বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৭ / ১৪০ · ১,৬০১১,৭০০ / ১৪,০৮০

১,৬০১.
পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে কোনটি সাহায্য করে?
  1. ক) ছত্রাক
  2. খ) প্রোটোজোয়া
  3. গ) ভাইরাস
  4. ঘ) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়া হলো আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব।
- বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক সর্ব প্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান।
- ব্যাকটেরিয়া কোষ গোলাকার, দণ্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে। 
ক) কক্কাস: কোনো কোনো ব্যাকটেরিয়া কোষের আকৃতি গোলাকার। এরা কক্কাস ব্যাকটেরিয়া। এরা এককভাবে অথবা দলবেঁধে থাকতে পারে। যেমন- নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া।
খ) ব্যাসিলাস: এরা দেখতে লম্বা দণ্ডের ন্যায় । ধনুষ্টংকার, রক্তামাশ ইত্যাদি রোগ এরা সৃষ্টি করে।
গ) কমা: এরা বাঁকা দণ্ডের ন্যায় আকৃতির ব্যাকটেরিয়া। মানুষের কলেরা রোগের ব্যাকটেরিয়া এ ধরনের।
ঘ) স্পাইরিলাম: এ ধরণের ব্যাকটোরিয়ার আকৃতি প্যাঁচানো। 

ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা:
• মৃত জীবদেহ ও আবর্জনা পঁচাতে সাহায্য করে।
• একমাত্র ব্যাকটেরিয়াই প্রকৃতি থেকে মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে
• দই তৈরি করতেও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্য নিতে হয়।
• বিভিন্ন জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি হয়। 
- ব্যাকটেরিয়া জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি।
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে জীবের কাঙ্খিত বৈশিষ্ট্য পাওয়ার জন্য জীনগত পরিবর্তনের কাজে ব্যাকটেরিয়াকে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৬০২.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
  1. স্টিফেন হকিং
  2. জি. ল্যামেটার
  3. এডুইন হাবল
  4. আলবার্ট আইন্সটাইন
ব্যাখ্যা
জর্জ লেমিটার: বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা:
- তিনি ১৯২৭ সালে বিগ ব্যাং তত্ত্ব (Big Bang Theory) প্রথম প্রস্তাব করেন।
- ল্যামেটার "অ্যাটমিক হিপোথিসিস" নামে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি পৃথিবী এবং মহাবিশ্বের সৃষ্টির একটি নতুন তত্ত্ব দেন।
- তিনি পরামর্শ দেন যে, মহাবিশ্ব এক সময়ে একক বিন্দু বা "প্রাইমল আটম" থেকে বিস্ফোরিত হয়েছিল, এবং সেই বিস্ফোরণ থেকেই মহাবিশ্বের বিস্তার শুরু হয়।
- এটি পরবর্তীতে বিগ ব্যাং তত্ত্ব নামে পরিচিতি পায়। ল্যামেটার মহাবিশ্বের বিস্তারকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের ধারণা দেন।
- পরে, এডউইন হাবল (Edwin Hubble) তার পর্যবেক্ষণ দিয়ে ল্যামেটারের তত্ত্বের সমর্থন দেন।
- হাবল তার গবেষণায় দেখেন যে, দূরের গ্যালাক্সিগুলো পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, যা মহাবিশ্বের বিস্তারকে প্রমাণ করে।

অন্যদিকে, 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই ‘A Brief History of Time’. 

উৎস: American Museum of Natural History.
১,৬০৩.
কচুরীপানা পানিতে ভাসে?
  1. ক) শিকড় লম্বা বলে
  2. খ) কাণ্ড ফাঁপা বলে
  3. গ) পাতাগুলো ছড়ানো বলে
  4. ঘ) সবগুলোই ঠিক
ব্যাখ্যা
• কচুরিপানা পানিতে সহজে ভাসতে পারে, কারণ এদের কাণ্ড ফাঁপা বলে
- কচুরিপানা সহ অধিকাংশ জলজ উদ্ভিদের কান্ড ফাঁপা।
- এদের কান্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে। তাই এরা পানিতে ভাসতে পারে।
- এই বায়ু কুঠুরী জলজ উদ্ভিদকে পানিতে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬০৪.
কোনটি সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ?
  1. আল্ট্রা ভায়োলেট
  2. এক্স-রে
  3. রেডিও ওয়েভ
  4. গামা রে
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে ছোট হয় সেটাকে আমরা বলি আল্ট্রা ভায়োলেট আলো।
- আরো ছোট হলে এক্স-রে আরো ছোট হলে গামা রে- যেটা তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে বের হয়।
- আবার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে বড় হয় সেটাকে আমরা বলি ইনফ্রারেড, আরো বড় হলে মাইক্রোওয়েভ এবং আরো বড় হলে রেডিও ওয়েভ।
- সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট আলোকে গামা রে বলে এবং সবচেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট আলোকে রেডিও ওয়েভ বলে। 
---------
- গামা-রে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পাল্লা 5 x 10-11 থেকে 5 x 10-15 বা এর চেয়ে কম।
- ক্যান্সার, টিউমার ইত্যাদি রোগ নির্ণয়ে এক্স-রে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু, এসবের চিকিৎসায় Gamma Ray ব্যবহৃত হয়।

[সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
১,৬০৫.
একটি বালিকা দোলনায় বসে দোল খাচ্ছে, সে দোলনায় উঠে দাঁড়ালে দোলনকালের কী পরিবর্তন ঘটবে?
  1. কমবে
  2. বাড়বে
  3. শূন্য হবে
  4. পরিবর্তন হবে না
ব্যাখ্যা
দোলনকাল (Time Period) :
একটি পূর্ণদোলনের জন্য কোনো কণা যে সময় নেয় তাকে পর্যায়কাল বা দোলনকাল (T) বলা হয় । এর মাত্রা হলো সময়ের মাত্রা T এবং একক হলো সেকেন্ড (s)।
 
আমরা জানি, সরল দোলকের ক্ষেত্রে, T ∝ √L, যেখানে L = কার্যকরী দৈর্ঘ্য। 

বালিকা দোলনায় উঠে দাঁড়ালে কার্যকরী দৈর্ঘ্য কমে যাবে, ফলে দোলনকাল কমে যাবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি।
১,৬০৬.
কত ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় আকাশে পানির কনা জমে যায় এবং শিলা আকারে পৃথিবীতে নেমে আসে?
  1. -8° C
  2. -20° C
  3. -50° C
  4. -60° C
ব্যাখ্যা

• আকাশে পানি কণার জমে যাওয়ার তাপমাত্রা নির্ভর করে মূলত বাতাসের তাপমাত্রা এবং পানির অবস্থা (তরল বা বাষ্প) এর উপর। সাধারণত, তাপমাত্রা -8°C থেকে -10°C-এর মধ্যে হলে ছোট ছোট পানি কণাগুলো বরফে পরিণত হতে শুরু করে। তবে, যখন শিলা বা বরফের আকারে পৃথিবীতে বৃষ্টি বা তুষার নামে নেমে আসে, তখন এটি অনেক কম তাপমাত্রায় ঘটে। সাধারণ আবহাওয়াগত গবেষণায় দেখা যায়, বৃষ্টির পানি বা ধূলিকণার চারপাশে বরফ গঠনের জন্য প্রয়োজন হয় প্রায় -20°C তাপমাত্রা। তাই আকাশে পানি কণা জমে শিলা বা বরফ আকারে পৃথিবীতে নেমে আসার জন্য সবচেয়ে সঠিক তাপমাত্রা হলো খ) -20° C। এটি মূলত বরফবীজণ প্রক্রিয়ার কারণে ঘটে।
 
• আকাশে পানির কনা জমে শিলা আকারে পৃথিবীতে পড়া (Hail Formation):
- যখন মেঘের ভেতরে তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামে, তখন পানির কণা জমে কণা আকারে বরফে পরিণত হয়।
- সাধারণত এই প্রক্রিয়ায় পানি খুব দ্রুত জমে এবং বড় বড় বরফের টুকরা (শিলা) তৈরি হয়।
- বরফের এই শিলাগুলি মেঘের ভেতরের বাতাসের প্রবাহের কারণে উপরের দিকে ওঠানামা করতে থাকে এবং আরও বরফ জমতে থাকে।
- যেহেতু এই প্রক্রিয়ার জন্য তাপমাত্রা খুব নিম্নে (-20° C) থাকা প্রয়োজন, তাই শিলা আকারে বরফ পৃথিবীতে পড়ে।
- বরফের শিলার আকার এবং ওজন মেঘের ভেতরের তাপমাত্রা ও বাতাসের গতির উপর নির্ভর করে।

সুতরাং, আকাশে পানির কনা জমে শিলা আকারে পৃথিবীতে পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা হলো -20° C।  
সঠিক উত্তর: খ) -20° C

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

১,৬০৭.
পৃথিবীতে কোন বস্তুর মুক্তিবেগের মান কত?
  1. ক) 1.7 kms-1
  2. খ) 5.4 kms-1
  3. গ) 11.2 kms-1
  4. ঘ) 21.9 kms-1
ব্যাখ্যা
সংজ্ঞা:
- সর্বাপেক্ষা কম যে বেগে কোনো বস্তুকে খাড়া ওপরের দিকে নিক্ষেপ করলে তা আর পৃথিবীতে ফিরে আসে না সে বেগকে মুক্তিবেগ বলে।

মুক্তিবেগের মান:
- কোনো বস্তুকে এমন গতিশক্তি দিতে হবে যাতে সেটি পৃথিবীর আকর্ষণ কাটিয়ে মহাশূন্যে চলে যেতে পারে।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে কোনো বস্তুকে অসীমে নিয়ে যেতে যে কাজ করতে হবে বস্তুটিকে নিক্ষেপের সময় সে গতিশক্তি প্রদান করতে হবে। এরূপ গতিশক্তি অর্জন করতে যে বেগ দিতে হবে তাই মুক্তিবেগ Ve
- পৃথিবীর মুক্তিবেগের মান 11.2 kms-1
অর্থাৎ, কোন বস্তুকে এই বেগে নিক্ষেপ করলে তা পৃথিবীর আকর্ষণ কাটিয়ে মহাশূন্যে চলে যাবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ড. শাহজাহান তপন। 
১,৬০৮.
মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টেরল হিসেবে পরিচিত কোনটি? 
  1. LDL
  2. DDL
  3. HDL
  4. TDL
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। 
- মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ ও টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে। 
- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে। 
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে। 
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম- 
- উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein - HDL)। 
- নিম্ন ঘনত্ববিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein - LDL)। 
- রক্তে HDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী। 
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 
- LDL এর পরিমাণ 150 mg/dl এর বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 
- রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ 100 - 200 mg/d. 
- রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬০৯.
সূর্য কী?
  1. একটি গ্রহ
  2. একটি উপগ্রহ
  3. একটি নক্ষত্র
  4. একটি ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
সূর্য (Sun): 
- সূর্য একটি নক্ষত্র। 
- সূর্যের পৃষ্ঠের উত্তাপ প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস। 
- এটি হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড। 
- হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের। 
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। 
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। 
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরাই। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬১০.
বিএমআই ১৮.৫-২৪.৯ মানে কী বোঝায়? 
  1. অতিরিক্ত ওজন 
  2. শরীরের ওজন কম 
  3. মোটা হওয়ার প্রথম স্তর 
  4. সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান 
ব্যাখ্যা

বিএমআই (Body Mass Index): 
- বিএমআই (Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে। 
- শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এটি খুবই উপযোগী। 
• বিএমআই = দেহের ওজন (কেজি)/দেহের উচ্চতা (মিটার) 

বিএমআই মান ⇒ করণীয়: 
• ১৮.৫ -এর নিচে ⇒ শরীরের ওজন কম। পরিমিত খাদ্যগ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে। 
১৮.৫-২৪.৯ ⇒ এটি সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান। 
• ২৫.০-২৯.৯ ⇒ শরীরের ওজন অতিরিক্ত। ব্যায়াম করে অতিরিক্ত ওজন কমানো প্রয়োজন। 
• ৩০.০-৩৪.৯ ⇒ মোটা হওয়ার প্রথম স্তর। বেছে খাদ্যগ্রহণ ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৩৫.০-৩৯.৯ ⇒ মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর। পরিমিত খাদ্য গ্রহন ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৪০.০ -এর উপরে ⇒ অতিরিক্ত মোটাত্ব।মৃত্যুঝুঁকির আশঙ্কা। ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬১১.
কোনো পানির BOD মান যত বেশি হয়, তখন- 
  1. পানি ক্ষারীয় হয় 
  2. পানি বেশি দূষিত হয় 
  3. পানি কম দূষিত হয় 
  4. পানি নিরপেক্ষ হয় 
ব্যাখ্যা

BOD: 
- BOD এর পূর্ণ রূপ হলো Biological Oxygen Demand. 
অর্থাৎ, BOD এর বাংলা অর্থ হলো জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা। 
- এক লিটার পানিতে উপস্থিত পচনযোগ্য জৈব দূষককে ব্যাকটেরিয়ার মতো অণুজীব দ্বারা ভাঙতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে উক্ত পানির BOD বলে। 
- কোনো পানির BOD এর মান যত বেশি হয় সে পানি তত বেশি দূষিত হয়। 

COD: 
- COD এর পূর্ণরূপ হলো Chemical Oxygen Demand. 
অর্থাৎ, COD এর বাংলা অর্থ হলো রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা। 
- এক লিটার পানিতে উপস্থিত জৈব ও অজৈব দূষককে রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা ভাঙতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে উক্ত পানির COD বলে। 
- কোনো পানির COD এর মান যত বেশি হয় সে পানি তত বেশি দূষিত হয়। 

