বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৫৭ / ১৪০ · ৫,৬০১৫,৭০০ / ১৪,০৮০

৫,৬০১.
নিউক্লিয়াস থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী শেলটির নাম কী?
  1. N-শেল
  2. L-শেল
  3. M-শেল
  4. K-শেল
সঠিক উত্তর:
K-শেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
K-শেল
ব্যাখ্যা
বোর তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ইলেকট্রন বিন্যাসের নিয়ম: 
- বোর তত্ত্বানুসারে ইলেকট্রনসমূহ তাদের নিজ নিজ শক্তি অনুযায়ী নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে পরিভ্রমণ করে, এইরূপ শক্তিস্তরকে প্রধান শক্তিস্তর বলে। 
- প্রত্যেক পরমাণুতে একাধিক প্রধান শক্তিস্তর বিদ্যমান। 
- প্রধান শক্তিস্তরগুলোকে n দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। n = ১ হলে ১ম শক্তিস্তর বা K- শেল যা নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করে। পরবর্তী উচ্চতর শক্তিস্তরগুলো যথাক্রমে ২য় শক্তিস্তর বা L- শেল, ৩য় শক্তিস্তর বা M- শেল, ৪র্থ শক্তিস্তর বা N- শেল ইত্যাদি। 
- নিউক্লিয়াস থেকে পরবর্তী শেলগুলোর দুরত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। 
- নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে নিকটতম শেলটি সবচেয়ে কম শক্তিসম্পন্ন। 
- দুরত্ব যত বাড়ে, শেল তত শক্তি সম্পন্ন হয়। 
- ইলেকট্রন সর্বদা কম শক্তিসম্পন্ন স্তরে অবস্থান করে। তবে, শক্তি শোষণের মাধ্যমে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন স্তরে যেতে পারে। 
- প্রতিটি শেলে সর্বাধিক 2n2 সংখ্যক ইলেকট্রন (n = 1, 2, 3......) থাকতে পারে। 
যেমন- 
• ১ম শেলে (K- শেল) অর্থাৎ n = 1 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (1)2 = 2 টি, 
একইভাবে, 
• ২য় শেলে = 8 টি, 
• ৩য় শেলে = 18 টি এবং 
• ৪র্থ শেলে = 32 টি । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬০২.
রক্তের প্রধান উপাদান কোনটি? 
  1. প্রোটিন ও চর্বি 
  2. ভিটামিন ও খনিজ 
  3. প্লাজমা ও রক্তকোষ 
  4. লোহা ও গ্লুকোজ 
সঠিক উত্তর:
প্লাজমা ও রক্তকোষ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাজমা ও রক্তকোষ 
ব্যাখ্যা

রক্ত (Blood): 
- প্রাণীদেহের রক্ত একধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যেটি মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তে লাল রঙয়ের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

রক্তের উপাদান: 
- রক্তের প্রধান উপাদানগুলো হলো রক্তরস বা প্লাজমা এবং রক্তকোষ। 
- সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% রক্তকোষ। 
- রক্তরসকে আলাদা করলে এটি হালকা হলুদ বর্ণের দেখায় এবং রক্তকোষগুলো এই রক্তরসে ভাসমান থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৬০৩.
মাঝখানে ছিদ্র বিশিষ্ট একটি প্লেটকে উত্তপ্ত করলে, ছিদ্রটির ব্যাস-
  1. বাড়বে
  2. কমবে
  3. অপরিবর্তীত থাকে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বাড়বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাড়বে
ব্যাখ্যা
• তাপীয় প্রসারণ (Thermal Expansion):
- তাপ দিলে পদার্থের কণাগুলো আরও বেশি কাঁপে এবং পারস্পরিক দূরত্ব বাড়ে। ফলে পদার্থের আকার ও আয়তন বাড়ে।

• যখন কোনো ধাতব প্লেট উত্তপ্ত হয়, তখন তাপীয় প্রসারণ ঘটে  অর্থাৎ প্লেটের প্রতিটি অংশের কণিকা দূরে সরে যায়।
• প্লেটের চারদিকে বিস্তারের মতো ছিদ্রও বাইরের দিকে প্রসারিত হয়, ফলে ছিদ্রের ব্যাস বাড়ে।

উৎস: Physicsexperiments.eu।
৫,৬০৪.
ব্ল্যাক হোলের ভর -
  1. ক) প্রায় শূন্য
  2. খ) শূন্য
  3. গ) সসীম
  4. ঘ) অসীম
সঠিক উত্তর:
ঘ) অসীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অসীম
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর আবিষ্কার করেন মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার।
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল।
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম।
- ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম।
৫,৬০৫.
নিচের কোনটি C4 উদ্ভিদ?
  1. ক) ভুট্টা
  2. খ) ইক্ষু
  3. গ) ডাটাশাক
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
দু’জন অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানী M. D. Hatch এবং C. R. Slack (১৯৬৬) ইক্ষু উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণার সময় দেখান যে, সালোকসংশ্লেষণের সময় এদের প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার-কার্বনবিশিষ্ট।
এ চারকার্বনবিশিষ্ট পদার্থসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অক্সালো অ্যাসিটিক অ্যাসিড। তাদের নাম অনুযায়ী সালোকসংশ্লেষণের এ চক্রকে হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র বলা হয়।

যেহেতু এ উদ্ভিদে প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার কার্বনবিশিষ্ট সেহেতু হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্রকে C4 চক্রও বলা হয় এবং যে সব উদ্ভিদে এ চক্র চলে তাদেরকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়।
ইক্ষু, ভুট্টা, মুথা ঘাস, কাটানটে, ডাটাশাক ইত্যাদি C4 উদ্ভিদ।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬০৬.
নিচের কোনটি অজৈব যৌগ?
  1. ক) কার্বনিক এসিড
  2. খ) অ্যামিনো এসিড
  3. গ) ফেনল
  4. ঘ) বেনজিন
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বনিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বনিক এসিড
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত হাইড্রোকার্বন এবং হাইড্রোকার্বন থেকে উদ্ভূত যৌগসমূহকে জৈব যৌগ বলে।
অ্যামিনো এসিড, ফেনল, বেনজিন ইত্যাদি হলো জৈব যৌগ।

- যেকোনো দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে অজৈব যৌগ গঠিত হয়।
অ্যামোনিয়া, কার্বনিক এসিড, ভারী পানি ইত্যাদি সবই অজৈব যৌগ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫,৬০৭.
জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে কোনটি?
  1. ক) রাসায়নিক সার প্রয়োগ
  2. খ) জৈব সার প্রয়োগ
  3. গ) পানি সেচ
  4. ঘ) নাইট্রোজেন সংবন্ধকরণ
সঠিক উত্তর:
গ) পানি সেচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পানি সেচ
ব্যাখ্যা

জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে পানি সেচ খুব কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
Source: fao.org

৫,৬০৮.
অননুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভের উদাহরণ কোনটি? 
  1. লবণের দ্রবণ 
  2. বেনজোয়িক এসিড 
  3. অ্যাসিটিলিন 
  4. ভিনেগার 
সঠিক উত্তর:
অ্যাসিটিলিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাসিটিলিন 
ব্যাখ্যা

ফুড প্রিজারভেটিভ: 
- যেসব রাসায়নিক দ্রব্য খাদ্যসামগ্রীতে দিলে খাদ্যসামগ্রীতে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না, দুর্গন্ধ হয় না, পচন হয় না সেসব রাসায়নিক দ্রব্যকে ফুড প্রিজারভেটিভ বলে। 
১। অনুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ: 
- যেসব ফুড প্রিজারভেটিভ আমাদের শরীরে গেলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না এবং সেগুলোকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে, সেসব ফুড প্রিজারভেটিভকে অনুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ বলা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম বেনজোয়েট, বেনজোয়িক এসিড, ভিনেগার, লবণের দ্রবণ, চিনির দ্রবণ ইত্যাদি অনুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ। 

২। অননুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ: 
- যেসব ফুড প্রিজারভেটিভ আমাদের শরীরে গেলে আমাদের শরীরের ক্ষতি হয় সেগুলোকে অননুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ বলা হয়। 
যেমন- ইথিলিন, অ্যাসিটিলিন ইত্যাদি অননুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৬০৯.
গ্যালিলিওর পড়ন্ত বস্তুর প্রথম সূত্র কোনটি? 
  1. বস্তুর প্রাপ্ত বেগ সময়ের সমানুপাতিক 
  2. বস্তুর গতি ভরের উপর নির্ভর করবে 
  3. নির্দিষ্ট সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্ব সময়ের বর্গের সমানুপাতিক 
  4. প্রতিটি বস্তু বিনা বাঁধায় সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে 
সঠিক উত্তর:
প্রতিটি বস্তু বিনা বাঁধায় সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিটি বস্তু বিনা বাঁধায় সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে 
ব্যাখ্যা

পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে গ্যালিলিওর সূত্র: 
- কোনো বস্তু উপর থেকে নিচে পড়ার সময় সরাসরি মাটির দিকে পড়তে থাকে। 
- বস্তুর এই খাড়াভাবে পতনের কারণ অভিকর্ষ বা পৃথিবীর আকর্ষণ বল। 
- ইটালীর বিজ্ঞানী গ্যালিলিও ১৫৮৯ খ্রিষ্টাব্দে পিসা শহরে ১৮০ ফুট উঁচু মিনারের ছাদ থেকে একই সাথে একটি ভারী ও একটি হালকা বস্তুকে নিচে ফেলে দিয়ে প্রমাণ করেন যে, বস্তুদ্বয় প্রায় একই সময়ে মাটিতে পড়ে। 
- অভিকর্ষজ ত্বরণ ভরের উপর নির্ভরশীল নয়। তাই নিচে পড়ার সময়, ভারী ও হালকা বস্তুর ত্বরণ একই হবে এবং বস্তুদ্বয় একই সময়ে মাটিতে পড়বে। 
- পড়ন্ত বস্তুর সূত্রগুলো স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধার পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে তিনটি সূত্র দেন।
যেমন- 
প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 
 
দ্বিতীয় সূত্র: 
- বাঁধাহীন পথে পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময় পর প্রাপ্ত বেগ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t. 
 
তৃতীয় সূত্র: 
- বাঁধাহীন পথে পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্ব সময়ের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2
 
উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬১০.
পিত্তরসের প্রধান রঞ্জক পদার্থ কোনটি?
  1. বিলিরুবিন
  2. হিমোগ্লোবিন
  3. কোলেস্টেরল
  4. পেপসিন
সঠিক উত্তর:
বিলিরুবিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলিরুবিন
ব্যাখ্যা
- রক্তের লোহিত কণিকা তার আয়ু শেষে (১২০ দিন পর) প্লীহায় জমা হতে থাকে। প্লীহায় উপস্থিত ম্যাক্রোফেজ মেয়াদোত্তীর্ণ লোহিত রক্তকণিকাকে ভক্ষণ করে।
- ফলশ্রুতিতে হিমোগ্লোবিন লোহিত রক্তকণিকা থেকে বাইরে বের হয়ে আসে এবং বিলিরুবিন নামক রঞ্জক পদার্থে রূপান্তরিত হয়।
- এই রঞ্জক পদার্থ যকৃতে যেয়ে আরো রূপান্তরিত হয়ে বিলিরুবিন হয় এবং পিত্তরস এর মাধ্যমে দেহ থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং Encyclopedia Britannica
৫,৬১১.
কার্বোহাইড্রেটে কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজনের অনুপাত কত?
  1. ক) ১ : ১ : ২
  2. খ) ১ : ২ : ১
  3. গ) ৪ : ৪ : ১
  4. ঘ) ২ : ১ : ১
সঠিক উত্তর:
খ) ১ : ২ : ১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১ : ২ : ১
ব্যাখ্যা
শর্করা
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হল এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ।
- শর্করা জাতীয় খাদ্য দেহে কাজ করার শক্তি জোগায়।
- শর্করার মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন। 
- যার প্রতিটি অণুতে কার্বনের(C) সাথে হাইড্রোজেন (H) এবং অক্সিজেন(O) থাকে।
- এতে কার্বন(C), হাইড্রোজেন (H) এবং অক্সিজেন(O)- এর অনুপাত ১ : ২ : ১।
৫,৬১২.
কয়লার দহনের ফলে কী উৎপন্ন হয়? 
  1. আলো 
  2. তাপ 
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

সাধারণ জ্বালানি (কাঠ, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস): 
- রান্নার কাজে সাধারণত কাঠ, কয়লা বা প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
- এসকল বস্তু দহন করে যে তাপ পাওয়া যায় তা দিয়ে রান্না করা হয়। 
- দহন বলতে এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া বোঝায় যেখানে কোন পদার্থ অক্সিজেনের সাথে স্বত:স্ফূর্ত বিক্রিয়া করে তাপ ও আলো দেয়। 
- কাঠের উপাদান সেলুলোজ যার মূল উপাদান কার্বন। 
- দহনের ফলে কাঠ অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে প্রধানত CO2, তাপ ও আলো উৎপন্ন করে।
যেমন- 
• কাঠ + O2 → তাপ + CO2 + আলো 
- একইভাবে, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ালেও তাপ, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও আলো পাওয়া যায়। 
• C (কয়লা) + O2 → তাপ + CO2 + আলো 
• CH4 (মিথেন বা প্রাকৃতিক গ্যাস) + O2 → তাপ + CO2 + H2O + আলো । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬১৩.
সিএনজি- এর পূর্ণরূপ -
  1. ক) Compressed Natural Gas
  2. খ) Carbonated Natural Gas
  3. গ) Complete Natural Gas
  4. ঘ) Compressed Neutral Gas
সঠিক উত্তর:
ক) Compressed Natural Gas
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Compressed Natural Gas
ব্যাখ্যা
সিএনজি
- সিএনজি (CNG) এর অর্থ কমপ্রেস করা প্রাকৃতিক গ্যাস। 
- সিএনজি- এর পূর্ণরূপ Compressed Natural Gas.
- প্রাকৃতিক গ্যাসকে অতি উচ্চ চাপে সংকুচিত করা হলে প্রাপ্ত নমুনাকে CNG বলে।
- এটি পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি।
- বাংলাদেশ সরকার পরিবেশ দূষণ রোধকল্পে যাবাহনসমূহকে সিএনজিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করতে ২০০১ সালে সিএনজি থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে ঘোষণা করে। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৫,৬১৪.
রঞ্জকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য কোন পদার্থ ব্যবহার করা হয়?
  1. ZnO
  2. TiO2
  3. Al2O3
  4. Fe2O3
সঠিক উত্তর:
TiO2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
TiO2
ব্যাখ্যা

- টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড (TiO2) তার উজ্জ্বলতা এবং খুব উচ্চ প্রতিসরাঙ্কের কারণে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সাদা রঞ্জক। এটি কার্যকরভাবে দৃশ্যমান আলোকে বিচ্ছুরিত (scatters) করে, যার ফলে কোনো প্রলেপ বা পণ্যে মিশ্রিত হলে তা অত্যন্ত সাদা, উজ্জ্বল এবং অস্বচ্ছ দেখায়।

রঞ্জক পদার্থ: 
- রঞ্জক পদার্থ বিশেষ এক ধরনের জৈব যৌগ। 
- এদের বৈশিষ্ট্য হলো এরা না পানিতে দ্রবণীয় না তেলে দ্রবণীয়, এই বিশেষ গুণের কারণে রঞ্জকসমূহ ব্যবহার করা হয়। 
- রঞ্জকের আরও একটি বিশেষ গুণ হলো- এরা শরীরের মিউকাস পর্দার উপর কোনো প্রকার বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে না। 
- বিভিন্ন উপাদানের বর্ণ নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থকে ব্যবহার করা হয়। 
- রঞ্জকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য এর সাথে TiO2 ব্যবহার করা হয়। 
- সাধারণত মাইকা থেকে রঞ্জক তৈরি করা হয় এবং এর উপর TiO2 -এর প্রলেপ দেওয়া হয়। 
- ইয়োসিন (Eosin) একটি বহুল পরিচিত রঞ্জক পদার্থ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬১৫.
মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ কোনটি?
  1. ক) পরিপাকে সহায়তা করা
  2. খ) শ্বসনে সহায়তা করা
  3. গ) সালোকসংশ্লেষণে সহায়তা করা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) শ্বসনে সহায়তা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শ্বসনে সহায়তা করা
ব্যাখ্যা
• শ্বসনে সহায়তা করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। 
মাইটোকন্ড্রিয়া হল প্রকৃত জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে থাকে। তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়। এতে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইত্যাদি সংঘটিত হয়।

মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ:
১। কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে।
২। শ্বসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইম ও কোএনজাইম ধারণ করে।
৩। শ্বসন এর বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন পরিবহন, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ইত্যাদি এখানে হয়।
৪। কিছু পরিমাণ DNA ও RNA উৎপন্ন করে।
৫। ADP কে ATP তে রূপান্তর করার মাধ্যমে ATP তে শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে সহায়তা করে।

শ্বসন: 
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহের কোষে অবস্থিত জটিল খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে সরল দ্রব্যে পরিণত হয় এবং সঞ্চিত স্থিতিশক্তি রূপান্তরিত হয়ে গতিশক্তিতে পরিণত হয় তাকে শ্বসন বলে। এ প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাইঅক্সাইড, পানি ও শক্তি উৎপন্ন হয়।

