বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

খাদ্য, পুষ্টি ও পরিমাপকসমূহ

মোট প্রশ্ন২৬৪এই পাতা৬০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

খাদ্য, পুষ্টি ও পরিমাপকসমূহ

PrepBank · পাতা / · ২০১২৬০ / ২৬৪

২০১.
ভিটামিন ডি এর উৎস কোনটি?
  1. ক) আপেল
  2. খ) কলা
  3. গ) আম
  4. ঘ) মাছের তেল
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাছের তেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাছের তেল
ব্যাখ্যা
মাছের তেলে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 

- স্বাভাবিক খাদ্যের মধ্যে খুব অল্প পরিমাণে উপস্থিত থেকে, খাদ্যের যে এলিমেন্ট গুলি আমাদের বৃদ্ধি পুষ্টি এবং রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা ত্বরান্বিত করে, সেগুলোই হলো ভিটামিন।

- ভিটামিন এর বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
১. খুব অল্প মাত্রায় আমাদের দেহে এটা প্রয়োজন। 
২.ভিটামিন প্রাণীদেহের অর্গানিক ক্যাটালাইস্ট। 
৩.ম্যাক্সিমাম ভিটামিন কো-এনজাইম রূপে উৎসেচক এর সঙ্গে সঙ্গবদ্ধ হয়ে ক্রিয়া করে।
৪.বেশিরভাগ ভিটামিন মেটাবলিজম-এ ড্যামেজ হলেও পাচন ক্রিয়া এর ওপর কোন প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে না।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২০২.
মানবদেহে নাইট্রোজেনের প্রধান উৎস কোন খাদ্য উপাদান?
  1. আমিষ
  2. স্নেহ
  3. শর্করা 
  4. ভিটামিন 
সঠিক উত্তর:
আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমিষ
ব্যাখ্যা

- আমিষ বা প্রোটিন হলো মানবদেহে নাইট্রোজেনের প্রধান উৎস। প্রোটিন মূলত অ্যামিনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত এবং প্রতিটি অ্যামিনো অ্যাসিডের অণুতে নাইট্রোজেন উপস্থিত থাকে। অন্যান্য প্রধান খাদ্য উপাদানের (শর্করা ও স্নেহ) তুলনায় আমিষই শরীরে কার্যকরভাবে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে, যা দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণের জন্য অপরিহার্য। 

আমিষ: 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রন থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়। এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে। 
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন। 
- টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি; জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২০৩.
মানুষের শরীরে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে ভিটামিন 'ডি' তৈরির শেষ ধাপটি কোথায় সম্পন্ন হয়?
  1. অন্ত্রে
  2. ত্বকে
  3. যকৃতে
  4. কিডনিতে
সঠিক উত্তর:
কিডনিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিডনিতে
ব্যাখ্যা
রিকেটস (Rikets): 
- এটি কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়, ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে এ রোগ হয়। 
- অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ, দাঁত ও হাড় গঠন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে এই ভিটামিন প্রয়োজন। 
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তেল ও হাঙ্গরের তেলে প্রচুর ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়। 
- সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা থাকা কোলেস্টেরল থেকেও এটি তৈরি হয়, তবে সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির শেষ ধাপটি সংঘটিত হয় কিডনিতে। 

- দেহের হাড়গুলো দুর্বল হওয়া, গিঁট ফুলে যাওয়া, হাড়গুলো বিশেষ করে পায়ের হাড় বেঁকে যাওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ। 
- এছাড়া এই রোগে অনেক সময় দেহের কাঠামো ঠিক থাকে না, হাড়গুলো ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং বক্ষদেশ সরু হয়ে যায়। 
- শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন 'ডি' সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে। 
- চোখ এবং জননাঙ্গ ঢেকে রেখে নবজাতককে কিছুক্ষণ রোদে রাখা ভালো। এতে সূর্যালোকের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে শরীরে কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন 'ডি' তৈরি হয়। 
- নিয়মিতভাবে সারা শরীর সারা দিন কালো বা গাঢ় রঙের কাপড়ে ঢেকে রাখলে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে ঘরের বাইরে না বের হলে ত্বক পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না এবং এ কারণে ভিটামিন 'ডি'-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৪.
নিচের কোনটি উদ্ভিজ্জ আমিষের উদাহরণ? 
  1. ডিম 
  2. পনির
  3. শিমের বীচি
  4. কলিজা
সঠিক উত্তর:
শিমের বীচি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিমের বীচি
ব্যাখ্যা

আমিষ (Protein): 
- আমিষ বা প্রোটিন-জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রনও থকে। 
- নাইট্রোজেন এবং শেষোক্ত উপাদানগুলোর উপস্থিতির কারণে আমিষের গুরুত্ব শর্করা ও স্নেহ পদার্থ থেকে আলাদা। শুধু আমিষজাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টিবিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

আমিষের উৎস: 
- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, শিমের বীচি, শুঁটকি মাছ, চিনাবাদাম ইত্যাদি থেকে আমিষ পাওয়া যায়। 
- উৎস অনুযায়ী আমিষ দুই ধরনের। 
যথা- প্রাণিজ আমিষ এবং উদ্ভিজ্জ আমিষ। 

প্রাণিজ আমিষ: 
- মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা বা যকৃৎ ইত্যাদি প্রাণিজ আমিষ। এসব খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়। 

উদ্ভিজ্জ আমিষ: 
- ডাল, চিনাবাদাম, শিমের বীচি ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ আমিষ। একসময় ধারণা করা হতো এগুলো প্রাণিজ আমিষের তুলনায় কম পুষ্টিকর, কারণ উদ্ভিজ্জ আমিষে প্রয়োজনীয় সবকয়টি অ্যামাইনো এসিড থাকে না। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উদ্ভিজ্জ আমিষ প্রাণিজ আমিষের মতোই সকল অ্যামাইনো এসিড পর্যাপ্ত পরিমাণে ধারণ করে। 
- অনেক সময়, দুই বা ততোধিক উদ্ভিজ্জ আমিষ একত্রে রান্না করা যায়। কিন্তু এতে অ্যামাইনো এসিডের অনুপাতের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২০৫.
জীবদেহে বিপাকীয় কাজের জন্য যে শক্তির প্রয়োজন হয়, সেটি কোন ধরনের খাদ্য জারণের ফলে উৎপন্ন হয়?
  1. ক) অর্গানিক
  2. খ) প্রোটিন
  3. গ) বোটানিক
  4. ঘ) কার্বোহাইড্রেট
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্বোহাইড্রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্বোহাইড্রেট
ব্যাখ্যা

শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য।

- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়।
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত।
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে।
- জীবদেহে বিপাকীয় (Metabolic) কাজের জন্য যে শক্তির প্রয়োজন হয়, সেটি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য জারণের ফলে উৎপন্ন হয়৷

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

২০৬.
চা পাতায় কোন ভিটামিন থাকে?
  1. ভিটামিন-ই
  2. ভিটামিন-কে
  3. ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স
  4. ভিটামিন-এ
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স
ব্যাখ্যা
- চা পাতা, বৃষ্টির পানিতে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকে
- শাকসবজি, তৈলবীজ এবং হাঙ্গর মাছের যকৃতের তেলে ভিটামিন-ই পাওয়া যায়।
- সবুজ শাকসবজি, দুগ্ধজাত দ্রব্য ভিটামিন-কে এর প্রধান উৎস।
- মাছের তেল, দুধ, মলা মাছ, মাছের মাথা এবং গাজরে সর্বাধিক ভিটামিন-এ রয়েছে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৭.
শরীরে থাকা মোট খনিজ পদার্থের মধ্যে নিচের কোনটির পরিমাণ সর্বাধিক?
  1. লৌহ
  2. ফসফরাস
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. ক্যালসিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা

ক্যালসিয়াম:
- ক্যালসিয়াম (Ca) হলো অস্থি ও দাঁতের প্রধান খনিজ উপাদান।
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের প্রায় ২% ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত।
- শরীরে থাকা মোট খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সর্বাধিক
- এটি ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ৯০% পরিমাণে অস্থি ও দাঁতে সংরক্ষিত থাকে। এছাড়া রক্ত ও লসিকাতেও ক্যালসিয়াম বিদ্যমান।
• উদ্ভিজ্জ উৎস: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাঁধাকপি, ফল ইত্যাদি।
• প্রাণিজ উৎস: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি।

ক্যালসিয়ামের কার্যকারিতা:
- হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে।
- রক্ত সঞ্চালন ও হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে সহায়তা করে।
- স্নায়ু ও পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখে।
- শিশুদের রিকেটস (Rickets)- এতে হাড় নরম ও বিকৃত হয়ে যায়।
- বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া (Osteomalacia) – এতে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়।
- দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা দেখা দেয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২০৮.
কোনটি গঠনমূলক খাদ্য উপাদান?
  1. স্নেহ
  2. আমিষ
  3. ভিটামিন
  4. রাফেজ
সঠিক উত্তর:
আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমিষ
ব্যাখ্যা
আমিষ হচ্ছে গঠনমূলক খাদ্য উপাদান।

• খাদ্য উপাদান:
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে।
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়।
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়।

যথা:
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পুরণ করে।
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে।
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে।

এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন।
যেমন:
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়।
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়।
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে।
- খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান।
৭। রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৯.
হাড় ও দাঁত গঠনে সহায়তা করে কোনটি?
  1. ক) ক্যালসিয়াম
  2. খ) ফসফরাস
  3. গ) আয়োডিন
  4. ঘ) ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়াম প্রাণীদের হাড় এবং দাতের একটি প্রধান উপাদান।
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুইভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। অস্থি এবং দাতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে।
- হাড় ও দাতের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতি প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ।
- দেহে পরিমাণের দিক দিয়ে খনিজ লবণগুলোর মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরপরই ফসফরাসের স্থান।
- ক্যালসিয়ামের মত হাড় এবং দাত গঠন করা ফসফরাসের প্রধান কাজ।
- ফসফরাসের অভাবে রিকেটস, অস্থিক্ষয়তা, দন্তক্ষয় এসব রোগ দেখা দেয়।
 
