বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

মোট প্রশ্ন১২,৬০৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

PrepBank · পাতা / ১২৬ · ১০০ / ১২,৬০৫

.
'Charge-এ উল্লেখিত শব্দের অর্থ যে আইনের অধীনে অপরাধ দণ্ডনীয় সেই আইন অনুসারে ব্যাখ্যা করতে হবে।'- এটি ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ২২১ ধারায়
  2. ২২২ ধারায়
  3. ২২৩ ধারায়
  4. ২২৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ২২৪ অনুসারে,
কোন অপরাধের বিবরণ দেওয়ার জন্য অভিযোগে ব্যবহৃত শব্দসমূহ যে আইনে উক্ত অপরাধ দণ্ডনীয়, সেই আইনে শব্দগুলো যে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে সেই একই অর্থেই তা অভিযোগে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে।
 
Section 224: Words in charge taken in sense of law under which offence is punishable-
In every charge words used in describing an offence shall be deemed to have been used in the sense attached to them respectively by the law under which such offence is punishable.
.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুযায়ী কয় ধরনের চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করা যেতে পারে?
ব্যাখ্যা
⇒ যে সকল চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করা যেতে পারে, সেগুলো সম্বন্ধে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে।
-দেওয়ানী আদালত স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে ৪ টি ক্ষেত্রে বা ৪ ধরনের চুক্তিকে সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করাতে পারেন বা আদালতে চুক্তি প্রবলের মামলা করে ৪ ধরনের চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করা যায়।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী ৪টি ক্ষেত্রে চুক্তি বলবৎ করার জন্য মামলা করা যায়:
(১) সম্পত্তিটি যদি সম্পূর্ণ/আংশিক ট্রাস্ট এর অন্তর্ভুক্ত হয়,
(২) ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব না হল,
(৩) টাকা দিয়ে ক্ষতিপূরণ সম্ভব না হল,
(৪) ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে।
 
- অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের মাধ্যমে ৪টি ক্ষেত্রে 'চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন' করা সম্ভব।
.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪১ক অনুসারে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়া হবে কখন?
  1. চার্জ গঠনের পরে
  2. চার্জ গঠনের আগে
  3. রায় প্রদানের পর
  4. সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪১ক-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, এই ধারা অনুযায়ী আসামিকে অব্যাহতি (Discharge) দেওয়া হবে চার্জ গঠনের পূর্বে (before framing of charge)। বিধানটির মূল পর্যায়ক্রম হলো:
১. আসামি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির হওয়ার পর।
২. চার্জ গঠনের আগে ম্যাজিস্ট্রেট মামলার রেকর্ড ও দলিলপত্র পর্যালোচনা করেন। 
৩. যদি তিনি মনে করেন অভিযোগ ভিত্তিহীন (groundless), তখনই তিনি আসামিকে অব্যাহতি দেন।
- এই ধারার বিশেষত্ব হলো এটি প্রি-ট্রায়াল পর্যায়ে প্রয়োগ করা হয়, যখন ম্যাজিস্ট্রেট প্রাথমিকভাবে মূল্যায়ন করেন যে মামলাটি বিচারের জন্য এগিয়ে নেওয়া উচিত কিনা।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ক ধারার বিধান: ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আসামির অব্যাহতি [Discharge of Accused by Magistrate): আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে চার্জ গঠনের আগে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে ২৪১ক ধারায় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে পারে।অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট মামলার নথি ও দাখিলকৃত কাগজপত্র আমলে নিবে।পুলিশ কেসের ক্ষেত্রে মামলার এফআইআর, চার্জশিট,পুলিশের নিকট দেয়া বা সংগ্রহকৃত তথ্য বা প্রস্তুতকৃত ডকুমেন্ট,তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রদত্ত জবানবন্দি এবং মেডিকেল সার্টিফিকেট ইত্যাদি।
আর নালিশি কেসের ক্ষেত্রে মামলার অভিযোগ,বিচারিক অনুসন্ধান ও মেডিকেল সার্টিফিকেট ইত্যাদি কাগজপত্র আমলে নিবেন।

উল্লেখ্য, যদি ম্যাজিস্ট্রেট ২৪১(ক) ধারায় অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেন, তাহলে ফরিয়াদি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়রা জজ কোর্টে রিভিশন আবেদন করতে পারেন।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 241A. When accused shall be discharged:
 When the accused appears or is brought before the Magistrate, and if the Magistrate, upon consideration of the record of the case and the documents submitted therewith and making such examination, if any, of the accused as the Magistrate thinks necessary and after giving the prosecution and the accused an opportunity of being heard, considers the charge to be groundless, he shall discharge the accused and record his reasons for so doing.

.
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫১ ধারা অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা কখন প্রয়োগ করতে পারে?
  1. আদালতের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে
  2. আদালতের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করতে
  3. ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে
  4. দেওয়ানি আদালতের যেকোন বিচার করতে
ব্যাখ্যা
⇒  দেওয়ানি আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা-
আদালতের সহজাত ক্ষমতা বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent power of court) ন্যায় বিচারের স্বার্থে দেওয়ানী আদালতের একটি অলিখিত ক্ষমতা যা প্রয়োগের মাধ্যমে আদালত ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হয়। কোন বিচারপ্রার্থী ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত না হওয়ার জন্য দেওয়ানি আদালতকে একটি বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। যেক্ষেত্রে আইনের কোন সুস্পষ্ট বিধান নেই বা আইনের কোন সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা নেই সেক্ষেত্রে আদালত তার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা কল্পে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারেন। একেই বলা হয় আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা বা সহজাত ক্ষমতা।

দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫১ ধারামতে, দেওয়ানি আদালত ২টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা (For the ends of justice); এবং
ii) আদালতের কার্যধারা বা আদালত কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা (To prevent abuse of the process of the court)।
---------- 
⇒The Code of Civil Procedure, 1908, Section 151- Saving of inherent powers of Court:
Nothing in this Code shall be deemed to limit or otherwise affect the inherent power of the Court to make such orders as may be necessary for the ends of justice or to prevent abuse of the process of the Court.
.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে কত ধারায় স্থাবর সম্পত্তির দখল চ্যুত ব্যক্তি কর্তৃক দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করতে হয়?
  1. ৮ ধারায়
  2. ৯ ধারায়
  3. ১০ ধারায়
  4. ১২ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার বিধান: স্থাবর সম্পত্তির দখল চ্যুত ব্যক্তি কর্তৃক মামলা:
-যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে আইনগত পন্থা ছাড়াই স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তাহলে সে বা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করতে পারে। তবে এই ধারার কোন কিছুই এমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার নিমিত্তে কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা রুজু করার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।
-সরকারের ক্ষেত্রে এই ধারার কোনো প্রয়োগযোগ্য নেই।
-আদালত যে আদেশ দিবে তার বিরুদ্ধে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে না।
------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section-9: Suit by person dispossessed of immoveable property:
If any person is dispossessed without his consent of immoveable property otherwise than in due course of law, he or any person claiming through him may, by suit recover possession thereof, notwithstanding any other title that may be set up in such suit.
Nothing in this section shall bar any person from suing to establish his title to such property and to recover possession thereof.
No suit under this section shall be brought against the Government.
No appeal shall lie from any order or decree passed in any suit instituted under this section, nor shall any review of any such order or decree be allowed.
.
একজন শিশুকে কীসের ভিত্তিতে যোগ্য সাক্ষী হিসেবে গণ্য করা হবে?
  1. বোধশক্তি
  2. বয়স
  3. শিক্ষাগত যোগ্যতা
  4. )সবগুলোর উপর
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষীর যোগ্যতা: সাক্ষীর সাক্ষ্য দেওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে আলোচনা আছে ১১৮- ১৩১ ও ১৩৩ ধারায়।

সাক্ষ্য আইনের ১১৮ ধারা- যে সাক্ষ্য দিতে পারে:
সকল ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদানের যোগ্য, যদি আদালত মনে না করেন যে, তাহার অল্প বয়স, অতি বৃদ্ধ বয়স, দৈহিক বা মানসিক ব্যাধি বা অনুরূপ অন্য কোন কারণে তাহাদিগকে জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন বুঝিতে বা সেই প্রশ্নে যুক্তিসঙ্গত উত্তর দিতে তাঁহারা অক্ষম।

ব্যাখ্যা- কোন বিকৃত মস্তিক ব্যক্তি যদি তাহার মস্তিষ্ক বিকৃতির জন্য তাহাকে জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন বুঝিতে বা উহার যুক্তিসঙ্গত উত্তর দিতে অক্ষম না হয়, তবে সেই ব্যক্তি সাক্ষ্যদানে অযোগ্য হইবে না।

উক্ত ধারা অনুযায়ী প্রশ্ন বুঝে উত্তর দিতে সক্ষম সকল ব্যক্তি যোগ্য সাক্ষী। যেমন- বোধশক্তিসম্পন্ন শিশু, অল্পবয়স্ক বুদ্ধিমান বালক, প্রশ্ন বুঝে উত্তরদানে সক্ষম বিকৃতমস্তিস্কের ব্যক্তি; বোবা, জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন বুঝে উত্তরদানে সক্ষম ব্যক্তি। এক্ষেত্রে তাদের বয়স, দৈহিক বা মানসিক অবস্থা, শিক্ষাগত যোগ্যতা সাক্ষ্য প্রদানে বাধার সৃষ্টি করবে না।
-------------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section: 118. Who may testify:
-All persons shall be competent to testify unless the Court considers that they are prevented from understanding the questions put to them, or from giving rational answers to those questions, by tender years, extreme old age, disease, whether of body or mind, or any other cause of the same kind. 
 
Explanation.–A lunatic is not incompetent to testify, unless he is prevented by his lunacy from understanding the questions put to him and giving rational answers to them.
.
দণ্ডবিধির ৫১০ ধারায় সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কত?
  1. ১২ ঘন্টা
  2. ২৪ ঘন্টা
  3. ১ মাস
  4. ৩ মাস
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৫১০ ধারা অনুযায়ী,
কোন ব্যক্তি যদি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কোন প্রকাশ্য স্থানে গমন করে, বা যে স্থানে প্রবেশ করা তার পক্ষে অনধিকার প্রবেশ, সে স্থানে প্রবেশ করে এবং সে স্থানে এমন আচরণ করে, যার ফলে কারো বিরক্তি ঘটে, তবে সে ব্যক্তি চব্বিশ ঘন্টা পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা দশ টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

Section 510- Misconduct in public by a drunken person:
Whoever, in a state of intoxication appears in any public place, or in any place which it is a trespass in him to enter, and there conducts himself in such a manner as to cause annoyance to any person, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to twenty-four hours, or with fine which may extend to ten taka, or with both.

.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী নিচের কোনটি চোরাই মাল (Stolen Property) বলে গণ্য হবে?
  1. বলপূর্বক গৃহীত সম্পত্তি;
  2. চুরির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি;
  3. দস্যুতা এবং ডাকাতিমূলে হস্তান্তরিত সম্পত্তি;
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪১০ ধারায় চোরাই মালের সংজ্ঞা রয়েছে। দণ্ডবিধির ৪১০ ধারামতে যে সকল মাল বা সম্পত্তি চোরাই মাল বলে গণ্য হবে তা হল-
ক) চুরির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি;
খ) বলপূর্বক গৃহীত সম্পত্তি;
গ) দস্যুতা এবং ডাকাতিমূলে হস্তান্তরিত সম্পত্তি; এবং
ঘ) অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎকৃত ও বিশ্বাসভঙ্গের দ্বারা অর্জিত সম্পত্তিকে চোরাই মাল বা Stolen Property বলে।
⇒ উক্ত চোরাই মাল যখন আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী লোকের দখলে আসে, তখন সেগুলো আর চোরাই সম্পত্তি থাকে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৪১০ ধারার বিধান চোরাই সম্পত্তি:- চুরি বা জোরপূর্বক আদায় বা দস্যুতার কর্তৃক যে সম্পত্তি হস্তান্তরিত হয়েছে বা যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ হয়েছে বা যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে সে সম্পত্তিকে "চোরাই সম্পত্তি” বলে। অনুরূপ হস্তান্তর অথবা আত্মসাৎ বা বিশ্বাস ভঙ্গ বাংলাদেশের মধ্যে বা বাহিরে যেখানে সাধিত বা সংঘটিত হোক না কেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি 'চোরাই সম্পত্তি' বলে উহা আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী ব্যক্তির দখলে আসে, তবে আর উহা চোরাই সম্পত্তি থাকে না।
----------------------
⇒Section 410: Stolen property:
-Property, the possession whereof has been transferred by theft, or by extortion, or by robbery, and property which has been criminally misappropriated or in respect of which criminal breach of trust has been committed, is designated as "stolen property," whether the transfer has been made, or the misappropriation or breach of trust has been committed, within or without Bangladesh. But, if such property subsequently comes into the possession of a person legally entitled to the possession thereof, it then ceases to be stolen property.
.
একজন ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট একজন অপরাধীকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। অপরাধী জরিমানা প্রদানে অপারগ হওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট তাকে সর্বোচ্চ কত বছরের কারাদণ্ড দিতে পারেন?
  1. ২বছর
  2. ৩বছর
  3. ৫বছর
  4. ৫. ২৫ বছর
ব্যাখ্যা

একজন ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট নির্জন কারাবাসসহ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দিতে পারেন, [ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮, ধারা- ৩২]
• তবে জরিমানা অনাদায়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আইনে অনুমোদিত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ড দিতে পারেন তবে তা ম্যাজিস্ট্রেট এর ক্ষমতার বাইরে হবে না।
• ম্যাজিস্ট্রেট যে মামলার বিচার করবেন তাতে মূল দণ্ডের অংশ হিসাবে কারাদণ্ড দেয়া হয়ে থাকলে জরিমানা অনাদায়ে যে কারাদণ্ড দেয়া হবে তার মেয়াদ ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত অপরাধের জন্য জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ড হিসাবে ছাড়া অন্যভাবে যে দণ্ড দিতে পারেন তার এক-চতুর্থাংশের বেশি হবে না।

• আবার, ৩২ ধারা অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেট যে সর্বাধিক মেয়াদের মূল কারাদণ্ড দিতে পারেন তার সাথে এই ধারা অনুসারে প্রদত্ত কারাদণ্ড যোগ করা যেতে পারে। অতএব, মোট কারাদণ্ড হবে সর্বোচ্চ ৪+ (৫ এর এক-চতুর্থাংশ = ১.২৫)
অর্থাৎ ৫.২৫ বছর।

১০.
একজন ভাড়াটিয়া ভাড়ার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাড়ি খালি না করলে, বাড়ির মালিক সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারা অনুযায়ী প্রতিকার চাইতে পারেন?
  1. ধারা ৯
  2. ধারা ৩১
  3. ধারা ৩৬
  4. ধারা ৪২
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৯ (Recovery of specific immovable property) অনুযায়ী: "যদি কোনো ব্যক্তি তার স্থাবর সম্পত্তির দখল থেকে বেআইনিভাবে বঞ্চিত হয়, তবে সে আদালতে মামলা দায়ের করে সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।"
- ভাড়াটিয়া যদি ভাড়ার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাড়ি না ছাড়ে, তাহলে সে বেআইনি দখলদার (trespasser) হয়ে যায়।
- বাড়ির মালিক ধারা ৯ এর আওতায় "possession" পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করতে পারেন।
- এটি দ্রুত প্রতিকার (summary remedy) এবং মালিকানার প্রশ্ন উঠে না — শুধু দখলের অধিকার দেখতে হবে।

অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৯-এ স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য একটি বিশেষ প্রতিকারের বিধান রয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি বেআইনিভাবে বা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অন্যের স্থাবর সম্পত্তি (যেমন: বাড়ি, জমি) দখলে রাখে, তাহলে সম্পত্তির প্রকৃত মালিক এই ধারা অনুযায়ী একটি সরলীকৃত মামলার মাধ্যমে দখল পুনরুদ্ধার করতে পারেন।

১১.
ধারা ৪২৮ অনুযায়ী, অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারে-
  1. পুলিশ অফিসার
  2. বিচারিক আদালত
  3. আপিল আদালত
  4. শুধুমাত্র হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৮ ধারার বিধান: আপিল আদালত অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করতে বা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন:
(১) এই অধ্যায়ের অধীন কোন আপিল বিবেচনার সময় আপিল আদালত যদি অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ দরকার মর্মে মনে করেন, তাহলে তার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন এবং এই সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারবেন, অথবা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন, অথবা আপিল আদালত যখন হাইকোর্ট ডিভিশন হয়, তখন কোন দায়রা আদালত বা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন।

(২) দায়রা আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক যখন অতিরিক্ত সাক্ষ্য গৃহীত হয়, ইহা বা তিনি উক্ত সাক্ষ্য সত্যায়নপূর্বক আপিল আদালতে প্রেরণ করবেন, এবং উক্ত আদালত অতঃপর আপিল নিষ্পত্তির দিকে অগ্রসর হবেন।

(৩) আপিল আদালত ভিন্নরূপ নির্দেশ না দিলে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আসামি বা তাহার কৌসুলী উপস্থিত থাকবেন।

(৪) অধ্যায়-২৫ এর বিধান সাপেক্ষে এই ধারার অধীন এমনভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে, যেন তা একটি অনুসন্ধান।

১২.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১১ বিধি ২ অনুসারে, জিজ্ঞাসাবলী প্রদানের আবেদনের বিষয়ে আদালত আবেদন দাখিলের কত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবে?
  1. ৭ দিনের মধ্যে
  2. ১০ দিনের মধ্যে
  3. ১৪ দিনের মধ্যে
  4. ৩০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১১ বিধি ২ (Order XI Rule 2) এর দ্বিতীয় প্রোভিজন:
"the particular interrogatories proposed to be delivered shall be submitted to the Court and that Court shall decide within fourteen days from the date of filing of the said application."

অর্থাৎ, জিজ্ঞাসাবলী (Interrogatories) প্রদানের জন্য আবেদন দাখিলের তারিখ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে আদালতকে আবেদনটি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
---------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order 11 Rule-2. Particular interrogatories to be submitted: 
- On an application for leave to deliver interrogatories, the particular interrogatories proposed to be delivered shall be submitted to the Court and that Court shall decide within fourteen days from the date of filing of the said application. In deciding upon such application, the Court shall take into account any offer, which may be made by the party sought to be interrogated to deliver particulars, or to make admissions, or to produce documents relating to the matters in question, or any of them, and leave shall be given as to such only of the interrogatories submitted as the Court shall consider necessary either for disposing fairly of the suit or for saving costs.

১৩.
যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার প্রথম শুনানির দিন প্রতীয়মান হয় যে পক্ষগণের মধ্যে আইন সংক্রান্ত কিংবা ঘটনা সংক্রান্ত কোন বিচার্য বিষয় নেই, সেক্ষেত্রে আদালত-
  1. এক-তরফা ডিক্রি দিবে
  2. রায় ঘোষণা করতে পারে
  3. মোকদ্দমা অবৈধ ঘোষণা করবে
  4. মোকদ্দমা স্থগিত করবে
ব্যাখ্যা
• সাধারণত মোকদ্দমার শুনানী শেষ হওয়ার পর তৎক্ষনাৎ বা ৭ দিন পর আদালত রায় প্রদান করে, তবে কিছু ক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর দিনে রায় ঘোষনা করতে পারে। দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫ নং আদেশ অনুযায়ী আদালত মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর দিনে রায় ঘোষনা করতে পারে (DISPOSAL OF THE SUIT AT THE FIRST HEARING)।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫ নং আদেশের ১নং বিধিমতে-
যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার প্রথম শুনানির দিন প্রতীয়মান হয় যে, পক্ষগণের মধ্যে আইন সংক্রান্ত কিংবা ঘটনা সংক্রান্ত কোন বিচার্য বিষয় নেই আদালত তখনই রায় ঘোষণা করতে পারে।
[Where at the first hearing of a suit it appears that the parties are not at issue on any question of law or of fact, the Court may at once pronounce judgment.]

