বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১২৬ / ১৪০ · ১২,৫০১১২,৬০০ / ১৪,০৮০

১২,৫০১.
আলোকবর্ষ ব্যবহার করে কী পরিমাপ করা হয়?
  1. ওজন
  2. সময়
  3. দূরত্ব
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আলোক বর্ষ:
- Light year বা আলোক বর্ষ হলো একটি দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক, যা দিয়ে জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত দূরত্ব মাপা হয়।
- এক বছরে আলো যতদুর যায়, তা ই আলোক বর্ষ।
- এক আলোক বর্ষ = ৯.৪৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার বা ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল।

তথ্যসূত্র - NASA ওয়েবসাইট।
১২,৫০২.
আলো কী ধরণের বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে?
  1. ক) তরঙ্গ
  2. খ) কণা
  3. গ) উভয়ই
  4. ঘ) কোনোটাই না
ব্যাখ্যা
তরঙ্গতত্ত্ব অনুসারে আলো তরঙ্গ এবং কণাতত্ত্ব অনুসারে আলো কণা দিয়ে গঠিত৷ আসলে আলো তরঙ্গ এবং কণা দুই ধরণের বৈশিষ্ট্যই প্রদর্শন করে৷
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১২,৫০৩.
যকৃতের সাথে কোন অঙ্গ সংযুক্ত থাকে? 
  1. ডিওডেনাম 
  2. পিত্তথলি 
  3. লিভারডাক 
  4. ডায়াফ্রাম 
ব্যাখ্যা

যকৃত: 
- মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি হলো যকৃত। 
- যকৃত মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার একটি অঙ্গ। 
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে। 
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১২,৫০৪.
নিচের কোনটি রক্তের প্লাজমা প্রোটিন?
  1. ক্রিয়েটিনিন
  2. ইউরিয়া
  3. জ্যানথিন
  4. ফাইব্রিনোজেন
ব্যাখ্যা

রক্তে জৈব পদার্থের ভিতরে প্লাজমা প্রোটিন এর পরিমাণ প্রায় ৭.৫%।
প্লাজমা প্রোটিন এর মধ্যে অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, প্রোথ্রম্বিন, ফাইব্রিনোজেন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
রক্তে বিদ্যমান নাইট্রোজেনঘটিত রেচন পদার্থের মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, জ্যানথিন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১২,৫০৫.
নিচের কোনটি তড়িৎ বলরেখার ধর্ম নয়?
  1. তড়িৎ বলরেখা খোলা বক্র রেখা।
  2. বলরেখাগুলো পরস্পরকে ছেদ করে।
  3. বলরেখাগুলো পরস্পরের উপর পার্শ্বচাপ প্রয়োগ করে।
  4. তড়িৎ বলরেখাগুলো ধনাত্মক আধান থেকে উৎপন্ন হয়ে ঋণাত্মক আধানে শেষ হয়।
ব্যাখ্যা
তড়িৎ বলরেখার ধর্ম:
তড়িৎ বলরেখার ধর্ম নিম্নে বর্ণনা করা হলো:
১. তড়িৎ বলরেখা খোলা বক্র রেখা।
২. তড়িৎ বলরেখাগুলো ধনাত্মক আধান থেকে উৎপন্ন হয়ে ঋণাত্মক আধানে শেষ হয়। পরিবাহীর অভ্যন্তরে কোনো বলরেখা থাকে না ।
৩. বলরেখাগুলো পরস্পরকে ছেদ করে না ।
৪. বলরেখাগুলো পরস্পরের উপর পার্শ্বচাপ প্রয়োগ করে।
৫. বলরেখাগুলো স্থিতিস্থাপক বস্তুর মতো দৈর্ঘ্য বরাবর সংকুচিত হয় ।
৬. বলরেখাগুলো ধনাত্মক আধানে আহিত পরিবাহীর পৃষ্ঠ থেকে লম্বভাবে বের হয় আর ঋণাত্মক পরিবাহীর পৃষ্ঠের সাথে
লম্বভাবে প্রবেশ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৫০৬.
শুষ্ক কোষে অ্যানোড হিসেবে কাজ করে কোনটি?
  1. ক) কার্বন দন্ড
  2. খ) ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড
  3. গ) দস্তার কৌটা
  4. ঘ) কার্বন পাউডার
ব্যাখ্যা

টর্চ লাইট, বিভিন্ন রকম রিমােট কন্ট্রোলার, নানা রকম খেলনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় সেগুলােকে ড্রাইসেল বা শুষ্ক কোষ বলে।
সাধারণ ড্রাইসেলে দস্তার চোঙ ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বা অ্যানােড হিসেবে কাজ করে আর ধাতব টুপি দিয়ে ঢাকা কার্বনদণ্ড ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বা ক্যাথােড হিসেবে কাজ করে।
সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি

১২,৫০৭.
পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার বর্তনীতে কয়টি ডায়োড ব্যবহৃত হয়?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. ছয়টি 
ব্যাখ্যা

• একটি ব্রিজ রেকটিফায়ার (Bridge Rectifier) তৈরি করতে চারটি ডায়োডকে ব্রিজের মতো বিশেষ সংযোগে সাজানো হয়। এটি অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC) এর উভয় চক্রকে (পজিটিভ ও নেগেটিভ) ডাইরেক্ট কারেন্ট (DC) এ রূপান্তর করতে পারে।

• রেকটিফায়ার:
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)।
- একমুখীকারক দুই প্রকার।
যথা-
(ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং
(খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক।

• পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার:
- পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার তৈরি করা হয় চারটি ডায়োড ব্যবহার করে।
- চারটি ডায়োডের ন্যায় সংযোগ করে একটি ব্রিজ গঠন করা হয়।
- রেকটিফাই বা একমুখী করার জন্য এসি উৎসকে একটি ট্রান্সফর্মারের মাধ্যমে ব্রিজের কোনার দুই বিপরীত প্রান্তে সংযোগ দেওয়া হয়।
- অন্য দুই বিপরীত কোনার সাথে সংযোগ দেওয়া হয় লোড রেজিস্টান্স।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন।
২. পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৫০৮.
ফুলের কোন কোন অংশ সরাসরি প্রজনন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে?
  1. দল ও বৃতি
  2. দল ও বৃন্ত
  3. বৃন্ত ও পুষ্পাধার
  4. পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক
ব্যাখ্যা

◉ ফুলের প্রজনন অঙ্গ হলো পুংস্তবক (Androecium) এবং স্ত্রীস্তবক (Gynoecium)।

প্রজনন অঙ্গ (ফুল):  
- প্রজননের জন্য রূপান্তরিত বিশেষ ধরনের বিটপ (Shoot) হলো ফুল। 
- ফুল উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ। 
- একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি স্তবকের মধ্যে দুটি স্তবক (পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক) প্রজননের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ যারা সরাসরি প্রজননে অংশ নেয়, কিন্তু অন্য স্তবকগুলো সরাসরি অংশ না নিলেও প্রজননে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে। 
- যে ফুলে এই পাঁচটি স্তবকই উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- জবা, ধুতুরা। 
- এই পাঁচটি স্তবকের যেকোনো একটি স্তবক না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- লাউ, কুমড়া। 
- বৃন্তযুক্ত ফুলকে সবৃন্তক যেমন- জবা, কুমড়া এবং বৃন্তহীন ফুলকে অবৃন্তক ফুল বলে যেমন- হাতীশুঁড়। 
- যখন কোনো ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই উপস্থিত থাকে, তাকে উভলিঙ্গ ফুল (Bisexual flower) যেমন- জবা, ধুতুরা। 
- পুংস্তবক বা স্ত্রীস্তবকের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে একলিঙ্গ ফুল (Unisexual flower) যেমন লাউ, কুমড়া এবং দুটোই অনুপস্থিত থাকলে ক্লীব ফুল (Neuter flower) বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৫০৯.
এইডস সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কারা?
  1. ক) অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা
  2. খ) অল্পবয়সী মেয়েরা
  3. গ) অল্পবয়সী ছেলেরা
  4. ঘ) বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা
ব্যাখ্যা

AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে এক ধরণের ভাইরাস, যার নাম Human Immunodeficiency Virus এবং একে সংক্ষেপে HIV বলা হয়।
সমাজভুক্ত যেকোন ব্যক্তিই HIV সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তবে যুবসমাজ, অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা এই ভাইরাস দ্বারা সংক্রমণের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
উৎসঃ ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস এন্ড ক্রাইম এবং বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৫১০.
বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির-
  1. তাপমাত্রা বেশি
  2. ঘনত্ব কম
  3. দ্রবণীয়তা বেশি
  4. ঘনত্ব বেশি
ব্যাখ্যা
• বরফ:
- পানিকে বরফে পরিণত করলে আয়তন বাড়ে।
- বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির ঘনত্ব বেশি।
- এ কারণে পানির তুলনায় বরফের ঘনত্ব কম।
- একই পরিমাণ পানি যখন বরফে পরিণত হয় তখন বরফের আয়তন বেড়ে যায়।
- সমপরিমাণ ওজনের বরফ পানির চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে বলেই বরফ পানিতে ভাসে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১২,৫১১.
কোন ভোল্টের উপরে বৈদ্যুতিক প্রবাহ অনুভব করা যায়?
  1. 50 V
  2. 1.5 V
  3. 220 V
  4. 1000 V
ব্যাখ্যা

ব্যাটারি:
- ব্যাটারি বলতে একাধিক কোষের (Cell) সমন্বয়কে বুঝানো হয়।
- একটি তড়িৎ ব্যাটারি বলে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাটারি হলো একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়।
- ব্যাটারি সেলে ব্যবহারের জন্য তড়িৎ শক্তি জমা থাকে।
- ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে।
যেমন- অ্যানোড, ক্যাথোড এবং মাঝখানে থাকে ইলেকট্রোলাইট।
- ব্যাটারি সেলের বিভব পার্থক্য সবসময় সমান থাকে বলে এগুলোকে ডিসি সাপ্লাই বলা হয়।
- আমাদের বাসায় যে বৈদ্যুতিক সাপ্লাই দেওয়া হয়, সেগুলো প্রতি সেকেন্ডে ৫০বার ধনাত্মক থেকে ঋণাত্মক বিভবে পরিবর্তিত হয় বলে সেগুলোকে এসি (Alternating Current) বলা হয়।
- একটি সাধারন ব্যাটারি সেলে বিভব পার্থক্য মাত্র ১.৫ V, সেই তুলনায় আমাদের বাসার বিদ্যুৎ সাপ্লাই ২২০ V ।
- বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ V থেকে বেশি হলে আমরা সেটি অনুভব করতে পারি, আবার ২২০ V সাপ্লাই থেকে অনেক বড় ইলেকট্রিক শক খাওয়া সম্ভব এবং এই ইলেকট্রিক শকের কারণে শরীরের ভেতর দিয়ে যথেষ্ট বিদ্যুৎ প্রবাহ হয় বলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৫১২.
ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ লাইটে প্রধানত কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. হিলিয়াম
  2. জেনন
  3. রেডন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ লাইটে প্রধানত জেনন (Xenon) গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
- জেনন গ্যাসের মধ্য দিয়ে উচ্চ বিভবশক্তির বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে এটি অত্যন্ত উজ্জ্বল সাদা আলো উৎপন্ন করে, যা প্রাকৃতিক দিনের আলোর খুব কাছাকাছি।
- এই বিশেষ গুণের কারণে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ গানে জেনন ভর্তি টিউব ব্যবহার করা হয়। 

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির শূন্য গ্রুপের মৌলসমূহ রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং কক্ষ তাপমাত্রায় গ্যাসীয়।
এইজন্য এদেকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস মোট ৭টি।
- এগুলো হলো- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন, রেডন ও ওগানেসন।
- এগুলোর মধ্যে প্রথম ৬টি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত।
- ওগানেসন (Og) পরীক্ষাগারে তৈরি এবং তেজস্ক্রিয়।
- ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ লাইটে প্রধানত জেনন গ্যাস ব্যবহৃত হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৫১৩.
Which blood cell is primarily responsible for destroying microbes through the process of phagocytosis?
  1. Red blood cells
  2. Neutrophils
  3. Lymphocytes
  4. Platelets
  5. None of the above
ব্যাখ্যা
• শ্বেত রক্ত কণিকা:
- শ্বেত রক্ত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্ত কণিকা বলে। 
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলতে শ্বেত রক্ত কণিকাকে বুঝানো হয়। 
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 

- এই রক্ত কণিকার Neutrophils ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- শ্বেত রক্ত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্ত কণিকা থাকে। 
- শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৫১৪.
নিম্ন উচ্চতার মেঘ-
  1. কিউম্যুলোনিম্বাস
  2. সিরাস
  3. অল্টোস্ট্রেটাস
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মেঘ (CLOUD):

• সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো:
১. উঁচু উচ্চতার মেঘ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ। উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস,
- সিরোকিউম্যুলাস, 
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।
২. মাঝারি উচ্চতার মেঘ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত। মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস,
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস, 
- নিম্বোস্ট্রেটাস। 
৩. নিম্ন উচ্চতার মেঘ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত। নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস,
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস,
- কিউম্যুলাস,
- কিউম্যুলোনিম্বাস

উৎস: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। 
১২,৫১৫.
একই পদার্থের তিন অবস্থায় রূপান্তরের কারন কী?
  1. তাপের প্রভাব
  2. পরমাণুর বিন্যাস
  3. রাসায়নিক পরিবর্তন
  4. অণুর বিন্যাস
ব্যাখ্যা
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে।
- আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন বস্তু যেমন, বই, খাতা, কলম, চেয়ার, টেবিল, পানি, বরফ, জলীয় বাষ্প, তেল, দুধ, কেরোসিন, তরল পানীয়, সোডা ওয়াটার ইত্যাদি সব পদার্থ।
- পদার্থ সাধারণত তিন অবস্থায় থাকতে পারে। যথা: কঠিন, তরল ও বায়বীয়।
- কক্ষ তাপমাত্রায় বেশির ভাগ পদার্থই কঠিন হলেও তরল ও বায়বীয় অবস্থাতেও পদার্থ অবস্থান করে।
- তাপমাত্রার পরিবর্তন পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়।
- পদার্থের এ তিন অবস্থার মধ্যে আবার বেশ সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য ও ধর্ম বর্তমান। 
- সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে কঠিন পদার্থের আকার ও আয়তনের কোনো পরিবর্তন ঘটে না।
- তরলের ক্ষেত্রে আয়তন ঠিক থাকলেও আকারের পরিবর্তন ঘটে।
- পানিকে গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে এবং বোতলে রাখলে ঐ বোতলের আকার ধারণ করে।
- বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোন আকার ও আয়তন থাকে না।
- পদার্থের অবস্থার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা বিশেষ ভূমিকা রাখে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৫১৬.
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ শক্তির মূল উৎস-
  1. ক) পানির গতি শক্তি
  2. খ) যান্ত্রিক শক্তি
  3. গ) পানির বিভব শক্তি
  4. ঘ) রাসায়নিক শক্তি
ব্যাখ্যা

- নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় সঞ্চিত জলরাশিতে বিভবশক্তি জমা হয়।
- পানি নিচে প্রবাহিত হওয়ার সময় এই বিভবশক্তি গতিশক্তিতে পরিণত হয়।
- পানি প্রবাহের সাহায্যে টারবাইনের চাকা ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
- এভাবে যান্ত্রিক শক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৫১৭.
ধাতব খনিজ পদার্থ কোনটি?
  1. ক) মাইকা
  2. খ) কোয়ার্টজ
  3. গ) তামা
  4. ঘ) জিপসাম
ব্যাখ্যা
ধাতব-অধাতব খনিজ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যেমন - 

১। ধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। 
• লোহা (Fe), 
তামা  (Cu), 
• সোনা (Au), 
• রূপা  (Ag) ইত্যাদি। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। 
কোয়ার্টজ (Quartz), 
মাইকা (Mica), 
• গ্রাফাইট, 
জিপসাম
• কয়লা, 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১২,৫১৮.
আকৃতি, অবস্থান ও কাজের প্রকৃতিভেদে আবরণী টিস্যু কত ধরনের?
ব্যাখ্যা
- কোষের আকৃতি, প্রাণীদেহে তার অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতিভেদে আবরণী টিস্যু (Epithelium tissue) তিন প্রকার। 
যথা- 
১. স্কোয়ামাস (আইশাকার ) আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষগুলো মাছের আঁশের মতো চ্যাপটা এবং এদের নিউক্লিয়াস বড় আকারের হয়। 
উদাহরণ: বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল প্রাচীর। 

২. কিউবয়ডাল (ঘনাকার ) আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষগুলো ঘনাকার বা কিউব আকৃতির অর্থাৎ কোষগুলোর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা প্রায় সমান। 
উদাহরণ: বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা। 

৩. কলামনার (স্তম্ভাকৃতি ) আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষসমূহ স্তম্ভের মতো সরু এবং লম্বা। 
উদাহরণ: প্রাণীর অন্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরের কোষগুলো প্রাধনত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণ কাজ করে থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৫১৯.
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে তিনটি 'D' দ্বারা কী বুঝানো হয়? 
  1. Diet, Detox, Drug
  2. Disease, Diet, Discipline
  3. Discipline, Diet, Drug
  4. Doctor, Diet, Diagnosis
ব্যাখ্যা

বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস (Diabetes): 
- অগ্ন্যাশয়ের ভিতর আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস নামক এক ধরনের গ্রন্থি আছে, এই গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন (Insulin) নিঃসৃত হয়। 
- ইনসুলিন হলো এক ধরনের হরমোন, যা দেহের শর্করা পরিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। 
- অগ্ন্যাশয়ে যদি প্রয়োজনমতো ইনসুলিন তৈরি না হয় তবে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্থায়ীভাবে বেড়ে যায়, প্রস্রাবের সাথে গ্লুকোজ নির্গত হয়। এ অবস্থাকে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস মেলিটাস (সংক্ষেপে: ডায়াবেটিস) বলে। 
- ডায়াবেটিস প্রধানত দুই ধরনের, টাইপ-1 এবং টাইপ-2 । 
- টাইপ-1 এ আক্রান্ত রোগীর দেহে একেবারেই ইনসুলিন তৈরি হয় না। তাই নিয়মিতভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নিতে হয়। 
- অন্যদিকে টাইপ-2 রোগীর দেহে আংশিকভাবে ইনসুলিন তৈরি হয়। এক্ষেত্রে ঔষধ, অগ্ন্যাশয় কোষকে শরীরের জন্য পরিমিত ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে। 

ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা: 
- রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করে গ্লুকোজের মাত্রা নির্ণয়ের মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা যায়। 
- চিকিৎসা করে ডায়াবেটিস রোগ একেবারে নিরাময় করা যায় না, কিন্তু এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। 
- ডাক্তারদের মতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি 'D' মেনে চলা অত্যাবশ্যক। 
যেমন: Discipline, Diet ও Drug
(১) শৃঙ্খলা (Discipline): একজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য তার সুশৃঙ্খল জীবনব্যবস্থা মহৌষধস্বরূপ। এছাড়া নিয়মিত এবং ডাক্তারের পরামর্শমতো পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, রোগীর দেহের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বিশেষভাবে পায়ের যত্ন নেওয়া, নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করা এবং দৈহিক কোনো জটিলতা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া। 

(২) খাদ্য নিয়ন্ত্রণ (Diet): ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায় হলো খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করা, মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করা ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত এবং সময়মতো খাদ্য গ্রহণ করা। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের মেনু অনুসরণ করলে সুফল পাওয়া যায়। তবে যার ডায়াবেটিস নেই, তার মিষ্টি খাওয়া বা না খাওয়ার সাথে ডায়াবেটিসের সম্পর্ক নেই। 

(৩) ঔষধ সেবন (Drug): ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন করা উচিত নয়। ডাক্তার রোগীর শারীরিক অবস্থা বুঝে ঔষধ খাওয়া বা ইনসুলিন নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে হবে। ঠিকমতো চিকিৎসা না করা হলে রোগীর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে বা বেড়ে যায়। উভয় ক্ষেত্রেই রোগী বেহুঁশ হয়ে পড়তে পারে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। যদি ডায়াবেটিস রোগী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান, তখন তাকে বসিয়ে গ্লুকোজ বা চিনির পানি খাইয়ে দিলে অনেক সময় খারাপ পরিণতি এড়ানো যেতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৫২০.
উদ্ভিদে সবচেয়ে বেশি প্রস্বেদন হয় কোন অংশের মাধ্যমে?
  1. ক) পত্ররন্ধ্র
  2. খ) কিউটিনের আবরন
  3. গ) লেন্টিসেল
  4. ঘ) মূল
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদ প্রধানত মূল দিয়ে তার প্রয়োজনীয় পানি শোষণ করে।
- শোষিত পানির অতি সামান্য অংশ উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কার্যাবলির জন্য ব্যয় হয় ৷
- অবশিষ্ট পানি উদ্ভিদের বায়বীয় অংশ দিয়ে বাষ্পাকারে বাইরে বের হয়ে যায় ৷
- সাধারণত স্থলজ উদ্ভিদ যে শারীরতত্ত্বীয় প্রক্রিয়ায় তার বায়বীয় অঙ্গের মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি বের করে দেয়, সেটাই প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন প্রক্রিয়া।

এ কাজটি তার বায়বীয় অঙ্গের কোন অংশের মাধ্যমে ঘটে, তার ভিত্তিতে এদের তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১। পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন,
২। কিউটিকুলার প্রস্বেদন ও
৩। লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।

পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন:
- পাতায়, কচিকাণ্ডে, ফুলের বৃত্তি ও পাপড়িতে দুটি রক্ষীকোষ (Guard cell) বেষ্টিত এক ধরনের রন্ধ্র থাকে। এদেরকে পত্ররন্ধ্র (একবচন stora, বহুবচন stomata) বলে।
- কোনো উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের 90-95% হয় পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে ৷

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৫২১.
মহাজাগতিক দূরত্ব গণনায় সাধারণত কোন একক ব্যবহার করা হয়?
  1. year
  2. pc (parsec)
  3. km
  4. um
ব্যাখ্যা
মহাজাগতিক দূরত্ব:

- pc বা পারসেক (parsec) হচ্ছে মহাবৈশ্বিক দূরত্ব পরিমাপের একক।
- সূর্য বা পৃথিবীর মধ্যকার গড় দূরত্বকে এক অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল ইউনিট (AU) বলে।
- 1 AU = 1.495x108 km.
- 1 AU দৈর্ঘ্যের কোনো চাপ (are) যে দূরত্বে ঠিক এক সেকেন্ডে কোণ উৎপন্ন করে সেই দূরত্বকে 1 pc বা এক পারসেক বলে।
- 1 pc = 3.261 y = 3.0857×1013 km বা Mpc (mega parsec) = 106pc = 3.0857x1019 km. 

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৫২২.
মানুষের কঙ্কালতন্ত্র কয়টি অস্থির সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ক) ২০৪টি
  2. খ) ২০৫টি
  3. গ) ২০৬টি
  4. ঘ) ২০৮টি
ব্যাখ্যা
মানুষের কঙ্কালতন্ত্র:
- ভ্রূণীয় মেসোডার্ম স্তর থেকে সৃষ্ট অস্থি, তরুণাস্থি ও লিগামেন্ট এর সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহের কাঠামো সৃষ্টি করে, নির্দিষ্ট আকার আকৃতি দান করে, ভার বহন করে এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গাদি সুরক্ষিত রাখে, তাদেরকে একত্রে কঙ্কালতন্ত্র বলে।
- মানুষের কঙ্কালতন্ত্র ২০৬টি অস্থির সমন্বয়ে গঠিত। 
- এ ধরনের কঙ্কালতন্ত্রকে অন্তঃকঙ্কাল বলে। কারণ বাইরে থেকে এ কঙ্কাল দেখা যায় না।
- মানুষের কঙ্কালতন্ত্রকে প্রধান দুটি অংশে ভাগ করা হয়। যথা— (১) অক্ষীয় কঙ্কাল (Axial skeleton) (২) উপাঙ্গীয় কঙ্কাল (Appendicular skeleton) । 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৫২৩.
কোন মৌলিক পদার্থটি প্রকৃতিতে অবস্থা পরিবর্তন না করে খাঁটি অবস্থায় পাওয়া যায়? 
  1. সালফার
  2. ক্লোরিন
  3. নাইট্রোজেন
  4. কপার
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- সকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। 
- অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়; তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৫২৪.
RNA -তে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ কোন ক্ষারক অনুপস্থিত থাকে?
  1. অ্যাডিনিন
  2. থায়ামিন
  3. গুয়ানিন
  4. সাইটোসিন
ব্যাখ্যা
আরএনএ (RNA): 
- RNA এর পুরো নাম- Ribo Nucleic Acid. 
- এটি ক্রোমোসোমের স্থায়ী উপাদান নয়। 
- ক্রোমোসোমে এর পরিমাণ হচ্ছে ০.২-১.৪%। 
- প্রতিটি RNA অণু একসূত্রকবিশিষ্ট। 
- এটিও পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা (RNA এর রাইবোজ স্যুগারের ২নং কার্বনে অক্সিজেন অণু বিদ্যমান), অজৈব ফসফেট এবং নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, ইউরাসিল, সাইটোসিন) দিয়ে গঠিত। 
- RNA তে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ ক্ষারক থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল উপস্থিত থাকে। 
- এটি ১০% ক্রোমোসোমে থাকে। 
- ভাইরাস ক্রোমোসোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে RNA থাকে। 

ডিএনএ (DNA): 
- Deoxyribo Nucleic Acid (DNA) হলো ক্রোমোসোমের প্রধান এবং স্থায়ী উপাদান। 
- ক্রোমোসোমের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে ডিএনএ এর পরিমাণ হচ্ছে ৪৫%। 
- এটি ৯০% ক্রোমোসোমে থাকে। 
- DNA একটি পলিমার। এর একককে নিউক্লিয়োটাইড বলে। 
- নিউক্লিয়োটাইডের তিনটি উপাদান থাকে। যথা- পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ স্যুগার, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, থায়ামিন, সাইটোসিন) এবং ফসফরিক অ্যাসিড। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৫২৫.
8N এবং 15N মানের দুটি বল লম্বভাবে ক্রিয়া করলে লব্ধির মান কত?
  1. 7 N
  2. 13 N
  3. 17 N
  4. 23 N
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 8N এবং 15N মানের দুটি বল লম্বভাবে ক্রিয়া করলে লব্ধির মান কত?

সমাধান:
ধরি, বল দুটি P = 8N এবং Q = 15N।
বল দুটি লম্বভাবে ক্রিয়া করায়, তাদের মধ্যবর্তী কোণ (θ) = 90°

দুটি বল P ও Q এর লব্ধি R এর সূত্রটি হলো:
R2 = P2 + Q2 + 2PQ cosθ
⇒  R2 = 82 + 152 + 2 × 8 × 15 × cos 90°
 ⇒ R2 = 64 + 225 + 2 × 8 × 15 × 0 (যেহেতু cos 90° = 0)
⇒ R2 = 289 + 0
⇒ R2 = 289
⇒ R = √289
∴ লব্ধির মান, R = 17 N

১২,৫২৬.
থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়? 
  1. ফসফরাস-৩২
  2. কার্বন-১৪ 
  3. আয়োডিন-১৩১ 
  4. কোবাল্ট-৬০ 
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ: 
- শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার শনাক্ত করতে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- ক্যান্সার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-৬০ থেকে নির্গত গামা রশ্মি প্রয়োগ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ ধ্বংস করা হয়।
- থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-১৩১ তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- রক্তের লিউকেমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ এর ফসফেট যৌগ ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড়ের বৃদ্ধি সংক্রান্ত সমস্যা নির্ণয় এবং ব্যথার কারণ চিহ্নিত করতে টেকনেশিয়াম-৯৯ আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- মস্তিষ্কের ক্যান্সার চিকিৎসায় ইরিডিয়াম আইসোটোপ প্রয়োগ করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৫২৭.
ঘন পাতাবিশিষ্ট বৃক্ষের নিচে রাতে ঘুমানো স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ গাছ হতে-
  1. অধিক পরিমাণে অক্সিজেন নির্গত হয়
  2. অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়
  3. অধিক পরিমাণে কার্বন মনো-অক্সাইড নির্গত হয়
  4. বিষাক্ত সায়ানাইড নির্গত হয়
ব্যাখ্যা
- ঘন পাতাবিশিষ্ট গাছ হতে রাতের বেলা উদ্ভিদের শ্বসনের পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- ঘন পাতাবিশিষ্ট গাছের নিচে রাতে ঘুমানোর স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ রাতে শ্বসনের ফলে অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়
- এ সময় উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে শারীরবৃত্তীয় বিক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাই রাতের বেলা গাছের নিচে অক্সিজেনের ঘনত্ব অপেক্ষাকৃত কম থাকে। 
১২,৫২৮.
যদি বাতাসের চাপ বেড়ে যায় তাহলে ব্যারোমিটারে পারদের উচ্চতা কীভাবে পরিবর্তিত হয়? 
  1. 76 cm থেকে কমে যায় 
  2. 76 cm থেকে বেশি হয়
  3. সর্বদা 76 cm থাকে
  4. প্রথমে 76 cm থেকে কম হয়, পরে বাড়ে 
ব্যাখ্যা

টরিসেলির পরীক্ষা: 
- বিজ্ঞানী টরিসেলি ১৬৪৩ সালে পারদ ব্যবহার করে বাতাসের চাপের পরীক্ষাটি করেছিলেন। 
- তিনি অবশ্য মুখ দিয়ে পারদকে একটি নল বেয়ে টেনে তোলার চেষ্টা করেননি, তিনি এক মুখ বন্ধ একটা নলের ভেতর পারদ ভরে, নলটি পারদ ভরা একটা পাত্রে উল্টো করে রেখেছিলেন।

- পারদের উচ্চতা নামতে নামতে ঠিক 76 cm এসে থেমে গেল। 
- চুমুক দিয়ে খাওয়ার সময় মুখের ভেতরে যে শূন্যতা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়, কাচের নলের উপরে ঠিক সেই শূন্যতা তৈরি হয়। 
- বাতাস পারদের উপরে চাপ দেয় এবং সেই চাপ তরলের সব জায়গায় সঞ্চালিত হয়ে নলের নিচেও আসে। নলের উপরে কোনো ফুটো নেই, তাই সেদিক দিয়ে বাতাস চাপ দিতে পারছে না। কাজেই সমতা আনার জন্য নলের নিচে এক মাত্র চাপ হচ্ছে 76 cm উচু পারদ স্তম্ভের ওজনের কারণে তৈরি হওয়া চাপ। 
- বাতাসের চাপ মাপার যন্ত্রের নাম ব্যারোমিটার এবং টরিসেলির এই পদ্ধতি দিয়ে তৈরি ব্যারোমিটারে এখনো বাতাসের চাপ মাপা হয়। 
- বাতাসের চাপ বাড়লে পারদের উচ্চতা 76 cm থেকে বেশি হয়, চাপ কমলে উচ্চতা 76 cm থেকে কমে যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৫২৯.
মানুষের মস্তিষ্কের গড় ওজন কত?
  1. ০.৮০ কেজি
  2. ১.০০ কেজি
  3. ১.৩৬ কেজি
  4. ২.৫০ কেজি
ব্যাখ্যা

- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন লিঙ্গ এবং বয়স ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের ওজন সাধারণত শরীরের মোট ওজনের প্রায় ২% হয়। গড়ে একজন পুরুষের মস্তিষ্কের ওজন প্রায় ১,৩৩৬ - ১,৩৪৫ গ্রাম এবং একজন নারীর মস্তিষ্কের ওজন প্রায় ১,১৯৮ - ১,২২২ গ্রাম। এই গড় মান বিবেচনা করলে মানুষের মস্তিষ্কের গড় ওজন ১.৩৬ কেজি (১৩৬০ গ্রাম) ধরা হয়। 

স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৫৩০.
টয়লেট ক্লিনারের মূল উপাদান-
  1. সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট
  2. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. সোডিয়াম কার্বনেট ডেকা হাইড্রেট
  4. সোডিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
• টয়লেট ক্লিনার:
- টয়লেট ক্লিনারের মূল উপাদান সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH)।
- টয়লেট ক্লিনারে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর সাথে সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট (NaOCl) মিশ্রিত থাকে।
- বেসিন, কমোড ইত্যাদি পরিষ্কার করার জন্য টয়লেট ক্লিনার ব্যবহার করা হয়।
- টয়লেট, বেসিন, কমোড ইত্যাদিতে চর্বি জাতীয় পদার্থ, প্রোটিন জাতীয় পদার্থ, বিভিন্ন রং এর জৈব পদার্থ, অজৈব পদার্থ, রোগজীবাণু ইত্যাদি থাকে।
- যখন টয়লেট, বেসিন, কমোড ইত্যাদিতে টয়লেট ক্লিনার যোগ করা হয়, তখন সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড চর্বি জাতীয় পদার্থ, প্রোটিন জাতীয় পদার্থ ইত্যাদির সাথে বিক্রিয়া করে এবং সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট বিভিন্ন রং এর পদার্থ এবং রোগজীবাণুর সাথে বিক্রিয়া করে এদের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৫৩১.
কোন ভিটামিনের অভাবে স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় দেখা দেয়?
  1. ক) ভিটামিন-সি
  2. খ) ভিটামিন-ডি
  3. গ) ভিটামিন বি-১
  4. ঘ) ভিটামিন বি-১২
ব্যাখ্যা
- ভিটামিন-সি এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
- ভিটামিন-ডি এর অভাবে রিকেটস এবং অস্টিওম্যালাসিয়া হয়।
- ভিটামিন বি-১ বা থায়ামিনের অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়। এর অভাবে স্নায়ুর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ার অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়৷
- ভিটামিন বি-১২ বা সায়ানোকোবালামিনের অভাবে রক্তশূন্যতা ও স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় দেখা যায়।

উৎসঃ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৫৩২.
 'বরফ গলে পানি হওয়া' কোন ধরনের পরিবর্তন? 
  1. সাময়িক পরিবর্তন 
  2. ভৌত পরিবর্তন 
  3. রাসায়নিক পরিবর্তন
  4. নিউক্লিয়ার পরিবর্তন 
ব্যাখ্যা

ভৌত পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনের ফলে কোন পদার্থের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক গঠনের কোন পরিবর্তন না ঘটে শুধু বাহ্যিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে তাকে ভৌত পরিবর্তন বলে। 
যেমন- 
• পানিকে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা, 
• লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া, 
বরফ গলে পানি হওয়া
• তাপ দ্বারা মোম গলানো ইত্যাদি। 

রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠনের পরিবর্তন হয় অর্থাৎ সম্পূর্ণ নতুন পদার্থে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। 
যেমন- 
• লোহায় মরিচা ধরা, 
• দুধ থেকে দই হওয়া, 
• গাছের পাতা হলুদ হওয়া, 
• ফল পেকে লাল বা হলুদ হওয়া ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৫৩৩.
CO2-এর আণবিক ভর কত?
  1. ক) 33
  2. খ) 44
  3. গ) 12
  4. ঘ) 22
ব্যাখ্যা
CO2-এর আণবিক ভর 12 + (16X2) = 44
১২,৫৩৪.
কোন মাধ্যমের মাধ্যমে শব্দ অতিক্রম করতে পারে না? 
  1. বায়ু 
  2. শূন্য
  3. পানি
  4. ইস্পাত
ব্যাখ্যা

 - শূন্য মাধ্যমের মাধ্যমে শব্দ অতিক্রম করতে পারে না। 

শব্দের বেগ: 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়। 
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। 
- শব্দের বেগ কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি (যেমন- ইস্পাত, লোহা) হয়। 
- তরল পদার্থের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম (যেমন- পানি) হয়। 
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৫৩৫.
লাইট কোয়ান্টাম নামে কোনটি পরিচিত?
  1. ক) ইলেকট্রন
  2. খ) ফার্মিওন
  3. গ) লেপটন
  4. ঘ) ফোটন
ব্যাখ্যা
ফোটন কণাকে লাইট কোয়ান্টাম নামেও অভিহিত করা হয়। 

- ফোটন কণা কোন শক্তি হতে অনবরত বের না হয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন প্যাকেট বা শক্তি বের হয়, প্রতিটি আলাদা আলাদা বিচ্ছিন্ন প্যাকেটকে ফোটন বলে।
- ফোটন হচ্ছে বিকিরণের ক্ষুদ্রতম অংশ। 
- প্রতিটি ফোটন কণা আলোর বেগে চলে। 

সূত্র- ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।  
১২,৫৩৬.
হাইপোক্লোরাস এসিড উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নিচের বিক্রিয়ক পদার্থটি ব্যবহৃত হয় না?
  1. ক) ব্লিচিং পাউডার
  2. খ) CO2
  3. গ) NH3
  4. ঘ) পানি
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ব্লিচিং পাউডার, CO2 ও পানির সাথে বিক্রিয়ায় হাইপোক্লোরাস এসিড উৎপন্ন করে। উৎপন্ন হাইপোক্লোরাস এসিড তাৎক্ষণিক বিয়োজিত হয়ে জায়মান অক্সিজেন উৎপন্ন করে। এই জায়মান অক্সিজেনের জারণ ক্রিয়ায় কাপড়ের দাগ দূর হয়। সূত্রঃ নবম - দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান (উন্মুক্ত) বই।
১২,৫৩৭.
আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি নির্ণয় করতে কোন ধরনের রশ্মি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) গামা রশ্মি
  2. খ) আলফা রশ্মি
  3. গ) বিটা রশ্মি
  4. ঘ) রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা
এক্সরে (X-ray)
- নলের যে অংশে ক্যাথোড রশ্মি আপতিত হয় সে অংশ থেকে সবুজাভ হলুদ রং-এর আলোর আভা ছাড়াও এক প্রকার অদৃশ্য রশ্মি বিকিরিত হচ্ছে।
- এই অদৃশ্য রশ্মির প্রকৃত নাম না জানা থাকায় প্রফেসর রঞ্জন এর নামকরণ করেন এক্সরে (X-Rays)। একে রঞ্জন রশ্মিও বলে।
- ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনিত হন যে, অধিক গতিসম্পন্ন ইলেকট্রনগুলো কোনো ধাতুর প্রতিবন্ধকে বাধা পেলে গতিশক্তি হারায় এবং এই গতিশক্তি এক্সরেতে রূপান্তরিত হয়।
- এক্সরের একক হলো রন্টজেন।
- যে পরিমাণ বিকিরণের জন্য স্বাভাবিক চাপ ও তাপমাত্রায় এক মিলিলিটার বায়ুতে এক কুলম্ব আধান উৎপন্ন করতে পারে তাকে এক রন্টজেন বলে। 
এক্সরের ধর্ম:
১। এক্সরে সরল পথে গমন করে।
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না ।
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ।
৪ । এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট।
৫। এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108ms-1 বেগে গমন করে।
৬। আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে।
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে ।
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে ।
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই ।
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে।
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে।
১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে ।
শিল্প ক্ষেত্রে:
- শিল্প ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে।
- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়
- ঢালাই করা ধাতুর ভিতরের ত্রুটি নির্ণয়
- আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি নির্ণয়
- ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান করা
- ঝালাই-এর ত্রুটি নির্ণয়
- মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ণয় ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়।
- টফি, লজেন্সে কোনো ক্ষতিকর বস্তু আছে কিনা তা সনাক্ত করার জন্য এবং টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের জন্যও এক্সরে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১২,৫৩৮.
স্ট্রোক বলতে আসলে কী বোঝায়?
  1. হৃদপিণ্ডে রক্তক্ষরণ
  2. বৃক্কে প্রদাহ
  3. ফুসফুসের সংক্রমণ
  4. মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ
ব্যাখ্যা

- স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ।
- বৃক্কে প্রদাহ হলো গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস।
- ফুসফুসের সংক্রমণ হলো নিউমোনিয়া।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১২,৫৩৯.
মহাদেশীয় ভূত্বকের গড় গভীরতা কত কিলোমিটার?
  1. ক) ০৫ কি.মি.
  2. খ) ১০ কি.মি.
  3. গ) ২০ কি.মি.
  4. ঘ) ৩৫ কি.মি
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তা ‘ভূত্বক’ নামে পরিচিত।
- ভূত্বের গড় গভীরতা ২০ কিমি।

- মহাসাগরীয় ভূত্বকের গড় গভীরতা ০৫ কিলোমিটার এবং মহাদেশীয় পৃষ্ঠে ভূত্বকের গড় গভীরতা ৩৫ কিমি
- মহাদেশীয় ভূত্বক সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) দ্বারা গঠিত যা ‘সিয়াল’ (SiAl) স্তর নামে পরিচিত।
- মহাসাগরীয় ভূত্বক সিলিকন (Si) এবং ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দ্বারা গঠিত যা ‘সিমা’ (SiMg) স্তর নামে পরিচিত।

(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১২,৫৪০.
নিচের কোনটি আগ্নেয় শিলা নয়?
  1. ক) গ্রানাইট
  2. খ) গ্রাফাইট
  3. গ) ডলোরাইট
  4. ঘ) ল্যাকোলিথ
ব্যাখ্যা
পৃথিবী সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ের উত্তপ্ত ও গলিত অবস্থা হতে ক্রমান্বয়ে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তা আগ্নেয় শিলা নামে পরিচিত। পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয়েছে বিধায় আগ্নেয় শিলাকে প্রাথমিক শিলাও বলা হয়।

আগ্নেয় শিলা দুপ্রকার।
যথা:
- অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা এবং
- বহিঃজ আগ্নেয় শিলা।

অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা:

- গ্রানাইট
- গ্যাব্রো
- ডলোরাইট
- ল্যাকোলিথ
- ব্যাথোলিথ
- ডাইক
- সিল প্রভৃতি।

বহিঃজ আগ্নেয় শিলা:

- ব্যাসল্ট
- রায়োলাইট
- অ্যান্ডিসাইট।

অন্যদিকে,

- চুনাপাথর ও কেওলিন : পাললিক শিলা
- গ্রাফাইট : রূপান্তরিত শিলা।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১২,৫৪১.
নিচের কোন পারমাণবিক সংখ্যাটি নিষ্ক্রিয় গ্যাসের নয়?
  1. ৩৬
  2. ৫৪
  3. ৭৪
  4. ৮৬
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস: 
- পর্যায় সারণির শূন্য (০) গ্রুপের অন্তর্গত হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপটন, জেনন এবং র‍্যাডন-এ ছয়টি মৌলকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা অভিজাত গ্যাস (noble gases) বলা হয়।
- এরা রাসায়নিকভাবে অতিশয় নিষ্ক্রিয়।
- অন্যান্য মৌলিক গ্যাসের (যেমন হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ক্লোরিন ইত্যাদি) ন্যায় এরা দ্বিপরমাণুক অণু গঠন করে না।
- সাধারণ অবস্থায় এ গ্যাসগুলি অন্য কোন মৌলের সাথে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করে না এবং কোনরূপ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না বলে এদের নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়। 

- Tungsten (W)- এর পারমাণবিক সংখ্যা ৭৪।

নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের ইলেক্ট্রন বিন্যাস: 

- উপরের সারণি থেকে দেখা যায় যে, হিলিয়ামের একমাত্র কক্ষপথটি দুটি ইলেকট্রন দ্বারা পরিপূর্ণ (1s2) এবং অন্য সবগুলি নিষ্ক্রিয় গ্যাস মৌলের শেষ কক্ষপথটি আটটি (ns2np6) ইলেকট্রন দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে।
- মৌলের কক্ষপথগুলি ইলেকট্রন দ্বারা পরিপূর্ণ হলে মৌল একটি অতি সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস পায় যা সহজে পরিবর্তিত হতে চায় না।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস মৌলগুলির প্রতিটির জন্য এরূপ সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস রয়েছে। এ কারণেই এরা রাসায়নিকভাবে অত্যন্ত নিষ্ক্রিয়। 

তথ্যসূত্র: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৫৪২.
প্রাকৃতিকভাবে খাদ্য সংরক্ষণে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রিজারভেটিভস হলো?
  1. ক) খাদ্য লবণ
  2. খ) চিনি
  3. গ) ফরমালিন
  4. ঘ) তেল  
ব্যাখ্যা
খাদ্য সংরক্ষণ :
খাদ্য সংরক্ষণ বলতে বোঝায়, যে ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ফল, শাকসবজি, মাছ-মাংস, দুধ ইত্যাদি খাদ্য দ্রব্যকে খাদ্যগুণ ও পুষ্টিগুণ অপরিবর্তিত রেখে স্বাভাবিক অবস্থায় দীর্ঘ সময় রাখার ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে রান্না করা অথবা কাঁচা উভয় প্রকার খাদ্য দ্রব্যকে সংরক্ষণ করা হয়। খাদ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রিজারভেটিভস্ ব্যবহার করা হয়। 

প্রিজারভেটিভস :
যে সব রাসায়নিক পদার্থ নির্দিষ্ট মাত্রায় ব্যবহারের ফলে খাদ্যবস্তুতে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না, খাদ্যবস্তু রক্ষিত থাকে, এদেরকে ফুড প্রিজারভেটিভস বা প্রিজারভেটিভস বলা হয়।

• প্রাকৃতিকভাবে খাদ্য সংরক্ষণে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রিজারভেটিভস হলো - খাদ্য লবণ 

SOURCE: রসায়ন ২য় পত্র ,এইচ এস সি পোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১২,৫৪৩.
প্রথম শ্রেণির খাদক কোনটি?
  1. ক) শিয়াল
  2. খ) হরিণ
  3. গ) বাঘ
  4. ঘ) ময়ূর
ব্যাখ্যা
খাদক (Consumer):
- কোনো প্রাণীই পরিবেশের জড় পদার্থ থেকে খাদ্য তৈরি করতে পারে না।
- তারা খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সবুজ উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল।
- তাই এদের বলা হয় পরভোজী জীব।

প্রথম শ্রেণির খাদক
- যেসব প্রাণী সরাসরি উদ্ভিদ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে, তাদেরকে বলা হয় তৃণভোজী প্রাণী। এদের অপর নাম প্রথম শ্রেণির খাদক।
যেমন- ঘাস ফড়িং, মুরগি, গরু, ছাগল, হরিণ ইত্যাদি প্রথম শ্রেণির খাদক।

দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক:
- যেসব প্রাণী তৃণভোজী প্রাণীদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে তাদের বলা হয় গৌণ খাদক বা দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক।
- এরা এক ধরনের মাংসাশী প্রাণী।
যেমন- শিয়াল, বাঘ ইত্যাদি দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক।

তৃতীয় শ্রেণির খাদক:
- যেসব প্রাণী পৌণ খাদকদের খেয়ে বাঁচে তারা ও মাংসাশী প্রাণি (carnivorous)।
- এদের বলা যায় তৃতীয় শ্রেণির বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খাদক।
যেমন- সাপ, ময়ূর, বাঘ ইত্যাদি তৃতীয় শ্রেণির খাদক। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৫৪৪.
নিচের কোন গ্যাসটির পরিমাণ বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে কম?
  1. ওজোন
  2. জলীয় বাষ্প
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. আর্গন
ব্যাখ্যা

- ওজোন গ্যাসের পরিমাণ বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে কম (খুব সামান্য পরিমাণে থাকে) এবং এর পরিমাণ প্রায় ০.০০০১% । 

বায়ুমণ্ডল: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল। 
- বায়ুমণ্ডলভূ-অভ্যন্তরের নির্গত গ্যাস থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে মাত্র ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে বায়ুমণ্ডলের ৯০ শতাংশ অবস্থান করছে। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত। 
- বায়ুমণ্ডলের উপাদানের নাম ও শতকরা পরিমাণ নিম্নে দেওয়া হলো- 
• নাইট্রোজেন ⇒ ৭৮.০২, 
• অক্সিজেন ⇒ ২০.৭১, 
• আর্গন ⇒ o.৮০, 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড ⇒ ০.০৩, 
• ওজোন ⇒ ০.০০০১, 
• অন্যান্য গ্যাস ⇒ ০.০১৯৯, 
• জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১ এবং 
• ধূলিকণা ও কনিক্স ⇒ ০.০১। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৫৪৫.
কোন ইঞ্জিনে কার্বুরেটর থাকে?
  1. ক) পেট্রোল ইঞ্জিনে
  2. খ) ডিজেল ইঞ্জিনে
  3. গ) রকেট ইঞ্জিনে
  4. ঘ) বিমান ইঞ্জিনে
ব্যাখ্যা
মোটর গাড়ির যে প্রকোষ্ঠে বায়ু ও পেট্রোল মিশ্রিত করা হয় তাই হলো কার্বুরেটর
- বায়ু ও পেট্রোলের মিশ্রণ তৈরি হওয়ার পরে এটিকে দহন প্রকোষ্ঠে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
- সব ইঞ্জিনে কার্বুরেটর থাকে না। শুধু পেট্রোল ইঞ্জিনে ৩ টি কার্বুরেটর থাকে।

উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিক।
১২,৫৪৬.
এক অনু গ্লুকোজ জারণের ফলে কত অনু ATP উৎপন্ন হয়?
  1. ৩২ অনু
  2. ৩৪ অনু
  3. ৩৬ অনু
  4. ৩৮ অনু
ব্যাখ্যা

• গ্লুকোজের জারণ (Glucose Respiration):
- গ্লুকোজ জারণ হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোষ খাদ্য থেকে শক্তি (ATP) উৎপন্ন করে।
- এটি প্রধানত তিনটি ধাপে ঘটে: গ্লাইকোলাইসিস, ক্রেবস সাইকেল, এবং ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন।
- প্রতিটি ধাপে ATP উৎপাদনের পরিমাণ ভিন্ন হয়, এবং সর্বমোট ATP উৎপাদন গ্লুকোজের একটি অণু থেকে নির্ধারিত হয়।

• গ্লাইকোলাইসিস (Glycolysis):
- গ্লাইকোলাইসিস হলো গ্লুকোজের প্রথম ধাপ, যা সাইটোপ্লাজমে ঘটে।
- এখানে ১ অণু গ্লুকোজ থেকে মোট ২ অণু ATP উৎপন্ন হয় (নেট লাভ)।
- পাশাপাশি ২ অণু NADH তৈরি হয়, যা পরবর্তী ধাপে আরও ATP উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

• ক্রেবস সাইকেল (Krebs Cycle):
- ক্রেবস সাইকেল মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে ঘটে।
- একটি গ্লুকোজের অণু থেকে ২ অণু পাইরুভেট আসে, যা ক্রেবস সাইকেলে প্রবেশ করে।
- প্রতিটি গ্লুকোজের জন্য এখানে ২ অণু ATP, ৬ অণু NADH এবং ২ অণু FADH2 তৈরি হয়।

• ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন (Electron Transport Chain):
- ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন মাইটোকন্ড্রিয়ার ইনার মেমব্রেনে ঘটে।
- NADH এবং FADH2 থেকে ATP উৎপাদনের মাধ্যমে মোট প্রায় ৩২–৩৪ ATP উৎপন্ন হয়।
- গ্লুকোজের একটি অণু সম্পূর্ণ অক্সিডেশনের পর সর্বমোট প্রায় ৩৮ ATP উৎপন্ন হয়।

সুতরাং, একটি গ্লুকোজ অণু জারণের ফলে উৎপন্ন মোট ATP সংখ্যা হলো ৩৮।  
সঠিক উত্তর: ঘ) ৩৮ অনু।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৫৪৭.
যে মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়, তাকে কী বলা হয়? 
  1. ধাতু 
  2. অধাতু 
  3. অপধাতু 
  4. অস্থায়ী মৌল 
ব্যাখ্যা

মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম: 
- পর্যায় সারণিতে অবস্থিত মৌলগুলোর কিছু ধর্ম আছে, যেমন- ধাতব ধর্ম, অধাতব ধর্ম, পরমাণুর আকার, আয়নিকরণ শক্তি, তড়িৎ ঋণাত্মকতা ইলেকট্রন আসক্তি ইত্যাদি। এসব ধর্মকে পর্যায়বৃত্ত ধর্ম বলে। 

ধাতব ধর্ম (Metallic Properties): 
- যে সকল মৌল চকচকে, আঘাত করলে ধাতব শব্দ করে এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী তাদেরকে ধাতু বলা হয়। 
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে ধাতু বলে। 
- ধাতুর ইলেকট্রন ত্যাগের এই ধর্মকে ধাতব ধর্ম বলে। 
- যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন ত্যাগ করতে পারবে সেই মৌলের ধাতব ধর্ম তত বেশি। 
যেমন- লিথিয়াম (Li) একটি ধাতু কারণ Li একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Li+ এ পরিণত হয়। 
• Li → Li+ + e-
- পর্যায় সারণিতে যেকোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে ধাতব ধর্ম হ্রাস পায়। 

অধাতব ধর্ম (Non-metallic Properties): 
- যে সকল মৌল চকচকে নয়, আঘাত করলে ধাতব শব্দ করে না এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয় তাদেরকে অধাতু বলা হয়। 
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে অধাতু বলে। 
- অধাতুর ইলেকট্রন গ্রহণের এই ধর্মকে অধাতব ধর্ম বলে। 
- যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারবে সেই মৌলের অধাতব ধর্ম তত বেশি। 
যেমন- ক্লোরিন (Cl) একটি অধাতু কারণ Cl একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে Cl- এ পরিণত হয়। 
• Cl + e- → Cl-
- পর্যায় সারণিতে যেকোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে অধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায়। 

অর্ধধাতু বা অপধাতু: 
- যে সকল মৌল কোনো কোনো সময় ধাতুর মতো আচরণ করে এবং কোনো কোনো সময় অধাতুর মতো আচরণ করে তাদেরকে অর্ধধাতু বা অপধাতু বলা হয়। 
- আবার আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল কোনো কোনো সময় ইলেকট্রন ত্যাগ করে এবং কোনো কোনো সময় ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাদেরকে অপধাতু বলে। 
যেমন- সিলিকন (Si) একটি অপধাতু। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৫৪৮.
কোনটি সঠিক?
  1. ক) আলোর চেয়ে শব্দের গতিবেগ কম।
  2. খ) আলোর চেয়ে শব্দের গতিবেগ বেশি।
  3. গ) আলোর গতিবেগ শব্দের গতিবেগের সমান।
  4. ঘ) কোনটিই নয়।
ব্যাখ্যা

শূন্যস্থানে আলোর বেগ 3 × 108 মিটার./সেকেন্ড।
এটি হল আলোর সর্বোচ্চ বেগ, অর্থাৎ আলো শূন্যে সবচেয়ে দ্রুত ভ্রমণ করে।
বায়ুতে শব্দের গতিবেগ 332 মিটার/সেকেন্ড।

সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান। 

১২,৫৪৯.
নিউক্লিওটাইডের পলিমারকে বলা হয় -
  1. ক) নিউক্লিক এসিড
  2. খ) নিউক্লিয়াস
  3. গ) অ্যাডেনিন
  4. ঘ) থাইমিন
ব্যাখ্যা
নিউক্লিক অ্যাসিড (ইংরেজি: Nucleic acid) হল জীবকোষের সবচাইতে বড়, অশাখান্বিত, অধিক আণবিক ভরবিশিষ্ট ও পলিমার জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ যা জীবের বিভিন্ন প্রকারের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এটি মূলত অসংখ্য নিউক্লিওটাইডের পলিমার। প্রতিটি নিউক্লিওটাইডের তিনটি অংশ থাকে। এগুলো হলো: ৫-কার্বন বিশিষ্ট শর্করা, একটি ফসফেট গ্রুপ এবং একটি নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক।
.........................................................

Nucleic acids are polynucleotides—that is, long chainlike molecules composed of a series of nearly identical building blocks called nucleotides. Each nucleotide consists of a nitrogen-containing aromatic base attached to a pentose (five-carbon) sugar, which is in turn attached to a phosphate group.
Source: Britannica
১২,৫৫০.
কোন শাখায় জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা করা হয়?
  1. Ecology
  2. Entomology
  3. Genetics
  4. Evolution
ব্যাখ্যা
১। হিস্টোলজি (Histology): 
- জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

২।  বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics): 
- জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৩। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): 
- পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৪। ভূণবিদ্যা (Embryology): 
- জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৫। কোষবিদ্যা (Cytology): 
- জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৬। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): 
- এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

৭। কীটতত্ত্ব (Entomology): 
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৫৫১.
পরপর কয়টি সুস্পন্দ বিন্দুর মধ্যকার দূরত্বই স্থির তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য?
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৩ টি
  4. ৪ টি
ব্যাখ্যা
স্থির তরঙ্গ:
- একই রকম দুটি অগ্রগামী তরঙ্গ বিপরীত দিক থেকে সমভাবে অগ্রসর হয়ে একে অপরের উপর আপতিত হলে যে তরঙ্গের উদ্ভব হয় তাকে স্থির তরঙ্গ বলে।
- একটি তারের বা মোটা দড়ির এক প্রান্ত একটি দৃঢ় অবলম্বনে বেঁধে অন্য প্রান্ত ধরে উপর নিচে দোলালে একটি তরঙ্গ তার বেয়ে অগ্রসর হবে এবং বন্ধ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে আবার ফিরে আসবে।
- তরঙ্গের উদ্ভবের সময় দেখা যাবে তারের কোনো কোনো বিন্দুতে কোনো স্পন্দন নাইয়দা- আবার কোনো কোনো বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হতে থাকবে।
- যে বিন্দুতে কোনো স্পন্দন নাই সে বিন্দুগুলোকে নিস্পন্দ বিন্দু (Node) এবং যে বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হয় সে বিন্দুগুলোকে সুস্পন্দ বিন্দু (Antinode) বলে। 
- নিস্পন্দ ও সুস্পন্দ বিন্দুগুলোর অবস্থানগুলো সব সময় স্থির।
- পরপর তিনটি নিস্পন্দ বিন্দু বা তিনটি সুস্পন্দ বিন্দুর মধ্যের দূরত্বই স্থির তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য।
- গীটার, একতারা, সেতার ইত্যাদি বাদ্য যন্ত্রের তারে স্থির তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৫৫২.
ধাতুর ঘনত্ব অধাতুর তুলনায় সাধারণত কেমন থাকে? 
  1. কম 
  2. বেশি 
  3. সমান 
  4. অপরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা

ধাতু-অধাতু: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত।
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৫৫৩.
কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা কিসের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়? 
  1. ঘনীভবন
  2. বাষ্পীভবন
  3. গলনাংক
  4. স্ফুটনাংক
ব্যাখ্যা
- কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা গলনাংক এর মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। 
- যে তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলতে আরম্ভ করে সে তাপমাত্রাকে গলনাঙ্ক বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের সাথে যদি কোন অপদ্রব্য মিশ্রিত অবস্থায় থাকে তাহলে বুঝতে হবে কঠিন পদার্থটি যে তাপমাত্রায় গলার কথা সে তাপমাত্রায় গলবে না। 

অন্যদিকে, 
- তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন তরল পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৫৫৪.
অধাতব খনিজ পদার্থ কোনটি?
  1. মাইকা
  2. খনিজ লবণ
  3. কোয়ার্টজ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 

ধাতব খনিজ পদার্থ: 
• লোহা (Fe), 
• তামা (Cu), 
• সোনা (Au) এবং 
• রূপা (Ag) ইত্যাদি। 

অধাতব খনিজ পদার্থ: 
কোয়ার্টজ (Quartz)
মাইকা (Mica) এবং 
খনিজ লবণ ইত্যাদি। 
- আবার গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৫৫৫.
বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের শরীরে শারীরিক পরিবর্তনের জন্য প্রধানত কোন হরমোনটি দায়ী? 
  1. টেস্টোস্টেরন 
  2. প্রজেস্টেরন 
  3. ইস্ট্রোজেন
  4. ইনসুলিন 
ব্যাখ্যা
বয়ঃসন্ধিকাল পরিবর্তনের কারণ: 
- সাধারণত ছেলেমেয়েদের ১১-১৯ বছরের সময়কালকে বয়ঃসন্ধিকাল বলে। 
- এ সময়ে ছেলেমেয়েদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়। 
- তবে আবহাওয়া, স্থান, খাদ্য গ্রহণের ধরন ও পরিমাণ ও মানের তারতম্যের কারণে একেকজনের বয়ঃসন্ধিকালের সময়টা একেক রকম হতে পারে। 
- বয়ঃসন্ধিকালে যেসব পরিবর্তন ঘটে, তার জন্য দায়ী হরমোন নামক একশ্রেণির রাসায়নিক পদার্থ, যা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। 
- হরমোন শরীরের ভিতরে স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। 
- ছেলে ও মেয়েদের শরীরের হরমোনের মাত্রা ভিন্ন, এ কারণে তাদের শরীর ও মনে যে পরিবর্তন হয় সেটিও ভিন্ন। 
- মেয়েদের শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তনের জন্য দায়ী প্রধানত দুটি হরমোন। এ হরমোন দুটোর নাম হলো ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন। 
- এসব হরমোনের প্রভাবে কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন হয়, দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আকার বৃদ্ধিসহ অন্যান্য পরিবর্তন ঘটে। এ হরমোনের কারণে মেয়েদের ঋতুস্রাব বা মাসিক শুরু হয়। 

- বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তনের জন্য যে হরমোন দায়ী, তার নাম হলো টেস্টোস্টেরন। 
- এ হরমোনের প্রভাবে তাদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে। 
- ছেলেদের গলায় স্বর ভারী হয়, মুখে দাড়ি ও গোঁফ গজায়, দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৫৫৬.
'মানুষ' কোন স্তরী বিশিষ্ট প্রাণী? 
  1. একস্তরী
  2. দ্বিস্তরী
  3. ত্রিস্তরী
  4. স্তরবিহীন
ব্যাখ্যা
ভ্রূণীয় স্তর: 
- ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক. একস্তরী: 
- এরা সরল ধরনের প্রাণী। 
- এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। 
যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum)। 

খ. দ্বিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita)। 

গ. ত্রিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- মানুষ (Homo sapiens)। 

ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৫৫৭.
শিম জাতীয় উদ্ভিদে কোন ধরনের ব্যাকটেরিয়া নাইট্রোজেন সংবন্ধনে সাহায্য করে?
  1. Rhizobium
  2. Escherichia coli
  3. Bacillus
  4. Nitrobacter
ব্যাখ্যা
• কৃষিক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা:
- মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে: মৃত্যুর পরে জীবদেহ এবং অন্যান্য আবর্জনা পচনের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া জৈব পদার্থ মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
- নাইট্রোজেন সংবন্ধনে: Azotobacter, Pseudomonas, Clostridium প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া সরাসরি বায়ু থেকে নাইট্রোজেন ধরে মাটির সাথে মিশিয়ে মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়।
যেমন- Rhizobium ব্যাকটেরিয়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে থাকে।
- পতঙ্গনাশক হিসেবে: কতিপয় ব্যাকটেরিয়া (Bacillus thuringiensis) পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ফলন বৃদ্ধিতে: কিছু ব্যাকটেরিয়া প্রয়োগ করে ধান এবং গমের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

উৎস: উদ্ভিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)
১২,৫৫৮.
কোন কাল্পনিক রেখা থেকে অক্ষাংশ গণনা করা হয়?
  1. ক) কর্কটক্রান্তি
  2. খ) মকরক্রান্তি
  3. গ) বিষুবরেখা
  4. ঘ) মূল মধ্যরেখা
ব্যাখ্যা
অক্ষাংশ ও অক্ষরেখা:
- ভূ-পৃষ্ঠের যে কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে এবং যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে একে প্রকাশ করা হয়, তাকে অক্ষরেখা বলে। 
নিরক্ষরেখা (Equator):
- পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুইটি গোলার্ধে বিভক্তকারী কাল্পনিক অক্ষরেখাটি নিরক্ষরেখা নামে অভিহিত।
-  ভূ-গোলাককে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টনকারী সর্বাপেক্ষা বৃহৎ অক্ষরেখা নিরক্ষরেখা।
- এই অক্ষরেখার অপর নাম সমূহ হলো- বিষুবরেখা (Equator) ও মহাবৃত্ত (Great Circle)। 
- বিষুবরেখা রেখা থেকে অক্ষাংশ গণনা করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৫৫৯.
ডুবোজাহাজে কোন যন্ত্রের সাহায্যে পানির নিচ থেকে উপরের দৃশ্য দেখা হয়?
  1. মাইক্রোস্কোপ
  2. টেলিস্কোপ
  3. পেরিমিটার
  4. পেরিস্কোপ
ব্যাখ্যা
পেরিস্কোপ:
- পেরিস্কোপ হলো কোনো লুক্কায়িত স্থান থেকে পর্যবেক্ষণের জন্য যন্ত্রবিশেষ।
- এর সরলতম আকারে এটি ৪৫ ডিগ্রী কোনে প্রতি প্রান্তে পরস্পরের সাথে সমান্তরালে স্তাপিত দর্পণসহ একটি নল দ্বারা গঠিত।
- পেরিস্কোপ আলোর প্রতিফলন এবং ব্যতিচার নীতির উপর তৈরি হয়।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে পরীক্ষায় ব্যবহার করা হতো।
- এটি সাধারণত পানির নিচে বা কোন অবরুদ্ধ স্থানে থাকা জিনিস দেখতে ব্যবহৃত হয়।
- পেরিস্কোপের মাধ্যমে একটি নাবিক বা ব্যবহারকারী সাবমেরিন বা অন্যান্য যানের উপরিভাগের দৃশ্য দেখতে পারে।

উল্লেখ্য,
- সর্বপ্রথম পেরিস্কোপ ব্যবহৃত হয় সাবমেরিনে বা ডুবজাহাজে।
- মূলত ডুবজাহাজ থেকে বাইরের অবস্থা দেখার লক্ষ্যেই মারি-ডেভি তার নৌ-পেরিস্কোপটি উদ্ভাবন করেন।
- গবেষণা, অভিযান কিংবা অনুসন্ধানেও এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

উৎস: i) Britannica.
ii) জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর ওয়েবসাইট।
১২,৫৬০.
কোনো বস্তুর ভর ১০ কেজি হলে বস্তুর ওজন-
  1. ক) ১০০ নিউটন
  2. খ) ৯.৮ নিউটন
  3. গ) ১০ নিউটন
  4. ঘ) ৯৮ নিউটন
ব্যাখ্যা

আমরা জানি,
W = mg
= ১০ X ৯.৮
= ৯৮ নিউটন।

১২,৫৬১.
রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে-
  1. ক) জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন আনা সম্ভব
  2. খ) জীবের ডিএনএতে গাঠনিক পরিবর্তন আনা সম্ভব
  3. গ) জিন ক্লোনিং করা সম্ভব
  4. ঘ) সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
রিকম্বিনেন্ট DNA টেকনোলজি : অধিকাংশ জীবের জেনেটিক উপাদান হলো DNA। বিভিন্ন ধরনের এনজাইম, প্রোটিন এবং RNA অণুর সংম্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকরী তথ্য DNA অণুতেই সন্নিবেশিত থাকে।
মানব কল্যাণে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কোন জীবের DNA এর পরিবর্তন করে নতুন প্রকৃতির DNA সমন্বয় করার কৌশল ইতিমধ্যে সফলতার সাথে প্রয়োগ করা সম্ভব হয়েছে। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতির দ্বারা জীবের বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
যে টেকনোলজির মাধ্যমে কোন জীবের DNA তে প্রত্যাশিত গাঠনিক পরিবর্তন আনা যায় (রিকম্বিনেন্ট DNA তৈরির মাধ্যমে) সে টেকনোলজি বা পদ্ধতিকে রিকম্বিনেন্ট DNA টেকনোলজি বলে। একই জিনের (DNA অণু) অসংখ্য কপি তৈরি হওয়াকে জিন ক্লোনিং বলা হয়।
জিন ক্লোনিং রিকম্বিনেন্ট DNA টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৫৬২.
চাঁদের সবচেয়ে বড় গহ্বরটির নাম কী?
  1. গ্যানিমেড
  2. ফোবোস
  3. ক্লেভিউস
  4. ডিমোস
ব্যাখ্যা
চাঁদ:
- পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব ৩,৮১,৫০০ কিলোমিটার।
- চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে নিজ কক্ষপথে ২৯ দিনে একবার আবর্তন করে।
- এর ব্যাস ৩.৪৭৫ কিলোমিটার।
- ১৯৬৯ সালের ২১ শে জুলাই সর্বপ্রথম মানুষ চাঁদে অবতরণ করেন।
- চাঁদে পানি, বায়ু, উদ্ভিদ বা প্রাণী নেই। চাঁদে বহু সমতলভূমি, পাহাড় পর্বত ও বৃহদাকার গর্তের উপরিভাগ দেখা যায়।
- চাঁদের সবচেয়ে বড় গহ্বরটির নাম ক্লেভিউস।
- চাঁদের আকাশ দিনে-রাতে একই রকম কালো।
- চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। সূর্যের আলোতে চাদ আলোকিত হয়।
- চাঁদের যে পৃষ্ঠে সূর্যালোক পড়ে সে পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১০০" সেলসিয়াস এর ওপরে এবং অন্ধকার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ১৫০ সেলসিয়াসের নীচে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৫৬৩.
তরলের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি করলে বাষ্পায়ন -
  1. ক) একই হয়
  2. খ) কম হয়
  3. গ) বেশি হয়
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- তরলের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল যত বেশি হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে।
- এক গ্লাস পানি বাষ্পীভূত হতে অনেক সময় নেবে কিন্তু সেই পানিটা বড় থালায় ঢেলে দিলে অনেক তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণী, পদার্থ বিজ্ঞান।
১২,৫৬৪.
উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ১৫টি
  2. খ) ১৬টি
  3. গ) ১৭টি
  4. ঘ) ১৮টি
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন।
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যেমন: ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান।
- ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)।
- মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে।
- মাইক্রো উপাদান ৬টি।যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১২,৫৬৫.
মানুষের অস্থিতে কত ভাগ পানি থাকে?
  1. ক) প্রায় ১০-২০ ভাগ
  2. খ) প্রায় ২০-৩০ ভাগ
  3. গ) প্রায় ৩০-৪০ ভাগ
  4. ঘ) প্রায় ৪০-৫০ ভাগ
ব্যাখ্যা
মানুষের অস্থিতে প্রায় ৪০-৫০ ভাগ পানি থাকে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৫৬৬.
এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1°C বাড়াতে হলে কী পরিমাণ তাপের দরকার হয়?
  1. ক) ২ ক্যালরি
  2. খ) ৪ ক্যালরি
  3. গ) ৩ ক্যালরি
  4. ঘ) ১ ক্যালরি
ব্যাখ্যা
ক্যালরি
- পদার্থের অণুগুলোর কম্পন বা গতির কারণে যে শক্তি পাওয়া যায় সেটা হচ্ছে তাপ।
- যেহেতু এটা শক্তি তাই স্বাভাবিকভাবে অন্য শক্তির মতোই তার একক হচ্ছে জুল (j)।
- তাপের আরো একটি একক আছে, তার নাম ক্যালরি (cal)।
- 1 gm পানির তাপমাত্রা 1°C বাড়াতে হলে যে পরিমাণ তাপের দরকার সেটা হচ্ছে 1 ক্যালরি
- 1 ক্যালরি হচ্ছে 4.2J এর সমান। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৫৬৭.
প্রাণীদেহে প্রোটিন কোন উপাদান থেকে গঠিত?
  1. অ্যামাইনো অ্যাসিড
  2. গ্লুকোজ
  3. গ্লিসারল
  4. ফ্যাটি অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

প্রোটিন মূলত অ্যামাইনো অ্যাসিড (Amino Acid) দিয়ে গঠিত। প্রাণীদেহে প্রোটিন সংশ্লেষণ অ্যামাইনো অ্যাসিডের মাধ্যমে হয়, যা কোষের গঠন, এনজাইম, হরমোন এবং অন্যান্য জৈবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রোটিন বা আমিষের গঠন:
- আমিষ বা প্রোটিনের গঠন উপাদান হলো- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H₂), অক্সিজেন (O₂) এবং নাইট্রোজেন (N₂)।
- আমিষে ১৬% নাইট্রোজেন থাকে।
- আমিষ বা প্রোটিনের গঠনগত একক অ্যামাইনো অ্যাসিড।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন মৌল সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিনের গঠন একক অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়।
- একাধিক অ্যামাইনো অ্যাসিড মিলিত হয়ে পলিপেপটাইড ও পরিশেষে প্রোটিন গঠিত হয়। তাই প্রোটিনের রাসায়নিক বিশ্লেষণের ফলে বিভিন্ন ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়।
- পরিপাকের পর আমিষ বা প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল, মটরশুঁটি শিমেরবিচি, সয়াবিন, বাদাম ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাদ্য। এসব খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ পাওয়া যায়।

অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড:
- প্রোটিন গঠনকারী অ্যামাইনো অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
- এ ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিডগুলো হলো-
১। লাইসিন।
২। লিউসিন।
৩। আইসোলিউসিন।
৪। মিথিওনিন।
৫। ট্রিপটোফ্যান।
৬। ভ্যালিন।
৭। ফিনাইল অ্যালানিন।
৮। থ্রিওনিন।

উৎস - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৫৬৮.
জাপান ও ভিয়েতনামে কোন বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত ঘটে? 
  1. পশ্চিমা বায়ু
  2. মৌসুমি বায়ু
  3. অয়ন বায়ু
  4. নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা
সাময়িক বায়ু: 
- কোনো নির্দিষ্ট দিক, বা বছরের কোনো নির্দিষ্ট ঋতুতে যে বায়ুপ্রবাহ জল ও স্থলভাগের তাপের তারতম্য সৃষ্টি করে তাকেই বলা হয় সাময়িক বায়ু। 
- সাময়িক বায়ু দুই ধরনের। যথা- মৌসুমি বায়ু এবং স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু। 

মৌসুমি বায়ু: 
- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে বলা হয় মৌসুমি বায়ু। 
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি ভাষায় “মত্তসুম” শব্দ থেকে যার অর্থ হলো ঋতু। এটি একটি আঞ্চলিক বায়ু। 
- সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে শীত ও গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য হয় বলেই মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়। 
- প্রধাণত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ দেখা যায়। এছাড়াও কর্কটক্রান্তি অঞ্চলে যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার কিছু অংশ, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত ইত্যাদি অঞ্চল এই বায়ুপ্রবাহের অন্তর্গত। 
- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হওয়ার জন্য কর্কটক্রান্তির বায়ুর চাপ কমে যায় ও সুবৃহৎ নিম্নচাপ কেন্দ্র সৃষ্টি হয়। 
- এ অবস্থায় দক্ষিণ গোলার্ধের ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে আগত দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে। 
- এশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যাওয়া এই বায়ুকে তাই বলা হয় উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের মৌসুমি বায়ু। 
- মধ্য এশিয়ায় নিম্নচাপের দ্বারা দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু উৎপন্ন হয়। ফলে চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, জাপান, কম্বোডিয়া, লাওস ইত্যাদি দেশে বৃষ্টিপাত ঘটে। 
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পাকিস্তান, মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত হয়। অপরদিকে শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে এবং মকরক্রান্তিতে তখন নিম্নচাপ সৃষ্ট হয়। 
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ শীতল হয় বলে তখন ঐ স্থানে উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হয়। 
- এই সময় বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বলে এবং এই বায়ু শুষ্ক থাকে। 
- মৌসুমি বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বাম দিকে বেঁকে যায় এবং উত্তর-পশ্চিমে মৌসুমি বায়ুরূপে উত্তর অস্ট্রেলিয়ার দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৫৬৯.
ডায়োড মূলত কোন কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়?
  1. বৈদ্যুতিক প্রবাহ বৃদ্ধি করা
  2. সার্কিটে প্রতিরোধ সৃষ্টি করা
  3. একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করা
  4. ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করা
ব্যাখ্যা

• ডায়োড মূলত এক ধরনের অর্ধপরিবাহী উপাদান যা বিদ্যুৎ প্রবাহকে একদিক থেকে অন্যদিকে প্রবাহিত হতে দেয় এবং বিপরীত দিকের প্রবাহকে বাধা দেয়। এটি সার্কিটে একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়, যা rectification প্রক্রিয়ায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ডায়োড AC (বিকল্প ধারা) কে DC (স্থির ধারা) তে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। এছাড়া কিছু ডায়োড ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ বা সিগন্যালের গতি নিয়ন্ত্রণেও ব্যবহার হয়, তবে মূল কাজ হলো একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করা।
- তাই সঠিক উত্তর হলো গ) একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করা।

ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৫৭০.
ওয়াট-এর সাথে অশ্বক্ষমতার সম্পর্ক কোনটি? 
  1. 1 H.P. = 550 W
  2. 1 H.P. = 3.6 × 106 W
  3. 1 H.P. = 746 W
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ওয়াট: 
- 1 সেকেন্ডে 1 জুল (J) কাজ করার ক্ষমতাকে 1 ওয়াট (W) বলে। 
∴ 1 W = 1 J s -1
1 কিলোওয়াট (kW) = 1000 ওয়াট (W) 
1 মেগাওয়াট (MW) = 1000 কিলোওয়াট (kW) = 106 W = 106 Hs-1

অশ্বক্ষমতা: 
- এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি চালুর পূর্বে ক্ষমতার একটি ব্যবহারিক একক ছিল অশ্বক্ষমতা। 
- ওয়াট-এর সাথে অশ্বক্ষমতার সম্পর্ক হলো - 
1 H.P. = 746 Watt. 

উৎস:
পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
১২,৫৭১.
টেস্টটিউব বেবির ক্ষেত্রে প্রথম সফলতা আসে কত সালে?
  1. ১৯৫৯
  2. ১৯৬৮
  3. ১৯৭৫
  4. ১৯৭৮
ব্যাখ্যা
- প্রথম "টেস্ট-টিউব বেবি" বলতে বোঝায় in vitro fertilization (IVF)এর মাধ্যমে জন্মানো প্রথম সফল মানব শিশু,
- IVF একটি উর্বরতা চিকিত্সা যার মধ্যে একটি পরীক্ষাগার সেটিংয়ে শরীরের বাইরে শুক্রাণু দিয়ে একটি ডিম্বাণু নিষিক্ত করা হয়।
- প্রথম সফল IVF জন্ম হয়েছিল 25 জুলাই, 1978-এ
- লুইস জয় ব্রাউন, একজন ব্রিটিশ মহিলা, এই যুগান্তকারী প্রজনন প্রযুক্তির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া বিশ্বের প্রথম শিশু হয়েছিলেন। লুইসের পিতামাতা, লেসলি এবং জন ব্রাউন, উর্বরতার সমস্যাগুলির সম্মুখীন হয়েছিলেন এবং তাদের সন্তানকে গর্ভধারণ করতে তাদের সহায়তা করার জন্য IVF ব্যবহার করা হয়েছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
১২,৫৭২.
শ্বসন প্রক্রিয়ার কোন ধাপ মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটেনা?
  1. ইলেকট্রন প্রবাহ তন্ত্র
  2. ক্রেবস চক্র
  3. অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি
  4. গ্লাইকোলাইসিস
ব্যাখ্যা
- শ্বসন ক্রিয়ার ধাপ চারটি: গ্লাইকোলাইসিস, অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি, ক্রেবস চক্র এবং ইলেকট্রন প্রবাহ তন্ত্র।
- এর প্রথম ধাপ (গ্লাইকোলাইসিসের বিক্রিয়াগুলো) মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটে না
- তবে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপ মাইটোকন্ড্রিয়ার মধ্যেই সম্পন্ন হয়।

মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria):
- মাইটোকন্ড্রিয়া দুই স্তরবিশিষ্ট আবরণী বা ঝিল্লি দিয়ে ঘেরা।
- ভিতরের স্তরটি ভিতরের দিকে আঙ্গুলের মতো ভাঁজ হয়ে থাকে।এদের ক্রিস্টি (cristae) বলে।
- ক্রিস্টির গায়ে বৃন্তযুক্ত গোলাকার বস্তু থাকে, এদের অক্সিজোম (oxisomes) বলে।
- অক্সিজোমে উৎসেচকগুলো (enzymes) সাজানো থাকে।
- মাইটোকন্ড্রিয়নের (এক বচন) ভিতরে থাকে ম্যাট্রিক্স (matrix)।
- জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। 
- শ্বসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ক্রেবস চক্র (তৃতীয় ধাপ) মাইটোকন্ড্রিয়াতেই সম্পন্ন হয়।
- ক্রেবস চক্রে সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপাদিত হয়।
- এজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের 'শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র' বা 'পাওয়ার হাউস' বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৫৭৩.
অ্যামিবায় কোন ধরনের কোষ বিভাজন সংগঠিত হয়?
  1. ক) অ্যামাইটোসিস
  2. খ) মাইটোসিস
  3. গ) মায়োসিস
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• কোষ বিভাজন একটি মৌলিক ও অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জীবের দৈহিকবৃদ্ধি ও বংশ বৃদ্ধি ঘটে।

অ্যামাইটোসিস হল জীবদেহের এক ধরনের কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া, যা প্রধানত নিম্ন শ্রেনির জীবে (যেমন- এক কোষী প্রাণি - ব্যাক্টেরিয়া, ইস্ট, অ্যামিবা ইত্যাদি) দেখা যায়। একে ক্যারিওস্টেনোসিস বা প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজনও বলা হয়। একে অনেক সময় দ্বিবিভাজনও বলা হয়।

মাইটোসিস হল কোষ চক্রের একটি ধাপ যেখানে প্রতিলিপিকৃত ক্রোমোজোম দুটি নতুন নিউক্লিয়াসে বিভক্ত হয়। মাইটোসিস দ্বারা কোষ বিভাজন জিনগতভাবে সমবৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অভিন্ন কোষের জন্ম দেয় যেখানে ক্রোমোজোমের মোট সংখ্যা বজায় থাকে।

• মিয়োসিস বা মায়োসিস ( ইংরেজি-meiosis) এক বিশেষ ধরনের কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া যাতে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি পরপর দুবার বিভাজিত হলেও ক্রোমোজোমের বিভাজন ঘটে মাত্র একবার, ফলে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়।

সূত্র: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান।
১২,৫৭৪.
কাণ্ডের যে স্থান থেকে পাতা বের হয় তাকে কী বলে?
  1. পর্ব
  2. পর্বমধ্য
  3. পত্রমূল
  4. পত্রকক্ষ
ব্যাখ্যা
কাণ্ড: 
- উদ্ভিদের যে অংশ থেকে শাখা-প্রশাখা পাতা উৎপন্ন হয়, তাই কাণ্ড। 
- এতে পর্ব, পর্বমধ্য ও মুকুল থাকে। 

পর্ব: 
- কাণ্ডের যে স্থান থেকে পাতা বের হয় তাকে পর্ব বা সন্ধি বলে। 

পর্বমধ্য: 
- পাশাপাশি দুটি পর্বের মধ্যবর্তী অংশটি পর্বমধ্য। 
- পর্বমধ্য গাছকে খাড়া রাখতে ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 
- পর্বমধ্য থেকে কোনো ধরনের মূল, পাতা বা শাখা সৃষ্টি হয় না। 

মুকুল: 
- কাণ্ডের সাথে পাতা যে কোণ সৃষ্টি করে তাকে পত্রকক্ষ বলে। 
- সাধারণত মুকুল এ পত্রকক্ষে জন্মে। 
- তবে শাখার অগ্রভাগেও মুকুল সৃষ্টি হয়। 
- কাক্ষিক মুকুল পত্রকক্ষে এবং শীর্ষ মুকুল কাণ্ড বা শাখার অগ্রভাগে জন্মে। 

কাণ্ডের কাজ: 
১। কাণ্ড পাতা, ফুল ও ফল এবং শাখা-প্রশাখার ভারবহন করে। 
২। কাণ্ড শাখা-প্রশাখা ও পাতাকে আলোর দিকে তুলে ধরে যাতে সূর্যের আলো যথাযথভাবে পায়। 
৩। কাণ্ড শোষিত পানি ও খনিজ লবণ শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুলে এবং ফলে পরিবহন করে। 
৪ । পাতায় প্রস্তুত খাদ্য কাণ্ডের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। 
৫। কচি অবস্থায় সবুজ কাণ্ড সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু পরিমাণ খাদ্য প্রস্তুত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১২,৫৭৫.
রক্তে অক্সিজেনের পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট করে-
  1. ক) CO
  2. খ) CO2
  3. গ) CH4
  4. ঘ) CI2
ব্যাখ্যা
- গাড়ি, বিভিন্ন যানবাহন, কল-কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।
- কার্বন মনোক্সাইড (CO) রক্তের হিমোগ্লোবিনের সাথে মিশে কার্বোক্সি হিমোগ্লোবিন তৈরী করে, যা ফুসফুস থেকে সমস্ত শরীরে অক্সিজেন পরিবহনে বাঁধা সৃষ্টি করে
- এ কারণে কার্বন মনোক্সাইড বিষাক্ত।

উৎস: রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।  
১২,৫৭৬.
পেনিসিলিন এন্টিবায়োটিক তৈরিতে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) Penicillium sp
  2. খ) Bacillus polymyxa
  3. গ) Streptomyces griseus
  4. ঘ) Streptomyces rimosus
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অণুজীবদ্বারা উৎপন্ন এন্টিবায়োটিক -

Penicillium sp - পেনিসিলিন
Bacillus polymyxa - পলিমিক্সন। 
Streptomyces griseus - স্ট্রেপটোমাইসিন। 
Streptomyces rimosus - টেট্রাসাইক্লিন।
১২,৫৭৭.
কোন ধাতু তার পূর্বের আকৃতি (Shape) মনে রাখতে পারে?
  1. ক) লোহা
  2. খ) নাইটিনল
  3. গ) ব্রোঞ্জ
  4. ঘ) টেফলন
ব্যাখ্যা
নাইটিনল
- নাইটিনল একটি সংকর ধাতু যা নিকেল ও টাইটেনিয়ামের মিশ্রণে তৈরি একটি এলয়।
- এতে ৫৫% নিকেল এবং ৪৫% টাইটেনিয়াম রয়েছে।
- এটি অধিক স্থিতিস্থাপক ধাতু।
- নাইটিনলকে তাপ দিলে পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে।
- এটি তার পূর্বের আকৃতি মনে রাখতে পারে।
- এটি এমন এক ধরনের ধাতু যাকে বিকৃতির পর পূর্বের আকৃতিতে খুব সহজেই ফিরিয়ে আনা যায়।
- তা একে বলা হয় শেপ মেমরি এলয় (Shape Memory Alloy).
১২,৫৭৮.
উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক কে?
  1. থিওফ্রাস্টাস
  2. এরিস্টটল
  3. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  4. আল কেমি
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ জগৎ

- থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক।
- তিনি উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদসমূহকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন।
- যথা, 

১. ট্রি বা বৃক্ষ,
২. শ্রাব বা গুল্ম,
৩. আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম এবং
৪. হার্ব বা বীরুৎ।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১২,৫৭৯.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক পলিমার?
  1. স্টার্চ
  2. পলিভিনাইল ক্লোরাইড
  3. নাইলন
  4. টেরিলিন
ব্যাখ্যা
পলিমার (Polymer):
- পলিমার (Polymer) শব্দটি গ্রিক শব্দ 'পলি' (poly) অর্থ বহু বা অনেক এবং 'মেরোস' (meros) অর্থ অংশ থেকে উৎপত্তি হয়েছে।
- পলিমার বলতে একই ধরনের অনেকগুলো ছোট ছোট অংশ যুক্ত হয়ে যে উচ্চ আণবিক ভরবিশিষ্ট বৃহদাকার অণু তৈরি হয় তাকে বোঝায়। যে ক্ষুদ্র অণু যুক্ত হয়ে পলিমার তৈরি হয় তাকে মনোমার (Monomer) বলা হয়।
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। যথা-
ক) প্রাকৃতিক পলিমার ও
খ) কৃত্রিম পলিমার।

প্রাকৃতিক পলিমার:
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার।
- যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি।

কৃত্রিম পলিমার:
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার।
- যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্টারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি।
- গঠন ও তাপীয় বেশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কৃত্রিম পলিমারকে আবার দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। যেমন-
১। থার্মোপ্লাস্টিক ও
২। থার্মোর্সেটিং প্লাস্টিক।

তথ্যসূত্র - রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৫৮০.
কোন রশ্মিকে একটা কাগজের পৃষ্ঠা দিয়ে থামানো সম্ভব?
  1. ক) আলফা
  2. খ) বিটা
  3. গ) গামা
  4. ঘ) সবগুলোই থামানো যায়
ব্যাখ্যা

- আলফা রশ্মিকে একটা কাগজের পৃষ্ঠা দিয়ে থামানো যায়।
- বিটা রশ্মিকে ৩ - ৫ মিমি আলুমিনিয়াম দিয়ে থামানো যায়।
- গামা রশ্মিকে ৩ - ৫ সেমি সিসা দিয়ে থামানো যায়।
তথ্যসূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি, পৃষ্ঠা - ৩৫৯

১২,৫৮১.
বিশুদ্ধ অবস্থায় ২০°-২৭°C তাপমাত্রায় পানির pH কত? 
ব্যাখ্যা
পানি: 
- পানি একটি তরল পদার্থ। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় পানি তরল হলেও অত্যন্তশীতল অবস্থায় কঠিন বরফে পরিণত হয়। আবার উচ্চ তাপমাত্রায় গ্যাসীয় বাষ্পে পরিণত হয়। 
- জীবজগতের সকল উদ্ভিদ ও প্রাণির দেহ গঠনের জন্য পানি একটি অপরিহার্য উপাদান। 

পানির ধর্ম: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বচ্ছ, স্বাদহীন, গন্ধহীন ও বর্ণহীন হয়ে থাকে। 
- পানির কিছু সাধারণ ধর্ম নিম্নে উল্লেখ করা হলো- 
• গলনাংক: 
- শীতল অবস্থায় পানি কঠিন বরফ হিসেবে থাকে। 
- প্রমাণ চাপে বরফ ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলে যায়। 
অর্থাৎ, পানির গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 

• স্ফূটনাংক: 
- প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 
অর্থাৎ, পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

• অম্লত্ব ও ক্ষারকত্ব: 
- বিশুদ্ধ পানি নিরপেক্ষ। 
অর্থাৎ, বিশুদ্ধ অবস্থায় এটি অ্যাসিড বা ক্ষার কোন ধর্মই প্রদর্শন করে না। 
- তবে এসিডের উপস্থিতিতে এটি ক্ষার হিসেবে আবার ক্ষারের উপস্থিতিতে এটি অ্যাসিড হিসেবে কাজ করে। 
- বিশুদ্ধ অবস্থায় ২০°-২৭°C তাপমাত্রায় পানির pH হলো ৭, তবে উচ্চ তাপমাত্রার পানির pH ৭ এর নিচে। 

• দ্রাবক: 
- পানি একটি ভাল দ্রাবক। 
- এটি বেশিরভাগ অজৈব লবণ এবং কিছু কিছু জৈব যৌগ দ্রবীভূত করতে পারে। 
- এজন্য পানিকে সর্বজনীন দ্রাবক বলা হয়। 

• ঘনত্ব: 
- ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয়। 
- ৪° সেলসিয়াসের চেয়ে কম ও বেশি তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব কমতে থাতে। 
- ৪° সেলসিয়াসে পানির ঘনত্ব ১ গ্রাম/কিউবিক সেন্টিমিটার বা ১০০০ কেজি/ঘনমিটার। 
অর্থাৎ, ১ সি সি পানির ভর ১ গ্রাম এবং ১ ঘন মিটিার পানির ভর ১০০০ কেজি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৫৮২.
সূর্যের ভর পৃথিবীর ভরের অপেক্ষা অনেক গুণ বেশি হওয়ার সত্ত্বেও সূর্য কেন পৃথিবীকে তার নিজের দিকে টেনে নিতে পারছে না?
  1. ক) পৃথিবীর আহ্নিক গতির জন্য
  2. খ) পৃথিবীর ঘনত্বের জন্য
  3. গ) কেন্দ্রমুখী বলের কারণে
  4. ঘ) কেন্দ্র বহির্মুখী বলের কারণে
ব্যাখ্যা
সাধারণভাবে বললে, গ্রহগুলো বৃত্তাকার পথে ঘুরে মহাকর্ষ বল তথা কেন্দ্রমুখী বলের প্রভাবে। এ বলের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ একটি কেন্দ্রবিমুখী বল ক্রিয়া করে যার ফলশ্রুতিতে পৃথিবী বা গ্রহগুলো তাদের কক্ষপথে চলতে থাকে।
১২,৫৮৩.
Natural protein এর কোড নাম-
  1. Protein-P 53
  2. Protein-P 51
  3. Protein-P 49
  4. Protein-P 54
ব্যাখ্যা
প্রোটিন হলো অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার, যা উচ্চ ভর বিশিষ্ট নাইট্রোজেনযুক্ত জটিল জৈব যৌগ। প্রোটিনকে সাধারণত আমিষও বলা হয়। এটি মূলত পেপটাইড বন্ধনে সংযুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিডের একটি শৃঙ্খল, যা জীবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিনের বিশেষ একটি প্রাকৃতিক ধরনের কোড নাম P-49 নামে পরিচিত, যা দেহের জটিল জৈবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। এটি দেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ এবং কোষের গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
১২,৫৮৪.
নিচের কোন এনজাইম দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য পরিপাক ঘাটায়?
  1. ম্যাল্টেজ
  2. সুক্রোজ
  3. ল্যাকটোজ
  4. লাইপেজ
ব্যাখ্যা

দুগ্ধজাত খাদ্য পরিপাকে ভূমিকা রাখা এনজাইম (Lactase):

- দুগ্ধজাত খাদ্যের প্রধান শর্করা হলো ল্যাকটোজ (Lactose)।
- এই ল্যাকটোজকে ভাঙার জন্য বিশেষভাবে যে এনজাইমটি কাজ করে তা হলো ল্যাক্টেজ।
- ল্যাক্টেজ ল্যাকটোজকে গ্লুকোজ ও গ্যালাক্টোজে ভেঙে ফেলে, যাতে শরীর সহজে শোষণ করতে পারে।
- ল্যাক্টেজের ঘাটতি থাকলে ল্যাকটোজ সঠিকভাবে পরিপাক হয় না।
- এর ফলে গ্যাস, ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়, যাকে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বলা হয়।

অন্যান্য এনজাইম কেন সঠিক নয়:

- ম্যাল্টেজ: মল্টোজ নামক শর্করা পরিপাকে সাহায্য করে, দুগ্ধজাত খাদ্যে নয়।
- সুক্রোজ: এটি একটি শর্করা, এনজাইম নয়।
- লাইপেজ: চর্বি বা ফ্যাট পরিপাকে সাহায্য করে, ল্যাকটোজ নয়।

সুতরাং, দুগ্ধজাত খাদ্য পরিপাকে ঘাটতি ঘটায় যে এনজাইমটির অভাব, তা হলো ল্যাকটোজ।
সঠিক উত্তর: গ) ল্যাকটোজ। 

সূত্র - ব্রিটানিকা। 

১২,৫৮৫.
বিটা কণিকার ভর কত?
  1. ১.৬×১০-৩১ কেজি
  2. ৯.১×১০-৩১ কেজি
  3. ৭.৯×১০-১৯ কেজি
  4. ৯.১×১০-১৯ কেজি
ব্যাখ্যা
• বিটা (β) রশ্মি:
- বিটা কণা প্রকৃতপক্ষে দ্রুত গতি সম্পন্ন ইলেকট্রন।
- বিটা রশ্মি হচ্ছে অতি উচ্চ দ্রুতি সম্পন্ন ইলেক্ট্রনের প্রবাহ।
- বিটা কণার দ্রুতি আলোর দ্রুতির প্রায় সমান। (শতকরা ৯৮ ভাগ)।
- এটি ঋণাত্বক চার্জযুক্ত। এর আধান - ১.৬ × ১০-১৯ কুলম্ব।
- এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়।
- ভেদন ক্ষমতা আলফা কণা অপেক্ষা বেশী।
- বিটা কণিকার ভর একটি ইলেকট্রনের ভরের সমান, ৯.১×১০-৩১ কেজি।

উতস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৫৮৬.
বাংলাদেশের মৎস্য আইনে কত সেন্টিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের রুই জাতীয় মাছের পোনা মারা নিষেধ? 
  1. ১৮ সেন্টিমিটার
  2. ২০ সেন্টিমিটার
  3. ২৩ সেন্টিমিটার
  4. ২৫ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা
- দি প্রটেকশন এন্ড কনজারভেশন অব ফিস এ্যাক্ট-১৯৫০ সাধারণভাবে মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ নামে পরিচিত। 
- নির্বিচারে পোনা মাছ ও প্রজননক্ষম মাছ নিধন মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধিতে বিরাট অন্তরায়। এ সমস্যা দূরীকরণে সরকার মাছের আকার, প্রজনন ও বৃদ্ধির সময়, বিচরণক্ষেত্র ইত্যাদি বিষয়ে কতিপয় বিধি নিষেধ আরোপ করে ১৯৫০ সালে এ আইন প্রণয়ন করে। 
- এ আইনের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো নিম্নরূপ- 
১. চাষের উদ্দেশ্য ব্যতীত কোন ব্যক্তি কর্তৃক- 
(ক) প্রতি বছর জুলাই হতে ডিসেম্বর (আষাঢ় মাসের মাঝামঝি হতে পৌষ মাসের মাঝামাঝি) মাস পর্যন্ত ২৩ সেন্টিমিটারের (৯ ইঞ্চি) ছোট আকারের কাতলা, রুই, মৃগেল, কালবাউস, ঘনিয়া। 
(খ) প্রতি বছর নভেম্বর হতে মে (কার্তিক মাসের মাঝামঝি হতে জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি) মাস পর্যন্ত ২৩ সেন্টিমিটারের (৯ ইঞ্চি) ছোট আকারের ইলিশ (যা 'জাটকা' নামে পরিচিত); 
(গ) প্রতি বছর নভেম্বর হতে এপ্রিল (কার্তিক মাসের মাঝামাঝি হতে বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি) মাস পর্যন্ত ২৩ সেন্টিমিটারের (১ ইঞ্চি) ছোট আকারের পাংগাস; 
(ঘ) প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি হতে জুন ( মাঘ মাসের মাঝামাঝি হতে আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি) মাস পর্যন্ত ৩০ সেন্টিমিটারের (১২ ইঞ্চি) ছোট আকারের সিলন, বোয়াল ও আইড় মাছ ধরা, নিজের দখলে রাখা, পরিবহণ বা বিক্রয় করা নিষিদ্ধ । 

উৎস: মৎস্যবিষয়ক আইনসমূহ, মৎস্য অধিদপ্তর বাংলাদেশ।
১২,৫৮৭.
What is the name of the device used to measure the strength or wave of an earthquake?
  1. Lactometer
  2. Seismograph
  3. Barometer
  4. Odometer
ব্যাখ্যা
⇒ ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম- সিসমোগ্রাফ।

অপশন আলোচনা:
ক) Lactometer – দুধে জল মেশানো হয়েছে কি না তা পরিমাপের যন্ত্র।
গ) Barometer – বায়ুচাপ পরিমাপের যন্ত্র।
ঘ) Odometer – গাড়ি কত দূরত্ব অতিক্রম করেছে তা পরিমাপের যন্ত্র।

• বৈজ্ঞানিক যন্ত্র ও তার ব্যবহার:
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ক যন্ত্র -ফ্যাদোমিটার
- তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র- থার্মোমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণয়ক যন্ত্র- ম্যানোমিটার।
- আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম- সিসমোগ্রাফ।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।
- ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম- রিখটার স্কেল।
- সূক্ষ্ম সময় ও সমুদ্রের দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় যন্ত্র- ক্রনোমিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১২,৫৮৮.
ফোটন কণা কোন ধরনের বল বহন করে? 
  1. মহাকর্ষ বল
  2. তড়িৎচৌম্বক
  3. সবল নিউক্লীয় বল
  4. দুর্বল নিউক্লীয় বল
ব্যাখ্যা

• ফোটন: 
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 
- প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
- নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 

উল্লেখ্য:
- ভরের আকর্ষণ বা মহাকর্ষ বলের বাহক কণা হলো গ্র্যাভিটন।
- নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রনকে আবদ্ধকারী সবল নিউক্লীয় বলের বাহক হলো গ্লুয়ন।
- তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের জন্য দায়ী দুর্বল নিউক্লীয় বলের বাহক হলো W ও Z বোসন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৫৮৯.
Which metal remains in liquid form at normal temperature?
  1. Sodium
  2. Aluminium
  3. Gold
  4. Mercury
  5. Iron
ব্যাখ্যা
• পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে।  

• ধাতু:
- যেসব উপাদান সাধারণত তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী, আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ হয়, পিটিয়ে পাত করা যায়, ঘষলে চকচক করে সেসব উপাদানকে ধাতু বলে 

• ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য:  
বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা: ধাতু বিদ্যুৎ পরিবহনে সক্ষম।
তাপ পরিবাহিতা: ধাতু তাপ পরিবহনে সক্ষম।
চকচকে ভাব: ধাতুগুলির সাধারণত একটি উজ্জ্বল পৃষ্ঠ থাকে।
নমনীয়তা: ধাতুগুলিকে তারে পরিণত করা যায় বা পিটিয়ে পাতলা করা যায়।
কাঠিন্যতা: ধাতুগুলি সাধারণত কঠিন এবং দৃঢ় হয়। 
ধাতব বন্ধন: ধাতুগুলি ধাতব বন্ধনের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে। 