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি
২১০.
What is the main protein of milk?
  1. Lipids
  2. Carotene
  3. Lactobumin
  4. Casein
সঠিক উত্তর:
Casein
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Casein
ব্যাখ্যা
♦ প্রোটিন: 
- দুধে তিন শ্রেণির প্রোটিন থাকে। 
যেমন- ক্যাজিন (casein), ল্যাক্ট এলবুমিন (lact albumin) ও ল্যাক্টো গ্লোবুলিন (lactoglobulin). 
- ল্যাক্ট এলবুমিন ও ল্যাকটোগ্লোবুলিনকে সেরাম বা হোয়ে-প্রোটিন (whey protein or serum) বলে। 
- দুধের মোট প্রোটিন (0.9-4.6%) এর মধ্যে 82% হলো ক্যাজিন এবং 18% হলো হোয়ে-প্রোটিন। 
- ক্যাজিন হলো দুধের প্রধান প্রোটিন উপাদান। 
- গ্লুটামিন ও এস্পারাজিন অ্যামাইনো এসিড বাদে অন্য সব অ্যামাইনো এসিড ক্যাজিনে আছে, তাই তরুণ-তরুণীদের দেহ বৃদ্ধির জন্য প্রায় সব অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড সমৃদ্ধ দুধের প্রোটিন উৎকৃষ্ট প্রোটিন খাদ্যরূপে বিবেচিত হয়। 
- ক্যাজিন হলো এক প্রকার ফসফোপ্রোটিন। 
- আর্দ্রবিশ্লেষণের ফলে ক্যাজিন ফসফরিক এসিড ও অ্যামাইনো এসিডে বিভক্ত হয়। 
- ক্যাজিন পানিতে অদ্রবণীয়; দুধে এসিড মিশালে ক্যাজিন অধঃক্ষেপরূপে পৃথক হয়ে পড়ে। 
- মায়ের দুধে 0.9% এবং পশুর দুধে 3.2-4.6% প্রোটিন থাকে। 
- আবার দুধের প্রধান প্রোটিন ক্যাজিন চার ধরনের হয়। 
যেমন- αS1 ক্যাজিন, αS2 ক্যাজিন, β ক্যাজিন ও Κ (kappa) ক্যাজিন। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
২১১.
ডিমের কুসুমে কোন প্রোটিন বিদ্যমান?
  1. অ্যালবুমিন
  2. গ্লোবিউলিন
  3. গ্লুটেনিন
  4. হিস্টোন
সঠিক উত্তর:
গ্লোবিউলিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লোবিউলিন
ব্যাখ্যা
• গ্লোবিউলিন (Globulin): 
- জাতীয় প্রোটিন পানিতে দ্রবীভূত হয় না কিন্তু লবণের দ্রবণে দ্রবীভূত হয়।
- উচ্চতাপে গ্লোবিউলিন সহজে জমাট বাঁধে।
- যেমন: ডিমের কুসুম (অভোগ্লোবিউলিন), রক্তরস (সিরাম গ্লোবিউলিন), চোখের লেন্স (ক্রিস্টালিন গ্লোবিউলিন), মাংসপেশি (মায়োসিন গ্লোবিউলিন) ইত্যাদি গ্লোবিউলিন প্রোটিনের উদাহরণ। 

অন্যদিকে,
- গ্লুটেলিন (Glutelin): এসব প্রোটিন লঘু অম্লিয় ও ক্ষারিয় দ্রবণে দ্রবীভূত হয়। এ প্রোটিনগুলো উত্তাপে জমাট বাঁধে না। যেমন-ধানের অরাইজেনিন এবং গমের গুটেলিন।
- হিস্টোন (Histone): এ জাতীয় প্রোটিন পানি অথবা পাতলা ক্ষার বা এসিড দ্রবণে দ্রবীভূত হয় এবং উত্তাপে সহজে জমে না। হিস্টোনে ক্ষারীয় অ্যামিনো এসিড যেমন-আরজিনিন ও লাইসিন থাকে। 
- অ্যালবুমিন (Albumin): যে সব প্রোটিন পানিতে বা লবণের দ্রবণে সহজে দ্রবীভত হয়ে ঘোলাটে দ্রবণ তৈরি করে তাদের অ্যালবুমিন বলে।যেমন- ডিমের সাদা অংশ, রক্তরস ও লসিকার সিরাম।

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
২১২.
নিচের কোনটি প্রাণিজ শর্করা? 
  1. সেলুলোজ
  2. সুক্রোজ
  3. শ্বেতসার
  4. গ্লাইকোজেন
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
শর্করা: 
- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়। 
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত। 
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। 
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন। 
যেমন: 
উদ্ভিজ্জ উৎস: 
১। শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়। 
২। সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে। 
৩। সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস। 
৪। ফ্রোক্টোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে। 
৫। গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর,খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। 

প্রাণিজ উৎস: 
১। ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে। 
২। গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২১৩.
রাফেজের গঠন উপাদান কী?
  1. প্রোটিন
  2. গ্লুকোজ
  3. সেলুলোজ
  4. অ্যামাইনো অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
সেলুলোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলুলোজ
ব্যাখ্যা
রাফেজ বা আঁশ: 
- রাফেজ বা আঁশযুক্ত খাবার হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। 
- রাফেজ প্রধানত উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায়। 
- শস্যবীজ, ডাল, আলু, খোসাসমেত টাটকা ফল এবং শাকসবজি রাফেজের প্রধান উৎস। এগুলো ছাড়াও শুকনা ফল, জিরা, ধনে, মটরশুঁটি প্রভৃতিতে বেশ ভালো পরিমাণ রাফেজ পাওয়া যায়। এই খাবারগুলোর দীর্ঘ তন্তুময় অংশকে রাফেজ বলে। 
- রাফেজ মূলত সেলুলোজ দিয়ে তৈরি উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর। 
- রাফেজ দেহে কোনো পুষ্টি জোগায় না সত্যি কিন্তু কোষ্ঠকাঠিন্য, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তবে ঠিক কীভাবে এ রোগগুলো প্রতিরোধ করে তা এখন পর্যন্ত সুস্পষ্টভাবে জানা যায়নি। 
- রাফেজ সরাসরি খাদ্যনালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হতে পারে, এটি হজম হয় না। 

রাফেজভুক্ত খাবারের গুরুত্ব: 
১. এটি পরিপাকে সহায়তা করে। রাফেজ পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
২. শরীর থেকে অপাচ্য খাদ্য নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 
৩. এটি শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে। 
৪. বারবার ক্ষুধার প্রবণতা কমাতে এটি কাজ করে। 
৫. রাফেজযুক্ত খাদ্য গ্রহণে পিত্তথলির রোগ, খাদ্যনালি ও মলাশয়ের ক্যান্সার, অর্শ, হৃদরোগ ও স্থূলতার ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস করে। 
- এ কারণে প্রতিদিন ২০-৩০ গ্রাম আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করা উচিত, শাকসবজি ও ফল থেকে এ পরিমাণ আঁশ পাওয়া সম্ভব। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২১৪.
কোন ভিটামিন রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে? 
  1. ভিটামিন ‘কে’
  2. ভিটামিন ‘সি’ 
  3. ভিটামিন ‘বি’
  4. ভিটামিন ‘ডি’
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন ‘কে’
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন ‘কে’
ব্যাখ্যা

- 'ভিটামিন কে' রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

ভিটামিন কে (Vitamin K): 
- ভিটামিন কে-এর রাসায়নিক নাম ফাইলোকুইনন বা ন্যাপথোকুইনন। 
- এটি তাপ, আর্দ্রতা ও বায়ুর সংস্পর্শে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। 

ভিটামিন কে -এর উৎস: 
- সবুজ শাক সবজি, ডিমের কুসুম, দুধ, যকৃত, মাংস, মাছ, লেটুস পাতা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মটরশুঁটি ইত্যাদিতে ভিটামিন কে পাওয়ার যায়। 

ভিটামিন কে-এর কাজ: 
১. কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে রক্ত জমাট বাঁধতে ভিটামিন কে সাহায্য করে। রক্ত জমাটকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রোথ্রম্বিনের সক্রিয়করণে ভিটামিন কে কাজ করে। 
২. পিত্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
৩. যকৃতের স্বাভাবিক কার্যকলাপ বজায় রাখে। 

ভিটামিন কে-এর অভাবজনিত অবস্থা: 
- এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধা ব্যাহত হয়। ফলে, সামান্য কাটা ছেঁড়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৫.
প্রাপ্তবয়স্কদের ভিটামিন ডি-এর অভাবে প্রধানত কোন রোগ হতে পারে?
  1. স্কার্ভি 
  2. ডায়াবেটিস
  3. অস্টিওমালেসিয়া
  4. হার্ট অ্যাটাক
সঠিক উত্তর:
অস্টিওমালেসিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্টিওমালেসিয়া
ব্যাখ্যা

- প্রাপ্তবয়স্কদের ভিটামিন ডি-এর অভাবে যে রোগটি হতে পারে তা হলো অস্টিওমালেসিয়া, যা হাড় নরম ও দুর্বল করে তোলে এবং হাড়ে ব্যথা ও পেশী দুর্বলতার কারণ হয়; এটি শিশুদের রিকেটসের প্রাপ্তবয়স্কদের রূপ, যেখানে হাড় পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। 

ভিটামিন ডি: 
- একমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকেই ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়। 
- এই ভিটামিন সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়। 
- ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন ডি -এর প্রধান উৎস। 
- বাধাঁকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 
- ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরির কাজে লাগে। 
- ভিটামিন ডি-এর অভাবে শিশুদের রিকেটস এবং প্রাপ্তবয়স্কদের অস্টিওমালেসিয়া রোগ হয়, যেখানে হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে যায়। 
- দৈনিক চাহিদার থেকে অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে হাইপারক্যালসেমিয়া হতে পারে, যার ফলে বমি, দুর্বলতা, মূত্রের পরিমাণ বৃদ্ধি, হাড়ের ব্যথা এবং কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

অন্যদিকে, 
- স্কার্ভি (Scurvy) ভিটামিন সি-এর অভাবজনিত রোগ। 
- ভিটামিন ডি-এর অভাব ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, কিন্তু এটি সরাসরি অভাবজনিত রোগ নয়। 
- দীর্ঘস্থায়ী ভিটামিন ডি-এর অভাব হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, কিন্তু এটি সরাসরি অভাবজনিত রোগ নয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২১৬.
শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে কোন খাদ্য উপাদান?
  1. আমিষ
  2. খনিজ লবণ
  3. ভিটামিন
  4. শর্করা
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন
ব্যাখ্যা

• শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে ভিটামিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, এবং ভিটামিন এ ইমিউন সেলের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং শরীরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি ফলমূল ও সবজিতে থাকে, যা সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ভিটামিন ডি সূর্যের আলো থেকে পাওয়া যায় এবং ইমিউন সিস্টেমের ব্যালান্স বজায় রাখে। ভিটামিন এ চোখ, ত্বক ও শ্বেতরক্তকোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য অপরিহার্য। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে পর্যাপ্ত ভিটামিন থাকা ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে, যাতে শরীর বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করতে পারে।

