বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বিচার বিভাগ

মোট প্রশ্ন৬৩এই পাতা৬২প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিচার বিভাগ

PrepBank · পাতা / · ৬২ / ৬৩

.
বাংলাদেশে প্রথম ই-পারিবারিক আদালত চালু হয় কোথায়?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. খুলনা
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

• ই-পারিবারিক আদালত:
- চট্টগ্রামে দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে।
- বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক ও সহজীকরণে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন এ ব্যবস্থায় বিচারপ্রার্থীরা ঘরে বসেই মামলা সম্পর্কিত সব তথ্য জানতে পারবেন, আবেদন করতে পারবেন, এমনকি সাক্ষ্যও দিতে পারবেন।এতে সময়, ভোগান্তি ও খরচ—সবই কমবে।

- আদালত সূত্র জানায়, ই-পারিবারিক আদালতে পাঁচ ধরনের বিষয়ে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে— বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, মোহরানা, ভরণপোষণ, সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত।

- আদালতের নিজস্ব ওয়েবসাইটে থাকবে মামলার রেজিস্ট্রেশন, আইনজীবী নির্বাচন, নথি আপলোড, অনলাইন হাজিরা ও অগ্রগতি দেখার সুবিধা। ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের পরিচয়ও নিশ্চিত করা হবে।

উৎস: প্রথম আলো ও বাংলাদেশ প্রতিদিন।

.
সুপ্রীম কোর্টের কোন বিভাগ 'রিট' (Writ) জারি করতে পারে?
  1. আপীল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগ
  3. বিশেষ ট্রাইব্যুনাল
  4. বর্নিত সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
হাইকোর্ট বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা

- সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ  'রিট' (Writ) জারি করতে পারে।

- সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কারো মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে হাইকোর্ট তা বলবত করতে পারে এবং বিচার বিভাগীয় পর্যাচলোনাকে কার্যকর করতে পারে, যা হাইকোর্ট বিভাগের 'রিট এখতিয়ার' নামে পরিচিত।

রিট (Writ) জারি:

- রিট শব্দটির অর্থ হলো আদালত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঘোষিত আদেশ।
- রিট হল এমন এক আদেশ যার মাধ্যমে আদালত কোন ব্যক্তিকে কোন কাজ করতে বা করা হত বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করে।
- সংক্ষুব্ধ কোন ব্যক্তি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিকার প্রাপ্তির জন্য যে পিটিশন দায়ের করে, তা রিট পিটিশন নামে পরিচিত।
- সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কারো মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে হাইকোর্ট তা বলবত করতে পারে এবং বিচার বিভাগীয় পর্যাচলোনাকে কার্যকর করতে পারে, যা হাইকোর্ট বিভাগের 'রিট এখতিয়ার' নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ  খান।

.
বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন-
  1. এম.এ .ইদ্রিস
  2. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
  3. ড.গোলাম মোস্তফা
  4. আব্দুস সাত্তার 
সঠিক উত্তর:
আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
ব্যাখ্যা

সুপ্রিম কোর্ট:
- হাইকোর্টের ব্রেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি।
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি।
- বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বয়সসীমা দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ বছর।
- সংবিধানের প্রণয়নকালে বিচারপতিদের চাকরির বয়সসীমা ছিল ৬২ বছর।
- দেশে সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় ২৮ জানুয়ারি ২০১৩ সালে।
- 'বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।
-  তিনি ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ থেকে ৫ নভেম্বর ১৯৭৫ পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। 

উল্লেখ্য,
- প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারকদের অবসরের বয়স ৭০ বছর করার প্রস্তাব করেছে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন।
- এজন্য বিদ্যমান সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
- বিদ্যমান সংবিধানে প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অবসরের বয়স ৬৭ বছর নির্ধারণ করা রয়েছে।
- এই অবসরের বয়সসীমা তিন বছর বৃদ্ধি করে ৭০ করার প্রস্তাব করল কমিশন। 

উৎস: সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইট এবং দৈনিক প্রথম আলো।

.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের আসন কতটি?
  1. ৩৫১টি
  2. ৩৫০টি
  3. ৩৩০টি
  4. ৩০০টি
সঠিক উত্তর:
৩৫০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৫০টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলায় আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ।
- বাংলাদেশের সংসদ একটি এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা যা ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত।
- যার মধ্যে ৩০০টি আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকার ৩০০ জন সদস্য যা প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে একজন করে।
- অবশিষ্ট ৫০টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।
- ৫০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য এই বিধান নবম সংসদের শুরু থেকে দশ বছর অব্যাহত থাকবে।
- ১৭তম সংশোধনী অনুযায়ী, ৫০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনের মেয়াদ দশম সংসদের শুরু থেকে আরও ২৫ বছরে বৃদ্ধি পাবে।

উৎস: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ওয়েবসাইট।
.
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের কয়টি বিভাগ রয়েছে?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ২ টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
২ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ টি
ব্যাখ্যা
• বিচার বিভাগ:
- সুপ্রিমকোর্টের রয়েছে দুইটি বিভাগ।
• আপিল বিভাগ, 
• হাইকোর্ট বিভাগ।
- সরকারের যে অঙ্গ বা বিভাগ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সংবিধান ও আইন অনুযায়ী বিচার কাজ পরিচালনা করে থাকে তাকে বলা হয় বিচারবিভাগ।
- বাংলাদেশের বিভিন্ন বিচারালয়ের বিচারকদের নিয়ে এ বিভাগ গঠিত।
- বিচারবিভাগের সর্বোচ্চ স্তর হলো সুপ্রিমকোর্ট।
- এর প্রধানকে 'বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি' বলা হয়।
- রাষ্ট্রপতি তাঁকে নিয়োগ দেন।
- এই দুটি বিভাগের বিচারপতিগণও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হনG
- দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে বিচার কাজ পরিচালনা করে থাকেন।

এছাড়াও,
• নিম্নস্তর আদালত:
- যে আদালতে নাগরিকদের অধিকার, অপরাধ, বিরোধ সংক্রান্ত মামলা সম্পন্ন হয় তাকে নিম্নস্তর আদালত বা অধঃস্তন আদালত বলে।
- নিম্নস্তরের আদালতকে অপরাধের প্রকৃতি অনুসারে দু'টি ভাগে ভাগ করা হয়। যথা

• ফৌজদারি আদালত।
-  জনগণের বিভিন্ন প্রকার অপরাধ সংক্রান্ত মামলার বিচার করা হয় ফৌজদারি আদালতে।

• দেওয়ানি আদালত।
- নাগরিকদের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার বিচার করা হয় দেওয়ানি আদালতে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
রাষ্ট্রপতি জারিকৃত আইনকে কী বলে?
  1. দলিল
  2. বিল
  3. অধ্যাদেশ
  4. আইন
সঠিক উত্তর:
অধ্যাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাদেশ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:
- রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রধান।
- বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ অংশের ৪৮-৫৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধানাবলি বিধৃত হয়েছে।
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত।
- তিনি সংবিধান ও আইন বলে তাঁর উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব সম্পন্ন করেন।
- রাষ্ট্রপতি জারিকৃত আইনকে অধ্যাদেশ বলে।
- সরকারের যাবতীয় নির্বাহী কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদন করা হয়।
- সংসদ-সদস্যদের দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্যে নূন্যতম বয়স ৩৫ বছর।
- রাষ্ট্রপতির পদ শূণ্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬০-৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।
.
বিচারপতি ওবায়দুল হাসান দেশের কততম প্রধান বিচারপতি?
  1. ২২তম
  2. ২৪তম
  3. ২৩তম
  4. ২৫তম
সঠিক উত্তর:
২৪তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪তম
ব্যাখ্যা
প্রধান বিচারপতি:
• দেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

• উল্লেখ্য,
• রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে শপথবাক্য পাঠ করান।
• ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে।
• বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ১৯৫৯ সালের ১১ জানুয়ারি নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ থানাধীন ছয়াশী (হাটনাইয়া) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস (অনার্স), এমএসএস (অর্থনীতি) ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৬ সালে আইনজীবী হিসেবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদ পেয়ে জেলা বার-কমিটিতে যোগদান করেন।
• তিনি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে ৫ বছর দায়িত্ব পালন করেন।
• তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে ২০০৯ সালের ৩০ জুন যোগদান করেন এবং ২০১১ সালের ৬ জুন একই বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।

তথ্যসূত্র - ডেইলী স্টার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩।
.
প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা কাজের জন্য কার কাছে দায়বদ্ধ থাকেন?
  1. রাষ্ট্রপতির কাছে
  2. আদালতের কাছে
  3. জাতীয় সংসদের কাছে
  4. স্পিকারের কাছে
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সংসদের কাছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সংসদের কাছে
ব্যাখ্যা

প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা কাজের জন্য জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন।

বাংলাদেশের সংবিধান:
⇒ সংবিধানের ৫৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিসভা -
- ৫৫ (১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করবে, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী নিয়ে এই মন্ত্রিসভা গঠিত হবে।
- ৫৫ (২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হবে।
- ৫৫ (৩) মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকবেন।
- ৫৫ (৪) সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হয়েছে বলে প্রকাশ করা হবে।
- ৫৫ (৫) রাষ্ট্রপতির নামে প্রণীত আদেশসমূহ ও অন্যান্য চুক্তিপত্র কিভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত হবে, রাষ্ট্রপতি তা বিধিসমূহ-দ্বারা নির্ধারণ করবেন এবং অনুরূপভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত কোন আদেশ বা চুক্তিপত্র যথাযথভাবে প্রণীত বা সম্পাদিত হয় নাই বলে তার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
- ৫৫ (৬) রাষ্ট্রপতি সরকারী কার্যাবলী বন্টন ও পরিচালনার জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

.
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বর্তমান চেয়ারম্যান কে? [নভেম্বর, ২০২৪]
  1. বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ
  2. বিচারপতি এম সালেহ আহমেদ
  3. বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার
  4. বিচারপতি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার
ব্যাখ্যা
গত ১৪ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়।

নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন-

চেয়ারম্যান:
হাইকোর্টের বিচারপতি — গোলাম মর্তুজা মজুমদার।

সদস্য: 
১. হাইকোর্টের বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও
২. অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

চিফ প্রসিকিউটর:
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট (০৪ নভেম্বর ২০২৪)।
১০.
নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়ন ও ক্ষমতা কোন অনুচ্ছেদের অধীনে?
  1. ১২৪
  2. ১১৭
  3. ১১৮
  4. ১০৮
সঠিক উত্তর:
১২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২৪
ব্যাখ্যা

◊ ১২৪ অনুচ্ছেদ — নির্বাচন সম্পর্কিত বিধানপ্রণয়ন:
- সংসদের ১২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ আইনের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পর্কিত বিষয়গুলি নির্ধারণ করতে পারে।
• এর মধ্যে রয়েছে : 
- নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ,
- ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা,
- নির্বাচন পরিচালনা এবং
- সংসদের সঠিক গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিধান প্রণয়ন করা।

উল্লেখ্য, 
• ১০৮ অনুচ্ছেদ — সুপ্রিম কোর্টের কোর্ট অব রেকর্ড স্বরূপ ক্ষমতা:
- সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদ মতে, সুপ্রিম কোর্ট একটি কোর্ট অফ রেকর্ড; তার আদেশ এবং রায় চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে এবং
- কোন বাক্তি  আদালত এর সিদ্ধান্তের অবমাননা করলে সুপ্রিম কোর্ট তদন্ত ও শাস্তিসহ তার সমস্ত সংবিধিবদ্ধ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে ওই বাক্তির বিরুদ্ধে।
• ১১৭ অনুচ্ছেদ — প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল:
- সংবিধানের ১১৭ অনুচ্ছেদ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালসমূহ সম্পর্কিত বিধান নির্ধারণ করে (ট্রাইব্যুনালের প্রতিষ্ঠা, এখতিয়ার ও কার্যপদ্ধতি ইত্যাদি)।
• ১১৮ অনুচ্ছেদ — নির্বাচন কমিশন:
- ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে, যার প্রধান হবেন একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং
- সদস্য হিসেবে সর্বোচ্চ চারজন নির্বাচন কমিশনার থাকবেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

১১.
বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি কততম? [মার্চ, ২০২৬]
  1. ২৪তম
  2. ২৫তম
  3. ২৬তম
  4. ২৭তম
সঠিক উত্তর:
২৬তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬তম
ব্যাখ্যা

বিচার বিভাগ:
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি: বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী
- তিনি ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ প্রধান করেন।

উল্লেখ্য,
- তিনি ২৭ আগস্ট ২০০৩ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে উন্নীত হন এবং ২৭ আগস্ট ২০০৫ সালে একই বিভাগের স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন।
- ১৩ আগস্ট ২০২৪ সালে তিনি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে উন্নীত হন। [ব্যাখ্যা আপডেট - মার্চ, ২০২৬]

উৎস: বিচার বিভাগ ওয়েবসাইট।

১২.
বাংলাদেশের অষ্টম প্রশাসনিক বিভাগ -
  1. ময়মনসিংহ
  2. কুমিল্লা
  3. রংপুর
  4. খুলনা
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
ময়মনসিংহ বিভাগ:
- বাংলাদেশের অষ্টম প্রশাসনিক বিভাগ হলো ময়মনসিংহ।

⇒ জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠিত।
- ঢাকা বিভাগকে ভেঙ্গে দেশের অষ্টম বিভাগ ময়মনসিংহ বিভাগ সৃষ্টি করে।
- এই বিভাগের আয়তন ১০,৫৮৪ বর্গকিলোমিটার।
- এটি বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম বিভাগ।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৩.
বিচার বিভাগের কার্যাবলি কোনটি?
  1. বিচার সংক্রান্ত কাজ
  2. শাসন সংক্রান্ত কাজ করা
  3. পরামর্শ সংক্রান্ত কাজ
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

বিচার বিভাগ:
- রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম।
- নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগ শেষ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
• উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট)।
• অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৪ নং ধারা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদেরকে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে থাকেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ষষ্ট বিভাগে বিচার বিভাগের কাঠামো, মর্যাদা এবং কার্যাবলি সম্পর্কিত বিধান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

⇒ বিচার বিভাগের কার্যাবলি:
১. বিচার সংক্রান্ত কাজ।
২. আইন সংক্রান্ত কাজ।
৩. শাসন সংক্রান্ত কাজ করা।
৪. পরামর্শ সংক্রান্ত কাজ।
৫. জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা।
৬. তদন্ত সংক্রান্ত কাজ
৭. সংবিধান সংরক্ষণ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
বিচার বিভাগের কাজ নয়- 
  1. সংবিধান প্রণয়ন
  2. জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা
  3. আইনের ব্যাখ্যা করা 
  4. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
সংবিধান প্রণয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবিধান প্রণয়ন
ব্যাখ্যা

বিচার বিভাগ:
- রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৪ নং ধারা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদেরকে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে থাকেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ষষ্ট বিভাগে বিচার বিভাগের কাঠামো, মর্যাদা এবং কার্যাবলি সম্পর্কিত বিধান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
- সংবিধান প্রণয়ন বিচার বিভাগের কাজ নয়।

•বিচার বিভাগের কার্যাবলি:
১. বিচার সংক্রান্ত কাজ।
২. আইন সংক্রান্ত কাজ।
৩. শাসন সংক্রান্ত কাজ করা।
৪. পরামর্শ সংক্রান্ত কাজ।
৫. জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা।
৬. তদন্ত সংক্রান্ত কাজ।
৭. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকারবলে কোন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি?
  1. সুপ্রিম কোর্ট বার
  2. বাংলাদেশ বার কাউন্সিল
  3. আইন কমিশন
  4. বিচার বিভাগীয় পরিষদ
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল
ব্যাখ্যা

অ্যাটর্নি জেনারেল:
- বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন পরামর্শক ও প্রধান আইন কর্মকর্তা হলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
- তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সরকারের প্রধান আইনজীবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
- সাধারণত জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মধ্য থেকে সরকার তাকে নিয়োগ দেয়।
- পদাধিকারবলে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সভাপতি হন।
- তাকে যুগ্ম অ্যাটর্নি জেনারেল, উপ অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা সহায়তা করেন।

উল্লেখ্য,
- বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
- তিনি বাংলাদেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল।
- তিনি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।
- রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে এই পদে নিয়োগ দিয়েছেন। [ব্যাখ্যা আপডেট - জানুয়ারি, ২০২৬]

উৎস: অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ওয়েবসাইট।

১৬.
বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কে?
  1. বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ
  2. বিচারপতি জাহেদ রহমান চৌধুরী
  3. বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী
  4. বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী
ব্যাখ্যা

২৬তম প্রধান বিচারপতি:
- দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
- বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের উত্তরসূরি হিসেবে আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ প্রজ্ঞাপন জারি হয়।
- ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে প্রধান বিচারপতির শপথ বাক্য পাঠ করান।

উল্লেখ্য,
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ১১ আগস্ট দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। 
- সংবিধান অনুযায়ী ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় গত ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ তিনি  অবসরে যান।

তথ্যসূত্র- প্রথম আলো। [link]

১৭.
'বাংলাদেশে গ্রাম আদালত আইন' প্রণীত হয় কবে?
  1. ২০০১ সালে
  2. ২০০৪ সালে
  3. ২০০৬ সালে
  4. ২০০৯ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৬ সালে
ব্যাখ্যা

• গ্রাম আদালত আইন:
- বাংলাদেশে ২০০৬ সালে গ্রাম আদালত আইন প্রণীত হয়।
- এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার সহজলভ্য করা এবং আদালতের চাপ কমানো।
- প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে গ্রাম আদালত গঠিত হয়, যা ইউনিয়নের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় কার্যকর।
- আদালত গঠিত হয় চেয়ারম্যান (সভাপতি), প্রতিপক্ষের মনোনীত ২ জন সদস্য, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্ধারিত সদস্য দিয়ে।
- বিচারযোগ্য মামলায় দেওয়ানি ক্ষতিপূরণ সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা।
- আদালতের রায় সংখ্যাগরিষ্ঠতায় (৩ বা ২ ভোটে) গৃহীত হয় এবং আপিলের সুযোগ রয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট বা সহকারী জজ আদালতে।
- আইনটি গ্রামীণ ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করে এবং স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করে।

তথ্যসূত্র: গ্রাম আদালত আইন।

১৮.
সংবিধানের কততম অনুচ্ছেদ ’সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা’ সম্পর্কিত?
  1. ৯৭
  2. ৯৫
  3. ৯৬
  4. ৯৪
সঠিক উত্তর:
৯৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৪
ব্যাখ্যা

সংবিধানের ৯৪নং অনুচ্ছেদ ’সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা’ সম্পর্কিত

অন্যদিকে,
অনুচ্ছেদ ৯৫- ’বিচারক-নিয়োগ’ সম্পর্কিত
অনুচ্ছেদ ৯৬- ’বিচারকদের পদের মেয়াদ’ সম্পর্কিত
অনুচ্ছেদ ৯৭- ’অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি’ নিয়োগ সম্পর্কিত

• সুপ্রিম কোর্ট :
- বিচারবিভাগের সর্বোচ্চ আদালতের নাম সুপ্রিমকোর্ট।
- এর রয়েছে দুটি বিভাগ, যথা: আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ।
- সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রধানবিচারপতি রয়েছেন, যাকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি বলা হয়। রাষ্ট্রপতি তাঁকে নিযুক্ত করেন।
- প্রত্যেক বিভাগের জন্য যতজন বিচারক প্রয়োজন ততজন বিচারককে নিয়ে সুপ্রিমকোর্ট গঠিত।
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিমকোর্টের দুই বিভাগের বিচারপতিদের নিয়োগ দেন।
- প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারপতিগণ বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন।
- সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হতে হলে তাকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
- সুপ্রিম কোর্টে কমপক্ষে ১০ বছর অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে অথবা বাংলাদেশে বিচার বিভাগীয় পদে ১০ বছর বিচারক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
- সুপ্রিমকোর্টের বিচারকগণ ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে কর্মরত থাকতে পারেন।

