বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান ও চলচ্চিত্র

মোট প্রশ্ন৩৯০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান ও চলচ্চিত্র

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৩৯০

.
বাংলাদেশের কোন চলচ্চিত্রে প্রথম জাতীয় সংগীত চিত্রায়ন করা হয়?
  1. ক) জীবন থেকে নেয়া
  2. খ) আমার বাংলাদেশ
  3. গ) হালদা নদী
  4. ঘ) কাঁচের দেয়াল
ব্যাখ্যা
জহির রায়হান ১৯৭০ সালে তার বিখ্যাত "জীবন থেকে নেওয়া” সিনামাতে গানটির চিত্রায়ন করেন।

• জাতীয় সঙ্গীত:

 -রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রথম ৪ চরণ বাজানো হয়।
- বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'আমার সোনার বাংলা 'কবিতার প্রথম ১০ চরণকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং তা গৃহীত  হয় ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি।
- ১৯০৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ শীর্ষক সঙ্গীতটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়।
- জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের বিধান অনুযায়ী কণ্ঠে গাইতে গেলে দশ চরণ আর যন্ত্র সঙ্গীতে বাজাতে গেলে চার চরণ পর্যন্ত বাজাতে হবে।
-  বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত "আমার সোনার বাংলা" এর রচয়িতা ও সুরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

অন্যদিকে,
- ১৩১২ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার আশ্বিন সংখ্যায় গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়।।
- বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গানটি রচিত হয়েছিল।
- পল্টন ময়দানে ঘোষিত স্বাধীনতার ইসতেহারে (১৯৭১ সালের ৩ মার্চ) জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৩ জানুয়ারি, ১৯৭২ মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকে এ গানটির প্রথম দশ লাইন জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে নির্বাচিত হয়।
- সংবিধানের ৪ (১) অনুচ্ছেদে 'আমার সোনার বাংলা' গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রূপে ঘোষিত হয়েছে।
- এটি মূলত ২৫ চরণ বিশিষ্ট একটি কবিতা। এ কবিতার প্রথম ১০ চরণ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
’চিত্রা নদীর পাড়ে’ চলচ্চিত্রটি কোন প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে? 
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. দেশ ভাগ  
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা

- ’চিত্রা নদীর পাড়ে’ চলচ্চিত্রটি দেশ ভাগ নিয়ে নির্মিত হয়েছে।
- ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের জীবনী।
- চিত্রা নদীর পাড়ে তানভীর মোকাম্মেল ১৯৯৮ সালের নির্মিত চলচ্চিত্র।
- এটি ১৯৯৯ সালে ৭টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

অন্যদিকে,
• তানভীর মোকাম্মেল বিখ্যাত কয়েকটি চলচ্চিত্র:
- নদীর নাম মধুমতী, লালসালু, লালন, রাবেয়া, জীবনঢুলী ও রূপসা নদীর বাঁকে।

অন্যদিকে,
- আবার তোরা মানুষ হ: খান আতাউর রহমান পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি যুদ্ধ-পরবর্তী সামাজিক চিত্র তুলে ধরে।
- মাটির ময়না ২০০২ সালের বাংলাদেশি বাংলা যুদ্ধভিত্তিক নাট্য চলচ্চিত্র।
- মেঘের অনেক রং ১৯৭৬ সালে নির্মিত বাংলাদেশী বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন হারুনর রশিদ।

উৎস: প্রথম আলো। 

.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'সংগ্রাম'-এর পরিচালক কে?
  1. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  2. হারুনর রশীদ
  3. চাষী নজরুল ইসলাম
  4. নারায়ণ ঘোষ মিতা
ব্যাখ্যা
সংগ্রাম (১৯৭৩):
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র সংগ্রাম।
- এটি নির্মাণ করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- এর গল্প নেওয়া হয়েছে সেক্টর কমান্ডার মেজর খালেদ মোশাররফের ডায়েরি থেকে।
- এতে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও অন্যান্য বাহিনীর বীরত্বগাথা চিত্রিত হয়েছে।
- এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন সুচন্দা, খসরু।

উৎস: প্রথম আলো।
.
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত ইংরেজি ভাষার প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. জঁ ক্যা ১৯৭১
  2. দ্য ট্রুথ অব সেভেনটি ওয়ান
  3. দ্য লাস্ট কমান্ড
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত প্রথম ইংরেজি ভাষার বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের নাম ‘জঁ ক্যা ১৯৭১’।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত ইংরেজি চলচ্চিত্র:

- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত প্রথম ইংরেজি ভাষার বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের নাম ‘জঁ ক্যা ১৯৭১’।
- ছবিটি নির্মাণ করছেন ‘ভুবন মাঝি’ ও ‘গণ্ডি’ খ্যাত পরিচালক ফাখরুল আরেফিন খান।
- এটি সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত, যেখানে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ফ্রান্সের এক তরুণ, জঁ ক্যা, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের (PIA) একটি বিমান ছিনতাই করেন।
- তার একমাত্র দাবি ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২০ টন ওষুধ পাঠানো।
- এই সাহসিকতা ও মানবিকতার প্রতীক জঁ ক্যা-কে কেন্দ্র করেই ছবির কাহিনি গড়ে উঠেছে।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
.
ভাষা আন্দোলন নিয়ে নির্মিত 'ফাগুন হাওয়ায়' চলচ্চিত্রটির নির্মাতা কে?
  1. তানভীর মোকাম্মেল
  2. তৌকীর আহমেদ
  3. রায়হান রাফি
  4. মোরশেদুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
ফাগুন হাওয়া:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র 'ফাগুন হাওয়ায়'।
- চলচ্চিত্রটির নির্মাতা 'তৌকীর আহমেদ'।
- 'ফাগুন হাওয়ায়' ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড।
- চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা ও সিয়াম আহমেদ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
’গেরিলা’ চলচ্চিত্রটির পরিচালক কে?
  1. তারেক মাসুদ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. নাসির উদ্দীন ইউসুফ
  4. খান আতাউর রহমান
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র:  
- নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি নিয়ে নির্মিত সিনেমা 'গেরিলা'।
- সৈয়দ শামসুল হকের 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস থেকে নির্মিত হয় সিনেমাটি।
- ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন- 
- জয়া আহসান, ফেরদৌস, এটিএম শামসুজ্জামান, রাইসুল ইসলাম আসাদ, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী ওয়াদুদ, শম্পা রেজা, গাজী রাকায়েত প্রমুখ।

মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত কয়েকটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র হলো:
- আবার তোরা মানুষ হ: খান আতাউর রহমান পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত সিনেমা ।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'ওরা ১১ জন'। পরিচালনা করেছেন চাষী নজরুল ইসলাম। 
- হারুনর রশীদ পরিচালিত 'মেঘের অনেক রং' সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৭৬ সালে। 

উৎস: ডেইলি স্টার বাংলা। 

.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র 'স্টপ জেনোসাইড' এর পরিচালক কে?
  1. মোরশেদুল ইসলাম
  2. তারেক মাসুদ
  3. জহির রায়হান
  4. তানভীর মোকাম্মেল
ব্যাখ্যা
• স্টপ জেনোসাইড:
- স্টপ জেনোসাইড বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত একটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র।
- শহীদ বুদ্ধিজীবি ও বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালে ২০ মিনিটের এই তথ্যচিত্রটি তৈরি করেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারতে আশ্রয়গ্রণকারী বাঙ্গালীদের দুঃখ-দুর্দশা, হানাদার পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ, ভারতে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের দিনকাল প্রভৃতি এই তথ্যচিত্রে তুলে ধরা হয়েছিল।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের মে/জুন মাসে এটি প্রথম কলকাতায় প্রদর্শিত হয়।

উল্লেখ্য,
• মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র: আগামী ও সূচনা।
• তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র: মুক্তির গান ও মুক্তির কথা।
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র 'স্মৃতি ৭১' এর পরিচালক তানভীর মোকাম্মেল।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
বাংলাদেশের প্রথম বাংলা সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ পরিচালনা করেন কে?
  1. আবদুল জব্বার খান
  2. খান আতাউর রহমান
  3. আবদুস সামাদ
  4. মোজাম্মেল হোসেন
ব্যাখ্যা
‘মুখ ও মুখোশ’:
- বাংলাদেশের প্রথম বাংলা সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’।
- দিনটি ছিল ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট। চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় রূপমহল প্রেক্ষাগৃহে।
- এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক।
- চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন আবদুল জব্বার খান।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ৩১ মে, ২০২৩।
.
Which was the first Bangladeshi film to win the National Film Award for Best Picture?
  1. Lathial
  2. Shurjo Dighal Bari
  3. Dhire Bohe Meghna
  4. Jibon Theke Neya
ব্যাখ্যা

•  জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (National Film Award) :
- কোনো বিশেষ চলচ্চিত্রে বিশেষ নির্মাণকুশলতার স্বীকৃতি দিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়েছে।
- ১৯৭৬ সালের ২৪ মার্চ প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণা করেন তথ্যসচিব এ বি এম গোলাম মোস্তফা।
- ‘লাঠিয়াল’ সিনেমাকে ১৯৭৫ সালের সেরা সিনেমা হিসেবে নির্বাচন করেন বিচারকেরা।
- সিনেমাটি পরিচালনার পাশাপাশি প্রযোজনাও করেছেন প্রযোজক ও নির্মাতা নারায়ণ ঘোষ মিতা।
- সেরা সিনেমা, সেরা সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতাসহ সর্বোচ্চ পাঁচটি পুরস্কার পায় সিনেমাটি।

উৎস: প্রথম আলো, ২৪ মার্চ ২০১৪ ।

১০.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র 'মুক্তির গান' কে পরিচালনা করেছেন?
  1. তারেক মাসুদ
  2. নাসির উদ্দিন ইউসুফ
  3. চাষী নজরুল ইসলাম
  4. আলমগীর কবির
ব্যাখ্যা
মুক্তির গান:
- 'মুক্তির গান' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র।
- এই প্রামাণ্যচিত্র তারেক মাসুদ ও তার স্ত্রী ক্যাথেরিন মাসুদ পরিচালনা করেন।

- প্রামাণ্যচিত্রটি ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায়।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য চলচ্চিত্রটি প্রশংসিত হয়েছে।
- এটি দক্ষিণ এশিয়া চলচ্চিত্র পুরস্কারে বিশেষ উল্লেখ পুরস্কার এবং ২০তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে পুরস্কার লাভ করে।

উল্লেখ্য,
- নাসির উদ্দিন ইউসুফ পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে একাত্তরের যীশু, গেরিলা প্রভৃতি প্রধান।
- চাষী নজরুল ইসলাম ওরা ১১ জন’, ‘সংগ্রাম’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, প্রভৃতি সিনেমা নির্মাণ করেন।
- আলমগীর কবির পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘রূপালি সৈকত’, ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ‘লিবারেল ফাইটার্স’, ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে’ প্রভৃতি প্রধান।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র?
  1. ধীরে বহে মেঘনা
  2. কলমিলতা
  3. আবার তােরা মানুষ হ
  4. হুলিয়া
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র - হুলিয়া।
- এটি নির্মাণ করেন তানভীর মোকাম্মেল। 
- ষাটের দশকে প্রগতিশীল সংগঠনের কর্মীদের ওপর পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্যে হুলিয়া বুকে নিয়ে ঘরছাড়া এক তরুণকে নিয়ে লেখা কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতাকে ক্যামেরার ফ্রেমে তুলে এনেছেন তানভীর মোকাম্মেল।

অন্যদিকে,
ধীরে বহে মেঘনা (১৯৭৩):
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'ধীরে বহে মেঘনা' চলচ্চিত্রটির পরিচালক- 'আলমগীর কবির'।
- ভারতীয় মেয়ে অনিতার প্রেমিক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়।
- সে ঢাকায় এসে যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে আরও গভীরভাবে মর্মাহত হয়।
- অভিনয়ে বুলবুল আহমেদ, ববিতা, গোলাম মোস্তফা, আনোয়ার হোসেন, খলিল উল্লাহ প্রমুখ।
- হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গান আছে এ ছবিতে।

আবার তোরা মানুষ হ (১৯৭৩): 
- চলচ্চিত্রটির পরিচালক খান আতাউর রহমান।
- এ চলচ্চিত্রে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও অবক্ষয়ের চিত্র উঠে এসেছে।
- বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারুক, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ববিতা, রোজী আফসারী, রওশন জামিলসহ অনেকে।
- এখানে আছে উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র ও তরুণদের কার্যকলাপ এবং একজন আদর্শবাদী অধ্যক্ষের দৃঢ়তা।

কলমীলতা -মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পরিচালক - শহীদুল হক খান।

উৎস:
- প্রথম আলো (২০২১) পত্রিকা রিপোর্ট।
১২.
'আগুনের পরশমণি' চলচ্চিত্রের উপজীব্য বিষয় কী?
  1. ধর্মীয়
  2. সামাজিক
  3. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক
  4. ভাষা আন্দোলনভিত্তিক
ব্যাখ্যা
আগুনের পরশমণি:

- মুক্তিযুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে যে চলচ্চিত্রগুলো নির্মিত হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ‘আগুনের পরশমণি’।
- দর্শকনন্দিত এই ছবির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন হ‌ুমায়ূন আহমেদ।
- ১৯৯৪ সালে সরকারি অনুদানে নির্মিত হয় এ ছবি। মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় অবরুদ্ধ ঢাকায় মুক্তিবাহিনীর অভিযান আর মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের সংকট ছবিটিতে তুলে ধরেছেন। এ ছবিতে অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান নূর, বিপাশা হায়াত, ডলি জহুর ও আরো অনেকে।
- আগুনের পরশমণি ছবিটি ৮টি শাখায় অর্জন করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
- শাখাগুলো হচ্ছে- শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র (প্রযোজক হুমায়ূন আহমেদ), শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার (হুমায়ূন আহমেদ), শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা (হুমায়ূন আহমেদ), শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (বিপাশা হায়াত), শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক (সত্য সাহা), শ্রেষ্ঠ শব্দ গ্রাহক (মফিজুল হক), শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী (শিলা আহমেদ), শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার (হোসনে আরা পুতুল)।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৩.
'হাঙর নদী গ্রেনেড' চলচ্চিত্রের পটভূমি কী?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. ঊনসত্তরেরে গণঅভ্যুত্থান
  4. ১৯৪৭-এর দেশভাগ
ব্যাখ্যা
হাঙর নদী গ্রেনেড:
- সেলিনা হোসেনের গল্প অবলম্বনে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত চলচ্চিত্র হাঙর নদী গ্রেনেড।
- এর পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম।
- এর কাহিনিতে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে একজন মা তার বাক্প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেয় পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে।

