বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৮৭ / ১৪০ · ৮,৬০১৮,৭০০ / ১৪,০৮০

৮,৬০১.
সরল দোলকের সূত্রাবলী কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) কোপার্নিকাস
  2. খ) গ্যালিলিও
  3. গ) কেপলার
  4. ঘ) নিউটন
ব্যাখ্যা

অল্প বিস্তারে আন্দোিলত কোনো সরল দোলকের দোলনকাল চারটি সূত্র মেনে চলে। বিজ্ঞানী গ্যালিলিও এই সূত্রগুলো আবিস্কার করেন।
সুত্রঃ এইচএসসি পদার্থ বিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৬০২.
মানব মস্তিষ্কের কোন অংশ ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. সেরিব্রাম
  2. সেরিবেলাম
  3. মেডুলা
  4. থ্যালামাস
ব্যাখ্যা

• সেরিবেলাম (Cerebellum) হলো মস্তিষ্কের এমন একটি অংশ যা শরীরের ভারসাম্য, অঙ্গভঙ্গি ও পেশির সমন্বয় নিয়ন্ত্রণ করে।

- এটি মস্তিষ্কের পেছনের অংশে অবস্থিত এবং ব্রেইনস্টেমকে ঘিরে থাকে।
- আমাদের শরীরের বিভিন্ন সংবেদী অঙ্গ, যেমন; কান, চোখ, পেশি ইত্যাদি থেকে প্রাপ্ত তথ্য সেরিবেলাম খুব দ্রুত বিশ্লেষণ করে।
- এর ফলে শরীরের প্রতিটি নড়াচড়া যথাযথভাবে, মসৃণভাবে এবং ভারসাম্যপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
- সেরিবেলাম ক্ষতিগ্রস্ত হলে চলাফেরায় অসামঞ্জস্য, দুলে যাওয়া, হাত কাঁপা এবং শরীরের ভারসাম্য হারানো দেখা দেয়।

অন্যদিকে,
- সেরিব্রাম: চিন্তা, স্মৃতি, ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- মেডুলা: শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দণের মতো অনৈচ্ছিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- থ্যালামাস: ইন্দ্রিয় সংকেত মস্তিষ্কে প্রেরণ করে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- Britannica [লিংক]।

৮,৬০৩.
লসিকার কাজ নয় নিচের কোনটি?
  1. প্রোটিন পরিবহন
  2. প্রতিরক্ষা
  3. প্রজনন
  4. প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা
লসিকা: 
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। 
- লসিকায় লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। 
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। 
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। 
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার। 

লসিকার কাজ: 
প্রোটিন পরিবহন: কলার ফাঁকা স্থান থেকে প্রোটিন লসিকার মাধ্যমে রক্তে ফিরে আসে। 
• স্নেহ পরিবহন: যে সব স্নেহ কলা কৈশিক নালির বাধা অতিক্রমে অক্ষম সেগুলো লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। 
• পুষ্টি সরবরাহ: দেহের যে সব কলা কোষে রক্ত পৌঁছাতে পারে না সেখানে লসিকা অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে। 
• শোষণ: স্নেহ পদার্থ অন্ত্র থেকে শোষিত হয়ে লসিকার মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। 
প্রতিরক্ষা: লসিকায় অবস্থিত প্রচুর শ্বেত কণিকা দেহের প্রতিরক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকে। 
প্রতিরোধ: B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 
• দেহ রসের সংবহন: রক্ত সংবহনের এক অংশ থেকে অন্য অংশে তরল পদার্থের পরিবহনে অংশ নেয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৬০৪.
নিচের কোনটি হ্যালোজেন মৌল?
  1. রেডন
  2. টেনেসিন
  3. ক্যালসিয়াম
  4. ট্যান্টালাম
ব্যাখ্যা
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। 
- যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি। 

হ্যালোজেন মৌল: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে। 
- যেমন: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)। 
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।

- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়।
- যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বিমৌল অণু গঠন করে। 
- যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৬০৫.
চন্দ্রে অবতরণকারী ১ম মানুষ -
  1. ক) গ্যাগারিন
  2. খ) রিচার্ড এনড্রিন
  3. গ) জন প্লেন
  4. ঘ) নীল আর্মস্ট্রং
ব্যাখ্যা
বিশ্বের প্রথম মানুষ বহনকারী মহাকাশ যান হচ্ছে ভস্টক - ১। এতে করে রাশিয়ার ইউরি গ্যাগারিন পৃথিবীর প্রথম মানুষ হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। এপোলো-১১ এ করে নীল আর্মস্ট্রং ও এডউইন আলড্রিন চাঁদে অবতরণ করেন।
উৎসঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান
৮,৬০৬.
প্রকৃতিতে মৌলিক বল কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

• বল:
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে।
- বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে।
- প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে।
- যথা:- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।

১। মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে।
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
- এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।

২. তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল:
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।

৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল:
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন
গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৮ m) কাজ করে।

৪। সবল নিউক্লীয় বল:
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৫ m) কাজ করে।
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,৬০৭.
পৃথিবী পৃষ্ঠের দীর্ঘতম কাল্পনিক রেখা কোনটি?
  1. নিরক্ষরেখা
  2. মেরুরেখা
  3. কর্কটক্রান্তি রেখা
  4. মকরক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখা:
- পৃথিবীর দুই মেরু হতে সমান দূরত্বে (পৃথিবীর মাঝখানে) পূর্ব-পশ্চিমে পৃথিবীকে ঘিরে থাকা কল্পিত বৃত্তকে বলা হয় নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখাকে বলা হয় মহাবৃত্ত বা গুরুবৃত্ত।
- নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর পরিধি সবচেয়ে বেশি।
- নিরক্ষরেখা পৃথিবী পৃষ্ঠের দীর্ঘতম কাল্পনিক রেখা।
- নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৬০৮.
কোনো চুম্বকের আকষর্ণী ও দিক নির্দেশক ধর্মকে এর ______ বলে।
  1. চৌম্বক মেরু
  2. চৌম্বক অক্ষ
  3. চৌম্বক দৈর্ঘ্য
  4. চুম্বকত্ব
ব্যাখ্যা

চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে।
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়।

চুম্বক সংক্রান্ত কয়েকটি প্রয়োজনীয় সংজ্ঞা: 
১. চুম্বকত্ব (Magnetism):
- চুম্বক পদার্থের ধর্মই হলো চুম্বকত্ব।
- কোনো চুম্বকের আকষর্ণী ও দিক নির্দেশক ধর্মকে এর চুম্বকত্ব বলে।  
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভৌত ধর্ম।
- কারণ পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন ও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- তবে চুম্বকত্বের উপর তাপমাত্রার বাহ্যিক প্রভাব রয়েছে।

২. চৌম্বক মেরু (Magnetic pole): 
- চুম্বকের দুই প্রান্তের আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি। 
- এই দুই প্রান্তকে চৌম্বক মেরু বলে। 

৩. চৌম্বক অক্ষ (Magnetic axis):  
- যেকোনো চুম্বকের মেরু দুটিকে সংযোগ করে যে সরলরেখা পাওয়া যায়, তাকে চৌম্বক অক্ষ বলে।

৪. চৌম্বক দৈর্ঘ্য (Magnetic length):
- চৌম্বক অক্ষ বরাবর চুম্বকের দুটি মেরর মধ্যবর্তী দূরত্বের দৈর্ঘ্যকে চৌম্বক দৈর্ঘ্য বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৮,৬০৯.
দুধের প্রোটিনের নাম কী?
  1. ক) পেপসিন
  2. খ) রেনিন
  3. গ) কেসিন
  4. ঘ) ল্যাকটোজ
ব্যাখ্যা
• দুধ একটি আদর্শ খাবার।
• এতে সুষম খাদ্যের ৬ টি উপাদানই বিদ্যমান।
• দুধে যে শর্করা থাকে তাকে  বলে।
• এতে যে প্রোটিন থাকে তাকে কেসিন বলে।
• দুধকে জমাট বাঁধায় রেনিন।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮,৬১০.
বোসন কোন ধরনের কণা?
  1. যৌগিক কণা
  2. জটিল কণা
  3. মৌলিক কণা
  4. দুর্বল কণা
ব্যাখ্যা

• 'বোসন কণা' হলো মৌলিক কণা।

• বোসন কণা:
- বোসন হল মৌলিক কণা যেগুলো পূর্ণসংখ্যার মান (0, 1, 2, ইত্যাদি) স্পিন করে।
- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন।
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি।
- স্পিন হল কণার চৌম্বকীয় বৈশিষ্ট্যের একটি পরিমাপ।
- স্পিন পূর্ণসংখ্যা থাকার কারণে, বোসনরা পাউলির বর্জন নীতি মেনে চলে না।
- পাউলির বর্জন নীতি অনুসারে, একই শক্তিস্তরে একই কোয়ান্টাম সংখ্যা বিশিষ্ট দুটি কণা একই স্থান দখল করতে পারে না।
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই। এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা।
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দুই ধরনের। যথা:
১. গেজ বোসন ও
২. হিগস বোসন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৬১১.
দুধের প্রোটিনের প্রধান উপাদান কী? 
  1. গ্লুকোজ 
  2. কেজিন 
  3. এলবুমিন 
  4. গ্লোবিউনিন 
ব্যাখ্যা

দুধ: 
- দুধ হচ্ছে লিপিড, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন এবং পানিতে দ্রবীভূত অথবা বিক্ষিপ্ত বিভিন্ন অজৈব এবং জৈব লবণের মিশ্রণ। 
- দুধ একটি কলয়েড বা ইমালশন।
- স্তন্যপায়ী স্ত্রী প্রাণীর দেহে এটি তৈরি হয় যা তাদের নবজাতক শিশুর খাদ্যের প্রধান উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- দুধের প্রধান উপাদানগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো- 
১. চর্বি (Lipids): 
- দুধের মধ্যে চর্বি অদ্রবণীয় সূক্ষ্ম কণারূপে বিদ্যমান থাকে। চর্বির পরিমাণ দ্বারা দুধের গুণগতমান নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। উচ্চ চর্বি বিশিষ্ট দুধ অধিক ক্রিম বহন করে ও মসৃণ হয় এবং বেশি মাখন ও পনির উৎপন্ন করে। এটি শক্তির একটি উৎকৃষ্ট উৎস হিসেবে কাজ করে। 

২. প্রোটিন (Protein): 
- দুধে উচ্চমান সম্পন্ন প্রোটিন বিদ্যমান। সাধারণত প্রতি লিটার দুধে 30-35g প্রোটিন উপস্থিত থাকে। দুধে উপস্থিত 76-86% প্রোটিনই কেজিন (Casein) দ্বারা গঠিত। প্রধানত চার প্রকার কেজিন দুধের মধ্যে পাওয়া যায়। যেমন: αS1, αS2, β এবং K-কেজিন। এর সাথে অল্প পরিমাণ অ্যালবুমিন ও গ্লোবিউনিন বিদ্যমান যা বিভিন্ন অসুখের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। 

৩. কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate): 
- দুধে বিদ্যমান প্রধান শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হচ্ছে ল্যাকটোজ। এক অণু গ্লুকোজ এবং এক অণু গ্ল্যাক্টোজ এর সমন্বয়ে ল্যাকটোজ তৈরি হয়। এটি দুধের মিষ্টতা বাড়ায়। দুধের মধ্যে প্রায় 4.8% ল্যাকটোজ বিদ্যমান যা দুধের 40% ক্যালরি উৎপন্ন করে। 

8. খনিজ লবণ (Minerals): 
- দুধে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস অধিক পরিমাণে বিদ্যমান। এছাড়া অল্প পরিমাণে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্লোরাইড, সাইট্রেট প্রভৃতি বিদ্যমান থাকে। ক্যালসিয়াম হাড়ের বৃদ্ধি সাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। দাঁতের জন্য ক্যালসিয়াম খুবই প্রয়োজন। 

৫. ভিটামিন (Vitamins): 
- দুধ ভিটামিনের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। দুধের মধ্যে ভিটামিন A, B6, B12, C, D, K, F আছে। এছাড়াও থায়ামিন, নায়াসিন, রিবোফ্লাবিন, প্যান্টোথ্যানিক এসিড প্রভৃতি উপাদান বিদ্যমান। 

৬. পানি (Water): 
- দুধে পানির পরিমাণ গড়ে ৪7%। পানিতে দ্রবণীয় বিভিন্ন খাদ্য উপাদান দ্রবীভূত থাকে। এদের মধ্যে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও সি উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৬১২.
নিচের কোন ধাতুটি অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে সবচেয়ে সহজে জারিত হয়?
  1. সোনা
  2. রূপা
  3. পটাসিয়াম
  4. তামা
ব্যাখ্যা
পটাসিয়াম (K) হলো একটি খুবই সক্রিয়  ধাতু, যা অক্সিজেনের সাথে খুব সহজেই জারণ বিক্রিয়া করে। এটি একটি ক্ষার ধাতু (alkali metal)। 
- ক্ষার ধাতুগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো অত্যন্ত সহজে অক্সিজেন এবং পানি সহ অন্যান্য উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে।
- পটাসিয়াম অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে জারিত হয়ে পটাসিয়াম অক্সাইড (K₂O) বা পটাসিয়াম পারঅক্সাইড (K₂O₂) তৈরি করে।
- এটিকে কেরোসিন তেলে ডুবিয়ে রাখা হয় কেননা বাতাস / পানির সংস্পর্শে এটির বিস্ফোরণ ঘটে।  

ধাতুর সক্রিয়তা সিরিজ (Reactivity Series):
পটাসিয়াম (K) > সোডিয়াম (Na) > ক্যালসিয়াম (Ca) > ম্যাগনেসিয়াম (Mg) > অ্যালুমিনিয়াম (Al) > জিংক (Zn) > আয়রন (Fe) > টিন (Sn) > লেড (Pb) > কপার (Cu) > মার্কারি (Hg) > সিলভার (Ag) > গোল্ড (Au)
অর্থাৎ সক্রিয়তা সিরিজে পটাশিয়াম উপরে অবস্থান করায় এটি বেশ সক্রিয়। 

অন্যদিকে, 
সোনা (Gold): সোনা অত্যন্ত স্থিতিশীল এবং সহজে অক্সিজেনের সাথে প্রতিক্রিয়া করে না।

রূপা (Silver): রূপা অক্সিজেনের সাথে কিছুটা প্রতিক্রিয়া করতে পারে, কিন্তু পটাসিয়ামের মতো দ্রুত নয়।

তামা (Copper): তামা কিছুটা প্রতিক্রিয়া করতে পারে, তবে এটি পটাসিয়ামের তুলনায় অনেক কম প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা প্রদর্শন করে।


তথ্যসূত্র:

- রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী। 
- "Chemistry: The Central Science" by Brown, LeMay, Bursten — Reactivity of Alkali Metals chapter.
৮,৬১৩.
মোমবাতি জ্বালালে মোমের কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) ভৌত পরিবর্তন
  2. খ) রাসায়নিক পরিবর্তন
  3. গ) উভয়টিই
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মােম হলাে বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ। হাইড্রোজেন এবং কার্বন মিলে গঠিত জৈব যৌগই হলাে হাইড্রোকার্বন।

মােমের মধ্যে একটি সুতা থাকে। এ সুতাতে আগুন জ্বালালে সুতার চারদিকে হাইড্রোকার্বন অণুগুলাে তাপে গলে তরলে পরিণত হয়। ঐ তরল মােম আগুনের তাপে প্রথমে বাষ্পে পরিণত হয়; পরে ঐ বাষ্পীয় মােম বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলাে এবং তাপ উৎপন্ন করে যা একটি রাসায়নিক পরিবর্তন

অন্যদিকে তরল মােমের কিছু অংশ ঠাণ্ডা হলে কঠিন মােমে পরিণত হয় যা ভৌত পরিবর্তন
৮,৬১৪.
একটি বৈদ্যুতিক বাল্বে '50W-230V' লেখা আছে। বাল্বটির রোধ কত?
  1. 900 Ω
  2. 1025 Ω
  3. 1036 Ω
  4. 1058 Ω
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি বৈদ্যুতিক বাল্বে '50W-230V' লেখা আছে। বাল্বটির রোধ কত?

