বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / ১৪০ · ১০০ / ১৪,০৮০

.
বাংলাদেশের প্রমাণ সময় গ্রীনিচের সময় অপেক্ষা -
  1. ৬ ঘণ্টা অগ্রগামী
  2. ৬ ঘণ্টা পশ্চাৎগামী
  3. ৪ ঘণ্টা অগ্রগামী
  4. ৪ ঘণ্টা পশ্চাৎগামী
ব্যাখ্যা
গ্রিনিচ মান:
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়।
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

⇒ বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের সময়ের পার্থক্য +৬ ঘন্টা।
- অর্থাৎ, ৬ ঘণ্টা অগ্রগামী।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
মাইক্রোপ্রসেসরের প্রধান কাজ কোনটি?
  1. তথ্য স্থায়ীভাবে জমা রাখা
  2. তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করা
  3. বিদ্যুৎ শক্তি সঞ্চয় করা
  4. তথ্য প্রদর্শন করা
ব্যাখ্যা

• মাইক্রোপ্রসেসর: 
- সমন্বিত (Integrated Circuit) বর্তনী আবিষ্কারের ফলে বর্তমানে পার্সোনাল কম্পিউটারগুলোতে কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট এবং গাণিতিক/যুক্তি ইউনিটগুলো একই সঙ্গে মাইক্রোপ্রসেসরে থাকে। ফলে আধুনিক কম্পিউটারে কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট বলতে মাইক্রোপ্রসেসরকেই বুঝায়। 
- মাইক্রোপ্রসেসরের ক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্যের উপর কম্পিউটারের ক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে। 
- মাইক্রোপ্রসেসরের প্রধান কাজগুলো হলো- 
১. ইনপুট ও আউটপুট অংশগুলোর সংগে কাজের সমন্বয় সাধন করা। 
২. গাণিতিক/যুক্তির কাজ করা। 
৩. কম্পিউটারের স্মৃতিতে সঞ্চিত প্রোগ্রাম নির্বাহ করা।  
৪. স্মৃতি ও গাণিতিক/যুক্তি অংশের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ এবং অন্যান্য অংশের সাথে তথ্য বিনিময়ের কাজ নিয়ন্ত্রণ করা। 
- এই সমস্ত কাজ সম্পাদনের জন্য মাইক্রোপ্রসেসরের ভিতরে প্রয়োজনীয় বর্তনী থাকে। 
- উপরে উল্লিখিত কাজগুলো সম্পাদনের জন্য মাইক্রোপ্রসেসরের ভিতরের সংগঠনকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। নিয়ন্ত্রণ অংশ, 
২। গাণিতিক/যুক্তি অংশ এবং   
৩। স্মৃতি । 


উৎস: কম্পিউটার শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোন আলোক তরঙ্গ মানব চোখে দেখতে পাওয়া যায়?
  1. ১০ থেকে ৪০০ নেমি (nm)
  2. ৪০০ থেকে ৭০০ নেমি (nm)
  3. ১০০ মাইক্রোমিটার (um) থেকে ১ মি(m)
  4. ১ মি(m) - এর ঊধবে
ব্যাখ্যা
- আলো হচ্ছে বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ। 
- সব ধরনের আলো আমরা দেখতে পাই না। 
- যে আলোর তরঙ্গ (Light spectrum) দৈর্ঘ্য ৪০০ ন্যানোমিটার থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার পর্যন্ত সেই আলো আমরা দেখতে পাই। 
- ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্য এর আলো বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকলে রং পরিবর্তন হতে থাকে।
- আই আলোই হচ্ছে দৃশ্যমান আলো। 
- আলোক তরঙ্গ একটি অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।

বিভিন্ন ধরনের বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণের তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য (একক ন্যানোমিটারে nm = 10-9m) নিচে দেয়া হলো- 
• মহাজাগতিক রশ্মির তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য: <0.00005nm  
• গামা রশ্মির তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য: 0.0005 - 0.15 nm
• রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য: 0.01 – 10 nm
• অতিবেগুনি রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: <380 nm
• দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য: 400 - 700nm 
• অবলোহিত আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: >700nm 
• রেডিও ও টেলিভিশন তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: >2.2 x 105 nm


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কোনটিকে ‘এনার্জি কয়েন’ বলে?
  1. ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. খ) নিউক্লিওলাস
  3. গ) এটিপি
  4. ঘ) ক্রোমোজোম
ব্যাখ্যা
ATP-কে অনেক সময় 'জৈবমুদ্রা' বা 'শক্তি মুদ্রা' (Biological coin or energy coin) বলা হয়৷
এটি শক্তি জমা করে রাখে এবং প্রয়োজন অনুসারে অন্য বিক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
কোনটি মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু?
  1. ক) বোসন
  2. খ) কৃষ্ণবিবর
  3. গ) কোয়াসার
  4. ঘ) নিউট্রন স্টার
ব্যাখ্যা
কোয়াসার (Quasar):
- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু কোয়সার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু
- একটি কোয়সারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি।
- অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি আমাদের সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো।

- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান বণ্ঢ্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে।
- সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে।
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু।
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
প্রাকৃতিক গ্যাসের কত শতাংশ ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ১৫%
  2. খ) ২১%
  3. গ) ২৫%
  4. ঘ) ৩৩%
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সারের কাঁচামাল তৈরিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের  ২১ শতাংশ ব্যবহৃত হয়। 
শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত হয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ২২%। 
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ৫১%। 
বাসা বাড়িতে ব্যবহৃত হয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ১১%। 
বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ১%। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই। 
.
হাড়ের কোষের নাম-
  1. ক) Fibroblast
  2. খ) Chondroblast
  3. গ) Ependymal cell
  4. ঘ) Osteoblast
ব্যাখ্যা
Osteoblast (Physiology) (noun): a cell which secretes the substance of bone.
.
সিএফসি বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরের ক্ষতি করছে?
  1. ক) আয়নোস্ফিয়ার
  2. খ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. গ) মেসোস্ফিয়ার
  4. ঘ) থার্মোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

- সিএফসি এর পুরো নাম হল ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন। সিএফসি একটি কার্বন, হাইড্রোজেন, ক্লোরিন ও ফ্লোরিন এর সমন্বয়ে গঠিত একটি গ্যাস। সিএফসি গ্রিনহাউস গ্যাস যা ওজন স্তরের সঙ্গে বিক্রিয়ায় ওজোন স্তর ফুটো করে দেয়। বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল, এই স্তরে ওজোন গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।

- মেসোস্ফিয়ার স্তরের শেষ সীমা হল মেসোপজ। আর এই মেসোপজের ওপরে প্রায় ৫০০ কিমি. উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুমণ্ডলের স্তরকে আয়নোস্ফিয়ার বলে। এই স্তরে গ্যাসীয় কণাগুলি তড়িৎ-আধানযুক্ত বা আয়নিত অবস্থায় থাকে বলে, এই স্তরটিকে আয়নোস্ফিয়ার বলা হয়।

- ট্রপোপজের ওপরে নিরক্ষীয় অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮০ কিমি. উচ্চতা পর্যন্ত এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৫০ কিমি. উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার বলে। এটি বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর।

- মেসোস্ফিয়ার হল পৃথিবীর প্রতিরক্ষামূলক স্তর কারণ এটি বেশিরভাগ উল্কা এবং গ্রহাণুকে পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করে। এটি সবার বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্তর।

- তাপমণ্ডল (থার্মোস্ফিয়ার নামেও পরিচিত) প্রায় ৮০ কিলোমিটার (৫০ মাইল;২৬০.০০০ ফুট) উপরে অবস্থিত।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির বিজ্ঞান

.
সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় নিচের কোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে?
  1. ফটোভোল্টায়িক কোষ
  2. গ্যাস টারবাইন
  3. কয়লা জ্বালানি চুল্লি
  4. নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর
ব্যাখ্যা

• ফটোভোল্টায়িক কোষ:
- সূর্যালোককে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তরিত করে।
- সোলার প্যানেলে অনেকগুলো কোষ সিরিজ বা প্যারালাল সংযোগে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
- সূর্যের আলোর কণা (ফোটন) সেমিকন্ডাক্টর উপাদানে পড়লে ইলেকট্রন মুক্ত হয় এবং বিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয়।

• গ্যাস টারবাইন:
- এটি গ্যাস বা তেলের জ্বালানি পুড়িয়ে ঘূর্ণনশক্তি তৈরি করে।
- সাধারণত বিদ্যুৎকেন্দ্রে তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত।

• কয়লা জ্বালানি চুল্লি:
- এটি কয়লা পুড়িয়ে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, সৌরশক্তি নয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০.
সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে জীবজগতের জন্য প্রধানত কোন খাদ্য উৎপন্ন হয়?
  1. শর্করা
  2. খনিজ লবণ
  3. লিপিড 
  4. প্রোটিন
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। 
- সবুজ উদ্ভিদকুল সালোকসংশ্লেষণ চলাকালে সৌরশক্তিকে আবদ্ধ করে। 
- যে পদ্ধতিতে সূর্যের আলোয় সবুজ উদ্ভিদেরা তাদের নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে তার নামই হলো সালোকসংশ্লেষণ। 
- একমাত্র সবুজ উদ্ভিদেরাই এ কাজটি করতে পারে। 
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। 
- এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে। 
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে গণ্য করা হয়। কারণ- 
• পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
• পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
• পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 

- জীবজগতের জন্য প্রাথমিক খাদ্য শর্করা একমাত্র সালোকসংশ্লেণের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি গৃহীত হয় এবং গ্কোলুজ ও অক্সিজেন উৎপন্ন করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১১.
নিচের কোনটি নিউরনের অংশ নয়?
  1. ক) কোষদেহ
  2. খ) সিন্যাপস
  3. গ) ডেনড্রাইট
  4. ঘ) অ্যাক্সন
ব্যাখ্যা
দেহের বিশেষ সংবেদী কোষ নিউরন বা স্নায়ুকোষগুলো একত্রে স্নায়ু টিস্যু গঠন করে৷ স্নায়ু টিস্যু অসংখ্য নিউরন দিয়ে গঠিত৷
একটি নিউরনের দুটি অংশ থাকে৷
যথাঃ কোষদেহ এবং প্রলম্বিত অংশ।
প্রলম্বিত অংশ দুধরনেরঃ ডেনড্রাইট এবং অ্যাক্সন।
পরপর দুটি নিউরনের সন্ধিস্থলে অর্থাৎ প্রথমটির অ্যাক্সন এবং পরেরটির ডেনড্রাইটের মধ্যে একটি স্নায়ুসন্ধি গঠিত হয়, তাকে সিন্যাপস (Synapse) বলে। সিন্যাপসের মধ্য দিয়েই একটি নিউরন থেকে উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে পরিবাহিত হয়৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২.
গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে ট্রানজিস্টর কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা
সংজ্ঞাঃ দুটি একই ধরনের অর্ধপরিবাহীর (n-টাইপ অথবা p-টাইপ) মাঝখানে এদের বিপরীত ধরনের (p-টাইপ অথবা n-টাইপ) অর্ধপরিবাহী বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে যুক্ত করে যে যন্ত্র বা কৌশল তৈরি করা হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে।

সুতরাং একটি জাংশন ট্রানজিস্টর দুটি p-n জাংশনের সমন্বয়ে গঠিত এবং এর তিনটি প্রান্ত রয়েছে।
গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে জাংশন ট্রানজিস্টর দুই প্রকারঃ
(১) p-n-p ট্রানজিস্টর এবং
(২) n-p-n ট্রানজিস্টর।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
পানি পরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. পানি পরাগী ফুল সহজেই পানিতে ভাসতে পারে।
  2. পানি পরাগী ফুল আকারে বড়।
  3. পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র।
  4. পানি পরাগী ফুলের সুগন্ধ নেই।
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত হয়। 
- পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

বায়ু পরাগী ফুল: 
- বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। 
- এসব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। 
- এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা
- এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এসব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

 প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
বিটা রশ্মির বিকিরণ মূলত কোনটি? 
  1. মেসনের প্রবাহ
  2. নিউট্রনের প্রবাহ
  3. ইলেকট্রনের প্রবাহ
  4. প্রোটনের প্রবাহ
ব্যাখ্যা

• বিটা রশ্মি মূলত ইলেকট্রনের প্রবাহ। যখন কোনো অস্থির পারমাণবিক নিউক্লিয়াস নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে, তখন এটি অতিরিক্ত শক্তি মুক্তি পায়। এই শক্তি মুক্তির সময় নিউক্লিয়াস ইলেকট্রন নির্গত করে, যাকে আমরা বিটা কণা বা বিটা রশ্মি বলি। বিটা কণা একটি ক্ষুদ্র, নেতিবাচক চার্জযুক্ত কণা, যা দ্রুত গতিতে নির্গত হয়। তাই বিটা রশ্মির সাথে ইলেকট্রনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এবং এটি পারমাণবিক বিকিরণের এক গুরুত্বপূর্ণ ধরন।

- সঠিক উত্তর: গ) ইলেকট্রনের প্রবাহ।

বিটা রশ্মির ধর্ম:
- এই রশ্মি ঋণাত্মক আধানযুক্ত।
- এই রশ্মি চৌম্বক ও তড়িৎ ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়। 
- এটি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- বিটা কণিকার ভর একটি ইলেকট্রনের ভরের সমান।
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- বিটা কণা প্রকৃতপক্ষে দ্রুত গতি সম্পন্ন ইলেকট্রন।
- এর ভেদন ক্ষমতা আলফা রশ্মির চেয়ে বেশি এবং এটি 0.01m পুরু।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৫.
বিলিরুবিন কোথায় তৈরী হয়?
  1. প্লীহায়
  2. পিত্তথলিতে
  3. যকৃতে
  4. কিডনিতে
ব্যাখ্যা

- বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে ও অস্থিমজ্জায় এবং জমা হয় প্লীহাতে। 
- যকৃতের মধ্যে অবস্থিত প্লীহা বিলিরুবিন উৎপন্ন হওয়ার প্রধান স্থান হিসেবে স্বীকৃত যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়। 
- হিমগ্লোবিনের লৌহযুক্ত প্রস্থেটিক গ্রুপ ভেঙে যে সমস্ত বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয় হলুদ বিলিরুবিন তাদের মধ্যে অন্যতম। 
- রক্তের বিলিরুবিন যকৃতে গ্লুকো-ইউরোনিক অ্যাসিডযুক্ত হয়ে জল দ্রাব্য হয় এবং পিত্তের মাধ্যমে ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছায়। 
- সেখানে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা অর্ধেক বিলিরুবিন থেকে ইউরোবিলিনোজেন উৎপন্ন হয় যা অন্ত্র থেকে শোষিত হয়ে শেষে হলুদ ইউরোবিলিন হিসাবে মূত্রে পৌছায় বলে মূত্রের রং হলুদ হয়। 
- দেহে বিলিরুবিন বেশি হলে তাকে জন্ডিস বলে। 

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
একটি আয়তাকার পরিবাহকের মধ্য দিয়ে X-অক্ষ বরাবর তড়িৎ প্রবাহ প্রবাহিত হচ্ছে এবং Y-অক্ষ বরাবর একটি সমসত্ত্ব চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে Z-অক্ষ বরাবর হল বিভব সৃষ্টি হলো। যদি উপরের পৃষ্ঠের বিভব নিচের পৃষ্ঠের বিভবের চেয়ে বেশি হয়, তবে আধান বাহক কেমন হবে?
  1. ধনাত্মক
  2. ঋণাত্মক
  3. নিরপেক্ষ
  4. পরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা

• হল প্রভাবের ক্ষেত্রে উপরের পৃষ্ঠের বিভব নিচের পৃষ্ঠের বিভবের চেয়ে বেশি হলে হল বিভব ধনাত্মক হয় এবং আধান বাহক ধনাত্মক।

• হল প্রভাব (Hall Effect):
- কোনো পরিবাহকের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ প্রবাহিত অবস্থায় প্রবাহের লম্বভাবে চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করলে পরিবাহকের দুই পার্শ্বে বিভব পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
- এই বিভব পার্থক্যকে হল বিভব (Hall Voltage) এবং ঘটনাটিকে হল প্রভাব বলা হয়।

• অক্ষ ভিত্তিক ব্যাখ্যা:
- যদি X-অক্ষ বরাবর তড়িৎ প্রবাহিত হয়।
- Y-অক্ষ বরাবর চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করা হয়।
- তবে Z-অক্ষ বরাবর হল বিভব সৃষ্টি হয়।

• হল প্রভাবের কারণ:
- চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে প্রবাহিত আধান কণার উপর চৌম্বক বল ক্রিয়া করে।
- আধান কণাগুলি এক পার্শ্বে সঞ্চিত হয়।
- বিপরীত পার্শ্বে সমপরিমাণ বিপরীত আধান সঞ্চিত হয়।
- ফলে দুই পার্শ্বে বিভব পার্থক্য সৃষ্টি হয়।

• আধানের প্রকৃতি নির্ণয়:
- যদি উপরের পৃষ্ঠের বিভব (Vb) নিচের পৃষ্ঠের বিভব (Va)-এর চেয়ে বেশি হয়, অর্থাৎ Vb > Va হয়।
- তবে VH = Vb – Va ধনাত্মক হবে।
- এ ক্ষেত্রে আধান বাহক ধনাত্মক।
- যদি Va > Vb হয়।
- তবে VH ঋণাত্মক হবে।
- এ ক্ষেত্রে আধান বাহক ঋণাত্মক।

• অর্ধপরিবাহকের ক্ষেত্রে হল প্রভাব:
- হল বিভব ধনাত্মক হলে আধান বাহক ধনাত্মক আধান (হোল)।
- এ ক্ষেত্রে অর্ধপরিবাহকটি P-টাইপ।
- হল বিভব ঋণাত্মক হলে আধান বাহক ইলেকট্রন।
- এ ক্ষেত্রে অর্ধপরিবাহকটি N-টাইপ।

• হল বিভবের রাশিমালা:
- হল বিভব চৌম্বক ক্ষেত্রের তীব্রতার উপর নির্ভরশীল।
- হল বিভব তড়িৎ প্রবাহের উপর নির্ভরশীল।
- হল বিভব আধান বাহকের ঘনত্বের উপর নির্ভরশীল।

• হল প্রভাবের প্রয়োগ:
- আধান বাহকের প্রকৃতি নির্ণয়।
- আধান বাহকের ঘনত্ব নির্ণয়।
- অর্ধপরিবাহকের ধরন নির্ণয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
একটি সম্পূর্ণ ফুলের অংশ নয় কোনটি?
  1. দলমন্ডল
  2. ডিম্বক
  3. পুষ্পাক্ষ
  4. পুংস্তবক
ব্যাখ্যা
• ডিম্বক একটি সম্পূর্ণ ফুলের অংশ নয়।

• ফুল:

- উদ্ভিদের বংশ রক্ষা ও বংশবিস্তারে সাহায্যকারী ফল ও বীজ উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে পুষ্প বা ফুল বলা হয়।
- একটি সম্পূর্ণ ফুলে পাঁচটি অংশ থাকে। যথা:
১. পুষ্পাক্ষ:
- ফুলের স্তবকগুলো যে অক্ষের উপর সাজানো থাকে তাকে পুষ্পাক্ষ বলে।
- সাধারণত এটি গোলাকার এবং ফুলের বৃন্তশীর্ষে অবস্থান করে।
- পুষ্পাক্ষের উপর বাকি চারটি স্তবক পরপর সাজানো থাকে।
- এটি পুষ্প পত্রধারণ করে এবং ফুলকে কান্ডের সাথে আবদ্ধ রাখে।

২. বৃতি:
- একটি ফুলের বাইরের স্তবককে বলা হয় বৃতি।
- এর প্রতিটি খন্ডকে বৃত্যংশ বলা এটি মুকুল অবস্থায় ফুলের অন্য হয়।
- বৃতি মুকুল অবস্থায় ফুলের অন্য স্তবকগুলোকে রোদ, বৃষ্টি, কীটপতঙ্গের আক্রমণ এবং বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা থেকে রক্ষা করে।
- সবুজ বৃতি সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে।
- বৃতি যখন রঙ বেরঙের হয় তখন তারা পরাগায়নের মাধ্যম হিসেবে কীটপতঙ্গ, পশু-পাখি ইত্যাদিকে আকর্ষণ করে ।

৩. দলমন্ডল:
- বৃতির উপরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন দ্বিতীয় সহকারী স্তবকটি দলমন্ডল।
- এর প্রতিটি খন্ডকে দলাংশ বা পাপড়ি বলা হয়।
- সাধারণত রঙ্গিন হয়।
- উজ্জ্বল ঝলমলে রঙের দলমন্ডল পোকামাকড় ও পশু-পাখি আকর্ষণ করে এবং পরাগায়নে সহায়তা করে।

৪। পুংস্তবক:
- দলমন্ডলের ভেতরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন পরাগরেণু উৎপাদনকারী স্তবককে পুংস্তবক বলা হয়।
- স্তবকের প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলা হয়।
- একটি পুংস্তবকে এক বা একাধিক পুংকেশর থাকতে পারে।

৫. স্ত্রীস্তবক:
- পুষ্পের কেন্দ্রে অবস্থিত ফ্লাক্স আকৃতির ডিম্বক উৎপাদনকারী স্তবককে স্ত্রীস্তবক বলা হয়।
- এর প্রতিটি অংশকে গর্ভপত্র বলা হয়।
- একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ । যথা: গর্ভাশয়, গর্ভদন্ড ও গর্ভমুন্ড।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ এবং শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপ -
  1. ফাস্ট টেলিস্কোপ
  2. জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ
  3. হাবল স্পেস টেলিস্কোপ
  4. ইউক্লিড টেলিস্কোপ
ব্যাখ্যা
FAST টেলিস্কোপ:
- চীনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি পাহাড়ের ওপর অবস্থিত FAST টেলিস্কোপ।
- বিশাল ধাতব শরীর নিয়ে যা আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
- এটা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ এবং শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপ
- ২০১৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেডিও টেলিস্কোপ চালু হয়।
- টেলিস্কোপটির আনুষ্ঠানিক নাম হচ্ছে ফাইভ-হান্ড্রেড-মিটার অ্যাপারচার স্ফেরিক্যাল টেলিস্কোপ-যা তার সংক্ষিপ্ত নাম 'ফাস্ট' নামে বেশি পরিচিত।
- চীন এই টেলিস্কোপকে ডাকছে 'স্কাই আই' বা 'আকাশ চোখ' নামে।
- এ টেলিস্কোপের রিফ্লেক্টর ডিস্ক ৩০টি ফুটবল মাঠের সমান। 
- পৃথিবীর বাইরে এলিয়েনদের অস্তিত্ব খুঁজতে এই টেলিস্কোপ ব্যবহার করা হয়।
- ফাস্ট টেলিস্কোপটি মহাবিশ্বের গভীরতর এবং অন্ধকারতম কোণে কোণে অনুসন্ধান করে জানার চেষ্টা করবে কীভাবে এই বিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে এবং অন্য কোথাও জীবনের অস্তিত্ব আছে কিনা।

উৎস: i) ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, প্রথম আলো।
         ii) ২০ জানুয়ারি ২০২০, বিবিসি বাংলা।
১৯.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) পৃথিবীর কেন্দ্রে g এর মান শূন্য
  2. খ) মেরু অঞ্চলে g এর মান বিষুব অঞ্চল থেকে কম
  3. গ) 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান: 
- বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান সর্ব নিম্ন প্রায় 9.78 ms-2, 
- মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ 9.83 ms-2 
- এভারেষ্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81ms-2 
-  সমুদ্র সমতলে প্রাপ্ত g-এর মান 9.75 ms-2
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। 
- এই মান হচ্ছে 9.80665 ms-2 । 
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms-2।
 
উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম; পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
Which of the following is not a fossil fuel?
  1. Coal
  2. Petroleum
  3. Firewood
  4. Natural gas
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম জ্বালানি:
- যে সব পদার্থ থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্বারা প্রচুর পরিমাণ তাপশক্তি উৎপাদিত হয় তাকে জ্বালানি বলে।
- তাপশক্তির উৎস হলো জ্বালানি।
- জীবাশ্ম জ্বালানি হল এক প্রকার জ্বালানি যা বায়ুর অনুপস্থিতিতে অবাত পচন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়।
- মৃত গাছের পাতা, মৃতদেহ ইত্যাদি জীবনের উপাদান হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে উচ্চ চাপ ও উচ্চ তাপে পরিবর্তিত হয়ে জীবাশ্ম জ্বালানিতে পরিণত হয়।
- জীবাশ্ম জ্বালানিসমূহ অনবায়নযোগ্য।
- অর্থাৎ এসব জ্বালানি পুনরায় ব্যবহার করা যায় না এবং এদের মজুদ সীমিত।

⇒ বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে রয়েছে:
- খনিজ তেল
- কয়লা
- প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- ফায়ারওড জীবাশ্ম জ্বালানী নয়।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২১.
বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন স্তরের শেষ সীমাকে কী বলে?
  1. ট্রপোপজ
  2. এক্সোস্ফিয়ার
  3. স্ট্রাটোপজ
  4. এট্রোপজ
ব্যাখ্যা
• বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন স্তর ট্রপোমন্ডল। ট্রপোমন্ডলের শেষ সীমাকে ট্রপোবিরতি (Tropopause) বলে।

• ট্রপোমন্ডল:
- ট্রপোমন্ডল বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর।
- ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন হওয়ায় এ স্তর জীবজগতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- মেরু এলাকায় এ স্তরের গভীরতা প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং নিরক্ষীয় এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর গড় গভীরতা প্রায় ১৫ কিলোমিটার।
- এ স্তরের জলীয়বাষ্প এবং ধূলিকণা অশান্ত বায়ুর সাথে মিশ্রিত হয়ে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ প্রভৃতি সৃষ্টি করে।
- এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে।
- উষ্ণতা হ্রাসের এ হার প্রতি কিলোমিটারে ৬.৫° সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার (Normal Lapse Rate বা Environmental Lapse) নামে পরিচিত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
- এ স্তরের শেষ সীমাকে ট্রপোবিরতি (Tropopause) বলে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
'Green house' is a-
  1. ক) Green coloured house
  2. খ) House in the green
  3. গ) Gas
  4. ঘ) House in which green is grown
ব্যাখ্যা
গ্রীন হাউজ গ্যাস:

- গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে -
• জলীয় বাষ্প।
• কার্বন ডাই অক্সাইড।
• নাইট্রাস অক্সাইড।
• মিথেন।
• ওজোন।
• ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি।
- কার্বন ডাই সালফাইড (CS2 ) এবং কার্বনিল সাইফাইড (COS) পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস।

তথ্যসূত্র - ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, ব্রিটানিকা এবং Royal Society of Chemistry.
২৩.
কোনটি আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ?
  1. চন্দ্রমল্লিকা
  2. শসা
  3. ডালিয়া
  4. লেটুস
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে করা হয়:
• আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ (Day Neutral Plant):
- পুষ্পায়নে দিনের আলো কোনো প্রভাব ফেলে না। যেমন: শসা, সূর্যমুখী।
• ছোটদিনের উদ্ভিদ (Short Day Plant):
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে 8-12 ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। যেমন: চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া।
• বড়দিনের উদ্ভিদ (Long Day Plant):
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে 12-16 ঘণ্টা আলো প্রয়োজন।যেমন: লেটুস।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪.
নিচের কোনটি পরিবেশ বান্ধব শক্তির উৎস?
  1. কয়লা
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. ভূ-তাপীয় শক্তি
  4. পারমাণবিক শক্তি
ব্যাখ্যা

◉ ভূ-তাপীয় শক্তি: পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপ থেকে উৎপন্ন শক্তি। এটি অবিরামভাবে পাওয়া যায় এবং পরিবেশের ক্ষতি করে না। তাই এটি একটি পরিবেশ বান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

​শক্তির উৎস:
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার।

নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়।
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়।
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না।
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত।
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়।
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়।
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫.
মানুষের শ্বসন অঙ্গ কোনটি দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে? 
  1. ছত্রাক
  2. ভাইরাস
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শ্বসন অঙ্গের সমস্যা: 
- মানুষের শ্বসন অঙ্গ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক অথবা অন্য কোন এজেন্ট দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে, যা নানা রকম রোগ সৃষ্টি করে। 
যেমন- 
সাইনুসাইটিস (Sinusitis): 
- আমাদের করোটি ও মুখমণ্ডলের অস্থিগুলোর ভেতরে কিছু বায়ুপূর্ণ ফাঁকা স্থান রয়েছে যেগুলোকে সাইনাস বলে। 
- মানুষের মুখমণ্ডলে ৪ জোড়া সাইনাস আছে। 
যথা- 
(ক) ম্যাক্সিলারি সাইনাস, 
(খ) ফ্রন্টাল সাইনাস, 
(গ) এথময়েড সাইনাস এবং 
(ঘ) স্কেনয়েড সাইনাস। 

- এসকল সাইনাস মিউকাস পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে এবং পিচ্ছিল মিউকাস সৃষ্টির মাধ্যমে নাসিকা পথকে সিক্ত ও জীবাণুমুক্ত রাখে। 
- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক দ্বারা সাইনাস আক্রান্ত হলে যে প্রদাহের সৃষ্টি হয় তাকে সাইনুসাইটিস বলে। 
- সাইনুসাইটিস ৮ সপ্তাহের কম সময় থাকলে তাকে একিউট (Acute) সাইনুসাইটিস এবং ৩ মাসের অধিককাল থাকলে তাকে ক্রনিক (Chronic) সাইনুসাইটিস বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬.
সূর্য রশ্মি থেকে বিকিরণের প্রধান উৎস হিসেবে কোন রশ্মি বের হয়? 
  1. এক্স রশ্মি
  2. রঞ্জন রশ্মি
  3. অতিবেগুনি রশ্মি
  4. গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি: 
- 10-11 m থেকে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সকল বিকিরণ গামা রশ্মি বা γ-ray। 
- এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ক্ষুদ্র হওয়ায় কম্পাঙ্ক সবচেয়ে বেশি, তাই শক্তিও বেশি। 
- দৃশ্যমান আলোর চেয়ে এর শক্তি পঞ্চাশ হাজার গুণ বেশি। 
- তেজষ্ক্রিয় মৌলসমূহ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে যে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তার বেশির ভাগই গামা রশ্মি। 
- প্রাণী দেহের জন্য এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। 