⇒ যদি মোকদ্দমার প্রথম শুনানির দিনই আদালতের নিকট এটা প্রতীয়মান হয় যে পক্ষগণের মধ্যে আইনগত বা ঘটনাগত কোনো বিচার্য বিষয় নেই, তাহলে আদালত সেই দিনই রায় ঘোষণা করতে পারে। এটি সম্ভব নিম্নোক্ত কারণসমূহের কোনো একটি বা একাধিক থাকলে:

(১) বিবাদীর কোনো দাবি/প্রতিবাদ নেই: মোকদ্দমার প্রাথমিক পর্যায়েই যদি বিবাদী পক্ষ তাদের কোনো দাবি বা প্রতিবাদ উপস্থাপন না করে, তাহলে আদালতের নিকট বিচার্য বিষয় থাকবে না।
(২) দাবি স্বীকার করা: বিবাদী পক্ষ যদি বাদী পক্ষের দাবি স্বীকার করে নেয়, সেক্ষেত্রে আইনগত বা ঘটনাগত কোনো বিচার্য বিষয় থাকবে না।
(৩) অপ্রয়োজনীয় মামলা: প্রাথমিক পর্যালোচনায় যদি দেখা যায় মোকদ্দমাটি অপ্রয়োজনীয়/অগ্রহণযোগ্য, তাহলে আদালত রায় দিয়ে মোকদ্দমাটি খারিজ করতে পারে।
(৪) বিগত বিষয়: মোকদ্দমা দায়েরের সময় যদি দেখা যায় বিষয়টি ইতোমধ্যেই নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে, তাহলে আদালত মোকদ্দমাটি নাকচ করে দিয়ে রায় দিতে পারে।

সুতরাং প্রথম শুনানিতেই যদি উপরোক্ত অবস্থাগুলির কোনো একটি দেখা যায়, আদালত পরবর্তী সময় অপচয় না করে সরাসরি রায় ঘোষণা করতে পারে। এতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হয়ে যায়।
১৪.
Which section of the Penal Code contains the provision for the Extra-territorial application of the Penal Code?
  1. 3
  2. 4
  3. 5
  4. 7
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪ ধারার বিধান: দণ্ডবিধির অতিরাষ্ট্রিক প্রয়োগ (Extra-territorial application of Penal Code)-
-দণ্ডবিধির ৪ ধারায় দণ্ডবিধির অতিরাষ্ট্রিক প্রয়োগের বিধান রয়েছে। বাংলাদেশের কোন নাগরিক বাংলাদেশের বাহিরে কোন স্থানে বা বাংলাদেশের রেজিস্ট্রিকৃত কোন জাহাজ বা উড়োজাহাজে (জাহাজটি যেখানেই থাকুক না কেন) কোন অপরাধ করলে, বাংলাদেশের যে স্থানে উক্ত অপরাধীকে পাওয়া যাবে, সে স্থানে অপরাধ সংঘটন করেছে বলে ধারে নিয়ে তার বিচার করা যাবে।
অর্থাৎ দণ্ডবিধির ৪ ধারানুযায়ী বাংলাদেশের আদালত বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধের বিচার করতে এমনভাবে ক্ষমতাবান যেন, বাংলাদেশের যে স্থানে অপরাধীকে পাওয়া যাবে সে স্থানে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে বলে মনে করা হবে।

⇒দণ্ডবিধির অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিক দেশে-বিদেশে যেখানেই পেনাল কোডের অপরাধ করুক তাঁকে বাংলাদেশে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে বিচার করা যাবে। বিদেশি নাগরিক যদি বাংলাদেশে অবস্থান করে কোনো অপরাধ করলে এবং তা পেনাল কোডে দণ্ডনীয় হলে তার বিচার বাংলাদেশে করা যাবে। কিন্তু বিদেশি কোনো নাগরিক বিদেশে অপরাধ করলে সেটি বাংলাদেশে বিচার্য হবে না।
⇒ দণ্ডবিধির ২ থেকে ৪ ধারায় দণ্ডবিধির প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যে ক্ষেত্রে দণ্ডবিধি প্রয়াগ হবে-
(i) বাংলাদেশের সকল নাগরিকের ক্ষেত্রে: দেশে-বিদেশে যেখানেই অপরাধ সংঘটন করুক না কেন।
(ii) বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে: যদি সে বাংলাদেশে অথবা বাংলাদেশের নিবন্ধিত কোন জাহাজ বা বিমানে অপরাধ সংঘটন করে।
(iii) বাংলাদেশের নিবন্ধিত কোন জাহাজ বা বিমানে অপরাধ সংগঠন করার ক্ষেত্রে: উক্ত বাংলাদেশি জাহাজ বা বিমান বাংলাদেশ বা বিদেশে যেখানেই অবস্থান করুক না কেন।
---------------------
⇒The penal Code Section -4.Extension of Code to extra-territorial offences:
The provisions of this Code apply also to any offence committed by-
(1) any citizen of Bangladesh in any place without and beyond Bangladesh;
(4) any person on any ship or aircraft registered in Bangladesh wherever it may be.
Explanation.-In this section the word "offence" includes every act committed outside Bangladesh which, if committed in Bangladesh, would be punishable under this Code.
১৫.
তত্ত্বাবধায়কের অধিকার ও ক্ষমতা কিভাবে নির্ধারিত হবে?
  1. আদালতের মৌখিক নির্দেশ দ্বারা
  2. দেওয়ানি কার্যবিধির মাধ্যমে
  3. তত্ত্বাবধায়কের নিজের ইচ্ছা দ্বারা
  4. পক্ষগুলোর চুক্তি দ্বারা
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারা- তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ সুবিবেচনামূলক:
প্রক্রিয়াধীন মামলায় তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ আদালতের সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন।
দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের রেফারেন্স- তার নিয়োগের ধরন ও ফলাফল এবং তার অধিকার, ক্ষমতা, কর্তব্য এবং দায়দায়িত্ব দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে।

Section 44- Appointment of receivers discretionary. Reference to Code of Civil Procedure:
The appointment of a receiver pending a suit is a matter resting in the discretion of the Court.
The mode and effect of his appointment, and his rights, powers, duties and liabilities, are regulated by the Code of Civil Procedure.
১৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৫গ ধারার অধীনে- আদালত যদি এই মত পোষণ করেন যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন, তাহলে আদালত-
  1. নতুন চার্জ গঠন করবেন
  2. অভিযুক্তকে খালাস দিবেন
  3. পুনারয় সাক্ষী ডাকবেন
  4. অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিবেন
ব্যাখ্যা
• ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং দায়রা আদালতে ফৌজদারি মামলার বিচার করা হয়। আদালত অভিযুক্তকে অব্যাহতি, চার্জ গঠন, খালাস বা শাস্তি প্রদানের আদেশ দিয়ে থাকে। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার সম্পর্কে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ থেকে ২৫০ ধারা পর্যন্ত বর্ণনা করা হয়েছে এবং ধারা ২৬৫ক-২৬৫জ তে দায়রা আদালত কর্তৃক বিচার সম্পর্কে বিধান রয়েছে।
 
• ফৌজদারি মামলার বিচার শুরুর পূর্বে ২৬৫গ ধারায় দায়রা আদালত চার্জ গঠনের শুনানীর জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করে। ২৬৫গ ধারায় উক্ত চার্জ গঠনের শুনানীর সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে অব্যাহতির আবেদন করতে পারে। চার্জ গঠনের শুনানী এবং অব্যাহতির আবেদনের শুনানী একই দিনে হতে হবে।
আদালত মামলার নথি ও দাখিলকৃত কাগজপত্র আমলে নিয়ে যদি এই মত পোষণ করেন যে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন, তাহলে চার্জ গঠন না করে তথা চার্জ গঠনের পূর্বে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিতে পারেন।
১৭.
বর্তমানের দেওয়ানি কার্যবিধি কত সালে কার্যকর হয়?
  1. ১৮৫৯ সালে
  2. ১৯০৮ সালে
  3. ১৯০৯ সালে
  4. ১৮৯৮ সালে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (Civil Procedure Code) একটি পদ্ধতিগত আইন, যা দেওয়ানি মামলার বিচার ও নিষ্পত্তির নিয়মকানুন নির্ধারণ করে।
- সর্ব প্রথম ১৮৫৯ সালে সিভিল কোড সংক্রান্ত পদ্ধতিগত আইন বিধিবদ্ধ [codified] করা হয়।
- বর্তমানের দেওয়ানি কার্যবিধি পাশ হয় ১৯০৮ সালের ২১ মার্চ ।
- ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।

- দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ সালের ৫ নং আইন।
- The Code of Civil Procedure,1908 (ACT NO. V OF 1908)
- এই আইনে দেওয়ানি আদালত এবং মামলার পক্ষগুলোর জন্য যে-সব নিয়ম মানতে হবে তা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে জানা যায়:
- কীভাবে মামলা দায়ের করতে হয়।
- মামলার আবেদন বা জবাব কীভাবে দিতে হয়।
- কীভাবে সমন (জবানবন্দি বা উপস্থিতির আদেশ) জারি করতে হয়।
- কীভাবে আদালতে শুনানি হয়।
- রায় এবং ডিক্রি (আদালতের আদেশ) কীভাবে ঘোষণা এবং কার্যকর করা হয়।
- আপিল, রিভিশন এবং রিভিউ করার নিয়ম।
- অর্থাৎ দেওয়ানি কার্যবিধি মামলার প্রতিটি ধাপে আইনসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য দিকনির্দেশনা দেয়।
১৮.
যখন কোন ঘটনা প্রমাণিত বা মিথ্যা প্রমাণিত নয়, তখন তাকে কি বলে?
  1. প্রমাণিত
  2. অপ্রমাণিত
  3. সত্য প্রমাণিত
  4. মিথ্যা প্রমাণিত
ব্যাখ্যা
⇒ প্রমাণিত (proved): কোন ঘটনা তখনই প্রমাণিত বলা হয় যখন আদালত এর উপর আনীত বিষয়সমূহ বিবেচনা করে ঘাটনাটির অস্তিত্ব আছে বলে হয় বিশ্বাস করেন অথবা এর অস্তিত্ব এতই সম্ভব বিবেচনা করেন যে, একজন বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন মানুষ বিশেষ ক্ষেত্রের পরিস্থিতি বিবেচনা করে এর অস্তিত্ব অনুমান করতে পারেন। 

⇒ মিথ্যা প্রমানিত (disproved): কোন ঘটনা তখনই মিথ্যা প্রমাণিত বলা হয় যখন আদালত এর উপর আনীত বিষয়সমূহ বিবেচনা করে ঘটনাটির অস্তিত্ব নেই বলে বিশ্বাস করেন অথবা এর অস্তিত্বহীনতা এতই সম্ভব বিবেচনা করেন যে, একজন বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন মানুষ বিশেষ ক্ষেত্রের পরিস্থিতি বিবেচনা করে এর অস্তিত্ব নেই বলে অনুমান করতে পারেন।

⇒ অপ্রমাণিত (not to be proved): কোন ঘটনা তখনই অপ্রমাণিত বলা হয় যখন তা প্রমাণিত বা মিথ্যা প্রমাণিত কোনটিই হয় না। (A fact is said not to be proved when it is neither proved nor disproved).

----------------
⇒ A fact is said to be proved when, after considering the matters before it, the Court either believes it to exist, or considers its existence so probable that a prudent man ought, under the circumstances of the particular case, to act upon the supposition that it exists.

⇒ A fact is said to be disproved when, after considering the matters before it, the Court either believes that it does not exist, or considers its non-existence so probable that a prudent man ought, under the circumstances of the particular case, to act upon the supposition that it does not exist.

⇒ A fact is said not to be proved when it is neither proved nor disproved.
১৯.
আইনানুগ অভিভাবকের নিকট থেকে কত বছরের নাবালক বা নাবালিকাকে অপহরণ করলে তা আইনানুগ অভিভাবকত্ব থেকে মনুষ্য হরণ হবে?
  1. ১৪ বছরের নাবালক ও ১৮ বছরের নাবালিকা
  2. ১৪ বছরের নাবালক ও ১৬ বছরের নাবালিকা
  3. ১৬ বছরের নাবালক ও ১৬ বছরের নাবালিকা
  4. ১৬ বছরের নাবালক ও ১৮ বছরের নাবালিকা
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৬০। বাংলাদেশ হতে মনুষ্য হরণ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে তার সম্মতি ছাড়াই অথবা তার স্বপক্ষে সম্মতি দানের ক্ষমতাসম্পন্ন অপর কারো সম্মতি ছাড়াই বাংলাদেশের সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেয় বা নিয়ে যায়, তবে উক্ত ব্যক্তি তাকে বাংলাদেশ হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

Section 360. Kidnapping from Bangladesh:-Whoever conveys any person beyond the limits of Bangladesh without the consent of that person, or of some person legally authorized to consent on behalf of that person, is said to kidnap that person from Bangladesh.

ধারা ৩৬১। আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে মনুষ্যহরণ:- কোন ব্যক্তি যদি চৌদ্দ বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালককে অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালিকাকে অথবা বিকৃত মস্তিষ্ক কোন ব্যক্তিকে তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই অভিভাবকের রক্ষণাবেক্ষণ হতে নিয়ে যায়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক বা বালিকাকে অথবা অনুরূপ বিকৃতমস্তিষ্ক ব্যক্তিকে আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা:- এই ধারায় "আইনসম্মত অভিভাবক" বলতে অনুরূপ অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা অপর ব্যক্তির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আইনতঃ ভারপ্রাপ্ত যেকোন ব্যক্তিকেও বুঝাবে।

ব্যতিক্রম:- যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে নিজেকে কোন অবৈধ সন্তানের পিতা বলে বিশ্বাস করে অথবা যে ব্যক্তি নিজেকে অনুরূপ শিশুর আইনসম্মত রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতাপ্রাপ্ত বলে সরলমনে বিশ্বাস করে, সে ব্যক্তি কোন অবৈধ বা বেআইনী উদ্দেশ্যে অনুরূপ কাজ না করলে তার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রয়োগযোগ্য হবে না।
২০.
কোন ব্যক্তি যদি কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রম দান করতে বাধ্য করে তাহলে তার দণ্ডবিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি কত দিন?
  1. ছয় মাস
  2. এক বৎসর
  3. দুই বৎসর
  4. তিন বৎসর
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান বেআইনী শ্রমে বাধ্য করা :- (১) কোন ব্যক্তি যদি কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রম দান করতে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

(২) কোন ব্যক্তি যদি কোন যুদ্ধবন্দী বা অপর কোন আশ্রিত ব্যক্তিকে বাংলাদেশ সশ্রম বাহিনীতে কার্য করতে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা:- এই “যুদ্ধবন্দী" এবং "আশ্রিত ব্যক্তি" অভিব্যক্তিসমূহ যথাক্রমে ১৯৪৯ সনের ১২ই আগষ্ট তারিখের যুদ্ধবন্দীর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত জেনেভা সম্মেলনের-৪ দফা এবং ১৯৪৯ সনের ১২ই আগষ্ট তারিখের যুদ্ধকালে বেসামরিক ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা সম্পর্কিত জেনেভা সম্মেলনের ৪ দফা মোতাবেক তৎসমূহের প্রতি আরোপিত অর্থের অনুরূপ অর্থ দ্যোতক হবে।
----------------
Unlawful compulsory labour
Section 374. (1) Whoever unlawfully compels any person to labour against the will of that person, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year, or with fine, or with both. 
 
(2) Whoever compels a prisoner of war or a protected person to serve in the armed forces of Bangladesh shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year. 
 
Explanation. In this section the expressions "prisoner of war" and "protected person" shall have the same meaning as have been assigned to them respectively by Article 4 of the Geneva Convention Relative to the Treatment of Prisoners of War of August 12, 1949, and Article 4 of the Geneva Convention Relative to the Protection of Civilian Persons in Time of War of August 12, 1949,
২১.
What type of communications are protected under Section 129?
  1. Only written communications
  2. All communications between individuals
  3. Any communication made in a public place
  4. Confidential communications with legal advisers
ব্যাখ্যা
Section 129: Confidential communications with legal advisers:
No one shall be compelled to disclose to the Court any confidential communication which has taken place between him and his legal professional adviser, unless he offers himself as a witness, in which case he may be compelled to disclose any such communications as may appear to the Court necessary to be known in order to explain any evidence which he has given, but no others.

সাক্ষ্য আইনের ১২৯ ধারা: আইন উপদেষ্টার সঙ্গে গোপন সংবাদের আদান-প্রদান:

কোন ব্যক্তি এবং তার পেশাদার আইন উপদেষ্টার ভিতর গোপনীয় বার্তার আদান-প্রদান হলে, সেই ব্যক্তি যদি মোকদ্দমার সাক্ষ্য দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ না করেন, তবে সে গোপনীয় আদান-প্রদানের বিষয় আদালতে ব্যক্ত করতে তাকে বাধ্য করা যাবে না। যদি তিনি সাক্ষ্য দেন, তবে তার দেয়া সাক্ষ্যের ব্যাখ্যার জন্য উক্ত গোপনীয় সংবাদ আদান- প্রদানের বিষয় আদালতের জানা প্রয়োজন হলে শুধু তাকে তা প্রকাশ করতে বাধ্য করা যাবে, অন্যথায় নয়।
২২.
জাহাজের মালিক A তার জাহাজ প্রতারণামূলকভাবে সমুদ্র যাত্রার উপযুক্ত উল্লেখে B এর সাথে বীমার চুক্তি করে। এক্ষেত্রে B চুক্তিটি _________ করতে পারবে।
  1. বাতিল (Cancel)
  2. রদ (Rescind)
  3. পরিবর্তন (Alter)
  4. সংশোধন (Rectify)
ব্যাখ্যা
⇒ The Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ৩৫ (Section 35) অনুযায়ী, “A contract may be rescinded where it is voidable or terminable by the plaintiff.”
এবং চুক্তিতে যদি প্রতারণা (fraud) থাকে, তাহলে তা voidable হয়—অর্থাৎ, প্রতারণার শিকার পক্ষ (এখানে B) চাইলে চুক্তি রদ (rescission) করতে পারে।

- ধরা যাক A তার অচল, ভাঙা জাহাজকে “চালানোর উপযুক্ত” বলে B-এর সাথে বীমার চুক্তি করল। পরে দুর্ঘটনায় জাহাজ ডুবে যায়। তখন B জানতে পারে, জাহাজটি আদতেই চালানোর উপযুক্ত ছিল না—এটি ছিল A-এর প্রতারণা। তখন B চাইলে এই চুক্তিটি rescission এর মাধ্যমে বাতিল (রদ) করে দিতে পারে।

অর্থাৎ প্রতারণামূলক চুক্তি (Fraudulent Contract)-এর ক্ষেত্রে বীমাকারী (B) চুক্তিটি রদ (Rescind) করতে পারবে।
২৩.
সমনে নির্ধারিত তারিখে আদালতে বিবাদী হাজির হতে পারে-
  1. নিজে
  2. নিজ উকিলের মাধ্যমে
  3. ক বা খ
  4. প্রতিনিধির মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৯ বিধি-১ঃ 
বিবাদির উপস্থিতির এবং জবাব দানের জন্য সমনে নির্ধারিত তারিখে পক্ষগণ স্বয়ং কিংবা তাদের নিজ নিজ উকিলের মাধ্যমে বিচারালয়ে হাজিরা দিবেন এবং অতঃপর আদালত কর্তৃক ভবিষ্যতের কোন দিন পর্যন্ত মোকদ্দমার শুনানি মূলতবী না হলে ঐ দিন মোকদ্দমার শুনানি সংগঠিত হবে।

Rule 1-
On the day fixed in the summons for the defendant to appear and answer, the parties shall be in attendance at the Court-house in person or by their respective pleaders and the suit shall then be heard unless the hearing is adjourned to a future day fixed by the Court.
২৪.
পক্ষসমূহের অপসংযোগ সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি আদালতে কখন উত্থাপন করতে হবে?
  1. মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে
  2. বিচার্য বিষয় নির্ধারনের সময়
  3. বিচার্য বিষয় নির্ধারনের পূর্বে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
• পক্ষসমূহের অসংযোগ বা অপসংযোগ (Non-Joinder and Mis-Joinder of Parties)-
মোকদ্দমার প্রয়োজনীয় পক্ষদের পক্ষভুক্ত না করাকে পক্ষাভাব বা Non-Joinder of parties বলে। অন্যদিকে কোন ব্যক্তিকে মোকদ্দমায় পক্ষভুক্ত করলে তাকে অপসংযোগ বা Mis-Joinder of Parties বলে। ভুল ব্যক্তির নামে মোকদ্দমা হলে বা ভুল ব্যক্তিকে পক্ষভুক্ত করা হলে, আদালত তাকে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে কর্তন (strike out) বা বাদ অথবা স্থলাভিষিক্ত বা সংযোজিত (Add/Substitute) করতে পারে দিতে পারে।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ১নং আদেশের ১৩নং বিধিমতে,
পক্ষসমূহের অপসংযোগ (Mis-Joinder of Parties) বা অসংযোগ (Non-Joinder) সংক্রান্ত যে কোন আপত্তি সম্ভাব্য ১ম সুযোগে (at earliest possible opportunity) অথবা বিচার্য বিষয় নির্ধারনের সময় অথবা পূর্বে উত্থাপন করতে হবে।

Order 1 Rule 13: Objections as to nonjoinder or misjoinder-
All objections on the ground of nonjoinder or misjoinder of parties shall be taken at the earliest possible opportunity and, in all cases where issues are settle, at or before such settlement, unless the ground of objection has subsequently arisen, and any such objection not so taken shall be deemed to have been waived.
২৫.
মিথ্যা সাক্ষ্য কর্তৃক 'চ'-কে ডাকাতির দায়ে দণ্ডিত করার অভিপ্রায়ে 'ক' আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে। ডাকাতির সাজা হচ্ছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ডসহ বা অর্থদণ্ড ছাড়া দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ড। সুতরাং, এক্ষেত্রে 'ক' কী শাস্তি পেতে পারে?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  2. অর্থদণ্ডসহ কারাদণ্ড
  3. অর্থদণ্ড ছাড়া কারাদণ্ড
  4. ক বা খ বা গ
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ১৯৫ ধারার বিধান- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দণ্ডিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্যদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করা:
কোন ব্যক্তি যদি বর্তমানে বলবৎ কোন আইনবলে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় নয়, কিন্তু যাবজ্জীবন কিংবা সাত বৎসর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে অন্য কোন ব্যক্তিকে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যে অথবা উক্ত অন্য কোন ব্যক্তি অনুরূপ অপরাধে দণ্ডিত হতে পারে জানা সত্ত্বেও মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি পূর্বোলিখিত অপরাধে কোন ব্যক্তি অপরাধী সাব্যস্ত হলে তাকে যে দণ্ডে দণ্ডিত করা যেত, সে দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ-
মিথ্যা সাক্ষ্য কর্তৃক 'চ'-কে ডাকাতির দায়ে দণ্ডিত করার অভিপ্রায়ে 'ক' আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে। ডাকাতির সাজা হচ্ছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ডসহ বা অর্থদণ্ড ছাড়া দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ড। সুতরাং 'ক' যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডসহ বা ছাড়া কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
২৬.
মোকদ্দমা খারিজ আদেশ প্রত্যাহার করা হলে, মোকদ্দমাটি-
  1. উভয় পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে চালু হবে
  2. খারিজ আদেশ দেয়ার পূর্বে যে পর্যায়ে অবস্থিত ছিল, সেই অবস্থা থেকে চালু হবে
  3. বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে চালু হবে
  4. বিবাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থগিত থাকবে
ব্যাখ্যা
মোকদ্দমা খারিজ আদেশ প্রত্যাহার করা হলে- মোকদ্দমাটি খারিজ আদেশ দেয়ার পূর্বে যে পর্যায়ে অবস্থিত ছিল, সেই অবস্থা থেকে চালু হবে।

• আদেশ ৯ বিধি-১৫ঃ
যেক্ষেত্রে কোন মোকদ্দমার খারিজ সংক্রান্ত আদেশ ৪ কিংবা ৯নং বিধির অধীনে কিংবা ৩১নং বিধির অধীনে কোন ডিক্রি রদ করা হয়, সেক্ষেত্রে মোকদ্দমাটি পুনর্বহাল করার পরিপ্রেক্ষিতে, খারিজ করার আদেশ দান কিংবা ডিক্রি দেয়ার অব্যবহিত পূর্বে যে পর্যায়ে অবস্থিত ছিল, উক্ত পর্যায় হতে মোকদ্দমাটি চালু করা হবে।

[Where the dismissal of a suit is set aside under rule 4 or rule 9, or a decree is set aside under rule 13, the suit shall, on restoration, proceed from the stage where it was immediately before the making of the order of dismissal or passing of the decree.]
২৭.
আদেশ ১৩ বিধি ১০ এর অধীনে শপথনামায় কোন বিষয় উল্লেখ করা আবশ্যক?
  1. মামলা বাতিলের কারণ
  2. তলবকৃত রেকর্ডের প্রয়োজনীয়তা
  3. মামলাটি চলমান রাখার কারণ
  4. তলবকৃত রেকর্ড সাক্ষ্য আইনের অধীনে অগ্রহণযোগ্য
ব্যাখ্যা

আদেশ ১৩ বিধি ১০: আদালতের নিজ নথি বা অন্যান্য আদালত থেকে নথি তলবের ক্ষমতা:
(১) আদালত নিজের উদ্যোগে (suo motu), অথবা মামলার যে কোনো পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার বিবেচনায়— নিজেদের রেকর্ড থেকে বা অন্য কোনো আদালত থেকে অন্য কোনো মামলা বা কার্যধারার রেকর্ড তলব করতে পারে এবং সেই রেকর্ড পরিদর্শন করতে পারে।

(২) এই বিধির অধীনে করা প্রতিটি আবেদনকে (যদি না আদালত ভিন্ন নির্দেশ দেয়) শপথনামা দ্বারা সমর্থিত হতে হবে, যেখানে উল্লেখ থাকবে- তলবকৃত রেকর্ডটি কীভাবে বর্তমান মামলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বা প্রয়োজনীয়, এবং আবেদনকারী যুক্তিসঙ্গত সময় বা ব্যয় ছাড়া ঐ রেকর্ড কিংবা তার প্রয়োজনীয় অংশের প্রামাণিক নকল কপি সংগ্রহ করতে সক্ষম নয়, অথবা ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসল নথি উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

(৩) এই বিধির কোনোকিছুই এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না যাতে আদালত এমন কোনো নথিকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে
যা সাক্ষ্য আইনের অধীনে অগ্রহণযোগ্য (inadmissible)।

