোরী কন্যার বলাৎকারের মাধ্যমে সে যে মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল তার উন্মোচন ও উদ্ভাসন হয়েছে এতে। 

================
⇒ আবু জাফর শামসুদ্দীন:
• আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮): সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
• উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
•  তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পরিত্যক্ত স্বামী’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- প্রপঞ্চ,
- পরিত্যক্ত স্বামী,
- দেয়াল।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা, 
- ল্যাংড়ী। 

• প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics, 
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলাপিডিয়া এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।
৮,২৮৮.
কাজী নজরুল ইসলামের ''আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে'' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) প্রলয় শিখা
  2. খ) ভাঙার গান
  3. গ) চক্রবাক
  4. ঘ) দোলনচাঁপা
ব্যাখ্যা
কলকাতার আলিপুর জেলে থাকা অবস্থায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নজরুলকে বসন্ত গীতিনাট্য উৎসর্গ করলে অনুপ্রাণিত হয়ে নজরুল 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটি রচনা করেন। এটি পরবর্তীতে দোলনচাঁপা কাব্যগ্রন্থের মুখবন্ধরূপে ব্যবহৃত হয়। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৮,২৮৯.
'সেই দিন সেই মাঠ' কবিতাটি জীবনানন্দের কোন কাব্যগ্রন্থভুক্ত?
  1. ক) ঝরাপালক
  2. খ) বনলতা সেন
  3. গ) রূপসী বাংলা
  4. ঘ) মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা
‘সেই দিন এই মাঠ' জীবনানন্দের ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থভুক্ত প্রথম কবিতা।

• ‘রূপসী বাংলা’ প্রকাশিত হয় কবির মৃত্যুর পর, ১৯৫৭ সালে । গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় 'আবহমান বাংলা, বাঙালী'কে।

•স্বচ্ছ, সুন্দর, শান্ত ও স্নিগ্ধ রোম্যান্টিক কবিতার স্রষ্টা জীবনান্দ দাশ স্মরণীয় ও বরণীয়। তাঁর নিসর্গবিষয়ক কবিতা বিশ শতকের ষাটের দশকের বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলন ও ১৯৭১ - এর মুক্তিযুদ্ধে তীব্রভাবে এদেশের সংগ্রামী জনতাকে অনুপ্রণিত করেছে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- ঝরাপালক
- ধূসর পাণ্ডুলিপি
- বনলতা সেন
- মহাপৃথিবী
- তিমির
- সাতটি তারার মালা
- বেলা অবেলা কালবেলা
- রূপসী বাংলা

উৎস:  বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,২৯০.
'প্রদীপ ও পতঙ্গ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) আবুল হাসান
  3. গ) আবু ইসহাক
  4. ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
প্রদীপ ও পতঙ্গ, চৌচির, রাঙা প্রভাত - উপন্যাস তিনটির রচয়িতা আবুল ফজল।
মাটির পৃথিবী, মৃতের আত্মহত্যা - তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
কায়েদে আজম, প্রগতি, স্বয়ম্বরা ইত্যাদি তাঁর রচিত নাটক।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮,২৯১.
প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত ‘সবুজ পত্র’ পত্রিকার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মীর মশাররফ হোসেন 
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• সবুজ পত্র:
- ‘সবুজ পত্র’ প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত বিশিষ্ট মাসিক পত্রিকা।
- এই পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন। 
- পত্রিকাটি ১৯১৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- পত্রিকাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিন্তা ও ভাষারীতির আধুনিকতা বিকাশে বিশেষভাবে সহায়ক ছিল। 
- এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে চলিত রীতি বাংলা গদ্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,২৯২.
কোনটি প্রমথ চৌধুরী রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. তেল নুন লকড়ি
  2. নীললোহিত
  3. রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাচিন্তা
  4. বীরবলের হালখাতা
ব্যাখ্যা

'রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাচিন্তা' প্রমথ চৌধুরী রচিত গ্রন্থ নয়।
- এটি রচনা করেন ছন্দবিশারদ, ঐতিহাসিক, রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ প্রবোধচন্দ্র সেন।

অন্যদিকে,
- তেল নুন লকড়ি, নীললোহিত, বীরবলের হালখাতা, এই তিনটি গ্রন্থের রচয়িতা হলেন- প্রমথ চৌধুরী।

• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজ পত্র’ পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ, ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,২৯৩.
'সারেং বৌ' উপন্যাসের রচয়িতা কে? 
  1. সেলিনা হোসেন
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. শহীদ কাদরী 
  4. শহীদুল্লা কায়সার
ব্যাখ্যা

