বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মধ্যযুগ ও মুসলিম শাসন

মোট প্রশ্ন৬৩৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মধ্যযুগ ও মুসলিম শাসন

PrepBank · পাতা / · ৫০১৬০০ / ৬৩৫

৫০১.
বাংলায় সেন বংশের (১০৭০-১২৩০ খ্রিষ্টাব্দ) শেষ শাসনকর্তা কে ছিলেন?
  1. ক) হেমন্ত সেন
  2. খ) বল্লাল সেন
  3. গ) লক্ষণ সেন
  4. ঘ) কেশব সেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) কেশব সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কেশব সেন
ব্যাখ্যা

বাংলায় সেন বংশের শাসনঃ
- পাল বংশের পতনের বারো শতকের দ্বিতীয় ভাগে বাংলায় সেন বংশের শাসনের সূচনা হয়।
- সেন রাজবংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন - হেমন্ত সেন (সামন্ত সেনের পুত্র)।
- শ্রেষ্ঠ রাজা - বিজয় সেন। তার শাসনামলে সেন বংশ শক্ত ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই বংশের শেষ উল্লেখযোগ্য রাজা ছিলেন - লক্ষ্মণ সেন। ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজী নদীয়া আক্রমণ করলে তিনি প্রতিরোধ না করে মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর পালিয়ে আসেন। এই অঞ্চলে তিনি আরো ২/৩ বছর রাজত্ব করেন।

- ১২০৫/০৬ খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্মণ সেনের মৃত্যুর পর তাঁর দুই পুত্র বিশ্বরূপসেন ও কেশব সেন যথাক্রমে সিংহাসনে বসেন। তাঁদের শাসনামলের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় না।
- তবে বাংলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তাঁদের শাসন যে আরও প্রায় ২৫ বছর স্থায়ী ছিল, লিপি প্রমাণে তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
- তাঁদের পিতার মৃত্যুর পর বিশ্বরূপসেন ও কেশবসেন কর্তৃক বিক্রমপুর ও বঙ্গে ভূমিদান করা থেকে প্রমাণিত হয় যে, এতদঞ্চলে তাঁদের আধিপত্য বজায় ছিল। তবকাত-ই-নাসিরী সাক্ষ্য দেয় যে লক্ষ্মণসেনের বংশধরগণ অন্তত ১২৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন।
- কিন্তু কেশব সেনের (রাজত্বকালঃ ১২২৫ - ১২৩০ সাল)পর সেনগণ বাংলায় রাজত্ব করেছিলেন এমন কোন প্রমাণ এখনও পাওয়া যায় নি।
- পঞ্চরক্ষা নামক একটি বৌদ্ধ গ্রন্থের পান্ডুলিপি থেকে মধুসেন নামক এক গৌড়েশ্বরের নাম পাওয়া যায়। সেন উপাধিধারী তিনিই ছিলেন বাংলার শেষ রাজা।
- তেরো শতকের শেষভাগে সেনদের নিকট থেকে দেব রাজবংশ বিক্রমপুরের ওপর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তেরো শতকের শেষে এবং চৌদ্দ শতকের শুরুতে সমগ্র বাংলার ওপর মুসলমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রশ্নে সরাসরি সাল উল্লেখ করা আছে। আগের কিছু চাকরির পরীক্ষায় লক্ষণ সেন ছাড়া অন্যরা অপশনেই ছিলেন না। তবে, প্রশ্নের ধরন বুঝে উত্তর করতে হবে।

উপর্যুক্ত আলোচনা, প্রশ্নের ধরণ ও অপশন বিবেচনা করে বলা যায়,
- সাধারণত বাংলার সর্বশেষ রাজা হিসাবে লক্ষ্মণ সেনের নাম পাওয়া গেলেও সেন বংশের শাসন লক্ষ্মণ সেনের মৃত্যুর পরও কয়েক বছর টিকে ছিল।
- এই বংশের শেষ শাসনকর্তা হিসাবে কেশব সেনের (রাজত্বকালঃ ১২২৫ - ১২৩০ সাল) নাম পাওয়া যায়। প্রশ্নকর্তাও সাল উল্লেখ করেই প্রশ্নটি ক্লিয়ার করেছেন।
তাই সঠিক উত্তর হিসাবে কেশব সেন ধরা হয়েছে।

উৎসঃ মাধ্যমিক বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা বই ও বাংলাপিডিয়া।

৫০২.
কোন মোঘল সম্রাট বাংলার নাম রাখেন জান্নাতাবাদ?
  1. শাহজান
  2. হুমায়ুন
  3. আকরব
  4. জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন
ব্যাখ্যা

সম্রাট হুমায়ুন:
- মুঘল বংশের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের জ্যেষ্ঠপুত্র হুমায়ুন।
- বাবরের শাসনামলে হুমায়ুন বাদাখশান, হিসার ফিরোজা এবং সম্বলের শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- পিতা বাবরের মৃত্যুর পর ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে ডিসেম্বর মাত্র ২৩ বছর বয়সে পিতৃ মনোনয়ন অনুসারে হুমায়ুন ‘নাসির উদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন' নাম ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়।
- সম্রাট হুমায়ুন বাংলার নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই এবং বাংলাপিডিয়া।

৫০৩.
গৌড়ের নাম ‘জান্নাতাবাদ’ রাখেন কে?
  1. বাবর
  2. হুমায়ুন
  3. আকবর
  4. শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন:

- হুমায়ুন (১৫৩০-১৫৫৬) মুগল সম্রাট বাবরের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
- ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়।
- সম্রাট হুমায়ুন বাংলার রাজধানী গৌড়ের নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।
- হুমায়ূন এখানে ছয়মাস অবস্থান করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫০৪.
কোন ঐতিহাসিক ইলিয়াস শাহকে "সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ” উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. মিনহাজ উস সিরাজ
  2. আলী মুবারক
  3. শামস-ই-সিরাজ আফীফ
  4. জিয়াউদ্দিন বারানি
সঠিক উত্তর:
শামস-ই-সিরাজ আফীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামস-ই-সিরাজ আফীফ
ব্যাখ্যা
সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ:
- ইলিয়াস শাহ 'সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- ইলিয়াস শাহ যখন সিংহাসনে বসেন তখন পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গ তার রাজ্যের বাইরে ছিল।
- ১৩৫২ সালে ইলিয়াস শাহ সোনারগাঁও দখলের মাধ্যমে দুই বাংলা একত্র করেন।
- ইলিয়াস শাহ সোনারগাঁও অধিকার করে সারা বাংলাদেশের সুলতান হন।
- তাঁর পূর্বে আর কোনো সুলতান এ গৌরব অর্জন করতে পারেননি।
- তাই ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ', 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান' ও 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ও সোনারগাঁও-এর শাসক ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহকে পরাজিত করে পূর্ব বঙ্গে রাজ্য সম্প্রসারণ করেন।
- লখনৌতি, সাতগাঁও এবং এর সাথে সোনারগাঁও অধিকার করে ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলার একচ্ছত্র অধিপতির মর্যাদা লাভকরেন।
- ইতিপূর্বে এই বিরল গৌরব আর কোন মুসলমান শাসক অর্জন করতে পারেন নি।
- এ কারণে ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ” এবং 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৫.
বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান হিসেবে বাংলা শাসন করেন-
  1. সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ
  2. মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি
  3. নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  4. ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
ব্যাখ্যা
মুসলিম শাসন:
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ (১৩৩৮-১৩৪৯)  বাংলার সুলতান।
- বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।
- ফখরুদ্দীন জাতিতে তুর্কি এবং তুর্কিদের কারাউনা গোত্রীয়।
- তিনি ছিলেন দিল্লির তুগলক সুলতানের অধীনে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা  বাহরাম খানের সিলাহদার তত্ত্বাবধায়ক।
- ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ে শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন ।
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন।
- ফখরুদ্দীন আল-সুলতানুল আযম ফখরুদ্দুনিয়া ওয়াদ-দ্বীন আবুল মুজাফফর মুবারক শাহ আল-সুলতান উপাধি গ্রহণ করেন।
- ফখরুদ্দীন ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণার অব্যবহিত পরে দিল্লি সুলতান মুহম্মদ তুগলকের নির্দেশে লখনৌতি এর শাসনকর্তা কদর খান, সাতগাঁয়ের শাসনকর্তা  আইজ্জুদ্দিন ইয়াহিয়া তাদের সম্মিলিত বাহিনী নিয়ে বিদ্রোহী ফখরুদ্দীনের বিরুদ্ধে অভিযান করেন।
- কদর খানের নেতৃত্বে এই সম্মিলিত বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ফখরুদ্দীন পরাজিত হন ।

উৎস: ¡) বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বপরিচয়, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
         ¡¡) বাংলাপিডিয়া
৫০৬.
দিল্লির শাসক গিয়াসউদ্দিন তুঘলক বাংলা অধিকার করেন কবে?
  1. ১৩১২ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৩৩৭খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৩৩৯ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• বাংলায় তুর্কি শাসন:
→ এ সময় থেকে বাংলার শাসনকর্তারা দিল্লির সুলতানদের কাছ থেকে নিয়োগ লাভ করে এখানকার শাসক হতেন। তাদের
মধ্যে অধিকাংশই জাতিগত পরিচয়ে তুর্কি ছিলেন।
→ ১২২৭ থেকে ১২৮১ সাল পর্যন্ত তেমন ১৫ জন তুর্কি শাসক বাংলা শাসন করেছিলেন। তবে বাংলায় দিল্লির অনুগত কোনো শাসনই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং দিল্লির মনোনীত তুর্কি শাসকরাই একের পর এক বিরোধিতা অব্যাহত রাখেন।
→ দিল্লির শাসকরা যেমন, ইলতুতমিশ, বলবন, গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ও মুহাম্মদ বিন তুঘলক বাংলার শাসকদেরকে প্রতিহত করতে একের এর এক অভিযান চালিয়ে বিদ্রোহ দমন করেন। এর ফলে দিল্লির শাসনকালে বাংলায় বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ লেগেই ছিল।
→ দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন বাংলার তৎকালীন স্বাধীন শাসক তুগ্রিল খানকে দমনের জন্য নিজেই আক্রমণ (১২৮০-৮১ খ্রি.) করেন। যুদ্ধে তুগ্রিল খান নিহত হন। ফলে বাংলা দিল্লির শাসনাধীন হয়। ১২৮৭ সালে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন মারা গেলে বঘরা খান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ নাম ধারণ করে ১২৯০ সাল পর্যন্ত বাংলার স্বাধীন সুলতান হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
→ ১৩২৫ সালে দিল্লির শাসক গিয়াসউদ্দিন তুঘলক বাংলা অধিকার করেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৭.
দ্বীন-ই-ইলাহী কে প্রবর্তন করেন?
  1. ক) সম্রাট বাবর
  2. খ) সম্রাট আকবর
  3. গ) সম্রাট শাহ্জাহান
  4. ঘ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
খ) সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
- মুঘল সম্রাট আকবর ১৫৮২ সালে সকল ধর্মমতের অন্তঃসারের সমন্বয়ে ‘দ্বীন ই ইলাহী’ নামের একটি একেশ্বরবাদী ধর্মমতের প্রচার করেন।
- তবে তার এই ধর্ম গ্রহণের জন্যে তিনি কারো উপর বলপ্রয়োগ করেননি। তার মৃত্যুর সাথে সাথে এই ধর্মমতও বিলুপ্ত হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস : দ্বিতীয়পত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৮.
মুহম্মদ ঘোরি পৃথ্বীরাজ চৌহানের মধ্যে দ্বিতীয় তরাইনের যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ১১৯০
  2. ১১৯২
  3. ১২০৬
  4. ৭১২
সঠিক উত্তর:
১১৯২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১৯২
ব্যাখ্যা
সুলতানী শাসন:

- তরাইনের ২য় যুদ্ধ ১১৯২ সালে বর্তমান হরিয়ানার থানেশ্বরের নিকটে তরাইন নামক শহরের নিকটে সংঘটিত হয়।
- এই স্থান দিল্লি থেকে ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
- মুহম্মদ ঘুরির নেতৃত্বাধীন ঘুরি বাহিনী ও পৃথ্বীরাজ চৌহানের নেতৃত্বে চৌহান রাজপুত বাহিনীর মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধে মহম্মদ ঘোরি পৃথ্বীরাজ চৌহানকে পরাজিত করেছিলেন এবং এই বিজয় দিল্লি সুলতানি প্রতিষ্ঠার সূচনা করে।
- তিনি ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং দেশে তিনি 'মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা' হিসাবেও পরিচিত।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৯.
লালবাগের কেল্লা স্থাপন করেন কে?
  1. ইসলাম খান
  2. টিপু সুলতান
  3. শাহ সুজা
  4. শায়েস্তা খান
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
লালবাগ কেল্লা:
- লালবাগ কেল্লা পুরাতন ঢাকার লালবাগে অবস্থিত।
- সতের শতকে ১৬৭৮ সালে সুবাদার আজম শাহ এটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। মাঝে এর কাজ বন্ধ হয়ে গেলে ১৬৮০ সালে শায়েস্তা খান পুনরায় এর কাজ শুরু করে এটি নির্মাণ করেন।
- লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে শায়েস্তা খানের কন্যা 'ইরান দুখত রহমত বানুর' সমাধি অবস্থিত।
- ইরান দুখত 'পরীবিবি' নামে পরিচিত।
- ১৯১০ সালে লালবাগ কেল্লা প্রত্নতত্ত্ব নির্দশন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এর আদি নাম কেল্লা আওরঙ্গবাদ। লালবাগে অবস্থিত হওয়ায় পরে এর নামকরণ করা হয় লালবাগ কেল্লা।

তথ্যসূত্র - প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৫১০.
আগ্রার দুর্গের নির্মাতা কে?
  1. ক) সম্রাট শাহজাহান
  2. খ) সম্রাট হুমায়ুন
  3. গ) সম্রাট আওরঙ্গজেব
  4. ঘ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
ক) সম্রাট শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সম্রাট শাহজাহান
ব্যাখ্যা
সম্রাট শাহজাহান

- ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দে ‘আবুল মুজাফ্ফর শিহাবুদ্দীন মুহম্মদ শাহজাহান’ উপাধি নিয়ে শাহজাহান আগ্রার সিংহাসনে আরোহণ করেন।(বাংলাপিডিয়া)
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর শাহজাহান ১৬২৮ খ্রি. ১৪ফেব্রুয়ারি গাজী উপাধি নিয়ে সিংহাসনে বসেন 
- মুঘল ইতিহাসে শাহজাহানের রাজত্বকাল “The Age of Marble” নামে খ্যাত।

- তিনি ছিলেন ভারতবর্ষের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। তিনি ইতিহাসে ‘The Prince of Builders or Engineer King” নামে পরিচিত।
- সম্রাট শাহজাহানের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হল আগ্রার তাজমহল। যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত তাজমহল হচ্ছে সম্রাট তার প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিকে অমর করে রাখার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত।  

