বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাকৃতিক ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন২১১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাকৃতিক ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ২১১

.
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিম্নের কোন পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ সবচেয়ে ফলপ্রসূ হবে?
  1. কমিউনিটি পর্যায়ে
  2. জাতীয় পর্যায়ে
  3. উপজেলা পর্যায়ে
  4. আঞ্চলিক পর্যায়ে
সঠিক উত্তর:
কমিউনিটি পর্যায়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমিউনিটি পর্যায়ে
ব্যাখ্যা
• জাতীয়, উপজেলা বা আঞ্চলিক পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার চেয়ে কমিউনিটি পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তা সবচেয়ে বেশি ফলপ্রস্যু হবে।
- ব্যক্তি পর্যায়ে মানুষকে সচেতন করার চেয়ে দলগতভাবে মানুষকে সচেতন করা হলে সেটি অধিক ফলপ্রসূ হয়।

• উপকূলীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- বাংলাদেশের উপকূল (৭১৬ কি.মি.) অঞ্চল সমুদ্র সমতলের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্বারা অনবরত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
- অতএব সুষ্ঠু দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উপকূলীয় জনগণের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা (দুর্যোগ মোকাবেলার ক্ষমতা) বৃদ্ধি ও পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

• উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার কতিপয় পন্থা:

১. আবহাওয়ার তথ্যভিত্তিক পূর্বাভাস ও সতীকরণ যথা সময়ে প্রচার করা।
২. বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পারসো এর মাধ্যমে ভূ-উপগ্রহের চিত্র ও রাডার চিত্রের সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণের ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। 
৩. পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র হতে বন্যা সংক্রান্ত পূর্বাভাস প্রচার ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা।
৪. ঘূর্ণিঝড় পূর্ব ও পরবর্তি সংকেত দান, সতর্কীকরণ,উদ্ধার ও পূণর্বাসন ইত্যাদি কাজে সরকারি সংস্থা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি)-এর কার্যক্রমের আওতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
৫. জরুরি পরিস্থিতিতে আর্তদের চিকিৎসা, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পূণর্বাসন কাজে সামরিক বাহিনীর সদস্যবৃন্দ কর্তৃক বেসামরিক প্রশাসনকে সব রকম সাহায্য ও সহযোগিতা দান করা। 
৬. বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন সংস্থা কর্তৃক দুর্যোগ সংক্রান্ত সংকেতসমূহ প্রচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।
৭. সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাসমূহ যেমন- অক্সফাম, ডিজাস্টার, ফোরাম, কেয়ার বাংলাদেশ, কারিতাস, প্রশিকা, সিসিডিবি, বিডিপিসি (বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতি কেন্দ্র) ইত্যাদি সংস্থার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা।
- এছাড়া রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশে কালবৈশাখীর ঝড় কখন হয়?
  1. শীতকালে
  2. মৌসুমী বায়ু ঋতুতে
  3. শীত-বসন্তের মাঝামাঝি সময়ে
  4. প্রাক-মৌসুমী বায়ু ঋতুতে
সঠিক উত্তর:
প্রাক-মৌসুমী বায়ু ঋতুতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাক-মৌসুমী বায়ু ঋতুতে
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী ঝড়:
- কালবৈশাখী ঝড় বাংলাদেশের অতিপরিচিত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- বাংলাদেশে কালবৈশাখী ঝড় বৈশাখ মাসে আরম্ভ হয়ে বর্ষা মৌসুমের পূর্ব পর্যন্ত সংঘটিত হয়।
- ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টিপাতের সাথে কখনও কখনও শিলা বৃষ্টি হয়ে থাকে।
- এরূপ এক ব্যাপক শিলা বৃষ্টির ফলে গত ৬ এপ্রিল, ২০১৫ তারিখে কয়েক হাজার পাখি মারা যায়।
- বাংলাদেশে সাধারণত এপ্রিল থেকে মে (বৈশাখ থেকে জ্যৈষ্ঠ) মাসে কালবৈশাখী ঝড় দেখা দেয়।
- এই ঝড়ের গতিবেগ ৫৫ থেকে ৮০ কি. মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত শীতল ও শুষ্ক বায়ু এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আগত উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সংঘর্ষে সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় সংঘটিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
.
নিচের কোনটি 'ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০' এর নির্দিষ্ট অভীষ্ট নয়?
  1. দূর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে পদক্ষেপ গ্রহণ
  2. ভূমি ও পানি সম্পদের সর্বোত্তম সমন্বিত ব্যবহার
  3. পানি ব্যবহারে অধিকতর দক্ষতা বৃদ্ধি
  4. জলাভূমি এবং বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ
সঠিক উত্তর:
দূর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে পদক্ষেপ গ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দূর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে পদক্ষেপ গ্রহণ
ব্যাখ্যা
ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০: 

ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ তে প্রাথমিকভাবে একুশ শতকের শেষের দিকে বাংলাদেশ ব-দ্বীপের সম্ভাব্য পরিবর্তন সম্পর্কে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তারিত রূপকল্প প্রণয়নের প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে। ফলশ্রুতিতে, একটি সমন্বিত, বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি ব-দ্বীপ রূপকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে, যা নিম্নরূপ:
• রূপকল্প: “নিরাপদ, জলবায়ু পরিবর্তনে অভিঘাতসহিষ্ণু সমৃদ্ধশালী ব-দ্বীপ গড়ে তোলা”।

• অভিলক্ষ্য:  “দৃঢ়, সমন্বিত ও সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল কার্যকরী কৌশল অবলম্বন এবং পানিসম্পদ 66 ব্যবস্থাপনায় ন্যায়সঙ্গত সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত এবং অন্যান্য ব-দ্বীপ সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবেলা করে দীর্ঘমেয়াদে পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ”।

এ দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প বাস্তবায়নের জন্য এটিকে নির্দিষ্ট অভীষ্ট বা লক্ষ্যে রূপান্তর করা প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ফলাফল হিসেবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচন, পানি ও জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত ঝুঁকি কমানো এবং তার সাথে পরিবেশগত সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা যুক্ত করে এটি সর্বোত্তমভাবে সম্পন্ন করা যায়।

• অভীষ্ট: ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ তে উচ্চতর পর্যায়ের ৩টি জাতীয় অভীষ্ট এবং ব-দ্বীপ সংশ্লিষ্ট ৬টি নির্দিষ্ট অভীষ্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। ব-দ্বীপ সংশ্লিষ্ট অভীষ্টসমূহ উচ্চতর পর্যায়ের অভীষ্ট অর্জনে অবদান রাখবে।

• উচ্চ পর্যায়ের অভীষ্ট: 
- অভীষ্ট ১: ২০৩০ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য দূরীকরণ;
- অভীষ্ট ২: ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন; এবং
- অভীষ্ট ৩: ২০৪১ সাল নাগাদ একটি সমৃদ্ধ দেশের মর্যাদা অর্জন।

• ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০'র নির্দিষ্ট অভীষ্টসমূহ: 
- অভীষ্ট ১: বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত বিপর্যয় থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;
- অভীষ্ট ২: পানির নিরাপত্তা এবং পানি ব্যবহারে অধিকতর দক্ষতা বৃদ্ধি করা;
- অভীষ্ট ৩: সমন্বিত ও টেকসই নদী অঞ্চল এবং মোহনা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা;
- অভীষ্ট ৪: জলাভূমি এবং বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ এবং তাদের যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করা;
- অভীষ্ট ৫: অন্তঃ ও আন্তঃদেশীয় পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য কার্যকর প্রতিষ্ঠান ও ন্যায়সঙ্গত সুশাসন গড়ে তোলা; এবং
- অভীষ্ট ৬: ভূমি ও পানি সম্পদের সর্বোত্তম সমন্বিত ব্যবহার নিশ্চিত করা।

উৎস: বাংলাদেশ ব দ্বীপ পরিকল্পনা (সরকারি ওয়েবসাইট)। 
.
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (BCCTF) গঠন করা হয় কত সালে?
  1. ২০১১ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১৫ সালে
  4. ২০১৩ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১০ সালে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট:
- বর্তমানে বাংলাদেশ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে পৃথিবীর অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ।
- জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় গ্রহণের পর সরকার কর্তৃক ২০০৯ সালে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্ম পরিকল্পনা ২০০৯ (বিসিসিএসএপি, ২০০৯) চুড়ান্ত করা হয়।
- উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম এই ধরণের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহন করে।
- জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা ও অভিযোজন কর্মসূচি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan (BCCSAP), 2009' বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।
- এই কর্মপরিকল্পনায় ৬টি থিমেটিক এরিয়ায় ৪৪টি কার্যক্রম চিহ্নিত করা হয়েছে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার জন্য এবং BCCSAP, ২০০৯ এ উল্লিখিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (BCCTF) গঠন করা হয়েছিল ২০১০ সালে।
- জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বলবৎ করা হয় জলবায়ু ট্রাস্ট আইন-২০১০।

সূত্র: বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা - ২০২৩।
.
অগভীর পানিতে সুনামির শক্তি কেমন হয়? 
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. কমে যায়
  3. অনির্ধারিত
  4. অপরিবর্তিত থাকে
সঠিক উত্তর:
কমে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমে যায়
ব্যাখ্যা
সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। 
অর্থাৎ, সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্রতলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা সুনামি সৃষ্টি করতে পারে।
- সুনামিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। 
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। 
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- ইউরেশিয়ান প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে সৃষ্টি হওয়া এই মারাত্মক ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে নয় মাত্রার। 
- এই জলোচ্ছাসে তিন লাখের মতো মানুষ নিহত হয় যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার আচেহ প্রদেশেই নিহত হয়েছে এক লাখ মানুষ। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায় অর্থাৎ কমে। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 
- ১৭৬২ সালের ২ এপ্রিল বঙ্গোপসাগরের আরাকান অঞ্চলে সংঘটিত একটি ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামি বাংলাদেশে আঘাত এনেছিল। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
ভূমিকম্পের কোন তরঙ্গটি সবচেয়ে দ্রুতগতি সম্পন্ন? 
  1. S তরঙ্গ
  2. P তরঙ্গ
  3. L তরঙ্গ
  4. H তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
P তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
P তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্পের তরঙ্গ (Earthquake Waves): 
- পুকুরের ঠিক মধ্যে কোনো পাথর নিক্ষেপ করলে যেমন পানির তরঙ্গগুলো পুকুরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, ঠিক সেরূপে ভূমিকম্পের তরঙ্গগুলো তার মূল উৎস হতে সবদিকে সমভাবে ছড়িয়ে পড়ে। 
- সাধারণত ভূমিকম্পের তরঙ্গ তিন প্রকারের, এরা উৎস হতে গন্তব্য স্থানের দিকে তিনটি ভিন্ন পথে গমন করে। 
যেমন- 
(ক) প্রাথমিক বা P তরঙ্গ (Primary wave): 
- এটি সবচেয়ে দ্রুতগতি সম্পন্ন তরঙ্গ। 
- এর গতি প্রতি সেকেন্ডে ৫ থেকে ৮ কি.মি.। 
- এ জাতীয় তরঙ্গ কেবলমাত্র কঠিন বস্তু নয়, নরম বস্তুর মধ্য দিয়েও প্রবাহিত হতে পারে।
অর্থাৎ, এ তরঙ্গ সরাসরি পৃথিবীর কেন্দ্র ভেদ করেও অপর প্রান্তে যেতে পারে। 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগের গঠন সম্পর্কে এই P-তরঙ্গের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি জানা সম্ভব। 

(খ) দ্বিতীয় বা S তরঙ্গ (Secondary wave): 
- এই S-তরঙ্গের গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ থেকে ৫ কি. মি. হয়। 
- এটি প্রধানত সমকোণে প্রবাহিত হয় এবং পৃথিবীর অভ্যন্তরে বেশি দূর যেতে পারে না, কারণ এ তরঙ্গ তরল পদার্থের মধ্য দিয়ে চলতে পারে না। 

(গ) পৃষ্ঠ বা L তরঙ্গ (Longitudinal wave): 
- পৃষ্ঠ তরঙ্গকে L তরঙ্গ বলা হয়। 
- প্রাথমিক ও দ্বিতীয় তরঙ্গ ভূত্বকের ওপরে পৌঁছবার পর যে তরঙ্গটি খুব মৃদুগতিতে পৃথিবীর উপরিভাগ দিয়ে চলে, তাকে পৃষ্ঠ বা L তরঙ্গ বলে । কারণ, এ তরঙ্গটি পৃথিবীর পৃষ্ঠ দিয়ে সর্বাপেক্ষা দীর্ঘপথ অতিক্রম করে। এ কারণে দূরবর্তী ভূমিকম্পে প্রথম ও দ্বিতীয় তরঙ্গ ভূত্বকের অভ্যন্তর দিয়ে সর্বপ্রথম যে স্থানে পৌছে, তার কিছু সময় পর পৃষ্ঠ তরঙ্গও সে স্থানে পৌছে। 
- তরঙ্গের এ গতির দ্বারাই ভূমিকম্পের কেন্দ্র নিরূপণ করা যায়। 
- এ তরঙ্গের গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ থেকে ৪ কি. মি.। 


উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
.
UDMC-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Union Disaster Management Committee
  2. Union Development Management Council
  3. Urban Development Monitoring Council
  4. Urban Disaster Monitoring Committee
সঠিক উত্তর:
Union Disaster Management Committee
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Union Disaster Management Committee
ব্যাখ্যা

UDMC:
- UDMC-এর পূর্ণরূপ: Union Disaster Management Committee.
- ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় UDMC।
- এই কমিটি দুর্যোগের ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, পূর্বপ্রস্তুতি, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার প্রভৃতি কর্মকাণ্ড করে থাকে।
- স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসের অন্তত একবার UDMC এর সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- DMC গঠিত হয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বার এনজিও কর্মকর্তা দুর্যোগের বিপর্যস্ত গ্রুপের প্রতিনিধি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, এবং ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের সমন্বয়ে।
- স্বাভাবিক সময়ে এ কমিটি একটি করে মিটিং করে এবং দুর্যোগ কালীন সময়ে একাধিক মিটিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

⇒ বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ের পূর্ণরূপ:
- NDMC: National Disaster Management Council.
- NDMAC: National Disaster Management Advisory Committee.
- DDMC: District Disaster Management Committee.
- UZDMC: Upazila Disaster Management Committee.

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

.
জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ হচ্ছে - 
  1. বায়োগ্যাস
  2. জিওথার্মাল
  3. পেট্রোলিয়াম
  4. জলবিদ্যুৎ
সঠিক উত্তর:
পেট্রোলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেট্রোলিয়াম
ব্যাখ্যা

• জীবাশ্ম জ্বালানি হলো সেই ধরনের জ্বালানি যা প্রাকৃতিকভাবে পৃথিবীতে সৃষ্টি হওয়া মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর অবশিষ্ট থেকে তৈরি হয়। পেট্রোলিয়াম, কয়লা এবং প্রাকৃতিক গ্যাস এর মধ্যে প্রধান উদাহরণ। এই জ্বালানি নির্দিষ্ট সময়ে নিঃশেষ হয়ে যায় এবং পুনঃপ্রয়োগযোগ্য নয়।
- প্রশ্নে উল্লিখিত অপশন গুলির মধ্যে, পেট্রোলিয়াম হলো জীবাশ্ম জ্বালানির একটি উদাহরণ। বায়োগ্যাস এবং জিওথার্মাল নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আর জলবিদ্যুৎও পুনঃনবীকরণযোগ্য উৎস থেকে উৎপন্ন হয়, তাই সেগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ নয়।

• জীবাশ্ম জ্বালানি:
- কোটি কোটি বছর পূর্বে গাছপালা, জীবজন্তু প্রভৃতি প্রচন্ড ভুমিকম্প বা কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কাদা ও বালির বেশ গভীরে ঢাকা পড়ে। এদেরই দেহাবশেষ এ জীবাশ্ম কঠিন বা তরল আকারে খনি থেকে তুলে তাপ শক্তি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এদেরকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। 

• জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ:
- কয়লা,
- খনিজ তেল,
- প্রাকৃতিক গ্যাস।

• পেট্রোলিয়াম:
- পেট্রোলিয়াম এক ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানি।
- তেলের প্রতিশব্দ হচ্ছে পেট্রোলিয়াম।
- ইহা একটি ল্যাটিন শব্দ যা দুটো শব্দ নিয়ে গঠিত পেট্রো + অলিয়াম। পেট্রো শব্দের অর্থ রক বা শিলা এবং অলিয়াম শব্দের অর্থ অয়েল বা তৈল। অর্থাৎ পাথরের বা শিলার স্তরে সঞ্চিত যে তেল তাহাকে পেট্রোলিয়াম বলে।
- আজ থেকে প্রায় পাঁচশত কোটি বছর আগে সমুদ্রের তলদেশে পাললিক শিলার স্তরে গাছ-পালা ও প্রাণিদেহের দেহাবশেষ জৈব বিধ্বংসী পাতন প্রক্রিয়ার ফলে খনিজ তেলের সৃষ্টি হয়।
- ইহা কার্বন ও হাইড্রোজেন গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগ। তাই পেট্রোলিয়াম হচ্ছে তরল জীবাশ্ম জ্বালানি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- জল বিদ্যুৎ ও জিও থার্মাল, বায়োগ্যাস নবায়নযোগ্য জ্বালানি।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ভরা কটাল কখন হয়?
  1. অমাবস্যায়
  2. বর্ষায়
  3. বন্যায়
  4. ঘূর্ণিঝড়ের সময়
সঠিক উত্তর:
অমাবস্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমাবস্যায়
ব্যাখ্যা
ভরা কটাল বা তেজ কটাল:
- ভরা কটাল হয় অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে।
- অমাবস্যায় চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই দিকে সমান্তরালভাবে অবস্থান করে। উভয়ের মিলিত শক্তিতে আকর্ষণ প্রবল হয় এবং পানি বেশি ফুলে ওঠে। এই ধরনের জোয়ারকে ভরা কটাল বা তেজ কটাল (Spring Tide) বলে।
- পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবীর একদিকে সূর্য এবং অন্যদিকে চন্দ্র একই সমান্তরালে অবস্থান করে।
- চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে মুখ্য জোয়ার হয়, সেখানেই সূর্যের আকর্ষণে গৌণ জোয়ার হয়।
= আবার চন্দ্রের বিপরীত দিকে যেখানে তার আকর্ষণে গৌণ জোয়ার হয়।
- পূর্ণিমা তিথিতে উভয় বিপরীত স্থানেই জোয়ারের বেগ সর্বাধিক হয়। একেও ভরা কটাল বা তেজ কটাল (Spring Tide) বলে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ সাধারণত কোথায় ঘটে? 
  1. ভূপৃষ্ঠের কেন্দ্রস্থলে
  2. টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে
  3. সমুদ্রপৃষ্ঠের ঠিক নিচে
  4. মহাদেশীয় সমভূমির মধ্যভাগে
সঠিক উত্তর:
টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে
ব্যাখ্যা