শ্বসনের তাপমাত্রা:
• শ্বসনের জন্য সাধারণত উত্তম তাপমাত্রা ২০°C - ৪৫°C সেলসিয়াস।
• ১০°C  সেলসিয়াসের নিচে এবং ৪৫°C  সেলসিয়াসের উপরের তাপমাত্রায় শ্বসনের হার কমে যায়।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান।
৫,৬১৬.
ব্যাকটেরিয়া কোন কিংডমের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) মনেরা
  2. খ) ইউক্যারিওটা
  3. গ) প্রোটিস্টা
  4. ঘ) ফানজাই
সঠিক উত্তর:
ক) মনেরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মনেরা
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া মনেরা কিংডমের অন্তর্ভুক্ত৷ এরা এক কোষী জীব৷ এদের কোষ বিভাজন দ্বিবিভাজন পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি
৫,৬১৭.
নিচের কোনটি উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদানের মধ্যে পড়ে?
  1. আয়রন
  2. নাইট্রোজেন
  3. দস্তা
  4. বোরন
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে যেগুলো উদ্ভিদের প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজন হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলে। যেমন- নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), এবং পটাশিয়াম (K) ইত্যাদি। 

উদ্ভিদের খনিজ ও পুষ্টি উপাদান: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০ টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। এ ৬০ টি উপাদানের মধ্যে ১৬ টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। এ ১৬ টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়, কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ম্যাক্রো বা মুখ্য উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৯ টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S) । 

২। মাইক্রো বা গৌণ উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭ টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl) । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫,৬১৮.
বৃক্কের আবরণীকে বলা হয় -
  1. ক) প্লুরা
  2. খ) পেরিকার্ডিয়াম
  3. গ) ক্যাপসুল
  4. ঘ) পেরিঅস্টিয়াম
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপসুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপসুল
ব্যাখ্যা
- বৃক্ক মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ যার সাহায্যে দেহের ৮০% রেচন কার্য সম্পন্ন হয়।
- বৃক্ক এক ধরনের তন্তুময় আবরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে। একে ক্যাপসুল বলা হয়।
- ক্যাপসুল সংলগ্ন অংশকে কর্টেক্স (Cortex) বলে। এর ভেতরের অংশকে মেডুলা (Medula) বলা হয়। উভয় অঞ্চলই যোজক কলা এবং রক্তবাহী নালি দিয়ে গঠিত।

অন্যদিকে, 
» ফুসফুসের পর্দার নাম – প্লুরা;
» হৃদপিন্ডের পর্দার নাম - পেরিকার্ডিয়াম;
» অস্থির আবরণীর নাম - পেরিঅস্টিয়াম।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর জীববিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত) ও জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৫,৬১৯.
যে মৌল বেশি সক্রিয়, প্রকৃতিতে তার যৌগ- 
  1. মৌলিক অবস্থায় পাওয়া যায়
  2. পাওয়া যায় না
  3. কম পরিমাণে পাওয়া যায়
  4. বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর:
বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

- যে মৌল বেশি সক্রিয়, প্রকৃতিতে তার যৌগ বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়, কারণ তাদের উচ্চ সক্রিয়তার কারণে তারা সহজে অন্যান্য উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে যৌগ গঠন করে এবং মুক্ত অবস্থায় থাকে না। 

ধাতু-অধাতু: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬২০.
'স্প্রিং তরঙ্গ' কী ধরণের তরঙ্গ?
  1. ক) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
  2. খ) আড় তড়ঙ্গ
  3. গ) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
  4. ঘ) ক ও খ
সঠিক উত্তর:
গ) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সঙ্গে সমকোণে অগ্রসর হয়, তাকে  অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে।
উদাহরণ—পানির তরঙ্গ, আলোক তরঙ্গ ইত্যাদি।

যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলো স্পন্দনের দিকের সঙ্গে সমান্তরালে অগ্রসর হয়, তাকে  অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে।
উদাহরণ—স্প্রিং তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ ইত্যাদি।

তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১. মাধ্যমের কণার স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় কিন্তু মাধ্যমের কণা স্থানান্তরিত হয় না।
২. তরঙ্গের বিস্তার,কম্পন, তরঙ্গদৈর্ঘ্য আছে।
৩. সব তরঙ্গই শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ করে।
৪. তরঙ্গ অগ্রগামী বা স্থির হতে পারে।
৫. তরঙ্গ প্রবাহের দিক আছে।
৬. তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ,ব্যতিচার,অপবর্তন ঘটে।
৭. তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারণ করে।
৮. যান্ত্রিক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
৯. তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। ইত্যাদি।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬২১.
নিচের কোনটি গাঢ় নাইট্রিক এসিডের প্রধান বৈশিষ্ট্য? 
  1. টক স্বাদযুক্ত 
  2. নীল লিটমাসকে লাল করে না
  3. পানি দ্রবণে নিম্নমাত্ৰায় বিয়োজিত হয় 
  4. বোতলের মুখ খুললে হালকা কুয়াশা বের হয় 
সঠিক উত্তর:
বোতলের মুখ খুললে হালকা কুয়াশা বের হয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোতলের মুখ খুললে হালকা কুয়াশা বের হয় 
ব্যাখ্যা

গাঢ় নাইট্রিক এসিড: 
- নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড- গ্যাসকে পানিতে দ্রবীভূত করে নাইট্রিক এসিড তৈরি করা হয়। 
- কম পরিমাণ পানিতে অধিক পরিমাণে NO2 গ্যাস দ্রবীভূত করে গাঢ় নাইট্রিক এসিড HNO3 তৈরি করা হয়। 
• 3NO2 + H2O → 2HNO3 + NO 
- গাঢ় নাইট্রিক এসিডের বোতলের মুখ খুললে হালকা কুয়াশার মতো গ্যাস বের হয় এবং তীব্র ঝাঁজালো গন্ধ পাওয়া যায়। 
- নাইট্রিক এসিড যে কাচের বোতলে রাখা হয় সেই বোতলের বর্ণ বাদামি হয়। 
- নাইট্রিক এসিড যে কাচের বোতলে রাখা হয় সেই কাচের বোতলের মধ্যে যদি আলো প্রবেশ করে তবে বোতলের মধ্যের HNO3 আলোর উপস্থিতিতে ভেঙে যায়। 
- HNO3 যাতে আলোর উপস্থিতিতে বোতলের মধ্যে ভেঙে না যায় সেজন্য HNO3 কে বাদামি বোতলের মধ্যে রাখা হয়, কারণ বাদামি বোতলের মধ্যে আলো প্রবেশ করতে পারে না। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৬২২.
‘Plum Pudding Model’ কার সাথে সম্পর্কিত?
  1. জন ডাল্টন
  2. রাদারফোর্ড
  3. নিলস বোর
  4. জে. জে. থমসন
সঠিক উত্তর:
জে. জে. থমসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জে. জে. থমসন
ব্যাখ্যা

- 'প্লাম পুডিং মডেল' (Plum Pudding Model) হলো পরমাণুর গঠনের একটি প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক মডেল, যা ১৯০৪ সালে ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী জে. জে. থমসন প্রস্তাব করেন। 

পরমাণুর মৌলিক ধারণা: 
- সর্বপ্রথম খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০ অব্দে গ্রিক দার্শনিক লুসিপাস এবং ডেমোক্রিটাস হামান দিস্তার সাহায্যে পদার্থকে অতি সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করেন। তিনি এ সূক্ষ্ম কণার নাম দেন অ্যাটমা যার অর্থ অবিভাজ্য অর্থাৎ পদার্থ অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত। 
- প্রায় একই সময়ে ভারতের বিজ্ঞানী আচার্য কণাদ ডেমোক্রিটাসের মতবাদকে সমর্থন করেন। 
- ১৮০৩ সালে ব্রিটিশ স্কুল শিক্ষক জন ডাল্টন বলেন পরমাণু অবিভাজ্য একে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না। ১৮০৮ সালে জন ডাল্টন প্রস্তাব করেন যে, মৌলিক পদার্থগুলো অবিভাজ্য। যা অতিশয় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত, এ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাকে পরমাণু বলে। 
- পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে জোসেফ জন থমসন পরমাণুর গঠন সম্পর্কে প্রস্তাব করেন যে, পরমাণু একটি গোলক বিশেষ যার সবদিকে সমানভাবে ধনাত্মক আধান বিস্তৃত। ইলেকট্রনসমূহ এ গোলকের অভ্যন্তরে এমনভাবে সজ্জিত থাকে যে, গোলকের কেন্দ্রের প্রতি এদের আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ পরস্পর সমান। 
- ১৯০৪ সালে থমসন তাঁর প্রস্তাবিত পরমাণুর গঠন সম্পর্কিত ধারণাকে আরও উন্নত করেন এবং বলেন যে, “পরমাণু ইলেকট্রনের সমন্বয়ে গঠিত যা স্থিতিস্থাপক গোলকের স্যুপে অবস্থিত ধনাত্মক চার্জকে প্রশমিত করে, যা Plum Pudding Model নামে পরিচিত। 
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড বলেন যে, পরমাণু বিভাজ্য, একে বিভাজিত করলে ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন ইত্যাদি কণিকা পাওয়া যায়। তিনি স্বর্ণপাতের উপর α-কণার বিক্ষেপণের মাধ্যমে পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি প্রমাণ করেন। 
- সর্বশেষ ১৯১৩ সালে নিলস বোর রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের আরও উৎকর্ষ সাধন করেন। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬২৩.
p-টাইপ জার্মেনিয়াম অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য নিচের কোনটি দিয়ে ডোপিং করতে হয়?
  1. আর্সেনিক
  2. অ্যালুমিনিয়াম
  3. আর্গন
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

• জার্মেনিয়াম (৪র্থ গ্রুপ) পরমাণুর সাথে ৩য় গ্রুপের মৌল (যেমন- অ্যালুমিনিয়াম, বোরন, গ্যালিয়াম) ডোপিং করলে p-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরি হয়।
- উল্লেখ্য, আর্সেনিক একটি ৫-যোজী মৌল যা ডোপিং করলে n-টাইপ (negative type) অর্ধপরিবাহী তৈরি হয়।

• ডোপিং (Doping):

- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে ।
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় ।
- ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যথা-
১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি। 
• p- টাইপ অর্ধপরিবাহী:
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সামান্য পরিমাণ ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো হলে, তাকে p- টাইপ অর্ধপরিবাহী বলে।
- বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে অপদ্রব্যকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় উচ্চতাপে মেশানো হয়।
- অপদ্রব্যের পরিমাণ এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় যেন এর পরমাণুগুলো মূল অর্ধপরিবাহী কেলাসের গঠন কাঠামোর কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে কেলাস ল্যাটিসে অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে।
- বিশুদ্ধ জার্মেনিয়ামের সাথে যদি উপযুক্ত মাত্রায় (দশ লক্ষে একটি) অ্যালুমিনিয়ামের মতো ত্রিযোজী মৌল মেশানো হয়, তা হলো ঐ কেলাসের গঠনের কোনো পরিবর্তন হয় না, কিন্তু পার্শ্ববর্তী চতুর্যোজী অর্ধপরিবাহীর সাথে সমযোজী বন্ধন গঠন করতে এর একটি ইলেকট্রনের ঘাটতি পড়ে।
- এই ইলেকট্রন ঘাটতি মানেই 'হোল' সৃষ্টি হয়। প্রতিটি AI পরমাণু একটি করে হোল সৃষ্টি করে। এ হোলগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকে।
- এ জন্য অ্যালুমিনিয়াম পরমানুকে 'গ্রাহক' পরমাণু বলে।
- এভাবে প্রতিটি অ্যালুমিনিয়াম পরমাণু একটি করে হোল সৃষ্টি করে।
- এখানে গরিষ্ঠ আধান বাহক হলো হোল এবং লঘিষ্ঠ আধান বাহক হলো ইলেকট্রন।
- এ কারণে এ ধরনের অর্ধপরিবাহীকে টাইপ p- অর্ধপরিবাহী বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬২৪.
প্রাকৃতিক গ্যাস কোন ধরনের শক্তি? 
  1. সৌর শক্তি 
  2. বায়োগ্যাস শক্তি 
  3. নাবয়নযোগ্য শক্তি
  4. অনাবয়নযোগ্য শক্তি 
সঠিক উত্তর:
অনাবয়নযোগ্য শক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনাবয়নযোগ্য শক্তি 
ব্যাখ্যা

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার।
যথা- 
ক) নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস এবং
খ) অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

নবায়নযোগ্য শক্তি: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়।
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়।
- নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হলো- সৌর শক্তি, জলবিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস, ভূতাপীয় শক্তি।

অনবায়নযোগ্য শক্তি: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না।
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত।
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়।
- অনাবয়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ হলো- কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, নিউক্লিয় শক্তি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬২৫.
মৌলিক পদার্থগুলো অবিভাজ্য যা অতিশয় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত- এটি কে প্রস্তাব করেন?
  1. জন ডাল্টন
  2. নিলস বোর
  3. ডেমোক্রিটাস
  4. রাদারফোর্ড
সঠিক উত্তর:
জন ডাল্টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন ডাল্টন
ব্যাখ্যা
পরমাণুর মৌলিক ধারণা: 
- সর্বপ্রথম খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০ অব্দে গ্রিক দার্শনিক লুসিপাস এবং ডেমোক্রিটাস হামান দিস্তার সাহায্যে পদার্থকে অতি সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করেন।
- তিনি এ সূক্ষ্ম কণার নাম দেন অ্যাটমা যার অর্থ অবিভাজ্য অর্থাৎ পদার্থ অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত।
- প্রায় একই সময়ে ভারতের বিজ্ঞানী আচার্য কণাদ ডেমোক্রিটাসের মতবাদকে সমর্থন করেন।
- ১৮০৩ সালে ব্রিটিশ স্কুল শিক্ষক জন ডাল্টন বলেন পরমাণু অবিভাজ্য একে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না।
- ১৮০৮ সালে জন ডাল্টন প্রস্তাব করেন যে, মৌলিক পদার্থগুলো অবিভাজ্য। যা অতিশয় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত, এ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাকে পরমাণু বলে
- পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে জোসেফ জন থমসন পরমাণুর গঠন সম্পর্কে প্রস্তাব করেন যে, পরমাণু একটি গোলক বিশেষ যার সবদিকে সমানভাবে ধনাত্মক আধান বিস্তৃত।
- ইলেকট্রনসমূহ এ গোলকের অভ্যন্তরে এমনভাবে সজ্জিত থাকে যে, গোলকের কেন্দ্রের প্রতি এদের আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ পরস্পর সমান।
- ১৯০৪ সালে থমসন তাঁর প্রস্তাবিত পরমাণুর গঠন সম্পর্কিত ধারণাকে আরও উন্নত করেন এবং বলেন যে, “পরমাণু ইলেকট্রনের সমন্বয়ে গঠিত যা স্থিতিস্থাপক গোলকের স্যুপে অবস্থিত ধনাত্মক চার্জকে প্রশমিত করে, যা Plum Pudding Model নামে পরিচিত।
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড বলেন যে, পরমাণু বিভাজ্য, একে বিভাজিত করলে ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন ইত্যাদি কণিকা পাওয়া যায়।
- বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড স্বর্ণপাতের উপর α-কণার বিক্ষেপণের মাধ্যমে পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি প্রমাণ করেন।
- সর্বশেষ ১৯১৩ সালে নিলস বোর রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের আরও উৎকর্ষ সাধন করেন।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬২৬.
'Aquaculture' শব্দটি দ্বারা কী বুঝায়?
  1. মাছ চাষ
  2. মৌমাছি চাষ
  3. রেশম চাষ
  4. পাখি পালন
সঠিক উত্তর:
মাছ চাষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাছ চাষ
ব্যাখ্যা
মৎস্যবিজ্ঞান: 
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় মাছের বিভিন্ন দিক যেমন- শ্রেনীবিন্যাস, মাছ চাষ ও ব্যবস্থাপনা, মাছের প্রজনন, প্রতিপালন, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিপণন, রোগতত্ত্ব তথা মাছ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে মৎস্যবিজ্ঞান বলে। 
- বর্তমানে মাছ চাষের সাথে অন্যান্য অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পন্ন জলজ প্রাণি যেমন- চিংড়ি, কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক, কচ্ছপ, ব্যাঙ ইত্যাদি চাষ করা হয়। 
- বিজ্ঞানের ভাষায় মাছ চাষকে বলা হয় একোয়াকালচার (Aquaculture)। 
- Aquaculture শব্দটি Latin শব্দ 'Aqua' যার অর্থ “পানি” এবং English শব্দ 'Culture' যার অর্থ "চাষ” নামক দু'টি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। 
অর্থাৎ, Aquaculture অর্থ পানিতে চাষ অথবা মাছ চাষ। 
- অন্যভাবে, নিয়ন্ত্রিত বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলজ জীবের চাষকে একোয়াকালচার বলে। 
- একে Aquafarming ও বলা হয়। 
যেমন- মাছ চাষ (Fish farming/culture), চিংড়ি চাষ (Shrimp farming/culture), ওয়েস্টার চাষ (Oyster farming/culture), সীউঈড চাষ (Seaweed farming/culture) ইত্যাদি। 

