বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ নারী লেখক

মোট প্রশ্ন৬৪০এই পাতা৩৮প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ নারী লেখক

PrepBank · পাতা / · ৬০১৬৩৮ / ৬৪০

৬০১.
'যে অরণ্যে আলো নেই' মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ 
  2. উপন্যাস 
  3. গল্পগ্রন্থ 
  4. নাটক 
সঠিক উত্তর:
নাটক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক 
ব্যাখ্যা

• নীলিমা ইব্রাহিম রচিত 'যে অরণ্যে আলো নেই' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক। নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালে।

--------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম হলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- নীলিমা ইব্রাহিমের পুরো নাম ছিল নীলিমা রায় চৌধুরী।
- তিনি ১৯২১ সালের ১১ জানুয়ারি খুলনার বাগেরহাটে জমিদার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাক,
- কেয়াবন সঞ্চারিনী,
- বহ্নিবলয়।

উৎস বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬০২.
কুসুমকুমারী দাশ রচিত শিশু সাহিত্যের নাম কী?
  1. ইতল বিতল
  2. পাখির বাসা
  3. কবিতা-মুকুল
  4. ফণি-মনসা
সঠিক উত্তর:
কবিতা-মুকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতা-মুকুল
ব্যাখ্যা
• কুসুমকুমারী দাশ শিশুদের জন্য রচনা করেন - কবিতা-মুকুল।

অন্যদিকে,
- 'ফণি-মনসা' কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ।
- 'পাখির বাসা' ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
- 'ইতল বিতল' সুফিয়া কামাল রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।

কুসুমকুমারী দাশ:

- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম 'পৌরাণিক আখ্যায়িকা'।
- শিশুদের জন্যে তিনি 'কবিতা মুকুল' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী', 'ব্রহ্মবাদী', 'মুকুল' প্রভৃতি পত্রিকায়।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা পঙ্‌ক্তি - 'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।'
- তিনি ১৯৪৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০৩.
কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. আলো ও ছায়া
  2. গুঞ্জন
  3. জীবন পথে
  4. পৌরাণিক আখ্যায়িকা
সঠিক উত্তর:
পৌরাণিক আখ্যায়িকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৌরাণিক আখ্যায়িকা
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় - পৌরাণিক আখ্যায়িকা
- এটি কুসুমকুমারী দাশ রচিত গদ্যগ্রন্থ।

কামিনী রায়:
- তিনি ১৮৬৪ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্স সহ বি.এ পাস করেন। সেই কলেজেই অধ্যাপনা করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী' পদক পান।
- তিনি ১৯৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সংগীত (সনেট সংগ্রহ),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০৪.
ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস-
  1. হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. যাপিত জীবন
  3. উৎস থেকে নিরন্তর
  4. কাঠকয়লার ছবি
সঠিক উত্তর:
যাপিত জীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাপিত জীবন
ব্যাখ্যা

• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে। সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ।

- বিজ্ঞান ও বিজ্ঞাপনের এ যুগল মাত্রার, তরঙ্গসস্কুল রাজনৈতিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে নিজের চাষের ভূমিতে প্রতিনিয়ত ঘুরে ঘুরে একজন শিল্পীর অজানা প্রদেশের নিত্য উদ্ভাবন-কর্মের শিল্পীতরূপ 'যাপিত জীবন'।

- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব। তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কন্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

 সেলিনা হােসেন রচিত উপন্যাসসমূহ:
• ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ (১৯৮৭): চল্লিশের দশকের পটভূমিতে রচিত।

• ‘কাকতাড়ুয়া’ (১৯৯৬): এটি শিশুতোষ উপন্যাস। এটি বুধা নামে এক এতিম সাহসী কিশোর মুক্তিযোদ্ধার কাহিনি।

• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' (১৯৭৬): এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। ১৯৭২ সালে এ ঘটনা নিয়ে তিনি গল্প লেখেন। পরবর্তীতে এটি উপন্যাসে রূপান্তরিত করেন ।

• ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬): উপন্যাস বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নাফ নদীর তীরবর্তী শাহপরী দ্বীপ নামক এক ছোট দ্বীপের ধীবর শ্রেণির মানুষের জীবন সংগ্রাম এর বাস্তব রূপায়ণ । চরিত্র: মালেক, সাফিয়া।

