বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রোগ - জীবাণু ও আধুনিক চিকিৎসা সংক্রান্ত

মোট প্রশ্ন১,০৯৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রোগ - জীবাণু ও আধুনিক চিকিৎসা সংক্রান্ত

PrepBank · পাতা / ১১ · ৫০১৬০০ / ১,০৯৫

৫০১.
মানুষের রক্তে অতিরিক্ত পরিমাণ গ্লুকোজ বেড়ে যায় কোন রোগের কারণে?
  1. অ্যাজমা
  2. ডায়বেটিস
  3. হেপাটাইটিস
  4. ক্যান্সার
সঠিক উত্তর:
ডায়বেটিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়বেটিস
ব্যাখ্যা
• ডায়বেটিস হলে মানুষের রক্তে অতিরিক্ত পরিমাণ গ্লুকোজ বেড়ে যায়।

• ডায়বেটিস:

- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ।
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়।
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়।
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়।
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না।
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০২.
কীটপতঙ্গ সম্পর্কিত বিদ্যা কোনটি?
  1. ক) Geology
  2. খ) Anthropology
  3. গ) Neurology
  4. ঘ) Entomology
সঠিক উত্তর:
ঘ) Entomology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Entomology
ব্যাখ্যা
কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে কীটতত্ত্ব বা Entomology বলে। Geology হচ্ছে ভূতত্ত্ব, Anthropology হচ্ছে নৃবিজ্ঞান এবং Neurology হচ্ছে স্নায়ুবিদ্যা।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।
৫০৩.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বাংলাদেশকে কোন রোগ মুক্ত ঘোষণা করেছে?
  1. পোলিও
  2. ফাইলেরিয়া
  3. কালাজ্বর
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
পোলিও: 
- ‘পোলিওমাইটিলিজ’ এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ যা ‘পোলিও’ নামে অধিক পরিচিত। 
- ১৮৪০ সালে জ্যাকব হেইনার প্রথম এই রোগ শনাক্ত করেন। 
- ১৯০৯ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার পোলিও ভাইরাস শনাক্ত করেন। 
- ১৯৫২ সালে জোনাস এডওয়ার্ড সাল্ক‌ পোলিওর টিকা উদ্ভাবন করেন। 
- ১৯৫৭ সালে আলবার্ট সাবিন মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন। 
- বাংলাদেশে ১৯৫৫ সালে পোলিও টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় এবং ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশকে পোলিও ‍মুক্ত ঘোষণা করে। 

কালাজ্বর: 
- কালাজ্বর নির্মূলে বিশ্বে প্রথম স্বীকৃতি পায় - বাংলাদেশ।
- কালাজ্বর নির্মূলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পক্ষ থেকে বিশ্বের প্রথম কোনো দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ।
- ৩১ অক্টোবর ভারতের দিল্লীতে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত ডব্লিউএইচওর ৭৬তম দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সম্মেলনে বাংলাদেশকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- এর আগে বাংলাদেশ ফাইলেরিয়া ও পোলিও নির্মূল করে সনদ পেয়েছিল। এবার কালাজ্বর নির্মূলে বিশ্বে প্রথম হয় বাংলাদেশ। 

ফাইলেরিয়া: 
- কিউলেক্স মশার কামড়ে ফাইলেরিয়া বা গোদরোগের পাশাপাশি চর্মরোগের ঝুঁকি রয়েছে। 
- দেশে কিউলেক্স মশার প্রভাব দেখা দেয় অক্টোবর থেকে, অবশ্য শীতের তীব্রতা বাড়লে মশার কামড়ের মাত্রা কমে। 
- কিউলেক্স মশার কামড়ে ফাইলেরিয়া বা গোদরোগ ও জাপানি এনসেফালাইটিস হয়। 
- বাংলাদেশে লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস নির্মূলে ২০০১ সালে জাতীয় কর্মসূচি চালু হয়। 
- মালদ্বীপ, শ্রীলংকা ও থাইল্যান্ডের পর বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের চতুর্থ দেশ হিসাবে লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস নির্মূল করেছে। 

উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট এবং দৈনিক প্রথম আলো ও যুগান্তর পত্রিকা।
৫০৪.
বিড়াল কিংবা কুকুর কামড়ালে কোন ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়?
  1. ক) OPV
  2. খ) HDCV
  3. গ) DPT
  4. ঘ) MMR
সঠিক উত্তর:
খ) HDCV
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) HDCV
ব্যাখ্যা
বিড়াল কিংবা কুকুর কামড়ালে জলাতঙ্ক রোগের সম্ভাবনা থাকে; তাই জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে হয়।

• জলাতঙ্ক রোগের টিকার নাম - HUMAN DIPLOID CELL VACCINES (HDCV).
• জলাতঙ্ক রোগের টিকা আবিষ্কার করেন - লুই পাস্তুর।

১৮৮৫ সালের ৬ই জুলাই জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক হিসেবে মানবদেহে টিকা প্রয়োগ করা হয়। 
জলাতঙ্ক, যা হাইড্রোফোবিয়া নামেও পরিচিত, একটি তীব্র ভাইরাল সংক্রমণ যা প্রায় সবসময়ই মারাত্মক। এটি সংক্রামক রোগের বিভাগের অধীনে আসে এবং খামার বা বন্য প্রাণীদের দ্বারা সংক্রামিত হয়; সাধারণত মাংসাশী যেমন কুকুর, বিড়াল, শেয়াল, রেকুন। এটি বেশিরভাগ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে দেখা যায়। 

জলাতঙ্কের লক্ষণ:
সন্দেহজনক প্রাণি কামড়ানোর ৯ থেকে ৯০ দিনের মাঝে জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দেয়। কারো শরীরে জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দিলে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে উন্মত্ত বা পাগলামো আচরণ এবং মৌন আচরণ—এ দুই ধরনের আচরণ দেখা দিতে পারে। অস্বাভাবিক আচরণে আক্রান্ত ব্যক্তির কথাবার্তা ও ভাবভঙ্গি হবে অস্বাভাবিক। সে উদ্দেশ্য ছাড়াই ছুটে বেড়াবে, ক্ষুধামন্দা হবে, বিকৃত আওয়াজ করবে, বিনা প্ররোচনায় অন্যকে কামড়াতে আসবে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- OPV (Oral Polio Vaccine) - পোলিও রোগের টিকার নাম ।
- DPT - ডিফথেরিয়া, হুপিং কাশি ও ধনুষ্টঙ্কারের টিকা।
- MMR - ভ্যাকসিন হাম রোগের টিকা।

সূত্র: National Library of Medicine Website, ও ব্রিটানিকা.
৫০৫.
কোনটি গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া?
  1. ই. কোলাই
  2. স্ট্যাফাইলোকক্কাস
  3. সালমোনেলা
  4. ভিব্রিও
সঠিক উত্তর:
স্ট্যাফাইলোকক্কাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্যাফাইলোকক্কাস
ব্যাখ্যা
• গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া হলো স্ট্যাফাইলোকক্কাস। 

• গ্রাম রঞ্জন পদ্ধতি:

- ১৮৮৪ সালে ড্যানিশ চিকিৎসক Hans Christian Gram ব্যাকটেরিয়ার জন্য একটি রঞ্জন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যাকে বলা হয় Gram staining বা গ্রাম রঞ্জন পদ্ধতি।
- স্লাইডে ব্যাকটেরিয়া স্মিয়ার (Smear) নিয়ে তাতে ক্রিস্টাল ভায়োলেট রং দিতে হবে, এরপর আয়োডিন দিতে হবে। এরপর এটি অ্যালকোহলে ধুয়ে স্যাফ্রানিন-এর লাল রং-এ কাউন্টার স্টেইন করতে হবে।

• গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া:
- যে সকল ব্যাকটেরিয়া গ্রাম রঞ্জন পদ্ধতিতে ক্রিস্টাল ভায়োলেট রং ধরে রাখতে পারে তাদেরকে গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া বলা হয়।
- ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া, ক্লসট্রিডিয়াম, স্ট্রেপ্টোকক্কাস, স্ট্যাফাইলোকক্কাস, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রাম পজিটিভ।

• গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া:
- যে সকল ব্যাকটেরিয়াতে ভায়োলেট রং ধুয়ে চলে যাবে এবং স্যাফ্রানিনের লাল রং ধরে রাখবে তাদেরকে বলা গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া বলা হয়।
 - এনটেরোব্যাকটেরিয়া, সকল সায়ানোব্যাকটেরিয়া, শিগেলা, সালমোনেলা, রাইজোবিয়াম, ভিব্রিও, ই. কোলাই ইত্যাদি গ্রাম নেগেটিভ।

• চিকিৎসা ক্ষেত্রে গ্রাম স্টেইনিং অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
- পেনিসিলিন বা পেনিসিলিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর উপাদান পেপটিডোগ্লাইকান উৎপাদন বন্ধ করে দেয়, ফলে নতুন সৃষ্ট কোষ টিকে থাকতে পারে না।
- আবার টেট্রাসাইক্লিন, স্ট্রেস্টোমাইসিন জাতীয় ওষুধ গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিন সংশ্লেষণ বন্ধ করে দেয়, তাই নতুন সৃষ্ট কোষ টিকে থাকতে পারে না। এভাবে রোগী আরোগ্য হয়।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৫০৬.
নিচের কোন ব্যাকটেরিয়া লম্বা দন্ডের ন্যায়?
  1. ক) কক্কাস
  2. খ) ব্যাসিলাস
  3. গ) কমা
  4. ঘ) স্পাইরিলাম
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাসিলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাসিলাস
ব্যাখ্যা

- ব্যাসিলাস দেখতে লম্বা দণ্ডের ন্যায়। ধনুষ্টংকার, রক্তামাশয় ইত্যাদি রোগ এরা সৃষ্টি করে। 
- কক্কাস ব্যাকটেরিয়ার আকৃতি গোলাকার। এরা এককভাবে অথবা দলবেঁধে থাকতে পারে, যেমন- নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া। 
- কমা ব্যাকটেরিয়া বাঁকা দণ্ডের ন্যায়। মানুষের কলেরা রোগের ব্যাকটেরিয়া এ ধরনের। 
- স্পাইরিলাম ব্যাকটেরিয়ার আকৃতি প্যাঁচানো। 

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, সপ্তম শ্রেণি

৫০৭.
কিসের সংক্রমণে রিউম্যাটিক ফিভার হয়?
  1. ক) স্ট্রেপটোকক্কাস
  2. খ) স্টেফাইলোকক্কাস
  3. গ) ই কোলাই
  4. ঘ) টি টু ফাজ
সঠিক উত্তর:
ক) স্ট্রেপটোকক্কাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্ট্রেপটোকক্কাস
ব্যাখ্যা
স্ট্রেপটোকক্কাসের সংক্রমণে রিউম্যাটিক ফিভার বা বাতজ্বর হয়৷ এর লক্ষণগুলো হচ্ছে শ্বাসনালীর প্রদাহ, টনসিলের প্রদাহ, ফুসকুড়িযুক্ত সংক্রামক জ্বর৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
৫০৮.
নিচের কোনটি স্নায়বিক রোগ?
  1. এনজাইনা
  2. মায়োকার্ডাইটিস
  3. অ্যাজমা
  4. স্ট্রোক
সঠিক উত্তর:
স্ট্রোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রোক
ব্যাখ্যা
স্ট্রোক:
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণকে চলতি কথায় স্ট্রোক (Stroke) বলা হয়।
- স্ট্রোক একটি স্নায়বিক রোগ।

• স্ট্রোকের কারণ:
- সাধারণত ধমনিগাত্র শক্ত হয়ে যাওয়া ও উচ্চ রক্ত চাপজনিত কারণে মস্তিষ্কে রক্ষক্ষরণ হতে পারে।
- অনেক সময় অত্যধিক স্নায়ুবিক চাপ, যেমন- উত্তেজনা বা অধিক পরিশ্রমের কারণে এরূপ রক্তক্ষরণ হয়।
- নির্গত রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধন করে, রক্ত মস্তিষ্কের গহ্বরে ও মাথার খুলিতে ঢুকে গেলে রোগীর মৃত্যুও ঘটতে পারে।

• লক্ষণ:
- প্রচন্ড মাথা ব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, কয়েক মিনিটের মধ্যে রোগী সংজ্ঞা হারিয়ে যাওয়া, মাংস পেশি শিথিল হয়ে যাওয়া, শ্বসন ও নাড়ির স্পন্দন কমে যাওয়া, মুখমন্ডল লালবর্ণ ধারণ করা ইত্যাদি।

• প্রতিরোধের উপায়:
- ধূমপান চিরতরে পরিহার করা।
- উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা।
- দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা, সুষম খাবার, পরিমিত ঘুম এবং ব্যায়াম করা।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৯.
রক্তে কোলেস্টেরল-এর পরিমাণ বেড়ে গেলে কোনটি খাওয়া উচিত নয়?
  1. ক) বেলে মাছ
  2. খ) খাসির মাংস
  3. গ) পালংশাক
  4. ঘ) মুরগীর মাংস
সঠিক উত্তর:
খ) খাসির মাংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) খাসির মাংস
ব্যাখ্যা
-  'রেড মিট' বলতে গরু বা খাসির মাংসকে বুঝায়। 
- রক্তে কোলেস্টেরল-এর পরিমাণ বেড়ে গেলে গরু বা খাসির মাংস খাওয়া উচিত নয়। 
- কারণ রেড মিটে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। 
- আর উচ্চ রক্তচাপ থেকে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি জটিলতা দেখা দিতে পারে। 
- রেড মিটে যে কোলেস্টেরল থাকে সেটি বেশি বেড়ে গেলে হার্টের শিরায় জমে রক্ত জমাট বাঁধিয়ে দেয়।
 
উৎস : বিবিসি 
৫১০.
জিনতত্ত্ব ও আধুনিক জীববিজ্ঞানে ভাইরাস কী হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. অনুঘটক
  2. এনজাইম
  3. ভেক্টর
  4. হরমোন
সঠিক উত্তর:
ভেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেক্টর
ব্যাখ্যা

• ভাইরাস জিন স্থানান্তরের বাহক (Vector) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

• ভাইরাসের উপকারিতা:

- বিজ্ঞানীরা অনেক গবেষণা ও পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাসকে মানবকল্যাণে বিভিন্নভাবে ব্যবহারযোগ্য উপাদানে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন। ভাইরাসের উল্লেখযোগ্য উপকারিতাগুলো হলো—

