উত্তর
ব্যাখ্যা
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১৩৬ / ১৪০ · ১৩,৫০১–১৩,৬০০ / ১৪,০৮০
• অ্যান্টিজেন হলো non-self বা বহিরাগত পদার্থ।
• অ্যান্টিজেন (Antigen):
- অ্যান্টিজেন হলো যেকোনো বিজাতীয় প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড, যা দেহে স্বাভাবিকভাবে উপস্থিত থাকে না।
- এই ধরনের পদার্থ দেহে প্রবেশ করলে দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়।
উদাহরণ:
- ব্যাকটেরিয়া বা তাদের নিঃসৃত বিষাক্ত পদার্থ (Toxin) দেহে প্রবেশ করলে,
- দেহকোষে উপস্থিত নির্দিষ্ট প্রোটিনের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ করে।
• অ্যান্টিজেন–অ্যান্টিবডি সম্পর্ক:
- একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন দেহে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি (Antibody) উৎপন্ন হয়।
- এই প্রক্রিয়াকে Antibody generation বলা হয়।
• অ্যান্টিজেনের বৈশিষ্ট্য:
- অ্যান্টিজেন অবশ্যই non-self বা বহিরাগত পদার্থ হতে হবে।
- এতে ইমিউনোজেনিসিটি (Immunogenicity) অর্থাৎ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উদ্দীপিত করার সক্ষমতা থাকতে হবে।
- অধিকাংশ অ্যান্টিজেন প্রোটিনধর্মী বা জটিল গঠনবিশিষ্ট হয়।
- অ্যান্টিজেনের আণবিক ভর সাধারণত ১০,০০০ ডাল্টনের বেশি হয়।
• অ্যান্টিজেনের গঠনগত প্রকৃতি:
- অ্যান্টিজেন সাধারণত—
- প্রোটিন,
- বৃহৎ পলিস্যাকারাইড,
- গ্লাইকোপ্রোটিন অথবা,
- নিউক্লিওপ্রোটিন,
- প্রকৃতির হতে পারে।
• অ্যান্টিবডির সাথে সম্পর্ক:
- অ্যান্টিজেনের নির্দিষ্ট অংশের সাথে অ্যান্টিবডি যুক্ত হয়ে দেহকে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• - 40° তাপমাত্রায় ফারেনহাইট ও সেলসিয়াস স্কেলের তাপমাত্রার মান সমান হয়।
• তাপমাত্রা পরিমাপের স্কেলের মধ্যে অন্যতম হলো সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেল।
আমরা জানি, সেলসিয়াস (C) ও ফারেনহাইট (F) এর মধ্যে সম্পর্ক:
C/5 = (F - 32)/9
ধরি,
সেলসিয়াস স্কেলের পাঠ C = ফারেনহাইট স্কেলের পাঠ F
এখন,
C/5 = (C - 32)/9
⇒ 5(C - 32) = 9C
⇒ 5C - 160 = 9C
⇒ 9C - 5C = - 160
⇒ 4C = - 160
⇒ C = - 160/4 = - 40
∴ C = F = - 40°
অর্থাৎ - 40° তাপমাত্রায় সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের মান সমান হবে।
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• মরীচিকা:
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের কারণে মরুভূমিতে সৃষ্ট মরীচিকা অতি পরিচিত উদাহরণ।
- উত্তপ্ত মরুভূমিতে মরুচারী পথিক প্রায়শ মরীচিকা দেখতে পান এবং বিভ্রান্ত হন। মরীচিকা হল এক ধরণের দৃষ্টি ভ্রম।
- প্রচন্ড সূর্য তাপে মরুভূমির বালু খুব তাড়াতাড়ি গরম হয়। ফলে বালু সংলগ্ন বাতাসও খুব গরম হয়। এতে বালু সংলগ্ন স্তরের বায়ু খুব হালকা হয়।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যত উপরে ওঠা যায় বায়ু স্তরের তাপমাত্রা তত কম হয়। তাই ভূ সংলগ্ন বায়ু স্তর থেকে যতই ওপরে ওঠা যায় বায়ু স্তর তত ঘন হয়।
- এ অবস্থায় মরুভূমিতে দূরে কোন খেজুর গাছ থেকে পথিকের চোখে আসা আলোক রশ্মি ধাপে ধাপে ঘনতর মাধ্যম থেকে লঘুতর মাধ্যমে প্রবেশ করতে থাকে, ফলে প্রতিসরিত রশ্মি অভিলম্ব থেকে ক্রমশ দূরে সরে যেতে থাকে।
- এভাবে বাঁকতে বাঁকতে এমন কোন স্তরে পৌঁছায় যেখানে আপতন কোণ ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় হয়।
- ফলে আপতিত আলোক রশ্মির প্রতিসরণ না হয়ে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন হয়।
» পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন সংঘটিত হতে প্রধানত দুটি শর্ত রয়েছে।
(১) আলোকরশ্মিকে অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে ঘন ও তুলনামূলক হালকা মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হতে হবে।
(২) আপতন কোণ ক্রান্তি বা সংকট কোণের চেয়ে বড় হতে হবে।
তথ্যসূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রাণীদেহের গঠনে প্রােটিন অপরিহার্য। দেহকোষের বেশির ভাগই প্রােটিন দিয়ে তৈরি। দেহের হাড়, পেশি, লােম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলাে সবই প্রােটিন দিয়ে তৈরি হয়।
প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রােটিন।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
টর্নেডো (Tornado):
- টর্নেডো শব্দটির উৎপত্তি স্প্যানিশ শব্দ 'Tornada' থেকে যার অর্থ Thunder storm বা শব্দ বজ্রঝড়।