উৎস: বাংলাদেশে ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি এবং সংবিধান।

১৯.
জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব কোন বিভাগের ওপর নির্ভর করে? 
  1. শাসন বিভাগ
  2. আইন বিভাগ
  3. বিচার বিভাগ
  4. প্রতিরক্ষা বিভাগ
সঠিক উত্তর:
বিচার বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা

• বিচার বিভাগ:
- আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের মত বিচার বিভাগও আধুনিক সরকার ব্যবস্থার অপরিহার্য অঙ্গ।
- সরকারের যে বিভাগ প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল বিচারকার্য সম্পন্ন করে তাকে বিচার বিভাগ বলে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হচ্ছে বিচার বিভাগ।
- বিচার বিভাগ হল সরকারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ যা জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করে এবং এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রকার রিট জারি করে।
- বিচার বিভাগ রাষ্ট্র ও সরকারের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
• উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট)।
• অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।

অন্যদিকে,
- সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ষষ্ঠ বিভাগে বিচার বিভাগের কাঠামো, মর্যাদা এবং কার্যাবলি সম্পর্কিত বিধান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
- বিচার বিভাগ বলতে সরকারের সেই অঙ্গকে বুঝায় যা মামলার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করে, অপরাধের প্রকৃতি নির্ণয় করে এবং আইন অনুযায়ী শাস্তি বিধান করে।
- এছাড়াও বিচার বিভাগ আইনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে সংবিধানের প্রাধান্য রক্ষা করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২০.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৬২ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৮২ সালে
  4. ১৯৯২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
• সুপ্রিম কোর্ট:
- সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
- ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়।

- এটি দুটি বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত। যথা- হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগ।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৪(১) ধারায় সুপ্রিম কোর্ট এর গঠন সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- প্রতি বছর ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়। 

তথ্যসূত্র: সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইট।
২১.
নিচের কোন বিষয়টি পারিবারিক আদালতের অধীনে নিষ্পত্তি হয় না? 
  1. দেনমোহর বাস্তবায়ন 
  2. দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার
  3. অভিভাবকত্ব
  4. সম্পত্তি বিক্রয় বিরোধ
সঠিক উত্তর:
সম্পত্তি বিক্রয় বিরোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পত্তি বিক্রয় বিরোধ
ব্যাখ্যা

- সম্পত্তি বিক্রয় বিরোধ  পারিবারিক আদালতের অধীনে নিষ্পত্তি হয় না।
- যদি সম্পত্তি বন্টন বা শেয়ার সংক্রান্ত বিরোধ হয়, তাহলে এটি দেওয়ানি প্রকৃতির এবং দেওয়ানি আদালতে (Civil Court) মামলা করতে হয়, যা পারিবারিক আদালতের আওতার বাইরে।

• পারিবারিক আদালত মূলত পাঁচটি বিষয়ে বিচারকার্য নিষ্পন্ন করে থাকে। এগুলি হচ্ছে:
- বিবাহ বিচ্ছেদ,
- দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধার,
- মোহরানা,
- ভরণপোষণ ও
- অভিভাবকত্ব।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২২.
নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগ এর বিভাগ পৃথক হয় কত তারিখে? 
  1. ১ নভেম্বর, ২০০৭
  2. ১ ডিসেম্বর, ২০০৭
  3. ১ নভেম্বর, ২০০৮
  4. ১ সেপ্টেম্বর, ২০০৮
সঠিক উত্তর:
১ নভেম্বর, ২০০৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ নভেম্বর, ২০০৭
ব্যাখ্যা

- নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগ এর বিভাগ পৃথক হয় - ১ নভেম্বর ২০০৭।

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ:
- ১৯৯৪ সালে সাবেক জেলা জজ মাসদার হোসেন পৃথকীকরণের জন্যে হাইকোর্টে রিট করলে আপিল বিভাগ ১৯৯৯ সালে এর চূড়ান্ত রায়ে ১২ দফা নির্দেশনা প্রদান করে।
- নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগ এর ভিত্তিতেই ১ নভেম্বর ২০০৭ নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হয়।
- এ দিন সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধি কার্যকরের মাধ্যমে স্বাধীন বিচার বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। তবে এ প্রক্রিয়া এখনো পূর্ণতা লাভ করেনি।
বর্তমানে অধস্তন আদালত সমূহে বিচারক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি জুডিশিয়াল সার্ভিস কাউন্সিল দেখভাল করে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বিবিসি বাংলা।

২৩.
সৈয়দ রেফাত আহমেদ বাংলাদেশের কততম প্রধান বিচারপতি?
  1. ২৪ তম
  2. ২৫ তম
  3. ২৬ তম
  4. ২৭ তম
সঠিক উত্তর:
২৫ তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫ তম
ব্যাখ্যা
প্রধান বিচারপতি:
- বর্তমানে (আগস্ট, ২০২৪) বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
- তিনি বাংলাদেশের ২৫ তম প্রধান বিচারপতি।
- সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছেন।
- সৈয়দ রেফাত আহমেদের জন্ম ১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে এএলবি(অনার্স) উত্তীর্ণ হন। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে এমএ পাস করার পর যুক্তরাষ্ট্রের টাফ্‌ট ইউনিভার্সিটির ফ্লেচার স্কুল অব ল এন্ড ডিপ্লোমেসি থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৯৮৪ সালে জেলা জজ আদালত, ১৯৮৬ সালে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এবং ২০০২ সালে সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন।
- তিনি 'গ্লোবাল জুডিশিয়াল ইনস্টিটিউট অন এনভাইরনমেন্ট, ব্রাজিল' এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

তথ্যসূত্র - ডেইলী স্টার, ১০ আগস্ট, ২০২৪।
২৪.
নিচের কোনটি বিচার বিভাগের কাজের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. শাসন সংক্রান্ত কাজ
  2. আইন সংক্রান্ত কাজ
  3. সংবিধান প্রণয়ন
  4. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
সংবিধান প্রণয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবিধান প্রণয়ন
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগ:
- রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম।
- নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগ শেষ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
- উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট)।
- অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৪ নং ধারা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদেরকে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে থাকেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ষষ্ট বিভাগে বিচার বিভাগের কাঠামো, মর্যাদা এবং কার্যাবলি সম্পর্কিত বিধান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
- সংবিধান প্রণয়ন বিচার বিভাগের কাজ নয়।

•বিচার বিভাগের কার্যাবলি:
১. বিচার সংক্রান্ত কাজ।
২. আইন সংক্রান্ত কাজ।
৩. শাসন সংক্রান্ত কাজ করা।
৪. পরামর্শ সংক্রান্ত কাজ।
৫. জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা।
৬. তদন্ত সংক্রান্ত কাজ।
৭. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
বাংলাদেশে প্রধান বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা- 
  1. সুপ্রীম কোর্টে কমপক্ষে ১০ বছর অ্যাডভোকেটিং অভিজ্ঞতা থাকা 
  2. বিচার বিভাগীয় পদে ১০ বছর বিচারক হিসেবে অভিজ্ঞতা থাকা 
  3. উপরের কোনটিই নয়
  4. ক + খ
সঠিক উত্তর:
ক + খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + খ
ব্যাখ্যা

সুপ্রীম কোর্ট: 
- বিচারবিভাগের সর্বোচ্চ আদালতের নাম সুপ্রীমকোর্ট।
- এর রয়েছে দুটি বিভাগ, যথা: আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ।
- সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রধানবিচারপতি রয়েছেন, যাকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি বলা হয়।
- রাষ্ট্রপতি তাঁকে নিযুক্ত করেন। প্রত্যেক বিভাগের জন্য যতজন বিচারক প্রয়োজন ততজন বিচারককে নিয়ে সুপ্রীমকোর্ট গঠিত।
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি সুপ্রীমকোর্টের দুই বিভাগের বিচারপতিদের নিয়োগ দেন।
- সুপ্রীম কোর্টে কমপক্ষে ১০ বছর অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে অথবা বাংলাদেশে বিচার বিভাগীয় পদে ১০ বছর বিচারক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। 
- সুপ্রিমকোর্টের বিচারকগণ ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে কর্মরত থাকতে পারেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, ৬৭ পৃষ্ঠা।

২৬.
বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি কে ছিলেন?
  1. বিচারপতি আব্দুস সাত্তার
  2. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
  3. কামালউদ্দিন হোসেন
  4. সৈয়দ রেফাত আহমেদ
সঠিক উত্তর:
আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
ব্যাখ্যা
বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম: 
- বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম (১৯১৬-১৯৯৭) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। 
- ১৯৭০-৭১ সালে তিনি নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি বাংলাদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন।
- ওই বছর ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর বিচারপতি সায়েম বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি সংসদ ও মন্ত্রী পরিষদ ভেঙে দিয়ে সারা দেশে সামরিক আইন জারী করেন এবং নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করেন।
- ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন এবং ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৭.
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন -
  1. ওবায়দুল হাসান
  2. সৈয়দ রেফাত আহমেদ
  3. আবু মোস্তফা কামাল
  4. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
সঠিক উত্তর:
আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ছিলেন। 

⇒ বিচার বিভাগ:
- বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীন হয় ১ নভেম্বর ২০০৭ সালে।
- ২০০০ সালের ২৮ মে মাসে উচ্চ আদালতে প্রথমবারের মতো নিয়োগ পান নারী বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।
- হাইকোর্টের ব্রেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি।
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি।
- বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বয়সসীমা দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ বছর।
-  সংবিধানের প্রণয়নকালে বিচারপতিদের চাকরির বয়সসীমা ছিল ৬২ বছর।
- দেশে সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় ২৮ জানুয়ারি ২০১৩ সালে।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।
- বাংলাদেশের বর্তমান ২৫তম প্রধান বিচারপতি হলেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ
 
উল্লেখ্য, 
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে, সুপ্রীম কোর্ট দুটি বিভাগ নিয়ে গঠিত:
১. আপীল বিভাগ
২. হাইকোর্ট বিভাগ