- BOD ও COD উভয়ই পানির দূষণ মাত্রা প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়। 
- কোনো পানির COD এর মান BOD অপেক্ষা বেশি হয়। কেননা, পানিতে উপস্থিত শুধু জৈব বস্তুকে ভাঙতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণ হলো BOD। অপরদিকে, সকল জৈব ও অজৈব দূষক তা অণুজীব দ্বারা পচনযোগ্য হোক বা না হোক তাদের রাসায়নিকভাবে সম্পূর্ণরূপে জারিত করতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে উক্ত পানির COD বলে। সুতরাং, একই পানির COD এর মান BOD অপেক্ষা বেশি হবে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬১২.
ভূমিকম্পের কম্পনের বেগ সর্বাপেক্ষা বেশি?
  1. ক) কেন্দ্রে
  2. খ) উপকেন্দ্রে
  3. গ) ভূ-অভ্যন্তরে
  4. ঘ) উপকেন্দ্রের চারপাশে
ব্যাখ্যা
• ভূমিকম্পের কম্পনের বেগ সর্বাপেক্ষা বেশি উপকেন্দ্রে
- ভূঅভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের ফলে আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলা হয়।
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র বলে।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র বলে।
- এই উপকেন্দ্র ভূমিকম্পের তীব্রতা সর্বাধিক হয়ে থাকে।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
- যে যন্ত্রের সাহাযে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।
- তবে ভূমিকম্পের তীব্রতা নির্ণয় করা হয় রিখটার স্কেলের সাহায্যে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬১৩.
নিচের কোনটি Viral Disease?
  1. Tuberculosis
  2. Whooping cough
  3. Diphtheria
  4. Influenza
ব্যাখ্যা
• Influenza ভাইরাসঘটিত রোগ।

• ভাইরাস ঘটিত রোগ:

- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ: জন্ডিস, পোলিও, জলাতঙ্ক, কোভিড-১৯, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
Tuberculosis বা যক্ষ্মা, Whooping cough ও Diphtheria ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৬১৪.
ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ সাধারণত কোথায় ঘটে? 
  1. চৌম্বক উত্তর মেরুতে
  2. মরুভূমির কেন্দ্রে
  3. সমুদ্রপৃষ্ঠের ঠিক নিচে
  4. টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে
ব্যাখ্যা
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব: 
- এই তত্ত্বের মূল ধারণা হলো, ভূ-পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত, এগুলোকে প্লেট বলা হয়। 
- এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের উপরে ভাসমান অবস্থায় আছে। 
- এই প্লেটগুলো প্রতিবছরে কয়েক সেন্টিমিটার কোনো একদিকে সরে যায়। 
- প্লেটগুলো কখনও একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যায়। আবার কখনও কখনও একে অন্যের দিকে আসে। 
- কখনও কখনও প্লেটগুলো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে ওঠে বা নিচে নামে। 

- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব দ্বারা ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ ব্যাখ্যা করা যায়। 
- দুইটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা ঘটে। 
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত থাকলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা আরও বাড়ে। 
- ধারণা করা হয়, প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয় । 
- তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়। এ গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে। একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে। 
- বেরিয়ে আসা গলিত তরল পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত। 
- একইভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে। একেই ভূমিকম্প বলে। 
- আজকাল বাংলাদেশেও ভূমিকম্প সংঘটিত হচ্ছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৬১৫.
মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে কী বলে? 
  1. ভিনেগার
  2. মেথিলেটেড স্পিরিট
  3. রেকটিফাইড স্পিরিট
  4. ফরমালিন
ব্যাখ্যা
ফরমালিন: 
- মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। 
- পরিমাণ হিসেবে 40% মিথান্যাল, 52% পানি ও 8% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রিত থাকে। 

ভিনেগার: 
- 6 -10% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। 

রেকটিফাইড স্পিরিট: 
- 95.6% ইথানল ও 4.4% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানলকে পানের অযোগ্য বা অসেবনীয় করার উদ্দেশ্যে রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল মিশ্রিত করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 

পাওয়ার অ্যালকোহল: 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে 30% ইথানলকে যোগ করে বিকল্প জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬১৬.
একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানের তৃতীয় শ্রেণির খাদক কোনটি?
  1. ব্যাঙ
  2. মশার শুককীট
  3. বক
  4. ভাসমান ক্ষুদ্র পোকা
ব্যাখ্যা
বাস্তুসংস্থান (Ecology): 
- পরিবেশের সাথে জীবের যে পারস্পরিক ক্রিয়া তার একটি শৃঙ্খলা রয়েছে যাকে বাস্তুসংস্থান বলা হয়। 
- বাস্তুসংস্থানকে ইংরেজিতে Ecology বলা হয়। এর উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Oikos যার অর্থ ঘর বা বসতি স্থান এবং Logos হচ্ছে বিজ্ঞান বা অধ্যয়ন। 
সুতরাং বাস্তুসংস্থান শব্দটির আভিধানিক অর্থ পৃথিবী বাসগৃহের তত্ত্বাবধায়ক বিজ্ঞান। তবে বাস্তুসংস্থান শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
- বৃহৎ অর্থে বাস্তুসংস্থান হলো পৃথিবীতে বসবাসকারী জীবগোষ্ঠির সাথে পরিবেশের সম্পর্ক অর্থাৎ জীবের সাথে পরিবেশের পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞানই হলো বাস্তুসংস্থান। 
যেমন- জলজ বাস্তুসংস্থান, স্থলজ বাস্তুসংস্থান, বনজ বাস্তুসংস্থান ইত্যাদি। 
- প্রত্যেকটি বাস্তুসংস্থান আলাদা এবং পরিপূর্ণভাবে শৃঙ্খলের মধ্যে টিকে আছে। আর প্রত্যেকটি শৃঙ্খলের উপর মানুষ নির্ভরশীল। 
- পরিবেশের এই শৃঙ্খলা যখন স্বাভাবিক নিয়মে বিরাজমান এবং চলমান থাকে তখন তাকে পরিবেশের ভারসাম্য অবস্থা বলে। 
- একটি পুকুরে বসবাসকারী জীব সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রধান হচ্ছে ভাসমান ও সঞ্চারমান ক্ষুদ্র জীব অর্থাৎ প্লাঙ্কটন। এছাড়া রয়েছে সবুজ শেওলা ও ক্ষুদ্র জলজ প্রাণি। - আর জড় উপাদানের মধ্যে রয়েছে পানি, মাটি ও সৌরশক্তি ইত্যাদি। 
- পুকুরের বাস্তুসংস্থানের উৎপাদক হচ্ছে সাধারণ ভাসমান ও অগভীর পানির বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ। 
যেমন- কচুরিপানা, শাপলা, হাইড্রিলা ইত্যাদি। 
- একটি পুকুরের প্রথম শ্রেণির খাদক হলো বিভিন্ন প্রকার ভাসমান ক্ষুদ্র পোকা, মশার শুককীট প্রভৃতি। 
- দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক হলো খামারি আকৃতির মাছ, ব্যাঙ, কচ্ছপ ইত্যাদি। 
- আর তৃতীয় শ্রেণির খাদকের মধ্যে রয়েছে বড় মাছ, বক, গাংচিল প্রভৃতি। 
- মৃত্যুর পর একই নিয়মে জীবাণু, মৃতজীবি ছত্রাক, কাঁদায় বসবাসকারী পোকা বিয়োজকের কাজ করে। 
- বিয়োজিত অজৈব লবণ পুকুরের উৎপাদক সম্প্রদায় খাদ্য উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে। এভাবে পুকুরের প্রত্যেকটি উপাদান স্বাভাবিক নিয়মে নিজ নিজ কার্যাদি সম্পন্ন করে থাকে। 
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তার সুশৃঙ্খল ধারা বজায় রেখে ভারসাম্য বজায় রাখছে। 
- কোনো কারণে এই শৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটলে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। পুকুরের বাস্তুসংস্থানের অন্তর্গত কোনো একটি শ্রেণি নষ্ট বা ধ্বংস হলে শৃঙ্খলা ভেঙ্গে যাবে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬১৭.
অলিন্দের সংকোচন কত সেকেন্ড স্থায়ী হয়?
  1. ক) ০.৭ সেকেন্ড
  2. খ) ০.১ সেকেন্ড
  3. গ) ০.৩ সেকেন্ড
  4. ঘ) ০.৫ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
অলিন্দের সংকোচন:
এটি ০.১ সেকেন্ড স্থায়ী হয়
এ সময় অলিন্দ দু'টি সংকুচিত অবস্থায় থাকে।
বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড কপাটিকা খুলে যায়।
ফলে ডান অলিন্দ থেকে CO2 সমৃদ্ধ রক্ত ডান নিলয়ে এবং বাম অলিন্দ থেকে O2 সমৃদ্ধ রক্ত বাম নিলয়ে প্রবেশ করে।
এই সময় পালমোনারি ও অ্যাওর্টিক সেমিলুনার কপাটিকাগুলো বন্ধ থাকে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৬১৮.
কোন গ্যাসটি গ্রীনহাউস গ্যাস নয়?
  1. কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. মিথেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. জলীয় বাষ্প
ব্যাখ্যা

নাইট্রোজেন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মূল উপাদান হলেও গ্রিনহাউস প্রভাব সৃষ্টি করে না। 

​গ্রীনহাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect):
- শীতপ্রধান দেশে গ্রীন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়। গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রীন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect) বলে।

​গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ:
- কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2),
- মিথেন (CH4),
- নাইট্রাস অক্সাইড (N2O),
- ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC), 
- ওজোন (O3), 
- জলীয় বাষ্প। 

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং Royal Society of Chemistry.

১,৬১৯.
পানি কোন তাপমাত্রায় বরফে পরিণত হয়?
  1. ০ °C
  2. ৪ °C
  3. ৩৯ °C
  4. ১০০ °C
ব্যাখ্যা
পানি: 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। 
- ৪°C সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। 
০°C তাপমাত্রায় পানি বরফে পরিণত হয়। 
- ১০০°C সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- এই তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব ১গ্রাম/সি.সি. বা ১০০০ কেজি/মিটার৩। 
- ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 
- প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি; বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
১,৬২০.
কোন ক্ষেত্রে কাজের পরিমাণ 1 জুল হবে? 
  1. 2 N বল প্রয়োগ করে 2 m সরণ সৃষ্টি হলে 
  2. 1 N বল প্রয়োগ করে 1 m সরণ সৃষ্টি হলে 
  3. 1 N বল প্রয়োগ করে 2 m সরণ সৃষ্টি হলে 
  4. 2 N বল প্রয়োগ করে 1 m সরণ সৃষ্টি হলে
ব্যাখ্যা

কাজ, বল ও সরণের মধ্যে সম্পর্ক: 
- কাজ পরিমাণ করতে হলে বল এবং সরণ এই দুটি রাশি জানা প্রয়োজন। কারণ কাজ সৃষ্টির জন্য বল ও সরণের প্রয়োজন হয়। 
- কাজ হচ্ছে বল ও সরণের গুণফল। 
- কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কোন দিক নেই।
- কাজের মাত্রা, [W] = ML2T-2 । 

কাজের একক: 
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়। 
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে (m)। 
অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)। 
- নিউটন মিটারকে জুল (J) বলা হয়। এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক। 
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬২১.
ক্রোমোজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাকে বলে-
  1. ক) ডিএনএ
  2. খ) জিন
  3. গ) আরএনএ
  4. ঘ) লোকাস
ব্যাখ্যা

- জীবের সব দৃশ্য এবং অদৃশ্যমান লক্ষণ নিয়ন্ত্রণকারী এককের নাম জিন।
- এর অবস্থান জীবের ক্রোমোজোমে।
- ক্রোমোজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাকে লোকাস বলে।
- সাধারণত একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট জিন থাকে।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাধিক জিন মিলিতভাবে একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশে সহায়তা করে।
- আবার কোনো কোনো সময় একটি জিন একাধিক বৈশিষ্ট্যও নিয়ন্ত্রণ করে।
- বিভিন্ন গবেষণার তত্ত্ব থেকে জানা গেছে জিনই বংশগতির নিয়ন্ত্রক।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

১,৬২২.
বলের মাত্রা কোনটি?
  1. ML2T2
  2. ML2T-1
  3. ML2T-3
  4. MLT-2
ব্যাখ্যা
• বলের মাত্রা MLT-2.

• মাত্রা:
- ভৌত রাশিগুলো এক বা একাধিক মৌলিক রাশি দ্বারা গঠিত হয়।
- সুতরাং যে কোনো ভৌত রাশিকে বিভিন্ন সূচকের এক বা একাধিক মৌলিক রাশির গুণফল হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
- কোনো ভৌত রাশিতে বিদ্যমান মৌলিক রাশি গুলোর সূচককে রাশিটির মাত্রা বলে।
- মৌলিক রাশি দৈর্ঘ্য, ভর ও সময়কে যথাক্রমে L, M ও T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- L কে দৈর্ঘ্যের মাত্রা, M কে ভরের মাত্রা, T কে সময়ের মাত্রা বলে।
- যেমন, বল = ভর × ত্বরণ। সুতরাং, বলের মাত্রা MLT-2.

- কাজের মাত্রা ML2T-2.
- শক্তির মাত্রা ML2T-2.
- টর্কের মাত্রা ML2T-2.
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T-3.