- সম্রাট শাহজাহানের সময়ে ইংরেজরা বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন ওড়িষার পিপলিতে।
- পুত্র আওরঙ্গজেব কর্তৃক দীর্ঘ আট বছর আগ্রা দুর্গে অন্তরীণ থেকে ১৬৬৬ খ্রি. ২২ জানুয়ারি ৭৪ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা - ৯ম - ১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৫১১.
বক্সারের যুদ্ধে কে পরাজিত হয়েছিল?
  1. মীর জাফর
  2. ইংরেজ বাহিনী
  3. মীর কাসিম
  4. মারাঠা বাহিনী
সঠিক উত্তর:
মীর কাসিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর কাসিম
ব্যাখ্যা
বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধে মীর কাসিম পরাজিত হন।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬০ সালের ২০ অক্টোবর মীর জাফরকে সরিয়ে দিয়ে তার জামাতা মীর কাসিমকে মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেছিল।
- মীর কাসিম নবাব হয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে চেষ্টা করে।
- ১৭৬৩ সালের ৭ জুলাই নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়।
- পরপর কাটোয়া, ঘেরিয়া, মুর্শিদাবাদ, সুটি, উদয়নালা ও মুঙ্গেরে নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ হয়েছিল।
- নবাব তখন পরাজিত হয়ে পাটনায় পালিয়ে গিয়েছিলেন।
- এরপর অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাহায্য নিয়ে তিনি বাংলাকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে দু'পক্ষে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়।
- তাদের সম্মিলিত বাহিনী বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়।
- নিদারুণ দুঃখকষ্ট ও দারিদ্র ভোগ করে ১৭৭৭ সালের ৬ জুন জন্মভূমি থেকে অনেক দূরে শাজাহানাবাদের এক অখ্যাত পল্লীতে মৃত্যুবরণ করেছিলেন মীর কাসিম।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১২.
বাংলায় হাবসী শাসনের অবসান ঘটান কে?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. সিকান্দার শাহ
  3. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  4. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা
- ১৪৮৭ সাল থেকে ১৪৯৩ সাল পর্যন্ত বাংলায় হাবসি শাসন বিরাজমান ছিলো। হাবসিরা ছিলো আবিসিনিয়া থেকে আগত ক্রীতদাস। সুলতান বরবক শাহ প্রথম হাবসিদের সৈন্যদের বাহিনীতে নিয়োগ দেন।
- ১৪৮৭ সালে পরবর্তী ইলিয়াস শাহী বংশের শাসক ফতেহ শাহকে হত্যা করে হাবসি নেতা সুলতান শাহজাদা বাংলার সিংহাসন দখল করে হাবসি শাসনের সূত্রপাত করেন।
- ১৪৯৩ সালে সৈয়দ হোসেন নামের এক উজির হাবসি সুলতান শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহকে হত্যা করে বাংলায় হাবসি শাসনের অবসান ঘটান।
- সৈয়দ হোসেন ১৪৯৩ সালে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করে আলাউদ্দিন হুসেন শাহ নামধারণ করেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫১৩.
কোন শাসকের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলায় হাবশি শাসনের অবসান ঘটে?
  1. শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ
  2. সুলতান জালালুদ্দিন ফতেহ শাহ
  3. গিয়াসুদ্দিন বারবক শাহ
  4. নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ
ব্যাখ্যা

⇒ শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ এর পতনের মধ্য দিয়ে বাংলায় হাবশি শাসনের অবসান ঘটে।

বাংলায় হাবশি শাসন:
- বাংলার ছয় বছরের হাবশি শাসনামলে চারজন সুলতান বাংলা শাসন করেছেন।
- তাদের প্রত্যেকেই পূর্বসুরীকে হত্যা করে ক্ষমতায় এসেছেন এবং ষড়যন্ত্রকারী উত্তরসূরীর হাতেই নিহত হয়েছেন।
- মূলত হাবশি আমল বলতে মাহমুদ শাহী সুলতান জালালুদ্দিন ফতেহ শাহের পরে বাংলা শাসনকৃত গিয়াসুদ্দিন বারবক শাহ বা সুলতান শাহজাদা, ফিরোজ শাহ, মাহমুদ শাহ এবং মুজাফ্ফর শাহের শাসনকালকে বোঝানো হয়।
- হাবশি নেতা সুলতান শাহজাদা (১৪৮৭ খ্রি.) প্রথম ক্ষমতায় বসে কয়েক মাসের মধ্যে হাবশি সেনাপতি মালিক আন্দিলের হাতে নিহত হন।
- আন্দিল 'সাইফুদ্দিন ফিরুজ শাহ' উপাধি নিয়ে তিনবছর (১৪৮৭-১৪৯০ খ্রি.) শাসন করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ।
- কিন্তু তাঁকে হত্যা করে ক্ষতায় বসেন 'শামসুদ্দীন আবু নছর মুজাফফর শাহ' (১৪৯০-১৪৯৩ খ্রি.) নামে এক হাবশি সর্দার।
- তিনি ছিলেন অত্যাচারী শাসক।
- তাই গৌড়ের সম্ভ্রান্ত লোকেরা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং এই বিদ্রোহে যোগ দেন তাঁর উজির সৈয়দ হোসেন।
- অবশেষে শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ নিহত হন এবং এর মধ্য দিয়ে বাংলায় হাবশি শাসনের অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১৪.
আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন কোন শাসক?
  1. ক) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  2. খ) গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  3. গ) শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. ঘ) নাসিরউদ্দিন নুসরত শাহ
সঠিক উত্তর:
ক) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
• সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহী যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
• তিনি আরব দেশীয় সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
• আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সময় বাংলার রাজ্যসীমা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়।
• তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন
• আলাউদ্দিন হোসেন শাহের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় মালাধরবসু ‘ভগবদ গীতা’, কৃত্তিবাস ‘রামায়ন’ সংস্কৃত থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন।
• রামায়ন অনুবাদের জন্য হোসেন শাহ তাঁকে ‘গুনরাজ খাঁ’ উপাধি দেন।
• তাছাড়া কবি মালাধর বসু, মনসা মঙ্গল এর রচিয়তা বিজয় গুপ্ত, মনসা বিজয়ের লেখক বিপ্রদাস অনেকেই তাঁর সহযোগিতা পেয়েছিলেন।
• তাঁর অধীনস্থ চট্টগ্রামের শাসনকর্তা পরাগল খাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় কবীন্দ্র পরমেশ্বর নামক জনৈক পন্ডিত বাংলা ভাষায় ‘মহাভারত’ অনুবাদ করেন।
• গৌড়ের বিখ্যাত ছোট সোনা মসজিদ, মানিকগঞ্জ জেলার নাচাইল মসজিদ, গোমতি ফটক ছাড়া অগণিত মসজিদ, মাদ্রসা, সমাধি ও দূর্গ নির্মাণ করে তিনি ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
• তিনি ‘বাদশাহী সড়ক’ সহ সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের চলাচলের জন্য অনেক রাস্তাঘাট নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা এস এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৫১৫.
কোন আমলে বাংলা বাউল গান, কবি গান এবং মর্সিয়া গানের সৃষ্টি হয়?
  1. ক) ইলিয়াস শাহী
  2. খ) হোসেন শাহী
  3. গ) মোগল
  4. ঘ) সুলতানি
সঠিক উত্তর:
গ) মোগল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মোগল
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরঃ মোগল আমলে/যুগে।

ব্যাখ্যাঃ মোগল যুগে শাসকবর্গের ভাষা ছিল ফারসি। তাছাড়া সরকারি কাজে ফারসি ভাষা চালু করার ফলে বাংলায় ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের যথেষ্ট উন্নতি হয়। সরকারি চাকরি লাভের আশায় হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের লোকেরা ফারসি ভাষা শিখতেন। এসব ফারসি ভাষা জানা কর্মচারীদের 'মুন্সী' বলা হতো। নবাব সুবাহদার ও মুসলিম অভিজাত শ্রেণী ফারসি ভাষা উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। ফারসি একটি সমৃদ্ধ ভাষা। বাংলা সাহিত্যে এ ভাষার প্রভাব বেশ করা যায়। ফারসির প্রভাবে বাংলা ভাষার ঐশ্বর্য বৃদ্ধি পায়। ফারসি সাহিত্যের বিষয়বস্তু ও লেখার অনুকরণে বাংলা সাহিত্য উজ্জ্বল হয়ে উঠে। ক্রমে বাংলা কবিতায় ফারসি শব্দের ব্যবহার বাড়তে থাকে। ফারসির অনুকরণে বাংলায় গজল ও সূফী সাহিত্যের সৃষ্টি হয়।

হিন্দু কবিদের রচনায় সংস্কৃত সাহিত্যের প্রভাব সুস্পষ্ট হলেও তারাও ফারসি সাহিত্যের প্রভাব এড়াতে পারতেন না। বৈষ্ণব পদাবলীতে ফারসি সাহিত্যের প্রভাব লক্ষণীয়। মোগল যুগে বাংলায় বাউল গানের সৃষ্টি হয়। এসময় কবিগান, মর্সিয়া গানও রচিত হয়।

উৎসঃ এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [Click here to get pdf file]

৫১৬.
কোনটির ফলে ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে?
  1. ক) সিপাহী বিদ্রোহ
  2. খ) আলীগড় আন্দোলন
  3. গ) নীল বিদ্রোহ
  4. ঘ) স্বদেশী আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ক) সিপাহী বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সিপাহী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
সিপাহি বিদ্রোহ ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম। ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে। ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়। এর ফলে সর্বশেষ গর্ভনর জেনারেল লর্ড ক্যানিং প্রথম ভাইসরয় হিসেবে নিযুক্ত হন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫১৭.
৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়-
  1. ক) চট্টগ্রামকে
  2. খ) সিলেটকে
  3. গ) বাগেরহাটকে
  4. ঘ) রাজশাহীকে
সঠিক উত্তর:
খ) সিলেটকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিলেটকে
ব্যাখ্যা
সুলতান শামসউদ্দিন ফিরোজশাহের শাসনামলে হযরত শাহ জালাল (র.) ৩৬০ জন আউলিয়া (শিষ্য) সহ বাংলাদেশে আসেন।
এজন্য সিলেটকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়।
রাজা গৌর গোবিন্দকে পরাজিত করে হযরত শাহজালাল সিলেটে ইসলাম প্রচার করেন। তার সাথে ছিল তার ভাগ্নে বিখ্যাত সুফী শাহ পরান র.।
আবার চট্টগ্রামকে ১২ আউলিয়ার দেশ বলা হয়।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৮.
বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংঘটিত প্রথম আন্দোলন কোনটি?
  1. ক) বারাসাত বিদ্রোহ
  2. খ) ফরায়েজী আন্দোলন
  3. গ) ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন
  4. ঘ) তেভাগা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
গ) ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
বাংলায় ব্রিটিশবিরোধী প্রথম সংঘটিত আন্দোলন হলো ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন।
এই আন্দোলনের ব্যাপ্তি ছিলো আঠারো শতকের ১৭৬০ সাল থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত। এই আন্দোলনে ফকিরদের নেতৃত্ব দেন মজনু শাহ। অন্যদিকে সন্ন্যাসীদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভবানী পাঠক।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫১৯.
'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' বলা হয় কাকে?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. গিয়াস উদ্দিন আযম শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ: 
- ইলিয়াস শাহের রাজত্বকাল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।
- একজন সামান্য শাসক থেকে একত্রিত বৃহৎ বাংলা প্রতিষ্ঠিত করে এখানে সুষ্ঠু প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করে জনকল্যাণমূলক শাসন প্রতিষ্ঠিত করায় ইলিয়াস শাহ বাংলার ইতিহাসে উচ্চ স্থান অধিকার করে আছেন।
- দুইবাংলার সমগ্র সীমানাকে একত্রিত করে বাঙ্গালাহ নামটি তাঁর সময়েই প্রচলিত হয়
- শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহকে শাহ-ই-বাঙ্গালাহ বলা হয়।
- তাঁর রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময় বাংলার লোকেরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়।
- এ কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক' বলে উল্লেখ করেছেন।
- বাংলার ইতিহাসের এ মহানায়ক সুদীর্ঘ ১৬ বছর রাজত্ব করার পর ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২০.
ইবনে বতুতা ভারতে আসেন কোন শাসকের আমলে?
  1. ফিরোজ শাহ তুঘলক
  2. মুহম্মদ বিন তুঘলক
  3. আলাউদ্দিন খলজি
  4. সিকান্দার লোদি
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ বিন তুঘলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা

 ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সফর করেন।
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন।
- এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন।
- ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি দিল্লিতে পৌঁছেন।
- ইবনে বতুতা ভারতে আসেন মুহম্মদ বিন তুঘলক শাসনামালে।
- সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক তাঁকে দিল্লির কাজী নিযুক্ত করেন।
- প্রায় আট বছর তিনি এ পদে বহাল ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লির তুগলক বংশের দ্বিতীয় সুলতান।
- তিনি ১৩২৫ থেকে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন।
- হুমায়ুন মুগল মুঘল সম্রাট বাবরের জ্যেষ্ঠ পুত্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫২১.
বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমল কখন শুরু হয়?
  1. ১২৩৮ সালে
  2. ১৩৩৮ সালে
  3. ১৪৩৮ সালে
  4. ১৫৩৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৩৩৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৩৮ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৩৩৮ সালে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সোনারগাঁয়ে স্বাধীন সুলতানি শাসনের সূচনা করেন।

স্বাধীন সুলতানি আমল: 
- বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমল প্রায় ২০০ বছর বিদ্যমান ছিলো। এই সময় দিল্লীর সুলতানগণ বাংলাকে তাঁদের শাসনের অধীন রাখতে পারেন নি।
- বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমলের সূচনা করেছিলেন - ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ।
- তিনি ১৩৩৮ সালে সোনারগাঁয়ে স্বাধীন সুলতানি শাসনের গোড়াপত্তন করেন।
- পরবর্তীতে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ সালে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ সোনারগাঁ দখলের মাধ্যমে সমগ্র বাংলা একত্রিত করে এক রাজ্যে পরিনট করেন।
- তাই তাকে বাংলায় সুলতানি শাসনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৫২২.
ফারসি ভাষায় লিখিত বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থ কোনটি?
  1. তারিখ-ই-ফিরুজশাহী
  2. রিয়াজ-উস-সালাতীন
  3. আর রিহলা
  4. আইন-ই-আকবরী
সঠিক উত্তর:
রিয়াজ-উস-সালাতীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিয়াজ-উস-সালাতীন
ব্যাখ্যা
- রিয়াজ-উস-সালাতীন  ফারসি ভাষায় লিখিত বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থ।
- গোলাম হোসেন সলিম জায়েদপুরী কর্তৃক রচিত এ গ্রন্থে ১২০৪-০৫ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজীর নদীয়া বিজয় থেকে ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধ পর্যন্ত ঘটনাবলির বিবরণ লিপিবদ্ধ হয়েছে।
- গ্রন্থের বর্ণনার কোন কোন অংশে বেশ ফাঁক পরিলক্ষিত হলেও এ গ্রন্থটি মুসলিম বাংলার পরিপূর্ণ ইতিহাস বলে বিবেচিত।
উৎস: বাংলা পিডিয়া।
৫২৩.
বাংলায় নবাবী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ইলিয়াস শাহ
  2. আব্বাস আলী মির্জা
  3. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  4. নবাব মুর্শিদকুলি খান
সঠিক উত্তর:
নবাব মুর্শিদকুলি খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব মুর্শিদকুলি খান
ব্যাখ্যা
নবাব মুর্শিদকুলি খান:
- মুর্শিদকুলি খান বাংলায় নবাবী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়।
- বাংলাও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
- বিশেষ করে মুর্শিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবী আমলের সূচনা হয়।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে কর তলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- তিনি ঢাকা বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।
- সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা বিহার উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব।

অন্যদিকে -
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা-বিহার-ওড়িশার শেষ স্বাধীন নবাব।
- ইলিয়াস শাহ বাংলাদেশে ইলিয়াস শাহী রাজবংশ-এর প্রথম শাসক।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৫২৪.
সুবাদার ইসলাম খান ঢাকার নাম রাখেন-
  1. ক) জাহাঙ্গীরনগর
  2. খ) জান্নাতাবাদ
  3. গ) ইসলামাবাদ
  4. ঘ) নাসিরাবাদ
সঠিক উত্তর:
ক) জাহাঙ্গীরনগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জাহাঙ্গীরনগর
ব্যাখ্যা

১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হয়েছিলেন।
তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।
সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৫২৫.
কোন শাসকের রাজত্বকাল মুঘল ইতিহাসে 'The Age of Marble' নামে খ্যাত?
  1. আকবর
  2. জাহাঙ্গীর
  3. শাহজাহান
  4. আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
ব্যাখ্যা

সম্রাট শাহজাহান:
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের পুত্র ছিলেন সম্রাট শাহজাহান। 
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর শাহজাহান ১৬২৮ খ্রি. ১৪ ফেব্রুয়ারি গাজী উপাধি নিয়ে সিংহাসনে বসেন। 
- শাহজাহানের রাজত্বকাল মুঘল ইতিহাসের স্বর্ণময় এক অধ্যায়।
- তিনি ছিলেন তার পূর্ববর্তী শাসকদের মতই সামরিক প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনায় দক্ষ এক নৃপতি।
- তার সময়কাল মুঘল ইতিহাসের চিত্রকলা ও স্থাপত্যের স্বর্ণযুগ বলে বিবেচিত ও প্রশংসিত। 
- মুঘল ইতিহাসে তিনি প্রিয়তমা পত্নীর স্মৃতিতে তাজমহলের স্রষ্টা ও 'Prince of builders' নামে আজও বিখ্যাত হয়ে আছেন।

