বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১)

মোট প্রশ্ন২,৫৩৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১)

PrepBank · পাতা ১১ / ২৬ · ১,০০১১,১০০ / ২,৫৩৩

১,০০১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কাদেরিয়া বাহিনী কোন অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল?
  1. টাঙ্গাইলে
  2. নড়াইলে
  3. বরিশালে
  4. চট্টগ্রামে
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইলে
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী: 
- মুক্তিযুদ্ধে সরকারের অধীন বিভিন্ন বাহিনী ছাড়াও বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছিল।
- এসব সংগঠন স্থানীয়ভাবে পাকিস্তানি বাহিনী এবং রাজাকার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।
- যেমন: টাঙ্গাইলে কাদেরিয়া বাহিনী, মাগুরার আকবর বাহিনী ইত্যাদির কথা স্মরণীয় হয়ে আছে।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে দেশকে পাকিস্তানিদের দখলমুক্ত করার জন্য রণক্ষেত্রে যুদ্ধ করেছেন, অনেকে আহত হয়েছেন, অনেকে দেশের জন্যে প্রাণ দিয়েছেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,০০২.
মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টরের হেডকোয়ার্টার কোথায় ছিল? 
  1. তিনকোনা
  2. আগরতলা
  3. করিমগঞ্জ
  4. হরিনা
সঠিক উত্তর:
হরিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিনা
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল- হরিনা।

• ১নং সেক্টর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে।
- এই সেক্টরে প্রায় দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন।
- সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
- এদের মধ্যে ছিলেন ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় দুই হাজার নিয়মিত সৈন্য এবং গণবাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার।
- এই বাহিনীর গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,০০৩.
মুজিবনগর সরকারের অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী মন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  4. এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
এম মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে এবং এই সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ-
রাষ্ট্রপতিঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান;
উপরাষ্ট্রপতিঃ সৈয়দ নজরুল ইসলাম;
প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীঃ তাজউদ্দীন আহমদ;
অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীঃ এম মনসুর আলী;
স্বরাষ্ট্র, কৃষি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীঃ এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান,
পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীঃ খন্দকার মোশতাক আহমেদ;
প্রধান সেনাপতিঃ কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত এম. এ. জি ওসমানী;
চিফ অব স্টাফঃ কর্নেল (অব.) আব্দুর রব এবং
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং বিমান বাহিনীর প্রধানঃ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,০০৪.
পাকিস্তানি বাহিনী কোথায় আত্মসমর্পন করেছিল?
  1. ক) ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
  2. খ) পিলখানায়
  3. গ) রাজারবাগে
  4. ঘ) রেসকোর্স ময়দানে
সঠিক উত্তর:
ঘ) রেসকোর্স ময়দানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রেসকোর্স ময়দানে
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৬-১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়। ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন। পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন। সূত্র - বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০০৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সরকারের চীফ অব স্টাফ কে ছিলেন?
  1. ক) কর্ণেল (অব) এম এ জি ওসমানী
  2. খ) মেজর খালেদ মোশারফ
  3. গ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খোন্দকার
  4. ঘ) কর্ণেল (অব) এম এ রব
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্ণেল (অব) এম এ রব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্ণেল (অব) এম এ রব
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধের সময় কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- মুক্তিবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ছিলেন লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
- মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

(উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

১,০০৬.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?
  1. নিকোলাই পদগোর্নি
  2. লিওনিদ ব্রেজনেভ
  3. ইউরি আন্দ্রোপভ
  4. মিখাইল গর্বাচেভ
সঠিক উত্তর:
নিকোলাই পদগোর্নি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোলাই পদগোর্নি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ছিলেন নিকোলাই পদগোর্নি। 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর ভূমিকা: 
- যুক্তরাষ্ট্র: পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে সমর্থন করেছিল।
- চীন: পাকিস্তানের প্রতি নৈতিক সমর্থন দিলেও সামরিক হস্তক্ষেপ করেনি।
- ভারত: সামরিক, কূটনৈতিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করে।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া): ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহায়তা দিয়েছিল।
- ২৫ মার্চ ১৯৭১: পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার পর সোভিয়েত ইউনিয়ন উদ্বেগ প্রকাশ করে।
- ২ এপ্রিল ১৯৭১: সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট পদগোর্নি ইয়াহিয়া খানকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেন।
- জুলাই ১৯৭১: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের গোপন চীন সফর, যা ভারতকে উদ্বিগ্ন করে তোলে।
- ৯ আগস্ট ১৯৭১: ভারত-সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ভারতকে কূটনৈতিক ও সামরিক নিরাপত্তা প্রদান করে।
- ডিসেম্বর ১৯৭১: ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলে, সোভিয়েত ইউনিয়ন কূটনৈতিকভাবে ভারতের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেয়।
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১: বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে, যেখানে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
- সোভিয়েত কূটনৈতিক শক্তি এবং ভারতীয় সামরিক সহায়তার ফলে পাকিস্তান পরাজিত হয়।

উৎস:  বিবিসি বাংলা (১৩ মার্চ ২০২২)
১,০০৭.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ডেপুটি চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব কে পালন করেন?
  1. ক) খন্দকার মোশতাক আহমদ
  2. খ) লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
  3. গ) কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
  4. ঘ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে খন্দকার।
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে খন্দকার।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে খন্দকার।
ব্যাখ্যা
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার তথা মুজিবনগর সরকার।

-    বাংলাদেশ সরকার(মুজিবনগর সরকার)

রাষ্ট্রপতি (সর্বাধিনায়ক) ⇒ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উপ-রাষ্ট্রপতি ⇒ সৈয়দ নজরুল ইসলাম
প্রধানমন্ত্রী ⇒ তাজউদ্দিন আহমদ
অর্থমন্ত্রী ⇒ ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন, কৃষি মন্ত্রী ⇒ এ. এইচ. এম কামারুজ্জামান
পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ⇒ খন্দকার মোশতাক আহমদ
প্রধান সেনাপতি ⇒ কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
চিফ অব স্টাফ ⇒ লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ⇒ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে খন্দকার

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০০৮.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর কোন সেক্টরের অধীন ছিল?
  1. চার নম্বর সেক্টর
  2. তিন নম্বর সেক্টর
  3. দুই নম্বর সেক্টর
  4. এক নম্বর সেক্টর
সঠিক উত্তর:
দুই নম্বর সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই নম্বর সেক্টর
ব্যাখ্যা
২ নং সেক্টর:
- ২ নং সেক্টর  ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। 
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। 
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। 
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ টি এম হায়দার। 
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে।
- নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার।
এছাড়া,
- ১ নং সেক্টর  চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং তৎকালীন নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
- ৩ নং সেক্টর  উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- ৪নং সেক্টর  উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
  
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০০৯.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালে সাইমন ড্রিং কোন সংবাদপত্রের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশে এসেছিলেন?
  1. দ্য টাইমস
  2. দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ
  3. দ্য গার্ডিয়ান
  4. দ্য সানডে টাইমস
সঠিক উত্তর:
দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ
ব্যাখ্যা

• সাইমন ড্রিং: 
- ১৯৪৫ সালে ইংল্যান্ডে জন্ম সাইমন ড্রিংয়ের।
 - মাত্র ১৮ বছর বয়স থেকে তিনি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
 - সাংবাদিক হিসেবে প্রত্যক্ষ করেছেন ২২টি যুদ্ধ, অভ্যুত্থান ও বিপ্লব।
 - আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রকৃত বন্ধু এবং সহযোদ্ধার।

⇒ দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করার সময় ১৯৭১ সালের ৬ মার্চ কম্বোডিয়া থেকে ঢাকায় আসেন সাইমন ড্রিং।
- ১৯৭১ সালের ২৫মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করার আগে ঢাকায় অবস্থানরত প্রায় অর্ধশত বিদেশি সাংবাদিককে আটকে ফেলে তখনকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে।
- তাদের হোটেল থেকে সরাসরি বিমানে তুলে ঢাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয় যাতে গণহত্যার কোনো খবর সংগ্রহ করতে না পারে বিশ্ব গণমাধ্যম। তাদের মধ্যে ছিলেন ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং।
- পাকিস্তানি সামরিক আইন না মেনে তিনি হোটেলে লুকিয়ে পড়েন। শ্বাসরুদ্ধকর ৩২ ঘণ্টা সময় কাটে হোটেলের লবি, ছাদ, বার, কিচেনের মত জায়গায়। পরে তিনি ঘুরে ঘুরে প্রত্যক্ষ করেন গণহত্যার বাস্তব চিত্র। ২৭ মার্চ কারফিউ উঠে গেলে সায়মন ড্রিং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হল, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকাসহ ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ঘুরে দেখেন।
- নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম খবর প্রকাশ করেন ৩০ মার্চ ১৯৭১, ডেইলি টেলিগ্রাফে।
- কলকাতা থেকে মুক্তিযুদ্ধের খবর সংগ্রহ করে পাঠিয়ে দিতেন লণ্ডনের টেলিগ্রাফ পত্রিকায়।
- ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর লন্ডনে ফিরে গেলেও ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত জেনে আবার তিনি ঢাকায় আসেন।
- একাত্তরে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এই ব্রিটিশ সাংবাদিককে ২০১২ সালে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননায় ভূষিত করে বাংলাদেশ সরকার।

তথ্যসূত্র: দৈনিক সমকাল, প্রথম আলো, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা ও সংগ্রামের নোটবুক। 

১,০১০.
মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে কখন?
  1. ক) ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর
  2. খ) ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর
  3. গ) ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে।
- ৬-১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সাথে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীও পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে। 
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন। 
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। 
- এতে অস্থায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন। 
- বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যূদয় হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। 


উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১১.
পাক-বাহিনীর আত্মসমর্পণে অস্থায়ী সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কে?
  1. এম. এ. জি. ওসমানী
  2. এ .কে. খন্দকার
  3. মেজর জিয়াউর রহমান
  4. ব্রিগেডিয়ার মীর শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
এ .কে. খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ .কে. খন্দকার
ব্যাখ্যা

পাক-বাহিনীর আত্মসমর্পণ: 
- সময়: ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- স্থান: ঢাকার রেসকোর্স (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে।
- পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্য ও অস্ত্র-শস্ত্রসহ ভারতীয় ইস্টার্ন কামান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরার নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- নিয়াজী পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: ইতিহাস এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০১২.
বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় পতাকার ডিজাইনার -
  1. শিব নারায়ণ দাশ
  2. এস এম সুলতান
  3. কামরুল হাসান
  4. আব্দুর রব
সঠিক উত্তর:
কামরুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা
-১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো হয়েছিল।
- লাল-সবুজের ভেতরে হলুদ রঙে বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত ছিল সেই পতাকা।
- প্রথম জাতীয় পতাকার ডিজাইনার ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা শিব নারায়ণ দাশ।
- শিব নারায়ণ দাশের তৈরি করা বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত এই পতাকা ধরেই হয়েছিল স্বাধীনতার সংগ্রাম।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে সরকার শিল্পী কামরুল হাসানকে পতাকার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলে।
- কামরুল হাসান ওই পতাকা থেকে মানচিত্র বাদ দিয়ে যে পতাকাটি ডিজাইন করেন সেটিই এখন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।
- ২ মার্চ পতাকা উত্তোলন দিবস পালন করা হয়।

