বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন

মোট প্রশ্ন২৬৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ২৬৫

.
কোন শব্দটি পরোক্ষ উক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. ইহা
  2. এখানে
  3. আগেরদিন
  4. এখন
সঠিক উত্তর:
আগেরদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগেরদিন
ব্যাখ্যা

প্রত্যক্ষরূপ - পরোক্ষরূপ:
• আগামীকাল - পরদিন,
• এই - সেই,
ইহা - তাহা,
• গতকাল - আগেরদিন,
• আজ - সেদিন,
• গতকল্য - পূর্বদিন,
এখানে - সেখানে,
• ওখানে - ঐখানে,
এখন - তখন,
• এ - সে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

.
হামিদ বলল, “তোমরা আগামীকাল এসো।”- উক্তিটির পরোক্ষ উক্তি কোনটি?
  1. হামিদ বলল যে, তোমরা পরেরদিন এসো।
  2. হামিদ বলল যে, তোমরা আগামীকাল এসো।
  3. হামিদ তাদের পরদিন আসতে বলল।  
  4. হামিদ তাদের বলল পরেরদিন এসো।
সঠিক উত্তর:
হামিদ তাদের পরদিন আসতে বলল।  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হামিদ তাদের পরদিন আসতে বলল।  
ব্যাখ্যা
উক্তি:  
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
- যেমন:   
• ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।” - এটি প্রত্যক্ষ উক্তি। 
• ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। - এটি পরোক্ষ উক্তি।  

- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি। 
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।   

♠ প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যেমন:   
• রফিক হেসে বললো, “আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।” 
• কালো চুলের মানুষটি বলল, “দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।” 

উক্তি পরিবর্তন:  
♣ প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
- যেমন:  
• প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, “আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।”
• পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান। 

♣ প্রশ্নবোধক, অনুজ্ঞাসূচক ও আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে হলে প্রধান খণ্ডবাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়। - যেমন: 
♠ অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:  
• প্রত্যক্ষ উক্তি: হামিদ বলল, “তোমরা আগামীকাল এসো।” 
• পরোক্ষ উক্তি: হামিদ তাদের পরদিন আসতে (বা যেতে) বলল। 

• প্রত্যক্ষ উক্তি: তিনি বললেন, “দয়া করে ভেতরে আসুন।”
• পরোক্ষ উক্তি: তিনি (আমাকে) ভেতরে যেতে অনুরোধ করলেন।    

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'এরা অন্য জাতের মানুষ।' - এ বাক্যের প্রশ্নবাচক রূপ কোনটি?
  1. ক) এরা কোন জাতের মানুষ?
  2. খ) আপনি কি জানেন, এরা কোন জাতের মানুষ?
  3. গ) এরা ভিন্ন গ্রহের মানুষ?
  4. ঘ) এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?
সঠিক উত্তর:
ঘ) এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?
ব্যাখ্যা
'এরা অন্য জাতের মানুষ।' - বাক্যের প্রশ্নবাচক রূপ-
'এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?'

অস্তিবাচক বাক্যকে প্রশ্নবাচক বাক্যে রূপান্তরের সূত্র :
১. মৌলিক বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে বাক্য পরিবর্তন করতে হয় ।
২. কর্তার পরে প্রশ্নবাচক অব্যয় ব্যবহার করতে হয়।
৩. ক্রিয়ার পরে নঞর্থক অব্যয় ব্যবহার করতে হয়।
৪. বাক্য শেষে প্রশ্নবােধক জিজ্ঞাসা চিহ্ন (?) ব্যবহার করতে হয়
যেমন: অস্তিবাচক : ফুলকে সকলেই ভালােবাসে।
প্রশ্নবাচক : ফুলকে কি সকলেই ভালােবাসে না?
অস্তিবাচক ; শৈশবে তার বাবা মারা যান।
প্রশ্নবাচক : শৈশবে কি তার বাবা মারা যাননি?
অস্তিবাচক : বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
প্রশ্নবাচক : বাংলাদেশ কি একটি উন্নয়নশীল দেশ নয়?

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিম্নলিখিত বাক্যটি পরোক্ষ উক্তিতে রূপান্তর করুন:
সোহেল বলল, "আমি এখানে থাকব"।
  1. সোহেল বলল, "আমি সেখানে থাকব।"
  2. সোহেল বলল যে, সে সেখানে থাকবে। 
  3. সোহেল জানাল যে আমি এখানে থাকব।
  4. সোহেল বলল, "সে এখানে থাকবে।
সঠিক উত্তর:
সোহেল বলল যে, সে সেখানে থাকবে। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোহেল বলল যে, সে সেখানে থাকবে। 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর — খ) সোহেল বলল যে, সে সেখানে থাকবে।

ব্যাখ্যা:
প্রত্যক্ষ উক্তি: বলল সোহেল, "আমি এখানে থাকব"।
সঠিক পরোক্ষ উক্তি: সোহেল বলল যে, সে সেখানে থাকবে।

উক্তি রূপান্তরের নিয়মসমূহ:
১. পুরুষের পরিবর্তন:
"আমি" → "সে" (প্রথম পুরুষ থেকে তৃতীয় পুরুষে)।

২. স্থানের পরিবর্তন:
"এখানে" → "সেখানে" (নিকট স্থান থেকে দূর স্থানে)।

৩. বাক্য গঠন:
উদ্ধৃতি চিহ্ন সরিয়ে "যে" সংযোজক অব্যয়।

৪. ক্রিয়ার রূপ:
"থাকব" → "থাকবে" (পুরুষ অনুযায়ী পরিবর্তন)।

অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল:
ক) এখনও প্রত্যক্ষ উক্তি (উদ্ধৃতি চিহ্ন আছে) এবং পুরুষ পরিবর্তন হয়নি।
গ) পুরুষ ও স্থান পরিবর্তন হয়নি ("আমি এখানে" রয়ে গেছে)।
ঘ) এখনও প্রত্যক্ষ উক্তি (উদ্ধৃতি চিহ্ন আছে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

.
“দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।”- বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি? 
  1. দুর্জন লোককে পরিত্যাগ করা উচিত।
  2. দুর্জন লোক মাত্রই পরিত্যাগ করতে হবে। 
  3. যে লোক দুর্জন, সে পরিত্যাজ্য।
  4. দুর্জন লোক মাত্রই পরিত্যাজ্য।
সঠিক উত্তর:
যে লোক দুর্জন, সে পরিত্যাজ্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে লোক দুর্জন, সে পরিত্যাজ্য।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য:
- সরল বাক্য সেই বাক্য, যার মধ্যে একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।
- যেমন- সে ভাত খেয়ে কলেজে গেল।
- অনেক সময় সরল বাক্যে ক্রিয়া উপস্থিত না থেকেও অর্থ প্রকাশ সম্ভব।
- যেমন- আমরা চার বন্ধু।
- এছাড়া, একাধিক ক্রিয়া থাকলেও বাক্যটি সরল থাকতে পারে।
- যেমন- সে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে হাঁটতে হাঁটতে পার্কে গেল।
- মূলত, সরল বাক্যে একটি প্রধান ক্রিয়া বা সমাপিকা ক্রিয়া থাকলেই এটি সরল বাক্য হিসেবে গণ্য হয়।

জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীনে এক বা একাধিক অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্য থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলা হয়।
- এসব খণ্ডবাক্য সাধারণত সাপেক্ষ সর্বনাম বা সাপেক্ষ যোজকের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে।
- যেমন— যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক ব্যবহার করে প্রধান ও আশ্রিত খণ্ডবাক্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
- “দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য"- সরল বাক্যটির জটিল রূপ- যে লোক দুর্জন, সে পরিত্যাজ্য।

- ব্যাখ্যা:
- সরল বাক্য “দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য”-কে জটিল বাক্যে রূপান্তর করার সময় মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত রাখতে হয়।

- সূত্র অনুযায়ী:
• সাপেক্ষ সর্বনাম ব্যবহার:
- সরল বাক্যের “দুর্জন লোক” অংশটি যে দিয়ে শুরু করে আশ্রিত খণ্ডবাক্যে রূপান্তর করা হয়েছে → “যে লোক দুর্জন”।

• খণ্ডবাক্য নির্ধারণ:
- আশ্রিত খণ্ডবাক্য: যে লোক দুর্জন;
- প্রধান খণ্ডবাক্য: সে পরিত্যাজ্য। 

• কমা ব্যবহার:
- আশ্রিত খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসিয়ে প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

- ফলত, “যে লোক দুর্জন, সে পরিত্যাজ্য।” বাক্যটি একটি জটিল বাক্য, যেখানে একটি আশ্রিত খণ্ডবাক্য এবং একটি প্রধান খণ্ডবাক্য আছে, এবং অর্থ মূল বাক্যের মতই রক্ষা করা হয়েছে।
------------------- 
অন্যদিকে,
• দুর্জন লোককে পরিত্যাগ করা উচিত-
- এটি একটি সরল বাক্য, কোনো আশ্রিত খণ্ডবাক্য নেই।

• দুর্জন লোক মাত্রই পরিত্যাজ্য-
- এটি ও একটি সরল বাক্য, শুধু মূল ভাব প্রকাশ করেছে, আশ্রিত খণ্ডবাক্য নেই।

• দুর্জন লোক মাত্রই পরিত্যাগ করতে হবে-
- এটি একটি সরল বাক্য, যার মধ্যে কোনো আশ্রিত বা প্রধান খণ্ডবাক্য নেই।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

.
লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"- উক্তিটির পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. লোকটি বললেন যে, তিনি আগামীকাল সেখানে আবার যাবেন।
  2. লোকটি বললেন, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
  3. লোকটি বললেন যে, সে আগামীকাল সেখানে আবার যাবেন।
  4. লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
সঠিক উত্তর:
লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন-
প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
.
পাভেল বললো, “আমার জানামতে সাগর এ বাসায় থাকে।”- উক্তিটির পরোক্ষ উক্তি নিচের কোনটি?
  1. পাভেল বললো যে, আমার জানামতে সাগর সে বাসায় থাকতো। 
  2. পাভেল বললো যে, তার জানামতে সাগর এ বাসায় থাকতো। 
  3. পাভেল বললো যে, তার জানামতে সাগর সে বাসায় থাকতো।  
  4. পাভেল বললো যে, তার জানামতে সে এ বাসায় থাকতো।
সঠিক উত্তর:
পাভেল বললো যে, তার জানামতে সাগর সে বাসায় থাকতো।  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাভেল বললো যে, তার জানামতে সাগর সে বাসায় থাকতো।  
ব্যাখ্যা
উক্তি পরিবর্তন:   
♣ প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
- যেমন:  
• প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, “আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।”
• পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

♣ অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।  
- যেমন:   
• প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, “আমার জানামতে সবুজ বাসায় থাকে।”
• পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।    

• প্রত্যক্ষ উক্তি: রশিদ বলল, “আমার ভাই আজই ঢাকা যাচ্ছেন।”
• পরোক্ষ উক্তি: রশিদ বলল যে, তার ভাই সেদিনই ঢাকা যাচ্ছিলেন।   

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি পরোক্ষ উক্তির শব্দ?
  1. ক) এই
  2. খ) আগামীকাল
  3. গ) তখন
  4. ঘ) ওখানে
সঠিক উত্তর:
গ) তখন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তখন
ব্যাখ্যা
'তখন'- পরোক্ষ উক্তির শব্দ। 

• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ রূপ:
প্রত্যক্ষ- পরোক্ষ 
এখন - তখন 
আগামীকাল - পরদিন  
ইহা - তাহা
গতকাল - আগেরদিন
আজ - সেদিন 
ওখানে - ঐখানে
গতকল্য - পূর্বদিন 
এখানে - সেখানে 
এ - সে 

উৎস; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)। 
.
'হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।' - বাক্যটির নেতিবাচক রূপ কোনটি?
  1. হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল না।
  2. হৈমন্তী চুপ না করিয়া রহিল।
  3. হৈমন্তী কোন কথা না বলিয়া রহিল না।
  4. হৈমন্তী কোন কথা বলিল না।
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী কোন কথা বলিল না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী কোন কথা বলিল না।
ব্যাখ্যা
• বিবৃতিমূলক বা  নির্দেশাত্মক বাক্যকে, ক. অস্তিবাচক ও খ. নেতিবাচক - এই দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে, অর্থানুসারে শ্রেণিভুক্ত সাত প্রকারের বাক্যকে সামগ্রিকভাবে দুটি মৌল শ্রেণিতে ভাগ করা যায়; সে দুটি হলো - অস্তিবাচক ও নেতিবাচক বাক্য। কেননা প্রতিটি শ্রেণিতেই আছে বক্তব্যের প্রতিষ্ঠাকে স্বীকৃতির ও অস্বীকৃতির দুটি দিক।

অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বা হাঁ-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনা, ভাব বা বক্তব্যের অস্তিত্ব বা হাঁ-সূচক অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন - 
- 'হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া উঠিল।'

নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বা না-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনায়, কাজে, বা ভাবে অস্বীকৃতি, অনস্তিত্ব, নিষেধ বা না-সূচক অর্থ বোঝায় তাকে নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন -
- 'হৈমন্তী কোন কথা বলিল না।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।'

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
"যখন বৃষ্টি থামল, তখন আমরা বাড়ি রওনা হলাম।" - বাক্যটির যৌগিকরূপ কোনটি?
  1. বৃষ্টি থামলে আমরা বাড়ি রওনা হব।
  2. বৃষ্টি থামল এবং আমরা বাড়ি রওনা হলাম।
  3. যেহেতু বৃষ্টি থামল, তাই আমরা বাড়ি রওনা হলাম।
  4. বৃষ্টি থামার পরে আমরা বাড়ি রওনা হলাম।
সঠিক উত্তর:
বৃষ্টি থামল এবং আমরা বাড়ি রওনা হলাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃষ্টি থামল এবং আমরা বাড়ি রওনা হলাম।
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
- আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে। জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
- সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।

যেমন:
জটিল বাক্য: যখন বৃষ্টি থামল, তখন আমরা বাড়ি রওনা হলাম।
যৌগিক বাক্য: বৃষ্টি থামল এবং আমরা বাড়ি রওনা হলাম।

জটিল: যদি পরিশ্রম কর, তাহলে ফল পাবে।
যৌগিক: পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।

জটিল: যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
যৌগিক: সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
প্রত্যক্ষ উক্তির 'ইহা পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. ক) তাহা
  2. খ) ওটা
  3. গ) সেটা
  4. ঘ) ওহা
সঠিক উত্তর:
ক) তাহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তাহা
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তির 'ইহা' পরোক্ষ উক্তিতে হবে - তাহা।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু উক্তি পরিবর্তন:
প্রত্যক্ষ  -  পরোক্ষ
এই  -  সেই।
ইহা  -  তাহা/উহা।
এখানে - ওইখানে।
আগামীকাল - পরদিন।
গতকল্য - পূর্বদিন।
এটা - ওটা/সেটা।
এ - সে।
আজ - সেদিন।
গতকাল - আগেরদিন।
এখন - তখন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১২.
'আমি অত্যন্ত দুর্বল, তাই আমি কোনো কাজ করতে পারছি না।'- এই বাক্যের সরল রূপ কী?
  1. আমি অত্যন্ত দুর্বল হইলে কাজ করি না।
  2. আমি দুর্বল, তাই কোনো কাজ করিনি।
  3. আমি দুর্বল এবং আমি অলস, তাই কাজ করছি না।
  4. অত্যন্ত দুর্বলতাবশত আমি কোনো কাজ করতে পারছি না।
সঠিক উত্তর:
অত্যন্ত দুর্বলতাবশত আমি কোনো কাজ করতে পারছি না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অত্যন্ত দুর্বলতাবশত আমি কোনো কাজ করতে পারছি না।
ব্যাখ্যা
আমি অত্যন্ত দুর্বল, তাই আমি কোনো কাজ করতে পারছি না।- এই বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য।

• এই বাক্যের সরলরূপ: অত্যন্ত দুর্বলতাবশত আমি কোনো কাজ করতে পারছি না। 

• যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরিত করার নিয়ম:
- বাক্য পরিবর্তন হলেও অর্থের পরিবর্তন হয় না।
- বাক্যটিকে একটি অংশে পরিণত করতে হয়।
- সংযোজক, বিয়োজক ইত্যাদি অব্যয় পদ থাকলে তা বর্জন করতে হয়।
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া।
- তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।
উদাহরণ:
যৌগিক বাক্য: তুমি আসবে এবং আমি যাব।
সরল বাক্য: তুমি এলে আমি যাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
শিক্ষক বললেন, “সূর্য থেকে বিকিরণ পদ্ধতিতে পৃথিবীতে তাপ আসে।”- বাক্যের পরোক্ষ উক্তি কোনটি?
  1. শিক্ষক বলল যে, সূর্য থেকে পদ্ধতিতে পৃথিবীতে তাপ আসে।
  2. শিক্ষক বললেন যে, সূর্য থেকে বিকিরণ পদ্ধতিতে পৃথিবীতে তাপ আসে।
  3. শিক্ষক বলিলেন যে, সূর্য থেকে বিকিরণ পদ্ধতিতে পৃথিবীতে তাপ আসতে পারে।
  4. শিক্ষক বললেন যে, সূর্য থেকে বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ আসে।
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক বললেন যে, সূর্য থেকে বিকিরণ পদ্ধতিতে পৃথিবীতে তাপ আসে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক বললেন যে, সূর্য থেকে বিকিরণ পদ্ধতিতে পৃথিবীতে তাপ আসে।
ব্যাখ্যা

• উল্লেখিত প্রশ্নের পরোক্ষ উক্তি হচ্ছে- শিক্ষক বললেন যে, সূর্য থেকে বিকিরণ পদ্ধতিতে পৃথিবীতে তাপ আসে।

• প্রত্যক্ষ উক্তিতে চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়ার কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, “চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।”
পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।

আবার,
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব ।”
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

১৪.
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসকে ____ বলে।
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) উদ্দেশ্য
সঠিক উত্তর:
খ) আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আসত্তি
ব্যাখ্যা
বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলাের মাঝে অর্থের সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য সুশৃঙ্খলভাবে পদ বিন্যাসকেই বলা হয় ক্রম বা আসত্তি। যেমন- আছে নামে যন্ত্র এক রকম অনুবীক্ষণ। এখানে শব্দগুলাে এলােমেলােভাবে সাজানাে হয়েছে এবং শব্দগুলাের মধ্যে কোনাে অর্থগত মিল নেই। সুতরাং এটি বাক্য নয়। কিন্তু যদি বলা হয়- অণুবীক্ষণ নামে এক রকম যন্ত্র আছে। এখানে বাক্যের শব্দগুলাে। সঠিকভাবে সাজানাে হয়েছে এবং বাক্যের অর্থ প্রকাশে কোনাে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়নি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫.
কামাল বলল, "বাহ! পাখিটি তো চমৎকার।" - বাক্যটির পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. কামাল বলল, পাখিটি চমৎকার।
  2. কামাল আনন্দের সাথে বলেছিল, পাখিটি অনেক চমৎকার।
  3. কামাল বলল, পাখিটি খুব চমৎকার।
  4. কামাল আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।
সঠিক উত্তর:
কামাল আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামাল আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।
ব্যাখ্যা
• কামাল বলল, "বাহ! পাখিটি তো চমৎকার।" - এর সঠিক পরোক্ষ উক্তি - কামাল আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।

• আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তিত করার সময় নিম্নলিখিত বাক্যাংশগুলো ব্যবহার করতে হয়।
যেমন- আনন্দের সাথে/ আক্ষেপের সাথে/ দুঃখের সাথে/বিরক্তিভরে/বিস্ময়ের সাথে + বলল/বললেন/ বললাম + যে।

• অতপর খণ্ড বাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন-
প্রত্যক্ষ : লোকটি বলল, “বাঃ! পাখিটি তো চমৎকার।”
পরোক্ষ : লোকটি আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
'মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।' - কে বলেছেন?
  1. কাজী আব্দুল ওদুদ
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকু্র
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মোতাহের হোসেন চৌধুরীর মৃত্যুর পর সিকান্দার আবু জাফরের সমকাল প্রকাশনী কতৃক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রবন্ধগুলো নিয়ে প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'সংস্কৃতি কথা'।
- ত্রিশটি প্রবন্ধ একত্রিত করে 'সংস্কৃতি কথা' শিরোনামে তাঁর প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ বের করে বাংলা একাডেমি ১৯৭০ সালে।

'সংস্কৃতির কথা' প্রবন্ধগ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি:
- 'মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।',
- 'ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭.
প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে ব্যবহৃত হয়-
  1. সেমিকোলন
  2. উদ্ধারচিহ্ন
  3. কোলন
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উদ্ধারচিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্ধারচিহ্ন
ব্যাখ্যা
• উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন:
ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।" এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরোক্ষ উক্তি।

যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি। আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
- কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।"

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৮.
“তিনি আমাকে পাঁচশত টাকা দিয়ে বাড়ি যেতে বললেন।” - বাক্যের যৌগিক রূপ হবে -
  1. ক) তিনি আমাকে পাঁচশত টাকা দেয়ার পর বাড়ি চলে যেতে বললেন।
  2. খ) তিনি আমাকে পাঁচশত টাকা দিলেন তথাপি বাড়ি যেতে বললেন।
  3. গ) তিনি আমাকে পাঁচশত টাকা দেয়া মাত্রই বাড়ি যেতে বললেন।
  4. ঘ) তিনি আমাকে পাঁচশত টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।
সঠিক উত্তর:
ঘ) তিনি আমাকে পাঁচশত টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তিনি আমাকে পাঁচশত টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।
ব্যাখ্যা

সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়। এবং যথাসম্ভব সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয়ের প্রয়োগ করতে হয়।
বাক্যটির যৌগিক রূপ হবে - “তিনি আমাকে পাঁচশত টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।”
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

১৯.
আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি। - বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. আমি বহু কষ্ট করেছি তাই শিক্ষা লাভ করেছি।
  2. বহু কষ্ট করছি এবং আমি শিক্ষা লাভ করেছি।
  3. যেহেতু বহু কষ্ট করেছি, তাই আমি শিক্ষা লাভ করেছি।
  4. আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।
সঠিক উত্তর:
আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোনো অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।
- এবং যথাসম্ভব সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয়ের প্রয়োগ করতে হয়।

যেমন:
সরল বাক্য: আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।
যৌগিক বাক্য: আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।

সরল বাক্য: তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিয়ে বাড়ি যেতে বললেন।
যৌগিক বাক্য: তিনি আমাকে পাঁচটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।

সরল বাক্য: পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত।
যৌগিক বাক্য: এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত, তবেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২০.
সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করতে একাধিক____ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়?
  1. দ্বিকর্মক
  2. অসমাপিকা
  3. প্রযোজক 
  4.  সমাপিকা
সঠিক উত্তর:
 সমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 সমাপিকা
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করার নিয়ম:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
• সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
• যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।

• সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
• যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

• সরল বাক্য: এখন পরবালের কর্ম না করিলে কবে করিব?
• যৌগিক বাক্য: এখন পরকালের কর্ম করিব, নাতো কবে করিব?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২১.
'কলম থাকলে লেখা যেত।' - বাক্যটির জটিল রূপ কী হবে?
  1. কলম থাকলে না হয় লেখা যেত।
  2. কলম থাকলেও লেখা যেত না।
  3. যদি কলম থাকত, তাহলে লেখা যেত।
  4. যতি একটি কলম থাকতো এবং লেখা যেত।
সঠিক উত্তর:
যদি কলম থাকত, তাহলে লেখা যেত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদি কলম থাকত, তাহলে লেখা যেত।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল পরিবর্তন:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন
সরল বাক্য: কলম থাকলে লেখা যেত।
জটিল বাক্য: যদি কলম থাকত, তাহলে লেখা যেত।

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২২.
ছাত্ররা বলল, "কী মজা! আজ আমাদের ছুটি হবে।” বাক্যটির পরোক্ষ উক্তি হলো- 
  1. ছাত্ররা আনন্দে বলল যে আজ তাদের ছুটি হবে।
  2. ছাত্ররা আনন্দের সাথে  বলল যে আজ আমাদের ছুটি হবে।
  3. ছাত্ররা আনন্দের সাথে  বলল যে সেদিন তাদের ছুটি হবে।
  4. ছাত্ররা বিস্ময়ে বলল, "আজ তাদের ছুটি হবে"।
সঠিক উত্তর:
ছাত্ররা আনন্দের সাথে  বলল যে সেদিন তাদের ছুটি হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাত্ররা আনন্দের সাথে  বলল যে সেদিন তাদের ছুটি হবে।
ব্যাখ্যা

• ছাত্ররা বলল, "কী মজা! আজ আমাদের ছুটি হবে।” বাক্যটির পরোক্ষ উক্তি হলো- 
- ছাত্ররা আনন্দের সাথে  বলল যে সেদিন তাদের ছুটি হবে।