উল্লেখ্য,
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

উৎস: প্রথম আলো।
১৪.
'ধনধান্য পুষ্প ভরা' - দেশাত্মবোধক গানটির রচিয়তা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। 
- গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল। 
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় ।
- নাটকটির ১৯০৯ সালে নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম প্রথম নাটক রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫.
লালন ও হাসনের গানে প্রাধান্য পায়----
  1. ক) নারী প্রেম
  2. খ) স্বদেশ প্রেম
  3. গ) ইহজাগতিকতা
  4. ঘ) আধ্যাত্মিকতা
ব্যাখ্যা
লালন ও হাসনের গানে প্রাধান্য পায় আধ্যাত্মিকতা। 
আবদুল করিমের গানে প্রাধান্য ইহজাগতিকতা। 

• লালন শাহ বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না।
- তাই তিনি গেয়েছেন: ‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।’
- তাঁর জনপ্রিয় গান- 
- ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’,
- ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’,
- ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’ ইত্যাদি।

• হাসন রাজা মরমি কবি ও সাধক হিসেবে পরিচিত। তার প্রকৃত নাম দেওয়ান হাসন রজা চৌধুরী।
- তিনি ১৮৫৪ সালের ২৪ জনিুয়ারি সুনামগঞ্জের লক্ষ্মণশ্রী গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯২২ সালের ৭ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
- হাসন রাজা আঞ্চলিক ভাষায় প্রায় এক হাজার গান রচনা করেন।
তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রযেছে:
- ‘লোকে বলে, বলে রে, ঘর বাড়ী ভালা না আমার’
- ‘সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইল’ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬.
'জীবনঢুলী' চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. তানভীর মোকাম্মেল
  2. মোরশেদুল ইসলাম
  3. নাসিরউদ্দীন ইউসুফ
  4. তারেক মাসুদ
ব্যাখ্যা

জীবনঢুলী:
- এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র।
- 'জীবনঢুলী'র পরিচালক ছিলেন তানভীর মোকাম্মেল।
- ‘জীবনঢুলী’ নির্মিত হয়েছে ২০১৩ সালে।
- জীবনঢুলী নিম্নবর্গের একটি হিন্দু ঢাকি ও তার পরিবারের ১৯৭১ সালের অভিজ্ঞতার কাহিনি।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় নিম্নবর্ণের এক ঢাকি জীবনকৃষ্ণ দাস ও তাঁর পরিবারের অভিজ্ঞতার গল্প বলা হয়েছে ‘জীবনঢুলী’ ছবিতে।
- বাংলাদেশ সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত ছবিটিতে চুকনগর গণহত্যাকে তুলে ধরা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগর বাজার।
- ১৯৭১ সালের ২০ মে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সেখানে এক নৃশংস গণহত্যা চালায়।
- ইতিহাসে তা ‘চুকনগর গণহত্যা’ নামে পরিচিতি।

উৎস: i) ১৯ জানুয়ারি ২০১৪, প্রথম আলো।
        ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৭.
“আগুনের পরশমণি” গ্রন্থটির চলচ্চিত্রায়নে ফুটে উঠেছে-
  1. ক) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি বাস্তব খন্ডচিত্র
  2. খ) ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের বিজয়ের চিত্র
  3. গ) মানুষের চাওয়া - পাওয়ার ক্ষুদ্র চিত্র
  4. ঘ) লোভ-লালসার নিন্দনীয় চিত্র
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন আহমেদের আগুনের পরশমণির চলচ্চিত্রায়নে ঢাকায় গেরিলাদের দুঃসাহসিক অভিযানের চিত্র ফুটে উঠেছে।
১৮.
'মোদের গরব মোদের আশা আ-মরি বাংলা ভাষা' - কার লেখা?
  1. রজনীকান্ত সেন
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. রঙ্গলাল সেন
  4. অতুল প্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
'মোদের গরব মোদের আশা / আ-মরি বাংলা ভাষা'
- গানটির রচয়িতা অতুল প্রসাদ সেন।
- গানটি ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়বাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।
- এ গান বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে।
→ অতুলপ্রসাদ সেন:
- অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি, গীতিকার ও গায়ক ছিলেন।
- তিনি সর্বপ্রথম বাংলা গানে ঠুমরি আমদানি করেন।
- 'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' তাঁর রচিত বিখ্যাত গান।
- 'কয়েকটি গান ও গীতিগুচ্ছ' তাঁর গানের সংকলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯.
ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস 'ওঙ্কার'-এর রচয়িতা কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. আহমদ ছফা
  3. আনোয়ার পাশা
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
ওঙ্কার (১৯৭৫):
- ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস ওঙ্কার।
- উপন্যাসটির রচয়িতা আহমদ ছফা।
- এটি আহমদ ছফার দ্বিতীয় উপন্যাস।

উল্লেখ্য,
- এ উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহ বর্ণিত হয়েছে একজন কথকের উক্তিতে।
- ৩৮ পৃষ্ঠার এই ছোট্ট উপন্যাসটি উঠে এসেছে '৬৯ এর পাকিস্তান আমলের সমাজচিত্রের ক্যানভাস ও সামাজিক অসংগতি এবং মনস্তাত্ত্বিক খেলা।
- আহমদ ছফার এ উপন্যাসে সমকালীন উত্তাপই শুধু নয় সমকালের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার শৈল্পিক সাধনাও প্রকাশ পেয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।
২০.
২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্রটির নাম কী?
  1. শিখর চূড়া
  2. ছায়া কাব্য
  3. জুলাই বিপ্লব
  4. শ্রাবণ বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
শ্রাবণ বিদ্রোহ:
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ’।

⇒ বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যে সংঘটিত ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে নির্মিত তথ্যচিত্রটির নাম "শ্রাবণ বিদ্রোহ"।

উৎস: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।
২১.
'হ্যারি পটার' কি?
  1. ক) একটি পুতুলের নাম
  2. খ) একটি কম্পিউটার নাম
  3. গ) শিশুতোষ বইয়ের সিরিজ
  4. ঘ) এক ধরনের মোবাইল সেট
ব্যাখ্যা
হ্যারি পটার জেকে রাউলিং রচিত একটি শিশুতোষ ফ্যান্টাসি বইয়ের সিরিজ। এ বই অবলম্বনেই নির্মিত হয়েছে বিখ্যাত হ্যারি পটার চলচ্চিত্র।
২২.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক 'বিবাহ' নাটকটি কার লেখা?
  1. সেলিম আল দীন
  2. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ
  3. মামুনুর রশিদ
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা

বিবাহ:
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক নাটক 'বিবাহ।
- মমতাজউদদীন আহমদের ভাষা আন্দোলন নিয়ে লেখা প্রথম নাটক বিবাহ।
- একে একে তার হাতে জন্ম নিলো "ক্ষত বিক্ষত", "রঙ্গপঞ্চাদশ", "প্রেম বিবাহ সুটকেশ", "জমিদার দর্পণ", "হৃদয় ঘটিত ব্যাপার স্যাপার" এর মতো অসাধারণ সব নাটক।
- টেলিভিশনে নাট্যকার হিসেবে মমতাজউদদীন আহমদের যাত্রা শুরু হয় ‘দখিনের জানালা’ নাটকটি দিয়ে।
- হুমায়ূন আহমদের উপন্যাস “শঙ্খনীল কারাগার” অবলম্বনে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। সেই চলচ্চিত্রে মতিন উদ্দিন চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়েছিল মমতাজউদদীন আহমদের।

উল্লেখ্য,
- কিংবদন্তী নাট্যকার মমতাজউদদীন আহমদ।
- স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে পথিকৃৎ মমতাজ উদ্দীন আহমদ।
- মমতাজউদদীন আহমদের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে।

উৎস: The Daily Star Bangla.

২৩.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র 'দামাল' পরিচালনা করেছেন -
  1. তানভীর মোকাম্মেল
  2. মোরশেদুল ইসলাম
  3. তারেক মাসুদ
  4. রায়হান রাফি
ব্যাখ্যা

দামাল:
- দামাল একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র।
- ১৯৭১ সালের স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে 'দামাল'-এর কাহিনি।
- ফুটবল খেলে অর্জিত অর্থ মুক্তিযুদ্ধের জন্য ব্যয় করেছেন তাঁরা। ইতিহাসের এ অংশ উঠে আসে এই চলচ্চিত্রটিতে।
- ফরিদুর রেজা সাগরের গল্প থেকে যৌথভাবে সিনেমার চিত্রনাট্য করেছেন রায়হান রাফি ও নাজিম উদ দৌলা।
- চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন রায়হান রাফি।
- চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম, সিয়াম আহমেদ, শরিফুল রাজ, সুমিত, রাশেদ অপু, সাঈদ বাবু, শাহনাজ সুমি, সৈয়দ নাজমুস সাকিব প্রমুখ।
- চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ২০২২ সালে।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো ও সমকাল পত্রিকার রিপোর্ট।

২৪.
'এক সাগর রক্তের বিনিময়ে' গানটির শিল্পী কে?
  1. স্বপ্না রায়
  2. শাহনাজ রহমত উল্লাহ
  3. নন্দিতা ঘোষ
  4. ফেরদৌসী বেগম
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রচারিত গানগুলো মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রেরণা যুগিয়েছে।

⇒ জয় বাংলা, বাংলার জয়:
- গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার।
- সুরকার: আনোয়ার পারভেজ।
- শিল্পী: শাহনাজ রহমত উল্লাহ।

⇒ তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর:
- কথা ও সুর: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: রথীন্দ্রনাথ রায়।

⇒ পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: সমর দাস।
- গানটি কয়েকজন শিল্পীর সমবেত কণ্ঠে প্রচার করা হয়।

⇒ মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: আপেল মাহমুদ।

⇒ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: স্বপ্না রায়।

⇒ সালাম সালাম হাজার সালাম:
- গীতিকার: ফজলে খোদা।
- সুরকার: আব্দুল জব্বার।
- শিল্পী: আব্দুল জব্বার।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।
২৫.
‘চিরঞ্জীব মুজিব’ চলচ্চিত্রের পরিচালক -
  1. শ্যাম বেনেগাল
  2. সন্তু রায়
  3. সেলিম খান
  4. নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
চিরঞ্জীব মুজিব:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র হলো চিরঞ্জীব মুজিব।
- এটির পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম।
- হায়দার এন্টারপ্রাইজের ব্যানারে নির্মিত চলচ্চিত্রটি আগস্ট মাসে মুক্তি পায়।
- চলচ্চিত্রটিতে বঙ্গবন্ধু চরিত্রে অভিনয় করেন আহমেদ রুবেল।
 
উৎস: ১ জানুয়ারি ২০২২, প্রথম আলো।
২৬.
বাংলাদেশের কোন অভিনেত্রী সত্যজিৎ রায়ের 'অশণি সংকেত' চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন?
  1. চম্পা
  2. শাবানা
  3. ববিতা
  4. জয়া আহসান
ব্যাখ্যা

 • চলচ্চিত্র: 'অশণি সংকেত'- 
- চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় ১৯৭৩ সালে ‘অশনি সংকেত’-এর জন্য বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন বেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন।
- সত্যজিৎ রায়ের 'অশনি সংকেত' ছবিতে অনঙ্গ বৌ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী ববিতা।

• সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রসমূহের (২৮টি) উল্লেখযোগ্য হলো:
- পথের পাঁচালী (১৯৫৫),
- অপরাজিত (১৯৫৬),
- অপুর সংসার (১৯৫৯),
- দেবী (১৯৬০),
- তিন কন্যা (১৯৬১),
- রবীন্দ্রনাথ (১৯৬১),
- কাঞ্চনজঙ্ঘা (১৯৬২),
- অভিযান (১৯৬২),
- চারুলতা (১৯৬৪),
- নায়ক (১৯৬৬),
- অশনি সংকেত (১৯৭৩),
- হীরক রাজার দেশে (১৯৮০),
- ঘরে বাইরে (১৯৮৪),
- আগন্তুক (১৯৯১)

উৎস: বিবিসি বাংলা।লিঙ্ক]

২৭.
'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে কোন চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে?
  1. ধীরে বহে মেঘনা
  2. গেরিলা
  3. সংগ্রাম
  4. আলোর মিছিল
ব্যাখ্যা

গেরিলা চলচ্চিত্র:
- গেরিলা চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ২০১১ সালে।
- এই চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত।
- এই চলচ্চিত্রটি পরিচালক নাসির উদ্দিন ইউসুফ।
- সৈয়দ শামসুল হকের 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করা হয়েছে গেরিলা চলচ্চিত্রটি।
- যৌথভাবে চিত্রনাট্য রচনা করেছেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও এবাদুর রহমান।
- এটি ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার' পেয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।

২৮.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র?
  1. ধীরে বহে মেঘনা
  2. কলমিলতা
  3. আবার তােরা মানুষ হ
  4. হুলিয়া
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র - হুলিয়া।
- এটি নির্মাণ করেন তানভীর মোকাম্মেল।
- ষাটের দশকে প্রগতিশীল সংগঠনের কর্মীদের ওপর পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্যে হুলিয়া বুকে নিয়ে ঘরছাড়া এক তরুণকে নিয়ে লেখা কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতাকে ক্যামেরার ফ্রেমে তুলে এনেছেন তানভীর মোকাম্মেল।

অন্যদিকে,
ধীরে বহে মেঘনা (১৯৭৩):
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'ধীরে বহে মেঘনা' চলচ্চিত্রটির পরিচালক- 'আলমগীর কবির'।
- ভারতীয় মেয়ে অনিতার প্রেমিক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়।
- সে ঢাকায় এসে যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে আরও গভীরভাবে মর্মাহত হয়।
- অভিনয়ে বুলবুল আহমেদ, ববিতা, গোলাম মোস্তফা, আনোয়ার হোসেন, খলিল উল্লাহ প্রমুখ।
- হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গান আছে এ ছবিতে।

আবার তোরা মানুষ হ (১৯৭৩):
- চলচ্চিত্রটির পরিচালক খান আতাউর রহমান।
- এ চলচ্চিত্রে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও অবক্ষয়ের চিত্র উঠে এসেছে।
- বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারুক, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ববিতা, রোজী আফসারী, রওশন জামিলসহ অনেকে।
- এখানে আছে উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র ও তরুণদের কার্যকলাপ এবং একজন আদর্শবাদী অধ্যক্ষের দৃঢ়তা।

কলমীলতা -মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পরিচালক - শহীদুল হক খান।

উৎস: প্রথম আলো ।
২৯.
'এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা'- গানটির রচয়িতা কে?
  1. আপেল মাহমুদ
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. আবদুল জব্বার
  4. হাছনরাজা
ব্যাখ্যা
গোবিন্দ হালদার রচিত কয়েকটি বিখ্যাত গান:

- 'মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি....'
- 'এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলব না।'
- 'পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে.....'

