বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন সম্পর্কিত বই ও লেখক

মোট প্রশ্ন২০৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন সম্পর্কিত বই ও লেখক

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ২০৫

.
'A System of Logic' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. জ্যাক রুঁশো
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. ডেভিড হিউম
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল 
ব্যাখ্যা

• জন স্টুয়ার্ট মিল [John Stuart Mill (1806-1878)]:
- মূলত জন স্টুয়ার্ট মিল [John Stuart Mill] এর হাতে ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বলিষ্ঠ রূপ ধারণ করে।
- জে. এস. মিল ছিলেন ধ্রুপদী ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের এক একনিষ্ঠ প্রবক্তা।
- আবার অনেকের মতে তিনিই হলেন আলোচ্য মতবাদের শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা।
- ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং উপযোগবাদের প্রবক্তা।

• তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- “Utilitarianism”.
- “A System of Logic”
- “Autobiography”
- “Considerations on Representative Government”
- “Essays on Some Unsettled Questions of Political Economy”
- “Examination of Sir William Hamilton’s Philosophy”
- “On Liberty”
- “Principles of Political Economy”
- “The Subjection of Women”

সূত্র: ব্রিটানিকা।

.
'An Introduction to the Principles of Morals and Legislation'- গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. টমাস হবস
  2. জোনাথান হেইট
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা

জেরেমি বেন্থাম:
- জেরেমি বেন্থাম একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, এবং তাত্ত্বিক আইনবিদ।
- তিনি ছিলেন উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা।
- তাঁর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ 'An Introduction to the Principles of Morals and Legislation'.
- বইটি ১৭৮৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে জেরেমি বেন্থাম উপযোগ নীতি (Principle of Utility)-কে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
- বেন্থাম বলেন, মানুষের দুটি প্রধান চালিকা শক্তি: সুখ ও দুঃখ।
- সব আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত “সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সর্বাধিক সুখ”।
- বেন্থামের মতে, শাস্তি এক ধরনের অমঙ্গল, কারণ এতে কষ্ট সৃষ্টি হয়।
- তাই শাস্তি শুধু তখনই দেওয়া উচিত, যখন তা বড় কোনো অমঙ্গল থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে।

উৎস: Britannica.

.
‘জ্ঞান হয় পুণ্য’- এই উক্তিটি কার?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. সক্রেটিস
  3. প্লেটো
  4. থেলিস
ব্যাখ্যা
জ্ঞান:
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিসের মতে নৈতিক ক্রিয়া বা ন্যায়ের ভিত্তি হলো জ্ঞান।
- তার মতে যার মধ্যে ন্যায়বোধ সম্পর্কে জ্ঞান নেই তার পক্ষে ন্যায় কাজ করা সম্ভব নয়।
- এজন্যই সক্রেটিস সদগুণ ও জ্ঞানকে একত্রে করে বলেছেন, ''জ্ঞানই পূণ্য''।
- তার মতে ন্যায়ের ভিত্তি হলো প্রকৃত জ্ঞান এবং অন্যায়ের ভিত্তি হলো অজ্ঞতা।

⇒ মূলত: বাক্যটি ছিল এরকম, “Virtue is knowledge’’ বা পূণ্যই জ্ঞান।
- এই বাক্যটিকেই কিছুটা ঘুরিয়ে বলা হয়েছে, “জ্ঞান হয় পূন্য”।
- এই উক্তিটি পাওয়া যায় প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক Socrates এবং Meno নামক একজন গ্রীক উদীয়মান অভিজাত তরুণের একটি কথোপকথন থেকে।
- এই কথোপকথনটি পাওয়া যায় সক্রেটিস - এর শিষ্য প্লেটোর রচিত গ্রন্থ - Dialogues -এ।

- যেহেতু সক্রেটিসের লিখিত কোন বই এর সন্ধান পাওয়া যায় না; তাই সক্রেটিসকে জানার জন্য তারই ছাত্র প্লেটোর উপর নির্ভর করতে হয়।
- প্লেটো তার রচিত জগদ্বিখ্যাত ‘Dialogues’ গ্রন্থে সক্রেটিসের সাথে অন্যান্যদের জ্ঞানমূলক কথোপকথনগুলোকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে এসেছেন। অর্থ্যাৎ, Plato এর Dialogue বইয়ের উক্তিগুলো মূলত সক্রেটিসের; প্লেটোর নিজের উক্তি নয়।
- Dialogue বইটি প্লেটোর রচিত বলে সক্রেটিসের উক্তিগুলো অনেকে প্লেটোর উক্তি বলে মনে করেন। এজন্যই অনেক ক্ষেত্রে এবং বিশেষ করে আলোচ্য প্রশ্নের ক্ষেত্রেও কনফিউশন তৈরী হয়েছে।
সুতরাং, আলোচ্য উক্তিটি নি:সন্দেহে সক্রেটিসের এবং তার ছাত্র, প্লেটো গুরু সক্রেটিসের কথোপথনগুলো সংরক্ষণ করেন এবং তার মাধ্যমেই পরবর্তীতে এটা প্রকাশিত হয়।

উৎস: i) The Dialogues of Plato.
ii) Britannica.
iii) নীতিবিদ্যা, মুহাম্মদ আবদুল বারী।
.
'Perpetual Peace' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. টমাস হবস
  2. জন অস্টিন
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা

ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

উল্লেখ্য,
- গণতান্ত্রিক শান্তি তত্ত্ব সম্পর্কে রচিত ‘Perpetual Peace’ গ্রন্থটি ইমানুয়েল কান্ট-এর লেখা।
- ‘আ পাপেচুয়াল পিস (১৭৯৫)’ রাজনৈতিক দর্শনের ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, যা বিভিন্ন দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কাঠামো প্রদান করে।
- এই বইয়ে কান্ট যুদ্ধ এড়ানোর ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক ও নৈতিক নির্দেশনা উপস্থাপন করেছেন।

⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- Perpetual Peace.

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

.
Laissez-Faire কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. একনায়কতন্ত্র
  2. অর্থনীতি
  3. সমাজতন্ত্র
  4. পরিবেশ
ব্যাখ্যা
Laissez-Faire বা লেইসে ফেয়ার:
- লেইসে ফেয়ার হলো অর্থনীতিতে ব্যক্তিগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সরকারের ন্যূনতম হস্তক্ষেপের নীতিমালা।
- এই নীতিটি মূলত ফ্রান্সের ফিজিওক্র্যাটদের সঙ্গে যুক্ত, যারা ১৭৫৬ থেকে ১৭৭৮ সালের মধ্যে সক্রিয় ছিল।
- ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথের The Wealth of Nations বইয়ের প্রভাবে যুক্তরাজ্যে ক্লাসিক্যাল অর্থনীতিতে লেইসে ফেয়ার শক্তিশালী সমর্থন পায়।
- জন স্টুয়ার্ট মিল তার Principles of Political Economy (১৮৪৮) বইতে এই নীতির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
- লেইসে ফেয়ার শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক মতবাদও ছিল।
- এর মূল তত্ত্ব ছিল যে ব্যক্তি তাদের নিজস্ব লক্ষ্য অর্জন করতে গিয়ে সমাজের সেরা ফলাফল নিশ্চিত করবে।
- রাষ্ট্রের কাজ ছিল কেবল শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে হস্তক্ষেপ না করা।
- ২০শ শতকের শেষের দিকে লেসে ফেয়ার পুনরুজ্জীবিত হয় মনেটারিজমের মাধ্যমে।
- এর প্রধান প্রবক্তা মিল্টন ফ্রিডম্যান অর্থ সরবরাহের বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের পক্ষে যুক্তি দেন।

উৎস: Britannica.
.
'শর্তহীন আদেশ' ধারণাটির প্রবর্তক কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. হার্বার্ট স্পেন্সার
  4. ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

• ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি।
যথা:-
- সৎ ইচ্ছা,
- কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং
- শর্তহীন আদেশ

- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
'A Treatise of Human Nature' গ্রন্থের রচয়িতা কে ছিলেন?
  1. ডেভিড হিউম
  2. ইমানুয়েল কান্ট 
  3. ডেভিড ভিউম
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল 
ব্যাখ্যা

ডেভিড হিউম:
- তিনি জন্ম গ্রহন করেন  ১৭১১ সালে। 
- তিনি স্কটিশ দার্শনিক, ইতিহাসবিদ, অর্থনীতিবিদ ছিলেন।
- তিনি মানব প্রকৃতির প্রবর্তক ছিলেন।
- মৃত্যুবরন করেন ১৭৭৬ সালে।

ডেভিড হিউমের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:-
- A Treatise of Human Nature;
- An Enquiry Concerning Human Understanding;
- Human Understanding;
- Enquiry Concerning the Principles of Morals;
-  Moral and Political;
- History of England।

অন্যদিকে, 
বার্ট্রান্ড রাসেলের গ্রন্থ:-
- The Elements of Ethics,
- Political Ideals
- Human Society in Ethics and Politics

কার্ল মার্কসের গ্রন্থে:-
- The Communist Manifesto 
- Das Kapital
- The Poverty of Philosophy

ইমানুয়েল কান্টের গ্রন্থে:-
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- The Metaphysics of Morals

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় &  ব্রিটানিকা।

.
‘Existentialism Is a Humanism' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সিমোন দ্য বোভোয়ার
  2. জ্যাঁ পল সার্ত্রে
  3. এমানুয়েল কান্ট
  4. মার্টিন হাইডেগার
ব্যাখ্যা

- জ্যাঁ পল সার্ত্রে ১৯৪৯ সালে ‘Existentialism Is a Humanism' নামে ছোট্ট একটি পুস্তিকা লেখেন।
- তিনি অস্তিত্ববাদ সম্পর্কে এই বইয়ে আলোচনা করেন। 

Existentialism:
- Existentialism এর বাংলা অস্তিত্ববাদ।
- এটি বিংশ শতাব্দীর একটি দার্শনিক মতবাদ। 
- অস্তিত্ববাদ একটি দার্শনিক প্রবণতা, এটা মূলত মানুষের অস্তিত্ব এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পছন্দ, এবং অর্থহীনতা নিয়ে আলোচনা করে।
- জ্যাঁ পল সার্ত্রে অস্তিত্ববাদের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। 
- অস্তিত্ববাদীদের মতে, মানুষের জীবন প্রকৃতপক্ষে অর্থহীন এবং মানুষকে তার নিজের জীবনের উদ্দেশ্য এবং মূল্য খুঁজে নিতে হবে।

সূত্র: Britannica.

.
অস্ট্রেলীয় দার্শনিক পিটার সিঙ্গারের বিখ্যাত বই কোনটি?
  1. দি সামিট
  2. অ্যানিমেল লিবারেশন
  3. দি প্রিন্স
  4. মোরাল এন্ড জাস্টিস
ব্যাখ্যা
পিটার সিঙ্গার:
- পিটার সিঙ্গার একজন অস্ট্রেলিয়ান নৈতিক দার্শনিক।
- তিনি প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির বায়োএথিক্সের ইমেরিটাস ইরা ডব্লিউ. ডিক্যাম্প অধ্যাপক।
- পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার বৈশিষ্ট্য হলো তথ্যগত উপাদানের ব্যবহার।
- তথ্য যেখানে থেমে যায়, দর্শন সেখান থেকে শুরু হয়। এজন্য তিনি বলেন "দার্শনিকরা তাদের স্বীয় কাজে ফিরে এসেছে"।

উল্লেখ্য,
- পিটার সিঙ্গারের বিখ্যাত বই Animal Liberation ।
- উপযোগবাদকে গ্রহণ না করেও এ গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ একটি দার্শনিক গ্রন্থে পরিণত হয়েছে।
- গোটা গ্রন্থের দুই-তৃতীয়াংশ অ-মানব প্রাণীর প্রতি আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত এ সম্পর্কে ব্যবহারিক কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উৎস: i) Britannica.
ii) পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা গ্রন্থের পর্যালোচনা, আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া।
১০.
’An Essay Concerning Human Understanding’ গ্রন্থের লেখক-
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. জন লক
  3. সক্রেটিস
  4. প্লেটো
ব্যাখ্যা

• জন লক বিখ্যাত বই: 
- An Essay Concerning Human Understanding.
- Two Treatises of Government.
- আধুনিক গনতন্ত্রের জনক জন লক।

অন্যদিকে,

জন স্টুয়ার্ট মিল:

• তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- Considerations on Representative Government,
- Examination of Sir William Hamilton's Philosophy,
- On Liberty,
- Principles of Political Economy,
- The Subjection of Women,
- Utilitarianism.

