বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

মোট প্রশ্ন১,২৯৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

PrepBank · পাতা / ১৩ · ১০১২০০ / ১,২৯৫

১০১.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু কোন আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন?
  1. ঢাকা - ১০
  2. ঢাকা - ১২
  3. ঢাকা - ১৭
  4. ঢাকা - ৯
সঠিক উত্তর:
ঢাকা - ১২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা - ১২
ব্যাখ্যা
• জাতীয় সংসদ:
- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- সে সময় ৩০০ আসনে সরাসরি নির্বাচন হয়।
- সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ছিল ১৫টি।
- নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টিতে জয়লাভ করে।
- বঙ্গবন্ধু সে সময় ঢাকা-১২ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন।
- প্রথম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন মুহম্মদুল্লাহ
- ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন বায়তুল্লাহ।

উৎস: লাইভ এম সি কিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।
১০২.
বাংলাদেশের গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল কোন পার্লামেন্টারী ব্যবস্থার অনুসরণে?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. ব্রিটেন
  3. কানাডা
  4. ভারত
সঠিক উত্তর:
ব্রিটেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রিটেন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ
- গণতন্ত্রায়ন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী স্থানে।
- ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছেল ব্রিটেনের উদারনৈতিক পার্লামেন্টারী ব্যবস্থার অনুসরণে।
- ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে।
- কিন্তু বাংলাদেশে প্রধান দু'টি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মধ্যে সমঝোতার অভাবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র সত্যিকারের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ এখনও গ্রহণ করতে পারেনি।
- তবে বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্রের স্পৃহা প্রবল, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে।

উৎস: এসএসএইচএল , সমাজ বিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৩.
রাজনৈতিক দল কিসের ভিত্তিতে কর্মসূচি প্রণয়ন করে?
  1. ব্যক্তিস্বার্থ
  2. সরকারি নীতি
  3. দলীয় মতাদর্শ
  4. আন্তর্জাতিক চাপ
সঠিক উত্তর:
দলীয় মতাদর্শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দলীয় মতাদর্শ
ব্যাখ্যা
⇒ রাজনৈতিক দল দলীয় মতাদর্শের ভিত্তিতে কর্মসূচি প্রণয়ন করে।

রাজনৈতিক দল:
- সাধারণত বহুমুখী ও ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়।
- বহু ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দায়-দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত থাকে।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হল বৃহত্তম জাতীয় ও সামাজিক স্বার্থ সাধন।
- রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সম্প্রসারিত।
- সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে।
- এই মতাদর্শের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় নীতি ও ব্যাপক কর্মসূচি রচিত হয় এবং তা বাস্তবে রূপায়িত করার চেষ্টা করা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৪.
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি রাজনৈতিক দলে নারী সদস্যের ন্যূনতম অংশ কত শতাংশ হতে হবে?
  1. ২৫%
  2. ৪৫%
  3. ৩৫%
  4. ৩৩%
সঠিক উত্তর:
৩৩%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৩%
ব্যাখ্যা

• নারী সদস্যের অন্তর্ভুুক্তি:
- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এর সবচাইতে আলোচিত পরিবর্তন আনা হয় আদেশ এর Chapter-VI-এ এর মাধ্যমে।
- নির্বাচন কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়।
- নিবন্ধনের শর্তগুলোতে মহিলা নেতৃত্ব এবং রাজনীতিতে মহিলাদের উৎসাহিত করার জন্য প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের তৃণমূল হতে কেন্দ্রীয় কমিটিগুলোতে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩% নারীদের অন্তর্ভুুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য ছিল গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও)।
- ২০০৮ সালে নিবন্ধন নেওয়ার সময় দলগুলো তা পূরণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল।
- কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পূরণ করতে পারেনি নিবন্ধিত দলগুলো।
- বর্তমান কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে দলের সব স্তরের কমিটিতে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব রাখার সময়সীমা ২০২০ এর পরিবর্তে ২০৩০ সাল করার প্রস্তাব দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।

১০৫.
ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য কতজন?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৪ জন
সঠিক উত্তর:
৩ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ জন
ব্যাখ্যা
ইউনিয়ন পরিষদের গঠন:

- একটি ইউনিয়ন ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত।
- চেয়ারম্যান ১ জন।
- নির্বাচিত সদস্য ৯ জন।
- সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৩ জন।
- ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয় মোট ১৩ জন সদস্য নিয়ে।
- প্রতি তিন ওয়ার্ড থেকে একজন মহিলা সদস্য নির্বাচিত হন।
- কার্যালয় পরিচালনার জন্য এক জন সচিব নিয়োগ করা হয়।
- ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর, সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের অপসারণ করা যায়। 
- ইউনিয়ন পরিষদের সকলেই সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৬.
‘আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম’ সংগঠনটি কার উদ্যোগে গঠিত হয়?
  1. শামসুন্নাহার মাহমুদ
  2. বেগম রোকেয়া
  3. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  4. বেগম সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ১৮৮০ সালের ৯ই ডিসেম্বর, রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে।
- তিনি ছিলেন উপমহাদেশের মুসলিম নারীদের শিক্ষার পথিকৃৎ ও সমাজ সংস্কারক।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের সামাজিক-রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তিনি ১৯১৬ সালে “আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম” বা মুসলিম মহিলা সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।

উল্লেখ্য, 
- রোকেয়ার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে: মতিচূর (প্রবন্ধগ্রন্থ, দুই খণ্ড; প্রথম খণ্ড ১৯০৪ সালে ও দ্বিতীয় খণ্ড ১৯২২ সালে প্রকাশিত), Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮), পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪) এবং অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১)।
- Sultana’s Dream বইটি তিনি নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে। এটি একটি প্রতীকী রচনা। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১০৭.
উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন করে কে?
  1. সরকার
  2. বিরোধী দল
  3. সুশীল সমাজ
  4. বিচার বিভাগ
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
ব্যাখ্যা

• বিরোধী দল:
- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধী দলকে। 
- উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলও সরকারি দলের ন্যায় গঠন করে- ছায়া মন্ত্রিসভা। 
- তবে বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন।
- সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার বা বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।
- তবে বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১০৮.
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণতন্ত্র টিকে রাখার জন্য প্রয়োজন-
  1. সুশীল সমাজ
  2. বিরোধী দল
  3. বেসরকারি প্রতিষ্ঠান
  4. নাগরিক সমাজ
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধী দল
ব্যাখ্যা

• গণতন্ত্র রক্ষা: 
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। 
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ। 
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়। 
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে। 
- জন স্টুয়ার্ট মিল তাই বলেন, "যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৯.
খিলাফত আন্দোলনের অন্যতম নেতা কে ছিলেন?
  1. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  2. মাওলানা শওকত আলী
  3. মাওলানা মোহাম্মদ আলী
  4. বর্ণিত সবাই
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা
খিলাফত আন্দোলন:
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উদ্ভূত একটি প্যান-ইসলামি আন্দোলন।
- কারণ ভারতের মুসলমানেরা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা বলে শ্রদ্ধা করতেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের সুলতান ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করলে ভারতে মুসলমান সম্প্রদায় বিব্রত হন।
- কারণ ধর্মীয় কারণে তাঁরা খলিফার অনুগত, আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারের অনুগত থাকতে বাধ্য।
- খিলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও দুই ভাই মাওলানা শওকত আলী এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী।
 
উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১১০.
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ২০ জুন, ১৯৪৯ সালে
  2. ২১ জুন, ১৯৪৯ সালে
  3. ২২ জুন, ১৯৪৯ সালে
  4. ২৩ জুন, ১৯৪৯ সালে
সঠিক উত্তর:
২৩ জুন, ১৯৪৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ জুন, ১৯৪৯ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ:
 
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম।
- পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালে দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ করা হয়।
- মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং শামসুল হক ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
- ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও শোষণমুক্তি এ চারটি মূলনীতির উপর দলটি পরিচালিত হচ্ছে।
- স্বাধীনতার পর থেকে দেশ পুনর্গঠন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দলটি অনবদ্য অবদান রেখেছে।
 
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১১.
রেহমান সোবহানের চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্টী কোনটি?
  1. BLAST
  2. TIB
  3. SUJON
  4. CPD
সঠিক উত্তর:
CPD
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CPD
ব্যাখ্যা
CPD:
- CPD-এর পূর্ণরূপ: Center for Policy Dialogue.
- CPD হলো বাংলাদেশের একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা যা সরকারি বিভিন্ন বাণিজ্যিক পদক্ষেপের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে।
- এটি ১৯৯৩ সালে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বর্তমানে এর সদর দপ্তর ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত।
- সিপিডির লক্ষ্য বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য একটি চাহিদা-চালিত এবং জবাবদিহিমূলক উন্নয়ন প্রক্রিয়া গড়ে তোলা, তথ্যবহুল বিতর্ক উদ্দীপিত করা, জ্ঞান তৈরি করা এবং গবেষণা, সংলাপ, প্রচার এবং সমর্থনের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণকে প্রভাবিত করা।

অন্যদিকে,
- সুজনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

উৎস: i) CPD ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
১১২.
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হয়ে থাকে?
  1. ক) গণভোটের মাধ্যমে
  2. খ) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নির্ধারিত
  3. গ) প্রত্যক্ষ পদ্ধতিতে
  4. ঘ) পরোক্ষ পদ্ধতিতে
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরোক্ষ পদ্ধতিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরোক্ষ পদ্ধতিতে
ব্যাখ্যা
নির্বাচনের প্রকারভেদ:
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় দুই ধরনের নির্বাচন বিদ্যমান। যেমন- প্রত্যক্ষ নির্বাচন ও পরোক্ষ নির্বাচন।

প্রত্যক্ষ নির্বাচন:
- যখন জনগণ সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগ করে প্রতিনিধি নির্বাচন করে তখন তাকে প্রত্যক্ষ নির্বাচন বলে । যেমন- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্যগণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।

পরোক্ষ নির্বাচন:
- জনগণ ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি বা একটি মধ্যবর্তী সংস্থা নির্বাচিত করেন।
- জনপ্রতিনিধিগণ ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি বা সংসদের সংরক্ষিত আসনের (৫০ জন মহিলা) সদস্য নির্বাচিত করেন
- এভাবে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে পরোক্ষ নির্বাচন বলে। যেমন- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন। আবার ইলেক্টরাল কলেজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৩.
রাজনৈতিক দল সাধারণত কোন ভিত্তিতে গঠিত হয়?
  1. নীতি ও মতের ভিত্তিতে
  2. নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে
  3. স্বজাতিবোধের ভিত্তিতে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দল:
- সাধারণত বহুমুখী ও ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়।
- বহু ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দায়-দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত থাকে।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হল বৃহত্তম জাতীয় ও সামাজিক স্বার্থ সাধন।
- রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সম্প্রসারিত।
- সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে।
- এই মতাদর্শের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় নীতি ও ব্যাপক কর্মসূচি রচিত হয় এবং তা বাস্তবে রূপায়িত করার চেষ্টা করা হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৪.
কত সালে স্থানীয় শাসন অর্ডিন্যান্স জারি হয়?
  1. ক) ১৯৭৩
  2. খ) ১৯৭৪
  3. গ) ১৯৭৫
  4. ঘ) ১৯৭৬
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৭৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৭৬
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ১৯৭৬ সালের স্থানীয় শাসন অর্ডিন্যান্স জারি হয়। সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক
১১৫.
এফ আর খান-এর পরিচয় কী হিসেবে?
  1. কবি
  2. ভাস্কর
  3. নাট্যকার
  4. স্থপতি
সঠিক উত্তর:
স্থপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থপতি
ব্যাখ্যা

এফ আর খান:
- ফজলুর রহমান খান পেশায় স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার এবং স্থপতি।
- তিনি ১৯২৯ সালে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার বালিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করার পর তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজ-এ ভর্তি হন।
- ১৯৫০ সালে তিনি কলকাতার শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৯৫৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান স্কিডমুর-এ যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
- ফজলুর রহমান খান শিকাগোর একশ তলা উঁচু জন হ্যানকক সেন্টার এবং একশ দশ তলা উঁচু সিয়ার্স টাওয়ার-এর নকশা তৈরি করেন।
- ইঞ্জিনিয়ারিং নিউজ রেকর্ডস কর্তৃক ‘কন্সট্রাকশনস ম্যান অব দি ইয়ার’ মনোনীত হওয়ার পর ১৯৭১ সালে শিকাগোর ওন্টারিও সেন্টারে  একটি ফলকে তাঁর সম্বন্ধে মন্তব্য লেখা হয় ‘ইনোভেশন ফলোজ প্রোগ্রাম’।
- ১৯৮২ সালের ২৬ মার্চ তিনি হূদরোগে মারা যান।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৯ সালে তাঁকে মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পদকে’ ভূষিত করে এবং তাঁর স্মরণে স্মারক একটি ডাকটিকিট প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১৬.
নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনটি?
  1. ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
  2. পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
  3. চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
  4. সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ব্যাখ্যা

→ ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল প্রথম অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। 
-  সেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ছিলেন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ।
- এ নির্বাচনে মাঠে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে ছিল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ।
- এই নির্বাচনে ৫৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল।
- নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসন ও প্রদত্ত ভোটের ৩০ দশমিক ৮১ শতাংশ ভোট পায়।
- আওয়ামী লীগ পায় ৮৮ আসন ও প্রদত্ত ভোটের ৩০ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।
- জাতীয় পার্টি ৩৫টি আসন ও ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ ভোট এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ১৮টি আসন ও ১২ দশমিক ১৩ শতাংশ ভোট পায়। অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছিলেন ১৯টি আসন 

উল্লেখ্য,
- আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ দেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- জেনারেল জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৭ সালে প্রথমে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: প্রথম আলো।

১১৭.
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) এর প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন-
  1. মওলানা  আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. মাহমুদুল হক ওসমানী
  3. মোজাফ্ফর আহমেদ
  4. এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
মাহমুদুল হক ওসমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহমুদুল হক ওসমানী
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৭ সালের ২৪-২৫ জুলাই ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে আয়োজিত গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)’ গঠিত হয়।
- ন্যাপের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী, সভাপতি ছিলেন মাওলানা ভাসানী।
- এর আগে ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ‘কাগমারি সম্মেলনে’ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি প্রশ্নে বিরোধের জের ধরে ১৮ই মার্চ ১৯৫৭ মাওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।
- ন্যাপের অন্যান্য নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন পূর্ববাংলা থেকে হাজী মুহাম্মদ দানেশ, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, মহিউদ্দিন আহমদ, মশিউর রহমান (যাদু মিয়া), পীর হাবিবুর রহমান, এস.এ আহাদ, আবদুল মতিন, আবদুল হক, আতাউর রহমান এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ছিলেন ওয়ালি খান, আবদুল মজিদ সিন্ধী, মিয়া ইফতেখার প্রমুখ।  

তথ্যসূত্র- ইতিহাস প্রথম পত্র - এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১১৮.
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) কী ধরনের সংস্থা? 
  1. সরকারি সংস্থা
  2. ধর্মীয় সংগঠন 
  3. রাজনৈতিক সংস্থা 
  4. মানবাধিকার সংস্থা
সঠিক উত্তর:
মানবাধিকার সংস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানবাধিকার সংস্থা
ব্যাখ্যা
আইন ও সালিশ কেন্দ্র:
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বাংলাদেশের একটি মানবাধিকার এবং আইন সহায়তাকারী বেসরকারি সংস্থা।
- ১৯৮৬ সালে ৯ জন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের উদ্যোগে এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- শুরুর দিকে আসক মূলত ঢাকা শহরের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র নারী, কর্মজীবী শিশু এবং শ্রমিকদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করত। ধীরে ধীরে এর কার্যক্রম বিস্তৃত হয় এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার সংগঠনে পরিণত হয়।
- সংস্থাটির মূল লক্ষ্য হলো সমানাধিকার, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং লিঙ্গভিত্তিক সমতার ভিত্তিতে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

সূত্র: আইন ও সালিশ কেন্দ্র ওয়েবসাইট।
১১৯.
লর্ড ডালহৌসি কার সহায়তায় হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস করেন?
  1. জগদীশচন্দ্র বসু
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. লর্ড বেন্টিংক
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন:
- সংস্কারপন্থী বাঙালি নেতা ও শিক্ষিত শ্রেণির উদারবাদীদের সহযোগিতায় ইংরেজ শাসকরা সামাজিক ধর্মীয় অনেক অমানবিক প্রথা কুসংস্কার দূর করতে সক্ষম হন।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক, রাজা রামমোহন রায়, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের মতো উদারপন্থী হিন্দু নেতৃবর্গ এবং সদর নিজামত আদালতের জজদের অকুণ্ঠ সমর্থনে ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বরে সতীদাহ প্রথা রহিত করতে সক্ষম হন।
- লর্ড ডালহৌসি পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহায়তায় হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস করে বিধবা বিবাহের প্রচলন করেন। 
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক রাজা রামমোহন রায় প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের মতো উদারপন্থী হিন্দু নেতৃবর্গ এবং সদর নিজামত আদালতের জজদের অকুণ্ঠ সমর্থনে ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বরে সতীদাহ প্রথা রহিত করতে সক্ষম হন।
- লর্ড এলেনবরা-এর সময়ে দাস প্রথা উচ্ছেদ করা হয়। পরবর্তী সময়ে দেবতার নামে শিশু হত্যা নিষিদ্ধ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২০.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের অন্যতম ভূমিকা হল-
  1. সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা
  2. সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা
  3. সমস্যা চিহ্নিত করা
  4. জনকল্যাণে কাজ করা
সঠিক উত্তর:
সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা
ব্যাখ্যা
• গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের ভূমিকা:
- দল প্রথার ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সে দলই শাসনকার্য পরিচালনা করে।
- নির্বাচনে পরাজিত দল বা দলগুলি আইন সভাতে বিরোধী দলের ভূমিকা নেয়।
- একটি আদর্শ বিরোধী দল কেবল বিরোধীতার খাতিরেই বিরোধীতা করে না।
- বরং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা, ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়া এবং জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মাফিক সরকারকে পরামর্শ দেয়ার দায়িত্ব পালন করে।

• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়। শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে। জন স্টুয়ার্ট মিল তাই বলেন, "যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই"।

• বিকল্প নীতি উত্থাপনঃ
- বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা।
- এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে। এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।

• সমস্যা চিহ্নিত করা:
- রাষ্ট্রে অনেক ধরনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান থাকে।
- এ ধরনের সমস্যাগুলো সমগ্র জনগোষ্ঠীর পক্ষে বিরোধীদল সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে পারে।

• জনমত গঠন:
- রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে কোন দুর্বলতা চিহৃিত করতে পারলে, সেগুলো ব্যবহার করে বিরোধী দল নিজেদের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করতে পারে।
- বিরোধী দল যদি তাদের যুক্তির স্বপক্ষে শক্তিশালী জনমত গড়ে তুলতে পারে তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে তাদের ক্ষমতায় আসার পথ সুগম হয়।

• প্রার্থী মনোনয়ন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে।
- আর এ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হল সাধারণ নির্বাচন।
- তাই নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজ-আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারকার্য চালায়।

উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২১.
আইন ও সালিশ কেন্দ্র কী ধরনের সংস্থা?
  1. সরকারি সংস্থা
  2. বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান
  3. দাতব্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান
  4. মানবাধিকার সংস্থা
সঠিক উত্তর:
মানবাধিকার সংস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানবাধিকার সংস্থা
ব্যাখ্যা

• আইন ও সালিশ কেন্দ্র:
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বাংলাদেশের একটি মানবাধিকার এবং আইন সহায়তাকারী বেসরকারি সংস্থা।
- ১৯৮৬ সালে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ৯ জন।
- শুরুতে আসক ঢাকা শহরের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র নারী, কর্মজীবী শিশু এবং শ্রমিকদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করে।
- এর মূল লক্ষ্য সমানাধিকার, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং লিঙ্গভিত্তিক সমতার ভিত্তিতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।

তথ্যসূত্র: আইন ও সালিশ কেন্দ্র ওয়েবসাইট।

১২২.
বাংলাদেশে সর্বপ্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হয় কোন সালে?
  1. ১৯৮৩ সালে
  2. ১৯৮২ সালে
  3. ১৯৮৫ সালে
  4. ১৯৮৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৫ সালে
ব্যাখ্যা

• উপজেলা নির্বাচন: 
- ১৯৮৪ সালের মার্চ মাসে এরশাদ সরকার সারাদেশে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
- কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রচন্ড বিরোধীতার কারণে উপজেলা নির্বাচন তখনকার মত স্থগিত হয়ে যায়। 
- বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালে। ওই বছর ৪৬০টি উপজেলায় এই নির্বাচন হয়।
- ১৯৯০ সালে দ্বিতীয়বারের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছরও ৪৬০টি উপজেলায় এই নির্বাচন হয়।
- ১৯৯২ সালের ২৬ জানুয়ারি 'উপজেলা বাতিল' বিলটি সংসদে পাসের মাধ্যমে উপজেলা পদ্ধতি বাতিল হয়।
- পরে ১৯৯৮ সালের ৩ ডিসেম্বর উপজেলা পরিষদ আইনের মাধ্যমে পুনরায় উপজেলা ব্যবস্থা চালু করে।

উল্লেখ্য,
- একজন চেয়ারম্যান, দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান, অধিভুক্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, পৌরসভার মেয়র (যদি থাকে) ও তিনজন মহিলা সদস্য নিয়ে উপজেলা পরিষদ গঠিত।
- তাছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য এর পরামর্শকের ভূমিকা পালন করেন।
- উপজেলা পরিষদের প্রধান কাজ হল ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন করা।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।

১২৩.
রাজনৈতিক দল কিসের ভিত্তিতে কর্মসূচি প্রণয়ন করে?
  1. নিয়মতান্ত্রিক এবং সংবিধানসম্মত  পদ্ধতিতে
  2. ব্যক্তি স্বার্থে
  3. আন্তর্জাতিক চাপে
  4. সরকারি নীতিতে
সঠিক উত্তর:
নিয়মতান্ত্রিক এবং সংবিধানসম্মত  পদ্ধতিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়মতান্ত্রিক এবং সংবিধানসম্মত  পদ্ধতিতে
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক দল কর্মসূচি প্রণয়ন:
- প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকে। এই কর্মসূচিকে বাস্তবে রূপায়িত করার জন্য দলগুলো নিয়মতান্ত্রিক এবং সংবিধানসম্মত পদ্ধতিতে অগ্রসর হয়
- রাজনৈতিক দল ও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কর্মকান্ড আঞ্চলিক অথবা জাতীয় ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারে।
- রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য হল রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন। লক্ষ্য পূরণের জন্য রাজনৈতিক দলের প্রধান কাজ থাকে সদস্য নিয়োগ, নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকার গঠন ও পরিচালনা,সরকারের কর্মসূচি নির্ধারণ ও প্রয়োগ। 
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রাভাবিত করা। 

উৎস:  পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৪.
১৯৬৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত জোট কোনটি?
  1. ক) সম্মিলিত বিরোধী জোট
  2. খ) National Democratic Front
  3. গ) নিউক্লিয়াস
  4. ঘ) ডেমোক্রেটিক একশন কমিটি
সঠিক উত্তর:
ক) সম্মিলিত বিরোধী জোট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সম্মিলিত বিরোধী জোট
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রপতি র্নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৯৬৪ সালের ২৬ জুলাই আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়।
- যা সম্মিলিত বিরোধী জোট (Combined Opposition party-COP) নামে পরিচিত। 
- এই জোটের শরিক দলগুলো হলো-
১। পাকিস্তান আওয়ামী লীগ
২। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী)
৩। মুসলিম লীগ (কাউন্সিল)
৪। নেজাম-ই-ইসলাম
৫। জামায়াতে ইসলামী
- ‘সম্মিলিত বিরোধী জোট’ আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছোট বোন ফাতেমা জিন্নাহ্কে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়ন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।

- National Democratic Front-NDF - ১৯৬২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দীর্র নেতৃত্বে আইয়ুব বিরোধী ও গণতন্ত্রের সপক্ষ শক্তিসমূহের দ্বারা গঠিত একটি রাজনৈতিক ফ্রন্ট।
- নিউক্লিয়াস - ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীনতাকামী একটি ছাত্র সংগঠন।

সূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস ১মপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৫.
'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' কে প্রতিষ্ঠা করেছেন?
  1. সৈয়দ আমীর আলী
  2. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  3. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  4. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আমীর আলী:
- সৈয়দ আমীর আলী ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে হুগলীতে জন্ম গ্রহণ করেন।
- উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমীর আলী।
- তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি করতে চেয়েছেন।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন।
- সৈয়দ আমীর আলী ১৮৭৭ সালে ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- এটিকে তিনি ভারতের অন্যান্য প্রদেশসমূহের শাখাগুলি অধিভুক্তির পর 'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' নামে নতুন নামকরণ করেন।

উৎস: বাংলাশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১২৬.
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক কে?
  1. হাসনাত আব্দুল্লাহ
  2. সারজিস আলম
  3. আখতার হোসেন
  4. নাহিদ ইসলাম
সঠিক উত্তর:
নাহিদ ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাহিদ ইসলাম
ব্যাখ্যা
National Citizen Party (NCP):
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) হলো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল।
- এটি  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে গঠিত হয়েছে।
- ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
 - নাহিদ ইসলামকে দলটির  আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
- এটি দেশের প্রথম রাজনৈতিক দল, যা সম্পূর্ণভাবে ছাত্র নেতৃত্বের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।
- দলটির সৃষ্টি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের একটি সফল পরিণতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস: NCP ওয়েবসাইট।
১২৭.
নিচের কোন শাসনের নিষ্পেষণে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক আদর্শ ভুলণ্ঠিত হয়?
  1. গণতান্ত্রিক শাসন
  2. একদলীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা
  3. বহুদলীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা
  4. সামরিক শাসন
সঠিক উত্তর:
সামরিক শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামরিক শাসন
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক আদর্শ ভুলণ্ঠিত:

