বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১)

মোট প্রশ্ন২,৫৩৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১)

PrepBank · পাতা ২১ / ২৬ · ২,০০১২,১০০ / ২,৫৩৩

২,০০১.
'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালনা করে -
  1. বিমান বাহিনী
  2. মিত্র বাহিনী
  3. নৌবাহিনী
  4. গেরিলা
সঠিক উত্তর:
নৌবাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌবাহিনী
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট মতান্তরে ১৬ই আগস্ট ১৯৭১ সালে। [অপশনে ১৫ আগস্ট থাকলে ১৫ আগস্ট দাগাতে হবে। অপশনে ১৫ আগস্ট না থাকলে  সেই ক্ষেত্রে ১৬ আগস্ট দাগাতে হবে।]
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।
- ১৯৭১ সালের অগাস্টের ১৫ তারিখ রাতে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এর পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল সেই বছরের মে মাসে।
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের কমান্ডার।
- অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।
২,০০২.
“পোড়ামাটির নীতি” কোন বাহিনীর জন্য প্রযোজ্য ছিল?
  1. ক) পাকিস্তান সেনাবাহিনী
  2. খ) পাকিস্তান বিমান বাহিনী
  3. গ) পাকিস্তান নৌ বাহিনী
  4. ঘ) পাক-ভারত বাহিনী
সঠিক উত্তর:
ক) পাকিস্তান সেনাবাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পাকিস্তান সেনাবাহিনী
ব্যাখ্যা

“পোড়ামাটির নীতি” পাকিস্তান বাহিনীর জন্য প্রযোজ্য ছিল।

- স্কর্চড আর্থ বা পোড়ামাটি নীতি এমন একটি সামরিক কৌশল যা দ্বারা সেনারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের সামরিক বেসামরিক নির্বিশেষে সবাইকে হত্যার পাশাপাশি সবকিছু পুড়িয়ে দেয়। শত্রুর পক্ষে ব্যবহার করা সম্ভব—এমন স্থাপনা ও অবকাঠামো পুড়িয়ে দেয়। 

- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান হানাদার বাহিনীও পোড়া মাটি নীতি গ্রহণ করেছিল । -পাকিস্তানের তৎকালীন জেনারেল টিক্কা খান বলেছিলেন '' পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ চাই না, মাটি চাই।''

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ষষ্ঠ শ্রেণি।

২,০০৩.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন 'অপারেশন জ্যাকপট' কীসের সাংকেতিক নাম?
  1. নৌ কমান্ডোদের অভিযান
  2. বিমান বাহিনীর অভিযান
  3. গেরিলা বাহিনীর অভিযান
  4. সীমান্ত যুদ্ধ অভিযান
সঠিক উত্তর:
নৌ কমান্ডোদের অভিযান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌ কমান্ডোদের অভিযান
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন 'অপারেশন জ্যাকপট' হলো নৌ কমান্ডোদের অভিযানের সাংকেতিক নাম।

• অপারেশন জ্যাকপট:
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট পরিচালিত নৌ-কমান্ডো বাহিনীর প্রথম অভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে পরিচিত।
- অপারেশন জ্যাকপট ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি নৌ-কমান্ডোরা বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে অত্যন্ত অল্প সময়ে যুদ্ধের গতি সম্পর্কে বিশ্বকে ধারণা দিতে সক্ষম হয়।
- এদিন রাতে নৌ-কমান্ডোরা একযোগে মংলা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ বন্দর আক্রমণ করে এবং পাকিস্তান বাহিনীর ২৬ টি পণ্য ও সমরাস্ত্রবাহী জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দেয়।
- মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাঞ্চলকে যে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এর মধ্যে ১০নং সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ-কমান্ডো।
- মূলত সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা, নদী ও সমুদ্র বন্দরসহ বাংলাদেশের সমগ্র জলপথ নিয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,০০৪.
মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) তাজউদ্দীন আহমদ
  4. ঘ) এম. মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) এম. মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এম. মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। উপ রাষ্ট্রপতি ছিলেন - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছিলেন - তাজউদ্দিন আহমেদ।
স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রী ছিলেন - এএইচএম কামরুজ্জামান।
অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন - ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী।
পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন - খন্দকার মোশতাক আহমদ।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি
২,০০৫.
মুক্তিবাহিনীর 'এস' ফোর্স-এর দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. কর্নেল কে. এম সফিউল্লাহ
  2. কর্নেল খালেদ মোশাররফ
  3. কর্নেল জিয়াউর রহমান
  4. আবু ওসমান চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
কর্নেল কে. এম সফিউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নেল কে. এম সফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী:
- যে জনযুদ্ধ এনেছে বাংলাদেশের পতাকা, সেই জনযুদ্ধের দাবিদার এদেশের সাত কোটি বাঙালি।
- এই সশস্ত্র যুদ্ধ একটি নির্বাচিত সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
- পরিকল্পিত এই যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল ১৯৭১ বাংলাদেশ সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ৪টি যুদ্ধঅঞ্চলে বিভক্ত করেন।
- এই ৪টি অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলেন:
ক) চট্টগ্রাম অঞ্চল: মেজর জিয়াউর রহমান,
খ) কুমিল্লা অঞ্চল: মেজর খালেদ মোশাররফ,
গ) সিলেট অঞ্চল: মেজর কে এম সফিউল্লাহ,
ঘ) দক্ষিণ পশ্চিম: অঞ্চল মেজর আবু ওসমান চৌধুরী।

উল্লেখ্য,
- পরবর্তীতে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলকে বিভক্ত করে রাজশাহী অঞ্চলে মেজর নাজমুল হক,
- দিনাজপুর অঞ্চলে মেজর নওয়াজেস উদ্দিন এবং,
- খুলনা অঞ্চলে মেজর জলিলকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
- ৭ই জুলাই ১৯৭১ যুদ্ধের কৌশলগত কারণে সরকার নিয়মিত পদাতিক ব্রিগেড গঠনের পরিকল্পনায় 'জেড ফোর্স' ব্রিগেড গঠন করেন।
- এই জেড ফোর্সের অধিনায়ক হলেন লেঃ কর্নেল জিয়াউর রহমান।
- একই ভাবে সেপ্টেম্বর মাসে 'এস ফোর্স' এবং ১৪ই অক্টোবর 'কে ফোর্স' গঠন করা হয়।
- কে ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল খালেদ মোশাররফ।
- এস ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল কে. এম. সফিউল্লাহ।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
২,০০৬.
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা কতজন?
  1. ২ জন
  2. ৩ জন
  3. ৪ জন
  4. ৫ জন
সঠিক উত্তর:
২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান:
- ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নিয়েছেন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রকৃত অর্থেই ছিল জনযুদ্ধ।
- নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বাত্মক এই যুদ্ধে শামিল হয়েছিল সমানভাবে।
- মোট গেজেটভুক্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২০৩ জন।
- বর্তমানে মোট বীরাঙ্গনা নারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪৪৮ জন।
- এদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২ জন।
- ২ জন নারী বীর প্রতীক: ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং তারামন বিবি।

উৎস: বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ওয়েবসাইট।
২,০০৭.
‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এ কোন সঙ্গীতজ্ঞ অংশগ্রহণ করেন নি?
  1. জন লেনন
  2. বব ডিলান
  3. পণ্ডিত রবিশঙ্কর
  4. ওস্তাদ আল্লা রাখা খান
সঠিক উত্তর:
জন লেনন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন লেনন
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ
- মুক্তিযুদ্ধের সময়, ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট, নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজন করা হয় বিশ্বের প্রথম সেবামূলক কনসার্ট ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। 
- মুক্তিযুদ্ধে আমেরিকার অবস্থান বাংলাদেশের পক্ষে ছিলো না। কিন্তু এই কনসার্ট আয়োজন আমেরিকান নাগরিকদের ভেতর বাংলাদেশ সম্পর্কে সহানুভূতি সৃষ্টি করে। 
- “কনসার্ট ফর বাংলাদেশ” এর মহানায়ক হলেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর। তিনিই ভেবেছেন, তিনিই সমস্ত চিন্তা করেছেন এবং তিনি তাঁর বন্ধু জর্জ হ্যারিসনকে উদ্বুদ্ধ করে আয়োজন করেছেন। 
-  রবিশঙ্কর, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, লিওন রাসেল, রিঙ্গো স্টার, আলী আকবর খাঁ, আল্লাহ রাখা-র মতো সঙ্গীতজ্ঞরা ছিলেন। 
- সেতারবাদক রবিশঙ্কর ও বিখ্যাত সরোদবাদক ওস্তাদ আলি আকবর খান যন্ত্রসঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করেন। তাদের সাথে তবলায় ছিলেন ওস্তাদ আল্লা রাখা খান। 
- জর্জ হ্যারিসনের সেই অবিস্মরণীয় বাংলাদেশ গান দিয়েই সমাপ্তি টানা হয়েছিলো এই কনসার্টের।
- কনসার্টের টিকেট বিক্রি থেকে প্রায় আড়াই লাখ ডলার উঠে এসেছিলো। এই টাকার পুরোটাই শরণার্থী শিশুদের জন্য ইউনিসেফের মাধ্যমে তুলে দেন মুজিবনগর সরকারের হাতে। 

তথ্য - দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস।
২,০০৮.
বীর বিক্রম খেতাব ধারী কতজন?
  1. ১৭৯
  2. ৪২৪
  3. ২৭৪
  4. ১৭৪
সঠিক উত্তর:
১৭৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৪
ব্যাখ্যা
বীরত্বসূচক খেতাব:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সভায় বীরত্বসূচক খেতাবের নামকরণ হয়:
- সর্বোচ্চ পদমর্যাদার খেতাব - বীরশ্রেষ্ঠ।
- উচ্চ পদমর্যাদার খেতাব - বীর উত্তম।
- প্রশংসনীয় পদমর্যাদার খেতাব - বীর বিক্রম
- বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্রের খেতাব - বীর প্রতীক।
- ১৯৭২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ৪৩ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বীরত্বসূচক খেতাবের জন্য নির্বাচন করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৬ মার্চ পূর্বের ৪৩ জনসহ মোট ৫৪৬ জন মুক্তিযোদ্ধা খেতাবের জন্য নির্বাচিত হন।
- স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ইউনিট, সেক্টর, ব্রিগেড থেকে পাওয়া খেতাবের জন্য সুপারিশসমূহ এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারের নেতৃত্বে্ একটি কমিটি দ্বারা নিরীক্ষা করা হয়।
- এরপর ১৯৭৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খেতাব তালিকায় স্বাক্ষর করেন।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:

বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন।
বীর উত্তম - ৬৮ জন।
বীর বিক্রম - ১৭৫ জন।
বীর প্রতীক - ৪২৬ জন।
- ১৯৯২ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতীয়ভাবে বীরত্বসূচক খেতাব প্রাপ্তদের পদক ও রিবন প্রদান করা হয়।
- ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধুর ৪ খুনির খেতাব বাতিল করা হয়।
- যাঁদের খেতাব বাতিল হয়েছে তাঁরা হলেন লেফট্যানেন্ট কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫), লেফট্যানেন্ট কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০), লেফট্যানেন্ট এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।
ফলে, বর্তমানে বীর বিক্রম ১৭৪ জন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। প্রথম আলো। [লিঙ্ক]
২,০০৯.
মুক্তিযুদ্ধে গঠিত উপদেষ্টা পরিষদের অন্তর্ভুক্ত বাম রাজনৈতিক দল কোনটি?
  1. ন্যাপ-ভাসানী
  2. বাংলাদেশ ন্যাশনাল কংগ্রেস
  3. বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন সংগঠনের ভূমিকা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ লক্ষ করা যায়।
- বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর বড় অংশ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকলেও পিকিং পন্থী হিসেবে পরিচিত একটি অংশ বিরোধিতা করে।
- পাকিস্তানের আদর্শে বিশ্বাসী ইসলমপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে।
- এই দলগুলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক বাঙালিদের অত্যাচার, নির্যাতন ও গণহত্যায় সহযোগিতা করে।

