বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৩৯ / ১৪০ · ৩,৮০১৩,৯০০ / ১৪,০৮০

৩,৮০১.
কোন অর্গানেলটি পর্দা দ্বারা আবেষ্টিত থাকে না?
  1. রাইবোসোম
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. পারোক্সিসোম
সঠিক উত্তর:
রাইবোসোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইবোসোম
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত অপশনসমূহের মধ্যে 'রাইবোসোম' পর্দা দ্বারা আবেষ্টিত থাকে না।

• রাইবোসোম:
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাই রাইবোসোম।
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার।
- রাইবোসোমের কোনো আবরণী নেই।
- সাইটোপ্লাজমে একাধিক রাইবোসোম মুক্তোর মালার মতো অবস্থান করলে তাকে পলিরাইবোসোম বা পলিসোম বলে।
- আদিকোষ ও প্রকৃতকোষ-এই উভয় প্রকার কোষেই রাইবোসোম উপস্থিত থাকার কারণে রাইবোসোমকে সর্বজনীন অঙ্গাণু বলা হয়।

• ক্লোরোপ্লাস্ট:
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট।
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত।
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের।
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে।
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট।

ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন (ভৌত গঠন):
- সমস্ত ক্লোরোপ্লাস্ট একটি দুই স্তরবিশিষ্ট আংশিক অনুপ্রবেশ্য (semipermeable) মেমব্রেন (ঝিল্লি) দ্বারা আবৃত থাকে।
- ক্লোরোপ্লাস্ট মেমব্রেনে ফসফোলিপিড-এর পরিবর্তে গ্লাইকোসিল গ্লিসারাইড (glycosyl glyceride) থাকে।
- এটি একটি ব্যতিক্রমী গঠন।
- ক্লোরোপ্লাস্ট হলো তিন মেমব্রেন দ্বারা তৈরি ৩ প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট একটি অঙ্গাণু।

• মাইটোকন্ড্রিয়া:
- প্রকৃত জীবকোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু হলো মাইটোকন্ড্রিয়া।
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা শক্তিঘর বলা হয়।
- এ অঙ্গাণুতে ক্রেবস্ চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট প্রক্রিয়া প্রভৃতি ঘটে থাকে।
- দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী ঝিল্লি দ্বারা সীমিত সাইটোপ্লাজমন্ত্র যে অঙ্গাণুতে ক্রেবস্ চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট ইত্যাদি ঘটে থাকে এবং শক্তি উৎপন্ন হয় সেই অঙ্গাণুকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে।
- মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গানু।

• পারোক্সিসোম:
- পারঅক্সিসোম প্রায় সব ধরনের কোষে দেখা গেলেও প্রাণীর কিডনি ও লিভার কোষে অধিক থাকে।
- অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের আউটপকেটিং-এর মাধ্যমে এরা তৈরি হয়।
- এরা এক আবরণী বিশিষ্ট, ব্যাস ০.২-১৭ µm, এবং এরা দানাদার।
- এর ভেতরে ক্রিস্টাল বা দানার আকারে সঞ্চয়ী এনজাইম জমা থাকে।
- এর মধ্যে catalase প্রধান এনজাইম, এদেরকে মাইক্রোসোম (microsome) নামেও অভিহিত করা হয়।
- ১৯৬৭ সালে বেলজিয়াম সাইটোলজিস্ট Christian de Duve কোষের সাইটোপ্লাজম থেকে পারঅক্সিসোম অঙ্গাণুটি আবিষ্কার করেন।
- পারঅক্সিসোম প্রাণীর কিডনি ও লিভার কোষে অধিক থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮০২.
নিচের কোন ক্ষেত্রে স্ববিজারণ ঘটে?
  1. ক) পটাশিয়াম অক্সাইড
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড
  3. গ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. ঘ) কপার অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
ঘ) কপার অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কপার অক্সাইড
ব্যাখ্যা

সক্রিয়তা সিরিজে নিচের দিকে অবস্থিত কম সক্রিয় ধাতু কপার বা তামা, পারদ, রূপা ধাতুসমূহের অক্সাইড এর ক্ষেত্রে কোনো বিজারক যোগ না করেই শুধু উত্তপ্ত করেও বিজারণ ঘটানো হয়। একে স্ববিজারণ বলে।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৩,৮০৩.
What happens during a fusion reaction?
  1. One atom splits into two atoms
  2. Several atoms fuse to form a new atom
  3. A nucleus breaks apart releasing huge energy
  4. Multiple atoms split to form multiple atoms
  5. Radioactive decay
সঠিক উত্তর:
Several atoms fuse to form a new atom
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Several atoms fuse to form a new atom
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ায় একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে।

• নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া:
- যে বিক্রিয়ার পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে তাকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে।

• নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া ২ প্রকার।
যথা- নিউক্লিয়ার ফিশন ও নিউক্লিয়ার ফিউশন।

• নিউক্লিয়ার ফিশন:
- নিউক্লিয়ার ফিশন হলো এমন একটি পারমাণবিক বিক্রিয়া, যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াস (যেমন- ইউরেনিয়াম- 235 বা প্লুটোনিয়াম- 239) দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে বিভক্ত হয়.
- এই প্রক্রিয়ায় নিউট্রন ও বিপুল শক্তি উৎপন্ন হয়।
• ব্যবহার:
-পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
-পারমাণবিক অস্ত্র (Atomic Bomb)।

• নিউক্লিয়ার ফিউশন (Nuclear Fusion):
- নিউক্লিয়ার ফিউশন (Fusion) হলো এমন একটি পারমাণবিক বিক্রিয়া, যেখানে দুই বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি করে.
- এই প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়।
• উদাহরণ:
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে প্রতিনিয়ত হাইড্রোজেন ফিউশন ঘটে, যার ফলে হিলিয়াম তৈরি হয় ও বিশাল শক্তি নির্গত হয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৩,৮০৪.
ক্ষমতার একক কী? 
  1. ওয়াট (W) 
  2. জুল (J) 
  3. কিলোগ্রাম (kg) 
  4. নিউটন (N) 
সঠিক উত্তর:
ওয়াট (W) 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াট (W) 
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা হচ্ছে কাজ করার হার। 
অর্থাৎ, t সময়ে W পরিমাণ কাজ করা হলে ক্ষমতা P হবে, P = W/t. 
- কাজ করার অর্থ হচ্ছে শক্তির রূপান্তর। শক্তির যেহেতু ধ্বংস নেই তাই কাজ করার মাঝে দিয়ে শক্তির রূপান্তর করা হয় মাত্র। তাই বলা যায়, ক্ষমতা হচ্ছে শক্তির রূপান্তরের হার। 
- কাজ বা শক্তি যেহেতু স্কেলার তাই ক্ষমতাও স্কেলার। 
- ক্ষমতার একক হচ্ছে- ওয়াট (W)। 
- ক্ষমতার মাত্রা হচ্ছে, [P] = ML2T -3
- যদি প্রতি সেকেন্ডে 1 জুল কাজ করা হয় তাহলে বলা হয় 1 ওয়াট (W) কাজ করা হয়েছে বা শক্তির রূপান্তর হয়েছে।
- 100 W এর একটা বাতি জ্বালানোর অর্থ হচ্ছে বাতিতে প্রতি সেকেন্ডে 100 J শক্তি ব্যয় হচ্ছে। 
- আবার যখন শুনা যায়, দেশে 1000 MW নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি হবে তার অর্থ সেই নিউক্লিয়ার শক্তিকেন্দ্রে প্রতি সেকেন্ডে 1000×106 J বিদ্যুৎশক্তি উৎপন্ন হবে। 

অন্যদিকে, 
- কিলোগ্রাম (kg) ভরের একক। 
- জুল (J) কাজ বা শক্তির একক। 
- নিউটন (N) বলের একক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৮০৫.
কোন খনিজ উপাদান হাড়ের বৃদ্ধি ও গঠন দৃঢ় করে এবং দাঁতের এনামেল মজবুত রাখে?
  1. আয়োডিন
  2. আয়রন
  3. ক্যালসিয়াম
  4. সোডিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
খনিজ উপাদান: 
- খনিজ উপাদানসমূহ দেহের বৃদ্ধি, শরীরবৃত্তীয় বিভিন্ন ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, সুস্থতা ও সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- দেহে খুব অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হলেও খনিজ লবণ দেহের জন্য অত্যাবশ্যক পুষ্টি উপাদান। 
- দেহ গঠনে এসব অজৈব খনিজ পদার্থের অংশগ্রহণ দেহ ওজনের প্রায় ৪% হয়ে থাকে। 
- মূলত খাদ্যবস্তু পোড়ালে যে সাদা ছাই অবশিষ্ট থাকে তাই অজৈব খনিজ লবণ। 
- এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকারের খনিজ লবণ শনাক্ত করা গেছে। 
- এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রণ (লৌহ), আয়োডিন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক (দস্তা), ক্লোরিন, কপার (তামা) ইত্যাদি। 

ক্যালসিয়াম (Calcium): 
- দেহে প্রয়োজনীয় সবকটি খনিজ উপাদানের মধ্যে ক্যালসিয়ামের (Ca) পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির দেহে প্রায় ১২০০ গ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। 
- দেহে মোট ক্যালসিয়ামের ৯৯% হাড় ও দাঁতে থাকে, অবশিষ্ট ১-১.৫% ক্যালসিয়াম থাকে দেহরসে। 
- দুধ ও দুধ জাতীয় খাদ্য ক্যালসিয়ামের খুব ভালো উৎস। এছাড়া কাঁটাসহ ছোট মাছ, ডিম, সবুজ শাক, কলমিশাক, কালো কচুশাক, শুঁটকি মাছ, পনির, পুদিনা পাতা, ধনে পাতা ইত্যাদিতে যথেষ্ট পমিাণে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। 

ক্যালসিয়ামের কাজ: 
১। হাড় ও দাঁতের গঠন ও মজবুত করতে ক্যালসিয়াম অপরিহার্য। ক্যালসিয়ামের সাথে ফসফরাস যুক্ত হয়ে ক্যালসিয়াম ফসফেট তৈরি করে। ক্যালসিয়াম হাড়ের বৃদ্ধি ও গঠন দৃঢ় করে এবং দাঁতের এনামেল মজবুত রাখে
২। এটি রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
৩। স্নায়ু পেশি তথা স্নায়ুবিক উদ্দীপনা ও উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করে। 
৪। হৃৎপিন্ডের স্বাভাবিক স্পন্দন বজায় রাখে। 

ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত অবস্থা: 
১। দীর্ঘদিন ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের হাড়ের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। হাড়ের গঠন দুর্বল ও খর্বকায় হয়। হাড় বাঁকা হয়ে যায়। শিশুদের রিকেট রোগ হয়। 
২। বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেশিয়া রোগ হয়। 
৩। প্রাপ্ত বয়স্কদের হাড় নরম ও ভঙ্গুর হয়। 
৪। স্নায়ুবিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। মাংসপেশির খিঁচুনি, অনিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায়। 
৫। ভিটামিন ডি এর বিপাক ব্যাহত হয়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮০৬.
বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান -
  1. অক্সিজেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
  3. হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
  4. আর্গন ও নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 

• বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। অক্সিজেনের পরিমাণ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
• বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলোর শতকরা হার:
- নাইট্রোজেন ৭৮.০১%,
- অক্সিজেন ২০.৭১%,
- আর্গন ০.৮০%,
- জলীয়বাষ্প ০.৪১%,
- কার্বন-ডাই-অক্সাইড ০.০৩% ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮০৭.
নিচের কোনটির তড়িৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি?
  1. সিলিকন
  2. জার্মেনিয়াম
  3. রূপা
  4. গ্রাফাইট
সঠিক উত্তর:
রূপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপা
ব্যাখ্যা
পরিবাহিতা:
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহ পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক।
- পরিবাহীতায় একক সিমেন্স (Siemens)।
- একে সংক্ষেপে S দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তত বেশি।
- আবার একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত কম তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর রোধ তত বেশি।
- প্রকৃতপক্ষে কোনো পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তার রোধের মানের বিপরীত সংখ্যা।

⇒ উপাদান, তাপমাত্রা এবং আকার আকৃতির উপর পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা নির্ভর করে।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সকল পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা হ্রাস পায়।
- সকল ধাতুই উত্তম পরিবাহী কিন্তু একই আকার আকৃতির সকল ধাতুর তড়িৎ পরিবাহিতা সমান নয়।

⇒ তামা, রূপা, গ্রাফাইট, সোনা ইত্যাদি সবই তড়িৎ পরিবাহী পদার্থ।
- তবে এদের মধ্যে রুপার তড়িৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি।
- রূপার তড়িৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি হলেও রূপার দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বৈদ্যুতিক সংযোগে তামার তার ব্যবহার করা হয়।
- অপরদিকে জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদির তড়িৎ পরিবাহিতা সাধারণ তাপমাত্রায় খুবই কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮০৮.
কলমের খালি মুখে ফুঁ দিলে কোন শক্তির রূপান্তর ঘটে?
  1. ক) যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে
  2. খ) যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে
  3. গ) বিভব শক্তি গতি শক্তিতে
  4. ঘ) যান্ত্রিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে
সঠিক উত্তর:
খ) যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে
ব্যাখ্যা
যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর:
- হাতে হাত ঘষলে তাপ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- কলমের খালি মুখে ফুঁ দিলে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- পানি যখন ভূ-পৃষ্ট হতে উপরে কোন পাত্রে থাকে তখন তাতে বিভব শক্তি সঞ্চিত থাকে। নিচে প্রবাহিত হবার সময় বিভব শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮০৯.
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ তৈরিতে নিচের কোন বিক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) স্ট্রিপিং ও পিক-আপ বিক্রিয়া
  2. খ) ট্রান্সম্যুটেশন বিক্রিয়া
  3. গ) ফিশান বা নিউক্লীয় বিভাজন
  4. ঘ) ফিউশান বা নিউক্লীয় সংযোজন
সঠিক উত্তর:
খ) ট্রান্সম্যুটেশন বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ট্রান্সম্যুটেশন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
নিউক্লীয় বিক্রিয়ার শ্রেণীবিভাগ Classification of Nuclear Reactions)
- নিউক্লীয় বিক্রিয়া বিভিন্ন ধরনের হয়। যেমন-
(১) ট্রান্সম্যুটেশন
(২) স্ট্রিপিং ও পিক-আপ বিক্রিয়া
(৩) বিক্ষেপণ
(৪) স্প্যালেশন
(৫) ফিশান বা নিউক্লীয় বিভাজন
(৬) ফ্র্যাগমেন্টেশন ও
(৭) ফিউশান বা নিউক্লীয় সংযোজন।
- আইসোটোপ তৈরির জন্য ট্রান্সম্যুটেশন এবং পারমাণবিক শক্তির জন্য ফিউশান ও ফিশান বিক্রিয়া বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়।

ট্রান্সম্যুটেশন বিক্রিয়া:
- কোন মৌলের স্থায়ী নিউক্লিয়াসকে উচ্চ গতিশীল নিউট্রন, প্রোটন অথবা আল্‌ফা কণা দ্বারা আঘাত করে নতুন মৌলের নিউক্লিয়াসে পরিণত করাকে ট্রান্সম্যুটেশন বিক্রিয়া বলে।
- এক্ষেত্রে উৎপাদ নিউক্লিয়াস ও বিক্রিয়ক বা ট্রার্গেট নিউক্লিয়াসের মধ্যে ভর সংখ্যার পার্থক্য ৩ থেকে ৪ এককের বেশি হয় না।
- এ ধরনের বিক্রিয়া প্রধানত তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৩,৮১০.
কোন পদার্থে ক্যালরির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে?
  1. স্নেহ জাতীয় পদার্থে
  2. প্রোটিন জাতীয় পদার্থে
  3. শর্করা জাতীয় পদার্থে
  4. খনিজ জাতীয় পদার্থে
সঠিক উত্তর:
স্নেহ জাতীয় পদার্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্নেহ জাতীয় পদার্থে
ব্যাখ্যা
ক্যালরি: 
- ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১০ সেলসিয়াস বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপ হচ্ছে ১ ক্যালরি। 
- ১০০০ ক্যালরি = ১ কিলোক্যালরি। 
- শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য উপাদান থেকে দেহে তাপ উৎপন্ন হয়, এই তাপ দেহের ভিতরে খাদ্যের পরিপাক, বিপাক, শ্বাসকার্য, রক্তসঞ্চালন ইত্যাদি কাজে সাহায্য করে। 
- খাদ্যের তাপশক্তি মাপার একক হলো কিলোক্যালরি। 
- যেসব খাদ্যে শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ পদার্থ থাকে, সেসব খাদ্য থেকে বেশি ক্যালরি পাওয়া যায়। 
- যেসব খাদ্যে পানি ও সেলুলোজের পরিমাণ বেশি থাকে, সেসব খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে। 
- তেল বা চর্বি বা স্নেহ জাতীয় পদার্থে ক্যালরির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। 
- স্নেহ জাতীয় পদার্থের প্রতি গ্রামে ৯ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৩,৮১১.
নিচের কোনটি ফ্লোয়েম টিস্যু নয়? 
  1. ভেসেল
  2. বাস্ট তন্তু
  3. সঙ্গী কোষ
  4. সীভ নল
সঠিক উত্তর:
ভেসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেসেল
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু: 
- এ টিস্যুর আসল কাজ মাটি থেকে পানি ও অজৈব লবণ পরিবহন করে পাতায় পৌঁছানো এবং পাতায় যে খাদ্য প্রস্তুত হয় তা পরিবহন করে উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো। 
- এদের কাজ পরিবহন বলে এ টিস্যুকে পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- জটিল টিস্যু দু'প্রকার। 
যথা- 
১. জাইলেম টিস্যু ও 
২. ফ্লোয়েম টিস্যু। 

