বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১)

মোট প্রশ্ন২,৫৩৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১)

PrepBank · পাতা / ২৬ · ১০১২০০ / ২,৫৩৩

১০১.
Two foreign nationals, among others, who played valiant roles for Bangladesh during the Liberation War of 1971, are -
  1. Andre Marty and William AS Ouderland
  2. Andre Malraux and William AS Ouderland
  3. Marshal Zukuv and Andre Gide
  4. James Hilton and SE Finer
সঠিক উত্তর:
Andre Malraux and William AS Ouderland
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Andre Malraux and William AS Ouderland
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে বিদেশি নাগরিকের অবদান:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ফরাসী ঔপন্যাসিক Andre Malraux ও অস্ট্রেলিয় নাগরিক William AS Ouderland বিশেষ অবদান রেখেছিলেন।

⇒ আন্দ্রে মালরাক্স:
- আন্দ্রে মালরাক্স বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভিনদেশী এক সহযোদ্ধা।
- ফ্রান্সের খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক ও লেখক।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির বিরুদ্ধে ফ্রান্সের প্রতিরোধ যোদ্ধা হিসেবেও অংশ নেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য আন্দ্রে মালরাক্স ফ্রান্সে সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।
- ফ্রান্স সরকারকে উদ্দেশ্য করে তাঁর আকুতি ছিল: আমাকে একটি যুদ্ধ বিমান দাও, আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য শেষ লড়াইটা করতে চাই।
- তাঁর এই আন্দোলন বক্তৃতা, বিবৃতি আন্তর্জাতিক প্রেরণা হয়ে সেসময় বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিল।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হলে, ১৯৭৩ সালে তাঁকে বাংলাদেশে এনে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

⇒ উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ড:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে 'বীরপ্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক ডব্লিও এ এস ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক, তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
- ১৯৭০ সালে তিনি বাটা সু কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশে আসেন।
- মুক্তিযুদ্ধে তিনি ২নং সেক্টরে কাজ করেন।
- তিনি গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ, আর্থিক সহায়তা এবং সকল সম্ভাব্য উপায়ে সাহায্য করতেন।
- দেশ স্বাধীন হলে ১৯৭৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরত যান।
- ওই বছরই বাংলাদেশ সরকার তাঁকে চতুর্থ সামরিক খেতাব 'বীরপ্রতীক' প্রদান করে।
- ১৮ মে, ২০০১ সালে তিনি মারা যান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১০২.
আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কবে জারি করা হয়?
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ৭ মার্চ, ১৯৭১
  4. ঘ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১০ এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র খসড়া প্রণয়ন ও আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এবং
- ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
[সূত্র : বাংলাপিডিয়া ]
১০৩.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী নারী মুক্তিযােদ্ধা কতজন?
  1. ক) ৫৭০ জন
  2. খ) ৪৫০ জন
  3. গ) ৩০৭ জন
  4. ঘ) ২০৩ জন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০৩ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০৩ জন
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নিয়েছেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রকৃত অর্থেই ছিল জনযুদ্ধ। নারী-পুরুষনির্বিশেষে সবাই–ই সর্বাত্মক এই যুদ্ধে শামিল হয়েছিল সমানভাবে।

- গত ১৮ নভেম্বর ২০১২ জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ২০৩ জন নারী অংশ নিয়েছিলেন ।
- পরিসংখ্যান অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি ২১ জন নারী ছিলেন দিনাজপুরের ।
- এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৫ , যশোর ও গোপালগঞ্জে ৯ , সুনামগঞ্জ ও পঞ্চগড়ে ৮ , সিলেট ও বরিশালে ৭ জন নারী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন ।
- এদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ৩ জন।

উৎস: ইনকিলাব রিপোর্ট
১০৪.
মেজর জেনারেল কে. এম. শফিউল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন?
  1. ৩নং
  2. ৪নং
  3. ৯নং
  4. ১১নং
সঠিক উত্তর:
৩নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩নং
ব্যাখ্যা

মেজর জেনারেল কে. এম. শফিউল্লাহ:
- মেজর জেনারেল কে. এম. সফিউল্লাহ মুক্তিযুদ্ধে ৩ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত হয়েছিলেন।
- কমান্ড: তিনি 'এস' ফোর্সেরও কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন।
- কে এম সফিউল্লাহর জন্ম ১৯৩৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে।
- তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত বাংলাদেশী জেনারেল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং সাবেক সংসদ সদস্য।

উল্লেখ্য,
- দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে, তার ব্যাটালিয়ন সহ, তিনি ছিলেন প্রথম বাঙালি অফিসার যিনি ১৯ মার্চ ১৯৭১ সালে বিদ্রোহ করেন এবং ৫৭ বিডিই কমান্ডার-ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ছিলেন।
- তিনি সিলেটের তেলিয়াপাড়ায় সদরদপ্তর ৩ সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হন।
- তিনি সরাসরি সক্রিয় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং অন্তত দুটি এই ধরনের যুদ্ধে নিশ্চিত মৃত্যু থেকে রক্ষা পান।
- সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে তিনি তিনজন ব্রিগেড কমান্ডারের একজন নিযুক্ত হন।
- তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় 'এস-ফোর্স'-এর কমান্ডার ছিলেন।
- কে. এম. সফিউল্লাহ ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসে দেশের প্রথম সেনাপ্রধান নিযুক্ত হন।
- তিনি ১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।
- ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) প্রথম আলো।

১০৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কয়টি সেক্টর বিভক্ত ছিল?
  1. ক) ৯
  2. খ) ১০
  3. গ) ১১
  4. ঘ) ১২
সঠিক উত্তর:
গ) ১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১১
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়। এই সেক্টরগুলোকে আবার ৬৪ টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়।
-  যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৬.
ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইটের গণহত্যার মূল দায়িত্ব কার ওপর দেওয়া হয়েছিল?
  1. মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
  2. লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান
  3. মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী
  4. লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ এ কে নিয়াজী
  5. ব্রিগেডিয়ার জাহানজেব আরবাব
সঠিক উত্তর:
মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা

অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।
- ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান অর্থাৎ মূল দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি।

১০৭.
শহীদ জিয়াউর রহমান কত তারিখে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন?
  1. ২৫ মার্চ, ১৯৭১
  2. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  3. ২৭ মার্চ, ১৯৭১
  4. ২৮ মার্চ, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
২৭ মার্চ, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৭ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা

কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র:
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার পর ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ও মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার সাহস জুগিয়েছিল। 

• মুক্তিযুদ্ধের ৩ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর কে এম সফিউল্লাহ (বীর উত্তম) তাঁর [Bangladesh at War, Academic Publishers, Dhaka, 1989] বইয়ের ৪৪-৪৫ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ‘মেজর জিয়া ২৫ মার্চের রাত্রিতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সদলবলে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তার কমান্ডিং অফিসার জানজুয়া ও অন্যদের প্রথমে গ্রেফতার এবং পরে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন । পরে ২৬ মার্চ তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর মোকাবিলার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান । এতে তিনি নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধান রূপে ঘোষণা করেন । ২৭ মার্চ মেজর জিয়া স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে আরেকটি ঘোষণায় বলেন, বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর সামরিক সর্বাধিনায়করূপে আমি মেজর জিয়া শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।’

• মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিক্লাসিফাই করা বাংলাদেশ সংক্রান্ত দলিলপত্রে বলা হয়েছে: On March 27 the clandestine radio announced the formation of a revolutionary army and a provisional government under the leadership of a Major Zia Khan.

• ভারত সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ বিষয়ক ইতিহাস প্রকাশিত হয়েছে ‘ভারত রক্ষক› শিরোনামীয় সাইটে। সেখানে ৯৩ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়া ২৬ তারিখে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং তিনি ‹বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রেসিডেন্টের (Temporary Head of Republic) দায়িত্বও গ্রহণ করেছেন।’

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- পাকিস্তান সরকারের প্রচারণার বিরুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রচারযুদ্ধে নেমে মুক্তিযুদ্ধের ‘দ্বিতীয় ফ্রন্ট’ হিসেবে কাজ করে।
- ২২ জুন ১৯৫৪ সালে কালুরঘাট, চট্টগ্রাম থেকে ১ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মধ্যম তরঙ্গ ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু করে।
- ১৯৬২ সালে কেন্দ্রের ট্রান্সমিটারের ক্ষমতা ১০ কিলোওয়াটে উন্নীত করা হয় এবং একই সাথে কালুরঘাট কেন্দ্রকে প্রেরণ কেন্দ্রে রূপান্তর ও আগ্রাবাদে নতুন প্রচার ভবন তৈরি করা হয়।
- ১৯৮৮ সালে কালুঘাট, চট্টগ্রাম কেন্দ্রটি ১০০ কিলোওয়াটে উন্নীত করা হয়। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ বেতার  চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান এবং ঢাকা ‘ক’ এর  জাতীয় অনুষ্ঠান  ও সংবাদ ৮৭৩ কিলোহার্জে  প্রচারিত হয়।
- উল্লেখ্য, কালুরঘাট প্রেরণ কেন্দ্র ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠের মধ্যদিয়ে ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র’ নামে খ্যাতি লাভ করে। মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ বেতার  কালুরঘাট কেন্দ্রের এ গৌরবময় অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০০৬ সালে বাংলাদেশ বেতারকে ‘স্বাধীনতা পদক’ প্রদান করে।

উৎস: i) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।
ii) চট্টগ্রাম জেলা ওয়েবসাইট।
iii) প্রথম আলো।
iv) দৈনিক ইনকিলাব।

১০৮.
বর্তমানে খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
  1. ৬৭১ জন
  2. ৬৭২ জন
  3. ৬৭৩ জন
  4. ৬৭৪ জন
সঠিক উত্তর:
৬৭২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭২ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১০৯.
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরকে কোথায় সমাহিত করা হয়?
  1. যশোর
  2. পঞ্চগড়
  3. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. সিলেট
সঠিক উত্তর:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে.
- ১৯৫৩ সালে পাতারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবনের সূচনা হয়।
- ১৯৬৪ সালে মুলাদি মাহমুদ জান পাইলট হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৬৬ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৩রা অক্টোবর ১৫তম শর্ট সার্ভিস কোর্সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
- ১৯৬৮ সালের ২রা জুন তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে কমিশন লাভ করেন।
- তিনি ৭নং সেক্টর-এর মহোদিপুর সাব-সেক্টরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন।
- তিনি অসামান্য বীরত্বের সাথে আরগরারহাট, কানসাট, শাহপুর এলাকায় যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং মুক্তাঞ্চল গঠন করেন।
- ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তার নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আক্রমণ করে।
- যুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে ১৪ ডিসেম্বর সকালে পাকিস্তানী বাহিনীর স্নাইপার বুলেটের আঘাতে তিনি শহীদ হন।
- পরদিন সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ চত্বরে সমাহিত করে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১১০.
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাবে ভেটো দানকারি দেশ হিসেবে নিচের কোনটি অধিক যুক্তিযুক্ত?
  1. ক) ভারত
  2. খ) চীন
  3. গ) সোভিয়েত ইউনিয়ন
  4. ঘ) ফ্রান্স
সঠিক উত্তর:
গ) সোভিয়েত ইউনিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনলে সোভিয়েত ইউনিয়ন তিন তিনবার ভেটো দেয়। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করলে তার পাল্টা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়। [সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা]
১১১.
অস্থায়ী প্রবাসী সরকারের সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. ক) মাওলানা ভাসানী
  2. খ) কমরেড মনি সিং
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) তাজউদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) তাজউদ্দিন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন - তাজউদ্দিন আহমেদ

