বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৭১ / ১৪০ · ৭,০০১৭,১০০ / ১৪,০৮০

৭,০০১.
রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দায়ী নিচের কোনটি?
  1. Erythrocyte
  2. Thrombocytes
  3. Lymphocytes
  4. Heparin
ব্যাখ্যা
- অণুচক্রিকা (Thrombocytes) বা প্লেইটলেট অস্থায়ী প্লেইটলেট প্লাগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তপাত বন্ধ করে।
- রক্তজমাট ত্বরাণ্বিত করতে বিভিন্ন ক্লটিং ফ্যাক্টর ক্ষরণ করে৷ আবার প্রয়োজন শেষে রক্তজমাট বিগলনেও সাহায্য করে৷ 

- বেসোফিলের সাইটোপ্লাজমে যে দানা থাকে তা থেকে হেপারিন তৈরি হয়।
- হেপারিন (Heparin) রক্তবাহিকার ভিতরে রক্তজমাট প্রতিরোধ করে।

- লোহিত রক্তকণিকা (Erythrocyte) বা শ্বেত রক্তকণিকা (Lymphocytes) রক্ত জমাট বাঁধার সাথে সম্পর্কিত নয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৭,০০২.
পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH কোনটি?
ব্যাখ্যা
pH:
- পাকস্থলীতে স্বাভাবিকের তুলনায় এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে পাকস্থলীর অ্যাসিডিটি বলে।
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
- কোনো দ্রবণের pH মান নির্ণয়ের জন্য যে পরিমাপ যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে pH মিটার বলে।
- মাটির pH সাধারণত 4-8 হয়ে থাকে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH = 7.45।
- বিশুদ্ধ পানির pH 20°-27°C তাপমাত্রায় 7।
- মূত্রে pH-এর মান 7-এর কম থাকে অর্থাৎ মূত্র মৃদু অম্লীয় প্রকৃতির।
- মানুষের জিহ্বার লালার pH 6.6 এর কাছাকাছি হলে খাদ্য দ্রব্য হজমে তা বেশি কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে।
- পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH হল 2।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০০৩.
সমস্ত শরীর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত প্রথমে হৃদপিণ্ডের কোন প্রকোষ্ঠে এসে জমা হয়?
  1. বাম অলিন্দ
  2. বাম নিলয়
  3. ডান অলিন্দ
  4. করোনারি সাইনাস
ব্যাখ্যা

সমস্ত শরীর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত প্রথমে হৃদপিণ্ডের ডান অলিন্দে এসে জমা হয়। এরপর এই রক্ত ডান নিলয়ের মাধ্যমে ফুসফুসীয় ধমনিতে প্রবেশ করে। ফুসফুসে এসে রক্ত অক্সিজেনসমৃদ্ধ হয়ে হৃদপিণ্ডের বাম অলিন্দে প্রবেশ করে৷ বাম অলিন্দ থেকে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত বাম নিলয়ে প্রবেশ করে এবং মহাধমনির মাধ্যমে সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে৷
করোনারি সাইনাস হৃদপিণ্ডের গাত্র থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত বহন করে এনে ডান অলিন্দে পৌছে দেয়৷
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৭,০০৪.
মানুষের অন্ত্রে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া কোনটি?
  1. ক) Enterococcus faecalis 
  2. খ) Moraxella catharralis 
  3. গ) Escherichia Coli
  4. ঘ) Neisseria meningitidis 
ব্যাখ্যা

মানুষের অন্ত্রে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া হল- Escherichia Coli.

Escherichia Coli এক ধরণের ব্যকটিরিয়া৷ এটা সাধারণত তেমন কোন ক্ষতি করে না কিন্তু মানব দেহে তা খাবারের সঙ্গে প্রবেশ করতে পারে৷ প্রবেশ করলে তা ফুড-পয়জনিং বা খাবারে বিষক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে৷ ফলে মানুষটি মারা যেতে পারে৷ ইকোলাই এর ব্যকটিরিয়া সাধারণত পাকস্থলীতে আশ্রয় নেয়৷ সেখান থেকেই শুরু হয় বিষক্রিয়া৷

উৎস: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৭,০০৫.
নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোনটি?
  1. ক) কয়লা
  2. খ) গ্যাস
  3. গ) সূর্যালোক
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা রিনিউয়েবল এনার্জি হলো এমন শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির উদাহরণ হলো- পরমানু শক্তি, সৌর শক্তি, বাহুপ্রবাহ ,সূর্যালোক ইত্যাদি। পেট্রোল, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি জীবাশ্ম জালানী।

তথ্যসূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০০৬.
GMT কী?
  1. পৃথিবীর মধ্যভাগের সময়
  2. পৃথিবীর মানমন্দির
  3. সময় আবিষ্কারের স্থান
  4. একটি শহর
ব্যাখ্যা
গ্রিনিচ মান সময়: 
- গ্রিনিচ মান মন্দির যুক্তরাজ্য অবস্থিত। 
- Greenwich Mean Time (GMT) একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রণীত সময় পদ্ধতি। 
- বাংলাদেশের সাথে GMT এর পার্থক্য +৬ ঘন্টা। 
- গ্রীনিচ মান সময় অপেক্ষা বাংলাদেশ সময় ৬ ঘণ্টা আগে। 
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে। 
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা। 
- গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ এর থেকে এগিয়ে থাকে। 

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০০৭.
গর্ববতী মায়ের রক্ত স্বল্পতা দেখা দিলে কোন ধরনের ট্যাবলেট খেতে বলা হয়?
  1. জিঙ্ক
  2. ভিটামিন
  3. আয়োডিন
  4. আয়রন ও ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন সমস্যা: 
- প্রতিবছর গর্ভকালীন বিভিন্ন জটিলতায় আমাদের দেশে বহু নারীর মৃত্যু হয়। 
- গর্ভকালীন বিভিন্ন জটিলতা ও সমস্যা সম্পর্কে অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাবে মা ও শিশু উভয়ের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। 
- তাই গর্ভকালীন সমস্যা বিষয়ে সচেতনতা ও সঠিক পরিচর্যাই পারে মা ও শিশুর জীবন বাঁচাতে। 

রক্ত স্বল্পতা: 
- অনেক সময় গর্ভাবস্থায় রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়। 
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রথম মাস থেকে ফলিক এসিড এবং ৩ মাসের পর থেকে আয়রন ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খেতে হবে। 
- আয়রনযুক্ত খাবার যেমন- কচু শাক, কলিজা, তেঁতুল, তরমুজ, ডিম ইত্যাদি খেতে হবে। 
- ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন- আমলকি, লেবু, কাঁচামরিচ, পেয়ারা, আনারস এবং কাঁচা ফলমূল খেতে হবে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭,০০৮.
পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থিত নিউক্লিয়াসকে বেষ্টনকারী মৌলিক কণিকার নাম কী?
  1. ক) ইলেকট্রন
  2. খ) প্রোটন
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থিত নিউক্লিয়াসকে বেষ্টনকারী মৌলিক কণিকার নাম হচ্ছে ইলেকট্রন।

- পরমাণু তিনটি মৌলিক কণা দ্বারা গঠিত। যথা- ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন। 

- ইলেকট্রনের ধর্মসমূহ-
১. ইলেকট্রন হল ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা।
২. ইলেকট্রন হলো একটি ঋণাত্মক আধানবিশিষ্ট উপপারমাণবিক কণা।
৩. একটি ইলেক্ট্রনের চার্জ একটি প্রোটন দ্বারা ধারণ করা চার্জের পরিমাণের সমান (প্রোটন ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট কণা এবং ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানবিশিষ্ট কণা) ।
৪. এটি হয় মুক্ত হতে পারে (কোন পরমাণুর সাথে সংযুক্ত নয়), বা একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে আবদ্ধ হতে পারে।
৫. পরমাণুর ইলেকট্রন বিভিন্ন র‍্যাডিআইয়ের গোলাকার শেলগুলিতে বিদ্যমান, যা শক্তির স্তরের প্রতিনিধিত্ব করে। গোলাকার শেল যত বড়, ইলেকট্রনের মধ্যে শক্তি তত বেশি।
৬. ইলেকট্রন হল নিউক্লিয়াসের বাইরে পাওয়া উপ-পরমাণু কণা, প্রোটন এবং নিউট্রনের বিপরীতে, যা নিউক্লিয়াসের ভিতরে থাকে।

সূত্র- ২ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭,০০৯.
আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে G-এর মান কত ?
  1. 6.673× 109 Nm2kg-2
  2. 6.663× 10-9 Nm2kg2
  3. 6.773× 10-11 Nm-2kg-2
  4. 6.673× 10-11 Nm2kg-2
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষীয় ধ্রুবক:

- যে বল মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু কণাকে পরস্পরের দিকে আকর্ষণ করে তার নাম মহাকর্ষ বল।
- একক ভরের দুটি বস্তু পরস্পর থেকে একক দূরত্বে থেকে যে পরিমাণ বল দ্বারা পরস্পরকে আকর্ষণ করে তার মানকে মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বলে।
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে G- এর গৃহীত মান 6.673× 10-11 Nm2kg-2.
- G-এর মাত্রা L3M-1T-2.
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে G-এর একক Nm2kg-2.

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০১০.
অধাতুর বৈশিষ্ট্য নিচের কোনটি?
  1. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী
  2. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী না
  3. গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বেশি
  4. আঘাত করলে টুন টুন শব্দ করে
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে। 
- আবার, যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। 
- আবার অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

অধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
- তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়। 
- আঘাত করলে শব্দ হয় না। 
- অধাতু ঘাত সহনশীল ও নমনীয় নয়। 
- ঘষলে চকচক করে না। 
- অধাতু সমূহের দ্যুতি নেই। 
- ওজনে হালকা হয়। 
- সহজে জোড়া লাগানো যায় না। 
- পিটিয়ে পাত করা যায় না। 
- কার্বন ব্যতীত অন্যান্য অধাতুগুলো জারক পদার্থ। 
- অপেক্ষাকৃত নিম্ন গলনাংক ও স্ফুটনাংক বিশিষ্ট। 
- অধাতুসমূহ এসিডের হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপন করে লবণ উৎপন্ন করে না। 
- চুম্বক দ্বারা বিকর্ষিত হয় অর্থাৎ ডায়াম্যাগনেটিক প্রকৃতির। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং Live MCQ লেকচার।
৭,০১১.
একটি চার্জিত বস্তুকে পৃথিবীর সাথে যুক্ত করলে বস্তুটিকে আধানের পরিমাণ—
  1. বৃদ্ধি পাবে
  2. শূন্য হবে
  3. হ্রাস পাবে
  4. অপরিবর্তিত হবে
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর বিভব শূন্য (Earth is at Zero Potential):
- পৃথিবী তড়িৎ পরিবাহী এবং আকারে বিশাল।
- ফলে কিছু ইলেকট্রন পৃথিবীর সাথে আদান প্রদান হলে পৃথিবীর বিভবের কোনো পরিবর্তন হয়না।
- যেমন সমুদ্র থেকে এক বালতি পানি নিলে সমুদ্রের পানিতলের কোনো পরিবর্তন হয় না।
- পৃথিবী প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বস্তু থেকে আধান গ্রহণ করে আবার সাথে সাথে অন্য বস্তুকে আধান সরবরাহ করে, ফলে পৃথিবীকে আধানহীন মনে করা হয়।

- কোনো স্থানে উচ্চতা নির্ণয়ের সময় সমুদ্রের উপরিতলে উচ্চতাকে যেমন শূন্য ধরা হয় তেমনি বিভব নির্ণয়ের সময় পৃথিবীর বিভবকে শূন্য ধরা হয়।
- আধানহীন বস্তুর বিভব শূন্য।
- পৃথিবীর সাথে যুক্ত সকল বস্তুরই বিভব শূন্য।
- পৃথিবীর বিভবকে শূন্য ধরে যে বস্তুর বিভব পৃথিবীর বিভব থেকে বেশী তার বিভবকে ধনাত্মক বিভব বা উচ্চ বিভব এবং যার বিভব কম তাকে ঋণাত্মক বিভব বা নিম্ন বিভব বলে।
- মূল কথা হলো বস্তুতে ইলেকট্রনের বাড়তি থাকলে অর্থাৎ বস্তুটি ঋণাত্মক আধানে আহিত হলে বস্তুটি নিম্ন বিভব সম্পন্ন এবং বস্তুতে ইলেকট্রনের ঘাটতি থাকলে অর্থাৎ বস্তুটি ধনাত্মক আধানে আহিত হলে বস্তুটি উচ্চ বিভব সম্পন্ন।

- চার্জিত বস্তুকে পৃথিবীর সাথে যুক্ত করলে এটি পর্যাপ্ত পরিমাণ বিপরীত চার্জ গ্রহণ করে।
- ধনাত্মক ও ঋনাত্মক চার্জ সমান হয়ে গেলে বস্তুটির চার্জ শূন্য হবে।
- অর্থাৎ একটি চার্জিত বস্তুকে পৃথিবীর সাথে যুক্ত করলে বস্তুটিকে আধানের পরিমাণ— শূন্য হবে।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০১২.
নিচের কোনটি তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. এটি স্বতঃস্ফুর্ত
  2. এটি অবিরাম
  3. এটি প্রত্যাবর্তী
  4. এটি অপ্রত্যাবর্তী
ব্যাখ্যা

- তেজস্ক্রিয়তা হলো একটি নিউক্লীয় বিক্রিয়া যা তেজস্ক্রিয় মৌলের কেন্দ্রীন বা নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং অবিরাম ঘটে। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া; অর্থাৎ একবার তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ফলে কোনো পরমাণু নতুন কোনো মৌলে রূপান্তরিত হয়ে গেলে তাকে স্বাভাবিক উপায়ে আর পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং, এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

সুতরাং, তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য নয় - এটি প্রত্যাবর্তী। 
----------------------

তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। 
যেমন- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। 
- স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় 'বেকেরেল রশ্মি'। 
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। 

- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- তাপ, চাপ, তড়িৎক্ষেত্র, চৌম্বকক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
- তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। 
- পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০১৩.
নিচের কোনটি একই ভর সংখ্যা কিন্তু ভিন্ন প্রোটন সংখ্যার পরমাণুর জন্য ব্যবহৃত হয়? 
  1. আইসোমার 
  2. আইসোটোপ 
  3. আইসোবার 
  4. আইসোটোন 
ব্যাখ্যা

আইসোবার: 
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলা হয়। 

আইসোটোন: 
- যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলে। 

আইসোটোপ: 
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। 

আইসোমার: 
- যে সব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে আইসোমার বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,০১৪.
অণুজীব দ্বারা বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য কোনটি আবশ্যক?
  1. ক) Ca
  2. খ) Cu
  3. গ) Mn
  4. ঘ) Mo
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন:
১। ম্যাংগানিজ: ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাংগানিজ প্রয়োজন।
২। কপার: টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কপার বা তামার প্রয়োজন, শ্বসন প্রক্রিয়ার উপরও কপারের প্রভাব উল্লেখযোগ্য।
৩। বোরন: উদ্ভিদের সক্রিয়ভাবে বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বোরন প্রয়োজন, চিনি পরিবহনে বোরন পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে।
৪। মোলিবডেনাম: অণুজীব দিয়ে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য মোলিবডেনাম (Mo) আবশ্যক
৫। ক্লোরিন: সুপারবিট এর মূল এবং কান্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০১৫.
লোহিত রক্ত কণিকার অস্বাভাবিক অবস্থাজনিত রোগের নাম কী?
  1. ক) লিউকেমিয়া
  2. খ) থ্যালাসেমিয়া
  3. গ) লিউকোপেনিয়া
  4. ঘ) থ্রম্বোসিস
ব্যাখ্যা
- থ্যালাসেমিয়া রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার এক অস্বাভাবিক অবস্থাজনিত রোগের নাম।
- এই রোগে লোহিত রক্ত কণিকা গুলো নষ্ট হয়।
- ফলে রোগী রক্ত শূন্যতায় ভোগে।
এই রোগ বংশপরম্পরায় হয়ে থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০১৬.
দুটি চার্জিত সংযুক্ত বস্তুর মধ্যে চার্জ প্রবাহিত হতে থাকে যতক্ষণ না তাদের -
  1. ক) বিভব সমান হয়।
  2. খ) চার্জ সমান হয়।
  3. গ) সঞ্চিত শক্তি সমান হয়।
  4. ঘ) ধারকত্ব সমান হয়।
ব্যাখ্যা
- আমরা জানি যে, কোনো নির্দিষ্ট বস্তুতে যত আধান দেয়া হবে তার বিভব তত বৃদ্ধি পাবে।
- সুতরাং একই আকারের দুটি বস্তুতে একই জাতীয় (ধনাত্মক অথবা ঋণাত্মক) সমমানের আধান প্রদান করলে বস্তু দুিটতে সমান বিভব সৃষ্টি হবে।
- কিন্তু ভিন্ন মানের আধান প্রদান করলে বস্তু দুিটতে ভিন্ন মানের বিভব সৃষ্টি হবে।
- এই অবস্থায় বস্তু দুটিকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে উচ্চ বিভব থেকে নিম্ন বিভবের দিকে আধান প্রবাহিত হতে থাকবে ।
- যতক্ষণ বিভব পার্থক্য থাকবে ততক্ষণ আধান প্রবাহিত হবে। বস্তু দুটির বিভব সমান হলে আধান প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে। 
উৎস: এস.এস.সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০১৭.
রিবোফ্লাভিনের অভাবে -
  1. ক) রাতকানা রোগ দেখা দেয়।
  2. খ) ত্বক খসখসে হয়ে যায়।
  3. গ) বমিভাব দেখা দেয়।
  4. ঘ) রক্তশুন্যতা দেখা দেয়।
ব্যাখ্যা
রিবোফ্লাভিনের অভাবে ত্বক খসখসে হয়ে যায়

রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি ২
উৎস : কমলা ও হলুদ বর্ণের শাকসবজি যেমন মিষ্টি কুমড়া, পাকা পেঁপে, কুমড়োর ফুল, ডিমের কুসুম, দুধ, বাদাম, যকৃত রিবোফ্লাভিনের ভালো উৎস।
অভাবজনিত অবস্থা : এর অভাবে জিহ্বায়, ঠোঁটের কোণায় ও মুখের ভিতরে ঘা দেখা দেয়। ত্বক খসখসে হয়ে যায় ।

দৈনিক চাহিদা : প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের দৈনিক ১.৭ মিলিগ্রাম ও নারীর ১.৩ মিলিগ্রাম প্রয়োজন। শিশুদের দৈনিক ০.৮ মিলিগ্রাম এবং কিশোর কিশোরীদের যথাক্রমে ২.০ মিলিগ্রাম ও ১.৩ মিলিগ্রাম প্রয়োজন।

সূত্রঃ ১৬ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০১৮.
ফোটন কণা সম্পর্কে কোন তথ্যটি ভুল?
  1. নিশ্চল ভর শূন্য।
  2. কণা ও তরঙ্গ দ্বৈত রূপ আছে।
  3. ধনাত্মক চার্জবিশিষ্ট।
  4. উপরের সবকটি সত্য
ব্যাখ্যা
 • ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ। এর কোন চার্জ নেই।

• ফোটন:

- ফোটন কণায় তাড়িতচৌম্বক বল বিদ্যমান।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।

• ফোটন কণার ধর্মসমূহ:
১. পদার্থের ক্ষুদ্র অংশ কে যেমন পরমাণু বলে, তেমনি আলোর ক্ষুদ্র অংশকে ফোটন বলে।
২. ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
৩. ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।
৪. প্রতি ফোটনের নির্দিষ্ট শক্তি এবং নির্দিষ্ট রৈখিক ভরবেগ আছে।
৫. ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ। এর কোন চার্জ নেই।
৬. ফোটন এর কণা-তরঙ্গ দ্বৈত রূপ আছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০১৯.
DNA নেই কোনটিতে?
  1. ক) TMV
  2. খ) E. Coli
  3. গ) T2 - ব্যকটেরিও ফাজ
  4. ঘ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা
কিছুসংখ্যক ভাইরাস ছাড়া (যেমন, TMV বা Tobacco Mosaic Virus) প্রায় সব জীব কোষেই DNA বিদ্যমান। টোবাকো মোজাইক ভাইরাসে RNA থাকে।
৭,০২০.
সেমিকন্ডাক্টরে ডোপিং এর জন্য পর্যায় সারণির কোন সারির মৌল অপদ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) চতুর্থ
  2. খ) পঞ্চম
  3. গ) ষষ্ঠ
  4. ঘ) সপ্তম
ব্যাখ্যা
ডোপিং (Doping):
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে ।
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যথা-
১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০২১.
নিচের কোনটি প্রাককেন্দ্রিক কোষের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) নিউক্লিয়াস পর্দা দ্বারা আবৃত নয়
  2. খ) কোষে রাইবোজোম থাকে
  3. গ) কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ (Prokaryotic cell) :
• এ ধরনের কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না। এ জন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়।
• এসব কোষের নিউক্লিয়াস কোনো পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে না, তাই নিউক্লিও-বস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে।
• এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবোজোম থাকে।
• ক্রোমোজোমে কেবল DNA থাকে।
• নীলাভ সবুজ শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়ায় এ ধরনের কোষ পাওয়া যায়।

প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ (Eukaryotic cell) :
• এসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি (nuclear membrane) দিয়ে নিউক্লিও-বস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত।
• এসব কোষে রাইবোজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে।
• ক্রোমোজোমে DNA, প্রোটিন, হিস্টোন এবং অন্যান্য উপাদান থাকে। অধিকাংশ জীবকোষ এ ধরনের হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৭,০২২.
হার্ট থেকে রক্ত বাইরে নিয়ে যায় যে রক্তনালী-
  1. ক) ভেইন
  2. খ) আর্টারি
  3. গ) ক্যাপিলারি
  4. ঘ) নার্ভ
ব্যাখ্যা

যেসব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি বলে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

৭,০২৩.
সোলার প্যানেল মূলত কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে?
  1. সূর্যের তাপ শক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করে
  2. সূর্যের আলোক শক্তিকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তর করে
  3. সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে বিদ্যুৎ তৈরি করে
  4. উপরের কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

◉ সোলার প্যানেল আসলে ফোটোভোল্টায়িক (Photovoltaic, PV) সেল দ্বারা তৈরি। সূর্যের আলোতে থাকা ফোটন (Photon) যখন প্যানেলের সিলিকন স্তরে আঘাত করে, তখন তা সিলিকনের ইলেকট্রনগুলোকে উত্তেজিত করে। এই ইলেকট্রনগুলোর গতি থেকেই ডাইরেক্ট কারেন্ট (DC) বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। পরবর্তীতে ইনভার্টার ব্যবহার করে এই DC কে Alternating Current (AC) এ রূপান্তরিত করা হয়, যা আমরা বাসা-বাড়ি বা শিল্পে ব্যবহার করি।

সৌর কোষ: 
- সৌর কোষ বা সৌর সেল হলো এক ধরনের ডিভাইস যা সূর্যের আলো (ফোটন) শোষণ করে এবং এটিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- সৌর সেল বা ফটোভোলটাইক কোষে সিলিকন (Si) ব্যবহৃত হয়, যা একটি অর্ধপরিবাহী (Semiconductor) পদার্থ।
- এটি সূর্যের আলোকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তর করে।

• সৌর সেলের কাজের পদ্ধতি:
- সূর্যের ফোটন সিলিকন পরমাণুতে আঘাত করে।
- ইলেকট্রন-হোল জোড় সৃষ্টি হয়।
- p-n জাংশনের বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র ইলেকট্রন প্রবাহ তৈরি করে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

৭,০২৪.
হাইড্রোকার্বনকে কোন শ্রেণির যৌগ বলা হয়? 
  1. জৈব যৌগ 
  2. এসিড 
  3. লবণ 
  4. অজৈব যৌগ 
ব্যাখ্যা

জৈব যৌগ: 
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ। 
যেমন- মিথেন, ইথেন, বেনজিন, ইউরিয়া, প্রোপিন, পেন্টাইন ইত্যাদি জৈব যৌগ। 
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া হতে সাধারণত অনেক বেশি সময় লাগে। 
- জৈব যৌগসমূহ সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়। 
- জৈব যৌগের জনক ফ্রেডরিখ ভোলার। 

অজৈব যৌগ: 
- দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে অজৈব যৌগ গঠিত হয়।
- সাধারণত অজৈব যৌগে কার্বন অনুপস্থিত থাকে। 
যেমন- পানি, খাবার লবণ, খাবার সোডা, কাপড় কাচার সোডা, কস্টিক সোডা, চুন, মরিচা ইত্যাদি অজৈব যৌগ। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,০২৫.
স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে শব্দের তীব্রতার লেভেল কত? 
  1. 10 dB
  2. 25 dB
  3. 40 dB
  4. 50 dB
ব্যাখ্যা

• স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে শব্দের তীব্রতার লেভেল হচ্ছে 10 dB. 

• শব্দের তীব্রতার লেভেল: 
- শব্দের তীব্রতা হচ্ছে একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত শব্দ শক্তির পরিমাণ। 
- সাধারণ ক্ষেত্রে বাতাসের মধ্যে শ্রোতার অবস্থানের সাপেক্ষে তীব্রতা পরিমাপ করা হয়। 
- এর মূল একক W/m2.
- শব্দের তীব্রতা ও পরিমাপ আপেক্ষিক শ্রাব্যতার সর্বনিম্ন ধাপ থেকে শুরু হয়। 
- এই সর্বনিম্ন তীব্রতাকে বলা হয় প্রমিত বা প্রমাণ তীব্রতা। 
- এর মান 10-12 Wm-2 বেছে নেয়া হয়েছে। 
- এটি হচ্ছে 1000Hz কম্পাঙ্কের একটি শব্দ তরঙ্গের তীব্রতা যাকে শ্রাব্যতার সূচনা সীমা হিসাবেও ধরা হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০২৬.
ফুসফুস মানবদেহের কোন তন্ত্রের প্রধান অঙ্গ? 
  1. রেচনতন্ত্র
  2. শ্বাসতন্ত্র
  3. পরিপাকতন্ত্র
  4. সঞ্চালনতন্ত্র
ব্যাখ্যা
ফুসফুস: 
- ফুসফুস মানবদেহের শ্বাসতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ। 
- বক্ষগহ্বরের ভেতর হৃদপিণ্ডের দু'পাশে দুটি ফুসফুস অবস্থিত। 
- এটি স্পঞ্জের ন্যায় নরম ও কোমল, হালকা লালচে রঙের। 
- ডান ফুসফুস তিন খণ্ডে ও বাম ফুসফুস দু'খণ্ডে বিভক্ত। 
- ফুসফুস দু'ভাঁজবিশিষ্ট প্লুরা নামক পর্দা দ্বারা আবৃত। 
- দু'ভাঁজের মধ্যে এক প্রকার রস নির্গত হয়। ফলে শ্বাসক্রিয়া চলার সময় ফুসফুসের সাথে বক্ষগাত্রের কোন ঘর্ষণ লাগে না। 
- ফুসফুসে অসংখ্য বায়ুথলি বা বায়ুকোষ, সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম শ্বাসনালি ও রক্তনালি থাকে। 
- বায়ু থলিগুলোই হলো অ্যালভিওলাস (Alveolus)। 
- বায়ুথলি পাতলা আবরণী দ্বারা আবৃত হয়, প্রতিটি বায়ুথলি কৈশিকনালিকা দ্বারা পরিবেষ্টিত। এ বায়ুথলি ও কৈশিক নালিকাগুলোর ভেতর দিয়ে গ্যাসীয় আদান প্রদান ঘটে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০২৭.
ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে যখন প্লেটলেটের স্তর নাটকীয়ভাবে হ্রাস পায়, তখন সেটিকে কী বলা হয়?
  1. Thrombocytopenia
  2. Thrombocytosis
  3. Leukopenia
  4. Polycythemia
ব্যাখ্যা
• রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 

যেমন- 
১। পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

২। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

৩। পারপুরা: 
- ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে, এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৪। লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