জাইলেম টিস্যু: 
- জাইলেম টিস্যুর কাজ পানি পরিবহণ করা। 
- ভাস্কুলার উদ্ভিদে জাইলেমের সাহায্যেই খাদ্য দ্রব্যের উপাদানগুলো মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পাতায় পরিবাহিত হয়। 
- পরিণত অবস্থায় আবৃতবীজী উদ্ভিদের জাইলেম চার ধরণের কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- ট্রাকিড, ট্রাকিয়া বা ভেসেল, জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম তন্তু। 

ফ্লোয়েম টিস্যু: 
- ফ্লোয়েম টিস্যু উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে যে খাদ্য উৎপাদন হয় তা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করে। 
- ফ্লোয়েম টিস্যু চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- সীভ নল, সঙ্গী কোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম ফাইবার বা বাস্ট তন্তু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮১২.
বিশুদ্ধ পানির pH এর মান কত?
  1. ১২
  2. ৮.৮
  3. ৭.০
  4. ৬.২
সঠিক উত্তর:
৭.০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭.০
ব্যাখ্যা
• pH:
- কোন দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রার লগারিদমের ঋণাত্বক মানকে ঐ দ্রবণের pH বলা হয়, এর মান অনুযায়ী দ্রবণ অম্লীয় বা ক্ষারীয় হবে তা নির্ধারিত হয়।
- pH এর মান ৭ হলে তাকে নিরপেক্ষ দ্রবণ বা প্রশম দ্রবণ বলা হয়।
- pH স্কেলের বিস্তৃতি: ০ – ১৪, 
- বিশুদ্ধ পানির pH হলো ৭;
- pH এর মান ৭ এর কম হলে দ্রবণ অম্লীয় এবং এর বেশি হলে দ্রবণ ক্ষারীয়।
- মানুষের রক্তের pH এর মান 7.4 (ঈষৎ ক্ষারীয়)। 

উৎস: ৯ম-১০ম শ্রেণি রসায়ন বই এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন ১ম পত্র।
৩,৮১৩.
বায়ুমণ্ডলের চাপের ফলে ভূগর্ভস্থ পানি লিফট পাম্পের সাহায্যে সর্বোচ্চ যে গভীরতা থেকে উঠানো যায়-
  1. ১ মিটার
  2. ১০ মিটার
  3. ১৫ মিটার
  4. ৩০ মিটার
সঠিক উত্তর:
১০ মিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ মিটার
ব্যাখ্যা
[Under ideal conditions the pressure of the air at sea level is enough to raise a column of water 10.3 m (34 ft) in a vertical pipe in which a perfect vacuum has been made. -WHO Document on Pumps.]

• বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে সাধারণ লিফট পাম্প দিয়ে পানি সর্বোচ্চ ১০ মিটার উঁচুতে তোলা সম্ভব।
• কারণ:
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ = ১.০১৩ × ১০ প্যাসকেল (1 atmosphere)
এই চাপ পানির স্তম্ভের উচ্চতার সমান = ১০.৩৩ মিটার (তাত্ত্বিকভাবে)
বাস্তবে ঘর্ষণ ও অন্যান্য কারণে এই উচ্চতা প্রায় ১০ মিটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে

টরিচেলির শূন্যতার নীতি অনুযায়ী:
বায়ুমণ্ডলীয় চাপ = ρgh
যেখানে, ρ = পানির ঘনত্ব (১০০০ কেজি/মি)
g = অভিকর্ষীয় ত্বরণ (৯.৮ মি/সে)
h = পানির স্তম্ভের উচ্চতা

১০ মিটারের বেশি উচ্চতায় পানি তুলতে হলে সাবমার্সিবল পাম্প ব্যবহার করতে হয় অথবা বুস্টার পাম্প ব্যবহার করতে হয়।
সুতরাং, বায়ুমণ্ডলীয় চাপের ফলে লিফট পাম্প দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ মিটার গভীরতা থেকে পানি তোলা সম্ভব।
৩,৮১৪.
টেলিভিশনে রঙিন ছবি তৈরীর জন্য কোন রঙগুলোর প্রয়োজন?
  1. বেগুনী, নীল, সবুজ
  2. সাদা, লাল, সবুজ
  3. নীল, লাল, সবুজ
  4. সাদা, নীল, সবুজ
সঠিক উত্তর:
নীল, লাল, সবুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল, লাল, সবুজ
ব্যাখ্যা
রঙিন টেলিভিশন: 
- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- তবে রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এ তিনটি রং-এর পৃথক পৃথক ইলেকট্রন টিউব থাকে। 

- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়।
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে।
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে।
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি। 

উৎস: সবাই কাছাকাছি, বিজ্ঞান, এসএসসি। 
৩,৮১৫.
অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয় কোথায়?
  1. মোটর
  2. জেনারেটর
  3. ট্রান্সফর্মার
  4. সবগুলোই সঠিক
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই সঠিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা
• কৃত্রিম চুম্বক:
- কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়।
১. অস্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়।
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে।
- মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়।

২.স্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক।
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮১৬.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরটিকে 'ওজন স্তর' নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) ট্রপোস্ফিয়ার
  2. খ) মেসোস্ফিয়ার
  3. গ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  4. ঘ) এক্সোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
গ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারটি ওজন স্তর নামে পরিচিত।

কারণ, এই স্তরের ওজন লেয়ার পৃথিবীর জীবজগতকে সূর্য থেকে আশা ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে। বায়ুমণ্ডলের ১২ কিলোমিটার থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত এই স্তরের অবস্থান। 

বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১) এই স্তরে বায়ুর ঘনত্ব খুব কম। তাই এর অপর নাম সুক্ষমন্ডল।
২) বায়ু মন্ডলের এই স্তরে ধূলিকণা ও জলীয় বাষ্প না থাকায় মেঘ বৃষ্টি হয় না। তাই অপর নাম শান্ত মন্ডল।
৩) এই স্তরে অক্সিজেনের পরিমান খুব কম থাকায় স্বাস প্রশ্বাসে অসুবিধা হয়।
৪) বায়ু মন্ডলের এই স্তর শান্ত থাকার জন্য খুব সহজেই এরোপ্লেন চলতে পারে। 

সূত্র: নাসা গ্লোবাল ক্লাইমেট চেঞ্জ ওয়েবসাইট।  



৩,৮১৭.
অপটিক্যাল ফাইবারে আলো চলাচলের মূল নীতি কী?
  1. ব্যতিচার
  2. প্রতিসরণ
  3. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  4. বিচ্ছুরণ
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
ব্যাখ্যা

- অপটিক্যাল ফাইবার হলো অত্যন্ত সরু এবং নমনীয় এক ধরণের কাচ বা প্লাস্টিকের তন্তু যার মাধ্যমে তথ্য বা সংকেত আলোক রশ্মি হিসেবে প্রবাহিত হয়। যখন আলোক রশ্মি ফাইবারের ঘন মাধ্যম (কোর) থেকে হালকা মাধ্যম (ক্ল্যাডিং)-এর সীমানায় সংকট কোণের চেয়ে বেশি কোণে আপতিত হয়, তখন আলো প্রতিসরিত না হয়ে সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় ঘন মাধ্যমেই ফিরে আসে, এই প্রক্রিয়াটিকেই পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) বলা হয়। 

অপটিক্যাল ফাইবার: 

- অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি খুব সরু কাঁচতন্তু, এটা মানুষের চুলের মতো চিকন এবং নমনীয়। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তু অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত চিকিৎসকেরা মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি দেখার জন্য) যে আলোক নলটি ব্যবহার করে এটি একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩,৮১৮.
ঘরের তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধের ক্রম কত?
  1. 10−4 Ωm
  2. 10−8 Ωm
  3. 106 Ωm
  4. 1011 Ωm
সঠিক উত্তর:
10−4 Ωm
উত্তর
সঠিক উত্তর:
10−4 Ωm
ব্যাখ্যা
পরিবাহী: 
- যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
- পরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 10−8 Ωm ক্রমের। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে।
- অপরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 1012 Ωm ক্রমের। 

অর্ধপরিবাহী: 
- কিছু কিছু পদার্থ আছে যা দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে। 
- পরিবাহীর চেয়ে অত্যন্ত কম কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
- অর্ধপরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 10−4 Ωm ক্রমের। 
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮১৯.
বস্তুর ভর, গতি এবং বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে গতিসূত্র প্রদান করেন কে?
  1. কোপার্নিকাস
  2. নিউটন
  3. আইনস্টাইন
  4. গ্যালিলিও
সঠিক উত্তর:
নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউটন
ব্যাখ্যা
• স্যার আইজ্যাক নিউটন বস্তুর ভর, গতি এবং বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে গতিসূত্র প্রদান করেন।

• নিউটনের গতিসূত্র:

- ১৬৮৭ সালে স্যার আইজ্যাক নিউটন বস্তুর ভর, গতি ও বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন।
- এই সূত্রগুলোর মধ্যে গতির মূল তথ্যগুলো নিহিত আছে।
- এ তিনটি সূত্র নিউটনের বা গতিসূত্র Newtons laws of motion নামে পরিচিত।

• প্রথম সূত্র (জড়তার সূত্র):
- বাহ্যিক বল প্রয়োগে বস্তুর অবস্থার পরিবর্তন করতে বাধ্য না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থিরই থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সমবেগে অর্থাৎ সমদ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে।

• দ্বিতীয় সূত্র:
- বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার ওপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে।

• তৃতীয় সূত্র (ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সূত্র):
- প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।

• অপশন আলোচনা:
- কোপার্নিকাস ১৫৪৩ সালে সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ব্যাখ্যা দেন।
- গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তুর সূত্র আবিষ্কার করেন। তিনি টেলিস্কোপেরও আবিষ্কারক।
- আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার সূত্র প্রদান করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান বই, নবম - দশম শ্রেণি।
৩,৮২০.
The nature of electricity being produced using sun rays is :
  1. ক) AC
  2. খ) DC
  3. গ) Both AC and DC
  4. ঘ) None
সঠিক উত্তর:
খ) DC
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) DC
ব্যাখ্যা
সৌরশক্তি বা সোলার পাওয়ার:
সূর্য রশ্মির আলো ও তাপ কে ব্যবহার করা হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। এর ফটোইলেক্ট্রিক ইফেক্টকে কাজে লাগিয়ে ফটোভোল্টাইক কোষের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

Solar panels produce direct current: the sun shining on the panels stimulates the flow of electrons, creating current. Because these electrons flow in the same direction, the current is direct.
৩,৮২১.
কোন গ্রহকে সবুজ গ্রহ বলা হয়?
  1. মঙ্গল
  2. ইউরেনাস
  3. নেপচুন
  4. পৃথিবী
সঠিক উত্তর:
ইউরেনাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরেনাস
ব্যাখ্যা

ইউরেনাস:
- ইউরেনাসের বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ অনেক শীতল।
- এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উপস্থিত হওয়ায় এটিকে সবুজ রঙের দেখা যায়।
- তাই একে সবুজ গ্রহ বলা হয়।
- এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ।
- এটিতে শনির মতো একটি বলয় রয়েছে।
- উইলিয়াম হার্শেল ১৭৮১ সালে গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন।

অন্যদিকে -
- মঙ্গলকে লাল গ্রহ বলে।
- গ্রহরাজ বলা হয় বৃহস্পতিকে।
- বুধ হল সূর্যের নিকটতম এবং সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।

৩,৮২২.
আবহাওয়ায় ৯৫% আদ্রতা মানে-
  1. ক) বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ৯৫%
  2. খ) ১০০ ভাগ বাতাসে ৯৫ ভাগ জলীয় বাষ্প
  3. গ) বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান সম্পৃক্ত অবস্থায় ৯৫%
  4. ঘ) বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান বৃষ্টিপাতের সময়ের ৯৫%
সঠিক উত্তর:
গ) বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান সম্পৃক্ত অবস্থায় ৯৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান সম্পৃক্ত অবস্থায় ৯৫%
ব্যাখ্যা
আবহাওয়ার আপেক্ষিক আদ্রতা ৯৫% মানে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ সম্পৃক্ত অবস্থায় ৯৫%।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৮২৩.
নিচের কোন রাশিটির মান ও দিক উভয়ই বিদ্যমান?
  1. ত্বরণ
  2. দৈর্ঘ্য
  3. দ্রুতি
  4. কাজ
সঠিক উত্তর:
ত্বরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্বরণ
ব্যাখ্যা

- যে সকল ভৌত রাশিকে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়েরই প্রয়োজন হয় তাদেরকে ভেক্টর রাশি বলে।
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি।
- যে সকল ভৌত রাশিকে শুধু মান দ্বারা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না- তাদেরকে স্কেলার রাশি বলে।
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, দ্রুতি, কাজ ইত্যাদি।
সূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণি

৩,৮২৪.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না?
  1. সৌর শক্তি
  2. খনিজ তেল
  3. বায়ুপ্রবাহ
  4. সমুদ্রস্রোত
সঠিক উত্তর:
খনিজ তেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খনিজ তেল
ব্যাখ্যা
- 'খনিজ তেল'কে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 

শক্তির উৎস: 

- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পরমাণুর শক্তি, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮২৫.
হাইড্রা কোন পর্বের প্রাণী?
  1. ক) Cnidaria
  2. খ) Platyhelminthes
  3. গ) Nematoda
  4. ঘ) Annelida
সঠিক উত্তর:
ক) Cnidaria
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Cnidaria
ব্যাখ্যা

হাইড্রা হল নিডারিয়া পর্বের প্রাণী।

নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য-
1. এই পর্বের প্রাণীদের দেহের ভেতরে একটি মাত্র গব্বর বা গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার গহবর থাকে।
2. এই পর্বের প্রাণীদের দেহত্বকে ,এমন কি কর্ষিকার গায়ে নিডোব্লাস্ট দংশক ধ্বংস কোষের ভেতরে নিমাটোসিস্ট নামক চাবুকের মত এক প্রকার অঙ্গাণু থাকে যা আত্মরক্ষা ও খাদ্য গ্রহণে সাহায্য করে।
3. নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের জীবনচক্রে পলিপ ও মেডুসা দশার পর্যায়ক্রমিক আবর্তন ঘটে। একে মেটাজেনেসিস বলে।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি

৩,৮২৬.
নিচের কোনটি সম্ভব নয়?
  1. আপেক্ষিক গতি
  2. ত্রিমাত্রিক গতি
  3. মহাকর্ষীয় গতি
  4. পরম গতি
সঠিক উত্তর:
পরম গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরম গতি
ব্যাখ্যা
◉ পরমস্থিতি ও পরমগতি (Absolute Rest and Absolute Motion):
- কোনো বস্তু প্রকৃত পক্ষে স্থির না গতিশীল তা নির্ভর করে প্রসঙ্গ কাঠামোর উপর।
- প্রসঙ্গ কাঠামো যদি প্রকৃতপক্ষে স্থির হয় তবে তার সাপেক্ষে যে বস্তু স্থিতিশীল রয়েছে তাও প্রকৃত পক্ষে স্থির। এ ধরনের স্থিতিকে পরম স্থিতি বলে।
- আবার পরম স্থিতিশীল প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে কোনো বস্তুর গতিকে পরম গতি বলা যায়।

- কিন্তু আপনারা জানেন এ মহাবিশ্বের কোনো বস্তুই স্থির নয় তাই পরম স্থিতিশীল প্রসঙ্গ কাঠামো পাওয়া সম্ভব নয়।
- কারণ পৃথিবী মূলত সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণনরত, আবার মহাকাশের অন্যান্য নক্ষত্রের সাপেক্ষে সূর্যও গতিশীল।
- তাই আপনারা যখন কোনো বস্তুকে স্থিতিশীল বা গতিশীল বলেন তা কোনো আপাত স্থিতিশীল বস্তুর সাপেক্ষে বলতে পারেন।
- সুতরাং বলা যায় যে - মহাবিশ্বের কোনো বস্তুই পরম স্থির বা পরম গতি সম্পন্ন নয়।