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)
- মনিসিংহ (কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণীর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই (উন্মুক্ত)
১১২.
মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ২ নং সেক্টরে
  2. ৬ নং সেক্টরে
  3. ৮ নং সেক্টরে
  4. ১১ নং সেক্টরে
সঠিক উত্তর:
১১ নং সেক্টরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ নং সেক্টরে
ব্যাখ্যা
• তারামন বিবি:
- বাংলাদেশের দুইজন বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি।
- তারামন বিবির আসল নাম ছিল তারাবানু।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- তিনি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু তাহের (বীর উত্তম)।
- মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে।
- মৃত্যুবরণ করেন - ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর।

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার।
১১৩.
নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয় কত তারিখ?
  1. ১ আগস্ট, ১৯৭১
  2. ৭ আগস্ট, ১৯৭১
  3. ১৪ আগস্ট, ১৯৭১
  4. ২৯ আগস্ট, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
১ আগস্ট, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ আগস্ট, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি বন্ধুদের পাশে এসে দাঁড়ানোর অসাধারণ একটি উদ্যোগের নাম 'দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'।
- ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজন করা হয়েছিল সেই ঐতিহাসিক কনসার্টটি।
- ম্যনহাটনের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে হওয়া সেই কনসার্টের অন্যতম দুই উদ্যোক্তা ছিলেন ইংল্যান্ডের সাড়া জাগানো ব্যান্ড দল দ্য বিটলস ব্যান্ডখ্যাত পশ্চিমা সঙ্গীতের অগ্রগণ্য শিল্পী জর্জ হ্যারিসন ও ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর।
- মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য অংশ সেই কনসার্টের ৫০ বছর পূর্তিতে নিউইয়র্কে আয়োজন করা হয়েছে একটি উৎসবের।
- ৩১ জুলাই শনিবার বিকালে জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে 'ফ্রেন্ডস অব ফ্রিডম' নামে একটি সংগঠন এই উৎসবের আয়োজন করেছে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক যুগান্তর, ১৬ জুলাই ২০২১।
১১৪.
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকার কোথায় আত্মসমর্পণ করে?
  1. রমনা পার্কে
  2. পল্টন ময়দানে
  3. তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে
  4. ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে
সঠিক উত্তর:
তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে
ব্যাখ্যা
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান:
• ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।  
• রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের পক্ষে আত্মসমর্পণ করেন জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী।
• আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ৯৩ হাজার সৈন্য উপস্থিত ছিলেন।
• যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
• আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার। 
• ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে ঢাকায় আগত কাদের সিদ্দিকীও ঐ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৫.
‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ ভাস্কর্যটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা সেনানিবাসে
  2. চট্টগ্রাম সেনানিবাসে
  3. কুমিল্লা সেনানিবাসে
  4. যশোর সেনানিবাসে
সঠিক উত্তর:
ঢাকা সেনানিবাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা সেনানিবাসে
ব্যাখ্যা
সাত বীরশ্রেষ্ঠের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য:
- ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ ভাস্কর্যটি ঢাকা সেনানিবাসের মাটিকাটা মিলিটারি পুলিশ চেকপোস্ট এলাকায় অবস্থিত।
- সাত বীরশ্রেষ্ঠের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’।
- এর উদ্বোধন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।
- ১২ নভেম্বর ২০২৩ সালে ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করা হয়।
- ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ ভাস্কর্যটিতে ‘অর্ধবৃত্তাকার প্রাচীরে’ সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে তুলে ধরা হয়েছে।
- ভাস্কর্যের সামনে ‘ফোয়ারা’ নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।
- ফোয়ারা থেকে প্রাচীর পর্যন্ত সংযুক্ত রেখাগুলো ‘সূর্যরশ্মির প্রতীক’, যা দিয়ে বোঝানো হয়েছে যে বীরশ্রেষ্ঠরা জাতির সূর্যসন্তান এবং তাঁরা সূর্যরশ্মির মতো দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আলোর দিশারি ও অনবদ্য অনুপ্রেরণার উৎস।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ১৩ নভেম্বর, ২০২৩।
১১৬.
বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের কয়টি মন্ত্রণালয় ছিল?
  1. ১২টি
  2. ১৩টি
  3. ১৪টি
  4. ১৫টি
সঠিক উত্তর:
১২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২টি
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- এই সরকার প্রবাসী সরকার নামে পরিচিত ছিল।
- এই সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।

⇒ সরকারকে নীতি নির্ধারণী পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ৯ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা হয়।
- বাংলাদেশের এই অস্থায়ী সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয়।
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।
- চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব।

উল্লেখ্য,
- শুধু মন্ত্রণালয় বললে ১২টি কিন্তু বিভাগ ও মন্ত্রণালয় বললে ১৫টি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৭.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে মোট কয়জনকে বীরবিক্রম উপাধি দেয়া হয়?
  1. ১৭৪ জন
  2. ১৭৫ জন
  3. ১৭৬ জন
  4. ১৭৭ জন
সঠিক উত্তর:
১৭৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৫ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১১৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কয়টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা:
- ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক, বেসামরিক জনগণকে নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
- ১০ই এপ্রিল সরকার ৪টি সামরিক জোনে বাংলাদেশকে ভাগ করে ৪ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করে।
- ১১ই এপ্রিল তা পুনর্গঠিত করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- এ ছাড়া বেশ কিছু সাব-সেক্টর এবং তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়।
- এসব সেক্টরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সেনা কর্মকর্তা, সেনাসদস্য, পুলিশ, ইপিআর, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যগণ যোগদান করেন।
- প্রতিটি সেক্টরেই নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল।
- এরা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল।
- এসব বাহিনীতে দেশের ছাত্র, যুবক, নারী, কৃষক, রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল।
- ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ শেষে যোদ্ধাগণ দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাকিস্তানি সামরিক ছাউনি বা আস্তানায় হামলা চালায়।
- মুক্তিযুদ্ধে সরকারের অধীন বিভিন্ন বাহিনী ছাড়াও বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রিগেড ফোর্স ছিল কয়টি?
  1. ক) তিনটি
  2. খ) চারটি
  3. গ) পাঁচটি
  4. ঘ) সাতটি
সঠিক উত্তর:
ক) তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তিনটি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রিগেড ফোর্স ছিল তিনটি। যথা: জেড ফোর্স, এস ফোর্স, কে ফোর্স।

• কে ফোর্স:

- সর্বাধিনায়ক ছিলেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন- তাজউদ্দীন আহমদ।
- প্রধান সেনাপতি ছিলেন- কর্নেল (জেনারেল) মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী।
- অধিনায়ক ছিলেন- মেজর (পরে মে. জেনারেল) খালেদ মোশাররফ, বীর উত্তম।

তথ্যসূত্র: চিরন্তন ১৯৭১, প্রথম আলো।
১২০.
কে 'অপারেশন সার্চলাইট' এর নীলনকশা তৈরি করেন?
  1. ক) মো: আলী জিন্নাহ
  2. খ) ইয়াহিয়া
  3. গ) ভুট্রো
  4. ঘ) টিক্কা খান
সঠিক উত্তর:
ঘ) টিক্কা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে যে অভিযানের মাধ্যমে গণহত্যা চালায় তা অপারেশন সার্চলাইট নামে পরিচিত। এর নীল নকশা প্রস্তুত করেন জেনারেল টিক্কা খান এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী।
ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চ লাইট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলো রাও ফরমান আলী। ২৫শে মার্চ রাতে পাকহানাদার বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালায়।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী
১২১.
মেজর এটিএম হায়দার মুক্তিযুদ্ধে কয় নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন?
  1. ক) ৮ নং সেক্টর
  2. খ) ৭ নং সেক্টর
  3. গ) ২ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৫ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
গ) ২ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে মোট ১১ টি সেক্টরে ও ৬৪ টি সা-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- মেজর খালেদ মোশাররফ ও মেজর এটিএম হায়দার ছিলেন ২ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার।

অন্যদিকে--
- মুক্তিযুুদ্ধে ৮ নং সেক্টরে সেক্টর কামান্ডার ছিলেন - মেজর আবু ওসমান ও এম এ মঞ্জর।
- মেজর নাজমুল হক ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান ছিলেন ৭ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার।
- মেজর মীর শওকত আলী  ছিলেন ৫ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার।

 তথ্যসূত্র:  ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২২.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির আহবায়ক ছিলেন কে?
  1. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. তাজউদ্দীন আহমেদ
  3. মোজাফফর আহমদ
  4. এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দীন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দীন আহমেদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন:

- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
• অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
• মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
• মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৩.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে কতজন নারীকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৪ জন
সঠিক উত্তর:
২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

মহিলা বীরপ্রতীক:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন নারীকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১২৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন অঞ্চলে আফসার বাহিনী গঠিত হয়?
  1. কুমিল্লা
  2. বরিশাল
  3. ফরিদপুর
  4. ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

মুক্তিবাহিনী:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় যে বাহিনীটা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সেটাকেই মুক্তিবাহিনী বলে।
- এটার কয়েকটা ভাগ ছিল।
- যেমন: একটা ভাগে ছিল সেনাবাহিনী, ইপিআর, পুলিশ, আনসার আর আরেকটা অংশে ছিল ছাত্র-জনতা।
- সবাইকে মিলিয়ে বলা হতো মুক্তিবাহিনী।
- মুক্তি বাহিনীর কয়েকটি অংশের একটি ছিল ‘মুজিব বাহিনী’।
- আওয়ামী লীগের চার যুবনেতার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বিএলএফ বা বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্সই পরে এই নামে পরিচিতি পায়।

⇒ বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও অনেকে গেরিলা বাহিনী গঠন করেন।
- ময়মনসিংহের আফসার বাহিনী।
- যেমন টাঙ্গাইলের কাদের সিদ্দিকীর কাদেরিয়া বাহিনী।
- সিরাজগঞ্জে রফিক মির্জা বাহিনী।
- ফরিদপুরের হেমায়েত বাহিনী।
- ঝিনাইদহের আকবর বাহিনী।
- বরিশালের কুদ্দুস বাহিনী।
- ভারতের বাহিনীর মেজর জেনারেল ওবানের অধীনে বঙ্গবন্ধুর নামে ‘মুজিব বাহিনী’ নামে একটি বাহিনী গঠিত হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বিবিসি বাংলা।