সমাধান:
এখানে,
ক্ষমতা, P = 50W
ভোল্টেজ, V = 230V
রোধ, R = ?

আমরা জানি,
P = V2/R
⇒ R = V2/P
= (230)2/50
= 1058

∴ বাল্বটির রোধ = 1058 Ω।
৮,৬১৫.
তড়িৎচুম্বকীয় কোন রশ্মি জৈব যৌগের বিশ্লেষণের বর্ণালিমিতিক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়? 
  1. গামা রশ্মি
  2. রঞ্জন রশ্মি
  3. অতিবেগুনি রশ্মি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ: 
- যেসব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয় তাদের একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়। 
- দৃশ্যমান আলো হলো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র। 
- এ সব তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় স্পেকট্রাম ( spectrum) বা বর্ণালি বলা হয়। 

তড়িচ্চুম্বকীয় বর্ণালির অঞ্চলসমূহ: 
- তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মিসমূহকে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম বৃদ্ধি অনুসারে প্রধান সাতটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- 
১. গামা (γ) রশ্মি অঞ্চল: 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.0005-0.15 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় এ তরঙ্গ অধিক শক্তিসম্পন্ন। 
গামা রশ্মি জৈব যৌগের বিশ্লেষণে বর্ণালিমিতিক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। 

২. রঞ্জন রশ্মি (X-ray) অঞ্চল: 
- রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.01-10 nm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার ব্যাপক। 
যেমন- এক্সরে ক্রিস্টালোগ্রাফি, এক্সরে নিঃসরণ পদ্ধতিতে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 

৩. অতিবেগুনি রশ্মি (UV) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10–380 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন, 300-320 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV-রশ্মি চিকিৎসাক্ষেত্রে লাইট থেরাপি, 270–360 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি প্রোটিন বিশ্লেষণের কাজে, 200-400 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি ড্রাগ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়। 

৪. দৃশ্যমান (Visible) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলটি 380-780 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চল VIBGYOR অঞ্চলরূপে চিহ্নিত। 
- পরমাণুর সর্ববহিঃস্তরের ইলেকট্রন এ অঞ্চলের রশ্মি শোষণ বা বিকিরণ করে বর্ণালি সৃষ্টি করে। 

৫. অবলোহিত অঞ্চল: 
- অবলোহিত অঞ্চলটি Near - IR; Middle-IR এবং Far-IR এ তিনটি অংশে বিভক্ত। 
- জৈব যৌগের গঠন নির্ণয়ে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর নিম্নরূপ: 
• Near IR অঞ্চল: 0.8-2.5 µm, 
• Middle-IR অঞ্চল: 2.5-25 µm, 
• Far-IR অঞ্চল : 25-1000 µm (1 µm = 1 × 10-6 m). 

৬. মাইক্রোওয়েভ্স (Microwaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 µm হতে 1.0 cm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 

৭. রেডিও ওয়েভ্স (Radiowaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 cm হতে 5 m পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রেডিও এন্টেনাতে উচ্চ কম্পাঙ্কের পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ (AC) প্রবাহ দ্বারা এসব তরঙ্গের সৃষ্টি করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৬১৬.
এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস কোনটি? 
  1. N2O
  2. SO2
  3. CO
  4. CO2
ব্যাখ্যা

এসিড বৃষ্টি: 
- বায়ুমণ্ডলে অধঃক্ষেপণ বৃষ্টিতে pH এর মান 5.6 এর কম হলেই ঐ অধঃক্ষেপণকে এসিড বৃষ্টি বলে। 
- এসিড বৃষ্টির কারণ হচ্ছে মনুষ্যসৃষ্ট বায়ু দূষণ ক্রিয়া। 
- সাধারণত কলকারখানা অঞ্চলের এসিড বৃষ্টির পানির pH এর মান 5.6 থেকে 3.5 এর মধ্যে থাকে। 
- এই এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস বা এসিড বৃষ্টির কারণ মূলত সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (যেমন: NO, NO2) । 

এসিড বৃষ্টির ক্ষতিকর প্রভাব: 
- বর্তমানে রিপোর্টে প্রকাশিত ভারতের 'মথুরা অয়েল রিফাইনারি' থেকে নির্গত SO2 বৃষ্টির পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এসিড বৃষ্টি ঘটাচ্ছে। 
- এ এসিড বৃষ্টি থেকে 'তাজমহল'-এর মার্বেল পাথর আক্রান্ত হচ্ছে। এসিড বৃষ্টিতে বিভিন্ন ধাতুর তৈরি ব্রিজ ও অট্টালিকার ক্ষতি হয়। 
- এসিড বৃষ্টির ফলে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ আক্রান্ত হয়। কম pH এর পানিতে মাছের ডিম হ্যাচিং (hatching) বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। অধিক অম্লত্বের কারণে জলাশয়ে সমগ্র বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়ে জলাশয় বন্ধ্যা হয়ে যেতে পারে।
- এসিড বৃষ্টির প্রভাবে বৃষ্টি অরণ্য (rain forest)- এর বিশেষ ক্ষতি হতে পারে। বীজের অঙ্কুরোদ্গম এসিড বৃষ্টিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। 
- মাটির উপাদান ক্যালসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, জিংক ধাতুর ফসফরাস যৌগ এসিড বৃষ্টি ধুয়ে নিয়ে মাটিকে অনুর্বর করে দেয়। 

এসিড বৃষ্টির প্রতিকার: 
- এসিড বৃষ্টি হওয়ার পরে পুকুর ও হ্রদের পানিতে এবং কৃষি জমিতে চুন বা লাইম অথবা চুনাপাথর গুঁড়া ছিটানো দরকার। তখন অতিরিক্ত এসিড ক্যালসিয়াম লবণে পরিণত হয়। এরূপ লাইমিং কাজে অর্থ ব্যয় খুব বেশি। 
- দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো ট্রপোস্ফিয়ারকে SO2 গ্যাস ও নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx) মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা। 
- এজন্য শিল্পক্ষেত্রে FGD প্ল্যান্ট ও মোটর-কারে ক্যাটালাইটিক কনভার্টার ব্যবহার করে NOx গ্যাসকে বিজারিত করে N2 গ্যাসে পরিণত করা। 

অন্যদিকে, 
- কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), কার্বন মনোঅক্সাইড (CO) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) এসিড বৃষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় বা এসিড বৃষ্টির কারণ নয়। 
যেমন- কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) দূর্বল কার্বনিক এসিড (H2CO3) তৈরি করে যা এসিড বৃষ্টি তৈরি করতে পারে না। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।

৮,৬১৭.
নিচের কোন পদার্থটি তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়?
  1. ন্যাপথলিন 
  2. আয়োডিন
  3. নিশাদল 
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ঊর্ধ্বপাতন: 
- যে প্রক্রিয়ায় কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। 
যেমন- 
নিশাদল (NH4Cl)
• কর্পূর (C10H16O), 
ন্যাপথলিন (C10H8)
• কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), 
আয়োডিন (I2)
• অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3)। 
- এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৬১৮.
অণুসমূহ পরস্পরকে যে শক্তিতে আকর্ষণ করে তাকে কি বলে?
  1. ক) রাসায়নিক বন্ধন
  2. খ) আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি
  3. গ) রাসায়নিক শক্তি
  4. ঘ) নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
আন্তঃআণবিক শক্তির কারণে অণুসমূহ পরস্পরের সন্নিকটে থাকতে চায় কিন্তু অণুসমূহ সর্বদা কম্পমান। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে কম্পন বৃদ্ধি পায় এবং অণুসমূহ পরস্পর হতে বিচ্ছিন্ন হতে চায়। আন্তঃআণবিক শক্তি নির্ভর করে পদার্থের প্রকৃতির উপর।
৮,৬১৯.
মানবদেহে বিলিরুবিন উৎপন্ন হয় কোন অঙ্গটিতে?
  1. হৃদপিন্ডে
  2. কোলনে
  3. পিত্তথলিতে
  4. যকৃতে
ব্যাখ্যা
• বিলিরুবিন উৎপন্ন হয় যকৃতে। 

- বিলিরুবিন এক ধরণের হলুদ রঙের পদার্থ, যেটা রক্তে উপস্থিত লাল রক্ত কনিকার ১২০ দিনের চক্র পূরণ হলে ভেঙ্গে তৈরি হয়।
- বিলিরুবিনে বিলি থাকে, যেটা লিভারে তৈরি পাচক তরল পদার্থ এবং এটি গলব্লাডারে থাকে।
- এটা খাবারকে হজম করতে এবং মল তৈরি হতে সাহায্য করে। 
- জন্ডিস হবার মূল কারণ হল রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়া।
- যদি কোন কারণে বিলিরুবিন বিলির সাথে মিশতে না পারে কিংবা যখন লাল রক্ত কনিকা সামান্য থেকে কম পরিমাণে ভাঙতে শুরু করে, তখন রক্তে বিলিরুবিনের স্তর দ্রুত বাড়তে থাকে। আর এই ভাবে এটা দেহের অন্য অঙ্গে পৌঁছে সেখানে হলুদাভাবের সৃষ্টি করে।

সূত্র: University of California Website
৮,৬২০.
ভাইরাসে নিচের কোন উপাদানটি অনুপস্থিত? 
  1. জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটানোর ক্ষমতা
  2. কোষ ঝিল্লী
  3. DNA বা RNA
  4. মিউটেশন ঘটানোর ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের বেশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। 
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
যেমন- 
ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
• পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
• নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
• ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাস অকোষীয়। 
এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
• এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
• এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
• ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
• জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৬২১.
পানির ঘনত্ব সর্বোচ্চ কোন তাপমাত্রায় হয়?
  1. ০° সেলসিয়াস
  2. ৪° সেলসিয়াস
  3. ২৫° সেলসিয়াস
  4. ১০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
পানি: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.স. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 

- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৬২২.
হাইড্রোজেন পরমাণুর বর্ণালীর ধারণা কোন পরমাণু তত্ত্ব থেকে পাওয়া যায়?
  1. ক) রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল
  2. খ) বোর পরমাণু মডেল
  3. গ) হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা সূত্র
  4. ঘ) প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তথ্য
ব্যাখ্যা
পরমাণুর ইলেক্ট্রন যখন নিম্ন শক্তি স্তর থেকে উচ্চ শক্তিস্তরে বা উচ্চ শক্তি স্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে গমন করে তখন শক্তির শোষণ বা বিকিরণ ঘটে যার কারণে বর্ণালীর উৎপন্ন হয়। রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল অনুসারে কোনাে মৌলের পারমাণবিক বর্ণালি ব্যাখ্যা করা যায় না।
কিন্তু বােরের পরমাণু মডেল অনুসারে এক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণু হাইড্রোজেন (H) এর বর্ণালি ব্যাখ্যা করা যায়।
৮,৬২৩.
পানিকে জীবাণুমুক্ত করার সবচেয়ে সহজ উপায় কোনটি?
  1. ক) ইমবাইবেশন
  2. খ) প্রস্বেদন
  3. গ) ক্লোরিনেশন
  4. ঘ) অসমোসিস
ব্যাখ্যা
ক্লোরিনেশন
- জীবাণুনাশক পানি বিশুদ্ধ করার কাজে ক্লোরিন গ্যাস (Cl) ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়া ব্লিচিং পাউডার [(Ca(OCl)Cl], যার মাঝে ক্লোরিন আছে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে পারে, সেগুলো ব্যবহার করা হয়।
- দেশে বন্যার সময় পানি বিশুদ্ধ করার জন্য  সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড (NaOCl) ব্যবহার করা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৬২৪.
নিচের কোনটি সত্য?
  1. গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার আকর্ষণ অভিকর্ষ
  2. অভিকর্ষ হলো বস্তুর উপর কেন্দ্রমুখী বল
  3. মহাকর্ষ বলের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনকালীন সময়ে আমরা ছিটকে পড়ি না
  4. মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
• অভিকর্ষ:
- পৃথিবী ও যেকোন বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ।
- অভিকর্ষও এক ধরনের মহাকর্ষ।
- অভিকর্ষ বল কোন বস্তুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে।
- অভিকর্ষ হলো বস্তুর উপর কেন্দ্রমুখী বল।
- মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী নিউটন।
- অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনকালীন সময়ে আমরা ছিটকে পড়ি না।

• মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই মহাকর্ষ বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে।
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে আমরা সেটাকে বলি মাধ্যাকর্ষণ।
- এই মাধ্যাকর্ষণ বল আমাদের পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে, অর্থাৎ নিচের দিকে টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি চমকপ্রদ বল হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।
- মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাকে মহাকর্ষ বলে।
- সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ।
- গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার আকর্ষণও মহাকর্ষ।
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৬২৫.
লবণাক্ত পরিবেশের উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) কাণ্ড ও পাতা শুষ্ক প্রকৃতির
  2. খ) শীতকালে গাছের পাতা ঝরে যায়
  3. গ) উদ্ভিদের জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হয়
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
লবণাক্ত মাটিতে এবং জোয়ার-ভাটার স্থানে বীজ এক স্থানে টিকে থাকা কঠিন।
ফলে বহু উদ্ভিদে গাছে থাকা অবস্থায়ই বীজের অঙ্কুরোদগম আরম্ভ হয় এবং লম্বা ভ্রণমূল সৃষ্টি হয়। মূল একটু বড় ও ভারী হলে মাটিতে পড়ে এবং কিছুটা কাঁদা মাটিতে ঢুকে পড়ে ও স্থায়ী হয়। এ ধরনের অঙ্কুরোদগমকে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বলে।
সমুদ্রতীরবর্তী জোয়ার-ভাটার অঞ্চলের লবণাক্ত পরিবেশে জন্মানো উদ্ভিদসমূহকে ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ বলে।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৬২৬.
নিচের কোনটি গ্রীন শক্তি? 
  1. কয়লা
  2. খনিজ তেল
  3. প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. সৌর শক্তি
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৬২৭.
রংধনু সৃষ্টির সময় পানির কণাগুলো কিসের কাজ করে?
  1. লেন্সের
  2. আতশী কাচের
  3. প্রিজমের
  4. দর্পণের
ব্যাখ্যা
- রংধনু সৃষ্টির বেলায় পানির কণাগুলো প্রিজমের কাজ করে। 
- প্রিজমে সাদা আলো পতিত হলে তা সাতটি বর্ণে বিশ্লিষ্ট হয়। যথা: বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল। একে আলোর বিচ্ছুরণ বলে। 
- বৃষ্টির ফোটায় সূর্যের আলো পড়লে তা প্রিজমের নেয় কাজ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৬২৮.
ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য কোনটি ব্যবহার করা হয়? 
  1. রেজিস্টর 
  2. ডায়োড
  3. ক্যাপাসিটর 
  4. ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টর p এবং n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর দিয়ে তৈরি এক ধরনের ডিভাইস, যেটি তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। 
- n-p-n এবং p-n-p দুই ধরনের ট্রানজিস্টর আছে। 
- n-p-n ট্রানজিস্টরের যেদিক দিয়ে কারেন্ট ঢোকে তার নাম কালেক্টর। 
-  n-p-n ট্রানজিস্টরের যেদিক দিয়ে কারেন্ট বের হয় তার নাম এমিটার (Emitter)। 
- মাঝখানে রয়েছে বেস, এই বেসটি পানির ট্যাপের মতো। 
- এই বেসে অল্প একটু কারেন্ট দিলেই যেন ট্যাপটি খুলে যায় অর্থাৎ অনেক বিদ্যুতের প্রবাহ হতে থাকে। আবার এই অল্প কারেন্ট বন্ধ করে দিলেই বিদ্যুতের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। 
- এই ট্রানজিস্টর দিয়ে অসংখ্য ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়। 
- ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয় যা অ্যামপ্লিফায়ার নামেও পরিচিত। 
- নানা ধরনের সিগন্যালকে প্রক্রিয়া করার জন্যও ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,৬২৯.
কোন দর্পণে প্রতিবিম্বের আকার সবসময় লক্ষ্যবস্তুর সমান হয়? 
  1. সমতল দর্পণে 
  2. অবতল দর্পণে 
  3. উত্তল দর্পণে 
  4. অবতল লেন্স 
ব্যাখ্যা