- বসন্ত, পোলিও এবং জলাতঙ্ক রোগের প্রতিরোধক টিকা (Vaccine) ভাইরাস ব্যবহার করেই তৈরি করা হয়।
- ভাইরাসের মাধ্যমে উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধক টিকা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
- ভাইরাসকে কখনো কখনো অ্যালার্জি, জিনতত্ত্ব ও আধুনিক জীববিদ্যা গবেষণায় বাহক (Vector) হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহৃত হয়। যেমন— ফাজ ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত বিভিন্ন রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে।
- কিছু ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
- কোষীয় প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও জেনেটিক নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে ভাইরাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- ভাইরাস জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে, যা জীববিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক।
 
• ভাইরাসের কৃষিক্ষেত্রে প্রভাব (উদাহরণ):

- লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ সৃষ্টি হয়।
- এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং বাজারে ফুলের মূল্য বেড়ে যায়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১১.
ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের টিকা কোন শ্রেণির মধ্যে পড়ে? 
  1. টক্সয়েড টিকা
  2. মৃত জীবাণুভিত্তিক টিকা
  3. জীবন্ত টিকা
  4. ডিএনএ টিকা
সঠিক উত্তর:
মৃত জীবাণুভিত্তিক টিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত জীবাণুভিত্তিক টিকা
ব্যাখ্যা
টিকা: 
- টিকা হলো প্রাণিদেহে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের নিষ্ক্রিয় পরিদ্রুত সাসপেনশন। 
- টিকায় বিদ্যমান অণুজীবগুলো (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) জীবিত, অর্ধমৃত বা মৃতও হতে পারে। এদের এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয় যাতে এরা জীবকোষে কোনো রোগ সৃষ্টি করতে না পারে, কিন্তু রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে।

টিকার প্রকারভেদ: 
- মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন। 
যেমন- 
১। নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা (Attenuated live vaccine): 
- কালচার করা, ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেওয়া জীবিত জীবাণু নিয়ে তৈরি। 
উদাহরণ- BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

২। মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা (killed vaccine): 
- এধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি। 
উদাহারণ- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন। 

৩। নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা (Toxoid vaccine): 
- এ ধরনের টিকা জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি। 
উদাহরণ-ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

৪। দেহ তলের রাসায়নিক বস্ত (Surface chemical molecule): 
- অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে রাসায়নিক উপাদান (নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ) আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 
উদাহরণ- হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রভৃতি। 

৫। ডিএনএ টিকা (DNA vaccine): 
- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১২.
রক্তে উচ্চ কোলেস্টরেলের কারণে কোন রোগ হয়?
  1. ক) এনিমিয়া
  2. খ) এনজিনা
  3. গ) লিউকোমিয়া
  4. ঘ) অস্টিওপরোসিস
সঠিক উত্তর:
খ) এনজিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এনজিনা
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনি গাত্রে চর্বি জমা হলে রক্তের সাহায্যে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেন ও খাদ্যসার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বুকে ব্যাথা অনুভূত হয়। এ অবস্থাকে এনজিনা বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
৫১৩.
আমাশয় রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া কোনটি?
  1. Vibrio cholerae
  2. Clostridium tetani
  3. Bacillus dysenteriae
  4. Salmonella typhosa
সঠিক উত্তর:
Bacillus dysenteriae
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bacillus dysenteriae
ব্যাখ্যা
- কলেরা রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Vibrio cholerae.
- টাইফইয়েড রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Salmonella typhosa.
- আমাশয় রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Bacillus dysenteriae.
- ধ্নুষ্টংকার রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Clostridium tetani.

- কয়েকটি ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ:
• ডিপথেরিয়া,
• গণোরিয়া,
• টাইফয়েড,
• জ্বর,
• কুষ্ঠ,
• টিটেনাস,
• নিউমোনিয়া,
• কলেরা ইত্যাদি।

উৎস:
১. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৫১৪.
যক্ষ্মা রোগের টিকা কোনটি? 
  1. টিটি
  2. বিসিজি
  3. ডিটি
  4. ডিপিটি
সঠিক উত্তর:
বিসিজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসিজি
ব্যাখ্যা
- Bacillus Calmatte Guerin-BCG হলো যক্ষ্মা রোগের টিকা। 
- যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক হিসেবে দেয়া হয় বিসিজি (Bacillus Calmatte Guerin) টিকা। 
- টিকার আবিষ্কারক ক্যালসাট ও গুয়েচিন। 
- ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়। 
- ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও টিটেনাস প্রতিষেধক হিসেবে ডিপিটি (DPT) টিকা দেয়া হয়। 
- পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি (Oral Polio Vaccine). 
- হাম রোগের টিকা এমএমআর। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫১৫.
পাচক রস কোনগুলো?
  1. ক) ট্রিপসিন
  2. খ) লাইপেজ
  3. গ) এমাইলেজ
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি পাকস্থলির প্রাচীরে থাকে। এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় ট্রিপসিন, লাইপেজ, এমাইলেজ যা গ্যাস্ট্রিক জুস বা পাচক রস নামে পরিচিত।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৫১৬.
মানবদেহের সাধারণ ডায়াস্টোলিক রক্ত চাপ হলো -
  1. ৮০ - ১২০ মি.মি. (পারদ)
  2. ৭০ - ৯০ মি.মি. (পারদ)
  3. ১১০-১৩০ মি.মি. (পারদ)
  4. ৯৮.৪ মি.মি. (পারদ)
সঠিক উত্তর:
৭০ - ৯০ মি.মি. (পারদ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭০ - ৯০ মি.মি. (পারদ)
ব্যাখ্যা
রক্ত চাপ : রক্ত প্রবাহের সময় ধমনিগাত্রে যে চাপ সৃষ্টি হয় তাকে রক্তচাপ বলে।

হৃদপিন্ডের সংকোচনশীল অবস্থায় যে সর্বাধিক চাপ সৃষ্টি করে তাকে সিস্টোলিক প্রেসার বলে। সুস্থ প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের স্বাভাবিক সিস্টোলিক প্রেসার হলো ১১০-১৩০ মি.মি. Hg গড়ে ১২০ মি.মি।

হৃদপিন্ডের শিথিল অবস্থায় যে সর্বনিম্ন চাপ সৃষ্টি করে তাকে ডায়াস্টোলিক প্রেসার বলে। সুস্থ প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের ডায়াস্টোলিক প্রেসার হলো ৭০-৯০ মি.মি. (গড়ে ৮০ মি.মি. Hg) রক্ত চাপকে সাধারণতঃ ১২০/৮০ রূপে প্রকাশ করা হয়।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৭.
ডিপথেরিয়া রোগে দেহের কোন অংশ আক্রান্ত হয়?
  1. ক) চোখ
  2. খ) ফুসফুস
  3. গ) গলা
  4. ঘ) কিডনি
সঠিক উত্তর:
গ) গলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গলা
ব্যাখ্যা
ডিপথেরিয়া রোগে  মানবদেহের গলার অংশ আক্রান্ত হয়। 

- ডিপথেরিয়া হল এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ব্যাধি।
- করিনিব্যাকটিরিয়াম ডিপথেরি নামে ব্যাকটিরিয়ার সংক্রমণ থেকে এই রোগ হয়।
- ব্যাকটেরিয়া ঘটিত এই মারাত্মক রোগ গলা ও নাকের মিউকাস মেমব্রেন বা শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
- গলার পিছন দিকটা পুরু আস্তরণ দ্বারা ঢেকে যায়, ফলে খাবার খেতে ও গিলতে সমস্যা হয়।
- মাঝে মাঝে শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়।
-  এই রোগে হৃদপিণ্ড, কিডনি ও মস্তিষ্কের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

লক্ষণ- 
- ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ২-৫ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। অনেকের মাঝে আবার লক্ষণ নাও প্রকাশ পেতে পারে। আবার অনেকের কাছে সাধারণ সর্দির মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- তবে ডিপথেরিয়ার দৃশ্যমান অতি সাধারণ উপসর্গ হচ্ছে গলা ও টনসিলে ধূসর পর্দা পড়া।
- এগুলো ছাড়াও জ্বর, শরীর ঠাণ্ডা হওয়া, ঘাড়ের গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, ভীষণ কাশি, গলা ব্যথা, নীলচে ত্বক, লালা ঝরা ইত্যাদি লক্ষণও প্রকাশ পায়।

সূত্র: Centers for Disease Control and Prevention [লিঙ্ক]
৫১৮.
আকুপাংচার হলো-
  1. ক) জাপানের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি
  2. খ) গ্রীসের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি
  3. গ) চীন দেশীয় প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি
  4. ঘ) মিসরের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি
সঠিক উত্তর:
গ) চীন দেশীয় প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চীন দেশীয় প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
- আকুপাংচার ব্যথা ও রোগ নিরাময় করার জন্য ব্যবহৃত প্রাচীন চৈনিক চিকিৎসাপদ্ধতি
- শরীরের বিভিন্ন জায়গায় সরু লম্বা সুই ফুটিয়ে চিকিৎসা করা হয়।
- বহুপুর্বে চীনা চিকিৎসাবিদ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলো আকুপাংচার।
৫১৯.
নিচের কোন ক্ষেত্রে চৌম্বক শক্তিকে মানবদেহের রোগ শনাক্তকরণে কাজে লাগানো হয়?
  1. আল্ট্রাসনোগ্রাফি
  2. সিটি স্ক্যান
  3. এমআরআই
  4. ইসিজি
সঠিক উত্তর:
এমআরআই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এমআরআই
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে শব্দশক্তির সাহায্যে মানবদেহের রোগ নির্ণয় করা হয়।
- সিটি স্ক্যানে তড়িচ্চুম্বকীয় তরঙ্গকে মানবদেহের রোগ শনাক্তকরণে কাজে লাগানো হয়।
- এমঅারঅাই তে চৌম্বক শক্তিকে মানবদেহের রোগ শনাক্তে কাজে লাগানো হয়।
- ইসিজি তে হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক কর্মকান্ডকে লেখের সাহায্যে উপস্থাপন করা হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৫২০.
কোন রোগটি মশার কামড়ে হয় না?
  1. ক) ডেঙ্গু
  2. খ) ম্যালেরিয়া
  3. গ) কলেরা
  4. ঘ) এনসেফালাইটিস
সঠিক উত্তর:
গ) কলেরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কলেরা
ব্যাখ্যা

ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া এবং এনসেফালাইটিস হয় মশার কামড়ের ফলে।
পানিবাহিত রোগ কলেরা হয় ভিব্রিও কলেরা নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে।

উৎসঃ সিডিসি

৫২১.
মানুষের রক্তের প্রকৃতি কেমন?
  1. ক) নিরপেক্ষ
  2. খ) ঈষৎ ক্ষারধর্মী
  3. গ) ঈষৎ অম্লধর্মী
  4. ঘ) তীব্র ক্ষারধর্মী
সঠিক উত্তর:
খ) ঈষৎ ক্ষারধর্মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঈষৎ ক্ষারধর্মী
ব্যাখ্যা

মানুষের রক্তের pH এর মান 7.35-7.45। অর্থাৎ স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত ঈষৎ ক্ষারীয় প্রকৃতির।
কোনো দ্রবণের pH এর মান 7 হলে তা নিরপেক্ষ।
কোনো দ্রবণের pH এর মান 0-6.9 হলে তা অম্লধর্মী।
কোনো দ্রবণের pH এর মান 7.1-14 হলে তা ক্ষারধর্মী।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৫২২.
ভাইরাস একটি -
  1. বহুকোষী জীব
  2. দ্বিকোষী জীব
  3. অকোষী জীব
  4. এককোষী জীব
সঠিক উত্তর:
অকোষী জীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকোষী জীব
ব্যাখ্যা
• ভাইরাস:
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে।
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে।
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে।
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে।
- ভাইরাস হলো অকোষীয়।
- ভাইরাস সাধারণত দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত।
- যেমন- প্রোটিন আবরণ এবং নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ কিংবা আরএনএ)।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫২৩.
আমাশয় রোগের জীবাণুর জন্য দায়ী কোনটি?
  1. ক) Yersinia pestis
  2. খ) Entamoeba histolytica
  3. গ) Escherichia coli
  4. ঘ) Myxococcus xanthus
সঠিক উত্তর:
খ) Entamoeba histolytica
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Entamoeba histolytica
ব্যাখ্যা
আমাশয় রোগের জীবাণুর জন্য দায়ী- Entamoeba histolytica. 

