বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উদ্ভিদবিজ্ঞান সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়

মোট প্রশ্ন৯৭এই পাতা৯৭প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উদ্ভিদবিজ্ঞান সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়

PrepBank · পাতা / · ৯৭ / ৯৭

.
অক্সিন ও ইথিলিন কিসের উদাহরণ? 
  1. হরমোন 
  2. প্রোটিন 
  3. ভিটামিন 
  4. এনজাইম 
ব্যাখ্যা

ফাইটোহরমোন: 
- যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন বা প্রাণরস বলে। 
- উদ্ভিদ হরমোনকে ফাইটোহরমোন (Phytohormones) বলা হয়। কেউ কেউ ফাইটোহরমোনকে উদ্ভিদ বৃদ্ধিকারক বস্তু হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। 
- যে রাসায়নিক বস্তুটি কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষ বা কোষপুঞ্জের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন (Hormone) বলে। 
- উদ্ভিদের প্রতিটি কোষই হরমোন উৎপন্ন করতে পারে। 
- এই হরমোনগুলো কোনো পুষ্টিদ্রব্য নয় তবে ক্ষুদ্রমাত্রায় উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
যেমন: অক্সিন (Auxin), জিবেরেলিন (Gibberellin), সাইটোকাইনিন (Cytokinin), অ্যাবসিসিক এসিড (Abscisic acid), ইথিলিন (Ethylene) ইত্যাদি। 

- এসব হরমোন ছাড়াও উদ্ভিদে আরও কিছু হরমোন রয়েছে, যাদের আলাদা করা বা শনাক্ত করা যায়নি, এদের পসটুলেটেড হরমোন (Postulated hormones) বলে। 
- এরা প্রধানত উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায্য করে। 
যেমন- ফ্লোরিজেন (Florigen) এবং ভার্নালিন (Vernalin) প্রধান। 
- ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে। 
- ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
সুন্দরী গাছের বৈজ্ঞানিক নাম কি?
  1. ক) Cocos nucifera
  2. খ) Heritiera fomes
  3. গ) Sonneratia apetala
  4. ঘ) Avicennia alba
ব্যাখ্যা
কেওড়া (Sonneratia apetala),
সুন্দরী (Heritiera fomes),
বাইন (Avicennia alba),
রাইজোফোরা (Rhizophora),
পশুর (Xylocarpus mekongensis),
নারিকেল (Cocos nucifera),
সুপারি (Areca catechu),
গাব (Diospyros peregrina),
বিলাতি গাব (Diospyros discolor)

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন হরমোন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে? 
  1. অক্সিন 
  2. সাইটোকাইনিন
  3. জিবেরেলিন 
  4. ফ্লোরিজেন 
ব্যাখ্যা

ফাইটোহরমোন: 
- যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন বা প্রাণরস বলে। 
- উদ্ভিদ হরমোনকে ফাইটোহরমোন (Phytohormones) বলা হয়। কেউ কেউ ফাইটোহরমোনকে উদ্ভিদ বৃদ্ধিকারক বস্তু (Plant growth substances) হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। 
- যে রাসায়নিক বস্তুটি কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষ বা কোষপুঞ্জের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন (Hormone) বলে। 

- উদ্ভিদের প্রতিটি কোষই হরমোন উৎপন্ন করতে পারে। এরা কোনো পুষ্টিদ্রব্য নয় তবে ক্ষুদ্রমাত্রায় উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন: অক্সিন (Auxin), জিবেরেলিন (Gibberellin), সাইটোকাইনিন (Cytokinin), অ্যাবসিসিক এসিড (Abscisic acid), ইথিলিন (Ethylene) ইত্যাদি।
- এসব হরমোন ছাড়াও উদ্ভিদে আরও কিছু হরমোন রয়েছে, যাদের আলাদা করা বা শনাক্ত করা যায়নি, এদের পসটুলেটেড হরমোন (Postulated hormones) বলে। 
- এরা প্রধানত উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায্য করে। 
- এদের মধ্যে ফ্লোরিজেন (Florigen) এবং ভার্নালিন (Vernalin) প্রধান। 
- ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে। 
- ফ্লোরিজেন নামক হরমোন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
কোন উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না? 
  1. ব্রায়াম
  2. টেরিস
  3. নারিকেল
  4. স্পাইরোগাইরা
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদজগৎ: 
- অধিকাংশ উদ্ভিদ নিজেই নিজের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
- এদের দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। 
- এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দ্বারা নির্মিত। 
- এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও কোষ গহ্বর বিদ্যমান। 
- উদ্ভিদে সবুজ কণিকা বা ক্লোরোফিল থাকে, তাই এরা খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
উদাহরণ: আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি। 
- সুবিশাল উদ্ভিদজগৎকে তাদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে আবার নানা ভাগে বিভক্ত করা যায়। 

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, কাঁঠাল, ধান, নারিকেল ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতা বিভক্ত। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ন ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- 
১। মসবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এদের দেহ কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। 
- কিন্তু মসবর্গীয় উদ্ভিদের মূল নেই, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে। 
- সাধারণত এরা পুরানো ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে জন্মায়। 
যেমন: ব্রায়াম। 

২। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এসব উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
- এদের মধ্যে যাদের ক্লোরোফিল আছে, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে, তারা শৈবাল। 
যেমন: স্পাইরোগাইরা। 
- আর যাদের দেহে ক্লোরোফিল নেই, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, তারা ছত্রাক। 
যেমন: এগারিকাস। 

৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- এদের দেহে পরিবহণ টিস্যু রয়েছে ও কচি পাতাগুলো কুণ্ডলীত থাকে। 
- বাড়ির পাশে স্যাতস্যাতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এদের জন্মাতে দেখা যায়। 
যেমন: টেরিস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
.
জলজ উদ্ভিদের পানিতে ভাসার জন্য কোন বিশেষ অঙ্গ সাহায্য করে?
  1.  নিউক্লিয়াস
  2. বায়ু কুঠুরী
  3. ক্লোরোপ্লাস্ট
  4. রাইবোসোম
ব্যাখ্যা

- জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড এবং পাতায় বিশেষ ধরনের টিস্যু থাকে, যা পাতলা প্রাচীরযুক্ত কোষ এবং বৃহৎ আন্তঃকোষীয় স্থান বা বায়ুকুঠুরী দ্বারা গঠিত হয়। এই বায়ুকুঠুরী উদ্ভিদকে প্লবতা প্রদান করে, যা তাদের সহজেই পানিতে ভাসতে সাহায্য করে। 

জলজ উদ্ভিদ: 
- কচুরিপানা, ক্ষুদিপানা, ওড়িপানা, সিংগারা, টোপাপানা, শাপলা, পদ্ম, শ্যাওলা, হাইড্রিলা, কলমি, হেলেঞ্চা, কেশরদাম ইত্যাদি নানা রকম জলজ উদ্ভিদ। এদের বেশির ভাগই পানিতে জন্মে এবং কিছু কিছু আছে (যেমন- কলমি, হেলেঞ্চা, কেশরদাম) যারা পানিতে আর মাটিতে দু'জায়গাতেই জন্মে। 
অর্থাৎ, পানি না থাকলে বেশির ভাগ জলজ উদ্ভিদ জন্মাতই না, কিছু কিছু হয়তো জন্মাত কিন্তু বাঁচতে পারত না কিংবা বেঁচে থাকলেও বেড়ে উঠতে পারত না। 
- তখন পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটত, কারণ এই জলজ উদ্ভিদগুলো একদিকে যেমন সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে অক্সিজেন তৈরি করে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখে, অন্যদিকে এদের অনেকগুলো বিশেষ করে শ্যাওলাজাতীয় জলজ উদ্ভিদগুলো জলজ প্রাণীদের খাদ্যভান্ডার হিসেবে কাজ করে। 
- জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড আর অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খুব নরম হয়, যেটা পানির স্রোত আর জলজ প্রাণীর চলাচলের সঙ্গে মানানসই। পানি ছাড়া শুকনো মাটিতে এদের জন্ম হলে এরা ভেঙে পড়ত এবং বেড়ে উঠতে পারত না, এমনকি বাঁচতেও পারত না। 
- জলজ উদ্ভিদগুলো সাধারণত অঙ্গজ উপায়ে বংশবিস্তার করে, পানি না থাকলে এই বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হতো। 
- জলজ উদ্ভিদ সহজে পানিতে ভাসতে পারে, কারণ এদের কাণ্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে। 
- অধিকাংশ জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড ফাঁপা। এদের কাণ্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে, তাই এরা পানিতে ভাসতে পারে। এই বায়ু কুঠুরী জলজ উদ্ভিদকে পানিতে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
জলজ উদ্ভিদ নয় কোনটি?
  1. গজারি
  2. সাইকাস
  3. হিজল
  4. সেগুন
ব্যাখ্যা
জলজ উদ্ভিদ: 
 - জলজ উদ্ভিদ পানিতে বসবাস ও বেড়ে ওঠা এবং প্রায়শ সুচিহ্নিত উদ্ভিদকুল। 
- এগুলো খাদ্যবস্ত্ত ও শক্তির উৎস এবং সৌরশক্তির দক্ষ পরিবর্তক। 
- কৃষি, মৎস্যচাষ ও জলাশয়ের আবাদে জলজ উদ্ভিদকুলের গুরুত্ব সম্প্রতি বেড়েছে। 
- বাংলাদেশে প্রায় ১৩০ সপুষ্পক, ৬ ফার্নজাতীয় (pteridophyte), ৩ মসজাতীয় (bryophyte) ও কয়েকশ  শৈবাল প্রজাতি জলজ উদ্ভিদ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। 
- জলজ উদ্ভিদকুল সম্পূর্ণ ডুবন্ত, উপরিতলে ডুবন্ত, বিক্ষিপ্ত ও ভাসমান আগাছা হিসেবে বিভক্ত। 
- শৈবাল ছাড়া জলজদের মধ্যে আছে সম্পূর্ণ ডুবন্ত ৩৫, উপরিতলে ডুবন্ত ২০, ভাসমান ১৭ প্রজাতি। 
- জলজ উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে জলকণা, পদ্ম, ডাকউইডস, মশার ফার্ন, ভাসমান হৃদয়, জলকণা, ঘোড়ার লেজ, জলকণা, জলকণা, হিজল, সেগুন, সাইকাস এবং শৈবাল ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- গজারির অপর নাম শাল। 
- ভাওয়াল ও মধুপুরের গাজারি বনই দেশের বৃহত্ পত্রঝরা বনাঞ্চল। 
- লাল মাটির পাহাড়, ছোট ছোট টিলা জমিতে গজারি ভালো জন্মে। তবে পানিতে এ গাছ বেশিদিন বাঁচে না। 
- এ গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Shorea robusta। 
- সরল কাণ্ডের গজারিগাছ মূলত বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। 
- গজারির বড় পাতা ঠোঙা, চালের পিঠা তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়। 
- গজারি পাতায় রস কৃমিনাশক, এ গাছের ফলের গুঁড়া আমাশয় ভালো করে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া [লিঙ্ক] ও দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা।
.
নগ্নবীজী উদ্ভিদের উদাহরণ কোনটি?
  1. নারিকেল
  2. আম
  3. সুপারি
  4. পাইনাস
ব্যাখ্যা
সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- উদ্ভিদে ফুলের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে উদ্ভিদকে সপুষ্পক ও অপুষ্পক এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, কাঁঠাল, ধান, নারিকেল ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতা বিভক্ত। 
- ফুলের মাধ্যমে পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় এদের বংশবিস্তার ঘটে। 
- বীজের আবরণের উপর নির্ভর করে সপুষ্পক উদ্ভিদকে আবার নগ্নবীজী এবং আবৃতবীজী এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
- নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না, তাই বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
উদাহরণ: সাইকাস, পাইনাস ইত্যাদি। 
- আর আবৃতবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকায় ফল উৎপাদন হয় এবং বীজ আবৃত থাকে। 
উদাহরণ: আম, জাম, সুপারি ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
.
বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে উদ্ভিদের কোন খাদ্য উপাদান বৃদ্ধি পায়?
  1. ফসফরাস
  2. নাইট্রোজেন
  3. পটাশিয়াম
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন উপাদানের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
- বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে নাইট্রোজেন নামক খাদ্য উপাদান বৃদ্ধি পায়।
মাটিতে নাইট্রোজেনের উৎস নাইট্রোজেন লবণ।
- বায়ুমণ্ডলে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ নাইট্রোজেন থাকা সত্ত্বেও উদ্ভিদ সরাসরি বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না।
- উদ্ভিদ মাটি থেকে আয়নিত অবস্থায় নাইট্রোজেন গ্রহণ করে থাকে।
- বিশ্বে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া অন্যতম প্রধান এবং বহুল ব্যবহৃত সার।
- বজ্রপাত একটি শক্তিশালী সার প্রদানকারী এজেন্ট।
- প্রতিবার বজ্রপাত ঘটলে বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন হাইড্রোজেন বা অক্সিজেনের সাথে মিলিত হয়ে অ্যামোনিয়াম এবং নাইট্রেট তৈরি করে।
- নাইট্রোজেন তারপর বৃষ্টিতে মাটিতে ধুয়ে যায়।
- গাছপালা তখন মাটি থেকে 'নাইট্রোজেন' শোষণ করে এবং বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করে।
যেহেতু এটি ক্লোরোফিলের একটি মূল উপাদান বিধায় নাইট্রোজেন গাছের সবুজায়ন ঘটায়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোনটি পৃথিবীর বিশাল আকৃতির শোধনাগার?
  1. বায়ু
  2. মাটি
  3. পানি
  4. গাছপালা
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর বিশাল প্রাকৃতিক শোধনাগার হচ্ছে মাটি।
- সাধারণত আদর্শ মাটিতে ৫% জৈব পদার্থ থাকে।
- মাটির গঠন, বর্ণ, পানি ধারণক্ষমতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে মাটিকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
(ক) বালু মাটি,
(খ) পলি মাটি,
(গ) কাদামাটি এবং
(ঘ) দো-আঁশ মাটি।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১০.
কোন উদ্ভিদে ফুল বা ফল হয় না এবং প্রজনন স্পোর বা রেণুর মাধ্যমে ঘটে? 
  1. সপুষ্পক উদ্ভিদ 
  2. অপুষ্পক উদ্ভিদ 
  3. আবৃতবীজী উদ্ভিদ 
  4. নগ্নবীজী উদ্ভিদ 
ব্যাখ্যা

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- সপুষ্পক উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয়। 
যেমন- আম, কাঁঠাল, শাপলা, জবা ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- কোনো উদ্ভিদ ফল উৎপন্ন করে আবার কোনটি ফল উৎপন্ন করে না, তাই বীজগুলো অনাবৃত থাকে। 
- এরা প্রধানত দুই ধরনের। 
যথা: নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ। 
- এদের দেহে অত্যন্ত উন্নত ধরনের পরিবহন কলা উপস্থিত থাকে। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- উদ্ভিদের মধ্যে কিছুসংখ্যক উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না। এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে। এদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
- এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
যেমন- অ্যাগারিকাস ও স্পাইরোগাইরা, মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১১.
নিচের কোন প্লাস্টিডে ক্লোরোফিল থাকে? 
  1. লিউকোপ্লাস্ট
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. ক্রোমোপ্লাস্ট
  4. ক্রোমোটোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড (Plastid): 
- বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল 1866 সালে উদ্ভিদ কোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু প্লাস্টিড আবিষ্কার করেন। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট। 

১। ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা (grana) অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে (stroma) অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এই প্লাস্টিডে ক্লোরোফিল থাকে, তাই এদের সবুজ দেখায়। এছাড়া এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

২। ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast): 
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএরিথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। 
- রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast): 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রুণ, জননকোষ ইত্যাদি) সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২.
কচু খেলে গলা চুলকায়। কারণ কচুতে আছে -
  1. CaCO3
  2. CaC2O4
  3. Ca3(PO4)2
  4. CaSO4
ব্যাখ্যা
কচু নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
১) কচু শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি, সি,ক্যালসিয়াম ও লৌহ। ভিটামিন এ জাতীয় খাদ্য রাতকানা প্রতিরোধ করে আর ভিটামিন সি শরীরের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। তাই শিশুদের ছোট বেলা থেকেই কচুর শাক খাওয়ানো উচিত।
২) কচুতে আছে আয়রন, যা রক্ত শূন্যতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
৩) কচুতে আছে নানা রকমের ভিটামিন যা গর্ভবতী মা ও শিশুর জন্য দারুণ উপকারী।
৪) কচুর ডাঁটায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে,তাই গরমের সময় কচুর ডাঁটায় রান্না করে খেলে শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ হয়।

৫) কচুর শাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশ থাকে যা হজমে সহায়তা করে।
৬) কচুতে আছে প্রচুর ফাইবার, ফোলেট ও থায়ামিন যা মানব শরীরের জন্য অনেক দরকারি উপাদান।
৭) কচু খেলে রক্তের কোলেস্টরল কমে তাই উচ্চরক্ত চাপের রোগীদের জন্য ওল কচুর রস বেশ উপকারী।
8) নিয়মিত কচু খেলে কোলন ক্যান্সার ও ব্রেষ্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।
৯) কচু শাক বা কচু খেলে অনেক সময় গলা চুলকায়; কারণ কচুতে (ক্যালসিয়াম অক্সলেট) CaC2O4 আছে।

অপশন আলোচনা:
- ক্যালসিয়াম কার্বনেট = CaCO3,
- ক্যালসিয়াম ফসফেট = Ca3(PO4)2,
- ক্যালসিয়াম সালফেট = CaSO4.