উল্লেখ্য, 
- ১৯৭১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে সমমনা বাম রাজনৈতিক দলসমূহ নিয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়।
- উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী (ন্যাপ-ভাসানী), মণি সিংহ (বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি), মনোরঞ্জন ধর (বাংলাদেশ ন্যাশনাল কংগ্রেস), অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ (ন্যাপ-মুজাফফর)।
- আওয়ামীলীগ থেকে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ, অর্থমন্ত্রী মনসুর আলী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম কামারুজ্জামান।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০১০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রিগেড আকারে কয়টি ফোর্স গঠিত হয়েছিল?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
• জেড ফোর্স,
• কে ফোর্স,
• এস ফোর্স।

⇒ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

⇒ কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

⇒ খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০১১.
বাংলাদেশের (মুজিবনগর সরকারের) প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) জনাব তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. খ) জনাব এম মনসুর আলী
  3. গ) জনাব সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) কোনটিই নয়।
সঠিক উত্তর:
ক) জনাব তাজউদ্দীন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জনাব তাজউদ্দীন আহমেদ
ব্যাখ্যা
-  মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।

মুজিবনগর সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় : তাজউদ্দীন আহমদ।
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী : এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ-পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রী : এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০১২.
১৯৭১ সালের জর্জ হ্যারিসন আয়োজিত কনসার্টের নাম কী ছিল?
  1. কনসার্ট ফর বাংলাদেশ
  2. স্বাধীন বাংলা কনসার্ট
  3. ইস্ট ব্যাঙ্গল কনসার্ট
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন।
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী জর্জ হ্যারিসন 'বাংলাদেশ কনসার্ট' আয়োজন করে তা থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম"।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিশ্বখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর।
- বাংলাদেশের জনগণের সাহায্যার্থে কিছু করার জন্য তিনি প্রথম যোগাযোগ করেন জনপ্রিয় বিটলসের অন্যতম সদস্য জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, অষ্টম শ্রেণী।
ii) BBC।
২,০১৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্রগ্রাম কত নম্বর সেক্টরের আওতায় ছিল?
  1. ক) ১ নং
  2. খ) ২ নং
  3. গ) ৭ নং
  4. ঘ) ৮ নং
সঠিক উত্তর:
ক) ১ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১ নং
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
-১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না

- চট্টগ্রাম-১নং সেক্টর
- ঢাকা-২ নং সেক্টর
- রাজশাহী-৭ নং সেক্টর
- মুজিব নগর -৮ নং সেক্টর
- বরিশাল - ৯ নং সেক্টর
- নৌ-বাহিনী - ১০ নং (সেক্টর সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)

সূত্র: ঢাকা বিভাগের ওয়েবসাইট।
২,০১৪.
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয় -
  1. ৪ নভেম্বর
  2. ১৪ নভেম্বর
  3. ৪ ডিসেম্বর
  4. ১৪ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৪ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
বুদ্ধিজীবী হত্যা:

- যৌথ বাহিনীর ঢাকার উপকণ্ঠে আগমণ ও ভারতীয় বিমান বাহিনীর ঢাকা আক্রমণের প্রেক্ষাপটে ১৪ ডিসেম্বর গভর্ণর মালিকের নেতৃত্বাধীন সরকার পদত্যাগ করে।
- এ সময় পাকিস্তান বাহিনী তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আল শামস এর সহযোগিতায় ব্যাপক গণহত্যা চালায়।
- যুদ্ধের শুরু থেকেই পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশের খ্যাতিমান শিক্ষক, চিকিৎসক ও সাংবাদিকসহ অনেক বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়।
- ১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পিতভাবে আলবদর বাহিনী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।
- বাংলাদেশের ইতিহাস এ ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।
- হত্যাকাণ্ডের শিকার বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০১৫.
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. ভোলা
  2. নড়াইল
  3. ঝিনাইদহ
  4. নোয়াখালী
সঠিক উত্তর:
নোয়াখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
• বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের জন্মস্থান - সোনাইমুড়ি, নোয়াখালী।

• মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদ বীরশ্রেষ্ঠ গণের জন্মস্থান-

- বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান - আগা সাদেক রোড, ডাকা। পৈতৃক নিবাস: নরসিংদী
- বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল- দৌলতখান, ভোলা।
- বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর- বাবুগঞ্জ, বরিশাল।
- বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ সিপাহী হামিদুর রহমান- মহেশপুর, ঝিনাইদহ।
- বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ- নড়াইল।
- বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ- মধুখালী, ফরিদপুর।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,০১৬.
মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ও অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ডকে কোন সম্মাননায় ভূষিত করে?
  1. বীরশ্রেষ্ঠ
  2. বীরউত্তম
  3. বীরবিক্রম
  4. বীরপ্রতীক
সঠিক উত্তর:
বীরপ্রতীক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরপ্রতীক
ব্যাখ্যা
উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ড:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক উইলিয়াম আব্রাহাম সাইমন ওডারল্যান্ড বাংলাদেশে ছিলেন।
- তিনি বাটা সু কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।
- মেজর হায়দারের দেওয়া এক সনদপত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়, ওডারল্যান্ড মুক্তিযুদ্ধে যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, নগদ অর্থ, চিকিৎসা সামগ্রী, গরম কাপড় ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছেন।
- মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ও অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ডকে 'বীরপ্রতীক' সম্মাননায় ভূষিত করে
- উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ডই একমাত্র বিদেশি যিনি এ স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরপ্রতীক পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় তার নাম ২ নম্বর সেক্টরের যোদ্ধাদের তালিকায় ৩১৭ নম্বর।
- ১৯৯৮ সালের ৭ মার্চ খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে ওডারল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
- কিন্তু অসুস্থ থাকায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি।
- বীরপ্রতীক পদকের সম্মানীর টাকা তিনি দান করে গেছেন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে।

উৎস: The Daily Star বাংলা (ডিসেম্বর ২০, ২০২২)
২,০১৭.
How many brigade forces were formed during the Liberation War of Bangladesh?
  1. 5
  2. 4
  3. 3
  4. 2
সঠিক উত্তর:
3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
3
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধের ব্রিগেড ফোর্স গঠন:
-  ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক, বেসামরিক জনগণকে নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
 - ১০ই এপ্রিল সরকার ৪টি সামরিক জোনে বাংলাদেশকে ভাগ করে ৪ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করে। ১১ই এপ্রিল তা পুনর্গঠিত করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- মে ও জুন মাসে তিনটি ব্রিগেড গঠিত হয়।
- ফোর্সের নামকরণ করা হয় অধিনায়কদের নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে।
- জেড ফোর্স: লেঃ কর্ণেল জিয়াউর রহমান।
- এস ফোর্স: লেঃ কর্ণেল কে. এম সফিউল্লাহ।
- কে ফোর্স:  লেঃ কর্ণেল খালেদ মোশাররফ।

তথ্যসূত্র:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০১৮.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের প্রথম বিদেশি মিশন কোথায় স্থাপন করা হয়?
  1. কলকাতা
  2. ওয়াশিংটন
  3. লন্ডন
  4. নিউইয়র্ক
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
ব্যাখ্যা

প্রবাসে বাঙালিদের ভূমিকা ও কূটনৈতিক তৎপরতা:
- বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন আদায়ের জন্য মুজিবনগর সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত নিয়োগ করে।
- বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর প্রচেষ্টায় জাতিসংঘে ৪৭টি দেশের প্রতিনিধি বাংলাদেশ সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে।
- এতে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকেই বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) দিল্লি ও কলকাতায় বাংলাদেশের দুটি মিশন স্থাপন করে।
- কলকাতাতেই প্রথম বাংলাদেশ মিশন স্থাপিত হয়।
- এছাড়া বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক এবং লন্ডনেও বাংলাদেশ মিশন স্থাপন করে।
- এসব মিশন বাংলাদেশের পক্ষে মিছিল, সমাবেশ, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, পার্লামেন্ট সদস্যদের সমর্থন আদায় ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

২,০১৯.
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের পদবী কী ছিল?
  1. লেফটেন্যান্ট
  2. ল্যান্স নায়েক
  3. স্কোয়াড্রন ইঞ্জিনিয়ার
  4. ক্যাপ্টেন
সঠিক উত্তর:
স্কোয়াড্রন ইঞ্জিনিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্কোয়াড্রন ইঞ্জিনিয়ার
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের পদবী ছিল স্কোয়াড্রন ইঞ্জিনিয়ার।

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন:

- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয়, রুহুল আমিন তাদের অন্যতম।
- তাঁর পদবী ছিল স্কোয়াড্রন ইঞ্জিনিয়ার।

⇒ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের জন্ম ১৯৩৫ সালে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার বাঘচাপড়া গ্রামে।
- ১৯৫৩ সালে তিনি নৌ বাহিনীতে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এপ্রিল মাসে তিনি ২নং সেক্টরে যোগদান করেন।
- পরবর্তীতে ১০নং নৌ সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে রূপসা নদীতে খুলনা শীপইয়ার্ডের কাছে সম্মুখ যুদ্ধে বাংলাদেশের যুদ্ধজাহাজ পলাশকে রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর নিক্ষিপ্ত গোলায় এ বীর সন্তান শহিদ হন।
- সমাধিস্থল: রূপসা ফেরিঘাটের লুকপুরে।
- নোয়াখালীতে তাঁর জন্মস্থানে বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ রুহুল আমিন স্মৃতি পাঠাগার ও জাদুঘর রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ভারত সরকার বাংলাদেশ নৌ বাহিনীকে দুইটি টাগবোট উপহার দেয়।
- এগুলোকে পরে গানবোটে রূপান্তরিত করা হয়।
- গানবোট দুটির নামকরণ করা হয় 'পদ্মা' ও 'পলাশ'।
- রুহুল আমিন নিয়োগ পান 'পলাশের' ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশার হিসেবে।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
২,০২০.
মুক্তিযুদ্ধকালে তাজউদ্দিন-ইন্দিরা গান্ধী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় –
  1. ক) ১৮-১৯ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ২৩-২৫ মে, ১৯৭১
  3. গ) ৪-৫ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ঘ) ১-৩ মে, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
গ) ৪-৫ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪-৫ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
তাজউদ্দিন-ইন্দিরা গান্ধী বৈঠক

৪ ও ৫ এপ্রিল, ১৯৭১ দিল্লিতে তাজউদ্দিন-ইন্দিরা গান্ধী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সাত দফা প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবগুলো হচ্ছে-

১. স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারকে ভারতে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া।
২. বাংলাদেশ সরকার পরিচালনায় সহায়তা করা।
৩. মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রের ব্যবস্থা করা।
৪. আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় করা।
৫. শরণার্থীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা।
৬. বাংলাদেশ সরকারকে একটি বিমান দেওয়া।
৭. বেতারকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০২১.
নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. মুজিব বাহিনী
  2. ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট
  3. মুজিব ব্যাটারি
  4. ক্র্যাক প্লাটুন
সঠিক উত্তর:
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ও বাহিনীসমূহ
- মুজিবনগর সরকার পরিকল্পিত উপায়ে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য সামরিক ও বেসামরিক সকল জনগণকে নিয়ে ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুক্তিবাহিনী গঠন করে।
- মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। নিয়মিত ও অনিয়মিত বাহিনী।