১২৫.
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের ধ্বংসযজ্ঞকে গণহত্যা অভিহিত করে ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ নামে বার্তা পাঠান কে?
  1. হেনরি কিসিঞ্জার
  2. আর্চার কে. ব্লাড
  3. গ্যারি জে. ব্যাস
  4. সায়মন ড্রিং
সঠিক উত্তর:
আর্চার কে. ব্লাড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্চার কে. ব্লাড
ব্যাখ্যা

ব্লাড টেলিগ্রাম:
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের ধ্বংসযজ্ঞকে গণহত্যা অভিহিত করে ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ নামে বার্তাটি পাঠান তৎকালীন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাড।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের সেই ভয়াল রাত- যখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে ঢাকার বুকে এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়।
- আর্চার কে. ব্লাড ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের ধ্বংসযজ্ঞকে সরাসরি গণহত্যা বলে অভিহিত করে ৬ এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখে ওয়াশিংটনে যেই তারবার্তা পাঠান সেটি ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ নামে খ্যাত।
- আর্চার কেন্ট ব্লাডসহ ২০ জন কর্মকর্তার স্বাক্ষরকৃত এ টেলিগ্রামকে ঐতিহাসিকভাবে ‘দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম’ নামকরণ করা হয়। 

⇒ ১৯৭১ সালে আর্চার কে ব্লাড ছিলেন ঢাকায় মার্কিন কনসাল জেনারেল।
- বাংলাদেশ থেকে আর্চার ব্লাড যেসব তারবার্তা পাঠান তা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় অবস্থানের বিরোধী। 
- উল্লেখ্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন রিচার্ড নিক্সন ও হেনরি কিসিঞ্জার ছিলেন নিক্সন সরকারের নিরাপত্তা বিষয়ক উওদেশটা।
- নিক্সন-কিসিঞ্জার জুটি বাংলাদেশের যুদ্ধের বর্বর গণহত্যার বিষয়টিকে নীরবে সমর্থন দিয়ে এলেন।
- এমনকি আর্চার কে. ব্লাড যখন ওয়াশিংটনে তারবার্তা পাঠান তখন বাংলাদেশে গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ব্লাডকে তার ঢাকা অফিস থেকে অব্যাহতি দিয়ে ওয়াশিংটনে স্থানান্তর করা হয়।
- নিজেদের জাতীয় স্বার্থে মানবতাকে প্রকারান্তরে বুড়ো আঙুল দেখান কিসিঞ্জার-নিক্সন জুটি।

উল্লেখ্য,
- মার্কিন সাংবাদিক ও ইতিহাসবিদ গ্যারি জে. ব্যাস (Gary J. Bass) আর্চার কে. ব্লাডের সেই বিখ্যাত 'ব্লাড টেলিগ্রাম' এবং ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বই লিখেছেন, যার নাম 'দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার অ্যান্ড আ ফরগোটেন জেনোসাইড'। 
- এই বইয়ে তিনি আর্চার ব্লাডের সাহসী পদক্ষেপ এবং Nixon-Kissinger প্রশাসনের ভূমিকার বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।
- বইটি বেশ কয়েকটি আন্তরজারতিক পুরস্কার পেয়েছে। তার একটি পুলিতজার পুরস্কার।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) সংগ্রামের নোটবুক।

১২৬.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখার জন্য কতজন নারীকে 'বীরপ্রতীক' উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. ২ জন
  2. ৩ জন
  3. ৪ জন
  4. ৭ জন
সঠিক উত্তর:
২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব: বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন;
- ২য় সর্বোচ্চ খেতাব: বীরউত্তম : ৬৮ জন;
- ৩য় সর্বোচ্চ খেতাব: বীরবিক্রম : ১৭৫ জন;
- ৪র্থ সর্বোচ্চ খেতাব: বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন নারীকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

তাছাড়া,
- ৬ জুন, ২০২১ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে। স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে-
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন;
- বীর উত্তম: ৬৭ জন;
- বীরবিক্রম : ১৭৪ জন;
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১২৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে কতটি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ১০টি
  2. খ) ১১টি
  3. গ) ১৭টি
  4. ঘ) ১৮টি
সঠিক উত্তর:
খ) ১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১১টি
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০-১৭ জুলাই কলকাতায় তাজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যুদ্ধাঞ্চলের অধিনায়কদের সম্মেলনে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

- প্রত্যেক সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। ১১টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।

এগারোটি সেক্টর হলো:

১ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা।
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর জিয়াউর রহমান এবং মেজর রফিকুল ইসলাম।

২ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশবিশেষ।
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর খালেদ মোশাররফ এবং মেজর এ.টি.এম হায়দার।

৩ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা।
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

৪ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা।
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত।

৫ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা।
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর মীর শওকত আলী।

৬ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা।
- সেক্টর কমান্ডার : উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

৭ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ।
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর নাজমুল হক এবং সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

৮ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা।
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং মেজর এম.এ মঞ্জুর।

৯ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ।
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর এম. এ জলিল এবং মেজর এম. এ মঞ্জুর।

১০ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : সমুদ্র ও নৌ অঞ্চল।
- সেক্টর কমান্ডার : নিয়মিত কোন সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।

১১ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা।
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর এম. আবু তাহের এবং স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১২৮.
Which diplomat first expressed loyalty to Bangladesh in 1971?
  1. ASM Shamsul Arefin
  2. Muntasir Mamun
  3. K. M. Shihabuddin
  4. Syed Anwar Hossain
  5. ATM Haider
সঠিক উত্তর:
K. M. Shihabuddin
উত্তর
সঠিক উত্তর:
K. M. Shihabuddin
ব্যাখ্যা
প্রথম কূটনৈতিক বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ:
- ১৯৭১ সালের ৬ এপ্রিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অসাধারণ ঘটনার জন্ম দিয়েছিলেন তৎকালীন দু’জন তরুন বাঙালি কুটনীতিক।
- নয়াদিল্লিস্থ পাকিস্তান হাই কমিশনের সেকেন্ড সেত্রেটারি কে. এম. শিহাবুদ্দিন এবং এসিস্টেন্ট প্রেস এটাচী আমজাদুল হক।
- তাঁরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে সর্বপ্রথম কূটনীতিকের পদ ছেড়ে দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেন।

⇒ মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হওয়ার পূবের্ই কে. এম. শিহাবুদ্দিন ও আমজাদুল হকের নয়াদিল্লিতে এক প্রেস কনফারেন্স করে কূটনীতিকের পদ ছেড়ে দেন এবং পাকিস্তান সরকারের অন্যায় অত্যাচারের তীব্র নিন্দা জানান।
- তাঁদের অনুসরণ করে সে সময় ১৯টি দূতাবাসের ১১৫ জন বাঙালি কূটনীতিক বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগরে গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকারের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল সরকার গঠনের একদিন পর কলকাতার পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ হোসেন আলী এবং সব বাঙালি কূটনীতিক ও স্টাফ একযোগে বাংলাদেশের পক্ষে আনুগত্য জানান।
- 'পাকিস্তান ডেপুটি হাইকমিশন' নামফলক নামিয়ে ফেলা হয়।
- সেখানে 'বাঙলা দেশ কূটনৈতিক মিশন' নামফলক লাগিয়ে দেওয়া হয়।
- মিশনের ছাদে ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ হোসেন আলীর নেতৃত্বে ওড়ানো হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।
- এর মাধ্যমে প্রথমবারের মত আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়তে শুরু করে।

উৎস: i) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।
১২৯.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘তেলিয়াপাড়া রণকৌশল’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল নিচের কোন জেলায়?
  1. সুনামগঞ্জ
  2. হবিগঞ্জ
  3. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  4. ফেনী
সঠিক উত্তর:
হবিগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা

• তেলিয়াপাড়া রণকৌশল:
- তেলিয়াপাড়া বাংলোয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- মুজিবনগর সরকার গঠনের পূর্বে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তৎকালীন সিলেট জেলার (বর্তমান হবিগঞ্জ জেলা) তেলিয়াপাড়ায় এক চা বাগানের ব্যবস্থাপকের বাংলোতে কর্নেল ওসমানীর নেতৃত্বে ২৭ জন সেনা কর্মকর্তা, আনসার, পুলিশ, সিএসপি অফিসার এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের নিয়ে যে যুদ্ধ কৌশল প্রস্তুত করা হয়েছিল, সেটি 'তেলিয়াপাড়া রণকৌশল' নামে পরিচিত।
- পরে এটি তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি নামে পরিচিত হয়।
- বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এম এ জি ওসমানী যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশকে চারটি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে।
- ১২-১৭ জুলাই কলকাতায় মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ সম্মেলন হয়, সেখানেই তিনটি নিয়মিত বাহিনী তৈরি এবং বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।

⇒ এই ৪টি অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলেন:
ক) চট্টগ্রাম অঞ্চল: মেজর জিয়াউর রহমান,
খ) কুমিল্লা অঞ্চল: মেজর খালেদ মোশাররফ,
গ) সিলেট অঞ্চল: মেজর কে এম সফিউল্লাহ,
ঘ) দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চল: মেজর আবু ওসমান চৌধুরী।

উল্লেখ্য,
- পরবর্তীতে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলকে বিভক্ত করে রাজশাহী অঞ্চলে মেজর নাজমুল হক,
- দিনাজপুর অঞ্চলে মেজর নওয়াজেস উদ্দিন এবং খুলনা অঞ্চলে মেজর জলিলকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
- ৭ই জুলাই ১৯৭১ যুদ্ধের কৌশলগত কারণে সরকার নিয়মিত পদাতিক ব্রিগেড গঠনের পরিকল্পনায় 'জেড ফোর্স' ব্রিগেড গঠন করেন।
- এই জেড ফোর্সের অধিনায়ক হলেন লেঃ কর্নেল জিয়াউর রহমান।
- একই ভাবে সেপ্টেম্বর মাসে 'এস ফোর্স' এবং ১৪ই অক্টোবর 'কে ফোর্স' গঠন করা হয়।
- কে ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল খালেদ মোশাররফ।
- এস ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল কে. এম. সফিউল্লাহ।

তথ্যসূত্র:  জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বিবিসি বাংলা।

১৩০.
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ‘কে ফোর্স’ এর নেতৃত্বে ছিলেন -
  1. খাদেমুল বাশার
  2. খালেদ মোশাররফ
  3. আব্দুল খালেক
  4. খালিদ আহসান
সঠিক উত্তর:
খালেদ মোশাররফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খালেদ মোশাররফ
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
• জেড ফোর্স,
• কে ফোর্স,
• এস ফোর্স।

⇒ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

⇒ কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

⇒ খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩১.
মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) খন্দকার মোশতাক আহমদ
  2. খ) তাজউদ্দীন আহমেদ
  3. গ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  4. ঘ) সৈয়দ নজ্রুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। উপ রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ। স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রী ছিলেন এএইচএম কামরুজ্জামান। অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী। খন্দকার মুশতাক আহমেদ ছিলেন পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩২.
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে গঠিত “সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি” এর সদস্য ছিলেন না-
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) মনিসিংহ
  3. গ) মনোরঞ্জন ধর
  4. ঘ) অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমেদ।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)
- মনিসিংহ (কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি বা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। 

