বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কল্লোল যুগ ও বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব

মোট প্রশ্ন৬৬৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কল্লোল যুগ ও বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব

PrepBank · পাতা / · ৫০১৬০০ / ৬৬৫

৫০১.
‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাতি লাভ হয়েছেন-
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• ‘রূপসী বাংলার কবি’ জীবনানন্দ দাশ:
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দ দাশের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়। বিশেষত, রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থে যেভাবে আবহমান বাংলার চিত্ররূপ ও অনুসূক্ষ্ম সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়েছে, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাত হয়েছেন।

তবে প্রকৃতির পাশাপাশি জীবনানন্দের শিল্পজগতে মূর্ত হয়েছে বিপন্ন মানবতার ছবি এবং আধুনিক নগরজীবনের অবক্ষয়, হতাশা, নিঃসঙ্গতা ও সংশয়বোধ।

------------------
তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলি হচ্ছে-
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী, 
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৫০২.
‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধ সংকলনটি কে লিখেছেন?
  1. প্রমথ চৌধুরী 
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী 
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- জীবনানন্দ দাশকে বলা হয়  ধূসরতার কবি; তিমির হননের কবি; নির্জনতার কবি; রূপসী বাংলার কবি;  
- তিনি বাংলা সাহিত্যের পঞ্চকবি অর্থাৎ পঞ্চপাণ্ডবের একজন।
- তার বিখ্যাত কবিতা 'বনলতা সেন'।

• 'কবিতার কথা' প্রবন্ধ:
- রচয়িতা- জীবনানন্দ দাশ।
- ‘কবিতার কথা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থটি বই আকারে বাজারে আসে জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর- ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে;
- কিন্তু প্রবন্ধগুলো কবির জীবদ্দশায়ই বিভিন্ন কাগজে মুদ্রণ হয়েছিল।
- ‘কবিতার কথা’ পনেরোটি প্রবন্ধের সংকলন।
- কবিতার কথা’ শিরোনামীয় প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশ হয় ১৩৩৫ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যায় বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায়।
- এই প্রবন্ধের প্রথম বাক্যাংশই ‘সকলেই কবি নয়। কেউ কেউ কবি’।
- অর্থাৎ জীবনানন্দ দাশের মতে, কবিতা লিখলেই কাউকে কবি হিসেবে মেনে নেওয়া ঠিক নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৫০৩.
’বেলা অবেলা কালবেলা’ গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী 
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• ‘বেলা অবেলা কালবেলা’ জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৩৬৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- মাল্যবান;
- সতীর্থ;
- কল্যাণী।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫০৪.
'পরিচয়' পত্রিকায় সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন কোন কবি?
  1. জীবনানন্দ দাশ 
  2. বুদ্ধদেব বসু 
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা

• বিষ্ণু দে:
- বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে 'পরিচয়' পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে 'সাহিত্যপত্র'।

উল্লেখ্য,
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ও 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫০৫.
'বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি তাই পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর' - এ পঙ্‌ক্তিটি কার লেখা?
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. গোবিন্দ হালদার
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• 'বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর'- কবিতাংশটুকু জীবনানন্দ দাশের 'বাংলার মুখ'  কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

বাংলার মুখ - কবিতা, 
- জীবনানন্দ দাশ।
               
বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর : অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে
চেয়ে দেখি ছাতার মতো ব্ড় পাতাটির নিচে বসে আছে
ভোরের দয়েলপাখি – চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ
জাম-বট-কাঁঠালের-হিজলের-অশথের করে আছে চুপ; (সংক্ষেপিত)
-------------
জীবনানন্দ দাশ রচিত বিখ্যাত কইয়েকটি উক্তি:
- আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে
-পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন
- কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে
- বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি তাই পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে চাইনা আর।

উৎস: বাংলার মুখ কবিতা- জীবনানন্দ দাশ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৫০৬.
জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বেলা অবেলা কালবেলা
  2. নির্জন স্বাক্ষর
  3. রূপসী বাংলা
  4. সাতটি তারার তিমির
সঠিক উত্তর:
নির্জন স্বাক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্জন স্বাক্ষর
ব্যাখ্যা
• 'নির্জন স্বাক্ষর' জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি কবিতা। কবিতাটি কবির 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যগ্রন্থ ও জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা গুচ্ছে সংকলিত করা হয়েছে। 

নির্জন স্বাক্ষর
 - জীবনানন্দ দাশ

তুমি তা জানো না কিছু-না জানিলে,
আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য করে;
যখন ঝরিয়া যাবো হেমন্তের ঝড়ে’—
পথের পাতার মতো তুমিও তখন
আমার বুকের ’পরে শুয়ে রবে?
অনেক ঘুমের ঘোরে ভরিবে কি মন
সেদিন তোমার!

-------------------
• জীবনানন্দ দাশ:

- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি। 
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই। স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়। 
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। 

জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫০৭.
কবিতার জন্য ‘দেশিকোত্তম’ উপাধি লাভ করেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সাথে বহুদেশ ভ্রমণ করেন।

• কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কারগুলো হলো:
- ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০),
- ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমী পুরস্কার।
- বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং
- ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫০৮.
পঞ্চপাণ্ডব কবিদের মধ্যে কার মাতা বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত কবি ছিলেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিষ্ণু দে
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
-----------------
• কুসুমকুমারী দাশ: 
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম 'পৌরাণিক আখ্যায়িকা'।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা পঙ্‌ক্তি - 'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫০৯.
'কঙ্কাবতী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. বিষ্ণু দে
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
'কঙ্কাবতী' কাব্যগ্রন্থ:
- (১৯৩৭) বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম।
- সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।

উল্লেখ্য,
- 'কঙ্কাবতী' উপন্যাসের রচয়িতা - অন্নদাশংকর রায়।

বুদ্ধদেব বসু:
- তিনি ছিলেন কবি, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও সম্পাদক।
- তিনি ৩০ নবেম্বর ১৯০৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ সমূহ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- যে আঁধার আলোর অধি,
- একদিন চিরদি,
- স্বাগত বিদা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১০.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে অমিয় চক্রবর্তী রচিত কবিতার নাম কী?
  1. ক) বাংলাদেশ
  2. খ) বাংলা ছাড়ো
  3. গ) রিপোর্ট ১৯৭১
  4. ঘ) উচ্চারণগুলি শোকের
সঠিক উত্তর:
ক) বাংলাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে অমিয় চক্রবর্তী রচিত কবিতার নাম 'বাংলাদেশ'। 
- ত্রিশের দশকের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি অমিয় চক্রবর্তী। 
- তিনি ছিলেন একজন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
-  অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

 কল্যাণীর ধারাবাহী যে-মাধুরী বাংলা ভাষায়
গড়েছে আত্মীয় পল্লী, যমুনা-পদ্মার তীরে তীরে
রূপোলি জলের ধারে, আম-জাম-নারকেল ঘেরা
আমন ধানের খেতে শ্রুতিময় তারি অন্তলীন
বাণী শোনো প্রাত্যাহিক-বহু মিশ্র প্রাণের সংসারে
সেই বাংলাদেশে ছিল সহস্রের একটি কাহিনী
কোরানে পুরাণে শিল্পে, পালা-পার্বণের ঢাকে-ঢোলে
আউল বাউল নাচে; পুণ্যাহের সানাই রঞ্জিত
রোদ্দুরে আকাশতলে দেখ কারা হাটে যায়, মাঝি
পাল তোলে, তাঁতি বোনে, খড়ে-ছাওয়া ঘরের আঙনে
মাঠে ঘাটে- শ্রমসঙ্গী নানাজাতিধর্মের বসতি
চিরদিন বাংলাদেশ- (সংক্ষিপ্ত)
                     

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেওয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১১.
কোনটি জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস?
  1. বিন্দুর ছেলে
  2. কল্যাণী
  3. বিলাসী
  4. মহেশ
সঠিক উত্তর:
কল্যাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্যাণী
ব্যাখ্যা
• ‘কল্যাণী’ জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি দেশ পত্রিকায় ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• বিন্দুর ছেলে, বিলাসী ও মহেশ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।

---------------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তিনি ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- বিভা,
- জলপাইহাটি,
- কল্যাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫১২.
নিচের কোনটি জীবনানন্দ দাশের প্রবন্ধ গ্রন্থ?
  1. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  2. কবিতার কথা
  3. ঝরা পালক
  4. দুর্দিনের যাত্রী
সঠিক উত্তর:
কবিতার কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতার কথা
ব্যাখ্যা
• 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' প্রভৃতি নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ জন্মগ্রহণ করেন বরিশাল শহরে।
- তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ হলো - 'কবিতার কথা'। এই প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি হলো— 'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।'
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কবিতাকে বলেছেন চিত্ররূপময়।

• জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ -
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১৩.
পঞ্চপাণ্ডবের কোন কবি কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ 
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. অমিয় চক্রবর্তী 
  4. বিষ্ণু দে 
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক। ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

গল্পগ্রন্থ:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

 উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

 কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

নাটক‌:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

অন্যদিকে,
• জীবনানন্দ দাশ ছিলেন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 

• অমিয় চক্রবর্তী ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ। 
• বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫১৪.
জীবনানন্দ দাশের রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ঝরা পালক
  2. বনলতা সেন
  3. মাল্যবান
  4. মহাপৃথিবী
সঠিক উত্তর:
মাল্যবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাল্যবান
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশের রচিত উপন্যাস হচ্ছে মাল্যবান। 

জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃনিবাস বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক ছিলেন, এবং মাতা কুসুমকুমারী দাশ একজন কবি ছিলেন।
- তিনি ১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