◉ আপেক্ষিক গতি (Relative Motion):
- একটি গতিশীল বস্তুর সাপেক্ষে অপর একটি গতিশীল বস্তুর গতিকে আপেক্ষিক গতি বলা হয়।
- যেমন- চলন্ত ট্রেনের একজন যাত্রীর কাছে ট্রেনের দরজা জানালা স্থির কিন্তু প্লাটফরমে দাঁড়িয়ে থাকা একজন লোক ট্রেনের যাত্রীসহ সবকিছুই গতিশীল দেখতে পারেন।
- আপনারা লক্ষ্য করে থাকবেন দুটি ট্রেন পরস্পর বিপরীত দিকে একে অন্যকে অতিক্রম করলে, যাত্রীর কাছে মনে হয় ট্রেনটির বেগ কমে গেছে।
- আসলে আমরা একটি ট্রেনের সাপেক্ষে অপর ট্রেনের বেগ পরিমাপ করি বলেই এমন মনে হয়।
- আপেক্ষিক বেগ পরিমাপ করার সময় যে বস্তুর সাপেক্ষে অন্য বস্তুর বেগ পরিমাপ করা হয় তার বেগ যে বস্তুর বেগ পরিমাপ করছি তা থেকে বিয়োগ করতে হয়।

◉ ত্রিমাত্রিক গতি:
- কোন বস্তু যদি কোন স্থানে (space) গতিশীল থাকে তাহলে তার গতিকে ত্রিমাত্রিক গতি বলা হয়।
- ত্রিমাত্রিক গতি বর্ণনার জন্য আমাদেরকে তিনটি অক্ষের তথা ত্রিমাত্রিক প্রসঙ্গ কাঠামোর প্রয়োজন হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮২৭.
নিচের কোন ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার হয়?
  1. কৃষিক্ষেত্রে অধিক ফসল ফলানো
  2. প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষের সময়কাল নির্ণয়ের কাজে
  3. চিকিৎসা শাস্ত্রে ক্যানসার, টিউমার প্রভৃতির চিকিৎসায়
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার:

১। কৃষিক্ষেত্র: কৃষিক্ষেত্রে বীজ সংরক্ষণ, কীটমুক্তকরণ, অধিক ফসল ফলানো, একই গাছে বিভিন্ন বর্ণের ফুল ফুটানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।
২। চিকিৎসা শাস্ত্র: চিকিৎসা শাস্ত্রে ক্যানসার, টিউমার প্রভৃতির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
৩৷ গবেষণা বিজ্ঞান: জীববিদ্যার বিভিন্ন গবেষণায় এবং রসায়নবিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়।
৪৷ শিল্প বিজ্ঞান: বিভিন্ন শিল্প কাজে ও নানা প্রকার প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষের সময়কাল নির্ণয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮২৮.
মৌলিক বল নয় কোনটি?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. অভিকর্ষ বল
  3. তড়িৎ চৌম্বকীয় বল
  4. দূর্বল  নিউক্লিয় বল
সঠিক উত্তর:
অভিকর্ষ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিকর্ষ বল
ব্যাখ্যা
• মৌলিক বল:
- যা কোন স্থির বস্তুতে প্রয়োগ করলে তা গতিশীল হয় বা কোন গতিশীল বস্তুর উপর প্রয়োগ করলে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। 
- প্রকৃতিতে ৪টি বল আছে যাদের অন্য কোন বলে বিশ্লেষণ করা যায় না তাদেরকে মৌলিক বল বলে। যথা-

১. মহাকর্ষ বল, 
২. তড়িৎ চৌম্বকীয় বল, 
৩. সবল নিউক্লিয় বল ও
৪. দূর্বল  নিউক্লিয় বল।

• পৃথিবী ও মহাবিশ্বের যেকোনো একটি বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ বলকে অভিকর্ষ বল বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
৩,৮২৯.
উচ্চতা যত বৃদ্ধি পায় বাযুমন্ডলীয় তাপমাত্রা কী হয়?
  1. ক) বৃদ্ধি পায়
  2. খ) হ্রাস পায়
  3. গ) সমান থাকে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
• উচ্চতা যত বৃদ্ধি পায় বাযুমন্ডলীয় তাপমাত্রা তত বেশি হ্রাস পায়
- সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় ৬°সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়। 
- উচ্চতার জন্যই একই অক্ষাংশে অবস্থিত দুই জায়গার জলবায়ুতে পার্থক্য দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৮৩০.
জন্ডিস রোগের প্রতিষেধক টিকা নিচের কোনটি থেকে তৈরি করা হয়?
  1. শৈবাল
  2. ছত্রাক
  3. ভাইরাস
  4. ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের উপকারিতা: 
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যথা- 
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়। 
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে। 
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৮৩১.
মিটার ব্রীজ ব্যবহার করে কী পরিমাপ করা হয়?
  1. বিভব পার্থক্য
  2. অজানা রোধ
  3. তড়িৎ প্রবাহ 
  4. তাপমাত্রা
সঠিক উত্তর:
অজানা রোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অজানা রোধ
ব্যাখ্যা

- মিটার ব্রিজ হলো এমন একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা হুইটস্টোন ব্রিজ নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এতে এক মিটার লম্বা একটি সুষম রোধের তার ব্যবহার করা হয় বলে একে মিটার ব্রিজ বলা হয়। এই যন্ত্রের সাহায্যে কোনো পরিবাহীর অজানা রোধ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নির্ণয় করা যায়। 

মিটার ব্রীজ: 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে এক মিটার লম্বা সুষম প্রস্থচ্ছেদের তারের অজানা রোধ নির্ণয় করা যায়, তাকে মিটার ব্রীজ বলা হয়। 
- হুইটস্টোন ব্রীজ নীতি প্রয়োগ করে মিটার ব্রীজ তৈরী করা হয়। 
- পরীক্ষাগারে কোনো পরিবাহীর অজানা রোধ নির্ণয় করার জন্য মিটার ব্রীজ ব্যবহার করা হয়। 

পোস্ট অফিস বক্স: 
- এই যন্ত্রের সাহায্যে পোষ্ট অফিসে টেলিগ্রাফের তারের রোধ নির্ণয় করা হতো বলে এটি পোষ্ট অফিস বক্স নামে পরিচিত। 

পোটেনশিওমিটার: 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বিভবপতন পদ্ধতিতে বিভব পার্থক্য ও বিদ্যুৎচালক শক্তি সূক্ষ্মভাবে নির্ণয় করা যায়, তাকে পোটেনশিওমিটার বলা হয়। 
- পোটেনশিওমিটারের সাহায্যে স্বল্প মানের তড়িৎপ্রবাহ ও নিম্নমানের রোধ মাপা সম্ভব হয়। 

অ্যামমিটার: 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহ সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা যায়, তাকে অ্যামমিটার বলা হয়। 
- অ্যামমিটারের সাথে অতিরিক্ত শান্ট ব্যবহার করে এর পাল্লা বৃদ্ধি করা যায়। 

ভোল্টমিটার: 
- যেকোনো দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য মাপার জন্য দরকার ভোল্টমিটার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮৩২.
সর্বনিম্ন Power consumption প্রয়োজন হলে নিচের কোন ডিভাইসটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়-
  1. NMOS
  2. PMOS
  3. CMOS
  4. সব কয়টি
সঠিক উত্তর:
CMOS
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CMOS
ব্যাখ্যা
If minimum power consumption is required, CMOS (Complementary Metal-Oxide-Semiconductor) devices are widely used. CMOS technology utilizes both NMOS (N-type Metal-Oxide-Semiconductor) and PMOS (P-type Metal-Oxide-Semiconductor) transistors in a complementary fashion, which helps in achieving very low power consumption.

• CMOS addressed the issues inherent in PMOS and NMOS by incorporating both types in a single IC that contains symmetrical (complementary) PMOS-NMOS pairs. When used together, the two types of transistors provide greater flexibility in circuitry design, while reducing complexity and susceptibility to electronic noise.
- Another advantage of complementary PMOS-NMOS pairs is that they require less power.

Source: www.techtarget.com.
৩,৮৩৩.
লসিকায় পানির পরিমাণ কত?
  1. ক) ৬%
  2. খ) ৭০%
  3. গ) ৮৪%
  4. ঘ) ৯৪%
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৯৪%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৯৪%
ব্যাখ্যা
লসিকাতন্ত্র মানব দেহে রক্ত একটি অন্যতম পরিবহন মাধ্যম যার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ বিভিন্ন কোষ কলায় (Tissue) পৌঁছে এবং বিভিন্ন বিপাকীয় পদার্থ রেচনের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্গে বাহিত হয়। 
রক্তের কিছু উপাদান কৈশিক জালির প্রাচীর ভেদ করে কোষের চারপাশে অবস্থান করে । এ উপাদানগুলোকে লসিকা (Lymph) বলে। কৈশিক জালিকা ছাড়াও কিছু পরিমাণ কলারস এক ধরনের বদ্ধ নালি দিয়ে গৃহীত ও পরিবাহিত হয়ে পুনরায় রক্তে ফিরে আসে। এ সব নালিকে “লসিকা নালি” (Lymph vessels) বলে।
অতএব লসিকা, লসিকানালি ও লসিকাগ্রন্থি সমন্বয়ে গঠিত অন্ত্রকে “লসিকাতন্ত্র” বলে।

লসিকা:
•এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে।
•এতে লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক।
•লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি।
•মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৮৩৪.
HIV ভাইরাস প্রধানত মানবদেহের কোন কোষ ধ্বংস করে?
  1. লোহিত রক্ত কণিকা 
  2. প্লাটিলেট
  3. ম্যাক্রোফেজ 
  4. নিউট্রোফিল
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্রোফেজ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্রোফেজ 
ব্যাখ্যা

এইডস (AIDS) রোগ: 
- AIDS হলো Acquired Immunodeficiency Syndrome এর সংক্ষিপ্ত রূপ। 
অর্থাৎ, বিশেষ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস (AIDS) বলে।
- Human Immunodeficiency Virus সংক্ষেপে HIV নামক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়। 
- HIV ভাইরাসের আক্রমণে মানুষের শ্বেত রক্ত কণিকার ম্যাক্রোফেজ ও T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শ্বেত রক্ত কণিকা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- বর্তমান বিশ্বে AIDS একটি মারাত্মক রোগ। 
- আফ্রিকার দেশসমূহে HIV র আক্রমণ বেশি লক্ষ করা যায়। 
- ধারণা করা হয় বানরের দেহে এ ভাইরাসটি ছিল যা সর্বপ্রথম আফ্রিকায় বানর থেকে মানুষে স্থানান্তরিত হয় এবং পরে তা আমেরিকা, ইউরোপ তথা সমগ্রবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। 

এইডস (AIDS) রোগের বিস্তার: 
- বিভিন্ন উপায়ে এইডসের ভাইরাস একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। 
যেমন- 
• নারী পুরুষের অস্বাভাবিক ও অসামাজিক যৌন আচরণ, 
• সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহার, 
• সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ, 
• সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু, 
• সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করা, 
• দন্ত চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা গ্রহণকারী ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮৩৫.
সিলিকন অর্ধ-পরিবাহীর যোজন ও পরিবহন ব্যান্ডের মধ্যেকার শক্তি পার্থক্য কত?
  1. 0.7 eV
  2. 1.8 eV
  3. 0.8 eV
  4. 1.1 eV
সঠিক উত্তর:
1.1 eV
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1.1 eV
ব্যাখ্যা
• পরিবাহী:
- পরিবাহী পদার্থে যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মধ্যে আংশিক উপরিপাত (overlapping) হয়।
- আসলে এ দুই ব্যান্ডের মধ্যে ভৌত পার্থক্য নির্ধারণ করা কঠিন।
- সুতরাং পরিবাহী পদার্থে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করা মাত্র মুক্ত ইলেকট্রনের প্রবাহ ঘটে এবং বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।

• অন্তরক:
- অন্তরক পদার্থে যোজন ব্যান্ড সম্পূর্ণ পূর্ণ থাকে এবং পরিবহন ব্যান্ড সম্পূর্ণ খালি থাকে এবং এ দুই ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য অনেক বেশি থাকে (সাধারণত: 10ev এর বেশি)।
- পরিবহন ব্যান্ডে ইলেকট্রন না থাকায় বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করলে বিদ্যুৎ প্রবাহ ঘটে না।
- যোজন ব্যান্ড থেকে পরিবহন ব্যান্ডে কোন ইলেকট্রন নিতে হলে যথেষ্ট শক্তি প্রয়োজন হয়। 

• অর্ধপরিবাহী:
- অর্ধপরিবাহী পদার্থের যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য অন্তরকের তুলনায় অনেক কম থাকে।
- যেমন: সিলিকনের ক্ষেত্রে এর মান 1.1 ev এবং জার্মেনিয়াম কেলাসের জন্য 0.7ev।

- পরম শূন্য তাপমাত্রায় পরিবহন ব্যান্ড সম্পূর্ণ খালি এবং যোজন ব্যান্ড সম্পূর্ণ পূর্ণ থাকে, তাই এ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহী আদর্শ অন্তরক হয়। কম তামপত্রায় পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ এবং যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে।
- তাপমাত্রা বাড়ালে যোজন ব্যান্ড থেকে অধিক পরিমাণ ইলেকট্রন শক্তি সঞ্চয় করে পরিবহন ব্যান্ডে প্রবেশ করে এবং বিদ্যুৎ প্রবাহে অংশগ্রহণ করে।
- তাই তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৩৬.
ডেঙ্গুজ্বর কোন ধরণের ‘মশার’ মাধ্যমে ছড়ায়?
  1. ক) স্ত্রী হেমাগোগাস মশা
  2. খ) স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা
  3. গ) স্ত্রী এডিস মশা
  4. ঘ) স্ত্রী কিউলেক্স মশা
সঠিক উত্তর:
গ) স্ত্রী এডিস মশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্ত্রী এডিস মশা
ব্যাখ্যা
- স্ত্রী এডিস   মশা ডেঙ্গু রোগ ছড়ায়। 
- ডেঙ্গুজ্বর (Dengue)  প্রধানত এশিয়ার গ্রীষ্মমন্ডলীয় এলাকার একটি ভাইরাসঘটিত সংক্রামক ব্যাধি।
- ডেঙ্গু ভাইরাস Flaviviridae গোত্রভুক্ত, যার প্রায় ৭০ ধরনের ভাইরাসের মধ্যে আছে ইয়োলো ফিভার (yellow fever) ও কয়েক প্রকার এনসেফালাইটিসের ভাইরাস।
- ডেঙ্গুজ্বরের অনুরূপ একটি রোগের মহামারীর প্রথম তথ্য পাওয়া যায় ১৭৭৯ ও ১৭৮০ সালে চিকিৎসা সংক্রান্ত বইপুস্তকে।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে কলকাতায় প্রথম ডেঙ্গুজ্বর শনাক্ত হয়।
- ১৮৭১-৭২ সালে এ রোগ মহামারী আকারে দেখা দেয়।
- মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, বিশেষ করে গরম এবং বর্ষার সময়টাতেই ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি থাকে।
- শীতকালে এই জ্বর হয় না বললেই চলে।
- শীতে লার্ভা অবস্থায় ডেঙ্গু মশা অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারে।
- বর্ষার শুরুতেই সেগুলো থেকে নতুন করে ডেঙ্গু ভাইরাস বাহিত মশা বিস্তার লাভ করে।