উৎস:- নবম - দশম শ্রেণির বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৩.
মুক্তিযুদ্ধকালীন জেড ফোর্সের নেতৃত্বে ছিলেন কে?
  1. রফিকুল ইসলাম
  2. জিয়াউর রহমান
  3. জাহিদুল আলম
  4. খালেদ মোশাররফ
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা

ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
• জেড ফোর্স,
• কে ফোর্স,
• এস ফোর্স।

⇒ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

⇒ কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

⇒ খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৪.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ৮ টি
  2. খ) ১২ টি
  3. গ) ১১ টি
  4. ঘ) ১০ টি
সঠিক উত্তর:
গ) ১১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১১ টি
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল - ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)। ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
চট্টগ্রাম - ১নং সেক্টর,
ঢাকা - ২ নং সেক্টর,
রাজশাহী - ৭ নং সেক্টর,
মুজিবনগর - ৮ নং সেক্টর,
সুন্দরবন - ৯ নং সেক্টর।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

১৩৫.
মুজিবনগর সরকারের কতটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ছিল?
  1. ৫টি
  2. ৯টি
  3. ১১টি
  4. ১৫টি
সঠিক উত্তর:
১৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫টি
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- সরকারকে নীতি নির্ধারণী পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ৮ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা হয়।
- মুজিবনগর সরকারকে ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ভাগ করা হয়।। 
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৬.
Which is the third highest gallantry award in Bangladesh?
  1. Bir Protik
  2. Bir Bikram
  3. Bir Sreshtha
  4. Bir Uttam
  5. None
সঠিক উত্তর:
Bir Bikram
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bir Bikram
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব বীর বিক্রম।

খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
 
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য  ৬৭৬ জনকে খেতাব প্রদান করা হয়।
যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন।
 
উল্লেখ্য,
-  ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৭ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৪ জন,
• বীর প্রতীক ৪২৪ জন।
 
উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
         ii) ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
 
১৩৭.
বাংলাদেশে প্রথম অস্থায়ী সরকার কখন গঠিত হয়?
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  4. ঘ) ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়েছিল।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- যা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৩৮.
বাঙালির প্রতিবাদী মনোভাব ও মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াকু চেতনার মূর্ত প্রতীক কোনটি?
  1. ক) জাতীয় স্মৃতিসৌধ
  2. খ) মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ
  3. গ) অপরাজেয় বাংলা
  4. ঘ) বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ
সঠিক উত্তর:
গ) অপরাজেয় বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপরাজেয় বাংলা
ব্যাখ্যা
অপরাজেয় বাংলা
- বাঙালির প্রতিবাদী মনোভাব ও মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াকু চেতনার মূর্ত প্রতীক অপরাজেয় বাংলা। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন চত্ত্বরে ৬ ফুট উঁচু বেদির ওপর নির্মিত। মূল ভাস্কর্যের উচ্চতা ১২ ফুট, প্রস্থ ৮ ফুট ও ব্যাস ৬ ফুট। 
- বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি সংগ্রামে ছাত্রদের গৌরবময় ত্যাগকে স্মরণীয় করার জন্য অপরাজেয় বাংলা নির্মাণ করা হয়। 
- মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ এটি নির্মাণ করেন।
- ১৯৭৩-১৯৭৯ সাল পর্যন্ত এই ভাস্কর্যের নির্মাণকাজ চলে।
- এই ভাস্কর্যে অসম সাহসী তিনজন তরণ-তরুণি মুক্তিযোদ্ধার অবয়ব অপূর্ব দক্ষতায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 
- দুইজন তরুণ রাইফেল হাতে শত্রুর মোকাবেলায় দৃড়প্রতিজ্ঞ আর ঔষধের ব্যাগ কাঁদে তরুণি মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায় নিবেদিত প্রাণ।
- অপরাজেয় বাংলা বাংলাদেশের ছাত্র-সমাজের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
- বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্র-সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
১৩৯.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কে?
  1. আবুল মনসুর আহমেদ
  2. শাহজাহান সিরাজ
  3. এম. ইউসুফ আলী
  4. আবদুল মান্নান
সঠিক উত্তর:
এম. ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। এই অনুষ্ঠানে অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- এর আগে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ১৮ এপ্রিল এই সরকারের সদস্যদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১৪০.
১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় সুইডেনের স্টকহোমে বাংলাদেশ মিশনের প্রতিনিধিত্ব করেন -
  1. হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী
  2. এম আর সিদ্দিকী
  3. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. আবদুর রাজ্জাক
সঠিক উত্তর:
আবদুর রাজ্জাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুর রাজ্জাক
ব্যাখ্যা
দেশের বাহিরে মুজিবনগর সরকারের মিশন:

• পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়  যুদ্ধের সময় বিদেশের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশের মিশন স্থাপন করে।
• বহির্বিশ্বের সরকার ও জনগণের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে মিশনের প্রতিনিধিদল। 
• কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, স্টকহোম প্রভৃতি স্থানে কূটনৈতিক মিশন স্থাপন করা হয়। 
• জাতিসংঘ, আফগানিস্তান, সিরিয়া-লেবানন, নেপাল, শ্রীলংকা, বার্মা, থাইল্যান্ড, জাপান প্রভৃতি দেশের সমর্থন আদায়ের জন্য কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল প্রেরণ করে।

• বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর প্রধান ছিলেন- 
- কলকাতায় হোসেন আলী,
- দিল্লিতে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, 
- ওয়াশিংটনে এম আর সিদ্দিকী,
- স্টকহোমে আবদুর রাজ্জাক, 
• ইউরোপে বিশেষ প্রতিনিধি ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
- তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টি ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন। 
• উল্লেখ্য, বিদেশে কলকাতাতে প্রথম বাংলাদেশ মিশন স্থাপন করা হয়েছিল। 
• মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে ছিল। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪১.
স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ গঠনের সাথে জড়িত ব্যাক্তি নয় কে?
  1. সিরাজুল আলম খান
  2. মাওলানা ভাসানী
  3. আবদুর রাজ্জাক
  4. কাজী আরেফ আহমেদ
সঠিক উত্তর:
মাওলানা ভাসানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাওলানা ভাসানী
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ:
- পাকিস্তানের কাঠামোয় বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশ ঘটা অসম্ভব বিবেচনা করে তৎকালীন ছাত্র সমাজের নেতৃস্থানীয় কয়েকজন ১৯৬২ সালে গোপনে ছাত্রদের সংগঠিত করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ এই ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব দেন জনাব সিরাজুল আলম খান, জনাব আবদুর রাজ্জাক এবং কাজী আরেফ আহমেদ।
- এই সংগঠন 'স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ' নামে পরিচিত ছিল।

উল্লেখ্য,
- পূর্বপাকিস্তান ছাত্রলীগের মধ্যে সুস্পষ্ট দু’টি ধারা বিদ্যমান ছিল।
- একটি ছিল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে নিজস্ব রাজনীতির ধারা এবং অপর অংশের ঝোঁক ছিল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রতি।
- সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী নিজস্ব রাজনীতির ধারার তিনজন ছাত্রনেতা ১৯৬২ সালে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে গোপন সংগঠন ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ গঠন করেন।
- তিন সদস্যের এই ক্ষুদ্র সত্তা পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের ‘নিউক্লিয়াস’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
১৪২.
ক্র্যাক প্লাটুন কী?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা সংগঠন
  2. খ) স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল
  3. গ) আকাশ বাণী থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠান
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধত্তোর অস্ত্র উদ্ধার অভিযান
সঠিক উত্তর:
ক) মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা সংগঠন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা সংগঠন
ব্যাখ্যা
ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বযে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন। ২নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর খালেদ মোশারফ এই বাহিনী গড়ে তুলেন। ১৯৭১ সালের জুনে ভারতের মেঘালয়ের মেলাঘর ক্যাম্প থেকে প্রথমে ১৭ জন গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে ক্র্যাক প্লাটুনের যাত্রা শুরু করে। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ আজাদ, শহিদ আবু বকর, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ ক্র্যাক প্লাটুনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
(সূত্র: রোর বাংলা)
১৪৩.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য 'বীরপ্রতীক' উপাধি লাভ করেন কত জন?
  1. ক) ৭ জন
  2. খ) ৬৮ জন
  3. গ) ১৭৫ জন
  4. ঘ) ৪২৬ জন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪২৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪২৬ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

==================
উল্লেখ্য,
- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম)
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)।

অর্থ্যাৎ, স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে।
এর মধ্য,
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন
- বীর উত্তম: ৬৭ জন
- বীরবিক্রম : ১৭৪ জন
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন

(তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো)
১৪৪.
মুজিবনগর সরকারের অর্থনীতি বিষয়ক ও শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন-
  1. ক) এম মনসুর আলী
  2. খ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  3. গ) তাজউদ্দীন আহমদ
  4. ঘ) খন্দকার মোশতাক আহমদ
সঠিক উত্তর:
গ) তাজউদ্দীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকারের অর্থনীতি বিষয়ক ও শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন- তাজউদ্দীন আহমদ। 

