বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১১৯ / ১৪০ · ১১,৮০১১১,৯০০ / ১৪,০৮০

১১,৮০১.
শিল্পক্ষেত্রে ইউরিয়া থেকে কি পাওয়া যায়?
  1. ক) PVC
  2. খ) মেলামাইন পলিমার
  3. গ) নাইলন
  4. ঘ) অ্যামোনিয়া
ব্যাখ্যা

- ইউরিয়া মূল্যবান পদার্থ। কার্বন - ডাই - অক্সাইড ও অ্যামোনিয়া গ্যাসের মিশ্রণকে উচ্চচাপে ও ১৩০ ডিগ্রী - ১৫০ ডিগ্রী তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে প্রথমে অ্যামোনিয়াম কার্বনেট উৎপন্ন হয়।
- পরবর্তীতে অ্যামোনিয়াম কার্বামেট ভেঙ্গে ইউরিয়া প্রস্তুত করা হয়। অ্যামোনিয়াম সায়ানাইড থেকেও ইউরিয়া পাওয়া যায়।
- শিল্পক্ষেত্রে ইউরিয়া থেকে মেলামাইন পলিমার পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি, পৃষ্ঠা - ৩০২।

১১,৮০২.
নিচের কোন রোগটি RNA ভাইরাস নয়?
  1. ক) ডেঙ্গুজ্বর
  2. খ) কোভিড-১৯
  3. গ) স্মলপক্স
  4. ঘ) পােলিও
ব্যাখ্যা
ডেঙ্গুজ্বর, কোভিড-১৯, পােলিও হলো RNA ভাইরাসঘটিত রোগ। 
অপরদিকে, স্মলপক্স DNA ভাইরাসঘটিত রোগ। 
 
Smallpox বা গুটিবসন্ত মানবজাতির ইতিহাসে একমাত্র রোগ যেটা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়েছে।
- WHO ১৯৮০ সালে গুটিবসন্ত নির্মূলের ঘোষণা দেয়।
- গুটিবসন্ত হয় - ভেরিওলা ভাইরাসের কারনে। (DNA Type)
- সর্বশেষ ১৯৭৭ সালে সোমালিয়াতে দেখা গিয়েছিল।
১১,৮০৩.
ফিটকিরিতে _________ অণু পানি থাকে। 
  1. ১৫
  2. ২৪
  3. ১৬
  4. ২৬
ব্যাখ্যা

• পানি অণুগুলো ফিটকিরির স্ফটিক গঠনকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। উত্তপ্ত করলে এই পানি ধীরে ধীরে বের হয়ে যায় এবং ফিটকিরির গঠন পরিবর্তিত হয়। তাই ফিটকিরিতে ২৪টি পানি অণু থাকে। সঠিক উত্তর হলো খ) ২৪।

ফিটকিরি: 
- প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে এন্টিসেপটিক হিসেবে ফিটকিরির ব্যবহার প্রচলিত। 
- ফিটকিরি অ্যালুমিনিয়াম সালফেট, পটাশিয়াম সালফার ও ২৪ অণু পানির যৌগ। 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] । 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 
- ফিটকিরি মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- এটি সাধারণত কঠিন অবস্থায় বাজারে প্রচলিত। 

- বিভিন্ন কাজে ফিটকিরি ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- 
• এটি জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
• কোথাও কেটে গেলে, ছিঁড়ে গেলে সেখানে পানিতে ভিজানো ফিটকিরি ঘষে দেওয়া হয়। 
• ফিটকিরি কঠিন অবস্থায় থাকে বলে প্রথমে পানিতে ভিজিয়ে নিতে হয় অথবা পানিতে দ্রবীভূত করে তা ক্ষতস্থানে লাগানো হয়। 
• খাবার পানি বিশুদ্ধ বা জীবাণুমুক্ত করার জন্য এর সাথে পরিমাণমত ফিটকিরি ব্যবহারের ঘণ্টাখানেক আগে দিয়ে রাখা হয়। 
• ফিটকিরি গলে গেলে পানি ছেঁকে নেয়া হয়। 
• অনেকে দাড়ি কাটার পর এন্টিসেপটিক হিসেবে ফিটকিরি ব্যবহার করেন। 
• এটি আফটার সেভ লোশান হিসেবে কাজ করে। 
• ফিটকিরি রক্তক্ষরণও বন্ধ করে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৮০৪.
ORS সাধারণত কোন রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. জ্বর
  2. ডায়রিয়া
  3. ডায়াবেটিস
  4. কাশি
ব্যাখ্যা

◉ ORS (Oral Rehydration Solution) ডায়রিয়া, কলেরা বা বমি ইত্যাদির ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়া রোধে ব্যবহৃত হয়।

- ORS হলো এক ধরনের দানাদার মিশ্রণ যা পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো হয় শরীরের পানিশূন্যতা প্রতিরোধ বা পূরণ করার জন্য।
- এটি সাধারণত ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়ার সময় ব্যবহৃত হয়, যখন শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়।
- এটি শরীরের পানিশূন্যতা (Dehydration) প্রতিরোধ করে এবং লবণ-পানির ভারসাম্য বজায় রাখে।

ORS-এ থাকা উপাদানসমূহ: 
- লবণ (সোডিয়াম ক্লোরাইড), 
- গ্লুকোজ, 
- পটাশিয়াম ক্লোরাইড, 
- সোডিয়াম বাইকার্বনেট বা সাইট্রেট। 

উৎস: 
১। জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ (UNICEF) ওয়েবসাইট। 

১১,৮০৫.
নিম্নলিখিত অপশন গুলোর মধ্যে কোনটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন?
  1. ইথাইন
  2. বিউটিন
  3. ইথেন
  4. ইথিন
ব্যাখ্যা

• সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের উদাহরণ হচ্ছে - ইথেন। 

• হাইড্রোকার্বন:
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে।

• সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন:
- যে সকল হাইড্রোকার্বন অণুর কার্বন শিকলে কেবলমাত্র একক বন্ধন বিদ্যমান এবং এদের অবশিষ্ট যোজনীগুলো হাইড্রোজেন দ্বারা পূর্ণ থাকে তাদেরকে অ্যালিফেটিক বা সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন (alkane) বলা হয়।
- এদের সাধারণ সংকেত হলো CnH2n+2 যেখানে n=1,2,3 ইত্যাদি।

• ইথেন:
- ইথেন একটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন। ইথেনের রাসায়নিক সংকেত হলো: C2H6 
- এটি হলো ২ কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন। এতে ২ টি কার্বনের সাথে ৬ টি হাইড্রোজেন পরমাণু একক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকে।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৮০৬.
প্রোটনের আপেক্ষিক ভর কত?
  1. ক) ০.১
  2. খ) ১
  3. গ) ০.০১
  4. ঘ) ০.১১
ব্যাখ্যা
নিউট্রন এবং প্রোটনের আপেক্ষিক ভর হলো ১, ইলেকট্রনের ০।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১১,৮০৭.
বারিমন্ডলে সমুদ্রের পানির পরিমাণ কত?
  1. ক) ৭১.৩৭%
  2. খ) ৭৫.৯৭%
  3. গ) ৯৫.৯৬%
  4. ঘ) ৯৭.২৫%
ব্যাখ্যা
বারিমন্ডলের পানির প্রধান উৎসসমূহঃ
সমুদ্র - ৯৭.২৫%
হিমবাহ - ২.০৫
ভূগর্ভস্থ পানি - ০.৬৮%
হ্রদ - ০.০১%
নদী - ০.০০০১%

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৮০৮.
নিচের কোন টেকনোলজির দ্বারা চিকিৎসা ক্ষেত্রে বায়োটেকনোলজির প্রয়োগ বর্ণনা করা হয়?
  1. ইয়োলো বায়োটেকনোলজি
  2. ব্লু বায়োটেকনোলজি
  3. রেড বায়োটেকনোলজি
  4. গ্রীন বায়োটেকনোলজি
ব্যাখ্যা
রেড ও হোয়াইট  বায়োটেকনোলজি (Red and White Biotechnology): 
- রেড ও হোয়াইট  বায়োটেকনোলজি দ্বারা চিকিৎসা ক্ষেত্রে বায়োটেকনোলজির প্রয়োগ বর্ণনা করা হয়। 

চিকিৎসা শাস্ত্রে বায়োটেকনোলজির ব্যবহার: 
- বিভিন্ন জটিল রোগের প্রতিষেধক এবং রোগ ব্যাধি সনাক্তকরণের জন্য এন্টিবডি উৎপাদন করা। 
- ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে সংশ্লেষিত ইনসুলিন ও ইন্টারফেরনসহ নানা ধরনের হরমোন উৎপাদন করা। 
- মানুষের বৃদ্ধি হরমোন উৎপাদন করা। 
- মস্তিষ্কে, হৃৎপিণ্ডে ও ফুসফুসে রক্ত জমাট প্রতিরোধ উপাদান উৎপাদন করা। 
- বর্তমান বায়োফার্মের মাধ্যমে হরমোন, এন্টিজেন ও ভিটামিন তৈরি করা। 

অন্যদিকে,
- ব্লু বায়োটেকনোলজি দ্বারা জলীয় সামুদ্রিক প্রয়োগ বর্ণনা করা হয়। 
- গ্রীন বায়োটেকনোলজি দ্বারা বায়োটেকনোলজির কৃষি ক্ষেত্রের প্রয়োগ বর্ণনা করা হয়। 
- ইয়েলো বায়োটেকনোলজি দ্বারা খাদ্য উৎপাদনে ( খাদ্য শিল্প ) জৈবপ্রযুক্তির প্রয়োগ বর্ণনা করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মুহাম্মদ আবুল হাসান)।
১১,৮০৯.
কোনটির জন্য পুষ্প রঙ্গিন ও সুন্দর হয়?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. রাইবোজোম
  3. ক্রোমোপ্লাস্ট
  4. লিউকোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা

পুষ্পের রঙিন ও সুন্দর হওয়ার প্রধান কারণ হলো ক্রোমোপ্লাস্ট।
- ক্রোমোপ্লাস্ট হলো প্লাস্টিডের বিশেষ একটি ধরনের অঙ্গাণু যা উদ্ভিদের পুষ্প, ফল, ও কিছুমাত্রিক অংশকে রঙিন ও সুন্দর করে তোলে।
- ক্রোমোপ্লাস্টে লাল, কমলা, হলুদ জাতীয় রঞ্জক যেমন ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল সঞ্চিত থাকে, যা পুষ্পকে আকর্ষণীয় রঙ জোগায়।
- ফুলের পাপড়ির রঙ মূলত ক্রোমোপ্লাস্টের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, যা পরাগায়নের জন্য পরাগ বাহকদের আকর্ষণ করে।

• প্লাস্টিড:
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু।
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।

- প্লাস্টিড তিন ধরনের।
- যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট।

• ক্রোমোপ্লাস্ট:
- ক্রোমোপ্লাস্ট রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়।
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটিকে হলুদ, কোনটিকে নীল আবার কোনটিকে লাল দেখায়।
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,৮১০.
সার্কিট তৈরির জন্য প্রয়োজন -
  1. ট্রানজিস্টর
  2. ক্যাপাসিটর
  3. রেজিস্টর
  4. উপরের সবগুলো
১১,৮১১.
সালোকসংশ্লেষনের জন্য উদ্ভিদ বায়ু থেকে কোন উপাদান গ্রহন করে?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান ৪ টি।
পানি, কার্বন ডাই অক্সাইড (এই দুটি প্রধান), সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল।
তার মধ্যে পানি ও ক্লোরোফিল আসে উদ্ভিদের কোষ থেকে, কার্বন ডাই অক্সাইড বায়ুমণ্ডল থেকে এবং সূর্যালোক গ্রহন করে সূর্য থেকে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বোর্ড বই।
১১,৮১২.
নাইটিনল কী?
  1. এক ধরনের সংকর ধাতু
  2. এক ধরনের এন্টিবায়োটিক
  3. এক ধরনের ভাইরাস
  4. এক ধরনের সামুদ্রিক প্রাণী
ব্যাখ্যা
নাইটিনল হলো সংকর ধাতু যা নিকেল ও টাইটিনিয়ামের সমান আণবিক অনুপাতে তৈরী।
এটি নিকেল টাইটিনিয়াম নামেও পরিচিত।

নাইটিনল সংকর ধাতুটি দুটি খুবই অনন্য ও খুবই কাছাকাছি সম্পর্কযুক্ত ধর্ম প্রদর্শন করে।

১) আকৃতি ধরে রাখার অনন্য ক্ষমতা যাকে  Shape Memory বলে।
Shape memory হচ্ছে বিশেষ ধরনের বৈশিষ্ট যা নাইটিনলকে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পরিসরে তার আকৃতি ধরে রাখতে সাহায্য করে।  নাইটিনল দিয়ে কোনো কিছু তৈরীর সময় নির্দিষ্ট আকৃতি দেওয়ার ক্ষত্রে তাপমাত্রা খুব বড় প্রভাবক। তৈরির সময়ের এই তাপমাত্রাকে রুপান্তরক তাপমাত্রা বলে।

২) বিশেষ ধরনের স্থিতিস্থাপকতা ( superelasticity বা pseudoelasticity)
নাইটিনলের বিশেষ ধরনের স্থিতিস্থাপকতা একটি ক্ষুদ্র তাপমাত্রার পরিসরে হয়ে থাকে যা এর রুপান্তর তাপমাত্রার বেশি। এই কারণেই বাঁকা তার টি এই রুপান্তর তাপমাত্রার বেশি তাপমাত্রার গরম পানিতে দেওয়ার ফলে সোজা হয়।

সূত্রঃ The Story of Nitinol: The Serendipitous Discovery of the Memory Metal and Its Applications; researchgate.net থেকে যাচাইকৃত।
১১,৮১৩.
রংধনুতে 'কমলা' রঙের পাশের দুটি রঙ কি কি?
  1. লাল ও নীল
  2. আসমানী ও হলুদ
  3. সবুজ ও কমলা
  4. হলুদ ও লাল
ব্যাখ্যা
রংধনু সৃষ্টির বেলায় পানির কণাগুলো প্রিজমের কাজ করার মাধ্যমে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের সৃষ্টি করে বলে আমরা রংধনু দেখতে পাই।
রংধনুতে ৭টি রং থাকে।
এগুলো হলো বেনীআসহকলা- বেগুনী, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা এবং লাল।
অর্থাৎ হলুদ রঙের দুই পাশের দুইটি রং হলো- সবুজ এবং কমলা।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৮১৪.
মানবদেহে বিলিরুবিন তৈরি হয় কোথায়?
  1. ক) প্লীহায়
  2. খ) যকৃতে
  3. গ) পিত্তথলিতে
  4. ঘ) বৃক্কে
ব্যাখ্যা
বিলিরুবিন পুরোপুরি তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায়। এটি জমা থাকে প্লীহাতে।

- বিলিরুবিন এক ধরণের হলুদ রঙের পদার্থ, যেটা রক্তে উপস্থিত লাল রক্ত কনিকার ১২০ দিনের চক্র পূরণ হলে ভেঙ্গে তৈরি হয়।
- বিলিরুবিনে বিলি থাকে, যেটা লিভারে তৈরি পাচক তরল পদার্থ এবং এটি গলব্লাডারে থাকে।
- এটা খাবারকে হজম করতে এবং মল তৈরি হতে সাহায্য করে। 
- জন্ডিস হবার মূল কারণ হল রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়া।
- যদি কোন কারণের ফলে বিলিরুবিন বিলির সাথে মিশতে না পারে কিংবা যখন লাল রক্ত কনিকা সামান্য থেকে কম পরিমাণে ভাঙতে শুরু করে, তখন রক্তে বিলিরুবিনের স্তর দ্রুত বাড়তে থাকে। আর এই ভাবে এটা অন্য অঙ্গে পৌঁছে সেখানে হলুদ ভাবের সৃষ্টি করে।

• ব্রিটানিকা থেকে -
Bilirubin, a brownish-yellow pigment of bile, secreted by the liver in vertebrates, which gives to solid waste products (feces) their characteristic color.
It is produced in bone marrow cells and in the liver as the end product of red-blood-cell (hemoglobin) breakdown.