এক্স রশ্মি: 
- 10-11 m থেকে 10-8 m পর্যন্ত তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গসমূহকে বলা হয় X-ray বা এক্স রশ্মি। 
- বিজ্ঞানী উলহেলম রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এই রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তার নাম অনুসারে এই রশ্মিকে রঞ্জন রশ্মিও বলা হয়। 
- গামা রশ্মি থেকে এর কম্পাঙ্ক কম বলে এর শক্তিও অপেক্ষাকৃত কম। 
- এই রশ্মি মানুষের দেহের নরম অংশের মধ্য দিয়ে ভেদ করে যেতে পারে, কিন্তু হাড় বা টিউমার জাতীয় শক্ত টিস্যুর মধ্য দিয়ে যেতে পারে না। তাই এই রশ্মির সাহায্যে ফটো তুলে দেহের ভেতরের হাড় এবং টিউমার সনাক্ত করা হয়। 

অতিবেগুনি রশ্মি: 
- এক্সরের থেকে কম বা ছোট কম্পাঙ্কের বিকিরণ অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet ray)। 
- এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিস্তার 10-8 m থেকে 4×10-7 m, এক্সরে এবং দৃশ্যমান আলোর মাঝামাঝি। 
- সূর্য রশ্মি এই রশ্মি বিকিরণের প্রধান উৎস। 
- এই রশ্মি শরীরের ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করে। তবে বেশিক্ষণ এই রশ্মি শরীরে পড়লে তা ক্ষতিকর হয়। 
- চোখের জন্য এটি বেশ ক্ষতিকর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
হিস্টোলজিতে, রক্তকে কোন ধরনের টিস্যু হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়?
  1. আবরণী টিস্যু
  2. স্নায়ু টিস্যু
  3. যোজক টিস্যু
  4. পেশি টিস্যু
ব্যাখ্যা
• যোজক টিস্যু (Connective Tissue):
• যোজক বা কানেকটিভ টিস্যুতে মাতৃকার (Matrix) পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি এবং কোষের সংখ্যা কম।
• গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে কানেকটিভ টিস্যু প্রধানত তিন ধরনের হয়। যথা-
(i) ফাইব্রাস যোজক টিস্যু;
(ii) স্কেলিটাল যোজক টিস্যু;
(iii) তরল যোজক টিস্যু। 

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু।
- ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়।
- উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তের উপাদান দুটি- রক্তরস (৫৫%) এবং রক্তকণিকা (৪৫%)।
- রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ। এর প্রায় ৯১-৯২% অংশ পানি এবং ৮-৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
তাপ পরিমাপের যন্ত্র কোনটি?
  1. হাইগ্রোমিটার
  2. ক্যালরিমিটার
  3. থার্মোমিটার
  4. ব্যারোমিটার
ব্যাখ্যা

- ক্যালরিমিটার বস্তুর গ্রহণ করা বা বর্জন করা তাপের পরিমাণ পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত ক্যালরিমিতির মূলনীতির (গৃহীত তাপ = বর্জিত তাপ) ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। 

তাপ: 
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপের এস.আই (S.I) একক জুল। 
- তাপের মেট্রিক পদ্ধতির একটি একক হচ্ছে ক্যালরি যা এখনো পুষ্টি বিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়। 
- তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। 
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

অন্যদিকে, 
- হাইগ্রোমিটার: এটি বাতাসের আর্দ্রতা (বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ) পরিমাপ করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- থার্মোমিটার: এটি বস্তুর তাপমাত্রা (বস্তু কতটা গরম বা ঠান্ডা) পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়, তাপের মোট পরিমাণ নয়।
- ব্যারোমিটার: এটি বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করার যন্ত্র। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯.
পিটুইটারী গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের মূল কাজ কী? 
  1. ডিম্বাণু উৎপাদন হ্রাস
  2. স্নায়ুতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ
  3. জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
মানব প্রজননে হরমোন এর ভূমিকা: 
- হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা নালিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। 
- হরমোন নির্দিষ্ট অথচ স্বল্প মাত্রায় নিঃসৃত হয়ে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি বা কম নিঃসৃত হলে দেহের বিভিন্ন কাজের ব্যাঘাত ঘটে এবং দেহে নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। 
- মানব দেহে প্রজনন সংক্রান্ত হরমোনগুলো হলো- 

শুক্রাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের নাম- টেস্টোস্টেরণ এবং অ্যান্ড্রোজেন। 
- এ হরমোন শুক্রাণু উৎপাদন করে। দাঁড়ি ও গোফ গজায়। গলার স্বর বদলায়। 

পিটুইটারী গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) বৃদ্ধি উদ্ধীপক হরমোন এবং (খ) উৎপাদক হরমোন। 
- এ হরমোন জনন গ্রন্থির বৃদ্ধি, ক্ষরণ ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। মাতৃদেহের স্তন দুগ্ধ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে। 

থাইরয়েড গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- থাইরক্সিন হরমোন। 
- এ হরমোন দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি করে। যৌন লক্ষণ প্রকাশ ও বিপাকে সহায়তা করে। 

অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি: 
- এ গুন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- অ্যাড্রানালিন হরমোন। 
- এ হরমোন যৌন অঙ্গের বৃদ্ধি করে। যৌন লক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে। 

ডিম্বাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) ইস্ট্রোজেন, (খ) প্রোজেস্টেরন এবং (গ) রিলাক্সিন। 
- এ হরমোন নারী সুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি করে। ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে। গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ ও অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 

অমরা গ্রন্থি: 
- অমরা থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) গোনাডোট্রপিক এবং (খ) প্রোজেস্টেরন। 
- এ হরমোন ডিম্বাশয়ের অনাল গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে। স্তন গ্রন্থির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০.
DNA প্রতিলিপনের সময় কোন এনজাইম কাজ করে? 
  1. হেলিকেজ
  2. লিপেজ
  3. পেপটেজ
  4. অ্যামাইলেজ
ব্যাখ্যা

• DNA প্রতিলিপন (DNA Replication) হলো জীবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জৈব প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একটি কোষ তার DNA অণুর অনুলিপি তৈরি করে, যাতে নতুন কোষে একই জিনগত তথ্য স্থানান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়া ঘটে কোষ বিভাজনের আগে, বিশেষ করে ইন্টারফেজের S পর্বে।

- প্রথম ধাপে DNA-এর দ্বিসূত্রক গঠন (Double helix) খুলে যায়, যাতে প্রতিটি স্ট্র্যান্ড নতুন DNA তৈরির টেমপ্লেট হিসেবে কাজ করতে পারে।
- এই কাজটি সম্পন্ন করে হেলিকেজ (Helicase) এনজাইম

• DNA প্রতিলিপনের প্রধান ধাপ তিনটি:
- Initiation (সূচনা),
- Elongation (বিস্তার),
- Termination (সমাপ্তি)। 

• হেলিকেজের কাজ:
- হেলিকেজ DNA-এর দুইটি নিউক্লিওটাইড শৃঙ্খলকে আলাদা করে।
- এটি হাইড্রোজেন বন্ড ভেঙে ডাবল হেলিক্স খুলে দেয়।
- ফলে একটি “Replication fork” তৈরি হয়, যেখানে DNA পলিমেরেজ কাজ শুরু করতে পারে।
- এটি মূলত প্রতিলিপনের সূচনাবিন্দু (Origin of replication) থেকে উভয় দিকে DNA খুলতে থাকে।
- এরপর DNA পলিমেরেজ নতুন নিউক্লিওটাইড যুক্ত করে নতুন স্ট্র্যান্ড তৈরি করে।
- প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিখুঁত এবং সঠিক জিনগত তথ্য সংরক্ষণে অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

৩১.
চিকনগুনিয়া রোগটি কোন মাধ্যম বাহিত রোগ?
  1. পানিবাহিত
  2. পতঙ্গবাহিত
  3. বায়ুবাহিত
  4. রক্তবাহিত
ব্যাখ্যা
চিকনগুনিয়া পতঙ্গবাহিত রোগ।  চিকুনগুনিয়া রোগটির জন্য Aedes aegypti মশাটি দায়ী। 

চিকুনগুনিয়া ভাইরাসজনিত রোগ। মশার মাধ্যমে এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়ায়। ১৯৫২ সালে তানজানিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে সর্বপ্রথম এই রোগ ছড়ানোর কথা জানা যায়। সেখানকার কিমাকোন্ডি ভাষা থেকে চিকুনগুনিয়া নামটি এসেছে। স্থানীয়ভাবে এর অর্থ হলো ‘মোচড়ানো’। রোগীর শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হওয়ায় এই রোগের এমন নাম হয়েছে।

লক্ষণ- 
সংক্রামক মশা কামড়ানোর চার থেকে সাত দিনের মধ্যে দেহে চিকুনগুনিয়ার উপসর্গ দেখা যায়। এটি হলে সাধারণত হঠাৎ করে তীব্র জ্বর (১০৪° ফারেনহাইট) শুরু হয়। সেই সাথে শরীরের অস্থি সন্ধিতেও ব্যথা অনুভূত হয়। এছাড়া চিকুনগুনিয়ার আর যেসব লক্ষণ দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে, মাংস পেশি ও মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব, ক্লান্তি ও চামড়ায় ফুসকুড়ি। অস্থি সন্ধির ব্যথা খুব তীব্র হতে পারে যা কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

চিকিৎসা-
চিকুনগুনিয়া ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসা মূলত উপসর্গভিত্তিক। এর কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিশ্রাম নিতে হবে, প্রচুর পানি ও তরলজাতীয় খাবার খেতে হবে এবং প্রয়োজনে জ্বর ও ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল ট্যাবলেট এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে ওষুধ খেতে হবে।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৩২.
H+ সংকেত দ্বারা কোন কণিকা বুঝায়? 
  1. নিউট্রন 
  2. ইলেকট্রন 
  3. পজিট্রন 
  4. প্রোটন 
ব্যাখ্যা

- H+ সংকেত দ্বারা মৌলিক কণিকা প্রোটনকে বুঝায়, এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 

পরমাণুর মৌলিক কণিকাসমূহ: 

- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ১. ইলেকট্রন, ২. প্রোটন ও ৩. নিউট্রন। 

প্রোটন (Proton): 
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। 
- এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। 
- প্রোটনের সংকেত H+ । 
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। 
- প্রোটনের আসল ভর 1.67×10-24 g ও আধান 1.60× 10-19 C । 
- প্রোটনের আপেক্ষিক ভর 1 একক। 
- প্রোটনের আরেকটি সংকেত P । 
- প্রোটনের আপেক্ষিক আধান +1 । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩.
যেসব জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো আছে, তাদের কী বলা হয়?
  1. গ্রহ
  2. উপগ্রহ
  3. নক্ষত্র
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

নক্ষত্র (Star):
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে।
​- মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে। খালি চোখে আমরা মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখতে পাই।
​- এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়। 
​- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে। 

​উল্লেখ্য,
​​- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না। 
​- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়। আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
​- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
​- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)। পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ।

​​তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম- ১০ম শ্রেণি।

৩৪.
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি হিসেবে সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) ডিজেল
  2. খ) প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. গ) কয়লা
  4. ঘ) এইচ এফ ও
ব্যাখ্যা
পেট্রোবাংলার হিসাব মতে, বাংলাদেশের উৎপাদিত গ্যাসের মধ্যে ৩৯৮.৬ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া শিল্প কারখানায় ১৬৬.৬, ক্যাপ্টিভে ১৬০.৫ ও সারকারখানায় ৪৩ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহৃত হয়। উৎসঃ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯।
৩৫.
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে
  2. জারক পদার্থ ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে
  3. জারণ - বিজারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া
  4. উপরের সবকয়টি সঠিক
ব্যাখ্যা
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া:

- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
-  জারক ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক ইলেক্ট্রন ত্যাগ করে অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।

- জারণ - বিজারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।

• জারণ অর্ধবিক্রিয়া: Na → Na+ + e (ইলেকট্রন দান বা জারণ);
• বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া: Cl + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ); 

এই দুই অর্ধবিক্রিয়াকে যোগ করলে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া পাওয়া যায়।
• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া: Na + Cl  → NaCl

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই। 
৩৬.
'The Grand Design' বইটি রচনা করেন কে?
  1. আইনস্টাইন
  2. প্লেটো
  3. স্টিফেন হকিং
  4. জর্জ লেমেটার
ব্যাখ্যা
• 'The Grand Design' বইটি রচনা করেন 'স্টিফেন হকিং'।

• স্টিফেন হকিং:

- স্টিফেন হকিং ছিলেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী।
- স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই – A Brief History of Time.
- তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত Centre for Theoretical Cosmology এর পরিচালক ছিলেন।
- সম্মান: রয়্যাল সোসাইটির ফেলো, প্রেসিডেন্টিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম, কপলি মেডেল।
- ১৪ মার্চ ২০১৮ স্টিফেন হকিং মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বইসমূহ:
- A Brief History of Time,
- The Universe in a Nutshell,
- The Grand Design,
- A Brief History of Time.