অ্যামিবীয় আমাশয় (Amoebic dysentery, Amoebiasis) Entamoeba histolytica নামক এককোষী পরজীবীঘটিত আমাশয়। এ এককোষী জীবাণু অন্ত্রের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি আক্রমণ করে এবং রোগ শুরু হলে শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির স্থানে স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং সেগুলি থেকে শ্লেষ্মা, পচা দেহকোষ, অ্যামিবা-কোষ নির্গত হয়। রোগ লক্ষণে থাকে পেটব্যথা, ঘন ঘন শ্লেষ্মা সহকারে ঘন ঘন মলত্যাগ (দিনে ৩০ বার বা ততোধিক হতে পারে), মলত্যাগে যন্ত্রনা, বমি ও সাধারণ দৌর্বল্য। পেটে  একটি বিশেষ ধরণের (tenesmus) ব্যথা অনুভুত হতে দেখা যায়। নাভীর চারপাশে কামড়সহ মলত্যাগের তাড়াহুড়ো ইচ্ছে কিন্তু বাথরুমে গিয়ে মলত্যাগের অতৃপ্তি।  জীবাণুঘটিত রক্ত আমাশয়ে যেখানে মলের সঙ্গে টাটকা রক্তপাত ঘটে, সেখানে অ্যামিবীয় আমাশয়ে মারাত্মক পরিস্থিতি ব্যতীত সাধারণত মলে কোনো রক্ত থাকে না।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
৫২৪.
মানবদেহের রক্তে বিদ্যমান রক্তকণিকার পরিমাণ কত?
  1. ৪০%
  2. ৪৫%
  3. ৫০%
  4. ৫৫%
সঠিক উত্তর:
৪৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৫%
ব্যাখ্যা

মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। রক্তকণিকা ৩ ধরনের হতে পারে: লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৫২৫.
নিম্নলিখিত কোনটি ভাইরাসজনিত রোগের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. রুবেলা
  2. টাইফয়েড
  3. হেপাটাইটিস বি
  4. রুবেলা
সঠিক উত্তর:
টাইফয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাইফয়েড
ব্যাখ্যা

- টাইফয়েড হলো একটি ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ।

• ভাইরাসজনিত রোগ:
- এইডস,
- পোলিও,
- ডেঙ্গু,
- ইনফ্লুয়েঞ্জা,
- পীতজ্বর,
- হাম,
- রুবেলা,
- মাম্পস,
- হেপাটাইটিস বি,
- জন্ডিস,
- হার্পিস ইত্যাদি।

• ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ:
- আমাশয়,
- টাইফয়েড,
- কলেরা,
- কুষ্ঠ,
- যক্ষ্মা,
- ধনুষ্টংকার,
- ডিপথেরিয়া,
- হুপিং কাশি ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।

৫২৬.
পয়েন্ট মিউটেশনের ফলে কোন রোগ হয়?
  1. ক) লুই গ্রেগরি ডিজিজ
  2. খ) হান্টিংটনস ডিজিজ
  3. গ) পারকিনসন ডিজিজ
  4. ঘ) আলঝেইমার ডিজিজ
সঠিক উত্তর:
খ) হান্টিংটনস ডিজিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হান্টিংটনস ডিজিজ
ব্যাখ্যা
পয়েন্ট মিউটশনের ফলে হান্টিংটনস রোগ (Huntington’s Disease) হয়। এই রোগ হলে মস্তিষ্ক ঠিকমত কাজ করে না। শরীরের পেশীগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার ক্ষমতা লোপ পায় এবং পরে মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে মৃত্যও ঘটে। সাধারণত চল্লিশ বছরের আগে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। পয়েন্ট মিউটশনের ফলে সিকেল সেল নামে রক্তকনিকার আরেকটি রোগ হয়।
উৎসঃ বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণী
৫২৭.
নিচের কোনটি প্রোটিনের অভাব জনিত রোগ?
  1. রিকেটস
  2. গলগন্ড
  3. মেরাসমাস
  4. বেরিবেরি
সঠিক উত্তর:
মেরাসমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরাসমাস
ব্যাখ্যা
প্রোটিনের অভাবজনিত রোগঃ
খাদ্যে প্রোটিনের অভাব হলে 'মেরাসমাস' ও 'কোয়াশিয়রকর' নামক দুটি রোগ হয়।
মেরাসমাস রোগে পেশী ও মেদ ক্ষয় হয় ও চামড়া কুচকে যায়, দেহের বৃদ্ধি থেমে যায়, ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে শতকরা ৬০ ভাগ কমে যায়, কম বয়সে এ রোগ হলে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
সাধারণত ২ - ৪ বছর বয়সে শিশুদের খাদ্যে আমিষের অভাব হলে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়। এ রোগে শিশুদের দেহের বৃদ্ধি থেমে যায়, পেশী ক্ষয় হতে থাকে, পানি জমে শরীর ফুলে যায়, রক্তাল্পতা দেখা দেয় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। 
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
৫২৮.
মানুষের দেহকোষে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোমের সংখ্যা কত?
  1. ক) ৪৬টি
  2. খ) ২৩টি
  3. গ) ৪৪টি
  4. ঘ) ২টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২টি
ব্যাখ্যা

মানব দেহকোষে ক্রোমোসোমের সংখ্যা হলো ২৩ জোড়া বা ৪৬টি। এর মধ্যে ২২জোড়া বা ৪৪টি হলো অটোসোম। আর ১ জোড়া বা ২টি হলো সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম।
সেক্স ক্রোমোসোম XX হলে তা হবে নারী এবং XY হলে তা হবে পুরুষ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৫২৯.
চিন্তার সঙ্গে মস্তিস্কের যে অংশের সম্পর্ক তাকে বলা হয়-
  1. ক) সেরিব্রাম
  2. খ) সেরিবেলাম
  3. গ) মেডুলা
  4. ঘ) স্পাইনাল কর্ড
সঠিক উত্তর:
ক) সেরিব্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সেরিব্রাম
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্কের প্রধান অংশ হলো গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম। এটা ডান ও বাম খন্ডে বিভক্ত। এদের ডান ও বাম সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার বলে। মানব মস্তিষ্কে সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার অধিকতর উন্নত ও সুগঠিত। এই দুইখন্ড ঘনিষ্ঠভাবে স্নায়ুতন্তু দ্বারা সংযুক্ত।
স্নায়ুকোষগুলো গুরুমস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে গুচ্ছ বেঁধে স্নায়ুকেন্দ্র সৃষ্টি করে। এগুলো বিশেষ বিশেষ কর্মকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, চিন্তা-চেতনা, স্মৃতি, জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক ও পেশি চালনার ক্রিয়াকেন্দ্র গুরুমস্তিষ্কে বা সেরিব্রামে অবস্থিত।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান ৯ম - ১০ম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান ৮ম শ্রেণি।
৫৩০.
জন্ডিস রোগ হলে দেহে কোনটির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়? 
  1. বিলিরুবিন 
  2. হিমোগ্লোবিন
  3. ইনসুলিন 
  4. কোলেস্টেরল 
সঠিক উত্তর:
বিলিরুবিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলিরুবিন 
ব্যাখ্যা

বিলিরুবিন: 
- লোহিত রক্তকণিকার অধিক ভাঙন কিংবা যকৃত বা পিত্তনালীর কোনো সমস্যার কারণে রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যেতে পারে। 
- এই মাত্রাতিরিক্ত বিলিরুবিন শরীরের বিভিন্ন অংশে জমা হতে থাকে, যাকে বলা হয় জন্ডিস। 

কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টেরল এক ধরনের চর্বি। 
- এটি কয়েক ধরনের হয়ে থাকে ট্রাইগ্লিসারাইড, এলডিএল, এইচডিএল এবং টোটাল কোলেস্টরল। 
- এর মধ্যে একটা হলো উপকারী। আর তিনটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 

ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন হলো অগ্ন্যাশয়ের প্রধান হরমোন। 
- এটি এক ধরনের পলিপ্যাপটাইড, যা গ্লুকোজকে রক্ত থেকে কোষের মধ্যে প্রবেশ করা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন নিঃসরণকারী কোষগুলো (আইল্যেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স-এর বিটা কোষ) থেকে নিঃসৃত হয়। 

হিমোগ্লোবিন: 
- হিমোগ্লোবিন একটি অক্সিজেন বাহী লৌহসমৃদ্ধ মেটালোপ্রোটিন। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩১.
কোনটি হতে অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা হয়?
  1. ক) পেনিসিলিন
  2. খ) ইনসুলিন
  3. গ) পেনিসিলিয়াম
  4. ঘ) ইথিলিন
সঠিক উত্তর:
গ) পেনিসিলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পেনিসিলিয়াম
ব্যাখ্যা
- পেনিসিলিন হলো একটি অ্যান্টিবায়োটিক। 
- অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotic) প্রকৃতপক্ষে মানুষের উৎপাদিত রাসায়নিক বস্তু নয়।
- অ্যান্টিবায়োটিক একটি জটিল জৈব যৌগ।
- বিভিন্ন প্রকার ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা হয়, যাদের বেশির ভাগই মাটিতে বাস করে।
- অণুজীব কর্তৃক উৎপাদিত বিশেষ রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে রোগ বিস্তারকারী বিভিন্ন অণুজীবের বংশ বৃদ্ধি ও বিকাশ বাধা পায়।
- অণুজীব কর্তৃক উৎপাদিত এবং অন্যান্য অণুজীবের জন্য বিষাক্ত এসব রাসায়নিক পদার্থকে অ্যান্টিবায়োটিক বা জীবাণু প্রতিরোধক বলে ।
-  Alexander Fleming যুগান্তকারী অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন (Penicillin) আবিষ্কার করেন।
- তিনি লক্ষ্য করেন যে, Penicillium notatum নামক এক ধরণের ছত্রাক Staphylococcus aureus নামক এক প্রকার ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রহিত করে।
- এমনিভাবে Penicillium notatum হতে পেনিসিলিন নামক অত্যাশ্চর্য ঔষধটির আবিষ্কার ঘটে।
- ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দে S.A. Waksman এসমস্ত রোগ প্রতিরোধকারী জীবজ রাসায়নিক পদার্থের নামকরণ করেন অ্যান্টিবায়োটিকস (Antibiotics)।
- বর্তমানে প্রচলিত বেশির ভাগ অ্যান্টিবায়োটিক চারটি গণের অণুজীব থেকে পাওয়া যায়। যথা - Streptomyces, Penicillium, Cephalosporium Bacillus

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩২.
প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের জন্য স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিংকে কত সালে নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়?
  1. ক) ১৯২৮ সালে
  2. খ) ১৯৪৫ সালে
  3. গ) ১৯৪০ সালে
  4. ঘ) ১৯৩৭ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৪৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৪৫ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৯২৮ সালে স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং প্রথম পেনিসিলিন নামক অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেন।
- ১৯৪০ সালে বিজ্ঞানী চেইন ও ফ্লোরি এবং তাঁদের সহকর্মীরা ১৯৪০ সালের শুরুতেই বিশুদ্ধ পেনিসিলিন উৎপাদনে সক্ষম হন এবং পেনিসিলিনের বানিজ্যিক উৎপাদনেও অবদান রাখেন।
- বিজ্ঞানী ফ্লেমিং, চেইন ও ফ্লোরিকে এজন্য ১৯৪৫ সালে শারীরিবিদ্যা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়।
সূত্র: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।

৫৩৩.
মানবদেহে কোন খনিজ পদার্থের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. ফসফরাস
  2. পটাসিয়াম
  3. ক্যালসিয়াম
  4. ম্যাগনেসিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম: 
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও  ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর  ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্ত এবং লসিকাতে ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি রয়েছে। 

ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: 
- ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল। 

ক্যালসিয়ামের প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: 
- দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 

- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। 
- এছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩৪.
ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণুর নাম কী?
  1. ক) Wuchereria bancrofti
  2. খ) Plasmodium vivax
  3. গ) Escherichia coli
  4. ঘ) Clostridium tetani
সঠিক উত্তর:
খ) Plasmodium vivax
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Plasmodium vivax
ব্যাখ্যা
ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণুর নাম হচ্ছে Plasmodium vivax. 

- ম্যালেরিয়া মশা বাহিত এক প্রকার সংক্রমিত রোগ যা মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
- এটি একটি পরাশ্রয়ী রোগ যা বিভিন্ন পরজীবী যেমন- প্লাসমডিয়াম ভাইভ্যাক্স (পি. ভাইভ্যাক্স), প্লাসমডিয়াম ফ্যালসিপেরাম (পি. ফ্যালসিপেরাম), প্লাসমডিয়াম ম্যালেরি (পি. ম্যালেরি) এবং প্লাসমডিয়াম ওভেল (পি. ওভেল) দ্বারা ঘটে থাকে।

সূত্র- World Health Organization Website [লিঙ্ক]
৫৩৫.
কোনটি ডেঙ্গু রোগ ছড়ায়?
  1. ক) এনোফিলিস
  2. খ) কিউলেক্স
  3. গ) পুরুষ এডিস
  4. ঘ) স্ত্রী এডিস
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্ত্রী এডিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্ত্রী এডিস
ব্যাখ্যা
স্ত্রী এডিস   মশা ডেঙ্গু রোগ ছড়ায়। 

- ডেঙ্গুজ্বর (Dengue)  প্রধানত এশিয়ার গ্রীষ্মমন্ডলীয় এলাকার একটি ভাইরাসঘটিত সংক্রামক ব্যাধি।
- ডেঙ্গু ভাইরাস Flaviviridae গোত্রভুক্ত, যার প্রায় ৭০ ধরনের ভাইরাসের মধ্যে আছে ইয়োলো ফিভার (yellow fever) ও কয়েক প্রকার এনসেফালাইটিসের ভাইরাস।
- ডেঙ্গুজ্বরের অনুরূপ একটি রোগের মহামারীর প্রথম তথ্য পাওয়া যায় ১৭৭৯ ও ১৭৮০ সালে চিকিৎসা সংক্রান্ত বইপুস্তকে।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে কলকাতায় প্রথম ডেঙ্গুজ্বর শনাক্ত হয়।
- ১৮৭১-৭২ সালে এ রোগ মহামারী আকারে দেখা দেয়।
- মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, বিশেষ করে গরম এবং বর্ষার সময়টাতেই ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি থাকে।
- শীতকালে এই জ্বর হয় না বললেই চলে।
- শীতে লার্ভা অবস্থায় ডেঙ্গু মশা অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারে।
- বর্ষার শুরুতেই সেগুলো থেকে নতুন করে ডেঙ্গু ভাইরাস বাহিত মশা বিস্তার লাভ করে।

সূত্র: WHO Website [লিঙ্ক]
৫৩৬.
শস্য স্যালাইনের উপকরণ -
  1. ক) ১ লিটার পানি
  2. খ) ৫০ গ্রাম চালের গূঁড়া
  3. গ) ১ চিমটি লবণ
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

সম্প্রতি শস্য স্যালাইন নামে আর একটি স্যালাইন উদ্ভাবিত হয়েছে। এক লিটার পানি, 50 গ্রাম চালের গুঁড়া, এক চিমটি লবণ মিশিয়ে বাড়িতে এ স্যালাইন তৈরি করা যায়।
স্যালাইন ব্যবহারের সময় যে বিষয়গুলাে মনে রাখা দরকার তা হলাে: পাতলা পায়খানা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত রােগীকে স্যালাইন খাওয়াতে হবে, রােগীর বমি হলেও স্যালাইন খাওয়া বন্ধ করা যাবে না, শিশু রােগীকে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। রােগীকে নিয়মিত অন্যান্য খাবারও খেতে হবে। ডায়রিয়া সেরে যাওয়ার পরও অন্তত এক সপ্তাহ রােগীকে বাড়তি খাবার দিতে হবে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।

৫৩৭.
মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোজোম কতটি? 
  1. ০২টি
  2. ২২টি
  3. ৪৪টি
  4. ৪৬টি
সঠিক উত্তর:
০২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০২টি
ব্যাখ্যা
- মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারণকারী সেক্স-ক্রোমোজোম- ০২টি। 