- সাইক্লোনের ন্যায় টর্নেডো সৃষ্টির মূল কারণ হলো বায়ুর নিম্ন চাপ ও উচ্চ তাপমাত্রা।
- টর্নেডোর ক্ষেত্রে বাতাসের গতিবেগ অনেক বেশি হয়। এই সাধারণ গতিবেগ ঘন্টায় ৪৮০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার হতে পারে।
- টর্নেডোর সাথে সাইক্লোনের প্রধান পার্থক্য হলো সাইক্লোন সৃষ্টি হয় সাগরে এবং উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে।
- অপরদিকে টর্নেডো যে কোনো স্থানেই সৃষ্টি হতে পারে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার ক্ষতিসাধন করতে পারে।
- বাংলাদেশে প্রলয়ংকরী টর্নেডো হয় ১৯৮৯ সালে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়াতে।
- টর্নেডোর সাথে কালবৈশাখী ঝড়ের যথেষ্ট মিল রয়েছে। শুধু পার্থক্য হলো কালবৈশাখী ঝড় দুই ধরনের বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহের দরুণ বছরের নির্দিষ্ট সময়ে হয় কিন্তু টর্নেডো যে কোনো সময় হতে পারে।
উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• প্রতিধ্বনি বা ইকো শুনতে হলে শব্দকে উৎস থেকে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ে ভিন্নতার প্রয়োজন। সাধারণত মানুষের কানে দুটি আলাদা শব্দ আলাদা হিসেবে চিনতে কমপক্ষে 0.1 সেকেন্ডের সময়ের পার্থক্য থাকা উচিত।
- সঠিক উত্তর হলো ঘ) 16.5 মি.
• শব্দের প্রতিফলন (Reflection of Sound):
- যখন কোনো শব্দ তরঙ্গ কোনো কঠিন ও মসৃণ পৃষ্ঠে আঘাত করে ফিরে আসে, তখন সেই ঘটনাকে বলা হয় শব্দের প্রতিফলন।
- শব্দ প্রতিফলনের জন্য পৃষ্ঠটি হতে হবে কঠিন, মসৃণ ও সমতল (যেমন: দেওয়াল, পাহাড়, ভবন ইত্যাদি)।
- বায়ুতে শব্দের বেগ ৩৩০ মিটার প্রতি সেকেন্ড হলে, শব্দটি প্রতিফলিত দেয়ালে গিয়ে ফিরে আসার মোট সময় হবে ০.১ সেকেন্ড।
- সুতরাং, 2d = v × t অনুযায়ী, 2d = 330 × 0.1 = 33, অর্থাৎ d = 16.5 মিটার।
- তাই শব্দের প্রতিফলন ঘটার জন্য ন্যূনতম দূরত্ব হতে হবে ১৬.৫ মিটার।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।
নিরক্ষরেখা:
- পৃথিবীর ঠিক মাঝখান দিয়ে যে রেখাটি পূর্ব-পশ্চিমে সমগ্র পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে নিরক্ষরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখার অপর নাম হলো বিষুবরেখা (Equator), ০° অক্ষরেখা (০° Latitude), মহাবৃত্ত (Great circle)।
কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখা:
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলে।
- বাংলাদেশের উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- এই দুটি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে সূর্যের আলো লম্বভাবে পৃথিবীতে পড়ে।
সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত:
- উত্তর গোলার্ধে ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরুবৃত্ত এবং ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কুমেরুবৃত্ত বলে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
- ব্যারোমিটার হলো একটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র যা বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা বোঝার জন্য এই যন্ত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র:
• ব্যারােমিটার- বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র।
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র।
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র।
- ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র।
- অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
- ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র।
- অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র।
উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
- পিসিকালচার (Pisciculture) হলো বাণিজ্যিকভাবে ট্যাঙ্ক বা পুকুরে মাছ চাষ করার প্রক্রিয়া। এটি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্যের চাহিদা মেটাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি।
আধুনিক কৃষি ও চাষ সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি:
• মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এপিকালচার।
• রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় সেরিকালচার।
• মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার।
• পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার।
• চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় প্রণকালচার।
• উদ্যান পালন (ফল, ফুল ও শাকসবজি চাষ) বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় হর্টিকালচার।
• সামুদ্রিক মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় মেরিকালচার।
উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা
- জন্ডিস প্রধানত হেপাটাইটিস ভাইরাসের (যেমন: হেপাটাইটিস-এ, বি, সি ইত্যাদি) সংক্রমণের কারণে ঘটে। জন্ডিস বা হেপাটাইটিস রোগের (বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি) টিকা তৈরি করতে এই ভাইরাসের অংশ বা জেনেটিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। আধুনিক রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে ভাইরাসের অ্যান্টিজেন ব্যবহার করে এই টিকা প্রস্তুত করা হয়।
ভাইরাসের উপকারিতা:
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন।
যেমন-
• বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়।
• ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়।
• ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
• ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে।
• কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
• জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।
• লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,
- ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে সিলেট, ময়মনসিংহ এবং রংপুর,ঢাকা, কুমিল্লা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের কিছু্ অংশ।
এর মধ্যে সিলেট বিভাগের চারটি জেলায় বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে।
একইভাবে ময়মনসিংহ বিভাগের পাঁচটি জেলাও ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ঢাকা বিভাগের মধ্যে টাঙ্গাইল,গাজীপুর, নরসিংদী জেলার অংশ বিশেষ, পুরাে কিশােরগঞ্জ জেলা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা উচ্চ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ ছাড়া ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে আছে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলার উত্তরাংশ।
- মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নােয়াখালী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের অংশ বিশেষ করে চট্টগ্রাম,বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলা।
- ভূমিকম্পের কম ঝুঁকিতে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের পুরাে অঞ্চল।
সূত্র: প্রথম আলো আর্কাইভ।
- আয়নিক বন্ধন হলো ধাতু ও অধাতুর মধ্যে তৈরি একটি রাসায়নিক বন্ধন।
- এই ধরনের রাসায়নিক বন্ধনে একটি ধাতু ইলেকট্রন হারায় এবং একটি অধাতু ইলেকট্রন গ্রহণ করে।
- এর ফলে ধাতু ধনাত্মক আয়ন এবং অ-ধাতু ঋণাত্মক আয়ন তৈরি করে।
- এই বিপরীত আয়নের মধ্যে ইলেকট্রস্ট্যাটিক আকর্ষণ দ্বারা যৌগ স্থিতিশীল হয়।
এছাড়াও অন্যান্য রাসায়নিক বন্ধন ও তাদের বৈশিষ্ট:
- সমযোজী: ইলেকট্রন ভাগাভাগি করা হয়।
- ধাতব: ধাতুগুলোর মধ্যে তৈরি হয়।
- হাইড্রোজেন: হাইড্রোজেন পরমাণুর বন্ধন।
তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক রসায়ন, Britannica
- আকাশে রংধনু সৃষ্টির কারণ- বৃষ্টির কণা।
- সূর্য থেকে যে আলোর রশ্মি পৃথিবীতে আসে তার রঙ মূলত সাদা।
- এই সাদা রঙের ভেতরে বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি রং বিদ্যমান থাকে।
- সাদা আলোর একটি বিশেষ ধর্ম আছে যা প্রিজমের মধ্য দিয়ে গমন করলে সাদা আলো সাতটি ভিন্ন রঙে বিশ্লেষিত হয়ে যায়।
- আকাশে যখন বৃষ্টি পড়ে তখন বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ভাসমান প্রিজমের মতো কাজ করে।
- সূর্য হতে আলো বৃষ্টির ফোঁটার একপাশ দিয়ে প্রবেশ করে বের হবার সময় সাত রঙের বর্ণালী সৃষ্টি করে।
- বৃষ্টির ফোঁটা বা কণার প্রিজমসুলভ বৈশিষ্ট্যের কারণেই সৃষ্টি হয় রংধনু।
- বৃষ্টির ফোঁটা হতে বের হওয়া সাত রঙের আলো আমাদের চোখে এসে পৌঁছায় বলেই আমরা রংধনুকে দেখতে পাই।
- ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে যাওয়ার সময় আলোকরশ্মি যদি দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে মাধ্যম দুটির সংকট কোণের চেয়ে বেশি কোণে আপতিত হয়, তবে ওই আপতিত রশ্মি, দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হওয়ার পর ওর সবটুকুই প্রতিফলিত হয়ে আবার ঘন মাধ্যমেই ফিরে আসে, এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