- অনিয়মিত বাহিনী গণবাহিনী বা গেরিলাবাহিনী নামে পরিচিত ছিল।
- ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর বিভিন্ন সেক্টরে গণবাহিনীতে নিয়োগ করা হতো।
- গণবাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শত্রুর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পাঠানো হয়।
- ক্র্যাক প্লাটুন, মুজিব বাহিনী, মুজিব ব্যাটারি, কাদেরিয়া বাহিনী ইত্যাদি অনিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত।

- নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সৈন্যরা।
- এই বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্রবাহিনীর প্রথাগত যুদ্ধে নিয়োজিত ছিলেন।
- নিয়মিত বাহিনীর সংগঠনিক নাম ছিল মুক্তিফৌজ।

উল্লেখ্য,
- মুজিবনগর সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে প্রথমে ৪ টি যুদ্ধাঞ্চলে ভাগ করে। পরে আরো ৩টি ভাগ করা হয়। ফলে মোট যুদ্ধাঞ্চল ছিল ৭টি।
- S ফোর্স, K ফোর্স ও Z ফোর্স নামে তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
-এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সমগ্র বাংলাদেশ ১১ টি সেক্টর ছিল , যেখানে মোট ১৬ জন সেক্টর-কমান্ডার ছিলেন।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র, দশম খন্ড।
২,০২২.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ক) আট
  2. খ) দশ
  3. গ) এগার
  4. ঘ) পনের
সঠিক উত্তর:
গ) এগার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এগার
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়।
- এ সরকার প্রথমে ১০ এপ্রিল সমগ্র দেশকে ৪ টি সেক্টরে ভাগ করে। ১১ এপ্রিল তা পুর্নগঠন করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন এবং ১১ টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না। এটি ছিলো নৌ সেক্টর।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,০২৩.
নিম্নের নামগুলির মধ্যে মৃক্তিযুদ্ধে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা কে?
  1. ক) সেতারা বেগম
  2. খ) জাহানারা বেগম
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহিম
  4. ঘ) বেগম সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
ক) সেতারা বেগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সেতারা বেগম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য যে দুই নারী ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব পেয়েছেন তাঁদের একজন ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা রহমান৷ অন্যজন তারামন বিবি৷
Source: dw.com
২,০২৪.
মুজিবনগর সরকারের কত সদস্য বিশিষ্ট্য উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছিল?
  1. ৫ জন
  2. ৬ জন
  3. ৭ জন
  4. ৮ জন
সঠিক উত্তর:
৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ জন
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন:
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
• অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
• মনি সিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
• মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০২৫.
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পদবি কি ছিল? 
  1. সিপাহী
  2. ল্যান্স নায়েক
  3. হাবিলদার
  4. ক্যাপ্টেন
সঠিক উত্তর:
সিপাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপাহী
ব্যাখ্যা
• বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পদবি ছিল- সিপাহী।

- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয় তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম।

• বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান: 
- তিনি সর্বকনিষ্ঠ শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ।
- তিনি ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলার খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। 
- তিনি ৪নং সেক্টরের অধীনে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। 
- তার সমাধি রয়েছে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থা্নে।

উল্লেখ্য যে, 
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের পদবী ছিল- সিপাহী।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।
২,০২৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'আফসার ব্যাটালিয়ন' কোন অঞ্চলে যুদ্ধ করে?
  1. বরিশাল
  2. ময়মনসিংহ
  3. মাগুরা
  4. পাবনা
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী:

- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
২,০২৭.
‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন কে?
  1. ক) শাহজাহান সিরাজ
  2. খ) আবদুল মান্নান
  3. গ) অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলী
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গ) অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। এই অনুষ্ঠানে অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
এর আগে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ১৮ এপ্রিল এই সরকারের সদস্যদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
২,০২৮.
২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা বাণী কার নিকট প্রেরণ করা হয়?
  1. ক) এম. এ রব
  2. খ) এম.এ জি ওসমানী
  3. গ) এম. এ হান্নান
  4. ঘ) তাজউদ্দিন আহমদ
সঠিক উত্তর:
গ) এম. এ হান্নান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এম. এ হান্নান
ব্যাখ্যা
২৬ মার্চ (১৯৭১) প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চট্টগ্রামস্থ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব এম.এ. হান্নানের নিকট বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা বাণী প্রেরণ করেন। [সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা]
২,০২৯.
মুজিবনগর সরকারের অধীনে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ছিল কতটি?
  1. ৫টি
  2. ১০টি
  3. ১৫টি
  4. ১২টি
সঠিক উত্তর:
১২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২টি
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার: 
• ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল ঘোষিত হয় 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার আদেশ'।    
• সেদিনই আগরতলায় 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আদেশ' অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার' গঠিত হয়। 
• এই সরকারই 'বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার' বা 'মুজিবনগর সরকার' নামে পরিচিত। 

• কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলার এক আম বাগানে এই সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
• ঐদিন 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র' পাঠ করেন অধ্যাপক মোঃ ইউসুফ আলী। 
• মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মোঃ ইউসুফ আলী ও আব্দুল মান্নান। 
• এই সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছিল। 

সরকার কাঠামো:  
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: মহামান্য রাষ্ট্রপতি;  
• সৈয়দ নজরুল ইসলাম: উপ-রাষ্ট্রপতি (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়);
• তাজউদ্দীন আহমদ: প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা, তথ্য ও বেতার, শিক্ষা, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ, শ্রম, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। 

• খন্দকার মোশতাক আহমেদ: পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়;  
• ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী: অর্থ, জাতীয় রাজস্ব, বাণিজ্য, শিল্প ও পরিবহন মন্ত্রণালয়; 
• এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান: স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

• কর্নেল এম.এ.জি. ওসমানী: সেনাবাহিনী প্রধান;
• কর্নেল আবদুর রব: সেনাবাহিনীর উপপ্রধান-চিফ অব স্টাফ।   

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক; বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি এবং পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,০৩০.
মুক্তিযুদ্ধের ছয় নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর সি.আর. দত্ত
  2. মেজর কাজী নুরুজ্জামান
  3. মেজর মীর শওকত 
  4. উইং কমান্ডার এম কে বাশার
সঠিক উত্তর:
উইং কমান্ডার এম কে বাশার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইং কমান্ডার এম কে বাশার
ব্যাখ্যা
ছয় নম্বর সেক্টর:

• মুক্তিযুদ্ধের ছয় নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম কে বাশার।
• মোহাম্মদ খাদেমুল বাশার জুন মাস থেকে মুক্তিবাহিনীর ৬ নম্বর সেক্টরে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
• এ সেক্টরের অধীনে ছিল সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা। 
• জন্ম: ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৫, নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ছাতারদিঘি
• মৃত্যু: ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৬
• খেতাব: বীর উত্তম। 
• তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 
• মেজর কাজী নুরুজ্জামান ৩ নং সেক্টরের সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন। 
• মেজর সি.আর. দত্ত ৪ নং সেক্টরের সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন।
• মেজর মীর শওকত ৫নং সেক্টরের সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন।

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়, জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,০৩১.
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ৫নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মীর শওকত আলী
  2. রফিকুল ইসলাম
  3. এ.টি.এম হায়দার
  4. কাজী নূরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
মীর শওকত আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর শওকত আলী
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

⇒ ৫নং সেক্টর:
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।
- হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।

উল্লেখ্য,
• ১নং সেক্টর: সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
• ২ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
• ৩ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।
• ৪নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব।
• ৬ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।
• ৭ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।
• ৮ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।
• ৯ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।
• ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
• ১১ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের ও স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২,০৩২.
বর্তমানে বীর প্রতীক খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত জন?
  1. ৬৮ জন
  2. ৪২৪ জন
  3. ১৭৫ জন
  4. ১৭৪ জন
সঠিক উত্তর:
৪২৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪২৪ জন
ব্যাখ্যা
• বীরত্বসূচক খেতাব:
- বীরত্বসূচক খেতাব  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- এ পরিকল্পে চার পর্যায়ের খেতাব প্রদানের বিধান ছিল: (ক) সর্বোচ্চ পদ, (খ) উচ্চ পদ, (গ) প্রশংসনীয় পদ, (ঘ) বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্র।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন, 
- বীর উত্তম - ৬৮ জন, 
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন, 
- বীর প্রতীক- ৪২৬ জন। 

এছাড়াও,
তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী], 
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম), 
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক), 
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)। 

বর্তমানে (২০২১ সালের পরবর্তীতে) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন, 
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন, 
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
২,০৩৩.
'Operation Jackpot' কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধে নৌ-কমান্ডো বাহিনীর প্রথম অভিযান
  2. মুক্তিযুদ্ধে বিমান বাহিনীর প্রথম অভিযান
  3. মুক্তিযুদ্ধের পর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার
  4. মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান বাহিনীর বিমান হামলা
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধে নৌ-কমান্ডো বাহিনীর প্রথম অভিযান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধে নৌ-কমান্ডো বাহিনীর প্রথম অভিযান
ব্যাখ্যা
• অপারেশন জ্যাকপট:
- অপারেশন জ্যাকপট ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি নৌ-কমান্ডোরা বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে অত্যন্ত অল্প সময়ে যুদ্ধের গতি সম্পর্কে বিশ্বকে ধারণা দিতে সক্ষম হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট পরিচালিত নৌ-কমান্ডো বাহিনীর প্রথম অভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে পরিচিত।
- এদিন রাতে নৌ-কমান্ডোরা একযোগে মংলা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ বন্দর আক্রমণ করে এবং পাকিস্তান বাহিনীর ২৬ টি পণ্য ও সমরাস্ত্রবাহী জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দেয়।
- মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাঞ্চলকে যে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এর মধ্যে ১০নং সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ-কমান্ডো।
- মূলত সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা, নদী ও সমুদ্র বন্দরসহ বাংলাদেশের সমগ্র জলপথ নিয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,০৩৪.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার কতজন আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে?
  1. ৩ জন
  2. ৪ জন
  3. ৬ জন
  4. ৭ জন
সঠিক উত্তর:
৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ জন
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য  ৬৭৬ জনকে খেতাব প্রদান করা হয়।
যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন।

উল্লেখ্য,
-  ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ জন খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যাঁদের খেতাব বাতিল হয়েছে তাঁরা হলেন -
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫),
-  লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০),
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং,
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৭ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৪ জন,
• বীর প্রতীক ৪২৪ জন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
         ii) ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
২,০৩৫.
ক্র্যাক প্লাটুন মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন সেক্টরে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করে?
  1. ১ নম্বর
  2. ২ নম্বর
  3. ৩ নম্বর
  4. ৪ নম্বর
সঠিক উত্তর:
২ নম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নম্বর
ব্যাখ্যা

ক্র্যাক প্লাটুন: 
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্র্যাক প্লাটুন ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করে।
- মেজর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে এবং ক্যাপ্টেন এটিএম হায়দারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই দলটি গঠিত হয়।
- তারা ত্রিপুরার মেলাঘরে প্রশিক্ষণ নিয়ে ঢাকায় গেরিলা হামলা পরিচালনা করে।
- ক্র্যাক প্লাটুনের লক্ষ্য ছিল ‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশলে পাকিস্তানি বাহিনীকে আতঙ্কিত করা।
- হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ফার্মগেট চেকপোস্ট ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তারা দুঃসাহসিক গেরিলা অপারেশন পরিচালনা করে।
- তাদের আক্রমণের ফলে পাকিস্তানি সেনারা ভীত হয়ে পড়ে এবং ঢাকায় কঠোর দমননীতি গ্রহণ করে।