সূত্র: University of California Website ও ব্রিটানিকা।
১১,৮১৫.
নিচের সবচেয়ে কম সক্রিয় ধাতু কোনটি?
  1. গোল্ড
  2. সিলভার
  3. ক্রোমিয়াম
  4. ক্যাডমিয়াম
ব্যাখ্যা
- সক্রিয়তা সিরিজে 'গোল্ড (Au)' ধাতুটি সবচেয়ে কম সক্রিয়। 

সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। 
- আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। 
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে। 
 
- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে, তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক। 
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
- অর্থাৎ, হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৮১৬.
মানুষের শরীরে মোট কতধরনের ভিন্ন ভিন্ন মৌল আছে?
  1. ক) ২৬
  2. খ) ৩৬
  3. গ) ৫৬
  4. ঘ) ৬৬
ব্যাখ্যা
মানুষের শরীরে মোট ২৬ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন মৌল আছে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১১,৮১৭.
পরমাণুর তেজস্ক্রিয় ভাঙ্গনের সময় কোনটি নির্গত হয় না?
  1. আলফা
  2. বিটা
  3. গামা
  4. ডেল্টা
ব্যাখ্যা
• পরমাণুর তেজস্ক্রিয় ভাঙ্গনের সময় ডেল্টা কণিকা নির্গত হয় না। 

• তেজস্ক্রিয় ভাঙন (Radioactive Decay):
- তেজস্ক্রিয় ভাঙন বা তেজস্ক্রিয় ক্ষয় হল একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি অস্থির পারমাণবিক নিউক্লিয়াস শক্তি হারায় এবং তেজস্ক্রিয় রশ্মি বা কণা নির্গত করে।

• পরমাণুর নিউক্লিয়াস ভেঙে গেলে সাধারণত তিন ধরনের বিকিরণ নির্গত হয়:
- আলফা কণা (α),
- বিটা কণা (β),
- গামা রশ্মি (γ)।

• ডেল্টা (Δ) কণা তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ে কোনো সাধারণ বিকিরণ নয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
১১,৮১৮.
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত কয়টি?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন:
- আলােকরশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যাওয়ার সময় আপতন কোণের মান সংকট কোনের চেয়ে বড় হলে আলােক রশ্মি প্রতিসরিত না হয়ে বিভেদতল থেকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিফলিত হয়ে ঘন মাধ্যমেই ফিরে আসে। এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে। 
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত দুইটি। 
যথা- 
১) আলােক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে ঘন ও হালকা মাধ্যমের বিভেদতলে আপতিত হবে। 
২) আপতন কোণ সংকট কোণের চেয়ে বড় হবে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৮১৯.
বায়ুমণ্ডলের কোন অঞ্চলে ঝড়-ঝঞ্ঝার উৎপত্তি ঘটে?
  1. ক) ট্রপোস্ফিয়ার
  2. খ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. গ) মেসোস্ফিয়ার
  4. ঘ) থার্মোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৫ কি.মি. উচ্চতা পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের স্তরকে ট্রপোস্ফিয়ার বলে।
এ অঞ্চলে তাপমাত্রা ও চাপ উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে কমতে থাকে। ট্রপোস্ফিয়ারে ঝড়, ঝঞ্ঝা প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে থাকে।
প্রায় সব ধরনের বিমান এ অঞ্চলেই চলাচল করে।
তাই ট্রপোস্ফিয়ারকে ক্ষুব্ধ মণ্ডলও বলা হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১১,৮২০.
হৃদপিন্ডের অ্যাট্রিয়াম অথবা ভেন্ট্রিকল অথবা উভয়ের সংকোচন ক্ষমতা লোপ পাওয়াকে কী বলে?
  1. করোনারি থ্রম্বোসিস
  2. হার্ট ব্লক
  3. হার্ট অ্যাটাক
  4. হার্ট ফেইলিউর
ব্যাখ্যা
হৃদরোগ:
- রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশংকা বাড়ায়।
- স্বাভাবিক মাত্রা থেকে রক্তে কোলেস্টেরল বেশি হলে রক্তনালীর অন্তঃপ্রাচীরের গাত্রে কোলেস্টেরল ও ক্যালসিয়াম জমা হয়ে রক্ত নালি গহ্বর সংকুচিত হয়। ফলে ধমনির প্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় এবং শক্ত হয়ে যায়— এ অবস্থাকে ধমনির কাঠিন্য বা Arteriosclerosis বলে ।
- আর্টারিওস্ক্লেরোসিস এর কারণে ধমনির প্রাচীরে ফাটল দেখা দিতে পারে। ধমনিগাত্রের ফাটল দিয়ে রক্ত ক্ষরণ হয়ে জমাট বাঁধার কারণে রক্ত প্রবাহ বাধা প্রাপ্ত হয়।
- হৃদপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিকের রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে। 

হার্ট ব্লক:
- হৃদপিন্ডের স্পন্দন প্রবাহ উৎপাদন ত্রুটিপূর্ণ হলে বা উৎপন্ন প্রবাহ সঠিক পথে পরিবাহিত না হলে তাকে হৃদ অবরোধ বা হার্ট ব্লক বলে।

হার্ট অ্যাটাক:
- হৃদপিন্ডের করোনারি ধমনি কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গেলে হৃদপেশির রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে যে রোগ সৃষ্টি হয় তাকে হার্ট অ্যাটাক বলে ।

হার্ট ফেইলিউর:
- হৃদপিন্ডের অ্যাট্রিয়াম অথবা ভেন্ট্রিকল অথবা উভয়ের সংকোচন ক্ষমতা লোপ পাওয়াকে হার্ট ফেলিওর বলে।
 
তথ্যসূত্র - হৃদপিণ্ডের যত কথা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৮২১.
কোন ধরনের খাদ্য থেকে একই পরিমাণ খাওয়ার পরেও তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তি আহরণ করা যায়?
  1. ক) আমিষ
  2. খ) কার্বোহাইড্রেট
  3. গ) ফ্যাট
  4. ঘ) শ্বেতসার
ব্যাখ্যা

এক হাজার ক্যালরি সমান এক কিলােক্যালরি বা এক খাদ্য ক্যালরি (One Food Calorie)। খাদ্যের ক্যালরিকে কিলােক্যালরি দিয়ে বােঝানাে হয়।
উদাহরণ দেওয়ার জন্য বলা যায়, শর্করা এবং প্রােটিনের ক্যালরি প্রায় সমান, ৪ kcal/g।
স্নেহজাতীয় খাদ্যে অর্থাৎ ফ্যাটের ক্যালরি সবচেয়ে বেশি— এর পরিমাণ ৯ kcal/g। একটা খাদ্যের খাদ্য ক্যালরি বলতে বােঝায় খাদ্যটি সম্পূর্ণভাবে জারণ হলে কতখানি শক্তি বের হবে।
একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষ মানুষের দৈনিক ২৫০০ kcal এবং একজন নারীর ২০০০ kcal এর সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়ােজন।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১১,৮২২.
নিচের কোনটি অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা?
  1. ক) ব্যাসল্ট ও রায়োলাইট
  2. খ) ল্যাকোলিথ ও ডলোরাইট
  3. গ) চুনাপাথর ও ব্যাসল্ট
  4. ঘ) গ্রাফাইট ও কেওলিন
ব্যাখ্যা
পৃথিবী সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ের উত্তপ্ত ও গলিত অবস্থা হতে ক্রমান্বয়ে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তা আগ্নেয় শিলা নামে পরিচিত। পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয়েছে বিধায় আগ্নেয় শিলাকে প্রাথমিক শিলাও বলা হয়।

আগ্নেয় শিলা দুপ্রকার।
যথা:
- অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা এবং
- বহিঃজ আগ্নেয় শিলা।

অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা:
 - গ্রানাইট
- গ্যাব্রো
- ডলোরাইট
- ল্যাকোলিথ
- ব্যাথোলিথ
- ডাইক
- সিল প্রভৃতি।

বহিঃজ আগ্নেয় শিলা:
- ব্যাসল্ট
- রায়োলাইট
- অ্যান্ডিসাইট।

অন্যদিকে,
- চুনাপাথর ও কেওলিন : পাললিক শিলা
- গ্রাফাইট : রূপান্তরিত শিলা।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১১,৮২৩.
হাইড্রোজেন বোমা বিস্ফোরণের সময় কোন বিক্রিয়া সংঘটিত হয়?
  1. ক) নিউক্লিয় বিভাজন
  2. খ) তেজস্ক্রিয় বিকিরণ
  3. গ) নিউক্লিয় সংযোজন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় দুটি ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে অপেক্ষাকৃত বড় নিউক্লিয়াসযুক্ত ভিন্ন মৌল তৈরি করে তাকে নিউক্লিয় ফিউশন বা নিউক্লিয় সংযােজন বিক্রিয়া বলে।

- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে শক্তির উৎস হচ্ছে নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া।

- নিউক্লিয় ফিউশন নীতির উপর ভিত্তি করে হাইড্রোজেনের আইসােটোপ - ডিউটেরিয়াম, ট্রিটিয়াম ব্যবহার করে হাইড্রোজেন বােমা তৈরি করা হয়।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৮২৪.
জীবের বংশগতিতে নিচের কোনটি অবদান রাখে?
  1. ক) নিউক্লিয়াস
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. গ) রাইবোজোম
  4. ঘ) ক্রোমোজোম
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোম জীবের বংশগতিতে অবদান রাখে।

ক্রোমোজোম হচ্ছে নিউক্লিক এসিড ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত কোষের একটি জটিল অঙ্গ, যার মধ্যে জীবের সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে। ক্রোমোজোমকে বংশগতির বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক বলা হয়।

ক্রোমোজমের কাজসমূহ- 
১। ক্রোমোজোম পিতামাতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সন্তান-সন্ততিতে সঞ্চারিত করে।
২। নিউক্লিয়াসের আকার-আকৃতি প্রদান করে।
৩। প্রোটিন সংশ্লেষ নিয়ন্ত্রণ করে।
৪। ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিন প্রজাতির বংশানুক্রমিক বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে।
৫। সেন্ট্রোমিয়ার নিউক্লিয়ার বিভাজনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান।
১১,৮২৫.
আকাশে রংধনু সৃষ্টির কারণ-
  1. ধুলিকণা
  2. বায়ুস্তর
  3. বৃষ্টির কণা
  4. অতিবেগুনি রশ্মি
ব্যাখ্যা
- সূর্য থেকে যে আলোর রশ্মি পৃথিবীতে আসে তার রঙ মূলত সাদা। 
- এই সাদা রঙের ভেতরে বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি রং বিদ্যমান থাকে। 
- সাদা আলোর একটি বিশেষ ধর্ম আছে যা প্রিজমের মধ্য দিয়ে গমন করলে সাদা আলো সাতটি ভিন্ন রঙে বিশ্লেষিত হয়ে যায়। 
- আকাশে যখন বৃষ্টি পড়ে তখন বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ভাসমান প্রিজমের মতো কাজ করে। 
- সূর্য হতে আলো বৃষ্টির ফোঁটার একপাশ দিয়ে প্রবেশ করে বের হবার সময় সাত রঙের বর্ণালী সৃষ্টি করে। 
- বৃষ্টির ফোঁটা বা কণার প্রিজমসুলভ বৈশিষ্ট্যের কারণেই সৃষ্টি হয় রংধনু।  
- বৃষ্টির ফোঁটা হতে বের হওয়া সাত রঙের আলো আমাদের চোখে এসে পৌঁছায় বলেই আমরা রংধনুকে দেখতে পাই। 
- ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে যাওয়ার সময় আলোকরশ্মি যদি দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে মাধ্যম দুটির সংকট কোণের চেয়ে বেশি কোণে আপতিত হয়, তবে ওই আপতিত রশ্মি, দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হওয়ার পর ওর সবটুকুই প্রতিফলিত হয়ে আবার ঘন মাধ্যমেই ফিরে আসে, এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ  প্রতিফলন বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৮২৬.
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ শক্তির মূল উৎস-
  1. ক) পানির গতি শক্তি
  2. খ) যান্ত্রিক শক্তি
  3. গ) পানির বিভব শক্তি
  4. ঘ) রাসায়নিক শক্তি
ব্যাখ্যা

- নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় সঞ্চিত জলরাশিতে বিভবশক্তি জমা হয়।
- পানি নিচে প্রবাহিত হওয়ার সময় এই বিভবশক্তি গতিশক্তিতে পরিণত হয়।
- পানি প্রবাহের সাহায্যে টারবাইনের চাকা ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
- এভাবে যান্ত্রিক শক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,৮২৭.
মানুষের অটোজোম কয় জোড়া?
  1. ৪৬
  2. ৪৪
  3. ২২
  4. ২৪
ব্যাখ্যা

- মানবদেহে ক্রোমোজোম সংখ্যা ৪৬ টি বা ২৩ জোড়া।
- এরমধ্যে ২২ জোড়া বা ৪৪ টি অটোজোম এবং ১ জোড়া বা ২টি সেক্স ক্রোমোজোম।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,৮২৮.
আলোর গতি নির্ধারণ করেন কে?
  1. নিউটন
  2. আইনস্টাইন
  3. রোমার
  4. ফ্যারাডে
ব্যাখ্যা

• ইতিহাসে প্রথমবার আলোর গতি নির্ধারণ করেছিলেন জ্যোতির্বিদ ওলে রোমার (Ole Rømer), ১৬৭৬ সালে।