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩০.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘ওরা ১১ জন’ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন কে?
  1. আলমগীর কবির
  2. আমজাদ হোসেন
  3. চাষী নজরুল ইসলাম
  4. খান আতাউর রহমান
ব্যাখ্যা

ওরা ১১ জন:
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'ওরা ১১ জন'।
- পরিচালনা করেছেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন রাজ্জাক, শাবানা, নূতন, সৈয়দ হাসান ইমাম, এটিএম শামসুজ্জামান, খলিলউল্লাহ খান প্রমুখ।
- এ সিনেমায় ১১ জনের ১০ জন ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা।
- তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন খসরু, মুরাদ, হেলাল ও নান্টু।

উৎস: ইত্তেফাক পত্রিকা।

৩১.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস -
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. হাঙর নদী গ্রেনেড
  3. রাইফেল রোটি আওরাত
  4. জোছনা ও জননীর গল্প
ব্যাখ্যা
রাইফেল রোটি আওরাত:
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস।
- এ উপন্যাসকে অনেকে মুক্তিযুদ্ধের একটি প্রামাণ্য দলিলও বলে থাকেন।
- উপন্যাসের রচয়িতা শহীদ আনোয়ার পাশা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক, সাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি লিখছিলেন এ উপন্যাসটি, যা আসলে তার নিজের বয়ানে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে পরবর্তী কিছুদিনের প্রতিটি মুহূর্তের বর্ণনা।
- উপন্যাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক সুদীপ্ত শাহীন চরিত্রের আড়ালে আনোয়ার পাশা নিজেকেই এঁকেছেন।
- আনোয়ার পাশার বন্ধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার শিক্ষক ড. কাজী আব্দুল মান্নান তার ডায়েরি লেখার অভ্যাসটি জানতেন।
- তিনিই পরবর্তীকালে তার সব লেখা খুঁজে বের করেন, ‘রাইফেল, রোটি, আওরাত’ উপন্যাসের পাণ্ডুলিপিটি সংগ্রহ করেন।
- ‘গণমিছিল’ প্রকাশনা থেকে বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- নেকড়ে অরণ্য: মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শওকত ওসমান একাধিক উপন্যাস লিখেছেন। ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত ৬৪ পৃষ্ঠার ছোট্ট একটি উপন্যাস 'নেকড়ে অরণ্য' ছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস 'জাহান্নাম হইতে বিদায়', 'দুই সৈনিক' এবং 'জলাংগী'।
- হাঙর নদী গ্রেনেড: মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন। 
- জোছনা ও জননীর গল্প: মৃত্যুর মাত্র কয়েক বছর আগে কথার জাদুকর হুমায়ূন আহমেদ লেখেন 'জোছনা ও জননীর গল্প' উপন্যাসটি। 

উৎস: প্রথম আলো।
৩২.
বাংলাদেশের রণসঙ্গীতটির সুরকার কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) সমর দাস
  4. ঘ) শেখ লুৎফুর রহমান
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- মূল কবিতার ২১ চরণ রণসঙ্গীত হিসেবে গৃহীত।
-  রণসঙ্গীতটি 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত।
- 'নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। 
- পরে এর নাম হয় "চল্‌ চল্‌ চল্‌'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩.
'আগুনের পরশমণি' চলচ্চিত্রটির পরিচালক ছিলেন - 
  1. মফিজুল হক
  2. জহির রায়হান
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. সত্য সাহা
ব্যাখ্যা

আগুনের পরশমণি:
- মুক্তিযুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে যে চলচ্চিত্রগুলো নির্মিত হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ‘আগুনের পরশমণি’।
- চিত্রনাট্য ও পরিচালনা: হুমায়ূন আহমেদ।
- নির্মিত হয়: ১৯৯৪ সালে।
- মুক্তি পায়: ১৯৯৫ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় অবরুদ্ধ ঢাকায় মুক্তিবাহিনীর অভিযান আর মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের সংকট ছবিটিতে তুলে ধরেছেন। এ ছবিতে অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান নূর, বিপাশা হায়াত, ডলি জহুর ও আরো অনেকে।
- আগুনের পরশমণি চলচ্চিত্রটি ৮টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।
- শাখাগুলো হচ্ছে-
• শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র (প্রযোজক হুমায়ূন আহমেদ),
• শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার (হুমায়ূন আহমেদ),
• শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা (হুমায়ূন আহমেদ),
• শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (বিপাশা হায়াত),
• শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক (সত্য সাহা),
• শ্রেষ্ঠ শব্দ গ্রাহক (মফিজুল হক),
• শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী (শিলা আহমেদ),
• শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার (হোসনে আরা পুতুল)।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৪.
‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা কে?
  1. মামুনুর রশীদ
  2. মান্নান হীরা
  3. ফজলুর রহমান বাবু
  4. ড. ইনামুল হক
  5. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা

একাত্তরের ক্ষুদিরাম:
- ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’ চলচ্চিত্রটির নির্মাতা মান্নান হীরা। 

⇒ মান্নান হীরা রচিত ও পরিচালিত শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’। 
- মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি নিয়ে নির্মিত এই পূর্ণদৈর্ঘ্য শিশুতোষ চলচ্চিত্র।
- এতে অভিনয় করবেন মামুনুর রশীদ, ফজলুর রহমান বাবু, ড. ইনামুল হক, মোমেনা চৌধুরী, ছবি, ফিরোজ আল মামুন, সাজু প্রমুখ। শিশু শিল্পী চরিত্রে অভিনয় করবেন স্বচ্ছ, রুদ্র, শাকিল, অন্তরা, মধুমনি প্রমুখ।
- ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে সরকারি অনুদানে চলচ্চিত্রটির নির্মাণ শুরু হয়। 

উৎস: প্রথম আলো।

৩৫.
নিচের কোন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র নির্মাতা অস্কার পুরস্কার লাভ করেছেন?
  1. ক) তারেক মাসুদ
  2. খ) মোস্তফা সালােয়ার ফারুকী
  3. গ) সত্যজিৎ রায়
  4. ঘ) মাের্শেদুল ইসলাম
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সত্যজিৎ রায় অস্কার লাভ করেছেন তবে উনার জাতীয়তা বাংলাদেশী না হওয়ায় প্রশ্নের উত্তর হবে কেউই না।
৩৬.
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকা নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র কোনটি?
  1. শ্রাবণ বিদ্রোহ
  2. ছত্রিশ জুলাই
  3. দ্য হিরোস আউটসাইড
  4. আমাদ’স ড্রিম
ব্যাখ্যা

'আমাদ'স ড্রিম' (Amad's Dream):
- ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকা নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র আমাদ’স ড্রিম।
- নির্মাতা: আশিষ কিফায়েত।

⇒ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- দেশজুড়ে যখন লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে, সেই ঢেউ শুধু সীমান্তের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে।
- কেউ সরাসরি আন্দোলনে অংশ নিতে দেশে ফিরে আসেন, আবার কেউ বিদেশে থেকেও অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সহায়তার মাধ্যমে আন্দোলনকে শক্তিশালী করে তুলেছিলেন।
- প্রবাসীদের এই সক্রিয় ভূমিকা বিশেষ করে প্রবাসী নারীদের অবদান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলার আশিষ কিফায়েত নির্মাণ করেছেন স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র ‘আমাদ’স ড্রিম’।
- এটি কেবল প্রবাসী জীবনের গল্প নয়, বরং প্রতিফলিত করে ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের সক্রিয় ভূমিকা।
- কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন, কেউ আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন, আবার কেউ নিজেদের পেশাগত দক্ষতা ব্যবহার করেছেন আন্দোলনের পক্ষে।

উৎস: i) The Daily Star.
ii) যুগান্তর।

৩৭.
হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্র নিচের কোনটি?
  1. জয়যাত্রা
  2. শ্রাবণ মেঘের দিন
  3. দীপু নাম্বার টু
  4. নন্দিত নরকে
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে।
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)।
- তাঁর অন্যন্যা চলচ্চিত্র গুলো হলো,
- শ্রাবণ মেঘের দিন (২০০০), দুই দুয়ারী (২০০১), চন্দ্রকথা (২০০৩), নয় নম্বর বিপদ সংকেত (২০০৭) এবং আমার আছে জল (২০০৮)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৮.
‘একতারা তুই দেশের কথা’-গানটির গীতিকার কে?
  1.  আপেল মাহমুদ 
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. গাজী মাজহারুল আনোয়ার
  4. নজরুল ইসলাম বাবু
ব্যাখ্যা

একতারা তুই দেশের কথা:
- একতারা তুই দেশের কথা গানটির গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার।
- সুরকার: আনোয়ার পারভেজ।

এছাড়াও, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গান -
- জয় বাংলা, বাংলার জয় - গীতিকার: গাজী মাযহারুল আনোয়ার।
- মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি - গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- এক সাগর রক্তের বিনিময়ে - গীতিকার: গোবিন্দ হালদার। 
- জনতার সংগ্রাম চলবেই - গীতিকার: সিকান্দার আবু জাফর। 
- মুক্তির মন্দির সোপান তলে কতো প্রাণ হলো বলিদান  - গীতিকার: মোহিনী চৌধুরী।
- এক নদী রক্ত পেরিয়ে বাংলার আকাশে - গীতিকার: আতাউর রহমান। 
- পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল - গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।

উৎস: প্রথম আলো।

৩৯.
'সিটি অব জয়' চলচ্চিত্রে কোন নগরীর দীনতা প্রকাশ পেয়েছে?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) করাচি
  3. গ) দিল্লি
  4. ঘ) কোলকাতা
ব্যাখ্যা

রোলান্ড জোফ পরিচালিত ছবি 'সিটি অব জয়'। 
- এই ছবিতে কোলকাতা শহরের দীনতা প্রকাশ পেয়েছে। 
- এই চলচ্চিত্র একজন কৃষক, একজন আমেরিকান ডাক্তার এবং একজন ব্রিটিশ নার্সের ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে। 

উৎসঃ রটেন টম্যাটোস, আইএমডিবি 

৪০.
চিত্রা নদীর পাড়ে চলচ্চিত্রের পটভূমি কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. দেশভাগ
  3. বঙ্গভঙ্গ
  4. ছিয়াত্বরের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা
- 'চিত্রা নদীর পাড়ে' চলচ্চিত্রটি ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পটভূমিতে নির্মিত।
- এটির পরিচালক তানভীর মোকাম্মেল।
- ছবিটি ১৯৯৮ সালে মুক্তি পায়।
- শ্রেষ্ঠ সিনেমা ও শ্রেষ্ঠ পরিচালকসহ মোট সাতটি ক্যাটাগরিতে এটি ১৯৯৯ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন এবং চিত্রা নদীর পাড়ে চলচ্চিত্র)
৪১.
হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্র -
  1. দীপু নাম্বার টু
  2. জয়যাত্রা
  3. দুই দুয়ারী
  4. দারুচিনি দ্বীপ
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলা।
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)।
- তাঁর অন্যন্যা পরিচালিত চলচ্চিত্র গুলো হলো - 
- শ্রাবণ মেঘের দিন (২০০০), দুই দুয়ারী (২০০১), চন্দ্রকথা (২০০৩), নয় নম্বর বিপদ সংকেত (২০০৭) এবং আমার আছে জল (২০০৮)।

অন্যদিকে,
- দারুচিনি দ্বীপ ও জয়যাত্রা পরিচালনা করেছেন তৌকির আহমেদ।
- দীপু নাম্বার টু চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন মোরশেদুল ইসলাম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪২.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নয় কোনটি?
  1. আগামী
  2. জয়যাত্রা
  3. নদীর নাম মধুমতি
  4. বাঙলা
ব্যাখ্যা
আগামী:
- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আগামী।
- চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন মোরশেদুল ইসলাম।
- এটি ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয়।

জয়যাত্রা:

- মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত চলচ্চিত্র জয়যাত্রা।
- চলচ্চিত্রটির পরিচালক তৌকির আহমেদ।
- জয়যাত্রা সিনেমায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সম্পৃক্ততা ছিল।
- ২০০৪ সালে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়।

নদীর নাম মধুমতি:
- মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘নদীর নাম মধুমতি’।
- 'নদীর নাম মধুমতি' এর পরিচালক তানভীর মোকাম্মেল।
- চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালে।
- এতে অভিনয় করেছেন তৌকীর আহমেদ, আফসানা মিমি, আলী যাকের, সারা যাকের, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ঝুনা চৌধুরী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
⇒ বাঙলা:
- ভাষা আন্দোলনের দ্বিতীয় সিনেমা বাঙলা।
- ২০০৬ সালে প্রয়াত নির্মাতা শহীদুল ইসলাম খোকন এটি নির্মাণ করেন।
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফার লেখা উপন্যাস ‘ওংকার’ অবলম্বনে নির্মিত হয় সিনেমাটি। 
- প্রয়াত অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি, মাহফুজ আহমেদ ও শাবনূর অভিনয় করেন এ সিনেমায়।

উৎস: প্রথম আলো।
৪৩.
১৯৪৭-এর দেশভাগ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র- 
  1. মাটির ময়না
  2. নদীর নাম মধুমতি
  3. আবার তোরা মানুষ হ
  4. চিত্রা নদীর পাড়ে
ব্যাখ্যা

- ’চিত্রা নদীর পাড়ে’ চলচ্চিত্রটি দেশ ভাগ নিয়ে নির্মিত হয়েছে।
- ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের জীবনী।
- চিত্রা নদীর পাড়ে তানভীর মোকাম্মেল ১৯৯৮ সালের নির্মিত চলচ্চিত্র।
- এটি ১৯৯৯ সালে ৭টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
• তানভীর মোকাম্মেল বিখ্যাত কয়েকটি চলচ্চিত্র:
- নদীর নাম মধুমতী, লালসালু, লালন, রাবেয়া, জীবনঢুলী ও রূপসা নদীর বাঁকে।