কিছু আধুনিক চাষ পদ্ধতি: 
- চিংডি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় প্রণকালচার। 
- সামদ্রিক মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় মেরিকালচার। 
- মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার। 
- মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এপিকালচার। 
- রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় সেরিকালচার। 
- পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৫,৬২৭.
কোন জারক রস পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়?
  1. পেপসিন
  2. এমাইলেজ
  3. রেনিন
  4. ট্রিপসিন
সঠিক উত্তর:
রেনিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেনিন
ব্যাখ্যা
• রেনিন দুগ্ধ আমিষ কেসিনকে প্যারাকেসিনে পরিণত করে। যা পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়।

- দুধ একটি আদর্শ খাবার।
- এতে সুষম খাদ্যের ৬ টি উপাদানই বিদ্যমান।
- দুধে যে শর্করা থাকে তাকে ল্যাকটোজ বলে।
- এতে যে প্রোটিন থাকে তাকে কেসিন বলে।
- দুধকে জমাট বাঁধায় রেনিন।

উৎস: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৫,৬২৮.
অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়? 
  1. মিথেন
  2. অক্সিজেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
- একটি নিরাপদ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের উপাদান হচ্ছে তরল কার্বন ডাই-অক্সাইড। 
- যখন নির্বাপক যন্ত্রের ভাল্ব খোলা হয় তখন কার্বন ডাই-অক্সাইড সম্প্রসারিত হয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসে পরিণত হয়। 
- যেহেতু কার্বন ডাই-অক্সাইড অক্সিজেনের চেয়ে ভারী তাই এটি জ্বালানীর চারপাশ থেকে অক্সিজেনকে সরিয়ে দেয়। 
- অক্সিজেনের অভাবে আগুন আর জ্বলতে পারে না। 

উৎস: National Emergency Service, 999.gov.bd
৫,৬২৯.
শিশুদের জন্মের ১৮ মাস বয়সে কোন টিকা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়?
  1. বিসিজি
  2. টিটি
  3. ডিপিটি
  4. ডিটি
সঠিক উত্তর:
ডিপিটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিপিটি
ব্যাখ্যা
- শিশুদের জন্মের ১৮ মাস বয়সে 'ডিপিটি ও ওপিভি (Booster dose)' টিকা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়।

ভ্যাকসিনেশন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়রকটি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম-ইত্যাদি রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৩০.
শিশুদের জন্মের কত বছর পর মায়ের দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয়?
  1. ক) ১২ মাস পর
  2. খ) ৬ মাস পর
  3. গ) ১৮ মাস পর
  4. ঘ) ২৪ মাস পর
সঠিক উত্তর:
খ) ৬ মাস পর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৬ মাস পর
ব্যাখ্যা
শিশুদের জন্মের ৬ মাস পর থেকেই মায়ের দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয়।

পুষ্টিকর উপাদান নিশ্চিত করা এবং শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিশুকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত অবশ্যই মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলে তাকে সিরিয়াল এবং শাকসবজি ও ডিমের মতো পারিবারিক খাবার চটকে খাওয়াতে হবে। দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকে অন্যান্য পারিবারিক খাবারের পাশাপাশি মায়ের দুধ খাইয়ে যেতে হবে। একেই বলে পরিপূরক খাবার খাওয়ানো। এর মধ্য দিয়ে শিশু শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়া থেকে পারিবারিক খাবার খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়। শিশুর ক্রমবর্ধমান পুষ্টি চাহিদা পূরণে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পর্বে ছয় মাস থেকে ২৪ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয় এবং এমন একটি সময়ে এটা হয় যখন তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে।

সূত্র: ইউনিসেফ বাংলাদেশ ওয়েবসাইট। 
৫,৬৩১.
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন তখনই ঘটে যখন- 
  1. আলো শূন্য মাধ্যমে প্রবেশ করে
  2. আলো হালকা মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে যায়
  3. আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যায়
  4. প্রতিসরণ কোণ সংকট কোণের চেয়ে কম হয়
সঠিক উত্তর:
আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যায়
ব্যাখ্যা
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection): 
- এক জোড়া নির্দিষ্ট স্বচ্ছ সমসত্ব মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বর্ণের আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যাবার সময় যদি দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হয় তবে আলোক রশ্মি হালকা মাধ্যমে বিন্দুমাত্র প্রতিসৃত না হয়ে সম্পূর্ণরূপে বিভেদ তল দ্বারা ঘন মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়, একে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে। 
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত দুইটি। 
যথা- 
১। আলোক রশ্মি অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমের দিকে যেতে হবে। 
২। এক জোড়া নির্দিষ্ট সচ্ছ সমসত্ব মাধ্যম ও একটি নির্দিষ্ট বর্ণের আলোক রশ্মিকে সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হতে হবে। 

আলোর প্রতিফলন: 
- আপতিত রশ্মির কিছু অংশ বিভেদতল থেকে পুনরায় প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে, এই ঘটনাকে আলোর প্রতিফলন বলে। 
প্রতিফলনের প্রথম সূত্র: আপতিত আলোক রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি এবং আপাতর বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব একই তলে অবস্থান করে। 
প্রতিফলনের দ্বিতীয় সূত্র: আপতিত কোণ একং প্রতিফলন কোণ সর্বদা সমান হয়। 

আলোর প্রতিসরণ: 
- প্রথম স্বচ্ছ ও সমসত্ব মাধ্যম থেকে আলোকরশ্মি দ্বিতীয় স্বচ্ছ ও সমসত্ব মাধ্যমে বিভেদতলে তীর্যকভাবে আপতিত হলে রশ্মিগুচ্ছ বিভেদতল থেকে দিক পরিবর্তন করে, এই ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 
প্রতিসরণের প্রথম সূত্র: আপতিত রশ্মি, প্রতিসরিত রশ্মি এবং বিভেদ তলের আপাতন বিন্দুতে অংকিত অভিলম্ব একই সমতলে অবস্থান করে। 
প্রতিসরণের দ্বিতীয় সূত্র: এক জোড়া নির্দিষ্ট স্বচ্ছ সমসত্ব মাধ্যম এবং তীর্যকভাবে আপতিত নির্দিষ্ট বর্ণের একটি আলোকরশ্মির জন্য আপাতন কোণের সাইন ও প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত একটি ধ্রুব সংখ্যা। একে স্নেলের সূত্রও বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৩২.
ট্রানজিস্টরের যে প্রান্তের চওড়া বেশি এবং অপদ্রব্যের অনুপাত বেসের সমান তাকে কী বলা হয়?
  1. কালেক্টর (Collector)
  2. বেস (Base)
  3. এমিটার (Emitter)
  4. ডায়োড (Diode)
সঠিক উত্তর:
কালেক্টর (Collector)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালেক্টর (Collector)
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- ট্রানজিস্টর হলো এমন একটি ব্যবস্থা যাতে দুটি চওড়া p-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু n-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে অথবা দুটি চওড়া n-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু p-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে। 
- প্রকৃতপক্ষে একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে তিনযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে p-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে p-n-p ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- অপরদিকে একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে তিনযোজী পরমাণু প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে n-p-n ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- তাই একটি ট্রানজিস্টরের দুটি ডায়োডকে পিঠাপিঠি (Back to back) যুক্ত বলে ধরা হয়। 
- একটি ট্রানজিস্টরের মধ্যকার সরু অংশকে ট্রানজিস্টরের বেস (Base) বা ভূমি বলে। 
- ট্রানজিস্টরের যে অংশের চওড়া অপর প্রান্তের চেয়ে তুলনামূলক কম এবং অপদ্রব্যের অনুপাত একটু বেশি তাকে এমিটার (Emiter) বা নিঃসারক বলে।
ট্রানজিস্টরের যে প্রান্তের চওড়া একটু বেশি এবং অপদ্রব্যের অনুপাত বেসের সমান তাকে কালেক্টর (Collector) বা সংগ্রাহক বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬৩৩.
কোন পর্বের প্রাণীদের রেচনতন্ত্র নেই?
  1. Echinodermata
  2. Annelida
  3. Arthropoda
  4. Platyhelminthes
সঠিক উত্তর:
Echinodermata
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Echinodermata
ব্যাখ্যা
• Echinodermata পর্বের প্রাণীদের রেচনতন্ত্র নেই।

• Echinodermata:

- এরা কণ্টকত্বকী প্রাণী।
- এদের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৭,৫৫০।
- Echinodermata শব্দটি গ্রিক শব্দ Echinus (কণ্টক) এবং Derma (ত্বক)-এ দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।
- ১৭৩৪ সালে Jacob Kline এর নামকরণ করেন।

• Echinodermata পর্বের বৈশিষ্ট্য:
- পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর দেহ পঞ্চঅরীয় প্রতিসম অথবা পাঁচটি সমভাগে বিভাজ্য।
- এদের দেহ কণ্টকময়, স্পাইন ও পেডিসিলারি নামক বহিঃকঙ্কালযুক্ত।
- এই পর্বে পানি সংবহনতন্ত্রের সাহায্যে চলন ও শ্বসনক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
- মস্তক অনুপস্থিত।
- দেহে সুস্পষ্ট মৌখিক তল (oral) ও বিমৌখিক তল (aboral) বিদ্যমান।
- এ পর্বের সকল প্রাণীই সামুদ্রিক।
- রেচনতন্ত্র নেই।
- উদাহরণ: Astropecten (এস্ট্রোপেকটেন), Echinus (একাইনাস), Cucumaria (কুকুমারিয়া) ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- Arthropoda পর্বের প্রাণীর রেচন অঙ্গ ম্যালপিজিয়ান নালিকা।
- Annelida পর্বের প্রাণীদের দেহের প্রায় প্রতিটি খণ্ডকে অবস্থিত নেফ্রিডিয়া নামক প্যাঁচানো নালিকা প্রধান রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।
- Platyhelminthes পর্বের প্রাণীদের রেচনতন্ত্র শিখা কোষ নিয়ে গঠিত।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২. জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৫,৬৩৪.
নিচের কোনটি লোহার আকরিক? 
  1. জিপসাম
  2. হেমাটাইট
  3. বক্সাইট
  4. বোরাক্স
সঠিক উত্তর:
হেমাটাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেমাটাইট
ব্যাখ্যা
আয়রন বা লোহার আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৩৫.
কোনটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ নয়?
  1. ক) প্লুটোনিয়াম
  2. খ) নেপচুনিয়াম
  3. গ) টাইটেনিয়াম
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) টাইটেনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) টাইটেনিয়াম
ব্যাখ্যা

ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
প্রকৃতপক্ষে যেসব মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২-এর চেয়ে বেশি তাদেরকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ বলা হয়।
যেমন- ইউরেনিয়াম-৯২, নেপচুনিয়াম-৯৩, প্লুটোনিয়াম-৯৪ ইত্যাদি।

টাইটেনিয়াম তেজস্ক্রিয় মৌল নয়। এর পারমাণবিক সংখ্যা - ২২।

৫,৬৩৬.
আমিষের অভাবে শিশুদের কোন রোগটি দেখা দেয়? 
  1. ক) ডায়ারিয়া
  2. খ) নিউমোনিয়া
  3. গ) কোয়াশিয়রকর
  4. ঘ) নেফ্রোটিক সিনড্রম
সঠিক উত্তর:
গ) কোয়াশিয়রকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কোয়াশিয়রকর
ব্যাখ্যা

কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor) শিশুদের প্রোটিন ঘাটতিজনিত এক রোগ। বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার পরে সাধারণত এ রোগ দেখা দেয়। এ রোগের উল্লেখযোগ্য লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ে অস্পষ্ট ধরনের জড়তা বা নিষ্ক্রিয়তা এবং খিটমিটে ভাব; পরবর্তী পর্যায়ে ডায়রিয়া, রোগ সংক্রমণ প্রবণতা, শরীরে পানি জমা, ত্বকের প্রদাহ এবং যকৃতের স্ফীতি দেখা দেয়। চুলের রং ক্রমে লালচে হয়ে যায়। রোগ গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী হলে শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি কখনই সম্পূর্ণ হয় না।
এছাড়া শিশুদের মেরাসমাস রোগটিও শরীরে আমিষের ঘাটতির কারণে হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট

৫,৬৩৭.
DNA কাটা হয় কী দ্বারা?
  1. ইলেকট্রন
  2. সূক্ষ ইলেকট্রিক ছুরি
  3. লাইগেজ এনজাইম
  4. সীমাবদ্ধ এনজাইম
সঠিক উত্তর:
সীমাবদ্ধ এনজাইম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীমাবদ্ধ এনজাইম
ব্যাখ্যা
• সীমাবদ্ধ এনজাইম:
- সীমাবদ্ধ এনজাইম (Restriction Endonuclease) হল এক ধরনের এনজাইম, যা নির্দিষ্ট নিউক্লিওটাইড সিকোয়েন্স (Recognition Site) চিনে DNA কেটে ছোট টুকরোয় বিভক্ত করে।
Escherichia coli একটি জনপ্রিয় রেস্ট্রিকশন এনজাইম।
• ব্যবহার:
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ DNA কাটার জন্য।
- DNA ক্লোনিং ও রিকম্বিনেন্ট DNA (rDNA) প্রযুক্তিতে।
- PCR ও জেল ইলেকট্রোফোরেসিস পরীক্ষায়।
- DNA টেস্টিং পরিক্ষায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৫,৬৩৮.
পাথরকুচি কিসের মাধ্যমে জনন প্রক্রিয়া সম্পাদন করে?
  1. ক) যৌন জনন
  2. খ) কলম
  3. গ) পাতা
  4. ঘ) রাইজোম
সঠিক উত্তর:
গ) পাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পাতা
ব্যাখ্যা
পাতার মাধ্যমে অঙ্গজ জননঃ
কখনো কখনো পাতার কিনারায় মুকুল সৃষ্টি হয়ে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়৷
যেমন- পাথরকুচি।
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি
৫,৬৩৯.
জীবাণুনাশক পানি বিশুদ্ধ করার জন্য কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
  1. নাইট্রোজেন গ্যাস
  2. ক্লোরিন গ্যাস
  3. ফ্লোরিন গ্যাস
  4. হাইড্রোজেন গ্যাস
সঠিক উত্তর:
ক্লোরিন গ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরিন গ্যাস
ব্যাখ্যা
- ভূ-পৃষ্ঠে যে পানি পাওয়া যায় তাতে নানা রকম ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ, এমনকি রোগ সৃষ্টি করতে পারে এরূপ জীবন ধ্বংসকারী জীবাণুও থাকে। তাই ব্যবহারের আগে পানি বিশুদ্ধ করে নিতে হয়। 
- ভূ-গর্ভের পানি সাধারণত রোগ-জীবাণু মুক্ত থাকে, কিন্তু এই পানিতে আর্সেনিকের (As) মতো নানা রকম ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি থাকে। 
- সাধারণত যেসব প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয় সেগুলো হলো- পরিস্রাবণ, ক্লোরিনেশন, স্ফুটন, পাতন ইত্যাদি। 
- জীবাণুনাশক পানি বিশুদ্ধ করার জন্য ক্লোরিন গ্যাস (Cl2) ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়াও ব্লিচিং পাউডার [(Ca(OCl)Cl] এবং আরও কিছু পদার্থ যার মধ্যে ক্লোরিন (Cl) আছে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে পারে। 
- আমাদের দেশে বন্যার সময় পানি বিশুদ্ধ করার জন্য যে ট্যাবলেট বা কিট ব্যবহার করা হয়, সেটি হচ্ছে মূলত সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড (NaOCl) । এর মাঝে যে ক্লোরিন (Cl) থাকে, সেটি পানিতে থাকা রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে ফেলে। 
- ক্লোরিন (Cl)  ছাড়াও ওজন গ্যাস (O3) দিয়ে অথবা অতিবেগুনি রশ্মি দিয়ে পানিতে থাকা রোগ-জীবাণু ধ্বংস করা যায়। বোতলজাত পানির কারখানায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করে পানিকে রোগ-জীবাণু মুক্ত করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৫,৬৪০.
জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলে কত শতাংশ থাকে?
  1. ০.৪১%
  2. ৭৮.০১%
  3. ০.০৩%
  4. ২০.৭১%
সঠিক উত্তর:
০.৪১%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.৪১%
ব্যাখ্যা
• বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রায় ০.৪১% থাকে। এটি বায়ুমণ্ডলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা বায়ুর আর্দ্রতা সৃষ্টি করে এবং জলচক্রের অংশ হিসেবে কাজ করে। জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং বৃষ্টির সৃষ্টি ও জলবাষ্পীয় মেঘ গঠনে ভূমিকা রাখে। 
- তাই সঠিক উত্তর হলো (ক) ০.৪১%।


বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 
• বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
• অক্সিজেনের পরিমাণ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

• বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলোর শতকরা হার:
- নাইট্রোজেন ৭৮.০১%,
- অক্সিজেন ২০.৭১%,
- আর্গন ০.৮০%,
- জলীয়বাষ্প ০.৪১%,
- কার্বন-ডাই-অক্সাইড ০.০৩% ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৪১.
নিচের কোনটি ঊর্ধ্বপাতিত হয়? 
  1. সোডা অ্যাস
  2. তুঁতে
  3. অ্যামোনিয়া
  4. আয়োডিন
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
ব্যাখ্যা
ঊর্ধ্বপাতন: 
- যে প্রক্রিয়ায় কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। 
যেমন: নিশাদল (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথলিন (C10H8), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3)। 
- এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়।
- কোনো কঠিন পদার্থের মিশ্রণের মধ্যে একটি ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ মিশ্রিত থাকলে ঐ ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থকে মিশ্রণ থেকে পৃথক করা যায়।
যেমন: নিশাদল বা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl) এর সাথে খাদ্য লবণ (NaCl) মিশ্রিত থাকলে ঊর্ধ্বপাতন পদ্ধতির মাধ্যমে নিশাদলকে পৃথক করা যায়। 
- কঠিন অবস্থায় ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থে তাপ প্রয়োগ করতে থাকলে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ সহজেই বাষ্পীভূত হয়।
- আয়োডিন মিশ্রিত খাদ্য লবণের মধ্যে আয়োডিন একটি ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ
- কাজেই ঐ আয়োডিন মিশ্রিত খাদ্য লবণের মিশ্রণকে তাপ দিলে আয়োডিন সহজেই বাষ্পীভূত হয়। ঐ বাষ্পকে ঠান্ডা করে কঠিন আয়োডিনে পরিণত করা যায়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৪২.
তামার সাথে নিচের কোনটি মিশালে পিতল হয়?
  1. নিকেল
  2. টিন
  3. দস্তা
  4. সীসা
সঠিক উত্তর:
দস্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দস্তা
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু: 
- দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে। 
যেমন: 
- পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু। 
- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৪৩.
সূর্য অপেক্ষা পৃথিবীর উপর চন্দ্রের আকর্ষণ শক্তি প্রায়-
  1. ক) দ্বিগুণ
  2. খ) তিনগুণ
  3. গ) চারগুণ
  4. ঘ) ছয়গুণ
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিগুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিগুণ
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর উপর চন্দ্র ও সূর্য উভয়রই আকর্ষণ রয়েছে। এই আকর্ষনের সাথে পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিক শক্তির প্রভাবে জোয়ার-ভাঁটা হয়।
- সূর্য ও চন্দ্র পৃথিবীর সকল বস্তুকেই সর্বদা কম-বেশি আকর্ষন করছে।
- সূর্য চন্দ্র অপেক্ষা ২ কোটি ৬০ লক্ষ গুণ বড় এবং পৃথিবী অপেক্ষা ১৩ লক্ষ গুণ বড়।
- কিন্তু আবার সূর্য পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আর চন্দ্র মাত্র ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার।
- উপর্যুক্ত কারনে পৃথিবীর উপর চাঁদের আকর্ষণ ক্ষমতা বেশি; প্রায় দ্বিগুণ।
- জোয়ার-ভাঁটা তৈরির ক্ষেত্রে সূর্যের ক্ষমতা চাঁদের ক্ষমতার ৪/৯ ভাগ।

উৎস: ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৪৪.
যে রাশি পরিমাপের জন্য অন্য কোনো রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না, তাকে কী বলে?
  1. যৌগিক রাশি
  2. ভেক্টর রাশি
  3. মৌলিক রাশি
  4. লব্ধ রাশি
সঠিক উত্তর:
মৌলিক রাশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক রাশি
ব্যাখ্যা

- যে রাশি পরিমাপের জন্য অন্য কোনো রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না, তাকে মৌলিক রাশি বলে, যা দৈর্ঘ্য, ভর, সময়ের মতো স্বাধীন রাশি এবং পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি তৈরি করে। 

ভৌত রাশি: 
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায় তাকে রাশি বলা হয়। 
যেমন- একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়, ভর একটি রাশি। আবার কাপড়ের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করা যায় যেখানে দৈর্ঘ্য একটি রাশি। 

মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেসব রাশিগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ। 

লব্ধ বা যৌগিক রাশি: 
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়। 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ, যেগুলো মৌলিক রাশি থেকে গঠিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬৪৫.
রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে কী বলা হয়? 
  1. রক্তরস 
  2. লিউকোসাইট 
  3. হিমোগ্লোবিন 
  4. রক্তকোষ 
সঠিক উত্তর:
রক্তরস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তরস 
ব্যাখ্যা

রক্ত (Blood): 
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ, মৃদু ক্ষারীয় এবং লবণাক্ত তরল পদার্থ। 
- রক্ত হৃৎপিণ্ড, শিরা, উপশিরা, ধমনি, শাখা ধমনি এবং কৈশিকনালি পথে আবর্তিত হয়। 
- লোহিত রক্তকোষে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়। 
- হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে রক্তকোষের জন্ম হয়। 

রক্তের উপাদান: 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্তকোষের সমন্বয়ে রক্ত গঠিত। 

রক্তরস (Plasma): 
- রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে রক্তরস বলে। 
- সাধারণত রক্তের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ রক্তরস। 
- রক্তরসের প্রধান উপাদান পানি। 
- এছাড়া বাকি অংশে কিছু প্রোটিন, জৈবযৌগ ও সামান্য অজৈব লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 
যেমন- প্রোটিন (যথা-অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন ও ফাইব্রিনোজেন), গ্লুকোজ, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চর্বিকণা, খনিজ লবণ, ভিটামিন, হরমোন, এন্টিবডি, বর্জ্য পদার্থ (যেমন: কার্বন ডাই-অক্সাইড, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড) ইত্যাদি। 
- এছাড়া রক্তরসে সামান্য পরিমাণে সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ও অ্যামাইনো এসিড থাকে। 
- খাদ্য হিসেবে যা গ্রহণ করা হয় তা পরিপাক হয়ে অন্ত্রের গাত্রে শোষিত হয় এবং রক্তরসে মিশে দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। এভাবে দেহকোষগুলো পুষ্টিকর দ্রব্যাদি গ্রহণ করে দেহের পুষ্টির সাধন এবং ক্ষয়পূরণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৬৪৬.
লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য কোন ক্রোমোজোম দায়ী?
  1. অটোসোম
  2. সেক্স ক্রোমোজোম
  3. সব ক্রোমোজোম
  4.  ২২ জোড়া অটোসোম
সঠিক উত্তর:
সেক্স ক্রোমোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেক্স ক্রোমোজোম
ব্যাখ্যা

ক্রোমোজোম: 
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু। 
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোসোম। অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬৪৭.
সমগ্র পর্যায় সারণিকে কতটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে? 
  1. ৭ টি
  2. ৬ টি
  3. ৮ টি
  4. ১৮ টি
সঠিক উত্তর:
৭ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ টি
ব্যাখ্যা
- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন। এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামেও পরিচিত।
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়।
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি।
- এ সারণিতে মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে।
- সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা হয়েছে
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৪৮.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক তন্তু?
  1. রেয়ন
  2. ভিসকাস
  3. অ্যাসবেটস্‌
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অ্যাসবেটস্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাসবেটস্‌
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক তন্তু:
- প্রাকৃতিক উৎস এবং খনিজ হতে যে সমস্ত তন্তু পাওয়া যায় সেগুলোকে প্রাকৃতিক তন্তু বলা হয়। যেমন - তুলা, পাট, উল, সিল্ক ও অ্যাসবেসটস ইত্যাদি হলো প্রাকৃতিক তন্তু।
- এই জাতীয় তন্তুর মধ্যে কার্পাস তুলা বা কটন সর্বাধিক ব্যবহৃত প্রাকৃতিক তন্তু।
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত বস্ত্রাদির অর্ধেকেরও বেশি চাহিদা মেটানো হয় প্রাকৃতিক তন্তু থেকে।

প্রাকৃতিক তন্তুকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা
১) উদ্ভিজ তন্তু
২) প্রাণিজ তন্তু এবং
৩) খনিজ তন্তু।

উদ্ভিজ তন্তু: উদ্ভিদ থেকে যে সব তন্তু পাওয়া যায় সেগুলোকে উদ্ভিজ তন্তু বলে। পাট, তুলা ইত্যাদি এ জাতীয় তন্তুর উদাহরণ।

প্রাণিজ তন্তু: প্রাণিজ উৎস থেকে যে সব তন্তু পাওয়া যায় তাদেরকে প্রাণিজ তন্তু বলে। পশম বা উল এবং রেশম প্রাণিজ তন্তুর উদাহরণ।
- পশম জাতীয় তন্তু তৈরি হয় ভেরা বা মেষ, খরগোশ, উট এবং বিভিন্ন এ জাতীয় পশুর লোম বা চুল থেকে।
- উলের তন্তুর তল অমসৃণ থাকায় এর মধ্যে বাতাস আঁটকে থাকে। তাই উলের তৈরি পোশাক পরলে বেশ গরম অনুভূত হয়।
- পলু পোকা নামে এক জাতীয় পোকার গুটি থেকে রেশম বা সিল্ক তন্তু আহরণ করা হয়।
- প্রাণিজ তন্তুর মধ্যে রেশমই সবচেয়ে শক্ত। তুতে নামক গাছের পাতা খেয়ে রেশম পোকা গুটি বাধে। সে গুটি থেকে সিল্ক আহরণ করা হয়। বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার রেশম পৃথিবী বিখ্যাত।

খনিজ তন্তু: খনিতে কঠিন শিলার স্তরের ভাঁজে ভাঁজে জমা এক প্রকার আঁশ থেকে যে তন্তু পাওয়া যায় তাকে খনিজ তন্তু বলে।
- অ্যাসবেসটস (Asbestos) ধাতব তন্তু এ জাতীয় তন্তুও উদাহরণ।
- ইনসুলেশন, অগ্নিরোধক ও শব্দরোধক ইত্যাদিতে তন্তু হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
- এই তন্তু অগ্নিনিরোধক হিসেবে জাহাজ এবং নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হতো।
- কিন্তু এ তন্তুতে ক্ষতিকারক রাসায়নিক রয়েছে যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতিসাধন করে। তাই এর ব্যবহার সীমিত হয়ে আসছে।

অন্যদিকে,
- রেয়ন ও ভিসকাস হলো কৃত্রিম (সেলুলোজিক) তন্তু।

উৎস: মাধ্যমিক বিজ্ঞান, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৪৯.
কোনটি সিমেন্ট তৈরির অন্যতম কাঁচামাল?
  1. জিপসাম
  2. সালফার
  3. সোডিয়াম
  4. খনিজ লবণ
সঠিক উত্তর:
জিপসাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিপসাম
ব্যাখ্যা
• জিপসাম (CaSO4.2H2O) হলো সিমেন্ট তৈরির অন্যতম কাঁচামাল।

- সিমেন্ট ও প্লাস্টার অব প্যারিস তৈরির কাঁচামালসিমেন্ট শিল্পের সহায়ক উপাদানসমূহ:
- চুনাপাথর, কাদামাটি, জিপসাম প্রভৃতি সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল।
- যেসব দেশে এসব উপাদান বেশি পাওয়া যায় সেসব দেশ সিমেন্ট শিল্পে উন্নতি লাভ করেছে।
- বাংলাদেশে এসব কাঁচামালের অভাব রয়েছে।
- ফলে এদেশ সিমেন্ট শিল্পে তেমন উন্নতি লাভ করতে পারেনি।

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৫০.
নিচের কোনটি কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Hazard)?
  1. ভূমিধস
  2. জলোচ্ছ্বাস 
  3. ভূমিকম্প 
  4. খরা
সঠিক উত্তর:
খরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খরা
ব্যাখ্যা

• কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Hazard) হচ্ছে- খরা।

খরা ( Drought):
- কোনো এলাকা দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে উক্ত এলাকাটির মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে।
- উক্ত এলাকার মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় ও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। মাটির এরূপ অবস্থাকে খরা বলা হয়।
- বাংলাদেশের উওর-পশ্চিমাঞ্চল অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।
- খরা উপদ্রুত অঞ্চলে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- উপদ্রুত অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে পানির অভাব দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল পর্যাপ্ত ফসলের অভাবে খাদ্যদ্রব্যের অভাব প্রকট হয়ে পড়ে।
- গাছপালা বিহীন শুষ্ক প্রকৃতি ও তীব্র গরমে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
 
অন্যদিকে: 
- ভূমিকম্প, ভূমিধস, জলোচ্ছ্বাস ,কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Hazard) নয়। 

 উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬৫১.
পরমাণুর মধ্যে কয় ধরনের মৌলিক কণিকা থাকে?
  1. ৫ ধরনের
  2. ৪ ধরনের
  3. ৩ ধরনের
  4. ২ ধরনের
সঠিক উত্তর:
৩ ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ধরনের
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 

পরমাণুর মধ্যে তিন ধরনের মৌলিক কণিকা থাকে। যেমন- 
• ইলেকট্রন, 
• প্রোটন ও 
• নিউট্রন। 

- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 

ইলেকট্রন: 
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন।
- ইলেকট্রন একক ঋনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা।
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন। 
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা। 
 
প্রোটন: 
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। 
- এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। 
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 

তথ্যসূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৫২.
গ্রিনিচের মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে যে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের কী বলা হয়? 
  1. মূল মধ্যরেখা
  2. নিরক্ষরেখা
  3. দ্রাঘিমা
  4. অক্ষাংশ
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমা
ব্যাখ্যা

দ্রাঘিমারেখা (Longitude): 
- নিরক্ষরেখাকে ডিগ্রি, মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করে প্রত্যেক ভাগবিন্দুর উপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত যে সকল রেখা কল্পনা করা হয়েছে, সেগুলোই হলো দ্রাঘিমারেখা।
- এ রেখাগুলো পৃথিবীর পরিধির অর্ধেকের সমান। অর্থাৎ এক-একটি অর্ধবৃত্ত।
- অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো হলো কাল্পনিক।
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের কাছে গ্রিনিচ (Greenwich) মান মন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে তাকে মূল মধ্যরেখা বলে।
- গ্রিনিচের দ্রাঘিমা ০। গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে ঐ স্থানের দ্রাঘিমা বলে।
- পৃথিবীর পরিধি দ্বারা উৎপন্ন কোণ ৩৬০
- মূল মধ্যরেখা, এই ৩৬০° কে ১০ অন্তর অন্তর সমান দুই ভাগে অর্থাৎ পূর্ব ও পশ্চিমে ১৮০করে ভাগ করেছে।
- অক্ষাংশের ন্যায় দ্রাঘিমাকেও মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করা হয়েছে।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

৫,৬৫৩.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি মাপক যন্ত্রের নাম কী?
  1. ক) ক্যালোরিমিটার
  2. খ) স্ফিগমোম্যানোমিটার
  3. গ) অক্সানোমিটার
  4. ঘ) পোটোমিটার
সঠিক উত্তর:
গ) অক্সানোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অক্সানোমিটার
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম ক্রেস্কোগ্রাফ
- এটির আবিষ্কারক জগদীশচন্দ্র বসু।
- তিনি প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন যে, উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য আছে।

অপশনগুলোর মধ্যে অক্সানোমিটার (auxanometer) দ্বারা উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপ করা যায়।
Auxanometer (Noun):
Meaning: an instrument for determining and measuring the rate of growth in plants consisting essentially of a lever with a long and a short arm which is attached to the plant.
 
