ব্যাখ্যা
- Light year বা আলোক বর্ষ হলো একটি দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক, যা দিয়ে জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত দূরত্ব মাপা হয়।
- এক বছরে আলো যতদুর যায়, তা ই আলোক বর্ষ।
- এক আলোক বর্ষ = ৯.৪৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার বা ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল।
তথ্যসূত্র - NASA ওয়েবসাইট।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১২৬ / ১৪০ · ১২,৫০১–১২,৬০০ / ১৪,০৮০
যকৃত:
- মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি হলো যকৃত।
- যকৃত মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার একটি অঙ্গ।
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে।
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে।
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
রক্তে জৈব পদার্থের ভিতরে প্লাজমা প্রোটিন এর পরিমাণ প্রায় ৭.৫%।
প্লাজমা প্রোটিন এর মধ্যে অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, প্রোথ্রম্বিন, ফাইব্রিনোজেন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
রক্তে বিদ্যমান নাইট্রোজেনঘটিত রেচন পদার্থের মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, জ্যানথিন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
টর্চ লাইট, বিভিন্ন রকম রিমােট কন্ট্রোলার, নানা রকম খেলনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় সেগুলােকে ড্রাইসেল বা শুষ্ক কোষ বলে।
সাধারণ ড্রাইসেলে দস্তার চোঙ ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বা অ্যানােড হিসেবে কাজ করে আর ধাতব টুপি দিয়ে ঢাকা কার্বনদণ্ড ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বা ক্যাথােড হিসেবে কাজ করে।
সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি
• একটি ব্রিজ রেকটিফায়ার (Bridge Rectifier) তৈরি করতে চারটি ডায়োডকে ব্রিজের মতো বিশেষ সংযোগে সাজানো হয়। এটি অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC) এর উভয় চক্রকে (পজিটিভ ও নেগেটিভ) ডাইরেক্ট কারেন্ট (DC) এ রূপান্তর করতে পারে।
• রেকটিফায়ার:
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)।
- একমুখীকারক দুই প্রকার।
যথা-
(ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং
(খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক।
• পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার:
- পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার তৈরি করা হয় চারটি ডায়োড ব্যবহার করে।
- চারটি ডায়োডের ন্যায় সংযোগ করে একটি ব্রিজ গঠন করা হয়।
- রেকটিফাই বা একমুখী করার জন্য এসি উৎসকে একটি ট্রান্সফর্মারের মাধ্যমে ব্রিজের কোনার দুই বিপরীত প্রান্তে সংযোগ দেওয়া হয়।
- অন্য দুই বিপরীত কোনার সাথে সংযোগ দেওয়া হয় লোড রেজিস্টান্স।
উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন।
২. পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
◉ ফুলের প্রজনন অঙ্গ হলো পুংস্তবক (Androecium) এবং স্ত্রীস্তবক (Gynoecium)।
প্রজনন অঙ্গ (ফুল):
- প্রজননের জন্য রূপান্তরিত বিশেষ ধরনের বিটপ (Shoot) হলো ফুল।
- ফুল উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ।
- একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি স্তবকের মধ্যে দুটি স্তবক (পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক) প্রজননের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ যারা সরাসরি প্রজননে অংশ নেয়, কিন্তু অন্য স্তবকগুলো সরাসরি অংশ না নিলেও প্রজননে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে।
- যে ফুলে এই পাঁচটি স্তবকই উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- জবা, ধুতুরা।
- এই পাঁচটি স্তবকের যেকোনো একটি স্তবক না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- লাউ, কুমড়া।
- বৃন্তযুক্ত ফুলকে সবৃন্তক যেমন- জবা, কুমড়া এবং বৃন্তহীন ফুলকে অবৃন্তক ফুল বলে যেমন- হাতীশুঁড়।
- যখন কোনো ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই উপস্থিত থাকে, তাকে উভলিঙ্গ ফুল (Bisexual flower) যেমন- জবা, ধুতুরা।
- পুংস্তবক বা স্ত্রীস্তবকের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে একলিঙ্গ ফুল (Unisexual flower) যেমন লাউ, কুমড়া এবং দুটোই অনুপস্থিত থাকলে ক্লীব ফুল (Neuter flower) বলে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে এক ধরণের ভাইরাস, যার নাম Human Immunodeficiency Virus এবং একে সংক্ষেপে HIV বলা হয়।