২৮.
দেওয়ানি মোকদ্দমার ক্ষেত্রে রিভিশন আদালতের বিবেচ্য বিষয় কোনটি?
  1. দ্বিপক্ষীয় ভুল
  2. তথ্যগত ভুল
  3. পদ্ধতিগত ভুল
  4. আইনগত ভুল
ব্যাখ্যা
⇒ কোন ডিক্রি বা আদেশ আপিলযোগ্য না হলে, কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান না থাকলে অথবা কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান থাকার পরও উক্ত ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা না হলে সেক্ষেত্রে রিভিশন দায়ের করা করা যায়।
⇒ কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে একবার আপিল করা হলে উক্ত আপিলে প্রদত্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিশন করা যায়, কেননা দেওয়ানী কার্যবিধিতে ২য় আপিলের বিধান নেই।
⇒ ১১৫ ধারার বর্তমান বিধান অনুযায়ী কেবলমাত্র ডিক্রি বা আদেশ দ্বারা সংক্ষুদ্ধ যে কোন পক্ষ রিভিশন দায়ের করতে পারে, কিন্তু আগের মত আদালত কর্তৃক স্বেচ্ছাপ্রণোদিত (suo moto) হওয়ার বিধান নেই।
⇒ রিভিশন হল সম্পূর্ণ বিবেচনামূলক প্রতিকার এবং রিভিশনকে অধিকার হিসাবে দাবি করা যায় না।  আপিলের ন্যায় রিভিশন বিচারকার্যের চলমান অবস্থা নয়।
⇒ রিভিশন (Revision)- রিভিশন হলো উচ্চতর আদালতের পুনর্বিবেচনামূলক প্রতিকার। উচ্চতর আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত নিম্নতর আদালতের উপর তদারকি ক্ষমতা হলো রিভিশন। দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় মামলার বিচারকার্যে রিভিশন প্রযোজ্য। রিভিশনের ক্ষমতাকে তদারকি ক্ষমতা বা ন্যায়বিচার সম্পন্ন করার ক্ষমতা বা নথিপত্র তলব করার ক্ষমতাও বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশনের বিধান রয়েছে।
⇒ দেওয়ানী মামলায় রিভিশনের শর্ত- ২০০৩ সালে দেওয়ানী কার্যবিধি পরিবর্তনের মাধ্যমে দেওয়ানী রিভিশনের বিধানে ব্যাপক পরিবর্তন আনয়ন করা হয়। বর্তমানে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে রিভিশন করা যায়-
⇒ সাধারণত রিভিশন এখতিয়ারে আদালত ঘটনার প্রশ্ন (question of fact) বিবেচনা করে না। যেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নে (question of law) ভুল ও ন্যায় বিচার বিঘ্ন ঘটে, সেক্ষেত্রে আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
অর্থাৎ শুধুমাত্র আইনগত ভুলের কারণে ন্যায় বিচার বিঘ্ন ঘটলেই আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-১১৫ এর বিধান রিভিশন।
-১) কোন মোকদ্দমায় কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় জেলা জজ আদালত বা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত কর্তৃক ডিক্রি বা আদেশ প্রদত্ত হলে, বা যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক ডিক্রি প্রদত্ত হলে, যার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা চলে না; সংক্ষুব্ধ পক্ষের আবেদনে হাইকোর্ট ডিভিশন তার নথি তলব করতে পারবেন; এবং ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা সমাপণ করিয়ে এই ডিক্রি বা আদেশে উক্ত আদালত আইনে ভ্রান্তি করেছে মর্মে দৃশ্যমান হলে হাইকোর্ট ডিভিশন এই ডিক্রি বা আদেশ সংশোধন করতে পারবেন, কিংবা তা যে-রূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।
-২) যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না, কোন যুগ্ম জেলা জজ আদালত, সিনিয়র সহকারী জজ আদালত বা সহকারী জজ আদালত উক্তরূপ কোন আদেশ প্রদান করলে সংক্ষুব্ধ পক্ষের দরখাস্তের প্রেক্ষিতে জেলা জজ আদালত এই মোকদ্দমা বা কর্মপ্রক্রিয়ায় নথি তলব করতে পারবেন; এবং ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা অবসান করিয়ে এই আদেশে উক্ত আদালত আইনে ভ্রান্তি করেছে মর্মে দৃশ্যমান হলে জেলা জজ আদালত উক্ত আদেশ সংশোধন করতে পারবে এবং তা যে-রূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।
-৩) জেলা জজ রিভিশন মোকদ্দমা হস্তান্তর করলে উপধারা (২) এর অধীনে জেলা জজের সকল সর্বময় ক্ষমতা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে থাকবে।
-৪) ন্যায়বিচারের ব্যর্থতার অবসান করিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত প্রদান করলে প্রয়োজনীয় আইনের প্রশ্নে ভুলের যেক্ষেত্রে হাইকোর্ট ডিভিশন রিভিশনের অনুমতির অনুমোদন দেয়, সেক্ষেত্রে উপধারা (২) বা (৩) এর অধীনে প্রদানকৃত জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজের আদেশ পুনর্বিবেচনার উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট ডিভিশনে আবেদন করা চলবে, এবং হাইকোর্ট ডিভিশন তা যে-রূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা বা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।
-৫) এই ধারাটির প্রতিস্থাপনে যেটাই বর্ণিত থাকুক না কেন, ঐরূপ প্রতিস্থাপনের পূর্বে ১১৫নং ধারার অধীনে আরম্ভ হওয়া বা ঝুলন্ত থাকা কর্মপ্রক্রিয়া যেরূপে নিষ্পত্তি হবে যেন ১১৫নং ধারা প্রতিস্থাপিত হয়নি।
২৯.
আদালত বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করতে কোন দলিলের বিষয়বস্তু বিবেচনায় নিতে পারে?
  1. কেবল আদালতের নিজস্ব নথি
  2. যে কোনো পক্ষ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিল
  3. কেবল বাদীর দাখিলকৃত দলিল
  4. কেবল সাক্ষী কর্তৃক দাখিলকৃত দলিল
ব্যাখ্যা

আদেশ ১৪ বিধি-৩: যে সকল বিষয় হতে বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করা যায়:
আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর সকল কিংবা যে কোনটি থেকে বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করতে পারেন-
ক) পক্ষগণ কর্তৃক কিংবা তাদের পক্ষে উপস্থিত কোন ব্যক্তিগণ কর্তৃক কিংবা উক্তরূপ ব্যক্তিসমূহের উকিলগণ কর্তৃক শপথের মাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ;
খ) আরজি জবাবে কিংবা মোকদ্দমায় প্রদত্ত প্রশ্নমালার উত্তরে রচিত অভিযোগসমূহ;
গ) কোন পক্ষ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিল পত্রের বিষয়বস্তু।

৩০.
আদেশ ১৮ বিধি ৪ এর অধীনে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. আদালতের বাইরে
  2. সাক্ষীর ইচ্ছামত স্থানে
  3. উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে নির্ধারিত স্থানে
  4. নির্ধারিত প্রকাশ্য আদালতে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮ বিধি ৪ (প্রকাশ্য আদালতে সাক্ষীদের জবানবন্দি)-
হাজির হওয়া সাক্ষীদের সাক্ষ্য বিচারকের উপস্থিতিতে, ব্যক্তিগত নির্দেশনায় এবং তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্য আদালতে মৌখিকভাবে গ্রহণ করতে হবে।

[Witnesses to be examined in open Court-
The evidence of the witnesses in attendance shall be taken orally in open Court in the presence and under the personal direction and superintendence of the Judge.]
৩১.
একজন উইলকারীর দুইজন নির্বাহক (executors) হচ্ছে A ও B । B এর অনুমতি আছে এই ভুল ধারণায় A, C এর সাথে উইলকারীর সম্পত্তি বিক্রয়ের জন্য একটি চুক্তি করেন। এক্ষেত্রে 'C'-
  1. চুক্তির সুনির্দিষ্ট পালন দাবি করতে পারে না
  2. চুক্তির সুনির্দিষ্ট পালন দাবি করতে পারে
  3. চুক্তির সংশোধন দাবি করতে পারে
  4. উল্লিখিত যেকোনো প্রতিকার পাবে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৮ ধারা: যে পক্ষগণকে কাজ সম্পাদনে বাধ্য করা যাবে না- নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন চুক্তিবদ্ধ পক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকরী করা যাবে না:

(ক) যদি চুক্তির তারিখে বিরাজমান বিষয়বস্তুর অবস্থার তুলনায় তৎকর্তৃক গৃহীতব্য প্রতিদান এতই অপর্যাপ্ত হয় যে, তা নিজে বা অপরাপর পরিস্থিতির সহযোগে প্রতারণা বা বাদী কর্তৃক অন্যায় সুবিধা গ্রহণের সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়;

(খ) যদি চুক্তির অধীন যে পক্ষ কর্তৃক কাজ সম্পাদন করা কর্তব্য হয়, সেই পক্ষের সম্মতি ভুল বিবরণ (ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত) গোপন চক্রান্ত বা অসদাচরণের মাধ্যমে অর্জন করা হয়ে থাকে বা তেমন পক্ষের এমন কোন আশ্বাস প্রদানের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে, যা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিপূর্ণ করা হয়নি;

(গ) যদি ভুল তথ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বা ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে বা অপ্রত্যাশিতভাবে তার সম্পত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে।

তবে শর্ত থাকে যে, যখন চুক্তিতে ভুলের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের বিধান থাকে তখন তেমন বিধানের আওতার মধ্যে ভুলের জন্য ক্ষতিপূরণ করা যেতে পারে এবং যদি তেমন কার্যকরীকরণ যথাযথ হয় তবে অন্যান্য বিষয়ে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যেতে পারে।

⇒ এখানে সমস্যাটি হলো, A'র কাছে প্রকৃতপক্ষে সহ-নির্বাহক B এর অনুমতি ছিল না। সুতরাং A এবং B'র মধ্যকার চুক্তিটি আইনত বৈধ নয়। ফলস্বরূপ, C নির্দিষ্ট পালন বা স্পেসিফিক পারফরম্যান্স দাবি করতে পারবে না। কারণ চুক্তিটি ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে করা হয়েছিলো।

Section 28(c)-
if assent was given under the influence of mistake of fact, misapprehension or surprise:
Provided that, when the contract provides for compensation in case of mistake, compensation may be made for a mistake within the scope of such provision, and the contract may be specifically enforced in other respects if proper to be so enforced.

Illustrations- to clause (c)-
A, one of two executors, in the erroneous belief that he had the authority of his co-executor, enters into an agreement for the sale to B of his testator's property. B cannot insist on the sale being completed.
৩২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ অনুযায়ী, কোন অপরাধে পুলিশ যুক্তিসঙ্গত বিশ্বাসে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারে?
  1. মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ
  2. যাবজ্জীবন দণ্ডযোগ্য অপরাধ
  3. সাত বছরের বেশি শাস্তিযোগ্য অপরাধ
  4. উপর্যুক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির (Code of Criminal Procedure) ধারা ৫৪ এর অধীনে পুলিশ কর্মকর্তা নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারেন। এই ধারার তৃতীয় দফা (thirdly) অনুযায়ী, পুলিশ কর্মকর্তা যদি বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তিসঙ্গতভাবে বিশ্বাস করেন যে কোনো ব্যক্তি এমন একটি সনাক্তযোগ্য অপরাধ (cognizable offence) করেছেন, যা নিম্নলিখিত শাস্তিযোগ্য, তবে তিনি ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারেন:
- মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ,
- যাবজ্জীবন দণ্ডযোগ্য অপরাধ,
- সাত বছরের বেশি শাস্তিযোগ্য অপরাধ (জরিমানা সহ বা ছাড়া)।
ধারা ৫৪(১)-এর তৃতীয় দফায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, যদি পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থাকে যে কোনো ব্যক্তি এমন একটি সনাক্তযোগ্য অপরাধ করেছেন, যার শাস্তি সাত বছরের বেশি কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে, তাহলে তিনি ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারেন। এই শর্তে গ্রেপ্তারের জন্য অতিরিক্ত কারণ রেকর্ড করার প্রয়োজন হয় না, যেমনটা সাত বছরের কম শাস্তিযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে প্রয়োজন।
অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ অনুযায়ী, সঠিক উত্তর হলো: ঘ) উপর্যুক্ত সবগুলো।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 54.  When police may arrest without warrant:
(1) Any police-officer may, without an order from a Magistrate and without warrant, arrest-
firstly, any person who commits, in the presence of a police-officer, a cognizable offence;
secondly, any person against whom a reasonable complaint has been made, or credible information has been received, or a reasonable suspicion exists that he has committed a cognizable offence punishable with imprisonment for a term which may be less than seven years or which may extend to seven years, whether with or without fine, if the following conditions are satisfied, namely:-
    (i) the police-officer has reason to believe, on the basis of such complaint, information, or suspicion that such person has committed the said offence; and

    (ii) the police-officer is satisfied that such arrest is necessary-

        (a) to prevent such person from committing any further offence; or

        (b) for proper investigation of the offence; or

        (c) to prevent such person from causing the evidence of the offence to disappear or tampering with such evidence in any manner; or

        (d) to prevent such person from making any inducement, threat or promise to any person acquainted with the facts of the case so as to dissuade him from disclosing such facts to the Court or to the police-officer; or

        (e) as unless such person is arrested, his presence in the Court whenever required cannot be ensured;

            and the police-officer shall record while making such arrest, his reasons in writing:

            Provided that a police-officer shall, in all cases where the arrest of a person is not required under the provisions of this sub-section, record the reasons in writing for not making the arrest;

thirdly, any person against whom credible information has been received that he has committed a cognizable offence punishable with imprisonment for a term which may extend to more than seven years whether with or without fine, or with death sentence and the police-officer has reason to believe, on the basis of that information, that such person has committed the said offence;

fourthly, any person having in his possession without lawful excuse, the burden of proving which excuse shall lie on such person, any implement of house breaking;

fifthly, any person who has been proclaimed as an offender either under this Code or by order of the Government;

sixthly, any person in whose possession anything is found which may reasonably be suspected to be stolen property and who may reasonably be suspected of having committed an offence with reference to such thing;

seventhly, any person who obstructs a police-officer while in the execution of his duty, or who has escaped, or attempts to escape, from lawful custody;

eighthly, any person who is reasonably suspected of being a deserter from the armed forces of Bangladesh;

ninthly, any person who has been concerned in, or against whom a reasonable complaint has been made or credible information has been received or a reasonable suspicion exists of his having been concerned in, any act committed at any place out of Bangladesh, which, if committed in Bangladesh, would have been punishable as an offence, and for which he is, under any law relating to extradition, or otherwise, liable to be apprehended or detained in custody in Bangladesh;

tenthly, any released convict committing a breach of any rule made under section 565, sub-section (3);

eleventhly, any person for whose arrest a requisition, has been received from another police-officer, provided that the requisition specifies the person to be arrested and the offence or other cause for which the arrest is to be made and it appears therefrom that the person might lawfully be arrested without a warrant by the officer who issued the requisition.

(2) No police-officer shall arrest a person under this section for the purpose of detaining him under any law providing for preventive detention.

৩৩.
চুক্তি বলবৎকরণের মামলায় কখন আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি প্রদান করবেন না?
  1. বাদীর প্রতি অন্যায় সুবিধা থাকলে
  2. বিবাদীর প্রতি কঠোরতা বা কষ্ট সৃষ্টি করবে
  3. চুক্তি বলবৎ না করলে বাদীর প্রতি কঠোরতা বা কষ্ট সৃষ্টি হবে
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ২২ ধারায় বলা হয়েছে যে, চুক্তি বলবৎকরণের মামলায়, যদি বিবাদী প্রমাণ করতে পারে যে:
১) বাদীর প্রতি তার অন্যায় সুবিধা রয়েছে; এবং
২) চুক্তি বলবৎকরণ তার প্রতি কঠোরতা বা কষ্ট সৃষ্টি করবে; কিন্তু
৩) চুক্তি বলবৎ না করলে বাদীর প্রতি এরূপ কোন কঠোরতা সৃষ্টি হবে না;

তাহলে সেক্ষেত্রে আদালত তার বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে বিবাদীকে ক্ষতিপূরণ (solatium) প্রদান করতে পারবে। এই বিধানের মাধ্যমে আইন বিবাদীর স্বার্থরক্ষা করেছে। যদি চুক্তি বলবৎকরণ বিবাদীর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়, তাহলে আদালত ক্ষতিপূরণ বিধান দিয়ে বিবাদীকে অব্যাহতি দিতে পারবে।
৩৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৩ ধারার অধীনে গণ-উপদ্রব পুনরাবৃত্তি না করার আদেশ দিতে পারে কে?
  1. শুধু জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  2. শুধুমাত্র পুলিশ কমিশনার
  3. কোনো স্থানীয় জনপ্রতিনিধি
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৩ ধারা- ম্যাজিস্ট্রেট গণ-উপদ্রব পুনরাবৃত্তি করা বা অব্যাহত রাখা নিষিদ্ধ করতে পারবেন:
কোন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা সরকার বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রাপ্ত ক্ষমতায় ক্ষমতাবলে অন্য কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোন ব্যক্তির প্রতি দণ্ডবিধি বা কোন বিশেষ বা স্থানীয় আইনে উল্লেখিত গণ-উপদ্রবের পুনরাবৃত্তি না করার বা উহা অব্যাহত না রাখার আদেশ প্রদান করতে পারবেন।

Section 143- Magistrate may prohibit repetition or continuance of public nuisance:
A District Magistrate or any other Executive Magistrate] empowered by the Government or the District Magistrate in this behalf, may order any person not to repeat or continue a public nuisance, as defined in the Penal Code or any special law.
৩৫.
'Opinion as to handwriting, when relevant'- সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার বিষয়বস্তু কী?
  1. ৪২ ধারা
  2. ৪৬ ধারা
  3. ৪৭ ধারা
  4. ৪৯ ধারা
ব্যাখ্যা
Section 47- Opinion as to handwriting, when relevant:
When the Court has to form an opinion as to the person by whom any document was written or signed, the opinion of any person acquainted with the handwriting of the person by whom it is supposed to be written or signed that it was or was not written or signed by that person, is a relevant fact.

Explanation.– A person is said to be acquainted with the handwriting of another person when he has seen that person write, or when he has received documents purporting to be written by that person in answer to documents written by himself or under his authority and addressed to that person, or when, in the ordinary course of business, documents purporting to be written by that person have been habitually submitted to him.

• সাক্ষ্য আইনের ৪৭ ধারা- হস্তলিপি সম্বন্ধে অভিমত যেক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক:
একটি দলিল কোন ব্যক্তির দ্বারা লিখিত অথবা স্বাক্ষরিত হয়েছে সে সম্বন্ধে আদালতকে যখন কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয়, তখন যে ব্যক্তির দ্বারা এটা লিখিত অথবা স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সে ব্যক্তির দ্বারা এটা লিখিত বা স্বাক্ষরিত হচ্ছে বা হয়নি এ মর্মে উক্ত ব্যক্তির হস্তলিপির সঙ্গে পরিচিত কোন ব্যক্তির অভিমত প্রাসঙ্গিক পরিগণিত।

ব্যাখ্যা- এক ব্যক্তি যেক্ষেত্রে অন্য এক ব্যক্তিকে লিখতে দেখেছে অথবা যেক্ষেত্রে সে ব্যক্তির নিকট প্রেরিত নিজের লেখার বা নিজ কর্তৃত্বে লিখিত কোন নথির উত্তরে তার নিকট হতে তার দ্বারা লিখিত বলে প্রতীয়মান নথি পেয়েছে প্রতীয়মান কাগজপত্র বরাবর তার নিকট দাখিল হয়ে আসছে, সেক্ষেত্রে প্রথমোক্ত ব্যক্তির শেষোক্ত ব্যক্তির হস্তলিপির সঙ্গে পরিচিত বলে ধরা হয়।

⇒ উক্ত ধারামতে, একজন ব্যক্তির অভিমত অন্য ব্যক্তির হস্তলিপি বা হাতের লেখা প্রমাণের ক্ষেত্রে তখন প্রাসঙ্গিক হবে, যখন কোন ব্যক্তি-
- অপর ব্যক্তিকে লিখতে দেখেছে;
- অপর ব্যক্তির লিখিত কোন দলিল পেয়েছে;
- স্বাভাবিক কাজকর্ম হিসেবে যে ব্যক্তি অপর ব্যক্তির হাতের লেখার সাথে পরিচিত হয়েছে।
৩৬.
পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ এর বিধান কোন বিধিতে উল্লেখ আছে?
  1. আদেশ ৬ বিধি ৬
  2. আদেশ ৭ বিধি ৬
  3. আদেশ ৮ বিধি ৬
  4. আদেশ ৯ বিধি ৬
ব্যাখ্যা

• আদেশ ৮ বিধি ৬: লিখিত বর্ণনায় পারস্পরিক দায় শোধের বিবরণ-
১) যেক্ষেত্রে টাকা প্রদায় করার দাবীতে দায়ের করা মামলায় বাদীর নিকট থেকে বিবাদীর প্রাপ্য টাকা বাদীর দাবী পরিশোধ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে, এবং উক্ত প্রাপ্য টাকার পরিমাণ আদালতের এখতিয়ারের বাইরে না হয়, এবং বাদীর মামলা অনুযায়ী বিবাদীর দাবীর ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষ একই বৈশিষ্ট্যে পড়ে, তখন মোকদ্দমার প্রথম শুনানির তারিখে, আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে পরবর্তী সময়ে নয়, বিবাদী তার পাওনা টাকার বিস্তারিত সম্বলিত একটি লিখিত বিবৃতি দাখিল করতে পারবেন।

২) পারস্পরিক দাবী শোধের তাৎপর্য:
- এই লিখিত বিবৃতি ক্রস-মামলার আরজির সমতুল্য কার্যকরী হবে।
- আদালত এতে মূল দাবি এবং পারস্পরিক দাবী একত্রিত করে চূড়ান্ত রায় দিতে সক্ষম হবে।

তবে, ডিক্রির টাকার উপর ডিক্রির অধীনে উকিলের খরচের দাবী থাকলে, এটি এই প্রক্রিয়ায় প্রভাবিত হবে না।

৩) পারস্পরিক দাবী সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বিবাদীর লিখিত বিবরণের জন্য প্রযোজ্য নিয়মাবলী, প্রদত্ত লিখিত বিবৃতির উত্তর দানেও প্রযোজ্য হবে।

৩৭.
কোন অজানা ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটিত করলে, উক্ত বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত করবে-
  1. দায়রা আদালত
  2. প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট
  3. চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট
  4. উল্লিখিত সকলে
ব্যাখ্যা
ধারা ৫১২ (আসামীর অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণ)-

(১) যদি প্রমাণিত হয় যে, আসামী পালিয়েছে এবং তার গ্রেফতারের সম্ভাবনা নেই, সেক্ষেত্রে যে অপরাধ সম্পর্কে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই অপরাধের জন্য তাকে বিচার করার বা বিচারের জন্য প্রেরণ করার ক্ষমতা সম্পন্ন আদালত তার অনুপস্থিতিতে বাদীপক্ষ দ্বারা দাখিলকৃত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দী গ্রহণ করতে ও তা লিপিবদ্ধ করতে পারবেন। এরুপ সাক্ষী মারা গেলে বা সাক্ষ্য দিবার জন্য অযোগ্য হয়ে পড়লে অথবা বিলম্ব, ব্যয় বা অসুবিধা বহন করা মামলার অবস্থায় অযৌক্তিক হয়ে পড়লে প্রদত্ত সাক্ষ্য সে যে অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছে সেই অপরাধের ইনকোয়ারী বা বিচারে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে ।

(২) অপরাধী অজানা হলে সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণঃ
যদি প্রতীয়মান হয় যে, কোন অজানা ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ করেছে, তাহলে হাইকোর্ট ডিভিশন নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন যে, কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট এই বিষয়ে ইনকোয়ারী করবেন এবং অপরাধ সম্পর্কে যারা সাক্ষ্য দিতে পারেন তাদেরকে পরীক্ষা করবেন। এরূপ সাক্ষী মারা গেলে বা সাক্ষ্য দিবার অযোগ্য হয়ে পড়লে বা বাংলাদেশের সীমার বাহিরে থাকলে গৃহীত জবানবন্দী পরবর্তীকালে উক্ত অপরাধ অভিযুক্ত যে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে।

Section 512: Record of evidence in absence of accused
(1) If it is proved that an person has absconded, and that there is no immediate prospect of arresting him, the Court competent to try such person for the offence complained of may, in his absence, examine the witnesses (if any) produced on behalf of the prosecution, and record their depositions. Any such deposition may be given in evidence against him on the inquiry into, or trial for, the offence with which he is charged, if the deponent is dead or incapable of giving evidence or his attendance cannot be procured without an amount of delay, expense or incon- venience which, under the circumstances of the case, would be unreasonable.

