ব্যাখ্যা
তবে শর্ত থাকে যে, মামলার বিষয়বস্তুর মূল্য সম্পর্কে সমগ্র দাবীটিই এরূপ আদালত বিচারার্থে গ্রহণ করতে পারেন।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৭২ / ১২৬ · ৭,১০১–৭,২০০ / ১২,৬০৫
সঠিক উত্তর: খ) জুরি বা অ্যাসেসরের প্রশ্ন করার ক্ষমতা।
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৬৬ বলছে, যখন কোনো মামলা জুরি (jury) বা অ্যাসেসরদের (assessors) উপস্থিতিতে বিচারাধীন থাকে, তখন তারা সাক্ষীকে প্রশ্ন করতে পারে।
তবে এই প্রশ্নগুলো করতে হবে—
- বিচারকের মাধ্যমে বা তাঁর অনুমতি নিয়ে (through or by leave of the Judge),
- প্রশ্ন হতে হবে এমন, যা বিচারক নিজেও করতে পারতেন, এবং
- বিচারক যদি মনে করেন প্রশ্নটি উপযুক্ত, তখনই তা করা যাবে।
উদাহরণস্বরূপ:
একটি ফৌজদারি মামলায় যদি জুরি বোর্ড থাকে এবং কোনো সাক্ষীর জবানবন্দিতে দ্ব্যর্থতা থাকে, তাহলে জুরি সদস্যরা বিচারকের অনুমতি নিয়ে সেই বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারেন।
মূল উদ্দেশ্য: এই ধারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়ক, কারণ এতে জুরি বা অ্যাসেসরদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় এবং তারা বিচার প্রক্রিয়ার সত্য উদঘাটনে ভূমিকা রাখতে পারেন।
⇒The Evidence Act, 1872, Section- 166. Power of jury or assessors to put questions:
- In cases tried by jury or with assessors, the jury or assessors may put any questions to the witnesses, through or by leave of the Judge, which the Judge himself might put and which he considers proper.
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৮৫B(২)(ক) অনুযায়ী, যদি কোনো Secure Digital Signature (সুরক্ষিত ডিজিটাল স্বাক্ষর) কোনো ডিজিটাল রেকর্ডে যুক্ত থাকে, তাহলে: "The Court shall presume, unless the contrary is proved, that (a) the secure digital signature is affixed by the subscriber with the intention of signing or approving the digital record."
অর্থাৎ, আদালত ধারণা (Presume) করবে যে: স্বাক্ষরকারী নিজেই ইচ্ছাকৃতভাবে স্বাক্ষর করেছেন বা অনুমোদন দিয়েছেন।
- অর্থাৎ ধারা ৮৫খ (2)(a) অনুসারে, যদি এটি সুরক্ষিত ডিজিটাল স্বাক্ষর হয়, তবে আদালত ধরে নেবে যে স্বাক্ষরকারী তা নিজের ইচ্ছায় যুক্ত করেছে।
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৮৫খ : ডিজিটাল রেকর্ড এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্পর্কিত অনুমান:
(১) কোনো কার্যক্রমে যদি একটি সুরক্ষিত ডিজিটাল রেকর্ড জড়িত থাকে, তবে আদালত, বিপরীত প্রমাণিত না হলে, অনুমান করবে যে সুরক্ষিত ডিজিটাল রেকর্ডটি যে সময় থেকে সুরক্ষিত অবস্থায় ছিল, তারপর থেকে তাতে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।
(২) কোনো কার্যক্রমে যদি সুরক্ষিত ডিজিটাল স্বাক্ষর জড়িত থাকে, তবে আদালত, বিপরীত প্রমাণিত না হলে, নিম্নলিখিতগুলি অনুমান করবে যে:
(ক) ডিজিটাল রেকর্ডে স্বাক্ষরকারী (subscriber) কর্তৃক স্বাক্ষরের বা অনুমোদনের অভিপ্রায়ে সুরক্ষিত ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সংযুক্ত করা হয়েছে;
(খ) একটি সুরক্ষিত ডিজিটাল রেকর্ড বা সুরক্ষিত ডিজিটাল স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে ব্যতীত, এই ধারার কোনো কিছুই ডিজিটাল রেকর্ড বা কোনো ডিজিটাল স্বাক্ষরের সত্যতা এবং অখণ্ডতা সম্পর্কিত কোনো অনুমান তৈরি করবে না।
--------
⇒ The Evidence Act,1872: Section- 85B. Presumption as to digital record and digital signatures:
(1) In any proceedings involving a secure digital record, the Court shall presume unless contrary is proved, that the secure digital record has not been altered since the point of time to which the secure status relates.
(2) In any proceedings, involving secure digital signature, the Court shall presume unless the contrary is proved that-
(a) the secure digital signature is affixed by subscriber with the intention of signing or approving the digital record;
(b) except in the case of a secure digital record or a secure digital signature, nothing in this section shall create any presumption relating to authenticity and integrity of the digital record or any digital signature.