• প্লেটোর বিখ্যাত বই: The Republic.

উৎস: ব্রিটানিকা।

১১.
বিখ্যাত রাজনৈতিক গ্রন্থ 'The Prince'-এর রচয়িতা কে?
  1. কার্ল মার্কস
  2. পিটার সিঙ্গার
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:
- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ইতালির ফ্লোরেন্স নগরীতে ১৪৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মে জন্মগ্রহণ করেন নিকোলো।
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য নির্ণয় করেন।
- ১৫২৭ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে তিনি মারা যান।

উল্লেখ্য,
- নিকোলো মেকিয়াভেলি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, উপদেষ্টা, নাট্যকার, কবি, দার্শনিক, ঐতিহাসিক, সামরিকবিদ ও আরও অনেক কিছু।
- তাকে আধুনিক রাজনীতি ও দর্শনের জনক বলা হয়ে থাকে।
- তিনি প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিজ্ঞানেরও প্রতিষ্ঠাতা।

⇒ তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম:
- The Prince,
- Discourses on Livy,
- The Life of Castruccio Castracani of Lucca,
- Florentine Histories,
- Lettera to Francesco Vettori,
- The Portable Machiavelli,
- The Complete Art of War ইত্যাদি।

⇒ ১৫১৩ খ্রিষ্টাব্দে রচনা করেন তার বিশ্বখ্যাত 'The Prince'। দ্য প্রিন্স-এর মূল বিষয় হলো কীভাবে রাজনৈতিক শক্তি অর্জন, ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা যায় তার চিন্তাপূর্ণ বিশ্লেষণ। পুস্তকটি ছোট-বড় ২৬টি অধ্যায় নিয়ে রচিত। তা ছাড়া শুরুতে রয়েছে একটি উৎসর্গপত্র। ইতালির বিখ্যাত মেডিসি পরিবারের অন্যতম শাসক লরেঞ্জো ডে মেডিসির নামে গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে।

উৎস: i) Britannica.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১২.
'Logic and knowledge' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. টমাস হবস
  2. জ্যাক রুঁশো
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. মন্টেস্কু
ব্যাখ্যা
• বার্ট্রান্ড রাসেল:
- তিনি একজন ব্রিটিশ দার্শনিক।
- Logic and knowledge-গ্রন্থটির রচয়িতা বার্ট্রান্ড রাসেল।

তার অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- The Problem of Philosophy
- The Conquest of Happiness
- Religion and Science
- The Principles of Mathematics
- The Analysis of Mind
- Marriage and Morals
- Philosophical Essays

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
১৩.
কোন গ্রন্থটি John Stuart Mill কর্তৃক রচিত?
  1. On Liberty
  2. Leviathan
  3. The Republic
  4. The Spirit of Laws
ব্যাখ্যা
⇒ John Stuart Mill:
- ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং উপযোগবাদের প্রবক্তা।

⇒ তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- “On Liberty”.
- “A System of Logic”.
- “Autobiography”.
- “Considerations on Representative Government”.
- “Essays on Some Unsettled Questions of Political Economy”.
- “Examination of Sir William Hamilton’s Philosophy”.

অন্যদিকে -
- টমাস হবসের গ্রন্থের নাম Leviathan.
- The Republic গ্রন্থটির লেখক প্লেটো। 
- 'The Spirit of Laws'- গ্রন্থের রচয়িতা ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
১৪.
Considerations on Representative Government' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জন লক 
  2. জ্যা জ্যাক রুশো
  3. জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. প্লেটো 
ব্যাখ্যা

জন স্টুয়ার্ট মিল:
- জন স্টুয়ার্ট মিল একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং উপযোগবাদের প্রবক্তা।
- জন স্টুয়ার্ট মিলের বিখ্যাত গ্রন্থ ’On Liberty’.
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'On Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'

• তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- Considerations on Representative Government,
- Examination of Sir William Hamilton's Philosophy,
- On Liberty,
- Principles of Political Economy,
- The Subjection of Women,
- Utilitarianism.

অন্যদিকে, 
- প্লেটোর বিখ্যাত বই: The Republic.
• জন লক বিখ্যাত বই: An Essay Concerning Human Understanding.
- কার্ল মার্কস এর বিখ্যাত রচনা Das Capital.

উৎস: ব্রিটানিকা।

১৫.
"নিকোমেকীয়ান এথিক্স" গ্রন্থটি লিখেছেন কে? 
  1. প্লেটো
  2. সক্রেটিস
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. এরিস্টটল
ব্যাখ্যা

- "নিকোম্যাকিয়ান এথিক্স" গ্রন্থটি এরিস্টটল এর লেখা একটি বিখ্যাত গ্রন্থ।
- এরিস্টটল আত্মহত্যাকে সমর্থন করেননি।
- তিনি এটিকে কাপুরুষোচিত কাজ, রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী এবং অপরাধমূলক কাজ বলে অভিহিত করেছেন।
- তিনি নিকেমেকিয়ান এথিক্স গ্রন্থের নবম পুস্তকে আত্মহত্যার বিরোধিতা করেন।
- তিনি আত্মহত্যাকে অন্যায্য বলে উল্লেখ করেছেন, কারণ তাঁর মতে আত্মহত্যা নিজের দেহের ক্ষতিসাধন কল্পে করা হয়, কেবলমাত্র প্রায়শ্চিত্তের জন্য নয়।

• প্লেটো (Plato)
- বিখ্যাত বই: 'দ্য রিপাবলিক' (The Republic)
-  এটি প্লেটোর সবচেয়ে প্রভাবশালী কাজ। এতে তিনি একটি আদর্শ রাষ্ট্র বা 'ইউটোপিয়া'র কল্পনা করেছেন। ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং 'দার্শনিক রাজা'র ধারণা এই বইয়ের মূল উপজীব্য।

• সক্রেটিস (Socrates)
- বিখ্যাত বই: সক্রেটিস নিজে কোনো বই লিখে যাননি।
- সক্রেটিস মনে করতেন জ্ঞান লিখিত রূপের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে বেশি বিকশিত হয়।
- তবে তার দর্শন ও কথোপকথন আমরা জানতে পারি তার ছাত্র প্লেটোর লেখা 'অ্যাপোলজি' (Apology) এবং অন্যান্য সংলাপ (Dialogues) থেকে। তাই তাকে বুঝতে হলে প্লেটোর বইগুলোই প্রধান উৎস।


• ইমানুয়েল কান্ট (Immanuel Kant):
- বিখ্যাত বই: 'ক্রিটিক অব পিউর রিজন' (Critique of Pure Reason)
- আধুনিক দর্শনের অন্যতম কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ এই বইটিতে কান্ট মানুষের জ্ঞানতত্ত্ব বা আমরা কীভাবে কোনো কিছু জানি, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এটি অধিবিদ্যা (Metaphysics) ও যুক্তিশাস্ত্রের ভিতে পরিবর্তন এনে দিয়েছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং নীতিবিদ্যা এমএমএল।

১৬.
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এইচ জে লাস্কি (H.J.Laski) মতে স্বাধীনতা হচ্ছে-
  1. মুল্যবোধের ফল
  2. অধিকারের ফল
  3. কর্তব্যের ফল
  4. জবাবদিহিতার ফল
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা ও স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ: 
- রাষ্ট্রে একজন নাগরিকের অস্তিত্ব বিভিন্ন বিষয়ে প্রাপ্ত স্বাধীনতা থেকেই প্রকাশ পায়।
- স্বাধীনতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Liberty'।
- স্বাধীনতাকে শাব্দিক অর্থে বলা যায় নিজের ইচ্ছে মতো কাজ করা।
-  স্বাধীনতা মানে যৌক্তিক ও আইনসিদ্ধভাবে কোন কিছু করাকেই বুঝায়।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকগণ নানা ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে।
• রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এইচ জে লাস্কি (H.J.Laski) বলেছেন "স্বাধীনতা হল অধিকারের ফল"।
• রাষ্ট্রবিজ্ঞানী টি এইচ গ্রিন (T.H. Green) বলেন, "যা উপভোগ করার এবং সম্পন্ন করার যোগ্য তা উপভোগ ও সম্পাদন
করার ক্ষমতাকে স্বাধীনতা বলে"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন,এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
'নিজেকে জানো' এটি কার বিখ্যাত উক্তি?
  1.  এরিস্টটল
  2. ফ্রাঙ্কেল
  3. প্লেটো
  4. সক্রেটিস
ব্যাখ্যা

• গ্রিক দর্শন ও নীতিবিদ্যা:
- সক্রেটিসকে বলা হয় প্রাশ্চাত্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা।
- সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে- 'Know Thyself' এর অর্থ হচ্ছে- 'নিজেকে জানো'।
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও দর্শন জগতকে সমৃদ্ধিশালী করে।
- অদ্যাবধি জ্ঞানের জগতে যে সকল গ্রিক কবি দার্শনিক জ্ঞানের আলোক বর্তিকা বিতরণ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত শিক্ষাগুরু সক্রেটিস।
- এই উক্তিটি মানুষকে নিজের মধ্যে গভীরভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার এবং আত্ম-পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে সঠিকভাবে বুঝতে উৎসাহিত করে।
- এর মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে নিজের প্রকৃত স্বভাব, ইচ্ছা, দুর্বলতা ও শক্তিগুলি সম্পর্কে সচেতন করা এবং আত্ম-উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
“The Conquest of Happiness” গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. স্টুয়ার্ট মিল
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. এরিস্টটল
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

বার্ট্রান্ড রাসেল উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
-The Elements of Ethics,
- Political Ideals,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Power: A New Social Analysis,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.
- The Conquest of Happiness,
- The Principles of Mathematics,

অপরদিকে,
• ইমানুয়েল কান্ট গুরুত্বপূর্ণ কিছু বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

• স্টুয়ার্ট মিলের বিখ্যাত বই: 
- On Liberty
- Representative Government.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন এইচ এসসি প্রথম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

১৯.
Power: A New Social Analysis গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. অ্যাডাম স্মিথ
  3. কার্ল মার্কস
  4. জন লক
ব্যাখ্যা

• বার্ট্রান্ড রাসেল: 
- ১৯৫০ সালে সাহিত্য ক্ষেত্রে Nobel Prize লাভ করেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে প্যাসিফিজমের কারণে ক্যামব্রিজ থেকে পদত্যাগ;
- ১৯১৮ সালে কারাগারে লেখেন Introduction to Mathematical Philosophy.

• বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো-
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস: ব্রিটানিকা। 

২০.
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি কোন গ্রন্থে "অস্ত্রহীন নবী" (The Unarmed Prophet) সম্পর্কিত আলোচনা করেছেন?
  1. The Prince
  2. Discourses on Livy
  3. Florentine Histories
  4. The Art of War
ব্যাখ্যা
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:
- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ইতালির ফ্লোরেন্স নগরীতে ১৪৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মে জন্মগ্রহণ করেন নিকোলো।
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য নির্ণয় করেন।
- ১৫২৭ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে তিনি মারা যান।

→ নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি "অস্ত্রহীন নবী" (The Unarmed Prophet) সম্পর্কিত আলোচনা "The Prince" গ্রন্থে করেছেন।
- ম্যাকিয়াভেলি "The Prince" গ্রন্থে রাজনীতি, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং শাসকদের নৈতিকতা ও কৌশল সম্পর্কে বিশ্লেষণ করেছেন।
- "অস্ত্রহীন নবী" ধারণাটি তিনি এখানে একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যেখানে তিনি এমন এক নেতার কথা বলেছেন যিনি অস্ত্র বা বাহিনী ছাড়া ক্ষমতা অর্জন ও পরিচালনা করতে চেয়েছেন।
- ম্যাকিয়াভেলি এক্ষেত্রে গিরোলামো সাভনরোলা (Girolamo Savonarola), যিনি ফ্লোরেন্সে ধর্মীয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তার উদাহরণ দেন। সাভনরোলা তার আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় দর্শনের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন অর্জন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু অস্ত্র বা বাহিনী না থাকার কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন।

⇒ তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম:
- The Prince,
- Discourses on Livy,
- The Life of Castruccio Castracani of Lucca,
- Florentine Histories,
- Lettera to Francesco Vettori,
- The Portable Machiavelli,
- The Complete Art of War ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
২১.
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস- 
  1. ন্যায়বোধ
  2. প্রথা
  3. ধর্ম
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

আইন: 
- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। এগুলো হলো:
- প্রথা;
- ধর্ম;
- বিচার সংক্রান্ত রায়;
- বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা;
- ন্যায়বোধ এবং;
- আইনসভা।

অন্যদিকে,
- জন অস্টিনের মতে আইনের একমাত্র উৎস হলো সার্বভৌমের আদেশ
- ওপেনহেইম জনমতকেও আইনের উৎস বলে মনে করেছেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী: প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)

২২.
“A Manual of Ethics” গ্রন্থটির রচয়িতা কে?  
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. জে. এস. ম্যাকেঞ্জি
  3. হারবার্ট স্পেন্সার
  4. থমাস হবস
ব্যাখ্যা

- "A Manual of Ethics" গ্রন্থটি  দার্শনিক জন. এস. ম্যাকেঞ্জি রচিত গ্রন্থ। 

• এস. ম্যাকেঞ্জি / John Stuart Mackenzie:
- তিনি একজন স্কটিশ দার্শনিক, যিনি ভাববাদ বা আদর্শবাদী (Idealism) দর্শনের প্রভাবে ছিলেন এবং নৈতিকতা, রাজনৈতিক দর্শন ও শিক্ষা নিয়ে কাজ করেছেন।
- তার রচিত "A Manual of Ethics" প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৯৩ সালে।
- এটি নৈতিকতার মৌলিক নীতি, তত্ত্ব এবং এর প্রয়োগিক দিক নিয়ে আলোচনা করে। 

• তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ: 
- An Introduction to Social Philosophy: The Shaw Fellowship Lectures at Glasgow,
- Outlines of Metaphysics,
- Lectures on Humanism: With Special Reference to Its Bearings On Sociology,
- Elements of Constructive Philosophy, 

তথ্যসূত্র:
i) Amazon.
ii) Goodreads.

২৩.
নিচের কোনটি বার্ট্রান্ড রাসেলের রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. Power: A New Social Analysis
  2. The Elements of Ethics
  3. Principles of Social Reconstruction
  4. Perpetual Peace
ব্যাখ্যা

বার্ট্রান্ড রাসেল:
- বার্ট্রান্ড রাসেল (১৮ মে ১৮৭২-২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০) ব্রিটিশ দার্শনিক, প্রভূত গ্রন্থ ও প্রবন্ধের রচয়িতা, শান্তিবাদী ‘অ্যাকটিভিস্ট’, গণবক্তা, গণবুদ্ধিজীবী, শিক্ষক ও নোবেল পুরস্কারে ভূষিত সাহিত্যিক হিসেবে বিশ্ব পরিচিত। 
- তিনি ছিলেন বিশ্লেষণী দর্শনের একজন প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর দর্শন, গণিত, যুক্তি, সেট তত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞানতত্ত্ব ও অধিবিদ্যায় মৌলিক অবদান রেখেছে।
- তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। 
- তিনি যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ‘বিশ্ব সরকার’ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

⇒ বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো -
- The Elements of Ethics (1910),
- Roads to Freedom (1918),
- Human Society in Ethics and Politics,
- Mortal and others,
- Principles of Social Reconstruction (1916),
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- The Analysis of mind,
- The Prospects of Industrial Civilization (1923),
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

অন্যদিকে,
- Perpetual Peace ইমানুয়েল কান্ট রচিত।

উৎস: i) শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২৪.
'A System of Logic' গ্রন্থটি লিখেছেন -
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. জেরেমি বেন্থাম
  3. জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. হেগেল 
ব্যাখ্যা

জন স্টুয়ার্ট মিল:
- জন স্টুয়ার্ট মিল একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, রাজনীতিক। 
- তিনি দর্শন, জ্ঞানতত্ত্ব, অর্থনীতি, সমাজ ও রাজনীতি, নৈতিকতা, ধর্ম, নারী অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে লেখা লিখেছেন।

⇒ A System of Logic:
- A System of Logic গ্রন্থটি বিখ্যাত ইংরেজ দার্শনিক ও রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল-এর লেখা।
- এটি ১৮৪৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

• জে. এস. মিলের যুক্তিবিদ্যার ধারণা (J.S.Mill on Logic):
- দার্শনিক ও ইতিহাসবিদ জেমস মিল ও তাঁর স্ত্রী হ্যারিয়েট ব্যারোর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন উনিশ শতকের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্রিটিশ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, নৈতিক ও রাজনৈতিক তাত্ত্বিক জন স্টুয়ার্ট মিল (১৮০৬-১৮৭৩)।
- জে. এস. মিল যুক্তিবিদ্যা ও নীতিবিদ্যার ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রাখেন।
- তিনি মনে করেন যে, অবরোহ ও আরোহ যুক্তিবিদ্যার এ দুটি শাখার নিয়মই হলো সত্য ও জ্ঞান অনুসন্ধান করা।
- তাঁর মতে, অবরোহ যুক্তিবিদ্যা প্রতিষ্ঠিত সত্যের আলোকে আমাদের সত্য অনুসন্ধানকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে এবং বিজ্ঞানের যুক্তিবিদ্যা বা আরোহ যুক্তিবিদ্যা সত্য আবিষ্কারের জন্য আমাদেরকে প্রয়োজনীয় নিয়ম সরবরাহ করে।
- মিল তাঁর A System of Logic গ্রন্থে যুক্তিবিদ্যার সংজ্ঞায় বলেন, যুক্তিবিদ্যা হলো আমাদের জ্ঞানগত প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য এমন বিজ্ঞান যা বিচার বা প্রমাণের মাধমে জ্ঞাত সত্য থেকে অজ্ঞাত সত্যে উপণীত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বুদ্ধিগত কাজ ও চিন্তাগত ক্রিয়ার মানসিক প্রক্রিয়াসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করে।

উৎস: i) Britannica.
ii) যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫.
‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান’-উক্তিটি করেছেন -
  1. অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. অধ্যাপক ডাইসি
  3. অধ্যাপক আনেস্ট বার্কার
  4. অধ্যাপক ক্লাউস সোয়েব
ব্যাখ্যা
আইন:
- অর্থাৎ মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- রাষ্ট্র সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- ফলে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তি বিরাজ করে।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে। 

উল্লেখ্য,
- ‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান’-উক্তিটি করেছেন অধ্যাপক ডাইসি।
- আইনের শাসনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, আইনের শাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বটি হচ্ছে, ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে আইনের চোখে সবার সমতা।
- রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে লিখিত বিভিন্ন বিখ্যাত গ্রন্থও আইনের উৎস হিসেবে অধ্যাপক ডাইসির "Law of the Constitution" এর উল্লেখ করা যায়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
২৬.
বিখ্যাত পুস্তক 'A Treatise of Human Nature' এর লেখক কে?
  1. কার্ল মার্কস
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. ডেভিড হিউম
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
ডেভিড হিউম:
- তিনি জন্ম গ্রহন করেন  ১৭১১ সালে। 
- তিনি স্কটিশ দার্শনিক, ইতিহাসবিদ, অর্থনীতিবিদ ছিলেন।
- তিনি মানব প্রকৃতির প্রবর্তক ছিলেন।
- মৃত্যুবরন করেন ১৭৭৬ সালে।

ডেভিড হিউমের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:-
- A Treatise of Human Nature;
- An Enquiry Concerning Human Understanding;
- Human Understanding;
- Enquiry Concerning the Principles of Morals;
-  Moral and Political;
- History of England।

অন্যদিকে, 
বার্ট্রান্ড রাসেলের গ্রন্থ:-
- The Elements of Ethics,
- Political Ideals
- Human Society in Ethics and Politics

কার্ল মার্কসের গ্রন্থে:-
- The Communist Manifesto 
- Das Kapital
- The Poverty of Philosophy

ইমানুয়েল কান্টের গ্রন্থে:-
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- The Metaphysics of Morals

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় &  ব্রিটানিকা। লিঙ্ক
২৭.
কোনটি ইমানুয়েল কান্ট (Emanuel Kant) এর রচিত বই নয়?
  1. Critique of Pure Reason
  2. The Metaphysics of Morals
  3. Critique of Practical Reason
  4. Critique of Justice and Rights
ব্যাখ্যা
⇒ দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট (Emanuel Kant):
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি।
যথা:- সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

-'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
-ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- The Metaphysics of Morals ইত্যাদি।

- উল্লিখিত প্রশ্নের 'Critique of Justice and Rights' ইমানুয়েল কান্টের রচিত বই নয়। 
- তার রচিত বই হচ্ছে - 'Critique of Judgement'।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
২৮.
’গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ-১২
  2. অনুচ্ছেদ-১১
  3. অনুচ্ছেদ-১৩
  4. অনুচ্ছেদ-১৫
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি:
- গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে- অনুচ্ছেদ-১১।

- প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে।
- এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ-১২:  ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ-১৩: ১৩৷ মালিকানার নীতি।
- অনুচ্ছেদ-১৫: মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান। 

২৯.
'আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান'-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. অধ্যাপক ডাইসি
  2. অধ্যাপক স্পেন্সার
  3. আব্রাহাম লিংকন
  4. আর্থার কিং লুথার
ব্যাখ্যা

- 'আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান'-উক্তিটি করেছেন অধ্যাপক ডাইসি।
- আইনের শাসনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, আইনের শাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বটি হচ্ছে, ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে আইনের চোখে সবার সমতা।
- এই তত্বে বলা হয়েছে আইনের ওপরে কেউ নেই। রাষ্ট্রের প্রত্যেক ব্যক্তির গতিবিধি, পদমর্যাদা এবং সামাজিক প্রতিপত্তি, রাষ্ট্রের সাধারণ আইন ও সাধারণ আদালতের বিচারাধীন। প্রশাসনিক আধিকারিকরাও সাধারণ নাগরিকের মতই আইন মান্য করবে এবং আইন লঙ্ঘন করলে তাদেরও শাস্তি হবে। এইভাবেই জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে সাম্য ও স্বাধীনতার অধিকার।
- রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে লিখিত বিভিন্ন বিখ্যাত গ্রন্থও আইনের উৎস হিসেবে অধ্যাপক ডাইসির "Law of the Constitution" এর উল্লেখ করা যায়।

উল্লেখ্য,
• আইন:
- মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও Elective Commerce Honours, নেতাজী সুভাষ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০.
'The Principles of Morals and Legislation’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জন স্টুয়ার্ড মিল
  2. ম্যাকাইভার
  3. জেরেমি বেন্থাম
  4. ইমানুয়েল কান্ট 
ব্যাখ্যা

জেরেমি বেন্থাম:
- জেরেমি বেন্থাম একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, এবং তাত্ত্বিক আইনবিদ।
- তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্যের অধিবাসী।
- তিনি ছিলেন উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা।
- জেরেমি বেস্থাম যে সুখবাদ প্রচার করেন তা 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Utilitarianism) নামে পরিচিত।
- বেন্থাম মনস্তাত্ত্বিক সুখবাদ (Psychlogical Hedonism) ও আত্মসুখবাদ (Egoism) সমর্থন করেও ঐ প্রকার সুখবাদ থেকে পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ অনুমান করেন।
- বেন্থাম বলেন, 'Quantity of pleasures being equal, pushpin is as good as poetry' অর্থাৎ 'পরিমাণের তারতম্য না ঘটলে, খেলার সুখ (দৈহিক সুখ) ও কবিতা পাঠের সুখ (মানসিক সুখ) তুল্যমূল্য'।
- সুখের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য বেস্থাম সুখের সাতটি দিকের বা মানের উল্লেখ করেছেন। যথা: তীব্রতা, স্থায়িত্ব, নৈকট্য, নিশ্চয়তা, বিশুদ্ধি, উর্বরতা ও বিস্তৃতি।

⇒ তাঁর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Principles of Morals and Legislation.