৫। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৬। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে।

৭।  থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া:
- ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে যখন প্লেটলেটের স্তর নাটকীয়ভাবে হ্রাস পায়, তখন সেটিকে বলা হয় - থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া।
- এটি সাধারণত ডেঙ্গু জ্বর, অটোইমিউন রোগ, বা কিছু চিকিৎসা পদ্ধতির কারণে ঘটে।
- প্লাটিলেটের অভাবের কারণে রক্তপাত এবং সহজে ফুলে যাওয়ার মত সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০২৮.
বাংলাদেশে র শীতলতম স্থান -
  1. ক) লালপুর
  2. খ) শ্রীমঙ্গল
  3. গ) শ্রীহরপুর
  4. ঘ) লালাখাল
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের শীতলতম স্থান শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার

অন্যদিকে,
উষ্ণতম স্থান - লালপুর
শীতলতম স্থান – শ্রীমঙ্গল
উষ্ণতম মাস – এপ্রিল
শীতলতম মাস – জানুয়ারি
সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের স্থান – লালাখাল
সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাতের স্থান - লালপুরে।

উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
 
৭,০২৯.
জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ক বিজ্ঞান কোনটি?
  1. Evolution
  2. Entomology
  3. Ecology
  4. Embryology
ব্যাখ্যা

জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা: 
- ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। 
- নিচে কিছু উল্লিখিত শাখা নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১।  বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics): 
- জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

২। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): 
- পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৩। হিস্টোলজি (Histology): 
- জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৪। ভ্রুণবিদ্যা (Embryology): 
- জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৫। কোষবিদ্যা (Cytology): 
- জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৬। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): 
- এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

৭। কীটতত্ত্ব (Entomology): 
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,০৩০.
Solar energy is due to -
  1. Fusion reactions
  2. Fission reactions
  3. Chemical reactions
  4. Combustion reactions
ব্যাখ্যা
ফিউশন বিক্রিয়া:
- যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় দুটি ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে অপেক্ষাকৃত বড় নিউক্লিয়াসযুক্ত ভিন্ন মৌল তৈরি করে তাকে নিউক্লিয় ফিউশন বা নিউক্লিয় সংযোজন বিক্রিয়া বলে।
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে শক্তির উৎস হচ্ছে নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া।
- নিউক্লিয় ফিউশন নীতির উপর ভিত্তি করে হাইড্রোজেনের আইসোটোপ- ডিউটেরিয়াম, ট্রিটিয়াম ব্যবহার করে হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়। যথা:
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন:
- যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি খন্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে।

২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন:
- যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে।
- জার্মান বিজ্ঞানী বেথের মতে সূর্য রশ্মি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক উচ্চ তাপমাত্রায় সব সময় হাইড্রোজেন পরমাণু হিলিয়াম পরমাণুতে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং শক্তি নির্গত হচ্ছে।
- প্রকৃতি এ শক্তি ব্যবহার করছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০৩১.
পরমশূন্য তাপমাত্রা কত?  
  1. 0°C
  2. - 1000°C
  3. 273°K
  4. - 273°C
ব্যাখ্যা

• পরমশূন্য তাপমাত্রা: 
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরমশূন্য তাপমাত্রা বলে। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রা হলো -273°C । 
- পরমশূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।

৭,০৩২.
কোন রশ্মিটি আধান নিরপেক্ষ?
  1. ক) আলফা রশ্মি
  2. খ) বিটা রশ্মি
  3. গ) গামা রশ্মি
  4. ঘ) ক + খ
ব্যাখ্যা
- ধনাত্মক আধান গ্রন্থ রশ্মি আলফা রশ্মি,
- ঋণাত্মক আধান গ্রন্থ রশ্মি বিটা রশ্মি
- আধান নিরপেক্ষ রশ্মি গামা রশ্মি

মনে রাখুন-
১। আলফা ও বিটা রশ্মি হলো কণা প্রবাহ কিন্তু গামা রশ্মি হলো তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ।
২। গামা রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যর চেয়ে অনেক কম। একে চোখে দেখা যায় না।

সূত্র- পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম - ১০ম শ্রেণি।
৭,০৩৩.
করোনারি ধমনির মধ্যে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য নিচের কোনটি দেওয়া হয়?
  1. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  2. নাইট্রোগ্লিসারাইড
  3. নাইট্রোগ্লিসারিন
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
• করোনারি ধমনির মধ্যে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া।

• হার্ট অ্যাটাক:
- হৃদপেশিতে আঘাত লেগে বুকে ব্যথা ও চাপ সৃষ্টি হয়ে ২০-৪০ মিনিটের মধ্যে স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহ ফিরে না আসলে হৃদপেশির মৃত্যু ঘটতে থাকে এবং এরূপ ৬-৮ ঘণ্টা ধরে পেশি মারা যেতে থাকলে তবে হার্ট অ্যাটাক ঘটে থাকে।
- হৃদপেশির আঘাতজনিত কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়।
- যখন হৃদপেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয় তখন তা আর সঠিকভাবে সংকোচন ঘটাতে পারে না এবং হৃদপিণ্ডের স্পন্দন থেমে যায় ও ফলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট হয় এবং দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত প্রেরণে অক্ষম হয়।
- এক্ষেত্রে পাঁচ মিনিটের মধ্যে স্পন্দন শুরু না হলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট ও রোগীর মৃত্যু ঘটে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশনজনিত হার্ট অ্যাটাক থেকে রোগীর মৃত্যু ঘটে।
- ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে যদি কার্ডিওপালমোনারি সঞ্চালন করা সম্ভব হয় তবে রোগী মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা পেতে পারে।

• হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলো হলো:
- ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন,
- রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি,
- উচ্চ রক্ত চাপ,
- তামাক সেবন।

•  হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা:
- তাৎক্ষণিক ডাক্তারের শরণাপন্য হওয়া ও অক্সিজেন সরবরাহ করা।
- রক্ত জমাট বাঁধানো প্রতিহত করার জন্য অ্যাসপিরিন দেয়া।
- করোনারি ধমনির মধ্যে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া।
- বুকের ব্যথার চিকিৎসা আরম্ভ করা।
- নিয়মিত খাবার গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করা।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৩৪.
রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে -
  1. শ্বেত রক্তকণিকা
  2. অণুচক্রিকা
  3. হিমোগ্লোবিন
  4. লোহিত রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা:
- মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে। যথা- -
১. লোহিত রক্তকণিকা।
২. শ্বেত রক্তকণিকা।
৩. অনুচক্রিকা।

লোহিত রক্তকণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়।
- লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস নেই।
- এ কণিকা দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।
- লোহিত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।

• শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকারনেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১ থেকে ১৫ দিন।
- শ্বেত রক্তকণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়।

• অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের।
- এতে নিউক্লিয়াস থাকে না।
- অণুচক্রিকা দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫ থেকে ১০ দিন।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০৩৫.
গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের
  1. ক) আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল গতি শক্তির তুলনায় অনেক বেশি হয়।
  2. খ) আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল গতি শক্তির তুলনায় অনেক কম হয়।
  3. গ) আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল গতি শক্তির সমান হয়।
  4. ঘ) আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল গতি শক্তির সমানুপাতিক হয়।
ব্যাখ্যা
পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল গতিশক্তির তুলনায় বেশি হলে কঠিন অবস্থা, আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল এবং গতিশক্তি সমান হলে তখন তরল অবস্থা। আর যদি উপাদান কণার গতিশক্তি, আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলের তুলনায় অনেক বেশি হয় তবে পদার্থ গ্যাসীয় অবস্থায় অবস্থান করবে।

সূত্রঃ রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৩৬.
নিউক্লিয়ার ফিশান ও ফিউশনের ফলে উৎপন্ন শক্তি কীভাবে নিরূপণ করা যায়? 
  1. নিউটনের প্রথম গতি সূত্রে দিয়ে
  2. ওহমের V = IR সূত্র দিয়ে
  3. নিউটনের গতিসূত্র F = ma সমীকরণ দিয়ে
  4. আইনস্টাইনের E = mc2 সমীকরণ দিয়ে
ব্যাখ্যা
ভর-শক্তি সম্পর্ক (Mass-Energy Relation): 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো ভর-শক্তি সম্পর্ক। 
- চিরায়ত বলবিদ্যায় কোনো বস্তুর ভর ধ্রুব রাশি এবং শক্তি সর্বদাই নিত্য। চিরায়ত বলবিদ্যায় আরো ধরা হয় যে, ভর এবং শক্তি দুটি ভিন্ন সত্তা। 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বে চিরায়ত বলবিদ্যায় পুরাতন ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটে। এই তত্ত্বানুসারে ভর এবং শক্তি দুটি অভিন্ন সত্তা। 
- ভরকে সম্পূর্ণরূপে ধংস করা যায় এবং তা থেকে শক্তির উৎপন্ন হয়। 
অর্থাৎ, ভর সম্পূর্ণরূপে শক্তিতে রূপান্তর হয় এবং একই ভাবে শক্তিও উপযুক্ত পরিবেশ পেলে ভরে রূপান্তর হয়। 

সুতরাং, E = mc2, এটিই আইনস্টইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ। এই সমীকরণ প্রমাণ করে ভর ও শক্তি ভিন্ন সত্তার নয়, বরং একই সত্তার দুটি ভিন্নরূপ মাত্র। 
- নিউক্লিয় ফিশান ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা এই সমীকরণ দিয়ে সঠিক ভাবে পরিমাপ করা যায়। 
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাও এই সমীকরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। 
অর্থাৎ, এই সমীকরণ মহাজগতিক সকল শক্তির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৩৭.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায় কিসের অভাবে?
  1. বোরন
  2. কপার
  3. নাইট্রোজেন
  4. সালফার
ব্যাখ্যা
নাইট্রোজেন(N): 
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। 
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে এক সময় হলুদ হয়ে যায়, কারণ ক্লোরোফিল ছাড়া অন্যান্য বর্ণ কণা বা পিগমেন্ট মিলিতভাবে হলুদ দেখায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' (chlorosis) বলে। 
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে কেননা এগুলো ক্লোরোফিল উৎপাদনের সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। 
- ক্লোরোসিস তথা নাইট্রোজেনের অভাবে কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন হ্রাস পায়, তাই উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়। 

অন্যদিকে, 
- বোরন, কপার ও সালফারের মতো অন্যান্য উপাদান উদ্ভিদের জন্য সহায়ক হলেও নাইট্রোজেনের তুলনায় এই উপাদানগুলো কম গুরুত্বপূর্ণ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০৩৮.
গ্লুবার লবণে কয় অণু পানি থাকে? 
  1. ৫ অণু
  2. ১০ অণু
  3. ১৮ অণু
  4. ২৪ অণু
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন মৌলের রাসায়নিক সংকেত: 
- সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত - CH3COONa, 
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- ভিনেগারের  রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH, 

- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O, 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত- [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O], 
- গ্লুবার লবণ এর রাসায়নিক সংকেত- Na2SO4.10H2O
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত- Na2CO3.10H2O, 
- ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক সংকেত- Ca(OCl)Cl. 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৩৯.
বায়ুমণ্ডলে কোন উপাদানটির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. হিলিয়াম
  3. জলীয়বাষ্প
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

• বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি থাকে নাইট্রোজেন।

• বায়ুমণ্ডল:
- পৃথিবী পৃষ্টের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য আবরণ রয়েছে তাকে বায়ুমণ্ডল বলে।
- বায়ুমণ্ডল মধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে পৃথিবীর গায়ের সাথে লেগে থাকে এবং আবর্তণ করে।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমন্ডল বিস্তৃত ।
- ভূ-পৃষ্ঠের প্রধান দুটি উপাদান নাইট্রোজেন আবং অক্সিজেন।

• বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানসমূহ:

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০৪০.
পারমাণবিক বোমার আবিষ্কারক কে?
  1. আইনস্টাইন
  2. ওপেনহাইমার
  3. অটোহ্যান
  4. রোজেনবার্গ
ব্যাখ্যা
পারমানবিক বোমা: 
পারমানবিক বোমা ওপেন হেইমার আবিষ্কার করেন। 
- তিনি মার্কিন তাত্ত্বিক পদার্থবিদ। 
- তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করেন এবং গটিংজেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট অর্জন করেন। 
- ম্যানহাটন প্রকল্প মার্কিন সরকারের গবেষণা প্রকল্প যা প্রথম পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছিল। 
- ম্যানহাটন প্রকল্পের বিজ্ঞানীরা দক্ষিণ নিউ মেক্সিকোতে আলামোগোর্ডোর কাছে একটি পরীক্ষায় প্রথম পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। 

উৎস: Britannica.com
৭,০৪১.
দক্ষিণ মেরুর অক্ষাংশ কত?
  1. ক) ০°
  2. খ) ৯০°
  3. গ) ১২০°
  4. ঘ) ১৮০°
ব্যাখ্যা
অক্ষাংশ নির্ণয় (Determining latitude):
- আমরা জানি পৃথিবী বৃত্তের কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণ ৩৬০°।
-অক্ষাংশ নির্ণয় করার জন্য গ্লোবটিকে আমরা যদি মাঝখান দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে কেটে নেই তাহলে এর মধ্যে আমরা পৃথিবীর ঠিক মধ্যবিন্দু পাব। এখন যদি আমরা কোনো একটি স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করতে চাই তাহলে সেই মধ্যবিন্দুর সঙ্গে নির্ণেয় স্থানটির নিরক্ষরেখার (০°) পরিপ্রেক্ষিতে যে কোণ উৎপন্ন হয় তা নির্ণয় করতে হবে। এই কোণই হলো সেই স্থানের অক্ষাংশ।
যেমন— নিরক্ষীয় তল থেকে উত্তর মেরুর কৌণিক দূরত্ব বা উৎপন্ন কোণ ৯০°। এটাই হলো উত্তর মেরুর অক্ষাংশ। এভাবে দক্ষিণ মেরুর অক্ষাংশও ৯০° । 



উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম - দশম শ্রেণি।
৭,০৪২.
"অক্সিপিটাল লোব" - নিচের কোন অঙ্গাণুর অংশবিশেষ?
  1. অগ্র মস্তিষ্ক
  2. মধ্য মস্তিষ্ক
  3. পশ্চাৎ মস্তিষ্ক
  4. যকৃত
ব্যাখ্যা

মস্তিষ্ক:
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে স্ফীত অংশ করোটির মধ্যে অবস্থান করে এবং মানবদেহের সকল কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে তাকে মস্তিষ্ক বলে।
- ভ্রূণীয় বিকাশের সময় এক্টোডার্ম থেকে সৃষ্ট নিউরাল টিউবের সামনের অংশ স্ফীত হয়ে মস্তিষ্ক গঠন করে।
- প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন প্রায় ১৫০০ ঘন সেন্টিমিটার, গড় ওজন প্রায় ১.৩৬ কেজি এবং প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন থাকে।
- মস্তিষ্ক স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত।
যথা- অগ্রমস্তিষ্ক, মধ্যমস্তিষ্ক ও পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

অগ্রমস্তিষ্ক:
- অগ্রমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে।
- এটি তিন অংশে বিভক্ত।
যথা- সেরেব্রাম, থ্যালামাস ও হাইপোথ্যালামাস।
সেরেব্রাম:
- মানব মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশের নাম সেরেব্রাম।
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে) এবং মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশকে ঢেকে রাখে।
- দুটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার সমন্বয়ে সেরেব্রাম গঠিত।
- খণ্ডদুটি ভেতরের দিকে কর্পাস ক্যালোসাম নামে চওড়া স্নাযুগুচ্ছ দিয়ে যুক্ত।
- প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত।
যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।
- সেরেবেলাম হলো পশ্চাৎমস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ।
অক্সিপিটাল লোব - অগ্রমস্তিষ্কের অংশ।

উৎস:
১) প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

৭,০৪৩.
কোনটি সোডিয়ামের আকরিক?
  1. কোরান্ডাম
  2. ন্যাট্রোন
  3. জিপসাম
  4. গ্যালেনা
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধাতুর আকরিক:
- অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: বক্সাইট, কোরান্ডাম, ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।
- সোডিয়ামের আকরিক: রকসল্ট, চিলি সল্টপিটার, ন্যাট্রোন, বোরাক্স ইত্যাদি।
- ক্যালসিয়ামের আকরিক: চুনাপাথর, জিপসাম, ডলোমাইট ইত্যাদি।
- আয়রনের আকরিক: ম্যাগনেটাইট, হেমাটাইট, আয়রন পাইরাইটস, লিমোনাইট ইত্যাদি।
- লেড এর আকরিক-গ্যালেনা (PbS)
- পটাসিয়ামের আকরিক হলো সল্টপিটার (KNO₃)

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০৪৪.
একটি গ্রহের ব্যাসার্ধ পৃথিবীর ব্যাসার্ধের দ্বিগুণ কিন্তু ভর অর্ধেক। ঐ গ্রহের পৃষ্ঠে অভিকর্ষজ ত্বরণ g হলো—
  1. ক) g
  2. খ) 1/8 g
  3. গ) 1/2 g
  4. ঘ) 1/4 g
ব্যাখ্যা
আমরা জানি,
পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণ, g = GM/R2
যেখানে, G = মহাকর্ষীয় ধ্রুবক
M = পৃথিবীর ভর
R = পৃথিবীর ব্যাসার্ধ

একটি গ্রহের ব্যাসার্ধ পৃথিবীর ব্যাসার্ধের দ্বিগুণ কিন্তু ভর অর্ধেক।
গ্রহের ব্যাসার্ধ  R1 = 2R
গ্রহের ভর M1 = M/2
গ্রহটির অভিকর্ষজ ত্বরণ, g1 = GM1/R12
= G(M/2)/(2R)2
= GM/8R2
= (1/8)g

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০৪৫.
অননুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ কোনটি? 
  1. ভিনেগার
  2. আসিটিলিন
  3. বেনজোয়িক এসিড
  4. সোডিয়াম বেনজোয়েট
ব্যাখ্যা
ফুড প্রিজারভেটিভ: 
- যেসব রাসায়নিক দ্রব্য খাদ্যসামগ্রীতে দিলে খাদ্যসামগ্রীতে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না, দুর্গন্ধ হয় না, পচন হয় না সেসব রাসায়নিক দ্রব্যকে ফুড প্রিজারভেটিভ বলে। 

অনুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ: 
- যেসব ফুড প্রিজারভেটিভ আমাদের শরীরে গেলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না এবং সেগুলোকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে সেসব ফুড প্রিজারভেটিভকে অনুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ বলা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম বেনজোয়েট, বেনজোয়িক এসিড, ভিনেগার, লবণের দ্রবণ, চিনির প্রবণ ইত্যাদি। 

অননুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ: 
- যেসব ফুড প্রিজারভেটিভ আমাদের শরীরে গেলে আমাদের শরীরের ক্ষতি হয় সেগুলোকে অননুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ বলা হয়। 
যেমন- ইথিলিন, আসিটিলিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০৪৬.
'পরীক্ষণ এবং বিভিন্ন রাশির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল ভিত্তি' এই কথাটি প্রথম কে প্রমাণ করেন?
  1. থেলিস
  2. গ্যালিলিও
  3. আর্কিমিডিস
  4. টলেমি
ব্যাখ্যা
গ্যালিলিও গ্যালিলি: 
-গ্যালিলিও গ্যালিলি (১৫৬৪-১৬৪২) কে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জনক বলা হয়। 
- তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে 'পরীক্ষণ এবং বিভিন্ন রাশির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল ভিত্তি'। 
- পরীক্ষালব্ধ ফলাফল ছাড়া কখনোই কোন ঘটনা গাণিতিকভাবে প্রমাণ করা যায় না। 

অন্যদিকে, 
- টলেমি ছিলেন প্রাচীন গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, জ্যোতিষী, ভূগোল-বিশারদ। তাঁর মডেল অনুসারে পুরোহিতরা মনে করেছিলেন যে, স্বর্গ নরক রয়েছে বাইরের গোলকের ঊর্ধ্বে। 
- আর্কিমিডিসের নীতির উপর ভিত্তি করে জাহাজ পানিতে ভাসার কারণ, একখণ্ড লোহা পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়। 
- থেলিস সূর্যগ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং লোডস্টোনের চৌম্বক ধর্ম সম্পর্কে জানতেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৪৭.
মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল কোন রাশিটি?
  1. তাপমাত্রা
  2. বেগ
  3. সময়
  4. দীপন তীব্রতা
ব্যাখ্যা
• বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়, তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল।

• রাশি:
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলা হয়।
- উদাহরণসমূহ: একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়, এখানে ভর একটি রাশি।

• মৌলিক রাশি:
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়।
- উদাহরণসমূহ: সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি।
-  সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। যথা:
-  দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ।

• যৌগিক রাশি:
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়।
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়, তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল।
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি।
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়।
যেমন- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৪৮.
কোনটি সপুস্পক উদ্ভিদ নয়?
  1. ক) আম
  2. খ) অ্যাগারিকাস
  3. গ) শিমুল
  4. ঘ) পেয়ারা
ব্যাখ্যা
• সপুষ্পক উদ্ভিদ:
- সপুষ্পক উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয়। যেমন: আম, কাঁঠাল, শাপলা, জবা ইত্যাদি।
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত।
- কোনো উদ্ভিদ ফল উৎপন্ন করে আবার কোনটি ফল উৎপন্ন করে না, তাই বীজগুলো অনাবৃত থাকে।
- এরা প্রধানত দুই ধরনের যথা: নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ।
- এদের দেহে অত্যন্ত উন্নত ধরনের পরিবহন কলা উপস্থিত থাকে। 

• অপুষ্পক উদ্ভিদ:
- উদ্ভিদের মধ্যে কিছুসংখ্যক উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না। এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে। এদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে।
- এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। যথা: অ্যাগারিকাস ও স্পাইরোগাইরা, মস, ফার্ণ ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, ৬ষ্ঠ শ্রেণি (বোর্ড বই)।  
৭,০৪৯.
কোমল এক্স-রে (Soft X-ray)-এর সঠিক বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোট, ভেদন ক্ষমতা বেশি
  2. তরঙ্গদৈর্ঘ্য বড়, ভেদন ক্ষমতা কম
  3. উচ্চ বিভব প্রয়োগে উৎপন্ন
  4. শুধুমাত্র ধাতব পদার্থ অতিক্রম করতে পারে
ব্যাখ্যা

এক্স-রে (X-rays): 
- জার্মান বিজ্ঞানী প্রফেসর উইলিয়াম রঞ্জন ১৮৯৫ সালে ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় আকস্মিকভাবে এক্স-রে (X-rays) আবিষ্কার করেন। 
- তিনি 10-3 mmHg চাপে একটি ক্ষরণ নল (Crookes tube) ব্যবহার করছিলেন। পরীক্ষার সময় তিনি লক্ষ্য করেন যে নলের কাছে রাখা বেরিয়াম প্ল্যাটিনোসায়ানাইড আবৃত পাতের ওপর একটি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি হচ্ছে। 
- আরও বিশদ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ক্যাথোড রশ্মি যেখানে আপতিত হয়, সেখান থেকে সবুজাভ-হলুদ আলো বিকিরিত হওয়ার পাশাপাশি এক ধরনের অদৃশ্য রশ্মি নির্গত হচ্ছে। যেহেতু সে সময় এই রশ্মির প্রকৃতি জানা ছিল না, তাই প্রফেসর রঞ্জন একে "X-rays" নামে অভিহিত করেন। পরবর্তীতে একে "রঞ্জন রশ্মি" নামেও ডাকা হয়। 
- পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত হন যে, উচ্চগতির ইলেকট্রন কোনো ধাতব প্রতিবন্ধকের (Target) সাথে সংঘর্ষে বাঁধাপ্রাপ্ত হলে তার গতিশক্তি এক্স-রেতে রূপান্তরিত হয়। 

এক্সরের প্রকারভেদ: 
- এক্সরে দুই প্রকার। 
যথা- কোমল এক্সরে (Soft X-ray) এবং কঠিন এক্সরে (Hard X-ray)। 
১। কোমল এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক কম বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্সরে বলে। 
- কোমল এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক বড়, ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক কম। 
২। কঠিন এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক বেশি বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কঠিন এক্সরে বলে। 
- কঠিন এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক ছোট ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক বেশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০৫০.
সৌরজগতের কোন গ্রহটি খালি চোখে দেখা যায় না?
  1. শুক্র
  2. নেপচুন 
  3. প্লুটো 
  4. বুধ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - নেপচুন । 

গ্রহ সম্পর্কিত সাধারণ তথ্য:

- সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আটটি গ্রহ।
- সূর্য থেকে গ্রহগুলো দূরত্ব অনুযায়ী পর পর যেভাবে রয়েছে তা হলো বুধ (Mercury), শুক্র (Venus), পৃথিবী (Earth), মঙ্গল (Mars), বৃহস্পতি (Jupiter), শনি (Saturn), ইউরেনাস (Uranus) এবং নেপচুন (Neptune)।
- গ্রহদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃহস্পতি এবং ছোট বুধ।
- বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনি বেশ উজ্জ্বল এবং কোনো যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই দেখা যায়।
- ইউরেনাস ও নেপচুন এত দূরে অবস্থিত যে দূরবীক্ষণ ছাড়া এদের দেখা যায় না।

• নেপচুন সম্পর্কিত তথ্য:
- নেপচুন আমাদের সৌরজগতের অষ্টম এবং সবচেয়ে দূরবর্তী গ্রহ।
- এই গ্রহটি পৃথিবী থেকে খালি চোখে দেখা যায় না।
- ১৬১২ এবং ১৬১৩ সালে গ্যালিলিও তার ছোট টেলিস্কোপ দিয়ে পর্যবেক্ষণের সময় নেপচুনকে একটি স্থির নক্ষত্র হিসেবে রেকর্ড করেছিলেন। 
- নিরক্ষীয় ব্যাস ৩০,৭৭৫ মাইল (৪৯,৫২৮ কিলোমিটার) হওয়ায়, নেপচুন পৃথিবীর চেয়ে প্রায় চারগুণ প্রশস্ত।
- সূর্য থেকে নেপচুনের গড় দূরত্ব ৪.৫ বিলিয়ন কিলোমিটার।
- নেপচুনের এক দিনে প্রায় ১৬ ঘন্টা সময় লাগে (নেপচুনের একবার আবর্তন বা ঘূর্ণন করতে যে সময় লাগে)।
- নেপচুন সূর্যের চারপাশে একটি সম্পূর্ণ কক্ষপথ সম্পূর্ণ করে (নেপচুনিয়ান সময়ে এক বছর) প্রায় ১৬৫ পৃথিবী বছরে (৬০,১৯০ পৃথিবী দিন)।
- নেপচুনের নামকরণ করা হয়েছিল রোমান সমুদ্র দেবতার নামে।
- নেপচুনের ১৬টি উপগ্রহ আছে। 
- নেপচুনের বৃহত্তম উপগ্রহ ট্রাইটন আবিষ্কার করেন ১০ অক্টোবর, ১৮৪৬ সালে, জোহান গটফ্রাইড গ্যাল গ্রহটি আবিষ্কার করার মাত্র ১৭ দিন পরে।

উল্লেখ্য - বর্তমানে প্লুটো গ্রহ হিসেবে স্বীকৃত নয়।

উৎস : NASA এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

৭,০৫১.
গর্ভবতী মায়ের রক্তস্বল্পতার ক্ষেত্রে কোন ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়? 
  1. আয়রন
  2. জিংক
  3. ভিটামিন
  4. আয়োডিন
ব্যাখ্যা
গর্ভকালীন বিভিন্ন সমস্যা ও সচেতনতা: 
- প্রতিবছর গর্ভকালীন জটিলতায় অনেক নারী মৃত্যুবরণ করেন। 
- গর্ভকালীন সমস্যা সম্পর্কে অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাব মা ও শিশুর উভয়ের জন্য জীবনঘাতী হতে পারে। 
- তাই সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