অপরদিকে, 
- রক্তচাপ পরিমাপক যন্ত্রের নাম হলো স্ফিগমোম্যানোমিটার,
- তাপ পরিমাপক যন্ত্রের নাম হলো  ক্যালরিমিটার,
- পোটোমিটার হলো উদ্ভিদের প্রস্বেদন বা উদ্ভিদের পাতার পানি নিঃস্বরণের হার নির্ণায়ক যন্ত্র।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫,৬৫৪.
অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা কেমন পরিবর্তন হয়?
  1. ক) কমে
  2. খ) বাড়ে
  3. গ) শূন্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) বাড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাড়ে
ব্যাখ্যা
অর্ধপরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে । যেমন— জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
- অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অন্ধ্রকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm ক্রমের।
- কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই অর্ধপরিবাহী চিহ্নিত করা যায় না। কেননা এমন কিছু সংকর ধাতু ও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু এগুলো অর্ধপরিবাহী নয়।

অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য:
১। পরম শূন্য তাপমাত্রায় (0 K) এরা অন্তরকের ন্যায় কাজ করে।
২। কক্ষ তাপমাত্রায় সাধারণত আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm  এর মধ্যে থাকে ।
৩। অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়
৪ । একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পোঁছা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়। 
৫। এদের পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর চেয়ে কম।
৬। কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে।  

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৫৫.
প্রকৃতিতে কত ধরনের মৌলিক বল আছে? 
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার
ব্যাখ্যা
বল: 
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। 
- বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে। 
- প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। 
যথা:- মহাকর্ষ বল, তাড়িতচৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল। 

১। মহাকর্ষ বল: 
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে। 
- এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই। 
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

২. তাড়িতচৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল: 
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে। 

৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল: 
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়। 
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৮ m) কাজ করে। 

৪। সবল নিউক্লীয় বল: 
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) কাজ করে। 
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৫৬.
বাড়ি ও শিল্পকারখানায় অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহজনিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কী ব্যবহার করা হয়? 
  1. রেজিস্টর
  2. সার্কিট ব্রেকার
  3. কনডেনসার 
  4. ট্রান্সফরমার
সঠিক উত্তর:
সার্কিট ব্রেকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্কিট ব্রেকার
ব্যাখ্যা

- বাড়ি ও শিল্পকারখানায় অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহজনিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফিউজ বা সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা হয়, যা অতিরিক্ত কারেন্ট বা শর্ট সার্কিটের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আগুন লাগা বা যন্ত্রপাতির ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করে। 

ফিউজ ও সার্কিট ব্রেকার: 
- যান্ত্রিক কারণে কোনো তড়িৎ যন্ত্রের মধ্য দিয়ে হঠাৎ তড়িৎ প্রবাহ বেড়ে গেলে যন্ত্রটি গরম হয়ে আগুন ধরে যেতে পারে। বাড়িতে, হাসপাতালে, বিদ্যালয়ে, ছোট বড় শিল্প কারখানায় এই কারণেই তড়িৎ প্রবাহে দুর্ঘটনা হয়। 
- হঠাৎ করে মাত্রার অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করার জন্য সরবরাহ লাইনে সার্কিট ব্রেকার কিংবা ফিউজ ব্যবহার করা হয়। 
- সার্কিট ব্রেকার এমনভাবে তৈরি করা হয় যে এর ভেতর থেকে নিরাপদ সীমার বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হলেই বর্তনীকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। 
- ফিউজ সে তুলনায় খুবই সরল একটা পদ্ধতি, একটি যন্ত্রে যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় সেটি যন্ত্রে ঢোকানোর আগে সরু ও নিম্ন গলনাংকের একটা তারের ভেতর দিয়ে নেয়া হয়। 
- কোনো কারণে নির্ধারিত মানের অধিক তড়িৎ প্রবাহ হলে ফিউজের সরু তার উত্তপ্ত হয়ে পুড়ে তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬৫৭.
'বেরিবেরি' রোগ হয় কোন ভিটামিনের অভাবে?
  1. ক) ভিটামিন বি-১
  2. খ) ভিটামিন বি-২
  3. গ) ভিটামিন বি-৬
  4. ঘ) ভিটামিন বি-১২
সঠিক উত্তর:
ক) ভিটামিন বি-১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভিটামিন বি-১
ব্যাখ্যা
- দেহে ভিটামিন বি-১ (থায়ামিন) এর চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- এর অভাবে স্নায়ু দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ার অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা যায়। 
- ভিটামিন বি-২ এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা যায়, মুখে ও জিভে ঘা হয়। 
- ভিটামিন বি-১২ বা সায়ানোকোবালামিনের অভাবে রক্তশূণ্যতা ও স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় দেখা যায়। 

সূত্র: সধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৫৮.
প্রতিটি নিউরনের কয়টি অংশ থাকে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা
প্রাণীদেহের যে কলা উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করতে পারে তাকে স্নায়ু টিস্যু বা নার্ভ টিস্যু বলে। স্নায়ু টিস্যুর একক হচ্ছে স্নায়ুকোষ বা নিউরন।
মস্তিষ্ক অসংখ্য স্নায়ুকোষ বা নিউরন দিয়ে তৈরি। প্রতিটি নিউরনে তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত।
যথা - কোষদেহ, ডেনড্রন এবং এক্সন।

রেফারেন্সঃ
Neurons are made up of three major parts: a cell body, or soma, which contains the nucleus of the cell and keeps the cell alive; a branching treelike fiber known as the dendrite, which collects information from other cells and sends the information to the soma; and a long, segmented fiber known as the axon, which transmits information away from the cell body toward other neurons or to the muscles and glands.
#Source: University of Minnesota, Open Library.

A neuron has three main parts: dendrites, an axon, and a cell body or soma
#Source: Queensland Brain Institute, The University of Queensland.

Some of the sources like Molecular Cell Biology, 4th edition by Harvey Lodish states that there are 4 major parts of a Neuron cell.
"Although the morphology of various types of neurons differs in some respects, they all contain four distinct regions with differing functions: the cell body, the dendrites, the axon, and the axon terminals"

And, a basic source too,
Neurons are composed of three main parts: dendrites, a cell body, and an axon.
#Source: Khan Academy Lecture.
-----------
নবম দশমের অনুসারে দেখলেও প্রশ্নে প্রধান অংশ কয়টি এটা চাওয়া হয়নি। মোট কয়টি অংশ থাকে সেটা চাওয়া হয়েছে।

এটাতে মতভেদ থাকতে পারে। এরকম হাজারটা প্রশ্ন চাকরির পরীক্ষায় এসেছে, হাজারটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং হবে। কারও পক্ষে বলা সম্ভব নয় যে প্রশ্নকর্তা কোনটাকে ঠিক ধরবেন। তবে, এটা মনে রাখতে হবে যে, এরকম প্রশ্নের ক্ষেত্রে প্রশ্নকর্তা যেটাকে ঠিক ধরেছেন সেটাই সঠিক হবে।
এতো প্রশ্নের মধ্যে এমন কয়েকটা থাকবেই যেগুলোর উত্তর একেকজন একেভাবে ধরেন। মূল প্রশ্নে যদি এমন বিভ্রান্তি থাকে তাহলে এখানেও থাকতে পারে।

৫,৬৫৯.
ইউরেনাস গ্রহের উপগ্রহ কয়টি?
  1. ২২টি
  2. ২৭টি
  3. ৬২টি
  4. ৮৭টি
সঠিক উত্তর:
২৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৭টি
ব্যাখ্যা
ইউরেনাস:
- ইউরেনাসের বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ অনেক শীতল।
- এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উপস্থিত হওয়ায় এটিকে সবুজ রঙের দেখা যায়।
- তাই একে সবুজ গ্রহ বলা হয়।
- এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ।
- এটিতে শনির মতো একটি বলয় রয়েছে।
- উইলিয়াম হার্শেল ১৭৮১ সালে গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন।
- ইউরেনাস গ্রহের উপগ্রহ ২৭টি।
- এগুলো হলো: অ্যামব্রিয়েল, অ্যারিয়েল, ওফেলিয়া, ওবেরন, কর্ডেলিয়া, কিউপিড, ক্যালিবান, ক্রেসিডা, জুলিয়েট, টাইটানিয়া, ট্রিন্কুলো, ডেসডিমোনা, প্যাদ্রিতা, পুক, পোর্শিয়া, প্রোসপেরা, ফ্রান্সিসকো, ফার্ডিনান্দ, বিয়ান্কা, বেলিন্দা, মার্গারেট, মিরান্ডা, ম্যাব, রোসালিন্ড, সাইকোরাক্স, সেটেবস, স্টেফানো।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) NASA ওয়েবসাইট।
৫,৬৬০.
যখন দুটি প্লেট একে অপরকে অতিক্রম করে যায়, তখন তাকে কী বলে?
  1. ক) সমকেন্দ্রাভিমুখী সীমা
  2. খ) অপসারী সীমা
  3. গ) পরিবর্তক চ্যুতি সীমা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) পরিবর্তক চ্যুতি সীমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পরিবর্তক চ্যুতি সীমা
ব্যাখ্যা

প্লেট টেকটোনিক্স (Plate Tectonics) ভূতাত্ত্বিক মতবাদ অনুসারে ভূত্বক প্রধানত সাতটি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত, যেগুলি নিম্নস্থ ভ্রাম্যমান উষ্ণ গুরুমন্ডলীয় পদার্থের ওপর ভাসছে। প্লেটের বিচলন (movement) ও পারস্পরিক ক্রিয়া ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, পর্বত সৃষ্টি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য ভূতাত্ত্বিক ঘটনাবলীর নিয়ন্ত্রক বলে ধারণা করা হয়।
তিন ধরনের পারস্পরিক প্লেট সীমানার কথা জানা যায়। যথা: সমকেন্দ্রাভিমুখী সীমা, অপসারী সীমা ও পরিবর্তক চ্যুতি সীমা।

সমকেন্দ্রাভিমুখী সীমা যখন একে অপরের দিকে অগ্রসরমান দুটি প্লেট কেন্দ্রাভিমুখী হয়ে অবশেষে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন একটি প্লেট অপরটির নিচে চাপা পড়ে। এই ধরনের প্লেট সংঘর্ষের ফলে পর্বতমালার সৃষ্টি হয় এবং প্লেট প্রান্তিকের আশেপাশে আগ্নেয়গিরির কর্মকান্ড সংঘটিত হয়।
অপসারী সীমা এই ক্ষেত্রে দুটি প্লেট একে অপরের থেকে সরে যেতে থাকে। এই ধরনের প্লেট সীমানার ফলে নতুন সমুদ্র তলদেশের এবং সামুদ্রিক আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়।
পরিবর্তক চ্যুতি সীমা যখন দুটি প্লেট একে অপরকে অতিক্রম করে যায়, তখন তাকে পরিবর্তক চ্যুতি সীমা বলে। তিন ধরনের প্লেট বিচলনেই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৫,৬৬১.
বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. প্রোটন
  2. নিউট্রন
  3. আইসোটোপ
  4. ইলেকট্রন
সঠিক উত্তর:
আইসোটোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোটোপ
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ: 
- পর্যায় সারণিতে 82Pb এর পরবর্তী মৌলসমূহ বিশেষ করে 86Rn থেকে শুরু করে সারণির শেষের দিকের সব মৌল এবং তাদের যৌগসমূহ তেজস্ক্রিয়। 
- এই আইসোটোপগুলো তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণ করে অন্য মৌলের আইসোটোপে পরিণত হয় বলে এ ধরনের আইসোটোপগুলোকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে।
- প্রকৃতপক্ষে তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণের ফলে মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে বিভাজন ঘটে এবং মৌলটি অন্য মৌলে পরিবর্তিত হয়। 
- প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম উপায়ে তৈরি আইসোটোপের সংখ্যা ১৩০০ এরও অধিক। 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে এসব তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ তৈরি করা হয়। 

চিকিৎসাক্ষেত্রে আইসোটোপের ব্যবহার: 
- চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপের প্রধানত দু'ধরনের ব্যবহার আছে। 
যেমন- 
ক) রোগ নিরাময়ে আইসোটোপ ব্যবহার করা হয় ও 
খ) কোন রোগ বা রোগাক্রান্ত স্থান নির্ণয়। 
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়।
- আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131(131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে। 
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of  Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়াও শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৬২.
'Meteorology' কী সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান ?
  1. ক) বিষ সম্পর্কিত বিদ্যা
  2. খ) পরিবেশের সাথে জীবের সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান
  3. গ) উদ্যান বিষয়ক বিজ্ঞান
  4. ঘ) আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে বলা হয় Meteorology।
বিষ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় টক্সিকোলজি (Toxicology)।
পরিবেশের সাথে জীবন সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে বলে ইকোলজি (Ecology)।
উদ্যান বিষয়ক বিজ্ঞানকে বলা হয় হর্টিকালচার (Horticulture)।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫,৬৬৩.
কোনটি পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফলাফল?
  1. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি
  2. দিন- রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি
  3. দিন-রাত্রি সংঘটন
  4. জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
দিন- রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিন- রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
বার্ষিক গতি
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর অবিরাম ঘূর্ণনের সাথে সাথে নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে) নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে যা পৃথিবীর বার্ষিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে ঋতু পরিবর্তন ও দিন- রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
আহ্নিক গতি

- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলাফল সমূহ:
• দিন-রাত্রি সংঘটন,
• জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি,
• বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি,
• তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৬৪.
ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ট্রান্সফর্মার
  2. খ) রেকটিফায়ার
  3. গ) ট্রানজিস্টর
  4. ঘ) আইসি
সঠিক উত্তর:
গ) ট্রানজিস্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা
• ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়।

ট্রানজিস্টর:
- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস।
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়।
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে।
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক।
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে।
- ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে। যথা- এমিটার, বেস এবং কালেক্টর।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৬৫.
বেগ কোন ধরনের রাশি? 
  1. অদিক 
  2. নাল 
  3. ভেক্টর 
  4. স্কেলার
সঠিক উত্তর:
ভেক্টর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেক্টর 
ব্যাখ্যা

ভেক্টর: 
-কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি এবং 
খ) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি। 

ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬৬৬.
সবোর্চ্চ গলনাংক বিশিষ্ট ধাতু হল-
  1. টাংস্টেন
  2. প্লাটিনাম
  3. জারকানিয়াম
  4. টাইটানিয়াম
সঠিক উত্তর:
টাংস্টেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাংস্টেন
ব্যাখ্যা
- একটি বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট টাংস্টেন দিয়ে তৈরি কারণ টাংস্টেন সর্বোচ্চ গলনাঙ্ক (৩৪২২ ডিগ্রী সেলসিয়াস) বিশিষ্ট, সর্বনিম্ন বাষ্পীয় চাপ বিশিষ্ট এবং ইহা ধাতুগুলোর মাঝে সর্বাধিক প্রসারণযোগ্য। 
- এটি গলে যাওয়ার আগে উচ্চ তাপমাত্রায় পৌঁছাতে পারে। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু টাংস্টেন। 
- টাংস্টেনের (Wolfram) এর সংকেত W. 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৬৭.
সর্বশেষ আবিষ্কৃত মৌলিক কণা কোনটি?
  1. ক) পজিট্রন
  2. খ) বোসন কণা
  3. গ) ղ-মেসন
  4. ঘ) মিওন
সঠিক উত্তর:
খ) বোসন কণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বোসন কণা
ব্যাখ্যা

১৯২৪ সালে বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও আলবার্ট আইনস্টাইন বোসন জাতের কণার ব্যাখ্যা দেন।

পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে তাত্ত্বিকভাবে এমন একটি কণার ধারণা দেন, যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে। তাঁর মতে, এর ফলেই এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে। এ কণাটিই গড পার্টিকেল বা ‘ঈশ্বর কণা’ নামে পরিচিতি পায়। হিগসের এই কণার বৈশিষ্ট্য ও স্বরূপ জানিয়েছিলেন বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু।

দুই বিজ্ঞানীর নামে কণাটির নাম দেওয়া হয় হিগস বোসন। ২০০১ সালে এসে গবেষকেরা ওই কণার খোঁজ করতে শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মিল্যাবের টেভাট্রন যন্ত্রে। ২০০৮ সালে প্রতিযোগিতায় নামে সার্ন গবেষণাগারের লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার। ২০১১ সালে সার্নের বিজ্ঞানীরা এ কণার প্রাথমিক অস্তিত্ব টের পান। একই সময়ে ফার্মিল্যাবও তাদের গবেষণায় ইতিবাচক ফল পায়।
শেষ পর্যন্ত ২০১২ সালের ৪ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে সার্নের গবেষকেরাই ঘোষণা দিলেন হিগস বোসনের অনুরূপ একটি কণা আবিষ্কারের।

সূত্রঃ প্রথম আলো আর্কাইভ।

৫,৬৬৮.
প্রথম ক্লোন মানব শিশুর নাম-
  1. ক) ডলি
  2. খ) মলি
  3. গ) ইভ
  4. ঘ) ইয়ান
সঠিক উত্তর:
গ) ইভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইভ
ব্যাখ্যা
প্রথম ক্লোন মানব শিশু (কন্যা শিশু) এর নাম ইভ।
সূত্রঃ ২৬তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
৫,৬৬৯.
রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তিকে আর কী নামে ডাকা হয়? 
  1. রেপ্লিকেশন
  2. জিন ক্লোনিং
  3. ট্রান্সক্রিপশন
  4. প্রোটিন সংশ্লেষণ
সঠিক উত্তর:
জিন ক্লোনিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিন ক্লোনিং
ব্যাখ্যা
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (Genetic engineering): 
- একটি জীব থেকে একটি নির্দিষ্ট জিন বহনকারী ডিএনএ খণ্ড পৃথক করে ভিন্ন একটি জীবে স্থানান্তরের কৌশল হচ্ছে জিন প্রকৌশল (Genetic engineering)। 
অর্থাৎ, কাঙ্ক্ষিত নতুন একটি বৈশিষ্ট্য সৃষ্টির জন্য কোনো জীবের ডিএনএর পরিবর্তন ঘটানোকে জিন প্রকৌশল বলে। 
- এই জিন যে কৌশলগুলোর মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়, তাদের একত্রে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ কৌশল বলে। 
- এই কৌশল অবলম্বন করে একটি ডিএনএ অণুর কাঙ্ক্ষিত অংশ কেটে আলাদা করে অন্য একটি ডিএনএ অনুতে প্রতিস্থাপন করার ফলে যে নতুন ডিএনএ অণুর সৃষ্টি হয়, তাকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ বলে। 
- রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ তৈরির প্রক্রিয়াকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তি বা জিন ক্লোনিং বলা হয়। 
- জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে উৎপন্ন নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের কোনো কোনোটিকে বলা হয় GMO (Genetically Modified Organism) আর কোনোটিকে বলে ট্রান্সজেনিক (Transgenic)। জিএমও এবং ট্রান্সজেনিক জীব এক নয়। 
- আধুনিক জীবপ্রযুক্তি বা জিন কৌশলের মাধ্যমে জিন স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য অল্প সময়ে সুচারুভাবে স্থানান্তর করা সম্ভব হয় বলে সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবক বা উদ্যোক্তাগণের নিকট প্রচলিত প্রজননের তুলনায় এ প্রযুক্তিটি অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৭০.
অভিকর্ষজ ত্বরণ কোন বিষয়টির উপর নির্ভর করে না?
  1. বস্তুর ভর
  2. পৃথিবীর ভর
  3. পৃথিবীর ব্যাসার্ধ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বস্তুর ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুর ভর
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষ বলের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠে মুক্তভাবে পড়ন্ত কোনাে বতুর বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।
অভিকর্ষজ ত্বরণকে g দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
অভিকর্ষজ ত্বরণের একক মিটার/সেকেন্ড।
ধরা যাক, M = পৃথিবীর ভর, m = ভূপৃষ্ঠে বা এর নিকটে অবস্থিত কোনাে বস্তুর ভর, d = বস্তু ও পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্যবর্তী দূরত্ব।
তাহলে মহাকর্ষ সূত্রানুসারে অভিকর্ষ বল, F = GMm/d2