'সারেং বৌ'- উপন্যাসের রচয়িতা- শহীদুল্লা কায়সার।
-------------------------------------
• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকায় তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- ‘সারেং বৌ’,
- ‘সংশপ্তক’,
- ‘কৃষ্ণচূড়া মেঘ’,
- ‘তিমির বলয়’,
- ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’,
- ‘সমুদ্র ও তৃষ্ণা’,
- ‘চন্দ্রভানের কন্যা’,
- ‘কবে পোহাবে বিভাবরী’ (এবং অসমাপ্ত রচনা)।
------------------------------------------
• 'সারেং বৌ’ সম্পর্কিত তথ্য:
- 'সারেং বৌ’ শহীদুল্লা কায়সারের একটি বিখ্যাত উপন্যাস
- এটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন তুলে ধরে।
- গল্পের মূল চরিত্র- সারেং কদম এবং তার স্ত্রী নবিতুন।
- উপন্যাসে তাদের প্রেম, বিচ্ছেদ, দুঃখ-কষ্ট এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবেলার গল্প বলা হয়েছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৮,২৯৪.
‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের সুত্রপাত করে কোন পত্রিকাটি?
  1. ধুমকেতু
  2. শিখা
  3. ভারতী
  4. সওগাত
ব্যাখ্যা
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন:
- বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারবিরোধী একটি প্রগতিশীল আন্দোলন।
- বাংলার মুসলমান সমাজের যে ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও কুপ্রথা বিরাজমান ছিল, সেসব দূরীকরণই ছিল এ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।
- এই সমাজ তাদের মুখপত্র হিসেবে ‘শিখা’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করত, যার প্রতিটি সংখ্যায় লেখা থাকত ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'।
- বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন গঠিত হয় কয়েকজন আলোকিত মানুষের উদ্যোগে।
- তাঁদের মধ্যে ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল হুসেন, কাজী আবদুল ওদুদ, আবদুল কাদির প্রমুখ।

'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মুখপত্র।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল চৈত্র ১৩৩৩ (৮ এপ্রিল ১৯২৭)।
- পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৪৪, দাম আট আনা, মুদ্রণ সংখ্যা ১০০০।
- এই পত্রিকার সাথে জড়িত ছিলেন অধ্যাপক আবুল হুসেন, কাজী মোতাহার হোসেন, মোহাম্মদ আবদুর রশিদ ও আবুল ফজল। 
-  শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৮,২৯৫.
'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হব' কালজয়ী এই উক্তির রচয়িতা কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. জহির রায়হান
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
জহির রায়হান:
- জহির রায়হান বাংলা সাহিত্যে একটি সুপরিচিত নাম।
- এদেশের চলচ্চিত্রেরও তিনিই প্রথম সফল নির্মাতা।
- তিনি ১৯৩৩ সালে ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনে জহির রায়হান যোগ দেন একজন সক্রিয় ও সাহসী কর্মী হিসেবে। তখন তিনি ছিলেন জগন্নাথ কলেজের ছাত্র।
- তিনি ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সময় কারাবরণ করেন।
- ১৯৫৫ সালে শহীদ দিবস পালনের প্রস্তুতি, সরকারী বাধা ইত্যাদি অবরুদ্ধতাকে কেন্দ্র করে ‘আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাসের পটভূমি রচিত।
- জহির রায়হানের ’আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাসের কাহিনী অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। কাহিনীর স্থিতিকাল মাত্র তিন দিন দুই রাত।
- আরেক ফাল্গুন উপন্যাসের নায়ক মুনিম। মুনিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতা।
- সিপাহী বিদ্রোহের স্মৃতিময়তা এই উপন্যাসের সূচনাকে করেছে তাৎপর্যময় এবং বর্ণনায় প্রকৃতির পরিচর্যা কাহিনীকে করেছে সংকেতময়।
- মেঘের গতি উত্তর থেকে দক্ষিণে আর মুনিমের গতি দক্ষিণ থেকে উত্তরে।
- বর্ণনার এই সংকেতময় ইংগিতটি শৈল্পিক। উপন্যাসের শেষাংশে বর্ণনায় এই ইংগিত আরও সম্ভাবনাময় ও সুদূরপ্রসারী বলে মনে হয়েছে।
- যেমন- নাম ডেকে ডেকে তখন একজন একজন করে ছেলেমেয়েদের ঢোকানো হচ্ছিল জেলখানার ভেতরে। নাম ডাকতে ডাকতে হাঁফিয়ে উঠেছিলেন ডেপুটি জেলার সাহেব।
- এক সময় বিরক্তির সঙ্গে বললেন, ''উহ অত ছেলেকে জায়গা দেব কোথায়? জেলখানাতো এমনি ভর্তি হয়ে আছে''।
- ওর কথা শুনে কবি রসুল চিৎকার করে উঠল, ''জেলখানা আরও বাড়ান সাহেব। এত ছোট জেলখানায় হবে না''।
- আর একজন বলল, ''এতেই ঘাবড়ে গেলে নাকি? আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হব''।

 
উৎস: দৈনিক জনকণ্ঠ।  [লিঙ্ক]
৮,২৯৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কৌতুক নাটক কোনটি? 
  1. জামাই বারিক
  2. বিবাহ-বিভ্রাট
  3. বৈকুন্ঠের খাতা
  4. হিতে বিপরীত
ব্যাখ্যা
- 'বৈকুন্ঠের খাতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয় একটি কৌতুক নাটক। 
- এটি ১৮৮৭ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এক আত্মভােলা সরল প্রকৃতির বৃদ্ধ এই কাহিনীর কেন্দ্র। 
- তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের কৌতুকময় ঘটনা। 
- সংলাপের দ্যুতি এবং আচরণের নাটকীয়তা নাটকটির জনপ্রিয়তার মূলে। 
- নাটকটির কোনাে কোনাে চরিত্রে লেখকের আত্মীয়-বন্ধুর চরিত্রের ছায়াপাত ঘটেছে। 