- সঠিক উত্তর: গ) ভিটামিন।
 
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা: 
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। 
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 
 
- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন: 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 
 
- খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। 
৭। রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২১৭.
নিচের কোনটি কোষের গুণাবলি রক্ষা করে?
  1. খাদ্যপ্রাণ
  2. আমিষ
  3. স্নেহ
  4. পানি
সঠিক উত্তর:
পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত, এ রাসায়নিক উপাদানগুলোকে খাদ্য উপাদান বলা হয়। 
- কেবলমাত্র একটি উপাদান দিয়ে গঠিত-এমন খাদ্যবস্তুর সংখ্যা খুবই কম। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১. আমিষ বা প্রোটিন: এটি ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন ও দেহ গঠন করে। 
২. শর্করা বা শ্বেতসার বা কার্বোহাইড্রেট: এটি শক্তি উৎপাদন করে। 
৩. স্নেহ বা চর্বি বা লিপিড: এটি তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 

- এছাড়া অন্যান্য তিন প্রকার উপাদান বিশেষ প্রয়োজন। 
যথা- 
১. খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন: এটি রোগ প্রতিরোধ, শক্তি বৃদ্ধি, বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
২. খনিজ লবণ: এটি বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। 
৩. পানি: পানি দেহে পানির সমতা রক্ষা করে, কোষের গুণাবলি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ অঙ্গাণুসমূহকে ধারণ ও তাপের সমতা রক্ষা করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২১৮.
কোন ধরনের খাদ্য থেকে একই পরিমাণ খাওয়ার পরেও তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তি আহরণ করা যায়?
  1. ক) আমিষ
  2. খ) কার্বোহাইড্রেট
  3. গ) ফ্যাট
  4. ঘ) শ্বেতসার
সঠিক উত্তর:
গ) ফ্যাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফ্যাট
ব্যাখ্যা

এক হাজার ক্যালরি সমান এক কিলােক্যালরি বা এক খাদ্য ক্যালরি (One Food Calorie)। খাদ্যের ক্যালরিকে কিলােক্যালরি দিয়ে বােঝানাে হয়।
উদাহরণ দেওয়ার জন্য বলা যায়, শর্করা এবং প্রােটিনের ক্যালরি প্রায় সমান, ৪ kcal/g।
স্নেহজাতীয় খাদ্যে অর্থাৎ ফ্যাটের ক্যালরি সবচেয়ে বেশি— এর পরিমাণ ৯ kcal/g। একটা খাদ্যের খাদ্য ক্যালরি বলতে বােঝায় খাদ্যটি সম্পূর্ণভাবে জারণ হলে কতখানি শক্তি বের হবে।
একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষ মানুষের দৈনিক ২৫০০ kcal এবং একজন নারীর ২০০০ kcal এর সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়ােজন।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

২১৯.
নিচের জোড়গুলো বিবেচনা করুন-
ভিটামিন              অভাবজনিত রোগ
i) ভিটামিন -D      রিকেট (Ricket)
ii) ভিটামিন E       রাতকানা (Night blindness)
উপরের কোন জোড়টি সঠিকভাবে সম্পর্কযুক্ত?
  1. শুধু i
  2. শুধু ii
  3. i ও ii উভয়
  4. i ও ii কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
শুধু i
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুধু i
ব্যাখ্যা
ভিটামিন ডি: 
- একমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকেই ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 
- ভিটামিন ডি সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়। 
- ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন ডি- এর প্রধান উৎস। 
- বাধাঁকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 
- ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরির কাজে লাগে। 
- ভিটামিন ডি -এর অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হয়। 
- দৈনিক চাহিদা থেকে বেশি পরিমাণে ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে শরীরের ক্ষতি হয়। এর ফলে অধিক ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষিত হওয়ায় রক্তে এদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যে কারণে বৃক্ক (কিডনি), হৃৎপিন্ড, ধমনি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম জমা হতে থাকে। 
 
অন্যদিকে, 
- ভিটামিন এ -এর অভাবে রাতকানা রোগ হয় কিন্তু অপশনে ভিটামিন ই দেওয়া যা সঠিক নয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২২০.
আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে কোনটি?
  1. ট্রিপসিন
  2. টায়ালিন
  3. অ্যামাইলেজ
  4. লাইপেজ
সঠিক উত্তর:
ট্রিপসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রিপসিন
ব্যাখ্যা
আমিষ: 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রন থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

- অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়। 
- এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে। 
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 

অন্যদিকে, 
- মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন। 
- টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২২১.
জরায়ুর মধ্যে ভ্রূণের মৃত্যু হতে পারে -
  1. ক) ভিটামিন A এর অভাবে
  2. খ) ভিটামিন C এর অভাবে
  3. গ) ভিটামিন D এর অভাবে
  4. ঘ) ভিটামিন E এর অভাবে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিটামিন E এর অভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিটামিন E এর অভাবে
ব্যাখ্যা
 -জরায়ুর মধ্যে ভ্রূণের মৃত্যু হতে পারে ভিটামিন E এর অভাবে। 
- পাম তৈল ভিটামিন E এর ভাল উৎস। 
- সস্য দানার তেল, সূর্যমুখী তেল, তুলাবীজের তেল, লেটুস পাতায় ভিটামিন E পাওয়া যায়। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
২২২.
প্রোটিনের মূল উপাদান কোনটি?
  1. কার্বন
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
• আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে, তাই প্রোটিন বা আমিষের মূল উপাদান হলো নাইট্রোজেন

• আমিষ বা প্রোটিন:

- প্রোটিন মূলত উচ্চ ভর বিশিষ্ট নাইট্রোজেন যুক্ত জটিল যৌগ যা অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার। জীন নির্দিষ্ট অনুক্রমে অনেকগুলি আলফা অ্যামিনো অ্যাসিড পেপটাইড বন্ধন দ্বারা পলিপেপটাইড শৃঙ্খল পলিমার তৈরি করে এবং তা সঠিকভাবে ভাঁজ হয়ে একটি প্রোটিন তৈরি হয়।
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত।
- সালফার, ফসফরাস ও আয়রনও সামান্য পরিমাণে থাকে।
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই দেহে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষ একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৩.
পুষ্টি (Nutrition) বলতে কী বোঝায়?
  1. খাদ্যের বিভিন্ন উপাদান
  2. একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া
  3. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
  4. দৈনিক ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ
সঠিক উত্তর:
একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া — কারণ পুষ্টি হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে খাদ্য হজম ও শোষিত হয়ে দেহের চাহিদা পূরণ করে।

• পুষ্টি (Nutrition):
- পুষ্টি একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া।
- খাদ্য গ্রহণের পর তা হজম হয়ে রক্তের মাধ্যমে শোষিত হয়ে দেহের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করে।
- পুষ্টি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেহের গঠন, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, রক্ষণাবেক্ষণ, তাপ ও শক্তি উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ ইত্যাদি কার্য সম্পন্ন হয়।
- খাদ্য ও পুষ্টি বিষয় দুটি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত, কারণ খাদ্য গ্রহণের ফলেই দেহে পুষ্টি সাধিত হয়।
- পুষ্টির অভাবে শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

• খাদ্য (Food):
- যা আহার করার পর হজম ও শোষিত হয়ে দেহের গঠন, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, রক্ষণাবেক্ষণ, তাপ ও শক্তি উৎপাদন এবং রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে তাকে খাদ্য বলে।
- খাদ্য হজম হয়ে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে।
- আমরা বিভিন্ন ধরনের খাদ্য গ্রহণ করি, যেমন ভাত, রুটি, ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, শাকসবজি, ফলমূল, পানি ইত্যাদি।

• খাদ্যের সাধারণ কাজ:
- দেহের গঠন, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা।
- দেহের জন্য তাপ ও শক্তি উৎপাদন করা।
- দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

• খাদ্য উপাদান (Nutrients):
- খাদ্যের যেসব জৈব ও অজৈব উপাদান দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে তাদের খাদ্য উপাদান বলে।
- খাদ্য উপাদান ছয়টি — প্রোটিন, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, ভিটামিন, খনিজ লবণ, পানি।
- প্রোটিন, শর্করা ও স্নেহ পদার্থকে প্রধান বা ম্যাক্রো পুষ্টি উপাদান বলা হয়।
- ভিটামিন ও খনিজ লবণকে সহায়ক বা মাইক্রো পুষ্টি উপাদান বলা হয়।
- পানি জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য এবং দেহের প্রায় ৬০-৭০% পানি দ্বারা গঠিত।

• অন্যান্য অপশন:
- খাদ্যের বিভিন্ন উপাদান → খাদ্য উপাদান বা Nutrients বোঝায়।
- শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা → ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ শক্তি বোঝায়।
- দৈনিক ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ → শক্তির চাহিদা বা ক্যালরি প্রয়োজন বোঝায়।
 
উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৪.
ভিটামিন কোন ধরনের পদার্থ?
  1. অজৈব যৌগ
  2. জৈব রাসায়নিক পদার্থ
  3. অজৈব কঠিন পদার্থ
  4. অজৈব পদার্থ
  5. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
জৈব রাসায়নিক পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জৈব রাসায়নিক পদার্থ
ব্যাখ্যা
ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ:
- ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ একটি জৈব রাসায়নিক পদার্থ।
- যা দেহে অতি অল্প পরিমাণে উপস্থিত থেকে দেহের অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ কিছু কার্যাবলি সম্পন্ন, নিয়ন্ত্রণ ও সহায়তা করে।
- দ্রবণ ক্ষমতার উপর নির্ভর করে ভিটামিন দু'প্রকার যথা:

• পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন:
- পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হলো- ভিটামিন বি কমপ্লেক্স,
- যেমন-থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, পিরিডক্সিন, কোবালামিন ইত্যাদি।
- এবং ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড। 

• স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিন:
- স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হলো-ভিটমিন এ, ডি, ই এবং কে।

উল্লেখ্য,
- সাধারণভাবে ভিটামিন দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে,
- প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট বিপাকে সাহায্য করে।
- দেহের বৃদ্ধিতে ও সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৫.
কোন ভিটামিন সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়? 
  1. ভিটামিন ডি
  2. ভিটামিন বি
  3. ভিটামিন এ
  4. ভিটামিন সি
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন ডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন ডি
ব্যাখ্যা
ভিটামিন ডি: 
- একমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকেই ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 
- ভিটামিন ডি সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়। 
- ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন ডি- এর প্রধান উৎস। 
- বাধাঁকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 
- ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরির কাজে লাগে। 
- ভিটামিন ডি-এর অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হয়। 
- দৈনিক চাহিদা থেকে বেশি পরিমাণে ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে শরীরের ক্ষতি হয়। এর ফলে অধিক ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষিত হওয়ায় রক্তে এদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। 
- যে কারণে বৃক্ক (কিডনি), হৃৎপিন্ড, ধমনি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম জমা হতে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২২৬.
মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বন্ধ্যাত্ব দূর করে কোন ভিটামিন?
  1. ভিটামিন বি
  2. ভিটামিন ডি
  3. ভিটামিন এ
  4. ভিটামিন ই
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন ই
ব্যাখ্যা
• ভিটামিন ই মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বন্ধ্যাত্ব দূর করে।