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৭৪ অনুযায়ী, আদালতের আদেশ বা ডিক্রি সরকারি দলিলের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এগুলো বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের অংশ এবং সরকারি রেকর্ড হিসেবে সংরক্ষিত হয়।
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২: ৭৪ ধারার বিধান সরকারি দলিল:
নিম্নলিখিত দলিলসমূহ সরকারি দলিল (Public Documents) হিসেবে গণ্য হবে—
(১) যে সকল দলিল নিম্নলিখিত কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার কার্যাবলির অংশ বা রেকর্ড হিসেবে গঠিত:
(i) সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের,
(ii) সরকারি সংস্থা ও ট্রাইব্যুনালের, এবং
(iii) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের বা বিদেশের কোনো অংশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় সরকারি কর্মকর্তার।
(২) বাংলাদেশে সরকারিভাবে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ রেকর্ড।
--------
⇒ The Evidence Act, 1872: Section- 74. Public documents:
The following documents are public documents:–
(1) documents forming the acts or records of the acts-
(i) of the sovereign authority,
(ii) of official bodies and tribunals, and
(iii) of public officers, legislative, judicial and executive of any part of Bangladesh or of the Commonwealth, or of a foreign country;
(2) public records kept in Bangladesh of private documents.
⇒ দণ্ডবিধির ৭৬ ধারা অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি আইন দ্বারা বাধ্য হয়, অথবা সদুদ্দেশ্যে তথ্যের ভুলের কারণে নিজেকে আইন দ্বারা বাধ্য বলে বিশ্বাস করে কোনো কাজ করে, তবে তা অপ্রাধ নয়।
- উল্লিখিত উদাহরণে, 'A' একজন সৈনিক হিসেবে তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশে এবং আইনানুসমর্থনে কাজ করেছে। এটি ধারা ৭৬ এর একটি সরাসরি উদাহরণ, যা "আইন দ্বারা বাধ্য" হওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।
⇒ দণ্ডবিধির ৭৬ ধারার বিধান- আইনবলে বাধ্য বা ভুল ধারণাবশতঃ নিজেকে আইনবলে বাধ্য বলে বিশ্বাসকারী ব্যক্তিবিশেষ কর্তৃক সম্পাদিত কার্য:
যে ব্যক্তি কোন কাজ করতে আইনত: বাধ্য বলে কোন কাজ সম্পাদন করলে, অথবা আইনের কাজটি ভুল না করে ঘটনা সম্পর্কে ভুলবশত: কাজটি করতে আইনত: বাধ্য বলে সরল মনে বিশ্বাস করে সে ব্যক্তি কোন কাজ সম্পাদন করলে তা অপরাধ হবে না।
উদাহরণসমূহ:
(ক) ক একজন সৈনিক। সে তার উর্ধ্বতন অফিসারের নির্দেশক্রমে আইনের বিধানমতে কোন জনতার উপর গুলিবর্ষণ করে। ক-এর গুলিবর্ষণ কাজ অপরাধ হবে না।
(খ) বিচারালয়ের জনৈক কর্মকর্তা 'ক' উক্ত বিচারালয় কর্তৃক ম-কে গ্রেফতার করার জন্য আদিষ্ট হয়ে এবং যথাযথ তদন্তের পর 'খ'-কে 'ম' মনে করে 'খ'-কে গ্রেফতার করেন। 'ক' কোন অপরাধ সংঘটন করেন নাই।
---------
⇒The Penal Code, 1860-Section 76: Act done by a person bound, or by mistake of fact believing himself bound, by law:
Nothing is an offence which is done by a person who is, or who by reason of a mistake of fact and not by reason of a mistake of law in good faith believes himself to be, bound by law to do it.
Illustrations:
(a) A, a soldier, fires on a mob by the order of his superior officer, in conformity with the commands of the law. A has committed no offence.
(b) A, an officer of a Court of Justice, being ordered by that Court to arrest Y, and, after due enquiry, believing Z to be Y, arrests Z. A has committed no offence.
Section 409- Appeals to Court of Session how heard:
An appeal to the Court of Session or Sessions Judge shall be heard by the Sessions Judge or by an Additional Sessions Judge: Provided that an Additional Sessions Judge shall hear only such appeals as the Government may by general or special order, direct or as the Sessions Judge of the Division may make over to him.