অন্যদিকে,
- মাটির ময়না' চলচ্চিত্রের নির্মাতা হলেন তারেক মাসুদ।
- প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঠিক আগের সময়ের পরিস্থিতি এবং এর পটভূমিতে পরিচালকের ছেলেবেলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। 

• নদীর নাম মধুমতী" চলচ্চিত্রের পরিচালক হলেন তানভীর মোকাম্মেল।
- এটি একটি বাংলাদেশী বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র যা ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায়। 
- পরিচালক: তানভীর মোকাম্মেল।
- বিষয়বস্তু: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র।

• 'আবার তোরা মানুষ হ' এটি হচ্ছে ১৯৭৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি চলচ্চিত্র।
- চলচ্চিত্রটির পরিচালক খান আতাউর রহমান কলেজ প্রিন্সিপাল হিসেবে অভিনয় করেছিলেন।
- এই সিনেমার মূল উদ্দেশ্য হলো- মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা যুদ্ধ করেনি, পরে তারাই বিভিন্ন কাজে বেশি সুবিধা নিয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো। 

৪৪.
আলমগীর কবির পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র কোনটি?
  1. ইনোসেন্ট মিলিয়নস
  2. স্টপ জেনোসাইড
  3. লিবারেশন ফাইটার্স
  4. ডেডলাইন বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র:
- লিবারেশন ফাইটার্স : আলমগীর কবির
- স্টপ জেনোসাইড এবং এ স্টেট ইজ বর্ন : জহির রায়হান
- ইনোসেন্ট মিলিয়নস : বাবুল চৌধুরী
- ডেডলাইন বাংলাদেশ : গীতা মেহতা
(তথ্যসূত্র: প্রথম আলো ও ভোরের কাগজ)
৪৫.
'ভাওয়াইয়া' কোন অঞ্চলের গান?
  1. চট্টগ্রাম
  2. কুষ্টিয়া
  3. সিলেট
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা

ভাওয়াইয়া:
- ভাওয়াইয়া উত্তরবঙ্গে প্রচলিত এক প্রকার  লোকগীতি।
- রংপুর ও ভারতের কুচবিহার জেলা এ গানের জন্মস্থান।
- ভাওয়াইয়া গান ভাবসমৃদ্ধ বিধায় ‘ভাব’ থেকে ‘ভাওয়াইয়া’ কথাটির উৎপত্তি বলে অনুমিত হয়।
- এ গানের মূল সুর নর-নারীর প্রণয়। প্রণয়ের বিচ্ছেদ জ্বালাই এতে অধিক রূপায়িত হয়।
- ভাওয়াইয়া গান দুই প্রকার- দীর্ঘ সুরবিশিষ্ট ও চটকা সুরবিশিষ্ট।
- প্রথম শ্রেণীর গানে নর-নারীর, বিশেষত নবযৌবনাদের অনুরাগ, প্রেমপ্রীতি ও ভালোবাসার আবেদন ব্যক্ত হয়।
- এরূপ গানের মধ্যে ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’, ‘যে জন প্রেমের ভাব জানে না’, ‘কোন দ্যাশে যান মইশাল বন্দুরে’, ‘নউতোন পিরিতির বড় জ্বালা’ ইত্যাদি অধিক জনপ্রিয়।
- অপরপক্ষে চটকা এক প্রকার রঙ্গগীতি।
- এ গান চটুল ও দ্রুত তালের।
- গ্রাম্য ‘চট’ (অর্থ তাড়াতাড়ি) শব্দটির স্ত্রীলিঙ্গান্তর করে ‘চটকা’ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।
- এ শ্রেণীর গানে যথেষ্ট হাস্যরসের উপাদান থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৪৬.
‘ওরা এগারো জন’ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন কে?
  1. আলমগীর কবির
  2. জহির রায়হান
  3. খান আতাউর রহমান
  4. চাষী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

ওরা এগারো জন:
- প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র 'ওরা এগারো জন'।
- 'ওরা এগারো জন' চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ওরা ১১ জন চলচ্চিত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে অভিনয় করিয়েছিলেন নির্মাতা-প্রযোজক।
- “ওরা এগারো জন” চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- একাত্তরে ১১টি সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন বাঙালিরা। বিষয়টি মাথায় রেখেই সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ওরা ১১ জন।
- পরিচালক হিসেবে চাষী নজরুল ইসলামের প্রথম সিনেমা ছিল এটি।
- ওরা ১১ জন-এর শুটিং হয়েছিল জয়দেবপুরে।
- চিত্রগ্রাহক ছিলেন আবদুস সামাদ।
- ওরা ১১ জন সিনেমা শুরু হয় সাইফুল ইসলামের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত 'ও আমার দেশের মাটি' দিয়ে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক প্রথম আলো, ১৩ আগস্ট ২০২২।

৪৭.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র কোনটি? 
  1. আগুনের পরশমণি
  2. ওরা এগারো জন
  3. গেরিলা
  4. অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী
ব্যাখ্যা

• ওরা এগারো জন:
- প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র 'ওরা এগারো জন'।
- 'ওরা এগারো জন' চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ওরা ১১ জন চলচ্চিত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে অভিনয় করিয়েছিলেন নির্মাতা-প্রযোজক।
- “ওরা এগারো জন” চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম। 
- একাত্তরে ১১টি সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন বাঙালিরা। বিষয়টি মাথায় রেখেই সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ওরা ১১ জন।
- পরিচালক হিসেবে চাষী নজরুল ইসলামের প্রথম সিনেমা ছিল এটি।
- ওরা ১১ জন-এর শুটিং হয়েছিল জয়দেবপুরে।
- চিত্রগ্রাহক ছিলেন আবদুস সামাদ।
- ওরা ১১ জন সিনেমা শুরু হয় সাইফুল ইসলামের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত 'ও আমার দেশের মাটি' দিয়ে।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও প্রথম আলো। 

৪৮.
‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার’ চলচ্চিত্রটির বাংলাদেশের প্রযোজক কে?
  1. বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন
  2. জাজ মাল্টিমিডিয়া
  3. ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
মুজিব: একটি জাতির রূপকার:

- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’।
- চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৩ অক্টোবর ২০২৩ সালে।
- ১৯ মে ২০২২ সালে ফ্রান্সে ৭৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির প্রাথমিক ট্রেলার মুক্তি পায়।
- সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ভারতের খ্যাতিমান নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল।
- সিনেমাটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের ‘বিএফডিসি’ (বাংলাদেশ) ও ভারতের ‘এনএফডিসি’।
- এর নির্মাণ ব্যয় ৮৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ মোট অর্থের ৫০ কোটি ও ভারত ৩৩ কোটি টাকা দিয়েছে।
- চলচ্চিত্রটিতে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ।
• খন্দকার মোশতাক আহমদের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু।
• কিশোর শেখ মুজিব চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিব্য জ্যোতি।
• রেণু (শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব) চরিত্রে অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা।
• শেখ হাসিনা চরিত্রে নুসরাত ফারিয়া।
• শেখ রেহানা চরিত্রে সাবিলা নূর।
• মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী চরিত্রে রাইসুল ইসলাম আসাদ।
• তাজউদ্দীন আহমদ চরিত্রে রিয়াজ।
• এ কে ফজলুল হক চরিত্রে শহীদুল আলম সাচ্চু।
• টিক্কা খান চরিত্রে জায়েদ খান।

তথ্যসূত্র - সময় নিউজ, ১৫ অক্টোবর ২০২৩ ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৯.
স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রভাবে রচিত প্রথম চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ক) রক্তাক্ত বাংলা
  2. খ) আবার তোরা মানুষ হ
  3. গ) একাত্তরের যীশু
  4. ঘ) আগুনের পরশমণি
ব্যাখ্যা
রক্তাক্ত বাংলা- ১৯৭২ সাল
আবার তোরা মানুষ হ- ১৯৭৩ সাল
একাত্তরের যীশু- ১৯৯৩
এবং আগুনের পরশমণি- ১৯৯৫ সাল।
সূত্রঃ প্রথম আলো।
৫০.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক 'কী চাহ শঙ্খচিল'-এর রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. নাসির উদ্দীন ইউসুফ
  3. মমতাজউদদীন আহমদ
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
মমতাজউদদীন আহমদ:
- এক অঙ্কের নাটক রচনায় তিনি ছিলেন পথিকৃৎ।
- মমতাজউদদীন আহমদের নাটক লেখার যাত্রা শুরু হয় ১৯৬০ সালে।
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে তার লেখা প্রথম নাটক 'বিবাহ'।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি লিখেছিলেন “স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা” নাটকটি।
- স্বাধীনতার এক যুগ পরে এসে তিনি রচনা করলেন তার বিখ্যাত নাটক "সাতঘাটের কানাকড়ি"।
- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজউদদীন আহমদ যেমন লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা। 
- তার হাতে জন্ম নিলো "ক্ষত বিক্ষত", "রঙ্গপঞ্চাদশ", "প্রেম বিবাহ সুটকেশ", "জমিদার দর্পণ", "হৃদয় ঘটিত ব্যাপার স্যাপার" এর মতো অসাধারণ সব নাটক।
- টেলিভিশনে নাট্যকার হিসেবে মমতাজউদদীন আহমদের যাত্রা শুরু হয় ‘দখিনের জানালা’ নাটকটি দিয়ে। 
- চার্লি চ্যাপলিন-ভাঁড় নয় ভবঘুরে নয়, আমার ভিতরে আমি, জগতের যত মহাকাব্য, লাল সালু ও সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, মহানামা কাব্যের গদ্যরূপ, সাহসী অথচ সাহস্য, নেকাবী এবং অন্যগণ, জন্তুর ভিতর মানুষ' এর মতো বিশাল গদ্য ভাণ্ডার ছিল অসামান্য।
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে তিনি লিখেছিলেন 'একুশ আমার বাংলা আমার', লিখেছিলেন শিশু সাহিত্য ও কিশোর রচনা, সরস রচনা।
- তার স্বাধীনতার সংগ্রাম নাটক 'বর্ণচোরা'।

উৎস: ১০ জানুয়ারি ২০২১, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
৫১.
'আমার সোনার বাংলা' রবীন্দ্র সংগীতের প্রথম কত পঙক্তি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃত?
  1. ক) ৮
  2. খ) ১০
  3. গ) ১২
  4. ঘ) ১৪
ব্যাখ্যা

- 'আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি' এই গানটির প্রথম ১০ চরন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গৃহীত।
- এটি প্রথম ১৯০৫ (১৩১২) সালে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এই গানের সুরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং এবং এতে বাউল গগন হরকরার সুরের প্রভাব রয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।

৫২.
'পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল' গানটির সুর করেছেন কে?
  1. গোবিন্দ হালদার
  2. ফজলে খোদা
  3. আপেল মাহমুদ
  4. সমর দাস
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রচারিত গানগুলো মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রেরণা যুগিয়েছে।


স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান:
⇒ তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর - কথা ও সুর: আপেল মাহমুদ, কণ্ঠ: রথীন্দ্রনাথ রায়।
⇒ পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল - গীতিকার: গোবিন্দ হালদার, সুরকার: সমর দাস, সমবেত কণ্ঠে গাওয়া।
⇒ মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি - গীতিকার: গোবিন্দ হালদার, সুরকার ও কণ্ঠ: আপেল মাহমুদ।
⇒ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে - গীতিকার: গোবিন্দ হালদার, সুরকার: আপেল মাহমুদ, কণ্ঠ: স্বপ্না রায়।
⇒ সালাম সালাম হাজার সালাম - গীতিকার: ফজলে খোদা, সুরকার ও কণ্ঠ: আব্দুল জব্বার।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৫৩.
‘লেট দেয়ার বি লাইট’ এর পরিচালক কে ছিলেন?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. জহির রায়হান
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. আলমগীর কবির
ব্যাখ্যা
Let there be light
- ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ এর পরিচালক জহির রায়হান। 
- ১৯৬৯ সালে ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ নির্মাণের ঘোষণা দেন চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান।
- ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ছবির মহরতে তিনি বলেছিলেন, এটি তাঁর স্বপ্নের সিনেমা।
- ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও সংস্কৃতির নামে বিশ্বজুড়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার মানুষের আর্তনাদ তুলে ধরতে ১৯৭০ সালের আগস্টের দিকে দৃশ্যধারণে হাত দেন নির্মাতা।
- সিনেমার চিত্রগ্রহণও করেছেন জহির রায়হান।
- ছবিটির শুটিংয়ের মাঝে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদাররা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে বাঙালিদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে।
- সিনেমার কাজে বিরতি টেনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে এপ্রিল মাসে ঢাকা ছেড়েছেন জহির রায়হান।
- একাত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চারটি প্রামাণ্যচিত্র প্রযোজনা করেন তিনি।
- এর ভেতর ‘স্টপ জেনোসাইড’ ও ‘আ স্টেট ইজ বর্ন’-এর পরিচালকও ছিলেন তিনি।
- স্বাধীনতার পর ঢাকায় ফেরেন জহির রায়হান।
- মিরপুরে বড় ভাই শহীদুল্লা কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন এই নির্মাতা।
- স্বপ্নের ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ সিনেমাটি শেষ করে যেতে পারেননি জহির রায়হান।

উৎস: প্রথম আলো (২৬ মার্চ ২০২৪)
৫৪.
'জেঁকে ১৯৭১' চলচ্চিত্রটি কে পরিচালনা করেছেন?
  1. তৌকির আহমেদ
  2. নূর-ই আলম
  3. শ্যাম বেনেগাল
  4. ফাখরুল আরেফিন খান
ব্যাখ্যা
জেঁকে ১৯৭১:
- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত ইংরেজি ভাষার প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র জেঁকে ১৯৭১।
- চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করছেন নির্মাতা ফাখরুল আরেফিন খান।

⇒ ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ফ্রান্সের প্যারিসের আর্লি বিমান বন্দরে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের (পিআইএ) একটি বিমান ছিনতাই করেন ফরাসি এক তরুণ। নাম জঁ ক্যা।
- ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্যারিসের আর্লি বিমানবন্দরে বাংলাদেশের জন্য জঁ ক্যা পাকিস্তানের পিআইএ-৭১১ বিমানটি যাত্রীসহ ছিনতাই করেছিলেন।
- পাকিস্তানের সেই বিমান ছিনতাই করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক বন্ধুতে পরিণত হন তিনি। বিমানটি ছিনতাই করার একটাই উদ্দেশ্য ছিল, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্যে ২০ টন ওষুধ ওই বিমানে তুলে দিতে হবে, তাহলেই কেবল মুক্তি পাবে বিমানের সব যাত্রী। কারণ, বাংলাদেশের যুদ্ধাহত মানুষদের বাঁচাতে চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন।
- এটিই হতে যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ইংরেজিতে প্রথম পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র।

