ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারার অধীনে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Permanent Injunction) মঞ্জুর করা যায় যখন কোনো ব্যক্তি অন্যের আইনি অধিকার লঙ্ঘনের হুমকি দেয় বা এমন কোনো কাজ করতে চায় যা অন্যের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং যেখানে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট প্রতিকার নয়।
এই ক্ষেত্রে, ‘ক’ একজন মেডিকেল অ্যাডভাইজার হিসেবে ‘খ’-এর ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করার নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব বহন করে। কিন্তু যদি ‘ক’ এই তথ্য প্রকাশ করার হুমকি দেয়, তাহলে এটি স্পষ্টতই তার দায়িত্ব লঙ্ঘন এবং ‘খ’-এর গোপনীয়তার অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ।
যেহেতু আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, তাই ‘খ’ আদালতে নিষেধাজ্ঞার জন্য মামলা করতে পারে, যাতে ‘ক’ তার ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করতে না পারে।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারার বিধান: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময়:
-এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বা এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, তা প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জুর করা যেতে পারে।
যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।
যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:
(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।
ব্যাখ্যা: এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে।
উদাহরণ:
(ঝ) 'ক', 'খ' এর মেডিকেল অ্যাডভাইজার। 'ক' টাকা দাবি করল যা 'খ' প্রদানে অস্বীকৃতি প্রকাশ করল। 'ক' তারপর রোগী হিসাবে 'খ' যে সমস্ত তথ্য তার নিকট প্রকাশ করেছে তা সাধারণ্যে প্রকাশ করার হুমকি প্রদান করল। এটি 'ক' এর কর্তব্যের বিপরীত এবং 'ক' কে তেমন কোন কাজ করা থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'খ' মামলা দায়ের করতে পারে।