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই ও পত্রিকার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রতিবেদন।
১৩.
উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. প্রজাতির নামের প্রথম অক্ষর Small letter হবে
  2. উদ্ভিদের নামটি হবে দ্বিপদী
  3. নামকরণের ভাষা হবে ল্যাটিন
  4. দ্বিপদী নামের অক্ষর হবে গ্রিক
ব্যাখ্যা
বোটানিক্যাল নমেনক্লেচার (ICBN):

• ICBN -এর পূর্ণ রূপ হচ্ছে- International code of Botanical Nomenclature.
• এটি উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের আন্তর্জাতিক সংবিধান।
• উদ্ভিদ নামকরণের আন্তর্জাতিক নীতিমালাকে বলা হয় 'International code Botanical Nomenclature', সংক্ষেপে ICBN।
• এ বিধানের নিয়মনীতিগুলো International Botanical Congress কর্তৃক নির্ধারিত হয় এবং ইংরেজি, জার্মান ও ফরাসি ভাষায় প্রকাশ করা হয়।
• প্রাণির ক্ষেত্রে নামকরণের আন্তর্জাতিক নীতিমালাকে বলা হয় 'International code of Zoological Nomenclature', সংক্ষেপে ICZN ।

♦ ICBN-এর নিয়মানুযায়ী উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের উল্লেখযোগ্য নিয়মাবলি নিম্নরূপ:

- উদ্ভিদের নামটি হবে দ্বিপদী।
- নামকরণের ভাষা হবে ল্যাটিন।
- দ্বিপদী নামের অক্ষর হবে রোমান।
- দ্বিপদী নাম ছাপার অক্ষরে লিখতে হলে ইটালিক হরফে লিখতে হবে।
- গণ নামের প্রথম অক্ষর Capital letter এবং প্রজাতির নামের প্রথম অক্ষর Small letter হবে।
- হাতে লিখলে গণ ও প্রজাতির নিচে পৃথক পৃথকভাবে দাগ টানতে হবে।
- যে বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম কোন উদ্ভিদের বর্ণনা দিবেন দ্বিপদী নামের শেষে তাঁর নামও সংক্ষিপ্তভাবে সংযোজন করতে হবে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১৪.
নিচের কোন উদ্ভিদ কেবল ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে দেখা যায়?
  1. খেজুর পাম
  2. সাগু পাম
  3. নিপা পাম
  4. তাল পাম
ব্যাখ্যা
• ম্যানগ্রোভ:
- ম্যানগ্রোভ বলতে উপকূলীয় বনভূমিকে বুঝায়।
- ম্যানগ্রোভ বলতে সাধারণভাবে জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত বিস্তির্ণ জলাভূমিকে বোঝায়।
- ম্যানগ্রোভ বন জোয়ারভাটায় বিধৌত লবনাক্ত সমতলভূমি।
- উষ্ণমন্ডলীয় ও উপ-উষ্ণমন্ডলীয় অক্ষাংশের আন্তপ্লাবিত আবাসস্থলের সমন্বয়ে ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেম গঠিত।
- এ আন্তপ্লাবিত জলাভূমি বিভিন্ন স্তরের পারষ্পরিক নির্ভরশীল উপাদানসমূহ যেমন- পানি প্রবাহ, পলি, পুষ্টি উপাদান, জৈব পদার্থ এবং জীবজন্তুর সমন্বয়ে গঠিত।

- গোলপাতা (Nipa palm) Arecaceae গোত্রের (Palmae) পামজাতীয় এক উদ্ভিদ প্রজাতি, Nypa fruticans।
- এটি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ, ছড়িয়ে আছে এশিয়া, ওসেনিয়া ও আফ্রিকার পূর্ব-উপকূলের ম্যানগ্রোভ বনে।
- কান্ড খাটো, অনুভূমিক ও তাতে অজস্র শিকড়। পাতা লম্বা ও খাড়া, ৩-৯ মি লম্বা।
- গোলপাতা সুন্দরবনে স্বল্প ও মধ্যম লবণাক্ত অঞ্চলে জন্মে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫.
কোনটির কারণে মরিচ ঝাল লাগে?
  1. ক) অক্সালিক এসিড
  2. খ) ক্যাপসিসিন
  3. গ) ক্যাপসোমিয়ার
  4. ঘ) ভিটামিন সি
ব্যাখ্যা
- ক্যাপসিসিনের কারণে মরিচে ঝাল লাগে।
- ক্যাপসিসিন গন্ধহীন একধরনের অ্যালকালয়েড।
- যে মরিচে যত বেশি ক্যাপসিসিন থাকে সে মরিচ তত বেশি ঝাল।
১৬.
নিচের কোন উদ্ভিদটি আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদের উদাহরণ? 
  1.  ইক্ষু 
  2.  তামাক 
  3. চন্দ্রমল্লিকা 
  4. আউশ ধান 
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদে আলো-অন্ধকারের ছন্দকে বায়োলজিক্যাল ক্লক বলা হয়।
- উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদে পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ৮-১২ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। 
যেমন- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, তামাক, শিম, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া ইত্যাদি। 
 
২। দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ১২-১৬ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন হয়। 
যেমন- পালংশাক, আফিম, ভুট্টা, যব, লেটুস, ঝিঙা ইত্যাদি। 
 
৩। আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে আলো কোনও প্রভাব ফেলে না। 
যেমন- টমেটো, কার্পাস, আউশ ধান, শসা, সূর্যমুখী ইত্যাদি। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
নিচের কোনটি 'কোষের রান্নাঘর' ?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. সেন্ট্রোজোম
  4. কোষ প্রাচীর
ব্যাখ্যা
ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। 
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। 
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। 
- উদ্ভিদের জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট অতীব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞানী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষণে সাহায্য করে বলে একে 'কোষের রান্নাঘর' (kitchen of cell) বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' (factory of synthesis of sugar) বলে। 
- এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গাণু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
১৮.
ধানের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. Oryza sativa
  2. Nymphaea nouchali
  3. Nipa fruticans
  4. Bufo melanostictus
ব্যাখ্যা
• দ্বিপদ নামকরণ:
- দু'টি পদ নিয়ে গঠিত কোন জীব-প্রজাতির নামকে বলা হয় দ্বিপদ নাম এবং দু'টি পদের সমন্বয়ে নাম দেয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় দ্বিপদ নামকরণ।
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ করা হয়ে থাকে ICBN (International Code of Botanical Nomenclature বর্তমানে ICN = International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants) -এর নীতিমালা অনুযায়ী এবং প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN (International Code of Zoological Nomenclature)- এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens.
- দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis.
- বাঘ (রয়েল বেঙ্গল)-এর বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris.
- আম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica.
- বট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Ficus benghalensis.
- কুনোব্যাঙ এর বৈজ্ঞানিক নাম Bufo melanostictus.
- ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha.
- ধানের বৈজ্ঞানিক নাম Oryza sativa.
- শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea nouchali.

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১৯.
লিউকোপ্লাস্ট কোথায় পাওয়া যায়?
  1. মূলে
  2. ভ্রূণে
  3. জনন কোষে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- 
১। ক্লোরোপ্লাস্ট, 
২। ক্রোমোপ্লাস্ট এবং 
৩। লিউকোপ্লাস্ট। 

ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- ক্রোমোপ্লাস্টগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটি হলুদ, কোনটি নীল আবার কোনটি লাল দেখায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। 

লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২০.
বর্ণহীন প্লাস্টিড কোনটি?
  1. ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. লিউকোপ্লাস্ট
  3. ক্রোমোপ্লাস্ট
  4. ক্রোমাটোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড: 
- সাইটোপ্লাজমের মধ্যে যে সকল ক্ষুদ্র, দানাদার বিভিন্ন আকারের বস্তু দেখা যায় তাদেরকে বলা হয় প্লাস্টিড। 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য, এর উপস্থিতির কারণে উদ্ভিদের পাতা, ফুল ও ফলের বর্ণ বৈচিত্র্য দেখা যায়। 
- প্লাস্টিড খাদ্য প্রস্তুত করে, খাদ্য সঞ্চয় করে, পরাগায়নে সাহায্য করে এবং ক্লোরোপ্লাস্টের প্রয়োজনে প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড তৈরি করে। 
- উদ্ভিদ কোষে সাধারণত তিন প্রকার প্লাস্টিড থাকে। 
যথা- 
১। ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- সবুজ ছাড়া অন্যান্য বর্ণ যেমন- লাল, হলুদ ইত্যাদি বহনকারী প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলা হয়। 
- ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল বেশি পরিমাণে এবং ক্লোরোফিল অল্প পরিমাণে থাকে। 
- ফুলের পাপড়িতে ও ফলে ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে, এজন্য ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায়। 
- ফুলের বিভিন্ন বর্ণের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন পতঙ্গ ও পাখি পরাগায়নে এবং বংশবিস্তারে সাহায্য করে। 

২। ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- ক্লোরোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণ কণিকা থাকে, এজন্য পাতা ও কচি শাখা প্রশাখা সবুজ দেখায়। 
- এতে ক্লোরোফিল ব্যতীত অন্যান্য বর্ণ কণিকাও অল্প পরিমাণে থাকে। 
যেমন- হলুদ বর্ণ কণিকা জ্যান্থোফিল ও কমলা বর্ণ কণিকা ক্যারোটিন। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট বিভিন্ন আকৃতির হয়, তবে বড় বড় উদ্ভিদে সাধারণত লেন্স আকৃতির হয়। 
- এটি প্রধানত সালোকসংশ্লেষণে সহায়তা করে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট: 
- বর্ণহীন প্লাস্টিড হচ্ছে লিউকোপ্লাস্ট। 
- মাটির নিচের অংশ তথা- রাইজোম, ভূ-নিম্নস্থ কান্ড, মূল প্রভৃতিতে লিউকোপ্লাস্ট থাকে। 
- এটি খাদ্য সঞ্চয় করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১.
ফাইটোহরমোনের মধ্যে কোনটি উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশে সাহায্য করে? 
  1. সালফার
  2. নাইট্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. অক্সিন
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত অপশনের মধ্যে 'অক্সিন' ই একমাত্র ফাইটোহরমোন, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশে সাহায্য করে। 

ফাইটোহরমোন: 

- উদ্ভিদদেহে উৎপাদিত হয় এক বিশেষ ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ। এর প্রভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটে এবং বিভিন্ন অঙ্গের সৃষ্টি হয়। 
- জৈব পদার্থটি উদ্ভিদের সকল কাজকেই নিয়ন্ত্রণ করে, এ পদার্থকে হরমোন বা প্রাণরস বলা হয়। 
- এ হরমোনটি উদ্ভিদদেহে তৈরি হয় ও অবস্থান করে বিধায় একে ফাইটোহরমোন বলা হয়। 
- একে উদ্ভিদ বৃদ্ধিকারক রাসায়নিক বস্তুও বলা হয়। 
- অধিকাংশ বিজ্ঞানীদের মতে এগুলো উদ্ভিদের কোষে উৎপাদিত হয়ে উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষ বা কলাসমূহের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- উদ্ভিদের প্রতিটি কোষই হরমোন উৎপন্ন করতে সক্ষম। 
- এরা কোন পুষ্টি দ্রব্য নয় তবে ক্ষুদ্র মাত্রায় উৎপন্ন হয়ে কোষের ভিন্নতা সৃষ্টি ও দেহের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। 
- উদ্ভিদে যে সব ফাইটোহরমোন পাওয়া যায় সেগুলো হলো- অক্সিন, জিবেরেলিন, সাইটোকাইনিন, অ্যাবসিসিক অ্যাসিড এবং ইথিলিন। 
- এসব হরমোন ছাড়াও উদ্ভিদে আরও কিছু হরমোন রয়েছে যাদের আলাদা করা বা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, এদেরকে পস্টুলেটেড হরমোন (Postulated hormone) বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
কোনটি প্লাস্টিডের কাজ নয়?
  1. খাদ্য সঞ্চয় করা 
  2. দেহকে বর্ণময় করা
  3. প্রোটিন সংশ্লেষণ করা 
  4. খাদ্য তৈরি করা
ব্যাখ্যা
- প্লাস্টিডের কাজ নয়- প্রোটিন সংশ্লেষণ করা। 
- প্রোটিন সংশ্লেষণ হয় রাইবোজোম নামক অঙ্গাণুতে। 

প্লাস্টিড: 

- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট ও লিউকোপ্লাস্ট। 

ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভেতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩.
জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ অঞ্চলকে কী বলে?
  1. Flora
  2. Fauna
  3. Red List
  4. Hotspot
ব্যাখ্যা
হটস্পট:

- পৃথিবীর যে সকল অঞ্চল বা এলাকা জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সেইসব অঞ্চলকে জীববৈচিত্র্যের হটস্পট বলে।
- ১৯৮৮ সালে ড. সাবিনা ভির্ক সর্বপ্রথম হটস্পট শব্দটি প্রথম প্রচলন করেন।
- মায়ার্সের মতে, বর্তমান পৃথিবীতে সর্বাধিক ৩৪টি হটস্পট রয়েছে।
- ব্রিটানিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ৩৬টি জীববৈচিত্র্যের হট স্পট রয়েছে। 
- ব্রাজিলের আটলান্টিক উপকূলবর্তী বনাঞ্চল, মাদাগাস্কার দ্বীপ, ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপসমূহে উল্লেখযোগ্য হটস্পট রয়েছে।
- এছাড়াও উল্লেখযোগ্য জীববৈচিত্র্যের হটস্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে পূর্ব হিমালয়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, মাইক্রোনেশিয়া, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, পশ্চিম আফ্রিকা, মালয়েশিয়ান উপদ্বীপ, মাদাগাস্কার, ইকুয়েডর, পেরু, কলম্বিয়া, আমাজোনিয়া ইত্যাদি।
- আফ্রিকার কঙ্গো, নাইজার ও জাম্বেসী নদী অববাহিকার গভীর অরণ্যে সর্বাধিক জীববৈচিত্র্য দেখা যায়। 
- জীবকূলের ভিন্নতা এবং জটিল প্রতিবেশগত পরিবেশ জীবমণ্ডলকে একক (unique), ও উৎপাদনশীল বৈশিষ্ট্য প্রদান করে। জীববৈচিত্র্যতার ভিন্নতাও (Biodiversity varities) পৃথিবীকে সুন্দর এবং বাসযোগ্য রাখে।