⇒ মুঘল ইতিহাসে শাহজাহানের রাজত্বকাল "The Age of Marble" নামে খ্যাত।
- সম্রাট শাহজাহান ছিলেন শিল্পকলা, স্থাপত্য ও সৌন্দর্যের পূজারী। তিনি ছিলেন ভারতবর্ষের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। তিনি ইতিহাসে "The Prince of Builders or Engineer King" নামে পরিচিত। তার স্থাপত্যরীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল তিনি লাল পাথরে স্থলে মূল্যবান শ্বেত মর্মম পাথর (White marbel) ব্যবহার করেছেন।
- তার রাজত্বকালে দিল্লি, আগ্রা, লাহোরে ব্যাপক স্থাপত্য শৈলী তৈরী করা হয়েছিল।
- কাবুল, কান্দাহার ও কাশ্মিরে মনোরম উদ্যান, প্রাসাদ, মসজিদ ইত্যাদি নির্মিত হয়েছিল।
- রাজধানী আগ্রাতে তিনি নির্মাণ করেছিলেন দীউয়ান-ই-আম, দীউয়ান-ই-খাস, মোতি মসজিদ, সালিমার উদ্যান, শীষ মহল ইত্যাদি।
- শাহজাহান ১৬৩৮ খ্রি. রাজধানী আগ্রা হতে দিল্লিতে স্থানান্তর করেন এবং নতুন নগরীর নাম দেন শাহজাহানাবাদ। এখানে তিনি লালকেল্লা, মমতাজ মহল ইত্যাদি নির্মাণ করেন।
- তার মসজিদ স্থাপত্যের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ছিল দিল্লির জামে মসজিদ।
- এছাড়াও তিনি বহু মূল্যবান রত্ন খচিত জগৎবিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন তৈরি করেন।

⇒ সম্রাট শাহজাহানের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হল আগ্রার তাজমহল। সম্রাট তার প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য বিশ হাজার দক্ষ শিল্পী ও কারিগর সুদীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ এই সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন। ভারতীয় ও পারসিক শিল্পকলার মিলন ঘটিয়ে তাজমহল নির্মিত হয়েছে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২৬.
গৌড়ের চমৎকার প্রাসাদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে কোন মুঘল সম্রাট এর নামকরণ করেন ‘জান্নাতবাদ’?  
  1. সম্রাট বাবর
  2. সম্রাট হুমায়ুন
  3. সম্রাট আকবর
  4. সম্রাট জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
- গৌড়ের চমৎকার প্রাসাদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে হুমায়ুন এর নামকরণ করেন ‘জান্নাতবাদ’। 
- হুমায়ুন ‘নাসির উদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন’ নাম ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
- সম্রাট হুমায়ুনের রাজত্বকালকে দু’টি পর্বে বিভক্ত করা যায়। 
- প্রথম পর্বে ১৫৩০-১৫৪০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এবং 
- দ্বিতীয় পর্বে ১৫৫৫-১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ
- গুলবদন বেগম রচিত হুমায়ুনের ইতিহাস সম্বন্ধে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান উৎস গ্রন্থ। 
- ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ২৭ জানুয়ারি দিল্লিতে গ্রন্থাগারের সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে 

সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৫২৭.
কলকাতা নগরীর প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. ক) লর্ড ক্লাইভ
  2. খ) লর্ড ডালহৌসি
  3. গ) লর্ড ওয়েলেসলি
  4. ঘ) জব চার্নক
সঠিক উত্তর:
ঘ) জব চার্নক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জব চার্নক
ব্যাখ্যা
- কলকাতা  ১৯১১ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল।
- পরবর্তী সময়ে এটি অবিভক্ত বাংলা প্রদেশের রাজধানী ছিল।
- এর অভিজাত ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের জন্য কলকাতাকে ‘প্রাসাদ নগরী’ও বলা হতো। 
- কলকাতা নগরী প্রতিষ্ঠিত হয়  ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক বসতি স্থাপন করার অধিকার লাভ করা থেকে।
- জব চার্নক ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানির জন্য কলকাতা, সুতানটি ও গোবিন্দপুর নামে তিনটি গ্রাম মুগল সরকারের কাছ থেকে পেয়েছিলেন।
- জব চার্নক কলকাতা নগরীর প্রতিষ্ঠাতা।
- সুতানটি ছিল তৎকালে ওই অঞ্চলে সুতা ও বোনা কাপড়ের একটি প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র।
- ১৬৯৩ সালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত চার্ণক তাঁর সময়ে খড় তালপাতার অল্প কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণ ছাড়া আর কিছু করে যেতে পারেন নি।
- গভর্নর হিসেবে ফ্রান্সিস এলিস তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। এলিসের পরে আসেন চার্লস আইয়ার।  

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫২৮.
কত সালে ভারতে মোগল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে?
  1. ১৭৫৭ সালে
  2. ১৭৫৯ সালে
  3. ১৮৫৭ সালে
  4. ১৮৫৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৭ সালে
ব্যাখ্যা
বাহাদুর শাহ:
- দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ছিলেন সর্বশেষ মুঘল সম্রাট।
- ১৮৩৭ সালে তিনি দিল্লির সিংহাসনে আরোহন করেন।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মোগল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- তাই ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মোগল বংশের পতনের যুগ বলা হয়। 
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মোগল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৯.
নিচের কোনটি মুর্শিদকুলি খানের উপাধি হিসেবে পরিচিত?
  1. খান-ই-জাহান
  2. আলমগীর
  3. করতলব খান
  4. শের আফগান
সঠিক উত্তর:
করতলব খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করতলব খান
ব্যাখ্যা

মুর্শিদকুলি খান:
- মুর্শিদকুলি খান দক্ষিণ ভারতের একটি দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন।
- হাজী শফী ইস্পাহানী ছিলেন দাক্ষিণাত্যে শায়েস্তা খানের দিওয়ান।
- তিনি অল্প বয়সী মুর্শিদ কুলিকে কিনে নিয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন।
- প্রথমে তার নাম রাখা হয় মুহাম্মদ হাদী।
- রাজস্ব আদায়ের কাজে তাঁর অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত সম্রাট আওরঙ্গজেবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
- কর্মদক্ষতার গুণে আপ্লুত আওরঙ্গজেব তাঁকে হায়দারাবাদের দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে "করতলব খান" উপাধি প্রদান করেন।
- মুর্শিদকুলি খানের উপাধি "করতলব খান"।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র,  এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩০.
ভারতীয় উপমহাদেশে ইউরোপীয়দের মধ্যে সবার শেষে আগমন করে কারা?
  1. ইংরেজ
  2. দিনেমার
  3. ফরাসি
  4. ওলন্দাজ
সঠিক উত্তর:
ফরাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরাসি
ব্যাখ্যা
ইউরোপীয়দের মধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে সবার শেষে আগমন করে ফরাসিরা। ১৬৬৪ সালে ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়। ১৬৬৮ সালে তারা সুরাটে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
কিন্তু ইরেজদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে আঠারো শতকের শেষ দিকে ফরাসিরা এদেশ ছেড়ে চলে যায়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৩১.
বারো ভূঁইয়াদের নেতা কে ছিলেন?
  1. মুসা খান
  2. রাজা অনন্ত মাণিক্য
  3. ঈসা খান
  4. রাজা প্রতাপাদিত্য
সঠিক উত্তর:
ঈসা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈসা খান
ব্যাখ্যা
বারো ভূঁইয়া:
- বারো ভূঁইয়া বাংলার স্থানীয় প্রধান ও জমিদার, যাঁরা আকবর ও জাহাঙ্গীর এর রাজত্বকালে মুগলবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
- বারো-ভূঁইয়া শব্দটির অর্থ বারোজন ভূঁইয়া।
-  প্রকৃতপক্ষে বাংলায় আফগান শাসনামল ও মুগল শক্তির উত্থানের মধ্যবর্তী সময়ে এদেশের বিভিন্ন এলাকা বহু সামরিক প্রধান, ভূঁইয়া এবং জমিদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
- তারা কখনও যৌথভাবে এবং বেশিরভাগ সময় পৃথকভাবে মুগল আগ্রাসন প্রতিহত করেছিলেন এবং স্বাধীন বা অর্ধ-স্বাধীন শাসকরূপে তাঁদের নিজ নিজ এলাকা শাসন করেছিলেন।
- ঈসা খান সরাইলের জমিদার, ভাটি অঞ্চলের শাসক এবং বারো ভূঁইয়াদের নেতা।

আকবরনামা’য় প্রাপ্ত ভাটিতে মুগলদের যুদ্ধবিগ্রহের বিবরণ অনুযায়ী ভূঁইয়াদের তালিকা:
(১) ঈসা খান মসনদ-ই-আলা,
(২) ইবরাহিম নরল,
(৩) করিমদাদ মুসাজাই,
(৪) মজলিস দিলওয়ার,
(৫) মজলিস প্রতাপ,
(৬) কেদার রায়,
(৭) শের খান,
(৮) বাহাদুর গাজী,
(৯) তিলা গাজী,
(১০) চাঁদ গাজী,
(১১) সুলতান গাজী,
(১২) সেলিম গাজী,
(১৩) কাসিম গাজী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৩২.
কোন সুলতানের শাসনামলে হযরত শাহজালাল ৩৬০ জন শিষ্যসহ বাংলাদেশে আসেন?
  1. ক) নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
  2. খ) ইখতিয়ার-উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি
  3. গ) ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  4. ঘ) শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ
ব্যাখ্যা
সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ সোনারগাঁ, ময়মনসিংহ ও সিলেট জয় করেন। তাঁর শাসনামলে হযরত শাহজালাল ৩৬০ জন শিষ্যসহ বাংলাদেশে আসেন। সুলতানের সিলেট অভিযানকালে তাঁর সাথে বিখ্যাত সুফি ব্যক্তিত্ব শাহ জালাল যোগদান করেন। সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের সময় একদিকে রাজত্বের সীমানা বৃদ্ধি পেয়েছিল অপরদিকে হযরত শাহজালালের কারণে সিলেট অঞ্চলে ইসলামের ব্যাপক প্রচার-প্রসার হয়। সূত্র- বাংলাপিডিয়া।
৫৩৩.
বাংলায় হাবসি শাসন কত বছর স্থায়ী ছিল?
  1. পাঁচ বছর
  2. ছয় বছর
  3. দশ বছর
  4. তের বছর
সঠিক উত্তর:
ছয় বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছয় বছর
ব্যাখ্যা

হাবসি শাসন: 
- বাংলায় হাবসি শাসন মাত্র ছয় বছর (১৪৮৭-১৪৯৩ খ্রিষ্টাব্দ) স্থায়ী ছিল।
- এ সময় বাংলা অঞ্চলের ইতিহাস ছিল অন্যায়, অবিচার, বিদ্রোহ, ষড়যন্ত্র আর হতাশায় পরিপূর্ণ।
- এ সময়ে চারজন হাবসি সুলতানের মধ্যে সবাইকে হত্যা করা হয়।
- হাবসি নেতা সুলতান শাহজাদা 'বরবক শাহ' উপাধি নিয়ে প্রথম বাংলার ক্ষমতায় বসেন।
- কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি হাবসি সেনাপতি মালিক আন্দিলের হাতে নিহত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৫৩৪.
কুতুবউদ্দিন আইবেক কোন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন?
  1. লোদী বংশ
  2. দাস বংশ
  3. তুঘলক বংশ
  4. খিলজি বংশ
সঠিক উত্তর:
দাস বংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাস বংশ
ব্যাখ্যা

• কুতুবউদ্দিন আইবেক:
- দিল্লির দাস বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক।
- তিনি ছিলেন উন্নত চরিত্রের অধিকারী, স্বাধীনচেতা এবং প্রজাকল্যাণকর শাসক।
- আইবেক রাজ্যে সুষ্ঠু শাসন-ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে সচেষ্ট ছিলেন।
- তিনি ছিলেন তেজস্বী, প্রতিভাবান এবং উদার চিত্তের অধিকারী।
- দানশীলতার দিক থেকে কুতুবউদ্দিনকে হাতেম তাই-এর সাথে তুলনা করা হয়।
- তিনি প্রত্যেক দিন লক্ষ লক্ষ মুদ্রা দান করতেন বলে কোন কোন ঐতিহাসিক তাঁকে 'লাখ বক্স' উপাধি প্রদান করেন।
- তিনি ছিলেন পরমত ও পরধর্ম সহিষ্ণ এবং ইসলামের একনিষ্ঠ সেবক।
- সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক ছিলেন কুতুব মিনার  জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক।

উল্লেখ্য,
- স্থাপত্য শিল্পের উদার পৃষ্ঠপোষক সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লিতে 'কুয়াত-উল-ইসলাম' নির্মাণ করেন।
- এবং আজমীরে 'আড়াই দিন-কা-ঝোপড়া' মসজিদ নির্মাণ করেন।
- সুলতান কুতুবউদ্দিন ধর্মবেত্তা কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকীর নামানুসারে 'কুতুব মিনার' নির্মাণ আরম্ভ করেন।
- তবে তিনি এর নির্মাণ শেষ করে যেতে পারেন নি।
- তাঁর জামাতা সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশের (১২১১-১২৩৬ খ্রি.) শাসনামলে মিনারটির নির্মাণ কার্য সমাপ্ত হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র,  এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩৫.
পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. রবার্ট ক্লাইভ
  3. হেক্টর মুনরো
  4. লর্ড কর্নওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
ব্যাখ্যা
- রবার্ট ক্লাইভ ছিলেন পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ সেনাবাহিনীর প্রধান।

পলাশীর যুদ্ধ:
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশী যুদ্ধের সময় ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের নিকট পরাজিত হন।
- সিরাজউদ্দৌলাকে অনেক অভ্যন্তরীণ ও বাইরের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হয়।
- এর মধ্যে মীর জাফর- নবাবের সেনাপতি, তার বিশ্বাসঘাতকতা করে ইংরেজদের সাথে হাত মেলায়।
- ইংরেজরা মীর জাফরের সাহায্য নিয়ে পলাশী যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে।
- নবাবের সেনাপতি মীর মদন ও ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকলেও, মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সিরাজউদ্দৌলা এই যুদ্ধে পরাজিত হন এবং ১৭৫৭ সালে মোহাম্মদী বেগের হাতে নিহত হন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।
৫৩৬.
বখতিয়ার খিলজি কত শতকে বাংলা আক্রমণ করেন?
  1. বার শতকের প্রথম দিকে
  2. তের শতকের শেষের দিকে
  3. তের শতকের প্রথম দিকে
  4. বার শতকের শেষের দিকে
সঠিক উত্তর:
তের শতকের প্রথম দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তের শতকের প্রথম দিকে
ব্যাখ্যা
• তের শতকের প্রথম দিকে বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করেন। 

- তের শতকের প্রথম দিকে, সম্ভবত ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করেন।
- লক্ষ্মণ সেন তখন নদীয়ায় অবস্থান করছিলেন, দুর্বল লক্ষ্মণ সেন কোনো প্রতিরোধ না করে নদীপথে দক্ষিণপূর্ব বাংলায় চলে যান।
- এর ফলে উত্তর ও উত্তর পশ্চিম বাংলা বখতিয়ার অধিকার করেন এবং লক্ষ্মণাবতীকে (গৌড়) কেন্দ্র করে বাংলায় মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন।
- লক্ষ্মণ সেনের নদীয়া ত্যাগের মাধ্যমেই বাংলায় হিন্দুশাসনের পতন হয়েছিল বলে ধরা হলেও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় লক্ষ্মণ সেন আরও কয়েক বছর রাজত্ব করেন ।
- লক্ষ্মণ সেন একজন বিদ্বান ও কবি ছিলেন।
- তিনি বল্লাল সেনের অসমাপ্ত অদ্ভুতসাগর সমাপ্ত করেছিলেন। 