রৈখিক বিবর্ধন: 
- সমতল দর্পণে বিম্বের আকার এবং আকৃতি লক্ষ্যবস্তুর আকার ও আকৃতির সমান হয়, কিন্তু গোলীয় দর্পণ এবং লেন্সের ক্ষেত্রে গঠিত প্রতিবিম্বের আকার লক্ষ্যবস্তুর সমান, ছোট বা বড় হয়। 
- প্রতিবিম্ব লক্ষ্যবস্তুর তুলনায় কতগুণ বড় বা ছোট সেই রাশিকে তার বিবর্ধন বলে। 
- কোনো বিস্তৃত বস্তুর বিবর্ধন পরিমাপের জন্য বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে ব্যবহার করা হয়। 
- তাই বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে রৈখিক বিবর্ধন বলে। 
ধরা যাক, কোনো লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্য L এবং প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য Li । 
তাহলে, রৈখিক বিবর্ধন m = Li/Lo  । 
• m > 1 হলে, প্রতিবিম্বটি বিবর্ধিত হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার বড় হবে। 
• m = 1 হলে, প্রতিবিম্বটি লক্ষ্যবস্তুর সমান হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তুর আকার ও প্রতিবিম্বের আকার সমান হবে। 
• m < 1 হলে, প্রতিবিম্বটি খর্বিত হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার ছোট হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৬৩০.
কুলম্বের সূত্র প্রয়োগ করা হয়-
  1. চল তড়িৎ পরিমাপে
  2. চার্জের মধ্যকার বল নির্ণয়ে
  3. চৌম্বক বল নির্ণয়ে
  4. তাপ পরিমাপে
ব্যাখ্যা
• কুলম্বের সূত্র:
- কুলম্বের সূত্র (Coulomb’s Law) হলো একটি মৌলিক সূত্র যা দুইটি স্থির তড়িৎ চার্জের মধ্যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।

সূত্রটি:
• F = k⋅q1⋅q2/r2

• F = বল (Newton-এ)
• q₁, q₂ = দুইটি চার্জ (Coulomb)
•  r = দুই চার্জের মধ্যকার দূরত্ব (meter)
• k = ধ্রুবক

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
৮,৬৩১.
ক্ষমতা নির্ণয়ের সূত্র কোনটি সঠিক?
  1. P = বল/বেগ
  2. P = (সম্পন্ন কাজ)/সময়
  3. P = বল × সরণ × সময় 
  4. P = বল × বেগ × সময়2
ব্যাখ্যা

- কাজ করার হারকেই ক্ষমতা (Power) বলা হয়। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট সময়ে যে পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয়, তাকে সেই সময় দিয়ে ভাগ করলে ক্ষমতা পাওয়া যায়। গাণিতিকভাবে: ক্ষমতা (P) = কাজ (W) / সময় (t) । 

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
অর্থাৎ, ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়) 
সুতরাং, ক্ষমতা = বল × বেগ (P = Fv) 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস.আই একক ওয়াট। 
- হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- এক হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (H.P) = 746 W. 
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T -3

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৬৩২.
গর্ভাবস্থায় জরায়ু ও ভ্রূণের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে কোন হরমোন?
  1. থাইরক্সিন 
  2. অ্যাড্রেনালিন 
  3. অ্যান্ড্রোজেন 
  4. প্রোজেস্টেরন
ব্যাখ্যা

- গর্ভাবস্থায় জরায়ু ও ভ্রূণের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে প্রোজেস্টেরন হরমোন সহায়তা করে। 

মানব প্রজননে হরমোনের ভূমিকা:  

- হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা নালিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।
- হরমোন নির্দিষ্ট অথচ স্বল্প মাত্রায় নিঃসৃত হয়ে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি বা কম নিঃসৃত হলে দেহের বিভিন্ন কাজের ব্যাঘাত ঘটে এবং দেহে নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। 
- মানব দেহে প্রজনন সংক্রান্ত হরমোনগুলো হলো-
১। শুক্রাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের নাম- টেস্টোস্টেরণ এবং অ্যান্ড্রোজেন। 
- এ হরমোন শুক্রাণু উৎপাদন করে। দাঁড়ি ও গোফ গজায়। গলার স্বর বদলায়। 

২। পিটুইটারী গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) বৃদ্ধি উদ্ধীপক হরমোন এবং (খ) উৎপাদক হরমোন। 
- এ হরমোন জনন গ্রন্থির বৃদ্ধি, ক্ষরণ ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। মাতৃদেহের স্তন দুগ্ধ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে। 

৩। থাইরয়েড গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- থাইরক্সিন হরমোন। 
- এ হরমোন দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি করে। যৌন লক্ষণ প্রকাশ ও বিপাকে সহায়তা করে। 

৪। অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি: 
- এ গুন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- অ্যাড্রানালিন হরমোন। 
- এ হরমোন যৌন অঙ্গের বৃদ্ধি করে। যৌন লক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে। 

৫। ডিম্বাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) ইস্ট্রোজেন, (খ) প্রোজেস্টেরন এবং (গ) রিলাক্সিন। 
- এ হরমোন নারী সুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি করে। ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে। গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ ও অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 

৬। অমরা গ্রন্থি: 
- অমরা থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) গোনাডোট্রপিক এবং (খ) প্রোজেস্টেরন। 
- এ হরমোন ডিম্বাশয়ের অনাল গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে। স্তন গ্রন্থির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৬৩৩.
গ্যাসীয় পদার্থের কোনটি থাকেনা?
  1. নির্দিষ্ট ভর
  2. নির্দিষ্ট আকার
  3. নির্দিষ্ট আয়তন
  4. খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• বায়বীয় পদার্থ:
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই।
- যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি।
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে।
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৬৩৪.
কোনটি ভৌত জীববিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত বিষয় নয়?
  1. ক) অঙ্গসংস্থান
  2. খ) হিস্টোলজি
  3. গ) জীবভূগোল
  4. ঘ) অণুজীববিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
অণুজীববিজ্ঞান ফলিত জীববিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।
৮,৬৩৫.
DNA ভাইরাসঘটিত রোগ কোনটি? 
  1. রুবেলা
  2. ভেরিওলা
  3. মাম্পস
  4. ইনফ্লুয়েঞ্জা বি
ব্যাখ্যা
DNA ভাইরাসঘটিত রোগ: 
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়। 
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- হার্পিস সিমপ্লেক্স (মানব), Tipula irridescent, Rabbitpox, Vaccinia (bovine), ভেরিওলা (মানব), Pustular dermatitis (Sheep), এডেনা গ্রুপ, প্যাপিলোমা (মানব), পলিওমা, ΦX174 কলিফাজ, Cauliflower mosaic ও Adenoassociaed ইত্যাদি। 

RNA ভাইরাসঘটিত রোগ: 
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়। 
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- ইনফ্লুয়েঞ্জা বি (মানব), পোলিও (মানব), রুবেলা (মানব), পীতজ্বর (মানব), ডেঙ্গু (মানব), Encephalitis (Human), Leukemia (cat), মাম্পস (মানব), Measles (Human), Cold (Human), Newcastle disease (fowl), Rous sarcoma (bird), Rabies (dog), Potato yellow dwarf, Vesicular stomatitis (cattle), Tobacco mosaic, Sugarcane mosaic, fd (Pseudomonas), Cucumber mosaic, f2, fr1, R17কলিফাজ ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং ভাইরাসতত্ত্ব পরিচয় (আহমেদ মাতীন)।
৮,৬৩৬.
নিচের কোনটি যৌগিক পদার্থ?
  1. লোহা
  2. পানি
  3. সোনা 
  4. রূপা 
ব্যাখ্যা
মৌলিক পদার্থ: 
- যে পদার্থকে ভাঙলে সেই পদার্থ ছাড়া অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে। 
যেমন- সোনা, রূপা বা লোহা ইত্যাদি বিশুদ্ধ পদার্থকে যতই ভাঙ হউক না কেন সেখানে তাদের ক্ষুদ্রতর কণা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যাবে না। 
- এরকম আরও কিছু মৌলের উদাহরণ হলো- নাইট্রোজেন, ফসফরাস, কার্বন, অক্সিজেন, হিলিয়াম, ক্যালসিয়াম, আর্গন, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার ইত্যাদি। 
- এ পর্যন্ত 118 টি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছে যার মধ্যে 98টি মৌল প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। বাকি মৌলগুলো গবেষণাগারে তৈরি করা হয়েছে যেগুলোকে কৃত্রিম মৌল বলে। 
- মানব শরীরে মোট 26 ধরনের ভিন্ন ভিন্ন মৌল আছে। 

যৌগিক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে ভাঙলে দুই বা দুইয়ের অধিক মৌল পাওয়া যায় তাদেরকে যৌগ বা যৌগিক পদার্থ বলে। 
যেমন- পানিকে যদি ভাঙা হয় (অর্থাৎ রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করা যায়) তবে কিন্তু দুটি ভিন্ন মৌল হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পাওয়া যাবে। আবার, লেখার চককে যদি ভাঙা যায় তাহলে সেখানে ক্যালসিয়াম, কার্বন ও অক্সিজেন এ তিনটি মৌল পাওয়া যাবে। 
- যৌগের মধ্যে মৌলসমূহের সংখ্যার অনুপাত সব সময় একই থাকে। 
যেমন- যেখান থেকেই পানির নমুনা সংগ্রহ করা হউক না কেন রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করা হলে সব সময় দুই ভাগ হাইড্রোজেন এবং এক ভাগ অক্সিজেন পাওয়া যাবে অর্থাৎ পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত 2 : 1 । 
- যৌগের ধর্ম কিন্তু মৌলসমূহের ধর্ম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। 
যেমন- সাধারণ তাপমাত্রায় হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাসীয় কিন্তু এদের থেকে উৎপন্ন যৌগ পানি সাধারণ তাপমাত্রায় তরল। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৬৩৭.
ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশ কোনটির উপর অবস্থিত?
  1. ইউরেশিয়ান প্লেট
  2. বেঙ্গল প্লেট
  3. অস্ট্রেলিয়ান প্লেট
  4. ইন্ডিয়ান প্লেট
ব্যাখ্যা
- ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান টেকটনিক প্লেটের উপর অবস্থিত।
- তবে দেশের পূর্বাংশের কিছু অংশ বিশেষত চট্টগ্রাম অঞ্চল বার্মিজ সাব প্লেটের উপর অবস্থিত। এছাড়া বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তে ইউরেশিয়ান প্লেট অবস্থিত।
- যার কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় সক্রিয় অঞ্চলে অবস্থিত।
(তথ্যসূত্র: রিসার্চগেট ও প্রথম আলো)
৮,৬৩৮.
রক্ত সংবহন তন্ত্রের প্রধান অঙ্গ কোনটি?
  1. ফুসফুস
  2. কৈশিক জালিকা
  3. হৃদপিণ্ড
  4. রক্তবাহিকা
ব্যাখ্যা
হৃদপিন্ড:
- রক্ত সংবহন তন্ত্রের প্রধান অঙ্গ হৃদপিন্ড।
- এটা পাম্পের মতো কাজ করে, ফলে রক্ত সংবহনতন্ত্রে রক্ত প্রবাহ সচল থাকে।
- হৃদপিন্ড বক্ষ গহ্বরে দুই ফুসফুসের মাঝখানে একই বাম দিকে অবস্থিত।
- মানব হৃদপিন্ড সম্পূর্ণভাবে চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত।
- এর উপরের প্রকোষ্ঠ দুটি বাম ও ডান অলিন্দ এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটি বাম ও ডান নিলয় নামে পরিচিত।
- নিলয় অলিন্দের তুলনায় আকারে বড়, প্রাচীর পুরু ও পেশিবহুল।
- প্রকোষ্ঠ বিভক্ত থাকলেও গোটা হৃদপিন্ড একটি একক হিসাবে কাজ করে এবং পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- হৃদপিন্ড এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৬৩৯.
কয়লা এক ধরনের__________ শিলা। 
  1. পাললিক
  2. জৈব
  3. আগ্নেয়
  4. রূপান্তরিত
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। যথা: অ্যানথ্রাসাইট, বিটুমিনাস এবং লিগনাইট। 
- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৬৪০.
সিমেন্ট তৈরিতে প্রধান কাঁচামাল কী?
  1. চুনাপাথর
  2. কয়লা
  3. সালফার
  4. বালি 
ব্যাখ্যা

চুনাপাথর (Limestone) সিমেন্ট তৈরির প্রধান কাঁচামাল। এতে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3) থাকে, যা পোড়ালে ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO) তৈরি হয় এবং অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সিমেন্ট তৈরি করে।

​সিমেন্ট উৎপাদন: 
​- সিমেন্ট উৎপাদনের জন্য দু'ধরনের কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়। যথা-
১। ক্যালকেরিয়াস (Calcareous): চুনাপাথর, সিমেন্ট রক, মার্বেল, চক ইত্যাদি।
২। আরজিলেসিয়াস (Argillaceous): সিলিকা (SiO2), অ্যালুমিনা (Al2O3), আয়রন অক্সাইড (Fe2O3) ইত্যাদি।

সাধারণভাবে পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের শতকরা সংযুক্তি নিম্নরূপ:
• চুন (CaO) → 60-70%, 
• ​সিলিকা (SiO2) → 20-25%, 
​• অ্যালুমিনা (Al2O3) → 5-10%,  
​• ফেরিক অক্সাইড (Fe2O3) → 2-3%, 
​• ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড (MgO) → 1-5%,  
​• ক্ষার → 1%.

​উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৮,৬৪১.
দৃশ্যমান বর্ণালির বৃহত্তম তরঙ্গদৈর্ঘ্য কোন রঙের আলোর?
  1. বেগুনী
  2. কমলা
  3. সবুজ
  4. লাল
ব্যাখ্যা

লাল বর্ণের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বড়।

দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম: 
- বেগুনি < নীল < আসমানী < সবুজ < হলুদ < কমলা < লাল।
- সংক্ষেপে বেনীআসহকলা।
- আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে তার বিক্ষেপণ বেশি হয়।
- আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে তার বিক্ষেপণ কম হয়।
- লাল রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি তাই এর বিক্ষেপণ কম।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশী।
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৮,৬৪২.
বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালালে আমরা কোন ধরনের শক্তি পাই? 
  1. ক) যান্ত্রিক শক্তি
  2. খ) রাসায়নিক শক্তি
  3. গ) চুম্বক শক্তি
  4. ঘ) আলোক শক্তি
ব্যাখ্যা

আগুন ও বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালালে আমরা আলোক শক্তি ও তাপ শক্তি পাওয়া যায়।

- তাপ শক্তির সাথে সূর্য থেকে সরাসরি আর যে শক্তিটি আসে তা হচ্ছে আলোক শক্তি।
- আলোক শক্তি ছাড়া আমরা কিছুই দেখতে পারি না।
- সূর্য আলোক শক্তির প্রধান উৎস।
- অপরদিকে, তাপ শক্তি সরাসরি সূর্য থেকে সরাসরি আসে। এই তাপ শক্তি পৃথিবীকে উষ্ণ রাখে।
- তাপ শক্তি ছাড়া কোন প্রাণী বা, উদ্ভিদ বেঁচে থাকতে পারে না।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি। 

৮,৬৪৩.
আলোক সজ্জার জন্য ইলেকট্রিক বাল্ববে সাধারণত কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) হিলিয়াম গ্যাস
  2. খ) রেডন গ্যাস
  3. গ) জেনন গ্যাস
  4. ঘ) নিয়ন গ্যাস
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের ব্যবহার: 
হিলিয়ামের ব্যবহার: 
- হিলিয়াম খুবই হাল্কা এবং অদাহ্য হওয়ায় বেলুনে ও উড়োজাহাজে ব্যবহৃত হয়। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন গ্যাস হিলিয়াম অপেক্ষা হাল্‌কা। 
- H2 গ্যাসের তুলনায় He গ্যাসের উত্তোলন ক্ষমতা প্রায় 92%। 
- হাইড্রোজেনের দাহ্যতার কারণে তা বিপজ্জনক হওয়ায় বর্তমানে একমাত্র হিলিয়াম ব্যবহৃত হয়। 
- অলিম্পিক সাইক্লিস্ট প্রতিযোগীরা তাদের সাইকেলের টায়ার বাতাসের পরিবর্তে হাল্‌কা ও অদাহ্য হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা পূর্ণ করে। 
- হাপানী রোগীর শ্বাসকাজে সহায়তার জন্য এবং গভীর পানির ডুবুরিগণ এবং অধিক চাপে কর্মরত ব্যক্তিগণ ৪০% হিলিয়াম ও অক্সিজেনের 20% মিশ্রণের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করেন। 
- ধাতু সংকরের গলন ও জোড়া লাগানোর সময় হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা নিষ্ক্রিয় পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। 
- নিম্ন তাপমাত্রায় গবেষণাকার্যে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- তরল হিলিয়াম NMR (NMR = Nuclear Magnetic Resonance Spectroscopy) মেশিন শীতলকরণে ব্যবহৃত হয়। 
- হিলিয়ামের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সর্বনিম্ন এবং পরমশূন্য তাপমাত্রার খুবই নিকটে। 

নিয়নের ব্যবহার: 
- প্রধানত আলোক সজ্জার জন্য নিয়ন গ্যাস ইলেকট্রিক বাল্ববে ব্যবহৃত হয়। 
- নিয়ন আলো কুয়াশার মধ্যেও দৃশ্যমান, এজন্য বিমানের পাইলটগণ আলোক সংকেতরূপে নিয়ন বাল্ব আলো ব্যবহার করেন। 
- নিয়নপূর্ণ বাল্ব টিউব উজ্জ্বল লাল আলো দেয়। 
- অন্যান্য নিষ্ক্রিয় গ্যাস অথবা মার্কারি মিশ্রিত করে সবুজ বা নীল বর্ণের বিকিরণকারী মোক্ষণ নল তৈরি করা হয়। 
- ভোল্টামিটার ও রেকটিফায়ার বৈদ্যুতিক যন্ত্রে রক্ষাকবচ হিসেবে হিলিয়াম-নিয়ন মিশ্রণ ব্যবহৃত হয়।

আর্গনের ব্যবহার: 
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের মধ্যে বায়ুতে আর্গনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- তাই সবচেয়ে সস্তা বৈদ্যুতিক বালবে উচ্চ তাপে টাংস্টেন তারটি যেন জারিত হয়ে কেটে না যায় তার জন্য নিষ্ক্রিয় আর্গন ব্যবহৃত হয়। 
- নাইট্রোজেন থেকে আর্গন অনেক বেশি নিষ্ক্রিয় এবং এর বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতাও কম। এ কারণে বৈদ্যুতিক বাল্ববে নাইট্রোজেনের পরিবর্তে আর্গন ব্যবহার করা হয়। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় পরিবেশ তৈরির জন্য আর্গন বহুল পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। 
- বাংলাদেশে আর্গন সহজলভ্য না হওয়ায় গবেষণাগারসমূহে নিষ্ক্রিয় পরিবেশ তৈরিতে সাধারণত নাইট্রোজেন ব্যবহৃত হয়; কিন্তু উন্নত দেশসমূহে এক্ষেত্রে আর্গন ব্যবহৃত হয়। 
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপক যন্ত্র, বিশেষত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহৃত হয়। 

ক্রিপটন ও জেনন - এর ব্যবহার: 
- প্রকৃতপক্ষে বৈদ্যুতিক গ্যাস বাল্ববে ক্রিপ্‌টন ও জেননের ব্যবহার আর্গন অপেক্ষাও ভাল। 
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপক যন্ত্রেও তাদের ব্যবহার অধিকতর হয়ে থাকে। 
- ফটো তৈরির জন্য ফটোগ্রাফিক ফ্লাশ বাল্ব তৈরিতে ক্রিপ্‌টন-জেননের মিশ্রণ ব্যবহৃত হয়। 

রেডনের ব্যবহার: 
- রেডন গ্যাস অত্যন্ত তেজস্ক্রিয়। এ কারণে সাধারণ ক্ষেত্রে এর ব্যবহার নেই। 
- তবে তেজস্ক্রিয় গবেষণায় এবং ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার কাজে রেডন ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী নাগ)।
৮,৬৪৪.
নিচের মধ্যে কোনটি বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়?
  1. টাইফয়েড
  2. পোলিও
  3. জন্ডিস
  4. বসন্ত
ব্যাখ্যা

•  বসন্ত বায়ুবাহিত রোগ।
- বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমণ সাধারণত সেই রোগের জন্য হয় যা শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে টাইফয়েড, পোলিও, এবং জন্ডিস সাধারণত খাদ্য বা পানি দ্বারা সংক্রমিত হয়। অন্যদিকে, বসন্ত বা হালকা জ্বর ও চর্মরোগের সাথে যুক্ত রোগটি প্রধানত শ্বাসনালি বা বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। অর্থাৎ, আক্রান্ত ব্যক্তির কাশির ফোঁটা বা শ্বাস-প্রশ্বাসে থাকা জীবাণু অন্য ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করলে তারাও আক্রান্ত হতে পারে। তাই বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমিত রোগের উদাহরণ হিসেবে “বসন্ত” সঠিক উত্তর।
 
• বায়ুবাহিত রোগ:
- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হপিং কফ, নিউমোনিয়া, সাধারণ ঠান্ডা জ্বর, বসন্ত, হাম ইত্যাদি।
- প্রতিরোধ: যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হপিং কফ এবং হামের টিকা নেয়া। এই জাতীয় রুগী থেকে দূরে থাকা। পরিবারের কেউ অসুস্থ্য হলে আলাদা রেখে চিকিৎসা করা।

• সংক্রামক রোগ:
- রোগের জীবাণু যখন পরোক্ষভাবে বাতাস, পানি, মশা-মাছি, কীট-পতঙ্গ, জীব-জন্তু ইত্যাদি দ্বারা অথবা সরাসরি পরস্পরের সংস্পর্শে এক দেহ থেকে অন্য দেহে খুব সহজেই বিস্তার লাভ করে তখন তাদেরকে সংক্রামক রোগ বলা হয়।

• পানিবাহিত রোগ:
- জন্ডিস, পোলিও, ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, রক্ত আমাশা (ডিসেন্ট্রি) বিভিন্ন ধরনের কৃমি রোগ ইত্যাদি।
- প্রতিরোধ: পানি ফুটিয়ে পান করা, টিউবওয়েলের পানি পান করা, ব্যক্তিগত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, খাওয়ার আগে হাত ধোয়া, যেখানে সেখানে মলমূত্র পরিত্যাগ না করা, জুতা স্যান্ডেল পায়ে চলাফেরা করা, পোলিও রোগের টিকা নেয়া।

উৎস: পরিবেশ শিক্ষা-বিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৬৪৫.
চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামকের একক কোনটি?
  1. ওয়েবার
  2. টেসলা
  3. অ্যাম্পিয়ার-মিটার2
  4. নিউটন-মিটার
ব্যাখ্যা

• চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামকের একক অ্যাম্পিয়ার-মিটার2 (Am2), কারণ M = m(2l) এবং মেরুশক্তি ও চৌম্বক দৈর্ঘ্যের গুণফলই ভ্রামক।

• চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামক:
- কোনো চুম্বকের একটি মেরুশক্তি (m) ও চৌম্বক দৈর্ঘ্য (2l)-এর গুণফলকে চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামক বলে।
- গাণিতিক রূপ: M = m(2l)।
- এটি একটি ভেক্টর রাশি।
- একক = অ্যাম্পিয়ার-মিটার2 (Am2)।

• চৌম্বক দৈর্ঘ্য:
- চৌম্বক অক্ষ বরাবর দুই মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্ব।
- জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের তুলনায় কিছুটা কম।

• চৌম্বক মেরু:
- চুম্বকের দুই প্রান্তে আকর্ষণ বল সর্বাধিক।
- উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু থাকে।

• অন্যান্য অপশন:
- ওয়েবার → চৌম্বক ফ্লাক্সের একক।
- টেসলা → চৌম্বক আবেশ বা ফ্লাক্স ঘনত্বের একক।
- নিউটন-মিটার → কাজ বা টর্কের একক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৬৪৬.
নিচের কোনটি স্ত্রীস্তবকের অংশ?
  1. ক) পুংদন্ড
  2. খ) পরাগদন্ড
  3. গ) পরাগধানী
  4. ঘ) গর্ভদন্ড
ব্যাখ্যা
স্ত্রীস্তবক এক বা একাধিক গর্ভপত্র নিয়ে গঠিত হতে পারে৷ একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ।
যথাঃ গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড, গর্ভমুণ্ড।
পুংদণ্ড বা পরাগদণ্ড এবং পরাগধানী বা পরাগথলি হচ্ছে পুংকেশরের অংশ।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৬৪৭.
পৃষ্ঠদেশ একক ও ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু- কোন পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) Mollusca
  2. খ) Annelida
  3. গ) Chordata
  4. ঘ) Arthropoda
ব্যাখ্যা

পৃষ্ঠদেশ একক ও ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু- কর্ডাটা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য।
কর্ডাটা পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. ভ্রূণ অবস্থায় অথবা সারা জীবন পৃষ্ঠ মধ্যরেখা বরাবর নিরেট (Solid), দণ্ডাকৃতির (Rod-shaped) ও স্থিতিস্থাপক (Elastic) নটোকর্ড (Notochord) বর্তমান যা মেরুদণ্ডীদের (Vertebrates) পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে মেরুদণ্ড (Vertebral column) দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।
২. নটোকর্ডের (Notochord) পৃষ্ঠদেশ (Dorsal side) বরাবর ফাঁপা ও নলাকার স্নায়ু-রজ্জু (Nerve cord) উপস্থিত। মেরুদণ্ডীদের ক্ষেত্রে এটির অগ্রপ্রান্তে মস্তিষ্ক (Brain) এবং এর পশ্চাতে সুষুম্নাকাণ্ড (Spinal cord) গঠিত হয়।
৩. উন্নত কর্ডেট (Higher Chordates) ছাড়া অধিকাংশ প্রাণীতে সারা জীবন অথবা জীবনের যে কোন দশায় গলবিলে পার্শ্বীয়ভাবে কয়েক জোড়া ফুলকা রন্ধ্র (Gill slits) বর্তমান।
৪. মেরুদণ্ডীদের অন্তঃকঙ্কাল বিশিষ্ট দু’জোড়া পদ (অগ্রপদ ও পশ্চাৎ পদ) বর্তমান।
৫. এন্ডোস্টাইল (Endostyle) উপস্থিত যা পরবর্তীতে থাইরয়েড গ্রন্থিতে (Thyroid glands) রূপান্তরিত হয়।
৬. পায়ু (Anus) পরবর্তী পেশীবহুল ও স্থিতিস্থাপক লেজ (Tail) উপস্থিত।
৭. উন্নত পরিপাকতন্ত্র পরিপাক গ্রন্থিবিশিষ্ট এবং পাকস্থলী (Stomach) ও অন্ত্র (Intestine) সুস্পষ্টভাবে আলাদা।
৮. রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির। অঙ্কীয় দিকে অবস্থিত হৃদযন্ত্র, পৃষ্ঠীয় ও অঙ্কীয় রক্তনালী নিয়ে রক্ত সংবহনতন্ত্র গঠিত। হেপাটিক পোর্টাল তন্ত্র (Hepatic portal system) উন্নত প্রকৃতির।
৯. জলজ শ্বসন (Aquatic respiration) ফুলকার (Gill) সাহায্যে এবং বায়বীয় শ্বসন (Arial respiration) ফুসফুসের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে।
১০. অধিকাংশ প্রাণীতে কোমলাস্থি (Cartilage) অথবা অস্থি (Bone) নির্মিত কঙ্কাল দৈহিক অবকাঠামো তৈরি করে।
১১. বিরল ব্যতিক্রম ছাড়া সকলেই একলিঙ্গ (Dioecious) প্রাণী।

সূত্র: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান

৮,৬৪৮.
কর্টিসল হরমোনকে সাধারণত কী নামে ডাকা হয়?
  1. বৃদ্ধি হরমোন
  2. স্ট্রেস হরমোন
  3. ইনসুলিন
  4. থাইরক্সিন
ব্যাখ্যা

কর্টিসল হরমোনকে সাধারণত "স্ট্রেস হরমোন" বলা হয়। 
কারণ এটি শরীরের মানসিক ও শারীরিক চাপের (stress) প্রতি প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।
এটি অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং চাপপূর্ণ পরিস্থিতিতে শরীরকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। 

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল
ক) বৃদ্ধি হরমোন: এটি সোমাটোট্রপিন হরমোন নামেও পরিচিত এবং শরীরের বৃদ্ধি ও বিকাশে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
গ) ইনসুলিন: এটি একটি পেপটাইড হরমোন যা অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ঘ) থাইরক্সিন: এটি থাইরয়েড গ্রন্থি দ্বারা উৎপাদিত একটি হরমোন যা শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া (metabolism) নিয়ন্ত্রণ করে। 

৮,৬৪৯.
ট্রান্সডিউসারের কাজ হলো কোনটি?
  1. ক) তড়িৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করা
  2. খ) শব্দ শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা
  3. গ) তড়িৎ শক্তিকে তাপ শক্তিতে রূপান্তর করা
  4. ঘ) ক এবং খ
ব্যাখ্যা
টেলিফোনে দুইটি তড়িৎ যন্ত্র থাকে। একটি হলো মাইক্রোফোন এবং অপরটি হলো ইয়ারফোন বা স্পিকার।
মাইক্রোফোনের কাজ হলো শব্দ তরঙ্গকে তড়িৎ তরঙ্গে রূপান্তর করা এবং ইয়ারফোন বা স্পিকার তড়িৎ তরঙ্গকে শব্দ
তরঙ্গে রূপান্তর করে।
যে যন্ত্র কোন অতড়িৎ সংকেতকে তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে অথবা তড়িৎ সংকেতকে অতড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে তাকে ট্রান্সডিউসার বলে। সুতরাং মাইক্রোফোন ও ইয়ারফোন বা স্পিকার উভয়ই এক ধরণের ট্রান্সডিউসার।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৮,৬৫০.
কাচ তৈরিতে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. সিলিকা
  2. কার্বন
  3. আয়রন
  4. জিংক
ব্যাখ্যা
• কাচ তৈরিতে প্রধানত সিলিকা (SiO₂) বা সিলিকন ডাইঅক্সাইড ব্যবহৃত হয়।
- সিলিকন ডাইঅক্সাইড মূলত বালি (sand) থেকে প্রাপ্ত হয় এবং এটি কাচের মূল উপাদান।

• কাচ তৈরির প্রক্রিয়া:
- সিলিকা (SiO₂), সোডা (Na₂CO₃), এবং চুন (CaCO₃) মিশিয়ে ১২০০তাপমাত্রায় গলানো হয়।
-  যা ঠান্ডা হলে কাচের আকার ধারণ করে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৮,৬৫১.
ডুবোজাহাজ থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠে দেখার জন্য কোন যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়? 
  1. রাডার
  2. টেলিস্কোপ
  3. পেরিস্কোপ
  4. মাইক্রোস্কোপ
ব্যাখ্যা
পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুটি সমতল দর্পণ প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখা যায় না তা আমরা দেখতে পাই। 

