বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

মোট প্রশ্ন১,২৯৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

PrepBank · পাতা / ১৩ · ১০০ / ১,২৯৫

.
ব্রিটিশ ভারতে প্রথম ‘পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ স্থাপিত হয় কবে?
  1. ক) ১৮৩৩ সালে
  2. খ) ১৮৫৮ সালে
  3. গ) ১৯২৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৩৯ সালে
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ ভারতে ১৯২৬ সালের ১ অক্টোবর প্রথম ‘পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ স্থাপিত হয়।
চেয়ারম্যান সহ এই কমিশনের সদস্য ছিলো পাঁচজন। প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন স্যার রস বার্কার।
১৯৩৭ সালের ১ এপ্রিল এই কমিশন ‘ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ এবং ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ‘ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ নামে আত্মপ্রকাশ করে।
এর আগে ১৮৫৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের জন্যে লন্ডনে একটি পাবলিক সার্ভিস কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়।
(সূত্র: Union Public Service Commission ওয়েবসাইট)
.
‘Point of Order’ - বলতে বুঝায় -
  1. ক) সরকারি ঘোষণা
  2. খ) এক প্রকার আপত্তি
  3. গ) সরকারি ইশতেহার
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

- Point of Order - হলো এক প্রকার আপত্তি। নিয়ম বহির্ভূত কোনো কিছু হলে এর জন্য অনির্ধারিত আলোচনার দাবি জানানোকে Point of Order বলে।
- সরকারি ঘোষণা বা ইশতেহারকে গেজেট বলে। কিন্তু সংসদ কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী গেজেট মানে দাঁড়ায় বাংলাদেশ গেজেট।

তথ্যসূত্র- Merriam Webster ডিকশনারী।

.
কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব 'বাংলার বাঘ' নামে পরিচিতি লাভ করেন?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. এ.কে. ফজলুল হক
  3. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. স্যার সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক:
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এ.কে. ফজলুল হক।

⇒ শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৫ সালে তিনি বাংলার মন্ত্রী সভার সদস্য মনোনীত হন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- তিনি কলকাতার মেয়র হোন ১৯৩৫ সালে।

⇒ ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ 'বাংলার বাঘ'।
- সে থেকে তিনি শের-ই-বাংলা নামেই পরিচিত।

⇒ ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- বাংলার নয়নমণি শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
নিচের কোনটিতে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অধিক মাত্রায় প্রভাব দেখা যায়?
  1. শাসন বিভাগে
  2. জাতীয় কল্যাণে
  3. রাজনৈতিক দলে
  4. আইন বিভাগে
ব্যাখ্যা
শাসন বিভাগের উপর চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রভাব অধিক মাত্রায় প্রভাব দেখা যায়।

চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রভাব:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী আইন পরিষদকে প্রভাবিত করে থাকে।
- চাপ প্রয়োগকারী সংস্থার নেতৃবৃন্দ আইন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের কাছে তাদের দাবি দাওয়া তুলে ধরে এবং তাদের অনুকূলে আইন পাশ করার ব্যবস্থা করে। 
- স্বার্থকামী গোষ্ঠীগুলো মন্ত্রিপরিষদকেও প্রভাবিত করে। 
- এমন কি প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে শাসন বিভাগের কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। 

উৎস:  রাষ্টবিজ্ঞান-৩, স্নাতক শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য নিচের কোনটি অতি আবশ্যক?
  1. সুশীল সমাজ
  2. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  3. বিরোধী দল
  4. সামরিক বাহিনী
ব্যাখ্যা
বিরোধী দল:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অতি আবশ্যক।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার আশঙ্কা থাকে।
- সরকারকে সর্বদা বিরোধী দলের দাবির প্রতি সহনশীল হতে হবে।
- আবার বিরোধী দল অহেতুক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।
- বস্তুতঃ বিরোধী দল ছাড়া রাজনৈতিক ব্যবস্থাই অচল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'দ্য ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. এ পি জে আব্দুল কালাম
  2. রাজেন্দ্র প্রাসাদ
  3. জওহরলাল নেহেরু
  4. লাল বাহাদুর শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
জওহরলাল নেহেরু:
- জওহরলাল নেহরু ১৪ নভেম্বর, ১৮৮৯ সালে ভারতের এলাহাবাদে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
- জওহরলাল যখন ১৬ বছর বয়সী তখন তিনি হ্যারো এবং পরে কেমব্রিজে পড়ার জন্য ইংল্যান্ডে যান।
- তিনি ১৯১২ সালে ভারতে ফিরে আসেন এবং এলাহাবাদে আইনজীবী হন।
- ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতকে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত করতে মহাত্মা গান্ধীর সাথে কাজ করেছিলেন।
- নেহেরু নতুন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন।
- 'গ্লিম্পসেস অফ ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি' জওহরলাল নেহরুর লেখা আত্মজীবনী।
- 'দ্য ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া' তাঁর লেখা অন্যতম বই।
- তিনি ২৭ মে, ১৯৬৪ তারিখে নয়াদিল্লিতে মারা যান।

তথ্যসূত্র - Britannica Kids.com
.
তেভাগা আন্দোলনের সাথে জড়িত নন -
  1. হাজী দানেশ
  2. ইলা মিত্র
  3. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  4. অমল সেন
ব্যাখ্যা
তেভাগা আন্দোলন:
- তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র।
- তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন।
- ১৯৪০ থেকে ১৯৫০ সালে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ।
- কৃষকদের অধিকার আদায়ে তেভাগা আন্দোলনে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেন নড়াইলের অমল সেন।
- তেভাগা আন্দোলনের দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।
 
উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ১৮ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো।
.
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কয়টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে?
  1. ২৫টি
  2. ২৭টি
  3. ২৮টি
  4. ৩০টি
ব্যাখ্যা
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন
- দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটে অংশগ্রহণ করেছেন ২৮টি দল। 
- সবচেয়ে বেশি ২৬৬ জন প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এরপরই রয়েছে জাতীয় পার্টি, তাদের প্রার্থী রয়েছেন ২৬৫ জন।
-  তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৩৫ জন প্রার্থী রয়েছেন ‘সোনালী আঁশ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে আসা তৃণমূল বিএনপির।

• ২৮ রাজনৈতিক দল থেকে যত প্রার্থী
- আওয়ামী লীগ (নৌকা): ২৬৬ জন
- জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল): ২৬৫ জন
- জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল): ২১ জন
- তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) : ১৩৫ জন
- ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (আম): ১২২ জন
- বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব): ৯৬জন
- জাসদ (মশাল): ৬৬ জন
- বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা): ৭৯ জন
- বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি): ৬৩ জন
- বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ (টেলিভিশন):  ৪৫ জন
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙ্গর): ৫৬জন
- বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন (ফুলের মালা): ৩৮ জন
- ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার): ৪২ জন
- ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার): ৩৯ জন
- বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি): ৩৭ জন
- কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা): ৩০ জন
- বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি): ২৬ জন
- গণফ্রন্ট (মাছ): ২১ জন
- জাতীয় পার্টি-জেপি (বাই সাইকেল): ১৩ জন
- বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি): ১৬ জন
- বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ): ১১ জন
- বিকল্প ধারা বাংলাদেশ (কুলা): ১০ জন
- বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল): ৫ জন
- গণতন্ত্রী পার্টি কবুতর): ১০ জন
- গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য): ৯ জন
- বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (চাকা): ৪ জন
- বাংলাদেশ ন্যশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (কুঁড়েঘর): ৫ জন
- বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল (হাত পাঞ্জা): ৪ জন
- স্বতন্ত্র ৪৩৬ জন।

উৎস: বিডি নিউজ।
.
রাষ্ট্রের অপরিহার্য উপাদান নয় কোনটি?
  1. নির্দিষ্ট ভূখণ্ড
  2. জাতীয়তাবাদ
  3. সার্বভৌমত্ব
  4. জনসমষ্টি
ব্যাখ্যা
জাতীয়তাবাদ রাষ্ট্রের অপরিহার্য উপাদান নয়।

রাষ্ট্রের উপাদান:

- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র বলতে সেই জনসমষ্টিকে বোঝায়, যারা কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় বসবাস করে, যাদের একটি সরকার আছে সর্বোপরি যারা বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ হতে সর্বোতভাবে মুক্ত থাকে।
- রাষ্ট্র হচ্ছে নাগরিক জীবনের অন্যতম একটি সংঘ।
- রাষ্ট্রের উপাদান ৪টি।
- যথা:
(ক) জনসমষ্টি, 
(খ) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, 
(গ) সরকার, 
(ঘ) সার্বভৌমত্ব।
- এই চারটি উপাদান রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য।
- এর কোন একটি না থাকলে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত ছিলেন -
  1. নওয়াব আবদুল লতিফ
  2. সৈয়দ আহমদ খান
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. নবাব ভিকারুক মুলুক
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আমীর আলী:
- সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন একজন প্রখ্যাত আইনজীবী এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক খ্যাতিমান লেখক।
- ভারতে মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণ বিশেষ করে বাংলার মুসলমানদের নবজাগরণের তিনি ছিলেন অন্যতম অগ্রদূত।

⇒ সৈয়দ আমীর আলী ১৮৪৯ সালে হুগলীর এক সম্ভ্রান্ত শিয়া মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৮৭৮-৮৩ সাল পর্যন্ত বঙ্গীয় আইন সভার সদস্য এবং ১৮৮৩-৮৫ সাল পর্যন্ত গভর্নরের আইন সভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ভারতীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম ইংল্যান্ডের প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন।
- ১৯০৪ সালে অবসর গ্রহণের পর তিনি ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং ১৯২৮ সালে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন একজন দূরদর্শী চিন্তাবিদ ও সমাজ সংস্কারক।
- বঙ্গ-ভারতের মুসলমানদের সর্বক্ষেত্রে পশ্চাদপদতার পটভূমিতে তাদের জাগরণের জন্য নওয়াব আবদুল লতিফ ও সৈয়দ আহমদ খানের মতো তিনিও মুসলমানদের পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণ ও ব্রিটিশ সরকারের সাথে সহযোগিতার নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন।
- তাঁর মতে, পাশ্চাত্য শিক্ষার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত না হলে মুসলমানদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে। 

⇒ মুসলিম রেঁনেসার অগ্রদূত:
- সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত।
- ইসলামী ও পাশ্চাত্য জ্ঞানের অধিকারী আমীর আলী ছিলেন একজন সুলেখক।
- তিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন।
- এসব গ্রন্থের মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে: (১) দি স্পিরিট অব ইসলাম এবং (২) এ সর্ট হিস্টরি অব দি স্যারাসিন।
- এ গ্রন্থ দুটি পণ্ডিত হিসেবে আমীর আলীকে অমরত্ব দান করেছে।
- আমীর আলী তাঁর লেখায় ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দান করেছেন।
- মুসলমানদের গৌরবময় অতীতের প্রতি বারংবার অঙ্গুলি নির্দেশ করে মুসলিম সমাজকে আত্মসচেতন করার চেষ্টা করেছেন।
- তাঁর এ চেষ্টায় হতাশাগ্রস্ত মুসলিম সমাজে প্রাণের সঞ্চার ঘটে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৫৮ সালে
  2. ১৯৫৭ সালে
  3. ১৯৫৯ সালে
  4. ১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা

• ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি :
- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) বাংলাদেশের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল। 
- মওলানা  আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৫৭ সালের জুলাই মাসে এই দলটি গঠিত হয়।
- ন্যাপের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি -মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সম্পাদক নির্বাচিত হন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী।
- ১৯৬৭ সালের দিকে বিভিন্ন কারণে ন্যাপ নেতৃবৃন্দের মধ্যে মতবিরোধ চলতে থাকে। 
- ১৯৬৭ সালের ৩০ নভেম্বর রংপুরে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনের পর দেশিয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রশ্নে ন্যাপ চীনপন্থী ও মস্কোপন্থী এ দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 

উৎস : বাংলাপিডিয়া।

১২.
খাজা সলিমুল্লাহ নিচের কোন ব্রিটিশ উপাধি পায়নি?
  1. নওয়াব বাহাদুর
  2. নাইট হুড
  3. সি.এস.আই
  4. কে.সি.এস.আই
ব্যাখ্যা
- নাইট হুড উপাধিটি পায়নি।

• নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ: 

- জন্ম: ৭ জুন ১৮৭১, আহসান মঞ্জিল, ঢাকা,
- মৃত্যু: ১৬ জানুয়ারি ১৯১৫, চৌরঙ্গী, কলকাতা,
- পিতা: নওয়াব স্যার খাজা আহসানুল্লাহ,
- পিতামহ: নওয়াব স্যার খাজা আব্দুল গণি।

• দান ও সমাজসেবা:
- ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল প্রতিষ্ঠায় অনুদান দেন।
- উপাধি ও সম্মাননা (ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক): 
- ১৯০২: C.S.I.
- ১৯০৩: Nawab Bahadur.
- ১৯০৯: K.C.S.I.
- ১৯১১: G.C.S.I.
- মৃত্যু: ১৬ জানুয়ারি ১৯১৫, কলকাতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩.
Almond ও Powel চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কতটি ভাগে ভাগ করেছেন?
  1. ৩ ভাগে
  2. ৭ ভাগে
  3. ৬ ভাগে
  4. ৪ ভাগে
ব্যাখ্যা
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
• যে গোষ্ঠীর সদস্যগণ একই মনোভাব ও স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এবং
- স্বার্থের ভিত্তিতেই তারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ হয় তাকে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলে।

• Almond ও Powel চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে ৪ ভাগে ভাগ করেছেন।
যথা-
- The Associational Interest Groups,
- Institutional Interest Groups,
- Anomic Interest Groups and
- Non-Associational Interest Groups.

