বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৩৬ / ১৪০ · ১৩,৫০১১৩,৬০০ / ১৪,০৮০

১৩,৫০১.
রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে কতটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা করছে সরকার?
  1. ক) দেড়শো মেগাওয়াট
  2. খ) দেড় হাজার মেগাওয়াট
  3. গ) আড়াইশো মেগাওয়াট
  4. ঘ) দুই হাজার চারশো মেগাওয়াট
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুই হাজার চারশো মেগাওয়াট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুই হাজার চারশো মেগাওয়াট
ব্যাখ্যা
রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে দুই হাজার চারশো মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১৩,৫০২.
অ্যান্টিজেন বলতে কী বোঝায়?
  1. দেহের নিজস্ব প্রোটিন
  2. দেহে উপস্থিত এনজাইম
  3. বহিরাগত প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড
  4. দেহে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি
সঠিক উত্তর:
বহিরাগত প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহিরাগত প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড
ব্যাখ্যা

• অ্যান্টিজেন হলো non-self বা বহিরাগত পদার্থ।

• অ্যান্টিজেন (Antigen):

- অ্যান্টিজেন হলো যেকোনো বিজাতীয় প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড, যা দেহে স্বাভাবিকভাবে উপস্থিত থাকে না।
- এই ধরনের পদার্থ দেহে প্রবেশ করলে দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়।

উদাহরণ:
- ব্যাকটেরিয়া বা তাদের নিঃসৃত বিষাক্ত পদার্থ (Toxin) দেহে প্রবেশ করলে,
- দেহকোষে উপস্থিত নির্দিষ্ট প্রোটিনের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ করে।

• অ্যান্টিজেন–অ্যান্টিবডি সম্পর্ক:
- একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন দেহে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি (Antibody) উৎপন্ন হয়।
- এই প্রক্রিয়াকে Antibody generation বলা হয়।

• অ্যান্টিজেনের বৈশিষ্ট্য:
- অ্যান্টিজেন অবশ্যই non-self বা বহিরাগত পদার্থ হতে হবে।
- এতে ইমিউনোজেনিসিটি (Immunogenicity) অর্থাৎ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উদ্দীপিত করার সক্ষমতা থাকতে হবে।
- অধিকাংশ অ্যান্টিজেন প্রোটিনধর্মী বা জটিল গঠনবিশিষ্ট হয়।
- অ্যান্টিজেনের আণবিক ভর সাধারণত ১০,০০০ ডাল্টনের বেশি হয়।

• অ্যান্টিজেনের গঠনগত প্রকৃতি:
- অ্যান্টিজেন সাধারণত—
- প্রোটিন,
- বৃহৎ পলিস্যাকারাইড,
- গ্লাইকোপ্রোটিন অথবা,
- নিউক্লিওপ্রোটিন,
- প্রকৃতির হতে পারে।

• অ্যান্টিবডির সাথে সম্পর্ক:
- অ্যান্টিজেনের নির্দিষ্ট অংশের সাথে অ্যান্টিবডি যুক্ত হয়ে দেহকে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

 উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৫০৩.
কোন তাপমাত্রায় সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেল সমান?
  1. -32°
  2. -40°
  3. 273°
  4. 373°
সঠিক উত্তর:
-40°
উত্তর
সঠিক উত্তর:
-40°
ব্যাখ্যা

• - 40° তাপমাত্রায় ফারেনহাইট ও সেলসিয়াস স্কেলের তাপমাত্রার মান সমান হয়। 

• তাপমাত্রা পরিমাপের স্কেলের মধ্যে অন্যতম হলো সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেল।

আমরা জানি, সেলসিয়াস (C) ও ফারেনহাইট (F) এর মধ্যে সম্পর্ক:
C/5 = (F - 32)/9

ধরি,
সেলসিয়াস স্কেলের পাঠ C = ফারেনহাইট স্কেলের পাঠ F

এখন,
C/5 = (C - 32)/9
⇒ 5(C - 32) = 9C
⇒ 5C - 160 = 9C
⇒ 9C - 5C = - 160
⇒ 4C = - 160
⇒ C = - 160/4 = - 40 

∴ C = F = - 40°

অর্থাৎ - 40° তাপমাত্রায় সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের মান সমান হবে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৫০৪.
আলোর মরীচিকা মূলত কোন কারণে ঘটে?
  1. বাতাসের ঘনত্বের পরিবর্তন
  2. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  3. ধূলিকণা দ্বারা আলো ছড়ানো
  4. আলো বাতাসে প্রতিফলিত হওয়া
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
ব্যাখ্যা

• মরীচিকা: 
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের কারণে মরুভূমিতে সৃষ্ট মরীচিকা অতি পরিচিত উদাহরণ।
- উত্তপ্ত মরুভূমিতে মরুচারী পথিক প্রায়শ মরীচিকা দেখতে পান এবং বিভ্রান্ত হন। মরীচিকা হল এক ধরণের দৃষ্টি ভ্রম।
- প্রচন্ড সূর্য তাপে মরুভূমির বালু খুব তাড়াতাড়ি গরম হয়। ফলে বালু সংলগ্ন বাতাসও খুব গরম হয়। এতে বালু সংলগ্ন স্তরের বায়ু খুব হালকা হয়।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যত উপরে ওঠা যায় বায়ু স্তরের তাপমাত্রা তত কম হয়। তাই ভূ সংলগ্ন বায়ু স্তর থেকে যতই ওপরে ওঠা যায় বায়ু স্তর তত ঘন হয়।
- এ অবস্থায় মরুভূমিতে দূরে কোন খেজুর গাছ থেকে পথিকের চোখে আসা আলোক রশ্মি ধাপে ধাপে ঘনতর মাধ্যম থেকে লঘুতর মাধ্যমে প্রবেশ করতে থাকে, ফলে প্রতিসরিত রশ্মি অভিলম্ব থেকে ক্রমশ দূরে সরে যেতে থাকে।
- এভাবে বাঁকতে বাঁকতে এমন কোন স্তরে পৌঁছায় যেখানে আপতন কোণ ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় হয়।
- ফলে আপতিত আলোক রশ্মির প্রতিসরণ না হয়ে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন হয়।

» পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন সংঘটিত হতে প্রধানত দুটি শর্ত রয়েছে।
(১) আলোকরশ্মিকে অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে ঘন ও তুলনামূলক হালকা মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হতে হবে।
(২) আপতন কোণ ক্রান্তি বা সংকট কোণের চেয়ে বড় হতে হবে।

তথ্যসূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৫০৫.
প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের কত শতাংশ প্রােটিন?
  1. ক) ১৫%
  2. খ) ২৫%
  3. গ) ৩৫%
  4. ঘ) ৫০%
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৫০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৫০%
ব্যাখ্যা

প্রাণীদেহের গঠনে প্রােটিন অপরিহার্য। দেহকোষের বেশির ভাগই প্রােটিন দিয়ে তৈরি। দেহের হাড়, পেশি, লােম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলাে সবই প্রােটিন দিয়ে তৈরি হয়।
প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রােটিন।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১৩,৫০৬.
টর্নেডো সৃষ্টির মূল কারণ কী? 
  1. উচ্চ চাপ 
  2. নিম্ন চাপ
  3. নিম্ন তাপমাত্রা
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
নিম্ন চাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্ন চাপ
ব্যাখ্যা

টর্নেডো (Tornado): 
- টর্নেডো শব্দটির উৎপত্তি স্প্যানিশ শব্দ 'Tornada' থেকে যার অর্থ Thunder storm বা শব্দ বজ্রঝড়। 
- সাইক্লোনের ন্যায় টর্নেডো সৃষ্টির মূল কারণ হলো বায়ুর নিম্ন চাপ ও উচ্চ তাপমাত্রা। 
- টর্নেডোর ক্ষেত্রে বাতাসের গতিবেগ অনেক বেশি হয়। এই সাধারণ গতিবেগ ঘন্টায় ৪৮০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার হতে পারে। 
- টর্নেডোর সাথে সাইক্লোনের প্রধান পার্থক্য হলো সাইক্লোন সৃষ্টি হয় সাগরে এবং উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে। 
- অপরদিকে টর্নেডো যে কোনো স্থানেই সৃষ্টি হতে পারে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার ক্ষতিসাধন করতে পারে। 
- বাংলাদেশে প্রলয়ংকরী টর্নেডো হয় ১৯৮৯ সালে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়াতে। 
- টর্নেডোর সাথে কালবৈশাখী ঝড়ের যথেষ্ট মিল রয়েছে। শুধু পার্থক্য হলো কালবৈশাখী ঝড় দুই ধরনের বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহের দরুণ বছরের নির্দিষ্ট সময়ে হয় কিন্তু টর্নেডো যে কোনো সময় হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৫০৭.
প্রতিধ্বনি তৈরি হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন দূরত্ব কত হওয়া উচিত?
  1. 3.32 মি.
  2. 1.165 মি.
  3. 1.68 মি.
  4. 16.5 মি.
সঠিক উত্তর:
16.5 মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
16.5 মি.
ব্যাখ্যা

• প্রতিধ্বনি বা ইকো শুনতে হলে শব্দকে উৎস থেকে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ে ভিন্নতার প্রয়োজন। সাধারণত মানুষের কানে দুটি আলাদা শব্দ আলাদা হিসেবে চিনতে কমপক্ষে 0.1 সেকেন্ডের সময়ের পার্থক্য থাকা উচিত। 
- সঠিক উত্তর হলো ঘ) 16.5 মি.

• শব্দের প্রতিফলন (Reflection of Sound):
- যখন কোনো শব্দ তরঙ্গ কোনো কঠিন ও মসৃণ পৃষ্ঠে আঘাত করে ফিরে আসে, তখন সেই ঘটনাকে বলা হয় শব্দের প্রতিফলন।
- শব্দ প্রতিফলনের জন্য পৃষ্ঠটি হতে হবে কঠিন, মসৃণ ও সমতল (যেমন: দেওয়াল, পাহাড়, ভবন ইত্যাদি)।

- বায়ুতে শব্দের বেগ ৩৩০ মিটার প্রতি সেকেন্ড হলে, শব্দটি প্রতিফলিত দেয়ালে গিয়ে ফিরে আসার মোট সময় হবে ০.১ সেকেন্ড।
-  সুতরাং, 2d = v × t অনুযায়ী, 2d = 330 × 0.1 = 33, অর্থাৎ d = 16.5 মিটার।
-  তাই শব্দের প্রতিফলন ঘটার জন্য ন্যূনতম দূরত্ব হতে হবে ১৬.৫ মিটার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।

১৩,৫০৮.
২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কী বলা হয়?
  1. সুমেরুবৃত্ত
  2. নিরক্ষরেখা
  3. মকরক্রান্তি রেখা
  4. কর্কটক্রান্তি রেখা
সঠিক উত্তর:
কর্কটক্রান্তি রেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্কটক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা

নিরক্ষরেখা: 
- পৃথিবীর ঠিক মাঝখান দিয়ে যে রেখাটি পূর্ব-পশ্চিমে সমগ্র পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে নিরক্ষরেখা বলে। 
- নিরক্ষরেখার অপর নাম হলো বিষুবরেখা (Equator), ০° অক্ষরেখা (০° Latitude), মহাবৃত্ত (Great circle)। 

কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখা: 
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলে। 
- বাংলাদেশের উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। 
- এই দুটি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে সূর্যের আলো লম্বভাবে পৃথিবীতে পড়ে। 

সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত: 
- উত্তর গোলার্ধে ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরুবৃত্ত এবং ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কুমেরুবৃত্ত বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৫০৯.
প্রোটোপ্লাজমে পানির পরিমাণ কত শতাংশ?
  1. ক) ৯১
  2. খ) ৯০
  3. গ) ৯৩
  4. ঘ) ৯৮
সঠিক উত্তর:
খ) ৯০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৯০
ব্যাখ্যা
প্রোটোপ্লাজমে পানির পরিমাণ ৯০ শতাংশ। 

প্রোটোপ্লাজমের বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
ক. প্রোটোপ্লাজম অর্ধস্বচ্ছ, বর্ণহীন, জেলি সদৃশ অর্ধতরল আঠালো পদার্থ।
খ. এটি দানাদার ও কলয়ডালধর্মী।
গ. ইহা কোষস্থ পরিবেশ অনুযায়ী জেলি থেকে তরলে এবং তরল থেকে জেলিতে পরিবর্তিত হতে পারে।
ঘ. প্রোটোপ্লাজমের আপেক্ষিক গুরুত্ব পানি অপেক্ষা বেশি থাকে।
ঙ. উত্তাপ, অ্যাসিড ও অ্যালকোহলের প্রভাবে প্রোটোপ্লাজম জমাট বাধেঁ।

সূত্র: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান
১৩,৫১০.
কোন যন্ত্রটি বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ব্যারােমিটার
  2. ম্যানােমিটার
  3. পাইরোমিটার 
  4. হাইগ্রোমিটার
সঠিক উত্তর:
ব্যারােমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যারােমিটার
ব্যাখ্যা

- ব্যারোমিটার হলো একটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র যা বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা বোঝার জন্য এই যন্ত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 

• ব্যারােমিটার- বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র।
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র।
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র।
- ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১৩,৫১১.
কোনটিকে আয়নোস্ফিয়ার বলা হয়ে থাকে?
  1. ক) তাপমন্ডল
  2. খ) ট্রপোমন্ডল
  3. গ) স্ট্রাটোমন্ডল
  4. ঘ) এক্সোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
ক) তাপমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তাপমন্ডল
ব্যাখ্যা
তাপমন্ডল (Thermosphere) : মেসোবিরতির উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে তাপমন্ডল বা থার্মোস্ফিয়ার বলে। এই স্তরে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসে পোঁছায়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল বোর্ড বই
১৩,৫১২.
নিচের কোনটি চাষের ধরন ও বিদ্যার সঠিক জোড়া?
  1. পাখি — এপিকালচার
  2. মৎস্য — পিসিকালচার
  3. মৌমাছি — এভিকালচার
  4. রেশম — প্রণকালচার
সঠিক উত্তর:
মৎস্য — পিসিকালচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৎস্য — পিসিকালচার
ব্যাখ্যা

- পিসিকালচার (Pisciculture) হলো বাণিজ্যিকভাবে ট্যাঙ্ক বা পুকুরে মাছ চাষ করার প্রক্রিয়া। এটি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্যের চাহিদা মেটাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি।

আধুনিক কৃষি ও চাষ সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি: 

• মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এপিকালচার। 
• রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় সেরিকালচার। 
• মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার। 
• পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার। 
• চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় প্রণকালচার। 
• উদ্যান পালন (ফল, ফুল ও শাকসবজি চাষ) বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় হর্টিকালচার। 
• সামুদ্রিক মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় মেরিকালচার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা

১৩,৫১৩.
জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করতে কোন অণুজীব ব্যবহার হয়?
  1. প্রোটোজোয়া
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ভাইরাস 
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস 
ব্যাখ্যা

- জন্ডিস প্রধানত হেপাটাইটিস ভাইরাসের (যেমন: হেপাটাইটিস-এ, বি, সি ইত্যাদি) সংক্রমণের কারণে ঘটে। জন্ডিস বা হেপাটাইটিস রোগের (বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি) টিকা তৈরি করতে এই ভাইরাসের অংশ বা জেনেটিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। আধুনিক রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে ভাইরাসের অ্যান্টিজেন ব্যবহার করে এই টিকা প্রস্তুত করা হয়। 

ভাইরাসের উপকারিতা: 
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যেমন- 
• বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়।
• ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
• ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
• ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
• কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে। 
• জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
• লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৫১৪.
নিচের কোনটি মস্তিষ্কে ঘ্রান উদ্দীপনা বহন করে?
  1. অলফ্যাক্টরি স্নায়ু
  2. অকুলোমোটর স্নায়ু
  3. ট্রকলিয়ার
  4. ট্রাইজেমিনাল
সঠিক উত্তর:
অলফ্যাক্টরি স্নায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলফ্যাক্টরি স্নায়ু
ব্যাখ্যা
অলফ্যাক্টরি স্নায়ুঃ অগ্রমস্তিষ্কের অঙ্কীয়দেশে ( অপটিক লোবের অঙ্কীয়দেশ) হতে উৎপন্ন হয়ে নাসিকা গহবরের মিউকাস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এগুলো সংবেদী স্নায়ু এবং মস্তিষ্কে ঘ্রাণ উদ্দীপনা বহন করে।

উৎসঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম।
১৩,৫১৫.
নিচের কোনটি বিয়োজক?
  1. ক) গরু
  2. খ) ব্যাঙ
  3. গ) কচ্ছপ
  4. ঘ) ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
বাস্তুতন্ত্রকে কার্যকরী রাখার জন্য এ সকল জীব যে ধরনের ভূমিকা রাখে তার উপর ভিত্তি করে এসব জীব উপাদানকে এ তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
(ক) উৎপাদক,
(খ) খাদক এবং
(গ) বিয়োজক 

(ক) উৎপাদক : সবুজ উদ্ভিদ যারা নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে তারা উৎপাদক নামে পরিচিত। 

(খ) খাদক বা ভক্ষক : যে সকল প্রাণী উদ্ভিদ থেকে পাওয়া জৈব পদার্থ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে বা অন্য কোনো প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে তারাই খাদক বা ভক্ষক নামে পরিচিত। বাস্তুতন্ত্রে তিন ধরনের খাদক রয়েছে।