গর্ভকালীন রক্তস্বল্পতা: 
- গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত রক্ত প্রবাহ ও পুষ্টির ঘাটতির কারণে রক্তস্বল্পতা হতে পারে। 

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী:  
- প্রথম মাস থেকে ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট গ্রহণ করতে হয়। 
- গর্ভবতী মায়ের রক্তস্বল্পতার ক্ষেত্রে তৃতীয় মাস থেকে আয়রন ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। 
- আয়রনযুক্ত খাবার খেতে হবে। যেমন: কচুশাক, কলিজা, তেঁতুল, তরমুজ, ডিম ইত্যাদি। 
- ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেলে আয়রনের শোষণ বৃদ্ধি পায়। যেমন: আমলকি, লেবু, কাঁচামরিচ, পেয়ারা, আনারস, কাঁচা ফলমূল ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৫২.
দোলকের দোলন গতি কোন ধরনের গতির উদাহরণ?
  1. ক) সরল রৈখিক গতি
  2. খ) বক্র রৈখিক গতি
  3. গ) পর্যায় গতি
  4. ঘ) ঘূর্ণন গতি
ব্যাখ্যা
পর্যায় গতি:

- দোলকের দোলন গতি পর্যায় গতির উদাহরণ।
- কোন গতিশীল বস্তু গতি পথের কোন নির্দিষ্ট বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পর পর একই দিক থেকে অতিক্রম করে তা হলে সেই গতিকে পর্যায় গতি বলে।
- বৈদ্যুতিক পাখার গতি, ঘড়ির কাঁটার গতি, গ্রামফোন রেকর্ডের গতি, ঘড়ির পেন্ডুলামের গতি, দোলকের দোলন গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের সামনে পেছনের গতি পর্যায় গতির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- যখন কোন বস্তু সরল রেখা বরাবর চলে তখন বস্তুর ঐ গতিকে সরল রৈখিক গতি বলে।যেমন - মসৃণ মেঝের উপর গড়িয়ে দেওয়া মার্বেলের গতি।
- কোন গতিশীল বস্তুর গতিপথ যদি বাঁকা হয়, বক্র রেখা বরাবর হয় তখন বস্তুটির গতিকে বক্র রৈখিক গতি বলে।যেমন - সাইকেলের গতি, রিক্সার গতি, মোটর গাড়ির গতি।
- কোন বিন্দু বা অক্ষকে কেন্দ্র করে যখন কোন বস্তু ঘুরতে থাকে তাতে বস্তুটির যে গতি হয় তাকে ঘূর্ণন গতি বলে।যেমন - চলন্ত সাইকেল বা রিক্সার চাকার গতি, বৈদ্যুতিক পাখার গতি।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৫৩.
কত সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গু জ্বর প্রথম মহামারী আকারে দেখা যায়?
  1. ১৯৬৮ সালে
  2. ১৯৯৮ সালে
  3. ২০০০ সালে
  4. ২০১৯ সালে
ব্যাখ্যা
ডেঙ্গু জ্বর:
- ডেঙ্গু জ্বর একটি এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু ভাইরাস জনিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ।
- এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়।
- উপসর্গগুলির মাঝে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যথা এবং গাত্রচর্মে ফুসকুড়ি।
- দুই থেকে সাত দিনের মাঝে সাধারণত ডেঙ্গু রোগী আরোগ্য লাভ করে।
- সেখান থেকে জানা যায়, চীনে এই রোগটি ৯৯২ খৃষ্টাব্দে শনাক্ত করা হয়েছিল।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মহামারী আকারে প্রথম ডেঙ্গু শনাক্ত হয় ১৯৫০ সালের দিকে ফিলিপিন্স এবং থাইল্যান্ডে।
- বাংলাদেশে প্রথম ডেঙ্গু শনাক্ত হয় ১৯৬০ সালে।
- প্রথমে এই জ্বরটি ঢাকায় একসঙ্গে অনেকের হয়েছিল বলে এর নাম হয়ে যায় 'ঢাকা ফিভার'।
- ২০০০ সালে বাংলাদেশে এটি প্রথম মহামারী আকারে দেখা যায়।

উৎস: World Health Organization ওয়েবসাইট।
৭,০৫৪.
নিচের কোনটি ট্রানজিস্টরের কাজ?
  1. দুর্বল সংকেতকে বিবর্ধিত করা
  2. ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করা
  3. তাপ উৎপাদন করা
  4. বিদ্যুত প্রবাহকে একমুখীকরণ
ব্যাখ্যা

ইলেকট্রনিক অ্যাম্পলিফায়ার দুর্বল অন্তর্গামী সংকেতকে বৃহৎ বহির্গামী সংকেতে সংকেতে পরিণত করে। অর্থাৎ ট্রানজিস্টর বিবর্ধক হিসাবে কাজ করে। ট্রানজিস্টরের আরেকটি ব্যবহার হলো এটি সুইচ হিসাবেও ব্যবহার করা হয়।
ডায়োড পরিবর্তী প্রবাহকে একমুখী প্রবাহে রূপান্তরিত করে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৭,০৫৫.
দর্পণ প্রধানত কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
দর্পণ: 
- যে মসৃণ তলে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে তাকে দর্পণ বলে। 
- দর্পণ প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। সমতল দর্পণ ও 
২। গোলীয় দর্পণ। 

- আবার গোলীয় দর্পণ ২ প্রকার। 
যথা- 
১। উত্তল দর্পণ ও 
২। অবতল দর্পণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭,০৫৬.
জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনের ফলে কোন ধরনের তরঙ্গ সৃষ্টি হয়? 
  1. তাপ তরঙ্গ
  2. যান্ত্রিক তরঙ্গ
  3. আলোক তরঙ্গ
  4. তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ: 
- তরঙ্গ সৃষ্টির জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয়। 
- যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন ঐ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না সেই পর্যাবৃত্ত আন্দোলনকে তরঙ্গ বলে। 

যান্ত্রিক তরঙ্গ: 
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলন ছাড়াও তরঙ্গ সৃষ্টি হতে পারে। 
- কিন্তু জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে বলা হয় যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
যেমন- পানির তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ, ভূমি কম্পনের ফলে সৃষ্ট ভূ-তরঙ্গ ইত্যাদি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 

তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ: 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো এবং তাপ আসে তরঙ্গাকারে। 
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে মহাশূন্য, কোন জড় মাধ্যম নেই। 
- আলো, তাপ মাধ্যম ছাড়াই বিশেষ ধরনের তরঙ্গ আকারে সঞ্চারিত হয়, এ তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
যেমন- বেতার তরঙ্গ, এক্স-রশ্মি, গামা রশ্মি ইত্যাদি তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। 

যান্ত্রিক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
১. মাধ্যমের কণার স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 
২. মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপরে নিচে অথবা সামনে পেছনে স্পন্দিত হতে থাকে। মাধ্যমের মধ্য দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় না। 
৩. তরঙ্গ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ বা স্থানান্তর করে। 
৪. তরঙ্গের কণাগুলো বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়। স্পন্দনের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে বাড়ে। কিন্তু তরঙ্গ সুষম বেগে সঞ্চারিত হয়। অর্থাৎ কণাগুলোর স্পন্দন গতি এবং তরঙ্গ বেগ এক নয়। 
৫. তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণাগুলোর স্পন্দনের দিক এবং তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক এক নাও হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৫৭.
অ্যালবিউমিন প্রোটিনের অপর নাম কী?
  1. ক) গ্লোবিউলিন
  2. খ) প্রোলামিন
  3. গ) লিউকোসিন
  4. ঘ) প্রোটামিন
ব্যাখ্যা
অ্যালবিউমিন প্রোটিনের অপর নাম হচ্ছে লিউকোসিন, ল্যাকটালবুমিন। 

প্রোটিন মূলত উচ্চ ভর বিশিষ্ট নাইট্রোজেন যুক্ত জটিল যৌগ যা অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার। জীন নির্দিষ্ট অনুক্রমে অনেকগুলি আলফা অ্যামিনো অ্যাসিড পেপটাইড বন্ধন দ্বারা পলিপেপটাইড শৃঙ্খল পলিমার তৈরি করে এবং তা সঠিকভাবে ভাঁজ হয়ে একটি প্রোটিন তৈরি হয়।

ভৌত,রাসায়নিক গুনাবলি এবং দ্রবনীয়তার ভিত্তিতে প্রোটিনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা :-
ক) সরল প্রোটিন ৷
খ) যুগ্ম প্রোটিন ৷
গ) উৎপাদিত প্রোটিন ৷

দ্রবণীয়তার ওপর ভিত্তি করে সরল প্রোটিনকে আবার ৭ ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা :-
১) অ্যালবিউমিন
২) গ্লোবিউলিন 
৩) গ্লুটোলিন 
৪) প্রোলামিন
৫) হিস্টোন
৬) প্রোটামিন
৭) স্ক্লোরোপ্রোটিন

যুগ্ম প্রোটিনকেও আবার ৬ ভাগে ভাগ করা যায় ৷
যথা :-
১) নিউক্লিওপ্রোটিন
২) গ্লাইকোপ্রোটিন বা মিউকোপ্রোটিন
৩) লিপোপ্রোটিন
৪) ক্রোমোপ্রোটিন 
৫) মেটালোপ্রোটিন
৬) ফসফোপ্রোটিন 

প্রোটিনের কাজ সমূহ- 
-দেহের বৃদ্ধি, কোষ গঠন ও ক্ষয়পূরণ হল প্রোটিনের প্রধান কাজ।
-তাপ শক্তি উৎপাদন।
-দেহস্থ উৎসেচক, হরমোন ইত্যাদি সৃষ্টি করা।
-অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিডের চাহিদা পূরণ করা হল প্রোটিনের অন্যতম কাজ।

সূত্র- ৭৯ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৫৮.
বহিঃকর্ণে আছে-
  1. ক) ইউট্রিকুলাস
  2. খ) স্যাকুলাস
  3. গ) কোনোটিই না
  4. ঘ) পিনা
ব্যাখ্যা
পিনা, কর্ণকুহর আর কর্ণপটহ আছে বহিঃকর্ণে। ম্যালিয়াস, ইনকাস, স্টেপিস নিয়ে মধ্যকর্ণ গঠিত। ইউট্রিকুলাস এবং স্যাকুলাস অন্তঃকর্ণের অংশ।
উৎসঃ ষষ্ঠ শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৭,০৫৯.
ভূ-পৃষ্ঠে কোন ধাতু সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে?
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. লোহা
  3. তামা
  4. জিংক
ব্যাখ্যা

• ভূ-পৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অ্যালুমিনিয়াম ধাতু। পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ৮% অংশই অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে গঠিত। এটি মূলত বক্সাইট আকরিকের মধ্যে পাওয়া যায় এবং এর রাসায়নিক বিক্রিয়াশীলতা খুব বেশি হওয়ায় এটি শুদ্ধ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায় না। অ্যালুমিনিয়াম হালকা, জং ধরে না এবং তাপ ও বিদ্যুৎ ভালোভাবে পরিবাহন করতে পারে। এই কারণে এটি বিমান, গাড়ি, বৈদ্যুতিক তার, প্যাকেজিং ও নির্মাণ শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, লোহা, তামা ও জিংক তুলনামূলকভাবে কম পরিমাণে পাওয়া যায়। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো — ক) অ্যালুমিনিয়াম।

• পৃথিবীতে যে ধাতুটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় তা হলো অ্যালুমিনিয়াম।
- ভূপৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু (৮.১%)। লোহার পরিমাণ ৫%, ক্যালসিয়াম ৩.৬%।
- কিন্ত প্রকৃতিতে বিশুদ্ধ অ্যালুমিনিয়াম পাওয়া যায় না।
- অ্যালুমিনিয়াম অন্যান্য মৌলিক পদার্থের সাথে যৌগ গঠন করে অবস্থান করে। এগুলো হলো অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক। 
- এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বক্সাইট, ক্রায়োলাইট, কোরানডাম ইত্যাদি।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০৬০.
PVC এর সংকেত -
  1. CH2=CHCl
  2. CH3-CHCl
  3. CH3CCl
  4. CH2=CCl
ব্যাখ্যা
PVC এর সংকেত CH2=CHCl
PVC এর পূর্ণ নাম - পলিভিনাইল ক্লোরাইড।
এটি শক্ত, কঠিন ও পলিথিনের তুলনায় কম নমনীয়। 
পানির পাইপ ও বিদ্যুৎ ইত্যাদির কাজে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস - নবম-দশম শ্রেণি, রসায়ন, বোর্ড বই
৭,০৬১.
কোথায় সারা বছরই দিন-রাত্রি সমান থাকে?
  1. কর্কটক্রান্তি অঞ্চলে
  2. মকরক্রান্তি অঞ্চলে
  3. মেরু অঞ্চলে
  4. বিষুবীয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
দিন-রাত্রি সমান:
- ২১ জুন উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বিপরীত অবস্থা বিরাজ করে।
- ২২ ডিসেম্বর উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বিপরীত অবস্থা বিরাজ করে।
২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখা বা বিষুবীয় রেখার (০°) উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এই দুই দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়
- ২১শে মার্চ উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল থাকায় এই উত্তর গোলার্ধে বিষুব 'বাসন্ত বিষুব’ (Vernal Spring Equinox) নামে অভিহিত।
- অপরদিকে ২৩শে সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করায় উত্তর গোলার্ধে এই বিষুব ‘শারদ বিষুব' (Autumnal Equinox) নামে অভিহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০৬২.
নিচের কোন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই?
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. ইট
  3. পারদ
  4. অ্যামোনিয়া
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও  নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০৬৩.
কোন বস্তু পরিমাপের জন্য ভার্নিয়ার ক্যালিপার্স ব্যবহার করা হয়?
  1. বিদ্যুৎ প্রবাহ
  2. তাপমাত্রা
  3. দৈর্ঘ্য
  4. ভর
ব্যাখ্যা