প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উক্তি:
- বাংলা ব্যাকরণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উক্তি এর মধ্যে মূল পার্থক্য হলো উক্তি কিভাবে প্রকাশ করা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ,
• প্রত্যক্ষ উক্তি:
 “কী মজা! আজ আমাদের ছুটি হবে।” – এখানে ছাত্ররা নিজের মতো করে আনন্দ প্রকাশ করেছে এবং ‘আজ’ শব্দ ব্যবহার করে বর্তমান সময় নির্দেশ করেছে।
- এখানে মূল উক্তির ‘আনন্দ’ ভাবটি ‘কী মজা!’ দ্বারা প্রকাশ পেয়েছে, যা পরোক্ষ উক্তিতে সংক্ষেপে প্রকাশ করা হয়েছে।
পরোক্ষ উক্তি:
 ছাত্ররা আনন্দে বলল যে সেদিন তাদের ছুটি হবে।
- এখানে বক্তার কথা অন্য ভাষায় পুনর্গঠন করা হয়েছে। 
- ‘আজ’ শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে ‘সেদিন’ হয়েছে, এবং ‘কী মজা!’–এর মতো আবেগসূচক শব্দ বাদ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- পরোক্ষ উক্তিতে রূপান্তর করার নিয়মগুলো হলো:
 ১. বর্ণনামূলক ক্রিয়ার পরিবর্তন: ‘বলল’ শব্দের পরিবর্তে আবেগ অনুযায়ী ব্যবহার করতে হয়, যেমন—‘আনন্দে বলল’, ‘দুঃখ করে বলল’, ‘বিস্ময়ে বলল’।
 ২. উদ্ধৃতি চিহ্ন ও যোজক: উদ্ধৃতি চিহ্ন তুলে ‘যে’ বা ‘যাতে’ যোগ করতে হয়।
 ৩. আবেগসূচক শব্দ অপসারণ: ‘আহা!’, ‘ওহ!’ ইত্যাদি শব্দ বাদ দিতে হয়।
 ৪. বিশেষণ ও ক্রিয়ার পরিবর্তন: ‘কী’ বা ‘কেমন’ দিয়ে শুরু হওয়া বাক্যকে ‘খুব’ বা ‘বেশি’ দিয়ে পুনর্গঠন করা যায়।
 ৫. সর্বনাম ও কালের পরিবর্তন: প্রথম পুরুষের সর্বনাম দ্বিতীয় বা তৃতীয় পুরুষে পরিবর্তিত হয়, এবং বর্তমান কাল অতীত কালে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩.
রাইতুল বলল 'তোমরা আগামীকাল এসো।'- পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. রাইতুল তাদের পরদিন আসতে বলল।
  2. রাইতুল তাদের বলল যে তারা যেন আগামী কাল আসে।
  3. রাইতুল তাদের বলল যে তোমরা আগামীকাল আসো।
  4. রাইতুল তাদের বললো যে তারা যেন পরদিন আসে।
সঠিক উত্তর:
রাইতুল তাদের পরদিন আসতে বলল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইতুল তাদের পরদিন আসতে বলল।
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নবােধক, অনুজ্ঞাসূচক ও আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরােক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে হলে প্রধান খণ্ডবাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন-
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
প্রত্যক্ষ উক্তি: রাইতুল বলল, “তােমরা আগামীকাল এসাে।”
পরােক্ষ উক্তি: রাইতুল তাদের পরদিন আসতে (বা যেতে) বলল।

প্রত্যক্ষ উক্তি: তিনি বললেন, “দয়া করে ভেতরে আসুন।”
পরোক্ষ উক্তি: তিনি আমাকে ভেতরে যেতে অনুরোধ করলেন।

উৎস; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম - দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪.
'আমি আছি, ভয় কেন মা করো? কোন ধরণের উক্তি?
  1. প্রশ্নবোধক
  2. প্রত্যক্ষ
  3. পরোক্ষ
  4. পুনরুক্ত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যক্ষ
ব্যাখ্যা
• উক্তি: বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি।
যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- যেমন: ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি। 

• পরােক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
- যেমন: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।- এটি পরােক্ষ উক্তি।

প্রদত্ত 'আমি আছি, ভয় কেন মা করো? উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত হয়েছে। সুতরাং এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২৫.
‘রুম ঝুমঝুম মঞ্জীরে বাজে কঙ্কণ মণিবন্ধে’- বাক্যে ‘মণিবন্ধ’ এর সম্প্রসারিত রূপ-
  1. ক) হাতের চতুর্থ আঙ্গুল
  2. খ) হাতের কব্জি
  3. গ) হাতের কনুই থেকে কব্জি পর্যন্ত অংশ
  4. ঘ) হাতের কব্জি থেকে আঙ্গুলের ডগা পর্যন্ত
সঠিক উত্তর:
খ) হাতের কব্জি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাতের কব্জি
ব্যাখ্যা
মণিবন্ধ[মোনিবন্‌ধো] (বিশেষ্য) হাতের কবজি (রুম ঝুমঝুম মঞ্জীর বাজে কঙ্কণ মণিবন্ধে-কাজী নজরুল ইসলাম)। {(তৎসম বা সংস্কৃত) মণি+বন্ধ}। সূত্র- অভিগম্য অভিধান, বাংলা একাডেমী।
২৬.
'ভিক্ষুককে দান কর।' - বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।
  2. সে ভিক্ষা চায় এবং তাকে দান কর।
  3. সে ভিক্ষা চায়, সুতরাং তাকে দান কর।
  4. সে ভিক্ষা চায় বিধায় তাকে দান কর।
সঠিক উত্তর:
যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য: 
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়। 

যেমন:
সরল বাক্য: ভিক্ষুককে দান কর।
জটিল বাক্য: যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো। 
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৭.
'তোমার কথাগুলো অসত্য।' - বাক্যটির জটিল রূপ কী?
  1. তোমার কথাগুলো মিথ্যা, তাই অসত্য।
  2. তুমি যে কথাগুলো বললে তা অসত্য।
  3. তুমি যা বলেছ, তা অসত্য।
  4. তোমার কথা অসত্য কারণ তুমি মিথ্যা বলো।
সঠিক উত্তর:
তুমি যে কথাগুলো বললে তা অসত্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুমি যে কথাগুলো বললে তা অসত্য।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন-

সরল বাক্য: তোমার কথাগুলো অসত্য।
জটিল বাক্য: তুমি যে কথাগুলো বললে তা অসত্য।

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮.
প্রত্যক্ষ উক্তির মধ্যে চিরন্তন সত্য থাকলে কালের কী পরিবর্তন হয়?
  1. পরিবর্তন হয় না
  2. আংশিক পরিবর্তন হয়
  3. সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়
  4. অর্ধেক পরিবর্তন হয়
সঠিক উত্তর:
পরিবর্তন হয় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবর্তন হয় না
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষ উক্তিতে চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়ার কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।
যেমন -
• প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, "চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।"
• পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।

উক্তি:

- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

যেমন -
• প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
• পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।

- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
• রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
• কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৯.
'সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।' - বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. সুসংবাদ পাওয়ার পর সে আনন্দিত হলো।
  2. সে সুসংবাদটা পেল এবং সে আনন্দিত হলো।
  3. যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।
  4. সে সুসংবাদটা পেয়েই, আনন্দিত হলো।
সঠিক উত্তর:
যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়। 
যেমন- 

সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য। 
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য। 

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩০.
প্রত্যক্ষ উক্তির ক্ষেত্রে কোন যতিচিহ্ন দিয়ে উক্তিকে আবদ্ধ করা হয়?
  1. কমা
  2. ড্যাশ
  3. সেমিকোলন
  4. উদ্ধরণ চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
উদ্ধরণ চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্ধরণ চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধরণচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

• বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
• উক্তি দুই প্রকার:
- প্রত্যক্ষ উক্তি ও
- পরোক্ষ উক্তি।

• প্রত্যক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
যেমন:
- ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

• প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- রফিক হেসে বললো, “আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।”

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৩১.
"এক ঘণ্টা পর বাস এলো।" - এ বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. যখন এক ঘণ্টা পার হলো তখন বাস এলো।
  2. এক ঘণ্টা অতিক্রান্ত হলো, তারপর বাস এলো।
  3. বাস এলো এবং এক ঘণ্টা পার হলো।
  4. বাস আসতে আসতে এক ঘণ্টা পার হলো।
সঠিক উত্তর:
এক ঘণ্টা অতিক্রান্ত হলো, তারপর বাস এলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক ঘণ্টা অতিক্রান্ত হলো, তারপর বাস এলো।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
- সরল বাক্য: এক ঘণ্টা পর বাস এলো।।
- যৌগিক বাক্য: এক ঘণ্টা অতিক্রান্ত হলো, তারপর বাস এলো।।

- সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
- যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩২.
"তোমার কথাগুলো অসত্য।" জটিল বাক্যে রূপান্তর করুন -
  1. তুমি কথাগুলো বললে তা কিন্তু অসত্য।
  2. তুমি যে কথাগুলো বললে তা অসত্য।
  3. তুমি কথাগুলো বললে এবং তা অসত্য।
  4. তুমি অসত্য কথা বলছো।
সঠিক উত্তর:
তুমি যে কথাগুলো বললে তা অসত্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুমি যে কথাগুলো বললে তা অসত্য।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: তোমার কথাগুলো অসত্য।
জটিল বাক্য: তুমি যে কথাগুলো বললে তা অসত্য।

সরল বাক্য: বৃষ্টি হলে বের হব না।
জটিল বাক্য: যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৩.
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তনের সময় কী ধরনের শব্দের পরিবর্তন হয়?
  1. কালবাচক ও স্থানবাচক
  2. ভাববাচক
  3. স্থানবাচক
  4. কালবাচক
সঠিক উত্তর:
কালবাচক ও স্থানবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালবাচক ও স্থানবাচক
ব্যাখ্যা
উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি।
যেমন-
প্রত্যক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।” – এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

পরােক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরােক্ষ উক্তি।

প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরােক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন -
প্রত্যক্ষ উক্তি: লােকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।”
পরােক্ষ উক্তি: লােকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
৩৪.
প্রত্যক্ষ উক্তিতে কোন যতিচিহ্ন দিয়ে উক্তিকে আবদ্ধ করা হয়?
  1. উদ্ধারচিহ্ন
  2. কোলন
  3. ড্যাশ
  4. সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
উদ্ধারচিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্ধারচিহ্ন
ব্যাখ্যা
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

• বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
• উক্তি দুই প্রকার:
১/ প্রত্যক্ষ উক্তি ও
২/ পরোক্ষ উক্তি।
যেমন –
ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।” – এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। – এটি পরোক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৩৫.
মা বললেন, “আমার মাথা ব্যথা করছে।”- পরোক্ষ উক্তি কোনটি?
  1. মা বললেন যে, আমার মাথা ব্যথা করছে।
  2. মা বললেন যে, তার মাথা ব্যথা করছে।
  3. মা বললেন, তার মাথা ব্যথা করেছিল।
  4. মা বললেন যে, আমার মাথা ব্যথা করেছে।
সঠিক উত্তর:
মা বললেন যে, তার মাথা ব্যথা করছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মা বললেন যে, তার মাথা ব্যথা করছে।
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর:
খ) মা বললেন যে, তার মাথা ব্যথা করছে।

প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে রূপান্তর নিয়ম:
• সর্বনাম পরিবর্তন: "আমার" → "তার" (মা-এর জন্য তৃতীয় পুরুষ হয়েছে)।
• ক্রিয়ার কাল: প্রত্যক্ষ উক্তির বর্তমান কাল অপরিবর্তিত রয়েছে। ("করছে" → "করছে")।
• উদ্ধৃতি চিহ্ন ও যোজক: উদ্ধৃতি চিহ্ন (“ ”) বাদ দিয়ে "যে" সংযোজন করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬.
'আর ভয় নেই।' বাক্যটিকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্যে রূপান্তর করুন-
  1. আরো ভয় কর।
  2. আর ভয় আসবে না।
  3. আর ভয় করো না।
  4. আর ভয় করলে কী হবে?
সঠিক উত্তর:
আর ভয় করো না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর ভয় করো না।
ব্যাখ্যা
• নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্যে রূপান্তর:
নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্যে রূপান্তর: নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে:
সূত্র: ক। বাক্যের কর্তা সাধারণত মধ্যম পুরুষের হবে। তবে অনেক সময় না থাকতে পারে।
সূত্র: খ। ক্রিয়াপদের ব্যবহার কর্তা অনুযায়ী হবে।
সূত্র: গ। নির্দেশাত্মক বাক্যের মূল ধাতুটিকে অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়ারূপে পরিণত করতে হয়।
যেমন:
- নির্দেশাত্মক : দেশের সেবা করা কর্তব্য।
- অনুজ্ঞাবাচক: দেশের সেবা করবে।
- নির্দেশাত্মক : ভুলগুলো এখনই সংশোধন করতে বলছি।
-  অনুজ্ঞাবাচক: ভুলগুলো এখনই সংশোধন কর।
- নির্দেশাত্মক: আর ভয় নেই।
- অনুজ্ঞাবাচক: আর ভয় করো না।
- নির্দেশাত্মক : আমাদের পালিয়ে যেতে হবে। অনুজ্ঞাবাচক: চল আমরা পালাই।
- নির্দেশাত্মক: জননী ও জন্মভূমি স্বর্গ হতেও বড়।
- অনুজ্ঞাবাচক: জননী ও জন্মভূমিকে স্বর্গ হতেও বড় মনে কর।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৭.
প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয়-
  1. উপমিত
  2. উপমান
  3. রূপক
  4. উপমেয়
সঠিক উত্তর:
উপমেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমেয়
ব্যাখ্যা

• উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু।
• প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়।
• আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান।
• উপমান এবং উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

৩৮.
‘সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।’ - বাক্যটির সরল রূপ কোনটি?
  1. সে এখানে এল সব কথা বলার জন্য।
  2. সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।
  3. এখানে এসে সে সব কথা খুলে বলেছিলো।
  4. সে এখানে আসল সব কথা খুলে বলতে।
সঠিক উত্তর:
সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।

যেমন: 
- যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।
- সরল বাক্য: সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।

- যৌগিক বাক্য: লোকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্ৰ নয়।
- সরল বাক্য: লোকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৩৯.
নিচের কোন শব্দটি পরোক্ষ উক্তিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. ইহা
  2. ওখানে
  3. এখন
  4. সেখানে
সঠিক উত্তর:
সেখানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেখানে
ব্যাখ্যা
উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ রূপ:
প্রত্যক্ষ -------- পরোক্ষ।
• এখন - তখন। 
• আগামীকাল - পরদিন । 
• ইহা - তাহা। 
• গতকাল - আগেরদিন।
• আজ - সেদিন।
• ওখানে - ঐখানে। 
• গতকল্য - পূর্বদিন। 
• এখানে - সেখানে।
• এ - সে।

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৪০.
হামিদ বলল, “তােমরা আগামীকাল এসাে।”- পরোক্ষ উক্তিতে বাক্যটি কী হবে?
  1. হামিদ তাদের বললো যে তারা যেন পরদিন আসে।
  2. হামিদ তাদের পরদিন আসতে বলল।
  3. হামিদ বলল যে তোমরা পরদিন এসো।
  4. হামিদ তাদের বলল যে তারা যেন আগামীকাল আসে।
সঠিক উত্তর:
হামিদ তাদের পরদিন আসতে বলল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হামিদ তাদের পরদিন আসতে বলল।
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নবােধক, অনুজ্ঞাসূচক ও আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরােক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে হলে প্রধান খণ্ডবাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন:
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
প্রত্যক্ষ উক্তি: হামিদ বলল, “তােমরা আগামীকাল এসাে।”
পরােক্ষ উক্তি: হামিদ তাদের পরদিন আসতে বলল।

 প্রত্যক্ষ উক্তি : তিনি বললেন, “দয়া করে ভেতরে আসুন।”
 পরোক্ষ উক্তি: তিনি আমাকে ভেতরে যেতে অনুরোধ করলেন

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
৪১.
"লােকটি অশিক্ষিত কিন্তু অভদ্র নয়" - বাক্যের সরল রূপ কোনটি?
  1. লােকটি শিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
  2. যদিও লোকটি অশিক্ষিত কিন্তু সে অভদ্র নয়।
  3. লােকটি শিক্ষিত হলেও ভদ্র নয়।
  4. লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
সঠিক উত্তর:
লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
ব্যাখ্যা

 "লােকটি অশিক্ষিত কিন্তু অভদ্র নয়" - বাক্যের সরল রূপ = "লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।"

যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া।
- তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।
যেমন -
যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।
সরল বাক্য: সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।

যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৪২.
"রফিক বললো, "আমি বাড়ি যাবো।" - পরোক্ষ উক্তিতে বাক্যটি কী হবে?
  1. রফিক বললো সে বাড়ি যাবে।
  2. রফিক বললো যে, সে বাড়ি যাবে।
  3. রফিক বললো, বাড়ি যাবো।
  4. রফিক বললো বাড়ি যেতে হবে।
সঠিক উত্তর:
রফিক বললো যে, সে বাড়ি যাবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রফিক বললো যে, সে বাড়ি যাবে।
ব্যাখ্যা
উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম:
• প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
• অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
• পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।

সে অনুসারে, 
বাক্যটি হবে - রফিক বললো যে, সে বাড়ি যাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২৩ সংস্করণ)।
৪৩.
'খেলা হলো জীবজগতের নিষ্পাপ কর্ম।' - এর প্রশ্নবোধক বাক্য কোনটি?
  1. ক) খেলা জীবজগতের নিষ্পাপ কর্ম কি?
  2. খ) খেলা জীবজগতের নিষ্পাপ কর্ম নয় কি?
  3. গ) খেলা কি জীবজগতের কর্ম নয়?
  4. ঘ) খেলা জীবজগতের নিষ্পাপ কর্ম না?
সঠিক উত্তর:
খ) খেলা জীবজগতের নিষ্পাপ কর্ম নয় কি?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) খেলা জীবজগতের নিষ্পাপ কর্ম নয় কি?
ব্যাখ্যা
নেতিবাচক বাক্য থেকে প্রশ্নবোধক বাক্যে রুপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে এবং নেস্তিবাচক বাক্যকে প্রশ্নবোধক বাক্যে রূপান্তরের পর প্রশ্নবোধক বাক্যে প্রশ্ন চিহ্ন (?) বসাতে হবে।

নিয়ম১ঃ
নেতিবাচক বাক্যের না-সূচক শব্দ তুলে দিতে হয় এবং নির্দেশক হলে 'কি' এবং নঞর্ধক বাকা হলে 'নাকি', ‘নয় কি'-সহ জিজ্ঞাসার চিহ্ন (?) ব্যবহার করতে হয়। যেমন :
নেতিবাচক : খেলা হলো জীবজগতের নিষ্পাপ কর্ম।
প্রশ্নবোধক : খেলা জীবজগতের নিষ্পাপ কর্ম নয় কি?
নেতিবাচক : আর পথ নেই।
প্রশ্নবোধক আর কি পথ নেই?

নিয়ম ২ঃ
'না' সূচক শব্দ তুলে দিয়ে 'হ্যাঁ'-সূচক অর্থপূর্ণ শব্দের ব্যবহার করতে হয় এবং 'কি', 'নয় কি', শব্দ ব্যবহার করে জিজ্ঞাসা চিহ্ন বসাতে হয়।
যেমন :
নেতিবাচক : দুঃখের আর অন্ত নেই। প্রশ্নবোধক : দুঃখের অন্ত আছে কি? 

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৪.
উক্তি পরিবর্তন করুন: পাভেল বললো, "আমার জানামতে সামি এ বাসায় থাকে।"
  1. পাভেল বললো যে, তার জানামতে সামি এ বাসায় থাকে।
  2. পাভেল বললো যে, তার জানামতে সামি সে বাসায় থাকে।
  3. পাভেল বললো যে, তার জানামতে সামি সে বাসায় থাকতো।
  4. পাভেল বললো যে, তার জানামতে সামি এ বাসায় থাকতো।
সঠিক উত্তর:
পাভেল বললো যে, তার জানামতে সামি সে বাসায় থাকতো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাভেল বললো যে, তার জানামতে সামি সে বাসায় থাকতো।
ব্যাখ্যা
উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন -
ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।” - এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। – এটি পরোক্ষ উক্তি।

- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

উক্তি পরিবর্তন:
- প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
যেমন -
প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।"
পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

- অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন -
প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।
প্রত্যক্ষ উক্তি: পাভেল বললো, "আমার জানামতে সামি এ বাসায় থাকে।”
পরোক্ষ উক্তি: পাভেল বললো যে, তার জানামতে সামি সে বাসায় থাকতো

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৫.
'সাবধান না হলে বিপদে পড়বে' - এর জটিল রূপ কোনটি?
  1. ক) সাবধান হও না হয় বিপদে পড়বে।
  2. খ) যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
  3. গ) তুমি সাবধান না হলে বিপদে পড়বে।
  4. ঘ) যদি সাবধান না হও, বিপদে পরবে।
সঠিক উত্তর:
খ) যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি কর্তা এবন একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে ।

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য রূপান্তর: 
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত- তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন-
সরল বাক্য: সাবধান না হলে বিপদে পড়বে।
জটিল বাক্য: যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৬.
নিচের কোনটি প্রত্যক্ষ উক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. উহা
  2. আগামীকাল
  3. ওটা
  4. সেদিন
সঠিক উত্তর:
আগামীকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগামীকাল
ব্যাখ্যা

• 'আগামীকাল'- প্রত্যক্ষ উক্তির শব্দ। 

• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ রূপ:
• এই  -  সেই।
• ইহা  -  তাহা/উহা।
• এখানে  -  ওইখানে।
• আগামীকাল  -  পরদিন।
• গতকল্য  -  পূর্বদিন।
• এটা  - ওটা/সেটা।
• এ  -  সে।
• আজ  - সেদিন।
• গতকাল  -  আগেরদিন।
• এখন  -  তখন।

উৎস; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৭.
'পৃথিবীতে অবাস্তব বলে কিছু নেই।' - বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. পৃথিবীতে যা কিছু আছে, তা সবই বাস্তব।
  2. পৃথিবীতে বাস্তব ও অবাস্তব উভয়ই আছে।
  3. পৃথিবীতে অনেক কিছু আছে, কিন্তু অবাস্তব কিছু নেই।
  4. পৃথিবীতে কিছু কিছু জিনিস অবাস্তব নয়।
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীতে অনেক কিছু আছে, কিন্তু অবাস্তব কিছু নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীতে অনেক কিছু আছে, কিন্তু অবাস্তব কিছু নেই।
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্য রূপান্তর: 
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

যেমন:
সরল বাক্য: পৃথিবীতে অবাস্তব বলে কিছু নেই।
যৌগিক বাক্য: পৃথিবীতে অনেক কিছু আছে, কিন্তু অবাস্তব কিছু নেই।

সরল বাক্য: সে পরিশ্রমী হলেও নির্বোধ
যৌগিক বাক্য: সে পরিশ্রমী বটে, কিন্তু নির্বোধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৮.
কামাল বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"- উক্তিটির পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. কামাল বললেন যে, সে আগামীকাল সেখানে আবার যাবেন।
  2. কামাল বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
  3. কামাল বললেন যে, তিনি আগামীকাল সেখানে আবার যাবেন।
  4. কামাল বললেন, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
সঠিক উত্তর:
কামাল বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামাল বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
ব্যাখ্যা

• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন-
প্রত্যক্ষ উক্তি: কামাল বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
পরোক্ষ উক্তি: কামাল বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৪৯.
প্রত্যক্ষ উক্তির 'আগামীকাল' পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তিত হয়ে কী হবে?
  1. সেদিন
  2. পরদিন
  3. তখন
  4. কাল
সঠিক উত্তর:
পরদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরদিন
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তির 'আগামীকাল' পরোক্ষ উক্তিতে হবে- 'পরদিন'। 

উল্লেখ্য,
প্রত্যক্ষ উক্তির 'গতকল্য' পরোক্ষ উক্তিতে হবে- পূর্বদিন। 
প্রত্যক্ষ উক্তির 'আজ' পরোক্ষ উক্তিতে হবে- সেদিন। 
প্রত্যক্ষ উক্তির 'গতকাল' পরোক্ষ উক্তিতে হবে- আগেরদিন। 
--------------------------- 
যেমন - 
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময় কালবাচক এবং স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন: 
প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, 'আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।'
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষাশিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
৫০.
"আমার কথা বিশ্বাস কর, তোমার মঙ্গল হবে।" সরল বাক্যে রূপান্তর করুন -
  1. তুমি আমার কথা বিশ্বাস করলে তোমার মঙ্গল হবে।
  2. আমার কথা বিশ্বাস করলে তোমার মঙ্গল হবে।
  3. যদি তুমি আমার কথা বিশ্বাস কর, তবে তোমার মঙ্গল হবে।
  4. আমার কথা বিশ্বাস করলে, তবেই তোমার মঙ্গল হবে।
সঠিক উত্তর:
আমার কথা বিশ্বাস করলে তোমার মঙ্গল হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার কথা বিশ্বাস করলে তোমার মঙ্গল হবে।
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তর:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।

যৌগিক বাক্য: আমার কথা বিশ্বাস কর, তোমার মঙ্গল হবে।
সরল বাক্য: আমার কথা বিশ্বাস করলে তোমার মঙ্গাল হবে।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫১.
পুরস্কার-বিতরণী অনুষ্ঠানের পরিবেশ এত অপরিস্কার”! - বাক্যটির নিম্নরেখ পদে স/ষ ব্যবহারে -
  1. ক) প্রথমটি অশুদ্ধ, দ্বিতীয়টি শুদ্ধ
  2. খ) প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
  3. গ) দুটোই শুদ্ধ
  4. ঘ) দুটোই অশুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
খ) প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
ব্যাখ্যা
র-ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে ‘ষ’ হয়। যথাঃ পরিষ্কার।
কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যেমন পুরস্কার।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৫২.
সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করুন: 'পরিশ্রম করলে ফল পাবে'
  1. পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
  2. ফল পাবে কিন্তু তার জন্য পরিশ্রম করতে হবে।
  3. পরিশ্রম না করলে ফল পাবে না।
  4. ফল পাবার জন্য পরিশ্রম করতে হবে।
সঠিক উত্তর:
পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে: 
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়। 

যেমন:
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।

সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৩.
‘এরা অন্য জাতের মানুষ ‘ - এর প্রশ্নাত্মক রূপ কোনটি?
  1. ক) এরা কোন জাতের মানুষ?
  2. খ) এরা অন্য জাতের মানুষ না?
  3. গ) এরা কি অন্য জাতের মানুষ?
  4. ঘ) এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?
সঠিক উত্তর:
ঘ) এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?
ব্যাখ্যা
‘এরা অন্য জাতের মানুষ‘ - এর প্রশ্নাত্মক রূপ - এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?