উৎস: i) Britannica.
ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১.
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলির বিখ্যাত গ্রন্থ কোনটি?
  1. The Spirit of Laws
  2. Two Treatises of Government 
  3. Leviathan
  4. The Prince
ব্যাখ্যা

নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:
- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ইতালির ফ্লোরেন্স নগরীতে ১৪৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মে জন্মগ্রহণ করেন নিকোলো।
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য নির্ণয় করেন।
- ১৫২৭ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে তিনি মারা যান।

উল্লেখ্য,
- নিকোলো মেকিয়াভেলি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, উপদেষ্টা, নাট্যকার, কবি, দার্শনিক, ঐতিহাসিক, সামরিকবিদ ও আরও অনেক কিছু।
- তাকে আধুনিক রাজনীতি ও দর্শনের জনক বলা হয়ে থাকে।
- তিনি প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিজ্ঞানেরও প্রতিষ্ঠাতা।

⇒ তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম:
- The Prince,
- Discourses on Livy,
- The Life of Castruccio Castracani of Lucca,
- Florentine Histories,
- Lettera to Francesco Vettori,
- The Portable Machiavelli,
- The Complete Art of War ইত্যাদি।

১৫১৩ খ্রিষ্টাব্দে রচনা করেন তার বিশ্বখ্যাত 'The Prince'। দ্য প্রিন্স-এর মূল বিষয় হলো কীভাবে রাজনৈতিক শক্তি অর্জন, ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা যায় তার চিন্তাপূর্ণ বিশ্লেষণ। পুস্তকটি ছোট-বড় ২৬টি অধ্যায় নিয়ে রচিত। তা ছাড়া শুরুতে রয়েছে একটি উৎসর্গপত্র। ইতালির বিখ্যাত মেডিসি পরিবারের অন্যতম শাসক লরেঞ্জো ডে মেডিসির নামে গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে।

উৎস: i) Britannica.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩২.
”অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন"- উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক লাস্কি
  2. জি.ডি.এইচ. কোল
  3. জন অস্টিন
  4. ওপেনহাইম
ব্যাখ্যা

সাম্য: 
- জাতি ধর্ম বর্ণ, স্ত্রী পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে সমান প্রদানের ব্যবস্থাকে সাম্য বলে। 
- সাম্য: সুযোগ সুবিধার সমতা। 
- অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন" -উক্তিটি ব্রিটিশ সমাজতন্ত্রী চিন্তাবিদ এবং লেখক G.D.H. Cole (জি.ডি.এইচ. কোল)

এছাড়াও,
• অধ্যাপক লাস্কির মতে, সাম্যের ০৩ টি বিশেষ দিক রয়েছে।
১. বিশেষ সুযোগ সুবিধার অনুপস্থিতি
২. পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি
৩. বেচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়, সম্পদ ও দ্রব্যাদি জাতি, ধর্ম বর্ণ, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সমভাবে বন্টন।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩.
’The Elements of Ethics’ গ্রন্থটি কে লিখেছেন? 
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. টমাস হবস
ব্যাখ্যা

• বার্ট্রান্ড রাসেল উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
-The Elements of Ethics,
- Political Ideals,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Power: A New Social Analysis,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.
- The Conquest of Happiness,
- The Principles of Mathematics,

অপরদিকে,
• ইমানুয়েল কান্ট গুরুত্বপূর্ণ কিছু বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

• স্টুয়ার্ট মিলের বিখ্যাত বই: 
- On Liberty
- Representative Government.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন এইচ এসসি প্রথম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৩৪.
প্লেটোর সমগ্র দর্শন কোন তত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত?
  1. নৈতিকতা
  2. ন্যায়বিচার তত্ত্ব
  3. রাজনৈতিক ক্ষমতা
  4. শিক্ষাবাদ
ব্যাখ্যা

প্লেটোর ন্যায়বিচার তত্ত্ব:
- প্লেটোর সমগ্র দর্শন তাঁর ন্যায়বিচার তত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- ন্যায়বিচার তত্ত্ব তাঁর 'দি রিপাবলিক' পুস্তকের মূল আলোচ্য বিষয়। এমনকি 'দি রিপাবলিক' গ্রন্থের বিকল্প শিরোনাম হলো 'ন্যায়বিচার বিষয়ক গ্রন্থ' (Concerning Justice)।
- অধ্যাপক স্যাবাইন বলেন, “দি রিপাবলিকের ন্যায়বিচার তত্ত্বের মধ্য দিয়ে প্লেটোর রাষ্ট্রীয় মতবাদ চূড়ান্ত বা সর্বোচ্চ শিখরে দাঁড়িয়েছে।"

⇒ প্লেটোর কাছে ন্যায়বিচার এর সাধারণ অর্থের মত তথা 'ঔচিত্য' বা 'অন-ঔচিত্যবোধক' নয়, বরং তা যোগ্যতা ও শ্রমবিভক্তির ধারণার উপর সুপ্রতিষ্ঠিত।
- প্লেটোর সময় ক্রম:ক্ষয়িষ্ণু এথেন্সের নগররাষ্ট্রে যে সংকট দেখা দিয়েছিল, তিনি সে সংকটকে সাধারণভাবে 'ন্যায়ের সংকট' বলেই মনে করেছিলেন। ন্যায়ের সংকট বলতে তিনি বুঝাতে চেয়েছেন, 'যার যে যোগ্যতা আছে, সে সেখানে না থেকে অন্যত্র অবস্থান করছে। অর্থাৎ যারা শাসন করছেন তারা শাসক হওয়ার উপযুক্ত নন। শাসন একটি শিল্প ও গুণ। এই গুণ যাদের মধ্যে বিরাজমান কেবলমাত্র তারাই হবেন শাসক। তবেই রাষ্ট্রের কাজকর্ম সুষ্ঠু ও ঐক্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। মানুষের জীবনে আসবে স্থায়ী শান্তি।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২: রাষ্ট্রচিন্তা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫.
মানবাধিকার মানুষের কোন ধরনের অধিকার?
  1. আইনগত অধিকার
  2. নৈতিক অধিকার
  3. মৌলিক অধিকার
  4. জন্মগত অধিকার
ব্যাখ্যা

মানাবাধিকার: 
- মানবাধিকার হলো মানুষের জন্মগত অধিকার।
- অর্থাৎ মানবাধিকার বলতে সেসব অধিকারকে নির্দেশ করে যেসব অধিকার নিয়ে মানুষ জন্মায় এবং যেসব অধিকার অর্জিত হলে মানুষ পূর্ণভাবে বিকশিত হতে পারে।
- মানবাধিকারের ধারণা আন্তর্জাতিকাবে স্বীকৃত।
- অর্থাৎ স্থান বা আইনের পার্থক্যের কারণে মানবাধিকারের কোন তারতম্য হয় না।
- আধুনিক সময়ে মানবাধিকার আইনগত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হলেও এগুলোর অস্তিত্ব রাষ্ট্রব্যবস্থা উদ্ভবের আগে থেকেই ছিলো।

অন্যদিকে,
- মৌলিক অধিকার হলো মানুষের জীবনধারণের জন্যে অত্যাবশ্যকীয় ও অপরিহার্য অধিকারসমূহ।
- এসব অধিকার রাষ্ট্রের সংবিধানে নির্দেশিত থাকে।
- আইনগত অধিকার আইনের দ্বারা নির্ধারিত।
- নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক ও ন্যায়বোধ থেকে উৎসারিত।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬.
"The Subjection of Women" গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. জাঁ জ্যাক রুশো
  4. থমাস হবস
ব্যাখ্যা
• জন স্টুয়ার্ট মিল:
- The Subjection of Women গ্রন্থটি জন স্টুয়ার্ট মিল রচিত।
- তিনি ছিলেন ব্রিটিশ দার্শনিক। 

তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কিছু বই:
- On Liberty,
- Utilitarianism,
- A System of Logic,
- The Subjection of Women,

সূত্র: ব্রিটানিকা।
৩৭.
কার রচিত গ্রন্থে সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায়?
  1. প্লেটো
  2. এরিস্টটল
  3. মন্টেস্কু
  4. টমাস হবস
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় 'The Republic' গ্রন্থে।
- The Republic গ্রন্থটির লেখক প্লেটো।

অন্যদিকে -
- 'The Spirit of Laws'- গ্রন্থের রচয়িতা ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু। তিনি এই গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- টমাস হবসের গ্রন্থের নাম Leviathan.
- পিয়েরে ল্যান্ডেল মিলস্ এবং ইসমাইল সেরাজেলডিন তাদের লিখিত ‘Governance and the Eternal Factor' নামক প্রসিদ্ধ গ্রন্থে বলেছেন যে, 'গভর্ন্যান্স বলতে বোঝায় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার যা একটি রাষ্ট্রকে পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে জনগণের সুষ্ঠু চাহিদা ও তাদের বৈধ অধিকার উপভোগের বাধ্যবাধকতা'।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
         ii) Britannica.
৩৮.
জন স্টুয়ার্ট মিলের রচয়িত গ্রন্থ কোনটি? 
  1. Two Treatises of Government
  2. Utilitarianism
  3. An Essay Concerning Human Understanding.
  4. The Republic
ব্যাখ্যা

জন স্টুয়ার্ট মিল:
• তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- Considerations on Representative Government,
- Examination of Sir William Hamilton's Philosophy,
- On Liberty,
- Principles of Political Economy,
- The Subjection of Women,
- Utilitarianism.

• জন লক বিখ্যাত বই:
- An Essay Concerning Human Understanding.
- Two Treatises of Government.
- আধুনিক গনতন্ত্রের জনক জন লক।

অন্যদিকে,
- প্লেটোর বিখ্যাত বই: The Republic.

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩৯.
'সর্বাধিক মানুষের জন্য সর্বাধিক সুখ'—উক্তিটি কার?
  1. জেরেমি বেন্থাম
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. প্লেটো
  4. সক্রেটিস
ব্যাখ্যা

জেরেমি বেন্থামের উপযোগবাদ:
- জেরেমি বেন্থাম ছিলেন উপযোগবাদের বলিষ্ঠ উপস্থাপক, সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাকার।
- উনবিংশ শতকের গোড়ার দিকে যখন ব্যবসায়ী শ্রেণী শিল্পপতি শ্রেণীতে রূপান্তরিত হবার মধ্যে দিয়ে বাণিজ্য ও শিল্প-পুঁজিবাদের প্রসার ঘটছিল, সে সময় তিনি তার মতামত প্রদানে এগিয়ে আসেন।

• উপযোগিতার নীতি:
- জেরেমি বেন্থাম রাষ্ট্র, সরকার, নৈতিকতা, আইন প্রণয়ন প্রভৃতি ব্যাপারে বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে যে নীতিকে উপজীব্য করেছেন তা হ'ল উপযোগিতার নীতি (Principle of Utility)।
- এ নীতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বেনথাম নিজেই বলেন যে, উপযোগিতার নীতি হচ্ছে সেই নীতি যা' সংশ্লিষ্ট পক্ষের সুখ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুকূল বা প্রতিকূল প্রবণতার ভিত্তিতে যাবতীয় কাজের অনুমোদন দান করে।
- অন্যভাবে বললে, যে নীতি সুখ অন্বেষণকে ত্বরান্বিত বা ব্যাহত করে তাই উপযোগিতার নীতি।'
- রাষ্ট্রশাসন ও বিচার সম্পাদনে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বেনথাম এই নীতির প্রয়োজনীয়তার উপর অত্যন্ত জোর দেন।
- তাঁর মতে আইন প্রণয়নের মূল ভিত্তি হবে এর উপযোগিতা।
- এক্ষেত্রে দেখতে হবে যে, প্রণীতব্য আইন অধিকাংশ লোকের জন্য আনন্দদায়ক হবে কিনা।
- মুষ্টিমেয় লোকের স্বার্থে প্রণীত আইনকে এ পর্যায়ে তিনি অনুপযোগী বলে চিহ্নিত করেন।
- এ প্রসংগে তিনি বলেন, "It is the greatest happiness of the greatest number that is the measure ot right and wrong." অর্থাৎ "সত্য ও মিথ্যা পরিমাপের প্রধান সূত্রই হ'ল সর্বাধিক সংখ্যকের সর্বাধিক সুখ।"
 - তার এ তত্ত্ব বিশ্লেষণে যা বেরিয়ে আসে তা' হল 'সর্বাধিক সংখ্যক লোকের সর্বাধিক সুখ' (greatest happiness of the greatest number)।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০.
'শিক্ষা হল মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের বিকাশ'-উক্তিটি কোন দার্শনিক দিয়েছেন?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. প্লেটো
  3. এরিস্টটল
  4. সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
শিক্ষা সম্পর্কে বিভিন্ন শিক্ষাবিদের মতামত:
- শিক্ষা শব্দটি অত্যন্ত ব্যাপক ও জটিল।
- বিভিন্ন যুগে, বিভিন্ন দেশে শিক্ষাবিদ ও দার্শনিকরা আপন আপন দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী শিক্ষার ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