- পেরিস্কোপ তৈরি হয় একটি লম্বা সরু টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের (আয়না) দুটি ফালি বা স্ট্রিপ স্থাপন করে। দর্পণ দুটিকে টিউবের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়। 
- এরা পরস্পরের সাথে সমান্তরাল থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায় বা বাঁকিয়ে দেয়। 
- স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে খেলা দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়া বাঙ্কারে ওতপেতে থাকা সৈন্যরা ভূমিতে কী আছে তা দেখার এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবোজাহাজ থেকে দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করে। 

অন্যদিকে, 
- রাডার: রাডার বস্তু শনাক্ত করতে তরঙ্গ ব্যবহার করে, কিন্তু সরাসরি দেখা যায় না।
- টেলিস্কোপ: দূরবর্তী জ্যোতির্বস্তু দেখার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- মাইক্রোস্কোপ: ক্ষুদ্র বস্তু বা অণুজীব দেখার জন্য ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৮,৬৫২.
সূর্য থেকে উদ্ভিদের পাতায় পৌঁছানো আলোর কত অংশ সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়?
  1. ১-২%
  2. ১০-১২%
  3. ৫০-৬০%
  4. ৬-১০%
ব্যাখ্যা

• সালোক সংশ্লেষণ:
- যে উদ্ভিদ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্য্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোক সংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।
 
- সালোক সংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে (১) আলো, (২) ক্লোরোফিল, (৩) পানি ও (৪) কার্বন ডাই- অক্সাইড।
- সূর্য হতে যে আলো পৃথিবীতে আসে তার যে অংশ উদ্ভিদের পাতায় পতিত হয় সে অংশের শতকরা ১ থেকে ২ ভাগ মাত্র সালোক সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়, বাকী ৯৮ থেকে ৯৯ ভাগ সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত হয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে অথবা কিছু অংশ তাপ শক্তি রূপে শোষিত হয়।
- বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন এর মতে সূর্যের আলো এ পৃথিবীতে আসে তড়িৎ চুম্বকীয় বিচ্ছুরিত রশ্মি বা তরঙ্গ হিসাবে এবং সৌর শক্তি ফোটন (photon) নামক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কনিকাসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- সূর্যের যে আলো পৃথিবীতে আসে তা বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের হয়।
- তরঙ্গ দৈর্ঘ্য মিটার, সেন্টিমিটার, ন্যানোমিটার, মিলিমাইক্রন এবং অ্যাংস্ট্রম হিসাবে প্রকাশ করা হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৮,৬৫৩.
পারস্পরিক আবেশকে ব্যবহার করা হয় কোনটিতে?
  1. ট্রান্সফর্মার
  2. অ্যামপ্লিফায়ার
  3. ট্রানজিস্টার
  4. ডায়োড
ব্যাখ্যা
 - যে যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চবিত্ত নিম্নবিত্ত ও নিম্ন বিভক্তির ছবি ভাবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলে। 
- তড়িৎ চৌম্বক আবেশ এর উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্র তৈরি করা হয়।
- ট্রান্সফর্মার দুই প্রকার। যথা- স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার এবং স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার ।
- ট্রান্সফরমারে মুখ্য কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার হয়।
- ট্রান্সফরমারের গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার হয়।

উৎস:  সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৬৫৪.
মহাবিশ্বের বস্তুসমূহ কোন বলের প্রভাবে সাম্যাবস্থায় থাকে? 
  1. ঘর্ষণ বল 
  2. তড়িৎচুম্বক বল 
  3. নিউক্লিয়ার বল 
  4. মহাকর্ষ বল 
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ: 
- ১৬১৮ খ্রি. বিজ্ঞানী জে কেপলার সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহগুলোর ঘূর্ণন ও তাদের গতি সম্পর্কীয় সূত্রাবলি প্রকাশ করেন। 
- কিন্তু মহাজাগতিক বস্তুসমূহ এবং সৌর মন্ডলীর গ্রহ উপগ্রহসমূহ কোন বলের প্রভাবে ঘুরছে বা সাম্যবস্থায় আছে সে সম্পর্কে কেপলার বা তৎকালীন বিজ্ঞানীদের কোনো সুষ্পষ্ট ধারণা ছিল না। 
১৭৬৪ সালে বিজ্ঞানী আইজাক নিউটন মহাবিশ্বের পরস্পর যোগসূত্রহীন বস্তুসমূহের সাম্যাবস্থা বজায় থাকা এবং সূর্যের চারদিকে গ্রহসমূহের ঘূর্ণনের কারণ হিসাবে এক ধরনের সার্বজনীন বলের ধারণা উপস্থাপন করেন যার নাম দেয়া হয় মহাকর্ষ বল। 
- এই বল হলো মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তু কণার মধ্যে পরস্পরকে আকর্ষণ বল। 
অর্থাৎ, যে বল দ্বারা মহা বিশ্বের প্রতিটি বস্তু কণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে তার নাম মহাকর্ষ বল। 
- এই মহাকর্ষ বল সম্পর্কে নিউটন একটি সূত্র দেন যা নিউটনের মহাকর্ষ বলের সূত্র নামে খ্যাত। 
সূত্র- 'মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল বস্তুকণাদ্বয়ের কেন্দ্র সংযোজক সরল রেখা বরাবর ক্রিয়া করে'। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৬৫৫.
ওহমের সূত্রের গাণিতিক রূপ কোনটি?
  1. F = ma
  2. P = VI
  3. V = IR
  4. Q = It
ব্যাখ্যা
• ওহমের সূত্র বৈদ্যুতিক বর্তনীতে ভোল্টেজ (V), প্রবাহিত কারেন্ট (I), এবং রোধ (R)–এর মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে।

• সূত্রটির গাণিতিক রূপ হলো-
V=IR

এখানে,
V = ভোল্টেজ বা বিভব পার্থক্য (Volt)
I = কারেন্ট বা বিদ্যুৎ প্রবাহ (Ampere)
R = রোধ  (Ohm)
এই সূত্র অনুসারে, কোনো পরিবাহকের দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য পরিবাহকের রোধ ও পরিবাহকের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কারেন্টর সাথে সম্পর্কযুক্ত।

অন্যদিকে,
• P = VI – এটি বিদ্যুৎ শক্তি বা Power-এর সূত্র।
• Q = It – এটি আধান (Charge) নির্ণয়ের সূত্র।
• F = ma – এটি নিউটনের দ্বিতীয় গতি সূত্র (বলের সূত্র)। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৬৫৬.
পানিতে উপস্থিত বিয়োজন যোগ্য ও বিয়োজন অযোগ্য দূষক পদার্থসমূহকে জারণের জন্যে প্রয়োজনীয় মোট অক্সিজেনের চাহিদাকে কী বলে?
  1. ক) COD
  2. খ) WOD
  3. গ) BOD
  4. ঘ) TOD
ব্যাখ্যা

প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (Biological/Biochemical Oxygen Demand - BOD):
পানিতে উপস্থিত অনুজীব কর্তৃক জৈব ও অজৈব পদার্থকে বিয়োজিত করতে প্রয়োজনীয় দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণকে প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা বা বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড BOD বলে।
পানির উৎকর্ষতা নির্ধারণে BOD নির্দেশক রূপে কাজ করে।

রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (Chemical Oxygen Demand - COD):
পানির মধ্যে কিছু অপচনশীল বা জৈব বিয়োজনের অযোগ্য (nonbiodegradable) বস্তু থাকে যাদের বিয়োজন ব্যাকটেরিয়া বা জীবণু দ্বারা সম্পন্ন হয় না।
এগুলিকে বিয়োজনের জন্য শক্তিশালী জারক পদার্থ যেমন K2Cr2O7 (যা অক্সিজেন সরবরাহ করে) প্রয়োজন হয়। এরা দূষক পদার্থকে জারিত করে। পানিতে উপস্থিত বিয়োজন যোগ্য ও বিয়োজন অযোগ্য দূষক পদার্থসমূহকে জারণের জন্যে প্রয়োজনীয় মোট অক্সিজেনের চাহিদাকে রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (COD) বলে।

উল্লেখ্য যে,
কোন নমুনার COD এর মান BOD এর মান অপেক্ষা বেশি হয়। কেননা COD নির্ণয়ের ক্ষেত্রে জৈব ভাঙ্গনযোগ্য বা বিয়োজন যোগ্য এবং বিয়োজন অযোগ্য এই উভয় প্রকার জৈব বস্তুই জারিত হয়। পানিতে COD এর মান বৃদ্ধির অর্থ হলো দূষণের হার বৃদ্ধি।

উৎসঃ পরিবেশ রসায়ন, রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৬৫৭.
কাঠ বা প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানোর সময় কোন শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. যান্ত্রিক শক্তি
  2. রাসায়নিক শক্তি
  3. বৈদ্যুতিক শক্তি
  4. পারমাণবিক শক্তি 
ব্যাখ্যা

• জ্বালানিতে সঞ্চিত শক্তি রাসায়নিক শক্তি।

• জ্বালানি ও শক্তির ব্যবহার:

- রান্নার কাজে আমরা জ্বালানি হিসেবে কাঠ বা প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করি।
- কাঠ বা প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ালে এর ভেতরে সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• তাপশক্তির ব্যবহার:

- কাঠ পোড়ালে যে তাপ উৎপন্ন হয়, সেই তাপ ব্যবহার করে—
- রান্না করা হয়,
- ইটের ভাটা ও
- ইস্পাত বা সিরামিক শিল্পে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হয়।
 
• শিল্পক্ষেত্রে জ্বালানির ব্যবহার:

- লোহা, ইস্পাত ও সিরামিক শিল্পে প্রচুর তাপশক্তির প্রয়োজন হয়।
এক্ষেত্রে—
- কয়লা,
- পেট্রোলিয়াম এবং
- প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি খনিজ জ্বালানি তাপ ইঞ্জিনে ব্যবহার করা হয়।
 
• যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর:

- তাপ ইঞ্জিনে জ্বালানি দহন চেম্বারে পোড়ানোর ফলে যে তাপশক্তি উৎপন্ন হয়, তা যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
এই যান্ত্রিক শক্তি ব্যবহার করে—
- মোটরগাড়ি,
- জাহাজ,
- বিমান এবং
- রেলগাড়ি চালানো হয়।

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৮,৬৫৮.
নিচের কোনটির প্রভাবে সমুদ্রস্রোত সংঘটিত হয় না?
  1. বায়ুপ্রবাহ
  2. মহীসোপানের অবস্থান
  3. লবণাক্ততার তারতম্য
  4. সমুদ্রের গভীরতা
ব্যাখ্যা

সমুদ্রস্রোত: 
- একস্থান থেকে অন্যস্থানে মহাসাগর ও সাগরের পানির নির্দিষ্ট ও নিয়মিত প্রবাহকে মহাসাগরীয় স্রোত বা সমুদ্রস্রোত (Ocean Current) বলে।
- বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ তৈরি করে এবং ঘর্ষণের জন্য পানিতে ঘূর্ণন তৈরি করে এবং সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়।
- উষ্ণতার তারতম্য অনুযায়ী সমুদ্রস্রোতকে প্রধান দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা: (ক) উষ্ণ স্রোত ও (খ) শীতল স্রোত।

সমুদ্র স্রোতের কারণ: 
পানির স্বাভাবিক নিয়ম হচ্ছে তার উপরিভাগের সমতা রক্ষা করা। তাই সমুদ্রের একস্থানের পানি অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়।
নিম্নলিখিত কারণে সমুদ্রস্রোতের উৎপত্তি হয়। যথা:
১. বায়ুপ্রবাহ (Wind Movement) - প্রধান কারণ। 
২. পৃথিবীর আবর্তন (Rotation of Earth);
৩. তাপমাত্রার তারতম্য (Variation in Temperature);
৪. লবণাক্ততার তারতম্য (Variation in Salinity);
৫. স্থলভাগের অবস্থান (Presence of Landmasses);
৬. অসম বাষ্পীভবন (Unequal Evaporation);
৭. সমুদ্রের গভীরতা (Depth of the Ocean). 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৬৫৯.
মিথান্যালের ৪০% জলীয় দ্রবণকে কী বলে?
  1. ভিনেগার 
  2. ফরমালিন
  3. রেকটিফাইড স্পিরিট 
  4. অ্যাসিটোন
ব্যাখ্যা

মিথান্যালের ৪০% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। 

ফরমালিন (Formalin):

- ফরমালডিহাইড অর্থাৎ মিথান্যাল (Methanal)-এর ৪০% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে।
- অর্থাৎ এতে থাকে ৪০ ভাগ মিথান্যাল এবং ৬০ ভাগ পানি।
- এটি একটি সংরক্ষণকারী পদার্থ, যা বিভিন্ন মৃত প্রাণীর দেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

রেকটিফাইড স্পিরিট (Rectified Spirit):
- এটি ৯৫.৬% ইথানল এবং ৪.৪% পানির মিশ্রণ।
- এটি সাধারণত জীবাণুনাশক, ঔষধ প্রস্তুতি এবং পরীক্ষাগারে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ভিনেগার (Vinegar):
- (৬ - ১০)% ইথানোয়িক অ্যাসিডের (Ethanoic acid) জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়।
- এটি খাদ্য সংরক্ষণ এবং স্বাদ বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,৬৬০.
রেফ্রিজারেটরে ব্যবহৃত তরলের নাম কোনটি?
  1. ক) ইথেন
  2. খ) মিথেন
  3. গ) রেয়ন
  4. ঘ) ফ্রেয়ন
ব্যাখ্যা
১৯২৭ সালে প্রথম আধুনিক ব্যক্তিগত রেফ্রিজারেটর বাজারে আনে মার্কিন প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রিক। আধুনিক রেফ্রিজারেটরগুলোতে ফ্রেয়ন এর বদলে টেট্রাফ্লুরোইথেন নামে একটি গ্যাস ব্যবহার করা হয় যেটা পরিবেশ বান্ধব। ফ্রেয়ন ওজোন স্তর ধংসের জন্য দায়ী।
৮,৬৬১.
প্রোটিনের উপাদান হলো—
  1. ক) ফ্যাটি এসিড
  2. খ) গ্লুকোজ
  3. গ) অ্যামিনো এসিড
  4. ঘ) সাইট্রিক এসিড
ব্যাখ্যা
প্রোটিন মূলত উচ্চ ভর বিশিষ্ট নাইট্রোজেন যুক্ত জটিল যৌগ যা অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার। জীন নির্দিষ্ট অনুক্রমে অনেকগুলি আলফা অ্যামিনো অ্যাসিড পেপটাইড বন্ধন দ্বারা পলিপেপটাইড শৃঙ্খল পলিমার তৈরি করে এবং তা সঠিকভাবে ভাঁজ হয়ে একটি প্রোটিন তৈরি হয়।

ভৌত,রাসায়নিক গুনাবলি এবং দ্রবনীয়তার ভিত্তিতে প্রোটিনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা :-
ক) সরল প্রোটিন ৷
খ) যুগ্ম প্রোটিন ৷
গ) উৎপাদিত প্রোটিন ৷

দ্রবণীয়তার ওপর ভিত্তি করে সরল প্রোটিনকে আবার ৭ ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা :-
১) অ্যালবিউমিন
২) গ্লোবিউলিন 
৩) গ্লুটোলিন 
৪) প্রোলামিন
৫) হিস্টোন
৬) প্রোটামিন
৭) স্ক্লোরোপ্রোটিন

