বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীবের বংশগতি ও প্রাণিবিজ্ঞান সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়

মোট প্রশ্ন২৬০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীবের বংশগতি ও প্রাণিবিজ্ঞান সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ২৬০

.
DNA প্রতিলিপনের সময় কোন এনজাইম কাজ করে? 
  1. হেলিকেজ
  2. লিপেজ
  3. পেপটেজ
  4. অ্যামাইলেজ
ব্যাখ্যা

• DNA প্রতিলিপন (DNA Replication) হলো জীবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জৈব প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একটি কোষ তার DNA অণুর অনুলিপি তৈরি করে, যাতে নতুন কোষে একই জিনগত তথ্য স্থানান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়া ঘটে কোষ বিভাজনের আগে, বিশেষ করে ইন্টারফেজের S পর্বে।

- প্রথম ধাপে DNA-এর দ্বিসূত্রক গঠন (Double helix) খুলে যায়, যাতে প্রতিটি স্ট্র্যান্ড নতুন DNA তৈরির টেমপ্লেট হিসেবে কাজ করতে পারে।
- এই কাজটি সম্পন্ন করে হেলিকেজ (Helicase) এনজাইম

• DNA প্রতিলিপনের প্রধান ধাপ তিনটি:
- Initiation (সূচনা),
- Elongation (বিস্তার),
- Termination (সমাপ্তি)। 

• হেলিকেজের কাজ:
- হেলিকেজ DNA-এর দুইটি নিউক্লিওটাইড শৃঙ্খলকে আলাদা করে।
- এটি হাইড্রোজেন বন্ড ভেঙে ডাবল হেলিক্স খুলে দেয়।
- ফলে একটি “Replication fork” তৈরি হয়, যেখানে DNA পলিমেরেজ কাজ শুরু করতে পারে।
- এটি মূলত প্রতিলিপনের সূচনাবিন্দু (Origin of replication) থেকে উভয় দিকে DNA খুলতে থাকে।
- এরপর DNA পলিমেরেজ নতুন নিউক্লিওটাইড যুক্ত করে নতুন স্ট্র্যান্ড তৈরি করে।
- প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিখুঁত এবং সঠিক জিনগত তথ্য সংরক্ষণে অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

.
মানুষের মাথার চুল পড়ে গিয়ে টাক তৈরীর জন্য কোনটি দায়ী?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) প্রোটোজোয়া
ব্যাখ্যা
Microsporum - নামক একপ্রকার ছত্রাকের জন্য মানুষের মাথার চুল পড়ে গিয়ে টাক তৈরি করে।
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।
.
রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. Panthera tigress
  2. Panthera tigris
  3. Panthera tigris tigris
  4. Panthera tigris attaica
ব্যাখ্যা
• রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বৈজ্ঞানিক নাম- Panthera tigris tigris

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বৈজ্ঞানিক নাম: 
- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo sapiens; 
- শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম- Nymphaea nouchali; 
- ধানের বৈজ্ঞানিক নাম- Oryza sativa; 
- আমের বৈজ্ঞানিক নাম- Mangifera indica; 
- কাঁঠালের বৈজ্ঞানিক নাম- Artocarpus heterophyllus; 
- মৌমাছির বৈজ্ঞানিক নাম- Apis indica; 
- দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম- Copsychus saularis; 
- আরশোলার বৈজ্ঞানিক নাম- Periplaneta americana; 
- ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম- Hilsa ilisha. 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
হাঁটুতে কান থাকে
  1. বাঁদর এর
  2. পিপিলিকার
  3. সাপ এর
  4. ফড়িং এর
ব্যাখ্যা
- ফড়িং ওডোনাটা বর্গভুক্ত ও এপিপ্রোকটা উপবর্গের এক ধরনের বড় যৌগিক চোখবিশিষ্ট পতঙ্গ।
- এদের দুই জোড়া শক্তিশালী ও স্বচ্ছ পাখা আছে। এ পাখার সাহায্যে ফড়িং উড়ে বেড়ায়। ব
- সে থাকার সময় পাখা অনুভূমিক এবং শরীরের সঙ্গে সমকোণে থাকে।
- ফড়িং এর হাটুতে কান থাকে। 



উৎস: royalsocietypublishing.org [লিঙ্ক]।
.
'ভলভক্স' কোন প্রতিসাম্য প্রাণীর উদাহরণ?
  1. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য
  2. গোলীয় প্রতিসাম্য
  3. অরীয় প্রতিসাম্য
  4. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য
ব্যাখ্যা
প্রতিসাম্য: 
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 

ক. গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

খ. অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

গ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

ঘ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

ঙ. অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সর্বপ্রথম Genetics শব্দটি ব্যবহার করেন কে?
  1. Bateson
  2. Mendel
  3. Karl Correns
  4. de Vries
ব্যাখ্যা

Genetics শব্দের উৎপত্তি:
- Genetics শব্দটি জীববিজ্ঞানের একটি শাখা, যা বংশগতি ও বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা করে।
- এই শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী William Bateson।
- তিনি 1905 সালে প্রথম “Genetics” শব্দটি প্রবর্তন করেন।
- Genetics শব্দটি গ্রিক শব্দ “Genesis” থেকে এসেছে, যার অর্থ উৎপত্তি বা জন্ম।
- Bateson মূলত Mendel-এর কাজকে ভিত্তি করে Genetics শাস্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- যদিও Gregor Mendel বংশগতির সূত্র আবিষ্কার করেন, তিনি “Genetics” শব্দটি ব্যবহার করেননি।
- Karl Correns এবং de Vries Mendel-এর কাজ পুনরাবিষ্কার করেন, কিন্তু শব্দটির প্রবর্তক নন।

সুতরাং, সর্বপ্রথম Genetics শব্দটি ব্যবহার করেন William Bateson.
সঠিক উত্তর: ক) Bateson.

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 

.
Panthera Leo কিসের নাম?
  1. ক) বাঘ
  2. খ) ভাল্লুক
  3. গ) কুমির
  4. ঘ) সিংহ
ব্যাখ্যা
সিংহের বৈজ্ঞানিক নাম Panthera Leo.
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
.
কোন পর্বের প্রাণীদেহে শিখাকোষ পাওয়া যায়?
  1. Porifera
  2. Platyhelminthes
  3. Nematoda
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
Platyhelminthes (চ্যাপ্টাদেহী কৃমি): 
- Platyhelminthes শব্দটি Greek শব্দ Platy = চ্যাপ্টা এবং Helminthes = কৃমি এ দুটি শব্দ নিয়ে গঠিত।
- ১৮৫৯ সালে Gogenbour এ পর্বের নামকরণ করেন।
- এ পর্বের আবিষ্কৃত প্রজাতির সংখ্যা ২৯,৪৮৭।

Platyhelminthes পর্বের বৈশিষ্ট্য: 
১। এরা ত্রিস্তরী (Triploblastic), চ্যাপ্টাদেহী ও সাধারণত চোষক বা আংটাযুক্ত অন্তঃপরজীবী কৃমিজাতীয়। 
২। এদের দেহগহ্বর অপ্রকৃত সিলোম। 
৩। এরা উভয়লিঙ্গিক ও দেহ সিলিয়াযুক্ত এপিডার্মিস অথবা কিউটিকল দ্বারা আবৃত। 
৪। এদের স্বনিষেক হয়। 
৫। শিখাকোষ (flame cell) নামক কোষের সাহায্যে রেচন সম্পাদন করে। 
৬। এদের পরিপাকতন্ত্র অসম্পূর্ণ (পায়ুবিহীন)। 
৭। এদের দেহ দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম। 

- শিখাকোষ (flame cell) হলো planaria (মিঠা পানিতে মুক্তভাবে বাস করা ফ্ল্যাটওয়ার্ম) প্রাণীদের মেসোডার্মে বিদ্যমান টিউবের সাথে সংযুক্ত কোষ। 
- এ কোষগুলো গর্তবিশিষ্ট বাল্ব ধরনের যাদের গুচ্ছাকারে সিলিয়া থাকে। 
- সিলিয়াগুলো প্রচণ্ডভাবে আন্দোলিত হয়ে টিউবের ভেতরে পানির স্রোত তৈরি করে। 
- ফলে বর্জ্য বস্তুসমূহ নির্গমন ছিদ্রের মাধ্যমে বাইরে নিষ্ক্রান্ত হয়। 
- এভাবেই শিখাকোষ রেচন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। 
উদাহরণ: Taenia solium-ফিতাকৃমি, Fasciola hepatica-যকৃতকৃমি, Schistosoma ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
.
যকৃত কৃমি কোন ধরনের প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে? 
  1. অরীয় প্রতিসাম্য 
  2. অপ্রতিসাম্য 
  3. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য 
  4. গোলীয় প্রতিসাম্য 
ব্যাখ্যা

প্রতিসাম্য: 
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
ক. গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

খ. অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

গ. অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

ঘ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

ঙ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
ডারউইনের মৌলিক অবদান ছিল- 
  1. বিবর্তনের তত্ত্ব আবিষ্কার
  2. বিবর্তনের প্রমাণ নাকচ করা
  3. জীব কোষের গঠন ব্যাখ্যা
  4. বিবর্তনের প্রক্রিয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া
ব্যাখ্যা
ডারউইনবাদ বা ডারউইনের তত্ত্ব: 
- ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন জীববিজ্ঞান তথা সমগ্র বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি বৈপ্লবিক চিন্তাধারার সৃষ্টি করেন। 
- বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন (Charles Robert Darwin, 1809-1882) ইংল্যান্ডের স্রাসবেরি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত গ্যালাপ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ পরিভ্রমণকালে তিনি ঐ অঞ্চলের উদ্ভিদ এবং প্রাণিকুলের বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য দেখে বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন এরপর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে 1837 খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডে প্রত্যাবর্তনের প্রায় 20 বছর পরে 1859 খ্রিষ্টাব্দে 'প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা প্রজাতির উদ্ভব' (Origin of Species by Means of Natural Selection) নামক বইয়ে তাঁর মতবাদটি প্রকাশ করেন। 

উল্লেখ্য, 
- ডারউইনের তত্ত্বটি বিবর্তন তত্ত্ব নামে প্রচলিত হলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে জৈব অভিব্যক্তি তথা বিবর্তনের আবিষ্কারক নন। 
- ডারউইনের সাফল্য ছিল, জৈব অভিব্যক্তির কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত সংখ্যক বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একটি প্রক্রিয়ার (mechanism) ধারণা প্রতিষ্ঠা করা, যা জৈব অভিব্যক্তির যাবতীয় বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারবে। জৈব অভিব্যক্তির কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক নির্বাচনকে উল্লেখ করে আরও একজন সমসাময়িক ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী, আলফ্রেড ওয়ালেস (Alfred Russel Wallace, 1823-1913), একই সময়ে কিন্তু স্বাধীনভাবে অনুরূপ তত্ত্ব প্রণয়ন করেন। 
- তবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে তাঁর চেয়ে ডারউইনের নামেই তত্ত্বটি অধিক প্রচলিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১.
নিচের কোন প্রাণী স্তন্যপায়ী? 
  1. বানর
  2. কুমির
  3. সাপ
  4. ব্যাঙ
ব্যাখ্যা
মেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- এদের মেরুদণ্ড আছে এবং দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে। 
- পাখনা বা দুই জোড়া পা থাকে এবং চোখ সরল প্রকৃতির। 
- মানুষ ছাড়া সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ থাকে, এরা ফুলকা বা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 
- মেরুদণ্ডী প্রাণীদের বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যেমন-
১। মৎস্য শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- এরা পানিতে বাস করে ও বেশির ভাগ মাছের গায়ে আঁইশ থাকে। যেমন- ইলিশ, রুই, কৈ ইত্যাদি। আবার কতকগুলোর আঁইশ থাকে না। যেমন- মাগুর, শিং, টেংরা, বোয়াল ইত্যাদি। 
- মাছ ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। এদের পাখনা আছে, পাখনার সাহায্যে এরা সাঁতার কাঁটে। 

২। পক্ষী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- হাঁস, মুরগি, কবুতর, দোয়েল ইত্যাদি পাখি পক্ষী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। 
- এদের দেহ পালক দিয়ে আবৃত থাকে, পালক পাখি চেনার একটা প্রধান বৈশিষ্ট্য। পাখি ছাড়া আর কোনো প্রাণীর পালক নেই। 
- বেশিরভাগ পাখিই আছে যারা উড়তে পারে। উট পাখি, পেঙ্গুইন এবং আরও কিছু পাখি আছে যারা উড়তে পারে না। পাখি ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বাচ্চা হয়। 

৩। উভচর শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- ব্যাঙ উভচর শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। এদের জীবনের কিছু সময় ডাঙায় ও কিছু সময় পানিতে বাস করে। 
- এদের ত্বকে লোম, আঁইশ বা পালক কিছুই থাকে না। দুই জোড়া পা থাকে, পায়ের আঙুলে কোনো নখ থাকে না। 
- ব্যাঙাচি অবস্থায় এরা ফুলকা ও পরিণত অবস্থায় ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

৪। সরীসৃপ শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- টিকটিকি, কুমির, সাপ, গিরগিটি ইত্যাদি সরীসৃপ শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। 
- এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, আঙুলে নখ থাকে, ডিম পাড়ে, ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। 
- ফুসফসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

৫। স্তন্যপায়ী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- বানর, ইঁদুর, কুকুর, বিড়াল, গরু, ছাগল ইত্যাদি স্তন্যপায়ী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। মানুষও এই দলের অন্তর্ভুক্ত। 
- এদের দেহে লোম থাকে, বাচ্চা মায়ের দুধ খেয়ে বড়ো হয়, মায়েরা বাচ্চা প্রসব করে। 
- মস্তিষ্ক ও দেহের গঠন বেশ উন্নত। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১২.
গায়ের রং পরিবর্তন করে আত্মরক্ষা করে-
  1. ক) ঘড়িয়াল
  2. খ) কচ্ছপ
  3. গ) গিরগিটি
  4. ঘ) সাপ
ব্যাখ্যা

- গিরগিটি গায়ের রং পরিবর্তন করে আত্মরক্ষা করে।
- সাপ জিহ্বার সাহায্যে শোনে। সাপের কান নেই।
- কচ্ছপ দীর্ঘজীবী প্রাণী। কচ্ছপ প্রায় ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।
- ঘড়িয়াল বিরল প্রজাতির মিঠা জলের কুমির বর্গের সরীসৃপ প্রাণী।

১৩.
মেন্ডেলের বংশগতির দ্বিতীয় সূত্রের অনুপাত-
  1. ৯:৩:২:১
  2. ৯:৩:৩:১
  3. ৯:১:৩:১
  4. ৯:৩:১:৩
ব্যাখ্যা
মেন্ডেলের সূত্র: 

• গ্রেগর জোহান মেন্ডেল বংশগতির দুটি সূত্র প্রদান করেন ।
• জীনতত্ত্বের জনক বলে পরিচিত মেন্ডেল মূলত পেশায় অস্ট্রিয়ার একজন ধর্মযাজক ছিলেন।
• গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩:১।
• মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অনুপাত ৯:৩:৩:১।
• মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের অপর নাম - মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র/ জনন কোষ শুদ্ধতার সূত্র/ পৃথকীকরণ সূত্র।
• মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অপর নাম - স্বাধীন সঞ্চারণ বা ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র।

মেন্ডেলের বংশগতির প্রথম সূত্র: 
‘জীবের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি একক দায়ী থাকে যাকে ফ্যাক্টর (জিন) বলা হয় এবং ফ্যাক্টর বা জিনগুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে। সঙ্কর (hybrid) জীবে ফ্যাক্টর বা জিনগুলো মিশ্রিত না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে এবং গ্যামিট উৎপাদনের সময় অপরিবর্তিত অবস্থায় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামিটে গমন করে'। 

মেন্ডেল এর বংশগতির দ্বিতীয় সূত্র: 
‘দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জীবে সঙ্করায়ন ঘটালে গ্যামিট সৃষ্টিকালে প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের ফ্যাক্টর বা জিন যুগলের স্বাধীন সঞ্চারণ বা বিন্যাস ঘটে এবং কোন একটি ফ্যাক্টর যুগলের সঞ্চারণ অন্য ফ্যাক্টর যুগলের উপর নির্ভরশীল নয়' । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৪.
তিমির বৈজ্ঞানিক নাম কোনটি?
  1. Balaenoptera musculus
  2. Bos taurus
  3. Loxodonta cyclotis
  4. Crocodylus palustris
ব্যাখ্যা
• স্তন্যপায়ী প্রাণী: 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে লোম দ্বারা আবৃত থাকে। 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে। 
- শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়। 
যেমন-
- তিমি, বাদুড়, শুশুক, গরু, হাতি, মানুষ, কুকুর, বানর, ঘোড়া, ইঁদুর, জিরাফ ইত্যাদি।

এখানে,
- তিমির বৈজ্ঞানিক নাম = Balaenoptera musculus.
- গরুর বৈজ্ঞানিক নাম = Bos taurus.
- হাতির বৈজ্ঞানিক নাম = Loxodonta cyclotis.

 • সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী: 
-  এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। 
যেমন- সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী। 

এখানে,
- কুমিরের বৈজ্ঞানিক নাম = Crocodylus palustris

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৫.
জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মানব সৃষ্ট প্রধান কারণ কোনটি?
  1. ক) প্রাণির বাসস্থান ধ্বংস
  2. খ) পরিবেশ দূষণ
  3. গ) অতিমাত্রায় সম্পদ আহরণ
  4. ঘ) জনসংখ্যা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

মানব সৃষ্ট কারণঃ
১। বাসস্থান ধ্বংস- জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের সব থেকে বড় কারণ হলো তাদের বাসস্থান ধ্বংস করা। বর্তমানে প্রতি মিনিটে পৃথিবীতে ৫০ একর বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। জলাভূমি ভরাট করা জলজ প্রাণীর বিলুপ্তির কারণ।

২। এক্সপ্লয়টেশন- সম্পদের অতিমাত্রায় আহরণ বহু জীব প্রজাতি বিলুপ্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৩। অতিমাত্রায় পশু চারণ- তৃণভূমিতে অতিমাত্রায় পশুচারণের ফলে অনেক উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।

৪। পলিনেটর ধ্বংস- মৌমাছিসহ বহু কীটপতঙ্গ উদ্ভিদের পরাগায়ন ঘটায়। অতিমাত্রায় কীটনাশক, পতঙ্গনাশক ব্যবহারের ফলে পরাগায়নের এ বাহকগুলো কমে গিয়েছে। তাই পরাগায়নের অভাবে এ সকল উদ্ভিদ প্রজাতিসমূহ বিলুপ্তির পথে রয়েছে।

৫। পরিবেশ দূষণ- পরিবেশ দূষণ জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
কোন বিজ্ঞানী রক্ত-সঞ্চালন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন?
  1. ক) আন নাফিস
  2. খ) ইবনে সিনা
  3. গ) উইলিয়াম হার্ভে
  4. ঘ) লুই পাস্তুর
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ বিজ্ঞানী উইলিয়াম হার্ভে ১৬২৮ সালে রক্ত-সঞ্চালন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।
সূত্রঃ ২৯তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
১৭.
মানুষ (Homo sapiens) কোন শ্রেণীর প্রাণী?
  1. ত্রিস্তরী
  2. দ্বিস্তরী
  3. একস্তরী 
  4. স্তরবিহীন
ব্যাখ্যা

- ভ্রূণীয় বিকাশের স্তরের ওপর ভিত্তি করে মানুষকে ত্রিস্তরী (Triploblastic) প্রাণী বলা হয়। মানুষের ভ্রূণীয় অবস্থায় তিনটি স্তর যেমন- এক্টোডার্ম (Ectoderm - বহিঃস্তর), মেসোডার্ম (Mesoderm - মধ্যস্তর) এবং এন্ডোডার্ম (Endoderm - অন্তস্তর) পরিলক্ষিত হয়। এই তিনটি স্তর থেকেই পরবর্তীতে মানুষের দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও তন্ত্র গঠিত হয়। 

ভ্রূণীয় স্তর: 
- ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক. একস্তরী প্রাণী: 
- এরা সরল ধরনের প্রাণী। 
- এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। 
যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum)। 

খ. দ্বিস্তরী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita)। 

গ. ত্রিস্তরী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- মানুষ (Homo sapiens)। 

ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সাধারণত কতটি অংশ নিয়ে গঠিত? 
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৭ টি
ব্যাখ্যা
দ্বিপদ নামকরণ: 
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটী স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। 

- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যাারিস্টটল, জন রে এবং ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতি বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। 
- ক্যারোলাস লিনিয়াসই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়। 
- এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo Sapiens. 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৯.
কোনটিকে প্রোটিন উৎপাদনের কারখানা বলা হয়?
  1. ক) মাইট্রোকন্ডিয়া
  2. খ) ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. গ) রাইবোজোম
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা

- রাইবোজোমের প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করা। তাই একে বলা হয় প্রোটিন ফ্যাক্টরি।
- নিউক্লিয়াস কোষের সব ধরনের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই একে কোষের মস্তিষ্ক, কোষের প্রাণ বা প্রাণকেন্দ্র বলা হয়।
- কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা 'শক্তিঘর' বলা হয়।
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট।
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে 'কোষের রান্নাঘর' বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' বলে।
- এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গানু।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২০.
মানবদেহের প্রতিটি কোষে কয়টি লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজম থাকে?
  1. ২টি
  2. ২২টি
  3. ৪৪টি
  4. ৪৬টি
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজম:

- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজম।
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু ।
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি।
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজম শব্দটি ব্যবহার করেন।
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজমকে বলা হয় অটোসোম।
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই।
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজম।
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১.
একই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে জিনগত পার্থক্যের ফলে যে বৈচিত্র্য দেখা যায়, তাকে কী বলা হয়?
  1. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
  2. বংশগতীয় বৈচিত্র্য
  3. প্রাণিক বৈচিত্র্য
  4. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা

জীববৈচিত্র্য (Biodiversity): 
- পৃথিবীতে বিরাজমান জীবগুলোর প্রাচুর্য এবং ভিন্নতাই হলো জীববৈচিত্র্য (Biodiversity)। 

জীববৈচিত্র্যের প্রকারভেদ: 
- জীববৈচিত্র্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা-
১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে সাধারণত পৃথিবীতে বিরাজমান জীবগুলোর মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বুঝায়। 
- পৃথকযোগ্য বৈশিষ্ট্যের কারণেই এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতি ভিন্নতর হয়। 
যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা বৃদ্ধির ধরন ভিন্ন হয়ে থাকে। 
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্নতাই প্রজাতিগত বৈচিত্র্য। 

২। বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity): 
- একই প্রজাতিভুক্ত সদস্যগণের মধ্যেও অনেক বিষয়ে পার্থক্য দেখা যায়। 
যেমন- একই প্রজাতি কিন্তু তাদের গড়ন, আকার, রোগ-প্রতিরোধ এবং পরিবেশ প্রতিকূলতা সহ্য করার ক্ষমতা ভিন্ন। এই পার্থক্যগুলো তৈরি হয় তাদের জিন সংগঠনের সামান্য বৈচিত্র্যের কারণে। কারণ জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চারিত হয়। 
- প্রত্যেক বৈশিষ্ট্যের জন্য নির্দিষ্ট জিন থাকে। বিভিন্ন কারণে এই জিনের গঠন এবং বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন হয় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে, তাকেই বলা হয় বংশগতীয় বৈচিত্র্য। 

৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান, রাসায়নিক উপাদান এবং জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোনো প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে। এসব পরিবর্তন অবশ্যই ধীর এবং ধারাবাহিক। এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়। ফলে যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়, তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য। 
- একটি ছোট পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যেসব উদ্ভিদ এবং প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর। 
- বন, তৃণভূমি, হ্রদ, নদী, জলাভূমি, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ এক একটি জীব সম্প্রদায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২২.
কোনটি এককোষী জীবের উদাহরণ?
  1. গরু
  2. অ্যামিবা
  3. বৃক্ষ
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা
জীবের বৈশিষ্ট্য: 
- জীবদেহ জীবকোষ (Cell) দ্বারা গঠিত। 
- ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা ইত্যাদি জীব মাত্র একটি কোষ দ্বারা গঠিত, তাই এরা এককোষী (Unicellular) জীব। 
- বৃক্ষ, গুল্ম, পশু-পাখি, মানুষ প্রভৃতি জীব অসংখ্য জীবকোষ দ্বারা গঠিত, তাই এরা বহুকোষী (Multicellular) জীব। 
- জীবকোষে সজীব প্রোটোপ্লাজম থাকে। 
- নিউক্লিয়াসসহ অন্যান্য কোষাঙ্গাণু প্রোটোপ্লাজমে অবস্থান করে। তাই প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভৌত ভিত্তি বলা হয়। 
- জড়বস্তু কোন জীবকোষ দ্বারা গঠিত নয় এবং জড়বস্তুতে কোন প্রোটোপ্লাজম নেই। 
- জীবের বংশবৃদ্ধির (Reproduction) তথা শিশু জীব জন্ম দেয়ার ক্ষমতা থাকে যা জড়বস্তুতে নেই। 
-  জীবদেহে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় (Physiological) কার্যকলাপ, যেমন- শ্বসন, পরিপাক, বৃদ্ধি, উত্তেজনায় সাড়া দেয়া, পরিবেশের সাথে অভিযোজন ইত্যাদি সংঘটিত হয়। 
- জড় বস্তুতে কোন শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ ঘটে না। 
- জীবের মৃত্যু আছে, জড় বস্তুর মৃত্যু নেই। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
প্রোটিস্টার কোষের ক্রোমাটিন পদার্থে কী থাকে? 
  1. ডিএনএ 
  2. আরএনএ 
  3. প্রোটিন 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

প্রোটিস্টা (Protista): 
প্রোটিস্টা (Protista) জগতের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে দেওয়া হলো- 
- এরা এককোষী বা বহুকোষী, একক বা কলোনিয়াল (দলবদ্ধ) বা ফিলামেন্টাস এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট। 
- কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। 
- ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে। 
- কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে। 
- খাদ্যগ্রহণ শোষণ বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে ঘটে। 
- মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে অর্থাৎ জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে এক, এরূপ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে। 
- কোনো ভ্রুণ গঠিত হয় না। 
উদাহরণ: অ্যামিবা, প্যারামেসিয়াম, এককোষী ও বহুকোষী শৈবাল ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪.
খোলস নির্মচন কিসে ভূমিকা রাখে?
  1. শ্বসনে
  2. রেচনে
  3. পরিপাকে
  4. রক্ত সংবহনে
ব্যাখ্যা

- সঠিক উত্তর: খ) রেচনে। 

- খোলস নির্মোচন (Moulting) হলো আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের (যেমন: চিংড়ি, কাঁকড়া, পতঙ্গ ইত্যাদি) পুরাতন খোলস বা কিউটিকল ত্যাগ করে নতুন খোলস তৈরির প্রক্রিয়া।

• খোলস নির্মোচনের ভূমিকা:
- রেচনে (Excretion): খোলস নির্মোচনের সময় পুরাতন খোলসের সাথে দেহের বিপাকীয় বর্জ্য পদার্থ বেরিয়ে যায়। এটি রেচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
- বৃদ্ধি: পুরাতন শক্ত খোলস ফেলে দিয়ে প্রাণী আকারে বৃদ্ধি পায়।
- ক্ষতিগ্রস্ত অংশ প্রতিস্থাপন: ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো অঙ্গ পুনরুৎপাদনে সাহায্য করে।
- সুতরাং, খোলস নির্মোচন প্রধানত রেচন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কারণ এর মাধ্যমে বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নির্গত হয়।
 
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫.
​ডলি নামক ভেড়াকে কীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছিল? 
  1. অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে 
  2. যৌন প্রজননের মাধ্যমে 
  3. ডিম্বাণুর নিষেকের মাধ্যমে 
  4. পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে 
ব্যাখ্যা

ক্লোন: 
​- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত। 
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে। 
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে। 
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়। 
যথা- 
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়। 
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে। 
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে। 

- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়। 
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে। 
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং। যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৬.
ইলিশ মাছ কোন বর্গের অন্তর্ভুক্ত?
  1. Cypriniformes
  2. Chupiformes
  3. Perciformes
  4. Channiformes
ব্যাখ্যা

• ইলিশ মাছের শ্রেণিবিন্যাস (Order of Hilsa Fish):
- ইলিশ মাছ (Tenualosa ilisha) হলো একটি প্রজাতির মাছ যা প্রধানত নদী ও সমুদ্র অঞ্চলে পাওয়া যায়।
- এটি Actinopterygii শ্রেণীর অন্তর্গত, অর্থাৎ কাঁটাপাখি বিশিষ্ট মাছের মধ্যে পড়ে।
- ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, এর অন্তর্গত বর্গ হলো Clupeiformes.
- Clupeiformes বর্গের মাছ সাধারণত লম্বা, দেহ চ্যাপ্টা এবং ছোট দাঁতের অধিকারী হয়।
- এই বর্গের অন্যান্য মাছের মধ্যে রয়েছে শ্যাড, মেইলা এবং কিলি জাতীয় মাছ।

সঠিক উত্তর: খ) Chupiformes.

সূত্র - sciencedirect journal.

২৭.
দ্বিস্তরী প্রাণি কোনটি?
  1. Fasciola
  2. Ascaris
  3. Aurelia
  4. Pila
ব্যাখ্যা

• দ্বিস্তরী প্রাণি (Diploblastic Animal):
- দ্বিস্তরী প্রাণি হলো সেই প্রাণি যার দেহ দুটি প্রধান কোষ স্তর দ্বারা গঠিত – এন্ডোডার্ম (Endoderm) এবং এক্টোডার্ম (Ectoderm)।
- এই প্রাণিগুলির মধ্যে মধ্যস্তর বা মেসোডার্ম (Mesoderm) থাকে না।
- দ্বিস্তরী প্রাণিরা সাধারণত জলজ এবং তাদের দেহ গঠন সহজ হয়।
- উদাহরণ হিসেবে জেলিফিশ (Jellyfish) এবং হাইড্রা (Hydra) দ্বিস্তরী প্রাণি।

• বিভিন্ন প্রাণির স্তরসংক্রান্ত শ্রেণীবিভাগ:
- Fasciola: ত্রিস্তরী (Triploblastic) প্রাণি, যা পরজীবী এবং মেসোডার্ম উপস্থিত।
- Ascaris: ত্রিস্তরী (Triploblastic) প্রাণি, একটি roundworm।
- Aurelia: দ্বিস্তরী (Diploblastic) প্রাণি, একটি jellyfish প্রজাতি।
- Pila: ত্রিস্তরী (Triploblastic) প্রাণি, একটি শেলযুক্ত mollusk। 

- সুতরাং, দ্বিস্তরী প্রাণি হলো Aurelia. 
- সঠিক উত্তর: গ) Aurelia.

সূত্র: ব্রিটানিকা। 

২৮.
'ডাউন সিন্ড্রোম' কী?
  1. গর্ভবতী মায়ের রক্তস্বল্পতা
  2. গর্ভস্থ শিশুর অপরিণত বিকাশ
  3. শিশুরে দেহে ভিটামিন এ এর অভাব
  4. ফলের অপরিণত বিকাশ
ব্যাখ্যা
ডাউন সিন্ড্রোম:
- ল্যাংডন ডাউন ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে মঙ্গোলীয় জড় বুদ্ধিতা নামক একটি বংশগত রোগের সিন্ড্রোম বর্ণনা করেন।
- তার নাম থেকেই এ রোগের নাম ডাউন সিন্ড্রোম।
- মানুষের ২১তম ক্রোমোসোমের বিচ্ছিন্নকরণ (Non disjunction) না ঘটার ফলে এ রোগটি হয়।
- শিশু জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই এ রোগটি সহজে বোঝা যায়। শিশুর চোখের পাতায় অতিরিক্ত একটি ভাঁজ দেখা দেয়।
- এদের মুখ থাকে খোলা, জিহবা বের হওয়া এবং জিহ্বায় কিছু সংখ্যক ভাঁজ।
- পানি জমে হাত-পা ফোলা ফোলা থাকে। 
- হাত ও পায়ের তালুর এক পাশ থেকে অপর পাশ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে একটি বিশেষ ভাঁজ বা রেখা।
- হাত খাটো ও প্রশস্ত, মুখ মন্ডল চেপ্টা ও করোটি গোল, গলা বেশ খাটো, কান নিচের দিকে নামানো, চোখের মনির পাশে বিদ্যমান ব্রাশফিল্ড দাগ, নমনীয় সন্ধিস্থল, ভেতরমুখী বাঁকানো ৫ম আঙ্গুল এবং পায়ের ১ম ও ২য় আঙ্গুলের মধ্যবর্তী বেশ বড় ফাঁক প্রভৃতি ডাউন সিন্ড্রমের লক্ষণ।
- শৈশবে ডাউন সিন্ড্রমের রোগীরা বেশ হাসিখুশি ও অনুগত থাকে।
- বড় হলে দেখা যায় এদের বুদ্ধিমত্তা তুলনামূলকভাবে কম।

উৎস: জীবন গড়ার কলা কৌশল, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
স্বাধীন সঞ্চারণ বা ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. মেন্ডেলের প্রথম সূত্র
  2. জৈব বিবর্তনবাদের সূত্র
  3. মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র
  4. জনন কোষ শুদ্ধতার সূত্র
ব্যাখ্যা
মেন্ডেলের সূত্র: 

• গ্রেগর জোহান মেন্ডেল বংশগতির দুটি সূত্র প্রদান করেন ।
• জীনতত্ত্বের জনক বলে পরিচিত মেন্ডেল মূলত পেশায় অস্ট্রিয়ার একজন ধর্মযাজক ছিলেন।
• গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩:১।
• মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অনুপাত ৯:৩:৩:১।
• মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের অপর নাম - মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র/ জনন কোষ শুদ্ধতার সূত্র/ পৃথকীকরণ সূত্র।
• মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অপর নাম - স্বাধীন সঞ্চারণ বা ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র।

মেন্ডেলের বংশগতির প্রথম সূত্র: 
‘জীবের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি একক দায়ী থাকে যাকে ফ্যাক্টর (জিন) বলা হয় এবং ফ্যাক্টর বা জিনগুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে। সঙ্কর (hybrid) জীবে ফ্যাক্টর বা জিনগুলো মিশ্রিত না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে এবং গ্যামিট উৎপাদনের সময় অপরিবর্তিত অবস্থায় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামিটে গমন করে'। 

মেন্ডেল এর বংশগতির দ্বিতীয় সূত্র: 
‘দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জীবে সঙ্করায়ন ঘটালে গ্যামিট সৃষ্টিকালে প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের ফ্যাক্টর বা জিন যুগলের স্বাধীন সঞ্চারণ বা বিন্যাস ঘটে এবং কোন একটি ফ্যাক্টর যুগলের সঞ্চারণ অন্য ফ্যাক্টর যুগলের উপর নির্ভরশীল নয়' । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩০.
ল্যামার্কের কোন বইয়ে বিবর্তন বা অভিব্যক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. থিওরি অফ রেভোলিউশন
  2. ফিলােসােফিক জুওলজিক
  3. ন্যাচারাল হিস্ট্রি
  4. অন দ্য অরিজিন অব স্পিসিস
ব্যাখ্যা
বিবর্তন (Evolution): 
- বিবর্তন বা অভিব্যক্তি হলো এমন একটি জীববৈজ্ঞানিক ধারণা যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জীবের গাঠনিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্রমপরির্তনকে বুঝায়। 
- কোনো জীবের বংশধরদের মাঝে যে জিনরাশি ছড়িয়ে পড়ে তারাই বংশপ্রবাহে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে। 
- ল্যামার্ক বায়োলজি’ শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বিবর্তন ৰা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। 
- তিনি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর লেখা 'ফিলােসােফিক জুওলজিক' নামের একটি বইয়ে বিবর্তন বা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব লিপিবদ্ধ করেন
- সর্বপ্রথম জেনোফেন সময়ের সাথে সাথে জীবদেহের আকার পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনেন।
- তারপর, এরিস্টটল বিবর্তনবাদ নিয়ে আলোচনা করেন।
- হার্বার্ট স্পেন্সার সর্বপ্রথম Evolution শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
- ল্যামার্ক বায়োলজি’ শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বিবর্তন ৰা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
- এ বিষয়টি তিনি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর লেখা 'ফিলােসােফিক জুওলজিক' নামে একটি বইতে লিপিবদ্ধ করেন।
- জৈব বিবর্তনের জনক বলা হয় চার্লস ডারউইনকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩১.
DNA কাটা হয় কী দ্বারা?
  1. ইলেকট্রন
  2. সূক্ষ ইলেকট্রিক ছুরি
  3. লাইগেজ এনজাইম
  4. রেস্ট্রিকশন এনজাইম
ব্যাখ্যা

• রেস্ট্রিকশন এনজাইম (Restriction Enzyme):
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম (Restriction Endonuclease) হল এক ধরনের এনজাইম, যা নির্দিষ্ট নিউক্লিওটাইড সিকোয়েন্স (Recognition Site) চিনে DNA কেটে ছোট টুকরোয় বিভক্ত করে।
- Escherichia coli একটি জনপ্রিয় রেস্ট্রিকশন এনজাইম।
- রেস্ট্রিকশন এনজাইমকে (Restriction Enzyme) আণবিক কাঁচি (Molecular Scissors) বলা হয়।

• ব্যবহার:
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ DNA কাটার জন্য।
- DNA ক্লোনিং ও রিকম্বিনেন্ট DNA (rDNA) প্রযুক্তিতে।
- PCR ও জেল ইলেকট্রোফোরেসিস পরীক্ষায়।
- DNA টেস্টিং পরিক্ষায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।