ধারা ৪০৯- দায়রা আদালতে আপীলের শুনানীর পদ্ধতি-
দায়রা আদালতে বা দায়রা জজ বরাবর দাখিলকৃত আপীল দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ শ্রবণ করবেন।
শর্ত থাকে যে, অতিরিক্ত দায়রা জজ সেই আপীলই শ্রবণ করবেন, যেগুলোর বিষয়ে সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা নির্দেশ প্রদান করবেন বা দায়রা জজ যেগুলো তাঁর বরাবর অর্পণ করেন।
সঠিক উত্তর: B. ভিকটিম স্বেচ্ছায় মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করলে।
দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান- খুন:
⇒ ব্যতিক্রম ১:
যেক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে না-
শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনার ফলে অপরাধী আত্ম-সংযমশক্তি হারাইয়া ফেলে এবং যে ব্যক্তি প্ররোচনা দান করেছে, সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় অথবা ভুলক্রমে বা দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।
উপরোক্ত ব্যতিক্রমটি নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে:-
প্রথমত, প্ররোচনাটি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করার বা তার ক্ষতি সাধনের অজুহাতস্বরূপ অপরাধী কর্তৃক স্বয়ং প্রার্থীত বা প্ররোচিত হতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, উক্ত প্ররোচনাটি আইনানুসারে কৃত কোন কার্য দ্বারা বা কোন সরকারী কর্মচারীর সরকারী কর্মচারী হিসেবে যথাযোগ্য ক্ষমতাবলীর আইনসম্মত প্রয়োগসঞ্জাত হতে পারবে না।
তৃতীয়ত, প্ররোচনা আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের আইনসম্মত প্রয়োগক্রমে সম্পাদিত কোন কার্য পালন হতে পারবে না।
ব্যাখ্যা:- প্ররোচনাটি এমন মারাত্মক ও আকস্মিক ছিল কিনা, যার ফলে অপরাধটি খুনের শামিল হবে না, তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন।
⇒ ব্যতিক্রম ২:
শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধী সরল মনে তার আত্মরক্ষার অথবা সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগক্রমে তাকে আইন প্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং যার বিরুদ্ধে সে এই অধিকার প্রয়োগ করে, কোনরূপ পূর্ব-পরিকল্পনা ব্যতীত অথবা অনুরূপ অধিকার রক্ষার জন্য যতটুকু ক্ষতিসাধন করা আবশ্যক, তদপেক্ষা বেশি ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা ব্যতিরেকে, তার মৃত্যু ঘটায়।
⇒ ব্যতিক্রম ৩:
শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি দোষী একজন সরকারী কর্মচারী হিসেবে অথবা সরকারী কর্মচারীর সহায়তাকারী হিসেবে তাকে প্রদত্ত আইনানুগ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং এমন একটি কাজ সম্পাদন করে মত্যু ঘটায়, যা সে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য আবশ্যকীয় ও আইনসম্মত বলে সরল মনে বিশ্বাস করে এবং সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে তার প্রতি কোনরূপ দুরভিসন্ধি ছাড়াই কার্যটি করে।
⇒ ব্যতিক্রম ৪:
শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধটি কোন আকস্মিক বিবাদের সময় আকস্মিক উত্তেজনার কারণে কোনরূপ পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই সংঘটিত হয় এবং অপরাধী কোন অন্যায় সুযোগ গ্রহণ না করে থাকে অথবা নিষ্ঠুরভাবে বা অস্বাভাবিকভাবে কার্য না করে থাকে।
ব্যাখ্যা:- এইরূপ ক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রথম উস্কানি দেয় বা প্রথম আঘাত করে, তা আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়।
⇒ ব্যতিক্রম ৫:
শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি সে ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে ব্যক্তি আঠারো বৎসরের উর্ধ্ব বয়স্ক হলে স্বেচ্ছায় স্বীয় সম্মতিক্রমে মৃত্যুবরণ করে বা মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করে।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৮ ধারার বিধান- অধিকার অথবা প্রথার অস্তিত্ব সম্বন্ধে অভিমত যখন প্রাসঙ্গিক:
কোন সাধারণ প্রথা অথবা অধিকারের অস্তিত্ব সম্পর্কে যেক্ষেত্রে আদালতকে কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত প্রথা বা অধিকারের অস্তিত্ব থাকলে যে সমস্ত ব্যক্তির পক্ষে তা জানা স্বাভাবিক, এর অস্তিত্ব সম্বন্ধে তার অভিমত প্রাসঙ্গিক।
ব্যাখ্যা: "সাধারণ প্রথা অথবা অধিকার" কথাটি বলতে যথেষ্ঠ সংখ্যক ব্যক্তির একটি শ্রেণীর ভিতর সাধারণভাবে প্রচলিত প্রথা বা অধিকারও বুঝায়।
উদাহরণ: কোন একটি গ্রামের অধিবাসীদের নির্ধারিত কোন একটি কূপের পানির ব্যবহার করার অধিকার থাকলে, তা এ ধারার অর্থ অনুযায়ী সাধারণ অধিকার বলে বিবেচিত হবে।
-----------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section 48- Opinion as to existence of right or custom, when relevant:
When the Court has to form an opinion as to the existence of any general custom or right, the opinions, as to the existence of such custom or right, of persons who would be likely to know of its existence if it existed, are relevant.
Explanation- The expression "general custom or right" includes customs or rights common to any considerable class of persons.
Illustration: The right of the villagers of a particular village to use the water of a particular well is a general right within the meaning of this section.