তাঁর রচিত কিছু নাটক: 
- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা, 
- তাসের দেশ, 
- শারদোৎসব, 
- প্রায়শ্চিত্ত, 
- ডাকঘর, 
- বসন্ত, 
- চণ্ডালিকা, 
- নটীর পূজা। 

অন্যদিকে, 
- জামাই বারিক দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি প্রহসন। 
- হিতে বিপরীত-এর রচয়িতা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- বিবাহ বিভ্রাট -এর রচয়িতা অমৃতলাল বসু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৮,২৯৭.
'মুসলিম সাহিত্য-সমাজ' এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. আবুল হাসান
  2. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. এ. এফ. এম আবদুল হক
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা
• 'মুসলিম সাহিত্য-সমাজ' এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন - এ. এফ. এম আবদুল হক

মুসলিম সাহিত্য-সমাজ:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি 'মুসলিম সাহিত্য-সমাজ' প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম চলে।
- প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন - আবুল হুসেন, এ. এফ. এম আবদুল হক, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, আবদুল কাদির, আবুল ফজল, কাজী আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মূলমন্ত্র ছিল 'বুদ্ধির মুক্তি'।
- বুদ্ধির মুক্তি বলতে তাঁরা বুঝাতেন অন্ধ সংস্কার ও শাস্ত্রানুগত্য থেকে মানুষের বিচারবুদ্ধিকে মুক্তি দান। সংগঠনটি যে নবজাগরণের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজকর্ম ও সাহিত্যচর্চায় ব্রতী হয়, তার মূলে ছিল তুর্কি জাতি প্রতিষ্ঠায় মুস্তফা কামাল পাশার উদ্যম, ভারতের নবজাগরণে বিভিন্ন মণিষীর প্রয়াস এবং মানবতার উদ্বোধনে সর্বকালের চিন্তাচেতনার সংযোগ।

- জ্ঞানের শিখা জ্বালাবার জন্য সংগঠনটি ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- শিখার মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যা কাজী মোতাহার হোসেন, চতুর্থ সংখ্যা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ এবং পঞ্চম সংখ্যা আবুল ফজল সম্পাদনা করেন।
- শিখার মুখবাণী ছিল -‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,২৯৮.
চাকমা অঞ্চলের নর নারীর জীবন কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. কাশবনের কন্যা
  2. উত্তর পুরুষ
  3. পোকা মাকরের ঘর বসতি
  4. কর্ণফুলি
ব্যাখ্যা

কর্ণফুলি উপন্যাসটি আলাউদ্দিন আল আজাদের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। এটি অঞ্চলভিত্তিক জীবনের রূপায়নভিত্তিক উপন্যাস। এ উপন্যাসে চাকমা অঞ্চলের নর নারীর জীবন কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। চাকমা অঞ্চলের ভাষাও এতে ব্যবহৃত হয়েছে।
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হল- আদিবাসী রাঙ্গামিলা, জলি, রমজান, ইসমাইল।
- এই উপন্যাসের জন্য তিনি ইউনেস্কো পুরস্কার পান।

 তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০)
- শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথম দিন (১৯৬২)
- কর্ণফুলী (১৯৬২)
- ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪)
- খসড়া কাগজ (১৯৮৬)- শ্যাম ছায়ার সংবাদ (১৯৮৬)
- জ্যোৎস্নার অজানা জীবন (১৯৮৬)
- যেখানে দাঁড়িয়ে আছি (১৯৮৬)
- স্বাগতম ভালোবাসা (১৯৯০)
- অপর যোদ্ধারা (১৯৯২)
- পুরানা পল্টন (১৯৯২)
- অন্তরীক্ষে বৃক্ষরাজি (১৯৯২)
- প্রিয় প্রিন্স (১৯৯৫)
- ক্যাম্পাস (১৯৯৪)
- অনূদিত অন্ধকার (১৯৯১)
- স্বপ্নশীলা (১৯৯২)
- কালো জ্যোৎস্নায় চন্দ্রমল্লিকা (১৯৯৬)
- বিশৃঙ্খলা 

উৎস: বাংলাপিডিয়া; উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)।

৮,২৯৯.
কোন পত্রিকায় লেখার মাধ্যমে শরৎচন্দ্রের খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পরে?
  1. ক) ভারতী
  2. খ) মুখ ও মুখোশ
  3. গ) প্রথম আলো
  4. ঘ) প্রগতি
ব্যাখ্যা
ভারতী পত্রিকায় বড়দিদি উপন্যাস লেখার মাধ্যমে শরৎচন্দ্রের সাহিত্যের খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পরে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৮,৩০০.
'নামহীন গোত্রহীন' হাসান আজিজুল হক রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• হাসান আজিজুল হক:
- হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আমরা অপেক্ষা করেছি
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।