উৎস: The Business Standard.
৫৫.
বাংলা ঠুমরি গানের প্রবর্তক কে? 
  1. ক) নিধুবাবু
  2. খ) গোঁজলা গুঁই
  3. গ) অতুল প্রসাদ সেন
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
ব্যাখ্যা
• বাংলা ঠুমরি গানের প্রবর্তক অতুল প্রসাদ সেন।
-  ঠুমরি একপ্রকার রাগসঙ্গিত ,যার সুর অতি মিষ্টি। সুরের মিষ্টতার কারনেই এর এই নামকরন। 
- অতুপ্রসাদ বাংলায় ঠুমরি গানের প্রবর্তক এবং সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীতভুবনে তিনি প্রসিদ্ধতা লাভ করেন। 
- মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা - তার   অতি বিখ্যাত সৃষ্টি। 
- স্বদেশি, ভক্তিগীতি এবং প্রেমে গানে বিভক্ত প্রায় ২০০টি গান তিনি রচনা করেছেন। 
- কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ, ১৯৩১ সালে প্রকাশিত তার গানের সংকলন।

অন্যদিকে প্রশ্নে উল্লেখিত অপশন গুলোর মধ্যে - 

- নিধুবাবু হচ্ছেন বাংলা টপ্পা গানের প্রবর্তক।
- গোঁহলা গুঁই কবিগানের প্রাচীনতম কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - আধুনিক বাংলা গানের জনক। 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬.
নিচের কোনটি ‍মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নয়?
  1. হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. আলোর মিছিল
  3. চিত্রা নদীর পাড়ে
  4. আবার তোরা মানুষ হ
ব্যাখ্যা
- 'চিত্রা নদীর পাড়ে' চলচ্চিত্রটি ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পটভূমিতে নির্মিত যার পরিচালক হলেন তানভীর মোকাম্মেল।
- এটি ১৯৯৮ সালে মুক্তি পায় এবং ১৯৯৯ সালে শ্রেষ্ঠ সিনেমা ও শ্রেষ্ঠ পরিচালকসহ সাতটি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
অন্যদিকে,
- আলোর মিছিল (পরিচালক নারায়ণ ঘোষ মিতা), হাঙর নদী গ্রেনেড (পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম) এবং আবার তোরা মানুষ হ (পরিচালক খান আতাউর রহমান) হলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র।
(সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন এবং চিত্রা নদীর পাড়ে চলচ্চিত্র)
৫৭.
'সুতরাং' ছবির নায়িকা কে ছিলেন?
  1. শবনম
  2. ববিতা
  3. শাবানা
  4. কবরী
ব্যাখ্যা
সুতরাং:
- সুতরাং ১৯৬৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতাপূর্ব একটি পাকিস্তানি বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র।
- ছবিটি পরিচালনা করেছেন সুভাষ দত্ত.
- তিনি এই ছবিতে একটি গ্রামের ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
- সুভাষ দত্ত ছাড়াও ছবির প্রধান প্রধান চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন কবরী, রানী সরকার, বেবী জাসমীন, বেবী জামান, মেছবাহ, আকবর, মঞ্জুর, ইনাম, সিরাজ, মেহেদী, খান জইনুলসহ আরো অনেকে।
- সৈয়দ শামসুল হক এই চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য, সংলাপ রচনা করেছিলেন এবং সকল গানের গীতিকার ছিলেন.

উল্লেখ্য,
- এটি কবরী অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র।
- সুভাষ দত্তের প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র।
- এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সত্য সাহার চলচ্চিত্র সংগীত পরিচালনার অভিষেক ঘটে।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সম্মাননা লাভ করেছিল।
- ১৯৬৫ সালে ফ্রাংকফুর্ট চলচ্চিত্র উৎসবে দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কার লাভ করে।

উৎস: BBC.
৫৮.
মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ক) জীবন থেকে নেওয়া
  2. খ) রক্তাক্ত বাংলা
  3. গ) অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী
  4. ঘ) আলোর মিছিল
ব্যাখ্যা
জীবন থেকে নেওয়া চলচ্চিত্রটি ১৯৭০ সালের এপ্রিলে মুক্তি পায়৷ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমিতে নির্মিত এটি একমাত্র চলচ্চিত্র যা মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে মুক্তি পায়। রক্তাক্ত বাংলা (১৯৭২), অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী (১৯৭২) এবং আলোর মিছিল (১৯৭৪) যথাক্রমে মমতাজ আলী, সুভাষ দত্ত এবং মিতা পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র যা দেশ স্বাধীনের পরে মুক্তি পায়। (সূত্রঃ রোর বাংলা, দৈনিক কালেরকণ্ঠ এবং বিডিনিউজ২৪)
৫৯.
জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত চলচ্চিত্র 'বসুন্ধরা' কোন বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত? 
  1. ক) তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  2. খ) কর্ণফুলী
  3. গ) ক্ষুধা ও আশা 
  4. ঘ) খসড়া কাগজ
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দীন আল আজাদ এর বিখ্যাত উপন্যাস ‘তেইশ নম্বর তৈলচিত্র’ অবলম্বনে  জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত চলচ্চিত্র 'বসুন্ধরা'  নির্মিত।
- ১৯৭৭ সালে এটি জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস –
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০)
- শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথম দিন (১৯৬২)
- কর্ণফুলী (১৯৬২)
- ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪)
- খসড়া কাগজ (১৯৮৬), ইত্যাদি। 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০.
'জীবনঢুলী' কি?
  1. একটি উপন্যাসের নাম
  2. একটি কাব্যগ্রন্থের নাম
  3. একটি আত্মজীবনীর নাম
  4. একটি চলচ্চিত্রের নাম
ব্যাখ্যা
◉ জীবনঢুলী হলো মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র।

জীবনঢুলী:
- এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র।
- 'জীবনঢুলী'র পরিচালক ছিলেন তানভীর মোকাম্মেল।
- ‘জীবনঢুলী’ নির্মিত হয়েছে ২০১৩ সালে।
- জীবনঢুলী নিম্নবর্গের একটি হিন্দু ঢাকি ও তার পরিবারের ১৯৭১ সালের অভিজ্ঞতার কাহিনি।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় নিম্নবর্ণের এক ঢাকি জীবনকৃষ্ণ দাস ও তাঁর পরিবারের অভিজ্ঞতার গল্প বলা হয়েছে ‘জীবনঢুলী’ ছবিতে। 
- বাংলাদেশ সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত ছবিটিতে চুকনগর গণহত্যাকে তুলে ধরা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
-  খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগর বাজার।
- ১৯৭১ সালের ২০ মে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সেখানে এক নৃশংস গণহত্যা চালায়।
- ইতিহাসে তা ‘চুকনগর গণহত্যা’ নামে পরিচিতি।

উৎস: i) ১৯ জানুয়ারি ২০১৪, প্রথম আলো।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬১.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’ পরিচালনা করেছিলেন কে?
  1. চাষী নজরুল ইসলাম
  2. খান আতাউর রহমান
  3. জহির রায়হান
  4. আমজাদ হোসেন
ব্যাখ্যা

◉ ১৯৭২ সালে নির্মিত ‘ওরা ১১ জন’ ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধাদের অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামকে কেন্দ্র করে সিনেমাটি নির্মাণ করেন।

ওরা ১১ জন (১৯৭২):
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’।
- এর পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম।
- এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন রাজ্জাক, শাবানা, নূতন, হাসান ইমাম, এ টি এম শামসুজ্জামান, খলিল উল্লাহ প্রমুখ।
- সিনেমায় অভিনয় করা ১১ জন মুক্তিযোদ্ধার ১০ জনই সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন।
- তাঁদের মধ্যে আছেন খসরু, মুরাদ, হেলাল, নান্টু। ছবির নামটি প্রতীকী।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং ১৯৬৮-৬৯ সালে ছাত্ররা ১১ দফার ভিত্তিতে আন্দোলন করে।
- এখান থেকে ছবির নামকরণ হয়েছে ‘ওরা ১১ জন’।

আরো উল্লেখযোগ্য কিছু মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র।
• অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী (১৯৭২):
- সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের চলচ্চিত্র ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’।
- কাহিনিতে পাকিস্তানি নৃশংসতার বিরুদ্ধে বাঙালিদের প্রতিরোধযুদ্ধের কথা আছে।
- এখানে একজন ধর্ষিতা নারীকে একজন অভিনেতা স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন।

সংগ্রাম:
- এটি নির্মাণ করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- এর গল্প নেওয়া হয়েছে সেক্টর কমান্ডার মেজর খালেদ মোশাররফের ডায়েরি থেকে।
- এতে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও অন্যান্য বাহিনীর বীরত্বগাথা চিত্রিত হয়েছে।
- এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন সুচন্দা, খসরু।

ধীরে বহে মেঘনা (১৯৭৩):
- এটির নির্মাতা আলমগীর কবির।
- ভারতীয় মেয়ে অনিতার প্রেমিক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়।
- সে ঢাকায় এসে যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে আরও গভীরভাবে মর্মাহত হয়।
- অভিনয়ে বুলবুল আহমেদ, ববিতা, গোলাম মোস্তফা, আনোয়ার হোসেন, খলিল উল্লাহ প্রমুখ।
- হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গান আছে এ ছবিতে।

একাত্তরের যীশু (১৯৯৩): 
- চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ।
- শাহরিয়ার কবিরের উপন্যাস থেকে এর কাহিনি নেওয়া হয়েছে।
- অভিনয় করেছেন পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, হুমায়ুন ফরীদি, জহির উদ্দিন পীয়ার, আবুল খায়ের, আনোয়ার ফারুক, কামাল বায়েজীদ, শহীদুজ্জামান সেলিম।

উৎস: প্রথম আলো- তারিক মনজুর, শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২.
দেশাত্মবোধক গান 'এই পদ্মা এই মেঘনা' গানের গীতিকার কে?
  1. গাজী মাজহারুল আনোয়ার
  2. আবু জাফর
  3. আপেল মাহমুদ
  4. নজরুল ইসলাম বাবু
ব্যাখ্যা
এই পদ্মা এই মেঘনা:
- এই পদ্মা এই মেঘনা একটি দেশাত্মবোধক গান।
- গানের গীতিকার আবু জাফর।
- গানটি বিবিসির জরিপে সর্বকালের সেরা ২০টি গানের মধ্যে স্থান করে নিয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- আবু জাফর ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী, শিক্ষক ও কবি।
- ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’, ‘তোমরা ভুলেই গেছো মল্লিকাদির নাম’, ‘নিন্দার কাঁটা যদি না বিঁধিল গায়ে’-সহ অসংখ্য গানের গীতিকার, সুরকার আবু জাফর।
- রাজশাহী-ঢাকা বেতার এবং টেলিভিশনের নিয়মিত সংগীতশিল্পী ও গীতিকার ছিলেন আবু জাফর।
- তার রচিত দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গানগুলো তুমুল আলোড়ন তুলেছিল। 
- বরেণ্য সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন তাঁর সাবেক স্ত্রী।
- ৬ ডিসেম্বর ২০২৪, তারিখে আবু জাফর মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: প্রথম আলো।
৬৩.
‘একাত্তরের দিনগুলি’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. শহীদুল্লাহ কায়সার
  2. জাহানারা ইমাম
  3. হুমায়ুন আহমেদ
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
- ‘একাত্তরের দিনগুলি’ গ্রন্থের লেখক জাহানারা ইমাম।
- প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ (ফাল্গুন ১৩৯২)।
- এটি সন্ধানী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়। 
- ‘সচিত্র সন্ধানী’র পাতায় এর আগে বেরিয়েছিল, পরে বই আকারে প্রকাশিত হয়। 
- জাহানারা ইমাম শহীদ জননী হিসেবে পরিচিত। 
- তিনি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়ক ছিলেন। 
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বড় ছেলে শাফী ইমাম রুমী ক্র্যাক প্লাটুনের গেরিলা যোদ্ধা ছিলেন।
- জাহানারা ইমামের  বই ‘একাত্তরের দিনগুলি’ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম দলিল হিসেবে খ্যাত।

উৎস: একাত্তরের দিনগুলি।
প্রথম আলো ও রকমারি ওয়েবসাইট। 
৬৪.
"নানান দেশের নানান ভাষা।
বিনে স্বদেশীয় ভাষা,
পুরে কি আশা।।" - গানটির রচয়িতা কে?
  1. অতুল প্রসাদ সেন
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. নিধু বাবু
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
বিখ্যাত টপ্পাগান- "নানান দেশের নানান ভাষা।
                           বিনে স্বদেশীয় ভাষা
                            পুরে কি আশা।।" -এর রচয়িতা নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত (১৭৪১-১৮৩৯)
কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল। হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ। 
- বাংলা  টপ্পাগানের জনক ছিলেন  নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত ।
- তাঁর টপ্পাগানের সংকলনের নাম গীতরত্ন (১৮৩২)। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৫.
৭ই মার্চের ভাষণকে উপজীব্য করে পূর্ণদৈর্ঘ্য শিশুতোষ চলচ্চিত্রের নাম কী?
  1. ওরা ১১ জন
  2. তর্জনী
  3. মাইক
  4. দ্য স্পিচ
ব্যাখ্যা
মাইক:
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে উপজীব্য করে বাংলাদেশ সরকারের অনুদানে নির্মিত হয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য শিশুতোষ চলচ্চিত্রমাইক’।
- চলচ্চিত্র ‘মাইক’ তরুণ লেখক, কলামিস্ট ও সংগঠক এফ এম শাহীনের প্রযোজনায় চলচ্চিত্রটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন এফ এম শাহীন ও হাসান জাফরুল (বিপুল)।
- এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণসহ স্বাধীনতার ইতিহাস জানতে পারবে।
- মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে মাইক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
- পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং রাজাকারদের যেভাবে উত্থান ঘটেছিল, সেই ইতিহাস এ সিনেমায় তুলে ধরা হয়েছে।
- সিনেমায় দাইয়ান, সানজিদ, মেঘসহ চার শিশুশিল্পী অভিনয় করে।