⇒ ধননন্দের সময়ে (খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দে) প্রাচীন ভারতের বিচারব্যবস্থায় আদালতের প্রধান ভাষা ছিল সংস্কৃত। এই সময়ে সংস্কৃত ছিল শাস্ত্রীয় ও প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রধান ভাষা, এবং আদালতের রায় ঘোষণা ও আনুষ্ঠানিক বিচারকার্য সংস্কৃতে পরিচালিত হতো। তবে, প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সংস্কৃতের পাশাপাশি প্রাকৃত ভাষাও ব্যবহৃত হতো, কারণ প্রাকৃত ছিল সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রচলিত ভাষা। বিচারকগণ বহুভাষী ছিলেন এবং সংস্কৃত, প্রাকৃত ও জনভাষায় পারদর্শী ছিলেন, যা তাদের বিচার প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ভাষায় উপস্থাপিত প্রমাণ বুঝতে সহায়তা করত।
অন্যান্য অপশনের ব্যাখ্যা:
ক) পালি: পালি প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ ও তৎসংক্রান্ত সাহিত্যে ব্যবহৃত হতো। ধননন্দের সময়ে এটি আদালতের প্রধান ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হতো না। পালির প্রভাব পরবর্তীকালে, বিশেষ করে অশোকের সময়ে বৌদ্ধ ধর্মের প্রসারের সাথে বৃদ্ধি পায়।
খ) প্রাকৃত: প্রাকৃত ছিল জনসাধারণের মুখের ভাষা এবং প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য আদালতে ব্যবহৃত হতো। তবে, আদালতের আনুষ্ঠানিক ভাষা হিসেবে সংস্কৃতই প্রাধান্য পেত।
ঘ) অপভ্রংশ: অপভ্রংশ পরবর্তীকালে (প্রায় খ্রিস্টীয় ৬ষ্ঠ শতাব্দীর পর) ভারতীয় উপমহাদেশে সাহিত্য ও স্থানীয় ভাষা হিসেবে বিকশিত হয়। ধননন্দের সময়ে এটি আদালতের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হতো না।
প্রেক্ষাপট: ধননন্দের সময়ে বিচারব্যবস্থা ধর্মশাস্ত্র, স্মৃতি এবং সদাচারের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হতো। বিচারকগণ শাস্ত্রজ্ঞ এবং বহুভাষী হওয়ায় তারা সংস্কৃতের পাশাপাশি প্রাকৃত ভাষায় উপস্থাপিত প্রমাণ বুঝতে পারতেন। আদালতের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম, যেমন রায় ঘোষণা এবং রাজকীয় আদেশ (যা ভূর্জপত্র বা তালপত্রে লিখিত হতো), সংস্কৃত ভাষায় সম্পন্ন হতো। এই সময়ে বিচার প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল সত্য উদঘাটন, এবং সংস্কৃত ছিল এই প্রক্রিয়ার মর্যাদাপূর্ণ ও আনুষ্ঠানিক ভাষা।
অর্থাৎ ধননন্দের সময়ে আদালতের প্রধান ভাষা ছিল সংস্কৃত, যা বিচারকার্যের আনুষ্ঠানিকতা ও শাস্ত্রীয় মর্যাদা বজায় রাখত। প্রাকৃত ভাষা প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য ব্যবহৃত হলেও, সংস্কৃতই ছিল আদালতের মূল ভাষা।
তথ্যসূত্র: ভারতীয় বিচারব্যবস্থা ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ, “সাহিত্য সম্রাট জার্নাল”।(লিঙ্ক)
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারার বিধান-
যখন দলিল সংশোধন করা যেতে পারে যখন প্রতারণার মাধ্যমে বা পক্ষগণের পারস্পরিক ভুলের জন্য কোন লিখিত চুক্তি বা অন্য কোন লিখিত দলিল প্রকৃত অর্থে তাদের উদ্দেশ্য প্রকাশ করে না, তখন যেকোন পক্ষ অথবা তাদের স্বার্থ- সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দলিলটি সংশোধিত করে নেওয়ার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত যদি এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত দেখতে পান যে, দলিল প্রণয়নের সময় প্রতারণা অথবা ভুল করা হয়েছে এবং তা কার্যকর করবার ক্ষেত্রে পক্ষগণের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিরূপণ করতে সক্ষম হয়, তাহলে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে যতদূর পর্যন্ত তৃতীয় ব্যক্তি কর্তৃক সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময়ে অর্জিত অধিকারে হস্তক্ষেপ না করেই করা যায়, ততদূর পর্যন্ত দলিল সংশোধন করতে পারেন - যাতে দলিলের এই উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে সক্ষম হয়।
-------------------
According to section 31 of the Specific Relief act, When instrument may be rectified-
When, through fraud or a mutual mistake of the parties, a contract or other instrument in writing does not truly express their intention, either party, or his representative in interest, may institute a suit to have the instrument rectified; and if the Court find it clearly proved that there has been fraud or mistake in framing the instrument, and ascertain the real intention of the parties in executing the same, the Court may in its discretion rectify the instrument so as to express that intention, so far as this can be done without prejudice to rights acquired by third persons in good faith and for value.
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর ধারা ১০২ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার তখনই শুরু হয়, যখন শরীরে আঘাতের যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা দেখা দেয়। অর্থাৎ, অপরাধ সম্পূর্ণ সংঘটিত হওয়ার আগেই যদি কোনো ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গতভাবে মনে করেন যে তার শরীরে আঘাত আসন্ন, তখন থেকেই তিনি আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। এই অধিকার ততক্ষণ পর্যন্ত বহাল থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই আঘাতের আশঙ্কা অব্যাহত থাকে। তাই সঠিক উত্তর হলো: ঘ) যুক্তিসঙ্গতভাবে আঘাতের আশঙ্কা দেখা দিলে।
⇒ দণ্ডবিধির ধারা-১০২: দেহ বা শরীর সম্পর্কিত আত্মরক্ষার অধিকারের স্থায়িত্ব-
শরীরের ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার তখনই শুরু হয়, যখন শরীরে আঘাতের আশঙ্কা যুক্তিসঙ্গতভাবে সৃষ্টি হয় এবং কোনো অপরাধের চেষ্টা বা হুমকি থেকে আসে, যদিও সেই অপরাধটি সম্পূর্ণভাবে সংঘটিত না-ও হতে পারে; এবং এই অধিকার তখন পর্যন্ত বজায় থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই আঘাতের আশঙ্কা অব্যাহত থাকে।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 102- Commencement and continuance of the right of private defence of the body:
The right of private defence of the body commences as soon as a reasonable apprehension of danger to the body arises from an attempt or threat to commit the offence though the offence may not have been committed; and it continues as long as such, apprehension of danger to the body continues.
