বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ

মোট প্রশ্ন৩৩১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৩৩১

.
কোনটি পদের অংশ নয়?
  1. উপসর্গ
  2. বিভক্তি
  3. বচন
  4. বলক
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
বাক্যের মধ্যে পদগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
পদের অংশ
- বিভক্তি,
- নির্দেশক,
- বচন,
- বলক

শব্দের অংশ
- উপসর্গ ও
- প্রত্যয়

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১]
.
অব্যয় পদের জন্য কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) সর্বদা অপরিবর্তনীয়
  2. খ) বাক্যের শোভা বর্ধন করে
  3. গ) বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়
  4. ঘ) বাংলা ভাষায় অব্যয় শব্দ চার প্রকার
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাংলা ভাষায় অব্যয় শব্দ চার প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাংলা ভাষায় অব্যয় শব্দ চার প্রকার
ব্যাখ্যা
যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে। বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে- বাংলা, তৎসম এবং বিদেশী অব্যয় শব্দ। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
.
ব্যাতিহারিক সর্বনাম কোনগুলো চিহ্ণিত করুন:
  1. ক) স্বয়ং, খোদ, আপনি
  2. খ) এ, ইহারা, ইনি -
  3. গ) নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর
  4. ঘ) এ, ইহারা, ইনি
সঠিক উত্তর:
গ) নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে -

-  স্বয়ং, খোদ, আপনি- আত্মবাচক সর্বনাম
-  এ, ইহারা, ইনি - সমীপ্যবাচক সর্বনাম
নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর - ব্যতিহারিক সর্বনাম
-  সব, সকল, তাবৎ - সাকুল্যবাচক সর্বনাম পদ।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
"যথা ধর্ম তথা জয়।" - বাক্যে কোন ধরনের যোজক ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. কারণবাচক যোজক
  2. বিরোধমূলক যোজক
  3. সাপেক্ষ যোজক
  4. বিকল্প যোজক
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন –
যথা ধর্ম তথা জয়।
যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব ।
যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
-------------------- 
কারণ যোজক: 
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন –
জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি। 
বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

বিকল্প যোজক:
এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে ।
যেমন – 
লাল বা নীল কলমটা আনো ৷
চা না-হয় কফি খান।

বিরোধ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন -
এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না ৷
তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
.
পদাণু বিশেষণের উদাহরণ কোনটি?
  1. আমি কি যাব?
  2. ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
  3. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
  4. টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
সঠিক উত্তর:
আমি কি যাব?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি কি যাব?
ব্যাখ্যা
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
- বা: কখনাে বা দেখা হবে।
- না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালাে লাগবে।
- তাে: মরি তাে মরব।

অন্যদিকে,
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
জাতিবাচক বিশেষ্যের দৃষ্টান্ত-
  1. পানি 
  2. মিছিল
  3. সমাজ
  4. নদী
সঠিক উত্তর:
নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী
ব্যাখ্যা
জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী, ইংরেজ ইত্যাদি।

বস্তুবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বুঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মিছিল, সমাজ, সভা, জনতা, বহর, দল, সমিতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
কোনটি ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণ?
  1. যথাসময়ে
  2. সামনে
  3. টিপ টিপ
  4. না
সঠিক উত্তর:
টিপ টিপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিপ টিপ
ব্যাখ্যা
ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।

যেমন
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

অন্যদিকে,
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - যথাসময়ে সে হাজির হয়।
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
জাতিবাচক বিশেষ্যের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. সমাজ
  2. পানি
  3. মিছিল
  4. নদী
সঠিক উত্তর:
নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী
ব্যাখ্যা

• জাতিবাচক বিশেষ্যের দৃষ্টান্ত- নদী।

• বিশেষ্য:

- যে শব্দ দ্বারা ব্যক্তি, প্রাণী, বস্তু, স্থান, ধারণা বা গুণের নাম বোঝায় তাকে বিশেষ্য বলা হয়;
- যেমন: নদী, বই, বাংলাদেশ, সততা ইত্যাদি।
- বিশেষ্য পদের মাধ্যমে কোনো নামকে চিহ্নিত করা হয়- যেমন কলম, বই, আকাশ, সাগর, ফুল, ফল।
- এই নাম আবার ব্যবহার, অর্থ ও ধারণার ওপর ভিত্তি করে কয়েক ভাগে বিভক্ত।

• বিশেষ্যের ছয়টি প্রধান শ্রেণি:
১. নামবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা নির্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু, স্থান বা কোনো প্রসিদ্ধ গ্রন্থের নাম বোঝানো হয় তাকে নামবাচক বিশেষ্য বলে।
- এটিকে সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যও বলা হয়।
- উদাহরণ:
∗ ব্যক্তি: কামাল, রবীন্দ্রনাথ, রহিম;
∗ স্থান: ঢাকা, মক্কা, নেপাল, বাংলাদেশ, ইত্যাদি।

২. জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে শব্দ কোনো একজাতীয় প্রাণী, বস্তু বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
-  উদাহরণ: মানুষ, ঘোড়া, গরু, নদী, পর্বত, ইংরেজ।

৩. বস্তুবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য উপাদান বা দ্রব্যের নাম বোঝায় তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলা হয়।
- এ ধরনের বস্তুর পরিমাণ বোঝানো যায়, গণনা করা যায় না।
- উদাহরণ: পানি, দুধ, চিনি, লবণ, মধু, চাল।

৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে শব্দ একদল ব্যক্তি, প্রাণী বা বস্তুকে সমষ্টিগতভাবে বোঝায় তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলা হয়।
- উদাহরণ: জনতা, সমাজ, সভা, সমিতি, দল, ঝাঁক, কাফেলা, সমাজ, মিছিল।

৫. ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য কোনো কাজ বা ক্রিয়ার ভাব প্রকাশ করে তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
- উদাহরণ: দর্শন (দেখা), ভোজন (খাওয়া), শয়ন (শোয়া), শ্রবণ (শোনা)।

৬. গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য কোনো বস্তুর গুণ, দোষ, বৈশিষ্ট্য বা মানসিক অবস্থা বোঝায় তাকে গুণবাচক বিশেষ্য বলে।
- উদাহরণ: সৌন্দর্য, সততা, বীর্য, সুখ, দুঃখ, তরলতার তারল্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
‘আমি নিজে নিজে অঙ্কটা করেছি’- বাক্যে ‘নিজে’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম: সর্বনাম বাক্যে বিশেষ্যের অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ্যের মতোই কারক ও বচন ভেদে তার রূপের পরিবর্তন হয়।
- কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে- এ ভাব রেজার দিয়ে বোঝানোর জন্য আত্মবাচক সর্মনাম ব্যবহৃত।
যেমন:
- আমি নিজে নিজে অঙ্কটি করেছি।
- তিনি স্বয়ং আমাকে দেখতে আসবেন।
- যাত্রীরা স্ব স্ব আসনে গিয়ে বসলেন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
'উহ্, কী বিপদে পড়া গেল'- এখানে কোন ধরনের আবেগ প্রকাশ পেয়েছে?
  1. ক) বিরক্তি আবেগ
  2. খ) সিদ্ধান্ত আবেগ
  3. গ) আতঙ্ক আবেগ
  4. ঘ) বিস্ময় আবেগ
সঠিক উত্তর:
গ) আতঙ্ক আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আতঙ্ক আবেগ
ব্যাখ্যা
'উহ্, কী বিপদে পড়া গেল'- এখানে আতঙ্ক আবেগ প্রকাশ পেয়েছে।

আবেগ:
মনের নানা ভাব বা আবেগকে প্রকাশ করা হয় যেসব শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ শব্দ বলা হয়।
এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন – ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

নিচে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো।
সিদ্ধান্ত আবেগ:
এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি ভাব প্রকাশ করা হয় ।
যেমন -
- হ্যাঁ, আমাদের জিততেই হবে।
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক ।

বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন –
- ছি ছি! এরকম কথা তার মুখে মানায় না।
- জ্বালা! তোমাকে নিয়ে আর পারি না!