অন্যদিকে -
- চাষী নজরুল ইসলামের 'ওরা ১১ জন' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ চলচ্চিত্র।
- ৭ই মার্চের ভাষণে অনুপ্রাণিত সোহেল রানা বয়াতি নির্মিত চলচ্চিত্র ‘তর্জনী’।
- ১৯৭১ এর ৭ মার্চে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া সেই দৃপ্ত ভাষণ নিয়ে গুণী নির্মাতা ফাখরুল আরেফীন নির্মাণ করেছেন তথ্যচিত্র ‘দ্য স্পিচ’।

উৎস: ২৮ মার্চ, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
৬৬.
'সন্তু রায়' পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র কোনটি?
  1. ধীরে বহে মেঘনা
  2. শ্যামল ছায়া
  3. টিয়ার্স অব ফায়ার
  4. গেরিলা
ব্যাখ্যা
সন্তু রায় পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র টিয়ার্স অব ফায়ার।

টিয়ার্স অব ফায়ার:
- 'টিয়ার্স অব ফায়ার' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র।
- সন্তু রায় পরিচালিত টিয়ার্স অফ ফায়ার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে একটি ডকুমেন্টারি।
- বুদ্ধিজীবীসহ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়রা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নয় মাসের মধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দ্বারা পরিচালিত নৃশংসতার ভয়াবহ বিবরণ দেয়।

অন্যদিকে,
ধীরে বহে মেঘনা (১৯৭৩):
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ধীরে বহে মেঘনা।
- এর পরিচালক আলমগীর কবির।
- এটি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত।

শ্যামল ছায়া:
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের যাত্রাপথে যখনই দেখা পেয়েছেন সাধারণ বাঙালিদের, তখনই পেয়েছেন তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা, অসুস্থ হলে সেবা-শুশ্রূষা পেয়েছে পরম আন্তরিকতায়।
- এ রকম একটি অখ্যান নিয়ে প্রখ্যাত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘শ্যামলছায়া’।

গেরিলা চলচ্চিত্র:
- গেরিলা ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র।
- নাসির উদ্দিন ইউসুফ পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত।
- সৈয়দ শামসুল হকের 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করা হয়েছে চলচ্চিত্রটি।
- যৌথভাবে চিত্রনাট্য রচনা করেছেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও এবাদুর রহমান।

উৎস: ৯ ডিসেম্বর, ২০১৪, The daily Sta।
৬৭.
প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. জয়যাত্রা
  2. বিদ্রোহ
  3. ওরা এগারো জন
  4. সংগ্রাম
ব্যাখ্যা
ওরা এগারো জন:
- প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র 'ওরা এগারো জন'।
- 'ওরা এগারো জন' চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ওরা ১১ জন চলচ্চিত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে অভিনয় করিয়েছিলেন নির্মাতা-প্রযোজক।
- “ওরা এগারো জন” চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- একাত্তরে ১১টি সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন বাঙালিরা। বিষয়টি মাথায় রেখেই সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ওরা ১১ জন।
- পরিচালক হিসেবে চাষী নজরুল ইসলামের প্রথম সিনেমা ছিল এটি।
- ওরা ১১ জন-এর শুটিং হয়েছিল জয়দেবপুরে।
- চিত্রগ্রাহক ছিলেন আবদুস সামাদ।
- ওরা ১১ জন সিনেমা শুরু হয় সাইফুল ইসলামের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত 'ও আমার দেশের মাটি' দিয়ে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক প্রথম আলো, ১৩ আগস্ট ২০২২।
৬৮.
'জীবন থেকে নেয়া' চলচ্চিত্রটির কাহিনী, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন -
  1. শওকত আকবর
  2. আমজাদ হোসেন
  3. আফজাল চৌধুরী
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
'জীবন থেকে নেয়া':
• পটভূমি - একটি দেশ। একটি সংসার। একটি চাবির গোছা। একটি আন্দোলন। নান্দনিক পোস্টারের এই স্লোগান পড়ে মনে হতে পারে কয়েকজন নারী আর একটি চাবির গোছা নিয়ে এক আটপৌরে বাঙালি পরিবারের গল্প। কিন্তু সেটি ছিল আসলে একটি রাষ্ট্রের গল্প। রাষ্ট্রের অধিকার আদায়ের গল্প। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমির গল্প।

- চলচ্চিত্রটির কাহিনী, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ছিলেন জহির রায়হান।
- চলচ্চিত্রটির দৃশ্যধারণ করেন আফজাল চৌধুরী।
- আনিস ফিল্মস করপোরেশনের পরিবেশনায় ১৯৭০ সালে মুক্তি পেয়েছিল চলচ্চিত্রটি।
- চলচ্চিত্রটিতে খান আতাউর রহমান, আনোয়ার হোসেন, শওকত আকবর, রওশন জামিল, রাজ্জাক, রোজী সামাদ, আমজাদ হোসেন।
- চলচ্চিত্রটিতে ব্যবহৃত হয়েছে আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি যা পরবর্তীকালে একুশের প্রভাতফেরীর অত্যাবশ্যকীয় গান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
- এছাড়াও সিনেমাটির সঙ্গীত নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি আমাদের জাতীয় সঙ্গীত প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
- চলচ্চিত্রটিতে ব্যবহার হয় কাজী নজরুল ইসলামের ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানটি যা আন্দোলন কর্মীদের গুরুত্বকে পর্দায় ফুটিতে তোলে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩।
৬৯.
'ধীরে বহে মেঘনা' চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. আলমগীর কবির
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. খান আতাউর রহমান
  4. সুভাষ দত্ত
ব্যাখ্যা

ধীরে বহে মেঘনা:
- এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র।
- এর নির্মাতা আলমগীর কবির।
- ধীরে বহে মেঘনা ১৯৭৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত।
- এটি ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত চলচ্চিত্র।
- ভারতীয় মেয়ে অনিতার প্রেমিক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়।
- সে ঢাকায় এসে যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে আরও গভীরভাবে মর্মাহত হয়।
- এতে অভিনয় করেন বুলবুল আহমেদ, ববিতা, গোলাম মোস্তফা, আনোয়ার হোসেন, খলিল উল্লাহ প্রমুখ। 
- হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গান আছে এ ছবিতে।

উৎস: প্রথম আলো। 

৭০.
তৌকির আহমেদ পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. জয়যাত্রা
  2. হাঙর নদী গ্রেনেড
  3. পতাকা
  4. প্রত্যাবর্তন
ব্যাখ্যা
‘জয়যাত্রা’ চলচ্চিত্র:
- মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত চলচ্চিত্র জয়যাত্রা।
- ২০০৪ সালে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। 

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের বিখ্যাত সম্পাদক, কাহিনীকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেন এর কাহিনী নিয়ে সংলাপ, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন তৌকির আহমেদ।
- এটি তৌকির আহমেদ পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ভিত্তিক এই ছবিটি প্রযোজনা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিঃ।
- চলচ্চিত্রটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিপাশা হায়াত, আজিজুল হাকিম, মাহফুজ আহমেদ, হুমায়ুন ফরীদি, তারিক আনাম খান, আবুল হায়াত, চাঁদনী।
- চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ পরিচালক তৌকির আহমেদ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ও শ্রেষ্ঠ পরিচালক ২০০৪ পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: প্রথম আলো।
৭১.
‘শোনো একটি মুজিবরের থেকে, লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি, প্রতিধ্বনি, আকাশে বাতাসে উঠে রণি’—এই গানটির গীতিকার কে?
  1. আপেল মাহমুদ
  2. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  3. গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
  4. গোবিন্দ হালদার
ব্যাখ্যা
• 'শোনো একটি মুজিবুরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি' গানটির রচয়িতা গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার। 
- ১৯৭১ সালের এপ্রিলে শেখ মুজিবর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণটির প্রেক্ষিতে  আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্র থেকে বাজানো হয়েছিল একটি গান।
- গানটা ছিল ''শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে ওঠে রণি... বাংলাদেশ, আমার বাংলাদেশ।''
- গীতিকার: গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার, 
- সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী: অংশুমান রায়, 
 - এর একটা ইংরেজি অনুবাদও হয়েছিল: A Milliion Mujiburs Singing নামে। 

• কিছু জনপ্রিয় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান: 
→ তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে/­ আমরা কজন নবীন মাঝি হাল ধরেছি শক্ত করে।
→ গীতিকার ও সুরকার: আপেল মাহমুদ। 

→ মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি/মোরা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি।
→ গীতিকার: গোবিন্দ হালদার, 
→ সুরকার ও শিল্পী: আপেল মাহমুদ। 

→ জয় বাংলা বাংলার জয়/ জয় বাংলা বাংলার জয়।। হবে হবে হবে, হবে নিশ্চয়/ কোটি প্রাণ এক সাথে জেগেছে অন্ধরাতে
নতুন সূর্য ওঠার এই তো সময়।।
→ গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, 
→ সুরকার: আনোয়ার পারভেজ। 

উৎস: বিবিসি ওয়েবসাইট, বঙ্গবন্ধু আর্কাইভ ও দৈনিক প্রথম আলো। 
৭২.
'স্টপ জেনোসাইড' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ______________।
  1. শিশুতোষ চলচ্চিত্র
  2. উপন্যাস
  3. প্রামাণ্যচিত্র
  4. এনিমেশন চলচ্চিত্র
ব্যাখ্যা
Stop Genocide:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র Stop Genocide.
- Stop Genocide নির্মাণ করেন জহির রায়হান।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের মে/জুন মাসে এটি প্রথম কলকাতায় প্রদর্শিত হয়।
- মূলত বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া স্টক ফুটেজ ও নিউজ রিলের ছবির ওপর নির্ভর করেই তৈরি হয় স্টপ জেনোসাইড। 
- একজন চলচ্চিত্র-নির্মাতা হিসেবে জহির রায়হান দুনিয়ার মানুষকে বাংলাদেশে চলতে থাকা গণহত্যার খবর জানান দেওয়ার এক বড় দায়িত্ব কাঁধে নেন। 
- বিভিন্ন জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রসঙ্গে লেনিনের একটি বক্তব্য দিয়ে শুরু হয় ছবিটি।
- ২০ মিনিটের এই ছবিতে বাংলাদেশের মানুষ আছে, এর প্রকৃতি আছে, আছে পাকিস্তানিদের অত্যাচার, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগের দৃশ্য। 

উল্লেখ্য,
- জহির রায়হান চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক।
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ছাত্রজীবনেই তিনি লেখালেখিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
- তাঁর লিখিত অন্যান্য বইগুলি হচ্ছে শেষ বিকেলের মেয়ে, হাজার বছর ধরে, আরেক ফাল্গুন, বরফ গলা নদী এবং আর কত দিন।
- তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র হলো: কাজল, কাঁচের দেয়াল, বেহুলা, জীবন থেকে নেয়া, আনোয়ারা, সঙ্গম এবং বাহানা। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ৮ ডিসেম্বর ২০১৬, প্রথম আলো।
৭৩.
‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ ভাষা আন্দোলনের সময়ে রচিত জনপ্রিয় গানটির রচয়িতা-
  1. আবদুল লতিফ
  2. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  3. আলতাফ মাহমুদ
  4. গোবিন্দ হালদার
ব্যাখ্যা

ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের সময়ে লেখা আবদুল লতিফের সবেচেয়ে জনপ্রিয় ও বিখ্যাত গান - ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’। এ গানটিতে তিনি বাংলাদেশের লোকসঙ্গীতের আবহ ও সুরকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
গানটি পূর্ব বাংলার ঐতিহ্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠার এক প্রতীকী গানের বৈশিষ্ট্য অর্জন করে।
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত তার আরেকটি জনপ্রিয় গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ এর প্রথম সুরকার তিনি।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া]

৭৪.
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের সুর রচনায় কার প্রভাব রয়েছে?
  1. ক) লালন সাঁই
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) গগণ হরকরা
  4. ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রচনার ইতিহাস:
- ১৯০৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ শীর্ষক সঙ্গীতটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়।
- এই সঙ্গীত বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে স্বদেশী আন্দোলনের সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
- বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) বিরোধী রাজনীতিক, স্বদেশী কর্মী ও বিপ্লবীরা বাঙালি জনগণকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যম হিসেবে এ গান প্রচার করেন।
- গানটি সুর করার ক্ষেত্রে গগন হরকরা রচিত কালজয়ী বাউল গান ‘আমি কোথায় পাবো তারে’ এর প্রভাব রয়েছে।

বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতে গগন হরকরার প্রভাব পড়ে যেভাবে:
- তৎকালীন ভারত উপমহাদেশের নদীয়ার (বর্তমান কুষ্টিয়া) একটি ছোট গ্রামে গগনের বাস।
- ভূ-খন্ডের এই অংশে তখন প্রতিনিধিত্ব লালন সাঁই, গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃত কাঙাল হরিনাথ, সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের মতো কালজয়ী প্রতিভাদের। শিলাহদহ এস্টেটে ঠাকুরবাড়ির জমিদারি দেখাশোনার জন্য আসতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

- শিলাইদহ পোস্ট অফিসে ডাকহরকরার কাজের ফাঁকে গান রচনা ও গাইতেন গগন। তিনি বাউল সম্রাট ফকির লালনের অনুসারী ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে এলে চিঠিপত্রাদি দিতে জমিদার কাচারিতে যাওয়া হতো গগনের।
- তার রচিত ও সুরারোপিত ‘আমি কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে’ গানটি শুনে মুগ্ধ হন রবীন্দ্রনাথ।

রবীন্দ্রনাথ গগণের নাম ও তার গানের বিষয়ে তার প্রবন্ধ “An Indian Folk Religion” এ উল্লেখ করেন।
- সেখানে ‘আমি কোথায় পাবো তারে’-গানটির উল্লেখ করে রবীন্দ্রনাথ বলেন, “The first Baul song, which I chanced to hear with any attention, profoundly stirred my mind.”