সমাজভুক্ত যেকোন ব্যক্তিই HIV সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তবে যুবসমাজ, অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা এই ভাইরাস দ্বারা সংক্রমণের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
উৎসঃ ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস এন্ড ক্রাইম এবং বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
ব্যাটারি:
- ব্যাটারি বলতে একাধিক কোষের (Cell) সমন্বয়কে বুঝানো হয়।
- একটি তড়িৎ ব্যাটারি বলে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাটারি হলো একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়।
- ব্যাটারি সেলে ব্যবহারের জন্য তড়িৎ শক্তি জমা থাকে।
- ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে।
যেমন- অ্যানোড, ক্যাথোড এবং মাঝখানে থাকে ইলেকট্রোলাইট।
- ব্যাটারি সেলের বিভব পার্থক্য সবসময় সমান থাকে বলে এগুলোকে ডিসি সাপ্লাই বলা হয়।
- আমাদের বাসায় যে বৈদ্যুতিক সাপ্লাই দেওয়া হয়, সেগুলো প্রতি সেকেন্ডে ৫০বার ধনাত্মক থেকে ঋণাত্মক বিভবে পরিবর্তিত হয় বলে সেগুলোকে এসি (Alternating Current) বলা হয়।
- একটি সাধারন ব্যাটারি সেলে বিভব পার্থক্য মাত্র ১.৫ V, সেই তুলনায় আমাদের বাসার বিদ্যুৎ সাপ্লাই ২২০ V ।
- বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ V থেকে বেশি হলে আমরা সেটি অনুভব করতে পারি, আবার ২২০ V সাপ্লাই থেকে অনেক বড় ইলেকট্রিক শক খাওয়া সম্ভব এবং এই ইলেকট্রিক শকের কারণে শরীরের ভেতর দিয়ে যথেষ্ট বিদ্যুৎ প্রবাহ হয় বলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ লাইটে প্রধানত জেনন (Xenon) গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
- জেনন গ্যাসের মধ্য দিয়ে উচ্চ বিভবশক্তির বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে এটি অত্যন্ত উজ্জ্বল সাদা আলো উৎপন্ন করে, যা প্রাকৃতিক দিনের আলোর খুব কাছাকাছি।
- এই বিশেষ গুণের কারণে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ গানে জেনন ভর্তি টিউব ব্যবহার করা হয়।
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির শূন্য গ্রুপের মৌলসমূহ রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং কক্ষ তাপমাত্রায় গ্যাসীয়।
এইজন্য এদেকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস মোট ৭টি।
- এগুলো হলো- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন, রেডন ও ওগানেসন।
- এগুলোর মধ্যে প্রথম ৬টি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত।
- ওগানেসন (Og) পরীক্ষাগারে তৈরি এবং তেজস্ক্রিয়।
- ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ লাইটে প্রধানত জেনন গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় সঞ্চিত জলরাশিতে বিভবশক্তি জমা হয়।
- পানি নিচে প্রবাহিত হওয়ার সময় এই বিভবশক্তি গতিশক্তিতে পরিণত হয়।
- পানি প্রবাহের সাহায্যে টারবাইনের চাকা ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
- এভাবে যান্ত্রিক শক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস (Diabetes):
- অগ্ন্যাশয়ের ভিতর আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস নামক এক ধরনের গ্রন্থি আছে, এই গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন (Insulin) নিঃসৃত হয়।
- ইনসুলিন হলো এক ধরনের হরমোন, যা দেহের শর্করা পরিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
- অগ্ন্যাশয়ে যদি প্রয়োজনমতো ইনসুলিন তৈরি না হয় তবে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্থায়ীভাবে বেড়ে যায়, প্রস্রাবের সাথে গ্লুকোজ নির্গত হয়। এ অবস্থাকে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস মেলিটাস (সংক্ষেপে: ডায়াবেটিস) বলে।
- ডায়াবেটিস প্রধানত দুই ধরনের, টাইপ-1 এবং টাইপ-2 ।
- টাইপ-1 এ আক্রান্ত রোগীর দেহে একেবারেই ইনসুলিন তৈরি হয় না। তাই নিয়মিতভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নিতে হয়।
- অন্যদিকে টাইপ-2 রোগীর দেহে আংশিকভাবে ইনসুলিন তৈরি হয়। এক্ষেত্রে ঔষধ, অগ্ন্যাশয় কোষকে শরীরের জন্য পরিমিত ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা:
- রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করে গ্লুকোজের মাত্রা নির্ণয়ের মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।
- চিকিৎসা করে ডায়াবেটিস রোগ একেবারে নিরাময় করা যায় না, কিন্তু এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
- ডাক্তারদের মতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি 'D' মেনে চলা অত্যাবশ্যক।
যেমন: Discipline, Diet ও Drug.