(2) Record of evidence when offender unknown.-
If it appears that an offence punishable with death or transportation has been committed by some person or persons unknown, the High Court Division may direct that any Magistrate of the first class shall hold an inquiry and examine any witnesses who can give evidence concerning the offence. Any depositions so taken may be given in evidence against any person who is subsequently accused of the offence, if the deponent is dead or incapable of giving evidence or beyond the limits of Bangladesh.
৩৮.
What does Section 362 of The Penal Code, 1860 specifically deal with?
  1. Force
  2. Assault
  3. Abduction
  4. Kidnapping
ব্যাখ্যা
Section 362- Abduction:
Whoever by force compels, or by any deceitful means induces, any person to go from any place, is said to abduct that person.

⇒ দণ্ডবিধির ৩৬২ ধারা- অপহরণ বা মনুষ্যহরণ:
যদি কোন ব্যক্তি, অপর কোন ব্যক্তিকে কোন স্থান হতে গমন করার জন্য জোরপূর্বক বাধ্য করে বা কোন প্রতারণামূলক উপায়ে প্রলুব্ধ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি অনুরূপ ব্যক্তিকে অপহরণ করে বলে গণ্য হবে।
৩৯.
রহিম, আলীকে ১০০,০০০ টাকা ধার দিয়েছিলেন। তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার ১ মাস আগেই আলী, রহিমকে ২০,০০০ টাকা পরিশোধ করলেন এবং লিখিত স্বীকৃতি দিলেন। এই ক্ষেত্রে তামাদির নতুন মেয়াদ কখন থেকে শুরু হবে?
  1. মূল ঋণ গ্রহণের তারিখ থেকে
  2. তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ থেকে
  3. ২০,০০০ টাকা পরিশোধের তারিখ থেকে
  4. আদালতে মামলা দায়ের করার তারিখ থেকে
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী, যখন আংশিক পরিশোধ করা হয় এবং লিখিত স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তখন সেই পরিশোধের তারিখ থেকে নতুন তামাদির মেয়াদ শুরু হয়। এক্ষেত্রে, ২০,০০০ টাকা পরিশোধের তারিখ থেকে তামাদির নতুন মেয়াদ কখন থেকে শুরু হবে।

সুতরাং ২০ ধারা অনুযায়ী-
ঋণ বা দেনার ক্ষেত্রে তামাদির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই আংশিকভাবে কোন ঋণ বা সুদ পরিশোধ করলে, উক্ত অর্থ প্রদানের তারিখ থেকে নতুন করে তামাদির সময় শুরু হয়। অর্থাৎ কোন দেনা আংশিক পরিশোধ করলে পরিশোধের তারিখ হতে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে। তবে এই ক্ষেত্রে দেনা পরিশোধ অবশ্যই লিখিত এবং স্বাক্ষরিত হতে হবে।

Section 20: Effect of payment on account of debt as of interest on legacy-
(1) Where payment on account of a debt or of interest on a legacy is made before the expiration of the prescribed period by the person liable to pay the debt or legacy, or by his duly authorized agent, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the payment was made:

Provided that, save in the case of a payment of interest made before the 1st day of January, 1928, an acknowledgment of the payment appears in the handwriting of, or in a writing signed by the person making the payment.
৪০.
নিচের কোনটি সাক্ষ্য আইনের ৪৪ ধারার আওতায় পড়ে?
  1. আদালত রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষমতাসম্পন্ন ছিল না
  2. আদালতের রায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে নেওয়া হয়েছিল
  3. আদালতের রায় প্রতারণামূলকভাবে নেওয়া হয়েছিল
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৪৪ ধারা-
যে কোনো মামলা বা অন্যান্য কার্যধারার পক্ষ নিজেকে প্রমাণ করার জন্য দেখাতে পারে যে, যে কোনো রায়, আদেশ বা ডিক্রি, যা ৪০, ৪১ বা ৪২ ধারার অধীনে প্রাসঙ্গিক, এবং যা বিপক্ষ পক্ষ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে, তা হয় একটি অযোগ্য আদালত দ্বারা প্রদান করা হয়েছে অথবা প্রতারণা (Fraud) বা ষড়যন্ত্র (Collusion) করে প্রাপ্ত হয়েছে।

[Any party to a suit or other proceeding may show that any judgment, order or decree which is relevant under section 40, 41 or 42, and which has been proved by the adverse party, was delivered by a Court not competent to deliver it, or was obtained by fraud or collusion.]
৪১.
দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩১০ কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. চুরির সংজ্ঞা
  2. ঠগের সংজ্ঞা
  3. শাস্তির প্রকারভেদ
  4. মানহানি সংজ্ঞা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩১০ ধারায় ঠগের সংজ্ঞা (Thug) রয়েছে। খুন অথবা খুন সহকারে দস্যুতা সংঘটন অথবা শিশু অপহরণ করার উদ্দেশ্যে দুষ্টু মন নিয়ে মেলামেশা করাকে ঠগ (Thug) বলে। অর্থাৎ অভ্যাসগতভাবে কাউকে খুন বা শিশু অপহরন করে দস্যুতার উদ্দেশ্যে মেলামেশা করাকে ঠগ বলা হয়। সমস্ত ঠগই দস্যু এবং ডাকাত কিন্তু সমস্ত দস্যু বা ডাকাত ঠগ নয়।
⇒ দণ্ডবিধির ৩১১ ধারার বিধান ঠগের শাস্তি:-কোন ব্যক্তি যদি ঠগ হয়, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
------
⇒ The Penal Code, 1860: Section 310: Thug:
-Whoever, at any time after the passing of this Act, shall have been habitually associated with any other or others for the purpose of committing robbery or child-stealing by means of or accompanied with murder, is a thug.
⇒ The Penal Code, 1860: Section 311:Punishment:
- Whoever is a thug, shall be punished with imprisonment for life, and shall also be liable to fine.
৪২.
চুরিকৃত সম্পদের মূল্য সর্বোচ্চ________ টাকা হলে, উক্ত মামলা সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার করা যাবে।
  1.  ১০ হাজার
  2. ৫০ হাজার
  3. ১ লাখ
  4. ৫ লাখ
ব্যাখ্যা

ধারা ২৬০: সংক্ষিপ্ত শুনানিতে বিচার করার ক্ষমতা:
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট, এবং প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা সম্পন্ন বেঞ্চ কিছু অপরাধ সংক্ষিপ্ত (summary) শুনানিতে বিচার করতে পারবেন।
 
সংক্ষিপ্ত শুনানিতে বিচারযোগ্য অপরাধসমূহ:
- মৃত্যুদণ্ড, জেল বা দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড নয় এমন অপরাধ।
- ওজন ও মাপ সম্পর্কিত অপরাধ (দণ্ডবিধির ২৬৪, ২৬৫, ২৬৬ ধারা)।
- আঘাত প্রদান (ধারা ৩২৩)।
- চুরি (ধারা ৩৭৯, ৩৮০, ৩৮১) যেখানে সম্পদের মূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি নয়।
- অবৈধ দখল/দুর্ব্যবহার (ধারা ৪০৩) যেখানে সম্পদের মূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি নয়।
- চুরি করা সম্পদ গ্রহণ বা রাখা (ধারা ৪১১), মূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি নয়।
- চুরি করা সম্পদ লুকানো বা নষ্ট/বিক্রি করতে সহায়তা (ধারা ৪১৪), মূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি নয়।
- দূষণ বা ক্ষতি/বিরূপ কার্য (ধারা ৪২৬, ৪২৭)।
- অবৈধ প্রবেশ এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধ (ধারা ৪৪৭, ৪৪৮, ৪৫১, ৪৫৩, ৪৫৪, ৪৫৬, ৪৫৭)।
- শান্তি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে গালাগালি বা উসকানি, এবং ভয়ভীতি সৃষ্টির অপরাধ (ধারা ৫০৪, ৫০৬, ৫০৯, ৫১০)।
- নির্বাচনে ঘুষ গ্রহণ বা ব্যক্তি প্রতিস্থাপন (personation) (ধারা ১৭১E, ১৭১F)।

- উপরের কোনো অপরাধের উসকানি বা সহায়তা।
- উপরের কোনো অপরাধ করার চেষ্টা, যদি তা অপরাধ হয়।
- গবাদি পশু অনধিকার প্রবেশ (Cattle-trespass Act, 1871 ধারা ২০)।

শর্ত: যেসব ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট ধারা ৩৩ক অনুযায়ী বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, সেই মামলাগুলি সংক্ষিপ্ত শুনানিতে বিচারযোগ্য নয়।

৪৩.
কোন আইনে প্রদত্ত সব সংজ্ঞা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে সমভাবে প্রযোজ্য হয়?
  1. The Contract Act, 1872
  2. The Evidence Act, 1872
  3. The Registration Act, 1908
  4. The Code of Civil Procedure, 1908
ব্যাখ্যা
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ৩ ব্যাখ্যামূলক অনুচ্ছেদে বলা আছে, চুক্তি আইনে যে-সব শব্দের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে এমন যে-সব শব্দ এই আইনে ব্যবহৃত হয়েছে, তার অর্থ উক্ত আইনে অনুরূপ শব্দগুলোর যে অর্থ করা হয়েছে সেরূপ একই অর্থবোধক গণ্য করা হবে।
-----------------
- Section-3: Words defined in Contract Act:
-All words occurring in this Act, which are defined in the Contract Act, 1872, shall be deemed to have the meanings respectively assigned to them by that Act.
৪৪.
সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী, কোন পরিস্থিতিতে একজন মৃত ব্যক্তির বিবৃতি প্রাসঙ্গিক হতে পারে?
  1. স্বার্থবিরোধী বিবৃতি
  2. উক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত বিবৃতি
  3. মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত বিবৃতি
  4. জীবিত থাকা অবস্থায় করা বিবৃতি
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত বিবৃতি।
→ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারায় বলা হয়েছে যে, যখন একজন ব্যক্তি মারা যান অথবা নিখোঁজ হন, তার তখনকার বিবৃতি কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালতে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। এর মধ্যে একটি হলো মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত বিবৃতি (dying declaration)। যদি কোনো ব্যক্তি মৃত্যুর পূর্বে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিবৃতি দিয়ে থাকে, তা তখন আদালতে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে, কারণ এই বিবৃতিটি সরাসরি তার মৃত্যুর কারণকে প্রমাণ করার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।
অন্য যে কোনো বিবৃতি, যেমন উক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত বা স্বার্থবিরোধী বিবৃতি, এই ধারায় প্রাসঙ্গিক নয়, কারণ এটি মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত নয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে, আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারণ সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণা (dying declaration);
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি (statement made in course of business);
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরণের মামলার উদ্ভব করতে পারে (statement against interest of maker);
iv) সর্বসাধারণের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত (opinion as to public right or custom, or matters of general interest);
v) পারিবারিক দলিল বা উইল (statement made in will or deed relating to family affairs);
vi) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি (relates to existence of relationship);
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি (Statement made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question).
-----------
-The Evidence Act, 1872, Section-32: Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant.
- When it relates to cause of death;
or is made in course of business;
or against interest of maker;
or gives opinion as to public right or custom, or matters of general interest;
or relates to existence of relationship;
or is made in will or deed relating to family affairs;
or in document relating to transaction mentioned in section 13, clause (a);
or is made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question

Illustrations:
(a) The question is, whether A was murdered by B; or
A dies of injuries received in a transaction in the course of which she was ravished. The question is whether she was ravished by B; or
The question is whether A was killed by B under such circumstances that a suit would lie against B by A's widow.
Statements made by A as to the cause of his or her death, referring respectively to the murder, the rape and the actionable wrong under consideration are relevant facts.
৪৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা অনুসারে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের মামলা দায়ের করতে হবে কত বছরের মধ্যে?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ মাস
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুযায়ী: "চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ (Specific Performance of Contract) সম্পর্কিত মামলা দায়ের করার তামাদি সময়সীমা ১ বছর, এবং এই সময়সীমা গণনা শুরু হবে যেদিন বাদীর সেই বলবৎকরণ চাওয়ার অধিকার উদ্ভব হয় সেই তারিখ থেকে।"
- তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুসারে, চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের (Specific Performance) মামলার তামাদি মেয়াদ ১ বছর।
- এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় চুক্তিভঙ্গের তারিখ থেকে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী ৪টি ক্ষেত্রে চুক্তি বলবৎ করার জন্য মামলা করা যায়
(১) সম্পত্তিটি যদি সম্পূর্ণ/আংশিক ট্রাস্ট এর অন্তর্ভুক্ত হয়,
(২) ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব না হল,
(৩) টাকা দিয়ে ক্ষতিপূরণ সম্ভব না হল,
(৪) ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে।
-তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুযায়ী ১২ ধারার মামলা ১ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারার বিধান: যেসব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদায়যোগ্য: 
যদি এ অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, তবে যে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে:
(ক) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হয়;
(খ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না;
(গ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না; অথবা
(ঘ) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।
ব্যাখ্যা: যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত এটা অবশ্যই ধরে নিবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার তেমনভাবে করা যায়।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section-12. Cases in which specific performance enforceable:
Except as otherwise provided in this Chapter, the specific performance of any contract may in the discretion of the Court be enforced-
(a) when the act agreed to be done is in the performance, wholly or partly, of a trust;
(b) when there exists no standard for ascertaining the actual damage caused by non-performance of the act agreed to be done;
(c) when the act agreed to be done is such that pecuniary compensation for its non-performance would not afford adequate relief; or
(d) when it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the non-performance of the act agreed to be done.
Explanation - Unless and until the contrary is proved, the Court shall presume that the breach of a contract to transfer immoveable property cannot be adequately relieved by compensation in money, and that the breach of a contract to transfer moveable property can be thus relieved.

৪৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় দায়রা জজকে হাইকোর্ট বিভাগের মত রিভিশন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে?
  1. ৪৩৫
  2. ৪৩৯
  3. ৪৩৯ক
  4. ৪৪২ক
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯ক (Section 439A)-এ স্পষ্টভাবে দায়রা জজকে (Sessions Judge) রিভিশনাল ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে, যা হাইকোর্ট বিভাগের অধীনে ধারা ৪৩৯ অনুযায়ী প্রয়োগ করা যায়।
এই ধারায় বলা হয়েছে “Sessions Judge may exercise all or any of the powers which may be exercised by the High Court Division under section 439.”
অর্থাৎ, দায়রা জজ নিজেই কোনো মামলার নথি সংগ্রহ করে বা নিজ দৃষ্টিগোচরে আসলে রিভিশন করতে পারেন এবং হাইকোর্ট বিভাগের মতই সকল রিভিশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।
এছাড়া, উপধারা (২) অনুযায়ী, দায়রা জজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, এবং ওই বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগে দ্বিতীয়বার রিভিশন করা যাবে না।
উপধারা (৩) অনুযায়ী, অতিরিক্ত দায়রা জজের নিকট যদি কোনো রিভিশনাল মামলা সাধারণ বা বিশেষ আদেশে অর্পিত হয়, তাহলে তিনিও দায়রা জজের সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।
- অর্থাৎ, ধারা ৪৩৯ক-ই হলো সেই নির্দিষ্ট বিধান যেখানে দায়রা জজকে হাইকোর্ট বিভাগের মত রিভিশন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

⇒ রিভিশন হলো নিম্ন আদালতের নথি পরীক্ষা করে ঊর্ধ্বতন আদালত কর্তৃক ভুলত্রুটি সংশোধন করা। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৫ থেকে এবং ৪৪২ থেকে ৪৪২ক পর্যন্ত রিভিশন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে- ১. হাইকোর্ট বিভাগ এবং ২. দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ।
- ৪৩৯ক ধারায় দায়রা জজকে রিভিশন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের রিভিশন সংক্রান্ত যে সকল ক্ষমতা আছে দায়রা জজও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। ৪৩৯ক এর ৩ উপধারায় বলা হয়েছে দায়রা জজের কোন সাধারণ বা বিশেষ আদেশে কোন রিভিশনাল মামলা অতিরিক্ত দায়রা জজের নিকট প্রেরণ করা হলে অতিরিক্ত দায়রা জজ, দায়রা জজের সকল রিভিশনাল এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারবে।
- ধারা ৪৩৯ক এর ২ উপধারায় তে দেয়া আছে, দায়রা জজের নিকট রিভিশন দায়ের করা হলে উক্ত বিষয়ে দায়রা জজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে দ্বিতীয় রিভিশন দায়ের করা যাবে না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 - Section 439A- Sessions Judge's powers of revision:
(1) In the case of any proceeding the record of which has been called for by himself or which otherwise comes to his knowledge, the Sessions Judge may exercise all or any of the powers which may be exercised by the High Court Division under section 439.
(2) Where any application for revision is made by or on behalf of any person before the Sessions Judge, the decision of the Sessions Judge thereon in relation to such person shall be final.
(3) An Additional Sessions Judge shall have and may exercise all powers of a Sessions Judge under this Chapter in respect of any case which may be transferred to him under any general or special order of the Sessions Judge.
৪৭.
আদেশ ২১ বিধি-১ অনুসারে, ডিক্রির টাকা কীভাবে পরিশোধযোগ্য?
  1. আদালতে টাকা জমা দিয়ে
  2. ডিক্রিদারকে আদালতের বাহিরে টাকা দিয়ে
  3. ডিক্রি প্রদানকারী আদালতের নির্দেশে অন্য উপায়ে
  4. ক, খ বা গ
ব্যাখ্যা
আদেশ-২১, বিধি-১: ডিক্রির টাকা পরিশোধ:
১ নং বিধিমতে ডিক্রির টাকা ৩ ভাবে পরিশোধ করা যায়। যথা-
ⅰ) ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে টাকা জমা দিয়ে;
ii) ডিক্রিদারকে আদালতের বাহিরে টাকা দিয়ে; এবং
iii) ডিক্রি প্রদানকারী আদালতের নির্দেশে অন্য উপায়ে ডিক্রির টাকা পরিশোধ করা যায়।

Order-21 Rule-1: Modes of paying money under decree:
(1) All money payable under a decree shall be paid as follows, namely:−
(a) into the Court whose duty it is to execute the decree; or
(b) out of Court to the decree-holder; or
(c) otherwise as the Court which made the decree directs.
৪৮.
ত্রিশ বৎসরের পুরাতন দলিল সম্পর্কে আদালতের অনুমানের প্রকৃতি কি হইবে?
  1. দলিলটি চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof) 
  2. অবশ্যই সত্য বলিয়া ধরিয়া নিবেন (Shall presume)
  3. সত্য বলিয়া ধরিয়া নিতে পারেন (May presume)
  4. কোনটি নয়।
ব্যাখ্যা
⇒ ধারা ৯০ অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরনো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক মনে করবে যদি দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হয় এবং আদালতের দৃষ্টিতে সঠিক হেফাজত হতে দলিলটি আদালতে দাখিল করা হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারা অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরানো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয় বস্তুকে আদালত সঠিক বলে মনে করতে পারে আবার নাও করতে পারে। ৯০ ধারায় বলা হয়েছে ৩০ বছরের পুরানো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক বলে মনে করবে যদি দলিলটি সঠিক ব্যক্তির দখল থেকে আসে।

⇒ ৩০ বছরের পুরোনো দলিল সম্পর্কে আদালত May presume করেন। 

 ⇒৯০ ধারার অনুমান শুধুমাত্র মূল দলিলের জন্য। কোন প্রত্যয়িত কপি বা জাবেদা নকলের জন্য নয়।

⇒ এ ধারার বিধানের অনুযায়ী-

১. দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হতে হবে।
২. দলিলটি সঠিক ব্যক্তির হেফাজত হতে আদালতে দাখিল করতে হবে।

⇒ Presumption as to documents thirty years old:
Section 90. Where any document, purporting or proved to be thirty years old, is produced from any custody which the Court in the particular case considers proper, the Court may presume that the signature and every other part of such document, which purports to be in the handwriting of any particular person, is in that person's handwriting, and, in the case of a document executed or attested, that it was duly executed and attested by the persons by whom it purports to be executed and attested. 
 
⇒ Explanation.-Documents are said to be in proper custody if they are in the place in which, and under the care of the person with whom, they would naturally be; but no custody is improper if it is proved to have had a legitimate origin, or if the circumstances of the particular case are such as to render such an origin probable. 
 This explanation applies also to section 81. 
৪৯.
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আদালত কর্তৃক বাতিল না হওয়া পর্যন্ত বা সম্পাদিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে—এটি ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ধারা ৭৪(২) 
  2. ধারা ৭৫(১) 
  3. ধারা ৭৫(২) 
  4. ধারা ৭৬(২) 
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৭৫(২) অনুযায়ী আদালত কর্তৃক জারিকৃত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর থাকবে যতক্ষণ না আদালত সেটি বাতিল করে বা এটি সম্পাদিত হয়।
অর্থাৎ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয় না; এর কার্যকারিতা শেষ হয় কেবলমাত্র আদালতের বাতিলকরণে, অথবা গ্রেপ্তারের বাস্তবায়নে।
- তাই প্রশ্নে উল্লিখিত বিধানটি ধারা ৭৫(২) তে উল্লেখ আছে।
----------- 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-  75. Form of warrant of arrest Continuance of warrant of arrest:
(1) Every warrant of arrest issued by a Court under this Code shall be in writing, signed by the presiding officer, or in the case of a Bench of Magistrates, by any member of such Bench, and shall bear the seal of the Court. 
(2) Every such warrant shall remain in force until it is cancelled by the Court which issued it, or until it is executed.