• পারদ:
- সাধারণ তাপমাত্রায়, একমাত্র তরল ধাতু হলো পারদ (Mercury)।
- এর প্রতীক Hg এবং পারমাণবিক সংখ্যা 80।
- এটি কক্ষ তাপমাত্রায় একটি চকচকে, রূপালী রঙের তরল ধাতু। 

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
১২,৫৯০.
খাদ্যের প্রকৃতিতে নিম্নলিখিত কোনটি একটি বিশুদ্ধ খাদ্য? 
  1. গ্লুকোজ
  2. খিচুড়ি
  3. দুধ
  4. পেয়ারা
ব্যাখ্যা
পুষ্টির উপাদানে তাপশক্তি নির্ণয়: 
- প্রতিদিন নানা রকম পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করা হয়। 
- ভাত, খিচুড়ি, পোলাও, মাংস থেকে শুরু করে ফলমূল, শাকসবজি, পানীয় ইত্যাদির কোনোটিই বাদ যায় না, তাই পুষ্টি উপাদানে শক্তি পরিমাপ করতে হলে এর প্রকৃতি জেনে নিতে হবে। 
যেমন- 
পুষ্টির প্রকৃতি, মিশ্রখাদ্য ও বিশুদ্ধ খাদ্য: 
- খাদ্যের প্রকৃতি বলতে এটা কি মিশ্রখাদ্য, নাকি বিশুদ্ধ খাদ্য তাকে বোঝায়। 
- মিশ্রখাদ্যে একের অধিক পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকে। 
যেমন: দুধ, ডিম, খিচুড়ি, পেয়ারা ইত্যাদি। 
- অন্যদিকে বিশুদ্ধ খাদ্যে শুধু একটি উপাদান থাকে। 
যেমন: চিনি, গ্লুকোজ ইত্যাদি যাতে শর্করা ছাড়া অন্য কিছু থাকে না। 

পুষ্টি উপাদান ও তার পরিমাণ নির্ণয়: 
- পুষ্টি উপাদানের প্রকৃতি জানার পর ঐ খাদ্যে কী কী উপাদান কী পরিমাণে আছে তা জেনে নিতে হবে। 
- তবে বিভিন্ন খাদ্যের পুষ্টি উপাদান ও তার পরিমাণ খাদ্য মূল্যতালিকা দেখে জেনে নিতে হয়। 

ক্যালরি নির্ণয়: 
- খাদ্যের পুষ্টি উপাদান ও তার পরিমাণ জানার পর শর্করা, প্রোটিন ও চর্বির ক্যালরি বের করতে হয়। 
- এক্ষেত্রে ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানির ক্যালরি মূল্য শূন্য ধরে হিসাব করতে হবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৫৯১.
How many times lighter is an electron than a hydrogen atom?
  1. 184 times
  2. 920 times
  3. 1840 times
  4. 2180 times
  5. 2410 times
ব্যাখ্যা

- একটি হাইড্রোজেন পরমাণু মূলত একটি প্রোটন এবং একটি ইলেকট্রন নিয়ে গঠিত। প্রোটনের ভর ইলেকট্রনের ভরের তুলনায় প্রায় ১৮৩৬ থেকে ১৮৪০ গুণ বেশি। যেহেতু হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভরই প্রোটন দ্বারা গঠিত, তাই একটি হাইড্রোজেন পরমাণু একটি ইলেকট্রনের তুলনায় প্রায় ১৮৪০ গুণ হালকা হয় বা একটি হাইড্রোজেন পরমাণু ইলেকট্রনের তুলনায় ১৮৪০ গুণ ভারী

ইলেকট্রন: 
- পরমাণুর একটি ক্ষুদ্রতম কণিকা হচ্ছে ইলেকট্রন। 
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হচ্ছে ইলেকট্রন। 
- ইলেকট্রনের ভর অতি সামান্য। 
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় ১৮৪০ গুণ হালকা। 
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। 
- ইলেকট্রনের সংকেত e- । 
- ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 g ও -1.60×10-19 C. 
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান -1 । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা। 

১২,৫৯২.
নিচের কোনটি চিনি উৎপাদনকারী উদ্ভিদ?
  1. ক) কেনাফ
  2. খ) শন
  3. গ) বিট
  4. ঘ) পাট
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

যে সমস্ত উদ্ভিদ থেকে চিনি সংগ্রহ করা হয় তাদেরকে চিনি উৎপাদনকারী ফসল বলে। চিনি উৎপাদনকারী ফসলগুলো তাদের দেহের বিভিন্ন অংশে সুক্রোজ জমা করে রাখে। যেমন- আখ, খেজুর, সুগার বীট, ম্যাপল, ভুট্টা, সরগম, সাগো প্রভৃতি উদ্ভিদ এদের কান্ডে চিনি জমা করে রাখে। এদের মধ্যে সাগো ব্যাতীত অন্যগুলোর ক্ষেত্রে কান্ডের কোষকলার ভিতর রস হিসেবে চিনি বিদ্যমান থাকে। সাগোর ক্ষেত্রে পূর্নবয়স্ক গাছে পিথের উপরিভাগে কান্ডাংশের মাঝে অসংখ্য ক্ষুদ্রাকৃতি গ্রানিউল আকারে দানাদার সুক্রোজ অবস্থান করে। সুগার বীট ও গাজরের মূলে সুক্রোজ থাকে। নারিকেল ও তাল গাছের ফুল থেকে সুক্রোজ পাওয়া যায়। এছাড়া কিছু কিছু উদ্ভিদ তাদের ফলে সুক্রোজ সঞ্চয় করে রাখে। উল্লিখিত উদ্ভিদগুলোর মধ্যে বিশ্বে চিনি উৎপাদনের বিবেচনায় আখ এবং সুগার বীট হচ্ছে অন্যতম।
পৃথিবীর মোট উৎপাদিত চিনির প্রায় শতকরা ৬৫ ভাগ আখ থেকে এবং অবশিষ্ট ৩৫ ভাগ সুগার বীট থেকে উৎপন্ন হয়।
সূত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়ের বোর্ড বই।

১২,৫৯৩.
রক্তচাপ পরিমাপের জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. থার্মোমিটার
  2. হাইগ্রোমিটার
  3. স্ফিগমোম্যানোমিটার
  4. ব্যারোমিটার
ব্যাখ্যা

রক্তচাপ: 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধমনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ধমনিপ্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, সেটাকে রক্তচাপ বলে। তাই রক্তচাপ বলতে সাধারণভাবে ধমনির রক্তচাপকেই বুঝায়। 
- রক্তচাপ হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা, ধমনির প্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা এবং রক্তের ঘনত্ব এবং পরিমাণের উপর নির্ভর করে। 
- নিলয়ের সিস্টোল অবস্থায় অর্থাৎ সংকোচনের সময় ধমনিতে যে চাপ থাকে, তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ এবং ডায়াস্টোল অর্থাৎ প্রসারণের সময় অবস্থায় যে চাপ থাকে, তাকে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বলে। 
- স্বাভাবিক এবং সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg) এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)। 
- স্বাভাবিক রক্তচাপকে সাধারণত ১২০/৮০ (mm Hg) এভাবে প্রকাশ করা হয়। তবে বয়স ও পরিস্থিতিভেদে স্বাভাবিক রক্তচাপের মান কম-বেশি হতে পারে। 
- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৫৯৪.
রক্ত শূন্যতার অপর নাম কী?
  1. লিউকেমিয়া
  2. অ্যানিমিয়া
  3. সিরোসিস
  4. জন্ডিস
ব্যাখ্যা

• রক্ত শূন্যতার অপর নাম - অ্যানিমিয়া। 

• অ্যানিমিয়া:
- অ্যানিমিয়া (Anemia) হলো এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যেখানে রক্তে হিমোগ্লোবিন এর মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়।
- হিমোগ্লোবিন একটি আয়রন-সমৃদ্ধ প্রোটিন, যা লোহিত  রক্তকণিকায় থাকে এবং শরীরের বিভিন্ন কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে।
- যখন শরীরে আয়রনের ঘাটতি হয়, তখন পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় না তখন সে অবস্থা কে  বলা হয় অ্যানিমিয়া বা রক্তশুন্যতা । 
- এর ফলে শরীরে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায় । 

• অ্যানিমিয়ার লক্ষণ- 
- দুর্বলতা ও অবসাদ
- মাথা ঘোরা
 - শ্বাসকষ্ট
- ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া। 
- হাত-পা ঠান্ডা লাগা। 

• আনিমিয়ার কারণ- 
- আয়রন-ঘাটতিজনিত অ্যানিমিয়া (Iron Deficiency Anemia)। 
- ভিটামিন B12 বা ফোলেটের ঘাটতি। 
- দীর্ঘস্থায়ী রক্তপাত (যেমন: ঋতুস্রাব, পেপটিক আলসার)। 

• এ সমস্যা থেকে পরিত্রানের জন্য পর্যাপ্ত আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

• আয়রনের উৎস - 
- প্রাণিজ উৎস: লিভার, গরুর মাংস, ডিম, মাছ। 
- উদ্ভিজ্জ উৎস: পালংশাক, কলাই, মসুর ডাল, কিশমিশ। 
- আয়রন শোষণে সহায়ক: ভিটামিন C (লেবু, আমলকি)। 

অপশন আলোচনা-
ক) লিউকেমিয়া – রক্তের ক্যানসার, যেখানে অস্বাভাবিক শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি হয়।
খ) অ্যানিমিয়া – রক্তে হিমোগ্লোবিন বা লাল রক্তকণিকার অভাবের কারণে রক্ত শূন্যতার অবস্থা।
গ) সিরোসিস – যকৃতের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষয়জনিত রোগ, যা রক্ত শূন্যতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
ঘ) জন্ডিস – ত্বক ও চোখ হলদেটে হয়ে যাওয়া, প্রধানত লিভারের সমস্যা থেকে ঘটে।

তথ্যসূত্র: 
- সাধারণ বিজ্ঞান – অষ্টম শ্রেণি (জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড)। 
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- ব্রিটানিকা। 

১২,৫৯৫.
মানুষের রক্তের গ্রুপ কয়টি?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
• মানুষের রক্তের গ্রুপকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- O, A, B এবং AB.
• রক্তের গ্রুপ:
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে 'রক্ত গ্রুপ' বলে।
- রক্ত কণিকায় অ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত।
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের অ্যান্টিজেন থাকতে পারে।

• O রক্তের গ্রুপ:
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র ০ রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে।

• AB রক্তের গ্রুপ:
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত দান করতে পারে।

• A রক্তের গ্রুপ:
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং ০ রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে।

• B রক্তের গ্রুপ:
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং ০ রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত দান করতে পারে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৫৯৬.
শব্দের তীব্রতা নির্ণায়ক যন্ত্ৰ-
  1. ক) অডিওমিটার
  2. খ) অ্যামিটার
  3. গ) অডিওফোন
  4. ঘ) অলটিমিটার
ব্যাখ্যা
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার।
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- অ্যামিটার তড়িৎ প্রবাহের মান নির্ণয় করে। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১২,৫৯৭.
Resonance কন্ডিশনে একটি R-L-C সিরিজ বর্তনীর মোট Impedance হলো-
  1. Zero
  2. R
  3. Infinity
  4. L/RC
ব্যাখ্যা
একটি R-L-C সিরিজ বর্তনীর মোট Impedance হলো = R + jωL + (1/jωC)
= R + jωL - (j/ωC)
= R + j {ωL - (1/ωC)}

Resonance কন্ডিশনে, ωL = 1/ωC

∴  Resonance কন্ডিশনে একটি R-L-C সিরিজ বর্তনীর মোট Impedance হলো = R
১২,৫৯৮.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে কতটি পর্যায় আছে?
  1. ৫ টি
  2. ৭ টি
  3. ১৮ টি
  4. ৬ টি
ব্যাখ্যা
• পর্যায় সারণি (Periodic Table):
- পর্যায় সারণি হলো এমন একটি সারণি, যেখানে মৌলগুলোকে তাদের পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী সাজানো হয়।

• আধুনিক পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য-
- পর্যায় সারণিতে ৭ টি পর্যায় বা আনুভূমিক সারি রয়েছে।
- সারণিতে ১৮ টি গ্রুপ বা খাড়া স্তম্ভ রয়েছে।
-  প্রতিটি পর্যায় বাম দিকে গ্রুপ ১ থেকে শুরু করে ডানদিকে গ্রুপ ১৮ পর্যন্ত বিস্তৃত। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
১২,৫৯৯.
লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কত?
  1. 620-750 nm
  2. 520-650 nm
  3. 420-700 nm
  4. 320-600 nm
ব্যাখ্যা
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 620-750 nm

• দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ:
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয়, একে বলা হয় দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসীমা হচ্ছে 4 × 10-7m থেকে 7 × 10-7m মাত্র।
- এই পরিসীমার বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের জন্য আলোর বিভিন্ন রঙ দেখা যায়।
- এদের আসমানি, সবুজ, নীল, হলুদ, বেগুনি, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম।


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৬০০.
PCR- এর পূর্ণরূপ-
  1. ক) Public Common Reaction
  2. খ) Polymer Cotton Room
  3. গ) Polymerase Chain Reaction
  4. ঘ) Polytechnic College Reaction
ব্যাখ্যা
- PCR পূর্ণরুপ Polymerase Chain Reaction।
- এটি একটি অণুজীববিজ্ঞানের কৌশল যা তাপমাত্রা চক্রের একটি সিরিজের মাধ্যমে ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) এর একটি নির্দিষ্ট অংশকে প্রসারিত করতে ব্যবহৃত হয়।

একটি পিসিআর প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপগুলি নিম্নরূপ:
- Denaturation
- Annealing
- Extension

এর ব্যবহার: 
- আণবিক গবেষণা: সিকোয়েন্সিং, ক্লোনিং এবং জেনেটিক অধ্যয়নের জন্য ডিএনএ প্রশস্ত করা।
- মেডিকেল ডায়াগনস্টিকস: সংক্রমণ শনাক্ত করা, জেনেটিক ডিসঅর্ডার সনাক্ত করা এবং ফরেনসিক্সে ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণ করা।
- এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজ: মাইক্রোবিয়াল জনসংখ্যা সনাক্ত করা এবং জীববৈচিত্র্য অধ্যয়ন করা।
- বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান: প্রাচীন ডিএনএ বিশ্লেষণ করা এবং বিবর্তনীয় সম্পর্ক অধ্যয়ন করা।
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং: বিভিন্ন উদ্দেশ্যে প্রচুর পরিমাণে নির্দিষ্ট ডিএনএ খণ্ড তৈরি করা।

উৎস: ব্রিটানিকা।