অস্তিবাচক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থ বা মুলর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সুত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে : 

• সূত্র -১ : কর্তার পর সাধারণত প্রশ্নবাচক অব্যয় ব্যবহার করতে হবে।
• সূত্র - ২ : ক্রিয়াপদের পর ‘না’ অব্যয়ের প্রয়োগ করতে হবে।
• সূত্র - ৩ : বাক্য শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্ন থাকবে।

যেমন -
অস্তিবাচক -  তার সম্বন্ধে জানা দরকার।
প্রশ্নবাচক - তার সম্বন্ধে জানা দরকার নয় কি? 

অস্তিবাচক - এরা অন্য জাতের মানুষ।
প্রশ্নবাচক - এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?

উৎস: উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৪.
'মূর্খ লোক অবজ্ঞার পাত্র।' - বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. মূর্খ লোককে সবাই অবজ্ঞা করে।
  2. মূর্খ লোক যেহেতু অবজ্ঞার পাত্র।
  3. মূর্খ লোক হওয়ায় তারা অবজ্ঞার পাত্র।
  4. যে লোক মূর্খ, সে অবজ্ঞার পাত্র।
সঠিক উত্তর:
যে লোক মূর্খ, সে অবজ্ঞার পাত্র।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে লোক মূর্খ, সে অবজ্ঞার পাত্র।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: মূর্খ লোক অবজ্ঞার পাত্র।
জটিল বাক্য: যে লোক মূর্খ, সে অবজ্ঞার পাত্র।

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৫.
মিহির বললো, “আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।”- উক্তিটির পরোক্ষ রূপ কোনটি?
  1. মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকে।
  2. মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকতো।
  3. মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
  4. মিহির বললো যে, আমার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
সঠিক উত্তর:
মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
ব্যাখ্যা

উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম:
• অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, “আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
• পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

• প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, “আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।”
• পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৫৬.
সে পরিশ্রমী হলেও নির্বোধ।- বাক্যটির যৌগিক রূপ-
  1. যদিও সে পরিশ্রমী, তবুও সে নির্বোধ।
  2. সে পরিশ্রমী, কিন্তু নির্বোধ।
  3. সে পরিশ্রমী হলেও, তিনি নির্বোধ।
  4. যেহেতু সে পরিশ্রমী সেহেতু সে নির্বোধ।
সঠিক উত্তর:
সে পরিশ্রমী, কিন্তু নির্বোধ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে পরিশ্রমী, কিন্তু নির্বোধ।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

• সরল বাক্য: সে পরিশ্রমী হলেও নির্বোধ।
• যৌগিক বাক্য: সে পরিশ্রমী বটে, কিন্তু নির্বোধ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫৭.
উক্তি পরিবর্তনে কোন ক্ষেত্রে ক্রিয়ার কাল পরিবর্তন হয় না?
  1. সাধারণ সত্য প্রকাশ করলে
  2. অতীতকালের ঘটনা বর্ণনা করলে
  3. ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলে
  4. ভবিষ্যতের প্রত্যাশা প্রকাশ করলে
সঠিক উত্তর:
সাধারণ সত্য প্রকাশ করলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ সত্য প্রকাশ করলে
ব্যাখ্যা

- চিরন্তন সত্য বা সাধারণ সত্যের ক্ষেত্রে উক্তি পরিবর্তন করলে ক্রিয়ার কাল অপরিবর্তিত থাকে। 
---------------------------
উক্তি:
- উক্তি বলতে বক্তার বক্তব্যকে বোঝায়। 
- উক্তি মূলত দুই ধরনের হয়—
- প্রত্যক্ষ উক্তি এবং
- পরোক্ষ উক্তি। 

- প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার কথা ঠিক যেমনটা বলা হয়েছে, তেমনই উদ্ধৃত করা হয়।
- আর পরোক্ষ উক্তিতে বক্তার কথা নিজের ভাষায় বা কাঠামো পরিবর্তন করে বলা হয়। 
- উদাহরণ:
- তিনি বললেন, “আমি বই পড়ছি।” → উক্তি পরিবর্তন: তিনি বললেন যে তিনি বই পড়ছিলেন।
------------------------
চিরন্তন সত্য বা সাধারণ সত্যের ক্ষেত্রে উক্তি পরিবর্তন এবং ক্রিয়ার কাল:
- বাংলা ব্যাকরণে যখন আমরা অন্য কারো বক্তব্য পুনঃউক্তি করি, তখন সাধারণত ক্রিয়ার কালকে পূর্ববর্তী ক্রিয়ার সময় অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হয়।
- কিন্তু চিরন্তন সত্য বা সাধারণ সত্যের ক্ষেত্রে ক্রিয়ার কাল এর পরিবর্তন হয়না। 
- চিরন্তন সত্য বা সাধারণ সত্য হলো এমন জ্ঞান বা তথ্য যা সময়ের উপর নির্ভরশীল নয়।
- এটি সব সময় সত্য থাকে।
- কারণ, চিরন্তন সত্য সময়-সংবেদনশীল নয়; অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যত—সব সময় এটি সত্য।
- ক্রিয়ার কালের পরিবর্তন করলে সত্যের ধারাবাহিকতা নষ্ট হবে।

- উদাহরণ:
- সরাসরি উক্তি: “সূর্য পূর্ব দিকে উদিত হয়।।”
- উক্তি পরিবর্তন: তিনি বললেন যে সূর্য পূর্ব দিকে উদিত হয়।
 → এখানে ‘উদিত হয়’ ক্রিয়ার কাল অপরিবর্তিত থাকে। 

- আরও কিছু উদাহরণ:
• “পৃথিবী গোল।” → তিনি বললেন পৃথিবী গোল।
• “পানি ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ফুটে।” → তিনি বললেন পানি ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ফুটে।
• “মানবদেহে দুই কান থাকে।” → ডাক্তার বললেন মানবদেহে দুই কান থাকে।

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ; 
বাংলা ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮.
বৈজ্ঞানিক বললেন, "চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।" - উক্তি পরিবর্তন করুন -
  1. বৈজ্ঞানিক বলেছেন, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করেছিল।
  2. বৈজ্ঞানিক বললেন যে, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করবে।
  3. বৈজ্ঞানিক বললেন যে, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।
  4. বৈজ্ঞানিক বলল যে, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করবে।
সঠিক উত্তর:
বৈজ্ঞানিক বললেন যে, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈজ্ঞানিক বললেন যে, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।
ব্যাখ্যা
উক্তি পরিবর্তন:
- প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার বক্তব্যটুকু উদ্ধরণ চিহ্নের ("") অন্তর্ভুক্ত থাকে।
- পরোক্ষ উক্তিতে উদ্ধরণ চিহ্ন লোপ পায়। প্রথম উদ্ধরণ চিহ্ন স্থানে 'যে' এই সংযোজক অব্যয়টি ব্যবহার করতে হয়। বাক্যের সঙ্গতি রক্ষার জন্য উক্তিতে ব্যবহৃত বক্তার পুরুষের পরিবর্তন করতে হয়।
- প্রত্যক্ষ উক্তিতে কোনো চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।

যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, "পৃথিবী গোলাকার।"
পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, পৃথিবী গোলাকার।

প্রত্যক্ষ উক্তি: বৈজ্ঞানিক বললেন, "চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।"
পরোক্ষ উক্তি: বৈজ্ঞানিক বললেন যে, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৯.
"কমল আমাকে বলল, 'আমি এক্ষুণি আসছি।" - পরোক্ষ উক্তিতে বাক্যটি কী হবে?
  1. কমল আমাকে বলল যে সে এক্ষুণি আসছে।
  2. কমল আমাকে বলল যে সে তক্ষুণি যাচ্ছে।
  3. কমল আমাকে বলল যে আমি এক্ষুণি যাচ্ছি।
  4. কমল আমাকে বলল যে, তুমি তক্ষুণি যাচ্ছ।
সঠিক উত্তর:
কমল আমাকে বলল যে সে তক্ষুণি যাচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমল আমাকে বলল যে সে তক্ষুণি যাচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• মূল বাক্য: "কমল আমাকে বলল, "আমি এক্ষুণি আসছি।"

বাক্যটির পরোক্ষ উক্তি:
"কমল আমাকে বলল যে সে তক্ষুণি যাচ্ছে।"

পরোক্ষ উক্তিতে রূপান্তরের সময় নিম্নলিখিত নিয়মগুলো অনুসরণ করা হয়:

• 'আমি' পরিবর্তিত হয়ে বক্তার (কমল) অনুযায়ী 'সে' হয়ে যায়।
• 'এক্ষুণি' পরিবর্তিত হয়ে পরোক্ষ উক্তির জন্য 'তক্ষুণি' হয়।
• ক্রিয়াপদ 'আসছি' পরিবর্তিত হয়ে 'যাচ্ছে' হবে।
----------------- 
প্রত্যক্ষ উক্তি: 
যে বাক্যে বক্তার কথা অবিকল উদ্ধৃত হয়, তাকে প্রত্যক্ষ উক্তি বলে।
প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার কথা উদ্ধরণ চিহ্ন (‘ ’/“ ”)-এর মধ্যে থাকে এবং বক্তার কথা ‍উদ্ধৃত করার আগে কমা (,) ব্যবহার করা হয়। এগুলো দেখে সহজেই প্রত্যক্ষ উক্তি চেনা যায়।
যেমন,
- খোকা বলল, আমার বাবা বাড়ি নেই।
- লোকটি আমাকে বললেন, 'অনুগ্রহ করে আপনি সামনের আসনে বসুন।'

পরোক্ষ উক্তি: 
যে বাক্যে বক্তার কথা অন্যের জবানীতে পরিবর্তিত/রূপান্তরিত ভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে পরোক্ষ উক্তি বলে।
পরোক্ষ উক্তিতে কোনো উদ্ধরণ চিহ্ন থাকে না, এবং প্রথম উদ্ধরণ চিহ্নের স্থলে ‘যে’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
বেশিরভাগ পরোক্ষ উক্তিতেই ‘যে’ সংযোজক অব্যয়টি থাকে বলে একে দেখে পরোক্ষ উক্তি চেনা যেতে পারে। তবে ‘যে’ ছাড়াও অনেক পরোক্ষ উক্তি গঠিত হতে পারে।
যেমন, 
- খোকা বলল যে, তার বাবা বাড়ি ছিলেন না।
- লোকটি আমাকে সামনের আসনে বসতে অনুরোধ করলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৬০.
'যতদিন জীবিত থাকব, ততদিন এ ঋণ স্বীকার করব।' - বাক্যটির সরল রূপ কোনটি?
  1. আমি জীবিত থাকাকালীন এ ঋণ স্বীকার করব।
  2. আজীবন এ ঋণ স্বীকার করব।
  3. আমি কখনো এ ঋণ অস্বীকার করব না।
  4. যতদিন জীবিত আছি এ ঋণ স্বীকার করব।
সঠিক উত্তর:
আজীবন এ ঋণ স্বীকার করব।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজীবন এ ঋণ স্বীকার করব।
ব্যাখ্যা

মিশ্র বা জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর:
- মিশ্র বা জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মিশ্র বাক্যের অপ্রধান খন্ডবাক্যটিকে সংকুচিত করে একটি পদ বা একটি বাক্যাংশে পরিণত করতে হয়৷

যথা:
মিশ্র বাক্য: যতদিন জীবিত থাকব, ততদিন এ ঋণ স্বীকার করব।
সরল বাক্য: আজীবন এ ঋণ স্বীকার করব।

মিশ্র বাক্য: যে সব পশু মাংশ খায়, তারা খুব বলবান হয়।
সরল বাক্য: সকল মাংসাশী পশুই খুব বলবান হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬১.
প্রত্যক্ষ উক্তির 'আজ' পরোক্ষ উক্তিতে হবে-
  1. ক) পরদিন
  2. খ) সেদিন
  3. গ) তখন
  4. ঘ) আগেরদিন
সঠিক উত্তর:
খ) সেদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সেদিন
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষ উক্তির 'আজ' পরোক্ষ উক্তিতে হবে- সেদিন। 

তাছাড়া,
প্রত্যক্ষ উক্তির 'আগামীকাল' পরোক্ষ উক্তিতে হবে-  পরদিন।
প্রত্যক্ষ উক্তির 'এখন' পরোক্ষ উক্তিতে হবে- তখন 
প্রত্যক্ষ উক্তির 'গতকাল' পরোক্ষ উক্তিতে হবে- আগেরদিন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৬২.
’রাহাত বলেছিল যে, সে বাজারে যাচ্ছে’- উক্তিটির প্রত্যক্ষ উক্তি কোনটি?
  1. রাহাত বলে, "আমি বাজারে যাচ্ছি।
  2. রাহাত বাজারে যাচ্ছে।
  3. রাহাত বলেছিল, "আমি বাজারে যাচ্ছি।"
  4. রাহাত বললো, "আমি বাজারে যাচ্ছি।
সঠিক উত্তর:
রাহাত বলেছিল, "আমি বাজারে যাচ্ছি।"
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাহাত বলেছিল, "আমি বাজারে যাচ্ছি।"
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তি : রাহাত বলেছিল, "আমি বাজারে যাচ্ছি।"
• পরোক্ষ উক্তি : রাহাত বলেছিল যে, সে বাজারে যাচ্ছে।
---------------------------------------
• আশ্রিত খন্ড বাক্যের ক্রিয়ার কাল পরোক্ষ উক্তিতে সব সময় মূল বাক্যাংশের ক্রিয়ার কালের উপর নির্ভর করে না।

যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি লিখেছিল, "শহরে খুব গরম পড়েছে।”
• পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি লিখেছিল যে, শহরে খুব গরম পড়েছিল।

• প্রত্যক্ষ উক্তি : মনসুর বলল, "আমি ঢাকা যাব।”
• পরোক্ষ উক্তি : মনসুর বলল যে, সে ঢাকা যাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।
৬৩.
“পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে” - বাক্যটির জটিল রূপ কী?
  1. পরিশ্রমীরা সাফল্য লাভ।
  2. যে লোক পরিশ্রমী, সে সাফল্য লাভ করে।
  3. পরিশ্রমী লোক সাফল্য লাভ করে।
  4. যে পরিশ্রম করে সে সাফল্য পাবে।
সঠিক উত্তর:
যে লোক পরিশ্রমী, সে সাফল্য লাভ করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে লোক পরিশ্রমী, সে সাফল্য লাভ করে।
ব্যাখ্যা
• পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে - বাক্যটির জটিল রূপ -যে লোক পরিশ্রমী, সে সাফল্য লাভ করে।

• বাক্যের মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে সরল, জটিল ও যৌগিক বাক্যের পারস্পরিক রূপান্তর করা সম্ভব।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত- তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন-
সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

সরল বাক্য: ধার্মিকেরা সুখী।
জটিল বাক্য: যারা ধার্মিক, তারা সুখী।

সরল বাক্য: পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
জটিল বাক্য: যে লোক পরিশ্রমী, সে সাফল্য লাভ করে।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ
৬৪.
‘দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।’- বাক্যটির জটিলরূপ কোনটি?
  1. দোষ করেছ, তাই শাস্তি পাবে।
  2. যেহেতু দোষ করেছ শাস্তি পাবে।
  3. যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।
  4. দোষ করায় শাস্তি পাবে।
সঠিক উত্তর:
যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য: দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।
• বাক্যের জটিলরূপ: যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।


• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• যৌগিক বাক্য থেকে জটিল বাক্য: 
- যৌগিক বাক্যকে জটিল বাক্য়ে রূপান্তর করার সময় যৌগিক বাক্যের যোজক বাদ দিয়ে, এর বদলে সাপেক্ষ সর্বনাম বা সাপেক্ষ যোজক যুক্ত হয়।

• যৌগিক বাক্য: সে কাল আসবে এবং আমি যাব। 
• জটিল বাক্য: কাল যখন সে আসবে, তখন আমি যাব।   

• যৌগিক বাক্য: তপুর বয়স অল্প, কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান। 
• জটিল বাক্য: যদিও তপুর বয়স অল্প, তথাপি সে বেশ বুদ্ধিমান।
 
• যৌগিক বাক্য: ছেলেটির বয়স অল্প; কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান।
• জটিল বাক্য: যদিও ছেলেটির বয়স অল্প, তবু বেশ বুদ্ধিমান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।

৬৫.
সূর্যোদয়ে পদ্মফুল ফোটে। - বাক্যটির জটিল রূপ কী হবে?
  1. সূর্যোদয়ের সময় পদ্মফুল ফোটে।
  2. সূর্য ওঠে এবং পদ্মফুল ফোটে।
  3. পদ্মফুল ফোটে কারণ সূর্য ওঠে।
  4. যখন সূর্য উদিত হয়, তখন পদ্মফুল ফোটে।
সঠিক উত্তর:
যখন সূর্য উদিত হয়, তখন পদ্মফুল ফোটে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যখন সূর্য উদিত হয়, তখন পদ্মফুল ফোটে।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত- তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: সূর্যোদয়ে পদ্মফুল ফোটে।
জটিল বাক্য: যখন সূর্য উদিত হয়, তখন পদ্মফুল ফোটে।

সরল বাক্য: ধার্মিকেরা সুখী।
জটিল বাক্য: যারা ধার্মিক, তারা সুখী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৬.
'উক্তি' কত প্রকারের হয়?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. ছয় প্রকার
সঠিক উত্তর:
দুই প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই প্রকার
ব্যাখ্যা
• উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।

• উক্তি দুই প্রকার:
- প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

• যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
• আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
→ পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।

→ রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
→ কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৭.
‘পয়লা পয়লা কাজে নেমে সবাই ভিমরি খায়।’- বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. পয়লা পয়লা কাজে নেমেই সবাই ভিমরি খায়।
  2. পয়লা পয়লা যারা কাজে নামে তারা সবাই ভিমরি খায়।
  3. সবাই পয়লা পয়লা কাজে নামে এবং ভিমরি খায়।
  4. সবাই পয়লা পয়লা কাজে নামে কিন্তু ভিমরি খায়।
সঠিক উত্তর:
পয়লা পয়লা যারা কাজে নামে তারা সবাই ভিমরি খায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পয়লা পয়লা যারা কাজে নামে তারা সবাই ভিমরি খায়।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
• সরল বাক্য: পয়লা পয়লা কাজে নেমে সবাই ভিমরি খায়।
• জটিল বাক্য: পয়লা পয়লা যারা কাজে নামে তারা সবাই ভিমরি খায়।

• সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
• জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

• সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
• জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
৬৮.
"মাংসভোজী পশু অত্যন্ত বলবান।" - বাক্যটি জটিল বাক্যে রূপান্তর করুন -
  1. মাংসভোজী পশু সবসময়ই বলবান হয়ে থাকে।
  2. যেহেতু পশু মাংস খায় এবং সে বলবান।
  3. পশুরা মাংসভোজী এবং তারা অত্যন্ত শক্তিশালী হয়।
  4. যে সকল পশু মাংস ভোজন করে, তারা অত্যন্ত বলবান।
সঠিক উত্তর:
যে সকল পশু মাংস ভোজন করে, তারা অত্যন্ত বলবান।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে সকল পশু মাংস ভোজন করে, তারা অত্যন্ত বলবান।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য রূপান্তর:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত- তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: মাংসভোজী পশু অত্যন্ত বলবান।
জটিল বাক্য: যে সকল পশু মাংস ভোজন করে, তারা অত্যন্ত বলবান।

সরল বাক্য: ধার্মিকেরা সুখী।
জটিল বাক্য: যারা ধার্মিক, তারা সুখী ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬৯.
লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।" - এর পরোক্ষ উক্তি কী হবে?
  1. লোকটি বললেন যে, "তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।"
  2. লোকটি বললেন যে, তিনি আগামীকাল সেখানে আবার যাবেন।
  3. লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
  4. লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন এখানে আবার যাবেন।
সঠিক উত্তর:
লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
ব্যাখ্যা

উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
- পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।

• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
- পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

• যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
- কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৭০.
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে রূপান্তর করার সময় উদ্ধৃতচিহ্নের জায়গায় কোনটি বসে?
  1. যেহেতু
  2. যাতে
  3. যে
  4. যদি
সঠিক উত্তর:
যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে
ব্যাখ্যা
উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম:
• প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।

যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।"
- পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২৩ সংস্করণ)।
৭১.
'লােকটি শিক্ষিত কিন্তু অভদ্র।' - বাক্যের সরল রূপ কোনটি?
  1. যে লোকটি শিক্ষিত সে লোকটি অভদ্র
  2. লােকটি শিক্ষিত হলেও অভদ্র।
  3. লােকটি শিক্ষিত ও অভদ্র।
  4. লোকটি শিক্ষিত হওয়ায় অভদ্র।
সঠিক উত্তর:
লােকটি শিক্ষিত হলেও অভদ্র।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লােকটি শিক্ষিত হলেও অভদ্র।
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া।
- তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।
যেমন:
যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।
সরল বাক্য: সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।

যৌগিক বাক্য: 'লােকটি শিক্ষিত কিন্তু অভদ্র।'
সরল বাক্য: লােকটি শিক্ষিত হলেও অভদ্র।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭২.
'জ্ঞানী হওয়া সত্ত্বেও সে বিনয়ী নয়' - বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. যদিও সে জ্ঞানী তাও সে বিনয়ী নয়।
  2. যেহেতু সে জ্ঞানী তাই সে বিনয়ী নয়।
  3. সে জ্ঞানী, বিনয়ী নয়। 
  4. সে জ্ঞানী, কিন্তু বিনয়ী নয়। 
সঠিক উত্তর:
সে জ্ঞানী, কিন্তু বিনয়ী নয়। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে জ্ঞানী, কিন্তু বিনয়ী নয়। 
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
• সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূর হয়। 
• সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছ। 

• যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক ব্যবহৃত হয়।
- কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে। 

• সূর্য উদিত হয়, তবে অন্ধকার দূর হয়। 
• সত্য কথা বলনি, তাই বিপদে পড়েছ। 

• সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্য:  
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটিমাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়। যেমন -

• সরল বাক্য: জ্ঞানী হওয়া সত্ত্বেও সে বিনয়ী নয়। 
• যৌগিক বাক্য: সে জ্ঞানী, কিন্তু বিনয়ী নয়। 
• সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ। 
• যৌগিক বাক্য: তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
• সরল বাক্য: ভিক্ষুককে টাকা দাও। 
• যৌগিক বাক্য: কিছু লোক ভিক্ষা করে, ওদের টাকা দাও।   
• সরল বাক্য: তিনি ধনী হলেও সুখী ছিলেন না। 
• যৌগিক বাক্য: তিনি ধনী ছিলেন কিন্তু সুখী ছিলেন না।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ

৭৩.
উক্তি পরিবর্তন করুন: রশিদ বলল, "আমার ভাই আজই ঢাকা যাচ্ছেন।"
  1. রশিদ বলল যে, আমার ভাই ঐদিনই ঢাকা যাচ্ছিলেন।
  2. রশিদ বলল যে, তার ভাই সেদিনই ঢাকা যাচ্ছেন।
  3. রশিদ বলল যে, তার ভাই সেদিনই ঢাকা যাচ্ছিলেন।
  4. রশিদ বলল যে, তার ভাই ঐদিনই ঢাকা যাচ্ছিলেন।
সঠিক উত্তর:
রশিদ বলল যে, তার ভাই সেদিনই ঢাকা যাচ্ছিলেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রশিদ বলল যে, তার ভাই সেদিনই ঢাকা যাচ্ছিলেন।
ব্যাখ্যা
উক্তি পরিবর্তন:  
- প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
- যেমন:  
• প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, “আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।”
• পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান। 
 
- অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।  
- যেমন:   
• প্রত্যক্ষ উক্তি: রশিদ বলল, “আমার ভাই আজই ঢাকা যাচ্ছেন।” 
• পরোক্ষ উক্তি: রশিদ বলল যে, তার ভাই সেদিনই ঢাকা যাচ্ছিলেন।   
 
• পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: লিপি বলল, “আমি এখনই বের হচ্ছি।”
পরোক্ষ উক্তি: লিপি বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১ ও ২০১৯)।
৭৪.
'তাতে সমাজজীবন চলে না।' - এ বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কোনটি?
  1. তাতে সমাজজীবন চলে।
  2. তাতে না সমাজজীবন চলে।
  3. তাতে সমাজজীবন অচল হয়ে পড়ে।
  4. তাতে সমাজজীবন সচল হয়ে পড়ে।
সঠিক উত্তর:
তাতে সমাজজীবন অচল হয়ে পড়ে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাতে সমাজজীবন অচল হয়ে পড়ে।
ব্যাখ্যা
• বাক্য রূপান্তর:
মূলভাব বা অর্থ অপরিবর্তিত রেখে এক শ্রেণির বাক্যকে অন্য শ্রেণির বাক্যে পরিবর্তন কারার নামই হলো বাক্য রূপান্তর।

• নেতিবাচক বাক্য থেকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
নেতিবাচক বাক্যকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে।

১. বাক্য পরিবর্তিত হলেও মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন:
নেতিবাচক: সেটা কখনোই সফল হতে পারে না।
নেতিবাচক: সেটা সর্বদাই অসফল হয়।

২. 'না', 'নয়', 'নি', 'নেই', 'নহে' ইত্যাদি নঞর্থক পদ তুলে দিতে হয় এবং শব্দের পরিবর্তন ঘটিয়ে হ্যা-বাচক ভাব ফুটিয়ে তুলতে হয়।
যেমন:
নেতিবাচক: কোথাও শান্তি ছিল না
অস্তিবাচক: সর্বত্র অশান্তি ছিলো।

৩. প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দ দ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।
যেমন:
নেতিবাচক: শহিদের মৃত্যু নেই।
অস্তিবাচক: শহিদেরা অমর।

তেমনিভাবে,
নেতিবাচক: তাতে সমাজজীবন চলে না।
অস্তিবাচক: তাতে সমাজজীবন অচল হয়ে পড়ে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৫.
'উক্তি' পরিবর্তনের সময়ে অর্থের সংগতি রক্ষার জন্য বাক্যের কোন পদের পরিবর্তন সাধিত হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. যোজক 
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম:
• অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, “আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
• পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

• প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, “আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।”
• পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

---------------------------
• উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি। যেমন:

• প্রত্যক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
যেমন:
- ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

• পরােক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
যেমন:
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।- এটি পরােক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৭৬.
'এই' এর পরোক্ষ রূপ কোনটি?
  1. তাহা
  2. উহা
  3. এটা
  4. সেই
সঠিক উত্তর:
সেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেই
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষ - পরোক্ষ:
• এই - সেই। 
• ইহা - তাহা/উহা। 
• এমন - অমন, তেমন। 
• ওখানে - ওইখানে। 
• আগামীকাল - পরদিন। 
• গতকল্য - পূর্বদিন। 
• এটা - ওটা / সেটা
• এ - সে। 
• এখানে - সেখানে। 
• আজ - সেদিন। 
• গতকাল- আগের দিন। 
• এখন - তখন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৭.
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরােক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কোন ধরনের শব্দের পরিবর্তন হয়?
  1. ক) কালবাচক
  2. খ) স্থানবাচক
  3. গ) ভাববাচক
  4. ঘ) ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরােক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন -
প্রত্যক্ষ উক্তি: লােকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।”
পরােক্ষ উক্তি: লােকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৮.
‘গতকল্য’ এর পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. পরদিন
  2. ঐখানে
  3. সেদিন
  4. পূর্বদিন
সঠিক উত্তর:
পূর্বদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বদিন
ব্যাখ্যা
• উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি। যেমন:

• প্রত্যক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
যেমন:
- ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

• পরােক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
যেমন:
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।- এটি পরােক্ষ উক্তি।

প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।
• উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষরূপ:
- এই - সেই।
- ইহা - তাহা।
- এ - সে।
- এখন - তখন।
- আগামীকাল - পরদিন ।
- গতকাল - আগেরদিন।
- আজ - সেদিন।
- ওখানে - ঐখানে।
- গতকল্য - পূর্বদিন।
- এখানে - সেখানে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৭৯.
মিহির বললো, “আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।” - বাক্যের পরোক্ষ উক্তি নিচের কোনটি?
  1. মিহির বললো যে, আমার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
  2. মিহির বললো, তার জানামতে সে বাসায় থাকতো।
  3. মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো না।
  4. মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
সঠিক উত্তর:
মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
ব্যাখ্যা
উক্তি পরিবর্তন:
- প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
- অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, “আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।”
পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, “আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৮০.
"সাবধান না হলে বিপদে পড়বে।" - বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. সাবধান না হলে তুমি বিপদকে আমন্ত্রণ জানাবে।
  2. বিপদে পড়বে, কারণ তুমি সাবধান নও।
  3. তুমি সাবধান হও, নয়তো বিপদে পড়বে।
  4. যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
সঠিক উত্তর:
যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন
সরল বাক্য: সাবধান না হলে বিপদে পড়বে।
জটিল বাক্য: যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮১.
বক্তার প্রত্যক্ষ উক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয় -
  1. উদ্ধরণ চিহ্ন
  2. ড্যাস
  3. সেমিকোলন
  4. হাইফেন
সঠিক উত্তর:
উদ্ধরণ চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্ধরণ চিহ্ন
ব্যাখ্যা
উক্তি:
- কোনো কথকের বাক কর্মের নামই উক্তি।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

প্রত্যক্ষ উক্তি:
- যে বাক্যে বক্তার কথা অবিকল উদ্ধৃত হয়, তাকে প্রত্যক্ষ উক্তি বলে।
- প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার কথা উদ্ধরণ চিহ্ন (“ ”) - এর মধ্যে থাকে এবং বক্তার কথা ‍উদ্ধৃত করার আগে কমা (,) ব্যবহার করা হয়। 

পরোক্ষ উক্তি:
- যে বাক্যে বক্তার কথা অন্যের জবানিতে রূপান্তরিতভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে পরোক্ষ উক্তি বলে।
- পরোক্ষ উক্তিতে কোনো উদ্ধরণ চিহ্ন থাকে না এবং প্রথম উদ্ধরণ চিহ্নের স্থলে ‘যে’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮২.
'তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে।'- এখানে 'না' এর ব্যবহার কী অর্থে?
  1. না-বাচক 
  2. হ্যাঁ-বাচক
  3. প্রশ্নবোধক
  4. বিস্ময়সূচক
সঠিক উত্তর:
প্রশ্নবোধক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশ্নবোধক
ব্যাখ্যা

• তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে?- এখানে 'না'- প্রশ্নাত্মক/প্রশ্নবোধন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর:
নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে প্রশ্নাত্মক বাক্যটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যার সবচেয়ে কাছাকাছি সম্ভাব্য উত্তর হবে নির্দেশাত্মক বাক্যটি।

• সূত্র: নির্দেশাত্মক বাক্য হ্যাঁ-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে না-বাচক, নির্দেশাত্মক বাক্য না-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে হ্যাঁ-বাচক। প্রথমটির ক্ষেত্রে বিধেয় ক্রিয়ার সঙ্গে নঞর্থক শব্দ যোগ করতে হয়, দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে নঞর্থক শব্দ বর্জন করে 'আর' প্রভৃতি বাক্যালঙ্কার শব্দের আগমন ঘটাতে হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: দেশপ্রেমিককে সবাই ভালোবাসে।
• প্রশ্নাত্মক: দেশপ্রেমিককে কে না ভালোবাসে?

তেমনই,
• নির্দেশাত্মক: তুমি বলেছিলে আগামীকাল আসবে।
• প্রশ্নাত্মক: তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে?

• সূত্র: রূপান্তরিত বাক্যে প্রয়োজনমতো 'কে', 'কি', 'কোথায়' ইত্যাদি প্রশ্নাত্মক শব্দ এবং প্রশ্ন (?) চিহ্ন বসাতে
হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: কেউ মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে না।
• প্রশ্নাত্মক: কেউ কি মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮৩.
জটিল বাক্যে রূপান্তর করুন: 'জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।'
  1. জ্ঞানী লোক তাই সকলে শ্রদ্ধা করে।
  2. জ্ঞানী লোক মাত্রই সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
  3. যে জ্ঞানী সেই সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
  4. যেসব লোক জ্ঞানী, তারা সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
সঠিক উত্তর:
যেসব লোক জ্ঞানী, তারা সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেসব লোক জ্ঞানী, তারা সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য রূপান্তরের নিয়ম:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি তবে, যেহেতু সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন -
সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

সরল বাক্য: জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
জটিল বাক্য: যেসব লোক জ্ঞানী, তারা সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।

সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৪.
পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন হয় কী অনুসারে?
  1. কর্তা
  2. উদ্দেশ্য
  3. কর্ম
  4. বিধেয়
সঠিক উত্তর:
কর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - কর্তা।

• পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: লিপি বলল, “আমি এখনই বের হচ্ছি।”
পরোক্ষ উক্তি: লিপি বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

৮৫.
‘সে’ এর প্রত্যক্ষরূপ কোনটি?
  1. এই
  2. ইহা
  3. এটা
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি। যেমন:

• প্রত্যক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
যেমন:
- ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

• পরােক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
যেমন:
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।- এটি পরােক্ষ উক্তি।

প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।
• উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষরূপ:
- এই - সেই।
- ইহা - তাহা।
- এ - সে।
- এটা - ওটা / সেটা।
- এখন - তখন।
- আগামীকাল - পরদিন।
- গতকাল - আগেরদিন।
- আজ - সেদিন।
- ওখানে - ঐখানে।
- গতকল্য - পূর্বদিন।
- এখানে - সেখানে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৮৬.
'তাকে আসতে বললাম, তবু এলাে না- কীসের উদাহরণ?
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) নির্দেশক
  3. গ) আবেগ
  4. ঘ) যোজক
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোজক
ব্যাখ্যা
বিরােধ যােজক: এ ধরনের যােজক বাক্যের দুটি অংশের সংযােগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরােধ তৈরি করে।
যেমন -
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালাে করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

বিকল্প যােজক: এ ধরনের যােজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন -
- লাল বা নীল কলমটা আননা।
- চা না-হয় কফি খান।

কারণ যোজক: এ ধরনের যােজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযােগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন -
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

সাপেক্ষ যােজক:এ ধরনের যােজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
৮৭.
উক্তি পরিবর্তন করুন: শিক্ষক বললেন, "কাল তোমাদের ছুটি থাকবে।"
  1. শিক্ষক বললেন যে, পরদিন আমাদের ছুটি থাকবে।
  2. শিক্ষক বললেন যে, পরদিন তোমাদের ছুটি থাকবে।
  3. শিক্ষক বললেন যে, পূর্বদিন আমাদের ছুটি থাকবে।
  4. শিক্ষক বললেন যে, সেদিন আমাদের ছুটি থাকবে।
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক বললেন যে, পরদিন আমাদের ছুটি থাকবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক বললেন যে, পরদিন আমাদের ছুটি থাকবে।
ব্যাখ্যা
উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
→ পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।

• যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
• আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।

• প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
→ রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
→ কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

• প্রত্যক্ষ উক্তির কালবাচক পদকে পরোক্ষ উক্তিতে অর্থ অনুসারী করতে হয়।
যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, "কাল তোমাদের ছুটি থাকবে।"
→ পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, পরদিন আমাদের ছুটি থাকবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৮৮.
'সে মোটা বটে, কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।' - বাক্যটির সরল রূপ কী হবে?
  1. সে মোটা ও তার গায়ে শক্তি নেই।
  2. সে মোটা, তবে তার গায়ে শক্তি নেই।
  3. সে শারীরিকভাবে ভারী হলেও শক্তিহীন।
  4. মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।
সঠিক উত্তর:
মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য রূপান্তর:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।

যেমন:
যৌগিক বাক্য: সে মোটা বটে, কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।
সরল বাক্য: মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৯.
ব্যাকরণের কোন অংশে 'উক্তি' আলোচনা করা হয়?
  1. ক) বাক্যতত্ত্বে
  2. খ) ধ্বনিতত্ত্বে
  3. গ) অর্থতত্ত্বে
  4. ঘ) রূপতত্ত্বে
সঠিক উত্তর:
ক) বাক্যতত্ত্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাক্যতত্ত্বে
ব্যাখ্যা
'উক্তি' ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কিভাবে বিন্যস্ত থাকে বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া বাক্যের রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি এই অংশের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন ইত্যাদি বাক্যতত্ত্ব অংশে আলোচিত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)
৯০.
নিচের কোনটি জটিল বাক্য?
  1. পিতা যখন আছে তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?
  2. সেসব দিন আর নেই কিন্তু সেসব স্মৃতি এখনো জেগে আছে।
  3. তিনি আসতে পারলেন না কারণ তিনি অসুস্থ।
  4. দোষ স্বীকার করলে তোমাকে শাস্তি দেয়া হবে না।
সঠিক উত্তর:
পিতা যখন আছে তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতা যখন আছে তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
 
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- পিতা যখন আছে তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

অন্যদিকে,
- যৌগিক বাক্য: সেসব দিন আর নেই, কিন্তু সেসব স্মৃতি এখনো জেগে আছে।
- সরল বাক্য: দোষ স্বীকার করলে তোমাকে শাস্তি দেয়া হবে না।
- যৌগিক বাক্য: তিনি আসতে পারলেন না কারণ তিনি অসুস্থ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯১.
রহমান বলল, “আমিে এখনই আসছি।”- বাক্যের পরোক্ষ উক্তি কী হবে?
  1. রহমান বলল যে, আমি এক্ষুণি যাচ্ছি।
  2. রহমান বলল যে, আমি তখনই আসছি।
  3. রহমান বলল যে, সে এখনই আসছে।
  4. রহমান বলল যে, সে তখনই যাচ্ছে।
সঠিক উত্তর:
রহমান বলল যে, সে তখনই যাচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রহমান বলল যে, সে তখনই যাচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি।
 
উক্তি পরিবর্তনের কিছু নিয়মসমূহ:
১. প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
যেমন-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।"
• পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

২. অর্থ সঙ্গতি রক্ষার জন্য পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়াপদের পরিবর্তন হতে পারে।
যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: রহমান বলল, ‘আমি এখনই আসছি’।
• পরোক্ষ উক্তি: রহমান বলল যে, সে তখনই যাচ্ছে।
 
৩. অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
• পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।
 
• প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।
• পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
 
৪. পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: লিপি বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।"
• পরোক্ষ উক্তি: লিপি বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।
 
৫. প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।”
• পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ)।
৯২.
উক্তি পরিবর্তন করুন: হামিদ বলল, "তোমরা আগামীকাল এসো।"
  1. হামিদ তাদের বললো যে, তারা যেন আগামীকাল আসে।
  2. হামিদ তাদের বললো যে, তারা যেন পরদিন আসে।
  3. হামিদ বললো যে, তোমরা পরদিন এসো।
  4. হামিদ তাদের পরদিন যেতে বললো।
সঠিক উত্তর:
হামিদ তাদের পরদিন যেতে বললো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হামিদ তাদের পরদিন যেতে বললো।
ব্যাখ্যা
উক্তি:
কোনো কথকের বাক কর্মের নামই উক্তি। উক্তি দুই প্রকার। যথা:
১. প্রত্যক্ষ উক্তি ও
২. পরোক্ষ উক্তি।

• প্রশ্নবোধক, অনুজ্ঞাসূচক ও আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে হলে প্রধান খণ্ডবাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন -
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: হামিদ বলল, "তোমরা আগামীকাল এসো।"
• পরোক্ষ উক্তি: হামিদ তাদের পরদিন আসতে (বা যেতে) বলল

• প্রত্যক্ষ উক্তি: তিনি বললেন, "দয়া করে ভেতরে আসুন।"
• পরোক্ষ উক্তি: তিনি (আমাকে) ভেতরে যেতে অনুরোধ করলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৩.
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তনের সময় কোন ধরনের শব্দের পরিবর্তন আনতে হয়?
  1. কালবাচক
  2. স্থানবাচক
  3. ক এবং খ উভয়ই
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তনের সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন,
প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।” 
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন। 

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৪.
"সে মোটা বটে, কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।" - বাক্যটির সরল রূপ কোনটি?
  1. মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।
  2. সে মোটা অথচ তার গায়ে শক্তি নেই।
  3. মোটা কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।
  4. সে মোটা এবং তার গায়ে শক্তি নেই।
সঠিক উত্তর:
মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।
ব্যাখ্যা
যৌগিক থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।

যেমন:
যৌগিক বাক্য: সে মোটা বটে, কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।
সরল বাক্য: মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৫.
প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. কোলন
  2. উদ্ধারচিহ্ন
  3. সেমিকোলন
  4. বন্ধনী চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
উদ্ধারচিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্ধারচিহ্ন
ব্যাখ্যা

উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি
- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
→ রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
→ কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

• বাক্যের অর্থ-সঙ্গতি রক্ষার জন্য সর্বনামের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন -
প্রত্যক্ষ উক্তি: সাজ্জাদ বলল, "আমার ভাই আজই ঢাকা যাচ্ছেন।"
পরোক্ষ উক্তি: সাজ্জাদ বলল যে, তার ভাই সেদিনই ঢাকা যাচ্ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৯৬.
তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে?- এখানে 'না'-এর ব্যবহার কি অর্থে?
  1. না-বাচক
  2. হ্যাঁ-বাচক
  3. প্রশ্নবোধক
  4. বিস্ময়সূচক
সঠিক উত্তর:
প্রশ্নবোধক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশ্নবোধক
ব্যাখ্যা
• তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে?- এখানে 'না'- প্রশ্নাত্মক/প্রশ্নবোধন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর:

নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে প্রশ্নাত্মক বাক্যটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যার সবচেয়ে কাছাকাছি সম্ভাব্য উত্তর হবে নির্দেশাত্মক বাক্যটি।

• সূত্র: নির্দেশাত্মক বাক্য হ্যাঁ-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে না-বাচক, নির্দেশাত্মক বাক্য না-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে হ্যাঁ-বাচক। প্রথমটির ক্ষেত্রে বিধেয় ক্রিয়ার সঙ্গে নঞর্থক শব্দ যোগ করতে হয়, দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে নঞর্থক শব্দ বর্জন করে 'আর' প্রভৃতি বাক্যালঙ্কার শব্দের আগমন ঘটাতে হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: দেশপ্রেমিককে সবাই ভালোবাসে।
• প্রশ্নাত্মক: দেশপ্রেমিককে কে না ভালোবাসে?

তেমনই,
• নির্দেশাত্মক: তুমি বলেছিলে আগামীকাল আসবে।
• প্রশ্নাত্মক: তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে?

• সূত্র: রূপান্তরিত বাক্যে প্রয়োজনমতো 'কে', 'কি', 'কোথায়' ইত্যাদি প্রশ্নাত্মক শব্দ এবং প্রশ্ন (?) চিহ্ন বসাতে
হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: কেউ মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে না।
• প্রশ্নাত্মক: কেউ কি মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৭.
"সে মোটা বটে, কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।" সরল বাক্যে রূপান্তর করুন -
  1. সে মোটা তার গায়ে শক্তি নেই।
  2. সে মোটা ও তার গায়ে কোনো শক্তি নেই।
  3. সে মোটা এবং শক্তিশালী নয়।
  4. মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।
সঠিক উত্তর:
মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।

যেমন:
যৌগিক বাক্য: সে মোটা বটে, কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।
সরল বাক্য: মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।

যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৮.
সেলিম বলল, "বা! কী চমৎকার দৃশ্য"। এর পরোক্ষ উক্তি কোনটি?
  1. সেলিম আনন্দের সাথে বলল যে, বাহ দৃশ্যটি চমৎকার।
  2. সেলিম আনন্দের সাথে বলল যে, দৃশ্যটি চমৎকার।
  3. সেলিম বলল যে, দৃশ্যটি খুব চমৎকার।
  4. সেলিম আনন্দের সাথে বলল যে, দৃশ্যটি খুব চমৎকার।
সঠিক উত্তর:
সেলিম আনন্দের সাথে বলল যে, দৃশ্যটি খুব চমৎকার।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আনন্দের সাথে বলল যে, দৃশ্যটি খুব চমৎকার।
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষ উক্তি সেলিম বলল, "বা! কী চমৎকার দৃশ্য"।
পরোক্ষ উক্তি : সেলিম আনন্দের সাথে বলল যে, দৃশ্যটি খুব চমৎকার।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯.
'অনেক দেখা হলো বটে তবু দেখা শেষ হলো না'।- বাক্যটির সরল রূপ -
  1. ক) অনেক দেখা হলো তবুও দেখা শেষ হলো না।
  2. খ) অনেক দেখা হলেও দেখা শেষ হলো না।
  3. গ) অনেক দেখেও দেখা শেষ হলো না।
  4. ঘ) অনেক দেখেও দেখাই শেষ হইল না।
সঠিক উত্তর:
গ) অনেক দেখেও দেখা শেষ হলো না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনেক দেখেও দেখা শেষ হলো না।
ব্যাখ্যা
'অনেক দেখা হলো বটে তবু দেখা শেষ হলো না'।- বাক্যটির সরল রূপ - অনেক দেখেও দেখা শেষ হলো না।
- 'অনেক দেখা হলো বটে তবু দেখা শেষ হলো না' -
বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য।

যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:

যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরলবাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়। যেমন -

যৌগিক বাক্য: অনেক দেখা হলো বটে তবু দেখা শেষ হলো না।
সরল বাক্য: অনেক দেখেও দেখা শেষ হলো না।

যৌগিক বাক্য: লোকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়। 
সরল বাক্য: লোকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম -দশম শ্রেণি।

১০০.
'চাটুকারকে সবাই অপছন্দ করে।'- বাক্যটিকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলে হয়-
  1. চাটুকারকে সবাই পছন্দ না করে পারে না।
  2. চাটুকারকে সবাই পছন্দ করতে পারে না।
  3. চাটুকারকে কেউ অপছন্দ করে না।
  4. চাটুকারকে কেউ পছন্দ করে না।
সঠিক উত্তর:
চাটুকারকে কেউ পছন্দ করে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাটুকারকে কেউ পছন্দ করে না।
ব্যাখ্যা

• অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলেও বাক্যের অর্থ যেনো একই থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখলে বুঝা যায় যে “মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না” বাক্যটি সঠিকভাবে নেতিবাচক রূপ লাভ করেছে।

অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে পরিবর্তনের সূত্র:
১. বাক্যে না, নয়, নহে, নি, নেই, নাহি, নাই ইত্যাদি নঞর্থক অব্যয়যোগে অস্তিবাচক বাক্যের বিধেয় ক্রিয়াকে (সমাপিকা ক্রিয়া) নেতিবাচক করতে হবে।
২. হ্যাঁ-সূচক বাক্যকে না করতে হলে মুল অর্থ পরিবর্তন না করে বাক্য পরিবর্তন করতে হবে।
৩. বাক্যের বিশেষণ পদটিকে বিপরীত শব্দে রূপান্তর করতে হবে।
৪. প্রয়োজন মত বাক্যের অন্য শব্দকে 'না' সূচক বাক্যের প্রয়োগের আওতাভুক্ত করতে হবে।
৫. 'না' বাচক ক্রিয়া ও 'না' বাচক শব্দ বা 'না' বাচক অব্যয় মিলে বাক্যের অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-সূচক ভাবটি বজায় রাখতে হয়।

যেমন:
অস্তিবাচক: চাটুকারকে সবাই অপছন্দ করে।
নেতিবাচক: চাটুকারকে কেউ পছন্দ করে না।

অস্তিবাচক: হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।
নেতিবাচক: হৈমন্তী চুপ না থাকিয়া পারিল না।

অস্তিবাচক: এমন দিনে তারে বলা যায়।
নেতিবাচক: এমন দিনে তারে না বলে পারা যায় না।

অস্তিবাচক: পাখিটা মরল।
নেতিবাচক: পাখিটা বাঁচল না।

অস্তিবাচক: এভাবে সমাজ অচল হয়ে পড়ে।
নেতিবাচক: এভাবে সমাজ চলে না।

অস্তিবাচক: অনুপমার উচিত কাজ হয়েছে।
নেতিবাচক: অনুপমার অনুচিত কাজ হয়নি।

অস্তিবাচক: বাড়িটা তারা দখল করেছে।
নেতিবাচক: বাড়িটা তারা দখল না করে ছাড়েনি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।