• ভার্নিয়ার ক্যালিপার্স একটি সুনির্দিষ্ট যন্ত্র যা মূলত দৈর্ঘ্য, ব্যাসার্ধ, গভীরতা বা ভিতরের এবং বাইরের আকার পরিমাপ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি খুব ক্ষুদ্র পরিবর্তনও ঠিকভাবে মাপতে সক্ষম, কারণ এতে একটি ভার্নিয়ার স্কেল থাকে যা মূল স্কেলের সঙ্গে মিলিয়ে পরিমাপের ফলাফলকে আরও নিখুঁত করে। ভার্নিয়ার ক্যালিপার্স ব্যবহার করে আমরা কোনো বস্তুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, গভীরতা বা ব্যাসার্ধ সহজে এবং সঠিকভাবে মাপতে পারি। এটি সাধারণত বিদ্যুৎ প্রবাহ বা তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য নয় এবং ভর পরিমাপের জন্যও ব্যবহার হয় না। তাই, ভার্নিয়ার ক্যালিপার্স মূলত দৈর্ঘ্য পরিমাপের যন্ত্র।

- সঠিক উত্তর: গ) দৈর্ঘ্য।

• ভার্নিয়ার ক্যালিপার্স:
- ভার্নিয়ার ক্যালিপার্স (Vernier Calipers) হলো একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাপক যন্ত্র যা খুব ছোট দৈর্ঘ্য বা ব্যাস, গভীরতা ইত্যাদি 0.01 সেন্টিমিটার পর্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়।
- ভার্নিয়ার স্কেল বিশিষ্ট ক্যালিপার্স দিয়ে ছোট দৈর্ঘ্য খুব সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়, যা সাধারণ স্কেলের চেয়ে অনেক বেশি নিখুঁত ।

• এটি প্রধানত দুটি স্কেল নিয়ে গঠিত। যথা:
– প্রধান স্কেল ও
– ভার্নিয়ার স্কেল।

• এটি দিয়ে পরিমাপ করা হয়- 
- ছোট বস্তু বা নলাকার জিনিসের দৈর্ঘ্য, বাহ্যিক ব্যাস বা প্রস্থ। 
- ফাঁপা বস্তুর অভ্যন্তরীণ ব্যাস। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান; ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

৭,০৬৪.
পৃথিবীর উপগ্রহ কয়টি?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর উপগ্রহ একটি- চাঁদ। বুধ ও শুক্রের কোন উপগ্রহ নেই। মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহ দুইটি। যথা- ফোবোস এবং ডিমোস। উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০৬৫.
'Cosmic Ray'-কে বাংলায় বলা হয়-
  1. রঞ্জন রশ্মি
  2. তেজস্ক্রিয় রশ্মি
  3. ক্যাথড রশ্মি
  4. মহাজাগতিক রশ্মি
ব্যাখ্যা
মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays): 
 - 'Cosmic Ray'-কে বাংলায় বলা হয় মহাজগতিক রশ্মি। 
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়। 
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। 
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক। 
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
৭,০৬৬.
সেলুলয়েডকে পশমী কাপড় দিয়ে ঘর্ষণ করলে সেলুলয়েডে কোন ধরণের আধানের সৃষ্টি হবে?
  1. ক) ধনাত্মক আধান
  2. খ) ঋণাত্মক আধান
  3. গ) নিরপেক্ষ আধান
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- আধান দুই প্রকার: ধনাত্মক আধান ও ঋণাত্মক আধান। 
- দুটি ভিন্ন বস্তুকে পরস্পরের সাথে ঘর্ষণ করলে বস্তু দুটি তড়িতগ্রস্থ হয়। একটিতে ধনাত্মক আধান ও অপরটিতে ঋণাত্মক আধানের সৃষ্টি হয়। 
- কাচ দন্ডকে রেশমী কাপড় দিয়ে ঘষলে কাচে যে ধরণের আধান পাওয়া যায় তা ধনাত্মক আধান।
- অ্যাম্বার দন্ডকে পশমী কাপড় দিয়ে ঘষলে অ্যাম্বার যে ধরণের আধান পাওয়া যায় তা ঋণাত্মক আধান।
- সেলুলয়েডকে পশমী কাপড় দিয়ে ঘর্ষণ করলে সেলুলয়েডে ঋণাত্মক আধানের সৃষ্টি হবে এবং পশমী কাপড়ে ধনাত্মক আধানের সৃষ্ট হবে।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৭,০৬৭.
নিচের কোন স্কেলটি সূক্ষ্মতম?
  1. ক) স্লাইড ক্যালিপার্স
  2. খ) স্ক্রুগজ
  3. গ) মিটার স্কেল
  4. ঘ) স্ফেরোমিটার
ব্যাখ্যা
স্ক্রু গজ
- স্ক্রু গজকে মাইক্রোমিটার স্ক্রু গজও বলা হয়।
- এটি ইস্পাত দ্বারা নির্মিত হয়।
- এই যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়।

স্লাইড ক্যালিপার্স
যে পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তুর দু প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্ব নির্ণয় করে পরিমাপ করা যায় তাকে স্লাইড ক্যালিপার্স বলে।

[অপশনগুলোর মধ্যে স্ক্রুগজ স্কেলটি সূক্ষ্মতম।]
৭,০৬৮.
‘সান্ডা’ কোন শ্রেণির প্রাণী?
  1. পক্ষী
  2. সরীসৃপ
  3. উভচর
  4. স্তন্যপায়ী
ব্যাখ্যা
সান্ডা:
- সান্ডা হলো এক ধরনের টিকটিকি জাতীয় সরীসৃপ, যার বৈজ্ঞানিক নাম Uromastyx।
- এটি Agamidae (আগামিডে) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি মূলত মরু অঞ্চলে বসবাসকারী এক ধরনের শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী।
- এর আদি নিবাস আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মরু অঞ্চল।
- দেখতে গুইসাপের মতো হলেও সান্ডার দেহ তুলনামূলক ছোট এবং লেজ মোটা ও খাঁজযুক্ত।
- এই লেজ সে আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহার করে থাকে।
- সাধারণত সান্ডা তৃণভোজী প্রাণী, তবে মাঝে মাঝে পোকামাকড় বা ছোট টিকটিকিও খায়।
- দিনের বেলা রোদ পোহানো এবং রাতে মাটির গর্তে আশ্রয় নেওয়া এদের স্বাভাবিক জীবনধারা।
- এটি বিষাক্ত নয় এবং সাপ জাতীয় প্রাণী নয়।

উৎস: United News of Bangladesh.
৭,০৬৯.
ব্যাকটেরিয়ার ভুল বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
  2. এরা সাধারণত বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
  3. এরা অকোষীয়।
  4. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক।
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য: 
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব। 
- ব্যাকটেরিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে- 
১. ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার। 
২. এরা আণুবীক্ষণিক জীব। 
৩. এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। 
৪. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না। 
৫. এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর। 
- এরা সাধারণত দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে। 
৬. এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান। এর সাথে মিউরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিড থাকে। 
৭. ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল। 
৮. এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে। 
৯. এরা সাধারণত মৌলিক রং ধারণ করতে পারে। যেমন- গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ। 
১০. এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু থাকে। এতে ক্রোমোসোমাল হিস্টোন প্রোটিন থাকে না। 
১১. কিছুকিছু ব্যাকটেরিয়াতে নিউক্লিয়ার বহির্ভূত DNA থাকে যা সাধারণত প্লাজমিড নামে পরিচিত। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৭০.
কোন দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোনো পরিবর্তন ঘটে না?
  1. সম্পৃক্ত দ্রবণে
  2. অসম্পৃক্ত দ্রবণে
  3. অতিপৃক্ত দ্রবণে
  4. খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• দ্রবণ (Solution): 
- কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় যেকোনো ভৌত অবস্থায় একাধিক উপাদানের সম্পূর্ণ সমসত্ত্ব মিশ্রণ, যাতে উপাদানগুলোর পরিমাণের অনুপাত একটি সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকে তাকে দ্রবণ বলা হয়। 
- দ্রবণের প্রতিটি অংশের গঠন, ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদান কম পরিমাণে থাকে অর্থাৎ যা দ্রবীভূত হয়, তাকে দ্রব বলা হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদানের পরিমাণ বেশি এবং যার মধ্যে দ্রব যোগ করা হয় তাকে দ্রাবক বলা হয়।

দ্রবণের শ্রেণিবিভাগ: 
- ঘনমাত্রা অনুযায়ী দ্রবণকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। আথা: 

i. সম্পৃক্ত দ্রবণ (Saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক দ্রব দ্রবীভূত হয়ে যে দ্রবণ উৎপন্ন করে তাকে ঐ নির্দিষ্ট তাপমাত্রার সম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- এ অবস্থায় দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 

ii. অসম্পৃক্ত দ্রবণ (Unsaturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত হতে পারে তার চেয়ে কম পরিমাণ দ্রব দ্রবণে উপস্থিত থাকলে তাকে অসম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- অসম্পৃক্ত দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে দ্রবণের ঘনমাত্রা বেড়ে যায়। 

iii. অতিপৃক্ত দ্রবণ (Super-saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকতে পারে যদি কোনো বিশেষ কারণে দ্রবণে আরও অতিরিক্ত দ্রব দ্রবীভূত থাকে তবে ঐ দ্রবণকে অতিপৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- অতিপৃক্ত দ্রবণ অস্থায়ী প্রকৃতির হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৭১.
নিচের কোনটি গ্রীন হাউস গ্যাস নয়? 
  1. ওজোন
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. হিলিয়াম
  4. মিথেন
ব্যাখ্যা
- 'হিলিয়াম' গ্রীন হাউস গ্যাস নয়।

গ্রীন হাউস গ্যাস: 
- গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে - 
• জলীয় বাষ্প, 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড, 
• নাইট্রাস অক্সাইড, 
• মিথেন, 
• ওজোন, 
• ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি। 
- কার্বন ডাই সালফাইড এবং কার্বনিল সাইফাইড পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, ব্রিটানিকা এবং Royal Society of Chemistry.
৭,০৭২.
E.coli এক ধরণের-
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) শৈবাল
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। ব্যাকটেরিয়া (এক বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব। গাঠনিক , উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়।

ব্যাকটেরিয়া মাটিতে, পানিতে, বাতাসে, জীবদেহের বাইরে এবং ভেতরে বাস করে। এমনকি মানুষের অন্ত্রেও ব্যাকটেরিয়া বাস করে। যেমন- Escherichia coli। এরা আমাদেরকে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স সরবরাহ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৭,০৭৩.
ভাজক টিস্যুর কোষগুলো কী ধরনের হয়? 
  1. ছোট এবং পাতলা
  2. বড় এবং ডিম্বাকার
  3. গোলাকার এবং স্বচ্ছ
  4. ছোট এবং সেলুলোজহীন
ব্যাখ্যা
টিস্যু: 
- অবিচ্ছিন্ন ও সুসংগঠিত একগুচ্ছ কোষ যাদের উৎপত্তি এবং প্রধান প্রধান কাজ একই প্রকার সে কোষগুচ্ছকে টিস্যু বলা হয়। 
- কাজেই টিস্যু বলতে এমন একগুচ্ছ কোষকে বুঝায় যে কোষগুলো একই স্থান থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে এবং সংঘবদ্ধভাবে অবস্থান করে একই কাজ সম্পন্ন করে। 
- উদ্ভিদ টিস্যু প্রধানত দু'প্রকার। যথা- (ক) ভাজক টিস্যু এবং (খ) স্থায়ী টিস্যু। 

ভাজক টিস্যু: 
- বিভাজনে সক্ষম কোষ দ্বারা গঠিত টিস্যুকেই ভাজক টিস্যু বলা হয় এবং ভাজক টিস্যুর কোষগুলোকে ভাজক কোষ বলা হয়। 
- ভাজক কোষের বিভাজনের মাধ্যমেই উদ্ভিদের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে এবং ভাজক টিস্যু থেকেই অন্যান্য স্থায়ী টিস্যুর উৎপত্তি হয়। 
- ভাজক কোষগুলো ডিম্বাকার বা আয়তাকার, বড় নিউক্লিয়াস এবং ঘন সাইটোপ্লাজমবিশিষ্ট হয়। 
- এদের কোষ প্রাচীর সেলুলোজ নির্মিত এবং পাতলা, এতে সাধারণত কোষ গহ্বর থাকে না। 
- এদের কোষগুলোর মাঝে সাধারণত কোন আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকে না।
- উদ্ভিদের মূলের অগ্রভাগে এবং কান্ড শীর্ষে সাধারণত ভাজক টিস্যু থাকে।
- অবস্থান অনুযায়ী এরা শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যু। আবার উৎপত্তি অনুসারে এরা প্রাথমিক ভাজক টিস্যু নামে পরিচিত, কারণ ভ্রূণ থাকাকালীন এদের উৎপত্তি হয়।
- ভাজক টিস্যুর কোষগুলোর বিভাজনের ফলে উদ্ভিদের মূল এবং কান্ডের দৈর্ঘ্যে বাড়ে।
- নগ্নবীজী এবং দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের পরিণত মূল ও কান্ডের অভ্যন্তরে নতুন করে টিস্যুর সৃষ্টি হয়।
- স্থায়ী টিস্যু হতে এদের উৎপত্তি হয় বলে এদেরকে সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু বলা হয়।
- অবস্থান অনুযায়ী এরা পার্শ্বীয় ভাজক টিস্যু, এ টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনের ফলে মূল ও কান্ডের বেড় বাড়তে থাকে অর্থাৎ মূল ও কান্ড ক্রমান্বয়ে মোটা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৭৪.
জোয়ার-ভাটা সংঘটিত হয়- 
  1. পৃথিবীর সাথে সূর্যের আকর্ষণের ফলে
  2. পৃথিবীর সাথে চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণের ফলে 
  3. পৃথিবীর সাথে গ্রহ নক্ষত্রের আকর্ষণের ফলে
  4. গ্রহ-নক্ষত্রের সাথে চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণের ফলে 
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীর সাথে চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণের ফলে জোয়ার-ভাঁটা সংঘটিত হয়। 