মুজিবনগর সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ: 
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- রাষ্ট্রপতি।
• সৈয়দ নজরুল ইসলাম- উপরাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত)। 
• তাজউদ্দীন আহমদ- প্রধানমন্ত্রীএবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। 
• খন্দকার মোশতাক আহমদ- মন্ত্রী, পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 
• এম মনসুর আলী- মন্ত্রী, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
• এ এইচ এম কামরুজ্জামান- মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
১৪৫.
মুজিবনগর সরকার কত তারিখে শপথ গ্রহণ করে?
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ২৭ মার্চ, ১৯৭১
  4. ঘ) ১ ডিসেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার
• ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
• এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
• মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
• এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামারুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : তৃতীয় খণ্ড।
১৪৬.
শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ কোথায় নির্মাণ করা হয়?
  1. সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে
  2. ঢাকার সাভারে
  3. রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে
  4. ঢাকার মিরপুরে
সঠিক উত্তর:
ঢাকার মিরপুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকার মিরপুরে
ব্যাখ্যা
শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ:
- বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সময় অগণিত বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়।
- পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে মানবতাবিরোধী এই বর্বর কাজে সহায়তা করেছে রাজাকার ও আলবদর বাহিনী।
- পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী চূড়ান্ত পরাজয়ের দুই দিন পূর্বে ১৪ই ডিসেম্বর অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে।
- তাঁদের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য ঢাকার মিরপুরে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।
- এর স্থপতি ছিলেন মোস্তফা আলী কুদ্দুস।
- ১৯৭২ সালে এই স্মৃতিসৌধের নির্মাণকাজ শেষ হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ড গঠিত হয় কোন সেক্টর নিয়ে?
  1. ক) ৮ নং সেক্টর
  2. খ) ৯ নং সেক্টর
  3. গ) ১০ নং সেক্টর
  4. ঘ) ১১ নং সেক্টর 
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• সেক্টর:
 - সমগ্র বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- তন্মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ সকল নৌ চলাচল, বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চল নিয়ে গঠিত হয়েছিল ১০ নং সেক্টর বা নৌ সেক্টর। এ সেক্টরের কোন নির্দিষ্ট সেক্টর কমান্ডার ছিল না। । এ সেক্টর গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত তৎকালীন পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি কর্মকর্তা।
- কিশোরগঞ্জ বাদে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ১১’। 
- এপ্রিল থেকে ৩ই নভেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম আবু তাহের ও তারপর ফ্লাইট লেফট্যান্যান্ট এম হামিদুল্লাহ। আর এই সেক্টরের সদর দপ্তর  হিসেবে ভারতের আসামের মহেন্দ্রগঞ্জকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। এই সেক্টরকে ৭টি সাব-সেক্টর ভাগ করা হয়েছিল।
- পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৯’
- কুষ্টিয়া, যশোর, দৌলতপুর সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৮’ এর অন্তর্ভুক্ত। 
- রাজশাহী, পাবনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া, দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চল ও রংপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৭’ এর অন্তর্ভুক্ত।
- দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা  ও ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৬’
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ  নিয়ে ‘সেক্টর নং ৫‘ গঠিত হয়।
- সিলেট জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘সেক্টর নং ৪’। 
- হবিগঞ্জ, আখাউড়া–ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ এবং কিশোরগঞ্জ ও ঢাকার কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৩’ এর আওতায়।
- ঢাকা, কুমিল্লা, আখাউড়া–ভৈরব, নোয়াখালী ও ফরিদপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘সেক্টর নং ২’।
- ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও ফেনী পর্যন্ত ছিল ‘সেক্টর নং ১’। এই সেক্টরের  সদর দপ্তর  ছিল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের  হরিনা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৮.
অপারেশন জ্যাকপট কী?
  1. ক) ১৯৭১ সালে পাকবাহিনী পরিচালিত অভিযান
  2. খ) বঙ্গোপসাগরে মার্কিন সামরিক টাস্কফোর্স
  3. গ) মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোদের পরিচালিত অভিযান
  4. ঘ) ভারতের স্বর্ণমন্দিরে পরিচালিত অভিযান
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোদের পরিচালিত অভিযান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোদের পরিচালিত অভিযান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোদের পরিচালিত প্রথম অভিযান অপারেশন জ্যাকপট নামে পরিচিত।
এদিন নৌ-কমান্ডোরা একযোগে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পাকবাহিনীর উপর হামলা চালায়। এতে পাকবাহিনীর ২৬ টি নৌযান ধ্বংস হয়। মোট ১৪৮ জন নৌ-কমান্ডো চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে এ অপারেশনে অংশ নেয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১৪৯.
২৬ মার্চ, ১৯৭১ সালে চট্রগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র কে প্রথম পাঠ করেন?
  1. শেখ মুজিবর রহমান
  2. আখতার মুকুল
  3. জিয়াউর রহমান
  4. এম এ হান্নান
সঠিক উত্তর:
এম এ হান্নান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম এ হান্নান
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা:
- বঙ্গবন্ধু বন্দি হওয়ার পূর্বেই চট্টগ্রামস্থ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব এম. এ. হান্নানের নিকট স্বাধীনতার ঘোষণা বাণী প্রেরণ করেন। বাণীটি স্বাধীনতার দলিলপত্র তৃতীয় খন্ডে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
- এম.এ. হান্নান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচার করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রিণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫০.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে প্রসিকিউটর হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন কে?
  1. উইলিয়াম জোন্স
  2. উইলিয়াম হান্টার
  3. স্যার টমাস উইলিয়াম
  4. উইলিয়াম কেরি
সঠিক উত্তর:
স্যার টমাস উইলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার টমাস উইলিয়াম
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে প্রসিকিউটর হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫১.
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ কবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে পুনঃ সমাহিত করা হয়?
  1. ২০০৫ সালে
  2. ২০০৬ সালে
  3. ২০০৭ সালে
  4. ২০০৮ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৭ সালে
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান:
- তিনি সর্বকনিষ্ঠ শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ।
- তিনি ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলার খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি ৪নং সেক্টরের অধীনে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের পদবী ছিল- সিপাহী।

উল্লেখ্য,
- ২৮শে অক্টোবর ১৯৭১, ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ধলই আক্রমণে সহযোদ্ধাদের জীবন রক্ষার্থে শত্রুর বাঙ্কার ধ্বংস করতে গিয়ে শত্রুর মেশিনগান বাস্টের আঘাতে শাহাদত বরণ করেন।
- পরবর্তীতে সহযোদ্ধারা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে প্রতিবেশী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুর জেলাধীন আমবাসা গ্রামে দাফন করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।
- শাহাদাতের ৩৬ বছর পর ১১ ডিসেম্বর ২০০৭ বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে তার দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে এনে ঢাকাস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় সম্মানে পুনঃ সমাহিত করা হয়। 

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

১৫২.
নারী মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবি কোন সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন?
  1. হাজং
  2. গারো
  3. খাসিয়া
  4. মুন্ডা
সঠিক উত্তর:
খাসিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাসিয়া
ব্যাখ্যা
- নারী মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবি খাসিয়া সম্প্রদায়ের।
- তার জন্ম ১৯৪৮ সালে সুনামগঞ্জ জেলার এক খাসিয়া পরিবারে। পরবর্তীতে তিনি ইসলামধর্ম গ্রহণ করে প্রথমে একজন বাঙালি এবং পরে একজন পাকিস্তানিকে বিয়ে করেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি ৫ নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করেন। এক পর্যায়ে তিনি পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়লে তার উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।
- কাঁকন বিবি কে ১৯৯৭ সালে মৌখিক ভাবে বীর প্রতীক খেতাব দেওয়া হলেও তার গেজেট প্রকাশিত হয়নি।
- ২০১৮ সালের ২১শে মার্চ তিনি মারা যান।
(তথ্যসূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী এবং প্রথম আলো)
১৫৩.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে মোট কতজনকে বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করা হয়?
  1. ৬৭৬ জন
  2. ৬৭৭ জন
  3. ৬৭৮ জন
  4. ৬৭৯ জন
সঠিক উত্তর:
৬৭৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭৬ জন
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

মহিলা বীরপ্রতীক:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১৫৪.
মুজিবনগর সরকারের অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. তাজউদ্দিন আহমেদ
  3. এম মনসুর আলী
  4. আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
এম মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার গঠন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ও মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য এই দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম, কেননা এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- এদিন (১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি 'মুজিবনগর সরকার' নামেই সমধিক পরিচিত এবং মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- ১০ এপ্রিল দেশের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামকরণ করে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়।
- উল্লেখ্য, মেহেরপুর মহকুমা পরবর্তীতে জেলা হিসাবে উন্নীত হয় এবং বৈদ্যনাথতলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়- মুজিবনগর।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো- কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ,
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান,
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
১৫৫.
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ক) ১১ টি
  2. খ) ১২ টি
  3. গ) ১৩ টি
  4. ঘ) ৯ টি
সঠিক উত্তর:
ক) ১১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১১ টি
ব্যাখ্যা
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার ৬৪টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়। এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- ১০ নং সেক্টর ছিল একমাত্র নৌ সেক্টর যেখানে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না।

(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১৫৬.
মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে -
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ২১ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ঘ) ২৪ এপ্রিল, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫৭.
মুজিব নগর কত নং সেক্টরের অধিনে ছিল?
  1. ক) ২নং
  2. খ) ৭নং
  3. গ) ৮নং
  4. ঘ) ৯নং
সঠিক উত্তর:
গ) ৮নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৮নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:

- মুজিব নগর কত ৮নং সেক্টরের অধিনে ছিল।

- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালে ১১ এপ্রিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং  সেক্টরের অধিনে
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধিনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৫৮.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নিহত মাদার মারিও ভেরেনজি কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. অস্ট্রিয়া
  3. ইতালি
  4. নেদারল্যান্ডস
সঠিক উত্তর:
ইতালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতালি
ব্যাখ্যা
মাদার মারিও ভেরেনজি:
- মাদার ভেরেনজি ইতালির নাগরিক ছিলেন।
- বাংলাদেশের যশোর জেলায় স্থাপিত খ্রিস্টান চার্চের দায়িত্ব পালনকালে ৪ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলিতে তিনি নিহত হন।
- তাকে যশোর ক্যাথলিক হাসপাতালের মাঠে সমাহিত করা হয়।

এছাড়াও
ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশি নাগরিক হিসেবে বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড। তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে। ওডারল্যান্ড ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৫৯.
মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ছিলেন কে?
  1. মোনায়েম খান
  2. আব্দুল মোত্তালিব মালিক
  3. আমির আব্দুল্লাহ নিয়াজী
  4. জেনারেল টিক্কা খান
সঠিক উত্তর:
জেনারেল টিক্কা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের মার্চে মুক্তিযুদ্ধের শুরুর সময় পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান। তিনি ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- পরবর্তীতে তাকে সরিয়ে ডা. আব্দুল মোত্তালিব মালিক কে গর্ভনর করা হয়। মালিক মন্ত্রিসভা ১৪ ডিসেম্বর পদত্যাগ করে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
১৬০.
অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা অনুয়ায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. জেনারেল টিক্কা খান
  2. জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
  3. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  4. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
সঠিক উত্তর:
জেনারেল রাও ফরমান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা

অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।
- ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান অর্থাৎ মূল দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি।

১৬১.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নিহত ফাদার মারিও ভেরেনজি ছিলেন -
  1. ক) অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক
  2. খ) ফ্রান্সের নাগরিক
  3. গ) ব্রিটিশ নাগরিক
  4. ঘ) ইতালিয়ান নাগরিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইতালিয়ান নাগরিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইতালিয়ান নাগরিক
ব্যাখ্যা
• মারিও ভেরেনজি: 
-  ইতালীয় ধর্মযাজক ফাদার ভেরেনজি।
- ফাদার ভেরেনজি যশোর ফাতিমা ক্যাথলিক হাসপাতালের চারজন ইতালীয় যাজকের একজন ছিলেন।
- সকলেই জাভেরিয়ান আদেশের সদস্য ছিলেন।
- বাংলাদেশের যশোর জেলায় স্থাপিত খ্রিস্টান চার্চের দায়িত্ব পালনকালে ৪ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলিতে তিনি নিহত হন।
- তাকে যশোর ক্যাথলিক হাসপাতালের মাঠে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার (৮ মে, ২০২১)।
১৬২.
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় কত সালে?
  1. ২০০৫ সালে
  2. ২০০৬ সালে
  3. ২০০৭ সালে
  4. ২০০৮ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৭ সালে
ব্যাখ্যা
হামিদুর রহমান:
- ১৯৫৩ সালে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে তিনি জম্ম গ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি যোগ দেন সেনাবাহিনীতে।
- হামিদুর রহমানের পদবী ছিল সিপাহী।
- ১৯৭১ সালে হামিদুর রহমান মুক্তিবাহিনীর সাহসী সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করছিলেন সিলেট শ্রীমঙ্গল এলাকায়।
- ১৯৭১ সালের ২৮শে অক্টোবর সম্মুখ যুদ্ধে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বীরশ্রেষ্ট খেতাবে ভূষিত হন।
- সুদীর্ঘ ৩৬ বছর পর ১০ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।
- ১১ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে ঢাকার মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৬৩.
বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার কত তারিখে গঠিত হয়?
  1. ১০ এপ্রিল
  2. ১৭ মার্চ
  3. ২৭ এপ্রিল
  4. ২৭ মার্চ
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ।
- মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিব নগর সরকার গঠিত হয় -  ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- সরকার শপথ গ্রহন করে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যপক ইউসুফ আলী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করা হয়।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন উপরাষ্ট্রপতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৬৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর কোন সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিলো?
  1. ক) ৫ নং সেক্টর
  2. খ) ৮ নং সেক্টর
  3. গ) ৯ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৩ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
খ) ৮ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৮ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুুদ্ধের সেক্টর:
- ১৯৭১ সালে ‍মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- এর মধ্যে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা এবং ফরিদপুর ও খুলনা জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ৮ নং সেক্টর গঠিত হয়।
- বর্তমান মেহেরপুর জেলা ও মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিলো
- ৮ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী এবং এম এ মঞ্জুর।