• ভিটামিন ই:
- ভিটামিন ই এর রাসায়নিক নাম টোকোফেরল।
- এটি তাপ ও অম্লে বিনষ্ট হয় না। তবে ক্ষারে সামান্য নষ্ট হয়।

• ভিটামিন ই এর উৎস:
- সব ধরনের উদ্ভিজ্জ তেল, যেমন- নারিকেল তেল, সরিষার তেল, চালের কুঁড়ার তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি ভিটামিন ই এর ভালো উৎস।
- শস্যদানার ভ্রূণ, বাদাম, গোটা শস্য, শাক-সবজি, মাখন ইত্যাদিতে কিছু পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে।
- ডিমের কুসুম, দুধ ও যকৃতেও ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

• ভিটামিন ই এর কাজ:
১। ভিটামিন এ রক্তের লোহিত কণার জারণসহ অবাঞ্ছিত জারণ রোধ করে।
২। জননাঙ্গের বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক ক্ষমতা বজায় রাখে।
৩। নারী ও পুরুষের বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ করে।
৪। নারী ও পুরুষের স্বাভাবিক প্রজননে সহায়তা করে।
৫। অকাল বার্ধক্য রোধ করে।
৬। ভ্রূণের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

• ভিটামিন ই এর অভাবজনিত অবস্থা:
১। নারী ও পুরুষের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা লোপ পায় এবং বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়।
২। ভ্রূণের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
৩। গর্ভপাত হতে পারে।
৪। অকাল বার্ধক্য দেখা দেয়।

অন্যদিকে,
- ভিটামিন ডি এর অভাবে রিকেটস রোগ হয়।
- ভিটামিন বি১ এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়।
- ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
 
উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি। [২০১৯ সংস্করণ]
২. গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৭.
স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্যের কাজ কী? 
  1. রোগ প্রতিরোধ 
  2. দেহে তাপ এবং শক্তি উৎপাদন 
  3. কোষের গঠন 
  4. মলের পরিমাণ বৃদ্ধি 
সঠিক উত্তর:
দেহে তাপ এবং শক্তি উৎপাদন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেহে তাপ এবং শক্তি উৎপাদন 
ব্যাখ্যা

খাদ্যের প্রধান উপাদান ও তার উৎস: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। যেহেতু এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- অধিকাংশ খাদ্যে একাধিক খাদ্য উপাদান থাকে। 
- কোনো খাদ্যে যে উপাদানটি বেশি পরিমাণে থাকে, তাকে সেই উপাদানের খাদ্য হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(a) আমিষ: দেহের বৃদ্ধিসাধন এবং ক্ষয়পূরণ করে। 
(b) শর্করা: দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
(c) স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্য: দেহে তাপ এবং শক্তি উৎপাদন করে। 

- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
(d) খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন: রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
(e) খনিজ লবণ: বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
(f) পানি: দেহে পানি এবং তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

- উপরে উল্লেখ করা খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। 
(g) খাদ্য আঁশ (Fibre) বা রাফেজ: রাফেজ পানি শোষণ করে, মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২২৮.
কোন ভিটামিনের অভাবে স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় দেখা দেয়?
  1. ক) ভিটামিন-সি
  2. খ) ভিটামিন-ডি
  3. গ) ভিটামিন বি-১
  4. ঘ) ভিটামিন বি-১২
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিটামিন বি-১২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিটামিন বি-১২
ব্যাখ্যা
- ভিটামিন-সি এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
- ভিটামিন-ডি এর অভাবে রিকেটস এবং অস্টিওম্যালাসিয়া হয়।
- ভিটামিন বি-১ বা থায়ামিনের অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়। এর অভাবে স্নায়ুর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ার অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়৷
- ভিটামিন বি-১২ বা সায়ানোকোবালামিনের অভাবে রক্তশূন্যতা ও স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় দেখা যায়।

উৎসঃ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
২২৯.
প্রাণীদেহে প্রোটিন কোন উপাদান থেকে গঠিত?
  1. অ্যামাইনো অ্যাসিড
  2. গ্লুকোজ
  3. গ্লিসারল
  4. ফ্যাটি অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইনো অ্যাসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইনো অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

প্রোটিন মূলত অ্যামাইনো অ্যাসিড (Amino Acid) দিয়ে গঠিত। প্রাণীদেহে প্রোটিন সংশ্লেষণ অ্যামাইনো অ্যাসিডের মাধ্যমে হয়, যা কোষের গঠন, এনজাইম, হরমোন এবং অন্যান্য জৈবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রোটিন বা আমিষের গঠন:
- আমিষ বা প্রোটিনের গঠন উপাদান হলো- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H₂), অক্সিজেন (O₂) এবং নাইট্রোজেন (N₂)।
- আমিষে ১৬% নাইট্রোজেন থাকে।
- আমিষ বা প্রোটিনের গঠনগত একক অ্যামাইনো অ্যাসিড।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন মৌল সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিনের গঠন একক অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়।
- একাধিক অ্যামাইনো অ্যাসিড মিলিত হয়ে পলিপেপটাইড ও পরিশেষে প্রোটিন গঠিত হয়। তাই প্রোটিনের রাসায়নিক বিশ্লেষণের ফলে বিভিন্ন ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়।
- পরিপাকের পর আমিষ বা প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল, মটরশুঁটি শিমেরবিচি, সয়াবিন, বাদাম ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাদ্য। এসব খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ পাওয়া যায়।

অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড:
- প্রোটিন গঠনকারী অ্যামাইনো অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
- এ ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিডগুলো হলো-
১। লাইসিন।
২। লিউসিন।
৩। আইসোলিউসিন।
৪। মিথিওনিন।
৫। ট্রিপটোফ্যান।
৬। ভ্যালিন।
৭। ফিনাইল অ্যালানিন।
৮। থ্রিওনিন।

উৎস - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩০.
নিচের কোন এনজাইম দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য পরিপাক ঘাটায়?
  1. ম্যাল্টেজ
  2. সুক্রোজ
  3. ল্যাকটোজ
  4. লাইপেজ
সঠিক উত্তর:
ল্যাকটোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যাকটোজ
ব্যাখ্যা

দুগ্ধজাত খাদ্য পরিপাকে ভূমিকা রাখা এনজাইম (Lactase):

- দুগ্ধজাত খাদ্যের প্রধান শর্করা হলো ল্যাকটোজ (Lactose)।
- এই ল্যাকটোজকে ভাঙার জন্য বিশেষভাবে যে এনজাইমটি কাজ করে তা হলো ল্যাক্টেজ।
- ল্যাক্টেজ ল্যাকটোজকে গ্লুকোজ ও গ্যালাক্টোজে ভেঙে ফেলে, যাতে শরীর সহজে শোষণ করতে পারে।
- ল্যাক্টেজের ঘাটতি থাকলে ল্যাকটোজ সঠিকভাবে পরিপাক হয় না।
- এর ফলে গ্যাস, ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়, যাকে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বলা হয়।

অন্যান্য এনজাইম কেন সঠিক নয়:

- ম্যাল্টেজ: মল্টোজ নামক শর্করা পরিপাকে সাহায্য করে, দুগ্ধজাত খাদ্যে নয়।
- সুক্রোজ: এটি একটি শর্করা, এনজাইম নয়।
- লাইপেজ: চর্বি বা ফ্যাট পরিপাকে সাহায্য করে, ল্যাকটোজ নয়।

সুতরাং, দুগ্ধজাত খাদ্য পরিপাকে ঘাটতি ঘটায় যে এনজাইমটির অভাব, তা হলো ল্যাকটোজ।
সঠিক উত্তর: গ) ল্যাকটোজ। 

সূত্র - ব্রিটানিকা। 

২৩১.
খাদ্যের প্রকৃতিতে নিম্নলিখিত কোনটি একটি বিশুদ্ধ খাদ্য? 
  1. গ্লুকোজ
  2. খিচুড়ি
  3. দুধ
  4. পেয়ারা
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা
পুষ্টির উপাদানে তাপশক্তি নির্ণয়: 
- প্রতিদিন নানা রকম পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করা হয়। 
- ভাত, খিচুড়ি, পোলাও, মাংস থেকে শুরু করে ফলমূল, শাকসবজি, পানীয় ইত্যাদির কোনোটিই বাদ যায় না, তাই পুষ্টি উপাদানে শক্তি পরিমাপ করতে হলে এর প্রকৃতি জেনে নিতে হবে। 
যেমন- 
পুষ্টির প্রকৃতি, মিশ্রখাদ্য ও বিশুদ্ধ খাদ্য: 
- খাদ্যের প্রকৃতি বলতে এটা কি মিশ্রখাদ্য, নাকি বিশুদ্ধ খাদ্য তাকে বোঝায়। 
- মিশ্রখাদ্যে একের অধিক পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকে। 
যেমন: দুধ, ডিম, খিচুড়ি, পেয়ারা ইত্যাদি। 
- অন্যদিকে বিশুদ্ধ খাদ্যে শুধু একটি উপাদান থাকে। 
যেমন: চিনি, গ্লুকোজ ইত্যাদি যাতে শর্করা ছাড়া অন্য কিছু থাকে না। 

পুষ্টি উপাদান ও তার পরিমাণ নির্ণয়: 
- পুষ্টি উপাদানের প্রকৃতি জানার পর ঐ খাদ্যে কী কী উপাদান কী পরিমাণে আছে তা জেনে নিতে হবে। 
- তবে বিভিন্ন খাদ্যের পুষ্টি উপাদান ও তার পরিমাণ খাদ্য মূল্যতালিকা দেখে জেনে নিতে হয়। 

ক্যালরি নির্ণয়: 
- খাদ্যের পুষ্টি উপাদান ও তার পরিমাণ জানার পর শর্করা, প্রোটিন ও চর্বির ক্যালরি বের করতে হয়। 
- এক্ষেত্রে ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানির ক্যালরি মূল্য শূন্য ধরে হিসাব করতে হবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩২.
পাইরিডক্সিন নিম্নের কোনটি?
  1. B1
  2. B2
  3. B6
  4. B12
সঠিক উত্তর:
B6
উত্তর
সঠিক উত্তর:
B6
ব্যাখ্যা