আবার বলের পরিমাপ থেকে আমরা পাই, অভিকর্ষ বল = ভর X অভিকর্ষজ ত্বরণ
                                                                            অর্থাৎ F = mg

এখন,
     mg= GMm/d2
      g= GM/d2
 এ সমীকরণের ডান পাশে বতুর ভর m অনুপস্থিত। সুতরাং অভিকর্ষজ ত্বরণ বস্তুর ভরের উপর নির্ভর করে না। 

[উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান , অষ্টম শ্রেণি]
৫,৬৭১.
প্রমাণ অবস্থায় এক মোল গ্যাসের আয়তন কত?
  1. 0.224 লিটার
  2. 2.24 লিটার
  3. 22.4 লিটার
  4. 0.0224 লিটার
সঠিক উত্তর:
22.4 লিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
22.4 লিটার
ব্যাখ্যা
মোলার আয়তন: 
- যে কোনো উপাদানের এক মোল পরিমাণ পদার্থের আয়তনকে মোলার আয়তন বলে। 
- পদার্থের ভৌত অবস্থা ভেদে মোলার আয়তন ভিন্ন ভিন্ন। 
- কঠিন ও তরল উপাদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদার্থের মোলার আয়তন বিভিন্ন হয়। তবে গ্যাসের ক্ষেত্রে একই তাপমাত্রা ও চাপে সকল গ্যাসের এক মোলার আয়তন একই হয়। 
- প্রমাণ অবস্থায় এক মোল যে কোনো গ্যাসের আয়তন 22.4 লিটার। 
- 0°C তাপমাত্রাকে প্রমাণ তাপমাত্রা এবং 1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপকে প্রমাণ চাপ বলে। 
- তাপমাত্রার বৃদ্ধি ঘটালে গ্যাসের আয়তনের বৃদ্ধি এবং তাপমাত্রার হ্রাস ঘটালে গ্যাসের আয়তনের হ্রাস ঘটে। 
- আবার গ্যাসের উপর আরোপিত চাপের বৃদ্ধি ঘটালে আয়তনের হ্রাস ঘটে। আরোপিত চাপের হ্রাস ঘটালে আয়তনের বৃদ্ধি ঘটে। 
- এক মোল অণু = গ্রাম আণবিক ভর = 6.023×1023 টি অণু। আর প্রতিটির সম্পর্ক হলো যে কোনো গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন প্রমাণ অবস্থায় 22.4 লিটার। 
অর্থাৎ, 
• এক মোল অণু হাইড্রোজেন = 2 গ্রাম হাইড্রোজেন = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল অণু অক্সিজেন = 32 গ্রাম অক্সিজেন = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল অ্যামোনিয়া = 17 গ্রাম অ্যামোনিয়া = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল কার্বন ডাই-অক্সাইড = 44 গ্রাম কার্বন ডাই-অক্সাইড = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৭২.
নিচের কোনটি ছত্রাক নয়?
  1. ক) ইস্ট
  2. খ) পেনিসিলিয়াম
  3. গ) ইউগ্লেনা
  4. ঘ) মাশরুম
সঠিক উত্তর:
গ) ইউগ্লেনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইউগ্লেনা
ব্যাখ্যা
ইউগ্লেনা প্রোটিস্টা রাজ্যের জীব। এদের কোষ সুগঠিত নিউক্লিয়াস যুক্ত। এরা এককোষী, একক বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। ইস্ট, পেনিসিলিয়াম ও মাশরুম এইগুলো ছত্রাক বা ফানজাই রাজ্যের জীব। সূত্রঃ বিজ্ঞান ৬ষ্ঠ শ্রেণি।
৫,৬৭৩.
আগ্নেয়গিরির উদগীরণের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসকে কী বলে?
  1. ক) ভুমিকম্প
  2. খ) সুনামি
  3. গ) বন্যা
  4. ঘ) ঘূর্ণিঝড়
সঠিক উত্তর:
খ) সুনামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুনামি
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরির উদগীরণের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসকে সুনামি বলে। 

সুনামি (Tsunami)  ‘সুনামি’  জাপানি শব্দ। বাংলায় এর অর্থ ‘পোতাশ্রয় ঢেউ’। সাগর বা নদী বা অন্য কোন জলক্ষেত্রে ভূমিকম্পের, ভূমিধ্বসের কিংবা আগ্নেয়গিরির উদগীরণের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসকেই বলা হয় সুনামি।

সমুদ্রতলের ২০-৩০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্প হলে তা সমুদ্র তলদেশের মাটিকে যেমন নাড়া দেয়, তেমনি স্বাভাবিকভাবেই পানিতেও কম্পন সৃষ্টি হয়। ভূমির কম্পন যখন পানিতে সঞ্চালিত হয়, তখন তার ফলে সুনামির উৎপত্তি হতে পারে। গভীর জলে সুনামি প্রতি ঘন্টায় ৬০০ মাইল (১০০০ কিলোমিটার) গতির হতে পারে। সুনামির ঢেউ সাধারণত হয় ধারাবাহিক এবং একটি ঢেউয়ের চূঁড়া থেকে আরেকটি ঢেউয়ের চূড়ার দূরত্ব ১০০ মাইলের (১৬০ কিলোমিটার) মতো হতে পারে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
৫,৬৭৪.
সুনামি সংঘটিত হওয়ার সম্ভাব্য স্থান কোথায়?
  1. সমুদ্রের তলদেশে
  2. পাহাড়ে
  3. মরুভূমিতে
  4. মেরু অঞ্চলে 
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের তলদেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের তলদেশে
ব্যাখ্যা

• সুনামি প্রধানত সমুদ্র বা মহাসাগরের তটে সংঘটিত হয়। এটি সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট বিশাল জলোচ্ছ্বাস। তাই সুনামি সংঘটিত হওয়ার সম্ভাব্য স্থান হলো সমুদ্রের তলদেশে। পাহাড়, মরুভূমি বা মেরু অঞ্চলে সুনামি সৃষ্টি হওয়া সম্ভব নয়, কারণ এগুলোতে বড় জলোচ্ছ্বাসের উৎস থাকে না। সুনামি সাধারণত উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে এবং সমুদ্রের তলদেশের ভূমিকম্প বা অগ্ন্যুৎপাতের ফলে পানি স্থানান্তরিত হয়ে বিশাল তরঙ্গ তৈরি করে। এই তরঙ্গ উপকূলে পৌঁছালে ব্যাপক ধ্বংস ঘটায়। তাই সমুদ্রতট এবং তলদেশই মূল সুনামি সংঘটনের সম্ভাব্য স্থান।

- সঠিক উত্তর: ক) সমুদ্রের তলদেশে।

সুনামি:
- সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ। 
- এর শাব্দিক অর্থ 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'।
- এখানে 'tsu' অর্থ বন্দর বা harbour এবং 'nami' অর্থ সামুদ্রিক ঢেউ।
- সমুদ্র তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হলে সমুদরপৃষ্ঠে বিশাল যে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় তাকে সুনামি বলে।
- সুনামির সৃষ্টির প্রধান কারণ সমুদ্রের তলদেশের ভূমিকম্প।
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণেও সুনামি সৃষ্টি হয়ে থাকে। এছাড়া পারমানবিক বিস্ফোরণ, ভূমিধ্বস, উল্কাপিন্ডের পতন ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে।
- সর্বপ্রথম সুনামির কথা লিপিবদ্ধ হয় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬৭৫.
বরফ বিন্দু বলতে বুঝায়-
  1. স্টিম বিন্দু
  2. নিম্ন স্থির বিন্দু
  3. ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু
  4. পানির ত্রৈধ বিন্দু
সঠিক উত্তর:
নিম্ন স্থির বিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্ন স্থির বিন্দু
ব্যাখ্যা

- তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে সাথে পদার্থের যে বিশেষ ধর্মের পরিবর্তন হয় এবং যে ধর্মের পরিবর্তনের উপর ভিত্তি করে সহজ ও নির্ভুল ভাবে তাপমাত্রা নির্ণয় করা যায়, পদার্থের ঐ ধর্মগুলিকে উষ্ণতামিতি ধর্ম বলে। 
- যে সকল পদার্থের উষ্ণতামিতি ধর্মকে ব্যবহার করে থার্মোমিটার তৈরি করা হয় তাদেরকে উষ্ণতামিতি পদার্থ বলে। 
- সাধারণত উষ্ণতামিতি পদার্থের বা তার ধর্মের নাম অনুসারে থার্মোমিটারের নামকরণ করা হয়। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য থার্মোমিটারের নলে একটি দাগ কাটা স্কেল প্রয়োজন হয়। 
- দাগ কাটার জন্য দুটি বিশেষ তাপমাত্রাকে নির্দিষ্ট করা হয়, এ দুটি বিশেষ তাপমাত্রাকে থার্মোমিটারের স্থিরাংক (Fixed point) বলে। 
- পারদ থার্মোমিটারের ক্ষেত্রে বরফের গলনাংককে নিম্ন স্থিরাংক (Lower Fixed point) এবং পানির স্ফুটাঙ্ককে ঊর্ধ্ব স্থিরাংক (Upper Fixed point) ধরা হয়। 
- নলের যে দুটি বিন্দুতে নিম্ন স্থিরাংক এবং ঊর্ধ্ব স্থিরাংক দাগ কাটা হয় তাদের নিম্ন স্থির বিন্দু এবং ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু বলে। 

নিম্ন স্থির বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ বরফ পানির সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ গলতে শুরু করে তাকে নিম্ন স্থির বিন্দু বা বরফ বিন্দু বলে। 

ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে তাকে ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু বা স্টিম বিন্দু বলে। 

- থার্মোমিটারের ঊর্ধ্ব এবং নিম্ন স্থির বিন্দুর মধ্যবর্তী তাপমাত্রার ব্যবধানকে মৌলিক অন্তর বা মৌলিক ব্যবধান (Fundamental Interval) বলে। 
- এ মৌলিক ব্যবধানকে সমানভাবে ভাগ করে বিভিন্ন তাপমাত্রার স্কেল তৈরি করা হয়।

.............................................
.............................................................

• বরফ বিন্দু হলো সেই তাপমাত্রা যেখানে তরল অবস্থা থেকে কঠিন অবস্থায় পরিবর্তিত হয়। পানির ক্ষেত্রে এটি 0°C বা 32°F তাপমাত্রায় হয়। এটি নিম্ন স্থির বিন্দু হিসেবে পরিচিত কারণ এটি পানির জমাট বাঁধার বিন্দু।অন্যান্য বিকল্পগুলি:

- স্টিম বিন্দু: পানির স্ফুটনাঙ্ক (100°C)।
- ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু: পানির স্ফুটনাঙ্ক।
- পানির ত্রৈধ বিন্দু: সেই নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপে যেখানে পানির তিনটি অবস্থা (কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়) একসাথে সাম্যাবস্থায় থাকে (0.01°C এবং 611.73 Pa চাপে)।

- এটি বরফ বিন্দুর তুলনায় সামান্য বেশি তাপমাত্রা কিন্তু একেবারে 0°C নয়।
- তাই, সঠিক উত্তর - বরফ বিন্দু । 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬৭৬.
কোথায় সাঁতার কাটা সহজ?
  1. পুকুরে
  2. হ্রদে
  3. নদীতে
  4. সাগরে
সঠিক উত্তর:
সাগরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাগরে
ব্যাখ্যা
সাগরে সাঁতার কাটা সহজ।

সাগরে সাঁতার কাটা সহজ:

- কোন প্রবাহী অর্থাৎ তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নিমজ্জিত কোনো বস্তুর উপর তরল বা বায়বীয় পদার্থ লম্বভাবে যে ঊর্ধ্বমূখী বল প্রয়োগ করে তাকে প্লবতা বলে।
- সমুদ্রের পানিতে নানা রকম লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
- যার কারণে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব সাধারণ পানির থেকে বেশি হয়।
- ফলে সমুদ্রের পানির প্লবতা বেশি আর নদীর পানির প্লবতা কম।
- যেহেতু সমুদ্রের পানির প্লবতা বেশি, সেহেতু সমুদ্রের পানিতে সাতারুর শরীর হালকা বোধ হয়।
- ফলে সাঁতার কাটা অধিকতর সহজ হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৫,৬৭৭.
লুপ অফ হেনলি শরীরের নিম্নলিখিত কোন অঙ্গের অংশ?
  1. প্লীহা
  2. হৃৎপিন্ড
  3. যকৃৎ
  4. বৃক্ক
সঠিক উত্তর:
বৃক্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্ক
ব্যাখ্যা
• লুপ অফ হেনলি হলো বৃক্কের (Kidney) নেফ্রনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- নেফ্রন হলো বৃক্কের মূল কার্যকরী একক, যা রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ফিল্টার করে প্রস্রাব উৎপাদন করে।
- লুপ অফ হেনলি নেফ্রনের একটি লুপের মতো অংশ, যা প্রস্রাব গঠন ও রক্তের পানির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

লুপ অফ হেনলির কার্যক্রম:
- জল পুনরায় শোষণ:
- লুপ অফ হেনলি রক্তের পানির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- এটি শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে প্রস্রাবে পানির ঘনত্ব বাড়ায় বা কমায়।

- ইলেকট্রোলাইট শোষণ:
- সোডিয়াম (Na⁺) এবং ক্লোরাইড (Cl⁻) আয়নের পুনঃশোষণ ঘটায়।

- প্যাথওয়ে:
- এটি দুটি অংশে বিভক্ত: ডিসেন্ডিং লিম্ব (Descending limb): যেখানে পানি পুনঃশোষণ হয়।
- অ্যাসেন্ডিং লিম্ব (Ascending limb): যেখানে ইলেকট্রোলাইট শোষণ হয়।

অন্য বিকল্পগুলোর ব্যাখ্যা:
- ক) প্লীহা (Spleen):
- প্লীহা রক্ত সঞ্চালন এবং ইমিউন সিস্টেমের জন্য কাজ করে।

- খ) হৃৎপিন্ড (Heart):
- হৃৎপিন্ড রক্ত পাম্প করার জন্য দায়ী।

- গ) যকৃৎ (Liver):
- যকৃৎ বিপাক প্রক্রিয়া ও বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশনের কাজ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
৫,৬৭৮.
What is the maximum number of electrons that can occupy the first energy level of an atom?
  1. 2
  2. 4
  3. 6
  4. 8
  5. 10
সঠিক উত্তর:
2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2
ব্যাখ্যা
• শক্তিস্তরে ইলেক্ট্রন সংখ্যা:
- বোর মডেলে যে শক্তিস্তরের কথা বলা হয়েছে তাকে প্রধান শক্তিস্তর বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2, যেখানে n = 1, 2, 3, 4 ইত্যাদি। 

এ সূত্রানুসারে, 
- প্রথম বা K শক্তিস্তরের জন্য n = 1 হলে, 
∴ K শেল অর্থাৎ প্রথম শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n2.
= ( 2 x 12) টি 
= 2 টি। 

∴ প্রথম শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে = ২টি। 
- এভাবে প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৭৯.
Which is the largest part of the human brain?
  1. Thalamus
  2. Cerebrum
  3. Hypothalamus
  4. Medulla oblongata
  5. Cerebellum
সঠিক উত্তর:
Cerebrum
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cerebrum
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্ক:
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে স্ফীত অংশ করোটির মধ্যে অবস্থান করে এবং মানবদেহের সকল কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে তাকে মস্তিষ্ক বলে।
- প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন প্রায় ১৫০০ ঘন সেন্টিমিটার, গড় ওজন প্রায় ১.৩৬ কেজি এবং প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন থাকে।
- মস্তিষ্ক স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে বড়, জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত। যথা-
(১) অগ্রমস্তিষ্ক,
(২) মধ্যমস্তিষ্ক ও
(৩) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

(১) অগ্রমস্তিষ্ক:
- অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে।
- এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা-
(ক) সেরেব্রাম,
(খ) থ্যালামাস ও
(গ) হাইপোথ্যালামাস।

• সেরেব্রাম:
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে)।
- প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।
- সেরেব্রাম বাকশক্তি, স্মৃতি শক্তি, চিন্তা, বুদ্ধি-বৃত্তি, সৃজনশীলতা, ইচ্ছা শক্তি, সহজাত প্রবৃত্তি, কর্মপ্রেরণা প্রভৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট।
- সর্বোপরি মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

• থ্যালামাস:
- সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের নিচে দুটি ক্ষুদ্র ও ডিম্বাকৃতির থ্যালামাস থাকে যা ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- থ্যালামাস সংবেদী-উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং রিলে করে সেরেব্রামে পাঠায়।