উপাধি:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি। 

সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ: ঝরা পালক, ধূসর পাণ্ডু লিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা।
উপন্যাস: মাল্যবান, সুতীর্থ।
প্রবন্ধগ্রন্থ: কবিতার কথা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫১৫.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ -
  1. পুরবাসী
  2. মাটির দেয়াল
  3. চলো যাই,
  4. পথ অন্তহীন
সঠিক উত্তর:
মাটির দেয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটির দেয়াল
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী: 
- অমিয় চক্রবর্তী ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। 
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন। 
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)। 
- তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫। তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- খসড়া, 
- এক মুঠো, 
- মাটির দেয়াল
- অভিজ্ঞান বসন্ত, 
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর গদ্যরচনাগুলো হলো: 
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক, 
- পুরবাসী, 
- পথ অন্তহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫১৬.
'ঝরা পালক' কাব্যগ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. আল মাহমুদ 
  4. বন্দে আলী মিয়া 
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• 'ঝরা পালক' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরা পালক।
- কাব্যটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুসরণ যেমন আছে, তেমনি আছে নতুন এক ভাষারীতি ও বাকপ্রতিমা রচনার চেষ্টা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৫১৭.
'একটি কাফি' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) চোরাবালি
  2. খ) উর্বশী ও আর্টেমিস
  3. গ) স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ
  4. ঘ) তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ
সঠিক উত্তর:
ঘ) তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ
ব্যাখ্যা
•  'একটি কাফি' কবিতাটি বিষ্ণূ দে রচিত 'তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী বিষ্ণু দের জন্ম ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় ।
- ১৯২৩ সালে কল্লোল পত্রিকা প্রকাশের ফলে যে নতুন সাহিত্য উদ্যম ও ব্যতিক্রমী শিল্প চেতনার সৃষ্টি হয়, বিষ্ণু দে ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- ১৯৪৮ সালে তিনি চঞ্চলকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় সাহিত্যপত্র প্রকাশ করেন।

• বিষ্ণু দে রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত ভাই চম্পা (১৯৪৪)
- উর্বশী ও আর্টেমিস (১৯৩৩)
- চোরাবালি (১৯৩৭)
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ (১৯৫৮)
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ (১৯৬৩)
- সেই অন্ধকার চাই (১৩৩৭) ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ); বাংলাপিডিয়া।
৫১৮.
'পাতাল থেকে আলাপ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিষ্ণু দে
  2. খ) জীবনান্দ দাশ
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
গ) বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
'মৌলিনাথ' উপন্যাসের রচয়িতা - বুদ্ধদেব বসু

• ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে। জন্মের অল্প পরেই ধনুষ্টংকারে তাঁর মাতৃবিয়োগ ঘটে এবং পিতা ঢাকা বারের উকিল ভূদেবচন্দ্র বসু পরিব্রজ্যা গ্রহণ করে নিরুদ্দেশ হন। এমতাবস্থায় বুদ্ধদেব মাতুলালয়ে লালিত-পালিত হন। তাঁর শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের প্রথমভাগ কাটে কুমিল্লা, নোয়াখালী ও ঢাকায়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লাল মেঘ
- রাতভর বৃষ্টি
- পাতাল থেকে আলাপ
- গোলাপ কেন কালো

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।


৫১৯.
'কঙ্কাবতী' বুদ্ধদেব বসু রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. গল্প
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'কঙ্কাবতী' কবিতাগ্রন্থ:
- 'কঙ্কাবতী' বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ/কবিতাগ্রন্থ।
- এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম।
- সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।

---------------
• বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব রচিত উপন্যাস:
তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২০.
জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিষ্ণু দে 
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন বুদ্ধদেব বসু।

- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন সাদাসিধা মানুষ। জনতার কোলাহল থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন। আজীবন নিজেকে আড়াল করে রাখতে চেয়েছেন। স্বেচ্ছায় ও সচেতন ভাবে প্রশ্রয় দিয়েছেন নিজের প্রসঙ্গে নানা কৌতূহলোদ্দীপক বিভ্রান্তিকে। এজন্যই বুদ্ধদেব বসু তাকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য, 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় বলেছেন। 

-----------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।

- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ, বি, ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।

- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।

- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।

- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি / অভিধাসমূহ হলো:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫২১.
জীবনানন্দ দাশ কোন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন?
  1. দৈনিক স্বরাজ
  2. ব্রহ্মবাদী
  3. প্রগতি
  4. কবিতা
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মবাদী
ব্যাখ্যা
⇒ জীবনানন্দ দাশ:  
• তিনি ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রুপসী বাংলার কবি প্রভৃতি বিশেষণে পরিচিত। 
•  তিনি ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী 'তিরিশের কবিতা' নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি। 
• তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
• মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি। 

⇒ তিনি 'ব্রহ্মবাদী' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। 
⇒ তিনি ‘দৈনিক স্বরাজ’ পত্রিকার সাহিত্যপাতা সম্পাদনা করেছিলেন।
⇒ ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।    

⇒ অন্যদিকে, কবি বুদ্ধদেব বসু ঢাকা থেকে 'প্রগতি' এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৫২২.
অমিয় চক্রবর্তীর ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. উপহার
  2. অনিঃশেষ
  3. কবিতাবলী
  4. এক মুঠো
সঠিক উত্তর:
অনিঃশেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিঃশেষ
ব্যাখ্যা

‘বাংলাদেশ’ কবিতা:
- অমিয় চক্রবর্তীর কবিতা 'বাংলাদেশ'।
-  এই কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে।
- ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। 

• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তীর জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ। 
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।

• অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- কবিতাবলী
- উপহার,
- অনিঃশেষ
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেওয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫২৩.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বাংলাদেশ
  2. অনিঃশেষ
  3. অভিজ্ঞান বসন্ত
  4. খসড়া
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা

'বাংলাদেশ' অমিয় চক্রবর্তী রচিত একটি কবিতা।
- 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।

--------------------
• অমিয় চক্রবর্তী:
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন। পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে 'দেশিকোত্তম' (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার 'পদ্মভূষণ' (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫২৪.
জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. ঝরাপালক
  2. নিমন্ত্রণ
  3. বর্ষ-আবাহন
  4. সেইদিন এই মাঠ
সঠিক উত্তর:
বর্ষ-আবাহন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ষ-আবাহন
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই। স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়। 

-----------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- রূপসী বাংলার কবি বলা জীবননান্দ দাশকে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ এর উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমি হননের কবি
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরাপালক, 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- মহাপৃথিবী, 
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২৫.
'সব পেয়েছির দেশে' ভ্রমণকাহিনীর তাকে রচয়িতা কে?
  1. ক) বিজন ভট্টাচার্য
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
গ) বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
সব পেয়েছির দেশে, জাপানি জার্নাল, দেশান্তর ইত্যাদি ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা বুদ্ধদেব বসু। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫২৬.
জীবনানন্দ দাশের অভিধা নয় কোনটি?
  1. নির্জনতার কবি
  2. তিমির হননের কবি
  3. পল্লী বংলার কবি
  4. ধূসরতার কবি
সঠিক উত্তর:
পল্লী বংলার কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পল্লী বংলার কবি
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশের অভিধা নয়- পল্লী বংলার কবি। 

• জীবনানন্দ দাশ:

- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”। ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”।
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় “রূপসী বাংলা” এবং “বেলা অবেলা কালবেলা” নামক কাব্য।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি/অভিধাসমূহ:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫২৭.
 অমিয় চক্রবর্তী রচিত গদ্যরচনা কোনটি?
  1. খসড়া
  2. এক মুঠো
  3. পুরবাসী
  4. অনিঃশেষ
সঠিক উত্তর:
পুরবাসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরবাসী
ব্যাখ্যা

• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- খসড়া, 
- এক মুঠো, 
- মাটির দেয়াল, 
- অভিজ্ঞান বসন্ত, 
- অনিঃশেষ, ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫২৮.
'মর্মবাণী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
খ) বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসুর কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মরিচে পড়া পেরেকের গান,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- স্বাগত বিদায়,
- একদিন: চিরদিন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫২৯.
জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ধূসর পাণ্ডু লিপি
  2. বনলতা সেন
  3. ঝরাপালক
  4. সাতটি তারার তিমির
সঠিক উত্তর:
ঝরাপালক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝরাপালক
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া ।

৫৩০.
"শঙ্খমালা" কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঝরাপালক
  2. বনলতা সেন
  3. মহাপৃথিবী
  4. সাতটি তারার তিমির
সঠিক উত্তর:
বনলতা সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনলতা সেন
ব্যাখ্যা

• "শঙ্খমালা" কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।এটি জীবনানন্দ দাশের একটি বিখ্যাত কবিতা হিসেবে বিবেচিত। 
• এ কবিতায় শঙ্খমালা নামের রূপসী নারীর কথা বলা হয়েছে। কবির ধারণা, পৃথিবীর অন্য কোথাও শঙ্খমালাদের পাওয়া যাবে না।
• তার বিশ্বাস, বিশালাক্ষী বর দিয়েছিলো বলেই নীল-সবুজে মেশা বাংলার ভূ- প্রকৃতির মধ্যে অনুপম এই সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে। তাই বলা যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ব্যবহৃত 'শঙ্খমালা' হলো- রোমান্টিক কবিকল্পনা।

'শঙ্খমালা' কবিতার অংশবিশেষ- 

শঙ্খমালা
- জীবনানন্দ দাশ
কান্তারের পথ ছেড়ে সন্ধ্যার আঁধারে
সে কে এক নারী এসে ডাকিল আমারে,
বলিল, তোমারে চাই:
বেতের ফলের মতো নীলাভ ব্যথিত তোমার দুই চোখ
খুঁজেছি নক্ষত্রে আমি- কুয়াশার পাখনায়-

--------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে "চিত্ররূপময়" কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- "কবিতার কথা"। 'কবিতার কথা' প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: "সকলেই কবি নন, কেউ
কেউ কবি"
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।'বনলতা সেন' কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং "বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; 'শঙ্খমালা- কবিতা'।

৫৩১.
কল্লোল যুগের ব্যাপ্তিকাল -
  1. ক) ১৯২০-১৯৩২
  2. খ) ১৯২৩ - ১৯৩৫
  3. গ) ১৯২৭ - ১৯৩৯
  4. ঘ) ১৯৩০ - ১৯৩৯
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯২৩ - ১৯৩৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯২৩ - ১৯৩৫
ব্যাখ্যা