৫০.
C উত্তরাধিকারসূত্রে একখণ্ড জমির মালিক হয়। D উক্ত জমির দখলে ছিল এবং সে জমির মালিকানা দাবি করে। এই ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারসূত্রে স্বত্বের উপর ভিত্তি করে সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য এবং D-কে উক্ত জমি হতে উচ্ছেদের জন্য C, কত ধারায় মামলা দায়ের করতে পারে?
  1. ৮ ধারায়
  2. ৯ ধারায়
  3. ১০ ধারায়
  4. ১১ ধারায়
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি বা সম্পত্তির দখল উদ্ধারের জন্য ৮ এবং ৯ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করা যেতে পারে। ৮ ধারায় বিধান করা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তিতে দখলের অধিকারী ব্যক্তি তা দেওয়ানী কার্যবিধিতে উল্লেখিত পন্থায় পুনরুদ্ধার করতে পারে। অন্যদিকে, ৯ ধারায় বিধান করা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি স্থাবর সম্পত্তি হতে তার সম্মতি ছাড়া এবং যথাযথ আইনগত পন্থা ব্যতী দখলচ্যুত হয়, তাহলে সে বা তার মাধ্যমে দাবীদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে, যদিও এইরুপ মামলায় অন্য যেকোন স্বত্ব দাবী করা যায়।

উদাহরণ-১:
C উত্তরাধিকারসূত্রে একখণ্ড জমির মালিক হয়। D উক্ত জমির দখলে ছিল এবং সে জমির মালিকানা দাবি করে। এই ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারসূত্রে স্বত্বের উপর ভিত্তি করে সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য এবং D-কে উক্ত জমি হতে উচ্ছেদের জন্য C, ৮ ধারায় মামলা দায়ের করতে পারে।

উদাহরণ-২:
C একখণ্ড জমির দখলে ছিল। D, C-কে সম্মতি এবং আইনগত পন্থা ব্যতীত উক্ত দখল হতে দখলচ্যুত করে । এই ক্ষেত্রে C তার পূর্ববর্তী দখলের উপর ভিত্তি করে দখল পুনরুদ্ধারের জন্য ৯ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে। এই ক্ষেত্রে স্বত্ব বা মালিকানা ছিল কি ছিলনা তা বিবেচ্য বিষয় না। পূর্ববর্তী দখল ছিল কিনা এবং সম্মতি ছাড়া এবং আইনগত পন্থা ব্যতীত দখলচ্যুত করা হয়েছে কিনা তা ৯ ধারায় বিবেচ্য বিষয়। ৮ ধারার মোকদ্দমা স্বত্ব বা দখলি স্বত্বের উপর ভিত্তি করে যে মামলা দায়ের করা হয়, সেটা উচ্ছেদের মামলা (a suit for ejectment on the basis of title) নামেও পরিচিত।
৫১.
ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক জামিন না-মঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে কোন আদালতে জামিনের আবেদন করা যাবে?
  1. জেলা জজ আদালত
  2. বিশেষ জজ আদালত
  3. দায়রা আদালত
  4. হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা
• আমরা জানি যে, জামিন আদেশ একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ। এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুস্পষ্ট বিধান ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই। তবে, ম্যাজিস্ট্রেটের জামিন না-মঞ্জুর আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে ৪৯৮ ধারায় আবেদন করা যায়। এ ধরনের আবেদনকে মিস আপিল/মামলা বলা হয়। ৪৯৮ ধারার বিধান অনুযায়ী আদালত যেকোনো সময় যেকোনো বিষয়ে আসামিকে আগাম জামিন দেওয়ার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।

• ৪৯৮ ধারার বিধানমতে নিম্নোক্ত আদালত আগাম জামিন মঞ্জুর করতে পারে:
১. হাইকোর্ট বিভাগ,
২. দায়রা আদালত।

তাছাড়া এই ধারা অনুসারে, হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত যেকোন ক্ষেত্রে যেকোন ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করার বা পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দাবিকৃত জামানত হ্রাস করার নির্দেশ দিতে পারেন।
৫২.
"Wrongful loss" এর উদাহরণ কী হতে পারে?
  1. কোনো ব্যক্তি সম্পত্তি ভুলভাবে হারানো
  2. কোনো ব্যক্তির অন্যের সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করা
  3. কোনো ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া অন্যের সম্পত্তি ব্যবহার করা
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
• Section 23- Wrongful loss:
"Wrongful loss" is the loss by unlawful means of property to which the person losing it is legally entitled.
"অন্যায্য ক্ষতি" হল অবৈধ উপায়ে এমন সম্পত্তির ক্ষতি যার উপর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আইনগত অধিকার রয়েছে।

"Wrongful loss" বা অবৈধ ক্ষতি বলতে এমন ক্ষতিকে বোঝানো হয়, যেখানে কোনো ব্যক্তি তার আইনগত অধিকার থাকা সত্ত্বেও অবৈধ উপায়ে তার সম্পত্তি হারায়। এর একটি উদাহরণ হল যখন কোনো ব্যক্তি অন্যের সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে নেয়। এটি "Wrongful loss" এর একটি  উদাহরণ, কারণ:
- অধিকারী ব্যক্তি তার সম্পত্তির উপর আইনগত অধিকার রাখে।
- অন্য ব্যক্তি অবৈধভাবে (যেমন চুরি বা দখল করে) সেই সম্পত্তি থেকে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, অর্থাৎ সম্পত্তি হারানো হয়।

এটি একটি অবৈধ ক্ষতি কারণ এখানে সম্পত্তির অধিকারী ব্যক্তির অনুমতি ছাড়াই তার সম্পত্তি দখল করা হচ্ছে, যা আইনসিদ্ধ নয়।
৫৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির অনুযায়ী কোনো নিঃস্ব ব্যক্তি (Pauper) গণ্য হবেন যদি মামলার সম্পত্তি ও প্রয়োজনীয় পোষাক পরিচ্ছদ ব্যতীত তার ______ টাকা না হয়।
  1. ৫০০
  2. ১০০০০
  3. ৫০০০
  4. ২০০০০
ব্যাখ্যা
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৩৩ বিধি-১ বিধান মতেঃ  নিঃস্ব হিসাবে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে (Suits may be instituted in forma pauperis): আদালত কর্তৃক নিঃস্ব ঘোষিত হলে নিঃস্ব ব্যক্তি হিসেবে মোকদ্দমা করা যায়।
- কোনো ব্যক্তি নিঃস্ব (Pauper) বলে গণ্য হবে যদি- মোকদ্দমা দায়ের করতে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি দিতে অক্ষম হয় বা যে ক্ষেত্রে কোন কোর্ট ফি নির্ধারিত নয় এবং সেক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু ও তার প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া ৫০০০ টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকে।
-------------
⇒ CPC Order-33 Rule-1. Suits may be instituted in forma pauperis:
Subject to the following provisions, any suit may be instituted by a pauper.

Explanation−A person is a "pauper" when he is not possessed of sufficient means to enable him to pay the fee prescribed by law for the plaint in such suit, or, where no such fee is prescribed, when he is not entitled to property worth five thousand Taka other than his necessary wearing-apparel and the subject-matter of the suit.
৫৪.
ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে মামলার চূড়ান্ত আদেশ হবার পূর্বে অভিযোগকারী নালিশ প্রত্যাহার করলে, আদালত কী সিদ্ধান্ত নেবে?
  1. মামলাটি স্থগিত করবে
  2. অভিযুক্তকে কারাগারে প্রেরণ করবে
  3. অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেবে
  4. অভিযুক্তকে খালাস দেবে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৮ এ অভিযোগকারী কর্তৃক নালিশ প্রত্যাহারের ফলাফল দেয়া হয়েছে-
ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে মামলার চূড়ান্ত আদেশ হবার পূর্বে যে কোন সময় অভিযোগকারী নালিশ প্রত্যাহার করতে পারে। অভিযোগকারী নালিশ প্রত্যাহার করলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে খালাস [Acquittal] দিবে।
---------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 248: Withdrawal of complaint:
If a complainant, at any time before a final order is passed in any case under this Chapter, satisfies the Magistrate that there are sufficient grounds for permitting him to withdraw his complaint, the Magistrate may permit him to withdraw the same, and shall thereupon acquit the accused.

৫৫.
'খ' একজন পুলিশ কর্মকর্তা আদালতের নির্দেশে 'ক'-কে আইনানুগভাবে গ্রেফতার করে। এতে 'ক 'প্রচণ্ডভাবে উত্তেজিত হয়ে 'খ' কে হত্যা করে। 'ক' পেনাল কোডের কোন ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে?
  1. দণ্ডবিধির ৩০০ ধারায়
  2. দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায়
  3. দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায়
  4. দণ্ডবিধির ৩০৪ক ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান খুন:- খুনের যে সবক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্দেশ করা হয়েছে। সে সকল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের জন্যই করা হয়ে থাকে, অথবা

দ্বিতীয়ত, যদি কার্যটি কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে দৈহিক আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, যে আঘাতের ফলে যে ব্যক্তিকে আঘাত দেওয়া হল, সে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে, অথবা

তৃতীয়ত, যদি কোন ব্যক্তিকে দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কার্যটি করা হয় এবং যদি যে দৈহিক আঘাত দেওয়ার অভিসন্ধি করা হয়েছে, সে আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়, অথবা

চতুর্থত, যদি যে ব্যক্তি কার্যটি অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তি জানে যে, কার্যটি এমন আশু বিপজ্জনক যে, ইহার দরুণ খুব সম্ভব মৃত্যু ঘটবে, অথবা ইহার দরুণ অবশ্যই এমন দৈহিক আঘাত ঘটবে, যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাবার বা অনুরূপ দৈহিক আঘাত ঘটাবার ঝুঁকি গ্রহণের অপর কোন অজুহাত ব্যতিরেকে অনুরূপ কার্য করে।

ব্যতিক্রম ১:- যেক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে না :- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনার ফলে অপরাধী আত্ম-সংযমশক্তি হারাইয়া ফেলে এবং যে ব্যক্তি প্ররোচনা দান করেছে, সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় অথবা ভুলক্রমে বা দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।

উপরোক্ত ব্যতিক্রমটি নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে:-

প্রথমত, প্ররোচনাটি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করার বা তার ক্ষতি সাধনের অজুহাতস্বরূপ অপরাধী কর্তৃক স্বয়ং প্রার্থীত বা প্ররোচিত হতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, উক্ত প্ররোচনাটি আইনানুসারে কৃত কোন কার্য দ্বারা বা কোন সরকারী কর্মচারীর সরকারী কর্মচারী হিসেবে যথাযোগ্য ক্ষমতাবলীর আইনসম্মত প্রয়োগসঞ্জাত হতে পারবে না।
তৃতীয়ত, প্ররোচনা আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের আইনসম্মত প্রয়োগক্রমে সম্পাদিত কোন কার্য পালন হতে পারবে না।

ব্যাখ্যা:- প্ররোচনাটি এমন মারাত্মক ও আকস্মিক ছিল কিনা, যার ফলে অপরাধটি খুনের শামিল হবে না, তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন।
উদাহরণ:
'চ' আইনসম্মতভাবে 'ক'-কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের ফলে 'ক' হঠাৎ ও আকস্মিকভাবে উত্তেজিত হয়ে 'চ'-কে হত্যা করে। এটা খুন, কেননা এটা উস্কানির ফলে একজন সরকারী কর্মচারী কর্তৃক তার ক্ষমতা প্রয়োগক্রমে কৃত একটি কাজ।

ব্যতিক্রম ২:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধী সরল মনে তার আত্মরক্ষার অথবা সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগক্রমে তাকে আইন প্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং যার বিরুদ্ধে সে এই অধিকার প্রয়োগ করে, কোনরূপ পূর্ব-পরিকল্পনা ব্যতীত অথবা অনুরূপ অধিকার রক্ষার জন্য যতটুকু ক্ষতিসাধন করা আবশ্যক, তদপেক্ষা বেশি ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা ব্যতিরেকে, তার মৃত্যু ঘটায়।

ব্যতিক্রম ৩:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি দোষী একজন সরকারী কর্মচারী হিসেবে অথবা সরকারী কর্মচারীর সহায়তাকারী হিসেবে তাকে প্রদত্ত আইনানুগ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং এমন একটি কাজ সম্পাদন করে মত্যু ঘটায়, যা সে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য আবশ্যকীয় ও আইনসম্মত বলে সরল মনে বিশ্বাস করে এবং সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে তার প্রতি কোনরূপ দুরভিসন্ধি ছাড়াই কার্যটি করে।

ব্যতিক্রম ৪ :- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধটি কোন আকস্মিক বিবাদের সময় আকস্মিক উত্তেজনার কারণে কোনরূপ পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই সংঘটিত হয় এবং অপরাধী কোন অন্যায় সুযোগ গ্রহণ না করে থাকে অথবা নিষ্ঠুরভাবে বা অস্বাভাবিকভাবে কার্য না করে থাকে।

ব্যাখ্যা:- এইরূপ ক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রথম উস্কানি দেয় বা প্রথম আঘাত করে, তা আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়।

ব্যতিক্রম ৫:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি সে ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে ব্যক্তি আঠারো বৎসরের উর্ধ্ব বয়স্ক হলে স্বেচ্ছায় স্বীয় সম্মতিক্রমে মৃত্যুবরণ করে বা মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করে।

------
⇒  Murder
Section 300. Except in the cases hereinafter excepted, culpable homicide is murder, if the act by which the death is caused is done with the intention of causing death, or- 
 
Secondly.- If it is done with the intention of causing such bodily injury as the offender knows to be likely to cause the death of the person to whom the harm is caused, or – 
 
Thirdly.- If it is done with the intention of causing bodily injury to any person and the bodily injury intended to be inflicted is sufficient in the ordinary course of nature to cause death, or – 
 
Fourthly.- If the person committing the act knows that it is so imminently dangerous that it must, in all probability, cause death, or such bodily injury as is likely to cause death, and commits such act without any excuse for incurring the risk of causing death or such injury as aforesaid.
When culpable homicide is not murder

Exception 1.-Culpable homicide is not murder if the offender, whilst deprived of the power of self-control by grave and sudden provocation, causes the death of the person who gave the provocation or cause the death of any other person by mistake or accident. 

The above exception is subject to the following provisos:
Firstly.-That the provocation is not sought or voluntarily provoked by the offender as an excuse for killing or doing harm to any person. 
Secondly.-That the provocation is not given by anything done in obedience to the law, or by a public servant in the lawful exercise of the powers of such public servant. 
Thirdly.-That the provocation is not given by anything done in the lawful exercise of the right of private defence. 
Explanation.- Whether the provocation was grave and sudden enough to prevent the offence from amounting to murder is a question of fact.
Illustration
(c) A is lawfully arrested by Z, a bailiff. A is excited to sudden and violent passion by the arrest, and kills Z. This is murder, inasmuch as the provocation was given by a thing done by a public servant in the exercise of his powers.

Exception 2.- Culpable homicide is not murder if the offender, in the exercise in good faith of the right of private defense of person or property, exceeds the powers given to him by law and causes the death of the person against whom he is exercising such right of defense without premeditation, and without any intention of doing more harm than is necessary for the purpose of such defense.

Exception 3.-
Culpable homicide is not murder if the offender, being a public servant or aiding a public servant acting for the advancement of public justice, exceeds the powers given to him by law, and causes death by doing an act which he, in good faith, believes to be lawful and necessary for the due discharge of his duty as such public servant and without ill-will towards the person whose death is caused. 
 
Exception 4.-Culpable homicide is not murder if it is committed without premeditation in a sudden fight in the heat of passion upon a sudden quarrel and without the offender's having taken undue advantage or acted in a cruel or unusual manner. 
Explanation.- It is immaterial in such cases which party offers the provocation or commits the first assault. 
 
Exception 5.- Culpable homicide is not murder when the person whose death is caused, being above the age of eighteen years, suffers death or takes the risk of death with his own consent.
৫৬.
“Procedure by Magistrate not competent to take cognizance of the case” বিধানটি The Code of Criminal Procedure,1898 এর কোন ধারায় বিবৃত করা হয়েছে?
  1. ২০৫
  2. ২০১
  3. ২০৫গ
  4. ২০২
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০১[Procedure by Magistrate not competent to take cognizance of the case]- এ এখতিয়ারবিহীন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ দায়েরের ফলাফল সম্পর্কে বলা হয়েছে।

লিখিত আকারে নালিশের ক্ষেত্রে-
আমলে নেয়ার এখতিয়ার নেই এমন কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট যদি লিখিত আকারে নালিশ দায়ের করা হয়,তাহলে তিনি উপযুক্ত আদালতে পেশের জন্য নালিশটি ফেরত দিবেন।

মৌখিক নালিশের ক্ষেত্রে-
যদি লিখিত আকারে নালিশ দায়ের না করা হয় অর্থাৎ মৌখিকভাবে নালিশ দায়ের করা হয়,তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট নালিশকারীকে উপযুক্ত আদালতে প্রেরণ করবেন।

(Procedure by Magistrate not competent to take cognizance of the case)-
(1) If the complaint has been made in writing to a Magistrate who is not competent to take cognizance of the case,he shall return the complaint for presentation to the proper Court with an endorsement to that effect. 
(2) If the complaint has not been made in writing,such Magistrate shall direct the complainant to the proper Court.
৫৭.
তামাদি আইনের ধারা ২৯(১) অনুযায়ী কোন আইনের কোন ধারা অক্ষুণ্ন থাকে?
  1. দণ্ডবিধির ২৫ ধারা
  2. চুক্তি আইনের ২৫ ধারা
  3. সাক্ষ্য আইনের ২৫ ধারা
  4. সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ২৫ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ - ধারা ২৯: সংরক্ষন (Savings)
(১) এই আইনের কোনো কিছুই ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ধারা ২৫-কে প্রভাবিত করবে না।
(২) যদি কোনো বিশেষ আইন কোনো মোকদ্দমা, আপিল বা আবেদনের জন্য তামাদির একটি ভিন্ন মেয়াদ নির্ধারণ করে, যা প্রথম তফসিলে উল্লিখিত মেয়াদ থেকে আলাদা, তাহলে ধারা ৩-এর বিধান প্রযোজ্য হবে, যেন সেই মেয়াদ প্রথম তফসিলে উল্লিখিত হয়েছে। এবং কোনো বিশেষ আইন দ্বারা নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ নির্ধারণের জন্য:
(ক) ধারা ৪, ধারা ৯ থেকে ১৮ এবং ধারা ২২-এর বিধানগুলো কেবলমাত্র সেই পরিমাণে প্রযোজ্য হবে, যতটুকু সেই বিশেষ আইন দ্বারা স্পষ্টভাবে বাতিল করা হয়নি; এবং
(খ) এই আইনের অন্যান্য বিধানগুলো প্রযোজ্য হবে না।
(৩) এই আইনের কোনো কিছুই ডিভোর্স আইন (Divorce Act) এর অধীনে দায়েরকৃত মোকদ্দমাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
(৪) ধারা ২৬ এবং ২৭, এবং ধারা ২-এ উল্লিখিত "সুবিধা" (easement)-এর সংজ্ঞা, ১৮৮২ সালের সুবিধা আইন (Easements Act, 1882) যে অঞ্চলে প্রযোজ্য, সেই অঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
----------
⇒ The Limitation Act, 1908 Section-29. Savings:
(1) Nothing in this Act shall affect section 25 of the Contract Act, 1872.
(2) Where any special law prescribes for any suit, appeal or application a period of limitation different from the period prescribed therefore by the first schedule, the provision of section 3 shall apply, as if such period were prescribed therefor in that schedule, and for the purpose of determining any period of limitation prescribed for any suit, appeal or application by any special law-
(a) the provisions contained in section 4, sections 9 to 18, and section 22 shall apply only in so far as, and to the extent to which, they are not expressly excluded by such special law; and
(b) the remaining provisions of this Act shall not apply.
(3) Nothing in this Act shall apply to suits under the Divorce Act.
(4) Sections 26 and 27 and the definition of “easement” in section 2 shall not apply to cases arising in territories to which the Easements Act, 1882, may for the time being extend.
৫৮.
আদালত কোন ক্ষেত্রে প্লিডিংস Strike out করতে বা সংশোধনের আদেশ দিতে পারেন?
  1. প্লিডিংস অপ্রয়োজনীয় হলে
  2. প্লিডিংস এ মানহানিকর কথা থাকলে
  3. প্লিডিংস এ বিব্রতকর কথা থাকলে
  4. সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ আদেশের ১৬ বিধি অনুসারে, আদালত মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে প্রিন্ডিংসের (আরজি বা লিখিত জবাবের) যে কোন বিষয় কর্তন বা সংশোধন করতে আদেশ দিতে পারে যদি উল্লেখিত বিষয়টি অপ্রয়োজনীয় হয় [Unnecessary) বা কুৎসাজনক হয় (Scandalous) বা মোকদ্দমার সুষ্ঠ বিচার বাধাগ্রস্থ, বা বিলম্বিত করতে পারে। [Tend to prejudice, embarrass or delay the fair trial of the suit]
৫৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় জামিনের পরিমাণ হ্রাস করার বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৪৯৬
  2. ধারা ৪৯৭
  3. ধারা ৪৯৮
  4. ধারা ৪৯৯
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮ এ জামিন মঞ্জুর করা এবং জামিনের অর্থের পরিমাণ হ্রাস করার ক্ষমতা সম্পর্কিত বিধান রয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, মামলার পরিস্থিতি অনুযায়ী জামিনের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে এবং তা অত্যধিক হতে হবে না।
- এছাড়া, হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত যে কোন ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করতে পারে অথবা পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নির্ধারিত জামিনের পরিমাণ হ্রাস করার নির্দেশ দিতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার বিধান- জামিন মঞ্জুর করার এবং অর্থের পরিমাণ হ্রাস করার ক্ষমতা:

(১) এই অধ্যায়ের অধীন সম্পাদিত প্রত্যেকটি বন্ডের অর্থের পরিমাণ মামলার পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক নির্ধারণ করতে হবে এবং তা অত্যধিক হবে না, এবং দণ্ডের পর আপিল থাকুক আর না থাকুক, হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত যেকোনো ক্ষেত্রে যেকোনো ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করার বা পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দাবিকৃত জামিন হ্রাস করার নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।
(২) কোনো আদালত, আসামিকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার সময়, তার পলায়ন রোধ বা তার সুশৃঙ্খল আচরণ নিশ্চিত করার জন্য যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায্য শর্ত আরোপ করতে পারে।
---------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 498: Power to direct admission to bail or reduction of bail:
The amount of every bond executed under this Chapter shall be fixed with due regard to the circumstances of the case, and shall not be excessive; and the High Court Division or Court of Session may, in any case, whether there be an appeal on conviction or not, direct that any person be admitted to bail, or that the bail required by a police-officer or Magistrate be reduced.
(2) Any Court, while releasing the accused on bail, may impose reasonable and fair conditions to prevent his abscondence or to ensure his good behaviour.
৬০.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৩২-এর মোট কতগুলো ক্ষেত্র বা পরিস্থিতি রয়েছে যা মৃত বা অক্ষম ব্যক্তির বিবৃতিকে প্রাসঙ্গিক করে?
  1. ৫টি 
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৩২ অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অক্ষম হয়, তখন তার কিছু নির্দিষ্ট বিবৃতি প্রাসঙ্গিক হতে পারে। এই ধারায় নিম্নলিখিত ৮টি পরিস্থিতি অন্তর্ভুক্ত:
১) মৃত্যুকালীন ঘোষণা (dying declaration) — যখন ব্যক্তি মারা যাওয়ার পূর্বে কোনো ঘটনার সম্পর্কে মন্তব্য করেন।
২) ব্যবসার কার্যক্রমে বিবৃতি (statement made in course of business) — যখন কোনো ব্যক্তি তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে বিবৃতি দেন।
৩) স্বার্থবিরোধী বিবৃতি (statement against interest) — যে বিবৃতি ব্যক্তির নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধে চলে।
৪) জনস্বার্থ বা প্রথা সংক্রান্ত বিবৃতি (opinion as to public right or custom) — যখন কোনো ব্যক্তি সর্বসাধারণের অধিকার বা প্রথা সম্পর্কিত বিবৃতি দেন।
৫) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্পর্কিত বিবৃতি (relates to existence of relationship) — আত্মীয়তার অস্তিত্বের ব্যাপারে বিবৃতি।
৬) পারিবারিক দলিল বা উইলে করা বিবৃতি (statement made in will or deed relating to family affairs) — উইল বা পারিবারিক দলিলে করা বিবৃতি।
৭) লেনদেন সংক্রান্ত দলিলের বিবৃতি- "transaction mentioned in section 13, clause (a)"ধারা ১৩-এর (ক) অংশে উল্লেখিত লেনদেন সংক্রান্ত দলিলের বিবৃতি।
৮) কিছু ব্যক্তির প্রদত্ত বিবৃতি (statement made by several persons) — যখন একাধিক ব্যক্তি একটি বিশেষ বিষয় সম্পর্কে একই মতামত দেন।
-----------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section-32: Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant.
- When it relates to cause of death;
or is made in course of business;
or against interest of maker;
or gives opinion as to public right or custom, or matters of general interest;
or relates to existence of relationship;
or is made in will or deed relating to family affairs;
or in document relating to transaction mentioned in section 13, clause (a);
or is made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question