অন্যদিকে, 
- Flora বলতে বুঝায় পৃথিবীর সকল উদ্ভিদকে।
- Fauna বলতে বুঝায় পৃথিবীর সকল প্রাণীকে।

উৎস: বিবিএ প্রোগ্রাম, পরিবেশ বিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা। 
২৪.
ICBN-এর নিয়মানুযায়ী উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের ভাষা হবে-
  1. ল্যাটিন
  2. গ্রিক
  3. ইংরেজি
  4. ইটালিক
ব্যাখ্যা
• ICBN-এর নিয়মানুযায়ী উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের উল্লেখযোগ্য নিয়মাবলি নিম্নরূপ:

- উদ্ভিদের নামটি হবে দ্বিপদী।
- নামকরণের ভাষা হবে ল্যাটিন।
- দ্বিপদী নামের অক্ষর হবে রোমান।
- দ্বিপদী নাম ছাপার অক্ষরে লিখতে হলে ইটালিক হরফে লিখতে হবে।
- গণ নামের প্রথম অক্ষর Capital letter এবং প্রজাতির নামের প্রথম অক্ষর Small letter হবে।
- হাতে লিখলে গণ ও প্রজাতির নিচে পৃথক পৃথকভাবে দাগ টানতে হবে।
- যে বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম কোন উদ্ভিদের বর্ণনা দিবেন দ্বিপদী নামের শেষে তাঁর নামও সংক্ষিপ্তভাবে সংযোজন করতে হবে।

উল্লেখ্য, Systema Naturae গ্রন্থের দশম সংস্করণে (১৭৫৮) ক্যারোলাস লিনিয়াস জীবের নামকরণের ক্ষেত্রে দ্বিপদ নামকরণ নীতি প্রবর্তন করেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২৫.
পাটের বৈজ্ঞানিক নাম-
  1. ক) Oryza sativa
  2. খ) Corchorus capsularis
  3. গ) Apis indica
  4. ঘ) Artocarpus heterophyllus
ব্যাখ্যা
Corchorus capsularis - পাট।
Oryza sativa - ধান।
Apis indica - মৌমাছি।
Artocarpus heterophyllus - কাঁঠাল।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬.
তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ কোনটি? 
  1. লাইকেন
  2. বাঁশ
  3. নারকেল
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তুন্দ্রা: 
- সব থেকে উত্তরের স্থল বায়োম হলো তুন্দ্রা। 
- বাৎসরিক বৃষ্টিপাত কখনও ১৫ সে.মি. বা তারও কম, যা তুষার হিসেবে পড়ে। 
- দীর্ঘ শীতের সময় এখানে বরফ জমা থাকে। 
- ছয় থেকে আট সপ্তাহের গ্রীষ্মকাল দেখা যায় যখন উপরের কিছু বরফ গলে যায় এবং ছোট ছোট জলাভূমির সৃষ্টি হয়। 
- তুন্দ্রা অঞ্চলে সূর্যের আলো তির্যকভাবে পড়ে। 
- তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ মস ও লাইকেন। 
- তুন্দ্রা অঞ্চলে বৃক্ষ প্রজাতি কম। 
- উঁচু পর্বতশৃঙ্গে এরূপ অঞ্চল আছে, যাকে আলপাইন তুন্দ্ৰা বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
Cycas উদ্ভিদের পরাগায়ন কিসের মাধ্যমে ঘটে? 
  1. দেহ-অঙ্গের মাধ্যমে
  2. বাতাসের মাধ্যমে
  3. স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে
  4. কীট-পতঙ্গের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
নগ্নবীজী উদ্ভিদ বা জিমনোস্পার্ম (Gymnosperms): 
- বীজ উৎপাদনকারী ভাস্কুলার উদ্ভিদ গোষ্ঠীকে বলা হয় সবীজ উদ্ভিদ বা স্পার্মাটোফাইটা (Spermatophyta)। 
- এ গোষ্ঠীটি দুটি উপগোষ্ঠীতে বিভক্ত। যথা-ব্যক্তবীজী বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ (Gymnosperms) এবং গুপ্তবীজী বা আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperms)। 
- Gymnosperm উদ্ভিদের বাংলা প্রতিশব্দ করা হয়েছে নগ্নবীজী উদ্ভিদ। 
- জিমনোস্পার্ম শব্দের অর্থ হলো naked seed বা নগ্নবীজী। 
- উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক থিওফ্রাস্টাস তাঁর Enquiry into Plants নামক গ্রন্থে সর্বপ্রথম Gymnosperm শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- যেসব সবীজী উদ্ভিদে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না এবং বীজ নগ্ন অবস্থায় জন্মে তাদেরকে নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলে। 
- বাংলাদেশে প্রায় ৪০০০ প্রজাতির আবৃতবীজী উদ্ভিদ থাকলেও মাত্র কয়েক প্রজাতির নগ্নবীজী উদ্ভিদ প্রাকৃতিকভাবে জন্মে থাকে। 
যেমন- 
• Cycas pectinata যা চট্টগ্রামের বাড়িয়াডালা পাহাড়ি এলাকায় পাওয়া যায়; 
• Podocarpus neriifolius, বাংলাদেশে এটি বাঁশপাতা নামে পরিচিত এবং চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট বনাঞ্চলে এখনো পাওয়া যায় এবং 
• Gnetum নামক একটি কাষ্ঠল লতানো উদ্ভিদ যা সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন বনে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে Gnetum (নিটাম) এর ২/৩টি প্রজাতি আছে বলে ধারণা করা হয়। 

Cycas (সাইকাস): 
- Cycas উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য- 
১। Cycas উদ্ভিদ স্পোরোফাইট। দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
২। উদ্ভিদ খাড়া পাম জাতীয়। 
৩। পাতা বৃহৎ, পক্ষল যৌগিক, কাণ্ডের মাথার দিকে সর্পিলাকারে সজ্জিত। 
৪। কচি পাতার ভার্নেশন সারসিনেট (কুগুলিত)। 
৫। পাতায় ট্রান্সফিউশন টিস্যু বিদ্যমান। 
৬। গৌন অস্থানিক কোরালয়েড মূল বিদ্যমান। 
৭। গর্ভাশয় না থাকায় এদের ফল সৃষ্টি হয় না, বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
৮। পুংরেণুপত্রগুলো একত্রিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে কিন্তু স্ত্রীরেণুপত্র সত্যিকার স্ট্রোবিলাস গঠন করে না। 
১। হেটারোস্পোরিক অর্থাৎ যৌন জননে মেগা ও মাইক্রোস্পোর সৃষ্টি হয়। 
১০। Cycas উদ্ভিদে বাতাসের মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটে। 
১১। Cycas-এর শুক্রাণু উদ্ভিদকূলে সর্ববৃহৎ, লাটিমের মতো, সচল ও বহু ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
২৮.
তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ কোনটি? 
  1. ফার্ন 
  2. লাইকেন
  3. জিমনোস্পার্ম
  4. অ্যানজিওস্পার্ম
ব্যাখ্যা
তুন্দ্রা: 
- সব থেকে উত্তরের স্থল বায়োম হলো তুন্দ্রা। 
- বাৎসরিক বৃষ্টিপাত কখনও ১৫ সে.মি. বা তারও কম, যা তুষার হিসেবে পড়ে। 
- দীর্ঘ শীতের সময় তুন্দ্রা অঞ্চলে বরফ জমা থাকে। 
- ছয় থেকে আট সপ্তাহের গ্রীষ্মকাল দেখা যায় যখন উপরের কিছু বরফ গলে যায় এবং ছোট ছোট জলাভূমির সৃষ্টি হয়। 
- এখানে সূর্যের আলো তির্যকভাবে পড়ে। 
- তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ মস ও লাইকেন। 
- এখানে বৃক্ষ প্রজাতি কম। 
- উঁচু পর্বতশৃঙ্গে এরূপ অঞ্চল আছে, যাকে আলপাইন তুন্দ্ৰা বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদের মধ্যে পার্থক্য কোনটি?
  1. প্রজননের পদ্ধতি
  2. মূলের উপস্থিতি 
  3. বীজের আবরণ
  4. কাণ্ডের দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা

- নগ্নবীজী (Gymnosperm) এবং আবৃতবীজী (Angiosperm) উদ্ভিদের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো বীজের আবরণের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি। নগ্নবীজী উদ্ভিদের বীজগুলো নগ্ন বা উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে, কারণ এদের গর্ভাশয় (ovary) থাকে না এবং ফল উৎপন্ন হয় না। অন্যদিকে, আবৃতবীজী উদ্ভিদের বীজগুলো ফলের অভ্যন্তরে আবৃত অবস্থায় থাকে, কারণ এদের গর্ভাশয় থাকে যা নিষিক্তকরণের পর ফলে পরিণত হয়। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- উদ্ভিদের মধ্যে কিছুসংখ্যক উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না। এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে। এদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
- এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
যেমন- অ্যাগারিকাস ও স্পাইরোগাইরা, মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- সপুষ্পক উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয়। 
যেমন- আম, কাঁঠাল, শাপলা, জবা ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- কোনো উদ্ভিদ ফল উৎপন্ন করে আবার কোনটি ফল উৎপন্ন করে না, তাই বীজগুলো অনাবৃত থাকে। 
- এরা প্রধানত দুই ধরনের। 
যথা: নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ। 
- এদের দেহে অত্যন্ত উন্নত ধরনের পরিবহন কলা উপস্থিত থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৩০.
কোন হরমোনের প্রভাবে উদ্ভিদের কোষের সাইটোকাইনেসিস ঘটে?
  1. ক) ইথিলিন
  2. খ) সাইটোকাইনিন
  3. গ) জিবেরেলিন
  4. ঘ) অক্সিন
ব্যাখ্যা
সাইটোকাইনিনঃ
এই ফাইটোহরমােন বা উদ্ভিদ হরমােনটি ফল, শস্য এবং ডাবের পানিতে পাওয়া যায়। কোনাে কোনাে উদ্ভিদের মূলেও এদের পাওয়া যায়। সাধারণভাবে এটি বিভিন্ন ঘনত্বে অক্সিনের সাথে যুক্ত হয়ে কোষ বিভাজনকে উদ্দীপিত করে।
কোষবিভাজনের সময় সাইটোকাইনিন হরমোনের প্রভাবে কোষের সাইটোকাইনেসিস ঘটে।
উৎসঃ জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
৩১.
জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মানব সৃষ্ট প্রধান কারণ কোনটি?
  1. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. বন্যা
  4. বাসস্থান ধ্বংস
ব্যাখ্যা
মানব সৃষ্ট কারণ:
• বাসস্থান ধ্বংস:
- জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের সব থেকে বড় কারণ হলো তাদের বাসস্থান ধ্বংস করা।
- বর্তমানে প্রতি মিনিটে পৃথিবীতে ৫০ একর বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। জলাভূমি ভরাট করা জলজ প্রাণীর বিলুপ্তির কারণ।

•  এক্সপ্লয়টেশন:
- সম্পদের অতিমাত্রায় আহরণ বহু জীব প্রজাতি বিলুপ্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

• অতিমাত্রায় পশু চারণ:
- তৃণভূমিতে অতিমাত্রায় পশুচারণের ফলে অনেক উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।

• পলিনেটর ধ্বংস:
- মৌমাছিসহ বহু কীটপতঙ্গ উদ্ভিদের পরাগায়ন ঘটায়। অতিমাত্রায় কীটনাশক, পতঙ্গনাশক ব্যবহারের ফলে পরাগায়নের এ বাহকগুলো কমে গিয়েছে। তাই পরাগায়নের অভাবে এ সকল উদ্ভিদ প্রজাতিসমূহ বিলুপ্তির পথে রয়েছে।

• পরিবেশ দূষণ:
- পরিবেশ দূষণ জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

• প্রাকৃতিক কারণ:
- জীববৈচিত্র্য অবনতির প্রাকৃতিক কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, দাবানল প্রভৃতি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
জেরোফাইট উদ্ভিদ কোন ইকোসিস্টেমের বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট
  2. খ) ট্রপিক্যাল সিজনাল ফরেস্ট
  3. গ) মরুভূমি
  4. ঘ) পত্রঝরা বন
ব্যাখ্যা
মরুপরিবেশে দিন ও রাত্রির তাপমাত্রার পার্থক্য ৩০° সে. পর্যন্ত হয়। এখানে যে সকল উদ্ভিদ অভিযোজিত অবস্থায় আছে তাদেরকে জেরোফাইট (Xerophyte) বলে।
এখানে বর্ষজীবী ও বহুবর্ষজীবী উভয় প্রকার উদ্ভিদ জন্মায়।
সাধারণত বছরে একবারই বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির সাথে সাথেই আগের বছরের বীজ অঙ্কুরিত হয় এবং খুব অল্প দিনেই বিকশিত হয়ে ফুল-ফলে ভরে যায়।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩.
কোনটি শৈবালের চলনে সহায়তা করে?
  1. অ্যান্টেনা
  2. ফ্লাজেলা
  3.  সিলিয়া
  4. ছদ্মপদ
ব্যাখ্যা

*** শৈবালের চলনে সহায়তা করে ফ্লাজেলা

• শৈবাল:
- শৈবাল হলো ক্লোরোফিলযুক্ত সরল, স্বভোজী জলজ উদ্ভিদ যাদের মূল, কাণ্ড ও পাতা নেই।
- এরা সালোকসংশ্লেষণ করে এবং এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে, যেমন: শেওলা।
- এদের দেহ মূলত সেলুলোজ নির্মিত এবং এরা পরিবেশের আর্দ্র স্থানে জন্মে।

• শৈবালের গঠন:
- শৈবালের গঠনকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা: বাহ্যিক গঠন এবং কোষীয় গঠন।
- এরা আণুবীক্ষণিক থেকে অনেক দীর্ঘাকার হয়। বাদামি শৈবাল ৬০ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ বা লম্বা হয়।
- এককোষী শৈবাল যাদের ফ্ল্যাজেলা থাকে তারা সচল, যেমন- Chlamydomonas এবং যাদের ফ্ল্যাজেলা থাকে না তারা নিশ্চল হয়, যেমন- Chlorella।
- অনেক প্রজাতি রয়েছে যারা কলোনি করে থাকে। প্রত্যেক কলোনিতে অনেকগুলো কোষ থাকে, যেমন- Volvox।
- বহু প্রজাতি রয়েছে যাদের দেহ ফিলামেন্টাস। 
- শৈবালের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গঠনে প্রচুর পার্থক্য বিদ্যমান।

- প্রোটোজোয়া-প্যারামিসিয়ামের চলন অঙ্গ হচ্ছে সিলিয়া।
- অ্যামিবার চলন অঙ্গ হচ্ছে ছদ্মপদ।