আতঙ্ক আবেগ:
এ ধরনের আবেগ-শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রণা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশ করে।
যেমন –
- উহ্, কী বিপদে পড়া গেল ৷
- বাপরে বাপ! কী ভয়ঙ্কর ছিল রাক্ষসটা।

বিস্ময় আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশ করে।
যেমন –
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- আহ্, কী চমৎকার দৃশ্য।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১১.
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয়- 
  1. বিভক্তি
  2. পদ
  3. প্রত্যয়
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ
ব্যাখ্যা

পদ:
- বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে৷
- অন্যভাবে, শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।

• বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
- বিশেষ্য,
- সর্বনাম,
- বিশেষণ,
- ক্রিয়া,
- ক্রিয়াবিশেষণ,
- অনুসর্গ,
- যােজক,
- আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১২.
‘দহন’ শব্দের বিশেষণ রূপ কোনটি?
  1. ক) দাহ্য
  2. খ) দহনকারী
  3. গ) দগ্ধ
  4. ঘ) দাহ্যনীয়
সঠিক উত্তর:
ক) দাহ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দাহ্য
ব্যাখ্যা

দহন [দহোন্‌] (বিশেষ্য)
১ দগ্ধকরণ; জ্বালা; পোড়া; দাহ।
২ অগ্নি (বেহান বিকাল যায় দহন সেবনে-কবি কঙ্কণ কুমুন্দরাম চক্রবর্তী)।
৩ ((আলঙ্কারিক)) যন্ত্রণা (হিয়ায় লইতে দহন দ্বিগুণ হয়-চণ্ডীদাস)।

দাহক (বিশেষণ) ; দহনকারী (বিশ্বদহন ক্রোধ)।
দহনক্রিয়া (বিশেষ্য) জ্বলনের কাজ (দহনক্রিয়ার অর্থই হল দ্রুতবেগে অক্সিজেনের সঙ্গে মিলন-শামসুল হক ফজলুর রহমান)।
দাহ্য; দহনীয় (বিশেষণ)  দহনের উপযুক্ত; দহনযোগ্য।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) √দহ্‌+অন(ল্যুট্‌)}

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান

১৩.
পদের লগ্নক কত ধরনের?
  1. দুই
  2. চার
  3. তিন
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার
ব্যাখ্যা
• পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।
- লগ্নক চার ধরনের:

বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪.
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো কাজের নাম বোঝায়, তাকে কোন ধরনের বিশেষ্য বলে ?
  1. ক) বস্তু-বিশেষ্য
  2. খ) সমষ্টি-বিশেষ্য
  3. গ) গুণ-বিশেষ্য
  4. ঘ) ক্রিয়া-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়া-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়া-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার।
- নাম-বিশেষ্য
- জাতি-বিশেষ্য
- বস্ত-বিশেষ্য
- সমষ্টি-বিশেষ্য
- গুণ-বিশেষ্য
- ক্রিয়া-বিশেষ্য

ক্রিয়া-বিশেষ্যঃ যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন,
- পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫.
যোজক কাকে যুক্ত করে?
  1. পদ
  2. বর্গ
  3. বাক্য
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• যোজক: 
- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে।
যেমন: 
এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।

• যোজকের প্রকারভেদ:
বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজক কে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

- সাধারন যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে। যেমন: করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।
- বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। যেমন: চা না-হয় কফি খান।
- বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।
- কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
- সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
১৬.
পদ বিবেচনায় শব্দ কত প্রকার?
  1. ৬ প্রকার
  2. ৭ প্রকার
  3. ৮ প্রকার
  4. ৯ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৮ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ প্রকার
ব্যাখ্যা
• পদ বিবেচনায় শব্দ - ৮ প্রকার।

পদ: 
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য,
২. সর্বনাম,
৩. বিশেষণ,
৪. ক্রিয়া,
৫. ক্রিয়া বিশেষণ,
৬. অনুসর্গ,
৭. যোজক,
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
১৭.
‘কি আমীর কি ফকির, একদিন সকলকেই যেতে হবে।’ - এ বাক্যে ‘কি’ অব্যয়টি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. জিজ্ঞাসায়
  2. বিরক্তি প্রকাশে
  3. সাকুল্য অর্থে
  4. বিড়ম্বনা প্রকাশে
সঠিক উত্তর:
সাকুল্য অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাকুল্য অর্থে
ব্যাখ্যা

• ‘কি আমীর কি ফকির, একদিন সকলকেই যেতে হবে।’ - এ বাক্যে ‘কি’ অব্যয়টি সাকুল্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

"কি/কী" অব্যয় শব্দের বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার:
- জিজ্ঞাসায়: তুমি কি বাড়ি যাচ্ছ?
- বিরক্তি প্রকাশে: কী বিপদ, লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।
- সাকুল্য অর্থে: কি আমীর কি ফকির, একদিন সকলকেই যেতে হবে।
- বিড়ম্বনা প্রকাশে: তোমাকে নিয়ে কী মুশকিলেই না পড়লাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১৮.
কোন পদের ক্ষেত্রে পুরুষ হয়না?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
'পুরুষ' একটি পারিভাষিক শব্দ।
- বিশেষ্য, সর্বনাম, ক্রিয়ারই পুরুষ আছে।
- বিশেষণ ও অব্যয়ের পুরুষ নেই।

ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকার।
যথা- উত্তম, মধ্যম ও নাম পুরুষ।

উত্তম পুরুষ:
স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ। যেমন: আমি 

মধ্যম পুরুষ:
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ।
যেমন: তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।

নাম পুরুষ:
অনুপস্থিত বা পরোক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু, প্রাণীই নাম পুরুষ।
যেমন: সে, তারা, তাদের, তিনি, তাহাদের প্রভৃতি নাম পুরুষ। (সমস্ত বিশেষ্য শব্দই নাম পুরুষ)।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
১৯.
বাক্যের মধ্যে শব্দ অবস্থান করে কীভাবে?
  1. কর্তা ও ক্রিয়ার পদবিন্যাস অনুযায়ী
  2. অর্থ ও ভাব অনুযায়ী
  3. বর্গ বা গুচ্ছ আকারে
  4. স্বাধীন পদের পরিচয় নিয়ে
সঠিক উত্তর:
কর্তা ও ক্রিয়ার পদবিন্যাস অনুযায়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা ও ক্রিয়ার পদবিন্যাস অনুযায়ী
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) কর্তা ও ক্রিয়ার পদবিন্যাস অনুযায়ী।

বাক্য গঠনের নিয়ম:
বাংলা বাক্যে শব্দের অবস্থান সাধারণত কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া (SOV: Subject-Object-Verb) পদবিন্যাস অনুসারে হয়। এটি বাংলা ভাষার বাক্য গঠনের মূল বৈশিষ্ট্য।

উদাহরণস্বরূপ:
“রানা (কর্তা) বই (কর্ম) পড়ে (ক্রিয়া)।” এই পদবিন্যাস বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করতে এবং ব্যাকরণগতভাবে বাক্যটি সঠিক হতে সাহায্য করে। বাংলায় শব্দের অবস্থান নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে, যেখানে কর্তা সাধারণত বাক্যের শুরুতে, কর্ম (যদি থাকে) মাঝে এবং ক্রিয়া শেষে থাকে।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:

খ) অর্থ ও ভাব অনুযায়ী:
যদিও বাক্যের অর্থ ও ভাব শব্দ নির্বাচন ও বিন্যাসে প্রভাব ফেলে, তবু শব্দের অবস্থান প্রাথমিকভাবে ব্যাকরণগত পদবিন্যাস (কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, অর্থ বা ভাব দ্বারা নয়।

গ) বর্গ বা গুচ্ছ আকারে:
বাংলা বাক্যে শব্দগুচ্ছ (যেমন: বিশেষণ-বিশেষ্য) থাকতে পারে, কিন্তু শব্দের অবস্থান সরাসরি বর্গ বা গুচ্ছের উপর নির্ভর করে না; বরং পদবিন্যাসের নিয়ম এটি নির্ধারণ করে।

ঘ) স্বাধীন পদের পরিচয় নিয়ে:
শব্দের স্বাধীন পদের পরিচয় (যেমন: বিশেষ্য, ক্রিয়া) বাক্যে তাদের ভূমিকা নির্ধারণে সাহায্য করে, কিন্তু অবস্থান নির্ধারিত হয় বাক্যের পদবিন্যাসের নিয়ম অনুসারে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; মাধ্যমিক ব্যাকরণ- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
"বেশ, তাই হবে।" দাগাঙ্কিত অংশটি কোন পদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) আবেগ
  2. খ) যোজক
  3. গ) অনুসর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক) আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবেগ
ব্যাখ্যা
আবেগ:
মনের নানা ভাব বা আবেগকে প্রকাশ করা হয় যেসব শব্দ দিয়ে সেগুলােকে আবেগ শব্দ বলা হয়।
এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলাের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ছি ছি, আহা, বাহ, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

"বেশ, তাই হবে।" - এটি সিদ্ধান্তবাচক আবেগ-শব্দ। 

সিদ্ধান্তবাচক আবেগ-শব্দ:
এই জাতীয় আবেগ শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি ভাব প্রকাশ করা হয়। 
যেমন:
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ হচ্ছে না। 
- না, আমি তোমার কোনো কথাই শুনব না।
- উঁহু, ও কাজ আমাকে দিয়ে হবে না। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি। 

 
২১.
‘ছেলেটি এমন আকায় একেছে’ - বাক্যে যে ধরনের কর্মপদ ব্যবহৃত হয়েছে -
  1. ক) মুখ্যকর্ম
  2. খ) ধাত্বর্থক কর্ম
  3. গ) গৌণ কর্ম
  4. ঘ) প্রযোজক কর্ম
সঠিক উত্তর:
খ) ধাত্বর্থক কর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধাত্বর্থক কর্ম
ব্যাখ্যা

বাক্যের ক্রিয়া ও কর্মপদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ/ধাত্বর্থক কর্ম বলে।
যেমন-
আর কত খেলা খেলবে।
বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
আর মায়াকান্না কেঁদো না। ইত্যাদি।
তেমনিভাবে, ছেলেটি এমন আকায় একেছে - সমধাতুজ/ধাত্বর্থককর্ম পদ। 
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণঃ নবম-দশম শ্রেণী।