সূত্র: WHO Website.
৩,৮৩৭.
ফারেনহাইট স্কেলে বরফের গলনাঙ্ক কত ডিগ্রি?
  1. ১০০
  2. ৩২
  3. ২১২
সঠিক উত্তর:
৩২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩২
ব্যাখ্যা
আমরা জানি, বরফের গলনাঙ্ক  ০° C।
∴ ০/৫ = (x-৩২)/৯
(x-৩২)/৯ = ০
x = ০+ ৩২ = ৩২° F
৩,৮৩৮.
একটি পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা ১১ এবং নিউট্রন সংখ্যা ১২ হলে, পরমাণুটির ভর সংখ্যা কত? 
  1. ২৩
  2. ৩২
  3. ৪৬
সঠিক উত্তর:
২৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩
ব্যাখ্যা
- কোন মৌলের প্রোটন সংখ্যাই ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা। 
- আবার কোনো মৌলে প্রোটন সংখ্যার সমান সংখ্যক ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থান করে। 
- তাই মৌলের প্রোটন সংখ্যা তথা পারমাণবিক সংখ্যা হবে ইলেট্রন সংখ্যার সমান। 
- কোনো মৌলের ভরসংখ্যা ও পারমাণবিক সংখ্যার পার্থক্য হল নিউট্রন সংখ্যা। 
অর্থাৎ, নিউট্রন সংখ্যা = ভর সংখ্যা - প্রোটন সংখ্যা 
বা, ভর সংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা 
বা, ভর সংখ্যা = ১১ + ১২ 
∴ ভর সংখ্যা = ২৩ । 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৮৩৯.
নিচের কোনটি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ নয়?
  1. গেওয়া
  2. গরান
  3. গজারি
  4. সুন্দরী
সঠিক উত্তর:
গজারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গজারি
ব্যাখ্যা
- ম্যানগ্রোভ হলো সমুদ্র উপকূলের লোনা পানিতে জন্মানো উদ্ভিদ। এসব উদ্ভিদের শ্বাসমূল থাকে।
- বাংলাদেশের সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি।
সুন্দরবনে জন্মানো ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- সুন্দরী
- গরান
- গেওয়া
- কেওড়া
- গোলপাতা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- গজারী বা শাল হলো পত্রপতনশীল বৃক্ষ।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বনবিভাগ)
৩,৮৪০.
তরল পদার্থের বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1.  নির্দিষ্ট আকার এবং আয়তন থাকে 
  2.  নির্দিষ্ট আকার নেই, কিন্তু নির্দিষ্ট আয়তন আছে 
  3. নির্দিষ্ট আকার নেই এবং আয়তনও নেই 
  4. পারস্পরিক আকর্ষণ বল নেই 
সঠিক উত্তর:
 নির্দিষ্ট আকার নেই, কিন্তু নির্দিষ্ট আয়তন আছে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 নির্দিষ্ট আকার নেই, কিন্তু নির্দিষ্ট আয়তন আছে 
ব্যাখ্যা

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল এসবই তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এ ধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া -এরা সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮৪১.
নিচের কোনটি অধাতু?
  1. ডায়মন্ড
  2. কপার
  3. সিলভার
  4. কোনোটিই নয়।
সঠিক উত্তর:
ডায়মন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়মন্ড
ব্যাখ্যা
• অধাতু:
- যেসব মৌলিক পদার্থ সাধারণত নরম, অ-চকচকে, স্বচ্ছ এবং ভঙ্গুর হয়, আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ করে না এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়, তাদেরকে অধাতু বলে।
- কার্বন, সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি হচ্ছে অধাতু।
- ডায়মন্ড হচ্ছে কার্বনের একটি রূপভেদ তাই ডায়মন্ড অধাতু।

অন্যদিকে,
• ধাতু:
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি।
-ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি হচ্ছে ধাতু।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৮৪২.
জন্ডিসে আক্রান্ত হয়-
  1. যকৃত
  2. কিডনি
  3. পাকস্থলী
  4. হৃৎপিণ্ড
সঠিক উত্তর:
যকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যকৃত
ব্যাখ্যা
• জন্ডিসে শরীরের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি যকৃত বা লিভারে আক্রান্ত হয়।
- কোনাে ব্যক্তি ভাইরাল হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হলে সাধারণত জন্ডিস দেখা দেয়।
- জন্ডিস দেখা দিলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়।
- বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায়। জমা হয় প্লীহাতে। যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়।
- জন্ডিস আক্রান্ত ব্যাক্তির দেহত্বক, মুখ, চোখ এবং থুথু হলুদ বর্ণের হয়।

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৪৩.
অ্যানজিওস্পার্ম উদ্ভিদের জাইলেম টিস্যুর প্রধান উপাদান কী? 
  1. ট্রাকিয়া
  2. ট্রাকিড 
  3. জাইলেম তন্তু 
  4. জাইলেম প্যারেনকাইমা 
সঠিক উত্তর:
ট্রাকিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রাকিয়া
ব্যাখ্যা

ট্রাকিয়া বা ভেসেল: 
- ট্রাকিয়া বা ভেসেল অ্যানজিওস্পার্ম উদ্ভিদের জাইলেম টিস্যুর প্রধান উপাদান। 
- এর কোষগুলো সাধারণত মোটা ও খাটো। 
- এরা একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে এবং এদের প্রস্থ প্রাচীর বিলুপ্তির ফলে লম্বা ফাঁপা নলের ন্যায় গঠন তৈরি করে। 
- ভেসেল কোষের পরিপূর্ণতার সময় প্রোটোপ্লাজম বিনষ্ট হয়। তাই পরিণত অবস্থায় এরা মৃত কোষ। 
- এদের কোষ প্রাচীর লিগনিনযুক্ত এবং ট্রাকিডের ন্যায়। 
- এরাও বলয়াকার, সর্পিলাকার, জালিকাকার, মই আকার ও কৃপাকার হতে পারে। 

- নলাকার ট্রাকিয়ার গহ্বরের আকারের ভিত্তিতে ট্রাকিয়া দু'রকম। 
যথা- প্রোটোজাইলেম ও মেটাজাইলেম। 
- সরু ব্যাসবিশিষ্ট ট্রাকিয়াকে (এরা প্রথমে সৃষ্টি হয়) প্রোটোজাইলেম এবং মোটা ব্যাসবিশিষ্ট ট্রাকিয়াকে (এরা পরে সৃষ্টি হয়) মেটাজাইলেম বলা হয়। 
- প্রধানত অ্যানজিওস্পার্মে ট্রাকিয়া থাকে। 
- এরা মূল থেকে পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে পরিবহন করে এবং উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮৪৪.
পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম
  2. কপার
  3. জিংক
  4. লেড
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক চুল্লি:
- নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর (Nuclear Reactor) বা পারমাণবিক চুল্লি মূলত এক প্রকার তাপীয় যন্ত্র।
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম-২৩৫)-এর শৃঙ্খল বিক্রিয়া (chain reaction) ঘটিয়ে অত্যধিক তাপ শক্তি উৎপাদন করা হয়।
- মূলত ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) কে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়ার বিভাজনের (Nuclear Fission) মাধ্যমে পারমাণবিক চুল্লির মধ্যে প্রচুর পরিমাণ তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়।
- পারমাণবিক চুল্লি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীসহ অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহকরূপে হিসাবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
- জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ও মডারেটর হিসাবে হাইড্রোজেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইড্রোজেন পরমাণু খুবই হালকা হওয়ায় মডারেটর হিসেবে রিয়্যাক্টরে হাইড্রোজেন পরমাণুকেই বেশি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মডারেটর হিসেবে পরিষ্কার গ্রাফাইট, সাধারণ হালকা পানি, ভারী পানি ইত্যাদিও ব্যবহার করা হয়।

এছাড়াও,
- IAEA তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩২টি দেশে মোট ৪৪০টি পারমাণবিক চুল্লি রয়েছে।
- এগুলো বিশ্বের ১০ শতাংশ বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করে।
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক চুল্লির সংখ্যা বাড়বে ৫৬টি।
- এই পারমাণবিক চুল্লি বর্তমানে ১২টি দেশে নির্মাণাধীন রয়েছে।
- নতুন চুল্লিগুলোর ইনস্টলেশন ক্ষমতা হবে মোট ৬২ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। 

উৎস: i) রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) IAEA ওয়েবসাইট।
৩,৮৪৫.
গ্রিন হাউস প্রভাবের মাধ্যমে কী ঘটে? 
  1. বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করা হয়
  2. বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়
  3. সূর্যের আলো সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়
  4. বায়ুমণ্ডল থেকে পানি সরাসরি হারিয়ে যায়
সঠিক উত্তর:
বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করা হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করা হয়
ব্যাখ্যা

গ্রিন হাউজ প্রভাব: 
- শীতপ্রধান দেশে গ্রিন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। 
- গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect) বলে। 
- গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট কথাটি সর্বপ্রথম সোভানটে আরহেনিয়াস প্রথম ব্যবহার করেন। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC) ইত্যাদি। 

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮৪৬.
গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে? 
  1. ওজোন
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. অক্সিজেন
  4. কার্বন মনো-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
পরিবেশ দূষণ: 
- প্রাকৃতিক কারণে অথবা মানুষের কার্যকলাপে সৃষ্ট উদ্ভুত দূষিত পদার্থ যখন পরিবেশকে বিষময় করে তোলে তখনই দূষণ শব্দটা ব্যবহার করা হয়। 
- পরিবেশের প্রাকৃতিক বিভিন্ন উপাদান, যেমন-মাটি, পানি, বায়ু ইত্যাদির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈব পরিবর্তন ঘটলে তা জীবজগতের উপর ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে, এটিকে পরিবেশ দূষণ বলে। 
- ক্ষতিকর পদার্থের বৃদ্ধির ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যহত হয়, তখনই পরিবেশ দূষিত হয়। 
- ধরিত্রী তার মানুষ দিয়েই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। 
যেমন- জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট সমস্যা, বনজ সম্পদ ধ্বংস, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, অপরিকল্পিত বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন, নদী-নালা, খাল-বিল ভরাট, ইটভাটা, ভূমিক্ষয়, অচল ও অধিক যানবাহন ব্যবহার ও অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার ইত্যাদি। 

জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট সমস্যা: 
- সমগ্র বিশ্বে আজ জলবায়ুর পরিবর্তনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে।
- এই জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন।
- ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা প্রভৃতি দেশ অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে হিমালয়ের বরফ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে।
- বিজ্ঞানীরা বলছেন, এভাবে যদি চলতে থাকে তবে আগামী ৩০ বছরে সমুদ্রের উপকূলবর্তী অনেক দেশ সমুদ্রের তলে বিলীন হয়ে যাবে।
- আমাদের দেশেরও অধিকাংশ ভূমি সমুদ্রতলে হারিয়ে যাবে। বিপন্ন হবে জীবন ও সম্পদ।
- এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খরা, নদীর প্রবাহ হ্রাস, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস পানযোগ্য পানির অভাব, মৎস্যসম্পদ ধ্বংস, ফসল উৎপাদন হ্রাস, ভূমিকম্প ইত্যাদি ভয়াবহ দুর্যোগে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৪৭.
বাংলাদেশে কত সালে প্রথম GIS-এর ব্যবহার শুরু হয়?
  1. ১৯৬৪ সালে
  2. ১৯৮৬ সালে
  3. ১৯৯১ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা
ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থাপনা (Geographic Information System):
- ভৌগোলিক তথ্য ও উপাত্ত ব্যবহার করে যে প্রক্রিয়ায় ডাটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং মানচিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয় তাকে বলা হয় ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থাপনা বা Geographic Information System (GIS)।
- এটি মূলত ভৌগোলিক তথ্য বিশ্লেষণের জন্য নির্মিত সফ্টওয়্যার।
- GIS সফট্ওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ESRI (Environmental System Research Institute).

⇒ জিআইএসের বিকাশ (Development of GIS):
- বৃটিশ গবেষক সোহো (Soho) ১৮৫৪ সালে লন্ডন শহরের ভয়াবহ কলেরা রোগের উপর কাজ করেন। তিনি নিশ্চিত হন যে, কিছু পাম্পের পানি দূষিত হয়ে কলেরা ছড়াচ্ছে। লন্ডন শহরের ঐ এলাকার পানির পাম্প এবং চারপাশে কী পরিমাণ লোকের মধ্যে কলেরা ছড়াচ্ছে বা মারা যাচ্ছে সে সম্পর্কে উপাত্ত সংগ্রহ করে তা মানচিত্রে দেখান। তাঁর এ গবেষণার ফলে সমস্যা অনুধাবন করে কলেরা রোগ দূর করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা সহজ হয়।
- ১৯৬৪ সালে কানাডিয়ান 'The Canadian Geographic Information System (CGIS)' এর মাধ্যমে জিআইএস এর ব্যবহার শুরু হয়।
- ১৯৮৬ সালে ESRI বাণিজ্যিকভাবে Arc/Info সফট্ওয়্যার তৈরি শুরু করে।

⇒ ১৯৯১ সালে ইসপান (Irrigation Support Project for Asia and the Near East) ফ্লাড অ্যাকশন প্লান-১৯ (ফ্যাপ-১৯) প্রকল্পে সর্বপ্রথম বাংলাদেশে জিআইএস ব্যবহার করে।
- ইসপান পরবর্তীতে ইজিআইএস (Environmental and GIS Support Projects for Water Sector Planning) নামে পুনর্গঠিত হয়েছে। 

⇒ জিআইএস এর কার্যপ্রণালি (Function of GIS):
১. উপাত্ত সংগ্রহ,
২. উপাত্ত আদান-প্রদান,
৩. উপাত্ত সংস্করণ,
৪. উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং,
৫. উপাত্ত উপস্থাপন ও ব্যবস্থাপনা।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৪৮.
সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা কোনটি?
  1. গ্লুঅন
  2. ফোটন
  3. গ্রাভিটন 
  4. Z বোসন
সঠিক উত্তর:
গ্লুঅন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লুঅন
ব্যাখ্যা

- সবল নিউক্লিয় বল হলো প্রকৃতির চারটি মৌলিক বলের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী বল। এই বল পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটন ও নিউট্রনগুলোকে একত্রে ধরে রাখে। গ্লুঅন (Gluon) নামক ভরহীন কণা বিনিময়ের মাধ্যমে এই বলটি ক্রিয়াশীল হয়। 

মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- এই মৌলিক বলগুলো হলো- 
১। মহাকর্ষ বল, 
২। তাড়িতচৌম্বক বল, 
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং 
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল। 
- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন। 

অন্যদিকে,
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন। 
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন। 
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।

৩,৮৪৯.
কোন ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে ?
  1. TMV
  2. রুবিওলা
  3. T2 ফায
  4. নিপাহ
সঠিক উত্তর:
T2 ফায
উত্তর
সঠিক উত্তর:
T2 ফায
ব্যাখ্যা
• T2 ব্যাকটেরিওফায:
- ফায একটি গ্রিক শব্দ যার অর্থ ভক্ষণ করা।
- প্রকৃত অর্থে ফায হলো ঐসব ভাইরাস যারা জীবদেহে অবস্থিত রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে।
- ফায এর জেনেটিক বস্তু ব্যাকটেরিয়ার দেহে প্রবেশ করে এবং এক সময় ব্যাকটেরিয়া কোষটি ধ্বংস হয়।
- তাই যে সমস্ত ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে তাদেরকে ব্যাকটেরিওফায বলা হয়। যেমন- T2 ব্যাকটেরিওফায।
- T2 ব্যাকটেরিওফায ভাইরাসের লাইটিক চক্রটি ৫টি ধাপে সংঘটিত হয়।
- যথা: ধাপ-১ : সংযুক্তি, ধাপ-২ : ফায প্রবেশ, ধাপ-৩ : অনুলিপন, ধাপ-৪ : বিভিন্ন দেহাংশ একত্রিত হওয়া এবং ধাপ-৫ : নতুন ভাইরাস মুক্তি।

উৎস: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৫০.
কৃষি জমিতে প্রধানত চুন ব্যবহার করা হয়-
  1. মাটির ক্ষয় রোধের জন্য
  2. মাটির অম্লতা বৃদ্ধির জন্য
  3. মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
  4. মাটির জৈব পদার্থ বৃদ্ধির জন্য
সঠিক উত্তর:
মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
ব্যাখ্যা
• কৃষি জমিতে চুন ব্যবহার:
- এসিড মাটি অনুর্বর।
- জমিতে বার বার অ্যামোনিয়াম সালফেটকে সার হিসেবে ব্যবহার করলে মাটিতে এসিডের মাত্রা বাড়ে।
- ফলে মাটি অনুর্বর হয়ে যায়।
- এই সারের সাথে চুন মিশালে এসিডের তীব্রতা হ্রাস পায়।
- তাই মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য চুন ব্যবহার করা হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৮৫১.
Which of the following is a blue planet?
  1. ক) Neptune
  2. খ) Venus
  3. গ) Jupiter
  4. ঘ) Mars
সঠিক উত্তর:
ক) Neptune
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Neptune
ব্যাখ্যা
সৌরজগতে পৃথিবীর পর অন্য যে গ্রহটি নীল গ্রহ (Blue Planet) নামে পরিচিত, তার নাম হলো নেপচুন। 

সৌরজগতের গ্রহসমূহের রং:
Mercury – Grey
Venus – Brown and grey
Earth – Blue, brown green and white
Mars – Red, brown and tan
Jupiter – Brown, orange and tan, with white cloud stripes
Saturn – Golden, brown, and blue-grey
Uranus – Blue-green
Neptune – Blue