পাইরিডক্সিন (Pyridoxine):
- পাইরিডক্সিন হলো ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- এটি মূলত ভিটামিন B6 নামে পরিচিত।
- এই ভিটামিন শরীরের প্রোটিন বিপাক, অ্যামিনো অ্যাসিডের রূপান্তর এবং স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- হিমোগ্লোবিন তৈরি এবং লোহিত রক্তকণিকার কার্যক্রমে পাইরিডক্সিনের ভূমিকা রয়েছে।
- পাইরিডক্সিনের অভাবে রক্তস্বল্পতা, ত্বকের সমস্যা এবং স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ভিটামিন B1 (থায়ামিন):
- ভিটামিন B1 শক্তি উৎপাদন এবং স্নায়ুর কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয়।
- এটি কার্বোহাইড্রেট বিপাকে সহায়তা করে।
- তবে এটি পাইরিডক্সিন নয়।

ভিটামিন B2 (রাইবোফ্লাভিন):
- ভিটামিন B2 কোষের বৃদ্ধি এবং শক্তি উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।
- চোখ ও ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।
- এটিও পাইরিডক্সিন নয়।

ভিটামিন B12 (কোবালামিন):
- ভিটামিন B12 স্নায়ুকোষ ও রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়ক।
- এটি ডিএনএ সংশ্লেষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- কিন্তু পাইরিডক্সিন ভিটামিন B12 নয়।

- সুতরাং, পাইরিডক্সিন হলো ভিটামিন B6.
- সঠিক উত্তর: গ) B6.

সূত্র - sciencedirect journal.

২৩৩.
নিচের কোনটি ভিটামিন এ এর কাজ নয়?
  1. ক) দেহের বিভিন্ন আবরণী কলা সজীব রাখা
  2. খ) হাড় এবং দাঁতের গঠন এবং দাঁতের মাড়ি সুস্থ
  3. গ) দেহের স্বাভাবিক গঠন ব্যাহত করা
  4. ঘ) দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরােধ করা
সঠিক উত্তর:
গ) দেহের স্বাভাবিক গঠন ব্যাহত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দেহের স্বাভাবিক গঠন ব্যাহত করা
ব্যাখ্যা
প্রাণিজ উৎসের মধ্যে ডিম, গরুর দুধ, মাখন, ছানা, দই, ঘি, যকৃৎ ও বিভিন্ন তেলসমৃদ্ধ মাছে, বিশেষ করে কড মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন A পাওয়া যায়।
উদ্ভিজ্জ উৎসের মধ্যে ক্যারােটিন সমৃদ্ধ শাক-সবজি, যেমন- লালশাক, কচুশাক, পুঁইশাক, পাটশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, পুদিনা পাতা, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, মটরশুটি এবং বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন: আম, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন A রয়েছে।
ভিটামিন A যেসব কাজ করে সেগুলাে হলাে:

১. দেহের স্বাভাবিক গঠন এবং বর্ধন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার কাজ নিশ্চিত করে।
২. দেহের বিভিন্ন আবরণী কলা যেমন: ত্বক, চোখের কর্নিয়া ইত্যাদিকে স্বাভাবিক ও সজীব রাখে।
৩. হাড় এবং দাঁতের গঠন এবং দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখে।
৪. দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরােধ করে।
৫. দেহে রােগ সংক্রমণ প্রতিরােধ করে।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২৩৪.
নিচের কোন তথ্যটি সঠিক? 
  1. শিশুকে ৬ মাস পর্যন্ত কেবল বুকের দুধ দিতে হবে
  2. ডায়ারিয়া প্রতিরোধে মায়ের দুধ অত্যন্ত কার্যকর
  3. মায়ের দুধে প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান সঠিক মাত্রায় থাকে
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

- জন্মের পর মায়ের দুধ শিশুর একমাত্র আদর্শ খাদ্য। জন্মগ্রহণের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিশুকে মায়ের দুধ দিতে হবে।
- মায়ের প্রথম দুধকে শালদুধ বা Colostrum বলে। এই দুধ হলুদ বর্ণের গাঢ় আঠালো হয়।
- প্রতিদিন গড়ে ৮০-১০০ মি.লি. পরিমাণ শালদুধ উৎপাদিত হয়। প্রসবের পর ২/৩ দিন পর্যন্ত শালদুধ নির্গত হয়।
- শালদুধ শিশুর রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ায়। ডায়রিয়া, জন্ডিস ও শ্বাসনালীর ইনফেকশন হতে শিশুদের রক্ষা করে।
- নবজাতককে বাইরের কোনো দুধ, চিনি, মধু, পানি দেওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে শালদুধ দিতে হবে। শিশুকে ৬ মাস পর্যন্ত কেবল বুকের দুধ দিতে হবে।

• মায়ের দুধের গুণাগুণ:
১। মায়ের প্রথম দুধ হলুদ বর্ণ, ঘন ও তরল থাকে, একে কলোস্ট্রাম বলে। একে শালদুধও বলা হয়। এই দুধ প্রোটিন, ভিটামিন ও অ্যান্টিবডিসমৃদ্ধ। এই দুধ শিশুর জীবনের প্রথম টিকা হিসেবে কাজ করে। ফলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শিশু সুস্থ থাকে।
২। মায়ের দুধে প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান, যেমন- গ্লুকোজ, প্রোটিন, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ সঠিক মাত্রায় থাকে। তাই মায়ের দুধ সুষম হয়।
৩। দুধের ল্যাকটোজ, ল্যাকটোএ্যালবুমিন ও ক্যাজিন শিশু সহজে হজম করতে পারে, ফলে শিশুর পেটের পীড়া হয় না। ডায়ারিয়া প্রতিরোধে একমাত্র মায়ের দুধ অধিক কার্যকর।
৪। মায়ের বুকের দুধ জীবাণুমুক্ত। শিশু তাৎক্ষণিক প্রয়োজনমতো গ্রহণ করতে পারে। মায়ের দুধ সহজপাচ্য ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে এবং সঠিক মাপমাত্রায় শিশুকে খাওয়ানো যায়।
৫। শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পরিপূর্ণ পুষ্টি যোগায়। বুকের দুধ খাওয়া শিশুরা অধিক বুদ্ধিমান হয়।
৬। অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হয় না।
৭। মা ও শিশুর বন্ধন সৃদৃঢ় হয়, যা শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়তা করে।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৫.
নিম্নলিখিত কোনটি খাদ্যের প্রধান উপাদান নয়? 
  1. ফ্যাট 
  2. শর্করা 
  3. খনিজ লবণ 
  4. প্রোটিন 
সঠিক উত্তর:
খনিজ লবণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খনিজ লবণ 
ব্যাখ্যা

খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্যের যেসব জৈব ও অজৈব উপাদান দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে তাদের খাদ্য উপাদান বা Nutrients বলে।
- দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের জন্য ভিন্ন ভিন্ন খাদ্য উপাদান প্রয়োজন হয়। 
- খাদ্য উপাদান ৬ টি। 
যথা- 
১। আমিষ বা প্রোটিন, 
২। শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট, 
৩। স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট, 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, 
৫। খনিজ লবণ বা মিনারেল এবং 
৬। পানি। 

- আমিষ, শর্করা ও স্নেহ পদার্থকে খাদ্যের প্রধান বা মূল উপাদান (Macro nutrients) বলা হয়। কারণ, এ উপাদানগুলো মানবদেহে অধিক পরিমাণে প্রয়োজন হয়। 
- ভিটামিন ও খনিজ লবণকে সহায়ক খাদ্য উপাদান বা অণুখাদ্য (Micro Nutrients) বলা হয়। কারণ, এ খাদ্য উপাদানগুলো মানবদেহে অতি অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হয়। 
- যেকোনো খাদ্য উপদানই প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে শারীরিক জটিলতা ও অসুস্থতা দেখা দেয়। 
- খাদ্য উপাদান পানি জীবনধারণের অত্যবশ্যকীয় উপাদান কারণ দেহের ৭০ শতাংশই পানি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৬.
ভিটামিন সি-এর একটি প্রধান কাজ কী?
  1. রক্ত জমাট বাঁধা
  2. ইনসুলিন তৈরি করা 
  3. ক্যালসিয়াম সরবরাহ করা
  4. শক্তিশালী জারণরোধী হিসেবে কাজ করা
সঠিক উত্তর:
শক্তিশালী জারণরোধী হিসেবে কাজ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তিশালী জারণরোধী হিসেবে কাজ করা
ব্যাখ্যা

এসকরবিক এসিড বা ভিটামিন সি (Vitamin C): 
- ভিটামিন সি এর রাসায়নিক নাম এসকরবিক এসিড (Ascorbic acid)। 
- এটি তাপ, আলো, বাতাস ও ক্ষারে খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। 
- টাটকা শাক-সবজি ও ফল-মূল ভিটামিন সি এর উত্তম উৎস। 
- টক জাতীয় ফল যেমন- কমলা, লেবু, পেয়ারা, আমলকী, বাতাবি লেবু, আমড়া, কামরাঙা, আঙুর, আনারস ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এছাড়া, লেটুস পাতা, কাঁচা মরিচও ভিটামিন সি এর ভালো উৎস। 

 এসকরবিক এসিডের কাজ: 
- ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী জারণরোধী ভিটামিন। 
- ভিটামিন সি নিজে জারিত হয়ে অন্যান্য উপাদানের জারণ প্রতিরোধ করে। (সাধারণভাবে কোনো কিছুর সাথে অক্সিজেন যুক্ত হওয়াকে জারণ বলে)। 
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। 
- ক্ষতস্থানের ঘা শুকাতে সাহায্য করে। 
- দেহের পেশি, কলা ও অস্থির সংযোজক কলা তৈরিতে সহায়তা করে। 
- ভিটামিন সি অন্ত্রে লৌহের শোষণ এবং হিমোগ্লোবিনে লৌহ যুক্তকরণে সাহায্য করে। 
- ত্বক, দাঁত, মাড়ি প্রভৃতির দৃঢ়তা রক্ষা করে। 
- রক্তবাহী নালীর প্রাচীর মজবুত করতে সহায়তা করে। 