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩৭.
স্কেলার রাশির উদাহরণ কোনটি? 
  1. সরণ 
  2. তাপমাত্রা 
  3. বেগ 
  4. ওজন 
ব্যাখ্যা

ভৌত রাশি: 
-কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮.
লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাসের আক্রমণের ফলে কী পরিবর্তন ঘটে?
  1. ফুলের বীজ উৎপাদন বন্ধ হয়
  2. ফুলের বৃদ্ধি বন্ধ হয়
  3. ফুলের রঙ নষ্ট হয়
  4. ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা

- টিউলিপ ফুল "টিউলিপ ব্রেকিং ভাইরাস" (Tulip breaking virus) দ্বারা আক্রান্ত হলে পাপড়িতে সাদা বা হলুদ রঙের শিখার মতো দাগ বা রেখা তৈরি হয়, যা ফুলটিকে অনন্য এবং আরও আকর্ষণীয় করে তোলে

ভাইরাসের উপকারিতা: 
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যথা- 
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯.
স্টেইনলেস স্টীলের অন্যতম উপাদান-
  1. তামা
  2. দস্তা
  3. ক্রোমিয়াম
  4. এলুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
• স্টেইনলেস স্টীলের অন্যতম উপাদান হলো ক্রোমিয়াম।

• সংকর ধাতু:
- বিভিন্ন ধাতু একত্রে মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়।
- এই সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না।
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্ৰধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু।
যেমন - পিতলের মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং জিংক 35% থাকে।
- প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করা হয়।
যেমন-
• স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু। স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1% এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়।
• কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%। এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু।
• আবার, পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%। এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু।
- কপারের দুইটি সংকর ধাতু আছে। যথা: পিতল (ব্রাস) ও কাঁসা (ব্রোঞ্জ)।


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০.
বিগ ব্যাং মডেলের জনক কে?
  1. গ্যালিলিও
  2. জর্জ লেমাইটার
  3. এডউইন হাবল
  4. স্টিফেন হকিংস
ব্যাখ্যা
বিগ-ব্যাংগ:
- জর্জ লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে।
- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রাড় তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়।
- কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুর করে। এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব।
- বিগ ব্যাংগ বা মহাবিস্ফোরণ আমাদের পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা।
- সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুরু করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে ঘটেছিল।
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাংগ বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির ‘শুর' বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ‍ বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না।
- বিগ-ব্যাংগ সংঘটিত হয়েছিল সর্বত্র।

তথ্যসুত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১.
কনিডিয়া সৃষ্টির মাধ্যেম বংশ বৃদ্ধি করে -
  1. ক) Penicillium
  2. খ) Azetobactor
  3. গ) Mucor
  4. ঘ) Amebae
ব্যাখ্যা
প্রধানত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে স্পোর বা অণুবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বংশ রক্ষার প্রবণতা দেখা যায়৷
এদের দেহে অণুবীজবাহী অঙ্গের উৎপত্তি হয়৷
বহিঃঅণুবীজের কোনো কোনোটিকে কনিডিয়াম বলে৷ Penicillium কনিডিয়া সৃষ্টির মাধ্যেম বংশ বৃদ্ধি করে৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি
৪২.
Among these colours, which one has the highest heat absorption capacity?
  1. Yellow
  2. Green
  3. Blue
  4. Red
  5. Black
ব্যাখ্যা
• তাপ শোষণ ক্ষমতা:
- কালো রঙের তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি।  
- চায়ের কাপ কালো রঙের হলে তা থেকে অধিক পরিমাণ তাপ শোষণ করবে এবং এতে চা তাড়াতাড়ি ঠাণ্ডা হবে। 
- সাদা রঙের তাপ শোষণ ক্ষমতা কম। সেজন্য গ্রীষ্মকালে সাদা রঙের জামা অধিক আরামদায়ক, কারণ সাদা রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা কম। 
- অন্যদিকে, কালো রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি, তা গ্রীষ্মকালে ততটা আরামদায়ক হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩.
ডিএনএ এর নাইট্রোজেন বেস নয় কোনটি?
  1. ক) অ্যাডেনিন
  2. খ) গুয়ানিন
  3. গ) সাইটোসিন
  4. ঘ) ইউরাসিল
ব্যাখ্যা
- জীনের রাসায়নিক গঠন উপাদান DNA।
- DNA তে চার ধরনের নাইট্রোজেন বেস থাকে।
- যথা- অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থায়ামিন।
- RNA তে ও চার ধরনের নাইট্রোজেন বেস থাকে। 
- শুধু থায়ামিনের পরিবর্তে ইউরাসিল থাকে। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪৪.
কোনটি চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয়?
  1. ফেনল
  2. ক্লোরোফরম
  3. বেনজিন
  4. হ্যালোজেন
ব্যাখ্যা
ইথানল থেকে ক্লোরোফরম প্রস্তুতির মূলনীতি: 
- ইথানল, ব্লিচিং পাউডার ও পানির মিশ্রণকে পাতন করলে ক্লোরোফরম পাতিত তরল রূপে সংগৃহীত হয়। 
-ব্লিচিং পাউডার ও পানি থেকে উৎপন্ন ক্লোরিন দ্বারা ইথানল প্রথমে জারিত হয়ে অ্যাসিটালডিহাইড বা ইথান্যাল উৎপন্ন করে এবং পরে ক্লোরিনেশন দ্বারা ক্লোরাল এবং শেষে ক্ষারীয় বিশ্লেষণের ফলে ক্লোরোফরম উৎপন্ন হয়। 


ক্লোরোফরম  ব্যবহার: 
১। চেতনানাশক হিসেবে ক্লোরোফরম ব্যবহার করা হয়। 
২। পরীক্ষাগারে বিকারক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৩। ফাংগাসের বংশবৃদ্ধি রোধ, জৈবযৌগের সংশ্লেষণ এবং ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৪। চর্বি, তেল, মোম, রাবার নিষ্কাশনে জৈব দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫.
মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রোটিন থাকে -
  1. ক) ৫৫%
  2. খ) ৬৩%
  3. গ) ৬৮%
  4. ঘ) ৭৩%
ব্যাখ্যা

কোষের সাইটোপ্লাজমের মাঝে বিক্ষিপ্তভাগে অবস্থিত ধূসর বর্ণের ও শক্তি উপাদানের বিশেষ ধরনের অঙ্গগুলোকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলা হয়। একে কোষের পাওয়ার হাউজও বলা হয়।
মাইটোকন্ড্রিয়ায় ৭৩% প্রোটিন, ২৫-৩০% লিপিড, এবং সামান্য পরিমানে ডিএনএ ও আরএনএ, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, এএসসি প্রোগ্রাম, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬.
রক্ত কী দ্বারা গঠিত?
  1. রক্ত রস
  2. তরল কলা
  3. যোজক কলা
  4. রক্তরস ও রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা
রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।

রক্তকণিকা:
- মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে। যথা- -
১. লোহিত রক্তকণিকা।
২. শ্বেত রক্তকণিকা।
৩. অনুচক্রিকা।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭.
কোনটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়?
  1. ফার্ণ
  2. মস
  3. সাইকাস
  4. মটরশুটি
ব্যাখ্যা
• সাইকাস কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

• জীবন্ত জীবাশ্ম:

- বর্তমান কালের কোনো জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোনো জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
- সাইকাস কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ এটি সাইকাডালস বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।
- প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে সাইকাডালস বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত ছিল।
- এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত। এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে।
- এ বর্গের সাইকাস সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে।
- এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদি কালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাস এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির।
- এজন্যই সাইকাস সহ বর্তমান কালের সকল সাইকাডালস বর্গের উদ্ভিদকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮.
কোন তাপমাত্রায় পানি জমে বরফে পরিণত হয়?
  1. ক) 100 K
  2. খ) - 273 K
  3. গ) 273 K
  4. ঘ) 0 K
ব্যাখ্যা
আমরা জানি, 0 ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি জমে বরফে পরিণত হয়।
সেলসিয়াস স্কেলের নিম্ন স্থিরাঙ্ক ০ ডিগ্রী, ঊর্ধ্ব স্থিরাঙ্ক ১০০ ডিগ্রী ধরে মৌলিক ব্যবধানকে ১০০ ভাগে ভাগ করা হয়।
কেলভিন স্কেলে নিম্ন স্থিরাঙ্ক ২৭৩ এবং ঊর্ধ স্থিরাঙ্ক ৩৭৩ ধরে মৌলিক দৈর্ঘ্যকে ১০০ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
তাই ০ ডিগ্রী সেলসিয়াস আর ২৭৩ কেল্ভিন একই তাপমাত্রা নির্দেশ করে।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪৯.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- 
  1. সেক্সট্যান্ট
  2. অডিওমিটার
  3. ব্যারোমিটার
  4. হাইগ্রোমিটার
ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানের বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র।
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র। 
• ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র।  
• অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 
• ব্যারােমিটার- বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৫০.
কোন দুটি ট্রান্সফরমারের মুখ্য ও গৌণ কুণ্ডলীর পাকসংখ্যার অনুপাত 1:2, সেগুলাের মধ্যে দিয়ে তড়িৎ প্রবাহের অনুপাত কত হবে?
  1. ক) 1:2
  2. খ) 1:4
  3. গ) 2:1
  4. ঘ) 4:1
ব্যাখ্যা
কুণ্ডলী দুটির তড়িৎ প্রবাহমাত্রা তাদের পাক সংখ্যার ব্যস্তানুপাতিক। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
৫১.
কৃষিতে শৈবালের উৎপাদন বন্ধ করতে কোন লবণ ব্যবহৃত হয়?
  1. পটাশিয়াম নাইট্রেট
  2. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. অ্যামোনিয়াম ফসফেট 
  4. কপার সালফেট
ব্যাখ্যা

কৃষিতে ব্যবহৃত লবণ: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত লবণ: 
- শিল্পকারখানায় নানা কাজে খাবার লবণ অপরিহার্য। 
যেমন- চামড়াশিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- আবার বেশ কিছু লবণ যেমন- তুঁতে (CuSO4), মারকিউরিক সালফেট (HgSO4), সিলভার সালফেট (Ag2SO4) শিল্পকারখানায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- টেক্সটাইল ও রং তৈরির কারখানায় রং ফিক্স করার কাজে লবণ প্রয়োজন হয়, ধাতুর বিশুদ্ধকরণে লবণ লাগে। 
- রাবার প্রস্তুতিতে লবণ ব্যবহার করে রাবারকে (ল্যাটেক্স) রাবার গাছের নির্যাস থেকে আলাদা করা হয়। 
- ওষুধ কারখানায় স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধেও লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- ডিটারজেন্ট তৈরিতেও ফিলার হিসেবে লবণ খুবই প্রয়োজনীয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫২.
নিচের কোনটি ঔষধি গাছ?
  1. ক) পাট
  2. খ) ধনিয়া
  3. গ) অর্জুন
  4. ঘ) তুলা
ব্যাখ্যা
অর্জুন একটি ঔষধি গাছ। 

অর্জুন গাছের উপকারী দিকসমূহ- 
- অর্জুন গাছের ছাল, ফল ও পাতা তিনটিই ওষুধী উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে অর্জুন গাছের ছালই ভেষজ চিকিৎসায় বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- অর্জুন গাছের ছাল বেটে খেলে হৃৎপিণ্ডের পেশি শক্তিশালী হয় এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ে।
- অর্জুন গাছের রসে রক্ত পরিশোধন ক্ষমতা রয়েছে। এ কারণে পথ্য হিসেবে অর্জুনের রস হর হামেসা ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- অর্জুন খাদ্য হজম ক্ষমতা বাড়ায়। খাদ্যতন্ত্রের শৃংখলা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
- অর্জুন গাছের রস চর্ম ও যৌনরোগে উপকার করে। যৌন উদ্দীপনা বাড়াতেও অর্জুনের রস সাহায্য করে বলে ভেষজবিদরা বলে থাকেন।
- শরীরে খোস-পাচড়া দেখা দিলে অর্জুন গাছের ছাল বেটে লাগালে ভালো হয়ে যায়।

সূত্র- বিবিসি ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]
৫৩.
গ্রীষ্মকালের শুরুতে নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলে কোন ধরনের বৃষ্টিপাত হয়?
  1. শৈলোৎক্ষেপ
  2. পরিচলন
  3. ঘূর্ণিবাত
  4. সংঘর্ষ
ব্যাখ্যা
বৃষ্টিপাত: 
- বৃষ্টিপাত হলো কোনো অঞ্চলের আবহাওয়ার একটি অবস্থা যা নানা ধরনের আবহাওয়ার উপাদানসমূহের উপর নির্ভরশীল। 
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্ব আকাশে ঠান্ডা ও ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয়। 
- এই সকল মেঘের মধ্যে থাকে অসংখ্য পানিকণা ও বরফকণা। 
- এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানি ও বরফকণা পরস্পরের সাথে মিলে বড় পানির কণায় পরিণত হয়। 
- স্বাভাবিকভাবে মেঘ যখন আকাশে ভাসতে থাকে তখন তা ঘনীভূত হয়ে ফোঁটা ফোঁটা আকারে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হলে তাকে বলা হয় বৃষ্টিপাত (Rainfall)। 

বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ: 
- মোট ৪টি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বাকাশে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে বৃষ্টিপাত প্রধানত ৪টি ভাগে বিভক্ত। 
- এই ৪টি প্রকারভেদ হলো- 
১. পরিচলন বৃষ্টিপাত, 
২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত, 
৩. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত এবং 
৪. সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত। 

পরিচলন বৃষ্টিপাত: 
- ভূ-পৃষ্ঠের বায়ু উষ্ণ হলে প্রচুর জলীয়বাষ্প সম্পন্ন হালকা বায়ু উপরে উঠে যায়। এ সময়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজা নিচে নেমে আসে। এই বৃষ্টিপাতকে বলা হয় পরিচলন বৃষ্টি। 
- পরিচলন বৃষ্টিতে বায়ুর তাপ হ্রাস পেয়ে যখন অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয় তখন এই ধরনের বৃষ্টিপাত ঘটায়। 
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় কারণ এই সব এলাকার উর্ধ্বগামী বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে। 
- নিরক্ষীয় এলাকায় স্থলভাগের থেকে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হয়। 
- এই অঞ্চলে হালকা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে। 
- হালকা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু যখন শীতল বায়ুর সংস্পর্শে আসে তখন এই রকম পরিচলন বৃষ্টিপাত ঘটায়। 
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় সারাবছরই সন্ধ্যা ও বিকালে এইরূপ বৃষ্টি হয়। 
- নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪.
নিচের কোনটি অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক নয়?
  1. বক্সাইট
  2. ডলোমাইট
  3. কোরান্ডাম
  4. ক্রায়োলাইট
ব্যাখ্যা
• আয়রন বা লোহার আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট,
- হেমাটাইট,
- আয়রন পাইরাইটস,
- লিমোনাইট ইত্যাদি।

• সোডিয়ামের আকরিক:
- রকসল্ট,
- চিলি সল্টপিটার,
- ন্যাট্রোন,
- বোরাক্স ইত্যাদি।

• ক্যালসিয়ামের আকরিক:
- চুনাপাথর,
- জিপসাম,
- ডলোমাইট ইত্যাদি।

• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক:
- বক্সাইট,
- কোরান্ডাম,
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
৫৫.
এক্স-রে মূলত কী ধরনের রশ্মি?
  1. ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক
  2. নিউক্লিয়ার
  3. যান্ত্রিক
  4. কণিকাধর্মী
ব্যাখ্যা

• এক্স-রে হলো একটি উচ্চ-শক্তির Electromagnetic Radiation, যা দৃশ্যমান আলোর চেয়ে ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্য (প্রায় 0.01-10 ন্যানোমিটার) এবং উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি সম্পন্ন।

আবিষ্কার:
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্স-রের উপস্থিতি প্রথম শনাক্ত করেন।
- তিনি লক্ষ্য করেন, যখন ক্যাটোড রে টিউবে উচ্চ ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয়, তখন একটি অদৃশ্য রশ্মি তৈরি হয় যা ফ্লুরোসেন্ট পর্দা উজ্জ্বল করে।
- তিনি এই রশ্মি সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণা চালান এবং দেখান যে এটি দেহের ভিতরের দৃশ্যমান ছবি তৈরি করতে পারে।

বৈশিষ্ট্য:
- Electromagnetic nature: কোন ভর বা চার্জ নেই।
- Penetrating power: হালকা পদার্থ যেমন ত্বক পার হয়, কিন্তু হাড় বা ধাতু অনেকাংশে আটকে রাখে।
- চিত্রায়ন: রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত।
- তাপ উৎপাদন: অত্যধিক এক্স-রে ত্বক বা কোষ ক্ষতি করতে পারে।

উদাহরণ ও ব্যবহার:
- চিকিৎসা: হাড় ভাঙা, দাঁতের সমস্যা, ফুসফুসের রেন্টজেন।
- শিল্প: ধাতুর ফাটল বা ভেতরের কাঠামো পরীক্ষা।
- বিজ্ঞান: অণু ও ক্রিস্টাল গঠন বিশ্লেষণ।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

৫৬.
বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, কুয়াশা বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে হয়ে থাকে?
  1. ক) ট্রপোমণ্ডল
  2. খ) স্ট্রাটোমন্ডল
  3. গ) মেসোমন্ডল
  4. ঘ) তাপমন্ডল
ব্যাখ্যা
- ট্রপোমন্ডল (Troposphere): বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
- এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়
 - ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
- ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪° সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
- ট্রপোমন্ডলের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায় ও নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতি বেশি পাওয়া যায়।