সূত্র: ডেইলি স্টার ও মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ। 

২,০৩৬.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা শহর ছিল -
  1. ৮নং সেক্টরের অধীনে
  2. ৪নং সেক্টরের অধীনে
  3. ২নং সেক্টরের অধীনে
  4. ১নং সেক্টরের অধীনে
সঠিক উত্তর:
২নং সেক্টরের অধীনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২নং সেক্টরের অধীনে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ২নং সেক্টরের অধীনে ছিল- ঢাকা।

• মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- তার মধ্যে মুজিবনগর - ৮ নং সেক্টরের অধীনে ছিলো।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল - ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)।
- ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
- চট্টগ্রাম - ১নং সেক্টর,
- ঢাকা - ২ নং সেক্টর,
- সিলেট- ৪ নং সেক্টর,
- রাজশাহী - ৭ নং সেক্টর,
- মুজিবনগর - ৮ নং সেক্টর,

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৩৭.
ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম কোন খেতাবে ভূষিত হন?
  1. ক) বীর উত্তম
  2. খ) বীরশ্রেষ্ঠ
  3. গ) বীর বিক্রম
  4. ঘ) বীর প্রতীক
সঠিক উত্তর:
ঘ) বীর প্রতীক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বীর প্রতীক
ব্যাখ্যা
ক্যাপ্টেন ডা.সিতারা বেগম, বীর প্রতীক
• জন্ম;- ১৯৪৬ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর। গ্রাম কান্দাইল, ইউনিয়ন জয়কা, করিমগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ।
• বাবা মোহাম্মদ ইসরাইল, মা হাকিমুন্নেছা বেগম।
• স্বামী ডা. আবিদুর রহমানও একজন মুক্তিযোদ্ধা।
• ডা. সিতারা বেগম কুমিল্লা সিএমএইচের চিকিৎসক ছিলেন।
• খেতাবের সনদ নম্বর ১৫।
• ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত বা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেক্টরে হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। এ রকম একটি হাসপাতাল ছিল ২ নম্বর সেক্টরে। নাম ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’। 
• এই হাসপাতালে ডা. জাফরউল্লাহ, ডা. মোবিন, ডা. আখতার, ডা. সিতারা বেগমসহ আরও অনেক চিকিৎসক, মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রী ও সেবিকা নিয়োজিত ছিলেন।   

তথ্যসূত্র: চিরন্তন ৭১, প্রথম আলো।
২,০৩৮.
মুক্তিযুদ্ধে ময়মনসিংহের গেরিলা বাহিনীর নাম কী ছিল?
  1. রফিক মির্জা বাহিনী
  2. আকবর বাহিনী
  3. কুদ্দুস বাহিনী
  4. আফসার বাহিনী
সঠিক উত্তর:
আফসার বাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আফসার বাহিনী
ব্যাখ্যা

আফসার বাহিনী বা ব্যাটালিয়নঃ
- ল্যান্স নায়েক আফসার উদ্দিন ছিলেন আফসার ব্যাটালিয়নের প্রধান।
- আফসার উদ্দিন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। 
- ময়মনসিংহের আফসার বাহিনী।
- তিনি ময়মনসিংহের ভালুকা থানার মল্লিকাবাড়ী গ্রাম থেকে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেন। 
- এই বাহিনীতে ৪ হাজার ৫০০ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। 
- ময়মনসিংহ জেলার দক্ষিণ অংশ, ঢাকা এবং গাজীপুর জেলার কিছু অংশে আফসার ব্যাটালিয়ন তাদের অভিযান পরিচালনা করত। 
- এই বাহিনীর উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ ছিল ভালুকা যুদ্ধ, গফরগাঁও যুদ্ধ, ত্রিশাল যুদ্ধ, শ্রীপুর যুদ্ধ, মির্জাপুর যুদ্ধ ও মুক্তাগাছা যুদ্ধ।
• অন্যান্য গেরিলা বাহিনী-
- টাঙ্গাইলের কাদের সিদ্দিকীর কাদেরিয়া বাহিনী।
- সিরাজগঞ্জে রফিক মির্জা বাহিনী।
- ফরিদপুরের হেমায়েত বাহিনী।
- ঝিনাইদহের আকবর বাহিনী।
- বরিশালের কুদ্দুস বাহিনী।

উৎস: প্রথম আলো [লিঙ্ক] এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৩৯.
বর্তমানে স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য ' বীরপ্রতীক' খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কতজন?
  1. ক) ৬৭ জন
  2. খ) ৬৮ জন
  3. গ) ৪২৪ জন
  4. ঘ) ৪২৬ জন
সঠিক উত্তর:
গ) ৪২৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪২৪ জন
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়-
• বীরশ্রেষ্ঠ- ৭ জন
• বীর উত্তম- ৬৮ জন
• বীর বিক্রম- ১৭৫ জন
• বীর প্রতীক- ৪২৬ জন।

- তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
- এরা হলেন:
• লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম)
• লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
• লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
• নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)। 

- বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা- মোট ৬৭২ জন। 
• বীরশ্রেষ্ঠ- ৭ জন
• বীর উত্তম- ৬৭ জন
• বীর বিক্রম- ১৭৪ জন
• বীর প্রতীক- ৪২৪ জন। 

- ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে শহীদ হন কর্নেল জামিল।
- তিনি ২০০৯ সালে বীর উত্তম উপাধি পান।
অর্থাৎ, সব মিলিয়ে বর্তমানে বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্ত- ৬৮ জন। 

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো রিপোর্ট। 
২,০৪০.
মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান
  2. খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) তাজউদ্দীন আহমদ
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গ) তাজউদ্দীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। উপ রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ। স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রী ছিলেন এএইচএম কামরুজ্জামান। অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী। খন্দকার মুশতাক আহমেদ ছিলেন পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি
২,০৪১.
বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধ চলাকালীন 'মুজিবনগর' কত নং সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) ১নং সেক্টর
  2. খ) ৭নং সেক্টর
  3. গ) ৮নং সেক্টর
  4. ঘ) ৬নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
গ) ৮নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৮নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
• চট্টগ্রাম - ১নং সেক্টর,
• ঢাকা - ২ নং সেক্টর,
• রাজশাহী - ৭ নং সেক্টর,
মুজিবনগর - ৮ নং সেক্টর,
• সুন্দরবন - ৯ নং সেক্টর।
• নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল - ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)। ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২,০৪২.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম আরব দেশ কোনটি?
  1. কুয়েত
  2. সৌদি আরব
  3. বাহরাইন
  4. ইরাক
সঠিক উত্তর:
ইরাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরাক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বীকৃতি লাভ:
- ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে ০৮ জুলাই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- সেনেগাল (১ ফেব্রুয়ারি), মালয়েশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), ইন্দোনেশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), গাম্বিয়া (মার্চ), গ্যাবন (৬ এপ্রিল), সিয়েরা লিওন (২১ এপ্রিল), ইরাক (৮ জুলাই), দক্ষিণ ইয়েমেন (৩১ জুলাই), উগান্ডা (৫ আগস্ট), বুরকিনা ফাসো (১৯ আগস্ট) প্রভৃতি মুসলিম দেশ ১৯৭২ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ইরান ও তুরস্ক ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন, দৈনিক কালের কণ্ঠ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬ ও বিবিসি, মার্চ ২৬, ২০২১।
২,০৪৩.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ছিল কোন পত্রিকাটি?
  1. স্বাধীন বাংলা
  2. মুক্তির গান
  3. জয়বাংলা
  4. মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
জয়বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়বাংলা
ব্যাখ্যা
সাপ্তাহিক জয়বাংলা পত্রিকা:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পত্র-পত্রিকা প্রকাশ করা হয়।
- গণমাধ্যম হিসেবে মূল্যবান অবদান রেখেছে এসব পত্র-পত্রিকা।
- সে সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় 'সাপ্তাহিক জয়বাংলা'।
- আব্দুল মান্নান এম.এন.এ. ছিলেন এর সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি এবং জিল্লুর রহমান এম.এন.এ. ছিলেন প্রধান সম্পাদক।
- ১১ মে থেকে ১৬ ডিসেম্বর এটি প্রকাশিত হয়। 

উল্লেখ্য,
- বহিঃবিশ্বে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে মুজিবনগর সরকার Bangladesh (বাংলাদেশ) নামক একটি পত্রিকা প্রকাশ করে।
- গেরিলা আক্রমণ ও সম্মুখ সমরসহ মুক্তিযোদ্ধাদের নানা ধরনের তৎপরতার খবরের পাশাপাশি এই পত্রিকাগুলোতে থাকতো বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম ও নির্দেশাবলী, রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দের বিবৃতি ও তৎপরতা, প্রবাসী বাঙালিদের সংগঠন ও আন্দোলনের খবর এবং বাঙালি কুটনীতিকদের কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৪৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর কোন সেক্টরের অর্ন্তভুক্ত ছিল?
  1. ক) ২নং
  2. খ) ৮নং
  3. গ) ১০নং
  4. ঘ) ১১নং
সঠিক উত্তর:
খ) ৮নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৮নং
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল প্রবাসী সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- এর মধ্যে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা এবং ফরিদপুর ও খুলনা জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ৮ নং সেক্টর গঠিত হয়।
- মেহেরপুর জেলা ও মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিলো।
- এর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী এবং এম এ মঞ্জুর।

উৎস : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২,০৪৫.
Which force conducted 'Operation Kilo Flight' during the Liberation War?
  1. Guerrilla
  2. Air Force
  3. Navy
  4. Crack Platoon
  5. None of these
সঠিক উত্তর:
Air Force
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Air Force
ব্যাখ্যা
অপারেশন কিলো ফ্লাইট:
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুক্তিবাহিনীর বিমান উইং এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্ম ও গোড়াপত্তনের ইতিহাস।
- ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত এক বিমানঘাঁটিতে জন্ম হয়েছিল যে ইতিহাসের, সেই ইতিহাস শত্রুর চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অপারেশনগুলোর সমন্বিত সাংকেতিক নাম।
- এই কিলো ফ্লাইটের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন দুঃসাহসিক বিমান যোদ্ধারা।
- ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সম্ভাবনাটিও চিরতরে হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও ডেইলি স্টার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২।
২,০৪৬.
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত 'চরমপত্র' এর লেখক কে ছিলেন?
  1. আবদুল মান্নান
  2. কামাল লোহানী
  3. এম আর আখতার মুকুল
  4. বেলাল আহমেদ
সঠিক উত্তর:
এম আর আখতার মুকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম আর আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র। বস্ত্তত, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়। এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।

• 'চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার:

- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’।
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো। এই ব্যঙ্গাত্মক সিরিজে তাকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রে চিত্রিত করা হয় এবং এই ভূমিকায় অভিনয় করেন রাজু আহমেদ।
- চরমপত্র সিরিজটি পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আবদুল মান্নান এবং স্থানীয় ঢাকাইয়া উপভাষায় এর স্ক্রিপ্ট তৈরি করেন এম.আর আখতার মুকুল, যিনি নিজেই এর উপস্থাপক ছিলেন।
- এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানটি জনগণের কাছে বিপুলভাবে সমাদৃত হয়। এতে একইসঙ্গে ছিল তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ ও জাতীয়তা বোধের প্রকাশ যা জনগণের নৈতিক মনোবল দৃঢ়ীকরণে ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র।