সক্রেটিসের মতে,
- "শিক্ষা হলো মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের আবিষ্কার।"

দার্শনিক প্লেটোর (Plato) মতে,
- শিক্ষা হচ্ছে সেই শক্তি, যার দ্বারা সঠিক সময়ে আনন্দ ও বেদনা অনুভূতিবোধ জন্মায়।
- এটি শিক্ষার্থীর দেহে-মনে সকল সুন্দর ও অন্তর্নিহিত শক্তিকে বিকশিত করে তোলে।

দার্শনিক এরিস্টটলের (Aristotle) মতে,
- সুস্থ দেহে সুস্থ মন তৈরি করাই হচ্ছে শিক্ষা।
- শিক্ষা দেহ-মনের সুষম এবং পরিপূর্ণ বিকাশের মাধ্যমে ব্যক্তির জীবনের প্রকৃত মাধুর্য ও পরম সত্য উপলব্ধিতে সহায়তা করে।

মহাত্মা গান্ধী বলেন,
- "শিক্ষা হলো শিশু ও মানুষের দেহ, মন ও আত্মার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ গুণগুলোর সুসামঞ্জস্যপূর্ণ বিকাশ।

রুশো মন্তব্য করেন,
- "আমরা অভাবের মধ্যে অসহায় অবস্থায় জন্মগ্রহণ করি।
- শিক্ষা দ্বারা আমাদের অভাব পূরণ হয়।
- প্রকৃতি, বস্তু ও মানুষের নিকট হতে আমরা শিক্ষা লাভ করি।"

উৎস: মাধ্যমিক শিক্ষা, ব্যাচেলর অব এডুকেশন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১.
নিচের কোনটি বস্তুগত সংস্কৃতি? 
  1. আইন
  2. জ্ঞান-বিজ্ঞান
  3. আদর্শ
  4. পোশাক
ব্যাখ্যা

বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে-
- ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোশাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম।

অবস্তুগত সংস্কৃতি:
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।- যেমন- চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
- মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২.
ইমানুয়েল কান্ট কোনটির জন্য সদিচ্ছার কথা বলেছেন?
  1. কর্তব্য
  2. ক্ষমতা
  3. নৈতিকতা
  4. সততা
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- Perpetual Peace.

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৪৩.
নীতিবিজ্ঞানী ইমানুয়েল কান্ট এর রচিত বই নয় কোনটি?
  1. Groundwork of the Metaphysics of Morals
  2. Existentialism Is a Humanism
  3. Critique of Pure Reason
  4. Critique of Judgment
ব্যাখ্যা

- ’Existentialism Is a Humanism’ নীতিবিজ্ঞানী ইমানুয়েল কান্টের রচিত বই নয়।
- বইটি ফরাসি দার্শনিক জাঁ-পল সার্ত্রের (Jean-Paul Sartre).

• ইমানুয়েল কান্ট:

- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।

• ইমানুয়েল কান্ট গুরুত্বপূর্ণ কিছু বই: 
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.


উৎস: ¡) পৌরনীতি ও সুশাসন এইচ এসসি প্রথম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ¡¡) ব্রিটানিকা। 

৪৪.
"শিক্ষা হলো মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের আবিষ্কার"—উক্তিটি কার?
  1. প্লেটো
  2. এরিস্টটল
  3. সক্রেটিস
  4. রুশো
ব্যাখ্যা

শিক্ষা সম্পর্কে বিভিন্ন শিক্ষাবিদের মতামত:
- শিক্ষা শব্দটি অত্যন্ত ব্যাপক ও জটিল।
- বিভিন্ন যুগে, বিভিন্ন দেশে শিক্ষাবিদ ও দার্শনিকরা আপন আপন দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী শিক্ষার ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

• সক্রেটিসের মতে, "শিক্ষা হলো মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের আবিষ্কার।"

অন্যদিকে,
• দার্শনিক প্লেটোর (Plato) মতে, শিক্ষা হচ্ছে সেই শক্তি, যার দ্বারা সঠিক সময়ে আনন্দ ও বেদনা অনুভূতিবোধ জন্মায়। এটি শিক্ষার্থীর দেহে-মনে সকল সুন্দর ও অন্তর্নিহিত শক্তিকে বিকশিত করে তোলে।
• দার্শনিক এরিস্টটলের (Aristotle) মতে, সুস্থ দেহে সুস্থ মন তৈরি করাই হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষা দেহ-মনের সুষম এবং পরিপূর্ণ বিকাশের মাধ্যমে ব্যক্তির জীবনের প্রকৃত মাধুর্য ও পরম সত্য উপলব্ধিতে সহায়তা করে।
• রুশো মন্তব্য করেন, "আমরা অভাবের মধ্যে অসহায় অবস্থায় জন্মগ্রহণ করি। শিক্ষা দ্বারা আমাদের অভাব পূরণ হয়। প্রকৃতি, বস্তু ও মানুষের নিকট হতে আমরা শিক্ষা লাভ করি।"

উৎস: মাধ্যমিক শিক্ষা, ব্যাচেলর অব এডুকেশন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫.
’Human Society in Ethics and Politics’ বিখ্যাত গ্রন্থটি লিখেছেন- 
  1. এরিস্টটল
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. টমাস হবস
ব্যাখ্যা

• বার্ট্রান্ড রাসেল: 
- ১৯৫০ সালে সাহিত্য ক্ষেত্রে Nobel Prize লাভ করেন।
- ১৯১৮ সালে কারাগারে লেখেন Introduction to Mathematical Philosophy.

• বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো-
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস: ব্রিটানিকা। 

৪৬.
উপযোগবাদ (Utilitarianism) তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা ছিলেন-
  1. অগাস্ট কোৎ
  2. জেরেমি বেন্থাম
  3. এমিল ডুর্খেইম
  4. মিশেল ফোকো
ব্যাখ্যা

জেরেমি বেন্থাম:
- জেরেমি বেন্থাম যুক্তরাজ্যের অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি উপযোগবাদ (Utilitarianism) তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন।
- বেন্থাম তার বিখ্যাত বই "An Introduction to the Principles of Morals and Legislation" (১৭৮৯)-এ
ইউটিলিটির ধারণা তুলে ধরেন।
- ইউটিলিটির নীতি: যে কাজ আনন্দ ও সুখ বৃদ্ধি করে এবং দুঃখ ও ক্ষতি হ্রাস করে, সেটি সঠিক।
- মানুষের দুটি প্রধান চালিকা শক্তি:সুখ ও দুঃখ।
- আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য: "সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের সর্বোচ্চ সুখ" নিশ্চিত করা।
- শাস্তি শুধুমাত্র তখনই ব্যবহারযোগ্য, যখন তা আরও বড় ক্ষতি প্রতিরোধ করতে পারে।


উল্লেখ্য,
- ১৭৯২ সালে বেন্থামকে ফরাসি নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন ফরাসি দার্শনিক, নীতিশাস্ত্রবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী। 
- এমিল ডুরখেইম, ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী যিনি সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্বের সাথে অভিজ্ঞতামূলক গবেষণার সমন্বয়ে একটি জোরালো পদ্ধতি তৈরি করেছিলেন।
- পল-মিশেল ফুকো ছিলেন একজন ফরাসি ইতিহাসবিদ এবং দার্শনিক-যিনি একজন লেখক, সাহিত্য সমালোচক ও রাজনৈতিক কর্মীও ছিলেন

উৎস: Britannica.

৪৭.
'Greatest Happiness Principle’-এই নীতির প্রবক্তা কে?
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. রুশোঁ
  3. সক্রেটিস
  4. জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা

• Greatest Happiness Principle:
- জেরেমি বেন্থাম Greatest Happiness Principle নীতির প্রবক্তা।
- পরবর্তীতে John Stuart Mill এই ধারণাকে বিকশিত করেন।
- মূল কথা: মানুষের নৈতিকতা ও আইন এমনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সর্বাধিক সুখ (Happiness) নিশ্চিত হয়।
- এই নীতিকে Utilitarianism (উপযোগবাদ) নামেও পরিচিত

- জন স্টুয়ার্ট মিল তার পিতা জেমস মিল ও জেরেমি বেন্থামের "greatest-happiness principle" বা পরম সুখবোধের নীতি সংক্রান্ত ধারণাকে তিনি নিজের মতো বর্ণনা করেন। জেরেমি বেন্থামরা সুখ বা আনন্দকে পরিমাপ করার প্রচেষ্টা করতেন। কিন্তুু তিনি এর বিপরীতে বলেন, মুর্খের সুখবোধের চেয়ে তিনি বরং সক্রেটিসের মতো জ্ঞানীর সুখবোধ অপ্রাপ্তির আকাঙ্খা করেন। অর্থাৎ তিনি বৌদ্ধিকতা বা জ্ঞানার্জন ও নৈতিকতাবোধ বা মরালিটির উপর এবং তার মাধ্যমে সমাজের মঙ্গলের সাধনকে গুরুত্ব প্রদান করেছেন। 

• জেরেমি বেন্থাম:
- জেরেমি বেন্থাম ছিলেন একজন দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, আইনবিদ, এবং আইন সংস্কারক এবং আধুনিক উপযোগিতাবাদের প্রতিষ্ঠাতা। 
- তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্যের অধিবাসী।
- জেরেমি বেস্থাম যে সুখবাদ প্রচার করেন তা 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Utilitarianism) নামে পরিচিত।
- বেন্থাম মনস্তাত্ত্বিক সুখবাদ (Psychlogical Hedonism) ও আত্মসুখবাদ (Egoism) সমর্থন করেও ঐ প্রকার সুখবাদ থেকে পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ অনুমান করেন। বিভিন্ন সুখের মধ্যে গুণগত পার্থক্য স্বীকার না করার জন্যই বেস্থামের সুখবাদকে 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Altruism or Ulititarianism) বলা হয়। বেন্থাম বলেন, 'Quantity of pleasures being equal, pushpin is as good as poetry' অর্থাৎ 'পরিমাণের তারতম্য না ঘটলে, খেলার সুখ (দৈহিক সুখ) ও কবিতা পাঠের সুখ (মানসিক সুখ) তুল্যমূল্য'।
- সুখের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য বেস্থাম সুখের সাতটি দিকের বা মানের উল্লেখ করেছেন। যথা: তীব্রতা, স্থায়িত্ব, নৈকট্য, নিশ্চয়তা, বিশুদ্ধি, উর্বরতা ও বিস্তৃতি।

উৎস: Britannica ও নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮.
'Principia Ethica' গ্রন্থটির রচিয়তা কে?
  1. জি. ই. ম্যুর
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. উইলিয়াম লিলি
  4. জন লক
ব্যাখ্যা
- Principia Ethica গ্রন্থটি রচনা করেন ব্রিটিশ অ্যানালিটিক্যাল ফিলোসফার জর্জ এডওয়ার্ড ম্যুর (George Edward Moore)
- এটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই বইয়ে নীতিবিদ্যা'র বিভিন্ন জটিলতা সম্পর্কে জি.ই. মুর এর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। এ গ্রন্থেই জি ই মুর প্রথম পরানীতিবিদ্যা বা Metaethics এর সূত্রপাত
করেন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৪৯.
"আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি”- উক্তিটি কার?
  1. জন অস্টিন
  2. এরিস্টটল
  3. স্যার হেনরি মেইন
  4. অধ্যাপক হল্যান্ড
ব্যাখ্যা

আইন: 
- আইন ফার্সি শব্দ। ফার্সি ভাষায় আইন শব্দের অর্থ সুনির্দিষ্ট নীতি বা নিয়ম।
- সমাজ জীবনে প্রচলিত বিধি-বিধানের নামই আইন।

• আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা
- গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল মতে, "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"
- আইনবিদ জন অস্টিনের মতে, "সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
- স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"

উল্লেখ্য,
- আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন।
- তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৫০.
'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা'-জন স্টুয়ার্ট মিল তাঁর কোন গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেন?
  1. On Liberty
  2. Political Ideals
  3. Principles of Political Economy
  4. Moral and others
ব্যাখ্যা
জন স্টুয়ার্ট মিল:
- জন স্টুয়ার্ট মিল একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং উপযোগবাদের প্রবক্তা।

⇒ তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- A System of Logic,
- Autobiography,
- Considerations on Representative Government,
- Essays on Some Unsettled Questions of Political Economy,
- Examination of Sir William Hamilton’s Philosophy,
- On Liberty,
- Principles of Political Economy,
- The Subjection of Women,
- Utilitarianism.