- গতি হলো প্রকৃতির একটি মৌলিক ধ্রুবক, যা শূন্যস্থানে প্রায় 3 × 108 m/s। 

রোমারের পর্যবেক্ষণ:
- রোমার ড্যানিশ জ্যোতির্বিদ ছিলেন।
- তিনি বৃহস্পতি (Jupiter) ও তার উপগ্রহ আইও (Io)-এর কক্ষপথ পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
- তিনি লক্ষ্য করেন, আইও-র গ্রহন (eclipse) সময় সবসময় একই থাকে না।
- পৃথিবী যখন সূর্যের অপর পাশে থাকে, তখন গ্রহনের সময় কিছুটা দেরিতে দেখা যায়।
- তিনি এই সময়ের পার্থক্য থেকে অনুমান করেন যে, আলোর পৃথিবী পর্যন্ত আসতে সময় লাগে, অর্থাৎ আলোর গতি সীমিত।

আলোর গতি নির্ণয়:
- রোমার অনুমান করেন, পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরে বিপরীত পাশে গেলে (প্রায় ৩০ কোটি কিমি দূরত্ব বাড়ে), আলোর পৌঁছাতে প্রায় ২২ মিনিট বেশি সময় লাগে।
- এই তথ্য থেকে তিনি আলোর গতি আনুমানিক নির্ণয় করেন 2.14 × 108 m/s, যা আধুনিক মানের কাছাকাছি।

পরবর্তীতে:
- ফিজো (Fizeau, 1849) এবং মাইকেলসন (Michelson, 1879) পরীক্ষাগারে আলোর গতি আরও নিখুঁতভাবে পরিমাপ করেন।
- আইনস্টাইন (Einstein) পরে আলোর ধ্রুব গতিকে ভিত্তি করে আপেক্ষিক তত্ত্ব (Theory of Relativity) তৈরি করেন, তবে তিনি প্রথম মাপেননি।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

১১,৮২৯.
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে কী থাকে? 
  1. শূন্যচাপ 
  2. উচ্চচাপ 
  3. নিম্নচাপ 
  4. উচ্চ তাপমাত্রা 
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড় (Cyclone): 
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেযোগ্য। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড়ের 'চোখ'-এ নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। ফলে বাহিরের অংশ হতে উচ্চচাপ যুক্ত বায়ু প্রবল বেগে ঘড়ির কাঁটার দিকে আবর্তন করতে করতে ঝড়ের কেন্দ্রভাগে নিম্নচাপযুক্ত অঞ্চলের দিকে ধাবিত হয়। 
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উপকূলভাগ ফানেল আকৃতির হওয়ার কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় একটি সাময়িক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- গত তিন দশকে বাংলাদেশের উপকূলে, বিশেষত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৮৩০.
What type of signal can be transmitted through fiber optic cables?
  1. Electrical signal
  2. Radio signal
  3. Optical signal
  4. Sound wave
  5. Thermoelectric
ব্যাখ্যা
• ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে আলোক সংকেত (Optical signal) প্রেরণ করা হয়। 

• ফাইবার অপটিক্স:
- ফাইবার অপটিক্স একটি অত্যাধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি যার ফলে আলোক সংকেতের মাধ্যমে তথ্য পাঠানো যায়।
- এতে প্লাস্টিক বা কাঁচের তৈরি পাতলা তন্তুর (fiber) মাধ্যমে আলো পাঠানো হয়।
- এটি আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ধর্ম ব্যবহার করে দীর্ঘ দূরত্বে তথ্য বহন করে। 

• ফাইবার অপটিক প্রযুক্তির কার্যপ্রণালী:
- তথ্য প্রথমে ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তর করা হয়।
- এরপর সেই সংকেতকে আলোক সংকেতে রূপান্তর করা হয়।
- আলোক সংকেতকে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের মধ্য দিয়ে পাঠানো হয়।
- গন্তব্যে পৌঁছে আলোক সংকেত আবার ডিজিটাল তথ্য হিসেবে রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা। 
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ০ ১০ম শ্রেণি।
১১,৮৩১.
নিচের কোনটির কারণে তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না? 
  1. চাপ
  2. তাপ
  3. চৌম্বকক্ষেত্র
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। 
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। 
- স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”। 
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- তাপ, চাপ, তড়িৎক্ষেত্র, চৌম্বকক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
- তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। 
- পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৮৩২.
ক্ষমতার মাত্রা কোনটি?
  1. MLT -3
  2. ML2T -2
  3. ML2T -3
  4. ML-2T -3
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়) 
বা, P = (বল × সরণ)/সময় 
বা, P = বল × বেগ 
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট। 
- হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
• 1 H. P = 746 W 
- ক্ষমতার মাত্রা [ML2T -3]

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৮৩৩.
জলজ প্রাণীদের বেঁচে থাকতে প্রতি লিটার পানিতে কমপক্ষে কতটুকু অক্সিজেন থাকা প্রয়োজন?
  1. ৫.০ মিলিগ্রাম
  2. ০.৫ মিলিগ্রাম
  3. ০.০৫ মিলিগ্রাম
  4. ০.০০৫ মিলিগ্রাম
ব্যাখ্যা
- পানিতে বসবাসকারী প্রাণীদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অক্সিজেনের দরকার হয়। 
- আর তারা এই অক্সিজেন পায় পানিতে দ্রবীভূত হয়ে থাকা অক্সিজেন থেকে। 
- জলজ প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য প্রতি লিটার পানিতে কমপক্ষে ৫.০ মিলিগ্রাম অক্সিজেন থাকা দরকার
- এই অক্সিজেন নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে কমে গেলে জলজ প্রাণীগুলোর সমস্যা হতে থাকে। 
- যদি পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন না থাকে, তাহলে মাছসহ অন্যান্য প্রাণী বাচঁতেই পারবে না। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৮৩৪.
কোন অণুজীবের সংক্রমণে শ্বাসনালীর প্রদাহ দেখা দেয়?
  1. ক) Staphylococcus
  2. খ) Streptococcus
  3. গ) Enterococcus
  4. ঘ) Salmonella
ব্যাখ্যা
Streptococcus অণুজীবের সংক্রমণে সৃষ্ট শ্বাসনালীর প্রদাহ, ফুসকুড়িযুক্ত সংক্রামক জ্বর, টনসিলের প্রদাহ দেখা দেয়। 

শিশু ও বয়স্করা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। শ্বাসনালী ও তার শাখা-প্রশাখার ক্ষুদ্র ঝিল্লি আক্রান্ত হওয়াই এ রোগের কারণ। হঠাৎ শ্বাসনালীর প্রদাহ রোগ সাধারণ সর্দি লাগার ফলেই হয়ে থাকে। সর্দি কণ্ঠনালী হতে নিচের দিকে প্রসারিত হয়ে বায়ুনালীগুলোকে আক্রমণ করলেই তার নাম হয় হঠাৎ শ্বাসনালীর প্রদাহ। যে ঋতুতে আবহাওয়া ঘন ঘন পরিবর্তিত হয় অর্থাৎ শরৎকাল ও বসন্তকালের প্রারম্ভেই রোগটি সাধারণত প্রকাশ পায় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুর্বল দেহ, উপযুক্ত ও পুষ্টিকর খাদ্য হতে বঞ্চিত এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করতে বাধ্য হয় এ ধরনের ব্যক্তিকে এ রোগ আক্রমণ করে।

লক্ষণ-
প্রবল শুষ্ক কাশিতে বুকে ব্যথা লাগে, শ্বাস-প্রশ্বাসের দ্রুততা বৃদ্ধি পায়। দেহের উত্তাপ বাড়ে। ক্রমে শ্লেষ্মা সরল হতে থাকে এবং অল্প কাশিতেই থোকা থোকা কফ উঠে বুক পরিষ্কার হয়ে যায়। সাধারণত সুস্থ যুবকদের পক্ষে হঠাৎ শ্বাসনালীর প্রদাহ কখনোই মারাত্মক হয় না। কিন্তু শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে অবস্থাভেদে এ রোগ অথবা এ রোগ বিস্তৃত হয়ে অন্য উপসর্গের সৃষ্টি করলে বিপদের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। উপযুক্ত সময়ে রোগ প্রশমিত না হলে তা পুরাতন আকার ধারণ করে, তখন তাকে পুরাতন বা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসনালীর প্রদাহ বলে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১১,৮৩৫.
মহাবিস্ফোরণ তত্ত্বের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন‌-
  1. ক) আইনস্টাইন
  2. খ) লেমেটার
  3. গ) স্টিফেন হকিং
  4. ঘ) গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা

- যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত পদার্থবিদ ও গণিতজ্ঞ স্টিফেন হকিং।
- তিনি মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন‌।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত কয়েকটি গ্রন্থ:
- A brief history of time,
- The Universe in a Nutshell,
- The grand design
- অপরদিকে, মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিজ্ঞানী জি. লেমেটার।

১১,৮৩৬.
তাড়িত চৌম্বক তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
  1. ম্যাক্সপ্লাঙ্ক
  2. হাইগেন
  3. নিউটন
  4. ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন তত্ত্বের প্রবক্তা:

- আলোর কণা তত্ত্বের প্রবক্তা স্যার আইজ্যাক নিউটন।
- তরঙ্গ তত্ত্বের প্রবক্তা হাইগেন।
- তাড়িত চৌম্বক তত্ত্বের প্রবক্তা ম্যাক্সওয়েল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রবক্তা ম্যাক্সপ্লাঙ্ক।

তথ্যসূত্র - পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৮৩৭.
pH স্কেলের সীমা কত? 
  1. 0-14
  2. 7-14
  3. 0-7
  4. 0-18
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৮৩৮.
ঢেঁকি দিয়ে ধান ভানার সময় যান্ত্রিক শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?  
  1. চুম্বক শক্তি
  2. শব্দ শক্তি
  3. তাপ শক্তি
  4. শব্দ ও তাপ শক্তি
ব্যাখ্যা
যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর: 
- হাত দিয়ে শরীরের অন্য কোনো অংশ ঘষলে গরম অনুভূত হয় ফলে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বাঁশি বাজালে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- এক খন্ড পাথরের উপর একটি ধাতব দন্ড দ্বারা জোরে আঘাত করলে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বের হতে দেখা যায় এবং এক ধরনের শব্দেরও সৃষ্টি হয়। ধাতব দণ্ড ও পাথর খন্ডটি খানিকটা উত্তপ্ত হয়ে যান্ত্রিক শক্তি তাপ, শব্দ ও আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- ঢেঁকি দিয়ে ধান ভানার সময় এতে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ ও তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- একই ভাবে দোলনার ক্ষেত্রে স্থিতি ও গতিশক্তির রূপান্তর ঘটে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১১,৮৩৯.
ট্রানজিস্টর তৈরিতে সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে ব্যবহৃত হয় কোনটি?
  1. ক) কার্বন
  2. খ) গ্রাফাইট
  3. গ) সিলিকন
  4. ঘ) এলুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

দুটি অর্ধপরিবাহী ডায়ােডকে পাশাপাশি যুক্ত করে একটি অর্ধপরিবাহী ট্রায়ােড তৈরি করা হলে তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
১৯৪৭ সালে ট্রানজিস্টর প্রথম তৈরি করেন উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্ৰাটেইন।
ট্রানজিস্টর তৈরি করতে প্রয়ােজন সেমিকন্ডাক্টর (সিলিকন, জার্মেনিয়াম)।
ট্রানজিস্টরের অপর নাম অর্ধপরিবাহী ট্রায়ােড। ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয় বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে।
ইলেকট্রনিক্সে বিপ্লব শুরু হয় ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের সময় থেকে।
ট্রানজিস্টর প্রধানত ব্যবহার করা হয় এমপ্লিফায়ার বা বিবর্ধক হিসেবে।

১১,৮৪০.
আলফা রশ্মি বা আলফা কণা আসলে কী?
  1. ইলেকট্রন
  2. পজিট্রন
  3. হিলিয়াম পরমাণু
  4. তড়িত-চুম্বকীয় তরঙ্গ
  5. হিলিয়াম নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা
আলফা রশ্মি (Alpha Ray)
- আলফা রশ্মি বা আলফা কণা আসলে একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াস।
- একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াসে থাকে দুটো প্রোটন এবং দুটো নিউট্রন, কাজেই এটি একটি চার্জযুক্ত কণা।
- সে কারণে বিদ্যুৎ এবং চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে এর গতিপথকে প্রভাবিত করা যায়।
- একটা নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে যখন একটা আলফা কণা বের হয়ে আসে তখন তার শক্তি থাকে কয়েক MeV. কাজেই সেটি যখন বাতাসের ভেতর দিয়ে যায় তখন বাতাসের অণু-পরমাণুর সাথে সংঘর্ষ করে সেগুলোকে তীব্রভাবে আয়নিত করতে পারে।
- বাতাসে আলফা কণার গতিপথ হয় সরলরেখার মতো, এটা সোজা এগিয়ে যায়।
- তবে আলফা কণা যেহেতু হিলিয়ামের নিউক্লিয়াস তাই এটা পদার্থের ভেতর দিয়ে বেশি দূর যেতে পারে না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১১,৮৪১.
হিমোগ্লোবিন কী জাতীয় পদার্থ?
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) লৌহ
  3. গ) আমিষ
  4. ঘ) স্নেহ
ব্যাখ্যা

- হিমোগ্লোবিন আমিষ জাতীয় পদার্থ।
- রক্তের রং লাল হয় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য।
- হিমোগ্লোবিনের কাজ ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে কলায় পরিবহন করা এবং কলা থেকে কার্বণ-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে ফুসফুসে পরিবহন করা।

১১,৮৪২.
তাপমাত্রা, উপাদান ও দৈর্ঘ্য স্থির থাকলে কোন পরিবাহীর রোধ পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের ……
  1. ক) ব্যস্তানুপাতিক
  2. খ) সমানুপাতিক
  3. গ) উভয়টি প্রযোজ্য
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
কোন পরিবাহীর রোধ পরিবাহীর দৈর্ঘ্য, প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল, উপাদান ও তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। রোধের এ নির্ভরশীলতার উপর ভিত্তি করে রোধের তিনটি সূত্র আছে। সূত্রগুলো নিচে বর্ণনা করা হল :

প্রস্থচ্ছেদের সূত্রঃ তাপমাত্রা, উপাদান ও দৈর্ঘ্য স্থির  থাকলে কোন পরিবাহীর রোধ পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ, কোন পরিবাহীর দৈর্ঘ্য, প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল A এবং রোধ R হলে সূত্রানুসারে, R ∝  (1 / A)  যখন L ধ্রুবক।

সুত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এইচএসসি প্রোগ্রাম
১১,৮৪৩.
একজন টাইপ-১ ডায়াবেটিক রোগীর ক্ষেত্রে কোন্‌ বক্তব্যটি সঠিক? 
  1. নির্দিষ্ট কোষের ইনসুলিন প্রতিরোধিতা 
  2. বিটা কোষগুলির অটো-ইমিউন ধ্বংসের কারণে অগ্ন্যাশয় অপর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করে
  3. অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ দ্বারা গ্লুকাগনের অতিরিক্ত উৎপাদন 
  4. প্রো-ইনসুলিন থেকে ইনসুলিনে রূপান্তরে ত্রুটি
ব্যাখ্যা