- কল্লোল যুগকে বলতে বাংলা সাহিত্যের একটি ক্রান্তিলগ্নকে বোঝায় যখন বাংলা কবিতা ও কথাসাহিত্যে আধুনিকতার বীজ অঙ্গুরিত হয়েছিল।
- কল্লোল পত্রিকাকে (১৯২৩-১৯৩৫) ঘিরে একটি গোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়েছিল।
- এ গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য ছিল রবীন্দ্র বৃত্তের বাইরে সাহিত্যের একটি জগত সৃষ্টি করা।
- তারা বাংলা সাহিত্যে প্রথম আধুনিক নবজাগরণের সূচনা করেন।
- কল্লোল নব্য লেখকদের প্রধান মুখপাত্র। যাদের মধ্যে ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, প্রেমেন্দ্র মিত্র, বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ প্রমুখ।

৫৩২.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. দময়ন্তী
  2. মর্মবাণী
  3. খসড়া
  4. পুরবাসী
সঠিক উত্তর:
খসড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খসড়া
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ - খসড়া।

• অমিয় চক্রবর্তী:

- অমিয় চক্রবর্তী জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ। ।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- খসড়া, 
- এক মুঠো, 
- মাটির দেয়াল, 
- অভিজ্ঞান বসন্ত, 
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- দময়ন্তী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৩৩.
বাংলা কোন কবিতায় অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব পড়েছে?
  1. ক) মৃত্যুর আগে
  2. খ) হায় চিল
  3. গ) বনলতা সেন
  4. ঘ) ঝরাপালক
সঠিক উত্তর:
গ) বনলতা সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বনলতা সেন
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ রচিত 'বনলতা সেন' কবিতায় অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব পড়েছে। 
- কবিতাটি 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এটি বাংলা সাহিত্যেরখ্যাতনামা গ্রন্থগুলির অন্যতম। 

- 'মৃত্যুর আগে' কবিতাটি কবি W.B. Yeats-এর 'The falling of the leaves's' কবিতার মিল আছে।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩৪.
'কঙ্কাবতী' কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
- ‘কঙ্কাবতী’ বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম।
- সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।

বুদ্ধদেব বসু:
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।
- ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে।
- এছাড়া 'স্বাগত বিদায়' কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (১৯৭৪) লাভ করেন।
- ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৩৫.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মর্মবাণী
  2. কঙ্কাবতী
  3. হারানো অর্কিড
  4. দময়ন্তী
সঠিক উত্তর:
হারানো অর্কিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হারানো অর্কিড
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তীর জন্ম ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে অমিয় চক্রবর্তীর কবিতা, বাংলাদেশ।
- ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। 

• অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- কবিতাবলী
- উপহার,
- অনিঃশেষ
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেওয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫৩৬.
কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. পরিক্রমা
  2. কঙ্কাবতী
  3. রেখাচিত্র
  4. তিথিডোর
সঠিক উত্তর:
রেখাচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেখাচিত্র
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থ - রেখাচিত্র

বুদ্ধদেব বসু: 
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক। ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে। 
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- ঢাকা থেকে প্রগতি (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে কবিতা (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস: 
- তিথিডোর
- সাড়া, 
- সানন্দা, 
- লালমেঘ, 
- পরিক্রমা
- কালো হাওয়া, 
- নির্জন স্বাক্ষর, 
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- কঙ্কাবতী
- দময়ন্তী, 
- মর্মবাণী, 
- যে আঁধার আলোর অধিক।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক: 
- মায়া মালঞ্চ, 
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী, 
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৩৭.
বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

যুগসন্ধিক্ষণ:
- ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত যুগসন্ধিকাল।
- এটিকে অবক্ষয়ের যুগও বলা হয়।
- দ্বিতীয় অন্ধকার যুগ (১৭৬০ থেকে ১৮৩০ খ্রি.) ও বলা হয়।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
- কারণ, ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর মারা যাওয়ার পরে বাংলা সাহিত্যের কবিওয়ালা ও শায়েরদের আগমন ঘটে।

উল্লেখ্য,
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল 'ভ্রমণকারী বন্ধু'।
- তাঁর রচনার বিশেষত্ব ছিল ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ।
- প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৩৮.
জীবনানন্দ দাশ কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯০৩ সাল
  2. ১৮৬২ সাল
  3. ১৮৯৯ সাল
  4. ১৮৯৮ সাল
সঠিক উত্তর:
১৮৯৯ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৯৯ সাল
ব্যাখ্যা
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি বরিশালের এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার মা কুসুমকুমারী দাশ একজন মহিলা কবি।
- ১৪ অক্টোবর ১৯৫৪ সালে তিত ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যবরণ করেন।
- তাকে  রূপসী বাংলার কবি, ধূসরতার কবি , তিমির হননের কবি, নির্জনতম কবি (বুদ্ধদেব বসুর দেয়া নাম), চিত্ররূপময় কবি( রবীন্দ্রনাথের দেয়া নাম),শুদ্ধতম কবি বলে আখ্যায়িত করা হয়।
- তার ওপর গবেষনা করেছেন ক্লিনটন বি. সিলি।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- রুপসী বাংলা,
- মহা পৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা, প্রভৃতি।

• তার উপন্যাসসমূহ:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- কল্যাণী।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৫৩৯.
রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে সব্যসাচী লেখক বলা হয় কাকে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল। তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প গ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।
- হাওয়ার গান বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কবিতা।

• বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৪০.
"উর্বশী ও আর্টেমিস" গ্রন্থটির রচয়িতা কে? 
  1. বুদ্ধদেব বসু 
  2. বিষ্ণু দে
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা

"উর্বশী ও আর্টেমিস" গ্রন্থটির রচয়িতা- বিষ্ণু দে। 
-------------------------------------------- 
• বিষ্ণু দে:
- বিষ্ণু দে ছিলেন একজন প্রখ্যাত কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী,
- তিনি ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- তাঁর শিক্ষা জীবন কেটেছে কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউট ও সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুলে।
- তিনি পঞ্চপান্ডব্দের মধ্যকার একজন। 

- ১৯২৩ সালে কল্লোল পত্রিকা প্রকাশের ফলে বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারা ও শিল্পচেতনার সূচনা হয়, যেখানে বিষ্ণু দে অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হলে তিনি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের পরিচয় (১৯৩১) পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৪৭ পর্যন্ত সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৪৮ সালে তিনি চঞ্চলকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় সাহিত্যপত্র প্রকাশ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

- বিষ্ণু দে’র উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
• উর্বশী ও আর্টেমিস, 
• চোরাবালি,
• সাত ভাই চম্পা,
• রুচি ও প্রগতি, 
• সাহিত্যের ভবিষ্যৎ, 
• নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
• তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
• স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত,
• রবীন্দ্রনাথ ও শিল্পসাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা,
• মাইকেল রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য জিজ্ঞাসা,
• In the Sun and the Rain,
• উত্তরে থাকো মৌন,
• সেকাল থেকে একাল, 
• আমার হূদয়ে বাঁচো। 
------------------------------------------------------- 
“উর্বশী ও আর্টেমিস” গ্রন্থ নিয়ে কিছু কথা: 
- বিষ্ণু দে রচিত “উর্বশী ও আর্টেমিস” একটি আধুনিক কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রেম, নারীসত্তা ও মানুষের অন্তর্নিহিত কামনার সঙ্গে আধুনিক বাস্তবতার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে। কবি এখানে পৌরাণিক ও প্রতীকি নারী চরিত্র—উর্বশী (কামনার প্রতীক) ও আর্টেমিস (কুমারী ও শিকারদেবী)—মাধ্যমে নারী ও প্রেমের দ্বান্দ্বিক রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন। গ্রন্থে আধুনিক প্রেম ও নারী, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের নারীসত্তার পার্থক্য এবং প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে নতুন আঙ্গিক ও ভাষায় মানব জীবনের জটিলতা প্রকাশিত হয়েছে। এতে প্রায় ২৫টি কবিতা সংকলিত, যার মধ্যে ‘পলায়ন’, ‘কাব্যপ্রেম’, ‘উদ্যাপন’ ও ‘প্রেম’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৫৪১.
জীবনানন্দ দাশ এর জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৮৯৯-১৯৫৪
  2. ১৮৯০-১৯৫২
  3. ১৮৮৯-১৯৫৪
  4. ১৮৯৯-১৯৪৪
সঠিক উত্তর:
১৮৯৯-১৯৫৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৯৯-১৯৫৪
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪):
- জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি। 
- পাশ্চাত্যের মডার্নিজম ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বঙ্গীয় সমাজের বিদগ্ধ মধ্যবিত্তের মনন ও চৈতন্যের সমন্বয় ঘটে ওই কাব্যান্দোলনে।

- ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
-  ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৪২.
কোনটি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) কবি ও তিমি
  2. খ) উত্তরফাল্গুনী
  3. গ) মন ও জীবন
  4. ঘ) এখানে এখন
সঠিক উত্তর:
খ) উত্তরফাল্গুনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উত্তরফাল্গুনী
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (৩০ অক্টোবর ১৯০১ - ২৫ জুন ১৯৬০) বাংলা ভাষার একজন প্রধান আধুনিক কবি।
- বিংশ শতকের ত্রিশ দশকের যে পাঁচ জন কবি বাংলা কবিতায় রবীন্দ্র প্রভাব কাটিয়ে আধুনিকতার সূচনা ঘটান তাদের মধ্যে সুধীন্দ্রনাথ অন্যতম।
- তাকে বাংলা কবিতায় 'ধ্রুপদী রীতির প্রবর্তক' বলা হয়।

সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ ছয়টি -
- তন্বী (১৯৩০),
- অর্কেষ্ট্রা (১৯৩৫),
- ক্রন্দসী (১৯৩৭),
- উত্তরফাল্গুনী (১৯৪০),
- সংবর্ত (১৯৫৩),
- দশমী (১৯৫৬)।