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার যে আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন -
  1. রংপুর আন্দোলন
  2. ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন
  3. তেভাগা আন্দোলন
  4. অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার:
- ভারতের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রথম শহীদ বিপ্লবী নারী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।
- ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের বর্তমান পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ইডেন কলেজে ছাত্রী থাকাকালে প্রীতিলতা লীলা নাগের নেতৃত্বাধীন দীপালি সংঘের অন্তর্ভুক্ত শ্রীসংঘের সদস্য ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে সমগ্র বাংলা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিপ্লবী হয়ে ওঠে।
- প্রথম মহিলা সদস্য হিসেবে প্রীতিলতা যোগ দেন সূর্যসেনের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী দলের সঙ্গে।
- ১৯৩২ সালে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে প্রীতিলতার ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
- প্রীতিলতার নেতৃত্বে বিপ্লবীরা ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করে।
- ওই সময়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হলে তাত্ক্ষণিকভাবে পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দেন।
- তাঁর আত্মদান বিপ্লবীদের সশস্ত্র সংগ্রামে আরো উজ্জীবিত করে তোলে।
- পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাবটি এখন ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা জাদুঘর’ নামে পরিচিত।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫.
উপনিবেশিক শ্রীলংকায় প্রথম ‘পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ গঠিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৩১ সালে
  2. খ) ১৯৪৬ সালে
  3. গ) ১৯৫২ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ শ্রীলংকায় প্রথম ‘পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ গঠিত হয় ১৯৪৬ সালের ১৫ মে।
এই কমিশনের উপর সরকারি কর্মচারি-কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও অপসারণ ক্ষমতা প্রভৃতি প্রদান করা হয়।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত শ্রীলংকান পাবলিক সার্ভিস কমিশনে আরো ছয়বার সংশোধন আনা হয়।
৯ জন সদস্যের সমন্বয়ে শ্রীলংকান ‘পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ গঠিত।
(সূত্র: শ্রীলংকান পাবলিক সার্ভিস কমিশন ওয়েবসাইট)
১৬.
রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য কোনটি?
  1. দলীয় আদর্শ প্রচার করা
  2. জনমত গঠন করা
  3. পররাষ্ট্র নীতি তৈরি করা
  4. রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ করা
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দল:
- প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হল রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ এবং সরকার গঠন।
- ক্ষমতায় এসে নিজের কর্মসূচি ও মতাদর্শকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রতিটি দলই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে।
- শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের লক্ষ্য হল ক্ষমতায় টিকে থাকা।
- আর বিরোধী দলসমূহ নিজ-নিজ আদর্শের ভিত্তিতে শাসক দলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়।

এছাড়াও,
- রাজনৈতিক কিছু কার্যাবলী:
- জনমত গঠন,
- প্রার্থী মনোনয়ন,
- প্রতিশ্রুতি রক্ষা,
- সমন্বয় সাধন,
- সরকার ও জনগণের মধ্যে সংযোগ সাধন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ১ম পত্র এইচ এসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট কয়বার জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. ক) ৩ বার
  2. খ) ৫ বার
  3. গ) ৭ বার
  4. ঘ) ১০ বার
ব্যাখ্যা
 বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৫ বার জরুরী অবস্থা জারি করা হয়েছে: 
১. ১৯৭৪ সালের ২৮শে ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা মোকাবেলা করার জন্য জরুরী অবস্থা জারি করেন ।
২. জিয়াউর রহমান খুন হলে উপ-রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার রাষ্ট্রপতি হয়ে  ১৯৮১ সালের ৩০শে মে জরুরী অবস্থা জারি করেন।
৩. ১৯৮৭ সালের ২৭শে নভেম্বর জেনারেল এরশাদ জরুরী অবস্থা জারি করেন।
৪. ১৯৯০ সালের ২৭শে নভেম্বর জেনারেল এরশাদ জরুরী অবস্থা জারি করেন। 
৫. ২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজউদ্দীন আহম্মেদ জরুরী অবস্থা জারি করেন। এই দিনটি ১/১১ নামে পরিচিত।

সংবিধানের ১৪১ক(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ যেকোন গোলযোগের কারণে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি অনধিক ১২০ দিনের জন্যে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।

- তবে এরূপ ঘোষণার পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি-স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়।
- ১৪১ (খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জরুরি অবস্থা ঘোষণার সাথে সাথে এই ৬টি মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়ে যায়।
- জরুরি অবস্থার সময় স্থগিত হয় ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪২ অনুচ্ছেদ গুলো।

তথ্যসূত্র:   বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
কোন পরিস্থিতিতে একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল করা হতে পারে?
  1. দলটি যদি পরপর দুইটি সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে
  2. দলটি যদি দেশের আইন লঙ্ঘন করে
  3. দলটি যদি নির্বাচনে জয়ী না হয়
  4. দলটি যদি নির্বাচন কমিশনকে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেয়
ব্যাখ্যা

• নিবন্ধন বাতিল:
- কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নিম্নোক্ত কারণে বাতিল হবে, যথা:
- দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটি কর্তৃক দলকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলে কিংবা নিবন্ধন বাতিলের জন্য দলের প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক বা মহাসচিবদের সমপর্যায়ের পদাধিকারী কর্তৃক দলীয় সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণীসহ কমিশন বরাবর আবেদন করা হলে;
- নিবন্ধিত কোন রাজনৈতিক দল সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে;
- এই আইন ও বিধিমালার অধীন কমিশনে প্রেরিতব্য কোন তথ্য পরপর তিন বছর প্রেরণ করতে ব্যর্থ হলে;
- রাজনৈতিক দলটি পরপর দুইটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে;

এছাড়াও,
- কমিশন নিবন্ধন বাতিলের পূর্বে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে শুনানীর সুযোগ প্রদান করবেন।
- বিলুপ্ত ঘোষিত নিবন্ধিত কোন রাজনৈতিক দলের নাম অনুযায়ী অপর কোন দলকে নিবন্ধিত করা হবে না।
- বিলুপ্ত ও বাতিলকৃত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।

১৯.
স্বাধীনতার পর দেশে প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় -
  1. ১৯৮২ সালে
  2. ১৯৮৩ সালে
  3. ১৯৮৪ সালে
  4. ১৯৮৫ সালে
ব্যাখ্যা
উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা:
- বাংলাদেশে উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয় ১৯৮২ সালে।
- ১৯৮২ সালের ৭ নভেম্বর প্রথম ৪৫টি থানাকে এবং পরবর্তীতে ৪৬০টি থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়।
- ১৯৮৫ সালে প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়

উল্লেখ্য,
- একজন চেয়ারম্যান, দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান, অধিভুক্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, পৌরসভার মেয়র (যদি থাকে) ও তিনজন মহিলা সদস্য নিয়ে উপজেলা পরিষদ গঠিত।
- তাছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য এর পরামর্শকের ভূমিকা পালন করেন।
- উপজেলা পরিষদের প্রধান কাজ হল ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন করা।

অন্যদিকে,
- ১৯৯২ সালের ২৬ জানুয়ারি 'উপজেলা বাতিল' বিলটি সংসদে পাসের মাধ্যমে উপজেলা পদ্ধতি বাতিল হয়।
- পরে ১৯৯৮ সালের ৩ ডিসেম্বর উপজেলা পরিষদ আইনের মাধ্যমে পুনরায় উপজেলা ব্যবস্থা চালু করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
২০.
নিম্নের কোন ব্যক্তি ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ গঠন করেন?
  1. সিরাজুল আলম খান
  2. কাজী আরেফ আহমেদ
  3. আবদুর রাজ্জাক
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ:
- পাকিস্তানের কাঠামোয় বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশ ঘটা অসম্ভব বিবেচনা করে তৎকালীন ছাত্র সমাজের নেতৃস্থানীয় কয়েকজন ১৯৬২ সালে গোপনে ছাত্রদের সংগঠিত করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করে- বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ এই ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব দেন জনাব সিরাজুল আলম খান, জনাব আবদুর রাজ্জাক এবং কাজী আরেফ আহমেদ।এই সংগঠন 'স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ' নামে পরিচিত ছিল।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
২১.
বিরোধী দল কোন পদ্ধতিতে সরকারের ভুল নির্দেশ করে?
  1. আন্দোলন করে
  2. আদালতের মাধ্যমে
  3. গণভোট আয়োজন করে
  4. গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

গঠনমূলক বিরোধিতা:
- রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল সরকার গঠন করে 
- দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আইনসভায় বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করে। 
- সরকারের কোনো কার্যক্রম ভুল হলে বিরোধী দলের প্রধান কাজ হচ্ছে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

২২.
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় কিসের গুরুত্ব অপরিসীম?
  1. ক) স্থানীয় প্রশাসনের
  2. খ) ক্ষমতা দখলের
  3. গ) নির্বাচনের
  4. ঘ) প্রচারণার
ব্যাখ্যা
- গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- নির্বাচনের মাধ্যমেই জনমত প্রকাশ পায়। 
- নির্বাচনের মাধ্যমেই ভোটারগণ একাধিক প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে। 
- নির্বাচকমণ্ডলী সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে। 
- গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচন সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩.
মুক্তিযুদ্ধকালীন জাতিসংঘে উত্থাপিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন সর্বমোট কতবার ভেটো ক্ষমতা প্ৰয়োগ করে?
  1. ক) ২ বার
  2. খ) ৩ বার
  3. গ) ৪ বার
  4. ঘ) ৫ বার
ব্যাখ্যা
- পরাশক্তিগুলোর মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম বাঙালি গণহত্যাকে নিন্দা করে। 
- যুদ্ধবিরতি প্রশ্নে নিরাপত্তা পরিষদে তিনবার ভেটো প্রয়োগ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে বাধাহীন করে তুলতে, ২৪ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়ে এবং স্বাধীনতা লাভের পরপরই সোভিয়েত ইউনিয়ন যে ভূমিকা পালন করেছিল তা বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৪.
কার নেতৃত্বে 'ফারাক্কা লংমার্চ' সংঘটিত হয়েছিল?
  1. আবুল কাশেম
  2. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  3. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  4. এ.কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

ফারাক্কা লং মার্চ:
- মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে 'ফারাক্কা লংমার্চ' সংঘটিত হয়েছিল।
- মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে 'ফারাক্কা লং মার্চ' সংঘটিত করা।
- ১৯৭৬ সালের ১৮ই এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ফেরার পর মাওলানা ভাসানী ঘোষণা দেন ভারত যদি বাংলাদেশকে পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাহলে তিনি লংমার্চ করবেন।

⇒ এজন্য ১৬ই মে রাজশাহী শহর থেকে লংমার্চ করার ঘোষণা দেন তিনি।
- কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য ১৯৭৬ সালের ২রা মে মাওলানা ভাসানীকে প্রধান করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট 'ফারাক্কা মিছিল পরিচালনা জাতীয় কমিটি' গঠিত হয়।
- এই লংমার্চের আগে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে একটি চিঠি লিখেন আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- সে চিঠিতে মিসেস গান্ধির কাছে লংমার্চের কারণ বর্ণনা করেন ভাসানী।
- লংমার্চের মিছিল রাজশাহী থেকে প্রেমতলী, প্রেমতলী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মনকষা এবং মনকষা থেকে শিবগঞ্জ পর্যন্ত ৬৪ মাইল অতিক্রম করবে।
- মাওলানা ভাসানীর অনুসারীরা তাকে একজন রাজনীতিবিদের চেয়ে 'দার্শনিক' হিসেবেই বেশি বিবেচনা করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৫.
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. দলীয় সংগঠনবিহীন
  2. দলীয় কর্মসূচিবিহীন
  3. নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা রাজনৈতিক দলের তুলনায় সাধারণত কম হয় এবং অভিন্ন স্বার্থের পরিপ্রেক্ষিতে গোষ্ঠীর সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ থাকে।
- সাংগঠনিক দিক থেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী রাজনৈতিক দল অপেক্ষা দুর্বল।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে প্রভাবিত করাই হল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য।

⇒ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
• দলীয় সংগঠনবিহীন,
• দলীয় কর্মসূচিবিহীন,
• নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া,
• সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা,
• সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়,
• সমজাতীয় মনোভাব,
• বেসরকারি সংগঠন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬.
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ব্যালট পেপারে কতটি প্রশ্ন উল্লেখ থাকবে?
  1. ৪টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা

যেসব প্রশ্ন থাকবে গণভোটের ব্যালটে

⇒ ‘জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্নে’ উল্লেখ করে বলা হয়, আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?

১. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

২. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

৩. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

৪. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।

গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫:
- ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর গেজেট জারি করা হয়।
- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে আয়োজন করা হবে গণভোট। 
- গণভোটে চারটি বিষয়ের ওপর একটি প্রশ্ন উপস্থাপন করা হবে।
- গণভোটের ব্যালট জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট থেকে আলাদা এবং ভিন্ন রঙের হবে।
- এছাড়া, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো গণভোটেও প্রবাসীসহ চার শ্রেণির নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। 

উৎস: নির্বাচন কমিশন [লিংক]।

২৭.
আওয়ামী লীগ কয়টি মূলনীতিতে বিশ্বাসী?
  1. দুইটি
  2. চারটি
  3. পাচঁটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
- আওয়ামী লীগ চারটি মূলনীতিতে বিশ্বাসী।
মূলনীতিগুলো হলো: জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র।

- আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি: 
- প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন- সামছুল হক।
- প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সহ সভাপতি- আতাউর রহমান, আব্দুস সালাম খান।
- ১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
- ১৯৬৬ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধু মাওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- আওয়ামী মুসলীম লীগ থেকে মুসলীম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়-১৯৫৫ সালে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস প্রথম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কী বিবেচিত হয়?
  1. সামরিক বাহিনী
  2. প্রশাসনিক কর্মকর্তা
  3. রাজনৈতিক দল
  4. সুশীল সমাজ
ব্যাখ্যা

⇒ প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে রাজনৈতিক দল বিবেচিত হয়।

রাজনৈতিক দল:

- রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাবলির ব্যাপারে রাজনৈতিক দল গুলি নিজ-নিজ দলীয় মতাদর্শের উপর ভিত্তি করে সেসব সমস্যার সমাধানকল্পে নীতি ও কর্মসূচি নির্ধারণ করে।
- নির্ধারিত নীতি ও কর্মসূচির স্বপক্ষে জনমত গঠন করা রাজনৈতিক দলের কাজ।
- প্রতিটি রাজনৈতিক দল সভা-সমিতি, পত্র-পত্রিকা, পুস্তক-পুস্তিকা, রেডিও-টিভি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রভৃতির মাধ্যমে প্রচারকার্য চালিয়ে নিজস্ব নীতি ও কর্মসূচির সমর্থনে জনমত গঠনের চেষ্টা করে।
- আধুনিক গণতন্ত্রে প্রতিটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করা।
- প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্র সরকারি ক্ষমতা করায়ত্ব করে নিজ নীতি ও আদর্শকে বাস্তবে রূপায়িত করা। 

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯.
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. ক) খালেদ নেওয়াজ খান
  2. খ) কোভিদ আহমেদ
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) নাঈম উদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক নাঈম উদ্দিন আহমেদ ছিলেন ।
- ইতিহাস ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের অ্যাসেম্বলি হলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এর নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৩০.
গণতন্ত্রের মূল চালিকা শক্তি কোনটি?
  1. স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম
  2. রাজনৈতিক দল
  3. সংসদীয় ব্যবস্থা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দল:
- রাজনৈতিক দল হল গণতন্ত্রের মূল চালিকা শক্তি।
- যখন কিছু সংখ্যক মানুষ মতাদর্শগতভাবে একমত পোষণ করে এবং ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় তখন তাকে রাজনৈতিক দল বলে।
- সংক্ষেপে রাজনৈতিক দল হল একটি জনসমষ্টি যা ক্ষমতা অর্জন করার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে চেষ্টা করে।
- ব্যাপক অর্থে বলা যায়, রাজনৈতিক দল হল কোন জনসমষ্টি যা রাষ্ট্রের সমস্যাবলি এবং সমাধানের উপায় সম্পর্কে ঐক্যমত পোষণ করে এবং নির্দিষ্ট আদর্শের ভিত্তিতে জনমতের মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করে।

⇒ প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হল রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ এবং সরকার গঠন।
- ক্ষমতায় এসে নিজের কর্মসূচি ও মতাদর্শকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রতিটি দলই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে।
- শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের লক্ষ্য হল ক্ষমতায় টিকে থাকা।
- আর বিরোধী দলসমহ নিজ-নিজ আদর্শের ভিত্তিতে শাসক দলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১.
’বেঙ্গল প্যাক্ট’ (১৯২৩) অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে মুসলমানদের জন্য কত শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়?
  1. ৪০ শতাংশ
  2. ৫০ শতাংশ
  3. ৫৫ শতাংশ
  4. ৬০ শতাংশ
ব্যাখ্যা

’বেঙ্গল প্যাক্ট’ ও চিত্তরঞ্জন দাশ:
- চিত্তরঞ্জন দাশের সময়ে ভারতবর্ষের রাজনীতিতে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য সমস্যাটি অত্যন্ত প্রকট ছিল।
- ১৯২৩ সালে তিনি মুসলমান সম্প্রদায়ের সাথে একটি চুক্তি করেন যা ’বেঙ্গল প্যাক্ট’ নামে পরিচিত।
- ’বেঙ্গল প্যাক্ট’ এ সরকারি চাকুরিতে মুসলমানদের জন্য শতকরা ৫৫ ভাগ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়। 
- যতদিন মুসলমানরা ৫৫ শতাংশে না পৌঁছায়, ততদিন পর্যন্ত মোট সরকারি চাকুরির ৮০ ভাগ মুসলমানদের জন্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়।
- রাজনৈতিক নিষ্ঠা ও গভীর দেশপ্রেমের জন্য এই উপমহাদেশের জনগণ চিত্তরঞ্জন দাশকে 'দেশবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

৩২.
'তেনেরিফে দ্বীপ' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. মেক্সিকো
  2. জাপান
  3. স্পেন
  4. উত্তর আমেরিকা
ব্যাখ্যা
'তেনেরিফে দ্বীপ' স্পেনে অবস্থিত।

তেনেরিফে দ্বীপ
:
- স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে তেনেরিফে দ্বীপ অবস্থিত।
- মোট আয়তন: ২,০৩৪ বর্গকিমি।
- তেনেরিফে দ্বীপের সর্বোচ্চ বিন্দু তেইদে (৩,৭১৮ মিটার)।
- এটি ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ সর্ববৃহৎ দ্বীপ।
- আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের বিপরীতে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- তেনেরিফের অর্থনীতি প্রধানত কৃষিভিত্তিক।

উৎস: Britannica.
৩৩.
নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম বাঙালি কে?
  1. ড. মুহম্মদ ইউনুস
  2. অমর্ত্য সেন
  3. রীতু দাশ গুপ্তা
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।

- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে। ১৮৭৬ সালে পনের বছর বয়সে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বনফুল'। অতঃপর কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণসাহিত্য, রম্যরচনা, সংগীত ইত্যাদি শাখায় রবীন্দ্রনাথ রেখে গেছেন তাঁর অসামান্য শিল্প-প্রতিভার স্বাক্ষর।

- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।' এ বিদ্যালয়ই পরবর্তীকালে 'বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়'-এ রূপলাভ করে।

- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন, তিনি নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম বাঙালি।
-রবীন্দ্রনাথ কখনও সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হননি, তবে সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্নও রাখেননি; বরং তিনি ছিলেন স্বাদেশিকতার বরেণ্য পুরুষ। ১৮৯৬ সালে কলকাতায় যে কংগ্রেস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, ‘বন্দে মাতরম্’ গান গেয়ে রবীন্দ্রনাথ তার উদ্বোধন করেন।

-  ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় রবীন্দ্রনাথ বঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতা করেন। বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রবন্ধে কবি তাঁর মনোভাব ব্যক্ত করেন।

-  ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল রাউলাট অ্যাক্ট-এর বিরুদ্ধে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে এক জনসমাবেশে ভারতীয়দের ওপর ব্রিটিশ পুলিশ আকস্মিকভাবে গুলি চালিয়ে অসহায় ব্যক্তিদের হত্যা করে। ইংরেজের এই অত্যাচারী মূর্তি দেখে রবীন্দ্রনাথ ভাইসরয়কে এক পত্র লিখে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।

- ১৯৪০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কবি কালিম্পঙ গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩৪.
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে নোবেল পুরষ্কার পান?
  1. ১৯১৩
  2. ১৯১৪
  3. ১৯২৩
  4. ১৯২৪
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে একজন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর ছদ্মনাম: ভানুসিংহ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস: চোখের বালি, গোরা, ঘরে বাইরে, চতুরঙ্গ, শেষের কবিতা, যোগাযোগ, চার অধ্যায় ইত্যাদি।
- ব্রিটিশরা তাঁকে 'নাইট' উপাধিতে ভূষিত করে ১৯১৫ সালে।
- তাঁর মৃত্যু: ৭ আগস্ট ১৯৪১ (বয়স ৮০), কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে।

উল্লেখ্য,
- ১৯১৩ সালে তাঁকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- বিশ্বভারতীর সেফ্টি ভল্টে রাখা ছিল সেই অনন্য সম্মান।
- কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এটাই, যে ২০০৪ সালে রবীন্দ্রনাথের নোবেল চুরি হয়ে যায়।
- পরবর্তীকালে সুইডিশ অ্যাকাডেমি নোবেলের দুটি রেপ্লিকা দিয়েছিল বিশ্বভারতীকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৫.
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বপ্রথম কত সালে আওয়ামী-লীগের সভাপতি হন?
  1. ক) ১৯৭৮ সালে
  2. খ) ১৯৮১ সালে
  3. গ) ১৯৯০ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা
•শেখ হাসিনা:
- বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর ৬ বছর পর নির্বাসিত জীবন শেষ করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে ফিরে আসেন।
- তার আগেই ১৯৮১ সালের ১৪ – ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দলীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

এছাড়াও
 • মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ:
১. শেখ মুজিব আমার পিতা
২. দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা
৩. ওরা টোকাই কেন?
৪. বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম
৫. আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম
৬. আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি
৭. সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র
৮. সাদা কালো
৯. সবুজ মাঠ পেরিয়ে
১০. Miles to Go
১১. The Quest for Vision - 2021

উৎস: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
৩৬.
আওয়ামী লীগ কত সালে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে?
  1. ১৯৬৫ সালে
  2. ১৯৬৬ সালে
  3. ১৯৬৭ সালে
  4. ১৯৬৮ সালে
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- আওয়ামী লীগ এ আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ইতিহাসে তা ‘ঐতিহাসিক ছয়দফা আন্দোলন' নামে অভিহিত হয়ে আছে।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনেকাটা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত। 

• দফা গুলো হলো:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা, 
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭.
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ -১৯৭২-এর অপর নাম কী?
  1. Representation of the People Organization
  2. Representation of the Power Organization
  3. Representation of the Power Order
  4. Representation of the People Order
ব্যাখ্যা
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীতে সংবিধান তৈরির পর নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রথমবারের মতো Representation of the People Order (আরপিও) বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ প্রণয়ন করা হয়েছিলো।

• RPO:
- RPO-এর পূর্ণরূপ: Representation of People Order.
- বাংলাদেশে সংবিধানের আওতায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যতগুলো আইন আছে তার মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত মূল আইন হলো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আইন।

⇒ নির্বাচনের মূল ভিত্তি সংবিধান।
- সেই সংবিধানের অধীনেই করা হয়েছিলো গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (রিপ্রেজেন্টেটিভ পিপলস অর্ডার ১৯৭২) , যা এ পর্যন্ত অনেকবার সংস্কার হয়েছে।
- বিশেষ করে বাংলাদেশে ২০০৭ সালের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই বছরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছিলো এ আইনে।
- রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন, প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয় নিরূপণ কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারীকে রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো সে সময়ে সংযোজিত হয়েছে।
- সবশেষ ২০২৩ সালে সংসদে পাশ হয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) আইন ২০২৩।
- নির্বাচনের জন্য দেশের মানুষের গণঅধিকার কোনগুলো এবং এ অধিকার রক্ষায় নির্বাচন কমিশন কী করবে সেটিই বলা হয়েছে আরপিওতে।
- “এর ১৪৫টি ধারার মধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত সব বিষয় বর্ণনা করা আছে।
- এর মাধ্যমে বলা আছে যে কীভাবে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে।

উৎস: i) নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট। 
ii) BBC.
৩৮.
বাংলাদেশের বর্তমানে (২ সেপ্টেম্বর'২৪) নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কয়টি?
  1. ৪৬টি
  2. ৪৭টি
  3. ৫১টি
  4. ৫২টি
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

বাংলাদেশের নিবন্ধিত  রাজনৈতিক দল:

- ২০২৪ সালের  ২ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন (ইসির) নিবন্ধন পেয়েছে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের দল গণ অধিকার পরিষদ (জিওপি)।
- একই দিনে নিবন্ধন পেয়েছে মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য। 
- ২ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 
- ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ পর্যন্ত মোট নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা হলো ৪৭টি। 
- ২১ আগস্ট, ২০২৪ ইসির নিবন্ধন পায় জামায়াতে ইসলামীর সংস্কারপন্থিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি রাজনৈতিক দল আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

সূত্র- বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। 
৩৯.
'মুসলিম মহিলা সমিতি' কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ক) বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  2. খ) বেগম সুফিয়া কামাল
  3. গ) হাজী মুহম্মদ মহসীন
  4. ঘ) শেরে বাংলা এ, কে, ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
বেগম রোকেয়া  সাখাওয়াত হোসেন
- বেগম রোকেয়ার সময়কালে মেয়েরা ছিল খুবই পর্দানশিন।
- বেগম রোকেয়া তাঁর বড় ভাই ইবরাহিম সাবের এবং বড় বোন করিমুন্নেসার কাছে শিক্ষা লাভ করেন। 
- বেগম রোকেয়ার লিখিত গ্রন্থ অবরোধ বাসিনী, পদ্মরাগ, মতিচুর, সুলতানার স্বপ্ন প্রভৃতিতে সে চিত্র ফুটে উঠেছে।
- তিনি স্বামীর নামে ভাগলপুরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
- ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে তিনি কোলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল উর্দু প্রাইমারি স্কুল স্থাপন করেন। 
- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে এটি উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নিত হয়।
- তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা এবং সুপারিনটেনডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। 
- বেগম রোকেয়া নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতায় আঞ্জুমান খাওয়াতিনে ইসলাম (মুসলিম মহিলা সমিতি) প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০.
“যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই” উক্তিটি কার-
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. অ্যালান বল
  3. ম্যাকাইভার
  4. হ্যারল্ড লাসওয়েল
ব্যাখ্যা

বিরোধী দল:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।
- “যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই” উক্তিটি করেন জন স্টুয়ার্ট মিল।
- গণতন্ত্র রক্ষায় বিরোধীদলের বিকল্প নেই।
উল্লেখ্য,
- ‘Comparative Politics and Government’ নামক গ্রন্থের লেখক অ্যালান বল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

৪১.
কোনটি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা
  2. দলীয় সংগঠনবিহীন
  3. নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া
  4. সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
• দলীয় সংগঠনবিহীন,
• দলীয় কর্মসূচিবিহীন,
• নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা,
• সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা,
• সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়, 
• সমজাতীয় মনোভাব, 
• বেসরকারি সংগঠন ।

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২.
তিতুমীর পরিচালিত আন্দোলনের নাম কী ছিল?
  1. তারিক-ই- মুহম্মদীয়া
  2. ফরায়েজি
  3. ওয়াহাবি
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
তিতুমীরের আন্দোলন:
- পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় প্রায় একই সময়ে দুটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের শুরু হয়।
- পূর্ব বাংলার আন্দোলনটি ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত।
- পশ্চিম বাংলার আন্দোলনের নাম ওয়াহাবি বা 'তারিক-ই- মুহম্মদীয়া'।
- ওয়াহাবি বা তারিক-ই- মুহম্মদীয়া আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তিতুমীর।
- ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে এ আন্দোলন শুরু হয়।
- শেষ হয় ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীরের শাহাদাত বরণের মধ্য দিয়ে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩.
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের শর্ত অনুযায়ী, সর্বনিম্ন কতটি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন থানায় কার্যালয় থাকতে হবে?
  1. ৯০টি
  2. ১০০টি
  3. ১২০টি
  4. ২০০টি
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:
- ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এটিএম শামছুল হুদার নির্বাচন কমিশন ভোটে অংশ নিতে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের বিধান চালু করে।
- ওই বছরই প্রথম দফায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

এছাড়াও,
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পেতে চাইলে তিনটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ করতে হবে।
- প্রথমত, স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত কোনো সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে কমপক্ষে একটি আসনে বিজয়;
- দ্বিতীয়ত, ওই সব নির্বাচনে দলটির প্রার্থীরা যেসব আসনে অংশ নিয়েছেন, সেসব আসনে মোট ভোটের পাঁচ শতাংশ ভোট প্রাপ্তি;
- তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় কমিটিসহ একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় অফিস থাকতে হবে। দেশের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলায় জেলা অফিস থাকতে হবে। আর অন্তত ১০০টি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার থানায় অফিস থাকতে হবে, যার প্রতিটিতে সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ২০০ জন ভোটার থাকবে।

উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এবং BBC পত্রিকা রিপোর্ট। 

৪৪.
তাজউদ্দিন আহমদ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. মানিকগঞ্জ
  2. গাজীপুর
  3. মুন্সিগঞ্জ
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
তাজউদ্দিন আহমদ:
- গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার দরদরিয়া গ্রামে ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই তাজউদ্দিন আহমদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম মৌলবী মুহাম্মদ ইয়াসিন খান এবং মাতা মেহেরুন্নেসা খানম।
- তাজউদ্দিন আহমদ ১৯৪৪ সালে ঢাকার সেন্ট গ্রেগরীজ হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৪৮ সালে আই.এ এবং ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৯৬৪ সালে তিনি আইনশাস্ত্রে ডিগ্রি লাভ করেন এবং ঢাকায় আইনব্যবসা শুরু করেন।
- ছাত্রজীবন থেকেই তাজউদ্দিন আহমদ সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িত হন।
- তিনি ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্ববাংলা ছাত্রলীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
- তাজউদ্দিন আহমদ ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট প্রার্থী হিসেবে কাপাসিয়া থেকে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৬৪ সালে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে তিনি এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের পর ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং সদ্য স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা-২২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং বঙ্গবন্ধুর ক্যাবিনেটে মন্ত্রীত্ব লাভ করেন।
- কারাগারে বন্দি অবস্থায় ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর অপর তিন জাতীয় নেতার সঙ্গে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪৫.
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কোন বাহিনীর দ্বায়িত্বে ছিলেন?
  1. মুক্তি ফৌজ
  2. গণবাহিনী
  3. রেড আর্মি
  4. আজাদ হিন্দ ফৌজ
ব্যাখ্যা
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু:
- ১৮৯৭ সনের ২৩ জানুয়ারি ভারত উপমহাদেশের অন্যতম বীর সন্তান স্বাধীনতাকামী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু উড়িষ্যার কটক শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- পারিবারিক প্রভাবের কারণে হোক বা তৎকালীন ভারতে বিরাজমান উত্তপ্ত রাজনীতিক আবহাওয়ার কারণেই হোক, সুভাষ বসু কৈশোর থেকেই বিদ্রোহী ভাবাপন্ন ছিলেন।
- তিনি ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান লাভ করার পরও দেশসেবার ও স্বদেশের মুক্তির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সরকারি চাকুরি গ্রহণ করেননি।
- ১৯৩৮ সালে মহাত্না গান্ধীর বিরোধীতার মধ্যেই সুভাষ বসু কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন, গান্ধীর সাথে মতদ্বৈততার কারণে কংগ্রেস ত্যাগ করে অল ইন্ডিয়া ফরোয়ার্ড ব্লক নামে দল গঠন করেন।
- ১৯৪৩ সালে তিনি 'আজাদ হিন্দ' ফৌজের দায়িত্ব নেন এবং আজাদ হিন্দ সরকার গঠন করেন।
- ১৯৪৪ এর মার্চ মাসে তাঁর বাহিনী বার্মা পৌঁছে যায়।
- সুভাষ বসুর লক্ষ্য ছিল সামারিক অভিযানের মাধ্যমে ভারত থেকে ব্রিটিশদের বিতাড়িত করা।
- সুভাষ চন্দ্র বসু ১৯৪৫ সনের ১৮ আগস্ট রহস্যজনক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন বলে সরকারিভাবে জানানো হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬.
‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর গেজেট জারি করা হয় কোন তারিখে?
  1. ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  2. ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  3. ১৫ নভেম্বর, ২০২৫ 
  4. ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

• গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫:
- ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর গেজেট জারি করা হয়।
- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে আয়োজন করা হবে গণভোট। 
- গণভোটে চারটি বিষয়ের ওপর একটি প্রশ্ন উপস্থাপন করা হবে।
- গণভোটের ব্যালট জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট থেকে আলাদা এবং ভিন্ন রঙের হবে।
- এছাড়া, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো গণভোটেও প্রবাসীসহ চার শ্রেণির নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। 

উৎস: প্রথম আলো।

৪৭.
জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের উত্তম ক্ষেত্র কোনটি?
  1. ক) সমাজ
  2. খ) রাজনৈতিক দল
  3. গ) পরিবার ব্যবস্থা
  4. ঘ) নির্বাচন
ব্যাখ্যা
- নির্বাচন অতি পরিচিত একটি প্রত্যয়।
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠান করা অপরিহার্য।
- নির্বাচন হল যেকোন স্তরে প্রতিনিধি বাছাইয়ের সর্বোত্তম পদ্ধতি। 
- নির্বাচনের প্রাণ হল নির্বাচক বা ভোটার।
- সাংবিধানিকভাবে নির্ধারিত নাগরিকগণ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
- বাংলাদেশেও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান।
- নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও তাদের প্রার্থীগণ ইশতেহার ঘোষণা করে। তার প্রেক্ষিতে জনগণ তাদের মতামত প্রকাশ করে।
- ভোটারগণ প্রার্থীর যোগ্যতা ও সক্ষমতা দেখে ভোট প্রদান করে থাকে।
- নির্বাচন অনুষ্ঠান যেকোন সরকারের জন্য একটি বিশাল কর্মকান্ড।
- সাধারণত নির্দিষ্ট মেয়াদ অন্তর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যেমন:  বাংলাদেশে ৫ বছর, আমেরিকায় ৪ বছর পর পর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৮.
মওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালে কোথায় লং মার্চের নেতৃত্ব দেন?
  1. ঢাকায়
  2. কুমিল্লায়
  3. ফারাক্কা অভিমুখে
  4. কলকাতায়
ব্যাখ্যা
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী: 
- জন্ম: ১৮৮০, ধনপাড়া, সিরাজগঞ্জ, ব্রিটিশ ভারত সময়।
- মৃত্যু: ১৭ নভেম্বর ১৯৭৬, সন্তোষ, টাঙ্গাইল, বাংলাদেশ।
- ১৯১৯: অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে আসেন।
- ১৯৩৭: মুসলিম লীগে যোগদান; আসাম শাখার সভাপতি।
- ১৯৪৯: পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
- ১৯৫৭: ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন।
- ১৯৭৬: ফারাক্কা লং মার্চের নেতৃত্ব দেন। 

উল্লেখ্য, 
- “ভাসানী সাহেব” ভাসানচরের কৃষকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত উপাধি।
- মার্কিনপন্থি ও সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে ছিলেন।
- চীনপন্থি পররাষ্ট্রনীতির পক্ষে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৯.
রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী উভয়ই কোন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত?
  1. রাজনৈতিক প্রক্রিয়া
  2. সামাজিক প্রক্রিয়া
  3. অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া
  4. রাষ্ট্র পরিচালনা প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

 • রাজনৈতিক দল এবং চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী: 
- রাজনৈতিক দল এবং চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উভয়েই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত।
- উভয়েই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নির্ধারক। 
- উভয়েই রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে নিজেদের দাবি ও মনোভাব ব্যক্ত করে। 
- রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী উভয়ই স্বার্থের সংহতি সাধনের সাথে জড়িত। 
- উভয়েই রাজনৈতিক নিয়োগ বা রাজনৈতিক ভূমিকায় নাগরিকদের অবতীর্ণ করানোর দায়িত্ব বহন করে। 
- রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারা উভয়ের মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়।
- বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংরক্ষণ বা পরিবর্তন, গণ-সংযোগ সাধন, তথ্য সরবরাহ, জনমত গঠন, সরকারের সমালোচনা ইত্যাদির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কার্যক্রমে সাদৃশ্য দেখা যেতে পারে। 

 তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০.
'কৃষক-শ্রমিক পার্টি' কার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. এ. কে. ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  4. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
কৃষক-শ্রমিক পার্টি:
- কৃষক-শ্রমিক পার্টি আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি সম্বলিত একটি রাজনৈতিক দল।
- দলটি ১৯৩৬ থেকে ১৯৪৩ পর্যন্ত বাংলার রাজনীতিতে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিল।
- ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কৃষক প্রজা পার্টি ছিল নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতির ফসল।
- বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মুসলমান নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে নিখিলবঙ্গ প্রজা সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৯ সালে।
- স্যার আব্দুর রহিম এ সমিতির সভাপতি এবং আরও পাঁচজন সহ-সভাপতি ছিলেন।
- এ.কে ফজলুল হক ছিলেন এ পাঁচজনের মধ্যে প্রথম সহ-সভাপতি।
- ১৯৩০ দশকের মন্দার প্রেক্ষাপটে পূর্ব বঙ্গের প্রায় সকল জেলায় প্রজা সমিতি গঠিত হয়।
- এ. কে. ফজলুল হক পূর্ব বাংলায় তার সমর্থকদের নিয়ে প্রজা সমিতি ত্যাগ করলেন এবং ১৯৩৬ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় কৃষক প্রজা পার্টি প্রতিষ্ঠিত করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে কে.পি.পি-র প্রধান দু প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ।
- কৃষক ভোটাররা ফজলুল হকের প্রতি বিশাল সমর্থন জানায়।
- নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে কেপিপি তৃতীয় স্থান দখল করে।
- কংগ্রেস পায় ৫২টি আসন, মুসলিম লীগ ৩৯টি, কে.পি.পি ৩৬টি এবং অন্যান্য খন্ডিত দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ২৫০ আসনের বাকিগুলি দখল করে।
- এর ফলে কে.পি.পি পূর্ব বঙ্গের একটি দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫১.
বাংলাদেশের একমাত্র কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেছেন?
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমদ
  2. খ) ফখরুদ্দিন আহমেদ
  3. গ) ইয়াজউদ্দিন আহমেদ
  4. ঘ) শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
•শেখ মুজিবুর রহমান:

- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে গঠিত মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- আর তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেছেন।
 
উৎস: - বাংলাপিডিয়া
৫২.
জেলহত্যা দিবস কত তারিখে পালিত হয়?
  1. ক) ২ অক্টোবর
  2. খ) ২ নভেম্বর
  3. গ) ৩ নভেম্বর
  4. ঘ) ৪ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে জাতীয় চার নেতা: সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী- তাজউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী- ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী- এএইচএম কামরুজ্জামানকে রাষ্ট্রের হেফাজতে জেলখানায় হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি রক্ষার্থেই দিনটিকে জেলহত্যা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
৫৩.
National Citizen Party (NCP)-এর বর্তমান আহ্বায়ক কে?
  1. আখতার হোসেন
  2. নাহিদ ইসলাম
  3. নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারি
  4. হাসনাত আব্দুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• National Citizen Party (NCP):
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) হলো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল।
- এটি  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে গঠিত হয়েছে।
- ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
 - নাহিদ ইসলামকে দলটির  আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
- এটি দেশের প্রথম রাজনৈতিক দল, যা সম্পূর্ণভাবে ছাত্র নেতৃত্বের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।
- দলটির সৃষ্টি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের একটি সফল পরিণতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- দলটির নির্বাচনী প্রতীক - শাপলা কলি।

উৎস: NCP ওয়েবসাইট।

৫৪.
রাজনৈতিক দলের সদস্যদের মধ্যে সাধারণত কী ধরনের সম্পর্ক থাকে?
  1. আদর্শ ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক
  2. আদর্শ ও নীতিগত সম্পর্ক
  3. আদর্শ ও পারিবারিক সম্পর্ক
  4. আদর্শ ও জাতিগত সম্পর্ক
ব্যাখ্যা

◉ রাজনৈতিক দলের সদস্যরা একসাথে কাজ করে কারণ তাদের আদর্শ ও লক্ষ্য অভিন্ন।

রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য: 
- রাজনৈতিক দল কিছু সংখ্যক মানুষের একটি রাজনৈতিক সংগঠন।
- রাজনৈতিক দলের সদস্যগণ কম-বেশি একইরূপ আদর্শ ও নীতির দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে একত্রিত হয়।
- রাজনৈতিক দল নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করে।
- জনমতের দিকে লক্ষ্য রেখে রাজনৈতিক দল কর্মসূচি প্রণয়ন ও প্রচার, নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন এবং জয়লাভের চেষ্টা করে।
- রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ দলীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করে থাকে।
- রাজনৈতিক দল দলীয় নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করতে চায়।
- বস্তুত সংগঠন, কর্মসূচি ও ক্ষমতালাভ রাজনৈতিক দলের মূল বৈশিষ্ট্য।

সূত্র: পৌরনীতি, এস এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫৫.
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. শামসুল আলম
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. শামসুল হক
  4. শরিফুল হক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ:

- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম।
- পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালে দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ করা হয়।
- মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং শামসুল হক ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
- ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও শোষণমুক্তি এ চারটি মূলনীতির উপর দলটি পরিচালিত হচ্ছে।
- স্বাধীনতার পর থেকে দেশ পুনর্গঠন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দলটি অনবদ্য অবদান রেখেছে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬.
নিম্নের কোনটি সাংবিধানিক গণভোট ছিল?
  1. ১ম গণভোট
  2. ২য় গণভোট
  3. ৩য় গণভোট
  4. ৪র্থ গনভোট
ব্যাখ্যা
গণভোট (Referendum):
- আক্ষরিক অর্থে গণভোট বলতে জনগণের কাছে উপস্থাপিত করা (refer to the people)-কে বোঝায়।
- আইনসভার দ্বারা প্রণীত আইনকে ভোটের মাধ্যমে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করার জন্য জনসাধারণের কাছে উপস্থাপিত করাকে বলে গণভোট (Referendum)।
- অর্থাৎ গণভোট হল এমন এক উপায় বা পদ্ধতি যার মাধ্যমে কোন একটি আইন চূড়ান্তভাবে গৃহীত হওয়ার আগে জনসাধারণের মতামত নেওয়া হয়।
- সংবিধানে গণভোট (Referendum) সংক্রান্ত কোনো অনুচ্ছেদ নেই।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশেও ১৯৭৭, ১৯৮৫ ও ১৯৯১ সালে মোট ৩ বার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- এর মধ্যে ২ বার অনুষ্ঠিত হয় প্রশাসনিক গণভোট এবং ১ বার অনুষ্ঠিত হয় সাংবিধানিক গণভোট।
- ১৯৯১ সালে সাংবিধানিক গণভোট তথা দেশের ৩য় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

⇒ গণভোটের বিধান নিয়ে রায়ে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান যুক্ত করা হয়েছিল।
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই বিধান বাদ দেওয়া হয়।
- এ ছাড়া জনমত বা জন- আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৮, ৪৮ ও ৫৬ অনুচ্ছেদ অসংশোধনযোগ্য ঘোষণা করা হয়, যা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোবিরোধী এবং অসংগতিপূর্ণ। তাই পঞ্চদশ সংশোধনী আইন, ২০১১-এর ৪৭ ধারার মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাতিল করাকে বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদে যুক্ত করা গণভোটের বিধান পুনরুদ্ধার হলো।

উৎস: i) গণভোট আইন, ১৯৯১।
ii) Surendranath Evening College।
৫৭.
'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. সৈয়দ আমীর আলী
  2. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী
ব্যাখ্যা
সমাজসেবা:
মুসলিম নারীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ, স্বাবলম্বী মনোভাব সৃষ্টি সামাজিক ও রাজনৈতিক টোকার সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বেগম রোকেয়া ১৯১৬ সালে "আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম" বা মুসলিম মহিলা সমিতি নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন।
এ সংস্থার মাধ্যমে তিনি নারী মুক্তি আন্দোলন শুরু করেন।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫৮.
রামমোহন রায়কে 'রাজা' উপাধিতে ভূষিত করেন কে?
  1. সম্রাট হুমায়ুন
  2. রাজা পঞ্চম জর্জ
  3. সম্রাট দ্বিতীয় আকবর
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

রাজা রামমোহন রায়: 
- রাজা রামমোহন রায় ছিলেন উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূত।
- তিনি রাধানগর গ্রামে এক রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সংস্কৃত, বাংলা, হিন্দি, ফারসি ও আরবিতে তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল।
- একেশ্বরবাদ প্রচারে তিনি আত্মীয় সভা গঠন করেন এবং ১৮২২ সালে অ্যাংলো-হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- সম্রাট দ্বিতীয় আকবর তাঁকে “রাজা” উপাধি দেন।
- তিনি সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও কৌলীন্য প্রথার বিরোধিতা করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত হয়।
- পরে তাঁর আন্দোলন থেকে ব্রাহ্ম সমাজ গঠিত হয়, ১৮৪৩ সালে “ব্রাহ্মধর্ম” নামে রূপান্তরিত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৫৯.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নয় কোনটি?
  1. সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
  2. আইন ও সালিশ কেন্দ্র
  3. দুর্নীতি দমন কমিশন
  4. সুশাসনের জন্যে নাগরিক
ব্যাখ্যা
- দুর্নীতি দমন কমিশন চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নয়।

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

- আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ, সুশাসনের জন্যে নাগরিক, এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০.
নিচের কোনটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. সুশাসনের জন্য নাগরিক
  2. আইন ও সালিশ কেন্দ্র
  3. সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সুশাসনের জন্য নাগরিক, এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

• চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো এমন এক গোষ্ঠী যার সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা। এদের কোন বৃহৎ বা জাতীয় লক্ষ্য থাকে না।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা রাজনৈতিক দলের তুলনায় সাধারণত কম হয় এবং অভিন্ন স্বার্থের পরিপ্রেক্ষিতে গোষ্ঠীর সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ থাকে।

উল্লেখ্য, 
- আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), সুশাসনের জন্য নাগরিক, এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
৬১.
বাংলাদেশে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল-
  1. ১৯৭৮ সালে
  2. ১৯৭৭ সালে
  3. ১৯৭৯ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা

• গণভোট, ১৯৭৭:
সামরিক শাসনকে বৈধ করার লক্ষ্যে ৩০ মে, ১৯৭৭ বাংলাদেশে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে ৮৭ শতাংশ ভোটার অংশ এবং জিয়াউর রহমানের পক্ষে ৯৯ শতাংশ ভোট পরে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়।

​• গণভোট ১৯৮৫:
প্রশাসনিক গণভোট ১৯৮৫ সালে ।
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সমর্থন যাচাইয়ের লক্ষ্যে হ্যাঁ-না ভোট।

​• ​তৃতীয় গণভোট
সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়- ১৯৯১ সালে।
সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আইন প্রস্তাব।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২.
প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় কোনটিকে?
  1. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  2. সুশীল সমাজ
  3. বিরোধী দল
  4. সরকারি দল
ব্যাখ্যা

বিকল্প সরকার:
- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধী দলকে।
- উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলও সরকারি দলের ন্যায় গঠন করে- ছায়া মন্ত্রিসভা।
- সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার বা বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।
- বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৩.
শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হকের বক্তৃতায় বিশেষভাবে কোন সম্প্রদায় মুগ্ধ হয়ে তাকে ‘শের-ই-বঙ্গাল’ উপাধি দিয়েছিল?
  1. বাঙ্গালী 
  2. লক্ষ্ণৌবাসী
  3. পাঞ্জাববাসী
  4. পেশাওয়ারাবাসী
ব্যাখ্যা

⇒ শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক:
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন। তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬৪.
নিচের কোনটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য?
  1. দলীয় সংগঠনবিহীন
  2. দলীয় কর্মসূচিবিহীন
  3. নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা রাজনৈতিক দলের তুলনায় সাধারণত কম হয় এবং অভিন্ন স্বার্থের পরিপ্রেক্ষিতে গোষ্ঠীর সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ থাকে।
- সাংগঠনিক দিক থেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী রাজনৈতিক দল অপেক্ষা দুর্বল।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে প্রভাবিত করাই হল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য।

চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
• দলীয় সংগঠনবিহীন,
• দলীয় কর্মসূচিবিহীন,
• নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া,
• সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা,
• সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়,
• সমজাতীয় মনোভাব,
• বেসরকারি সংগঠন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫.
রাজনৈতিক দলের দলীয় কর্মীদের দ্বারা সম্পাদিত কাজ কোনটি?
  1. ভোট গ্রহণ
  2. আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ
  3. প্রার্থী মনোনয়ন
  4. ভোট গণনা
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক দলের নির্বাচনসংক্রান্ত কাজ:
- আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা তথা গণতান্ত্রিক অথবা একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার চেয়ে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় নির্বাচনের গুরুত্ব অধিকতর।
- এ সকল নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি, প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচনে দলীয় কর্মসূচি প্রণয়ন, নির্বাচনি প্রচার ও ভোট সংগ্রহ দলের এবং দলীয় কর্মীদের দ্বারা সম্পাদিত হয়ে থাকে

অন্যদিকে,
- ভোট গণনা, ভোট গ্রহণ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কাজ নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকালীন সকারের সহায়তায় করে থাকে।

• রাজনৈতিক দল:
- রাজনৈতিক দল হচ্ছে একটি দেশের জনগোষ্ঠীর সেই অংশ যারা একটি আদর্শ বা কিছু নীতি বা কর্মসূচির ভিত্তিতে সংগঠিত হয়।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতায় গিয়ে দলের নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা।

• রাজনৈতিক দলের ভূমিকা:
- নেতৃত্ব তৈরি করা। 
- সরকার গঠন করা। 
- জনমত গঠন করা। 
- জনগণকে রাজনৈতিক শিক্ষাদান।
- সরকারের গঠনমূলক বিরোধিতা করা।
- সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস:পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ৯ম -১০ম শ্রেণি।
৬৬.
ভারতীয় উপমহাদেশের সাধারণ জনগণের মাঝে শিক্ষার দ্যুতি ছড়ানোর জন্য কে তাঁর সমুদয় সম্পত্তি ওয়াক্‌ফ করে যান?
  1. হাজী শরীয়তুল্লাহ্
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  4. হাজী মুহম্মদ মুহসীন
ব্যাখ্যা

হাজী মুহম্মদ মুহসীনঃ
- তিনি ১৭৩২ সালে হুগলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষানুরাগী এ দানবীর তার অর্থ দিয়ে বহু বিদ্যাপিঠ স্থাপন করে গেছেন।
- হুগলিতে ‘হুগলি মহসিন কলেজ’ ও ‘চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ’ প্রতিষ্ঠার সময় মহসিনের ওয়াকফকৃত অর্থ ব্যবহৃত হয়।
- ১৭৬৯-৭০ সালের সরকারি দলিল অনুযায়ী তৎকালীন দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন করেন।
- তিনি ‘মহসিন ফান্ড' নামক তহবিল প্রতিষ্ঠা করেন ১৮০৬ সালে।
- বঙ্গের হাতেম তাই নামে খ্যাত মুহসিন তাঁর অগাধ সম্পত্তি জনকল্যাণে দান করে যান।
- ভারতীয় উপমহাদেশের সাধারণ জনগণের মাঝে শিক্ষার দ্যুতি ছড়ানোর জন্য তাঁর সমুদয় সম্পত্তি ওয়াক্‌ফ করে যান।
- ১৮০৬ সালের ২৬ এপ্রিল তাঁর বিশাল সম্পত্তি থেকে ১,৫৬,০০০ টাকা নিয়ে মুহসিন ট্রাষ্ট গঠন করেন।
- মুহসীন জীবিত অবস্থাতেই খুলনা ও যশোর এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য বহু দীঘি, পুকুর ও খাল খনন করেন।
- জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে তাঁর স্মরণীয় দান হচ্ছে হুগলীতে দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন।
- দরিদ্রদের মাঝে বিনামুল্যে ওষুধপত্র বিতরণ, চিকিৎসা প্রদান এবং চিকিৎসার জন্য অর্থ সাহায্য অন্যতম।
- বঙ্গের হাতেম তাই নামে খ্যাত মুহসিন তাঁর অগাধ সম্পত্তি জনকল্যাণে দান করে যান।
- দানশীলতার জন্য তিনি দানবীর খেতাব পেয়েছিলেন। 
- গরীব, দুঃখী, অন্ধ, এতিম, বৃদ্ধ অসহায়দের তিনি উদারভাবে দান করতেন।
- তাঁর দানের ক্ষেত্রে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃষ্টান এমনকি চোর-ডাকাতও ভেদাভেদ ছিলনা।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭.
লর্ড ক্যানিং ভারত উপমহাদেশে কোন ব্যবস্থাটি চালু করেন?
  1. ক) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
  2. খ) দ্বৈত শাসন
  3. গ) সতীদাহ নিবারণ
  4. ঘ) পুলিশ ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা

১৮৬১ সালে ভারতীয় পুলিশ আইন পাসের মাধ্যমে লর্ড ক্যানিং ভারত উপমহাদেশে প্রথম পুলিশ ব্যবস্থা চালু করেন। ১৭৯৩ সালে 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' ব্যবস্থার প্রবর্তক হলেন লর্ড কর্নওয়ালিস। দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত লর্ড ক্লাইভ এবং ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা রহিত ঘোষণা করেন লর্ড বেন্টিঙ্ক।

৬৮.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল কেমন সমালোচনা করে?
  1. আক্রমণাত্মক
  2. গঠনমূলক
  3. স্বাভাবিক
  4. হিংসাত্মক
ব্যাখ্যা
• গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের ভূমিকা :
- গঠনমূলক সমালোচনা: 
- অধিকার বাস্তবায়ন: 
- গণতন্ত্র রক্ষা: 
- বিকল্প নীতি উত্থাপন,
- সমস্যা চিহ্নিত করা: 
- জনমত গঠন
- প্রার্থী মনোনয়ন,
- পারস্পরিক সম্পর্ক
- রাজনৈতিক সংযোগ সাধন;
 - রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ;
- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা;

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯.
নিচের কোনটি দ্বিতীয় সংশোধনীর বিষয়বস্তু?
  1. ক) যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিধান সন্নিবেশন
  2. খ) জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান চালু
  3. গ) বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় সংশোধনী
• সংসদে উত্থাপন: ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩
• উত্থাপনকারী: আইনমন্ত্রী শ্রী মনোরঞ্জন ধর
• সংসদে গৃহীত: ২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩
• রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩

সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধন আইন দ্বারা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ বা বহিরাক্রমণে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন বাধাগ্রস্ত হলে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার বিধান চালু করা হয়। এছাড়াও, নিবর্তনমূলক আটক ও জরুরী অবস্থার সময় মৌলিক অধিকার স্থগিতকরণ সংক্রান্ত বিধানসমূহ সংযোজন করা হয়।

এই সংশোধনী আইনের ফলে -
১. সংবিধানের ২৬, ৬৩, ৭২ ও ১৪২ নং অনুচ্ছেদ সংশোধিত হয়; 
২. ৩৩ অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপিত হয়, এবং 
৩. সংবিধানে একটি নতুন ভাগ, যথা ভাগ ৯ক সংযুক্ত হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে জরুরি অবস্থাকালীন সময়ে নাগরিকদের কতিপয় মৌলিক অধিকার স্থগিত করা হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পৌরনীতি ও সুশাসন বই
৭০.
শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক এর পূর্ণ নাম -
  1. আবুল কালাম ফজলুল হক
  2. আবুল কাশেম ফজলুল হক
  3. আব্দুল কাশেম ফজলুল হক
  4. আব্দুল কালাম ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
আবুল কাশেম ফজলুল হক
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- পূর্ণ নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক।
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এ.কে. ফজলুল হক।
- শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামের সম্ভ্রান্ত কাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৫ সালে তিনি বাংলার মন্ত্রী সভার সদস্য মনোনীত হন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- তিনি কলকাতার মেয়র হোন ১৯৩৫ সালে।
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- সে থেকে তিনি শের-ই-বাংলা নামেই পরিচিত। 
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- বাংলার নয়নমণি শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭১.
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল-
  1. ক) ১৯ দফার
  2. খ) ২১ দফার
  3. গ) ২০ দফার
  4. ঘ) ২২ দফার
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নেতাগণ ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা শহীদদের স্মৃতি অম্লান করে রাখার জন্য শ্রদ্ধাভরে তাদের কর্মসূচীকে ২১ দফায় লিপিবদ্ধ করেন।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচির প্রথম দফা ছিল- 'বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা হবে।'
- এই ২১টি দফার প্রধান রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। 

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭২.
বিকল্প নীতি উত্থাপন করে কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. স্পিকার
  3. বিরোধী দল
  4. শাসক দল
ব্যাখ্যা

বিকল্প নীতি উত্থাপন:
- বিকল্প নীতি উত্থাপন করে বিরোধী দল।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অতি আবশ্যক।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে, তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার আশঙ্কা থাকে।
- বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা।
- এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে।
- এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩.
বঙ্গবন্ধু কত তারিখে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন?
  1. ১৯৭৩ সালের ১০ জানুয়ারি
  2. ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি
  3. ১৯৭৩ সালের ১২ জানুয়ারি
  4. ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
• স্বদেশ প্রত্যাবর্তন:
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।
- আন্তর্জাতিক চাপে বাধ্য হয়ে পাকিস্তানি সরকার ০৮ জানুয়ারি তাকে মুক্ত করে দেয়। তিনি সেখান থেকে বিশেষ বিমানযোগে লন্ডনে চলে যান।
- তারপর লন্ডন থেকে ভারত হয়ে তিনি ১৯৭২ সালের ১০ ই জানুয়ারি আসেন মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে।
- ১০ ই জানুয়ারি ২০২২ সালে বঙ্গবন্ধুর  স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের ৫০ বছর পূর্তি হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো।
৭৪.
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান কে?
  1. ক) নাছিমা বেগম
  2. খ) কাজী রিয়াজুল হক
  3. গ) ড. মিজানুর রহমান খান
  4. ঘ) ইকবাল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান সাবেক সিনিয়র সচিব নাছিমা বেগম। তিনি সংস্থাটির প্রথম মহিলা চেয়ারম্যান। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন একটি স্বায়ত্তশাসিত সরকারি সংস্থা। এটি ২০০৮ সালের ৯ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। (সূত্রঃ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ওয়েবসাইট)
৭৫.
'মুসলিম মহিলা সমিতি' প্রতিষ্ঠা করেন -
  1. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  2. বেগম সুফিয়া কামাল
  3. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  4. শামসুন্নাহার মাহমুদ
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

উল্লেখ্য,
- নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবস পালন করা হয়।

⇒ রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২), Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮), পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪), অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি।
- মতিচূর, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী, সুলতানার স্বপ্ন প্রভৃতি গ্রন্থে রোকেয়ার ঐকান্তিক স্বপ্নই এক অভিনব রূপ পেয়েছে। মতিচূর ২য় খন্ডে আছে ‘সৌরজগৎ’, ‘ডেলিসিয়া হত্যা’ (মেরী করেলী রচিত Murder of Delicia, ১৮৯৬ উপন্যাসের গল্পাংশের অনুবাদ), ‘জ্ঞান-ফল’, ‘নারী-সৃষ্টি’, ‘নার্স নেলী’, ‘মুক্তি-ফল’ প্রভৃতি গল্প ও রূপকথা।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৬.
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘প্রাচ্যের নতুন তারকা' উপাধি দিয়েছে -
  1. ক) নিউইয়র্ক টাইমস
  2. খ) ওয়াশিংটন পোস্ট
  3. গ) খালিজ টাইমস
  4. ঘ) নিউজ উহক
ব্যাখ্যা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা খালিজ টাইমসে  রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি মানবিক আবেদনের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে 'প্রাচ্যের নতুন তারকা' হিসেবে অভিহিত করেছে।

অন্যদিকে,
- লেডি অব ঢাকা- যুক্তরাষ্ট ভিত্তিক  প্রভাবশালী বিজনেস ম্যাগাজিন ‘ফোর্বস’।
- মাদার অব হিউম্যানিটি- ব্রিটিশ মিডিয়া।
- কারিশম্যাটিক লিডার- মিশরের রাষ্টদূত মাহামুদ ইজ্জত।
- বিশ্ব মানবতার বিবেক- কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সন্তোস।
- বিরল মানবতাবাদী নেতা- তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

উৎস: প্রথম আলো।
৭৭.
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের ভূমিকা ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক কেমন ?
  1. পরিপূরক
  2. বিপরীত 
  3. সম্পূরক
  4. কোন সম্পর্ক নেই
ব্যাখ্যা

• গণতন্ত্র ও রাজনৈতিকদলের সম্পর্ক:
-  গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক একে অপরের পরিপূরক।
- গণতন্ত্র ছাড়া যেমন রাজনৈতিক দল টিকতে পারে না। তেমনি রাজনৈতিক দল না থাকলে গণতন্ত্রও সম্ভব নয়।
-  গণতন্ত্র মানে হল রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে সকলের অংশগ্রহণ। স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল।
-  ১৯৭২ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করা হয়। 
-  মূল সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতির একটি হল গণতন্ত্র, যা সংবিধানের ১১ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।
-  স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় - ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ ।
 