যুগ্ম প্রোটিনকেও আবার ৬ ভাগে ভাগ করা যায় ৷
যথা :-
১) নিউক্লিওপ্রোটিন
২) গ্লাইকোপ্রোটিন বা মিউকোপ্রোটিন
৩) লিপোপ্রোটিন
৪) ক্রোমোপ্রোটিন 
৫) মেটালোপ্রোটিন
৬) ফসফোপ্রোটিন 

প্রোটিনের কাজ সমূহ- 
- দেহের বৃদ্ধি, কোষ গঠন ও ক্ষয়পূরণ হল প্রোটিনের প্রধান কাজ।
- তাপ শক্তি উৎপাদন।
- দেহস্থ উৎসেচক, হরমোন ইত্যাদি সৃষ্টি করা।
- অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিডের চাহিদা পূরণ করা হল প্রোটিনের অন্যতম কাজ।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৬৬২.
মানুষের হৃৎপিণ্ডের ওজন কত?
  1. ক) প্রায় ৩০০ গ্রাম
  2. খ) প্রায় ২০০ গ্রাম
  3. গ) প্রায় ১০০ গ্রাম
  4. ঘ) প্রায় ৪০০ গ্রাম
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড
- পেশিবহুল ত্রিকোণাকার, ফাঁপা, চার প্রকোষ্ঠযুক্ত পাম্পের মতো যন্ত্র যার সংকোচন ও প্রসারণের ফলে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালিত হয় তাকে হৃৎপিণ্ড বলে।
- রক্তকে রক্তবাহিকার ভেতর দিয়ে সঞ্চালনের জন্য হৃৎপিণ্ড মানবদেহের পাম্প যন্ত্ররূপে কাজ করে।
- একটি হৃৎপিণ্ডের ওজন প্রায় ৩০০ গ্রাম, তবে স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে তা পুরুষের তুলনায় ১/৩ অংশ কম হয়।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষ গহ্বরের মধ্যচ্ছদার উপরে ও দুই ফুসফুসের মাঝ বরাবর অঞ্চলে বাম দিক ঘেঁষে তির্যকভাবে অবস্থিত।
- এটি দেখতে লালচে রংয়ের ও ত্রিকোণাকার।
- এর সম্মুখভাব স্টার্নামের দিকে পচাৎভাগ মেরুদণ্ডের দিকে এবং নিম্নভাগ ডায়াফ্রামের উপরে থাকে।
- হৃৎপিণ্ডটি ডান দিকের দ্বিতীয় কশেরুকা থেকে বাম দিকের পঞ্চম কশেরুকা পর্যন্ত তির্যকভাবে অবস্থান করে।
- হৃৎপিণ্ডে প্রশস্ত সম্মুখভাগ অলিন্দ দ্বারা ও পশ্চাতের মোচাকার অংশটি নিলয় দ্বারা গঠিত।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৬৬৩.
সৌরকোষে ব্যবহৃত হয়—
  1. সিলিকন
  2. ক্যাডমিয়াম
  3. সালফার
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা

• সৌরকোষে ব্যবহৃত হয় সিলিকন।

• সৌরশক্তি:

- সৌরশক্তি হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। সৌর শক্তিকে নবায়নযোগ্য শক্তির অন্যতম ভান্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- সৌরশক্তির তাপশক্তি ও আলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যবহার করা যায়।  
- সৌরশক্তির প্রত্যক্ষ ব্যবহার হিসেবে সূর্যালোকের তাপশক্তির মাধ্যমে সমুদ্রের পানি থেকে লবণ উৎপাদনে, কৃষিজ শস্য প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহার করা যায়। পরোক্ষভাবে, সৌরশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
- সৌরশক্তি ব্যবহারের প্রযুক্তি হল সৌরকোষ। সৌরকোষে ব্যবহৃত হয় সিলিকন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৬৬৪.
নিউটনের গতিসূত্রের প্রথমটি কোন রাশি সম্পর্কে ধারণা দেয়?
  1. সরণ
  2. জড়তা
  3. ত্বরণ
  4. ভরবেগ
ব্যাখ্যা
নিউটনের গতিসূত্র: 
- বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর ধারণার উপর ভিত্তি করে স্যার আইজ্যাক নিউটন গতির সূত্রগুলো প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ভর, গতি এবং বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে স্যার আইজাক নিউটন তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন যা তাঁর অমর গ্রন্থ ন্যাচারালিস ফিলোসোফিয়া ম্যাথমেটিকাতে ১৬৮৭ খ্রিঃ প্রকাশিত হয়। 
- এই সূত্র তিনটি নিউটনের গতিসূত্র নামে পরিচিত। 
প্রথম সূত্র: 
- "বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম বেগে সরল পথে চলতে থাকবে”। 
অর্থাৎ, বাইরে থেকে বল ক্রিয়া না করলে (১) স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং (২) গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে চলতে থাকবে। 
- নিউটনের গতির প্রথম সূত্র বস্তুর জড়তা-ধর্ম বিবৃত করে এবং বলের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- স্থির বস্তু সর্বদাই স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু সর্বদাই গতিশীল থাকতে চাওয়ার এই প্রবণতাকে জড়তা বলা হয়। এজন্য এই সূত্রকে জড়তার সূত্রও বলা হয়। 
- যদি কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করা হয় তাহলে তার গতির পরিবর্তন বা স্থিতির পরিবর্তন হবে না। 
অর্থাৎ, বল প্রয়োগ না করলে বস্তুর ত্বরণ শূন্য হয়। 

দ্বিতীয় সূত্র: 
- কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে। 
- যখন বস্তুর উপর বাহ্যিক লব্ধি বল প্রযুক্ত হয়। 
- নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র হতে ভরবেগের পরিবর্তন, বলের অভিমুখ, বলের পরিমাপ, বল ও ত্বরণের মধ্যে সম্পর্ক এবং বলের একক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। 

তৃতীয় সূত্র: 
- প্রত্যেক ক্রিয়ার একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৬৬৫.
রংধনুতে সবুজ রঙের পাশের দুটি রঙ কি কি?
  1. ক) সবুজ ও লাল
  2. খ) আসমানী ও হলুদ
  3. গ) নীল ও কমলা
  4. ঘ) বেগুনী ও লাল
ব্যাখ্যা

রংধনু সৃষ্টির বেলায় পানির কণাগুলো প্রিজমের কাজ করার মাধ্যমে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের সৃষ্টি করে বলে আমরা রংধনু দেখতে পাই।
রংধনুতে ৭টি রং থাকে।
এগুলো হলো বেনীআসহকলা- বেগুনী, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা এবং লাল।
অর্থাৎ সবুজ রঙের দুই পাশের দুইটি রং হলো- আসমানী এবং হলুদ।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,৬৬৬.
মানবদেহের দীর্ঘতম হাড় কোনটি?
  1. হিউমেরাস
  2. ফিমার
  3. টিবিয়া
  4. রেডিয়াস
ব্যাখ্যা
• ফিমার (Femur):
- নিম্নবাহুর প্রথম অস্থিকে ফিমার বলা হয়।

• এটি মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং শক্তিশালী হাড়। ।
- এর ঊর্ধ্বপ্রান্তে একটি গোল হেড (মস্তক), নেক (গ্রীবা) এবং ছোট ও বড় ট্রোক্যান্টার অবস্থিত।
- দেহটি শক্ত ও নলাকার। এর পশ্চাত্তল একটি অমসৃণ আলযুক্ত।
- নিম্নপ্রান্ত দুটি কন্ডাইলবিশিষ্ট। দুই কন্ডাইলের মাঝখানে থাকে আন্তঃকন্ডাইলার ছিদ্র, প্যাটেলার সংযোগী তল এবং দুপাশে একটি করে এপিকন্ডাইল নামে সামান্য উঁচু জায়গা।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৮,৬৬৭.
ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা বিকিরণের উৎস কী? 
  1. আইসোমার
  2. আইসোটোন
  3. আইসোটোপ
  4. আইসোবার
ব্যাখ্যা
- ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা বিকিরণের উৎস হলো আইসোটোপ। 
- যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলা হয়। 
- ক্যান্সারের চিকিৎসায় সাধারনত কোবাল্ট-৬০ (60Co) আইসোটোপটি ব্যবহৃত হয়। 
- টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ 60Co ব্যবহার করা হয়। 
60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি ক্যান্সারের কোষকলাকে ধ্বংস করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৬৬৮.
কোন টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম?
  1. স্থায়ী টিস্যু
  2. সরল টিস্যু
  3. জটিল টিস্যু
  4. ভাজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ টিস্যু (Plant tissue): 
- একই বা বিভিন্ন প্রকারের একগুচ্ছ কোষ একত্রিত হয়ে যদি একই কাজ করে এবং তাদের উৎপত্তিও যদি অভিন্ন হয়, তখন তাদের টিস্যু বা কলা বলে। 
- টিস্যু দুই ধরনের। 
যথা- ভাজক টিস্যু এবং স্থায়ী টিস্যু। 

- ভাজক টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম কিন্তু স্থায়ী টিস্যুর কোষগুলো বিভাজিত হতে পারে না। 
- স্থায়ী টিস্যু তিন ধরনের। 
যথা- 
১। সরল টিস্যু, 
২। জটিল টিস্যু এবং 
৩। নিঃস্রাবী (ক্ষরণকারী) টিস্যু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৬৬৯.
COD দ্বারা কোন পদার্থের জারনকে নির্দেশ করে?
  1. জৈব
  2. অজৈব
  3. জৈব ও অজৈব উভয়ই
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
দূষিত পানিতে উপস্থিত জৈব পদার্থকে অণুজীব যেমন: ব্যাকটেরিয়া দ্বারা বিয়োজনের জন্য যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে সংক্ষেপে বলা হয় B.O.D ।
BOD দ্বারা শুধু জৈব পদার্থ জারিত হয়। 
এর পূর্ণ রূপ হচ্ছে - Biochemical Oxygen Demand( প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা)

COD দ্বারা জৈব ও অজৈব উভয় পদার্থ জারিত হয়।
এ কারণে কোন পানির নমুনার BOD অপেক্ষা COD এর মান বেশি। 
এর পূর্ণ রূপ - Chemical Oxygen Demand

উৎস - HSC Program, রসায়ন ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৮,৬৭০.
পাতাশ্যাওলা কি ধরনের ফুল?
  1. পতঙ্গ পরাগী ফুল
  2. বায়ুপরাগী ফুল
  3. পানিপরাগী ফুল
  4. প্রাণিপরাগী ফুল
ব্যাখ্যা

পতঙ্গ পরাগী ফুল- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি।
বায়ুপরাগী ফুল - ধান
পানিপরাগী ফুল - পাতাশ্যাওলা
প্রাণিপরাগী ফুল - কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি

৮,৬৭১.
স্নায়ুটিস্যুর অংশ নয় কোনটি?
  1. অ্যাক্সন
  2. নেফ্রন
  3. ডেনড্রাইট
  4. সাইন্যাপস
ব্যাখ্যা
স্নায়ু টিস্যু: 
- স্নায়ু তন্ত্রের গাঠনিক একক নিউরন। 
- এটি ভ্রূণীয় এক্টোডার্ম থেকে তৈরী হয়। 
- নিউরন বিভিন্ন ধরনের বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা ও স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করতে পারে এবং দেহের অভ্যন্তরে তা পরিবহন করতে পারে। 
- একটি পরিণত নিউরনের তিনটি অংশ থাকে। 
যথা- কোষদেহ, ডেনড্রাইট এবং অ্যাক্সন। 
- পর পর দুইটি নিউরনের প্রথমটার অ্যাক্সন এবং পরেরটার ডেনড্রাইটের মধ্যে একটি স্নায়ু সন্ধি গঠিত হয়। একে সাইন্যাপস বা সিনাপস্‌ বলা হয়। 
- সিনাপস্‌ এর মধ্য দিয়েই একটা নিউরন থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে প্রবাহিত হয়। স্নায়ু তন্ত্রে এরা অবস্থান করে। 
- প্রাণীর স্নায়ু তন্ত্রে অসংখ্য নিউরন থাকে। 

অন্যদিকে, 
- নেফ্রন হলো বৃক্কের গাঠনিক একক। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৬৭২.
গরম তরকারির বাটি থেকে চামচের মাধ্যমে তাপ কোন পদ্ধতিতে সঞ্চালিত হয়?
  1. ক) পরিবহন
  2. খ) পরিচলন
  3. গ) বিকিরণ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
তাপ সঞ্চালন:
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে যাওয়ার এই পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে। 
- তাপ সঞ্চালন তিনভাবে হয়। 
যথা-
১। পরিবহন,
২। পরিচলন ও
৩। বিকিরণ। 

তাপ পরিবহন:
- গরম তরকারির বাটি থেকে চামচের মাধ্যমে তাপ পরিবহন পদ্ধতিতে সঞ্চালিত হয়। 
- এ পদ্ধতিতে কঠিন পদার্থে তাপ সঞ্চালিত হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলো নিজেরা স্থান পরিবর্তন করতে পারে না। 
- তারা কেবল নিজেদের স্থানে থেকে দোল খেতে পারে। 
- কঠিন পদার্থে গরম কণাগুলো দোল খেয়ে পাশের ঠান্ডা কণাকে তাপ দিয়ে দেয়। 
- পাশের ঠান্ডা কণাটি গরম হয়ে তার পাশের ঠাণ্ডা কণাকে তাপ দেয়। 
- এভাবে কণাগুলো নিজেরা স্থান পরিবর্তন না করে তাপকে গরম প্রান্ত থেকে ঠাণ্ডা প্রান্তে নিয়ে যায়। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে ধাতব পদার্থগুলো যেমন লোহা, তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা এগুলো দ্রুত তাপ পরিবহন করে। 
- তাই রান্নার জন্য ধাতুর তৈরি হাঁড়ি ব্যবহার করা হয়। 
- অধাতু যেমন কাঠ, সুতি কাপড়, মাটি এসব তাপ পরিবহন করে খুবই কম। 
- তাই গরম হাড়ি ধরার জন্য আমরা কাপড়ের টুকরা ব্যবহার করি। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৮,৬৭৩.
বাংলাদেশের ব্যবহৃত সারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাইট্রোজেন থাকে কোন সারে?
  1. ইউরিয়া
  2. পটাশিয়াম নাইট্রেট 
  3. অ্যামোনিয়াম সালফেট
  4. সোডিয়াম নাইট্রেট
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের ব্যবহৃত সারগুলোর মধ্যে ইউরিয়াতে সবচেয়ে বেশি নাইট্রোজেন থাকে (প্রায় ৪৬%), যা অন্যান্য বিকল্প অপশনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। 

ইউরিয়া সার: 
- বাংলাদেশে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যেও ইউরিয়া প্রধান। 
- নাইট্রোজেন জাতীয় সারের মধ্যে ইউরিয়াতেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকে। 
- গৃহপালিত পশুর মূত্রে ইউরিয়া থাকে এবং মাটি এ উৎস থেকেও ইউরিয়া পায়। ইউরিয়া সার থেকে উদ্ভিদ প্রধানত নাইট্রোজেন লাভ করে। 
- এ সার জমিতে প্রয়োগ করলে মাটিতে রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়া অনেক ফসলই সরাসরি ইউরিয়া হিসেবে এটি পরিশোষণ করতে পারে। 
- তাছাড়া গাছে নাইট্রোজেনের অভাজনিত লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে ইউরিয়ার দ্রবণ তৈরি করে সিঞ্চন যন্ত্রের সাহায্যে সরাসরি উদ্ভিদের পাতায় প্রয়োগ করলে উদ্ভিদ পত্র রন্ধ্রের মাধ্যমে ইউরিয়া পরিশোষণ করতে পারে। ফলে রোগাক্রান্ত ও বিনষ্ট শিকড়যুক্ত উদ্ভিদ সতেজ হয়ে যায়। 