(গ) বিযোজক : এরা পচনকারী নামেও পরিচিত। পরিবেশে কিছু অণুজীব আছে, বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক যারা মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহের উপর ক্রিয়া করে। এসময় মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। ফলে মৃতদেহ ক্রমশ বিযোজিত হয়ে নানা রকম জৈব ও অজৈব দ্রব্যাদিতে রূপান্তরিত হয়। এসব দ্রব্যের কিছুটা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক নিজেদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। মৃতদেহ থেকে তৈরি বাকি খাদ্য পরিবেশের মাটি ও বায়ুতে জমা হয়। যা উদ্ভিদ পুনরায় ব্যবহার করে। এভাবে প্রকৃতিতে অজীব ও জীব উপাদানের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া হয়ে বাস্তুসংস্থান সচল থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী
১৩,৫১৬.
নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ?
  1. জলোচ্ছ্বাস
  2. জলাবদ্ধতা সৃষ্টি
  3. তুষারপাত
  4. খরা
সঠিক উত্তর:
জলাবদ্ধতা সৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলাবদ্ধতা সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
• মানবসৃষ্ট কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- রাসায়নিক দূষণ,
- যুদ্ধ,
- পারমাণবিক বিস্ফোরণ,
- মরুকরণ,
- অগ্নিকাণ্ড,
- জলাবদ্ধতা সৃষ্টি,
- বন উজারকরণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
প্রাকৃতিক কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- ভূমিকম্প,
- অগ্ন্যুৎপাত,
- নদীভাঙন,
- তুষারপাত,
- ঘূর্ণিঝড়,
- খরা,
- জলোচ্ছ্বাস,
- বন্যা ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: অষ্টম শ্রেণি।
১৩,৫১৭.
শক্তির একক-
  1. ক) জুল
  2. খ) ওয়াট
  3. গ) মাসল
  4. ঘ) ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
ক) জুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জুল
ব্যাখ্যা
শক্তির একক হচ্ছে জুল, ক্ষমতার একক ওয়াট।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১৩,৫১৮.
কোনটিতে আমিষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) তাজা ছোট মাছ
  2. খ) মাংস
  3. গ) ডিম
  4. ঘ) শুঁটকি মাছ
সঠিক উত্তর:
ঘ) শুঁটকি মাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শুঁটকি মাছ
ব্যাখ্যা
- ডিমে প্রতি ১০০ গ্রামে আমিষ থাকে ১৩ গ্রাম। 
- তাজা ছোট মাছে প্রতি ১০০ গ্রামে আমিষ থাকে প্রায় ২০ গ্রাম।  
- মাংসে প্রতি ১০০ গ্রামে আমিষ থাকে ২৬ গ্রাম। 
- শুঁটকি মাছে প্রতি ১০০ গ্রামে আমিষ থাকে ৬২ গ্রাম। 

উৎস: USDA ওয়েবসাইট 
১৩,৫১৯.
HIV -AIDS ছড়ায় না-
  1. পানির মাধ্যমে
  2. রক্তের মাধ্যমে
  3. যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পানির মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানির মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
• পানির মাধ্যমে HIV -AIDS ছড়ায় না।

• HIV:

- এটি এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immunodeficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে।
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না।
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে।

• HIV সংক্রমণের কারণ:
- প্রধানত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়।
- মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে।
- রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৫২০.
আদি কোষীয় জীব কোনটি? 
  1. ছত্রাক
  2. শৈবাল
  3. ব্রায়োফাইটস
  4. ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
- নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা - 
(i) আদি কোষ এবং 
(ii) প্রকৃত কোষ। 

আদি কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত থাকে তাদেরকে বলা হয় আদি কোষ। 
- এ সকল কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, সেন্ট্রিয়োল, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অনুপস্থিত থাকে।
- তবে বিক্ষিপ্ত DNA এবং রাইবোসোম থাকে। 
- Mycoplasma নামক PPLO (Pleuro pneumonia like organism), ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি আদি কোষীয় জীব। 

প্রকৃত কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে তাদেরকে বলা হয় প্রকৃত কোষ। 
- শৈবাল, ছত্রাক, ব্রায়োফাইটস, টেরিডোফাইটস, জিমনোস্পার্মস, অ্যানজিওস্পার্মস ইত্যাদি প্রকৃত কোষ দ্বারা গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫২১.
উদ্ভিদ কোষের অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব নিয়ন্ত্রণ করে কোনটি?
  1. ক্রোমোসোম
  2. কোষ ঝিল্লী
  3. সাইটোপ্লাজম
  4. কোষ প্রাচীর
সঠিক উত্তর:
সাইটোপ্লাজম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইটোপ্লাজম
ব্যাখ্যা
সাইটোপ্লাজম: 
- (গ্রীক শব্দ Cytos = কোষ এবং Plasma = সংগঠন) নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থিত এবং কোষ ঝিল্পী দিয়ে পরিবেষ্টিত প্রোটোপ্লাজমীয় অংশই হলো সাইটোপ্লাজম। 
- এটি জেলির ন্যায় অর্ধতরল হওয়ায় এবং প্রাণের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন ধরনের অঙ্গাণু ও উপাদান ধারণ করায় একে বাংলাতে কোষের প্রাণপঙ্ক বলা হয়। 
- সাইটোপ্লাজম এবং এর মধ্যস্থ বিভিন্ন প্রকার সজীব ও নির্জীব বস্তুর প্রকৃতি অনুসারে সাইটোপ্লাজমকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা - 
(ক) সাইটোপ্লাজমীয় মাতৃকা বা হায়ালোপ্লাজম, 
(খ) সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণুসমূহ এবং 
(গ) নির্জীব বা জড়বস্তু। 

সাইটোপ্লাজমের কাজ: 
- সাইটোপ্লাজমের কাজগুলো হলো- 
১। কোষের আকার বজায় রাখতে সহায়তা করে। 
২। বিভিন্ন ক্ষুদ্রাঙ্গ ধারণ করে, কতিপয় জৈবিক কাজ করে। 
৩। কোষের অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব নিয়ন্ত্রণ করে। 
৪। রেচন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 
৫। উত্তেজনায় সাড়া দিয়ে জীবিয় বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। 
৬। পানি পরিশোষণে সাহায্য করে। 
৭। আবর্তনের মাধ্যমে অঙ্গাণুসমূহকে নড়াচড়ায় সহায়তা করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫২২.
ডুবোজাহাজ কোন যন্ত্রের সাহায্যে পানির নিচ থেকে ওপরের দৃশ্য দেখে?
  1. পেরিস্কোপ
  2. টেলিস্কোপ
  3. মাইক্রোস্কোপ
  4. স্টেথোস্কোপ
সঠিক উত্তর:
পেরিস্কোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিস্কোপ
ব্যাখ্যা
- আলোর প্রতিফলন ও প্রতিসরণকে কাজে লাগানো হয় সরল পেরিস্কোপে।
- প্রিজম ও আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে অনেক বেশি কার্যকর পেরিস্কোপ তৈরি করা যায়।
- কোনো দূরের জিনিস সোজাসুজি দেখতে বাধা থাকলে এই যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
- ডুবোজাহাজ (Submrine) এর নাবিকেরা পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির নিচ থেকে উপরের দৃশ্য দেখেন
- ভীড় এড়িয়ে খেলা দেখা, শত্রু সৈন্যের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে এই যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১৩,৫২৩.
বাংলাদেশে নিম্নের কোন অঞ্চলটিতে ভূমিকম্পের ঝুঁকির মাত্রা কম?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) খুলনা
  3. গ) হবিগঞ্জ
  4. ঘ) সুনামগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
খ) খুলনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) খুলনা
ব্যাখ্যা

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,
- ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে সিলেট, ময়মনসিংহ এবং রংপুর,ঢাকা, কুমিল্লা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের কিছু্ অংশ।
এর মধ্যে সিলেট বিভাগের চারটি জেলায় বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে।
একইভাবে ময়মনসিংহ বিভাগের পাঁচটি জেলাও ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ঢাকা বিভাগের মধ্যে টাঙ্গাইল,গাজীপুর, নরসিংদী জেলার অংশ বিশেষ, পুরাে কিশােরগঞ্জ জেলা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা উচ্চ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ ছাড়া ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে আছে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলার উত্তরাংশ।
- মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নােয়াখালী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের অংশ বিশেষ করে চট্টগ্রাম,বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলা।
- ভূমিকম্পের কম ঝুঁকিতে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের পুরাে অঞ্চল।
সূত্র: প্রথম আলো আর্কাইভ।

১৩,৫২৪.
নিচের কোনটি লুইস এসিড নয়? 
  1. H2O
  2. BF3
  3. SO2
  4. CO2
সঠিক উত্তর:
H2O
উত্তর
সঠিক উত্তর:
H2O
ব্যাখ্যা
এসিড-ক্ষারকের লুইস তত্ত্ব: 
- 1923 খ্রিস্টাব্দে ব্রনস্টেড-লাউরি প্রোটন দান- গ্রহণভিত্তিক এসিড ও ক্ষারকের সংজ্ঞা প্রদান করেন। 
- একই বছর আমেরিকান রসায়নবিদ জি. এন. লুইস ইলেকট্রন জোড় দান- গ্রহণভিত্তিক সর্বশেষ এসিড-ক্ষারকের সংজ্ঞা প্রদান করেন। 
- লুইস এসিড হলো এমন যৌগ বা আয়ন যা একটি ইলেকট্রন-জোড় গ্রহণ করে। 
- ক্ষারক হলো এমন যৌগ বা আয়ন যা একটি ইলেকট্রন-জোড় দান করে। 
- লুইসের ক্ষারকের সংজ্ঞা ও ব্রনস্টেড-লাউরির ক্ষারকের সংজ্ঞা একই; প্রতিক্ষেত্রে ক্ষারকের একটি ইলেকট্রন- জোড় থাকে, যা বন্ধন গঠনে দান করে। 
- তাই লুইসের সংজ্ঞায় ক্ষারকের সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটেনি; কিন্তু এসিডের সংখ্যার অনেক বৃদ্ধি ঘটেছে। 
যেমন- CO2, SO2, SO3, BF3, AICI3, Cu2+ আয়ন ইত্যাদিতে H-পরমাণু না থাকা সত্ত্বেও এরা লুইস এসিড; কারণ বিক্রিয়ায় এরা ইলেকট্রন জোড় গ্রহণ করে। 
- সব ব্রনস্টেড-লাউরি এসিড হলো লুইস এসিড; কিন্তু সব লুইস এসিড ব্রনস্টেড-লাউরি এসিড নয়। 
- H+ আয়নসহ সব ক্যাটায়ন ও প্রশম অণু যাদের খালি যোজ্যতা স্তরে ক্ষারক প্রদত্ত ইলেকট্রন জোড় শেয়ার করে বন্ধন গঠনে সক্ষম, তাদের সবই লুইস এসিড।  সুতরাং লুইস তত্ত্বে এসিডের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। 
- লুইস ক্ষারক হলো NH3, H2O, OH-, CN-, CI- ইত্যাদি, এরা বিক্রিয়াকালে ইলেকট্রন যুগল যোগান দেয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারো ও নাগ)।
১৩,৫২৫.
পেঁয়াজের প্রধান রোগ কোনটি?
  1. পার্পল ব্লেচ
  2. লিফ ব্লাইট
  3. অ্যানথ্রাকনোজ
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
পিঁয়াজ:
- একটি দ্বিবর্ষজীবী উদ্ভিদ।
- আমাদের দেশে এর একবর্ষজীবী জাতও দেখা যায়।
- এর বৈজ্ঞানিক নাম Allium cepa.
- পিঁয়াজের রূপান্তরিত কান্ড সংলগ্ন পাতার গোড়ায় খাদ্য জমাটের ফলে স্ফীত হয় এবং কান্ডের সাথে একটির পর একটি সংযোজিত হয়ে শল্ককন্দ উৎপাদন করে।
- এ শল্ককন্দ পিঁয়াজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এ থেকে নতুন গাছ জন্মে থাকে।
- পিঁয়াজের ফুল উভলিঙ্গী, ফল ক্যাপসুল জাতীয় এবং বীজের রং কালো।

⇒ রোগবালাই ও পোকামাকড়:
- পেঁয়াজের প্রধান রোগগুলোর মধ্যে পার্পল ব্লেচ, লিফ ব্লাইট, অ্যানথ্রাকনোজ, বালব রট প্রধান।
- পার্পল ব্লেচ রোগ বীজবাহিত।
- সুতরাং বীজ বপনের পূর্বে শোধন করে নিতে হবে।
- পেঁয়াজের ক্ষতিকর পোকামাকড় হচ্ছে থ্রিপস, মাছি ইত্যাদি।
- এক্ষেত্রে ডায়াজিনন স্প্রে করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫২৬.
অপটিক্যাল ফাইবারের অভ্যন্তরীণ অংশকে কী বলা হয়? 
  1. ক্ল্যাড
  2. শেল
  3. কোর
  4. রিফ্লেক্টর
সঠিক উত্তর:
কোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোর
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবার: 
- বর্তমামে পৃথিবীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক তারের বদলে অত্যন্ত সরু কাচের তন্তুর ব্যবহার বেড়ে গেছে। 
- আগে যেখানে বৈদ্যুতিক সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হতো এখন সেখানে আলোর সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হয়। 
- মুক্ত অবস্থায় আলো সরলরেখায় যায় কিন্তু ফাইবারে আলো আটকা পড়ে যায় বলে সেটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যেকোনো দিকে নেওয়া সম্ভব। 
- অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত সরু কাচের তনু। 

- অপটিক্যাল ফাইবারের ভেতরের অংশকে বলে কোর (core) এবং বাইরের অংশকে বলে ক্ল্যাড (clad)। 
- দুটিই একই কাচ দিয়ে তৈরি হলেও ভেতরের অংশের (কোর) প্রতিসরণাঙ্ক বাইরের অংশ থেকে বেশি। 
- এ কারণে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোকে কোরের মাঝে আটকে রেখে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায়। 
- অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে আলো শত শত কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া যায় কারণ, এই কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ হয় খুবই কম। 
- দৃশ্যমান আলো হলে শোষণ বেশি হয় বলে ফাইবারে লম্বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৫২৭.
কৃষ্ণবিবরের ধারণাটি কে প্রবর্তন করেন? 
  1. জন হুইলার
  2. স্টিফেন হকিং
  3. আলবার্ট আইনস্টাইন
  4. গ্যালিলিও গ্যালিলি
সঠিক উত্তর:
জন হুইলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন হুইলার
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণবিবর (Black hole): 
- কৃষ্ণবিবর (Black Hole) হল এমন একটি সঞ্চালিত আকাশগঙ্গা বস্তু, যা অত্যন্ত ঘন ও সংকুচিত হয়ে গিয়ে অতিরিক্ত শক্তিশালী মহাকর্ষ ক্ষেত্র তৈরি করে। 
- ১৯৬৯ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার কৃষ্ণবিবরের ধারণা প্রবর্তন করেন। 
- সুপারনোভা বিস্ফোরণের পর, তিন সৌর ভরের বা তার চেয়ে বেশি ভরের নক্ষত্রের কেন্দ্রের গঠন অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হয়, যার ফলে এর আয়তন শূন্যে পরিণত হয়ে মহাকর্ষ ক্ষেত্র এত প্রবল হয়ে ওঠে যে, আলোকরশ্মি কিংবা কোনো সংকেতও বের হতে পারে না। ফলে এটি এক ধরনের অদৃশ্য বস্তু হিসেবে থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫২৮.
নিচের কোনটি আয়নিক বন্ধনের বৈশিষ্ট্য?
  1. ইলেকট্রন ভাগাভাগি করা হয়
  2. ধাতু ও অধাতু মধ্যে ইলেকট্রন হস্তান্তর হয়
  3. শুধুই ধাতু দ্বারা গঠিত যৌগ হয়
  4. বন্ধন গঠন ব্যবহৃত হয় শুধু শক্তিশালী ধাতুতে
সঠিক উত্তর:
ধাতু ও অধাতু মধ্যে ইলেকট্রন হস্তান্তর হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাতু ও অধাতু মধ্যে ইলেকট্রন হস্তান্তর হয়
ব্যাখ্যা

- আয়নিক বন্ধন হলো ধাতু ও অধাতুর মধ্যে তৈরি একটি রাসায়নিক বন্ধন।
- এই ধরনের রাসায়নিক বন্ধনে একটি ধাতু ইলেকট্রন হারায় এবং একটি অধাতু ইলেকট্রন গ্রহণ করে।
- এর ফলে ধাতু ধনাত্মক আয়ন এবং অ-ধাতু ঋণাত্মক আয়ন তৈরি করে।
- এই বিপরীত আয়নের মধ্যে ইলেকট্রস্ট্যাটিক আকর্ষণ দ্বারা যৌগ স্থিতিশীল হয়।
 
এছাড়াও অন্যান্য রাসায়নিক বন্ধন ও তাদের বৈশিষ্ট:
- সমযোজী: ইলেকট্রন ভাগাভাগি করা হয়।
- ধাতব: ধাতুগুলোর মধ্যে তৈরি হয়।
- হাইড্রোজেন: হাইড্রোজেন পরমাণুর বন্ধন। 
 
তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক রসায়ন, Britannica 

১৩,৫২৯.
আকাশে রংধনু সৃষ্টির কারণ-
  1. ধূলিকণা
  2. বায়ুস্তর
  3. বৃষ্টির কণা
  4. অতি বেগুনী রশ্মি 
সঠিক উত্তর:
বৃষ্টির কণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃষ্টির কণা
ব্যাখ্যা