এসকরবিক এসিডের অভাবজনিত অবস্থা: 
- ভিটামিন সি এর দীর্ঘদিনের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। স্বার্ভি রোগে দাঁতের মাড়ি ফুলে স্পঞ্জের মতো হয়ে যায়, রক্তক্ষরণ হয়, গোড়া আলগা ও নরম হয়ে যায়, অনেক সময় দাঁত পড়ে যায়। 
- ত্বক খসখসে হয়, ফুসকুড়ি ওঠে এবং ত্বক চুলকায়। 
- অস্থি দুর্বল হয় ও অস্থি সন্ধিতে বা গাঁটে ব্যথা হয়, অস্থি দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়। 
- লৌহের পরিশোষণ ব্যহত হয় ও রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সহজেই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। 
- রক্তবাহী নালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ত্বকের ভিতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ হতে পারে। 
- ক্ষুধামন্দা, অলসতা, খিটখিটে মেজাজ পরিলক্ষিত হয়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৭.
আমিষের পরিপাক শেষে কোন যৌগে রূপান্তরিত হয়? 
  1. গ্লুকোজ
  2. অ্যামাইনো অ্যাসিড
  3. ফ্যাট
  4. স্নেহ পদার্থ
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইনো অ্যাসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইনো অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

আমিষ বা প্রোটিন: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা- 
১। প্রাণিজ আমিষ: 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহ কোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণী দেহে শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% প্রোটিন থাকে। 

২। উদ্ভিজ আমিষ: 
- উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি। 
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৩৮.
How many types of amino acids have been found in the human body?
  1. 18
  2. 20
  3. 24
  4. 26
  5. None of the above
সঠিক উত্তর:
20
উত্তর
সঠিক উত্তর:
20
ব্যাখ্যা
• আমিষ: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 

• উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা: প্রাণিজ ও উদ্ভিজ। 

- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- আর উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি। 

- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণিদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩৯.
নিচের কোনটির অভাবে মানবদেহে স্কার্ভি (Scurvy) রোগ হয়?
  1. ফসফরিক এসিড
  2. এসকরবিক এসিড
  3. ফলিক এসিড
  4. পারক্লোরিক এসিড
সঠিক উত্তর:
এসকরবিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসকরবিক এসিড
ব্যাখ্যা
জৈব ও খনিজ এসিড: 
- ফলমূল বা সবজিতে যে সকল এসিড থাকে এদেরকে জৈব এসিড বলে।
- এদেরকে খাওয়া যায় এবং কোনো কোনোটি মানব দেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
- যেমন- এসকরবিক এসিড যা আমরা ভিটামিন সি বলে জানি। এর অভাবে মানবদেহে স্কার্ভি (Scurvy) রোগ হয়।
- অন্যদিকে কিছু কিছু এসিড আছে যেমন- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI), সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄), ফসফরিক এসিড (H₃PO₄), নাইট্রিক এসিড (HNO3), পারক্লোরিক এসিড (HCIO,) ইত্যাদি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত নানারকম খনিজ পদার্থ থেকে তৈরি করা হয়, এদেরকে খনিজ এসিড (Mineral Acids) বলে।
- এগুলো খাওয়ার উপযোগী নয়। বরং বলা যায় এরা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
- খনিজ এসিড ত্বকে লাগলে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
- উল্লেখ্য, ভিটামিন বি৯ হচ্ছে ফলিক এসিড। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৪০.
আয়োডিনের সবচেয়ে ভালো উৎস কোনটি? 
  1. ডাল 
  2. শাকসবজি
  3. বাদাম 
  4. সামুদ্রিক উদ্ভিদ 
সঠিক উত্তর:
সামুদ্রিক উদ্ভিদ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামুদ্রিক উদ্ভিদ 
ব্যাখ্যা

খনিজ লবণ (Mineral salts): 
- দেহকোষ ও দেহের তরল অংশের জন্য খনিজ লবণ অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- মানুষের শরীরে ক্যালসিয়াম, লৌহ, সালফার, দস্তা, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, আয়োডিন ইত্যাদি থাকে। 
- এ উপাদানগুলো কখনো মৌলিক উপাদানরূপে মানবদেহে অবস্থান করে না, এগুলো খাদ্য ও মানবদেহে বিভিন্ন পরিমাণে অন্য পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে নানা জৈব এবং অজৈব যৌগের লবণ তৈরি করে। 
- খনিজ লবণ দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হাড়, দাঁত, পেশি, এনজাইম এবং হরমোন গঠনের জন্য খনিজ লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান। 
- স্নায়ুর উদ্দীপনা, পেশি সংকোচন, দেহকোষে পানির সাম্যতা বজায় রাখা, অম্ল ও ক্ষারের সমতাবিধান, এসব কাজে খনিজ লবণের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। 

- দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ (মলা-ঢেলা), নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসবজি, ঢেঁড়স, লাল শাক, কচু শাক ইত্যাদি ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস। 
- কলিজা, সবুজ শাকসবজি, মাংস, ডিমের কুসুম, কচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে। 
- দুধ, মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল থেকে ফসফরাস পাওয়া যায়। 
- খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে। 
- মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল ইত্যাদিতে পটাশিয়াম থাকে। 
- আয়োডিনের ভালো উৎস হলো সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস এবং শেওলা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪১.
ভিটামিনসমূহ কোন ধরনের পদার্থ?
  1. পানি 
  2. খনিজ লবণ 
  3. জৈব রাসায়নিক পদার্থ 
  4. অজৈব রাসায়নিক পদার্থ 
সঠিক উত্তর:
জৈব রাসায়নিক পদার্থ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জৈব রাসায়নিক পদার্থ 
ব্যাখ্যা

খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন: 
- খাদ্যে শর্করা, আমিষ, স্নেহ পদার্থ, খনিজ লবণ ছাড়াও আরও এক প্রকার সূক্ষ্ম জাতীয় উপাদানের প্রয়োজন যা খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন। 
- এই খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিনের অভাবে শরীর নানা রোগে (যেমন- রাতকানা, বেরিবেরি, স্কার্ভি ইত্যাদি) আক্রান্ত হয়।
- ভিটামিন বলতে খাদ্যের ঐ সব জৈব রাসায়নিক পদার্থকে বুঝায় যা খাদ্যে সামান্য পরিমাণে উপস্থিত থাকে
- ভিটামিনসমূহ প্রত্যক্ষভাবে দেহ গঠনে অংশগ্রহণ না করলেও এদের অভাবে দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন বা তাপশক্তি উৎপাদন ইত্যাদি বিভিন্ন ক্রিয়াগুলো সুসম্পন্ন হতে পারে না। 

ভিটামিনের প্রকারভেদ: 
- দ্রবণীয়তার গুণ অনুসারে ভিটামিনকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. স্নেহ জাতীয় পদার্থে দ্রবণীয় ভিটামিন: যেমন- ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই, এবং ভিটামিন কে। 
২. পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন: যেমন- ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন সি। 

ভিটামিনের উৎস: 
- গাছের সবুজ পাতা, কচি ডগা, হলুদ ও সবুজ বর্ণের সবজি, ফল ও বীজ ইত্যাদি অংশে ভিটামিন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২৪২.
____ বেড়ে গেলে এনজিনা হয়।
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকা
  2. খ) রক্তরস
  3. গ) চর্বি
  4. ঘ) পটাশিয়াম
সঠিক উত্তর:
গ) চর্বি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চর্বি
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনি গাত্রে চর্বি জমা হলে রক্তের সাহায্যে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেন ও খাদ্যসার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বুকে ব্যাথা অনুভূত হয়। এ অবস্থাকে এনজিনা বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
২৪৩.
মানবদেহে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড কয়টি?
  1. ক) ৬টি
  2. খ) ৭টি
  3. গ) ৮টি
  4. ঘ) ৯টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৮টি
ব্যাখ্যা
আমিষের গঠনআমিষ বা প্রোটিনের গঠন উপাদান হলো- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H2), অক্সিজেন (O2) এবং নাইট্রোজেন (N2)। আমিষে ১৬% নাইট্রোজেন থাকে।
কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন মৌল সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিনের গঠন একক অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়।
পরিপাকের পর আমিষ বা প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল, মটরশুঁটি শিমেরবিচি, সয়াবিন, বাদাম ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাদ্য। এসব খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ পাওয়া যায়। 

এর মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড ৮টি।
এগুলো হল:
- লাইসিন
- ট্রিপেটোফ্যান
- মিথিওনিন
- ভ্যালিন
- লিউসিন
- আইসোলিউসিন
- ফিনাইল অ্যালানিন ও
- থ্রিওনাইন।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৪.
প্রাণিজ আমিষের উদাহরণ না কোনটি?
  1. ক) মাছ
  2. খ) পনির
  3. গ) ছানা
  4. ঘ) বাদাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাদাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাদাম
ব্যাখ্যা

উৎস দিয়ে বিবেচনা করা হলে আমিষ দুই প্রকার: প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ।
প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির- এগুলাে প্রাণিজ আমিষ।
উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। ডাল, শিমের বিচি, মটরশুটি, বাদাম হচ্ছে উদ্ভিজ্জ আমিষের উদাহরণ।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

২৪৫.
আমিষে নাইট্রোজেনের পরিমাণ প্রায় কত শতাংশ? 
  1. ৮%
  2. ১২%
  3. ১৬%
  4. ২৫%
সঠিক উত্তর:
১৬%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬%
ব্যাখ্যা

খাদ্যের প্রধান উপাদান ও উৎস: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত তাই এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি নিহিত, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলে। 
- উপাদান অনুসারে খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- আমিষ, শর্করা এবং স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্য। 
- এছাড়াও তিন প্রকার উপাদান দেহের জন্য দরকার। 
যথা- ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। 

আমিষ বা প্রোটিন: 
- আমিষ জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে এবং সালফার, ফসফরাস ও আয়রন সামান্য পরিমাণে থাকে
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই দেহে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষ একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য। 
- উৎস অনুযায়ী আমিষ দুই প্রকার। 
যথা- 
(ক) প্রাণীজ আমিষ: 
- মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা ইত্যাদি এসব খাদ্যে প্রচুর অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায় বলে এদের জৈব মূল্য বেশি। তাই খাদ্যে শতকরা ২০ ভাগ প্রাণীজ আমিষ থাকা প্রয়োজন। 