(১) শৃঙ্খলা (Discipline): একজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য তার সুশৃঙ্খল জীবনব্যবস্থা মহৌষধস্বরূপ। এছাড়া নিয়মিত এবং ডাক্তারের পরামর্শমতো পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, রোগীর দেহের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বিশেষভাবে পায়ের যত্ন নেওয়া, নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করা এবং দৈহিক কোনো জটিলতা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।
(২) খাদ্য নিয়ন্ত্রণ (Diet): ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায় হলো খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করা, মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করা ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত এবং সময়মতো খাদ্য গ্রহণ করা। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের মেনু অনুসরণ করলে সুফল পাওয়া যায়। তবে যার ডায়াবেটিস নেই, তার মিষ্টি খাওয়া বা না খাওয়ার সাথে ডায়াবেটিসের সম্পর্ক নেই।
(৩) ঔষধ সেবন (Drug): ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন করা উচিত নয়। ডাক্তার রোগীর শারীরিক অবস্থা বুঝে ঔষধ খাওয়া বা ইনসুলিন নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে হবে। ঠিকমতো চিকিৎসা না করা হলে রোগীর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে বা বেড়ে যায়। উভয় ক্ষেত্রেই রোগী বেহুঁশ হয়ে পড়তে পারে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। যদি ডায়াবেটিস রোগী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান, তখন তাকে বসিয়ে গ্লুকোজ বা চিনির পানি খাইয়ে দিলে অনেক সময় খারাপ পরিণতি এড়ানো যেতে পারে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
প্রশ্ন: 8N এবং 15N মানের দুটি বল লম্বভাবে ক্রিয়া করলে লব্ধির মান কত?
সমাধান:
ধরি, বল দুটি P = 8N এবং Q = 15N।
বল দুটি লম্বভাবে ক্রিয়া করায়, তাদের মধ্যবর্তী কোণ (θ) = 90°
দুটি বল P ও Q এর লব্ধি R এর সূত্রটি হলো:
R2 = P2 + Q2 + 2PQ cosθ
⇒ R2 = 82 + 152 + 2 × 8 × 15 × cos 90°
⇒ R2 = 64 + 225 + 2 × 8 × 15 × 0 (যেহেতু cos 90° = 0)
⇒ R2 = 289 + 0
⇒ R2 = 289
⇒ R = √289
∴ লব্ধির মান, R = 17 N
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ:
- শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার শনাক্ত করতে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- ক্যান্সার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-৬০ থেকে নির্গত গামা রশ্মি প্রয়োগ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ ধ্বংস করা হয়।
- থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-১৩১ তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- রক্তের লিউকেমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ এর ফসফেট যৌগ ব্যবহৃত হয়।
- দেহের হাড়ের বৃদ্ধি সংক্রান্ত সমস্যা নির্ণয় এবং ব্যথার কারণ চিহ্নিত করতে টেকনেশিয়াম-৯৯ আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- মস্তিষ্কের ক্যান্সার চিকিৎসায় ইরিডিয়াম আইসোটোপ প্রয়োগ করা হয়।
উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
টরিসেলির পরীক্ষা:
- বিজ্ঞানী টরিসেলি ১৬৪৩ সালে পারদ ব্যবহার করে বাতাসের চাপের পরীক্ষাটি করেছিলেন।
- তিনি অবশ্য মুখ দিয়ে পারদকে একটি নল বেয়ে টেনে তোলার চেষ্টা করেননি, তিনি এক মুখ বন্ধ একটা নলের ভেতর পারদ ভরে, নলটি পারদ ভরা একটা পাত্রে উল্টো করে রেখেছিলেন।