- টাইপ-১ ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী অটো-ইমিউন অবস্থা। এই রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী বিটা কোষগুলোকে (Beta cells) আক্রমণ করে ধ্বংস করে ফেলে যার ফলে অগ্ন্যাশয় শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না বা একেবারেই সামান্য তৈরি করে, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অত্যধিক বেড়ে যায়। 

বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস (Diabetes): 
- ইনসুলিন একটি হরমোন, এটি অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে, এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। অগ্ন্যাশয়ে যদি প্রয়োজনমতো ইনসুলিন তৈরি না হয় তবে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্থায়ীভাবে বেড়ে যায়, প্রস্রাবের সাথে গ্লুকোজ নির্গত হয়। এ অবস্থাকে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস মেলিটাস (সংক্ষেপে: ডায়াবেটিস) বলে। 
- ডায়াবেটিস প্রধানত দুই ধরনের। যথা- টাইপ-1 এবং টাইপ-2। 
- টাইপ-1 এ আক্রান্ত রোগীর দেহে একেবারেই ইনসুলিন তৈরি হয় না। তাই নিয়মিতভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নিতে হয়। 
- অন্যদিকে টাইপ-2 রোগীর দেহে আংশিকভাবে ইনসুলিন তৈরি হয়। এক্ষেত্রে ঔষধ, অগ্ন্যাশয় কোষকে শরীরের জন্য পরিমিত ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে। তবে টাইপ-২ ডায়াবেটিসেও কোনো না কোনো পর্যায়ে ইনসুলিনের স্থায়ী ঘাটতি হয়ে যেতে পারে কিংবা বিভিন্ন অসুখ বা চিকিৎসাপদ্ধতির অংশ হিসেবে সেই সব ঔষধ বন্ধ রাখতে হতে পারে, তখন ইনসুলিন ছাড়া উপায় থাকে না। এ রোগটি সাধারণত বংশগতি এবং পরিবেশের প্রভাবে হয়ে থাকে। 
- এই বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস রোগটি সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ নয়। 

- রক্ত ও প্রস্রাবে গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাণের চেয়ে বেড়ে গেলে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। 
- লক্ষণগুলো হলো ঘন-ঘন প্রস্রাব হওয়া, অধিক পিপাসা লাগা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত খাবার খাওয়া সত্ত্বেও দেহের ওজন কমতে থাকা, দুর্বল বোধ করা, চোখে কম দেখা, চামড়া খসখসে ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া, ক্ষতস্থান সহজে না শুকানো ইত্যাদি। 
- পূর্বে ধারণা করা হতো কেবল বয়স্কদের এ রোগটি হয়। এ ধারণাটি সঠিক নয়। ছোট-বড় সব বয়সে এ রোগ হতে পারে। তবে যারা কায়িক পরিশ্রম করেন না, দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাজ করেন অথবা অলস জীবন যাপন করেন, তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। 
- তাছাড়া স্থূলকায় ব্যক্তিদের এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। যেহেতু এ রোগ বংশগত, তাই কোনো ব্যক্তির বাবা, মা, দাদা, দাদির এ রোগ থাকলে তার এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা খুবই বেশি। 
- বংশগতভাবে অনেক শিশুর দেহে ইনসুলিন উৎপাদন কম হয়, ফলে শিশুটি ইনসুলিন ঘাটতিজনিত অসুস্থতায় ভুগতে থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৮৪৪.
সাম্প্রতিক কালে বহুল আলোচিত পিঁয়াজের বৈজ্ঞানিক নাম-
  1. ক) Oryza sativa
  2. খ) Allium cepa
  3. গ) Apis indica
  4. ঘ) Corchorus capsularis
ব্যাখ্যা
Oryza sativa- ধান
Apis indica-মৌমাছি
Corchorus capsularis- পাট।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৮৪৫.
আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত টুথপেস্ট কী জাতীয়?
  1. ক্ষার জাতীয়
  2. এসিড জাতীয়
  3. লবণ জাতীয়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
টুথপেস্ট:
কখনো মিষ্টিজাতীয় খাবার খেয়ে মুখ পরিষ্কার না করলে কিছুক্ষণ পর মুখে টক টক অনুভূত হয়।
- আসলে মুখের মধ্যে অনেক ব্যাকটেরিয়া থাকে যা আমাদের খাওয়া খাবার থেকে বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড তৈরি করে।
- তাই মুখে টক স্বাদ অনুভূত হয়।
- এই এসিড দাঁতের এনামেলকে (ক্যালসিয়ামের যৌগ) ক্ষয় করে।
- টুথপেস্টে থাকা ক্ষারজাতীয় পদার্থ এ সকল এসিডকে প্রশমিত করে।
- ফলে দাঁতের এনামেল রক্ষা পায়।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৮৪৬.
কোষের আকৃতি, প্রাণীদেহে তার অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতিভেদে আবরণী টিস্যু-
  1. ক) ২ ধরনের
  2. খ) ৩ ধরনের
  3. গ) ৪ ধরনের
  4. ঘ) ৫ ধরনের
ব্যাখ্যা

• কোষের আকৃতি, প্রাণীদেহে তার অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতিভেদে আবরণী টিস্যু ৩ ধরনের। যথা:
- স্কোয়ামাস আবরণী টিস্যু,
- কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যু এবং
- কলামনার আবরণী টিস্যু।

উৎস: জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

১১,৮৪৭.
উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণকারী প্রধান অঙ্গ কোনটি?
  1. ক) সবুজ কচি কাণ্ড
  2. খ) ফলের সবুজ ত্বক
  3. গ) ফুলের বৃন্ত
  4. ঘ) পাতার সবুজ অংশ
ব্যাখ্যা

- পাতার সবুজ অংশ, সবুজ কচি কাণ্ড, ফুলের বৃতি ও বৃন্ত, ফলের সবুজ ত্বক, থ্যালয়েড সবুজ উদ্ভিদের সম্পূর্ণ থ্যালাস, কখনো কখনো সাইটোপ্লাজম (কতিপয় সায়ানোব্যাক্টেরিয়াতে সুগঠিত প্লাস্টিড না থাকায়) হলো উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণকারী অঙ্গসমূহ।
- এদের মধ্যে পাতার সবুজ অংশ হলো উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের প্রধান অঙ্গ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১১,৮৪৮.
কে পরমাণুর নিউক্লিয়ার মডেল সম্পর্কে ধারণা দেন?
  1. ক) জন ডাল্টন
  2. খ) নীল বোর
  3. গ) ডেমোক্রিটাস
  4. ঘ) রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন।
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেছেন বলে, এ মডেলটিকে সােলার সিস্টেম মডেল বা সৌর মডেল বলে। 
- এ মডেলের মাধ্যমে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস সম্পর্কে ধারণা দেন বলে এ মডেলটিকে নিউক্লিয়ার মডেলও বলা হয়।
- রাদারফোর্ডই সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে ধারণা দেন।

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৮৪৯.
শুষ্ক কোষে কে ইলেকট্রন দান করে? 
  1. দস্তার খোল
  2. কার্বন দণ্ড
  3. কয়লার গুঁড়া
  4. ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
শুষ্ক কোষ (Dry Cell): 
- শুষ্ক কোষ হল একটি প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি সেল, যা লেকল্যান্স বিদ্যুৎ কোষের একটি ভিন্ন রূপ।
- এ বিশেষ লেকল্যান্স কোষে বিদ্যুৎ উত্তেজক হিসেবে NH4Cl এর পেস্ট এবং ক্যাথোডের গায়ে H2 গ্যাস দ্বারা পোলারন বা ছদন নিবারক হিসেবে জারকরূপে কঠিন ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO2) ব্যবহৃত হয় বলে একে শুষ্ক কোষ বলে। 

গঠন: 
- শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষে জিংক অর্থাৎ দস্তার তৈরি একটি একমুখ বন্ধ ফাঁপা চোঙকে বহিঃপাত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় যা ঋণাত্মক পাত বা অ্যানোড হিসেবে কাজ করে। 
- চোঙটিকে একটি কাগজের মোড়কে ঢেকে রাখা হয়। 
- এ চোঙের ঠিক মাঝখানে একটি কার্বন দণ্ড (কোষের নিষ্ক্রিয় তড়িৎদ্বাররূপে) কোষের ধনাত্মক পাত বা ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে। 
- কার্বন দণ্ডের মাথায় একটি পিতলের টুপি থাকে। 
- এ কার্বন দণ্ডটি আলকাতরাযুক্ত কাগজের উপর খাড়াভাবে বসানো থাকে ফলে কার্বন দণ্ড থেকে দস্তার ফাঁপা চোঙ বিচ্ছিন্ন থাকে। 
- এর চারপাশে কাগজের থলিতে MnO2 ও গুঁড়া কার্বনের একটি আঠালো পেস্ট থাকে। 
- কাগজের থলি সচ্ছিদ্র পাত্রের কাজ করে এবং কার্বন গুঁড়া ব্যবহারের ফলে ক্যাথোডের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল বেড়ে যায়। 
- দস্তার চোঙ ও কাগজের থলির মাঝে আঠালো স্টার্চের গুঁড়া, NH4Cl ও সামান্য ZnCl2 এর একটি পেস্ট থাকে, যা MnO2 কে ভেজা রাখতে সাহায্য করে। 
- কোষের উপরের মুখে পিচ বা গালা স্তর থাকে। 
- জিঙ্ক (Zn) বা দস্তা ইলেক্ট্রন দান করে এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে
- এ কোষের E.M.F. প্রায় 1.5 Volt. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
১১,৮৫০.
নিচের কোনটি পটাশিয়ামের অভাবজনিত সমস্যা? 
  1. পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হওয়া 
  2. পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয়ে যাওয়া
  3. উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যাওয়া
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা

পটাশিয়াম: 
- পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। 
- পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,৮৫১.
হেপাটাইটিস 'বি' ভাইরাস শরীরের কোথায় আক্রমণ করে?
  1. ক) ফুসফুস
  2. খ) হৃদপিণ্ড
  3. গ) যকৃত
  4. ঘ) অগ্ন্যাশয়
ব্যাখ্যা
হেপাটাইটিস 'বি' ভাইরাস
- হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ যা যকৃত বা লিভার কে আক্রমণ করে।
- হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) এর আক্রমণে এ রোগ হয়। 
- রক্তের হেপাটাইটিস ভাইরাস (বি, সি) ছড়ায় যখন একজন আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত অথবা দেহজ তরল অন্য ব্যক্তির দেহে পৌঁছায়। 
- যাদের মধ্যে উপসর্গ দেখা যায়, তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ এবং উপসর্গের মধ্যে দুই থেকে ছয় সপ্তাহের ব্যবধান থাকে।
- যখন উপসর্গগুলো দেখা যায়, তখন সেগুলো সাধারণত আট সপ্তাহ স্থায়ী হয় এবং তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে: বমিভাব, বমি হওয়া, উদরাময়, হলুদ ত্বক, জ্বর এবং তলপেটে ব্যথা।

উৎস: Hepatitis B Virus: Advances in Prevention, Diagnosis and National Institutes of Health (.gov).
১১,৮৫২.
অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে কোন দুটি হরমোন নির্গত হয়?
  1. ইনসুলিন ও অ্যাড্রেনালিন
  2. ইনসুলিন ও গ্লুকাগন
  3. থাইরক্সিন ও ক্যালসিটোনিন
  4. গ্রোথ হরমোন ও প্রোল্যাকটিন
ব্যাখ্যা

অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স (Islets of Langerhans) থেকে প্রধানত যে দুটি হরমোন নির্গত হয় তা হলো ইনসুলিন এবং গ্লুকাগন।

ইনসুলিন: অগ্ন্যাশয়ের বিটা (β) কোষ থেকে নিঃসৃত হয় এবং রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

গ্লুকাগন: আলফা (α) কোষ থেকে নিঃসৃত হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
এই দুটি হরমোন একসাথে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে (গ্লুকোজ হোমিওস্ট্যাসিস)। 

অন্যদিকে,
ক) ইনসুলিন ও অ্যাড্রেনালিন: অ্যাড্রেনালিন হরমোন অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়, অগ্ন্যাশয় থেকে নয়।

গ) থাইরক্সিন ও ক্যালসিটোনিন: থাইরক্সিন এবং ক্যালসিটোনিন হরমোন থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।

ঘ) গ্রোথ হরমোন ও প্রোল্যাকটিন: গ্রোথ হরমোন এবং প্রোল্যাকটিন পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,৮৫৩.
মানুষের হৃদপিণ্ডে প্রাকৃতিক পেসমেকার বলা হয় কোনটিকে?
  1. পারকিঞ্জি তন্তু
  2. সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড
  3. অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার নোড
  4. বান্ডল অব হিজ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
হৃদপিণ্ডের প্রাচীরের কিছু রূপান্তরিত হৃদপেশি মায়োজেনিক প্রকৃতির জন্য দায়ী। এ বিশেষ ধরনের পেশিগুলোকে সম্মিলিতভাবে সংযোগী টিস্যু বা জাংশনাল টিস্যু বলে। ৪ ধরনের জাংশনাল টিস্যুর মধ্যে রয়েছেঃ
- সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড: একে পেসমেকার বলা হয়, কারণ হৃদপিণ্ডে প্রতিটি উত্তেজনার তরঙ্গ এখানেই সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তী উত্তেজনার তরঙ্গ সৃষ্টির উদ্দীপক হিসাবেও কাজ করে।
- অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার নোড: সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোডের অনুরূপ গঠন বৈশিষ্ট্যের অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার টিস্যু AV বান্ডেল নামক বিশেষ পেশিতন্তু গুচ্ছের সাথে যুক্ত থাকে। AV বান্ডেল এর মাধ্যমে হৃদউদ্দীপনার ঢেউ অ্যাট্রিয়াম থেকে ভেন্ট্রিকলে প্রবাহিত হয়।
- বান্ডল অব হিজ: এটি AV নোড থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে ভেন্ট্রিকলের প্রাচীরে সঞ্চারিত করে।
- পারকিঞ্জি তন্তু: এ তন্তুগুলো বান্ডল অব হিজ থেকে উৎপন্ন হয়ে ভেণ্ট্রিকলের প্রাচীরে জালক সৃষ্টি করে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১১,৮৫৪.
রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় এনট্রপি কী ঘটে? 
  1. বৃদ্ধি পায় 
  2. হ্রাস পায় 
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

এনট্রপি: 
- কোনো সিষ্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এনট্রপি (Entropy) বলে।
- কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সংকুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয়। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। 
- আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়। অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়। 
- বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে। 
- ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এনট্রপি। 
- রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- পৃথিবীর এনট্রপি ক্রমাগত বাড়ছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