• হাইপোথ্যালামাস:
- এটি থ্যালামাসের ঠিক নিচে ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- এটি অন্ততঃ এক ডজন পৃথক অঞ্চলে বিভক্ত থাকে।
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সকল কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, রাগ, ভাল লাগা, ভীতি, আবেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- পিটুইটারী গ্রন্থিও বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ করে।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৮০.
কোন দ্রাবকটিতে NaCl সবচেয়ে বেশি দ্রবীভূত হয়?
  1. ক) কেরোসিন
  2. খ) পানি
  3. গ) অ্যালকোহল
  4. ঘ) বেনজিন
সঠিক উত্তর:
খ) পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পানি
ব্যাখ্যা
- আয়নিক যৌগসমূহ পানিতে সবচেয়ে বেশি দ্রবীভূত হয়।
- NaCl একটি আয়নিক যৌগ। তাই পানিতে NaCl সবচেয়ে বেশি দ্রবীভূত হয়
- আয়নিক যৌগসমূহ পোলার দ্রাবকে (পানি) দ্রবীভূত হয় কিন্তু অপোলার দ্রাবকে (কেরোসিন) দ্রবীভূত হয় না।
- কেলাস থেকে আয়নগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য যথেষ্ট শক্তির প্রয়োজন হয়। পোলার দ্রাবক তার বিপরীত চার্জযুক্ত মেরুপ্রান্ত দ্বারা কেলাসের পৃষ্ঠতলে অবস্থিত আয়নগুলোকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের কারণে আয়নগুলো কেলাস থেকে বিচ্ছিন্ন হয় এবং দ্রাবকের অণুসমূহ এদের ঘিরে রাখে। ফলে কেলাসটি দ্রবীভূত হয়। 
- অপোলার দ্রাবক কেলাস থেকে আয়নগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য কোন আকর্ষণ বল সৃষ্টি করতে পারে না। ফলে আয়নগুলো অপোলার দ্রাবকে দ্রবীভূত হয় না।  

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৮১.
বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে বায়ুচাপের কি পরিবর্তন হয়?
  1. ক) বায়ুচাপ বেড়ে যায়
  2. খ) বায়ুচাপ কমে যায়
  3. গ) বায়ুচাপ স্থির থাকে
  4. ঘ) বায়ুচাপ কখনো বাড়ে কখনো কমে
সঠিক উত্তর:
খ) বায়ুচাপ কমে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বায়ুচাপ কমে যায়
ব্যাখ্যা
• বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে বায়ুচাপ কমে যায়
- বায়ুতে তাপমাত্রা বাড়লে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যায়।
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে অবস্থিত জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাপকে তুল্য আর্দ্রতা বলে।
- তুল্য আর্দ্রতার সাথে শিশিরাঙ্কের সম্পর্ক রয়েছে।
- যে তাপমাত্রার বায়ু জলীয়বাষ্পে সম্পৃক্ত হয় তা শিশিরাঙ্ক নামে পরিচিত।
- অর্থাৎ বায়ুতে উপস্থিত জলীয়বাষ্প দ্বারা ঐ বায়ুতে সম্পৃক্ত করতে হলে যে তাপমাত্রা পর্যন্ত শীতল করা প্রয়োজন সেই তাপমাত্রাকে শিশিরাঙ্ক বলে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৮২.
সিমেন্ট শিল্পে চুনাপাথর বিয়োজনে কোনটি নির্গত হয়?
  1. ক) CO2
  2. খ) NO2
  3. গ) বিষাক্ত ধাতুর বাষ্প
  4. ঘ) জলীয় বাষ্প
সঠিক উত্তর:
ক) CO2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) CO2
ব্যাখ্যা
সিমেন্ট শিল্পে চুনাপাথর বিয়োজনে CO2 নির্গত হয়। 

সিমেন্ট শিল্পের দূষক সমূহ- 
১। সিমেন্ট তৈরীতে CaCO3 কে তাপ দিয়ে CaO এ পরিণত করা হয় এতে প্রচুর CO2 গ্যাস নির্গত হয় যা বায়ুকে দুষিত করে।
২। সিমেন্ট কারখানায় ঘুর্নায়মান চুল্লীতে উচ্চ তাপ প্রয়োগের জন্য বিভিন্ন রকমের জ্বালানী যেমন- কোক, গ্যাস, পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ ইত্যাদি দহন করা হয়। এ সব জ্বালানি দহনে প্রচুর পরিমাণে CO2, SO2,NOx ইত্যাদি বায়ু দূষক গ্যাস উৎপন্ন হয় ফলে বায়ু দূষিত হয়। অধিকন্তু নাইট্রোজেন ও সালফারের অম্লীয় অক্সাইডসমূহ অম্ল-বৃষ্টি সৃষ্টি করে যার প্রভাবে মাটির উর্বরতা হ্রাস পায় ও গাছ-পালা বিনষ্ট হয়।
৩। সিমেন্ট শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের থ্যালিয়াম (TI), ক্যাডমিয়াম (Cd), মারকারী (Hg) প্রভৃতি উদ্বায়ী ভারী ধাতু অপদ্রব্য হিসেবে থাকে । চুল্লীর উচ্চ তাপমাত্রায় এসব বিষাক্ত ধাতুর বাষ্প নির্গত হয়ে বায়ু দূষণ করে।
৪ । ক্লিংকারের মধ্যে নিকেল, জিংক, লেড ইত্যাদি ধাতু বিদ্যমান। ক্লিংকারের চূর্ণিত পাউডার থেকে এ সব ধাতু নির্গত হয়ে বায়ু দূষণ করে ।
৫। সিমেন্ট কারখানার বর্জ্য পানির সাথে মিশ্রিত হয়ে পানি দূষণ করে ।
৬। সিমেন্ট কারখানায় সিলিকাযুক্ত প্রচুর পরিমাণ ধুলিকণা সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে কারখানায় কর্মরত শ্রমিক ও আশে পাশের লোকজনের ফুসফুস আক্রান্ত হয় ও স্বাস্থ্যহানী ঘটে।

সূত্র: ৩২৪ পৃষ্ঠা, রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৫,৬৮৩.
বায়ুমণ্ডলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কমে গেলে উদ্ভিদে প্রস্বেদনের হার-
  1. অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে
  2. অপরিবর্তিত থাকে
  3. কমে যায়
  4. বেড়ে যায়
সঠিক উত্তর:
বেড়ে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা

• বায়ুমণ্ডলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কমে গেলে উদ্ভিদের প্রস্বেদনের হার বৃদ্ধি পায়। কারণ, প্রস্বেদন হলো উদ্ভিদের পাতার ছিদ্র (স্টোমাটা) দিয়ে জলীয় বাষ্পের ক্ষরণ। যদি বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা কম থাকে, অর্থাৎ বায়ু শুকনো থাকে, তাহলে পাতার ভিতরের জলীয় বাষ্প এবং বাইরের বায়ুর মধ্যে আর্দ্রতার পার্থক্য বেড়ে যায়। এই পার্থক্য যত বেশি, জলীয় বাষ্পের প্রবাহ তত তীব্র হয়। ফলে উদ্ভিদ বেশি জল হারায় এবং প্রস্বেদন বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, বায়ুর আর্দ্রতা বেশি থাকলে প্রস্বেদন কমে যায়। তাই আর্দ্রতা কমলে উদ্ভিদে প্রস্বেদনের হার বেড়ে যায়। সঠিক উত্তর হলো ঘ) বেড়ে যায়।
 
প্রস্বেদন (Transpiration): 
- উদ্ভিদ অব্যাহতভাবে তার মূলরোম দিয়ে পানি শোষণ করে এবং সেই পানি পাতা পর্যন্ত পৌছায়। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক শোষিত পানির সামান্য অংশই তার বিভিন্ন জৈবনিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় খরচ হয় এবং বেশির ভাগই (শতকরা ৯৯ ভাগ পর্যন্ত) বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়।
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের বায়বীয় অঙ্গ (সাধারণত পাতা) হতে অতিরিক্ত পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়, তাকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন বলে। 
- বায়ুমণ্ডলে উন্মুক্ত উদ্ভিদের যে কোনো অংশে প্রস্বেদন সংঘটিত হয়। 
- তবে পাতাই উদ্ভিদের প্রধান প্রস্বেদন অঙ্গ। 
- গড় হিসেবে শোষিত পানির মাত্র ১% দেহে অবস্থান করে ও কাজে লাগে, বাকি ৯৯% পানি দেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- এটি উদ্ভিদের অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া, তবে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিকরও হতে পারে। 
- বিজ্ঞানী কার্টিস (Curtis) প্রস্বেদনকে 'প্রয়োজনীয় অমঙ্গল' (necessary evil) বলেছেন। 
- গ্যানং পটোমিটার এর সাহায্যে প্রস্বেদন হার নির্ণয় করা যায়। 

প্রস্বেদনের প্রকারভেদ: 
- যে পথে পানি বাষ্পাকারে উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর হতে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে সে পথের ভিন্নতার উপর নির্ভর করে প্রস্বেদনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা- 
(১) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন (Stomatal transpiration): পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন; 
(২) ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন (Cuticular transpiration): পত্রত্বকের কিউটিকলের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন; 
(৩) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন (Lenticular transpiration): কাণ্ডের লেন্টিসেলের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৫,৬৮৪.
বংশগতির বাহক জিনের রাসায়নিক কী দিয়ে তৈরি?
  1. অ্যামিনো অ্যাসিড
  2. কার্বোহাইড্রেট
  3. ডিএনএ
  4. ফ্যাটি অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
ডিএনএ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিএনএ
ব্যাখ্যা

◉ জিন আসলে DNA-এর একটি অংশ। DNA হলো নিউক্লিক অ্যাসিড, যা জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে। এর ভেতরে চারটি নাইট্রোজেন বেস (A, T, G, C) নির্দিষ্ট ক্রমে সাজানো থাকে, যা জিনগত তথ্য নির্ধারণ করে।

• মানব দেহে দুই ধরনের নিউক্লিক এসিড থাকে- DNA এবং RNA।
- DNA এর পূর্ণরূপ হল Deoxyribonucleic acid এবং RNA এর পূর্ণরূপ হল Ribonucleic acid।
- জিনের রাসায়নিক গঠন উপাদান হলো DNA।
- এটি একটি নিউক্লিক এসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে।
- ডিএনএ হলো দ্বিসূত্রকবিশিষ্ট পলিনিউক্লিয়োটাইডের সর্পিলাকার গঠন।
- ডিএনএ অণুর আকৃতি অনেকটা প্যাঁচানো সিঁড়ির ন্যায়। 
- ১৯৫৩ সালে জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক বিজ্ঞানীদ্বয় ডিএনএ অণুর গঠন আবিষ্কার করেন। 

 উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬৮৫.
টেলিস্কোপ আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) গ্যালিলিও
  2. খ) আর্কিমিডিস
  3. গ) হ্যান্স লিপারহে
  4. ঘ) আইনস্টাইন
সঠিক উত্তর:
ক) গ্যালিলিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা

১৬১০ সালে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও প্রথম জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক টেলিস্কোপ আবিষ্কার করেন এবং এর সাহায্যে বৃহস্পতির চারটি উপগ্রহ এবং চাঁদের পিঠে পাহাড় আবিষ্কার করেন।
সূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, শাহজাহান তপন

৫,৬৮৬.
হাইড্রোক্সাইড মূলকধারী দ্রবণীয় যৌগগুলোকে কী বলা হয়?
  1. অক্সাইড 
  2. এসিড 
  3. ক্ষার 
  4. লবণ 
সঠিক উত্তর:
ক্ষার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষার 
ব্যাখ্যা

ক্ষারক (Base): 
- সাধারণত ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের অক্সাইড এবং হাইড্রোক্সাইড যা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে তাকে ক্ষারক বলে। 
যেমন- 
• CaO + 2HCl → CaCl2 + H2
• 2KOH + H2SO4 → K2SO4 + 2H2
- CaO এবং KOH ছাড়াও ক্ষারকের উদাহরণ হচ্ছে সোডিয়াম অক্সাইড (Na2O), কপার অক্সাইড (CuO), ফেরাস অক্সাইড (FeO), সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2, ফেরাস হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH) ইত্যাদি। 
- এসিডের সাথে ক্ষারের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হওয়ার বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষারক প্রশমন বিক্রিয়া বলে। তাই বলা হয় এসিড ক্ষারককে আর ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে। 

ক্ষার (Alkali): 
- ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের হাইড্রোক্সোইড যৌগ যা পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- কোনো যৌগের ক্ষার হবার জন্য 2টি শর্ত রয়েছে- 
(i) যৌগটিতে হাইড্রোক্সাইড (OH-) যৌগমূলক থাকতে হবে এবং
(ii) ঐ যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে।
- NaOH ক্ষার, কারণ সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড যৌগে OH- মূলক আছে এবং এটি পানিতে দ্রবণীয়।
- Fe(OH)2 কে ক্ষার বলা যায় না, কারণ এটিতে OH- গ্রুপ আছে কিন্তু এটি পানিতে দ্রবণীয় নয়, এটি শুধু ক্ষারক।
- CaO ক্ষারক, ক্ষার নয় কারণ CaO এ OH- মূলক নাই। 
- হাইড্রোক্সাইড মূলকধারী পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারকগুলোই হলো ক্ষার। 
- বাসাবাড়িতে ক্ষার জাতীয় অনেক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য যে টয়লেট ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) ক্ষার থাকে। কাচ পরিষ্কার করার জন্য যে গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ক্ষার (NH4OH) থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৬৮৭.
শব্দের বেগ কোনটির উপর নির্ভর করে না?
  1. স্থিতিস্থাপকতা
  2. তাপমাত্রা
  3. ঘনত্ব
  4. চাপ
সঠিক উত্তর:
চাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাপ
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা, মাধ্যমের ঘনত্ব, স্থিতিস্থাপকতার উপর নির্ভর করলেও মাধ্যমের চাপের ওপর নির্ভর করে না।

• শব্দের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগও বাড়ে।
যেমন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস (0°) তাপমাত্রায় বাতাসে শব্দের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩৩১ মিটার। কিন্তু প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে এর বেগ ০.৬ মিটার বৃদ্ধি পাবে।

• শব্দের বেগ মাধ্যমের ঘনত্বের উপরও নির্ভর করে। যে মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি সে মাধ্যমে শব্দের বেগও বেশি। ফলে পানিতে শব্দের বেগ ১৪৪০ মিটার/সেকেন্ড। কঠিন পদার্থ যেমন কাঠের মধ্যে শব্দের বেগ বায়ু অপেক্ষা ১২ গুণ বেশি। ইস্পাতে শব্দের বেগ বায়ুর চেয়ে ১৫ গুণ বেশি।
সহজ কথায়, যে পদার্থের ঘনত্ব বেশি সে পদার্থে শব্দের বেগও বেশি।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৮৮.
শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ কোনটি? 
  1. বর্গ 
  2. শ্রেণি 
  3. গণ 
  4. প্রজাতি 
সঠিক উত্তর:
প্রজাতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজাতি 
ব্যাখ্যা

শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা: 
- পৃথিবীতে বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রাণীর সংখ্যা সঠিক সংখ্যা কারো জানা নেই, তাই বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সহজ উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণিদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- এদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী জীবজগৎকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- প্রয়োজনের তাগিদে বর্তমানে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যা শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy) নামে পরিচিত। 

- প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ বা একক। 
যেমন- মানুষ, কুনোব্যাঙ, কবুতর ইত্যাদি এক একটি প্রজাতি। 
- কোনো প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস করতে হলে সেই প্রাণীকে বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ধাপে ধাপে সাজাতে হয়, এই সকল ধাপের প্রত্যেকটিকে যথাযথভাবে বিন্যস্ত করতে হয়। 
- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যারিস্টটল, জন রে ও ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়, তিনিই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়, এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo sapiens  । 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন অথবা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৫,৬৮৯.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য ও সরু চোঙের ব্যাসার্ধ পরিমাপ করা যায়? 
  1. স্ক্রু গজ 
  2. মিটার স্কেল
  3. ভার্নিয়ার স্কেল
  4. স্লাইড ক্যালিপার্স
সঠিক উত্তর:
স্ক্রু গজ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ক্রু গজ 
ব্যাখ্যা
স্ক্রু গজ: 
- স্ক্রু গজকে মাইক্রোমিটার স্ক্রু গজও বলা হয়। 
- এটি ইস্পাত দ্বারা নির্মিত হয়। 
- এই যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 
- এই যন্ত্রে U আকৃতির একটি কাঠামো থাকে। 
- এই U আকৃতি বিশিষ্ট কাঠামোর দুই বাহুর প্রান্তে দুটি নল সংযুক্ত থাকে। 
- একটি নলের মধ্য দিয়ে কীলক বা দন্ড A স্থায়ীভাবে আটকানো থাকে এবং অপর বাহুতে রয়েছে একটি ফাঁপা নল C, যার মধ্য দিয়ে একটি দন্ড B সংযুক্ত থাকে যা সামনে পেছনে সরানো যায়। 
- C নলে মিলিমিটারে দাগাঙ্কিত একটি রৈখিক স্কেল থাকে। 
- C নলের বাইরের অংশ অপর একটি ফাঁপা নল দ্বারা বেষ্টিত থাকে যার বহি:প্রান্তে একটি বেলনাকৃতির টুপি T থাকে। 
- T এর কিনারকে সাধারণত 50 বা 100 ভাগ করা হয়। 
- যখন B স্থায়ী কীলক বা সমতল প্রান্ত বিশিষ্ট দন্ড A কে স্পর্শ করে তখন বৃত্তাকার স্কেল শূন্য দাগ ও রৈখিক স্কেলের শূন্য দাগ মিলে যায়। 
- যদি দুটি স্কেলের শূন্য দাগ মিলে না যায় তাহলে বুঝতে হবে যন্ত্রটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে। 