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া
১৬৫.
স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় কবে?
  1. ১ মার্চ ১৯৭০
  2. ২ মার্চ ১৯৭১
  3. ১ মার্চ ১৯৭১
  4. ৪ মার্চ ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
১ মার্চ ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ মার্চ ১৯৭১
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ:
- স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১ মার্চ।
- বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ছাত্রলীগ ও ডাকসুর সমন্বয়ে ‘স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। 

'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ'- এর সদস্যগণ হলেন -
১. নুরে আলম সিদ্দিকী (সভাপতি, ছাত্রলীগ),
২. শাজাহান সিরাজ (সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগ),
৩. আ. স. ম. আব্দুর রব (সহ-সভাপতি, ডাকসু),
৪. আব্দুল কুদ্দুস মাখন (সাধারণ সম্পাদক, ডাকসু)।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬৬.
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরসমূহের মধ্যে নৌ-সেক্টর কোনটি?
  1. ৮ নং
  2. ১০ নং
  3. ১১ নং
  4. ৯ নং
সঠিক উত্তর:
১০ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ নং
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এর মধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর।
- দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৬৭.
বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে বাংলাদেশ বিশ্বের কতটি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন করে?
  1. ১১৪টি
  2. ১৩০টি
  3. ১২৮টি
  4. ১১২টি
সঠিক উত্তর:
১৩০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩০টি
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুর শাসনামল:
- বঙ্গবন্ধু সরকার বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিয়েছেন।
- মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা করায় ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়নসহ অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আস্তরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করায় বঙ্গবন্ধু সরকার প্রথম দিকে মার্কিন সাহায্য গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়।
- তবে বঙ্গবন্ধু সরকার দেশের স্বার্থে পুঁজিবাদী ও মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
- তারপরও বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৩০টি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন করে।
- এ ছাড়া জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ ও ইসলামি সম্মেলন সংস্থার সদস্যপদসহ ১৪টি আস্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্যপদ লাভ করে।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৮.
'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালনা করে -
  1. ক্র্যাক প্লাটুন
  2. মিত্র বাহিনী
  3. বিমান বাহিনী
  4. নৌবাহিনী
সঠিক উত্তর:
নৌবাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌবাহিনী
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট মতান্তরে ১৬ই আগস্ট ১৯৭১ সালে। [অপশনে ১৫ আগস্ট থাকলে ১৫ আগস্ট দাগাতে হবে। অপশনে ১৫ আগস্ট না থাকলে সেই ক্ষেত্রে ১৬ আগস্ট দাগাতে হবে।]
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।
- ১৯৭১ সালের অগাস্টের ১৫ তারিখ রাতে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এর পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল সেই বছরের মে মাসে।
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের কমান্ডার।
- অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।
১৬৯.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ৭
  2. খ) ৮
  3. গ) ১০
  4. ঘ) ১১
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১
ব্যাখ্যা
সেক্টর ও সাব সেক্টরসমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ১১ টি সেক্টরের অধিনে ৬৪ টি সাবসেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে ১নং সেক্টর গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম। 
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে ২নং সেক্টর গঠিত। আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে ৩নং সেক্টর গঠিত হয়।
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে ৪নং সেক্টর গঠিত।
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে ৫নং সেক্টর গঠিত।
- ৬ নং সেক্টর  সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত।
- ৭ নং সেক্টর  রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- ১০ নং সেক্টর  নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়
- ১১ নং সেক্টর  টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৭০.
বাংলাদেশে মর্যাদা অনুসারে ২য় বীরত্বসূচক খেতাব-
  1. বীরপ্রতীক
  2. বীরশ্রেষ্ঠ
  3. বীরউত্তম
  4. বীরবিক্রম
সঠিক উত্তর:
বীরউত্তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরউত্তম
ব্যাখ্যা

 ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে — সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।

• মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
যথা-
- বীরশ্রেষ্ঠ (মর্যাদা অনুসারে প্রথম বীরত্বসূচক খেতাব),
- বীর উত্তম (মর্যাদা অনুসারে দ্বিতীয় বীরত্বসূচক খেতাব),
- বীর বিক্রম (মর্যাদা অনুসারে তৃতীয় বীরত্বসূচক খেতাব) এবং
- বীর প্রতীক (মর্যাদা অনুসারে চতুর্থ বীরত্বসূচক খেতাব)।

• খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা:
• ১ম উপাধি: বীরশ্রেষ্ঠ, ৭ জন,
• ২য় উপাধি: বীর উত্তম, ৬৮ জন,
• ৩য় উপাধি: বীর বিক্রম, ১৭৫ জন এবং
• ৪র্থ উপাধি: বীর প্রতীক, ৪২৬ জন।
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৭১.
ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়-
  1. ক) ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  2. খ) ৫ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  3. গ) ৭ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  4. ঘ) ৮ ডিসেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ক) ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• ভারত বাংলাদেশ কে স্বীকৃতি দেয়- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১। 

- মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ৬ ডিসেম্বর গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল একটি দিন।
- এদিন প্রথম দেশ হিসেবে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- লোকসভার অধিবেশনে এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দানের ঘোষণা করেন।
- এসময় লোকসভার সদস্যরা দাঁড়িয়ে ইন্দিরা গান্ধীর ঘোষণাকে স্বাগত জানান।
- একইসঙ্গে লোকসভার অধিবেশনে হর্ষধ্বনির সঙ্গে 'জয় বাংলা' স্লোগান উচ্চারিত হয়।
- এদিন ইন্দিরা গান্ধী অধিবেশনে তার বক্তব্যে বলেন, 'বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানি স্বৈরতান্ত্রিক ও গণহত্যা নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো।' 

সুত্র: ডেইলি স্টার।
১৭২.
তারামন বিবি কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ক) ৮নং
  2. খ) ৭নং
  3. গ) ১১নং
  4. ঘ) ৯নং
সঠিক উত্তর:
গ) ১১নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১১নং
ব্যাখ্যা
• তারামন বিবি:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত মহিলা ২ জন‌।
- একজন ডা. সেতারা বেগম এবং অপরজন তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ১১ নং সেক্টরে কর্নেল তাহেরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন এবং পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করেন।
- তিনি ১ ডিসেম্বর, ২০১৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর নিজ জেলা ছিল কুড়িগ্রাম।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো।
১৭৩.
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার ঘোষণা করা হয়েছিল কবে?
  1. ২৬ মার্চ ১৯৭১
  2. ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  3. ১৪ এপ্রিল ১৯৭১
  4. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার গঠন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ও মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য এই দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম, কেননা এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- এদিন (১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি 'মুজিবনগর সরকার' নামেই সমধিক পরিচিত এবং মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ দেশের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামকরণ করে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়।
- উল্লেখ্য, মেহেরপুর মহকুমা পরবর্তীতে জেলা হিসাবে উন্নীত হয় এবং বৈদ্যনাথতলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়- মুজিবনগর।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো- কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৪.
মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. খ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
খ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।

এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী : এ এইচ এম কামরুজ্জামান
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৫.
বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী সরকার শপথ গ্রহণ করার সময় মুজিবনগর তৎকালীন কোন জেলায় অবস্থিত ছিলো?
  1. ক) যশোর
  2. খ) নোয়াখালী
  3. গ) কুষ্টিয়া
  4. ঘ) বরিশাল
সঠিক উত্তর:
গ) কুষ্টিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর বর্তমান মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত। এখানে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। তখন এটি ‍বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার অধীন ছিলো। মেহেরপুর জেলা ও মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিলো। এর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী এবং এম এ মঞ্জুর।
(সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া)
১৭৬.
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানি সেনার সংখ্যা কত ছিল?
  1. ৮৯ হাজার
  2. ৯১ হাজার
  3. ৯৩ হাজার
  4. ৯৭ হাজার
সঠিক উত্তর:
৯৩ হাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৩ হাজার
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে।
- তাদের এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য,
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সকালে মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান।
- ১৬ ডিসেম্বর বিকালে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ৯৩ হাজার সৈন্য বিনা শর্তে সম্মিলিত বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- এই আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন পূর্বাঞ্চলের সম্মিলিত বাহিনী প্রধান লেঃ জেনারেল জগজিত সিং অরোরা ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিনায়ক লেঃ জেঃ এ কে নিয়াজী।
- এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন মুক্তিবাহিনীর উপ-সেনা প্রধান ও বিমান বাহিনী প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়।
- প্রতি বছর এই দিনটি "বিজয় দিবস" হিসাবে পালিত হয়।

এছাড়াও,
- এই অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এস ফোর্স অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কে এম সফিউল্লাহ, ২নং সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ টি এম হায়দার এবং টাঙ্গাইল মুক্তি বাহিনীর অধিনায়ক জনাব কাদের সিদ্দিকী।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণি। 
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৭.
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস ‘রাইফেল রুটি আওরাত’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) আনিসুল হক
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) আনোয়ার পাশা
সঠিক উত্তর:
ঘ) আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা রচিত কাব্যঃ নদী নিঃশেষিত হলে, সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী, অন্যান্য কবিতা। তার রচিত গল্পগ্রন্থ - নিরুপায় হরিণী। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম উপন্যাস রচনা করেন। রাইফেল রোটি আওরাত- ১৯৭১ সালের এপ্রিল লেখা শুরু করে জুনে শেষ করেন। [উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য]
১৭৮.
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়?
  1. ৪টি