৬১.
The Penal Code, 1860 অনুযায়ী নিচের কোনটি গুরুতর আঘাত?
  1. পায়ে ১ ইঞ্চি পরিমাণ কাটার আঘাত
  2. বাহুতে আঘাত
  3. ঘাড়ে ১.৫ ইঞ্চি পরিমাণ আঘাত
  4. বাম কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে রহিতকরণ
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩২০ ধারায় ৮ শ্রেণীর জখমকে গুরুতর জখম' হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
৮ শ্রেণির গুরুতর আঘাত হল। যথা:
(i) পুরুষত্বহীনকরণ 
(ii) স্থায়ীভাবে চোখের দৃষ্টি রহিতকরণ 
(iii) স্থায়ীভাবে কানের শ্রুতিশক্তি রহিতকরণ 
(iv) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন 
(v) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির স্থায়ী ক্ষতিকরণ 
(vi) মাথা বা মুখমন্ডলের স্থায়ী বিকৃতি 
(vii) হাড় বা দাঁত ভাঙ্গা 
(viii) কোন ব্যক্তিকে ২০ পর্যন্ত তীব্র যন্ত্রণা দেয় এমন আঘথা
♦অর্থাৎ স্থায়ীভাবে কানের শ্রবণশক্তি রহিতকরণ ৩২০ ধারা অনুসারে গুরুতর আঘাত।
৬২.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় আদালত অবমাননার শাস্তি সম্পর্কিত বিধান রয়েছে?
  1. ৪৮০ ধারায়
  2. ৪৮৫ ধারায়
  3. ৪৮৮ ধারায়
  4. ৪৯০ ধারায়
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারায় আদালত অবমাননার (Contempt of Court) শাস্তি সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।

ধারা ৪৮০- অবমাননার কতিপয় ক্ষেত্রে পদ্ধতি
কোন দেওয়ানী, ফৌজদারী বা রাজস্ব আদালতের দৃষ্টি গোচরে বা উপস্থিতিতে দণ্ডবিধির ধারা-১৭৫, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০ বা ২২৮ এ উল্লেখিত কোন অপরাধ করা হলে উক্ত আদালত অপরাধীকে কারাগারে আটক রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন এবং ঐদিন আদালতের অধিবেশন শেষ হবার পূর্বে যেকোন সময় উপযুক্ত মনে করলে অপরাধটি আমলে নিতে পারবেন এবং অপরাধীকে সর্বোচ্চ ২০০ (দু'শত) টাকা অর্থদণ্ডে এবং যথাশীঘ্র জরিমানার টাকা প্রদান করা না হলে এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন।

Section 480: Procedure in certain cases of contempt
When any such offence as is described in section 175, section 178, section 179, section 180 or section 228 or the Penal Code is committed in the view or presence of any Civil, Criminal or Revenue Court, the Court may cause the offender to be detained in custody and at any time before the rising of the Court on the same day may, if it thinks fit, take cognizance of the offence and sentence the offender to fine not exceeding two hundred taka, and in default of payment, to simple imprisonment for a term which may to one month, unless such fine be sooner paid.
৬৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারা অনুসারে, আদালত ন্যায় বিচারের স্বার্থে সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনসহ ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিতে পারে?
  1. ১৫ ধারা
  2. ১৯ ধারা
  3. ২৯ ধারা
  4. ৩৭ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারার বিধান- কতিপয় ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরের ক্ষমতা:
কোন ব্যক্তি যে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেছে, সে হয় তেমন কাজ সম্পাদনের অতিরিক্ত অথবা তার পরিপূরক হিসেবে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।
যদি তেমন কোন মামলায় আদালত সিদ্ধান্ত করেন যে, সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন মঞ্জুর করা আবশ্যক, কিন্তু মামলার ন্যায়বিচারের জন্য এটুকুই যথেষ্ট নয় এবং চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদীকে কিছু ক্ষতিপূরণ প্রদান করাও প্রয়োজন, তা হলে আদালত সে অনুসারে তার জন্য ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করবেন।

- এই ধারা অনুসারে যে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করা হবে তা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় নিরূপণ করা যেতে পারে।

ব্যাখ্যা- চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এমন পরিস্থিতি আদালত কর্তৃক এই ধারা অর্পিত এখতিয়ার প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে না।
৬৪.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮-এর ৭৫ ধারা অনুযায়ী কয়টি ক্ষেত্রে কমিশন নিয়োগের আদেশ দেওয়া যায়?
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৪ টি
  4. ৬ টি
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি 1908 সালের আইন এর ৭৫ ধারায় বলা হয়েছে যে, ৪টি ক্ষেত্রে আদালত কমিশন নিয়োগ দিতে পারে,
(১) স্বাক্ষ্য গ্রহণ করার জন্য
(২) স্থানীয় তদন্তের জন্য
(৩) হিসাব পরীক্ষা ও সমন্বয় করার জন্য
(৪) বাটোয়ারা করার জন্য।
৬৫.
The Code of Civil Procedure,1908 এর আদেশ ২৬ এর বিধি ৪ এ কোন বিধান আলোচনা করা হয়েছে?
  1. স্থাবর সম্পত্তির বাটোয়ারার
  2. স্থানীয় তদন্ত সম্পর্কিত
  3. যাদের জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালত কমিশন প্রেরণ করতে পারে না
  4. যাদের জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালত কমিশন প্রেরণ করতে পারে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ এ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশনের নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ রয়েছে।

আদেশ ২৬ বিধি ৪ অনুসারে,
নিম্নোক্ত ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালত কমিশন প্রেরণ করতে পারেন [Persons for whose examination commission my issue]:
i) এমন ব্যক্তি যে আদালতের অধিক্ষেত্রের সীমানার বাইরে বসবাস করে;
ii) সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য নির্ধারিত তারিখের পূর্বে সে ব্যক্তি অধিক্ষেত্রের সীমানার বাইরে চলে যাবে;
iii) প্রজাতন্ত্রের চাকুরিতে নিয়োজিত ব্যক্তি; যার পক্ষে আদালতে উপস্থিত হলে জনস্বার্থের ক্ষতি হতে পারে।
৬৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারা মূলত কোন বিষয়টি নির্দেশ করে?
  1. নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের শাস্তি
  2. নিষেধাজ্ঞার প্রকারভেদ
  3. নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের শর্তাবলী
  4. নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর না করার ক্ষেত্র
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারার শিরোনাম "Injunction when refused" বা "নিষেধাজ্ঞা যখন মঞ্জুর করা হয় না" এবং এই ধারায় নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর না করার ১১টি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র উল্লেখ করা হয়েছে। 

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারা-তে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোন কোন ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না।
-এই ধারা অনুযায়ী ১১টি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বর্ণিত হয়েছে, যেখানে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হবে না। তা হলো:
১. যখন বিচার বিভাগীয় কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে হবে না।
২. যখন কোনো অধীনস্থ আদালতের কার্যধারা স্থগিত রাখতে হবে না।
৩. যখন কোনো ব্যক্তি আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে চায়।
৪. যখন সরকারের কোনো সরকারি কার্যক্রম বা বিদেশি সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ করতে হবে না।
৫. যখন কোনো ফৌজদারি বিষয়ে কার্যধারা স্থগিত রাখতে হবে না।
৬. যখন কোনো চুক্তি ভঙ্গের জন্য নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যাবে না, যদি না সেই চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়।
৭. যখন উৎপাত নয় এমন কাজ নিষেধ করতে হবে না।
৮. যখন বাদী সম্মতি দিয়েছে এমন ক্রমাগত লঙ্ঘন নিষেধ করতে হবে না।
৯. যখন জিম্মা ভঙ্গের প্রতিকার অন্য কোনো সাধারণ কার্যধারার মাধ্যমে পাওয়া যায়।
১০. যখন আবেদনকারীর আবেদন এমন যে তাকে আদালতের সাহায্য থেকে বঞ্চিত করবে।
১১. যখন মামলার বিষয়বস্তুতে আবেদনকারীর কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।

⇒ The Specific Relief Act, 1877: Section- 56. Injunction when refused:
An injunction cannot be granted-
(a) to stay a judicial proceeding pending at the institution of the suit in which the injunction is sought, unless such restraint is necessary to prevent a multiplicity of proceedings;
(b) to stay proceedings in a Court not subordinate to that from which the injunction is sought; 
(c) to restraint persons from applying to any legislative body; 
(d) to interfere with the public duties of any department of the Government, or with the sovereign acts of Foreign Government; 
(e) to stay proceedings in any criminal matter; 
(f) to prevent the breach of a contract the performance of which would not be specifically enforced; 
(g) to prevent, on the ground of nuisance, an act of which it is not reasonably clear that it will be a nuisance; 
(h) to prevent a continuing breach in which the applicant has acquiesced; 
(i) when equally efficacious relief can certainly be obtained by any other usual mode of proceeding except in case of breach of trust; 
(j) when the conduct of the applicant on his agents has been such as to disentitle him to the assistance of the Court; 
(k) where the applicant has no personal interest in the matter.

৬৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোথায় সরেজমিনে তদন্ত (Local Investigation) এর বিধান আছে?
  1. ১৭ আদেশের ৩ নিয়মে
  2. ১৮ আদেশের ৫ নিয়মে
  3. ১৯ আদেশের ১ নিয়মে
  4. ২৬ আদেশের ৯ নিয়মে
ব্যাখ্যা
- দেওয়ানী কার্যবিধির ২৬ আদেশের ৯ বিধির অধীন আদালত সরেজমিনে তদন্তের [Local Investigation] কমিশন ইস্যু করাতে পারে মামলার বিরোধীয় কোন বিষয় ব্যাখ্যা করার জন্য বা কোন সম্পত্তির বাজার দর, মধ্যবর্তী মুনাফা [Mesne Profit] ক্ষতিপূরণের টাকা, বাৎসরিক প্রকৃত মুনাফা নির্ণয় করার জন্য ।
- আদালত কর্তৃক নির্ধারিত অনধিক ৩ মাসের মধ্যে স্থানীয় তদন্তের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
-------------
CPC Order-26 Rule-9.Commissions to make local investigations:
- In any suit in which the Court deems a local investigation to be requisite or proper for the purpose of elucidating any matter in dispute, or of ascertaining the market-value of any property, or the amount or any mesne profits or damages or annual net profits, the Court may issue a commission to such person as it thinks fit directing him to make such investigation and to report thereon to the Court within such time not exceeding three months as may be fixed by the Court.
Provided that the Court may, on the prayer of the Commissioner and on sufficient cause being shown, extend the time.
৬৮.
মোকদ্দমার এক পক্ষ অন্য পক্ষকে কোনো দলিল উপস্থাপনের জন্য নোটিশ দিলে এবং সেই দলিল উপস্থাপন করা হলে, তাহলে কার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেই দলিল প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে?
  1. আদালত
  2. দলিল পর্যালোচনাকারী পক্ষ
  3. নোটিশ প্রদানকারী পক্ষ
  4. দলিল উপস্থাপনকারী পক্ষ
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১৬৩ ধারা:
"যদি এক পক্ষ অন্য পক্ষকে একটি দলিল উপস্থাপনের জন্য নোটিশ দেয় এবং সেই দলিল উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা হয়, তাহলে প্রথম পক্ষকে সেই দলিল প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে দিতে হবে, যদি দলিল উপস্থাপনকারী পক্ষ সেটা চায়।"

[When a party calls for a document which he has given the other party notice to produce, and such document is produced and inspected by the party calling for its production, he is bound to give it as evidence if the party producing it requires him to do so.]
৬৯.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১ অনুযায়ী, সাধারণত অপ্রাসঙ্গিক কোন তথ্য প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠে?
  1. যদি তা সাক্ষীর ব্যক্তিগত মতামত হয়
  2. যদি তা আদালতের পূর্ববর্তী রায়ের সাথে মেলে
  3. যদি তা মামলার সাথে অপ্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত হয়
  4. যদি তা বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক তথ্যের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১১ (Section 11: When facts not otherwise relevant become relevant) অনুযায়ী, সাধারণভাবে যে তথ্যগুলো প্রাসঙ্গিক নয়, সেগুলোও দুটি শর্তে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে:
১. যদি সেই তথ্যটি বিচার্য বিষয় (fact in issue) অথবা প্রাসঙ্গিক তথ্যের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ (inconsistent) হয়।
২. অথবা, সেই তথ্য নিজে বা অন্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে বিচার্য বিষয়ের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বকে অত্যন্ত সম্ভাব্য বা অসম্ভব করে তোলে।

উদাহরণ (Illustration):
A-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ—সে চট্টগ্রামে একটি অপরাধ করেছে। যদি দেখা যায়, ঐ সময় সে ঢাকায় ছিল, তাহলে সেই তথ্যটি সাধারণভাবে অপরাধের বিবরণ না হলেও প্রাসঙ্গিক হয়ে যায়, কারণ এটি তার অপরাধ করার সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়।

অপশন বিশ্লেষণ:
ক) সাক্ষীর ব্যক্তিগত মতামত ⇒ এটি সাক্ষ্য আইনে সাধারণত অগ্রহণযোগ্য, যদি না সে বিশেষজ্ঞ হয় (ধারা ৪৫)।
খ) আদালতের পূর্ববর্তী রায়ের সাথে মেলে ⇒ এটা res judicata বা অন্য ধারায় প্রাসঙ্গিক হতে পারে, কিন্তু ১১ ধারার অন্তর্গত নয়।
গ) মামলার সাথে অপ্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত ⇒ শুধুমাত্র পরোক্ষ সম্পর্ক থাকলে তা যথেষ্ট নয়; প্রাসঙ্গিকতা বিচার্য বিষয়ের সম্ভাবনা বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে।
ঘ) যদি তা বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক তথ্যের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয় ⇒ সঠিক, কারণ এটি ধারা ১১ এর সরাসরি ভাষা অনুসারে প্রাসঙ্গিক করে তোলে।

তাই সঠিক উত্তর: ঘ) যদি তা বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক তথ্যের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

⇒ The Evidence Act, 1872, Section-11. When facts not otherwise relevant become relevant:
- Facts not otherwise relevant are relevant–
(1) If they are inconsistent with any fact in issue or relevant fact;
(2) If by themselves or in connection with other facts they make the existence or non-existence of any fact in issue or relevant fact highly probable or improbable.

Illustrations:
(a) The question is whether A committed a crime at Chittagong on a certain day.
The fact that, on that day, A was at [Dhaka] is relevant.
The fact that, near the time when the crime was committed, A was at a distance from the place where it was committed, which would render it highly improbable, though not impossible, that he committed it, is relevant.
(b) The question is, whether A committed a crime.
The circumstances are such that the crime must have been committed either by A, B, C or D. Every fact which shows that the crime could have been committed by no one else and that it was not committed by either B, C or D, is relevant.
৭০.
বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে দণ্ডবিধি প্রযোজ্য হবে যদি-
  1. অপরাধী বাংলাদেশের নাগরিক হয়
  2. অপরাধটি বাংলাদেশে সংঘটিত হলে দণ্ডনীয় হয়
  3. অপরাধী বাংলাদেশের কোনো জাহাজ বা বিমানে অবস্থান করে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (অধীন) ৪ ধারার অধীনে বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধের জন্য প্রযোজ্য হবে যদি:
→ অপরাধী বাংলাদেশের নাগরিক হয় (ক):
- যদি বাংলাদেশের নাগরিক বিদেশে কোনো অপরাধ করে, তবে তাকে বাংলাদেশে বিচারের আওতায় আনা যাবে এবং দণ্ডবিধির বিধান অনুসারে তার বিচার হবে।
→ অপরাধটি বাংলাদেশে সংঘটিত হলে দণ্ডনীয় হয় (খ):
- যদি কোনো অপরাধ বিদেশে সংঘটিত হলেও, সেই অপরাধ যদি বাংলাদেশে দণ্ডনীয় হয়, তবে সেই অপরাধে দণ্ডবিধি প্রয়োগ করা যাবে।
→ অপরাধী বাংলাদেশের কোনো জাহাজ বা বিমানে অবস্থান করে (গ):
- যদি অপরাধী বাংলাদেশের জাহাজ বা বিমানে থাকে, এমনকি তা বিদেশে অবস্থান করলে, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশে দণ্ডবিধি প্রযোজ্য হবে।
⇒ এ কারণে, "উপরের সবগুলো" ক্ষেত্রেই দণ্ডবিধি কার্যকর হবে।
৭১.
আপিলের শর্তে জামিন চাইতে হলে দণ্ডের মেয়াদ কত হতে হয়?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২৬(২ক) মতে কোন ব্যক্তি অনূর্ধ্ব ১ বছর মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং উক্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলে, আপিল পেশ ও আপিল আদালতের আদেশ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পর্যাপ্ত সময়ের জন্য আদালত তাকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে যতদিন সে জামিনে মুক্ত থাকবে ততদিন পর্যন্ত কারাদণ্ড স্থগিত রয়েছে বলে গণ্য হবে।
৭২.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৪৩ অনুযায়ী, Leading questions কখন করা যায়?
  1. জেরায়
  2. পুনঃজিজ্ঞাসাবাদে
  3. মূল জিজ্ঞাসাবাদে
  4. কোনোটিতেই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৪৩-এ বলা হয়েছে:
"Leading questions may be asked in cross-examination."
অর্থাৎ লিডিং প্রশ্ন জেরা (Cross-examination)-তে করা যেতে পারে।

- ধারা ১৪১ অনুসারে: লিডিং প্রশ্ন হলো এমন প্রশ্ন যা এমন উত্তর ইঙ্গিত করে যা প্রশ্নকারী চায় বা প্রত্যাশা করে।
- ধারা ১৪৩ অনুযায়ী, জেরা চলাকালীন লিডিং প্রশ্ন করা বৈধ এবং তা সাক্ষ্য যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- তবে প্রধান জিজ্ঞাসাবাদ বা পুনঃজিজ্ঞাসাবাদে এমন প্রশ্ন করতে চাইলে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন হয় (ধারা ১৪২)।

উদাহরণ:
"তুমি তো অপরাধীর সাথে দেখা করেছিলে, তাই না?"
-এটি একটি লিডিং প্রশ্ন, কারণ এতে উত্তরদাতার কাছে নির্দিষ্ট উত্তর ইঙ্গিত করা হয়েছে।
৭৩.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর Section 161 অনুযায়ী সাক্ষীদের পরীক্ষা (Examine) করতে পারেন-
  1. জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  2. নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট
  3. অভিযোগ তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা
  4. সকলেই
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬১ ধারা মতে পুলিশ কর্তৃক সাক্ষীকে পরীক্ষাকরণ: ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬০ ধারা অনুযায়ী সাক্ষীকে তলব করে ১৬১ ধারা অনুযায়ী পুলিশ [অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা] অভিযোগের সাথে পরিচিত যেকোনো ব্যক্তিকে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে/জবানবন্দি নিতে পারবে। এবং  পুলিশ জবানবন্দি রেকর্ড বা লিপিবদ্ধ করে নিবে এবং নিজে স্বাক্ষর করবে।

♦ সাক্ষী বা অভিযোগের সাথে পরিচিত ব্যক্তি বা বিবৃতিদাতা জবানবন্দিতে সকল প্রকার প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য, কিন্তু যেসব প্রশ্নের জবাব দিলে ফৌজদারি অভিযোগে দণ্ড বা বাজেয়াপ্তি হবে, সে সকল প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য থাকবে না। ১৬২ ধারা অনুযায়ী পুলিশ বিবৃতিদাতা বা সাক্ষীকে স্বাক্ষর করতেও বাধ্য করবে না।

♦ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬১ ধারার বিধান পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী পরীক্ষাঃ (১) এই অধ্যায় মতে তদন্ত সম্পাদনকারী যে কোন পুলিশ কর্মকর্তা, অথবা এ ব্যাপারে সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা যে প্রকার নির্দিষ্ট করে দিতে পারেন সে প্রকার পদের নিম্নের কোন পদে অধিষ্ঠিত নহেন এরূপ এবং ঐরূপ অফিসারের অধি- যাচন অনুসারে কার্যসম্পাদনকারী যে কোন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাটির তথ্যাদি এবং পারিপার্শ্বিক- তার সাথে পরিচিত আছে বলে অনুমিত যে কোন ব্যক্তিকে মৌখিকভাবে পরীক্ষা করতে পারেন।

(২) ঐরূপ ঘটনা সম্বন্ধে উক্ত কর্মকর্তা, যে সকল প্রশ্নের উত্তর তাঁকে ফৌজদারী অভিযোগে অভিযুক্ত করতে বা তাকে দণ্ডিত করতে বা কোন কিছুতে তার অধিকার খোয়াইতে চাইতে পারে সেসব প্রশ্ন ব্যতিরেকে যেসকল প্রশ্ন তাকে করবেন তার যথার্থ উত্তর প্রদান করতে ঐরূপ ব্যক্তি বাধ্য থাকবেন।

(৩) এ ধারামতে পরীক্ষা করার সময় তার নিকট কোন বিবৃতি দেয়া হলে তিনি তা লিপিবদ্ধ করতে পারেন, এবং যদি তিনি ঐরূপ করেন তাহলে, তিনি এরূপ প্রত্যেক ব্যক্তির, বিবৃতির একটি পৃথক ও সত্য নথি তৈয়ার করবেন, যার বিবৃতি তিনি নথিভুক্ত করেন।
৭৪.
রায় ঘোষণার পর কিন্তু ডিক্রিতে স্বাক্ষর করার আগে বিচারকের পদ খালি হলে-
  1. রায় বাতিল হয়ে যায়
  2. মামলাটি নতুন করে শুনানি করতে হয়
  3. ডিক্রি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যায়
  4. পরবর্তী বিচারক ডিক্রিতে স্বাক্ষর করতে পারেন
ব্যাখ্যা

Order 20, Rule 8- Procedure where Judge has vacated office before signing decree:
যদি কোনো বিচারক রায় ঘোষণা করার পর কিন্তু ডিক্রিতে স্বাক্ষর করার আগেই পদত্যাগ করেন, অবসর নেন বা তার পদ খালি হয়ে যায়, তাহলে সেই রায় অনুযায়ী প্রস্তুত করা ডিক্রিতে পরবর্তী বিচারক (successor judge) স্বাক্ষর করতে পারবেন।

আর যদি সেই আদালতই আর অস্তিত্ব না থাকে, তাহলে যে আদালতের অধীন (subordinate) ছিল সেই আদালত, সেই আদালতের বিচারক ডিক্রিতে স্বাক্ষর করতে পারবেন।