- টুপি T একবার ঘুরালে যতটুকু সরণ ঘটে এবং রৈখিক স্কেল বরাবরে যে দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে তাকে স্ক্রুর পিচ (pitch) বলা হয়।
- বৃত্তাকার স্কেলের মাত্র একভাগ ঘুরালে, এর প্রান্ত যতটুকু সরে আসে তাকে যন্ত্রের লঘিষ্ট গণন (Least count) L.C বলা হয়। 
- স্পষ্টত: যন্ত্রের পিচকে বৃত্তাকার স্কেলের মোট ভাগ সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে যন্ত্রের লঘিষ্ঠ গণন পাওয়া যায়। 
সুতরাং, লঘিষ্ঠ গণন = পিচ/বৃত্তাকার স্কেলের ভাগের সংখ্যা 
সাধারণত বৃত্তাকার স্কেলে 100 ভাগ থাকে এবং এই যন্ত্রে পিচ থাকে 1 mm 
∴  লঘিষ্ঠ গণন, L.C = 1 mm/100 = 0.01 mm 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৯০.
ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির উদাহরণ কোনটি?
  1. রেডিও
  2. টেলিভিশন
  3. ডিজিটাল ঘড়ি
  4. টেপ রেকর্ডার
সঠিক উত্তর:
ডিজিটাল ঘড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিজিটাল ঘড়ি
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি: 
- বিশেষ কোনো প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অনেকগুলি ইলেকট্রনিকস বর্তনীকে সমষ্টিগতভাবে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বলা হয়। 
যেমন- কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও, ইলেকট্রনিক্স ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি বহুল পরিচিত ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির উদাহরণ। 
- বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতিসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- এনালগ পদ্ধতি, ডিজিটাল পদ্ধতি এবং মিশ্র পদ্ধতি। 

ডিজিটাল পদ্ধতি: 
- ডিজিটাল সংকেত হলো বিচ্ছিন্ন তড়িৎ সংকেত। 
- এই সংকেতের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মান আছে। এই দুই মানের মাঝে অন্য কোনো স্তর নাই। সময়ের সাথে এর মান হয় সর্বোচ্চ না হয় সর্বনিম্ন মানে পরিবর্তিত হয়। এই সংকেত চৌকো তরঙ্গের (square waves)। 
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্রম-পরিবর্তনশীল এনালগ সংকেতের বদলে স্তর পরিবর্তনশীল সংকেত ব্যবহার করা হয়। এই সংকেতকে ডিজিটাল বা বাইনারী (binary) সংকেত বলা হয়। 
- দুটি পৃথক অবস্থায় কাজ করে এমন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে এই সংকেত পাওয়া যায়। 
যেমন- ট্রানজিস্টারের সচল বা অন (on) এবং অচল বা অফ (off) অবস্থা দ্বারা দুটি পৃথক অবস্থা বোঝানো সম্ভব। প্রজ্জ্বলিত বাতি এবং নির্বাপিত বাতি অথবা টেপের চৌম্বকায়িত অবস্থা বা অচৌম্বকায়িত অবস্থা দিয়ে ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব। 
- ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে ০ এবং ১ (0 and 1), সত্য এবং মিথ্যা (true and false), কিম্বা উচ্চ এবং নিম্ন (high and low) দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- ডিজিটাল ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির জনপ্রিয় উদাহরণ। 

অন্যদিকে, 
- রেডিও, টেপ রেকর্ডার, টিভি ইত্যাদি এনালগ ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির উদাহরণ। 
- এনালগ ও ডিজিটাল বর্তনীর সংমিশ্রণে তৈরি পদ্ধতিকে মিশ্র ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বলে। শিল্প-কারখানায় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে মিশ্র ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৯১.
যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয়, তাকে কী বলে?
  1. রিমেনেন্স
  2. কুরি বিন্দু
  3. চৌম্বক ধারকত্ব
  4. চৌম্বক সহনশীলতা
সঠিক উত্তর:
কুরি বিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুরি বিন্দু
ব্যাখ্যা
কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু বলে। 

চৌম্বক ধারকত্ব: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সরিয়ে নেওয়ার পরেও কোনো চৌম্বব পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে চৌম্বক ধারকতা বলে। 
- ইস্পাত ও নরম লোহাকে একই সমপরিমাণ চুম্বকায়িত করে রেখে দিলে নরম লোহার চেয়ে ইস্পাতের ক্ষেত্রে চুম্বকত্ব হ্রাসের পরিমাণ কম। 

চৌম্বক সহনশীলতা: 
- চুম্বকত্ব হ্রাসের নিয়ামকসমূহ থাকা সত্ত্বেও কোনো চৌম্বক পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে ঐ পদার্থের চৌম্বক সহনশীলতা বলে। 

রিমেনেন্স: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে রিমেনেন্স বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৯২.
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের উদ্ভাবক কে?
  1. ওয়াল্টার ব্রাটেইন
  2. নিউম্যান
  3. জেক কেলবি
  4. চার্লস ব্যাবেজ
সঠিক উত্তর:
জেক কেলবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেক কেলবি
ব্যাখ্যা

• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (Integrated Circuit) বা আইসি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক উপাদান যা অনেকগুলি ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর ও ক্যাপাসিটার একত্রিত করে একটি ছোট চিপে তৈরি করা হয়। এর উদ্ভাবক হলেন জেক কেলবি। ১৯৫৮ সালে তিনি প্রথমবারের মতো টেক্সাস ইন্সট্রুমেন্টস-এ একটি পূর্ণ কার্যক্ষম ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরি করেন। এই উদ্ভাবনের ফলে কম্পিউটার, মোবাইল, ইলেকট্রনিক ডিভাইস আরও ছোট, দ্রুত ও সাশ্রয়ী হয়। জেক কেলবির এই কাজ আধুনিক ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করেছে এবং বৈদ্যুতিন যন্ত্রের বিপ্লব ঘটিয়েছে।

- উত্তর: গ) জেক কেলবি।

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট: 
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট। 
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে। 
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। 
- আইসি আবিষ্কারের সাথে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৬৯৩.
নিচের কোনটি মৌলিক পদার্থ নয়?
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. হিলিয়াম
  4. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
কার্বন-ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন-ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
• মৌলিক পদার্থ:
- যে পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে ওই পদার্থ ভিন্ন ধর্ম বিশিষ্ট অন্য কোন নতুন পদার্থ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে।
- মৌলিক পদার্থের উদাহরণ: হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হিলিয়াম, কার্বন, গন্ধক, তামা, দস্তা, পারদ, সোনা, রুপা, লৌহ প্রভৃতি মৌলিক পদার্থ।

• যৌগিক পদার্থ:
- দুই বা তার বেশি সংখ্যক মৌলিক পদার্থ নির্দিষ্ট ওজনের অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে ভিন্ন ধর্মী পদার্থ গঠন করে।
- অথবা, যে পদার্থের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে দুই বা তার বেশি মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে যৌগিক পদার্থ বলে।
- যৌগিক পদার্থের উদাহরণ: পানি, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, খাদ্য লবন, এসিড, ক্ষার প্রভৃতি হলো যৌগিক পদার্থ।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি। 
৫,৬৯৪.
ভিটামিন - ই এর কাজ -
  1. জননাঙ্গের বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক ক্ষমতা বজায় রাখে
  2. নারী ও পুরুষের স্বাভাবিক প্রজননে সহায়তা করে
  3. অকাল বার্ধক্য রোধ করে
  4. উপরের সবকয়টি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
ভিটামিন - ই (Vitamin - E):

• ভিটামিন - ই এর রাসায়নিক নাম টোকোফেরল।
• এটি তাপ ও অম্লে বিনষ্ট হয় না। তবে ক্ষারে সামান্য নষ্ট হয়।

- ভিটামিন - ই এর উৎস:
• সব ধরনের উদ্ভিজ্জ তেল, যেমন - নারিকেল তেল, সরিষার তেল, চালের কুঁড়ার তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি ভিটামিন ই এর ভালো উৎস। শস্যদানার ভ্রূণ, বাদাম, গোটা শস্য, শাক-সবজি, মাখন ইত্যাদিতে কিছু পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে।
• ডিমের কুসুম, দুধ ও যকৃতেও ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

- ভিটামিন - ই এর কাজ:
•  ভিটামিন এ রক্তের লোহিত কণার জারণসহ অবাঞ্ছিত জারণ রোধ করে।
• জননাঙ্গের বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক ক্ষমতা বজায় রাখে।
• নারী ও পুরুষের বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ করে।
• নারী ও পুরুষের স্বাভাবিক প্রজননে সহায়তা করে।
• অকাল বার্ধক্য রোধ করে।
• ভ্রূণের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

- ভিটামিন - ই এর অভাবজনিত অবস্থা: 
• নারী ও পুরুষের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা লোপ পায় এবং বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়।
• ভ্রূণের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
• গর্ভপাত হতে পারে।
• অকাল বার্ধক্য দেখা দেয়।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৯৫.
নিচের কোন পদার্থের ব্যাপনহার সর্বোচ্চ?
  1. নাইটোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. কার্বন ডাই অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

• হাইড্রোজেনের(H2) ব্যাপনহার সর্বোচ্চ।

• ব্যাপন:
- কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কঠিন, তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
- যেমন: ঘরের এক কোণে কোনো একটি সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে সারা ঘরে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এটি ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ।
- কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে সময় কম লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার বেশি এবং কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার কম।
- H2. He, N2, O2 এবং CO2 গ্যাসগুলোর আণবিক ভর যথাক্রমে 2, 4, 28, 32 এবং 44।
- এই গ্যাসগুলোর মধ্যে H2 এর আণবিক ভর কম, তাই H2 এর ব্যাপন হার বেশি হবে।
এবং CO2 এর আণবিক ভর বেশি, কাজেই CO2 এর ব্যাপন হার কম হবে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৬৯৬.
কোনটির কাজ সিমেন্টের জমাট বাঁধা প্রক্রিয়াকে মন্থর করা?
  1. বক্সাইট
  2. হেমাটাইট
  3. জিপসাম
  4. ক্রায়োলাইট
সঠিক উত্তর:
জিপসাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিপসাম
ব্যাখ্যা
সিমেন্ট সেটিং-এ জিপসামের ভূমিকা: 
- সিমেন্টের উপাদান ট্রাইক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেট (3CaO.Al2O3) সিমেন্ট জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- কিন্তু জিপসাম (CaSO4.2H2O) ট্রাইক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেটের সাথে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম সালফো অ্যালুমিনেট তৈরি করে।
- ফলে সিমেন্টের দ্রুত জমাট বাঁধা প্রক্রিয়াটি ধীরে চলে এবং উৎপন্ন কঠিন পদার্থের দৃঢ়তা শক্তি বেড়ে যায়। 
- সিমেন্টের জমাট বাঁধা প্রক্রিয়াকে মন্থর করা জিপসামের কাজ। 


উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৫,৬৯৭.
পৃথিবীতে বিদ্যমান অধিকাংশ শক্তির উৎস কী?
  1. বায়ু শক্তি
  2. সৌরশক্তি
  3. ভূ-তাপীয় শক্তি
  4. জ্বালানি তেল
সঠিক উত্তর:
সৌরশক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌরশক্তি
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীতে বিদ্যমান অধিকাংশ শক্তির প্রধান এবং চূড়ান্ত উৎস হল সূর্য। সূর্য থেকে প্রাপ্ত শক্তিই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত শক্তির উৎসকে চালনা করে। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় সূর্যের আলোকে ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করে, যা বায়োমাস শক্তি হিসেবে জমা থাকে। জীবাশ্ম জ্বালানি, যেমন: জ্বালানি তেল, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস- এগুলোতেও মূলত লক্ষ লক্ষ বছর ধরে সঞ্চিত সূর্যের শক্তিই বিদ্যমান

সৌরশক্তি: 

- সূর্য থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাকে বলা হয় সৌরশক্তি। 
- সূর্য সকল শক্তির উৎস। পৃথিবীতে যত শক্তি আছে তার সবই কোনো না কোনোভাবে সূর্য থেকে আসা বা সূর্য কিরণ ব্যবহৃত হয়েই তৈরি হয়েছে। 
যেমন- আধুনিক সভ্যতার ধারক জীবাশ্ব জ্বালানিতে আসলে বহুদিনের সঞ্চিত সৌরশক্তি আছে। 
- এছাড়া সৌরশক্তিকে শীতের দেশে ঘরবাড়ি গরম রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়। 
- শস্য, মাছ, সবজি ইত্যাদি শুকানোর কাজে সৌরশক্তি ব্যবহৃত হয়, মাছ শুকিয়ে শুটকি তৈরি করে তা বহুদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। 
- সৌরশক্তি দ্বারা বয়লারে বাষ্প তৈরি করে তার দ্বারা তড়িৎ উৎপাদনের জন্য টার্বাইন ঘুরানো হয়। 
- আধুনিক কৌশল ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে সৌরকোষ। সৌরকোষের বৈশিষ্ট্য হলো এর উপর সূর্যের আলো পড়লে তা থেকে সরাসরি তড়িৎ পাওয়া যায়। এছাড়া সৌরকোষের রয়েছে নানা রকমের ব্যবহার।
যেমন: কৃত্রিম উপগ্রহে তড়িৎশক্তি সরবরাহের জন্য সৌরকোষ ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৫,৬৯৮.
সোডিয়ামের আকরিক কোনটি?
  1. জিপসাম
  2. বোরাক্স
  3. হেমাটাইট
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
বোরাক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোরাক্স
ব্যাখ্যা
• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক:
- বক্সাইট,
- কোরান্ডাম,
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।

• সোডিয়ামের আকরিক:
- রকসল্ট,
- চিলি সল্টপিটার,
- ন্যাট্রোন,
- বোরাক্স ইত্যাদি।

• ক্যালসিয়ামের আকরিক:
- চুনাপাথর,
- জিপসাম,
- ডলোমাইট ইত্যাদি।

• আয়রনের আকরিক:
- ম্যাগনেটাইট,
- হেমাটাইট,
- আয়রন পাইরাইটস,
- লিমোনাইট ইত্যাদি।

উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৯৯.
'প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্ৰ সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।' সূত্রটি-
  1. কেপলারের প্রথম সূত্র
  2. কেপলারের দ্বিতীয় সূত্র
  3. কেপলারের তৃতীয় সূত্র
  4. নিউটনের ১ম সূত্র
সঠিক উত্তর:
কেপলারের দ্বিতীয় সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেপলারের দ্বিতীয় সূত্র
ব্যাখ্যা
• কেপলারের সূত্র:
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন।
- বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা এ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন।
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে।
- ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- জন কেপলার সৌরজগতের গ্রহগুলির গতি সংক্রান্ত তিনটি সূত্র উপস্থাপন করেন, তার নাম অনুসারে এগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত।

• কেপলারের সূত্রসমূহ:
• প্রথম সূত্র: সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
• দ্বিতীয় সূত্র: প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্ৰ সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
• তৃতীয় সূত্র: সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭০০.
এক্সরে কী ধরনের বিকিরণ? 
  1. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ 
  2. পরমাণু কণা বিকিরণ 
  3. শব্দ তরঙ্গ 
  4. তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ 
সঠিক উত্তর:
তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ 
ব্যাখ্যা

এক্সরে: 
- এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাধারণ আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক কম। 
- এই রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-10 m এর কাছাকাছি। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্সরে আবিস্কার করেন। 
- এক্সরে রঞ্জনরশ্মি নামেও পরিচিত। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্সরের অবদান নিচে বর্ণনা করা হলো- 
১. স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙে যাওয়া হাড় ইত্যাদি এক্সরের সাহায্যে খুব সহজেই সনাক্ত করা যায়। 
২. মুখমণ্ডলীর যে কোনো ধরনের রোগ নির্ণয়ে এক্সরের ব্যবহার অনেক যেমন- দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়ে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। 
৩. পেটের এক্সরের সাহায্যে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করা যায়। 
৪. এক্সরের সাহায্যে পিত্ত থলি ও কিডনির পাথরকে সনাক্ত করা যায়। 
৫. বুকের এক্সরের সাহায্যে ফুসফুসের রোগ যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়।
৬. চিকিৎসার কাজেও এক্সরে ব্যবহার করা যায়। এটি ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে পারে। রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা যায়। 
- এক্সরের অপ্রয়োজনীয় বিকিরণ সম্পাত যাতে রোগীর ক্ষতি করতে না পারে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এজন্য এক্সরে নেওয়ার সময় রোগীকে সীসা নির্মিত এপ্রোন দ্বারা যথাসম্ভব আচ্ছাদিত করতে হবে। 
- অতি জরুরী না হলে গর্ভবতী মহিলাদের উদর এবং পেলভিক অঞ্চলের এক্সরে করা উচিত নয়। অন্য কোনো এক্সরে পরীক্ষা প্রয়োজন হলে সীসা নির্মিত এপ্রোন অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।