সূত্র: ৬১ পৃষ্ঠা, ভূগোল ও পরিবেশ,  এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭.
মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস বের হয় তা মূলত -
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) মিথেন
  3. গ) ইথেন
  4. ঘ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে তেল, গ্যাস বা কয়লা।
- তেল, গ্যাস বা কয়লা তিনটিই হচ্ছে ফসিল জ্বালানি, অর্থাৎ লক্ষ-কোটি বছর আগে গাছপালা মাটির নিচে চাপা পড়ে দীর্ঘদিনের তাপ আর চাপে এই রূপ নিয়েছে।
- মাটির নিচ থেকে কয়লা, তেল আর গ্যাসকে তুলতে হয়।
- মাটির নিচ থেকে যে তেল তোলা হয় (Crude Oil) প্রাথমিক অবস্থায় সেগুলো অনেক ঘন থাকে, রিফাইনারিতে সেগুলো পরিশোধন করে পেট্রল, ডিজেল বা কেরোসিনে রূপান্তর করা হয় এবং সাথে সাথে আরো ব্যবহারযোগ্য পদার্থ বের হয়ে আসে।
- মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস বের হয় সেটি মূলত মিথেন (CH4), এর সাথে জলীয়বাষ্প এবং অন্যান্য গ্যাস মেশানো থাকতে পারে এবং সেগুলো আলাদা করে নিতে হয়। 

সূত্র- পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম - ১০ম শ্রেণি।
৫৮.
১ অশ্বক্ষমতা (HP) সমান কত ওয়াট?
  1. ৬৪৬ ওয়াট
  2. ৯৪৬ ওয়াট
  3. ৭৪৬ ওয়াট
  4. ৮৪৬ ওয়াট
ব্যাখ্যা

১ অশ্বক্ষমতা (HP) সমান ৭৪৬ ওয়াট।

• ক্ষমতা:
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে।
- নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়।
 - ক্ষমতাকে p দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট।
- অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়।
-1HP = 746 ওয়াট
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T- 3

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯.
পেনিসিলিয়াম কী?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. শৈবাল
ব্যাখ্যা
ছত্রাক বহুকোষী জীব। এদের আগে উদ্ভিদ জগতের সদস্য মনে করা হতো। বর্তমানে এদের উদ্ভিদ জগৎ থেকে আলাদা একটি জগতে স্থান দেওয়া হয়। দেহে প্লাস্টিড (ক্লোরোফিল) না থাকায় ছত্রাক পরভোজী বা মৃতজীবী।
যেমন- মিউকর, ইস্ট, ব্যাঙের ছাতা, পেনিসিলিয়াম ইত্যাদি।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০.
হিগের কণা সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৫৪ সালে
  2. ১৯৬৪ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৮৪ সালে
ব্যাখ্যা

- Higgs boson, also called Higgs particle, particle that is the carrier particle, or boson, of the Higgs field, a field that permeates space and endows all elementary subatomic particles with mass through its interactions with them.
- The field and the particle—named after Peter Higgs of the University of Edinburgh, one of the physicists who in 1964 first proposed the mechanism—provided a testable hypothesis for the origin of mass in elementary particles.
- In popular culture the Higgs boson is often called the “God particle,” after the title of Nobel physicist Leon Lederman’s The God Particle: If the Universe Is the Answer, What Is the Question?, which contained the author’s assertion that the discovery of the particle is crucial to a final understanding of the structure of matter
সূত্র: Encyclopedia Britannica

৬১.
কোন তাপমাত্রায় বরফ গলতে শুরু করে? 
  1. ০°সেন্টিগ্রেড
  2. ৪°সেন্টিগ্রেড
  3. ২৫°সেন্টিগ্রেড
  4. ১০০°সেন্টিগ্রেড
ব্যাখ্যা
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়।  আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬২.
নিচের কোনটির উপর কোনো এসিডের শক্তিমাত্রা নির্ভর করে না?
  1. ক) দ্রাবকের প্রকৃতি
  2. খ) প্রান্তীয় পরমাণুর জারণ অবস্থা
  3. গ) হাইড্রাসিডের ঋণাত্মক আয়নের আকার
  4. ঘ) এসিডের বিয়োজন ধ্রবক
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
এসিডের তীব্রতা বা শক্তিমাত্রা নিম্নোক্ত বিষয়ের ওপর নির্ভর করে-
- এসিডের বিয়োজন ধ্রুবকঃ এসিডের বিয়োজন ধ্রুবকের মান যতো বেশি হয়, এসিডটি ততো বেশি শক্তিশালী হয়।
- হাইড্রাসিডের ঋণাত্মক আয়নের আকারঃ ঋণাত্মক আয়নের আকার যতো বড় হয়, অণুর বিয়োজন ততো বেশি হয় অর্থাৎ এসিডের তীব্রতা ততো বেশি হয়।
- কেন্দ্রীয় পরমাণুর জারণ অবস্থাঃ অক্সিজেন পরমাণুযুক্ত এসিডসমূহের কেন্দ্রীয় পরমাণুর ধনাত্মক জারণ সংখ্যা যতো বেশি, ঐ এসিডের তীব্রতা ততো বেশি।
- কেন্দ্রীয় পরমাণুর আকারঃ অক্সিজেন পরমাণুযুক্ত এসিডসমূহের কেন্দ্রীয় পরমাণুর ধনাত্মক জারণ সংখ্যা সমান হলে তখন যেটির কেন্দ্রীয় পরমাণুর আকার ছোটো হবে সে এসিডের তীব্রতা বেশি হবে।
- দ্রাবকের প্রকৃতিঃ দ্রাবকের প্রোটন গ্রহণ করার ক্ষমতাভবা ক্ষারকত্ব বেশি হলে এতে দ্রবীভূত এসিডের আয়নীকরণ বৃদ্ধি পায়।

৬৩.
চর্বি জমার প্রবণতা হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা রাখে কোনটি?
  1. ক) প্রোটিন
  2. খ) শর্করা
  3. গ) রাফেজ
  4. ঘ) স্নেহ
ব্যাখ্যা
রাফেজ/ আঁশযুক্ত খাদ্য: 
শস্যদানার বহিরাবরণ, সবজি, ফলের খােসা, শাঁস, বীজ এবং উদ্ভিদের ডাঁটা, মূল ও পাতায় আঁশ থাকে। এগুলে মূলত কোষপ্রাচীরের সেলুলােজ এবং লিগনিন।
রাফেজ পানি শােষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে।
রাফেজযুক্ত খাবার বিষাক্ত বর্জনীয় বস্তুকে খাদ্যনালি থেকে পরিশােষণ করে। 
খাদ্যনালির ক্যান্সারের আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস করে।
আঁশযুক্ত খাবার স্থূলতা হ্রাস, ক্ষুধাপ্রবণতা এবং চর্বি জমার প্রবণতা হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

[উৎস: মাধ্যমিক জীব বিজ্ঞান]
৬৪.
নিচের কোনটি ইলেকট্রোলাইট?
  1. চিনি
  2. প্যারাফিন ওয়েল
  3. কেরোসিন
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড হলো ইলেকট্রোলাইট। 
- ইলেকট্রোলাইটিক পরিবাহী : যেসব পরিবাহী পদার্থের মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ পরিবহনের ফলে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে এবং | ফলশ্রুতিতে নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয় যেমন, এসিড, ক্ষার গলিত লবন ইত্যাদি।
- এক্ষেত্রে আয়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হয়।
- এ ধরনের পরিবাহীকে ইলেকট্রোলাইটিক পরিবাহী বলে।
 
উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬৫.
দহন কোন ধরনের বিক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত?
  1. সংযোজন
  2. বিয়োজন
  3. প্রতিস্থাপন
  4. জারণ-বিজারণ
ব্যাখ্যা
• দহন বিক্রিয়া জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত। 

• দহন বিক্রিয়া:
- কোনো মৌল বা যৌগকে বাতাসের অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার উপাদান মৌলের অক্সাইডে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে দহন বিক্রিয়া বলে।

• দহন বিক্রিয়ার উদাহরণ:
CH4(g) + 2O2(g) → CO2 (g) + 2H2O(g) + তাপ

- দহন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রন এর আদান-প্রদান ঘটে। 
- দহন বিক্রিয়ার প্রতিক্ষেত্রেই অক্সিজেন ইলেকট্রন গ্রহণ করে অপর যৌগ বা মৌল ইলেকট্রন ত্যাগ করে।
সুতরাং দহন বিক্রিয়া জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
• সংযোজন বিক্রিয়া: যে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক রাসায়নিক পদার্থ পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে একটিমাত্র উৎপাদ উৎপন্ন করে তাকে সংযোজন বিক্রিয়া বলে।
- যেমন: 2FeCl2(aq) + Cl2(g) → FeCl3(aq)

• বিয়োজন বিক্রিয়া: যে বিক্রিয়ায় একটি যৌগ ভেঙে একাধিক যৌগ বা মৌলে উৎপন্ন হয় তাকে বিয়োজন বিক্রিয়া বলা হয়।
- যেমন: PCl5 →  PCl3 + Cl2

• প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া: কোনো অধিক সক্রিয় মৌল বা যৌগমূলক অপর কোনো কম সক্রিয় মৌল বা যৌগমূলককে প্রতিস্থাপন করে নতুন যৌগ উৎপন্ন করার প্রক্রিয়াকে প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া বলে।
- যেমন: Zn(s) + H2SO4 (l) →ZnSO4(aq) + H2(g)

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৬৬.
লোহিত রক্তকণিকা কোথায় তৈরি হয়?
  1. প্লীহা ও অস্থিমজ্জায়
  2. যকৃত ও অস্থিমজ্জায়
  3. হৃৎপিণ্ড ও অস্থিমজ্জায়
  4. কিডনি ও অস্থিমজ্জায়
ব্যাখ্যা
• ভ্রূণাবস্থায় এবং প্রাথমিক জীবনে লোহিত রক্তকণিকা যকৃতেও তৈরি হয়। ভ্রূণাবস্থায় প্লীহা-তেও লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয় - তবে, যকৃতের তুলনায় তা খুব অল্প পরিমাণ।
তাই, সঠিক উত্তর - খ) যকৃত ও অস্থিমজ্জায় - কারণ উভয় অঙ্গই লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ভূমিকা রাখে, যদিও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অস্থিমজ্জাই প্রধান স্থান।

• রক্তসংবহন তন্ত্র:
- যে প্রক্রিয়ায় প্রাণিদেহে রক্ত পরিবহনের কাজ সম্পন্ন হয় তাকে সংবহন প্রক্রিয়া বলে।
- রক্ত, হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং লসিকা ও লসিকাবাহী নালির সমন্বয়ে মানব দেহের সংবহনতন্ত্র গঠিত।
- যে তন্ত্রের মাধ্যমে দেহে রক্ত সঞ্চালিত হয় তাকে রক্ত সংবহনতন্ত্র বলে।
- হৃৎপিণ্ড, রক্ত ও রক্তবাহী নালির সমন্বয়ে রক্ত সংবহনতন্ত্র গঠিত।

• রক্ত ও রক্তের উপাদান:
- রক্ত ঘন লাল রঙের একটি তরল পদার্থ, এটি এক ধরনের তরল যোজক টিস্যু।
- রক্তের স্বাদ ক্ষারধর্মী।
- রক্তের উপাদান দুইটি।
- যথা: রক্তরস ও রক্তকণিকা।

• রক্তকণিকা:
- রক্তে তিন ধরনের কণিকা রয়েছে।
যথা-

ক. লোহিত রক্তকণিকা:
- লোহিত রক্তকণিকার জন্য রক্তের রং লাল দেখায়, এর মধ্যে হিমোগ্লোবিন নামক একটি রঞ্জক পদার্থ থাকে।
- হিমোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে দেহকোষে -পৌঁছায়।
- লোহিত রক্তকণিকা উভঅবতল (উভয় পৃষ্ঠে খাদ আছে), চাকতির মতো গোলাকার কোষ।
- পরিণত লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না।
- লোহিত রক্তকণিকা যকৃত ও অস্থিমজ্জায় তৈরি হয়।

খ. শ্বেত রক্ত কণিকা:
- শ্বেত রক্তকণিকা লোহিত রক্তকণিকার চেয়ে আকারে কিছুটা বড়ো ও অনিয়মিত আকারের হয়।
- এদের নিউক্লিয়াস আছে, প্লীহা ও অস্থিমজ্জায় এদের জন্ম।
- দেহে কোনো রোগ-জীবাণু প্রবেশ করলে শ্বেত রক্তকণিকা সেগুলোকে ধ্বংস করে।
- শ্বেত রক্তকণিকা দেহের প্রহরীর মতো কাজ করে, তাই এদের সৈনিকের সাথে তুলনা করা হয়।

গ. অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা দেখতে গোলাকার বা বৃত্তের মতো।
- এরা লোহিত রক্তকণিকার চেয়ে আকারে ছোটো হয় ও নিউক্লিয়াস থাকে না, এরা গুচ্ছাকারে থাকে।
- এদের উৎপত্তি লোহিত অস্থিমজ্জায়।
- দেহের কোনো অংশ কেটে রক্তপাত ঘটলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, এদের প্লেটলেটও বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৬৭.
যৌগিক পদার্থের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) পানি
  2. খ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  3. গ) এসিড 
  4. ঘ) তামা
ব্যাখ্যা
তামা একটি মৌলিক পদার্থ, কারণ তামাকে ভাঙলে অন্য কোন নতুন পদার্থ পাওয়া যায় না। 

মৌলিক পদার্থ : যে পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে ওই পদার্থ ভিন্ন ধর্ম বিশিষ্ট অন্য কোন নতুন পদার্থ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে।
মৌলিক পদার্থের উদাহরণ : হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হিলিয়াম, কার্বন, গন্ধক, তামা, দস্তা, পারদ, সোনা, রুপা প্রভৃতি মৌলিক পদার্থ।

যৌগিক পদার্থ : দুই বা তার বেশি সংখ্যক মৌলিক পদার্থ নির্দিষ্ট ওজনের অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে ভিন্ন ধর্মী পদার্থ গঠন করে। অথবা, যে পদার্থের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে দুই বা তার বেশি মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে যৌগিক পদার্থ বলে।
যৌগিক পদার্থের উদাহরণ : জল, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, খাদ্য লবন, এসিড, ক্ষার প্রভৃতি হল যৌগিক পদার্থ।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি 

৬৮.
লেন্সের ক্ষমতার প্রচলিত একক কোনটি?
  1. রেডিয়ান
  2. ডায়াপ্টার
  3. মিটার
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
লেন্স:
- দুটি গোলীয় পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোনো স্বচ্ছ সমসত্ত্ব প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলা হয়।
- লেন্স সাধারণত কাচের তৈরি হয়। এছাড়া কোয়ার্টজ, স্বচ্ছ প্লাস্টিক দ্বারাও লেন্স তেরি করা হয়।
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
• উত্তল বা অভিসারী লেন্স (Convex Lens)।
• অবতল বা অপসারী লেন্স (Concave Lens)।