- আকাশে রংধনু সৃষ্টির কারণ- বৃষ্টির কণা। 
- সূর্য থেকে যে আলোর রশ্মি পৃথিবীতে আসে তার রঙ মূলত সাদা। 
- এই সাদা রঙের ভেতরে বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি রং বিদ্যমান থাকে। 
- সাদা আলোর একটি বিশেষ ধর্ম আছে যা প্রিজমের মধ্য দিয়ে গমন করলে সাদা আলো সাতটি ভিন্ন রঙে বিশ্লেষিত হয়ে যায়। 
- আকাশে যখন বৃষ্টি পড়ে তখন বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ভাসমান প্রিজমের মতো কাজ করে। 
- সূর্য হতে আলো বৃষ্টির ফোঁটার একপাশ দিয়ে প্রবেশ করে বের হবার সময় সাত রঙের বর্ণালী সৃষ্টি করে। 
- বৃষ্টির ফোঁটা বা কণার প্রিজমসুলভ বৈশিষ্ট্যের কারণেই সৃষ্টি হয় রংধনু।  
- বৃষ্টির ফোঁটা হতে বের হওয়া সাত রঙের আলো আমাদের চোখে এসে পৌঁছায় বলেই আমরা রংধনুকে দেখতে পাই। 
- ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে যাওয়ার সময় আলোকরশ্মি যদি দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে মাধ্যম দুটির সংকট কোণের চেয়ে বেশি কোণে আপতিত হয়, তবে ওই আপতিত রশ্মি, দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হওয়ার পর ওর সবটুকুই প্রতিফলিত হয়ে আবার ঘন মাধ্যমেই ফিরে আসে, এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ  প্রতিফলন বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৫৩০.
ইউরিয়া সার কোন খনিজের অভাব পূরণে ব্যবহার করা হয়? 
  1. জিংক
  2. পটাশিয়াম
  3. নাইট্রোজেন
  4. ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া সার: 
- ইউরিয়া একটি নাইট্রোজেন সংবলিত রাসায়নিক সার, যা ব্যাপক হারে ফসলের জমিতে বিভিন্ন অভাব পূরণে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 
- ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ থাকে ৪৬%। 
- ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধি বিস্তাররে সহায়তা করে থাকে। 
- গাছের ও শাকসবজির পর্যাপ্ত পরিমাণ পাতা, ডালপালা ও কাণ্ড উৎপাদনে সাহায্য করে থাকে। 
- ইউরিয়া সার ক্লোরোফিল উৎপাদনের মাধ্যমে গাছপালাকে গাঢ় সবুজ বর্ণ প্রদান করে থাকে। 
- উদ্ভিদের শর্করা ও প্রোটিন উৎপাদনে সহায়তা করে থাকে। 
- এছাড়াও গাছের অন্যান্য সব আবশ্যক উপাদানের পরিশোষণের হার বাড়িয়ে থাকে। 

উৎস: জাতীয় কৃষি বাতায়ন ওয়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা।

১৩,৫৩১.
কোন কোষের সমন্বয়ে ফ্লোয়েম ফাইবার তৈরি হয়? 
  1. ক্লোরেনকাইমা
  2. স্ক্লেরেনকাইমা
  3. অ্যারেনকাইমা
  4. প্যারেনকাইমা
সঠিক উত্তর:
স্ক্লেরেনকাইমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ক্লেরেনকাইমা
ব্যাখ্যা
ফ্লোয়েম ফাইবার বা তন্তু: 
স্ক্লেরেনকাইমা কোষ সমন্বয়ে ফ্লোয়েম ফাইবার তৈরি হয়। 
- এগুলো একধরনের দীর্ঘ কোষ, যাদের প্রান্তদেশ পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। এদের বাস্ট ফাইবারও বলে। 
- পাটের আঁশ এক ধরনের বাস্ট ফাইবার। 
- উদ্ভিদ অঙ্গের গৌণবৃদ্ধির সময় এ ফাইবার উৎপন্ন হয়। 
- এসব কোষের প্রাচীরে কূপ দেখা যায়। 
- ফ্লোয়েম টিস্যুর মাধ্যমে পাতা উৎপাদিত শর্করা এবং মূলে সঞ্চিত খাদ্য একই সাথে উপরে নিচে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৫৩২.
পেনিসিলিন আবিষ্কৃত হয়-
  1. ক) ১৯১৯ সালে
  2. খ) ১৯২৭ সালে
  3. গ) ১৯২৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৩৩ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯২৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯২৯ সালে
ব্যাখ্যা
পেনিসিলিন এক ধরনের এন্টিবায়োটিক যা পেনিসিলিয়াম নামক ছত্রাক থেকে তৈরি হয়। পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ১৯২৯ সালে। উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৩,৫৩৩.
নিচের কোনটি Pre-eclampsia এর অন্যতম চিহ্ন?
  1. High pressure with oedema
  2. High BP with protenuria
  3. High BP with convulsion
  4. উপরের কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
High BP with protenuria
উত্তর
সঠিক উত্তর:
High BP with protenuria
ব্যাখ্যা
Pre-eclampsia হল একটি গর্ভাবস্থা-সম্পর্কিত চিকিৎসা অবস্থা যা উচ্চ রক্তচাপ (উচ্চ রক্তচাপ) এবং একাধিক অঙ্গ সিস্টেমের ক্ষতি দ্বারা চিহ্নিত করা হয়, সাধারণত লিভার এবং কিডনি।
- এটি সাধারণত গর্ভাবস্থার 20 তম সপ্তাহের পরে ঘটে (সাধারণত তৃতীয় ত্রৈমাসিকে) এবং এটি প্লাসেন্টা এবং অনাগত শিশুকেও প্রভাবিত করতে পারে। 

- প্রি-এক্লাম্পসিয়ার লক্ষণ যা এই অবস্থার সাথে সবচেয়ে বেশি জড়িত তা হল "High BP with protenuria"

- উচ্চ রক্তচাপ (উচ্চ রক্তচাপ) এবং protenuria (প্রস্রাবে অস্বাভাবিক পরিমাণে প্রোটিনের উপস্থিতি) এই সংমিশ্রণ হল প্রি-এক্লাম্পসিয়ার একটি হলমার্ক চিহ্ন। প্রি-এক্লাম্পসিয়ার অন্যান্য উপসর্গগুলির মধ্যে বিশেষ করে হাতে এবং মুখে, হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি, তীব্র মাথাব্যথা, দৃষ্টিশক্তির ব্যাঘাত, পেটে ব্যথা এবং বমি বমি ভাব বা বমি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

অন্যদিকে, খিঁচুনি সাধারণত প্রি-এক্লাম্পসিয়ার লক্ষণ নয় কিন্তু একলাম্পসিয়া নামে পরিচিত অবস্থার একটি গুরুতর জটিলতা। এক্লাম্পসিয়া একটি জীবন-হুমকিপূর্ণ অবস্থা যা সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে প্রি-এক্লাম্পসিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ঘটতে পারে। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 
১৩,৫৩৪.
নিচের কোন উৎস প্রাণিজ স্নেহপদার্থ নয়? 
  1. ঘি
  2. ডালডা
  3. ডিমের কুসুম
  4. সয়াবিন তেল
সঠিক উত্তর:
সয়াবিন তেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সয়াবিন তেল
ব্যাখ্যা
স্নেহজাতীয় খাদ্য (Fats): 
- চর্বি একটি প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন দিয়ে তৈরি এই উপাদানটির মুখ্য কাজ হলো তাপ উৎপাদন করা। 
- এই উপাদানটি পাকস্থলীতে অনেকক্ষণ থাকে, তাই তখন ক্ষুধা পায় না। 
- দেহের ত্বকের নিচে চর্বি জমা থাকে। তাছাড়া বিভিন্ন অঙ্গ যেমন: যকৃৎ, মস্তিষ্ক, মাংস পেশিতেও চর্বি জমা থাকে। দেহের এ সঞ্চিত চর্বি উপবাসের সময় কাজে লাগে। 
- শর্করা ও আমিষের তুলনায় চর্বিতে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ ক্যালরি থাকে (ক্যালরি হলো প্রাণিদেহে শক্তি মাপার একটি একক)। 
- খাবার তেল বা ঘি দিয়ে রান্না করা খাবার বেশ সুস্বাদু হয়, সঙ্গে এর পুষ্টিমানও বেড়ে যায়। যেমন সিদ্ধ আলুর চেয়ে ভাজা আলু, রুটির চেয়ে লুচি বা পরোটা শুধু মুখরোচকই নয়, এতে ক্যালরিও বেশি পাওয়া যায়। 
- কোনো কোনো চর্বিতে ভিটামিন 'এ' আছে, আবার কোনোটিতে আছে ভিটামিন 'ই'। 

- উৎস অনুযায়ী স্নেহপদার্থ দুই ধরনের। 
যেমন- 
১। উদ্ভিজ্জ স্নেহপদার্থ: 
- সয়াবিন, সরিষা, তিল, বাদাম, সূর্যমুখী এবং ভুট্টার তেল ভোজ্যতেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিন তেল উৎকৃষ্টতম। 

২। প্রাণিজ স্নেহপদার্থ: 
- চর্বি, ঘি, ডালডা ইত্যাদি প্রাণিজ স্নেহপদার্থ। 
- ডিমের কুসুমে স্নেহপদার্থ আছে, কিন্তু সাদা অংশে স্নেহপদার্থ থাকে না। 
- স্নেহপদার্থ পানিতে অদ্রবণীয়, পানির চেয়ে হালকা বলে পানির উপর ভাসে। 
- একজন সুস্থ সবল পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দিনে ৫০-৬০ গ্রাম চর্বির প্রয়োজন হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৫৩৫.
ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে প্রোটিন সংশ্লেষণ করে কোনটি?
  1. ক) ভলিউটিন
  2. খ) রাইবোসোম
  3. গ) কোষ গহ্বর
  4. ঘ) ক্রোম্যাটোফোর
সঠিক উত্তর:
খ) রাইবোসোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাইবোসোম
ব্যাখ্যা
সাইটোপ্লাজম:
- সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন দিয়ে পরিবেষ্টিত অবস্থায় সাইটোপ্লাজম থাকে।
- এটি সাধারণত বর্ণহীন।
- এতে কোষ গহবর, চর্বি, শর্করা জাতীয় খাদ্য, প্রোটিন যার অধিকাংশই এনজাইম, বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থ (যেমন- ফসফরাস, লৌহ ও সালফার ইত্যাদি) বিদ্যমান থাকে।
- ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে কিছু পদার্থ বিক্ষিপ্ত অবস্থায় দেখা যায়। যেমন-
১। রাইবোসোম (70S),
২। ক্রোম্যাটোফোর,
৩। কোষ গহ্বর এবং
৪। ভলিউটিন।

রাইবোসোম:
- প্রতিটি রাইবোসোম RNA ও প্রোটিন সহযোগে গঠিত।
- প্রোটিন সংশ্লেষণ করাই রাইবোসোমের প্রধান কাজ

ক্রোম্যাটোফোর:
- কতক ব্যাকটেরিয়াতে ক্রোম্যাটোফোর থাকে।
- এসব রঞ্জক পদার্থ ব্যাকটেরিয়ার সালোকসংশ্লেষণে সাহায্য করে।

কোষ গহ্বর:
- ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে অত্যন্ত ছোট ছোট কোষ গহবর থাকে। 

ভলিউটিন:
- তরুণ ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে এবং পুরাতন কোষের কোষ গহ্বরে ভলিউটিন থাকে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩,৫৩৬.
জারণ-বিজারণ একটি -
  1. প্রশমন বিক্রিয়া
  2. যুগপৎ বিক্রিয়া
  3. নিরপেক্ষকরণ বিক্রিয়া
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যুগপৎ বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুগপৎ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
-  জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।

• জারণ অর্ধবিক্রিয়া Na0 → Na+ + e (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
• বিজারণ অর্ধবিক্রিয়াCl0 + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

এই দুই অর্ধবিক্রিয়াকে যোগ করলে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া পাওয়া যায়।
• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া: Na0 + Cl0 → Na+ + Cl- → NaCl

এভাবে মনে রাখতে হবে,
- জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
- জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
- বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
- বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ

উৎস- নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই

১৩,৫৩৭.
আলোর ক্ষুদ্র অংশ কী নামে পরিচিত?
  1. গ্রাভিটন
  2. ফোটন
  3. বোসন
  4. ইলেকট্রন
সঠিক উত্তর:
ফোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোটন
ব্যাখ্যা
ফোটন কণা:

- আলোকরশ্মি কোন শক্তি হতে অনবরত বের না হয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন প্যাকেট বা শক্তি বের হয়। প্রত্যেক বর্ণের আলোর জন্য এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটের শক্তির নির্দিষ্ট মান রয়েছে। এই এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটকে কোয়ান্টাম বা ফোটন বলে।
- পদার্থের ক্ষুদ্র অংশ কে যেমন পরমাণু বলে, তেমনি আলোর ক্ষুদ্র অংশকে ফোটন বলে।
- ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
- ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫৩৮.
পরিবেশ রক্ষায় একটি দেশের কত শতাংশ বনভূমি প্রয়োজন?
  1. ১৫%
  2. ২০%
  3. ২৫%
  4. ৩০%
সঠিক উত্তর:
২৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫%
ব্যাখ্যা
- যে সকল স্থানে বিভিন্ন প্রকারের প্রচুর পরিমানে গাছপালা দেখা যায় তাকে বন ভূমি বলা হয়ে থাকে।
- এক সময় পৃথিবীর স্থল ভাগের প্রায় ৪০ ভাগ বনভূমি দ্বারা আবৃত ছিল।
- কিন্তু মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বনভূমি থেকে গাছপালা কেটে ফেলে বর্তমানে তা প্রায় ২৪ ভাগে এসে দাড়িয়েছে।
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের তাপ, মাটি, আলো, জলবায়ু প্রভৃতির কারণে বনভূমির তারতম্য হয়ে থাকে। 
- দেশের অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য বনভূমি অপরিহার্য।
- একটি দেশের জন্য অন্তত ২৫% বনভূমির প্রয়োজন।
- বাংলাদেশে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট বনভূমির পরিমাণ প্রায় ১৮ শতাংশ।

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫৩৯.
যখন কোনো বস্তুকে বিষুবরেখা থেকে মেরুর দিকে নেওয়া হয়, তখন তার ওজনের কী হয়? 
  1. শূন্য হয়
  2. কমে 
  3. বাড়ে 
  4. অপরিবর্তিত থাকে 
সঠিক উত্তর:
বাড়ে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাড়ে 
ব্যাখ্যা

বস্তুর ওজন: 
- যখন কোনো বস্তুকে বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নেয়া হয় তখন তার ওজন বাড়তে থাকে। 
- বস্তুর ভর একটি ধ্রুব রাশি। 
- কোনো বস্তুর ওজন অভিকর্ষীয় ত্বরণের উপর নির্ভরশীল। 
- যে স্থানে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, সে স্থানে বস্তুর ওজনও বেশি। 
- অভিকর্ষীয় ত্বরণ যে স্থানে কম বস্তুর ওজন সে স্থানে কম। 
- যেহেতু মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন বেশি। 
- বিষুব অঞ্চলে অভিকর্ষীয় ত্বরণ কম তাই বিষুব অঞ্চলে বস্তুর ওজনও কম। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষীয় ত্বরণ শূন্য, এজন্য পৃথিবীর কেন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন শূন্য। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৫৪০.
কলা পাকানোর জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) ক্যালসিয়াম কার্বাইট
  2. খ) ইথিলিন
  3. গ) ফরমালিন
  4. ঘ) কালটার
সঠিক উত্তর:
ক) ক্যালসিয়াম কার্বাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্যালসিয়াম কার্বাইট
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম কার্বাইট  কলা পাকানোর জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

ক্যালসিয়াম কার্বাইট : ফল বিশেষত কলা পাকানোর জন্য এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। এটি একটি যৌগ যা জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে অ্যাসিটিলিন নামক গ্যাস উৎপন্ন হয়- যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। 

ফরমালিন : ফরমালিন খাদ্য সংরক্ষণের রাসায়নিক যৌগ নয়। ফরমালিন একটি বিষাক্ত এবং ক্যান্সার উৎপাদক রাসায়নিক পদার্থ। দুধ, ফল, মাছ, মাংসকে পচন থেকে রক্ষা করার জন্য অতি লোভী অসাধু ব্যবসায়ীরা না বুঝে ব্যবহার করে থাকেন। এর দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে লিভার ও কিডনি নষ্ট হওয়া, ক্যান্সার, বদহজম, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, পেটের পীড়াসহ নানরকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। মেয়েদের গর্ভপাত এমনকি সন্তান বিকলাঙ্গ পর্যন্তহতে পারে । যার পরিণতিতে যন্ত্রণাদায়ক অকাল মৃত্যু হতে পারে। ফরমালিন ব্যবহার খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও অসততা ও অসচেতনতার কারণে ফরমালিনের ব্যবহার একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ইথিলিন (Ethylene) : ফল নিজেই ইথিলিন তৈরি করে এবং পাকতে সাহায্য করে। ফল সৃষ্ট ইথিলিনকে ফলের হরমোন বলা হয়। কিন্তু একসঙ্গে ফল পাকাতে সারা বিশ্বে ইথিলিন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। তখন ইথিলিনকে Ripeing agent বলা হয়। আমাদের দেশে অপরিপক্ক ফল পাকাতে ইথিলিন গ্যাস তৈরি করে ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করে। তাতে ফল সুমিষ্ট হয়। অতি অপরিপক্ক ফলে ইথিলিন ব্যবহার করা উচিত নয়। আম, কলা, পেঁপে, টমেটো ইত্যাদি পাকানোর জন্য ব্যবহার করলে অন্তত ৭-৮ দিন পর তা বাজারজাত করা উচিত। 

কালটার (Culter) : এটি একটি হরমোন জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ। গাছে থাকা অবস্থায় এটি আমে প্রয়োগ করা হয়। এতে ফল দ্রুত পরিপক্ক হয় অথচ না পেকেই দীর্ঘদিন গাছে থাকে। ফলে, ব্যবসায়ীরা ধীরে ধীরে বিক্রি করার সুযোগ পায়। কালটার স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