উল্লেখ্য,
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'Eassay on Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'

উৎস: Britannica.
৫১.
‘শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়ােজন, আর শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন না হয় তাহলে আইন অকার্যকর’-এটি কে বলেছেন?
  1. সক্রেটিস
  2. প্লেটো
  3. অ্যারিস্টটল
  4. বেনথাম
ব্যাখ্যা
আইন ও নীতিশাস্ত্র:
- মানুষের আচার-আচরণের, ভাল-মন্দের আলোচনাই হল নীতিশাস্ত্র।
- সর্বজন স্বীকৃত নৈতিক আদর্শই রাষ্ট্রীয় সংগঠনের আইনে পরিণত হয়।
- দেশের প্রচলিত আইন নৈতিকতা বিরোধী হলে তা অকেজো হয়ে যায়।
- কেননা কোনো রাষ্ট্রীয় আইন জনগণের নৈতিক মানদণ্ডের বিরোধী হলে তার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের আশঙ্কা থাকে।

⇒ প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২.
”Critique of Judgement” বিখ্যাত গ্রন্থটি কার?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. এরিস্টটল
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. রবার্ট ব্রাউন
ব্যাখ্যা

ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
-'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

অন্যদিকে, 
- বার্ট্রান্ড রাসেল (Bertrand Russell) বিখ্যাত বই: 'আ হিস্ট্রি অব ওয়েস্টার্ন ফিলোসফি' (A History of Western Philosophy).
- অ্যারিস্টটল (Aristotle) বিখ্যাত বই: 'পলিটিক্স' (Politics)
- রবার্ট ব্রাউনিং (Robert Browning) বিখ্যাত বই: 'দ্য রিং অ্যান্ড দ্য বুক' (The Ring and the Book).

উৎস:- পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

৫৩.
”সৃষ্টিরহস্য” গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ড. নজরুল ইসলাম
  2. আরজ আলী মাতুববর
  3. ড. আনিসুজ্জামান
  4. আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
আরজ আলী মাতুববর:
- মাতুববর, আরজ আলী (১৯০০-১৯৮৫)  বিশিষ্ট চিন্তাবিদ।
- ১৩০৭ বঙ্গাব্দের ৩ পৌষ  বরিশাল জেলার লামচরি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- গ্রামের মক্তবে মাত্র কয়েক মাস লেখাপড়া করার পর তিনি নিজের চেষ্টায় নানা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। 

- আরজ আলী মূলত বস্ত্তবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন।
- মানবজীবন, প্রকৃতি-পরিবেশ, জড়জগৎ ও বিশ্ব-সংসার থেকে পাঠ নিয়ে তিনি নিজস্ব মতবাদ গড়ে তোলেন।
- তিনি দৃঢ় মনোবল ও বিশ্বাস নিয়ে সকল অন্ধতা, অজ্ঞানতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
- তাঁর বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি একাধিক গ্রন্থে প্রকাশ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সত্যের সন্ধান ,
- সৃষ্টিরহস্য ,
- অনুমান ,
- মুক্তমন ,ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৪.
'Political Ideals' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. প্লেটো 
  2. এরিস্টটল
  3. মেকিয়াভেলি
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
- ১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন, যা ছিল তার 'মানবতার আদর্শ ও চিন্তার মুক্তি'কে ওপরে তুলে ধরা তার বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ।

• বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো -
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস: শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫.
Red Tapism বা 'লাল ফিতার দৌরাত্ম্য এর সাথে সম্পর্কিত কোনটি?
  1. স্থানীয় প্রশাসন
  2. আমলাতন্ত্র
  3. বিচার ব্যবস্থা
  4. কেন্দ্রীয় প্রশাসন
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- Red Tapism বা 'লাল ফিতার দৌরাত্ম্য আমলাতন্ত্র এর সাথে সম্পর্কিত
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy.
- আমলাতন্ত্র হল একটি সংস্থা, যা সরকারী বা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, বিভিন্ন নীতিনির্ধারক বিভাগ বা ইউনিট নিয়ে গঠিত।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে আমলাতন্ত্র অধ্যয়ন করেন।
- তাই ম্যাক্স ওয়েবারকে আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক বলা হয়।

আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য:
- টাস্ক স্পেশালাইজেশন,
- নিয়ম এবং প্রয়োজনীয়তা,
- অনুক্রমিক কর্তৃপক্ষ,
- কর্মজীবন অভিযোজন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬.
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি রচিত সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ কোনটি?
  1. দ্য প্রিন্স
  2. রিপাবলিক
  3. লেভিয়াথান
  4. দাস ক্যাপিটাল
ব্যাখ্যা

নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:
- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ইতালির ফ্লোরেন্স নগরীতে ১৪৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মে জন্মগ্রহণ করেন নিকোলো।
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য নির্ণয় করেন।
- ১৫২৭ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে তিনি মারা যান।

উল্লেখ্য,
- নিকোলো মেকিয়াভেলি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, উপদেষ্টা, নাট্যকার, কবি, দার্শনিক, ঐতিহাসিক, সামরিকবিদ ও আরও অনেক কিছু।
- তাকে আধুনিক রাজনীতি ও দর্শনের জনক বলা হয়ে থাকে।
- তিনি প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিজ্ঞানেরও প্রতিষ্ঠাতা।

⇒ তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম:
- The Prince,
- Discourses on Livy,
- The Life of Castruccio Castracani of Lucca,
- Florentine Histories,
- Lettera to Francesco Vettori,
- The Portable Machiavelli,
- The Complete Art of War ইত্যাদি।

⇒ ১৫১৩ খ্রিষ্টাব্দে রচনা করেন তার বিশ্বখ্যাত 'The Prince'। দ্য প্রিন্স-এর মূল বিষয় হলো কীভাবে রাজনৈতিক শক্তি অর্জন, ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা যায় তার চিন্তাপূর্ণ বিশ্লেষণ। পুস্তকটি ছোট-বড় ২৬টি অধ্যায় নিয়ে রচিত। তা ছাড়া শুরুতে রয়েছে একটি উৎসর্গপত্র। ইতালির বিখ্যাত মেডিসি পরিবারের অন্যতম শাসক লরেঞ্জো ডে মেডিসির নামে গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে।

উৎস: i) Britannica.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৭.
প্লেটোর মতে, শাসক ন্যায়বান হলে কোনটি নিস্প্রয়োজন?
  1. আইন
  2. শাসন
  3. দণ্ড
  4. বিচার
ব্যাখ্যা

প্লেটোর মতে, শাসক ন্যায়বান হলে আইন নিস্প্রয়োজন।

প্লেটো:

- প্লেটো তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ The Republic-এ আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণা উপস্থাপন করেছেন।
- তাঁর মতে, যদি শাসক (দার্শনিক রাজা বা Philosopher-King) সত্যিকারের ন্যায়বান, জ্ঞানী এবং নৈতিকভাবে উন্নত হন তাহলে আইনের কোনো প্রয়োজন পড়ে না কারণ এমন শাসক নিজেই ন্যায়ের প্রতীক এবং স্বাভাবিকভাবে ন্যায়সঙ্গত শাসন করবেন, কোনো বাহ্যিক আইনের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই।

• প্লেটোর একটি বিখ্যাত উক্তি হলো: "শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।"

⇒ তার লেখা অন্যান্য বইসমূহ:
- Symposium,
- Apologia Socrates,
- Allegory of the Cave,
- The Laws (348 BCE),
- Plato: Complete Works ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- প্লেটোর মতে সদগুণ বা মৌলিক সততা হলো চারটি। এগুলো হলো: জ্ঞান, সাহসিকতা, আত্মসংযম ও ন্যায়পরায়ণতা।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.
iii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮.
'নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত'-উক্তিটি কার?
  1. ম্যাককরনী
  2. লর্ড ব্রাইস
  3. লর্ড অ্যাক্টন
  4. মেকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা
নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত:
- দেশে দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসকগোষ্ঠীর শ্রেণি-চরিত্র সবসময় প্রায় একই রকমের হয়ে থাকে।
- সেটা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা হোক কিংবা অগণতান্ত্রিক সরকার হোক, তাতে শ্রেণিচরিত্রের খুব একটা পার্থক্য থাকে না।
- এর প্রধান কারণ জনগণের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা।

⇒ অনেক সময় নিরঙ্কুশ ক্ষমতা শাসকশ্রেণিকে নিরঙ্কুশভাবে স্বৈরাচারী করে তোলে।
- একইভাবে তারা নিরঙ্কুশ ক্ষমতার বলয়ে থেকে নিরঙ্কুশ দুর্নীতিগ্রস্তও হয়ে ওঠে।

⇒ 'নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত'-উক্তিটি করেন লর্ড অ্যাক্টন।
- নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ও নিরঙ্কুশ দুর্নীতির পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতিক লর্ড অ্যাকটনের (১৮৮৭) এই উক্তি খুবই প্রাসঙ্গিক।
- তার মতে, ‘পাওয়ার টেন্ড্স টু করাপ্ট, অ্যান্ড অ্যাবসলিউট পাওয়ার করাপ্ট্স অ্যাবসলিউটলি।’
- বর্তমানকালে বিভিন্ন দেশে দুর্নীতিগ্রস্ত শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক চরিত্রের সঙ্গে এ উক্তির যথেষ্ট মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

উৎস: i) Britannica.
ii) যুগান্তর।
৫৯.
Political Ideals বইটি কে লিখেছেন?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. নিকোলো মেকিয়াভেলি
  3. জেরেমি বেন্থাম
  4. অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা
বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
- ১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।
- তিনি Political Ideals গ্রন্থটি লিখেছেন।
- Political Ideals গ্রন্থে তিনি বলেছেন: রাজনৈতিক আদর্শ ব্যক্তিজীবনের আদর্শের উপর ভিত্তি করে হতে হবে।

উৎস: i) শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৬০.
দার্শনিক প্রবন্ধ "সৃষ্টি রহস্য" গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. গোবিন্দ চন্দ্র দেব
  2. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. আরজ আলী মাতুববর
  4. সর্দার ফজলুল করিম
ব্যাখ্যা
→ "সৃষ্টি রহস্য" - আরজ আলী মাতুব্বর এর লেখা একটি জনপ্রিয় দার্শনিক প্রবন্ধ।

আরজ আলী মাতুববর:

- আরজ আলী মাতুববর বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ। 
- আরজ আলী মূলত বস্ত্তবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। 
- মানবজীবন, প্রকৃতি-পরিবেশ, জড়জগৎ ও বিশ্ব-সংসার থেকে পাঠ নিয়ে তিনি নিজস্ব মতবাদ গড়ে তোলেন। 
- তিনি দৃঢ় মনোবল ও বিশ্বাস নিয়ে সকল অন্ধতা, অজ্ঞানতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। 
- তাঁর বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি একাধিক গ্রন্থে প্রকাশ করেন। 
 
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- সত্যের সন্ধান (১৯৭৩), 
- সৃষ্টি রহস্য (১৯৭৭), 
- অনুমান (১৯৮৩), 
- মুক্তমন (১৯৮৮) ইত্যাদি। 
 
তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
৬১.
‘Comparative Politics and Government’ নামক গ্রন্থের লেখক কে?
  1. আর্নেস্ট বার্কার 
  2. অ্যালান বল
  3. হ্যারল্ড লাসওয়েল
  4. ম্যাকাইভার
ব্যাখ্যা
• অ্যালান বল:
→ রাজনৈতিক পদ্ধতির ঐক্যবদ্ধকরণ ও সংরক্ষণ রাজনৈতিক দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
→ অধ্যাপক অ্যালান বল (Alan Ball) তাঁর Comparative Politics and Government নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেন, “One of the most important functions of political parties is that of uniting, simplifying and stabilising the political process” 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২.
দার্শনিক প্লেটো রচিত বিখ্যাত পুস্তকের নাম -
  1. দি প্রিন্স
  2. দি গড ফাদার
  3. দি রিপাবলিক
  4. দি পলিটিক্স
ব্যাখ্যা
প্লেটো:
- প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো।

⇒ দার্শনিক প্লেটো রচিত বিখ্যাত বই - Republic যা Plato’s Republic ।
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
- প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”

⇒ তার লেখা অন্যান্য বইসমূহ:
- Symposium,
- Apologia Socrates,
- Allegory of the Cave,
- The Laws (348 BCE),
- Plato: Complete Works ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- এরিস্টটলকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। 'দি পলিটিক্স' গ্রন্থে তাঁর রাষ্ট্রচিন্তার মূল বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে।
- ১৫১৩ খ্রিষ্টাব্দে নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি রচনা করেন তার বিশ্বখ্যাত 'The Prince'। দ্য প্রিন্স-এর মূল বিষয় হলো কীভাবে রাজনৈতিক শক্তি অর্জন, ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা যায় তার চিন্তাপূর্ণ বিশ্লেষণ। পুস্তকটি ছোট-বড় ২৬টি অধ্যায় নিয়ে রচিত।

উৎস: i) উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.
৬৩.
'শর্তহীন আদেশ' ধারণাটির প্রবর্তক কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. হার্বার্ট স্পেন্সার
  4. ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

'শর্তহীন আদেশ' ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।

​ইমানুয়েল কান্ট:

- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- Perpetual Peace.

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৬৪.
'Animal Liberation' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. জর্জ অরওয়েল
  2. পিটার সিঙ্গার
  3. জেরেমি বেন্থাম
  4. জ্যাঁ-জ্যাক রুশো
ব্যাখ্যা
- 'Animal Liberation' গ্রন্থটি রচনা করেন পিটার সিঙ্গার।

পিটার সিঙ্গার:
- Peter Singer অস্ট্রেলিয়ান নৈতিক ও পলিটিক্যাল দার্শনিক।
- আধুনিক Animal Rights আন্দোলনের প্রবর্তক।
- পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার বৈশিষ্ট্য হলো তথ্যগত উপাদানের ব্যবহার।

তাঁর লেখা কয়েকটি বই:
- The Life You Can Save,
- Animal Liberation,
- Ethics in the Real World, 
- The Most Good You Can Do.

সূত্র: ব্রিটানিকা ও পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা গ্রন্থের পর্যালোচনা, আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া।
৬৫.
কে বলেছেন, "মানুষ স্বভাবতই সামাজিক ও রাজনৈতিক জীব। যে সমাজে বাস করে না, সে হয় পশু না হয় দেবতা”?
  1. এরিস্টটল
  2. ম্যাকাইভার
  3. প্লেটো
  4. জিসবার্গ
ব্যাখ্যা
- সমাজ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Society'।
- শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ 'Socious' থেকে যার অর্থ-সহযোগিতা বা পারস্পরিক বন্ধুত্ব।
- গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটল বলেছেন, "মানুষ স্বভাবতই সামাজিক ও রাজনৈতিক জীব। যে সমাজে বাস করে না, সে হয় পশু না হয় দেবতা।”
- সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার বলেন, 'সমাজ মানুষের বহুবিধ সামাজিক সম্পর্কের এক সামগ্রিক পদ্ধতি'।
- সমাজবিজ্ঞানী জিসবার্গ বলেন, "সমাজ হল সামাজিক সম্পর্কের সেই জাল, যা দ্বারা প্রত্যেক মানুষ তাদের সঙ্গীদের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তাই বলা যায়, সমাজের সাথে মানুষের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য।”

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬৬.
‘আইনের অনুশাসন’ কথাটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
  1. অধ্যাপক ডাইসি
  2. অধ্যাপক গার্নার
  3. অধ্যাপক লাস্কি
  4. অধ্যাপক গেটেল
ব্যাখ্যা
‘আইনের অনুশাসন’ কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন অধ্যাপক ডাইসি।

আইনের অনুশাসন (Rule of Law):

- আধুনিক যুগের লক্ষ্য হল একটি রাষ্ট্রের অন্তর্গত সকল নাগরিকের ওপর একই ভাবে আইন প্রয়োগ করা।
- অধ্যাপক ডাইসির মতে- "আইনের চোখে সকল নাগরিকই সমান।"
- আইনের অনুশাসন বলতে মধ্যযুগীয় ধারণায় বলা হয়- "আইনের ক্ষমতা সর্বোচ্চ।"
- এর দ্বারা সরকার, আইন প্রণেতা ও সাধারণ নাগরিক সকলেই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- অধ্যাপক ডাইসি (A. V. Dicey) ছিলেন আইনের অনুশাসনের অন্যতম প্রবক্তা।
- অধ্যাপক ডাইসি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত তাঁর সাংবিধানিক আইনের ভূমিকা (An Introduction to the Law of the Constitution) শীর্ষক গ্রন্থে বলেছেন আইনের অনুশাসন তিনটি নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত ।

⇒ আইনের অনুশাসন বিষয়ে ডাইসির তত্ত্ব:
১। বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারের বিলুপ্তি:
- এতে সরকার ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের বিশেষ অধিকারের ক্ষমতা লোপ করে প্রতিটি মানুষের ন্যায় বিচার পাবার কথা বলা হয়েছে। এই অনুশাসন অনুসারে যতক্ষণ পর্যন্ত কোন ব্যক্তি আইনের চোখে দোষী প্রমাণিত না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে কোনো শাস্তি দেওয়া যাবে না। আইনের অনুশাসনের অর্থ হল আইন দ্বারা সমানভাবে সংরক্ষিত হওয়া।
২। আইনের চোখে সকলের সমান অধিকারের তত্ত্ব:
- এই তত্বে বলা হয়েছে আইনের ওপরে কেউ নেই। রাষ্ট্রের প্রত্যেক ব্যক্তির গতিবিধি, পদমর্যাদা এবং সামাজিক প্রতিপত্তি, রাষ্ট্রের সাধারণ আইন ও সাধারণ আদালতের বিচারাধীন। প্রশাসনিক আধিকারিকরাও সাধারণ নাগরিকের মতই আইন মান্য করবে এবং আইন লঙ্ঘন করলে তাদেরও শাস্তি হবে। এইভাবেই জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে সাম্য ও স্বাধীনতার অধিকার।
৩। কোন দেশের সংবিধান মূলত তার নিজস্ব আইনি কার্যাবলী নির্ধারণ করে:
- কোন দেশের সংবিধান বিদেশি কোন আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। জনসাধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং কর্তব্য নির্ণয় করাই হল সংবিধানের মূল উদ্দেশ্য এবং তা করা হয়ে থাকে দেশের প্রচলিত আইন ও বিচারালয়ের পরিকাঠামোর মধ্যে থেকেই। সংবিধান সম্বন্ধে মানুষের ধারণা মূলত আইনের অনুশাসন সম্বন্ধে জ্ঞান থেকেই উপলব্ধি হয়। গ্রীক দার্শনিক অ্যরিস্টটলের মতে শাসন ও শাসিত সকলেরই সমভাবে আইনের অধীন হওয়া কাম্য-সেটাই আদর্শ আইনের শাসন।

উৎস: Elective Commerce Honours, নেতাজী সুভাষ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭.
কোন গ্রন্থে এরিস্টটলের রাষ্ট্রচিন্তার মূল বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে?
  1. রিপাবলিক
  2. দি প্রিন্স
  3. দি পলিটিক্স
  4. নিকোম্যাসিয়ান নীতিশাস্ত্র
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রবিজ্ঞান:
- রাষ্ট্রের কার্যক্রম, রাষ্ট্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং সমস্যা সমাধানের জন্য রাষ্ট্রীয় সংগঠনের সুসংবদ্ধ অধ্যয়নকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান সরকারের মূলনীতি ও রাষ্ট্রের মূলভিত্তি নিয়ে আলোচনা করে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্টীয় সংগঠন, শাসনব্যবস্থা, রাষ্ট্রের উদ্ভব ও বিকাশ, আন্ত:রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে।
- প্লেটোর ন্যায় এরিস্টটল নীতিশাস্ত্র ও রাষ্ট্রনীতির মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন।
- এরিস্টটল বিশ্বাস করতেন, একমাত্র রাষ্ট্রের মাধ্যমেই মানুষ সর্বোৎকৃষ্ট নৈতিক জীবন যাপন করতে সক্ষম।

উল্লেখ্য -
- এরিস্টটলকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- 'দি পলিটিক্স' গ্রন্থে তাঁর রাষ্ট্রচিন্তার মূল বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮.
'আমরা যা তা হলো সংস্কৃতি এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো সভ্যতা'- উক্তিটি কার?
  1. জেরি
  2. বটোমোর
  3. স্কট
  4. ম্যাকাইভার
ব্যাখ্যা
সভ্যতা (Civilization):
- সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।

• ম্যাকাইভার এবং পেজের মতে 'আমরা যা তা হলো সংস্কৃতি এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো সভ্যতা'
• স্কটের মতে 'সভ্যতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।'
• বটোমোরের মতে 'সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্বয়'।
• জেরি এবং জেরি বলেন, “সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির উন্নত ধরন যেমন- কেন্দ্রীয় সরকার, শিল্পকলা ও শিক্ষণের উন্নয়ন, নীতি-নৈতিকতার সমন্বিত রূপ যা নগরের সাথে সম্পর্কিত এবং বৃহত্তর সমাজ যার মধ্যে নির্দিষ্ট।”

⇒ সব মিলিয়ে বলা যায়, সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।
- সভ্যতা প্রযুক্তিবিদ্যা, বস্তুগত সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সমষ্টিকে বোঝায়।
- সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির অধিকতর অগ্রসর ও জটিল বিষয় যা বিভিন্ন সমাজে প্রবাহিত হয়।
- অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।
- সমাজের বিশ্লেষণ করেই সভ্যতার সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯.
'গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকগণ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ' - উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক ডাইসি
  2. অধ্যাপক গার্নার
  3. এরিস্টটল
  4. মিলার
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা:
- গনতন্ত্রের ইংরেজী প্রতি শব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগন এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা।
- শব্দগত অর্থে গণতন্ত্রের অর্থহচ্ছে জনগনের শাসন ক্ষমতা।

⇒ আব্রাহাম লিঙ্কনের মতে, "গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য, জনগণে দ্বারা পরিচালিত,জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা।"
- অধ্যাপক ডাইসি বলেন, "গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকগণ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ।"
- গ্রীক ঐতিহাসিক হেরোডোডাস এর মতে, "গনতন্ত্র এমন এক প্রকার শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসন ক্ষমতা আইনত কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের ওপর ন্যস্ত না থেকে সমাজের সকল সদস্যদের ওপর ন্যস্ত থাকে।"

⇒ গণতন্ত্র দুই প্রকার।
১. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র
২. পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ,এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০.
‘Leviathan’ গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. Hobes Rhly
  2. Timothy Snyder 
  3. Thomas Hobbes
  4. T.S. Eliot
ব্যাখ্যা

Leviathan:
- Leviathan গ্রন্থটির লেখক Thomas Hobbes.
- ১৬৫১ সালে প্রথম প্রকাশিত।
- বইটি 'Social Contract' বা সামাজিক চুক্তি নিয়ে লেখা।

- T.S Eliot belongs to - The Modern Period.
- ‘On Tyranny’ গ্রন্থটির লেখক Timothy Snyder।

উৎস: Britannica.