⇒ ১৮৩৩ সালে ব্রিটিশ ভারতের শাসনভার গ্রহণের পর প্রথম আইন কমিশন গঠিত হয়, যার সভাপতি ছিলেন লর্ড থমাস ব্যাবিংটন ম্যাকুলে। এই কমিশনের মূল দায়িত্ব ছিল ভারতবর্ষের জন্য একটি সুসংগঠিত দণ্ডবিধি প্রণয়ন করা। তারা ১৮৩৭ সালে দণ্ডবিধির খসড়া প্রস্তুত করে পেশ করে, যা পরবর্তীতে সংশোধন-নিরীক্ষণের মাধ্যমে ১৮৬০ সালে আইন হিসেবে প্রণয়িত হয় (আইন নং ৪৫)। এটি বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশে বর্তমান দণ্ডবিধির ভিত্তি।
অর্থাৎ বাংলাদেশে বলবৎ দণ্ডবিধি প্রণয়নের মূল দায়িত্বে ছিল লর্ড ম্যাকুলে-এর নেতৃত্বাধীন আইন কমিশন, যা ইতিহাসে "ম্যাকুলে কমিশন" নামে পরিচিত। এই কমিশন ১৮৩৭ সালের ১৪ অক্টোবর দণ্ডবিধির প্রথম খসড়া প্রণয়ন করে এবং তা তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড আ্যাকল্যান্ডের নিকট পেশ করে।
- ম্যাকুলে কমিশন-এর গঠন ও সদস্য:
i) সভাপতি-লর্ড ম্যাকুলে।
ii) সদস্য- মিঃ ম্যাকলিউড।
iii) সদস্য-মিঃ এন্ডারসন।
iv) সদস্য-মিঃ মিলার।
⇒ প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনাটি সরাসরি দণ্ডবিধির ৩০৮ ধারার উদাহরণ (Illustration)-এর সাথে মিলে যায়। ঘটনায় উল্লেখ রয়েছে:
১. 'A' গুরুতর ও হঠাৎ উত্তেজনার (grave and sudden provocation) বশবর্তী হয়েছে।
২. সে 'Z'-এর দিকে পিস্তল দিয়ে গুলি চালিয়েছে।
৩. গুলি লাগলেও 'Z' মারা যায়নি (অর্থাৎ, মৃত্যু ঘটেনি, কিন্তু কাজটি ছিল মৃত্যু ঘটাবার সম্ভাবনাযুক্ত)।
৪. উল্লিখিত পরিস্থিতিতে, যদি মৃত্যু ঘটত, তাহলে 'A' খুন (murder)-এর দায়ে দোষী হত না; বরং তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (culpable homicide not amounting to murder) হত। কারণ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার প্রথম ব্যতিক্রম (Exception 1) অনুযায়ী, গুরুতর ও হঠাৎ উত্তেজনার ফলে আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মৃত্যু ঘটালে তা খুন নয়, বরং শাস্তিযোগ্য নরহত্যা হিসেবে গণ্য হয়।
- যেহেতু এখানে মৃত্যু ঘটেনি, কিন্তু মৃত্যু ঘটানোর মতো কাজ (Act) করা হয়েছে, তাই এটি "শাস্তিযোগ্য নরহত্যার চেষ্টা (Attempt to commit culpable homicide)"-এর আওতায় পড়ে। আর এই অপরাধটিই ধারা ৩০৮ দ্বারা বিচার্য।
অন্যান্য অপশনগুলি এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়:
ক) ৩০৭ ধারা: এটি খুনের চেষ্টা (Attempt to murder)-এর জন্য প্রযোজ্য। এখানে পরিস্থিতি খুনের নয়, বরং শাস্তিযোগ্য নরহত্যার (ব্যতিক্রমের কারণে)।
গ) ৩০৪ ধারা: এটি শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable homicide not amounting to murder)-এর জন্য প্রযোজ্য, যখন প্রকৃতপক্ষে মৃত্যু ঘটে। এখানে মৃত্যু ঘটেনি।
ঘ) ৩০০ ধারা: এটি খুন (Murder)-এর সংজ্ঞা ও শর্ত বর্ণনা করে। এখানে অপরাধটি খুনের আওতায় পড়ে না।
সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) ৩০৮ ধারা।
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০, ধারা-৩০৮: শাস্তিযোগ্য নরহত্যার চেষ্টা (Attempt to commit culpable homicide):
যে ব্যক্তি এমন অভিপ্রায় বা জ্ঞান সহকারে এবং এমন পরিস্থিতিতে কোন কাজ করে যে, যদি সে সেই কাজ দ্বারা মৃত্যু ঘটাত, তাহলে সে খুন নয় বরং শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধে দোষী হতো, তাহলে তাকে যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে, যার মেয়াদ তিন বছর পর্যন্ত হতে পারে, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে; এবং, যদি এই কাজ দ্বারা কোন ব্যক্তির আঘাত (hurt) সৃষ্টি হয়, তাহলে অপরাধীকে যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে, যার মেয়াদ সাত বছর পর্যন্ত হতে পারে, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
উদাহরণ:
'A', গুরুতর ও হঠাৎ উত্তেজনায় (grave and sudden provocation), 'Z' এর দিকে একটি পিস্তল দিয়ে গুলি করে, এমন পরিস্থিতিতে যে, যদি সে এর দ্বারা মৃত্যু ঘটাত, তাহলে সে খুন নয় বরং শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধে দোষী হতো। 'A' এই ধারায় সংজ্ঞায়িত অপরাধটি করেছে।
---------
⇒ The Penal Code, 1860, section-308. Attempt to commit culpable homicide
Whoever does any act with such intention or knowledge and under such circumstances that, if he by that act caused death, he would be guilty of culpable homicide not amounting to murder, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both; and, if hurt is caused to any person by such act, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, or with fine, or with both.