উৎস: পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬২৩.
ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যকরী একক -
  1. ক) নাসিকা
  2. খ) স্বরযন্ত্র
  3. গ) অ্যালভিউলাস
  4. ঘ) নাসাগহ্বর
ব্যাখ্যা
ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যকরী একক হচ্ছে অ্যালভিউলাস। 

- অ্যালভিউলাসগুলো ক্ষুদ্র বুদবুদ সদৃশ বায়ুকুঠুরী বিশেষ।
- ডান ফুসফুসে দশটি ও বাম ফুসফুসে আটটি লোবিউল থাকে।
- প্রতিটি লোবিউলে ৫০-৮০টি অ্যালভিওলি থাকে। 
- ফুসফুস শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আমাদের বুকের বাঁ দিকে রয়েছে হৃৎপিণ্ড।
- হৃৎপিণ্ডের দুই পাশজুড়েই ফুসফুসের অবস্থান। ফুসফুসের কাজ শ্বাস-প্রশ্বাসে সাহায্য করা। 
- প্রতিটি পূর্ণবয়স্ক মানুষ প্রতি মিনিটে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয় ১২ থেকে ১৮ বার এবং শিশুরা নেয় ২০ থেকে ৩০ বার। 

সূত্র- ১২৯ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬২৪.
আমাদের দেহকোষ রক্ত হতে গ্রহণ করে-
  1. ক) অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
  2. খ) অক্সিজেন ও রক্তের আমিষ
  3. গ) ইউরিয়া ও গ্লুকোজ
  4. ঘ) এমাইনো এসিড ও কার্বন ডাইঅক্সাইড
ব্যাখ্যা
রক্তের হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন ফুসফুস হতে কোষে এবং রক্তের মাধ্যমে গ্লুকোজ সমস্ত দেহে পরিবাহিত হয়। যা পরবর্তীতে দেহকোষ গ্রহণ করে নেয়।

উৎসঃ ৭ম শ্রেণি বিজ্ঞান বই।
১,৬২৫.
গাঢ় নাইট্রিক এসিড কোন রঙের কাচের বোতলে রাখা হয়?
  1. কালো
  2. সাদা
  3. বাদামি
  4. লাল
ব্যাখ্যা
গাঢ় নাইট্রিক এসিড: 
- নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে পানিতে দ্রবীভূত করে নাইট্রিক এসিড তৈরি করা হয়। 
- কম পরিমাণ পানিতে অধিক পরিমাণে NO2 গ্যাস দ্রবীভূত করে গাঢ় নাইট্রিক এসিড HNO3 তৈরি করা হয়। 
3NO2 + H2O → 2HNO3 + NO 

- গাঢ় নাইট্রিক এসিডের বোতলের মুখ খুললে হালকা কুয়াশার মতো গ্যাস বের হয় এবং তীব্র ঝাঁজালো গন্ধ পাওয়া যায়। 
- গাঢ় নাইট্রিক এসিড যে কাচের বোতলে রাখা হয় সেই বোতলের বর্ণ বাদামি হয়। 
- নাইট্রিক এসিড যে বাদামি কাচের বোতলে রাখা হয় সেই কাচের বোতলের মধ্যে যদি আলো প্রবেশ করে তবে বোতলের মধ্যের HNO3 আলোর উপস্থিতিতে ভেঙে যায়। 
- HNO3 যাতে আলোর উপস্থিতিতে বোতলের মধ্যে ভেঙে না যায় সেজন্য HNO3 কে বাদামি বোতলের মধ্যে রাখা হয়, কারণ বাদামি বোতলের মধ্যে আলো প্রবেশ করতে পারে না। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬২৬.
1 µF কত ফ্যারাডের সমান?
  1. 10-3 F
  2. 10-6 F
  3. 10-9 F
  4. 10-12 F
ব্যাখ্যা
ধারক (Capacitor): 
- কোনো বস্তুকে তাপ দিলে বস্তু তাপ ধারণ করে রাখে, তাই বস্তুকে তাপ ধারক বলা যায়। তেমনি যে বস্তু আধান ধারণ অর্থাৎ সঞ্চয় করে রাখে, তাকে আধান ধারক বা শুধু ধারক বলে। 
- পাত্রে পানি ঢাললে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, কোনো বস্তুকে তাপ দিলে তার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় তেমনি কোনো বস্তুতে আধান প্রদান করলে বস্তুর বিভব বৃদ্ধি পায়। 
- যে পরিমাণ আধান প্রদান করলে একটি বস্তুর বিভব 1V বৃদ্ধি পায় তাকে তার ধারকত্ব বলে। 
- ধারকত্বকে C দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ধারকত্বের একক ফ্যারাড (F)। 
ধরা যাক, একটি বস্তুতে q পরিমাণ আধান প্রদান করায় বস্তুটির বিভব হলো V । তাহলে বস্তুটিতে 1 বিভব বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় আধানের পরিমাণ বা বস্তুর ধারকত্ব, C = q/V 
সুতরাং 1(F) = 1(C)/1(V) = 1CV-1
- ধারকের একক ফ্যারাড (F) একটি বেশ বড় একক। এজন্য এর কতগুলো ছোট একক ব্যবহার করা হয়। 
১. 1 µF (মাইক্রো ফ্যারাড) = 10-6 F
২. 1 nF (ন্যানো ফ্যারাড) = 10-9 F এবং 
৩. 1 pF (পিকো ফ্যারাড) = 10-12 F. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬২৭.
নাইটিনল হলো -
  1. ক) এক ধরনের সংকর ধাতু
  2. খ) এক ধরনের এন্টিবায়োটিক
  3. গ) এক ধরনের আলোক যন্ত্র
  4. ঘ) একটি বিষাক্ত গ্যাস
ব্যাখ্যা
নাইটিনল হলো সংকর ধাতু যা নিকেল ও টাইটিনিয়ামের সমান আণবিক অনুপাতে তৈরী।
এটি নিকেল টাইটিনিয়াম নামেও পরিচিত।

নাইটিনল সংকর ধাতুটি দুটি খুবই অনন্য ও খুবই কাছাকাছি সম্পর্কযুক্ত ধর্ম প্রদর্শন করে।

১) আকৃতি ধরে রাখার অনন্য ক্ষমতা যাকে  Shape Memory বলে।
Shape memory হচ্ছে বিশেষ ধরনের বৈশিষ্ট যা নাইটিনলকে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পরিসরে তার আকৃতি ধরে রাখতে সাহায্য করে। নাইটিনল দিয়ে কোনো কিছু তৈরীর সময় নির্দিষ্ট আকৃতি দেওয়ার ক্ষত্রে তাপমাত্রা খুব বড় প্রভাবক। তৈরির সময়ের এই তাপমাত্রাকে রুপান্তরক তাপমাত্রা বলে।

২) বিশেষ ধরনের স্থিতিস্থাপকতা ( superelasticity বা pseudoelasticity)
নাইটিনলের বিশেষ ধরনের স্থিতিস্থাপকতা একটি ক্ষুদ্র তাপমাত্রার পরিসরে হয়ে থাকে যা এর রুপান্তর তাপমাত্রার বেশি। এই কারণেই বাঁকা তার টি এই রুপান্তর তাপমাত্রার বেশি তাপমাত্রার গরম পানিতে দেওয়ার ফলে সোজা হয়।

সূত্রঃ The Story of Nitinol: The Serendipitous Discovery of the Memory Metal and Its Applications;
১,৬২৮.
একটি বাল্বে '40W – 120V' লেখা আছে। বাল্বটির রোধ কত ওহম?
  1. 160 ohm
  2. 30 ohm
  3. 360 ohm
  4. 480 ohm
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি বাল্বে '40W – 120V' লেখা আছে। বাল্বটির রোধ কত ওহম?

সমাধান: 
এখানে,
বিভব পার্থক্য, V = 120V
ক্ষমতা, P = 40 W
রােধ, R = ?

আমরা জানি,
P = V2/R
⇒ R = V2/P
⇒ R = (120 × 120)/40
∴ R = 360 ohm
১,৬২৯.
এস্টারের কার্যকরী মূলক নিচের কোনটি?
  1. ক) -CHO
  2. খ) -CO
  3. গ) -OH
  4. ঘ) -COOR
ব্যাখ্যা
এস্টার
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে।
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -COOR
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধিযুক্ত হয়। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে।
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়।
- তেল, চর্বি, আঠা, সেলুলোজ, রঙ, ভার্ণিশ ইত্যাদির দ্রাবক হিসেবে এস্টার ব্যবহৃত হয়।
- বিউটাইল অ্যাসিটেট 'পেনিসিলিন' -এর দ্রাবক হিসেবে এস্টার ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৩০.
কোন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম আলাের তরঙ্গ তত্ত্ব প্রবর্তন করেন?
  1. ক) নিউটন
  2. খ) আইনস্টাইন
  3. গ) ম্যাক্সওয়েল
  4. ঘ) হাইগেনস
ব্যাখ্যা

আলােকের প্রকৃতি সম্মন্ধে যেসব তত্ত্ব উদ্ভাবিত হয়েছে সেগুলি হলাে
(i) নিউটনের কণিকা তত্ত্ব : এই তত্ত্বে সাহায্যে ঋজুগতি প্রতিফলন, প্রতিসরণ ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ব্যতিচার, সমবর্তন, অপবর্তন, বিচ্ছুরণ ব্যাখ্যা করা যায় না।
(ii) হাইগেনের তরঙ্গ তত্ত্ব : এই তত্ত্বের সাহায্যে প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।
(iii) ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্ব : এই তত্ত্বের সাহায্যে আলাের সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায় না।
(iv) আইনস্টাইনের কোয়ান্টাম তত্ত্ব : এই তত্ত্বের সাহায্যে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ, ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।
(উৎসঃ  ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান আলোকে )

১,৬৩১.
রক্তে প্লেইটলেট এর প্রধান কাজ কি?
  1. ক) O2 পরিবহন
  2. খ) রোগ প্রতিরোধ করা
  3. গ) রক্ত তঞ্চন করা
  4. ঘ) CO2 পরিবহন
ব্যাখ্যা
Platelets play an important role in the formation of a blood clot by aggregating to block a cut blood vessel and provide a surface on which strands of fibrin form an organized clot, by contracting to pull the fibrin strands together to make the clot firm and permanent, and, perhaps most important, by providing or mediating a series of clotting factors necessary to the formation of the clot. সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১,৬৩২.
ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়? 
  1. ফলধারণ
  2. নিষেক
  3. পরাগায়ন
  4. অঙ্কুরোদগম
ব্যাখ্যা
পরাগায়ন: 
- পরাগায়নকে পরাগসংযোগও বলা হয়। 
- পরাগায়ন ফল ও বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত। 
- একটি ফুলের পুংস্তবকের পরাগধানীতে আঙুলের ডগা ঘষে দেখা যায় হাতে হলুদ বা কমলা রঙের গুঁড়ো লেগেছে, এই গুঁড়ো বস্তুই পরাগরেণু। 
- ফুলের পরাগধানী হতে পরাগরেণু একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে। 
- পরাগায়ন দুই প্রকার। 
যথা- স্ব-পরাগায়ন ও পর-পরাগায়ন। 

১। স্ব-পরাগায়ন: 
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে। 
- সরিষা, কুমড়া, ধুতুরা ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে। 

২। পর-পরাগায়ন: 
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। 
- শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৬৩৩.
6 Ω, 8 Ω ও 9 Ω মানের তিনটি রোধ শ্রেণি সমবায়ে সংযুক্ত থাকলে তাদের তুল্য রোধ কত হবে? 
  1. 0.5 Ω
  2. 5.0 Ω
  3. 23 Ω
  4. 25 Ω
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: 6 Ω, 8 Ω ও 9 Ω মানের তিনটি রোধ শ্রেণি সমবায়ে সংযুক্ত থাকলে তাদের তুল্য রোধ কত হবে? 

সমাধান: 
দেওয়া আছে,
রোধ, R1 = 6 Ω, 
রোধ, R2 = 8 Ω এবং 
রোধ, R3 = 9 Ω 

যেহেতু রোধ তিনটি শ্রেণি সমবায়ে সংযুক্ত সুতরাং তুল্য রোধ, R = R1 + R2 + R3 
= 6 Ω + 8 Ω + 9 Ω 
= 23 Ω 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৩৪.
সাধারণত রক্তের কত ভাগ রক্তরস থাকে?
  1. ৪৫ ভাগ 
  2. ৫৫ ভাগ 
  3. ৬৩ ভাগ 
  4. ৭৫ ভাগ 
ব্যাখ্যা
রক্ত (Blood): 
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ, মৃদু ক্ষারীয় এবং লবণাক্ত তরল পদার্থ। 
- রক্ত হৃৎপিণ্ড, শিরা, উপশিরা, ধমনি, শাখা ধমনি এবং কৈশিকনালি পথে আবর্তিত হয়। 
- লোহিত রক্তকোষে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়। 
- হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে রক্তকোষের জন্ম হয়। 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্তকোষের সমন্বয়ে রক্ত গঠিত। 

রক্তরস (Plasma): 
- রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে রক্তরস বলে। 
- সাধারণত রক্তের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ রক্তরস থাকে। 
- রক্তরসের প্রধান উপাদান পানি। 
- এছাড়া বাকি অংশে কিছু প্রোটিন, জৈব যৌগ ও সামান্য অজৈব লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৩৫.
মদ তৈরীর জন্য আঙ্গুর চাষ করার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. Viticulture
  2. Herpetoculture
  3. Sericulture
  4. Cuniculture
ব্যাখ্যা
• Viticulture:
- ভিটিকালচার বা ওয়াইনগ্রোয়িং (ওয়াইন গ্রোয়িং) হল মদ তৈরীর জন্য আঙ্গুর চাষ করার প্রক্রিয়া।
- এটি হর্টিকালচার একটি শাখা।

অপশন আলোচনা:
• Herpetoculture:
- হার্পেটোকালচার হল জীবন্ত সরীসৃপ এবং উভচর প্রাণীদের বাণিজ্যিক প্রজনন প্রক্রিয়া।

• Sericulture:
- রেশম বা সিল্ক চাষের বিজ্ঞানসম্মত এবং আধুনিক প্রক্রিয়াকে সেরিকালচার বলে। 

• Cuniculture:
- কুনিকালচার হল প্রজনন এবং গৃহপালিত খরগোশকে তাদের মাংস, পশম বা উলের জন্য পশুসম্পদ হিসাবে লালন-পালন প্রক্রিয়া।

সূত্র: sciencedirect.
১,৬৩৬.
ভাইরাসের নিউক্লিক অ্যাসিডের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য? 
  1. সকল ভাইরাসে কেবল RNA থাকে
  2. সকল ভাইরাসে কেবল DNA থাকে
  3. সব ভাইরাসে DNA ও RNA দুটোই একসাথে থাকে
  4. ভাইরাসে কখনও DNA বা কখনও RNA থাকে, দুটো একসাথে থাকে না
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের রাসায়নিক গঠন: 
- রাসায়নিকভাবে ভাইরাসে দুটি উপাদান থাকে। 
যথা- নিউক্লিক অ্যাসিড এবং প্রোটিন। 
- ভাইরাসের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক অ্যাসিড, এটি একটি বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। 
- নিউক্লিক অ্যাসিড দুই ধরনের। 
যথা- DNA ও RNA। 
- অন্যান্য জীবদেহে একইসাথে DNA ও RNA অবস্থান করলেও ভাইরাস দেহে একই সাথে DNA ও RNA অবস্থান করে না। 
- ক্যাপসিড আবরণটি অসংখ্য প্রোটিন অণু দিয়ে গঠিত, ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রোটিন অণুকে ক্যাপসোমিয়ার বলা হয়। 
- ক্যাপসিড সাধারণত জৈবিক দিক দিয়ে নিষ্ক্রিয়, এরা নিউক্লিক অ্যাসিডকে রক্ষা করে, ভাইরাসকে পোষক দেহে সংক্রমণে সাহায্য করে এবং অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ করে। 
- কোন কোন ভাইরাসে (যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, হার্পিস এবং HIV ইত্যাদি) ক্যাপসিডের বাইরে জৈব পদার্থের একটি আবরণ থাকে। 
- এটি লিপিড, লিপোপ্রোটিন, শর্করা বা স্নেহ জাতীয় পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
- লিপিড বা লিপোপ্রোটিনের এক একটি স্তরকে পেপলোমিয়ার বলা হয়। 
- লিপোপ্রোটিনের আবরণ দিয়ে গঠিত ভাইরাসকে লিপোভাইরাস বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৩৭.
সুপরিবাহী পদার্থে valence band এবং conduction band -
  1. আলাদা থাকে
  2. ওভারল্যাপ থাকে
  3. অনেক দূরে থাকে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পরিবাহী পদার্থ: 
- যে সব পদার্থের মধ্যে যথেষ্ট মুক্ত ইলেকট্রন থাকে এবং যেগুলোর মধ্য দিয়ে খুব সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলাচল করতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- তামা, অ্যালুমিনিয়াম, রূপা, লোহা ইত্যাদি পরিবাহী পদার্থ। 