৩২.
দ্বিপদ নামকরণে দ্বিতীয় নামটি নির্দেশ করে-
  1. প্রজাতি
  2. বর্গ
  3. রাজ্য
  4. শ্রেণি
ব্যাখ্যা
• দ্বিপদ নামকরণে দ্বিতীয় নামটি 'প্রজাতি' নির্দেশ করে। 
 
দ্বিপদ নামকরণ: 
- উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) কর্তৃক এবং প্রাণীর নাম International code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হয়।  
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিদে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা।
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়। 
- প্রথম অংশটি তার গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম। 
- প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ বা একক। 
যেমন: মানুষ, কুনোব্যাঙ, কবুতর ইত্যাদি এক একটি প্রজাতি। 

- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। 
- ক্যারোলাস লিনিয়াস সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়। 
- এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo Sapiens । 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. গাজী আজমল) এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩৩.
নতুন কোনো প্রজাতির সৃষ্টিকে কী বলা হয়?
  1. সৃষ্টিতত্ত্ব
  2. ক্রমবিকাশ
  3. জৈব বিবর্তন
  4. পরিবেশ পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
বিবর্তন: 
- আধুনিক মানুষের ধারণা অনুযায়ী, জীব সৃষ্টির মূল ভিত্তি হলো বিবর্তন, যা গভীর যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রমাণিত হয়েছে। 
- ল্যাটিন শব্দ “Evolveri” থেকে বিবর্তন শব্দটি এসেছে। 
- ইংরেজ দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ হার্বার্ট স্পেনসার (Herbert Spencer) প্রথম 'ইভোলিউশন' শব্দটি ব্যবহারের জন্য পরিচিত।
- বিবর্তন বা ইভোলিউশন হলো একটি ধীর, অবিরাম এবং চলমান পরিবর্তন প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সরলতর উদবংশীয় জীবগুলো পরিবর্তিত হয়ে জটিল এবং উন্নততর নতুন প্রজাতির বা জীবের উদ্ভব ঘটায়।
- যখন জীবের পরিবর্তনের ফলে নতুন কোনো প্রজাতি সৃষ্টি হয়, তখন তাকে বলা হয় জৈব বিবর্তন

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪.
‘তিমি’ অক্সিজেন নেয়-
  1. ক) বাতাস থেকে
  2. খ) পানি থেকে
  3. গ) ফুলকার সাহায্যে
  4. ঘ) উপরের কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
শুশুক, ডলফিন ও তিমি সামুদ্রিক প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী। শুশুক শ্বাস-প্রশ্বাসে সরাসরি পানির উপরের বাতাস ব্যবহার করে।
সূত্রঃ ১১তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
৩৫.
‘নব্য ডারউইনিজম’ শব্দটি কোন বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত? 
  1. পরিবেশ বিজ্ঞান
  2. বিবর্তন
  3. কৃষি বিজ্ঞান
  4. জৈব চিকিৎসা বিজ্ঞান 
ব্যাখ্যা

- ‘নব্য ডারউইনিজম’ শব্দটি বিবর্তন বা অভিব্যক্তি'র সঙ্গে সম্পর্কিত। 

বিবর্তন: 
- বিবর্তনের অপর নাম অভিব্যক্তি। 
- বিবর্তন বলতে সাধারণভাবে বুঝায় কোনো কিছু বিকশিত হওয়া, ধীরে ধীরে উন্মোচিত হওয়া। 
- বিবর্তনের মতবাদগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১. ল্যামার্কিজম, ২. ডারউইনিজম ও ৩. নব্য ডারউইনিজম। 
- বিবর্তন এর উল্লেখযোগ্য প্রমাণগুলো হলো- 
১। অঙ্গসংস্থানিক প্রমাণ, 
২। ভ্রূণতত্ত্বীয় প্রমাণ, 
৩। ভৌগোলিক প্রমাণ, 
৪। শারীরবৃত্তীয় প্রমাণ, 
৫। শ্রেণিবিন্যাসগত প্রমাণ, 
৬। জিনতত্ত্বীয় প্রমাণ ও 
৭। জীবাশ্মগত প্রমাণ ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬.
ফানজাই রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত জীব কোনটি?
  1. স্পাইরোগাইরা
  2. মাশরুম
  3. অ্যামিবা
  4. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
জীবের শ্রেণিকরণ: 
- বিজ্ঞানীগণ পৃথিবীর সমস্ত জীবকে তাদের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবদ্ধকরণের চেষ্টা করেছেন। 
- ১৯৬৯ খ্রি. বিজ্ঞানী হুইটেকার পঞ্চরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- ১৯৭৪ খ্রি. বিজ্ঞানী মাগিউলিস (Margulis) উক্ত শ্রেণিবিন্যাসকে পুনর্বিন্যাস করে জীবজগতের আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসটি নিম্নরূপ পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করেছেন- 
যেমন-
রাজ্য-১: মনেরা: 
- এ রাজ্যের অধীনে বিন্যস্ত জীবের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- জীবটি এককোষী এবং এর কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না; এরা খুবই ক্ষুদ্র এবং অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া এদের দেখা যায় না। 
উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, স্পাইরোগাইরা ইত্যাদি। 

রাজ্য-২: প্রোটিস্টা: 
- এর অধীনে ঐ সকল জীবকে বিন্যস্ত করা হয়, যাদের কোষ সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত, এরা এককোষী বা বহুকোষী ক্লোরোফিল যুক্ত একক বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। 
উদাহরণ: ইউগ্লেনা, অ্যামিবা ইত্যাদি। 

রাজ্য-৩: ফানজাই বা ছত্রাক: 
- এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এরা সাধারণত এককোষী বা বহুকোষী হয়। দেহে ক্লোরোফিল নেই, তাই এরা পরভোজী। 
উদাহরণ- ইস্ট, পেনিসিলিয়াম, মাশরুম ইত্যাদি। 

রাজ্য- ৪: প্লান্টি (উদ্ভিদজগৎ): 
- অধিকাংশ উদ্ভিদ নিজেই নিজের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। এদের দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দ্বারা নির্মিত। এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও কোষ গহ্বর বিদ্যমান। উদ্ভিদে সবুজ কণিকা বা ক্লোরোফিল থাকে, তাই এরা খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
উদাহরণ: আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি। 

রাজ্য-৫: এ্যানিমেলিয়া (প্রাণিজগৎ): 
- এসব জীবের কোষে সেলুলোজ নির্মিত কোষপ্রাচীর থাকে না। সাধারণত এ কোষগুলোতে প্লাস্টিডও থাকে না। তাই খাদ্যের জন্য এরা উদ্ভিদের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 
উদাহরণ- মাছ, পাখি, গরু, মানুষ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৩৭.
Placoid আঁইশ কোন মাছে দেখা যায়?
  1. Labeо
  2. Catla
  3. Channa
  4. Scoliodon
ব্যাখ্যা

• Placoid আঁইশ (Placoid scale):
- Placoid আঁইশ সাধারণত কার্টিলাজিনাস মাছের (Chondrichthyes) দেহে দেখা যায়।
- এই আঁইশগুলো দাঁতের মতো গঠনযুক্ত এবং এগুলোকে ডার্মাল ডেন্টিকল (Dermal denticles) বলা হয়।
- Placoid আঁইশ মাছের দেহকে রক্ষা করে এবং পানিতে চলাচলের সময় ঘর্ষণ কমাতে সাহায্য করে।
- এই ধরনের আঁইশ হাঙর ও শাপলাপাতা মাছের মধ্যে দেখা যায়।
- অস্থিময় মাছ (Bony fish) যেমন Labeo, Catla বা Channa-তে এই আঁইশ থাকে না।

• Labeo:
- Labeo একটি অস্থিময় মাছ।
- এর দেহে Cycloid আঁইশ পাওয়া যায়।
- তাই এতে Placoid আঁইশ দেখা যায় না।

• Catla:
- Catla-ও একটি অস্থিময় মাছ।
- এর দেহে Cycloid আঁইশ থাকে।
- Placoid আঁইশ Catla-তে অনুপস্থিত।

• Channa:
- Channa একটি অস্থিময় মাছ।
- এর দেহে Cycloid আঁইশ দেখা যায়।
- Placoid আঁইশ এতে পাওয়া যায় না।

• Scoliodon:
- Scoliodon হলো একটি হাঙরজাতীয় কার্টিলাজিনাস মাছ।
- এর দেহে Placoid আঁইশ উপস্থিত।
- এটি Placoid আঁইশের একটি আদর্শ উদাহরণ।

- সুতরাং, Placoid আঁইশ যে মাছে দেখা যায় তা হলো Scoliodon.
- সঠিক উত্তর: ঘ) Scoliodon.

সূত্র - sciencedirect journal.

৩৮.
Who is the proponent of the theory of Natural Selection?
  1. Jean-Baptiste Lamarck
  2. Gregor Johann Mendel
  3. Louis Pasteur
  4. Charles Darwin
  5. Isaac Newton
ব্যাখ্যা

• প্রাকৃতিক নির্বাচন বা 'Natural Selection' মতবাদের প্রবক্তা হলেন ব্রিটিশ প্রকৃতিবিদ চার্লস ডারউইন। তার মতে, প্রকৃতিতে টিকে থাকার লড়াইয়ে সেইসব প্রাণীই জয়ী হয় যাদের মধ্যে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো অনুকূল বৈশিষ্ট্য থাকে। ফলে জীবের বিবর্তন ঘটে এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়। এই ধারণাটিকে পরবর্তীতে “Survival of the Fittest” বলা হয় (যদিও এই শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন Herbert Spencer)।

• প্রাকৃতিক নির্বাচন মতামত:

- ইংরেজ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস রবার্ট ডারউইন অভিব্যক্তির কলাকৌশল সম্পর্কিত তার মতামত ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ২৮ নভেম্বর ‘The Origin of Species by means of Natural Selection' নামক বইটিতে প্রকাশ করেন। 
- তাঁর মতামত প্রাকৃতিক নির্বাচন মতামত নামে পরিচিত। 
- তিনি ১৮৩১ সালে H.M.B.S. Beagle নামক জাহাজে প্রকৃতিবিদ হিসেবে চাকরি পেয়ে বিশ্বভ্রমণে বের হন।
এছাড়া,
- 'Evolution' পরিপদটি ১৭৭৪ সালে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন জার্মান জীববিদ ফন হলার।
- চার্লস লায়েল ‘The Principles of Geology’ বইটি রচনা করেন।
- ডারউইনের মতবাদের মূলতত্ত্বগুলো সম্পূর্ণ পৃথকভাবে সংক্ষেপে ও তুলনামূলকভাবে কম নমুনা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রাসেল ওয়ালেস আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

অন্যান্য অপশন:
- Jean-Baptiste Lamarck: অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার তত্ত্বের (Inheritance of Acquired Characters) প্রবক্তা।
- Gregor Johann Mendel: বংশগতিবিদ্যার জনক এবং মটরশুঁটি নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে বংশগতির সূত্র প্রদান করেন।
- Louis Pasteur: জীবাণুতত্ত্ব এবং পাস্তুরাইজেশন পদ্ধতির জন্য বিখ্যাত।
- Isaac Newton: পদার্থবিজ্ঞানের গতির সূত্র এবং মহাকর্ষ নিয়ে কাজ করেছেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯.
অ্যামিবা, ডায়াটম জীব জগতের নিচের কোন রাজ্যের অন্তর্গত?
  1. ক) মনেরা
  2. খ) প্রোটিস্টা
  3. গ) ফানজাই
  4. ঘ) প্লানটি
ব্যাখ্যা
প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত জীবের উদাহরণ হলো- প্রোটোজোয়া (অ্যাামিবা, প্যারাম্যাসিয়াম) ও এককোষী শৈবাল (যেমন, ডায়াটম)।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০.
নিডারিয়া পর্বের প্রাণীরা কোনটির সাহায্যে আত্মরক্ষা এবং খাদ্যগ্রহণ করে?
  1. নিমাটোসিস্ট
  2. ফ্ল্যাজেলা
  3. সিলিয়া
  4. মেসোগ্লিয়া
ব্যাখ্যা

• নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের (যেমন: হাইড্রা) বিশেষ এক ধরণের কোষ থাকে যাকে 'নিডোসাইট' বলা হয়। এই কোষের অভ্যন্তরে নিমাটোসিস্ট নামক একটি বিষাক্ত অঙ্গাণু থাকে। এটি হিপনোটক্সিন নামক বিষের সাহায্যে শিকারকে অবশ করে খাদ্য গ্রহণে এবং শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষায় সাহায্য করে।

• নিডারিয়া (Cnidaria):
- প্রাণিজগতের প্রধান পর্বসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো নিডারিয়া (Cnidaria) । 
- নিডারিয়া বলতে ডিপ্লোব্লাস্টিক (Diploblastic) প্রাণী অর্থাৎ দ্বিস্তর ভ্রূণ বিশিষ্ট প্রাণিদের কে বোঝায়।
- এদের অধিকাংশই সামুদ্রিক, কিছু স্বাদুপানির বাসিন্দা।

• নিডারিয়া পর্বের বৈশিষ্ট্য:
- প্রাণীগুলো সামান্য টিস্যু মাত্রার (tissue grade) বহুকোষী ও অরীয় প্রতিসম প্রাণী।
- দেহপ্রাচীর দ্বিস্তরী কোষযুক্ত বা ডিপ্লোব্লাসটিক (diploblastic); বাইরের স্তরটি এপিডার্মিস এবং ভিতরের স্তর এন্ডোডার্মিস বা গ্যাস্ট্রোডার্মিস নামে পরিচিত।
- উভয় স্তরের মধ্যবর্তী স্থানে থাকে আঠালো জেলির মতো অকোষীয় মেসোগ্লিয়া (mesoglea)। 
- নেমাটোটিস্ট ধারণকারী নিডোসাইট (cnidocyte) নামক বিশেষ ধরনের কোষ উপস্থিত। কর্ষিকায় এগুলো সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
- নিডারিয়ানদের দংশন অঙ্গাণু (stinging organelles) হচ্ছে নেমোটোটিস্ট। প্রাণী এর সাহায্যে আত্মরক্ষা, খাদ্য গ্রহণ ও দেহ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ করে।
- দেহাভ্যন্তরে সিলেন্টেরন (coelenteron) নামে একমাত্র পরিপাক সংবহন গহ্বর (gastro- vuscular cavity) থাকে যা একটি ছিদ্রপথে বাইরে উন্মুক্ত। ছিদ্রটি মুখ ও পায়ুর কাজ করে।
- খাদ্যবস্তু বহিঃকোষীয় ও অন্তঃকোষীয় উভয়ভাবেই পরিপাক হয় ।
- অনেক প্রজাতি বহুরূপীতা প্রদর্শন করে।

উল্লেখ্য:
- ফ্ল্যাজেলা: অন্ত্রের ভেতরে থাকে; পরিপাকে ও খাদ্য সঞ্চালনে সাহায্য করে।
- সিলিয়া: সূক্ষ্ম রোম সদৃশ; সংবেদী উদ্দীপনা গ্রহণে কাজ করে।
- মেসোগ্লিয়া: অকোষীয় স্তর; এটি দেহের কঙ্কাল হিসেবে কাজ করে এবং পেশি সংযোগ দেয়।

তথ্যসূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।

৪১.
পৃথিবীর প্রথম সৃষ্ট জীব কি?
  1. অ্যামিবা
  2. তেলাপোকা
  3. বাদুরা
  4. বানর
ব্যাখ্যা
- এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর নির্ধারণ করা কঠিন, কারণ পৃথিবীর প্রথম সৃষ্ট জীব সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনও মতভেদ রয়েছে। 
তবে অপশনে দেওয়া সবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তর হলো- অ্যামিবা। 
কারণ- 
- অ্যামিবা একটি এককোষী জীব, যা জটিল বহুকোষী জীবের তুলনায় অনেক সরল। 
- প্রাথমিক জীবনের বিকাশ সম্ভবত এককোষী জীব দিয়ে শুরু হয়েছিলো। 
- আর তেলাপোকা, বাদুড় ও বানর সবগুলোই জটিল বহুকোষী প্রাণী, যা অনেক পরে বিবর্তিত হয়েছে। 
৪২.
মেন্ডেলের প্রথম সূত্রকে কী বলে?
  1. পৃথকীকরণ সূত্র
  2. স্বাধীনভাবে সঞ্চারণের সূত্র
  3. মনোহাইব্রিড সূত্র
  4. ডাইহাইব্রিড সূত্র
ব্যাখ্যা
• মেন্ডেলের সূত্র: 
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেল বংশগতির দুটি সূত্র প্রদান করেন ।
- জীনতত্ত্বের জনক বলে পরিচিত মেন্ডেল মূলত পেশায় অস্ট্রিয়ার একজন ধর্মযাজক ছিলেন।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩:১।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অনুপাত ৯:৩:৩:১।
- মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের অপর নাম - মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র/ জনন কোষ শুদ্ধতার সূত্র/ পৃথকীকরণ সূত্র।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অপর নাম - স্বাধীন সঞ্চারণ বা ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র।

• মেন্ডেলের বংশগতির প্রথম সূত্র: 
- মেন্ডেলের প্রথম সূত্রকে পৃথকীকরণ সূত্র বলা হয়।
- ‘জীবের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি একক দায়ী থাকে যাকে ফ্যাক্টর (জিন) বলা হয় এবং ফ্যাক্টর বা জিনগুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে। সঙ্কর (hybrid) জীবে ফ্যাক্টর বা জিনগুলো মিশ্রিত না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে এবং গ্যামিট উৎপাদনের সময় অপরিবর্তিত অবস্থায় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামিটে গমন করে'। 

• মেন্ডেল এর বংশগতির দ্বিতীয় সূত্র: 
- ‘দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জীবে সঙ্করায়ন ঘটালে গ্যামিট সৃষ্টিকালে প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের ফ্যাক্টর বা জিন যুগলের স্বাধীন সঞ্চারণ বা বিন্যাস ঘটে এবং কোন একটি ফ্যাক্টর যুগলের সঞ্চারণ অন্য ফ্যাক্টর যুগলের উপর নির্ভরশীল নয়'। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩.
DNA অণুতে অনুপস্থিত-
  1. ইউরাসিল
  2. গোয়ানিন
  3. এডিনিন
  4. সাইটোসিন
ব্যাখ্যা

• DNA অনুতে অনুপস্থিত - ইউরাসিল। 
• জীবকোষে দুই প্রকার নিউক্লিক অ্যাসিড থাকে। এদের একটি DNA এবং অপরটি হলো RNA ।  

• নিউক্লিক অ্যাসিডে দুই প্রকার নাইট্রোজেন ক্ষারক থাকে। নাইট্রোজেন, কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে এই ক্ষরকসমূহ গঠিত। ক্ষারকগুলো এক রিং বিশিষ্ট বা দুই রিং বিশিষ্ট হতে পারে।
• এই রিং এর সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ক্ষারক দুই প্রকার;
যথা-
(i) পিউরিন:
- দুই রিং বিশিষ্ট ক্ষারককে বলা হয় পিউরিন। । নিউক্লিক অ্যাসিডে দুই প্রকার পিউরিন ক্ষারক থাকে।
যথা-
- অ্যাডিনিন ( A )
- গুয়ানিন ( G )