ক্রোমোজোম: 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম। 
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালী ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনো ভূমিকা নেই। 
- বাকি এক জোড়া বা ২টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স-ক্রোমোজোম যা মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারণ করে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩৮.
নিচের কোন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়?
  1. লিউকেমিয়া
  2. লিউকোসাইটোসিস
  3. থ্যালাসেমিয়া
  4. পারপুরা
সঠিক উত্তর:
থ্যালাসেমিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থ্যালাসেমিয়া
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত হচ্ছে প্রাণিদেহের এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। যেমন- 

(i) পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

(ii) অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

(iii) লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

(iv)লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

(v) থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- থ্রম্বোসাইটোসিস রোগে অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

(vi) পারপুরা: 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে। 
- পারপুরা অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

(vii) থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। 
- থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। 
- এ রোগের জন্য রোগিকে প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। 
- তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩৯.
অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ কী?
  1. ভাইরাস ধ্বংস করে।
  2. ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ।
  3. প্রোটিন বাড়ায়।
  4. কোষ বিভাজন বন্ধ করে।
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ।
ব্যাখ্যা
• অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotic) হল একধরনের ঔষধ যা ব্যাকটেরিয়া-জনিত সংক্রমণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়।

অ্যান্টিবায়োটিক যেভাবে কাজ করে:
- অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। 
- ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর ধ্বংস করে (যেমনঃ Penicillin)। 
- ব্যাকটেরিয়ার DNA প্রতিলিপি প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। 
- প্রোটিন সংশ্লেষণ থামিয়ে দেয় (যেমনঃ Tetracycline)। 

আন্টিবায়োটিক গ্রহনে সতর্কতা- 
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ বিপজ্জনক।
- কোর্স সঠিকভাবে শেষ করতে হবে। 
- ভুলভাবে বা বেশি ব্যবহারে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স (Antibiotic Resistance) দেখা দেয়, যা ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে

তথ্যসূত্র: 
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ । 
- WHO (World Health Organization). 
৫৪০.
মানব মস্তিষ্ক কতটি প্রধান অংশে বিভক্ত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা
- মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত। যথা-
(১) অগ্রমস্তিষ্ক, (২) মধ্যমস্তিষ্ক ও (৩) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

অগ্রমস্তিষ্ক - অগ্রমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে। এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা- (ক) সেরেব্রাম, (খ) থ্যালামাস ও (গ) হাইপোথ্যালামাস।

মধ্যমস্তিষ্ক - হাইপোথ্যালামাসের নিচে ছোট অংশটি মধ্যমস্তিষ্ক। পৃষ্ঠীয় দিকে দুটি গোলাকার খণ্ড এবং অঙ্কীয় দিকে দুটি নলাকার ও পুরু স্নায়ুরজ্জু নিয়ে গঠিত, প্রথম দুটি সেরেব্রাল পেডাংকল এবং শেষের দুটি কর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা।

পশ্চাৎমস্তিষ্ক - এটি মস্তিষ্কের পিছনের অংশ এবং ৩টি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। যথা- সেরেবেলাম, মেডুলা অবলংগাটা এবং পনস।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র(প্রাণিবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৫৪১.
মানবদেহে মোট ওজনের শতকরা কত ভাগ ক্যালসিয়াম থাকে?
  1. ক) ৫%
  2. খ) ৮%
  3. গ) ২%
  4. ঘ) ১০%
সঠিক উত্তর:
গ) ২%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২%
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম: 
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও  ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর  ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে। 

- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল। 
- প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। 
- এ ছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৫৪২.
বাংলাদেশে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা কত মিলিগ্রাম?
  1. ক) ০.০১ মিলিগ্রাম
  2. খ) ০.০১ মিলিগ্রাম
  3. গ) ০.১ মিলিগ্রাম
  4. ঘ) ০.০৫ মিলিগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) ০.০৫ মিলিগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ০.০৫ মিলিগ্রাম
ব্যাখ্যা
আর্সেনিক দূষণ:

- ধূসর আভাযুক্ত সাদা রংবিশিষ্ট ভঙ্গুর প্রকৃতির একটি অর্ধধাতু বা উপধাতু হচ্ছে আর্সেনিক (Arsenic).
- প্রকৃতিতে আর্সেনিক বিভিন্ন যৌগ আকারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
- ৩৩ আণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট আর্সেনিকের আণবিক ভর ৭৪.৯২।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত আর্সেনিক একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়।

- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা প্রতি লিটারে ০.০১ মিলিগ্রাম।
- তবে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ দেশের মাত্রা নির্ধারণ করে থাকে। বাংলাদেশে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা ০.০৫ মিলিগ্রাম।
- চাঁদপুর জেলা দেশের মধ্যে সবচেয়ে আর্সেনিক দূষণপ্রবণ জেলা।

তথ্যসূত্র: ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।
৫৪৩.
প্রোটিন হজম করার জন্য পাকস্থলিতে কোন অবস্থা প্রয়োজন?
  1. ক) ক্ষারীয়
  2. খ) এসিডিক
  3. গ) বেসিক
  4. ঘ) ক্ষারীয়
  5. ঙ) প্রশমিত
সঠিক উত্তর:
খ) এসিডিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এসিডিক
ব্যাখ্যা
প্রোটিন হজম করার জন্য পাকস্থলীর pH এর মান 2 অর্থাৎ এসিডিক রাখা প্রয়োজন।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
৫৪৪.
মানবদেহের রক্তে কত রকমের অ্যান্টিবডি দেখা যায়?
  1. পাঁচ
  2. তিন
  3. দুই
  4. চার
সঠিক উত্তর:
পাঁচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচ
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবডি (Antibody): 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত (combine) হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন (colonal selection) দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে। 
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু। 

অ্যান্টিবডির প্রকার: 
- মানবদেহের রক্তে পাঁচ রকমের ইমিউনোগ্লোবিউলিন অর্থাৎ অ্যান্টিবডি দেখা যায়। 
যথা- IgG, IgA, IgM, IgD ও IgE। 
- এগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- পাঁচ প্রকার অ্যান্টিবডির মধ্যে IgG রক্তরসে সর্বাধিক মাত্রায় থাকে এবং IgD ও IgE সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৫.
মানবদেহের কঙ্কালতন্ত্র মোট কতটি অস্থি নিয়ে গঠিত? 
  1. ২০২টি
  2. ২০৬টি
  3. ২০৮টি
  4. ২১২টি
সঠিক উত্তর:
২০৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০৬টি
ব্যাখ্যা
মানব কঙ্কাল: 
- মানব দেহের গঠন কাঠামো হলো কঙ্কাল (Skeleton)। 
- অস্থি (Bone) ও তরুণাস্থি (Cartilage) দ্বারা গঠিত যে তন্ত্র দেহের মূল কাঠামো গঠন করে এবং অভ্যন্তরীণ নরম অঙ্গগুলোকে রক্ষা করে দেহের ভার বহন করে এবং পেশি সংযোজনের জন্য উপযুক্ত স্থান সৃষ্টি করে তাকে কঙ্কালতন্ত্র (Skeletal system) বলে। 
- মানবদেহের কঙ্কালতন্ত্র মোট ২০৬টি অস্থি নিয়ে গঠিত। 
- হৃদপিন্ড, ফুসফুস, পাকস্থলী, যকৃত, মগজ ইত্যাদি দেহের কোমল অঙ্গসমূহকে অস্থির আবরণে সুরক্ষিত রাখে। 
- অস্থিগুলো ঐচ্ছিক মাংসপেশি দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকায় ইচ্ছাকৃত অঙ্গ সঞ্চালন ও চলাফেরা করা সম্ভব হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৬.
স্ট্রোকের কারণে কোন শারীরিক সমস্যাটি দেখা দেয়?
  1. ক) এপিলেপসি
  2. খ) প্যারালাইসিস
  3. গ) পারকিনসন
  4. ঘ) অস্টিওপরোসিস
সঠিক উত্তর:
খ) প্যারালাইসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্যারালাইসিস
ব্যাখ্যা
স্ট্রোকের কারণে প্যারালাইসিস নামক শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। 

- প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাতগ্রস্ততা হচ্ছে মানুষের শরীরের কোনো অংশের মাংসপেশির কর্মক্ষমতা হারানো।
- মাংসপেশি শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নাড়াচড়া করিয়ে থাকে, আর যদি ওই অংশের মাংসপেশির কর্মক্ষমতা হারায় তখন রোগী শরীরের ওই অংশের নড়াচড়া করার ক্ষমতা হারায়, অনেক সময় ওই অংশের বোধ বা অনুভূতি শক্তিও হারিয়ে ফেলে,তখন এটাকেই বলে প্যারালাইসিস।
- প্যারালাইসিস রোগ দেখা দেয়ার সাথে সাথে রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।
- প্যারালাইসিসের জন্য রোগীর ওষুধের চেয়েও বেশি দরকার হলো পরিচর্যার এবং প্রশিক্ষণের।
- ওষুধ হিসেবে প্রয়োজন অনুযায়ী পেনটস্রিফাইলিন, ভিমপোসিটিন, এসপিরিন ইত্যাদি দেয়া যেতে পারে।
- প্যারালাইসিস রিসার্চ সেন্টারের তত্ত্বাবধানে আমেরিকায় ৫.৪ মিলিয়ন জনগোষ্ঠীর উপর করা এক গবেষণায় দেখা যায় প্রতি ৫০ জন লোকের মধ্যে ১ জন প্যারালাইসিসে আক্রান্ত।
- প্যারালাইসিস বিষয়টি মূলত নিউরোমাসকুলার অর্থাৎ নার্ভ ও মাংসপেশির সঙ্গে সম্পর্কিত। 
- নার্ভের ইনজুরি বা অস্বাভাবিকতার কারণে মাংসপেশির পরিবর্তন বা দুর্বলতা বা অক্ষমতাই প্যারালাসিস হওয়ার জন্য প্রাথমিক সূচক। 

সূত্র- ২২৬ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা [লিঙ্ক]
৫৪৭.
কোভিড-১৯ কে বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে কবে কে ঘোষণা দেয়?
  1. ১১ মার্চ ২০২০, WHO
  2. ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, UNICEF
  3. ১৪ মার্চ ২০২০, WHO
  4. ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, WHO
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ ২০২০, WHO
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ ২০২০, WHO
ব্যাখ্যা
COVID-19 অতিমারী বা মহামারী:
- ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বিষয়ে চীনা সরকার প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অবহিত করে।
- ৩০ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ইস্যুতে বিশ্বে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করে।
- ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই রোগের নামকরণ করে COVID-19।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১১ মার্চ ২০২০ সালে COVID-19 কে অতিমারী বা মহামারী হিসেবে চিহ্নিত করে।

উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওয়েবসাইট।
৫৪৮.
বিভাজন ক্ষমতা নেই কোন কোষের?
  1. ক) স্নায়ু কোষের
  2. খ) পেশি কোষের
  3. গ) আবরণী কোষের
  4. ঘ) জনন কোষের
সঠিক উত্তর:
ক) স্নায়ু কোষের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্নায়ু কোষের
ব্যাখ্যা
নিউরন বা স্নায়ুকোষ বহুভাজাকৃতি এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত। কোষের সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজিবডি, রাইবোজোম, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি থাকে, তবে নিউরনের সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিওল থাকে না বলে নিউরন বা স্নায়ুকোষ বিভাজিত হয় না। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৫৪৯.
অসংক্রামক ব্যাধি-
  1. ক) যক্ষ্মা
  2. খ) নিউমোনিয়া
  3. গ) অ্যাজমা
  4. ঘ) আমাশয়
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যাজমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যাজমা
ব্যাখ্যা
এইডস, যক্ষ্মা, পোলিও, ধনুষ্টংকার, হাম, হার্পিস, কোভিড-১৯, দাদ, নিউমোনিয়া, আমাশয় ইত্যাদি হল সংক্রামক রোগ। অন্যদিকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অ্যাজমা, কিডনি রোগ ইত্যাদি হল অসংক্রামক রোগ।
৫৫০.
ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. ক) এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
  2. খ) এরা অকোষীয়।
  3. গ) এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক।
  4. ঘ) এরা সাধারণত বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
সঠিক উত্তর:
খ) এরা অকোষীয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এরা অকোষীয়।
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য
ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব। এর সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে
১. ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার।
২. এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
৩. এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে।
৪. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না।
৫. এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর। এরা সাধারণত দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
৬. এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান। এর সাথে মিউরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিড থাকে।
৭. ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল।
৮. এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে।
৯. এরা সাধারণত মৌলিক রং ধারণ করতে পারে। যেমন- গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ।
১০. এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু থাকে। এতে ক্রোমোসোমাল হিস্টোন প্রোটিন থাকে না।
১১. কিছুকিছু ব্যাকটেরিয়াতে নিউক্লিয়ার বহির্ভূত DNA থাকে যা সাধারণত প্লাজমিড নামে পরিচিত।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৫৫১.
ডায়াবেটিস রােগী নিচের কোনটি খেতে পারবেন না?
  1. ক) কাঁচাকলা
  2. খ) খেজুরের রস
  3. গ) কচুরমুখি
  4. ঘ) মিষ্টি কুমড়া
সঠিক উত্তর:
খ) খেজুরের রস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) খেজুরের রস
ব্যাখ্যা
ডায়াবেটিস রােগী খেতে পারবেন না:
- চিনি/গুড়
- মধু
- খেজুরের রস।

ডায়াবেটিস রােগী ইচ্ছামতাে খেতে পারবেন:
-  শাকসবজি
- টক ফল।

ডায়াবেটিস রােগী পরিমাণমতাে খেতে পারবেন:
- আটার রুটি/ভাত/মুড়ি
- মাছ
- ডিম/ডাল।
- সবজি: আলু, কাঁচাকলা, মিষ্টি কুমড়া, কচুরমুখি, শিমের বিচি, গাজর।


সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট
৫৫২.
কোন রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তির শরীরে খিঁচুনি দিতে থাকে?
  1. ক) প্যারালাইসিস
  2. খ) এপিলেপসি
  3. গ) পারকিনসন ডিজিজ
  4. ঘ) গয়টার
সঠিক উত্তর:
খ) এপিলেপসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এপিলেপসি
ব্যাখ্যা
এপিলেপসি মস্তিষ্কের একটি রোগ, যাতে আক্রান্ত ব্যাক্তির শরীরে খিঁচুনি বা কাঁপুনি দিতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। একে মৃগী রোগও বলা হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৫৫৩.
পিতা ও মাতা দুই জনই থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হলে, সন্তান থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাব্যতা কত?
  1. ক) ২৫%
  2. খ) ৫০%
  3. গ) ৭৫%
  4. ঘ) ১০০%
সঠিক উত্তর:
ক) ২৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২৫%
ব্যাখ্যা
- থ্যালাসেমিয়া বংশগত রক্তস্বল্পতাজনিত রোগ।
- মা ও বাবা দুজনই থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হলে সন্তান থ্যালাসেমিয়ার রোগী হওয়ার আশঙ্কা থাকে। 
- এটি যেমন কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়, তেমনি রক্তের ক্যানসারও নয়।
- জিনগত ত্রুটির কারণে এই রোগে অস্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় বলে লোহিত রক্তকণিকা সময়ের আগেই ভেঙে যায়। ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 

• পিতা ও মাতা দুই জনই থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হলে -
- সুস্থ সন্তান জন্ম নেয়ার সম্ভাব্যতা - ২৫%
- সুস্থ কিন্তু বাহক শিশু জন্মের সম্ভাব্যতা - ৫০%
- থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু জন্ম নেয়ার সম্ভাব্যতা - ২৫%।


সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৫৪.
কোন বিজ্ঞানী রোগজীবাণু তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন?
  1. লুই পাস্তুর
  2. প্রিস্টলি
  3. ডারউইন
  4. ল্যাভয়সিয়ে
সঠিক উত্তর:
লুই পাস্তুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুই পাস্তুর
ব্যাখ্যা
- বিজ্ঞানী 'লুই পাস্তুর' রোগজীবাণু তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন। 
- তিনি ছিলেন ফ্রেঞ্চ রসায়নবিদ এবং অণুজীববিজ্ঞানী। 
- ১৮৮৫ সালে লুই পাস্তুর জলাতঙ্কের টিকা আবিষ্কার করেন এবং টিকাজগতে বিপ্লব ঘটান। 
- এছাড়াও তিনি মুরগির কলেরা, গবাদি পশুর অ্যানথ্রাক্স, পাস্তুরাইজেশন পদ্ধতি প্রভৃতি উদ্ভাবন করেন। 

উৎস: ব্রিটনিকা।
৫৫৫.
জেনেটিক ডিজঅর্ডার- এর ফলে মানব দেহে কোন ধরনের রোগ দেখা দেয়?
  1. ক) বর্ণান্ধতা
  2. খ) থ্যালাসেমিয়া
  3. গ) ডাউন সিনড্রোম
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
জেনেটিক ডিসওর্ডার : বংশগতির অনিয়মের কারণে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটে যা উদ্বেগের বিষয়। বংশগতির এ অনিয়মকে বলা হয় জেনেটিক ডিসওর্ডার।
ইহা এক প্রকার অস্বাভাবিকতা। এর ফলে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দেয়।
যেমন- বর্ণান্ধতা, থ্যালাসেমিয়া, ডাউন সিন্ড্রোম, পাটাও সিন্ড্রোম, এডওয়ার্ড সিন্ড্রোম, ক্লাইনফেল্টার ও ডাবল ওয়াই সিন্ড্রোম, ট্রিপলো-এক্স সিন্ড্রোম, টার্নার সিন্ড্রোম, হানটিংটন’স সিন্ড্রোম, সিকিল সেল (রক্তশূন্যতা) ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৬.
সিস্টোলিক চাপ বলতে কোনটি বুঝায়? 
  1. ধমনির প্রসারণের চাপ 
  2. হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ চাপ 
  3. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন চাপ 
  4. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ উভয় চাপ 
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ডের সংকোচন চাপ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ডের সংকোচন চাপ 
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ড (Heart): 
- মানুষের রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার মূল অংশ হলো হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা। 
- হৃৎপিণ্ড অবিরাম সংকোচিত ও প্রসারিত হয়ে রক্তকে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে সারা দেহে প্রেরণ করে। 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ একটি নির্দিষ্ট ছন্দে ঘটে, যা রক্ত সঞ্চালনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
- সিস্টোল (Systole) হল হৃৎপিণ্ডের সংকোচন পর্যায়, যখন রক্ত অলিন্দ থেকে ভেন্ট্রিকলে অথবা ভেন্ট্রিকল থেকে ধমনিতে প্রবাহিত হয়। 
- ডায়াস্টোল (Diastole) হলো হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ পর্যায়, যখন হৃৎপিণ্ড রক্ত গ্রহণের জন্য আলগা হয়ে যায়। 
- সিস্টোলের সময় হৃৎপিণ্ডের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে, যা সিস্টোলিক চাপ নামে পরিচিত। 
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, তখন ভেন্ট্রিকল ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৫৭.
সমস্ত শরীর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত প্রথমে হৃদপিণ্ডের কোন প্রকোষ্ঠে এসে জমা হয়?
  1. বাম অলিন্দ
  2. বাম নিলয়
  3. ডান অলিন্দ
  4. করোনারি সাইনাস
সঠিক উত্তর:
ডান অলিন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডান অলিন্দ
ব্যাখ্যা

সমস্ত শরীর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত প্রথমে হৃদপিণ্ডের ডান অলিন্দে এসে জমা হয়। এরপর এই রক্ত ডান নিলয়ের মাধ্যমে ফুসফুসীয় ধমনিতে প্রবেশ করে। ফুসফুসে এসে রক্ত অক্সিজেনসমৃদ্ধ হয়ে হৃদপিণ্ডের বাম অলিন্দে প্রবেশ করে৷ বাম অলিন্দ থেকে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত বাম নিলয়ে প্রবেশ করে এবং মহাধমনির মাধ্যমে সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে৷
করোনারি সাইনাস হৃদপিণ্ডের গাত্র থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত বহন করে এনে ডান অলিন্দে পৌছে দেয়৷
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৫৫৮.
মানুষের অন্ত্রে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া কোনটি?
  1. ক) Enterococcus faecalis 
  2. খ) Moraxella catharralis 
  3. গ) Escherichia Coli
  4. ঘ) Neisseria meningitidis 
সঠিক উত্তর:
গ) Escherichia Coli
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Escherichia Coli
ব্যাখ্যা

মানুষের অন্ত্রে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া হল- Escherichia Coli.

Escherichia Coli এক ধরণের ব্যকটিরিয়া৷ এটা সাধারণত তেমন কোন ক্ষতি করে না কিন্তু মানব দেহে তা খাবারের সঙ্গে প্রবেশ করতে পারে৷ প্রবেশ করলে তা ফুড-পয়জনিং বা খাবারে বিষক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে৷ ফলে মানুষটি মারা যেতে পারে৷ ইকোলাই এর ব্যকটিরিয়া সাধারণত পাকস্থলীতে আশ্রয় নেয়৷ সেখান থেকেই শুরু হয় বিষক্রিয়া৷

উৎস: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৫৫৯.
গর্ববতী মায়ের রক্ত স্বল্পতা দেখা দিলে কোন ধরনের ট্যাবলেট খেতে বলা হয়?
  1. জিঙ্ক
  2. ভিটামিন
  3. আয়োডিন
  4. আয়রন ও ক্যালসিয়াম
সঠিক উত্তর:
আয়রন ও ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়রন ও ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন সমস্যা: 
- প্রতিবছর গর্ভকালীন বিভিন্ন জটিলতায় আমাদের দেশে বহু নারীর মৃত্যু হয়। 
- গর্ভকালীন বিভিন্ন জটিলতা ও সমস্যা সম্পর্কে অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাবে মা ও শিশু উভয়ের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। 
- তাই গর্ভকালীন সমস্যা বিষয়ে সচেতনতা ও সঠিক পরিচর্যাই পারে মা ও শিশুর জীবন বাঁচাতে। 

রক্ত স্বল্পতা: 
- অনেক সময় গর্ভাবস্থায় রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়। 
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রথম মাস থেকে ফলিক এসিড এবং ৩ মাসের পর থেকে আয়রন ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খেতে হবে। 
- আয়রনযুক্ত খাবার যেমন- কচু শাক, কলিজা, তেঁতুল, তরমুজ, ডিম ইত্যাদি খেতে হবে। 
- ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন- আমলকি, লেবু, কাঁচামরিচ, পেয়ারা, আনারস এবং কাঁচা ফলমূল খেতে হবে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৬০.
লোহিত রক্ত কণিকার অস্বাভাবিক অবস্থাজনিত রোগের নাম কী?
  1. ক) লিউকেমিয়া
  2. খ) থ্যালাসেমিয়া
  3. গ) লিউকোপেনিয়া
  4. ঘ) থ্রম্বোসিস
সঠিক উত্তর:
খ) থ্যালাসেমিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) থ্যালাসেমিয়া
ব্যাখ্যা
- থ্যালাসেমিয়া রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার এক অস্বাভাবিক অবস্থাজনিত রোগের নাম।
- এই রোগে লোহিত রক্ত কণিকা গুলো নষ্ট হয়।
- ফলে রোগী রক্ত শূন্যতায় ভোগে।
এই রোগ বংশপরম্পরায় হয়ে থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৬১.
রিবোফ্লাভিনের অভাবে -
  1. ক) রাতকানা রোগ দেখা দেয়।
  2. খ) ত্বক খসখসে হয়ে যায়।
  3. গ) বমিভাব দেখা দেয়।
  4. ঘ) রক্তশুন্যতা দেখা দেয়।
সঠিক উত্তর:
খ) ত্বক খসখসে হয়ে যায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ত্বক খসখসে হয়ে যায়।
ব্যাখ্যা
রিবোফ্লাভিনের অভাবে ত্বক খসখসে হয়ে যায়

রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি ২
উৎস : কমলা ও হলুদ বর্ণের শাকসবজি যেমন মিষ্টি কুমড়া, পাকা পেঁপে, কুমড়োর ফুল, ডিমের কুসুম, দুধ, বাদাম, যকৃত রিবোফ্লাভিনের ভালো উৎস।
অভাবজনিত অবস্থা : এর অভাবে জিহ্বায়, ঠোঁটের কোণায় ও মুখের ভিতরে ঘা দেখা দেয়। ত্বক খসখসে হয়ে যায় ।

দৈনিক চাহিদা : প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের দৈনিক ১.৭ মিলিগ্রাম ও নারীর ১.৩ মিলিগ্রাম প্রয়োজন। শিশুদের দৈনিক ০.৮ মিলিগ্রাম এবং কিশোর কিশোরীদের যথাক্রমে ২.০ মিলিগ্রাম ও ১.৩ মিলিগ্রাম প্রয়োজন।

সূত্রঃ ১৬ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬২.
গর্ভবতী মায়ের রক্তস্বল্পতার ক্ষেত্রে কোন ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়? 
  1. আয়রন
  2. জিংক
  3. ভিটামিন
  4. আয়োডিন
সঠিক উত্তর:
আয়রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়রন
ব্যাখ্যা
গর্ভকালীন বিভিন্ন সমস্যা ও সচেতনতা: 
- প্রতিবছর গর্ভকালীন জটিলতায় অনেক নারী মৃত্যুবরণ করেন। 
- গর্ভকালীন সমস্যা সম্পর্কে অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাব মা ও শিশুর উভয়ের জন্য জীবনঘাতী হতে পারে। 
- তাই সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

গর্ভকালীন রক্তস্বল্পতা: 
- গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত রক্ত প্রবাহ ও পুষ্টির ঘাটতির কারণে রক্তস্বল্পতা হতে পারে। 

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী:  
- প্রথম মাস থেকে ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট গ্রহণ করতে হয়। 
- গর্ভবতী মায়ের রক্তস্বল্পতার ক্ষেত্রে তৃতীয় মাস থেকে আয়রন ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। 
- আয়রনযুক্ত খাবার খেতে হবে। যেমন: কচুশাক, কলিজা, তেঁতুল, তরমুজ, ডিম ইত্যাদি। 
- ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেলে আয়রনের শোষণ বৃদ্ধি পায়। যেমন: আমলকি, লেবু, কাঁচামরিচ, পেয়ারা, আনারস, কাঁচা ফলমূল ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬৩.
কত সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গু জ্বর প্রথম মহামারী আকারে দেখা যায়?
  1. ১৯৬৮ সালে
  2. ১৯৯৮ সালে
  3. ২০০০ সালে
  4. ২০১৯ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০০ সালে
ব্যাখ্যা
ডেঙ্গু জ্বর:
- ডেঙ্গু জ্বর একটি এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু ভাইরাস জনিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ।
- এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়।
- উপসর্গগুলির মাঝে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যথা এবং গাত্রচর্মে ফুসকুড়ি।
- দুই থেকে সাত দিনের মাঝে সাধারণত ডেঙ্গু রোগী আরোগ্য লাভ করে।
- সেখান থেকে জানা যায়, চীনে এই রোগটি ৯৯২ খৃষ্টাব্দে শনাক্ত করা হয়েছিল।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মহামারী আকারে প্রথম ডেঙ্গু শনাক্ত হয় ১৯৫০ সালের দিকে ফিলিপিন্স এবং থাইল্যান্ডে।
- বাংলাদেশে প্রথম ডেঙ্গু শনাক্ত হয় ১৯৬০ সালে।
- প্রথমে এই জ্বরটি ঢাকায় একসঙ্গে অনেকের হয়েছিল বলে এর নাম হয়ে যায় 'ঢাকা ফিভার'।
- ২০০০ সালে বাংলাদেশে এটি প্রথম মহামারী আকারে দেখা যায়।

উৎস: World Health Organization ওয়েবসাইট।
৫৬৪.
ভিটামিন-বি ১-এর অভাবে কোন্ রোগ হয়?
  1. রিকেটস
  2. স্কার্ভি
  3. বেরিবেরি
  4. পেলেগ্রা
সঠিক উত্তর:
বেরিবেরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেরিবেরি
ব্যাখ্যা
- ভিটামিন বি-১ এর অভাবে 'বেরিবেরি' নামক রোগ হয়। 

ভিটামিন বি-১ বা থায়ামিন: 
- ভিটামিন বি-১ এর রাসায়নিক নাম থায়ামিন। 
- থায়ামিন পানি, উচ্চ তাপ ও ক্ষারে নষ্ট হয়। 