ইউরিয়া সার:
- ইউরিয়া একটি নাইট্রোজেন সংবলিত রাসায়নিক সার, যা ব্যাপক হারে ফসলের জমিতে বিভিন্ন অভাব পূরণে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ থাকে ৪৬%।
- ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধি বিস্তাররে সহায়তা করে থাকে।
- গাছের ও শাকসবজির পর্যাপ্ত পরিমাণ পাতা, ডালপালা ও কাণ্ড উৎপাদনে সাহায্য করে থাকে।
- ইউরিয়া সার ক্লোরোফিল উৎপাদনের মাধ্যমে গাছপালাকে গাঢ় সবুজ বর্ণ প্রদান করে থাকে।
- উদ্ভিদের শর্করা ও প্রোটিন উৎপাদনে সহায়তা করে থাকে।
- এছাড়াও গাছের অন্যান্য সব আবশ্যক উপাদানের পরিশোষণের হার বাড়িয়ে থাকে।
উৎস: জাতীয় কৃষি বাতায়ন ওয়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা।
• জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
• জারণ অর্ধবিক্রিয়া Na0 → Na+ + e (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
• বিজারণ অর্ধবিক্রিয়াCl0 + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)
এই দুই অর্ধবিক্রিয়াকে যোগ করলে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া পাওয়া যায়।
• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া: Na0 + Cl0 → Na+ + Cl- → NaCl
এভাবে মনে রাখতে হবে,
- জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
- জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
- বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
- বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
উৎস- নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
বস্তুর ওজন:
- যখন কোনো বস্তুকে বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নেয়া হয় তখন তার ওজন বাড়তে থাকে।
- বস্তুর ভর একটি ধ্রুব রাশি।
- কোনো বস্তুর ওজন অভিকর্ষীয় ত্বরণের উপর নির্ভরশীল।
- যে স্থানে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, সে স্থানে বস্তুর ওজনও বেশি।
- অভিকর্ষীয় ত্বরণ যে স্থানে কম বস্তুর ওজন সে স্থানে কম।
- যেহেতু মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন বেশি।
- বিষুব অঞ্চলে অভিকর্ষীয় ত্বরণ কম তাই বিষুব অঞ্চলে বস্তুর ওজনও কম।
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষীয় ত্বরণ শূন্য, এজন্য পৃথিবীর কেন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন শূন্য।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• উড়োজাহাজের গতি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে গ) ট্যাকোমিটার সবচেয়ে উপযুক্ত উত্তর। ট্যাকোমিটার মূলত কোনো যন্ত্র বা ইঞ্জিনের ঘূর্ণনগতির হার (RPM) পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। উড়োজাহাজের ইঞ্জিন কত দ্রুত ঘুরছে, তা জানার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে উড়োজাহাজের গতি ও কর্মক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। অন্যদিকে ক্রেসকোগ্রাফ উদ্ভিদের বৃদ্ধি মাপতে, ক্রোনোমিটার সময় নির্ণয়ে এবং ওডোমিটার দূরত্ব পরিমাপে ব্যবহৃত হয়। তাই উড়োজাহাজের গতি নির্ণয়ে ট্যাকোমিটারই প্রাসঙ্গিক যন্ত্র।
• বিভিন্ন নির্ণায়ক যন্ত্র:
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র - ট্যাকোমিটার।
সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপক যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।
উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র - অলটিমিটার।
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র - অডিওমিটার।
মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র - ওডোমিটার।
দুধের বিশুদ্ধতা পরিমাপক যন্ত্র - ল্যাকটোমিটার।
উৎস: ব্রিটানিকা।
মহাকর্ষ বল (Gravitational Force):
- মহাবিশ্বের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই মহাকর্ষ বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায়, সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, কিংবা পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে ইত্যাদি।
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে সেটাকে বলা হয় মাধ্যাকর্ষণ। এই মাধ্যাকর্ষণ বল পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে, অর্থাৎ নিচের দিকে টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই নিজেদের ওজনের অনুভূতি বুঝা যায়।