Illustration:
A, on grave and sudden provocation, fires a pistol at Z, under such circumstances that if he thereby caused death he would be guilty of culpable homicide not amounting to murder. A has committed the offence defined in this section.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি-২: লংঘনের পুনরাবৃত্তি বা ধারাবাহিকতা রোধক্রমে নিষেধাজ্ঞা-
১) বিবাদিকে চুক্তি লঙ্ঘন বা অন্য কোন প্রকার অনিষ্ট করা থেকে বিরত রাখার মোকদ্দমায় ক্ষতিপূরণ দাবী করা হয়ে থাকুক বা না থাকুক, মোকদ্দমা শুরু হওয়ার পর যে কোন সময় এবং রায়ের পূর্বে বা পরে বাদি অভিযোগে আনীত চুক্তি লঙ্ঘন বা অনিষ্ট করা থেকে কিংবা একই চুক্তি থেকে উদ্ভূত অথবা একই সম্পত্তি বা অধিকারের সাথে সম্পর্কিত কোন চুক্তি লঙ্ঘন বা অনিষ্ট করা থেকে বিবাদিকে বিরত রাখার জন্য আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারে।
২) নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ, হিসাব রক্ষণ, জামানত প্রদান অথবা অন্য প্রকারে আদালত উপযুক্ত মনে করে এরূপ শর্ত সাপেক্ষে অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করে আদেশ প্রদান করতে পারে।
৩) যদি অমান্য করা হয় কিংবা অনুরূপ কোন শর্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরকারী আদালত অনুরূপ অমান্য করা বা লঙ্ঘন করার জন্য দোষী ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দিতে পারে এবং অনুরূপ ব্যক্তিকে অনধিক ছয় মাস মেয়াদের জন্য দেওয়ানি জেলে আটক রাখতেও নির্দেশ দিতে পারে, যদি না আদালত ইতোমধ্যে তার মুক্তির আদেশ প্রদান করে থাকে।
৪) এই বিধির অধীনে কোন ক্রোক এক বৎসরের অধিক বলবৎ থাকবে না এবং উক্ত সময়ের পরও যদি অমান্য বা লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে তবে ক্রোকী সম্পত্তি বিক্রয় করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে আদালত উপযুক্ত মনে করে এরূপ খেসারতের আদেশ প্রদান করতে পারে এবং অবশিষ্ট অর্থ, যদি থাকে, তাতে অধিকারী পক্ষকে প্রদান করবে।
ধারা ৯৫: অপর্যাপ্ত কারণে গ্রেফতার, ক্রোক বা নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্তির জন্য ক্ষতিপূরণ:
(১): যে কোনো মোকদ্দমায় যেখানে পূর্ববর্তী ধারার অধীনে গ্রেফতার বা ক্রোক কার্যকর করা হয়েছে বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা হয়েছে,-
(ক) আদালতের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে এরূপ গ্রেফতার, ক্রোক বা নিষেধাজ্ঞা অপর্যাপ্ত কারণে আবেদন করা হয়েছিল, অথবা
(খ) বাদীর মোকদ্দমা ব্যর্থ হয় এবং আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে মোকদ্দমা দায়ের করার কোনো যুক্তিসংগত বা সম্ভাব্য কারণ ছিল না,
তাহলে বিবাদী আদালতের নিকট আবেদন করতে পারে, এবং আদালত উক্ত আবেদনের ভিত্তিতে তার আদেশ দ্বারা বাদীর বিরুদ্ধে এমন পরিমাণ অর্থ, যা দশ হাজার টাকার অধিক হবে না, বিবাদীর ব্যয় বা ক্ষতির জন্য যুক্তিসংগত ক্ষতিপূরণ হিসেবে মঞ্জুর করতে পারে:
শর্ত থাকে যে, এই ধারার অধীনে আদালত তার আর্থিক এখতিয়ারের সীমা অতিক্রম করে এমন কোনো পরিমাণ মঞ্জুর করবে না।
(২): এরূপ কোনো আবেদন নিষ্পত্তিকারী আদেশ উক্ত গ্রেফতার, সংযুক্তি বা নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত ক্ষতিপূরণের জন্য কোনো মোকদ্দমা বারিত করবে।
এখন রহিম আর Specific Performance (জমি হস্তান্তরের আদেশ) চাইতে পারবে না, কারণ সে ইতোমধ্যে ক্ষতিপূরণকে প্রতিকার হিসেবে বেছে নিয়েছে।
ধারা ২৪- প্রতিকারের পথে ব্যক্তি বাধাসমূহ: চুক্তির সুনির্দিষ্ট এমন ব্যক্তির পক্ষে করা যায় না-
ক) যে চুক্তি অমান্যের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে না;
খ) যে নিজ চুক্তির কোন প্রয়ােজনীয় শর্ত অমান্য করে বা শর্ত পালনে ব্যর্থ হয় এবং যদ্বরুণ তার নিজের অংশেরই কার্যসম্পাদন বাকী থাকে;
গ) যে ইতিমধ্যে তার প্রতিকার বেছে নিয়েছে এবং কথিত চুক্তি অমান্যের জন্য ক্ষতিপূরণ পেয়েছে; বা