উৎসঃ নাসা ওয়েবসাইট, স্পেস.কম ওয়েবসাইট।
৩,৮৫২.
কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক কে?
  1. বোর
  2. সত্যেন্দ্রনাথ বসু
  3. হাইজেনবার্গ
  4. ডিরাক
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ বসু
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা হয়। 
- ১৮০৩ সালে ডাল্টন পারমাণবিক তত্ত্ব দিয়েছেন, ১৮৯৭ সালে থমসন সেই পরমাণুর ভেতর ইলেকট্রন আবিষ্কার করেছেন, ১৯১১ সালে রাদারফোর্ড দেখিয়েছেন, পরমাণুর কেন্দ্রে খুবই ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াসে পজিটিভ চার্জগুলো থাকে। 
- কিন্তু দেখা গেল নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরন্ত ইলেকট্রনের মডেলটি কোনোভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না, কারণ বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় সূত্র অনুযায়ী এই অবস্থায় ইলেকট্রন তার শক্তি বিকিরণ করে নিউক্লিয়াসের ভেতর পড়ে যাবে; কিন্তু বাস্তবে তা কখনো ঘটে না। 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন, যা ব্যবহার করে কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়। 
- পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানী বোর পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করার জন্য কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করেন। 
- বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু ১৯২৪ সালে কোয়ান্টাম তত্ত্বের ধারণা ব্যবহার করে বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রদান করেন। এজন্য বিজ্ঞানী বসুকে কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়, এবং তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একশ্রেণির মৌলিক কণাকে বোসন (Boson) নাম দেওয়া হয়। 

- ১৯০০ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত এই সময়টিতে হাইজেনবার্গ, শ্রোডিঙ্গার, ডিরাকসহ অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী মিলে পদার্থের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের বাহক হিসেবে ইথার নামে একটি বিষয় কল্পনা করে নেওয়া হয়েছিল এবং ১৮৮৭ সালে মাইকেলসন ও মোরলি তার অস্তিত্ব আবিষ্কার করার চেষ্টা করে দেখান যে প্রকৃতপক্ষে ইথার বলে কিছু নেই এবং আলোর বেগ স্থির কিংবা গতিশীল সব মাধ্যমে সমান। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকে এই বিষয়টির ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকেই সর্বকালের সবচেয়ে চমকপ্রদ সূত্র E = mc2 বের হয়ে আসে, যেখানে দেখানো হয় বস্তুর ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাথে থিওরি অব রিলেটিভিটি ব্যবহার করে ডিরাক ১৯৩১ সালে প্রতি কণা (Anti Particle) অস্তিত্ব ঘোষণা করেন, যেটি পরের বছরেই আবিষ্কৃত হয়ে যায়।
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। 
- ১৮৯৬ সালে বেকেরেল দেখান যে পরমাণুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হচ্ছে। 
- ১৮৯৯ সালে পিয়ারে ও মেরি কুরি রেডিয়াম আবিষ্কার করেন এবং বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন পরমাণুগুলো আসলে অবিনশ্বর নয়, সেগুলো ভেঙে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৮৫৩.
পর্যায় সারণির কোন গ্রুপে নোবেল গ্যাস অবস্থান করে?
  1. গ্রুপ ১
  2. গ্রুপ ২
  3. গ্রুপ ১৮
  4. গ্রুপ ১৭
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ ১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ ১৮
ব্যাখ্যা

• নোবেল গ্যাসগুলি পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৮-এ অবস্থান করে। এই গ্যাসগুলোকে Inert Gas-ও বলা হয়, কারণ এরা রাসায়নিকভাবে খুবই স্থিতিশীল এবং সাধারণ পরিস্থিতিতে প্রায় কোনো যৌগ তৈরি করে না। এর প্রধান কারণ হলো এদের বাহ্যিক শক্তস্তর (ভ্যালেন্স শেল) পূর্ণ, যা অন্য পরমাণুর সাথে ইলেকট্রন শেয়ার বা গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। গ্রুপ ১৮-এ হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন এবং রেডন অন্তর্ভুক্ত। এরা সাধারণত গ্যাস আকারে থাকে, বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অক্রিয়। অন্য গ্রুপের ধাতু বা অ-ধাতুর তুলনায় নোবেল গ্যাসের প্রতিক্রিয়া খুবই সীমিত।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো গ) গ্রুপ ১৮।


• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির যেসব মৌলের পরমাণু সমূহ ইলেকট্রন আদান, প্রদান বা শেয়ারের মাধ্যমে বন্ধন গঠন করে না তাদেরকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়। 
- যৌগ গঠন না করার বৈশিষ্ট্যের কারণে এদেরকে নোবেল গ্যাস বলা হয়। 

• পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৮ এর মৌল গুলোকে বলা হয় নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
• এ গ্রুপের মৌল গুলো হল -
- হিলিয়াম (He),
- নিয়ন (Ne), 
- আর্গন (Ar), 
- ক্রিপটন (Kr), 
- জেনন (Xe), 
- রেডন (Rn), 
- ওগানেসন (Og)।

• গ্রুপ ১৮ এর মৌল অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় গ্যাস গুলোকে বলা হয় নোবেল গ্যাস।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।

৩,৮৫৪.
নিচের কোনটি রিট্রোভাইরাস?
  1. হার্পিস ভাইরাস
  2. ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস
  3. করোনা ভাইরাস
  4. হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস
সঠিক উত্তর:
হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
পোষক দেহে কীভাবে সংক্রমণ ও বংশবৃদ্ধি হয় তার ওপর ভিত্তি করে ভাইরাসকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যেমন- সাধারণ ভাইরাস ও রিট্রোভাইরাস।

HIV একটি রিট্রোভাইরাস।
এখানে ভাইরাল RNA থেকে DNA তৈরি হয়।


সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

 
৩,৮৫৫.
শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ কত? 
  1. 0
  2. 332 km/s
  3. 3×105 m/s
  4. 3×108 m/s
সঠিক উত্তর:
3×108 m/s
উত্তর
সঠিক উত্তর:
3×108 m/s
ব্যাখ্যা
আলোক: 
- আলো এক প্রকার বিকীর্ণ শক্তি তরঙ্গ। 
- এ বিকীর্ণ শক্তি তরঙ্গ সৃষ্টি করে স্পন্দন সহকারে উৎস থেকে সর্বদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- আলোর গতিবেগ মাধ্যমের উপর নির্ভরশীল। 
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ প্রায় 3×108 m/s বা 3×105 km/s
- বিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েল (Maxwell) প্রমাণ করেন যে, সব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয়। 
- এজন্য সব ধরনের আলোককে একত্রে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়। 
- দৃশ্যমান আলো হল বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৮৫৬.
গ্রিনিচের দ্রাঘিমা কত ডিগ্রী?
  1. ০°
  2. ৯০°
  3. ১৮০°
  4. ২৭০°
সঠিক উত্তর:
০°
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০°
ব্যাখ্যা
মূল মধ্যরেখা: 
- অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো হলো কাল্পনিক। 
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের কাছে গ্রিনিচ (Greenwich) মান মন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে তাকে মূল মধ্যরেখা বলে।
- গ্রিনিচের দ্রাঘিমা ০°।
- গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে ঐ স্থানের দ্রাঘিমা বলে।
- পৃথিবীর পরিধি দ্বারা উৎপন্ন কোণ ৩৬০°। মূল মধ্যরেখা, এই ৩৬০° কে ১° অন্তর অন্তর সমান দুই ভাগে অর্থাৎ পূর্ব ও পশ্চিমে ১৮০° করে ভাগ করেছে।
- অক্ষাংশের ন্যায় দ্রাঘিমাকেও মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করা হয়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩,৮৫৭.
p- টাইপ অর্ধপরিবাহকের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ফসফরাস
  2. খ) আর্সেনিক
  3. গ) বোরন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) বোরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বোরন
ব্যাখ্যা
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহকে সামান্য পরিমাণে ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসাবে মেশানো হলে তাকে p- টাইপ অর্ধপরিবাহক বলে।
যেমন- বোরন, এলুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম, ইন্ডিয়াম।
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহকে সামান্য পরিমাণে পঞ্চযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসাবে মেশানো হলে তাকে n- টাইপ অর্ধপরিবাহক বলে।
যেমন- ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি, বিসমাথ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৩,৮৫৮.
ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রদান করেন কত সালে?
  1. ক) ১৯০০ সালে
  2. খ) ১৯০১ সালে
  3. গ) ১৯০৩ সালে
  4. ঘ) ১৯০২ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯০০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯০০ সালে
ব্যাখ্যা
কোয়ান্টাম তত্ত্ব:
১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন।
এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়।
প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়।
কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৮৫৯.
কোন ধরনের ডিভাইস এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে?
  1. ক্যাপাসিটর
  2. রেকটিফায়ার
  3. ট্রানজিস্টর
  4. রেজিস্টর
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা

ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৮৬০.
বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র কোনটি?
  1. হাইগ্রোমিটার 
  2. ফ্যাদোমিটার
  3. ব্যারােমিটার 
  4. ম্যানােমিটার 
সঠিক উত্তর:
ব্যারােমিটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যারােমিটার 
ব্যাখ্যা

• বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র হলো ব্যারোমিটার (Barometer)। এটি মূলত বায়ুর চাপ মাপতে ব্যবহৃত হয়। ব্যারোমিটারের কাজের পদ্ধতি হলো বায়ুর ওজন দ্বারা একটি তরল বা যান্ত্রিক যন্ত্রে চাপের পরিবর্তন পরিমাপ করা। প্রচলিত ধরণের ব্যারোমিটারে সাধারণত পারদ (Mercury) ব্যবহার করা হয়, যা একটি উল্লম্ব নলিকায় রাখা থাকে। বায়ুর চাপ বাড়লে পারদের স্তর উপরে ওঠে এবং চাপ কমলে স্তর নিচে নামে। ব্যারোমিটার আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও ব্যবহৃত হয়, কারণ বায়ুর চাপের পরিবর্তন দিয়ে বৃষ্টি, কুয়াশা বা শুকনো আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া যায়।

অন্যদিকে, 
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৩,৮৬১.
মানবদেহে রোগ প্রতিরক্ষার দ্বিতীয় স্তর-
  1. ক) ত্বক
  2. খ) সিলিয়া
  3. গ) লিম্ফোসাইট
  4. ঘ) নিউট্রোফিল
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিউট্রোফিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিউট্রোফিল
ব্যাখ্যা

রোগ জীবাণু কিংবা পরজীবী আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য মানবদেহে সাধারণভাবে তিন ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা লক্ষ করা যায়।
প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর - ত্বক, সিলিয়া ও মিউকাস, এসিড, লাইসোজাইম এনজাইম ও রক্ত জমাট।
দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর - শ্বেত রক্তকণিকা থেকে উৎপন্ন বিভিন্ন ধরনের ফ্যাগোসাইটিক কোষ (ম্যাক্রোফেজ, নিউট্রোফিল ইত্যাদি), প্রদাহ সৃষ্টিকারী সাড়া ও দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রভৃতি দেহে দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর - ইমিউনিটি জনিত সাড়া (immune response) তৃতীয় স্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্তর্গত এবং এটি নির্দিষ্টভাবে (In specific) প্রতিরক্ষা প্রদান করতে পারে। অর্থাৎ বিশেষ বিশেষ জীবাণু বা পরজীবীর বিরুদ্ধে কিংবা বিশেষ কোনো অ্যান্টিজেন প্রতিরোধের জন্য এই ব্যবস্থায় ভিন্ন রকমের প্রতিহত পন্থা দেখা যায়।
উৎসঃ একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান ২য় পত্র বই।

৩,৮৬২.
নিচের কোনটি বিজারক পদার্থ?
  1. ক) অক্সালিক এসিড
  2. খ) পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট
  3. গ) তরল ব্রোমিন
  4. ঘ) ফেরিক ক্লোরাইড
সঠিক উত্তর:
ক) অক্সালিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অক্সালিক এসিড
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- হাইড্রোজেন, হাইড্রোজেন সালফাইড, কার্বন মনো অক্সাইড, নাইট্রাস এসিড, সালফিউরাস এসিড, অধিকাংশ ধাতু, কার্বন, ফেরাস লবণ, সোডিয়াম থায়ো সালফেট, অক্সালিক এসিড ইত্যাদি হলো বিভিন্ন বিজারক পদার্থের উদাহরণ।
- ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, অক্সিজেন, ওজোন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট, পটাশিয়াম ক্লোরেট ইত্যাদি হলো বিভিন্ন জারক পদার্থের উদাহরণ।

৩,৮৬৩.
একটি আদর্শ খাদ্য পিরামিডের সর্ব নিম্নস্তরে রয়েছে -
  1. ক) শর্করা
  2. খ) আমিষ
  3. গ) ভিটামিন
  4. ঘ) স্নেহ
সঠিক উত্তর:
ক) শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শর্করা
ব্যাখ্যা
আদর্শ খাদ্য পিরামিড
- যে কোনো একটি সুষম খাদ্য তালিকায় শর্করার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে।
- শর্করাকে নিচু স্তরেরেখে পর্যায়ক্রমে পরিমাণগত দিক বিবেচনা করে শাকসবজি, ফল-মূল, আমিষ, স্নেহ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যকে সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড তৈরি হয় তাকে আদর্শ খাদ্য পিরামিড বলে।
- পিরামিডের শীর্ষে রয়েছে স্নেহ বা চর্বি জাতীয় খাদ্য আর সর্ব নিম্নস্তরে রয়েছে শর্করা।


উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি
২. জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যাল
৩,৮৬৪.
ভিটামিন-বি তৈরি করতে পারে -
  1. Agaricus
  2. E. Coli
  3. Spirogyra
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
E. Coli
উত্তর
সঠিক উত্তর:
E. Coli
ব্যাখ্যা
ভিটামিন তৈরিতে- মানুষের অন্ত্রে বসবাসকারী Escherichia coli, Aerobacter, Aerogenes এবং অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াগুলো ভিটামিন ‘বি’, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিকোটিনিক অ্যাসিড, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, বায়োটিন, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন-কে ইত্যাদি প্রস্তুত ও সরবরাহ করে থাকে।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৬৫.
ফোটনের বেগের মান কত?
  1. 3 × 106 ms-1
  2. 3 × 1016 ms-1
  3. 3 × 108 ms-1
  4. 3 × 1036 ms-1
সঠিক উত্তর:
3 × 108 ms-1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
3 × 108 ms-1
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) 3 × 108 ms-1

ফোটন (Photon):
- ফোটন কণায় তাড়িতচৌম্বক বল বিদ্যমান।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন।

ফোটন কণার ধর্মসমূহ:
১. প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ।
২. শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C = 3 × 108  ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটে না।
৩. প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমাণ E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশি হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশি হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
৪. নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮৬৬.
মানুষের বৃদ্ধি হরমোন কী নামে পরিচিত?
  1. গ্লুকাগন
  2. সোমাটোস্ট্যাটিন
  3. সোমাটোট্রপিন
  4. ইনসুলিন
সঠিক উত্তর:
সোমাটোট্রপিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোমাটোট্রপিন
ব্যাখ্যা
মানবদেহের বৃদ্ধিতে দুটি হরমোন প্রধান ভূমিকা পালন করে।
- একটি হচ্ছে পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত গ্রোথ হরমোন (Growth Hormone, GH) এবং অন্যটি থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন (Thyroxine)।

• বৃদ্ধি হরমোন: 

- যে হরমোন দেহের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে তাকে গ্রোথ হরমোন বলা হয়। 
- মানুষের গ্রোথ হরমোন সাধারনভাবে সোমাটোট্রপিন নামে পরিচিত। 

• দেহের বৃদ্ধিতে গ্রোথ হরমোনের ভূমিকা:
- গ্রোথ হরমোন ১৯১টি অ্যামিনো এসিড নিয়ে গঠিত এক শিকল বিশিষ্ট একটি ক্ষুদ্র প্রোটিন অণু।
- মানুষের উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধিতে এ হরমোন প্রধান ভূমিকা রাখে বলে একে গ্রোথ হরমোন বলা হয়।