জোয়ার-ভাটা: 
- মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়। 
- চন্দ্র অপেক্ষা সূর্য ২ কোটি ৬০ লক্ষ গুণ বড় এবং পৃথিবী অপেক্ষা সূর্য প্রায় ১৩ লক্ষ গুণ বড় হলেও পৃথিবী থেকে সূর্য গড়ে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং পৃথিবী থেকে চন্দ্র গড়ে প্রায় ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এ কারণেই পৃথিবীর ওপর চন্দ্রের আকর্ষণ ক্ষমতা সূর্য অপেক্ষা বেশি। ফলে জোয়ার ভাটায় চন্দ্রের প্রভাব বা চাঁদের আকর্ষণ বেশি লক্ষ্য করা যায়। 
- জোয়ার ভাটাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
১. মুখ্য জোয়ার: 
- চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এই আকর্ষণে চারদিক থেকে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরূপ সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে। 

২. গৌণ জোয়ার: 
- চাঁদ পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক থেকে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে। 

৩. ভরা কটাল বা তেজ কটাল: 
- অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে।

৪. মরা কটাল: 
- চন্দ্র ও সূর্য যখন পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে তখন চন্দ্রের আকর্ষণে সেখানে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। এই ধরনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০৭৫.
ডায়োডের প্রধান ব্যবহার কী? 
  1. তাপ উৎপাদন করা 
  2. শব্দ সংকেত বৃদ্ধি করা 
  3. এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করা 
  4. বিদ্যুৎ উৎপাদন করা 
ব্যাখ্যা

ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- 'ডায়োড' মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,০৭৬.
পানিতে দ্রবীভূত করলে এসিডের অণু বিয়োজিত হয়ে কী আয়ন দান করে?
  1. ক) হাইড্রোজেন আয়ন
  2. খ) হিলিয়াম আয়ন
  3. গ) হাইড্রোক্সাইড আয়ন
  4. ঘ) অক্সাইড আয়ন
ব্যাখ্যা

এসিড এক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্য যা পানিতে দ্রবীভূত করলে এসিডের অণু বিয়োজিত হয়ে (ভেঙে) হাইড্রোজেন আয়ন বা প্রােটন (H+) দান করে।
যেমন- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) এরা তীব্র এসিড৷
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি

৭,০৭৭.
নিচের কোনটি কলেরা রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. প্রোটোজোয়া
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

কলেরা:
- কলেরা (Cholera) একটি পানিবাহিত সংক্রামক রোগ।
- এই রোগের কারণ হলো Vibrio cholerae নামক একটি ব্যাকটেরিয়া।
- এই ব্যাকটেরিয়া দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং অন্ত্রে সংক্রমণ সৃষ্টি করে।

রোগের লক্ষণ:
- হঠাৎ পানির মতো পাতলা ডায়রিয়া।
- বমি।
- শরীরের পানি ও লবণ ঘাটতি।
- চোখ বসে যাওয়া, দুর্বলতা, ও যদি দ্রুত চিকিৎসা না হয়, মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

প্রতিকারের উপায়:
- বিশুদ্ধ পানি পান করা।
- সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা।
- ভ্যাকসিন (Oral Cholera Vaccine - OCV) গ্রহণ।
- ORS (Oral Rehydration Salts) দ্রুত প্রয়োগ।

উৎস:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।
- World Health Organization (WHO)

৭,০৭৮.
NASA-এর সদরদপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. নিউইয়র্ক
  2. লস এঞ্জেলেস
  3. ওয়াশিংটন ডি.সি
  4. শিকাগো
ব্যাখ্যা

NASA:
- NASA এর পূর্ণরূপ: National Aeronautics and Space Administration.
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠিত: ২৯ জুলাই, ১৯৫৮।
- বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু: ১ অক্টোবর, ১৯৫৮।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডি.সি, যুক্তরাষ্ট্র।
- মূল কাজ: মহাকাশ গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন, মহাকাশ অনুসন্ধান।

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট।

৭,০৭৯.
যে সকল প্রাণী এক মানব দেহ থেকে অন্য মানব দেহে রোগ জীবাণু বহন করে, তাদের কী বলে?
  1. এজেন্ট
  2. হোস্ট
  3. ভেক্টর
  4. হোস্টেজ
ব্যাখ্যা
• ভেক্টর (Vector):
- যে সকল প্রাণী এক মানব দেহ থেকে অন্য মানব দেহে রোগ জীবাণু বহন করে, তাদের রোগ বাহক বা ভেক্টর (Vector) বলে।
- ভেক্টর এমন প্রাণী, সাধারণত কীটপতঙ্গ বা আর্থ্রোপড, যারা রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু (যেমন, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা প্রোটোজোয়া) বহন করে এবং এক ব্যক্তির দেহ থেকে অন্য ব্যক্তির দেহে স্থানান্তর করে।
- এরা নিজে রোগ সৃষ্টি করে না, তবে রোগ ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- উদাহরণ:
• মশা:
- এডিস মশা: ডেঙ্গু এবং জিকা ভাইরাস বহন করে।
- কিউলেক্স মশা: ফাইলেরিয়া রোগ ছড়ায়।
- এনোফিলিস মশা: ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু বহন করে।

উৎস: ব্রিটানিকা ও একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি প্রাণীবিজ্ঞান।
৭,০৮০.
'হলদে মোজাইক ভাইরাস' রোগের প্রতিকারের জন্য কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়?
  1. রোগমুক্ত বীজ বপন করতে হবে
  2. শস্য পর্যায় অবলম্বন করতে হবে
  3. ম্যালাথিয়ন স্প্রে করতে হবে
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
হলদে মোজাইক ভাইরাস:
- প্রথমে কচি পাতা আক্রান্ত হয়।
- আক্রান্ত পাতার উপর হলদে সবুজ দাগ পড়ে।
- এতে দূর থেকে আক্রান্ত ফসল হলদে মনে হয়।
- মোজাইক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ হয়।
- আক্রান্ত বীজ ও বায়ুর মাধ্যমে এ রোগ বিস্তার লাভ করে।
- সাদা মাছি এ রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে থাকে।

⇒ এ রোগ প্রতিকারের জন্য-
i) রোগমুক্ত বীজ বপন করতে হবে,
ii) আক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে,
iii) শস্য পর্যায় অবলম্বন করতে হবে,
iv) রোগ প্রতিরোধী জাতের মাসকালাই চাষ করতে হবে ও,
ⅴ) সাদা মাছি দমনের জন্য ম্যালাথিয়ন স্প্রে করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৮১.
চা ও কফিতে যে পদার্থটি শরীরকে চাঙ্গা করে তার নাম কি?
  1. ক) টলুইন
  2. খ) গ্লুকোজ
  3. গ) ক্যাফেইন
  4. ঘ) টেনিন
ব্যাখ্যা
আমরা প্রতিনিয়ত চা, কফি, চকলেট, হাল্কা পানীয় যেমন- কোকোকোলা, সেভেন-আপ, পেপসি এমনকি ওষুধের সাথেও ক্যাফেইন গ্রহন করছি। এটি তিক্ত স্বাদযুক্ত একটি পদার্থ। আমাদের দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় এর অনেক প্রভাব আছে। বিশেষ করে ক্যাফেইন আমাদের দেহের স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করতে পারে। এবং তা আমাদের শরীরকে চাঙ্গা করতে পারে।
উৎসঃ দৈনিক যুগান্তর
৭,০৮২.
১ খাদ্য ক্যালরি প্রায় কত কিলোজুলের সমান?
  1. ১.৫ কিলোজুল
  2. ২.৪ কিলোজুল
  3. ৩.৪ কিলোজুল
  4. ৪.২ কিলোজুল
ব্যাখ্যা

খাদ্য শক্তি পরিমাপের একক: 
- শক্তির বিভিন্ন রূপ রয়েছে। 
- পুষ্টি উপাদান থেকে নির্গত শক্তি হচ্ছে তাপ শক্তি। 
- তাপ শক্তির একক হচ্ছে ক্যালরি। 
- পদার্থবিজ্ঞানের হিসেবে এক কিলোগ্রাম (1000 গ্রাম) পানির উষ্ণতা 1 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি করতে 1000 ক্যালরি বা 1 কিলোক্যালরি তাপের প্রয়োজন হয়। 
- পুষ্টিবিদেরা খাদ্যের শক্তি বোঝানোর জন্যেও "ক্যালরি” শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে খাদ্যের ক্যালরি আসলে কিলোক্যালরি। 
উল্লেখ্য, বিভ্রান্তি এড়াতে এখানে খাদ্য শক্তি বোঝানোর জন্য খাদ্য ক্যালরি অথবা কিলোক্যালরি শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। 
- আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে, খাদ্যের শক্তিমূল্য প্রকাশের ক্ষেত্রে খাদ্য ক্যালরি কিংবা কিলোক্যালরির পরিবর্তে কিলোজুল একক ব্যবহার করা উচিত। 
এক্ষেত্রে, 1 খাদ্য ক্যালরি = 1 কিলোক্যালরি = 4.2 কিলোজুল (প্রায়)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,০৮৩.
Which of the following is a source of solar energy?
  1. ক) Nuclear fusion
  2. খ) Chemical combustion
  3. গ) Ionization
  4. ঘ) Nuclear Fission
ব্যাখ্যা
আমাদের দেশের সূর্যের শক্তির সবটুকু ব্যবহারের ব্যবস্থা নেই।
আমেরিকা, জাপান প্রভৃতি দেশ সৌরশক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে থাকে। পৃথিবীতে আগত মোট সৌরশক্তির ব্যবহার করা হয় না।
৩২ মিনিটে যে পরিমাণ সৌরশক্তি পতিত হয় তার সবটুকু যদি ব্যবহার করা যেত তাহলে তা দিয়ে যে কোনো দেশের শক্তি চাহিদা মেটানো যেত।
সৌরশক্তি ব্যবহারে পরিবেশের কোনো দুষণ হয়না এবং বিপদের সম্ভাবনা কম।
প্রকৃতপক্ষে সূর্যের শক্তির উৎস পারমাণবিক শক্তি, কারণ সূর্যে ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন হয়।
এ শক্তি পৃথিবীতে বিকিরিত হয়।
সৌরশক্তির সকল উৎস ফিউশন বিক্রিয়া।

উৎস : সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭,০৮৪.
নিচের কোনটি মৌলিক রং নয়?
  1. লাল
  2. নীল
  3. সবুজ
  4. হলুদ
ব্যাখ্যা
তিনটি মৌলিক রং হচ্ছে লাল, নীল, সবুজ। 

এই ৩টি রং এর সমন্বয়ে বাকী রং গুলো তৈরি করা যায়।
লাল ও সবুজ মিলে হলুদ রং তৈরি হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা 
৭,০৮৫.
জঁ ফ্রেডেরিক জোলিও ছিলেন একজন নোবেলজয়ী -
  1. অর্থনীতিবিদ
  2. চিকিৎসক
  3. পদার্থবিজ্ঞানী
  4. রসায়নবিজ্ঞানী
ব্যাখ্যা
- বাংলায় পদকের নাম ‘জুলিও কুরি’ বলা হলেও এর ফরাসি উচ্চারণ ‘জোলিও ক্যুরি’।
- ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী জঁ ফ্রেডেরিক জোলিও ক্যুরি ১৯৫৮ সালে মৃত্যুবরণ করলে বিশ্বশান্তি পরিষদ তাদের শান্তি পদকের নাম ১৯৫৯ সাল থেকে রাখে ‘জোলিও ক্যুরি’।
- ফ্রেডেরিকের মূল নাম ছিল জঁ ফ্রেডেরিক জোলিও। ফ্রেডেরিকের স্ত্রী ইরেন ক্যুরি। তিনিও বিজ্ঞানী।
- বিয়ের পর ফ্রেডেরিক ও ইরেন উভয়ে উভয়ের পদবি গ্রহণ করেন এবং একজনের নাম হয় জঁ ফ্রেডেরিক জোলিও ক্যুরি এবং অন্যজনের নাম ইরেন জোলিও ক্যুরি।
- পরে যৌথভাবে তাঁরা নোবেল পুরস্কারও লাভ করেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রেডেরিক জোলিও ক্যুরি শুধু বিজ্ঞানী হিসেবেই কাজ করেননি, তিনি গেরিলা বাহিনীতে যোগ দিয়ে এবং তাদের জন্য হাতিয়ার তৈরি করেও অবদান রাখেন।
- তাঁর অবদানের কারণেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরিসমাপ্তি সহজতর হয়। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এই যুদ্ধ পরিসমাপ্তি ছিল খুবই জরুরি।
- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশ্ব শান্তি পরিষদ জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করে ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে।

তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো
৭,০৮৬.
ড্রাই ক্লিনিং এ ব্যবহৃত হয় -
  1. কস্টিক সোডা
  2. পটাশিয়াম স্টিয়ারেট
  3. কঠিন কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. ট্রাই ক্লোরো ইথেন
ব্যাখ্যা

DRYCLEANING SOLVENTS Historically, a number of different chemicals have been utilized as drycleaning solvents. These include: camphor oil, turpentine spirits, benzene, kerosene, white gasoline, petroleum solvents (primarily petroleum naphtha blends), chloroform, carbon tetrachloride, perchloroethylene, trichloroethylene, 1,1,2-trichlorotrifluoroethane, glycol ethers, 1,1,1-trichloroethane, decamethylcylcopentasiloxane, n-propyl bromide and liquid carbon dioxide.
Source: dnr.wi.gov

৭,০৮৭.
উত্তল লেন্সের অপর নাম কী?
  1. অপসারী লেন্স
  2. অবতল লেন্স
  3. ক্ষীণ মধ্য লেন্স
  4. অভিসারী লেন্স
ব্যাখ্যা
লেন্স: 
- দুটি গোলকীয় অথবা একটি গোলকীয় এবং একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক আলোক মাধ্যমকে লেন্স বলে। 
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা-  
১। অভিসারী বা উত্তল লেন্স এবং 
২। অপসারী বা অবতল লেন্স। 

অভিসারী বা উত্তল লেন্স: 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে অভিসারী লেন্স বলে। 

অপসারী বা অবতল লেন্স: 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে অপসারী লেন্স বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৮৮.
বাদুড় কত কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করতে সক্ষম?
  1. ক) 80 kHz
  2. খ) 90 kHz
  3. গ) 100 kHz
  4. ঘ) 120 kHz
ব্যাখ্যা