২২.
নিচের কোনটি গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) গমন
  2. খ) বহর
  3. গ) যৌবন
  4. ঘ) চাল
সঠিক উত্তর:
গ) যৌবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যৌবন
ব্যাখ্যা
- গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ হলো- যৌবন। 

গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। 
যেমন- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি। 
তদ্রুপ- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩.
"এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে না কো তুমি" বাক্যে 'কোথাও' কোন প্রকার ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. খ) কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. গ) পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  4. ঘ) স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• যে পদ ক্রিয়া কে বিশেষিত করে তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। যেমন: লোকটি ধীরে হাটে। 

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন -
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন -
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন -
মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়
তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বােঝায়।
এগুলাে সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন -
সে এখন যাবে না।
তিনি বেড়াতে যাননি।
এমন কথা আমার জানা নেই।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে, বা',না’, ‘তাে  প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন -
কি: আমি কি যাব?
যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৪.
'পদ' এর প্রকারভেদ এর অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. বিশেষ্য
  2. অনুসর্গ
  3. বিভক্তি
  4. যােজক
সঠিক উত্তর:
বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভক্তি
ব্যাখ্যা

• পদ:
বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে৷

অন্যভাবে,
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।

• বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
যথা:
- বিশেষ্য,
- সর্বনাম,
- বিশেষণ,
- ক্রিয়া,
- ক্রিয়াবিশেষণ,
- অনুসর্গ,
- যােজক,
- আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

২৫.
‘ওই ঘরে আজকাল সহজে কেউ ঘেঁষে না।’—এখানে ‘না’ কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়াবিশেষণ
  4. যোজক
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) ক্রিয়াবিশেষণ।

ব্যাখ্যা:
• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বােঝায়। এগুলাে সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন -
সে এখন যাবে না।

বাক্যটি: ‘ওই ঘরে আজকাল সহজে কেউ ঘেঁষে না।’

- এখানে ‘না’ শব্দটি ক্রিয়ার অর্থকে নেতিবাচক করে দিচ্ছে।
- এটি ঘেঁষে (ক্রিয়া)-কে বিশেষিত করছে → অর্থাৎ ঘেঁষা হচ্ছে না।
- বাংলা ব্যাকরণে ক্রিয়াকে যে শব্দ নেতিবাচক বা বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ (Adverb) বলা হয়।
- এখানে ‘না’ ক্রিয়ার নেতিবাচকতা প্রকাশ করছে → ক্রিয়াবিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।

২৬.
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে কি বলে?
  1. বিভক্তি
  2. পদ
  3. প্রত্যয়
  4. উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ
ব্যাখ্যা

• পদ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য
২. সর্বনাম
৩. বিশেষণ
৪. ক্রিয়া
৫. ক্রিয়া বিশেষণ
৬. অনুসর্গ
৭. যোজক
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২৭.
‘তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।’— বাক্যটিতে 'তবু' কোন ধরনের যোজক নির্দেশ করেছে?
  1. বিরোধ যোজক
  2. সাধারণ যোজক
  3. সাপেক্ষ যোজক
  4. বিকল্প যোজক
সঠিক উত্তর:
বিরোধ যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধ যোজক
ব্যাখ্যা
• বিরোধ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।

- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।
(এখানে, 'তবু' যোজকটি দুইটি বাক্যাংশের মধ্যে বিরোধ নির্দেশ করে।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৮.
‘তিনি বিদ্বান অথচ সৎ ব্যক্তি নন।’- বাক্যে ‘অথচ’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. যোজক
  4. অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজক
ব্যাখ্যা
• যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।
যেমন:
- এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?
- ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।
- যত গর্জে তত বর্ষে না।
- যদি রোদ ওঠে তবে রওনা দেব।
- তিনি বিদ্বান অথচ সৎ ব্যক্তি নন।
- তুমি অপরাধী অতএব শাস্তি পেতে হবে।

• যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, এবং, নইলে, যেহেতু, কিংবা, অতএব, যদি, যত-তত, যেমন-তেমন, যেরূপ-সেরূপ, অথচ, তবে, তাই, নতুবা, কিন্তু ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৯.
'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!'- বাক্যটিতে কোন প্রকারের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে? 
  1. অনুসর্গ অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. অনুকার অব্যয় 
  4. পদান্বয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনাে অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
- অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনােভাব প্রকাশে সহায়তা করে।
যেমন:
- মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।

'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!' - এখানে 'মরি মরি' অনন্বয়ী অব্যয়। ‘মরি' পদের সাথে অন্য কোন পদের সম্পর্ক নেই। তাই এটি অনন্বয়ী অব্যয় পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
৩০.
কোনটি অসমাপিকা ক্রিয়ার ধরন নয়?
  1. ভাবী অসমাপিকা
  2. ভূত অসমাপিকা
  3. শর্ত অসমাপিকা
  4. অকর্মক অসমাপিকা
সঠিক উত্তর:
অকর্মক অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকর্মক অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
• অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের।
যথা- 
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।

• অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ:
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালো হয়।

অন্যদিকে,
অকর্মক অসমাপিকা - অসমাপিকা ক্রিয়ার ধরন নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৩১.
পদ বিবেচনায় শব্দ কত প্রকার?
  1. ছয়
  2. সাত
  3. আট
  4. নয়
সঠিক উত্তর:
আট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আট
ব্যাখ্যা

পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ: 
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়:

যেমন:
১. বিশেষ্য,
২. সর্বনাম,
৩. বিশেষণ,
৪. ক্রিয়া,
৫. ক্রিয়াবিশেষণ,
৬. অনুসর্গ,
৭. যোজক ও
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩২.
নিচের কোন বাক্যে সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হয়েছে? 
  1. কিছু দরকার হলে বলো। 
  2. যদি ডাক পাই, নিশ্চয় যাব।
  3. কে তোমায় ডাক দিয়েছে আজ?
  4. ক ও গ 
সঠিক উত্তর:
ক ও গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ 
ব্যাখ্যা

• 'কিছু দরকার হলে বলো' ও 'কে তোমায় ডাক দিয়েছে আজ'?- বাক্য দুইটিতে সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হয়েছে।  
- 'কিছু' অনির্দিষ্ট সর্বনামের উদাহরণ এবং 'কে' প্রশ্নবাচক সর্বনামের উদাহরণ। 

• সর্বনাম পদ:
- বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
- সর্বনাম পদগুলো মূলত নয়টি ভাগে বিভক্ত করা যায়: 
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।
২. আত্মবাচক সর্বনাম, যেমন—স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।
৩. নির্দেশক সর্বনাম- নিকট নির্দেশক (এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি) এবং দূর নির্দেশক (ও, ওই, ওরা, উনি)। 
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন। 
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম- কে, কারা, কাকে, কার, কী। 
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন। 
৭. পারস্পারিক সর্বনাম- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা। 
৮. সকল বা সাকুল্যবাচক সর্বনাম- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত। 
৯. অন্যবাচক সর্বনাম- অন্য, অপর, পর, অমুক। এছাড়া সংযোগজ্ঞাপক সর্বনামও আছে, যেমন—যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ);
বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩.
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ অনুসারে কোনটি পদের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) অব্যয়
  3. গ) আবেগ
  4. ঘ) যোজক
সঠিক উত্তর:
খ) অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অব্যয়
ব্যাখ্যা

পদ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন নাম হয় পদ।

প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণে বাংলা ভাষার শব্দগুলিকে পাঁচটি শব্দশ্রেণিতে ভাগ করা হয়ে থাকে। 
এগুলো হলো: 
১. বিশেষ্য
২. বিশেষণ
৩. সর্বনাম
৪. ক্রিয়া
৫. অব্যয় 

তবে, আধুনিক প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ অনুসারে পদ ৮ প্রকার:
১. বিশেষ্য
২. সর্বনাম,
৩. বিশেষণ
৪. ক্রিয়া,
৫. ক্রিয়া বিশেষণ,
৬. অনুসর্গ,
৭. যোজক
৮. আবেগ।

প্রচলিত ব্যাকরণের অব্যয় কথাটিকে এই ব্যাকরণে গ্রহণ করা হয় নি, তার কারণ হল,  শব্দ শ্রেণি হিসাবে অব্যয় কারক-বিভক্তি-বহুল সংস্কৃত ব্যাকরণের ধারণা। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি। 

৩৪.
যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি। - এখানে 'যত' ও 'ততই' কোন ধরনের যোজক?
  1. বিকল্প
  2. সাপেক্ষ
  3. বিরোধ
  4. সাধারণ
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ
ব্যাখ্যা
সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

অন্যদিকে,
বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না।

সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে।
যেমন:
- করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।

বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- চা না-হয় কফি খান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৫.
নিচের কোন বাক্যে বিরোধ যোজকের উদাহরণ আছে?
  1. লাল বা নীল কলমটা আনো।
  2. তোমাকে ইমেইল করেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি।
  3. বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
  4. যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
সঠিক উত্তর:
তোমাকে ইমেইল করেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমাকে ইমেইল করেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি।
ব্যাখ্যা

• বিরোধ যোজক: 
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।
- তোমাকে ইমেইল করেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি।