ঘ) যে চুক্তি আগেই অবগত ছিল যে, তার বিষয়বস্তু (যদিও তা কোন মূল্যবান পণভিত্তিক নয়) বিলিবন্দোবস্ত করা হয়েছিল এবং তখন তা কার্যকরী ছিল।
উপধারা-গ এর-
‘ক’ ‘খ’-এর কাছে একটি বাড়ি সুনির্দিষ্ট শর্তে এবং ভাড়ায় ভাড়া প্রদানে চুক্তিবদ্ধ হয়। 'খ' চুক্তির কার্যসম্পাদনে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। 'ক' ইহার পর 'খ'-এর চুক্তি অমান্যের ক্ষতিপূরণের জন্য মােকদ্দমা রুজু করে এবং ক্ষতিপূরণ লাভ করে। 'ক' চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন কার্যকরী করার অধিকারী হবে না।
⇒ দণ্ডবিধির ৫৫ ধারা অনুযায়ী, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে কমিয়ে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডে রূপান্তর করার ক্ষমতা শুধুমাত্র সরকারের আছে, এবং এজন্য অপরাধীর সম্মতি প্রয়োজন হয় না।
⇒ দণ্ডবিধির ৫৫ ধারার বিধান যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হ্রাস বা পরিবর্তন:- যে সকল মামলার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়, তার প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরকার অপরাধীর সম্মতি ব্যতীতই দণ্ড হ্রাস করে অনূর্ধ্ব ২০ বৎসর মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে পরিবর্তন করতে পারবেন।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 55. Commutation of sentence of imprisonment for life:- In every case in which sentence of imprisonment for life shall have been passed, the Government may, without the consent of the offender, commute the punishment for imprisonment of either description for a term not exceeding twenty years.
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ ধারা-১৯: লিখিত স্বীকারোক্তির প্রভাব:
(১) কোনো সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কিত মামলার বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পূর্বে, যদি সেই সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে দায় স্বীকার করে লিখিতভাবে কোনো স্বীকারোক্তি করা হয় এবং তা সেই ব্যক্তির দ্বারা স্বাক্ষরিত হয় যার বিরুদ্ধে দাবি করা হয়েছে, বা এমন কারো দ্বারা স্বাক্ষরিত হয় যার মাধ্যমে সে ব্যক্তি ঐ অধিকার বা দায়িত্ব অর্জন করেছে—তাহলে, ঐ স্বীকারোক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সময় থেকে নতুন করে তামাদি সময় গণনা শুরু হবে।
(২) যদি স্বীকারোক্তিপত্রে তারিখ উল্লেখ না থাকে, তবে তা কখন স্বাক্ষরিত হয়েছে সে বিষয়ে মৌখিক সাক্ষ্য প্রদান করা যাবে; তবে সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর বিধান সাপেক্ষে, সেই স্বীকারোক্তির বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না।
ব্যাখ্যা-১: এই ধারার উদ্দেশ্যে, একটি স্বীকারোক্তি যথেষ্ট বলেই বিবেচিত হবে, যদিও তাতে সম্পত্তি বা অধিকারটির প্রকৃত প্রকৃতি নির্দিষ্ট করে উল্লেখ না থাকে, বা তাতে বলা হয়ে থাকে যে অর্থ প্রদান, প্রদান, সম্পাদন বা ভোগের সময় এখনো আসেনি, কিংবা অর্থ প্রদান, সম্পাদন বা ভোগের অনুমতি দেওয়ার অস্বীকৃতির সাথে যুক্ত থাকে, অথবা তা যদি সেট-অফ দাবির সাথে যুক্ত থাকে, এমনকি যদি তা সম্পত্তি বা অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করেও লেখা হয়।
ব্যাখ্যা-২: এই ধারার উদ্দেশ্যে "স্বাক্ষর" বলতে নিজ হাতে স্বাক্ষর বা যথাযথভাবে অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে স্বাক্ষর বোঝানো হয়।
ব্যাখ্যা-৩: এই ধারার উদ্দেশ্যে, ডিক্রি বা আদেশ কার্যকর করার দরখাস্তকে একটি অধিকার সংক্রান্ত দরখাস্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি আইন, ১৮৯৮-এর ধারা ৪(২)-এর শেষ অংশে স্পষ্টভাবে বলা আছে:
- Words to have same meaning as in Penal Code: "all words and expressions used herein and defined in the Penal Code, and not hereinbefore defined, shall be deemed to have the meanings respectively attributed to them by that Code."