• পৃথিবীর ভূত্বক কতগুলো বড় বড় শিলাখণ্ড বা প্লেট (Tectonic Plates) দ্বারা গঠিত। এই প্লেটগুলোর সীমানায় যখন সংঘর্ষ হয় বা একটি অন্যটি থেকে দূরে সরে যায়, তখন সেই অস্থিরতার কারণে ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

• প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব: 

- এই তত্ত্বের মূল ধারণা হলো, ভূ-পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত, এগুলোকে প্লেট বলা হয়। 
- এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের উপরে ভাসমান অবস্থায় আছে। 
- এই প্লেটগুলো প্রতিবছরে কয়েক সেন্টিমিটার কোনো একদিকে সরে যায়। 
- প্লেটগুলো কখনও একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যায়। আবার কখনও কখনও একে অন্যের দিকে আসে। 
- কখনও কখনও প্লেটগুলো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে ওঠে বা নিচে নামে। 

- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব দ্বারা ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ ব্যাখ্যা করা যায়। 
- দুইটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা ঘটে। 
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত থাকলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা আরও বাড়ে। 
- ধারণা করা হয়, প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয়। - তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়। এ গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে। একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে। 
- বেরিয়ে আসা গলিত তরল পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত। 
- একইভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে। একেই ভূমিকম্প বলে। - আজকাল বাংলাদেশেও ভূমিকম্প সংঘটিত হচ্ছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১১.
ঢাকা সিটিতে বৃষ্টিপাতের পরে প্রায়ই জলাবদ্ধতা বন্যায় রূপ নেয়। এটি কোন ধনের বন্যা?
  1. মৌসুমী বন্যা
  2. আকস্মিক বন্যা
  3. উপকূলীয় বন্যা
  4. নগর বন্যা
সঠিক উত্তর:
নগর বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নগর বন্যা
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood) 
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে। 
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন, যা ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। 

- সাধারণত বন্যা চার প্রকারের হয়ে থাকে।
- যথা:
১. মৌসুমী বা বৃষ্টিজনিত বন্যা,
২. আকস্মিক বন্যা,
৩. উপকূলীয় বন্যা,
৪. নগর বন্যা। 

আকস্মিক বন্যা (Flash Flood):
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তথা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা হতে দেখা দেয়।
- বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে কী বলা হয়?
  1. বিন্দু
  2. অনুকেন্দ্র
  3. উপকেন্দ্র
  4. সমকেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
উপকেন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপকেন্দ্র
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:

- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিূকম্প বলে।
- একটি শান্ত পুকুরে টিল ছুড়লে যেভাবে ঢেউ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তেমনি পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেখানে তরঙ্গ শক্তি উৎপত্তি হয় সেখানে থেকে মুক্ত শক্তি টেউয়ের মত শিলায় তরঙ্গের সৃষ্টি করে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র বলে।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র বলে।
- ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি হ্রাস পায়।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র কোনটি?
  1. NIPORT
  2. SPARRSO
  3. BCSIR
  4. BTRC
সঠিক উত্তর:
SPARRSO
উত্তর
সঠিক উত্তর:
SPARRSO
ব্যাখ্যা
SPARRSO:

• পূর্ণরূপ: Space Research and Remote Sensing Organizations
• এটি বাংলাদেশের একমাত্র ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র।
• এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
• প্রতিষ্ঠা: ১৯৮০ সাল। 
• এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার সাভারে অবস্থিত। 

অন্যদিকে,
• NIPORT: National Institute of Population Research and Training
• BTRC: Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission
• BCSIR: Bangladesh Council of Scientific and Industrial Research

উৎস: SPARSO ওয়েবসাইট।
১৪.
জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে কোন বন্যার সৃষ্টি হয়?
  1. নগর বন্যা
  2. আকস্মিক বন্যা
  3. মৌসুমী বন্যা
  4. উপকূলীয় বন্যা
সঠিক উত্তর:
উপকূলীয় বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপকূলীয় বন্যা
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood): 
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে। 
- অধ্যাপক Chambers এর মতে, 'Flood is a condition of abnormally great flow of water in the river'. 
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়। 

বন্যার প্রকারভেদ: 
- সাধারণত বন্যা চার প্রকারের হয়ে থাকে। 
যথা-মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা। 
১. মৌসুমী বন্যা (Seasonal Flood): 
- বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে মৌসুমী বন্যা বলে। 
- কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না বরং ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তবে মাঝে মাঝে বন্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। 

২. আকস্মিক বন্যা (Flash Flood): 
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে আকস্মিক বন্যা বলে। 
- বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা হতে দেখা দেয়। 
- বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। 

৩. উপকূলীয় বন্যা (Coastal Flood): 
- উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে যে বন্যা সৃষ্টি হয়, তাকে উপকূলীয় বন্যা বলে। 

৪. নগর বন্যা (Urban Flood): 
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যা দেখা দেয়। এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে। 
- ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়। 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
সুনামি কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) চীনা
  2. খ) উত্তর কোরিয়ান
  3. গ) জাপানি
  4. ঘ) ইংরেজি
সঠিক উত্তর:
গ) জাপানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জাপানি
ব্যাখ্যা

Tsunami একটি জাপানি শব্দ। সু অর্থ বন্দর এবং নামি অর্থ ঢেউ। সুতরাং সুনামি অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
সুনামিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্মরণকালের ভয়ঙ্কর সুনামি ঘটেছিলো।
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১৬.
আবহাওয়ায় ৯০% আদ্রতা মানে-
  1. বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ৯০%
  2. ১০০ ভাগ বাতাসে ৯০ ভাগ জলীয় বাষ্প
  3. বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান সম্পৃক্ত অবস্থায় ৯০%
  4. বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান বৃষ্টিপাতের সময়ের ৯০%
সঠিক উত্তর:
বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান সম্পৃক্ত অবস্থায় ৯০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান সম্পৃক্ত অবস্থায় ৯০%
ব্যাখ্যা
- আবহাওয়ায় ৯০% আর্দ্রতা বলতে বুঝায়, বায়ু যতখানি জলীয় বাষ্প ধারন করতে পারে সম্পৃক্ত অবস্থায় তার ৯০% জলীয় বাষ্প রয়েছে। 

আর্দ্রতা: 
- কোনো এলাকার বায়ুমণ্ডলে প্রকৃতপক্ষে যতখানি জলীয় বাষ্প আছে এবং যতখানি জলীয় বাষ্প থাকতে পারে তার শতকরা অনুপাতই হলো আপেক্ষিক আর্দ্রতা। 
- বায়ুতে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিকে আর্দ্রতা বলে। 
- কোন স্থানের আর্দ্রতা সেই স্থানের বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল। 
- যে বায়ুতে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি, সে বায়ু জলবায়ুকে অধিক প্রভাবিত করে। 
- ফলে সেই এলাকায় দিনে খুবই গরম পড়ে এবং রাতে প্রচন্ড ঠান্ডা পড়ে। 
- বায়ুর আর্দ্রতা সূর্যকিরণকে ভূপৃষ্ঠে আসতে অধিক বাঁধা সৃষ্টি করে বলে এ অবস্থা হয়। 
- বর্ষাকালে অধিক আর্দ্রতার কারণে রোগবালাই এবং পোকামাকড় দ্বারা ফসল সহজেই আক্রান্ত হয়। 
- শীতকালে বাতাস শুষ্ক থাকে অর্থাৎ বাতাসে আর্দ্রতা অনেক কম থাকে। 
- শীতকালে বাতাসের গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৭২% থেকে ৮৫% হয় থাকে। 
- অপরদিকে গ্রীষ্ম বা বর্ষাকালে এই আর্দ্রতা হয় ৮৩% থেকে ৯০% পর্যন্ত। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
বাতাসের কোন উপাদান মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে-
  1. নাইট্রোজেন
  2. জলীয় বাষ্প
  3. অক্সিজেন
  4. কার্বন ডাই অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: ক) নাইট্রোজেন। 

• বাতাসের উপাদানগুলোর মধ্যে নাইট্রোজেন মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন সরাসরি উদ্ভিদ গ্রহণ করতে পারে না। তবে বজ্রপাত বা রাইজোবিয়ামের মতো ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে এটি নাইট্রেট হিসেবে মাটিতে মিশে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।

- বাংলাদেশের কৃষিতে বহুল ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সার হচ্ছে ইউরিয়া। 
- সার ছাড়া বায়ু থেকে নাইট্রোজেন পাওয়া যায়। 
- বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ - ৭৮.০২%। 
- বায়ু থেকে নাইট্রোজেন মাটিতে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে নাইট্রোজেন চক্র বলে। 
- নাইট্রোজেন চক্র এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে নাইট্রোজেন বিভিন্নভাবে রূপান্তরিত হয়। 
- নাইট্রোজেন উদ্ভিদের প্রোটিন এবং ক্লোরোফিল তৈরির জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান।
- এটি গাছের দ্রুত বৃদ্ধি এবং পাতা সজীব রাখতে সাহায্য করে।
- নাইট্রোজেনের অভাবে গাছের পাতা হলুদ হয়ে যায় এবং বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

 উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং ভূগোল, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
অশ্মমন্ডল বা ভূ-ত্বকের সকল বিষয় প্রাকৃতিক ভূগোলের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. মৃত্তিকা ভূগোল
  2. গাণিতিক ভূগোল
  3. ভূমিরূপবিদ্যা
  4. জলবায়ুবিদ্যা
সঠিক উত্তর:
ভূমিরূপবিদ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিরূপবিদ্যা
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক ভূগোল: 
- ভূগোল বিষয়ের যে অংশ পাঠ করলে পৃথিবীর জন্ম, ভূ-প্রকৃতি অর্থাৎ পাহাড়, পর্বত, বারিমন্ডল, বায়ুমন্ডল প্রভৃতি বিষয় ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা যায় তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে।
- প্রাকৃতিক ভূগোলের প্রধান প্রকৃতি হলো- প্রকৃতির সাথে সম্পর্কিত সকল বিষয়কে প্রাকৃতিক ভূগোল এককভাবে প্রকাশ করে।
- তাই প্রাকৃতিক ভূগোলের পরিধিও ব্যাপক এবং ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক ভূগোলের পরিধি আরো অধিক বিস্তৃত হবে।
 
১. ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology): প্রাকৃতিক ভূগোলের এই শাখায় পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, পৃথিবীর উৎপত্তি, ভূ-আলোড়ন বা ভূ-আন্দোলন, বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ, ভূ-তাত্ত্বিক সময় মাপনি, ভূ-ত্বকের পরিবর্তন, পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদ, খনিজ, শিলা প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করা হয়।
- মূলত অশ্মমন্ডল বা ভূ-ত্বকের সকল বিষয় ভূমিরূপবিদ্যার অন্তর্গত।
২. জলবায়ুবিদ্যা (Climatology): এই শাখা বায়ু, বায়ুস্তর, বায়ুর গঠন, বায়ুর ধর্ম, বায়ুর তাপ ও তাপমাত্ৰা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুপুঞ্জ, বায়ুপ্রাচীর, ঘূর্ণিবাত, প্রতীপ ঘূর্ণিবাত, বায়ুমন্ডলের জলীয়বাষ্প, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে আলোচনা করে। সংক্ষেপে বায়ুমন্ডল ও বায়ুমন্ডলের সাথে সম্পর্কিত সকল বিষয়ের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ প্রদান করে ।
৩. সমুদ্রবিদ্যা (Oceanography): বারিমন্ডলের প্রধান উপাদান সাগর, মহাসাগরসমূহের উৎপত্তি, বিন্যাস, বিস্তরণ, সমুদ্রস্রোত, সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ, জোয়ার-ভাঁটা, মানব জীবনের উপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাব ও বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে সমুদ্রপথে যোগাযোগ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে ।
8. মৃত্তিকা ভূগোল (Soil Geography): মৃত্তিকা ভূগোল ভূ-ত্বকের বা অশ্মমন্ডলের উপরিভাগের অংশ অর্থাৎ মৃত্তিকার গঠন, উপাদান, বণ্টন ও বিন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করে ।
৫. জীব ভূগোল (Biogeography): উদ্ভিদ বাস্তব্যবিদ্যা, উদ্ভিদের ক্রমবিকাশ, পরিবেশের উপর উদ্ভিদের প্রভাব প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে ।
৬. প্রাণি ভূগোল (Zoogeography): এ শাখা পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রাণিজগৎ ও প্রাণিজগতের বণ্টন নিয়ে আলোচনা করে।
৭. গাণিতিক ভূগোল (Mathematical Geography): গাণিতিক ভূগোলে জ্যোতিষ্কমন্ডলী, সৌরজগৎ, পৃথিবী ও এর আকৃতি, গতি, আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা ও সময়, আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির ফলাফল প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানি কীরূপ?
  1. উষ্ণ ও হালকা
  2. উষ্ণ ও ভারী
  3. শীতল ও হালকা
  4. শীতল ও ভারী
সঠিক উত্তর:
উষ্ণ ও হালকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উষ্ণ ও হালকা
ব্যাখ্যা
• নিরক্ষীয় অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানি উষ্ণ ও হালকা।
-  সূর্য সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেয়ার ফলে দিনরাত্রির দৈর্ঘ্য প্রায় সমান।
- তাই ঋতু পরিবর্তন এ অঞ্চলে দেখা যায় না।
- সারা বছর অধিক তাপ ও বৃষ্টিপাত এ জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- নিরক্ষীয় অঞ্চল সূর্যের সরাসরি তাপমাত্রা বেশি পায়, যার ফলে এখানকার সমুদ্রের পানি উষ্ণ থাকে।
- উষ্ণ পানি সাধারণত কম ঘনত্বের হয়, তাই এটি হালকা থাকে।
- এছাড়াও বেশি বৃষ্টিপাতের কারণে লবণাক্ততা তুলনামূলকভাবে কম থাকে, যা পানিকে কম ঘনত্বের করে।

 উৎস: ব্রিটানিকা।
২০.
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কোন অংশ বেতার তরঙ্গ প্রতিফলনের মাধ্যমে দীর্ঘ দূরত্বে যোগাযোগ সম্ভব করে?
  1. আয়নোস্ফিয়ার
  2. মেসোস্ফিয়ার
  3. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  4. ট্রপোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
আয়নোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়নোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

• পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের যে অংশ বেতার তরঙ্গ প্রতিফলনের মাধ্যমে দীর্ঘ দূরত্বে যোগাযোগ সম্ভব করে, তা হলো আয়নোস্ফিয়ার। আয়নোস্ফিয়ার বায়ুমণ্ডলের উপরের একটি স্তর, যেখানে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে গ্যাসগুলো আয়নিত হয়ে বিদ্যুত্‌ চার্জযুক্ত কণায় পরিণত হয়। এই আয়নিত কণাগুলো রেডিও বা বেতার তরঙ্গকে প্রতিফলিত বা বাঁকিয়ে আবার পৃথিবীর দিকে ফিরিয়ে দিতে পারে। ফলে বেতার তরঙ্গ সরাসরি দৃষ্টিসীমার বাইরে গিয়েও বহু দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। এ কারণেই রেডিও সম্প্রচার, দূরপাল্লার যোগাযোগ এবং নৌ ও বিমান যোগাযোগে আয়নোস্ফিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
 
তাপমণ্ডল (Thermosphere): 
- মেসোবিরতির উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে তাপমণ্ডল বা থার্মোস্ফিয়ার বলে।
- তাপমন্ডলের বৈশিষ্ট্য নিম্নে তুলে ধরা হলো- 
ক) তাপ বায়ুমণ্ডলের খুব হালকা এবং এখানে তাপের পরিবহনও নগণ্য। 
খ) তীব্র সৌর বিকিরনে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনী রশ্মির সংঘাতে এই অংশে বায়ু আয়নযুক্ত হয়। এই জন্য একে আয়নমণ্ডল বা আয়নোস্ফিয়ার বলা হয়। 
গ) পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে যে বেতার তরঙ্গ পাঠানো হয় তা এই স্তরের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে। 
ঘ) এই স্তরে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৮০০ সেলসিয়াসে এসে পোঁছায়। 

অন্যান্য অপশনসমূহ,
- ট্রপোস্ফিয়ার: আবহাওয়া ও জলবায়ুর ঘটনাবলী ঘটে।
- স্ট্রাটোস্ফিয়ার: এখানে ওজোন স্তর থাকে, যা সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি শোষণ করে।
- মেসোস্ফিয়ার: উল্কাপিণ্ড পুড়ে যায় এই স্তরে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২১.
নিচের কোনটি সুনামি সৃষ্টির কারণ নয়? 
  1. হিমবাহ গলন 
  2. সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প 
  3. পানির নিচে বিস্ফোরণ 
  4. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত 
সঠিক উত্তর:
হিমবাহ গলন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমবাহ গলন 
ব্যাখ্যা

- হিমবাহ গলন সুনামির কারণ নয়। এটি মূলত ধীরগতির একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া এবং এটি সরাসরি সুনামির মতো আকস্মিক ও বিশাল ঢেউয়ের সৃষ্টি করে না। 