সূত্র: ২৭ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫৪১.
অটোমোবাইল ব্যাটারিতে যে এসিড ব্যবহার করা হয়, তা হলো -
  1. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  2. হাইড্রোফ্লোরিক এসিড
  3. সালফিউরিক এসিড
  4. নাইট্রিক এসিড
সঠিক উত্তর:
সালফিউরিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
- সৌর প্যানেলে তৈরি সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ব্যবহার করা হয়।
- বাসাবাড়িতে আইপিএস (IPS) চালানোর জন্য এবং গাড়িতে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, তার অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄)।
- ফসল উৎপাদনের জন্য সার হলো অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস।
- সার হিসেবে আমরা যেগুলো ব্যবহার করি তার মধ্যে অন্যতম হলো অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম সালফেট [(NH4)2SO4] ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট [(NH4)3PO4]।
- সার কারখানায় এগুলো তৈরি করা হয় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড (HNO3), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) এবং ফসফরিক এসিড (H3PO4) ব্যবহার করে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
১৩,৫৪২.
উড়োজাহাজের গতি নির্ণয়ে কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়?
  1. ক্রেসকোগ্রাফ
  2. ক্রোনোমিটার
  3. ট্যাকোমিটার
  4. ওডোমিটার
সঠিক উত্তর:
ট্যাকোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্যাকোমিটার
ব্যাখ্যা

• উড়োজাহাজের গতি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে গ) ট্যাকোমিটার সবচেয়ে উপযুক্ত উত্তর। ট্যাকোমিটার মূলত কোনো যন্ত্র বা ইঞ্জিনের ঘূর্ণনগতির হার (RPM) পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। উড়োজাহাজের ইঞ্জিন কত দ্রুত ঘুরছে, তা জানার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে উড়োজাহাজের গতি ও কর্মক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। অন্যদিকে ক্রেসকোগ্রাফ উদ্ভিদের বৃদ্ধি মাপতে, ক্রোনোমিটার সময় নির্ণয়ে এবং ওডোমিটার দূরত্ব পরিমাপে ব্যবহৃত হয়। তাই উড়োজাহাজের গতি নির্ণয়ে ট্যাকোমিটারই প্রাসঙ্গিক যন্ত্র।
 
• বিভিন্ন নির্ণায়ক যন্ত্র:
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র - ট্যাকোমিটার।
সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপক যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।
উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র - অলটিমিটার।
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র - অডিওমিটার।
মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র - ওডোমিটার।
দুধের বিশুদ্ধতা পরিমাপক যন্ত্র - ল্যাকটোমিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

১৩,৫৪৩.
পদার্থ বিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার পান কে?
  1. ক) গ্যালিলিও
  2. খ) নিউটন
  3. গ) আইন্সটাইন
  4. ঘ) রন্টজেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) রন্টজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রন্টজেন
ব্যাখ্যা
এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িত চৌম্বক বিকিরণ যা দ্রুতগতি সম্পন্ন ইলেকট্রন দ্বারা কোনো ধাতব পাতকে আঘাত করে উৎপন্ন করা যায়।
এক্স-রে আবিষ্কার করেন উইলিয়াম রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এবং এক্স-রে আবিষ্কারের জন্য ১৯০১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
১৩,৫৪৪.
জোয়ার অত্যন্ত প্রবাল হয় কখন?
  1. চন্দ্র ও সূর্য কৌণিকভাবে অবস্থান করলে
  2. পৃথিবী ও চন্দ্র একই সরলরেখায় অবস্থান করলে
  3. চন্দ্র ও সূর্য একই সরল রেখায় থাকলে
  4. সূর্য ও পৃথিবী এক সমকোণে অবস্থান করলে
সঠিক উত্তর:
চন্দ্র ও সূর্য একই সরল রেখায় থাকলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্র ও সূর্য একই সরল রেখায় থাকলে
ব্যাখ্যা
প্রধানত দুটি কারণে জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি হয়৷ এগুলো হলো-
১. চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব এবং ২. পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি৷
সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার তত জোরালো হয় না।
তবে চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় থাকলে উভয়ের আকর্ষণে জোয়ার অত্যন্ত প্রবল হয়।
অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা তিথিতে অধিকমাত্রায় জোয়ারের ফলে নৌকা, লঞ্চ ডুবে যায় এবং জানমালের ক্ষতি হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল বোর্ড বই
১৩,৫৪৫.
তেজস্ক্রিয় রশ্মি কোন বাহ্যিক প্রভাব দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায়? 
  1. রাসায়নিক বিক্রিয়া
  2. তাপ এবং চাপ
  3. বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র
  4. কোনো বাহ্যিক প্রভাব দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না
সঠিক উত্তর:
কোনো বাহ্যিক প্রভাব দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনো বাহ্যিক প্রভাব দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে সেটাকে স্থিতিশীল রাখার জন্য নিউট্রনের সংখ্যাও বেড়ে যেতে থাকে, কিন্তু তারপরও নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করার পর থেকে নিউক্লিয়াসগুলো অস্থিতিশীল হতে শুরু করে। (যদিও প্রোটন সংখ্যা 43-Technetium এবং 61-Promethium মৌলের কোনো স্থায়ীরূপ পাওয়া যায় না)। 
- অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াসগুলো কোনো এক ধরনের বিকিরণ করে স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে এবং এই প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় তেজস্ক্রিয়তা। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে যে বিকিরণ বের হয়ে আসে তাকে বলে তেজস্ক্রিয় রশ্মি। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করলেই (পারমাণবিক সংখ্যা ৪2 থেকে বেশি) যে নিউক্লিয়াসগুলো তেজস্ক্রিয় হয়ে থাকে তা নয়, অন্য পরমাণুর নিউক্লিয়াসও তেজস্ক্রিয় হতে পারে। 
- একটি মৌলের বাহ্যিক ধর্ম, প্রকৃতি, এবং রাসায়নিক গুণাগুণ নির্ভর করে বাইরের ইলেকট্রনের শ্রেণিবিন্যাসের ওপর। কাজেই কোনো একটি মৌলের পরমাণুতে তার ইলেকট্রন এবং প্রোটনের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট হলেও নিউট্রনের সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে। ভিন্ন নিউট্রন সংখ্যায় নিউট্রনযুক্ত একই প্রোটন সংখা বিশিষ্ট নিউক্লিয়াসের পরমাণুকে বলা হয় সেই মৌলের আইসোটোপ। কাজেই কোনো একটি মৌলের একটি আইসোটোপ স্থিতিশীল হতে পারে আবার সেই মৌলের অন্য একটি আইসোটোপ অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয় হতে পারে। 
উদাহরণ- কার্বন মৌলটির নিউক্লিয়াসে ছয়টি প্রোটন এবং এর প্রধাণত তিনটি আইসোটোপ: 
• C12: 6টি প্রোটন এবং এটি নিউট্রন, 
• C13: 6টি প্রোটন এবং 7টি নিউট্রন, 
• C14: 6টি প্রোটন এবং ৪টি নিউট্রন । 
- কার্বনের এই তিনটি আইসোটোপের মাঝে C14 আইসোটোপটি অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয়। 

- 1896 সালে হেনরি বেকেরেল (Henri Becquerel) প্রথম ইউরেনিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। 
- পরবর্তীতে আরনেস্ট রাদারফোর্ড (Ernest Rutherford), পিয়ারে কুরি (Pierre Curie), মেরি কুরি (Marie Curie) এবং অন্যা বিজ্ঞানীরা অন্যান্য মৌলের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- এটি বাইরের চাপ, তাপ, বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে কোনোভাবে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কাজেই এটি একটি নিউক্লী ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার কারণে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়ে নিউক্লিয়াসের গঠন পরিবর্তিত হয়ে সেটিও ভিন্ন একটি মৌলে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে। 
- নিউক্লিয়াস থেকে যে তিনটি প্রধান তেজস্ক্রিয় রশ্মি বের হয়, সেগুলো হচ্ছে আলফা, বিটা এবং গামা রশ্মি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৫৪৬.
আনারসের সুগন্ধি তৈরিতে কোন এস্টার ব্যবহৃত হয়? 
  1. অকটাইল অ্যাসিটেট
  2. অ্যামাইল বিউটাইরেট
  3. আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট
  4. মিথাইল বিউটাইরেট
সঠিক উত্তর:
মিথাইল বিউটাইরেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথাইল বিউটাইরেট
ব্যাখ্যা
এস্টার: 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে।
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -CO-O-R. 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি।
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে।
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়।
- তেল, চর্বি, আঠা, সেলুলোজ, রঙ, ভার্ণিশ ইত্যাদির দ্রাবক হিসেবে এস্টার ব্যবহৃত হয়।
- বিউটাইল অ্যাসিটেট 'পেনিসিলিন' -এর দ্রাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

- কৃত্রিম মনোরম স্বাদ ও সুগন্ধি তৈরিতে।
যেমন:
এস্টার ⇒ সুগন্ধির প্রকৃতি
• আইসোবিউটাইল ফরমেট ⇒ রাসবেরী, 
• আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট ⇒ কলা, 
• অকটাইল অ্যাসিটেট ⇒ কমলা, 
মিথাইল বিউটাইরেট ⇒ আনারস
• অ্যামাইল বিউটাইরেট ⇒ অ্যাপ্রিকট এবং 
• আইসোঅ্যামাইল ভ্যালেরেট ⇒ আপেল। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫৪৭.
নিচের কোনটি ভরের মাত্রা?
  1. ক) L
  2. খ) M
  3. গ) T
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
খ) M
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) M
ব্যাখ্যা
মাত্রা (Dimension):

- ভৌত রাশিগুলো এক বা একাধিক মৌলিক রাশি দ্বারা গঠিত হয়।
- সুতরাং যে কোনো ভৌত রাশিকে বিভিন্ন সূচকের এক বা একাধিক মৌলিক রাশির গুণফল হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
- কোনো ভৌত রাশিতে বিদ্যমান মৌলিক রাশি গুলোর সূচককে রাশিটির মাত্রা বলে।
- মৌলিক রাশি দৈর্ঘ্য, ভর ও সময়কে যথাক্রমে L, M ও T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- L কে দৈর্ঘ্যের মাত্রা, M কে ভরের মাত্রা, T কে সময়ের মাত্রা বলে।
- যেমন, বল = ভর × ত্বরণ। সুতরাং, বলের মাত্রা MLT-2.

তথ্যসূত্র - পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫৪৮.
যে কোনো ভরযুক্ত বস্তু অন্য বস্তুকে কোন বল দ্বারা আকর্ষণ করে? 
  1. মহাকর্ষ বল 
  2. বৈদ্যুতিক বল 
  3. ঘর্ষণ বল 
  4. চুম্বকীয় বল 
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল 
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ বল (Gravitational Force): 
- মহাবিশ্বের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই মহাকর্ষ বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায়, সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, কিংবা পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে ইত্যাদি। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে সেটাকে বলা হয় মাধ্যাকর্ষণ। এই মাধ্যাকর্ষণ বল পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে, অর্থাৎ নিচের দিকে টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই নিজেদের ওজনের অনুভূতি বুঝা যায়। 
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি চমকপ্রদ বল হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৫৪৯.
স্তন্যপ্রায়ী প্রাণিতে বক্ষ ও উদর পৃথককারী অনুপ্রস্থ পেশীর ব্যবধায়ক পর্দকে কি বলে?
  1. ডায়াফ্রাম
  2. অ্যালভিওলাস
  3. ইন্টারকোস্টাল পেশী 
  4. স্বরযন্ত্র
সঠিক উত্তর:
ডায়াফ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াফ্রাম
ব্যাখ্যা

• স্তন্যপ্রায়ী প্রাণীতে বক্ষ ও উদর পৃথককারী অনুপ্রস্থ পেশী (ডায়াফ্রাম):

- স্তন্যপ্রায়ী প্রাণীর দেহে বক্ষগহ্বর (Thoracic cavity) ও উদরগহ্বর (Abdominal cavity) কে পৃথক করে যে অনুপ্রস্থ পেশীযুক্ত পর্দা থাকে, তাকে ডায়াফ্রাম বলা হয়।
- ডায়াফ্রাম শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- শ্বাস নেওয়ার সময় ডায়াফ্রাম সংকুচিত হয়ে নিচের দিকে নামে, ফলে বক্ষগহ্বরের আয়তন বৃদ্ধি পায় এবং ফুসফুসে বাতাস প্রবেশ করে।
- শ্বাস ছাড়ার সময় ডায়াফ্রাম শিথিল হয়ে উপরের দিকে উঠে যায়, ফলে বক্ষগহ্বরের আয়তন কমে যায় এবং ফুসফুস থেকে বাতাস বের হয়ে যায়।
- এটি একটি শক্তিশালী অনুপ্রস্থ পেশী যা শুধুমাত্র স্তন্যপ্রায়ী প্রাণীদের মধ্যেই সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়।
- অ্যালভিওলাস হলো ফুসফুসের ভেতরের বায়ুথলি, ইন্টারকোস্টাল পেশী পাঁজরের মাঝখানে থাকে এবং স্বরযন্ত্র শব্দ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত—এগুলো বক্ষ ও উদর পৃথক করে না।

সুতরাং, স্তন্যপ্রায়ী প্রাণীতে বক্ষ ও উদর পৃথককারী অনুপ্রস্থ পেশীর ব্যবধায়ক পর্দার নাম হলো ডায়াফ্রাম।

সঠিক উত্তর: ক) ডায়াফ্রাম। 

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৫৫০.
'মৌমাছি' এর বৈজ্ঞানিক নাম কোনটি? 
  1. ক) Periplaneta americana
  2. খ) Copsychus saularis
  3. গ) Apis indica
  4. ঘ) Plasmodium vivax
সঠিক উত্তর:
গ) Apis indica
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Apis indica
ব্যাখ্যা
সাধারণ নাম         বৈজ্ঞানিক নাম
মৌমাছি                  Apis indica
দোয়েল                   Copsychus saularis
আরশোলা               Periplaneta americana
ম্যালেরিয়া জীবাণু    Plasmodium vivax


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি
১৩,৫৫১.
গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর কত? 
  1. 0.0005–0.15 nm
  2. 0.01-10 nm
  3. 10–400 nm
  4. 10–400 m
সঠিক উত্তর:
0.0005–0.15 nm
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0.0005–0.15 nm
ব্যাখ্যা

◉ গামা রশ্মি হলো Electromagnetic Spectrum-এর সবচেয়ে ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিকিরণ। এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.0005–0.15 nm, যা এক্স-রে থেকেও ছোট।

তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ: 
- যেসব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয় তাদের একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়। 
- দৃশ্যমান আলো হলো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র। 
- এ সব তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় স্পেকট্রাম ( spectrum) বা বর্ণালি বলা হয়। 

তড়িচ্চুম্বকীয় বর্ণালির অঞ্চলসমূহ: 
- তড়িচ্চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মিসমূহকে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম বৃদ্ধি অনুসারে প্রধান সাতটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়। যথা- 

১. গামা (γ) রশ্মি অঞ্চল: 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.0005-0.15 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় এ তরঙ্গ অধিক শক্তিসম্পন্ন। 
- গামা রশ্মি জৈব যৌগের বিশ্লেষণে বর্ণালিমিতিক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। 

২. রঞ্জন রশ্মি (X-ray) অঞ্চল: 
- রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.01-10 nm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার ব্যাপক। 
যেমন- এক্সরে ক্রিস্টালোগ্রাফি, এক্সরে নিঃসরণ পদ্ধতিতে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 

৩. অতিবেগুনি রশ্মি (UV) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10–380 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন, 300-320 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV-রশ্মি চিকিৎসাক্ষেত্রে লাইট থেরাপি, 270–360 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি প্রোটিন বিশ্লেষণের কাজে, 200-400 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি ড্রাগ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়। 

৪. দৃশ্যমান (Visible) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলটি 400-700 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চল VIBGYOR অঞ্চলরূপে চিহ্নিত। 
- পরমাণুর সর্ববহিঃস্তরের ইলেকট্রন এ অঞ্চলের রশ্মি শোষণ বা বিকিরণ করে বর্ণালি সৃষ্টি করে। 

৫. অবলোহিত অঞ্চল: 
- অবলোহিত অঞ্চলটি Near-IR; Middle-IR এবং Far-IR এ তিনটি অংশে বিভক্ত। 
- জৈব যৌগের গঠন নির্ণয়ে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর নিম্নরূপ: 
• Near-IR অঞ্চল: 0.8-2.5 µm, 
• Middle-IR অঞ্চল: 2.5-25 µm, 
• Far-IR অঞ্চল : 25-1000 µm (1µm = 1×10-6 m).  