থায়ামিনের অভাবজনিত অবস্থা: 
১. থায়ামিনের অভাবে ক্ষুধামন্দা/অরুচি হয়। 
২. বদহজম হয়। 
৩. বেরিবেরি নামক রোগ হয়। 
৪. দুর্বলতা ও হাত পায়ের অবসন্নতা দেখা দেয়। 
৫. পরিপাকের ব্যাঘাত ঘটে। 

বেরিবেরি রোগ: 
- থায়ামিনের অভাবে সৃষ্ট বেরিবেরি রোগ দুই প্রকার। 
যথা- 
১. আর্দ্র বেরিবেরি এবং 
২. শুষ্ক বেরিবেরি। 

উৎস: গার্হস্থ্যবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬৫.
টিটেনাস রোগের ভ্যাকসিন কোন পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়? 
  1. মৃত জীবাণু 
  2. জীবন্ত দুর্বল জীবাণু 
  3. নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক জীবাণু 
  4. রিকমবিনেন্ট ডিএনএ 
সঠিক উত্তর:
নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক জীবাণু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক জীবাণু 
ব্যাখ্যা

টিকা: 
- টিকা হলো প্রাণিদেহে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের নিষ্ক্রিয় পরিদ্রুত সাসপেনশন। 
- টিকায় বিদ্যমান অণুজীবগুলো (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) জীবিত, অর্ধমৃত বা মৃতও হতে পারে। এদের এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয় যাতে এরা জীবকোষে কোনো রোগ সৃষ্টি করতে না পারে, কিন্তু রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে।

টিকার প্রকারভেদ: 
- মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন। 
যেমন- 
১। নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা (Attenuated live vaccine): 
- কালচার করা, ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেওয়া জীবিত জীবাণু নিয়ে তৈরি। 
যেমন- BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

২। মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা (killed vaccine): 
- এধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি। 
যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন। 

৩। নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা (Toxoid vaccine): 
- এ ধরনের টিকা জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি। 
যেমন- ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

৪। দেহ তলের রাসায়নিক বস্ত (Surface chemical molecule): 
- অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে রাসায়নিক উপাদান (নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ) আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 
যেমন- হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রভৃতি। 

৫। ডিএনএ টিকা (DNA vaccine): 
- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 



উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬৬.
DNA ভাইরাসঘটিত রোগ কোনটি?
  1. Tobacco mosaic
  2. Cauliflower mosaic
  3. Cucumber mosaic
  4. Sugarcane mosaic
সঠিক উত্তর:
Cauliflower mosaic
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cauliflower mosaic
ব্যাখ্যা
DNA ভাইরাসঘটিত রোগ: 
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়। 
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- 
১। Harpes simplex (Human), 
২। Tipula irridescent, 
৩। Rabbitpox, 
৪। Vaccinia (bovine), 
৫। Variola (Human), 
৬। Pustular dermatitis (Sheep), 
৭। এডেনা গ্রুপ, 
৮। প্যাপিলোমা (মানব), 
৯। পলিওমা, 
১০। ΦX174 কলিফাজ, 
১১। Cauliflower mosaic
১২। Adenoassociaed ইত্যাদি। 

RNA ভাইরাসঘটিত রোগ: 
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়। 
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- 
১। Influenza B (Human), 
২। পোলিও (মানব), 
৩। Rubella (Human), 
৪। পীতজ্বর (মানব), 
৫। ডেঙ্গু (মানব), 
৬। Encephalitis (Human), 
৭। Leukemia (cat), 
৮। Mumps (Human), 
৯। Measles (Human), 
১০। Cold (Human),
১১। Newcastle disease (fowl), 
১২। Rous sarcoma (bird), 
১৩। Rabies (dog), 
১৪। Potato yellow dwarf, 
১৫। Vesicular stomatitis (cattle), 
১৬। Tobacco mosaic
১৭। Sugarcane mosaic
১৮। fd (Pseudomonas), 
১৯। Cucumber mosaic
২০। f2, fr1, R17কলিফাজ ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং ভাইরাসতত্ত্ব পরিচয় (আহমেদ মাতীন)।
৫৬৭.
ORS সাধারণত কোন রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. ডায়রিয়া
  2. উচ্চ রক্তচাপ
  3. কোষ্ঠকাঠিন্য
  4. মাথাব্যথা
সঠিক উত্তর:
ডায়রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়রিয়া
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ORS সাধারণত কোন রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?

সমাধান:
ORS (Oral Rehydration Solution) ডায়রিয়া, কলেরা বা বমি ইত্যাদির ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়া রোধে ব্যবহৃত হয়।

- ORS হলো এক ধরনের দানাদার মিশ্রণ যা পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো হয় শরীরের পানিশূন্যতা প্রতিরোধ বা পূরণ করার জন্য।
- এটি সাধারণত ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়ার সময় ব্যবহৃত হয়, যখন শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়।
- এটি শরীরের পানিশূন্যতা (Dehydration) প্রতিরোধ করে এবং লবণ-পানির ভারসাম্য বজায় রাখে।

ORS-এ থাকা উপাদানসমূহ: 
- লবণ (সোডিয়াম ক্লোরাইড), 
- গ্লুকোজ, 
- পটাশিয়াম ক্লোরাইড, 
- সোডিয়াম বাইকার্বনেট বা সাইট্রেট। 

উৎস: 
১। জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ (UNICEF) ওয়েবসাইট। 

৫৬৮.
জন্মের সময় শিশুর ওজন কত হলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়?
  1. ১.৬ কেজির কম
  2. ৩ কেজির কম
  3. ৫০০ গ্রাম এর কম
  4. ২.৫ কেজির কম
সঠিক উত্তর:
২.৫ কেজির কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২.৫ কেজির কম
ব্যাখ্যা

জন্মের সময় শিশুর ওজন ২.৫ কেজি বা ২৫০০ গ্রামের কম হলে তাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
কারণ শিশুর ওজন ২.৫ কেজির কম হলে তা জন্মের ২৮ দিনের মাঝেই কিংবা কখনো কখনো পরবর্তী জীবনে অপুষ্টি, সংক্রমণ, জন্ডিস ইত্যাদির মতো বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৫৬৯.
দুধের শর্করা কোনটি?
  1. ক) অ্যামাইলেজ
  2. খ) ফ্রুক্টোজ
  3. গ) গ্যালাক্টোজ
  4. ঘ) ল্যাকটোজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ল্যাকটোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ল্যাকটোজ
ব্যাখ্যা
• দুধ একটি আদর্শ খাবার।
• এতে সুষম খাদ্যের ৬ টি উপাদানই বিদ্যমান।
• দুধে যে শর্করা থাকে তাকে ল্যাকটোজ বলে।
• এতে যে প্রোটিন থাকে তাকে কেসিন বলে।
• দুধকে জমাট বাঁধায় রেনিন।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৫৭০.
কোনটি ভাইরাসজনিত রোগ নয়?
  1. ক) ইনফ্লুয়েঞ্জা
  2. খ) ডেঙ্গু
  3. গ) কলেরা
  4. ঘ) জলাতঙ্ক
সঠিক উত্তর:
গ) কলেরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কলেরা
ব্যাখ্যা
ভাইরাস:
- সাধারণ সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, গুটিবসন্ত, জলবসন্ত, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, ভাইরাল হেপাটাইটিস ইত্যাদি সবই ভাইরাসজনিত রোগ
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ।
- এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না। 
- এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়।
- ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড (যা কেন্দ্রে থাকে) ও প্রোটিন (যা আবরণ হিসেবে থাকে) দিয়ে গঠিত অতি-আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে তথায় রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে।
- উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে।

অন্যদিকে,
- কলেরা একটি ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭১.
নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভ্যাকসিন নিচের কোনটি?
  1. ক) এমআর ভ্যাকসিন
  2. খ) ডিপিটি ভ্যাকসিন
  3. গ) পিসিভি ভ্যাকসিন
  4. ঘ) বিসিজি ভ্যাকসিন
সঠিক উত্তর:
গ) পিসিভি ভ্যাকসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পিসিভি ভ্যাকসিন
ব্যাখ্যা
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে,
- বিসিজি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় যক্ষ্মার বিরুদ্ধে।
- ডিপিটি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া ও হুপিং কাশির বিরুদ্ধে।
- এমআর ভ্যাকসিন দেওয়া হয় হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে।
- পিসিভি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে।
সূত্র: www.dghs.gov.bd 
৫৭২.
নিম্নের কোন টিকা শিশুকে প্রথম দিতে হয়?
  1. পেন্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন
  2. বিসিজি
  3. পিসিভি ভ্যাকসিন
  4. ওপিভি
সঠিক উত্তর:
বিসিজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসিজি
ব্যাখ্যা

রোগের নাম -- টিকার নাম -- ডোজের সংখ্যা -- টিকা শুরু করার সঠিক সময়

১. যক্ষা --- বিসিজি ---  ১ ডোজ --- জন্মের পর থেকে

২. ডিফথেরিয়া, হুপিংকাশি,
ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস-বি
হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি -- পেন্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন (ডিপিটি, হেপাটাইটিস-বি) -- ৩ ডোজ -- ৬ সপ্তাহ

৩. নিউমোকক্কাল নিঊমোনিয়া - পিসিভি ভ্যাকসিন - ৩ ডোজ - ৬ সপ্তাহ

৪. পোলিও মাইলাইটিস -- ওপিভি -- ৪* ডোজ -- ৬ সপ্তাহ

৫. হাম ও রুবেলা - এম.আর টিকা - ১ ডোজ - ৯ মাস বয়স পূর্ণ হলে

উৎস: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
৫৭৩.
ডেঙ্গু জ্বরের বাহক কোনটি?
  1. Anopheles stephensi
  2. Culex quinquefasciatus
  3. Aedes aegypti
  4. Mansonia uniformis
সঠিক উত্তর:
Aedes aegypti
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Aedes aegypti
ব্যাখ্যা

◉ Aedes aegypti হলো ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রধান বাহক। 

ডেঙ্গু জ্বর:
- ডেঙ্গু একটি ভাইরাসঘটিত রোগ।
- এই ভাইরাসের জীবাণুর নাম ফ্ল্যাভি ভাইরাস।
- এটি একটি RNA ভাইরাস।
- এই ভাইরাসের বাহক হলো Aedes aegypti L. ও Aedes albopictus নামক মশকী (স্ত্রী মশা)।
- এর পোষক দেহ হলো মানুষ।
- প্রতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় ১০ কোটি মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়।
- ডেঙ্গু জ্বরে ১০৩-১০৫° ফারেনহাইট হয়ে থাকে।
- সাধারণত ডেঙ্গু মশা কামড়ানোর ২-৭ দিন পর জ্বর দেখা দেয়।
- ডেঙ্গু জ্বরে রোগীর তীব্র মাথা ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেট ব্যাথা, কপাল ব্যথা ও গলা ব্যথা হয়।
- মেরুদণ্ডের ব্যথাসহ কোমরে ব্যথা এই রোগের বিশেষ লক্ষণ। একে হাড়ভাঙ্গা জ্বর বলে।
- প্লেটিলেট পরীক্ষায় রক্তের অনুচক্রিকার সংখ্যা ১৫০০০০/mm৩ এর অনেক নিচে নেমে আসে।
- ডেঙ্গু জ্বরে রোগীকে এসপিরিন জাতীয় ওষুধ দেয়া যাবে না।
- ব্যথা ও জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

৫৭৪.
লিউকেমিয়া রোগে দেহের কোন অঙ্গটি আক্রান্ত হয়?
  1. ক) মস্তিস্ক
  2. খ) কিডনী
  3. গ) অস্থিমজ্জা
  4. ঘ) হৃদপিণ্ড
সঠিক উত্তর:
গ) অস্থিমজ্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অস্থিমজ্জা
ব্যাখ্যা
লিউকেমিয়া রোগে দেহের অস্থিমজ্জা অঙ্গটি আক্রান্ত হয়। 

- লিউকেমিয়াকে রক্তের ক্যান্সার ও বলা হয়ে থাকে। 
- লিউকেমিয়া হল রক্ত উৎপাদন ব্যবস্থার একটি অস্বাভাবিকজনিত একটি রোগ। 
- দেহে যখন অস্বাভাবিকভাবে শ্বেত কণিকার বৃদ্ধি ঘটে, তখন এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- লোহিত রক্তকোষের অভাবে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়, ফলে রোগী দুর্বল বোধ করে।
- অনুচক্রিকার অভাবে দেহে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না। 
- লিউকেমিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে, অন্যান্য রোগজীবাণু দ্বারা সহজেই আক্রান্ত হয়।

সূত্র- ১৫৪ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৭৫.
ব্যাকটেরিয়ার প্রধান জনন পদ্ধতি কোনটি?
  1. ক) মাইটোসিস
  2. খ) মিয়োসিস
  3. গ) দ্বি-ভাজন
  4. ঘ) অঙ্গজ জনন
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বি-ভাজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বি-ভাজন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ক্রোমোসোম না থাকায় ব্যাকটেরিয়া কোষে মাইটোসিস ও মিয়োসিস ঘটে না। ব্যাকটেরিয়ার প্রধান জনন পদ্ধতি হলো দ্বি-ভাজন পদ্ধতি। এটি একটি অযৌন পদ্ধতি। কুঁড়ি তথা মুকুলোদগম প্রক্রিয়ায় কোনো কোনো ব্যাকটেরিয়াতে সংখ্যাবৃদ্ধি হতে পারে। কুঁড়ি সৃষ্টির পদ্ধতিকে অঙ্গজ জনন পদ্ধতি বলা যেতে পারে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৫৭৬.
ভিটামিন ‘এ’ সবচেয়ে বেশি কোনটিতে?
  1. ক) পেঁপে
  2. খ) গাজর
  3. গ) কলা
  4. ঘ) পাকা আম
সঠিক উত্তর:
খ) গাজর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গাজর
ব্যাখ্যা
ভিটামিন এ (Vitamin A):
- ভিটামিন এ এর রাসায়নিক নাম রেটিনল।
- প্রাণিজ উৎস হতে প্রাপ্ত ভিটামিন এ রেটিনল এবং উদ্ভিজ্জ উৎস হতে প্রাপ্ত ভিটামিন এ ক্যারোটিনরূপে পাওয়া যায়।
- ভিটামিন এ বর্ণহীন, তাপে স্থিতিশীল, অম্ল ও ক্ষারে অবিকৃত থাকে। 