(ii) পাইরিমিডিন:
- এক রিং বিশিষ্ট ক্ষারক কে বলা হয় পাইরিমিডিন। নিউক্লিক অ্যাসিডে তিন প্রকার পাইরমিডিন ক্ষারক থাকে।
যথা- 
- থাইমিন ( T )
- সাইটোসিন ( C )
- ইউরাসিল ( U )

• ক্ষারকগুলোর মাঝে থাইমিন উপস্থিত থাকে কেবল DNA তে এবং ইউরাসিল উপস্থিত থাকে কেবল RNA তে। 
অর্থাৎ নাইট্রোজেন ক্ষারক গুলোর মধ্যে ইউরাসিল DNA তে অনুপস্থিত থাকে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

৪৪.
সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে কী বলা হয়?
  1. জিন ক্লোনিং 
  2. সেল ক্লোনিং 
  3. রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং 
  4. প্রাকৃতিক ক্লোনিং
ব্যাখ্যা

ক্লোনিং পদ্ধতি: 
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত। 
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে। 
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে। 
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়। 
যথা- 
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়। 
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে। 
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে। 

- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়। 
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে। 
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং। যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৫.
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পদ্ধতি প্রধানত কয়টি ?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
ব্যাখ্যা
বিখ্যাত বাস্তুতত্ত্ববিদ E.P. Odum (1971) এর মতে ‘মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক, সুন্দর, ও সুখময় জীবন ধারা অক্ষুন্ন রাখার উদ্দেশ্যে অনুকূল ভারসাম্যপূর্ণ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ বজায় রাখার তাগিদে জীব সম্প্রদায়কে অপচয়, ধ্বংস ও বিলুপ্তির কবল থেকে রক্ষার জন্য সুপরিকল্পিত ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কৌশলকে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বলে’।

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ পদ্ধতি : জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পদ্ধতি মূলত দুটি। যথা-
(ক) ইন সিটু কনজারভেশন এবং
(খ) এক্স সিটু কনজারভেশন।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬.
ডাইনোসর কত বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে? 
  1. কয়েক শত বছর আগে
  2. কয়েক দশক আগে
  3. কয়েক হাজার বছর আগে
  4. কয়েক মিলিয়ন বছর আগে
ব্যাখ্যা
বিবর্তন: 
- বিবর্তন একটি জৈবিক পদ্ধতি, এর প্রকৃত অর্থ হলো ক্রমবিকাশ। 
- পৃথিবীতে বর্তমানে যত জীব রয়েছে তারা বিভিন্ন সময়ে এ ভূ-মন্ডলে আবির্ভূত হয়েছে, আবার অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী সময়ের আবর্তে বিলুপ্ত হয়েছে। 
যেমন- ডাইনোসর আজ থেকে কয়েক মিলিয়ন বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে, আবার কোন কোন জীব ধীর গতিতে পরিবর্তন ঘটিয়ে এখনও টিকে আছে। 
- কয়েক লক্ষ বা হাজার বছর সময়ের ব্যাপকতায় জীব প্রজাতির পৃথিবীতে আবির্ভাব ও টিকে থাকার জন্য যে পরিবর্তন ও অভিযোজন প্রক্রিয়া তাকে জৈব বিবর্তন বলা হয়। 

- 'Evolution' পরিপদটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন হার্বার্ট স্পেন্সার। 
- তিনি বলেন ধীর অথচ ক্রমাগত ও পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কোন সত্ত্বা সরল থেকে জটিল হওয়ার ধারাবাহিক পরিবর্তনই বিবর্তন। 
- কোন প্রাণী বা উদ্ভিদ ধীরে ধীরে ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রাণী বা উদ্ভিদ এ পরিণত হওয়াকে অভিব্যক্তি বলা হয়। 
- অভিব্যক্তির মূল কথা হলো প্রজাতিগুলো পরিবর্তনযোগ্য অর্থাৎ দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে জীবের চেহারায় পরিবর্তন ঘটে। 
- ইংরেজ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস রবার্ট ডারউইন অভিব্যক্তির কলাকৌশল সম্পর্কিত তাঁর মতামত ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ২৮ নভেম্বর 'The Origin of Species by means of Natural Selection' নামক বইটিতে প্রকাশ করেন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭.
নিচের কোনটি এককোষী প্রাণীর উদাহরণ?
  1. হাইড্রা
  2. ব্যাঙ
  3. প্রজাপতি
  4. অ্যান্টামিবা
ব্যাখ্যা

- অ্যান্টামিবা (Entamoeba histolytica) দেহ শুধুমাত্র একটি কোষ নিয়ে গঠিত

কোষের ভিত্তিতে প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস:
- কোষের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
১। এককোষী প্রাণী:
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটি মাত্র কোষ নিয়ে গঠিত তাদেরকে এককোষী প্রাণী বলে।
যেমন- অ্যান্টামিবা (Entamoeba histolytica)।

২। বহুকোষী প্রাণী:
- যে সকল প্রাণীর দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে বহুকোষী প্রাণী বলে।
যেমন- হাইড্রা (Hydra vulgaris)।

অন্যদিকে,
- প্রজাপতি একটি জটিল বহুকোষী প্রাণী।
- ব্যাঙ একটি বহুকোষী প্রাণী, যার উন্নত অঙ্গ ও তন্ত্র রয়েছে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৪৮.
DNA-এর ডাবল হেলিক্স মডেলের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন কে?
  1. ওয়াটসন
  2. চার্লস ডারউইন
  3. গ্রেগর মেন্ডেল
  4. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
ব্যাখ্যা

জেমস ডি. ওয়াটসন (James D. Watson) এবং ফ্রান্সিস ক্রিক (Francis Crick) ১৯৫৩ সালে DNA-এর ডাবল হেলিক্স গঠন আবিষ্কার করেন।
- এই আবিষ্কারের মাধ্যমে জিনের তথ্য সংরক্ষণ ও প্রজনন প্রক্রিয়া বোঝা সম্ভব হয়।
- ১৯৬২ সালে নোবেল পুরস্কার ওয়াটসন, ক্রিক ও মরিস উইলকিনস কে দেয়া হয় Physiology or Medicine ক্ষেত্রে।

অপরদিকে,
চার্লস ডারউইন: বিবর্তন তত্ত্ব আবিষ্কার করেছিলেন।
গ্রেগর মেন্ডেল: বীজানুতত্ত্বের (Genetics) মৌলিক নিয়ম আবিষ্কার করেছিলেন।
আলেকজান্ডার ফ্লেমিং: পেনিসিলিন আবিষ্কার করেছিলেন।

তথ্যসূত্র:NCTB জীববিজ্ঞান বই, Britannica: [লিংক]

৪৯.
ক্রোমোসোমে একটি নির্দিষ্ট জিনের অবস্থানকে কী বলা হয়? 
  1. অ্যালিল
  2. ফিনোটাইপ
  3. লোকাস
  4. জেনোটাইপ
ব্যাখ্যা
জেনেটিক্সে ব্যবহৃত কয়েকটি প্রয়োজনীয় সংজ্ঞা: 
জিন (Gene): 
- উইলহেম জোহানসেন (গ্রিক genes-born) ১৯০৯ খিস্টাব্দে জিন শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে মেন্ডেল এর অনুমানকৃত জীবের বৈশিষ্ট্য নির্ধারক বস্তুটি হলো এলিমেন্টিস বা ফ্যাক্টর (elementes or factor) যা পরবর্তীকালে জিন নামে অভিহিত হয়। 
- জিন হচ্ছে বংশগতির মৌলিক একক এবং এরা বংশ পরম্পরায় সঞ্চারিত হয়ে বংশগতিধারা অব্যাহত রাখে। 
- জিন হচ্ছে পলিপেপটাইড সংশ্লেষের জন্য সংকেত প্রদানকারী DNA অণুর অংশ বিশেষ। 

লোকাস: 
- ক্রোমোসোমে একটি নির্দিষ্ট জিনের অবস্থানকে লোকাস বলা হয়। 

অ্যালিল: 
- ক্রোমোসোমের একই লোকাসে অবস্থানকারী জিনগুলোকে পরস্পরের অ্যালিল বলা হয়। 
- জিনগুলোর একত্রে অবস্থান করাকে অ্যালিলোমর্ফ বলে। 

জেনোটাইপ: 
- জীবদেহের দৃশ্যমান অথবা সুপ্ত বেশিষ্ট্যগুলোর নিয়ন্ত্রক জিনসমূহের গঠনকে জেনোটাইপ বলে। 

ফিনোটাইপ: 
- জীবদেহের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যসমূহকে ফিনোটাইপ বলে। 
- ফিনোটাইপ প্রকৃতপক্ষে জিনোটাইপের জিনসমূহের বাহ্যিক প্রকাশ। 
- মেন্ডেলের বংশগতির প্রথম সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩ : ১ এবং দ্বিতীয় সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৯ : ৩ : ৩ : ১। 

হোমোজাইগাস জীব: 
- জীবে একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী জিন জোড়া একই রকমের (উভয় জিনই প্রকট বা প্রচ্ছন্ন) হলে তাকে হোমোজাইগাস জীব বলে। 

হেটারোজাইগাস জীব: 
- জিন জোড়া ভিন্ন রকমের হলে সে জীবকে হেটারোজাইগাস জীব বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০.
জীবের শ্রেণিবিন্যাসের শাখাটিকে কী বলা হয়? 
  1. ইকোলজি
  2. ট্যাক্সোনমি
  3. অ্যানাটমি
  4. মাইক্রোবায়োলজি
ব্যাখ্যা
জীবের শ্রেণিবিন্যাস: 
- আজ পর্যন্ত বিভিন্ন উদ্ভিদের প্রায় চার লক্ষ এবং প্রাণীর প্রায় তের লক্ষ প্রজাতির নামকরণ ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে। তবে এ সংখ্যা চূড়ান্ত নয়, কেননা প্রায় প্রতিদিনই আরও নতুন নতুন প্রজাতির বর্ণনা সংযুক্ত হচ্ছে। 
- এই অসংখ্য জীবকে সুষ্ঠুভাবে বিন্যাস করা বা সাজানোর প্রয়োজন। জীবজগৎকে একটি স্বাভাবিক নিয়মে শ্রেণিবিন্যাস করার প্রয়োজনীয়তা অবশ্য অনেক আগে থেকেই প্রকৃতিবিদগণ অনুভব করেছিলেন। 
- সেই প্রয়োজনের তাগিদেই জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে, যার নাম ট্যাক্সোনমি বা শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। 
- শ্রেণিবিন্যাসের লক্ষ্য হচ্ছে মূলত এই বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় জীবজগৎকে সহজভাবে অল্প পরিশ্রমে এবং অল্প সময়ে সঠিকভাবে জানা। 

- শ্রেণিবিন্যাসে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন সুইডিস প্রকৃতিবিদ ক্যারোলাস লিনিয়াস (1707-1778)। 
- তিনি 1735 সালে উপসালা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি লাভের পর ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমির অধ্যাপক নিযুক্ত হয়েছিলেন। 
- বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ, বিশেষ করে ফুল সংগ্রহ আর জীবের শ্রেণিবিন্যাসে তাঁর অনেক আগ্রহ ছিল। 
- তিনিই প্রথম জীবের পূর্ণ শ্রেণিবিন্যাসের এবং নামকরণের ভিত্তি প্রবর্তন করেন। 
- অসংখ্য নমুনা জীবের বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করে তিনি জীবজগৎকে দুটি ভাগে, যথা- উদ্ভিদজগৎ এবং প্রাণিজগৎ হিসেবে বিন্যস্ত করেন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১.
Cnidaria পর্বের প্রাণীর দেহের প্রতিসম কেমন?
  1. অসম
  2. অরীয়
  3. ত্রিপার্শ্বীয়
  4. দ্বিপার্শ্বীয়
ব্যাখ্যা
Cnidaria (নিডারিয়া): 
- ১৮৪৭ সালে লিউকার্ট (Leuckart) সিলেন্টারেটা ইকাইনোডার্ম থেকে পৃথক করে একটি স্বতন্ত্র পর্বের মর্যাদা দেন। তবে লিউকার্টের সিলেন্টারেটায় স্পঞ্জ অন্তর্ভুক্ত ছিল। 
- এরপর ১৮৮৮ সালে হ্যাশ্চেক (Hatschek) কর্তৃক লিউকার্টের সিলেন্টারেটা বিভক্ত হয়ে Cnidaria (Gr.knide = দংশক/কাঁটা ল্যাটিন aria = সংযুক্ত) নামক পৃথক পর্ব হিসেবে মর্যাদা পায়। 

বৈশিষ্ট্য: 
• সম্পূর্ণভাবে জলজ, অধিকাংশই সামুদ্রিক তবে কিছু মিঠাপানিতে পাওয়া যায়। 
মুখ ও পরাঙমুখ বরাবর অনুদৈর্ঘ্য অক্ষকে ঘিরে অরীয় প্রতিসম। 
• এদের অনেক প্রজাতি বহুরূপীতা পরিদর্শন করে। বহুরূপী সদস্যদের মৌলিক একক পলিপ এবং মেডুসা। 
• দেহ প্রাচীর দ্বিস্তরী। 
• দেহাভ্যন্তরে সিলেন্টেরন নামক পরিপাক-সংবহন গহ্বর থাকে। 
• সাধারণত সিলিয়াযুক্ত মুক্ত সন্তরণক্ষম প্লানুলা লার্ভার মাধ্যমে পরিস্ফুটন ঘটে। 
উদাহরণ: Aurelia aurita (জেলিফিশ), Hydra vulgaris (হাইড্রা) ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২.
প্রোটিস্টাদের কোষে নিচের কোনটি থাকে না? 
  1. ভ্রুণ
  2. অঙ্গাণু
  3. নিউক্লিয়ার পর্দা
  4. ক্রোমাটিন
ব্যাখ্যা
প্রোটিস্টা (Protista) বৈশিষ্ট্য: 
- এরা এককোষী বা বহুকোষী, একক বা কলোনিয়াল (দলবদ্ধ) বা ফিলামেন্টাস এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট।
- কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। 
- ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে। 
- কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে। 
- খাদ্যগ্রহণ শোষণ বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে ঘটে। 
- মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে অর্থাৎ জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে এক, এরূপ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে। 
- কোনো ভ্রুণ গঠিত হয় না। 
উদাহরণ: অ্যামিবা, প্যারামেসিয়াম, এককোষী ও বহুকোষী শৈবাল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩.
অ্যানিলিডা পর্বের প্রাণীদের দেহ গঠন কেমন? 
  1. গোলাকার ও রেডিয়াল প্রতিসম
  2. চ্যাপ্টা ও বিকেন্দ্রিক 
  3. গোলাকার এবং অসম প্রতিসম 
  4. লম্বা, নলাকার ও দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম 
ব্যাখ্যা

Annelida (অ্যানিলিডা): 
- ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী ল্যামার্ক (Lamarck) উন্নত খণ্ডায়িত প্রাণীদের অ্যানিলিডা (ল্যাটিন, annulus/annelus = little ring ছোট আংটি + eidos = form রূপ) নামে চিহ্নিত করেন। 

বৈশিষ্ট্য: 
- দেহ লম্বা, নলাকার, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং পরপর রৈখিকভাবে সজ্জিত। 
- দেহে প্রকৃত সিলোম বিদ্যমান, দেহত্বক কাইটিনবিহীন পাতলা ও নমনীয় কিউটিকল দ্বারা আবৃত। 
- সিটা বা প্যারাপোডিয়া চলনে সাহায্য করে। 
- নেফ্রিডিয়ার মাধ্যমে রেচন ঘটে, রেচনাঙ্গ খণ্ডে খণ্ডে সজ্জিত থাকে। 
- পৌষ্টিকনালী নলাকার ও সম্পূর্ণ (মুখ পায়ু ছিদ্র সমন্বিত)। 
- রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির, রক্তের বর্ণ লাল। 
- পরোক্ষ পরিস্ফুটনের ক্ষেত্রে মুক্ত সন্তরণক্ষম ট্রোকোফোর নামক লার্ভার বিকাশ ঘটে। 
- উভলিঙ্গ সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ পরিস্ফুটন ঘটে। আবার কিছু ক্ষেত্রে অযৌন জনন ঘটে থাকে। 
উদাহরণ: Hirudo medicinalis (জোক), Metaphire posthuma (কেঁচো)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪.
প্রাণিবিজ্ঞানের জনক-
  1. ক) থিওফ্রাস্টাস
  2. খ) উইলিয়াম হার্ভে
  3. গ) অ্যারিস্টটল
  4. ঘ) লুই পাস্তুর
ব্যাখ্যা
গ্রিক বিজ্ঞানী এরিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
গ্রিক বিজ্ঞানী থিওফ্রাস্টাসকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
শারীরবিদ্যার জনক উইলিয়াম হার্ভে।
৫৫.
একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানে প্রথম স্তরের খাদক কোনটি? 
  1. ব্যাঙ
  2. কচ্ছপ
  3. মশার শুককীট
  4. হাইড্রিলা
ব্যাখ্যা
বাস্তুসংস্থান (Ecology): 
- পরিবেশের সাথে জীবের যে পারস্পরিক ক্রিয়া তার একটি শৃঙ্খলা রয়েছে যাকে বাস্তুসংস্থান বলা হয়। 
- বাস্তুসংস্থানকে ইংরেজিতে Ecology বলা হয়। এর উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Oikos যার অর্থ ঘর বা বসতি স্থান এবং Logos হচ্ছে বিজ্ঞান বা অধ্যয়ন। 
সুতরাং বাস্তুসংস্থান শব্দটির আভিধানিক অর্থ পৃথিবী বাসগৃহের তত্ত্বাবধায়ক বিজ্ঞান। তবে বাস্তুসংস্থান শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
- বৃহৎ অর্থে বাস্তুসংস্থান হলো পৃথিবীতে বসবাসকারী জীবগোষ্ঠির সাথে পরিবেশের সম্পর্ক অর্থাৎ জীবের সাথে পরিবেশের পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞানই হলো বাস্তুসংস্থান। 
যেমন- জলজ বাস্তুসংস্থান, স্থলজ বাস্তুসংস্থান, বনজ বাস্তুসংস্থান ইত্যাদি। 
- প্রত্যেকটি বাস্তুসংস্থান আলাদা এবং পরিপূর্ণভাবে শৃঙ্খলের মধ্যে টিকে আছে। আর প্রত্যেকটি শৃঙ্খলের উপর মানুষ নির্ভরশীল। 
- পরিবেশের এই শৃঙ্খলা যখন স্বাভাবিক নিয়মে বিরাজমান এবং চলমান থাকে তখন তাকে পরিবেশের ভারসাম্য অবস্থা বলে। 
- এই ভারসাম্য অবস্থা বুঝার জন্য একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তুলে ধরা হলো - 