৬. মাইক্রোওয়েভস (Microwaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 µm হতে 1.0 cm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 

৭. রেডিও ওয়েভস (Radiowaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 cm হতে 5 m পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রেডিও এন্টেনাতে উচ্চ কম্পাঙ্কের পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ (AC) প্রবাহ দ্বারা এসব তরঙ্গের সৃষ্টি করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৫৫২.
গাছের একটি আপেল পৃথিবীকে f বলে আকর্ষণ করছে। পৃথিবী আপেলকে F বলে আকর্ষণ করছে। সুতরাং-
  1. ক) F >> f
  2. খ) f >> F
  3. গ) F < f
  4. ঘ) F = f
সঠিক উত্তর:
ঘ) F = f
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) F = f
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ বল: 
- মহাবিশ্বের যেকোন দুইটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে।

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
’মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজ দিকে আকর্ষণ করে এবং এই আকর্ষণ বলের মান বস্তু কণাদ্বয়ের ভরের গুনফলের সমানুপাতিক এবং এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল বস্তু কণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে।

আপেলের আকর্ষণ বল f, পৃথিবীর আকর্ষণ বল F হলে,
F = f = GMm/R2
এখানে,
M = পৃথিবীর ভর,
m = আপেলের ভর,
R = মধ্যবর্তী দূরত্ব

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ড. শাহজাহান তপন।
১৩,৫৫৩.
Which of the following is not a by product of Photosynthesis?
  1. Oxygen
  2. Water
  3. Carbon dioxide
  4. None of the above
সঠিক উত্তর:
Carbon dioxide
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Carbon dioxide
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ:

- যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ নিজস্ব ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।
- এটি একটি জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া।
- ইংরেজ শারীরতত্ত্ববিদ ব্ল্যাকম্যান ১৯০৫ সালে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে দু'টি পর্যায়ে ভাগ করেন।
যথা- (ক) আলোক নির্ভর পর্যায়,
- সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায়ে আলো অপরিহার্য। 
- আলোক নির্ভর পর্যায়ের বিক্রিয়াসমূহ ক্লোরোপ্লাস্টের থাইলাকয়েড মেমব্রেনে সংঘটিত হয়। 
খ) আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়,
- প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষভাবে আলোর উপর নির্ভরশীল নয় বলে একে আলোক নিরপেক্ষ পর্যায় বলা হয়। 
- এ পর্যায়ের বিক্রিয়াগুলো ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমাতে সংঘটিত হয়।
- সালোকসংশ্লেষণে উপজাত হিসেবে অক্সিজেন ও পানি তৈরী হয়। কিন্তু কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরী হয় না।
- স্থলজ উদ্ভিদের তুলনায় জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ বেশী হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।
১৩,৫৫৪.
বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তর অবক্ষয়ে কোন গ্যাসটির ভূমিকা সর্বোচ্চ?
  1. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. জলীয় বাষ্প
  3. CFC বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
  4. নাইট্রিক অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
CFC বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CFC বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
ব্যাখ্যা
- ওজনস্তর ক্ষয়ের জন্যে সবচেয়ে বেশি দায়ী ক্লোরোফ্লোরোকার্বন বা সিএফসি গ্যাস। 
- এছাড়া ওজনস্তরের জন্যে ক্ষতিকর অন্যান্য গ্যাসসমূহের মধ্যে রয়েছে নাইট্রাস অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, ব্রোমিন, মিথেন, মিথাইল ক্লোরাইড ইত্যাদি। 
- ওজনস্তর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত একটি আবরণ যা প্রাণীকুলকে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি থেকে রক্ষা করে। 

CFC গ্যাস: 
-  CFC গ্যাস হলো ক্লোরোফ্লোরো কার্বন। 
- সিএফসি বায়ুমন্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরের ক্ষতি করে। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে কিন্তু এর মধ্যে ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (সিএফসি) গ্যাস প্রত্যক্ষভাবে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে। 
- সিএফসি এর মধ্যে CFC12 এবং CFC13 সর্বাধিক ক্ষতিকর। 
- CFC12 এবং CFC13 এর কার্বন যৌগপ্তলো জায়মান দশায় ক্লোরিন উৎপাদন করে। 
- উৎপন্ন ক্লোরিন ওজোনের সাথে বিক্রিয়া করে ওজোনের অণু ধ্বংস করে। 
- এক লক্ষ ওজোনের অণু ধ্বংসের জন্য একটি ক্লোরিনের অণুই যথেষ্ট। 

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং এনসাক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১৩,৫৫৫.
নিচের কোনটিকে মহাবিষুব বলা হয়?
  1. ক) ২১ মার্চ
  2. খ) ২১ জুন
  3. গ) ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) ২২ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
ক) ২১ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২১ মার্চ
ব্যাখ্যা
- নিরক্ষরেখায় সূর্যের গমনকে বিষুব বলা হয়। সূর্যের উত্তরায়ণের সময় ২১শে মার্চ সূর্য নিরক্ষরেখায় অবস্থান করে। এতে করে ২১শে মার্চ পৃথিবীর দিন-রাত্রি সমান থাকে। এই দিনটিকে মহাবিষুব বলা হয়।
- আবার এইদিন (২১ মার্চ) থেকে উত্তর গোলার্ধে বসন্ত শুরু হয় বিধায় একে বাসন্ত বিষুব বলা হয়।
- ২৩শে সেপ্টেম্বর দক্ষিণায়নের অংশ হিসেবে সূর্য নিরক্ষরেখায় অবস্থান করে। এতে ২৩শে সেপ্টেম্বরও পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রি সমান হয়। এই দিনটিকে শারদ বিষুব বলা হয়।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং ব্রিটানিকা)
১৩,৫৫৬.
কোনটি তরল-গ্যাস দ্রবণ?
  1. ক) কোমল পানীয়
  2. খ) খাবার স্যালাইন
  3. গ) ভিনেগার
  4. ঘ) লেবুর শরবত
সঠিক উত্তর:
ক) কোমল পানীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কোমল পানীয়
ব্যাখ্যা

তরল-গ্যাস দ্রবণ:
- যে সমস্ত দ্রবণে তরল দ্রাবকে গ্যাসীয় পদার্থ দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে তাকে তরল-গ্যাস দ্রবণ বলে। 
- দ্রবণে দ্রাবক হলো তরল পদার্থ আর দ্রব হলো গ্যাসীয় পদার্থ। যেমন: (কোমল পানীয়- কোকা কোলা, সেভেন আপ)। 
- এ সমস্ত কোমল পানীয়ের বোতল খোলার সাথে সাথে হিস্ শব্দ করে বুদবুদ আকারে যে গ্যাসীয় পদার্থ বের হয় তা হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড যা পানীয়ের মধ্যে দ্রবীভূত অবস্থায় ছিল। 
- অর্থাৎ কোমল পানীয়গুলো হলো তরল-গ্যাস দ্রবণ। 
- পানিতে বসবাসকারী প্রাণীসমূহ (যেমন: মাছ) তাদের নিঃশ্বাসের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরাসরি বাতাস থেকে নিতে পারে না।
- পানিতে বসবাসকারী প্রাণীসমূহ অক্সিজেন নেয় পানিতে থাকা দ্রবীভূত অক্সিজেন থেকে। তাই নদ-নদী, খাল বিল বা প্রাকৃতিক জলাশয়ের পানি কিন্তু এক ধরনের তরল-গ্যাস দ্রবণ। 
- আবার বহুল সমালোচিত ফরমালিনও (যা আইনবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন ফল ও মাছের সংরক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে) পানিতে ফরমালডিহাইড নামক গ্যাসের দ্রবণ।

অপরদিকে,
- লেবুর শরবত ও ভিনেগার হলো তরল-তরল দ্রবণ।
- খাবার স্যালাইন হলো - তরল-কঠিন দ্রবণ।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১৩,৫৫৭.
ভিটামিন B12 (কোবালামিন)-এর অভাবে প্রধানত কোন সমস্যা দেখা দেয়?
  1. রক্ত জমাট বাঁধতে বিলম্ব
  2. রক্তশূন্যতা
  3. ত্বক খসখসে হওয়া
  4. রাতকানা
সঠিক উত্তর:
রক্তশূন্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তশূন্যতা
ব্যাখ্যা

• ভিটামিন B12 (কোবালামিন)-এর অভাবে রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) দেখা দেয়, কারণ এটি রক্তকণিকা তৈরিতে অপরিহার্য।

• ভিটামিন B কমপ্লেক্স:
- ভিটামিন B কমপ্লেক্স হলো পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনের একটি গোষ্ঠী।
- এদের মধ্যে B1, B2, B3, B6, B9 ও B12 গুরুত্বপূর্ণ।
- এসব ভিটামিন দেহের বিপাক, স্নায়ু কার্যক্রম ও রক্তগঠন–এ ভূমিকা রাখে।
 
• কোবালামিন বা সায়ানোকোবালামিন (ভিটামিন B12):
- ভিটামিন B12 দেহে লাল রক্তকণিকা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ।
- এটি স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে।
- ভিটামিন B12-এর অভাবে দেহে রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) দেখা দেয়।
- দীর্ঘদিন অভাব থাকলে শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
 
• ভিটামিন B12-এর অভাবজনিত প্রভাব:
- রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়।
- অক্সিজেন পরিবহন ব্যাহত হয়।
- ফলে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়।
- এ অবস্থাকে রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া বলা হয়।
 
• অন্যান্য অপশন:
- রক্ত জমাট বাঁধতে বিলম্ব → এটি প্রধানত ভিটামিন K-এর অভাবে ঘটে।
- রাতকানা → ভিটামিন A-এর অভাবে হয়।
- ত্বক খসখসে হওয়া → ভিটামিন B3-এর অভাবে দেখা যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

১৩,৫৫৮.
সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় -
  1. প্রায় ১৮০ মিলিয়ন বছর
  2. প্রায় ২২০ মিলিয়ন বছর
  3. প্রায় ২৪০ মিলিয়ন বছর
  4. প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ২৪০ মিলিয়ন বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ২৪০ মিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা
গ্যালাক্সি:
- সৌরজগতে সূর্যকে কেন্দ্র করে আটটি গ্রহ তাদের নিজস্ব কক্ষপথে অবিরত আবর্তন করে।
- পৃথিবী, গ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালক্সি সবকিছু নিয়েই গঠিত হয় মহাবিশ্ব।
- গ্যালাক্সি মহাবিশ্বের অংশ।
- এখানে রয়েছে হাজার হাজার কোটি নক্ষত্র ও গ্রহ, উপগ্রহ।

⇒ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি:
- পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার নাম হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ।
- এটি মাত্র এক লাখ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি একটি স্পাইরাল বা সর্পিল গ্যালাক্সি।
- আমাদের সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় প্রায় ২৪০ মিলিয়ন বছর।
- মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রটি আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
- অর্থাৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে পৃথিবীতে আলো এসে পৌঁছাতে সময় লাগে ২৫ হাজার বছর। 
- গ্যালাক্সির কেন্দ্রটি অত্যন্ত উজ্জ্বল।
- এর বেশির ভাগ অংশই ঢাকা পড়ে আছে হাইড্রোজেন গ্যাসে।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) NASA (.gov).
১৩,৫৫৯.
হাসপাতালে ব্যবহৃত অক্সিজেনে অক্সিজেনের পরিমাণ কত?
  1. শতকরা ৯৫ ভাগ
  2. শতকরা ৯৩ ভাগ
  3. শতকরা ৮৮ ভাগ
  4. শতকরা ৯০ ভাগ
সঠিক উত্তর:
শতকরা ৯৩ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শতকরা ৯৩ ভাগ
ব্যাখ্যা
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র মতে, হাসপাতালে ব্যবহৃত অক্সিজেনে অক্সিজেনের পরিমাণ শতকরা ৯৩% বিশুদ্ধ। 
- এটি যে কোনও দূষণ থেকে মুক্ত এবং তেল-মুক্ত কম্প্রেসার দ্বারা উৎপন্ন হওয়া উচিত। 
- অক্সিজেন একটি ড্রাগ এবং একটি লক্ষ্য স্যাচুরেশন পরিসীমার সঙ্গে এটি নির্ধারিত করা উচিত।

উৎস: WHO ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]।
১৩,৫৬০.
নিরক্ষরেখার উপর সূর্য কিভাবে কিরণ দেয়? 
  1. তির্যকভাবে
  2. লম্বভাবে
  3. কৌণিকভাবে
  4. আড়াআড়িভাবে
সঠিক উত্তর:
লম্বভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লম্বভাবে
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখা: 
- সূর্যকিরণের মাত্রা অক্ষাংশভেদে বিভিন্ন রকম হয়। 
- নিরক্ষরেখার উপর সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। 
- নিরক্ষরেখা থেকে যতই উত্তর বা দক্ষিণে যাওয়া যায়, সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়তে থাকে। 
- এর ফলে নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় মেরুর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
১৩,৫৬১.
স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্বের ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) একজন শিশুর এই দূরত্ব ৫ সেন্টিমিটারের কাছাকাছি
  2. খ) একজন স্বাভাবিক বয়স্ক লােকের এই দূরত্ব ২৫ সেমি পর্যন্ত হতে পারে
  3. গ) এই দূরত্ব মানুষের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে অপরিবর্তিত থাকে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) এই দূরত্ব মানুষের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে অপরিবর্তিত থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এই দূরত্ব মানুষের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্বঃ মানুষ তার চোখের সবচেয়ে কাছে যে বিন্দু পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুকে খালি চোখে স্পষ্ট দেখা যায়, তাকে স্পষ্ট দৃষ্টির নিকট বিন্দু বলে এবং চোখ থেকে বিন্দুর দূরত্বকে স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব ধরে নেওয়া হয়। এই দূরত্ব মানুষের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। একজন শিশুর এই দূরত্ব ৫ সেন্টিমিটারের কাছাকাছি এবং একজন স্বাভাবিক বয়স্ক লােকের এই দূরত্ব ২৫ সেমি পর্যন্ত হতে পারে। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
১৩,৫৬২.
কোন বিজ্ঞানী 'মহাকর্ষ বলের সূত্র' আবিষ্কার করেছিলেন?
  1. গ্যালিলিও গ্যালিলি
  2. স্যার আইজ্যাক নিউটন
  3. আলবার্ট আইনস্টাইন
  4. নিকোলাস কপারনিকাস
সঠিক উত্তর:
স্যার আইজ্যাক নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার আইজ্যাক নিউটন
ব্যাখ্যা
• মহাকর্ষ:
- ১৭৬৪ সালে বিজ্ঞানী আইজাক নিউটন মহাবিশ্বের পরস্পর যোগসূত্রহীন বস্তুসমূহের সাম্যাবস্থা বজায় থাকা এবং সূর্যের চারদিকে গ্রহসমূহের ঘূর্ণনের কারণ হিসাবে এক ধরনের সার্বজনীন বলের ধারণা উপস্থাপন করেন। এর নাম দেয়া হয় মহাকর্ষ বল।
- এই বল হলো মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তু কণার মধ্যে পরস্পরকে আকর্ষণ বল। অর্থাৎ যে বল দ্বারা মহা বিশ্বের প্রতিটি বস্তু কণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে তার নাম মহাকর্ষ বল।
- এই মহাকর্ষ বল সম্পর্কে নিউটন একটি সূত্র দেন। এটি নিউটনের মহাকর্ষ বলের সূত্র নামে খ্যাত।
সূত্রটি হলো:
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে।
- এই আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল বস্তুকণাদ্বয়ের কেন্দ্র সংযোজক সরল রেখা বরাবর ক্রিয়া করে।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫৬৩.
আবৃতবীজী উদ্ভিদ নয় কোনটি?
  1. আম
  2. জাম
  3. পাইনাস
  4. সুপারি
সঠিক উত্তর:
পাইনাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাইনাস
ব্যাখ্যা
সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, কাঁঠাল, ধান, নারিকেল ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতা বিভক্ত। 
- ফুলের মাধ্যমে পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় এদের বংশবিস্তার ঘটে। 
- বীজের আবরণের উপর নির্ভর করে সপুষ্পক উদ্ভিদকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। আবৃতবীজী উদ্ভিদ: 
- আবৃতবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকায় ফল উৎপাদন হয় এবং বীজ আবৃত থাকে। 
উদাহরণ: আম, জাম, সুপারি ইত্যাদি। 

২। নগ্নবীজী উদ্ভিদ: 
- নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না। তাই বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
উদাহরণ: সাইকাস, পাইনাস ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১৩,৫৬৪.
'গ্রাভিটন' কোন বলের বাহক কণা?
  1. ক) দুর্বল নিউক্লিয় বল
  2. খ) তাড়িতচৌম্বক বল
  3. গ) মহাকর্ষ বল 
  4. ঘ) সবল নিউক্লিয় বল
সঠিক উত্তর:
গ) মহাকর্ষ বল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মহাকর্ষ বল 
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল:
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- এই মৌলিক বলগুলো হলো- 
১। মহাকর্ষ বল, 
২। তাড়িতচৌম্বক বল, 
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং 
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল। 
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন। 

অন্যদিকে, 
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন। 
- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন। 
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।
১৩,৫৬৫.
নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া কাজে লাগিয়ে উৎপন্ন করা যায় -
  1. বিদ্যুৎ
  2. পারমাণবিক বোমা
  3. হাইড্রোজেন বোমা
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক শক্তি
- ফ্রেঞ্চ পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেল সর্বপ্রথম ১৮৯৬ সালে পারমাণবিক শক্তি উদ্ভাবন করেন।
- যে প্রক্রিয়ায় পরমাণুর সংযোজন বা বিভাজন ঘটিয়ে ব্যবহারযোগ্য শক্তি পাওয়া যায় তাকে পারমাণবিক বিক্রিয়া বলে।
- পরমাণুর নিউক্লিইয়াসই পারমাণবিক শক্তির উৎস। 
- পারমাণবিক শক্তি মূলত দুই ভাবে পাওয়া যায়, যথা- 
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া,
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া।

- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভর হতে শক্তির রূপান্তর আইনস্টাইনের E = mc2 শক্তির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে  E=উৎপন্ন শক্তি, m=শক্তি উৎপন্নকারী পদার্থের ভর এবং c=আলোর গতিবেগ (শূণ্য মাধ্যমে)। 
- নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া প্রয়োজন মত সঠিক পরিমাণে তাপ উৎপাদন করে যা বিভিন্ন গবেষণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
- অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন করে যা খুবই বিপজ্জনক। পারমাণবিক বোমা মূলত অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া। 
- তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম ধাতু পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙে ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয়।

- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
- এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম রাশিয়া থেকে বিশেষ উড়োজাহাজে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।

তথ্যসূত্র - ১. HSC পদার্থবিজ্ঞান , শাহজাহান তপন।
২. ব্রিটানিকা।
১৩,৫৬৬.
ভোল্টেজ ও কারেন্ট-এর মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে-
  1. আইনস্টাইনের সূত্র
  2. নিউটনের সূত্র
  3. ওহমের সূত্র
  4. ফ্যারাডের সূত্র
সঠিক উত্তর:
ওহমের সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওহমের সূত্র
ব্যাখ্যা
• ভোল্টেজ (V) ও কারেন্ট (I) এর মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে ওহমের সূত্র।

• ওহমের সূত্র:
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোন পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমান পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক।
- বিভব পার্থক্য v এবং প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমান I হলে V ∝ I 