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৭.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ হয়-
  1. ১৫২৬ সালে
  2. ১৫৫৬ সালে
  3. ১৭৬১ সালে
  4. ১৭৬৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৬১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬১ সালে
ব্যাখ্যা
• পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
- ১৭৬১ সালের ১৪ জানুয়ারি মারাঠা সাম্রাজ্য এবং দুররানি আফগান সাম্রাজ্যের আক্রমণকারী সেনাবাহিনীর মধ্যে পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- যুদ্ধটি দিল্লির প্রায় ৯৭ কিলোমিটার (৬০মাইল) উত্তরে পানিপথ শহরের মধ্যে এবং তার চারপাশে সংঘটিত হয়েছিল।
- ২৭ বছরের মুঘল-মারাঠা যুদ্ধ (1680-1707) মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের কাছে মারাঠা সাম্রাজ্যের দ্রুত আঞ্চলিক ক্ষতির দিকে পরিচালিত করে ।
- তবে ১৭০৭ সালে তার মৃত্যুর পর, আওরঙ্গজেবের পুত্রদের মধ্যে মুঘল উত্তরাধিকার যুদ্ধের পর এই প্রক্রিয়াটি বিপরীত হয়ে যায়।
- ১৭১২ সালের মধ্যে মারাঠারা দ্রুত তাদের হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে শুরু করে।
- পেশওয়া বাজি রাওয়ের অধীনে , গুজরাট , মালওয়া এবং রাজপুতানা মারাঠাদের নিয়ন্ত্রণে আসে।
- অবশেষে, ১৭৩৭ সালে, বাজি রাও দিল্লির উপকণ্ঠে মুঘলদের পরাজিত করেন এবং আগ্রার দক্ষিণে প্রাক্তন মুঘল অঞ্চলের বেশিরভাগ অংশ মারাঠার অধীনে নিয়ে আসেন।
- নিয়ন্ত্রণ বাজি রাও-এর ছেলে বালাজি বাজি রাও ১৭৫৮ সালে পাঞ্জাব আক্রমণ করে মারাঠা নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল আরও বৃদ্ধি করেন । 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৫৩৮.
সম্রাট আকবর কত খ্রিস্টাব্দে দ্বীন-ই-ইলাহী প্রবর্তন করেন?
  1. ক) ১৫৮১ সালে
  2. খ) ১৫৮২ সালে
  3. গ) ১৫৮৩ সালে
  4. ঘ) ১৫৮৪ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৫৮২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৫৮২ সালে
ব্যাখ্যা
• দীন-ই-ইলাহী:
- সম্রাট আকবর ১৫৮২ সালে ‘দীন-ই-ইলাহী’ নামে একেশ্বরবাদমূলক এক নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন।
সকল ধর্মের সারবস্তু নিয়ে এই ধর্মমত গঠিত হয়।
- এই ধর্মমতের কালেমা ছিল ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আকবর খলিফাতুল্লাহ’।
- দীন-ইইলাহী রীতি-নীতি, বিধানগুলো ছিল নিম্নরুপ:
১. এই ধর্মের অনুসারীগণ পরস্পর দেখা হলে, ‘আসসালামু আলাইকুম’ এর পরিবর্তে ‘আল্লাহু আকবার’ এবং প্রত্যুত্তরে ‘ওয়া আলাইকুম আস্সালাম’ না বলে ‘জাল্লাজালালুহু’ বলা।
২. এই ধর্মীয় বিধান অনুসারে মৃত্যুর পরে নয়, মৃত্যুর পূর্বেই দাওয়াত বা আমন্ত্রণের ব্যবস্থা করা।
৩. সভ্যগণ নিজ নিজ জন্মদিন পালন এবং ভোজের আয়োজন করবেন।
৪. সভ্যগণ ভিক্ষা প্রদান করবেন কিন্তু ভিক্ষা গ্রহণ করবেন না।
৫. এই ধর্মমত গ্রহণে কাউকে বাধ্য করা হবে না।  

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৯.
ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন কোন শতকে সংঘটিত হয়?
  1. ক) সতের শতক
  2. খ) আঠারো শতক
  3. গ) উনিশ শতক
  4. ঘ) বিংশ শতক
সঠিক উত্তর:
খ) আঠারো শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আঠারো শতক
ব্যাখ্যা
- বাংলায় সংঘটিত ব্রিটিশবিরোধী প্রথম আন্দোলন হলো ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের ব্যাপ্তি ছিলো আঠারো শতকের ১৭৬০ সাল থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত।
- এই আন্দোলনে ফকিরদের নেতৃত্ব দেন মজনু শাহ এবং সন্ন্যাসীদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভবানী পাঠক।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৪০.
বাংলায় নিযুক্ত প্রথম মুঘল সুবেদার -
  1. ক) মোহাম্মদী বেগ
  2. খ) ইসলাম খান
  3. গ) শায়েস্তা খান
  4. ঘ) ইলিয়াস হোসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
খ) ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইসলাম খান
ব্যাখ্যা

- ইসলাম খান বাংলায় নিযুক্ত প্রথম মুঘল সুবেদার।
- ইসলাম খান ১৬১০ সালে সর্বপ্রথম ঢাকাকে বাংলার রাজধানীর মর্যাদা প্রদান করেন।
- ঢাকার ধোলাই খাল খনন ও নৌকা বাইচের প্রচলন করেন ইসলাম খান।

উৎস : বাংলাপিডিয়া

৫৪১.
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ্ বৃহত্তর বাংলা শাসন করেন -
  1. ১৪৯৪ - ১৫১৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৪৯৪ -১৫১৭ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৪৯৪ - ১৫১৮ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৪৯৪ -১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৪৯৪ -১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪৯৪ -১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• হোসেন শাহী বংশ:
→ হোসেন শাহ (১৪৯৪-১৫১৯) বাংলার হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা।
→ তিনি হাবশী সুলতান শামসুদ্দীন মুজাফফর শাহের উজির ছিলেন।
→ তিনি সুলতানকে হত্যা করে সিংহাসন অধিকার করেন।
→ ১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি নেতৃস্থানীয় আমীরদের দ্বারা সুলতান নির্বাচিত হন।
→ ১৪৯৪ থেকে ১৫১৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ে জারিকৃত মুদ্রায় তাঁকে ‘কামরূপ ও কামতা এবং জাজনগর ও উড়িষ্যা বিজয়ী’ রূপে উল্লেখ করা হয়েছে।
→ ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চট্টগ্রাম হোসেনশাহী রাজ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। 
→ ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে হোসেন শাহের রাজত্বের অবসান ঘটে।
→ সমকালীন কবি বিজয়গুপ্ত তাঁকে নৃপতিতিলক, জগৎভূষণ ও কৃষ্ণ-অবতার বলে উল্লেখ করেছেন।
→ সমকালীন কবি বিজয়গুপ্ত তাঁকে নৃপতিতিলক, জগৎভূষণ ও কৃষ্ণ-অবতার বলে উল্লেখ করেছেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫৪২.
মুর্শিদ কুলি খান বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে কোথায় স্থানান্তর করেন? 
  1. বিহার
  2. চট্টগ্রাম
  3. মুর্শিদাবাদ
  4. কলকাতা
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদাবাদ
ব্যাখ্যা

মুর্শিদ কুলি খান:
- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান। 
- তিনি বাংলায় নবাবি শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- দাক্ষিণাত্যে শায়েস্তা খানের দিওয়ান হাজী শফী ইস্পাহানী অল্প বয়সী মুর্শিদ কুলিকে কিনে নিয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন এবং তার নাম রাখেন মুহাম্মদ হাদী।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি সম্রাটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দাক্ষিণাত্য যান এবং এ সাক্ষাতে তিনি ‘মুর্শিদকুলী খান’ উপাধি লাভ করেন। 

⇒ ১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদকুলী খান বাংলার নাজিম পদে উন্নীত হন।
- ১৭১৭ সালের আগস্ট মাসে তাঁকে বাংলার পূর্ণ সুবাদারের মর্যাদা দেয়া হয়।
- তিনি বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে। তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৫৪৩.
তাজমহল কোন শতাব্দীতে তৈরি হয়েছিল?
  1. ক) অষ্টাদশ
  2. খ) ষোড়শ
  3. গ) উনবিংশ
  4. ঘ) সপ্তদশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সপ্তদশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সপ্তদশ
ব্যাখ্যা
- তাজমহলের নির্মাতা সম্রাট শাহজাহান। এটি ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রায় অবস্থিত।
- ১৬৩২ থেকে ১৬৫৩ সালে অর্থাৎ সপ্তদশ শতকে এটি নির্মিত হয়।
- এটির অপর নাম মমতাজ মহল। সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রী মমতাজের স্মৃতি রক্ষার্থে এটি নির্মাণ করেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৫৪৪.
বাংলায় মুসলিম শাসন কোন শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো?
  1. ক) দশম শতাব্দীতে
  2. খ) একাদশ শতাব্দীতে
  3. গ) দ্বাদশ শতাব্দীতে
  4. ঘ) ত্রয়োদশ শতাব্দীতে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ত্রয়োদশ শতাব্দীতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ত্রয়োদশ শতাব্দীতে
ব্যাখ্যা
• মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা:
- ইখতিয়ার উদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি তের শতকের প্রথম দিকে বাংলাদেশের একাংশে (প্রধানত নদীয়ায়) মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশীরের অধিবাসী ছিলেন।
- বখতিয়ার খলজি শক্তি সঞ্চয় করে আনুমানিক ১২০৩ সালে বৌদ্ধদের একটি আশ্রম ওদন্তপুরি বিহার আক্রমণ করেন।
- এটি ছিল বৌদ্ধদের বিহার বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- এর চারদিকে প্রাচীর বেষ্টিত থাকায় বখতিয়ার খলজি আশ্রমটিকে দুর্গ মনে বখতিয়ার খলজি বিহার দখল করার পর বাংলার দৃষ্টি দেন।
-ঐতিহাসিকগণ সবদিক বিচার করে বলছেন বখতিয়ার খলজির ১২০৪-০৫ সালে শীতকালীন সময়ে নদীয়া আক্রমণ করেছিলেন।
- ১২৮৭ সালে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন মারা গেলে বঘরা খান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ নাম ধারণ করে ১২৯০ সাল পর্যন্ত বাংলার স্বাধীন সুলতান হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৩২৫ সালে দিল্লির শাসক গিয়াসউদ্দিন তুঘলক বাংলা অধিকার করেন।
-নদীয়া দখল করে লখনৌতিতে রাজধানী স্থাপন করেন।
- তার মৃত্যুর পর খলজি বংশের শাসন দুর্বল হতে শুরু করলে ১২২৭ সাল থেকে বাংলায় তুর্কি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৫.
অবিভক্ত বাংলায় সর্বপ্রথম রাজা কে?
  1. ক) অশোক
  2. খ) শশাঙ্ক
  3. গ) মগদ
  4. ঘ) ধর্মপাল
সঠিক উত্তর:
খ) শশাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
সপ্তম শতকের প্রারম্ভে বাংলার প্রথম স্বাধীন নৃপতি শশাঙ্ক উত্তর বাংলায় একটি শক্তিশালী স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন যা ‘গৌড়রাজ্য’ নামে পরিচিত।
- এই রাজ্যের রাজধানী ছিলো মুর্শিদাবাদ জেলার নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ।
- উত্তর বাংলা থেকে উড়িষ্যা পর্যন্ত স্বাধীন গৌড়রাজ্যের বিস্তৃতি ছিলো।
- ৫৯৪-৬৩৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শশাঙ্ক গৌড়রাজ্য শাসন করেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

খেয়াল করুন, অশোক একজন সম্রাট ছিলেন, রাজা নন। একটি সাম্রাজ্যে অনেকগুলো রাজ্য থাকে। তেমনি, একজন সম্রাটের অধীনে কয়েকজন রাজা থাকতে পারেন।
৫৪৬.
সোনারগাঁয়ের প্রাচীন নাম কী?
  1. ক) নারায়ণগঞ্জ
  2. খ) লাভনবন্দ
  3. গ) সুবর্ণগ্রাম
  4. ঘ) পুণ্ড্রনগর
সঠিক উত্তর:
গ) সুবর্ণগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুবর্ণগ্রাম
ব্যাখ্যা
সোনারগাঁও:
- সোনারগাঁও বাংলার প্রাচীন রাজধানী।
- বর্তমান ঢাকা থেকে ২৭ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সোনারগাঁও বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে হিন্দু আমলের রাজধানী এখানেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
- পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের পুর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
- প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে।
- বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ'র স্ত্রী সোনাবিবি'র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
- বাংলার রাজধানী হিসেবে সোনারগাঁওয়ের পত্তন করেন ঈশা খাঁ।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- মধ্যযুগে এটি মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল।
- ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে ঢাকা সুবে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হবার পূর্ব পর্যন্ত সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।
- ঈশা খাঁ ও তাঁর বংশধরদের শাসনামলে সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।
- সোনারগাঁও এর আরেকটি নাম ছিল পানাম।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৪৭.
রাজশাহী জেলার ঐতিহাসিক বাঘা মসজিদ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. সুলতান মাহমুদ শাহ
  2. সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. সুলতান নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ
সঠিক উত্তর:
সুলতান নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতান নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ
ব্যাখ্যা

 • বাঘা মসজিদ:
- বাঘা মসজিদ রাজশাহী জেলা সদর হতে প্রায় ৪১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বাঘা উপজেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ।
- সুলতান নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ ১৫২৩ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- মসজিদটি ১৫২৩-১৫২৪ সালে (৯৩০ হিজরি) হুসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা আলাউদ্দিন শাহের পুত্র সুলতান নসরাত শাহ নির্মাণ করেন।
- পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় এই মসজিদের সংস্কার করা হয় এবং মসজিদের গম্বুজগুলো ভেঙ্গে গেলে ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদে নতুন করে ছাদ দেয়া হয় ১৮৯৭ সালে।
 - মসজিদটি ২৫৬ বিঘা জমির ওপর অবস্থিত।
- সমভুমি থেকে থেকে ৮-১০ ফুট উঁচু করে মসজিদের আঙিনা তৈরি করা হয়েছে।
- মসজিদটিতে ১০টি গম্বুজ আছে ।
- আর ভেতরে রয়েছে ৬টি স্তম্ভ।
- মসজিদটিতে ৪টি মেহরাব রয়েছে যা অত্যন্ত কারুকার্য খচিত।
-  মসজিদের পাশে অবস্থিত বিশাল দিঘীও একটি দর্শনীয় স্থান।
- এছাড়া বাঘা মসজিদের পাশেই রয়েছে একটি মাজার শরীফ।

 উৎস:  জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৪৮.
বাংলায় হাবসী শাসন কত বছর স্থায়ী ছিল?
  1. ৩ বছর
  2. ৬ বছর
  3. ১০ বছর
  4. ১২ বছর
সঠিক উত্তর:
৬ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ বছর
ব্যাখ্যা

• হাবসী শাসন: [১৪৮৭-১৪৯৩ খ্রিঃ]
- বাংলার হাবসী শাসন মাত্র ছয় বছর (১৪৮৭-১৪৯৩ খ্রিঃ) স্থায়ী ছিল।
- এ সময় এদেশের ইতিহাস ছিল অন্যায়, অবিচার, বিদ্রোহ, ষড়যন্ত্র আর হতাশায় পরিপূর্ণ।
- এ সময়ে চারজন হাবসী সুলতানের মধ্যে তিনজন হাবসী সুলতানকেই হত্যা করা হয়।

- হাবসী নেতা সুলতান শাহজাদা 'বরবক শাহ' উপাধি নিয়ে প্রথম বাংলার ক্ষমতায় বসেন।
- কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি হাবসী সেনাপতি মালিক আন্দিলের হাতে নিহত হন।
- মালিক আন্দিল 'সাইফুদ্দিন ফিরুজ শাহ' উপাধি নিয়ে সিংহাসনে বসেন।
- একমাত্র তাঁর তিন বছরের রাজত্বকালের (১৪৮৭-১৪৯০ খ্রিঃ) ইতিহাসই কিছুটা গৌরবময় ছিল।
- তাঁর মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন দ্বিতীয় নাসিরউদ্দিন শাহমুদ শাহ।
- কিন্তু  কিছুকাল (১৪৯০-১৪৯১ খ্রিষ্টাব্দ) রাজত্ব করার পরই তিনি নিহত হন।
- এক হাবসি সর্দার তাঁকে হত্যা করে 'শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ' নাম নিয়ে সিংহাসনে বসেন (১৪৯১-১৪৯৩ খ্রিষ্টাব্দ)।
 অন্যান্য অনেক সুলতানের মতোই অত্যাচারী ও হত্যাকারী হিসেবে তার দুর্নাম ছিল।
ফলে গৌড়ের সম্ভ্রান্ত মুসলমানরা মুজাফফর শাহের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।
- বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দেন মুজাফফর শাহের উজির সৈয়দ হোসেন। অবশেষে মুজাফফর শাহনিহত হন।
- তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই বাংলায় হাবসি শাসনের অবসান ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৫৪৯.
ইলিয়াস শাহ কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
  1. তুরস্ক
  2. ইরান
  3. উজবেকিস্তান
  4. আফগানিস্তান
সঠিক উত্তর:
ইরান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরান
ব্যাখ্যা