• 'কাঠকয়লার ছবি' (২০০১): এটি চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রা নিয়ে রচিত।

অন্যদিকে, 
---------------
• 'উৎস থেকে নিরন্তর' গল্পগ্রন্থ:
- 'উৎস থেকে নিরন্তর' সেলিনা হোসেনের প্রথম গল্পগ্রন্থ। এটি ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- ভাষা আন্দোলন, নারী-পুরুষের সমতা প্রত্যাশা, গ্রামীণ পারিবারিক পরিমণ্ডলের ভাঙ্গন ইত্যাদি বিষয়বস্তুর পেক্ষাপটে গল্পগুলো রচিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি; 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৬০৫.
'মতিচূর' গ্রন্থের প্রবন্ধগুলো কয়টি খণ্ডে সংকলিত হয়েছে?
  1. টারটি খণ্ডে
  2. তিনটি খণ্ডে
  3. দুইটি খণ্ডে
  4. একক খণ্ডে
সঠিক উত্তর:
দুইটি খণ্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি খণ্ডে
ব্যাখ্যা
"মতিচূর (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)":
- ‘মতিচূর’ রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধ গ্রন্থ। ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচূর। রােকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলােও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতােই।

- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মােট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি। প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-‘পিপাসা’, ‘স্ত্রীজাতির অবনতি’, ‘নিরীহ বাঙালি’, ‘অর্ধাঙ্গী’, ‘সুগৃহিণী’, ‘বােরকা’ ও ‘গৃহ'। দ্বিতীয় খণ্ডে ১০ প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।

- এসেছে বাঙালির খাদ্যাভাস। এখানে সৌন্দর্যপ্রিয় বাঙালির সম্পদের অভাব নেই, কিন্তু অলস্য ও আরামপ্রিয়তা, তাদের সামনে বড় বাধা। বীরের জাতি বাঙালি তাদের বীরত্বকে কাজে না লাগিয়ে সহজ পথের সন্ধান করে বেড়ায়। আমাদের কাব্যে বীররসের চেয়ে করুণরসের প্রাধান্য আছে। ফলে আমাদের অগ্রগতির চেয়ে অবনতি হচ্ছে বেশি। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে বাঙালির যাবতীয় সুন্দর বৈশিষ্ট্যকে আরাে সুন্দর ও সার্থক করে তুলতে হবে।

- ‘মতিচূর' গ্রন্থের আরাে একটি উল্লেখযােগ্য প্রবন্ধ অর্ধাঙ্গী'। এই রচনায় উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের গােড়ায় ভারতবর্ষে পুরুষ শাসিত সমাজজীবনের সবক্ষেত্রে নারী, বিশেষ করে মুসলমান নারীসমাজের পশ্চাদপদতা, দুর্বহ জীবন ও অধিকারহীনতাকে দেখা হয়েছে পুরুষের নিদারুণ স্বার্থপরতা, আধিপত্যকামী মানসিকতার প্রেক্ষাপটে। অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে বেগম রােকেয়া আবেগধর্মী যুক্তিপ্রধান এই রচনায় নারীসমাজকে জ্ঞানচর্চা ও কর্মব্রত, অধিকার সচেতনতা ও মুক্তি-আকাঙ্ক্ষায় প্রবুদ্ধ করতে সচেষ্ট হয়েছেন।

- ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন দেখাতে চেয়েছেন, সমাজ যে পূর্ণ ও স্বাভাবিক গতিতে অগ্রসর হতে পারছে না তার কারণ পরিবার ও সমাজজীবনের অপরিহার্য অর্ধেক শক্তি নারীসমাজের দুর্বল ও অবনত অবস্থা। এজন্যে পুরুষসমাজের দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতাকে দায়ী করেছেন তিনি। এ রচনায় নারী জাগরণের পক্ষে যে সুচিন্তিত, দৃঢ় ও বলিষ্ঠ মতামত তিনি ব্যক্ত করেছেন তাতে তাঁর মন্তব্যে আছে আবেগের গাঢ়তা আর যুক্তিতে আছে ধারালাে তীক্ষ্ণতা। তিনি দেখাতে চেয়েছেন, সমাজ জীবনের অগ্রগতি ও কল্যাণ সাধনের জন্যে নারী জাগরণ এবং সেই সঙ্গে পুরুষ সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের বিকল্প নেই।

- 'মতিচূর' গ্রন্থের প্রতিটি প্রবন্ধে বেগম রােকেয়া সমাজের অগ্রগতির প্রয়ােজনে নারী জাগরণের কথা বলেছেন। সর্বক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া দেশ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।

উৎস: মতিচূর (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)।
৬০৬.
স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত নাটক কোনটি?
  1. দীপনির্বাণ
  2. মেবার রাজ
  3. বসন্ত উৎসব
  4. বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
বসন্ত উৎসব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্ত উৎসব
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত নাটক হচ্ছে বসন্ত উৎসব। 

স্বর্ণকুমারী দেবী
- স্বর্ণকুমারী দেবী হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভগ্নী।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ।
- দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন।
- প্রথম উপন্যাস: দীপনির্বাণ
- সেরা গ্রন্থ: কাহাকে (১৮৯৮), ইংরেজিতে অনূদিত: The Unfinished Song। 

উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি। 

কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান। 

নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া। 

৬০৭.
'অবরোধবাসিনী' গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. বেগম রোকেয়া
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
‘অবরোধবাসিনী‘:
- রোকেয়ার একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। কতগুলি ঐতিহাসিক ও চাক্ষুষ সত্য ঘটনার হাসি-কান্না নিয়ে এই গ্রন্থের কাহিনি রচিত।
- নকশাধর্মী ছোট ছোট রচনাগুলির মধ্যে ফুটে উঠেছে অবরুদ্ধ নারীর মর্মান্তিক জীবনকথা।
- এই গ্রন্থে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, লক্ষ্মৌ, লাহোর, পাঞ্জাব, দিল্লি ও আলিগড়ের সম্ভ্রান্ত ও উচ্চবিত্ত মুসলিম পরিবারে পর্দার নামে অবরোধের অমানবিক ঘটনার ৪৭টি চিত্র তুলে ধরেছেন।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।

রোকেয়ার উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী ।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০৮.
সেলিনা হোসেন রচিত 'যাপিত জীবন' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট- 
  1. দেশভাগ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা
  2. ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সময়
  3. জাফর ও আনজুমের প্রেম
  4. সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
ব্যাখ্যা

'যাপিত জীবন' উপন্যাসে ভাষা আন্দোলন, দেশভাগ এবং বাঙালি জাতিসত্তার সংগ্রামের চিত্র ফুটে ওঠে।
---------------------------------- 
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও গবেষক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ জুন, ১৯৪৭ সালে রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচনায় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নারী ও সমাজের জীবনচিত্র উঠে এসেছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

• সেলিনা হোসেনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- ‘যাপিত জীবন’,
- ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক),
- ‘নীল ময়ূরের যৌবন’,
- ‘জ্যোস্নায় সূর্যজ্বালা’,
- ‘পদশব্দ’,
- ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’ (তিন খণ্ড),
- ‘ক্ষরণ’,
- ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি’,
- ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’।
-----------------------------------------------
যাপিত জীবন উপন্যাসের খুঁটিনাটি:
- যাপিত জীবন উপন্যাসটি প্রখ্যাত বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেনের লেখা এক  ঐতিহাসিক সৃষ্টি।
- এটি ১৯৮১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- উপন্যাসে ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সময়, জাফর ও আনজুমের প্রেম, দেশভাগ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বাঙালির শেকড় ও মাটির সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা সুন্দরভাবে বর্ণিত হয়েছে। 
- উপন্যাসে নায়ক জাফরের চরিত্র বাঙালি জাতির সংগ্রাম, অস্তিত্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে ফুটে ওঠে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৬০৯.
”কুহেলি উত্তরীতলে মাঘের সন্ন্যাসী”- পঙ্‌ক্তিটি কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. উদাত্ত পৃথিবী
  2. কেয়ার কাঁটা
  3. তাহারেই পড়ে মনে
  4. মন ও পৃথিবী
সঠিক উত্তর:
তাহারেই পড়ে মনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাহারেই পড়ে মনে
ব্যাখ্যা
• ”তাহারেই পড়ে মনে” কাবিতা।
- এটি সাঝোঁর মায়া কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত বেগম সুফিয়া কামাল রচিত কবিতা ।
- কতিাটি প্রকাশিত হয়- ১৯৩৫ সালে।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- ”কুহেলি উত্তরীতলে মাঘের সন্ন্যাসী”- পঙ্‌ক্তিটি এই কবিতার অন্তর্গত।

বেগম সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে। 
- তিনি নিজ চেষ্টায় হয়ে ওঠেন স্বশিক্ষিত ও সুশিক্ষিত।
- বাড়িতে উর্দুভাষার চল থাকলেও নিজ উদ্যেগেই তিনি বাংলা ভাষা শিখে নেন।
- ১৯২৩ সালে তিনি রচনা করেন তাঁর প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’, যা বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- মায়া কাজল ,
- মন ও জীবন ,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
৬১০.
রামায়ণের একমাত্র মহিলা অনুবাদক 'চন্দ্রাবতী' কত শতকের কবি ছিলেন? 
  1. চৌদ্দ
  2. পনেরো
  3. ষোলো
  4. সতেরো
সঠিক উত্তর:
ষোলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষোলো
ব্যাখ্যা

• চন্দ্রাবতী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের ষোলো শতকের একজন উল্লেখযোগ্য নারী কবি।

• চন্দ্রাবতী:
- মহিলা কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণ রচনা করে পুরাতন বাংলা সাহিত্যর ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে গৌরব অর্জন করেন।
মধ্যযুগের তিনজন প্রধান নারী কবির একজন চন্দ্রাবতী। অপর দুইজন চণ্ডীদাস অনুরাগী রামী ও চৈতন্যের কৃপাপাত্রী মাধবী।
- চন্দ্রাবতীর পিতা ছিলেন মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- তিনি পিতার আদেশে 'রামায়ণ' অনুবাদে হাত দেন। কিন্তু তা সমাপ্ত করার পূর্বে মারা যান।
- তাঁর রচনার বৈশিষ্ট্য ষোড়শ শতাব্দীর সামাজিক অর্থনৈতিক অবস্থা প্রতিফলিত করা।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্যগুলো হলো:
- মালুয়া
- দস্যু কেনারামের পালা
- রামায়ণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬১১.
‘হুগলীর ইমামবাড়ি’ কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. ছোটগল্প
  2. কবিতা
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

‘হুগলীর ইমামবাড়ি’- স্বর্ণকুমারী দেবীর লেখা উপন্যাস। 

• 'হুগলীর ইমামবাড়ি’:
- স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রসিদ্ধ উপন্যাস হুগলীর ইমামবাড়ি রচিত হয়েছে হাজী মুহম্মদ মহসিনকে নিয়ে।
- হুগলীর ইমামবাড়ি’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট উনিশ শতকের হুগলি অঞ্চলের সামাজিক ও ধর্মীয় জীবন।
- উপন্যাসটি হাজী মুহম্মদ মহসিনের দানকৃত সম্পত্তি থেকে নির্মিত ইমামবাড়িকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।
- উপন্যাসটিতে ঐতিহাসিক ও কল্পনার মিশেল চমতকারভাবে ফুটে উঠেছে।
----------------------------------
স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন, যা তাকে প্রথম বাংলা মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন। ‘

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৬১২.
'একাত্তরের দিনগুলি' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. রাবিয়া খাতুন
  2. সেলিনা হোসেন
  3. আহমদ ছফা
  4. জাহানারা ইমাম
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
• একাত্তরের দিনগুলি:
- একাত্তরের দিনগুলি বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ।
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি।

- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস কেটেছে তাঁর একদিকে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ত্রাসের মধ্য দিয়ে; অন্যদিকে মনের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দুঃসহ দিনগুলিতে প্রাত্যহিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার বৃত্তান্ত লিখেছিলেন তিনি নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায়, গোপন ভঙ্গি ও সংকেতে।

- ১৯৮৬ সালে গ্রন্থরূপ পাওয়ার পর তা জনমনে বিপুল সাড়া জাগায়। বস্তুত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।

উৎস: 'একাত্তরের দিনগুলি' গ্রন্থ।
৬১৩.
সেলিনা হোসেনের রচনা কোনটি?
  1. একাত্তরের দিনগুলি
  2. একাত্তরের নিশান
  3. একাত্তরের ডায়েরী
  4. একাত্তরের ঢাকা
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের ঢাকা
ব্যাখ্যা
• সেলিনা হোসেনের রচনা - একাত্তরের ঢাকা
- এটি তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।

সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্‌ পুরস্কার (১৯৮৮), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বদেশে পরবাসী,
- একাত্তরের ঢাকা,
- নির্ভয় করো হে,
- মুক্তো করো ভয়,
- ঘর গেরস্থির রাজনীতি।

অন্যদিকে, 
• জাহানারা ইমামের রচনা - একাত্তরের দিনগুলি।
• রাবেয়া খাতুনের রচনা - একাত্তরের নিশান।
• সুফিয়া কামালের রচনা - একাত্তরের ডায়েরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬১৪.
'মৌসুমি ফুলের গান মোর কণ্ঠে জাগে নাকো আর
চারিদিকে শুনি হাহাকার।' - চরণদ্বয় কার লেখা?
  1. শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
  2. সেলিনা হোসেন
  3. শামসুর রাহমান
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• মৌসুমি ফুলের গান মোর কণ্ঠে জাগে নাকো আর
চারিদিকে শুনি হাহাকার। - চরণদ্বয় সুফিয়া কামালের লেখা।
- এটি তাঁর 'উদাত্ত পৃথিবী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'জাগো তবে অরণ্য কন্যারা' কবিতার চরণ।

জাগো তবে অরণ্য কন্যারা,
- সুফিয়া কামাল

মৌসুমি ফুলের গান মোর কণ্ঠে জাগে নাকো আর
চারিদিকে শুনি হাহাকার।
ফুলের ফসল নেই, নেই কারও কণ্ঠে আর গান
ক্ষুধার্ত ভয়ার্ত দৃষ্টি প্রাণহীন সব মুখ ম্লান ।
মাটি অরণ্যের পানে চায়
সেখানে ক্ষরিছে স্নেহ পল্লবের নিবিড় ছায়ায়।
জাগো তবে অরণ্য কন্যারা! জাগো আজি,
মর্মরে মর্মরে ওঠে বাজি
বৃক্ষের বক্ষের বহ্নিজ্বালা
মেলি লেলিহান শিখা তোমরা জাগিয়া ওঠো বলো।
কঙ্কণে তুলিয়া ছন্দ তান
জাগাও মুমূর্ষু ধরা-প্রান
ফুলের ফসল আনো, খাদ্য আনো ক্ষুধার্তের লাগি
আত্মার আনন্দ আনো, আনো যারা রহিয়াছে জাগি
তিমির প্রহর ভরি অতন্ত্র নয়ন, তার তরে
ছড়াও প্রভাত আলো তোমাদের মুঠি ভরে ভরে।

সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। 
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; উদাত্ত পৃথিবী, সুফিয়া কামাল।
৬১৫.
‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৮০ সালে
  3. ১৯৭৯ সালে
  4. ১৯৭৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছাস,
- পোকামাকড়ের ঘড়বসতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস।
৬১৬.
কোনটি নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস?
  1. বিশ শতকের মেয়ে
  2. যে অরণ্যে আলো নেই
  3. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  4. রোদ জ্বলা বিকেল
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের মেয়ে
ব্যাখ্যা
⇒ ‘বিশ শতকের মেয়ে’ নিলিমা ইব্রাহীম রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৮ সালে।

⇒ নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• প্রবন্ধ গবেষণাগ্রন্থ:
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি (২ খণ্ড ১৯৯৬-৯৭)।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬১৭.
নওয়াব ফয়জুন্নেসাকে 'নওয়াব' উপাধি প্রদান করেন কে?
  1. মহারানী ভিক্টোরিয়া
  2. বাংলার নবাব
  3. ব্রিটিশ রাজা
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
সঠিক উত্তর:
মহারানী ভিক্টোরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহারানী ভিক্টোরিয়া
ব্যাখ্যা

নবাব ফয়জুন্নেসা:
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নবাব ফয়জুন্নেসা কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। 
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি 'নবাব' উপাধি লাভ করেন।
-  বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃত বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি রয়েছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬১৮.
সুফিয়া কামাল রচিত 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সওগাত পত্রিকায়
  2. বেগম পত্রিকায়
  3. মোহাম্মদী পত্রিকায়
  4. তরুণ পত্রিকায়
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদী পত্রিকায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদী পত্রিকায়
ব্যাখ্যা

• 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতা:
- কবিতাটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে এবং প্রথম প্রকাশিত হয় মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়।
- কবিতাটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঝের মায়া'র অন্তর্গত। কবিতার মূল বক্তব্য- কবিজীবনের খ্যাতির অন্তরালে বেদনাকে স্মরণ।
- 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার স্তবক সংখ্যা ৫টি এবং পতি সংখ্যা ৩০টি।
- 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা।
- কবিতায় মাঘ ও ফাল্গুন দুটি বাংলা মাসের নামের উল্লেখ রয়েছে।

তাহারেই পড়ে মনে
- সুফিয়া কামাল
“হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়,
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”
কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-
“দখিন দুয়ার গেছে খুলি?
বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?
দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?”

----------------------
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

• গল্পগ্রন্থ: কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া, 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতা এবং 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ।

৬১৯.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’ কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা

'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'। মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি। হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে। আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
-  তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি, 
- জলোচ্ছাস,
- পোকামাকড়ের ঘড়বসতি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস।

৬২০.
‘মতিচুর’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) বেগম রোকেয়া
  4. ঘ) রাজিয়া মাহবুব
সঠিক উত্তর:
গ) বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।

রোকেয়ার উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর
- Sultana’s Dream
- পদ্মরাগ
- অবরোধবাসিনী ।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২১.
স্বর্ণকুমারী দেবীর পিতার নাম কী?
  1. জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. দ্বারকানাথ ঠাকুর
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণকুমারী সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রাখেন এবং জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল ও সাহিত্য কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে সক্রিয় স্বর্ণকুমারী দেবী বিধবা ও দরিদ্র নারীদের সাহায্যার্থে ’সখী সমিতি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ’জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে’ ভূষিত হন।
- ১৯২৯ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬২২.
'পৌরাণিক আখ্যায়িকা' গদ্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
কুসুমকুমারী দাশ:
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম 'পৌরাণিক আখ্যায়িকা'
- শিশুদের জন্যে তিনি 'কবিতা মুকুল' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী', 'ব্রহ্মবাদী', 'মুকুল' প্রভৃতি পত্রিকায়।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা পঙ্‌ক্তি - 'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২৩.
বেগম রোকেয়া রচিত ‘মতিচূর’ একটি -
  1. উপন্যাস
  2. কাব্য
  3. নকশাধর্মী রচনা
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'মতিচূর' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'মতিচূর' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচূর। রোকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলোও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতোই।
- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি।
- প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-'পিপাসা', 'স্ত্রীজাতির অবনতি', 'নিরীহ বাঙালি', 'অর্ধাঙ্গী', 'সুগৃহিণী', 'বোরকা' ও 'গৃহ'।
- দ্বিতীয় খণ্ডে ১০ প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।

---------------------------------
• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬২৪.
'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. কামিনী রায়
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ।

আদর্শ ছেলে
– কুসুম কুমারী দাশ

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, 
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন
‘মানুষ হইতে হবে‘ – এই যার পণ৷
বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান
নাই কি শরীরে তব রক্ত, মাংস, প্রাণ?
হাত পা সবারই আছে, মিছে কেন ভয়?
চেতনা রয়েছে যার, সে কি পড়ে রয়?
সে ছেলে কে চায় বল, কথায় কথায়
আসে যার চোখেজল, মাথা ঘুরে যায়?
মনে প্রাণে খাট সবে, শক্তি কর দান,
তোমরা ‘মানুষ’ হলে দেশের কল্যাণ৷
----------------------

• কুসুমকুমারী দাশ:

- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম 'পৌরাণিক আখ্যায়িকা'।
- শিশুদের জন্যে তিনি 'কবিতা মুকুল' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী', 'ব্রহ্মবাদী', 'মুকুল' প্রভৃতি পত্রিকায়। -
- তিনি ১৯৪৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও কুসুমকুমারী দাসের কবিতা।
৬২৫.
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. হুমায়ুন কবির
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

কামিনী রায়:
-  ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৬২৬.
'অভিযাত্রিক' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সেলিনা হোসেন
  4. জাহানারা ইমাম
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• 'অভিযাত্রিক' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - সুফিয়া কামাল

সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন। তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬২৭.
কামিনী রায় রচিত সনেট সংগ্রহ কোনটি?
  1. গুঞ্জন
  2. অম্বা
  3. জীবনপথে
  4. মাল্য ও নির্মাল্য
সঠিক উত্তর:
জীবনপথে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনপথে
ব্যাখ্যা
• 'জীবনপথে' কামিনী রায় রচিত একটি সনেট সংগ্রহ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে।

-----------------
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন। 

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬২৮.
নীলিমা ইব্রাহিম রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. যে অরণ্যে আলো নেই
  2. এক পথ দুই বাঁক
  3. রোদ জ্বলা বিকেল
  4. সূর্যাস্তের পর
সঠিক উত্তর:
এক পথ দুই বাঁক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক পথ দুই বাঁক
ব্যাখ্যা
'এক পথ দুই বাঁক' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি উপন্যাস। 

-------------------
নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
-বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
-অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬২৯.
স্বর্ণকুমারী দেবী কত সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ’জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে’ ভূষিত হন?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯২৭ সালে
  3. ১৯১৭ সালে
  4. ১৯০৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা
স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী। তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ’জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে’ ভূষিত হন।
- তিনি ৩রা জুলাই, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা,
- কবিতা ও গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬৩০.
'যাপিত জীবন' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের
  2. উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার
  3. রংপুরের কৃষক আন্দোলনের
  4. ভাষা আন্দোলনের
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলনের
ব্যাখ্যা
• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের আলেচিত উপন্যাস 'যাপিত জীবন'। এই উপন্যাসের পটভূমি ভাষা আন্দোলন।
- নায়ক জাফর বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধিত্ব করে। কাহিনির পরতে পরতে বাঙালির শেকড়চিন্তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক প্রতিচিত্র। এই উপন্যাস মূলত প্রতীকী ভাবনায় বাংলা ও বাঙালির শেকড় ও অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে। জাফর হয়ে ওঠে বাঙালির বলিষ্ঠ কণ্ঠের উৎসারণ।

-------------------------
• সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন। তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচিত উপন্যাস 'হাঙ্গর নদী গ্রেনেড'। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি' উপন্যাস।
৬৩১.
'গেরিলা ও বীরাঙ্গনা' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. ক) বেগম সুফিয়া কামাল
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
গ) সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

• কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের জন্ম রাজশাহী শহরে এবং তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।

• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- কাঁটাতারের প্রজাপতি,
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- জলোচ্ছ্বাস (প্রথম উপন্যাস),
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- আগষ্টের একরাত,
- খুন ও ভালোবাসা,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- অপেক্ষা,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা,
- ঘুমকাতুরে ঈশ্বর,
- পূর্ণছবির মগ্নতা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬৩২.
কোনটি সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস?
  1. ময়ূরীর মুখ
  2. পোকামাকড়ের ঘড়বসতি
  3. খোল করতাল
  4. কালো বরফ
সঠিক উত্তর:
পোকামাকড়ের ঘড়বসতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোকামাকড়ের ঘড়বসতি
ব্যাখ্যা

সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছাস,
- পোকামাকড়ের ঘড়বসতি ইত্যাদি।