  2. ৯টি

  3. ১০টি

  4. ১১টি

সঠিক উত্তর:
১১টি

উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি

ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা:
- ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক, বেসামরিক জনগণকে নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
- ১০ই এপ্রিল সরকার ৪টি সামরিক জোনে বাংলাদেশকে ভাগ করে ৪ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করে।
- ১১ই এপ্রিল তা পুনর্গঠিত করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়
- এ ছাড়া বেশ কিছু সাব-সেক্টর এবং তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়।
- এসব সেক্টরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সেনা কর্মকর্তা, সেনাসদস্য, পুলিশ, ইপিআর, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যগণ যোগদান করেন।
- প্রতিটি সেক্টরেই নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল।
- এরা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল।
- এসব বাহিনীতে দেশের ছাত্র, যুবক, নারী, কৃষক, রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল।
- ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ শেষে যোদ্ধাগণ দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাকিস্তানি সামরিক ছাউনি বা আস্তানায় হামলা চালায়।
- মুক্তিযুদ্ধে সরকারের অধীন বিভিন্ন বাহিনী ছাড়াও বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭৯.
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৭১ সালে গঠিত মুজিবনগর সরকারের কোন পদে নিযুক্ত ছিলেন?
  1. ক) পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী
  2. খ) আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রী
  3. গ) বিশেষ কুটনৈতিক প্রতিনিধি
  4. ঘ) নয়াদিল্লীস্থ বাংলাদেশ মিশন প্রধান
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষ কুটনৈতিক প্রতিনিধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষ কুটনৈতিক প্রতিনিধি
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 

- এ সরকারের সদর দপ্তর প্রথম স্থাপিত হয় মুজিবনগরে (মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা)।
- পরবর্তীকালে স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রধানত নিরাপত্তা এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানের সুবিধার্থে এ সরকারের প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তর হয়।
- এ সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তাই তাঁরই নামানুসারে বৈদ্যনাথতলার নতুন
নামকরণ হয় মুজিবনগর এবং অস্থায়ী সরকারও পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।

- এই সরকারের বিশেষ কুটনৈতিক প্রতিনিধি ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় ‘সাপ্তাহিক জয়বাংলা’।
- আব্দুল মান্নান এম.এন.এ. ছিলেন এর সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি এবং জিল্লুর রহমান এম.এন.এ. ছিলেন প্রধান সম্পাদক।
 ১১ মে থেকে ১৬ ডিসেম্বর এটি প্রকাশিত হয়।

তথ্যসূত্র: - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮০.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ৯টি
  2. খ) ১১টি
  3. গ) ১০টি
  4. ঘ) ১২টি
সঠিক উত্তর:
খ) ১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১১টি
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এর মধ্যে নৌ সেক্টর ছিলো ১০নং সেক্টর।
- ঢাকা শহর ২নং সেক্টর এবং মুজিবনগর ৮নং সেক্টরের অধীন ছিলো।
- সেক্টর প্রধানরা সেক্টর কমান্ডার নামে পরিচিত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী

১৮১.
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশী ব্যাক্তি কোন দেশের নাগরিক?
  1. ক) ইতালি
  2. খ) নেদারল্যান্ড
  3. গ) রাশিয়া
  4. ঘ) সুইজারল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
খ) নেদারল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নেদারল্যান্ড
ব্যাখ্যা
[উইলিয়াম উডারল্যান্ড - বীরপ্রতীক] ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড একমাত্র বিদেশি যাঁকে বাংলাদেশ সরকার ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করেছে। অস্ট্রেলিয়া ওডারল্যান্ডের পিতৃভূমি হলেও ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর তাঁর জন্ম হল্যান্ডের (নেদেরল্যান্ড) রাজধানী আমস্টারডামে। [সূত্র: প্রথম আলো]
১৮২.
‘শেখ মুজিব কার্যত ঢাকার সরকার।' - ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলনে ঢাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে এ মন্তব্য করেন -
  1. ক) জুলফিকার আলী ভুট্টো
  2. খ) জেনারেল টিক্কা খান
  3. গ) এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান
  4. ঘ) খান বাহাদুর আবদুল কাইউম খান
সঠিক উত্তর:
গ) এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান
ব্যাখ্যা

সাত মার্চ পরবর্তী পরিস্থিতি এবং স্বাধীনতার প্রস্তুতি শুরু

- শেখ মুজিবের ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম' ঘোষণার প্রেক্ষিতে সর্বাত্মক হরতাল পালনের পাশাপাশি সর্বত্র কালো পতাকা উত্তোলন, মিছিল, সমাবেশ শুরু হয়।
- আওয়ামী লীগ ছাড়াও পূর্ব পাকিস্তানের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দল অসহযোগ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দেয়।
- ৭ মার্চ থেকেই আওয়ামী লীগের নির্দেশে দেশ চলতে থাকে।
- ঢাকা সফর শেষে করাচিতে গণঐক্য আন্দোলনের নেতা এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান বলেন,

“শেখ মুজিব কার্যত ঢাকার সরকার, সেখানে সব সরকারি কর্মচারী ও সচিবরা তাঁর নির্দেশ পালন করছে। ঢাকায় কেবল সামরিক সদর দপ্তরে পাকিস্তানি পতাকা উড়ছে।”


তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৩.
‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. লন্ডন
  2. প্যারিস
  3. নিউইয়র্ক
  4. টোকিও
সঠিক উত্তর:
নিউইয়র্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউইয়র্ক
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ কনসার্ট: 
- যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ, প্রচার মাধ্যম, কংগ্রেসের অনেক সদস্য এ দেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সোচ্চার ছিল;
-  যুক্তরাষ্ট্রের সরকার, চীন এবং ইরান ও সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মুসলিম দেশ মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল।
- তবে মার্কিন শিল্পী, সাহিত্যিক এবং অনেক রাজনীতিবিদ বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন।
- পণ্ডিত রবি শংকরের উদ্যোগে আয়োজিত হয় ।
- স্থান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক।
- অনুষ্ঠান: 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'
- দর্শক: অনুষ্ঠানে ৪০,০০০ দর্শকের উপস্থিতি ছিল।
- শিল্পী: জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলানসহ বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন।
- এই অনুষ্ঠানটির মধ্য দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ জোগানের ব্যবস্থা হয়।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৪.
মেজর সি আর দত্ত কোন সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন?
  1. সেক্টর - ২
  2. সেক্টর - ৪
  3. সেক্টর - ৬
  4. সেকটর - ৮
সঠিক উত্তর:
সেক্টর - ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেক্টর - ৪
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এই সেক্টর গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- জানানো হয়, ১১টি সেক্টরের প্রতিটি সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত হবেন।

৪ নম্বর সেক্টর
- সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল, খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন বাদে পূর্ব ও উত্তর দিকে সিলেট-ডাউকি সড়ক পর্যন্ত এলাকা নিয়ে ছিলো ৪ নম্বর সেক্টর।
- এ সেক্টরের প্রথম হেডকোয়ার্টার ছিলো করিমগঞ্জ।
- পরবর্তীতে তা আসামের মাসিমপুরে স্থানান্তর করা হয়।
- প্রথম সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত (সি আর দত্ত )।
- এরপর দায়িত্ব নেন ক্যাপ্টেন এ. রব।

প্রায় ৯ হাজার গেরিল‍া যোদ্ধা ও প্রায় চার হাজার নিয়মিত বাহিনীর ৪ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছয়টি সাব-সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন-
• জালালপুর - মাহবুবুর রব সাদী।
• বড়পুঞ্জী - ক্যাপ্টেন এ. রব।
• আমলাসিদ - লেফটেন্যান্ট জহির।
• কুকিতল - ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কাদের ও ক্যাপ্টেন শরিফুল হক।
• কৈলাশ শহর - লেফটেন্যান্ট ওয়াকিউজ্জামান।
• কামালপুর- ক্যাপ্টেন এনাম।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো।
১৮৫.
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ কয়টি সেক্টরে বিভক্ত ছিল?
  1. ক) ১২টি
  2. খ) ৯টি
  3. গ) ৮টি
  4. ঘ) ১১টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১টি
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালে সংগঠিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচলনায় অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের সমগ্র ভূখণ্ডকে ১১টি যুদ্ধক্ষেত্র বা সেক্টরে ভাগ করা হয়।

সেক্টর নং 
দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার - সেক্টর- ০১ মেজর জিয়াউর রহমান (এপ্রিল-জুন) ও মেজর রফিকুল ইসলাম (জুন-ডিসেম্বর)।
সদর দপ্তর - হরিনা, ত্রিপুরা

সেক্টর- ০২
দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার - মেজর খালেদ মোশাররফ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) ও মেজর হায়দার (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)
সদর দপ্তর - মেলাঘর, ত্রিপুরা

সেক্টর- ০৩
দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার - মেজর শফিউল্লাহ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) ও মেজর নুরুজ্জামান (সেপ্টম্বর-ডিসেম্বর)
সদর দপ্তর - কলাগাছি, ত্রিপুরা

সেক্টর- ০৪
দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার - মেজর সি আর দত্ত ও করিমগঞ্জ,
সদর দপ্তর - আসাম

সেক্টর- ০৫
দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার - মেজর মীর শওকত আলী
সদর দপ্তর - বাঁশতলা, সুনামগঞ্জ

সেক্টর- ০৬
উইং কমান্ডার খাদেমুল বাশার।
বুড়িমারী, পাটগ্রাম

সেক্টর- ০৭
মেজর কাজী নুরুজ্জামান
তরঙ্গপুর, পশ্চিমবঙ্গ

সেক্টর- ০৮
মেজর ওসমান চৌধুরী (অক্টোবর পর্যন্ত)
মেজর এম. এ মনজুর (এপ্রিল-ডিসেম্বর পর্যন্ত)
বেনাপোল কল্যাণী, ভারত

সেক্টর- ০৯
মেজর আবদুল জলিল (এপ্রিল-ডিসেম্বর পর্যন্ত)
হাসনাবাদ, ভারত

সেক্টর- ১০
মুক্তিবাহিনীর ট্রেনিংপ্রাপ্ত নৌ-কমান্ডারগণ
নেই

সেক্টর- ১১
মেজর আবু তাহের (এপ্রিল-নভেম্বর)

ফ্লাইট লেঃ এম হামিদুল্লাহ (নভেম্বর-ডিসেম্বর)
মহেন্দ্রগঞ্জ, আসাম

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৮৬.
মহান মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর কত নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল? 
  1. ২ নং সেক্টর
  2. ৭ নং সেক্টর
  3. ৮ নং সেক্টর
  4. ৯ নং সেক্টর 
সঠিক উত্তর:
৮ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর: 

• মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
• নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)। 
• ১০ নং সেক্টরে কোনো নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না। 
• চট্টগ্রাম ১নং সেক্টরের অধীনে ছিল। 
• অপরদিকে ঢাকা ২ নং সেক্টর এবং রাজশাহী ৭ নং সেক্টরের অধীনে ছিল।
• মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিব নগর ৮ নং সেক্টরের অধীনে ছিল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৮৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাংলা সাপ্তাহিক মুখপত্র ছিলো কোন পত্রিকাটি?
  1. মুক্তির ডাক
  2. জয়বাংলা
  3. মুক্তির বাণী
  4. স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
জয়বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়বাংলা
ব্যাখ্যা
সাপ্তাহিক জয়বাংলা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাংলা সাপ্তাহিক মুখপত্র।
- পত্রিকাটি মূলত ছিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রচার মাধ্যম।
- এর লক্ষ্য ছিল একদিকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের কৃতিত্ব জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভ।

