বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১)

মোট প্রশ্ন২,৫৩৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১)

PrepBank · পাতা ১৬ / ২৬ · ১,৫০১১,৬০০ / ২,৫৩৩

১,৫০১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত প্রথম অভিযানের নাম কী?
  1. অপারেশন কিলোফাইট
  2. অপারেশন ক্লোজ ডোর
  3. অপারেশন জ্যাকপট
  4. অপারেশন ক্লিন হার্ট
সঠিক উত্তর:
অপারেশন জ্যাকপট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপারেশন জ্যাকপট
ব্যাখ্যা

অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট ১৯৭১ সালে।
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের কমান্ডার।
- অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছিলেন।

অন্যদিকে,
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সারাদেশে মানুষের কাছে যে অবৈধ অস্ত্র ছিল তা জমা নেওয়ার জন্য যে অভিযান পরিচালিত হয় তা অপারেশন ক্লোজ ডোর।
- অপারেশন ক্লিন হার্ট হল ২০০২ সালে পরিচালিত অপরাধ বিরোধী একটি যৌথ অপারেশনের নাম।
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট হলো  মুক্তিযুদ্ধের দুঃসাহসী বিমান অপারেশন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি নিউজ।

১,৫০২.
অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. রাও ফরমান আলী
  2. খাদিম হোসেন রাজা
  3. টিক্কা খান
  4. ইয়াহিয়া খান
সঠিক উত্তর:
রাও ফরমান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।
- ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান অর্থাৎ মূল দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি।
১,৫০৩.
বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন ঘটনাটি আগে ঘটেছিল?
  1. ক) আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
  2. খ) যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
  3. গ) আওয়ামীলীগের ছয় দফা ঘোষণা
  4. ঘ) পাক-ভারত যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাক-ভারত যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাক-ভারত যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ইতিহাসে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৫৪ সালে।
পাক-ভারত যুদ্ধ হয়েছিল ১৯৪৭ এবং ১৯৬৫ সালে।
আওয়ামীলীগের ছয় দফা ঘোষণা করা হয় ১৯৬৬ সালে এবং
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয় ১৯৬৮ সালে।
যেহেতু পাক-ভারত যুদ্ধের সাল উল্লেখ নেই, তাই ১৯৪৭ সালে সংঘটিত প্রথম পাক-ভারত যুদ্ধ বিবেচনায় নিয়ে এটিকে সঠিক উত্তর ধরা হয়েছে। প্রশ্নে উল্লেখিত অন্যান্য ঘটনাগুলো এই যুদ্ধের পরে সংঘটিত হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫০৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রিগেড আকারে মোট কয়টি ফোর্স গঠিত হয়েছিল?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:
- মুজিবনগর সরকারের দপ্তর বণ্টন হলে তাজউদ্দীন আহমেদ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিজ দায়িত্বে রাখেন।
- ১৪ এপ্রিল কর্নেল এম. এ. জি. ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়।
- মে ও জুন মাসে মুক্তিবাহিনীকে তিনটি ব্রিগেড ফোর্সে ভাগ করা হয়েছিল। 
-  ব্রিগেড ফোর্সগুলোর নাম হলো:
(ক) 'কে' ফোর্স (অধিনায়ক: মেজর খালেদ মোশাররফ),
(খ) 'এস' ফোর্স (অধিনায়ক: মেজর কে. এম সফিউল্লাহ),
(গ) 'জেড' ফোর্স (অধিনায়ক: মেজর জিয়াউর রহমান)।
- বাংলাদেশ বাহিনীর হেড কোয়ার্টার স্থাপিত হয় কোলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫০৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রথম বাংলাদেশর মিশন স্থাপিত হয়- 
  1. ওয়াশিংটনে
  2. দিল্লিতে
  3. লন্ডনে
  4. কলকাতায়
সঠিক উত্তর:
কলকাতায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতায়
ব্যাখ্যা

• ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল বিশ্বে বাংলাদেশের প্রথম মিশন হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছিল কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপদূতাবাসটি। 
- আর এই আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন মিশনে কর্মরত তৎকালীন ডিপুটি হাইকমিশনার হোসেন আলী।
- ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের অস্থায়ী সরকার গঠন হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হোসেন আলী ১৮ এপ্রিল দুপুরে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে তুলেছিলেন লাল-সবুজ বাংলাদেশের পতাকা।
- এরই মধ্যদিয়ে বিশ্বে প্রথম বাংলাদেশি মিশন হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে কলকাতার উপদূতাবাসটি।

উল্লেখ্য,
- যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ কূটনৈতিক মিশনের কার্যালয় উদ্বোধনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক কার্যক্রম শুরু করে।
- ভারতের বাইরে এই প্রথম বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের উদ্বোধন হলো। যুক্তরাজ্য ও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ দূত বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী লন্ডনের বেজ ওয়াটার এলাকার নটিংহিল গেটের কাছে ২৪ পেমব্রিজ গার্ডেনসে প্রায় ৩০০ বাঙালি এবং অনেক বিদেশি সাংবাদিকের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ মিশনের উদ্বোধন করেন।

উৎস: ডেইলি স্টার বাংলা।[ লিঙ্ক]

১,৫০৬.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সংখ্যা ছিল -
  1. ৬ জন
  2. ৭ জন
  3. ৮ জন
  4. ১২ জন
সঠিক উত্তর:
৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ জন
ব্যাখ্যা
 • মুজিবনগর সরকার:
- মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।

- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫০৭.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের একমাত্র সদস্য ইউকে চিং কোন খেতাবে ভূষিত হন?
  1. বীরশ্রেষ্ঠ
  2. বীর বিক্রম
  3. বীর প্রতীক
  4. বীর উত্তম
সঠিক উত্তর:
বীর বিক্রম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীর বিক্রম
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে ইউ কে চিং বীর বিক্রম খেতাব লাভ করেন।
- তিনি মারমা সম্প্রদায়ভুক্ত ও বান্দরবান জেলার বাসিন্দা।
- ২০১৪ সালের ২৫ জুলাই তিনি মারা যান।
(তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন)
১,৫০৮.
অপারেশন সার্চলাইট এর সার্বিক দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান
  2. বিগ্রেডিয়ার আরবাব
  3. মেজর জেনারেল খাদিম রাজা
  4. মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী
সঠিক উত্তর:
লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট: 
- ২৫ মার্চ দিবাগত মধ্যরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বাঙালিদের উপর অপারেশন চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়।
- ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক ঐ পরিকল্পনা অনুযায়ী দুটি সদরদপ্তর স্থাপন করা হয়।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর তত্ত্বাবধানে প্রথম সদরদপ্তরটি গঠিত হয়। 
- ৫৭তম বিগ্রেডের বিগ্রেডিয়ার আরবাবকে শুধু ঢাকা নগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় এবং মেজর জেনারেল খাদিম রাজাকে প্রদেশের অবশিষ্টাংশে অপারেশনের দায়িত্ব দেয়া হয়।
- অপারেশনের সার্বিক দায়িত্বে থাকেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৫০৯.
নৌ-কমান্ডোদের সর্বপ্রথম অপারেশনের নাম -
  1. ক) অপারেশন এন্টারপ্রাইজ
  2. খ) অপারেশন জ্যাকপট
  3. গ) অপারেশন সি এঞ্জেল
  4. ঘ) অপারেশন ঈগল
সঠিক উত্তর:
খ) অপারেশন জ্যাকপট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অপারেশন জ্যাকপট
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট

- অপারেশন জ্যাকপট ছিল নৌ-কমান্ডোদের প্রথম অপারেশন
- চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া ছিল এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য।
- নৌ-কমান্ডোরা জাহাজে মাইন লাগিয়ে ফিরে আসেন।
- ১৫ আগস্ট রাত ১২টায় মাইন বিস্ফোরণে চট্টগ্রাম বন্দর প্রকম্পিত হয়।
- ঐ দিন ক্ষতিগ্রস্থ হয় ১০টি জাহাজ ও ২টি গানবোট।
- চট্টগ্রাম বন্দরের এই নৌ-অপারেশনের খবর সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, ক্ষতিগ্রস্থ জাহাজের সবই ছিল বিদেশি।


তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১০.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন 'চুকনগর গণহত্যা' কোন জেলায় সংঘটিত হয়? 
  1. চট্টগ্রাম
  2. খুলনা
  3. সিলেট
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
খুলনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুলনা
ব্যাখ্যা

• চুকনগর গণহত্যা:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধই নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম যেসব গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে একটি চুকনগর গণহত্যা।
- ১৯৭১ সালের ২০ মে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে খুলনার ডুমুরিয়ার ছোট্র শহর চুকনগরে পাকিস্তানি বর্বর সেনারা নির্মম এ হত্যাকান্ড ঘটায়। 
- অতর্কিত এ হামলা চালিয়ে মুক্তিকামী ১০-১২ হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে তারা। 
- মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনারা যে নির্মম অত্যাচার, নির‌যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তারও এক নীরব সাক্ষী হয়ে আছে আজকের চুকনগর। 
- ওই দিন যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের বেশিরভাগ পুরুষ হলেও বহু নারী ও শিশুকেও হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা। 

• ঘটনার বিবরণ:
- পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে দক্ষিণাঞ্চলের জনগোষ্ঠী বাঁচার তাগিদে ভারতে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। 
- মে মাসের মাঝামাঝি সময় বৃহত্তর খুলনার বাগেরহাট, রামপাল, মোড়েলগঞ্জ, কচুয়া, শরণখোলা, মংলা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, চালনা, ফরিদপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ ভারতে যাবার উদ্দেশে রওনা হন। 
- ভারতে যাবার জন্যে তারা ট্রানজিট হিসেবে বেছে নেন ডুমুরিয়ার চুকনগরকে। ১৯মে রাতে সবাই চুনগরে এসে পৌঁছান। 

- পরদিন সকালে সাতক্ষীরা এবং কলারোয়ার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করার জন্য চুকনগরে সমাবেত হন কিন্তু ২০মে সকাল ১০টার দিকে ৩টি ট্রাকে করে হঠাৎ পাকিস্তানি সেনারা চুকনগর বাজারের ঝাউতলায় (তৎকালীন পাতখোলা) এসে থামে। 
- তাদের সঙ্গে ছিল হালকা মেশিনগান ও সেমি-অটোমেটিক রাইফেল। 