- ১৯৭২ সালে শুরু হওয়া গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের মধ্যে দিয়ে স্তব্ধ হয়ে যায়।
- পরবর্তী প্রায় ১৫ বছর সামরিক শাসনের নিষ্পেষণে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক আদর্শ ভুলণ্ঠিত হয়।
- স্বৈরাচার বিরোধী তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে সামরিক শাসনের অবসান হয়।
- ১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনের পুন:সূচনা হয়।
- জনমত যাচাইয়ের সর্বোৎকৃষ্ট মাধ্যম হল-নির্বাচন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৮.
কোন রাজনীতিবিদ 'দেশবন্ধু' উপাধি পেয়েছিলেন?
  1. চিত্তরঞ্জন দাশ
  2. পন্ডিত মতিলাল নেহরু
  3. অমর্ত্য সেন
  4. সুভাষচন্দ্র বসু
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাশ
ব্যাখ্যা
চিত্তরঞ্জন দাশ:
- চিত্তরঞ্জন দাশ সাধারণত দেশবন্ধু বলে আখ্যায়িত। 

⇒ তিনি বিশ শতকের বাংলার সবচেয়ে প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অন্যতম।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
- অনুশীলন সমিতির মতো বিপ্লবী সংগঠনের সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।
- এস.এন ব্যানার্জী, বি.সি পাল ও অরবিন্দ ঘোষের সহকর্মী হিসেবে তিনি বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫)-কে বাংলায় বিপ্লবী কর্মকান্ড বিস্তৃত করতে সদ্ব্যবহার করেন।
- ১৯১৭ সালে ভবানীপুরে অনুষ্ঠিত বাংলার প্রাদেশিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন তিনি।
- তিনি ব্যাঙ্গল প্যাক্ট এর প্রবক্তা।

⇒ চিত্তরঞ্জন দাস বাংলার বহু রাজনৈতিক নেতার রাজনৈতিক গুরু।
- তাদের মধ্যে সুভাষচন্দ্র বসু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বিধানচন্দ্র রায়, শরৎচন্দ্র বসু, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত প্রভৃতি ব্যক্তিবর্গ উল্লেখযোগ্য।
- তিনি সব সময় ব্রিটিশবিরোধী লড়াইকে জোরদার করতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে নিজের মত প্রকাশ করেছেন।
- একসময় তিনি কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে 'স্বরাজ দল' নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই স্বরাজ দলের প্রার্থী হিসেবেই ১৯২৪ সালে কলকাতা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন।
- এ সময়ে তিনি নারী শিক্ষা, বিধবা বিবাহ ইত্যাদির পক্ষে অনেক কাজ করেন।
- বাংলার এই বলিষ্ঠ নেতা মাত্র ৫৫ বছর বয়সে ১৯২৫ সালের জুন মাসে মারা যান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২৯.
বাংলাদেশে সর্বশেষ [অক্টোবর, ২০২৪] নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল 'গণসংহতি আন্দোলন' দলের প্রতীক কী?
  1. কেটলি
  2. ট্রাক
  3. মাথাল
  4. ঈগল
সঠিক উত্তর:
মাথাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাথাল
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- রাজনৈতিক দল হলো গণতন্ত্রের মূল চালিকা শক্তি।
- যখন কিছু সংখ্যক মানুষ মতাদর্শগতভাবে একমত পোষণ করে এবং ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় তখন তাকে রাজনৈতিক দল বলে।
- রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠে নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে।
- রাজনৈতিক দলের একটি স্থায়ী সংগঠন থাকে এবং এ সংগঠনের মাধ্যমে এটি কাজ করে।
- একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যবৃন্দ একই মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা অর্জনের জন্য কাজ করে।
- রাজনৈতিক দল হচ্ছে মতাদর্শ ভিত্তিক সুসংবদ্ধ সংগঠন।
- এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ করা।
- রাজনৈতিক দলকে জনসমর্থন আদায়ের জন্য রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরেও, আর্থ-সামাজিক বিষয়াদি নিজ কর্মসূচিতে সন্নিবেশিত করতে হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল:
- বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৪৮টি।
- সর্বশেষ ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে 'গণসংহতি আন্দোলন' নামে একটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধন লাভ করে।

⇒ 'গণসংহতি আন্দোলন' দলের প্রতীক মাথাল।
- নিবন্ধন নং: ৫৩।
- প্রধান সমন্বয়কারী: জনাব জোনায়েদ সাকি।

উৎস: i) নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩০.
১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর বাংলাদেশের কয় জন জাতীয় নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়?
  1. ক) ৩ জন
  2. খ) ৫ জন
  3. গ) ৪ জন
  4. ঘ) ২ জন
সঠিক উত্তর:
গ) ৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪ জন
ব্যাখ্যা
১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর রাতে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে।
তাই প্রতিবছর ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস পালিত হয়।

হত্যাকাণ্ডের শিকার জাতীয় চার নেতা হলেন:
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- তাজউদ্দীন আহমদ
- এম মনসুর আলী এবং
- এ এইচ এম কামারুজ্জামান।

এই হত্যাকাণ্ড ইতিহাসে জেলহত্যা নামে পরিচিত।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা)
১৩১.
প্রবাসী ভোটারদের জন্য কোন এ্যাপসটি চালু করা হয়েছে?
  1. Postal Vote BD
  2. Probashi voter app
  3. Foreign voter BD
  4. Postal ballot BD
সঠিক উত্তর:
Postal Vote BD
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Postal Vote BD
ব্যাখ্যা

Postal Vote BD অ্যাপ:
- সম্প্রতি, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ সালে নির্বাচন কমিশন প্রবাসী ভোটার অ্যাপ Postal Vote BD উদ্বোধন করে।
- প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধনের জন্য ১৮ নভেম্বর 'পোস্টাল ভোেট বিডি' অ্যাপের উদ্বোধন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
- একই দিনে ইসি চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও প্রকাশ করবে।

উল্লেখ্য
- এবার প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ইসি।
- এ ছাড়া ভোটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এবং আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরাও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা।

১৩২.
ফারাক্কা চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি হিসেবে কে অভিহিত করেছেন?
  1. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
  2. শামসুল হক হন
  3. আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  4. এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
- মওলানা ভাসানী ফারাক্কা চুক্তিকে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

 আব্দুল হামিদ খান ভাসানী:
- ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়।
- পরে তিনি টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে গিয়ে তথাকার অত্যাচারিত কৃষকদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
- ১৯৩৭ সালে ভাসানী মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং অচিরেই দলের আসাম শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল জন্মলাভ করে।
- নবগঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন মাওলানা ভাসানী, এবং টাঙ্গাইলের শামসুল হক হন সাধারণ সম্পাদক।
- আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে ভাসানী তখনকার বিরোধী দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট নামে একটি মোর্চা গঠন করেন।
- এ মোর্চার অপরাপর নেতা ছিলেন এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেখ মুজিবুর রহমান ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ।
- মওলানা ভাসানী ফারাক্কা চুক্তিকে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
- তিনি ১৯৭৬ সালের ১৬ মে রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে এক লং মার্চে নেতৃত্ব দেন।
- ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৩৩.
স্বরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. চিত্তরঞ্জন দাস
  2. সুভাষ চন্দ্র বসু
  3. মতিলাল নেহরু
  4. ক+গ
সঠিক উত্তর:
ক+গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক+গ
ব্যাখ্যা

স্বরাজ পার্টি:
- সময়কাল: ১৯২৩ সালে।
- প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মতিলাল নেহরু (জওহরলাল নেহরুর পিতা) ও চিত্তরঞ্জন দাস। 
- মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের বিকল্প হিসেবে কম কঠোর হিন্দু মতাদর্শী এবং আরও ধর্মনিরপেক্ষ কংগ্রেস নেতারা ব্রিটিশদের প্রবর্তিত রাজনৈতিক সংস্কারের সঙ্গে আংশিক সহযোগিতার পথে হাঁটেন।
- ১৯২৩ সালের কেন্দ্রীয় আইনসভা নির্বাচনে ৪০টির বেশি আসন জয়ী হয়।
- তবে ব্রিটিশদের জন্য প্রয়োজনীয় আইন পাস রোধ করার মতো যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়।
- ১৯২৭ সালে স্বরাজ পার্টি ভেঙ্গে যায়।
- স্বরাজ পার্টি ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা ভারতের রাজনৈতিক আন্দোলনে বিকল্প কৌশল তৈরি করেছিল।

উদ্দেশ্য:
- স্বরাজ (স্বশাসন) অর্জন, যা ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতার আন্দোলনে ব্যবহৃত শব্দ।
- ১৯২৩ সালে কেন্দ্রীয় আইনসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ব্রিটিশ নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন পরিচালনা।
- আইনসভায় ব্রিটিশ নীতিকে ব্যাহত করা এবং সরকারী কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি।

উৎস: ব্রিটানিকা

১৩৪.
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন দল -
  1. বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি
  2. বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
  3. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
  4. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
ব্যাখ্যা
- নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন রাজনৈতিক দল - বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
- প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি -আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রতিষ্ঠাকাল - ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন।
- সদর দপ্তর - বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, ঢাকা
- সংবাদপত্র- উত্তরণ।
- ছাত্র শাখা - বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
- মতাদর্শ - বাঙালি জাতীয়তাবাদ,ধর্মনিরপেক্ষতা,গণতন্ত্র, মুজিববাদ, সমাজতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।

এছাড়াও,
- বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামী ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন এর নিবন্ধন বাতিল করে।
- বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয় - ২৫ জুলাই ১৯৫৭।
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হয় -১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮।

উৎস: নির্বাচন কমিশন, দলের ওয়েবসাইট ও পত্রিকার রিপোর্ট।
১৩৫.
বাংলাদেশে সর্বশেষ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল 'গণসংহতি আন্দোলন' দলের প্রতীক কী? [নভেম্বর - ২০২৪]
  1. গামছা
  2. মাথাল
  3. ট্রাক
  4. কেটলি
সঠিক উত্তর:
মাথাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাথাল
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- রাজনৈতিক দল হলো গণতন্ত্রের মূল চালিকা শক্তি।
- যখন কিছু সংখ্যক মানুষ মতাদর্শগতভাবে একমত পোষণ করে এবং ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় তখন তাকে রাজনৈতিক দল বলে।
- রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠে নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে।
- রাজনৈতিক দলের একটি স্থায়ী সংগঠন থাকে এবং এ সংগঠনের মাধ্যমে এটি কাজ করে।
- একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যবৃন্দ একই মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা অর্জনের জন্য কাজ করে।
- রাজনৈতিক দল হচ্ছে মতাদর্শ ভিত্তিক সুসংবদ্ধ সংগঠন।
- এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ করা।
- রাজনৈতিক দলকে জনসমর্থন আদায়ের জন্য রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরেও, আর্থ-সামাজিক বিষয়াদি নিজ কর্মসূচিতে সন্নিবেশিত করতে হয়।
- বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৪৮টি।
- সর্বশেষ ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে 'গণসংহতি আন্দোলন' নামে একটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধন লাভ করে।
- 'গণসংহতি আন্দোলন' দলের প্রতীক মাথাল।
- নিবন্ধন নং: ৫৩।
- প্রধান সমন্বয়কারী: জনাব জোনায়েদ সাকি।

উৎস: নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট ও পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৬.
যুক্তফ্রন্ট কখন গঠিত হয়েছিলো?
  1. ১৯৫২ সালে
  2. ১৯৫৩ সালে
  3. ১৯৫৪ সালে
  4. ১৯৫৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালে
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।

• দলগুলো ছিল: 
– মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন- আওয়ামী মুসলিম লীগ
– শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক- শ্রমিক পার্টি
– মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন- নেজাম-ই-ইসলামী এবং
– হাজী দানেশের- বামপন্থী গণতন্ত্রী দল। 

• যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা। 
– ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
– ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
– ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
– যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
– যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবির প্রথম দফাটি ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

তথ্যসূত্র:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম-দশম শ্রেণী ও ইতিহাস প্রথম পত্র (এইচ এস সি) বাংলাদেশ ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৭.
বাংলার নওয়াব উপাধি প্রাপ্ত প্রথম বাঙালি মহিলা কে?
  1. ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী
  2. বেগম রোকেয়া
  3. নীলিমা ইব্রাহীম
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী
ব্যাখ্যা
• নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন নারীশিক্ষার পথিকৃৎ।
- দানশীলতার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।
- 'রুপজালাল' নওয়াব ফয়জুন্নেসা রচিত গদ্য ও কবিতায় আত্মজীবনী মূলক রচনা।
- গ্রন্থটি ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩৮.
নিচের কে ''চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তে সংগঠিত গোষ্ঠী" দুটি শব্দ ব্যবহারের পক্ষে ছিলেন?
  1. অ্যালেন পটার
  2. জেইন এ্যাডামস
  3. এইচ জিগলার 
  4. রেমন্ড এ্যারন
সঠিক উত্তর:
অ্যালেন পটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালেন পটার
ব্যাখ্যা
সংগঠিত গোষ্ঠী:
- অ্যালেন পটার চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তে ‘সংগঠিত গোষ্ঠী’ (Organized group) দুটি শব্দ ব্যবহারের পক্ষে ছিলেন। কারণ এ ধারণার মাধ্যমে গোষ্ঠীর সংগঠনের ব্যাপকতাকে আরো যথার্থভাবে অনুধাবন করা সম্ভব।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী হল এমন এক দল ব্যক্তির সমষ্টি। যারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন থাকে।