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি চমকপ্রদ বল হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• স্তন্যপ্রায়ী প্রাণীতে বক্ষ ও উদর পৃথককারী অনুপ্রস্থ পেশী (ডায়াফ্রাম):
- স্তন্যপ্রায়ী প্রাণীর দেহে বক্ষগহ্বর (Thoracic cavity) ও উদরগহ্বর (Abdominal cavity) কে পৃথক করে যে অনুপ্রস্থ পেশীযুক্ত পর্দা থাকে, তাকে ডায়াফ্রাম বলা হয়।
- ডায়াফ্রাম শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- শ্বাস নেওয়ার সময় ডায়াফ্রাম সংকুচিত হয়ে নিচের দিকে নামে, ফলে বক্ষগহ্বরের আয়তন বৃদ্ধি পায় এবং ফুসফুসে বাতাস প্রবেশ করে।
- শ্বাস ছাড়ার সময় ডায়াফ্রাম শিথিল হয়ে উপরের দিকে উঠে যায়, ফলে বক্ষগহ্বরের আয়তন কমে যায় এবং ফুসফুস থেকে বাতাস বের হয়ে যায়।
- এটি একটি শক্তিশালী অনুপ্রস্থ পেশী যা শুধুমাত্র স্তন্যপ্রায়ী প্রাণীদের মধ্যেই সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়।
- অ্যালভিওলাস হলো ফুসফুসের ভেতরের বায়ুথলি, ইন্টারকোস্টাল পেশী পাঁজরের মাঝখানে থাকে এবং স্বরযন্ত্র শব্দ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত—এগুলো বক্ষ ও উদর পৃথক করে না।
সুতরাং, স্তন্যপ্রায়ী প্রাণীতে বক্ষ ও উদর পৃথককারী অনুপ্রস্থ পেশীর ব্যবধায়ক পর্দার নাম হলো ডায়াফ্রাম।
সঠিক উত্তর: ক) ডায়াফ্রাম।
উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
◉ গামা রশ্মি হলো Electromagnetic Spectrum-এর সবচেয়ে ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিকিরণ। এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.0005–0.15 nm, যা এক্স-রে থেকেও ছোট।
তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ:
- যেসব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয় তাদের একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়।
- দৃশ্যমান আলো হলো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র।
- এ সব তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় স্পেকট্রাম ( spectrum) বা বর্ণালি বলা হয়।
তড়িচ্চুম্বকীয় বর্ণালির অঞ্চলসমূহ:
- তড়িচ্চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মিসমূহকে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম বৃদ্ধি অনুসারে প্রধান সাতটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়। যথা-
১. গামা (γ) রশ্মি অঞ্চল:
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.0005-0.15 nm পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় এ তরঙ্গ অধিক শক্তিসম্পন্ন।
- গামা রশ্মি জৈব যৌগের বিশ্লেষণে বর্ণালিমিতিক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়।
২. রঞ্জন রশ্মি (X-ray) অঞ্চল:
- রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.01-10 nm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।
- রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার ব্যাপক।
যেমন- এক্সরে ক্রিস্টালোগ্রাফি, এক্সরে নিঃসরণ পদ্ধতিতে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়।
৩. অতিবেগুনি রশ্মি (UV) অঞ্চল:
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10–380 nm পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এ অঞ্চলের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়।
যেমন, 300-320 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV-রশ্মি চিকিৎসাক্ষেত্রে লাইট থেরাপি, 270–360 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি প্রোটিন বিশ্লেষণের কাজে, 200-400 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি ড্রাগ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়।
৪. দৃশ্যমান (Visible) অঞ্চল:
- এ অঞ্চলটি 400-700 nm পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এ অঞ্চল VIBGYOR অঞ্চলরূপে চিহ্নিত।
- পরমাণুর সর্ববহিঃস্তরের ইলেকট্রন এ অঞ্চলের রশ্মি শোষণ বা বিকিরণ করে বর্ণালি সৃষ্টি করে।
৫. অবলোহিত অঞ্চল:
- অবলোহিত অঞ্চলটি Near-IR; Middle-IR এবং Far-IR এ তিনটি অংশে বিভক্ত।
- জৈব যৌগের গঠন নির্ণয়ে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়।
- এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর নিম্নরূপ:
• Near-IR অঞ্চল: 0.8-2.5 µm,
• Middle-IR অঞ্চল: 2.5-25 µm,
• Far-IR অঞ্চল : 25-1000 µm (1µm = 1×10-6 m).