এছাড়াও তাঁর দুটি প্রবন্ধ গ্রন্থ আছে -
- স্বগত (১৯৩৮),
- কুলায় ও কালপুরুষ (১৯৫৭)।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ- প্রতিধ্বনি( ১৯৫৪)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪৩.
কল্লোল সাহিত্যগোষ্ঠীর লেখক ছিলেন-
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. বিষ্ণু দে
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
'কল্লোল' পত্রিকা ও কল্লোল সাহিত্যগোষ্ঠী:
• ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক ‘কল্লোল’ প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
• এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র সাহিত্যিক বলয় তৈরী হয়েছিল এবং ‘কল্লোল যুগ’ নামে আলাদা একটি যুগের সৃষ্টি হয়।
• কল্লোল যুগের একটি প্রধান বৈশিষ্ট ছিল রবীন্দ্র বিরোধিতা।
• যে সময়ে কল্লোলের আবির্ভাব, তখন বাংলা সাহিত্যের সর্বকোণ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাবে প্রোজ্জ্বল।
• কল্লোল যুগের লেখকদের মূল লক্ষ্য ছিল রবীন্দ্র বৃত্তের বাইরে এসে সাহিত্যর একটি মৃত্তিকাসংলগ্ন জগৎ সৃষ্টি করা।
• মূলত বাংলা কবিতায় গদ্যধারার প্রবর্তন শুরু হয় কল্লোল যুগেই।

• কবিতার ক্ষেত্রে যাদের নাম কল্লোল যুগের শ্রেষ্ঠ নায়ক বিবেচনায় প্রচারিত তারা হলেন কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু, অমিয় চক্রবর্তী, জীবনানন্দ দাশ, বিষ্ণু দে। এই পাঁচজন বিশিষ্ট কবিকে একসাথে বলা হয় বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব। এ পঞ্চপাণ্ডবই ছিলেন মূলত কল্লোল যুগের কাণ্ডারি।

• তবে কাজী নজরুল ইসলাম, প্রেমেন্দ্র মিত্র, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, সঞ্জয় ভট্টাচর্য, অবনীনাথ রায় প্রমুখ অনেকেরই ভূমিকা কোন অংশে খাটো করে দেখবার উপায় নেই।

-----------------------
• বিষ্ণু দে:

- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৫৪৪.
টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে কার রচনায়?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. বিষ্ণু দে
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন। তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। কাব্যভাবনা ও প্রকাশরীতিতে বুদ্ধিবৃত্তি ও মননশীলতাকে অঙ্গীকার করেই তিনি কবিতা লেখেন। তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।

---------------
• বিষ্ণু দে:
• বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম। 

• ১৯২৩ সালে 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশের ফলে যে নতুন সাহিত্য উদ্যম ও ব্যতিক্রমী শিল্প চেতনার সৃষ্টি হয়, বিষ্ণু দে ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা। কিন্তু ১৯৩০ সালে কল্লোল পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেলে তিনি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'পরিচয়' (১৯৩১) পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৪৭ পর্যন্ত এর সম্পাদক মন্ডলীর অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

• ১৯৪৮ সালে তিনি চঞ্চলকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় 'সাহিত্যপত্র' প্রকাশ করেন। তিনি নিজেও নিরুক্ত নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। বিষ্ণু দে কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্য জীবন শুরু করেন। 

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৪৫.
''বেতের ফলের মতো'' বা ''পাখির নীড়ের মতো'' উপমাগুলো কে নির্মাণ করেছেন?
  1. সুকুমার রায়
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. জসীমউদ্‌দীন
  4. হুমায়ুন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ  'বেতের ফলের মতো' বা 'পাখির নীড়ের মতো' উপমাগুলো নির্মাণ করেছেন। 

• জীবনানন্দ দাশের উপমামণ্ডিত কবিতা: 
- জীবনানন্দ দাশের উপমামণ্ডিত একটি বিখ্যাত কবিতা হলো ‘বনলতা সেন’। 
- জীবনানন্দ তার কবিতায় ব্যবহার করলেন অসাধারণ সব উপমা, সে উপমার ভাষা যারা বুঝতে পারতেন; তারা তার কবিতায় বুদ হয়ে থাকতেন।
- তিনি লিখলেন—সোনার ডিমের মতো ফাল্গুনের চাঁদ, পাখির নীড়ের মতো চোখ, বেতের ফলের মতো ব্যথিত নীলাভ দু চোখ, বেবিলনের রানির ঘাড়ের উপর উজ্জ্বল চামড়ার শালের মতো জ্বলজ্বল করছিল বিশাল আকাশ, শিশিরের মতো সন্ধ্যা—এরকম আরও অসাধারণ তাক লাগানো মুগ্ধ হয়ে থাকার মতো শত শত উপমা।
- বনলতা সেন কবিতায় জীবনানন্দ ব্যবহার করলেন পাখির নীড়ের মতো চোখ। চোখের ভাষা দ্বারা মানুষ অনেক কিছু বুঝে নেয়।
- বনলতা সেনের পাখির নীড়ের মতো চোখ দ্বারা আশ্রয় বোঝানো হয়েছে। যে চোখে আছে আশ্রয়ের শপথ আর ভালোবাসা।

• জীবনানন্দ দাশ 'শঙ্খমালা' কবিতায় বেতের ফলের মতো  উপমা নির্মাণ করেছেন। 
----------------------------------------------------------- 
বনলতা সেন- কবিতা, 
হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের ’পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে , ‘এতোদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

----------------------------
শঙ্খমালা- কবিতা,
কান্তারের পথ ছেড়ে সন্ধ্যার আঁধারে
সে কে এক নারী এসে ডাকিল আমারে,
বলিল, তোমারে চাই: বেতের ফলের মতো নীলাভ ব্যথিত তোমার দুই চোখ
খুঁজেছি নক্ষত্রে আমি— কুয়াশার পাখ্‌নায়—
সন্ধ্যার নদীর জলে নামে যে-আলোক
জোনাকির দেহ হ‌তে— খুঁজেছি তোমাকে সেইখানে—
ধূসর পেঁচার মতো ডানা মেলে অঘ্রাণের অন্ধকারে
ধানসিড়ি বেয়ে-বেয়ে
সোনার সিঁড়ির মতো ধানে আর ধানে
তোমারে খুঁজেছি আমি নির্জন পেঁচার মতো প্রাণে।
দেখিলাম দেহ তার বিমর্ষ পাখির রঙে ভরা:
সন্ধ্যার আঁধারে ভিজে শিরীষের ডালে যেই পাখি দেয় ধরা—
বাঁকা চাঁদ থাকে যার মাথার উপর,
শিং-এর মতন বাঁকা নীল চাঁদ শোনে যার স্বর।

উৎস: শঙ্খমালা- কবিতা, বনলতা সেন- কবিতা।
৫৪৬.
'উর্বশী ও আর্টেমিস' কাব্যগ্রন্থ কতসালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪১
  2. ১৯৩৮
  3. ১৯৩২
  4. ১৯৩৫
সঠিক উত্তর:
১৯৩২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩২
ব্যাখ্যা
উর্বশী ও আর্টেমিস:
- বিষ্ণু দে রচিত এই কাব্যগ্রন্থে দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগ আছে।
- সনাতন রোমান্টিকতার বিরোধী বিষ্ণু দে-র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উর্বশী ও আর্টেমিস' প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।
- তিনি ঐতিহ্য সচেতন ব্যক্তি ছিলেন বলে আর্টেমিসের চিত্রকল্পের সঙ্গে উর্বশীর চিত্রকল্পের পাশাপাশি স্থান দিয়েছেন।
- গ্রন্থটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো: উর্বশী, উর্বশী ও আর্টেমিস, প্রেম, ছেদ, পলায়ন, রাত্রিশেষ ইত্যাদি।

বিষ্ণু দে: 
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন।  
- কল্লোল সাহিত্যগোষ্ঠীর লেখক।
- 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর একজন ছিলেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্প,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত ইত্যাদি।

অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫৪৭.
জীবনানন্দ দাশ কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯০৩ সালে
  2. ১৯০৫ সালে
  3. ১৮৯৯ সালে
  4. ১৮৯৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৯৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৯৯ সালে
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯১৫), বি এম কলেজ থেকে আই.এ (১৯১৭) এবং কলকাতার  প্রেসিডেন্সি কলেজ
থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ (১৯১৯) ও ইংরেজিতে এম.এ (১৯২১) পাস করেন।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৪৮.
জীবনানন্দ দাশের 'হায় চিল' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) মহাপৃথিবী
  2. খ) সাতটি তারার তিমির
  3. গ) বেলা অবেলা কালবেলা
  4. ঘ) বনলতা সেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) বনলতা সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বনলতা সেন
ব্যাখ্যা

'হায় চিল' কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- এই কবিতার সঙ্গে ইয়েটস এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল আছে। 
কবিতাটি হলো -
"হায় চিল, সোনালি ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে
তুমি আর কেঁদো নাকো উড়ে-উড়ে ধানসিড়ি নদীটির পাশে!"
========
জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪):
- কবি, শিক্ষাবিদ জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- জীবনানন্দ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রবিরোধী বাংলা কবিতার পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম কবি।
- ড. হুমায়ূন আজাদের মতে, পঞ্চপাণ্ডব বাংলা কবিতায় আধুনিকতা আনায়ন করেন।
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - ঝরাপালক; যা প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলি হচ্ছে:
- ধূসর পান্ডুলিপি (১৯৩৬),
- বনলতা সেন (১৯৪২),
- মহাপৃথিবী (১৯৪৪),
- সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮),
- রূপসী বাংলা (রচনাকাল ১৯৩৪, প্রকাশকাল ১৯৫৭),
- বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১)। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ূন আজাদ এবং বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থ।

দ্রষ্টব্য:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা বইয়ে "হায় চিল" কবিতাটি "মহাপৃথিবী" কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত বলা হয়েছে, যা ভুল

৫৪৯.
কল্লোল যুগের কবি কে ছিলেন ?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
ঘ) বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
- ১৯২৩ সালে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' প্রকাশিত হয়। 
- এর সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ। 
- এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র সাহিত্যিক বলয় তৈরি হয়েছিল এবং ‘কল্লোল যুগ’ নামে আলাদা একটি যুগের সৃষ্টি হয়।
-   অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, প্রেমেন্দ্র মিত্র, বুদ্ধদেব বসু মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ ছিলেন এই পত্রিকার নিয়মিত লেখক। 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৫৫০.
সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. দশমী
  2. উত্তর ফাল্গুনী
  3. ক্রন্দসী
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী, 
- অর্কেষ্ট্রা,  
- ক্রন্দসী,  
- উত্তর ফাল্গুনী, 
- দশমী ইত্যাদি। 