উৎস: জীব বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪.
ম্যানগ্রোভ বনের উদ্ভিদ নয় কোনটি?
  1. ক) সুন্দরী
  2. খ) গেওয়া
  3. গ) বাইন
  4. ঘ) বাঁশ
ব্যাখ্যা
ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল : নদীপাড়ের কম লবণাক্ত পানিতে গোলপাতা, হিতাল, সুন্দরী, গেওয়া, গরান ইত্যাদি জন্মে।
অধিক লবণাক্ত পরিবেশে কাঁকড়া, বাইন, পশুর, ধুন্দুল ইত্যাদি জন্মে। প্রধান লতা সুন্দরীলতা এবং গুল্ম জাতীয় বোহাল ও হাড়গোজা প্রধান।
সুন্দরবনে টাইগার ফার্ণের ঝোপ রয়েছে। এখানে কোন বাঁশ জন্মে না। তবে নানা রকমের অর্কিড জন্মে।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫.
মসবর্গীয় উদ্ভিদের মূলের পরিবর্তে কী থাকে?
  1. রাইজয়েড 
  2. কাণ্ড 
  3. ক্লোরোফিল 
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ন ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- 
১। মসবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এদের দেহ কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। 
- কিন্তু মসবর্গীয় উদ্ভিদের মূল নেই, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে। 
- সাধারণত এরা পুরানো ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে জন্মায়। 
যেমন: ব্রায়াম। 

২। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এসব উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
- এদের মধ্যে যাদের ক্লোরোফিল আছে, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে, তারা শৈবাল। 
যেমন: স্পাইরোগাইরা। 
- আর যাদের দেহে ক্লোরোফিল নেই, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, তারা ছত্রাক। 
যেমন: এগারিকাস। 

৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- এদের দেহে পরিবহণ টিস্যু রয়েছে ও কচি পাতাগুলো কুণ্ডলীত থাকে। 
- বাড়ির পাশে স্যাতস্যাতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এদের জন্মাতে দেখা যায়। 
যেমন: টেরিস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৩৬.
কোন প্লাস্টিড সূর্যের আলো ব্যবহার করে সরল শর্করা উৎপন্ন হয়?
  1. ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. লিউকোপ্লাস্ট
  3. ক্রোমোপ্লাস্ট
  4. ক্রোমাটোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা

প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু।
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- 
১। ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভেতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

২। ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটিকে হলুদ, কোনটিকে নীল আবার কোনটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি) সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৭.
কৃষি জমিতে কিসের জন্য চুন ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) মাটির ক্ষয় রোধ করার জন্য
  2. খ) মাটির অম্লতা বৃদ্ধির জন্য
  3. গ) মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
  4. ঘ) জৈব পদার্থের বৃদ্ধির জন্য
ব্যাখ্যা

- এসিড মাটি অনুর্বর।
- জমিতে বার বার অ্যামোনিয়াম সালফেটকে সার হিসেবে ব্যবহার করলে মাটিতে এসিডের মাত্রা বাড়ে।
- ফলে মাটি অনুর্বর হয়ে যায়।
- এই সারের সাথে চুন মিশালে এসিডের তীব্রতা হ্রাস পায়।
- তাই মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য সারের চুন ব্যবহার করা হয়।

৩৮.
উদ্ভিদে ফ্লোরিজেন কোন অঙ্গ থেকে উৎপন্ন হয়?
  1. ফুল 
  2. মূল 
  3. কাণ্ড 
  4. পাতা 
ব্যাখ্যা

ফাইটোহরমোন: 
- যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন বা প্রাণরস বলে। 
- উদ্ভিদ হরমোনকে ফাইটোহরমোন (Phytohormones) বলা হয়। কেউ কেউ ফাইটোহরমোনকে উদ্ভিদ বৃদ্ধিকারক বস্তু (Plant growth substances) হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। 
- যে রাসায়নিক বস্তুটি কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষ বা কোষপুঞ্জের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন (Hormone) বলে। 
- উদ্ভিদের প্রতিটি কোষই হরমোন উৎপন্ন করতে পারে। 
- এরা কোনো পুষ্টিদ্রব্য নয় তবে ক্ষুদ্রমাত্রায় উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
যেমন: অক্সিন (Auxin), জিবেরেলিন (Gibberellin), সাইটোকাইনিন (Cytokinin), অ্যাবসিসিক এসিড (Abscisic acid), ইথিলিন (Ethylene) ইত্যাদি। 

- এসব হরমোন ছাড়াও উদ্ভিদে আরও কিছু হরমোন রয়েছে, যাদের আলাদা করা বা শনাক্ত করা যায়নি, এদের পসটুলেটেড হরমোন (Postulated hormones) বলে। 
- এরা প্রধানত উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায্য করে। 
- এদের মধ্যে ফ্লোরিজেন (Florigen) এবং ভার্নালিন (Vernalin) প্রধান। 
- ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে। 
- ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৯.
অপুষ্পক উদ্ভিদ মূলত কোন উপায়ে প্রজনন সম্পন্ন করে? 
  1. দ্বিভাজন প্রক্রিয়া দ্বারা
  2. ফল দ্বারা
  3. খণ্ডায়ন দ্বারা 
  4. স্পোর বা রেণু দ্বারা
ব্যাখ্যা

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- উদ্ভিদের মধ্যে কিছুসংখ্যক উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না।
- এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে, এদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
- এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
যেমন- অ্যাগারিকাস ও স্পাইরোগাইরা, মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- সপুষ্পক উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয়। 
যেমন- আম, কাঁঠাল, শাপলা, জবা ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- কোনো উদ্ভিদ ফল উৎপন্ন করে আবার কোনটি ফল উৎপন্ন করে না, তাই বীজগুলো অনাবৃত থাকে। 
- এরা প্রধানত দুই ধরনের। 
যথা: নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ। 
- এদের দেহে অত্যন্ত উন্নত ধরনের পরিবহন কলা উপস্থিত থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৪০.
আমের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. ক) Copsychus saularis
  2. খ) Mangifera indica
  3. গ) Solanum tuberosum
  4. ঘ) Panthera tigris
ব্যাখ্যা
Mangifera indica L. (আম),
Persicaria eciliata Hassan (বিষ কাটালী),
Copsychus saularis L. (দোয়েল),
Tenualosa ilisha Hamilton (ইলিশ),
Panthera tigris L. (বাঘ),
Solanum tuberosum L. (আলু)।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১.
নিচের কোন উদ্ভিদ সুন্দরবনে জন্মায় না? 
  1. সুন্দরী
  2. গরান
  3. চাপালিশ
  4. গেওয়া
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন: 
- ‘সুন্দরবন’ বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি। 
- সুন্দরবনে মোট ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে যার মধ্য ৩৫টি প্রজাতি হলো ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের। 
- সুন্দরবনের প্রধান উদ্ভিদ হলো সুন্দরী ও গেওয়া। 
- এছাড়া অন্যান্য উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে- গরান, কেওড়া, ধুন্দল, বাইন, গোলপাতা, কেওড়া, পশুর প্রভৃতি। 

অন্যদিকে, 
- চাপালিশ উদ্ভিদ পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪২.
ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়ার উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) মিউচুয়ালিজম
  2. খ) কমেনসেলিজম
  3. গ) শোষণ
  4. ঘ) মিউচুয়ালিজম ও কমেনসেলিজম
ব্যাখ্যা

ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়া : যে আন্তঃসম্পর্কে দুটি জীবের একটি অন্যটিকে সহায়তা করে তাকে ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়া বলে।
ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়ায় সহযোগীদ্বয়ের যে কোনো একটি বা উভয়েই উপকৃত হতে পারে। ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়াকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়।
যেমন-

মিউচুয়ালিজম- যে আন্তঃসম্পর্কে দুটি সহযোগীর উভয়ই একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হয় তাকে মিউচুয়ালিজম বলে।
উদাহরণ স্বরূপ মৌমাছি, প্রজাপতি ফুলের মধু আহরণের জন্য ফুলে ফুলে উড়ে বেড়ায় এবং বিনিময়ে ফুলের পরাগায়ন ঘটে। বাঁদুড় ফল খেয়ে বাঁচে এবং মল ত্যাগের সাথে ফলের বীজও ত্যাগ করে। এভাবে বীজের স্থানান্তর হয় এবং উদ্ভিদের বিস্তার ঘটে।

কমেনসেলিজম- যে আন্তঃসম্পর্কে দুটি সহযোগীর একজন উপকৃত হয় কিন্তু আরেক জন উপকৃত না হলেও অপকৃত হয় না তাকে কমেনসেলিজম বলা হয়। যেমন- কাষ্ঠল লতা খাদ্যের জন্য আশ্রয় দানকারী উদ্ভিদের উপর নির্ভর করে না এবং এরা আশ্রয়দাতার কোনো ক্ষতিসাধনও করে না। কিছু শৈবাল অন্য উদ্ভিদের মধ্যে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করে কিন্তু আশ্রয়দাতার কোন ক্ষতি করে না। কাঠ বিড়ালী গাছের ডালে ডালে থাকে কিন্তু গাছের কোন ক্ষতি করে না।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩.
নিচের কোনটি রঞ্জক পদার্থহীন?
  1. লিউকোপ্লাস্ট
  2. ক্রোমোপ্লাস্ট
  3. ক্লোরোপ্লাস্ট
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের প্লাস্টিড ৩ ধরনেরঃ
- ক্লোরোপ্লাস্ট- সবুজ রঙের;
- ক্রোমোপ্লাস্ট- সবুজ ব্যতীত অন্যান্য রঙের  এবং ক্রোমোপ্লাস্টের উপস্থির জন্য পুষ্প, পাতা, ফল ও বীজ সুন্দর হয়।এবং
 -লিউকোপ্লাস্ট- রঞ্জক পদার্থহীন।

সূত্রঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
৪৪.
উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য কোনটি?  
  1. গ্লাইকোজেন 
  2. কাইটিন 
  3. শ্বেতসার 
  4. লিপিড 
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদ কোষ বৈশিষ্ট্য: 
- উদ্ভিদ কোষের চারদিকে সেলুলোজ নির্মিত জড় কোষ প্রাচীর বিদ্যমান থাকে। এর নিচে প্লাজমা ঝিল্লী থাকে। 
- কিছু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ব্যতীত অধিকাংশ উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিড থাকে। ব্যতিক্রম- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদিতে প্লাস্টিড থাকে না। 
- উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য সাধারণত শ্বেতসার। 
- উদ্ভিদ কোষে কোন সেন্ট্রোসোম থাকে না, ব্যতিক্রম- কিছু শৈবাল, মস ও ছত্রাকে সেন্ট্রোসোম থাকে। 
- উদ্ভিদ কোষে সাধারণত বড় আকারের এক বা একাধিক কোষ গহ্বর থাকে এবং স্থায়ী। 
- পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ কোষের আকার সাধারণত পরিবর্তিত হয় না। 
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে না। 
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের পরিধির দিকে থাকে। 
- শুধুমাত্র ভাজক কোষেই লাইসোসোম থাকে। 
- স্নেহ দ্রব্য তরল অবস্থায় থাকে। 

অন্যদিকে, 
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য- গ্লাইকোজেন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫.
ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের স্পোরোফাইট কিসের ওপর নির্ভরশীল? 
  1. নিজস্ব খাদ্য সংগ্রহের উপর 
  2. গ্যামিটোফাইটের উপর 
  3. মৃতজীবী ছত্রাকের উপর 
  4. পরিবেশের আর্দ্রতার উপর 
ব্যাখ্যা

ব্রায়োফাইটা: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের ফুল হয় না, এদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ব্রায়োফাইটা এবং টেরিডোফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদসমূহ হলো অপুষ্পক উদ্ভিদ। 

ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য: 
- এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক (হ্যাপ্লয়েড) অর্থাৎ গ্যামিট উৎপাদনকারী। 
- গ্যামোটোফাইট সবুজ, স্বভোজী, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। 
- এরা থ্যালয়েড হতে পারে অথবা দেহ রাইজয়েড, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
- দেহে মূল সৃষ্টি হয় না, মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়। 
- এদের দেহে কোন পরিবহন টিস্যু থাকে না। 
- জাইগোট হতে মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
- এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের, অর্থাৎ সচল ছোট শুক্রাণুর সাথে নিশ্চল বড় ডিম্বাণুর মিলন ঘটে। 
- জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
- এদের স্পোরোফাইট সর্বদাই পুষ্টি ও আশ্রয়ের জন্য আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। 

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬.
মস জাতীয় উদ্ভিদে মূলের পরিবর্তে কী থাকে? 
  1. স্টোলন
  2. রাইজোম
  3. শিকড়
  4. রাইজয়েড
ব্যাখ্যা
মস: 
- মস জাতীয় উদ্ভিদে কাণ্ড ও পাতা রয়েছে। 
- তবে সাধারণ উদ্ভিদের ন্যায় এদের মূল নেই। 
মস জাতীয় উদ্ভিদে মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে। 
- এরা সবুজ ও স্বভোজী। 
- স্যাঁতসেঁতে জায়গায় এদের দেখা যায়। 
উদাহারণ- Riccia, Antheceros, Semibarbula ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি এবং পরিবেশ শিক্ষা বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭.
মস জাতীয় উদ্ভিদে মূলের পরিবর্তে কী থাকে? 
  1. শিকড় 
  2. রাইজয়েড 
  3. স্টোলন 
  4. রাইজোম 
ব্যাখ্যা

মস: 
- মস জাতীয় উদ্ভিদে কাণ্ড ও পাতা রয়েছে। 
- তবে সাধারণ উদ্ভিদের ন্যায় এদের মূল নেই। 
- মস জাতীয় উদ্ভিদে মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে। 
- এরা সবুজ ও স্বভোজী। 
- স্যাঁতসেঁতে জায়গায় এদের দেখা যায়। 
উদাহারণ- Riccia, Antheceros, Semibarbula ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি এবং পরিবেশ শিক্ষা বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮.
Cycas উদ্ভিদে পরাগায়ন ঘটে কোন মাধ্যমে? 
  1. পানি 
  2. পোকা 
  3. বাতাস 
  4. পাখি 
ব্যাখ্যা

নগ্নবীজী উদ্ভিদ বা জিমনোস্পার্ম (Gymnosperms): 
- বীজ উৎপাদনকারী ভাস্কুলার উদ্ভিদ গোষ্ঠীকে বলা হয় সবীজ উদ্ভিদ বা স্পার্মাটোফাইটা (Spermatophyta)। এ গোষ্ঠীটি দুটি উপগোষ্ঠীতে বিভক্ত। যথা-ব্যক্তবীজী বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ (Gymnosperms) এবং গুপ্তবীজী বা আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperms)। 
- Gymnosperm উদ্ভিদের বাংলা প্রতিশব্দ করা হয়েছে নগ্নবীজী উদ্ভিদ।
- জিমনোস্পার্ম শব্দের অর্থ হলো naked seed বা নগ্নবীজী। 
- উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক থিওফ্রাস্টাস তাঁর Enquiry into Plants নামক গ্রন্থে সর্বপ্রথম Gymnosperm শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- যেসব সবীজী উদ্ভিদে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না এবং বীজ নগ্ন অবস্থায় জন্মে তাদেরকে নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলে। 
যেমন- Cycas pectinata একটি নগ্নবীজী উদ্ভিদ যা চট্টগ্রামের বাড়িয়াডালা পাহাড়ি এলাকায় পাওয়া যায়। 

Cycas (সাইকাস): 
- Cycas উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য- 
১। Cycas উদ্ভিদ স্পোরোফাইট। দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
২। উদ্ভিদ খাড়া পাম জাতীয়। 
৩। পাতা বৃহৎ, পক্ষল যৌগিক, কাণ্ডের মাথার দিকে সর্পিলাকারে সজ্জিত। 
৪। কচি পাতার ভার্নেশন সারসিনেট (কুগুলিত)। 
৫। পাতায় ট্রান্সফিউশন টিস্যু বিদ্যমান। 
৬। গৌন অস্থানিক কোরালয়েড মূল বিদ্যমান। 
৭। গর্ভাশয় না থাকায় এদের ফল সৃষ্টি হয় না, বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
৮। পুংরেণুপত্রগুলো একত্রিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে কিন্তু স্ত্রীরেণুপত্র সত্যিকার স্ট্রোবিলাস গঠন করে না। 
১। হেটারোস্পোরিক অর্থাৎ যৌন জননে মেগা ও মাইক্রোস্পোর সৃষ্টি হয়। 
১০। Cycas উদ্ভিদে বাতাসের মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটে। 
১১। Cycas-এর শুক্রাণু উদ্ভিদকূলে সর্ববৃহৎ, লাটিমের মতো, সচল ও বহু ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৪৯.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোনটি জারিত হয়?
  1. পানি
  2. কাবন ডাইঅক্সাইড
  3. অক্সিজেন
  4. ক + গ
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে।
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল প্রধান উপকরণ।
- কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে। 
- অর্থাৎ সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমন্ডলে অক্সিজেন ছাড়ে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়।
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।