সুপরিবাহী পদার্থে বৈশিষ্ট্য: 
- পরিবাহীতে যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মাঝে কোন শক্তি ব্যবধান থাকে না। অর্থাৎ, Ep এর মান শূন্য হয়। 
- এক্ষেত্রে পরিবাহীর যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ড এর মধ্যে আংশিক উপরিলেপন ঘটে বা ওভারল্যাপ থাকে, কাজেই যোজন ইলেকট্রন খুব সহজেই পরিবহন ইলেকট্রনে পরিণত হতে পারে। 
- এই উপরিলেপনের জন্য পরিবাহীর দুই প্রান্তে খুব সামান্য বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহীতে প্রচুর পরিমাণে মুক্ত ইলেকট্রন থাকার ফলে এদের রোধ খুব কম হয় অর্থাৎ তড়িৎ পরিবাহিতা বেশি হয়। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৩৮.
E = mc2 কোন দুটির মধ্যে সম্পর্ক নির্দেশ করে?
  1. ক) ভর ও শক্তি
  2. খ) ভর ও ওজন
  3. গ) ওজন ও শক্তি
  4. ঘ) ভর ও বেগ
ব্যাখ্যা
ভরশক্তি সম্পর্ক : E=mc2
আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের সাহায্যে একটি বিখ্যাত সম্পর্ক বের করেন। এটি হলো ভর ও শক্তির সম্পর্ক। ভরকে শক্তিতে রূপান্তরের সম্পর্ক নিম্নোক্তভাবে লেখা যায়,
E = mc2
যেখানে,
E = মোট শক্তি
m= বস্তুর ভর এবং
C = আলোর দ্রুতি

এই সমীকরণটি আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের অন্যতম ফসল যা হলো ভর শক্তির একটি রূপ । আবার শক্তির ও ভর রয়েছে বা শক্তিও ভরের একটি রূপ । ভরকে শক্তিতে রূপান্তর তেজস্ক্রিয় পদার্থের ক্ষমতার উৎস এবং নিউক্লিয় ক্ষমতা (বিদ্যুৎ) উৎপাদনের ভিত্তি।


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র; একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
(ড. শাহজাহান তপন, মুহম্মদ আজিজ হাসান, ড. রানা চৌধুরী)
১,৬৩৯.
পোলিও রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত টিকার নাম কী? 
  1. DPT
  2. TT
  3. BCG
  4. OPV
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রাম: 
- রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে টিকার আবিষ্কার এবং এর প্রচলন মানুষের জন্য আশীর্বাদ। 
- টিকার মাধ্যমে ১৯৭৯ সালে চূড়ান্তভাবে নির্মূলের পূর্বে গুটি বসন্ত এককভাবে পৃথিবীর প্রায় ৩০-৪০ কোটি মানুষের প্রাণ হরণ করেছে। 
- আবিষ্কৃত পোলিও ভ্যাকসিন OPV এবং এর ব্যবহার দ্বারা বাংলাদেশ বর্তমানে পোলিও রোগ মুক্ত। 
- এই টিকা বা ভ্যাকসিনের জন্যই রুবেলা, হাম, মাম্পস, যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, পারটুসিস, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস ইত্যাদি রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে। 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়েকটি রোগ, যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- ভ্যাকসিনেশনের জাতীয় কর্মসূচীতে নিচের ছক অনুযায়ী টিকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়- 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৪০.
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা ঘটে কখন?
  1. ক) আপেক্ষিকতার তত্ত্ব আবিষ্কারের মাধ্যমে
  2. খ) আলোক ক্রিয়া আবিষ্কারের মাধ্যমে
  3. গ) কোয়ান্টাম তত্ত্বের আবিষ্কারের মাধ্যমে
  4. ঘ) ব্ল্যাক হোল আবিষ্কারের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রপাত.১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের আবিষ্কারের মাধ্যমে। এই তত্ত্বের সাহায্যে তিনি কালো বস্তুর (ডার্ক ম্যাটার) বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন। ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার তত্ত্ব প্রদান করেন।
 উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (২য় পত্র) বোর্ড বই।

১,৬৪১.
কোনটির কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি? 
  1. ছত্রাক 
  2. শৈবাল 
  3. ভাইরাস 
  4. ব্যাকটেরিয়া 
ব্যাখ্যা

ছত্রাকের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি।  

কোষ প্রাচীর: 
- প্রতিটি উদ্ভিদ কোষে শক্ত জড় পদার্থ দ্বারা পরিবেষ্টিত আবরণকে বলা হয় কোষ প্রাচীর। 
- এটি উদ্ভিদ কোষের অনন্য একটি বৈশিষ্ট্য যা প্রাণী কোষে থাকে না। 
- কোষ প্রাচীরের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো- সেলুলোজ। তবে এতে হেমিসেলুলোজ, লিগনিন, পেকটিন, সুবেরিন ইত্যাদি রাসায়নিক পদার্থও থাকে। 
- কোষ প্রাচীরকে তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়। 
যথা- মধ্য পর্দা, প্রাথমিক প্রাচীর এবং গৌণ প্রাচীর। 

অন্যদিকে, 
- ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর প্রোটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে তৈরি। 
- শৈবাল এদের কোষ প্রাচীর সাধারণত সেলুলোজ ও পেকটিন দিয়ে গঠিত। 
- ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৪২.
অবতল লেন্স ব্যবহৃত হয় কোন ক্ষেত্রে?
  1. বিবর্ধক কাঁচ
  2. দূরবীক্ষণ যন্ত্রে
  3. অণুবীক্ষণ যন্ত্র
  4. সিনেমাস্কোপ প্রজেক্টরে
ব্যাখ্যা
• লেন্স:
- দুটি গোলকীয় অথবা একটি গোলকীয় এবং একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক আলোক মাধ্যমকে লেন্স বলে।
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
১. অভিসারী বা উত্তল লেন্স:
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে অভিসারী লেন্স বলে।
• উত্তল লেন্সের ব্যবহার:
১. উত্তল লেন্সকে আতশী কাঁচ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
২. উত্তল লেন্সের সাহায্যে আলোক রশ্মিকে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করে আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।
৩. চশমা, ক্যামেরা, বিবর্ধক কাঁচ, অণুবীক্ষণ যন্ত্র, দূরবীক্ষণ যন্ত্র ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।
৪. সিনেমাস্কোপ প্রজেক্টরে ব্যবহার করা হয়।

২. অপসারী বা অবতল লেন্স:
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে অপসারী লেন্স বলে।
• অবতল লেন্সের ব্যবহার:
১. চশমায় ব্যবহার করা হয়।
. গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৪৩.
কোন মৌলটি সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে অবস্থান করে?
  1. ক) সিলভার
  2. খ) টিন
  3. গ) কপার
  4. ঘ) গোল্ড
ব্যাখ্যা
সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। 
- আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। 
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে। 


- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে, তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক। 
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
- অর্থাৎ হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৬৪৪.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য নিচের কোন উপাদানটি বেশি পরিমাণে দরকার হয়?
  1. ক) জিংক
  2. খ) সালফার
  3. গ) বোরন
  4. ঘ) কপার
ব্যাখ্যা
- অত্যাবশ্যকীয় 16 টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে, আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১। ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং
২। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান।

ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- ম্যাক্রো উপাদান 10 টি। যথা-
• নাইট্রোজেন (N)
• পটাশিয়াম (K)
• ফসফরাস (P)
• ক্যালসিয়াম (Ca)
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg)
• কার্বন (C)
• হাইড্রোজেন (H)
• অক্সিজেন (O)
সালফার (S) এবং 
• লৌহ (Fe)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৬৪৫.
পার্থেনোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় ফল হয় কোন উদ্ভিদের?
  1. আম
  2. কাঁঠাল
  3. লেবু
  4. আনারস
ব্যাখ্যা
কোন কোন ক্ষেত্রে নিষেক ছাড়াই গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়াকে পার্থেনোজেনেসিস বলা হয়।
যেমন- পেঁপে, আনারস, আঙ্গুর ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৬৪৬.
Which is the longest bone in the human body?
  1. Humerus
  2. Stapes
  3. Tibia
  4. Femur
  5. Radius 
ব্যাখ্যা
• মানবদেহের দীর্ঘতম হাড় হলো ফিমার।

• ফিমার (Femur):
-নিম্নবাহুর প্রথম অস্থিকে ফিমার বলা হয়।

এটি মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং শক্তিশালী হাড়।।
- এর ঊর্ধ্বপ্রান্তে একটি গোল হেড (মস্তক), নেক (গ্রীবা) এবং ছোট ও বড় ট্রোক্যান্টার অবস্থিত।
- দেহটি শক্ত ও নলাকার। এর পশ্চাত্তল একটি অমসৃণ আলযুক্ত।
-নিম্নপ্রান্ত দুটি কন্ডাইলবিশিষ্ট। দুই কন্ডাইলের মাঝখানে থাকে আন্তঃকন্ডাইলার ছিদ্র, প্যাটেলার সংযোগী তল এবং দুপাশে একটি করে এপিকন্ডাইল নামে সামান্য উঁচু জায়গা।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১,৬৪৭.
এভারেস্ট শৃঙ্গে মহাকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান আনুমানিক কত?
  1. 9.75 m/s2
  2. 9.83 m/s2
  3. 9.77 m/s2
  4. 9.91 m/s2
ব্যাখ্যা
[পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে g-এর মান সামান্য কমে যায়। এভারেস্ট শৃঙ্গের উচ্চতা প্রায় ৮৮৪৯ মিটার, ফলে সেখানে এ-এর মান 9.77 m/s² এর কাছাকাছি হয়। উল্লেখ্য যে, বোর্ড বই অনুসারে এভারেষ্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81 m/s2, যেহেতু অপশনে  9.81 m/s2 নেই তাই ব্রিটানিকা ও অন্যান্য উৎস অনুসারে 9.77 m/s² কে সঠিক উত্তর বলে বিবেচনা করা হয়েছে]

• অভিকর্ষ:

- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে।
• অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে। একে g দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
• অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান:
- বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান সর্ব নিম্ন প্রায় 9.78 m/s², মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ 9.83 m/s²।
- এভারেষ্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81 m/s2 ও সমুদ্র সমতলে প্রাপ্ত 9.75 m/s²।
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে ৪-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। এই মান হচ্ছে 9.80665 m/s²।
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 m/s2

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।9.81 m/s2
১,৬৪৮.
OPV ভ্যাকসিন কোন রোগ প্রতিরোধে দেওয়া হয়?
  1. পোলিও
  2. যক্ষ্মা
  3. নিউমোনিয়া
  4. ধনুষ্টংকার
ব্যাখ্যা
• পোলিও রোগের ভ্যাকসিন হিসেবে OPV(Oral Polio Vaccine) দেওয়া হয়।

• বিভিন্ন রোগের টিকা:
- যক্ষ্মা: BCG
- ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার: DPT
- হাম, রুবেলা: MR ভ্যাকসিন।
- নিউমোনিয়া - PCV
- ধনুষ্টংকার - TT(Tetanus Toxiod)

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৬৪৯.
এমআরআই পরীক্ষায় কোনটি ব্যবহার করা হয়? 
  1. তড়িৎক্ষেত্র
  2. চৌম্বকক্ষেত্র
  3. প্রতিধ্বনি
  4. আলোর প্রতিসরণ
ব্যাখ্যা
এমআরআই: 
- এমআরআই এর অর্থ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)। 
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। 
- নিউক্লিয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির উপর ভিত্তি করে এমআরআই যন্ত্র কাজ করে। 
- এমআরআই একটি নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি। 
- এই যন্ত্রে এক্সরে বা অন্য কোনো ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না। 
- প্রত্যেকটি প্রতিবিম্ব শরীরের কোনো স্থানের এক একটি ফালির মতো কাজ করে। 
- এভাবে অনেকগুলো প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, যেগুলো শরীরের ঐ অংশের সকল বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলে। 
- পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যাথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়। 
- ব্রেণ এবং মেরু রুজ্জুর বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৫০.
নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ভরসংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা
  2. নিউক্লিয়ন সংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা
  3. নিউট্রন সংখ্যা= ভরসংখ্যা + পারমাণবিক সংখ্যা
  4. নিউট্রন সংখ্যা= ভরসংখ্যা - পারমাণবিক সংখ্যা
ব্যাখ্যা
ভরসংখ্যা/ নিউক্লিয়ন সংখ্যা:

- কোনো মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যে অবস্থিত প্রোটন এবং নিউট্রনের মোট সংখ্যাকে ভরসংখ্যা বা নিউক্লিয়ন সংখ্যা বলে।
- অর্থাৎ, ভরসংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা।
- ভরসংখ্যাকে 'A' অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

ভর সংখ্যা এবং পারমাণবিক সংখ্যার মধ্যে সম্পর্ক:

- কোনো মৌলের পরমাণুতে যদি P সংখ্যক প্রোটন এবং N সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাহলে, 
- পরমাণুটির ভরসংখ্যা (A) = প্রোটন সংখ্যা (P) + নিউট্রন সংখ্যা (N)
- যেহেতু, প্রোটন সংখ্যা (P) = পারমাণবিক সংখ্যা (Z)
- অতএব, ভরসংখ্যা (A) = পারমাণবিক সংখ্যা (Z) + নিউট্রন সংখ্যা (N)
- অর্থাৎ, A = Z + N
- বা, Z = A - N