- দুপুর ৩টা পর‌যন্ত তারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করতে থাকে। 
- হত্যাযজ্ঞ থেকে বাঁচার আশায় অনেকে নদীতে লাফিয়ে পড়ে ডুবে মারা যান। 
- লাশের গন্ধে ভারি হয়ে যায় চুকনগর ও এর আশপাশের বাতাস। 
- মাঠে, ক্ষেতে, খালে-বিলে পড়ে থাকে লাশ আর লাশ। 
- এসব স্থান থেকে লাশ নিয়ে নদীতে ফেলার কাজ শুরু করেন স্থানীয়রা। 
- চুকনগরের ফসলি জমিগুলোয় আজও পাওয়া যায় সেদিনের শহীদদের হাড়গোড়, তাদের শরীরে থাকা বিভিন্ন অলঙ্কার।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,৫১১.
মুজিব নগর সরকারের মন্ত্রিসভায় সদস্য কত জন ছিলেন?
  1. ১০ জন
  2. ৮ জন
  3. ৬ জন
  4. ৪ জন
সঠিক উত্তর:
৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ জন
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার গঠন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ও মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য এই দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম, কেননা এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- এদিন (১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি 'মুজিবনগর সরকার' নামেই সমধিক পরিচিত এবং মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- ১০ এপ্রিল দেশের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামকরণ করে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে চার
সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়।
- উল্লেখ্য, মেহেরপুর মহকুমা পরবর্তীতে জেলা হিসাবে উন্নীত হয় এবং বৈদ্যনাথতলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়- মুজিবনগর।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো- কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।
 
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- মুজিব নগর সরকারের মন্ত্রিসভায় সদস্য ৬ জন ছিলেন।
→ রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
→ উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
→ প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ,
→ অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,
→ স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান,
→ পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
১,৫১২.
মুক্তিযুদ্ধচলাকালীন সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি সামরিক সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো?
  1. ক) ৯ টি
  2. খ) ১৫ টি
  3. গ) ১৭ টি
  4. ঘ) ১১ টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১ টি
ব্যাখ্যা

যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
এসব সেক্টরকে আবার ৬৪টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়।
এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়।
১০ নং সেক্টর ছিল একমাত্র নৌ সেক্টর যেখানে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

১,৫১৩.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য কতজন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৪ জন
সঠিক উত্তর:
২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

মহিলা বীরপ্রতীক:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১,৫১৪.
মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন -
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) তাজউদ্দিন আহমেদ
  4. ঘ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।

• এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমেদ
- স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী: এ এইচ এম কামরুজ্জামান
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী: এম মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

সূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫১৫.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে 'বীরপ্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত ডব্লিও এ এস ওডারল্যান্ড কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ২ নং
  2. ৪ নং
  3. ৮ নং
  4. ৯ নং
সঠিক উত্তর:
২ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নং
ব্যাখ্যা
ডব্লিও এ এস ওডারল্যান্ড:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে 'বীরপ্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক ডব্লিও এ এস ওডারল্যান্ড।
- তিনি ৬ ডিসেম্বর, ১৯১৭ সালে হল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধে তিনি ২নং সেক্টরে কাজ করেন।

উল্লেখ্য,
- তিনি ছিলেন একজন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক।
- ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ডাচ সেনাবাহিনীতে যুক্ত থেকে জার্মান নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন।
- পরবর্তীতে তিনি ১৯৭০ সালে বাংলাদেশে বাটা সু কোম্পানির ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত হন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ওডারল্যান্ড ২ নম্বর সেক্টরে গণবাহিনীর সদস্য হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- তিনি তার কূটনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতায় মুক্তিবাহিনীর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং তাদের বিভিন্ন তথ্য ও সরঞ্জাম সরবরাহ করেন।

⇒ স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ডকে তার অনন্য সাহস ও অবদানের জন্য বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত করে।
- ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে ৮৪ বছর বয়সে বীরপ্রতীক উইলিয়াম আব্রাহাম সাইমন ঔডারল্যান্ড মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: i) The Daily Star Bangla।
ii) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১,৫১৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বিগ্রেড আকারে কয়টি ফোর্স গঠিত হয়েছিল?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৬টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রধান সেনাপতি কর্নেল এম এ জি ওসমানী (সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে) বিগ্রেড আকারে তিনটি ফোর্স গঠন করেছিলেন। ফোর্স ৩টি হলো- ১. জেড ফোর্স (জিয়াউর রহমান), ২. কে ফোর্স (খালেদ মোশারফ) এবং ৩. এস ফোর্স (কে এম শফিউল্লাহ)।
১,৫১৭.
মেজর মীর শওকত আলী মুক্তিযুদ্ধে কত নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন?
  1. ক) ৫ নং সেক্টর
  2. খ) ৭ নং সেক্টর
  3. গ) ৮ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৯ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
ক) ৫ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৫ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে মোট ১১ টি সেক্টরে ও ৬৪ টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ‘সেক্টর নং ৫‘ গঠিত হয় ।
- মেজর মীর শওকত আলী  ছিলেন ৫ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার।
- এই সেক্টরকে ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১৮.
মুক্তিযুদ্ধে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠিত হয় কবে?
  1. ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর
  2. ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর
  3. ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর
  4. ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়: 
- বাংলাদেশ হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের মধ্যে প্রথম দেশ, যে দেশ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে।
- ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে 'যৌথ কমান্ড' গঠন হয়।
- পাকিস্তান ৩রা ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
- ৬-১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীও পাকিস্তানি বাহিনীর - বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি।
১,৫১৯.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম আরব দেশ কোনটি?
  1. ইরান
  2. সৌদি আরব
  3. কুয়েত
  4. ইরাক
সঠিক উত্তর:
ইরাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরাক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বীকৃত লাভ:

- ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে ০৮ জুলাই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- সেনেগাল (১ ফেব্রুয়ারি), মালয়েশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), ইন্দোনেশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), গাম্বিয়া (মার্চ), গ্যাবন (৬ এপ্রিল), সিয়েরা লিওন (২১ এপ্রিল), ইরাক (৮ জুলাই), দক্ষিণ ইয়েমেন (৩১ জুলাই), উগান্ডা (৫ আগস্ট), বুরকিনা ফাসো (১৯ আগস্ট) প্রভৃতি মুসলিম দেশ ১৯৭২ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ইরান ও তুরস্ক ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬ ও বিবিসি, মার্চ ২৬, ২০২১।
১,৫২০.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কতটি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ৭টি
  2. ১১টি
  3. ২২টি
  4. ৬৪টি
সঠিক উত্তর:
৬৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৪টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং সেক্টরের অধিনে ।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৫২১.
নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' এ নিচের কোন শিল্পী অনুপস্থিত ছিলেন?
  1. জন লেনন
  2. বব ডিলান
  3. এরিক ক্লাপটন
  4. রবি শঙ্কর
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জন লেনন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন লেনন
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন, যে ধরণের আয়োজন এর আগে বিশ্বের মানুষ কখনও দেখেনি।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী জর্জ হ্যারিসন।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।
- জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলানের মতো তারকাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অন্যরকম এক পরিচিতি পায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সাধারণ মানুষের কাছে।

উল্লেখ্য,
- জন লেনন, রিঙ্গো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন এবং বিখ্যাত সব পপ শিল্পী এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
- তবে জন লেনন শেষ পর্যন্ত কনসার্ট ফর বাংলাদেশে অংশ নেননি। 

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
ii) ১ অগাস্ট ২০২১, BBC।
১,৫২২.
বাংলাদেশের কোন নারী মুক্তিযোদ্ধা 'মুক্তিবেটি' নামে পরিচিত?
  1. ক) কাঁকন বিবি
  2. খ) সিতারা বেগম
  3. গ) তারামন বিবি
  4. ঘ) নীলিমা ইব্রাহীম 
সঠিক উত্তর:
ক) কাঁকন বিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাঁকন বিবি
ব্যাখ্যা
- নারী মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবি খাসিয়া সম্প্রদায়ের।
- তিনি 'মুক্তিবেটি' নামে পরিচিত।
- তার জন্ম ১৯৪৮ সালে সুনামগঞ্জ জেলার এক খাসিয়া পরিবারে। 
- পরবর্তীতে তিনি ইসলামধর্ম গ্রহণ করে প্রথমে একজন বাঙালি এবং পরে একজন পাকিস্তানিকে বিয়ে করেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি ৫ নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করেন। 
- এক পর্যায়ে তিনি পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়লে তার উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।
- কাঁকন বিবি কে ১৯৯৭ সালে মৌখিক ভাবে বীর প্রতীক খেতাব দেওয়া হলেও তার গেজেট প্রকাশিত হয়নি।
- ২০১৮ সালের ২১শে মার্চ তিনি মারা যান।

সূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী এবং পত্রিকা রিপোর্ট
১,৫২৩.
Which was the first country to recognize Bangladesh?
  1. Bhutan
  2. India
  3. France
  4. Myanmar
  5. East Germany
সঠিক উত্তর:
Bhutan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bhutan
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান:
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্যমতে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান।
- একইদিন দ্বিতীয় দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ভারত।
- এদিন প্রথম দেশ হিসেবে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- লোকসভার অধিবেশনে এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দানের ঘোষণা করেন।
- এসময় লোকসভার সদস্যরা দাঁড়িয়ে ইন্দিরা গান্ধীর ঘোষণাকে স্বাগত জানান।
- একইসঙ্গে লোকসভার অধিবেশনে হর্ষধ্বনির সঙ্গে 'জয় -বাংলা' স্লোগান উচ্চারিত হয়।
- এদিন ইন্দিরা গান্ধী অধিবেশনে তার বক্তব্যে বলেন, 'বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানি স্বৈরতান্ত্রিক ও গণহত্যা নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো।'
- তৃতীয় দেশ ও প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে পূর্ব জার্মানি ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: i) ভারতীয় হাই কমিশন ওয়েবসাইট।
         ii) ৬ ডিসেম্বর, ২০২৩, প্রথম আলো।
১,৫২৪.
বীরত্বসূচক অবদানের জন্য মুক্তিযুদ্ধে কত জনকে বীর উত্তম খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ৬৬ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ১৭৫ জন
  4. ৪২৬ জন
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী।
- মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে তিনি এই প্রস্তাব করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।

মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য ৬৭৬ জনকে খেতাব প্রদান করা হয়।
যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন।

উল্লেখ্য,
-  ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যাঁদের খেতাব বাতিল হলো তাঁরা হলেন লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫),  লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৭ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৪ জন,
• বীর প্রতীক ৪২৪ জন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
         ii) ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
১,৫২৫.
মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন কে?
  1. ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী
  2. ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ
  3. ড. মোশাররফ হোসেন
  4. ড. এস. আর. বোস
সঠিক উত্তর:
ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
পরিকল্পনা কমিশন:

- পরিকল্পনা কমিশন গঠন দেশ শত্রুমুক্ত করার পরপরই যেহেতু পুনর্গঠন একটি কাজ হবে এবং সে কাজে সরকারের পক্ষে কোনরূপ কালক্ষেপণ করা যাবে না।
- স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে।
- কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী।
- সদস্য ছিলেন,
(১) ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ।
(২) ড. মোশাররফ হোসেন।
(৩) ড. এস. আর. বোস।
(৪) ড. আনিসুজ্জামান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫২৬.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর সরকারের 'ডেপুটি চিফ অব স্টাফ' ছিলেন কে?
  1. এ.কে খন্দকার
  2. এস.এ সামাদ
  3. এম.এ.জি ওসমানী
  4. আবদুর রব
সঠিক উত্তর:
এ.কে খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ.কে খন্দকার
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- এস.এ সামাদ ছিলেন প্রতিরক্ষা সচিব।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।
- চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব।
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন এ.কে খন্দকার।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫২৭.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন-
  1. ক) এম মনসুর আলী
  2. খ) খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  3. গ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
গ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রী ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে। এ সরকারের রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী এম মনসুর আলী এবং পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৫২৮.
মুক্তিযুদ্ধকালীন জেড ফোর্সের নেতৃত্বে ছিলেন কে?
  1. মেজর খালেদ মোশারফ
  2. মেজর জিয়াউর রহমান 
  3. মেজর কে.এম. শফিউল্লাহ
  4. মেজর জাকির আশরাফ
সঠিক উত্তর:
মেজর জিয়াউর রহমান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর জিয়াউর রহমান 
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধকালীন নিয়মিত এবং অনিয়মিত বাহিনী :
- প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়মিত সদস্যদের নিয়ে তিনটি বাহিনী গঠন করা হয়: 
- মেজর জিয়াউর রহমানের অধীনে জেড ফোর্স, খালেদ মোশারফের অধীনে কে ফোর্স এবং কে.এম শফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- সৈনিকদের অধিকাংশই এসেছিল পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস্ এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট থেকে। 
- পূর্ব পাকিস্তান রাইফেল্স, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর  যেসব সদস্যকে এই বাহিনীগুলিতে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি, তাদের বিভিন্ন সেক্টরে  যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য কয়েকটি ইউনিট এবং সাব-ইউনিটে বিভক্ত করা হয়।
- যাদের গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য প্রশিক্ষণ দান করা হয়, তারা ছিল অধিকাংশই অনিয়মিত বাহিনীর সদস্য। 

- এছাড়া, কতিপয় স্বতন্ত্র বাহিনীও  বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং অনেক এলাকা মুক্ত করে।
- এগুলির মধ্যে ছিল মুজিব বাহিনী, কাদেরিয়া বাহিনী, আফসার ব্যাটালিয়ন এবং হেমায়েত বাহিনী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫২৯.
১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে আফসার ব্যাটালিয়ন কোথায় গড়ে উঠে?
  1. টাঙ্গাইল
  2. সিরাজগঞ্জ
  3. পাবনা
  4. ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

আফসার ব্যাটালিয়ন:
- ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানার নিভৃত পল্লী মল্লিকবাড়ী গ্রামে একটি মাত্র রাইফেল নিয়ে মেজর আফসার উদ্দিন আহমেদ সাহেব পার্টি গঠন করেন। পাকবাহিনী ও দুষ্কৃতিকারীগণের সাথে লড়াই করে মেজর আফছার সাহেব শত্রুদেরকে সমুচিত শিক্ষা দিয়েছেন এবং তিনি তার পার্টি নিয়ে শত্রুপক্ষের নিকট থেকে আড়াই হাজারেরও অধিক রাইফেল, ব্রেটাগান, রকেট লান্সার, স্টেনগান, এমএমজি ইত্যাদি উদ্ধার করেন। তার দ্বারা পরিচালিত বাহিনীতে সর্বমোট প্রায় সাড়ে চার হাজার মুক্তিযোদ্ধা ছিল।
- আফছার ব্যাটালিয়নের তরফ থেকে রোগাক্রান্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং বিপর্যস্ত মানুষের চিকিৎসার জন্য ১৩ জন ডাক্তার ও ৩ জন নার্স সমন্বয়ে একটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল স্থাপিত হয়েছিল মেজর আফছার সাহেবের প্রচেষ্টায়। আফছার ব্যাটালিয়ন কর্তৃক মুক্ত এলাকার সুষ্ঠু শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল। এই শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে আফছার ব্যাটালিয়ন তাদের দ্বারা মুক্ত এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে।

⇒ আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
• কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
• বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
• হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
• হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
• আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
• লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
• জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত। ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
ii) সংগ্রামের নোটবুক।

১,৫৩০.
স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশ কতটি সেক্টরে বিভক্ত ছিল?
  1. ১৩টি
  2. ৯টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং সেক্টরের অধিনে ।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৫৩১.
‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’-গানটির গীতিকার কে?
  1. ক) প্রয়াত নজরুল ইসলাম বাবু
  2. খ) গোবিন্দ হালদার
  3. গ) আপেল মাহমুদ
  4. ঘ) গাজী মাজহারুল আনোয়ার
সঠিক উত্তর:
খ) গোবিন্দ হালদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গোবিন্দ হালদার
ব্যাখ্যা
‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’ গানটির গীতিকার গোবিন্দ হালদার। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ গানটি রচিত হয়। এতে কণ্ঠ দেন আপেল মাহমুদ।
গোবিন্দ হালদারের অন্যান্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে ইত্যাদি।
সূত্র : দৈনিক প্রথম আলো।
১,৫৩২.
মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়েছিল -
  1. ক) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  2. খ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ঘ) ১৮ এপ্রিল, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার 'মুজিবনগর সরকার' নামে পরিচিত। 
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 

- এ সরকারের সদর দপ্তর প্রথম স্থাপিত হয় মুজিবনগরে (মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা)।
- পরবর্তীকালে স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রধানত নিরাপত্তা এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানের সুবিধার্থে এ সরকারের প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তর হয়।
- এ সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তাই তাঁরই নামানুসারে বৈদ্যনাথতলার নতুন নামকরণ হয় মুজিবনগর এবং অস্থায়ী সরকারও পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।

উৎস: ইতিহাস তৃতীয় পত্র, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কয়টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়?
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ৭টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
• জেড ফোর্স,
• কে ফোর্স,
• এস ফোর্স।

⇒ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

⇒ কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

⇒ খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৩৪.
'মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি' গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) নজরুল ইসলাম বাবু
  2. খ) গোবিন্দ হালদার
  3. গ) আপেল মাহমুদ
  4. ঘ) গাজী মাজহারুল আনোয়ার
সঠিক উত্তর:
খ) গোবিন্দ হালদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গোবিন্দ হালদার
ব্যাখ্যা
'মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি' গানটির রচয়িতা গোবিন্দ হালদার।
এটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। এতে কণ্ঠ দেন আপেল মাহমুদ।
গোবিন্দ হালদারের অন্যান্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে ইত্যাদি৷
(সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো)
১,৫৩৫.
জাতীয় পতাকা ১৯৭১ সালের কোন তারিখে প্রথম উত্তোলিত হয়?
  1. ২৬ মার্চ
  2. ২৫ মার্চ
  3. ৭ মার্চ
  4. ২ মার্চ
সঠিক উত্তর:
২ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ মার্চ
ব্যাখ্যা
প্রথম পতাকা উত্তোলন:
- ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- গৃহীত হয় ৬ মার্চ, ১৯৭১।
- ২৩ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা আনুষ্ঠানিক উত্তোলন করেন এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে।
- বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন: কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে।
- সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- মানচিত্র খচিত পতাকার নকশাকার: শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন ১৯৭০)।
- জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত: ১০:৬ (৫:৩)।

উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
১,৫৩৬.
ঢাকা শহরে 'অপারেশন সার্চলাইট' পরিচালনার মূল দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. জেনারেল খাদিম হোসেন রেজা
  2. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  3. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  4. জেনারেল টিক্কা খান
সঠিক উত্তর:
জেনারেল রাও ফরমান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা
• অপারেশন সার্চলাইট:
- অপারেশন সার্চলাইট পাকিস্তানে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী মুক্তিকামী বাঙালিদের কঠোর হস্তে দমনের জন্য ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে সামরিক কর্তৃপক্ষ একে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে অভিহিত করে।
- অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় ২৫ মার্চ রাত সাড়ে এগারটা থেকে মধ্য মে পর্যন্ত বড় বড় শহরে অভিযান পরিচালিত হয়।
- অপারেশন সার্চলাইট  অভিযান শুরুর সময় নির্ধারিত ছিল ২৬ মার্চ রাত ১টা।
- সিদ্ধান্ত হয়, ২৫ মার্চ রাত ১টায় অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় অভিযানে ঢাকায় নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল রাও ফরমান আলী।
- দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল খাদিম হোসেন রেজা।

উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
১,৫৩৭.
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিচের কোন উপদেষ্টা 'বীর প্রতীক' খেতাব অর্জন করেছেন?
  1. সালেহ উদ্দিন আহমেদ
  2. ফারুক-ই-আজম
  3. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন
  4. ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন
সঠিক উত্তর:
ফারুক-ই-আজম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারুক-ই-আজম
ব্যাখ্যা
ফারুক-ই-আজম, বীর প্রতীক 
- ফারুক-ই-আজম মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর। সাহসী এই যোদ্ধা বীর প্রতীক খেতাব পেয়েছেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বছরে উচ্চমাধ্যমিক পাস করা ফারুক সে সময় খুলনায় ছিলেন। পরে অনেক বাধাবিপত্তি পেরিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে চট্টগ্রামে পৌঁছান। তিনি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতের হরিণা ইয়ুথ ক্যাম্পে আশ্রয় নেন ৬ মে। পরে নৌবাহিনীর জন্য মুক্তিযোদ্ধা রিক্রুট করা হবে শুনলে তিনি সেখানে যোগ দেন।
- মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র সমন্বিত যুদ্ধাভিযান ছিল ‘অপারেশন জ্যাকপট’। এ অভিযানের মধ্য দিয়ে সারা দেশে একই সময়ে সব বন্দরে একযোগে আক্রমণ চালানো হয়েছিল। সে জন্য এই আক্রমণের জন্য ২০ সদস্যের তিনটি দল নির্বাচন করা হয়। একটি দল তখন চট্টগ্রামে এসে পৌঁছাতে পারেনি। অন্য যে দুটি দলের ৩৭ জন সদস্য অংশ নেন তার ছিলেন অধিনায়ক এ ডব্লিউ চৌধুরী এবং উপ-অধিনায়ক ছিলেন ফারুক-ই-আজম।

অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট ১৯৭১ সালে।
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।
- ১৯৭১ সালের অগাস্টের ১৫ তারিখ রাতে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এর পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল সেই বছরের মে মাসে।


তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা রিপোর্ট ও প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
১,৫৩৮.
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু কয়টি দাবি উত্থাপন করেন?
  1. ক) ১০টি
  2. খ) ৫টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে সমাবেশে উপস্থিত হয়ে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
• এই ভাষণে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান এবং দেশকে মুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
• বঙ্গবন্ধু তার ৭ই মার্চের ১৮ মিনিটের ঐতিহাসিক ভাষণে ৪টি দাবি উত্থাপন করেন।  উত্থাপিত দফাগুলো হলো:-
১। সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে।
২। সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে।
৩। গণহত্যার তদন্ত ও বিচার করতে হবে।
৪। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

তথ্যসূত্র:স বাংলাদেশের সংবিধানের ৫ম তফসিল।
১,৫৩৯.
মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন -
  1. তাজউদ্দীন আহমদ
  2. আবদুল মান্নান এম.এন.এ
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান এম.এন.এ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান এম.এন.এ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার গঠন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ও মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য এই দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম, কেননা এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- এদিন (১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি 'মুজিবনগর সরকার' নামেই সমধিক পরিচিত এবং মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- ১০ এপ্রিল দেশের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামকরণ করে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়।
- মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ।
- মন্ত্রীপরিষদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন গণপরিষদের আওয়ামীলীগের হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- মেহেরপুর মহকুমা পরবর্তীতে জেলা হিসাবে উন্নীত হয় এবং বৈদ্যনাথতলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়- মুজিবনগর।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো- কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
১,৫৪০.
স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বাংলাদেশের কয়টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ক) ১১ টি
  2. খ) ১৭ টি
  3. গ) ৬৪টি
  4. ঘ) ৪৯ টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৪টি
ব্যাখ্যা
 
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার ৬৪টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়।

এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- ১০ নং সেক্টর ছিল একমাত্র নৌ সেক্টর যেখানে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না।

[উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি]
১,৫৪১.
নিম্নোক্তগণের মধ্যে কে বীরশ্রেষ্ঠ নন?
  1. ক) হামিদুর রহমান
  2. খ) মোস্তাফা কামাল
  3. গ) মুন্সী আবদুর রহিম
  4. ঘ) নূর মোহাম্মদ শেখ
সঠিক উত্তর:
গ) মুন্সী আবদুর রহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুন্সী আবদুর রহিম
ব্যাখ্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ গণ-
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ
উৎসঃ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
১,৫৪২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রিগেড আকারে কয়টি ফোর্স গঠন করা হয়েছিল?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৫ টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রিগেড আকারে ৩ টি ফোর্স গঠন করা হয়েছিল। ফোর্স তিনটি হলো- জেড ফোর্স, এস ফোর্স এবং কে ফোর্স। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
১,৫৪৩.
১৯৭১ সালের রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণে মূলত কয়টি দাবি  উপস্থাপন করেন? 
  1. ৩টি 
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি 
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ: 

• ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সামরিক সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ জনতা সমাবেশের জন্য জড়ো হয়। 
এ সমাবেশে বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ দেন তাতে প্রধানত চারটি দাবি উপস্থাপন করেন। এগুলো হলো:
১. চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার;
২. সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া;
৩. গণহত্যার তদন্ত করা এবং
৪. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

• এর বাইরে আরও বেশ কিছু দাবি বঙ্গবন্ধুর ভাষণে উত্থাপন করা হয়।
• তিনি বাংলাদেশের সকল অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন।
• এই শর্তগুলো মানলেই যে বঙ্গবন্ধু ২৫ মার্চ আহূত জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন এমন নিশ্চয়তা ভাষণে দেননি।
• ৭ মার্চের ভাষণে আন্দোলন চলতেই থাকবে বলে ঘোষণা দেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৪৪.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে কতজনকে ‘বীরউত্তম’ উপাধি দেওয়া হয়?
  1. ক) ৭ জন
  2. খ) ৬৮ জন
  3. গ) ১৭৫ জন
  4. ঘ) ৪২৬ জন
সঠিক উত্তর:
খ) ৬৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৬৮ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি উপাধি প্রদান করে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি পান ৭ জন, দ্বিতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরউত্তম’ পান ৬৮ জন, তৃতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরবিক্রম’ পান ১৭৫ জন এবং চতুর্থ বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরপ্রতীক’ পান ৪২৬ জন।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১,৫৪৫.
অপারেশন সার্চ লাইট-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে কে ছিলেন?
  1. টিক্কা খান
  2. রাও ফরমান আলী
  3. খাদিম হোসেন রাজা
  4. ইয়াহিয়া খান
সঠিক উত্তর:
টিক্কা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চ লাইট:
- সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন: গভর্নর লে. জে. টিক্কা খান।
- ঢাকা শহরের দায়িত্বে: মেজর রাও ফরমান আলী।
- ঢাকার বাইরে দায়িত্বে: মেজর খাদিম হোসেন রাজা।
- ১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবের সাথে সমঝোতার উদ্দেশ্যে কয়েকজন জেনারেলসহ ঢাকায় আসেন। 
- ১৯৭১ সালের  ১৬ - ২৪ মার্চ পর্যন্ত মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক চলে। 
- ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ৩ ব্যাটেলিয়ান পাকিস্তানী সৈন্য 'অপারেশন সার্চলাইট-এ' অংশগ্রহণ করে।
- তারা ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা সংগঠিত করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৪৬.
রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের নাম কী? 
  1. বিজয়স্তম্ভ
  2. বিজয়কেতন
  3. স্বাধীনতা সোপান
  4. রক্ত সোপান
সঠিক উত্তর:
রক্ত সোপান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্ত সোপান
ব্যাখ্যা
• সেনানিবাস গুলোতে নির্মিত কয়েকটি মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য:
- ঢাকা সেনানিবাস: বিজয় কেতন, শিখা অনির্বাণ, জাহাঙ্গীর গেট, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
- রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাস: রক্ত সোপান। 
- কুমিল্লা সেনানিবাস: অনির্বাণ জেড। 
- রংপুর সেনানিবাস: বিজয় গাঁথা।

এছাড়াও,
⇒ বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভের অবস্থান:
- দুর্জয়: রাজারবাগ, ঢাকা।
- "স্বাধীনতা সোপান" : সাঁথিয়া উপজেলা, ,পাবনা।
- দুরন্ত: শিশু একাডেমি। 
- সংগ্রাম: সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ।
- বিজয়স্তম্ভ: গাইবান্ধা।
- বিজয় বিহঙ্গ: আমতলা, বরিশাল।
- স্বাধীনতা: ভাষা ইন্সটিটিউট সেগুনবাগিচা, ঢাকা।
- বীরের প্রত্যাবর্তন: বাড্ডা, ঢাকা।
- প্রত্যাশা: ফুলবাড়িয়া, ঢাকা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৫৪৭.
১৯৭১ সালের কত তারিখে রায়ের বাজার বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. ক) ১৪ ডিসেম্বর
  2. খ) ১৬ ডিসেম্বর
  3. গ) ১৭ ডিসেম্বর
  4. ঘ) ১৮ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৮ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৮ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ হত্যা করেছে। তাই সারা দেশেই ছড়িয়ে আছে অগণিত বধ্যভূমি ও গণকবর।
- তখন রায়ের বাজার এলাকাটি ছিল বেশ নিরিবিলি।
- এটি কালুশাহ পুকুরপাড় থেকে গোল মসজিদ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ছিল। মার্চ মাস থেকেই রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে পরিণত হয়।
- এখানে মানুষ হত্যা ছাড়াও অগণিত লাশ এনে ফেলা হয়েছে যার কারণে মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস এই রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করতে সাহস পায়নি।
- ১৯৭১ সালের ১৮ই ডিসেম্বর রায়ের বাজার বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া যায়
- সেদিন এই বধ্যভূমির বিভিন্ন গর্ত থেকে প্রচুর গলিত ও বিকৃত লাশ উদ্ধার করা হয় যাদের মধ্যে বেশীরভাগই ছিল অধ্যাপক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও চিকিৎকের লাশ। 
- বুদ্ধিজীবীদের এই হত্যা কাণ্ডে আলবদর ও রাজাকাররা প্রধান ভুমিকা পালন করে।
- রায়ের বাজারে উদ্ধারকৃত লাশগুলো এতটাই বিকৃত হয়ে পড়ে যে পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি, তবে যে কয়েকজনের পরিচয় জানা সম্ভব হয়েছে। যেমন- অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, সাংবাদিক সেলিনা পারভীন, ডা. ফজলে রাব্বি, চক্ষু চিকিৎসক ডা. আলীম চৌধুরী প্রমুখ। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৪৮.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধে নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. মুজিব বাহিনী
  2. ক্র্যাক প্লাটুন
  3. মুজিব ব্যাটারি
  4. ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট
সঠিক উত্তর:
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট
ব্যাখ্যা
মুক্তিবাহিনী:
- মুক্তিবাহিনী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত সশস্ত্রবাহিনী।
- মুজিবনগর সরকার পরিকল্পিত উপায়ে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য সামরিক ও বেসামরিক সকল জনগণকে নিয়ে ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুক্তিবাহিনী গঠন করে।

• মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল-
১/ নিয়মিত বাহিনী ও
২/ অনিয়মিত বাহিনী।

নিয়মিত বাহিনী:
- নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সৈন্যরা।
- এই বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্রবাহিনীর প্রথাগত যুদ্ধে নিয়োজিত ছিলেন।

অনিয়মিত বাহিনী:
- অনিয়মিত বাহিনী গণবাহিনী নামে পরিচিত ছিল। ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর বিভিন্ন সেক্টরে গণবাহিনীতে নিয়োগ করা হতো।
- গণবাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শত্রুর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পাঠানো হয়।

এছাড়া, কতিপয় স্বতন্ত্র বাহিনীও  বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং অনেক এলাকা মুক্ত করে। এগুলির মধ্যে ছিল মুজিব বাহিনী, কাদেরিয়া বাহিনী, আফসার ব্যাটালিয়ন এবং হেমায়েত বাহিনী।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,৫৪৯.
মুজিব নগর সরকারের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন কে?
  1. আব্দুস সামাদ
  2. এ.কে খন্দকার
  3. আবদুর রব
  4. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
এ.কে খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ.কে খন্দকার
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।
- চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব।
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন এ.কে খন্দকার।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫৫০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ড গঠিত হয় কোন সেক্টর নিয়ে?
  1. ক) ১০ নং সেক্টর
  2. খ) ১১ নং সেক্টর
  3. গ) ৮ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৯ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
ক) ১০ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১০ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এরমধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর। দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১,৫৫১.
মুজিবনগর সরকারের শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. এম এ হান্নান
  2. মাহবুবুর রহমান
  3. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  4. বিচারপতি সাত্তার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার গঠন:
- মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১০ এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার।
- এ সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলায়।
- শপথ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- এবং ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- মুজিবনগর সরকারের শপথ বাক্য পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর।
- অস্থায়ী সরকারও পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।

উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫৫২.
How many members of the Air Force were awarded titles in the Liberation War?
  1. ক) 23
  2. খ) 11
  3. গ) 7
  4. ঘ) 26
সঠিক উত্তর:
ক) 23
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 23
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সভায় বীরত্বসূচক খেতাবের নতুন নামকরণ হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ৪৩ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বীরত্বসূচক খেতাবের জন্য নির্বাচন করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৬ মার্চ পূর্বের ৪৩ জনসহ মোট ৫৪৬ জন মুক্তিযোদ্ধা খেতাবের জন্য নির্বাচিত হন।

বিভিন্ন বাহিনীতে খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা:
- বিমান বাহিনী - ২৩ জন।
১,৫৫৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বর্তমান মেহেরপুর জেলা কত নং সেক্টরের অধীন ছিলো?
  1. ৬ নং সেক্টর
  2. ৭ নং সেক্টর
  3. ৮ নং সেক্টর
  4. ৯ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৮ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে ‍মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- এর মধ্যে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা এবং ফরিদপুর ও খুলনা জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ৮ নং সেক্টর গঠিত হয়।
- বর্তমান মেহেরপুর জেলা ও মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিলো।
- ৮ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী এবং এম এ মঞ্জুর।
- ঢাকা শহর ২নং সেক্টরের অধীন ছিলো।
(তথ্যসূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া)
১,৫৫৪.
মুক্তিযুদ্ধকালীন 'জেড' ফোর্সের অধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. মেজর খালেদ মোশাররফ
  2. মেজর কে. এম সফিউল্লাহ
  3. মেজর জিয়াউর রহমান
  4. মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মেজর জিয়াউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা
→ মুক্তিযুদ্ধকালীন 'জেড' ফোর্সের অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ছিলেন।

ব্রিগেড ফোর্স:
- ১১টি সেক্টর ও তার অধীন অনেক সাব-সেক্টর ছাড়াও রণাঙ্গনকে তিনটি ব্রিগেড ফোর্সে বিভক্ত করা হয়।
- মে ও জুন মাসে মুক্তিবাহিনীকে তিনটি ব্রিগেড ফোর্সে ভাগ করা হয়েছিল।
- ফোর্সের নামকরণ করা হয় ব্রিগেডগুলোর অধিনায়কদের নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে।
- ব্রিগেড ফোর্সগুলোর নাম হলো:
→ 'কে' ফোর্স, যার অধিনায়ক ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ।
→ 'এস' ফোর্স, যার অধিনায়ক ছিলেন মেজর কে. এম সফিউল্লাহ।
→ 'জেড' ফোর্স, যার অধিনায়ক ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান।

উল্লেখ্য, 
- ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুক্তিবাহিনী গঠন করা হয়, যাতে সামরিক ও বেসামরিক জনগণকে একত্রিত করা হয়।
- মুক্তিবাহিনী দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল: নিয়মিত বাহিনী এবং অনিয়মিত বাহিনী। অনিয়মিত বাহিনী গণবাহিনী নামে পরিচিত ছিল।
- গণবাহিনীতে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সেক্টরে নিয়োগ করা হতো।
- গণবাহিনীর সদস্যদের গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।
- নিয়মিত বাহিনীতে ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সৈন্যরা।
- এই বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্র বাহিনীর প্রথাগত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছিল।
- ১৪ এপ্রিল, কর্নেল এম. এ. জি. ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়।
- বাংলাদেশ বাহিনীর হেড কোয়ার্টার কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে স্থাপিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৫৫.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য খেতাবপ্রাপ্ত দু-জন নারী মুক্তিযােদ্ধা হলেন-
  1. ক) কঁকন বিবি ও মতিয়া চৌধুরী
  2. খ) তারামন বিবি ও সুলতানা কামাল
  3. গ) ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম ও তারামন বিবি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম ও তারামন বিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম ও তারামন বিবি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য যে দুই নারী ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব পেয়েছেন তাঁদের একজন ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা রহমান৷ অন্যজন তারামন বিবি৷
Source: dw.com
১,৫৫৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর রফিকুল ইসলাম
  2. মেজর খালেদ মোশাররফ
  3. মেজর এ.টি.এম হায়দার
  4. মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
মেজর রফিকুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর রফিকুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

• ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ২ নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

• ৩ নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।

• ৫ নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।

• ৬ নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

• ৭ নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালনা করে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

• ৮ নং সেক্টর: এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।

• ৯ নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।

• ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।

• ১১ নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৫৫৭.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত তৃতীয় বীরত্বসূচক খেতাব কোনটি?
  1. বীরশ্রেষ্ঠ
  2. বীরবিক্রম
  3. বীরউত্তম
  4. বীরপ্রতীক
সঠিক উত্তর:
বীরবিক্রম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরবিক্রম
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক : বীরশ্রেষ্ঠ (৭ জন)
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক : বীরউত্তম (৬৮ জন)
- তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক : বীরবিক্রম (১৭৫ জন)
- চতুর্থ সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক : বীরপ্রতীক (৪২৬ জন)।
- বঙ্গবন্ধু হত্যকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ৬ জুন ২০২১ চারজনের বীরত্বসূচক খেতাব বাতিল করে।
এরা হলো:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম)
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)।
- ফলে বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে বীরত্বসূচক পদকপ্রাপ্তের মোট সংখ্যা ৬৭২ জন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো)
১,৫৫৮.
কত তারিখে বাংলাদেশে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়?
  1. ২৫ মার্চ
  2. ১২ ডিসেম্বর
  3. ১৪ ডিসেম্বর
  4. ১৪ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
১৪ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২১ সালের ২১ মার্চ শহিদ বুদ্ধিজীবীর সংজ্ঞা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে।
- ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘যে সকল সাহিত্যিক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিত্রশিল্পী, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, ভাস্কর, সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী, রাজনৈতিক, সমাজসেবী, সংস্কৃতিসেবী, চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত ও শিল্পকলার অন্যান্য শাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁদের বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কিংবা তাদের সহযোগীদের হাতে শহিদ কিংবা চিরতরে নিখোঁজ হয়েছেন, তাঁরা শহিদ বুদ্ধিজীবী।’
- ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসাবে পালন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও আলবদর বাহিনী যৌথভাবে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের তাদের বাসা থেকে একে একে তুলে নিয়ে পৈশাচিক নির্যাতনের পর হত্যা করে।
- এছাড়াও, ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে আল-বদর বাহিনী আরও অনেক বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে মোহাম্মদপুর আল-বদর ঘাঁটিতে নির্যাতনের পর রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর কবরস্থানে নিয়ে হত্যা করে।
- তাঁদের স্মরণে ঢাকার রায়ের বাজার ইটখোলায় নির্মিত হয়েছে "বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ "।

তথ্য - ডেইলি স্টার বাংলা এবং বাংলাপিডিয়া।[লিংক]
১,৫৫৯.
‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করে কে?
  1. ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
  2. ছাত্র ইউনিয়ন
  3. আওয়ামী লীগ
  4. ছাত্রলীগ
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ইশতেহার:

- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।
- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয় ।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৫৬০.
ইপিআর এর কতজন সদস্য বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি পেয়েছেন?
  1. ক) ৩ জন
  2. খ) ১ জন
  3. গ) ৪ জন
  4. ঘ) ২ জন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২ জন
ব্যাখ্যা

ইপিআর এর ২ জন সদস্য বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি পেয়েছেন ।

তারা হলেন ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ এবং ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ।

- সবথেকে বেশি বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত হয়েছে সেনাবাহিনীর ৩ জন সদস্য।

- তারা হলেন সিপাহী মোস্তফা কামাল, সিপাহী হামিদুর রহমান এবং ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর।

- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বিমান বাহিনীর একমাত্র বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা।

- ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন নৌবাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত বীরশ্রেষ্ঠ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

১,৫৬১.
কাদের সমন্বয়ে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়েছিল?
  1. শুধু প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য
  2. শুধু জাতীয় পরিষদের সদস্য
  3. আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য
  4. প্রাদেশিক ও জাতীয় উভয় পরিষদের সদস্য
সঠিক উত্তর:
প্রাদেশিক ও জাতীয় উভয় পরিষদের সদস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদেশিক ও জাতীয় উভয় পরিষদের সদস্য
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার 'মুজিবনগর সরকার' নামে পরিচিত। 
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এবং শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- ১৯৭০-৭১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য দ্বারা মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।

- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করা ছিল এ সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য ।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান;
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম;
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ;
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : এম মনসুর আলী;
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান;
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

উল্লেখ্য,
- মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, স্টকহোম) বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন করে।
- এসব মিশন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে।
- সরকার বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত নিয়োগ দেয়।
- তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমতসৃষ্টি ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৬২.
মেজর আবু তাহের কত নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন?
  1. ৭ নং সেক্টর
  2. ৮ নং সেক্টর
  3. ৯ সেক্টর
  4. ১১ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১১ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০-১৭ জুলাই কলকাতায় তাজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যুদ্ধাঞ্চলের অধিনায়কদের সম্মেলনে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
প্রত্যেক সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। ১১টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
এর মধ্যে টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে ১১ নং সেক্টর গঠিত হয়। এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু তাহের এবং পরবর্তীতে উইং কমান্ডার এম. হামিদুল্লাহ।

অন্যদিকে,

১৭ নং সেক্টর কমান্ডার:
- মেজর নাজমুল হক
- সুবেদার মেজর এ. রব
- মেজর কাজী নূরুজ্জামান

৮ নং সেক্টর:
- মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
- মেজর এম.এ মঞ্জুর

৯ নং সেক্টর:
- মেজর এম. এ জলিল
- মেজর এম. এ মঞ্জুর।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র)
১,৫৬৩.
মুজিবনগর সরকারের অর্থনীতি বিষয়ক ও পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
  3. গ) তাজউদ্দীন আহমদ
  4. ঘ) এম.মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
গ) তাজউদ্দীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- রাষ্ট্রপতি।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম- উপরাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত)। 
⇒ তাজউদ্দীন আহমদ- প্রধানমন্ত্রীএবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। 
- খন্দকার মোশতাক আহমদ- মন্ত্রী, পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 
- এম মনসুর আলী- মন্ত্রী, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
- এ এইচ এম কামরুজ্জামান- মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,৫৬৪.
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করেন কে?
  1. হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
  2. এ. এম. সয়েম
  3. আ. এফ. মোসাদ্দেক
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসন:
- ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট তৎকালীন ও তাঁর পরিবারকে নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেন।
- প্রায় তিন মাসের মতো ক্ষমতায় ছিলেন মোশতাক।
- মোশতাকের স্বল্পকালীন শাসনকাল বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে আনে।
- মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমস্ত অর্জন মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয় এবং পাকিস্তানের ভাবধারার পুনঃপ্রতিষ্ঠা শুরু হয়।
- ক্ষমতা দখল করে পাঁচ দিনের মাথায় মোশতাক স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
১,৫৬৫.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশী হিসেবে বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন কে?
  1. জর্জ হ্যারিসন
  2. ডব্লিউ. এস. ওডারল্যান্ড
  3. সাইমন ড্রিং
  4. মার্ক টালী
সঠিক উত্তর:
ডব্লিউ. এস. ওডারল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডব্লিউ. এস. ওডারল্যান্ড
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক হলেন ডব্লিউ এ. এস. ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
- তিনি ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। ওডারল্যান্ড ২নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- তিনি ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১,৫৬৬.
স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রু মুক্ত জেলা কোনটি?
  1. ঢাকা
  2. কুমিল্লা
  3. যশোর
  4. সিলেট
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রুমুক্ত জেলা:
- স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রুমুক্ত জেলা ঢাকা।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পরাজয় হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর।
- কিন্তু আত্মসমর্পণের পরও পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিল।
- ঢাকায় আত্মসমর্পণের ১ সপ্তাহ পর্যন্ত যুদ্ধ চলার পর ২৩ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হয় কুমিল্লার হোমনা।
- কিন্তু ঢাকার মিরপুর তখনো পাকিস্তানি বাহিনী ও বিহারিদের হাতে পুরোপুরি অবরুদ্ধ।
- ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি এক বিশেষ সামরিক অভিযানের পর ৩১ জানুয়ারি ১২ নম্বর সেকশনের ডি ব্লক ঈদগাহ মাঠে আত্মগোপনকারী পাকিস্তানি সেনা, বিহারি, রাজাকার, আলবদরদের অস্ত্রসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্ত হয় মিরপুর।

অন্যদিকে -
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যশোরই হলো প্রথম শত্রু মুক্ত জেলা।
- সিলেট জেলা শত্রুমুক্ত হয় ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১।
- কুমিল্লা জেলা শত্রুমুক্ত হয় ৮ ডিসেম্বর ১৯৭১।

উৎস: জানুয়ারি ৩০, ২০২৩, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
১,৫৬৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'মুজিবনগর 'কোন সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) ২ নং সেক্টর
  2. খ) ৮ নং সেক্টর
  3. গ) ১০ নং সেক্টর
  4. ঘ) ১১ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
খ) ৮ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৮ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল প্রবাসী সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- এর মধ্যে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা এবং ফরিদপুর ও খুলনা জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ৮ নং সেক্টর গঠিত হয়।
- মেহেরপুর জেলা ও মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিলো।
- এর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী এবং এম এ মঞ্জুর।

সোর্সঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১,৫৬৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় তাজউদ্দীন আহমদ কোন পদে দায়িত্ব পালন করেন?
  1. মুক্তিবাহিনীর প্রধান
  2. অস্থায়ী সরকারের অর্থমন্ত্রী
  3. অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী
  4. মিত্র বাহিনীর সেনাপ্রধান
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
তাজউদ্দীন আহমদ:
- তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের প্রধান নেতা।
- তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- তাজউদ্দীন আহমদ ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদ রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

অবদান:
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করলে তাজউদ্দীন আহমদ অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
- ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় এবং তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন, মুক্তিবাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেন এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায় করেন।
- স্বাধীনতার পর তাজউদ্দীন আহমদ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারে অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর তাজউদ্দীন আহমদসহ অন্যান্য জাতীয় নেতাদের বন্দি করা হয়।
- ৩ নভেম্বর, ১৯৭৫ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে তাকে হত্যা করা হয়, যা জেল হত্যা দিবস হিসেবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,৫৬৯.
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ এর গ্রামের বাড়ি -
  1. ক) সালামত ফুল
  2. খ) খোর্দ খালিশপুর
  3. গ) মহিষখোলা
  4. ঘ) পাথরঘাটা
সঠিক উত্তর:
গ) মহিষখোলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মহিষখোলা
ব্যাখ্যা

১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল জেলার মহিষখোলা গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে নূর মোহাম্মদ শেখ জন্মগ্রহণ করেন। 

-তার পিতা মোহাম্মদ আমানত শেখ, মাতা জেন্নাতুন্নেসা। অল্প বয়সে বাবা-মাকে হারান ফলে শৈশবেই ডানপিটে হয়ে পড়েন।

- ৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৭১, সুতিপুর প্রতিরক্ষা অবস্থানের সামনে ষ্ট্যান্ডিং পেট্রোলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালনের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণ নস্যাৎ করে দেন প্রায় একাই। 

-আহত অবস্থায় অধীনস্থ সৈনিকদের নিরাপদে পিছনে পাঠিয়ে দেন এবং শত্রুর মোকাবেলা অব্যাহত রাখার সময় শাহাদাতবরণকরেন।

উৎস:.narail.gov.bd

১,৫৭০.
৭ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন বীরশ্রেষ্ঠ-
  1. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  2. হামিদুর রহমান
  3. মুন্সী আব্দুর রউফ
  4. মোস্তফা কামাল
সঠিক উত্তর:
মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৭ জনকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করে।
- এই বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে সর্বশেষ শহীদ হন ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর।
- তিনি ৭ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন‌।
- তিনি শহীদ হোন ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

১,৫৭১.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণকে 'International Memory of the World Register'-এ অর্ন্তভুক্ত করেছে কোন সংগঠন?
  1. ক) ইউনেস্কো
  2. খ) ইউএনডিপি
  3. গ) আইএমএফ
  4. ঘ) ইউনিসেফ
সঠিক উত্তর:
ক) ইউনেস্কো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইউনেস্কো
ব্যাখ্যা
• ৭ই মার্চের ভাষণ:
- বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল বাঙালি জাতির ইতিহাসের অসামান্য ও অপরিহার্য এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল। 
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রদত্ত ভাষণ।
- এই ভাষণের মাধমে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বাঙালি জাতির প্রতি স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন।

৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের বিশ্ব স্বীকৃতি:
- বিশ্ব ইতিহাসে যে ভাষণগুলো বিখ্যাত হয়ে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক এই ভাষণটি সেগুলোর অন্যতম।
- বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ Jacob F. Field এর বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা "We shall Fight on the beaches: The Speeches that Inspired History" শীর্ষক গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি স্থান পেয়েছে।

- কেবল তাই নয়, ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে World's Documentary Heritage এর মর্যাদা দিয়ে International Memory of the World Register-এ অর্ন্তভুক্ত করেছে।
- বাঙালি জাতির স্বাধীনতার প্রতীক এই দূরদর্শী ভাষণের স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এক মহত্তর অর্জন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৭২.
Which district was first set free enemy during the liberation war of Bangladesh?
  1. B.Baria
  2. Jessore
  3. Sylhet
  4. Dhaka
সঠিক উত্তর:
Jessore
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Jessore
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- অবিভক্ত ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জেলা যশোর অনেক কিছুর জন্যেই বিখ্যাত।
- ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠর মধ্যে ২ জনই বৃহত্তর যশোর জেলার কৃতি সন্তান।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চুড়ান্তভাবে শেষ হবার কয়েকদিন আগেই স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণপণ লড়াইয়ে দেশের সর্বপ্রথম শত্রু মুক্ত যশোর জেলা।
- সেই গৌরবমন্ডিত তারিখটি ছিল ১৯৭১ সালের ৬ই ডিসেম্বর।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যশোরই হল প্রথম শত্রু মুক্ত জেলা।

উৎস: যশোর জেলার ওয়েবসাইট।
১,৫৭৩.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদানকারী সমাজসেবী 'জুলিয়ান ফ্রান্সিস' কোন দেশের নাগরিক?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. নেদারল্যান্ডস
  4. অস্ট্রেলিয়া
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাজ্যের সমাজসেবী ও উন্নয়ন কর্মী জুলিয়ান ফ্রান্সিস:
- জুলিয়ান ফ্রান্সিস সমাজসেবী ও উন্নয়ন কর্মী, অক্সফামের সাবেক কর্মকর্তা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে ভারতে বাঙালি শরণার্থীদের মধ্যে অক্সফামের ত্রাণ তৎপরতার প্রধান সমন্বয়ক, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা পালনকারী, বাংলাদেশের 'মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা' ও নাগরিকত্ব প্রাপ্ত যুক্তরাজ্যের অধিবাসী।

⇒ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে ব্রিটিশ বেসরকারি সাহায্য সংস্থা অক্সফাম-এর ত্রাণকার্য বিষয়ক সমন্বয়ক হিসেবে জুলিয়ান ফ্রান্সিস ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ থেকে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের মধ্যে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ত্রাণতৎপরতা পরিচালনা করেন।
- বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৬০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির অভিজ্ঞতা বর্ণনা আকারে তুলে ধরে অক্সফাম বাংলাদেশের শরণার্থীদের দুর্বিষহ জীবনের ওপর টেস্টিমনি অফ সিক্সটি নামে যে ডকুমেন্টটি প্রকাশ (অক্টোবর ১৯৭১) এবং বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং নীতিনির্ধারকের কাছে প্রচার করেছিল, তা প্রস্তুত করণে জুলিয়ান ফ্রান্সিস গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- এ প্রচারপত্রটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

⇒ স্বাধীনতার পর শরণার্থীদের পুনর্বাসন কাজে সহায়তা দানের জন্য তিনি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে আসেন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃচালুর প্রয়োজনে তিনি যুক্তরাজ্য অক্সফামের প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেদেশ থেকে কয়েকটি ফেরি সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।
- এক পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশের দারিদ্র্যপীড়িত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োগ করেন।
- তিনি বাংলাদেশ সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে নিজেকে যুক্ত করেন।
- ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে বসবাস করছেন এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন।

উল্লেখ্য,
- মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০১২ সালের ২৭শে মার্চ জুলিয়ান ফ্রান্সিস-কে মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের দারিদ্র্যমোচন ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্য সরকার কর্তৃক ২০১৯ সালে তাঁকে 'ওবিই" খেতাবে ভূষিত করা হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষ ৪র্থ খণ্ড।
ii) সংগ্রামের নোটবুক।

১,৫৭৪.
মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী -
  1. ক) জনাব তাজউদ্দীন আহমদ
  2. খ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) এএইচএম কামারুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
খ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত (অস্থায়ী) রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম। অর্থাৎ, তিনি বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমদ
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী : এএইচএম কামারুজ্জামান (পুরো নাম - আবুল হাসানাত মুহাম্মদ কামারুজ্জান)
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

১,৫৭৫.
প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের দপ্তর ছিল-
  1. ক) ৮ নং থিয়েটার রোড,কলকাতা
  2. খ) মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলায়
  3. গ) নয়াদিল্লিতে
  4. ঘ) আগরতলা
সঠিক উত্তর:
ক) ৮ নং থিয়েটার রোড,কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৮ নং থিয়েটার রোড,কলকাতা
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমা বর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়। তখন মুজিবনগর সরকারের সদরদপ্তর কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা- নবম-দশম শ্রেণী
১,৫৭৬.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে কয়টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে?
  1. ১১টি
  2. ১৪টি
  3. ১৭টি
  4. ১৯টি
সঠিক উত্তর:
১৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪টি
ব্যাখ্যা

প্রথম জাতীয় নির্বাচন:
- ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ সংসদ নির্বাচন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
- ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এম. ইদ্রিস।
- এ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পূর্বে মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত মুজিবনগর সরকার কর্তৃক রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে।
- নয় মাসের প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে ৩০০টি সাধারন আসন ও ১৫টি সংরক্ষিত মহিলা আসন।
- ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩০৮টি আসনে জয়লাভ করেন।

তথ্যসূত্র - নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট, পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১,৫৭৭.
'লালমাই' কোন জনপদের অংশ ছিল?
  1. হরিকেল
  2. সমতট
  3. বঙ্গ
  4. রাঢ়
সঠিক উত্তর:
সমতট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমতট
ব্যাখ্যা
সমতট:

- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটি বর্ণনামূলক এবং এর অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।
- হিউয়েন সাঙ বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা- পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৭৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী কোথায় গঠিত হয়?
  1. কলকাতা
  2. নাগাল্যান্ড
  3. চট্টগ্রাম
  4. আগরতলা
সঠিক উত্তর:
নাগাল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগাল্যান্ড
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী:
- ভারতের নাগাল্যান্ডের দিমাপুরে ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমানবাহিনী গঠিত হয়।
- এর সংগঠক ছিলেন এয়ার কমোডর এ.কে খন্দকার।
- স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট বদরুল আলম, ক্যাপ্টেন খালেক, সাত্তার, শাহাবুদ্দিন, মুকিত, আকরাম, শরফুদ্দিন এবং ৬৭ জন বিমানসেনা নিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়।
- তাদের সম্বল ছিল মাত্র কয়েকটি ডাকোটা, অটার টাইপ বিমান এবং অ্যালুভেট হেলিকপ্টার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,৫৭৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
  2. খন্দকার মোশতাক আহমদ
  3. লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
  4. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার
সঠিক উত্তর:
কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার): 
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দীন আহমদ
- অর্থমন্ত্রী: ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, কৃষি মন্ত্রী: এ. এইচ. এম কামারুজ্জামান
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমদ
- প্রধান সেনাপতি: কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
- চিফ অব স্টাফ: লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৫৮০.
সিপাহী মোস্তফা কামাল কত নং সেক্টরের অধীনে ছিলেন?
  1. ১নং
  2. ২নং
  3. ৩নং
  4. ৪নং
সঠিক উত্তর:
২নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২নং
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:

- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১,৫৮১.
মুজিবনগর সরকারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  3. গ) তাজউদ্দিন আহমদ
  4. ঘ) এএইচএম কামরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
গ) তাজউদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল আওয়ামী লীগের প্রধান নেতৃবৃন্দদের সমন্বয়ে অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে। ১৮ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের সদস্যদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়।

মুজিবনগর সরকারের সদস্যবৃন্দ:

- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান : রাষ্ট্রপতি।

- সৈয়দ নজরুল ইসলাম : উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।

- তাজউদ্দিন আহমদ : প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।

- এম মনসুর আলী : অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী।

- এএইচএম কামরুজ্জামান : স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী।

- খন্দকার মোশতাক আহমেদ : পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১,৫৮২.
বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা কত?
  1. ক) ৬৭৬ জন
  2. খ) ৬৪ জন
  3. গ) ১৭৫ জন
  4. ঘ) ৪২৬ জন
সঠিক উত্তর:
গ) ১৭৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৭৫ জন
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন
- বীর উত্তম - ৬৮ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন

তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী]
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)

∴ বর্তমানে (২০২১) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
১,৫৮৩.
মুজিবনগর সরকারকে শপথ বাক্য কে পাঠ করান?
  1. অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক
  2. এম হোসেন আলী
  3. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  4. তাজউদ্দিন আহমদ
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার: 
- মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল প্রণীত ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ ছিল বাংলাদেশের মুক্তি আকাঙ্ক্ষী রাষ্ট্রের প্রথম সংবিধান।
- ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুসারে ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। কারণ ঘোষণাপত্রে লেখা হয়েছে- ‘আমাদের এই - স্বাধীনতার ঘোষণা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।’
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। 
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ। 
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- এ সরকার গঠনের মাত্র ২ ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বিমান বাহিনী মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- পরে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তর করা হয়। 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর। 
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।
- নবগঠিত সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে এখানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
- মুজিবনগর সরকারকে ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ভাগ করা হয়।
- মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন হয় ১৮ এপ্রিল ১৯৭১।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,৫৮৪.
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ঢাকার কোন এলাকায় অবস্থিত?
  1. ক) সেগুনবাগিচা
  2. খ) ধানমণ্ডি
  3. গ) মগবাজার
  4. ঘ) বনানী
সঠিক উত্তর:
ক) সেগুনবাগিচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সেগুনবাগিচা
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বাংলাদেশের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত নিদর্শন ও স্মারকচিহ্নসমূহ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের স্থান। এটি ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ ঢাকাস্থ সেগুনবাগিচার একটি পুরানো দ্বিতল বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রবেশ পথেই রয়েছে ‘শিখা চিরন্তন’, প্রস্তরে উৎকীর্ণ করা আছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অঙ্গীকার: সাক্ষী বাংলার রক্তভেজা মাটি/ সাক্ষী আকাশের চন্দ্রতারা/ ভুলি নাই, শহীদদের কোন স্মৃতি/ ভুলবনা কিছুই আমরা। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১,৫৮৫.
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের দিনে পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন কে?
  1. মেজর খালেদ মোশাররফ
  2. জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী
  3. ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
  4. জেনারেল নিয়াজী
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে।  তাদের এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

⇒ ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সকালে মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান।
- ১৬ ডিসেম্বর বিকালে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ৯৩ হাজার সৈন্য বিনা শর্তে সম্মিলিত বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- এই আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন পূর্বাঞ্চলের সম্মিলিত বাহিনী প্রধান লেঃ জেনারেল জগজিত সিং অরোরা ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিনায়ক লেঃ জেঃ এ কে নিয়াজী।
- এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন মুক্তিবাহিনীর উপ-সেনা প্রধান ও বিমান বাহিনী প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়।
- প্রতি বছর এই দিনটি "বিজয় দিবস" হিসাবে পালিত হয়।

এছাড়াও,
- এই অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এস ফোর্স অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কে এম সফিউল্লাহ, ২নং সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ টি এম হায়দার এবং টাঙ্গাইল মুক্তি বাহিনীর অধিনায়ক জনাব কাদের সিদ্দিকী।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণি। 
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৮৬.
মুজিবনগর সরকারের চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্বে ছিলেন-
  1. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  2. ক্যাপ্টেন এম.মনসুর আলী
  3. লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
  4. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার
সঠিক উত্তর:
লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ ই এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ, অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম.মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান, প্রধান সেনাপতি ছিলেন কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী, চিফ অব স্টাফ ছিলেন লে. কর্নেল(অব.) আবদুর রব এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি
১,৫৮৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর কত নং সেক্টরের অধীন ছিলো?
  1. ক) ৬ নং
  2. খ) ৭ নং
  3. গ) ৮ নং
  4. ঘ) ৯ নং
সঠিক উত্তর:
গ) ৮ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৮ নং
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল প্রবাসী সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টরে বিভক্ত করে। এর মধ্যে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা এবং ফরিদপুর ও খুলনা জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ৮ নং সেক্টর গঠিত হয়। মেহেরপুর জেলা ও মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিলো। এর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী এবং এম এ মঞ্জুর। ঢাকা শহর ২নং সেক্টরের অধীন ছিলো। (সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া)
১,৫৮৮.
বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
  1. ৬৭২ জন
  2. ৬৭৪ জন
  3. ৬৭৬ জন
  4. ৬৭৮ জন
সঠিক উত্তর:
৬৭২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭২ জন
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত। যথা- বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন, বীর উত্তম ৬৮ জন, বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং বীর প্রতীক ৪২৬ জন।
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।

- কিন্তু ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৫৮৯.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. তাজউদ্দীন আহমদ
  2. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  3. এম মনসুর আলী
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
সঠিক উত্তর:
এ এইচ এম কামরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ: 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- রাষ্ট্রপতি।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম- উপরাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত)। 
- তাজউদ্দীন আহমদ- প্রধানমন্ত্রীএবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। 
- খন্দকার মোশতাক আহমদ- মন্ত্রী, পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 
- এম মনসুর আলী- মন্ত্রী, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
- এ এইচ এম কামরুজ্জামান- মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,৫৯০.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. এম.এ মঞ্জুর
  2. এ.টি.এম হায়দার
  3. এম খাদেমুল বাশার
  4. কে.এম শফিউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
কে.এম শফিউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কে.এম শফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

• ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ২ নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

• ৩ নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।

• ৫ নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।

• ৬ নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

• ৭ নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালনা করে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

• ৮ নং সেক্টর: এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।

• ৯ নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।

• ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।

• ১১ নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৫৯১.
স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় গঠিত সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের আহবায়ক কে ছিলেন? 
  1. তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  3. কর্নেল খালেদ মোশাররফ
  4. কর্নেল এম. এ. জি. ওসমানী
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দীন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দীন আহমেদ
ব্যাখ্যা

সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ:
- ১৯৭১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধকে বেগবান করার জন্য আওয়ামী লীগসহ পাঁচটি দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয় ৮ সদস্যের 'সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ'।
- এই পরিষদের নেতৃবৃন্দ মূলত মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর একাত্তরের ১০ এপ্রিল শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত মুজিবনগর সরকারকেই সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছিল।
- ভারতের কলকাতায় গঠন করা হয় 'জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি', যা 'সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ' নামে পরিচিতি লাভ করে।

⇒ সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন:
- আহবায়ক ছিলেন: তাজউদ্দীন আহমেদ।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।

⇒ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন-
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি),
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি),
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা),
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৯২.
ঢাকা শহরে 'অপারেশন সার্চলাইট' পরিচালনার মূল দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. জেনারেল খাদিম হোসেন রেজা
  2. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  3. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  4. জেনারেল টিক্কা খান
সঠিক উত্তর:
জেনারেল রাও ফরমান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা
• অপারেশন সার্চলাইট:
- অপারেশন সার্চলাইট পাকিস্তানে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী মুক্তিকামী বাঙালিদের কঠোর হস্তে দমনের জন্য ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে সামরিক কর্তৃপক্ষ একে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে অভিহিত করে।
- অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় ২৫ মার্চ রাত সাড়ে এগারটা থেকে মধ্য মে পর্যন্ত বড় বড় শহরে অভিযান পরিচালিত হয়।
- অপারেশন সার্চলাইট  অভিযান শুরুর সময় নির্ধারিত ছিল ২৬ মার্চ রাত ১টা।
- সিদ্ধান্ত হয়, ২৫ মার্চ রাত ১টায় অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় অভিযানে ঢাকায় নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল রাও ফরমান আলী।
- দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল খাদিম হোসেন রেজা।

উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
১,৫৯৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ড গঠিত হয় কোন সেক্টর দিয়ে?
  1. ক) ৯ নং
  2. খ) ৮ নং
  3. গ) ১১ নং
  4. ঘ) ১০ নং
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০ নং
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এরমধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর। দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)

১,৫৯৪.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার জন্য কতজনকে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করা হয়?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৭ জন
সঠিক উত্তর:
৭ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ জন
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ:
- বীর শ্রেষ্ঠ বীরত্বের জন্য প্রদত্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক পুরস্কার। 
- যুদ্ধক্ষেত্রে অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপনকারী যোদ্ধার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক দেয়া হয়। 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে এই পদক দেয়া হয়েছে।
১। ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর,
- সেক্টর: ৭ নং,
- মৃত্যু: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে শেষ শহীদ)।
২। সিপাহী হামিদুর রহমান,
- সেক্টর: ৪ নং,
- মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১।
৩। সিপাহী মোস্তফা কামাল,
- সেক্টর: ৮ নং,
- মৃত্যু: এপ্রিল ১৮, ১৯৭১।
৪। মোহাম্মদ রুহুল আমিন,
- সেক্টর: ১০ নং,
- মৃত্যু: ডিসেম্বর ১০, ১৯৭১।
৫। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান,
- বাংলাদেশ বিমান বাহিনী,
- মৃত্যু: আগস্ট ২০, ১৯৭১।
৬। ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ,
- সেক্টর: ১ নং,
- মৃত্যু: এপ্রিল ৮,১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে ১ম শহীদ)।
৭। নূর মোহাম্মদ শেখ,
- সেক্টর: ৮ নং,
- মৃত্যু: ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১,৫৯৫.
মুক্তিযুদ্ধে বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত ইউকে চিং কোন সম্প্রদায়ের ছিলেন?
  1. ক) গারো
  2. খ) চাকমা
  3. গ) খাসিয়া
  4. ঘ) মারমা
সঠিক উত্তর:
ঘ) মারমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মারমা
ব্যাখ্যা
ইউকে চিং (উক্য চিং মারমা):
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর মুক্তিযোদ্ধা৷
- তিনি বীরবিক্রম খেতাবে সম্মানিত।
- তিনি মারমা সম্প্রদায়ের লোক।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ইপিআর-এর সদস্য ছিলেন।
- ৬ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৫৯৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কয়টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়?
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ৭টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- “জেড” ফোর্স, “কে” ফোর্স, “এস” ফোর্স নিয়ে ৩টি ব্রিগেড ফোর্স।
- জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
- কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৯৭.
বাংলাদেশের প্রথম সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. অধ্যপক ইউসুফ আলী
  2. এম এ হান্নান
  3. মোহাম্মদ হামিদুল্লাহ
  4. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
অধ্যপক ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যপক ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- মেহেরপুর জেলায় মুজিব নগর অবস্থিত।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিব নগর সরকার গঠিত হয় - ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- সরকার শপথ গ্রহন করে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যপক ইউসুফ আলী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করা হয়।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ।

তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া।
১,৫৯৮.
কনসার্ট ফর বাংলাদেশের প্রধান উদ্যোক্তা কে ছিলেন?
  1. জর্জ হ্যারিসন
  2. বব ডিলান
  3. বিলি প্রেস্টন
  4. জন লেনন
সঠিক উত্তর:
জর্জ হ্যারিসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ হ্যারিসন
ব্যাখ্যা

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিশ্বখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর।
- বাংলাদেশের জনগণের সাহায্যার্থে কিছু করার জন্য তিনি প্রথম যোগাযোগ করেন জনপ্রিয় বিটলসের অন্যতম সদস্য জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।

উল্লেখ্য,
- ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ শুরু হয়েছিল পণ্ডিত রবিশঙ্করের একটি সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দিয়ে।
- এ কনসার্টের জন্য তিনি তৈরি করেছিলেন ‘বাংলাদেশ ধুন’ বলে নতুন একটি সুর।
- আর তাঁর সঙ্গে সরোদে যুগলবন্দী ছিলেন ওস্তাদ আলী আকবর খান।
- তবলায় সহযোগিতা করেছিলেন বিখ্যাত আল্লারাখা।
- তানপুরায় ছিলেন কমলা চক্রবর্তী। সেদিন ম্যাডিসন স্কয়ারের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রতিবাদী গানের রাজা বব ডিলান। 
- সেদিন বব ডিলানের সঙ্গে গিটার বাজিয়েছিলেন জর্জ হ্যারিসন, ব্যাস লিওন রাসেল ও ট্যাম্বুরিন রিঙ্গো স্টার।
- সে অনুষ্ঠানে বিটলসের অন্যতম সদস্য রিঙ্গো স্টার, লিওন রাসেল, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেস্টন, ডন প্রেস্টন প্রমুখ গান গেয়েছেন, গিটার বাজিয়েছেন।

এছাড়াও,
- জন লেনন শেষ পর্যন্ত কনসার্ট ফর বাংলাদেশে অংশ নেননি।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC।

১,৫৯৯.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে একমাত্র ব্যতিক্রমী সেক্টর কোনটি?
  1. ক) ১১ নং
  2. খ) ৮ নং
  3. গ) ১০ নং
  4. ঘ) ৪ নং
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় একমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী সেক্টর হল ১০ নং সেক্টর (নৌ সেক্টর)। একে ৩টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়। এ সেক্টরে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলেন না। এটি সরাসরি প্রধান সেনাপতির অধীনে ছিল।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১,৬০০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল?
  1. ক) ১০টি
  2. খ) ১২টি
  3. গ) ০৯ টি
  4. ঘ) ১১ টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১ টি
ব্যাখ্যা
 - ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়। এই সেক্টরগুলোকে আবার ৬৪ টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়।
-  যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।