• ফ্যারাডের সূত্র:
- প্রথম সূত্র: তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় যেকোন তড়িৎদ্বারে সংঘটিত রাসায়নিক পরিবর্তনের পরিমাণর অথবা কোন তড়িৎদ্বারে উৎপন্ন পদার্থের পরিমাণ তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত মোট তড়িতের সমানুপাতিক।
-দ্বিতীয় সূত্র:
গলিত বা দ্রবীভূত বিভিন্ন তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্য দিয়ে একই পরিমান তড়িৎ প্রবাহ বা একই পরিমান বিদ্যুৎ আধান সমান সময়ের জন্যে প্রবাহিত করলে তবে তড়িৎ দ্বারে জমাকৃত বা দ্রবীভূত পদার্থের ভর ওই পদার্থ সমূহের তড়িৎ রাসায়নিক তুল্যাংকের সমানুপাতিক হবে।

• নিউটনের সূত্র:
- প্রথম সূত্র: বাইরে থেকে কোন বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করলে, স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু চিরকাল সমবেগে সরলরেখায় বা সরল পথে চলতে থাকে।
- দ্বিতীয় সূত্র: কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে।
- তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে৷

• আইনস্টাইনের সূত্র:
- পদার্থ ও শক্তির অভিন্নতা বিষয়ক সূত্র E = mc2 যেখানে আইনস্টাইন ভর ও শক্তিকে এক জায়গায় নিয়ে আসেন।
- E = mc2 হলো থিউরি অফ রিলেটিভিটি থেকে আগত একটি সূত্র।

উৎস:
১. রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২. রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. হাজারী ও নাগ।
১৩,৫৬৭.
তেজস্ক্রিয়তার এস.আই লব্ধ একক কোনটি?
  1. রন্টজেন 
  2. ওহম 
  3. বেকেরেল 
  4. কুরী 
সঠিক উত্তর:
বেকেরেল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেকেরেল 
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় পদার্থ: 
- কয়েকটি বিশেষ ধরনের নিঃসরণ করে ভারী নিউক্লিয়াসগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- তেজস্ক্রিয়তার এস.আই লব্ধ একক হলো বেকেরেল (Bq), যা আবিষ্কারকের নামানুসারে করা হয়
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন: রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th), ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি।
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৫৬৮.
কৃষ্ণ গহ্বরের চারপাশে যে অঞ্চলটি আলোকে আটকায়, তাকে কী বলা হয়?
  1. Spacetime
  2. Gravitational Wave
  3. Event Horizon
  4. Singularity
সঠিক উত্তর:
Event Horizon
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Event Horizon
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণ গহ্বরের চারপাশে যে অঞ্চলটি আলোসহ সবকিছুকে আটকায়, তাকে Event Horizon বলা হয়। এটি এমন একটি সীমানা, যার বাইরে কিছুই, এমনকি আলোও, কৃষ্ণ গহ্বরের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি থেকে পালাতে পারে না। Event Horizon হলো সেই বিন্দু, যেখানে স্থান ও সময়ের গতি এতটাই বিকৃত হয়ে যায় যে, কোনো বস্তুর জন্য ফিরে আসা অসম্ভব হয়। এটি কৃষ্ণ গহ্বরকে দৃশ্যমানভাবে বিচ্ছিন্ন করে তোলে এবং আমাদের পক্ষে তার অভ্যন্তরের কোনো তথ্য জানা সম্ভব হয় না।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: গ) Event Horizon.

• কৃষ্ণ গহ্বর:

- ১৯৬৯ সালে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর আবিষ্কার করেন মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার।
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল।
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম।
- ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম।
- কৃষ্ণ গহ্বরের চারপাশে যে অঞ্চলটি আলোকে আটকায়, তাকে বলা হয় ইভেন্ট হরিজন।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৩,৫৬৯.
ধানের পামরি পোকা আক্রমণের লক্ষণ -
  1. শীষ আসার সময় হলে 'হোয়াইট হেড' বের হয়
  2. গাছ খাটো হয় 
  3. পাতা শুকিয়ে পুড়ে যাওয়ার মত হয়
  4. আক্রান্ত কুঁশি পিয়াজের মত রং
সঠিক উত্তর:
পাতা শুকিয়ে পুড়ে যাওয়ার মত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতা শুকিয়ে পুড়ে যাওয়ার মত হয়
ব্যাখ্যা
পামরি পোকা (Rice hispa):
⇒ ক্ষতির লক্ষণ:
১) পামরি পোকা পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় ও কীড়া এ দু-অবস্থায় ধান গাছ আক্রমন করে।
২) কীড়া পাতা ছিদ্র করে সবুজ অংশ খায়।
৩) পূর্ণবয়স্ক পোকা ধানের পাতার উপর সমান্তরাল দাগ করে সবুজ অংশ কুরে কুরে খেয়ে ফেলে।
৪) পাতা শুকিয়ে পুড়ে যাওয়ার মত হয়।

⇒ দমন ব্যবস্থা:
১) হাতজাল অথবা মশারিরর কাপড় দিয়ে পূর্ণবয়স্ক পোকা ধরে মেরে ফেলতে হবে।
২) গাছের পাতা ছেঁটে দিয়ে কীড়া মারা যায়।
৩) পাতার ৩৫% ক্ষতি হলে অথবা প্রতি গোছায় ধানগাছে ৪টি পূর্ণবয়স্ক পোকা থাকলে অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫৭০.
কোন অবস্থায় পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি? 
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. গ্যাসীয়
  4. প্লাজমা
সঠিক উত্তর:
কঠিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন
ব্যাখ্যা
পদার্থের অবস্থা (States of Matter): 
- যার ভর আছে, স্থান দখল করে, স্থিতিশীল ও গতিশীল অবস্থার পরিবর্তনে বাঁধা সৃষ্টি করে, তাকে পদার্থ বলা হয়।
- সাধারণভাবে ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য অবস্থার উপর ভিত্তি করে পদার্থকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। কঠিন অবস্থা (Solid state): 
- পদার্থের এ অবস্থায় নির্দিষ্ট ভরের পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতির, নির্দিষ্ট আয়তন ও আকৃতি থাকে। এ অবস্থায় পদার্থের নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক গঠন বিন্যাসে থাকে। 
- এ অবস্থায় উপাদান কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল খুবই প্রবল থাকে এবং উপাদান কণার গতিশক্তি খুবই নগণ্য। গতিশক্তি কম হওয়ায় সুনির্দিষ্ট নিয়মে সজ্জিত থাকে। এ কারণে নির্দিষ্ট আকৃতির ও উচ্চ ঘনত্ববিশিষ্ট হয়। 
- এ অবস্থায় পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি গতিশক্তির তুলনায় অনেক বেশি থাকে। 

২। তরল অবস্থা (Liquid state): 
- এ অবস্থায় পদার্থের ভর ও আয়তন নির্দিষ্ট থাকে কিন্তু আকার নির্দিষ্ট থাকে না। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় ভর ও আয়তনের কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে সে পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- এ অবস্থায় অণুগুলোর মধ্যকার আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল কঠিন অবস্থার তুলনায় কম বলে অণুগুলো দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে না। অণুগুলোর গতিশক্তি কঠিন অবস্থার তুলনায় যথেষ্ট বেশি বলে অতি সহজে চলাচল করতে পারে। এ কারণে তরল অবস্থায় পদার্থের প্রবাহ গুণ থাকে এবং আকৃতি সহজে পরিবর্তনশীল হয়। 
- এ অবস্থায় পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল ও গতিশক্তি প্রায় সমান হয়। 

৩। গ্যাসীয় অবস্থা (Gasious state): 
- এ অবস্থায় পদার্থ ওর ভর নির্দিষ্ট রাখে কিন্তু কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট আকার বা আকৃতি বজায় রাখতে পারে না। এ অবস্থায় যতো কম পরিমাণের পদার্থ হোক না কেন তা পাত্রকে পূর্ণ করে অবস্থান করবে। এর মূল কারণ এ অবস্থায় উপাদান অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল কার্যকর হয় না বললেই চলে। 
- অণুগুলোর গতিশক্তিও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং বিক্ষিপ্তভাবে স্বাধীন স্বত্ত্বায় এদিক ওদিক চলাচল করতে থাকে। 
- গ্যাসীয় অবস্থায় একদিকে ঘনত্ব যেমন মারাত্মকভাবে কমে যায় অন্যদিকে সংকোচনশীলতা মারাত্মক ভাবে বেড়ে যায়। এজন্য আকার ও আয়তন স্থির থাকে না। 
- এ অবস্থায় উপাদান কণাগুলোর গতিশক্তি আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলের তুলনায় অনেক বেশি হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫৭১.
প্রশমন বিক্রিয়ার ফলে কোন পদার্থ উৎপন্ন হয়?
  1. লবণ ও পানি
  2. পানি ও অক্সিজেন
  3. গ্যাস ও লবণ
  4. পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
লবণ ও পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লবণ ও পানি
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়া (Nutralisation Reaction): 
- এসিড দ্রবণ ও ক্ষার দ্রবণ যোগ করলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। 
- বিক্রিয়ার সময় এসিড তার এসিড ধর্ম এবং ক্ষার তার ক্ষার ধর্মকে হারিয়ে ফেলে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- এসিড জলীয় দ্রবনে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে থাকে। 
- এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষারের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে। 
• H+(aq) + OH-(aq) → H2O (l) 
- এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) ও ক্ষার, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) কে কোনো কাঁচের জারের মধ্যে এক সাথে মিশালে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ ও পানি (H2O) উৎপন্ন হয়। 
• HCl (aq) + NaOH (aq)→ H+(aq) + Cl- (aq) + Na+ (aq) + OH- (aq)→ NaCl(aq) + H2O (l) 
- এক্ষেত্রে, হাইড্রোক্লোরিক এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি (H2O) উৎপন্ন করে। এটিই মূলত প্রশমন বিক্রিয়া। 

- এসিড মাত্রই জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) তথা হাইড্রোনিয়াম আয়ন (H3O+) দান করবে, এটি এসিডের প্রধান বৈশিষ্ট্য। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করবে। 
- এসিড দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হয় এবং ক্ষার দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয়। 
- এসিড দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের গাঢ়ত্ব যত বেশি, এসিড তত তীব্র হয় এবং দ্রবনের pH মান তত কম হয়। 
- ক্ষার দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়নের গাঢ়ত্ব যত বেশি, ক্ষার তত তীব্র হয় এবং দ্রবণের pH মান তত বেশি হয়। 
- জলীয় দ্রবণে এসিড-ক্ষার প্রশমন বিক্রিয়ার সময় যখন দ্রবণ পূর্ণ প্রশমিত হয় তখন দ্রবণের pH মান 7 এর কাছাকাছি হয়। 
- পূর্ণ প্রশমনের ক্ষেত্রে দ্রবণে কোনো অতিরিক্ত এসিড অথবা অতিরিক্ত ক্ষার এর কোনটিই থাকে না। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫৭২.
প্লাজমা অবস্থায় কণাগুলির বৈশিষ্ট্য কী?
  1. কণাগুলি আয়নিত হয়
  2. কণাগুলি নির্জীব থাকে
  3. কণাগুলি গতি হারায়
  4. কণাগুলি কঠিন হয়
সঠিক উত্তর:
কণাগুলি আয়নিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণাগুলি আয়নিত হয়
ব্যাখ্যা
• প্লাজমা হল একটি বৈদ্যুতিক পরিবাহী মাধ্যম যেখানে প্রায় সমান সংখ্যক ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা থাকে , যা গ্যাসের পরমাণুগুলি আয়নিত হয়ে গেলে উৎপন্ন হয়। অর্থাৎ এটি একটি আয়নিত অবস্থা। 
- এটিকে কখনও কখনও পদার্থের চতুর্থ অবস্থা হিসাবে উল্লেখ করা হয়, যা কঠিন , তরল এবং বায়বীয় অবস্থা থেকে পৃথক ।
- এটি এমন একটি বিশেষ অবস্থা, যা খুব উচ্চ তাপমাত্রায় বা উচ্চ  শক্তির সাহায্যে  উৎপন্ন হয়। এই আয়নিত গ্যাসীয় অবস্থার  কারনে এরা  বিশেষ অবস্থায়  বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে। 

⇒ প্লাজমার কণাগুলি পদার্থের মধ্যে সর্বোচ্চ গতিশক্তি প্রাপ্ত হয়  এবং তারা একে অপরের সাথে সংঘর্ষ করতে থাকে, ফলে এটি একটি বিদ্যুৎ পরিবাহী হিসেবে কাজ করে। এটি সূর্যের কেন্দ্র এবং আয়নোস্ফিয়ারে পাওয়া যায়, এবং এটি প্লাজমা টিভি, প্লাজমা কাটিং, এবং আণবিক গবেষণার মতো প্রযুক্তিতে ব্যবহার হয়।

অন্যদিকে,
কণাগুলি নির্জীব:  প্লাজমা অবস্থায় কণাগুলির গতি থাকে, সুতরাং এটি  সঠিক নয়। এটি গতিশীল এবং শক্তিসম্পন্ন। 

কণাগুলি গতি হারায়:  প্লাজমা কণাগুলি সবসময় গতিশীল থাকে, তাই তারা গতি হারায় না। বরং উচ্চ গতিতে চলে। 

কণাগুলি কঠিন হয়:   প্লাজমা গ্যাসের একটি অবস্থা, এবং এটি কঠিন অবস্থায় পরিণত হয় না। এটি তরল বা কঠিন নয়, বরং একটি আয়নিত গ্যাস।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
- ব্রিটানিকা
১৩,৫৭৩.
আপেক্ষিক তত্ত্বের (Theory of Relativity) প্রবক্তা কে?
  1. স্যার আইজ্যাক নিউটন
  2. আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. ম্যাক্স প্ল্যাংক
  4. নিলস বোর
সঠিক উত্তর:
আলবার্ট আইনস্টাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
◉ আলবার্ট আইনস্টাইন ১৯০৫ সালে বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব (Special Theory of Relativity) এবং ১৯১৫ সালে সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব (General Theory of Relativity) প্রবর্তন করেন।

আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব Einstein's Theory of Relativity:
- চিরায়ত বলবিজ্ঞানের মতে স্থান, কাল এবং ভর ধ্রুব।
- আইনস্টাইন এগুলো সম্পর্কে চিরায়ত বলবিজ্ঞানের ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, স্থান, কাল এবং ভর এগুলো পরম কিছু নয়; এগুলো আপেক্ষিক। আইনস্টাইনের এ তত্ত্বকে বলা হয় আপেক্ষিকতা তত্ত্ব।

আপেক্ষিকতা তত্ত্বটি দুটো ভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো:
ক. আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব (Special theory of relativity) এবং
খ. আপেক্ষিকতার সার্বিক তত্ত্ব (General theory of relativity)।

- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের দুইটি স্বীকার্য প্রদান করেন। যথা-
১. প্রথম স্বীকার্য: স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে। 
২. দ্বিতীয় স্বীকার্য: শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 
- তার ভর শক্তির সম্পর্ক সূত্রটি হলো
E = mc2
যেখানে,
E = শক্তি,
m = ভর,
c = আলাের বেগ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র; একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন, মুহম্মদ আজিজ হাসান, ড. রানা চৌধুরী)। 
১৩,৫৭৪.
অস্থি এক ধরনের-
  1. ফাইব্রাস যোজক টিস্যু
  2. কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যু
  3. স্কেলিটাল যোজক টিস্যু
  4. স্কেলিটাল আবরণী টিস্যু
সঠিক উত্তর:
স্কেলিটাল যোজক টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্কেলিটাল যোজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
• অস্থি এক ধরনের  স্কেলিটাল যোজক টিস্যু।

• স্কেলিটাল যোজক টিস্যু (Skeletal Connective Tissue):
- দেহের অভ্যন্তরীণ কাঠামো গঠনকারী টিস্যুকে স্কেলিটাল যোজক টিস্যু বলে।
- এই টিস্যু দেহের অভ্যন্তরীণ কাঠামো গঠন করে। দেহকে নির্দিষ্ট আকৃতি এবং দৃঢ়তা দেয়।
- অঙ্গ সঞ্চালন এবং চলনে সহায়তা করে।
- মস্তিষ্ক, মেরুরজ্জু, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড-এরকম দেহের নরম ও নাজুক অঙ্গগুলোকে রক্ষা করে।
- বিভিন্ন ধরনের রক্তকণিকা উৎপাদন করে।

- গঠনের ভিত্তিতে স্কেলিটাল যোজক টিস্যু দুধরনের হয়।
- যেমন: কোমলাস্থি এবং অস্থি।
- কোমলাস্থি (Cartilage): কোমলাস্থি এক ধরনের নমনীয় স্কেলিটাল যোজক টিস্যু। মানুষের নাক ও কানের পিনা কোমলাস্থি দিয়ে তৈরি।
- অস্থি: অস্থি বিশেষ ধরনের দৃঢ়, ভঙ্গুর এবং অনমনীয় স্কেলিটাল কানেকটিভ টিস্যু। এদের মাতৃকায় ক্যালসিয়াম-জাতীয় পদার্থ জমা হয়ে অস্থির দৃঢ়তা প্রদান করে।