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৬৭৪.
ভাইরাসের ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) অকোষীয় অণুজীব
  2. খ) পোষক কোষে সংখ্যা বৃদ্ধি করে না
  3. গ) ক্যাপসিড ও নিউক্লিক এসিড দিয়ে গঠিত
  4. ঘ) ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী ভাইরাস- ব্যাকটেরিওফাজ
ব্যাখ্যা
ভাইরাস এক প্রকার অতি আণুবীক্ষণিক অকোষীয় সংখ্যাবৃদ্ধি ক্ষমতাসম্পন্ন অণু্জীব, যা কেবলমাত্র উপযুক্ত পোষক কোষে সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে। উপযুক্ত পোষক কোষের বাইরে ভাইরাসে প্রাণের কোনো লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায় না। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাসের গঠন বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে। প্রতিটি ভাইরাস প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত। যথা-প্রোটিন আবরণ তথা ক্যাপসিড ও নিউক্লিক এসিড। সূত্রঃ সাধারণ বিজ্ঞান(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৮,৬৭৫.
নিচের কোন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই?
  1. ইট
  2. অ্যামোনিয়া
  3. পারদ
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৬৭৬.
তাপমাত্রা প্রতি 1°C বাড়লে শব্দের বেগ কতটুকু বেড়ে যায়?
  1. 0.06 ms-1
  2. 0.6 ms-1
  3. 0.01 ms-1
  4. 0.1 ms-1
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) 0.6 ms-1

শব্দের বেগের পরিবর্তন:
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3 × 108 ms-1 নির্দিষ্ট।
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়।
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়।
- প্রতি 1°C বা 1 K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়।
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়।
- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়।
যেমন-
১. বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1,
২. পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং
৩. লোহার মধ্যে 5220 ms-1
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি।
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি।
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৬৭৭.
নিচের কোনটি লাইম ওয়াটার?
  1. ক্যালসিয়াম কার্বোনেটের এর সম্পৃক্ত জলীয় দ্রবণ
  2. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর সম্পৃক্ত জলীয় দ্রবণ
  3. ক্যালসিয়াম অক্সাইড এর সম্পৃক্ত জলীয় দ্রবণ
  4. ক্যালসিয়াম বাইকার্বোনেটের এর সম্পৃক্ত জলীয় দ্রবণ
ব্যাখ্যা
CaO + H2O = Ca(OH)2
ক্যালসিয়াম অক্সাইড (চুন) + পানি --> ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
Ca(OH)2, স্ন্যাক লাইম নামেই বেশি পরিচিত। এই বিক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তি উৎপন্ন হয় যার ফলে পানি ফুটতে থাকে। স্ন্যাক লাইম বা Ca(OH)2, পানিতে খুব অল্প পরিমাণে দ্রবীভূত হয়।
আর, পানিতে Ca(OH)2, এর সম্পৃক্ত দ্রবণকেই চুনের পানি বা লাইম ওয়াটার বলা হয়।

সুত্রঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৮,৬৭৮.
একটি বই টেবিলের উপর স্থির আছে। বইটির উপর অভিকর্ষজ বল ও টেবিলের প্রতিক্রিয়া বল সমান ও বিপরীতমুখী হলে বইটির অবস্থা কী হবে?
  1. বেগ বৃদ্ধি পাবে
  2. সমবেগে চলবে
  3. ত্বরণ শূন্য থাকবে
  4. ঘূর্ণন শুরু করবে
ব্যাখ্যা

• ত্বরণ শূন্য থাকবে — অভিকর্ষজ বল ও টেবিলের প্রতিক্রিয়া বল সমান ও বিপরীতমুখী হলে লব্ধবল (Resultant Force) শূন্য হয়, ফলে বস্তু সমতাবস্থায় থাকে।

• বল:
- কোনো স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায়, অথবা গতিশীল বস্তুর বেগের পরিবর্তন ঘটায়—তাকে বল বলা হয়।
- বল বস্তুর আকার পরিবর্তনও করতে পারে।
- বল একটি ভেক্টর রাশি।

• সমবল ও অসমবল:
- একাধিক বল ক্রিয়া করে যদি লব্ধবল (Resultant Force) শূন্য হয়, বস্তু সমতাবস্থায় থাকে।
- সমতাবস্থায় ত্বরণ শূন্য।
- লব্ধবল (Resultant Force) শূন্য না হলে ত্বরণ সৃষ্টি হয়।

• অভিকর্ষজ বল ও প্রতিক্রিয়া বল:
- অভিকর্ষজ বল → পৃথিবীর আকর্ষণে বস্তুর ওজন।
- প্রতিক্রিয়া বল → টেবিলের দ্বারা উপরের দিকে প্রয়োগকৃত বল।
- দুই বল সমান ও বিপরীতমুখী হলে বস্তু স্থির থাকে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

৮,৬৭৯.
তেজস্ক্রিয় কোন রশ্মিকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না?
  1. গামা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. আলফা রশ্মি
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি (Gamma Ray): 
-  আসলে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- কাজেই গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)। 
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান। 
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়। 
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না। 
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়। 
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

অন্যদিকে, 
- আলফা রশ্মি কিংবা বিটা রশ্মিকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৬৮০.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে কাচের বা গোলীয় তলের বক্রতার ব্যাসার্ধ পরিমাপ করা যায়? 
  1. স্ক্রু গজ
  2. স্ফেরোমিটার
  3. স্লাইড ক্যালিপার্স
  4. ভার্নিয়ার স্কেল
ব্যাখ্যা
স্ফেরোমিটার (Spherometer): 
- স্ফেরোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে কাচের বা অন্যান্য পাতলা পাতের পুরুত্ব এবং গোলীয় তলের বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা হয়। 
- এ যন্ত্রের সাহায্যে গোলীয় তলের (spherical surface) বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা যায় বলে এর নাম হয়েছে স্ফেরোমিটার। 
- স্ফেরোমিটার একটি কেন্দ্রীয় স্ক্রু এবং তিনটি সমান দৈর্ঘ্যের পা থাকে।
- এটি তলের উচ্চতা (h) পরিমাপ করে এবং বক্রতার ব্যাসার্ধ (R) নির্ণয়ে ব্যবহার করা হয়। 
- বক্রতার ব্যাসার্ধ R হলে, 
R = {(d2/6h) + (h/2)}
​যেখানে, d হলো স্ফেরোমিটারের যেকোনো দুই পায়ের মধ্যবর্তী গড় দূরত্ব এবং h হলো কেন্দ্রীয় পিনের উচ্চতা। 

অন্যদিকে, 
- মিলিমিটারের চেয়ে সূক্ষ্ম পরিমাপ করতে ভার্নিয়ার স্কেল ব্যবহার করা হয়। 
- স্ক্রু গজ যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 
- যে পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তুর দু-প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্ব নির্ণয় করে পরিমাপ করা যায় তাকে স্লাইড ক্যালিপার্স বলে। এই যন্ত্রের সাহায্যে সিলিন্ডারের ব্যাস মাপা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৮,৬৮১.
যেসব রক্তনালী কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃদপিন্ডে নিয়ে আসে তাকে কী বলে?
  1. ক) ভেইন
  2. খ) আর্টারি
  3. গ) ক্যাপিলারি
  4. ঘ) নার্ভ
ব্যাখ্যা
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে রক্ত হৃদপিন্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি বলে।
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃদপিন্ডে বহন করে নিয়ে আসে, তাকে শিরা বা ভেইন বলে। 

সূত্র:  বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
৮,৬৮২.
ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামোর জনক কে?
  1. ওয়াটসন ও ক্রিক
  2. আলফ্রেড হার্শে
  3. চার্লস ডারউইন
  4. গ্রেগর মেন্ডেল
ব্যাখ্যা
• ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামো:
- ইংরেজ বিজ্ঞানী ক্রিক এবং মার্কিন বিজ্ঞানী ওয়াটসন ১৯৫৩ সালে ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামোর বর্ণনা দেন।
- এই ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামো আবিষ্কারের জন্য তারা নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।
- ডিএনএ হলো একটি নিউক্লিক এসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে।
- ডিএনএ অণুর দ্বি-হেলিক্স কাঠামো প্রথম আবিষ্কার করেন জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক।
- এজন্য জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিককে ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামোর জনকও বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৬৮৩.
অর্ধপরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. তড়িৎ পরিবাহিতা পরিবাহী এবং অন্তরক পদার্থের মাঝামাঝি।
  2. শক্তি ব্যান্ড কাঠামো অন্তরক পদার্থের অনুরূপ।
  3. নিষিদ্ধ শক্তি ব্যবধানের মান অন্তরক পদার্থের তুলনায় অনেক বেশি।
  4. কক্ষ তাপমাত্রায় যোজন ব্যান্ড প্রায় পূর্ণ এবং পরিবহন ব্যান্ড প্রায় খালি থাকে।
ব্যাখ্যা

ব্যান্ড তত্ত্বের আলোকে পরিবাহী, অর্ধপরিবাহী ও অন্তরক - 

পরিবাহী:
- যে সব পদার্থের মধ্যে যথেষ্ট মুক্ত ইলেকট্রন থাকে এবং যেগুলোর মধ্য দিয়ে খুব সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলাচল করতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে।
- যেমন: তামা, অ্যালুমিনিয়াম, রূপা, লোহা ইত্যাদি পরিবাহী।
- পরিবাহীতে যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মাঝে কোন শক্তি ব্যবধান থাকে না। 

অন্তরক বা অপরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে না তাদেরকে অপরিবাহী বা অন্তরক বলে।
- শক্তি ব্যান্ডের আলোকে, অন্তরক পদার্থের যোজন ব্যান্ড ইলেকট্রন দ্বারা সম্পূর্ণরূপে পূর্ণ থাকে এবং পরিবহন ব্যান্ড সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকে।
- এ ছাড়া যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি ব্যবধান অনেক বেশি হয়। 

অর্ধপরিবাহী:
- অর্ধপরিবাহী হলো সেই সব পদার্থ, যাদের তড়িৎ পরিবাহিতা পরিবাহী এবং অন্তরক পদার্থের মাঝামাঝি।
- অর্ধপরিবাহী পদার্থের শক্তি ব্যান্ড কাঠামো অন্তরক পদার্থের অনুরূপ।
- কিন্তু অর্ধপরিবাহী পদার্থের নিষিদ্ধ শক্তি ব্যবধানের মান অন্তরক পদার্থের তুলনায় অনেক কম।
- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
- কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর যোজন ব্যান্ড প্রায় পূর্ণ এবং পরিবহন ব্যান্ড প্রায় খালি থাকে।

তথ্যসুত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৬৮৪.
পাটের সোনালী আঁশ পাওয়া যায়-
  1. জাইলেম প্যারেনকাইমা থেকে
  2. ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা থেকে
  3. ফ্লোয়েম ফাইবার থেকে
  4. জাইলেম ফাইবার থেকে
ব্যাখ্যা
• ফ্লোয়েম তন্ত্র/ফাইবার:
- ফ্লোয়েমে অবস্থিত ক্লেরেনকাইমা কোষগুলোই হলো ফ্লোয়েম তন্তু। এদের বাস্ট ফাইবারও বলে।
- পাটের আঁশ বাস্ট ফাইবার।
- সেকেন্ডারি বৃদ্ধির সময় এ ফাইবার তৈরি হয়।
- সকল উদ্ভিদে ফ্লোয়েম তন্তু নেই।
- পাট, শন, তিসি প্রভৃতি উদ্ভিদের ফ্লোয়েম তন্তুগুলো অত্যন্ত লম্বাটে।

• ফ্লোয়েমের কাজ:
• পরিবহন: ফ্লোয়েম পাতায় তৈরি খাদ্য উদ্ভিদের সঞ্চয়ী ও বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে পরিবহন করে।
• খাদ্য সঞ্চয়: ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা প্রয়োজনে খাদ্য সঞ্চয় করে।
• দৃঢ়তা প্রদান: ফ্লোয়েম ফাইবার ফ্লোয়েম টিস্যুকে তথা উদ্ভিদ অঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদান করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮,৬৮৫.
ইনসুলিন কে আবিষ্কার করেন?
  1. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
  2. গেরহার্ড ডোমাক
  3. অ্যাড ওয়ার্ড জেনার
  4. ফ্রেডরিক গ্র্যান্ট বেন্টিং
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন:

- ইনসুলিন আবিষ্কার করেন ফ্রেডরিক গ্র্যান্ট বেন্টিং (Frederick G. Banting)।
- তিনি একজন কানাডিয়ান চিকিৎসক, চিকিৎসাবিজ্ঞানী এবং ইনসুলিনের আবিষ্কারক।
- তিনি বিজ্ঞানী Charles H. Best এবং রোমানিয়ান ফিজিওলজিস্ট Nicolas C. Paulescu এর সঙ্গে ১৯২১ সালে ইনসুলিন আবিষ্কার করেছিলেন।
- ইনসুলিন: ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of Langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৬৮৬.
বডিস্প্রের কনটেইনার থেকে গ্যাসীয় পদার্থ কোন প্রক্রিয়ায় বাইরে বেরিয়ে আসে?
  1. ক) ব্যাপন
  2. খ) অভিশ্রবণ
  3. গ) নিঃসরণ
  4. ঘ) প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা
বডিস্প্রের কনটেইনার থেকে গ্যাসীয় পদার্থ বাইরে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া হলো নিঃসরণ। আর পরবর্তীতে বডিস্প্রের সুগন্ধ বাতাসের মাধ্যমে কক্ষের সর্বত্র ছড়িইয়ে পড়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায়।

ব্যাপন:

- উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের স্থানে কোন কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমভাবে পরিব্যাপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
- ফুলের সুগন্ধ ও H2S গ্যাসের দুর্গন্ধ বাতাসে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
- পদার্থের কণা বা অণুসমূহের ইতস্তত স্বতঃস্ফূর্ত চলাচলের কারণে ব্যাপন প্রক্রিয়া ঘটে। 
- ব্যাপন হল সাধারণ সমবায়ুচাপে অণুসমূহের স্বতঃস্ফূর্ত মন্থর প্রক্রিয়া। 
- ব্যাপনের বেলায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে একই বায়ু চাপ থাকে। 

নিঃসরণ:
- বাহ্যিক উচ্চ চাপের প্রভাবে পাত্রের সরু ছিদ্রপথে কোন গ্যাসের সজোরে একমুখী বের হওয়াকে নিঃসরণ বলে। 
- গাড়ীর চাকার টিউবের ছিদ্র পথে নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় বাতাস বের হয়ে পড়ে। 
- গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে চাপের পার্থক্যের কারণে নিঃসরণ প্রক্রিয়া ঘটে। 
- নিঃসরণ হল অধিক চাপের প্রভাবে গ্যাসীয় দ্রুত প্রক্রিয়া। 
- নিঃসরণের বেলায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে অধিক চাপ এবং বাইরে কম চাপ বা ভ্যাকুয়াম অবস্থা থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৮,৬৮৭.
কোন পদার্থটি বোতলে রেখে দিলে সম্পূর্ণ বোতল জুড়ে থাকবে?
  1. পানি
  2. বাতাস
  3. দুধ
  4. পাউডার
ব্যাখ্যা
- যদি সমপরিমাণ বাতাস দুইটি বোতলে রাখা হয় তাহলে তা ছোট বোতলের ক্ষেত্রে যেমন সম্পূর্ণ বোতল জুড়ে থাকবে, তেমনি একই পরিমাণ বাতাস বড় বোতলে রাখলেও তা সম্পূর্ণ বোতল জুড়ে থাকবে। 

কঠিন পদার্থ: 

- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি আছে, কোনো বস্তু যতটুকু জায়গা দখল করে সেটিই ঐ বস্তুর আয়তন। 
- সকল কঠিন বস্তুই জায়গা দখল করে, তাই সকল কঠিন বস্তুরই আয়তন আছে। 
- কঠিন পদার্থের আয়তন ও আকার সহজে পরিবর্তন করা যায় না। 
- এরা যথেষ্ট দৃঢ় অর্থাৎ এদের দৃঢ়তা আছে। তবে কিছু কিছু কঠিন পদার্থের দৃঢ়তা কম। 
যেমন: সরিষার দানা, ভাত, কলা ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি নেই, এটি যে পাত্রে রাখা হয় ঐ পাত্রের আকৃতি ধারণ করে। 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে, কারণ কঠিন পদার্থের মতো এরাও জায়গা দখল করে। 
- এদের আয়তন পরিমাপ করা যায়। পাত্রভেদে আকৃতি পরিবর্তন হলেও আয়তন কিন্তু একই থাকে। 
- যেহেতু তরল পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি নেই, আকৃতি পরিবর্তনশীল, সেহেতু বলা যায় যে এরা কঠিন পদার্থের মতো দৃঢ় নয়, অর্থাৎ তরল পদার্থের দৃঢ়তা নেই। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থ যেমন- বাতাসের কোন নির্দিষ্ট আকৃতি নেই। 
- একই পরিমাণ গ্যাস ছোট পাত্রে রাখলে এর আয়তন কম হয় আবার বড় পাত্রে রাখলে এর আয়তন বেশি হয়। 
যেমন- যদি সমপরিমাণ গ্যাস দুইটি সিলিন্ডারে রাখা হয় তাহলে তা ছোট সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে যেমন সম্পূর্ণ সিলিন্ডার জুড়ে থাকবে, তেমনি একই পরিমাণ গ্যাস বড় সিলিন্ডরে রাখলেও তা সম্পূর্ণ সিলিন্ডার জুড়ে থাকবে। অর্থ্যাৎ, গ্যাসীয় পদার্থ যে পাত্রে রাখা হয় ঐ পাত্রের আয়তনই গ্যাসের আয়তন। 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন নেই, দৃঢ়তা তো একবারেই নেই। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৮,৬৮৮.
হাইড্রোজেনের মোট আইসোটোপ সংখ্যা কতটি?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ: 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- হাইড্রোজেনের মোট ৭টি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে, যার মধ্যে শুধু প্রকৃতিতে পাওয়া গেছে ৩টি (হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম) আইসোটোপ এবং অন্যগুলো ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। 
- প্রকৃতিতে পাওয়া তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, তাই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- এখন পর্যন্ত ৩০০০ সংখ্যক থেকে বেশি আইসোটোপ সম্পর্কে জানা গেছে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৬৮৯.
শৈবাল কয়টি প্রক্রিয়ায় জনন সম্পন্ন করে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
শৈবালের জনন:
- শৈবাল তিনটি প্রক্রিয়ায় জনন কার্য সম্পন্ন করে। যেমন-
(ক) অঙ্গজ জনন।
(খ) অযৌন জনন।
(গ) যৌন জনন।

• অঙ্গজ জনন:
- দৈহিক অঙ্গের মাধ্যমে অঙ্গজ জনন সম্পন্ন হয়।
- এককোষী শৈবাল কোষের বিভাজনের মাধ্যমে অঙ্গজ জনন সম্পন্ন করে।
- এ প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষটি দু'ভাগে ভাগ হয়। ফলে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি হয়।

• অযৌন জনন:
- স্পোর উৎপাদনের মাধ্যমে শৈবালে অযৌন জনন সম্পন্ন হয়।
- এদের যে কোনো একটি অঙ্গজ কোষ স্পোরথলি হিসেবে কাজ করে।
- এসব থলিতে এক থেকে অসংখ্য স্পোর তৈরি হয়।
- স্পোরগুলো ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট এবং সচল হলে তাদেরকে জুস্পোর বলা হয়.

• যৌন জনন:
- শৈবালে তিন ধরনের যৌন জনন হয়। যথা-
১। আইসোগ্যামি।
২। অ্যানাইসোগ্যামি।
৩। উগ্যামি। 

তথ্যসূত্র - উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৬৯০.
এসিডের একটি ধর্ম হলো -
  1. ক) এরা লাল লিটমাসকে নীল করে
  2. খ) এরা নীল লিটমাসকে লাল করে
  3. গ) এরা নীল লিটমাসকে সাদা করে
  4. ঘ) এরা লাল লিটমাসকে হলুদ করে
ব্যাখ্যা

সকল লঘু এসিড টক স্বাদযুক্ত,
এসিডগুলো ক্ষয়কারী পদার্থ হিসাবে পরিচিত,
এসিড নীল বর্ণের লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে,
এসিড সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে সংশ্লিষ্ট ধাতুটির লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে,
লঘু এসিড ধাতব কার্বনেটের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,৬৯১.
NASA পরিচালিত সর্বশেষ মঙ্গলযান কোন্‌টি?
  1. ক) ইন্টেগ্রিটি
  2. খ) পারসেভারেন্স
  3. গ) কিউরিসিটি
  4. ঘ) অপরচুনিটি
ব্যাখ্যা
সম্প্রতি মঙ্গলগ্রহের Jezero Crater - এ নাসার প্রেরিত রোভার 'পারসেভারেন্স' অবতরণ করে।
- এটি মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব সন্ধান করবে। ইতোমধ্যে এটি মঙ্গল গ্রহের ছবি পাঠাচ্ছে।
- গত ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে এটি মঙ্গলে অবতরন করে।

একনজরে  পারসেভারেন্স :
Mission Name: Mars 2020
Rover Name: Perseverance
Main Job: Seek signs of ancient life and collect samples of rock and regolith (broken rock and soil) for possible return to Earth.
Launch: July 30, 2020
Landing: Feb. 18, 2021, Jezero Crater, Mars

উৎসঃ নাসা ওয়েবসাইট।
৮,৬৯২.
পরিচলন বৃষ্টি হয় -
  1. ক) মেরু অঞ্চলে
  2. খ) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  3. গ) শীতপ্রধান অঞ্চলে
  4. ঘ) তুন্দ্রা অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
দিনের বেলায় সূর্যের কিরণে জল বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ওই জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজাসুজি নিচে নেমে আসে। এরূপ বৃষ্টিপাতকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।
নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে সূর্যকিরণ সারাবছর লম্বভাবে পড়ে। এ দুটি কারণে এখানকার বায়ুমণ্ডলে সারাবছর জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল বোর্ড বই
৮,৬৯৩.
মানুষের প্রতিটি বৃক্কে নেফ্রনের সংখ্যা কত?
  1. ক) ২-৪ লাখ
  2. খ) ৬-৮ লাখ
  3. গ) ১০-১২ লাখ
  4. ঘ) ১২-১৪ লাখ
ব্যাখ্যা
মানুষের বৃক্ক:

- বৃক্কের গাঠনিক বা কার্যিক এককে নেফ্রন বলে।
- মানুষের প্রতিটি বৃক্কে ১০-১২ লাখ নেফ্রন থাকে।
- বৃক্ক মানুষের দেহে এবং রক্তে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তে লবণের পরিমান নিয়ন্ত্রণ করে।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার,প্রস্থ ৫-৬ সেন্টিমিটার এবং স্থুলত্ব ৩ সেন্টিমিটার।
- পুরুষ মানুষের প্রতিটি বৃক্কের ওজন ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং প্রতিটি মহিলা মানুষের বৃক্কের ওজন ১৩০-১৫০ গ্রাম।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৮,৬৯৪.
মানুষের শরীরে কত ধরনের অ্যাামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে? 
  1. ক) ১২ ধরনের
  2. খ) ১৫ ধরনের
  3. গ) ১৮ ধরনের
  4. ঘ) ২০ ধরনের
ব্যাখ্যা
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক।

উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার:
১. প্রাণিজ আমিষ  ও
২. উদ্ভিজ আমিষ।

• প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি।

• উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি।

- ২০ টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮ টি অ্যামাইনো এসিডকে (লাইসিন, ট্রিপেটোফ্যান, মিথিওনিন, ভ্যালিন, লিউসিন, আইসোলিউসিন, ফিনাইল অ্যালানিন ও থ্রিওনাইনকে) অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়। এই ৮ টি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরে সংশ্লেষ করতে পারে। প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি।

- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়। অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম।

- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৬৯৫.
পানির জীব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা এর ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত দূষণমাত্রা কত?
  1. ১-২ ppm
  2. ৩ ppm
  3. ৬ ppm
  4. ১০ ppm
ব্যাখ্যা

- পানির জীব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদার মান ১-২ ppm এর মধ্যে থাকলে তা খুবই ভালো। এই মান ৩ ppm হলে তা মোটামুটি ভালো।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে এই মান অবশ্যই ৬ ppm এর কম হতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত দূষণমাত্রা তাই ধরা হয় ৬ ppm।
- এই মান ১০ ppm এর বেশি হলে দূষণমাত্রা খুব খারাপ ধরা হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৮,৬৯৬.
বায়ুমণ্ডলে নিচের কোন উপাদানটির পরিমান কম থাকে?
  1. ক) আর্গন
  2. খ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  3. গ) জলীয় বাষ্প
  4. ঘ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
অপশনগুলোর মধ্যে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড এর পরিমাণ সবচেয়ে কম থাকে।

আয়তন অনুযায়ী বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন উপাদানের শতকরা পরিমাণ -
• নাইট্রোজেন - ৭৮.০২%
অক্সিজেন - ২০.৭১%
আর্গন - ০.৮০%
কার্বন ডাই অক্সাইড - ০.০৩%
জলীয় বাষ্প - ০.৪১%
• অন্যান্য গ্যাসসমূহ - ০.০২%
• ধূলিকণা ও কণিকা - ০.০১%

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৬৯৭.
কোনটির জন্য উদ্ভিদের পাতা ও কচি শাখা প্রশাখা সবুজ দেখায়?
  1. ক) ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. খ) লিউকোপ্লাস্ট
  3. গ) ক্রোমাটোপ্লাস্ট
  4. ঘ) ক্রোয়োপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদ:
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। 
- এর উপস্থিতির কারণে উদ্ভিদের পাতা, ফুল ও ফলের বর্ণ বৈচিত্র্য দেখা যায়। 
- সবুজ ছাড়া অন্যান্য বর্ণ যেমন- লাল, হলুদ ইত্যাদি বহনকারী প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলা হয়।
- ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল বেশি পরিমাণে এবং ক্লোরোফিল অল্প পরিমাণে থাকে।

- ফুলের পাপড়িতে ও ফলে ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে। এজন্য ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায়।
- ক্লোরোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণ কণিকা থাকে। 
- এজন্য পাতা ও কচি শাখা প্রশাখা সবুজ দেখায়।
- এতে ক্লোরোফিল ব্যতীত অন্যান্য বর্ণ কণিকাও অল্প পরিমাণে থাকে। যেমন: হলুদ বর্ণ কণিকা জ্যান্থোফিল ও কমলা বর্ণ কণিকা ক্যারোটিন।
- বর্ণহীন প্লাস্টিড হচ্ছে লিউকোপ্লাস্ট। মাটির নিচের অংশ, তথা রাইজোম, ভূ-নিম্নস্থ কান্ড, মূল প্রভৃতিতে লিউকোপ্লাস্ট থাকে। এটি খাদ্য সঞ্চয় করে।

উৎস: এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৬৯৮.
জুলের তৃতীয় সূত্র কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) তড়িৎ প্রবাহ
  2. খ) রোধ
  3. গ) সময়
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
জুলের তাপীয় ক্রিয়া:
কোনো পরিবাহীর দুই প্রান্তে বিভব পার্থক্য থাকলে তড়িৎ প্রবাহিত হয়। পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে ব্যয়িত তড়িৎ শক্তির কিছু অংশ পরিবাহীর রোধ অতিক্রম করার কাজে ব্যাহত হয়। এই ব্যয়িত শক্তি পরিবাহীতে তাপশক্তিরূপে প্রকাশ পায় এবং পরিবাহী উত্তপ্ত হয় । এই প্রক্রিয়াকে তড়িৎ প্রবাহের তাপীয় ক্রিয়া বা জুলের তাপীয় ক্রিয়া বলে ।

জুলের তিনটি সূত্র হলো :

প্রথম সূত্র–প্রবাহের সূত্র:
পরিবাহীর রোধ (R) এবং প্রবাহকাল (t) অপরিবর্তিত থাকলে তড়িৎপ্রবাহের ফলে উদ্ভূত তাপ (H) প্রবাহের (1) বর্গের সমানুপাতিক। অর্থাৎ H ∝ I2 , যখন R ও t ধ্রুব।

দ্বিতীয় সূত্র—রোধের সূত্র:
প্রবাহ (I) এবং প্রবাহকাল । অপরিবর্তিত থাকলে তড়িৎপ্রবাহের ফলে উদ্ভূত তাপ (H) পরিবাহীর রোধের (R) সমানুপাতিক হয়। অর্থাৎ H ∝ R, যখন I ও t ধ্রুব।

তৃতীয় সূত্র
সময়ের সূত্র:
প্রবাহ (I) এবং পরিবাহীর রোধ (R) অপরিবর্তিত থাকলে তড়িৎপ্রবাহের ফলে উদ্ভূত তাপ (H) প্রবাহকালের (t) সমানুপাতিক হয়। অর্থাৎ, H ∝ t, যখন I ও R ধ্রুব।


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, ড.শাহজাহান তপন ।
৮,৬৯৯.
এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপ সমান-
  1. ১৪.৭ কেজি/সে. মি.
  2. ১.০৩৩ কেজি/মি.
  3. ১.০৩৩ কেজি/সে. মি.
  4. ১ কেজি/মি.
ব্যাখ্যা
আমরা জানি,
১ atm = ১০১৩২৫ Pa (প্যাসকেল) 

১ Pa = ১ Nm- 2
∴ ১০১৩২৫ Pa = ১০১৩২৫ Nm- 2
 
কোন কিছুর ভর ১ kg হলে তার ওজন ৯.৮ N হয়।

তাই নিচের অংশটুকু আমরা কেবল মাত্র একক পরিবর্তনের জন্য বিবেচনা করব, যা বাস্তবিক অর্থে সমান নয়। 
৯.৮ N ওজন = ১ kg ভর  
∴ ১০১৩২৫ N ওজন = (১০১৩২৫ × ১)/৯.৮ kg ভর 
= ১০৩৩৯.২৮৬ kg ভর

∴ ১০১৩২৫ Nm- 2 = ১০৩৩৯.২৮৬ kg/m2 = ১০৩৩৯.২৮৬ kg/(১০০ × ১০০) cm2 [১ m = ১০০ cm ]
= ১.০৩৩৯২৮৬ kg/cm2

∴ এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপ সমান ১.০৩৩ কেজি/সে. মি.
৮,৭০০.
কোনটি থার্মোপ্লাস্টিক পলিমার?
  1. পলিথিন
  2. ব্যাকেলাইট
  3. ফাইবার গ্লাস
  4. মেলামাইন
ব্যাখ্যা
• কৃত্রিম পলিমার:
• পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার।
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি।
- গঠন ও তাপীয় বেশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কৃত্রিম পলিমারকে আবার দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
যেমন-
• থার্মোপ্লাস্টিক পলিমার:
- এটি সহজেই গলানো ও পুনরায় ব্যবহার করা যায়।
- সাধারণত প্লাস্টিক ব্যাগ, বোতল, পাইপ, তারের আবরণে ব্যবহৃত হয়।
- এটি নরম ও নমনীয় (flexible) হওয়ায় সহজে আকৃতি পরিবর্তন করা যায়।
- উদাহরণ: পলিপ্রোপিলিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড, পলিস্টাইরিন, পলিথিন

• থার্মোর্সেটিং প্লাস্টিক:

- থার্মোসেটিং প্লাষ্টিকের ক্ষেত্রে এরা অপেক্ষাকৃত শক্ত ও কম নমনীয় হয়।
- তাপ প্রয়োগে এগুলো গলে যায় না বরঞ্চ কালো কয়লায় পরিণত হয়।
যেমন- ব্যাকেলাইট,মেলামাইন, ফাইবার গ্লাস, কৃত্রিম রেজিন ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।