(খ) উদ্ভিজ্জ আমিষ: 
- ডাল, চিনা বাদাম, চাল, আটা, শিমের বীচি ইত্যাদি এগুলো প্রাণীজ আমিষের তুলনায় কম পুষ্টিকর। 
- বীজে আমিষের পরিমাণ অন্যান্য অংশের তুলনায় বেশি থাকে। 
- উদ্ভিজ্জ আমিষে অ্যামাইনো অ্যাসিডের পরিমাণ কম থাকে বিধায় এর জৈব মূল্য কম তাই এটি নিম্নমানের আমিষ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪৬.
খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকলে কোন খনিজের অভাব হয় না?
  1. সেলেনিয়াম
  2. দস্তা
  3. আয়রন
  4. ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস
ব্যাখ্যা
ফসফরাস (P): 
- দেহে পরিমাণের দিক থেকে খনিজ লবণগুলোর মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরই ফসফরাসের স্থান। 
- ফসফরাসও ক্যালসিয়ামের মতো হাড়ের একটি প্রধান উপাদান। 
- ফসফরাস হাড়, যকৃৎ এবং রক্তরসে সঞ্চিত থাকে। 
- নিউক্লিক এসিড, নিউক্লিয় প্রোটিন তৈরি এবং শর্করা বিপাকের দ্বারা শক্তি উৎপাদনে ফসফরাস প্রধান ভূমিকা রাখে। 
- ফসফরাসের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: দানা শস্য, শিম, বরবটি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি। 
- ফসফরাসের প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, কলিজা ইত্যাদি। 
- ক্যালসিয়ামের মতো হাড় এবং দাঁত গঠন করা ফসফরাসের প্রধান কাজ। 
- ফসফরাসের অভাবে রিকেটস, অস্থিক্ষরতা, দন্তক্ষয়- এইসব রোগ দেখা দেয়। 
- খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকলে ফসফরাসের অভাব হয় না। 

ক্যালসিয়াম (Ca): 

- এটি প্রাণীদের হাড় এবং দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্তে এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি লক্ষণীয়। 
- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, পালংশাক, কচুশাক, লালশাক, কলমিশাক, বাঁধাকপি এবং ফল। 
- ক্যালসিয়ামের প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 
- হাড় এবং দাঁতের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। 
- এছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৭.
কোন খাদ্যে প্রোটিন বেশি?
  1. ভাত
  2. গরুর মাংস
  3. মসুর ডাল
  4. ময়দা
সঠিক উত্তর:
মসুর ডাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মসুর ডাল
ব্যাখ্যা
- ডাল প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার আবার গরুর মাংসেও প্রোটিন থাকে তবে এতে চর্বির পরিমাণ বেশি বলে ডাল ই হচ্ছে তুলনামূলকভাবে বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। 
- প্রতি ১০০ গ্রাম মসুর ডালে প্রোটিনের পরিমান হচ্ছে ২৫.১ গ্রাম এবং গরুর মাংসে হচ্ছে ২২.৬ গ্রাম। 

সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) অনুসারে, 
- ডাল বীজে আমিষের পরিমাণ ২০-২৫ শতাংশ, 
- লাল মাংসে আমিষের পরিমাণ ১৬-১২ শতাংশ, 
- মাছে আমিষের পরিমাণ ১৮-২৫ শতাংশ এবং 
- মুরগির মাংসে আমিষের পরিমাণ ২০-২৫ শতাংশ। 

উৎস: ais.gov.bd 
২৪৮.
দেহের মোট পানির কত শতাংশ কোষের মধ্যে থাকে?
  1. ২৫%
  2. ৫০%
  3. ৭৫%
  4. ৯০%
সঠিক উত্তর:
৫০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০%
ব্যাখ্যা
পানি: 
- পরিমাণের দিক থেকে দেহের প্রধান গঠন উপাদান পানি। 
- একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির দেহের ওজনের প্রায় ৭০% পানি। 
- দেহের প্রতিটি কোষেই পানি থাকে, দেহে মোট পানির ৫০% থাকে কোষের মধ্যে। অবশিষ্ট পানি কোষের বাইরে দুই কোষের মধ্যবর্তী স্থান, রক্ত, লসিকা, কলারস ইত্যাদিতে অবস্থান করে। 
- বিশুদ্ধ খাবার পানি, ডাবের পানি, দুধ, বিভিন্ন রসালো ফল, শাক সবজি পানির প্রাকৃতিক উৎস। 
- প্রস্তুতকৃত বা রন্ধনকৃত খাবারের মধ্যে স্যুপ, সরবত, চা, ঘোল, লাচ্ছি, ফলের রস ইত্যাদি পানীয় জাতীয় খাদ্য। 

কাজ: 
১। পানি খাদ্য পরিপাক ও শোষণে সহাযতা করে। 
২। পুষ্টি উপাদানসমূহ দেহের এক অংশ হতে অন্য অংশে বহন করে নিয়ে যায়। 
৩। দেহের বিভিন্ন জৈব ও অজৈব উপাদান পানিতে দ্রবীভূত হয়ে বিপাক ক্রিয়ায় অংশ নেয়। 
৪। বিপাক ক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে দেহ হতে বের করে দেয়। 
৫। দেহ হতে ঘাম নিঃসরণ করে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। 
৬। রক্তের তারল্য বজায় রাখে। 
৭। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। 
৮। দেহ তরতাজা ও সজীব রাখে। 

অভাবজনিত অবস্থা: 
১। কোনো কারণে দেহ হতে প্রচুর পানি বের হয়ে গেলে (বমি, ডায়রিয়া, কলেরা, ঘাম) দেহে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। 
২। পানিশূন্যতায় ঠোঁট শুকিয়ে যায়, গলা শুকিয়ে যায়, ত্বক ঢিলা হয়ে, কুঁচকে আসে ইত্যাদি। 
৩। দেহের পরিপাক, শোষণ ও বিপাক ব্যহত হয়। 
৪। কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। 
৫। রক্তের তারল্য কমে যায়। 
৬। মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যায়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৯.
প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের কত শতাংশ প্রােটিন?
  1. ক) ১৫%
  2. খ) ২৫%
  3. গ) ৩৫%
  4. ঘ) ৫০%
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৫০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৫০%
ব্যাখ্যা

প্রাণীদেহের গঠনে প্রােটিন অপরিহার্য। দেহকোষের বেশির ভাগই প্রােটিন দিয়ে তৈরি। দেহের হাড়, পেশি, লােম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলাে সবই প্রােটিন দিয়ে তৈরি হয়।
প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রােটিন।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

২৫০.
নিচের কোন উৎস প্রাণিজ স্নেহপদার্থ নয়? 
  1. ঘি
  2. ডালডা
  3. ডিমের কুসুম
  4. সয়াবিন তেল
সঠিক উত্তর:
সয়াবিন তেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সয়াবিন তেল
ব্যাখ্যা
স্নেহজাতীয় খাদ্য (Fats): 
- চর্বি একটি প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন দিয়ে তৈরি এই উপাদানটির মুখ্য কাজ হলো তাপ উৎপাদন করা। 
- এই উপাদানটি পাকস্থলীতে অনেকক্ষণ থাকে, তাই তখন ক্ষুধা পায় না। 
- দেহের ত্বকের নিচে চর্বি জমা থাকে। তাছাড়া বিভিন্ন অঙ্গ যেমন: যকৃৎ, মস্তিষ্ক, মাংস পেশিতেও চর্বি জমা থাকে। দেহের এ সঞ্চিত চর্বি উপবাসের সময় কাজে লাগে। 
- শর্করা ও আমিষের তুলনায় চর্বিতে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ ক্যালরি থাকে (ক্যালরি হলো প্রাণিদেহে শক্তি মাপার একটি একক)। 
- খাবার তেল বা ঘি দিয়ে রান্না করা খাবার বেশ সুস্বাদু হয়, সঙ্গে এর পুষ্টিমানও বেড়ে যায়। যেমন সিদ্ধ আলুর চেয়ে ভাজা আলু, রুটির চেয়ে লুচি বা পরোটা শুধু মুখরোচকই নয়, এতে ক্যালরিও বেশি পাওয়া যায়। 
- কোনো কোনো চর্বিতে ভিটামিন 'এ' আছে, আবার কোনোটিতে আছে ভিটামিন 'ই'। 

- উৎস অনুযায়ী স্নেহপদার্থ দুই ধরনের। 
যেমন- 
১। উদ্ভিজ্জ স্নেহপদার্থ: 
- সয়াবিন, সরিষা, তিল, বাদাম, সূর্যমুখী এবং ভুট্টার তেল ভোজ্যতেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিন তেল উৎকৃষ্টতম। 

২। প্রাণিজ স্নেহপদার্থ: 
- চর্বি, ঘি, ডালডা ইত্যাদি প্রাণিজ স্নেহপদার্থ। 
- ডিমের কুসুমে স্নেহপদার্থ আছে, কিন্তু সাদা অংশে স্নেহপদার্থ থাকে না। 
- স্নেহপদার্থ পানিতে অদ্রবণীয়, পানির চেয়ে হালকা বলে পানির উপর ভাসে। 
- একজন সুস্থ সবল পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দিনে ৫০-৬০ গ্রাম চর্বির প্রয়োজন হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫১.
ভিটামিন B12 (কোবালামিন)-এর অভাবে প্রধানত কোন সমস্যা দেখা দেয়?
  1. রক্ত জমাট বাঁধতে বিলম্ব
  2. রক্তশূন্যতা
  3. ত্বক খসখসে হওয়া
  4. রাতকানা
সঠিক উত্তর:
রক্তশূন্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তশূন্যতা
ব্যাখ্যা

• ভিটামিন B12 (কোবালামিন)-এর অভাবে রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) দেখা দেয়, কারণ এটি রক্তকণিকা তৈরিতে অপরিহার্য।

• ভিটামিন B কমপ্লেক্স:
- ভিটামিন B কমপ্লেক্স হলো পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনের একটি গোষ্ঠী।
- এদের মধ্যে B1, B2, B3, B6, B9 ও B12 গুরুত্বপূর্ণ।
- এসব ভিটামিন দেহের বিপাক, স্নায়ু কার্যক্রম ও রক্তগঠন–এ ভূমিকা রাখে।
 
• কোবালামিন বা সায়ানোকোবালামিন (ভিটামিন B12):
- ভিটামিন B12 দেহে লাল রক্তকণিকা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ।
- এটি স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে।
- ভিটামিন B12-এর অভাবে দেহে রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) দেখা দেয়।
- দীর্ঘদিন অভাব থাকলে শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
 
• ভিটামিন B12-এর অভাবজনিত প্রভাব:
- রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়।
- অক্সিজেন পরিবহন ব্যাহত হয়।
- ফলে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়।
- এ অবস্থাকে রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া বলা হয়।
 
• অন্যান্য অপশন:
- রক্ত জমাট বাঁধতে বিলম্ব → এটি প্রধানত ভিটামিন K-এর অভাবে ঘটে।
- রাতকানা → ভিটামিন A-এর অভাবে হয়।
- ত্বক খসখসে হওয়া → ভিটামিন B3-এর অভাবে দেখা যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