লেন্সের ক্ষমতা:
- লেন্সের ক্ষমতাকে P দ্বারা প্রকাশ করা হয় এবং এর একক হচ্ছে ডায়াপ্টার।
- দূরত্বকে মিটারে প্রকাশ করে এর বিপরীত রাশি নিলে লেন্সটির ক্ষমতা ডায়াপ্টার পাওয়া যায়।
- ডায়াপ্টারকে সংক্ষেপে D দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- লেন্সের ক্ষমতা ধণাত্মক বা ঋণাত্মক যে কোনোটিই হতে পারে।
- লেন্সের ক্ষমতা ধনাত্মক হয়, তাহলে বুঝতে হবে লেন্সটি উত্তল।
- লেন্সের ক্ষমতা ঋণাত্মক হয়, তাহলে লেন্সটি হবে অবতল।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯.
কোন আলোক রশ্মি ত্বকে ভিটামিন তৈরিতে সাহায্য করে?
  1. ক) আলফা রশ্মি
  2. খ) অতি বেগুনি রশ্মি
  3. গ) গামা রশ্মি
  4. ঘ) রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা
- সূর্যালোকের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে শরীরে কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন ‘ডি’ তৈরি হয়। এই ভিটামিন সূর্যালােকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়।
- নিয়মিতভাবে সারা শরীর সারা দিন কালো বা গাঢ় রঙের কাপড়ে ঢেকে রাখলে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে ঘরের বাইরে না বের হলে ত্বক পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না এবং এ কারণে ভিটামিন ‘ডি’-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
 
- ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন D– এর প্রধান উৎস।
- বাঁধাকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন D পাওয়া যায়।

ভিটামিন D শরীরে ক্যালসিয়াম শােষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরিতে কাজে লাগে। ভিটামিন D–এর অভাবে শিশুদের রিকেট রােগ হতে পারে।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি; বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৭০.
নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য কী?
  1. অত্যন্ত সক্রিয়
  2. যোজনী স্তর পূর্ণ
  3. ধাতব ধর্ম প্রদর্শন করে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বা নোবেল গ্যাস (Noble Gases) পর্যায় সারণীর ১৮তম গ্রুপের মৌল।
-  এগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো যোজনী স্তর পূর্ণ (Full Valence Shell), যা এদেরকে রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় করে তোলে।

• নিষ্ক্রিয় গ্যাসের বৈশিষ্ট্য:
- যোজনী স্তর পূর্ণ:
- এদের সর্ববহিঃস্থ শেলে ইলেকট্রন সংখ্যা পূর্ণ থাকে। ফলে এদের যোজনী স্তর পূর্ণ থাকে। 
উদাহরণ: নিয়ন (Ne) এর ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s22s22p6 (৮টি যোজনী ইলেকট্রন)।

• রাসায়নিক নিষ্ক্রিয়তা:
- যোজনী স্তর পূর্ণ থাকায় এরা সাধারণত রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না।
- ব্যতিক্রম: ভারী নিষ্ক্রিয় গ্যাস (যেমন: Xe, Kr) কিছু বিশেষ অবস্থায় ফ্লোরিন বা অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৭১.
মানুষের দেহের শ্বেত ও লোহিত রক্তকণিকার অনুপাত কত?
  1. ১ : ৭০০
  2. ৭০০ : ১
  3. ১ : ৮০০
  4. ৮০০ : ১
ব্যাখ্যা
• শ্বেত রক্তকণিকা ও লোহিত কণিকা অনুপাত ১ : ৭০০।
- পূর্ণ বয়স্ক পুরুষের মানবদেহে অবস্থিত লোহিত রক্তকনিকার পরিমান প্রায় ৪৫ - ৫০ লাখ (প্রতি ঘন মিলিলিটারে)।
- অন্যদিকে, শ্বেত রক্তকনিকার পরিমান প্রায় ৪-১০ হাজার (প্রতি ঘন মিলিলিটারে)। 

• শ্বেতকণিকা:
- রক্তে বর্ণহীন, নিউক্লিয়াসযুক্ত এবং তুলনামূলকভাবে স্বল্পসংখ্যক ও বৃহদাকার যে কোষ দেখা যায় এবং যারা দেহকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে তাকে শ্বেতকণিকা বলে।
- শ্বেত রক্তকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে।
- শ্বেত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১- ১৫ দিন।

• লোহিত রক্তকণিকা:
- মানুষের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা গোল, দ্বিঅবতল, নিউক্লিয়াসবিহীন চাকতির মতো ও লাল বর্ণের।
- লোহিত রক্তকণিকার কাজ হিমোগ্লোবিন ফুস্ফুস থেকে দেহ কোষে O₂ এবং সামান্য CO₂ পরিবহন করে।
- এতে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান- ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭২.
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিম্নের কোন পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ সবচেয়ে ফলপ্রসূ হবে?
  1. কমিউনিটি পর্যায়ে
  2. জাতীয় পর্যায়ে
  3. উপজেলা পর্যায়ে
  4. আঞ্চলিক পর্যায়ে
ব্যাখ্যা
• জাতীয়, উপজেলা বা আঞ্চলিক পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার চেয়ে কমিউনিটি পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তা সবচেয়ে বেশি ফলপ্রস্যু হবে।
- ব্যক্তি পর্যায়ে মানুষকে সচেতন করার চেয়ে দলগতভাবে মানুষকে সচেতন করা হলে সেটি অধিক ফলপ্রসূ হয়।

• উপকূলীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- বাংলাদেশের উপকূল (৭১৬ কি.মি.) অঞ্চল সমুদ্র সমতলের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্বারা অনবরত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
- অতএব সুষ্ঠু দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উপকূলীয় জনগণের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা (দুর্যোগ মোকাবেলার ক্ষমতা) বৃদ্ধি ও পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

• উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার কতিপয় পন্থা:

১. আবহাওয়ার তথ্যভিত্তিক পূর্বাভাস ও সতীকরণ যথা সময়ে প্রচার করা।
২. বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পারসো এর মাধ্যমে ভূ-উপগ্রহের চিত্র ও রাডার চিত্রের সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণের ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। 
৩. পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র হতে বন্যা সংক্রান্ত পূর্বাভাস প্রচার ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা।
৪. ঘূর্ণিঝড় পূর্ব ও পরবর্তি সংকেত দান, সতর্কীকরণ,উদ্ধার ও পূণর্বাসন ইত্যাদি কাজে সরকারি সংস্থা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি)-এর কার্যক্রমের আওতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
৫. জরুরি পরিস্থিতিতে আর্তদের চিকিৎসা, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পূণর্বাসন কাজে সামরিক বাহিনীর সদস্যবৃন্দ কর্তৃক বেসামরিক প্রশাসনকে সব রকম সাহায্য ও সহযোগিতা দান করা। 
৬. বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন সংস্থা কর্তৃক দুর্যোগ সংক্রান্ত সংকেতসমূহ প্রচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।
৭. সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাসমূহ যেমন- অক্সফাম, ডিজাস্টার, ফোরাম, কেয়ার বাংলাদেশ, কারিতাস, প্রশিকা, সিসিডিবি, বিডিপিসি (বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতি কেন্দ্র) ইত্যাদি সংস্থার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা।
- এছাড়া রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩.
স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্য সম্পাদনের প্রধান একক কোনটি?
  1. নিউরোগ্লিয়া
  2. সাইন্যাপস
  3. নিউরন
  4. নেফ্রন
ব্যাখ্যা

• স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্য সম্পাদনের প্রধান একক হলো নিউরন (গ)। নিউরন হলো একটি বিশেষায়িত স্নায়ুকোষ, যা উদ্দীপনা গ্রহণ, পরিবহন ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এর প্রধান অংশ হলো ডেনড্রাইট, কোষদেহ এবং অ্যাক্সন। ডেনড্রাইট উদ্দীপনা গ্রহণ করে, কোষদেহ তা প্রক্রিয়াজাত করে এবং অ্যাক্সন সেই স্নায়ুবার্তা অন্য কোষে পৌঁছে দেয়। স্নায়ুতন্ত্রের সব কার্যকলাপ- যেমন চিন্তা, অনুভূতি, চলাচল ও প্রতিফল ক্রিয়া- নিউরনের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। নিউরোগ্লিয়া সহায়ক কোষ, সাইন্যাপস সংযোগস্থল এবং নেফ্রন কিডনির একক, তাই সঠিক উত্তর নিউরন।
 
• স্নায়ুকলা (Nervous tissue):
- যে কলা দেহের সব ধরনের সংবেদন ও উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং তা পরিবহণের মাধ্যমে উদ্দীপনা অনুসারে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে, সেটাই স্নায়ুটিস্যু বা স্নায়ুকলা। 
- বহুসংখ্যক স্নায়ুকোষ বা নিউরনের সমন্বয়ে স্নায়ুটিস্যু গঠিত।
- নিউরনই স্নায়ুতন্ত্রের গঠন এবং কার্যক্রমের একক।

• নিউরনের গঠন:
- প্রতিটি নিউরন দুটি অংশ নিয়ে গঠিত-কোষদেহ এবং প্রলম্বিত অংশ।

কোষদেহ (Cell body):
- প্লাজমামেমব্রেন, সাইটোপ্লাজম আর নিউক্লিয়াস নিয়ে গঠিত নিউরনের গোলাকার, তারকাকার, অথবা ডিম্বাকার অংশ কোষদেহ নামে পরিচিত। এখানে সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজিবস্তু, লাইসোজোম, চর্বি, গ্লাইকোজেন, রঞ্জক কণাসহ অসংখ্য নিসল দানা থাকে।

প্রলম্বিত অংশ:
- কোষদেহ থেকে সৃষ্ট শাখা-প্রশাখাকেই প্রলম্বিত অংশ বলে। প্রলম্বিত অংশ দুধরনের:

(i) ডেনড্রন:
- কোষদেহের চারদিকের শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রন বলে। ডেনড্রন থেকে যে শাখা বের হয় তাদের ডেনড্রাইট বলে। একটি নিউরনে ডেনড্রন সংখ্যা শূন্য থেকে শতাধিক পর্যন্ত হতে পারে। ডেনড্রাইট অন্য নিউরন থেকে স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করে।

(ii) অ্যাক্সন (Axon):
- কোষদেহ থেকে উৎপন্ন বেশ লম্বা তন্তুর নাম অ্যাক্সন। এর চারদিকে পাতলা আবরণটিকে নিউরিলেমা বলে। নিউরিলেমা এবং অ্যাক্সনের মধ্যবর্তী অঞ্চলে স্নেহ পদার্থের একটি স্তর থাকে। একে মায়েলিন (Myelin) বলে।  

অপরদিকে,
- বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকারী একক হচ্ছে নেফ্রন।
- সাইন্যাপস হলো দুটি নিউরন বা একটি নিউরন ও অন্য কোনো কোষের (যেমন পেশী কোষ) সংযোগস্থল, যেখানে একটি নিউরন থেকে পরবর্তী কোষে স্নায়ু সংকেত বা তথ্য রাসায়নিক বা বৈদ্যুতিক উপায়ে প্রবাহিত হয়।
- নিউরোগ্লিয়া হলো স্নায়ুতন্ত্রের সহায়ক কোষ, যা নিউরনকে (স্নায়ুকোষ) ধরে রাখে, পুষ্টি যোগায়, সুরক্ষা দেয় এবং স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

৭৪.
শূন্যকে সত্যিকার অর্থে ব্যবহার করেছিলেন কে? 
  1. থেলিস
  2. আর্যভট্ট
  3. পিথাগোরাস
  4. আরিস্তারাকস
ব্যাখ্যা
গ্রিক, ভারতবর্ষ, চীন এবং মুসলিম সভ্যতার অবদান: 
- বর্তমানে পদার্থবিজ্ঞান বলতে যে বিষয়টিকে বোঝানো হয়, প্রাচীনকালে সেটি শুরু হয়েছিল জ্যোতির্বিদ্যা, আলোকবিজ্ঞান, গতিবিদ্যা এবং গণিতের গুরুত্বপূর্ণ শাখা জ্যামিতির সমন্বয়ে। 
- গ্রিক বিজ্ঞানী থেলিসের (BC 624-586) নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে, কারণ তিনিই প্রথম কার্যকারণ এবং যুক্তি ছাড়া শুধু ধর্ম, অতীন্দ্রিয় এবং পৌরাণিক কাহিনিভিত্তিক ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন। থেলিস সূর্যগ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং লোডস্টোনের চৌম্বক ধর্ম সম্পর্কে জানতেন। 
- সেই সময়ের গণিতবিদ ও বিজ্ঞানীদের মাঝে পিথাগোরাস (527 BC) একটি স্মরণীয় নাম। জ্যামিতি এবং কম্পমান তারের ওপর তার মৌলিক কাজ ছিল। 
- গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (460 BC) প্রথম ধারণা দেন যে পদার্থের অবিভাজ্য একক আছে, যার নাম দেওয়া হয়েছিল অ্যাটম (এই নামটি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ব্যবহার করে থাকে)। তবে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় তার ধারণাটি প্রমাণের কোনো সুযোগ ছিল না বলে সেটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। 
- সেই সময়কার সবচেয়ে বড় দার্শনিক এবং বিজ্ঞানী অ্যারিস্টটলের মাটি, পানি, বাতাস ও আগুন দিয়ে সবকিছু তৈরি হওয়ার মতবাদটিই অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য ছিল। 
- আরিস্তারাকস (310 BC) প্রথমে সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ধারণা দিয়েছিলেন এবং তার অনুসারী সেলেউকাস যুক্তিতর্ক দিয়ে সেটি প্রমাণ করেছিলেন, যদিও সেই যুক্তিগুলো এখন কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। 
- গ্রিক বিজ্ঞান এবং গণিত তার সর্বোচ্চ শিখরে উঠেছিল সর্বকালের একজন শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের (287 BC) সময়। তরল পদার্থে ঊর্ধ্বমুখী বলের বিষয়টি এখনো বিজ্ঞান বইয়ের পঠনসূচিতে থাকে। গোলীয় আয়নায় সূর্যরশ্মিকে কেন্দ্রীভূত করে দূর থেকে শত্রুর যুদ্ধজাহাজে আগুন ধরিয়ে তিনি যুদ্ধে সহায়তা করেছিলেন। 
- গ্রিক আমলের আরেকজন বিজ্ঞানী ছিলেন ইরাতোস্থিনিস (276 BC), যিনি সেই সময়ে সঠিকভাবে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বের করেছিলেন। 

- এরপর প্রায় দেড় হাজার বছর জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা প্রায় বন্ধ হয়েছিল। শুধু ভারতীয়, মুসলিম এবং চীনা ধারার সভ্যতা গ্রিক ধারার এই জ্ঞানচর্চাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। 
- ভারতবর্ষে আর্যভট্ট (476), ব্রহ্মগুপ্ত এবং ভাস্কর গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার অনেক মূল্যবান কাজ করেছেন। 
- শূন্যকে সত্যিকার অর্থে ব্যবহার করার কাজটিও ভারতবর্ষে (আর্যভট্ট) করা হয়েছিল। 
- মুসলিম গণিতবিদ এবং বিজ্ঞানীদের ভেতর আল খোয়ারিজমির (783) নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয়। তার লেখা আল জাবির বই থেকে বর্তমান অ্যালজেবরা নামটি এসেছে। 
- ইবনে আল হাইয়াম (965) কে আলোকবিজ্ঞানের স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- আল মাসুদি (896) প্রকৃতির ইতিহাস নিয়ে 30 খণ্ডে একটি এনসাইক্লোপিডিয়া লিখেছিলেন। 
- ওমর খৈয়ামের নাম সবাই কবি হিসেবে জানে; কিন্তু তিনি ছিলেন উঁচুমাপের একজন গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ এবং দার্শনিক। 
- চীনা গণিতবিদ ও বিজ্ঞানীরাও পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে অনেক কাজ করেছেন। তাদের মাঝে শেন কুয়োর নামটি উল্লেখ করা যায় (1031), যিনি চুম্বক নিয়ে কাজ করেছেন এবং ভ্রমণের সময় কম্পাস ব্যবহার করে দিক নির্ধারণ করার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৫.
স্বল্প দ্রবণীয় দ্রবের উদাহরণ কোনটি?
  1. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  2. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  3. পটাসিয়াম নাইট্রেট
  4. সোডিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা

দ্রব (Solute):
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়।
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব।
একইভাবে,
- চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব।
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা-
১। স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব:
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে।
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়।
যেমন-
• সিলভার ক্লোরাইড (AgCl),
• সিলভার ব্রোমাইড (AgBr),
• সিলভার আয়োডাইড (AgI),
• সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3),
ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3),
• ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2),
• ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4),
• ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2,
• লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি।

২। অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব:
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়।
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে।
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না।
যেমন-
সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl),
• সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3),
• পটাসিয়াম ক্লোরাইড (KCI),
পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3),
• অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4CI),
অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬.
কোনটি অগ্রমস্তিষ্কের অংশ?
  1. সেরেব্রাম
  2. সেরেবেলাম
  3. পনম
  4. কর্পোরা
ব্যাখ্যা

• সেরেব্রাম-  অগ্রমস্তিষ্কের অংশ।

অগ্রমস্তিষ্ক:
- অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে।
- এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা-
(ক) সেরেব্রাম,
(খ) থ্যালামাস ও
(গ) হাইপোথ্যালামাস।

• সেরেব্রাম:
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে)।
- প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।
- সেরেব্রাম বাকশক্তি, স্মৃতি শক্তি, চিন্তা, বুদ্ধি-বৃত্তি, সৃজনশীলতা, ইচ্ছা শক্তি, সহজাত প্রবৃত্তি, কর্মপ্রেরণা প্রভৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট।
- সর্বোপরি মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

• থ্যালামাস:
- সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের নিচে দুটি ক্ষুদ্র ও ডিম্বাকৃতির থ্যালামাস থাকে যা ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- থ্যালামাস সংবেদী-উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং রিলে করে সেরেব্রামে পাঠায়।

• হাইপোথ্যালামাস:
- এটি থ্যালামাসের ঠিক নিচে ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- এটি অন্ততঃ এক ডজন পৃথক অঞ্চলে বিভক্ত থাকে।
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সকল কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, রাগ, ভাল লাগা, ভীতি, আবেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- পিটুইটারী গ্রন্থিও বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ করে।

অপশন আলোচনা:
ক) সেরেব্রাম — এটি অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান ও সবচেয়ে বড় অংশ, তাই সঠিক উত্তর।
খ) সেরেবেলাম — এটি পশ্চাৎমস্তিষ্কের অংশ, অগ্রমস্তিষ্কের নয়।
গ) পনস (পনম) — এটি মধ্যমস্তিষ্ক/পশ্চাৎমস্তিষ্কের সংযোগকারী অংশ, অগ্রমস্তিষ্কের অংশ নয়।
ঘ) কর্পোরা (কর্পাস ক্যালোসাম বোঝালে) — এটি অগ্রমস্তিষ্কের ভেতরে সেরেব্রামের দুই অর্ধকে যুক্ত করে, তবে সাধারণ MCQ-তে একে সরাসরি অগ্রমস্তিষ্কের অংশ হিসেবে ধরা হয় না।
 
তথ্যসূত্র - প্রাণি বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭.
কৃষ্ণগহ্বর শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন কে?
  1. ক) জি লেমেটার
  2. খ) স্টিফেন হকিং
  3. গ) আলবার্ট আইনস্টাইন
  4. ঘ) জন হুইলার
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণগহ্বর:

- ১৯৬৯ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার সর্বপ্রথম কৃষ্ণগহ্বর শব্দটি ব্যবহার করেন।
- কৃষ্ণগহ্বর শব্দটির অর্থ হলো কালো গহ্বর। কৃষ্ণগহ্বর তৈরি হয় অধিক পরিমাণ ঘনত্ববিশিষ্ট ভরের নক্ষত্র থেকে।
- এর মহাকর্ষ শক্তি খুবই বেশি। ফলে কৃষ্ণগহ্বর থেকে কোনো কিছুই যেমন তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ (আলো) ও বের হতে পারে না।
- ভিক্টর হেস মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারের জন্য ১৯৩৬ সালে নোবেল পুরষ্কার পান।

তথ্যসূত্র - উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭৮.
রক্তরসে বিদ্যমান জৈব খাদ্যসার পদার্থ কোনটি?
  1. ক) ইউরিয়া
  2. খ) অ্যালবুমিন
  3. গ) অ্যান্টিটক্সিন
  4. ঘ) গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা
রক্তরস:
- রক্তের তরল অংশকে প্লাজমা বলে।
- রক্তরসে প্রায় ১০% জৈব ও অজৈব পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।

জৈব পদার্থ: 
খাদ্যসার (গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড, স্নেহ পদার্থ, ভিটামিন ইত্যাদি)।
• রেচন পদার্থ (ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি)।
• প্রোটিন (ফিব্রিনোজেন, গ্লোবিউলিন, অ্যালবুমিন ইত্যাদি)।
• প্রতিরক্ষামূলক দ্রব্যাদি (অ্যান্টিটক্সিন)।
এছাড়াও রয়েছে হরমোন, কোলেস্টেরল, বিলিরুবিন ইত্যাদি।

অজৈব পদার্থ
- সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন, এবং গ্যাসীয় পদার্থ- O2, CO2, N2 ইত্যাদি।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৯.
ব্যাকটেরিয়া সাধারণত কোন প্রক্রিয়ায় বংশবিস্তার করে?
  1. মিয়োসিস
  2. মাইটোসিস
  3. বাইনারি ফিশন
  4. কনজুগেশন
ব্যাখ্যা

- বাইনারি ফিশন (দ্বিবিভাজন) হলো একটি অযৌন প্রজনন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া বংশবিস্তার করে। এই প্রক্রিয়ায় একটি একক ব্যাকটেরিয়াল কোষ দুটি অভিন্ন (জেনেটিক্যালি আইডেন্টিকাল) অপত্য কোষে বিভক্ত হয়। এটি ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির প্রধান পদ্ধতি। 

ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য: 
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব। 
- ব্যাকটেরিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে - 
⇒ ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার। 
⇒ এরা আণুবীক্ষণিক জীব। 
⇒ এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। 
⇒ এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না। 
⇒ এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর। এরা সাধারণত দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে। 
⇒ এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান, এর সাথে মিউরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিড থাকে। 
⇒ ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল। 
⇒ এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে। 
⇒ এরা সাধারণত মৌলিক রং ধারণ করতে পারে। যেমন- গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ। 
⇒ এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু থাকে, এতে ক্রোমোসোমাল হিস্টোন প্রোটিন থাকে না। 
⇒ কিছুকিছু ব্যাকটেরিয়াতে নিউক্লিয়ার বহির্ভূত DNA থাকে যা সাধারণত প্লাজমিড নামে পরিচিত। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮০.
মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 19
  2. 20
  3. 39
  4. 58
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা লেখার নিয়ম: 
- কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) যত তার নিউক্লিয়াসে ঠিক ততটি প্রোটন থাকে। 
- যদি কোন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা Z হয়, তবে সেই পরমাণুতে Z সংখ্যক প্রোটন ও Z সংখ্যক ইলেকট্রন আছে। 
- পরমাণুর ভর সংখ্যা যদি A হয়, তবে নিউট্রনের সংখ্যা = A - Z. 
- কোন মৌলের পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা, ভর সংখ্যা নিম্ন রীতিতে দেখানো হয়। 

এখানে, 
X = মৌলের প্রতীক। 
Z = মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে পাদদেশে বসে। 
A = পরমাণুর ভর সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে শীর্ষদেশে বসে। এটি প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যা যাকে নিউক্লিয়ন সংখ্যাও বলা হয়। 

পটাশিয়াম (K) মৌলের নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়: 

- পটাশিয়াম মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা 19 এবং 
- নিউক্লিয়ন সংখ্যা বা পারমাণুর ভর সংখ্যা 39 
অতএব, পটাশিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা হবে = 39 - 19 = 20

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১.
নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে যাওয়ায় যেসব জলাশয় প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হয় তাকে কী বলে?
  1. ক) ব-দ্বীপ
  2. খ) হাওর
  3. গ) বাওড়
  4. ঘ) বিল
ব্যাখ্যা
• নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে যাওয়ায় যেসব জলাশয় প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হয় তাকে বাওড় বলে।
- হাওর হচ্ছে বিশাল আকৃতির জলাশয় যা ভূআলোড়নের ফলে সৃষ্টি হয় এবং সেখানে অনেক পানি জমে।
- অন্যদিকে বাওর হল পুরাতন নদীর গতিপথ পরিবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্ট জলাশয়।
- বিল পুরাতন নদীর গতিপথের ধার ঘেঁষে সৃষ্টি হয়।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২.
On which planet in our solar system is the Great Red Spot visible?
  1. Mercury
  2. Jupiter
  3. Venus
  4. Saturn
  5. Uranus
ব্যাখ্যা
বৃহস্পতি: 
- বৃহস্পতি সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ। 
- বৃহস্পতি গ্রহকে গ্রহরাজ বলা হয়। 
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এ গ্রহে জীবের অস্তিত্ব নেই। 
- সৌরজগতে বৃহস্পতির দ্বিতীয় সর্বাধিক উপগ্রহ রয়েছে। 
- বৃহস্পতি গ্রহে বৃহৎ লাল বিন্দু (Great Red Spot) দেখা যায়। 
- সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ বুধ।
- শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ এবং ইউরেনাস সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ। 
- মঙ্গল গ্রহকে লাল গ্রহ বলা হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৩.
বোরের পরমাণু মডেল কোন মূল ধারণার উপর ভিত্তি করে উদ্ভাবিত? 
  1. পাউলির বর্জন সূত্র
  2. প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  3. আরহেনিয়াসের তড়িৎ বিযোজন তত্ত্ব
  4. ডাল্টনের পারমাণবিক তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• বোরের পরমাণু মডেল মূলত প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব এর উপর ভিত্তি করে উদ্ভাবিত। প্লাঙ্ক দেখিয়েছিলেন যে তাপীয় বিকিরণ নির্দিষ্ট পরিমাণের শক্তি “কোয়ান্টাম” আকারে নিঃসৃত হয়। এই ধারণা ব্যবহার করে নীলস বোর ১৯১৩ সালে হাইড্রোজেন পরমাণুর জন্য একটি নতুন মডেল প্রস্তাব করেন। বোরের মডেল অনুযায়ী, ইলেকট্রন নির্দিষ্ট স্থির কক্ষপথে সূর্যের চারপাশে ঘুরতে পারে এবং এই কক্ষপথে অবস্থান করার সময় কোনো বিকিরণ নিঃসৃত হয় না। শুধুমাত্র ইলেকট্রন যখন একটি কক্ষপথ থেকে অন্য কক্ষপথে স্থানান্তরিত হয়, তখনই নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি আলো বা ফোটনের আকারে নির্গত হয়। এটি কোয়ান্টাইজড শক্তির ধারণাকে পরমাণুর মধ্যে প্রয়োগ করার প্রথম পদক্ষেপ ছিল। তাই বোরের মডেল প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব দ্বারা প্রভাবিত।

- সঠিক উত্তর: খ) প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব। 

• বোরের পরমাণু মডেল (Bohr's Atomic Model):
- বোরের পরমাণু মডেল মূলত প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব এর ধারণার উপর ভিত্তি করে উদ্ভাবিত হয়।
- নিউক্লিয়াসের চারপাশে ইলেকট্রনের কক্ষপথের শক্তি নির্দিষ্ট কোয়ান্টাম সংখ্যার (quantum number) মান অনুসারে নির্ধারিত হয়।
- ইলেকট্রন নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে এবং সেই কক্ষপথের মধ্যে অবস্থান পরিবর্তনের সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি গ্রহণ বা বিকিরণ করে।
- এটি পরমাণুর স্থায়িত্ব এবং তার বিকিরণ রশ্মি বর্ণনায় সহায়ক হয়েছে।
- বোরের মডেল ক্লাসিক্যাল বৈদ্যুতিক তত্ত্বের সীমাবদ্ধতা দূর করতে সাহায্য করেছে এবং পরমাণুর কোয়ান্টাইজড প্রকৃতি প্রকাশ করেছে।

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ। 

৮৪.
বারিমণ্ডলের জলের কতভাগ হিমবাহ ধারণ করে?
  1. ০.৬৮%
  2. ২.০৫%
  3. ১.২৫%
  4. ০.০১%
ব্যাখ্যা
বারিমণ্ডলের জলের পরিমাণ ভিত্তিক বন্টনঃ
• সমুদ্র (৯৭.২৫%),
হিমবাহ (২.০৫%),
• ভূগর্ভস্থ পানি (০.৬৮%),
• হৃদ (০.০১%),
• মাটির আর্দ্রতা (০.০০৫%),
• বায়ুমণ্ডল (০.০০১%),
• নদী(০.০০০১%),
• জীবমণ্ডল (০.০০০০৪%)।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৫.
গ্রীষ্মকালে সাদা কাপড় পরা হয়, কারণ-
  1. সাদা কাপড়ের তাপ বিকিরণ ক্ষমতা বেশি
  2. সাদা কাপড় তাপ শোষণ করে না
  3. সাদা কাপড়ে তাপ প্রতিফলন ক্ষমতা বেশি
  4. সাদা কাপড়ের প্রতিসরণ ক্ষমতা বেশি
ব্যাখ্যা
- সূর্যের সাদা আলো সাতটি বর্ণের সমম্বয়ে গঠিত। 
- সাদা বস্তুর তাপ শোষণ ক্ষমতা একেবারেই কম। 
- গ্রীষ্মকালে সাদা কাপড় আরামদায়ক হয়, কেননা সাদা কাপড় সূর্যের আলোর সব বর্ণকেই প্রতিফলিত করে এবং সামান্য অংশ জামা কর্তৃক শোষিত হয়। 
- সাদা রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা কম, এজন্যই গ্রীষ্মকালে সাদা রঙের জামা অধিক আরামদায়ক। 
 
অন্যদিকে, 
- কালো রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি, সেজন্য তা গ্রীষ্মকালে ততটা আরামদায়ক হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা। 
৮৬.
Species Plantarum গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. মেন্ডেল
  3. ডারউইন
  4. ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা

• লিনিয়াসই Species Plantarum গ্রন্থের রচয়িতা।

• দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির সূচনা:

- ১৭৫৩ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস Species Plantarum নামক গ্রন্থটি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থটি উদ্ভিদবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে।

 
• দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির গুরুত্ব:

- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে লিনিয়াস—

- দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি প্রবর্তন করেন,
- জীবজগৎকে গণ (Genus) ও প্রজাতি (Species)-তে বিভক্ত করার সুস্পষ্ট ধারণা দেন।
 
• জীবের শ্রেণিবিন্যাসে লিনিয়াসের অবদান:

- লিনিয়াসই সর্বপ্রথম জীবকে শ্রেণিবিন্যাস করার ক্ষেত্রে—

- শ্রেণি (Class),
- বর্গ (Order),
- গণ (Genus) এবং
- প্রজাতি (Species)
- এই ধাপগুলো ব্যবহার করেন।
 
• দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য:

- লিনিয়াসের প্রবর্তিত এই দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি অনুযায়ী—

- প্রতিটি জীবের নাম দুটি শব্দ নিয়ে গঠিত,
- প্রথম শব্দটি জীবের গণের নাম,
- দ্বিতীয় শব্দটি জীবের প্রজাতির নাম নির্দেশ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৮৭.
ডিপথেরিয়া রোগের কারণ কোনটি?
  1. ক) Mycobacterium
  2. খ) Bacillus
  3. গ) Corynebacterium
  4. ঘ) Diplococcus
ব্যাখ্যা

Mycobacterium tuberculosis - যক্ষ্মা
Bacillus dysenteri - আমাশয়
Corynebacterium diptheriae - ডিপথেরিয়া
Diplococcus pneumoniae - নিউমোনিয়া

৮৮.
কোনটি মিঠা পানির উৎস?
  1. ক) মহাসাগর
  2. খ) উপসাগর
  3. গ) ভূগর্ভস্থ পানি
  4. ঘ) সাগর
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীর সমস্ত পানিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: লবণাক্ত ও মিঠা পানি।
- পৃথিবীর সকল মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের জলরাশি লবণাক্ত‌।
- নদী, হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ পানি মিঠা পানির উৎস।
- বারিমন্ডলের জলের পরিমাণ ভিত্তিক বন্টন নিম্নরুপ: সমুদ্র (৯৭.২৫%), হিমবাহ (২.০৫%), ভূগর্ভস্থ পানি (০.৬৮%), হৃদ (০.০১%) মাটির আর্দ্রতা (০.০০৫%), বায়ুমণ্ডল (০.০০১%), নদী(০.০০০১%), জীবমন্ডল (০.০০০০৪%)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৯.
কোন জাতীয় বিপাকের বিপাকের ফলে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়?
  1. প্রোটিন
  2. কার্বোহাইড্রেট
  3. লিপিড
  4. ভিটামিন
ব্যাখ্যা

• প্রোটিন - জাতীয় খাদ্যের বিপাকের ফলে মানবদেহে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়। 

• রেচন:
- বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্যপদার্থ যে প্রক্রিয়ায় দেহ থেকে দ্রুত ও নিয়মিত নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচন বলা হয়। 

• বৃক্ক:
- মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গকে বলা হয় বৃক্ক। 

• বৃক্কের কাজ:
- রক্ত থেকে নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করা।
- দেহে ও রক্তে পানির ভারসাম্য রক্ষা করা।
- রক্তে বিভিন্ন লবণ, অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা।
- হরমোন ও এনজাইম নিঃসরণ করা।
- দেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
- ভিটামিন ডি ও লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদনে অংশগ্রহণ করা।

• রেচনে বৃক্কের ভূমিকা:
- বৃক্ক প্রধানত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশন করে।
- আমিষ জাতীয় খাদ্য বিপাকের ফলে দেহে অ্যামোনিয়া, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়।
- এগুলো বিষাক্ত ও দেহের জন্য ক্ষতিকর। তাই এসব রেচন পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশন করা অত্যাবশ্যক।
- বৃক্ক এসব রেচন পদার্থ দেহ থেকে অপসারণ করে দেহকে সুস্থ রাখে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 

৯০.
যকৃৎ-এর ক্ষুদ্র একক লোবিউলে কী তৈরি হয়? 
  1. পিত্তরস 
  2. হিমোগ্লোবিন 
  3. ইনসুলিন 
  4. কোলেস্টেরল 
ব্যাখ্যা

যকৃৎ (Liver): 
- মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত। 
- যকৃৎ মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। 
- যকৃৎ-এর রং লালচে খয়েরি। 
- যকৃতের ডান খণ্ডটি বাম খণ্ড থেকে আকারে কিছুটা বড়। 
- প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত। প্রতিটি খণ্ড ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লোবিউল দিয়ে তৈরি। প্রত্যেকটি লোবিউলে অসংখ্য কোষ থাকে যে কোষ পিত্তরস (bile) তৈরি করে। 
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণ সম্পন্ন। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 
- যকৃতের নিচের অংশ পিত্তথলি বা পিত্তাশয় সংলগ্ন থাকে যেখানে পিত্তরস জমা হয়। এই পিত্তরস গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তথলি পিত্তনালির সাহায্যে অগ্ন্যাশয় নালির সাথে মিলিত হয়। এটি যকৃৎ-অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯১.
কোনো পদার্থে ঘনীভবন প্রক্রিয়া ঘটলে তাপের কোন পরিবর্তনটি ঘটে?
  1. তাপের শোষন
  2. তাপের নির্গমন
  3. তাপের কোন পরিবর্তন ঘটে না।
  4. তাপ নির্গত হয় না
ব্যাখ্যা
• ঘনীভবন হল একটি তাপগতীয় প্রক্রিয়া যেখানে গ্যাস অবস্থায় থাকা কোন পদার্থ তাপ হ্রাসের কারণে তরল অবস্থায় পরিণত হয়।

-  এটি সাধারণত তাপমাত্রা হ্রাসের ফলে ঘটে, যখন গ্যাসের কণাগুলির গতির পরিমাণ কমে যায় এবং তারা একে অপরকে আকর্ষণ করে,
 ফলে তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। 

এটি একটি তাপোৎপাদী প্রক্রিয়া (Exothermic process), অর্থাৎ এই প্রক্রিয়ায় তাপের নির্গমন হয়। 

-  যখন গ্যাস তরল অবস্থায় পরিবর্তিত হয়, তখন তার আণবিক শক্তি কমে যায় এবং তাপ মুক্ত হয়।

-  এই মুক্ত তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা তাপমাত্রার বৃদ্ধি ঘটায়।


তথ্যসূত্র:
- রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
৯২.
যখন কোন বস্তুকে বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নেওয়া হয় তখন তার ওজন-
  1. ক) বাড়ে
  2. খ) কমে
  3. গ) অর্ধেক হয়
  4. ঘ) সমান থাকে
ব্যাখ্যা
• যখন কোন বস্তুকে বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নেয়া হয় তখন তার ওজন বাড়তে থাকে
- বস্তুর ভর একটি ধ্রুব রাশি।
- কোনো বস্তুর ওজন অভিকর্ষীয় ত্বরণের উপর নির্ভরশীল। 
- যে স্থানে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, সে স্থানে বস্তুর ওজনও বেশি।
- অভিকর্ষীয় ত্বরণ যে স্থানে কম বস্তুর ওজন সে স্থানে কম।
- যেহেতু মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন বেশি।
- বিষুব অঞ্চলে অভিকর্ষীয় ত্বরণ কম তাই বিষুব অঞ্চলে বস্তুর ওজনও কম।
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষীয় ত্বরণ শূন্য, এজন্য পৃথিবীর কেন্দ্রে বস্তুর কোনো ওজন নাই। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩.
ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরষ্কার পান -
  1. ক) বেল বার্ডিন
  2. খ) ওয়াল্টার ব্রাটেইন
  3. গ) উইলিয়াম শকলি
  4. ঘ) উপরের সকলে
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালে ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য ১৯৫৬ সালে বেল বার্ডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৯৪.
মানবদেহের ক্রোমোসোমের গড় দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ কত মাইক্রোমিটার হয়ে থাকে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৪
  3. গ) ৬
  4. ঘ) ৮
ব্যাখ্যা

মানবদেহের ক্রোমোসোমের গড় দৈর্ঘ্য ৪-৬ মাইক্রোমিটার হয়ে থাকে।

প্রশ্নে সর্বোচ্চ মাইক্রোমিটার চাওয়া হয়েছে বিধায়, ৬ কে সঠিক উত্তর হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে।
প্রজাতি অনুসারে, ক্রোমোসোমের দৈর্ঘ্য সাধারণত ০.২৫-৫০ মাইক্রোমিটার এবং ব্যাস ০.২-২.০ মাইক্রোমিটার হয়।
কোষের নিউক্লিয়াসের ভেতর অবস্থিত নিউক্লিয় জালক থেকে উৎপন্ন নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত যে-সুতোর মতো অংশ জীবদেহের বংশগত বৈশিষ্ট বহন করে এবং জীবের এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে পরিবাহিত করে, তাকে ক্রোমোজোম বলে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৯৫.
'তারামাছ' কোন পর্বের প্রাণী?
  1. মলাস্কা
  2. একাইনোডার্মাটা
  3. নিডারিয়া
  4. অ্যানেলিডা
ব্যাখ্যা
প্রাণী জগতের শ্রেণীবিন্যাস:
- সম্পূর্ণ প্রানী জগতকে ৯ টি প্রধান পর্বে ভাগ করা হয়েছে যার মধ্যে প্রথম আটটি অমেরুদন্ডী প্রাণীদের এবং শুধুমাত্র কর্ডাটা পর্ব মেরুদন্ডী প্রাণীদের নিয়ে গঠিত।

একাইনোডারমাটা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য:

- সম্পূর্ণরূপে সামুদ্রিক।
- পানি সংবহনতন্ত্র দেখা যায়।
-  দেহ কন্টকযুক্ত।
- রেচনতন্ত্র অনুপস্থিত।
উদাহরণ - তারামাছ, সমুদ্র শসা ইত্যাদি।

মলাস্কা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য:
- প্রায় সকল প্রাণী সামুদ্রিক।
- দেহ নরম কিন্তু বাইরের দিকে শক্ত খোলসে আবৃত থাকে।
উদাহরণ - শামুক, ঝিনুক ইত্যাদি।

নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য:
- অধিকাংশ প্রাণী সামুদ্রিক।
- দেহ দুটি ভ্রূণীয় কোষস্তর দ্বারা গঠিত।
- সিলেন্টেরন নামক গহবর দেখা যায়। 
- নিডোব্লাস্ট নামে বিশেষ কোষ দেখা যায়।
উদাহরণ - হাইড্রা, ওবেলিয়া ইত্যাদি।

অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য:
- দেহ নলাকার ও খন্ডায়িত।
- প্রতিটি খন্ডে সিটা থাকে (জোক ব্যতীত)।
- নেফ্রেডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে।
উদাহরণ- কেঁচো, জোক ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী, NCTB।
৯৬.
রেশম তন্তু কোন প্রোটিন দিয়ে তৈরি?
  1. ক) কেরাটিন
  2. খ) প্রোটামিন
  3. গ) ফাইব্রেয়ন
  4. ঘ) প্রোলামিন
ব্যাখ্যা
রেশম:
- সৌন্দর্য ও গুণে রেশমের তৈরি পোশাক আসলে রাজকীয় পোশাক। 
- রেশমকে তন্তুর রাণি বলা হয়। 
- রেশম বা পলু পোকা নামের এক জাতীয় পোকার গুটি বা কোকুন থেকে রেশম বা সিল্ক তন্তু আহরণ করা হয়ে থাকে। 
- বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায় রেশমের চাষ করা হয়।
- রেশম রাজকীয় তন্তু কিন্তু পানি ধারণক্ষমতা অত্যধিক হওয়ায় রেশমের তৈরি পোশাক পানি দিয়ে ধোয়া যায় না। 
- এগুলো হচ্ছে পলু পোকার মুখ নিসৃত লালা যা আপন শরীরের চারপাশে এরা বুনতে থাকে।
- রেশম তন্তু ফাইব্রেয়ন নামক প্রোটিন জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি।

_________________________
- মানুষের চুল ও নখে কেরাটিন নামক প্রোটিন থাকে।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭.
পলিথিন কী দিয়ে তৈরি?
  1. ইথিলিন
  2. ইথাইন
  3. ক্লোরোইথিন
  4. ইথিলিন গ্লাইকল
ব্যাখ্যা
পলিথিন: 
- ইথিলিন থেকে পলিথিন  পাওয়া যায়। 
- ইথিলিন গ্যাসকে ১০০০-১২০০ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে ২০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে পলিথিন পাওয়া যায়।
- তবে এক্ষেত্রে পলিমারকরণ দ্রুত করার জন্য প্রভাবক হিসেবে অক্সিজেন গ্যাস ব্যবহৃত হয়। 

অথবা 


- তবে উচ্চ চাপ পদ্ধতি সহজসাধ্য না হওয়ায় বর্তমানে পদ্ধতি টি জনপ্রিয় নয়।
- এখন টাইটেনিয়াম ট্রাই ক্লোরাইড (TiCl3) নামক প্রভাবক ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলীয় চাপেই পলিথিন তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৮.
কোনটি রক্তবাহিকা নয় -
  1. ধমনি
  2. শিরা
  3. কৈশিক জালিকা
  4. কপাটিকা
ব্যাখ্যা
রক্ত সংবহনতন্ত্র গঠিত হয় রক্ত, হৃদপিণ্ড ও রক্ত জালিকা দিয়ে। 
হৃদপিণ্ড হৃদ পেশী দিয়ে তৈরি। 
রক্ত বাহিকা ৩ ধরনের - ধমনি, শিরা, কৈশিক জালিকা। 

রক্তকে রক্তবাহিকার ভিতর দিয়ে সঞ্চালনের জন্য হৃদপিণ্ড মানব ও অন্য প্রানিদেহে পাম্পের মত কাজ করে। 

[সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই]
৯৯.
ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস মহাজাগতিক রশ্মির প্রমাণ পান কীভাবে?
  1. মাইক্রোস্কোপ দিয়ে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে
  2. বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য যন্ত্র ব্যবহার করে
  3. শুধুমাত্র অনুমানের মাধ্যমে
  4. সমুদ্রের গভীরতা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
• মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays):
- বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- কসমিক-রে বা মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
১০০.
বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস কোনটি?
  1. ক) মে
  2. খ) এপ্রিল
  3. গ) জুন
  4. ঘ) জুলাই
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জলবায়ুঃ
বাংলাদেশের জলবায়ু - ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু নামে পরিচিত।
তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং বায়ুপ্রবাহে দিক পরিবর্তনের উপর ভিত্তি করে এদেশের জলবায়ুকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল এবং শীতকাল।
এখানকার জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হলো -
- উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল,
- বৃষ্টিবহুল বর্ষাকাল এবং
- শুষ্ক ও আরামদায়ক শীতকাল।
গ্রীষ্মকালে কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় এক পঞ্চমাংশ হয়ে থাকে। বর্ষাকালে প্রায় পাঁচ ভাগের চারভাগ বৃষ্টিপাত হয়। শীতকাল প্রায় বৃষ্টিহীন হলেও পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকায় সামান্য পরিমাণে বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়। তিন ঋতুর কোনো সময়ই তাপমাত্রা চরমভাবাপন্ন হয় না। এপ্রিল উষ্ণতম এবং জানুয়ারি শীতলতম মাস।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বই (উন্মুক্ত)।