- পত্রিকাটি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশনা, তথ্য, বেতার ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত হয়।
- এই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবদুল মান্নান এমএন-এর উপর পত্রিকাটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও প্রকাশনার দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল।
- তিনি ছিলেন পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি।
- সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য ছিলেন আবদুল গাফফার চৌধুরী, ইবনে গোলাম সামাদ, মাহবুব উল্লাহ চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক চৌধুরী, মোঃ সলিমুল্লাহ, আসাদ চৌধুরী, আবুল মঞ্জুর, মোহাম্মদ খালেদ, অনু ইসলাম।
- মোঃ জিল্লুর রহমান এমপি ছিলেন সম্পাদক মন্ডলীর উপদেষ্টা।
- পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজন বাঙালি শিল্পপতি পত্রিকাটির প্রকাশনায় আর্থিক সহায়তা দান করেন।
- পত্রিকার জন্য নিউজপ্রিন্ট কাগজের যোগান দিতেন কলকাতার আনন্দবাজার গ্রুপ।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
১৮৮.
উল্লিখিত ব্যক্তিদের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ নন কে?
  1. ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ
  2. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  3. সিপাহী হামিদুর রহমান
  4. সিপাহী মোস্তফা কালাম
সঠিক উত্তর:
সিপাহী মোস্তফা কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপাহী মোস্তফা কালাম
ব্যাখ্যা
• বীরশ্রেষ্ঠ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৩ সালে সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করেন।
- এদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য তিনজন, সাবেক ই. পি. আর. সদস্য দুইজন এবং বিমান বাহিনী ও নোবাহিনীর একজন করে।

বীরশ্রেষ্ঠরা হলেন:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী,
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী, 
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী, 
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী, 
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী,  
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর,.
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাগো নিউজ।
১৮৯.
নিচের কোনটি স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত কথিকা নয়?
  1. ক) পিণ্ডির প্রলাপ
  2. খ) জয়বাংলা
  3. গ) কাঠগড়ার আসামী
  4. ঘ) চরমপত্র
সঠিক উত্তর:
খ) জয়বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জয়বাংলা
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত কথিকাসমূহ:
- পিণ্ডির প্রলাপ : তোয়াব খান (কথক)
- চরমপত্র : এম আর আখতার মুকুল (কথক)
- জনতার সংগ্রাম : রণেশ দাশগুপ্ত, বিপ্রদাস বড়ুয়া (কথক)
- পুতুল নাচের খেল : আবদুল গাফফার চৌধুরী (কথক)
- কাঠগড়ার আসামি : মুস্তাফিজুর রহমান (কথক)
- রক্তের অক্ষরে লিখি : মোহাম্মদ আবু জাফর (কথক)
- সাময়িকী : আবুল কাশেম সন্দ্বীপ (কথক)।
অন্যদিকে,
- জয়বাংলা হলো মুজিবনগর সরকার থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকা।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : পঞ্চম খণ্ড)
১৯০.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. তাজউদ্দীন আহমেদ
  3. মোজাফফর আহমদ
  4. মনোরঞ্জন ধর
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দীন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দীন আহমেদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন:
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
• অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
• মনি সিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
• মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'কাদেরিয়া বাহিনী' কোন অঞ্চলে গড়ে উঠে?
  1. সিরাজগঞ্জে
  2. ঝিনাইদহে
  3. টাঙ্গাইলে
  4. ফরিদপুরে
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইলে
ব্যাখ্যা
মুক্তিবাহিনী:
- বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও অনেকে গেরিলা বাহিনী গঠন করেন। 
- যেমন:
• টাঙ্গাইলের কাদের সিদ্দিকীর কাদেরিয়া বাহিনী।

• সিরাজগঞ্জে রফিক মির্জা বাহিনী। 
• ফরিদপুরের হেমায়েত বাহিনী। 
• ঝিনাইদহের আকবর বাহিনী।
• বরিশালের কুদ্দুস বাহিনী।
• ময়মনসিংহের আফসার বাহিনী।
• ভারতের বাহিনীর মেজর জেনারেল ওবানের অধীনে বঙ্গবন্ধুর নামে ‘মুজিব বাহিনী’ নামে একটি বাহিনী গঠিত হয়।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯২.
মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা 'সাইমন ড্রিং' কে ছিলেন?
  1. একজন সাংবাদিক
  2. একজন গায়ক
  3. একজন রাষ্ট্রদূত
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
একজন সাংবাদিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একজন সাংবাদিক
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা 'সাইমন ড্রিং' ছিলেন একজন সাংবাদিক।

মুক্তিযুদ্ধকালীন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিক:

- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ অপারেশন সার্চলাইট শুরু হওয়ার সময় থেকে বিদেশি সাংবাদিকরা পাকিস্তানিদের গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করে।
- তারাই প্রথম বহির্বিশ্বে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও বর্বরতার খবর ছড়িয়ে দেয়।

• সাইমন ড্রিং এরকমই একজন সাংবাদিক।
- ১৯৭১ এর মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তান সরকার কিছু বিদেশি সাংবাদিককে নিয়ন্ত্রিতভাবে বাংলাদেশের কোনো কোনো এলাকা সফর করিয়ে তাদের পক্ষে প্রতিবেদন লেখানোর ফব্দি আঁটে।
- কিন্তু তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
- নিজ চোখে সব দেখে তারা পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা সম্পর্কে অবহিত হয় এবং সত্য কথা লিখে পত্রিকা ও বেতারের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে তা অবহিত করে।
- এভাবে এস্থনি ম্যাসকারেনহাস গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের চাঞ্চল্যকর তথ্য সারা বিশ্বে প্রকাশ করেন।
- বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি পুরোটা সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে খবর প্রচার করে গেছেন।
- এদিকে দেশে অবরুদ্ধ থেকেও অনেক বাঙালি সাংবাদিক ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে খবর পাঠিয়েছেন।
- একাত্তরের শহিদ নিজামউদ্দিন ও নাজমুল হক এরকমই দুজন সাংবাদিক।
- এছাড়া আকাশবাণী, বিবিসি, ভোয়া প্রভৃতি বেতারকেন্দ্র আমাদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল।
= আকাশবাণী কলকাতা থেকে প্রতি রাতে প্রচারিত 'সংবাদ পরিক্রমা' খুবই জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল।
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের 'বজ্রকণ্ঠ' ও 'চরমপত্রসহ' বিভিন্ন অনুষ্ঠান শ্রোতাদের মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
১৯৩.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন-
  1. ক) সরদার শরন সিং
  2. খ) সমর সেন
  3. গ) বিজয়লক্ষী পন্ডিত
  4. ঘ) আর কে দিক্ষিত
সঠিক উত্তর:
খ) সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সমর সেন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন সমর সেন। বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রথম নারী সভাপতি।
১৯৪.
মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ (Concert for Bangladesh) কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. নিউইয়র্ক
  2. বােস্টন
  3. লন্ডন
  4. ক্যানবেরা
সঠিক উত্তর:
নিউইয়র্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউইয়র্ক
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন, যে ধরণের আয়োজন এর আগে বিশ্বের মানুষ কখনও দেখেনি।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী জর্জ হ্যারিসন।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।
- জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলানের মতো তারকাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অন্যরকম এক পরিচিতি পায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সাধারণ মানুষের কাছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
ii) ১ অগাস্ট ২০২১, BBC।
১৯৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর কত নং সেক্টরের অধীনে ছিলো?
  1. ক) ২ নং
  2. খ) ৪ নং
  3. গ) ৬ নং
  4. ঘ) ৮ নং
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮ নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
তার মধ্যে মুজিবনগর - ৮ নং সেক্টরের অধীনে ছিলো। 

নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল - ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)। ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
চট্টগ্রাম - ১নং সেক্টর,
ঢাকা - ২ নং সেক্টর, 
সিলেট-  ৪ নং সেক্টর,
রাজশাহী - ৭ নং সেক্টর,
মুজিবনগর - ৮ নং সেক্টর,

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৯৬.
নিচের কোন সেক্টরের সদরদপ্তর বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ছিল?
  1. ১নং সেক্টর
  2. ২নং সেক্টর
  3. ৫নং সেক্টর
  4. ৬নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৬নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

সেক্টর ও সদরদপ্তরঃ 
• ৬ নং সেক্টরঃ
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত।
- প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়ি মাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার।
উল্লেখ্য, 
- ১নং সেক্টরের (চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র) সদরদপ্তর: হরিণা।
- এবং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।
- ২নং সেক্টর (ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত)সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- এবংসেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।
- ৫নং সেক্টরের (সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- এবং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৯৭.
নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে গঠিত সেক্টর নিচের কোনটি?
  1. ৮নং সেক্টর
  2. ৯নং সেক্টর
  3. ১০নং সেক্টর
  4. ১১নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১০নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

• ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ২নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

• ৩নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।

• ৫নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।

• ৬নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

• ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালনা করে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

• ৮নং সেক্টর: এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।

• ৯নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।

• ১০নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।

• ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৯৮.
ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ মুক্তিযুদ্ধের সময় কত নং সেক্টরের অধীনে ছিলেন?
  1. ১নং
  2. ২নং
  3. ৩নং
  4. ৪নং
সঠিক উত্তর:
১নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১নং
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:

- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১৯৯.
বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্সের প্রধান ছিলেন কে?
  1. সিরাজুল আলম খান
  2. তোফায়েল আহমেদ
  3. শেখ ফজলুল হক মনি
  4. বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী
সঠিক উত্তর:
শেখ ফজলুল হক মনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফজলুল হক মনি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স বা মুজিব বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে এই বাহিনী গঠন করা হয়।
- মুজিব বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শেখ ফজলুল হক মনি।
- মুজিব বাহিনীর ১৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমান্ডের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে তোফায়েল আহমদ, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক, আবদুল কুদ্দুস মাখন প্রমুখ অন্যতম।
- মুজিব বাহিনীর মোট সদস্য ছিলো প্রায় পাঁচ হাজার। এ বাহিনীকে চারটি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল উবানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে দেরাদুন পাহাড়ি এলাকায় এই বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
- মুজিব বাহিনীর গঠন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে মুজিবনগর সরকার অবহিত ছিল না। এই বাহিনী মুজিবনগর সরকারের প্রতি কোন আনুষ্ঠানিক আনুগত্যও প্রকাশ করেনি।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
২০০.
মুজিবনগরে কোন তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল? 
  1. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  2.  ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  3.  ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
  4. ১০ নভেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
 ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- এবং ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- মুজিবনগর সরকারের শপথ বাক্য পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী।

মুজিবনগর সরকার গঠন: 
- মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১০ এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার।
- এ সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলায়।
- শপথ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

- সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। অস্থায়ী সরকারও পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।

উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র - বাংলাপিডিয়া।