২,০৪৭.
ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম ভূষিত হন কোন খেতাবে?
  1. ক) বীর উত্তম
  2. খ) বীর প্রতীক
  3. গ) বীর বিক্রম
  4. ঘ) বীরশ্রেষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
খ) বীর প্রতীক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বীর প্রতীক
ব্যাখ্যা
ক্যাপ্টেন ডা.সিতারা বেগম, বীর প্রতীক
• জন্ম;- ১৯৪৬ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর। গ্রাম কান্দাইল, ইউনিয়ন জয়কা, করিমগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ।
• বাবা মোহাম্মদ ইসরাইল, মা হাকিমুন্নেছা বেগম।
• স্বামী ডা. আবিদুর রহমানও একজন মুক্তিযোদ্ধা।
• ডা. সিতারা বেগম কুমিল্লা সিএমএইচের চিকিৎসক ছিলেন।
• খেতাবের সনদ নম্বর ১৫।
• ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত বা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেক্টরে হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। এ রকম একটি হাসপাতাল ছিল ২ নম্বর সেক্টরে। নাম ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’। 
• এই হাসপাতালে ডা. জাফরউল্লাহ, ডা. মোবিন, ডা. আখতার, ডা. সিতারা বেগমসহ আরও অনেক চিকিৎসক, মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রী ও সেবিকা নিয়োজিত ছিলেন।   

তথ্যসূত্র: চিরন্তন ৭১, প্রথম আলো।
২,০৪৮.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. আতাউল গনি ওসমানী
  3. এ কে খন্দকার
  4. এম এ রব
সঠিক উত্তর:
আতাউল গনি ওসমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আতাউল গনি ওসমানী
ব্যাখ্যা
জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী:
- জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন।
- আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর জেনারেল পদে উন্নীত হন।
- তাঁর পদোন্নতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়।

অন্যদিকে -
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন এ কে খন্দকার।
- মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন কর্নেল এম এ রব।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,০৪৯.
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামালকে সমাহিত করা হয় -
  1. চাঁপাইনবাবগঞ্জে
  2. যশোরে
  3. ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়
  4. হবিগঞ্জে
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল:
- তাঁর জন্ম ১৯৪৯ সালে বরিশালের দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে।
- ১৯৬৮ সালে তিনি পাকিস্তানের চতুর্থ ইস্ট-বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন পূর্বে বক্সার হিসাবে সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা অবৈতনিক ল্যান্স নায়েক হিসাবে পদোন্নতি পান।
- ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ৪ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোতায়েন করে।
- বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি মেজর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে আশুগঞ্জ, উজানিস্বর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
- ১৮ এপ্রিল অসীম সাহসের সাথে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন।
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দরুইন গ্রামের জনগণ মোস্তফা কামালকে তাঁর শাহাদাতের স্থানের পাশেই সমাহিত করে।
- মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
২,০৫০.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকারের সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটির আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. তাজউদ্দীন আহমেদ
  3. অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ
  4. এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দীন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দীন আহমেদ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকারের সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটির আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি:

- মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ।
- দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি),
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি),
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা),
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৫১.
বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান কোন বিমানটি ছিনিয়ে আনতে গিয়ে শহিদ হন?
  1. ভি-৭৮
  2. ডি-৪৫
  3. টি-৩৩
  4. এন-৬১
সঠিক উত্তর:
টি-৩৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টি-৩৩
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান:

- বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান টি-৩৩ বিমানটি ছিনিয়ে আনতে গিয়ে শহীদ হন।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ঢাকার ১৯৪১ সালের ২৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৬৩ সালের জুন মাসে কমিশন লাভ করেন। কর্মস্থল ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের রিসালপুর।
- এর পরের বছর পেশোয়ারে জেট পাইলট নিযুক্ত হবার পূর্বে করাচিতে জেট কনভার্সন কোর্স সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেন।
- ২০ আগস্ট সকালে করাচির মশরুর বিমানঘাঁটি থেকে পাইলট অফিসার মিনহাজ রশীদের টি-৩৩ বিমান নিয়ে উড়বার শিডিউল ছিল।
- মতিউর ছিলেন তার প্রশিক্ষক।
- টি-৩৩ বিমানের সাংকেতিক নাম ছিল ব্লু বার্ড।
- প্রশিক্ষণকালে মতিউর বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেন নি।
- বিমানটি বিধ্বস্ত হয় ভারতীয় সীমান্তের কাছে থাট্টায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২,০৫২.
১৯৭১ সালে ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনার মূল দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  2. জেনারেল খাদিম হুসাইন রাজা
  3. জেনারেল টিক্কা খান
  4. জেনারেল রাও ফরমান আলী
সঠিক উত্তর:
জেনারেল রাও ফরমান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা

অপারেশন সার্চলাইট:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ, ১৯৭১ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ৩ ব্যাটেলিয়ান পাকিস্তানী সৈন্য 'অপারেশন সার্চলাইট-এ' অংশগ্রহণ করে।
- তারা ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা সংগঠিত করে।

উল্লেখ্য,
⇒ সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন: গভর্নর লে. জে. টিক্কা খান।
- ঢাকা শহরের দায়িত্বে: মেজর রাও ফরমান আলী।
- ঢাকার বাইরে দায়িত্বে: মেজর খাদিম হোসেন রাজা।
- ১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবের সাথে সমঝোতার উদ্দেশ্যে কয়েকজন জেনারেলসহ ঢাকায় আসেন।
- ১৯৭১ সালের ১৬ - ২৪ মার্চ পর্যন্ত মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক চলে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) BBC.

২,০৫৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত 'চরমপত্র' সিরিজটির পরিকল্পনা কার ছিল?
  1. ক) আব্দুল হান্নান
  2. খ) আব্দুল মান্নান
  3. গ) এম.আর. মুকুল
  4. ঘ) ইউসুফ আলী
সঠিক উত্তর:
খ) আব্দুল মান্নান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আব্দুল মান্নান
ব্যাখ্যা
'চরমপত্র'

- মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতারের জাতীয় সঙ্গীত, দেশাত্মবোধক গান, সংবাদ বুলেটিন এবং 'জল্লাদের দরবার' ও 'চরমপত্র' অনুষ্ঠান ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। 
- 'জল্লাদের দরবার' অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে 'কেল্লা ফতেহ্ খান' নামক একজন অমানবিক, পাশবিক ও নিষ্ঠুর চরিত্রের মানুষ হিসেবে তুলে ধরা হয়। 
- আর একটি জনপ্রিয় প্রোগ্রাম ছিল 'চরমপত্র'। এ সিরিজটির পরিকল্পনা ছিল আব্দুল মান্নান খান এম.এন.এ.-এর। 
- চরমপত্র'-এর স্ক্রিপট তৈরি ও তা পাঠ করতেন এম আর আখতার মুকুল। 
- তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক শব্দে এবং ঢাকাইয়া ভাষায় রচিত চরমপত্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল এম.আর. মুকুলের অনবদ্য উপস্থাপনায়।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২,০৫৪.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা কত নম্বর সেক্টরের অধীন ছিল?
  1. ১ নং
  2. ৩ নং
  3. ২ নং
  4. ১০ নং
সঠিক উত্তর:
২ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল-১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)
-১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না

- চট্টগ্রাম-১নং সেক্টর
- ঢাকা-২ নং সেক্টর
- রাজশাহী-৭ নং সেক্টর
- মুজিব নগর-৮ নং সেক্টর
- সুন্দরবন-৯ নং সেক্টর

সূত্র: ঢাকা বিভাগের ওয়েবসাইট
২,০৫৫.
বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ কত নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ করেন?
  1. ৭নং সেক্টর
  2. ৫নং সেক্টর
  3. ৬নং সেক্টর
  4. ৮নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৮নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ: ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল: ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান: ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর: ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ: ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন: ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান: কোনো সেক্টরের অধীনে ছিলেন না।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
২,০৫৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনা করে -
  1. মিত্র বাহিনী
  2. নো-বাহিনী
  3. বিমান বাহিনী
  4. গেরিলা
সঠিক উত্তর:
নো-বাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নো-বাহিনী
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-বাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট মতান্তরে ১৬ই আগস্ট ১৯৭১ সালে। [অপশনে ১৫ আগস্ট থাকলে ১৫ আগস্ট দাগাতে হবে। অপশনে ১৫ আগস্ট না থাকলে  সেই ক্ষেত্রে ১৬ আগস্ট দাগাতে হবে।]
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।
- ১৯৭১ সালের অগাস্টের ১৫ তারিখ রাতে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এর পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল সেই বছরের মে মাসে।
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের কমান্ডার।
- অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।
২,০৫৭.
‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ক) ১ জুলাই ১৯৭১
  2. খ) ১ আগস্ট ১৯৭১
  3. গ) ১ অক্টোবর ১৯৭১
  4. ঘ) ১ ডিসেম্বর ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
খ) ১ আগস্ট ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১ আগস্ট ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ারে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' অনুষ্ঠিত হয়।
- এর উদ্দেশ্য ছিলো কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের শরনার্থীদের সহায়তা করা।
- এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিখ্যাত ভারতীয় সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশংকর।
- তার আহবানে সাড়া দিয়ে মার্কিন ব্যান্ডদল বিটলসের জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলান, রিঙ্গো স্টার প্রমুখ এই কনসার্টে অংশগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের আকবর আলী খাঁ, তবলাবাদক ওস্তাদ আল্লারাখা প্রমুখ এতে যুক্ত ছিলেন।
(তথ্যসূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ওয়েবসাইট)
২,০৫৮.
স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন কে?
  1. ক) এম ইউসুফ আলী
  2. খ) শাহজাহান সিরাজ
  3. গ) আ স ম রব
  4. ঘ) শেখ মুজিবুর রহমান
সঠিক উত্তর:
খ) শাহজাহান সিরাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শাহজাহান সিরাজ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১রা মার্চ ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এই পরিষদের পক্ষ থেকে ৩রা মার্চ ঢাকার পল্টন ময়দানে আয়োজিত জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে ছাত্রনেতা শাহজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন।
- একই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক উপাধি দেওয়া হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
২,০৫৯.
কার অধিনায়কত্বে ‘জেড ফোর্স’ গঠিত হয়?
  1. খালেদ মোশাররফ
  2. জিয়াউর রহমান
  3. সফিউল্লাহ
  4. এ.কে খন্দকার
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা
- মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত ও অনিয়মিত দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল।
- অনিয়মিত বাহিনী গণবাহিনী নামে পরিচিত ছিল।
- নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সৈন্যরা।
- ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর বিভিন্ন সেক্টরে গণবাহিনীতে নিয়োগ করা হতো।
- গণবাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শত্রুর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পাঠানো হয়।
- নিয়মিত বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্রবাহিনীর প্রথাগত যুদ্ধে নিয়োজিত ছিলেন।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- এই ব্রিগেডের কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের নামের ইংরেজি আদ্যক্ষর ‘জেড’ অনুসারে ব্রিগেডটির নামকরণ করা হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন সফিউল্লাহ।
- খালেদ মোশাররফের অধিনায়কত্বে ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
২,০৬০.
মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন কে?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. এম এ জি ওসমানী
  4. আব্দুর রব
সঠিক উত্তর:
এম এ জি ওসমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম এ জি ওসমানী
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
মুক্তিবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ছিলেন লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
(উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,০৬১.
ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী শরণার্থীদের জন্য কোন সরকার আন্তর্জাতিক ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নেয়?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) যুক্তরাজ্য
  3. গ) সংযুক্ত আরব আমীরাত
  4. ঘ) চিন
সঠিক উত্তর:
খ) যুক্তরাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য সরকার নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে। যুক্তরাজ্যের নীতির মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের কাঠামোর অভ্যন্তরে বাঙালির স্বাধীকার সমস্যার সমাধান করা। বাংলাদেশের ঘটনায় ব্রিটেন সরকারিভাবে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে এবং ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী শরণার্থীদের জন্য ব্রিটিশ সরকার আন্তর্জাতিক ত্রাণ তৎপরতায় অংশগ্রহণ করে। [সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা]
২,০৬২.
অপারেশন সার্চলাইট যে সালে সংঘটিত হয়-
  1. ১৯৬৯
  2. ১৯৭১
  3. ১৯৭৫
  4. ১৯৭০
সঠিক উত্তর:
১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।
- ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান অর্থাৎ মূল দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি।
২,০৬৩.
সিপাহী হামিদুর রহমান কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন?
  1. ২ নং
  2. ৪ নং
  3. ৮ নং
  4. ১১ নং
সঠিক উত্তর:
৪ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ নং
ব্যাখ্যা
• বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান (১৯৫৩-১৯৭১):
- ১৯৫৩ সালে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোদ খালিশপুর গ্রামে।
- তাঁর পিতা আক্কাস আলী ও মাতা কায়দাছুন নেছা।
- ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি যোগ দেন সেনাবাহিনীতে।
- হামিদুর রহমান মুক্তিবাহিনীর সাহসী সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করছিলেন সিলেট শ্রীমঙ্গল এলাকায়।
- তিনি ৪ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বীরশ্রেষ্ট খেতাবে ভূষিত হন।
- সুদীর্ঘ ৩৬ বছর পর তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় এবং ১১ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে ঢাকার মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
- ঝিনাইদহ জেলা শহরের স্টেডিয়ামটি তাঁর নামে, বাংলাদেশ ডাক বিভাগ তাঁর স্মরনে একটি ডাক টিকিট প্রকাশ করেছে।