সুনামি (Tsunami): 
- সুনামি (Tsunami) একটি জাপানি শব্দ, জাপানি ভাষায় এর অর্থ হলো 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'। 
- সুনামির পানির ঢেউ সমুদ্রের স্বাভাবিক ঢেউয়ের মতো নয়, এটা সাধারণ ঢেউয়ের চেয়ে অনেক বিশালাকৃতির। 
- অতি দ্রুত ফুঁসে ফুলে ওঠা জোয়ারের মতো, যা উপকূল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে। 
- সুনামির পানির ঢেউগুলো একের পর এক উঁচু হয়ে আসতেই থাকে তাই একে ঢেউয়ের রেলগাড়ি বা 'ওয়েভ ট্রেন' বলে। 
- সুনামি হলো পানির এক মারাত্মক ঢেউ যা সমুদ্রের মধ্যে বা বিশাল হ্রদে ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে। 
- পানির নিচে কোনো পারমাণবিক বা অন্য কোনো বিস্ফোরণ, ভূপাত ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে। 
- সুনামির ক্ষয়ক্ষতি সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এর আশেপাশে সুনামির ধ্বংসাত্মক লীলা সংঘটিত হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে যে সুনামি সৃষ্টি হয় তা এই মহাসাগরের আশেপাশে ১৪টি দেশে আঘাত হানে এবং মারাত্মক একটি দুর্যোগ সৃষ্টি করে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২২.
ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের 'Big One' বলতে বোঝায়-
  1. চূড়ান্ত ভূমিকম্প
  2. শেয়ার বাজারের পতন
  3. বাৎসরিক মোটর চালনা উৎসব
  4. আণবিক যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
চূড়ান্ত ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চূড়ান্ত ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
ক্যালিফোর্নিয়ার 'Big One': 
- ক্যালিফোর্নিয়ার 'Big One' মূলত সম্ভাব্য একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্পের ধারণা, যা স্যান আন্দ্রেয়াস ফল্ট লাইনে সংঘটিত হতে পারে। 
- স্যান আন্দ্রেয়াস ফল্ট হলো উত্তর আমেরিকান প্লেট এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেটের মধ্যবর্তী একটি টেকটনিক ফল্ট লাইন, যা ভূমিকম্পের জন্য অত্যন্ত সক্রিয়। 
- এই ফল্ট লাইনটি প্রায় ১৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্য দিয়ে চলে। 
- এটি দুটি টেকটোনিক প্লেটের মিথস্ক্রিয়ার একটি প্রধান স্থান, যেখানে প্রতিনিয়ত চাপ জমা হয়। 
- ১৯০৬ সালের সান ফ্রান্সিসকো ভূমিকম্প (7.9 মাত্রা) এবং ১৯৮৯ সালের লোমা প্রিয়েতা ভূমিকম্পের মতো ঘটনা দেখিয়েছে যে স্যান আন্দ্রেয়াস ফল্ট লাইন কতটা বিপজ্জনক।
- ভূতাত্ত্বিকরা মনে করেন, স্যান আন্দ্রেয়াস ফল্টে জমা হওয়া চাপ অবশেষে একটি বিশাল ভূমিকম্প ঘটাতে পারে। 
- তবে স্যান আন্দ্রেয়াসের দক্ষিণ অংশে ১৭০০ সালের পর থেকে বড় কোনো ভূমিকম্প ঘটেনি, যা ভবিষ্যৎ 'Big One'-এর আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
২৩.
বাংলাদেশে সর্বকালের সবচেয়ে প্রলয়ংকরী সাইক্লোন কোন সালে ঘটেছিল? 
  1. ১৯৬০ সালে 
  2. ১৯৮৫ সালে 
  3. ১৯৭০ সালে 
  4. ২০০৭ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯৭০ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭০ সালে 
ব্যাখ্যা

সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় (Cyclone): 
- সাইক্লোন শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ "Kyklos" থেকে, যার অর্থ হলো Coil of Snakes বা সাপের কুণ্ডলী। 
অর্থাৎ, নিম্নচাপের কারণে যখন বাতাস প্রচণ্ড গতিবেগে ঘুরতে থাকে, তখন সেটাকে সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় বলে। 
- দক্ষিণ এশিয়াতে যা সাইক্লোন, আমেরিকাতে সেটা হ্যারিকেন (Hurricane) এবং দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোতে টাইফুন (Typhoon) নামে পরিচিত। 
- বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয় পর্বত, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং মাঝখানে ফানেল আকৃতির উপকূলীয় এলাকা বিদ্যমান। 
- ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। 
- ১৯৬০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অসংখ্য সাইক্লোন বাংলাদেশে আঘাত এনেছে যার মধ্যে ১৯৬০, ১৯৬১, ১৯৬৩, ১৯৬৫, ১৯৭০, ১৯৮৫, ১৯৯১, ২০০৭ ও ২০০৯ সালের সাইক্লোন ছিল প্রলয়ংকরী। 
- তবে ১৯৭০ সালের সাইক্লোনটি সর্বকালের সবচেয়ে প্রলয়ংকরী সাইক্লোন হিসেবে পৃথিবীর ইতিহাসে চিহ্নিত হয়েছে। 

- মূলত সাইক্লোন সৃষ্টিতে নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- সাধারণত সাইক্লোন তৈরি হতে সাগরের তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াসের বেশি হতে হয়, দুর্ভাগ্যবশত বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারা বছরই এই তাপমাত্রা বিদ্যমান থাকে। 
- সমুদ্রের উত্তপ্ত পানি বাষ্পীভবনের ফলে উপরে উঠে যখন জল কণায় পরিণত হয় তখন বাষ্পীভবনের সুপ্ত তাপটি বাতাসে ছেড়ে দেয়। সে কারণে বাতাস উত্তপ্ত হয় এবং বাষ্পীভবন আরো বেড়ে যায়, ফলে বায়ুমণ্ডল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে নিম্নচাপের সৃষ্টি করে। নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে আশপাশের বাতাস সেখানে ছুটে আসে, যা বাড়তি তাপমাত্রার কারণে ঘুরতে ঘুরতে উপরে উঠতে থাকে এবং সাইক্লোন সৃষ্টি করে। 
- এই প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের বেগ অনেক বেশি হয়। তবে বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার বা তার চাইতে বেশি হলে সেটাকে সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়। 
- এই পর্যন্ত বাংলাদেশে সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোন হয়েছিল ১৯৯১ সালে, তখন বাতাসের বেগ ছিল ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার। 
- সাইক্লোন অত্যন্ত শক্তিশালী, একটি দুর্বল সাইক্লোনও শক্তিতে মেগাটন শক্তির কয়েক হাজার পারমাণবিক বোমার সমান। 
- তাছাড়া যেহেতু সাইক্লোন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তাই এটি প্রতিরোধ করা প্রায় অসাধ্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪.
সাইক্লোন সৃষ্টির জন্যে দায়ী কোনটি? 
  1. নিম্নচাপ
  2. উচ্চচাপ
  3. সমুদ্রস্রোত
  4. নিম্ন তাপমাত্রা
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
ব্যাখ্যা

• সাইক্লোন সৃষ্টির জন্যে প্রধানত নিম্নচাপ দায়ী, অর্থাৎ সঠিক উত্তর ক) নিম্নচাপ। উষ্ণ সমুদ্রের উপর যখন বায়ু দ্রুত গরম হয়ে হালকা হয়ে উপরে উঠতে থাকে, তখন সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। আশপাশের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে বায়ু দ্রুত ওই নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ছুটে আসে। পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে এই প্রবাহিত বায়ু ঘূর্ণায়মান রূপ নেয় এবং ধীরে ধীরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়, যাকে সাইক্লোন বলা হয়। উচ্চচাপ, সমুদ্রস্রোত বা নিম্ন তাপমাত্রা সরাসরি সাইক্লোন সৃষ্টির মূল কারণ নয়, বরং নিম্নচাপই এর কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।
 
সাইক্লোন: 
- সাইক্লোন সৃষ্টির পেছনে ‍গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা। 
- সাধারণভাবে সাগরের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে তা সাইক্লোন সৃষ্টির জন্যে উপযোগী হয়। 
- বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারাবছর এই পরিমাণ তাপমাত্রা থাকার কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। 
- বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে একে সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫.
ওজোন লেয়ার বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে অবস্থিত?
  1. হেমিস্ফিয়ার
  2. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. আয়নোস্ফিয়ার
  4. ট্রপোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোমণ্ডল স্তরে ওজোন স্তর অবস্থিত।

স্ট্রাটোমণ্ডল:
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমণ্ডল।
- যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি।
- এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়।
- স্ট্রাটোমণ্ডলের উপরের দিকে ওজোন গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মন্ডল নামে পরিচিত।
- এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার।
- ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করে।
- জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর।
- তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌছাতে পারে না।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬.
একটি বড় মাপের ভূমিকম্পের পর কী ঘটার সম্ভাবনা থাকে? 
  1. জলোচ্ছাস
  2. বন্যা
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. সুনামি
সঠিক উত্তর:
সুনামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনামি
ব্যাখ্যা

• একটি বড় মাপের ভূমিকম্পের পর সুনামি ঘটার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। যখন সমুদ্রের তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প ঘটে, তখন সাগরের তলদেশের স্তর হঠাৎ উপরে বা নিচে সরে যায়। এতে বিশাল পরিমাণ পানি স্থানচ্যুত হয়ে শক্তিশালী তরঙ্গ সৃষ্টি করে, যা দ্রুত গতিতে তীরের দিকে অগ্রসর হয়। এই তরঙ্গ তীরে পৌঁছালে তা ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে পারে, উপকূলীয় এলাকার ঘরবাড়ি, গাছপালা ও প্রাণহানি ঘটায়। তাই বড় ভূমিকম্পের পর বিশেষ করে যদি তা সমুদ্রের নিচে ঘটে, তবে সুনামির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে।

সুনামি (Tsunami):

- সমুদ্র তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হলে সমুদরপৃষ্ঠে বিশাল যে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় তাকে সুনামি বলে।
- সুনামির (কারন হলো সমুদ্রতলের ভূমিকম্প।
- সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
- সুনামির উৎপত্তি সমুদ্রতলে।
- সর্বপ্রথম সুনামির কথা লিপিবদ্ধ হয় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে।

⇒ সুনামি সৃষ্টির কারণ:
- সুনামির সৃষ্টির প্রধান কারণ সমুদ্রের তলদেশের ভূমিকম্প। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণেও সুনামি সৃষ্টি হয়ে থাকে। এছাড়া পারমানবিক বিস্ফোরণ, ভূমিধ্বস, উল্কাপিন্ডের পতন ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে।
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে যে ঢেউয়ের সৃষ্টি করে তা প্রবলবেগে উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়।
- গভীর সমুদ্রে সুনামির উৎপত্তিস্থলে সুনামির উচ্চতা মাত্র কয়েক সে.মি. উঁচু কিন্তু উপকূলে সুনামির ঢেউয়ের উচ্চতা ৩০-৫০ মিটার উঁচু আকার ধারণ করে।
- এ ছাড়া ভূ-অভ্যন্তরে টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া হতে থাকে। এভাবে কখনো কোনো একটি প্লেট অপর প্লেটের দিকে অনবরত ধাক্কা দিতে থাকলে সমুদ্রের তলদেশে সুনামির সৃষ্টি হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৭.
সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সামুদ্রিক ঢেউকে কী বলে? 
  1. সুনামি
  2. জোয়ার
  3. সাইক্লোন
  4. জলোচ্ছ্বাস
সঠিক উত্তর:
সুনামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনামি
ব্যাখ্যা

সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। 
অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। 
- এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্রতলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। 
- সুনামিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। 
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সামুদ্রিক ঢেউয়ের ফলে সুনামি তৈরি হয়। 

- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। 
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- ইউরেশিয়ান প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে সৃষ্টি হওয়া এই মারাত্মক ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে নয় মাত্রার। 
- এই জলোচ্ছাসে তিন লাখের মতো মানুষ নিহত হয় যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার আচেহ প্রদেশেই নিহত হয়েছে এক লাখ মানুষ। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায়। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 
- ১৭৬২ সালের ২ এপ্রিল বঙ্গোপসাগরের আরাকান অঞ্চলে সংঘটিত একটি ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামি বাংলাদেশে আঘাত এনেছিল। তখন কক্সবাজার এবং পার্শ্ববর্তী দ্বীপসমূহে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৮.
সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সংঘটিত হয়-
  1. নদীতে
  2. সাগরে
  3. পুকুরে
  4. খালে-বিলে
সঠিক উত্তর:
সাগরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাগরে
ব্যাখ্যা
সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ।
- যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ।
অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ।
- এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা ইত্যাদি সুনামি সৃষ্টি করতে পারে।
- সুনামিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়।
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে।
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প।
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায়।
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯.
ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ সাধারণত কোথায় ঘটে? 
  1. চৌম্বক উত্তর মেরুতে
  2. মরুভূমির কেন্দ্রে
  3. সমুদ্রপৃষ্ঠের ঠিক নিচে
  4. টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে
সঠিক উত্তর:
টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে
ব্যাখ্যা
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব: 
- এই তত্ত্বের মূল ধারণা হলো, ভূ-পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত, এগুলোকে প্লেট বলা হয়। 
- এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের উপরে ভাসমান অবস্থায় আছে। 
- এই প্লেটগুলো প্রতিবছরে কয়েক সেন্টিমিটার কোনো একদিকে সরে যায়। 
- প্লেটগুলো কখনও একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যায়। আবার কখনও কখনও একে অন্যের দিকে আসে। 
- কখনও কখনও প্লেটগুলো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে ওঠে বা নিচে নামে। 

- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব দ্বারা ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ ব্যাখ্যা করা যায়। 
- দুইটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা ঘটে। 
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত থাকলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা আরও বাড়ে। 
- ধারণা করা হয়, প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয় । 
- তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়। এ গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে। একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে। 
- বেরিয়ে আসা গলিত তরল পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত। 
- একইভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে। একেই ভূমিকম্প বলে। 
- আজকাল বাংলাদেশেও ভূমিকম্প সংঘটিত হচ্ছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৩০.
বায়োমে বাসকারী জীবেরা কীভাবে একে অপরকে প্রভাবিত করে?
  1. পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে
  2. আলাদা বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলে
  3. শিকার করে
  4. একে অপরকে এড়িয়ে চলে
সঠিক উত্তর:
পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
• বায়োম:
- পৃথিবীর কোনো বিশাল অঞ্চলে প্রায় একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব সম্প্রদায় একত্রে যে সুসংহত জীবন গড়ে তুলে তাকে বায়োম বলে।
- বায়োমে যারা বাস করে তারা পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে একে অন্যকে প্রভাবিত করে।
- পৃথিবীর সকল বায়োম বা সজীব বস্তু মিলে গড়ে উঠে জীবমন্ডল।
- জীবমন্ডল হলো এক বিশাল বাস্তুসংস্থান যেখানে জীবের সম্মিলিত অস্তিত্ব গড়ে তুলে এক নতুন পরিবেশ।
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে নানারকম আবহাওয়া, জলবায়ু ও প্রাকৃতিক পরিবেশের বৈশিষ্ট্যের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বায়োম গড়ে উঠে। যেমন- অরণ্য, মরুভূমি, তৃণভূমি ইত্যাদি।
- বায়োমে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি সদস্যের মধ্যে সমতা বজায় থাকে।

• বায়োমের বৈশিষ্ট্য:
 ১. বায়োমে বৈশিষ্ট্যসূচক উদ্ভিদ ও প্রাণি বিদ্যমান থাকে।
২. সকল বায়োম ক্রমবর্ধমান পর্যায়ে সিরিজ অতিক্রম করে বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে।
৩. আঞ্চলিক পরিবেশে এগুলোর প্রত্যেকটি মোটামুটি ভারসাম্য অবস্থা বহন করে।
৪. প্রত্যেক বায়োম প্রাকৃতিক অবস্থায় নিজস্ব ভারসাম্য প্রকাশ করে এবং এই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য অন্য বায়োম হতে পৃথক।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১.
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে নিচের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও পরিমাণ বাড়ে?
  1. খরা ও তুষারপাত
  2. জলোচ্ছ্বাস
  3. ভূমিকম্প 
  4. আগ্নেয়ুৎপাত
সঠিক উত্তর:
জলোচ্ছ্বাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলোচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা

- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে মূলত জলোচ্ছ্বাস-এর মাত্রা ও পরিমাণ বাড়ে, যা উপকূলীয় অঞ্চলে প্লাবন, নদীভাঙন এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধি করে এবং শক্তিশালী ঝড়ের প্রভাব বাড়ায়। এটি সরাসরি খরা বা তুষারপাত (যা বিপরীত) এবং ভূমিকম্প বা আগ্নেয়ুৎপাতের (যা ভিন্ন ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া) কারণ নয়, বরং উপকূলীয় দুর্যোগের কারণ। 

সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ফসল উৎপাদনে প্রভাব: 
- সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এশিয়ার দেশগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেয়। 
- প্রায়শই বন্যা, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততা সৃষ্টি হয়। 
- অধিকন্তু ঋতু পরিবর্তনের স্বাভাবিক নিয়মে বৈচিত্র্য দেখা দিচ্ছে। 
- বিশ্বব্যাংক বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে টার্ন ডাউন দ্য হিট: ক্লাইমেট রিজিওনাল ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড কেস ফর রেজিলিয়ান্স শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে উল্লেখ করেছে- প্রতি তিন থেকে পাঁচ বছর পরপর বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা বন্যায় ডুবে যাবে। 
- তাপমাত্রা আড়াই ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বন্যায় প্লাবিত এলাকার পরিমাণ ২৯ শতাংশ বাড়বে। 
- ২০৮০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উপকূলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ৬৫ সেন্টিমিটার বাড়লে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৪০ শতাংশ ফসলি জমি হারিয়ে যাবে। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২.
পটুয়াখালীর জলবায়ুকে কেমন জলবায়ু বলা হয়?
  1. নিয়তভাবাপন্ন
  2. মৃদুভাবাপন্ন
  3. চরমভাবাপন্ন
  4. সমভাবাপন্ন
সঠিক উত্তর:
মৃদুভাবাপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃদুভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা

মৃদুভাবাপন্ন:
- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে।
- যেমন: কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন।
- সমুদ্র নিকটবর্তী জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন বা মৃদুভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।

অন্যদিকে,
- সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য না হলেও সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়।
- এ কারণে সমুদ্রের দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা হয়।
- স্থলভাগের চেয়ে জলভাগ অনেক ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়।
- কারণ পানির আপেক্ষিক তাপ ধারণ ক্ষমতা বেশি।
- তবে সৌরতাপ ভূমি অপেক্ষা সমুদ্রের অনেক গভীরে প্রবেশ করে তাপ বিস্তার করে।
- এ কারণেই অনেক দীর্ঘ সময়ে সমুদ্র উত্তপ্ত হয়।
- আবার তাপ বিকিরণের ক্ষেত্রে সমুদ্র পুনরায় ধীরে ধীরে তাপ হারায় যা ভূমির ক্ষেত্রে আরও দ্রুত হয়।
- ফলে সমুদ্র ঠান্ডা হতেও দীর্ঘ সময় লাগে।
- মূলত এ কারণেই গ্রীষ্মকালে উপকূলীয় এলাকা ভূ-ভাগের অভ্যন্তরের তুলনায় শীতল হয় এবং শীতকালে তুলনামূলকভাবে উষ্ণ থাকে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩.
বিপর্যয় উপদ্রুত এলাকার জনসাধারণ যখন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন তাকে কী বলা হয়?
  1. বিপদাপন্নতা
  2. প্রতিকূলতা
  3. দুর্যোগ
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ:
- একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে।
- দুর্যোগ একটি এলাকার স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচন্ডভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
- ক্ষতিগ্রস্থ সমাজের পক্ষে নিজস্ব সম্পদ দিয়ে এই ক্ষতি মোকাবিলা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
- দুর্যোগ কোনো স্থানের জনবসতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে ঐ জনবসতি সহজে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪.
পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই কোন দুর্যোগ সংঘটিত হয়?
  1. বন্যা
  2. খরা
  3. ভূমিকম্প
  4. ঘূর্ণিঝড়
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
• পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়- ভূমিকম্প। 
----------------- 
• ভূমিকম্প:
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলে।
- কোন ধরনের আগাম সতর্ক সংকেত ব্যতীত অর্থাৎ কার্যকর পূর্বাভাস ছাড়া সংঘটিত দুর্যোগ হলো ভূমিকম্প।
- ভূমিকম্প সংঘটনের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও ভূমিকম্প সংঘটনের পূর্বে সতর্কতা প্রাপ্তি এখনো সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে,
- বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও শৈত্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে পূর্বাভাস পাওয়া যায়।
---------------------------------- 
• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ (উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল), মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ (মধ্য অঞ্চল) এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ (দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল)।
- ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় নদীর গতিপথ পাল্টে যায়।
যেমন, ১৭৮৭ সালে আসামে (ডাউকি ফন্ট) যে ভূমিকম্প হয় তাতে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ কিছুটা উচু হয় ফলে তার গতিপথ পাল্টে গিয়ে যমুনা নদী দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে।
- ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম রিখটার স্কেল।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৫.
'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক' কোন উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়?
  1. সামাজিক বনায়ন জোরদার করা
  2. দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা
  3. বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ করা
  4. রাসায়নিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা
ব্যাখ্যা
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- ১৪ মার্চ - ১৮ মার্চ ২০১৫ তারিখে জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্থির করা হয়।
- দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

• সাতটি লক্ষ্য:
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাথে সরাসরি দুর্যোগের অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুতর অবকাঠামোর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধাগুলির মধ্যে মৌলিক পরিষেবাগুলির ব্যাঘাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০২০ সালের মধ্যে জাতীয় এবং স্থানীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কৌশলসহ দেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য তাদের জাতীয় কর্মের পরিপূরক করার জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বহু-বিপদ প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ঝুঁকির তথ্য এবং মূল্যায়নের প্রাপ্যতা এবং অ্যাক্সেস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

উৎস: UNDRR ওয়েবসাইট।
৩৬.
নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানির বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. শীতল ও ভারী
  2. উষ্ণ ও ভারী
  3. উষ্ণ ও হালকা
  4. শীতল ও হালকা
সঠিক উত্তর:
উষ্ণ ও হালকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উষ্ণ ও হালকা
ব্যাখ্যা

নিরক্ষীয় অঞ্চল: 
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়। 
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানি উষ্ণ ও হাল্কা হয়।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয় ফলে নিরক্ষীয় অঞ্চলের উষ্ণ পানি আয়তনে বৃদ্ধি পায় ও হালকা বলে সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়। 
- অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি।
- এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৭০০-২৫০০ মিলিমিটার।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৭.
ডাউকি ফল্ট বরাবর একটি প্রচন্ড ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশের কোন নদী এর গতিপথ পরিবর্তন করে?
  1. ব্রহ্মপুত্র নদ
  2. পদ্মা নদী
  3. কর্ণফুলী নদী
  4. মেঘনা নদী
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মপুত্র নদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মপুত্র নদ
ব্যাখ্যা
- ভূমিকম্প ভূ-পৃষ্ঠে সংঘটিত আকস্মিক ও অস্থায়ী কম্পন। 
- ভূমিকম্প পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়। 
- ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় নদীর গতিপথ পাল্টে যায়। 
যেমন- ১৭৮৭ সালে আসামে (ডাউকি ফন্ট) যে ভূমিকম্প হয় তাতে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ কিছুটা উঁচু হয় ফলে তার গতিপথ পাল্টে গিয়ে যমুনা নদী দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৮.
দুটি প্লেটের সংযোগস্থলে মূলত কোন দুর্যোগের ঘটনা বেশি ঘটে?
  1. সুনামি
  2. জলোচ্ছ্বাস
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. ভূমিকম্প 
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প 
ব্যাখ্যা

- ভূমিকম্প হলো দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে সবচেয়ে বেশি ঘটা একটি দুর্যোগ। যখন এই প্লেটগুলো একে অপরের সাথে ধাক্কা খায়, একে অপরের নিচ দিয়ে চলে যায় বা পাশ কাটিয়ে যায়, তখন তাদের মধ্যে চাপ তৈরি হয়। যখন এই সঞ্চিত চাপ হঠাৎ মুক্ত হয়, তখন কেঁপে ওঠে এবং ভূমিকম্প হয়। 

প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব: 
- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্বের মূল ধারণা হলো ভূ-পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত যাদেরকে প্লেট বলা হয়। এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের উপরে ভাসমান অবস্থায় আছে। 
- টেকটোনিক প্লেটগুলো প্রতি বছরে কয়েক সেন্টিমিটার কোনো একদিকে সরে যায়। প্লেটগুলো কখনও একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যায়, আবার কখনো কখনো একে অন্যের দিকে আসে। প্লেটগুলো কখনো কখনো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে ওঠে আবার নিচে নামে। 
- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব দ্বারা ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ ব্যাখ্যা করা যায়। 

- দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বেশি ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা ঘটে।
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত থাকলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা আরও বাড়ে। ধারণা করা হয়, প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয়। তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়, এ গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে, একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে। 
- বেরিয়ে আসা গলিত তরল পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত। 
- একইভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে যা ভূমিকম্প নামে পরিচিত। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৩৯.
Nife (নাইফ) নামে পরিচিত নিচের কোন স্তর? 
  1. ম্যান্টল
  2. লিথোস্ফিয়ার
  3. সেন্ট্রোস্ফিয়ার
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সেন্ট্রোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেন্ট্রোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রমন্ডল (Centrosphere/Core):

• পৃথিবীর কেন্দ্রের চারিদিকে প্রায় ৩,৪৮৬ কি.মি. ব্যাসার্ধের যে গোলক অবস্থিত এর নাম কেন্দ্রমন্ডল বা সেন্ট্রোস্ফিয়ার।
• অন্তঃকেন্দ্র ও বহিঃকেন্দ্রকে একত্রে কেন্দ্রমন্ডল বলে। 
• এই স্তরের ঘনত্ব প্রায় ১০.৭৮ গ্রাম/সে.মি., যা গুরুমন্ডলের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন।
• কেন্দ্রমন্ডল লৌহ, নিকেল, পারদ, সীসা প্রভৃতি কঠিন ও ভারী পদার্থ দ্বারা - গঠিত। 
• এই স্তরে নিকেল (Ni) ও লৌহের (Fe) পরিমাণ বেশি থাকায় একে নাইফ (Nife) বলা হয়।
• এটি পানি অপেক্ষা ১০/১২ গুণ এবং পৃথিবীর অন্যান্য অংশ অপেক্ষা দ্বিগুণের অধিক ঘন। 
• এর বহিঃকেন্দ্রের পুরুত্ব আনুমানিক ২,২৭০ কি.মি. এবং অন্তঃকেন্দ্রের পুরুত্ব ১,২১৬ কি.মি.। 
• কেন্দ্রমন্ডলের বাইরের অংশ তরল এবং ভেতরের অংশ কঠিন অবস্থায় আছে । 

উৎস: ভুমিরূপবিদ্যা, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪০.
ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি -
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. একই থাকে
  3. হ্রাস পায়
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিূকম্প বলে।
- একটি শান্ত পুকুরে টিল ছুড়লে যেভাবে ঢেউ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তেমনি পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেখানে তরঙ্গ শক্তি উৎপত্তি হয় সেখানে থেকে মুক্ত শক্তি টেউয়ের মত শিলায় তরঙ্গের সৃষ্টি করে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র বলে।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র বলে।
- ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি হ্রাস পায়।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১.
নিচের কোন কার্যক্রমটি সাড়াদান ব্যবস্থাপনার অন্তর্ভূক্ত?
  1. তল্লাশি ও উদ্ধার
  2. ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা
  3. নিরাপদ স্থানে অপসারণ
  4. উপরের সবকয়টি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- ’দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে ও সংঘটনের পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।

সাড়াদান (Response):
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন।

- সাড়াদানের আওতাভূক্ত কার্যক্রমগুলো হলো:
• নিরাপদ স্থানে অপসারণ,
• তল্লাশি ও উদ্ধার,
• ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং
• ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪২.
What is the primary greenhouse gas responsible for long-term global warming?
  1. Methane (CH4)
  2. Nitrous oxide (N₂O)
  3. Carbon dioxide (CO2)
  4. Ozone (O3)
সঠিক উত্তর:
Carbon dioxide (CO2)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Carbon dioxide (CO2)
ব্যাখ্যা

⇒ কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নে সর্বাধিক ভূমিকা রাখে।

গ্রিনহাউস গ্যাস:
- যেসব গ্যাস পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থেকে তাপ শোষণ করে এবং তা পুনরায় বিকিরণ করে, ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় সেসব গ্যাস কে গ্রিনহাউস গ্যাস বলা হয়।
- গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির মধ্যে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO) হলো অন্যতম প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস।
- জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। প্রতি বছর জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে ২১.৩ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়।
- এছাড়া এটি বন উজাড়ের কারণে ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত গ্যাসের কারণেও সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র - মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ও ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

৪৩.
বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা প্রায় কত ডিগ্রি সেলসিয়াস? 
  1. ৩০° সেলসিয়াস
  2. ২৮° সেলসিয়াস
  3. ৩২° সেলসিয়াস
  4. ৩৯° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
২৮° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৮° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি সমভাবাপন্ন।
- কর্কটক্রান্তি রেখা এ দেশের প্রায় মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করায় এখানে ক্রান্তীয় জলবায়ু বিরাজমান।
- তবে বিভিন্ন ঋতুর আবির্ভাব থাকায় এদেশের সামগ্রিক জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমিন জলবায়ু বলা হয়।
-  শীতকালে তাপমাত্রা ৭০ সেলসিয়াস পর্যন্ত নামে অপর দিকে গ্রীস্মকালে কখনও কখনও তাপমাত্রা ৪০° সেলসিয়াসের উপরেও উঠে।
- কিন্তু বার্ষিক গড় তাপমাত্রা কম বেশী ২৪° সেলসিয়াস।
- কিন্তু গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮° সেলসিয়াস।
- শীত ও গ্রীষ্মের উত্তাপের পার্থক্য খুবই কম। এ মাসের গড় তাপমাত্রা থাকে ১৭° সেলিসিয়াসের কাছাকাছি।
- মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৃষ্টি হয়।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় সিলেট অঞ্চলে।
- উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল এদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

উৎস: ভূগোল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪.
'Geography' শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন-
  1. স্ট্রাবো
  2. কার্ল রিটার
  3. ডাডলি স্ট্যাম্প
  4. ইরাটসথেনিস
সঠিক উত্তর:
ইরাটসথেনিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরাটসথেনিস
ব্যাখ্যা
‘Geography':

- ‘Geography' শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন প্রাচীন গ্রিসের ভূগোলবিদ ইরাটসথেনিস।
- ভূগোল হলো এমন একটি বিষয়/শাস্ত্র যেখানে স্থানীক ও কালীক পর্যায়ে মানুষ ও পরিবেশের মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা হয়।
- সংক্ষেপে মানুষের বাসভূমি হিসাবে পৃথিবীর বর্ণনা হলো ভূগোল।
- ইংরেজি 'Geography' শব্দটি থেকে ভূগোল শব্দটির উৎপত্তি। ‘Geo' শব্দের অর্থ ‘ভূ’ বা পৃথিবী এবং ‘graphy' শব্দের অর্থ বর্ণনা। সুতরাং Geography শব্দটির অর্থ পৃথিবীর বর্ণনা।
- কোনো কোনো ভূগোলবিদ ভূগোলকে বলেছেন পৃথিবীর বিবরণ, কেউ কেউ বলেছেন পৃথিবীর বিজ্ঞান।
- অধ্যাপক কার্ল রিটার (Professor Carl Ritter) ভূগোলকে বলেছেন, পৃথিবীর বিজ্ঞান।
- অধ্যাপক ডাডলি স্ট্যাম্প (Professor Dudley Stamp) আরও সহজভাবে বলেছেন, পৃথিবী ও এর অধিবাসীদের বর্ণনাই হলো ভূগোল।
- অধ্যাপক রিচার্ড হার্টশোন (Professor Richard Hartshorne) বলেন, পৃথিবী পৃষ্ঠের পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্যের যথাযথ, যুক্তিসংগত ও সুবিন্যস্ত বিবরণের সঙ্গে সংশিষ্ট বিষয় হলো ভূগোল।
- আলেকজান্ডার ফন হামবোল্টের (Alexander Von Hambolt) মতে, ভূগোল হলো প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিজ্ঞান। প্রকৃতিতে যা কিছু আছে তার বর্ণনা ও আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৫.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ওজোন গ্যাসের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. থার্মোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
◉ ওজোন স্তর বা Ozone Layer মূলত স্ট্রাটোস্ফিয়ারের ১৫–৩৫ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এটি সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি (UV) রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীর জীবজগতকে সুরক্ষা দেয়।

স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere):
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল।
- ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমণ্ডল নামে পরিচিত।
- স্ট্রাটোমণ্ডল ও মেসোমণ্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause) বলে।

• স্ট্রাটোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of the Stratosphere):
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
- এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolate rays) শুষে নেয়। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা ৪° সেলিসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় ৷
- এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক।
- ঝড়বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে ।
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা পুনরায় হ্রাস পেতে শুরু করে। এটি স্ট্রাটোমণ্ডলের শেষ প্রান্ত নির্ধারণ করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬.
মানব-সৃষ্ট দুর্যোগের উদাহরণ কোনটি? 
  1. ভূমিকম্প 
  2. বন্যা 
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. জলাবদ্ধতা
সঠিক উত্তর:
জলাবদ্ধতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলাবদ্ধতা
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ (Disaster): 
- একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে। 
- দুর্যোগ একটি এলাকার স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচণ্ডভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। 
- ক্ষতিগ্রস্থ সমাজের পক্ষে নিজস্ব সম্পদ দিয়ে এই ক্ষতি মোকাবিলা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। 
- দুর্যোগ কোনো স্থানের জনবসতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে ঐ জনবসতি সহজে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না। 

বিশ্বব্যাপী দুর্যোগসমূহের প্রকারভেদ: 
- পৃথিবীর যে কোনো দেশে দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়। 
যেমন- 
১। প্রাকৃতিক দুর্যোগ: 
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। 
যেমন: অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি। 

২। মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ: 
- মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। 
যেমন: জলাবদ্ধতা, অগ্নিকান্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭.
পৃথিবীর জলরাশির শতকরা কত ভাগ সমুদ্র ও মহাসাগরে রয়েছে? 
  1. ৯৫.০০%
  2. ৯৭.২৫%
  3. ৯২.৮৫%
  4. ৯৯.৯৯%
সঠিক উত্তর:
৯৭.২৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৭.২৫%
ব্যাখ্যা
বারিমণ্ডল: 
- 'Hydrosphere'-এর বাংলা প্রতিশব্দ বারিমণ্ডল। 
- 'Hydro' শব্দের অর্থ পানি এবং 'Sphere' শব্দের অর্থ মণ্ডল। 
- পৃথিবীর সর্বত্র রয়েছে পানি, এ বিশাল জলরাশি পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় থাকে যেমন- কঠিন (বরফ), গ্যাসীয় (জলীয়বাষ্প) এবং তরল। বায়ুমণ্ডলে পানি রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসেবে, ভূপৃষ্ঠে রয়েছে তরল ও কঠিন অবস্থায় এবং ভূপৃষ্ঠের তলদেশে রয়েছে ভূগর্ভস্থ তরল পানি। 
- বারিমণ্ডল বলতে বোঝায় পৃথিবীর সকল জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ। 
- পৃথিবীর সকল জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগ পানি রয়েছে সমুদ্রে (মহাসাগর, সাগর ও উপসাগর) এবং মাত্র ৩ ভাগ পানি রয়েছে নদী, হিমবাহ, ভূগর্ভস্থ, হ্রদ, মৃত্তিকা, বায়ুমণ্ডল ও জীবমণ্ডলে। 
- পৃথিবীর সমস্ত পানিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- লবণাক্ত ও মিঠা পানি। 
- পৃথিবীর সকল মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের জলরাশি লবণাক্ত এবং নদী, হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ পানি মিঠা পানির উৎস। 
- জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ ও শতকরা হার হচ্ছে- 
সমুদ্র = ৯৭.২৫%
• হিমবাহ = ২.০৫%, 
• ভূগর্ভস্থ পানি = ০.৬৮%, 
• হ্রদ = ০.০১%, 
• মাটির আর্দ্রতা = ০.০০৫%, 
• বায়ুমণ্ডল = ০.০০১%, 
• নদী = ০.০০০১% এবং 
• জীবমণ্ডল = ০.০০০০৪% ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮.
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় টেকটোনিক প্লেট কোনটি?
  1. ইউরেশিয়ান প্লেট
  2. উত্তর আমেরিকান প্লেট
  3. প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট
  4. আফ্রিকান প্লেট
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট
ব্যাখ্যা
• প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট (Pacific Plate):
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট (Pacific Plate) হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় টেকটোনিক প্লেট।

- এর আয়তন প্রায় 40,000,000  বর্গকিলোমিটার যা উত্তর আমেরিকা মহাদেশের চেয়েও বড়।
- এটি প্রধানত প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean) এর নিচে অবস্থিত এবং বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির জন্য পরিচিত।

• টেকটোনিক প্লেট:

- টেকটোনিক প্লেট হচ্ছে পাথরের একটি স্তর যা পৃথিবীর অভ্যন্তরের গলিত অংশটির সবচেয়ে বাইরের আবরণ।
-  ভূ-ত্বক প্রধানত ৭টি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত।
- প্লেটগুলো হলো:
- ইউরেশীয় প্লেট (Eurasian Plate),
- উত্তর আমেরিকান প্লেট (North American Plate),
- দক্ষিণ আমেরিকান প্লেট (South American Plate),
- আফ্রিকান প্লেট (African Plate),
- অ্যান্টার্কটিক প্লেট (Antarctic Plate),
- ভারত-অস্ট্রেলীয় প্লেট (Indo-Australian Plate) ও
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট (Pacific Plate).