আপীল বিভাগের এখতিয়ার
১. আপীল শুনানি: সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগের রায়, আদেশ বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল শুনানির এখতিয়ার আপীল বিভাগের রয়েছে।
- বিশেষ ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ যদি সার্টিফিকেট প্রদান করে যে মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ আইন বা সংবিধান ব্যাখ্যার প্রশ্নে জড়িত, তখন আপীল করা যাবে।
২. পরোয়ানা জারি: ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে, আপীল বিভাগ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আদেশ বা রিট জারি করতে পারে।
৩. পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা: ১০৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত, আপীল বিভাগ তার রায় বা আদেশ পুনর্বিবেচনার এখতিয়ার রাখে।
৪. উপদেষ্টামূলক ক্ষমতা: ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি আইনি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে আপীল বিভাগের মতামত চাইতে পারেন।
৫. বিধি প্রণয়ন ক্ষমতা: সুপ্রীম কোর্ট রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে আদালতের রীতি ও পদ্ধতি নির্ধারণে বিধি প্রণয়ন করতে পারে।

হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার
১. আদি এখতিয়ার: সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৌলিক অধিকার রক্ষায় হাইকোর্ট বিভাগ রিট জারি করতে পারে।
- কোম্পানি আইন, ১৯৯৪; বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৮৬৯ ইত্যাদির অধীনে আদি এখতিয়ার প্রয়োগ করা হয়।
২. আপীল শুনানি: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮; দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮-এর অধীনে আপীল শুনানির ক্ষমতা রাখে।
৩. পুনঃনিরীক্ষণের ক্ষমতা: অধস্তন আদালতের রায় বা আদেশ পুনঃপরীক্ষার এখতিয়ার রয়েছে।
৪. তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা: সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে, হাইকোর্ট বিভাগ অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম তদারকি করতে পারে।
৫. মামলা স্থানান্তর: সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে, হাইকোর্ট বিভাগ তার অধীনস্থ আদালত থেকে মামলা সরাসরি স্থানান্তর করতে পারে।

তথ্যসূত্র: সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ সংবিধান ও বিবিসি বাংলা নিউজ। [লিঙ্ক] 

২৮.
কে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নিয়োগ দিয়ে থাকেন?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিল
  4. জাতীয় সংসদ
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট:
- হাইকোর্টের ব্রেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি। 
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি। 
- সংবিধানের প্রণয়নকালে বিচারপতিদের চাকরির বয়সসীমা ছিল ৬২ বছর। 
- বর্তমানে ৯৬(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে।
- দেশে সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় ২৮ জানুয়ারি ২০১৩ সালে। 
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।
- সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, আপীল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপ্রীম কোর্ট গঠিত হবে।
- সুপ্রীম কোর্টের এই দুই বিভাগের পৃথক এখতিয়ার রয়েছে।

আপীল বিভাগের এখতিয়ার:
সংবিধান আপীল বিভাগকে নিম্নলিখিত এখতিয়ার প্রদান করেছে:

ক) আপীলের এখতিয়ার: সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, হাইকোর্ট বিভাগের রায়, ডিক্রী, আদেশ বা দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল শুনানী ও তা নিষ্পত্তির এখতিয়ার আপীল বিভাগের থাকবে। 

খ) আপীল বিভাগের পরোয়ানা জারী ও নির্বাহ: সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের অধীন কোন ব্যক্তির হাজিরা বা দলিলপত্র উদ্ঘাটন বা দাখিল করার আদেশসহ আপীল বিভাগের নিকট বিচারাধীন যে কোন মামলা বা বিষয়ে সম্পূর্ণ ন্যায় বিচারের জন্য যেরূপ প্রয়োজনীয় হতে পারে, আপীল বিভাগ সেরূপ নির্দেশ, আদেশ, ডিক্রী বা রীট জারী করতে পারে।

গ) পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা: সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, সংসদের যে কোন আইনের বিধানাবলী এবং আপীল বিভাগ কর্তৃক প্রণীত যে কোন বিধি সাপেক্ষে আপীল বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত কোন রায় বা প্রদত্ত আদেশ পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা উক্ত বিভাগের থাকবে। 

ঘ) উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার

ঙ) সুপ্রীম কোর্টের বিধি প্রণয়ন ক্ষমতা: সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইন সাপেক্ষে, সুপ্রীম কোর্ট রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে প্রত্যেক বিভাগের এবং অধস্তন যে কোন আদালতের রীতি ও পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিধি প্রণয়ন করতে পারে।

হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার
সংবিধানের ১০১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, সংবিধান বা যে কোন আইনের দ্বারা হাইকোর্ট বিভাগের উপর যেরূপ আদি, আপীল ও অন্য প্রকার এখতিয়ার ও ক্ষমতা অর্পন করা হবে উক্ত বিভাগের সেরূপ এখতিয়ার ও ক্ষমতা থাকবে।

ক) আদি এখতিয়ার: হাইকোর্ট বিভাগের আদি এখতিয়ার বলতে সেই এখতিয়ারকে বোঝায় যেখানে এটি প্রথম বিচারাদালত হিসেবে একটি মামলা বা মোকদ্দমার শুনানী করতে পারে। 

খ) আপীলের এখতিয়ার: যেকোনো আইন যেকোনো বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগকে এখতিয়ার প্রদান করতে পারে। 

গ) পুনঃনিরীক্ষণের এখতিয়ার: হাইকোর্ট বিভাগ তার অধীনস্ত আদালতের সিদ্ধান্ত পরীক্ষা করতে পারে।

(খ) ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৪৩৯ ধারা হাইকোর্ট বিভাগকে তার অধীনস্ত আদালতের ফৌজদারী বিষয়গুলির পুনঃনিরীক্ষণের এখতিয়ার প্রদান করেছে। 

ঘ) পুনর্বিবেচনার এখতিয়ার: দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১১৪ ধারা হাইকোর্ট বিভাগকে পুনর্বিবেচনার এখতিয়ার প্রদান করেছে। 

ঙ) অধস্তন আদালতসমূহের উপর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের এখতিয়ার: সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন সকল আদালত ও ট্রাইব্যুনালের উপর উক্ত বিভাগের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা থাকবে।

চ) অধস্তন আদালত থেকে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা স্থানান্তর

লয়াজিমা আদালত:
মাননীয় রেজিস্ট্রার মহোদয় লয়াজিমা আদালতের সভাপতিত্ব করেন। এ আদালত মামলাগুলি শুনানীর জন্য প্রস্তুত করার পদ্ধতিগত বিষয় নিয়ে কাজ করে।

উৎস: i) বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ওয়েবসাইট।
ii) Legislative and Parliamentary Affairs Division, Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs
২৯.
বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন?
  1. ৯৪নং অনুচ্ছেদ
  2. ৯৫নং অনুচ্ছেদ
  3. ৯৬নং অনুচ্ছেদ
  4. ৯৭নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
৯৫নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগ:
- বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীন হয়: ১ নভেম্বর ২০০৭ সালে।
- সংবিধানের ৯৫নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শপূর্বক অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগ দেন।
- বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্যে ন্যূনতম দশ বছর সুপ্রিমকোর্টে অ্যাডভোকেট বা দেশের বিচার বিভাগীয় পদে দশ বছর নিযুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন আবু সাদাত মো. সায়েম।
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি হচ্ছেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
- ১১ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে তাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান, জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩০.
সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সদস্য কতজন?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’: 
উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংক্রান্ত কাউন্সিল হচ্ছে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’।
বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের ৩ নম্বর দফায় বলা আছে,
"একটি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থাকবে, যা এই অনুচ্ছেদে ‘কাউন্সিল’ বলে উল্লিখিত হবে এবং বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারকের মধ্যে পরবর্তী যে দুজন কর্মে প্রবীণ তাঁদের (মোট ৩জন সদস্য) নিয়ে গঠিত হবে।"

গঠন:
• সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠিত হবে প্রধান বিচারপতি এবং পরবর্তী দুজন প্রবীণ বিচারপতি নিয়ে।
• যদি কোনো সদস্য অসামর্থ্য বা অনুপস্থিতির কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তাহলে পরবর্তী প্রবীণ বিচারক তার স্থলাভিষিক্ত হবেন।

দায়িত্ব:
• বিচারকদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন এবং
• বিচারকগণের আচরণ ও সামর্থ্য সংক্রান্তে তদন্ত করা।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান, প্রথম আলো (২১ অক্টোবর ২০২৪)।
৩১.
বাংলাদেশের আইন কমিশনের প্রথম নারী চেয়ারম্যান কে?
  1. বিচারপতি জিনাত আরা
  2. বিচারপতি তাসনিম রেজা
  3. বিচারপতি নাঈমা হায়দার
  4. বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি জিনাত আরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি জিনাত আরা
ব্যাখ্যা
আইন কমিশনের প্রথম নারী চেয়ারম্যান:
- আইন কমিশনের প্রথম নারী চেয়ারম্যান হন বিচারপতি জিনাত আরা।
- ২ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
- প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‌‘আইন কমিশন আইন, ১৯৯৬ (১৯৯৬ সনের ১৯ নং আইন) এর ধারা ৫ এর উপ-ধারা (১) ও (২)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, সরকার, সাবেক বিচারপতি জিনাত আরাকে নিয়োগের তারিখ হইতে পরবর্তী ০৩ (তিন) বৎসরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করেছে।

উল্লেখ্য,
- বিচারপতি জিনাত আরা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দ্বিতীয় নারী বিচারপতি ছিলেন। 
- ২০০৩ সালে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্টে নিয়োগ পান।
- ২০০৫ সালে তিনি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হন।
- এরপর ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ শেষে ২০২০ সালে অবসরে যান বিচারপতি জিনাত আরা।
- অন্যদিকে, আপিল বিভাগের প্রথম নারী বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি নাজমুল আরা সুলতানা।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা রিপোর্ট। [Link]
৩২.
বাংলাদেশে বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে? [জানুয়ারি,২০২৬]
  1. ড. সিরাজুল আলম
  2. এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন
  3. বেগম তাহমিদা আহমদ
  4. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম সরকার
সঠিক উত্তর:
এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন
ব্যাখ্যা