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন ১ম পত্র।
১,৬৫১.
কোনটি সাবানকে শক্ত করে?
  1. ক) সোডিয়াম কার্বনেট
  2. খ) সোডিয়াম সিলিকেট
  3. গ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. ঘ) সোডিয়াম সালফেট
ব্যাখ্যা
- সাবান সাধারণত শক্ত এবং কোমল এই দুই শ্রেণীতে বিভক্ত।
- শক্ত সাবান তৈরিতে কষ্টিক সোডা এবং কোমল সাবান তৈরিতে কস্টিক পটাসের ব্যবহার হয়ে থাকে।
- সাধারণত তুলনামূলক শক্ত ধরনের সাবান তৈরীর জন্যে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) এবং কোমল ধরনের সাবানের জন্যে পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH) ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও, সাবানকে শক্ত ও ভারী করার জন্য সোডিয়াম সিলিকেট (Na2SiO3) ব্যবহার করা হয়। তবে, এটা পরিমাণমত ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যাতে বেশি শক্ত হয়ে না যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা ও সাধারণ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৬৫২.
জেমস ওয়াটসন ও ফ্রানসিস ক্রিক DNA অণুর গঠন আবিষ্কারের জন্য কত সালে নোবেল পুরস্কার পান?
  1. ক) ১৯৫২ সালে
  2. খ) ১৯৫৭ সালে
  3. গ) ১৯৬২ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৬ সালে
ব্যাখ্যা
রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিন বিভিন্ন কোণে DNA অণুর উপর এক্স-রে ফেলে তার ছায়ার ছবি তুলেছিলেন এবং তাঁর তোলা সেই ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে ১৯৫৩ সালে DNA এর গঠন আবিষ্কার করেন জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক।
এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য তারা ১৯৬২ সালে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।

উৎস: বিজ্ঞান এবং জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি
১,৬৫৩.
পেশিকে হাড়ের সাথে যুক্ত রাখে -
  1. ক) লিগামেন্ট
  2. খ) ফাইবার
  3. গ) কানেক্টিভ জয়েন্ট
  4. ঘ) টেনডন
ব্যাখ্যা
টেনডন:
- টেনডন হলো সংযোগ টিস্যু নির্মিত একটি শক্ত ফিতা বিশেষ যা পেশিকে হাড়ের সাথে যুক্ত রাখে।
- টেনডন পেশির ফাইবার হাড়ের পেরিঅস্টিয়ামের ফাইবারের সাথে পারস্পরিক শক্ত বুনন কাঠামো তৈরি করে, তাই সহজে পেশি থেকে হাড় বা হাড় থেকে পেশি বিচ্ছিন্ন হতে পারে না।
- টেনডন বেশ শক্ত, সহজে ছিঁড়ে বা ভেঙ্গে যায় না।

লিগামেন্ট:
- লিগামেন্ট হলো সংযোগ টিস্যু নির্মিত নমনীয় বন্ধনী যা দুটি হাঁড়কে একত্রে বেঁধে রাখে।
- অস্থিসন্ধির হাড়সমূহকে যার যার অবস্থানে সুদৃঢ়ভাবে ধরে রাখে লিগামেন্ট।
- লিগামেন্টের ফাইবারসমূহ হাড়ের পেরিঅস্টিয়ামের বর্ধিত অংশ। লিগামেন্ট ইলাস্টিক তন্তু দিয়ে গঠিত, আর ইলাস্টিন নামক প্রোটিন দিয়ে ইলাস্টিক তন্তু গঠিত।

উৎস: উচ্চ মধ্যমিকের জীববিজ্ঞান বই।
১,৬৫৪.
আলোকবর্ষ (Light Year) ব্যবহার করে কী পরিমাপ সম্ভব?
  1. সময়
  2. দূরত্ব
  3. ভর 
  4. শক্তি 
ব্যাখ্যা

আলোকবর্ষ হলো দূরত্বের একক। এর মানে হলো, আলো এক বছরে যত দূরত্ব অতিক্রম করে সেটাই ১ আলোকবর্ষ।

​নক্ষত্র (Stars):
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে।
- মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে। খালি চোখে আমরা মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখতে পাই। এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়।
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিণ্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে।
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না।
- পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে।
- কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে।

- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্‌টারাই (Proxima Centauri)।
- পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৫৫.
মানুষের বৃদ্ধি হরমোন কোন গ্রন্থিতে উৎপন্ন হয়?
  1. ক) থাইরয়েড
  2. খ) থাইমাস
  3. গ) পিটুইটারি
  4. ঘ) এড্রেনাল
ব্যাখ্যা
- মানুষের বৃদ্ধি হরমোন (Human Growth Hormone, HGH) সাধারণভাবে সোমাটোট্রপিন (Somatotrophin) নামে পরিচিত। 
- এটি এক ধরনের পেপটাইড হরমোন যা প্রায় ২০০ টি অ্যামিনো এসিডে গঠিত। 
- মানবদেহের বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত এ হরমোন শরীরে স্বাভাবিকভাবেই উৎপন্ন হয়। 
- মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থিতে এটি উৎপন্ন হয়।
-  বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০ বছর বয়সের পরে বৃদ্ধি হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়। 
- পরবর্তী প্রতি ১০ বছরে ক্ষরণ প্রায় ১৪% হারে হ্রাস পায়। 
- বৃদ্ধি হরমোন যত কমবে, শরীরে ততই বয়সের ছাপ বাড়বে। 
- এ সময় দেহে বৃদ্ধি হরমোন প্রয়োগ করলে বয়সের ছাপ মিলিয়ে যাবে কিংবা ছাপ পড়ার গতি কমে যাবে।
 
উৎস: প্রাণী বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৬৫৬.
SMOG সাধারণত কোন উপাদান মিলিত হয়ে সৃষ্টি হয়?
  1. তুষারাবৃত এবং বাতাস
  2. বৃষ্টি ও বালি
  3. ধোঁয়া ও কুয়াশা
  4. শিশির ও বালি
ব্যাখ্যা
SMOG:
- SMOG হচ্ছে এক ধরণের দূষিত বাতাস।
- 'SMOG' শব্দটি SMOKE ও FOG শব্দ দুটো থেকে এসেছে।
- ধোঁয়া ও কুয়াশা মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।

⇒ মোটরগাড়ি, কলকারখানার ধোঁয়া, কলকারখানার বর্জ্য, ধূলিকণা ইত্যাদি মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- SMOG অবস্থায় বেশিক্ষণ বিরাজ করলে ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেয়।
- এই ধোঁয়ায় অবস্থিত বিভিন্ন গ্যাস বৃষ্টির পানির সাথে মিশে এসিড বৃষ্টি ঘটায় এবং মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি করে।
- মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি পেলে তাতে উদ্ভিদ সহজে জন্মে না।
- SMOG শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং মানবদেহে ক্যানসার, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস প্রভৃতি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: National Geographic Society.
১,৬৫৭.
ভূ চুম্বকের দক্ষিণ মেরু কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের দক্ষিণে ভিকটোরিয়া অঞ্চলে
  2. খ) কানাডার উত্তর দিকে বুথিয়া উপদ্বীপে
  3. গ) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  4. ঘ) দক্ষিণ চীন সাগরে
ব্যাখ্যা
১৬০০ খ্রিস্টাব্দে রাণী এলিজাবেথের পারিবারিক চিকিৎসক ড.গিলবার্ট বিভিন্ন পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি চুম্বক। সাধারন চুম্বকের মতো এর দুটি মেরু আছে। দক্ষিণ মেরু কানাডার উত্তর দিকে বুথিয়া উপদ্বীকে এবং উত্তর মেরু অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের দক্ষিণে ভিকটোরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত। পদার্থ বিজ্ঞানের যে শাখায় পৃথিবীর চুম্বকত্ব এবং এতদসংক্রান্ত  বিভিন্ন বিষয় জানা যায় তাকে ভূ-চুম্বকত্ব বা পৃথিবীর চৌম্বকত্ব বলে ।

সুত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এইচএসসি প্রোগ্রাম
১,৬৫৮.
কোনটি অর্ধ-পরিবাহী (Semi-conductor) নয়?
  1. ক) লোহা
  2. খ) সিলিকন
  3. গ) জার্মেনিয়াম
  4. ঘ) গ্যালিয়াম
ব্যাখ্যা
- অর্ধপরিবাহী বস্তু হলাে সেই বস্তু যার পরিবাহকত্ব অন্তরকের চেয়ে বেশি কিন্তু পরিবাহকের তুলনায় কম।
- সিলিকন, জার্মেনিয়াম, গ্যালিয়াম, আর্সেনাইড, ক্যাডমিয়াম সালফাইড প্রভৃতি বস্তু সচরাচর অর্ধপরিবাহী রূপে ব্যবহৃত হয়।
- লােহা একটি ধাতু যা তড়িৎ পরিবাহী।
১,৬৫৯.
নিচের মানগুলোর মধ্যে পানির BOD কত হলে তা নিরাপদ পানযোগ্য পানি হিসেবে বিবেচিত হবে?
  1. 0
  2. 10
  3. 20
  4. 25
ব্যাখ্যা
• BOD (Biochemical Oxygen Demand) :
- BOD (Biochemical Oxygen Demand) হলো পানির মধ্যে উপস্থিত জৈব বস্তুকে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা পচনের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রবীভূত অক্সিজেনের (DO - Dissolved Oxygen) পরিমাণ।
- এটি পানির জৈব দূষণের মাত্রা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।
- BOD এর মান 0 হলে পানিতে দূষণের পরিমাণ কম এবং তা নিরাপদ পানযোগ্য পানি হিসেবে বিবেচিত হবে।

 - BOD এর মান 1-2 mg/L=খুব পরিষ্কার পানি, দূষণ খুবই কম।
 - BOD এর মান 3-5 mg/L= মাঝারি দূষণযুক্ত পানি।
 - BOD এর মান 6-9 mg/L= উচ্চ মাত্রার দূষণ, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
 - BOD এর মান 10 mg/L বা তার বেশি = অত্যন্ত দূষিত পানি, যা জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক হতে পারে।

- উচ্চ BOD মান = বেশি জৈব দূষণ = পানির গুণমান খারাপ। 
- নিম্ন BOD মান = কম জৈব দূষণ = পানির গুণমান ভালো। 

উৎস: ব্রিটানিকা ও WHO Website।
১,৬৬০.
রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ কত?
  1. ক) ৫০-১০০ mg/dl
  2. খ) ১০০-২০০ mg/dl
  3. গ) ১৫০-২৫০ mg/dl
  4. ঘ) ২০০-৩০০ mg/dl
ব্যাখ্যা
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড -এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ এবং টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে।


- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে।


- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে। স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম- উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein-HDL) এবং নিম্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein-LDL)।


- রক্তের LDL-এর পরিমাণের বৃদ্ধির সাথে কোলেস্টেরলের আধিক্যের সম্পর্ক আছে। রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। রক্তে HDL -এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী।


- রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ ১০০-২০০ mg/dl

- রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ায়। স্বাভাবিক মাত্রা থেকে রক্তে কোলেস্টেরল বেশি হলে রক্তনালী অন্তঃপ্রাচীরের গায়ে কোলেস্টেরল ও ক্যালসিয়াম জমা হয়ে রক্তনালী গহ্বর ছোট হয়ে যায়।


- এই কারণে ধমনির প্রাচীরের স্থিথিস্থাপকতা কমে যায় এবং শক্ত হয়ে যায়। এ অবস্থাকে ধমনির কাঠিন্য বা Arteriosclerosis বলে। এর প্রভাবে ধমনির প্রাচীরে ফাটল দেখা দিতে পারে।


- ধমনির গায়ে ফাটল দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়ে জমাট বেঁধে রক্তপ্রবাহ বাধপ্রাপ্ত হয়। হৃৎপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 


-  রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে LDL-এর পরিমাণ বেড়ে যায় আর HDL-এর পরিমাণ কমে যায়। LDL-এর পরিমাণ ১৫০ mg/dl থেকে বেশি হলে তাকে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৬৬১.
নাইট্রোজেন থেকে কোন সার তৈরি করা হয়?
  1. ক) পটাশ
  2. খ) টিএসপি
  3. গ) ইউরিয়া
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ইউরিয়া সার:
- নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে ইউরিয়া সার প্রস্তুত করা হয়।
- নাইট্রোজেন গ্যাসকে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়ায় রূপান্তরিত করা হয়।
- অ্যামোনিয়া থেকে ইউরিয়া সার উৎপন্ন হয়।
- এতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ থাকে ৪৬%। 
- ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 

উৎস: কৃষি বাতায়ন ওয়েবসাইট।
১,৬৬২.
লেন্টিকুলার প্রস্বেদন কীভাবে ঘটে?
  1. পাতার রন্ধ্র দিয়ে
  2. মূলের কোষ দিয়ে
  3. কাণ্ডের ছিদ্র বা লেন্টিসেল দিয়ে
  4. ফুলের পাপড়ি দিয়ে
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন (Transpiration): 
- উদ্ভিদ প্রধানত মূল দিয়ে তার প্রয়োজনীয় পানি শোষণ করে। শোষিত পানির অতি সামান্য অংশ উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কার্যাবলির জন্য ব্যয় হয়, অবশিষ্ট পানি উদ্ভিদের বায়বীয় অংশ দিয়ে বাষ্পাকারে বাইরে বের হয়ে যায়। 
- সাধারণত স্থলজ উদ্ভিদ যে শারীরতত্ত্বীয় প্রক্রিয়ায় তার বায়বীয় অঙ্গের মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি বের করে দেয়, সেটাই প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন প্রক্রিয়া। - এই কাজটি তার বায়বীয় অঙ্গের কোন অংশের মাধ্যমে ঘটে, তার ভিত্তিতে এদের তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন (Stomatal transpiration): 
- পাতায়, কচিকাণ্ডে, ফুলের বৃতি ও পাপড়িতে দুটি রক্ষীকোষ (Guard cell) বেষ্টিত এক ধরনের রন্ধ্র থাকে, এদেরকে পত্ররন্ধ্র (একবচন stoma, বহুবচন stomata) বলে। কোনো উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের 90-95% হয় পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে। 