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক হিসেবে সমধিক পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে জন্মগ্রহন করেন।
- পিতা হীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন বিশিষ্ট দার্শনিক।
- তাঁর স্ত্রী রাজেশ্বরী বাসুদেব প্রসিদ্ধ গায়িকা ছিলেন।

তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ। 

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫১.
বুদ্ধদেব বসু রচিত “হঠাৎ আলোর ঝলকানি” কোন জাতীয় রচনা ?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব বসুর রচিত “হঠাৎ আলোর ঝলকানি” একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালে কুমিল্লা জন্মগ্রহণ করেন ।
- ''প্রগতি'' ও ''কবিতা'' নামে তিনি দুটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

বুদ্ধদেব বসুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বন্দীর বন্দনা
- কঙ্কাবতী

উপন্যাস:
- তিথিডোর
- সানন্দা 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)।

৫৫২.
 বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. তিথিডোর
  2. সাড়া
  3. কঙ্কাবতী
  4. নির্জন স্বাক্ষর
সঠিক উত্তর:
কঙ্কাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঙ্কাবতী
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধদেব বসু:
- তিনি একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালে ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের,
- একদিন চিরদিন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং তিথিডোর উপন্যাস গ্রন্থ।

৫৫৩.
'ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• ‘ক্রন্দসীসুধিন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
 
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:

- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

• তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

• তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৫৪.
অমিয় চক্রবর্তীর জীবনকাল-
  1. ১৯০১ - ১৯৬৮
  2. ১৯০১ - ১৯৭৮
  3. ১৯০১ - ১৯৮৬
  4. ১৯০১ - ১৯৮৫
সঠিক উত্তর:
১৯০১ - ১৯৮৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০১ - ১৯৮৬
ব্যাখ্যা
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬) পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৫৫.
'বনলতা সেন' কাব্যের কবি কে?
  1. ক) শামসুর রহমান
  2. খ) জীবনানন্দ দাশ
  3. গ) বিষ্ণুদে
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
খ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরাপালক, দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ- ধূসর পাণ্ডুলিপি। অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা। এই কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে- রূপসী বাংলা ও বেলা অবেলা কালবেলা তার মৃত্যর পর প্রকাশিত হয়েছিলো।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫৫৬.
‘ঝরা পালক’ কাব্যগ্রন্থে কোন কোন কবির প্রভাব লক্ষ্য করা যায়?
  1. মাইকেল ও বিদ্যাপতি
  2. বঙ্কিমচন্দ্র ও অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল ও মোহিতলাল মজুমদার
  4. রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• 'ঝরা পালক'  কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- 'ঝরা পালক'। 
- জীবনানন্দ দাশের কবিতায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় প্রকৃতি কাব্যময় হয়ে উঠেছে। 
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরা পালক। 
- কাব্যটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুসরণ যেমন আছে, তেমনি আছে নতুন এক ভাষারীতি ও বাকপ্রতিমা রচনার চেষ্টা। 
--------------------------------------
• জীবনানন্দ দাশ: 
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।
- তাঁর রচিত ‘বনলতা সেন’ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনামা গ্রন্থগুলির অন্যতম।
এ কাব্যের ‘বনলতা সেন’ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা এবং জীবনানন্দের কবিতদাগুলির মধ্যে জনপ্রিয়।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- মহাপৃথিবী, 
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,  বাংলাপিডিয়া; 'ঝরা পালক'  কাব্যগ্রন্থ।

৫৫৭.
'He Reproves the Curlow' কবিতার সাথে মিল রয়েছে কোন কবিতার?
  1. বনলতা সেন
  2. হায় চিল
  3. আবার আসিব ফিরে
  4. এই পৃথিবীতে একস্থান আছে।
সঠিক উত্তর:
হায় চিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হায় চিল
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশের কবিতায় বিখ্যাত কবিদের প্রভাব:
- জীবনান্দ দাশ ইয়েটস, বেদলেয়ার, অ্যাডগার এলেন পো দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন।
- তাঁর রচিত 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথেও ইয়েটস্-এর He reproves the curlow কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর "মৃত্যুর আগে" কবিতাটির সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস রচিত কবিতাটির The falling of the Leaves মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে এডগার অ্যালান পো এর কবিতা 'টু হেলেন' এর প্রভাব রয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫৮.
জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. কল্যাণী
  2. পরিক্রমা
  3. মাল্যবান
  4. সতীর্থ
সঠিক উত্তর:
পরিক্রমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিক্রমা
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস নয় - পরিক্রমা
- এটি বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস।

জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- কল্যাণী

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৫৯.
কোনটি জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. মাটির কান্না
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. বালুচর
  4. সাতটি তারার তিমির
সঠিক উত্তর:
সাতটি তারার তিমির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাতটি তারার তিমির
ব্যাখ্যা
• ‘সাতটি তারার তিমির’ জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

অন্যদিকে,
• 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ। 
• মাটির কান্না ও বালুচর জসীমউদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ।

-------------------------
• জীবনানন্দ দাশ:

- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- কল্যাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৬০.
'নির্জন স্বাক্ষর' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• 'নির্জন স্বাক্ষর' উপন্যাস:
কবিতার মতোই বুদ্ধদেব বসুর একটি উপন্যাস নির্জন স্বাক্ষর। নির্জন স্বাক্ষর নামে জীবনানন্দ দাশের একটি মায়াবী কবিতাও আছে। বুদ্ধদেব বসু শুধুমাত্র নামটিই নয়, উপন্যাসটির বিষয়বস্তুও জীবনানন্দের কাছ থেকে ধার করেছেন। উপন্যাসটির বিষয়বস্তু তিনি নিয়েছেন জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কবিতা থেকে।

- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র- সোমেন।

কাহিনি সংক্ষেপ:
উপন্যাসের নায়ক সোমেন মূলত একজন লেখক। সোমেন প্রথমে অধ্যাপক হিশেবে কলকাতার একটি কলেজে চাকরি নেয়; কিন্তু ঐ চাকরির টাকায় সংসার চালাতে ব্যর্থ হয়ে সে একটি বেসরকারি বিজ্ঞাপন কোম্পানিতে চাকরি নেয়। ফলে সোমেন লেখা বাদ দিয়ে প্রথাগত জীবনে ঢুকে পড়ে। এভাবেই সোমেন স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে প্রথাগত জীবন চালাতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। চারদিকের জীবন যখন সমুদ্র-স্রোতের মতো ফুলে ফুলে উঠছিলো, সোমেনের জীবন তখন ক্লান্ত হয়ে ভেঙে পড়ছিলো।

সোমেনের এক বন্ধু ঢাকায় থাকতো। সে মারা যাওয়ায়, তার স্ত্রী ও তার দুই সন্তান দেশ-ভাগের সময় ঢাকা ছেড়ে কলকাতা চলে আসে। তারা কলকাতায় আসায় সোমেন তাদের দেখতে যায়। সোমেনের ক্লান্ত, অসহায়, ভেঙে পড়া জীবন যখন আর চলছিলো না, তখন মালতি সেনের শ্রাবস্তীর কারুকার্যময় মুখটি তাকে দু-দন্ড শান্তি দিয়েছিলো। সোমেন একবার নয়, কয়েকবার গিয়েছিলো দু-দন্ড শান্তি পেতে, কিন্তু প্রতিবারই সে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলো দুঃখের গাঁথা মালা এক বিশাল নদী। অবশেষে, প্রতিদিনের টুকরো টুকরো মৃত্যুর বদলে সোমেন গ্রহন করলো এক মুহূর্তের পরম দুঃখ (নাকি পরম শান্তি?)!

--------------------
বুদ্ধদেব বসু রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং  'নির্জন স্বাক্ষর' উপন্যাস।
৫৬১.
‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৬০ সাল
  2. ১৯৬৫ সাল
  3. ১৯৫৭ সাল
  4. ১৯৫৯ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯৫৭ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৭ সাল
ব্যাখ্যা

'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৬২.
"অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
"অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
- পঙক্তিটি 'উটপাখি' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
 'উটপাখী' কবিতাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ক্লাসিক কবি হিসেবে বিখ্যাত।
- তিনি পঞ্চপান্ডের একজন।
- তিনি 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

বিখ্যাত কাব্য গ্রন্থ:
- তন্বী, 
- অর্কেস্ট্রা, 
- ক্রন্দসী( বিখ্যাত কবিতা 'উটপাখি'),
- প্রতিধ্বনি, 
- দশমী, প্রভৃতি।

প্রবন্ধ:
- কাব্যের মুক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৫৬৩.
দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগ আছে বিষ্ণু দে রচিত কোন কাব্যগ্রন্থে?
  1. সাত ভাই চম্পা
  2. রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ
  3. চোরাবালি
  4. উর্বশী ও আর্টেমিস
সঠিক উত্তর:
উর্বশী ও আর্টেমিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উর্বশী ও আর্টেমিস
ব্যাখ্যা
• 'উর্বশী ও আর্টেমিস' কাব্যগ্রন্থ:
- বিষ্ণু দে রচিত এই কাব্যগ্রন্থে দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগ আছে।
- সনাতন রোম্যান্টিকতার বিরোধী বিষ্ণু দে-র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উর্বশী ও আর্টেমিস' প্রকাশিত হয় ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে।
- তিনি ঐতিহ্য সচেতন ব্যক্তি ছিলেন বলে আর্টেমিসের চিত্রকল্পের সঙ্গে উর্বশীর চিত্রকল্পের পাশাপাশি স্থান দিয়েছেন।
- গ্রন্থটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো: উর্বশী, উর্বশী ও আর্টেমিস, প্রেম, ছেদ, পলায়ন, রাত্রিশেষ ইত্যাদি।

