বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাকৃতিক ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন২১১এই পাতা১১প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাকৃতিক ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা / · ২০১২১১ / ২১১

২০১.
ঘূর্ণিঝড় হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করার জন্য ন্যূনতম বাতাসের গতিবেগ কত কিমি/ঘণ্টা বা তার বেশি হতে হয়?
  1. ৩০ কিমি/ঘণ্টা
  2. ৬৫ কিমি/ঘণ্টা
  3. ৪৫ কিমি/ঘণ্টা
  4. ৮০ কিমি/ঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
৬৫ কিমি/ঘণ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৫ কিমি/ঘণ্টা
ব্যাখ্যা

- ঘূর্ণিঝড় হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করার জন্য ন্যূনতম বাতাসের গতিবেগ প্রায় ৬৫ কিমি/ঘণ্টা (বা ৩৬ নট) হতে হয়, যা সাধারণত "ঘূর্ণিঝড়" (Cyclonic Storm) ক্যাটাগরির সর্বনিম্ন সীমা, তবে এর চেয়ে কম গতিতে গভীর নিম্নচাপ (Deep Depression) হয়। 

সাইক্লোন: 
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone, এটি গ্রিক শব্দ Kyklos থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে যার অর্থ কুণ্ডলি পাকানো সাপ। ঘূর্ণিঝড়ের বাতাস কুণ্ডলি পাকানো সাপের আকার ধারণ করে বলে এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির একটি আদর্শ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত। 

সাইক্লোন সৃষ্টির কারণ: 
- এই দুর্যোগ সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো উচ্চ তাপমাত্রা ও নিম্নচাপ। 
- সাইক্লোন সৃষ্টি হয় গভীর সমুদ্রে এবং আঘাত হানে উপকূলীয় এলাকায়। 
- সাধারণত এই তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশি হওয়া প্রয়োজন এবং ঝড়ের সময় বাযুপ্রবাহের গতিবেগ ৬৫ কিলোমিটার বা তারও বেশি হয়। 
- বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারা বছরই এইরূপ তাপমাত্রা বিদ্যমান। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। এ সময় উচ্চচাপযুক্ত বায়ু প্রবলবেগে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগে যেখানে নিম্নচাপ থাকে সেদিকে ধাবিত হয়। এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়। 
- এটি উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠে উৎপত্তি লাভ করে মহাদেশীয় মূলভাগের দিকে অগ্রসর হয়। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলকে চোখ বলে। 
- এছাড়াও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০২.
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে কোন অবস্থা বিরাজ করে? 
  1. শুষ্ক আবহাওয়া
  2. নিম্ন তাপ
  3. নিম্নচাপ
  4. উচ্চচাপ
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড় (Cyclone): 
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেখযোগ্য। 
- স্থান অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নামকরণ হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয় এবং একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেল আকৃতির কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় একটি সাময়িক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- গত তিন দশকে বাংলাদেশের পূর্বাংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২০৩.
টর্নেডো সৃষ্টির মূল কারণ কী? 
  1. উচ্চ চাপ 
  2. নিম্ন চাপ
  3. নিম্ন তাপমাত্রা
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
নিম্ন চাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্ন চাপ
ব্যাখ্যা

টর্নেডো (Tornado): 
- টর্নেডো শব্দটির উৎপত্তি স্প্যানিশ শব্দ 'Tornada' থেকে যার অর্থ Thunder storm বা শব্দ বজ্রঝড়। 
- সাইক্লোনের ন্যায় টর্নেডো সৃষ্টির মূল কারণ হলো বায়ুর নিম্ন চাপ ও উচ্চ তাপমাত্রা। 
- টর্নেডোর ক্ষেত্রে বাতাসের গতিবেগ অনেক বেশি হয়। এই সাধারণ গতিবেগ ঘন্টায় ৪৮০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার হতে পারে। 
- টর্নেডোর সাথে সাইক্লোনের প্রধান পার্থক্য হলো সাইক্লোন সৃষ্টি হয় সাগরে এবং উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে। 
- অপরদিকে টর্নেডো যে কোনো স্থানেই সৃষ্টি হতে পারে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার ক্ষতিসাধন করতে পারে। 
- বাংলাদেশে প্রলয়ংকরী টর্নেডো হয় ১৯৮৯ সালে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়াতে। 
- টর্নেডোর সাথে কালবৈশাখী ঝড়ের যথেষ্ট মিল রয়েছে। শুধু পার্থক্য হলো কালবৈশাখী ঝড় দুই ধরনের বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহের দরুণ বছরের নির্দিষ্ট সময়ে হয় কিন্তু টর্নেডো যে কোনো সময় হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৪.
ভূগোলের কোন শাখা খনিজ ও শক্তিসম্পদ নিয়ে আলোচনা করে?
  1. আঞ্চলিক ভূগোল
  2. অর্থনৈতিক ভূগোল
  3. পরিবেশ ভূগোল
  4. ব্যবহারিক ভূগোল
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক ভূগোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক ভূগোল
ব্যাখ্যা
মানব ভূগোলের শাখাসমূহ:
- আঞ্চলিক ভূগোল,
- জনসংখ্যা ভূগোল,
- নগর ভূগোল,
- অর্থনৈতিক ভূগোল,
- পরিবহন ভূগোল,
- বাণিজ্যিক ভূগোল,
- সাংস্কৃতিক ভূগোল,
- পরিবেশ ভূগোল,
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা,
- বসতি ভূগোল,
- ব্যবহারিক ভূগোল।

⇒ অর্থনৈতিক ভূগোল:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জীবন ধারণের নিমিত্তে সকল প্রকার অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ, বিকাশ, বিস্তার, বিবর্তন এবং বিভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে বিচার বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে, তাই অর্থনৈতিক ভূগোল বলবো।
- অর্থনৈতিক ভূগোল বিশ্বব্যাপী কৃষি, শিল্প, খনিজ ও শক্তিসম্পদ প্রভৃতি উৎপাদন, উৎপাদনের ভৌগোলিক নিয়ামক ও বণ্টন প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করে।
- এছাড়াও অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বাণিজ্যের বৈশিষ্ট্য এবং আমদানি-রপ্তানি পণ্য প্রভৃতির ব্যাখ্যাও অর্থনৈতিক ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৫.
নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ?
  1. জলোচ্ছ্বাস
  2. জলাবদ্ধতা সৃষ্টি
  3. তুষারপাত
  4. খরা
সঠিক উত্তর:
জলাবদ্ধতা সৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলাবদ্ধতা সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
• মানবসৃষ্ট কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- রাসায়নিক দূষণ,
- যুদ্ধ,
- পারমাণবিক বিস্ফোরণ,
- মরুকরণ,
- অগ্নিকাণ্ড,
- জলাবদ্ধতা সৃষ্টি,
- বন উজারকরণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
প্রাকৃতিক কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- ভূমিকম্প,
- অগ্ন্যুৎপাত,
- নদীভাঙন,
- তুষারপাত,
- ঘূর্ণিঝড়,
- খরা,
- জলোচ্ছ্বাস,
- বন্যা ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: অষ্টম শ্রেণি।
২০৬.
আকাশে রংধনু সৃষ্টির কারণ-
  1. ধূলিকণা
  2. বায়ুস্তর
  3. বৃষ্টির কণা
  4. অতি বেগুনী রশ্মি 
সঠিক উত্তর:
বৃষ্টির কণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃষ্টির কণা
ব্যাখ্যা

- আকাশে রংধনু সৃষ্টির কারণ- বৃষ্টির কণা। 
- সূর্য থেকে যে আলোর রশ্মি পৃথিবীতে আসে তার রঙ মূলত সাদা। 
- এই সাদা রঙের ভেতরে বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি রং বিদ্যমান থাকে। 
- সাদা আলোর একটি বিশেষ ধর্ম আছে যা প্রিজমের মধ্য দিয়ে গমন করলে সাদা আলো সাতটি ভিন্ন রঙে বিশ্লেষিত হয়ে যায়। 
- আকাশে যখন বৃষ্টি পড়ে তখন বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ভাসমান প্রিজমের মতো কাজ করে। 
- সূর্য হতে আলো বৃষ্টির ফোঁটার একপাশ দিয়ে প্রবেশ করে বের হবার সময় সাত রঙের বর্ণালী সৃষ্টি করে। 
- বৃষ্টির ফোঁটা বা কণার প্রিজমসুলভ বৈশিষ্ট্যের কারণেই সৃষ্টি হয় রংধনু।  
- বৃষ্টির ফোঁটা হতে বের হওয়া সাত রঙের আলো আমাদের চোখে এসে পৌঁছায় বলেই আমরা রংধনুকে দেখতে পাই। 
- ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে যাওয়ার সময় আলোকরশ্মি যদি দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে মাধ্যম দুটির সংকট কোণের চেয়ে বেশি কোণে আপতিত হয়, তবে ওই আপতিত রশ্মি, দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হওয়ার পর ওর সবটুকুই প্রতিফলিত হয়ে আবার ঘন মাধ্যমেই ফিরে আসে, এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ  প্রতিফলন বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২০৭.
পরিবেশ রক্ষায় একটি দেশের কত শতাংশ বনভূমি প্রয়োজন?
  1. ১৫%
  2. ২০%
  3. ২৫%
  4. ৩০%
সঠিক উত্তর:
২৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫%
ব্যাখ্যা
- যে সকল স্থানে বিভিন্ন প্রকারের প্রচুর পরিমানে গাছপালা দেখা যায় তাকে বন ভূমি বলা হয়ে থাকে।
- এক সময় পৃথিবীর স্থল ভাগের প্রায় ৪০ ভাগ বনভূমি দ্বারা আবৃত ছিল।
- কিন্তু মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বনভূমি থেকে গাছপালা কেটে ফেলে বর্তমানে তা প্রায় ২৪ ভাগে এসে দাড়িয়েছে।
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের তাপ, মাটি, আলো, জলবায়ু প্রভৃতির কারণে বনভূমির তারতম্য হয়ে থাকে। 
- দেশের অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য বনভূমি অপরিহার্য।
- একটি দেশের জন্য অন্তত ২৫% বনভূমির প্রয়োজন।
- বাংলাদেশে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট বনভূমির পরিমাণ প্রায় ১৮ শতাংশ।

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৮.
পৃথিবীর মোট পানির প্রায় কত শতাংশ সমুদ্রে বিদ্যমান?
  1. ৭০%
  2. ৯০%
  3. ৯৭%
  4. ৫০%
সঠিক উত্তর:
৯৭%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৭%
ব্যাখ্যা

• পৃথিবীর মোট পানির প্রায় ৯৭% মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরে সংরক্ষিত থাকে, যা লবণাক্ত পানি।

• বারিমণ্ডলের ধারণা (Concept of Hydrosphere):
- ‘Hydrosphere’ শব্দটি গ্রিক শব্দ Hydro (পানি) ও Sphere (মণ্ডল) থেকে উদ্ভূত।
- পৃথিবীতে বিদ্যমান সকল প্রকার পানির সমষ্টিকে বারিমণ্ডল বলা হয়।
- পৃথিবীর পানি বিভিন্ন অবস্থায় বিদ্যমান—কঠিন (বরফ), তরল (পানি) ও গ্যাসীয় (জলীয় বাষ্প)।
- বায়ুমণ্ডলে পানি জলীয় বাষ্প হিসেবে থাকে, ভূ-পৃষ্ঠে ও ভূ-গর্ভে পানি তরল ও কঠিন অবস্থায় বিদ্যমান।
- পৃথিবীর সকল জলাশয়ের অবস্থানগত বিস্তৃতিকেই বারিমণ্ডল বলা হয়।
- পৃথিবীর মোট পানির প্রায় ৯৭% রয়েছে সমুদ্রে (মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরে)।
- অবশিষ্ট প্রায় ৩% পানি নদী, হ্রদ, হিমবাহ, ভূগর্ভস্থ পানি, মাটি ও বায়ুমণ্ডলে বিদ্যমান।
- পৃথিবীর পানি মূলত দুই প্রকার—লবণাক্ত পানি ও মিঠা পানি।
- মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের পানি লবণাক্ত, আর নদী, হ্রদ, হিমবাহ ও ভূগর্ভস্থ পানি মিঠা পানির উৎস।