ইলিয়াস শাহের সিংহাসন লাভ ও রাজ্য বিস্তার:
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলাদেশে প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন। 
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্ সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্র করেন। 
- এর আগে কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশকে একত্রো করতে পারেননি। তাই এ আমল থেকেই সমগ্র বাংলাদেশ 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় 'বাঙালি' নামে। 
- ইলিয়াস শাহ ইরানের অধিবাসী ছিলেন।
- ইলিয়াস লখনৌতির শাসনকর্তা আলী মুবারকের ধাত্রীমাতার পুত্র ছিলেন।
- পরে আলী মুবারক বাংলাদেশে চলে আসেন এবং অল্প দিনের মধ্যেই লখনৌতির শাসনকর্তা কদর খানের প্রধান সেনাপতি হন।
- ইলিয়াস শাহ যখন সিংহাসনে বসেন তখন পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গ তার রাজ্যের বাইরে ছিল।
- তিনি প্রথমে সাতগাও দখল করেন।
- এরপর ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে নেপাল আক্রমণ করেন ও প্রচুর ধন-সম্পদ লাভ করেন।
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাও অধিকার করে সারা বাংলাদেশের সুলতান হন।
- ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' ও 'সুলতান-ই- বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫০.
কোন যুদ্ধে মুহাম্মদ ঘুরী পৃথ্বিরাজকে পরাজিত করে দিল্লি ও আজমীর দখল করেন?
  1. তরাইনের প্রথম যুদ্ধ
  2. তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ
  3. কলিঙ্গের যুদ্ধ
  4. কনৌজের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ:
- ১১৯২ সালে সংঘটিত তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ বর্তমান হরিয়ানার থানেশ্বরের নিকটে তরাইন নামক শহরের নিকটে সংঘটিত হয়।
- মুহম্মদ ঘুরির নেতৃত্বাধীন ঘুরি বাহিনী ও পৃথ্বীরাজ চৌহানের নেতৃত্বে চৌহান রাজপুত বাহিনীর মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধে মুহাম্মদ ঘুরী, পৃথ্বীরাজ চৌহানকে পরাজিত করেছিলেন এবং এই বিজয় দিল্লি সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করে। তিনি ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং দেশে তিনি 'মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা' হিসাবেও পরিচিত।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫১.
পাল বংশের সর্বশেষ সফল শাসক কে?
  1. ধর্মপাল
  2. দ্বিতীয় মহীপাল
  3. রামপাল
  4. মদনপাল
সঠিক উত্তর:
রামপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামপাল
ব্যাখ্যা
- পাল বংশের সর্বশেষ সফল শাসক হলেন রামপাল। তিনি ১০৮২ খ্রি. সাল থেকে ১১২৪ খ্রি. পর্যন্ত শাসন করেন।
- রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চলে পাল শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
- রামপালের জীবনীগ্রন্থ ‘রামচরিত’ এর রচয়িতা কবি সন্ধ্যাকর নন্দী।
অন্যদিকে,
- ধর্মপাল (শাসনকাল: ৭৮১-৮২১ খ্রি.) পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক।
- মদনপাল (শাসনকাল: ১১৪৩-১১৬১ খ্রি.) সর্বশেষ পাল রাজা।
- দ্বিতীয় মহীপালের সময়ে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৫২.
কত সালে ঢাকার নামকরণ জাহাঙ্গীরনগর করা হয়?
  1. ১৬০১ সালে
  2. ১৬০২ সালে
  3. ১৬১০ সালে
  4. ১৬১২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৬১০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬১০ সালে
ব্যাখ্যা
রাজধানী ঢাকা:
- বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর।
- মুঘল সম্রাট আকবরের সময় বাংলার রাজধানী ছিল বিহারের রাজমহল।
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।

উল্লেখ্য,
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ফরমান অনুযায়ী ১৬ জুলাই ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।
- এর আগে সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার প্রাদেশিক রাজধানী ছিলো বিহারের রাজমহল।
- বারো ভূইয়ার নিয়ন্ত্রণ থেকে বাংলাকে করতলগত করতে ১৫৭৬ থেকে ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বারবার চেষ্টা চালানো হয়।
- এরপর সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতীকে রাজমহলের সুবেদার নিযুক্ত করেন।
- তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে রাজধানী রাজমহল থেকে সরিয়ে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৫৩.
খানুয়ার যুদ্ধে বাবর কাকে পরাজিত করেন?
  1. ইব্রাহীম লোদী
  2. মেদেনী রাও
  3. রানা সংগ্রাম সিংহ
  4. শের শাহ
সঠিক উত্তর:
রানা সংগ্রাম সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রানা সংগ্রাম সিংহ
ব্যাখ্যা

সম্রাট বাবর:
- জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর ছিলেন ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।
- বাবরের পিতা উমর শেখ মির্জা ছিলেন দুধর্ষ সমর নেতা তৈমুরের বংশধর এবং মাতা কুতলুঘ নিগার খানম ছিলেন মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খানের অধস্তন বংশধর ইউনুস খানের কন্যা।
- মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবর পিতৃ সিংহাসনে উপবেশন করেন।
- বাবর অল্পদিনের মধ্যেই সমগ্র আফগানিস্তানে নিজ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে 'পাদশাহ' (বাদশাহ) উপাধি গ্রহণ করে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কাবুলের শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৫১২ খ্রিস্টাব্দে উজবেকদের সাথে সংঘটিত এক যুদ্ধে বাবর পরাজিত হয়ে সমরকন্দ থেকে বিতাড়িত হন। অতঃপর মধ্য এশিয়ায় রাজ্য স্থাপন অসম্ভব মনে করে বাবর ভারতবর্ষের দিকে মনোনিবেশ করেন।

⇒  ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহীম লোদীকে, ১৫২৭ খ্রিস্টাব্দে খানুয়ার যুদ্ধে মেবারের রাজপুত নেতা রানা সংগ্রাম সিংহকে, ১৫২৮ খ্রিস্টাব্দে চান্দেরী অভিযানের সময় মেদেনী রাওকে এবং সর্বশেষ ১৫২৯ খ্রিস্টাব্দে গোগরার যুদ্ধে সম্মিলিত আফগান শক্তিকে পরাস্ত করার মধ্যে বাবরের উন্নত সামরিক কৌশল, রণনিপুণতা এবং একজন সফল সমর নায়কের কৃতিত্ব ফুটে উঠে। 

⇒ জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মুঘল সাম্রাজ্য শাসন করেন। তাঁর সময় মুঘল সাম্রাজ্য পশ্চিমে কাবুল থেকে পূর্বে বিহার এবং উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিণে চান্দেরি পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। মাত্র চার বছরের সংক্ষিপ্ত রাজত্বকালে বাবর বিশাল সাম্রাজ্যে সুষ্ঠু শাসন ব্যবস্থা অব্যাহত রাখেন।
- তবে বাবর খলিফার ক্ষমতাকে অস্বীকার করে স্বয়ং 'বাদশাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- বাবর সমগ্র সাম্রাজ্যব্যাপী ১৫ মাইল অন্তর অন্তর ডাকচৌকির ব্যবস্থা করেন।
- তিনি তুর্কি ও ফার্সি ভাষায় অসংখ্য কবিতা রচনা করেন। তাঁর রচিত তুর্কি কবিতার সংকলন 'দিওয়ান' নামে পরিচিত। জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের সাহিত্যানুরাগের শ্রেষ্ঠ নির্দশন তুর্কি ভাষায় রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'তযুক-ই-বাবরী'। 'তুযুক-ই-বাবরী' মুঘল ইতিহাসের এক অমূল্য দলিল।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫৪.
কোন শাসকের সময় থেকে সমগ্র বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চল 'বাঙ্গালাহ' নামে পরিচিত হয়ে ওঠে?
  1. ফখরুউদ্দিন মোবারক শাহ
  2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. ঈশা খাঁ
  4. সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর:
সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা
সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ-এর সময় থেকে সমগ্র বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চল 'বাঙ্গালাহ' নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ:

- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করলেও সুলতানি যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ।
- দুইবাংলার সমগ্র সীমানাকে একত্রিত করে বাঙ্গালাহ নামটি তাঁর সময়েই প্রচলিত হয়।
- তাঁর রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময় বাংলার লোকেরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়।
- এ কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক' বলে উল্লেখ করেছেন।
- বাংলার ইতিহাসের এ মহানায়ক সুদীর্ঘ ১৬ বছর রাজত্ব করার পর ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ও সোনারগাঁও-এর শাসক ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহকে পরাজিত করে পূর্ব বঙ্গে রাজ্য সম্প্রসারণ করেন।
- লখনৌতি, সাতগাঁও এবং এর সাথে সোনারগাঁও অধিকার করে ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলার একচ্ছত্র অধিপতির মর্যাদা লাভ করেন।
- ইতিপূর্বে এই বিরল গৌরব আর কোন মুসলমান শাসক অর্জন করতে পারেন নি।
- এ কারণে ঐতিহাসিক শামস-ই- সিরাজ আফীফ ইলিয়াস শাহকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ" এবং 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৫.
কোন যুদ্ধের মাধ্যমে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের পত্তন ঘটেছিল?
  1. ক) পানিপথের প্রথম যুদ্ধে
  2. খ) পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে
  3. গ) দ্বিতীয় তরাইনের যুদ্ধে
  4. ঘ) পানিপথের দৃতীয় ‍যুদ্ধে
সঠিক উত্তর:
ক) পানিপথের প্রথম যুদ্ধে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পানিপথের প্রথম যুদ্ধে
ব্যাখ্যা
• পানিপথের যুদ্ধ:
- পানিপথ ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত।
- দিল্লি হতে পানি পথের দূরত্ব- ৯০ কি.মি.
- পানি পথে এ পর্যন্ত তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। যথা:

• পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- সময়কাল-১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ
- পক্ষ- বারব বনাম ইব্রাহিম লোদী
- ফলাফল- ইব্রাহিম লোদী পরাজিত হন এবং নিহত হন্
- এই যুদ্ধে প্রথম কামানের ব্যাবহার হয়।
- এই যুদ্ধের ফলে ভারতে মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং দিল্লি সালতানাতের পতন হয়।

• পানিপথের ‍দ্বিতীয় যুদ্ধ: 

 - সময়কাল-১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ 
- পক্ষ - আকবরের সেনাপতি বৈরাম খাঁ বনাম আফগান নেতা হিমু।
- ফলাফল - হিমু পরাজিত ও নিহত হন।

• পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ:
- সময়কাল - ১৪ জানুয়ারি, ১৭৬১ সালে।
- আহমদ শাহ আবদালি বনাম মারাঠা।
- ফলাফল - মারাঠা বাহিনী পরাজিত হন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৫৬.
কেন মধ্য যুগে হিন্দু সম্প্রদায় ফার্সি ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করতো?
  1. সাহিত্য রচনা করতে
  2. চাকরি পেতে
  3. প্রশাসনিক কাজ করতে
  4. রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে
সঠিক উত্তর:
চাকরি পেতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাকরি পেতে
ব্যাখ্যা
মধ্য যুগে শাসকবর্গের ভাষা ছিল ফার্সি।
তাই এ ভাষা প্রায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা লাভ করেছিল।
সরকারি চাকরি লাভের আশায় অনেক হিন্দু ফার্সি ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করতেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৫৭.
বাংলাদেশের কোন এলাকা থেকে বিখ্যাত 'গ্রান্ড ট্রাঙ্ক' রোডটি শুরু হয়েছে?
  1. ক) সোনারগাঁও
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) যশোর
  4. ঘ) মানিকগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
ক) সোনারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা

- শের শাহের গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- তিনি এ পথে গমনকারী পথচারীদের সুবিধার জন্য রাস্তার উভয় পার্শ্বে বৃক্ষরোপণ ও সরাইখানা স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

- এছাড়াও শেরশাহ ‘ঘোড়ার ডাক’ এবং কবুলিয়ত ও পাট্টা প্রথার প্রচলন করেন।]
- তিনি ‘দাম’ নামক রূপার মুদ্রার প্রচলন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৫৮.
'ময়ূর সিংহাসন'-এর নির্মাতা কে?
  1. নাদির শাহ
  2. সন্রাট হুমায়ুন
  3. ঈশা খান
  4. সম্রাট শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
সম্রাট শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট শাহজাহান
ব্যাখ্যা
ময়ূর সিংহাসন:
- ১৭শ শতাব্দীতে মুঘল সম্রাট শাহজাহান সোনার তৈরি ময়ূর সিংহাসন নির্মাণ করেন।
- সিংহাসনটিতে রূপার সিড়ি দিয়ে আরোহণ করা হতো। সিংহাসনের পেছনে দুটি ময়ূরের ছবি ছিল, যারা তাদের অনিন্দ্যসুন্দর পেখম ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আর এই পেখমগুলো খচিত ছিল নানা রকম দুষ্প্রাপ্য আর অতিমূল্যবান রত্নপাথর দিয়ে। এর মাঝে ছিল নীলকান্ত মণি, পান্না, চুনি কিংবা পদ্মরাগ মণি, মুক্তা ও অন্যান্য মূল্যবান পাথর। সিংহাসনের ৪টি পায়া নিরেট স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত ছিল এবং ১২টি মরকত মণির স্তম্ভের উপর চন্দ্রাতপ ছাদ আচ্ছাদন করা হয়েছিল। 

উল্লেখ্য,
- ১৭৩৯ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট মোহাম্মদ শাহের শাসনামলে, পারস্য সম্রাট নাদির শাহ ভারতবর্ষ অভিযানকালে লুণ্ঠন করে নিয়ে যায় সিংহাসনটি।
- এর সৌন্দর্য দেখে পাগল হয়ে নাদির শাহ সিংহাসনটি সঙ্গে নিয়ে যান নিজ দেশ পারস্যে অর্থাৎ বর্তমান ইরানে।
- ১৭৪৭ সালে নাদির শাহ আততায়ীর হাতে নিহত হন। এরপরই আসল ময়ূর সিংহাসনটি হারিয়ে যায়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) Britannica.
৫৫৯.
পাহাড়পুরে অবস্থিত 'সোমপুর বিহার' -এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ক) রাজা ধর্মসেন
  2. খ) লক্ষণ সেন
  3. গ) রাজা বিক্রমাদিত্য
  4. ঘ) রাজা ধর্মপাল
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজা ধর্মপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজা ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
- পাল বংশের দ্বিতীয় এবং শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন ধর্মপাল।
- তিনি প্রায় ৪০ বছর (৭৮১-৮২১) রাজত্ব করেন।
- পাল সাম্রাজ্য এবং প্রতিপত্তি বিস্তারে ধর্মপালের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- তিনি ‘বিক্রমশীলদেব’ উপাধি গ্রহণ করেন।
- ভাগলপুরের ২৪ মাইল পূর্বে তিনি ‘বিক্রমশীল বিহার’ নামে বৌদ্ধ বিহার বা মঠ নির্মাণ করেন।
- নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর নামক স্থানে বিখ্যাত বৌদ্ধ বিহার সোমপুর বিহারেরও প্রতিষ্ঠাতা রাজা ধর্মপাল। 
- এই সোমপুর বিহার ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ বিহার হিসেবে স্বীকৃত। 
- এটিকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐহিত্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৬০.
বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান কে?
  1. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  2. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  3. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  4. ইখতিয়ার উদ্দীন মােঃ বখতিয়ার খলজি
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ:
- বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ।
- তিনি বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- তার রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।

⇒ ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার শাসকগণ দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতেন।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের শাসনামলে বাংলাকে সোনারগাঁও, লখনৌতি ও সাতগাঁও এই তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হলে ফখরুদ্দিন নামে তাঁর একজন সিলাদার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- তিনি 'মুবারক শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।

⇒ ফখরুদ্দিন বাংলায় তাঁর কর্তৃত্ব সুদৃঢ় করলে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাংলায় দু'শো বছরের স্বাধীন ইতিহাসের সূচনা হয়।
- তিনি তাঁর রাজ্যসীমা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অনেকটা সম্প্রসারণ করেন।
- তিনি চট্টগ্রাম বিজয় করেন এবং এ পর্যন্ত সমগ্র ভূ-ভাগে তাঁর সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণে ছিল।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬১.
মাৎস্যন্যায় অবস্থার অবসান ঘটান কে?
  1. শশাঙ্ক
  2. গোপাল
  3. হেমন্ত সেন
  4. গনেশ
সঠিক উত্তর:
গোপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপাল
ব্যাখ্যা
৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর যোগ্য শাসকের অভাবে বাংলায় অরাজকতা দেখা দেয়। সর্বত্র অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, লুটতরাজ প্রভৃতিতে ছেয়ে যায়। ঐতিহাসিকরা এ অবস্থাকে মাৎস্যন্যায় হিসেবে অভিহিত করেন।
পুকুরে যেমন বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, এ সময়ে বাংলার অবস্থাও তেমনটিই ছিলো। যার কারণে এ সময়কে মাৎস্যন্যায় বলা হয়।

৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর এ অবস্থা বিরাজমান ছিলো।
৭৫০ সালে গোপাল কর্তৃক পাল শাসনের সূত্রপাতের মাধ্যমে মাৎস্যন্যায় অবস্থার অবসান হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৬২.
১৬৬৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার সুবাদার হিসেবে কে নিযুক্ত হন?
  1. ক) মীর জুমলা
  2. খ) শাহ সুজা
  3. গ) শায়েস্তা খান
  4. ঘ) ইসলাম খান
সঠিক উত্তর:
গ) শায়েস্তা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
• শায়েস্তা খানকে ১৬৬৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার সুবাদার নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি (১৬৬৪-১৬৮৮ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত সফলভাবে বাংলার সুবাদারের দায়িত্ব পালন করেন।
• তিনি মগদের উৎপাত থেকে বাংলার জনগণের জান-মাল রক্ষা করেন এবং সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রাম অধিকার করে আরাকানি জলদস্যুদের সম্পূর্ণরূপে উৎখাত করেন।
• সুবাদারির শেষ দিকে শায়েস্তা খানের সাথে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরোধ বাধে এবং দীর্ঘদিনের চেষ্টার পর শায়েস্তা খান বাংলা থেকে ইংরেজদের বিতাড়িত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৬৩.
ইসলাম খান চিশতিকে বাংলার সুবাদার হিসেবে কে নিয়োগ দেন?
  1. আকবর
  2. শাহজাহান
  3. জাহাঙ্গীর
  4. আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা

ইসলাম খান চিশতি:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতিকে বাংলার সুবাদার হিসেবে নিযুক্ত করেন।

উল্লেখ্য,
- ইসলাম খান চিশতি (১৬০৮-১৬১৩) পাঁচ বছরেরও বেশি সময়ের জন্য বাংলার মুগল সুবাহদার ছিলেন।
 - সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে ইসলাম খান উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত পূর্বসূরিগণ যেখানে ব্যর্থ হয়েছিলেন সেখানে চট্টগ্রাম ছাড়া সমগ্র বাংলা জয় করে মুগলদের নিয়ন্ত্রণে আনার সাফল্য লাভ করায় বাংলার সুবাহদার হিসেবে ইসলাম খান খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
- জাহাঙ্গীরের অধিনস্ত প্রথম কয়েকজন সুবাহদার বাংলা জয়ে সাফল্য অর্জণে ব্যর্থ হলে তরুণ ও উদ্যমী ইসলাম খানকে তিনি বাংলা জয়ের জন্য নির্বাচিত করেন ও সুবাহদার হিসেবে ১৬০৮ সালে বাংলায় প্রেরণ করেন।

•ইসলাম খান সর্বপ্রথম ভাটি ও বারো ভূঁইয়াদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করেন। তিনি ঢাকায় বালার রাজধানী স্থানান্তর করেন।
- ইসলাম খান ঢাকা দখল করে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন এবং সম্রাটের নামানুসারে এ স্থানের নতুন নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম -১০ম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৫৬৪.
বখতিয়ার খলজী ছিলেন একজন ________ সেনাপতি।
  1. রোমান
  2. মিশরীয়
  3. তুর্কি
  4. গ্রিক
সঠিক উত্তর:
তুর্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুর্কি
ব্যাখ্যা
ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি:
- বখতিয়ার খলজী ছিলেন বাংলার দিল্লি সুলতানাতের একজন মুসলিম সুলতান।
- তিনি ছিলেন একজন তুর্কি সেনাপতি।
- ত্রয়োদশ শতকে তার নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়। 
- তিনি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- বখতিয়ার খলজী তুর্কি জাতির খলজী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।
- তিনি স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- উল্লেখ্য, পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৫৬৫.
বাংলার নাম 'বুলগাকপুর' রাখেন -
  1. সম্রাট বাবর
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. জিয়াউদ্দিন বারানি
  4. নাসিরুদ্দীন শাহ
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানি
ব্যাখ্যা
বিদ্রোহের নগরী:
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়।
- এরপর রাজা গণেশের স্বল্পকালীন শাসনকাল ব্যতীত ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা মুসলিম শাসনাধীনে ছিল।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের পর থেকে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যেসব খলজি মালিক, তুর্কি শাসক ও বলবনী শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন তাদের অনেকেই পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না।
- তাঁরা দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন।
- কিন্তু দিল্লি থেকে বাংলা দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় তাঁদের অনেকে সুযোগ পেলেই বিদ্রোহ ঘোষণা করতেন।
- এজন্য বাংলাকে 'বুলগাকপুর' বা বিদ্রোহের নগরীও বলা হত।

⇒ দিল্লির ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলার নাম রেখেছিলেন 'বুলগাকপুর'।
- জিয়াউদ্দিন বারানী ছিলেন সুলতান মোহাম্মদ বিন তুঘলক ও ফিরোজ শাহ তুঘলকের সময় দিল্লি সালতানাতের একজন মুসলিম ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ।
- ইতিহাসের আকরগ্রন্থ ‘তারিখে ফিরোজশাহী’ লিখে সুপরিচিত।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বণিক বার্তা।
৫৬৬.
'ঢাকা গেইট'-এর নির্মাতা কে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. ইসলাম খান
  3. মীর জুমলা
  4. নবাব আব্দুল গণি
সঠিক উত্তর:
মীর জুমলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর জুমলা
ব্যাখ্যা
ঢাকা গেইট:
- ঢাকা গেইট ঐতিহাসিক মোগল স্থাপত্য নিদর্শন। 
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা
- এটি মীর জুমলা গেইট, ময়মনসিংহ গেইট বা রমনা গেইট নামেও পরিচিত ছিল।
- 'ঢাকা গেইট' এর নির্মাতা হলেন 'মীর জুমলা'।

উল্লেখ্য,
- মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়ে বাংলার গভর্নর হয়ে আসেন মীর জুমলা।
- মীর জুমলা ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে ঢাকা গেইট নির্মাণ করেছিলেন।
- সীমানা চিহ্নিত করতে এবং স্থলপথে শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এটি নির্মাণ করা হয়।
- সম্প্রতি ঢাকা গেট সংস্কার শেষে নতুন করে উদ্বোধন হয় ঐতিহাসিক ঢাকা গেইট।

উৎস: ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, বিবিসি বাংলা।
৫৬৭.
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ ছিলেন জাতিতে -
  1. ইরানি
  2. আফগানি
  3. তুর্কি
  4. ইরাকি
সঠিক উত্তর:
তুর্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুর্কি
ব্যাখ্যা
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ:
- তিনি বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- ফখরুদ্দীন ছিলেন জাতিতে তুর্কি।
- ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ে শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন।
- স্বীয় অবস্থান সুদৃঢ় করে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন।
- তাঁর রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের রাজত্বকালে ১৩৪৬ সালে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন।
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান।
- এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫৬৮.
আকবরের শাসনামলে আমলে কোন ইউরোপীয় পর্যটক ভারতে এসেছিলেন?
  1. উইলিয়াম হকিন্স  
  2. স্যার টমাস রো
  3. রাল্ফ ফিচ্
  4. এডওয়ার্ড
সঠিক উত্তর:
রাল্ফ ফিচ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাল্ফ ফিচ্
ব্যাখ্যা
• রাল্ফ ফিচ্:
 → সম্রাট আকবরের রাজত্বকালের মাঝামাঝি সময়কালে (১৫৮৩-১৫৯১) রাল্ফ ফিচ্ (ইংরেজ) ভারতবর্ষে এসেছিলেন। তিনি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে বেড়ান।
 → তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্তে ভারতের বিভিন্ন খাদ্যশস্য, সুত বস্ত্র এবং জনজীবনের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্রাচুর্যের কথা তিনি তুলে ধরেছেন।
 → তিনি দিউ, আগ্রা, বাংলাদেশ, পেগু, দক্ষিণ-ভারত ও সিংহলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভ্রমণ করেছেন। আর সে সমস্ত অঞ্চলের মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনের প্রতিচ্ছবি তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্তে লিপিবদ্ধ করেছেন।
=================
অপরদিকে, 
 → সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে বহু ইউরোপীয় ভারতবর্ষে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে উইলিয়াম হকিন্স উল্লেখযোগ্য।
 → স্যার টমাস রো, তিনিও রাজা প্রথম জেমসের দূত হিসেবে জাহাঙ্গীরের দরবারে আগমন করেন। 
 → ১৬১৫ খ্রি. রাজা প্রথম জেমসের চিঠি নিয়ে এডওয়ার্ড জাহাঙ্গীরের দরবারে এসেছিলেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (এস এস এইচ এল), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬৯.
শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহের কবর কোথায়?
  1. ক) দিল্লি
  2. খ) আগ্রা
  3. গ) ইয়াঙ্গুন
  4. ঘ) লাহোর
সঠিক উত্তর:
গ) ইয়াঙ্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইয়াঙ্গুন
ব্যাখ্যা
শেষ মুঘল সম্রাট ছিলেন সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর।
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে মিয়ানমারের রেঙ্গুনে নির্বাসন দেওয়া হয়। সেখানেই ১৮৬২ সালে তার ‍মৃত্যুর পর তাকে সমাধিস্থ করা হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বিবিসি
৫৭০.
বাংলায় কররানি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. বায়েজীদ খান কররানি
  2. তাজ খান কররানি
  3. দাউদ খান কররানি
  4. হোসেন খান কররানি
সঠিক উত্তর:
তাজ খান কররানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজ খান কররানি
ব্যাখ্যা

কররানি শাসন:
- কররানি উপাধিধারী আফগানরা হচ্ছে একটি আফগান গোত্র।
- কররানীদের আদি নিবাস ছিল আফগানিস্তানের বঙ্গাশ নামক স্থানে। বর্তমানে এটি কুররম নামে অভিহিত।
- পাঠানদের কররানী শাখা আফগানিস্তানে করলানি নামে পরিচিত।
- ১৫৬৪ সালে তাজ খান কররানি বাংলায় কররানি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি এক সময় শেরশাহের অধীনে চাকরি করতেন।
- ১৫৬৫ সালে তিনি বাংলার অধিপতি হওয়ার এক বছরের মধ্যে মারা যান।
- তাঁর ভাই সুলেমান কররানি প্রায় সাত বছর বাংলার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- এই সময়ের মধ্যে তিনি বাংলাকে উত্তর-পূর্ব ভারতের শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করেছিলেন।
- তাঁর আমলে বাংলায় অপেক্ষাকৃত সুশাসন ও শান্তি বিরাজ করেছে।
- সুলায়মান কররানীর জ্যেষ্ঠ পুত্র বায়েজীদ কররানী তাঁর উত্তরাধিকারী হন।
- তিনি তাঁর পিতার নীতি পরিহার করে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- বায়েজীদ কররানী মাত্র অল্প কয়েকমাস বাংলা শাসন করেন।
- ১৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে বায়েজীদের কনিষ্ঠ ভ্রাতা দাউদ কররানীকে বাংলার সিংহাসনে অভিষিক্ত করেন।
- দাউদ তাঁর ভাইয়ের স্বাধীন নীতি অনুসরণ করে নিজের নামে খুৎবা পাঠ ও মুদ্রা প্রচলন করেন।
- ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১২ জুলাই রাজমহলের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। দাউদ কররানী বন্দি হন এবং তাঁকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়।
- দাউদ কররানীর মৃত্যুদন্ডের ফলে বাংলায় স্বাধীন মুসলিম শাসনের অবসান ও মুঘল শাসনের সূচনা হয়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৫৭১.
মাৎস্যন্যায় বিরাজমান ছিলো কোন শতকে?
  1. ক) ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে
  2. খ) ৬ষ্ঠ-৭ম শতকে
  3. গ) ৭ম-৮ম শতকে
  4. ঘ) ৮ম-৯ম শতকে
সঠিক উত্তর:
গ) ৭ম-৮ম শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৭ম-৮ম শতকে
ব্যাখ্যা
৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর যোগ্য শাসকের অভাবে বাংলা অরাজকতা দেখা দেয়। সর্বত্র অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, লুটতরাজ প্রভৃতিতে ছেয়ে যায়। ঐতিহাসিকরা এ অবস্থাকে মাৎস্যন্যায় হিসেবে অভিহিত করেন। পুকুরে যেমন বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, এ সময়ে বাংলার অবস্থাও তেমনটিই ছিলো। যার কারণে এ সময়কে মাৎস্যন্যায় বলা হয়। ৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর এ অবস্থা বিরাজমান ছিলো। ৭৫০ সালে গোপাল কর্তৃক পাল শাসনের সূত্রপাতের মাধ্যমে মাৎস্যন্যায় অবস্থার অবসান হয়। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৭২.
সন্ন্যাসী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন কে?
  1. ক) নবীন মাধব
  2. খ) মেঘলা সর্দার
  3. গ) মজনু শাহ
  4. ঘ) ভবানী পাঠক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভবানী পাঠক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভবানী পাঠক
ব্যাখ্যা
বাংলায় ব্রিটিশবিরোধী প্রথম আন্দোলন হলো ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন। আঠারো শতকের ১৭৬০ সাল থেকে ১৮০০ সালের মধ্যে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
এই আন্দোলনে সন্ন্যাসীদের নেতৃত্ব দেন ভবানী পাঠক। অন্যদিকে ফকিরদের নেতৃত্ব দেন মজনু শাহ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৭৩.
ভারতে প্রথম প্রতীক মুদ্রার প্রচলন কে করেন?
  1. জহিরউদ্দিন মুহম্মদ বাবর
  2. মুহম্মদ বিন তুঘলক
  3. কুতুবউদ্দিন আইবেক
  4. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ বিন তুঘলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ বিন তুঘলক:
- গিয়াসউদ্দীন তুঘলকের মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লীর সিংহাসনে আরোহন করেন।
- তাঁর রাজত্বকালের প্রথম তের বছর দেশে শান্তি বিরাজমান ছিল।
- এ সময়ের মধ্যে মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লি থেকে রাজধানী দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন।
- এছাড়াও খোরাসান অভিযান, কারাচিল অভিযান, প্রতীক মুদ্রার প্রচলন, দোয়াবে কর বৃদ্ধি ইত্যাদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
- সিন্ধুর বিদ্রোহ দমনকালে ক্লান্ত সুলতান মৃত্যু বরণ করেন।
- তিনি জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অসাধারণ পন্ডিত ছিলেন।

⇒ মুহম্মদ বিন তুঘলক ভারতে প্রথম প্রতীক মুদ্রা প্রবর্তন করেন।
- তিনি সোনা ও রুপার পরিবর্তে প্রতীকী তামার মুদ্রা প্রচলন করে মুদ্রামান নির্ধারণ করেন।
- কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য 'দিওয়ান-ই-কোহী' স্বতন্ত্র কৃষি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।

অন্যদিকে -
- সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লির কুতুব মিনার নির্মাণ করেন।
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার প্রথম স্বাধিন সুলতান। তিনি রাজধানী সোনারগায়ে প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৪.
বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক ছিলেন কে?
  1. নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
  2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
  4. ফিরোজ শাহ
সঠিক উত্তর:
নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
ব্যাখ্যা