- পারদের উচ্চতা নামতে নামতে ঠিক 76 cm এসে থেমে গেল।
- চুমুক দিয়ে খাওয়ার সময় মুখের ভেতরে যে শূন্যতা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়, কাচের নলের উপরে ঠিক সেই শূন্যতা তৈরি হয়।
- বাতাস পারদের উপরে চাপ দেয় এবং সেই চাপ তরলের সব জায়গায় সঞ্চালিত হয়ে নলের নিচেও আসে। নলের উপরে কোনো ফুটো নেই, তাই সেদিক দিয়ে বাতাস চাপ দিতে পারছে না। কাজেই সমতা আনার জন্য নলের নিচে এক মাত্র চাপ হচ্ছে 76 cm উচু পারদ স্তম্ভের ওজনের কারণে তৈরি হওয়া চাপ।
- বাতাসের চাপ মাপার যন্ত্রের নাম ব্যারোমিটার এবং টরিসেলির এই পদ্ধতি দিয়ে তৈরি ব্যারোমিটারে এখনো বাতাসের চাপ মাপা হয়।
- বাতাসের চাপ বাড়লে পারদের উচ্চতা 76 cm থেকে বেশি হয়, চাপ কমলে উচ্চতা 76 cm থেকে কমে যায়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন লিঙ্গ এবং বয়স ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের ওজন সাধারণত শরীরের মোট ওজনের প্রায় ২% হয়। গড়ে একজন পুরুষের মস্তিষ্কের ওজন প্রায় ১,৩৩৬ - ১,৩৪৫ গ্রাম এবং একজন নারীর মস্তিষ্কের ওজন প্রায় ১,১৯৮ - ১,২২২ গ্রাম। এই গড় মান বিবেচনা করলে মানুষের মস্তিষ্কের গড় ওজন ১.৩৬ কেজি (১৩৬০ গ্রাম) ধরা হয়।
স্নায়ুতন্ত্র:
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক।
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন।
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন।
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি।
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস।
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক।
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে।
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
ভৌত পরিবর্তন:
- যে পরিবর্তনের ফলে কোন পদার্থের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক গঠনের কোন পরিবর্তন না ঘটে শুধু বাহ্যিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে তাকে ভৌত পরিবর্তন বলে।
যেমন-
• পানিকে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা,
• লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া,
• বরফ গলে পানি হওয়া,
• তাপ দ্বারা মোম গলানো ইত্যাদি।
রাসায়নিক পরিবর্তন:
- যে পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠনের পরিবর্তন হয় অর্থাৎ সম্পূর্ণ নতুন পদার্থে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে।
যেমন-
• লোহায় মরিচা ধরা,
• দুধ থেকে দই হওয়া,
• গাছের পাতা হলুদ হওয়া,
• ফল পেকে লাল বা হলুদ হওয়া ইত্যাদি।
উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
- শূন্য মাধ্যমের মাধ্যমে শব্দ অতিক্রম করতে পারে না।
শব্দের বেগ:
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়।
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- শব্দের বেগ কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি (যেমন- ইস্পাত, লোহা) হয়।
- তরল পদার্থের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম (যেমন- পানি) হয়।
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ।
- বৃক্কে প্রদাহ হলো গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস।
- ফুসফুসের সংক্রমণ হলো নিউমোনিয়া।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ওজোন গ্যাসের পরিমাণ বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে কম (খুব সামান্য পরিমাণে থাকে) এবং এর পরিমাণ প্রায় ০.০০০১% ।
বায়ুমণ্ডল:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল।