৬. মাইক্রোওয়েভস (Microwaves) অঞ্চল:
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 µm হতে 1.0 cm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।
৭. রেডিও ওয়েভস (Radiowaves) অঞ্চল:
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 cm হতে 5 m পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।
- রেডিও এন্টেনাতে উচ্চ কম্পাঙ্কের পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ (AC) প্রবাহ দ্বারা এসব তরঙ্গের সৃষ্টি করা হয়।
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
তরল-গ্যাস দ্রবণ:
- যে সমস্ত দ্রবণে তরল দ্রাবকে গ্যাসীয় পদার্থ দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে তাকে তরল-গ্যাস দ্রবণ বলে।
- দ্রবণে দ্রাবক হলো তরল পদার্থ আর দ্রব হলো গ্যাসীয় পদার্থ। যেমন: (কোমল পানীয়- কোকা কোলা, সেভেন আপ)।
- এ সমস্ত কোমল পানীয়ের বোতল খোলার সাথে সাথে হিস্ শব্দ করে বুদবুদ আকারে যে গ্যাসীয় পদার্থ বের হয় তা হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড যা পানীয়ের মধ্যে দ্রবীভূত অবস্থায় ছিল।
- অর্থাৎ কোমল পানীয়গুলো হলো তরল-গ্যাস দ্রবণ।
- পানিতে বসবাসকারী প্রাণীসমূহ (যেমন: মাছ) তাদের নিঃশ্বাসের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরাসরি বাতাস থেকে নিতে পারে না।
- পানিতে বসবাসকারী প্রাণীসমূহ অক্সিজেন নেয় পানিতে থাকা দ্রবীভূত অক্সিজেন থেকে। তাই নদ-নদী, খাল বিল বা প্রাকৃতিক জলাশয়ের পানি কিন্তু এক ধরনের তরল-গ্যাস দ্রবণ।
- আবার বহুল সমালোচিত ফরমালিনও (যা আইনবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন ফল ও মাছের সংরক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে) পানিতে ফরমালডিহাইড নামক গ্যাসের দ্রবণ।
অপরদিকে,
- লেবুর শরবত ও ভিনেগার হলো তরল-তরল দ্রবণ।
- খাবার স্যালাইন হলো - তরল-কঠিন দ্রবণ।
উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
• ভিটামিন B12 (কোবালামিন)-এর অভাবে রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) দেখা দেয়, কারণ এটি রক্তকণিকা তৈরিতে অপরিহার্য।
• ভিটামিন B কমপ্লেক্স:
- ভিটামিন B কমপ্লেক্স হলো পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনের একটি গোষ্ঠী।
- এদের মধ্যে B1, B2, B3, B6, B9 ও B12 গুরুত্বপূর্ণ।
- এসব ভিটামিন দেহের বিপাক, স্নায়ু কার্যক্রম ও রক্তগঠন–এ ভূমিকা রাখে।
• কোবালামিন বা সায়ানোকোবালামিন (ভিটামিন B12):
- ভিটামিন B12 দেহে লাল রক্তকণিকা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ।
- এটি স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে।
- ভিটামিন B12-এর অভাবে দেহে রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) দেখা দেয়।
- দীর্ঘদিন অভাব থাকলে শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
• ভিটামিন B12-এর অভাবজনিত প্রভাব:
- রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়।
- অক্সিজেন পরিবহন ব্যাহত হয়।
- ফলে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়।
- এ অবস্থাকে রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া বলা হয়।
• অন্যান্য অপশন:
- রক্ত জমাট বাঁধতে বিলম্ব → এটি প্রধানত ভিটামিন K-এর অভাবে ঘটে।
- রাতকানা → ভিটামিন A-এর অভাবে হয়।
- ত্বক খসখসে হওয়া → ভিটামিন B3-এর অভাবে দেখা যায়।
উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
তেজস্ক্রিয় পদার্থ:
- কয়েকটি বিশেষ ধরনের নিঃসরণ করে ভারী নিউক্লিয়াসগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- তেজস্ক্রিয়তার এস.আই লব্ধ একক হলো বেকেরেল (Bq), যা আবিষ্কারকের নামানুসারে করা হয়।
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন: রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th), ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি।
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• অন্ধ ব্যক্তিরা সাদা রঙের লাঠি ব্যবহার করেন প্রধানত অন্যদের সতর্ক করার জন্য যে তারা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।