-------------------------
তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৬৪.
নিচের কোনটি অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. পুরবাসী
  2. পথ অন্তহীন
  3. সাম্প্রতিক
  4. এক মুঠো
সঠিক উত্তর:
এক মুঠো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক মুঠো
ব্যাখ্যা
‘এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থ:
- অমিয় চক্রবর্তীর ‘এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে।
- বিশ শতকের বিজ্ঞানের যুগে ব্যবহারিক জীবনে যেমন জটিলতা বাড়ছে, মানুষের মনেও তেমনি চিন্তার জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক চেতনায় যুগধর্মের এই বৈশিষ্ট্য খুব উজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত হয়েছে এই কাব্যে।
- কবি এখানে সময়কে বিবেচনায় এনে এই সময়হত মানব-মানবীর অন্তর্গত সুখ ও সমস্যা ধারার চেষ্টা করেছেন।

অমিয় চক্রবর্তী:

- তিনি পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৬৫.
"আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায় হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে।" - কে লিখেছেন?
  1. আল মাহমুদ
  2. সুকুমার রায়
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
"আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে।" - জীবনানন্দ দাশের আবার আসিব ফিরে- কবিতা থেকে সংকলিত।

আবার আসিব ফিরে- কবিতা;
- জীবনানন্দ দাশ।

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শঙখচিল শালিকের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিঁকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।
হয়তো বা হাঁস হবো – কিশোরীর – ঘুঙুর রহিবে লাল পায়
সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে।
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলঙ্গীর ঢেউ এ ভেজা বাংলারি সবুজ করুণ ডাঙ্গায়।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।
৫৬৬.
বাংলা সাহিত্যে পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভুক্ত সাহিত্যিক কে ছিলেন?
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) অতুল প্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
গ) অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব:
- বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব বলে পরিচিত কবিরা রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় রবীন্দ্র বলয়ের বাইরে গিয়ে কবিতা রচনা করেছিলেন।
- পঞ্চপাণ্ডবের পাঁচজন কবি হচ্ছেন - 
অমিয় চক্রবর্তী
• বুদ্ধদেব বসু, 
• জীবনানন্দ দাস, 
• বিষ্ণু দে এবং 
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। 

- তারা সবাই কল্লোল পত্রিকায় লিখতেন।
- এই পঞ্চপাণ্ডবেআই আধুনিক বাংলা কবিতার সূচনা করেছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৫৬৭.
'সুদর্শন উড়ে যায় ঘরে তার অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. আহসান হাবীব
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• 'সুদর্শন উড়ে যায় ঘরে তার অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা- জীবনানন্দ দাশ।
- পঙ্‌ক্তিটির 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
===========
• জীবনানন্দ দাশ: 
- ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”। 
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”। 
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- 'বনলতা সেন' কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং “বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।
---------------
এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে- কবিতা,
এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে—সবচেয়ে সুন্দর করুণ :
সেখানে সবুজ ডাঙা ভ’রে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল;
সেখানে গাছের নামঃ কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল;
-----------
--------------
সুদর্শন উড়ে যায় ঘরে তার অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে;
সেখানে হলুদ শাড়ি লেগে থাকে রূপসীর শরীরের ’পর—
শঙ্খমালা নাম তারঃ এ-বিশাল পৃথিবীর কোনো নদী ঘাসে
তারে আর খুঁজে তুমি পাবে নাকো—বিশালাক্ষী দিয়েছিলো বর
তাই সে জন্মিছে নীল বাংলার ঘাস আর ধানের ভিতর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে- কবিতা।
৫৬৮.
বাংলা সাহিত্যে ‘পঞ্চপাণ্ডব’ কবিদের অন্তর্ভুক্ত নন কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. সতীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
সতীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• ‘পঞ্চপাণ্ডব’ কবিদের অন্তর্ভুক্ত নন- সতীন্দ্রনাথ দত্ত।

-----------------------
• পঞ্চপাণ্ডব:
তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন। তাদের পঞ্চপাণ্ডব বলা হত।
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।
- পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভুক্ত কবিরা রবীন্দ্র কাব্য-ধারার বিরোধী ছিলেন।

• আধুনিকতাবাদী পঞ্চপাণ্ডব লেখক হচ্ছেন-
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬৯.
অমিয় চক্রবর্তীর জন্মস্থান কোথায়?
  1. কলকাতা
  2. হুগলি
  3. কুষ্টিয়া
  4. ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
হুগলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুগলি
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তীর জন্ম ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়। 
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। 
- ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি আমিয় চক্রবর্তী রচিত ‘অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে কবিতাটি।

অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- কবিতাবলী (প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ),
- উপহার,
- অনিঃশেষ 
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেওয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫৭০.
‘নির্জনতার কবি’ নামে কাকে অভিহিত করা হয়?
  1. শামসুর রাহমান
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত 
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

‘নির্জনতার কবি’ নামে জীবনানন্দ দাশকে অভিহিত করা হয়। 

জীবনানন্দ দাশ
- জীবনানন্দ দাশকে পরিচিতি দেওয়া হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’, ‘নির্জনতার কবি’, ‘তিমির হননের কবি’, ‘ধূসরতার কবি’ নামে।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, বরিশালে।
- তিনি ছিলেন কবি ও শিক্ষাবিদ, এবং তাঁর আদি নিবাস বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক এবং ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ একজন প্রখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ দাশ বাংলা কাব্যধারায় রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম প্রধান কবি।
- তাঁর ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ কাব্যের অন্তর্গত ‘মৃত্যুর আগে’ কবিতার সঙ্গে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর ‘The Falling of the Leaves’ কবিতার মিল রয়েছে।
- ‘বনলতা সেন’ কবিতায় দেখা যায় অ্যাডগার এলেন পো-এর ‘To Helen’ কবিতার প্রভাব।
- জীবনানন্দের ‘রূপসী বাংলা’ কবিতা বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশ আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামী বাঙালি জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছে।

পুরস্কার ও সম্মাননা:
- ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থকে নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত করা হয় (১৯৫৩)
- ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ গ্রন্থের জন্য ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ (১৯৫৪)

- জীবনানন্দ দাশ ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,
২) বাংলাপিডিয়া। 

৫৭১.
'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরনে অর্ঘ্য। ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।’- উক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. সুকুমার রায়
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- এ কাব্যগ্রন্থের উৎসর্গ পত্রে লিখা ছিলো- 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরনে অর্ঘ্য। ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।’
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আকাশ-প্রদীপ’ কাব্যগ্রন্থটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেন।

--------------------
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-১৯৬০) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
- সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
কাব্যগ্রন্থ:
• তন্বী,
• অর্কেস্ট্রা,
• ক্রন্দসী,
• উত্তরফাল্গুনী,
• সংবর্ত,
• দশমী।

প্রবন্ধগদ্য:
• স্বগত ,
• কুলায় ও কালপুরুষ।

• এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
৫৭২.
কোনটি বিষ্ণু দে প্রকাশিত পত্রিকা?
  1. সাহিত্য
  2. কবিতা
  3. সাহিত্যপত্র
  4. প্রগতি
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যপত্র
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

অন্যদিকে:
• সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত পত্রিকা ‘সাহিত্য’।
• বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
• বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত সম্পাদিত পত্রিকা 'প্রগতি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৭৩.
‘সত্যেন ও স্বাতী’ চরিত্রদ্বয়ের স্রষ্টা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• ‘সত্যেন ও স্বাতী’ চরিত্রদ্বয়ের স্রষ্টা- বুদ্ধদেব বসু।

• ‘তিথিডোর’ উপন্যাস:

- বুদ্ধদেব বসুর ঔপন্যাসিক-প্রতিভার এক উজ্জ্বল প্রকাশ ‘তিথিডোর’ (১৯৪৯) উপন্যাস।
- বিষয়াংশ, মৌল-জীবনার্থ এবং প্রকরণ-স্বাতন্ত্র্যের দৃষ্টিকোণে তিথিডোর বাংলা উপন্যাসের ধারায় প্রকৃত অর্থেই এক স্মরণীয় নির্মাণ। - আলোচ্য উপন্যাসে আমরা বুদ্ধদেব বসুর বাস্তব-জীবনপ্রীতি ও পরিবার-সংলগ্নতার পরিচয় পাই।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন পরিবর্তমুখী সমাজমানসের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে এ-উপন্যাস।
- সত্যেন ও স্বাতীর প্রেম-আখ্যানের অন্তরালে এখানে প্রতিভাসিত হয়েছে চল্লিশের দশকের বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত সমাজজীবনের নানামাত্রিক চিত্র।
- বুদ্ধবেদ বসু মূলত চরিত্রের অন্তঃবাস্তবতার রূপকার; কিন্তু তিথিডোর উপন্যাসে, অন্তঃবাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গে তিনি জীবনের বহিরঙ্গ রূপকেও শিল্পিত করেছেন।

--------------------
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প গ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• হাওয়ার গান বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কবিতা।

• বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘তিথিডোর’ উপন্যাসের ভূমিকা।
৫৭৪.
ধানসিঁড়ি কিসের নাম?
  1. ধানের
  2. গ্রামের
  3. শহরের
  4. নদীর
সঠিক উত্তর:
নদীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীর
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশের 'রূপসী বাংলা' কাব্যের 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার চরণ-

আবার আসিব ফিরে
– জীবনানন্দ দাশ

আবার আসিব ফিরে ধানসিড়ির তীরে — এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় — হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে;
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঠাঁল-ছায়ায়।
----------------
ঝালকাঠি শহরের অদূরে ধানসিঁড়ি নদীর অপার সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ তাঁর কবিতায় বারবার উল্লেখ করেছেন এর নাম। ঝালকাঠির সুগন্ধা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে ঝালকাঠির মোল্লাবাড়ি, বারৈবাড়ি এবং রাজাপুরের হাইলকাঠি, ইন্দ্রপাশা ও বাঁশতলা—এই গ্রামগুলোর বুকচিরে বয়ে চলা ধানসিঁড়ি এসে রাজাপুরের জলাঙ্গী (জাঙ্গালিয়া নদী) মোহনায় মিশেছে।