উৎস:  উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০.
ক্লোরোপ্লাস্টের রঙ কেন সবুজ দেখায়?
  1. জ্যান্থফিলের কারণে 
  2. ক্যারোটিনের কারণে 
  3. ক্লোরোফিলের কারণে 
  4. ফাইকোএরিথ্রিনের কারণে 
ব্যাখ্যা

প্লাস্টিড (Plastid): 
- বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল 1866 সালে উদ্ভিদ কোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু প্লাস্টিড আবিষ্কার করেন। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের।
যথা- 
১। ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা (grana) অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে (stroma) অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এই প্লাস্টিডে ক্লোরোফিল থাকে, তাই এদের সবুজ দেখায়, এছাড়া এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

২। ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast): 
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএরিথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। 
- রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast): 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রুণ, জননকোষ ইত্যাদি) সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫১.
এক্স সিটু কনজারভেশন এর উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ন্যাশনাল পার্ক
  2. খ) অভায়ারণ্য
  3. গ) বোটানিক গার্ডেন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
ইন সিটু কনজারভেশন (In situ conservation) : মূল বাসস্থানে তথা প্রাকৃতিক পরিবেশের বিবর্তনীয় গতিশীল ইকোসিস্টেমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করাকে ইন-সিটু কনজারভেশন বলে।
যেমন- সুন্দরবনের সুন্দরী গাছ সুন্দরবনের কর্দমাক্ত, লবণাক্ত ও সিক্ত পরিবেশে জন্মে। রয়েল বেঙ্গল টাইগার স্বতঃস্ফূর্তভাবে সুন্দরবনে বিচরণ করে। সুন্দরী গাছ বা রয়েল বেঙ্গল টাইগার সুন্দরবনের এরূপ বাস্তুতন্ত্রে সংরক্ষণ করা হলো ইন সিটু কনজারভেশন।
ন্যাশনাল পার্ক, অভয়ারণ্য ও মৎস্য অভয়ারণ্য সৃষ্টির মাধ্যমে ইন সিটু পদ্ধতিতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা যায়।

এক্স সিটু কনজারভেশন (Ex situ conservation) : জীববৈচিত্র্যের উপাদানসমূহকে তাদের মূল বাসস্থান বা প্রাকৃতিক স্বাভাবিক পরিবেশের বাইরে বাঁচিয়ে রাখাই হলো এক্স সিটু কনজারভেশন। যেমন- সুন্দরবনের সুন্দরী গাছকে ঢাকার বোটানিক্যাল গার্ডেনে লাগিয়ে সংরক্ষণ করা হলো এক্স সিটু কনজারভেশন।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫২.
কোষ প্রাচীর এর প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো-
  1. সেলুলোজ
  2. কাইটিন
  3. পলিস্যাকারাইড
  4. পেকটিন
ব্যাখ্যা
কোষ প্রাচীর: 
- প্রতিটি উদ্ভিদ কোষে শক্ত জড় পদার্থ দ্বারা পরিবেষ্টিত আবরণকে বলা হয় কোষ প্রাচীর। 
- এটি উদ্ভিদ কোষের অনন্য একটি বৈশিষ্ট্য যা প্রাণী কোষে থাকে না। 
- এর প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো- সেলুলোজ। 
- তবে এতে হেমিসেলুলোজ, লিগনিন, পেকটিন, সুবেরিন ইত্যাদি রাসায়নিক পদার্থও থাকে। 
- কোষ প্রাচীরকে তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়। 
যথা- মধ্য পর্দা, প্রাথমিক প্রাচীর এবং গৌণ প্রাচীর। 

অন্যদিকে, 
- ছত্রাকের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি।  
- ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর প্রোটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে তৈরি। 
- শৈবাল এদের কোষ প্রাচীর সাধারণত সেলুলোজ ও পেকটিন দিয়ে গঠিত। 
- ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩.
নিচের কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
  1. পরিকল্পিত সেচ
  2. রাসায়নিক সার প্রয়োগ
  3. ভালোভাবে জমি কর্ষণ
  4. আগাছা পরিষ্কারকরণ
ব্যাখ্যা
• লবণাক্ত অঞ্চলে ফসল উৎপাদন কৌশল:
• সেচ ও পানি নিষ্কাশন:
- জমির চারপাশে আইল দিয়ে ভারী সেচ দিলে মাটির দ্রবণীয় লবণ চুঁইয়ে ফসলের মূলাঞ্চলের নিচে চলে যায়।
- আবার মূলাঞ্চলের নিচ বরাবর গভীরতায় যদি নিষ্কাশন নালা তৈরি করে জমির পানি বের করে দেওয়া যায় তাহলে মূলাঞ্চলের নিচের লবণও ধুয়ে জমির বাইরে চলে যায়।
- এ অবস্থায় মাটিতে জো আসার সাথে সাথে জমি চাষ দিয়ে ফসল বুনতে হবে। হালকা বুনটের মাটিতে এ পদ্ধতি বেশি কার্যকর।

এছাড়াও,
লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসলের চাষ, পানির বাষ্পীভবন হ্রাসকরণ, বপন পদ্ধতির পরিবর্তনের মাধ্যমে লবণাক্ততা কমানো সম্ভব।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি।
৫৪.
শয়তানের নিশ্বাস (ডেভিলস ব্রেথ) কোন উদ্ভিদের ফুল থেকে উৎপন্ন হয়?
  1. পাতা শ্যাওলা
  2. কাকডুমুর 
  3. আফিম 
  4. ধুতুরা
ব্যাখ্যা

শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ: 
- শয়তানের নিশ্বাস বা স্কোপোলামিন এক ধরনের ড্রাগ, যা ধুতুরা ফুল থেকে তৈরি করা হয়। 
- এটি মানুষকে সম্মোহিত বা বশ করে অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হয়। 
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটি ‘ট্রুথ সেরাম’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। 
- স্কোপোলামিন তরল ও পাউডার দুই রূপেই পাওয়া যায় এবং শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে দ্রুত কাজ করে। 
- অপরাধীরা এটি ব্যবহার করে ব্যক্তির মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেয়। 
- এটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা, অস্থিরতা, এমনকি হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। 
- নিরাপত্তার জন্য অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং সতর্ক থাকা জরুরি। 
- প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে এবং মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)।

৫৫.
Riccia উদ্ভিদের থ্যালাসের পৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য কী?
  1. বিষমপৃষ্ঠ
  2. গোলাকার
  3. একমুখী
  4. সমান পৃষ্ঠ
ব্যাখ্যা
Riccia উদ্ভিদ: 
- Riccia উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রজাতি বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই জন্মায়। 
- Riccia একটি বড় গণ। প্রায় ২০০ প্রজাতি নিয়ে এ গণ গঠিত। 
- Hepaticae শ্রেণীর সদস্যদেরকে লিভারওয়ার্ট বলা হয়। এদের দেহকে থ্যালাস বলা হয়। 
- থ্যালাসের আকৃতি মানুষের লিভারের ন্যায় তাই এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 
- এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে Riccia গণের ৪৫টি প্রজাতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। 
- নতুন প্রজাতিগুলোর মধ্যে রয়েছে R. bengalensis, R. dhakensis, R. chittagonensis ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

Riccia এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য: 
- এদের দেহ অর্থাৎ থ্যালাস মূল, কান্ড এবং পাতায় বিভক্ত নয়। 
- থ্যালাস সবুজ, শায়িত, চ্যাপ্টা এবং বিষমপৃষ্ঠ। 
- থ্যালাস দ্ব্যাগ্র শাখাবিশিষ্ট এবং মধ্য শিরাবিশিষ্ট। 
-  প্রতিটি শাখার শীর্ষদেশে খাঁজ বিদ্যমান থাকে। 
- থ্যালাসের নিচের পৃষ্ঠে দু'প্রকার এককোষী রাইজয়েড এবং বহুকোষী স্কেল (শল্ক) বিদ্যমান। 
- থ্যালাসটি অভ্যন্তরীণভাবে সালোকসংশ্লেষণ এবং সঞ্চয়ী অঞ্চলে বিভক্ত। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬.
ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য নয় কোনটি? 
  1. এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক।
  2. এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের।
  3. এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে।
  4. এদের মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়।
ব্যাখ্যা
ব্রায়োফাইটা: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের ফুল হয় না, এদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ব্রায়োফাইটা এবং টেরিডোফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদসমূহ হলো অপুষ্পক উদ্ভিদ। 

ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য: 
১) এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক (হ্যাপ্লয়েড) অর্থাৎ গ্যামিট উৎপাদনকারী। 
২) গ্যামোটোফাইট সবুজ, স্বভোজী, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। 
৩) এরা থ্যালয়েড হতে পারে অথবা দেহ রাইজয়েড, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪) দেহে মূল সৃষ্টি হয় না, মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়। 
৫) এদের দেহে কোন পরিবহন টিস্যু থাকে না। 
৬) জাইগোট হতে মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
৭) এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের, অর্থাৎ সচল ছোট শুক্রাণুর সাথে নিশ্চল বড় ডিম্বাণুর মিলন ঘটে। 
৮) জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৯) এদের স্পোরোফাইট সর্বদাই পুষ্টি ও আশ্রয়ের জন্য আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। 

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭.
প্রাণির নাম নিচের কোন সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত হবে?
  1. ICBN
  2. ICVN
  3. ICZN
  4. IVZN
ব্যাখ্যা
• জীবের নামকরণ (Nomenclature):
- সুইডিস বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস সর্বপ্রথম নামকরণের একটি প্রথা প্রবর্তন করেন এটি দ্বিপদ নামকরণ প্রথা (Binomial Nomenclature System) নামে পরিচিত।
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ করা হয়ে থাকে ICBN (International Code of Botanical Nomenclature) বর্তমানে ICN (International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants) -এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN (International Code on Zoological Nomenclature)- এর নীতিমালা অনুযায়ী।

 • নামকরণের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নীতিমালা নিম্নরূপ:
১. নামকরণের ভাষা হবে ল্যাটিন।
২. প্রতিটি জীব-প্রজাতির নামের দু'টি অংশ থাকবে, প্রথম অংশ হলো গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশ হলো প্রজাতিক পদ।
৩. একই দ্বিপদ নাম কোন দু'টি প্রজাতির জন্য প্রযোজ্য হবে না, একটি দ্বিপদ নাম কেবল মাত্র একটি প্রজাতির জন্যই সুনির্দিষ্ট।
৪. গণ নামের প্রথম অক্ষর বড় হাতের হবে, প্রজাতিক পদ ছোট অক্ষরে হবে ।
৫. ছাপানো হলে দ্বিপদ নাম ইটালিক বা মোটা অক্ষরে হবে। হাতে লিখলে দ্বিপদ নামের নিচে দু'অংশে দু'টি টানা দাগ দিতে হবে; যেমন- Homo sapiens বা Homo sapiens.
৬. দ্বিপদ নামের শেষে নাম প্রদানকারীর নাম উল্লেখ করতে হয়, যেমন- Mangifera indica L., L. হলো লিনিয়াসের সংক্ষিপ্ত রূপ। এ নামটি লিনিয়াস দিয়েছিলেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮.
কোন হরমোন উদ্ভিদের ভ্রূণমুকুলাবরণীর বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং আলোর প্রভাবের প্রতি উত্তেজনাবোধ সৃষ্টি করে?
  1. আভিলিন
  2. অক্সিন
  3. জিব্বেরেলিন
  4. সাইটোকিনিন
ব্যাখ্যা
অক্সিন: 
- চার্লস ডারউইন এ হরমোন প্রথম আবিষ্কার করেন। 
- তিনি উদ্ভিদের ভ্রূণমুকুলাবরণীর উপর আলোর প্রভাব লক্ষ্য করেন। 
- যখন আলো তীর্যকভাবে একদিকে লাগে তখন ভ্রূণমুকুলাবরণী আলোর উৎসের দিকে বাঁকা হয়ে বৃদ্ধি লাভ করে। 
- প্রকৃতপক্ষে ভ্রূণমুকুলাবরণীর অগ্রভাগে অবস্থিত রাসায়নিক পদার্থটি ছিল বৃদ্ধি সহায়ক হরমোন অক্সিন। 
- অক্সিন প্রয়োগে শাখা কলমে মূল গজায়, ফলের অকালে ঝরেপড়া রোধ হয়। 
অর্থাৎ, অক্সিন হরমোন উদ্ভিদের ভ্রূণমুকুলাবরণীর বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং আলোর প্রভাবের প্রতি উত্তেজনাবোধ সৃষ্টি করে। 

জিব্বেরেলিন: 
- চারাগাছ, বীজপত্র ও পত্রের বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে এদের দেখা যায়। 
- এর প্রভাবে উদ্ভিদের পর্বমধ্যগুলো দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায়। 
- এ জন্য খাটো উদ্ভিদে এ হরমোন প্রয়োগ করলে উদ্ভিদটি অন্যান্য সাধারণ উদ্ভিদ থেকেও অধিক লম্বা হয়। 
- বীজের সুপ্তাবস্থা কাটাতে এর কার্যকারিতা রয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৫৯.
তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. লাইকেন 
  2. পাইন 
  3. তেলাপাতা
  4. ফার্ন 
ব্যাখ্যা

বায়োম: 
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়। 
যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি । 
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। 
যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়। 

তুন্দ্রা বায়োম: 

- সব থেকে উত্তরের স্থল বায়োম হলো তুন্দ্রা। 
- বাৎসরিক বৃষ্টিপাত কখনও ১৫ সে.মি. বা তারও কম, যা তুষার হিসেবে পড়ে। 
- দীর্ঘ শীতের সময় এখানে বরফ জমা থাকে। 
- ছয় থেকে আট সপ্তাহের গ্রীষ্মকাল দেখা যায় যখন উপরের কিছু বরফ গলে যায় এবং ছোট ছোট জলাভূমির সৃষ্টি হয়। 
- এখানে সূর্যের আলো তির্যকভাবে পড়ে। 
- তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ মস ও লাইকেন। 
- এখানে বৃক্ষ প্রজাতি কম। 
- উঁচু পর্বতশৃঙ্গে এরূপ অঞ্চল আছে, যাকে আলপাইন তুন্দ্ৰা বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০.
লবণাক্ত পরিবেশের উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) কাণ্ড ও পাতা শুষ্ক প্রকৃতির
  2. খ) শীতকালে গাছের পাতা ঝরে যায়
  3. গ) উদ্ভিদের জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হয়
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
লবণাক্ত মাটিতে এবং জোয়ার-ভাটার স্থানে বীজ এক স্থানে টিকে থাকা কঠিন।
ফলে বহু উদ্ভিদে গাছে থাকা অবস্থায়ই বীজের অঙ্কুরোদগম আরম্ভ হয় এবং লম্বা ভ্রণমূল সৃষ্টি হয়। মূল একটু বড় ও ভারী হলে মাটিতে পড়ে এবং কিছুটা কাঁদা মাটিতে ঢুকে পড়ে ও স্থায়ী হয়। এ ধরনের অঙ্কুরোদগমকে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বলে।
সমুদ্রতীরবর্তী জোয়ার-ভাটার অঞ্চলের লবণাক্ত পরিবেশে জন্মানো উদ্ভিদসমূহকে ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ বলে।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১.
নিচের কোন উদ্ভিদটি পানির পাশাপাশি মাটিতেও জন্মায়? 
  1. শাপলা 
  2. হাইড্রিলা 
  3. ওড়িপানা 
  4. কলমি
ব্যাখ্যা