১১,৮৫৫.
ভর এবং ওজনের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
  1. ভর স্থানভেদে পরিবর্তিত হয়, ওজন অপরিবর্তিত
  2. ভর অপরিবর্তিত, ওজন স্থানভেদে পরিবর্তিত
  3. উভয়ই স্থানভেদে পরিবর্তিত
  4. উভয়ই অপরিবর্তিত
ব্যাখ্যা

• কোনো বস্তুর ভর বস্তুর অবস্থানভেদে পরিবর্তন হয় না কিন্তু স্থানভেদে বস্তুর ওজনের তারতম্য হয়।

• ভর:
- একে m দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- SI পদ্ধতিতে এর একক কিলোগ্রাম(kg)।
- কোনো বস্তুর ভর বস্তুর অবস্থানভেদে পরিবর্তন হয় না।

• ওজন:
- ওজন এক প্রকার বল।
- ওজনের একক নিউটন। এটি একটি ভেক্টর রাশি।
- বলের মাত্রাই ওজনের মাত্রা (MLT- 2)।
- বস্তুর ওজন যে বিন্দুতে খাড়া নিচের দিকে ক্রিয়া করে, তাকে ভরকেন্দ্র বলে।
- স্থানভেদে বস্তুর ওজনের তারতম্য হয়।
- অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর বস্তুর ওজন নির্ভরশীল।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৮৫৬.
উদ্ভিদে ক্লোরোসিস দেখা দেয় কোনটির অভাবে?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) ফসফরাস
  3. গ) বোরন
  4. ঘ) পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
নাইট্রোজেন (N):
•নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে।
•ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। তার কারণ ক্লোরোফিল ছাড়া অন্যান্য বর্ণকণা বা •পিগমেন্ট মিলিতভাবে হলুদ দেখায়। পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' (chlorosis) বলে। 

ফসফরাস (P):
 •ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়।
 •পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়। 

পটাশিয়াম (K):
পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।
•বিশেষ করে পাতার শিরার মধ্যবর্তী স্থানে ক্লোরোসিস হয়ে হলুদবর্ণ ধারণ করে।
•পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে।
•উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়।

ক্যালসিয়াম (Ca): ক্যালসিয়ামের অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল শীর্ষ অঞ্চল, বিশেষ করে পাতার কিনারা বরাবর অঞ্চলগুলো মরে যায়। পাতা কুঁকড়ে যায়, ফুল | ফোটার সময় উদ্ভিদের কাণ্ড শুকিয়ে যায় এবং উদ্ভিদ হঠাৎ নেতিয়ে পড়ে।

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয় ।

লৌহ (Fe): লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয় । | কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়।

 উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
১১,৮৫৭.
নিম্নের কোন জোড়া ক্রোমোজোম লিঙ্গ নির্ধারণ করে? 
  1. সেন্ট্রোমিয়ার
  2. মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ
  3. অটোজোম
  4. সেক্স ক্রোমোজোম
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোম: 
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু। 
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম। 
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৮৫৮.
একজন ব্যক্তির দেহের ওজন ১০০ কেজি এবং উচ্চতা ২ মিটার হলে বিএমআই কত?
  1. ২০
  2. ২৫
  3. ৩০.২৫
  4. ৫০
ব্যাখ্যা
- শিশু জন্মগ্রহণের পর তার দেহের বৃদ্ধি ঘটতে থাকে এবং পরবর্তীকালে শৈশব, কৈশোর পার হয়ে যৌবন ও প্রাপ্তবয়স্কে উপনীত হয়।
- মানবদেহের বৃদ্ধি ২০-২৪ বছর পর্যন্ত ঘটে এবং তারপর আর উচ্চতার বৃদ্ধি হয় না।
- দেহের উচ্চতার সাথে ওজনের সামঞ্জস্য রক্ষা করার সূচককে বিএমআই (BMI: Body Mass Index) বা ভরসূচি বলা হয়।
- উচ্চতার সাথে যদি দেহের ওজনের সামঞ্জস্য থাকে, তবেই পুষ্টিগত দিক থেকে শরীর সুস্থ বলা হয় ।

বিএমাইয়ের সূত্র: 
দেহের ওজন(কেজি)/[উচ্চতা(মিটার)]২ 

ধরা যাক, একজনের দেহের ওজন ১০০ কেজি এবং উচ্চতা ২ মিটার তাহলে বিএমআই = ১০০/(২ × ২) = ২৫

উৎস: বিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি।
১১,৮৫৯.
হ্যালোনস বা BCF সাধারণত কোন রূপে কাজে লাগানো হয়?
  1. চেতনানাশক
  2. কীটনাশক
  3. জ্বালানী
  4. অগ্নিনির্বাপক
ব্যাখ্যা

• হ্যালোনস বা BCF (Bromochlorodifluoromethane) প্রধানত অগ্নিনির্বাপক পদার্থ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এগুলো উচ্চ কার্যকারিতা সম্পন্ন ফায়ার এক্সটিংগুইশারগুলিতে ব্যবহৃত হয় এবং আগুন নিভানোর সময় দ্রুত তাপ শোষণ এবং জ্বলন প্রক্রিয়ার রাসায়নিক বাধা সৃষ্টি করে। হ্যালোনস বাতাসে তেমন ক্ষতি ছাড়াই আগুন দমন করতে সক্ষম এবং এটি ইলেকট্রনিক বা সংবেদনশীল সরঞ্জাম যেমন কম্পিউটার রুম, বিমান ইঞ্জিন, বা ল্যাবরেটরিতে ব্যবহারের জন্য নিরাপদ। এগুলো চেতনানাশক বা কীটনাশক নয় এবং সাধারণ জ্বালানীর বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা হয় না। তাই হ্যালোনসের প্রধান ব্যবহার হলো অগ্নিনির্বাপক হিসাবে।

- উত্তর: ঘ) অগ্নিনির্বাপক। 

• হ্যালোনস বা BCF (Halons or BCF):
- হ্যালোনস বা BCF হলো রসায়নিক যৌগ যা প্রধানত অগ্নিনির্বাপক পদার্থ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।  
- এগুলো আগুন নিভাতে খুব কার্যকর, বিশেষত ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বা সংবেদনশীল সরঞ্জামে।  
- হ্যালোনস আগুন নিভাতে ব্যবহার করার সময় জলে বা ধোঁয়ায় ক্ষতি করে না।  
- এগুলি চেতনানাশক, কীটনাশক বা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার হয় না।  
- হ্যালোনস বাতাসে ছড়িয়ে গেলে পরিবেশে ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই এখন অনেক দেশ এগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে।  

- সুতরাং, হ্যালোনস বা BCF সাধারণত অগ্নিনির্বাপক পদার্থ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।  
- সঠিক উত্তর: ঘ) অগ্নিনির্বাপক।

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ। 

১১,৮৬০.
সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড নয় কোনটি?
  1. ক) পামিটিক এসিড
  2. খ) প্রোপানোয়িক এসিড
  3. গ) স্টিয়ারিক এসিড
  4. ঘ) অলিয়িক এসিড
ব্যাখ্যা
ফ্যাটি এসিড: 
- অ্যালিফেটিক এসিডের অণুতে একটি মাত্র কার্বক্সিলমূলক থাকলে এদেরকে মনোকার্বক্সিল এসিড বলে। 
- অ্যালিফেটিক মনোকার্বক্সিলিক এসিড শ্রেণীকে ফ্যাটি এসিডও বলা হয়। 
- সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের সাধারণ সংকেত হল CnH2n+1COOH. 
- ফ্যাটি এসিড সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত উভয় প্রকার হতে পারে। 
যেমন - 

সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) প্রোপানোয়িক এসিড, 
(২) স্টিয়ারিক এসিড, 
(৩) পামিটিক এসিড। 

অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) অক্সালিক এসিড, 
(২) অলিয়িক এসিড
(৩) লিনোলিক এসিড। 
- অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের কার্বন শিকলে এক বা একাধিক দ্বি-বন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)। 
১১,৮৬১.
নিচের জোড়গুলো বিবেচনা করুন-
ভিটামিন              অভাবজনিত রোগ
i) ভিটামিন -D      রিকেট (Ricket)
ii) ভিটামিন E       রাতকানা (Night blindness)
উপরের কোন জোড়টি সঠিকভাবে সম্পর্কযুক্ত?
  1. শুধু i
  2. শুধু ii
  3. i ও ii উভয়
  4. i ও ii কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
ভিটামিন ডি: 
- একমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকেই ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 
- ভিটামিন ডি সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়। 
- ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন ডি- এর প্রধান উৎস। 
- বাধাঁকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 
- ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরির কাজে লাগে। 
- ভিটামিন ডি -এর অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হয়। 
- দৈনিক চাহিদা থেকে বেশি পরিমাণে ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে শরীরের ক্ষতি হয়। এর ফলে অধিক ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষিত হওয়ায় রক্তে এদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যে কারণে বৃক্ক (কিডনি), হৃৎপিন্ড, ধমনি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম জমা হতে থাকে। 
 
অন্যদিকে, 
- ভিটামিন এ -এর অভাবে রাতকানা রোগ হয় কিন্তু অপশনে ভিটামিন ই দেওয়া যা সঠিক নয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৮৬২.
কোনটি স্তন্যপায়ী প্রাণী?
  1. কুমির
  2. টিকটিকি
  3. কচ্ছপ
  4. নীল তিমি
ব্যাখ্যা
• Chordata পর্বের Mammalia শ্রেণির স্তন্যপায়ী প্রাণী:
- নীল তিমি,
- বাদুড়,
- ডলফিন,
- মানুষ,
- বানর

• Chordata পর্বের Reptalia শ্রেণির সরীসৃপ প্রাণী:
- ঘড়িয়াল,
- কুমির,
- কচ্ছপ,
- সাপ,
- টিকটিকি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১১,৮৬৩.
চুম্বকের আকর্ষণ ক্ষমতা কোথায় বেশি? 
  1. চুম্বকের উত্তর মেরু অঞ্চলে
  2. চুম্বকের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে
  3. চুম্বকের মাঝামাঝি অঞ্চলে
  4. চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
চুম্বক: 
- চুম্বক আবিষ্কৃত হয় গ্রীসে। 
- যে সকল বস্তুর আকর্ষণ ও দিক নির্দেশক ধর্ম আছে তাদেরকে চুম্বক বলে। 
- প্রাকৃতিক অবস্থায় পাওয়া চুম্বককে প্রাকৃতিক চুম্বক এবং মানুষের তৈরি চুম্বককে বলা হয় কৃত্রিম চুম্বক। 
- চুম্বক যাদের আকর্ষণ করে তাদের বলা চুম্বকীয় পদার্থ। 
- যে কোনো আকারের চুম্বকই হোক না কেন, চুম্বকের মাঝখান থেকে চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে আকর্ষণ ক্ষমতা বেশি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১১,৮৬৪.
ফারেনহাইট স্কেলে পানির স্ফুটনাঙ্ক কত ডিগ্রি?
  1. ক) ১০০
  2. খ) ১৮০
  3. গ) ২১২
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আমরা জানি, পানির স্ফুটনাঙ্ক ১০০° C।
∴ ১০০/৫ = (x-৩২)/৯
(x-৩২)/৯ = ২০
x = ১৮০ + ৩২ = ২১২° F
১১,৮৬৫.
নিচের কোনটি হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী?
  1. ক) ভেন্ট্রিকুলার ফাইব্রিলেশন
  2. খ) উচ্চ রক্তচাপ
  3. গ) রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলো হলো-
ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন : হৃদপেশির আঘাতজনিত কারণে হৃদপিণ্ডের স্পন্দন থেমে যায় এমনকি মস্তিষ্ক ও দেহের অন্যান্য অঞ্চলে রক্ত সঞ্চালন অক্ষম হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় ৫ মিনিটের মধ্যে রোগীর মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি : অতিমাত্রায় কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ফলে ধমনির ভেতরের প্রাচীরে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়ে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
উচ্চ রক্ত চাপ (Hyper blood pressure /hypertension): অতিমাত্রায় উচ্চ রক্ত চাপের কারণে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে হঠাৎ রোগীর মৃত্যু হতে পারে।
তামাক সেবন: তামাক ও তামাক জাতীয় রাসায়নিক উপাদান রক্ত নালির প্রাচীরে আক্রান্ত করে হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি বাড়িয়ে তোলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১১,৮৬৬.
পৃথিবীতে কোন বস্তুর ভর ৬ কেজি হলে চন্দ্রপৃষ্ঠে এর ভর কত হবে?
  1. ক) ৩ কেজি
  2. খ) ২ কেজি
  3. গ) ১ কেজি
  4. ঘ) ৬ কেজি
ব্যাখ্যা
পদার্থের ভর সবসময়ই অপরিবর্তিত থাকে। তাই পৃথিবীতে যে বস্তুর ভর ৬ কেজি, চাঁদেও তার ভর ৬ কেজিই থাকবে।