উৎস: রূপসী বাংলা' কাব্য ও 'আবার আসিব ফিরে' কবিতা, কালের কন্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।
৫৭৫.
'বাসমতীর উপাখ্যান‘ জীবনানন্দ দাশ রচিত কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'বাসমতীর উপাখ্যান':
- 'বাসমতীর উপাখ্যান' জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসের কাহিনি এগিয়ে চলেছে- অধ্যাপক প্রভাস সেনের ছেলে ও মেয়ের বাড়ি না ফেরার এক ঘটনার মধ্যে দিয়ে। নাম দপ্তরী ও কুড়ুনি এর।

• কাহিনি সংক্ষেপ:
এই আখ্যানের শেষ দিকে এক মারাত্মক ঝড়জলের রাতে সন্ধের পরেও প্রভাস সেনের ছেলে দপ্তরী ও মেয়ে কুড়ুনি বাড়ি না ফেরাতে এক ভয়ঙ্কর সমবেত উদ্বেগের পরিস্থিতি আঁকা হয়। অথচ উপন্যাস শেষ হয়ে গেলেও কোথাও পাওয়া গেল না, দপ্তরী ও কুড়ুনি ফিরল কি ফিরল না! এমনই আনমনা, অপ্রত্যাশিত জীবনানন্দের এই কুহেলি-ভুবন।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- প্রভাস সেন,
- দপ্তরী,
- কুড়ুনি।

-------------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই।
- স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- মূলত কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- ঔপন্যাসিক ও গল্পকার হিসেবে জীবনানন্দের স্বতন্ত্র প্রতিভা ও নিভৃত সাধনার উন্মোচন ঘটে মৃত্যুর পরে প্রাপ্ত অসংখ্য পাণ্ডুলিপিতে।
- তাঁর রচিত গল্পের সংখ্যা প্রায় দুশতাধিক।
- কবিতার কথা (১৯৫৫) নামে তাঁর একটি মননশীল ও নন্দনভাবনামূলক প্রবন্ধগ্রন্থ আছে।
- সম্প্রতি কলকাতা থেকে তাঁর গদ্যরচনা ও অপ্রকাশিত কবিতার সংকলনরূপে জীবনানন্দ সমগ্র (১৯৮৫-৯৬) নামে বারো খণ্ড রচনাবলি প্রকাশিত হয়েছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- জলপাইহাটি,
- জীবনপ্রণালী,
- বাসমতীর উপাখ্যান ইত্যাদি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'বাসমতীর উপাখ্যান' উপন্যাস।
৫৭৬.
নিচের কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত অনুবাদ কাব্য?
  1. ক) হাওয়া বদল
  2. খ) সাহিত্য চর্চা 
  3. গ) সানন্দা
  4. ঘ) কালিদাসের মেঘদূত
সঠিক উত্তর:
ঘ) কালিদাসের মেঘদূত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কালিদাসের মেঘদূত
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু
- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক,  সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন। 
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু। 

গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়’,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি। 

 প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি 
- কালের পুতুল 
- সাহিত্য চর্চা 

উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

অনুবাদ কাব্য
- কালিদাসের মেঘদূত,
- বোদলেয়ার: তাঁর কবিতা,
- রাইনের মারিয়া রিলকের কবিতা ইত্যাদি।
- হেন্ডালিনের কবিতা।

নাটক: 
- মায়ামালঞ্চ 
- তপস্বী তরঙ্গিণী 
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭৭.
অমিয় চক্রবর্তী'র প্রথম প্রকাশিত বই কোনটি?
  1. কবিতাবলী
  2. খসড়া
  3. মাটির দেয়াল
  4. অনিঃশেষ
সঠিক উত্তর:
কবিতাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতাবলী
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী:  
- কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। 
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে (ব্যক্তিগত সচিব) এসেছিলেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে অমিয় চক্রবর্তী অন্যতম একজন।
- অন্য চারজন হলেন জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও বিষ্ণু দে।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী'। 

তাঁর বিশেষ কাব্যগ্রন্থগুলো:  
• খসড়া, 
• এক মুঠো, 
• মাটির দেয়াল, 
• পারাপার, 
• পালাবদল, 
• ঘরে ফেরার দিন, 
• পুষ্পিত ইমেজ, 
• অনিঃশেষ, 
• অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৭৮.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. অনিঃশেষ
  2. মাটির দেয়াল
  3. খসড়া
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী:
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৭৯.
"সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি"—এই বিখ্যাত উক্তিটি জীবনানন্দ দাশের কোন প্রবন্ধগ্রন্থের?
  1. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  2. রূপসী বাংলা
  3. কবিতার কথা
  4. বনলতা সেন
সঠিক উত্তর:
কবিতার কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতার কথা
ব্যাখ্যা

'কবিতার কথা' প্রবন্ধ:
- রচয়িতা- জীবনানন্দ দাশ।
- 'কবিতার কথা' শিরোনামে প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থটি বই আকারে বাজারে আসে জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর- ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে;
- কিন্তু প্রবন্ধগুলো কবির জীবদ্দশায়ই বিভিন্ন কাগজে মুদ্রণ হয়েছিল।
- 'কবিতার কথা' পনেরোটি প্রবন্ধের সংকলন।
- কবিতার কথা' শিরোনামীয় প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশ হয় ১৩৩৫ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যায় বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত 'কবিতা' পত্রিকায়।
- এই প্রবন্ধের প্রথম বাক্যাংশই 'সকলেই কবি নয়। কেউ কেউ কবি'।
- অর্থাৎ জীবনানন্দ দাশের মতে, কবিতা লিখলেই কাউকে কবি হিসেবে মেনে নেওয়া ঠিক নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫৮০.
'রেখাচিত্র' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিষ্ণু দে
  3. জীববানন্দ দাশ
  4. কায়বোবাদ
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক‌:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৮১.
জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' আখ্যা দিয়েছেন
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ এর উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমি হননের কবি
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন বুদ্ধদেব বসু। 
- তার কাব্যবৈশিষ্টকে 'চিত্ররূপময়' বলেছেন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৮২.
বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে কী বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. ধূসরতার কবি
  2. তিমির হননের কবি
  3. রূপসী বাংলার কবি
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- অপশন (ঘ) কোনোটিই নয়। 

• বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন।

- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন সাদাসিধা মানুষ। জনতার কোলাহল থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন। আজীবন নিজেকে আড়াল করে রাখতে চেয়েছেন। স্বেচ্ছায় ও সচেতন ভাবে প্রশ্রয় দিয়েছেন নিজের প্রসঙ্গে নানা কৌতূহলোদ্দীপক বিভ্রান্তিকে। এজন্যই বুদ্ধদেব বসু তাকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে 'চিত্ররূপময়' বলে আখ্যায়িত করেছেন। 

-----------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।

জীবনানন্দ দাশের উপাধিসমূহ:
 - ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি, 
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৮৩.
'আবার আসিব ফিরে ধানসঁড়িটির তীরে'- চরণটি কোন কবির রচনা?
  1. জসীমউদ্‌দীন
  2. শামসুর রাহমান
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটির রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।
- ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি ‘রূপসীবাংলা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- ‘রূপসীবাংলা' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

"আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে— এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়— হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হ'য়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়;
হয়তো বা হাঁস হবো— কিশোরীর— ঘুঙুর রহিবে লাল পায়,
সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে-ভেসে;
আবার আসিব আমি বাংলায় নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙ্গায়;"
------------------------- 
•  জীবনানন্দ দাশ: 
- ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- রূপসী বাংলা,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: 'আবার আসিব ফিরে' কবিতা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৮৪.
কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প নয়?
  1. ক) রেখাচিত্র
  2. খ) হাওয়া বদল
  3. গ) অভিনয়, অভিনয় নয়
  4. ঘ) নীলাঞ্জনার খাতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) নীলাঞ্জনার খাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নীলাঞ্জনার খাতা
ব্যাখ্যা
'নীলাঞ্জনার খাতা' বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস।

বুদ্ধদেব বসু
- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়',
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৮৫.
স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে জীবনানন্দ দাশের কোন কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে?
  1. রূপসী বাংলা
  2. বনলতা সেন
  3. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  4. মহাপৃথিবী
সঠিক উত্তর:
রূপসী বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৮৬.
'বন্দীর বন্দনা' বুদ্ধদেব বসু রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'বন্দীর বন্দনা' বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 

--------------------
• বুদ্ধদেব বসু:

• বুদ্ধদেব বসু ছিলেন সাহিত্যিক, সমালোচক ও সম্পাদক। ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে। 

• ঢাকা থেকে প্রগতি (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে কবিতা (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম। কবিতাবিষয়ক 'কবিতা' পত্রিকাটি তখন সাহিত্যিক মহলে উচ্চ প্রশংসা লাভ করে; রবীন্দ্রোত্তর কবিতা-আন্দোলনেও এর ভূমিকা স্বীকৃত। বুদ্ধদেব নিজেও রবীন্দ্র-প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে আসেন।

পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক। সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
• কবিতা গ্রন্থ:
বন্দীর বন্দনা; কঙ্কাবতী; দ্রৌপদীর শাড়ী; শীতের প্রার্থনা: বসন্তের উত্তর; যে আধার আলোর অধিক।

• উপন্যাস:
লাল মেঘ; রাতভর বৃষ্টি; পাতাল থেকে আলাপ; গোলাপ কেন কালো। 

• গল্পগ্রন্থ:
অভিনয়, অভিনয় নয়; রেখাচিত্র; ভাসো আমার ভেলা। 

• নাটক:
তপস্বী ও তরঙ্গিণী; কলকাতার ইলেকট্রা; সত্যসন্ধ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৮৭.
"যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা"- চরণটির রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. আসাদ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

 • "যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা"- চরণটির রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।
- এই চরণটি তাঁর 'আট বছর আগের একদিন'  কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা 'বর্ষ-আবাহন' ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৮৮.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রতিধ্বনি
  2. উত্তরফাল্গুনী
  3. এক মুঠো
  4. চলো যাই
সঠিক উত্তর:
এক মুঠো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক মুঠো
ব্যাখ্যা