- একটি পুকুরে বসবাসকারী জীব সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রধান হচ্ছে ভাসমান ও সঞ্চারমান ক্ষুদ্র জীব অর্থাৎ প্লাঙ্কটন। এছাড়া রয়েছে সবুজ শেওলা ও ক্ষুদ্র জলজ প্রাণি। - আর জড় উপাদানের মধ্যে রয়েছে পানি, মাটি ও সৌরশক্তি ইত্যাদি। 
- পুকুরের বাস্তুসংস্থানের উৎপাদক হচ্ছে সাধারণ ভাসমান ও অগভীর পানির বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ। 
যেমন- কচুরিপানা, শাপলা, হাইড্রিলা ইত্যাদি। 
- একটি পুকুরের প্রথম শ্রেণির খাদক হলো বিভিন্ন প্রকার ভাসমান ক্ষুদ্র পোকা, মশার শুককীট প্রভৃতি। 
- দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক হলো খামারি আকৃতির মাছ, ব্যাঙ, কচ্ছপ ইত্যাদি। 
- আর তৃতীয় শ্রেণির খাদকের মধ্যে রয়েছে বড় মাছ, বক, গাংচিল প্রভৃতি। 
- মৃত্যুর পর একই নিয়মে জীবাণু, মৃতজীবি ছত্রাক, কাঁদায় বসবাসকারী পোকা বিয়োজকের কাজ করে।  
- বিয়োজিত অজৈব লবণ পুকুরের উৎপাদক সম্প্রদায় খাদ্য উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে। এভাবে পুকুরের প্রত্যেকটি উপাদান স্বাভাবিক নিয়মে নিজ নিজ কার্যাদি সম্পন্ন করে থাকে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তার সুশৃঙ্খল ধারা বজায় রেখে ভারসাম্য বজায় রাখছে। 
- কোনো কারণে এই শৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটলে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। পুকুরের বাস্তুসংস্থানের অন্তর্গত কোনো একটি শ্রেণি নষ্ট বা ধ্বংস হলে শৃঙ্খলা ভেঙ্গে যাবে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬.
ক্রোমাজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাকে কী বলে?
  1. ফ্যাক্টর
  2. প্লাজমিড
  3. অ্যালিল
  4. লোকাস
ব্যাখ্যা
জিন (Gene):

• জীবের সব দৃশ্য এবং অদৃশ্যমান লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী এককের নাম জিন।
• এর অবস্থান জীবের ক্রোমোজোমে।
• ক্রোমাজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে, তাকে লোকাস (Locus) বলে।
• সাধারণত একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট জিন থাকে।
• কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাধিক জিন মিলিতভাবে একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশে সহায়তা করে। আবার কোনো কোনো সময় একটি জিন একাধিক বৈশিষ্ট্যও নিয়ন্ত্রণ করে।
• জিনই বংশগতির নিয়ন্ত্রক।
• W.L Johannsen (গ্রিক genes=born) ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে জিন শব্দটি ব্যবহার করেন।
• ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে মেন্ডেল এর অনুমানকৃত জীবের বৈশিষ্ট্য নির্ধারক বস্তুটি হলো এলিমেন্টিস বা ফ্যাক্টর (elementes or factor) যা পরবর্তীকালে জিন নামে অভিহিত হয়।

• অ্যালিল (Allel), অ্যালিলোমর্ফ (Allelomorph) : ক্রোমোসোমের একই লোকাসে অবস্থানকারী জিনগুলোকে পরস্পরের অ্যালিল বলা হয়।
• প্লাজমিড: প্লাজমিড হল স্বজননক্ষম ও বহিঃ ক্রোমোসোমীয় বৃত্তকার দ্বৈত DNA অণু। প্লাজমিডকে জৈব প্রযুক্তির অন্যতম মৌলিক হাতিয়ার বলা হয়।


Image Source: https://microbenotes.com/genes-and-loci-a-complete-guide/ 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৭.
কোনটি বংশগতি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. প্রোটিন
  2. হরমোন
  3. ক্রোমোজোম
  4. লোহিত রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা

- ক্রোমোজোম-কে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয় কারণ এটি জিন বহন করে পিতা-মাতা থেকে পরবর্তী প্রজন্মে নিয়ে যায়। এই জিনগুলোই জীবের বৈশিষ্ট্য (যেমন: চোখের রঙ, চুলের ধরন, ইত্যাদি) নিয়ন্ত্রণ করে। 

ক্রোমোজোম: 
- যে সকল বস্তু জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তাকে বংশগতি বস্তু বলে। 
- DNA এর যে ছোট অংশ নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তাকে জিন বলে। 
- উন্নত জীবে DNA প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে তৈরি করে ক্রোমোজোম। 
- ক্রোমোজোমই জনন কোষের মাধ্যমে সন্তান-সন্ততিতে বাহিত হয়। 
অর্থাৎ, ক্রোমোজোম হলো বংশগতি বস্তুর ধারক ও বাহক। 
- ক্রোমোজোমকে বংশগতির প্রধান উপাদান বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮.
সামাজিক আচরণ প্রদর্শনকারী প্রাণী কোনটি?
  1. ব্যাঙ
  2. বাবুই পাখি
  3. কুকুর
  4. মৌমাছি
ব্যাখ্যা

• সামাজিক আচরণ প্রদর্শনকারী প্রাণী হলো এমন প্রাণী যারা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে, নিজেদের মধ্যে সংযোগ ও সহযোগিতা করে এবং দলগত কাজ করে। এই ধরনের প্রাণীর মধ্যে একে অপরের সাথে যোগাযোগ, খাদ্য সংগ্রহ, শিকার করা বা শত্রু থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাধারণ। উপরের উদাহরণগুলোতে ব্যাঙ মূলত একা থাকে এবং সামাজিকতা খুব কম দেখায়। বাবুই পাখি কিছুটা দলবদ্ধ হয়, কিন্তু সামাজিক আচরণ সীমিত। কুকুর মানুষের সাথে এবং নিজেদের মধ্যে সামাজিক আচরণ দেখায়, তবে মৌমাছি সম্পূর্ণ সামাজিক প্রাণী হিসেবে পরিচিত। মৌমাছি ছত্রাকের মতো কাঠামো তৈরি, খাদ্য সংগ্রহ, সন্তান পালন এবং রানী মৌমাছির নেতৃত্বের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সামাজিক জীবন পরিচালনা করে। তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) মৌমাছি।
 
• মৌমাছির সামাজিক আচরণ (Social Behavior of Honey Bee):
- মৌমাছি সামাজিক প্রাণী। একেকটি বড় পরিবার গড়ে বা বসতবদ্ধ হয়ে মৌচাকে বাস করে।
- প্রত্যেকটি কলোনিতে মৌমাছির ৩টি সম্প্রদায়ভুক্ত সদস্যরা সম্মিলিতভাবে সামাজিক উন্নয়নে নিরলস কাজ করে চলে।
- একটি মাত্র রাণীর নেতৃত্বে কয়েকশ ড্রোন (পুরুষ মৌমাছি) এবং ৬০-৮০ হাজার কর্মী মৌমাছি (বন্ধ্যা স্ত্রী মৌমাছি) সুশৃঙ্খলভাবে সামাজিক দায়িত্ব পালন করে।
- এই মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা মৌমাছি গোষ্ঠীর সকল মৌলিক চাহিদা মিটিয়ে প্রাণিজগতে অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
- মৌমাছিরা দৃঢ় সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে বাস করে এবং একে সমাজবদ্ধ প্রাণীর আদর্শ উদাহরণ বলা হয়।

সুতরাং, সামাজিক আচরণ প্রদর্শনকারী প্রাণী হল মৌমাছি।  
সঠিক উত্তর: ঘ) মৌমাছি। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল এবং গাজী আসমত। 

৫৯.
মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের বিকল্প নাম কী?
  1. স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্র
  2. ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র
  3. মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের অপর নাম মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র/ জনন কোষ শুদ্ধতার সূত্র/ পৃথকীকরণ সূত্র।

• মেন্ডেলের সূত্র:
- জীনতত্ত্বের জনক বলে পরিচিত মেন্ডেল মূলত পেশায় অস্ট্রিয়ার একজন ধর্মযাজক ছিলেন।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেল বংশগতির দুটি সূত্র প্রদান করেন ।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩:১।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অনুপাত ৯:৩:৩:১।

• মেন্ডেলের বংশগতির প্রথম সূত্র:
- মেন্ডেলের প্রথম সূত্রকে পৃথকীকরণ সূত্র বলা হয়।
- ‘জীবের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি একক দায়ী থাকে যাকে ফ্যাক্টর (জিন) বলা হয় এবং ফ্যাক্টর বা জিনগুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে। সঙ্কর জীবে ফ্যাক্টর বা জিনগুলো মিশ্রিত না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে এবং গ্যামিট উৎপাদনের সময় অপরিবর্তিত অবস্থায় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামিটে গমন করে'।

• মেন্ডেলের বংশগতির দ্বিতীয় সূত্র:
- ‘দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জীবে সঙ্করায়ন ঘটালে গ্যামিট সৃষ্টিকালে প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের ফ্যাক্টর বা জিন যুগলের স্বাধীন সঞ্চারণ বা বিন্যাস ঘটে এবং কোন একটি ফ্যাক্টর যুগলের সঞ্চারণ অন্য ফ্যাক্টর যুগলের উপর নির্ভরশীল নয়'।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অপর নাম - স্বাধীন সঞ্চারণ বা ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০.
"Survival of the fittest" ধারণাটি সর্বপ্রথম কোন বিজ্ঞানী ব্যবহার করেন?
  1. ল্যামার্ক
  2. গ্রেগর মেন্ডেল
  3. থমাস হাক্সলি
  4. হার্বার্ট স্পেন্সার
ব্যাখ্যা

"Survival of the fittest" ধারণাটি প্রথম ব্যবহার করেন হার্বার্ট স্পেন্সার, একজন সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক।
- পরে চার্লস ডারউইন তার প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection) তত্ত্ব ব্যাখ্যা করার সময় এই বাক্যাংশটি গ্রহণ করেন।
- অর্থাৎ, পরিবেশের সাথে সবচেয়ে বেশি মানিয়ে নিতে সক্ষম জীবই টিকে থাকে ও বংশবিস্তার করে।

প্রাকৃতিক নির্বাচন বা যোগ্যতমের উর্দ্ধতন (Natural Selection or Survival of the Fittest):
- ডারউইনের মতে জীবন ধারণের সংগ্রামে কেবল সেই জীব সাফল্য লাভ করে যাদের দেহে সংগ্রামের পক্ষে অনুকূলে এবং অধিকতর ও সঙ্গত সামঞ্জস্যপূর্ণ অভিযোজন বা প্রকরণ থাকে।
- যে সকল জীবের অভিযোজন বা প্রকরণ সংগ্রাম উত্তরণের উপযোগী নহে তারা পৃথিবী হতে বিলীন হয়ে যায়।
- ডারউইন একে প্রাকৃতিক নির্বাচন (natural selection) বলে অভিহিত করেছেন।
- Herbert Spencer একে যোগ্যতমের উর্দ্ধতন (survival of the fittest) হিসেবে অ্যাখায়িত করেছেন।

অন্যান্য অপশনসমূহ:
- ল্যামার্ক: তিনি 'অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার' তত্ত্বের প্রবক্তা।
- গ্রেগর মেন্ডেল: তিনি বংশগতিবিদ্যার জনক।
- থমাস হাক্সলি: তিনি ডারউইনের একজন শক্তিশালী সমর্থক ও প্রচারক ছিলেন, কিন্তু এই শব্দটির প্রবক্তা নন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১.
অ্যামিবা কোন প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে?
  1. অরীয় প্রতিসাম্য
  2. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য​
  3. অপ্রতিসাম্য
  4. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য
ব্যাখ্যা
প্রতিসাম্য: 
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

২। গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

৩। অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

৪। দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

৫। দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২.
কোন অর্গানেলটি পর্দা দ্বারা আবেষ্টিত থাকে না?
  1. রাইবোসোম
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. পারোক্সিসোম
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত অপশনসমূহের মধ্যে 'রাইবোসোম' পর্দা দ্বারা আবেষ্টিত থাকে না। 
 
• রাইবোসোম: 
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাই রাইবোসোম। 
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। 
- রাইবোসোমের কোনো আবরণী নেই। 
- সাইটোপ্লাজমে একাধিক রাইবোসোম মুক্তোর মালার মতো অবস্থান করলে তাকে পলিরাইবোসোম বা পলিসোম বলে। 
- আদিকোষ ও প্রকৃতকোষ-এই উভয় প্রকার কোষেই রাইবোসোম উপস্থিত থাকার কারণে রাইবোসোমকে সর্বজনীন অঙ্গাণু বলা হয়। 
 
• ক্লোরোপ্লাস্ট:  
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। 
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। 
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। 
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। 

ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন (ভৌত গঠন): 
- সমস্ত ক্লোরোপ্লাস্ট একটি দুই স্তরবিশিষ্ট আংশিক অনুপ্রবেশ্য (semipermeable) মেমব্রেন (ঝিল্লি) দ্বারা আবৃত থাকে। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট মেমব্রেনে ফসফোলিপিড-এর পরিবর্তে গ্লাইকোসিল গ্লিসারাইড (glycosyl glyceride) থাকে।
- এটি একটি ব্যতিক্রমী গঠন। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট হলো তিন মেমব্রেন দ্বারা তৈরি ৩ প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট একটি অঙ্গাণু। 

• মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- প্রকৃত জীবকোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু হলো মাইটোকন্ড্রিয়া।
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা শক্তিঘর বলা হয়।
- এ অঙ্গাণুতে ক্রেবস্ চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট প্রক্রিয়া প্রভৃতি ঘটে থাকে।
- দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী ঝিল্লি দ্বারা সীমিত সাইটোপ্লাজমন্ত্র যে অঙ্গাণুতে ক্রেবস্ চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট ইত্যাদি ঘটে থাকে এবং শক্তি উৎপন্ন হয় সেই অঙ্গাণুকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে। 
- মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গানু। 

• পারোক্সিসোম: 
- পারঅক্সিসোম প্রায় সব ধরনের কোষে দেখা গেলেও প্রাণীর কিডনি ও লিভার কোষে অধিক থাকে। 
- অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের আউটপকেটিং-এর মাধ্যমে এরা তৈরি হয়। 
- এরা এক আবরণী বিশিষ্ট, ব্যাস ০.২-১৭ µm, এবং এরা দানাদার। 
- এর ভেতরে ক্রিস্টাল বা দানার আকারে সঞ্চয়ী এনজাইম জমা থাকে। 
- এর মধ্যে catalase প্রধান এনজাইম, এদেরকে মাইক্রোসোম (microsome) নামেও অভিহিত করা হয়। 
- ১৯৬৭ সালে বেলজিয়াম সাইটোলজিস্ট Christian de Duve কোষের সাইটোপ্লাজম থেকে পারঅক্সিসোম অঙ্গাণুটি আবিষ্কার করেন। 
- পারঅক্সিসোম প্রাণীর কিডনি ও লিভার কোষে অধিক থাকে। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৩.
Platyhelminthes পর্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. একস্তরী, সিলোমযুক্ত, অসীম
  2. ত্রিস্তরী, চ্যাপ্টাদেহী, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম
  3. দ্বিস্তরী, কুণ্ডলীযুক্ত, অপ্রতিসম 
  4. ত্রিস্তরী, গোলাকৃতি, উভয়লিঙ্গিক
ব্যাখ্যা

- Platyhelminthes পর্বের প্রাণীরা ত্রিস্তরী (Triploblastic), অর্থাৎ এদের দেহে তিনটি ভ্রূণীয় কোষস্তর (এক্টোডার্ম, মেসোডার্ম ও এন্ডোডার্ম) থাকে। এদের দেহ উপর-নিচে চ্যাপ্টা, পাতা বা ফিতার মতো হয়, যে কারণে এদেরকে চ্যাপ্টা কৃমি (flatworm) বলা হয়। এরা দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম (Bilaterally symmetrical), যার অর্থ হলো এদের দেহকে কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর শুধুমাত্র একটি তলে দুটি সমান ও অভিন্ন অংশে ভাগ করা যায়। 

Platyhelminthes (চ্যাপ্টাদেহী কৃমি): 
- Platyhelminthes শব্দটি Greek শব্দ Platy = চ্যাপ্টা এবং Helminthes = কৃমি এ দুটি শব্দ নিয়ে গঠিত।
- ১৮৫৯ সালে Gogenbour এ পর্বের নামকরণ করেন। এ পর্বের আবিষ্কৃত প্রজাতির সংখ্যা ২৯,৪৮৭।

Platyhelminthes পর্বের বৈশিষ্ট্য: 
১। এরা ত্রিস্তরী (Triploblastic), চ্যাপ্টাদেহী ও সাধারণত চোষক বা আংটাযুক্ত অন্তঃপরজীবী কৃমিজাতীয়। 
২। এদের দেহগহ্বর অপ্রকৃত সিলোম। 
৩। এরা উভয়লিঙ্গিক ও দেহ সিলিয়াযুক্ত এপিডার্মিস অথবা কিউটিকল দ্বারা আবৃত। 
৪। এদের স্বনিষেক হয়। 
৫। শিখাকোষ (flame cell) নামক কোষের সাহায্যে রেচন সম্পাদন করে। 
৬। এদের পরিপাকতন্ত্র অসম্পূর্ণ (পায়ুবিহীন)। 
৭। এদের দেহ দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম। 

- শিখাকোষ (flame cell) হলো planaria (মিঠা পানিতে মুক্তভাবে বাস করা ফ্ল্যাটওয়ার্ম) প্রাণীদের মেসোডার্মে বিদ্যমান টিউবের সাথে সংযুক্ত কোষ। এ কোষগুলো গর্তবিশিষ্ট বাল্ব ধরনের যাদের গুচ্ছাকারে সিলিয়া থাকে। সিলিয়াগুলো প্রচণ্ডভাবে আন্দোলিত হয়ে টিউবের ভেতরে পানির স্রোত তৈরি করে। ফলে বর্জ্য বস্তুসমূহ নির্গমন ছিদ্রের মাধ্যমে বাইরে নিষ্ক্রান্ত হয়। এভাবেই শিখাকোষ রেচন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। 
উদাহরণ: Taenia solium-ফিতাকৃমি, Fasciola hepatica-যকৃতকৃমি, Schistosoma ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৬৪.
ডিএনএ কাটার জন্য এনজাইম কোনটি?
  1. পলিমারেজ
  2. লেকটেজ
  3. নিউক্লিয়েজ
  4. রেস্ট্রিকশন
ব্যাখ্যা
রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ টেকনোলজির ধাপ: 
- রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ টেকনোলজির প্রধান ধাপসমূহ হলো - 
(ক) প্রত্যাশিত DNA নির্বাচন ও পৃথকিকরণ, 
(খ) বাহক নির্বাচন, 
(গ) প্রত্যাশিত DNA অণুকে ছেদন, 
(ঘ) ছেদনকৃত প্রত্যাশিত DNA অণুকে বাহক প্লাজমিডে সংযোজন এবং 
(ঙ) পোষক নির্বাচন ও রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ -কে পোষকে স্থাপন। 