কিন্তু, চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীপৃষ্ঠে ঐ বস্তুর ওজনের ১/৬ অংশ হয়।
অর্থাৎ, পৃথিবী পৃষ্ঠে কোন বস্তুর ওজন ৬ নিউটন হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ওজন হবে ১ নিউটন।
১১,৮৬৭.
মানুষের শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH এর মান কত?
  1. ৮.৫
  2. ১৪
  3. ৫.৫
ব্যাখ্যা
• pH এর মানের ভিন্নতা:
- বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে pH এর মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH এর মান ৫.৫।
- ত্বকের pH এর মান ৫.৫ থেকে ৬.৫ এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমণকে প্রতিরোধ করতে পারে।
- ত্বকের pH এর মান আদর্শ সীমার চেয়ে বেশি বা কম হলে ত্বকের কোমলতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়।
- মাথার চুলে রয়েছে সেবাম (Sebum) নামক এক প্রকার প্রাকৃতিক তেল। এর pH এর মান হলো ৫.০।
- চুলের পরিচর্যায় যে কোনো প্রকার শ্যাম্পুর pH এর মান ৫.৫ এর কাছাকাছি থাকাই উচিত।
- চুলের pH এর মান ৬ এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৮৬৮.
প্রতিফলিত শব্দকে বলা হয় -
  1. কোলাহল
  2. তীক্ষ্ণতা
  3. প্রতিধ্বনি
  4. বিস্তার
ব্যাখ্যা
- কোন শব্দ উৎস থেকে শব্দ করা হলে তা কোন কঠিন তলে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আবার যদি শব্দের উৎসের নিকট ফিরে আসে, তখন সেই শব্দের পুনরাবৃত্তি শোনা যায়, শব্দের এই পুনরাবৃত্তিকে শব্দের প্রতিধ্বনি বলে।
- - প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূলধ্বনি ও প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ০.১ সেকেন্ড হওয়া প্রয়োজন।
- প্রতিধ্বনির সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা, কূপের গভীরতা ইত্যাদি নির্ণয় করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৮৬৯.
মহাজাগতিক রশ্মির গবেষণায় নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে পাওয়া যায়—
  1. ক) নিউট্রিনো
  2. খ) বোসন
  3. গ) প্রোটন
  4. ঘ) মেসন
ব্যাখ্যা
• ইউকাওয়া হিদেকি একজন জাপানি পদার্থবিদ । প্রাথমিক কণার তত্ত্বের উপর গবেষণার জন্য তিনি ১৯৪৯ সালের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার পান।
• ১৯৩৫ সালে, ওসাকা ইম্পেরিয়াল ইউনিভার্সিটির একজন প্রভাষক থাকাকালীন,  শক্তিশালী এবং দুর্বল পারমাণবিক শক্তির একটি নতুন তত্ত্ব প্রস্তাব করেছিলেন যেখানে তিনি  একটি নতুন ধরণের কণার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।
• তিনি এটিকে ইউ-কোয়ান্টাম নামে অভিহিত করেন এবং এটি পরবর্তীতে মেসন নামে পরিচিত হয়।
• মেসন এর ভর ইলেক্ট্রন এবং প্রোটনের মধ্যে ছিল।
• মেসন, কোয়ার্ক এবং অ্যান্টিকোয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত সাবএটমিক কণার সদস্য।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১১,৮৭০.
আলোর __________ ফলে পানিতে আংশিক ডুবানো লাঠি বাঁকা দেখা যায়।
  1. প্রতিফলনের
  2. বিক্ষেপণের
  3. প্রতিসরণের
  4. বিচ্ছুরণের
ব্যাখ্যা
আলোর প্রতিসরণ:
- আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদতলে আপতিত হয়, তখন ২য় মাধ্যমে আলোর গতিপথের দিক পাল্টে যাওয়াকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
- আলো এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় প্রতিসরিত আলোকরশ্মি অভিলম্ব হতে সরে যায় বা অভিলম্বের দিকে আসে।
- বিষয়টি দুইটি মাধ্যমের ঘনত্বের উপর নির্ভর করে।
- আলোর প্রতিসরণের জন্য বস্তুর প্রকৃত অবস্থান দেখা যায় না। 

• আলোর প্রতিসরণের ফলে:
- পুকুরের পানির ভেতর মাছকে কিছুটা ওপরে দেখা যায়।
- একটি সরল দণ্ডকে তির্যকভাবে পানিতে ডোবালে বাঁকা দেখা যায়।
- পানিতে ডােবানাে পয়সা উপর থেকে তাকালে কিছুটা উপরে দেখা যায়।
- খাঁড়াভাবে তাকালে পুকুরের গভীরতা প্রকৃত গভীরতা থেকে কম মনে হয়।
- পানিতে আংশিক ডুবানো লাঠি বাঁকা দেখা যায়।

তথ্যসূত্র:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৮৭১.
নিচের কোনটি একটি মৌলিক উপাদানে গঠিত খনিজ?
  1. সোনা
  2. লবণ
  3. চুনাপাথর 
  4. জিপসাম
ব্যাখ্যা

- একটি মৌলিক উপাদানে গঠিত খনিজ হচ্ছে সোনা (Au)। 

খনিজ সম্পদ: 

- মানুষ ভূগর্ভ ও ভূপৃষ্ঠ হতে যেসব বস্তু সংগ্রহ করে নিজের চাহিদা পূরণ করে তাকে খনিজ সম্পদ বলে। 
- কোনো কোনো খনিজ কেবল একটি মৌলিক উপাদানে গঠিত। 
যেমন- সোনা, রূপা, হীরা ইত্যাদি। 
- কিন্তু বেশিরভাগ খনিজ দুই বা তার বেশি মৌলিক উপাদানের রাসায়নিক যৌগের ফলে বা সংমিশ্রণে গঠিত হয়। 
- সাধারণত দুইভাবে খনিজের শ্রেণিবিভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১। উৎপত্তি অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- কোন বস্তু থেকে খনিজের উদ্ভব ঘটেছে তার উপর ভিত্তি করে পৃথিবীর যাবতীয় খনিজ দ্রব্যকে দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) জৈব খনিজ: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি। 
(খ) অজৈব খনিজ: লোহা, নিকেল, সীসা, ম্যাঙ্গানিজ, অভ্র, জিপসাম প্রভৃতি। 

২। প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে খনিজ দ্রব্যগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- (ক) ধাতব খনিজ, (খ) অধাতব খনিজ এবং (গ) জ্বালানি খনিজ। 

অন্যদিকে, 
- চুনাপাথর একটি যৌগিক খনিজ, প্রধানত ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3) দ্বারা গঠিত।
- লবণ মূলত সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) নামক যৌগ দ্বারা গঠিত খনিজ।
- জিপসাম ক্যালসিয়াম সালফেট ডাইহাইড্রেট (CaSO4.2H2O) নামক যৌগ দ্বারা গঠিত একটি সালফেট খনিজ। 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।

১১,৮৭২.
টিকা দেওয়ার ধারণাটি প্রদান করেন কে?
  1. ক) লুই পাস্তুর
  2. খ) এডওয়ার্ড জেনার
  3. গ) কার্ল ল্যান্ডস্টাইনার
  4. ঘ) জোসেফ মিয়েস্টার
ব্যাখ্যা

এডওয়ার্ড জেনার পশ্চিমে ভ্যাকসিনোলজির প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে বিবেচিত।
১৭৯৬ সালে, তিনি 13 বছর বয়সী একটি ছেলের উপর গুটিবসন্তের প্রতিরোধক হিসেবে টিকা প্রয়োগ করেছিলেন।
১৭৯৮ সালে প্রথম গুটিবসন্তের ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছিল।

সোর্স: http://www.aun.edu.eg/

১১,৮৭৩.
ব্যাটারিতে সঞ্চিত শক্তি হলো-
  1. তাপশক্তি
  2. যান্ত্রিক শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি
  4. আলোক শক্তি
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর: 
- খাদ্য এবং জ্বালানি (যেমন- তেল, গ্যাস, কয়লা ও কাঠ) হচ্ছে রাসায়নিক শক্তির আধার। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের শক্তি আমাদের দেহে মুক্ত হয় এবং অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার সময় আমরা দরকারী কাজ করতে পারি। 
বিদ্যুৎ কোষ বা ব্যাটারিতে সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- বিদ্যুৎ শক্তি আবার বাতির ফিলামেন্টে আলোক শক্তি ও তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৮৭৪.
যৌগিক রাশি কোনটি? 
  1. বল 
  2. ভর 
  3. দৈর্ঘ্য 
  4. সময় 
ব্যাখ্যা

মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন - সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ। 

যৌগিক রাশি: 
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়। 
যেমন - বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল। 
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
যেমন- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৮৭৫.
কোনটি পরমাণুর মৌলিক কণার মধ্যে নেই?
  1. প্রোটন
  2. নিউট্রন
  3. ইলেকট্রন
  4. ফোটন
ব্যাখ্যা

• পরমাণুর মৌলিক কণা: পরমাণু মূলত তিনটি মৌলিক কণার সমন্বয়ে গঠিত: প্রোটন, নিউট্রন, ইলেকট্রন।

- প্রোটন (Proton): ধনাত্মক চার্জযুক্ত কণা, যা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকে।
- নিউট্রন (Neutron): নিরপেক্ষ চার্জযুক্ত কণা, নিউক্লিয়াসে থাকে এবং পরমাণুর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
- ইলেকট্রন (Electron): ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা, নিউক্লিয়াসের চারপাশে কক্ষপথে ঘোরে।

• ফোটন (Photon):
- এটি আলোর কণা বা কণা-প্রকৃতির তরঙ্গ যা শক্তি বহন করে, কিন্তু পরমাণুর কাঠামোর অংশ নয়। 
- ফোটন কোনো ভর রাখে না।
- এটি নিউক্লিয়াস বা ইলেকট্রনের অংশ নয়।

সুতরাং, পরমাণুর মৌলিক কণার মধ্যে নেই ফোটন।

তথ্যসূত্র: NCTB মাধ্যমিক রসায়ন। 

১১,৮৭৬.
সালােকসংশ্লেষণে সূর্যের আলাের রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলাে-
  1. ক) ০%
  2. খ) ১০ - ১৫%
  3. গ) ৩ - ৬%
  4. ঘ) ১০০%
ব্যাখ্যা

সহজ ভাষায় বললে,
তাত্ত্বিকভাবে: সালােকসংশ্লেষণে সূর্যের আলাের রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা সর্বোচ্চ ১১%
কিন্তু, বাস্তবক্ষেত্রে: সালােকসংশ্লেষণে সূর্যের আলাের রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা ৩% - ৬%

সঠিক উত্তর গ) ৩ - ৬% সরাসরি নিচের ডকুমেন্টে উল্লেখ করা আছে।

FAO Agricultural Services Bulletin - 128
Chapter 1 -
Biological energy production
[Official Website Link]

 
১১,৮৭৭.
তরুণাস্থি কোন ধরনের টিস্যুর উদাহরণ?
  1. ক) তরল যোজক টিস্যু
  2. খ) তন্তুজ যোজক টিস্যু
  3. গ) কঙ্কাল যোজক টিস্যু
  4. ঘ) স্তম্ভাকৃতি আবরণী টিস্যু
ব্যাখ্যা
তরুণাস্থি- এরা এক ধরনের নমনীয় কঙ্কাল যোজক টিস্যু। এদের মাতৃকা কঠিন অথচ কোমল হয় এবং কোষগুলোর মধ্যে বড় ফাঁকা স্থান থাকে।
যেমন- স্তন্যপায়ী প্রাণীর নাকের ও কানের পিনার তরুণাস্থি, হিউমেরাস, ফিমার ইত্যাদি অস্থির দু’প্রান্তে অবস্থিত তরুণাস্থি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৮৭৮.
স্নায়ুতন্ত্রকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ১ ভাগে
  2. খ) ২ ভাগে
  3. গ) ৩ ভাগে
  4. ঘ) ৪ ভাগে
ব্যাখ্যা

প্রাণিদেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও এর অসংখ্য কোষের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করে স্নায়ুতন্ত্র। স্নায়ুতন্ত্রের সর্বোচ্চ ব্যবহার হয় - মেরুদন্ডী প্রাণিতে।
মেরুদন্ডী প্রাণীরা আজ পৃথিবীতে প্রাধান্য বিস্তারকারী গোষ্ঠী। এ আধিপত্যের অন্যতম কারণ - উন্নত মস্তিষ্ক।
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান কেন্দ্র হচ্ছে মস্তিষ্ক এবং একক হচ্ছে - নিউরন। অসংখ্য নিউরনের সমন্বয়ে মস্তিষ্ক গঠিত।
মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে প্রধানত ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (Central nervous system)
২. প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র (Peripheral nervous system)

উৎসঃ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।

তবে, মাধ্যমিক (উন্মুক্ত) ও অষ্টম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বইতে স্নায়ুতন্ত্রকে ৩ ভাগে বিভক্ত দেখানো হয়েছে।
যথা - কেন্দ্রীয়, প্রান্তীয় ও স্বয়ংক্রিয়।

তবে, এই ক্ষেত্রে জীববিজ্ঞান বোর্ড বইগুলো অধিকতর গ্রহনযোগ্য হওয়ায় ২ ভাগকে সঠিক উত্তর ধরে নিচ্ছি।

১১,৮৭৯.
ফ্যাদোমিটার দিয়ে কি নির্ণয় করা হয়?
  1. বায়ুর চাপ
  2. গ্যাসের চাপ
  3. সমুদ্রের গভীরতা
  4. বায়ুর আর্দ্রতা
ব্যাখ্যা
ফ্যাদোমিটার:
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ের যন্ত্র।
- সাগর বা মহাসাগরের চলাচলকারি জাহাজের নিরাপত্তার জন্য সাগর বা মহাসাগরের গভীরতা জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিস গভীর সমুদ্রের তলদেশে প্রতিফলিত শব্দের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয় এই কাজের জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে ফ্যাদোমিটার বা ইকোগ্রাফ বলে।
- সমুদ্রের তলদেশ থেকে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসার জন্য এ ধরনের একটি ইউনিট এর শব্দ উৎপাদনের জন্য একটি শব্দ প্রতিশব্দ উৎপাদক রয়েছে এ যন্ত্রে একটি অংশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষণিক শব্দের সম্পূর্ণ ভ্রমণ কাল লিপিবদ্ধ করা হয় পানিতে শব্দের বেগ এবং একে দ্বারা চিহ্নিত করা হয়, এসময় জাহাজটি কর্তৃক অতিক্রান্ত দূরত্ব হলে পরবর্তী সমীকরণ থেকে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা যায়।

অন্যদিকে -
- হাইগ্রোমিটার বায়ুর আর্দ্রতা মাপার যন্ত্র।
- বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্র: ব্যারোমিটার।
- গ্যাসের চাপ মাপার যন্ত্র: ম্যানোমিটার।

উৎস: Britannica.
১১,৮৮০.
ভাইরাস সম্পর্কে কোন্ বিবৃতিটি সঠিক? 
  1. এদের যেকোনো সিনথেটিক নিউট্রিয়েন্ট মিডিয়ামে কালচার করা যায় 
  2. এদের জেনেটিক উপাদান হিসেবে ডিএনএ এবং আরএনএ থাকে 
  3. এরা এক ধরণের অন্তঃকোষীয় পরজীবী
  4. ভাইরাস হল অণুবীক্ষণিক জীবন্ত প্রাণী
ব্যাখ্যা

- ভাইরাস নিজেরা স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে বা বংশবিস্তার করতে পারে না। তারা জীবন্ত কোষের ভিতরে প্রবেশ করে সেই কোষের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বংশবিস্তার করে, তাই ভাইরাসকে বলা হয় অবশ্যিক অন্তঃকোষীয় পরজীবী। অন্যদিকে, ভাইরাসে DNA অথবা RNA থাকে কিন্তু উভয়টি একসাথে কখনো থাকে না। 

ভাইরাসের বেশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনোও জীবের ন্যায় আচরণ করে, আবার কখনোও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। 
যেমন- 
• ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
- পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
- ভাইরাসের মধ্যে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
- ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

• ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষঝিল্লী, কোষপ্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
- ভাইরাসের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
- ভাইরাসের কোনো জৈবিক কার্যকলাপ যেমন- প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৮৮১.
সেরিকালচার সম্পর্কিত কোনটি?
  1. মধু উৎপাদন
  2. রেশম উৎপাদন
  3. মাছ চাষ
  4. ফুল চাষ
ব্যাখ্যা
◉ সেরিকালচার হলো রেশমকীট (Silkworm) পালন ও রেশম উৎপাদনের প্রক্রিয়া।

সেরিকালচার:
- বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রেশম পোকার চাষ পদ্ধতিকে বলে সেরিকালচার।
- রেশম পকার ইংরেজি নাম Silk Worm.
- বৈজ্ঞানিক নাম: Bombyx Mori.
- তুঁতজাত রেশম মথের প্রতিপালন এবং এর গুটি থেকে অপরিশোধিত রেশম নিষ্কাশন ও পরিশোধন করে ব্যবহারোপযোগী পণ্যে পরিণত করার সার্বিক পদ্ধতিই সেরিকালচার নামে পরিচিত।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
মধু উৎপাদন - Apiculture, 
মাছ চাষ - Pisciculture, 
ফুল চাষ - Floriculture.