'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস:
- 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরি দ্বীপ নামক এক ছোটো দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মালেক, সাফিয়া, তোরাব আলী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
সেলিনা হোসেন রচিত গল্পগ্রন্থ - খোল করতাল।
সালেহা চৌধুরী রচিত উপন্যাস - ময়ূরীর মুখ।
মাহমুদুল হক রচিত উপন্যাস - কালো বরফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৩৩.
জাহানারা ইমাম পেশায় কী ছিলেন?
  1. ডাক্তার
  2. শিক্ষিকা
  3. সাংবাদিক
  4. উকিল
সঠিক উত্তর:
শিক্ষিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষিকা
ব্যাখ্যা
• জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।
- কর্ম জীবনে তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- একাত্তরের দিনগুলি (বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ)
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি,
- একাত্তরের দিনগুলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৬৩৪.
‘বং থেকে বাংলা’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. রাহাত খান
  2. মাহমুদুল হক
  3. রিজিয়া রহমান
  4. রাজিয়া খান
সঠিক উত্তর:
রিজিয়া রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিজিয়া রহমান
ব্যাখ্যা
রিজিয়া রহমান রচিত গ্রন্থ হলো:
- বং থেকে বাংলা,
- উত্তর পুরুষ,
- ঘর ভাঙা ঘর,
- ধবল জোসনা,
- প্রেম আমার প্রেম ইত্যাদি।
(সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর)
৬৩৫.
‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ সেলিনা হোসেন এর কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. প্রহসন
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. কাব্যগ্রন্থ 
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ সেলিনা হোসেন এর রচিত উপন্যাস।
---------------------
• 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি’:

- সেলিনা হোসেনের ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ উপন্যাসে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদী ও চরের জেলে জনগোষ্ঠীর কঠিন জীবনচিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- এখানে তাদের দারিদ্র্য, স্বপ্নভঙ্গ, জমি দখল ও শোষণের বিরুদ্ধে টিকে থাকার সংগ্রাম ফুটে ওঠে।
- মালেক নামের এক সাহসী যুবক এই নিপীড়িত মানুষদের নেতৃত্ব দিয়ে নতুন জীবনের আশার কথা বলে।
- এখানে ‘পোকামাকড়’ উপমার মাধ্যমে তুচ্ছ ও অবহেলিত জীবন থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করা হয়েছে।
-------------------------------
সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও গবেষক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ জুন, ১৯৪৭ সালে রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে। 
- তার রচনায় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নারী ও সমাজের জীবনচিত্র উঠে এসেছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

• সেলিনা হোসেনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’,
- ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’,
- ‘যাপিত জীবন’,
- ‘নীল ময়ূরের যৌবন’,
- ‘জ্যোস্নায় সূর্যজ্বালা’,
- ‘পদশব্দ’,
- ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’ (তিন খণ্ড),
- ‘ক্ষরণ’,
- ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৬৩৬.
'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' নাটকটি কে লিখেছেন?
  1. আনিস চৌধুরী
  2. সেলিম আল দীন
  3. নীলিমা ইব্রাহীম
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• 'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান। 
- ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।
-------------------------  
শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

তাঁর রচিত নাটক: 
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নম হইতে বিদায়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৩৭.
'স্বদেশে পরবাসী' প্রবন্ধটি কার রচনা?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. শহীদুল্লা কায়সার
  3. সেলিনা হোসেন
  4. আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

• 'স্বদেশে পরবাসী' প্রবন্ধের রচয়িতা - সেলিনা হোসেন।

সেলিনা হোসেন:
- কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন, রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিনা হোসেন বর্তমানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ পরবাসী,
- একাত্তরের ঢাকা,
- নির্ভয় করো হে।

তার রচিত গল্প:
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনূঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা,
- মৃত্যুর নীল পদ্ম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৩৮.
‘ফেরারী সূর্য’ কার লেখা?
  1. ক) রাবেয়া খাতুন
  2. খ) রিজিয়া খান
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহিম
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
ক) রাবেয়া খাতুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাবেয়া খাতুন
ব্যাখ্যা

'ফেরারী সূর্য' উপন্যাসের রচয়িতা রাবেয়া খাতুন। তিনি পেশায় শিক্ষক ও সাংবাদিক। তার অন্যান্য উপন্যাস :বায়ান্ন গলির এক গলি, অনন্ত অন্বেষা, মধুমতি, সাহেব বাজার।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।