জলজ উদ্ভিদের জন্য পানির প্রয়োজনীয়তা: 
- কচুরিপানা, ক্ষুদিপানা, ওড়িপানা, সিংগারা, টোপাপানা, শাপলা, পদ্ম, শ্যাওলা, হাইড্রিলা, কলমি, হেলেঞ্চা, কেশরদাম ইত্যাদি নানা রকম জলজ উদ্ভিদ। এদের বেশির ভাগই পানিতে জন্মে এবং কিছু কিছু আছে (যেমন- কলমি, হেলেঞ্চা, কেশরদাম) যারা পানিতে আর মাটিতে দু'জায়গাতেই জন্মে। 
অর্থাৎ, পানি না থাকলে বেশির ভাগ জলজ উদ্ভিদ জন্মাতই না, কিছু কিছু হয়তো জন্মাত কিন্তু বাঁচতে পারত না কিংবা বেঁচে থাকলেও বেড়ে উঠতে পারত না। 
- তখন পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটত, কারণ এই জলজ উদ্ভিদগুলো একদিকে যেমন সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে অক্সিজেন তৈরি করে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখে, অন্যদিকে এদের অনেকগুলো বিশেষ করে শ্যাওলাজাতীয় জলজ উদ্ভিদগুলো জলজ প্রাণীদের খাদ্যভান্ডার হিসেবে কাজ করে। 

- এসব জলজ উদ্ভিদ না থাকলে মাছসহ অনেক জলজ প্রাণী বাঁচতেই পারত না, যেটি পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হতো। যে উদ্ভিদগুলো সাধারণত মূলের মাধ্যমে পানি আর অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করে। 
- কিন্তু জলজ উদ্ভিদগুলো সারা দেহের মাধ্যমেই পানিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান বিশেষ করে খনিজ লবণ সংগ্রহ করে থাকে। তাই এদের পুরো দেহ পানির সংস্পর্শে না এলে এদের বেড়ে ওঠাই হতো না। 
- জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড আর অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খুব নরম হয়, যেটা পানির স্রোত আর জলজ প্রাণীর চলাচলের সঙ্গে মানানসই। 
- পানি ছাড়া শুকনো মাটিতে এদের জন্ম হলে এরা ভেঙে পড়ত এবং বেড়ে উঠতে পারত না, এমনকি বাঁচতেও পারত না। 
- পরিবেশের সঙ্গে লড়াইয়ে টিকে থাকতে গিয়ে লক্ষ কোটি বছরের প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা এসব উদ্ভিদ উল্লিখিত বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। 
- জলজ উদ্ভিদগুলো সাধারণত অঙ্গজ উপায়ে বংশবিস্তার করে, পানি না থাকলে এই বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হতো। 
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য জলজ উদ্ভিদগুলোর জন্ম খুবই জরুরি এবং তাদের বেড়ে উঠার জন্য পানির ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬২.
নিচের কোনটি দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ?
  1. মটর
  2. নারকেল
  3. ভুট্টা
  4. তাল
ব্যাখ্যা
• একবীজপত্রী উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদের বীজে একটিমাত্র বীজপত্র থাকে তাকে একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে।
- যেমন: ধান, সুপারি, গম, ভুট্টা, তাল, নারকেল এসব একবীজপত্রী উদ্ভিদ।

• দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ :
- যেসব উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে, তাদের দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে ।
- যেমন - আম, জাম, কাঁঠাল, মটর, ছোলা, রেড়ি, পাট ইত্যাদি দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ।

দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য:
১. বীজে বীজপত্র দুইটি;
২. মূল প্রধান মূল; 
৩. পাতার শিরাবিন্যাস সাধারণত জালিকাকার। 

উৎস: পরিবেশ শিক্ষা- বিজ্ঞান,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩.
প্রোটোপ্লাজমে নিচের কোন অঙ্গাণুটি দেখা যায়-
  1. কোষঝিল্লি
  2. নিউক্লিয়াস
  3. সাইটোপ্লাজম
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- প্রতিটি জীবদেহ এক বা একাধিক কোষ দিয়ে গঠিত হয়।
- একটি আদর্শ উদ্ভিদ কোষ প্রধানত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত।
যথা- কোষপ্রাচীর এবং প্রোটোপ্লাজম।

১) কোষপ্রাচীর: 
- উদ্ভিদকোষের ক্ষেত্রে কোষঝিল্লির বাইরে জড় পদার্থ দিয়ে তৈরি একটি পুরু প্রাচীর থাকে, একে কোষপ্রাচীর বলে। 
- এটি সেলুলোজ দ্বারা গঠিত। 
- প্রাণিকোষে এ ধরনের প্রাচীর থাকে না, প্রাণিকোষের আবরণটি প্লাজমা পর্দা দ্বারা গঠিত। 
- কোষের সজীব অংশকে রক্ষা করা এবং কোষের সীমারেখা নির্দেশ করা কোষপ্রাচীরের প্রধান কাজ। 

২) প্রোটোপ্লাজম: 
- একটি প্রোটোপ্লাজম প্রধানত কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস সমন্বয়ে গঠিত। 
- প্রোটোপ্লাজম কোষের অর্ধতরল, জেলির মতো আঠালো ও দানাদার বর্ণহীন সজীব অংশ। 
- প্রোটোপ্লাজমের নানাবিধ বিক্রিয়ার ফলে জীবনের বৈশিষ্ট্যগুলো পরিলক্ষিত হয়। 
- এটি বিভিন্ন জৈব ও অজৈব যৌগ সমন্বয়ে গঠিত। 
- প্রোটোপ্লাজমে পানির পরিমাণ সাধারণত শতকরা ৬৭ থেকে ৯০ ভাগ। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৬৪.
ক্রোমোপ্লাস্টে নিচের কোন রঞ্জকটি থাকে না? 
  1. জ্যান্থফিল 
  2. ক্যারোটিন 
  3. ক্লোরোফিল 
  4. ফাইকোএরিথ্রিন 
ব্যাখ্যা

- ক্রোমোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল রঞ্জকটি থাকে না। 

প্লাস্টিড (Plastid): 
- বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল 1866 সালে উদ্ভিদ কোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু প্লাস্টিড আবিষ্কার করেন। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট। 

১। ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা (grana) অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে (stroma) অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এই প্লাস্টিডে ক্লোরোফিল থাকে, তাই এদের সবুজ দেখায়। এছাড়া এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

২। ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast): 
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএরিথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। 
- রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast): 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রুণ, জননকোষ ইত্যাদি) সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৫.
Cycas-এর পাতায় বিশেষ কোন টিস্যু পাওয়া যায়?
  1. কোলেনকাইমা টিস্যু
  2. প্যারেনকাইমা টিস্যু 
  3. ট্রান্সফিউশন টিস্যু 
  4. এয়ারেনকাইমা টিস্যু
ব্যাখ্যা

নগ্নবীজী উদ্ভিদ বা জিমনোস্পার্ম (Gymnosperms): 
- বীজ উৎপাদনকারী ভাস্কুলার উদ্ভিদ গোষ্ঠীকে বলা হয় সবীজ উদ্ভিদ বা স্পার্মাটোফাইটা (Spermatophyta)। 
- এ গোষ্ঠীটি দুটি উপগোষ্ঠীতে বিভক্ত। যথা- ব্যক্তবীজী বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ (Gymnosperms) এবং গুপ্তবীজী বা আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperms)। 
- Gymnosperm উদ্ভিদের বাংলা প্রতিশব্দ করা হয়েছে নগ্নবীজী উদ্ভিদ। 
- গ্রিক Gymnos অর্থ হলো naked = নগ্ন এবং spermos অর্থ হলো seed = বীজ। 
- জিমনোস্পার্ম শব্দের অর্থ হলো naked seed বা নগ্নবীজী। 
- উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক থিওফ্রাস্টাস তাঁর Enquiry into Plants নামক গ্রন্থে সর্বপ্রথম Gymnosperm শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- যেসব সবীজী উদ্ভিদে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না এবং বীজ নগ্ন অবস্থায় জন্মে তাদেরকে নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলে। 
- বাংলাদেশে প্রায় ৪০০০ প্রজাতির আবৃতবীজী উদ্ভিদ থাকলেও মাত্র কয়েক প্রজাতির নগ্নবীজী উদ্ভিদ প্রাকৃতিকভাবে জন্মে থাকে। 
যেমন- Cycas pectinata যা চট্টগ্রামের বাড়িয়াডালা পাহাড়ি এলাকায় পাওয়া যায়; 

Cycas (সাইকাস): 
- Cycas উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য- 
১। Cycas উদ্ভিদ স্পোরোফাইট। দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
২। উদ্ভিদ খাড়া পাম জাতীয়। 
৩। পাতা বৃহৎ, পক্ষল যৌগিক, কাণ্ডের মাথার দিকে সর্পিলাকারে সজ্জিত। 
৪। কচি পাতার ভার্নেশন সারসিনেট (কুগুলিত)। 
৫। Cycas-এর পাতায় ট্রান্সফিউশন টিস্যু বিদ্যমান। 
৬। গৌন অস্থানিক কোরালয়েড মূল বিদ্যমান। 
৭। গর্ভাশয় না থাকায় এদের ফল সৃষ্টি হয় না, বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
৮। পুংরেণুপত্রগুলো একত্রিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে কিন্তু স্ত্রীরেণুপত্র সত্যিকার স্ট্রোবিলাস গঠন করে না। 
১। হেটারোস্পোরিক অর্থাৎ যৌন জননে মেগা ও মাইক্রোস্পোর সৃষ্টি হয়। 
১০। Cycas উদ্ভিদে বাতাসের মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটে। 
১১। Cycas-এর শুক্রাণু উদ্ভিদকূলে সর্ববৃহৎ, লাটিমের মতো, সচল ও বহু ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৬৬.
নিচের কোনটি প্রাণীর শ্রেণীবিন্যাসের সর্বোচ্চ স্তর?
  1. গণ
  2. বর্গ
  3. রাজ্য
  4. প্রজাতি
ব্যাখ্যা
• প্রাণীর শ্রেণীবিন্যাস (Biological Classification) একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, যার মাধ্যমে প্রাণীদের বিভিন্ন ভাগে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
- শ্রেণীবিন্যাসে স্তরগুলো বড় থেকে ছোট ক্রমে সাজানো হয়।

• শ্রেণীবিন্যাসের স্তরসমূহ (Hierarchy of Classification):
রাজ্য (Kingdom) 
      ↓
পর্ব (Phylum) 
      ↓
বর্গ (Class) 
      ↓
গণ (Order)
      ↓
জাতি (Family)
      ↓
গণ (Genus)
      ↓
প্রজাতি (Species) 

শ্রেণীবিন্যাসের স্তর থেকে দেখা যায় যে এর সর্বোচ্চ স্তর হলো রাজ্য ও সর্বনিম্ন স্তর হলো প্রজাতি। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
৬৭.
নগ্নবীজী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য নয়-
  1. বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে
  2. গর্ভাশয় থাকে
  3. ফল উৎপন্ন হয় না
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
নগ্নবীজী উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদের বীজ সরাসরি উদ্ভিদের অক্ষে জন্মে এবং কোন ফল উৎপন্ন হয় না, এদেরকে জিমনোস্পার্মি (Gymnospermeae) বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলা হয়। 
- এদের গর্ভাশয় থাকে না তাই ফল হয় না। বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু বৃক্ষ (Sequoia gigantea ) এ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। 
- যেমন- Cycas, Pimus, Gnetum ইত্যাদি হলো উল্লেখযোগ্য নগ্নবীজী উদ্ভিদ। 

আবৃতবীজী উদ্ভিদ: 
- যে সকল উদ্ভিদের ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় এবং ফলের বীজ নির্দিষ্ট আবরণ দিয়ে আবৃত অবস্থায় থাকে তাকে আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperm) বলে। 
- আজ থেকে প্রায় ১২০ মিলিয়ন বছর পূর্বে Cretaceous যুগের প্রথম দিকে আবৃতবীজী উদ্ভিদের উদ্ভব হয়েছিল বলে ধরে নেয়া হয়। 
- Cretaceous যুগের শেষের দিকেই (আজ থেকে ৮০ মিলিয়ন বছর পূর্বে) পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চলে আবৃতবীজী উদ্ভিদ প্রাধান্য বিস্তার লাভ করে ফেলে। 
- বর্তমানে আবৃতবীজী উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষ ধারণা করা হয়। 
- এরা পানিতে, সিক্ত মাটিতে, মরুভূমিতে, পাথুরে পাহাড়ি অঞ্চলে এমনকি পরাশ্রয়ী ও পরভোজী হিসেবে অন্য উদ্ভিদের উপর জন্মায়। 

• নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ এর  বৈশিষ্ট্য:

• নগ্নবীজী উদ্ভিদ:

- গর্ভাশয় থাকে না;
- ফল উৎপন্ন হয় না;
- বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে।

• আবৃতবীজী উদ্ভিদ:
- গর্ভাশয় থাকে;
- ফল উৎপন্ন হয়;
- বীজ ফলের ভেতরে থাকে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮.
ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ কী?
  1. খাদ্য প্রস্তুত করা
  2. খাদ্য সঞ্চয় করা
  3. উদ্ভিদকে রঙিন ও আকর্ষণীয় করা 
  4. ক্লোরোফিল উৎপাদন করা
ব্যাখ্যা

- ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ হচ্ছে ফুল, ফল এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশকে ক্লোরোফিল (সবুজ রঙ) ব্যতীত অন্যান্য উজ্জ্বল রঙ (যেমন- হলুদ, কমলা, লাল) প্রদান করা। এই রঙিন বৈশিষ্ট্য প্রাণী ও পোকামাকড়কে আকর্ষণ করে, যা পরাগায়ন এবং বীজের বিস্তারে সহায়তা করে। 

প্লাস্টিড (Plastid): 
- বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল 1866 সালে উদ্ভিদ কোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু প্লাস্টিড আবিষ্কার করেন। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- 
১। ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা (grana) অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে (stroma) অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এই প্লাস্টিডে ক্লোরোফিল থাকে, তাই এদের সবুজ দেখায়। এছাড়া এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

২। ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast): 
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএরিথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ। এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast): 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রুণ, জননকোষ ইত্যাদি) সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৯.
কোনটি ঋণাত্মক আন্তঃক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) শোষণ
  2. খ) প্রতিযোগিতা
  3. গ) অ্যান্টিবায়োসিস
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

ঋনাত্মক আন্তঃক্রিয়া : যে আন্তঃসম্পর্কে দুটি জীবের একটি অথবা উভয়েই ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাকে ঋনাত্মক আন্তঃক্রিয়া বলে।
ঋনাত্মক আন্তঃক্রিয়াকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন- শোষণ, প্রতিযোগিতা, অ্যান্টিবায়োসিস।

শোষণ : এক্ষেত্রে একটি জীব অন্য জীবকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে নিজের অধিকার ভোগ করে।
যেমন- স্বর্ণলতা উদ্ভিদ হস্টোরিয়া নামক চোষক অঙ্গের মাধ্যমে আশ্রয়দাতা উদ্ভিদ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে।

প্রতিযোগিতা : কোন নির্দিষ্ট স্থানে আলো, বাতাস, পানি ও খাদ্যের জন্য জীবসমূহের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। এ প্রতিযোগিতায় যারা সবল তারাই টিকে থাকে।