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪৯.
নিচের কোন দুর্যোগটি পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়? 
  1. ঘূর্ণিঝড় 
  2. বন্যা 
  3. জলোচ্ছ্বাস 
  4. ভূমিকম্প 
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প 
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্প: 
- পৃথিবীর ভেতরে হঠাৎ সৃষ্ট কোনো কম্পন যখন ভূপৃষ্ঠে আকস্মিক আন্দোলন সৃষ্টি করে, সেটাকেই ভূমিকম্প বলে। 
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড থেকে মিনিট খানেক পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে একাধিকবার ঘটতে পারে। 
- ভূমিকম্প একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি দেশ বা অঞ্চল পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে। 
- কোন ধরনের আগাম সতর্ক সংকেত ব্যতীত সংঘটিত দুর্যোগ হলো ভূমিকম্প। 
- ভূমিকম্প সংঘটনের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও ভূমিকম্প সংঘটনের পূর্বে সতর্কতা প্রাপ্তি এখনো সম্ভব হয়নি। 

অন্যদিকে, 
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ক্ষেত্রে পূর্বাভাস পাওয়া যায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যাল এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫০.
সুনামির প্রধান কারণ কী? 
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. আগ্নেয়গিরি
  3. সমুদ্রতলের ভূমিকম্প
  4. সূর্যের আকর্ষণ 
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রতলের ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রতলের ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা

সুনামি (Tsunami) হলো সমুদ্রের তলদেশে হঠাৎ সৃষ্ট বিশাল শক্তির কারণে উৎপন্ন এক ধরনের বৃহৎ সমুদ্র তরঙ্গ। এর প্রধান কারণ হলো— সমুদ্রতলের ভূমিকম্প। 

​সুনামি:
- ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের কারণে সৃষ্ট বিশাল সামুদ্রিক ঢেউকে সুনামি বলে।

​সুনামি (Tsunami) একটি জাপানি শব্দ। জাপানি ভাষায় এর অর্থ হলো 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'।
- সুনামির পানির ঢেউ সমুদ্রের স্বাভাবিক ঢেউয়ের মতো নয়। এটা সাধারণ ঢেউয়ের চেয়ে অনেক বিশালাকৃতির। এটি অতি দ্রুত ফুঁসে ফুলে ওঠা জোয়ারের মতো, যা উপকূল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে।
- সুনামির পানির ঢেউগুলো একের পর এক উঁচু হয়ে আসতেই থাকে তাই একে ঢেউয়ের রেলগাড়ি বা 'ওয়েভ ট্রেন' বলে।

​সুনামির কারণ:
- ভূমিকম্প: সমুদ্রের তলে ভূমিকম্প হলে, জলের স্থানচ্যুতি ঘটে এবং সুনামি তৈরি হয়।
- ভূমিধস: সমুদ্রের তলে বা উপকূলীয় অঞ্চলে ভূমিধস হলে, তা বিশাল ঢেউ তৈরি করতে পারে।
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: সমুদ্রের তলে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হলে, তা জলকে স্থানচ্যুত করে এবং সুনামি তৈরি করতে পারে।
- পারমাণবিক বা অন্য কোন বিস্ফোরণ।

উৎস: মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

৫১.
কোনটি জলজ আবহাওয়াজনিত (hydro-meteorological) দুর্যোগ নয়?
  1. ভূমিকম্প
  2. খরা
  3. তুষারপাত
  4. ঘূর্ণিঝড়
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
• Hydro-meteorological দুর্যোগ:
- Hydro-meteorological শব্দটি দুটি অংশ থেকে গঠিত:
- Hydro এর অর্থ পানি সংশ্লিষ্ট।
- এবং Meteorological অর্থ আবহাওয়া বা জলবায়ু সংক্রান্ত ঘটনা।
- Hydro-meteorological দুর্যোগ বলতে মূলত জলবায়ু ও আবহাওয়াজনিত কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলিকে বোঝায়।
- বন্যা, ভূমিধস উভয় hydro-meteorological দুর্যোগ হিসেবে পরিচিত।
- এই দুর্যোগগুলো সরাসরি জলবায়ু (Climate) এবং আবহাওয়ার (Weather) পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- প্রধানত বৃষ্টিপাত, বায়ুর গতি, তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার পরিবর্তন এই দুর্যোগগুলির কারণ।
- জলজ আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের কিছু উদাহরণ হলো: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস, ভারি বৃষ্টি, খরা, তুষারপাত।
- ভূমিকম্প জলজ আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ নয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।প্রা
৫২.
কোন স্কেলের সাহায্যে ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ করা হয়?
  1. হাইড্রোমিটার
  2. ফ্যাদোমিটার
  3. ব্যারোমিটার
  4. রিখটার স্কেল
সঠিক উত্তর:
রিখটার স্কেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিখটার স্কেল
ব্যাখ্যা
রিখটার স্কেল:

- ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ করা হয় রিখটার স্কেলে। 
- 1935 সালে আমেরিকার ভূকম্প বিশারদ চার্লস ফ্রান্সিস রিখটার ভূমিকম্পের যে মাত্রামাপক স্কেল প্রণয়ন করেন সেই স্কেলকে রিখটার স্কেল বলে।
- রিখটার পরিমাপক স্কেল হলো কোন ভূমিকম্পের প্রাবল্যকে সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করা, এটি একটি 10 মাত্রা ভিত্তিক লগারিদম পরিমাপ।
অর্থাৎ এই পরিমাপে যে কোন সংখ্যার ভূমিকম্প- পূর্ববর্তী সংখ্যার চাইতে 10 গুণ বেশি শক্তিশালী।যেমন তিন মাত্রার ভূমিকম্পের চেয়ে চার মাত্রার ভূমিকম্প দশগুণ বেশি শক্তিশালী।

ভূমিকম্প:
 
- পৃথিবীর ভেতরে হঠাৎ সৃষ্ট কোনো কম্পন যখন ভূপৃষ্ঠে আকস্মিক আন্দোলন সৃষ্টি করে, সেটাকেই ভূমিকম্প বলে। 
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড থেকে মিনিট খানেক পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে একাধিকবার ঘটতে পারে। 
- ভূমিকম্প একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি দেশ বা অঞ্চল পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে। 
- বড় ধরনের ভূমিকম্প নদীর গতিপথও পরিবর্তন করতে পারে। যেমন - ভূমিকম্পের ফলে আমাদের অন্যতম প্রধান নদী ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ বদলে গিয়েছিল। 
- পৃথিবীর মাঝে জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। 
- ২০১০ সালে হাইতিতে, ২০১১ সালে জাপানে এবং ২০১৫ সালে নেপালের ভূমিকম্প ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। 
- জাপানের ভূমিকম্পের পর সেখানে সৃষ্ট সুনামি নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রে আঘাত করে একটি নিউক্লিয়ার দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিল। 
- রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প আমরা অনুভব করতে পারি। 
- এই স্কেলে এক মাত্রা বেড়ে যাওয়া মানে তার শক্তি ৩০গুন বেড়ে যাওয়া। 
- ১৯৮৪ সালে মানিকগঞ্জ এলাকায় রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার বড় একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। 

অন্যদিকে, 
- আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্র হাইড্রোমিটার। 
- বায়ুর চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যারোমিটার। 
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র ফ্যাদোমিটার। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৫৩.
ভূত্বকের আকস্মিক কম্পনকে কী বলা হয়? 
  1. টর্নেডো
  2. ভূমিকম্প
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. অগ্ন্যুৎপাত
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প (Earthquake): 
- পৃথিবীর কঠিন ভূত্বকের কোনো কোনো অংশ প্রাকৃতিক কোনো কারণে কখনো কখনো অল্প সময়ের জন্য হঠাৎ কেঁপে ওঠে, ভূত্বকের এরূপ আকস্মিক কম্পনকে ভূমিকম্প বলে। 
- ভূকম্পন সাধারণত কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয় আবার কখনো কিছু সময় পর পর অনুভূত হয়। 
- এ কম্পন কখনো অত্যন্ত মৃদু আবার কখনো অত্যন্ত প্রচন্ড হয়। 

ভূমিকম্পের প্রধান কারণ: 
- পৃথিবীর উপরিভাগ কতকগুলো ফলক/প্লেট দ্বারা গঠিত, এই প্লেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে। 
- অগ্ন্যুৎপাতের ফলে প্লেটসমূহের উপর ভূকম্পন সৃষ্টি হয়। 

ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ: 
১। শিলাচ্যুতি বা শিলাতে ভাঁজের সৃষ্টি: কোনো কারণে ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরে বড় ধরনের শিলাচ্যুতি ঘটলে বা শিলাতে ভাঁজের সৃষ্টি হলে ভূমিকম্প হয়। ১৯৩৫ সালে বিহারে এবং ১৯৫০ সালে আসামে এ কারণেই ভূমিকম্প হয়। 
২। তাপ বিকিরণ: ভূত্বক তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হলে ফাটল ও ভাঁজের সৃষ্টি হয়ে ভূমিকম্প হয়। 
৩। ভূগর্ভস্থ বাষ্প: পৃথিবীর অভ্যন্তরে অত্যধিক তাপের কারণে বাষ্পের সৃষ্টি হয়। এই বাষ্প ভূত্বকের নিম্নভাগে ধাক্কা দেওয়ার ফলে প্রচন্ড ভূকম্পন অনুভূত হয়। 
৪। ভূগর্ভস্থ চাপের বৃদ্ধি বা হ্রাস: অনেক সময় ভূগর্ভে হঠাৎ চাপের হ্রাস বা বৃদ্ধি হলে তার প্রভাবে ভূমিকম্প হয়। 
৫। হিমবাহের প্রভাব: হঠাৎ করে হিমবাহ পর্বতগাত্র থেকে নিচে পতিত হলে ভূপৃষ্ঠ কেঁপে ওঠে এবং ভূমিকম্প হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অর্থ হলো, যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগ সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য তিনটি। উদ্দেশ্যগুলো হলো-
(ক) দুর্যোগকালিন সময়ে জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো বা পরিমাণ হ্রাস করা।
(খ) দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে দ্রুত প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছানো ও পূণর্বাসন নিশ্চিত করা।
(গ) দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ সুষ্ঠুরূপে সম্পন্ন করা।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫.
ভূ-ত্বক কয়টি টেকটোনিক প্লেটের সমন্বয়ে গঠিত? 
  1. ৪ টি
  2. ৫ টি
  3. ৭ টি
  4. ৯ টি
সঠিক উত্তর:
৭ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ টি
ব্যাখ্যা
টেকটোনিক প্লেট: 
- টেকটোনিক প্লেট হচ্ছে পাথরের একটি স্তর যা পৃথিবীর অভ্যন্তরের গলিত অংশটির সবচেয়ে বাইরের আবরণ। 
- টেকটোনিক প্লেট এর উপরে পৃথিবীর সবকিছু অবস্থান করছে। 
- ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে আবহাওয়াবিদ আলফ্রেড ওয়েগেনারের মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব বা কন্টিনেন্টাল ড্রিফট থেকে টেকটোনিক প্লেট ধারণার জন্ম হয়। 
- মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব অনুসারে কোনো একসময় সবগুলো মহাদেশ মিলে একটি মহাদেশ ছিল যাকে প্যানজিয়া বলা হয়। 
- এই মতবাদ অনুসারে ভূ-ত্বক প্রধানত ৭ টি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত। 
- প্লেটগুলো হলো: 
• ইউরেশিয়ান প্লেট (Eurasian Plate), 
• উত্তর আমেরিকান প্লেট (North American Plate), 
• দক্ষিণ আমেরিকান প্লেট (South American Plate), 
• আফ্রিকান প্লেট (African Plate), 
• অ্যান্টার্কটিক প্লেট (Antarctic Plate), 
• ভারত-অস্ট্রেলিয়ান প্লেট (Indo-Australian Plate) ও 
• প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট (Pacific Plate) । 

উৎস: ব্রিটানিকা এবং লাইভ লেকচার।
৫৬.
'সুনামী' কী কারণে হয়?
  1. সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্পন
  2. চাঁদের মহাকর্ষীয় টান
  3. ঝড় ও বৃষ্টি
  4. উচ্চ বাতাসের চাপ
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্পন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্পন
ব্যাখ্যা
• সুনামি (Tsunami):
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে সুনামি সংঘটিত হয়।
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সুনামি সংঘটনের সম্ভাবনা কম।
- তবে, ১৭৬২ সালের ২রা এপ্রিল কক্সবাজার এবং সন্নিহিত অঞ্চলে সুনামির প্রভাব দেখা যায়।
- ১৯৪১ সালে আন্দামান সাগরে ভূমিকম্পের ফলে বঙ্গোপসাগরে সুনামি সংঘটিত হয়।
- তবে এর ফলে প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয় ভারতের পূর্ব উপকূল। যার পরিণতিতে ৫,০০০ মানুষ প্রাণ হারায়।
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সিনুয়েলেয়ু দ্বীপে সংঘটিত ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামির আঘাতে সমগ্র ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় বহু সংখ্যক লোকের মৃত্যু ঘটে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭.
ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থাপনা (GIS) কী?
  1. ভূগোল বিষয়ক বই
  2. সফটওয়্যার
  3. বিশেষ ধরনের যন্ত্র
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সফটওয়্যার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সফটওয়্যার
ব্যাখ্যা
ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থাপনা (Geographic Information System):
- ভৌগোলিক তথ্য ও উপাত্ত ব্যবহার করে যে প্রক্রিয়ায় ডাটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং মানচিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয় তাকে বলা হয় ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থাপনা বা Geographic Information System (GIS)।
- এটি মূলত ভৌগোলিক তথ্য বিশ্লেষণের জন্য নির্মিত সফটওয়্যার।
- সাধারণ অর্থে জিআইএস বলতে স্থানিক ও অস্থানিক উপাত্ত সংগ্রহ করে কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য সমন্বয় করে তা মানচিত্রে উপস্থাপন করাকে বুঝায়।
- অর্থাৎ জিআইএস হলো কম্পিউটারের মাধ্যমে কোনো তথ্য ধারণ করে ভূ-পৃষ্ঠের কোনো অবস্থানের চিত্র বর্ণনা করা।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৪ সালে কানাডায় সর্বপ্রথম জিআইএস এর ব্যবহার শুরু হয়।
- ১৯৬৪ সালে কানাডিয়ান The Canadian Geographic Information System (CGIS)' এর মাধ্যমে জিআইএস এর ব্যবহার শুরু হয়।
- ১৯৮০ সালের পর থেকে জিআইএস এর ব্যাপক প্রসার ঘটে।
- ১৯৮০ এবং ১৯৯০ সালের মধ্যে জিআইএস উন্নত প্রযুক্তির পূর্ণাঙ্গরূপ লাভ করে।
- বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে প্রথম জিআইএস এর ব্যবহার চালু হয়।
- ২০০০ সালের পর থেকে আমাদের দেশে জিআইএস প্রযুক্তি প্রসার লাভ করতে থাকে.