অন্যদিকে,
- কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যু (Cuboidal Epithelial Tissue):
এই টিস্যুর কোষগুলো ঘনাকার বা কিউব আকৃতির অর্থাৎ কোষগুলোর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা প্রায় সমান। উদাহরণ: বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা।
- ফাইব্রাস যোজক টিস্যু (Fibrous Connective Tissue):
এই ধরনের যোজক টিস্যু দেহত্বকের নিচে পেশির মধ্যে থাকে। এদের মাতৃকায় বিভিন্ন ধরনের তনুর আধিক্য দেখা যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৫৭৫.
অন্ধ ব্যক্তিগণ সাদা রঙের একটি লাঠি বা ছড়ি ব্যবহার করেন কেন?
  1. সে যে অন্ধ তা অন্যদের বোঝানোর জন্য
  2. সাদা রঙ এক ধরণের আলো প্রদান করে
  3. সাদা রঙের লাঠি শক্ত হয়
  4. সাদা রঙ পবিত্রতার প্রতীক
সঠিক উত্তর:
সে যে অন্ধ তা অন্যদের বোঝানোর জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে যে অন্ধ তা অন্যদের বোঝানোর জন্য
ব্যাখ্যা

অন্ধ ব্যক্তিরা সাদা রঙের লাঠি ব্যবহার করেন প্রধানত অন্যদের সতর্ক করার জন্য যে তারা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।
- এটি এক ধরনের পরিচয় সংকেত (identification symbol) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- অন্ধ ব্যক্তিগণ সাদা ছড়ি ব্যবহার করার প্রধান কারণ হলো এটি একটি আন্তর্জাতিক প্রতীক যা অন্যদের স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে ছড়ি বহনকারী ব্যক্তিটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।
- এর ফলে পথচারী এবং বিশেষত যানবাহন চালকরা সতর্ক হতে পারে এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে রাস্তা পারাপার বা চলাচলের ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে।
- সাদা রঙ সাধারণত উজ্জ্বল এবং সহজে চোখে পড়ে (Highly Visible), বিশেষ করে ট্র্যাফিকের ভিড়ে, যা নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- লাঠিটি সামনের বাধা শনাক্ত করতেও সাহায্য করে।
- সাদা ছড়ির ডগায় বা মাঝে লাল রঙের একটি স্ট্রাইপও ব্যবহার করা হয়, যা এটিকে আরও বেশি মনোযোগ আকর্ষণকারী করে তোলে।
- এই ছড়িকে "ক্যান (Cane)" বা "লং ক্যান (Long Cane)" বলা হয় এবং এটি অন্ধ ব্যক্তিদের পথ চলাচলের জন্য একটি অপরিহার্য সরঞ্জাম।
- তাই সাদা রঙের মূল উদ্দেশ্য হলো দৃশ্যমানতা এবং পরিচয় প্রকাশ করা, যাতে সমাজের অন্যরা সহায়তা ও সহযোগিতা করতে পারেন।

উৎস: National Federation of the Blind (link)

১৩,৫৭৬.
পিতলকে প্রধানত কোন ধাতুর সংকর ধাতু বলা হয়? 
  1. জিঙ্কের সংকর ধাতু 
  2. লোহার সংকর ধাতু 
  3. কপারের সংকর ধাতু 
  4. টিনের সংকর ধাতু 
সঠিক উত্তর:
কপারের সংকর ধাতু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপারের সংকর ধাতু 
ব্যাখ্যা

সংকর ধাতু: 
- দুই বা ততোধিক ধাতু একে অপরের সঙ্গে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্বযুক্ত কঠিন ধাতব পদার্থ গঠন করে, তাকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
উদাহরণস্বরূপ-
- কাঁসা (ব্রোঞ্জ): কাঁসার ক্ষেত্রে প্রধান ধাতু কপার (৯০%) এবং টিন (১০%)। 
- পিতল: পিতলের মধ্যে কপার ৬৫% এবং জিংক ৩৫% থাকায় এটি কপারের সংকর ধাতু। 
- স্টিল: প্রধান ধাতু লোহা (৯৯%) এবং অপ্রধান পদার্থ কার্বন (১%), তাই স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৫৭৭.
কোন লবণটি কাপড় কাচার সোডা নামে পরিচিত?
  1. সোডিয়াম কার্বোনেট 
  2. সোডিয়াম ক্লোরাইড 
  3. সোডিয়াম স্টিয়ারেট
  4. সোডিয়াম গ্লুটামেট
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম কার্বোনেট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম কার্বোনেট 
ব্যাখ্যা
লবণের ব্যবহার: 
- যে লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে তা হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), এই লবণ সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। 
- তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে এই খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য আরেকটি লবণ সোডিয়াম গ্লুটামেট ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে যে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় তাও একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে যে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় সেগুলোও লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য চুনাপাথর নামক একটি লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করে থাকি, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট (NH4)3PO4, পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

শিল্পকারখানায় লবণ: 
- শিল্পকারখানায় নানা কাজে খাবার লবণ অপরিহার্য। 
যেমন- চামড়াশিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- বেশ কিছু লবণ যেমন- তুঁতে (CuSO4), মারকিউরিক সালফেট (HgSO4), সিলভার সালফেট (Ag2SO4) শিল্পকারখানায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৫৭৮.
নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট কোথায় পাওয়া যায়?
  1. Pithophora
  2. Oedogonium
  3. Spirogyra
  4. Zygnema
সঠিক উত্তর:
Spirogyra
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Spirogyra
ব্যাখ্যা
ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। 
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। 
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। 
- উদ্ভিদের জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট অতীব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে একে 'কোষের রান্নাঘর' (kitchen of cell) বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' (factory of synthesis of sugar) বলে। 
- এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গাণু। 

প্রতি কোষে সংখ্যা: 
- এক হতে একাধিক। 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত ১০ হতে ৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, কিন্তু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত আরও কম থাকে। 

আকৃতি: 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে ক্লোরোপ্লাস্টের আকৃতি সাধারণত লেন্সের মতো হয়ে থাকে। 
- নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে এদের আকৃতি হরেক রকম হতে পারে। 
যেমন- 
• পেয়ালাকৃতি (Chlamydomonas), 
সর্পিলাকার (Spirogyra)
• জালিকাকার (Oedogonium), 
• তারকাকার (Zygnema), 
• ফিতা বা আংটি আকৃতির/গার্ডলাকৃতির (Ulothrix), 
• গোলাকার (Pithophora) ইত্যাদি। 
- শৈবালে ক্লোরোপ্লাস্টের বৈচিত্র্য বেশি। 

আকার: 
- লেন্স আকৃতির ক্লোরোপ্লাস্টের ব্যাস সাধারণত ৩-৫ মাইক্রন। 
- Spirogyra এর সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট সোজা অবস্থায় কোষের দৈর্ঘ্যের চেয়েও বেশি লম্বা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
১৩,৫৭৯.
নিচের কোনটি প্রস্বেদনের প্রকার নয়?
  1. মূলীয় প্রস্বেদন
  2. ত্বকীয় প্রস্বেদন
  3. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন
  4. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন
সঠিক উত্তর:
মূলীয় প্রস্বেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূলীয় প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা

- প্রস্বেদনের প্রকার নয়- মূলীয় প্রস্বেদন 

প্রস্বেদন: 

- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়। 
যথা- (ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, (খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং (গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৫৮০.
কোনো পরিবাহকের প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল দ্বিগুণ করলে এর রোধ R কী হবে?
  1. 2R
  2. R/2
  3. R/4
  4. 4R
সঠিক উত্তর:
R/2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
R/2
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে। 
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
- স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
সুতরাং তাপমাত্রা ও উপাদান অপরিবর্তিত থাকলে কোনো পরিবাহীর রোধের দুটি সূত্র প্রযোজ্য। 
যথা- 

১) দৈর্ঘ্যের সূত্র: 
- তাপমাত্রা এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল অপরিবর্তিত থাকলে পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্যের সমানুপাতিক। 
- পরিবাহীর রোধ R এবং দৈর্ঘ্য। হলে সূত্রানুসারে R ∝ I, যখন এর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল অপরিবর্তিত থাকে। 
অর্থাৎ, স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর দৈর্ঘ্য যত বড় হবে রোধ তত বৃদ্ধি পাবে। 
- যদি স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের 1m দৈর্ঘ্যে পরিবাহীর রোধ 10 Ω হয় তবে 10 m দৈর্ঘ্যে পরিবাহীর রোধ 100 Ω হবে। 

২) প্রস্থচ্ছেদের সূত্র: 
- অন্যান্য ভৌত অবস্থা, তাপমাত্রা এবং দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকলে পরিবাহীর রোধ-এর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের ব্যস্তানুপাতিক। 
- পরিবাহীর রোধ R এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল A হলে সূত্রানুসারে R ∝ 1/A, যখন এর দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকে। 
অর্থাৎ, স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল যত বড় হবে রোধ তত হ্রাস পাবে। 
- যদি স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের 1m2 প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ 10 Ω হয় তবে 2m2 প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ 5 Ω হবে।

অনুরূপভাবে, 
- যদি স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের 1m2 প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ R Ω হয় তবে 2m2 প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ R/2 Ω হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫৮১.
নরম পানীয়ের বোতলের ঢাকনা খোলার সাথে সাথে বুদবুদ আকারে গ্যাস বের হওয়ার প্রধান কারণ কী?
  1. চিনি ভেঙে CO2 উৎপন্ন হয়
  2. বোতলে দ্রবীভূত O2 অক্সিডেশন ঘটায়
  3. কার্বনিক অ্যাসিড সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়
  4. উচ্চ চাপে দ্রবীভূত CO2 চাপ কমলে বের হয়ে আসে
সঠিক উত্তর:
উচ্চ চাপে দ্রবীভূত CO2 চাপ কমলে বের হয়ে আসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চ চাপে দ্রবীভূত CO2 চাপ কমলে বের হয়ে আসে
ব্যাখ্যা

• উচ্চ চাপে দ্রবীভূত CO2 চাপ কমলে বের হয়ে আসে — কারণ কোমল পানীয়তে CO2 উচ্চ চাপে ও নিম্ন তাপমাত্রায় দ্রবীভূত থাকে, ঢাকনা খোলার সাথে সাথে চাপ কমে গিয়ে গ্যাস বুদবুদ আকারে বের হয়।

• কোমল পানীয়:
- আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেমন ঈদ, বিয়ে ইত্যাদিতে কোমল পানীয় পান করি।
- কোমল পানীয় পান করার সময় বোতলের ভিতর থেকে বুদবুদ আকারে একটি গ্যাস বের হতে দেখা যায়।
- এই গ্যাস হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)।
- CO2 গ্যাসকে উচ্চ চাপে ও ঠান্ডা অবস্থায় পানিতে দ্রবীভূত করা হয়।
- বোতলের ঢাকনা খোলার সাথে সাথে ভিতরের চাপ কমে যায়।
- চাপ কমে যাওয়ায় দ্রবীভূত CO2 বুদবুদ আকারে বের হয়ে আসে।

• কার্বনিক অ্যাসিড গঠন:
- CO2 পানিতে দ্রবীভূত হয়ে কার্বনিক অ্যাসিড (H2CO3) তৈরি করে।
- সমীকরণ:
- CO2(g) + H2O → H2CO3.
- কার্বনিক অ্যাসিড একটি মৃদু অ্যাসিড।
- এটি পানিতে অল্প পরিমাণে আয়নিত হয়।
- এটি আমাদের পরিপাকতন্ত্রের এনজাইমের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করে ও পরিপাকে সহায়তা করে।

• অন্যান্য অপশন:
- চিনি ভেঙে CO2 উৎপন্ন হয় → কোমল পানীয়তে CO2 পূর্বেই দ্রবীভূত করা থাকে, চিনি ভাঙার ফলে নয়।
- বোতলে দ্রবীভূত O2 অক্সিডেশন ঘটায় → কোমল পানীয়তে প্রধান দ্রবীভূত গ্যাস O2 নয়, CO.
- কার্বনিক অ্যাসিড সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় → H2CO3 একটি মৃদু অ্যাসিড, সম্পূর্ণ আয়নিত হয় না।

 উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৫৮২.
মানব ডিম্বাণু কোথায় নিষিক্ত হয়?
  1. ডিম্বাশয়
  2. ফ্যালোপিয়ান টিউব
  3. জরায়ু
  4. যোনি
সঠিক উত্তর:
ফ্যালোপিয়ান টিউব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্যালোপিয়ান টিউব
ব্যাখ্যা
• মানব ডিম্বাণু স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের ফেলোপিয়ান নালি বা ডিম্বনালিতে নিষিক্ত হয়। 

• নিষেক:
- পরিণত শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন প্রক্রিয়াকে নিষেক বলা হয়। 

• মানবদেহে যে নিষেক ঘটে তা মূলত সেকেন্ডারি উওসাইট ও পরিণত শুক্রাণুর নিউক্লিয়াসের একীভবন। 
- এ প্রক্রিয়ায় শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হয়ে তাদের হ্যাপ্লয়েড (n) ক্রোমোজোমবাহী নিউক্লিয়াসের মিলন ঘটিয়ে ডিপ্লয়েড (2n) ক্রোমোজোমবাহী জাইগোট গঠন করে।
- মানুষের নিষেক অন্তঃনিষেক ধরনের।
• নিষেক সাধারণত ফেলোপিয়ান নালি বা ডিম্বনালির উর্ধ্বাংশে সংঘটিত হয়।

• ফ্যালোপিয়ান টিউব:
- ফেলোপিয়ান টিউব হল মানব নারীর প্রজনন তন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- এটি ডিম্বাশয় থেকে জরায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত পেশল নলাকার অঙ্গ, যা ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুকে মিলিত হতে এবং নিষিক্ত ডিম্বাণুকে জরায়ুতে পরিবহন করতে সাহায্য করে। 

• ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া:
→ ডিম্বাণু তৈরি: ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু তৈরি হয়।
→ ফ্যালোপিয়ান টিউবে প্রবেশ: ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু ফ্যালোপিয়ান টিউবে প্রবেশ করে।
→ শুক্রাণুর সাথে মিলন: শুক্রাণু ফ্যালোপিয়ান টিউবে প্রবেশ করার পর তা ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে নিষেক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাইগোট তৈরি করে।
→ জরায়ুতে স্থানান্তর: নিষিক্ত ডিম্বাণু (ভ্রূণ) ফ্যালোপিয়ান টিউব থেকে জরায়ুতে স্থানান্তরিত হয়।
→ ইমপ্লান্টেশন: নিষেকের ৬-৯ দিনের মধ্যে জাইগোটটি ব্লাস্টোসিস্ট অবস্থায় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে ইমপ্লান্টেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংস্থাপিত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১৩,৫৮৩.
বায়ুমন্ডলে অক্সিজেনের দ্রাবক হিসাবে কাজ করে কোনটি?
  1. জলীয়বাষ্প
  2. নাইট্রোজেন
  3. ওজোন
  4. নাইট্রাস অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

নাইট্রোজেন (Nitrogen) : নাইট্রোজেন বায়ুমন্ডলে নিস্ক্রিয় গ্যাস হিসেবে অবস্থান করে। এটি ধ্রুব (Constant) গ্যাস যা অপরিবর্তনীয়।
বায়ুমন্ডলের নাইট্রোজেন অক্সিজেনের দ্রাবক হিসেবে কাজ করে। এর দ্বারা বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়া পরিবর্তিত এবং যৌগ গঠিত হয়, যা খাদ্য উৎপাদন ও অঙ্গজ গঠনে উদ্ভিদজগতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া জীবজগতের প্রোটিন জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করে। নাইট্রোজেন সরাসরি কোনো প্রাণি কিংবা উদ্ভিদকে বাঁচিয়ে রাখে না। তবে নাইট্রোজেন ছাড়া কোনো প্রাণি কিংবা উদ্ভিদ বাঁচতে পারে না।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।

১৩,৫৮৪.
নিচের কোন গ্যাসের ব্যাপন হার সবচেয়ে কম?
  1. ক) H2
  2. খ) NH3
  3. গ) CO2
  4. ঘ) HCL
সঠিক উত্তর:
গ) CO2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) CO2
ব্যাখ্যা
কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফুর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
যে গ্যাসের আণবিক ভর যত কম, তার ব্যাপন হার তত বেশি৷
এখানে, H2 গ্যাসের আণবিক ভর ২, NH3 গ্যাসের আণবিক ভর ১৭, HCL এর আণবিক ভর ৩৬.৫, CO2 এর আণবিক ভর ৪৪।
কাজেই CO2 এর ব্যাপন হার সবচেয়ে কম।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
১৩,৫৮৫.
খাদ্য তৈরীর জন্য উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে?
  1. ক) কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. খ) জলীয় বাষ্প
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
• খাদ্য তৈরিতে উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)। 
- সালোকসংগ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান ৪টি - পানি, কার্বন ডাই অক্সাইড, সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল।
- তার মধ্যে পানি ও ক্লোরোফিল আসে উদ্ভিদের কোষ থেকে, কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডল থেকে এবং সূর্যালোক গ্রহন করে সূর্য থেকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৫৮৬.
কোন ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাস সর্বাধিক পরিমানে ব্যবহৃত হয়?
  1. শিল্পখাতে
  2. গৃহস্থালী কাজে
  3. বিদ্যুৎ উৎপাদনে
  4. ক্যাপটিভ পাওয়ারে
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ উৎপাদনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ উৎপাদনে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে।
দেশের মোট ব্যবহৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৪৩.২৮ ভাগ ব্যবহৃত হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে।

প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার নিম্নরুপঃ
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৪৩.২৮ ভাগ

- সার উৎপাদনে ৫.৪৮ ভাগ,
- শিল্পখাতে ১৫.৭৯ ভাগ,
- গৃহস্থালী কাজে ১৫.২৫ এবং
- ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১৫.১১ ভাগ প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়।