উৎস: ব্রিটানিকা।
১১,৮৮২.
ধাতুর সক্রিয়তা ক্রম কোনটি সঠিক?
  1. K> Li> Na> Mg
  2. K> Li> Mg> Na
  3. Li> K> Na> Mg
  4. Li> Na> K> Mg
ব্যাখ্যা
• ধাতুর সক্রিয়তার সঠিক ক্রম: Li> K> Na> Mg।

• ধাতুর সক্রিয়তাক্রম:

- যে ধাতুর ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে ধাতু ততো বেশি সক্রিয়। 
- আর যে ধাতুর ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে ধাতু ততো কম সক্রিয়। 
- ধাতু সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে।


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৮৮৩.
Fahrenheit and Celsius scales show the same reading at -
  1. ক) - 30 Degree
  2. খ) - 40 Degree
  3. গ) - 80 Degree
  4. ঘ) -45 Degree
ব্যাখ্যা
সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হলো -
C/5 = (F - 32)/9 [C = সেলসিয়াস তাপমাত্রা, F = ফারেনহাইট তাপমাত্রা]

এখন, সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের তাপমাত্রা সমান (x) হলে,
x/5 = (x - 32)/ 9
Or, 9x = 5x - 160
Or, 4x = -160
Or, x = - 40

অর্থাৎ, (- 40) ডিগ্রিতে সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ফারেনহাইট তাপমাত্রা সমান।
১১,৮৮৪.
কপার ও টিনের সংকর ধাতু কোনটি?
  1. পিতল
  2. ইস্পাত
  3. ডুরালুমিন
  4. কাঁসা
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু:
- দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে।
যেমন-
- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু।
- পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু।
- সংকর ধাতু পিতলে ৬৫% তামা এবং ৩৫% দস্তা মিশ্রিত থাকে।
- সংকর ধাতু পিতলের প্রধান উপাদান হলো তামা যা শতকরা ৬৫% থাকে।

তথ্যসূত্র - রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৮৮৫.
যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন কোনটি?
  1. ক) টেস্টোস্টেরন
  2. খ) গ্লুকাগন
  3. গ) থাইরক্সিন
  4. ঘ) অ্যাড্রেনালিন
ব্যাখ্যা
টেস্টোস্টেরন পুরুষের যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান হরমোন। তবে, নারীদের স্বাস্থ্যগত অনেক দিকের সঙ্গেও এই হরমোনের প্রভাব রয়েছে।
১১,৮৮৬.
ডেনড্রাইটের মূল কাজ কী?
  1. অন্য নিউরনকে পুষ্টি প্রেরণ করা
  2. স্নায়ু উদ্দীপনা সংরক্ষণ করা
  3. অন্য নিউরন থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা গ্রহণ করা
  4. স্নায়ু উদ্দীপনা প্রেরণ করা
ব্যাখ্যা

- ডেনড্রাইটের প্রধান কাজ হল অন্য নিউরন বা পরিবেশ থেকে স্নায়বিক সংকেত বা তথ্য গ্রহণ করা এবং তা নিউরনের কোষদেহের দিকে পরিচালিত করা। 

নিউরনের গঠন: 
- প্রতিটি নিউরন কোষদেহ এবং প্রলম্বিত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। 
(a) কোষদেহ (Cell body): 
- প্লাজমামেমব্রেন, সাইটোপ্লাজম আর নিউক্লিয়াস নিয়ে গঠিত নিউরনের গোলাকার, তারকাকার, অথবা ডিম্বাকার অংশ কোষদেহ নামে পরিচিত।  এখানে সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজিবস্তু, লাইসোজোম, চর্বি, গ্লাইকোজেন, রঞ্জক কণাসহ অসংখ্য নিসল দানা থাকে। 

(b) প্রলম্বিত অংশ: 
- কোষদেহ থেকে সৃষ্ট শাখা-প্রশাখাকেই প্রলম্বিত অংশ বলে। 
- প্রলম্বিত অংশ দুই ধরনের। 
(i) ডেনড্রন (Dendron): 
- কোষদেহের চারদিকের শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রন বলে।
- ডেনড্রন থেকে যে শাখা বের হয় তাদের ডেনড্রাইট বলে। একটি নিউরনে ডেনড্রন সংখ্যা শূন্য থেকে শতাধিক পর্যন্ত হতে পারে। ডেনড্রাইট অন্য নিউরন থেকে স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করে। 

(ii) অ্যাক্সন (Axon): 
- কোষদেহ থেকে উৎপন্ন বেশ লম্বা তদুটির নাম অ্যাক্সন। এর চারদিকে পাতলা আবরণটিকে নিউরিলেমা বলে। নিউরিলেমা এবং অ্যাক্সনের মধ্যবর্তী অঞ্চলে স্নেহ পদার্থের একটি স্তর থাকে, একে মায়েলিন (Myelin) বলে। অ্যাক্সনের শেষ মাথা অ্যাক্সন টারমিনালে বিভক্ত হয়ে যায়, এবং এই টারমিনালগুলো দিয়ে সিন্যাপস মারফত অন্য নিউরনের ডেনড্রাইটে স্নায়ু তাড়না প্রেরণ করা হয়। 
- বহুসংখ্যক অ্যাক্সন ও ডেনড্রাইট মিলিত হয়ে স্নায়ু গঠন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,৮৮৭.
নিচের কোন ভেক্টরটির মান শূন্য?
  1. সরণ ভেক্টর
  2. নাল ভেক্টর
  3. একক ভেক্টর
  4. অবস্থান ভেক্টর
ব্যাখ্যা
একক ভেক্টর (Unit vector): 
- যে ভেক্টর রাশির মান এক একক তাকে একক ভেক্টর বলে। 
- মান শূন্য নয় এরূপ একটি সঠিক ভেক্টরকে তার মান দ্বারা ভাগ করলে ঐ ভেক্টরের দিকে একটি একক ভেক্টর পাওয়া যায়। 
- একক ভেক্টরকে টুপি (^) চিহ্ন দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- û দ্বারা একক ভেক্টরকে প্রকাশ করা হয়। 

নাল বা শূন্য ভেক্টর (Null or Zero vector): 
- যে ভেক্টর রাশির মান শূন্য, তাকে নাল বা শূন্য ভেক্টর বলা হয়। 
- শূন্য ভেক্টরের পাদবিন্দু এবং শীর্ষবিন্দু একই। 
- পরস্পর বিপরীত দিকে ক্রিয়াশীল দুটি সমান ভেক্টরের লব্দিই হল নাল ভেক্টর। 

অবস্থান ভেক্টর (Position vector): 
- প্রসংগ কাঠামোর মূল বিন্দুর সাপেক্ষে কোনো বিন্দুর অবস্থান যে ভেক্টরের সাহায্যে নির্ণয় করা হয়, তাকে অবস্থান ভেক্টর বলা হয়। 

সরণ ভেক্টর (Displacement vector): 
- যে কোনো দুটি বিন্দুর মধ্যবর্তী পথের দৈর্ঘ্যকে যে কোনো ভাবেই অতিক্রম করা যায়। কিন্তু সরল বা রৈখিক পথে দুই বিন্দুর মধ্যবর্তী অতিক্রান্ত দূরত্বকে সরণ ভেক্টর বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৮৮৮.
ইউরেনিয়াম কে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে শক্তির কিরূপ পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) রাসায়নিক শক্তি থেকে শব্দ শক্তি
  2. খ) যান্ত্রিক শক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি
  3. গ) তাপশক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি
  4. ঘ) পারমাণবিক শক্তি থেকে শব্দ শক্তি
ব্যাখ্যা
ইউরেনিয়াম কে নিউট্রন দিয়ে  আঘাত করলে ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে যায় , ছোটো ছোটো মৌলের নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় । এতে প্রচুর শক্তি ও নিউট্রন উৎপন্ন হয় ।

উৎস: নবম- দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই
১১,৮৮৯.
কোন জ্যোতির্বিজ্ঞানী হ্যালির ধূমকেতু আবিষ্কার করেন?
  1. আইজ্যাক নিউটন 
  2. এডমন্ড হ্যালি
  3. গ্যালিলিও গ্যালিলি
  4. কার্ল সাগান
ব্যাখ্যা

• ধূমকেতু (Comet):
- মহাকাশে মাঝে মাঝে একপ্রকার জ্যোতিষ্কের আবির্ভাব ঘটে।
- এদের একটি মাথা ও একটি লেজ আছে।
- এসব জ্যোতিষ্ককে ধূমকেতু বলে।
- ধূমকেতু আকাশের এক অতি বিস্ময়কর জ্যোতিষ্ক।
- সৌরজগতের মধ্যে ধূমকেতুর বসবাস হলেও এরা কিছুদিনের জন্য উদয় হয়ে আবার অদৃশ্য হয়ে যায়।
- সূর্যের চারদিকে অনেক দূর দিয়ে এরা পরিক্রমণ করে। সূর্যের নিকটবর্তী হলে এদের দেখা যায়।
- এরা সূর্যের যত কাছাকাছি আসতে থাকে তত এদের লেজ লম্বা হতে থাকে।
- অনেক দীর্ঘ কক্ষপথে সূর্যকে পরিক্রমণ করে বলে এরা অনেক বছর পর পর আবির্ভূত হয়।
- জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি যে ধূমকেতু আবিষ্কার করেন তা হ্যালির ধূমকেতু নামে পরিচিত।
- হ্যালির ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছরে একবার দেখা যায়।
- হ্যালির ধূমকেতু ২৪০ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দ থেকে দেখা যায় এবং সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধূমকেতু দেখা গেছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

১১,৮৯০.
আমরা যে চক দিয়ে লিখি তা হলো-
  1. ক) ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড
  2. খ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  3. গ) ক্যালসিয়াম সালফেট
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম ফসফেট
ব্যাখ্যা
• আমরা যে চক দিয়ে লিখি তা হলো- ক্যালসিয়াম কার্বনেট। 

- চক CaCO3 ক্যালসিয়ামের একটি আকরিক। প্রাকৃতিক চর্ক তৈরি হয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3) থেকে।
- পানির নীচে বছরের পর বছর জমে থাকার ফলে এই ক্যালসিয়াম কার্বনেটের রাসায়নিক গঠন পরিবর্তন হয়ে কালক্রমে চকে রূপান্তরিত হয়।
১১,৮৯১.
জলজ উদ্ভিদের কোন টিস্যুতে বড় বড় বায়ুকুঠুরী থাকে?
  1. কোলেনকাইমা
  2. প্যারেনকাইমা
  3. স্ক্লেরেনকাইমা
  4. একটিভ টিস্যু
ব্যাখ্যা
সরল টিস্যু: 
- যে স্থায়ী টিস্যু একই প্রকার কোষ দ্বারা গঠিত, একই উৎসস্থল থেকে উৎপন্ন হয় এবং একই ধরনের কাজ সম্পন্ন করে তাকে সরল টিস্যু বলা হয়। 
- আকৃতি ও প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- i. প্যারেনকাইমা, ii. কোলেনকাইমা এবং iii. স্ক্লেরেনকাইমা। 

প্যারেনকাইমা: 
- প্রায় সমান ব্যাসবিশিষ্ট, সাধারণত পাতলা বা পুরু প্রাচীর যুক্ত কোষ দ্বারা এ টিস্যু গঠিত। 
- এ প্রকার টিস্যুর কোষের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা প্রায় একই রকম হয়। 
- আকৃতিতে এরা গোলাকার, ডিম্বাকার, লম্বাটে বা বহুভূজাকৃতির হয়। 
- এ টিস্যুর কোষসমূহের মধ্যে আন্তঃকোষীয় ফাঁকা স্থান থাকতে পারে কিংবা নাও থাকতে পারে। 
- এ জাতীয় কোষে ঘন প্রোটোপ্লাজম থাকে এবং এরা জীবিত টিস্যু। 
- উদ্ভিদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের অধিকাংশ অংশ বিশেষ করে কোমল অংশ এ টিস্যু দ্বারা গঠিত। 
- উদ্ভিদের মূল, কান্ডের ত্বক, কর্টেক্স, মজ্জা, মজ্জারশ্মি, পাতার মেসোফিল টিস্যু, বীজের ভ্রূণ ও এন্ডোস্পার্ম, ফল ও ফুলের নরম ও মাংসল অংশ ইত্যাদি প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। 
- কোন কোন প্যারেনকাইমা কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে তাদেরকে ক্লোরেনকাইমা বলা হয়। 
- পাতার ক্লোরেনকাইমাকে মেসোফিল বলে। 
- জলজ উদ্ভিদের প্যারেনকাইমা টিস্যুতে বড় বড় বায়ুকুঠুরী থাকে যাকে অ্যারেনকাইমা বলা হয়। 
- কোন কোন প্যারেনকাইমা কোষে তেল, ট্যানিন এবং নানা ধরনের খনিজ পদার্থ জমা থাকে। 

কাজ: 
- প্যারেনকাইমা টিস্যুর প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা, ক্লোরেনকাইমা ও মেসোফিল টিস্যুর কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা। 
- জলজ উদ্ভিদের অ্যারেনকাইমা উদ্ভিদকে বা তার অংশবিশেষকে পানিতে ভেসে থাকতে সাহায্য করে, ত্বকে অবস্থিত প্যারেনকাইমা প্রতিরক্ষা ও দৃঢ়তা প্রদান করে, জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুতে অবস্থিত প্যারেনকাইমা খাদ্যের কাঁচামাল ও তৈরি খাদ্য পরিবহনে সাহায্য করে, অন্যান্য টিস্যুর সাথে মিলে দৃঢ়তা প্রদান করে, মুকুল উৎপাদনের মাধ্যমে বংশ বিস্তারে সাহায্য করে এবং স্ফীত ও রসালো উদ্ভিদে পানি সঞ্চয় করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৮৯২.
সালফারের অভাবে উদ্ভিদে যে রোগ দেখা দেয়, তাকে কী বলে? 
  1. রুট রট 
  2. মোল্ড 
  3. ব্লাইট 
  4. ডাইব্যাক 
ব্যাখ্যা