এই গান রবীন্দ্রনাথকে এতোটাই প্রভাবিত করে যে, তিনি এর সুরে রচনা করেন ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’।
---------------
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ডাকঘর নাটকটি গগন হরকরার জীবন থেকে প্রভাবিত হয়ে লিখেছিলেন।
- নাটকের গগেন্দ্রনাথ ঠাকুর চরিত্রটি তা প্রমাণ করে।

উৎস: ডেইলি স্টার পত্রিকা রিপোর্ট ও বিডি নিউজ২৪.কম আর্কাইভ।
৭৫.
'জন্ম আমার ধন্য হলো' গানটির সুরকার -
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আব্দুল লতিফ
  3. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  4. আজাদ রহমান
ব্যাখ্যা
জন্ম আমার ধন্য হলো:
- মহান মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রেরণা দেওয়া গান ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো’।
- গানটির গীতিকবি নয়ীম গহর।
- গানটির সুরকার আজাদ রহমান

উল্লেখ্য,
- আজাদ রহমান ১৯৬৪ সালে কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে (খেয়াল) প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং স্বর্ণপদকে ভূষিত হন।
- বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম শিশুদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’র সূচনা সঙ্গীত ‘আমরা নতুন আমরা কুঁড়ি’ গানটির সুরকার আজাদ রহমান।
- আজাদ রহমান শ্রেষ্ঠকণ্ঠশিল্পী, শ্রেষ্ঠসুরকার, শ্রেষ্ঠসঙ্গীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছেন।
- ১৬ মে ২০২০ এ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৬.
'ভাওয়াইয়া' বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের গান?
  1. ময়মনসিংহ
  2. রাজশাহী
  3. রংপুর
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
ভাওয়াইয়া:
- ভাওয়াইয়া উত্তরবঙ্গে প্রচলিত এক প্রকার লোকগীতি।
- রংপুর ও ভারতের কুচবিহার জেলা এ গানের জন্মস্থান।
- ভাওয়াইয়া গান ভাবসমৃদ্ধ বিধায় 'ভাব' থেকে 'ভাওয়াইয়া' কথাটির উৎপত্তি বলে অনুমিত হয়।
- এ গানের মূল সুর নর-নারীর প্রণয়। প্রণয়ের বিচ্ছেদ জ্বালাই এতে অধিক রূপায়িত হয়।
- ভাওয়াইয়া গান দুই প্রকার- দীর্ঘ সুরবিশিষ্ট ও চটকা সুরবিশিষ্ট।
- প্রথম শ্রেণীর গানে নর-নারীর, বিশেষত নবযৌবনাদের অনুরাগ, প্রেমপ্রীতি ও ভালোবাসার আবেদন ব্যক্ত হয়।
এরূপ গানের মধ্যে 'ওকি গাড়িয়াল ভাই', 'যে জন প্রেমের ভাব জানে না', 'কোন দ্যাশে যান মইশাল বন্দুরে', 'নউতোন পিরিতির বড় জ্বালা' ইত্যাদি অধিক জনপ্রিয়।
- অপরপক্ষে চটকা এক প্রকার রঙ্গগীতি।
- এ গান চটুল ও দ্রুত তালের।
গ্রাম্য 'চট' (অর্থ তাড়াতাড়ি) শব্দটির স্ত্রীলিঙ্গান্তর করে 'চটকা' শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।
- এ শ্রেণীর গানে যথেষ্ট হাস্যরসের উপাদান থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৭৭.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচিত্র নয়?
  1. গেরিলা
  2. আবার তোরা মানুষ হ
  3. ওরা ১১ জন
  4. ঘেটুপত্র কমলা
ব্যাখ্যা
• ঘেটুপত্র কমলা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচিত্র নয়।
- হুমায়ূন আহমেদের সর্বশেষ নির্মিত চলচ্চিত্র 'ঘেটুপুত্র কমলা' যা ২০১২ সালে নির্মিত হয়েছিল। 
-------------
- হুমায়ূন আহমেদের নির্মিত চলচ্চিত্র:
 • 'শ্রাবণ মেঘের দিন'। 
• আগুনের পরশমনি।
• দুই দুয়ারী।
• শ্যামল ছায়া।
• আমার আছে জল।
• ঘেটুপুত্র কমলা। 

- তাঁর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এরকম কিছু চলচ্চিত্র:
• শঙ্খনীল কারাগার।
• দারুচিনি দ্বীপ।
• নন্দিত নরকে।
-----------------------
আবার তোরা মানুষ হ (১৯৭৩):
- চলচ্চিত্রটির পরিচালক খান আতাউর রহমান।
- এ চলচ্চিত্রে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও অবক্ষয়ের চিত্র উঠে এসেছে।
- বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারুক, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ববিতা, রোজী আফসারী, রওশন জামিলসহ অনেকে।
- এখানে আছে উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র ও তরুণদের কার্যকলাপ এবং একজন আদর্শবাদী অধ্যক্ষের দৃঢ়তা।
----------------
ওরা ১১ জন:
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ওরা ১১ জন চলচ্চিত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে অভিনয় করিয়েছিলেন নির্মাতা-প্রযোজক।
- “ওরা ১১ জন” চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- একাত্তরে ১১টি সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন বাঙালিরা। বিষয়টি মাথায় রেখেই সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ওরা ১১ জন।
- পরিচালক হিসেবে চাষী নজরুল ইসলামের প্রথম সিনেমা ছিল এটি।
- ওরা ১১ জন-এর শুটিং হয়েছিল জয়দেবপুরে।
- চিত্রগ্রাহক ছিলেন আবদুস সামাদ।
- ওরা ১১ জন সিনেমা শুরু হয় সাইফুল ইসলামের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত ‘ও আমার দেশের মাটি’ দিয়ে।

 • নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত সৈয়দ শামসুল হক'র নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাস অবলম্বনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত গেরিলা চলচ্চিত্র।

উৎস: ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১, প্রথম আলো, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ, দৈনিক প্রথম আলো, ১৩ আগস্ট ২০২২।
৭৮.
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের উপর ভিত্তি করে নির্মিত চলচ্চিত্রের নাম কী?
  1. ভয়েস অব লিবার্টি
  2. ওরা ১১ জন
  3. দ্য স্পিচ
  4. স্টপ জেনোসাইড
ব্যাখ্যা
তথ্যচিত্র ‘দ্য স্পিচ':
-১৯৭১-এর ৭ মার্চে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া সেই দৃপ্ত ভাষণ নিয়ে গুণী নির্মাতা ফাখরুল আরেফীন নির্মাণ করেছেন তথ্যচিত্র ‘দ্য স্পিচ’।
- আলোচিত এই তথ্যচিত্রটি নির্মিত হয় ২০১০ সালে।
- যেটি বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়েছিল ইউনেস্কোতে।

উৎস: চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৭৯.
সিলেটের হাওরাঞ্চলে প্রচলিত মেয়েদের আচার-কেন্দ্রিক গানের নাম-
  1. ধামাইল গান
  2. মনিপুরী গান
  3. ভাওয়াইয়া গান
  4. জারি গান
ব্যাখ্যা
লোকসঙ্গীত:

- ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত হলো ভাটিয়ালি।
- ভাওয়াইয়া বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসংগীত।ঃ
- রংপুর ও কুচবিহার জেলা এই গানের জন্মস্থান।
- ভাওয়াইয়া গানের বিখ্যাত শিল্পী হলেন আব্বাসউদ্দীন আহমেদ।
- গম্ভীরা হলো চাপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত।
- ধামাইল গান প্রধানত সিলেটের হাওরাঞ্চলে প্রচলিত মেয়েদের আচার-কেন্দ্রিক নাচ ও গানের নাম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৮০.
‘আগুনের পরশমণি’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য ও পরিচালনা কে করেছেন?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. তানভীর মোকাম্মেল
  3. মোস্তাফিজুর রহমান
  4. চাষী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

আগুনের পরশমণি:
- মুক্তিযুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে যে চলচ্চিত্রগুলো নির্মিত হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ‘আগুনের পরশমণি’।
- চিত্রনাট্য ও পরিচালনা: হুমায়ূন আহমেদ।
- নির্মিত হয়: ১৯৯৪ সালে।
- মুক্তি পায়: ১৯৯৫ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় অবরুদ্ধ ঢাকায় মুক্তিবাহিনীর অভিযান আর মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের সংকট ছবিটিতে তুলে ধরেছেন। এ ছবিতে অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান নূর, বিপাশা হায়াত, ডলি জহুর ও আরো অনেকে।
- আগুনের পরশমণি চলচ্চিত্রটি ৮টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।
- শাখাগুলো হচ্ছে-
• শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র (প্রযোজক হুমায়ূন আহমেদ),
• শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার (হুমায়ূন আহমেদ),
• শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা (হুমায়ূন আহমেদ),
• শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (বিপাশা হায়াত),
• শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক (সত্য সাহা),
• শ্রেষ্ঠ শব্দ গ্রাহক (মফিজুল হক),
• শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী (শিলা আহমেদ),
• শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার (হোসনে আরা পুতুল)।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮১.
ভাষা আন্দোলন নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ফাগুন হাওয়ায়
  2. আমার জন্মভূমি
  3. আবার তোরা মানুষ
  4. মেঘের পর মেঘ
ব্যাখ্যা

ফাগুন হাওয়ায়:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র 'ফাগুন হাওয়ায়'।
- চলচ্চিত্রটির নির্মাতা 'তৌকীর আহমেদ'।
- 'ফাগুন হাওয়ায়' ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড।
- চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা ও সিয়াম আহমেদ।

উল্লেখ্য,
- আমার জন্মভূমি, আবার তোরা মানুষ হ ও মেঘের পর মেঘ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮২.
‘একতারা তুই দেশের কথা’ গানটির গীতিকার কে?
  1. নজরুল ইসলাম বাবু
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. আপেল মাহমুদ
  4. গাজী মাজহারুল আনোয়ার
ব্যাখ্যা

একতারা তুই দেশের কথা:
- একতারা তুই দেশের কথা গানটির গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার।
- সুরকার: আনোয়ার পারভেজ।

এছাড়াও, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গান -
- জয় বাংলা, বাংলার জয় - গীতিকার: গাজী মাযহারুল আনোয়ার।
- মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি - গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- এক সাগর রক্তের বিনিময়ে - গীতিকার: গোবিন্দ হালদার। 
- জনতার সংগ্রাম চলবেই - গীতিকার: সিকান্দার আবু জাফর। 
- মুক্তির মন্দির সোপান তলে কতো প্রাণ হলো বলিদান  - গীতিকার: মোহিনী চৌধুরী।
- এক নদী রক্ত পেরিয়ে বাংলার আকাশে - গীতিকার: আতাউর রহমান। 
- পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল - গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।

উৎস: প্রথম আলো।

৮৩.
নিম্নের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক?
  1. মুক্তির গান
  2. শ্যামলছায়া
  3. নদীর নাম মধুমতি
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' ।

⇒ পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য।
- এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

অন্যদিকে -
- তারেক মাসুদ ও তার স্ত্রী ক্যাথেরিন মাসুদ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হলো 'মুক্তির গান'।
- হুমায়ূন আহমদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘শ্যামলছায়া’।
- তানভীর মোকাম্মেলের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘নদীর নাম মধুমতি’।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো। 

৮৪.
'ওরা এগারো জন' চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন -
  1. চাষী নজরুল ইসলাম
  2. মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা
  3. নাসির উদ্দীন ইউসুফ
  4. খিজির হায়াত খান
ব্যাখ্যা
ওরা এগারো জন:
- প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র 'ওরা এগারো জন'।
- 'ওরা এগারো জন' চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ওরা ১১ জন চলচ্চিত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে অভিনয় করিয়েছিলেন নির্মাতা-প্রযোজক।
- 'ওরা এগারো জন' চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- একাত্তরে ১১টি সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন বাঙালিরা। বিষয়টি মাথায় রেখেই সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ওরা ১১ জন।
- পরিচালক হিসেবে চাষী নজরুল ইসলামের প্রথম সিনেমা ছিল এটি।
- ওরা ১১ জন-এর শুটিং হয়েছিল জয়দেবপুরে।
- চিত্রগ্রাহক ছিলেন আবদুস সামাদ।
- ওরা ১১ জন সিনেমা শুরু হয় সাইফুল ইসলামের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত 'ও আমার দেশের মাটি' দিয়ে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক প্রথম আলো, ১৩ আগস্ট ২০২২।
৮৫.
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত ইংরেজি ভাষার প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘জঁ ক্যা ১৯৭১’ এর পরিচালক কে?
  1. তানভীর মোকাম্মেল
  2. নাসির উদ্দিন ইউসুফ
  3. ফাখরুল আরেফিন খান
  4. মোরশেদুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত ইংরেজি চলচ্চিত্র:
- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত প্রথম ইংরেজি ভাষার বাংলাদেশি চলচ্চিত্র: ‘জঁ ক্যা ১৯৭১’ (Jean Kay 1971)।
- এর পরিচালক: ফাখরুল আরেফিন খান।
- ঘটনার পটভূমি: ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর।
- মূল চরিত্র: ফ্রান্সের এক তরুণ জঁ ক্যা (Jean Kay)
- এটি সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
- ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ফ্রান্সের এক তরুণ, জঁ ক্যা, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের (PIA) একটি বিমান ছিনতাই করেন।
- তার একমাত্র দাবি ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২০ টন ওষুধ পাঠানো।
- এই সাহসিকতা ও মানবিকতার প্রতীক জঁ ক্যা-কে কেন্দ্র করেই ছবির কাহিনি গড়ে উঠেছে।

উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও প্রথম আলো।

৮৬.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে কেন্দ্র করে নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র -
  1. তর্জনী
  2. গর্জন
  3. স্বাধীনতা
  4. মুক্তি
ব্যাখ্যা
তর্জনী:
- ১৯৭১ সালের অনিশ্চয়তা ভরা দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষণ উদ্দীপ্ত করে তুলেছিল পূর্ব বাংলার মানুষকে।
- ২০১৭ সালের অক্টোবরে ইউনেস্কো এই ভাষণকে দিয়েছে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে এক অনন্য স্বীকৃতি। 
- সাতই মার্চের সেই ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে চলচ্চিত্র বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সোহেল রানা বয়াতি।
- নাম ‘তর্জনী’।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষণ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে কেমন প্রভাব ফেলছে, তা এই সিনেমায় তুলে ধরবেন পরিচালক সোহেল রানা।
- এই সিনেমায় ১৯৭১, ১৯৭৫ এবং ২০১৭ এই তিনটা সময়কে দেখানো হয়েছে।
- ‘তর্জনী’ সিনেমার গল্প যৌথভাবে লিখেছেন সোহেল রানা বয়াতি এবং শাহাদাত রাসেল।
- আর চিত্রনাট্য লিখছেন শাহাদাত রাসেল। 