(সূত্র: পরিসংখ্যান পকেটবুক-২০১৯)
১৩,৫৮৭.
কোন কোন সংকর ধাতুর মিশ্রণে বৈদ্যুতিক ফিউজ তার তৈরি হয়? 
  1. তামা ও সীসা
  2. টিন ও সীসা
  3. নিকেল ও টিন
  4. তামা ও নিকেল
সঠিক উত্তর:
টিন ও সীসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিন ও সীসা
ব্যাখ্যা
বৈদ্যুতিক ফিউজ তার: 
- তড়িৎ যন্ত্রপাতির মধ্য দিয়ে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হলে তা নষ্ট হয়ে যায়। 
- অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহের কারণে আগুন পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। 
- এ ধরনের বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বর্তনীতে এক ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় যা হলো ফিউজ তার ব্যবহার করা। 
- ফিউজ সাধারণত টিন ও সীসার একটি সংকর ধাতুর তৈরি ছোট সরু তার। 
- এটি একটি চিনামাটির কাঠামোর উপর দিয়ে আটকানো থাকে। 
- এই তারটি সরু এবং গলনাঙ্ক কম। 
- এই তারের মধ্য দিয়ে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহিত হলে এটি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে গলে যায়। 
- ফলে তড়িৎ বর্তনী বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 
- এভাবে তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করে দিয়ে ফিউজ যন্ত্রপাতিকে রক্ষা করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৩,৫৮৮.
পিকো (pico) উপসর্গটি কোন মান নির্দেশ করে?
  1. 10-6 
  2. 10-12
  3. 10-9
  4. 10-15
সঠিক উত্তর:
10-12
উত্তর
সঠিক উত্তর:
10-12
ব্যাখ্যা
- পিকো (pico) উপসর্গটির মান হচ্ছে 10-12 । 

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 

- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানা কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6 × 1024 m), আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1 × 10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়েই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু SI উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। 
- এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝাতে পারা যায়। 
- কিছু উপসর্গ নিচের টেবিলে দেখানো হয়েছে- 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৫৮৯.
সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয়-
  1. শব্দোত্তর তরঙ্গ
  2. আলোক তরঙ্গ
  3. ডিটারজেন্ট
  4. তেল ও গ্রীজ
সঠিক উত্তর:
শব্দোত্তর তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দোত্তর তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লার উপরের (≥ 20 KHz ) কম্পন বিশিষ্ট তরঙ্গকে শব্দোত্তর তরঙ্গ বলা হয়। এর বিভিন্ন ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। তা হলো- 
১. দেহের নরম টিস্যু এবং রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকগণ দেহ অভ্যন্তরের বিভিন্ন অঙ্গের ছবি তুলতে শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করেন, একে আলট্রাসনোগ্রাফি বলা হয়।
২. রক্তের গতি জানতে হৃদরোগ সনাক্ত করণে, মাতৃ গর্ভে জন্ম-পূর্ব শিশুর অবস্থা সনাক্ত করতে (আলট্রাসনোগ্রাফি)।
৩. সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়, ডুবো জাহাজ, হিমশৈল ইত্যাদির অবস্থান জানতে।
৪. ধাতব পাত বা ধাতব খন্ডের মধ্যের সূক্ষ্ম ফাটল অনুসন্ধানে।
৫. সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করতে।
৬. ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের কাজে।
৭. সাধারণভাবে মিশে না এমন (যেমন পানি-পারদ বা পানি-তেল) তরলসমূহের মিশ্রণ তৈরিতে।
৮. মানুষ ছাড়াও অন্যান্য প্রাণীরাও শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে। যেমন বাদুর পথ চলতে এবং খাদ্য বস্তুর অনুসন্ধানের জন্য, তিমি পরম্পরের সাথে যোগাযোগ এবং মনোভাব আদান প্রদানের জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে। বলা হয় শব্দোত্তর তরঙ্গই তিমির ভাষা।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫৯০.
ড্রাই সেল হলো-
  1. ক) শুকনো কোষ
  2. খ) এক ধরনের গ্যালভানিক কোষ
  3. গ) কোষাগার
  4. ঘ) এক ধরনের ইলেকট্রোডস
সঠিক উত্তর:
খ) এক ধরনের গ্যালভানিক কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এক ধরনের গ্যালভানিক কোষ
ব্যাখ্যা
ড্রাই সেল এক ধরনের গ্যালভানিক কোষ। ড্রাই সেলের মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। আমরা সাধারণত টর্চলাইট জ্বালাতে, রেডিও বাজাতে, টিভির রিমোট চালাতে, খেলনা চালাতে ড্রাই সেল ব্যবহার করি৷
[সূত্রঃ রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি]
১৩,৫৯১.
সূর্যগ্রহণ কোন সময় ঘটে?
  1. চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর উল্টো পাশে অবস্থান করলে
  2. চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় হলে
  3. চাঁদ পূর্ণিমার অবস্থায় থাকলে 
  4. চাঁদ নতুন চাঁদের অবস্থায় থাকলে কিন্তু পৃথিবী আলোর উৎসে না থাকলে
সঠিক উত্তর:
চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় হলে
ব্যাখ্যা

- সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী যখন একই সরলরেখায় আসে এবং চাঁদ মাঝখানে থাকে, তখন চাঁদের ছায়া পৃথিবীর কিছু অংশে পড়ে এবং সেই অংশ থেকে সূর্যকে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে দেখা যায় না 

অমাবস্যা: 

- চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে তখন চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা। 

পূর্ণিমা: 
- যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং তার উল্টো পাশে চাঁদ অবস্থান করে তখনই পূর্ণিমা হয়। 

চন্দ্ৰগ্ৰহণ: 
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান। 
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়। 
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া। 

সূর্যগ্রহণ: 
- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ সরলরেখায় অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ। 
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে। 
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। 
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে।

উৎস: বিবিসি বাংলা, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১ [লিঙ্ক]।

১৩,৫৯২.
জোয়ার-ভাটার প্রধান কারণ কোনটি? 
  1. সমুদ্রের তাপমাত্রা 
  2. বাতাসের চাপ 
  3. সমুদ্রের নীচের ঢেউ 
  4. চন্দ্র-সূর্যের মহাকর্ষ ও পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি 
সঠিক উত্তর:
চন্দ্র-সূর্যের মহাকর্ষ ও পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্র-সূর্যের মহাকর্ষ ও পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি 
ব্যাখ্যা

জোয়ার-ভাটা: 
- সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার (Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা (Ebb or Low Tide) বলে। 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়। 
- জোয়ার-ভাটার প্রধান দুটি কারণ হলো- চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণ শক্তি (যা মূলত মহাকর্ষ শক্তি) এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি। 

জোয়ার-ভাটার শ্রেণিবিভাগ: 
- জোয়ার-ভাটাকে নিম্নলিখিত চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
 যথা- 
১. মুখ্য জোয়ার (Primary Tide): 
- প্রধানত চন্দ্রের আকর্ষণেই জোয়ার-ভাটা সংঘটিত হয়। চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে সর্বদা ঘুরছে। আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। ফলে চারদিক হতে পানি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরূপে সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বা Primary Tide বলে। 

২. গৌণ জোয়ার (Secondary Tide): 
- পৃথিবীর যে পাশে চন্দ্র আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকে পৃথিবীকে চন্দ্রের আকর্ষণ শক্তির প্রভাব অপেক্ষাকৃত কম। আবার পানির নিম্নের কঠিন স্থলভাগ যা পৃথিবীর সাথে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ। ফলে তার ওপর চন্দ্রের আকর্ষণ কেন্দ্র স্থলের আকর্ষণেরই সমান এবং বিপরীত দিকের জলরাশি অপেক্ষা স্থলভাগ চন্দ্রের দিকে বেশি আকৃষ্ট হয়। এই সময় চন্দ্রের বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষণ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক হতে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চন্দ্রের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বা Secondary Tide বলে। 

৩. ভরা কটাল (Spring Tide): 
- অমাবস্যায় চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই দিকে সমান্তরালভাবে অবস্থান করে এবং উভয়ের মিলিত শক্তিতে আকর্ষণ প্রবল হয় এবং পানি বেশি ফুলে ওঠে। এই ধরনের জোয়ারকে ভরা কটাল বা তেজ কটাল (Spring Tide) বলে। অপরদিকে পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবীর একদিকে সূর্য এবং অন্যদিকে চন্দ্র একই সমান্তরালে অবস্থান করে এবং চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে মুখ্য জোয়ার হয়, সেখানেই সূর্যের আকর্ষণে গৌণ জোয়ার হয়। আবার চন্দ্রের বিপরীত দিকে যেখানে তার আকর্ষণে গৌণ জোয়ার হয়। অর্থাৎ পূর্ণিমা তিথিতে উভয় বিপরীত স্থানেই জোয়ারের বেগ সর্বাধিক হয়। একেও ভরা কটাল বা তেজ কটাল (Spring Tide) বলে। 

৪. মরা কটাল (Neap Tide): 
- অষ্টমী ও একবিংশ তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমান্তরাল না থেকে উভয়ই পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। তখন চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। সূর্যের আকর্ষণের কারণে চন্দ্রের দিকে পানি অধিক স্ফীত হতে পারে না। এই ধরনের জোয়ারকে মরা জোয়ার বা মরা কটাল (Neap Tide) বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৫৯৩.
গ্যালাক্সির অংশ বিশেষ কী নামে পরিচিত?
  1. গ্রহ
  2. নক্ষত্র
  3. নীহারিকা
  4. ছায়াপথ
সঠিক উত্তর:
ছায়াপথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছায়াপথ
ব্যাখ্যা
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি ও সৌরজগত (Milkyway Galaxy & Solar System):

- গ্যালাক্সির অংশ বিশেষ ছায়াপথ নামে পরিচিত
- সুদুর আকাশে বায়বীয় পদার্থ ও গ্যাসপূর্ণ স্বপ্নালোকিত মেঘের মত আস্তরণকে গ্যালাক্সি বলা হয় ।
- আমাদের সৌরজগত মিল্কিওয়ে (Milkyway) গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশবিশেষ, যা বাংলায় ছায়াপথ নামে অভিহিত।
- এই ছায়াপথটি অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্রের সমন্বয়ে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫৯৪.
আলোর গতিতে কোন বস্তু পৃথিবী থেকে চাঁদে যেতে কত সময় লাগবে?
  1. প্রায় ২.৩ মিনিট
  2. প্রায় ১.৩ সেকেন্ড
  3. প্রায় ২৩ সেকেন্ড
  4. প্রায় ২.৩ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১.৩ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১.৩ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব  ৩,৮৪,৪০০ কিমি কিলোমিটার।
- আলোর গতি - ৩০০০০০ Kms-1.
- সুতরাং আলোর গতিতে কোন বস্তু পৃথিবী থেকে চাঁদে যেতে সময় লাগবে:
- আমরা জানি, সময় = দূরত্ব ÷ বেগ
∴ ৩,৮৪,৪০০ ÷ ৩০০০০০ = ১.২৮ সেকেন্ড।
- আলোর গতিতে কোন বস্তু পৃথিবী থেকে চাঁদে যেতে ১.২৮ সেকেন্ড বা প্রায় ১.৩ সেকেন্ড সময় লাগবে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি ও নাসা ওয়েবসাইট।
১৩,৫৯৫.
কোন ইঞ্জিনে কার্বুরেটর থাকে? 
  1. পেট্রোল ইঞ্জিনে
  2. ডিজেল ইঞ্জিনে
  3. রকেট ইঞ্জিনে
  4. বিমান ইঞ্জিনে
সঠিক উত্তর:
পেট্রোল ইঞ্জিনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেট্রোল ইঞ্জিনে
ব্যাখ্যা
- মোটর গাড়ির যে প্রকোষ্ঠে বায়ু ও পেট্রোল মিশ্রিত করা হয় তাই হলো কার্বুরেটর। 
- বায়ু ও পেট্রোলের মিশ্রণ তৈরি হওয়ার পরে এটিকে দহন প্রকোষ্ঠে পাঠিয়ে দেয়া হয়। 
- সব ইঞ্জিনে কার্বুরেটর থাকে না, শুধু পেট্রোল ইঞ্জিনে ৩টি কার্বুরেটর থাকে। 

- Carburetor prepares a mixture of air and fuel (which is suitable for combustion) for a spark ignition engine.
- Carburetor is also used to control the speed of the vehicle.
- It converts petrol into fine droplets and mixes it in air in such a way that it burns smoothly in engine, without any problem.

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিক।
১৩,৫৯৬.
অপর্যায়বৃত্ত তড়িৎ প্রবাহ পাওয়া যায়-
  1. ব্যাটারি থেকে
  2. জেনারেটর থেকে
  3. ডায়নামো থেকে
  4. উপরের সবগুলো থেকে
সঠিক উত্তর:
ব্যাটারি থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাটারি থেকে
ব্যাখ্যা

- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে।
তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়। আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়।
- যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে।
পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি

১৩,৫৯৭.
পরিবাহীতে যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি ব্যবধান -
  1. ক) অসীম
  2. খ) নেগেটিভ
  3. গ) শূন্য
  4. ঘ) পজিটিভ
সঠিক উত্তর:
গ) শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শূন্য
ব্যাখ্যা
পরিবাহী : যে সব পদার্থের মধ্যে যথেষ্ট মুক্ত ইলেকট্রন থাকে এবং যেগুলোর মধ্য দিয়ে খুব সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলাচল করতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। যেমন : তামা, অ্যালুমিনিয়াম, রূপা, লোহা ইত্যাদি পরিবাহী।

পরিবাহীতে যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মাঝে কোন শক্তি ব্যবধান থাকে না। অর্থাৎ Ep এর মান শূন্য হয়। 
এক্ষেত্রে পরিবাহীর যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ড এর মধ্যে আংশিক উপরিলেপন ঘটে , কাজেই যোজন ইলেকট্রন খুব সহজেই পরিবহন ইলেকট্রনে পরিণত হতে পারে। এই উপরিলেপনের জন্য, পরিবাহীর দুই প্রান্ডে খুব সামান্য বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
পরিবাহীতে প্রচুর পরিমাণে মুক্ত ইলেকট্রন থাকার ফলে এদের রোধ খুব কম হয় অর্থাৎ তড়িৎ পরিবাহিতা বেশি হয়।
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫৯৮.
'ওয়ার্ম হোল' নামটির প্রচলন করেন কে?
  1. ক) স্টিফেন হকিং
  2. খ) জন আর্চিবল্ড হুইলার
  3. গ) আলবার্ট আইনস্টাইন
  4. ঘ) জন নিউটন
সঠিক উত্তর:
খ) জন আর্চিবল্ড হুইলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জন আর্চিবল্ড হুইলার
ব্যাখ্যা
জন আর্চিবল্ড হুইলার প্রখ্যাত মার্কিন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি আপেক্ষিকতার তত্ত্ব নিয়ে আইনস্টাইনের সাথে কাজ করেছিলেন । তিনি ব্ল্যাক হোল, ওয়ার্ম হোল এবং It from Bit নামগুলোর প্রণেতা হিসেবে পরিচিত।

ওয়ার্মহোল হল তাত্ত্বিকভাবে মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি স্থানের বা স্থান-কালের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য তৈরি একটি টানেল স্বরূপ। এটির মাধ্যমে মহাবিশ্বের একটি স্থান থেকে অন্য একটি স্থানে কম সময়ের মাঝেই ভ্রমণ করা যায়। কেননা এটি প্রায় কয়েক বিলিয়ন আলোকবর্ষের পার্থক্যে থাকা মহাবিশ্বের দুটি বিন্দুকে মাত্র কয়েক মিটারের একটি টানেলের মাধ্যমে সংযুক্ত করে দিতে পারে!
১৩,৫৯৯.
কোন তরঙ্গ সবচেয়ে দ্রুত অগ্রসর হয়?
  1. সমুদ্রের পানির তরঙ্গ
  2. ভূ-পৃষ্ঠের ভূ-কম্পন
  3. বেহালা হতে নিঃসৃত সুরেলা তরঙ্গ
  4. সূর্য হতে আগত বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
সূর্য হতে আগত বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য হতে আগত বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• আমরা সূর্য থেকে আলো এবং তাপ পাই। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো এবং তাপ আসে তরঙ্গাকারে। সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে মহাশূন্য, কোন জড় মাধ্যম নেই। আলো, তাপ মাধ্যম ছাড়াই বিশেষ ধরনের তরঙ্গ আকারে সঞ্চারিত হয়। এ তরঙ্গকে বলা হয় তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ। বেতার তরঙ্গ, এক্সরশ্মি, গামারশ্মি, তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ ইত্যাদি তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ এর উদাহরণ।

• সূর্য হতে আগত আলো একটি তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ।

সাধারণত, যেসব তরঙ্গের কম্পাংক বা তরঙ্গ'র দৈর্ঘ্য বেশি, সেসব তরঙ্গ বেশি অগ্রসর হয়। যেহেতু পানির তরঙ্গ, ভূকম্পন তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ-এর বেগ বা দ্রুতি আলোর দ্রুতির চেয়ে কম, তাই বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ সবচেয়ে দ্রুত অগ্রসর হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৬০০.
কার্বন সবচেয়ে বেশি আছে কোন কয়লায়?
  1. ক) লিগনাইট
  2. খ) বিটুমিনাস
  3. গ) অ্যানথ্রাসাইট
  4. ঘ) পিট
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যানথ্রাসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যানথ্রাসাইট
ব্যাখ্যা
- কয়লা হলো জীবাশ্ম জ্বালানি।
- কয়লায় কার্বন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, গন্ধক, ফসফরাস, অ্যামোনিয়া, বেঞ্জিন এবং জলীয় ও বায়বীয় পদার্থ আছে।
- কার্বোনাইজেশনের মাত্রা অনুযায়ী লিগলাইট ও অ্যানথ্রাসাইট জাতীয় কয়লা তৈরি হয়।
- অ্যান্থ্রাসাইট সর্বাধিক ভালো মানের কয়লা।
- বাংলাদেশে প্রধানত তিন ধরনের কয়লা পাওয়া যায় যথা- বিটুমিনাস, লিগনাইট ও পিট।
- কয়লা সাধারণত মাটির নিচে ৩ মিটার থেকে ১৮০০ মিটার গভীর পর্যন্ত অবস্থান করে। 

উৎস : পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।