ভিটামিন এ এর উৎস:
প্রাণিজ উৎস:
ডিমের কুসুম, মাছের তেল, যকৃত বা কলিজা দুধ, ডিম, ঘি, মাখন ইত্যাদি এর ভালো উৎস। 

উদ্ভিজ্জ উৎস:
হলুদ, কমলা ও গাঢ় সবুজ বর্ণের শাকপাতা, ফল ও সবজি ভিটামিন এ এর ভালো উৎস।
উদ্ভিদে ভিটামিন এ ক্যারোটিন রূপে থাকে। যেমন- গাজর, মিষ্টি কুমড়া, লালশাক, মিষ্টি আলু, পাকা পেঁপে, আম, কাঁঠাল, ধনে পাতা ইত্যাদিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ক্যারোটিন থাকে।
- ভিটামিন ‘এ’ সবচেয়ে বেশি থাকে গাজরে। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৭.
কোন রোগটি মানবজাতির ইতিহাসে একমাত্র রোগ যেটা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল (Eradicated) হয়েছে?
  1. ক) পোলিও
  2. খ) গুটিবসন্ত
  3. গ) কুষ্ঠ
  4. ঘ) প্লেগ
সঠিক উত্তর:
খ) গুটিবসন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গুটিবসন্ত
ব্যাখ্যা

গুটিবসন্ত মানবজাতির ইতিহাসে একমাত্র রোগ যেটা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়েছে।
- WHO ১৯৮০ সালে গুটিবসন্ত নির্মূলের ঘোষণা দেয়।
- গুটিবসন্ত হয় - ভেরিওলা ভাইরাসের কারনে।
- সর্বশেষ ১৯৭৭ সালে সোমালিয়াতে দেখা গিয়েছিল।
ভ্যাক্সিনঃ এডয়ার্ড জেনার ১৭৯৬ সালে তৈরি করেন।

গণস্বাস্থ্যের ইতিহাসে এটাকেই সবচেয়ে বড় সফলতা বলা যায়।

Smallpox is an acute contagious disease caused by the variola virus, a member of the orthopoxvirus family. It was one of the most devastating diseases known to humanity and caused millions of deaths before it was eradicated. It is believed to have existed for at least 3000 years.

The smallpox vaccine, created by Edward Jenner in 1796, was the first successful vaccine to be developed. He observed that milkmaids who previously had caught cowpox did not catch smallpox and showed that a similar inoculation could be used to prevent smallpox in other people.

The World Health Organization launched an intensified plan to eradicate smallpox in 1967. Widespread immunization and surveillance were conducted around the world for several years. The last known natural case was in Somalia in 1977. In 1980 WHO declared smallpox eradicated – the only infectious disease to achieve this distinction. This remains among the most notable and profound public health successes in history.

Source: WHO

৫৭৮.
কোনটি শিশুর জন্মগত ত্রুটিজনিত রোগ?
  1. ক) হাম
  2. খ) পোলিও
  3. গ) হেপাটাইটিস
  4. ঘ) রুবেলা
সঠিক উত্তর:
ঘ) রুবেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রুবেলা
ব্যাখ্যা
- রুবেলা রোগ শিশুর জন্মগত ত্রুটিজনিত রোগ।
- গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাসে মা যদি চিকেন পক্স, মাম্পস, যক্ষা, ম্যালেরিয়া, রুবেলা ভাইরাস, এইডস ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হন তবে গর্ভস্থ শিশু শারীরিকভাবে বিকলাঙ্গ ও মানসিক প্রতিবন্ধী হতে পারে।
- এছাড়া মায়ের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা, থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা প্রভৃতি শারীরিক অবস্থায় গর্ভস্থ শিশু প্রতিবন্ধী হতে পারে।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৯.
মানবদেহের লােহিত কণিকার আয়ুষ্কাল কতদিন?
  1. ক) ২১ দিন
  2. খ) ৩০ দিন
  3. গ) ১৮০ দিন
  4. ঘ) কোনােটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনােটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনােটিই নয়
ব্যাখ্যা
- রক্ত কণিকার মধ্যে লােহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- লােহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতাে দ্বি-অবতল।
- এর গড় আয়ু ১২০ দিন বা ৪ মাস
 
অন্যদিকে, 
- শ্বেত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫-১০ দিন।

সূত্র:- জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৫৮০.
রক্তশুন্যতা রোগটি কোন ভিটামিনের অভাবে হয়?
  1. ক) ভিটামিন এ
  2. খ) ভিটামিন কে
  3. গ) ভিটামিন বি৩
  4. ঘ) ভিটামিন বি১২
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিটামিন বি১২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিটামিন বি১২
ব্যাখ্যা
রক্তশূন্যতা (Anemia) :
•রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘনত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়াই রক্তাশূন্যতার প্রধান কারণ।
•খাদ্যের প্রধান উপাদান ভিটামিন বি১২ এর অভাবে এ রোগ দেখা যায়।
•বাংলাদেশ সাধারণত লৌহ ঘটিত আমিষের অভাবে এ রোগ দেখা যায়।
•শিশুদের ও গর্ভধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন মহিলাদের ক্ষেত্রে এ রোগ বেশি সংঘটিত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৫৮১.
ব্লাড ক্যান্সার হওয়ার জন্য দায়ী হলো-
  1. ক) অণুচক্রিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া
  2. খ) অণুচক্রিকার সংখ্যা হ্রাস পাওয়া
  3. গ) রক্তের শ্বেতকণিকার সংখ্যা অত্যাধিক বৃদ্ধি পাওয়া
  4. ঘ) রক্তরসের পরিমাণ কমে যাওয়া
সঠিক উত্তর:
গ) রক্তের শ্বেতকণিকার সংখ্যা অত্যাধিক বৃদ্ধি পাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রক্তের শ্বেতকণিকার সংখ্যা অত্যাধিক বৃদ্ধি পাওয়া
ব্যাখ্যা
• ব্লাড ক্যান্সার হওয়ার জন্য দায়ী হলো রক্তের শ্বেতকণিকার সংখ্যা অত্যাধিক বৃদ্ধি পাওয়া।
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়।
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়।
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮২.
টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে কোন আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. আয়োডিন-131
  2. টেকনিশিয়াম-99 
  3. ফসফরাস-32
  4. কোবাল্ট-60
সঠিক উত্তর:
কোবাল্ট-60
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোবাল্ট-60
ব্যাখ্যা

চিকিৎসা ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে বর্তমানে বিভিন্ন প্রয়োজনে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হচ্ছে।
যেমন- 
• রোগ নির্ণয়ে: 
- আইসোটোপ ব্যবহার করে একজন রোগীর রোগাক্রান্ত স্থানের ছবি তোলা সম্ভব। এ পদ্ধতিতে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ টেকনিশিয়াম-99 (99Tc) কে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়।
- এই আইসোটোপ যখন শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে জমা হয় তখন ঐ তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ গামা রশ্মি বিকিরণ করে, তখন বাইরে থেকে গামা রশ্মি শনাক্তকরণ ক্যামেরা দিয়ে সেই স্থানের ছবি তোলা সম্ভব। এই তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ টেকনিশিয়াম-99 এর লাইফটাইম 6 ঘণ্টা। তাই সামান্য সময়েই এর তেজস্ক্রিয়তা শেষ হয়ে যায় বলে এটি অনেক নিরাপদ। 

• রোগ নিরাময়ে: 
- সর্বপ্রথম থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। রোগীকে পরিমাণমতো তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ (131I) সমৃদ্ধ দ্রবণ পান করানো হয়। এই আইসোটোপ থাইরয়েডে পৌঁছায় এবং এই আইসোটোপ থেকে বিটা রশ্মি নির্গত হয় এবং থাইরয়েডের ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করে।
- ইরিডিয়াম-১৯২ (192Ir) তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।
- টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ কোবাল্ট-৬০ (60Co) ব্যবহার করা হয়। কোবাল্ট-৬০ থেকে নির্গত গামা রশ্মি ক্যান্সারের কোষ কলাকে ধ্বংস করে। 
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ফসফরাস-৩২ (32p) এর ফসফেট ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৮৩.
মানবদেহে রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা কত থাকে?
  1. ১৮০-২০০ গ্রাম/ডেসিলিটার
  2. ৮০-১২০ গ্রাম/ডেসিলিটার
  3. ৮০-১২০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার
  4. ২৫০-৩০০ মিলিগ্রাম/ ডেসিলিটার
সঠিক উত্তর:
৮০-১২০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮০-১২০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার
ব্যাখ্যা
- মানবদেহে রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা ৮০-১২০ মিলিগ্রাম/ ডেসিলিটার।
- রক্তে গ্লুকোজের এই স্বাভাবিক মাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয় ইনসুলিন এবং গ্লুকাগন নামক হরমোনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায়। 
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
৫৮৪.
স্মরণশক্তি হ্রাস পায় কোন খনিজের অভাবে?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম, সালফার
  2. খ) কপার, অ্যালুমিনিয়াম
  3. গ) আয়রন, জিংক
  4. ঘ) কার্বনেট, ম্যাঙ্গানিজ
সঠিক উত্তর:
গ) আয়রন, জিংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আয়রন, জিংক
ব্যাখ্যা
- আয়রন ও জিংক শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় এক খনিজ উপাদান।
- শারীরবৃত্তীয় অনেক কার্যক্রম পরিচালনায় আয়রন ও জিংকের বিশাল ভূমিকা রয়েছে।
- এগুলো রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করে।
- আয়রন ও জিংক এর অভাবে স্মরণশক্তি হ্রাস পায়।
- শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিতেও রয়েছে জিংকের বিশেষ ভূমিকা।
- জিংককে বলা হয়ে থাকে শরীরের জন্য অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান।
- শিশুদের ক্ষেত্রে মনোযোগে সমস্যা দেখা দেয়।
- বয়স্কদের মাঝেই অমনোযোগিতার প্রভাব দেখা দেয়।

এছাড়াও,
- শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে দুর্বল ও ক্লান্ত লাগার পাশাপাশি মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।
- সাধারণত শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের আয়রনের ঘাটতি জনিত অ্যানেমিয়া হয়ে থাকে। 

উৎস: Association of Zinc Deficiency with Iron Deficiency- NCBI, National Institutes of Health (.gov).
৫৮৫.
রক্তের উচ্চচাপকে সিস্টোলিক চাপ বলে যার আদর্শ মান-
  1. ক) ১২০ বা এর কিছু উপরে
  2. খ) ১২০ বা এর কিছু নিচে
  3. গ) ১৪০ বা এর কিছু উপরে
  4. ঘ) ৮০ বা এর নিচে
সঠিক উত্তর:
খ) ১২০ বা এর কিছু নিচে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১২০ বা এর কিছু নিচে
ব্যাখ্যা
রক্ত চাপ:
- রক্ত প্রবাহের সময় ধমনিগাত্রে যে চাপ সৃষ্টি হয় তাকে ‘রক্ত চাপ' বলে।
- পরিণত বয়সে একজন মানুষের আদর্শ রক্ত চাপ সাধারণত ১২০/৮০ মানের কাছাকাছি।
- রক্ত চাপকে উচ্চমান ও নিম্নমান সংখ্যায় উল্লেখ করা হয়।
- রক্তের উচ্চচাপকে সিস্টোলিক চাপ বলে যার আদর্শ মান ১২০ বা এর কিছু নিচে
- অন্যদিকে নিম্নমানকে ডায়াস্টোলিক চাপ বলে যার আদর্শমান ৮০ বা এর নিচে।
- এক জন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে সিস্টোলিক চাপ ১২০ এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ বা এর নিচের মাত্রাকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রা হিসেবে ধরা হয়।
- এ রক্ত চাপ যখন মাত্রাতিরিক্ত হয় তখনই আমরা তাকে উচ্চ রক্ত চাপ বলে থাকি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৮৬.
মানুষের ইনসুলিন তৈরিতে কোন ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) E-coli
  2. খ) Yeast
  3. গ) HTV
  4. ঘ) E-Bec
সঠিক উত্তর:
ক) E-coli
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) E-coli
ব্যাখ্যা
- মানব ইনসুলিন তৈরিতে বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত ব্যকটেরিয়া হলো E-coli.
- মানুষের ইনসুলিন উৎপাদনকারী জিন E . coli তে অবস্থিত প্লাজমিডে স্থানান্তরিত করা হয়।
- স্থানান্তরিত প্লাজমিডটি পুনরায় ব্যকটেরিয়াতে স্থানান্তরিত করে ব্যাপক হারে ইনসুলিন উৎপাদন করা হচ্ছে। 
- একটি ব্যাক্টেরিয়াম কোষে প্রায় দশ লক্ষ অণু ইনসুলিন তৈরি হয়ে থাকে। 
- ইনসুলিন কৃত্রিমভাবে উৎপাদনের কারণে বর্তমান পৃথিবীর অধিকাংশ জৈবিক সমস্যা সমাধান সম্ভব হয়েছে। 

উৎস: একাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান বই।
৫৮৭.
রক্তের লোহিত কণিকার কাজ-
  1. ক) রোগ প্রতিরোধ করা
  2. খ) কার্বন ডাই-অক্সাইড বহন করা
  3. গ) নাইট্রোজেন বহন করা
  4. ঘ) অক্সিজেন বহন করা
সঠিক উত্তর:
ঘ) অক্সিজেন বহন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অক্সিজেন বহন করা
ব্যাখ্যা
রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। এর গড় আয়ু ১২০ দিন। লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৫৮৮.
ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে কোন আইসোটোপটি ব্যবহার করা হয়?
  1. ইরিডিয়াম আইসোটোপ
  2. আয়োডিন আইসোটোপ
  3. ফসফরাস আইসোটোপ
  4. কার্বন আইসোটোপ
সঠিক উত্তর:
ইরিডিয়াম আইসোটোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরিডিয়াম আইসোটোপ
ব্যাখ্যা
- অস্থিতিশীল পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্নি বিকিরণের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ সালে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরি বেকেরেল আকস্মিকভাবে এই রশ্নি আবিষ্কার করেন। তার নামানুসারে এই রশ্নির নাম দেয়া হয় বেকেরেল রশ্নি।
- তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষনার জন্যে তেজস্ক্রিয়তার আবিষ্কারক হেনরী বেকেরেল এবং ম্যারি কুরী ও তার স্বামী পিয়েরে কুরী যৌথভাবে ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পান।
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক বেকেরেল।
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা- প্রাকৃতিক ও কৃত্তিম তেজস্ক্রিয়তা।
- কিছু কিছু মৌলের আইসোটোপ রয়েছে যাদের নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে আলফা, বিটা ও গামা রশ্নি নির্গত করে তাদেরকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে।
- লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় ফসফরাস -32 তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়।
- থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে আয়োডিন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৮৯.
রক্ত আমাশয়ের জীবাণুর নাম-
  1. ক) ছত্রাক
  2. খ) সিলেগাসনি
  3. গ) ব্যাকটেরিয়া
  4. ঘ) ভাইরাস
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
রক্ত আমাশয়ের প্রধান কারণ হলো এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া যার নাম শিগেলা। এই শিগেলা নামক ব্যাকটেরিয়াও দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
রক্ত আমাশয়ের লক্ষণ হলো- পেটে তীব্র মোচড় দিয়ে ব্যথা হওয়া,
- অল্প অল্প করে বার বার পায়খানা,
- পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়া এবং মলস্বারে তীব্র ব্যথা হওয়া।

Dysentery is an infection of the intestines that causes diarrhoea containing blood or mucus.