প্রত্যাশিত DNA অণুকে ছেদন: 
- এক্ষেত্রে প্রথমে প্রত্যাশিত DNA অণুকে মূল DNA থেকে কেটে আলাদা করা হয়। 
- প্রত্যাশিত DNA অণুকে কাঁটতে একটি বিশেষ এনজাইম (রেস্ট্রিকশন এন্ডোনিউক্লিয়েজ দ্বারা DNA ছেদন করা হয়) ব্যবহার করা হয়। 
- বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০ টি রেস্ট্রিকশন এনজাইম আবিষ্কৃত হয়েছে। 
যথা- Eco RI, Hind III, Bam III ইত্যাদি। 
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম DNA অণুর একটি সুনির্দিষ্ট সাজানো অংশকে (Sequence) কেঁটে দেয়। 
- ভিন্ন ভিন্ন রেস্ট্রিকশন এনজাইম ভিন্ন ভিন্ন DNA sequence বিশিষ্ট স্থানে কর্তন করে থাকে। 
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম এমনভাবে DNA অণু কর্তন করে যে DNA অণু দুটি স্ট্রান্ডের একটির প্রান্ত অপরটির থেকে লম্বা থাকে। 
- ফলে প্রত্যাশিত DNA খন্ডটি নতুন DNA অণুর সাথে সহজে যুক্ত হতে পারে। 
- খন্ডিত DNA অণুর প্রান্তদ্বয় আঁঠালো প্রকৃতির হয়, তাই একে আঁঠালো প্রান্ত (Sticky end) বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫.
নিচের কোনটি উভচর প্রাণী?
  1. সিলাকান্থ
  2. কড়িকাইট্টা
  3. কুকা
  4. আসমতিব্যাঙ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- সিলাকান্থ, অস্ট্রেলিয়ান কিংবা আফ্রিকান লাংফিশ এসবই Sarcopterygii শ্রেণিভুক্ত প্রাণী।
- কড়িকাইট্টা, টিকটিকি, ঘড়িয়াল, সাপ ইত্যাদি হলো সরীসৃপ প্রাণী।
- তিতির, দোয়েল, কুকা ইত্যাদি হলো Aves শ্রেণিভুক্ত তথা পাখি।
- স্যালামান্ডার, সোনাব্যাঙ, আসমতিব্যাঙ, গেছোব্যাঙ ইত্যাদি হলো Amphibian অর্থাৎ উভচর।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬৬.
খাদ্য শৃঙ্খলের উদাহরণ হিসেবে কোনটি সঠিক? 
  1. পাখি → পশু → সাপ → ঘাস
  2. পতঙ্গ → মাটির নিচে প্রাণী → ঈগল
  3. মাছ → পাখি → উদ্ভিদ → ব্যাঙ → সাপ
  4. ঘাস → পতঙ্গ → ব্যাঙ → সাপ → ঈগল
ব্যাখ্যা
খাদ্য শৃঙ্খল: 
- এ পৃথিবীতে সকল শক্তির উৎস সূর্যের আলো। 
- বাস্তুতন্ত্রের উৎপাদক হচ্ছে সবুজ উদ্ভিদ। 
- প্রাথমিক স্তরের খাদক খাদ্যের জন্য উৎপাদকের উপর নির্ভরশীল। আবার দ্বিতীয় স্তরের খাদক নির্ভরশীল প্রাথমিক স্তরের খাদকের উপর। তৃতীয় স্তরের খাদক খায় দ্বিতীয় স্তরের খাদকদেরকে। এভাবে একটি বাস্তুতন্ত্রে সকল জীব (উদ্ভিদ ও প্রাণী) পুষ্টি চাহিদার দিক থেকে ধারাবাহিকভাবে সংযুক্ত থাকে আর এভাবে গড়ে উঠে খাদ্যশৃঙ্খল। 
অর্থাৎ, উদ্ভিদ উৎস থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে একে অন্যকে খাওয়ার মাধ্যমে শক্তির যে স্থানান্তর ঘটে, তাই খাদ্যশৃঙ্খল। 
যেমন: ঘাস → পতঙ্গ → ব্যাঙ → সাপ → ঈগল। 

খাদ্যজাল: 
- বাস্তুতন্ত্রে অসংখ্য খাদ্যশৃঙ্খল থাকে। 
- এসব খাদ্যশৃঙ্খল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বিভিন্ন খাদ্যশৃঙ্খল পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। খাদ্যশৃঙ্খলের এ ধরনের সংযুক্তিকে খাদ্যজাল বলা হয়। 

অন্যদিকে, 
ক) অপশনের শৃঙ্খলটি সঠিক নয় কারণ এখানে পাখি, পশু, সাপ এবং ঘাসের মধ্যে খাদ্য শৃঙ্খল সঠিকভাবে অনুসৃত হয়নি। ঘাস একটি উৎপাদক হিসেবে শুরু হওয়া উচিত ছিল, এবং পশু ও পাখি সাধারণত শিকারি বা ভোক্তা প্রাণী হিসেবে কাজ করে। 
খ) অপশনের শৃঙ্খলেও একটি সঠিক খাদ্য শৃঙ্খল নেই, কারণ মাটির নিচে প্রাণী (যেমন শুঁটকি বা মাটির প্রাণী) পাখির খাদ্য হতে পারে, তবে এখানে উৎপাদক এবং অন্য স্তরের ভোক্তাদের সম্পর্ক সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়নি। 
গ) অপশনের শৃঙ্খলটি সঠিক নয়, কারণ এখানে মাছ, পাখি, উদ্ভিদ, ব্যাঙ, এবং সাপের মধ্যে খাবারের চেইন ঠিকভাবে সাজানো হয়নি। উদ্ভিদ (যেমন ঘাস) সাধারণত খাদ্য শৃঙ্খলের প্রথম স্তরে থাকবে, তারপর ভোক্তা প্রাণীরা আসবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৬৭.
Adult Cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম হয়েছে তার নাম দেয়া হয়েছে-
  1. শেলী
  2. ডলি
  3. মলি
  4. নেলী
ব্যাখ্যা
- Adult cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম হয়েছে তার নাম দেয়া হয়েছে ডলি
- ডলি হলো মানব-ইতিহাসে প্রথম সফল স্তন্যপায়ী প্রাপ্তবয়স্ক ক্লোন প্রাণী।
- ডলির জন্ম হয় ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই।
- ডলির নামকরণ করা হয় আমেরিকার বিখ্যাত শিল্পী ডলি পের্টনের নামে।
- ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফুসফুসে জটিলতার কারণে মাত্র সাড়ে ছয় বছর বয়সে মারা যায় ডলি।
- ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব স্কটল্যান্ডে সংরক্ষিত আছে ডলির স্টাফ করা দেহ।

উৎস: বিবিসি ওয়েবসাইট।
৬৮.
নিচের কোনটি বংশগতির প্রধান উপাদান?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. ক্রোমোজোম
  3. কোষ প্রাচীর
  4. প্লাস্টিড
ব্যাখ্যা

বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম।

• ক্রোমোজোম:
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু।
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি।
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন।
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে।
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম।
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই।
- অপর এক জোড়া বা ২ টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।
- ক্রোমোজোমের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো ডিএনএ (DNA) এবং প্রোটিন (হিস্টোন প্রোটিন)।
- ডিএনএ অণুর নির্দিষ্ট অংশকে জিন (Gene) বলা হয়, যা বংশগতির কার্যগত একক।

অন্যান্য অপশনসমূহ: 
- মাইটোকন্ড্রিয়া: এটি কোষের শক্তি উৎপাদনকারী অঙ্গাণু বা 'পাওয়ার হাউস'। এটি বংশগতির প্রধান উপাদান নয়।
-কোষ প্রাচীর: এটি উদ্ভিদকোষের বাইরের শক্ত আবরণ যা কোষকে সুরক্ষা ও আকার দেয়। এর বংশগতিতে সরাসরি ভূমিকা নেই।
- প্লাস্টিড: এটি প্রধানত উদ্ভিদকোষে পাওয়া যায় এবং খাদ্য প্রস্তুত ও সঞ্চয় (যেমন ক্লোরোপ্লাস্ট, সালোকসংশ্লেষণে সাহায্যকারী) এর সঙ্গে যুক্ত।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯.
নিম্নের কোন জলজ প্রাণিটির ফুলকা নেই?
  1. স্কুইড
  2. তিমি
  3. অক্টোপাস
  4. ক্লাউন মাছ
ব্যাখ্যা

তিমি ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাস নেয়, তাই তাদের ফুলকা নেই। 
- তিমি একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী, মাছ নয়।

জলজ প্রাণী:
- জলজ প্রাণী হলো এমন প্রাণী যেগুলো পানিতে বাস করে এবং সাধারণত পানির মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস, খাদ্য গ্রহণ এবং প্রজনন করে।
- উদাহরণ: মাছ, তিমি, অক্টোপাস, স্কুইড ইত্যাদি।

ফুলকা ব্যবহারকারী জলজ প্রাণী:
- ফুলকা হলো পাতলা পর্দাযুক্ত অঙ্গ, যেখানে পানির সংস্পর্শে আসার পর অক্সিজেন রক্তে প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড পানি থেকে বের হয়ে যায়।
- সাধারণত মাছ, অক্টোপাস, স্কুইড, ক্রাস্টেসিয়ান (যেমন কাঁকড়া) ইত্যাদি ফুলকা দিয়ে শ্বাস নেয়।

ফুসফুস ব্যবহারকারী জলজ প্রাণী:
- জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী যেমন তিমি, ডলফিন, সামুদ্রিক কচ্ছপ ইত্যাদি ফুসফুসের মাধ্যমে শ্বাস নেয়।
- এরা বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করে। এই প্রাণীরা শ্বাস নেওয়ার জন্য নিয়মিত পানির উপরে ভেসে ওঠে।
- তিমিরা তাদের ফুসফুসে বাতাস ধরে রেখে দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে থাকে এবং যখন তাদের অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তখন তারা পানির উপরে ভেসে ওঠে এবং "ব্লোহোল" (blowhole) নামক নাসারন্ধ্র দিয়ে শ্বাস নেয়।

উল্লেখ্য-
- স্কুইড এবং অক্টোপাস উভয়ই Mollusca পর্বের Cephalopoda শ্রেণীর প্রাণী এবং এদের ফুলকা আছে, যা দিয়ে তারা পানি থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
- ক্লাউন মাছ (Clownfish) একটি মাছ এবং মাছের শ্বাসযন্ত্র হিসেবে ফুলকা ব্যবহার করে।

উৎস: 
১। প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

৭০.
অ্যামিবা (Amoeba proteus) কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত? 
  1. স্তরবিহীন
  2. একস্তরী
  3. দ্বিস্তরী
  4. ত্রিস্তরী
ব্যাখ্যা
ভ্রূণীয় স্তর: 
- ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা - 
ক) একস্তরী: 
- এরা সরল ধরনের প্রাণী। 
- এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। 
যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum)। 

খ) দ্বিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita)। 

গ) ত্রিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- মানুষ (Homo sapiens)। 

ঘ) স্তরবিহীন প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১.
একই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে জিনগত পার্থক্যের ফলে যে বৈচিত্র্য দেখা যায়, তাকে কী বলা হয়?
  1. প্রাণিক বৈচিত্র্য
  2. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
  3. বংশগতীয় বৈচিত্র্য
  4. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা
জীববৈচিত্র্য (Biodiversity): 
- পৃথিবীতে বিরাজমান জীবগুলোর প্রাচুর্য এবং ভিন্নতাই হলো জীববৈচিত্র্য (Biodiversity)। 

জীববৈচিত্র্যের প্রকারভেদ: 
- জীববৈচিত্র্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity), বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity) এবং বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity)। 

১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য: 
- প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে সাধারণত পৃথিবীতে বিরাজমান জীবগুলোর মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বুঝায়। 
- পৃথকযোগ্য বৈশিষ্ট্যের কারণেই এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতি ভিন্নতর হয়। 
যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা বৃদ্ধির ধরন ভিন্ন হয়ে থাকে। 
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্নতাই প্রজাতিগত বৈচিত্র্য। 

২। বংশগতীয় বৈচিত্র্য: 
- একই প্রজাতিভুক্ত সদস্যগণের মধ্যেও অনেক বিষয়ে পার্থক্য দেখা যায়। 
যেমন- একই প্রজাতি কিন্তু তাদের গড়ন, আকার, রোগ-প্রতিরোধ এবং পরিবেশ প্রতিকূলতা সহ্য করার ক্ষমতা ভিন্ন। এই পার্থক্যগুলো তৈরি হয় তাদের জিন সংগঠনের সামান্য বৈচিত্র্যের কারণে। কারণ জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চারিত হয়। 
- প্রত্যেক বৈশিষ্ট্যের জন্য নির্দিষ্ট জিন থাকে। বিভিন্ন কারণে এই জিনের গঠন এবং বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন হয় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে, তাকেই বলা হয় বংশগতীয় বৈচিত্র্য। 

৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য: 
- একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান, রাসায়নিক উপাদান এবং জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোনো প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে। এসব পরিবর্তন অবশ্যই ধীর এবং ধারাবাহিক। এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়। ফলে যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়, তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য। 
- একটি ছোট পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যেসব উদ্ভিদ এবং প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর। 
- বন, তৃণভূমি, হ্রদ, নদী, জলাভূমি, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ এক একটি জীব সম্প্রদায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭২.
এককোষী জীবের উদাহরণ কোনটি? 
  1. ব্যাঙ 
  2. মানুষ 
  3. ব্যাকটেরিয়া 
  4. বৃক্ষ 
ব্যাখ্যা

জীবের বৈশিষ্ট্য: 
- জীবদেহ জীবকোষ (Cell) দ্বারা গঠিত। 
- ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা ইত্যাদি জীব মাত্র একটি কোষ দ্বারা গঠিত, তাই এরা এককোষী (Unicellular) জীব। 
- বৃক্ষ, গুল্ম, পশু-পাখি, মানুষ প্রভৃতি জীব অসংখ্য জীবকোষ দ্বারা গঠিত, তাই এরা বহুকোষী (Multicellular) জীব। 
- জীবকোষে সজীব প্রোটোপ্লাজম থাকে। 
- নিউক্লিয়াসসহ অন্যান্য কোষাঙ্গাণু প্রোটোপ্লাজমে অবস্থান করে। তাই প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভৌত ভিত্তি বলা হয়। 
- জড়বস্তু কোন জীবকোষ দ্বারা গঠিত নয় এবং জড়বস্তুতে কোন প্রোটোপ্লাজম নেই। 
- জীবের বংশবৃদ্ধির (Reproduction) তথা শিশু জীব জন্ম দেয়ার ক্ষমতা থাকে যা জড়বস্তুতে নেই। 
-  জীবদেহে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় (Physiological) কার্যকলাপ, যেমন- শ্বসন, পরিপাক, বৃদ্ধি, উত্তেজনায় সাড়া দেয়া, পরিবেশের সাথে অভিযোজন ইত্যাদি সংঘটিত হয়। 
- জড় বস্তুতে কোন শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ ঘটে না। 
- জীবের মৃত্যু আছে, জড় বস্তুর মৃত্যু নেই। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩.
কোনটি  জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ?
  1. Cycas
  2. Pinus
  3. Netum
  4. Royal Plam
ব্যাখ্যা

• জীবন্ত জীবাশ্ম বা “living fossil” হলো এমন উদ্ভিদ বা প্রাণী যা পৃথিবীতে বহু মিলিয়ন বছর ধরে কম পরিবর্তিত অবস্থায় টিকে আছে। এই প্রজাতিগুলি প্রায় প্রাচীন রূপে বর্তমানেও বিদ্যমান থাকে। প্রশ্নে যে চারটি উদ্ভিদ উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে Cycas জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। Cycas উদ্ভিদটি প্রায় ২ কোটি বছরের বেশি সময় ধরে পৃথিবীতে রয়েছে এবং এর গঠন ও জীবনচক্র প্রায় অপ্রচলিত অবস্থায় রয়ে গেছে। অন্যদিকে Pinus, Netum এবং Royal Palm তুলনামূলকভাবে আধুনিক উদ্ভিদ এবং জীবন্ত জীবাশ্মের সংজ্ঞায় পড়ে না। তাই প্রাচীন গঠন ও ইতিহাসের কারণে Cycas পরিচিত জীবন্ত জীবাশ্ম হিসেবে।

• জীবন্ত জীবাশ্ম :
- বর্তমান কালের কোন জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোন জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

• Cycas কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ:
- এটি Cycadales বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।
- প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে Cycadales বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপি বিস্তৃত ছিল।
- এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত।
- এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে।
- এ বর্গের Cycas সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে।
- এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদি কালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাড্স এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির।
- এজন্যই Cycas সহ বর্তমানকালের সকল সাইকাড্সকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
- Cycadales বর্গের সদস্যদেরকে সাইকাড্স বলে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪.
সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোসোম কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা
- বংশগতি বস্তুর মুখ্য উপাদান হলো ক্রোমোসোম।
- প্রজাতির বৈশিষ্ট্য অনুসারে প্রত্যেক কোষের নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোসোম থাকে।
- ক্রোমোসোমের আকার সাধারণত লম্বা। ক্রোমোসোমে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে।
- এ সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোসোম চার প্রকার। যথা- মধ্যকেন্দ্রিক, উপ মধ্যকেন্দ্রিক, উপ প্রান্তকেন্দ্রিক এবং প্রান্তকেন্দ্রিক।
- ক্রোমোসোমের রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে রয়েছে-
(১) নিউক্লিক অ্যাসিড,
(২) প্রোটিন এবং
(৩) অন্যান্য উপাদান।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫.
সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের প্রাথমিক উৎপাদক কারা?
  1. ছোট মাছ
  2. ফাইটোপ্ল্যাংকটন
  3. জুপ্ল্যাংকটন
  4. সামুদ্রিক শৈবাল
ব্যাখ্যা
◉  ফাইটোপ্ল্যাংকটন হলো অণুজীবীয় জলজ উদ্ভিদ, যা সূর্যালোক ব্যবহার করে প্রকাশ-সংস্লেষণ (Photosynthesis) করে খাদ্য তৈরি করে।
- এরা সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের প্রাথমিক উৎপাদক, কারণ তারা নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করতে পারে এবং খাদ্যশৃঙ্খলের পরবর্তী স্তরের জন্য শক্তি সরবরাহ করে।
- জুপ্ল্যাংকটন, ফাইটোপ্ল্যাংকটন খেয়ে বেঁচে থাকে।

বাস্তুসংস্থান (Ecology): 
- পরিবেশের সাথে জীবের যে পারস্পরিক ক্রিয়া তার একটি শৃঙ্খলা রয়েছে যাকে বাস্তুসংস্থান বলা হয়। 
- বাস্তুসংস্থানকে ইংরেজিতে Ecology বলা হয়। এর উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Oikos যার অর্থ ঘর বা বসতি স্থান এবং Logos হচ্ছে বিজ্ঞান বা অধ্যয়ন। 
সুতরাং বাস্তুসংস্থান শব্দটির আভিধানিক অর্থ পৃথিবী বাসগৃহের তত্ত্বাবধায়ক বিজ্ঞান। তবে বাস্তুসংস্থান শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
- বৃহৎ অর্থে বাস্তুসংস্থান হলো পৃথিবীতে বসবাসকারী জীবগোষ্ঠির সাথে পরিবেশের সম্পর্ক অর্থাৎ জীবের সাথে পরিবেশের পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞানই হলো বাস্তুসংস্থান। 
যেমন- জলজ বাস্তুসংস্থান, স্থলজ বাস্তুসংস্থান, বনজ বাস্তুসংস্থান ইত্যাদি। 

উৎপাদক :
উৎপাদক হচ্ছে পুকুরে বসবাসকারী সালোকসংশ্লেষণকারী বিভিন্ন প্রকার ভাসমান ও সঞ্চারমান ক্ষুদ্র জীব। পানিতে ভাসমান জীবদেরকে প্লাঙ্কটন (plankton) বলে। প্লাঙ্কটন জাতীয় ক্ষুদ্র উদ্ভিদকে উদ্ভিদ প্লাঙ্কটন বা ফাইটোপ্লাঙ্কটন (phytoplankton) বলে। এ ছাড়া পানিতে অবস্থিত সবুজ শেওলা ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে, এ সমস্ত উদ্ভিদকে উৎপাদক বলে ।

প্রথম স্তরের খাদক :
পানিতে ভাসমান বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্রাকার পোকা, মশার শুককীট, প্রাণি প্লাঙ্কটন (zoo plankton) ইত্যাদি প্রথম স্তরের খাদক হিসেবে কাজ করে। এ সমস্ত খাদক নিজে খাদ্য তৈরি করতে পারে না এবং সরাসরি উৎপাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে ।

দ্বিতীয় স্তরের খাদক :
এরা প্রথম স্তরের খাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। ছোট ছোট মাছ, জলজ পতঙ্গ, চিংড়ি, ব্যাঙ প্রভৃতি দ্বিতীয় স্তরের খাদকের অন্তর্ভুক্ত।

তৃতীয় স্তরের খাদক :
শোল, বোয়াল, ভেটকি প্রভৃতি বড় আকারের মাছ, বক, গাংচিল প্রভৃতি তৃতীয় স্তরের খাদক। এরা দ্বিতীয় স্তরের খাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।

বিয়োজক : 
পুকুরের পানিতে ভাসমান অথবা নিচের কাদায় বিভিন্ন ধরনের অনুজীব (যেমন : ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস ইত্যাদি) বাস করে, এদেরকে বিয়োজক জীব বলা হয়। এরা জীবিত বা মৃত খাদক প্রাণিদের আক্রমণ করে ও পচন ঘটায়, ফলে উৎপাদকের রাসায়নিক পদার্থের সৃষ্টি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬.
প্রকৃতিতে কত ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখতে পাওয়া যায়?
  1. দুই ধরনের
  2. তিন ধরনের
  3. চার ধরনের
  4. পাঁচ ধরনের
ব্যাখ্যা
• প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখতে পাওয়া যায়।

• প্রাণী-বৈচিত্র্য:
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে।
- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়।
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়। প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়। যথা-
১. জিনগত বৈচিত্র্য:
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে।
- উদাহরণ: মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।

২. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য:
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে।
- উদাহরণ: রয়েল বেঙ্গল টাইগার  ও সিংহ একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে।

৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়।
- উদাহরণ: তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭.
বংশগতি বস্তুর ধারক ও বাহক -
  1. ক্রোমোজোম
  2. জিন
  3. ডিএনএ
  4. আরএনএ
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোম: 
- যে সকল বস্তু জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তাকে বংশগতি বস্তু বলে। 
 
- উন্নত জীবে DNA প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে তৈরি করে ক্রোমোসোম। 
- ক্রোমোসোমই জনন কোষের মাধ্যমে সন্তান-সন্ততিতে বাহিত হয়। 
- ক্রোমোসোম হলো বংশগতি বস্তুর ধারক ও বাহক। 
- ক্রোমোসোমকে বংশগতির প্রধান উপাদান বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮.
নিচের কোনটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী?
  1. প্রজাপতি
  2. মাছ
  3. ব্যাঙ 
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা

- প্রজাপতি একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী কারণ এর কোনো মেরুদণ্ড বা শিরদাঁড়া নেই। 

প্রাণিজগৎ: 
- এসব জীবের কোষে সেলুলোজ নির্মিত কোষপ্রাচীর থাকে না। সাধারণত এই কোষগুলোতে প্লাস্টিড থাকে না, তাই খাদ্যের জন্য এরা উদ্ভিদের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 
উদাহরণ- মাছ, পাখি, গরু, মানুষ ইত্যাদি। 
- মেরুদণ্ডের উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে প্রাণীজগৎকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। মেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড আছে, তাদেরকে বলা হয় মেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মাছ, ব্যাঙ, পাখি, টিকটিকি, গরু, ছাগল, মানুষ ইত্যাদির মেরুদণ্ড আছে। 
- এদের মেরুদণ্ড আছে, দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে, পাখনা বা দুই জোড়া পা থাকে, চোখ সরল প্রকৃতির। 
- মানুষ ছাড়া সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ থাকে। 
- এরা ফুলকা বা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

২। অমেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, তাদেরকে বলা হয় অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মশা, মাছি, প্রজাপতি, চিংড়ি, কাঁকড়া, কেঁচো ইত্যাদি অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
- অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, এদের দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে না, চোখ সরল প্রকৃতির বা একটি চোখের মধ্যে অনেকগুলো চোখ থাকে যা পুঞ্জাক্ষি এবং এদের লেজ নেই। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৭৯.
জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ অঞ্চলকে কী বলে?
  1. Flora
  2. Fauna
  3. Red List
  4. Hotspot
ব্যাখ্যা
হটস্পট:

- পৃথিবীর যে সকল অঞ্চল বা এলাকা জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সেইসব অঞ্চলকে জীববৈচিত্র্যের হটস্পট বলে।
- ১৯৮৮ সালে ড. সাবিনা ভির্ক সর্বপ্রথম হটস্পট শব্দটি প্রথম প্রচলন করেন।
- মায়ার্সের মতে, বর্তমান পৃথিবীতে সর্বাধিক ৩৪টি হটস্পট রয়েছে।
- ব্রিটানিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ৩৬টি জীববৈচিত্র্যের হট স্পট রয়েছে। 
- ব্রাজিলের আটলান্টিক উপকূলবর্তী বনাঞ্চল, মাদাগাস্কার দ্বীপ, ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপসমূহে উল্লেখযোগ্য হটস্পট রয়েছে।
- এছাড়াও উল্লেখযোগ্য জীববৈচিত্র্যের হটস্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে পূর্ব হিমালয়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, মাইক্রোনেশিয়া, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, পশ্চিম আফ্রিকা, মালয়েশিয়ান উপদ্বীপ, মাদাগাস্কার, ইকুয়েডর, পেরু, কলম্বিয়া, আমাজোনিয়া ইত্যাদি।
- আফ্রিকার কঙ্গো, নাইজার ও জাম্বেসী নদী অববাহিকার গভীর অরণ্যে সর্বাধিক জীববৈচিত্র্য দেখা যায়। 
- জীবকূলের ভিন্নতা এবং জটিল প্রতিবেশগত পরিবেশ জীবমণ্ডলকে একক (unique), ও উৎপাদনশীল বৈশিষ্ট্য প্রদান করে। জীববৈচিত্র্যতার ভিন্নতাও (Biodiversity varities) পৃথিবীকে সুন্দর এবং বাসযোগ্য রাখে।


অন্যদিকে, 
- Flora বলতে বুঝায় পৃথিবীর সকল উদ্ভিদকে।
- Fauna বলতে বুঝায় পৃথিবীর সকল প্রাণীকে।

উৎস: বিবিএ প্রোগ্রাম, পরিবেশ বিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা। 
৮০.
নিচের কোন পাখি উড়তে পারে না?
  1. পেঙ্গুইন
  2. দোয়েল
  3. হাঁস
  4. কবুতর
ব্যাখ্যা
মেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- এদের মেরুদণ্ড আছে এবং দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে। 
- পাখনা বা দুই জোড়া পা থাকে এবং চোখ সরল প্রকৃতির। 
- মানুষ ছাড়া সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ থাকে, এরা ফুলকা বা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 
- মেরুদণ্ডী প্রাণীদের বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যেমন-
১। মৎস্য শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- এরা পানিতে বাস করে ও বেশির ভাগ মাছের গায়ে আঁইশ থাকে। যেমন- ইলিশ, রুই, কৈ ইত্যাদি। আবার কতকগুলোর আঁইশ থাকে না। যেমন- মাগুর, শিং, টেংরা, বোয়াল ইত্যাদি। 
- মাছ ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। এদের পাখনা আছে, পাখনার সাহায্যে এরা সাঁতার কাঁটে। 

২। পক্ষী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- হাঁস, মুরগি, কবুতর, দোয়েল ইত্যাদি পাখি পক্ষী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। 
- এদের দেহ পালক দিয়ে আবৃত থাকে, পালক পাখি চেনার একটা প্রধান বৈশিষ্ট্য। পাখি ছাড়া আর কোনো প্রাণীর পালক নেই। 
- বেশিরভাগ পাখিই আছে যারা উড়তে পারে। উট পাখি, পেঙ্গুইন এবং আরও কিছু পাখি আছে যারা উড়তে পারে না। পাখি ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বাচ্চা হয়। 

৩। উভচর শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- ব্যাঙ উভচর শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। এদের জীবনের কিছু সময় ডাঙায় ও কিছু সময় পানিতে বাস করে। 
- এদের ত্বকে লোম, আঁইশ বা পালক কিছুই থাকে না। দুই জোড়া পা থাকে, পায়ের আঙুলে কোনো নখ থাকে না। 
- ব্যাঙাচি অবস্থায় এরা ফুলকা ও পরিণত অবস্থায় ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

৪। সরীসৃপ শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- টিকটিকি, কুমির, সাপ, গিরগিটি ইত্যাদি সরীসৃপ শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। 
- এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, আঙুলে নখ থাকে, ডিম পাড়ে, ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। 
- ফুসফসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

৫। স্তন্যপায়ী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- বানর, ইঁদুর, কুকুর, বিড়াল, গরু, ছাগল ইত্যাদি স্তন্যপায়ী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। মানুষও এই দলের অন্তর্ভুক্ত। 
- এদের দেহে লোম থাকে, বাচ্চা মায়ের দুধ খেয়ে বড়ো হয়, মায়েরা বাচ্চা প্রসব করে। 
- মস্তিষ্ক ও দেহের গঠন বেশ উন্নত। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৮১.
নিচের কোন জীব মনেরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত? 
  1. ইউগ্লেনা
  2. মাশরুম
  3. অ্যামিবা
  4. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
জীবের শ্রেণিকরণ: 
- বিজ্ঞানীগণ পৃথিবীর সমস্ত জীবকে তাদের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবদ্ধকরণের চেষ্টা করেছেন। 
- ১৯৬৯ খ্রি. বিজ্ঞানী হুইটেকার পঞ্চরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- ১৯৭৪ খ্রি. বিজ্ঞানী মাগিউলিস (Margulis) উক্ত শ্রেণিবিন্যাসকে পুনর্বিন্যাস করে জীবজগতের আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসটি নিম্নরূপ: 
• জীবজগৎ: আদিকোষ জীব (রাজ্য-১ মনেরা) + প্রকৃতকোষী জীব (রাজ্য-২ প্রোটিস্টা, রাজ্য-৩ ফানজাই, রাজ্য-৪ প্লান্টি এবং রাজ্য-৫ এ্যানিমেলিয়া)। 
রাজ্য-১: মনেরা: 
- এ রাজ্যের অধীনে বিন্যস্ত জীবের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: ক) জীবটি এককোষী এবং এর কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না খ) এরা খুবই ক্ষুদ্র এবং অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া এদের দেখা যায় না। 
উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, স্পাইরোগাইরা ইত্যাদি। 

রাজ্য-২: প্রোটিস্টা: 
- এর অধীনে ঐ সকল জীবকে বিন্যস্ত করা হয়, যাদের কোষ সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত, এরা এককোষী বা বহুকোষী ক্লোরোফিল যুক্ত একক বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। 
উদাহরণ: ইউগ্লেনা, অ্যামিবা ইত্যাদি। 

রাজ্য-৩: ফানজাই বা ছত্রাক: 
- এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এরা সাধারণত এককোষী বা বহুকোষী হয়। দেহে ক্লোরোফিল নেই, তাই এরা পরভোজী। 
উদাহরণ- ইস্ট, পেনিসিলিয়াম, মাশরুম ইত্যাদি। 

রাজ্য- ৪: প্লান্টি (উদ্ভিদজগৎ): 
- অধিকাংশ উদ্ভিদ নিজেই নিজের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। এদের দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দ্বারা নির্মিত। এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও কোষ গহ্বর বিদ্যমান। উদ্ভিদে সবুজ কণিকা বা ক্লোরোফিল থাকে, তাই এরা খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
উদাহরণ: আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি। 

রাজ্য-৫: এ্যানিমেলিয়া (প্রাণিজগৎ): 
- এসব জীবের কোষে সেলুলোজ নির্মিত কোষপ্রাচীর থাকে না। সাধারণত এ কোষগুলোতে প্লাস্টিডও থাকে না। তাই খাদ্যের জন্য এরা উদ্ভিদের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 
উদাহরণ- মাছ, পাখি, গরু, মানুষ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৮২.
স্তন্যপায়ী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ড কত প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট?
  1. ২ প্রকোষ্ঠ
  2. ৪ প্রকোষ্ঠ
  3. ৩ প্রকোষ্ঠ
  4. ৫ প্রকোষ্ঠ
ব্যাখ্যা

স্তন্যপায়ী প্রাণী: 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে দেওয়া হলো- 
১. এদের দেহ রোমে আবৃত থাকে। 
২. পরিণত স্ত্রী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে। 
৩. এরা উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী। 
৪. এদের শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়। 
৫. এদের হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট। 
৬. এদের চোয়ালে বিভিন্ন ধরনের দাঁত থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৮৩.
বিবর্তন বলতে কী বোঝায়? 
  1. জীবের পুনর্জন্ম
  2. জীবের মৃত্যুর প্রক্রিয়া
  3. চলমান কোনো পরিবর্তন যা নতুন প্রজাতি সৃষ্টি করে
  4. কোনো জীবের দ্রুত পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
বিবর্তন: 
- আধুনিক মানুষের ধারণা অনুযায়ী, জীব সৃষ্টির মূল ভিত্তি হলো বিবর্তন, যা গভীর যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রমাণিত হয়েছে। 
- ল্যাটিন শব্দ “Evolveri” থেকে বিবর্তন শব্দটি এসেছে। 
- ইংরেজ দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ হার্বার্ট স্পেনসার (Herbert Spencer) প্রথম 'ইভোলিউশন' শব্দটি ব্যবহারের জন্য পরিচিত। 
- বিবর্তন বা ইভোলিউশন হলো একটি ধীর, অবিরাম এবং চলমান পরিবর্তন প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সরলতর উদবংশীয় জীবগুলো পরিবর্তিত হয়ে জটিল এবং উন্নততর নতুন প্রজাতির বা জীবের উদ্ভব ঘটায়
- যখন জীবের পরিবর্তনের ফলে নতুন কোনো প্রজাতি সৃষ্টি হয়, তখন তাকে বলা হয় জৈব বিবর্তন। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৮৪.
বিবর্তনের উপর ১ম বিশ্লেষণীতত্ত্ব -
  1. চার্লস ডারউইনের
  2. ল্যামার্কের
  3. ক্যারোলাস লিনিয়াসের
  4. এরিস্টটলের
ব্যাখ্যা
বিবর্তন বা অভিব্যক্তি হলো এমন একটি জীববৈজ্ঞানিক ধারণা যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জীবের গাঠনিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্রমপরির্তনকে বুঝায়। কোনো জীবের বংশধরদের মাঝে যে জিনরাশি ছড়িয়ে পড়ে তারাই বংশপ্রবাহে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে।
ল্যামার্ক বায়োলজি’ শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বিবর্তন ৰা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এ বিষয়টি তিনি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর লেখা 'ফিলােসােফিক জুওলজিক' নামে একটি বইতে লিপিবদ্ধ করেন।
সর্বপ্রথম, জেনোফেন সময়ের সাথে সাথে জীবদেহের আকার পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনেন।
তারপর, এরিস্টটল বিবর্তনবাদ নিয়ে আলোচনা করেন।
-হার্বার্ট স্পেন্সার সর্বপ্রথম Evolution শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
- ল্যামার্ক বায়োলজি’ শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বির্তন ৰা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
এ বিষয়টি তিনি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর লেখা 'ফিলােসােফিক জুওলজিক' নামে একটি বইতে লিপিবদ্ধ করেন।
- জৈব বিবর্তনের জনক বলা হয় চার্লস ডারউইনকে।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান, ২০২১
৮৫.
ম্যালেরিয়া রোগের বিস্তার ঘটানোর একমাত্র মাধ্যম-
  1. ক) স্ত্রী Anopheles মশকী
  2. খ) স্ত্রী Aedes aegypti মশকী
  3. গ) স্ত্রী aedes albopictus মশকী
  4. ঘ) উপরের কোনটিই নয়।
ব্যাখ্যা
ম্যালেরিয়া রোগের বিস্তার ঘটানোর একমাত্র মাধ্যম স্ত্রী Anopheles মশকী। Aedes aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়। এছাড়া এডিস এলবোপিকটাস মশার কামরেও ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৮৬.
পানি সংবহনতন্ত্রের সাহায্যে কোন পর্বে চলন ও শ্বসনক্রিয়া সম্পন্ন হয়?
  1. Mollusca
  2. Cnidaria
  3. Nematoda
  4. Echinodermata
ব্যাখ্যা
Echinodermata পর্ব: 
- এরা কণ্টকত্বকী প্রাণী। 
- এদের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৭,৫৫০। 
- Echinodermata শব্দটি গ্রিক শব্দ Echinus (কণ্টক) এবং Derma (ত্বক)-এ দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।  
- ১৭৩৪ সালে Jacob Kline এর নামকরণ করেন। 

Echinodermata পর্বের বৈশিষ্ট্য: 
১। পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর দেহ পঞ্চঅরীয় প্রতিসম অথবা পাঁচটি সমভাগে বিভাজ্য। 
২। এদের দেহ কণ্টকময়, স্পাইন ও পেডিসিলারি নামক বহিঃকঙ্কালযুক্ত। 
৩। এই পর্বে পানি সংবহনতন্ত্রের সাহায্যে চলন ও শ্বসনক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
৪। মস্তক অনুপস্থিত। 
৫। দেহে সুস্পষ্ট মৌখিক তল (oral) ও বিমৌখিক তল (aboral) বিদ্যমান। 
৬। এ পর্বের সকল প্রাণীই সামুদ্রিক। 
৭। রেচনতন্ত্র নেই। 
উদাহরণ: Astropecten (এস্ট্রোপেকটেন), Echinus (একাইনাস), Cucumaria (কুকুমারিয়া) ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৮৭.
কোন বিজ্ঞানীর মতে 'পরিবেশের প্রভাবের ফলেই বিবর্তন সংঘটিত হতে পারে'?
  1. ল্যামার্ক
  2. জেনোফেন
  3. ডারউইন
  4. ভাইসম্যান
ব্যাখ্যা
ল্যামার্কিজম (Lamarckism): 
- ফরাসী প্রকৃতি বিজ্ঞানী Jcan Baptist Lamarck (১৭৪৪-১৮২৯), ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে ফিলোসফিক জুলজিক (Philosophic Zoologique) গ্রন্থে অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশগতি (theory of inheritance of acquired character) নামক বিবর্তন সম্পর্কীত মতবাদ প্রকাশ করেন। 
- ল্যামার্কের মতবাদের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, পরিবেশের প্রভাবের ফলেই বিবর্তন সংঘটিত হতে পারে। 
- পরিবেশের প্রভাবে জীবের দৈহিক গঠনের পরিবর্তন হয়। 
- তাঁর মতে বিবর্তন কতিপয় রীতি-নীতি মেনে চলে। এই রীতি-নীতিগুলোই বিবর্তনের ক্রম ও বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। 
- ল্যামার্ক তাঁর বিবর্তন তত্ত্বেও এ রীতি-নীতিগুলোই ব্যাখ্যা করেছেন। 
- আধুনিক বিজ্ঞানীদের মধ্যে Dodson, 1960 ল্যামার্কের একজন বিশিষ্ট সমর্থক। 
- Dodson ল্যামার্কবাদকে চারটি সূত্রে ব্যাখ্যা করেছেন যা ল্যামার্কীয় সুত্র বলেও পরিচিত। 
সূত্র ১. জীবদেহ এবং দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আকারে ক্রমবর্ধিত হওয়ার একটি লক্ষণ সর্বদাই পরিলক্ষিত হয়। 
সূত্র ২. জীবন ধারণের প্রয়োজনে কোন নতুন চাহিদা এবং এ চাহিদার ফলে জীবন অভ্যাসের যে পরিবর্তন হয় তার ফলেই নতুন প্রত্যঙ্গের উৎপত্তি হয়। 
সূত্র ৩. কোন একটি অঙ্গ প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত হলে তা উন্নত এবং সুগঠিত হয়, কিন্তু ব্যবহৃত না হলে ক্রমান্বয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে হতে অবশেষে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এ সুত্রটি ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র ৪. কোন একটি জীবের দেহে উন্নতি বা ক্ষয়প্রাপ্তির মাধ্যমে যে সকল পরিবর্তন সাধিত হয় তা অর্জিত বৈশিষ্ট্যরূপে অঙ্গীভূত হয় এবং পরবর্তী প্রজন্মে (Generation) সঞ্চারিত ও বিকশিত হয়। এ সূত্রটি অর্জিত বৈশিষ্ট্য সঞ্চারণের সূত্র (Law of inhertance of acquired character) নামে অভিহিত। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮.
সমুদ্র তারা কোন ধরনের প্রতিসাম্যযুক্ত প্রাণী? 
  1. অরীয়
  2. দ্বি-অরীয়
  3. দ্বি-পার্শ্বীয়
  4. অপ্রতিসাম্য
ব্যাখ্যা
প্রতিসাম্য: 
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
ক. গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

খ. অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

গ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

ঘ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

ঙ. অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯.
কোনটি উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম হিসেবে পরিচিত? 
  1. ফার্ন
  2. নিটাম
  3. নারিকেল
  4. স্ফোনোডন
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। আর ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯০.
মৌচাকে কয় ধরনের মৌমাছি থাকে? 
  1. এক ধরনের 
  2. দুই ধরনের 
  3. তিন ধরনের 
  4. চার ধরনের 
ব্যাখ্যা

মৌমাছির জাত: 
- মৌমাছির কলোনিতে তিন জাতের মৌমাছি থাকে। 
যেমন- একটি রাণী, কয়েক হাজার কর্মী ও কয়েকশত পুরুষ। 
- মৌমাছিদের মধ্যে শ্রমবণ্টন লক্ষ করা যায়। 
- তিন ধরনের মৌমাছির দৈহিক গঠনে ভিন্নতা দেখা যায়, এদের এরূপ অবস্থাকে বহুরূপতা বলে। 

রাণী মৌমাছি গঠন: 
- একটি মৌচাকে মাত্র একটি রাণী মৌমাছি থাকে। 
- রাণী মৌমাছি আকারে অনেক বড়। 
- এদের উদর বেশ প্রশস্ত। 
- এদের ডানাগুলো ছোট এবং উদরের শেষ প্রান্ত ক্রমশ সরু। 
- এ সরু প্রান্তে বাঁকানো হুল থাকে যা রূপান্তরিত ওভিপজিটর। 
- এদের প্রোবোসিস ও রেণুখলি থাকে না, পদ ক্ষুদ্রাকৃতির, ম্যান্ডিবল বা চোয়াল তীক্ষ্ণ, মোম ও মধু সৃষ্টি করতে পারে না, লালাগ্রন্থি নেই। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১.
কোন এনজাইম দ্বারা প্লাজমিডের নির্দিষ্ট অংশ কাটা হয়?
  1. রেস্ট্রিকশন এনজাইম
  2. এমাইলেজ এনজাইম
  3. প্রোটিয়েজ এনজাইম
  4. কাটিং এনজাইম
ব্যাখ্যা
• রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ টেকনোলজির ধাপ:
- রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ টেকনোলজির প্রধান ধাপসমূহ হলো-
-  প্রত্যাশিত DNA নির্বাচন ও পৃথকিকরণ,
- বাহক নির্বাচন,
- প্রত্যাশিত DNA অণুকে ছেদন,
- ছেদনকৃত প্রত্যাশিত DNA অণুকে বাহক প্লাজমিডে সংযোজন এবং
-পোষক নির্বাচন ও রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ -কে পোষকে স্থাপন।

• প্রত্যাশিত DNA অণুকে ছেদন:
- এক্ষেত্রে প্রথমে প্রত্যাশিত DNA অণুকে মূল DNA থেকে কেটে আলাদা করা হয়।
- প্রত্যাশিত DNA অণুকে কাঁটতে একটি বিশেষ এনজাইম (রেস্ট্রিকশন এন্ডোনিউক্লিয়েজ দ্বারা DNA ছেদন করা হয়) ব্যবহার করা হয়।
- বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০ টি রেস্ট্রিকশন এনজাইম আবিষ্কৃত হয়েছে।
যথা- Eco RI, Hind III, Bam III ইত্যাদি।
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম DNA অণুর একটি সুনির্দিষ্ট সাজানো অংশকে (Sequence) কেঁটে দেয়।
- ভিন্ন ভিন্ন রেস্ট্রিকশন এনজাইম ভিন্ন ভিন্ন DNA sequence বিশিষ্ট স্থানে কর্তন করে থাকে।
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম এমনভাবে DNA অণু কর্তন করে যে DNA অণু দুটি স্ট্রান্ডের একটির প্রান্ত অপরটির থেকে লম্বা থাকে।
- ফলে প্রত্যাশিত DNA খন্ডটি নতুন DNA অণুর সাথে সহজে যুক্ত হতে পারে।
- খন্ডিত DNA অণুর প্রান্তদ্বয় আঁঠালো প্রকৃতির হয়, তাই একে আঁঠালো প্রান্ত (Sticky end) বলে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২.
কোনটিকে প্রকৃতির লাঙ্গল বা কৃষকের বন্ধু বলা হয়?
  1. ক) ঝোঁক
  2. খ) কেঁচো
  3. গ) সিংহ
  4. ঘ) শজারু
ব্যাখ্যা

- কেঁচো ত্বকের সাহায্যে শ্বাসকার্য সম্পন্ন করে।
- এরা মাটির নিচে বাস করে।
- কেঁচো মাটির উর্বরা শক্তির জন্য বিশাল আশীর্বাদ।
- এরা ফসলের জমি ওলট-পালট করে উপরের মাটি নিচে ও নিচের মাটি উপরে তুলে আনে।
- তাই কেঁচোকে প্রকৃতির লাঙ্গল বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৩.
মানুষের দেহে অটোসোমের সংখ্যা কত?
  1. ২২ জোড়া
  2. ২৩ জোড়া
  3. ২৪ জোড়া
  4. ১৮ জোড়া
ব্যাখ্যা
• মানুষের দেহে অটোসোমের সংখ্যা ২২ জোড়া।

• ক্রোমোজোম:

- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম।
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু।
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি।
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন।
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে।
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম।
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই।
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম।
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪.
'Fauna' বলতে বুঝায়-
  1. ক) উদ্ভিদকূল
  2. খ) মৎস্যকূল
  3. গ) প্রাণিকূল
  4. ঘ) পক্ষীকূল
ব্যাখ্যা

- 'Fauna' বলতে বুঝায় পৃথিবীর সকল প্রাণীকে।
- Flora বলতে বুঝায় পৃথিবীর সকল উদ্ভিদকে।
- তাই Fauna অর্থ প্রাণিকূল এবং Flora অর্থ উদ্ভিদকূল।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৯৫.
প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক নয়? 
  1. এদের পৌষ্টিকতন্ত্র উপস্থিত
  2. এদের দেহ চ্যাপ্টা
  3. এদের দেহ পুরু কিউটিকল দ্বারা আবৃত
  4. এদের দেহে শিখা অঙ্গ রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে
ব্যাখ্যা
প্লাটিহেলমিনথেস (Platyhelminthes): 
- Platy শব্দের অর্থ চ্যাপ্টা এবং helminthes শব্দের অর্থ কৃমি, এই শব্দ দুটি থেকে প্লাটিহেলমিনথেস শব্দটি এসেছে। 
- এই পর্বের প্রাণীদের জীবনযাত্রা বেশ বৈচিত্র্যময়। 
- এই পর্বের বহু প্রজাতি বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী হিসেবে অন্য জীবদেহের বাইরে বা ভিতরে বসবাস করে। 
- তবে কিছু প্রজাতি মুক্তজীবী হিসেবে স্বাদু পানিতে আবার কিছু প্রজাতি লবণাক্ত পানিতে বাস করে। 
- এই পর্বের কোনো কোনো প্রাণী ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে মাটিতে বাস করে। 
যেমন- যকৃত কৃমি, ফিতা কৃমি এই পর্বের অন্তর্গত। 

প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের সাধারণ বৈশিষ্ট্য: 
- দেহ চ্যাপ্টা, উভলিঙ্গ। 
- বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী। 
- দেহ পুরু কিউটিকল দ্বারা আবৃত। 
- দেহে চোষক ও আংটা থাকে। 
- দেহে শিখা অঙ্গ নামে বিশেষ অঙ্গ থাকে, এগুলো রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। 
- পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ বা অনুপস্থিত। 
উদাহরণ: Fasciola (যকৃৎ কৃমি) Taenia (ফিতা কৃমি)। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৯৬.
সন্তান পুত্র বা কন্যা হওয়ার জন্য দায়ী-
  1. মা 
  2. বাবা
  3. মা-বাবা উভয়ই
  4. কেউ না 
ব্যাখ্যা
• মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে মা বাবার ভূমিকা:
- মানুষ এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীতে প্রায় একই পদ্ধতিতে লিঙ্গ নির্ধারণ হয়। মানবদেহে ক্রোমোজোম সংখ্যা 46 টি বা 23 জোড়া।
- এর মধ্যে 22 জোড়া বা 44 টিকে অটোজোম (Autosome) এবং 1 জোড়াকে সেক্স-ক্রোমোজোম (Sex chromosome) বলা হয়। অটোজোমগুলো শারীরবৃত্তীয়, ভ্রুণ এবং দেহ গঠন ইত্যাদি কার্যাদিতে অংশগ্রহণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনো ভূমিকা নেই।
- সেক্স ক্রোমোজোম দুটি এক্স (X) এবং ওয়াই (Y) নামে পরিচিত।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এরা মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- নারীদের ডিপ্লয়েড কোষে দুটি সেক্স ক্রোমোজোমই X ক্রোমোসোম অর্থাৎ XX, কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে দুটির মধ্যে একটি X অপরটি Y ক্রোমোজোম অর্থাৎ XY।
- গর্ভধারণকালে কোন ধরনের শুক্রাণু মাতার X বহনকারী ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হবে তার উপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ সন্তানের লিঙ্গ।
- যেহে যেহেতু নিষেকে কেবল একটি শুক্রাণুই ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়, তাই পিতার X অথবা Y শুক্রাণুর কোনটি সাফল্যজনকভাবে নিষেক ঘটাবে, তার উপর নির্ভর করে সন্তানের লিঙ্গ।
- যদি X বহনকারী শুক্রাণু নিষেক ঘটায়, তাহলে জাইগোট হবে XX, অর্থাৎ সন্তান হবে কন্যা।
- আর যদি Y বহনকারী শুক্রাণু নিষেকে অংশগ্রহণ করে, সেক্ষেত্রে জাইগোটে X এবং Y ক্রোমোজোম থাকবে অর্থাৎ ক্রোমোজোম দুটি হবে XY।ফলে সন্তান হবে পুত্র।
- মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে, অর্থাৎ কন্যা বা পুত্রসন্তানের জন্ম হওয়ার ব্যাপারে মায়ের আদৌ কোনো ভূমিকা নেই।
- কারণ মা সব সময় কেবল X বহনকারী ডিম্বাণু তৈরি করে।
- অন্যদিকে পিতা X এবং Y দুধরনেরই শুক্রাণু উৎপাদন করে লিঙ্গ নির্ধারণে ভূমিকা রেখে থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৯৭.
রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তিকে অন্য কী নামে ডাকা হয়? 
  1. ট্রান্সক্রিপশন
  2. রেপ্লিকেশন
  3. প্রোটিন সংশ্লেষণ
  4. জিন ক্লোনিং
ব্যাখ্যা

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (Genetic engineering): 
- একটি জীব থেকে একটি নির্দিষ্ট জিন বহনকারী ডিএনএ খণ্ড পৃথক করে ভিন্ন একটি জীবে স্থানান্তরের কৌশল হচ্ছে জিন প্রকৌশল (Genetic engineering)। 
অর্থাৎ, কাঙ্ক্ষিত নতুন একটি বৈশিষ্ট্য সৃষ্টির জন্য কোনো জীবের ডিএনএর পরিবর্তন ঘটানোকে জিন প্রকৌশল বলে। 
- এই জিন যে কৌশলগুলোর মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়, তাদের একত্রে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ কৌশল বলে। 
- এই কৌশল অবলম্বন করে একটি ডিএনএ অণুর কাঙ্ক্ষিত অংশ কেটে আলাদা করে অন্য একটি ডিএনএ অনুতে প্রতিস্থাপন করার ফলে যে নতুন ডিএনএ অণুর সৃষ্টি হয়, তাকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ বলে। 
- রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ তৈরির প্রক্রিয়াকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তি বা জিন ক্লোনিং বলা হয়। 
- জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে উৎপন্ন নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের কোনো কোনোটিকে বলা হয় GMO (Genetically Modified Organism) আর কোনোটিকে বলে ট্রান্সজেনিক (Transgenic)। জিএমও এবং ট্রান্সজেনিক জীব এক নয়। 
- আধুনিক জীবপ্রযুক্তি বা জিন কৌশলের মাধ্যমে জিন স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য অল্প সময়ে সুচারুভাবে স্থানান্তর করা সম্ভব হয় বলে সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবক বা উদ্যোক্তাগণের নিকট প্রচলিত প্রজননের তুলনায় এ প্রযুক্তিটি অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৮.
কোন জলজ জীবটি বাতাসে নিশ্বাস নেয়?
  1. ক) পটকা মাছ
  2. খ) শুশুক
  3. গ) হাঙ্গর
  4. ঘ) জেলী ফিস
ব্যাখ্যা
- Whales and dolphins are mammals and breathe air into their lungs, just like we do.
- They cannot breathe underwater like fish can as they do not have gills. They breathe through nostrils, called a blowhole, located right on top of their heads.
 
- This allows them to take breaths by exposing just the top of their heads to the air while they are swimming or resting under the water.
- After each breath, the blowhole is sealed tightly by strong muscles that surround it, so that water cannot get into the whale or dolphin’s lungs.

Source: uk.whales.org

- ডলফিন (শুশুক) ও তিমি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণি। কিন্তু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য এগুলো মানুষের মতই বাতাস ব্যবহার করে।
- পানিতে এই প্রাণিগুলো নিঃশ্বাস নিতে পারে না, কারণ এগুলোর ফুলকা নেই।
৯৯.
নিচের কোনটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী?
  1. ক) মাছ
  2. খ) সাপ
  3. গ) টিকটিকি
  4. ঘ) চিংড়ি
ব্যাখ্যা
মশা, মাছি, চিংড়ি, কাঁকড়া, কেঁচো এরা অমেরুদণ্ডী প্রানী৷
উৎসঃ ষষ্ঠ শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
১০০.
সরীসৃপ প্রাণীর বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়
  2. খ) দেহত্বক সাধারণত আঁশবিহীন
  3. গ) শীতল রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী
  4. ঘ) বায়ুথলি উপস্থিত
ব্যাখ্যা

মেরুদন্ডী প্রাণিদের মধ্যে সরীসৃপই প্রথম পূর্ণ বিকশিত স্থলচর প্রাণি। শুষ্কতা, পানি ধরে রাখা, স্থলে বিচরণ, রক্তসংবহনজনিত সমস্ত বাঁধা অতিক্রম করে সরীসৃপরা পৃথিবীর সব জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
এদের প্রজাতির সংখ্যা ৯,৮৩১টি।

বৈশিষ্ট্য-
১। শীতল রক্তবিশিষ্ট স্থলচর প্রাণী, এরা বুকে ভর দিয়ে চলে।
২। সরীসৃপের দেহ শুষ্ক ও এপিডার্মিস উদ্ভূত আঁইশে আবৃত।
৩। হৃদপিন্ড অসম্পূর্ণভাবে চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।
৪। সরীসৃপের ডিম চামড়ার মতো বা চুনময় খোলকে আবৃত থাকে।
৫। নিষেক অভ্যন্তরীণ, লার্ভা দশা নেই।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।