অর্থাৎ, "এই সংহিতায় ব্যবহৃত সমস্ত শব্দ ও অভিব্যক্তি, যা দণ্ডবিধিতে সংজ্ঞায়িত হয়েছে এবং এখানে পূর্বে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি, সেগুলি সেই কোড দ্বারা নির্ধারিত অর্থ বহন করবে বলে গণ্য হবে।"
সুতরাং, ফৌজদারী কার্যবিধিতে ব্যবহৃত শব্দ ও অভিব্যক্তির জন্য দণ্ডবিধির সংজ্ঞা প্রযোজ্য হবে তা ধারা-৪ এই নির্ধারণ করা হয়েছে।
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-4(2)Words referring to acts:
- Words which refer to acts done, extend also to illegal omissions; and
⇒ Words to have same meaning as in Penal Code:
- all words and expressions used herein and defined in the Penal Code, and not hereinbefore defined, shall be deemed to have the meanings respectively attributed to them by that Code.
সঠিক উত্তর- বিষয়বস্তুতে বাদীর স্বার্থবিহীন অবস্থান।
আদেশ ৩৫ বিধি-১: স্বার্থবিহীন মোকদ্দমায় আরজি:
স্বার্থবিহীন ব্যবহার মোকদ্দমায় প্রত্যেক মোকদ্দমার আরজিতে, আরজির জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিবৃতির অতিরিক্ত নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলো বিবৃত করতে হবে-
ক) বাদী মোকদ্দমার বিতর্কিত বিষয়বস্তুতে দায়সমূহের বা মোকদ্দমার ব্যয়াদির জন্য ব্যতীত অন্য কোন স্বার্থ দাবী করে না,
খ) বিবাদীগণ কর্তৃক দাবীসমূহ স্বাতন্ত্র্যভাবে প্রণীত হয়েছে; এবং
গ) যে বাদী ও কোন বিবাদীগণের মধ্যে কোন বিরোধ নেই।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৭১ স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, ধারা ৬৮-এর অধীনে কালেক্টরের নিকট হস্তান্তরিত কোনো ডিক্রি কার্যকর করার সময় কালেক্টর এবং তার অধস্তন কর্মকর্তারা বিচারক হিসেবে (acting judicially) কার্যরত বলে গণ্য হবেন।
- এই বিধানের মাধ্যমে আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে যে, ডিক্রি কার্যকর করার এই প্রক্রিয়াটি একটি বিচারিক কার্যক্রম, যা কালেক্টর তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্ব হিসেবে নয় বরং একটি বিচারিক কর্তৃত্ব (judicial authority) প্রয়োগের মাধ্যমে সম্পন্ন করেন।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৭১ ধারার বিধান কালেক্টরের বিচারক হিসাবে কার্য:
- উপরিল্লিখিত ৬৮ ধারা অধীনে কালেক্টরের নিকট হস্তান্তরিত ডিক্রি জারি করার প্রাক্কালে কালেক্টর এবং তার অধঃস্তনগণ বিচারক হিসাবে কার্য করতেছে বলে মনে করতে হবে।
-------------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908: Section 71: Collector deemed to be acting judicially:
- In executing a decree transferred to the Collector under section 68 the Collector and his subordinates shall be deemed to be acting judicially.
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ বিধি ১ (Order XX Rule 1) অনুসারে, মোকদ্দমার শুনানি শেষ হওয়ার পর আদালত সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে রায় ঘোষণা করতে বাধ্য। বিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: "তৎক্ষণাৎ কিংবা ভবিষ্যত কোন দিনে, যা সাতদিনের বেশি হবে না" (either at once or on some future day, not beyond seven days)।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ বিধি ১:-
মোকদ্দমার শুনানি সমাপ্ত হওয়ার পর আদালতে তৎক্ষণাৎ কিংবা ভবিষ্যত কোন দিনে ,পক্ষগণের বা তাদের উকিলগণের উপর যথাযথ বিজ্ঞপ্তি প্রদান করার পর যা সাতদিনের বেশি হবে না প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষণা করবে।
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order 20 Rule 1: Judgment when pronounced:-
The Court, after the case has been heard, shall pronounce judgment in open Court, either at once or on some future day, not beyond seven days, of which due notice shall be given to the parties or their pleaders.
Order 13, Rule 7: গ্রহণযোগ্য (admitted) নথি রেকর্ডে যুক্ত হওয়া:
(১) যে কোনো নথি আদালত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছে (admitted in evidence), অথবা নিয়ম ৫ অনুযায়ী মূল নথির পরিবর্তে যদি কোনো প্রতিলিপি (copy) গ্রহণ করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই নথি বা নথির কপি মামলার রেকর্ডের অংশ হয়ে যাবে।
অর্থাৎ, প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা সব নথিই রেকর্ডে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত থাকে।
(২): যে কোনো নথি আদালত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেনি (not admitted in evidence)-
- তা মামলার রেকর্ডের অংশ হবে না,
- এবং সেই নথি যিনি জমা দিয়েছিলেন তাকে ফেরত দেওয়া হবে।