There are 2 main types of dysentery:

- bacillary dysentery or shigellosis, which is caused by shigella bacteria; this is the most common type of dysentery in the UK
- amoebic dysentery or amoebiasis, which is caused by an amoeba (single celled parasite) called Entamoeba histolytica

Source: NHS

৫৯০.
'হাইপারমেসিস গ্র্যাভিডারাম' গর্ভবতী মায়ের কোন সময়ে দেখা দেয়?
  1. ক) গর্ভাবস্থার প্রথম ১ মাস
  2. খ) গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস
  3. গ) গর্ভাবস্থার প্রথম ৫ মাস
  4. ঘ) গর্ভাবস্থার প্রথম ৭ মাস
সঠিক উত্তর:
খ) গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস
ব্যাখ্যা
গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাসের মাথায় গর্ভবতী মায়েদের হাইপারমেসিস গ্র্যাভিডারাম সমস্যা দেখা দেয়।

অনেক মহিলার গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাসের মাথায় বমি বমি ভাব হয় যাকে 'মর্নিং সিকনেস' হিসেবেও অভিহিত করা হয়। গর্ভাবস্থায় বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়ার কারণ এইচসিজি (হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন) নামক হরমোনের রক্তের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি বলে মনে করা হয়, যা প্লাসেন্টা দ্বারা নিঃসৃত হয়।
এটি ওজন হ্রাস এবং ডিহাইড্রেশন হতে পারে এবং নিবিড় চিকিত্সার প্রয়োজন হতে পারে।

সূত্র:  https://my.clevelandclinic.org/health/diseases/12232-hyperemesis-gravidarum-severe-nausea--vomiting-during-pregnancy
৫৯১.
স্নেহ পদার্থ কোনটির সমন্বয়ে গঠিত হয়?
  1. ক) ফ্যাটি এসিড ও ফলিক এসিড
  2. খ) ফলিক এসিড ও গ্লিসারল
  3. গ) ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল
  4. ঘ) ফ্যাটি এসিড ও থায়ামিন
সঠিক উত্তর:
গ) ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল
ব্যাখ্যা
- স্নেহ পদার্থকে শক্তি উৎপাদনকারী উপাদান বলা হয়।
- স্নেহ পদার্থে কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে।
- কার্বনের দহন ক্ষমতা বেশি থাকায় স্নেহ পদার্থের অণু থেকে বেশি তাপশক্তি উৎপন্ন হয়।
- স্নেহ পদার্থ ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগ।
- স্নেহ পদার্থ পরিপাক হয়ে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত হয়।
- স্নেহ পদার্থে ২০ প্রকার চর্বি জাতীয় এসিড পাওয়া যায়।
- চর্বি জাতীয় এসিড দুই প্রকার। যথা- ১. অসম্পৃক্ত চর্বি জাতীয় এসিড ও ২. সম্পৃক্ত চর্বি জাতীয় এসিড।

সূত্র- ৮ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৫৯২.
নিচের কোনটি মানবদেহের রক্তের অ্যান্টিবডি নয়?
  1. IgB
  2. IgD
  3. IgE
  4. IgA
সঠিক উত্তর:
IgB
উত্তর
সঠিক উত্তর:
IgB
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবডি (Antibody): 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত (combine) হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন (colonal selection) দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে। 
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু। 

অ্যান্টিবডির প্রকার: 
- মানবদেহের রক্তে পাঁচ রকমের ইমিউনোগ্লোবিউলিন অর্থাৎ অ্যান্টিবডি দেখা যায়। 
যথা- IgG, IgA, IgM, IgD ও IgE। 
- এগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- পাঁচ প্রকার অ্যান্টিবডির মধ্যে IgG রক্তরসে সর্বাধিক মাত্রায় থাকে এবং IgD ও IgE সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৩.
রিকেটস রোগ প্রতিরোধক ভিটামিন D তৈরি হওয়ার জন্য সূর্যের কোন রশ্মি গুরুত্বপূর্ণ?
  1. মাইক্রোওয়েভ 
  2. রেডিও তরঙ্গ 
  3. আল্ট্রাভায়োলেট 
  4. ইনফ্রারেড রশ্মি 
সঠিক উত্তর:
আল্ট্রাভায়োলেট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল্ট্রাভায়োলেট 
ব্যাখ্যা

রিকেটস (Rikets): 
- এটি কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়, ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে এ রোগ হয়। 
- অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ, দাঁত ও হাড় গঠন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে এই ভিটামিন প্রয়োজন। 
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তেল ও হাঙ্গরের তেলে প্রচুর ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়। 
- সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা থাকা কোলেস্টেরল থেকেও এটি তৈরি হয়, তবে সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির শেষ ধাপটি সংঘটিত হয় কিডনিতে।

- দেহের হাড়গুলো দুর্বল হওয়া, গিঁট ফুলে যাওয়া, হাড়গুলো বিশেষ করে পায়ের হাড় বেঁকে যাওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ। 
- এছাড়া এই রোগে অনেক সময় দেহের কাঠামো ঠিক থাকে না, হাড়গুলো ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং বক্ষদেশ সরু হয়ে যায়। 
- শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন 'ডি' সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে। 
- চোখ এবং জননাঙ্গ ঢেকে রেখে নবজাতককে কিছুক্ষণ রোদে রাখা ভালো, এতে সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে শরীরে কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন 'ডি' তৈরি হয়। 
- নিয়মিতভাবে সারা শরীর সারা দিন কালো বা গাঢ় রঙের কাপড়ে ঢেকে রাখলে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে ঘরের বাইরে না বের হলে ত্বক পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না এবং এ কারণে ভিটামিন 'ডি'-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৯৪.
Body Mass Index অনুযায়ী, মোটা হওয়ার প্রথম স্তরের মান কোনটি? 
  1. ৩০ - ৩৪.৯
  2. ২৫ - ২৯.৯
  3. ১৮.৫ - ২৪.৯
  4. ৩৫.০-৩৯.৯
সঠিক উত্তর:
৩০ - ৩৪.৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ - ৩৪.৯
ব্যাখ্যা
বিএমআই (Body Mass Index): 
- বিএমআই (Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে। 
- শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এটি খুবই উপযোগী। 
     বিএমআই = দেহের ওজন (কেজি)/দেহের উচ্চতা (মিটার) 

বিএমআই মান ⇒ করণীয়: 
• ১৮.৫ -এর নিচে ⇒ শরীরের ওজন কম। পরিমিত খাদ্যগ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে। 
• ১৮.৫-২৪.৯ ⇒ এটি সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান। 
• ২৫.০-২৯.৯ ⇒ শরীরের ওজন অতিরিক্ত। ব্যায়াম করে অতিরিক্ত ওজন কমানো প্রয়োজন। 
৩০.০-৩৪.৯ ⇒ মোটা হওয়ার প্রথম স্তর। বেছে খাদ্যগ্রহণ ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৩৫.০-৩৯.৯ ⇒ মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর। পরিমিত খাদ্য গ্রহন ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৪০.০ -এর উপরে ⇒ অতিরিক্ত মোটাত্ব।মৃত্যুঝুঁকির আশঙ্কা। ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৯৫.
মানবদেহে হাড় ও দাঁত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে -
  1. ক) ক্যালসিয়াম
  2. খ) ফসফরাস
  3. গ) লৌহ
  4. ঘ) ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
মানবদেহে হাড় ও দাঁত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম
অস্থির বা হাড়ের প্রায় ৬০% ক্যালসিয়াম ফসফেট।
এছাড়া প্রাণীদেহে ফসফোপ্রোটিন বা ফসফোলিপিড হিসেবেও ফসফরাস থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৯৬.
গোদ রোগের জন্য কোন জীবাণুটি দায়ী?
  1. ক) এমিবা
  2. খ) ফাইলোরিয়া কৃমি
  3. গ) সালমোনেলা
  4. ঘ) প্লাজমোডিয়াম
সঠিক উত্তর:
খ) ফাইলোরিয়া কৃমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফাইলোরিয়া কৃমি
ব্যাখ্যা

গোদ রোগ বা ফাইলেরিয়াসিস এক প্রকার পরজীবী ঘটিত রোগ।
এটি ক্রান্তীয় অঞ্চলের সংক্রামক রোগ যা সূতার মতো একজাতের (ফাইলেরিওয়ডিয়া Filarioidea পরিবারভুক্ত নিমাটোড) গোলকৃমি দ্বারা সংঘটিত হয়।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির বিজ্ঞান

৫৯৭.
কৃমি বিস্তারে প্রধানত কোন নিয়ামকটি সহায়তা করে?
  1. ক) দূষিত বায়ু
  2. খ) দূষিত খাদ্য
  3. গ) দূষিত মাটি
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) দূষিত খাদ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দূষিত খাদ্য
ব্যাখ্যা
দূষিত খাদ্য প্রধানত কৃমি বিস্তারে সহায়তা করে। 

কৃমি হচ্ছে একরকমের পরজীবী প্রাণী, যা মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর দেহে বাস করে সেখান থেকে খাবার গ্রহণ করে বেঁচে থাকে।
লক্ষণসমূহ- 
১. কৃমি হলে কিছু কিছু উপসর্গ দেখা দেয়, যেমন-বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা, পেট মোটা বা ভারি হওয়া, খাবারে অরুচি, মুখে থুথু ওঠা।
২. কৃমি হলে সাধারণত অপুষ্টি দেখা দেয়। রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
৩. অনেক সময় বক্র কৃমির এক মুখ শিশুদের এপেনডিক্সের মধ্যে প্রবেশ করে, ফলে এপেনডিসাইটিসের মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

কৃমির ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ- 
- পেটে ব্যথা
- বমি
- শরীর দুর্বল লাগা
- ডায়রিয়া
- রক্তশূন্যতা
- ওজন কমে যাওয়া।

সূত্র- ১২১ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৯৮.
এক রক্তদান শিবিরে আপনি যদি 250 ml রক্তদান করেন তাহলে আপনার শরীরের মোট রক্তের শতকরা কত ভাগ রক্ত নেয়া হবে?
  1. ক) ৫%
  2. খ) ৮%
  3. গ) ৭%
  4. ঘ) ৪%
সঠিক উত্তর:
ক) ৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৫%
ব্যাখ্যা

গড়ে একজন মানুষের শরীরে ৫ লিটার বা ৫০০০ মি.লি. রক্ত থাকে। 
রক্ত দান শিবিরে কেউ ২৫০  মি.লি. রক্ত দান করলে সে তার শরীরের শতকরা = ২৫০×১০০/৫০০০ = ৫% রক্ত নেয়া হবে। 

৫৯৯.
টেট্রাসাইক্লিন এন্টিবায়োটিক উৎপাদনে কোন অণুজীবটি ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) Penicillium sp
  2. খ) Streptomyces griseus
  3. গ) Streptomyces rimosus
  4. ঘ) Streptomyces fradic
সঠিক উত্তর:
গ) Streptomyces rimosus
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Streptomyces rimosus
ব্যাখ্যা
অনুজীব দ্বারা তৈরি বিভিন্ন এন্টিবায়োটিক:
- Penicillium sp - পেনিসিলিন।
- Streptomyces griseus - স্ট্রেপটোমাইসিন।
- Streptomyces rimosus - ট্রেট্রাসাইক্লিন। 
- Bacillus polymyxa - পলিমিক্সন।
- Streptomyces fradic - নিউমাইসিন।
৬০০.
চা-পাতার রেড রাস্ট রোগের সৃষ্টি করে-
  1. ক) ছত্রাক
  2. খ) শৈবাল
  3. গ) ব্যাকটেরিয়া
  4. ঘ) সায়ানো ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) শৈবাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শৈবাল
ব্যাখ্যা
সমাঙ্গ বর্গের প্রধানত ক্লোরোফিলযুক্ত ও স্বভোজী উদ্ভিদরাই শৈবাল। এরা মাটি, পানি ও অন্য গাছের উপর জন্মাতে পারে। এদের দেহ এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে। এদের দেহে কোন পরিবহন কলা থাকে না। এর সবুজ, লাল, বাদামী ইত্যাদি নানা রঙের হতে পারে। ‘স্পাইরোগাইরা’ নামক শৈবাল জলাশয়ে পাওয়া যায়। সামদ্রিক শৈবাল থেকে এ্যালজিন প্রস্তুত করা হয় যা আইসক্রিম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। আয়োডিন ও পটাশিয়ামের একটি ভাল উৎস সামদ্রিক শৈবাল। মৎস্য চাষে ফাইটোপ্ল্যাংক্টন বিশেষ ভূমিকা রাখে। এর প্রধান অংশই শৈবাল। চা-পাতার রেড রাস্ট শৈবাল জাতীয় মারাত্মক রোগ। পুকুরে শৈবাল ওয়াটারব্লুম সৃষ্টি করে। ফলে জলজ প্রাণী ও মাছের অক্সিজেনের অভাব হয়।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান সপ্তম শ্রেণি]