সালফার: 
- সালফার (S) উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) রোগ বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,৮৯৩.
জুটিন আবিষ্কার করেন-
  1. ক) ড. মাকসুদুল আলম
  2. খ) ড. আব্দুল খালেক
  3. গ) ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ
  4. ঘ) ড. মোবারক আহমেদ খান
ব্যাখ্যা
পাট থেকে ঢেউটিনের আবিষ্কার করেন ড. মোবারক আহমেদ খান। পাট (Jute) দিয়ে তৈরী বলে এ টিনের নাম জুটিন (Jutin)
তাঁর অন্যান্য আবিষ্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সোনালি ব্যাগ, হেলমেট ও টাইলস। তাঁর তৈরি সোনালি ব্যাগ বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হচ্ছে।

জুটন (পাট ও তুলার সংমিশ্রণে তৈরি বস্ত্র) এর আবিষ্কারক- ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ।
পাটের জিন বিন্যাস আবিষ্কার করেন- ড. মাকসুদুল আলম।
স্বর্ণা সার আবিষ্কার করেন- ড. আব্দুল খালেক।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস এবং প্রথম আলো পত্রিকা।
১১,৮৯৪.
নিচের কোনটি জীবের বংশগতিতে অবদান রাখে?
  1. ক) নিউক্লিয়াস
  2. খ) ক্রোমাটিন জালিকা
  3. গ) নিউক্লিউপ্লাজম
  4. ঘ) নিউক্লিয়ার ঝিল্লী
ব্যাখ্যা

ক্রোমাটিন জালিকা জীবের বংশগতিতে অবদান রাখে।

ক্রোমাটিন জালিকা (Chromatin reticulum):
কোষের বিশ্রামকালে কেন্দ্রিকায় কুণ্ডলী পাকানো সূক্ষ্ম সুতার ন্যায় অংশই ক্রোমাটিন জালিকা। কোষ বিভাজনের সময় এরা মোটা ও খাট হয় তাই তখন তাদের আলাদা আলাদা ক্রোমোজোম হিসেবে দেখা যায়।

ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনগুলো বংশগতির গুণাবলি বহন করে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে নিয়ে যায়। কোনো একটি জীবের ক্রোমোজোম সংখ্যা ওই জীবের জন্য নির্দিষ্ট। এসব ক্রোমোজোমে বংশধারা বহনকারী জিন অবস্থান করে। পুরুষানুক্রমে বংশের বৈশিষ্ট্য বহন করা ক্রোমোজোমের কাজ।

কোষ জীবদেহের (উদ্ভিদ ও প্রাণী) গঠনের একক। এককোষী ও বহুকোষী প্রাণীদের কোষে কাজ ভিন্ন ভিন্নভাবে পরিচালিত হয়। পৃথিবীর আদি সব ধরনের ক্রিয়াকলাপ যেমন খাদ্যগ্রহণ, দেহের বৃদ্ধি ও প্রজনন ওই এক কোষের মাধ্যমে সম্পন্ন করে থাকে। বহুকোষী প্রাণীদের দেহকোষের মাঝে ভিন্নতা আছে, আছে বৈচিত্র্যতা।

মানবদেহে নানা ধরনের কোষ আছে যারা ভিন্ন ভিন্ন কাজে নিয়োজিত। মানবদেহের স্নায়ুকোষ জালের মতো ছড়িয়ে থাকে। দেহের যে কোনো অংশের উদ্দীপনা গ্রহণ করে মস্তিষ্কে প্রেরণ করা, আবার মস্তিষ্কের কোনো বার্তা শরীরের নির্দিষ্ট অংশে পৌঁছে দেওয়াই এদের কাজ।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

১১,৮৯৫.
হাড়ের চিকিৎসায় ব্যাবহৃত আইসোটোপ -
  1. কোবাল্ট- ৬০
  2. আয়োডিন-১৩১
  3. প্লুটোনিয়াম -২৩৮
  4. টেকনেশিয়াম - ৯৯
ব্যাখ্যা
চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ
- চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের প্রধানত দু’ধরনের ব্যবহার আছে। যেমন -
ক) রোগ নিরাময়ে ও
খ) কোন রোগ বা রোগাক্রান্ত স্থান নির্ণয়।

- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর নিরাময়ের জন্য Co - 60 থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
- কোবাল্ট- 60 থেকে নির্গত গামা রশ্মির সাহায্যে অপারেশনের যন্ত্রপতি রোগ জীবাণুমুক্ত করা হয়। 

-  থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-১৩১ (131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে।
-  শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা বা লিউকোমিয়া (blood-leukemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
-  দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99Tc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
-  প্লুটোনিয়াম -২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বই (উন্মুক্ত)।
১১,৮৯৬.
ক্লোরোফর্মের রাসায়নিক সংকেত কোনটি?
  1. CCl4
  2. CHCl3
  3. CH2Cl2
  4. CH3Cl
ব্যাখ্যা

◉ ক্লোরোফর্ম (Chloroform) হলো একটি জৈব যৌগ, যার রাসায়নিক সংকেত CHCl3

ক্লোরোফর্মের ব্যবহার: 
- পূর্বে সার্জারির সময় অ্যানেসথেটিক হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- জৈব দ্রাবক (Organic Solvent) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- প্লাস্টিক ও ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- ক্লোরোফর্ম অতিরিক্ত গ্রহণ করলে স্নায়ুতে প্রভাব ফেলতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে ক্ষতিকর হতে পারে।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
CCl4 - কার্বন টেট্রাক্লোরাইড; 
CH2Cl2 - ডাইক্লোরোমিথেন; 
CH3Cl - মিথাইল ক্লোরাইড। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা। 

১১,৮৯৭.
সাধারণত কোন তাপমাত্রায় শ্বসন প্রক্রিয়া ভালোভাবে চলে?
  1. 10°-15° C
  2. 15°-25° C
  3. 30°-40° C
  4. 20°-35° C
ব্যাখ্যা
শ্বসন (Respiration): 
- শ্বসন হলো শক্তি নির্গমনকারী কতিপয় জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার সমষ্টি। 
- শক্তি উৎপাদনকালে জটিল খাদ্যদ্রব্য সরল দ্রব্যে পরিণত হয়। 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ জটিল জৈবযৌগ (খাদ্যবস্তু) জারিত হয়, ফলে জৈবযৌগে সঞ্চিত স্থিতিশক্তি রূপান্তরিত হয়ে গতিশক্তি বা রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে শ্বসন বলে। 
- শ্বসনের ফলে যে শক্তি নির্গত হয় তা জীবের বিভিন্ন শক্তি শোষণকারী কার্যকলাপে ব্যয় হয়। 

শ্বসনের প্রকারভেদ: 
- অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে শ্বসন প্রক্রিয়াকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: (ক) সবাত শ্বসন (Aerobic respiration) এবং (খ) অবাত শ্বসন (Anaerobic respiration)। 
- যে শ্বসন ক্রিয়ার জন্য মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তাকে সবাত শ্বসন বলে এবং যে শ্বসন ক্রিয়ার জন্য মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় না অর্থাৎ অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সংঘটিত হয়, তাকে অবাত শ্বসন বলে। 

শ্বসন প্রক্রিয়ার প্রভাবকসমূহ: 
- নিম্নলিখিত বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ প্রভাবকসমূহ শ্বসন ক্রিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। 
যেমন- 
(ক) বাহ্যিক প্রভাবকসমূহ (External factors): 
১। তাপমাত্রা: 
- শ্বসন ক্রিয়া কতগুলো রাসায়নিক বিক্রিয়ার সমষ্টি, আর এ রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোর হার বিভিন্ন উৎসেচক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। 
- যেহেতু উৎসেচকসমূহের কার্যকারিতা তাপমাত্রার ওপর নির্ভরশীল সেহেতু তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধি শ্বসনের হারকেও নিয়ন্ত্রিত করে। 
- তাপমাত্রা 0° সে. থেকে 30° সে. পর্যন্ত বাড়ার সাথে সাথে শ্বসন হারও ক্রমাগত বাড়ে। 0° সে. তাপমাত্রায় শ্বসন হার খুবই কম থাকে। 
- সাধারণত 20°-35° C তাপমাত্রায় শ্বসন প্রক্রিয়া ভালোভাবে চলে। 
- 45°C এর ওপরের তাপমাত্রায় উৎসেচকসমূহের বিক্রিয়ার হার তথা শ্বসনের হার বেশ কমে যায়। 

২। অক্সিজেন: 
- পাইরুভিক অ্যাসিডের পূর্ণাঙ্গ জারণের জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন। 
- সবাত শ্বসনে পাইরুভিক আসিড সম্পূর্ণ জারিত হয়ে CO2 ও H2O উৎপন্ন করে। 
- অতএব কেবল সবাত শ্বসনেই অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে। 

৩। পানি: 
- কতগুলো বিক্রিয়ায় পানির প্রয়োজন হয়, অতএব প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহও শ্বসন ত্রিয়াকে প্রভাবিত করে থাকে। 

৪। আলো: 
- শ্বসনকার্যে আলোর প্রয়োজন পড়ে না সত্যি কিন্তু দিনের বেলায় আলোর উপস্থিতিতে পত্ররন্ধ্র খোলা থাকায় O2 গ্রহণ ও CO2 ত্যাগ করা সহজ হয় বলে শ্বসন হার একটু বেড়ে যায়। 

৫। কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব: 
- বায়ুতে CO2 এর ঘনত্ব বেড়ে গেলে শ্বসন হার কিঞ্চিৎ কমে যায়। 

(খ) অভ্যন্তরীণ প্রভাবকসমূহ (Internal factors): 
১। জটিল খাদ্যদ্রব্য: 
- সরল খাদ্য গ্লুকোজ শ্বসন ক্রিয়ার প্রধান শ্বসনিক বস্তু। 
- বিভিন্ন বিক্রিয়ায় কোষস্থ জটিল খাদ্যই গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়। 
- কাজেই জটিল খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণ ও ধরন শ্বসন প্রক্রিয়ার হারকে নিয়ন্ত্রণ করে। 

২। উৎসেচক: 
- শ্বসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় অসংখ্য উৎসেচক অংশগ্রহণ করে, তাদের উপস্থিতির ওপরই সম্পূর্ণ শ্বসন প্রক্রিয়াটি নির্ভরশীল। 

৩। কোষের বয়স: 
- যে কোষে প্রোটোপ্লাজম অধিক (অল্প বয়সের) সেসব কোষে শ্বসন হার অধিক হয়। 

৪। কোষস্থ অজৈব লবণ: 
- কোষে অজৈব লবণ অধিক পরিমাণে থাকলে শ্বসন হার বেড়ে যায়। 

৫। কোষ মধ্যস্থ পানি: 
- কোষে প্রয়োজনীয় পানির অভাব হলে শ্বসন হার কমে যায়। 

৬। মাটিতে অজৈব লবণ: 
- মাটিতে NaCl, KCI, CaCI2 ও MgCl2 এর দ্রবণের সরবরাহ বৃদ্ধি ঘটিয়ে শ্বসন হার বৃদ্ধি করা যায়। 

৭। অন্যান্য প্রভাবক: 
- আঘাতপ্রাপ্ত টিস্যুতে আঘাত নিরাময়ের জন্য কোষ বিভাজন দ্রুততর হয়, ফলে শ্বসন হার বেড়ে যায়। 
- হাত দিয়ে পাতা মৃদু ঘষে দিলে শ্বসন হার বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
১১,৮৯৮.
বাণিজ্যিকভাবে পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরিতে ব্যবহৃত হয় -
  1. Yeast
  2. Agaricus
  3. Penicillium
  4. Mucor
ব্যাখ্যা
ছত্রাক:

• ছত্রাক ক্লোরোফিলবিহীন, নিউক্লিয়াসযুক্ত বহুকোষী, পরভোজী বা মৃতজীবী।
• ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন (এক প্রকার জটিল পলিস্যাকারাইড) নির্মিত।
• উদাহরণ: মিউকর (Mucor), ঈস্ট (Yeast), ব্যাঙের ছাতা/ মাশরুম (Agaricus), পেনিসিলিয়াম (Penicillium)। 
• বাণিজ্যিকভাবে পেনিসিলিয়াম নামক ছত্রাক থেকে পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা হয়।
• আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ১৯২৯ সালে পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন।
• এটি একটি অ্যান্টিবায়োটিক।
• Penicillium notatum থেকে পেনিসিলিন আবিষ্কার করা হয়।
• পেনিসিলিনটি কান, নাক এবং গলার ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়।
• এছাড়া এটি সাইনাস, ত্বক, নিম্ন শ্বাস নালীর, পেট, অন্ত্র, কিডনি এবং মূত্রাশয়ের ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের জন্য দায়ী। 

- অপরদিকে, 
• রুটি শিল্পে, পাউরুটি ফোলাতে, মদ্য শিল্পে, খাদ্য উপযোগী এককোষীয় প্রোটিন উৎপাদনে ঈস্ট ব্যবহার করা হয়।
• ছত্রাক বিভিন্ন রোগের জন্য দায়ী। ধানের পাতায় বাদামী রোগ, আলুর লেটুব্লাইট, আখের লালপচা, চা গাছের ব্লিস্টার বাইট ইত্যাদি রোগের জন্য ছত্রাক দায়ী।    

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৮৯৯.
বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালালে আমরা কোন ধরনের শক্তি পাই? 
  1. ক) যান্ত্রিক শক্তি
  2. খ) রাসায়নিক শক্তি
  3. গ) চুম্বক শক্তি
  4. ঘ) আলোক শক্তি
ব্যাখ্যা

আগুন ও বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালালে আমরা আলোক শক্তি ও তাপ শক্তি পাওয়া যায়। তাপ শক্তির সাথে সূর্য থেকে সরাসরি আর যে শক্তিটি আসে তা হচ্ছে আলোক শক্তি। আলোক শক্তি ছাড়া আমরা কিছুই দেখতে পারি না। সূর্য আলোক শক্তির প্রধান উৎস।
অপরদিকে, তাপ শক্তি সরাসরি সূর্য থেকে সরাসরি আসে। এই তাপ শক্তি পৃথিবীকে উষ্ণ রাখে। তাপ শক্তি ছাড়া কোন প্রাণী বা, উদ্ভিদ বেঁচে থাকতে পারে না।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি

১১,৯০০.
সেকেন্ড দোলক হচ্ছে যে সরল দোলকের দোলনকাল- 
  1. এক সেকেন্ড
  2. দুই সেকেন্ড
  3. তিন সেকেন্ড
  4. চার সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
সরল দোলক: 
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে একটি ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে একটি উল্লম্ব তলে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে। 

সেকেন্ড দোলক: 
- যে দোলকের দোলনকাল দুই সেকেন্ড অর্থাৎ, দোলকের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে এক সেকেন্ড সময় লাগে তাকে সেকেন্ড দোলক বলে। 

কার্যকরী দৈর্ঘ্য: 
- ঝুলন বিন্দু থেকে ববের ভারকেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্বকে সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বলে। 

সরল দোলন গতি: 
- যদি কোনো বস্তুর ত্বরণ একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে এর সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদা ঐ বিন্দু অভিমুখী হয়, তাহলে বস্তুর ঐ গতিকে সরল দোলন গতি বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।