অর্থাৎ, বিচারক বদল হলেও রায় অনুযায়ী ডিক্রি দেওয়া বাধাগ্রস্ত হয় না।

৭৫.
নিম্নলিখিত কোন ক্ষেত্রে বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করার প্রয়োজন নেই?
  1. বিবাদি আত্মপক্ষ সমর্থন করলে
  2. বিবাদি আবেদন করলে
  3. বিবাদি আত্মপক্ষ সমর্থন না করলে
  4. উল্লেখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
মোকদ্দমার প্রথম শুনানির সময় বিবাদি আত্মপক্ষ সমর্থন না করলে আদালত বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করবে না।

• আদেশ ১৪ বিধি-১ (বিচার্য বিষয় প্রণয়ন) —

১) ঘটনা কিংবা আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এক পক্ষ দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করে এবং অপরপক্ষ অস্বীকার করে, তখনই বিচার্য বিষয়ের উদ্ভব হয়।

২) গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী আইন কিংবা ঘটনার সে সমস্ত বিষয়াবলী যা বাদিকে তার মোকদ্দমা করার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে অবশ্যই নালিশ করতে হয় কিংবা বিবাদিতে তার আত্মপক্ষ সমর্থন করতে অবশ্যই প্রতিবাদ করতে হয়।

৩) একপক্ষ কর্তৃক দৃঢ়ভাবে ঘোষিত এবং অপর পক্ষ কর্তৃক অস্বীকৃত প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একটি আলাদা বিচার্য বিষয়ের সৃষ্টি করবে।

৪) বিচার্য বিষয় দুই প্রকারেরঃ ক) ঘটনা সংক্রান্ত বিচার্য বিষয়, খ) আইন সংক্রান্ত বিচার্য বিষয়।

৫) মোকদ্দমার প্রথম শুনানির দিন আদালত বাদির আরজি এবং লিখিত বর্ণনা, (যদি কোন), পাঠ করার পর এবং প্রয়োজনমত পক্ষগণের এরূপ পরীক্ষা করার পর ঘটনা কিংবা আইনের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতির উপর পক্ষগণ এর বিরোধ তা নির্ধারণ করবে এবং ইহার পর যে সকল বিচার্য বিষয়ের উপর মোকদ্দমার সঠিক সিদ্ধান্ত নির্ভর করে বলে প্রতীয়মান হয়, সে সমস্ত বিচার্য বিষয় প্রণয়নে অগ্রসরমান হবে এবং তা লিপিবদ্ধ করবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, ৪ এবং ৫ বিধির বিধানাবলী সাপেক্ষে যে কোন ক্ষেত্রে মোকদ্দমার প্রথম শুনানির কিংবা লিখিত বর্ণনা দাখিলের পনের দিনের মধ্যে যেটাই পরে ঘটে তখন বিচার্য বিষয় প্রণয়ন এবং লিপিবদ্ধ করতে হবে।

৬) মোকদ্দমার প্রথম শুনানির সময় বিবাদি আত্মপক্ষ সমর্থন না করলে এই বিধির কোন বিধানেই আদালত বিচার্য বিষয় প্রণয়ন এবং লিপিবদ্ধ করবে না।
৭৬.
নিচের কোনটি দণ্ডবিধির ধারা ৫৩-এর আওতাভুক্ত শাস্তি নয়?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. অর্থদণ্ড
  3. সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত
  4. বেত্রাঘাত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) বেত্রাঘাত।

⇒ দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় পাঁচ প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে। যথা:
(i) মৃত্যুদণ্ড (Death penalty);
(ii) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life);
(iii) কারাদণ্ড (Imprisonment) দুই প্রকার:
ক) সশ্রম( Rigorous, that is, with hard labour) এবং
খ) বিনাশ্রম (Simple);
(iv) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (forfeiture of property);
(v) অর্থদণ্ড (fine).

ব্যাখ্যা: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদায় সশ্রম কারাদণ্ড হবে। 

⇒ বেত্রাঘাত (whipping) ধারা ৫৩-এর আওতাভুক্ত নয়।

৭৭.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ৫৪৪ অনুযায়ী, আদালত কার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে?
  1. অভিযুক্ত
  2. অভিযোগকারী
  3. ভুক্তভোগী
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা

The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ৫৪৪: অভিযোগকারী, সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের খরচ ও সুরক্ষা:
(১) সরকারের কোনো আদেশ থাকলে তার অন্তর্ভুক্ত, যে কোনো ফৌজদারি আদালত প্রয়োজন মনে করলে, অভিযোগকারী বা সাক্ষীর যুক্তিসঙ্গত খরচ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে। এটি সেই ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য যারা কোনো অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোন কার্যক্রমে আদালতের সামনে উপস্থিত হন এই কোড অনুযায়ী।

(২) যে কোনো আদালত, অভিযোগকারী, ভুক্তভোগী বা সাক্ষীর আবেদন বা স্বপ্রণোদিত (suo moto) ভিত্তিতে, ফৌজদারি কার্যক্রমের যে কোনো পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ বা পদক্ষেপ নিতে পারে যাতে তাদের সুরক্ষা বা নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

৭৮.
Canons of Professional Conduct and Etiquette অনুসারে, অ্যাডভোকেটরা পেশাগত কাজ পাওয়ার জন্য কোনটি করতে পারে না?
  1. পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া
  2. ডিরেক্টরিতে নাম তালিকাভুক্ত করা
  3. অফিসের সামনে নামপ্লেট লাগানো
  4. সাধারণ ব্যবহৃত বিজনেস কার্ড ব্যবহার
ব্যাখ্যা
→ অ্যাডভোকেটরা পেশাগত কাজ পাওয়ার জন্য আত্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন না, তবে তথ্যভিত্তিক সীমিত পরিচিতি প্রকাশ করা (যেমন: কার্ড, নামপ্লেট) বৈধ।

⇒ Canons of Professional Conduct and Etiquette এর Chapter 1 – Conduct with regard to other Advocates এর Rule 2 অনুযায়ী বলা হয়েছে:
“An Advocate shall not solicit professional employment by advertisement or by any other means...”
অর্থাৎ, অ্যাডভোকেটরা পেশাগত কাজ পাওয়ার জন্য বিজ্ঞাপন বা অন্য কোনো উপায় ব্যবহার করে নিজেকে প্রচার করতে পারবেন না। এটি পেশার মর্যাদার পরিপন্থী।

তবে এই নিয়মটি ব্যতিক্রমও দিয়েছে:
“…This clause shall not be construed as prohibiting the publication or use of ordinary professional cards, name plates or conventional listings in directories…”
- অর্থাৎ, নিচের বিষয়গুলো নিষিদ্ধ নয় যদি সেগুলো শুধুমাত্র তথ্যগত হয় (যেমন নাম, ডিগ্রি, বর্তমান পদবি):
- সাধারণ বিজনেস কার্ড
- অফিসের সামনে নামপ্লেট
- ডিরেক্টরিতে নাম তালিকাভুক্ত করা
তবে, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া – সেটা সরাসরি পেশাগত কাজ আহ্বানের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তাই তা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ।
৭৯.
দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ষষ্ঠ অধ্যায় কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. মানহানি
  2. রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ
  3. বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধ
  4. সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ষষ্ঠ অধ্যায় (Chapter VI) এর শিরোনাম হলো:
- "Offences Against the State" অর্থাৎ রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ।
- এই অধ্যায় ধারা ১২১ থেকে ১৩০ পর্যন্ত বিস্তৃত অপরাধগুলো অন্তর্ভুক্ত করে।
- ষষ্ঠ অধ্যায় মূলত রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।
- এটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ষড়যন্ত্র, রাষ্ট্রদ্রোহ, সরকারবিরোধী সহিংসতা ইত্যাদি অপরাধের বিচার ও শাস্তির বিধান দেয়।

গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ও বিষয়বস্তু:
দ্বিতীয় অধ্যায়: সাধারণ ব্যাখ্যা (ধারা ৬-৫২-ক) – অপরাধ সংজ্ঞায়নের মূল শব্দাবলি।
তৃতীয় অধ্যায়: শাস্তি (ধারা ৫৩-৭৫) – মৃত্যুদণ্ড, কারাদণ্ড, জরিমানা প্রভৃতি।
চতুর্থ অধ্যায়: সাধারণ ব্যতিক্রম (ধারা ৭৬-১০৬) – আত্মরক্ষা, ভুল ইত্যাদি কারণে দায়মুক্তি।
পঞ্চম অধ্যায়: অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা (ধারা ১০৭-১২০)।
পঞ্চম-ক অধ্যায়: অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (ধারা ১২০-ক থেকে ১২০-খ)।
ষষ্ঠ অধ্যায়: রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ (ধারা ১২১-১৩০) – রাষ্ট্রদ্রোহ, যুদ্ধঘোষণা ইত্যাদি।
নবম অধ্যায়: সরকারি কর্মকর্তাদের অপরাধ (ধারা ১৬১-১৭১) ।
নবম-ক অধ্যায়: নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ (ধারা ১৭১-ক থেকে ১৭১-ঝ)।
ষোড়শ অধ্যায়: মানবদেহের বিরুদ্ধে অপরাধ (ধারা ২৯৯-৩৭৭) – হত্যা, আহত করা, ধর্ষণ ইত্যাদি।
সপ্তদশ অধ্যায়: সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ (ধারা ৩৭৮-৪৬২খ) – চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা।
বিংশ অধ্যায়: বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধ (ধারা ৪৯৩-৪৯৮) – বহুবিবাহ, বৈবাহিক প্রতারণা।
একবিংশ অধ্যায়: মানহানি (ধারা ৪৯৯-৫০২) – মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।
৮০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১ ধারার বিধান হল-
  1. নিযুক্ত অফিসারবৃন্দের ক্ষমতা
  2. ক্ষমতাদি প্রত্যাহারকরণ
  3. ক্ষমতা অর্পণের পদ্ধতি
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণের ক্ষমতার্পণ নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১ ধারার বিধান হল, ক্ষমতাদি প্রত্যাহারকরণঃ (১) সরকার এই কার্যবিধি অনুসারে কোন ব্যক্তি বা ইহার অধীনস্থ কোন অফিসারকে অর্পিত সকল বা যে কোন ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে পারবেনঃ শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে উক্তরূপ ক্ষমতা অর্পণ এই কার্যবিধি অনুসারে হয় সেক্ষেত্রে এই বিষয়ে হাইকোর্ট ডিভিশনের সাথে আলোচনা করতে হবে। এ ধরণের প্রত্যাহার সেই আদালতের সাথে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে।

(২) যেক্ষেত্রে কোন ক্ষমতা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত হয়, সেক্ষেত্রে তা সেভাবে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রত্যায়িত হতে পারবে।

অর্থাৎ ৪১ ধারার বিধান হল সরকার দ্বারা ম্যাজিস্ট্রেটগণের ক্ষমতাদি প্রত্যাহারকরণ।
--------------------
Withdrawal of powers.
Section 41.(1)The Government may withdraw all or any of the powers conferred under this Code on any person by it or by any officer subordinate to it:

Provided that where the conferring of a power is, under this code, required to be made in consultation with the High Court Division, the withdrawal thereof shall be made in consultation with that Court.

(2) Any powers conferred by the Chief Judicial Magistrate or the District Magistrate may be withdrawn by the chief Judicial Magistrate or the District Magistrate respectively.
৮১.
‘X’ একটি ভূমির উপরভাগের এবং ‘Y’ ভূ গর্ভের মালিক। ‘Y’ উপরিভাগের কোন তাৎক্ষণিক ক্ষতি না করে ভূ-গর্ভ থেকে কয়লা খনন ও উত্তোলন করে। পরবর্তীতে ভূমিটির উপরিভাগ ধ্বসে পড়ে। ‘X’ কর্তৃক ‘Y’ এর বিরুদ্ধে ভূমি ধ্বসে পড়ার কারণে মামলা করলে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে কবে থেকে?
  1. ভূ-গর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের সময় থেকে।
  2. ভূমি ধ্বসে পড়ার সময় থেকে।
  3. ‘X’ যে দিন মামলা করবে সেই দিন থেকে।
  4. উপরের কোনটি নয়।
ব্যাখ্যা
♠♠
• তামাদি আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী মামলা করার ক্ষেত্রে কোন বিষয়ে তাৎক্ষণিক ক্ষতি না হলে;  
যে দিন থেকে ক্ষতি হবে সেই দিন থেকে মামলা করার উপজাত শুরু হয় ফলে সেই দিন থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে। 
৮২.
মোকদ্দমার কোনো পক্ষ দলিল প্রকাশ ও নিরীক্ষণের আদেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে-
  1. উক্ত পক্ষ বিবাদী হলে মামলা খারিজ হবে
  2. উক্ত পক্ষ বাদী হলে মামলা খারিজ হবে
  3. উক্ত পক্ষ বাদী হলে একতরফা নিষ্পত্তি হবে
  4. খ এবং গ
ব্যাখ্যা
• যদি কোনো পক্ষ যাকে মামলা সম্পর্কিত কোন বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার (to answer Interrogatories) বা কোন দলিল প্রকাশ (discovery of documents) বা দলিল নিরীক্ষণের (inspection of documents) আদেশ দেয়া হয়েছে, যদি সে বাদী হয় এবং সে যদি উক্ত আদেশ পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে আদালত তার মামলা খারিজ (Dismissed the suit) করে দিবে এবং যদি সে বিবাদী হয় তাহলে তার আত্মপক্ষ সমর্থন (Right to defence) বাতিল করবে।

আদেশ ১১ বিধি ২১ (আদেশ অমান্যকরণ)-
যেক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রশ্নমালার উত্তর দানের বা দলিলসমূহের উদ্ঘাটন বা পরিদর্শনের জন্য কোন আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হয়, তদক্ষেত্রে সে বাদী হয় তবে পরিচালনার অভাবে তার মোকদ্দমা খারিজ হওয়ার জন্য সে দায়ী হবে এবং যদি বিবাদী হয় তবে তার যদি কোন জবাব থাকে, উহা কর্তন হওয়ার নিমিত্তে সে দায়ী হবে এবং সে যেন আত্মপক্ষ সমর্থন করেনি এরূপ পরিস্থিতিতে স্থিত হবে এবং প্রশ্নকারী পক্ষ কিংবা উদঘাটন বা পরিদর্শন প্রার্থনাকারী উক্ত মর্মে আদেশের জন্য আদালতে আবেদন করবে এবং তদনুযায়ী আদালত আদেশ প্রদান করতে পারবে।

Order 11 Rule-21: Non-compliance with order for discovery-
Where any party fails to comply with any order to answer interrogatories or for discovery or inspection of documents, he shall if a plaintiff be liable to have his suit dismissed for want of prosecution and if a defendant to have his defence, if any, struck out, and to be placed in the same position as if he had not defended, and the party interrogating or seeking discovery or inspection may apply to the Court for an order to that effect, and an order may be made accordingly.
৮৩.
কোন পরিস্থিতিতে দণ্ডবিধির ৯৫ ধারা প্রযোজ্য হবে?
  1. যখন কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আঘাত করে
  2. যখন কাজটি এত ছোট যে সাধারণ মানুষ এতে অভিযোগ করবে না
  3. যখন কাজটি গুরুতর অপরাধের পর্যায়ে পড়ে
  4. যখন কাজটি সাধারণ মানুষকে ভয় বা বিপদে ফেলে
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৯৫ ধারা- সামান্য ক্ষতিকারক কার্য:
সামান্য ক্ষতিকারক যে কার্যে সাধারণ বোধ ও মেজাজ সম্পন্ন কোন ব্যক্তি ক্ষতির অভিযোগ করবে না, এমন কোন কাজ অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না- যদিও কার্যটির ফলে অনুরূপ ক্ষতিসাধিত হয় বা কাজটি অনুরূপ ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে প্রণোদিত হয়, অথবা কার্যটির ফলে অনুরূপ ক্ষতি হতে পারে বলে উহার সম্পন্নকারীর জানা থাকে।

Section 95. Act causing slight harm:
Nothing is an offence by reason that it causes, or that it is intended to cause, or that it is known to be likely to cause, any harm, if that harm is so slight that no person of ordinary sense and temper would complain of such harm.
৮৪.
আরজিতে বিবৃত অভিযোগসমূহ বিবাদীর লিখিত জবাবে সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করা না হলে, তা হবে বিবাদীর-
  1. স্বীকারোক্তি
  2. উপস্থাপন
  3. স্বীকৃতি
  4. বর্জন
ব্যাখ্যা
♦ আদেশ ৮ বিধি-৫ এর বিধান সুনির্দিষ্ট অস্বীকার (Specific denial): আরজিতে উল্লেখিত তথ্য সংক্রান্ত অভিযোগের প্রত্যেকটি যদি সুনির্দিষ্ট বা প্রয়োজনীয় নিহিতার্থে (by necessary implication) বা বিবাদীর আরজি জবাবে তা স্বীকৃত হয়নি বলে যদি উল্লেখ করা না হয়, তবে অক্ষম ব্যক্তি ব্যতিত অপর সকলের বিরুদ্ধে তা স্বীকার হয়েছে বলে গণ্য হবে।
তবে শর্ত থাকে যে, এরূপ স্বীকৃত কোন তথ্য আদালত ইচ্ছা করলে এরূপ স্বীকারোক্তি ছাড়া অন্য কোনভাবে প্রমাণের নির্দেশ দিতে পারেন।

♦ অর্থাৎ আরজিতে বর্ণিত প্রতিটি অভিযোগ বিবাদীকে তার লিখিত জবাবে স্পষ্টভাবে বা সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করতে হবে, নয়তো তা বিবাদী স্বীকার করেছে বলে গণ্য হবে। তবে বিবাদী অক্ষম হলে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না।
৮৫.
বিবাদী অন্য আদালতের এখতিয়ারাধীন এলাকায় বসবাস করলে, তার বিরুদ্ধে সমন কে জারি করবে?
  1. যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে
  2. উক্ত এলাকার এখতিয়ারাধীন আদালত
  3. উভয় আদালতকে জারি করতে হবে
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৫নং আদেশে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে সমন জারির বিশেষ পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে।যেমনঃ

(বিধি ২১) যেক্ষেত্রে বিবাদী অন্য আদালতের এখতিয়ারাধীন এলাকায় বসবাস করে সেই ক্ষেত্রে বিবাদী যে এলাকায় বসবাস করে, সেই এলাকার এখতিয়ারাধীন যেকোন সমন জারিকারী আদালত সমনটি পাঠাতে পারে এবং উক্ত আদালত তখন সমন জারি করবে।

(বিধি ২৪) যেক্ষেত্রে বিবাদী জেলে থাকে, সেই ক্ষেত্রে বিবাদীর প্রতি সমন জারির জন্য জেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট সমন পাঠাতে হবে।

(বিধি ২৫,২৬) যেক্ষেত্রে বিবাদী বাংলাদেশের বাইরে বসবাস করে এবং বাংলাদেশে সমন গ্রহণের কোন এজেন্ট নেই, সেই ক্ষেত্রে বিবাদী দেশের বাইরে যেখানে বসবাস করে সেখানে পাঠাতে হবে। এই ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিনিধি বা এমন সমন জারির জন্য প্রতিষ্ঠিত কোন আদালত কর্তৃক সমনটি জারি করা যেতে পারে। 

(বিধি ২৭) সরকারী কর্মকর্তা বা রেলওয়ে বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তার প্রতি সমন জারির জন্য উক্ত অফিসের প্রধানের বরাবর সমন পাঠাতে হবে।

(বিধি ২৮) যেক্ষেত্রে বিবাদী একজন সৈনিক, নাবিক, বা বৈমানিক, সেই ক্ষেত্রে সমন জারি করতে উক্ত বাহিনীর কমান্ডিং অফিসারের নিকট সমন পাঠাতে হবে।
৮৬.
Interpleader Suit-এর ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. বাদী ও বিবাদীর মধ্যে বিরোধ থাকে,
  2. বাদী ও বিবাদীর মধ্যে বিরোধ থাকে না,
  3. বিবাদীদের পরস্পরের মধ্যে বিরোধ থাকে,
  4. বাদীর মামলার খরচ ব্যতীত কোন স্বার্থ থাকে না,
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ধারা ৮৮ অনুযায়ী যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির নিকট একই পাওনা টাকা বা কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দাবি করে এবং যার নিকট দাবি করা হয় উক্ত সম্পত্তির উপর তার খরচের দাবি ব্যতীত অন্য কোন দাবি না থাকে এবং তিনি প্রকৃত মালিকের নিকট উক্ত সম্পত্তি বা অর্থ অর্পণ করতে প্রস্তুত থাকেন।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩৫ অনুযায়ী স্বার্থ বিহীন মামলা (Interpleader Suits ) বলতে বুঝায় একাধিক বিবাদীগণের মধ্যে একই বিষয়বস্তু নিয়ে মালিকানা দাবি যেখানে বাদীর কোন স্বার্থ নেই।  স্বার্থ বিহীন মামলায়, মামলার বিষয়বস্তুতে বাদীর খরচের দাবী ছাড়া অন্য কোন স্বার্থ নেই।
 বিবাদীগণ পৃথক পৃথক ভাবে তাদের দাবী উলে­খ করে, বাদী ও বিবাদীগণের মধ্যে কোনরূপ ষড়যন্ত্র থাকবেনা (ধারা-৮৮)
 
⇒ তবে কার নিকট পরিশোধ বা অর্পণ করতে হবে সেই বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত লাভের জন্য এবং নিজের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য এরূপ দাবিদারদের সকলের বিরুদ্ধে ইন্টারপিডার মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
⇒ অর্থাৎ আদেশ ৩৫ অনুযায়ী স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা বা  Interpleader Suits বিবদাী থাকবে কমপক্ষে ২ জন।

⇒ আদেশ ৩৫ বিধি-১। ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমায় আরজি (Plaint in interpleader-suits): ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমায় প্রত্যেকটি মোকদ্দমার আরজিতে নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলি বিবৃত করতে হবে - বাদী মোকদ্দমার খরচের জন্য ব্যয়িত দাবি ব্যতীত অন্য কোন স্বার্থ দাবী করে না; বিবাদীগণ কর্তৃক দাবিসমূহ পৃথকভাবে প্রণীত হয়েছে; এবং বাদী ও কোন বিবাদীগণের মধ্যে কোনরূপ যোগসাজস বা ষড়যন্ত্র নেই।

⇒ আদেশ ৩৫ বিধি-৫। প্রতিনিধি বা প্রজাগণ ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে না।

⇒ উদাহরণ:
A-তার প্রতিনিধি B-এর নিকট এক বাক্স সোনার গহনা জমা রাখে। C-অভিযোগ করে যে A-তার নিকট হতে অন্যায়ভাবে সোনার গহনাগুলি লাভ করেছে এবং B-এর নিকট হতে এইগুলি দাবী করে। B. A এবং C-এর বিরুে ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে না।
৮৭.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী কোনো ধর্মীয় সমাবেশে ইচ্ছাকৃতভাবে বিঘ্ন ঘটালে সর্বোচ্চ কত বছর কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ২৯৬ অনুযায়ী, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো আইনসম্মত ধর্মীয় সমাবেশ (religious assembly) বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিঘ্ন সৃষ্টি করে,
তাহলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হলো এক বছরের কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড।

অর্থাৎ ধারা ২৯৬ → ধর্মীয় সমাবেশে বিঘ্ন → ১ বছর কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয়।
সুতরাং, ধর্মীয় সমাবেশে ব্যাঘাত ঘটালে সর্বোচ্চ শাস্তি ১ বছর কারাদণ্ড, তাই সঠিক উত্তর (খ)।

⇒ দণ্ডবিধির ১৮৬০-এর ধারা ২৯৬ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কোনো কাজ করে যার ফলে ধর্মীয় উপাসনা বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আইনগতভাবে একত্র হওয়া কোনো সমাবেশে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন।
- এই অপরাধের জন্য শাস্তি: সর্বোচ্চ ১ (এক) বছর কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।

⇒ The Penal Code, 1860, Section 296: Disturbing religious assembly:
“Whoever voluntarily causes disturbance to any assembly lawfully engaged in the performance of religious worship, or religious ceremonies, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.”