উৎস: ২৫ মার্চ ২০১৯, প্রথম আলো।
৮৭.
'তুমি বাংলার ধ্রুবতারা, তুমি হৃদয়ের বাতিঘর' গানটির গীতিকার কে?
  1. সামিনা চৌধুরী
  2. নকীব খান
  3. রফিকুল ইসলাম
  4. কামাল চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• মুজিব শতবর্ষের থিম সং - 'তুমি বাংলার ধ্রুবতারা, তুমি হৃদয়ের বাতিঘর।'
- গানটির গীতিকার - কবি কামাল চৌধুরী।
- গানটির সুরকার - নকীব খান।

৮৮.
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৯ এ সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার লাভ করে কোনটি?
  1. ন’ ডরাই
  2. মায়া দ্য লস্ট মাদার
  3. ফাগুন হাওয়ায়
  4. ক + গ
ব্যাখ্যা
গত ৩ ডিসেম্বর ২০২০ তথ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৯ বিজয়ীদের নামের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে।
এতে যুগ্মভাবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার লাভ করে তৌকির আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ফাগুন হাওয়ায়’ এবং তানিম রহমান অংশু পরিচালিত ‘ন’ ডরাই’।
সেরা অভিনেতা তারিক আনাম খান।
সেরা অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল।
সেরা পরিচালক তানিম রহমান অংশু।
মোট ২৬টি ক্যাটাগরিতে চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৯ প্রদান করা হয়।
এছাড়া আজীবন সম্মাননা লাভ করেন চিত্রনায়ক সোহেল রানা এবং কোহিনুর আক্তার সুচন্দা।
(সূত্র: তথ্য মন্ত্রণালয়)
৮৯.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক নাটক 'বিবাহ' এর রচয়িতা কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. শামসুল হক
  3. মমতাজ উদ্দীন আহমদ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
বিবাহ:
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক নাটক 'বিবাহ।
- মমতাজউদদীন আহমদের ভাষা আন্দোলন নিয়ে লেখা প্রথম নাটক বিবাহ।

⇒ একে একে তার হাতে জন্ম নিলো "ক্ষত বিক্ষত", "রঙ্গপঞ্চাদশ", "প্রেম বিবাহ সুটকেশ", "জমিদার দর্পণ", "হৃদয় ঘটিত ব্যাপার স্যাপার" এর মতো অসাধারণ সব নাটক।
- টেলিভিশনে নাট্যকার হিসেবে মমতাজউদদীন আহমদের যাত্রা শুরু হয় ‘দখিনের জানালা’ নাটকটি দিয়ে।
- হুমায়ূন আহমদের উপন্যাস “শঙ্খনীল কারাগার” অবলম্বনে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। সেই চলচ্চিত্রে মতিন উদ্দিন চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়েছিল মমতাজউদদীন আহমদের।

উল্লেখ্য,
- কিংবদন্তী নাট্যকার মমতাজউদদীন আহমদ।
- স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে পথিকৃৎ মমতাজ উদ্দীন আহমদ।
- মমতাজউদদীন আহমদের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে।

উৎস: The Daily Star Bangla.
৯০.
'মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি' গানটির গীতিকার কে?
  1. গোবিন্দ হালদার
  2. আপেল মাহমুদ
  3. সমর দাস
  4. আব্দুল জব্বার
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রচারিত গানগুলো মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রেরণা যুগিয়েছে।

⇒ তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর:
- কথা ও সুর: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: রথীন্দ্রনাথ রায়।

⇒ পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: সমর দাস।
- গানটি কয়েকজন শিল্পীর সমবেত কণ্ঠে প্রচার করা হয়।

⇒ মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: আপেল মাহমুদ।

⇒ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: স্বপ্না রায়।

⇒ সালাম সালাম হাজার সালাম:
- গীতিকার: ফজলে খোদা।
- সুরকার: আব্দুল জব্বার।
- শিল্পী: আব্দুল জব্বার।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৯১.
'ফাগুন হাওয়ায়' চলচ্চিত্রটির নির্মাতা কে?
  1. নুর ইমরান মিঠু
  2. তৌকীর আহমেদ
  3. মোস্তফা কামাল রাজ
  4. মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
ব্যাখ্যা
ফাগুন হাওয়ায়:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র 'ফাগুন হাওয়ায়'।
- চলচ্চিত্রটির নির্মাতা 'তৌকীর আহমেদ'।
- 'ফাগুন হাওয়ায়' ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড।
- চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা ও সিয়াম আহমেদ।

উল্লেখ্য,
- আমার জন্মভূমি, আবার তোরা মানুষ হ ও মেঘের পর মেঘ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯২.
‘স্ফুলিঙ্গ’ ছায়াছবির পরিচালক কে?
  1. তৌকির আহমেদ
  2. মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী
  3. আব্দুল জব্বার
  4. সত্যজিৎ রায়
ব্যাখ্যা

‘স্ফুলিঙ্গ’ ছায়াছবি:
- স্ফুলিঙ্গ বাংলাদেশি বাংলা নাট্য চলচ্চিত্র।
- চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছেন তৌকির আহমেদ।
- এটি তৌকির আহমেদ পরিচালিত সপ্তম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
- ছায়াছবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গড়া উঠতি স্বাধীন সঙ্গীতদলের সদস্যদের নিজ পারিবারিক বন্ধন, প্রেম ও দ্বন্দ্বের পাশাপাশি তাদের দেশপ্রেমে শেখ মুজিবের আদর্শ, অতীতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া তাদের বয়সী তরুণদের মনোবল ও বিভিন্ন পরিস্থিতির সাথে বর্তমান সময়ের তারুণ্যের সমান্তরাল গল্পের চিত্রায়ণ ঘটেছে।
- চিত্র্যনাট্যের মূল চরিত্রসমূহে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা, জাকিয়া বারী মম, পরীমনি, মামুনুর রশীদ, আবুল হায়াত, শহীদুল আলম সাচ্চু, রওনক হাসান, ফখরুল বাশার মাসুম ও হাসনাত রিপন।

উৎস: ২৮ নভেম্বর ২০২১, দৈনিক ইত্তেফাক।

৯৩.
জহির রায়হান পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র কোনটি?
  1. হুলিয়া
  2. ওরা ১১ জন
  3. ধীরে বহে মেঘনা
  4. স্টপ জেনোসাইড
ব্যাখ্যা
Stop Genocide:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র স্টপ জেনোসাইড।
- প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেন জহির রায়হান।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের মে/জুন মাসে এটি প্রথম কলকাতায় প্রদর্শিত হয়।
- মূলত বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া স্টক ফুটেজ ও নিউজ রিলের ছবির ওপর নির্ভর করেই তৈরি হয় স্টপ জেনোসাইড।
- একজন চলচ্চিত্র-নির্মাতা হিসেবে জহির রায়হান দুনিয়ার মানুষকে বাংলাদেশে চলতে থাকা গণহত্যার খবর জানান দেওয়ার এক বড় দায়িত্ব কাঁধে নেন।
- বিভিন্ন জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রসঙ্গে লেনিনের একটি বক্তব্য দিয়ে শুরু হয় ছবিটি।
- ২০ মিনিটের এই ছবিতে বাংলাদেশের মানুষ আছে, এর প্রকৃতি আছে, আছে পাকিস্তানিদের অত্যাচার, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগের দৃশ্য।

অন্যদিকে,
- "হুলিয়া" চলচ্চিত্রটি মূলত একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যা তানভীর মোকাম্মেল পরিচালনা করেছেন।
- চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ওরা ১১ জন স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র।
- ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় নির্মিত 'ধীরে বহে মেঘনা' চলচ্চিত্রের নির্মাতা আলমগীর কবির। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।
৯৪.
‘জেকে ১৯৭১’ চলচ্চিত্রটির নির্মাতা -
  1. ক) রফিকুল আনোয়ার
  2. খ) মোরশেদুল ইসলাম
  3. গ) ফাখরুল আরেফিন খান
  4. ঘ) শ্যাম বেনেগাল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক সিনেমা ‘জেকে ১৯৭১’ 
-  চলচ্চিত্রটির নির্মাতা - ফাখরুল আরেফিন খান।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষকে সহায়তার জন্য ফরাসি যুবক জ্যঁ কুয়ে ছিনতাই করেছিলেন ‌পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের [পিআইএ] একটি বিমান। এর উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। 

সূত্র: প্রথম আলো 
৯৫.
প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মান করেন কে?
  1. মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা
  2. চাষী নজরুল ইসলাম
  3. জহির রায়হান
  4. আবদুস সামাদ
ব্যাখ্যা
ওরা এগারো জন:
- প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র 'ওরা এগারো জন'।
- 'ওরা এগারো জন' চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ওরা ১১ জন চলচ্চিত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে অভিনয় করিয়েছিলেন নির্মাতা-প্রযোজক।
- “ওরা এগারো জন” চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- একাত্তরে ১১টি সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন বাঙালিরা। বিষয়টি মাথায় রেখেই সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ওরা ১১ জন।
- পরিচালক হিসেবে চাষী নজরুল ইসলামের প্রথম সিনেমা ছিল এটি।
- ওরা ১১ জন-এর শুটিং হয়েছিল জয়দেবপুরে।
- চিত্রগ্রাহক ছিলেন আবদুস সামাদ।
- ওরা ১১ জন সিনেমা শুরু হয় সাইফুল ইসলামের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত 'ও আমার দেশের মাটি' দিয়ে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক প্রথম আলো, ১৩ আগস্ট ২০২২।
৯৬.
একুশের চেতনা নিয়ে নির্মিত প্রথম সিনেমা-
  1. জীবন থেকে নেয়া
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. আবার তোরা মানুষ হ
  4. প্রভাত ফেরী
ব্যাখ্যা

• প্রথম চলচ্চিত্র:
- একুশের চেতনা নিয়ে নির্মিত প্রথম সিনেমা ‘জীবন থেকে নেয়া’।
- সিনেমাটি পরিচালনা করেন জহির রায়হান।
- এতে অভিনয় করেন রাজ্জাক, সুচন্দা, আনোয়ার হোসেন, রোজী সামাদ, খান আতাউর রহমান ও রওশন জামিল।
- এ ছবির চিত্রগ্রাহক আফজাল চৌধুরী।
- চলচ্চিত্রের গানগুলোয় সুরারোপ করেন খান আতাউর রহমান।

⇒ ‘জীবন থেকে নেয়া’ সিনেমার পরিবেশক আনিস ফিল্ম। মুক্তি পায় ১৯৭০ সালের ১০ এপ্রিল। এই চলচ্চিত্রে এক গৃহকর্ত্রীর স্বেচ্ছাচারী ভূমিকার মাধ্যমে পাকিস্তানি স্বৈরতন্ত্রকে তুলে ধরা হয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।

৯৭.
কোন ঘটনা নিয়ে 'কবর' নাটকটি লেখা হয়েছিল?
  1. দেশ বিভাগ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. শিক্ষা আন্দোলন
  4. গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
'কবর' নাটক: 
- বাংলাদেশের নাটকের ইতিহাসে মুনীর চৌধুরীর লেখা ‘কবর’ নাটকটি স্মরণীয় নাম।
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে 'কবর' নাটকটি লেখা হয়েছিল। 
- কারাগারের ভেতরে বসে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এই নাটকটি লেখা এবং মঞ্চস্থ করা হয়েছিল।
- 'কবর' নাটকটি লেখা হয়েছিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে, কারারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে।
- রাতে কারাগারের বাতি নিভিয়ে দেয়া হলে লণ্ঠনের আলোয় সেই নাটকের প্রথম মঞ্চায়ন হয়েছিল ঢাকা কারাগারে।
- নাটকটি মুনীর চৌধুরী লেখা শেষ করেছিলেন ১৯৫৩ সালের ১৭ জানুয়ারি আর জেলখানায় অভিনীত হয়েছিল ২১ ফেব্রুয়ারি।

উৎস: বিবিসি বাংলা (১৭ জানুয়ারি ২০২৩)
৯৮.
'মাটির ময়না' চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন কে?
  1. মিশুক মুনীর
  2. তারেক মাসুদ
  3. তানভীর মোকাম্মেল
  4. এনামুল কবির
ব্যাখ্যা
মাটির ময়না:

- মাটির ময়না বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি বাংলাদেশী ফিচার চলচ্চিত্র।
- এটি ২০০২ সালে বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পায়।
- 'মাটির ময়না' চলচ্চিত্রের কাহিনী ও চিত্রনাট্য রচনা এবং পরিচালনা করেছেন তারেক মাসুদ।
- ছবিটি প্রযোজনা করেছেন ক্যাথরিন মাসুদ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯৯.
কততম কান চলচ্চিত্র উৎসবে মাটির ময়না চলচ্চিত্রটির আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনী হয়?
  1. ৫৪তম
  2. ৫৫তম
  3. ৫৬তম
  4. ৫৭তম
ব্যাখ্যা
মাটির ময়না:

- মাটির ময়না বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি বাংলাদেশী ফিচার চলচ্চিত্র।
- এটি ২০০২ সালে বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পায়।
- 'মাটির ময়না' চলচ্চিত্রের কাহিনী ও চিত্রনাট্য রচনা এবং পরিচালনা করেছেন তারেক মাসুদ।
- চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে মাসুদের ছেলেবেলার অভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে।
- এই চলচ্চিত্রের মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নুরুল ইসলাম বাবলু, রাসেল ফরাজী, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, রোকেয়া প্রাচী, শোয়েব ইসলাম এবং লামিসা আর রিমঝিম।
- ২০০২ সালের ১৫ মে ৫৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্রটির আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনী হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও সময় নিউজ, ১৩ এপ্রিল ২০২২।
১০০.
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি।”-গানটির রচয়িতা কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. আলতাফ মাহমুদ
  3. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা

 “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি।”
- এই কবিতাটি রচনা করেছিলেন ঢাকা কলেজের ছাত্র আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার দাবিতে ছাত্রমিছিলে গুলি চালানোর প্রেক্ষাপটেই রচিত হয়েছিল কবিতাটি।
- এটি হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ও মোহাম্মদ সুলতান কর্তৃক প্রকাশিত “একুশে ফেব্রুয়ারি” সংকলনে 'একুশের গান' হিসেবে ছাপা হয় ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে।
- এটি প্রথমে সুর করেন - আবদুল লতিফ এবং বর্তমানে যে সুরে গাওয়া হয়, তা করেছেন - আলতাফ মাহমুদ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।