- এটি এক ধরনের পরিচয় সংকেত (identification symbol) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- অন্ধ ব্যক্তিগণ সাদা ছড়ি ব্যবহার করার প্রধান কারণ হলো এটি একটি আন্তর্জাতিক প্রতীক যা অন্যদের স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে ছড়ি বহনকারী ব্যক্তিটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।
- এর ফলে পথচারী এবং বিশেষত যানবাহন চালকরা সতর্ক হতে পারে এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে রাস্তা পারাপার বা চলাচলের ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে।
- সাদা রঙ সাধারণত উজ্জ্বল এবং সহজে চোখে পড়ে (Highly Visible), বিশেষ করে ট্র্যাফিকের ভিড়ে, যা নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- লাঠিটি সামনের বাধা শনাক্ত করতেও সাহায্য করে।
- সাদা ছড়ির ডগায় বা মাঝে লাল রঙের একটি স্ট্রাইপও ব্যবহার করা হয়, যা এটিকে আরও বেশি মনোযোগ আকর্ষণকারী করে তোলে।
- এই ছড়িকে "ক্যান (Cane)" বা "লং ক্যান (Long Cane)" বলা হয় এবং এটি অন্ধ ব্যক্তিদের পথ চলাচলের জন্য একটি অপরিহার্য সরঞ্জাম।
- তাই সাদা রঙের মূল উদ্দেশ্য হলো দৃশ্যমানতা এবং পরিচয় প্রকাশ করা, যাতে সমাজের অন্যরা সহায়তা ও সহযোগিতা করতে পারেন।
উৎস: National Federation of the Blind (link)
সংকর ধাতু:
- দুই বা ততোধিক ধাতু একে অপরের সঙ্গে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্বযুক্ত কঠিন ধাতব পদার্থ গঠন করে, তাকে সংকর ধাতু বলা হয়।
উদাহরণস্বরূপ-
- কাঁসা (ব্রোঞ্জ): কাঁসার ক্ষেত্রে প্রধান ধাতু কপার (৯০%) এবং টিন (১০%)।
- পিতল: পিতলের মধ্যে কপার ৬৫% এবং জিংক ৩৫% থাকায় এটি কপারের সংকর ধাতু।
- স্টিল: প্রধান ধাতু লোহা (৯৯%) এবং অপ্রধান পদার্থ কার্বন (১%), তাই স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়।
উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- প্রস্বেদনের প্রকার নয়- মূলীয় প্রস্বেদন।
প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে।
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়।
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে।
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা।
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে।
- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়।
যথা- (ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, (খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং (গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• উচ্চ চাপে দ্রবীভূত CO2 চাপ কমলে বের হয়ে আসে — কারণ কোমল পানীয়তে CO2 উচ্চ চাপে ও নিম্ন তাপমাত্রায় দ্রবীভূত থাকে, ঢাকনা খোলার সাথে সাথে চাপ কমে গিয়ে গ্যাস বুদবুদ আকারে বের হয়।
• কোমল পানীয়:
- আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেমন ঈদ, বিয়ে ইত্যাদিতে কোমল পানীয় পান করি।
- কোমল পানীয় পান করার সময় বোতলের ভিতর থেকে বুদবুদ আকারে একটি গ্যাস বের হতে দেখা যায়।
- এই গ্যাস হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)।
- CO2 গ্যাসকে উচ্চ চাপে ও ঠান্ডা অবস্থায় পানিতে দ্রবীভূত করা হয়।
- বোতলের ঢাকনা খোলার সাথে সাথে ভিতরের চাপ কমে যায়।
- চাপ কমে যাওয়ায় দ্রবীভূত CO2 বুদবুদ আকারে বের হয়ে আসে।
• কার্বনিক অ্যাসিড গঠন:
- CO2 পানিতে দ্রবীভূত হয়ে কার্বনিক অ্যাসিড (H2CO3) তৈরি করে।
- সমীকরণ:
- CO2(g) + H2O → H2CO3.
- কার্বনিক অ্যাসিড একটি মৃদু অ্যাসিড।
- এটি পানিতে অল্প পরিমাণে আয়নিত হয়।
- এটি আমাদের পরিপাকতন্ত্রের এনজাইমের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করে ও পরিপাকে সহায়তা করে।
• অন্যান্য অপশন:
- চিনি ভেঙে CO2 উৎপন্ন হয় → কোমল পানীয়তে CO2 পূর্বেই দ্রবীভূত করা থাকে, চিনি ভাঙার ফলে নয়।
- বোতলে দ্রবীভূত O2 অক্সিডেশন ঘটায় → কোমল পানীয়তে প্রধান দ্রবীভূত গ্যাস O2 নয়, CO2 .