⇒ জিআইএসের উপাদান (Elements of GIS):
- জিআইএস পাঁচটি উপাদানের সমন্বয়ে কাজ করে থাকে।
১. হার্ডওয়্যার,
২. সফট্ওয়্যার,
৩. উপাত্ত,
৪. উপাত্ত ভিত্তি এবং,
৫. প্রশিক্ষিত ও দক্ষ মানুষ।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮.
পৃথিবী সূর্যের চারপাশে প্রতি ঘন্টায় কত বেগে ঘুরে?
  1. ৬৭,০০০ মাইল
  2. ৬৮,০০০ মাইল
  3. ৬৯,০০০ মাইল
  4. ৭০,০০০ মাইল
সঠিক উত্তর:
৬৭,০০০ মাইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭,০০০ মাইল
ব্যাখ্যা
পৃথিবী:
- পৃথিবীর সুর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- একমাত্র পৃথিবী গ্রহেই উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাসের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার ।
- এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার।
- পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।
- পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ।
- পৃথিবী সূর্যের চারপাশে প্রায় ৬৭,০০০ মাইল (১,০৭,০০০ কিলোমিটার) বেগে প্রতি ঘন্টায় ঘুরতে থাকে।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।

উৎস: i) NASA (.gov).
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৯.
সিডর ২০০৭ সালের কত তারিখে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ডভাবে আঘাত করে?
  1. ১১ নভেম্বর
  2. ৫ নভেম্বর
  3. ১৯ নভেম্বর
  4. ১৫ নভেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৫ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
সিডর (Sidr) এ যাবৎকালে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়সমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী।
- ২০০৭ সালের ১৫ই নভেম্বর ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ডভাবে আঘাত করে।
- বঙ্গোপসাগরের কেন্দ্রীয় অঞ্চল থেকে উৎপত্তি লাভের পরই ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে।
- এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘন্টায় প্রায় ২৬০ কিমি সাফাইর-সিম্পসন (Saffire-Simpson scale) অনুযায়ী ৫ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ের সমতুল্য।
- ঘূর্ণিঝড় এবং তদুপরি জলোচ্ছাসের প্রভাবে প্রায় দশ সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারায়।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় ছাড়াও ভারতের চেন্নাই, তামিলনাড়ু এবং আরও কিছু রাজ্য সিডর এর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬০.
সুনামির কারন হলো-
  1. জলবায়ুর পরিবর্তন
  2. চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ
  3. মৌসুমী বায়ুর প্রভাব
  4. সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
সুনামি (Tsunami):
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে সুনামি সংঘটিত হয়।
- সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
- এখানে 'tsu' অর্থ বন্দর বা harbour এবং 'nami' অর্থ সামুদ্রিক ঢেউ।
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সুনামি সংঘটনের সম্ভাবনা কম।
- তবে, ১৭৬২ সালের ২রা এপ্রিল কক্সবাজার এবং সন্নিহিত অঞ্চলে সুনামির প্রভাব দেখা যায়।
- ১৯৪১ সালে আন্দামান সাগরে ভূমিকম্পের ফলে বঙ্গোপসাগরে সুনামি সংঘটিত হয়।
- তবে এর ফলে প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয় ভারতের পূর্ব উপকূল। যার পরিণতিতে ৫,০০০ মানুষ প্রাণ হারায়।
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সিনুয়েলেয়ু দ্বীপে সংঘটিত ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামির আঘাতে সমগ্র ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় বহু সংখ্যক লোকের মৃত্যু ঘটে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১.
ভূমিকম্পের মাত্রা কোন স্কেলে পরিমাপ করা হয়?
  1. ফারেনহাইট স্কেল
  2. কেলভিন স্কেল
  3. রিখটার স্কেল
  4. সেলসিয়াস স্কেল
সঠিক উত্তর:
রিখটার স্কেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিখটার স্কেল
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্প:
- পৃথিবীর ভেতরে হঠাৎ সৃষ্ট কোনো কম্পন যখন ভূপৃষ্ঠে আকস্মিক আন্দোলন সৃষ্টি করে, সেটাকেই ভূমিকম্প বলে।
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড থেকে মিনিট খানেক পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে একাধিকবার ঘটতে পারে।
- ভূমিকম্প একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি দেশ বা অঞ্চল পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে।
- বড় ধরনের ভূমিকম্প নদীর গতিপথও পরিবর্তন করতে পারে। যেমন- ভূমিকম্পের ফলে আমাদের অন্যতম প্রধান নদী ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ বদলে গিয়েছিল।

- পৃথিবীর মাঝে জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত।
- ২০১০ সালে হাইতিতে, ২০১১ সালে জাপানে এবং ২০১৫ সালে নেপালের ভূমিকম্প ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল।
- জাপানের ভূমিকম্পের পর সেখানে সৃষ্ট সুনামি নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রে আঘাত করে একটি নিউক্লিয়ার দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিল।
- ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ করা হয় রিখটার স্কেলে, রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প অনুভব করা যায়। এই স্কেলে এক মাত্রা বেড়ে যাওয়া মানে তার শক্তি ৩০গুন বেড়ে যাওয়া।
- ১৯৮৪ সালে মানিকগঞ্জ এলাকায় রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার বড় একটি ভূমিকম্প হয়েছিল।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬২.
২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট সুনামি কতটি দেশে আঘাত হানে?
  1. ক) ১২
  2. খ) ১৩
  3. গ) ১৪
  4. ঘ) ১৫
সঠিক উত্তর:
গ) ১৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৪
ব্যাখ্যা

২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে যে সুনামি সৃষ্টি হয়, তা এই মহাসাগরের আশেপাশে ১৪টি দেশে আঘাত হানে এবং মারাত্মক একটি দুর্যোগ সৃষ্টি করে।
উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণি, ভূগোল ও পরিবেশ

৬৩.
ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে বায়ুপ্রবাহ কোন দিকে বাঁক নেয়? 
  1. বাম দিকে
  2. ডান দিকে
  3. উত্তর দিকে
  4. দক্ষিণ দিকে
সঠিক উত্তর:
ডান দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডান দিকে
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ (Movement of Wind): 
- বায়ুর তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য বায়ু সর্বদা একস্থান থেকে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। ভূপৃষ্ঠের সমান্তরাল বায়ু চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে। 
- বায়ুপ্রবাহ সাধারণত কয়েকটি বিশেষ নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়। 
যেমন- 
১। নিম্নচাপমণ্ডলের উত্তপ্ত ও হালকা বায়ু ঊর্ধ্বে উত্থিত হলে বায়ুমণ্ডলে চাপের অসমতা সৃষ্টি হয়। এ কারণে উচ্চচাপমণ্ডল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু সর্বদা নিম্নচাপমণ্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়। 
২। পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তনশীল এবং নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে আবর্তনের কারণে গতিবেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। এ উভয় কারণে ঘূর্ণায়মান পৃথিবীপৃষ্ঠে গতিশীল পদার্থ (যেমন- বায়ুপ্রবাহ ও জলস্রোত) সরাসরি উত্তর-দক্ষিণে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। ফেরেলের সূত্র (Ferrel's Law) অনুসারে ভূপৃষ্ঠে বায়ুপ্রবাহের দিক নিয়ন্ত্রিত হয়। 

চাপ বলয় (Pressure Belts): 
- ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন অক্ষাংশের তাপের পার্থক্য এবং গোলাকার পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে বায়ুমণ্ডলে কয়েকটি চাপমণ্ডলের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- (১) নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়, (২) ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়, (৩) উপ-মেরুবৃত্তের নিম্নচাপ বলয় এবং (৪) মেরু অঞ্চলের উচ্চচাপ বলয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৪.
বাংলাদেশে সবচেয়ে কম ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল কোনটি?
  1. উত্তর-পশ্চিম
  2. দক্ষিণ
  3. দক্ষিণ-পশ্চিম
  4. মধ্য অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পশ্চিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পশ্চিম
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প: 
- বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের মধ্যে ভূমিকম্প সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। 
- ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভূ-গাঠনিক কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। 
- ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশকে তিনটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- 
• রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৭ হলে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, 
• রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৬ হলে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং 
• রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৫ হলে কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে গণ্য হবে। 

- তাত্ত্বিক গঠনগত দিক থেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা যথাক্রমে- 
১. মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল- দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত। 
২. মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল- দেশের মধ্যাঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত। 
৩. কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল- দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫.
সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প হলে সৃষ্টি হয়- 
  1. টর্নেডো 
  2. সুনামি 
  3. ঘূর্ণিঝড় 
  4. বন্যা 
সঠিক উত্তর:
সুনামি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনামি 
ব্যাখ্যা

সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। 
অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্রতলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। 
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। 
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- ইউরেশিয়ান প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে সৃষ্টি হওয়া এই মারাত্মক ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে নয় মাত্রার। 
- এই জলোচ্ছাসে তিন লাখের মতো মানুষ নিহত হয় যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার আচেহ প্রদেশেই নিহত হয়েছে এক লাখ মানুষ। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায় অর্থাৎ কমে। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৬.
আকাশে রংধনু সৃষ্টির কারণ-
  1. ধূলিকণা
  2. বায়ুস্তর
  3. বৃষ্টির কণা
  4. অতি বেগুনী রশ্মি
সঠিক উত্তর:
বৃষ্টির কণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃষ্টির কণা
ব্যাখ্যা

- আকাশে রংধনু সৃষ্টির কারণ- বৃষ্টির কণা। 
- সূর্য থেকে যে আলোর রশ্মি পৃথিবীতে আসে তার রঙ মূলত সাদা। 
- এই সাদা রঙের ভেতরে বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি রং বিদ্যমান থাকে। 
- সাদা আলোর একটি বিশেষ ধর্ম আছে যা প্রিজমের মধ্য দিয়ে গমন করলে সাদা আলো সাতটি ভিন্ন রঙে বিশ্লেষিত হয়ে যায়। 
- আকাশে যখন বৃষ্টি পড়ে তখন বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ভাসমান প্রিজমের মতো কাজ করে। 
- সূর্য হতে আলো বৃষ্টির ফোঁটার একপাশ দিয়ে প্রবেশ করে বের হবার সময় সাত রঙের বর্ণালী সৃষ্টি করে। 
- বৃষ্টির ফোঁটা বা কণার প্রিজমসুলভ বৈশিষ্ট্যের কারণেই সৃষ্টি হয় রংধনু।  
- বৃষ্টির ফোঁটা হতে বের হওয়া সাত রঙের আলো আমাদের চোখে এসে পৌঁছায় বলেই আমরা রংধনুকে দেখতে পাই। 
- ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে যাওয়ার সময় আলোকরশ্মি যদি দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে মাধ্যম দুটির সংকট কোণের চেয়ে বেশি কোণে আপতিত হয়, তবে ওই আপতিত রশ্মি, দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হওয়ার পর ওর সবটুকুই প্রতিফলিত হয়ে আবার ঘন মাধ্যমেই ফিরে আসে, এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ  প্রতিফলন বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৭.
পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে সমান দুই ভাগে বিভক্তকারী রেখার নাম কী?
  1. গ্রিনউইচ রেখা
  2. নিরক্ষরেখা
  3. কর্কটক্রান্তি রেখা
  4. মকরক্রান্তি রেখা
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষরেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষরেখা
ব্যাখ্যা

নিরক্ষরেখা:
- পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুই গোলার্ধে বিভক্তকারী রেখাটির নাম নিরক্ষরেখা।
- এটি সর্ববৃহৎ অক্ষাংশ রেখা।
- নিরক্ষরেখার (০০) উত্তর ও দক্ষিণে এই অক্ষরেখা সমূহের আকার ক্রমশ ছোট হতে হতে দুই মেরুতে একেবারে বিন্দুতে পরিণত হয়।
- অর্থাৎ অক্ষরেখাগুলো নিরক্ষরেখার সাথে কৌণিক দুরত্বে কল্পিত কতিপয় সমাক্ষরেখা।
- ২৩.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখাসমূহ যথাক্রমে কর্কটক্রান্তি রেখা ও মকর ক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত হয়।
- ৬৬.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখাসমূহ যথাক্রমে সুমেরু বৃত্ত ও কুমেরু বৃত্ত নামে অভিহিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮.
উপকূলের কোনো একটি স্থানে জোয়ারের কত ঘন্টা পর ভাঁটা হয়?
  1. ৬ ঘন্টা
  2. ১২ ঘন্টা
  3. ১৮ ঘন্টা
  4. ২৪ ঘন্টা
সঠিক উত্তর:
৬ ঘন্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ ঘন্টা
ব্যাখ্যা

জোয়ার-ভাঁটা: 
- উপকূলে কোনো একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ারের মধ্যে ব্যবধান হলো প্রায় ১২ ঘণ্টা। 
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষন শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দের শক্তি প্রভৃতি কারনে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় পরপর এক জায়গায় ফুলে উঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাঁটা বলে। 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাঁটা হয়। 
- জোয়ারের ৬ ঘন্টা পরে ভাঁটা হয়। 

উৎস: মাধ্যমিক ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৯.
বাংলাদেশে কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ কী? 
  1. নিম্নচাপ
  2. অতিবৃষ্টি
  3. উচ্চচাপ
  4. বায়ুপ্রবাহ
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী ঝড়: 

• কালবৈখাশী ঝড় বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
• এটি গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। 
• সাধারণত বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায়। 
• কালবৈশাখী ঝড়ে বাৎসরিক এক পঞ্চমাংশ বৃষ্টিপাত হয় 
• এ ঝড়ের ফলে উষ্ণতা স্বাভাবিকের তুলনায় ৫-১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস কমে যায়।
• কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো নিম্নচাপ (Depression)। 
• নিম্নচাপের কারণে উষ্ণ বাতাস ওপরের দিকে উঠতে থাকে। এর ফলে সৃষ্ট ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ঠান্ডা বাতাস প্রচন্ড বেগে ঐ ফাঁকা স্থানের দিকে অগ্রসর হয়। ফলে ঝড়ের উৎপত্তি হয়। 
• এ ঝড়ের গতিবেগ ঘন্টায় প্রায় ৪০ কি. মি. থেকে ৮০ কি.মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
• এ ঝড় দেশের পূর্বাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি সংঘটিত হয় এবং এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও বেশি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৭০.
কালবৈশাখী ঝড় বাংলাদেশে কোন দিক থেকে প্রবাহিত হয়?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিম
  2. দক্ষিণ-পূর্ব
  3. উত্তর-পশ্চিম
  4. উত্তর-পূর্ব
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিম
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী ঝড়:
- বাংলাদেশের কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায় বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বলে।
- সাধারণ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের প্রবল গরমের সময় কালবৈশাখী ঝড় হয় বাংলাদেশে।
- কাল শব্দের অর্থ ধ্বংস এবং বৈশাখ মাসে উৎপত্তি হয় বলে একে কালবৈশাখী নামে অভিহিত করা হয়।
- কালবৈশাখী ঝড়ের অপর নাম নরওয়েস্টার।
- কালবৈশাখী ঝড় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে ইংরেজিতে নরওয়েস্টার বলা হয়।
- এই ঝড়ের গতিবেগ ৫৫ থেকে ৮০ কি. মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত শীতল ও শুষ্ক বায়ু এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আগত উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সংঘর্ষে সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় সংঘটিত হয়।

উল্লেখ্য,
- মার্চ-এপ্রিল মাসে সন্ধ্যার দিকে আকাশ হঠাৎ কালো মেঘে ঢেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।
- এ ঝড়ে বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সংঘটিত হয়।
- অনেক সময় বৃষ্টিপাতের সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
        ii) ২২ এপ্রিল ২০২২, বিবিসি বাংলা।
৭১.
উপকূলবর্তী অঞ্চলে জোয়ারের কত সময় পর ভাঁটার সৃষ্টি হয়?
  1. ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর
  2. ৪ ঘণ্টা ২০ মিনিট পর
  3. ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পর
  4. ৮ ঘণ্টা ১৬ মিনিট পর
সঠিক উত্তর:
৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পর
ব্যাখ্যা
•  উপকূলে একটি জোয়ারের প্রায় ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পর ভাঁটা হয়।

• জোয়ার-ভাঁটা:

- সমুদ্রের একই স্থানে প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাঁটা ঘটে।
- সমুদ্রের পানি ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নিচে নেমে যাওয়াকে ভাঁটা বলা হয়।
- পর পর দুটি জোয়ার বা দুটি ভাঁটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট।
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রগত শক্তির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়। অর্থাৎ, সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দু’বার জোয়ার এবং দু’বার ভাঁটা ঘটে।
- সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলোর স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার ভাঁটা অধিক অনুভূত হয়।
- সমুদ্রের মধ্যভাগ থেকে উপকূলের কাছে পানির অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি থাকে।
- তবে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন নদীপথে সমুদ্রের পানি প্রবাহিত হলে এবং নেমে গেলে, তাকে জোয়ার ভাঁটা বলা হয় না।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২.
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব কোন দুটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যাখ্যা করে? 
  1. ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি
  2. জোয়ার-ভাটা ও মেরু-প্রবাহ
  3. বন্যা ও খরা
  4. ঘূর্ণিঝড় ও বজ্রপাত
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি
ব্যাখ্যা
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব: 
- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্বের মূল ধারণা হলো ভূ-পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত যাদেরকে প্লেট বলা হয়। 
- এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের উপরে ভাসমান অবস্থায় আছে। 
- এই প্লেটগুলো প্রতিবছরে কয়েক সেন্টিমিটার কোনো একদিকে সরে যায়। 
- প্লেটগুলো কখনও একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যায়, আবার কখনো কখনো একে অন্যের দিকে আসে। 
- প্লেটগুলো কখনো কখনো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে ওঠে বা নিচে নামে। 
- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব দ্বারা ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ ব্যাখ্যা করা যায়। 

- দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বেশি ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা ঘটে। 
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত থাকলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা আরও বাড়ে।
- ধারণা করা হয়, প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয়।
- তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়, এ গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে। একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে।
- বেরিয়ে আসা গলিত তরল পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত।
- একইভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে যা ভূমিকম্প নামে পরিচিত। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৭৩.
ভূ-পৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়-
  1. কার্বন
  2. নাইট্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
ভূ-পৃষ্ঠের গঠন: 
- ভূ-পৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক। 
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম। 
- ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন। 