এছাড়াও,
- বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল- ২ নম্বর সেক্টর।
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ৮ নম্বর সেক্টর।
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ১০ নম্বর সেক্টর (নৌবাহিনী)।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ ১ নম্বর সেক্টর।
- বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ৭ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

উৎস: ঝিনাইদহ জেলার ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।।
২,০৬৪.
ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ করেন?
  1. ৫নং সেক্টর
  2. ৬নং সেক্টর
  3. ৭নং সেক্টর
  4. ৮নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৭নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:

- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
২,০৬৫.
অপারেশন জ্যাকপট পরিচালিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট
  2. খ) ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট
  3. গ) ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের ১ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোরা কর্তৃক পরিচালিত প্রথম অভিযান অপারেশন জ্যাকপট নামে পরিচিত।
এদিন নৌ-কমান্ডোরা একযোগে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পাকবাহিনীর উপর হামলা চালায়। এতে পাকবাহিনীর ২৬টি নৌযান ধ্বংস হয়।
মোট ১৪৮ জন নৌ-কমান্ডোরা চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে এ অপারেশনে অংশ নেয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
২,০৬৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিব নগর কত নং সেক্টরের অধীনে ছিলো?
  1. ক) ১০
  2. খ) ৮
  3. গ) ৯
  4. ঘ) ৬
সঠিক উত্তর:
খ) ৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৮
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল - ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)। ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
চট্টগ্রাম - ১নং সেক্টর,
ঢাকা - ২ নং সেক্টর,
রাজশাহী - ৭ নং সেক্টর,
মুজিবনগর - ৮ নং সেক্টর,
সুন্দরবন - ৯ নং সেক্টর।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
২,০৬৭.
মুক্তিযুদ্ধের পর নির্যাতিতা নারীদের সেবা প্রদানের জন্য আসা ডাক্তার জিওফ্রে ডেভিস কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
  1. ইংল্যান্ড
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. নেদারল্যান্ডস
  4. অস্ট্রেলিয়া
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রেলিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে নারীর প্রতি সহিংসতা:
- মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন নারীরা। 
- মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস পাকিস্তানী বাহিনী ও তাদের দোসরদের দ্বারা ধর্ষিতা বা নির্যাতিতা নারীর সংখ্যা আনুমানিক ছয় লাখের কাছাকাছি। 
- মুক্তিযুদ্ধের পর নির্যাতিতা নারীদের সেবা প্রদানের জন্য এসেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ডাক্তার জিওফ্রে ডেভিস। 
- তাঁর মতে নির্যাতিতা নারীর সংখ্যা চার লাখের কম নয়। 
- তাঁর বর্ণনায় অন্তঃসত্ত্বা মহিলার সংখ্যাই ছিল ২ লাখ। 
- অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের সাহায্য সংক্রান্ত কর্মসূচি শুরু হবার আগেই দেড় লাখ থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার মহিলা গর্ভপাত করেছেন। 
- অবশিষ্ট ৩০ হাজারের মধ্যে কেউ কেউ আত্মহত্যা করেছেন, কেউ কেউ তাদের শিশুদের নিজের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৬৮.
মুক্তিযুদ্ধে কতজন বেসামরিক ব্যক্তিকে 'বীর উত্তম' খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ৬৮ জন
  2. ৬৭ জন
  3. ৭ জন
  4. ৫ জন
সঠিক উত্তর:
৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে ৫ জন বেসামরিক ব্যক্তিকে 'বীর উত্তম' খেতাব প্রদান করা হয়।

খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:

- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী।
- মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে তিনি এই প্রস্তাব করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।

⇒ মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য ৬৭৬ জনকে খেতাব প্রদান করা হয়।
যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন।

উল্লেখ্য,
- কোন বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধাকে সর্বোচ্চ খেতাব 'বীর শ্রেষ্ঠ' দেয়া হয়নি।
- বীর উত্তম খেতাব দেয়া হয় ৬৮ জন মুক্তিযোদ্ধাকে, যার মধ্যে ৫ জন ছিলেন বেসামরিক।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, BBC.
২,০৬৯.
মুজিবনগর সরকারের অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) আবদুল মান্নান
  2. খ) তাজউদ্দীন আহমদ
  3. গ) এম. মনসুর আলী
  4. ঘ) এএইচএম কামরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
গ) এম. মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এম. মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় যা ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে।
মুজিবনগর সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দীন আহমদ।
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী : এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ-পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রী : এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,০৭০.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ৩ নং সেক্টরে নেতৃত্ব দেন -
  1. ক) মেজর কে. এম শফিউল্লাহ
  2. খ) উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার
  3. গ) মেজর এম.এ জলিল
  4. ঘ) মেজর রফিকুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ক) মেজর কে. এম শফিউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মেজর কে. এম শফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
• এসব সেক্টরকে আবার কতগুলো সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। প্রত্যেক সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।
• মুক্তিকালীন ১১টি সেক্টরের কমান্ডারগণ - 
১ নং সেক্টর:
- মেজর জিয়াউর রহমান
- মেজর রফিকুল ইসলাম
২ নং সেক্টর:
- মেজর খালেদ মোশাররফ
- মেজর এ.টি.এম হায়দার
৩ নং সেক্টর:
- মেজর কে. এম শফিউল্লাহ
- মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান
৪ নং সেক্টর:
- মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
- ক্যাপ্টেন এ রব
৫ নং সেক্টর:
- মেজর মীর শওকত আলী
৬ নং সেক্টর:
- উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার
৭ নং সেক্টর:
- মেজর নাজমুল হক
- সুবেদার মেজর এ. রব
- মেজর কাজী নূরুজ্জামান
৮ নং সেক্টর:
- মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
- মেজর এম.এ মঞ্জুর
৯ নং সেক্টর:
- মেজর এম.এ জলিল
- মেজর এম.এ মঞ্জুর
- মেজর জয়নাল আবেদীন
১০ নং সেক্টর: কোন নিয়মিত সেক্টর ছিলো না
১১ নং সেক্টর:
- মেজর এম. আবু তাহের
- স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহ।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
২,০৭১.
স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনী গঠিত হয় -
  1. ২৪ নভেম্বর, ১৯৭১
  2. ২৩ নভেম্বর, ১৯৭১
  3. ২২ নভেম্বর, ১৯৭১
  4. ২১ নভেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯৭১ সালের ২১ শে নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করেছিল।
- পাকিস্তান ৩ ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং ভারতীয় বাহিনী সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে।
- ৬-১৬ ডিসেম্বর মুক্তি বাহিনীর সঙ্গে ভারতের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যােগ দেয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনী যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৭২.
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. তানভীর মাজহারুল তান্না
  2. আমিনুল ইসলাম
  3. জাকারিয়া পিন্টু
  4. ফজলে সাদাইন খোকন
সঠিক উত্তর:
জাকারিয়া পিন্টু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাকারিয়া পিন্টু
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের একটি ফুটবল দল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত অর্জন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যার্থে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শনী ফুটবল খেলায় অংশ নেয়।
- এই দলটি ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল’ নামে পরিচিত ছিল।
- পৃথিবীর ইতিহাসে যুদ্ধকালীন প্রথম ফুটবল দল এটি।
- মূল পরিকল্পনাটা ছিলো শামসুল হকের।
- জুন মাসে কলকাতায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ ক্রীড়া সমিতি এবং যারা সারা ভারতজুড়ে খেলে সমর্থন আদায় করবে আমাদের স্বাধীন বাংলার স্বীকৃতির জন্য।
- স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন জাকারিয়া পিন্টু।
- আর সহ-অধিনায়ক ছিলেন প্রতাপ শংকর হাজরা।
- কোচ ও ম্যানেজার ছিলেন যথাক্রমে ননি বসাক ও তানভীর মাজহারুল তান্না। 
- ম্যাচ খেলা থেকে অর্জিত পাঁচ লাখ ভারতীয় রুপি ক্রীড়া সমিতি জমা দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ফান্ডে।

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলে যারা ছিলেন: 
- জাকারিয়া পিন্টু (অধিনায়ক), প্রতাপ শঙ্কর হাজরা (সহ-অধিনায়ক), আলী ইমাম, মোহাম্মদ কায়কোবাদ, অমলেশ সেন, আইনুল হক, নিহার কান্তি দাস, শেখ আশরাফ আলী, বিমল কর, শাহজাহান আলম, মনসুর আলী লালু, কাজী সালাউদ্দিন, এনায়েতুর রহমান, সুভাষ সাহা, কে এম নওশেরুজ্জামান, ফজলে সাদাইন খোকন, আবুল হাকিম, তসলিমউদ্দিন শেখ, আমিনুল ইসলাম, আবদুল মমিন জোয়ারদার, মনিরুজ্জামান পেয়ারা, সাত্তার, প্রাণ গোবিন্দ কুন্ডু, মুজিবর রহমান, মেজর জেনারেল (অব.) খন্দকার নুরুন্নবী, লুৎফর রহমান, সাইদুর রহমান প্যাটেল, অনিরুদ্ধ চ্যাটার্জি, সনজিব কুমার দে, মাহমাদুর রশিদ, দেওয়ান মোহাম্মদ সিরাজউদ্দিন, নিহার কান্তি দাস।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও ২৬ মার্চ ২০২২, সময় নিউজ।

২,০৭৩.
'দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' কোন শহরে আয়োজন করা হয়েছিল?
  1. নিউইয়র্কে
  2. লন্ডনে
  3. ওয়াশিংটন ডিসিতে
  4. মিশিগানে
সঠিক উত্তর:
নিউইয়র্কে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউইয়র্কে
ব্যাখ্যা
দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:

- মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি বন্ধুদের পাশে এসে দাঁড়ানোর অসাধারণ একটি উদ্যোগের নাম 'দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'।
- ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজন করা হয়েছিল সেই ঐতিহাসিক কনসার্টটি।
- ম্যনহাটনের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে হওয়া সেই কনসার্টের অন্যতম দুই উদ্যোক্তা ছিলেন ইংল্যান্ডের সাড়া জাগানো ব্যান্ড দল দ্য বিটলস ব্যান্ডখ্যাত পশ্চিমা সঙ্গীতের অগ্রগণ্য শিল্পী জর্জ হ্যারিসন ও ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর।
- মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য অংশ সেই কনসার্টের ৫০ বছর পূর্তিতে নিউইয়র্কে আয়োজন করা হয়েছে একটি উৎসবের।
- ৩১ জুলাই শনিবার বিকালে জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে 'ফ্রেন্ডস অব ফ্রিডম' নামে একটি সংগঠন এই উৎসবের আয়োজন করেছে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক যুগান্তর, ১৬ জুলাই ২০২১।
২,০৭৪.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের শরণার্থীদের জন্য কোন দেশের সরকার আন্তর্জাতিক ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নেয়?
  1. ক) ইরাক
  2. খ) পশ্চিম জার্মানি
  3. গ) ব্রিটেন
  4. ঘ) ইরান
সঠিক উত্তর:
গ) ব্রিটেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ব্রিটেন
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য সরকার নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে। 
- যুক্তরাজ্যের নীতির মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের কাঠামোর অভ্যন্তরে বাঙালির স্বাধীকার সমস্যার সমাধান করা।
- বাংলাদেশের ঘটনায় ব্রিটেন সরকারিভাবে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে এবং ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী শরণার্থীদের জন্য ব্রিটিশ সরকার আন্তর্জাতিক ত্রাণ তৎপরতায় অংশগ্রহণ করে। 
- ব্রিটিশ সরকারের নিরপেক্ষ নীতির কারণে ব্রিটেনের পত্র-পত্রিকায় ও বেতার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে প্রচারণা সহজতর হয়েছিল এবং ব্রিটেনের মাটিকে প্রবাসী বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলার জন্য কোন সরকারি বাধা বিঘ্ন ছাড়াই জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। 
- এসব অবস্থা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সফল করে তুলতে সহায়ক হয়েছিল।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,০৭৫.
ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনায় মূল দায়িত্ব পালন করেন কে? 
  1. জেনারেল আবরার হোসেন
  2. জেনারেল নিয়াজি খান
  3. গোলাম মুহাম্মদ
  4. রাও ফরমান আলী
সঠিক উত্তর:
রাও ফরমান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা

অপারেশন সার্চলাইট: 
- ১৮ই মার্চ টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চলাইট' পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করেন।
- ১৯শে মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্রীকরণ শুরু হয়।
- ২০শে মার্চ সরকার অস্ত্র জমা দেয়ার নির্দেশ জারি করে।
- ঐ দিন জেনারেল ইয়াহিয়া খান তার সামরিক উপদেষ্টা হামিদ খান, জেনারেল টিক্কা খান, জেনারেল পিরজাদা, জেনারেল ওমর প্রমুখকে নিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সামরিক প্রস্তুতিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন।
- এ সময় প্রতিদিন ৬টি থেকে ১৭টি পর্যন্ত পিআইএ ফ্লাইট বোয়িং ৭০৭ বিমান সৈন্য ও রসদ নিয়ে ঢাকা আসে এবং অসংখ্য সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র বোঝাই হয়ে আসা জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে অপেক্ষা করে।
- ২৪শে মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে এম ভি সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র ও রসদ খালাস শুরু হয়।
- ২৫শে মার্চ গণহত্যার জন্য বেছে নেওয়া হয়।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইটের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম, শ্রেণি।

২,০৭৬.
১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার কর্তৃক প্রকাশিত পত্রিকার নাম কী ছিল?
  1. ক) জয় বাংলা
  2. খ) বাংলাদেশ
  3. গ) স্বাধীনতা
  4. ঘ) মুক্তির ডাক
সঠিক উত্তর:
ক) জয় বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জয় বাংলা
ব্যাখ্যা
• সাপ্তাহিক জয়বাংলা:
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাংলা সাপ্তাহিক মুখপত্র - সাপ্তাহিক জয়বাংলা।
- পত্রিকাটি মূলত ছিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রচার মাধ্যম।
-  এর লক্ষ্য ছিল একদিকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের কৃতিত্ব জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভ।
- সাপ্তাহিক জয়বাংলা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালের ১১ মে (২৭ বৈশাখ ১৩৭৮)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,০৭৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনী কোন সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ১০
  2. ১১
সঠিক উত্তর:
১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল: ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও -বঙ্গোপসাগর)।
- ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
- চট্টগ্রাম: ১নং সেক্টর,
- ঢাকা: ২ নং সেক্টর,
- রংপুর: ৬ নং সেক্টর,
- রাজশাহী: ৭ নং সেক্টর,
- মুজিবনগর: ৮ নং সেক্টর,
- সুন্দরবন: ৯ নং সেক্টর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,০৭৮.
মুক্তিযুদ্ধে ‘ক্র্যাক প্লাটুন’ কোন শহরে সক্রিয় ছিল?
  1. খুলনা
  2. ঢাকা
  3. চট্টগ্রাম
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা
ক্র্যাক প্লাটুন:
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বযে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন।
- ২ নং সেক্টর ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর, যার অধীনে ছিল ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, এবং এর আশেপাশের এলাকাগুলো।
- এই সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ এবং তার অধীনেই ক্র্যাক প্লাটুন গঠিত হয়।
- এই দলের সদস্যরা ছিলেন অত্যন্ত সাহসী এবং সুসংগঠিত।
- তারা অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে অপারেশন পরিচালনা করত এবং বিভিন্ন স্থানে পাক বাহিনীর উপর অতর্কিত আক্রমণ চালাত।
- ক্র্যাক প্লাটুন ঢাকা শহরে ছোটো বড় মিলিয়ে মোট ৮২টি অপারেশন পরিচালনা করে।

ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন:
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথমপত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৭৯.
'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র' এর নাম পরিবর্তন করা হয় কবে?
  1. ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ
  2. ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর
  3. ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর
  4. ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র 
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- বস্ত্তত, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
- ১৯৭১-এর ৩০ মার্চ পাকিস্তান বিমান বাহিনী কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। ফলে এটি অচল হয়ে যায়।
- কেন্দ্রটি ৩ এপ্রিল ১৯৭১ সালে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বাগাফায় একটি শর্টওয়েভ ট্রান্সমিটারের সাহায্যে এর দ্বিতীয় পর্বের কাজ শুরু করে। 
- মে মাসের ২৫ তারিখ কেন্দ্রটি কলকাতায় স্থানান্তরিত হয় এবং একই দিনে সেখানে এটি তার কার্যক্রম শুরু করে। 
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’।
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো। এই ব্যঙ্গাত্মক সিরিজে তাকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রে চিত্রিত করা হয় এবং এই ভূমিকায় অভিনয় করেন রাজু আহমেদ।
- চরমপত্র সিরিজটি পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আবদুল মান্নান এবং স্থানীয় ঢাকাইয়া উপভাষায় এর স্ক্রিপ্ট তৈরি করেন এম.আর আখতার মুকুল, যিনি নিজেই এর উপস্থাপক ছিলেন। 
- ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অস্থায়ী সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর
- স্বাধীন দেশের বেতার কেন্দ্র হিসেবে এর নতুন নাম হয় ‘বাংলাদেশ বেতার’।
- বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসে এবং সেদিন থেকেই স্বাধীন দেশের রেডিও হিসেবে বাংলাদেশ বেতারের সম্প্রচার কাজ শুরু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।  
২,০৮০.
বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত বিদেশী মুক্তিযোদ্ধা ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. পোল্যান্ড
  3. কানাডা
  4. যুক্তরাজ্য
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রেলিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড:

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশি নাগরিক হিসেবে বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
- ওডারল্যান্ড ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২নং
সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ওডারল্যান্ড ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২,০৮১.
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের স্থপতি কে?
  1. ক) নিতুন কুন্ডু
  2. খ) হামিদ্দুজ্জামান
  3. গ) জাহানারা পারভীন
  4. ঘ) তানভির কবির
সঠিক উত্তর:
ঘ) তানভির কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তানভির কবির
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ বাঙালির স্বাধীনতা যুদ্ধ ও আত্মত্যাগের প্রতীক। ২০.১০ একর জমির উপর স্মৃতিসৌধটি স্থাপিত। ২৩টি কংক্রিটের ত্রিকোণাকার স্তম্ভ সমন্বয়ে এ স্মৃতিসৌধ নির্মিত। স্থপতি তানভীর কবিরের নকশায় এ সৌধটিকে উদীয়মান সূর্যের প্রতীক বলে মনে হয়। ২৩টি স্তম্ভ পাকিস্তানের ২৩ বছর শাসনের প্রতীক। এই ২৩ বছরে বাঙালি জাতি ধীরে ধীরে যে সংগ্রাম গড়ে তোলে, তার প্রতীকও ২৩টি স্তম্ভ। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
২,০৮২.
মুক্তিযুদ্ধের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন কে?
  1. ক) লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
  2. খ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার
  3. গ) লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
  4. ঘ) কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে।
- ঐদিন হানাদার বাহিনী তাদের শোচনীয় পরাজয় মেনে নিয়ে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী নিয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- আমরা লাভ করি প্রিয় মাতৃভূমি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
- আত্মসমৰ্পণ অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন যৌথবাহিনীর কমান্ডার লে.জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- আত্মসমৰ্পণ অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান সেনাপতি গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার। 
- রেসকোর্স ময়দানের খোলা আকাশের নিচে একটি টেবিলে বসে যৌথবাহিনীর পক্ষে লে. জেনারেল অরোরা এবং পরাজিত পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে লে. জেনারেল এ.এ.কে নিয়াজি আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- বন্দী করা হয় পাকিস্তানি বাহিনীর প্রায় ৯৩ হাজার সদস্যকে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
২,০৮৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘের কোন দেশ বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান করেছিল?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. চীন
  4. সোভিয়েত ইউনিয়ন
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান:
- ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান করেছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন।
- যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন তিন বার ই ভেটো দেয়।
- এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে।
- তার পাল্টা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২,০৮৪.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে কতজন নারীকে বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করা হয়েছে?
  1. ২ জন
  2. ৩ জন
  3. ৪ জন
  4. ৫ জন
সঠিক উত্তর:
২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