২। কিউটিকুলার প্রস্বেদন (Cuticular transpiration): 
- উদ্ভিদের বহিঃত্বকে বিশেষ করে পাতার উপরে এবং নিচে কিউটিনের আবরণ থাকে, এ আবরণকে কিউটিকল বলে। কিউটিকল ভেদ করে কিছু পানি বাষ্পাকারে বাইরে বের হয়, এ প্রক্রিয়াকে কিউটিকুলার প্রস্বেদন বলে। 

৩। লেন্টিকুলার প্রস্বেদন (Lenticular transpiration): 
- উদ্ভিদে গৌণ বৃদ্ধি হলে কাণ্ডের বাকল ফেটে লেন্টিসেল নামক ছিদ্র সৃষ্টি হয়। লেন্টিসেলের ভিতরের কোষগুলো আলাদাভাবে সজ্জিত থাকে এবং এর মাধ্যমে কিছু পানি বাইরে বেরিয়ে যায়, একে লেন্টিকুলার প্রস্বেদন বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৬৩.
'Meteor' শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) ছায়াপথ
  2. খ) পিণ্ড
  3. গ) ধূমকেতু
  4. ঘ) উল্কা
ব্যাখ্যা
'Meteor' শব্দের অর্থ উল্কা, Comet শব্দের অর্থ ধূমকেতু এবং Milky Way শব্দের অর্থ ছায়াপথ।
১,৬৬৪.
গামা রশ্মির বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. এর ভর ও চার্জ আছে 
  2. এটি আলোর গতির সমান বেগে চলে 
  3. এটি ইলেকট্রিক ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত হয় 
  4. এটি অণু-পরমাণু আয়নিত করতে পারে না 
ব্যাখ্যা

- গামা রশ্মির বেগ সব সময় আলোর বেগের সমান। 

গামা রশ্মি (Gamma Ray): 

- গামা রশ্মি আসলে একটি শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)। 
- এ গামা রশ্মির শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান। 
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের হয়ে এটি নিরুত্তেজ হয়। 
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না। চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়। 
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৬৫.
Entomology হলো-
  1. ক) বাস্তুবিদ্যা
  2. খ) ভ্রূনবিদ্যা
  3. গ) শারীরবিদ্যা
  4. ঘ) কীটতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
কিটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি এবং দমন সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে Entomolgy বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৬৬৬.
সরল ছন্দিত গতি সম্পন্ন বস্তু কী ধরনের পথ অনুসরণ করে?
  1. বৃত্তাকার
  2. পরাবৃত্তাকার
  3. সরলরৈখিক
  4. অবিচলিত
ব্যাখ্যা
সরল ছন্দিত গতি: 
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তা হলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে। 
- কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচে গতি, তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি, পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি সরল ছন্দিত গতির উদাহরণ। 

সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য: 
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি। 
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি। 
৩. এটি সরল রৈখিক গতি। 
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক। 
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৬৭.
হাড় যেমন মানবদেহের কাঠামো তৈরি করে _____ তেমনি উদ্ভিদের কাঠামো তৈরি করে।
  1. ক) সেলুলোজ
  2. খ) খনিজ
  3. গ) রাফেজ
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
হাড় যেমন মানবদেহের কাঠামো তৈরি করে সেলুলোজ ও রাফেজ তেমনি উদ্ভিদের কাঠামো তৈরি করে। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৬৮.
নিউট্রনের প্রকৃত ভর কত?
  1. ৯.১০৮৫ x ১০-২৮ গ্রাম
  2. ১.৬৭৫ x ১০-২৪ গ্রাম
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
একটি নিউট্রনের আপেক্ষিক ভর ১, আপেক্ষিক আধান ০, প্রকৃত ভর ১.৬৭৫ x ১০-২৪ গ্রাম, প্রকৃত চার্জ ০ কুলম্ব এবং অবস্থান হলো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৬৬৯.
SMOG হচ্ছে-
  1. ক) সিগারেটের ধোঁয়া
  2. খ) কুয়াশা
  3. গ) কালধোঁয়া
  4. ঘ) দূষিত বাতাস
ব্যাখ্যা
SMOG হচ্ছে এক ধরণের দূষিত বাতাস। 

- ধোঁয়া ও কুয়াশা মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- ‘SMOG’ শব্দটি SMOKE ও FOG শব্দ দুটো থেকে এসেছে।
- মোটরগাড়ি, কলকারখানার ধোঁয়া, কলকারখানার বর্জ্য, ধূলিকণা ইত্যাদি মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- SMOG অবস্থায় বেশিক্ষণ বিরাজ করলে ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেয়।
- এই ধোঁয়ায় অবস্থিত বিভিন্ন গ্যাস বৃষ্টির পানির সাথে মিশে এসিড বৃষ্টি ঘটায় এবং মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি করে। মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি পেলে তাতে উদ্ভিদ সহজে জন্মে না।
- SMOG শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং মানবদেহে ক্যান্সার, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস প্রভৃতি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে।

সূত্র- National Geographic Society [লিঙ্ক]
১,৬৭০.
নিম্নের কোন উদ্ভিদটির প্রজনন মূলের মাধ্যমে হয়?
  1. ক) পাথরকুচি
  2. খ) পিঁয়াজ
  3. গ) মিষ্টি আলু
  4. ঘ) রসুন
ব্যাখ্যা
যে জটিল প্রক্রিয়ায় জীব তার প্রতিরূপ বা বংশধর সৃষ্টি করে তাকে প্রজনন বা জনন বলে। প্রজনন বা জনন প্রধানত দুই প্রকার, যথা- অযৌন ও যৌন জনন ।

অযৌন জনন : যে প্রক্রিয়ায় দুটি ভিন্নধর্মী জনন কোষের মিলন ছাড়াই জনন সম্পন্ন হয় তাই অযৌন জনন। নিম্নশ্রেণির জীবে অযৌন জননের প্রবণতা বেশি। অযৌন জনন প্রধানত দুই ধরনের, যথা- স্পোর উৎপাদন ও অঙ্গজ জনন।

(ক) স্পোর উৎপাদন : প্রধানত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে স্পোর বা অণুবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বংশ রক্ষা করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। উদ্ভিদের দেহকোষ পরিবর্তিত হয়ে অণুবীজবাহী একটি অঙ্গের সৃষ্টি করে। এদের অণুবীজথলি বলে। একটি অণুবীজথলিতে সাধারণত অসংখ্য অণুবীজ থাকে। তবে কখনো কখনো একটি থলিতে একটি অণুবীজ থাকতে পারে। অণুবীজ থলির বাইরেও উৎপন্ন হয়। এদের বহিঃঅণুবীজ বলে। বহিঃঅণুবীজের কোনো কোনোটিকে কনিডিয়াম বলে। Mucor এ থলির মধ্যে অসংখ্য অণুবীজ উৎপন্ন হয়। Penicillium কনিডিয়া সৃষ্টির মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধি করে।

(খ) অঙ্গজ জনন : কোনো ধরনের অযৌন রেণু বা জনন কোষ সৃষ্টি না করে দেহের অংশ খণ্ডিত হয়ে বা কোনো অঙ্গ রূপান্তরিত হয়ে যে জনন ঘটে তাকে অঙ্গজ জনন বলে। এ ধরনের জনন প্রাকৃতিক নিয়মে বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটলে তাকে প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন বলা হয়। যখন কৃত্রিমভাবে অঙ্গজ জনন ঘটানো হয় তখন তাকে কৃত্রিম অঙ্গজ জনন বলে। প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন : বিভিন্ন পদ্ধতিতে স্বাভাবিক নিয়মেই এ ধরনের অঙ্গজ জনন দেখা যায়,
যেমন-
দেহের খণ্ডায়ন : সাধারণত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে এ ধরনের জনন দেখা যায়। Spirogyra, Mucor ইত্যাদি উদ্ভিদের দেহ কোনো কারণে খন্ডিত হলে প্রতিটি খণ্ড একটি স্বাধীন উদ্ভিদ হিসেবে জীবনযাপন শুরু করে ৷

মূলের মাধ্যমে : কোনো কোনো উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হতে দেখা যায়, যেমন—পটল, সেগুন ইত্যাদি। কোনো কোনো মূল খাদ্য সঞ্চয়ের মাধ্যমে বেশ মোটা ও রসাল হয়। এর গায়ে কুঁড়ি সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে নতুন উদ্ভিদ গজায়, যেমন— মিষ্টি আলু।

 রূপান্তরিত কাণ্ডের মাধ্যমে :  কিছু কাণ্ডের অবস্থান ও বাইরের চেহারা দেখে তাকে কাণ্ড বলে মনেই হয় না। এরা পরিবর্তিত কাণ্ড । বিভিন্ন প্রতিকূলতায়, খাদ্য সঞ্চয়ে অথবা অঙ্গজ জননের প্রয়োজনে এরা পরিবর্তিত হয়। যেমন: পিঁয়াজ, আদা, রসুন ইত্যাদি।

পাতার মাধ্যমে: কখনো কখনো পাতার কিনারায় মুকুল সৃষ্টি হয়ে তার থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়, যেমন: পাথরকুচি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী
১,৬৭১.
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা ঘটে কোন তত্ত্বের মধ্য দিয়ে? 
  1. হাইজেনবার্গ এর অনিশ্চয়তাবাদ তত্ত্ব
  2. প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  3. আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব
  4. আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব
ব্যাখ্যা
- বিংশ শতাব্দীর সূচনা লগ্নে ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক প্রদত্ত কোয়ান্টাম তত্ত্ব এবং ১৯০৫ সালে অ্যালবার্ট আইনস্টাইন প্রদত্ত আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব দুটি পদার্থবিজ্ঞানের জগৎকে কাপিয়ে দেয়। 
- দুটি ধারণাই প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধিতে সুগভীর প্রভাব ফেলেছে। 
- কয়েক দশকের সাধনায় এই তত্ত্বগুলাে পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান, নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান এবং ঘনীভূত পদার্থের পদার্থবিজ্ঞানের উন্নয়ন, বিকাশ ও তত্ত্বকে প্রেরণা জোগায়। 
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা ঘটে ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের আবিষ্কারের মাধ্যমে, এই তত্ত্বের সাহায্যে তিনি কালাে বস্তুর বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন। 
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জগতে আরেকটি বিপ্লব আনেন অ্যালবার্ট আইনস্টাইন তাঁর আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব ও আলাের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রবর্তনের মাধ্যমে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
১,৬৭২.
উদ্ভিদ দেহে কোন টিস্যু খাদ্যের কাঁচামাল পরিবহন করে?
  1. ক) এপিডার্মাল টিস্যু
  2. খ) গ্রাউন্ড টিস্যু
  3. গ) ভাস্কুলার টিস্যু
  4. ঘ) গ্রন্থি টিস্যু
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদ দেহে ভাস্কুলার টিস্যু খাদ্যের কাঁচামাল পরিবহন করে।
• ভাস্কুলার টিস্যু: উদ্ভিদদেহে যে টিস্যু খাদ্যের কাঁচামাল (পানি, খনিজ লবণ ইত্যাদি) ও তৈরিকৃত খাদ্য পরিবহন করে থাকে তাকে ভাস্কুলার টিস্যু বলে। 
- ভাস্কুলার টিস্যুকে পরিবহন টিস্যু বলে।
- জটিল টিস্যু হিসেবে পরিচিত জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু উদ্ভিদের মাটি হতে মূল দ্বারা পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে পাতা পর্যন্ত পৌঁছায় এবং পাতায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে খাদ্য মূল পর্যন্ত পরিবহন করে তাই জাইলেম ও ফ্লোয়েম কে পরিবহন টিস্যু বলে এবং যাবতীয় প্রক্রিয়া কে ভাস্কুলার টিস্যু বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৬৭৩.
দেহে তাপের সমতা রক্ষা করে -
  1. ক) ত্বক
  2. খ) রক্ত
  3. গ) চুল
  4. ঘ) মাংসপেশি
ব্যাখ্যা
রক্তের উল্লেখযোগ্য কাজ হলো:
- অক্সিজেন পরিবহন,
- কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ,
- খাদ্যসার পরিবহন,
- তাপের সমতা রক্ষা,
- বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন,
- হরমোন পরিবহন,
- রোগ প্রতিরোধ,
- রক্ত জমাট বাঁধা।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৭৪.
তারের কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে তার চারপাশে কী তৈরি হয়?
  1. রোধকত্ব
  2. চৌম্বকক্ষেত্র
  3. তড়িৎপ্রবাহ
  4. কিছুই ঘটে না
ব্যাখ্যা
• যখন কোনো তার বা কুণ্ডলীতে (coil) দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ (electric current) চালানো হয়, তখন তার চারপাশে একটি চৌম্বক ক্ষেত্র (Magnetic Field) তৈরি হয়।
-   এটি একটি মৌলিক ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ঘটনা, যা অ্যাম্পিয়ারের নিয়ম (Ampere’s Law) ও অয়েরস্টেড পরীক্ষণ  (Oersted’s Experiment)-এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়।

আবার, 
• ফারাডের গবেষণা অনুযায়ী, কুণ্ডলীর আশপাশে চৌম্বকক্ষেত্র পরিবর্তন করলে তাতে তড়িৎপ্রবাহ উৎপন্ন হয়।
-  ঠিক উল্টোভাবে, কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎ চালালে তার চারপাশে চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি হয়।
- যখন কুণ্ডলীর মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, তখন এটি একটি চুম্বকের মতো আচরণ করে। 

• এটি আবার দুইরকম হয়। যেমনঃ

→ একটি সোজা কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎ চালালে তার ভেতরে একটি সুষম এবং শক্তিশালী চুম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি হয়।
→ এর ভেতরে একটি লৌহ দণ্ড (iron core) দিলে এটি একটি শক্তিশালী অস্থায়ী চুম্বকে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় ইলেক্ট্রোম্যাগনেট (Electromagnet)।
→  বৈদ্যুতিক মোটর, ট্রান্সফরমার, জেনারেটর ইত্যাদি যন্ত্রে চৌম্বকক্ষেত্র ব্যবহার হয়।


তথ্যসূত্র: 
- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান।
১,৬৭৫.
নিম্নের কোনটি বিদ্যুৎ পরিবাহী পদার্থ?
  1. ক) কাঠ
  2. খ) প্লাস্টিক
  3. গ) তামা
  4. ঘ) রাবার
ব্যাখ্যা
তামা হচ্ছে একটি বিদ্যুৎ সুপরিবাহী পদার্থের উদাহরণ। 

যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে খুব সহজেই তড়িৎপ্রবাহ চলাচল করতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
যেমন– তামা, রূপা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি।

যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎ পরিবহনের জন্য কোন মুক্ত ইলেকট্রন নেই, সেগুলো বিদ্যুৎ অপরিবাহী পদার্থ। 
যেমন- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ ইত্যাদি। 

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৭৬.
নিচের কোন শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়? 
  1. খনিজ তেল
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. সৌর শক্তি
  4. কয়লা
ব্যাখ্যা
- 'সৌর শক্তি' একটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, তাই এটি বারবার ব্যবহার করা সম্ভব এবং পরিবেশের জন্য নিরাপদ। 

শক্তির উৎস ও এর প্রকারভেদ:  
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই ধরনের। 
যথা- 
১. নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তি এমন একটি শক্তির উৎস, যা প্রকৃতিতে বারবার পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং কখনো ফুরিয়ে যায় না। 
- এটি সাধারণত পরিবেশবান্ধব হওয়ায় গ্রীন শক্তি নামেও পরিচিত। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনে দূষণের পরিমাণ কম থাকে। 
- এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই এবং প্রাকৃতিকভাবে পুনরায় উৎপন্ন হয়। 
উদাহরণ: সৌর শক্তি, বায়ু শক্তি, জলবিদ্যুৎ, সমুদ্রস্রোত, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি। 

২. অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস প্রকৃতিতে সীমিত এবং একবার ব্যবহার হয়ে গেলে পুনরায় সৃষ্টি হতে দীর্ঘ সময় লাগে বা আর উৎপন্ন হয় না। 
- এটি পুনরায় ব্যবহার করা যায় না বা খুব ধীরগতিতে পুনরায় গঠিত হয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদন ব্যয়বহুল এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ দূষণের কারণ হতে পারে। 
উদাহরণ: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, নিউক্লিয় শক্তি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৭৭.
কোনটি কঙ্কালতন্ত্রের কাজ নয়?
  1. দেহকাঠামো গঠন
  2. খনিজ লবণ সঞ্চয়
  3. লোহিত রক্তকণিকা পরিবহন
  4. গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ রক্ষা করা
ব্যাখ্যা
• লোহিত রক্তকণিকা পরিবহন করা কঙ্কালতন্ত্রের কাজ নয়, বরং লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন করা কঙ্কালতন্ত্রের কাজ। 

• কঙ্কালতন্ত্র:
- ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে উদ্ভূত অস্থি ও তরুণাস্থি (কার্টিলেজ) নামক যোজক টিস্যু সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহের কাঠামো সৃষ্টির মাধ্যমে দেহকে নির্দিষ্ট আকৃতি দান করে, দেহের ভার বহন করে, পেশি সংযোগের স্থান প্রদান করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন অঙ্গসমূহ রক্ষা করে তাকে কঙ্কালতন্ত্র বলে।

• মানব কঙ্কালতন্ত্রের অধিকাংশই অস্থি নির্মিত। এছাড়া এ তন্ত্রে তরুণাস্থি, টেনডন ও লিগামেন্ট থাকে যারা কঙ্কালতন্ত্রের বিভিন্ন অংশকে সংযুক্ত করে।

• কঙ্কালতন্ত্রের কাজ:
→ কাঠামো প্রদান:
- কঙ্কাল মানুষের শরীরের কাঠামো তৈরি করে এবং এটিকে একটি নির্দিষ্ট আকার দেয়।  
→ সুরক্ষা:
- কঙ্কাল শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন- মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস ইত্যাদি কে আঘাত থেকে রক্ষা করে।  
→ চলাচল ও নড়াচড়া:
- কঙ্কাল এবং পেশী একসাথে কাজ করে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে।  
→ খনিজ লবণ সঞ্চয়:
- কঙ্কাল ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের মতো খনিজ লবন সঞ্চয় করে।  
→ রক্তকণিকা উৎপাদন:
- অস্থিমজ্জা থেকে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয়।   

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,৬৭৮.
সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন তৈরির প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়?
  1. ফটোরেসপিরেশন
  2. ফটোলাইসিস
  3. ফটোফসফোরাইলেশন
  4. ডি-ফসফোরাইলেশন
ব্যাখ্যা
• ফটোলাইসিস:
- সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন এবং ইলেকট্রন তৈরির প্রক্রিয়াকে ফটোলাইসিস বলা হয়।
- ফটোলাইসিস হল সালোকসংশ্লেষণের (Photosynthesis) একটি ধাপ। 

• বিক্রিয়া:
2H2​O → ​4H++ 4e+ O2​
 
• ফটোলাইসিস (Photolysis) শব্দটি দুটি গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে: "ফটো" যার অর্থ আলো এবং "লাইসিস" যার অর্থ বিয়োজন বা ভাঙন।
- সুতরাং, ফটোলাইসিস মানে হলো আলোর মাধ্যমে কোনো কিছু ভেঙে যাওয়া বা বিয়োজিত হওয়া।  
- এই প্রক্রিয়াটি সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায়ে ঘটে থাকে।
- যখন সূর্যের আলো ক্লোরোফিলের উপর পড়ে, তখন পানির অণু ভেঙে গিয়ে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এবং ইলেকট্রন তৈরি করে।
- এই অক্সিজেন বায়ুমণ্ডলে মুক্ত হয়, যা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস এবং অন্যান্য জৈব প্রক্রিয়ার জন্য অত্যাবশ্যক।  
 
তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১,৬৭৯.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কবে COVID-19 কে অতিমারী বা মহামারি হিসেবে চিহ্নিত করে?
  1. ১১ মার্চ ২০২০
  2. ১৩ মার্চ ২০২০
  3. ১৮ মার্চ ২০২০
  4. ২২ মার্চ ২০২০
ব্যাখ্যা
COVID-19 অতিমারী বা মহামারি:
- ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বিষয়ে চীনা সরকার প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অবহিত করে।
- ৩০ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ইস্যুতে বিশ্বে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করে।
- ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই রোগের নামকরণ করে COVID-19।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১১ মার্চ ২০২০ সালে COVID-19 কে অতিমারী বা মহামারি হিসেবে চিহ্নিত করে

উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওয়েবসাইট।
১,৬৮০.
নিচের কোনটি স্নায়ুরোগ হিসেবে পরিচিত?
  1. অ্যজমা
  2. মায়োকার্ডাইটিস
  3. পারকিনসন
  4. উচ্চ রক্তচাপ
ব্যাখ্যা
স্নায়ুরোগ:

• স্নায়ুরোগ হল স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে এমন যেকোনো অবস্থা।
• স্নায়ুতন্ত্র শরীরের একটি জটিল নেটওয়ার্ক যা মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ড থেকে শরীরের বাকি অংশে বার্তা প্রেরণ এবং গ্রহণ করে।
• স্নায়ু রোগের ফলে বিভিন্ন ধরণের লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:
- স্নায়ুতে ব্যথা, অসাড়তা, ঝিনঝিনি বা জ্বালাপোড়া;
- মাংসপেশীর দুর্বলতা বা পক্ষাঘাত;
- চলাফেরায় অসুবিধা;
- সমন্বয়ের অভাব;
- বক্তৃতা বা গিলে ফেলার সমস্যা;
- মূত্রাশয় বা অন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ হারানো;
- সংবেদনশীলতা হ্রাস;
- জ্ঞান হারানো।

• স্ট্রোক, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, পারকিনসন'স ডিজিজ, আলঝেইমার'স ডিজিজ, GBS, মেনিনজাইটিস প্রভৃতি স্নায়ুরোগ হিসাবে পরিচিত।
• হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর, উচ্চ রক্তচাপ, এনজাইনা, মায়োকার্ডাইটিস, এন্ডোকার্ডাইটিস ইত্যাদি হৃদরোগ হিসাবে পরিচিত।
• নিউমোনিয়া, অ্যজমা, সিওপিডি, ব্রঙ্কিয়েকটেসিস ইত্যাদি ফুসফুসের রোগ হিসাবে পরিচিত।


উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং The American Parkinson Disease Association (APDA)। 
১,৬৮১.
তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ X-ray এর চার্জ -
  1. ধনাত্মক
  2. ঋণাত্মক
  3. ক ও খ উভয়ই
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
এক্সরের ধর্মঃ
১। এক্সরে সরল পথে গমন করে।
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না।
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ।
৪। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে চেয়ে অনেক ছোট।
৫। এটি আলোর সমবেগে গমন করে।
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে।
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই।
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে।
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে।
১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৮২.
হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্তর কোনটি? 
  1. পেরিকার্ডিয়াম
  2. এপিকার্ডিয়াম
  3. মায়োকার্ডিয়াম
  4. এন্ডোকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের আবরণ: 
- হৃৎপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত। 
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে। 
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 
- পেরিকার্ডিয়াল হৃৎপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। 
- হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হৃৎপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে। 

হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর: 
- অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি বলে। 
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। 
যেমন - 

ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium): 
- এটি হৃৎপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। 
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে। 

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium): 
- মায়োকার্ডিয়াম হৃৎপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। 
- স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। 

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium): 
- এটি হৃৎপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃৎকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃৎপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৮৩.
কোনটি হ্যালোজেন গ্রুপের মৌল নয়?
  1. F
  2. Br
  3. Cl
  4. O
ব্যাখ্যা
হ্যালোজেন: 
- পর্যায় সারণির 17 তম গ্রুপের মৌলগুলো হ্যালোজেন নামে পরিচিত। 
- F, Cl, Br, I ও At এ পাঁচটি মৌল এ গ্রুপের মৌল। 
- হ্যালোজেন শব্দের অর্থ লবণ গঠনকারী। 
- এরা প্রত্যেকেই অতিশয় সক্রিয় ও তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল। 
- প্রত্যেকের সর্ববহি:স্থ শক্তিস্তরে 7টি করে ইলেকট্রন বর্তমান থাকায় অতিরিক্ত একটি ইলেকট্রন লাভ করার প্রবণতা যথেষ্ঠ  থাকে। 
- প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে গ্রহণ করে হ্যালাইড আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনের সাথে যুক্ত হয়ে হাইড্রোজেন হ্যালাইড যৌগ গঠন করে। 
- হাইড্রোজেন হ্যালাইড পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এসিডে পরিণত হয়। 
- এরা তীব্র জারক। 

অন্যদিকে, 
- অক্সিজেন (O) হ্যালোজেন গ্রুপের মৌল নয়, এটি গ্রুপ-16 এর মৌল

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৮৪.
'Adult Cell' ক্লোন করে কোন দেশে একটি ভেড়ার জন্ম হয়েছে?
  1. যুক্তরাজ্যে
  2. যুক্তরাষ্ট্রে
  3. অস্ট্রোলিয়ায়
  4. ফ্রান্সে
ব্যাখ্যা
- সর্বপ্রথম যুক্তরাজ্যে Adult Cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম দেওয়া হয়েছিল তার নাম ডলি।
- ডলি হলো মানব-ইতিহাসে প্রথম সফল স্তন্যপায়ী প্রাপ্তবয়স্ক ক্লোন প্রাণী।
- ডলির জন্ম হয় ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই।
- ডলির নামকরণ করা হয় আমেরিকার বিখ্যাত শিল্পী ডলি পের্টনের নামে।
- ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফুসফুসে জটিলতার কারণে মাত্র সাড়ে ছয় বছর বয়সে মারা যায় ডলি।
- ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব স্কটল্যান্ডে সংরক্ষিত আছে ডলির স্টাফ করা দেহ।

উৎস: বিবিসি ওয়েবসাইট।
১,৬৮৫.
আমাদের সৌরজগত কীসের অংশবিশেষ?
  1. জ্যোতিষ্ক
  2. ধূমকেতু
  3. ছায়াপথ
  4. নীহারিকা
ব্যাখ্যা
• মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি ও সৌরজগত:
- সুদূর আকাশে বায়বীয় পদার্থ ও গ্যাসপূর্ণ স্বল্পালোকিত মেঘের মত আস্তরণকে গ্যালাক্সি বলা হয়।
- আমাদের সৌরজগত মিল্কিওয়ে (Milkyway) গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশবিশেষ, যা বাংলায় ছায়াপথ নামে অভিহিত।
- এই ছায়াপথটি অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্রের সমন্বয়ে উত্তর- দক্ষিণে বিস্তৃত।
- গ্যালাক্সি মহাবিশ্বের অংশ।
- এখানে রয়েছে হাজার হাজার কোটি নক্ষত্র ও গ্রহ, উপগ্রহ।
- পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার নাম হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ।
- এটি মাত্র এক লাখ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির সবচেয়ে কাছের গ্যালাক্সির নাম ‘আন্ড্রোমিডা’ (Andromeda).