অ্যান্টিবায়োসিস : একটি জীব কর্তৃক সৃষ্ট জৈব রাসায়নিক পদার্থের কারণে যদি অন্য জীবের বৃদ্ধি ও বিকাশ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে বাধাগ্রস্থ হয় অথবা মৃত্যু ঘটে তখন সে প্রক্রিয়াকে অ্যান্টিবায়োসিস বলে। অণুজীবের মধ্যে এ ধরনের সম্পর্ক অনেক বেশি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭০.
বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে মৎস্য চাষ পদ্ধতিকে কী বলে?
  1. এপিকালচার
  2. সেরিকালচার
  3. পিসিকালচার
  4. হর্টিকালচার
ব্যাখ্যা

পিসিকালচার (Pisciculture):
- বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে মৎস্য চাষ তথা মৎস্য পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।
- মাছ ছাড়াও বিভিন্ন শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া ইত্যাদি অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পন্ন প্রাণীদের চাষ পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।

অন্যান্য অপসনসমূহ, 
এপিকালচার (Apiculture) — মৌমাছি পালন।
সেরিকালচার (Sericulture) — রেশম উৎপাদনের জন্য রেশমকীট পালন।
হর্টিকালচার (Horticulture) — ফল, ফুল, শাকসবজির চাষ।

তথ্যসূত্র - কৃষিশিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

৭১.
ইকোলজিক্যাল পিরামিডের সর্বনিম্ন স্তরে থাকে-
  1. প্রাইমারি খাদক
  2. টারশিয়ারি খাদক
  3. উৎপাদক
  4. সর্বোচ্চ খাদক
ব্যাখ্যা
ইকোলজিক্যাল পিরামিড : বিভিন্ন ইকোসিস্টেমের খাদ্য শৃঙ্খলের বিন্যাস সম্পর্কিত পিরামিড আকৃতির নকশাকে ইকোলজিক্যাল পিরামিড বলে।
সাধারণত একটি ইকোসিস্টেমে উৎপাদকের তুলনায় প্রাথমিক খাদকের সংখ্যা কম থাকে। আবার প্রাথমিক খাদকের তুলনায় সেকেন্ডারি খাদকের সংখ্যা কম থাকে। সেকেন্ডারি খাদকের তুলনায় টারসিয়ারি খাদকের সংখ্যা আরও কম থাকে।
খাদ্য স্তরগুলোর মধ্যকার এরূপ সম্পর্ক নিয়ে নকশা আঁকলে একটি পিরামিডের ন্যায় চিত্র পাওয়া যাবে।



সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২.
কোন উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না?
  1. টেরিস
  2. ব্রায়াম
  3. এগারিকাস
  4. স্পাইরোগাইরা
ব্যাখ্যা
অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ন ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
১। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এসব উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
- এদের মধ্যে যাদের ক্লোরোফিল আছে, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে তারা শৈবাল। 
যেমন: স্পাইরোগাইরা। 
- আর যাদের দেহে ক্লোরোফিল নেই, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, তারা ছত্রাক। 
যেমন: এগারিকাস। 

২। মসবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এদের দেহ কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। 
- কিন্তু এদের মূল নেই, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে। 
- সাধারণত এরা পুরানো ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে জন্মায়। 
যেমন: ব্রায়াম। 

৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- এদের দেহে পরিবহণ টিস্যু রয়েছে ও কচি পাতাগুলো কুণ্ডলীত থাকে। 
- বাড়ির পাশে স্যাতস্যাতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এদের জন্মাতে দেখা যায়। 
যেমন: টেরিস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৭৩.
ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন কে?
  1. রবার্ট হুক
  2. অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হুক
  3. এডওয়ার্ড ডোনার
  4. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া: 
- ব্যাকটেরিয়া হলো আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব। 
- ১৬৭৫ সালে ওলন্দাজ বিজ্ঞানী এন্টনি ভন লিউয়েন হুক ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন।
- তাকে ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়।
- ব্যাকটেরিয়া কোষ গোলাকার, দণ্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে। 

• কোষের আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়াকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- 
(১) কক্কাস,
(২) ব্যাসিলাস,
(৩) স্পাইরিলাম এবং
(৪) কমা আকৃতি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

৭৪.
কোন ধরনের মাটি চাষাবাদের জন্য খুবই উপযোগী?
  1. ক) পলিমাটি
  2. খ) কাদামাটি
  3. গ) বালু মাটি
  4. ঘ) দোআঁশ মাটি
ব্যাখ্যা
দো-আঁশ মাটি এই মাটি বালু, পলি আর কাদা মাটির সমন্বয়েই তৈরি হয়। দো-আঁশ মাটিতে থাকা বালু, পলি আর কাদা মাটির অনুপাতের উপর নির্ভর করে দো-আঁশ মাটির ধরন কেমন হবে।
দো-আঁশ মাটির একদিকে যেমন পানি ধারণক্ষমতা ভালাে আবার প্রয়ােজনের সময় পানি দ্রুত নিষ্কাশনও হতে পারে। তাই ফসল চাষাবাদের জন্য দো-আঁশ মাটি খুবই উপযােগী।
উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান।
৭৫.
কোন উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না? 
  1. টেরিস
  2. নারিকেল
  3. ব্রায়াম
  4. স্পাইরোগাইরা
ব্যাখ্যা

- 'স্পাইরোগাইরা' উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 

- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ন ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- 
১। মসবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এদের দেহ কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। 
- কিন্তু মসবর্গীয় উদ্ভিদের মূল নেই, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে। 
- সাধারণত এরা পুরানো ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে জন্মায়। 
যেমন: ব্রায়াম। 

২। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এসব উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
- এদের মধ্যে যাদের ক্লোরোফিল আছে, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে, তারা শৈবাল। 
যেমন: স্পাইরোগাইরা। 
- আর যাদের দেহে ক্লোরোফিল নেই, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, তারা ছত্রাক। 
যেমন: এগারিকাস। 

৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- এদের দেহে পরিবহণ টিস্যু রয়েছে ও কচি পাতাগুলো কুণ্ডলীত থাকে। 
- বাড়ির পাশে স্যাতস্যাতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এদের জন্মাতে দেখা যায়। 
যেমন: টেরিস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৭৬.
শৈবাল কোন শ্রেণীর উদ্ভিদ?
  1. মসবর্গীয়
  2. সপুষ্পক
  3. সমাঙ্গবর্গীয়
  4.  ফার্নবর্গীয়
ব্যাখ্যা

- শৈবাল হলো ক্লোরোফিলযুক্ত সরল, থ্যালাস (সমাঙ্গদেহী) জাতীয় গঠনবিশিষ্ট স্বভোজী এবং প্রধানত জলজ জীবগোষ্ঠী। এদের দেহকে মূল, কাণ্ড, পাতা বা শাখাপ্রশাখায় বিভক্ত করা যায় না, তাই এদের সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদ বলা হয়। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 

- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ন ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- 
১। মসবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এদের দেহ কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। কিন্তু মসবর্গীয় উদ্ভিদের মূল নেই, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে। 
- সাধারণত এরা পুরানো ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে জন্মায়। 
যেমন: ব্রায়াম। 

২। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এসব উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। এদের মধ্যে যাদের ক্লোরোফিল আছে, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে, তারা শৈবাল। 
যেমন: স্পাইরোগাইরা। 
- আর যাদের দেহে ক্লোরোফিল নেই, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, তারা ছত্রাক। 
যেমন: এগারিকাস। 

৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। এদের দেহে পরিবহণ টিস্যু রয়েছে ও কচি পাতাগুলো কুণ্ডলীত থাকে। 
- বাড়ির পাশে স্যাতস্যাতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এদের জন্মাতে দেখা যায়। 
যেমন: টেরিস। 

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, কাঁঠাল, ধান, নারিকেল ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতা বিভক্ত। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৭৭.
উদ্ভিদের কোষ প্রাচীর কী দিয়ে গঠিত? 
  1. কাইটিন 
  2. লিগনিন 
  3. পেকটিন 
  4. সেলুলোজ 
ব্যাখ্যা
সেলুলোজ: 
- উদ্ভিদের কোষ প্রাচীর সেলুলোজ দিয়ে গঠিত
- অসংখ্য β-D গ্লুকোজ অণু পরস্পর β-১-৪ কার্বন বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সেলুলোজ গঠন করে।
- উদ্ভিদের অবকাঠামো নির্মাণে সেলুলোজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- উদ্ভিদদেহে যেহেতু কোন কঙ্কাল নেই সেহেতু উদ্ভিদের ভার বহনের দায়িত্ব পালন করে সেলুলোজ।
- সেলুলোজের পরিমাণ তুলায় ৯৪%, লিনেনে ৯০% এবং কাঠে ৬০%।
- সেলুলোজকে ঘন H2SO4 বা HCI বা NaOH দ্বারা হাইড্রোলাইসিস করে গগ্লুকোজে পরিণত করা যায়।
- মানুষের পাকস্থলি বা অন্ত্রে সেলুলেজ এনজাইম না থাকায় সেলুলোজ জাতীয় পদার্থ হজম হয় না অর্থাৎ পুষ্টিতে কোন কাজে আসে না। তবে সেলুলোজ গরু-ছাগলে পুষ্টি হিসেবেও কাজ করতে পারে।
- বস্ত্র ও বন শিল্পে প্রধান উপাদান সেলুলোজ, তাই মানব সভ্যতায় এর অবদান অপরিসীম।
- সেলুলোজের কাজ- উদ্ভিদের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে। 

সেলুলোজের ব্যবহার: 
- কাগজ ও বস্ত্র শিল্প: সেলুলোজ কাগজ ও বস্ত্র শিল্পের প্রধান উপাদান।​ 
- অ্যাসিটেট ফটোগ্রাফিক ফিল্ম: সেলুলোজ অ্যাসিটেট ফটোগ্রাফিক ফিল্ম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।​ 
- নাইট্রেট বিস্ফোরক: সেলুলোজ নাইট্রেট করে বিস্ফোরক পদার্থ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যেমন স্মোকলেস পাউডার।​ 
- আসবাবপত্র ও নির্মাণ সামগ্রী: সেলুলোজের ডেরিভেটিভস, যেমন সেলুলোজ অ্যাসিটেট, আসবাবপত্র ও নির্মাণ সামগ্রীর লেপন ও প্রলেপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।​ 
- কাঠখেকো কীটপতঙ্গ: কাঠখেকো কীটপতঙ্গের পুষ্টিনালিতে বসবাসকারী পরজীবী মাইক্রোঅর্গানিজমগুলি সেলুলোজ নামক উৎসেচক নিঃসৃত করে কাঠ হজমে সাহায্য করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮.
কোন উদ্ভিদের মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে? 
  1. মস
  2. টেরিস
  3. স্পাইরোগাইরা
  4. এগারিকাস
ব্যাখ্যা

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ন ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
১। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এসব উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
- এদের মধ্যে যাদের ক্লোরোফিল আছে, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে, তারা শৈবাল। 
যেমন: স্পাইরোগাইরা। 
- আর যাদের দেহে ক্লোরোফিল নেই, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, তারা ছত্রাক। 
যেমন: এগারিকাস। 

২। মসবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এদের দেহ কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। কিন্তু মসবর্গীয় উদ্ভিদের মূল নেই, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে। 
- সাধারণত এরা পুরানো ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে জন্মায়। 
যেমন: ব্রায়াম। 

৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- এদের দেহে পরিবহণ টিস্যু রয়েছে ও কচি পাতাগুলো কুণ্ডলীত থাকে। 
- বাড়ির পাশে স্যাতস্যাতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এদের জন্মাতে দেখা যায়। 
যেমন: টেরিস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৭৯.
Flora বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) উদ্ভিদকূলকে
  2. খ) প্রাণীকুলকে
  3. গ) পক্ষিকুলকে
  4. ঘ) মৎস্যকুলকে
ব্যাখ্যা

- প্রাণিকুল (ইংরেজি: fauna) বলতে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা সময়ে প্রাকৃতিকভাবে জীবিত প্রাণি এবং তাদের জীবনকে বোঝায়।
- উদ্ভিদের জন্য সংশ্লিষ্ট শব্দটি হলো উদ্ভিদকুল (flora)।
- উদ্ভিদকুল, প্রাণিকুল এবং জীবনের অন্যান্য রূপ যেমন ছত্রাককে সম্মিলিতভাবে জীবন হিসাবে উল্লেখ করা হয়।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান

৮০.
নিচের কোনটি ফাইটোহরমোনের উদাহরণ?
  1. লিগনিন
  2. অক্সিন
  3. ক্লোরোফিল
  4. কার্বোহাইড্রেট
ব্যাখ্যা

ফাইটোহরমোন: 
- যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন বা প্রাণরস বলে। 
- উদ্ভিদ হরমোনকে ফাইটোহরমোন (Phytohormones) বলা হয়, কেউ কেউ ফাইটোহরমোনকে উদ্ভিদ বৃদ্ধিকারক বস্তু (Plant growth substances) হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। 
- অধিকাংশ বিজ্ঞানীদের মতে, যে রাসায়নিক বস্তুটি কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষ বা কোষপুঞ্জের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে, সেটাই হচ্ছে হরমোন (Hormone)। 
- উদ্ভিদের প্রতিটি কোষই হরমোন উৎপন্ন করতে পারে। 
- এরা কোনো পুষ্টিদ্রব্য নয় তবে ক্ষুদ্রমাত্রায় উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
যেমন: অক্সিন (Auxin), জিবেরেলিন (Gibberellin), সাইটোকাইনিন (Cytokinin), অ্যাবসিসিক এসিড (Abscisic acid), ইথিলিন (Ethylene) ইত্যাদি। 

- এসব হরমোন ছাড়াও উদ্ভিদে আরও কিছু হরমোন রয়েছে, যাদের আলাদা করা বা শনাক্ত করা যায়নি, এদের পসটুলেটেড হরমোন (Postulated hormones) বলে। এরা প্রধানত উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায্য করে, যেমন- ফ্লোরিজেন (Florigen) এবং ভার্নালিন (Vernalin) প্রধান। 
- ধারণা করা হয়, ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে। তাই দেখা যায়, ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮১.
ক্লোরোপ্লাস্টে কোন ধরনের রঞ্জক থাকে?
  1. জ্যান্থফিল
  2. ফাইকোএরিথ্রিন
  3. ফাইকোসায়ানিন
  4. ক্যারোটিনয়েড
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- 
১। ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভেতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

২। ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- ক্রোমোপ্লাস্টগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটিকে হলুদ, কোনটিকে নীল আবার কোনটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮২.
নিচের কোন উদ্ভিদটি জীবন্ত জীবাশ্ম? 
  1. Cycus
  2. Netum
  3. Genetum
  4. Royal Plam
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- বর্তমান কালের কোন জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোন জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বা জীবন্ত ফসিল বলা হয়। 
যেমন- সাইকাস (Cycus)। 

Cycas কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ: 
- এটি Cycadales বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ। 
- প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে Cycadales বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপি বিস্তৃত ছিল। 
- এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত, ফলে এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে। 
- এ বর্গের Cycas সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে। 
- এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদিকালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাড্স এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির। 
- এজন্যই Cycas সহ বর্তমানকালের সকল সাইকাড্সকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 
- Cycadales বর্গের সদস্যদেরকে সাইকাড্স বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩.
নিচের কোনটি বর্ণাধার নামে পরিচিত?
  1. ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. খ) প্লাস্টিড
  3. গ) কোষগহ্বর
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা

প্লাস্টিড উদ্ভিদকোষের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সাধারণত প্রাণিকোষে প্লাস্টিড থাকে না। প্লাস্টিডকে বলা হয় বর্ণাধার। পাতা, ফুল বা ফলের যে বিচিত্র রঙ দেখা যায়, তা সবই এই প্লাস্টিডের কারণে। সবুজ প্লাস্টিড প্রধানত খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে। বর্ণহীন প্লাস্টিড খাদ্য সঞ্চয় করে। 

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, ষষ্ঠ শ্রেণি 

৮৪.
কোনটি টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের উদাহরণ নয়?
  1. Lycopodium
  2. Pteris
  3. Equisetum
  4. Cycas
ব্যাখ্যা
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের উদাহরণ নয়- Cycas (সাইকাস), এটি হলো জিমনোস্পার্ম উদ্ভিদ। 

টেরিডোফাইটা: 

- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। 
- এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। 
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ থেকে ৪১ গোত্রের ১৯৫ প্রজাতির টেরিডোফাইট নথিভুক্ত করা হয়েছে। 
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- Pteris, Psilotum, Lycopodium, Equisetum ইত্যাদি। 

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক। 
২। এরা অবীজী উদ্ভিদ। 
৩। দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
৫। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৬। গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে। 
৭। পুংগ্যামিটোফাইট সচল এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৮। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট নিশ্চল এবং আর্কিগোনিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৯। ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
১০। অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়। 
১১। এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান। 
১২। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট হেটারোমরফিক জনুক্রম বিদ্যমান। 
১৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পোরোফিল ঘন সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫.
সাম্প্রতিক কালে বহুল আলোচিত পিঁয়াজের বৈজ্ঞানিক নাম-
  1. ক) Oryza sativa
  2. খ) Allium cepa
  3. গ) Apis indica
  4. ঘ) Corchorus capsularis
ব্যাখ্যা
Oryza sativa- ধান
Apis indica-মৌমাছি
Corchorus capsularis- পাট।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৬.
জলজ উদ্ভিদে বড় বায়ুকুঠুরি সম্বলিত প্যারেনকাইমাকে কী বলে?
  1. Aerochyma
  2. Aquenchyma
  3. Alveolchyma
  4. Aerenchyma
ব্যাখ্যা
সরল টিস্যু (Simple tissue): 
- যে স্থায়ী টিস্যুর প্রতিটি কোষ আকার, আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে অভিন্ন, তাকে সরল টিস্যু বলে। 
- কোষের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। প্যারেনকাইমা, 
২। কোলেনকাইমা এবং 
৩। স্ক্লেরেনকাইমা। 

প্যারেনকাইমা (Parenchyma): 
- উদ্ভিদদেহের সব অংশে এদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। 
- এ টিস্যুর কোষগুলো জীবিত, সমব্যাসীয়, পাতলা প্রাচীরযুক্ত এবং প্রোটোপ্লাজম দিয়ে পূর্ণ। 
- এই টিস্যুতে আন্তঃকোষীয় ফাঁক দেখা যায়। 
- কোষপ্রাচীর পাতলা এবং সেলুলোজ দিয়ে তৈরি হয়। 
- এসব কোষে যখন ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, তখন তাকে ক্লোরেনকাইমা (Chlorenchyma) বলে। 
- জলজ উদ্ভিদের বড় বড় বায়ুকুঠুরিযুক্ত প্যারেনকাইমাকে অ্যারেনকাইমা (Aerenchyma) বলে। 
- প্যারেনকাইমা টিস্যুর প্রধান কাজ দেহ গঠন করা, খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং খাদ্যদ্রব্য পরিবহন করা। 

উল্লেখ্য,
- Aerochyma, Aquenchyma, Alveolchyma - বলতে কোনো বৈজ্ঞানিক টার্ম নেই।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৭.
ক্রোমোপ্লাস্টে কোনটির আধিক্য থাকে?
  1. ক্লোরোফিল
  2. লিউকোপ্লাস্ট
  3. লাইকোপিন
  4. ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল
ব্যাখ্যা
ক্রোমোপ্লাস্ট- সবুজ ছাড়া অন্যান্য বর্ণ যেমন- লাল, হলুদ ইত্যাদি বহনকারী প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলা হয়।
ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল বেশি পরিমাণে এবং ক্লোরোফিল অল্প পরিমাণে থাকে। ফুলের পাপড়িতে ও ফলে
ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে। এজন্য ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায়। ফুলের বিভিন্ন বর্ণের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন পতঙ্গ ও পাখি
পরাগায়নে এবং বংশবিস্তারে সাহায্য করে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৮৮.
মাশরুম এক ধরণের-
  1. অপুষ্পক উদ্ভিদ
  2. ফাঙ্গাস
  3. স্ব-জীবী উদ্ভিদ
  4. অর্কিড
ব্যাখ্যা
- ফাংগাস বহুবচনে ফানজাই, একটি ল্যাটিন শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ ‘মাশরুম' বা ব্যাঙের ছাতা সদৃশ বস্তু।
- ফানজাই বা ছত্রাক এমন একটি উদ্ভিদ গোষ্ঠী যারা বিভিন্ন পরিবেশে মৃতজীবী অথবা পরজীবী হিসেবে বসবাস করে এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে নানা ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। 
- এদের সকলেই আমাদের আর্থিক ক্ষতি সাধন করে না, অনেক ছত্রাক আমাদের প্রভূত উপকার করে থাকে।
- এরা এককোষী সরলতম গঠন থেকে শুরু করে বহু-কোষী জটিল দেহের অধিকারী।
-  উদ্ভিদ বিজ্ঞানের যে শাখায় ছত্রাক সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা ও গবেষণা করা হয় তাকে ছত্রাক বিজ্ঞান বা মাইকোলজি (Mycology গ্রীক শব্দ, mykes অর্থ ছত্রাক এবং logos অর্থ জ্ঞান) বলে।
 
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত  বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯.
কোন পদার্থ উদ্ভিদদেহে কলয়েডধর্মী পদার্থ হিসেবে বিদ্যমান? 
  1. শর্করা
  2. স্টার্চ
  3. হিমোগ্লোবিন
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
ইমবাইবিশন: 
- অধিকাংশ কলয়েডধর্মী পদার্থই পানিগ্রাহী। 
- উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন ধরনের কলয়েডধর্মী পদার্থ বিদ্যমান। 
যথা- স্টার্চ, সেলুলোজ, জিলেটিন ইত্যাদি। 
- এসব পদার্থ তাদের কলয়েডধর্মী গুণের জন্যই পানি শোষণ করতে সক্ষম। 
- কলয়েডধর্মী বিভিন্ন পদার্থ (উদ্ভিদের ক্ষেত্রে কোষপ্রাচীর) যে প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের তরল পদার্থ (উদ্ভিদের ক্ষেত্রে পানি) শোষণ করে, তাকে ইমবাইবিশন বলে। 
- আর শোষণকারী পদার্থটিকে হাইড্রোফিলিক পদার্থ বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৯০.
নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে গোলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট কোথায় পাওয়া যায়?
  1. Chlamydomonas
  2. Spirogyra
  3. Oedogonium
  4. Pithophora
ব্যাখ্যা
ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। 
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। 
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। 
- উদ্ভিদের জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট অতীব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে একে 'কোষের রান্নাঘর' (kitchen of cell) বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' (factory of synthesis of sugar) বলে। 
- এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গাণু। 

প্রতি কোষে সংখ্যা: 
- এক হতে একাধিক। 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত ১০ হতে ৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, কিন্তু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত আরও কম থাকে। 

আকৃতি: 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে ক্লোরোপ্লাস্টের আকৃতি সাধারণত লেন্সের মতো হয়ে থাকে। 
- নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে এদের আকৃতি হরেক রকম হতে পারে। 
যেমন- 
• পেয়ালাকৃতি (Chlamydomonas), 
• সর্পিলাকার (Spirogyra), 
• জালিকাকার (Oedogonium), 
• তারকাকার (Zygnema), 
• ফিতা বা আংটি আকৃতির/গার্ডলাকৃতির (Ulothrix), 
গোলাকার (Pithophora) ইত্যাদি। 
- শৈবালে ক্লোরোপ্লাস্টের বৈচিত্র্য বেশি। 

আকার: 
- লেন্স আকৃতির ক্লোরোপ্লাস্টের ব্যাস সাধারণত ৩-৫ মাইক্রন। 
- Spirogyra এর সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট সোজা অবস্থায় কোষের দৈর্ঘ্যের চেয়েও বেশি লম্বা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৯১.
উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক কে?
  1. থিওফ্রাস্টাস
  2. এরিস্টটল
  3. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  4. আল কেমি
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ জগৎ

- থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক।
- তিনি উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদসমূহকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন।
- যথা, 

১. ট্রি বা বৃক্ষ,
২. শ্রাব বা গুল্ম,
৩. আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম এবং
৪. হার্ব বা বীরুৎ।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯২.
ঘন পাতাবিশিষ্ট গাছের নিচে রাতে ঘুমানো স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ গাছ হতে-
  1. ক) অধিক পরিমাণে অক্সিজেন নির্গত হয়
  2. খ) অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়
  3. গ) অধিক পরিমাণে বিষাক্ত সায়ানাইড নির্গত হয়
  4. ঘ) অধিক পরিমাণে কার্বন মনোঅক্সাইড নির্গত হয়
ব্যাখ্যা
ঘন পাতাবিশিষ্ট গাছের নিচে রাতে ঘুমানোর স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ এতে শ্বসনের ফলে অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়।
৯৩.
নিম্নের কোন উদ্ভিদটি অপুষ্পক উদ্ভিদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. জবা
  2. আম
  3. কাঁঠাল
  4. স্পাইরোগাইরা
ব্যাখ্যা
সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- সপুষ্পক উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয়। 
যেমন- আম, কাঁঠাল, শাপলা, জবা ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- কোনো উদ্ভিদ ফল উৎপন্ন করে আবার কোনটি ফল উৎপন্ন করে না, তাই বীজগুলো অনাবৃত থাকে। 
- এরা প্রধানত দুই ধরনের। 
যথা: নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ। 
- এদের দেহে অত্যন্ত উন্নত ধরনের পরিবহন কলা উপস্থিত থাকে। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- উদ্ভিদের মধ্যে কিছুসংখ্যক উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না। এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে। এদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
- এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
যেমন- অ্যাগারিকাস ও স্পাইরোগাইরা, মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৯৪.
ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদ কোন ধরনের উদ্ভিদ? 
  1. সপুষ্পক উদ্ভিদ
  2. আবৃতবীজী উদ্ভিদ
  3. অপুষ্পক উদ্ভিদ
  4. নগ্নবীজী উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা

- ব্রায়োফাইটা (Bryophyta) হচ্ছে এক ধরনের অপুষ্পক (non-flowering) উদ্ভিদ। এদের ফুল, ফল এবং বীজ হয় না। পরিবর্তে, এরা স্পোরের (spore) মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। 

ব্রায়োফাইটা: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের ফুল হয় না, এদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ব্রায়োফাইটা এবং টেরিডোফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদসমূহ হলো অপুষ্পক উদ্ভিদ। 

ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য: 
১) এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক (হ্যাপ্লয়েড) অর্থাৎ গ্যামিট উৎপাদনকারী। 
২) গ্যামোটোফাইট সবুজ, স্বভোজী, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। 
৩) এরা থ্যালয়েড হতে পারে অথবা দেহ রাইজয়েড, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪) দেহে মূল সৃষ্টি হয় না, মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়। 
৫) এদের দেহে কোন পরিবহন টিস্যু থাকে না। 
৬) জাইগোট হতে মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
৭) এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের, অর্থাৎ সচল ছোট শুক্রাণুর সাথে নিশ্চল বড় ডিম্বাণুর মিলন ঘটে। 
৮) জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৯) এদের স্পোরোফাইট সর্বদাই পুষ্টি ও আশ্রয়ের জন্য আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। 

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৫.
নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট কোথায় পাওয়া যায়?
  1. Pithophora
  2. Oedogonium
  3. Spirogyra
  4. Zygnema
ব্যাখ্যা
ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। 
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। 
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। 
- উদ্ভিদের জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট অতীব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে একে 'কোষের রান্নাঘর' (kitchen of cell) বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' (factory of synthesis of sugar) বলে। 
- এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গাণু। 

প্রতি কোষে সংখ্যা: 
- এক হতে একাধিক। 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত ১০ হতে ৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, কিন্তু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত আরও কম থাকে। 

আকৃতি: 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে ক্লোরোপ্লাস্টের আকৃতি সাধারণত লেন্সের মতো হয়ে থাকে। 
- নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে এদের আকৃতি হরেক রকম হতে পারে। 
যেমন- 
• পেয়ালাকৃতি (Chlamydomonas), 
সর্পিলাকার (Spirogyra)
• জালিকাকার (Oedogonium), 
• তারকাকার (Zygnema), 
• ফিতা বা আংটি আকৃতির/গার্ডলাকৃতির (Ulothrix), 
• গোলাকার (Pithophora) ইত্যাদি। 
- শৈবালে ক্লোরোপ্লাস্টের বৈচিত্র্য বেশি। 

আকার: 
- লেন্স আকৃতির ক্লোরোপ্লাস্টের ব্যাস সাধারণত ৩-৫ মাইক্রন। 
- Spirogyra এর সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট সোজা অবস্থায় কোষের দৈর্ঘ্যের চেয়েও বেশি লম্বা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৯৬.
নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে ক্লোরোপ্লাস্টের আকৃতি কোনটি হতে পারে? 
  1. জালিকাকার 
  2. সর্পিলাকার 
  3. গোলাকার 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। 
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। 
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। 
- উদ্ভিদের জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট অতীব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে একে 'কোষের রান্নাঘর' (kitchen of cell) বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' (factory of synthesis of sugar) বলে। 
- এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গাণু। 

প্রতি কোষে সংখ্যা: 
- এক হতে একাধিক। 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত ১০ হতে ৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, কিন্তু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত আরও কম থাকে। 

আকৃতি: 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে ক্লোরোপ্লাস্টের আকৃতি সাধারণত লেন্সের মতো হয়ে থাকে। 
- নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে এদের আকৃতি হরেক রকম হতে পারে। 
যেমন- 
• পেয়ালাকৃতি (Chlamydomonas), 
সর্পিলাকার (Spirogyra)
জালিকাকার (Oedogonium)
• তারকাকার (Zygnema), 
• ফিতা বা আংটি আকৃতির/গার্ডলাকৃতির (Ulothrix), 
গোলাকার (Pithophora) ইত্যাদি। 
- শৈবালে ক্লোরোপ্লাস্টের বৈচিত্র্য বেশি। 

আকার: 
- লেন্স আকৃতির ক্লোরোপ্লাস্টের ব্যাস সাধারণত ৩-৫ মাইক্রন। 
- Spirogyra এর সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট সোজা অবস্থায় কোষের দৈর্ঘ্যের চেয়েও বেশি লম্বা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৯৭.
'Living fossil' বলা হয় কোনটিকে?
  1. মটরশুটি
  2. ফাণ
  3. সাইকাস
  4. মস
ব্যাখ্যা
• সাইকাস কে জীবন্ত জীবাশ্ম (Living fossil) বলার কারণ এটি সাইকাডালস বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।

• জীবন্ত জীবাশ্ম:
- বর্তমান কালের কোনো জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোনো জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
- সাইকাস কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ এটি সাইকাডালস বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।
- প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে সাইকাডালস বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত ছিল।
- এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত। এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে।
- এ বর্গের সাইকাস সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে।
- এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদি কালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাস এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির।
- এজন্যই সাইকাস সহ বর্তমান কালের সকল সাইকাডালস বর্গের উদ্ভিদকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।