- কার্বনিক অ্যাসিড সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় → H2CO3 একটি মৃদু অ্যাসিড, সম্পূর্ণ আয়নিত হয় না।
উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
নাইট্রোজেন (Nitrogen) : নাইট্রোজেন বায়ুমন্ডলে নিস্ক্রিয় গ্যাস হিসেবে অবস্থান করে। এটি ধ্রুব (Constant) গ্যাস যা অপরিবর্তনীয়।
বায়ুমন্ডলের নাইট্রোজেন অক্সিজেনের দ্রাবক হিসেবে কাজ করে। এর দ্বারা বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়া পরিবর্তিত এবং যৌগ গঠিত হয়, যা খাদ্য উৎপাদন ও অঙ্গজ গঠনে উদ্ভিদজগতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া জীবজগতের প্রোটিন জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করে। নাইট্রোজেন সরাসরি কোনো প্রাণি কিংবা উদ্ভিদকে বাঁচিয়ে রাখে না। তবে নাইট্রোজেন ছাড়া কোনো প্রাণি কিংবা উদ্ভিদ বাঁচতে পারে না।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
- সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী যখন একই সরলরেখায় আসে এবং চাঁদ মাঝখানে থাকে, তখন চাঁদের ছায়া পৃথিবীর কিছু অংশে পড়ে এবং সেই অংশ থেকে সূর্যকে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে দেখা যায় না।
অমাবস্যা:
- চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে তখন চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা।
পূর্ণিমা:
- যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং তার উল্টো পাশে চাঁদ অবস্থান করে তখনই পূর্ণিমা হয়।
চন্দ্ৰগ্ৰহণ:
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান।
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়।
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া।
সূর্যগ্রহণ:
- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ সরলরেখায় অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ।
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে।
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে।
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে।
উৎস: বিবিসি বাংলা, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১ [লিঙ্ক]।
জোয়ার-ভাটা:
- সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার (Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা (Ebb or Low Tide) বলে।
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়।
- জোয়ার-ভাটার প্রধান দুটি কারণ হলো- চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণ শক্তি (যা মূলত মহাকর্ষ শক্তি) এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি।
জোয়ার-ভাটার শ্রেণিবিভাগ:
- জোয়ার-ভাটাকে নিম্নলিখিত চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
১. মুখ্য জোয়ার (Primary Tide):
- প্রধানত চন্দ্রের আকর্ষণেই জোয়ার-ভাটা সংঘটিত হয়। চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে সর্বদা ঘুরছে। আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। ফলে চারদিক হতে পানি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরূপে সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বা Primary Tide বলে।
২. গৌণ জোয়ার (Secondary Tide):
- পৃথিবীর যে পাশে চন্দ্র আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকে পৃথিবীকে চন্দ্রের আকর্ষণ শক্তির প্রভাব অপেক্ষাকৃত কম। আবার পানির নিম্নের কঠিন স্থলভাগ যা পৃথিবীর সাথে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ। ফলে তার ওপর চন্দ্রের আকর্ষণ কেন্দ্র স্থলের আকর্ষণেরই সমান এবং বিপরীত দিকের জলরাশি অপেক্ষা স্থলভাগ চন্দ্রের দিকে বেশি আকৃষ্ট হয়। এই সময় চন্দ্রের বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষণ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক হতে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চন্দ্রের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বা Secondary Tide বলে।
৩. ভরা কটাল (Spring Tide):
- অমাবস্যায় চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই দিকে সমান্তরালভাবে অবস্থান করে এবং উভয়ের মিলিত শক্তিতে আকর্ষণ প্রবল হয় এবং পানি বেশি ফুলে ওঠে। এই ধরনের জোয়ারকে ভরা কটাল বা তেজ কটাল (Spring Tide) বলে। অপরদিকে পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবীর একদিকে সূর্য এবং অন্যদিকে চন্দ্র একই সমান্তরালে অবস্থান করে এবং চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে মুখ্য জোয়ার হয়, সেখানেই সূর্যের আকর্ষণে গৌণ জোয়ার হয়। আবার চন্দ্রের বিপরীত দিকে যেখানে তার আকর্ষণে গৌণ জোয়ার হয়। অর্থাৎ পূর্ণিমা তিথিতে উভয় বিপরীত স্থানেই জোয়ারের বেগ সর্বাধিক হয়। একেও ভরা কটাল বা তেজ কটাল (Spring Tide) বলে।
৪. মরা কটাল (Neap Tide):
- অষ্টমী ও একবিংশ তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমান্তরাল না থেকে উভয়ই পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। তখন চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। সূর্যের আকর্ষণের কারণে চন্দ্রের দিকে পানি অধিক স্ফীত হতে পারে না। এই ধরনের জোয়ারকে মরা জোয়ার বা মরা কটাল (Neap Tide) বলে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে।
তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়। আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়।
- যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে।
পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি