উপমিত কর্মধারয়:যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
- এই সমাসের দুটো পদই বিশেষ্য হয়। যেমনঃ
- পুরুষ সিংহের ন্যায়= সিংহপুরুষ
- আঁখি পদ্মের ন্যায়= পদ্মআঁখি
- মুখ চন্দ্রের ন্যায়= চন্দ্রমুখ
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক না একাধিক পদ লোপ পায়। এগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস নামে পরিচিত।
যেমনঃ
প্রাণ হারানোর ভয় = প্রাণভয়
জ্যোৎস্না বিধৌত রাত= জ্যোৎস্নারাত
উর্ণা নির্মিত জাল = উর্ণাজাল
আয়ের ওপর কর = আয়কর
খেয়া পারাপারের ঘাট= খেয়াঘাট
ধর্ম রক্ষার্থে ঘট= ধর্মঘট
প্রীতি জনক ভোজ = প্রীতিভোজ
উপমান কর্মধারয়:উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের যে সমাস হয় তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
এই সমাসে একটা বিশেষণ পদ থাকে।
যেমনঃ
- কুসুমের ন্যায় কোমল= কুসুমকোমল
- রক্তের ন্যায় লাল= রক্তলাল
- শশের ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত
- মিশির মতো কালো= মিশকালো
রূপক কর্মধারয় সমাস:উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করে উপমান ও উপেময় পদের যে সমাস হয় তাকে রূপল কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমনঃ
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু
-মন রূপ মাঝি= মনমাঝি
- প্রাণ রূপ পাখি = প্রাণপাখি
- দিল রূপ দরিয়া = দিলদরিয়া
- শোক রূপ অনল= শোকানল
[উৎস:ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ,সংস্করণ ২০২১]]