- বায়ুমণ্ডলভূ-অভ্যন্তরের নির্গত গ্যাস থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে মাত্র ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে বায়ুমণ্ডলের ৯০ শতাংশ অবস্থান করছে। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত।
- বায়ুমণ্ডলের উপাদানের নাম ও শতকরা পরিমাণ নিম্নে দেওয়া হলো-
• নাইট্রোজেন ⇒ ৭৮.০২,
• অক্সিজেন ⇒ ২০.৭১,
• আর্গন ⇒ o.৮০,
• কার্বন ডাই-অক্সাইড ⇒ ০.০৩,
• ওজোন ⇒ ০.০০০১,
• অন্যান্য গ্যাস ⇒ ০.০১৯৯,
• জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১ এবং
• ধূলিকণা ও কনিক্স ⇒ ০.০১।
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• গ্লুকোজের জারণ (Glucose Respiration):
- গ্লুকোজ জারণ হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোষ খাদ্য থেকে শক্তি (ATP) উৎপন্ন করে।
- এটি প্রধানত তিনটি ধাপে ঘটে: গ্লাইকোলাইসিস, ক্রেবস সাইকেল, এবং ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন।
- প্রতিটি ধাপে ATP উৎপাদনের পরিমাণ ভিন্ন হয়, এবং সর্বমোট ATP উৎপাদন গ্লুকোজের একটি অণু থেকে নির্ধারিত হয়।
• গ্লাইকোলাইসিস (Glycolysis):
- গ্লাইকোলাইসিস হলো গ্লুকোজের প্রথম ধাপ, যা সাইটোপ্লাজমে ঘটে।
- এখানে ১ অণু গ্লুকোজ থেকে মোট ২ অণু ATP উৎপন্ন হয় (নেট লাভ)।
- পাশাপাশি ২ অণু NADH তৈরি হয়, যা পরবর্তী ধাপে আরও ATP উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
• ক্রেবস সাইকেল (Krebs Cycle):
- ক্রেবস সাইকেল মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে ঘটে।
- একটি গ্লুকোজের অণু থেকে ২ অণু পাইরুভেট আসে, যা ক্রেবস সাইকেলে প্রবেশ করে।
- প্রতিটি গ্লুকোজের জন্য এখানে ২ অণু ATP, ৬ অণু NADH এবং ২ অণু FADH2 তৈরি হয়।
• ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন (Electron Transport Chain):
- ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন মাইটোকন্ড্রিয়ার ইনার মেমব্রেনে ঘটে।
- NADH এবং FADH2 থেকে ATP উৎপাদনের মাধ্যমে মোট প্রায় ৩২–৩৪ ATP উৎপন্ন হয়।
- গ্লুকোজের একটি অণু সম্পূর্ণ অক্সিডেশনের পর সর্বমোট প্রায় ৩৮ ATP উৎপন্ন হয়।
সুতরাং, একটি গ্লুকোজ অণু জারণের ফলে উৎপন্ন মোট ATP সংখ্যা হলো ৩৮।
সঠিক উত্তর: ঘ) ৩৮ অনু।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম:
- পর্যায় সারণিতে অবস্থিত মৌলগুলোর কিছু ধর্ম আছে, যেমন- ধাতব ধর্ম, অধাতব ধর্ম, পরমাণুর আকার, আয়নিকরণ শক্তি, তড়িৎ ঋণাত্মকতা ইলেকট্রন আসক্তি ইত্যাদি। এসব ধর্মকে পর্যায়বৃত্ত ধর্ম বলে।
ধাতব ধর্ম (Metallic Properties):
- যে সকল মৌল চকচকে, আঘাত করলে ধাতব শব্দ করে এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী তাদেরকে ধাতু বলা হয়।
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে ধাতু বলে।
- ধাতুর ইলেকট্রন ত্যাগের এই ধর্মকে ধাতব ধর্ম বলে।
- যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন ত্যাগ করতে পারবে সেই মৌলের ধাতব ধর্ম তত বেশি।
যেমন- লিথিয়াম (Li) একটি ধাতু কারণ Li একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Li+ এ পরিণত হয়।
• Li → Li+ + e-
- পর্যায় সারণিতে যেকোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে ধাতব ধর্ম হ্রাস পায়।
অধাতব ধর্ম (Non-metallic Properties):
- যে সকল মৌল চকচকে নয়, আঘাত করলে ধাতব শব্দ করে না এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয় তাদেরকে অধাতু বলা হয়।
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে অধাতু বলে।
- অধাতুর ইলেকট্রন গ্রহণের এই ধর্মকে অধাতব ধর্ম বলে।
- যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারবে সেই মৌলের অধাতব ধর্ম তত বেশি।
যেমন- ক্লোরিন (Cl) একটি অধাতু কারণ Cl একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে Cl- এ পরিণত হয়।
• Cl + e- → Cl-
- পর্যায় সারণিতে যেকোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে অধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায়।
অর্ধধাতু বা অপধাতু:
- যে সকল মৌল কোনো কোনো সময় ধাতুর মতো আচরণ করে এবং কোনো কোনো সময় অধাতুর মতো আচরণ করে তাদেরকে অর্ধধাতু বা অপধাতু বলা হয়।
- আবার আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল কোনো কোনো সময় ইলেকট্রন ত্যাগ করে এবং কোনো কোনো সময় ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাদেরকে অপধাতু বলে।
যেমন- সিলিকন (Si) একটি অপধাতু।
উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
শূন্যস্থানে আলোর বেগ 3 × 108 মিটার./সেকেন্ড।
এটি হল আলোর সর্বোচ্চ বেগ, অর্থাৎ আলো শূন্যে সবচেয়ে দ্রুত ভ্রমণ করে।
বায়ুতে শব্দের গতিবেগ 332 মিটার/সেকেন্ড।
সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান।
ধাতু-অধাতু:
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত।
যথা- ধাতু ও অধাতু।
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়।
ধাতুর বৈশিষ্ট্য:
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়।
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি।
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী।
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে।
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়।
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে।
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)।
উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
আমরা জানি,
W = mg
= ১০ X ৯.৮
= ৯৮ নিউটন।
◉ প্রোটিন মূলত অ্যামাইনো অ্যাসিড (Amino Acid) দিয়ে গঠিত। প্রাণীদেহে প্রোটিন সংশ্লেষণ অ্যামাইনো অ্যাসিডের মাধ্যমে হয়, যা কোষের গঠন, এনজাইম, হরমোন এবং অন্যান্য জৈবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রোটিন বা আমিষের গঠন:
- আমিষ বা প্রোটিনের গঠন উপাদান হলো- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H₂), অক্সিজেন (O₂) এবং নাইট্রোজেন (N₂)।
- আমিষে ১৬% নাইট্রোজেন থাকে।
- আমিষ বা প্রোটিনের গঠনগত একক অ্যামাইনো অ্যাসিড।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন মৌল সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিনের গঠন একক অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়।
- একাধিক অ্যামাইনো অ্যাসিড মিলিত হয়ে পলিপেপটাইড ও পরিশেষে প্রোটিন গঠিত হয়। তাই প্রোটিনের রাসায়নিক বিশ্লেষণের ফলে বিভিন্ন ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়।
- পরিপাকের পর আমিষ বা প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল, মটরশুঁটি শিমেরবিচি, সয়াবিন, বাদাম ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাদ্য। এসব খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ পাওয়া যায়।
অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড:
- প্রোটিন গঠনকারী অ্যামাইনো অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
- এ ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিডগুলো হলো-
১। লাইসিন।
২। লিউসিন।
৩। আইসোলিউসিন।
৪। মিথিওনিন।
৫। ট্রিপটোফ্যান।
৬। ভ্যালিন।
৭। ফিনাইল অ্যালানিন।
৮। থ্রিওনিন।