৮৮.
দেওয়ানি আদালতের আর্থিক এখতিয়ার অনুযায়ী ১৪ লক্ষ টাকার একটি মোকদ্দমা কোন আদালতে দায়ের করতে হয়?
  1. জেলা জজ আদালত
  2. সহকারি জজ আদালত
  3. যুগ্ম জেলা জজ আদালত
  4. সিনিয়র সহকারি জজ আদালত
ব্যাখ্যা
• কোন দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হবে সেটা ২টি বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়-১) আদালতের আর্থিক এখতিয়ার এবং ২) আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার। দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫ থেকে ২৩ ধারায় দেওয়ানী আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং আর্থিক এখতিয়ার সিভিল কোর্টস এ্যাক্ট, ১৮৮৭ অনুসারে নির্ধারিত হয়।

• The Civil Courts Act, 1887 আইনের ১৯ ধারার বিধান অনুযায়ী-
⇒ সহকারী জজের আর্থিক এখতিয়ার সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা;
⇒ সিনিয়র সহকারী জজের আর্থিক এখতিয়ার ১৫ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা;
⇒ যুগ্ম জেলা জজ ২৫ লক্ষ টাকার অধিক মূল্যমানের; মোকদ্দমার বিচার করতে পারে।
৮৯.
বিকল্পভাবে সমন জারি করা হয়-
  1. বিবাদীর গৃহের প্রকাশ্য অংশে সমনের একটি নকল ঝুলিয়ে
  2. বিবাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য অংশে সমনের একটি নকল ঝুলিয়ে
  3. দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার আদেশের মাধ্যমে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৫ নং আদেশে, ২১ নং আদেশের ২৪ ও ২৫ নম্বর বিধিতে এবং ১৬ নং আদেশের ৮ নম্বর বিধিতে সমন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। 

• দেওয়ানী কার্যবিধির ৫ নং আদেশের ২০ বিধিতে বিকল্প বা প্রতিকল্পনরূপে সমন জারির (Substituted Service of Summon) বিধান রয়েছে। ২০ নং বিধি অনুযায়ী-
যেক্ষেত্রে বিবাদী সমন এড়ানোর জন্য আত্মগোপন করেছে অথবা অন্য কোন কারণে সাধারনভাবে সমন জারি করা যায়না, সেক্ষেত্রে বিবাদীর গৃহের বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য অংশে সমনের একটি নকল ঝুলিয়ে জারি করার জন্য আদালত আদেশ দিবেন অথবা বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার আদেশ দিবে যা প্রতিকল্পনরূপে সমন জারি Substituted Service নামে পরিচিত। এই পদ্ধতি ব্যক্তিগতভাবে সমন জারির মতই কার্যকর হবে। 

Order 5 Rule 20: Substituted service-
(1) Where the Court is satisfied that there is reason to believe that the defendant is keeping out of the way for the purpose of avoiding service, or that for any other reason the summons cannot be served in the ordinary way, the Court shall order the summons to be served by affixing a copy thereof in some conspicuous place in the Court-house, and also upon some conspicuous part of the house (if any) in which the defendant is known to have last resided or carried on business or personally worked for gain, or in such other manner as the Court thinks fit.

(1A) Where the Court under sub-rule (1) pass an order to service the summons by an advertisement in a newspaper, the newspaper shall be a daily newspaper which has circulation in the locality in which the defendant is last known to have actually and voluntarily resided, carried on business or personally worked for gain.

Effect of substituted service-
(2) Service substituted by order of the Court shall be as effectual as if it had been made on the defendant personally.

Where service substituted, time for appearance to be fixed-
(3) Where service is substituted by order of the Court, the Court shall fix such time for the appearance of the defendant as the case may require. 
৯০.
Z নাবালক থাকাবস্থায় তার মামলা করার অধিকার জন্মে। তামাদির সময় গণনা শুরু হবে যখন -
  1. Z এর সাবালকত্বের অবসান হবে
  2. Z সাবালক থাকলে
  3. Z এর নাবালকত্বের অবসান হবে
  4. উপরের কোনটাই নয়
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের ৬ অনুযায় কোন ব্যক্তি যত দিন নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধ থাকে ততদিন তামাদির মেয়াদ গণনা থেকে বাদ যাবে। নাবালকত্ব, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধতার অবসান হওয়ার পর থেকে তার মামলা দায়েরের সময় গণনা হবে।
 ♦অর্থাৎ Z এর নাবালকত্বের অবসান হওয়ার পর তামাদির সময় গণনা শুরু হবে।

♦The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা বিধান হল বৈধ অপারগতাঃ

উপধারাঃ(১) যেইক্ষেত্রে মামলা বা কার্যধারা দায়ের করিবার কিংবা ডিংক্রী জারির জন্য দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সেইসময় নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তাহার উপরোক্ত অপারগতার অবসান হইবার পর, অপারগতা না থাকিলে, প্রথম তফসিলের তৃতীয় স্তম্ভে অথবা ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারায় বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা বা কার্যধারা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।

উপধারাঃ (২) যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সেই সময় উপরে বর্ণিত যেই কোনো দুইটি অপারগতার অবসান হইবার পূর্বেই সে আরেকটি অপারগতায় পতিত হয়, সেইক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি তাহার উভয় অপারগতার অবসান হইবারপর, অপারগতা না থাকিলে, উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।

উপধারাঃ (৩) যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তাহার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেইক্ষেত্রে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর অপারগতা না থাকিলে উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে উহা করা যাইতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দাখিল করিতে পারিবে।

উপধারাঃ (৪) যেইক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি অনুরূপ কোন অপারগতায় পতিত হয়, সেইক্ষেত্রে (১) ও (২) উপধারায় বিধৃত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে।
৯১.
'B', 'A'- কে একটি অপরাধ করতে দেখেছে, 'B'-নিজে আদালতে না এসে 'C' কে এটি বলে। 'C' আদালতে এসে বলে যে, সে শুনেছে যে 'B' 'A'- কে অপরাধ করতে দেখেছে। তাহলে 'C' এর সাক্ষ্য আদালতে-
  1. সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনযোগ্য
  2. সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনযোগ্য নয়
  3. মৌখিক সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনযোগ্য
  4. গ্রহনযোগ্যতা আদালতের বিবেচনামূলক
ব্যাখ্যা
⇒ পরোক্ষ বা জনশ্রুত সাক্ষ্য (indirect/hearsay evidence)- পরোক্ষ বা জনশ্রুত সাক্ষ্য হলো তাই যা আদালতে উপস্থিত সাক্ষী পূর্বে অন্য সাক্ষীর নিকট থেকে শোনাক্রমে প্রদান করে।
-অর্থাৎ নিজে না দেখে অন্যের কাছ থেকে শুনে যে সাক্ষ্য দেয়া হয়। তাকে পরোক্ষ বা জনশ্রুত সাক্ষ্য বা hearsay evidence বলে। জনশ্রুত সাক্ষ আদালতে গ্রহনযোগ্য নয়
⇒ এখানে 'B', 'A'- কে একটি অপরাধ করতে দেখে তাহলে নিয়ম হলো, 'B'-নিজে ৬০ ধারার অধীনে আদালতে এসে এ বিষয়ে সাক্ষ্য দেবে। কিন্তু 'B' না এসে 'C' এসে বলে যে, সে শুনেছে যে 'B' 'A'- কে অপরাধ করতে দেখেছে তাহলে এটি জনশ্রুত সাক্ষ্য বলে গণ্য হবে, যা গ্রহনযোগ্য নয়।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারার বিধান মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হইতে হইবে মৌখিক সাক্ষ্য সকল ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রত্যক্ষ হইতে হইবে,
অর্থাৎ সাক্ষ্যে উল্লিখিত তথ্য যদি দেখা যাইতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলিবে যে, সে উহা দেখিয়াছে তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।
⇒ সাক্ষ্যে উল্লিখিত তথ্য যদি শোনা যাইতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলিবে যে সে উহা শুনিয়াছে, তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।
⇒ জনশ্রুত সাক্ষ্য (hearsay evidence) ধরনের মৌখিক সাক্ষ্য সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়।
----------------
⇒ Section 60. Oral evidence must be direct
Oral evidence must, in all cases whatever, be direct; that is to say- 
if it refers to a fact which could be seen, it must be the evidence of a witness who says he saw it; 
if it refers to a fact which could be heard, it must be the evidence of a witness who says he heard it;
৯২.
ফৌজদারি কার্যধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তির খারাপ চরিত্র সাধারণত কখন প্রাসঙ্গিক হয়?
  1. আদালত ইচ্ছা করলে
  2. যদি সে কোনো গুরুতর অপরাধ করে
  3. যদি তার ভালো চরিত্র সম্পর্কে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়
  4. কোনো ক্ষেত্রেই নয়
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৪: আগের খারাপ চরিত্র সম্পর্কিত তথ্য অপ্রাসঙ্গিক, তবে প্রতিক্রিয়াস্বরূপ প্রাসঙ্গিক হতে পারে:ণ
ফৌজদারি কার্যধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পূর্বের খারাপ চরিত্র সাধারণত অপ্রাসঙ্গিক। তবে, যদি তার ভালো চরিত্র সম্পর্কে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়, তাহলে তার খারাপ চরিত্র সম্পর্কিত প্রমাণও প্রাসঙ্গিক হয়ে যায়।

ব্যাখ্যা ১:
এই ধারা সেইসব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় যেখানে কোনো ব্যক্তির খারাপ চরিত্র নিজেই একটি বিবেচ্য বিষয় (Fact in Issue)।

ব্যাখ্যা ২:
আগের কোনো দণ্ডাদেশ (Conviction) খারাপ চরিত্রের প্রমাণ হিসেবে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
৯৩.
ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে(তথ্য, নিজস্ব জ্ঞান বা সন্দেহের ভিত্তিতে) নিলে কখন ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে অবগত করবেন যে, সে অন্য আদালতে তার মামলার বিচার পাবার অধিকারী?
  1. সাক্ষ্য গ্রহণের পূর্বে
  2. চার্জ গঠনের পর
  3. মামলা আমলে নেয়ার সময়
  4. এই রকম কোনো অধিকার দেয়া হয় নি
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯৩ অনুসারে, ধারা ১৯০(১) (গ) এর অধীনে তথ্য, নিজস্ব জ্ঞান বা সন্দেহের উপর ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নিলে ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষ্য গ্রহণের পূর্বে আসামিকে জানাবেন যে সে অন্য আদালতে তার মামলার বিচার পাবার অধিকারী।
তখন যদি আসামি বা আসামিদের মধ্যে একজন উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা বিচার পরিচালনায় আপত্তি করে মামলাটি দায়রা আদালতে প্রেরণ করতে হবে অথবা অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হস্তান্তর করতে হবে।
৯৪.
'ক', 'খ' এর বিরুদ্ধে দলিল বাতিলের মামলা করে। আদালত উক্ত মোকদ্দমায় 'ক' এর পক্ষে রায় দেন। ঐ একই বিষয়ে দলিল বাতিল নিয়ে 'খ' যদি পুনরায় 'ক' এর  বিরূদ্ধে মামলা দায়ের করে, তাহলে আদালত পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমা-
  1. স্থগিত করবে
  2. খারিজ করবে
  3. ক বা খ
  4. চালিয়ে যাবে
ব্যাখ্যা
• পরবর্তীতে দায়েরকৃত মামলা খারিজ করে দিবে। 

• রেস জুডিকাটা (Res Judicata)-
দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারায় দেওয়ানী মামলায় রেস জুডিকাটার রয়েছে। ১১ ধারা মতে, এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নিম্পন্ন কোন মোকদ্দমা পরবর্তীতে যদি পুনরায় দায়ের করা তাহলে আদালত মোকদ্দমাটির বিচার করবে না যদি নিষ্পন্নকৃত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় ও পক্ষসমূহ এবং পরবর্তীতে মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় ও পক্ষসমূহ একই হয়।

• রেস জুডিকাটা নীতির শর্ত সমূহ: 
i) ২টি মামলা অর্থাৎ পূর্বে নিষ্পত্তিকৃত একটি মামলা ও পরবর্তীতে দায়েরকৃত আরেকটি মামলা থাকতে হবে।
ii) পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মামলার পক্ষসমূহ এবং বিচার্য বিষয় একই হবে এবং একই স্বত্বের অধীন (Under same title) হবে।
iii) পূর্বে দায়েরকৃত মামলাটি যথাযথ এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত হবে।
iv) পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মামলার বিচার্য বিষয় সমূহ প্রত্যক্ষভাবে না হয় মূলত (directly or substantially) একই হয়ে যায়। অর্থাৎ উভয় মামলার বিষয়বস্তু অভিন্ন হতে হবে।

যেমন- উল্লেখিত মোকদ্দমায়  'খ' ঐ একই বিষয়ে দলিল বাতিল নিয়ে পুনরায় 'ক' এর  বিরূদ্ধে মামলা দায়ের করে। তাই আদালত পরবর্তীতে দায়েরকৃত মামলা খারিজ করে দিবে। কেননা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মোকদ্দমা একই বিচার্য বিষয় নিয়ে ও একই পক্ষদ্বয়ের মাঝে দায়ের করা হয়েছে।
৯৫.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোন ধারায় হলফনামা শপথ পরিচালনা হওয়ার বিধান আছে?
  1. ১৩৭ ধারা
  2. ১৩৯ ধারা
  3. ১৪৪ ধারা
  4. ১৪২ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ১৩৯ ধারায় বলা হয়েছে যে, কোন আদালত বা ম্যাজিষ্ট্রেট বা কোন ব্যক্তি বা অফিসার বা সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি হলফনামা শপথ করবে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৩৯ ধারার বিধান হলফনামার শপথ যার দ্বারা পরিচালিত হবে: এই আইন মোতাবেক কোন এফিডেভিটের ক্ষেত্রে-
ক) যে কোন আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট; অথবা
খ) যে কোন অফিসার বা অন্য কোন ব্যক্তি যাকে সুপ্রিমকোর্ট এতদুদ্দেশ্যে নিয়োগ করতে পারেন; অথবা
গ) সরকার কর্তৃক সাধারণ বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন আদালতে যে ব্যক্তিকে এই কার্যের জন্য নিযুক্ত করতে পারেন, তিনি শপথ গ্রহণকারীর প্রতি শপথ পরিচালনা করতে পারবেন।
------------
⇒ CPC Section: 139. Oath on affidavit by whom to be administered:
 In the case of any affidavit under this Code- 
(a) any Court or Magistrate, or 
(b) any officer or other person whom 107[the Supreme Court] may appoint in this behalf, or 
(c) any officer appointed by any other Court which the Government has generally or specially empowered in this behalf,
may administer the oath to the deponent.
৯৬.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোথায় প্লিডিংস সংশোধনের বিধান আছে?
  1. আদেশ ৬ বিধি ৪
  2. আদেশ ৬ বিধি ১৭
  3. আদেশ ৬ বিধি ১৬
  4. আদেশ ৬ বিধি ১৮
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশর ৬ এর বিধি ১৭ অনুযায়ী প্লিডিংস সংশোধনের বিধান আছে।
আদেশর ৬ বিধি ১ অনুযায়ী প্রিডিং বলতে আরজি বা লিখিত জৰাৰ বুঝাবে। 
⇒ মামর্লা যে কোন পর্যায়ে প্লিডিংস সংশোধণ হতে পারে।
⇒  প্লিডিংস সংশোধন করা বা না করা আদালতের বিবেচনা মূলক ক্ষমতা।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশর ৬ এর বিধি ১৭ অনুযায়ী আরজি জবাব সংশোধন বা প্লিডিংস সংশোধন বলতে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে আদালত যে কোন পক্ষকে ন্যায় সঙ্গত পদ্ধতিতে ও শর্তে তার আরজি জবাবে পরিবর্তন বা সংশোধন করার অনুমতি দিতে পারেন এবং উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধের প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণের উদ্দেশ্যেই এরূপ যাবতীয় প্রয়োজনীয় সংশোধন করা যাবে।
⇒ তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার বিচারকার্য শুরু হওয়ার পর , সংশোধনের কোন আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
⇒ যদি  আদালত অভিমত পোষণ করেন যে, পরিশ্রম করা সত্ত্বেও পার্টি  বিচারকার্য শুরু হওয়ার পূর্বে বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেননি সেক্ষেত্রে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে।
⇒ আরো শর্ত থাকে যে, বিচারকার্য শুরু হওয়ার পর যদি সংশোধনের আবেদন করা হয় এবং আদালত এই মত পোষণ করেন যে, বিচারকার্য পরিচালনাকে বিলম্ব করার জন্য এটি করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে আদালত আপত্তিকারীকে যেরূপ উপযুক্ত মনে তদ্রুপ ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ পরিশোধ করতে আদেশ দিবেন।
⇒ আদেশের বিরুদ্ধে ১১৫ ধারা অনুযায়ী রিভিশন করা যাবে।
৯৭.
‘ক’ চট্টগ্রামে বসবাস করে। ঢাকাতে ‘ক’ ‘খ’ এর বিরুদ্ধে মানহানির বক্তব্য পেশ করেছে। ‘খ’ ‘ক’ এর বিরুদ্ধে কোথায় মোকদ্দমা দায়ের করবে?
  1. শুধু চট্টগ্রামে
  2. শুধু ঢাকাতে
  3. একই সাথে উভয় জেলার আদালতে
  4. চট্টগ্রামের আদালতে আথবা ঢাকার আদালতে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ১৯ ধারায় বলা হয়েছে যে, ক্ষতিপূরন সম্পর্কে মামলা কোন আদালতে দায়ের করতে হবে তা বলা আছে।

• ‘ক’ চট্টগ্রামে বসবাস করে কিন্তু ‘খ’ এর বিরুদ্ধে ঢাকায় মানহানির বক্তব্য দেয় তাই ‘ক’ এর বিরুদ্ধে ঢাকা বা চট্টগ্রামের যে কোন একটি আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে।
৯৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন বিধিতে হিসাব (Accounts) পরীক্ষা বা সমন্বয়ের জন্য কমিশন ইস্যুর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে?
  1. আদেশ ২৬, বিধি ৯
  2. আদেশ ২৬, বিধি ১০
  3. আদেশ ২৬, বিধি ১১
  4. আদেশ ২৬, বিধি ১২
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬, বিধি ১১-এ স্পষ্ট লেখা আছে: যদি কোনো মামলায় হিসাব পরীক্ষা বা হিসাব মিলানো (examination or adjustment of accounts) দরকার হয়, তাহলে আদালত যাকে উপযুক্ত মনে করবে (যেমন: চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কমিশনার ইত্যাদি) তার কাছে কমিশন জারি করে হিসাব পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট নিতে পারবে।
- অর্থাৎ, দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬, বিধি ১১ অনুসারে যে কোনো মামলায় হিসাব নিরীক্ষণ বা সমন্বয়ের প্রয়োজন হলে আদালত কমিশন (commission) জারি করতে পারবেন।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908: Order-26 Rule-11. Commission to examine or adjust accounts: 
- In any suit in which an examination or adjustment of accounts is necessary, the Court may issue a commission to such person as it thinks fit directing him to make such examination or adjustment. 

৯৯.
বিবাদী বা বিবাদীর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি না থাকলে,কার উপর সমন জারি করা যাবে?
  1. পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্য
  2. পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ সদস্য
  3. বিবাদীর স্বামী বা স্ত্রীর
  4. বিবাদীর সন্তানের উপর
ব্যাখ্যা

• দেওয়ানি কার্যবিধির ৫নং আদেশের ১৫নং বিধিমতে বিবাদীকে যদি পাওয়া না যায় এবং বিবাদীর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি না থাকে, তখন বিবাদীর পরিবারের যে কোন প্রাপ্তবয়স্ক লোক (নারী বা পুরুষ) এর উপর সমন জারি করা যাবে।

• সমন জারির বিভিন্ন পদ্ধতি (Various modes of service of Summons)- দেওয়ানী কার্যবিধির ৫ নং আদেশের ১ থেকে ৩০ বিধিতে উল্লেখ রয়েছে।
বিবাদীর উপর নিম্নলিখিত ৩ ভাবে সমন জারি হতে পারে-
i) ব্যক্তিগতভাবে সমন জারি
ii) বিবাদীর অনুপস্থিতিতে বিকল্প বা ঝুলিয়ে বা প্রতিকল্পনরূপে সমন জারি; এবং
iii) ডাকযোগে বা কুরিয়ারের মাধ্যমে সমন জারি।

• আদেশ-৫, বিধি-১৫: যখন কোন মোকদ্দমায় যদি সমন জারির সময় বিবাদী তার বসবাসের স্থানে অনুপস্থিত থাকে, এবং সমন গ্রহণের ক্ষমতা প্রাপ্ত তার কোনো প্রতিনিধি না থাকে, তাহলে বিবাদীর সাথে বসবাস করে, তার পরিবারের এইরুপ যে কোন প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের উপর সমন জারি করা যাবে। দেওয়ানী কার্যবিধির ২০১২ সালের সংশোধনী দ্বারা প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ সদস্য এর পরিবর্তে প্রাপ্ত বয়স্ক শব্দ প্রতিস্থাপন করা হয়। অর্থাৎ এখন প্রাপ্ত বয়স্ক নারী বা পুরুষ উভয়ের নিকট দেয়া যাবে।

Order 5 Rule 15: Where service may be on adult member of defendant's family-
Where in any suit the defendant cannot be found and has no agent empowered to accept service of the summons on his behalf, service may be made on any adult member of the family of the defendant who is residing with him. 

১০০.
'ক' একজন বিক্রেতা। এক প্রকার পানীয় স্বাস্থ্যহানিকর জানার পরেও, বিক্রয়ের জন্য 'ক' তার দোকানে উক্ত পানীয় প্রদর্শন করে। এক্ষেত্রে তার সর্বোচ্চ কী শাস্তি হতে পারে?
  1. শুধুমাত্র জরিমানা
  2. ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ১,০০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয়
  3. ১ বছরের কারাদণ্ড বা ১,০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয়
  4. ২ বছরের কারাদণ্ড বা ২,০০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয়
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ২৭৩ ধারা: ক্ষতিকর খাদ্য বা পানীয় বিক্রয়:
কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন দ্রব্য, খাদ্য বা পানীয় হিসেবে বিক্রয় করে, প্রদান করে বা বিক্রয়ার্থে উপস্থাপন করে, যা ক্ষতিকর করা হয়েছে বা সেরূপ হয়ে গিয়েছে অথবা যা এমন অবস্থায় রয়েছে, যাতে উহা খাদ্য বা পানীয় হিসেবে ব্যবহারের অনুপযুক্ত এবং উহা খাদ্য বা পানীয় হিসেবে স্বাস্থ্যহানিকর জানাসত্ত্বেও বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তা করে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থদণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

Section 273- Sale of noxious food or drink:
Whoever sells, or offers or exposes for sale, as food or drink, any article which has been rendered or has become noxious, or is in a state unfit food or drink, knowing or having reason to believe that the same is noxious as food or drink, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to six months, or with fine which may extend to one thousand taka, or with both.