• মানুষের বৃদ্ধিজনিত অধিকাংশ শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ এ হরমোন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। যেমন-
- পেশির বৃদ্ধি: এ হরমোনের প্রভাবে প্রোটিন পরিপাকের ফলে সৃষ্ট সরল ও তরল অ্যামিনো এসিড কোষে গৃহীত হয় ও এদের গ্রহণ মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে, কোষে প্রোটিন সংশ্লেষের হার বেড়ে যায় ও পেশির বৃদ্ধি সাধন ঘটে।
-  দেহের ক্ষয়রোধ: সাধারণত ক্ষুধার্ত অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজ ও ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ কমে যায়। এ অবস্থায় গ্রোথ হরমোনের প্রভাবে রক্তে গ্লুকোজ ও ফ্যাটি এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দেহের ক্ষয় রোধ হয়।
- কঙ্কালতন্ত্রের বৃদ্ধি: তরুণাস্থির আয়তন বৃদ্ধি, অস্টিওরাস্টের আবির্ভাব, অস্থিতে ক্যালসিয়াম আয়ন সঞ্চয়, কনড্রিওসাইট ও অস্টিওসাইটের পূর্ণতা প্রাপ্তি ইত্যাদি সব কার্যক্রম এ হরমোন দিয়েই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- আয়ন বৃদ্ধি: এ হরমোনের প্রভাবে খাদ্যবস্তু থেকে সৃষ্ট বিভিন্ন আয়ন বিশেষ করে ক্যালসিয়াম আয়ন পৌষ্টিকনালি থেকে শোষিত হয় এবং বৃক্ক থেকে বিভিন্ন আয়ন শোষণের মাধ্যমে দেহে আয়ন বৃদ্ধি ঘটায়। এসব আয়ন দৈহিক বৃদ্ধির জন্য অত্যাবশ্যক।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৩,৮৬৭.
কোন ধাতু পানি অপেক্ষা হালকা?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম
  2. খ) ক্যালসিয়াম
  3. গ) সোডিয়াম
  4. ঘ) পারদ
সঠিক উত্তর:
গ) সোডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
পানিতে ভাসে এবং ছুরি দিয়ে কাটা যায়, সোডিয়ামকে পোড়ালে উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের শিখা পাওয়া যায়, এটি পানির থেকেও হালকা হয়।
৩,৮৬৮.
শব্দের কোন অস্তিত্বই নেই কোথায়?
  1. ক) মহাশূন্যে
  2. খ) পানিতে
  3. গ) বদ্ধ ঘরে
  4. ঘ) প্লাস্টিকের বক্সে
সঠিক উত্তর:
ক) মহাশূন্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মহাশূন্যে
ব্যাখ্যা

- শব্দ প্রতি সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে শব্দের গতি বা দ্রুতি বলে।
- কঠিন মাধ্যমে (যেমন- ইস্পাত, লোহা) শব্দ সবচেয়ে দ্রুত চলে,
- তরল মাধ্যমে (যেমন- পানি) তার চেয়ে ধীরে চলে‌,
- বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।

উল্লেখ্য, শব্দ মাধ্যম ছাড়া পরিবাহিত হতে পারে না। তাই শূণ্যতায় শব্দের কোন অস্তিত্বই নেই, গতি কম বা বেশি হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৮৬৯.
ডালজাতীয় ফসলের ক্ষেত্রে ইউরিয়া সার কয় ভাগে জমিতে প্রয়োগ করা হয়?
  1. ১ ভাগে
  2. ২ ভাগে
  3. ৩ ভাগে
  4. ৪ ভাগে
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
ব্যাখ্যা
ডালজাতীয় ফসল:
- যে সমস্ত মাঠ ফসল খেলে আমিষজাতীয় খাবারের অভাব দূর হয়, তাদেরকে ডালজাতীয় ফসল বলা হয়।
- যেমন-মসুর, মুগ, মাষকালাই, খেসারী, ছোলা, মটর ইত্যাদি।
- এরা লিগুমিনোসী পরিবারের ফসল বিধায় এদেরকে লিগিউমজাতীয় ফসল বলা হয়।
- রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া বাতাসের মুক্ত নাইট্রোজেন গ্রহণ করে এজাতীয় ফসলের মুলে নডিউল সৃষ্টি করে।
- এতে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।

⇒ মসুর ও মুগের ইংরেজি নাম যথাক্রমে Lentil ও Greengram এবং বৈজ্ঞানিক নাম যথাক্রমে Lens culinaris Vigna radiata মসুর সাধারণত কম তাপমাত্রা ও শুষ্ক জলবায়ু পছন্দ করে।
- এরা খরা সহিষ্ণু এবং বেশি বৃষ্টিপাত সহ্য করতে পারে না।
- বাংলাদেশে বিনা মসুর ১ থেকে ৭ বারি মসুর ১ থেকে ৭, মুকদিয়া ও জামালপুর ২ জাত উল্লেখযোগ্য।
- ফলে হেক্টরপ্রতি ১.৮-২.২ টন হয়ে থাকে।
- অপরদিকে মুগ ২৫-৩০ সে. তাপমাত্রায় ভালো জন্মায়।
- হালকা বৃষ্টিপাত ও উজ্জ্বল সূর্যালোকে মুগ চাষের জন্য বেশ ভালো।
- এদেশে বারিমুগ ১ থেকে ৬, বিনা মুগ ১ থেকে ৮ চাষ হয়ে থাকে।
- বেশির ভাগ জাতই সারা বছর চাষ করা যায়। ফল প্রতি হেক্টরে ০.৯-২.০ টন হয়ে থাকে।

⇒ সার প্রয়োগ:
- মসুর চাষে হেক্টর প্রতি ৪৫ কেজি ইউরিয়া, ৮৫ কেজি টিএসপি বা ডিএপি এবং ৩৫ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করতে হয়।
- জমি তৈরির শেষ চাষের সময় ইউরিয়া ছাড়া সব সার ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়।
- ইউরিয়া সার তিনভাগ করে প্রথম ভাগ চারা গজানোর ১৫-২০ দিন পর, দ্বিতীয় ভাগ ৩০-৪০ দিন পর এবং ৩য় ভাগ ৫০-৬০ দিন পর ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হয়।
- তবে পচা গোবর, কম্পোস্ট, খামারজাত সার ও জীবাণু সার এদের যে কোন একটি প্রয়োগ করলে ইউরিয়া সার লাগবে না।
- জীবানু সার প্রয়োগের পূর্বে এক কেজি মসুর বীজের সাথে ৫০ গ্রাম জীবাণু সার ও ৫০ গ্রাম চিটাগুড় মিশাতে হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৭০.
নিম্নলিখিত কোনটি পারকিনসন রোগের উপসর্গ নয়?
  1. কোষ্ঠকাঠিন্য
  2. চোখের পাতার কাঁপুনি
  3. মুখের অনড় থাকা
  4. রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস
সঠিক উত্তর:
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস
ব্যাখ্যা

- পারকিনসন রোগের উপসর্গ নয়- রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস। অন্যদিকে, পারকিনসন রোগের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে চোখের পাতার কাঁপুনি, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং কথা বলার সময় মুখের বাচনভঙ্গি না আসা অর্থাৎ মুখ অনড় থাকা এ রোগের অন্তর্ভুক্ত। 

পারকিনসন রোগ (Parkinson's disease): 
- পারকিনসন রোগ মস্তিষ্কের এমন এক অবস্থা, যেখানে হাতে ও পায়ের কাঁপুনি হয় এবং আক্রান্ত রোগীর নড়াচড়া, হাঁটাহাঁটি করতে সমস্যা হয়। 
- এই রোগ সাধারণত 50 বছর বয়সের পরে হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে যুবক-যুবতীদেরও হতে পারে, এই ক্ষেত্রে রোগটি তার বংশে রয়েছে বলে ধরা হয়। 
- স্নায়ুকোষ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে থাকে, যার একটি হলো ডোপামিন। 
- ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে। পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। 
- ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলো পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না, ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়। 
- বয়স বাড়ার সাথে সাথে পারকিনসনের কারণে রোগীর মাংসপেশি আরও অকার্যকর হয়ে উঠে, ফলে রোগীর চলাফেরা, লেখালেখি ইত্যাদি কাজ করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। 

- পারকিনসন রোগ সাধারণত ধীরে ধীরে প্রকট রূপে দেখা দেয়। 
- প্রাথমিক অবস্থায় রোগী হালকা হাত বা পা কাঁপা অবস্থায় থাকে, ফলে চলাফেরা বিঘ্নিত হয়। 
- এছাড়াও চোখের পাতার কাঁপুনি, কোষ্ঠকাঠিন্য, খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া, সোজাসুজি হাঁটার সমস্যা, কথা বলার সময় মুখের বাচনভঙ্গি না আসা অর্থাৎ, মুখ অনড় থাকা মাংসপেশিতে টান পড়া বা ব্যথা হওয়া, নড়াচড়ায় কষ্ট হওয়া, যেমন- চেয়ার থেকে উঠা কিংবা হাঁটতে শুরু করার সময় অসুবিধে হওয়া এমন নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। 
- ডাক্তারের পরামর্শে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি গ্রহণ, পরিমিত খাদ্য গ্রহণ এবং সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করার মাধ্যমে রোগী অনেকটা সুস্থ থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৮৭১.
নিম্নের কোনটি ফুলের প্রজনন অঙ্গ হিসেবে সরাসরি কাজ করে? 
  1. দল ও বৃন্ত
  2. পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক
  3. দল ও বৃতি
  4. বৃন্ত ও পুষ্পাধার
সঠিক উত্তর:
পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক
ব্যাখ্যা

প্রজনন অঙ্গ: ফুল 
- প্রজননের জন্য রূপান্তরিত বিশেষ ধরনের বিটপ (Shoot) হলো ফুল। 
- ফুল উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ। 
- একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি স্তবকের মধ্যে দুটি স্তবক (পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক) প্রজননের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ যারা সরাসরি প্রজননে অংশ নেয়, কিন্তু অন্য স্তবকগুলো সরাসরি অংশ না নিলেও প্রজননে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে। 
- যে ফুলে এই পাঁচটি স্তবকই উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- জবা, ধুতুরা। 
- এই পাঁচটি স্তবকের যেকোনো একটি স্তবক না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- লাউ, কুমড়া। 
- বৃন্তযুক্ত ফুলকে সবৃন্তক যেমন- জবা, কুমড়া এবং বৃন্তহীন ফুলকে অবৃন্তক ফুল বলে যেমন- হাতীশুঁড়। 
- যখন কোনো ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই উপস্থিত থাকে, তাকে উভলিঙ্গ ফুল (Bisexual flower) যেমন- জবা, ধুতুরা। 
- পুংস্তবক বা স্ত্রীস্তবকের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে একলিঙ্গ ফুল (Unisexual flower) যেমন লাউ, কুমড়া এবং দুটোই অনুপস্থিত থাকলে ক্লীব ফুল (Neuter flower) বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৮৭২.
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি শক্তির রূপান্তর হয় কোন শক্তি থেকে?
  1. তাপ শক্তি 
  2. যান্ত্রিক শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি
  4. আলোক শক্তি
সঠিক উত্তর:
তাপ শক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ শক্তি 
ব্যাখ্যা

 - পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি শক্তির রূপান্তর হয় তাপশক্তি থেকে।

তাপশক্তি (Heat Energy):
- পরিমাণের দিক থেকে বিবেচনা করলে নিঃসন্দেহে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি শক্তির রূপান্তর হয় তাপশক্তি থেকে।
- যাবতীয় যন্ত্রের যাবতীয় ইঞ্জিনে তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা হয়।
- থার্মোকাপলে (Thermocouple) দুটি ভিন্ন ধাতব পদার্থের সংযোগস্থলে তাপ প্রদান করে সরাসরি তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদাহরণ থাকলেও প্রকৃত পক্ষে প্রায় সবক্ষেত্রেই তাপশক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি এবং যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎশক্তি তৈরি করা হয়।
- (পরিবেশ রক্ষা করার জন্য আমরা আজকাল শক্তির অপচয় করতে চাই না। তাই তাপ দিয়ে আলো তৈরি হয় সে রকম লাইট বাল্ব ব্যবহার না করে আজকাল বেশি বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বাল্ব ব্যবহার করা হয়।)
- আমরা মোমবাতির শিখায় রাসায়নিক শক্তিতে সৃষ্ট তাপের কারণে উত্তপ্ত গ্যাসের কণা বা বাল্বের ফিলামেন্টে তাপকে আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হতে দেখি।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

৩,৮৭৩.
কোন গ্যাস বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী নয়?
  1. CFC
  2. NO3
  3. CO2
  4. N2O
সঠিক উত্তর:
NO3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NO3
ব্যাখ্যা

◉ NO3 (নাইট্রেট আয়ন) পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে, গ্রিনহাউস প্রভাব সৃষ্টি করে না।

গ্রিন হাউজ প্রভাব:
- গ্রিন হাউজ হলো এমন একটি কাঁচের ঘর যেখানে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে গাছপালা জন্মানোর জন্য উপযোগী আবহাওয়া তৈরিকরা হয়।
- সূর্যের আলো যখন এই কাঁচের ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে তখন ভিতরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- পৃথিবীও গ্রিন হাউজের মত এমন একটি আবাসস্থল যেখানে প্রতিদিনই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে যা পৃথিবী হতে দূরীভূত হচ্ছে না।
- গ্রিন হাউজের তাপমাত্রা ধরে রাখার প্রক্রিয়াটি বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রক্রিয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- এ কারণেই গ্রিন হাউজ এর সাথে মিল রেখে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করা হয়েছে গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়া হিসেবে।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়ন হলো বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
- এটিকে গ্রিন হাউজের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্যাসকে দায়ী করা হয়। এগুলো হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, মিথেন, ওজোন, জলীয়বাষ্প প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮৭৪.
এসিড ও ক্ষারের সংমিশ্রণে কোনটি উৎপন্ন হয়?
  1. লবণ ও পানি 
  2. লবণ ও গ্যাস
  3. পানি ও অক্সিজেন
  4. শুধুই লবণ
সঠিক উত্তর:
লবণ ও পানি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লবণ ও পানি 
ব্যাখ্যা

• এসিড-ক্ষার বিক্রিয়া: এটি এমন একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া যেখানে এসিড ও ক্ষার একে অপরের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ (Salt) এবং পানি (Water) উৎপন্ন হয়।

উদাহরণস্বরূপ:
HCl (হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড) + NaOH (সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড) → NaCl (লবণ) + H₂O (পানি)
এখানে, এসিডের H⁺ আয়ন এবং ক্ষারের OH⁻ আয়ন মিলে পানি তৈরি করে, এবং লবণ (NaCl) থাকে।

অপরদিকে, 
- লবণ ও গ্যাস: এটি শুধু কিছু বিশেষ বিক্রিয়ায় ঘটে, যেমন কার্বনেট যৌগ + অ্যাসিড।
- পানি ও অক্সিজেন: সাধারণ এসিড-ক্ষার বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় না।
- শুধুই লবণ: এটি ভুল, কারণ পানিও উৎপন্ন হয়। 

সুতরাং, এসিড ও ক্ষারের সংমিশ্রণে সর্বদা উৎপন্ন হয় লবণ ও পানি।

তথ্যসূত্র: NCTB মধ্যমিক রসায়ন।    

৩,৮৭৫.
কোন রক্তের গ্রুপে কোন এন্টিজেন নেই?
  1. ক) Group A
  2. খ) Group B
  3. গ) Group AB
  4. ঘ) Group O
সঠিক উত্তর:
ঘ) Group O
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Group O
ব্যাখ্যা

রক্তের O গ্রুপে কোন এন্টিজেন নেই।
রক্তের AB গ্রুপে কোন এন্টিবডি নেই।
রক্ত কণিকার প্লাজমামেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণিবিন্যাসকে রক্ত গ্রুপ (Blood Group) বলে।
আমেরিকার জীববিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার (Karl Landsteiner) ১৯০১ সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করেন। রক্ত কণিকায় অ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণিবিন্যাস করেন, তা ABO ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত। অনেক সময় একে ল্যান্ডস্টেইনার এর ব্লাড গ্রুপ বলে।
চার ধরনের রক্তের গ্রুপ আছে—A, B, AB এবং O। অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির ওপর ভিত্তি করে মূলত রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ করা হয়।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৩,৮৭৬.
কোমল পানীয়সমূহে কী দ্রবীভূত থাকে?
  1. বেকিং সোডা
  2. এসিটিক এসিড
  3. অক্সালিক এসিড
  4. সোডিয়াম ফ্লোরাইড
সঠিক উত্তর:
বেকিং সোডা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেকিং সোডা
ব্যাখ্যা
বেকিং সোডা (Baking Soda) :
বেকিং সোডা (NaHCO3)। বিভিন্ন খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। বেকিং সোডা ব্যবহার করে খাবার তৈরির বেলায় খাবারের উপাদান হিসেবে ভিনেগার বা লেবুর রস বা টক দই অথবা অন্য এমন কোন উপাদান থাকে যা অম্লধর্মী। এক্ষেত্রে NaHCO3 খাবারের অম্ল উপাদানের (যেমন- ভিনেগার) সাথে বিক্রিয়া করে H2CO3 এসিড উৎপন্ন করে। H2CO3 সহজেই বিয়োজিত হয় এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন করে যা রুটিকে ফুলতে সাহায্য করে। 

এটি কখনও কখনও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে পানীয়গুলিতে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা যেতে পারে। এখানে কয়েকটি উদাহরণ রয়েছে যেখানে বেকিং সোডা পানীয়গুলিতে ব্যবহার করা যেতে পারে:

Alka-Seltzer:
বেকিং সোডা হল কিছু অ্যান্টাসিড পণ্যের মূল উপাদান, যেমন আলকা-সেল্টজার। এই পণ্যগুলি পেটের অতিরিক্ত অ্যাসিড নিরপেক্ষ করে অম্বল, বদহজম এবং পেট খারাপ করতে সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