তথ্য - দৈনিক ইত্তেফাক।
১,০১৩.
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে কতজন ইপিআর (বর্তমান - বিজিবি) সদস্য 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত হন?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৪ জন
সঠিক উত্তর:
২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজিবি (তৎকালীন ইপিআর) খেতাব প্রাপ্তদের বিবরণ:
- মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত প্রান্তরে এক অসামান্য অবদান ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছে বিজিবি (তৎকালীন ইপিআর)।
- একটি আধা সামরিক বাহিনী হয়েও সামান্য সংখ্যক সনাতন অস্ত্রকে সম্বল করে এই বাহিনীর বীর সৈনিকবৃন্দ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
- রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধে ৮১৭ বীর সৈনিক ইপিআর সদস্য শহীদ হন।

উল্লেখ্য,
স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ইপিআর বাহিনীর -
- ২ জনকে সর্বোচ্চ সামরিক খেতাবে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করা হয়। তারা হলেন -
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এবং
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ)
,
এছাড়া,
- ৮ জনকে ‘বীর উত্তম’,
- ৩২ জনকে ‘বীর বিক্রম’ এবং ,
- ৭৮ জনকে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করা হয় ।

উৎস: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।
১,০১৪.
বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন কে?
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমদ
  2. খ) খন্দকার মোশতাক আহমদ
  3. গ) ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী
  4. ঘ) এ এইচ এম কামারুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
ঘ) এ এইচ এম কামারুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এ এইচ এম কামারুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
• এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
• মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক (পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দি)।
• সৈয়দ নজরুল ইসলাম - উপ-রাষ্ট্রপতি (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং পদাধিকারবলে সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন)।  
• তাজউদ্দীন আহমদ - প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। 
• খন্দকার মোশতাক আহমদ - পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 
• ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী - অর্থ, শিল্প,বাণিজ্য,পরিবহন ও জাতীয় রাজস্ব মন্ত্রী। 
এ এইচ এম কামারুজ্জামান - স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০১৫.
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ-এর সমাধিস্থল কোন জেলায়?
  1. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  2. রাঙ্গামাটি
  3. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. কুষ্টিয়া
সঠিক উত্তর:
রাঙ্গামাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
• মুন্সী আব্দুর রউফ, বীরশ্রেষ্ঠ:
- জন্ম: ১৯৪৩ সালের ৮ মে, ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার সালামতপুর গ্রামে।।
- খেতাবের সনদ নম্বর ০২।
- মুন্সী আব্দুর রউফ ইপিআর বাহিনীতে চাকরি করতেন।
- তিনি ১৯৬৩ সালে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসে যোগ দেন।
- ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। 
- ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম সেক্টরের অধীন ১১ নম্বর উইংয়ে কর্মরত ছিলেন। 
- তিনি সাতজন বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে প্রথম শহীদ।
- তিনি শহীদ ২০ এপ্রিল, ১৯৭১।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধি - রাঙামাটির বুড়িঘাটে।


তথ্যসূত্র: চিরন্তন ৭১, প্রথম আলো।
১,০১৬.
অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
  2. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  3. জেনারেল টিক্কা খান
  4. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
সঠিক উত্তর:
জেনারেল রাও ফরমান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।
- ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান অর্থাৎ মূল দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি।
১,০১৭.
“ওদের ৩০ লাখ মেরে ফেলো। বাদ বাকিরা আমাদের হাত থেকেই খেয়ে বেঁচে থাকবে।” - কার উক্তি?
  1. ক) টিক্কা খান
  2. খ) ইয়াহিয়া খান
  3. গ) আইয়ুব খান
  4. ঘ) উপরের কেউ নন
সঠিক উত্তর:
খ) ইয়াহিয়া খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইয়াহিয়া খান
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight)

২৫ মার্চ ১৯৭১ দিবাগত রাতে পুরো প্রজন্ম নিশ্চিহ্নের চক্রান্ত হিসেবে Operation Searchlight এর মাধ্যমে শুরু হয় পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে নিষ্ঠুরতম গণহত্যা। ২৫ মার্চের কালরাতের নিষ্ঠুরতার প্রস্তাব করা হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। ১৮ মার্চ সকালে ঢাকা সেনানিবাসে GOC কার্যালয়ে বসে জেনারেল রাজা ও কুখ্যাত মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী অপারেশনের যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করেন। ঐ পরিকল্পনার ৬টি লক্ষ্য ছিল –

১. সারা পূর্ব পাকিস্তানে একযোগে অপারেশন সার্চলাইট শুরু করতে হবে।
২. সর্বোচ্চ সংখ্যক রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতা। সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষকদের হত্যা করতে হবে।
৩. ঢাকায় অপারেশন ১০০ ভাগ সফল হতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দখল এবং তল্লাশী করতে হবে।
৪. সেনা বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনে যুদ্ধ অস্ত্র প্রয়োজন ব্যবহার করা হবে।
৫. টেলিফোন, টেলিভিশন, রেডিও ও টেলিগ্রাফসহ সকল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে।
৬. অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেড়ে নিয়ে সবল পূর্ব পাকিস্তানি বাঙালি সৈন্য ধ্বংস করতে হবে।

"Operation Searchlight" ছিল সামরিক অভিযানের সাংকেতিক নাম। এর লক্ষ্য ছিল একযোগে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রধারী বাঙালি সমাজকে ধ্বংস করাসহ ব্যাপক নরহত্যা চালানো। এটি সম্ভব হলে বাঙালি জাতি অভিযান প্রতিহত করার জন্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে না। তাহলে শেখ মুজিবকে মাথা নত করিয়ে স্বাধীনতার পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধান করা সম্ভব হবে। 

১৯৭২ সালে প্রকাশিত সাংবাদিক রবার্ট পেইনের ম্যাসাকার বইতে দেখা যায়, ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ যেদিন Operation Searchlight প্রস্তাব করা হয় সেদিন ইয়াহিয়া খান বলেছিলেন –

“ওদের ৩০ লাখ মেরে ফেলো। বাদ বাকিরা আমাদের হাত থেকেই খেয়ে বেঁচে থাকবে।”

অপারেশন সার্চ লাইট শুরু হলে ২৬ মার্চ ১ম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক প্রথম আলো।
১,০১৮.
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ সংঘটিত হয় কোথায়?
  1. হালিশহর, চট্টগ্রাম
  2. জয়দেবপুর, গাজীপুর
  3. মুজিবনগর, মেহেরপুর
  4. নলিতাবাড়ী, শেরপুর
সঠিক উত্তর:
জয়দেবপুর, গাজীপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়দেবপুর, গাজীপুর
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১৯শে মার্চ গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ সংঘটিত হয়।
- ৭ মার্চের ভাষণের পর আন্দোলন দুর্বল করতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী জয়দেবপুরের দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের তাঁদের অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু বাঙালি সৈন্যরা অস্ত্র জমা না দিয়ে জনতাকে সাথে নিয়ে চান্দিনা-জয়দেবপুর সড়ক অবরোধ করে।
- এতে পাকবাহিনী গুলিবর্ষণ করলে হুরমত, নিয়ামত, কানু মিয়া ও মনু খলিফা নিহত এবং অনেকে আহত হন। পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে ওটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধ।
- এটির স্বরণে জয়দেবপুর চৌরাস্তায় জাগ্রত চৌরঙ্গী নামে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য নির্মিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো এবং গাজীপুর জেলা ওয়েবসাইট)

 
১,০১৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কত নং সেক্টরের অধীনে ক্র্যাক প্লাটুন গঠিত হয়েছিলো?
  1. ২ নং সেক্টর
  2. ৩ নং সেক্টর
  3. ১০ নং সেক্টর
  4. ১১ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বযে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন।
- ২নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর খালেদ মোশারফ এই বাহিনী গড়ে তুলেন।
- ১৯৭১ সালের জুনে ভারতের মেঘালয়ের মেলাঘর ক্যাম্প থেকে প্রথমে ১৭ জন গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে ক্র্যাক প্লাটুনের যাত্রা শুরু করে।
- শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ ক্র্যাক প্লাটুনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
(তথ্যসূত্র: কালেরকণ্ঠ এবং একাত্তরের দিনগুলি : জাহানারা ইমাম)
১,০২০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'অপারেশন কিলো ফ্লাইট' পরিচালনা করে কোন বাহিনী?
  1. গেরিলা বাহিনী
  2. বিমান বাহিনী
  3. সেনাবাহিনী
  4. নৌবাহিনী
সঠিক উত্তর:
বিমান বাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমান বাহিনী
ব্যাখ্যা

→ অপারেশন কিলো ফ্লাইট মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অপারেশনগুলোর সমন্বিত সাংকেতিক নাম।

অপারেশন কিলো ফ্লাইট:
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুক্তিবাহিনীর বিমান উইং এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্ম ও গোড়াপত্তনের ইতিহাস।
- ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত এক বিমানঘাঁটিতে জন্ম হয়েছিল যে ইতিহাসের, সেই ইতিহাস শত্রুর চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
- এই কিলো ফ্লাইটের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন দুঃসাহসিক বিমান যোদ্ধারা।
- ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সম্ভাবনাটিও চিরতরে হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও ডেইলি স্টার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২।

১,০২১.
'কনর্সাট ফর বাংলাদেশ' আয়োজনকারী জর্জ হ্যারিসন কোন দেশের নাগরিক?
  1. ক) রাশিয়া
  2. খ) যুক্তরাজ্য
  3. গ) যুক্তরাষ্ট্র
  4. ঘ) অস্ট্রেলিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) যুক্তরাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশের শরণার্থীদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে জর্জ হ্যারিসনের তত্ত্বাবধানে নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল 'দ্যা কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'।
-  জর্জ হ্যারিসন ছিলেন যুক্তরাজ্যের নাগরিক।
- জর্জ হ্যারিসনকে অনুষ্ঠানটি করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন বিখ্যাত সেতার বাদক পণ্ডিত রবি শঙ্কর।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১,০২২.
অপারেশন সার্চ লাইট যে সালে সংঘটিত হয়-
  1. ক) ১৯৬৯
  2. খ) ১৯৭১
  3. গ) ১৯৭৫
  4. ঘ) ১৯৭০
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর 'অপারেশন সার্চ লাইট' পরিচালনা করে।
- এই অপারেশনে ঢাকা শহর জুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালানো হয়।
- ১৮ মার্চ ১৯৭১ জেনারেল টিক্কা খান এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা প্রস্তুত করেন।
- সব প্রস্তুতি শেষে ২৫ মার্চ এই অপারেশন চালানো হয়।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চ লাইটের মূল দায়িত্বে ছিলেন।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০২৩.
মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) তাজউদ্দীন আহমদ
  4. ঘ) এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
গ) তাজউদ্দীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় যা ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন এম মনসুর আলী। স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন এএইচএম কামরুজ্জামান এবং পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০২৪.
বাংলাদেশে মর্যাদা অনুসারে দ্বিতীয় বীরত্বসূচক খেতাব-
  1. বীরবিক্রম
  2. বীরশ্রেষ্ঠ
  3. বীরপ্রতীক
  4. বীরউত্তম
সঠিক উত্তর:
বীরউত্তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরউত্তম
ব্যাখ্যা
১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক খেতাব ৪ ভাগে বিভক্ত। যথা-
১. বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন (মর্যাদা অনুসারে প্রথম বীরত্বসূচক খেতাব),
২. বীর উত্তম ৬৮ জন (মর্যাদা অনুসারে দ্বিতীয় বীরত্বসূচক খেতাব),
৩. বীর বিক্রম ১৭৫ জন (মর্যাদা অনুসারে তৃতীয় বীরত্বসূচক খেতাব) এবং
৪. বীর প্রতীক ৪২৬ জন (মর্যাদা অনুসারে চতুর্থ বীরত্বসূচক খেতাব)।
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।
উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,০২৫.
ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভায় কোন দফতরের দায়িত্বে ছিলেন?
  1. স্বরাষ্ট্র ও কৃষি
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. ত্রাণ ও পুনর্বাসন
  4. পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক
সঠিক উত্তর:
অর্থ ও বাণিজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থ ও বাণিজ্য
ব্যাখ্যা
→ ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভায় 'অর্থ ও বাণিজ্য' দফতরের দায়িত্বে ছিলেন। 

