◉ পৃথিবীর উপরিভাগের বড় বড় টুকরোগুলো ভাসমান অবস্থায় আছে এবং এগুলোকে টেকটনিক প্লেট বলা হয়। এই প্লেটগুলো পৃথিবীর লিথোস্ফিয়ারের অংশ এবং এগুলো ক্রমাগত নড়াচড়া করে, যা ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং পর্বত গঠনের মতো ভূতাত্ত্বিক ঘটনাগুলোর কারণ হয়ে থাকে।
টেকটনিক প্লেট:
- ভূ-পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত এগুলোকে প্লেট বলা হয়।
- এই প্লেটগুলো প্রতিবছরে কয়েক সেন্টিমিটার কোনো একদিকে সরে যায়। প্লেটগুলো কখনও একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যায়। আবার কখনও কখনও একে অন্যের দিকে আসে। কখনও কখনও প্লেটগুলো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে ওঠে বা নিচে নামে। একটি প্লেটের সাথে আরেকটি প্লেট যেখানে মেশে সেখানেই বেশি ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা ঘটে।
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত থাকলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা আরও বাড়ে।
- প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর ভাগ সৃষ্টি হয়।
- তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়। এ গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে। একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে।
- বেরিয়ে আসা গলিত ভরল পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত ।
- একইভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে একেই ভুমিকম্প বলে।
অন্যান্য অপশনসমূহ,
খ) জিওলজিক্যাল স্ট্র্যাটা: জিওলজিক্যাল স্ট্র্যাটা বলতে পৃথিবীর ভূত্বকের স্তরগুলোকে বোঝায়, যা বিভিন্ন প্রকার শিলা এবং মাটির স্তর দ্বারা গঠিত। এই স্তরগুলো সময়ের সাথে সাথে জমা হয়ে তৈরি হয় এবং ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের তথ্য ধারণ করে।
গ) ম্যান্টল: ম্যান্টল হলো পৃথিবীর ভূত্বক এবং কোরের মধ্যবর্তী স্তর। এটি একটি অর্ধ-কঠিন স্তর, যা প্রধানত সিলিকেট খনিজ দ্বারা গঠিত। ম্যান্টল টেকটনিক প্লেটের নিচে অবস্থান করে এবং এর গতিশীলতা প্লেটগুলোর নড়াচড়ার জন্য দায়ী।
ঘ) ম্যাগমা: ম্যাগমা হলো গলিত শিলা, যা পৃথিবীর ভূত্বক এবং ম্যান্টলে পাওয়া যায়। এটি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় লাভা হিসেবে বেরিয়ে আসে। ম্যাগমা টেকটনিক প্লেট গঠন করে না, বরং এটি প্লেটগুলোর নড়াচড়া এবং ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।
উৎস: বিজ্ঞান, ৬ষ্ঠ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।