উৎস - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• ডায়োড মূলত এক ধরনের অর্ধপরিবাহী উপাদান যা বিদ্যুৎ প্রবাহকে একদিক থেকে অন্যদিকে প্রবাহিত হতে দেয় এবং বিপরীত দিকের প্রবাহকে বাধা দেয়। এটি সার্কিটে একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়, যা rectification প্রক্রিয়ায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ডায়োড AC (বিকল্প ধারা) কে DC (স্থির ধারা) তে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। এছাড়া কিছু ডায়োড ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ বা সিগন্যালের গতি নিয়ন্ত্রণেও ব্যবহার হয়, তবে মূল কাজ হলো একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করা।
- তাই সঠিক উত্তর হলো গ) একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করা।
ডায়োড:
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- আলফা রশ্মিকে একটা কাগজের পৃষ্ঠা দিয়ে থামানো যায়।
- বিটা রশ্মিকে ৩ - ৫ মিমি আলুমিনিয়াম দিয়ে থামানো যায়।
- গামা রশ্মিকে ৩ - ৫ সেমি সিসা দিয়ে থামানো যায়।
তথ্যসূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি, পৃষ্ঠা - ৩৫৯
• দুগ্ধজাত খাদ্য পরিপাকে ভূমিকা রাখা এনজাইম (Lactase):
- দুগ্ধজাত খাদ্যের প্রধান শর্করা হলো ল্যাকটোজ (Lactose)।
- এই ল্যাকটোজকে ভাঙার জন্য বিশেষভাবে যে এনজাইমটি কাজ করে তা হলো ল্যাক্টেজ।
- ল্যাক্টেজ ল্যাকটোজকে গ্লুকোজ ও গ্যালাক্টোজে ভেঙে ফেলে, যাতে শরীর সহজে শোষণ করতে পারে।
- ল্যাক্টেজের ঘাটতি থাকলে ল্যাকটোজ সঠিকভাবে পরিপাক হয় না।
- এর ফলে গ্যাস, ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়, যাকে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বলা হয়।
• অন্যান্য এনজাইম কেন সঠিক নয়:
- ম্যাল্টেজ: মল্টোজ নামক শর্করা পরিপাকে সাহায্য করে, দুগ্ধজাত খাদ্যে নয়।
- সুক্রোজ: এটি একটি শর্করা, এনজাইম নয়।
- লাইপেজ: চর্বি বা ফ্যাট পরিপাকে সাহায্য করে, ল্যাকটোজ নয়।
সুতরাং, দুগ্ধজাত খাদ্য পরিপাকে ঘাটতি ঘটায় যে এনজাইমটির অভাব, তা হলো ল্যাকটোজ।
সঠিক উত্তর: গ) ল্যাকটোজ।
সূত্র - ব্রিটানিকা।
• ফোটন:
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।
- প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ।
- নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য।
উল্লেখ্য:
- ভরের আকর্ষণ বা মহাকর্ষ বলের বাহক কণা হলো গ্র্যাভিটন।
- নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রনকে আবদ্ধকারী সবল নিউক্লীয় বলের বাহক হলো গ্লুয়ন।
- তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের জন্য দায়ী দুর্বল নিউক্লীয় বলের বাহক হলো W ও Z বোসন।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- একটি হাইড্রোজেন পরমাণু মূলত একটি প্রোটন এবং একটি ইলেকট্রন নিয়ে গঠিত। প্রোটনের ভর ইলেকট্রনের ভরের তুলনায় প্রায় ১৮৩৬ থেকে ১৮৪০ গুণ বেশি। যেহেতু হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভরই প্রোটন দ্বারা গঠিত, তাই একটি হাইড্রোজেন পরমাণু একটি ইলেকট্রনের তুলনায় প্রায় ১৮৪০ গুণ হালকা হয় বা একটি হাইড্রোজেন পরমাণু ইলেকট্রনের তুলনায় ১৮৪০ গুণ ভারী।
ইলেকট্রন:
- পরমাণুর একটি ক্ষুদ্রতম কণিকা হচ্ছে ইলেকট্রন।
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হচ্ছে ইলেকট্রন।
- ইলেকট্রনের ভর অতি সামান্য।
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় ১৮৪০ গুণ হালকা।
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা।
- ইলেকট্রনের সংকেত e- ।
- ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 g ও -1.60×10-19 C.
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান -1 ।
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
যে সমস্ত উদ্ভিদ থেকে চিনি সংগ্রহ করা হয় তাদেরকে চিনি উৎপাদনকারী ফসল বলে। চিনি উৎপাদনকারী ফসলগুলো তাদের দেহের বিভিন্ন অংশে সুক্রোজ জমা করে রাখে। যেমন- আখ, খেজুর, সুগার বীট, ম্যাপল, ভুট্টা, সরগম, সাগো প্রভৃতি উদ্ভিদ এদের কান্ডে চিনি জমা করে রাখে। এদের মধ্যে সাগো ব্যাতীত অন্যগুলোর ক্ষেত্রে কান্ডের কোষকলার ভিতর রস হিসেবে চিনি বিদ্যমান থাকে। সাগোর ক্ষেত্রে পূর্নবয়স্ক গাছে পিথের উপরিভাগে কান্ডাংশের মাঝে অসংখ্য ক্ষুদ্রাকৃতি গ্রানিউল আকারে দানাদার সুক্রোজ অবস্থান করে। সুগার বীট ও গাজরের মূলে সুক্রোজ থাকে। নারিকেল ও তাল গাছের ফুল থেকে সুক্রোজ পাওয়া যায়। এছাড়া কিছু কিছু উদ্ভিদ তাদের ফলে সুক্রোজ সঞ্চয় করে রাখে। উল্লিখিত উদ্ভিদগুলোর মধ্যে বিশ্বে চিনি উৎপাদনের বিবেচনায় আখ এবং সুগার বীট হচ্ছে অন্যতম।
পৃথিবীর মোট উৎপাদিত চিনির প্রায় শতকরা ৬৫ ভাগ আখ থেকে এবং অবশিষ্ট ৩৫ ভাগ সুগার বীট থেকে উৎপন্ন হয়।
সূত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়ের বোর্ড বই।
রক্তচাপ:
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধমনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ধমনিপ্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, সেটাকে রক্তচাপ বলে। তাই রক্তচাপ বলতে সাধারণভাবে ধমনির রক্তচাপকেই বুঝায়।
- রক্তচাপ হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা, ধমনির প্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা এবং রক্তের ঘনত্ব এবং পরিমাণের উপর নির্ভর করে।
- নিলয়ের সিস্টোল অবস্থায় অর্থাৎ সংকোচনের সময় ধমনিতে যে চাপ থাকে, তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ এবং ডায়াস্টোল অর্থাৎ প্রসারণের সময় অবস্থায় যে চাপ থাকে, তাকে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বলে।
- স্বাভাবিক এবং সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg) এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)।
- স্বাভাবিক রক্তচাপকে সাধারণত ১২০/৮০ (mm Hg) এভাবে প্রকাশ করা হয়। তবে বয়স ও পরিস্থিতিভেদে স্বাভাবিক রক্তচাপের মান কম-বেশি হতে পারে।
- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• রক্ত শূন্যতার অপর নাম - অ্যানিমিয়া।
• অ্যানিমিয়া:
- অ্যানিমিয়া (Anemia) হলো এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যেখানে রক্তে হিমোগ্লোবিন এর মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়।
- হিমোগ্লোবিন একটি আয়রন-সমৃদ্ধ প্রোটিন, যা লোহিত রক্তকণিকায় থাকে এবং শরীরের বিভিন্ন কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে।
- যখন শরীরে আয়রনের ঘাটতি হয়, তখন পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় না তখন সে অবস্থা কে বলা হয় অ্যানিমিয়া বা রক্তশুন্যতা ।
- এর ফলে শরীরে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায় ।
• অ্যানিমিয়ার লক্ষণ-
- দুর্বলতা ও অবসাদ
- মাথা ঘোরা
- শ্বাসকষ্ট
- ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া।
- হাত-পা ঠান্ডা লাগা।
• আনিমিয়ার কারণ-
- আয়রন-ঘাটতিজনিত অ্যানিমিয়া (Iron Deficiency Anemia)।
- ভিটামিন B12 বা ফোলেটের ঘাটতি।
- দীর্ঘস্থায়ী রক্তপাত (যেমন: ঋতুস্রাব, পেপটিক আলসার)।
• এ সমস্যা থেকে পরিত্রানের জন্য পর্যাপ্ত আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
• আয়রনের উৎস -
- প্রাণিজ উৎস: লিভার, গরুর মাংস, ডিম, মাছ।
- উদ্ভিজ্জ উৎস: পালংশাক, কলাই, মসুর ডাল, কিশমিশ।
- আয়রন শোষণে সহায়ক: ভিটামিন C (লেবু, আমলকি)।
অপশন আলোচনা-
ক) লিউকেমিয়া – রক্তের ক্যানসার, যেখানে অস্বাভাবিক শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি হয়।
খ) অ্যানিমিয়া – রক্তে হিমোগ্লোবিন বা লাল রক্তকণিকার অভাবের কারণে রক্ত শূন্যতার অবস্থা।
গ) সিরোসিস – যকৃতের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষয়জনিত রোগ, যা রক্ত শূন্যতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
ঘ) জন্ডিস – ত্বক ও চোখ হলদেটে হয়ে যাওয়া, প্রধানত লিভারের সমস্যা থেকে ঘটে।
তথ্যসূত্র:
- সাধারণ বিজ্ঞান – অষ্টম শ্রেণি (জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড)।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- ব্রিটানিকা।