এছাড়াও,
-  এইচ জিগলার এর মতে, চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন একটি সংগঠিত ব্যক্তি সমষ্টি যার সদস্যগণ সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগে অংশগ্রহণ করে না। বরং তাদের লক্ষ্য হল সরকারি সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৯.
পাকিস্তানের গণপরিষদে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবী কে জানিয়েছিলেন?
  1. ক) শামসুল হক
  2. খ) মনোরঞ্জন ধর
  3. গ) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
 গণপরিষদের ভাষা হিসেবে বাংলা দাবী:

- ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবী পেশ করেন।
- কিন্তু প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানসহ অন্যান্য মুসলিম লীগ সদস্যরা এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে। এতে করে প্রস্তাবটি বাতিল ঘোষিত হয়।
- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেল উদ্দিন আহমেদ জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করলে ১৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৫৬ তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়। 
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
-  ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। এতে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। 
-  গণপরিষদের ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবী পেশ করেন। কিন্তু মুসলিম লীগ সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
 
১৪০.
মুজিবনগর সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন -
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমদ
  2. খ) খন্দকার মোশতাক আহমদ
  3. গ) এম মনসুর আলী
  4. ঘ) এএইচএম কামরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
গ) এম মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে প্রথম সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল।
এটি ‘অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার’ নামেও পরিচিত। ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দীন আহমদ
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

১৪১.
রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে -
  1. নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে
  2. অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে
  3. স্বজাতিবোধের ভিত্তিতে
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা

⇒ রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলের সমস্যাবলী:
- বাংলাদেশ একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
- গণতন্ত্রের আদর্শকে সফলভাবে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশে বহুদলীয় ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
- যেকোনো ধরনের মত, পথ ও আদর্শের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠতে পারে।
- যেকোনো গোষ্ঠী বা দল প্রচলিত বিধির আওতায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যেকোনো রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারে।
- বর্তমানে বিরাজমান এত অধিকসংখ্যক রাজনৈতিক দল কোন দেশের জন্য সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ হতে পারে না।
- বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলের অন্যতম সমস্যা হচ্ছে এ দলগুলো বিভিন্ন রকম।
- রক্ষণশীল, উদারনৈতিক, প্রগতিশীল, প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দল আছে যারা কোন পরিবর্তন চায় না।
- ধনিক শ্রেণি নিয়ে তাদের দল গঠিত। তারা পুরোমাত্রায় রক্ষণশীল। এই দল গুলোর সমর্থকগণ রক্ষণশীল।
- আবার কতগুলো দল আছে যারা বর্তমান সমাজ ভেঙ্গে নতুন সমাজ গড়তে চায়।
- এই দলের সমর্থকগণ প্রগতিশীল হিসেবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪২.
কোন সমাজ সংস্কারক 'ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন’ পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন?
  1. রামমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
  3. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  4. রাজা রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
- বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।
- রাজা রামমোহন রায়‘সম্বাদ কৌমুদী’, ‘মিরাত-উল-আখবার’ ও ‘ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন’ নামে তিনটি পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন।
- রাজা রামমোহন ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ‘এ্যাংলো হিন্দু কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বেদান্তসূত্র বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন।
- অন্যান্য রচনার মধ্যে আছে ‘তুহফাত-উল-মোয়াহিদ্দীন’ (একেশ্বরবাদ সৌরভ) ‘মানাজারাতুল আদিয়ান’ (বিভিন্ন ধর্মের উপর আলোচনা) ও হিন্দুদিগের পৌত্তলিক ধর্মপ্রণালি ইত্যাদি।
- হিন্দুধর্মের সংস্কার তথা নিজ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে ‘আত্মীয় সভা’ নামে একটি সমিতি গঠন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৩.
নিচের কোন দফাটি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ এর অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
  2. প্রাদেশিক রাষ্ট্রভাষা সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
  3. আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা
  4. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
প্রাদেশিক রাষ্ট্রভাষা সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদেশিক রাষ্ট্রভাষা সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
• 'ছয় দফা':
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ - মনু মিয়া।

• দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা

সূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৪.
'ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ' কোথায় অবস্থিত ছিল?
  1. ঢাকা
  2. আগ্রা
  3. কলকাতা
  4. মুর্শিদাবাদ
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ
- ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের সর্বাধিক বিখ্যাত দুর্গ হলো ফোর্ট উইলিয়াম।
- ফোর্ট উইলিয়ামের মাধ্যমেই ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের ঘাঁটি নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- বিখ্যাত এই দুর্গটি কলকাতায় অবস্থিত।
- ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় নিদর্শন এই দুর্গ।
- বাস্তবে দুটি ফোর্ট উইলিয়াম ছিল : একটি পুরনো, অন্যটি নতুন। পুরনো দুর্গটি ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির সূচনাকালের সৃষ্টি।
- স্যার চার্লস আইয়ার এই দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- তাঁর উত্তরসূরি জন বিয়ার্ড ১৭০১ সালে ফোর্ট উইলিয়ামের উত্তর-পূর্বাংশের দুর্গপ্রাচীর সংযোজন করেন।
- ১৭০২ সালে তিনি দুর্গের মধ্যভাগে বাণিজ্যকুঠি বা 'গভর্নমেন্ট হাউস' নির্মাণ শুরু করেন, যা ১৭০৬ সালে শেষ হয়।
- এরপর ইংল্যান্ডের রাজার সম্মানে দুর্গটির নামকরণ করা হয় ফোর্ট উইলিয়াম।
- ১৯৫৬ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা আক্রমণ করে ফোর্ট উইলিয়াম দখল করেন এবং ইংরেজদের তাড়িয়ে দেন।
- পরে পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজরা জয়ী হলে উপমহাদেশে ইংরেজদের অবস্থান সংহত হতে থাকে।
- তারা ফোর্ট উইলিয়ামের স্থানে আরেকটি শক্তিশালী দুর্গ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।
- ১৭৮০ সালের মধ্যে দুর্গটি নির্মাণের বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়ে যায়।
- এর প্রায় এক শ বছর পরে দুর্গটিকে আধুনিকায়ন করা হয়।
- দুর্গটিকে অষ্টভুজাকৃতির রূপ দেওয়া হয়। দুর্গে প্রবেশের জন্য সাতটি প্রবেশদ্বার ছিল। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪৫.
নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ 'নওয়াব' উপাধি লাভ করেন-
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
  2. মুসলীম লীগ থেকে
  3. ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে
  4. ঢাকা কলেজ থেকে
সঠিক উত্তর:
ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে
ব্যাখ্যা

নওয়াব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ: 
- জন্ম: ৭ জুন ১৮৭১, ঢাকা নবাববাড়ি।
- মৃত্যু: ১৬ জানুয়ারি ১৯১৫, কলকাতা।
- পিতার নাম: নবাব খাজা আহসানউল্লাহ।
- উপাধি: “নওয়াব” উপাধি পান ১৯০১ সালে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে।
- সম্মাননা: ১৯০৬ সালে “Knight Commander of the Indian Empire (KCIE)” উপাধি লাভ করেন।

• শিক্ষা ও প্রশাসনিক জীবন: 
- কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা ও প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা।
- ১৮৯৫ সালে ঢাকা জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান।
- ১৯০১ সালে নবাব পদে অধিষ্ঠিত হন। 
- ১৯০৩ সালে বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন।
 
• রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবদান
- ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- ৩০ ডিসেম্বর ১৯০৬: মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা সভা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়, তাঁর সভাপতিত্বে।

 
• শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়ন: 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবনায় অগ্রণী ভূমিকা। 
- মুসলিমদের জন্য আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গঠনে উদ্যোগী ছিলেন
- ঢাকা কলেজ, জুবিলি স্কুল, নবাবপুর স্কুল, ইসলামিয়া হাইস্কুল তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠে।
- মুসলিম ছাত্রদের জন্য বৃত্তি ও আবাসন সুবিধা চালু করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১৪৬.
বাঙালি মুসলমান সমাজে নারী স্বাধীনতার পক্ষে প্রথম প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ছিলো-
  1. জাহানারা ইমাম
  2. সুফিয়া কামাল 
  3. সেলিনা হোসেন
  4. বেগম রোকেয়া
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা

• রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন :
- রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন,  (১৮৮০-১৯৩২)  সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা জহীরুদ্দীন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের এবং মাতা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- ১৮৯৮ সালে রোকেয়ার বিয়ে হয় বিহারের ভাগলপুর নিবাসী উর্দুভাষী সৈয়দ সাখাওয়াৎ হোসেনের সঙ্গে।
- তিনি ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, তদুপরি সমাজসচেতন, কুসংস্কারমুক্ত এবং প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন।
- স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গ রোকেয়া নারীশিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেন।
- ১৯০৯ সালের ১ অক্টোবর স্বামীর প্রদত্ত অর্থে পাঁচটি ছাত্রী নিয়ে তিনি ভাগলপুরে ‘সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস’ স্কুল স্থাপন করেন।  
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।
- বাঙালি মুসলমান সমাজে নারীর স্বাতন্ত্র্য ও নারী স্বাধীনতার পক্ষে প্রথম প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর বেগম রোকেয়া।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি মুসলমানদের নবজাগরণের সূচনালগ্নে নারীশিক্ষা ও নারী জাগরণে তিনিই প্রধান নেতৃত্ব দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৪৭.
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল নয় কোনটি?
  1. বাংলাদেশের সুপ্রিম পার্টি
  2. বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
  3. বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি
  4. জাসদ
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশের সুপ্রিম পার্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশের সুপ্রিম পার্টি
ব্যাখ্যা
সমাজতান্ত্রিক দল:
- বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল নয় বাংলাদেশের সুপ্রিম পার্টি।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ):
- ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগ থেকে পৃথক হয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর যাত্রা শুরু হয়।
- দলটির লক্ষ্য হল বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র এবং কৃষক-শ্রমিকদের নেতৃত্বে বিপ্লব সংঘটিত করার মাধ্যমে একটি শোষণমুক্ত শ্রেণিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। 

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি:
- এটি একটি সমাজতান্ত্রিক দল। বাংলাদেশে সমাজতান্ত্রিক দলের দুটি ধারা।
- একটি মার্কসবাদী-লেনিনবাদী বা চীনপন্থী অন্যটি সোভিয়েতপন্থী।
- বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটি মূলত লেনিনবাদী সমাজতান্ত্রিক দল।
- ১৯৮০ সালে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। 

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি:
- সমাজতন্ত্রের প্রবর্তক কার্ল মার্কস এর অনুসারী একটি দল।
- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নিখিল ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির উত্তরাধিকারী সংগঠন।
- ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানে কমিউনিস্ট ইউনিট গঠন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এ দলটি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৮.
বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয় কার চেষ্টায়?
  1. ভাদারাম পোদ্দার
  2. সতীনাথ ভাদুড়ী
  3. অখিলেশ সাহানী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
 
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।১৮২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে কলকাতার একটি পাঠশালায় এবং ১৮২৯ সালের জুন মাসে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করানো হয়।
- ১৮৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে সংস্কৃত কলেজ ত্যাগ করার অল্প পরেই তিনি ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা ভাষার প্রধান পন্ডিতের পদ লাভ করেন।
- ১৮৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক পদ লাভ করেন এবং পরের মাসে ওই কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- বাল্যবিয়ের কুফল এবং বিধবাদের করুণ জীবন ঈশ্বরচন্দ্রকে ব্যাথিত করে। 
- ঈশ্বরচন্দ্রের চেষ্টায় ভারত সরকার এগিয়ে আসে। অবশেষে ১৮৫৬ সালে বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয়। 
- ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া  ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৯.
উপমহাদেশের বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ১৯১৯ সালে
  2. ১৯২০ সালে
  3. ১৯২১ সালে
  4. ১৯২২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২০ সালে
ব্যাখ্যা
•অসহযোগ আন্দোলন:
- ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতে জন্ম নেন তিনি।
- ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন করা এবং ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে বিদায় করতে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য।
- তিনি ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন সংঘঠিত হয় ১৯২০ সালে।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫০.
মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়া হয় কেন?
  1. জনসমর্থন না থাকায়
  2. দাবি মেনে নেয়ায়
  3. প্রশাসনের অনুরোধে
  4. সহিংসতায় রূপ নেয়ায়
সঠিক উত্তর:
সহিংসতায় রূপ নেয়ায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহিংসতায় রূপ নেয়ায়
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন:
- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯২০ সালে।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়।

উল্লেখ্য,
⇒ মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী:
- ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতে জন্ম নেন তিনি।
- ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন করা এবং ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে বিদায় করতে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য।
- তিনি ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
- মহাত্মা গান্ধীকে ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি নতুন দিল্লির একটি সুবৃহৎ প্রাসাদ বিড়লা হাউসের প্রাঙ্গনে হত্যা করা হয়েছিল।
- তাঁর ঘাতক ছিলেন নাথুরাম গডসে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
১৫১.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অমরকীর্তি হিসেবে বিবেচিত হয় কোনটি?
  1. হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রচলন
  2. বেঙ্গল প্যাক্ট
  3. সতীদাহ প্রথা নিবারণ
  4. সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রচলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রচলন
ব্যাখ্যা
বিধবা বিবাহ:
- হিন্দু বিধবাদের পুনরায় বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে বিধবা বিবাহ বলে।
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে অবাধে বাল্যবিয়ের ব্যাপক প্রচলন ছিল।
- ফলে একদিকে বাল্যবিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছিল; অন্যদিকে সমাজে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছিল বিধবার সংখ্যা।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহের জন্য সমাজসংস্কার আন্দোলন সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
- তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল পান ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই।
- সেদিন তাঁর প্রচেষ্টায় তৎকালীন বড়লাট লর্ড ডালহৌসি ‘দ্য হিন্দু উইডো’স রিম্যারেজ অ্যাক্ট ১৮৫৬’ নামে আইন প্রণয়ন করে হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহকে বৈধ করেন।
- এ আইন করার লক্ষ্য ছিল কিছু হিন্দু বিধবা শিশু, যারা স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার আগেই বিধবা হয়ে যেত; এ আইন পাসের মাধ্যমে হিন্দু বিধবা বিবাহের সব বাধা দূরীভূত হয়।
- সে বছরই ৭ ডিসেম্বর রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উপস্থিতিতে প্রথম বিধবা বিবাহের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
- সে বিয়ের পাত্র ছিলেন শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন।
- বিদ্যাসাগর পরবর্তীকালে তাঁর নিজ ছেলের সঙ্গে এক বিধবা কন্যার বিয়ে দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
⇒ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- কোলকাতায় সংস্কৃতি কলেজে অধ্যয়নকালে তার অগাধ পান্ডিত্য ও মেধার স্বীকৃতি স্বরুপ শিক্ষক মন্ডলী তাঁকে বিদ্যাসাগর উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাগরের অমরকীর্তি হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রচলন।
- ১৮২৯ সালে প্রণীত সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইনের ফলে হিন্দু বিধবারা সহমরণ থেকে মুক্তি পেলেও বিধবা বিবাহের রীতি না থাকায় বিধবারা মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হয়।
- ১৮৫৫ সালের ৪ঠা অক্টোবর তিনি হিন্দু সমাজের বিভিন্ন স্তরের ৯৮৭ জনের স্বাক্ষরিত একখানা স্মারকলিপি ভারত সরকারের নিকট পেশ করেন।
- ১৮৭০ সালের ১১ই আগষ্ট নিজ পুত্র নারায়নচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের বিয়ের মাধ্যমে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

উৎস: i) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১৫২.
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির - প্রতীক কী?
  1. মশাল
  2. কোদাল
  3. কাস্তে
  4. হাতুড়ি
সঠিক উত্তর:
কাস্তে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাস্তে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রতীক - কাস্তে;
- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রতীক - মশাল,
- বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতীক - হাতুড়ি;
- বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতীক - কোদাল।

উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট।
১৫৩.
শান্তিতে অবদানের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পেয়েছিলেন -
  1. ক) জুলিও কুরি পদক
  2. খ) জুলিও ফ্রিডম পদক
  3. গ) নেহেরু পদক
  4. ঘ) ম্যাগসেসে পদক
সঠিক উত্তর:
ক) জুলিও কুরি পদক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জুলিও কুরি পদক
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রবর্তিত হয় ১৯৫০ সালে।
- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' কর্তৃক 'জুলিও কুরি' শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।
- স্বাধীন বাংলাদেশে কোনো রাষ্ট্রনেতার সেটিই ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক পদক লাভ।

উৎস: কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
১৫৪.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান লক্ষ্য কোনটি?
  1. গোষ্ঠী স্বার্থ সংরক্ষণ
  2. দল গঠন
  3. নির্বাচন অংশগ্রহণ
  4. দেশের উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
গোষ্ঠী স্বার্থ সংরক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোষ্ঠী স্বার্থ সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা

• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য :
•  দলীয় সংগঠনবিহীন:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই।
- এদের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ নয়।
- সরকারের উপরে চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের স্বার্থ বা দাবি আদায় করা হচ্ছে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য।

• দলীয় কর্মসূচিবিহীন:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কোন রাজনৈতিক দল নয় বিধায় এদের কোন দলীয় কর্মসূচিও নেই।
- এটি নির্দলীয় সংগঠন।
- এরা শুধু গোষ্ঠীর স্বার্থ পূরণের জন্য চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে।

•  নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রার্থী দেয় না এবং নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালায় না।
-তবে অনেক সময় তাদের পছন্দের প্রার্থীকে অর্থ কিংবা জনবল দিয়ে সহযোগিতা করে থাকে। 

• সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে সরকারের কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে চায় না।
- বরং নানাভাবে সরকারি নীতিকে নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য প্রচেষ্টা চালায়।

• সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না।
- তবে পরোক্ষভাবে রাজনীতিক নেতৃবৃন্দের সাথে তাদের যোগাযোগ থাকতে পারে। 

• বেসরকারি সংগঠন:
- চাপসৃষ্টিকারী দলের সদস্যগণ বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি বিশেষ।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর আনুষ্ঠানিক সরকারি স্বীকৃতিও সাধারণত থাকে না।

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১৫৫.
বঙ্গবন্ধু কত সালে প্রথম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন?
  1. ১৯৫২ সালে
  2. ১৯৫৩ সালে
  3. ১৯৫৪ সালে
  4. ১৯৫৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
এর প্রথম কমিটি:

সভাপতি : মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
সাধারণ সম্পাদক : শামসুল হক
যুগ্ম সম্পাদক : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমবারের মতো দলটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি টানা চারবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬৬ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৫৫ সালের আওয়ামী মুসলিম লীগের তৃতীয় সম্মেলনে দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট)
১৫৬.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন -
  1. ক) অ্যালমন্ড ও পাওয়েল
  2. খ) এলান পটার
  3. গ) মাইরন উহনার
  4. ঘ) অধ্যাপক ফাইনার
সঠিক উত্তর:
খ) এলান পটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এলান পটার
ব্যাখ্যা
• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- এলান পটার - চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।

এছাড়াও,
 - অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
- অধ্যাপক মাইরন উহনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
- অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি হিসেবে অভিহিত করেন।
-  আলফ্রেড গ্রজিয়ার মতে, “চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে, এমন এক সংগঠিত সামাজিক গোষ্ঠী; যা সরকারকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের আচরণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনি এবং  এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৭.
মহাত্মা গান্ধী কত সালে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন?
  1. ১৯২৩ সালে
  2. ১৯২০ সালে
  3. ১৯২৮ সালে
  4. ১৯৩০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২০ সালে
ব্যাখ্যা
মহাত্মা গান্ধী: 
- অহিংস আন্দোলনের প্রবক্তা ও ভারত রাষ্ট্রের জনক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- তিনি ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর গুজরাটের পোরবন্দ নামক স্থানে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী বা মহাত্মা এই উপাধিটি রবীন্দ্রনাথ প্রদান করেন।
- দক্ষিণ আফ্রিকায় নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস নামক দল গঠন করেন।
-  দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের উপর বর্ণবাদী আচরনের বিরুদ্ধে তিনি সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু করেন।
- তিনি সেখানে ১৯১০ সালে একটি আশ্রম গড়ে তুলেন যার নাম ছিল - তলস্তয় ফার্ম (Tolstoy Farm)।
- এই আশ্রম থেকেই আন্দোলন পরিচালিত হত এবং সেখানে তিনি একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন যার নাম “দ্যা ক্রনিকাল”। 

উল্লেখ্য, 
- ভারতে ব্রিটিশদের অত্যাচার ও ১৯১৯ সালে জালিয়ালওয়ালাগের হত্যাকান্ডের প্রেক্ষিতে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ১৯২০ সালে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন।
- ১৯৪২ সালে মহাত্মাগান্ধী ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ‘ভারত ছাড় আন্দোলন' (Quit India Movement) শুরু করেন। 
- ১৯৪৬ সালে তিনি নোয়াখালীর সোনাইমুরী ভ্রমন করেন দাঙ্গা থামানোর লক্ষ্যে এবং সোনাইমুরীতে তার নামে একটি জাদুঘর আছে।

সূত্র: ব্রিটানিকা।
১৫৮.
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কত তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে? 
  1. ১৪ জানুযারি ২০২৫
  2. ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  3. ৮ মে ২০২৫
  4. ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
সঠিক উত্তর:
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
ব্যাখ্যা

 National Citizen Party (NCP):
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) হলো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল।
- এটি  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে গঠিত হয়েছে।
- ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
 - নাহিদ ইসলামকে দলটির  আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
- এটি দেশের প্রথম রাজনৈতিক দল, যা সম্পূর্ণভাবে ছাত্র নেতৃত্বের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।
- দলটির সৃষ্টি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের একটি সফল পরিণতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দলটি তাদের প্রথম প্রতিষ্ঠিতা বার্ষিকী পালন করে।

উৎস: NCP ওয়েবসাইট।

১৫৯.
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত আবু সাঈদ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী?
  1. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
  2. জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
  3. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
নিহত আবু সাঈদ
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন যখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন।
- ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা।

সূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।  
১৬০.
আইয়ুব খান বিরোধী 'ঘেরাও' কর্মসূচি কে চালু করেন?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. মওলানা ভাসানী
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর:
মওলানা ভাসানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মওলানা ভাসানী
ব্যাখ্যা
মওলানা ভাসানী:
- ১৯৬৮ সালের ডিসেম্বরে পল্টন ময়দানে জনসভা করে গণঅভ্যুত্থানের সূচনা করেছিলেন ন্যাপের সভাপতি মওলানা ভাসানী।
- পরে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীসহ সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ (ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন কমিটি) স্বতন্ত্রভাবে গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণা দিলে অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ভাসানী সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদে যোগ না দিয়ে ঘেরাও আন্দোলন চালাতে থাকেন।
- তার সঙ্গে ছিল পিকিংপন্থী বলে পরিচিত বামপন্থী দলগুলো এবং শ্রমিক ফেডারেশন ও কৃষক সমিতি।
- মস্কোপন্থী দলগুলো ক্রমে আওয়ামী লীগের সমর্থনে গিয়ে আন্দোলনে যুক্ত থাকে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে মাওলানা ভাসানী বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামীদের মুক্তি দাবি করেন। ৮ মার্চ (১৯৬৯) পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়ে সেখানে পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে সাক্ষাত করে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র কায়েমের লক্ষ্যে একমত হন।
- ২৬শে ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান কর্তৃক আহুত গোলটেবিল বৈঠক প্রত্যাখান করে শ্রমজীবীদের ঘেরাও কর্মসূচী পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।

উৎস: i) The Daily Star Bangla,.
ii) বণিক বার্তা।
১৬১.
মুসলিম শিক্ষা প্রসারে অগাধ সম্পত্তি দান করেন কে?
  1. ফকির মজনু শাহ
  2. হাজী মুহম্মদ মুহসীন
  3. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  4. হাজী শরীয়তউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
হাজী মুহম্মদ মুহসীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী মুহম্মদ মুহসীন
ব্যাখ্যা
হাজী মুহম্মদ মুহসীন:
- হাজী মুহম্মদ মুহসীন ছিলেন বাংলার একজন জনহিতৈষী, দানবীর।
- দানশীলতার জন্য তিনি দানবীর খেতাব পেয়েছিলেন। পেয়েছিলেন।
- তিনি ১৭৩২ সালে হুগলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষানুরাগী এ দানবীর তার অর্থ দিয়ে বহু বিদ্যাপিঠ স্থাপন করে গেছেন।
- হুগলিতে 'হুগলি মহসিন কলেজ' ও 'চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ' প্রতিষ্ঠার সময় মহসিনের ওয়াকফকৃত অর্থ ব্যবহৃত হয়।
- ১৭৬৯-৭০ সালের সরকারি দলিল অনুযায়ী তৎকালীন দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন করেন।
- ১৮০৬ সালে তিনি 'মহসিন ফান্ড নামক তহবিল প্রতিষ্ঠা করেন।
- এ তহবিল ধর্মীয় কর্মকাণ্ড, পেনশন, বৃত্তি ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দ করা হয়।
- বঙ্গের হাতেম তাই নামে খ্যাত মুহসিন তাঁর অগাধ সম্পত্তি জনকল্যাণে দান করে যান।

তথ্যসূত্র - সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬২.
তিতুমীরের প্রধান সেনাপতি ছিলেন কে?
  1. সৈয়দ আলী
  2. গোলাম মাসুদ
  3. মীর হাসান আলী
  4. মোহাম্মদী বেগ
সঠিক উত্তর:
গোলাম মাসুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মাসুদ
ব্যাখ্যা
• তিতুমীর
- তিতুমীর ১৭৮২ সালের ২৭ জানুয়ারি (১৪ মাঘ ১১৮২ বঙ্গাব্দ) ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার চাঁদপুর (মতান্তরে হায়দরপুর) গ্রামে একটি সুন্নী মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পিতার নাম সৈয়দ মীর হাসান আলী এবং মাতার নাম আবিদা রুকাইয়া খাতুন।
- ১৮২২ সালে তিতুমীর মক্কায় হজ্জব্রত পালনের উদ্দেশ্যে যান।
- তিনি সেখানে আরবের স্বাধীনতার অন্যতম পথপ্রদর্শক সৈয়দ আহমেদ শহীদের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন ও ওয়াহাবী মতবাদে অনুপ্রাণিত হন।
- সেখান থেকে এসে (১৮২৭) তিতুমীর তার গ্রামের দরিদ্র কৃষকদের সাথে নিয়ে জমিদার এবং ব্রিটিশ নীলকদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়ে আন্দোলন শুরু করেন।
- ১৮৩১ সালের ২৩শে অক্টোবর বারাসতের কাছে বাদুড়িয়ার ১০ কিলোমিটার দূরে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তারা বাঁশের কেল্লা তৈরি করেন।
- বাঁশ এবং কাদা দিয়ে তারা দ্বি-স্তর বিশিষ্ট এই কেল্লা নির্মাণ করেন।
- তিতুমীর বর্তমান চব্বিশ পরগনা, নদীয়া এবং ফরিদপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অধিকার নিয়ে সেখানে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। 
- তার বাহিনীর প্রধান সেনাপতি মাসুম খাঁ বা গোলাম মাসুমকে ফাঁসি দেয়া হয়। বাশেঁর কেল্লা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।
- ইতিহাসে এ কেল্লাই নারিকেলবাড়িয়া বাঁশের কেল্লা নামে বিখ্যাত।
- তিতুমীর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণার উৎস হিসাবে কাজ করেছে।
- ১৯৭১ সালে মুহাম্মদ জিন্নাহ কলেজ কে তার নাম অনুসারে সরকারী তিতুমীর কলেজ নামকরণ করা হয়।
- তার নামে বুয়েট এ একটি ছাত্র হলের নামকরণ করা হয় তিতুমীর হল।
- বিবিসির জরিপে তিনি ১১ তম শ্রেষ্ঠ বাঙালি।
- ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তিতুমীরের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ১০ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খুলনা শহরে রূপসা নদীর তীরে 'বানৌজা তিতুমীর' নামে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটি কমিশন করেন ও ‘নেভাল এনসাইন’ প্রদান করেন।
- এছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি জাহাজের নামকরণ করা হয় বিএনএস তিতুমীর।
- রাজশাহী ও নীলফামারী জেলার চিলাহাটি স্টেশনের মধ্যে 'তিতুমীর এক্সপ্রেস' নামে একটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।  
১৬৩.
বাংলাদেশের কোন অরাজনৈতিক সংগঠন 'গণতন্ত্র অলিম্পিয়াড' কার্যক্রম পরিচালনা করে?
  1. টিআইবি
  2. সুজন
  3. ব্র্যাক
  4. অধিকার
সঠিক উত্তর:
সুজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুজন
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন স্তরের মানুষের মাঝে গণতান্ত্রিক ধারণাকে প্রচারের লক্ষ্যে সুজনের একটি কার্যক্রম হলো গণতন্ত্র অলিম্পিয়াড।
উৎস: shujan.org
১৬৪.
সুশীল সমাজের কাজ কোনটি?
  1. দুর্নীতি সমর্থন করা
  2. নাগরিকদের স্বাধীনতা কুক্ষিত করা
  3. সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা
  4. বিতর্ক সৃষ্টি করা
সঠিক উত্তর:
সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা
ব্যাখ্যা

- সুশীল সমাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে - এটি সুশীল সমাজের কাজ। 

সুশীল সমাজ:

- সুশীল সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।
- বর্তমানে সুশীল সমাজ মানব পুঁজি গঠন, সমাজসেবা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- সুশীল সমাজ সরকারের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সচেষ্ট।
- সুশীল সমাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং সরকার সুশীল সমাজের বক্তব্য বা সুপারিশসমূহকে উপেক্ষা করতে পারে না।

উল্লেখ্য, 
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা ও মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া সুশীল সমাজের দায়িত্ব।
- সরকার বা কোন কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ প্রচার করা সুশীল সমাজের কাজ নয়।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৬৫.
পার্বত্য চট্টগ্রামে সার্কেল বিদ্যমান রয়েছে-
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা
- পার্বত্য চট্টগ্রামে ৩টি সার্কেল বিদ্যমান রয়েছে। এগুলো হলো:
১) চাকমা সার্কেল (রাঙামাটি),
২) মং সার্কেল (খাগড়াছড়ি) এবং 
৩) বোমাং সার্কেল (বান্দরবান)।

- পার্বত্য চট্টগ্রামের এই ৩ সার্কেল প্রধানরা স্থানীয় পাহাড়ি জনগণের কাছে 'রাজা' হিসেবেই পরিচিত।
- সরকারিভাবে সার্কেল প্রধানদের সার্কেল চীফ বলা হয়। 

উৎসঃ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১৬৬.
ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে কোনটি?
  1. সুশীল সমাজ
  2. বিরোধী দল
  3. রাজনৈতিক দল
  4. প্রধান বিচারপতি
সঠিক উত্তর:
সুশীল সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশীল সমাজ
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ:
- ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে সুশীল সমাজ।
- বর্তমানে সুশীল সমাজ মানব পুঁজি গঠন, সমাজসেবা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- সুশীল সমাজ সরকারের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সচেষ্ট।
- সুশীল সমাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং সরকার সুশীল সমাজের বক্তব্য বা সুপারিশসমূহকে উপেক্ষা করতে পারে না।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা ও মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া সুশীল সমাজের দায়িত্ব।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৬৭.
The Idea Of Justice-গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. হেনরি কিসিঞ্জার
  2. এপিজে আবদুল কালাম
  3. অমর্ত্য সেন
  4. নেলসন ম্যান্ডেলা
সঠিক উত্তর:
অমর্ত্য সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমর্ত্য সেন
ব্যাখ্যা

অমর্ত্য সেন:
- অমর্ত্য সেন একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ভারতীয় বাঙালী অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক।
- ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন অমর্ত্য সেন।
- দারিদ্র এবং দুর্ভিক্ষ নিয়ে গবেষণার জন্য পৃথিবী জুড়েই তিনি শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন।
- তিনি হার্ভার্ড সোসাইটি অফ ফেলোস, ট্রিনিট্রি কলেজ, অক্সব্রিজ এবং ক্যামব্রিজের একজন সিনিয়র ফেলো।
- এছাড়াও তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ক্যামব্রিজের ট্রিনিটি কলেজের মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি ইকোনমিস্ট ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির একজন ট্রাষ্টি।
- তিনিই প্রথম ভারতীয় শিক্ষাবিদ যিনি একটি অক্সব্রিজ কলেজের প্রধান হন।
- এছাড়াও তিনি প্রস্তাবিত নালন্দা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবেও কাজ করেছেন।
- ২০০৬ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে অনূর্ধ্ব ষাট বছর বয়সী ভারতীয় বীর হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
- ২০১০ সালে তাকে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- অমর্ত্য সেনের লেখা গ্রন্থাবলি ৩০টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- The Idea Of Justice-গ্রন্থটির রচয়িতা অমর্ত্য সেন।
- বইটি মূলত জন রলসের 'A Theory of Justice' (1971)-এর মৌলিক ধারণাগুলির একটি সমালোচনা এবং সংশোধন।

অন্যদিকে,
- Nuclear Weapons and Foreign Policy গ্রন্থটির রচয়িতা হেনরি কিসিঞ্জার।
- Long Walk to Freedom গ্রন্থটির রচয়িতা নেলসন ম্যান্ডেলা।
- Wings of Fire গ্রন্থটির রচয়িতা এপিজে আবদুল কালাম।

উৎস: Britannica.

১৬৮.
সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে -
  1. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  2. ট্যাকনোক্রাট মন্ত্রিসভা
  3. ছায়া মন্ত্রিসভা
  4. সুশীল সমাজ
সঠিক উত্তর:
ছায়া মন্ত্রিসভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছায়া মন্ত্রিসভা
ব্যাখ্যা
বিকল্প সরকার:
- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধী দলকে।
- উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলও সরকারি দলের ন্যায় গঠন করে- ছায়া মন্ত্রিসভা।
- সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে বিরোধী দল ছায়া মন্ত্রিসভা বা বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।
- বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৬৯.
নিচের কোনটি সমাজতান্ত্রিক দল?
  1. জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল
  2. বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি
  3. বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সমাজতান্ত্রিক দল:
 
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ):
- ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগ থেকে পৃথক হয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর যাত্রা শুরু হয়।
- দলটির লক্ষ্য হল বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র এবং কৃষক-শ্রমিকদের নেতৃত্বে বিপ্লব সংঘটিত করার মাধ্যমে একটি শোষণমুক্ত শ্রেণিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। 
 
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি:
- এটি একটি সমাজতান্ত্রিক দল। বাংলাদেশে সমাজতান্ত্রিক দলের দুটি ধারা।
- একটি মার্কসবাদী-লেনিনবাদী বা চীনপন্থী অন্যটি সোভিয়েতপন্থী।
- বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটি মূলত লেনিনবাদী সমাজতান্ত্রিক দল।
- ১৯৮০ সালে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। 
 
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি:
- সমাজতন্ত্রের প্রবর্তক কার্ল মার্কস এর অনুসারী একটি দল।
- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নিখিল ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির উত্তরাধিকারী সংগঠন।
- ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানে কমিউনিস্ট ইউনিট গঠন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এ দলটি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।
 
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭০.
ভারতীয়দের মধ্যে কে সর্বপ্রথম ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসে নিয়োগ লাভ করেন?
  1. ক) নওয়াব আব্দুল লতিফ
  2. খ) সতেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিনয় সেন
সঠিক উত্তর:
খ) সতেন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সতেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসে নিয়োগ লাভকারী প্রথম ভারতীয় হলেন শ্রী সতেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৮৬৪ সালে তিনি প্রতিযোগিতামূলক পরিক্ষার মাধ্যমে ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসে নিয়োগ লাভ করেন।
তিনি ছিলেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সহোদর।
(সূত্র: Union Public Service Commission ওয়েবসাইট)
১৭১.
ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত বলা হয় কাকে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. বেগম রোকেয়া
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায়:
- ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত রাজা রামমোহন রায়।
- ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে রাজা রামমোহন রায় জন্ম গ্রহন করেন।

⇒ তিনি সুফি মতবাদে বিশেষভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- তিনি বেদান্তসূত্র বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন।
- তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে আছে 'তুহফাত-উল-মোয়াহিদ্দীন' (একেশ্বরবাদ সৌরভ) “মানাজারাতুল আদিয়ান' (বিভিন্ন ধর্মের উপর আলোচনা)।
- তিনি ‘সম্বাদ কৌমুদী', 'মিরাত-উল-আখবার' ও 'ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন' নামে তিনটি পত্রিকার প্রকাশকও ছিলেন।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্য প্রথা, মূর্তিপুজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে।
- আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।

⇒ হিন্দুধর্মের সংস্কার তথা নিজ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে ‘আত্মীয় সভা' নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
- রাজা রামমোহন ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ‘এ্যাংলো হিন্দু কলেজ' প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮২৮ সালে রামমোহন ব্রাহ্মসভা (পরবর্তীসময়ে ব্রাহ্মসমাজ) অর্থাৎ ঈশ্বরের সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বস্ত্তত হিন্দুধর্মের নতুন একটি শাখা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে এই মহাপুরুষ, ভারতীয় নবজাগরণের স্রষ্টা, রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য,
- সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে 'গোস্বামীর সহিত বিচার' ও 'প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ' নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন।

⇒ তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- পথ্য প্রদান,

অন্যদিকে,
- বেগম রোকেয়াকে বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
- বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে অগ্রদূত সৈয়দ আমীর আলী। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭২.
রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য কী?
  1. জনমত গঠন
  2. নির্বাচনে অংশগ্রহন
  3. সরকার গঠন
  4. নেতৃত্ব তৈরি
সঠিক উত্তর:
সরকার গঠন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার গঠন
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ ও সরকার গঠন:
- প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হল রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ এবং সরকার গঠন।
- ক্ষমতায় এসে নিজের কর্মসূচি ও মতাদর্শকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রতিটি দলই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে।
- শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের লক্ষ্য হল ক্ষমতায় টিকে থাকা।
- আর বিরোধী দলসমূহ নিজ-নিজ আদর্শের ভিত্তিতে শাসক দলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়।

• রাজনৈতিক দলের ভূমিকা :
- সরকার গঠন
- নেতৃত্ব তৈরি,
- জনমত গঠন,
- রাজনৈতিক শিক্ষাদান,
- গঠনমূলক বিরোধিতা,
- সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা।

উৎস: পৌরনীতি প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৩.
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কোন সংস্থার অধীন?
  1. বিচার বিভাগ
  2. দুর্নীতি দমন কমিশন
  3. মানবাধিকার কমিশন
  4. নির্বাচন কমিশন
সঠিক উত্তর:
নির্বাচন কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাচন কমিশন
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:

- রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশনের অধীন।
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে শতাধিক রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে।
- বর্তমানে অধিকাংশ দলেরই তেমন কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।
- অনেকগুলো ছিল সাইনবোর্ড সর্বস্ব কোনটি বা ব্যক্তি সর্বস্ব কোনটি প্যাড সর্বস্ব।
- নানা কারণে নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর জামানাত বাজেয়াপ্ত হত।
- অনেক দল নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য প্রার্থী মনোয়নও দিতে পারে নি।
- এ ধরনের পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন সকল রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে। 

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৪.
১৯৬৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইয়ুব খান বিরোধী জোট কোনটি?
  1. ক) কনভেনশন মুসলিম লীগ
  2. খ) ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন কমিটি
  3. গ) কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টি
  4. ঘ) ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট
সঠিক উত্তর:
গ) কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টি
ব্যাখ্যা
কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টিঃ
১৯৬৫ সালের ২রা জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইয়ুব খান বিরােধী একক প্রার্থী দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কাউন্সিল মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম প্রভৃতি দল মিলে একটি জোট বা COP (Combined Opposition Party) গঠন করে।
-মােহাম্মদ আলী জিন্নাহর বােন ফাতেমা জিন্নাহকে কপ-এর পক্ষে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করা হয় ।
-নির্বাচনে আইয়ুব খান জয়ী হন।
-প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন হয়। সেখানেও আইয়ুব খানের কনভেনশন মুসলিম লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী (২০২১ সংস্করণ)।
১৭৫.
এরশাদ ক্ষমতা দখলের পূর্বে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন -
  1. ক) বিচারপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস
  2. খ) বিচারপতি আবদুস সাত্তার
  3. গ) বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
  4. ঘ) জিয়াউর রহমান
সঠিক উত্তর:
খ) বিচারপতি আবদুস সাত্তার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিচারপতি আবদুস সাত্তার
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর উপ রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। 
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. কামাল হোসেনকে পরাজিত করে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 
- কিন্তু বিচারপতি সাত্তার নির্বাচিত হওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যে ১৯৮২ সালে ২৪ মার্চ সেনাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরশাদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। 
- রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাত্তার অপসারিত হন এবং এরশাদ নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সংবিধান স্থগিত, জাতীয় সংসদ বাতিল এবং মন্ত্রিপরিষদ ভেঙ্গে দেয়া হয়।
-  সামরিক সরকার দেশে সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
 
উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৭৬.
আধুনিক প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাণ কোনটি?
  1. নির্বাচন কমিশন
  2. রাজনৈতিক দল
  3. গণমাধ্যম
  4. বিচার বিভাগ
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দল:
- রাজনৈতিক দলকে আধুনিক প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাণ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- রাজনৈতিক দলের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল বা সরকার গঠন করা।
- এ লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক দল জনমত গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে থাকে।
- সংবাদ মাধ্যম জনমতের প্রকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মিডিয়া ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণ তাদের মতামত প্রকাশ করতে সক্ষম হয় এবং এটি নীতি নির্ধারণ ও সরকারী কর্মকাণ্ডের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

১৭৭.
মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. আখতার হামিদ খান
  2. খাজা সলিমুল্লাহ
  3. নবাব আব্দুল গনি
  4. নবাব আব্দুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
নবাব আব্দুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা
নবাব আব্দুল লতিফ:
- নওয়াব আবদুল (১৮২৮-১৮৯৩) উনিশ শতকের বাংলার মুসলিম জাগরণের অগ্রদূত ও সমাজসেবক।
- জন্ম ১৮২৮ সালে ফরিদপুর জেলার রাজাপুর গ্রামে।
- তাঁর পিতা ফকির মাহমুদ ছিলেন কলকাতার সদর দেওয়ানী আদালতের আইনজীবী।
- আবদুল লতিফ কলকাতা মাদ্রাসা থেকে আরবি, ফারসি ও ইংরেজি ভাষায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি লাভ করেন।

• সমাজ সংস্কার ও সংগঠন: 
- মুসলিম সমাজে শিক্ষা ও আধুনিক চিন্তার প্রসারে কাজ করেন।
- ১৮৬৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন Mohammedan Literary Society।
- এই সংগঠন মুসলমানদের রাজনৈতিক ও সামাজিক দাবি তুলে ধরত
- মুসলিমদের জন্য পৃথক শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ বৃদ্ধির পক্ষে ছিলেন
- বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫)-এর অনেক আগেই পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭৮.
১৯৯০ সালে প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন কে?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
  3. আবদুস সাত্তার
  4. খোন্দকার মোশতাক আহমেদ
সঠিক উত্তর:
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
ব্যাখ্যা
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ: 
- লে. জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ (১৯৩০-২০১৯) বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি (১৯৮৩-১৯৯০)।
- ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকান্ডের অব্যবহিত পর থেকেই সংবাদপত্রে বিবৃতি ও কভারেজের মাধ্যমে রাজনীতিতে এরশাদের আগ্রহ প্রকাশ হতে থাকে।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে জেনারেল এরশাদ রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেন।
- তিনি দেশের সংবিধানকে রহিত করেন, জাতীয় সংসদ বাতিল করেন, এবং সাত্তারের মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করেন।
- তিনি নিজেকে দেশের সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করেন। 
- প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১৭৯.
বাকশাল জাতীয় দলের জন্য কত সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি মনোনীত করা হয়?
  1. ১৫
  2. ৭৫
  3. ১১৫
  4. ১৩৫
সঠিক উত্তর:
১১৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১৫
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল): 
 
- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর ভিত্তিতে ১৯৭৫ সালের ৭ জুন একমাত্র বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- বাকশালের বিভিন্ন দিক, কার্যক্ষেত্র এবং সম্ভাবনা সবিস্তারে বর্ণনা করে শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর এই উদ্যোগকে ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
- ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারিভাবে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
- সাংগঠনিক ক্ষেত্রে বাকশালের চেয়ারম্যান হিসেবে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমান জাতীয় দলের জন্য ১৫ সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি এবং ১১৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি মনোনীত করেন। 
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৮০.
একটি সংসদীয় আসন রয়েছে কোন জেলায়?
  1. ক) রাঙ্গামাটি
  2. খ) খাগড়াছড়ি
  3. গ) বান্দরবান
  4. ঘ) সবগুলোতেই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোতেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোতেই
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের তিনটি জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে। জেলাগুলো হলো- রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি।
উৎসঃ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট।
১৮১.
‘কৃষক প্রজা পার্টি’ কার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল?
  1. এ.কে. ফজলুল হক
  2. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  3. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর:
এ.কে. ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ.কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

কৃষক-প্রজা পার্টি:
- শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক এর নেতৃত্বে ‘কৃষক প্রজা পার্টি’ গড়ে উঠেছিল।
- কৃষক প্রজা পার্টি আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি সম্বলিত একটি রাজনৈতিক দল।
- দলটি ১৯৩৬ থেকে ১৯৪৩ পর্যন্ত বাংলার রাজনীতিতে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিল।
- ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কৃষক প্রজা পার্টি ছিল নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতির ফসল।
- বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মুসলমান নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে নিখিলবঙ্গ প্রজা সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৯ সালে।
- স্যার আব্দুর রহিম এ সমিতির সভাপতি এবং আরও পাঁচজন সহ-সভাপতি ছিলেন।
- এ.কে ফজলুল হক ছিলেন এ পাঁচজনের মধ্যে প্রথম সহ-সভাপতি।
- ১৯৩০ দশকের মন্দার প্রেক্ষাপটে পূর্ব বঙ্গের প্রায় সকল জেলায় প্রজা সমিতি গঠিত হয়।
- এ. কে. ফজলুল হক পূর্ব বাংলায় তার সমর্থকদের নিয়ে প্রজা সমিতি ত্যাগ করলেন এবং ১৯৩৬ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় কৃষক-প্রজা পার্টি প্রতিষ্ঠিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৮২.
শেখ হাসিনা কত সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন?
  1. ১৯৮০ সালের ১৭ মে
  2. ১৯৮০ সালের ১৯ মে
  3. ১৯৮১ সালের ১৭ মে
  4. ১৯৮১ সালের ১৩ মে
সঠিক উত্তর:
১৯৮১ সালের ১৭ মে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮১ সালের ১৭ মে
ব্যাখ্যা
•শেখ হাসিনা:
- তিনি ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর ৬ বছর পর নির্বাসিত জীবন শেষ করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে ফিরে আসেন।
- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করে।
- তার আগেই ১৯৮১ সালের ১৪ – ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দলীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
-  ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো শপথ গ্রহণ করেন।

উৎস: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
১৮৩.
বিএনপি প্রথম সরকার গঠন করে কত সালে?
  1. ১৯৭৯ সাল
  2. ১৯৮০ সাল
  3. ১৯৮২ সাল
  4. ১৯৭৮ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯৭৯ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৯ সাল
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।
- ১৯৭৫-এর নভেম্বরের উন্মাতাল রাজপথে অভিষেক ঘটে তাঁর। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক ও যোদ্ধা।
- রমনা বটমূলের খোলা চত্ত্বরে ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী দল (বিএনপি)’ নামে এই নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা - শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
- ১৯৭৮-এর ৩০ নভেম্বর সরকার ১৯৭৯ সালের ২৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
- স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে এই প্রথম সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে বিএনপি ২০৭টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে
- বিএনপির প্রথম সরকার গঠন করে ১৯৭৯ সালে।

উৎস : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি'

১৮৪.
জাতীয় সংসদে নিরপেক্ষতার প্রতীক কে?
  1. ক) মন্ত্রীবর্গ
  2. খ) চিফ হুইপ
  3. গ) স্পিকার
  4. ঘ) প্রধানমন্ত্রী
সঠিক উত্তর:
গ) স্পিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্পিকার
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদের নেতা প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের সভাপতি নিরপেক্ষতার প্রতীক স্পিকার।
১৮৫.
বাংলাদেশে প্রথম নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কোনটি? 
  1. বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল 
  2. বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
  3. লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি
  4. বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি
সঠিক উত্তর:
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি
ব্যাখ্যা

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি - এলডিপি
- নিবন্ধন নম্বর: ০০১। 
- নিবন্ধন তারিখ: ২০/১০/২০০৮.
- প্রতীকের নাম: ছাতা।
- প্রেসিডেন্ট: ডক্টর অলি আহমদ, বীর বিক্রম।
- এটি দেশের প্রথম নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল।

উল্লেখ্য,
- দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৫৫টি। (আওয়ামীলিগ ছাড়া)
- তবে আওয়ামীলের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে।
- সর্বশেষ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)। [ডিসেম্বর,২০২৫]

উৎস: নির্বাচন কমিশন ওয়েবসািইট।লিঙ্ক

১৮৬.
'Power : A New Social Analysis' গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. ক) ম্যাকিয়াভেলি
  2. খ) হবস
  3. গ) লক
  4. ঘ) রাসেল
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাসেল
ব্যাখ্যা

Power : A New Social Analysis গ্রন্থটির রচয়িতা ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল।
বইটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থের মূল বিষয় হচ্ছে মানুষের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ক্ষমতা অর্জন করা।
সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা

তার রচিত অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে:
- The Conquest of Happiness
- Poitical Ideals
- The Analysis of Mind প্রভৃতি।
বার্ট্রান্ড রাসেল দার্শনিক হয়েও সাহিত্যে অবদানের জন্যে ১৯৫০ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

১৮৭.
বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হলো-
  1. ক) দ্বিদলীয় শাসনব্যবস্থা
  2. খ) বহুদলীয় ব্যবস্থা
  3. গ) একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা
  4. ঘ) দলীয় শাসনব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
ঘ) দলীয় শাসনব্যবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দলীয় শাসনব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল- দলীয় শাসন। প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধীদলকে। উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলও সরকারি দলের ন্যায় গঠন করে- ছায়া মন্ত্রিসভা।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৮৮.
উপমহাদেশে ’সিভিল সার্ভিস’ গঠন করেন কে?
  1. লর্ড ক্লাইভ
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
• লর্ড কর্নওয়ালিস:
 - ১৭৮৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭৯৩ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলায় ফোর্ট উইলিয়ম এর গভর্নর জেনারেল।
- তিনি ছিলেন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসনিক ও বিচার ব্যবস্থার রূপকার।
- ১৭৮৪ সালের পিট-এর ভারত আইন এর অধীনে কর্নওয়ালিস ফোর্ট উইলিয়মের গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
-  তিনি প্রশাসন থেকে কোম্পানির বাণিজ্যকে আলাদা করেন এবং প্রশাসনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য উচ্চ বেতনভোগী ও পেশাগতভাবে সুশৃঙ্খল ‘সিভিল সার্ভিস’ গঠন করেন।
- জেলা পর্যায়ে প্রশাসন ব্যবস্থাকে তিনি পুনর্বিন্যাস করেন। 
- চার্লস কর্নওয়ালিস বিচার এবং পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থার উপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করেন।
- তিনি চারস্তর বিশিষ্ট বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।
- এ ব্যবস্থায় বিচার বিভাগের সর্ব নিম্নে ছিল মুনসিফ আদালত এবং সর্বোচ্চে ছিল সদর আদালত। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৮৯.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন প্রকৃতির নেতৃত্বের অধিকারী ছিলেন?
  1. ক) সম্মোহনী
  2. খ) প্রশাসনিক  
  3. গ) রাজনৈতিক
  4. ঘ) বিশেষজ্ঞসুলভ 
সঠিক উত্তর:
ক) সম্মোহনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সম্মোহনী
ব্যাখ্যা
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম সম্মোহনী নেতৃত্বের ধারণা দেন।
- কোন বিশেষ নেতা যখন তার বক্তব্য, চারিত্রিক দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কর্মপদ্ধতি ও মোহনীয় ব্যক্তিত্বের প্রবল স্পর্শে রাষ্ট্রের নাগরিকদের তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশে অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হয় তখন সেই নেতৃত্বকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বলে।
- জনগণ সম্মোহনী নেতৃত্বের কর্মকান্ডে আপ্লুত, বিমুগ্ধ ও অন্ধ অনুকরণে অনুপ্রাণিত হয়।
- জনগণের বিশ্বাস অর্জন করে তাদের মনের মণিকোঠায় পৌঁছে যায় সম্মোহনী নেতৃত্ব।
- সম্মোহনী নেতৃত্বের অধিকারী ব্যক্তি সাধারণত রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করে দেশের সামগ্রিক কল্যাণে এমন কি স্বাধীনতা অর্জনে অদম্য ভূমিকা রাখেন।
- সম্মোহনী নেতৃত্বের অধিকারী হলেন ব্রিটিশ ভারতের মহাত্মা গান্ধী, বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ইন্দোনেশিয়ার সুকর্ণ, দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা প্রমুখ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯০.
মাস্টারদা সূর্যসেনকে বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত করেন কে ?
  1. মহাত্না গান্ধী
  2. সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী
  3. দেশবন্ধুচিত্তরঞ্জন দাশ 
  4. সুভাষচন্দ্র বস
সঠিক উত্তর:
সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