বাদুড় ওড়ার সময় শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে। বাদুড়ের তৈরি এই শব্দ আমরা শুনতে পাই না, কারণ শব্দটি আলট্রাসাউন্ড অর্থাৎ আমাদের শােনার বাইরের কম্পাঙ্কের শব্দ।
- বাদুড় প্রায় 100 kHz কম্পনের শব্দ তৈরি করতে পারে।
- বাদুড় এই শব্দের প্রতিধ্বনি শোনার মাধ্যমে অন্ধকারে চলাফেরা করে।

উৎসঃ বিজ্ঞান - ৮ম শ্রেণি

৭,০৮৯.
কোনটি বায়ু পরাগায়নের উদাহরণ?
  1. ধান
  2. সরিষা
  3. কচু
  4. শিমুল
ব্যাখ্যা
ধান বায়ু পরাগায়নের একটি উদাহরণ।

• পরাগায়ণ:
- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর ঐ ফুলের বা অন্য ফুলের গর্ভমুন্ডে পতিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে।

• পরাগায়ন দুই প্রকার। যথা:
১. স্ব-পরাগায়ন:
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্বপরাগায়ন বলে।
• উদাহরণ:
- ধুতুরা,
- শিম,
- টমেটো,
- তুলা, ইত্যাদি।

২. পর পরাগায়ন:
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে তখন তাকে পর পরাগায়ন বলে।
• বায়ু পরাগায়ন:
- ধান,

- গম,
- ভুট্টা,
- ইক্ষু, ইত্যাদি।

• পতঙ্গ পরাগায়ন:
- জবা,
- কুমড়া,
- সরিষা,
- গোলাপ,  ইত্যাদি।

•  প্রাণীপরাগায়ন:
- কদম,
- কলা,
- কচু,
- শিমুল, ইত্যাদি।

• পানি পরাগায়ন:
- পাতা শ্যাওলা,
- কাঁটা শ্যাওলা, ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০৯০.
ভিটামিন-বি ১-এর অভাবে কোন্ রোগ হয়?
  1. রিকেটস
  2. স্কার্ভি
  3. বেরিবেরি
  4. পেলেগ্রা
ব্যাখ্যা
- ভিটামিন বি-১ এর অভাবে 'বেরিবেরি' নামক রোগ হয়। 

ভিটামিন বি-১ বা থায়ামিন: 
- ভিটামিন বি-১ এর রাসায়নিক নাম থায়ামিন। 
- থায়ামিন পানি, উচ্চ তাপ ও ক্ষারে নষ্ট হয়। 

থায়ামিনের অভাবজনিত অবস্থা: 
১. থায়ামিনের অভাবে ক্ষুধামন্দা/অরুচি হয়। 
২. বদহজম হয়। 
৩. বেরিবেরি নামক রোগ হয়। 
৪. দুর্বলতা ও হাত পায়ের অবসন্নতা দেখা দেয়। 
৫. পরিপাকের ব্যাঘাত ঘটে। 

বেরিবেরি রোগ: 
- থায়ামিনের অভাবে সৃষ্ট বেরিবেরি রোগ দুই প্রকার। 
যথা- 
১. আর্দ্র বেরিবেরি এবং 
২. শুষ্ক বেরিবেরি। 

উৎস: গার্হস্থ্যবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৯১.
বিদ্যুৎ একটি চৌম্বকীয় তরঙ্গ- কে প্রমাণ করেন?
  1. ক) মাইকেল ফ্যারাডে
  2. খ) চার্লস-অগাস্টিন ডি কুলম্ব
  3. গ) ম্যাক্সওয়েল
  4. ঘ) আইনস্টাইন 
ব্যাখ্যা

১৮৬৪ সালে ম্যাক্সওয়েল প্রমাণ করেন যে, বিদ্যুৎ একটি চৌম্বকীয় তরঙ্গ।
কোন তড়িৎক্ষেত্রে চুম্বক বলরেখার মধ্যে ইলেকট্রন আধানের দ্রুত আন্দোলন বা হ্রাসবৃদ্ধি ঘটলে ইলেকট্রনগুলো অতিরিক্ত শক্তি অর্জন করে বলরেখার সমান্তরালে শক্তি বিকিরণ যা তরঙ্গাকারে চারদিকে দ্রুতবেগে ছড়িয়ে পড়ে। একে তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ বলে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান

৭,০৯২.
এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়াকে বলা হয় -
  1. সংযোজন বিক্রিয়া
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3. জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া
  4. প্রশমন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়া: 
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড তথা এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- যে বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়াও বলা হয়। 
যেমন - লঘু NaOH দ্রবণে ধীরে ধীরে লঘু HCl দ্রবণ করলে NaCl (লবণ) এবং H2O (পানি) উৎপন্ন হয়। 
- প্রশমন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয় অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়া একটি তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০৯৩.
নিম্নের কোনটি মিঠা পানির উৎস নয়? 
  1. হ্রদ
  2. মহাসাগর
  3. নদী
  4. ভূগর্ভস্থ পানি
ব্যাখ্যা
বারিমণ্ডল: 
- 'Hydrosphere'-এর বাংলা প্রতিশব্দ বারিমণ্ডল। 
- 'Hydro' শব্দের অর্থ পানি এবং 'Sphere' শব্দের অর্থ মণ্ডল। 
- পৃথিবীর সর্বত্র রয়েছে পানি, এ বিশাল জলরাশি পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় থাকে যেমন- কঠিন (বরফ), গ্যাসীয় (জলীয়বাষ্প) এবং তরল। বায়ুমণ্ডলে পানি রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসেবে, ভূপৃষ্ঠে রয়েছে তরল ও কঠিন অবস্থায় এবং ভূপৃষ্ঠের তলদেশে রয়েছে ভূগর্ভস্থ তরল পানি। 
- বারিমণ্ডল বলতে বোঝায় পৃথিবীর সকল জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ। 
- পৃথিবীর সকল জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগ পানি রয়েছে সমুদ্রে (মহাসাগর, সাগর ও উপসাগর) এবং মাত্র ৩ ভাগ পানি রয়েছে নদী, হিমবাহ, ভূগর্ভস্থ, হ্রদ, মৃত্তিকা, বায়ুমণ্ডল ও জীবমণ্ডলে। 
- পৃথিবীর সমস্ত পানিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- লবণাক্ত ও মিঠা পানি। 
- পৃথিবীর সকল মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের জলরাশি লবণাক্ত এবং নদী, হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ পানি মিঠা পানির উৎস। 
- জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ ও শতকরা হার হচ্ছে- 
• সমুদ্র = ৯৭.২৫, 
• হিমবাহ = ২.০৫, 
• ভূগর্ভস্থ পানি = ০.৬৮, 
• হ্রদ = ০.০১, 
• মাটির আর্দ্রতা = ০.০০৫, 
• বায়ুমণ্ডল = ০.০০১, 
• নদী = ০.০০০১ এবং 
• জীবমণ্ডল = ০.০০০০৪ ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০৯৪.
নিচের কোন অঙ্গ থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়?
  1. পেপসিন
  2. অগ্ন্যাশয়
  3. পিটুইটারী গ্রান্ড
  4. লিভার
ব্যাখ্যা
ডায়াবেটিস:
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ।
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়।
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়।
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়।
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না।
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০৯৫.
Electrical energy is converted into sound energy through which device?
  1. ক) Dynamo
  2. খ) Microphone
  3. গ) Loud speaker
  4. ঘ) Generator
ব্যাখ্যা
• শক্তির রূপান্তর:
- লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা -  বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মাইক্রোফোন - শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- জেনারেটর বা ডায়নামো - যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- বৈদ্যুতিক মোটর - তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রুপান্তরিত হয়।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৯৬.
বাংলাদেশ সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন করে -
  1. ২০১৫ সালে
  2. ২০১৪ সালে
  3. ২০১৩ সালে
  4. ২০১২ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা:
• বাংলাদেশে প্রায়শই ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, নদীভাঙন, শৈত্যপ্রবাহ ও বজ্রপাতসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবেলা করতে হয়। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগের তীব্রতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বাংলাদেশের জাতীয় নীতি, পরিকল্পনা, এবং বিভিন্ন কর্মসূচী প্রণয়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় রয়েছে-
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২,
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৫,
- দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি ২০১৯,
- জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ২০২১-২৫,
- জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা - ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০।

সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
 
 
৭,০৯৭.
নিচের কোনটি ফলের কমলা বর্ণের জন্য দায়ী?
  1. জ্যান্থোফিল
  2. ক্যাপসিসিন
  3. ক্যারোটিন
  4. লাইকোপিন
ব্যাখ্যা

• ফলের কমলা বর্ণের জন্য দায়ী- ক্যারোটিন।
• হলুদ বর্ণের জন্য দায়ী- জ্যান্থোফিল।
• লাল বর্ণের জন্য দায়ী- লাইকোপিন।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৭,০৯৮.
পতঙ্গ পরাগায়ন ঘটে কোনটিতে?
  1. কলা
  2. কদম
  3. গোলাপ
  4. তুলা
ব্যাখ্যা
পরাগায়ণ:
• ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর ঐ ফুলের বা অন্য ফুলের গর্ভমুন্ডে পতিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে।

• পরাগায়ন দুই প্রকার। যথা:
১. স্ব-পরাগায়ন: একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্বপরাগায়ন বলে।
- উদাহরণ: ধুতুরা, সরিষা, কুমড়া, শিম, টমেটো, তুলা ইত্যাদি।

২. পর পরাগায়ন: একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে তখন তাকে পর পরাগায়ন বলে।
- বায়ু পরাগায়ন: ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু ইত্যাদি।
- পতঙ্গ পরাগায়ন: সূর্যমুখী, জুঁই, সরিষা, গোলাপ ইত্যাদি।
- প্রাণীপরাগায়ন: কদম, কলা, কচু, শিমুল ইত্যাদি।
- পানি পরাগায়ন: পাতা শ্যাওলা, কাঁটা শ্যাওলা ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০৯৯.
চা কোন অঞ্চলের উদ্ভিদ?
  1. নাতিশীতোষ্ণ
  2. মৌসুমী
  3. ক্রান্তীয়
  4. ভূমধ্যসাগরীয়
ব্যাখ্যা

চা প্রধানত ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলের ফসল।
- চা বলতে সচরাচর সুগন্ধযুক্ত ও স্বাদবিশিষ্ট এক ধরনের উষ্ণ পানীয়কে বোঝায় যা চা পাতা পানিতে ফুটিয়ে বা গরম পানিতে ভিজিয়ে তৈরী করা হয়। 
- চা গাছ থেকে চা পাতা পাওয়া যায়। চা গাছেরবৈজ্ঞানিক নাম: ক্যামেলিয়া সিনেনসিস।
- 'চা পাতা' কার্যত চা গাছের পাতা, পর্ব ও মুকুলের একটি কৃষিজাত পণ্য যা বিভিন্ন উপায়ে প্রস্তুত করা হয়।
- ইংরজিতে চা-এর প্রতিশব্দ হলো টি (tea)। গ্রীকদেবী থিয়ার নামানুসারে এরূপ নামকরণ করা হয়েছিল। - চীনে ‘টি’-এর উচ্চারণ ছিল ‘চি’, পরে হয়ে যায় ‘চা’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭,১০০.
মাটির অম্লতা দূর করতে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. চুন
  2. ইউরিয়া
  3. অ্যামোনিয়াম সালফেট
  4. ভিনেগার
ব্যাখ্যা

চুন (Lime) হলো একটি ক্ষারধর্মী পদার্থ, যা মাটির অম্লতা প্রশমিত করার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী উপাদান।

• ক্ষারক:
- সকল ক্ষারক লাল লিটমাস কাগজের রং পরিবর্তন করে নীল করে।
- পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারক অর্থাৎ ক্ষারসমূহ পানিতে হাইড্রক্সাইড আয়ন (OH-) উৎপন্ন করে।
যেমন-
• NaOH → Na+ + OH-
• KOH → K+ + OH-
- ক্ষারকএসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ উৎপন্ন করে।
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে।

• প্রাত্যহিক জীবনে ক্ষারকের ব্যবহার:
- মৌমাছি হুল ফুটালে এবং পিঁপড়া কামড় দিলে শরীরে যেহেতু ফরমিক এসিড, মেলিটিন এবং অ্যাপামিন নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, তাই সেগুলি জ্বালাপোড়া এবং ফুলে যাওয়ার কারণ হয়ে থাকে।
- এসিডের প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় করতে ক্ষারক ধর্মীয় মলম, লোশন (যেমন চুন), ক্যালামিন (যা জিংক কার্বোনেট) এবং বেকিং সোডা ব্যবহার করা হয়, যা এই জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে।

• মাটির এসিডিটি দূর ক্ষারকের ব্যবহার:
- মাটিতে এসিডিটি বৃদ্ধি পেলে উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়, যা প্রশমিত করতে ক্ষারক যেমন- চুন (CaO), মিল্ক অব লাইম Ca(OH)2 এবং চুনাপাথর (CaCO3) ব্যবহৃত হয়।
- এই প্রক্রিয়াকে 'লাইমিং' (Liming) বলা হয়।
- বাসাবাড়িতে পরিষ্কারক হিসেবে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ব্যবহৃত হয়।
- টুথপেস্ট ও টুথপাউডার ক্ষারীয় পদার্থ হয়ে মুখে এসিডীয় অবস্থা নিরসন করে দাঁতের ক্ষয় রোধ করে।
- সাবান যেমন- শক্ত সাবান, তরল সাবান এবং কাপড় কাচার সাবান ক্ষারক হিসেবে তৈরি হয়। আবার শেভিং ফোম এবং নরম সাবানও ক্ষারক দিয়ে তৈরি।
- গ্যাস্ট্রিক ব্যথা বা এসিডিটির জন্য ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Mg(OH)2) ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Al(OH)3) এন্টাসিড হিসেবে কাজ করে।

উল্লেখ্য,
- ইউরিয়া, অ্যামোনিয়াম সালফেট এবং ভিনেগার মাটির অম্লতা দূর না করে বরং অম্লতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।