ভূত্বকে বিভিন্ন উপাদানের পরিমাণ:
→ ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ ৪২.৭%, 
→ সিলিকনের পরিমাণ ২৭.৭%, 
→ অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ ৮.১%, 
→ লোহা বা আয়রনের পরিমাণ ৫.১%, 
→ ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ৩.৭%, 
→ সোডিয়ামের পরিমাণ ২.৮%, 
→ পটাসিয়ামের পরিমাণ ২.৬% এবং 
→ ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ ২.১%। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪.
তিনদিকে স্থলভাগ ও একদিকে জলবেষ্টিত জলরাশিকে কী বলা হয়?
  1. মহাসাগর
  2. সাগর
  3. উপসাগর
  4. হ্রদ
সঠিক উত্তর:
উপসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপসাগর
ব্যাখ্যা
• উপসাগর:
- যে জলরাশি তিন দিক থেকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত এবং এক দিক সমুদ্র বা মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, তাকে উপসাগর (Bay বা Gulf) বলা হয়।

⇒ উদাহরণ:
- বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal)
- পারস্য উপসাগর (Persian Gulf)
- মেক্সিকো উপসাগর (Gulf of Mexico)

অন্যদিকে,
• মহাসাগর: পৃথিবীর বিশাল জলভাগের প্রতিটি বড় অংশকে মহাসাগর বলা হয়। যেমন- আটলান্টিক, প্রশান্ত মহাসাগর।
• সাগর: মহাসাগর অপেক্ষা তুলনামূলক ছোট, কিন্তু মহাসাগরের অংশবিশেষ এমন জলরাশিকে বলা হয় সাগর। যেমন- আরব সাগর।
• হ্রদ: চারদিকে স্থলবেষ্টিত জলাধারকে হ্রদ বলা হয়। যেমন- ভিক্টোরিয়া হ্রদ, বৈকাল হ্রদ। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৭৫.
সুনামি কোথায় সংঘটিত হয়? 
  1. পাহাড়ে
  2. মরুভূমিতে
  3. নদীতে
  4. সমুদ্রের তলদেশে
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের তলদেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের তলদেশে
ব্যাখ্যা
সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। 
অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্রতলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। 
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি সংঘটিত হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। 
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- ইউরেশিয়ান প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে সৃষ্টি হওয়া এই মারাত্মক ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে নয় মাত্রার। 
- এই জলোচ্ছাসে তিন লাখের মতো মানুষ নিহত হয় যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার আচেহ প্রদেশেই নিহত হয়েছে এক লাখ মানুষ। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায় অর্থাৎ কমে। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৬.
নদী সিকস্তি বলা হয় কাদের?
  1. নদী ভাঙ্গনে সর্বস্বান্ত জনগণ
  2. নদীর চর জাগলে যারা দখল করতে চায়
  3. নদীতে যারা সারা বছর মাছ ধরে
  4. নদীর পাড়ে যারা বসবাস করে
সঠিক উত্তর:
নদী ভাঙ্গনে সর্বস্বান্ত জনগণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী ভাঙ্গনে সর্বস্বান্ত জনগণ
ব্যাখ্যা

• নদীভাঙন:
- বর্ষাকালে নদীখাতে প্রবল বেগে পানিপ্রবাহ, নদী খাতের উভয় পার্শ্বে নরম মাটি ও ফাটলের অবস্থানের কারণে যে ক্ষয় হয়ে থাকে, তাকে নদীভাঙন বলে।
- নদী ভাঙ্গনের শিকার হয় পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত অঞ্চলসমূহ।
- নদী ভাঙ্গনে সর্বস্বান্ত জনগণকে নদী সিকস্তি বলে। 

উল্লেখ্য:
- নদীতে ভেঙে যাওয়া জমির স্থানে নতুন চর জাগা বা পুনর্গঠনকে নদী পয়স্তি বলে।

৭৭.
বন্যার মানব সৃষ্ট কারণ কোনটি?
  1. হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ
  2. অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ
  3. মূল নদীসমূহের গভীরতা হ্রাস পাওয়া
  4. মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব
সঠিক উত্তর:
অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ
ব্যাখ্যা

বন্যার কারণসমূহ- 
• মানব সৃষ্ট কারণ
- অপরিকল্পিত নগরায়ন ও জলাধার ভরাট করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্ন করা।
- অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ।
- গঙ্গা নদীর উপর ফারাক্কা ও তিস্তা নদীর উপর নির্মিত বাঁধের প্রভাব।
- বালু ভরাট করে নদীসমূহের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা দান।

• প্রাকৃতিক কারণ
- বর্ষাকালে উত্তরাঞ্চলে নদীর উজানে প্রচুর বৃষ্টি।
- মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব।
- মূল নদীসমূহের গভীরতা হ্রাস পাওয়া।
- বঙ্গোপসাগরে ভরা জোয়ার।
- হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ।
- শাখা নদীগুলো পলি দ্বারা ভরাট হয়ে যাওয়া।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮.
বাংলাদেশের অধিকসংখ্যক সাইক্লোন সংঘটিত হওয়ার কারণ-
  1. ক) দক্ষিণের ফানেলাকার আকৃতি
  2. খ) দ্রুত হারে বন উজাড়
  3. গ) বাংলাদেশের ব-দ্বীপ আকৃতি
  4. ঘ) কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
ক) দক্ষিণের ফানেলাকার আকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দক্ষিণের ফানেলাকার আকৃতি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেলাকার আকৃতির কারণে এ দেশে অধিকসংখ্যক সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
৭৯.
গত তিন দশকে বাংলাদেশের কোন অংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে?
  1. পূর্বাংশে
  2. পশ্চিমাঞ্চলে
  3. মধ্যাঞ্চলে
  4. উত্তরাঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
পূর্বাংশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বাংশে
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় (Cyclone): 
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচণ্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেখযোগ্য। স্থান অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নামকরণ হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয় এবং একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেল আকৃতির কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় একটি সাময়িক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- গত তিন দশকে বাংলাদেশের পূর্বাংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮০.
নিচের কোনটিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে?
  1. সাইক্লোন
  2. টাইফুন
  3. সুনামি
  4. বন্যা
সঠিক উত্তর:
সুনামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনামি
ব্যাখ্যা
• "সুনামিকে" পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

• সুনামি:

- সুনামি শব্দটি একটি জাপানি শব্দ, যেখানে "সু" অর্থ বন্দর এবং "নামি" অর্থ ঢেউ।
- তাই সুনামির অর্থ হলো "বন্দরের ঢেউ"।
- এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা ইত্যাদির কারণে সৃষ্টি হয়।
- এই প্রাকৃতিক দুর্যোগটি সাধারণত সাগরে সংঘটিত হয় এবং সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প হলে এটি তৈরি হয়।
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর একটি ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হয়, যা স্বরণকালের অন্যতম।
- এই দুর্যোগটি ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে একটি ট্রাক্টনিক ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হয়।
- সুনামি সাধারণত অগভীর পানিতে প্রবেশের সময় তার শক্তি হারায়।
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮১.
সামুদ্রিক মাছ আর শৈবালের মধ্যে কোনটির প্রাচুর্য বেশি?
  1. Potassium
  2. Iodine
  3. Magnesium
  4. Iron
সঠিক উত্তর:
Iodine
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Iodine
ব্যাখ্যা
• সামুদ্রিক মাছ এবং শৈবাল—উভয়েই পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও আয়োডিনের (Iodine) প্রাচুর্য শৈবালে সবচেয়ে বেশি। শৈবাল প্রাকৃতিকভাবে আয়োডিন শোষণ করে এবং সংরক্ষণ করে, যা আমাদের থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে সহায়তা করে। সামুদ্রিক মাছেও আয়োডিন থাকে, তবে পরিমাণে তা শৈবালের তুলনায় কম। পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং আয়রন উভয় উৎসেই থাকতে পারে, তবে আয়োডিনের আধিক্য তুলনামূলকভাবে শৈবালেই বেশি লক্ষ্য করা যায়। তাই আয়োডিন উপাদানের দিক থেকে শৈবাল বেশি সমৃদ্ধ।
- সঠিক উত্তর: খ) Iodine.

- খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়াম, লৌহ ও আয়োডিন উল্লেখযোগ্য।
- দুধ, পনির, ছোট মাছের কাঁটা, কলমী শাক ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।
- কলিজা, ডিম, মাংস ইত্যাদিতে লৌহ এবং লবণ, সামুদ্রিক শৈবাল ও সামুদ্রিক মাছে আয়োডিন পাওয়া যায়।
- এ সমস্ত উপাদান দেহের বৃদ্ধির কাজে সাহাজ্য করে।
- আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়।
- লৌহের অভাবে রক্তশূণ্যতা দেখা দেয়।

সূত্র: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৮২.
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সুনামির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি হওয়ার কারণ কী?
  1. রিং অফ ফায়ার (Ring of Fire)-এ অবস্থিতি
  2. অতিরিক্ত দ্বীপের উপস্থিতি
  3. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
  4. সমুদ্রের তলদেশে শৈবাল স্তরের আধিক্য
সঠিক উত্তর:
রিং অফ ফায়ার (Ring of Fire)-এ অবস্থিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিং অফ ফায়ার (Ring of Fire)-এ অবস্থিতি
ব্যাখ্যা

• প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকাটি রিং অফ ফায়ার নামক একটি ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত। এটি মূলত টেকটোনিক প্লেটের একটি অতি সক্রিয় সীমানা যেখানে পৃথিবীর অধিকাংশ ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত ঘটে।সমুদ্রের তলদেশে এই প্রবল ভূ-আলোড়নের কারণেই এখানে সুনামির হার পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি।

• রিং অফ ফায়ারের বৈশিষ্ট্য:
- এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় বেসিন জুড়ে বিস্তৃত একটি ঘোড়ার খুরের মতো আকৃতির অঞ্চল।
- বিশ্বের সক্রিয় আগ্নেয়গিরির প্রায় ৭৫ শতাংশই এই বলয়ে অবস্থিত।
- এই অঞ্চলে প্লেট টেকটোনিকসের কারণে প্রায়ই সমুদ্রতলদেশীয় ভূমিকম্প হয়।
- জাপান, ইন্দোনেশিয়া এবং চিলির মতো দেশগুলো এই বলয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি সুনামির ঝুঁকিতে থাকে।

• সুনামি (Tsunami):
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে সুনামি সংঘটিত হয়।
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সুনামি সংঘটনের সম্ভাবনা কম।
- ১৭৬২ সালের ২রা এপ্রিল কক্সবাজার এবং সন্নিহিত অঞ্চলে সুনামির প্রভাব দেখা যায়।
- ১৯৪১ সালে আন্দামান সাগরে ভূমিকম্পের ফলে বঙ্গোপসাগরে সুনামি সংঘটিত হয়। তবে এর ফলে প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয় ভারতের পূর্ব উপকূল। যার পরিণতিতে ৫,০০০ মানুষ প্রাণ হারায়।
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সিনুয়েলেষু দ্বীপে সংঘটিত ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামির আঘাতে সমগ্র ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় বহু সংখ্যক লোকের মৃত্যু ঘটে।

তথ্যসূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩.
টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে সাধারণত কী ঘটে? 
  1. তুষারপাত
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. বৃষ্টিপাত
  4. ভূমিকম্প
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব: 
- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব অনুসারে, পৃথিবীর শিলামণ্ডল কয়েকটি পৃথক প্লেটে বিভক্ত, যা গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের ওপরে ভাসমান অবস্থায় থাকে।
- এই প্লেটগুলো প্রতিবছর কয়েক সেন্টিমিটার করে সরে যায়, কখনো একে অপরের থেকে দূরে সরে, আবার কখনো পরস্পরের দিকে আসে বা পরস্পরের সঙ্গে ঘষা খায়।
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলেই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা বেশি ঘটে, বিশেষত যেখানে উঁচু পর্বতশ্রেণী বিদ্যমান
- প্লেটগুলোর সংঘর্ষ ও ঘর্ষণের ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, যা ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলিয়ে ফেলে।
- এই গলিত পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত এবং চাপের ফলে ভূপৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে এলে তা লাভা নামে পরিচিত হয় এবং এই প্রক্রিয়াকে আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলা হয়।
- প্লেটগুলোর সংঘর্ষের ফলে যখন পৃথিবী কেঁপে ওঠে, তখন ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৮৪.
উত্তর গোলার্ধে কোন দিনটিকে ‘মহাবিষুব’ বলা হয়?
  1. ২১ মার্চ
  2. ২২ জুন
  3. ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ২৩ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
২১ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ মার্চ
ব্যাখ্যা

উত্তর গোলার্ধে ২১ মার্চ দিনটিকে ‘মহাবিষুব’ বলা হয়।

মহাবিষুব:

- ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্য ঠিক পূর্বদিকে ওঠে এবং ঠিক পশ্চিমদিকে অস্ত যায়। বছরে মাত্র এই দুটি দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়।
- ২১ শে মার্চ দিনটিকে উত্তর গোলার্ধে মহাবিষুব বলে।
- ২৩ শে সেপ্টেম্বর দিনটিকে বলে জলবিষুব।

উল্লেখ্য,
উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল:
- পৃথিবী তার কক্ষপথে চলতে চলতে ২২ ডিসেম্বরের পর থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত এমন স্থানে ফিরে আসে যখন সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে।
- ফলে ২১ মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয়।
- দিনের বেলায় সূর্যকিরণের কারণে ভূপৃষ্ঠের বায়ুস্তর গরম হয় এবং রাত্রিবেলায় বিকিরিত হয়ে ঠান্ডা হয়।
- এই সময় উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল।
- ২১ মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয় এবং ঐ দিনটিকে বাসন্ত বিষুব বা মহাবিষুব বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৫.
'পৃথিবীর উৎপত্তি' সম্পর্কে ভূগোলের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. Geomorphology
  2. Climatology
  3. Bio-Geography
  4. Soil Geography
সঠিক উত্তর:
Geomorphology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Geomorphology
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক ভূগোল (Physical Geography):
- ভূগোলের যে শাখা পৃথিবীর জন্ম, ভূ-প্রকৃতি অর্থাৎ পাহাড়, পর্বত, বায়ুমন্ডল ও বারিমন্ডল প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এবং ভৌত পরিবেশ ও এর মধ্যে কার্যরত বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে।

⇒ প্রাকৃতিক ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ নিম্নরূপ:
• ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology):
- ভূমিরূপবিদ্যা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, পৃথিবীর উৎপত্তি, ভূ-আলোড়ন, বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ, নদ-নদীর উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ, ভূ-ত্বকের পরিবর্তন, খনিজ ও শিলা এবং পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করে।

• জলবায়ুবিদ্যা (Climatology):
- এ শাখায় বায়ুর গঠন, উপাদান, বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুপুঞ্জ, বায়ুপ্রাচীর, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে আলোচনা করে।

• সমুদ্রবিদ্যা (Oceanography):
- পৃথিবীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সমুদ্র।
- এ শাখায় সাগর মহাসাগরের তলদেশের ভূমিরূপ, সমুদ্রস্রোত, মানব জীবনের উপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাব, বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে সমুদ্র পথে যোগাযোগ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।

• মৃত্তিকা ভূগোল (Soil Geography):
- মৃত্তিকা ভূগোল অশ্মমন্ডলের উপরিভাগের মৃত্তিকার গঠন, উপাদান, বন্টন ও বিন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করে।

• জীব ভূগোল (Bio-Geography):
- এ শাখা পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রাণিজগৎ ও উদ্ভিদের বন্টন নিয়ে আলোচনা করে।

• গাণিতিক ভূগোল (Mathematical Geography):
- গাণিতিক ভূগোলে জ্যোতিষ্কমন্ডলী, সৌরজগৎ, পৃথিবী ও এর আকৃতি, গতি, আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা ও সময়, আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির ফলাফল প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৬.
নিচের কোনটি কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Hazard)?
  1. ভূমিধস
  2. জলোচ্ছ্বাস 
  3. ভূমিকম্প 
  4. খরা
সঠিক উত্তর:
খরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খরা
ব্যাখ্যা

• কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Hazard) হচ্ছে- খরা।

খরা ( Drought):
- কোনো এলাকা দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে উক্ত এলাকাটির মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে।
- উক্ত এলাকার মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় ও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। মাটির এরূপ অবস্থাকে খরা বলা হয়।
- বাংলাদেশের উওর-পশ্চিমাঞ্চল অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।
- খরা উপদ্রুত অঞ্চলে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- উপদ্রুত অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে পানির অভাব দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল পর্যাপ্ত ফসলের অভাবে খাদ্যদ্রব্যের অভাব প্রকট হয়ে পড়ে।
- গাছপালা বিহীন শুষ্ক প্রকৃতি ও তীব্র গরমে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
 
অন্যদিকে: 
- ভূমিকম্প, ভূমিধস, জলোচ্ছ্বাস ,কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Hazard) নয়। 

 উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭.
যখন দুটি প্লেট একে অপরকে অতিক্রম করে যায়, তখন তাকে কী বলে?
  1. ক) সমকেন্দ্রাভিমুখী সীমা
  2. খ) অপসারী সীমা
  3. গ) পরিবর্তক চ্যুতি সীমা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) পরিবর্তক চ্যুতি সীমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পরিবর্তক চ্যুতি সীমা
ব্যাখ্যা

প্লেট টেকটোনিক্স (Plate Tectonics) ভূতাত্ত্বিক মতবাদ অনুসারে ভূত্বক প্রধানত সাতটি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত, যেগুলি নিম্নস্থ ভ্রাম্যমান উষ্ণ গুরুমন্ডলীয় পদার্থের ওপর ভাসছে। প্লেটের বিচলন (movement) ও পারস্পরিক ক্রিয়া ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, পর্বত সৃষ্টি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য ভূতাত্ত্বিক ঘটনাবলীর নিয়ন্ত্রক বলে ধারণা করা হয়।
তিন ধরনের পারস্পরিক প্লেট সীমানার কথা জানা যায়। যথা: সমকেন্দ্রাভিমুখী সীমা, অপসারী সীমা ও পরিবর্তক চ্যুতি সীমা।

সমকেন্দ্রাভিমুখী সীমা যখন একে অপরের দিকে অগ্রসরমান দুটি প্লেট কেন্দ্রাভিমুখী হয়ে অবশেষে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন একটি প্লেট অপরটির নিচে চাপা পড়ে। এই ধরনের প্লেট সংঘর্ষের ফলে পর্বতমালার সৃষ্টি হয় এবং প্লেট প্রান্তিকের আশেপাশে আগ্নেয়গিরির কর্মকান্ড সংঘটিত হয়।
অপসারী সীমা এই ক্ষেত্রে দুটি প্লেট একে অপরের থেকে সরে যেতে থাকে। এই ধরনের প্লেট সীমানার ফলে নতুন সমুদ্র তলদেশের এবং সামুদ্রিক আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়।
পরিবর্তক চ্যুতি সীমা যখন দুটি প্লেট একে অপরকে অতিক্রম করে যায়, তখন তাকে পরিবর্তক চ্যুতি সীমা বলে। তিন ধরনের প্লেট বিচলনেই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৮৮.
সুনামি সংঘটিত হওয়ার সম্ভাব্য স্থান কোথায়?
  1. সমুদ্রের তলদেশে
  2. পাহাড়ে
  3. মরুভূমিতে
  4. মেরু অঞ্চলে 
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের তলদেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের তলদেশে
ব্যাখ্যা

• সুনামি প্রধানত সমুদ্র বা মহাসাগরের তটে সংঘটিত হয়। এটি সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট বিশাল জলোচ্ছ্বাস। তাই সুনামি সংঘটিত হওয়ার সম্ভাব্য স্থান হলো সমুদ্রের তলদেশে। পাহাড়, মরুভূমি বা মেরু অঞ্চলে সুনামি সৃষ্টি হওয়া সম্ভব নয়, কারণ এগুলোতে বড় জলোচ্ছ্বাসের উৎস থাকে না। সুনামি সাধারণত উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে এবং সমুদ্রের তলদেশের ভূমিকম্প বা অগ্ন্যুৎপাতের ফলে পানি স্থানান্তরিত হয়ে বিশাল তরঙ্গ তৈরি করে। এই তরঙ্গ উপকূলে পৌঁছালে ব্যাপক ধ্বংস ঘটায়। তাই সমুদ্রতট এবং তলদেশই মূল সুনামি সংঘটনের সম্ভাব্য স্থান।

- সঠিক উত্তর: ক) সমুদ্রের তলদেশে।

সুনামি:
- সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ। 
- এর শাব্দিক অর্থ 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'।
- এখানে 'tsu' অর্থ বন্দর বা harbour এবং 'nami' অর্থ সামুদ্রিক ঢেউ।
- সমুদ্র তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হলে সমুদরপৃষ্ঠে বিশাল যে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় তাকে সুনামি বলে।
- সুনামির সৃষ্টির প্রধান কারণ সমুদ্রের তলদেশের ভূমিকম্প।
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণেও সুনামি সৃষ্টি হয়ে থাকে। এছাড়া পারমানবিক বিস্ফোরণ, ভূমিধ্বস, উল্কাপিন্ডের পতন ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে।
- সর্বপ্রথম সুনামির কথা লিপিবদ্ধ হয় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৯.
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল -
  1. দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল
  2. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
  3. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
  4. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- এই অঞ্চলের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণি। 
৯০.
গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কোন দেশে বৃষ্টিপাত ঘটে?
  1. ভারত
  2. নরওয়ে
  3. আর্জেন্টিনা
  4. দক্ষিণ আফ্রিকা
সঠিক উত্তর:
ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত
ব্যাখ্যা

মৌসুমি বায়ু:
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়।
- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে বলা হয় মৌসুমি বায়ু।
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি ভাষায় "মত্তসুম” শব্দ থেকে যার অর্থ হলো ঋতু। এটি একটি আঞ্চলিক বায়ু।
- সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে শীত ও গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য হয় বলেই মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়।
- প্রধাণত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ দেখা যায়।
- এছাড়াও কর্কটক্রান্তি অঞ্চলে যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার কিছু অংশ, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত ইত্যাদি অঞ্চল এই বায়ুপ্রবাহের অন্তর্গত।
- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হওয়ার জন্য কর্কটক্রান্তির বায়ুর চাপ কমে যায় ও সুবৃহৎ নিম্নচাপ কেন্দ্র সৃষ্টি হয়।
- এ অবস্থায় দক্ষিণ গোলার্ধের ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে আগত দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে।
- এশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যাওয়া এই বায়ুকে তাই বলা হয় উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের মৌসুমি বায়ু।
- মধ্য এশিয়ায় নিম্নচাপের দ্বারা দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু উৎপন্ন হয়। ফলে চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, জাপান, কম্বোডিয়া, লাওস ইত্যাদি দেশে বৃষ্টিপাত ঘটে।
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পাকিস্তান, মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- অপরদিকে শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে এবং মকরক্রান্তিতে তখন নিম্নচাপ সৃষ্ট হয়।
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ শীতল হয় বলে তখন ঐ স্থানে উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হয়।
- এই সময় বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বলে এবং এই বায়ু শুষ্ক থাকে।
- মৌসুমি বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বাম দিকে বেঁকে যায় এবং উত্তর-পশ্চিমে মৌসুমি বায়ুরূপে উত্তর অস্ট্রেলিয়ার দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১.
দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন কোনটি?
  1. ২১ মার্চ
  2. ২১ জুন
  3. ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ২২ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
২২ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

• উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত - ২২ ডিসেম্বর।
• দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত - ২২ ডিসেম্বর।
• উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত - ২১ জুন।
• দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত - ২১ জুন।
• পৃথিবীর দিনরাত্রি সর্বত্র সমান - ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।

৯২.
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে কোন অবস্থা বিরাজ করে? 
  1. উচ্চচাপ
  2. নিম্নচাপ
  3. নিম্ন তাপ
  4. শুষ্ক আবহাওয়া
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় (Cyclone): 
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেখযোগ্য। 
- স্থান অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নামকরণ হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয় এবং একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেল আকৃতির কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় একটি সাময়িক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- গত তিন দশকে বাংলাদেশের পূর্বাংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩.
'এল নিনো' (El Nino) একটি-
  1. 'ইতালিক' শব্দ
  2. 'রুশ' শব্দ
  3. 'স্প্যানিশ' শব্দ
  4. 'ইংরেজি' শব্দ
সঠিক উত্তর:
'স্প্যানিশ' শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'স্প্যানিশ' শব্দ
ব্যাখ্যা
এল নিনো:

- এল নিনো এক প্রকার উষ্ণ স্রোত।
- 'এল নিনো' (El Nino) একটি 'স্প্যানিশ' শব্দ।
- এল নিনো প্রতি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর ঘটে।
- তা বিরাজমান থাকে প্রায় ১ বছর কখনো কখনো ১৮ মাস পর্যন্ত যখন, সমুদ্র পৃষ্ঠ’র তাপমাত্রা বিস্তর পার্থক্য হয় (প্রায় ০.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস)। 
- এল নিনোর কারণে অস্ট্রেলিয়াতে খড়া দেখা দিতে পারে।
- এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে অতিবর্ষণ ও ভারতে বর্ষাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
- চলমান এল নিনো বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে আটকে রাখার লক্ষ্যমাত্রাকে অতিক্রম করে যেতে পারে।
- সাধারণত যে বছর এল নিনো শুরু হয়, তার পরের বছরটিতে তীব্র গরম অনুভূত হয়।
- এর আগে ২০১৫ সালে এল নিনো হয়েছিল বলে ২০১৬ সালে বিশ্বে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা দেখা গিয়েছিল।


Image Source: ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, যুক্তরাষ্ট্র
• অপরদিকে, 'লা নিনো' শব্দটিও ''স্প্যানিশ' যার অর্থ বালিকা। এল নিনো প্রভাবে সাগরে উষ্ণ পানির স্রোত প্রবাহিত হবার পর পরবর্তীতে সাগরের পানির উষ্ণতা কমে আসে। সাগরের পানির এ উষ্ণতা কমে আসাই লা নিনো নামে পরিচিত। লা নিনোর প্রভাবে অতিবৃষ্টি ও বন্যা হয়।  

উৎস: National Geographic Society.
৯৪.
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে বায়ুচাপ কেমন বিদ্যমান থাকে?
  1. নিম্নচাপ
  2. উচ্চচাপ
  3. চারপাশের সমান 
  4. বায়ুচাপ অনুপস্থিত থাকে 
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
ব্যাখ্যা

◉ ঘূর্ণিঝড় মূলত অতিমাত্রায় নিম্নচাপের কেন্দ্রকে ঘিরে সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রে চাপ কমে গেলে আশেপাশের এলাকা থেকে বাতাস প্রবল বেগে ভেতরের দিকে ধাবিত হয়।

ঘূর্ণিঝড় (Cyclone): 
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচণ্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেখযোগ্য। স্থান অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নামকরণ হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয় এবং একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেল আকৃতির কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় একটি সাময়িক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- গত তিন দশকে বাংলাদেশের পূর্বাংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৫.
ভূমিকম্পের সংগে নিচের কোনটি সংঘটনের সম্পর্ক আছে?
  1. ক) নদীভাঙ্গা
  2. খ) বন্যা
  3. গ) খরা
  4. ঘ) সুনামি
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুনামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুনামি
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্পের ফলেই সুনামি সংঘটিত হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
৯৬.
ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোনের কেন্দ্রে কী থাকে?
  1. অত্যধিক বায়ুচাপ
  2. নিম্ন বায়ুচাপ
  3. অত্যধিক তাপমাত্রা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নিম্ন বায়ুচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্ন বায়ুচাপ
ব্যাখ্যা

◉ ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোনের কেন্দ্রকে "চোখ" (Eye) বলা হয়। এই কেন্দ্রে বায়ুচাপ অত্যন্ত নিম্ন থাকে, যা আশপাশের উচ্চ বায়ুচাপবিশিষ্ট বাতাসকে কেন্দ্রের দিকে টেনে আনে।

ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone।
- ঘূর্ণিঝড়ের বাতাস কুণ্ডলি পাকানো সাপের আকার ধারণ করে বলে এরূপ নামকরণ করা হয়েছে।
- বায়ুর অনিয়মিত প্রবাহের দরুন ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়। সমুদ্রের পানিপৃষ্ঠের বায়ুপুঞ্জের মধ্যে নিম্নস্তরের বায়ু উষ্ণ ও আদ্র হয় এবং ওপরের দিকের বায়ু শীতল ও শুষ্ক হয়।
- বায়ুর প্রবাহের সময় নিম্নের উষ্ণ ও আদ্র বায়ু ওপরে ওঠে ওপরের শীতল বায়ুর সাথে ঘনীভূত হয়ে আদ্রতা বাড়ে এবং বৃষ্টিপাত হয়।
- ঘূর্ণিঝড় সাধারণত সমুদ্রের ওপর সংঘটিত হয়ে সমুদ্রের পাশ্ববর্তী এলাকায় ক্ষতিসাধন করে।
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় বায়ু প্রবাহের গতিবেগ থাকে ৬৫ কি.মি বা এরও বেশি।
- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলে।
- ঘূণিঝড়ের জন্য সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি নিকটবর্তী এলাকায় অন্তত ২৭ ডিগ্রি সেলিসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আদ্র বায়ু প্রয়োজন হয়।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৯৭.
নিচের কোনটি আপদ (Hazard)-এর প্রত্যক্ষ প্রভাব?
  1. অর্থনৈতিক
  2. সামাজিক
  3. পরিবেশগত
  4. অবকাঠামোগত
সঠিক উত্তর:
অবকাঠামোগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবকাঠামোগত
ব্যাখ্যা
• আপদ (Hazard)-এর প্রত্যক্ষ প্রভাব- অবকাঠামোগত। 

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২ অনুসারে,
‘‘আপদ (Hazard) ’’ অর্থ এমন কোন অস্বাভাবিক ঘটনা যাহা প্রাকৃতিক নিয়মে, কারিগরি ত্রুটির কারণে অথবা মানুষের দ্বারা সৃষ্ট হইয়া থাকে এবং ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে এবং জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহের ভয়াবহ ও অপূরণীয় ক্ষতিসহ দুঃখ দুর্দশার সৃষ্টি করে।

• আপদ (Hazard):
- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।

- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।

বিভিন্ন ধরনের আপদ:
• প্রাকৃতিক আপদ হল- ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন ইত্যাদি
• মানবসৃষ্ট আপদ হল- ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি
• কারিগরি আপদ হল- বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি
- মনে রাখতে হবে - ‘আপদ দুর্যোগ নয়, বরং দুর্যোগের সম্ভাব্য কারণ’। 

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
৯৮.
ভূমিকম্পের কম্পকেন্দ্রের লম্ব বরাবর ভূ-পৃষ্ঠে যে বিন্দু থাকে, তাকে কী বলা হয়? 
  1. অগ্নিকেন্দ্র
  2. প্লেটকেন্দ্র
  3. উপকেন্দ্র 
  4. ভূমিকেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
উপকেন্দ্র 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপকেন্দ্র 
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্প: 
- ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়। 
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র বলা হয়। 
- কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ-পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে, তাকে উপকেন্দ্র বলা হয়। 
- সাধারণত ভূ-ত্বকের ৩২ কি.মি. এর মধ্যে ভূমিকম্পের উৎস স্থান থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে গভীরতা আরও বেশি হতে পারে। 
- কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ-এর মত ছড়িয়ে পড়ে। 
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে। 
- ভূমিকম্প মাপন যন্ত্রের নাম সিসমোমিটার, ভূমিকম্পনের রেখা যে কাগজে অংকিত হয়, তাকে সিসমোগ্রাফ বলে। 

ভূমিকম্পের কারণসমূহ: 
১. ভূ-ত্বক কতকগুলো প্লেট দ্বারা গঠিত। এই প্লেটসমূহ বিভিন্ন দিকে যেমন: একে অপরের বিপরীত দিকে, একে অপরের অভিমুখে এবং পরস্পর সমান্তরালভাবে সঞ্চালিত হয়। এইরূপ সঞ্চালনের ফলে সৃষ্ট চাপ থেকে আকস্মিকভাবে প্রচন্ড কম্পন সৃষ্টি হয়। ভূ-পৃষ্ঠে এই কম্পন ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে। 
২. ভূ-গর্ভস্থ তাপের ফলে বিপুল পরিমাণ বাষ্প সৃষ্টি হলে, ঐ বাষ্প ভূ-ত্বকের নিচের অংশে প্রবল বেগে ধাক্কা দেয়। ফলে ভূ-পৃষ্ঠে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। 
৩. ভূ-ত্বকের বিভিন্ন অংশে তাপ বিকিরণের ফলে সংকুচিত হলে সংলগ্ন এলাকার ভূ-ত্বকের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে ভূ-অভ্যন্তরে বিভিন্ন শিলারাশির মধ্যে টান সৃষ্টির হয়, ফলে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। 
৪. অনেক ক্ষেত্রে আগ্নেগিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময়ে ঐ এলাকা কেঁপে উঠে ভূমিকম্প হয়। 
- অন্যান্য আরও কতিপয় কারণ যেমন: ভূ-গর্ভস্থ চাপের হ্রাস-বৃদ্ধি, শিলাচ্যুতি, ভূমিধ্বস, হিমবাহের চলাচল ইত্যাদি কারণে ভূমিকম্প সংঘটিত হতে পারে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯.
নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ?
  1. ভূমিকম্প
  2. মরুকরণ
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. নদীভাঙন
সঠিক উত্তর:
মরুকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরুকরণ
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ:
- যে অবস্থা অস্বাভাবিক ও অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি, পরিবেশের ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটে তাই দুর্যোগ।
- এর ফলে বাহ্যিকভাবে ক্ষতিসাধন, জীবনহানি কিংবা পরিবেশগতভাবে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেয়। 
 
দুর্যোগ বিভিন্নভাবে ও বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। প্রধানত দুর্যোগ দুই ধরনের-
১/ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও
২/ মানবসৃষ্ট দুর্যোগ।
 
প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
- প্রাকৃতিক কারণে যে সকল দুর্যোগ সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং সাধারণত এর উপর মানুষের কোন নিয়ন্ত্রন থাকে না।
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ।
 
মানবসৃষ্ট দুর্যোগ:
- মানুষের অসচেতনতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।
- মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
- যেমন- যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়; অষ্টম শ্রেণীর বোর্ড বই।

১০০.
প্রাকৃতিক মানচিত্র কোন স্কেলে অঙ্কন করা হয়?
  1. ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্র
  2. বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র
  3. ক্ষুদ্র ও বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র
ব্যাখ্যা
মানচিত্র:
- স্কেলের উপর ভিত্তি করে মানচিত্রকে প্রধান দু'ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা:
১. ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্র:
- যখন ব্যাপক এলাকাকে ছোট করে কাগজে অঙ্কন করা হয় তখন তাকে ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্র বলে।
- এ ক্ষেত্রে সমগ্র পৃথিবী বা মহাদেশ বা দেশের বড় এলাকাকে একটি ছোট কাগজে দেখানো হয়।
- ভূ-চিত্রাবলীর মানচিত্র ও দেওয়াল মানচিত্র ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্র।

২. বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র:
- ক্ষুদ্র এলাকাকে বৃহৎ স্কেলে অঙ্কন করে যখন অনেক বড় করে দেখান হয়, তখন তাকে বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র বলে।
- যেমন: ১"=১৬ মাইল; ১৬"= ১মাইল।
- যেমন মৌজা মানচিত্র বা ক্যাডাস্ট্রাল মানচিত্র, ভূ-সংস্থানিক মানচিত্র বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র।

উল্লেখ্য,
প্রাকৃতিক মানচিত্র (Physical map):
- যে মানচিত্রে কোনো দেশ বা অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাকৃতিক ভূমিরূপ যেমন: পর্বত, মালভূমি, ভূমি, নদী, হ্রদ ইত্যানি সম্পর্কে তথ্য থাকে তাকে প্রাকৃতিক মানচিত্র বলে।
- প্রাকৃতিক মানচিত্র বৃহৎ স্কেলে অঙ্কন করা হয়

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।