প্রধান নির্বাচন কমিশনার:
- নির্বাচন কমিশনার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।
- নির্বাচন কমিশনারগণকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহ অনধিক চারজন কমিশনার মিলে মোট পাঁচজন নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত।
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। [জানুয়ারি, ২০২৬]
- জনাব এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর তারিখে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারের মেয়াদ পাঁচ বছর।
- বাংলাদেশে প্রথম নির্বাচন কমিশনার: বিচারপতি এম.ইদ্রিস।

উল্লেখ্য, 
- অপর চারজন সহকারী কমিশনার:
- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ
- বেগম তাহমিদা আহমদ,
- জনাব আব্দুর রহমানেল মাছউদ,
- মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।

৩৩.
কোন সনে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে?
  1. ২০০৩
  2. ২০০৫
  3. ২০০৭
  4. ২০০৮
সঠিক উত্তর:
২০০৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৭
ব্যাখ্যা
• নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা:
- নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের জন্য মামলা হয় ১৯৯৫ সালের ১৯ নভেম্বর। 
- এই মামলাটি 'মাসদার হোসেন বনাম বাংলাদেশ' নামে পরিচিত। 
- নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান ঘটে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাজদার হোসেন মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রদত্ত রায়ের মাধ্যমে।
- ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের লক্ষ্যে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পদ সৃষ্টি করে ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধনী) অধ্যাদেশ ২০০৭ জারি করে। 
- যা ২০০৯ সালে আইনে পরিণত হয়।

উল্লেখ্য,
- রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম।
- নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগ শেষ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
• উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট)।
• অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ট বিভাগে বিচার বিভাগের কাঠামো, মর্যাদা এবং কার্যাবলি সম্পর্কিত বিধান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বিবিসি বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট।
৩৪.
সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ বিভাগ কোনটি?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
  3. আপিল বিভাগ
  4. জেলা আদালত
সঠিক উত্তর:
আপিল বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপিল বিভাগ
ব্যাখ্যা

সুপ্রীম কোর্ট:
- সুপ্রীম কোর্ট হলো বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত।
- প্রধান বিচারপতি এই আদালতের প্রধান।
- বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এবং উভয় বিভাগের অন্যান্য বিচারকদের নিয়ে সুপ্রীম কোর্ট গঠিত।
- বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দুটি বিভাগে বিভক্ত: হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপিল বিভাগ।
- বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে কাজ করে। 


• সুপ্রীম কোর্টে দুটি বিভাগ রয়েছে। 
- হাইকোর্ট বিভাগ ও
- আপিল বিভাগ।

উল্লেখ্য, 
- রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন।
- এরপর প্রধান বিচারপতির পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রীম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগ প্রদান করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫.
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান ঘটে-
  1. ১৯৯৬ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৩ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ:
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলের শুরু থেকে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার বিতর্ক শুরু হয়।
- ১৭৯৩ সালে প্রণীত রেগুলেশন ৩-এর মাধ্যমে গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস কালেক্টরের বিচার করার ক্ষমতা রহিত করেন।
- এর ফলে দেওয়ানি আদালতের বিচারক জজ-ম্যাজিস্ট্রেট নামে অভিহিত হন।
- জেলা পর্যায়ে এ দুই বিভাগকে পৃথকীকরণের বিষয়টি ১৮২৮ সাল পর্যন্ত বহুল বিতর্কিত ছিল।
- নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ সংক্রান্ত চলমান বিতর্কের অবসান ঘটে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর।
- মাজদার হোসেন মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রদত্ত রায়ের মাধ্যমে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৬.
কোনটি জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার রক্ষাকবচ?
  1. বিচার বিভাগ
  2. আইন বিভাগ
  3. শাসন বিভাগ
  4. প্রতিরক্ষা বিভাগ
সঠিক উত্তর:
বিচার বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগ:
- আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের মত বিচার বিভাগও আধুনিক সরকার ব্যবস্থার অপরিহার্য অঙ্গ।
- সরকারের যে বিভাগ প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল বিচারকার্য সম্পন্ন করে তাকে বিচার বিভাগ বলে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হচ্ছে বিচার বিভাগ।
- বিচার বিভাগ হল সরকারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ যা জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করে এবং এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রকার রিট জারি করে।
- বিচার বিভাগ রাষ্ট্র ও সরকারের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।

⇒ বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
• উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট)।
• অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।

⇒ সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ষষ্ঠ বিভাগে বিচার বিভাগের কাঠামো, মর্যাদা এবং কার্যাবলি সম্পর্কিত বিধান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
- বিচার বিভাগ বলতে সরকারের সেই অঙ্গকে বুঝায় যা মামলার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করে, অপরাধের প্রকৃতি নির্ণয় করে এবং আইন অনুযায়ী শাস্তি বিধান করে।
- এছাড়াও বিচার বিভাগ আইনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে সংবিধানের প্রাধান্য রক্ষা করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭.
কোনটি বিচার বিভাগের কাজ নয়?
  1. আইনের প্রয়োগ
  2. আইনের ব্যাখ্যা
  3. সংবিধানের ব্যাখ্যা
  4. সংবিধান প্রণয়ন
সঠিক উত্তর:
সংবিধান প্রণয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবিধান প্রণয়ন
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগের কাজ নয় - সংবিধান প্রণয়ন

বিচার বিভাগ:
- বিচার বিভাগ সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে অন্যতম, দেশের সমস্ত বিচারকদের নিয়ে বিচার বিভাগ গঠিত। বিচার বিভাগ বিচার পরিচালনা করে।

নিম্নে বিচার বিভাগের কার্যাবলি আলোচনা করা হলো:
১. বিচার সংক্রান্ত কাজ:
- বিচার বিভাগ আইনকে বাস্তবায়িত করে। এ বিভাগ দেশের আইন মোতাবেক বিচার কার্য সম্পাদন করে।
- এটা ব্যক্তির সাথে, রাষ্ট্রের সাথে, প্রতিষ্ঠানের সাথে বিরোধের মোকাবেলা সম্পন্ন করে।

২. আইন সংক্রান্ত:
- বিচার বিভাগ আইনের ব্যাখ্যা করে। প্রয়োজনে নিজস্ব মতামতের প্রতিফলন ঘটায়।
- আইনের এ ব্যাখ্যা পরবর্তীকালে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৩. শাসন সংক্রান্ত কাজ করা:
- বিচার বিভাগ শুধু বিচার সংক্রান্ত কাজ করে না। শাসন সংক্রান্ত কাজও করে থাকে।
- নাবালকের সম্পত্তি দেখা শোনা করা, বিদেশী নাগরিককে নাগরিকত্ব প্রদান করাও বিচারবিভাগের কাজ।

৪.পরামর্শ সংক্রান্ত কাজ:
- শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ, বিচার বিভাগের পরামর্শের প্রত্যাশী হয়।
- বিচার বিভাগ সেক্ষেত্রে তাদের জ্ঞানগর্ভ শলা-পরামর্শ বা উপদেশ প্রদান করে থাকে।

৫. জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা:
- বিচার বিভাগ জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে। শাসন বিভাগের যথেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগ একমাত্র হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
- এটা বিভিন্নভাবে ব্যক্তির অধিকার রক্ষার প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে।

৬.তদন্ত সংক্রান্ত কাজ:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের সম্পত্তি ও জানগণের নিরাপত্তা দান করতে সরকার ওয়াদাবদ্ধ থাকে।
- ফলে রাষ্ট্রে যদি কোন অন্যায় বা জোর-জবরদস্তি, অপরাধ বা দুর্ঘটনা ঘটে, সেক্ষেত্রে বিচার বিভাগ তদন্ত কাজ পরিচালনা করেও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে।

৭. সংবিধান সংরক্ষণ:
- বিচার বিভাগ সংবিধান সংরক্ষণ করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থায় বিচার বিভাগ সংবিধানের অভিভাবক।
- সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান করে কেন্দ্র ও অঙ্গরাজ্যের মধ্যে বিবাদ মীমাংসা করে যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত সংবিধানের প্রাধান্য বজায় রাখে।

৮. ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠা:
- ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা বিচার বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
- বিচার বিভাগ মামলা পরিচালনার তথ্য অনুসন্ধানের জন্য নথিপত্র দেখে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ করে অপরাধীর শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠা করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্বদ্যালয়।
৩৮.
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয় কবে?
  1. ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  2. ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
  3. ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
  4.  ১ ডিসেম্বর, ২০২৫
সঠিক উত্তর:
৩০ নভেম্বর, ২০২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ নভেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫:
- বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করা হয়। 
- এর আগে গত ২০ নভেম্বর, ২০২৫ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ অধ্যাদেশের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।
- অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিচারকাজে নিয়োজিত বিচারকদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও ছুটিবিষয়ক সব সিদ্ধান্ত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় এই সচিবালয়ের হাতে থাকবে।
- সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সচিবালয়ের সচিব প্রশাসনিক প্রধান হবেন।

উল্লেখ্য,
- বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বতন্ত্রীকরণ নিশ্চিতকরণে প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট থেকে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠনসংক্রান্ত প্রস্তাব আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়।
- প্রস্তাবে সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন আদালত ও ট্রাইবুনালের ওপর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ কার্যকরভাবে পালনের জন্য একটি আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা প্রতিবেদন। [link]

৩৯.
বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. ৪ ভাগে
  2. ৫ ভাগে
  3. ২ ভাগে
  4. ৩ ভাগে
সঠিক উত্তর:
২ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ ভাগে
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগ:
বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট) ও অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ) এ দুই শ্রেণিতে বিভক্ত।

i. সুপ্রিম কোর্ট:
- সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত এবং এটি দুটি বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত।
- যথা- হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগ।

ii. অধস্তন দেওয়ানি বিচার বিভাগ:
অধস্তন দেওয়ানি আদালত চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত:
যথা- সহকারি জজের আদালত, সাবজজ আদালত, অতিরিক্ত জজের আদালত এবং জেলা জজের আদালত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪০.
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ করা হয়- 
  1. ১লা সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সাল
  2. ১লা নভেম্বর, ২০০৭ সাল
  3. ১লা জানুয়ারি, ২০১৮ সাল
  4. ১লা জানুয়ারি, ২০১৭ সাল
সঠিক উত্তর:
১লা নভেম্বর, ২০০৭ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১লা নভেম্বর, ২০০৭ সাল
ব্যাখ্যা

- ১ নভেম্বর, ২০০৭ সালের  নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ করা হয়।

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ:
- মূলত বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য ১৯৯৪ সালে একটি রিট মামলা করেছিলেন জেলা জজ ও জুডিশিয়াল এসোসিয়েশনের তৎকালীন মহাসচিব মাসদার হোসেন।
- সেই মামলাটি 'মাসদার হোসন মামলা' নামে পরিচিত, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে যার চূড়ান্ত রায় হয়েছিল ১৯৯৯ সালে।
- রায়ের আট বছর পর ১লা নভেম্বর, ২০০৭ সাল মূল নির্দেশনাটি বাস্তবায়ন করে বিচার বিভাগকে আলাদা করা হয়েছিল।
- নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।

উৎস: বিবিসি বাংলা ও বাংলাপিডিয়া।

৪১.
বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ এবং সর্বশেষ আশ্রয়স্থল হলো -
  1. প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল
  2. জেলা জজ আদালত
  3. আপিল বিভাগ
  4. হাইকোর্ট বিভাগ
সঠিক উত্তর:
আপিল বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপিল বিভাগ
ব্যাখ্যা
আপিল বিভাগ:
- বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ এবং সর্বশেষ আশ্রয়স্থল হল আপিল বিভাগ।
- হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের প্রেক্ষিতেই কেবল এখানে আপিল করা যায়।
- এ বিভাগের বিচারকের নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা নেই তবে এখানে হাইকোর্ট বিভাগের চেয়ে স্বল্প সংখ্যক বিচারক থাকে।

আপিল বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
• হাইকোট বিভাগের রায়, ডিক্রি, আদেশ বা দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল শুনানির ও তাহা নিস্পত্তির এখতিয়ার ও ক্ষমতা রয়েছে।
• এ বিভাগের কোন ঘোষিত রায় বা প্রদত্ত আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
• রাষ্ট্রপতির প্রয়োজন মোতাবেক আপিল বিভাগ আইন বিষয়ে মতামত জ্ঞাপন করতে পারে।
• সম্পূর্ণ ন্যায় বিচারের স্বার্থে কোন ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা ও কাগজপত্র পেশ করার আদেশ দিতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২.
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের প্রথম নারী বিচারপতি কে ছিলেন?
  1. নাজমুন আরা সুলতানা
  2. কাজী জিনাত হক
  3. জিনাত আরা
  4. কৃষ্ণা দেবনাথ
সঠিক উত্তর:
নাজমুন আরা সুলতানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাজমুন আরা সুলতানা
ব্যাখ্যা
নাজমুন আরা সুলতানা:
- বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের প্রথম নারী বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।

- দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে প্রথম নারী বিচারক হলেন নাজমুন আরা সুলতানা।
- বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৭৫ সালের ২০ ডিসেম্বর তিনি মুনসেফ (সহকারী জজ) হিসেবে বিচার বিভাগে যোগ দেন।
- দেশের প্রথম নারী জেলা জজ তিনি, হাইকোর্টেও প্রথম নারী বিচারপতি।
- আপিল বিভাগের প্রথম নারী বিচারপতিও তিনি।
- ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি।
- ৪২ বছরের বিচারকজীবনের ইতি টেনে ২০১৭ সালের ৭ জুলাই অবসরে যান তিনি।
- ২০২১ সালের মে মাসে তাঁকে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেয় সরকার।
- এই পদে নিয়োগ পাওয়া প্রথম নারীও তিনি। এখনো ওই পদেই কর্মরত বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।

জিনাত আরা:
- আপিল বিভাগে নিয়োগ পাওয়া দ্বিতীয় নারী বিচারপতি হলেন বিচারপতি জিনাত আরা।
- বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৭৮ সালের ৩ নভেম্বর মুনসেফ (সহকারী জজ) হিসেবে বিচার বিভাগে যোগদান করেন তিনি।
- একে একে সব ধাপ পেরিয়ে ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
- ৪১ বছরের বেশি সময়ের কর্মজীবনের ইতি টেনে ২০২০ সালের ১৪ মার্চ অবসরে যান তিনি।
- বর্তমানে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান পদে আছেন।

কৃষ্ণা দেবনাথ:
- আপিল বিভাগে তৃতীয় নারী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ।
- বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান।
- এরপর ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল স্থায়ী হন।

উৎস: প্রথম আলো
Judicial Administration Training Institute
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)
৪৩.
হাইকোর্টের বেঞ্চ গঠন করেন কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. জাতীয় সংসদ
  4. প্রধান বিচারপতি
সঠিক উত্তর:
প্রধান বিচারপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট:
- হাইকোর্টের বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি।
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি।
- বর্তমানে সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতির বয়সসীমা দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ বছর।
- সংবিধানের প্রণয়নকালে বিচারপতিদের চাকরির বয়সসীমা ছিল ৬২ বছর।
- দেশে সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় ২৮ জানুয়ারি ২০১৩ সালে।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।
- সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, আপীল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপ্রীম কোর্ট গঠিত হবে।
- সুপ্রীম কোর্টের এই দুই বিভাগের পৃথক এখতিয়ার রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪.
বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীন হয় -
  1. ১ নভেম্বর ২০০৭
  2. ১ সেপ্টেম্বর ২০০৭
  3. ১ আগস্ট ২০০৭
  4. ১ ডিসেম্বর ২০০৭
সঠিক উত্তর:
১ নভেম্বর ২০০৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ নভেম্বর ২০০৭
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীন হয়: ১ নভেম্বর ২০০৭ সালে।

বিচার বিভাগ:

- রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম।
- নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগ শেষ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
• উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট)।
• অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।
- সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
- সুপ্রিম কোর্ট প্রধান বিচারপতি ও প্রত্যেক বিভাগের বিচারপতিদের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৪ নং ধারা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদেরকে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে থাকেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ষষ্ট বিভাগে বিচার বিভাগের কাঠামো, মর্যাদা এবং কার্যাবলি সম্পর্কিত বিধান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীন হয়: ১ নভেম্বর ২০০৭ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগসমূহ থেকে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণের কথা বলা হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
        iii) সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।
৪৫.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের উল্লেখ আছে?
  1. ৯১
  2. ৯৩
  3. ৯৬
  4. ৯৭
সঠিক উত্তর:
৯৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৬
ব্যাখ্যা
বিচারপতি অপসারণ: সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ক্ষমতা ও দায়িত্ব

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংক্রান্ত কাউন্সিল হচ্ছে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’।
বাংলাদেশ সংবিধানের — ৯৬ অনুচ্ছেদের ৩ নম্বর দফায় বলা আছে,
"একটি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থাকবে, যা এই অনুচ্ছেদে ‘কাউন্সিল’ বলে উল্লিখিত হবে এবং বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারকের মধ্যে পরবর্তী যে দুজন কর্মে প্রবীণ তাঁদের নিয়ে গঠিত হবে।"

গঠন:
• সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠিত হবে প্রধান বিচারপতি এবং পরবর্তী দুজন প্রবীণ বিচারপতি নিয়ে।
• যদি কোনো সদস্য অসামর্থ্য বা অনুপস্থিতির কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তাহলে পরবর্তী প্রবীণ বিচারক তার স্থলাভিষিক্ত হবেন।

দায়িত্ব:
• বিচারকদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন এবং
• বিচারকগণের আচরণ ও সামর্থ্য সংক্রান্তে তদন্ত করা।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান।
৪৬.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত কোনটি?
  1. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
  2. অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল
  3. সুপ্রিম কোর্ট
  4. ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট
সঠিক উত্তর:
সুপ্রিম কোর্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুপ্রিম কোর্ট
ব্যাখ্যা

সুপ্রিম কোর্ট:
- সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত।
- সুপ্রিম কোর্ট বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে থাকে।
- প্রধান বিচারপতি ও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত নির্ধারিত সংখ্যক বিচারপতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট গঠিত।
- সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
- সুপ্রিম কোর্ট প্রধান বিচারপতি ও প্রত্যেক বিভাগের বিচারপতিদের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
- এসকল বিচারকবৃন্দ বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৪ নং ধারা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদেরকে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে থাকেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭.
বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি দেশের কত তম বিচারপতি?(জানুয়ারি, ২০২৬)
  1. ২২তম 
  2. ২৩তম 
  3. ২৫তম 
  4. ২৬তম 
সঠিক উত্তর:
২৬তম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬তম 
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী (২৬তম)।

প্রধান বিচারপতি:
- সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করেই অন্যান্য বিচারপতি দের নিয়োগ দেয়া হয়।

• বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্যে ন্যূনতম দশ বছর সুপ্রিমকোর্টে অ্যাডভোকেট বা দেশের বিচার বিভাগীয় পদে দশ বছর নিযুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়।
- সংবিধানের প্রণয়নকালে বিচারপতিদের চাকরির বয়সসীমা ছিল ৬২ বছর।
- ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৯৬ ধারা পুন:স্থাপন করে বিচারপতিদের বয়স করা হয় ৬৭ বছর।
- বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বয়সসীমা দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ বছর।

উল্লেখ্য,
• বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মো. সায়েম।
- তিনি ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে ৫ নভেম্বর ১৯৭৫ পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি ছিলেন।

উৎস: সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।

৪৮.
বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে কোনটি সঠিক? 
  1. শুধুমাত্র ফৌজদারি মামলার জন্য ব্যবহৃত হয়
  2. সংসদ আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয় না
  3. সুপ্রিমকোর্ট সরাসরি গঠন করে
  4. সংসদ আইন দ্বারা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করতে পারে
সঠিক উত্তর:
সংসদ আইন দ্বারা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করতে পারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংসদ আইন দ্বারা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করতে পারে
ব্যাখ্যা

বিশেষ ট্রাইব্যুনাল: 
- সংবিধান অনুযায়ী সংসদ আইন দ্বারা এক বা একাধিক বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করতে পারে। 
- প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের অন্তর্ভুক্ত কোনো বিষয়ে অন্য কোনো আদালতে বিচারকার্য অনুষ্ঠিত হয় না।

উল্লেখ্য, 
- অধস্তন আদালত সুপ্রিমকোর্টের অধীনে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় বিচারবিভাগের অধস্তন আদালত আছে। 
- অধস্তন আদালতগুলো ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা পরিচালনা করে।
- জেলা ও দায়রা জজ আদালত স্থানীয় পর্যায়ে দেওয়ানি (জমিজমাসংক্রান্ত, ঋণচুক্তি ইত্যাদি) ও ফৌজদারি (সংঘাত, সংঘর্ষ সংক্রান্ত) বিচারকার্য পরিচালনা করার জন্য সুপ্রিমকোর্টের অধীনে জেলা ও দায়রা জজ রয়েছে।
- এ আদালতের প্রধান হলেন জেলা জজ। অতিরিক্ত জেলা জজ, যুগ্ম জজ ও সহকারী জজ আলাদা আলাদাভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করেন।
- এ সকল আদালতের রায় নিয়ে জেলা জজের কাছে আপিল করা হয়। তবে আপিল ছাড়াও জেলা জজ মৌলিক মামলা পরিচালনা করে থাকেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৯.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত কোনটি?
  1. আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগ
  3. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
  4. জেলা জজ আদালত
সঠিক উত্তর:
আপিল বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপিল বিভাগ
ব্যাখ্যা
আপিল বিভাগ:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের এখতিয়ার বর্ণিত হয়েছে।
- সংবিধানের ৯৪ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, আপীল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপ্রীম কোর্ট গঠিত হবে।
- সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ হলো বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত।
- এটি হল প্রথম স্তরের আপীল আদালত, যা হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত বিচারিক রায় পর্যালোচনা করার কর্তৃত্ব রাখে।

⇒ ক্ষমতা ও কার্যাবলী:
- হাইকোট বিভাগের রায়, ডিক্রি, আদেশ বা দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল শুনানির ও তাহা নিস্পত্তির এখতিয়ার ও ক্ষমতা রয়েছে।
- এ বিভাগের কোন ঘোষিত রায় বা প্রদত্ত আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
- রাষ্ট্রপতির প্রয়োজন মোতাবেক আপিল বিভাগ আইন বিষয়ে মতামত জ্ঞাপন করতে পারে।
- সম্পূর্ণ ন্যায় বিচারের স্বার্থে কোন ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা ও কাগজপত্র পেশ করার আদেশ দিতে পারে।

⇒ এ বিভাগের বিচারকের নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা নেই তবে এখানে হাইকোর্ট বিভাগের চেয়ে স্বল্প সংখ্যক বিচারক থাকে।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে তিনজন বিচারপতি নিয়ে আপিল বিভাগে বিচারকাজ শুরু হয়।
- ২০০৯ সালে আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা ১১ জনে উন্নীত করে সরকার।

উল্লেখ্য,
- বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারকের সংখ্যা ৭ জন।
- মোট বিচারক: প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ, বিচারপতি মোঃ আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

উৎস: i) সুপ্রীম কোর্ট ওয়েবসাইট।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০.
বাংলাদেশে “বিশেষ ক্ষমতা আইন” কত সালে প্রণীত হয়?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে 
  3. ১৯৭৩ সালে 
  4. ১৯৭৯ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে 
ব্যাখ্যা

• বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪: 
- ১৯৭৪ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি জারি করা হয়।
- এর উদ্দেশ্য ছিল বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী কিছু কার্যকলাপ প্রতিহত করা এবং কিছু গুরুতর অপরাধের দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা। 
- আইনটি নিরাপত্তা আইন ১৯৫২, জননিরাপত্তা অর্ডিন্যান্স ১৯৫৮ এবং বাংলাদেশ তফসিলী অপরাধ (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশ ১৯৭২ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৫০) এর ধারাবাহিকতায় প্রণীত হয়।
- ১৯৯১ সালের সংশোধনীতে আইনটির ১৬, ১৭ ও ১৮ ধারা রদ করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান। 

৫১.
সুপ্রীম কোর্ট কয়টি বিভাগ নিয়ে গঠিত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
সুপ্রীম কোর্ট:
- সুপ্রীম কোর্ট বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত।
- সুপ্রীম কোর্ট দুটি বিভাগ নিয়ে গঠিত। যেমন:
(ক) আপীল বিভাগ ও
(খ) হাইকোর্ট বিভাগ।
- প্রধান বিচারপতি এবং উভয় বিভাগের আসন গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত সংখ্যক বিচারক সমন্বয়ে সুপ্রীম কোর্ট গঠিত।
- প্রধান বিচারপতি ও আপীল বিভাগে নিযুক্ত বিচারকগণ আপীল বিভাগে আসন গ্রহণ করেন।
- অন্যান্য বিচারকগণ হাইকোর্ট বিভাগে আসন গ্রহণ করেন।
- তাঁরা বিচারকার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে তত্ত্বগতভাবে স্বাধীন। রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিযুক্ত করেন।
- রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারকদেরও নিয়োগ করেন।
- রাজধানীতে সুপ্রীম কোর্টের স্থায়ী আসন থাকবে।
-তবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে প্রধান বিচারপতি যে কোনো স্থানে সুপ্রীমকোর্টের অধিবেশন অনুষ্ঠান করতে পারবেন।
- প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগে নিযুক্ত বিচারকদের নিয়ে আপিল বিভাগ গঠিত হবে এবং অন্যান্য বিচারকদের নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগ এবং স্থায়ী বেঞ্চ গঠিত হবে।
- সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পদ কোন কারণে শূন্য হলে আপীল বিভাগের প্রবীনতম বিচারক অস্থায়ী ভাবে প্রধান বিচারপতির কার্যভার গ্রহণ করবেন।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২.
কোনটি বিচার বিভাগের কাজের আওতাধীন নয়?   
  1.  সংবিধান প্রণয়ন
  2. আইনের ব্যাখ্যা
  3. আইন প্রয়োগ
  4. সংবিধানের ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর:
 সংবিধান প্রণয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 সংবিধান প্রণয়ন
ব্যাখ্যা

- বিচার বিভাগ আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করে, আইন প্রয়োগ করে এবং সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান করে কিন্তু সংবিধান প্রণয়ন করেনা।

• বিচার বিভাগ:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হচ্ছে বিচার বিভাগ।
- সরকারের যে বিভাগ প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল বিচারকার্য সম্পন্ন করে তাকে বিচার বিভাগ বলে।

⇒ বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
• উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট)।
• অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।

⇒ বিচার বিভাগের কার্যাবলি:
১. বিচার সংক্রান্ত কাজ।
২. আইন সংক্রান্ত কাজ।
৩. শাসন সংক্রান্ত কাজ করা।
৪. পরামর্শ সংক্রান্ত কাজ।
৫. জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা।
৬. তদন্ত সংক্রান্ত কাজ
৭. সংবিধান সংরক্ষণ
৮. ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা।

তথ্যসূত্র:
i) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩.
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ করা হয় কত সালে? 
  1. ১লা জানুয়ারি, ২০০৭ সাল
  2. ১লা ডিসেম্বর, ২০০৭ সাল
  3. ১লা নভেম্বর, ২০০৭ সাল
  4. ১লা সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সাল
সঠিক উত্তর:
১লা নভেম্বর, ২০০৭ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১লা নভেম্বর, ২০০৭ সাল
ব্যাখ্যা

- ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ করা হয়।

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ:

- মূলত বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য ১৯৯৪ সালে একটি রিট মামলা করেছিলেন জেলা জজ ও জুডিশিয়াল এসোসিয়েশনের তৎকালীন মহাসচিব মাসদার হোসেন।
- সেই মামলাটি 'মাসদার হোসন মামলা' নামে পরিচিত, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে যার চূড়ান্ত রায় হয়েছিল ১৯৯৯ সালে।
- রায়ের আট বছর পর ১লা নভেম্বর, ২০০৭ সাল মূল নির্দেশনাটি বাস্তবায়ন করে বিচার বিভাগকে আলাদা করা হয়েছিল।
- নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।

উৎস: বিবিসি বাংলা ও বাংলাপিডিয়া।

৫৪.
নিম্নস্তরের আদালতকে অপরাধের প্রকৃতি অনুসারে কয়ভাগে ভাগ করা হয়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৬ ভাগে
সঠিক উত্তর:
২ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ ভাগে
ব্যাখ্যা
নিম্নস্তর আদালত:
- যে আদালতে নাগরিকদের অধিকার, অপরাধ, বিরোধ সংক্রান্ত মামলা সম্পন্ন হয় তাকে নিম্নস্তর আদালত বা অধঃস্তন আদালত বলে।
- নিম্নস্তরের আদালতকে অপরাধের প্রকৃতি অনুসারে দু'টি ভাগে ভাগ করা হয়।
- যথা: ফৌজদারি আদালত ও দেওয়ানি আদালত।
- জনগণের বিভিন্ন প্রকার অপরাধ সংক্রান্ত মামলার বিচার করা হয় ফৌজদারি আদালতে। 
- নাগরিকদের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার বিচার করা হয় দেওয়ানি আদালতে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫.
বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় 'জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট' পদ প্রবর্তিত হয় কোন সালে?
  1. ২০০৬ সালে
  2. ২০০৭ সালে
  3. ২০০৮ সালে
  4. ২০০৯ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৭ সালে
ব্যাখ্যা

• নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা:
- নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের জন্য মামলা হয় ১৯৯৫ সালের ১৯ নভেম্বর। 
- এই মামলাটি 'মাসদার হোসেন বনাম বাংলাদেশ' নামে পরিচিত। 
- নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান ঘটে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাজদার হোসেন মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রদত্ত রায়ের মাধ্যমে।
- ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের লক্ষ্যে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পদ সৃষ্টি করে ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধনী) অধ্যাদেশ ২০০৭ জারি করে। 
- যা ২০০৯ সালে আইনে পরিণত হয়।

উল্লেখ্য,
- রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম।
- নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগ শেষ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
(১) উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট)।
(২) অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বিবিসি বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট।

৫৬.
বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি কে? (জানুয়ারি, ২০২৬)
  1. সৈয়দ রেফাত আহমেদ
  2. আহসানুল করিম
  3. জুবায়ের রহমান চৌধুরী
  4. মঞ্জুরুল হক চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
জুবায়ের রহমান চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুবায়ের রহমান চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী (২৬তম)।

প্রধান বিচারপতি:
- সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করেই অন্যান্য বিচারপতি দের নিয়োগ দেয়া হয়।

• বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্যে ন্যূনতম দশ বছর সুপ্রিমকোর্টে অ্যাডভোকেট বা দেশের বিচার বিভাগীয় পদে দশ বছর নিযুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়।
- সংবিধানের প্রণয়নকালে বিচারপতিদের চাকরির বয়সসীমা ছিল ৬২ বছর।
- ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৯৬ ধারা পুন:স্থাপন করে বিচারপতিদের বয়স করা হয় ৬৭ বছর।
- বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বয়সসীমা দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ বছর।

উল্লেখ্য,
• বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মো. সায়েম।
- তিনি ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে ৫ নভেম্বর ১৯৭৫ পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি ছিলেন।

উৎস: সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।

৫৭.
সুপ্রীম কোর্ট কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. ৩ ভাগ
  2. ২ ভাগ
  3. ৪ ভাগ
  4. কোন ভাগ নেই
সঠিক উত্তর:
২ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ ভাগ
ব্যাখ্যা
সুপ্রীম কোর্ট: 
- সুপ্রীম কোর্ট বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত।
- সুপ্রীমকোর্ট দুটি বিভাগ নিয়ে গঠিত। যেমন:
(ক) আপীল বিভাগ ও
(খ) হাইকোর্ট বিভাগ।
- প্রধান বিচারপতি এবং উভয় বিভাগের আসন গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত সংখ্যক বিচারক সমন্বয়ে সুপ্রীম কোর্ট গঠিত।
- প্রধান বিচারপতি ও আপীল বিভাগে নিযুক্ত বিচারকগণ আপীল বিভাগে আসন গ্রহণ করেন।
- অন্যান্য বিচারকগণ হাইকোর্ট বিভাগে আসন গ্রহণ করেন।
- তাঁরা বিচারকার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে তত্ত্বগতভাবে স্বাধীন। রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিযুক্ত করেন।
- রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারকদেরও নিয়োগ করেন।
- রাজধানীতে সুপ্রীম কোর্টের স্থায়ী আসন থাকবে।
 -তবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে প্রধান বিচারপতি যে কোনো স্থানে সুপ্রীমকোর্টের অধিবেশন অনুষ্ঠান করতে পারবেন।
- প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগে নিযুক্ত বিচারকদের নিয়ে আপিল বিভাগ গঠিত হবে এবং অন্যান্য বিচারকদের নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগ এবং স্থায়ী বেঞ্চ গঠিত হবে।
- সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পদ কোন কারণে শূন্য হলে আপীল বিভাগের প্রবীনতম বিচারক অস্থায়ী ভাবে প্রধান বিচারপতির কার্যভার গ্রহণ করবেন।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৮.
বাংলাদেশের বিচার কাঠামোর সর্বোচ্চ বিভাগ কোনটি?
  1. জেলা জজ আদালত
  2. প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. আপিল বিভাগ
সঠিক উত্তর:
আপিল বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপিল বিভাগ
ব্যাখ্যা
সুপ্রীম কোর্টের গঠন
- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের নাম সুপ্রীম কোট।
- সুপ্রীম কোর্টের প্রধান হল প্রধান বিচারপতি।
- বাংলাদেশী কোন নাগরিক ১০ বছর এডভোকেট হিসেবে অভিজ্ঞতা থাকলে বা ১০ বছর বিচার বিভাগীয় কোন পদে চাকুরি করলে সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ লাভের যোগ্য বলে বিবেচিত হন।
- এ আদালতের দু'টি বিভাগ রয়েছে যথা- হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ। 

হাইকোর্ট বিভাগ
- প্রাথমিক মামলা গ্রহণের সর্বোচ্চ আদালত হল হাইকোর্ট। 

হাইকোর্ট বিভাগের নিম্নলিখিত ক্ষমতা ও কার্যাবলি রয়েছেঃ
ক. বাংলাদেশের সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণে কোন সরকারি কর্মচারী বা কর্তৃপক্ষকে হাইকোর্ট উপযুক্ত নির্দেশ দিতে পারেন।
খ. প্রজাতন্ত্রের (সরকারের) কোন কর্মচারী বা কর্তৃপক্ষকে বেআইনী কাজ বন্ধ করতে অথবা করণীয় সম্পর্কে নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।
গ. অধঃস্তন আদালতের কোন রায়ের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন।
ঘ. কোন ব্যক্তির আবেদন সত্ত্বেও যদি হাইকোর্ট মনে করে উন্নয়ন কাজ বা জনস্বার্থ বাধাগ্রস্থ হবে তবে কোন আদেশ দান না করার ক্ষমতা হাইকোর্টের রয়েছে।
ঙ. অধস্তন আদালত পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আদেশ, নির্দেশ জারি করতে পারে হাইকোর্ট।

আপিল বিভাগ
- বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ এবং সর্বশেষ আশ্রয়স্থল হল আপিল বিভাগ।
- হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের প্রেক্ষিতেই কেবল এখানে আপিল করা যায়। 

নিচে আপিল বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলোচনা করা হল-
১. হাইকোট বিভাগের রায়, ডিক্রি, আদেশ বা দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল শুনানির ও তাহা নিস্পত্তির এখতিয়ার ও ক্ষমতা রয়েছে।
২. এ বিভাগের কোন ঘোষিত রায় বা প্রদত্ত আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
৩. রাষ্ট্রপতির প্রয়োজন মোতাবেক আপিল বিভাগ আইন বিষয়ে মতামত জ্ঞাপন করতে পারে।
৪. সম্পূর্ণ ন্যায় বিচারের স্বার্থে কোন ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা ও কাগজপত্র পেশ করার আদেশ দিতে পারে

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯.
সম্প্রতি, বাংলাদেশের কোন জেলায় ই-পারিবারিক আদালত কোথায়  চালু হয়েছে? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ঢাকায়
  2. চট্টগ্রামে
  3. কুমিল্লায়
  4. ফেনীতে
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রামে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রামে
ব্যাখ্যা

ই-পারিবারিক আদালত:
- বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক ও সহজ করে তুলতে ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ চট্টগ্রাম আদালতে চালু হয়েছে ই–পারিবারিক আদালত।
- ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর এই আদালতে মামলার আবেদন থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সব কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালিত হবে।
- ই–পারিবারিক আদালতে পাঁচ বিষয়ের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
- এগুলো হলো বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, মোহরানা, ভরণপোষণ, সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত।
- আদালত সূত্র জানায়, ই–পারিবারিক কোর্ট নামের ওয়েবসাইটটি বাদী, বিবাদী, আইনজীবী, আদালতের সহায়ক কর্মচারী, বিচারক ও সাধারণ জনগণ সবাই ব্যবহার করতে পারবেন।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা প্রতিবেদন। [link]

৬০.
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কোন সালে গঠিত হয়? 
  1. ২০০৬ সালে
  2. ২০০৭ সালে
  3. ২০০৯ সালে
  4. ২০১০ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১০ সালে
ব্যাখ্যা

• আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ):
- ২০১০ সালের ২৫শে মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন ১৯৭৩-এর ৬ ধারার বলে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় ।
- ২০১০ সালে গঠনের পর নানা আলােচনা এবং ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
-  ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য পুনর্গঠন করে একই ট্রাইব্যুনাল।
- পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলা হয়।
- ২০২৪ সালের ১৭ই অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। 

তথ্যসূত্র:
i) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ)।
ii) BBC.

৬১.
বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতির নাম কী? [জানুয়ারি, ২০২৬]
  1. জুবায়ের রহমান চৌধুরী
  2. সৈয়দ রেফাত আহমেদ
  3. মোঃ আসাদুজ্জামান
  4. ওবায়দুল হাসান
সঠিক উত্তর:
জুবায়ের রহমান চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুবায়ের রহমান চৌধুরী
ব্যাখ্যা

প্রধান বিচারপতি:
- জুবায়ের রহমান চৌধুরী বর্তমান প্রধান বিচারপতি
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ দেশের ২৫ তম বিচারপতি।
- সংবিধানের  ৯৫(১) অনচ্ছেদ, প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন।
- এবং প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করবেন। 
- বিচারপতি রিফাত ১৯৮৪ সালে জেলা আদালতের একজন আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
- ১৯৮৬ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের এবং ২০০২ সালে আপীল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
- তিনি ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের একজন অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
- এবং ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের একজন স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।


উল্লেখ্য,
- দেশের ২৪ তম বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
- মোঃ আসাদুজ্জামান বাংলাদেশের বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল।

উৎস: আইন ও বিচার বিভাগ এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।

৬২.
বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি দেশের কত তম প্রধান বিচারপতি?[ নভেম্বর,২০২৫]
  1. ২২তম
  2. ২৩তম
  3. ২৪তম
  4. ২৫তম
সঠিক উত্তর:
২৫তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫তম
ব্যাখ্যা

• বিচার বিচার বিভাগ:
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি: বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদক।
- তিনি ২৫তম প্রধান বিচারপতি।
- রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ প্রধান করেন।

উল্লেখ্য,
- আবু সাদাত মো. সায়েম: বাংলাদেশের ১ম বিচারপতি।

উৎস: বিচার বিভাগ ওয়েবসাইট।