২৫২.
নিচের কোন খাদ্যটি প্রাণিজ আমিষ হিসেবে পরিচিত?
  1. মাছ
  2. বাদাম
  3. ডাল
  4. সয়াবিন
সঠিক উত্তর:
মাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাছ
ব্যাখ্যা
আমিষ বা প্রোটিন: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা- 
১। প্রাণিজ আমিষ: 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহ কোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণী দেহে শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% প্রোটিন থাকে। 

২। উদ্ভিজ আমিষ: 
- উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি। 
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫৩.
আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্যে প্রধানত কোন উপাদানগুলো থাকে? 
  1. কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, সালফার 
  2. কার্বন, নাইট্রোজেন, সালফার, ক্লোরিন 
  3. কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন 
  4. কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, ক্লোরিন 
সঠিক উত্তর:
কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন 
ব্যাখ্যা

আমিষ: 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রন থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়। এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে। 
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন। 
- টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি; জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২৫৪.
কোন রক্ত গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা বলা হয়?
  1. ক) এ
  2. খ) ও
  3. গ) এবি
  4. ঘ) বি
সঠিক উত্তর:
খ) ও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ও
ব্যাখ্যা
'ও' গ্রুপের রক্তে কোন অ্যান্টিজেন থাকে না যার কারণে যেকোন গ্রুপের রক্তকেই ‘ও’ গ্রুপের রক্ত দেওয়া যায়। এজন্যে ‘ও’ গ্রুপকে সার্বজনীন দাতা গ্রুপ বলে।

এবি গ্রুপের রক্তের সিরামে কোন অ্যান্টিবডি না থাকায় সকল গ্রুপের রক্তই এবি গ্রুপ নিতে পারে বিধায় এবি গ্রুপকে বলা হয় সার্বজনীন গ্রহীতা গ্রুপ।

সূত্রঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫৫.
'শরীরের ওজন অতিরিক্ত' বিএমআই অনুযায়ী নিচের কোন মানকে নির্দেশ করে?
  1. ১৮.৫ - ২৪.৯
  2. ২৫.০-২৯.৯
  3. ৩০.০ - ৩৪.৯
  4. ৩৫.০-৩৯.৯
সঠিক উত্তর:
২৫.০-২৯.৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫.০-২৯.৯
ব্যাখ্যা
বিএমআই (Body Mass Index): 
- বিএমআই (Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে।
- শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এটি খুবই উপযোগী। 
  বিএমআই = দেহের ওজন (কেজি)/দেহের উচ্চতা (মিটার) । 

বিএমআই মান ⇒ করণীয়: 
• ১৮.৫ -এর নিচে ⇒ শরীরের ওজন কম। পরিমিত খাদ্যগ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে। 
• ১৮.৫-২৪.৯ ⇒ এটি সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান। 
২৫.০-২৯.৯ ⇒ শরীরের ওজন অতিরিক্ত। ব্যায়াম করে অতিরিক্ত ওজন কমানো প্রয়োজন। 
• ৩০.০-৩৪.৯ ⇒ মোটা হওয়ার প্রথম স্তর। বেছে খাদ্যগ্রহণ ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৩৫.০-৩৯.৯ ⇒ মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর। পরিমিত খাদ্য গ্রহন ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৪০.০ -এর উপরে ⇒ অতিরিক্ত মোটাত্ব।মৃত্যুঝুঁকির আশঙ্কা। ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫৬.
নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড অভাবে কোন রোগ হয়? 
  1. পেলেগ্রা 
  2. রিকেটস 
  3. বেরিবেরি 
  4. পারকিনসন 
সঠিক উত্তর:
পেলেগ্রা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেলেগ্রা 
ব্যাখ্যা

ভিটামিন B কমপ্লেক্স: 
- পানিতে দ্রবণীয় ১২টি ভিটামিন B রয়েছে, ভিটামিনের এই গুচ্ছকে ভিটামিন B কমপ্লেক্স বলা হয়। 
- দেহের স্বাভাবিক সুস্থতার জন্য খাবারে ভিটামিন B কমপ্লেক্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
- দেহের বৃদ্ধি, স্নায়ু ও মস্তিষ্কের কাজ, দেহকোষে বিপাকীয় কাজ, প্রজনন ইত্যাদি সম্পন্ন করার জন্য খাদ্যে ভিটামিন B কমপ্লেক্সের উপস্থিতি অতি আবশ্যক। 
- ভিটামিন B কমপ্লেক্সভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনগুলোর উৎস এবং অভাবজনিত রোগ নিচে দেওয়া হলো- 
১। থায়ামিন (B1): 
উৎস: ঢেঁকিছাঁটা চাল, আটা, ডাল, তেলবীজ, বাদাম, যকৃৎ, টাটকা ফল ও সবজি। প্রাণিজ উৎসের মাঝে রয়েছে যকৃত, ডিম, দুধ, মাছ ইত্যাদি। 
অভাবজনিত রোগ: দেহে থায়ামিনের চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর অভাবে স্নায়ুর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ায় অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। 

২। রাইবোফ্ল্যাভিন (B2): 
উৎস: যকৃৎ, দুধ, ডিম, সবুজ শাকসবজি, গাছের কচি ডগা, অঙ্কুরিত বীজ। 
অভাবজনিত রোগ: এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা দেয়, মুখে ও জিভে ঘা হয়, ত্বক খসখসে হয়। 

৩। নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড (B3): 
উৎস: মাংস, যকৃৎ, আটা, ডাল, বাদাম, তেলবীজ, ছোলা, শাকসবজি। 
অভাবজনিত রোগ: এর অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়, পেলেগ্রা রোগের প্রধান উপসর্গ হলো ত্বকে প্রদাহ, ডায়রিয়া এবং স্মৃতিভ্রংশ হওয়া। 

৪। পাইরিডক্সিন (B6): 
উৎস: চাল, আটা, মাছ, মাংস, শাকসবজি, ছোলা, ছত্রাক, বৃক্ক, ডিমের কুসুম। 
অভাবজনিত রোগ: এর অভাবে খাওয়ায় অরুচি, বমিভাব ও অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 

৫। কোবালামিন বা (B12) সায়ানোকোবালামিন: 
উৎস: যকৃৎ, দুধ, মাছ, মাংস, ডিম, পনির, বৃক্ক প্রভৃতি। 
অভাবজনিত রোগ: এর অভাবে রক্তস্বল্পতা রোগ দেখা দেয়। স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫৭.
শিশুদের রিকেটস রোগটি কোন খনিজের অভাবজনিত রোগ?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. জিংক 
  3. সোডিয়াম 
  4. আয়রন 
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা

- শিশুদের রিকেটস রোগটি মূলত ক্যালসিয়াম-এর অভাবজনিত রোগ। শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে ক্যালসিয়াম সঠিকভাবে শোষিত হতে পারে না, যার ফলে হাড় নরম হয়ে যায় এবং বেঁকে যায়। 

ক্যালসিয়াম (Calcium): 

- ক্যালসিয়াম (Ca) হলো অস্থি ও দাঁতের প্রধান খনিজ উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের প্রায় ২% ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত। শরীরে থাকা মোট খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সর্বাধিক। 
- এটি ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ৯০% পরিমাণে অস্থি ও দাঁতে সংরক্ষিত থাকে। এছাড়া, রক্ত ও লসিকাতেও ক্যালসিয়াম বিদ্যমান। 

ক্যালসিয়ামের উৎস: 
- উদ্ভিজ্জ উৎস: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাঁধাকপি, ফল ইত্যাদি। 
- প্রাণিজ উৎস: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 

ক্যালসিয়ামের কার্যকারিতা: 
- হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে। 
- রক্ত সঞ্চালন ও হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে সহায়তা করে। 
- স্নায়ু ও পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখে। 

ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত রোগ: 
- শিশুদের রিকেটস (Rickets)- এতে হাড় নরম ও বিকৃত হয়ে যায়। 
- বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া (Osteomalacia)- এতে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। 
- দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা দেখা দেয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫৮.
ভিটামিন B1 কমপ্লেক্স এর অপর নাম কী?
  1. ক) থায়ামিন
  2. খ) রাইবোফ্ল্যাভিন
  3. গ) পিরিডক্সিন
  4. ঘ) সায়ানোকোবালামিন
সঠিক উত্তর:
ক) থায়ামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) থায়ামিন
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন B কমপ্লেক্স
- থায়ামিন (B1) - দেহে থায়ামিনের চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- রাইবোফ্ল্যাভিন (B2) - এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা দেয়, মুখে ও জিভে ঘা হয়, ত্বক খসখসে হয়।
- নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড (B3) - অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়। 
- পিরিডক্সিন (B6) - এর অভাবে অ্যানিমিয়া রোগ দেখা দেয়।।
- কোবালামিন বা সায়ানোকোবালামিন (B12) - এর অভাবে রক্তশূন্যতা রোগ দেখা দেয়।

সূত্র- ৯ম-১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
২৫৯.
প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কোন উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত হয়?
  1. কার্বন, হাইড্রোজন, হিলিয়াম এবং অক্সিজেন
  2. হাইড্রোজন, অক্সিজেন, সোডিয়াম এবং নাইট্রোজেন
  3. কার্বন, হাইড্রোজন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন
  4. কার্বন, হাইড্রোজন, পটাশিয়াম এবং নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
কার্বন, হাইড্রোজন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন, হাইড্রোজন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা: আমিষ, শর্করা ও স্নেহ। 

আমিষ: 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রন থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টিবিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- উৎস অনুযায়ী আমিষ দুই ধরনের। যথা- 

১। প্রাণিজ আমিষ: 
- মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা বা যকৃত ইত্যাদি প্রাণিজ আমিষ। 
- এসব খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়। 

২। উদ্ভিজ্জ আমিষ: 
- ডাল, চিনাবাদাম, শিমের বীচি ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
- অনেক সময় দুই বা ততোধিক উদ্ভিজ্জ আমিষ একত্রে রান্না করা যায়। কিন্তু এতে অ্যামাইনো এসিডের অনুপাতের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬০.
মানুষের মুখবিবরেই কোন খাদ্য উপাদানটির পরিপাক ক্রিয়া শুরু হয়?
  1. ক) শর্করা
  2. খ) ভিটামিন
  3. গ) আমিষ
  4. ঘ) লবণ
সঠিক উত্তর:
ক) শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শর্করা
ব্যাখ্যা
খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা:
মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে
মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে।
মূলতঃ তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়
লালারসে মিউসিন এবং দু’প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম; যথা: টায়ালিন ও মলটেজ থাকে।

- মিউসিন: মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে।
- টায়ালিন: টায়ালিন এনজাইম প্রধানত সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে।

সুত্র: প্রাণিবিদ্যা, এইচএসসি।