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১,৬৮৬.
পুকুরের পানির ঢেউ এর প্রকৃতি এর ক্ষেত্রে নিন্মের কোনটি অধিক প্রযোজ্য? 
  1. ক) পর্যাবৃত্ত
  2. খ) অধিবৃত্তাকার
  3. গ) বৃত্তাকার
  4. ঘ) উপবৃত্ত
ব্যাখ্যা
কোনো বস্তু নির্দ্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে অতিক্রম করলে যে গতি উৎপন্ন হয় তাকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে ।
পর্যায় গতিসম্পন্ন বস্তু বা বস্তু কণার একই দিক থেকে নির্দিষ্ট বিন্দুটি অতিক্রম করতে যে সময় লাগে তাকে পর্যায়কাল বলে।
পর্যাবৃত্ত গতি দু' ধরণের। ঘুর্ণন গতি ও স্পন্দন গতি।
১,৬৮৭.
লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এনজাইম কোনটি? 
  1. পেপসিন
  2. টায়ালিন
  3. ট্রিপসিন
  4. ল্যাকটোজ
ব্যাখ্যা
মুখবিবর: 
- মুখ পরবর্তী অংশটি মুখবিবর। 
- এর ভেতরে কয়েকটি অঙ্গ অবস্থিত। যেমন- দাঁত, মাড়ি, জিহবা, গাল ও তালু। 
- মুখ বিবরের ঊর্ধ্ব প্রাচীর তালুর অস্থি ও পেশি দিয়ে, সামনের প্রাচীর ঠোঁটের পেশি দিয়ে এবং পার্শ্ব প্রাচীর গালের পেশি দিয়ে গঠিত। 
- তালুর অগ্রভাগ অস্থিনির্মিত এবং শক্ত, পেছনের অংশ মাংসল ও নরম। 
- তালুর পেছনের অংশের মধ্যভাগ থেকে একটি অপেক্ষাকৃত সরু আলজিহবা মুখবিবরে ঝুলে থাকে। 
- মানুষের ঊর্ধ্ব ও নিম্ন চোয়াল দাঁতযুক্ত। 
- এছাড়া মুখবিবরে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে। 
- নিম্নে চোয়ালের অস্থির সাথে জিহ্বাযুক্ত থাকে। 
- পৃষ্ঠতলের উপর থাকে স্বাদকোরক এগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তুর প্রতি সংবেদনশীল। 
- জিহ্বার অগ্রভাগ মিষ্টি, দুই পার্শ্ব নোনা, পশ্চাৎ ভাগের দুই পার্শ্ব টক এবং পেছনের দিক তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করে।

কাজ: 
- দাঁত খাদ্য দ্রব্যকে কাটা, ছেঁড়া ও পেষণে সাহায্য করে। 
- জিহ্বা খাদ্য দ্রব্যের স্বাদ গ্রহণ করে এবং পেষণের সময় লালারস মিশ্রিত করে খাদ্য দ্রব্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়। 
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত “মিউসিন” খাদ্যকে পিচ্ছিল করে আর টায়ালিন ও মল্টেজ এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৮৮.
বৈদ্যুতিক মিটারে এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ বলতে বুঝায় -
  1. এক ওয়াট
  2. এক ওয়াট ঘন্টা
  3. এক মেগাওয়াট
  4. এক কিলোওয়াট ঘন্টা
ব্যাখ্যা
কিলোওয়াট-ঘণ্টা: 
- এক ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো তড়িৎ যন্ত্রের মধ্য দিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তড়িৎ প্রবাহিত হলে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, সেটি হচ্ছে এক ওয়াট-ঘণ্টা। 
১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট Χ ১ঘণ্টা। 

- অনেক সময় ওয়াট-ঘণ্টার পরিবর্তে কিলোওয়াট ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়। 
১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট Χ ৩৬০০ সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ জুল। 
অর্থাৎ শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল। 

- আন্তর্জাতিকভাবে, তড়িৎ সরবরাহকে কিলোওয়াট-ঘন্টা এককে পরিমাপ করা হয়। 
- এই একককে বোর্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট সংক্ষেপে ইউনিট বলে। 
- বৈদ্যুতিক মিটারে এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ বলতে এক কিলোওয়াট ঘন্টা বুঝায়। 
- আমরা যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি তা কিলোওয়াট-ঘণ্টা এককে হিসেব করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৮৯.
সর্বপ্রথম 'জেনেটিক্স' শব্দের প্রচলন করেন কে?
  1. মেন্ডেল
  2. বেটসন
  3. ডারউইন
  4. মর্গান
ব্যাখ্যা
- উইলিয়াম বেটসন ১৯০৫ সালে সর্বপ্রথম Genetics শব্দটি প্রচলন করেন
- অস্ট্রিয়াবাসী ধর্মযাজক গ্রেগর জোহান মেন্ডেল জিনতত্ত্বের জনক হিসেবে পরিচিত।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের মৃত্যুর ১৬ বছর পর ১৯০০ সালে নেদারল্যান্ডসের উদ্ভিদবিজ্ঞানী হিউগো ডে সি, জার্মান উদ্ভিদবিজ্ঞানী অধ্যাপক কার্ল করেন্স, অস্ট্রিয়ার কৃষিবিজ্ঞানী এরিক শ্চেমেক পৃথকভাবে কিন্তু একই সময়ে মেন্ডেলের গবেষণার ফলাফল পুনরাবিষ্কার করেন। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৬৯০.
তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কোন যন্ত্র তৈরি করা হয়?
  1. ট্রানজিস্টর
  2. অ্যামপ্লিফায়ার
  3. জেনারেটর
  4. ফিউজ
ব্যাখ্যা
তাড়িতচৌম্বক আবেশঃ

কোনো বদ্ধ কুন্ডলী এবং কোনো চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আপেক্ষিক গতি থাকলে ঐ কুন্ডলীতে
একটি আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে।

যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করার যন্ত্রকে জেনারেটর বলে। তড়িৎ
চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে জেনারেটর তৈরি করা হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৬৯১.
ডোপিং এর জন্য অপদ্রব্য হিসেবে পর্যায় সারণির কোন সারির মৌলগুলোকে ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) প্রথম ও তৃতীয়
  2. খ) তৃতীয় ও পঞ্চম
  3. গ) দ্বিতীয় ও চতুর্থ
  4. ঘ) পঞ্চম ও সপ্তম
ব্যাখ্যা
ডোপিং (Doping):
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে ।
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় ।
- ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যথা-
(ক) পর্যায় সারণির তৃতীয় সারির মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
(খ) পর্যায় সারণির পঞ্চম সারির মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৯২.
কোনটি মিথ্যা?
  1. ক) অভিকর্ষ হলো বস্তুর উপর কেন্দ্রমুখী বল
  2. খ) মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী নিউটন
  3. গ) অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনকালীন সময়ে আমরা ছিটকে পড়ি না
  4. ঘ) গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ
ব্যাখ্যা
পৃথিবী ও যেকোন বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ।
১. অভিকর্ষও এক ধরনের মহাকর্ষ।
২. অভিকর্ষ বল কোন বস্তুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে।
৩. অভিকর্ষ হলো বস্তুর উপর কেন্দ্রমুখী বল।
৪. মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী নিউটন।
৫. অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনকালীন সময়ে আমরা ছিটকে পড়ি না।
মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাকে মহাকর্ষ বলে।
১. সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ।
২. গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার আকর্ষণও মহাকর্ষ।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৯৩.
কোন আলোকরশ্মি ত্বকে ভিটামিন 'ডি' তৈরিতে সাহায্য করে?
  1. ক) আলফা রশ্মি
  2. খ) এক্স রশ্মি
  3. গ) বিটা রশ্মি
  4. ঘ) আলট্রা-ভায়োলেট রশ্মি
ব্যাখ্যা
Vitamin D is a hormone, not a vitamin. The skin is responsible for producing vitamin D. During exposure to sunlight, ultraviolet radiation penetrates into the epidermis and photolyzes provitamin D3 to previtamin D3.
Source:ncbi.nlm.nih.gov
১,৬৯৪.
​মাটির এসিডিটি কমাতে কোন লবণ ব্যবহার করা হয়? 
  1. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট 
  2. ক্যালসিয়াম কার্বনেট 
  3. সোডিয়াম গ্লুটামেট 
  4. পটাসিয়াম নাইট্রেট 
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- ক্যালসিয়াম কার্বনেট পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
- যে লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে তা হলো- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ। 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য চুনাপাথর বা ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ। 
যেমন: অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NHNO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ, যা প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন: ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), সিলভার সালফেট (Ag2SO4), সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৯৫.
সৌরজগতে কতটি গ্রহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে?
  1. ৭টি 
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা
সূর্য (Sun):
- সূর্য একটি নক্ষত্র।
- এটি একটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের নক্ষত্র।
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার এবং ভর প্রায় ১.৯৯×১০১৩ কিলোগ্রাম।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতিষ্ক।
- পৃথিবী, অন্যান্য গ্রহ, উপগ্রহের তাপ ও আলোর মূল উৎস সূর্য।
- সূর্যের আলো ছাড়া পৃথিবী চির অন্ধকারে থাকত এবং পৃথিবীতে জীবজগৎ ও উদ্ভিদজগতের কিছুই বাঁচত না।
- সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আটটি গ্রহ।
- সূর্য থেকে গ্রহগুলো দূরত্ব অনুযায়ী পর পর যেভাবে রয়েছে তা হলো বুধ (Mercury), শুক্র (Venus), পৃথিবী (Earth), মঙ্গল (Mars), বৃহস্পতি (Jupiter), শনি (Saturn), ইউরেনাস (Uranus) এবং নেপচুন (Neptune)।
- গ্রহদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃহস্পতি এবং ছোট বুধ।
- বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনি বেশ উজ্জ্বল এবং কোনো যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই দেখা যায়।
- ইউরেনাস ও নেপচুন এতটা কম উজ্জ্বল যে দূরবীক্ষণ ছাড়া এদের দেখা যায় না।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৬৯৬.
কোনটির সাহায্যে ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ করা হয়? 
  1. ব্যারোমিটার
  2. রিখটার স্কেল
  3. হাইড্রোমিটার
  4. ফ্যাদোমিটার
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প: 
- পৃথিবীর ভেতরে হঠাৎ সৃষ্ট কোনো কম্পন যখন ভূপৃষ্ঠে আকস্মিক আন্দোলন সৃষ্টি করে, সেটাকেই ভূমিকম্প বলে। 
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড থেকে মিনিট খানেক পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে একাধিকবার ঘটতে পারে। 
- ভূমিকম্প একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি দেশ বা অঞ্চল পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে। 
- বড় ধরনের ভূমিকম্প নদীর গতিপথও পরিবর্তন করতে পারে। যেমন - ভূমিকম্পের ফলে আমাদের অন্যতম প্রধান নদী ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ বদলে গিয়েছিল। 
- পৃথিবীর মাঝে জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। 
- ২০১০ সালে হাইতিতে, ২০১১ সালে জাপানে এবং ২০১৫ সালে নেপালের ভূমিকম্প ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। 
- জাপানের ভূমিকম্পের পর সেখানে সৃষ্ট সুনামি নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রে আঘাত করে একটি নিউক্লিয়ার দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিল। 
- ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ করা হয় রিখটার স্কেলে। 
- রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প আমরা অনুভব করতে পারি। 
- এই স্কেলে এক মাত্রা বেড়ে যাওয়া মানে তার শক্তি ৩০গুন বেড়ে যাওয়া। 
- ১৯৮৪ সালে মানিকগঞ্জ এলাকায় রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার বড় একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। 

অন্যদিকে, 
- আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্র হাইড্রোমিটার। 
- বায়ুর চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যারোমিটার। 
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র ফ্যাদোমিটার। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৯৭.
কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সর্বাধিক হয়?
  1. শূন্য
  2. কঠিন
  3. তরল
  4. গ্যাস
ব্যাখ্যা

কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়।

শব্দের বেগ:
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- শব্দের বেগ কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি (যেমন-ইস্পাত, লোহা) হয়।
- তরল পদার্থের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম (যেমন-পানি) হয়।
-বায়োবীয় পদার্থে সবচেয়ে কম।
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য।

  উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৯৮.
বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) আইজাক নিউটন
  2. খ) স্টিফেন হকিংস
  3. গ) হেনরিক মার্জ
  4. ঘ) জেমস ওয়াট
ব্যাখ্যা
• জেমস ওয়াট ১৭৬৯ সালে বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন।
•  গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের নির্মাতারূপে তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেন।
• এর কিছুদিনের মধ্যেই বাষ্পীয় শক্তিচালিত ইঞ্জিন নিয়ে তার ভাবনাচিন্তা শুরু হয়।
গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্র সৃষ্টিকর্তা হিসেবে কাজ করার সময়, ওয়াট বাষ্প ইঞ্জিনের প্রযুক্তিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন. তিনি উপলব্ধি করেন যে সমকালীন ইঞ্জিন ডিজাইন বারবার শীতল এবং সিলিন্ডার উত্তপ্ত দ্বারা শক্তির একটি বিরাট অংশ নষ্ট করছে।
• ওয়াট একটি নকশা বর্ধিতকরণ চালু করেন যা শক্তির এই অপচয় এড়ানো, আমূল ক্ষমতা, দক্ষতা, এবং বাষ্প ইঞ্জিনের খরচ কার্যকারিতা উন্নত করে. অবশেষে তিনি তার ইঞ্জিন অভিযোজিত ঘূর্ণনশীল গতি উত্পাদন, ব্যাপকভাবে পাম্পিং জল এর ব্যবহার প্রসারিত করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
১,৬৯৯.
নিচের কোনটির জন্য UHF তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়?
  1. স্যাটেলাইট টেলিভিশন সম্প্রচার
  2.  রেডিও ব্রডকাস্টিং
  3. মাইক্রোওয়েভ ওভেন
  4.  হেডফোন সিগন্যাল
ব্যাখ্যা

স্যাটেলাইট টেলিভিশন সম্প্রচার:
- UHF (Ultra High Frequency) 
তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।
- ফ্রিকোয়েন্সি 300 MHz থেকে 3 GHz পর্যন্ত, যা টেলিভিশন সম্প্রচার এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়। 

রেডিও ব্রডকাস্টিং:
- সাধারণ FM/AM রেডিও ব্রডকাস্টিং VHF (Very High Frequency) বা HF (High Frequency) ব্যান্ড ব্যবহার করে।

মাইক্রোওয়েভ ওভেন: 
- মাইক্রোওয়েভ ওভেন 2.4 GHz বা তার আশেপাশের ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে।
- এই ফ্রিকোয়েন্সি জল অণুগুলোর কম্পন ঘটাতে সক্ষম, যার ফলে খাবার গরম হয়।

উৎস: Encyclopaedia Britannica. [লিংক]

১,৭০০.
নিচের কোনটি তেজস্ক্রিয়তার একক নয়?
  1. কুরী
  2. বেকেরেল
  3. টেসলা
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় পদার্থ:
- ভারি মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- সাধারণত যে সকল মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২ এর বেশি সেই সকল পরমাণু তেজস্ক্রিয়তা প্রদর্শন করে।
- তবে ৮২ থেকে কম পারমাণবিক সংখ্যা বিশিষ্ট কিছু মৌলের আইসোটোপের ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তা পরিলক্ষিত হয়।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকেরেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- তেজস্ক্রিয়তার এসআই লব্ধ একক হলো বেকেরেল (Bq), যা আবিষ্কারকের নামানুসারে করা হয়।
- তেজস্ক্রিয়তার আরো একটি একক রয়েছে কুরী

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য:
বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায় -
(১) তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও অবিরাম ঘটনা । তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
(২) তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
(৩) তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তিস্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
(৪) উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণিদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস:
১) বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।