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা ও তাদের দফতর:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমেদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: এম. মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী: এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমেদ

উল্লেখ্য, 
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- মুজিবনগর সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : তৃতীয় খণ্ড।
১,০২৬.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সংখ্যা কতজন ছিল?
  1. ক) ৬ জন
  2. খ) ৭ জন
  3. গ) ৮ জন
  4. ঘ) ৯ জন
সঠিক উত্তর:
গ) ৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৮ জন
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)
মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)
মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)
ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২৭.
Mujibnagar Government was formed on -
  1. 10 April 1971
  2. 11 April 1971
  3. 17 April 1971
  4. 21 April 1971
  5. 25 April 1971
সঠিক উত্তর:
10 April 1971
উত্তর
সঠিক উত্তর:
10 April 1971
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- মুজিবনগর সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
 
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
• রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
• উপরাষ্ট্রপতি ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
• প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ। 
• অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: এম মনসুর আলী।
• স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী: এএইচএম কামারুজ্জামান।
• পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমদ।
 
উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র: তৃতীয় খণ্ড।
১,০২৮.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কতটি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়?
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ৭টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- “জেড” ফোর্স, “কে” ফোর্স, “এস” ফোর্স নিয়ে ৩টি ব্রিগেড ফোর্স।
- জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
- কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,০২৯.
মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন -
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) এম মনসুর আলী
  3. গ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  4. ঘ) ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
⇨ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
⇨ ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র খসড়া প্রণয়ন ও আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এবং ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
⇨ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
⇨ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
⇨ মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন ইউসুফ আলী
⇨ ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয় ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৩০.
গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার ছিল কত সদস্য বিশিষ্ট?
  1. ক) ৪ সদস্য
  2. খ) ৫ সদস্য
  3. গ) ৬ সদস্য
  4. ঘ) ৭ সদস্য
সঠিক উত্তর:
গ) ৬ সদস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬ সদস্য
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠন:
- বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি, তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দনি আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে ১০ এপ্রিল একটি অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়।
- ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে।
- ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ ও গণহত্যা শুরু হলে পূর্ব পাকিস্তান হতে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের অধিকাংশ সদস্য প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন।
- ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী এসব নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়ে সর্বসম্মতিক্রমে স্বাধীন বাংলাদেশের একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করেন।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল নতুন সরকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে।
- ১২ এপ্রিল স্বাধীন বাংলা বেতারে গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ৬ সদস্য বিশিষ্ট অস্থায়ী সরকার গঠনের সংবাদ প্রচার করা হয়।
- ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয় ।

• অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণ:
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন।
- তদানিন্তন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার (বর্তমানে জেলা) বৈদ্যনাথতলা (বর্তমানে মুজিবনগর) গ্রামে শতাধিক দেশী-বিদেশী সাংবাদিক, কতিপয় নির্বাচিত জাতীয় পরিষদ সদস্য ও কয়েক হাজার সাধারণ জনতার উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- আওয়ামী লীগের চীপ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী শপথ পাঠ করান।
- শপথ অনুষ্ঠানে তিনি একটি ঘোষণাপত্রও পাঠ করেন।
- এ ঘোষণাপত্রে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কার্যকর বলে উল্লেখ
করা হয়।

• অস্থায়ী সরকারের সদস্য ও তাদের দফতর:
১. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: রাষ্ট্রপতি
২. সৈয়দ নজরুল ইসলাম: উপ-রাষ্ট্রপতি
৩. তাজউদ্দিন আহমদ: প্রধানমন্ত্ৰী 
8. খন্দকার মোশতাক আহমদ: পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্ৰী
৫. এম. মনসুর আলী: অর্থমন্ত্রী
৬. এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান: স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী

• উল্লেখ্য যে, রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে আটক থাকায় উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার প্রদান করা হয়।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৩১.
মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেন কে?
  1. তোফায়েল আহমদ
  2. আ স ম আবদুর রব
  3. শাহজাহান সিরাজ
  4. আবদুল কুদ্দুস মাখন
সঠিক উত্তর:
আ স ম আবদুর রব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আ স ম আবদুর রব
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।
- ২রা মার্চ ঢাকা শহর এবং ৩রা মার্চ থেকে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।
- ২৫ মার্চ স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে অসহযোগ আন্দোলন সমাপ্ত হয়।
- ২রা মার্চ ছাত্র নেতাদের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় প্রথম মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন ডাকসু সহ-সভাপতি আ. স. ম. আব্দুর রব।
-  এজন্য ২রা মার্চ জাতীয় পতাকা দিবস।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রথম আলো।
১,০৩২.
বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী কে?
  1. ক) এএইচ এম কামারুজ্জামান
  2. খ) তাজউদ্দীন আহমদ
  3. গ) ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি - জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
সৈয়দ নজরুল ইসলাম মুজিবনগর সরকার তথা বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বা উপ-রাষ্ট্রপতি ছিলেন।
তাজউদ্দিন আহমেদ - প্রথম প্রধানমন্ত্রী।
ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী - প্রথম অর্থমন্ত্রী
এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান ছিলেন - প্রথম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,০৩৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সাব সেক্টর কয়টি ছিল?
  1. ৬০
  2. ৬২
  3. ৬৪
  4. ৬৬
সঠিক উত্তর:
৬৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৪
ব্যাখ্যা
- যুদ্ধ শুরু হবার পর সুষ্ঠু প্রশাসনিক ব্যবস্থার অধীন যুদ্ধ-অঞ্চল (সেক্টর) গঠন এবং এ লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে সমন্বয় সভা আয়োজনের জন্য মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কর্নেল ওসমানীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয় যুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রিসভা।
- সে অনুযায়ী মুক্তিবাহিনীর বিভিন্ন দলের কমান্ডারদের নিয়ে ১১ থেকে ১৭ জুলাই আহ্বান করা হয় প্রথম সম্মেলন।
- প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডের (বর্তমানে শেকসপিয়ার সরণি) অফিস ভবনে তার সভাপতিত্বে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। 
- সম্মেলনে সুষ্ঠুভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার লক্ষ্যে সারাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।
- পাশাপাশি সেক্টরগুলোকেও ভাগ করা হয় ৬৪টি সাব-সেক্টরে।
- তিনটি উদ্দেশ্য সামনে রেখে এই সেক্টরগুলো গঠন করা হয়।
- প্রথমত, সেক্টরগুলোর সীমানা নির্ধারণ; দ্বিতীয়ত, গেরিলা যোদ্ধাদের সংগঠিত করা এবং তৃতীয়ত, নিয়মিত বাহিনী সংগঠিত করা।

উৎস: দৈনিক সমকাল। [লিঙ্ক]
১,০৩৪.
মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য কয় সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠণ করা হয়েছিলো?
  1. ক) ৭ সদস্য
  2. খ) ৮ সদস্য
  3. গ) ৯ সদস্য
  4. ঘ) ১০ সদস্য
সঠিক উত্তর:
খ) ৮ সদস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৮ সদস্য
ব্যাখ্যা

- মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন-
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)
মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)
মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)
ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা - ৯ম - ১০ম শ্রেনি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৩৫.
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ঢাকা 
  2. কুমিল্লা 
  3. চট্টগ্রাম 
  4. গাজীপুর
সঠিক উত্তর:
গাজীপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাজীপুর
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ:
- ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গাজীপুরের জয়দেবপুরের জনগণ সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল।
- এটিই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ। 

⇒ ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চে ঢাকা ব্রিগেড হেডকোয়ার্টার থেকে আকস্মিকভাবে পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার জাহান জেবের নেতৃত্বে পাকিস্তানি রেজিমেন্ট জয়দেবপুরের (গাজীপুর) দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার জন্য পৌঁছে যায়।
- এ খবর জানাজানি হতেই বিক্ষুব্ধ জনতা জয়দেবপুরে এক প্রতিরোধ সৃষ্টি করে।
- সশস্ত্র পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করলে অকুস্থলেই শহীদ হন অনেকে।
- এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৩৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে হেমায়েত বাহিনী কোন অঞ্চলে যুদ্ধ করে?
  1. বরিশাল
  2. মানিকগঞ্জ
  3. সিরাজগঞ্জ
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা

আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

১,০৩৭.
বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে প্রথম শহীদ হন -
  1. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  2. হামিদুর রহমান
  3. মুন্সী আব্দুর রউফ
  4. মোহাম্মদ মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
মুন্সী আব্দুর রউফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুন্সী আব্দুর রউফ
ব্যাখ্যা
• মুন্সী আব্দুর রউফ, বীরশ্রেষ্ঠ:
- জন্ম: ১৯৪৩ সালের ৮ মে, ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার সালামতপুর গ্রামে।।
- বাবা মুন্সী মেহেদি হোসেন, মা মুকিদুননেছা।
- খেতাবের সনদ নম্বর ০২।
- মুন্সী আব্দুর রউফ ইপিআর বাহিনীতে চাকরি করতেন।
- তিনি ১৯৬৩ সালে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসে যোগ দেন।
- ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। 
- ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম সেক্টরের অধীন ১১ নম্বর উইংয়ে কর্মরত ছিলেন। 
- তিনি বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে প্রথম শহীদ।
- তিনি শহীদ ২০ এপ্রিল, ১৯৭১।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধি - রাঙামাটির বুড়িঘাটে।

তথ্যসূত্র: চিরন্তন ৭১, প্রথম আলো।
১,০৩৮.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রদত্ত ১ নম্বর খেতাব কোনটি?
  1. বীর উত্তম
  2. বীরশ্রেষ্ঠ
  3. বীর প্রতীক
  4. বীর বিক্রম
সঠিক উত্তর:
বীরশ্রেষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরশ্রেষ্ঠ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৩৯.
অপারেশন জ্যাকপট বলতে বুঝায় -
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধে নৌ কমান্ডোদের অভিযান
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর অভিযান
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধে বিমান বাহিনীর অভিযান
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধে ক্র‍্যাক প্লাটুনের অভিযান
সঠিক উত্তর:
ক) মুক্তিযুদ্ধে নৌ কমান্ডোদের অভিযান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মুক্তিযুদ্ধে নৌ কমান্ডোদের অভিযান
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোরা পরিচালিত প্রথম অভিযান অপারেশন জ্যাকপট নামে পরিচিত।
- এদিন নৌ-কমান্ডোরা একযোগে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পাকবাহিনীর উপর হামলা চালায়।
- এতে পাকবাহিনীর ২৬টি নৌযান ধ্বংস হয়।
- মোট ১৪৮ জন নৌ-কমান্ডোরা চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে এ অপারেশনে অংশ নেয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,০৪০.
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা শাফি ইমাম রুমী মুক্তিবাহিনীর কোন গেরিলা দলের হয়ে যুদ্ধ করেছিলেন?
  1. ক্র্যাক প্লাটুন
  2. কাদেরিয়া বাহিনী
  3. বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স
  4. ঢাকা গেরিলা
সঠিক উত্তর:
ক্র্যাক প্লাটুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্র্যাক প্লাটুন
ব্যাখ্যা
শহীদ শাফী ইমাম রুমী:

- শাফী ইমাম রুমী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন গেরিলাযোদ্ধা।
- শহীদ জননীখ্যাত জাহানারা ইমামের বড় ছেলে।
- ছেলে রুমী শহীদ হওয়ার জন্য জাহানারা ইমাম শহীদ জননী উপাধী পান।
- ১৯৫১ সালের ২৯ মার্চ শরীফ ও জাহানারা ইমামের উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬৮ সালে স্টার মার্কস নিয়ে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৭০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
- তিনি সেক্টর ২-এর অধীনে মেলাঘরে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
- এই সেক্টরটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন খালেদ মোশাররফ ও রশিদ হায়দার।
- প্রশিক্ষণ শেষ করে শাফী ইমাম রুমী ঢাকায় ফেরত আসেন এবং ক্র্যাক প্লাটুনে যোগ দেন।
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা আক্রমণ পরিচালনাকারী একটি সংগঠন।
- রুমী ও তাঁর দলের ঢাকায় আসার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন হামলা করা।
- ১৯৭১ সালের ২৯ আগস্ট তিনি তার নিজের বাড়িতে কাটান এবং এই রাতেই বেশ কিছু গেরিলাযোদ্ধার সঙ্গে পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন।

তথ্যসূত্র - দৈনিক যুগান্তর, ২৯ মার্চ ২০২০।
১,০৪১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সরকারের চিফ অব স্টাফ কে ছিলেন?
  1. ক) কর্নেল (অব) এম. এ .জি ওসমানী
  2. খ) মেজর খালেদ মোশাররফ
  3. গ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
  4. ঘ) কর্নেল (অব) এম এ রব
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্নেল (অব) এম এ রব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্নেল (অব) এম এ রব
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ১০ ই এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের-
রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন- সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- তাজউদ্দিন আহমদ,
পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন- খন্দকার মোশতাক আহমেদ,
অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন- এম.মনসুর আলী,
স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন- এ এইচ এম কামরুজ্জামান,
প্রধান সেনাপতি ছিলেন- কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী,
চিফ অব স্টাফ ছিলেন- লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব এবং
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন- গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,০৪২.
মুজিবনগরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে কত তারিখে?
  1. ক) ১০ ই মার্চ
  2. খ) ১৭ ই এপ্রিল
  3. গ) ১৬ শে মার্চ
  4. ঘ) ১৭ ই মে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭ ই এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭ ই এপ্রিল
ব্যাখ্যা

• ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে।
• এই সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ-
- রাষ্ট্রপতিঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান;
- উপরাষ্ট্রপতিঃ সৈয়দ নজরুল ইসলাম;
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীঃ তাজউদ্দীন আহমদ;
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীঃ এম মনসুর আলী;
- স্বরাষ্ট্র, কৃষি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীঃ এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান,
- পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীঃ খন্দকার মোশতাক আহমেদ;
- প্রধান সেনাপতিঃ কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত এম. এ. জি ওসমানী;
- চিফ অব স্টাফঃ কর্নেল (অব.) আব্দুর রব এবং
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং বিমান বাহিনীর প্রধানঃ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,০৪৩.
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস-
  1. ২৬ মার্চ
  2. ১৪ ডিসেম্বর
  3. ১৬ ডিসেম্বর
  4. ২১ ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
১৪ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস:
- শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ১৪ ডিসেম্বর পালন করা হয়।
- বুদ্ধিজীবী হত্যা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন ইতিহাসের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ।
- ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুই শতেরও বেশি বুদ্ধিজীবীকে তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হয়।
- শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির উদ্দেশে বাংলাদেশে শোকাবহ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,০৪৪.
'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়েছিল কার নির্দেশনায়?
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর:
গ) শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১ মার্চ “স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” গঠিত হয় । “স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” - এর সদস্যগণ হলেন -
১. নুরে আলম সিদ্দিকী (সভাপতি, ছাত্রলীগ)
২. শাজাহান সিরাজ (সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগ)
৩. আ. স. ম. আব্দুর রব (সহ-সভাপতি, ডাকসু)
৪. আব্দুল কুদ্দুস মাখন (সাধারণ সম্পাদক, ডাকসু)
• এই ৪ ছাত্র নেতাকে মুক্তিযুদ্ধের ৪ খলিফা বলা হত।

তথ্যসূত্র বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম - দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪৫.
কাগমারি সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) সিরাজগঞ্জ
  3. গ) টাঙ্গাইল
  4. ঘ) ঢাকা
সঠিক উত্তর:
গ) টাঙ্গাইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) টাঙ্গাইল
ব্যাখ্যা
কাগমারি সম্মেলন হলো ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার কাগমারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের চতুর্থ কাউন্সিল ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি প্রশ্নে দলটির বাম ও ডানপন্থী সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এর ফলে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে আওয়ামী ‍লীগের বামপন্থী সদস্যরা ১৯৫৭ সালের ১৮ মার্চ দল থেকে বেড়িয়ে যায়।

- পরবর্তীতে, ১৯৫৭ সালের ২৪-২৫ জুলাই ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০৪৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় কার নেতৃত্বে?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. খালেদ মোশাররফ
  3. কর্ণেল সফিউল্লাহ
  4. মেজর আবু তাহের
সঠিক উত্তর:
খালেদ মোশাররফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খালেদ মোশাররফ
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ ফোর্স:
- মুক্তিযুদ্ধে তিনটি ফোর্স গঠিত হয়।
→ জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় এবং ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

→‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডট।
- দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন মেজর কে এম সফিউল্লাহ।

→ ‘কে ফোর্স’ মেজর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে গঠিত হয়।
- ৪র্থ, ৯ম এবং ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪৭.
মুজিব নগর সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. তাজউদ্দিন আহমদ
  4. এম. মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
এ এইচ এম কামরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- সরকারকে নীতি নির্ধারণী পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ৮ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা হয়।
- বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় ছিল। 
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪৮.
বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত তারামন বিবি মুক্তিযুদ্ধে কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ক) ১১নং
  2. খ) ১০নং
  3. গ) ৯নং
  4. ঘ) ৮নং
সঠিক উত্তর:
ক) ১১নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১১নং
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের দুইজন বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- তিনি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু তাহের বীর উত্তম। 
- তারামন বিবি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন মুহিব হাবিলদার নামে এক মুক্তিযোদ্ধার উৎসাহে।
- তারামনের বয়স যখন মাত্র ১৩ কিংবা ১৪ তখন তিনিই তারামনকে ক্যাম্পে রান্নাবান্নার জন্য নিয়ে আসেন।
- তিনি ১১ নম্বর সেক্টরে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলার নদী-তীরবর্তী অঞ্চল মোহনগঞ্জ, তারাবর, কোদালকাটি ও গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়িতে অগ্রবর্তী দলের হয়ে কয়েকটি সশস্ত্র যুদ্ধে বীরত্বের সাথে অংশগ্রহণ করেন।  তারামন অনেক যুদ্ধে পুরুষ মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে অংশ নেন। 
- ১৯৭৩ সালে তৎকালীন বঙ্গবন্ধুর সরকার মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবির সাহসীকতা ও বীরত্ব পূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে “বীর প্রতীক” উপাধিতে ভূষিত করেন।
- কিন্তু এরপর ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তাঁকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি।
- ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহের একজন গবেষক প্রথম তাঁকে খুঁজে বের করেন এবং নারী সংগঠনগুলো তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- অবশেষে ১৯৯৫ সালের ১৯শে ডিসেম্বর এক অনাড়ম্বর পরিবেশে আনুষ্ঠানিক ভাবে তারামন বিবিকে বীরত্বের পুরস্কার তাঁর হাতে তুলে দেয়া হয়।

উৎস:- জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,০৪৯.
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন নূর হোসেন শহীদ হন কবে?
  1. ক) ১০ নভেম্বর, ১৯৮৮
  2. খ) ১০ নভেম্বর, ১৯৮৭
  3. গ) ১০ নভেম্বর, ১৯৯০
  4. ঘ) ১০ নভেম্বর, ১৯৮৯
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ নভেম্বর, ১৯৮৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ নভেম্বর, ১৯৮৭
ব্যাখ্যা
- নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর পুলিশের গুলিতে ঢাকার জিরো পয়েন্টে নূর হোসেন মারা যান। এ সময় তার গায়ে সাদা রঙ দিয়ে লেখা ছিলো ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র ‍মুক্তি পাক’।
- নূর হোসেন ব্যতীত নাজিউর রহমান জেহাদ এবং ডা. শামসুল আলম মিলন নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মারা যান।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১,০৫০.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম আফ্রিকান দেশ কোনটি?
  1. সুদান
  2. উগান্ডা
  3. সিয়েরা লিওন
  4. সেনেগাল
সঠিক উত্তর:
সেনেগাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেনেগাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বীকৃতি লাভ:

- ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে ০৮ জুলাই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- সেনেগাল (১ ফেব্রুয়ারি), মালয়েশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), ইন্দোনেশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), গাম্বিয়া (মার্চ), গ্যাবন (৬ এপ্রিল), সিয়েরা লিওন (২১ এপ্রিল), ইরাক (৮ জুলাই), দক্ষিণ ইয়েমেন (৩১ জুলাই), উগান্ডা (৫ আগস্ট), বুরকিনা ফাসো (১৯ আগস্ট) প্রভৃতি মুসলিম দেশ ১৯৭২ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ইরান ও তুরস্ক ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬ ও বিবিসি, মার্চ ২৬, ২০২১।
১,০৫১.
মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ কোথায় গড়ে তোলা হয়?
  1. যশোরে
  2. গাজীপুরে
  3. টাঙ্গাইলে
  4. মুজিবনগরে
সঠিক উত্তর:
গাজীপুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাজীপুরে
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ:
- ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে ঢাকার উত্তরে জয়দেবপুরে (বর্তমান গাজীপুর) অকুতোভয় মুক্তিকামী বাঙালিরা পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।
- ১৯ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জাহানজেব ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যদের সতর্কতা ও রাস্তায় আন্দোলনকারীদের দেখে অস্ত্র জমা নেওয়ার আশা ত্যাগ করে ঢাকায় ফিরছিলেন।
- এ সময় ছাত্র-জনতা জয়দেবপুরের রেলক্রসিং এলাকা ও চান্দনা চৌরাস্তায় তাদের বাধা দেন।
- এ সময় পাকিস্তনি বাহিনী গুলি ছুড়লে ছাত্র-জনতা সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
- পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন হুরমত, নিয়ামত, কানু মিয়া ও মনু খলিফা। আহত হন আরও অনেকে।
- এরই ধারাবাহিকতায় শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রাম। তখন স্লোগান ওঠে ‘জয়দেবপুরের পথ ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’।
- পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে ওটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধ।

বিশেষ তথ্য:
- ১৯ মার্চের বীরত্বকে অমর করে রাখতে ১৯৭২-১৯৭৩ সালে গাজীপুরের চৌরাস্তায় একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়।
- ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ নামের এই ভাস্কর্য মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ভাস্কর্য।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫২.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম ইউরোপীয় দেশ কোনটি?
  1. ক) পূর্ব জার্মানি
  2. খ) রাশিয়া
  3. গ) পোল্যান্ড
  4. ঘ) যুক্তরাজ্য
সঠিক উত্তর:
ক) পূর্ব জার্মানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পূর্ব জার্মানি
ব্যাখ্যা
ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম পূর্ব জার্মানি ১১ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বাংলাদশেকে স্বীকৃতি দান করে। তাছাড়া রাশিয়া ২৪ জানুয়ারি ১৯৭২ ; পোল্যান্ড ১২ জানুয়ারি ১৯৭১ ও যুক্তরাজ্য ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। [সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন]
১,০৫৩.
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস কবে পালন করা হয়?
  1. ক) ১৪ ডিসেম্বর
  2. খ) ১৩ ডিসেম্বর
  3. গ) ১২ ডিসেম্বর
  4. ঘ) ১১ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৪ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৪ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির উদ্দেশে বাংলাদেশে ১৪ ডিসেম্বর শোকাবহ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়। সব শহীদ বুদ্ধিজীবীর প্রকৃত সংখ্যা অদ্যাবধি নিরূপণ করা সম্ভব হয় নি। প্রাপ্ত তথ্যসূত্র থেকে শহীদদের মোটামুটি একটা সংখ্যা দাঁড় করানো যায়। এঁদের মধ্যে ছিলেন ৯৯১ জন শিক্ষাবিদ, ১৩ জন সাংবাদিক, ৪৯ জন চিকিৎসক, ৪২ জন আইনজীবী, ৯ জন সাহিত্যিক ও শিল্পী, ৫ জন প্রকৌশলী,এবং অন্যান্য ২ জন।
Source: Banglapedia
১,০৫৪.
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান কোন বাহিনীতে ছিলেন?
  1. ইপিআর
  2. বিমানবাহিনী
  3. সেনাবাহিনী
  4. নৌবাহিনী
সঠিক উত্তর:
সেনাবাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেনাবাহিনী
ব্যাখ্যা
হামিদুর রহমান:

- ১৯৫৩ সালে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে তিনি জম্ম গ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি যোগ দেন সেনাবাহিনীতে।
- হামিদুর রহমানের পদবী ছিল সিপাহী।
- ১৯৭১ সালে হামিদুর রহমান মুক্তিবাহিনীর সাহসী সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করছিলেন সিলেট শ্রীমঙ্গল এলাকায়।
- ১৯৭১ সালের ২৮শে অক্টোবর সম্মুখ যুদ্ধে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বীরশ্রেষ্ট খেতাবে ভূষিত হন।
- সুদীর্ঘ ৩৬ বছর পর ১০ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।
- ১১ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে ঢাকার মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,০৫৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে কোন সেক্টরটি ব্যতিক্রম?
  1. ক) ১ নং
  2. খ) ৬ নং
  3. গ) ১০ নং
  4. ঘ) ১১ নং
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ নং
ব্যাখ্যা
১০ নং সেক্টরটি ব্যতিক্রম। এই সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না। নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।
১,০৫৬.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পরিচালিত অপারেশন কোনটি?
  1. অপারেশন জ্যাকপট
  2. অপারেশন ব্লু বার্ড
  3. অপারেশন কিলো ফ্লাইট
  4. অপারেশন থান্ডার বোল্ট
সঠিক উত্তর:
অপারেশন কিলো ফ্লাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপারেশন কিলো ফ্লাইট
ব্যাখ্যা
অপারেশন কিলো ফ্লাইট:
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুক্তিবাহিনীর বিমান উইং এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্ম ও গোড়াপত্তনের ইতিহাস।
- ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত এক বিমানঘাঁটিতে জন্ম হয়েছিল যে ইতিহাসের, সেই ইতিহাস শত্রুর চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অপারেশনগুলোর সমন্বিত সাংকেতিক নাম।
- এই কিলো ফ্লাইটের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন দুঃসাহসিক বিমান যোদ্ধারা।
- ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সম্ভাবনাটিও চিরতরে হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

তথ্যসুত্র - ডেইলি স্টার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২।
১,০৫৭.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে মোট কতজনকে বীরউত্তম খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ৬৫ জন
  2. ৬৬ জন
  3. ৬৭ জন
  4. ৬৮ জন
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ: ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম: ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম: ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক: ৪২৬জন।

- ৬ জুন ২০২১ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় চার জনের খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।

মহিলা বীরপ্রতীক:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

[প্রশ্নটি প্রাথমিকভাবে কতজনকে দেওয়া হয়েছিল সে বিষয়ে করা হয়েছে, তাই সঠিক উত্তর হবে ৬৮ জন।
প্রশ্নটি যদি করা হতো বর্তমানে বীরউত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কতজন, তাহলে সঠিক উত্তর হতো ৬৭জন।]

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১,০৫৮.
মুক্তিযুদ্ধে আত্মসমর্পনের দলিল কোথায় স্বাক্ষরিত হয়?
  1. রেসকোর্স ময়দানে
  2. শেরে বাংলানগরে
  3. ভিক্টোরিয়া পার্কে
  4. ঢাকা স্টেডিয়ামে
সঠিক উত্তর:
রেসকোর্স ময়দানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেসকোর্স ময়দানে
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে।
- তাদের এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গবন্ধু  ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার সামনে বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
- তাঁর এই ভাষণের পর সারা দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে।
- শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।
- ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পূর্বাঞ্চলের কমান্ডার জেনারেল এ কে নিয়াজিকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
- ১৫ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সংবরণ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। 
- ১৬ ডিসেম্বর সকাল সোয়া নয়টার সময় মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান।
- অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের জয়ী ও পরাজিত দুই পক্ষের মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দলিল স্বাক্ষরিত হয়। 
- শেষপর্যন্ত জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্সের যে স্থানে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানে ৯৩ হাজার সৈন্য ও অফিসারসহ আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, জিওসি এবং পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় বাহিনী ও বাংলাদেশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। 

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
          ii) ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, প্রথম আলো।
১,০৫৯.
মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার জন্যে প্রদত্ত সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব কোনটি?
  1. বীরউত্তম
  2. বীরবিক্রম
  3. বীরশ্রেষ্ঠ
  4. বীরপ্রতীক
সঠিক উত্তর:
বীরশ্রেষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরশ্রেষ্ঠ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরবিক্রম এবং বীরপ্রতীক।
এর মধ্যে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব হলো বীরশ্রেষ্ঠ।
সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি পান ৭ জন, দ্বিতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরউত্তম’ পান ৬৮ জন, তৃতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরবিক্রম’ পান ১৭৫ জন এবং চতুর্থ বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরপ্রতীক’ পান ৪২৬ জন।
(উৎস: বাংলাপিডিয়া)
১,০৬০.
মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. জিয়াউর রহমান
  3. আতাউল গণি ওসমানি
  4. তাজউদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
আতাউল গণি ওসমানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আতাউল গণি ওসমানি
ব্যাখ্যা
জেনারেল আতাউল গণি ওসমানি:

- জেনারেল মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানি বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।
- ১৯১৮ সালের ১ নভেম্বর সুনামগঞ্জে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারি হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৩৮ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৩৯ সালের জুলাই মাসে দেরাদুনে ব্রিটিশ ভারতীয় সামরিক একাডেমী থেকে সামরিক কোর্স সম্পন্ন করে রাজকীয় বাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন (অক্টোবর ১৯৪০)।
- ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন।
- ১৯৪৭ সালে সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসার কোর্স সম্পন্ন করার পর ওসমানী লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরদিনই লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন।
- আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,০৬১.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণাকারী সংগঠন -
  1. ছাত্রলীগ
  2. স্বাধীন বাংলা ছাত্র ইউনিয়ন
  3. ছাত্র ঐক্য পরিষদ
  4. স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার:
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ঢাকার পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে বিকালে ছাত্রলীগ সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল ছাত্র জনসভা।
- এ সভায় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ বঙ্গবন্ধুর সামনে পাঠ করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার এবং সভার ঘোষণাপত্র ও প্রস্তাব পাঠ করেন এম এ রশিদ।  
- ঘোষণাকারী সংগঠন: স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
- এ ইশতেহারে বলা হয়: ৫৪ হাজার ৫০৬ বর্গ মাইল বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকার সাত কোটি মানুষের জন্য আবাসভূমি হিসেবে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাম বাংলাদেশ।
- একই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির জনক’ উপাধি দেওয়া হয়।
- পল্টনের এই সমাবেশ থেকে ঘোষণা করা হয় যে, ৪ মার্চ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন অর্ধবেলা হরতাল পালন করা হবে।

উৎস:- i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
          ii) আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।
১,০৬২.
মুজিবনগর সরকারের অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমদ
  2. খ) এম মনসুর আলী
  3. গ) এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
  4. ঘ) খন্দকার মোশতাক আহমদ
সঠিক উত্তর:
খ) এম মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

• মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
- রাষ্ট্রপতি - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমদ।
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী - এম মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী - এএইচএম কামারুজ্জামান।
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী - খন্দকার মোশতাক আহমদ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : তৃতীয় খণ্ড।
১,০৬৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় হেমায়েত বাহিনী কোন জেলায় সক্রিয় ছিল?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) বরিশাল
  3. গ) টাঙ্গাইল
  4. ঘ) সিরাজগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
খ) বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী:

- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
• কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
• আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
• বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
• হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
• হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
• আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
• লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
• জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
১,০৬৪.
বর্তমানে বীর বিক্রম খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
  1. ১৭৩ জন
  2. ১৭৪ জন
  3. ১৭৫ জন
  4. ১৭৬ জন
সঠিক উত্তর:
১৭৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৪ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৬৫.
দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে -
  1. চিলি
  2. আর্জেন্টিনা
  3. ভেনিজুয়েলা
  4. ব্রাজিল
সঠিক উত্তর:
ভেনিজুয়েলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেনিজুয়েলা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরব দেশ:
- আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় - ইরাক।
- ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।
- লেবানন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২৮ মার্চ, ১৯৭৩ সালে।
- ইরান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে।

• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরো কিছু উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্র:
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার - সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

- এশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ বা প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে - ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় পূর্ব-জার্মানি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ভেনিজুয়েলা (২ মে ১৯৭২)।
- প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
- ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৫ মে, ১৯৭২।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ২৫ মে ১৯৭২।

তথ্যসূত্র - পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন) ও বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান), প্রথম আলো।
১,০৬৬.
নিচের কোন জন একই সাথে বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন?
  1. ক) কর্ণেল শাফায়াত জামিল
  2. খ) ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন মমতাজ
  3. গ) সার্জেন্ট জহুরুল হক
  4. ঘ) সার্জেন্ট গোলাম মোস্তফা
  5. ঙ) হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সার্জেন্ট গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সার্জেন্ট গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্যে একই সাথে বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন সার্জেন্ট গোলাম মোস্তফা। মুক্তিযুদ্ধে তিনি ১১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের আলফা কোম্পানিতে নিয়োজিত ছিলেন। উনার বাড়ি ঢাকার দোহার থানায়।তিনি ১০ অক্টোবর ২০১৯ মারা যান। (সূত্রঃ দৈনিক সমকাল)
১,০৬৭.
পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে আসেন কবে?
  1. ক) ৮ জানুয়ারি
  2. খ) ৯ জানুয়ারি
  3. গ) ১০ জানুয়ারি
  4. ঘ) ১২ জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু লন্ডন যান। সেখান থেকে ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমানে করে ১০ জানুয়ারি দিল্লি হয়ে দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা আসেন। এদিনটিকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করা হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী)
১,০৬৮.
বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের জন্য পরিচালিত অপারেশনটির নাম কী?
  1. অপারেশন কিলো ফ্লাইট
  2. অপারেশন বিগ ফিশ
  3. অপারেশন বিগ বার্ড
  4. অপারেশন জ্যাকপট
সঠিক উত্তর:
অপারেশন বিগ বার্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপারেশন বিগ বার্ড
ব্যাখ্যা
অপারেশন বিগ বার্ড:

- ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের জন্য পরিচালিত অপারেশনটির নাম অপারেশন 'বিগ বার্ড'।
- ২৫ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান রাতের অন্ধকারে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন।
- সেই কালরাত্রিতেই জেনারেল রাও ফরমান আলী খানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সামরিক অভিযানের কোড ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে ঢাকায় ও দেশের অন্যান্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ব্যাপক তাণ্ডব ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো করা হয়।
- ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ওয়্যারলেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- রাত ১টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়।
- এর কয়েক মিনিটের মধ্যে ওয়্যারলেসে ৫৭ ব্রিগেডের মেজর জাফর জানায়-‘বিগ বার্ড ইন দ্য কেজ, অন্যান্য পাখিরা নীড়ে নেই, ওভার’।
- অতঃপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঢাকা থেকে রাওয়ালপিন্ডির লয়ালপুর জেলে স্থানান্তর করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বে তিরান্নবই হাজার পাকিস্তানি সেনাসদস্য ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- ০৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান।

তথ্যসূত্র - যুগান্তর, ১০ জানুয়ারি ২০২২।
১,০৬৯.
মুক্তিযুদ্ধকালে কোলকাতার ৮, থিয়েটার রােডে “বাংলাদেশ বাহিনী” কখন গঠন করা হয়?
  1. এপ্রিল ১০, ১৯৭১
  2. এপ্রিল ১১, ১৯৭১
  3. এপ্রিল ১২, ১৯৭১
  4. এপ্রিল ১৩, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল ১১, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল ১১, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
তেলিয়াপাড়া বৈঠক ও মুক্তিফৌজ গঠনের প্রেক্ষাপট:
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাক বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার পর বাঙালি সেনা অফিসাররা বিদ্রোহ করেন। বিদ্রোহী অফিসারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন:
- খালেদ মোশাররফ, 
- শাফায়াত জামিল, 
- জিয়াউর রহমান,
- এস এম রেজা, 
- কে এম সফিউল্লাহ।
এদের উপস্থিতিতে এম.এ.জি. ওসমানী তেলিয়াপাড়া, যা ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গলের অস্থায়ী হেডকোয়ার্টার ছিল, সেখানে একটি বৈঠক করেন।

বৈঠক ও আলোচনার মূল বিষয়সমূহ:
স্থান: তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলো
তারিখ: ৪ এপ্রিল
অংশগ্রহণকারীরা: ভারতীয় বিএসএফ-এর পূর্বাঞ্চলীয় মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার ভি সি পান্ডে এবং অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত:
- বিদ্রোহী অফিসাররা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
- মুক্তিফৌজ গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যা সকল বিদ্রোহী ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
- বৈঠকের স্থান অনুসারে এই যুদ্ধকৌশলকে "তেলিয়াপাড়া রণকৌশল" নামকরণ করা হয়, যা মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্যে গৃহীত প্রথম রণকৌশল হিসেবে পরিচিত।

পরবর্তী ঘটনা: 
- বৈঠকের পর কোনো লিখিত সিদ্ধান্ত সংরক্ষণ করা হয়নি, তবে মৌখিকভাবে সংগঠন, নেতৃত্ব ও যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়।
- ১১ এপ্রিল নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বেতার ভাষণে এই সভার সিদ্ধান্তের কিছু অংশ উচ্চারিত হয়।
- সভা শেষে কর্নেল ওসমানী তাঁর রিভলভার থেকে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।

তাহলে বলা যায় যে,
তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিদ্রোহী বাঙালি ইউনিটগুলোকে সমন্বয় করে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রথম বাহিনী গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায় ১১ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে।

তথ্যসূত্র:
- মূলধারা ৭১, 
- বাংলাপিডিয়া, 
- তেলিয়াপাড়া উপজেলা ওয়েবসাইট।
১,০৭০.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে কতজন মুক্তযোদ্ধার খেতাব বহাল রয়েছে?
  1. ৬৭০ জন
  2. ৬৭২ জন
  3. ৬৭৪ জন
  4. ৬৭৬ জন
সঠিক উত্তর:
৬৭২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭২ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৭১.
'মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি' গানটির গীতিকার কে?
  1. ক) নজরুল ইসলাম বাবু
  2. খ) গোবিন্দ হালদার
  3. গ) ফজলে এ খোদা
  4. ঘ) গাজী মাজহারুল আনোয়ার
সঠিক উত্তর:
খ) গোবিন্দ হালদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গোবিন্দ হালদার
ব্যাখ্যা
- 'মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি' গানটির গীতিকার গোবিন্দ হালদার।
- এটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়। এতে কণ্ঠ দেন আপেল মাহমুদ।
গোবিন্দ হালদারের অন্যান্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে:
- এক সাগর রক্তের বিনিময়ে
- পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে ইত্যাদি৷
(তথ্যসূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো)
১,০৭২.
সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের নামে কোথায় সাতটি পুকুর খনন করা হয়েছে?
  1. ক) সন্দীপে
  2. খ) হাতিয়ায়
  3. গ) সুন্দরবনে
  4. ঘ) চাঁদপুরে
সঠিক উত্তর:
গ) সুন্দরবনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুন্দরবনে
ব্যাখ্যা
- সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের নামে সাতটি পুকুর খনন করা হয়েছে - সুন্দরবনে।

• বীরশ্রেষ্ঠ:

- মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৩ সালে সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করেন।
- এদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য তিনজন, সাবেক ই. পি. আর. সদস্য দুইজন এবং বিমান বাহিনী ও নোবাহিনীর একজন করে।
- বীরশ্রেষ্ঠরা হলেন:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী,
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী, 
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী, 
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী, 
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী,  
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর,.
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর।

এছাড়াও,
- সিপাহী হামিদুর রহমান সর্বকনিষ্ঠ শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ।
- সাতজন বীরশ্রেষ্ঠকে নিয়ে আলাদাভাবে সাতটি চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন -  সৈয়দ শামসুল হক।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাগো নিউজ।
১,০৭৩.
মুজিবনগর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) ফরিদপুর
  4. ঘ) রংপুর
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশে একটি অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয়। ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন। সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে। সূত্র- বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৭৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর কত নং সেক্টরের অধীন ছিলো?
  1. ১ নং সেক্টর
  2. ২ নং সেক্টর
  3. ৩ নং সেক্টর
  4. ৯ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
এর মধ্যে ফেনী নদী থেকে উত্তর দিকে আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত বৃহত্তর নোয়াখালী, ‍বৃহত্তর কুমিল্লা, ফরিদপুর জেলার অংশ বিশেষ এবং ঢাকা শহর নিয়ে ২ নং সেক্টর গঠিত হয়।
২ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশারফ এবং মেজর এটিএম হায়দার।
(উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১,০৭৫.
নেভিল অ্যান্থনি মাসকারেনহাস কোন পত্রিকায় ১৯৭১ সালের গণহত্যার প্রতিবেদন প্রকাশ করে?
  1. নিউইয়র্ক টাইমস
  2. সানডে টাইমস
  3. টাইম ম্যাগাজিন
  4. দ্য গার্ডিয়ান
সঠিক উত্তর:
সানডে টাইমস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সানডে টাইমস
ব্যাখ্যা

অ্যান্থনি মাসকারেনহাস:
- নেভিল অ্যান্থনি মাসকারেনহাস (Neville Anthony Mascarenhas) ছিলেন একজন বিখ্যাত সাংবাদিক।
- তিনি ছিলেন করাচির মর্নিং নিউজের সাংবাদিক ও ব্রিটেনের সানডে টাইমস পত্রিকার পাকিস্তান সংবাদদাতা।

• তিনি ভারতের গোয়ায় ১৯২৮ সালের ১০ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন এবং পড়াশোনা করেন পাকিস্তানের করাচিতে।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে তিনি পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার বিষয়টি বিশ্ববাসীর কাছে সর্বপ্রথম উন্মোচিত করেন।
- জন্মসূত্রে মাসকারেনহাস ভারতীয়, তবে তিনি বাস করেছেন পাকিস্তানের করাচিতে।
- মাসকারেনহাস ১৯৪৭ সালে করাচিতে সাংবাদিকতা পেশায় যোগ দেন।
- তার প্রথম কর্মস্থল ছিল রয়টার্স।
- ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সংবাদ সংস্থা, এপিপি, নিউইয়র্ক টাইমস এবং টাইম/লাইফ সাপ্তাহিকের সংবাদদাতা ছিলেন।
- ১৯৬১-৭১ সালের মে মাস পর্যন্ত দ্য মর্নিং নিউজে কর্মরত ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে তিনি বাংলাদেশে আসেন এবং গণহত্যার তথ্যাদি সংগ্রহ করেন।
- তাঁর "Genocide" শিরোনামের প্রতিবেদন ১৩ জুন ১৯৭১ সালে The Sunday Times (লন্ডন)-এ প্রকাশিত হয়, যা বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দেয়।
- তার সেই অসাধারণ সাহসী প্রতিবেদনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্মম গণহত্যার খবর সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ওপর লেখা তার দুটি বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দ্য রেপ অব বাংলাদেশ’ এবং ‘বাংলাদেশ: রক্তের ঋণ’।
- ১৯৮৬ সালের ৬ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

উৎস: i) BBC.
ii) কালবেলা।
iii) The Daily Star Bangla.

১,০৭৬.
'অপারেশন সার্চলাইট' পরিচালনার মূল দায়িত্বে ছিলেন— 
  1. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  2. লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান
  3. লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান
  4. মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী
সঠিক উত্তর:
লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা:
- অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা ছিল পাকিস্তানি সেনাদের একটি গণহত্যামূলক অভিযান,
- এটা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে চালানো হয়।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামক সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশনের আওতায় ঢাকার গণহত্যার মূল দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল রাও ফরমান আলী, এবং
- ঢাকার বাহিরে এই অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- অপারেশন সার্চলাইটের সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং মূল দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া, বিবিসি নিউজ।
১,০৭৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে কোন বাহিনী গঠিত হয়েছিল?
  1. জেড ফোর্স
  2. কে ফোর্স
  3. এস ফোর্স
  4. যৌথ কমান্ড
সঠিক উত্তর:
জেড ফোর্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেড ফোর্স
ব্যাখ্যা

◉ মুক্তিযুদ্ধের সময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন নিয়ে আলাদা আলাদা ফোর্স গঠন করা হয়। জেড ফোর্স গঠিত হয় ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- জেড ফোর্স, কে ফোর্স, এস ফোর্স।

• জেড ফোর্স:
- মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- 'জেড ফোর্স' নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

• এস ফোর্স:
- কে.এম. সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- 'এস ফোর্স' নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

• কে ফোর্স:
- কর্ণেল খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে অক্টোবর মাসে কে ফোর্স গঠিত হয়।
- 'কে ফোর্স' গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ঢাকা জেলা প্রসাশন ওয়েবসাইট।

১,০৭৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় অপারেশন কিলো ফ্লাইটের মূল লক্ষ্য কী ছিল?
  1. মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া
  2. ঢাকা বিমানবন্দর দখল করা
  3. তেল ডিপো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সরবরাহ লাইন ধ্বংস করা
  4. পাকিস্তানি বিমানবাহিনীকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা
সঠিক উত্তর:
তেল ডিপো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সরবরাহ লাইন ধ্বংস করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেল ডিপো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সরবরাহ লাইন ধ্বংস করা
ব্যাখ্যা
অপারেশন কিলো ফ্লাইট:
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর বিমান উইংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযান ছিল।
- এটি মূলত একটি দুঃসাহসিক বিমান হামলা যা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়। 
- কিলো ফ্লাইট ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধ বিমান গঠনের সাংকেতিক নাম। 
- এই অপারেশনের মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর তেল ডিপো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সরবরাহ লাইন ধ্বংস করা, সেই সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বাড়ানো। 
- ১৯৭১ এর সেপ্টেম্বর এর মাঝামাঝি ভারত সরকার অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারকে একটি স্বাধীন বিমান বাহিনী গঠনের জন্য আমেরিকায় তৈরী ১টি পুরানো ডিসি-৩ বিমান, কানাডার তৈরী ১টি অটার বিমান এবং ফ্রান্সের তৈরী ১টি এ্যালুয়েট-৩ হেলিকপ্টার দেয়।
- এর সাথে ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে একটি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরিত্যক্ত রানওয়ে ব্যবহারের অনুমতি দেয়।
- ২৮ সেপ্টেম্বর মুক্তিবাহিনীর ডিপুটি চিফ অফ স্টাফ এ কে খন্দকারের নেতৃত্বে ৯ জন পাইলট ও ৪৭ জন গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারের সমন্বয়ে যাত্রা শুরু হয় মুক্তিবাহিনীর এয়ার উইং এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর।
- বিমান বাহিনী প্রধান হিসাবে মুক্তিযুদ্ধের উপ-প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকারকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

⇒ এই কিলো ফ্লাইটের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন দুঃসাহসিক বিমান যোদ্ধারা। ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সম্ভাবনাটিও চিরতরে হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

⇒ এই ফ্লাইট, ঢাকা, চট্টগ্রাম, লালমনিরহাট এলাকায় মোট ৫০টি অভিযান সাফল্যের সঙ্গে পরিচালনা করে।
- এদের মধ্যে মোগলহাটে (১৫ অক্টোবর ৭১), লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁয়ে (১৬ অক্টোবর ৭১), চৌগাছায় (২১ নভেম্বর ৭১), গোদনাইল ও পতেঙ্গায় (৩ ডিসেম্বর ৭১), সিলেটে (৪ ডিসেম্বর ৭১), জামালপুরে (৫ ডিসেম্বর ৭১), মেঘনা নদীতে (৬ ডিসেম্বর ৭১), সিলেটে (৭ ডিসেম্বর ৭১) এবং নরসিংদীতে (১১ ডিসেম্বর ৭১) বিমান হামলা বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) The Daily Star বাংলা।
১,০৭৯.
বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশী মুক্তিযোদ্ধা____________?
  1. ক) মার্ক টালী
  2. খ) ডাব্লিউ এ এস ওভারল্যান্ড
  3. গ) আস্প্রে মারকো
  4. ঘ) এডওয়ার্ড কেনেক্তি
সঠিক উত্তর:
খ) ডাব্লিউ এ এস ওভারল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ডাব্লিউ এ এস ওভারল্যান্ড
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে 'বীরপ্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক ডব্লিও এ এস ওডারল্যান্ড ৬ ডিসেম্বর, ১৯১৭ সালে হল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
- তাঁর জাতীয়তা ছিল অস্ট্রেলিয়।
- মুক্তিযুদ্ধে তিনি ২ নং সেক্টরে কাজ করেন।
- ১৯৭০ সালে তিনি বাটা সু কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশে আসে।
- ১৮ মে, ২০০১ সালে তিনি মারা যান।

উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১,০৮০.
'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালনা করে -
  1. বিমান বাহিনী
  2. মিত্র বাহিনী
  3. ক্র্যাক প্লাটুন
  4. নৌবাহিনী
সঠিক উত্তর:
নৌবাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌবাহিনী
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট মতান্তরে ১৬ই আগস্ট ১৯৭১ সালে। [অপশনে ১৫ আগস্ট থাকলে ১৫ আগস্ট দাগাতে হবে। অপশনে ১৫ আগস্ট না থাকলে সেই ক্ষেত্রে ১৬ আগস্ট দাগাতে হবে।]
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।
- ১৯৭১ সালের অগাস্টের ১৫ তারিখ রাতে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এর পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল সেই বছরের মে মাসে।
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের কমান্ডার।
- অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।
১,০৮১.
Who was the sector commander of 'Sector 03' during our liberation war?
  1. Chitta Ranjan Dutta
  2. K. M. Shafiullah
  3. Ziaur Rahman
  4. Major Rafiqul Islam
  5. ATM Haider
সঠিক উত্তর:
K. M. Shafiullah
উত্তর
সঠিক উত্তর:
K. M. Shafiullah
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

• ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ২ নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

• ৩ নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।

• ৫ নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।

• ৬ নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

• ৭ নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালনা করে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

• ৮ নং সেক্টর: এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।

• ৯ নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।

• ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।

• ১১ নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,০৮২.
মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
  2. খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
এ এইচ এম কামরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।

এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপ রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমেদ।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী - এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী - এম মনসুর আলী।
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী - খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম-দশম শ্রেণী।
১,০৮৩.
What is the first strategy adopted for the purpose of liberation war?
  1. Teliapara strategy
  2. Mujibnagar strategy
  3. Rajarbag strategy
  4. Meherpur strategy
  5. Rayerbag strategy
সঠিক উত্তর:
Teliapara strategy
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Teliapara strategy
ব্যাখ্যা
তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ:
- তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলাধীন তেলিয়াপাড়ায় অবস্থিত।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বৈঠক এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- এই স্মৃতিসৌধ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত স্মৃতিসৌধ।
- তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বাংলোর পূর্ব দিকে নির্মাণ করা হয়েছে ২, ৩ ও ৪নং সেক্টরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মরণে তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ।
- ১৯৭৫ সালের জুন মাসে এ স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ।

⇒ মুক্তিবাহিনী:
- ১৯৭১ সালের একাত্তর সালের ৪ এপ্রিল সামরিক বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা সিলেটের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে এক বৈঠকে মিলিত হন।
- সেখানে তারা মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল প্রণয়ন করে।
- পরে এটি তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি নামে পরিচিত হয়।
- বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এম এ জি ওসমানী যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশকে চারটি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে।
- ১২-১৭ জুলাই কলকাতায় মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ সম্মেলন হয়, সেখানেই তিনটি নিয়মিত বাহিনী তৈরি এবং বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩, বিবিসি বাংলা।
১,০৮৪.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মোট কয়টি ফোর্স ছিল?
  1. ক) ১১টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের ফোর্স,সেক্টর সমূহ:

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ৩টি ফোর্স ছিল
- “জেড” ফোর্স, “কে” ফোর্স, “এস” ফোর্স নিয়ে ৩টি ব্রিগেড ফোর্স।
- জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স,কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স,খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কে ফোর্স
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং  সেক্টরের অধিনে ।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধিনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,০৮৫.
সর্বশেষ নিহত বীরশ্রেষ্ঠ কে?
  1. মোস্তফা কামাল
  2. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  3. হামিদুর রহমান
  4. মতিউর রহমান
সঠিক উত্তর:
মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
• মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর:
 - ১৯৪৯ সালের ৭ মার্চ, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে।
- ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন।
- ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। তখন তাঁর পদবি ছিল ক্যাপ্টেন।
- ৭ নম্বর সেক্টরের মাহদীপুর সাব-সেক্টরের অধিনায়ক ছিলেন।
- ১৪ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর দখলের যুদ্ধে শহীদ হন।
- ১৫ ডিসেম্বর মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরের মরদেহ ঐতিহাসিক সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়।
- তিনি ছিলেন সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে সর্বশেষ শহীদ।

তথ্যসূত্র:- চিরন্তন ১৯৭১, প্রথম আলো।
১,০৮৬.
১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত “চরমপত্র” ধারাবাহিকটির পরিকল্পনাকারী কে?
  1. এম.আর আখতার মুকুল
  2. গাজী মাজহারুল ইসলাম
  3. আব্দুর রব চৌধুরি
  4. আবদুল মান্নান
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র :
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়। এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
- ১৯৭১-এর ৩০ মার্চ পাকিস্তান বিমান বাহিনী কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। ফলে এটি অচল হয়ে যায়।
- ২৫ মে তারিখ কেন্দ্রটি কলকাতায় স্থানান্তরিত হয় এবং একই দিনে সেখানে এটি তার কার্যক্রম শুরু করে।
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো।
- চরমপত্র সিরিজটি পরিকল্পনা করেন - আবদুল মান্নান ।
- এম.আর আখতার মুকুল, এর উপস্থাপক ছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১,০৮৭.
১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণাকারী সংগঠন -
  1. ক) বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
  2. খ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
  3. গ) সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি
  4. ঘ) স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার
• ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ঢাকার পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে বিকালে ছাত্রলীগ সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল ছাত্র জনসভা।
• এ সভায় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ বঙ্গবন্ধুর সামনে পাঠ করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার এবং সভার ঘোষণাপত্র ও প্রস্তাব পাঠ করেন এম এ রশিদ।  
• ঘোষণাকারী সংগঠন - স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
• আর এ ইশতেহারে বলা হয়- ৫৪ হাজার ৫০৬ বর্গ মাইল বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকার সাত কোটি মানুষের জন্য আবাসভূমি হিসেবে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাম বাংলাদেশ।
• একই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির জনক’ উপাধি দেওয়া হয়।
• পল্টনের এই সমাবেশ থেকে ঘোষণা করা হয় যে, ৪ মার্চ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন অর্ধবেলা হরতাল পালন করা হবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।
১,০৮৮.
সাত বীরশ্রেষ্ঠের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য কোনটি?
  1. আমরা তোমাদের ভুলব না
  2. দুর্জয় বাংলা
  3. স্বাধীনতা সংগ্রাম
  4. সাবাশ বাংলাদেশ
সঠিক উত্তর:
আমরা তোমাদের ভুলব না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমরা তোমাদের ভুলব না
ব্যাখ্যা
সাত বীরশ্রেষ্ঠের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য:

- সাত বীরশ্রেষ্ঠের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’।
- এর উদ্বোধন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।
- ভাস্কর্যটি ঢাকা সেনানিবাসের মাটিকাটা মিলিটারি পুলিশ চেকপোস্ট এলাকায় অবস্থিত।
- ১২ নভেম্বর ২০২৩ সালে ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করা হয়।
- ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ ভাস্কর্যটিতে ‘অর্ধবৃত্তাকার প্রাচীরে’ সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে তুলে ধরা হয়েছে।
- ভাস্কর্যের সামনে ‘ফোয়ারা’ নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।
- ফোয়ারা থেকে প্রাচীর পর্যন্ত সংযুক্ত রেখাগুলো ‘সূর্যরশ্মির প্রতীক’, যা দিয়ে বোঝানো হয়েছে যে বীরশ্রেষ্ঠরা জাতির সূর্যসন্তান এবং তাঁরা সূর্যরশ্মির মতো দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আলোর দিশারি ও অনবদ্য অনুপ্রেরণার উৎস।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ১৩ নভেম্বর, ২০২৩।
১,০৮৯.
মুক্তিযুদ্ধে রাজশাহী জেলা কত নং সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ৬ নং
  2. ৭নং
  3. ৮ নং
  4. ৯ নং
সঠিক উত্তর:
৭নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭নং
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

- ১ নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। 
- ২ নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- ৩ নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- ৪নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। 
- ৫ নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- ৬ নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। 
- ৭ নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- ৮ নং সেক্টর: এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। 
- ৯ নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। 
- ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- ১১ নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৯০.
অপারেশন সার্চলাইটের মূল দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. রাও ফরমান আলী
  3. জেনারেল এ এ কে নিয়াজি
  4. জেনারেল টিক্কা খান
সঠিক উত্তর:
জেনারেল টিক্কা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
• অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।
- ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান অর্থাৎ মূল দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি।
১,০৯১.
২৫ শে মার্চের নৃশংস গণহত্যার খবর চাপা দিতে কত জন বিদেশি সাংবাদিককে আটক করা হয়েছিলো?
  1. ১৫ জন
  2. ২২ জন
  3. ২৫ জন
  4. ৩০জন
সঠিক উত্তর:
২৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫ জন
ব্যাখ্যা
২৫ শে মার্চের নৃশংস গণহত্যা:
- ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় ঢাকা ত্যাগ করেন। 
- যাবার আগে সেনাবাহিনীকে পূর্বপাকিস্তানিদের উপর আক্রমণের নির্দেশ দিয়ে যান। 
- ইয়াহিয়া খানের নির্দেশ মোতাবেক গভর্নর টিক্কা খানের ঘাতক সৈন্যরা ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় গণহত্যার তাণ্ডবলীলা চালায় । 
- এই গণহত্যা চলেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়, পুরনো ঢাকায়, কচুক্ষেত, তেজগাঁও, ইন্দিরা রোড, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ঢাকা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে, রায়ের বাজার, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগানসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে। 
- ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় গণহত্যা শুরু হলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং তা ওয়্যারলেসযোগে চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেন। 
- নৃশংস গণহত্যার সংবাদ যাতে বিদেশে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ২৫ জন বিদেশি সাংবাদিককে আটক করা হয়।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৯২.
তাজউদ্দীন আহমেদ হিসেবে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল সারা দেশকে কয়টি রণাঙ্গনে বিভক্ত করেছিলেন?
  1. ৪টি
  2. ৮টি
  3. ১১টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা
♣♣ সামরিক প্রতিরোধ: 
- বাঙালি আফিসারদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের উদ্দেশ্যে;
- ৪ এপ্রিল সিলেটের তেলিয়াপাড়ায় এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 
- ঐ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন এম.এ.জি. ওসমানী, মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর কে.এম. সফিউল্লাহ এবং কর্নেল এম. এ. রব।
- সেখানে চার সিনিয়র অফিসারকে মুক্তিযুদ্ধের দায়িত্ব দেয়া হয়:
(১) মেজর কে. এম. সফিউল্লাহ-এর কমান্ডে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ময়মনসিংহ,
(২) মেজর খালেদ মোশাররফ-এর নেতৃত্বে কুমিল্লা ও সিলেট,
(৩) মেজর জিয়াউর রহমানের কমান্ডে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং
(৪) মেজর আবু ওসমান চৌধুরীকে কুষ্টিয়া অঞ্চলে।

♠♠
- প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ ১০ এপ্রিল বেতারে তিনি যে ভাষণ দেন;
- তাতে তিনি সারা দেশকে ৮টি রণাঙ্গনে বিভক্ত করেছিলেন।   
- সেগুলো হলো:
১. মেজর খালেদ মোশাররফ- সিলেট ও কুমিল্লা অঞ্চল।
২. মেজর জিয়াউর রহমান- চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চল।
৩. মেজর আবু ওসমান চৌধুরী- কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চল।
৪. মেজর কে এম সফিউল্লাহ- ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল অঞ্চল।
৫. মেজর গিয়াস উদ্দিন আহমেদ- রাজশাহী অঞ্চল।
৬. মেজর নাজমুল হক- সৈয়দপুর অঞ্চল।
৭. মেজর নওয়াজেশ- রংপুর অঞ্চল।
৮. মেজর জলিল- ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী অঞ্চল। 

♠♠
- ১৪ এপ্রিল কর্নেল এম. এ. ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর জি. মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়। 
- মে ও জুন মাসে তিনটি ব্রিগেড গঠিত হয়।
- ফোর্সগুলির নাম ছিল : ‘জেড ফোর্স’, ‘এস ফোর্স' এবং ‘কে ফোর্স'.
- অধিনায়ক ছিলেন যথাক্রমে লেঃ কর্ণেল জিয়াউর রহমান, লেঃ কর্ণেল কে. এম সফিউল্লাহ ও লেঃ কর্ণেল খালেদ মোশাররফ।

♠♠
- ১১ থেকে ১৭ জুলাই কোলকাতায় ইতোপূর্বে গঠিত ৮টি রণাঙ্গনের কমান্ডারদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
- তাজউদ্দিন আহমেদ উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন।
- এই সভাতেই বাংলাদশেকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- বাংলাদেশ বাহিনীর হেড কোয়ার্টার স্থাপিত হয় কোলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৯৩.
কোনটি বিগ্রেড ফোর্স নয়?
  1. এস ফোর্স
  2. জেড ফোর্স
  3. এম ফোর্স
  4. কে ফোর্স
সঠিক উত্তর:
এম ফোর্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম ফোর্স
ব্যাখ্যা

বিগ্রেড ফোর্স :
- তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস-এর ই পি আর পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে মুক্তি বাহিনীর নিয়মিত বাহিনী গঠন করা হয়।
- নিয়মিত সেনা ব্যাটেলিয়ান পরে তিনটি বিগ্রেডে পরিণত হয়। 
- বিগ্রেড কমান্ডার মেজর কে এম শফিউল্লাহর ইংরেজি নামের আদ্যক্ষর অনুসারে বিগ্রেডের নামকরণ করা হয় এস ফোর্স
- মেজর জিয়াউর রহমানের ইংরেজি নামের আদ্যক্ষর অনুসারে বিগ্রেডের নামকরণ করা হয় জেড ফোর্স
- এবং মেজর খালেদ মোশাররফের ইংরেজি নামের আদ্যক্ষর অনুসারে বিগ্রেডের নামকরণ করা হয় কে ফোর্স।
- এম ফোর্স বিগ্রেডের ফোর্স নয়। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৯৪.
Who was in charge of Operation Searchlight in Dhaka city?
  1. Golam Mahmud
  2. Rao Forman Ali
  3. A.K Niyazi
  4. Tikka Khan
সঠিক উত্তর:
Rao Forman Ali
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Rao Forman Ali
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।
- ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান অর্থাৎ মূল দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি।
১,০৯৫.
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে গঠিত “সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি”র আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. ক) মাওলানা ভাসানী
  2. খ) কমরেড মনি সিং
  3. গ) মনসুর আলী
  4. ঘ) তাজউদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) তাজউদ্দিন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা

মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমেদ।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)
- মনিসিংহ (কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণীর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই (উন্মুক্ত)

১,০৯৬.
কোন বাঙালী শিল্পী 'দ্য কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর সূচনা সঙ্গীত পরিবেশন করেন?
  1. মোর্শেদ খান অপু
  2. শহীদ হাসান
  3. আলী আকবর খান
  4. রথীন্দ্রনাথ রায়
সঠিক উত্তর:
আলী আকবর খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলী আকবর খান
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিশ্বখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর।
- বাংলাদেশের জনগণের সাহায্যার্থে কিছু করার জন্য তিনি প্রথম যোগাযোগ করেন জনপ্রিয় বিটলসের অন্যতম সদস্য জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।

উল্লেখ্য,
- ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ শুরু হয়েছিল পণ্ডিত রবিশঙ্করের একটি সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দিয়ে।
- এ কনসার্টের জন্য তিনি তৈরি করেছিলেন ‘বাংলাদেশ ধুন’ বলে নতুন একটি সুর।
- আর তাঁর সঙ্গে সরোদে যুগলবন্দী ছিলেন ওস্তাদ আলী আকবর খান।
- তবলায় সহযোগিতা করেছিলেন বিখ্যাত আল্লারাখা।
- তানপুরায় ছিলেন কমলা চক্রবর্তী। সেদিন ম্যাডিসন স্কয়ারের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রতিবাদী গানের রাজা বব ডিলান। 
- সেদিন বব ডিলানের সঙ্গে গিটার বাজিয়েছিলেন জর্জ হ্যারিসন, ব্যাস লিওন রাসেল ও ট্যাম্বুরিন রিঙ্গো স্টার।
- সে অনুষ্ঠানে বিটলসের অন্যতম সদস্য রিঙ্গো স্টার, লিওন রাসেল, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেস্টন, ডন প্রেস্টন প্রমুখ গান গেয়েছেন, গিটার বাজিয়েছেন।

এছাড়াও,
- জন লেনন শেষ পর্যন্ত কনসার্ট ফর বাংলাদেশে অংশ নেননি।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC।
১,০৯৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নিচের কোন দেশটি বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো?
  1. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  2. সৌদি আরব
  3. সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন
  4. গণচীন
সঠিক উত্তর:
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারত বাংলাদেশের পক্ষে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করেছিলো।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করে।
এছাড়া অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক দেশসমূহ, ইরাক, কানাডা প্রভৃতি দেশ বাংলাদেশকে সমর্থন করে।

অন্যদিকে,
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরব, ইরান প্রভৃতি দেশ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে।

পশ্চিমা দেশগুলোর গণমাধ্যমসমূহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে। তবে জাতিসংঘ কার্যকর ভূমিকা গ্রহণে ব্যর্থ হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০৯৮.
মুজিব নগর সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. তাজউদ্দিন আহমদ
  2. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  3. এম. মনসুর আলী
  4. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
এ এইচ এম কামরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- এস.এ সামাদ ছিলেন প্রতিরক্ষা সচিব।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।
- চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব।
- উপ-সেনাপতি ছিলেন এ.কে খন্দকার।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৯৯.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মোট কতটি ব্রিগেড ফোর্স ছিল?
  1. ৪ টি
  2. ১১ টি
  3. ৩ টি
  4. ৭ টি
সঠিক উত্তর:
৩ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ টি
ব্যাখ্যা

ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
• জেড ফোর্স,
• কে ফোর্স,
• এস ফোর্স।

• জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

• কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

• খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।


তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১০০.
ভারত কত তারিখে বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ৫ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  2. ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  3. ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  4. ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণ:
- নভেম্বর, ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে।
- প্রায় এক লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা ঢাকা-চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ দেশের অন্যান্য স্থানে হানাদার বাহিনীর উপর তীব্র আঘাত হানতে থাকে।
- নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ হতে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে মুক্তিবাহিনীর অভিযান ব্যাপক ফলপ্রসূ হয়।
- এসময় দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোরের বিস্তীর্ণ এলাকা শত্রুমুক্ত হয়।
- ক্রমান্বয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলও মুক্তিযোদ্ধারা দখল করে নিতে থাকে।
- ফলে পাকিস্তানি বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে পড়ে।

⇒ বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর হাতে পর্যুদস্ত পাক-বাহিনী ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর আকস্মিকভাবে ভারতের অমৃতসর শ্রীনগরসহ অন্যান্য স্থানে আক্রমণ করলে ৪ ডিসেম্বর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- ভারতের ইন্দিরা গান্ধী সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতার জন্য ভারতীয় মিত্রবাহিনী পাঠায়।
- ৬ ডিসেম্বর ভারত স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ভারতীয় মিত্রবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনী একত্রে যৌথ বাহিনী গঠন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাক-বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রচণ্ড আক্রমণ শুরু করে।
- ভারতীয় বিমান ও নৌ-বাহনীও পাক-বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযানে অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে যশোর সেনানিবাস, সাতক্ষীরা, মাগুরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ যৌথবাহিনীর দখলে আসে।
- ১০ ডিসেম্বর বিমান হামলা বন্ধ রেখে বিদেশীদের ঢাকা ত্যাগের সুযোগ দেওয়া হয়।
- ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে যৌথবাহিনী ভৈরব, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল মুক্ত করে ঢাকার খুব নিকটে চলে আসে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।