তুর্কি শাসন:
- ১২২৭ থেকে ১২৮১ সাল পর্যন্ত তেমন ১৫ জন তুর্কি শাসক বাংলা শাসন করেছিলেন।
- বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক ছিলেন নাসিরুদ্দিন মাহমুদ।
- এ সময় থেকে বাংলার শাসনকর্তারা দিল্লির সুলতানদের কাছ থেকে নিয়োগ লাভ করে এখানকার শাসক হতেন।
- বাংলায় দিল্লির অনুগত কোনো শাসনই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং দিল্লির মনোনীত তুর্কি শাসকরাই একের পর এক বিরোধিতা অব্যাহত রাখেন।
- দিল্লির শাসকরা যেমন, ইলতুতমিশ, বলবন, গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ও মুহাম্মদ বিন তুঘলক বাংলার শাসকদেরকে প্রতিহত করতে একের এর এক অভিযান চালিয়ে বিদ্রোহ দমন করেন।
- দিল্লির শাসনকালে বাংলায় বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ লেগেই ছিল।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন বাংলার তৎকালীন স্বাধীন শাসক তুগ্রিল খানকে দমনের জন্য নিজেই আক্রমণ করেন।যুদ্ধে তুগ্রিল খান নিহত হন। ফলে বাংলা দিল্লির শাসনাধীন হয়।
- ১২৮৭ সালে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন মারা গেলে বঘরা খান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ নাম ধারণ করে ১২৯০ সাল পর্যন্ত বাংলার স্বাধীন সুলতান হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৩২৫ সালে দিল্লির শাসক গিয়াসউদ্দিন তুঘলক বাংলা অধিকার করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭৫.
জগৎ বিখ্যাত তাজমহল তৈরি করতে কত বছর লেগেছিল?
  1. ক) ২২ বছর
  2. খ) ২৩ বছর
  3. গ) ২১ বছর
  4. ঘ) ২৪ বছর
সঠিক উত্তর:
ক) ২২ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২২ বছর
ব্যাখ্যা
• যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত তাজমহল হচ্ছে সম্রাট তার প্রিয়তমা পত্নী মমতাজের স্মৃতিকে অমর করে রাখার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত।
- বিশ হাজার দক্ষ শিল্পী ও কারিগর সুদীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ এই সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন।
- সম্রাট নিজেই ছিলেন এর পরিকল্পনাকারী।
- প্রধান স্থাপতি ছিলেন ইসফানদিয়ার রুমী ও মাস্টার ঈসা।
- ভারতীয় ও পারসিক শিল্পকলার মিলন ঘটিয়ে তাজমহল নির্মিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও The Business Standard। 
৫৭৬.
মধ্যযুগে মুসলিম শাসনামলে সরকারী ভাষা ছিল-
  1. উর্দু
  2. আরবি
  3. ফার্সি
  4. ইংরেজি
সঠিক উত্তর:
ফার্সি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফার্সি
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের ভাষা:

- বৌদ্ধ ও হিন্দু অধ্যুষিত বাংলায় তের শতক থেকে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাজ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়।
- মধ্যযুগে মুসলিম শাসনামলে সরকারী ভাষা ছিল ফার্সি।
- সামন্ত সমাজের বৈষম্যের কারণে ইসলাম ধর্ম সম্প্রসারিত হয়।
- তবে মুসলিম সমাজ ও আশরাফ ও আতরাফ নামে ভাগ হয়েছে।
- তা সত্বেও মধ্যযুগে বাংলার অর্থনীতির ব্যাপক সমৃদ্ধি হয়।
- কৃষিতে ধান শিল্পে মসলিন এবং বাণিজ্যে নানা অঞ্চল যেমন ব্রহ্মদেশ, মালয়, জাভা, সুমাত্রা ও ইন্দোচীনের সাথে বাণিজ্য হতো।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৭.
বাংলাকে ‘বুলগাকপুর’ নামে অভিহিত করেছিলেন কে?
  1. আল বেরুনি
  2. ইবনে বতুতা
  3. জিয়াউদ্দিন বারানী
  4. মিনহাজ-উস-সিরাজ
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানী
ব্যাখ্যা

বিদ্রোহের নগরী:
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়।
- এরপর রাজা গণেশের স্বল্পকালীন শাসনকাল ব্যতীত ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা মুসলিম শাসনাধীনে ছিল।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের পর থেকে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যেসব খলজি মালিক, তুর্কি শাসক ও বলবনী শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন তাদের অনেকেই পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না।
- তাঁরা দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন।
- কিন্তু দিল্লি থেকে বাংলা দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় তাঁদের অনেকে সুযোগ পেলেই বিদ্রোহ ঘোষণা করতেন।
- এজন্য বাংলাকে 'বুলগাকপুর' বা বিদ্রোহের নগরীও বলা হত।

⇒ দিল্লির ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলার নাম রেখেছিলেন 'বুলগাকপুর'।
- জিয়াউদ্দিন বারানী ছিলেন সুলতান মোহাম্মদ বিন তুঘলক ও ফিরোজ শাহ তুঘলকের সময় দিল্লি সালতানাতের একজন মুসলিম ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ।
- ইতিহাসের আকরগ্রন্থ ‘তারিখে ফিরোজশাহী’ লিখে সুপরিচিত।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বণিক বার্তা।

৫৭৮.
Who built Dhaka Gate?
  1. Shaista Khan
  2. Mir Jumla
  3. Shah Shuja
  4. Alauddin Hossain Shah
  5. None of them
সঠিক উত্তর:
Mir Jumla
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mir Jumla
ব্যাখ্যা
ঢাকা গেইট:
- ঢাকা গেইট ঐতিহাসিক মোগল স্থাপত্য নিদর্শন।
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা।
- এটি মীর জুমলা গেইট, ময়মনসিংহ গেইট বা রমনা গেইট নামেও পরিচিত ছিল।
- 'ঢাকা গেইট' এর নির্মাতা হলেন 'মীর জুমলা'।

উল্লেখ্য,
- মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়ে বাংলার গভর্নর হয়ে আসেন মীর জুমলা।
- মীর জুমলা ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে ঢাকা গেইট নির্মাণ করেছিলেন।
- সীমানা চিহ্নিত করতে এবং স্থলপথে শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এটি নির্মাণ করা হয়।
- সম্প্রতি ঢাকা গেট সংস্কার শেষে নতুন করে উদ্বোধন হয় ঐতিহাসিক ঢাকা গেইট।

অন্যদিকে,
- লালবাগ কেল্লা নির্মাণ করেন শায়েস্তা খান।
- ঢাকায় ‘বড় কাটরা’ নির্মাণ করেন শাহ সুজা।
- ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন আলাউদ্দিন হোসেন শাহ।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, বিবিসি বাংলা।
৫৭৯.
মুর্শিদ কুলি খান কোন সম্রাটের আমলে বাংলার সুবাদার ছিলেন?
  1. আওরঙ্গজেব
  2. শাহজাহান
  3. বাহাদুর শাহ
  4. আকবর
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা

মুর্শিদ কুলি খান: নবাবি শাসন প্রতিষ্ঠা
- মুর্শিদ কুলি খান (১৭০০-১৭২৭) বাংলায় নবাবি শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- দাক্ষিণাত্যে শায়েস্তা খানের দিওয়ান হাজী শফী ইস্পাহানী অল্প বয়সী মুর্শিদ কুলিকে কিনে নিয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন এবং তার নাম রাখেন মুহাম্মদ হাদী।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি সম্রাটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দাক্ষিণাত্য যান এবং এ সাক্ষাতে তিনি ‘মুর্শিদকুলী খান’ উপাধি লাভ করেন। 

⇒ ১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদকুলী খান বাংলার নাজিম পদে উন্নীত হন।
- ১৭১৭ সালের আগস্ট মাসে তাঁকে বাংলার পূর্ণ সুবাদারের মর্যাদা দেয়া হয়।
- তিনি অসংখ্য উপাধি ও পদবিতে ভূষিত হন। প্রথমে তিনি ‘জাফর খান’ উপাধি পান এবং পরে তাঁকে ‘মুতামিন-উল-মুলক আলা-উদ-দৌলা জাফর খান নাসিরী নাসির জঙ্গ বাহাদুর' উপাধি দেওয়া হয়। তাঁকে সাত হাজারি মনসব প্রদান করা হয়।
- ১৭২৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন মুর্শিদকুলী খানের মৃত্যু হয়।

⇒ বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- তিনি ঢাকা বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৫৮০.
বাংলার ইতিহাসে বারোভূঁইয়াদের আবির্ভাব কত শতকে ঘটে?
  1. ক) ষোল-সতেরো শতকে
  2. খ) চৌদ্দ-পনেরো শতকে
  3. গ) আঠারো-উনিশ শতকে
  4. ঘ) তের-চৌদ্দ শতকে
সঠিক উত্তর:
ক) ষোল-সতেরো শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ষোল-সতেরো শতকে
ব্যাখ্যা
- বাংলার ইতিহাসে বারোভূঁইয়াদের আর্বিভাব ষোলো শতকের মাঝামাঝি থেকে সতেরো শতকের মধ্যবর্তী সময়ে ঘটে।
- আলোচ্য সময়ে মুঘলদের বিরুদ্ধে য়াঁরা নিজেদের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন, ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে তাঁরাই বারোভূঁইয়া।
- প্রথম দিকে বারোভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন ঈসা খান।
- ১৫৯৯ খ্রিষ্টাব্দে ঈসা খানের মৃত্যু হলে বারোভূঁইয়াদের নেতা হন তার পুত্র মুসা খান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৮১.
ঢাকায় কত সালে প্রথম সুবা বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয়?
  1. ১৬০৫ সালে
  2. ১৬০৮ সালে
  3. ১৬১০ সালে
  4. ১৬১২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৬১০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬১০ সালে
ব্যাখ্যা

রাজধানী ঢাকা:
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।
- এর আগে সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার প্রাদেশিক রাজধানী ছিলো বিহারের রাজমহল।
- বারো ভূইয়ার নিয়ন্ত্রণ থেকে বাংলাকে করতলগত করতে ১৫৭৬ থেকে ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বারবার চেষ্টা চালানো হয়। এরপর সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতীকে রাজমহলের সুবেদার নিযুক্ত করেন। তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে রাজধানী রাজমহল থেকে সরিয়ে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।

উল্লেখ্য,
- স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পূর্বে ঢাকা ১৬১০, ১৬৬০, ১৯০৫ ও ১৯৪৭ সালে মোট চারবার বাংলার রাজধানীর মর্যাদা পায়।

উৎস: i) ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।
ii) দ্য বিজনেস স্ট্যাডার্ড।

৫৮২.
মোগল প্রশাসন ব্যবস্থায় সম্রাটের পরের স্থান ছিল কার?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. শিকদার
  3. দিউয়ান
  4. কাজী-উল-কুজ্জাত
সঠিক উত্তর:
প্রধানমন্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
মোগল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মোগল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মোগল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মোগলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মোগল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মোগল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মোগল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা ও শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৩.
দিল্লিতে ইবনে বতুতা কোন সুলতানের অধীনে কাজী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন?
  1. ফিরোজ শাহ তুঘলক
  2. আলাউদ্দিন খিলজি
  3. মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  4. কুতুবুদ্দিন আইবক
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ বিন তুঘলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা

ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা।
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- বাংলায় সফরের উদ্দেশ্য তিনি নিজেই তাঁর ভ্রমন কাহিনীতে উল্লেখ করেছেন এবং তা ছিল কামরূপের পার্বত্য অঞ্চলে বিখ্যাত সুফিসাধক শেখ জালালউদ্দিনের (হযরত শাহজালাল মুজার্রদ-ই-ইয়েমেনী) দর্শন লাভ।
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন।
- এরপর তিনি ভারতে আসেন।
- তিনি ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে আসেন এবং সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের অধীনে দীর্ঘ প্রায় আট বছর কাজীর পদে নিয়োজিত ছিলেন।

⇒ ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকালে বাংলায় সফর করেন।
- বাংলার যে শহরে ইবনে বতুতা প্রথম পৌঁছেন (৯ জুলাই ১৩৪৬) তার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন সাদকাঁও (চাটগাঁও)।
- সেখান থেকে সরাসরি তিনি কামারু (কামরূপ) পার্বত্য অঞ্চল অভিমুখে রওনা হন। 
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান। এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়। ইবনে বতুতা তার 'আর রিহলা' গ্রন্থে বাংলাকে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত (A Hell Full Of Good Things) ’ অর্থাৎ প্রাচুর্যপূর্ণ নরক বলে অভিহিত করেন।
- ইবনে বতুতা সিলেটের প্রখ্যাত সাধক হযরত শাহজালালের সাথে সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীকালে তিনি চীনের রাজদরবার গমনের উদ্দেশ্যে বাংলা ত্যাগ করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮৪.
বাঁশেরকেল্লা নির্মাণ করেন কে?
  1. ক) মজনু শাহ
  2. খ) মীর নিসার আলী
  3. গ) হাজী শরীয়তউল্লাহ
  4. ঘ) নুরুলদীন
সঠিক উত্তর:
খ) মীর নিসার আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মীর নিসার আলী
ব্যাখ্যা
তিতুমীর ওরফে মীর নিসার আলী প্রথমে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন। পরবর্তীতে তার এই আন্দোলন জমিদার ও ব্রিটিশবিরোধী রূপ লাভ করে।
তিনি বারাসাতের নিকটবর্তী নারিকেলবাড়িয়ায় একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর লে. কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সাথে যুদ্ধে কামানের গোলায় তার বাঁশেরকেল্লা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিনিসহ তার বহু অনুসারী শহিদ হন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৫৮৫.
বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
  2. ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
  3. গিয়াসউদ্দীন হোসেন শাহ 
  4. ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা

ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ:
- বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ।
- তিনি বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- তার রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার শাসকগণ দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতেন।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের শাসনামলে বাংলাকে সোনারগাঁও, লখনৌতি ও সাতগাঁও এই তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হলে ফখরুদ্দিন নামে তাঁর একজন সিলাদার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- তিনি 'মুবারক শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- ফখরুদ্দিন বাংলায় তাঁর কর্তৃত্ব সুদৃঢ় করলে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাংলায় দু'শো বছরের স্বাধীন ইতিহাসের সূচনা হয়।
- তিনি তাঁর রাজ্যসীমা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অনেকটা সম্প্রসারণ করেন।
- তিনি চট্টগ্রাম বিজয় করেন এবং এ পর্যন্ত সমগ্র ভূ-ভাগে তাঁর সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণে ছিল।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
          ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮৬.
ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ কত বছর বাংলাদেশ শাসন করেন?
  1. ক) ১০০ বছর
  2. খ) ১১৫ বছর
  3. গ) ১২২ বছর
  4. ঘ) ১৩০ বছর
সঠিক উত্তর:
গ) ১২২ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১২২ বছর
ব্যাখ্যা
সুলতানি শাসন:

- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলাদেশে প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন।
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্।
- এর আগে কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশকে একত্রো করতে পারেননি। 
- শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্ সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্র করেন।
- এ আমল থেকেই সমগ্র বাংলাদেশ ‘বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় ‘বাঙালি' নামে।
- তাঁরা জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে যোগ্যতার ভিত্তিতে সবাইকে শাসনকার্যে ও সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করেন।
- ইলিয়াসশাহী সুলতানগণ আরবদেশ, চীন ও পারস্যের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন।
- ইলিয়াসশাহী আমলে বাংলার কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছিল।
- ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ ১৬৩৮ সালে পূর্ব বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। রাজধানী হয় সোনারগাও।
- ১৩৫২ সালে ইলিয়াস শাহ সোনারগাও দখলের মাধ্যমে দুই বাংলা একত্র করেন।
- ইলিয়াস শাহ ইরানের অধিবাসী ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৭.
কার পতনের মধ্য দিয়ে বাংলায় হাবশি শাসনের অবসান ঘটে?
  1. জালালউদ্দিন ফাতেহ শাহ
  2. শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ
  3. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  4. রুকনউদ্দিন বারবক শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ
ব্যাখ্যা

⇒ শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ এর পতনের মধ্য দিয়ে বাংলায় হাবশি শাসনের অবসান ঘটে।

বাংলায় হাবশি শাসন:
- বাংলার ছয় বছরের হাবশি শাসনামলে চারজন সুলতান বাংলা শাসন করেছেন।
- তাদের প্রত্যেকেই পূর্বসুরীকে হত্যা করে ক্ষমতায় এসেছেন এবং ষড়যন্ত্রকারী উত্তরসূরীর হাতেই নিহত হয়েছেন।
- মূলত হাবশি আমল বলতে মাহমুদ শাহী সুলতান জালালুদ্দিন ফতেহ শাহের পরে বাংলা শাসনকৃত গিয়াসুদ্দিন বারবক শাহ বা সুলতান শাহজাদা, ফিরোজ শাহ, মাহমুদ শাহ এবং মুজাফ্ফর শাহের শাসনকালকে বোঝানো হয়।
- হাবশি নেতা সুলতান শাহজাদা (১৪৮৭ খ্রি.) প্রথম ক্ষমতায় বসে কয়েক মাসের মধ্যে হাবশি সেনাপতি মালিক আন্দিলের হাতে নিহত হন।
- আন্দিল 'সাইফুদ্দিন ফিরুজ শাহ' উপাধি নিয়ে তিনবছর (১৪৮৭-১৪৯০ খ্রি.) শাসন করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ।
- কিন্তু তাঁকে হত্যা করে ক্ষতায় বসেন 'শামসুদ্দীন আবু নছর মুজাফফর শাহ' (১৪৯০-১৪৯৩ খ্রি.) নামে এক হাবশি সর্দার।
- তিনি ছিলেন অত্যাচারী শাসক।
- তাই গৌড়ের সম্ভ্রান্ত লোকেরা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং এই বিদ্রোহে যোগ দেন তাঁর উজির সৈয়দ হোসেন।
- অবশেষে শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ নিহত হন এবং এর মধ্য দিয়ে বাংলায় হাবশি শাসনের অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮৮.
মুর্শিদ কুলি খান কোন সম্রাটের অধীনে বাংলার দিওয়ান হিসেবে নিযুক্ত হন?
  1. আওরঙ্গজেব
  2. শাহজাহান
  3. আকবর
  4. জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা

মুর্শিদ কুলি খান সম্রাট আওরঙ্গজেবের অধীনে বাংলার দিওয়ান হিসেবে নিযুক্ত হন।

মুর্শিদ কুলি খান: নবাবি শাসন প্রতিষ্ঠা

- মুর্শিদ কুলি খান (১৭০০-১৭২৭) বাংলায় নবাবি শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- দাক্ষিণাত্যে শায়েস্তা খানের দিওয়ান হাজী শফী ইস্পাহানী অল্প বয়সী মুর্শিদ কুলিকে কিনে নিয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন এবং তার নাম রাখেন মুহাম্মদ হাদী।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি সম্রাটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দাক্ষিণাত্য যান এবং এ সাক্ষাতে তিনি ‘মুর্শিদকুলী খান’ উপাধি লাভ করেন।

⇒ ১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদকুলী খান বাংলার নাজিম পদে উন্নীত হন।
- ১৭১৭ সালের আগস্ট মাসে তাঁকে বাংলার পূর্ণ সুবাদারের মর্যাদা দেয়া হয়।
- তিনি অসংখ্য উপাধি ও পদবিতে ভূষিত হন। প্রথমে তিনি ‘জাফর খান’ উপাধি পান এবং পরে তাঁকে ‘মুতামিন-উল-মুলক আলা-উদ-দৌলা জাফর খান নাসিরী নাসির জঙ্গ বাহাদুর' উপাধি দেওয়া হয়। তাঁকে সাত হাজারি মনসব প্রদান করা হয়।
- ১৭২৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন মুর্শিদকুলী খানের মৃত্যু হয়।

⇒ বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- তিনি বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদ স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৫৮৯.
টোডরমল স্মরণীয় হয়ে আছেন কেন?
  1. অতিরিক্ত কর বিলোপের জন্য
  2. রাজস্ব সংস্কারের জন্য
  3. সামরিক সংস্কারের জন্য
  4. নতুন কর সংযোজনের জন্য
সঠিক উত্তর:
রাজস্ব সংস্কারের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজস্ব সংস্কারের জন্য
ব্যাখ্যা
আকবরের ভূমি শাসন ব্যবস্থা:
- সম্রাট আকবরের ভূমি শাসন ব্যবস্থা অনন্য কৃতিত্বের দাবীদার।
- শেরশাহের রাজস্ব-সংস্কার নীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে মুজাফ্ফর খান তুরবতী ও রাজা টোডরমলের সহযোগিতায় আকবর রাজস্ব ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করেন।
- তাঁর রাজস্ব নীতির মূল লক্ষ্য ছিল- ১. জমির শ্রেণি বিভাগকরণ, ২. উৎপন্ন শস্যের উপর ভিত্তি করে রাজস্ব নির্ধারণ।

⇒ সম্রাট আকবরের অর্থমন্ত্রী সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত টোডরমল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত সকল জমি জরিপ করিয়ে উর্বরতা ও কত কাল যাবৎ চাষাবাদ করা হয়-এসব তথ্যর ভিত্তিতে চাষের জমি সমূহকে ৪ ভাগে ভাগ করেন। যথা -
১. পোলাজ জমি- এ সমস্ত জমি প্রতি বছর চাষ করা হত।
২. পরাউতি জমি- এ ধরনের জমি একবার চাষের পর উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য কিছুদিন অনাবাদী রাখা হত।
৩. চাচর জমি এ সমস্ত জমি তিন বা চার বছর পর পর চাষ করা হত।
৪. বনযার জমি এ ধরনের জমি পাঁচ বছরের জন্য অনাবাদী থাকত।
- প্রথম দুই ধরনের ভূমি থেকে উৎপন্ন শস্যের এক তৃতীয়াংশ ভূমি রাজস্ব হিসেবে গৃহীত হতো।
- চাচর ও বনযার জমির উপর সামান্য হারে রাজস্ব ধার্য করা হয়।
- কৃষকগণ নগদ টাকায় অথবা শস্যে খাজনা দিতে পারতো।
- এই ভূমি রাজস্ব নীতি 'যাবতী' বা টোডরমলের 'রায়তওয়ারী' প্রথা নামে পরিচিত।
- এছাড়াও কোন কোনো জমির উৎপাদিত ফসলের ১/৩ অংশ সরকার কর হিসেবে পেত। 
- তিনি আদায়কৃত রাজস্ব থেকে সুবাদারকে প্রয়োজনীয় অর্থ দেয়ার পর উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় রাজকোষে প্রেরণ করতেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯০.
কৈবর্ত বিদ্রোহ কোন রাজার শাসনামলে সংঘঠিত হয়?
  1. ক) প্রথম মহিপাল
  2. খ) দ্বিতীয় মহিপাল
  3. গ) হেমন্ত সেন
  4. ঘ) লক্ষণ সেন
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিতীয় মহিপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিতীয় মহিপাল
ব্যাখ্যা

- রাজা দ্বিতীয় মহিপালের (১০৭৫-১০৮০) শাসনামলে কৈবর্ত বিদ্রোহ হয়।
অনেকে শুধু জেলে সম্প্রদায়কে কৈবর্ত বললেও প্রকৃতপক্ষে জেলে, কৃষক এবং শ্রমজীবী মানুষকে সাধারণত কৈবর্ত বলা হতো।
পাল রাজাদের এক সামন্ত দিব্যর নেতৃত্বে কৈবর্তরা রাজ্যের বরেন্দ্রীয় অংশ দখল করে নেয়।
রাজা দ্বিতীয় মহীপাল কৈবর্তবাহিনীকে আক্রমন করতে দিয়ে নিজে নিহত হন।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।

৫৯১.
চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন কোন বংশের শাসনামলে বাংলায় আগমন করেন?
  1. ক) গুপ্ত
  2. খ) মৌর্য
  3. গ) খড়গ
  4. ঘ) বর্মণ
সঠিক উত্তর:
ক) গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গুপ্ত
ব্যাখ্যা
ফা-হিয়েন বাংলায় ভ্রমণকারী প্রথম চীনা পরিব্রাজক।
- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (৩৮০-৪১৩খ্রি.) এর সময় বাংলায় আসেন। অর্থ্যাৎ গুপ্ত যুগে বাংলায় আগমনকারী চীনা পরিব্রাজক হলেন ফা-হিয়েন
- ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে ফা-হিয়েন ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন। গোবি, খোটান, পামির মালভ‚মি এং গান্ধার দেশ অতিক্রম করে তিনি ৪০১ খ্রিস্টাব্দে ভারতে প্রবেশ করেন।
- তিনি টানা ১০ বছর ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেছিলেন।
- ফা-হিয়েনের ভ্রমন বৃত্তান্ত ‘ফো-কুয়ো-কিং’ নামে পরিচিত। এটি ভারতের ইতিহাসের একটি বিশিষ্ট ও প্রামাণ্য দলিল।

অন্যদিকে,
- মা হুয়ান চীনা পরিব্রাজক । গিয়াস উদ্দীন আজম শাহের সময় বাংলায় আসেন।
- বিখ্যাত চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন।
- মেগাস্থিনিস (গ্রিস) রাজকীয় দূত হিসেবে ভারতীয় রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের (স্যান্ড্রাকোটাস) রাজদরবারে দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৯২.
তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী কে?
  1. ক) বেগম রোকেয়া
  2. খ) ইলা মিত্র
  3. গ) সুনীতি ঘোষ
  4. ঘ) সরোজিনী নাইডু
সঠিক উত্তর:
খ) ইলা মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইলা মিত্র
ব্যাখ্যা
তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন। ১৯৪০-৫০ সময়ে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন। এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ।
তেভাগা আন্দোলনের দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৫৯৩.
বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  2. শের শাহ
  3. ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
  4. গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা

ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ:
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর রাজধানী সোনারগাঁও-ই হল স্বাধীন বাংলার প্রথম রাজধানী।

উল্লেখ্য,
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার শাসকগণ দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতেন।
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হলে ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাংলায় দু'শো বছরের স্বাধীন ইতিহাসের সূচনা হয়।
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ একজন যোগ্য শাসক ও কূটকৌশলী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি নিজ নামে মুদ্রা জারি করেন।
- তিনি চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত একটি রাজপথ নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা যায়।
- ফখরুদ্দিনের রাজত্বকালকে বাংলার গৌরবময় যুগ বলা হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯৪.
সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে প্রথম ইংরেজ দূত কে ছিলেন?
  1. ক) প্রথম জেমস
  2. খ) উইলিয়াম কেরি
  3. গ) ক্যাপ্টেন জন
  4. ঘ) স্যার টমাস রো
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্যার টমাস রো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্যার টমাস রো
ব্যাখ্যা
সম্রাট জাহাঙ্গীর
- সম্রাট জাহাঙ্গীর সকল ধর্ম বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
- ফকির, দরবেশ, জ্ঞানী-গুণীদের তিনি সমাদর করতেন।
- সাহিত্য, শিল্পকলা ও চিত্রশিল্পে তাঁর যথেষ্ট অনুরাগ পরিলক্ষিত হয়।
- তুযুক-ই-জাহাঙ্গীরী ছিল তাঁর আত্মজীবনী।
- এখানে সমসাময়িক মোগল ইতিহাসের অনেক মূল্যবান তথ্য পাওয়া যায়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে প্রথম ইংরেজ দূত ছিলেন স্যার টমাস রো।
- এসকল দূতরা ভারতবর্ষে ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য সম্রাটের নিকট থেকে সুবিধা আদায় করেন।
- তার সময় থেকেই ভারতে ব্রিটিশদের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিস্তারের সূত্রপাত ঘটে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৫.
দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা বাতিল করেন কে?
  1. ক) রবার্ট ক্লাইভ
  2. খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. গ) জেমস ফ্রান্সিস
  4. ঘ) লর্ড কর্ণওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা
১৭৬৫ সালে এলাহাবাদ চুক্তির মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মোগল সম্রাট শাহ আলমের নিকট থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি বা রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা লাভ করে।
অন্যদিকে নবাবকে দেওয়া হয় শাসন ও বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব। এজন্যে নবাবকে বার্ষিক ৫৩ লক্ষ টাকা প্রদান করা হতো। ইতিহাসে এটিই দ্বৈতশাসন নামে পরিচিত।
রবার্ট ক্লাইভ এই শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এই ব্যবস্থায় কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা আর নবাবের উপর বর্তায় ক্ষমতাহীন দায়িত্ব।
এই শাসনের ফলে বাংলায় ১৭৭০ সালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এতে করে ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ সালে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা বাতিল করেন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৯৬.
বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা -
  1. ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
  2. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা

ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ:
- তিনি বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- ফখরুদ্দীন ছিলেন জাতিতে তুর্কি।
- ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ে শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন।
- স্বীয় অবস্থান সুদৃঢ় করে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন।
- তাঁর রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের রাজত্বকালে ১৩৪৬ সালে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন।
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান।
- এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৫৯৭.
লালবাগ কেল্লার প্রাচীন নাম কী ছিল?
  1. জাহাঙ্গীর নগর দুর্গ
  2. আওরঙ্গবাদ দুর্গ
  3. আজম দুর্গ
  4. শায়েস্তা দুর্গ
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গবাদ দুর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গবাদ দুর্গ
ব্যাখ্যা

লালবাগ কেল্লা:
- লালবাগ কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ বা আওরঙ্গবাদ দুর্গ।
- এটি মোগল আমল এর একটি চমৎকার নিদর্শন।
- এই কেল্লার নকশা করেন শাহ আজম।
- মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব-এর ৩য় পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার সুবেদারের বাসস্থান হিসেবে এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- নবাব শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে ঢাকায় এসে পুনরায় দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন।
- পরী বিবিকে দরবার হল এবং মসজিদের ঠিক মাঝখানে সমাহিত করা হয়।
- ১৮৪৪ সালে ঢাকা কমিটি নামে একটি আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান দুর্গের উন্নয়ন কাজ শুরু করে।
- এ সময় দুর্গটি লালবাগ দুর্গ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ১৯১০ সালে লালবাগ দুর্গের প্রাচীর সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫৯৮.
Which emperor's reign is called the golden age of architecture?
  1. ক) Akbar
  2. খ) Jahangir
  3. গ) Shah Jahan
  4. ঘ) Aurangzeb
সঠিক উত্তর:
গ) Shah Jahan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Shah Jahan
ব্যাখ্যা
সম্রাট শাহজাহানের শাসনকালকে স্থাপত্য শিল্পের স্বর্ণযুগ বলা হয়।

• শাহজাহান:
- স্থাপত্য শিল্পের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে মোগল সম্রাটদের মধ্যে সম্রাট শাহজাহান ছিলেন অদ্বিতীয়।
- স্থাপত্য শিল্পে উৎকর্ষ সাধনের জন্য তাঁর সময়কালকে স্থাপত্য শিল্পের স্বর্ণযুগ বলা হয়।
- তিনি তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর অবিনশ্বর প্রেমের এক অনিন্দ্য সুন্দর সৌধ তাজমহল নির্মাণ করেন।

- তাঁর আমলে আগ্রার মতি মসজিদ, দিল্লির জামে মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস নির্মিত হয়।
- ময়ূর সিংহাসন সম্রাট শাহজাহানের শিল্পানুরাগের অন্যতম কীর্তি।
- তিনি ‘শাহজাহানাবাদ’ নামে একটি নতুন শহরও নির্মাণ করেন যা বর্তমানে নতুন দিল্লি নামে পরিচিত। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৯.
ভারতবর্ষে মুঘল রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫৩৫ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৪২ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

ভারতবর্ষে মুঘল শাসন (১৫২৬-১৭০৭ খ্রিঃ)
- ১৫২৬ খ্রি. জহিরউদ্দিন মুহম্মদ বাবর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মুঘল রাজবংশ।
- মুঘল শব্দটি এসেছে 'মোঙ্গ' বা 'মোঙ্গল' শব্দ হতে।
- এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর ছিলেন পিতার দিক থেকে চেঙ্গিস খান এবং মাতার দিক হতে তৈমুর লঙ এর বংশধর।
- মুঘল বংশ প্রাথমিকভাবে তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রন ও শক্তি নিয়ে ১৫২৬-১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ভারতবর্ষে শাসন পরিচালনা করে।
- পরবর্তীতে ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে বাংলার স্বাধীনতা হারালে পরবর্তী ১০০ বছর (১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) মুঘল শাসকগণ নামমাত্র শাসক হিসেবে পরিণত হয়।
- গৌরব ও আধিপত্যের যুগে মুঘলরা ছিল পারস্যের সাফাভী ও তুরস্কের ওসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতিদ্বন্দ্বী।
- এই বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন আকবর।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর ও শাহজাহান ছিলেন শিল্পকলা, বৈদেশিক সম্পর্ক ও স্থাপত্য বিদ্যায় নৈপুণ্যের অধিকারী।
- গোঁড়া সুন্নী মতবাদ ও ধর্মীয় অনুশাসনের জন্য আওরঙ্গজেব ইতিহাসে প্রসিদ্ধ।
- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে অবসানের আগ পর্যন্ত মুঘল বংশই ছিল ভারতের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এবং শক্তি ও সংহতির উৎস।
- এর অবসানের সাথে সাথে সেই রাজনৈতিক কেন্দ্রীয় শক্তিও বিলীন হয়ে যায়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০০.
বাংলায় নবজাগরণের অগ্রদূত কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) মৃত্যৃঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. ঘ) ডি রোজিও
সঠিক উত্তর:
খ) রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূত হলেন রাজা রামমোহন রায়। বাঙালিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার, আধুনিক শিক্ষার বিস্তার ও ধ্যান ধারণা প্রচলনের মাধ্যমে বাংলায় রেনেসাঁ'র সূত্রপাত করেন।
তার পথ অনুসরণ করেই পরবর্তীতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, ডিরোজিও প্রমুখ বাংলার রেনেসাঁ'র নেতৃত্ব দেন। রামমোহন রায় ১৮২৮ সালে ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)