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮.
'চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন একটি গোষ্ঠী যার সদস্যগণ 'অংশীদারী মনোভাবের' দ্বারা আবদ্ধ'। উক্তিটি কার?
  1. অ্যালান বল
  2. অ্যালেন পটার
  3. এইচ জিগলার
  4. অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সংজ্ঞা:
⇒ অ্যালেন পটার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তে 'সংগঠিত গোষ্ঠী' (Organized group) শব্দ দু'টি ব্যবহারের পক্ষে। কারণ এ ধারণার মাধ্যমে গোষ্ঠীর সংগঠনের ব্যাপকতাকে আরো যথার্থভাবে অনুধাবন করা সম্ভব।

⇒ অ্যালান বলের মতে, 'চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন একটি গোষ্ঠী যার সদস্যগণ 'অংশীদারী মনোভাবের' দ্বারা আবদ্ধ'।

⇒ এইচ জিগলার এর মতে, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন একটি সংগঠিত ব্যক্তি সমষ্টি যার সদস্যগণ সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগে অংশগ্রহণ করে না। বরং তাদের লক্ষ্য হল সরকারি সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা।

⇒ অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল ও জি পাওয়েল বলেন, 'স্বার্থগোষ্ঠী বলতে আমরা নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ অথবা সুযোগ-সুবিধা দ্বারা সংযুক্ত এমন এক ব্যক্তিসমষ্টিকে বুঝি যারা এরূপ বন্ধন সম্পর্কে সচেতন'।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯.
হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রচলনে কার অবদান রয়েছে?
  1. লর্ড ডালহৌসি ও রাজা রামমোহন রায়
  2. লর্ড চেমসফোর্ড ও রাজা রামমোহন রায়
  3. লর্ড ডালহৌসি ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রচলনে অবদান রয়েছে - লর্ড ডালহৌসি ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

বিধবা বিবাহ:

- হিন্দু বিধবাদের পুনরায় বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে বিধবা বিবাহ বলে।
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে অবাধে বাল্যবিয়ের ব্যাপক প্রচলন ছিল।
- ফলে একদিকে বাল্যবিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছিল; অন্যদিকে সমাজে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছিল বিধবার সংখ্যা।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহের জন্য সমাজসংস্কার আন্দোলন সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
- তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল পান ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই।
- সেদিন তাঁর প্রচেষ্টায় তৎকালীন বড়লাট লর্ড ডালহৌসি ‘দ্য হিন্দু উইডো’স রিম্যারেজ অ্যাক্ট ১৮৫৬’ নামে আইন প্রণয়ন করে হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহকে বৈধ করেন।
- এ আইন করার লক্ষ্য ছিল কিছু হিন্দু বিধবা শিশু, যারা স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার আগেই বিধবা হয়ে যেত; এ আইন পাসের মাধ্যমে হিন্দু বিধবা বিবাহের সব বাধা দূরীভূত হয়।
- সে বছরই ৭ ডিসেম্বর রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উপস্থিতিতে প্রথম বিধবা বিবাহের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
- সে বিয়ের পাত্র ছিলেন শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন।
- বিদ্যাসাগর পরবর্তীকালে তাঁর নিজ ছেলের সঙ্গে এক বিধবা কন্যার বিয়ে দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
⇒ লর্ড ডালহৌসি:
- ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হার্ডিঞ্জের পর মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে লর্ড ডালহৌসী এ উপমহাদেশে আসেন।
- ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাম্রাজ্যবাদী ছিলো লর্ড ডালহৌসি।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ও সহযোগীতায় তিনি ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাশ করেন।

⇒ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- কোলকাতায় সংস্কৃতি কলেজে অধ্যয়নকালে তার অগাধ পান্ডিত্য ও মেধার স্বীকৃতি স্বরুপ শিক্ষক মন্ডলী তাঁকে বিদ্যাসাগর উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাগরের অমরকীর্তি হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রচলন।
- ১৮২৯ সালে প্রণীত সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইনের ফলে হিন্দু বিধবারা সহমরণ থেকে মুক্তি পেলেও বিধবা বিবাহের রীতি না থাকায় বিধবারা মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হয়।
- ১৮৫৫ সালের ৪ঠা অক্টোবর তিনি হিন্দু সমাজের বিভিন্ন স্তরের ৯৮৭ জনের স্বাক্ষরিত একখানা স্মারকলিপি ভারত সরকারের নিকট পেশ করেন।
- ১৮৭০ সালের ১১ই আগষ্ট নিজ পুত্র নারায়নচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের বিয়ের মাধ্যমে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

উৎস: i) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৮০.
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় সম্পৃক্ত ছিলেন -
  1. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  2. মুহম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. নবাব ভিকার-উল মুলক
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
মুসলিম লীগ:
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্ব ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে ঢাকার তৎকালীন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্যে একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন।
- তার প্রস্তাবের ভিত্তিতেই মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল মুলক, সুলতান মুহাম্মদ শাহ আগা খান প্রমুখের উদ্যোগে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। 

উল্লেখ্য,
- নওয়াব আব্দুল লতিফ, স্যার সৈয়দ আহমদ খান, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ছিলেন না। 
- মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
 
৮১.
'The Spirit of Islam' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

সৈয়দ আমীর আলী The Spirit of Islam এবং  A short History of the Saracens নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন।

- ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে হুগলীর এক সম্ভ্রান্ত শিয়া পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ এবং বি.এল ডিগ্রি লাভ করেন।
- লন্ডনের লিঙ্কন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাশ করার পর ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন।
- তিনি ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯০৪ সালে তিনি লন্ডনে চলে যান এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেন।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য নিয়োজিত হন এবং আমৃত্যু সে পদে বহাল থাকেন। 
- ১৯০৮ সালে লন্ডনে মুসলিম লীগের একটি শাখা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যু ঘটে।

তথ্যসুত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, (HSC Programme) উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২.
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক কী ছিল?
  1. নৌকা
  2. বাইসাইকেল
  3. লাঙল
  4. হারিকেন
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন:
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিলো নৌকা।
- নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন এ কে ফজলুল হক।
- মুসলিম লীগের নির্বাচনি প্রতীক ছিলো হারিকেন। নির্বাচনে মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব পাকিস্তানের চারটি বিরোধীদলের সমন্বয়ে ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামের রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়।

যুক্তফ্রন্টের শরীক দলসমূহ হলো:
- আওয়ামী মুসলিম লীগ -নেতৃত্বাধীন ব্যক্তি মওলানা ভাসানী।
- কৃষক শ্রমিক পার্টি -নেতৃত্বাধীন ব্যক্তি শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- নেজামে ইসলাম পার্টি -নেতৃত্বাধীন ব্যক্তি মওলানা আতাহার আলী।
- গণতন্ত্রী দল -নেতৃত্বাধীন ব্যক্তি হাজী দানেশ।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৩.
গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) আইন সর্বশেষ কবে পাশ হয়েছে? [ফেব্রুয়ারি, ২০২৫]
  1. ২০২১ সালে
  2. ২০২২ সালে
  3. ২০২৩ সালে
  4. ২০২৪ সালে
ব্যাখ্যা
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ:
- বাংলাদেশের নির্বাচন বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশে সংবিধানের আওতায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যতগুলো আইন আছে তার মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত মূল আইন হলো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আইন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীতে সংবিধান তৈরির পর নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রথমবারের মতো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ প্রণয়ন করা হয়েছিলো।

⇒ নির্বাচনের মূল ভিত্তি সংবিধান।
- সেই সংবিধানের অধীনেই করা হয়েছিলো গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (রিপ্রেজেন্টেটিভ পিপলস অর্ডার ১৯৭২) , যা এ পর্যন্ত অনেকবার সংস্কার হয়েছে।
- ২০২৩ সালে সর্বশেষ সংসদে পাশ হয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) আইন ২০২৩।
- নির্বাচনের জন্য দেশের মানুষের গণঅধিকার কোনগুলো এবং এ অধিকার রক্ষায় নির্বাচন কমিশন কী করবে সেটিই বলা হয়েছে আরপিওতে।
- “এর ১৪৫টি ধারার মধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত সব বিষয় বর্ণনা করা আছে।
- এর মাধ্যমে বলা আছে যে কীভাবে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে।

উৎস: i) নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট। 
ii) BBC.
৮৪.
১৯৭৬ সালে কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি ফারাক্কা মিছিলের নেতৃত্ব দেন?
  1. মাওলানা ভাসানী
  2. জিয়াউর রহমান
  3. মনি সিং
  4. অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ
ব্যাখ্যা
ফারাক্কা লং মার্চ:
- মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে 'ফারাক্কা লং মার্চ' সংঘটিত করা।
- মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে 'ফারাক্কা লংমার্চ' সংঘটিত হয়েছিল।
- ১৯৭৬ সালের ১৮ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ফেরার পর মাওলানা ভাসানী ঘোষণা দেন ভারত যদি বাংলাদেশকে পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাহলে তিনি লংমার্চ করবেন।
- এজন্য ১৬ মে রাজশাহী শহর থেকে লংমার্চ করার ঘোষণা দেন তিনি।
- কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য ১৯৭৬ সালের ২রা মে মাওলানা ভাসানীকে প্রধান করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট 'ফারাক্কা মিছিল পরিচালনা জাতীয় কমিটি' গঠিত হয়।
- এই লংমার্চের আগে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে একটি চিঠি লিখেন আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।

- সে চিঠিতে মিসেস গান্ধির কাছে লংমার্চের কারণ বর্ণনা করেন ভাসানী।
- লংমার্চের মিছিল রাজশাহী থেকে প্রেমতলী, প্রেমতলী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মনকষা এবং মনকষা থেকে শিবগঞ্জ পর্যন্ত ৬৪ মাইল অতিক্রম করবে।
- মাওলানা ভাসানীর অনুসারীরা তাকে একজন রাজনীতিবিদের চেয়ে 'দার্শনিক' হিসেবেই বেশি বিবেচনা করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৫.
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হককে 'শের-ই-বঙ্গাল' বা 'বাংলার বাঘ' উপাধি দেয় কারা?
  1.  কৃষক-প্রজারা
  2. পাঞ্জাববাসীরা
  3. লাহোরবাসীরা
  4. কলকাতাবাসীরা
ব্যাখ্যা

শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকঃ
- তার পূর্ণ নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক। 
- ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০৬ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্টেটের চাকরি গ্রহণ করেন।
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরের অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- ১৯৩৫-৩৬ সালে প্রথম বাঙালি মুসলমান হিসাবে কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।
- ১৯৩৭ সালে শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন। 
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- তিনি ‘ঋণ সালিশী বোর্ড’ গঠন করেন।
- ১৯৪০ সালে মহাজনী আইন পাসের মাাধ্যমে সুদের হার ও চক্রবৃদ্ধি রহিত করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় ফ্লাউড কমিশন গঠিত হয় এবং এ কমিশনের সুপারিশেই ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন পাস হয়। 
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর-অব-ল উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৫৯ সালে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তাঁকে ‘হিলাল-ই-পাকিস্তান’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজাপুর উপজেলার ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]।

৮৬.
দেশের প্রথম নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কোনটি?
  1. বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
  2. বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল
  3. বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি
  4. লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি
ব্যাখ্যা

- দেশের প্রথম নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল: লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি
- নিবন্ধন নম্বর: ০০১।
- নিবন্ধন তারিখ: ২০/১০/২০০৮.
- প্রতীকের নাম: ছাতা।
- প্রেসিডেন্ট: ডক্টর অলি আহমদ, বীর বিক্রম।
- এটি দেশের প্রথম নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল।

অপরদিকে,
- দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৫৫টি। (আওয়ামীলিগ ছাড়া)
- তবে আওয়ামীলের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে।
- সর্বশেষ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)। [জানয়ারি, ২০২৬]

উৎস: নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।[লিঙ্ক]

৮৭.
২০০৮ সালের পর কতটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল হয়?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৪ টি
  3. গ) ৩ টি
  4. ঘ) ৫ টি
ব্যাখ্যা

 ২০০৮ সালের পর ৩ টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল হয় ।
- নিবন্ধন বাতিল হওয়া দলগুলো হলো: বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল( জে এস ডি) এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি।

উৎস:বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন(ecs.gov.bd)

৮৮.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নয় কোনটি?
  1. সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
  2. মানবাধিকার কমিশন
  3. দুর্নীতি দমন কমিশন
  4. এফবিসিসিআই
ব্যাখ্যা
• দুর্নীতি দমন কমিশন চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নয়।

• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

- আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ, সুশাসনের জন্যে নাগরিক, এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য কোনটি?
  1. রাষ্ট্রীয় স্বার্থ উদ্ধার
  2. সরকারি স্বার্থ উদ্ধার
  3. গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধার
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সামনে বৃহত্তম জাতীয় কল্যাণ সাধনের কোন মহান উদ্দেশ্য থাকে না।
- সংকীর্ণ ও সমজাতীয় বিশেষ গোষ্ঠীগত ।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে উৎপত্তির ভিত্তিতে কোন বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শের অস্তিত্ব পরিলক্ষিত হয় না।
- কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অঙ্গীকার থাকে না।
- এ সমস্ত গোষ্ঠীর অঙ্গীকার থাকে গোষ্ঠীগত স্বার্থ বা কল্যাণের প্রতি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০.
নিচের কোনটি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য?
  1. দলীয় সংগঠনবিহীন
  2. দলীয় কর্মসূচিবিহীন
  3. বেসরকারি সংগঠন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে। 

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
• দলীয় সংগঠনবিহীন,
• দলীয় কর্মসূচিবিহীন,
• নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া,
• সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা,
• সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়,
• সমজাতীয় মনোভাব,
• বেসরকারি সংগঠন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১.
'Stasis' শব্দটি কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) ল্যাটিন 
  2. খ) গ্রীক
  3. গ) ফরাসি 
  4. ঘ) ইংরেজি
ব্যাখ্যা
উৎপত্তি
-  রাজনৈতিক দল নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তা "Stasiology” নামে পরিচিত। ‘Stasis’
শব্দের অর্থ বিরোধীতার মনোভাব। এই শব্দটি গ্রিক থেকে ইংরেজি ভাষায় এসেছে।
 
উৎস:  পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, (এইচএসসি প্রোগ্রাম),উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৯২.
নিচের কোনটি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) দলীয় সংগঠন বিহীন
  2. খ) জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া
  3. গ) সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃৃক্ত নয়
  4. ঘ) জাতীয় সংসদে হ্যাঁ-না ভোটে অংশ নেয়া
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী: (Pressure Group)
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী হল এমন এক দল ব্যক্তির সমষ্টি। যারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যের
ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন থাকে। 
- অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল ও জি পাওয়েল বলেন, “স্বার্থগোষ্ঠী বলতে আমরা নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ অথবা সুযোগ-সুবিধা দ্বারা সংযুক্ত এমন এক ব্যক্তিসমষ্টিকে বুঝি যারা এরূপ বন্ধন সম্পর্কে সচেতন।” 

অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন। তাদের মতে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী চার ভাগে বিভক্ত। এরা হলো:
- স্বতঃস্ফুর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যসমূহঃ

১। দলীয় সংগঠনবিহীন
২। দলীয় কর্মসূচিবিহীন 
৩। নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া
৪। সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা
৫। সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়
৬। সমজাতীয় মনোভাব
৭। বেসরকারি সংগঠন

রেফারেন্স: 
রাষ্ট্রবিজ্ঞান : স্নাতক শ্রেণী।
৯৩.
CPD-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Council for Public Development
  2. Centre for Planning and Development
  3. Committee for Political Discussion
  4. Center for Policy Dialogue
ব্যাখ্যা

CPD:
- CPD-এর পূর্ণরূপ: Center for Policy Dialogue.
- CPD হলো বাংলাদেশের একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা যা সরকারি বিভিন্ন বাণিজ্যিক পদক্ষেপের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে।
- এটি ১৯৯৩ সালে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বর্তমানে এর সদর দপ্তর ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত।
- সিপিডির লক্ষ্য বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য একটি চাহিদা-চালিত এবং জবাবদিহিমূলক উন্নয়ন প্রক্রিয়া গড়ে তোলা, তথ্যবহুল বিতর্ক উদ্দীপিত করা, জ্ঞান তৈরি করা এবং গবেষণা, সংলাপ, প্রচার এবং সমর্থনের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণকে প্রভাবিত করা।

উৎস -  CPD ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।

৯৪.
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কোন্ ধরনের অধিকার?
  1. ব্যাক্তিগত
  2. সামাজিক
  3. রাষ্ট্রীয়
  4. নীতিগত
ব্যাখ্যা

→ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সামাজিক অধিকার।

♦ সামাজিক অধিকার:
- যে সকল অধিকার সভ্য সমাজে বাস করার জন্য প্রয়োজন তাকে সামাজিক অধিকার বলে।
- সামাজিক অধিকারসমূহ নিম্নরূপ :
• জীবনের অধিকার,
• ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার,
• চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার,
• সভা- সমিতির অধিকার,
• চলাফেরার অধিকার,
• চুক্তি সম্পাদনের অধিকার,
• আইনের চোখে সমানাধিকার,
• সম্পত্তির অধিকার,
• ধর্মের অধিকার,
• পরিবার গঠনের অধিকার,
• অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার লাভের অধিকার,
• শিক্ষার অধিকার ইত্যাদি।

♦ উল্লেখ্য:
● ব্যক্তিক অধিকার:
- ব্যক্তি জীবনের পবিত্রতা এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও রক্ষার জন্য ব্যক্তি যে সব অধিকার লাভ তাকে ব্যক্তিক অধিকার বলে।
- ব্যক্তিক অধিকার সমূহ -
• জীবনের নিরাপত্তা লাভ,
• নির্বিঘ্নে জীবন যাপন,
• নিজ ধর্ম নির্ভয়ে পালন,
• নিজের রুচি সংরক্ষণ,
• গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা,
• চিঠি-পত্রের গোপনীয়তা রক্ষা,
• নিজের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ,
• জামিন লাভের অধিকার ব্যক্তিগত অধিকার।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও পৌরনীতি, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়৷

৯৫.
সাংবিধানিকভাবে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কোনটি?
  1. ক) পঞ্চম
  2. খ) সপ্তম
  3. গ) ষষ্ঠ
  4. ঘ) অষ্টম
ব্যাখ্যা

• ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ছিলেন বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ। তবে এটি সাংবিধানিক ভাবে স্বীকৃত ছিলো না।
• ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইন পাস হয়।
• এর ফলে ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ বিচারপতি হাবিবুর রহমান কে প্রধান উপদেষ্টা করে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়।
সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাংবিধানিকভাবে অনুষ্ঠিত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন।

 তথ্যসূত্র:- আইন মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।        

৯৬.
নিচের কোন গ্রন্থে সৈয়দ আমীর আলী ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞান সম্মত ব্যাখ্যা ও ইসলামের অতীত গৌরবের কথা তুলে ধরেছেন?
  1. ক) The Prophet Mohammad (sm)
  2. খ) The Spirit of Islam
  3. গ) A Long Destroy of the Saracens
  4. ঘ) Spirit of Saracens
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আমীর আলী:
- মুসলিম রেনেসাঁসের অগ্রদূত আমীর আলী ছিলেন একজন সুলেখক। 
- তাঁর বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হচ্ছে  ‘The spirit of Islam' এবং  'A Short History of the Saracens'|
- ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন।
-  ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন।
- তিনি ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতায় ‘সেন্ট্রাল মোহামেডান এ্যাসোসিয়েশন’ নামে একটি সমিতি গঠন করে
- ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে তিনি মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
 - সৈয়দ আমীর আলী নারী অধিকারের বিষয়েও সচেতন ছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭.
অখণ্ড স্বাধীন বাংলা গঠনের প্রস্তাবক কে ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী
  3. মাওলানা ভাসানী
  4. সি আর দাশ
ব্যাখ্যা
অখণ্ড স্বাধীন বাংলা:
- ১৯৪৭-পূর্ব যেসব ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকায় ছিলেন মি. সোহরাওয়ার্দী।
- অখণ্ড স্বাধীন বাংলা গঠনের প্রস্তাবক ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৪৭ সালের ২৭ শে এপ্রিল, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তখন বাংলার প্রধানমন্ত্রী।

⇒ ব্রিটিশরা তখন ভারতবর্ষ বিভক্ত করে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি আলাদা রাষ্ট্রের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভাইসরয় হিসাবে ভারতে এসে উপমহাদেশ ভাগ করার পরিকল্পনা পেশ করেন।
- দিল্লীতে এক সংবাদ সম্মেলনে মি. সোহরাওয়ার্দীর প্রস্তাবটি ছিল, অবিভক্ত এবং স্বাধীন বাংলার ধারনা।
- ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে যখন ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি আলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হতে যাচ্ছে তখন তিনি অবিভক্ত বাংলাকে নিয়ে আলাদা একটি রাষ্ট্রের ধারণা তুলে ধরেন।
- বাংলা, আসাম এবং বিহার অঞ্চলের কয়েকটি জেলা নিয়ে বৃহৎ বাংলা নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা ছিল হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর।

উল্লেখ্য,
- অখণ্ড বাংলা গঠনের প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। এর প্রধান কারণ ছিল মুসলিম লীগ এবং কংগ্রেসের দ্বন্দ্ব এবং বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে মতভেদ। মুসলিম লীগের একটি অংশ এবং কংগ্রেস দুই পক্ষই বাংলাকে একটি পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে আপত্তি জানায়। এছাড়া ব্রিটিশ শাসকরা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বের কারণে বাংলার বিভক্তিকে সমর্থন করে।

উৎস: i) বিবিসি।
ii) বাংলাপিডিয়া। 
৯৮.
জাতীয় সংসদে ’পয়েন্ট অব অর্ডার’ বলতে কী বুঝায়?
  1. ক) বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্য
  2. খ) সংসদীয় বৈঠকের কার্যপ্রণালীর বিররণ
  3. গ) বিধি বহির্ভূত বিষয়ের জন্য অনির্ধারিত আলোচনার দাবি জানানো
  4. ঘ) সংসদে সর্বসম্মত ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহন
ব্যাখ্যা
পয়েন্ট অব অর্ডার: (Point of Order)
- পয়েন্ট অব অর্ডার হলো এক প্রকার আপত্তি।
- জাতীয় সংসদে অধিবেশন চলাকালীন নিয়ম বহির্ভূত কোনো কিছু হলে এর জন্য অনির্ধারিত আলোচনার দাবি জানানোকে Point of Order বলে।
- সংসদের কার্যক্রম চলাকালে কোনো সদস্য যদি মনে করেন যে, প্রথাগত বিধিমালার ভুল প্রয়োগ ঘটেছে বা পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে তাহলে কোনো সদস্য তত্ক্ষণাত্ সে ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন । এই দৃষ্টি আকর্ষণটাই পয়েন্ট অব অর্ডার ।

অন্যদিকে,
- সংসদের প্রত্যেক বৈঠকের কার্যপ্রণালীর সংক্ষিপ্ত বিবরনকে বুলেটিন বলে।

 ‍সূত্রঃ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়। 
 
৯৯.
সংসদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. স্পীকার
  4. চীফ হুইপ
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ:
- স্পীকার সংসদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
- জাতীয় সংসদের বৈঠকে স্পীকার সভাপতিত্ব করেন।
- সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকে সংসদ-সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পীকার ও একজন ডেপুটি স্পীকার নির্বাচন করা হয়।  
- স্পীকারের প্রধান দায়িত্ব সংসদে নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং এর  মর্যাদা সংরক্ষণ করা।
- স্পীকারকে নিরপেক্ষ হতে হয় এবং সংসদে সংখ্যালঘিষ্ঠ দলের সদস্যদের অধিকার সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করতে হয়।
- সংসদের অধিবেশন চলাকালে স্পীকারের সিদ্ধান্ত ও রুলিং অবশ্য পালনীয়।
- সংসদে শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে স্পীকার যেকোন সদস্যকে বহিষ্কার করতে পারেন।
- স্পীকার সংসদের কার্যপ্রণালী নিয়ন্ত্রণ করেন।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতি বা তাঁর অসামর্থ্যের ক্ষেত্রে স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১০০.
বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম তফসিলে কোন বিষয়টি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে?
  1. ক) স্বাধীনতার ঘোষণা
  2. খ) ৭ই মার্চের ভাষণ
  3. গ) স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র
  4. ঘ) ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
ব্যাখ্যা
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে নতুন ৩টি তফসিল সংযোজন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারে জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম তফসিলে সংযোজন করা হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।

প্রথম তফসিল
অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।

দ্বিতীয় তফসিল
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।

তৃতীয় তফসিল
শপথ ও ঘোষণা।

চতুর্থ তফসিল
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।

পঞ্চম তফসিল
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।

ষষ্ঠ তফসিল
স্বাধীনতার ঘোষণা।

সপ্তম তফসিল
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।