মাস্টারদা সূর্যসেনঃ 
- মাস্টারদা সূর্যসেন ১৮৯৪ সালে চামের রাউজান থানার নাাপা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সূর্যসেন পেশায় ছিলেন একজন শিক্ষক।
- তাঁকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য বলা হত মাস্টারদা সূর্যসেন।  
- ১৯১৬ সালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কৃঞ্চনাথ কলেজে বি.এ পড়ার সময় তিনি তাঁর এক শিক্ষক শতীশচন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন। 
- রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের চট্রগ্রাম অঞ্চলের নেতা হিসেবে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে তৎপর হয়ে ওঠেন।
- ১৯৩০ সালের এপ্রিল মাস থেকে ভারতবর্ষের স্বাধীনতার লক্ষ্যে মাস্টারদা ব্রিটিশদের উপর আক্রমণ চালাতে শুরু করেন।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্ত্ততি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল।
-  এ যুদ্ধে ১৪ জন বিপ্লবী শহীদ হন।
- ১৯৩২ সালের জুন মাসে মাস্টারদা প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্তকে বোমা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম কারাগার ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেবার নির্দেশ প্রদান করেন।
- মাস্টারদা পটিয়া এলাকার গৈরালা গ্রামে আত্নগোপন করেন।
- একজন গ্রামবাসীর বিশ্বাসঘাতকতায় ১৯৩৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মাস্টারদা গ্রেফতার হন।
- ১৯৩৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সূর্যসেনকে ফাঁসি দেয়া হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১৯১.
রাজনৈতিক দলগুলো কোন সংস্থার অধীনে নিবন্ধিত?
  1. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
  2. নির্বাচন কমিশন
  3. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
  4. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সঠিক উত্তর:
নির্বাচন কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাচন কমিশন
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:
- রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশনের অধীন।
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে শতাধিক রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে।

⇒ ২০০৮ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে।
- ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের মূল আইনে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের কোনো বিধান না থাকলেও রাজনীতির প্রতি বিতশ্রদ্ধ ১/১১ সরকার ১৯৭২ সালের Representation of People Order (RPO) পরিবর্তন করে সংশোধন আকারে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের Representation of People (Amendment) Ordinance, 2008 নামক একটি আইন করে।
- এই আইনে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের একটি অতিরিক্ত অধ্যায় সংযোজন করা হয়।
- উক্ত অধ্যায়ে ৯টি ধারা (৯০এ থেকে ৯০আই) রয়েছে।
- ৯০এ অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রণেচ্ছু দলসমূহকে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হতে হবে।

⇒ ৯০বি(১)এ ধারার বিধি অনুসারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন পেতে হলে:
(i) বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিলের তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যে কোনো একটিতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসন লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(ii) উক্তরূপ নির্বাচনের যেকোন একটিতে দরখাস্তকারী দল কর্তৃক নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত আসনসমূহে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যার ৫% ভোট লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(iii) কেন্দ্রীয় কমিটি ও অফিস, অফিসসহ কমপক্ষে ১০টি জেলা কমিটি এবং অফিসসহ কমপক্ষে ৫০টি উপজেলা/থানা কমিটি থাকতে হবে।

উল্লেখ্য,
- ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এটিএম শামছুল হুদার নির্বাচন কমিশন ভোটে অংশ নিতে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের বিধান চালু করে।
- ওই বছরই প্রথম দফায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

১৯২.
নিচের কোনটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী?
  1. এনবিআর
  2. এফবিসিসিআই
  3. বিডা
  4. জাসদ
সঠিক উত্তর:
এফবিসিসিআই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এফবিসিসিআই
ব্যাখ্যা
• চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো এমন এক গোষ্ঠী যার সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ।
- তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা।
- এদের কোন বৃহৎ বা জাতীয় লক্ষ্য থাকে না।
- উদাহরণ:
- আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
-  এছাড়াও আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), সুশাসনের জন্যে নাগরিক(সুজন), এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
- বিডা ও এনবিআর সরকারি প্রতিষ্ঠান।
- জাসদ একতি রাজনৈতিক দল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
১৯৩.
স্বাধীন বাংলাদেশের মন্ত্রীসভা কবে শপথ গ্রহণ করে?
  1. ক) ২৬ মার্চ ১৯৭১
  2. খ) ১ এপ্রিল ১৯৭১
  3. গ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১০ই এপ্রিল তারিখে।
- এটিই স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার।
- ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল এই সরকারের মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

এছাড়া, এম. এ. জি. ওসমানী প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব পান।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।

১৯৪.
Almond ও Powel চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কয় ভাগে বিভক্ত করেছেন?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
৪ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ ভাগে
ব্যাখ্যা
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- যে গোষ্ঠীর সদস্যগণ একই মনোভাব ও স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এবং স্বার্থের ভিত্তিতেই তারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ হয় তাকে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলে।
- Almond ও Powel চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে ৪ ভাগে ভাগ করেছেন। যথা-
• Institutional Interest Groups,
• The Associational Interest Groups,
• Anomic Interest Groups,
• Non-Associational Interest Groups.

তথ্যসূত্র - উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৫.
নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে প্রথম কততম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ৪র্থ
  2. ৫ম
  3. ৬ষ্ঠ
  4. ৭ম
সঠিক উত্তর:
৫ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ম
ব্যাখ্যা
পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন-১৯৯১:
- নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে প্রথম ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- যদিও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন সংবিধানের অংশ ছিল না, কিন্তু সবগুলো রাজনৈতিক দলের সম্মতির ভিত্তিতে সেটি করা হয়েছিল।
- ১৯৯১ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

⇒ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার লক্ষে সুপ্রীমকোর্টের তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন এবং তিন জোটের মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্য হতে ১৭ জন উপদেষ্টা নিয়োগ করেন।
- এই নির্বাচনে বিজয়ী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি।
- ১৯৯১ সালের ২০শে মার্চ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করে খালেদা জিয়া।

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতা-উত্তর একমাত্র পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি পরিচালিত হয় একটি নিরপেক্ষ অন্তর্বতীকালীন সরকারের অধীনে। ফলে নির্বাচনী ফলাফলে দলীয় কোন প্রভাব পড়েনি।
- এই নির্বাচন ছিল ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র রক্ষার ঐক্যবদ্ধ সংকল্পের ফসল।

এছাড়া, 
⇒ বিএনপি সরকারের পদত্যাগের পর ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানে যোগ হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি।
- ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ বিচারপতি হাবিবুর রহমান কে প্রধান উপদেষ্টা করে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়।
- অবশেষে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন প্রথম সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) বিবিসি।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৬.
জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) কোন রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাকালীন নাম ছিল?
  1. বিএনপি
  2. জাতীয় পার্টি
  3. বাসদ
  4. ন্যাপ
সঠিক উত্তর:
বিএনপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিএনপি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি): 
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের অন্যতম  শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক দল।
- বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নাম ছিল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল)। 
- ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠিত হয়।
- জিয়াউর রহমান তাঁর শাসনকে অসামরিকীকরণের অভিপ্রায়ে ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাক্কালে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে একটি দল গঠন করেন।
- উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুল সাত্তার ছিলেন এর আহবায়ক।
- জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে, বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দলের কর্মকান্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিবেচনায় রেখে ঢাকার রমনা ময়দানে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠনের ঘোষণা দেন।
- অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রথম মহাসচিব। জিয়াউর রহমান ছিলেন এর আহবায়ক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১৯৭.
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় কত ধরনের নির্বাচন বিদ্যমান?
  1. ক) দুই ধরনের
  2. খ) তিন ধরনের
  3. গ) চার ধরনের
  4. ঘ) পাঁচ ধরনের
সঠিক উত্তর:
ক) দুই ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুই ধরনের
ব্যাখ্যা
নির্বাচনের প্রকারভেদ:
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় দুই ধরনের নির্বাচন বিদ্যমান। যেমন- প্রত্যক্ষ নির্বাচন ও পরোক্ষ নির্বাচন।

প্রত্যক্ষ নির্বাচন:
- যখন জনগণ সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগ করে প্রতিনিধি নির্বাচন করে তখন তাকে প্রত্যক্ষ নির্বাচন বলে । যেমন- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্যগণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।

পরোক্ষ নির্বাচন:
- জনগণ ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি বা একটি মধ্যবর্তী সংস্থা নির্বাচিত করেন।
- জনপ্রতিনিধিগণ ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি বা সংসদের সংরক্ষিত আসনের (৫০ জন মহিলা) সদস্য নির্বাচিত করেন।
- এভাবে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে পরোক্ষ নির্বাচন বলে। যেমন- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন। আবার ইলেক্টরাল কলেজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৯৮.
বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম প্রধান উপদেষ্টা কে ছিলেন?
  1. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  2. বিচারপতি হাবিবুর রহমান
  3. বিচারপতি আব্দুস সালাম
  4. বিচারপতি আব্দুস সাত্তার
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি হাবিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি হাবিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
• তত্ত্বাবধায়ক সরকার:
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিয়ন্ত্রণে সর্বপ্রথম ১৯৯১ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইন পাস হয়।
- ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ বিচারপতি হাবিবুর রহমান কে প্রধান উপদেষ্টা করে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। এর আগে ১৯৯০ সালে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলেও এর সাংবিধানিক ভিত্তি ছিলো না।

- সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাংবিধানিকভাবে অনুষ্ঠিত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন।
বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় - ৪ বার।
- যথা - ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮।

এছাড়াও,
- ২৭ মার্চ, ১৯৯৬ সালে ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হয়েছিল।
- ৩০ জুন, ২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা' বাতিল করা হয়।

উৎস:- আইন মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।
১৯৯.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. দলীয় সংগঠনবিহীন
  2. দলীয় কর্মসূচিবিহীন
  3. নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া
ব্যাখ্যা
• নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নয়।

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে।
- নিম্নে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলঃ

১। দলীয় সংগঠনবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই। এদের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ নয়। সরকারের উপরে চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের স্বার্থ বা দাবি আদায় করা হচ্ছে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষণ।

২। দলীয় কর্মসূচিবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কোন রাজনৈতিক দল নয় বিধায় এদের কোন দলীয় কর্মসূচিও নেই। এটি নির্দলীয় সংগঠন। এরা শুধু গোষ্ঠীর স্বার্থ পূরণের জন্য চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে।

৩। নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া: চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রার্থী দেয় না এবং নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালায় না। তবে অনেক সময় তাদের পছন্দের প্রার্থীকে অর্থ কিংবা জনবল দিয়ে সহযোগিতা করে থাকে। এছাড়াও কোন কোন দেশে চাপসৃষ্টিকারী কোন কোন গোষ্ঠীকে পছন্দের দলের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নিতে দেখা যায়।

৪। সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে সরকারের কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে চায় না। বরং নানাভাবে সরকারি নীতিকে নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য প্রচেষ্টা চালায়।

৫। সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০০.
অবিভক্ত বাংলার কোন নেতা কলকাতা কর্পোরেশনের প্রথম বাঙালি মেয়র ছিলেন?
  1. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. তাজউদ্দিন আহমদ
  3. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর:
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক:
- একে ফজলুল হকের পুরো নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ছিলেন কলকাতা করপোশনের প্রথম বাঙালি মুসলমান, বাংলার প্রধানমন্ত্রী, পূর্বপাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- আবুল কাশেম ফজলুল হক বাগ্মী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তার বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাকে ‘শের-ই-বঙ্গাল’ উপাধি দেয়। ‘শের-ই-বঙ্গাল’ অর্থ বাংলার বাঘ। সেই থেকে তিনি শেরে বাংলা নামে পরিচিত।
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- বাংলার নয়নমণি শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।