স্পোর্টস ড্রিংকস:
কিছু লোক তীব্র ব্যায়ামের সময় ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করতে বাফার করতে স্পোর্টস ড্রিংক বা জলে এক চিমটি বেকিং সোডা যোগ করে।  এই ব্যবহার  সাবধানতার সাথে করা উচিত, কারণ অত্যধিক বেকিং সোডা খাওয়া ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার দিকে পরিচালিত করতে পারে।

অ্যাসিড হ্রাস:
বেকিং সোডা পানীয়গুলিতে অতিরিক্ত অম্লতা নিরপেক্ষ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি পানীয় খুব অ্যাসিডিক হয়, তাহলে পিএইচ ভারসাম্য এবং অম্লতা কমাতে অল্প পরিমাণে বেকিং সোডা যোগ করা যেতে পারে।

উৎস: রসায়ন, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৩,৮৭৭.
কোনটি সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের উদাহরণ? 
  1. অলিয়িক এসিড
  2. লিনোলিক এসিড
  3. স্টিয়ারিক এসিড
  4. অক্সালিক এসিড
সঠিক উত্তর:
স্টিয়ারিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টিয়ারিক এসিড
ব্যাখ্যা
ফ্যাটি এসিড(Fatty Acid): 
- অ্যালিফেটিক এসিডের অণুতে একটি মাত্র কার্বক্সিলমূলক থাকলে এদেরকে মনোকার্বক্সিল এসিড বলে। 
- অ্যালিফেটিক মনোকার্বক্সিলিক এসিড শ্রেণীকে ফ্যাটি এসিডও বলা হয়, কারণ এ শ্রেণীর উচ্চতর সদস্যকে প্রাথমিকভাবে ‘ফ্যাট বা চর্বি' থেকে অম্লীয় আর্দ্র বিশ্লেষণে প্রস্তুত করা হয়। 
যেমন- পামিটিক এসিড [CH3(CH2)14.COOH), স্টেয়ারিক এসিড (CH3(CH2)16.COOH] ইত্যাদি। 
- সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের সাধারণ সংকেত হল CnH2n+1-COOH. 
- ফ্যাটি এসিড সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত উভয় প্রকার হতে পারে। 

সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের উদাহরণ: 
(১) প্রোপানোয়িক এসিড CH3CH2COOH, 
(২) স্টিয়ারিক এসিড C17H35COOH
(৩) পামিটিক এসিড C15H31COOH ইত্যাদি। 

অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের উদাহরণ: 
(১) অক্সালিক এসিড CH2=CHCOOH, 
(২) অলিয়িক এসিড C17H33COOH, 
(৩) লিনোলিক এসিড C17H31COOH ইত্যাদি। 
- অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের কার্বন শিকলে এক বা একাধিক দ্বি-বন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৩,৮৭৮.
নিচের কোন পদার্থ ফটো ইলেকট্রিক ক্রিয়া প্রদর্শন করে না?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. আয়রন
  3. পটাশিয়াম
  4. রুবিডিয়াম
সঠিক উত্তর:
আয়রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়রন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, রুবিডিয়াম প্রভৃতি ধাতুর উপর আলো পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেক্ট্রন নির্গত হতে দেখা যায়।
ফটো- ইলেক্ট্রিক কোষ এই নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত।
এরূপ একটি কোষে আলো ফেলে বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি করা যায়। এক্ষেত্রে আলোক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,৮৭৯.
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে বেশি শক্ত ধাতুর নাম কি?
  1. ক) হীরা
  2. খ) রুপা
  3. গ) স্বর্ণ
  4. ঘ) তামা
সঠিক উত্তর:
গ) স্বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্বর্ণ
ব্যাখ্যা

প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু টাংস্টেন।
অপশনে টাংস্টেন নেই। অপশন গুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্ত স্বর্ণ, তারপর যথাক্রমে রুপা এবং তামা।
উল্লেখ্য, প্রকৃতির সবচেয়ে শক্ত পদার্থ হীরা (অধাতু)। হীরা কার্বনের একটি রূপ।

৩,৮৮০.
নিচের কোনটি একটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ?
  1. রেডন
  2. রেডিয়াম
  3. থোরিয়াম
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- কয়েকটি বিশেষ ধরনের নিঃসরণ করে ভারী নিউক্লিয়াসগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে দুর্ঘটনা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলে বের হয়ে আসা তেজস্ক্রিয় পদার্থ দিয়ে মাটির মারাত্মক দূষণ হয়ে থাকে। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন: রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th), ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি শুধু মাটির উর্বরতাই নষ্ট করে না, এরা প্রাণীদেহের ত্বক ও ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। 
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮৮১.
মানবদেহের সংরক্ষক খাদ্য উপাদান কোনটি?
  1. আমিষ
  2. স্নেহ
  3. শর্করা
  4. ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন
ব্যাখ্যা
পরিশোষক বা নিউট্রিয়েন্টস: 
- পুষ্টিবিজ্ঞান অনুসারে খাদ্য হলো যেগুলো জীবদেহের বৃদ্ধি, শক্তি উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ এবং ক্ষয়পূরণ করে অর্থাৎ দেহের পুষ্টি সাধন করে। 
- পুষ্টি হলো পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্যবস্তু আহরণ করে খাদ্যবস্তুকে পরিপাক ও শোষণ করে এবং আত্তীকরণ দ্বারা দেহের শক্তির চাহিদা পূরণ, রোগ প্রতিরোধ, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করে। 
- খাদ্যের যেসব জৈব অথবা অজৈব উপাদান জীবের জীবনীশক্তির যোগান দেয়, তাদেরকে একসঙ্গে পরিশোষক বা নিউট্রিয়েন্টস (Nutrients) বলে। 
যেমন: গ্লুকোজ, খনিজ লবণ, ভিটামিন ইত্যাদি হচ্ছে নিউট্রিয়েন্টস। 
- খাদ্যের কাজ প্রধানত তিনটি। 
যথা: 
১। খাদ্য দেহের গঠন, বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে। 
২। খাদ্য দেহে তাপ উৎপাদন করে, কর্মশক্তি প্রদান করে। 
৩। খাদ্য রোগ প্রতিরোধ করে, দেহকে সুস্থ, সবল এবং কর্মক্ষম রাখে। 

- খাদ্যের উপাদান মোট ৬ টি। 
যথা:- শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং পানি। 
- এগুলোর মধ্যে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ পদার্থ ( বা ফ্যাট) দেহ পরিপোষক খাদ্য। 
- খাদ্যের শর্করা ও স্নেহকে বলা হয় শক্তি উৎপাদক খাদ্য এবং আমিষযুক্ত খাদ্যকে বলা হয় দেহ গঠনের খাদ্য। 
- ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি দেহ সংরক্ষক খাদ্য উপাদান, যেগুলো দেহের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮৮২.
Adult Cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম হয়েছে তার নাম দেয়া হয়েছে-
  1. শেলী
  2. ডলি
  3. মলি
  4. নেলী
সঠিক উত্তর:
ডলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডলি
ব্যাখ্যা
- Adult cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম হয়েছে তার নাম দেয়া হয়েছে ডলি
- ডলি হলো মানব-ইতিহাসে প্রথম সফল স্তন্যপায়ী প্রাপ্তবয়স্ক ক্লোন প্রাণী।
- ডলির জন্ম হয় ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই।
- ডলির নামকরণ করা হয় আমেরিকার বিখ্যাত শিল্পী ডলি পের্টনের নামে।
- ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফুসফুসে জটিলতার কারণে মাত্র সাড়ে ছয় বছর বয়সে মারা যায় ডলি।
- ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব স্কটল্যান্ডে সংরক্ষিত আছে ডলির স্টাফ করা দেহ।

উৎস: বিবিসি ওয়েবসাইট।
৩,৮৮৩.
ভিটামিন ডি’র ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. ক) এর অভাবে রিকেটস হয়
  2. খ) ক্যালসিয়াম শোষণে এর ভূমিকা আছে
  3. গ) দাঁত ও হাড় গঠনে এই ভিটামিন প্রয়োজনীয়
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ, দাঁত ও হাড় গঠন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে ভিটামিন 'ডি' প্রয়োজন। এর অভাবে রিকেটস রোগ হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি
৩,৮৮৪.
প্রকৃতির লাঙ্গল বলা হয় কাকে?
  1. ইঁদুর
  2. সজারু
  3. কেঁচো
  4. খরগোশ
সঠিক উত্তর:
কেঁচো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেঁচো
ব্যাখ্যা
কেঁচো
- মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈব প্রক্রিয়ায় কেঁচো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেই ‘প্রকৃতির লাঙল’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- এরা জৈব উপাদান ভেঙে মাটির উর্বরতা বাড়ায়। পাশাপাশি উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও পুষ্টি উপাদানের জোগান দেয়।
- মাটির ভেতর দিয়ে চলাফেরার সময় কেঁচোরা মাটি ভাঙে এবং মেশায়।
- এতে মাটির উর্বরতা বাড়ে এবং বন্যা ও ভাঙন রোধ হয়। এ কারণে প্রাণীটিকে ‘মাটি প্রকৌশলী’ও বলা হয়।
- তা ছাড়া এদের মাটির স্বাস্থ্য এবং বিষাক্ততা পরিমাপকও বলা চলে।
- এছাড়াও কেঁচো পরিবেশ দূষণ রোধ করতে পারে। সিসার মতো ক্ষতিকর উপাদানের প্রভাব এরা মাটি থেকে দূর করে দেয়।
- মাটির উর্বরতা রক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করে বলেই কেঁচোকে ‘প্রকৃতির লাঙল’ বলা হয়।

উৎস: সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই।
৩,৮৮৫.
বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কত? 
  1. ০.০১% 
  2. ০.৪১% 
  3. ১.২৭% 
  4. ০.৮০% 
সঠিক উত্তর:
০.৪১% 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.৪১% 
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল: 
- মূলত ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উর্ধ্ব দিকে যে বায়বীয় আস্তরণ তাই বায়ুমণ্ডল নামে পরিচিত এবং এই মণ্ডলটি নানা প্রকার গ্যাসীয় উপাদান দ্বারা গঠিত। 
- পৃথিবীর আকর্ষণে আকৃষ্ট হয়ে এ বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সঙ্গে আবর্তিত হচ্ছে। তবে বায়ুমণ্ডল কঠিন ভূমির সাথে সমানভাবে চলতে পারে না বরং কিছুটা পশ্চাতে পড়ে থাকে। 
- বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯৭ শতাংশই ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটার এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। 
- বায়ুমণ্ডলের একটির উপর আরেকটি পর্যায়ক্রমে অবস্থিত। সাধারণত উপরের স্তরের বায়ু নিচের বায়ুস্তরে ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। বায়ুর এই চাপের জন্যই পৃথিবীপৃষ্ঠ হতে যত উপরে উঠা যায়, বায়ুর ঘনত্ব ততই কমতে থাকে। 
- তবে সমুদ্রপৃষ্ঠে এই বায়ুচাপের ঘনত্ব সব থেকে বেশি দেখা যায়। 

বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 
- পৃথিবীপৃষ্ঠ ও তার চারদিক জুড়ে বায়ুমণ্ডল বেষ্টিত, এই মণ্ডল নানা রকমের গ্যাসের মিশ্রণে গঠিত হয়েছে। 
- এই গ্যাসীয় মিশ্রণ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ৮০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত প্রায় সমান। 
- বায়ুমণ্ডলে আরও রয়েছে অসংখ্য ধূলিকণার সংমিশ্রণ, এই সব কঠিন ও তরল কণিকাকে একত্রে বলা হয় রঞ্জক পদার্থ (Aerosols)। 
- বায়ুমণ্ডলের বর্ণ, গন্ধ, আকার কিছুই নেই; তাই বায়ুমণ্ডলের এই সব উপাদান স্বাভাবিক অবস্থায় অনুভব করা যায় না। 
সুতরাং, বায়ুমণ্ডলের উপাদান বলতে বিভিন্ন প্রকার গ্যাস, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কণিকার সংমিশ্রণকে বুঝায়। 
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকারের গ্যাসীয় উপাদান দ্বারা গঠিত। বিশুদ্ধ ও শুষ্ক বায়ুর প্রধান দুইটি উপাদানের নাম নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন। এই দুটি গ্যাস একত্রে মিলে বায়ুমণ্ডলের ৯৮.৭৩ শতাংশ জায়গা জুড়ে আছে এবং বাকি ১.২৭ শতাংশ জায়গা জুড়ে আছে অন্যান্য গ্যাসীয় উপাদান। 
উপাদানের নাম ⇔ শতকরা হার (%): 
• নাইট্রোজেন ⇔ (N2) ৭৮.০২, 
• অক্সিজেন ⇔ (O2) ২০.৭১, 
• আর্গন ⇔ (Ar2) ০.৮০, 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) ⇔ ০.০৩, 
• অন্যান্য গ্যাসমূহ (ওজোন, মিথেন, জেনন, নাইট্রাস অক্সাইড, নিয়ন, হিলিয়াম ও ক্রিপটন) ⇔ ০.০২, 
জলীয়বাষ্প ⇔ ০.৪১ এবং 
• ধূলিকণা ও কণিকা ⇔ ০.০১ । 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮৮৬.
পিত্তরসের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী? 
  1. অম্লীয়, লালচে তরল 
  2. অম্লীয়, বাদামী তরল 
  3. ক্ষারজাতীয়, স্বচ্ছ তরল 
  4. ক্ষারজাতীয়, হলদে সবুজ তরল 
সঠিক উত্তর:
ক্ষারজাতীয়, হলদে সবুজ তরল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষারজাতীয়, হলদে সবুজ তরল 
ব্যাখ্যা

যকৃত (Liver): 
- মানুষের মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে পাকস্থলির ডানদিকে বিস্তৃত গাঢ় লালচে বর্ণের ত্রিকোণাকার ও পিত্তরস নিঃসরণকারী গ্রন্থিকে যকৃত বলা হয়। 
- যকৃতের বেশির ভাগ অংশ দেহের ডানদিকে অবস্থিত। 
- যকৃত মানবদেহের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ গ্রন্থি। 
- একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি। 
- এটি চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে বিভক্ত। ডান খণ্ডটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং এই খণ্ডের নিচে পেয়ালার মতো পিত্তরস ধারণকারী একটি থলে থাকে, একে পিত্তথলি বলে। 
- পিত্তথলি ৭-৮ সে.মি. লম্বা, পিত্তথলি থেকে পিত্ত ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়। 
- পিত্তরস হলদে সবুজ বর্ণের একটি ক্ষার জাতীয় তরল পদার্থ, এতে শতকরা ৮০% পানি ও ২০% অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান থাকে। 
- যকৃত থেকে ক্ষরণকৃত পিত্তরসে, খাদ্য পরিপাকে সাহায্যকারী কোন এনজাইম না থাকায় খাদ্য পরিপাকে এদের প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা নেই। তবে এরা শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন প্রভৃতি খাদ্যকে পরিপাকের পর রক্তস্রোতে পরিবাহিতকরণে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮৮৭.
ডেঙ্গু জ্বরে রোগীকে কোন জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে না?
  1. প্যারাসিটামল
  2. এন্টিবায়োটিক
  3. এসপিরিন
  4. অ্যাসিটামিনোফেন
সঠিক উত্তর:
এসপিরিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসপিরিন
ব্যাখ্যা
• ডেঙ্গু জ্বরে রোগীকে এসপিরিন জাতীয় ওষুধ দেয়া যাবে না।

• ডেঙ্গু জ্বর:
- ডেঙ্গু একটি ভাইরাসঘটিত রোগ।
- এই ভাইরাসের জীবাণুর নাম ফ্ল্যাভি ভাইরাস বা ভেঙ্গী ভাইরাস।
- এটি একটি RNA ভাইরাস।
- এই ভাইরাসের বাহক হলো Aedes aegypti L. ও Aedes albopictus নামক মশকী (স্ত্রী মশা)।
- এর পোষক দেহ হলো মানুষ।
- প্রতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় ১০ কোটি মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়।
- ডেঙ্গু জ্বরে ১০৩-১০৫° ফারেনহাইট হয়ে থাকে।
- সাধারণত ডেঙ্গু মশা কামড়ানোর ২-৭ দিন পর জ্বর দেখা দেয়।
- ডেঙ্গু জ্বরে রোগীর তীব্র মাথা ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেট ব্যাথা, কপাল ব্যথা ও গলা ব্যথা হয়।
- মেরুদণ্ডের ব্যথাসহ কোমরে ব্যথা এই রোগের বিশেষ লক্ষণ। একে হাড়ভাঙ্গা জ্বর বলে।
- প্লেটিলেট পরীক্ষায় রক্তের অনুচক্রিকার সংখ্যা ১৫০০০০/mm এর অনেক নিচে নেমে আসে।
- ব্যথা ও জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৩,৮৮৮.
Which is not a part of the forebrain?
  1. Cerebrum
  2. Thalamus
  3. Cerebellum
  4. Hypothalamus
  5. None
সঠিক উত্তর:
Cerebellum
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cerebellum
ব্যাখ্যা
⇒ সেরেবেলাম অগ্রমস্তিষ্কের অংশ নয়।
- এটি পশ্চাৎ মস্তিষ্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মস্তিষ্ক:
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে স্ফীত অংশ করোটির মধ্যে অবস্থান করে এবং মানবদেহের সকল কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে তাকে মস্তিষ্ক বলে।
- প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন প্রায় ১৫০০ ঘন সেন্টিমিটার, গড় ওজন প্রায় ১.৩৬ কেজি এবং প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন থাকে।
- মস্তিষ্ক স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে বড়, জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত। যথা-
(১) অগ্রমস্তিষ্ক,
(২) মধ্যমস্তিষ্ক ও
(৩) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