• 'এক মুঠো' কাব্যগ্রন্থ:
- অমিয় চক্রবর্তীর 'এক মুঠো' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে।
- বিশ শতকের বিজ্ঞানের যুগে ব্যবহারিক জীবনে যেমন জটিলতা বাড়ছে, মানুষের মনেও তেমনি চিন্তার জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক চেতনায় যুগধর্মের এই বৈশিষ্ট্য খুব উজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত হয়েছে এই কাব্যে।
- কবি এখানে সময়কে বিবেচনায় এনে এই সময়হত মানব-মানবীর অন্তর্গত সুখ ও সমস্যা ধারার চেষ্টা করেছেন।

​--------------------
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

​অন্যদিকে, 
​-----------------
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত-  অনুবাদগ্রন্থ: প্রতিধ্বনি; কাব্যগ্রন্থ: উত্তরফাল্গুনী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৮৯.
‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ বুদ্ধদেব বসুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।  

• ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’:
- ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ প্রবন্ধের প্রেক্ষাপট মূলত তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ।
- রচনায় লেখক তাঁর ফেলে আসা শহর, মানুষ ও পরিবেশকে চিত্রিত করেছেন।
- প্রবন্ধে বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে লেখকের শৈশব ও কৈশোরের পূর্ববঙ্গ (বর্তমান বাংলাদেশ)-এর স্মৃতি ও দেশভাগের যন্ত্রণা।
- প্রবন্ধটি বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতার দৃষ্টিকোণে একটি গুরুত্বপূর্ণ আত্মজীবনীমূলক গদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
-----------------------------
বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, গল্পকার, অনুবাদক, সম্পাদক ও সাহিত্য সমালোচক।
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস বিক্রমপুরের মালখানগর।
- তিনি কবি হিসেবে উল্লেখযোগ্য হলেও সম্পাদক হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন।
- তাঁর সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকাটি কলকাতা থেকে ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি পঞ্চপান্ডব কবিদের মধ্যকার একজন। 
- তাকে কল্লোল গোষ্ঠীর কবি হিসেবেও অভিহিত করা হয়। 
- ১৮ মার্চ ১৯৭৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি;
- কালের পুতুল;
- সাহিত্যচর্চা;
- স্বদেশ ও সংস্কৃতি;
- সঙ্গ নিঃসঙ্গতা ও রবীন্দ্রনাথ ইত্যাদি। 

উৎস: 
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৫৯০.
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি যে শহরকে নিয়ে লেখা?
  1. আফগানিস্তানের কাবুল
  2. ভারতের দিল্লী
  3. পাকিস্তানের লাহোর
  4. ইরানের তেহরান
সঠিক উত্তর:
আফগানিস্তানের কাবুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আফগানিস্তানের কাবুল
ব্যাখ্যা

'দেশে বিদেশে' উপন্যাস:
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ 'দেশে বিদেশে'। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র:
- বহির
- আজাহার
- আরজান
- রহমিউদ্দিন

• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর রচিত উপন্যাস: অবিশ্বাস্যও শবনম।
- তাঁর রচিত ছোটগল্প: চাচা-কাহিনী ও টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
সৈয়দ মুজতবা আলী – দেশে বিদেশে (প্রথম প্রকাশ: ১৯৪৮)

৫৯১.
জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর প্রায় ৫০ বছর পর প্রকাশিত উপন্যাস কোনটি? 
  1. বনলতা সেন
  2. কল্লাণী
  3. বেলা অবেলা কালবেলা
  4. মল্লিকা
সঠিক উত্তর:
কল্লাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্লাণী
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর প্রায় ৫০ বছর পর প্রকাশিত উপন্যাস: কল্লাণী।
--------------------------------------------
জীবনানন্দ দাশ:
-জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দাশ দুজনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ নামে পরিচিত।
- বাংলা কবিতায় আধুনিকতার পথিকৃৎ হিসেবে তিনি পরিচিত।
- এছাড়া, রবীন্দ্র-পরবর্তী যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবেও তাকে গণ্য করা হয়।
- তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, মানবতা এবং নিঃসঙ্গতার এক স্বতন্ত্র জগৎ ফুটে ওঠে।
- যদিও জীবদ্দশায় তিনি খুব পরিচিত ছিলেন না, কিন্তু মৃত্যুর পর বিশেষত ১৯৯৯ সালে জন্মশতবার্ষিকী পালনের পর তার জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়।

তাঁর মৃত্যুর প্রায় ৫০ বছর পর তাঁর কল্লাণী উপন্যাসটি প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটি জমিদারি প্রথার অবক্ষয়ের পটভূমিতে রচিত, যেখানে গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ছিল পঙ্কজবাবুর মেয়ে কল্যাণী।

• তার উপন্যাসগুলো হলো : 
- কল্লাণী,
- মাল্যবান,
- বিভা,
- সুতীর্থ ,
- চারজন।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- ‘বনলতা সেন’,
- ‘রূপসী বাংলা’,
- ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’,
- ‘ঝরাপালক’,
- ‘সাতটি তারার তিমির’,
- বেলা অবেলা কালবেলা,
- রূপসী বাংলা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ - কবিতার কথা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৫৯২.
অমিয় চক্রবর্তীর ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. মাত্রাবৃত্ত
  2. অক্ষরবৃত্ত
  3. মুক্তক 
  4. পয়ার
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত
ব্যাখ্যা

• 'বাংলাদেশ' কবিতা:
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বিখ্যাত কবিতা ‘বাংলাদেশ’ অনিঃশেষ (১৯৭৬) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।
- কবিতাটি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

• অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫৯৩.
বুদ্ধদেব বসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। পত্রিকাটির নাম কী?
  1. কবিতা
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পত্রিকা
  3. বাসন্তিকা
  4. চতুরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
বাসন্তিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাসন্তিকা
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা- 
- প্রগতি → (১৯২৭-১৯),
- কবিতা→ (১৩৪২-৪৭), 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় তিনি বাসন্তিকা পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 
- হুমায়ুন কবিরের সাথে তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা 'চতুরঙ্গ'। 

• বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি  ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে। 
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো। 
---------------------
 বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক ও সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।
- বুদ্ধদেব বসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় তার সম্পাদনায় ‘বাসন্তিকা’ পত্রিকা প্রকাশিত হতো যা এখনো প্রকাশিত হয়। 
- তিনি প্রগতি (১৯২৭-২৯) ও কবিতা (১৩৪২-৪৭) নামে আরো দুটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- এছাড়া তিনি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বিখ্যাত ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘চতুরঙ্গ’ ও সম্পাদনা করতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯৪.
কে জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে "চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
 জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে "চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- "কবিতার কথা"। 'কবিতার কথা' প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: "সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি"।
- "বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। "বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় "রূপসী বাংলা” এবং “বেলা অবেলা কালবেলা" নামক কাব্য।

জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৯৫.
'আবার আসিব ফিরে' বিখ্যাত কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. বনলতা সেন
  3. রূপসী বাংলা
  4. ঝরা পালক
সঠিক উত্তর:
রূপসী বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা

রূপসী বাংলা (কাব্যগ্রন্থ):
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৯৬.
জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. মাল্যবান
  2. বনলতা সেন
  3. সাতটি তারার তিমির
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মাল্যবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাল্যবান
ব্যাখ্যা

• ‘মাল্যবান’ উপন্যাস:
-  ‘মাল্যবান’ (১৯৭৩) জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল সম্ভবত ১৯৪৮ সালে, প্রকাশিত হয় জীবনানন্দের মৃত্যুর অনেক দিন পরে।
-  বাংলা সাহিত্যের মূল কাহিনি বর্ণনার ধারা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক এই উপন্যাসটি।
-  দাম্পত্য জীবনের এক নিষ্ঠুর কাহিনি। সম্পর্কের জটিলটা এবং পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতা বোধ এক ইঙ্গিতময় ভাষায় অসামান্য কুশলতার সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- বনলতা সেন ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সাতটি তারার তিমির ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- 'বেলা অবেলা কালবেলা' (১৯৬১)  ও রূপসী বাংলা(১৯৫৭) কাব্যগ্রন্থটিও জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।

• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৯৭.
'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি কে রচনা করেছেন ?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিষ্ণু দে
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- 'সুধীন্দ্রনাথ দত্ত'।

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ১৯০১ সালে কলকাতার জন্মগ্রহন করেন।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন একাধারে ১২ বছর। 
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছিলেন।

সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা, 
- ক্রন্দসী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- দশমী। 

তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ আছে- স্বগত, কুলায় ও কালপুরুষ।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৯৮.
‘তপস্বী ও তরঙ্গিনী’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী'।

বুদ্ধদেব বসু: 
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
-  রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।
- হুমায়ুন কবিরের সাথে তাঁর সম্পাদিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা 'চতুরঙ্গ'।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- মৌলিনাথ,
- নীলাঞ্জনের খাতা,
- রাত ভরে বৃষ্টি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী
- বন্দীর বন্দনা
- কঙ্কাবতী
- যে আধাঁর আলোর অধিক
- মরচেপড়া পেরেকের গান
- একদিন চিরদিন
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়ামালঞ্চ
- তপস্বী ও তরঙ্গিণী 
- কলকাতার ইলেক্ট্রা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৯৯.
"চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য;" লাইনটি কোন কবির রচনা?
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) জীবনানন্দ দাশ
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
খ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
"চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য;"-- লাইনটি জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। 

জীবনানন্দ দাশ
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।

জীবনানন্দ দাশের কাব্য :
- ঝরা পালক
- ধূসর পান্ডুলিপি
- সাতটি তারার তিমির
- বনলতা সেন 
- বেলা অবেলা কালবেলা
- রূপসী বাংলা
- মহাপৃথিবী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বনলতা সেন কবিতা।
৬০০.
'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি' — উক্তিটি কোন গ্রন্থের?
  1. বনলতা সেন
  2. কবিতার কথা
  3. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  4. রূপসী বাংলা
সঠিক উত্তর:
কবিতার কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতার কথা
ব্যাখ্যা
• 'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি' উক্তিটি জীবনানন্দ দাশ করেছেন।

• কবিতার কথা:
- জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধগ্রন্থ ‘কবিতার কথা’।
- গ্রন্থটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি, ‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’

• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- কল্যাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।