উৎস: ভূগোল, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২০৯.
নিচের কোন বিষয়টি প্লেট টেকটোনিক তত্ত্বের সাথে জড়িত?
  1. খরা
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. আগ্নেয়গিরির উদগীরণ
  4. সুনামি
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয়গিরির উদগীরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয়গিরির উদগীরণ
ব্যাখ্যা
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বের মূল ধারণা হলো, ভূ-পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত। এগুলোকে প্লেট বলা হয়। 
- এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের উপরে ভাসমান অবস্থায় আছে। 
- এই প্লেটগুলো প্রতিবছরে কয়েক সেন্টিমিটার কোনো একদিকে সরে যায়।
- প্লেটগুলো কখনও একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যায়। আবার কখনও কখনও একে অন্যের দিকে আসে।
- কখনও কখনও প্লেটগুলো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে ওঠে বা নিচে নামে।
- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব দ্বারা ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ ব্যাখ্যা করা যায়। 
- একটি প্লেটের সাথে আরেকটি প্লেট যেখানে মেশে সেখানেই বেশি ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা ঘটে।
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত থাকলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা আরও বাড়ে।
- ধারণা করা হয়, প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয় ।
- তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়। এ গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে। একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে।
- বেরিয়ে আসা গলিত তরল পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত।
- একইভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে। একেই ভূমিকম্প বলে।
- আজকাল বাংলাদেশেও ভূমিকম্প সংঘটিত হচ্ছে।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২১০.
পৃথিবীতে একজন লোকের ভর ৭০ কেজি। চাঁদে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ পৃথিবীর ১/৬ গুণ। চাঁদে তার ভর কত কেজি?
  1. ১১৪.৩৩ কেজি
  2. ৭০ কেজি
  3. ১১.৬৭ কেজি
  4. ৪২০ কেজি
সঠিক উত্তর:
৭০ কেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭০ কেজি
ব্যাখ্যা
- স্থানভেদে কোনো বস্তুর ভরের কোনো পরিবর্তন হয় না।
- অর্থাৎ, পৃথিবীতে একজন লোকের ভর ৭০ কেজি হলে চাঁদে তার ভর হবে ৭০ কেজি।

- কিন্তু স্থানভেদে কোনো বস্তুর ওজনের তারতম্য হতে পারে।
আমরা জানি,
ওজন= ভর x অভিকর্ষজ ত্বরণ
পৃথিবীতে গড় অভিকর্ষজ ত্বরণ ধরা হয় ৯.৮ মি/সেকেন্ড
তাহলে পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৯.৮ নিউটন হলে তার ভর হবে ১ কেজি।
সুতরাং চাঁদেও সেই বস্তুর ভর হবে ১ কেজি।

কিন্তু চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ ভাগের ১ ভাগ।
তাই চাঁদে ঐ বস্তুর ওজন হবে ১.৬৩ নিউটন।

উৎস: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। [২০১৯ সংস্করণ]
২১১.
সাইক্লোন সৃষ্টিতে কোনটি প্রধান ভূমিকা রাখে?
  1. নিম্নচাপ
  2. সমুদ্রস্রোত
  3. নিম্ন তাপমাত্রা
  4. উচ্চচাপ
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
ব্যাখ্যা

• সাইক্লোন সৃষ্টিতে প্রধান ভূমিকা রাখে নিম্নচাপ। যখন কোনো অঞ্চলে বাতাসের চাপ অন্যান্য এলাকাগুলোর চেয়ে কম থাকে, তখন আশেপাশের উচ্চচাপযুক্ত বাতাস সেই অঞ্চলের দিকে চলে আসে। এই বাতাসের প্রবাহ ঘূর্ণায়মানভাবে আবর্তিত হয়ে শক্তিশালী বাতাস ও মেঘ তৈরি করে, যা সাইক্লোনের রূপ নেয়। সাধারণত উষ্ণ সমুদ্রের উপরে বাতাসের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় এবং বাতাসের ঘূর্ণন বৃদ্ধি পায়। তাই, সাইক্লোনের মূল কারণ হলো নিম্নচাপ এবং তার সঙ্গে যুক্ত বাতাসের ঘূর্ণন।
 
 সাইক্লোন: 
- সাইক্লোন সৃষ্টির পেছনে ‍গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা। 
- সাধারণভাবে সাগরের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে তা সাইক্লোন সৃষ্টির জন্যে উপযোগী হয়। 
- বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারাবছর এই পরিমাণ তাপমাত্রা থাকার কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। 
- বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে একে সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।