(১) অগ্রমস্তিষ্ক:
- অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে।
- এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা-
(ক) সেরেব্রাম,
(খ) থ্যালামাস ও
(গ) হাইপোথ্যালামাস।

• সেরেব্রাম:
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে)।
- প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।
- সেরেব্রাম বাকশক্তি, স্মৃতি শক্তি, চিন্তা, বুদ্ধি-বৃত্তি, সৃজনশীলতা, ইচ্ছা শক্তি, সহজাত প্রবৃত্তি, কর্মপ্রেরণা প্রভৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট।
- সর্বোপরি মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

• থ্যালামাস:
- সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের নিচে দুটি ক্ষুদ্র ও ডিম্বাকৃতির থ্যালামাস থাকে যা ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- থ্যালামাস সংবেদী-উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং রিলে করে সেরেব্রামে পাঠায়।

• হাইপোথ্যালামাস:
- এটি থ্যালামাসের ঠিক নিচে ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- এটি অন্ততঃ এক ডজন পৃথক অঞ্চলে বিভক্ত থাকে।
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সকল কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, রাগ, ভাল লাগা, ভীতি, আবেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- পিটুইটারী গ্রন্থিও বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ করে।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৮৯.
টেলিভিশনে চলমান ছবি পাঠাতে হলে প্রতি সেকেন্ডে কতটি স্থিরচিত্র পাঠাতে হয়?
  1. ক) ০৯
  2. খ) ১৫
  3. গ) ২০
  4. ঘ) ২৫
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৫
ব্যাখ্যা
টেলিভিশনে চলমান ছবি বা ভিডিও পাঠাতে হলে প্রতি সেকেন্ডে ২৫টি স্থিরচিত্র পাঠাতে হয় এবং তখন সেগুলো আলাদা আলাদা স্থিরচিত্র মনে না হয়ে একটি চলমান ছবি মনে হয়।
উৎস: বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি
৩,৮৯০.
পরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধের ক্রম কোনটি?
  1. 10- 4 Ωm
  2. 10- 8 Ωm
  3. 10- 12 Ωm
  4. 10- 16 Ωm
সঠিক উত্তর:
10- 8 Ωm
উত্তর
সঠিক উত্তর:
10- 8 Ωm
ব্যাখ্যা
• পরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 10- 8 Ωm ক্রমের।

• পরিবাহী:

- যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে।
- যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি।
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী।
- পরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 10- 8 Ωm ক্রমের।
- পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে।
- পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য ঘটালেই ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে এর তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

• অপরিবাহী:
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে।
- অপরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 10- 12 Ωm ক্রমের।

• অর্ধপরিবাহী:
- কিছু কিছু পদার্থ আছে যা দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে।
- পরিবাহীর চেয়ে অত্যন্ত কম কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে।
- অর্ধপরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 10- 4 Ωm ক্রমের।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৯১.
মানব দেহে অস্থির সংখ্যা কয়টি?
  1. ২০৩টি
  2. ২০৫টি
  3. ২০৬টি
  4. ২০৮টি
সঠিক উত্তর:
২০৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০৬টি
ব্যাখ্যা
অস্থি বা হাড় যোজক কলার রূপান্তরিত রূপ। এটি দেহের সবচেয়ে দৃঢ় কলা।

- লম্বা, ছোট, অসমান, চ্যাপ্টা মিলিয়ে মোট ২০৬ টি অস্থির সমন্বয়ে পূর্ণ বয়স্ক মানব কঙ্কাল গঠিত হয়। শিশুর কঙ্কালে অস্থির সংখ্যা আরো বেশি থাকে।
- অস্থি মূলত ফসফরাস, সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের বিভিন্ন যৌগ দিয়ে তৈরি।
- অস্থিতে ৪০ থেকে ৫০ ভাগ পানি থাকে
- অস্থির বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন।
- মানবদেহে অক্ষীয় কঙ্কালে অস্থির সংখ্যা ৮০টি। 
- বক্ষপিঞ্জরে মোট অস্থির সংখ্যা ২৫টি।
- এক পায়ে মোট ৩০টি এবং দুই পা মিলিয়ে মোট ৬০টি অস্থি রয়েছে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৩,৮৯২.
পর্যাবৃত্ত গতি কেমন হয়?
  1. সরল রৈখিক
  2. উপবৃত্তাকার
  3. বৃত্তাকার
  4. উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পর্যাবৃত্ত গতি: 
- কোনো বস্তু নিৰ্দ্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে অতিক্রম করলে যে গতি উৎপন্ন হয় তাকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে। 
- এই গতি বৃত্তাকার, উপবৃত্তাকার, সরল রৈখিকও হতে পারে। 
- পর্যায় গতিসম্পন্ন বস্তু বা বস্তু কণার একই দিক থেকে নির্দিষ্ট বিন্দুটি অতিক্রম করতে যে সময় লাগে তাকে পর্যায়কাল বলে। 
- পর্যাবৃত্ত গতি দু' ধরণের। যথা- ঘুর্ণন গতি ও স্পন্দন গতি। 

- ঘড়ির কাঁটা, বৈদ্যুতিক পাখা সবসময় একই দিকে চলছে। আবার দোলনায় দোল খাওয়া, পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি সবসময় একই দিকে হচ্ছে না, কিছুক্ষণ পরপর গতির দিক পাল্টে যাচ্ছে। 
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন কোনো বস্তু পর্যায়কালের অর্ধেক সময় কোনো নির্দিষ্ট দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় বিপরীত দিকে চলে তবে ঐ গতিকে স্পন্দন গতি বা ছন্দিত গতি বলে। 
- রক্তনালীর মধ্য দিয়ে রক্তের গতি, পানির তরঙ্গের গতি, সরল দোলকের গতি এধরনের ছন্দিত গতি। 

- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তা হলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে।
যেমন- কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচে গতি, তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি, পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি সরল ছন্দিত গতির উদাহরণ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৯৩.
গয়টার বা গলগন্ড মানবদেহের কোন গ্রন্থির সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) পিটুইটারি
  2. খ) যকৃত
  3. গ) থাইরয়েড
  4. ঘ) লালাগ্রন্থি
সঠিক উত্তর:
গ) থাইরয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) থাইরয়েড
ব্যাখ্যা

গয়টার (Goitre)
প্রচলিত অর্থে গলগণ্ড বলতে থাইরয়েড গ্রন্থির যেকোনাে ফোলাকে বােঝায়। গলগণ্ডের কিছু বিশেষ ধরনকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে গয়টার নামে ডাকা হয়, অর্থাৎ সব গলগণ্ড গয়টার নয়।
টিউমার, ক্যান্সার, প্রদাহসহ নানা কারণে থাইরয়েড ফুলে যেতে পারে, সেগুলাে গয়টার নয়। গয়টার থাইরয়েড গ্রন্থির কোনাে নির্দিষ্ট রােগ বােঝায় না, বরং থাইরয়েডের বিভিন্ন রােগের এক সাধারণ বহিঃপ্রকাশকে বােঝায়। নানা কারণে গয়টার হতে পারে। খাবারে আয়ােডিনের অভাব গলগণ্ডের অন্যতম কারণ। সমুদ্র থেকে দূরে উত্তর বঙ্গ এবং পার্বত্য এলাকার মাটিতে আয়ােডিন কম থাকায় ওই সব অঞ্চলের মানুষের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

৩,৮৯৪.
'সমুদ্রের ঢেউ' কোন ধরনের শক্তির উৎস?
  1. গ্রীন শক্তি
  2. অনবায়নযোগ্য শক্তি
  3. নবায়নযোগ্য শক্তি
  4. ক+গ
সঠিক উত্তর:
ক+গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক+গ
ব্যাখ্যা

শক্তির উৎস:
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার।
- একটি হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস এবং অন্যটি হচ্ছে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

• নবায়নযোগ্য শক্তি:
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়।
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়।
- নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: সৌরশক্তি, জোয়ার-ভাটা, ভূ-তাপীয় শক্তি,বায়ু শক্তি, জলবিদ্যুৎ, সমুদ্রের ঢেউ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, নিউক্লিয় শক্তি ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮৯৫.
Photosynthesis takes place in-
  1. ক) Roots of the plants
  2. খ) Stems of the plants
  3. গ) Green parts of the plants
  4. ঘ) All parts of the plants
সঠিক উত্তর:
গ) Green parts of the plants
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Green parts of the plants
ব্যাখ্যা
Photosynthesis takes place inside plant cells in small things called chloroplasts. Chloroplasts (mostly found in the mesophyll layer) contain a green substance called chlorophyll. Photosynthesis takes place in green parts of the plants.
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৩,৮৯৬.
কোনটি স্বাভাবিক অঙ্গজ জননের সাহায্যে বংশবিস্তার করে?
  1. লেবু
  2. জবা
  3. পুদিনা
  4. পটল
সঠিক উত্তর:
পটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটল
ব্যাখ্যা
দেহ অঙ্গের মাধ্যমে জনন:
- দেহ অঙ্গের মাধ্যমে অযৌন জনন ঘটে। এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও বলা হয়। 
- এটি দুই ভাবে হতে পারে।
যথা- (ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং (খ) কৃত্রিম অঙ্গজ জনন।

 স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন:
- স্বাভাবিক অঙ্গজ জননে কিছু কিছু উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।
যেমন- মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল ইত্যাদি।
 

- কতিপয় উদ্ভিদের কান্ড থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।
যেমন- আদা, হলুদ, সটি, আলু, ওল কচু ইত্যাদি। 

- কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।
যথা- পাঁথরকুচি।

কৃত্রিম অঙ্গজ জনন:
- শাখা কলম: কতিপয় উদ্ভিদের শাখা কেটে ভেজা মাটিতে রোপন করলে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।
যেমন- গোলাপ, চাঁপা, জবা ইত্যাদি ।

- গুটি কলম: অনেক উদ্ভিদের শাখার চারপাশের বাকল ছাড়িয়ে নিয়ে তার চারদিকে সার ও গোবর মাটির প্রলেপ দিয়ে তার উপরে খড় বা চটের বস্তা বেঁধে রাখলে, উক্ত স্থানে শিকড় গজায়, তখন শিকড়সহ শাখাটি থেকে আলাদা করে অন্যত্র রোপন করা হয়।
যেমন- গোলাপ, আম, লেবু, লিচু ইত্যাদি। 

- দাবা কলম: এক্ষেত্রে গাছের একটি শাখাকে মাটির সাথে আবদ্ধ করে প্রত্যেক দিন উক্ত স্থানে পানি দেয়া হয়। কয়েক দিনের মধ্যে মাটিতে আবদ্ধ শাখার পর্ব থেকে মূল গজায়। পরে মূলসহ শাখাটিকে কেটে অন্যত্র রোপন করা হয়।
যেমন- চন্দ্রমল্লিকা, পুদিনা, লেবু ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৯৭.
বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দান করার পর কী হয়? 
  1. নিজেই বিজারিত হয়
  2. নিজেই জারিত হয় 
  3. নিজে শক্তিশালী হয় 
  4. কোনো পরিবর্তন হয় না 
সঠিক উত্তর:
নিজেই জারিত হয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিজেই জারিত হয় 
ব্যাখ্যা

বিজারক পদার্থ (Reductant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। 
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (H), Li, Na, K, Rb প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। 
- এছাড়াও Mg, Ca, SO2, H2S, H2O2 প্রভৃতি বিজারক পদার্থ। 

জারক পদার্থ (Oxidant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। 
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। 
যেমন- SO2, O2, Cl2, Br2, HNO3, H2SO4, H2O2 ইত্যাদি জারক পদার্থ। 

উল্লেখ্য যে, 
- SO2 একই সাথে জারক এবং বিজারক হিসেবে কাজ করে।
- H2O2 সচরাচর জারকের মত ব্যবহার করলেও অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণে বিজারক হিসেবে কাজ করে।

উৎস: নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮৯৮.
নিচের কোনগুলো রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত প্রধান হরমোন?
  1. থাইরক্সিন ও অ্যাড্রেনালিন
  2. ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন
  3. সিক্রেটিন ও গ্যাস্ট্রিন
  4. মেলাটোনিন ও কর্টিসল
সঠিক উত্তর:
ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন
ব্যাখ্যা

• ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন হলো অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত প্রধান হরমোন, যা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে মূল ভূমিকা পালন করে।

• অগ্ন্যাশয় (Pancreas):
- অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পিছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি।
- এটি একাধারে বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে।
- বহিঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়।
- অগ্ন্যাশয়রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক এনজাইম থাকে।
- এসব এনজাইম যথাক্রমে আমিষ, স্নেহজাতীয় খাদ্য ও শর্করা পরিপাকে সহায়তা করে।
- অগ্ন্যাশয় দেহের অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা ও দেহতাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
 
• অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়:
- অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে।
- এই অংশ থেকে ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন নিঃসৃত হয়।
- ইনস্যুলিন রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজকে কোষে প্রবেশে সহায়তা করে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায়।
- গ্লুকাগন যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেনকে গ্লুকোজে রূপান্তর করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায়।
- এই দুই হরমোনের সম্মিলিত ক্রিয়ায় রক্তের গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় থাকে।
- গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এরা বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
 
• অন্যান্য অপশন:
- থাইরক্সিন ও অ্যাড্রেনালিন → বিপাক ও জরুরি প্রতিক্রিয়ায় জড়িত হরমোন।
- সিক্রেটিন ও গ্যাস্ট্রিন → পরিপাক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন।
- মেলাটোনিন ও কর্টিসল → ঘুমচক্র ও স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম- ১০ম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৩,৮৯৯.
নিম্নের কোনটি পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে?
  1. ক) ইলেকট্রন
  2. খ) নিউক্লিয়াস
  3. গ) আংশিক ভর
  4. ঘ) ফাঁকা স্থান
সঠিক উত্তর:
খ) নিউক্লিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। আর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 

ইলেকট্রন: পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন। সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন। এর ভর অতি সামান্য। একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা। ইলেকট্রন একক ঋনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। ইলেকট্রনের সংকেত e¯। ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 g ও -1.60×10-19 C। আপেক্ষিক আধান -1।

প্রোটন
: ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। ইহার সংকেত H+। প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। প্রোটনের আসল ভর ও আধান যথাক্রমে 1.67×10-24 g ও 1.60×10-19 C। প্রোটনের আপেক্ষিক ভর 1 একক। প্রোটনের আরেকটি সংকেত P। আপেক্ষিক আধান +1।

নিউট্রন: নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n। নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g। আপেক্ষিক আধান শূন্য।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯০০.
ব্ল্যাক বক্স যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয় -
  1. রকেটে
  2. উড়োজাহাজে
  3. ট্রেনে
  4. সাবমেরিনে
সঠিক উত্তর:
উড়োজাহাজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উড়োজাহাজে
ব্যাখ্যা
ব্ল্যাক বক্স:

- ব্ল্যাক বক্স একটি যন্ত্র যাতে বিমান উড্ডয়নের শুরু থেকে অবতরণ পর্যন্ত সমস্ত ঘটনা রেকর্ড করা থাকে।
- এটিকে বিমানের ‘ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডারও’ বলা হয়।
- নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ব্ল্যাক বক্স সাধারণত বিমানের পিছনের দিকে রাখা হয়।
- এটি টাইটানিয়াম ধাতু দিয়ে তৈরি ও একটি টাইটানিয়াম বাক্সে আবদ্ধ থাকে।
- প্রথম দিকে এটি লাল রঙের ছিল এবং ‘রেড এগ' নামে পরিচিত ছিল।
- ডিভাইসটির ভিতরের দেয়ালগুলি কালো রঙের ছিল, তাই পরবর্তীতে এটি ‘ব্ল্যাক বক্স’ নামে পরিচিত পায়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক ইত্তেফাক, ০৮ জানুয়ারি ২০২২।