মহিলা বীরপ্রতীক:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২,০৮৫.
বাংলাদেশ সরকার বীরশ্রেষ্ঠদের নাম কবে ঘোষণা করে?
  1. ক) ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২
  2. খ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
  3. গ) ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩
  4. ঘ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭৩
সঠিক উত্তর:
গ) ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩
ব্যাখ্যা
• বীরশ্রেষ্ঠদের নাম ঘোষণা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পরই এই পদকগুলো দেয়া হয়।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ গেজেটের একটি অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পদক প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,০৮৬.
১৯৭১ সালের কত তারিখে বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী গঠিত হয়?
  1. ক) ১০ এপ্রিল
  2. খ) ১৮ এপ্রিল
  3. গ) ১১ জুলাই
  4. ঘ) ২১ নভেম্বর
সঠিক উত্তর:
গ) ১১ জুলাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১১ জুলাই
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর সরকার ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সহায়তায় সামরিক ও বেসামরিক জনগণের সমন্বয়ে ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুক্তিবাহিনী গঠন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ১২ এপ্রিল কর্নেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন একে খন্দকারকে মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ও উপপ্রধান সেনাপতি ঘোষণা করা হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- এই ১১ টি সেক্টরের সশস্ত্রবাহিনীকে সংগঠিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় ১১ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই।
- মুক্তিবাহিনীকে তিনটি বিগ্রেড ফোর্সে ভাগ করা হয় যা জেড ফোর্স, কে ফোর্স এবং এস ফোর্স নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, পঞ্চম শ্রেণি, প্রথম আলো পত্রিকা, বিবিসি নিউজ বাংলা, ও যুগান্তর পত্রিকা।
২,০৮৭.
মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শহীদ হন কে?
  1. ক) শম্ভু সরকার
  2. খ) সন্তু নাথ
  3. গ) নূর হোসেন
  4. ঘ) শঙ্কু সমজদার
সঠিক উত্তর:
ঘ) শঙ্কু সমজদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শঙ্কু সমজদার
ব্যাখ্যা
•  ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন শঙ্কু সমজদার।
• তাকে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
২,০৮৮.
মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন কে?
  1. ক) শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) এম এ জি ওসমানী
  4. ঘ) আব্দুর রব
সঠিক উত্তর:
গ) এম এ জি ওসমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এম এ জি ওসমানী
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন। মুক্তিবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ছিলেন লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,০৮৯.
মুক্তিযুদ্ধে রাঙামাটি কত নং সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) ১ নং
  2. খ) ২ নং
  3. গ) ৩ নং
  4. ঘ) ৪ নং
সঠিক উত্তর:
ক) ১ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১ নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর: 
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার (অধিনায়ক) নিয়োগ করা হয়।
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।
- সেক্টর নং ১
ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি এবং ফেনী পর্যন্ত ছিল ‘সেক্টর নং ১’। ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান এবং জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কমান্ডার ছিলেন মেজর রফিকুল ইসলাম। আর এই সেক্টরকে পাঁচটি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।
- সেক্টর নং ২
ঢাকা, কুমিল্লা, আখাউড়া–ভৈরব, নোয়াখালী ও ফরিদপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘সেক্টর নং ২’। এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেজর এটিএম হায়দার। এই সেক্টরে ৬টি সাব-সেক্টর ছিল।
- সেক্টর নং ৩
হবিগঞ্জ, আখাউড়া–ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ এবং কিশোরগঞ্জ এবং ঢাকার কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৩’ এর আওতায়। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর কেএম শফিউল্লাহ। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন মেজর এএনএম নুরুজ্জামান। আর এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৪
সিলেট জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘সেক্টর নং ৪’। এই সেক্টরেও ছিল ৬টি সাব-সেক্টর। মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর সিআর দত্ত (পরে মেজর জেনারেলা) এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব।
- সেক্টর নং ৫
বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ‘সেক্টর নং ৫‘ গঠিত হয় । মেজর মীর শওকত আলী ছিলেন সেক্টর কমান্ডার। এই সেক্টরকেও ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়ছিল।
- সেক্টর নং ৬
দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৬’। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এমকে বাশার। এই সেক্টরে ছিল ৫টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৭
রাজশাহী, পাবনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া, দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চল এবং রংপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৭’ এর অন্তর্ভুক্ত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তিনজন -মেজর নাজমুল হক, সুবেদার মেজর এ রব ও মেজর (পরে লে. কর্নেল) কাজী নুরুজ্জামান। এই সেক্টরে ছিল ৯টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৮
কুষ্টিয়া, যশোর, দৌলতপুর সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৮’ এর অন্তর্ভুক্ত। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর (পরে লে.কর্নেল) আবু ওসমান চৌধুরী ও আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেজর (পরে মেজর জেনারেল) এম এ মঞ্জুর। এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৯
পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৯’। ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম এ জলিল এবং তারপর মেজর জয়নাল আবেদীন। এছাড়াও অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন মেজর এম এ মঞ্জুর। এই সেক্টরে ছিল ৩টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ১০
সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নৌ কমান্ডো ও আভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন ছিল ‘সেক্টর নং ১০’ এর অধীনে। এ সেক্টরে নৌ কমান্ডোরা যখন যে সেক্টরে মিশনে নিয়োজিত থাকতেন, তখন সে সেক্টরের কমান্ডারের নির্দেশে কাজ করতেন। এই সেক্টরে কোনো সাব-সেক্টর ছিল না এবং ছিল না নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার। প্রধান সেনাপতির নিয়ন্ত্রণাধীন বিশেষ বাহিনী ছিল এটি।
- সেক্টর নং ১১
কিশোরগঞ্জ বাদে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ১১’। ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান । নভেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু তাহের ও তারপর ফ্লাইট লেফট্যান্যান্ট (পরে উইং কমান্ডার) এম হামিদুল্লাহ খান। এই সেক্টরকে ৭টি সাব-সেক্টর ভাগ করা হয়েছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, BBC
২,০৯০.
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানীর নাম কী?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) কুষ্টিয়া
  3. গ) মেহেরপুর
  4. ঘ) মুজিবনগর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুজিবনগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুজিবনগর
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর:

- মহান মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার তথা মুজিবনগর সরকার।
- এই সরকার ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর ছিল বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার নাম অনুসারে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর।
- এই সরকারও পরিচিতি লাভ করে মুজিবনগর সরকার নামে। এ সরকার গঠনের মাত্র ২ ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বিমান বাহিনী মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- পরে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তর করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৯১.
ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইটের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়-
  1. জেনারেল টিক্কা খান
  2. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  3. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  4. জেনারেল পিরজাদা
সঠিক উত্তর:
জেনারেল রাও ফরমান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা

- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইটের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়।

'অপারেশন সার্চলাইট':

- ১৮ই মার্চ টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চলাইট' বা বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করেন।
- ১৯শে মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্রীকরণ শুরু হয়।
- ২০শে মার্চ সরকার অস্ত্র জমা দেয়ার নির্দেশ জারি করে। ঐ দিন জেনারেল ইয়াহিয়া খান তার সামরিক উপদেষ্টা হামিদ খান, জেনারেল টিক্কা খান, জেনারেল পিরজাদা, জেনারেল ওমর প্রমুখকে নিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সামরিক প্রস্তুতিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন।
- ২৪শে মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে এম ভি সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র ও রসদ খালাস শুরু হয়।
- সব প্রস্তুতি শেষে ২৫শে মার্চ গণহত্যার জন্য বেছে নেওয়া হয়।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইটের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০৯২.
বাংলাদেশে প্রথম অস্থায়ী সরকার কখন শপথ গ্রহণ করে?
  1. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  2. ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ২৭ এপ্রিল, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়েছিল।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২,০৯৩.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী কে?
  1. ক) এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান
  2. খ) তাজউদ্দীন আহমদ
  3. গ) এম মনসুর আলী
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
খ) তাজউদ্দীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
স্বাধীন দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেন।
তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭২ সালের ৩০ জুন একই সঙ্গে ১৯৭১-৭২ ও ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছিলেন।
তাজউদ্দীন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট দিয়েছিলেন; সেই বাজেটের আকার ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা।
[উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক]
২,০৯৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মেজর জিয়াউর রহমান কত নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন?
  1. ২ নং সেক্টর
  2. ৫ নং সেক্টর
  3. ৩ নং সেক্টর
  4. ১ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

সেক্টর কমান্ডার:

• ১নং সেক্টর: সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
• ২ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
• ৩ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।
• ৪নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব।
• ৫ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।
• ৬ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।
• ৭ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।
• ৮ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।
• ৯ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।
• ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই সেক্টরের নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না।
• ১১নং সেক্টর:
- টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের।
- মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়।
- মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল এই সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,০৯৫.
৩ মার্চ ১৯৭১ সালে পল্টন ময়দানে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন-
  1. ক) আসম আব্দুর রব
  2. খ) তোফায়েল আহমেদ
  3. গ) শাহজাহান সিরাজ
  4. ঘ) নূরে আলম সিদ্দিকী
সঠিক উত্তর:
গ) শাহজাহান সিরাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শাহজাহান সিরাজ
ব্যাখ্যা

- ৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ।
- ঐদিনই বঙ্গবন্ধুকে 'জাতির জনক' উপাধি দেন ডাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব।

উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।

২,০৯৬.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখার জন্য কতজন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. ক) ১ জন
  2. খ) ২ জন
  3. গ) ৩ জন
  4. ঘ) ৪ জন
সঠিক উত্তর:
খ) ২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ জন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলা, ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবিকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
২,০৯৭.
বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কয়জন?
  1. ক) ৪২৬ জন
  2. খ) ৪২৪ জন
  3. গ) ৪২২ জন
  4. ঘ) ৪২৮ জন
সঠিক উত্তর:
খ) ৪২৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪২৪ জন
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন
- বীর উত্তম - ৬৮ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন

তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী]
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)

∴ বর্তমানে (২০২১) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
২,০৯৮.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কোন সালে গঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৯৮ সালে
  2. খ) ২০০০ সালে
  3. গ) ২০০১ সালে
  4. ঘ) ২০০২ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ২০০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২০০১ সালে
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়:

- ২০০১ সনের ২৩ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়।
- সর্বপ্রথম বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভবনে ৩ টি কক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরম্ভ হয়।
- মন্ত্রণালয়ের কাজের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত ও মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নির্বিঘ্নে সেবা প্রদানের সুবিধার্থে ২০০২ সালে বিআরটিবি ভবন,এলেনবাড়ী, তেজগাঁও-এ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় স্থানান্তরিত হয়।
- পরবর্তীতে কাজের কলেবর ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান ঠিকানা সচিবালয় লিংক রোড, ঢাকার সরকারি পরিবহন পুলভবনের ৬ষ্ঠ ও ৭ম তলায় গত ১০/১০/২০০৬ তারিখ হতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
২,০৯৯.
‘Concert for Bangladesh' কে আয়োজন করেন?
  1. জর্জ উইলিয়াম
  2. জর্জ হ্যারিসন
  3. জর্জ লেনন
  4. রাজার রয়টার্স
সঠিক উত্তর:
জর্জ হ্যারিসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ হ্যারিসন
ব্যাখ্যা
দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:

- মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি বন্ধুদের পাশে এসে দাঁড়ানোর অসাধারণ একটি উদ্যোগের নাম 'দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'।
- ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজন করা হয়েছিল সেই ঐতিহাসিক কনসার্টটি।
- ম্যনহাটনের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে হওয়া সেই কনসার্টের অন্যতম দুই উদ্যোক্তা ছিলেন ইংল্যান্ডের সাড়া জাগানো ব্যান্ড দল দ্য বিটলস ব্যান্ডখ্যাত পশ্চিমা সঙ্গীতের অগ্রগণ্য শিল্পী জর্জ হ্যারিসন ও ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর।
- মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য অংশ সেই কনসার্টের ৫০ বছর পূর্তিতে নিউইয়র্কে আয়োজন করা হয়েছে একটি উৎসবের।
- ৩১ জুলাই শনিবার বিকালে জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে 'ফ্রেন্ডস অব ফ্রিডম' নামে একটি সংগঠন এই উৎসবের আয়োজন করেছে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক যুগান্তর, ১৬ জুলাই ২০২১।
২,১০০.
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে 'হেমায়েত বাহিনী' কোন অঞ্চলে যুদ্ধ করে?
  1. বরিশাল
  2. সিরাজগঞ্জ
  3. পাবনা
  4. টাঙ্গাইল
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা

আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।