 অন্যদিকে,
বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।

যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।

৩৬.
‘ঘণ্টা বেজে উঠল‘ কোন ধরণের ক্রিয়াপদ?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) মিশ্র ক্রিয়া
  4. ঘ) নাম ধাতুর ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
"ঘণ্টা বেজে উঠল"- বাক্যে 'বেজে উঠা' যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার। 
- সরল ক্রিয়া 
- প্রযোজক ক্রিয়া 
- নাম ক্রিয়া
- সংযোগ ক্রিয়া
- যৌগিক ক্রিয়া

যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৭.
'লাল ফিতা দিয়ে বাঁধা কয়েনগুলি সৌভাগ্য বহন করে।' - বাক্যটিতে 'লাল' কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের বাক্যটিতে 'লাল' শব্দটি বর্ণবাচক বিশেষণ।

• বর্ণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
 যেমন- নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা – এখানে ‘নীল’, ‘সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৩৮.
নিচের কোন বাক্যে সাপেক্ষ যোজক ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) যদি রোদ উঠে তবে রওনা দিব
  2. খ) তুমি তাড়াতাড়ি রওনা দাও নইলে ট্রেন ধরতে পারবে না
  3. গ) যেহেতু ঠান্ডা লেগেছে তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না
  4. ঘ) এত বৃষ্টি হলো তবু গরম গেল না
সঠিক উত্তর:
ক) যদি রোদ উঠে তবে রওনা দিব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যদি রোদ উঠে তবে রওনা দিব
ব্যাখ্যা
যােজক: পদ, বৰ্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলােকে যােজক বলে।
যেমন - এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।

সাপেক্ষ যােজক: এ ধরনের যােজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
যদি রােদ ওঠে, তবে রওনা দেব। (অনুরূপভাবে, যদি বৃষ্টি থামে, তবে রওনা দেব। )
যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

কারণ যােজক: এ ধরনের যোজক দুটি বাক্যের মধ্যে সংযোজক  ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।   
তুমি তাড়াতাড়ি রওনা দাও নইলে ট্রেন ধরতে পারবে না।
যেহেতু ঠান্ডা লেগেছে তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না।
 
 বিরােধ যােজক: এ ধরনের যোজক দুটি বাক্যের সংযোগ ঘটিয়ে দ্বিতীয়টির সাহায্যে প্রথম বাক্যের বক্তব্যের বিরোধ নির্দেশ করে। 
এত বৃষ্টি হলো তবু গরম গেল না 


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৯.
দুটি পদের সংযোগস্থলে কী বসে?
  1. ক) ড্যাশ
  2. খ) হাইফেন
  3. গ) কোলন
  4. ঘ) কোলন ড্যাশ
সঠিক উত্তর:
খ) হাইফেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাইফেন
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- 
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব। 
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪০.
নিচের কোন বাক্যে বিকল্প যোজকের উদাহরণ আছে?
  1. যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
  2. চা না-হয় কফি খান।
  3. যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
  4. বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
সঠিক উত্তর:
চা না-হয় কফি খান।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চা না-হয় কফি খান।
ব্যাখ্যা
বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।

যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান

অন্যদিকে,
কারণ যোজক - বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
সাপেক্ষ যোজক - যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব। যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।
৪১.
কোনটি একপদী ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ?
  1. যায় যায়
  2. ভয়ে ভয়ে
  3. ভালোভাবে
  4. চুপি চুপি
সঠিক উত্তর:
ভালোভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভালোভাবে
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
লোকটি ধীরে হাঁটে।
মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।
 
• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪২.
কোন বাক্যে ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ আছে?
  1. টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে
  2. বৃষ্টি হতে পারে
  3. বৃষ্টি পড়ছে
  4. বৃষ্টিতে মন কেমন করে
সঠিক উত্তর:
টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
লোকটি ধীরে হাঁটে।
মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।
টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪৩.
বাংলা ব্যাকরণে লগ্নক কয় প্রকার?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলাের নাম লগ্নক

লগ্নক চার ধরনের:

১. বিভক্তি : ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বােঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলােকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। করলাম ক্রিয়াপদের লাম’ শব্দাংশ হলাে ক্রিয়া-বিভক্তি এবং কৃষকের পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।
 
২. নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলােকে নির্দেশক বলে। ‘লােকটি বা ভালােটুকু পদের টি’ বা ‘টুকু হলাে নির্দেশকের উদাহরণ।

৩. বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বােঝায়, সেগুলােকে বচন বলে। ছেলেরা বা বইগুলাে পদের রা’ বা ‘গুলাে হলাে বচনের উদাহরণ।

৪. বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে। তখনই বা ‘এখনও পদের ই বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৪.
কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, তাকে কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ বলে?
  1. পদাণু
  2. কালবাচক
  3. স্থানবাচক
  4. ধরনবাচক
সঠিক উত্তর:
ধরনবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধরনবাচক
ব্যাখ্যা
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

অন্যদিকে,
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৫.
লগ্নক কত প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার
ব্যাখ্যা
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। 
- লগ্নক চার ধরনের।
যথা - 
 
বিভক্তি: 
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। 
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।
 
নির্দেশক: 
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 
- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ। 
 
বচন: 
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 
- 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ। 
 
বলক: 
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 
- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৬.
কোনটি শব্দের শেষে যুক্ত হয় না?
  1. নির্দেশক
  2. প্রত্যয়
  3. বিভক্তি
  4. উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• শব্দের শেষে যুক্ত হয়না - উপসর্গ।

উপসর্গ:
- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
'পরিচালক' শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ ।

অন্যদিকে,
প্রত্যয়:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
সাংবাদিক” শব্দের ইক’ অংশ একটি প্রত্যয়।

নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
‘লোকটি বা ভালোটুকু পদের টি' বা ‘টুকু হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বিভক্তি: 
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য বা কারক বোঝাতে যেসকল শব্দাংশ যুক্ত হয় তাদের বিভক্তি বলে।
- 'কৃষকের' শব্দে 'এর' শব্দাংশটি হলো বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৭.
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে কোন ধরনের সর্বনাম ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) আত্মবাচক সর্বনাম
  2. খ) পারস্পরিক সর্বনাম
  3. গ) প্রশ্নবাচক সর্বনাম
  4. ঘ) সাপেক্ষ সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
খ) পারস্পরিক সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পারস্পরিক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।

• পারস্পরিক সর্বনাম:
- দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৪৮.
নিচের কোনটি সর্বনামের বিশেষণ?
  1. ক) হাজার লোক
  2. খ) মেটে কলসি
  3. গ) সেই ছেলে
  4. ঘ) করুণাময় তুমি
সঠিক উত্তর:
ঘ) করুণাময় তুমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) করুণাময় তুমি
ব্যাখ্যা
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে। 'করুণাময় তুমি' বাক্যটিতে 'তুমি' সর্বনামের পূর্বে 'করুণাময়' বিশেষণ টি বসে 'তুমি' সর্বনামটিকে বিশেষিত করেছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৪৯.
গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া কয় প্রকার?
  1. ক) ৪
  2. খ) ৫
  3. গ) ৬
  4. ঘ) ৭
সঠিক উত্তর:
খ) ৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৫
ব্যাখ্যা

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া ৫ প্রকার।
যথা:
সরল ক্রিয়া: একটি মাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে তা সম্পন্ন করে তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন: সে লিখছে, ছেলেরা খেলছে ইত্যাদি।

প্রযোজক ক্রিয়া:
কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন: তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।

নাম ক্রিয়া: 
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ’ বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন: মেঘের বুকে বিদ্যুৎ চমকায়। 

সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘করা', 'কাটা', 'হওয়া', 'দেওয়া' ইত্যাদি যোগ করে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন: ভাঙন ধরা, লজ্জা পাওয়া, আছাড় খাওয়া, পকেট মারা ইত্যাদি।

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সাথে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠন করে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, এগিয়ে আসা, বলে ফেলা, বুঝে নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৫০.
নিচের কোনটি সর্বনামের প্রতিনিধি স্থানীয়?
  1. ক) অব্যয়
  2. খ) ক্রিয়া
  3. গ) বিশেষ্য
  4. ঘ) বিশেষণের অতিশায়ন
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
সর্বনাম
- বিশেষ্যের পরিবর্তে যে শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে।
- সর্বনাম সাধারণত ইতোপূর্বে ব্যবহৃত বিশেষ্যের প্রতিনিধি স্থানীয় শব্দ।
যেমন:  হস্তী প্রাণিজগতের সর্ববৃহৎ প্রাণী। তার  শরীরটি যেন বিরাট এক মাংসের স্তুপ।

উল্লেখ্য যে, 

- বিশেষ্য পদ অনুক্ত থাকলেও ক্ষেত্রবিশেষে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হতে পারে।
- যেমন: যারা দেশের ডাকে সারা দিতে পারে, তারা তো সত্যিকারের দেশপ্রেমিক।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
৫১.
'বৈশাখ' কোন জাতীয় নাম-বিশেষ্য?
  1. ক) সৃষ্টিনাম
  2. খ) স্থাননাম
  3. গ) ব্যক্তিনাম
  4. ঘ) কালনাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) কালনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কালনাম
ব্যাখ্যা
- 'বৈশাখ' হচ্ছে কালনাম জাতীয় নাম-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন-
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান ৷
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৫২.
'জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়'-এখানে 'ছটফটায়' কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) সরল ক্রিয়া
  4. ঘ) নামক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) নামক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নামক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত বাক্যে 'ছটফটায়' শব্দটি 'নামক্রিয়ার উদাহরণ।

•নাম ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন: বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত্য করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

প্রযোজক ক্রিয়া:
কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন: তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সাথে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠন করে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, এগিয়ে আসা, বলে ফেলা, বুঝে নেওয়া ইত্যাদি।

সরল ক্রিয়া: একটি মাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে তা সম্পন্ন করে তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন: ছেলেরা মাঠে খেলছে

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৫৩.
কোনটি কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
  2. খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
  3. টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
  4. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ঘ) যথাসময়ে সে হাজির হয়। 

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
উদাহরণ:
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে।
উদাহরণ:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা না করলেও ‘কি’, ‘যে’, ‘বা’, ‘না’, ‘তো’ ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
উদাহরণ:
- আমি কি যাব?
- খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

ধরণবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
- কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয় তা নির্দেশ করে।
উদাহরণ:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৫৪.
পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম ____
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) অক্ষর
  3. গ) বর্ণ
  4. ঘ) লগ্নক
সঠিক উত্তর:
ঘ) লগ্নক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লগ্নক
ব্যাখ্যা

- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তাকে পদ বলে।
-পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।
- লগ্নক চার ধারনের
- বিভক্তি 
- নির্দেশক
- বচন
- বলক

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১, পৃষ্ঠাঃ ২৬]

৫৫.
'আমি সকাল থেকে বসে আছি।'- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন বর্গের উদাহরণ?
  1. বিশেষণ বর্গ
  2. বিশেষ্য বর্গ
  3. ক্রিয়া বর্গ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ বর্গ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ বর্গ
ব্যাখ্যা
• 'আমি সকাল থেকে বসে আছি।'- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি ক্রিয়া বিশেষণ বর্গের উদাহরণ।

বাক্যের বর্গ:
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ। 

বিশেষ্যবর্গ: 
- বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন – আমার ভাই পড়তে বসেছে।

বিশেষণবর্গ: 
- বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন –
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর

ক্রিয়াবিশেষণ-বৰ্গ:
- যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন: সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো ।
আমি সকাল থেকে বসে আছি।
তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম ।

ক্রিয়াবৰ্গ: 
- বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন –
অস্ত্রসহ সৈন্যদল এগিয়ে চলেছে
সে লিখছে আর হাসছে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
৫৬.
নিচের যেটি সম্বন্ধ পদের বিভক্তি নয়-
  1. ক) র
  2. খ) এর
  3. গ) রা
  4. ঘ) কার
সঠিক উত্তর:
গ) রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রা
ব্যাখ্যা

 -ক্রিয়াপদের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে যে নামপদ বাক্যস্থিত অন্য পদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়, তাকে সম্বন্ধ পদ বলে।
যেমন—মতিনের ভাই বাড়ি যাবে।

সম্বন্ধ পদের বিভক্তি:
- সম্বন্ধ পদে ‘র’ বা ‘এর’ বিভক্তি যুক্ত হয়ে থাকে। যথা : আমি + র = আমার (ভাই), খালিদ + এর = খালিদের (বই)।

- সময়বাচক অর্থে সম্বন্ধ পদে কার > কের বিভক্তি যুক্ত হয়। যথা- আজি + কার = আজিকার > আজকের (কাগজ)।

সুতরাং 'রা' সম্বন্ধ পদের বিভক্তি নয়৷

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৫৭.
পদের লগ্নক কত ধরনের?
  1. তিন
  2. চার
  3. পাঁচ
  4. ছয়
সঠিক উত্তর:
চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার
ব্যাখ্যা

• পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। 
- লগ্নক চার ধরনের: 
 
বিভক্তি: 
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। 
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।
 
নির্দেশক: 
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 
- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ। 
 
বচন: 
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 
- 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ। 
 
বলক: 
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 
- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫৮.
নিচের কোনটি পদের অন্তর্ভুক্ত হবে না?
  1. ক) অব্যয়
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) আবেগ
  4. ঘ) যােজক
সঠিক উত্তর:
ক) অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অব্যয়
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ। বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়:
- বিশেষ্য
- সর্বনাম
- বিশেষণ
- ক্রিয়া
- ক্রিয়াবিশেষণ
- অনুসর্গ
- যােজক 
- আবেগ
বাক্যে প্রয়ােগের উপরে শব্দশ্রেণির এই আট রকম বিভাজন চূড়ান্ত হয়ে থাকে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৯.
'সে জীবন যুদ্ধে একজন পরাজিত সৈনিক' বাক্যে সলগ্নক পদ কোনটি?
  1. ক) জীবন
  2. খ) যুদ্ধে
  3. গ) একজন
  4. ঘ) সৈনিক
সঠিক উত্তর:
খ) যুদ্ধে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যুদ্ধে
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলাের নাম লগ্নক।
- লগ্নক চার ধরনের: বিভক্তি, নির্দেশক, বচন ও বলক।

বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলােকে সলগ্নক পদ এবং যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলােকে অলগ্নক পদ বলে।
ছেলেরা ক্রিকেট খেলে’- এই বাক্যের ‘ছেলেরা ও ‘খেলে' সলগ্নক পদ আর 'ক্রিকেট' অলগ্নক পদ।

অনুরূপ ভাবে, 'সে জীবন যুদ্ধে একজন পরাজিত সৈনিক' বাক্যে 'জীবন' 'একজন' 'পরাজিত' 'সৈনিক' = অলগ্নক পদ
এবং  'যুদ্ধে' = সলগ্নক পদ।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৬০.
যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।- এ বাক্যে কী ধরনের যোজক ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) কারণ যোজক
  2. খ) বিকল্প যোজক
  3. গ) সাপেক্ষ যোজক
  4. ঘ) বিরোধ যোজক
সঠিক উত্তর:
গ) সাপেক্ষ যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।- এ বাক্যে সাপেক্ষ যোজক ব্যবহৃত হয়েছে।

সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন – 
যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব ।
যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

কারণ যোজক: 
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন –
জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি। 
বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

বিকল্প যোজক:
এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে ।
যেমন – 
লাল বা নীল কলমটা আনো ৷
চা না-হয় কফি খান।

বিরোধ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন -
এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না ৷
তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
৬১.
'জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।' এখানে 'কারণ' কোন ধরনের যোজক?
  1. সাপেক্ষ যোজক
  2. কারণ যোজক
  3. বিকল্প যোজক
  4. সাধারণ যোজক
সঠিক উত্তর:
কারণ যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারণ যোজক
ব্যাখ্যা
কারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন-
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

অন্যদিকে,
সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন –
- রহিম করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো ।

বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন -
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান ।

সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব ।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।
৬২.
যদি সে সঠিক সময়ে উপস্থিত হতে পারে, তবেই সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।- বাক্যে কোন প্রকার যোজক ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সাধারণ যােজক
  2. খ) বিকল্প যােজক
  3. গ) সাপেক্ষ যােজক
  4. ঘ) বিরােধ যােজক
সঠিক উত্তর:
গ) সাপেক্ষ যােজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাপেক্ষ যােজক
ব্যাখ্যা
পদ, বৰ্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলােকে যােজক বলে।
যেমন - এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।

সাপেক্ষ যােজক:
এ ধরনের যােজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
যদি রােদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
অনুরূপভাবে, 
যদি সে সঠিক সময়ে উপস্থিত হতে পারে, তবেই সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৩.
‘নগর’ শব্দের বিশেষণ
  1. ক) নাগরদোলা
  2. খ) নগরী
  3. গ) নাগরিক
  4. ঘ) নগরসমেত
সঠিক উত্তর:
গ) নাগরিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাগরিক
ব্যাখ্যা
নগর (বিশেষ্য)
এর বিশেষণ - নাগরিক।

সূত্র: অভিগম্য অভিধান
৬৪.
'আজ মঙ্গলবার'- এখানে 'মঙ্গলবার' কোনবাচক বিশেষ্য পদ?
  1. ক) গুণ-বিশেষ্য
  2. খ) জাতি-বিশেষ্য
  3. গ) নাম-বিশেষ্য
  4. ঘ) ক্রিয়া-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
গ) নাম-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাম-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
-প্রশ্নে উল্লেখিত 'মঙ্গলবার' হলো 'নাম-বিশেষ্য' এর অন্তর্গত।

'নাম-বিশেষ্য'- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন-
- ব্যক্তিনাম হাবিব, লতা, অনুরাধা।
- স্থাননাম ঢাকা, বাংলাদেশ, পদ্মা।
- কালনাম সোমাবার, রবিবার, বৈশাখ, রমজান।
- সৃষ্টিনাম গীতাঞ্জলি, মৃত্যুক্ষুধা, ইত্তেফাক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৫.
“রুবেল ভদ্র ছেলে।”- এখানে ‘ভদ্র’ কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. বিশেষ্যের বিশেষণ
  2. সর্বনামের বিশেষণ
  3. ভাববাচক বিশেষণ
  4. ক্রিয়াবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যের বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যের বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• “রুবেল ভদ্র ছেলে”- এখানে ‘ভদ্র’ শব্দটি ‘রুবেল’ ও ‘ছেলে’ - উভয়েরই গুণ প্রকাশ করছে। 
- বাক্যে ‘ছেলে’ হচ্ছে বিশেষ্য এবং ‘ভদ্র’ তার গুণ নির্দেশ করছে।
- যে বিশেষণ বিশেষ্যের গুণ প্রকাশ করে, তাকে বিশেষ্যের বিশেষণ বলে।
- তাই “রুবেল ভদ্র ছেলে।”- এখানে ‘ভদ্র’ বিশেষ্যের বিশেষণ। 
-------------------------------------------
বিশেষণ:
- বিশেষণ হলো সেই পদ যা বিশেষ্য, সর্বনাম বা ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে।
- যেমন:
- মেধাবী ছেলে (গুণ);
- নীল আকাশ (অবস্থা/রং);
- সুন্দর মেয়ে (গুণ);
- দ্রুত হাঁট (ক্রিয়া);
- তিন/চার (সংখ্যা)।

• বিশেষণ দুই প্রকার:
১. নাম বিশেষণ- বিশেষ্য বা সর্বনামকে বিশেষিত করে, যেমন- 'সুন্দর ফুল' বা 'রূপবান ছেলে'।
২. ভাব বিশেষণ- বিশেষ্য বা সর্বনাম ছাড়া অন্য পদ, যেমন ক্রিয়া বা পুরো বাক্যকে বিশেষিত করে, যেমন- 'আস্তে হাঁটো' বা 'খুব ভালো।

• নামবিশেষণ আবার দুই ভাগে বিভক্ত:
- বিশেষ্যের বিশেষণ: যা বিশেষ্যের গুণ নির্দেশ করে (যেমন—ভদ্র ছেলে)।
- সর্বনামের বিশেষণ: যা সর্বনামের গুণ নির্দেশ করে (যেমন—ওই তুমি, এই আমি)।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)। 

৬৬.
'মরতে মরতে' কিসের দৃষ্টান্ত?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়াবিশেষণ
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মিলি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
- বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৭.
অর্পনা দ্রুত লিখতে পারে। - এ বাক্যে দ্রুত কী ধরনের ক্রিয়াবিষেণ?
  1. ক) সময়বাচক
  2. খ) ভাবজ্ঞাপক
  3. গ) স্থানবাচক
  4. ঘ) বাক্য সংযোজক
সঠিক উত্তর:
খ) ভাবজ্ঞাপক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভাবজ্ঞাপক
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোনো কাজ কীভাবে বা কেমন করে সংঘটিত হচ্ছে বুঝায় তাকে ধরনবাচক বা ভাবজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন : 
অর্পনা দ্রুত লিখতে পারে। 
লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। 
টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস : বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ বোর্ড বই।
৬৮.
‘তিনি বিদ্বান অথচ সৎ ব্যক্তি নন।’- এখানে ‘অথচ’ কোন পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আবেগ
  2. যোজক
  3. অনুসর্গ
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজক
ব্যাখ্যা
• যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।
যেমন:
- এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?
- ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।  
- যত গর্জে তত বর্ষে না।
- যদি রোদ ওঠে তবে রওনা দেব।
- তিনি বিদ্বান অথচ সৎ ব্যক্তি নন।
- তুমি অপরাধী অতএব শাস্তি পেতে হবে।
 
• যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, এবং, নইলে, যেহেতু, কিংবা, অতএব, যদি, যত-তত, যেমন-তেমন, যেরূপ-সেরূপ, অথচ, তবে, তাই, নতুবা, কিন্তু ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৯.
নামবাচক বিশেষ্য পদ কোনটি?
  1. ক) নদী
  2. খ) বিজু
  3. গ) সমাবেশ
  4. ঘ) মানুষ
সঠিক উত্তর:
খ) বিজু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিজু
ব্যাখ্যা

যে পদ দ্বারা কোন ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান, বা গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নামবাচক বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন- আনিস, ঢাকা, মেঘনা, হিমালয়, গীতাঞ্জলি, ফাল্গুন, বিজু, বৈসাবি ইত্যাদি।

সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।

৭০.
করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে। - এখানে 'ও' কোন ধরনের যোজক?
  1. বিকল্প
  2. সাপেক্ষ
  3. বিরোধ
  4. সাধারণ
সঠিক উত্তর:
সাধারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ
ব্যাখ্যা
সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে।
যেমন:
- করিম রহিম এ কাজটি করেছে।

অন্যদিকে,
বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না।

বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- চা না-হয় কফি খান।

সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭১.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. ঐচ্ছিক
  2. ইচ্ছা
  3. সুন্দর
  4. ইচ্ছুক
সঠিক উত্তর:
ইচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইচ্ছা
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ - ইচ্ছা

শব্দের অর্থ:
- অভিলাষ, রুচি, অভিপ্রায়।

অন্যদিকে,
বিশেষণ পদ - ইচ্ছুক, ঐচ্ছিক, সুন্দর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭২.
"যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেবো।" - বাক্যটিতে কোন যোজক নির্দেশ করেছে?
  1. সাপেক্ষ যোজক
  2. বিরোধ যোজক
  3. বিকল্প যোজক
  4. সাধারণ যোজক
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে।
যেমন - এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।

সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
- যত গর্জে তত বর্ষে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৩.
‘যাকগে, ওসব কথা থাক।’ বাক্যে ব্যবহৃত ‘যাকগে’ কোন পদের দৃষ্টান্ত? 
  1. আবেগ
  2. যোজক
  3. অনুসর্গ
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবেগ
ব্যাখ্যা
• আবেগ-শব্দ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
⇒ সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন:
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ মনে হচ্ছে না।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাহ, চমৎকার লিখেছ।
- শাবাশ! খেলার মতো খেলা দেখালে।

⇒ বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।
- কী জ্বালা! আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- উহ! কি বিপদে পরা গেল।
- আহ! কী বিপদ।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- অ্যাঁ, বলছ কী?

⇒ করুণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আহা! বেচারার কত কষ্ট।
- হায়! হায়! এখন ওদের কে দেখবে!

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
- ওরে, তুই কোথায় চললি ?

⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৪.
'নৌকার ছইয়ে নীল মাছরাঙাটি বসে আছে'- বাক্যে অলগ্নক পদ কোনটি?
  1. ক) নৌকার
  2. খ) ছইয়ে
  3. গ) নীল
  4. ঘ) মাছরাঙাটি
সঠিক উত্তর:
গ) নীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নীল
ব্যাখ্যা
• পদ: 
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলাের নাম লগ্নক।
- লগ্নক চার ধরনের:
যথা-
বিভক্তি, নির্দেশক, বচন ও বলক।

বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলােকে সলগ্নক পদ এবং যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলােকে অলগ্নক পদ বলে।
ছেলেরা ক্রিকেট খেলে’- এই বাক্যের ‘ছেলেরা ও ‘খেলে' সলগ্নক পদ আর 'ক্রিকেট' অলগ্নক পদ।

অনুরূপ ভাবে, 'নৌকার ছইয়ে নীল মাছরাঙাটি বসে আছে'- বাক্যে 'নীল' অলগ্নক পদ। 
এবং 'নৌকার', ছইয়ে, মাছরাঙাটি' = সলগ্নক পদ।

• সলগ্নক পদ:
বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বােঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলােকে বিভক্তি বলে।

নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলােকে নির্দেশক বলে।

বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বােঝায়, সেগুলােকে বচন বলে।

বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৭৫.
‘বেশ, তবে যাওয়াই যাক।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘বেশ’ কোন পদ?
  1. যোজক
  2. অনুসর্গ
  3. সর্বনাম
  4. আবেগ
সঠিক উত্তর:
আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবেগ
ব্যাখ্যা
• আবেগ শব্দ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।
 
নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
• অলংকার আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 
 
• সিদ্ধান্ত আবেগ:
এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন:
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ মনে হচ্ছে না।
 
• প্রশংসা আবেগ:
এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাহ, চমৎকার লিখেছ।
- শাবাশ! খেলার মতো খেলা দেখালে।
 
• বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।
- কী জ্বালা! আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব।
 
• আতঙ্ক আবেগ:
এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- উহ! কি বিপদে পরা গেল।
- আহ! কী বিপদ।
 
• বিস্ময় আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- অ্যাঁ, বলছ কী?
 
• করুণা আবেগ:
এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আহা! বেচারার কত কষ্ট।
- হায়! হায়! এখন ওদের কে দেখবে!
 
• সম্বোধন আবেগ:
এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
- ওরে, তুই কোথায় চললি ?
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৬.
‘তারুণ্য’ পদটি -
  1. ক) ভাববাচক বিশেষ্য
  2. খ) সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য
  3. গ) গুণবাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) বস্তু বাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
গ) গুণবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গুণবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। যথা- মধুর মিষ্টতার গুণ = মধুরতা ; তরুণের গুণ = তারুণ্য ইত্যাদি। [সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী]
৭৭.
'একটানা আট দিন কোন বৃষ্টির দেখা নাই'- এখানে ' আট দিন ' কোনবাচক বিশেষণ?
  1. ক) পূরণবাচক বিশেষণ
  2. খ) ক্রমবাচক বিশেষণ
  3. গ) নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ
  4. ঘ) পরিমাণবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রমবাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রমবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত বাক্যে ' আট দিন ' হলো 'ক্রমবাচক বিশেষণ' ।

•ক্রমবাচক বিশেষণ- যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়,তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে। 
যেমন-
• এক টাকা
• আট দিন
• নয় মাস
•এছাড়া-
পূরণবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান – এখানে ‘তৃতীয়’ ও ‘৩৪তম পূরণবাচক বিশেষণ ।

নির্দিষ্টতাবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ ।

পরিমাণবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন আধা কেজি চাল, অনেক লোক – এখানে “আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ ।

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৮.
"হ্যাঁ, আমাদের জিততেই হবে।" — এই বাক্যে ব্যবহৃত আবেগ শব্দটি কোন শ্রেণির?
  1. বিস্ময় আবেগ
  2. সিদ্ধান্ত আবেগ
  3. আতঙ্ক আবেগ
  4. বিরক্তি আবেগ
সঠিক উত্তর:
সিদ্ধান্ত আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিদ্ধান্ত আবেগ
ব্যাখ্যা
সিদ্ধান্ত আবেগ:
- এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি ভাব প্রকাশ করা হয় ।

যেমন:
- হ্যাঁ, আমাদের জিততেই হবে।
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক ।

অন্যদিকে,
বিরক্তি আবেগ - ছি ছি!, জ্বালা!।
আতঙ্ক আবেগ - উহ্, বাপরে বাপ!।
বিস্ময় আবেগ - আরে!, আহ্,।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৯.
"আহ্‌, কী চমৎকার দৃশ্য!" - এখানে কোন ধরনের আবেগ প্রকাশিত হয়েছে?
  1. প্রশংসা আবেগ
  2. করুণা আবেগ
  3. বিস্ময় আবেগ
  4. আতঙ্ক আবেগ
সঠিক উত্তর:
বিস্ময় আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিস্ময় আবেগ
ব্যাখ্যা
• আবেগ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ বলে।
- এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

• বিস্ময় আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশ করে।
যেমন -
আরে! তুমি আবার কখন এলে?
আহ্‌, কী চমৎকার দৃশ্য!

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮০.
পক্ষ বা পুরুষ আছে কোন পদের?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. অব্যয়
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• পক্ষ বা পুরুষের প্রকারভেদ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কতকগুলো সর্বনাম বিভিন্ন পক্ষ বা পুরুষ বুঝিয়ে থাকে। বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়ারই পক্ষ বা পুরুষ আছে। অন্য পদের পক্ষ বা পুরুষ নেই। পক্ষ বা পুরুষ অনুযায়ী এ সর্বনামগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন-
১. বক্তা পক্ষ বা উত্তম পুরুষ,
২. শ্রোতা পক্ষ বা মধ্যম পুরুষ এবং
৩. অন্য পক্ষ বা নামপুরুষ।

• বক্তা পক্ষ বা উত্তম পুরুষ:
যে সর্বনামের দ্বারা বাক্যের বা উক্তির বক্তা নিজেকে কিংবা বক্তার দলের সবাইকে বোঝায় এমন সর্বনাম শব্দ বা পদ হচ্ছে বক্তা পক্ষ বা উত্তম পুরুষ।
যেমন: আমি, আমাকে, আমার, আমরা, আমাদের।

• শ্রোতা পক্ষ বা মধ্যম পুরুষ:
যে সর্বনামের দ্বারা শ্রোতা কিংবা শ্রোতার দলের সবাইকে বোঝায় তাকে শ্রোতা পক্ষ বা মধ্যম পুরুষ বলে। যেমন: তুমি, তোমাকে, তোমার, তোমরা, তোমাদের। 

শ্রোতা পক্ষ বা মধ্যম পুরুষের ব্যবহারের বেলায় ঘনিষ্ঠতা বা সম্মান বোঝাতে তারতম্য প্রকাশ পায়। যেমন: সাধারণভাবে 'তুমি', 'তোমরা' ব্যবহৃত হয়। অতি তুচ্ছতা বা ঘনিষ্ঠতা বা আদর বোঝাতে 'তুই', 'তোরা' এবং সম্মানার্থে 'আপনি', 'আপনারা' ব্যবহৃত হয়। সুতরাং শ্রোতা পক্ষ বা মধ্যম পুরুষ তিন ধরনের:

(ক) সাধারণ: তুমি, তোমরা, তোমাকে, তোমাদের।
(খ) সম্ভ্রমসূচক: আপনি, আপনারা, আপনাকে, আপনার, আপনাদের।
(গ) তুচ্ছার্থক: তুই, তোরা, তোকে, তোর, তোদের।

• অন্য পক্ষ বা প্রথম পুরুষ বা নামপুরুষ:
যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে অন্য পক্ষ বা প্রথম পুরুষ বা নামপুরুষ বলে। 'আমি' ও 'তুমি' এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ অন্য পক্ষ বা প্রথম পুরুষ।
যেমন:
সর্বনাম: সে, তাকে, তার, এ, একে, এর, তারা, তাদের।
বিশেষ্য পদ: সুমন, পান্না, রহিম, করিম ইত্যাদি।

অন্য পক্ষ বা প্রথম পুরুষের বেলায় সাধারণ এবং সম্ভ্রমাত্মক বোঝাতে দু ধরনের সর্বনাম ব্যবহার হয়:
(ক) সাধারণ: সে, তার, তাকে, তারা, তাদের, এ, ও, একে, ওকে ইত্যাদি।
(খ) সম্ভ্রমসূচক : তিনি, তাঁর, তাঁকে, তাঁরা, তাঁদের, ঐ, ওঁ, এঁকে, ওঁকে ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮১.
রকেট অতি দ্রুত চলে —বাক্যে 'অতি' হলো-
  1. ক) নাম-বিশেষণের বিশেষণ
  2. খ) ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ
  3. গ) নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম
  4. ঘ) পরিমাণবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ
ব্যাখ্যা

যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।

নাম-বিশেষনের বিশেষণঃ
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণঃ
- রকেট অতি দ্রুত চলে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী।

৮২.
সর্বনাম পদ কে কয়টি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে?
  1. ক) ৮
  2. খ) ৭
  3. গ) ৯
  4. ঘ) ১০
সঠিক উত্তর:
গ) ৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৯
ব্যাখ্যা
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
সর্বনামকে নয় টি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে।
যথা: 
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম
২. আত্নবাচক সর্বনাম
৩. নির্দেশক সর্বনাম
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম
৭. পারস্পরিক সর্বনাম
৮. সকলবাচক সর্বনাম
৯. অন্যবাচক সর্বনাম

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৩.
ক্রিয়ার ভাব বা ধরন কত প্রকার?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
গ) চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চার
ব্যাখ্যা

ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার-
ক. নির্দেশক ভাব
খ. সাপেক্ষ ভাব
গ. অনুজ্ঞা ভাব
ঘ. আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব
সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

৮৪.
'পাহাড়' বিশেষ্য পদের বিশেষণ রূপ কোনটি?
  1. পাহাড়িয়া
  2. পাহাড়ে
  3. পাহাড়ী
  4. সবকটি
সঠিক উত্তর:
সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকটি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'পাহাড়'- বিশেষ্য পদ। 

অন্যদিকে,
পাহাড়িয়া- বিশেষণ পদ।
পাহাড়ে- বিশেষণ পদ। 

• পাহাড়ি শব্দটি পাহাড়ে বসবাসকারী মানুষ বোঝালে বিশেষণ হবে।
পাহাড়ি (বিশেষণ)  শব্দের অর্থ- পাহাড়নিবাসী।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮৫.
যে অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের বলে-
  1. ক) বাক্যালংকার অব্যয়
  2. খ) অনন্বয়ী অব্যয়
  3. গ) অনুকার অব্যয়
  4. ঘ) পদান্বয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদান্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদান্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বা পদান্বয়ী অব্যয় বলে। যেমন- ধন অপেক্ষা মান বড় (‘অপেক্ষা’ অনুসর্গ অব্যয়)। ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না (‘দিয়ে’ অনুসর্গ অব্যয়)। অনুসর্গ অব্যয় দুই প্রকার। যথা- বিভক্তিসূচক অব্যয় এবং বিভক্তি রূপে ব্যবহৃত অনুসর্গ। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৮৬.
বাক্যের অন্তর্গত পদকে কতটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ৫
  2. খ) ৬
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ৮
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮
ব্যাখ্যা
পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ-
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়:
- বিশেষ্য
- সর্বনাম
- বিশেষণ
- ক্রিয়া
- ক্রিয়াবিশেষণ
- অনুসর্গ
- যােজক 
- আবেগ

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৭.
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে সেসব শব্দ কোন পদের অন্তর্ভুক্ত হয়?
  1. ক) সংযোজক
  2. খ) যোজক
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) নির্দেশক
সঠিক উত্তর:
খ) যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যোজক
ব্যাখ্যা
• পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে।
যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।

• বৈশিষ্ট্য অনুযায়ি যোজক কে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:
- সাধারন যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে। যেমন: করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।
- বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। যেমন: চা না-হয় কফি খান।
- বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে - বললাম, তবু এলো না ।
- কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
- সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
৮৮.
তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ হলো-
  1. ক) সংযোজক অব্যয়
  2. খ) বিয়োজক অব্যয়
  3. গ) সংকোচক অব্যয়
  4. ঘ) অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
গ) সংকোচক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংকোচক অব্যয়
ব্যাখ্যা

- সমুচ্চয়ী অব্যয় : যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
- সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথাঃ সংযোজক, বিয়োজক এবং সংকোচক।

- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি।

৮৯.
লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।- এ বাক্যে ‘ভালোভোবে’ কী ধরণের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) ধরণবাচক
  2. খ) কালবাচক
  3. গ) স্থানবাচক
  4. ঘ) নেতিবাচক
সঠিক উত্তর:
ক) ধরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধরণবাচক
ব্যাখ্যা
• যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোন কাজ কীভাবে বা কেমন করে সংঘটিত হচ্ছে বুঝায় তাকে ধরনবাচক বা ভাবজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
য়েমন :
টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে।
লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অর্পনা দ্রুত লিখতে পারে।

কালবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে তাদেরকে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন:
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

স্থানবাচক: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
মিলেমিশে সামনে এগিয়ে যায়।

নেতিবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ না, নি, নেই ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায় তাকে নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পেছনে বসে।
যেমন:
সে এখন যাবে না

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯০.
নিচের কোনটি বিদেশী অব্যয় শব্দ?
  1. ক) সদা
  2. খ) সুতরাং
  3. গ) বহুত
  4. ঘ) দৈবাৎ
সঠিক উত্তর:
গ) বহুত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বহুত
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় (উত্স অনুযায়ী) তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে।
বাংলা অব্যয় শব্দঃ আর, আবার, ও, হাঁ, না ইত্যাদি।
তৎসম অব্যয় শব্দঃ যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি।
বিদেশী অব্যয় শব্দঃ আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।
সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

৯১.
ক্রিয়ামূল, ক্রিয়ারকাল ও পুরুষ ইত্যাদি ব্যাকরণের কোন অংশের আলােচ্য বিষয়?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) বাক্যতত্ত্ব
  3. গ) পদভ্রম
  4. ঘ) রূপতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্বঃ ব্যাকরণে শব্দ বা পদের আলোচনাকে বলে রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব।

এর আলোচ্য বিষয় হলোঃ
- শব্দগঠন,
- প্রত্যয়,
- উপসর্গ,
- পদপরিচয়,
- লিঙ্গ,
- পুরুষ,
- বচন,
- শব্দ ও ধাতুরূপ,
- সমাস,
- কারক।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯২.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. ক) জাত
  2. খ) গৈরিক
  3. গ) গাম্ভীর্য
  4. ঘ) উদ্ধত
সঠিক উত্তর:
গ) গাম্ভীর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গাম্ভীর্য
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
• জাত (বিশেষণ)- জন্মেছে এরূপ (নবজাত), উৎপন্ন; সঞ্জাত; উদ্ভূত।

• গাম্ভীর্য' (বিশেষ্য) গম্ভীর ভাব; গম্ভীরতা।

• গৈরিক  (বিশেষ্য)- গিরিমাটি।
তবে, গৈরিক এর বিশেষণ বাচক শব্দের অর্থ- পর্বতে উৎপন্ন।  

• উদ্ধত (বিশেষণ)- দুর্বিনীত; ধৃষ্ট; স্পর্ধিত, দুরন্ত; দুর্দান্ত; উগ্র।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৯৩.
“ছেলেরা স্টেশন বরাবর দৌড়ে যাচ্ছে” এখানে অলগ্নক পদ কোনটি?
  1. ক) ছেলেরা
  2. খ) স্টেশন
  3. গ) দৌড়ে
  4. ঘ) যাচ্ছে
সঠিক উত্তর:
খ) স্টেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্টেশন
ব্যাখ্যা

শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে বলে হয় পদ। পদে পরণত হবার সময় শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়। তাকে লগ্নক বলে। লগ্নক ৪ প্রকার -
বিভক্তি
নির্দেশক
বচন
বলক

বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক এবং বাক্যের যেসকল পদে লগ্নক থাকে না তাকে অলগ্নক পদ বলে।
“ছেলেরা স্টেশন বরাবর দৌড়ে যাচ্ছে” বাক্যটিতে 'ছেলেরা', 'দৌড়ে' 'যাচ্ছে' সলগ্নক পদ। অন্যদিকে 'স্টেশন', 'বরাবর' অলগ্নক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)

৯৪.
অলংকার আবেগের প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. আরে! তুমি আবার কখন এলে?
  2. জ্বালা! তোমাকে নিয়ে আর পারি না!
  3. দুর! এ কথা কি বলতে আছে?
  4. শাবাশ! এমন খেলাই তো চেয়েছিলাম।
সঠিক উত্তর:
দুর! এ কথা কি বলতে আছে?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর! এ কথা কি বলতে আছে?
ব্যাখ্যা
• অলংকার আবেগের প্রয়োগ ঘটেছে - দুর! এ কথা কি বলতে আছে?

আবেগ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ বলে।
- এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

অলংকার আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয়, অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 
- দুর! এ কথা কি বলতে আছে?

অন্যদিকে,
• বিস্ময় আবেগ - আরে! তুমি আবার কখন এলে?
• বিরক্তি আবেগ - জ্বালা! তোমাকে নিয়ে আর পারি না!
• প্রশংসা আবেগ - শাবাশ! এমন খেলাই তো চেয়েছিলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৫.
"তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না।" - বাক্যটিতে কোন ধরনের যোজক ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সাধারণ যোজক
  2. বিকল্প যোজক
  3. বিরোধ যোজক
  4. সাপেক্ষ যোজক
সঠিক উত্তর:
বিরোধ যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধ যোজক
ব্যাখ্যা
• যোজক: 
- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে।
- যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।

• যোজকের প্রকারভেদ:
বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজক কে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

- সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে।
যেমন: করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।

- বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন: চা না-হয় কফি খান।

বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না।

- কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

- সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৬.
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে কি বলে?
  1. প্রত্যয়
  2. পদ
  3. বিভক্তি
  4. শব্দ
সঠিক উত্তর:
পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ
ব্যাখ্যা

• পদ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য
২. সর্বনাম
৩. বিশেষণ
৪. ক্রিয়া
৫. ক্রিয়া বিশেষণ
৬. অনুসর্গ
৭. যোজক
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৯৭.
ধান বানতে যারা শিবের গীত গায়, তারা স্থির লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না। - বাক্যে সর্বনাম পদ কোনটি?
  1. ক) ধান
  2. খ) শিব
  3. গ) যারা
  4. ঘ) স্থির
সঠিক উত্তর:
গ) যারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যারা
ব্যাখ্যা

- বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
- ধান বানতে যারা শিবের গীত গায়, তারা স্থির লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না। - বাক্যে সর্বনাম পদ হলোঃ 'যারা', 'তারা'।

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণীর বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।

৯৮.
'জন্য' শব্দটি কোন পদ?
  1. ক) বিশেষণ
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়। যেমন- এবং, জন্য, আর, কিন্তু, ও, আবার ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৯৯.
'অস্ত্রসহ সৈন্যদল এগিয়ে চলছে'- বাক্যটি কোন বর্গের উদাহরণ?
  1. ক) বিশেষ্য বর্গ
  2. খ) বিশেষণ বর্গ
  3. গ) ক্রিয়াবিশেষণ- বর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়াবর্গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়াবর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়াবর্গ
ব্যাখ্যা
'অস্ত্রসহ সৈন্যদল এগিয়ে চলছে' - ক্রিয়াবৰ্গ এর উদাহরণ। 

ক্রিয়াবৰ্গ
- বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে। যেমন –
অস্ত্রসহ সৈন্যদল এগিয়ে চলেছে।
সে লিখছে আর হাসছে।

বাক্যের বর্গ:
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ। 

বিশেষ্যবর্গ
- বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন – আমার ভাই পড়তে বসেছে।

বিশেষণবর্গ
- বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন –
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।

ক্রিয়াবিশেষণ-বৰ্গ
- যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন: সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো ।
তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম ।

ক্রিয়াবৰ্গ
- বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে। যেমন –
অস্ত্রসহ সৈন্যদল এগিয়ে চলেছে
সে লিখছে আর হাসছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
১০০.
'গান' এর বিশেষণ রূপ কোনটি?
  1. ক) গীত
  2. খ) গায়েন
  3. গ) গেয়
  4. ঘ) গুনিন
সঠিক উত্তর:
গ) গেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গেয়
ব্যাখ্যা
গান  (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √গৈ+অন
অর্থ: নির্দিষ্ট সুর তালনো লয়ে উচ্চারিত ছন্দবদ্ধ রচনা, সংগীত
- গীতিকবিতা

গেয় (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = গৈ+য
অর্থ: গাওয়ার উপযুক্ত
- গাওয়া হয়েছে এমন

গায়েন (বিশেষ্য, বিশেষণ) 
অর্থ: গায়ক

গুনিন (বিশেষ্য) 
- বাংলা শব্দ 
অর্থ: ওঝা, বাজিকর

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।