৭১.
'Animal Liberation' গ্রন্থটির রচয়িতা - 
  1. পিটার সিঙ্গার
  2. হাইডেগার
  3. কিয়ের্কেগার্ড
  4. হেগেল
ব্যাখ্যা

- 'Animal Liberation' গ্রন্থটির রচয়িতা পিটার সিঙ্গার।

পিটার সিঙ্গার:
- Peter Singer এর পুরো নাম - Peter Albert David Singer এবং তিনি অস্ট্রেলিয়ান নৈতিক ও পলিটিক্যাল দার্শনিক।

⇒ তাঁর লেখা আরো কয়েকটি বই:
- The Life You Can Save,
- The Most Good You Can Do,
- Animal Liberation,
- Ethics in the Real World.

সূত্র: Britannica ও পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা গ্রন্থের পর্যালোচনা, আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া।

৭২.
হেগেলের বিখ্যাত উক্তি “Be a person” এর অর্থ কী?
  1. সামাজিক নেতৃত্ব প্রদান করা
  2. বস্তুগত সাফল্য অর্জন করা
  3. ধর্মীয় জীবনযাপন করা
  4. নৈতিক ব্যক্তিত্ব গঠন করা
ব্যাখ্যা
হেগেলীয় পূর্ণতাবাদ:
- জার্মান দার্শনিক জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেলের দর্শন অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও জটিল।
- তাঁর নীতিদর্শনও তাই জটিলতামুক্ত নয়।
- তবে কয়েকটা বিষয় বেশ স্পষ্ট আর তা হচ্ছে ⎯
১. জগতের সব কিছুই এক পরম সত্তার (absolute) প্রকাশ এবং এই প্রকাশটি ঘটে বিবর্তনের ধারায় একটা ক্রমবিকাশমান প্রক্রিয়া হিসেবে।
- এ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে আত্ম-সচেতনতার (self-consciousness) সৃষ্টি যা পরম সত্তার গুণ। জগতে এর চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে মানুষের মধ্যে।
- হেগেলের মতে যার মধ্যে এর প্রকাশ যত বেশি সে তত বেশি আত্ম-বাস্তবায়ন সাধন করে এবং পূর্ণ মানুষে পরিণত হয়।
২. মানুষ পূর্ণ আত্ম-সচেতনতায় পৌঁছে একটি দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
- এ প্রক্রিয়ার মূলকথা হচ্ছে মানুষের চিন্তা প্রথমে একটি মত গঠন করে। এরপর সে তা বাতিল করে দ্বিতীয় একটি প্রতিমত গঠন করে এবং এ দুটো মিলে এরপর সে আবার ততীয় একটি সমন্বয়-মত গঠন করে। এ সমন্বয় মত আবার সময়মত একটি মত হিসেবে অপর একটি প্রতি-মতের সষ্টি করে এবং এভাবে চিন্তা পর্ণতার দিকে এগিয়ে চলে।
৩. জগতে একটা আঙ্গিক ঐক্য রয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে জগৎ একটি সামগ্রিক সত্তা এবং এর কোন অংশকে অন্য একটি অংশের সঙ্গে কিংবা সমগ্রের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে না দেখে উপায় নেই। অন্যভাবে বলা যায়, জগতে কোন কিছুরই আলাদা ও স্বনির্ভর অস্তিত্ব নেই।

⇒ হেগেলের পূর্ণতাবাদের ব্যাখ্যা প্রদান করে তেমন দুটি উক্তি খুবই প্রসিদ্ধ। এগুলো হচ্ছে:
i) Be a person ⎯ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও।
ii) Die to live ⎯ বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ।
- এই মতবাদ ও উক্তি দুটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে তার - The Phenomenology of Spirit (1807) গ্রন্থে।

i) ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও (Be a person):
- আত্ম-সচেতনতাই যদি মানুষের লক্ষ্য হয় এ তার মধ্যে এমন একটি বোধের সষ্টি করে যাকে আমরা তার ব্যক্তিত্ববোধ বলতে পারি। এ ব্যক্তিত্ববোধ নিছক অন্যান্য প্রাণীদের স্বাতন্ত্র্যবোধের মত নয়।
- মানুষ ব্যতীত অন্যান্য প্রাণীরা তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বুঝতে পারে এই অর্থে যে, তারা অন্যের বিরুদ্ধে ভিন্ন সত্তা হিসেবে নিজেকে জাহির করে, অন্যকে তার জীবন থেকে স্বতন্ত্র করে দেখে এবং সময়ে নিজে পরিতপ্তির জন্য তাদের সংগে মারামারি করে।
- কিন্তু মানুষ এর ঊর্ধ্বেও নিজ অস্তিত্ব সম্পর্কে চিন্তা করতে পারে। তার স্বাতন্ত্র্যবোধ তাকে যেখানে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখে, তার ব্যক্তিত্ববোধের কল্যাণে তাদের সংগে সে নিজেকে জড়িত করে ফেলে। আর এর ফলে সময়ে সে অপরের জন্য আত্মোৎসর্গও করে।
- হেগেলের মতে ব্যক্তিত্ব বলতে তাই নৈতিক ব্যক্তিত্বকে বুঝায়। ইন্দ্রিয়বৃত্তি নির্মূল করে বৌদ্ধিক জীবন লাভ করাতেই মানুষের পূর্ণতা নিহিত।

ii) বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ (Die to live):
- মানুষ যেহেতু আত্মসচেতন জীব এবং যেহেতু তার ব্যক্তিত্ব রয়েছে, সেহেতু সে অপরাপর জীব থেকে পৃথক।
- কিন্তু একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, তাদের সংগে তার কিছু মিলও রয়েছে। যেমন তার রয়েছে কিছু ইন্দ্রিয়বত্তি। এগুলোকে দমন করতে না পারলে প্রকত আত্ম-সচেতনতা তথা বৌদ্ধিক জীবন লাভ হয় না।
- অথচ ঐ জীবনেই রয়েছে মানুষের মুক্তি তথা সমস্ত ক্ষুদ্রতা, তুচ্ছতা ও স্বার্থপরতা থেকে মুক্তি। এ কারণে মানুষকে তার প্রবৃত্তিগুলোকে দমন করতে হবে; অন্যকথায় তার জীববত্তিমূলক জীবনকে হত্যা করতে হবে। এতে করে প্রকতপক্ষে সে বেঁচে যাবে।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৭৩.
নিচের কোনটি দার্শনিক গোবিন্দ চন্দ্র দেবের রচিত গ্রন্থ?
  1. Social Contract
  2. Republic 
  3. Idealism and Progress
  4. The Complete Art of War
ব্যাখ্যা

দার্শনিক গোবিন্দ চন্দ্র দেবের রচিত গ্রন্থ Idealism and Progress.

গোবিন্দ চন্দ্র দেব:
- গোবিন্দ চন্দ্র দেব একজন দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ।
- চিন্তাচেতনায় দেব ছিলেন সক্রেটিসের ভাবশিষ্য। তাঁর চিন্তাধারায় একদিকে যেমন স্থান পেয়েছে গভীর ও সূক্ষ্ম দার্শনিক তত্ত্বালোচনা, অন্যদিকে সমাজ, জীবন, সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও ধর্মবিষয়ক ভাবনা।
- অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী দার্শনিক দেব সব ধর্মকে দেখেছেন উদার ও সর্বজনীন দৃষ্টিকোণ থেকে।
- তাই তাঁর দর্শন সমন্বয়ী ভাববাদ বা সিনথেটিক আইডিয়ালিজম নামে সমধিক পরিচিত।

⇒ তিনি উগ্র ভাববাদ এবং উগ্র জড়বাদ উভয়কেই তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এ দুটি মতবাদই একদেশদর্শী; এদের দ্বারা মানবজীবনের কল্যাণসাধন ও প্রগতি সম্ভব নয়।
- তিনি তাঁর সমন্বয়ী দর্শনে বস্ত্তবাদকে অধ্যাত্মবাদে এবং অধ্যাত্মবাদকে বস্ত্তবাদে রূপান্তরিত করে এরই ভিত্তিতে একটি সার্থক জীবনদর্শন গড়ে তুলেছেন। তাঁর মতে, সার্থক দর্শন মাত্রই জীবনদর্শন।
- তিনি তাঁর প্রায় সব গ্রন্থেই এই দার্শনিক তত্ত্বই প্রকাশ করেছেন।

⇔ গোবিন্দ চন্দ্র দেবের রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- Idealism and Progress (1952)
- আমার জীবনদর্শন (১৩৬৭),
- তত্ত্ববিদ্যাসার (১৯৬৬),
- Buddha: the Humanist (1969), 
- Idealism: A New Defence and A New Application (1958), 
- Aspiration of the Common Man (1963),
- The Philosophy of Vivekananda and the Future of Man (1963),
- Parables of the East (1984), 
- My American Experience (1993)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭৪.
"স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই" - কে বলেছেন?
  1. হার্বার্ট
  2. আর্নেস্ট বার্কার
  3. এ ভি ডাইসি
  4. এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
আইন ও স্বাধীনতা (Law and Liberty):
- নাগরিক জীবনে আইন ও স্বাধীনতার অনেক প্রভাব রয়েছে।
- আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং পরস্পর নির্ভরশীল।
- কোন কোন ক্ষেত্রে আইনকে স্বাধীনতার পরিপন্থীও মনে হয়।
- আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক সংক্রান্ত দুটি পরস্পর বিরোধী মতবাদ প্রচলিত রয়েছে।
- প্রথম দলটি মনে করেন, আইন ও স্বাধীনতা গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।
- এরিস্টটল, মন্টেস্কু, রিচি, উইলোবি, আর্নেস্ট বার্কার, জন লক প্রমুখ মনীষী এই মতের সমর্থক।
- আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায়, "স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই" (Liberty and law do not quarrel).
- আবার কেউ কেউ মনে করেন যে, আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী।
- হার্বার্ট, এ ভি ডাইসি প্রমুখ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এই দলের অন্তর্গত।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫.
"আইডিয়ালিজম অ্যান্ড প্রগ্রেস" গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক
  2. সরদার ফজলুল করিম
  3. গোবিন্দচন্দ্র দেব
  4. আরুজ আলী মাতুব্বর
ব্যাখ্যা
গোবিন্দচন্দ্র দেব:
- গোবিন্দচন্দ্র দেব ছিলেন একজন অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী ও সমন্বয়বাদী দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ,
- তিনি ১৯০৭ সালে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন।  
- তাঁর দর্শনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ভাববাদ ও বস্তুবাদের সমন্বয়, এর মাধ্যমে তিনি একটি প্রগতিশীল ও মানবমুখী জীবনদর্শন গড়ে তোলেন।
- তিনি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্ট ও ইসলামি ভাবধারার সমন্বয়ে একটি বিশ্বজনীন দার্শনিক চেতনার প্রসার ঘটান।
- “সমন্বয়ী ভাববাদ” নামে তাঁর দর্শন সমধিক পরিচিত। দেব তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন।
- তিনি “দর্শন সাগর” উপাধিতে ভূষিত হন এবং তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত হয় গবেষণা কেন্দ্র ও ফাউন্ডেশন।
- দেশের প্রতি গভীর নিষ্ঠা থেকে তিনি দেশত্যাগ করেননি এবং ১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর হাতে নিহত হন।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আইডিয়ালিজম অ্যান্ড প্রগ্রেস (১৯৫২),
- আইডিয়ালিজম: এ নিউ ডিফেন্স অ্যান্ড এ নিউ এ্যাপলিকেশন (১৯৫৮),
- আমার জীবনদর্শন (১৩৬৭),
- এ্যাসপিরেশন অব দি কমন ম্যান (১৯৬৩),
- দি ফিলোসফি অব বিবেকানন্দ অ্যান্ড দি ফিউচার অব ম্যান (১৯৬৩),
- তত্ত্ববিদ্যাসার (১৯৬৬),
- বুদ্ধ: দি হিউম্যানিস্ট (১৯৬৯)।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৭৬.
‘সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।' এই উক্তিটি কার?
  1. এরিস্টটল
  2. বিশ্ব ব্যাংক
  3. জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. ম্যাককরনী
ব্যাখ্যা

সুশাসন (GOOD GOVERNANCE):
- ম্যাককরনী (Mac' Corney) বলেছেন যে, ‘সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।'
- মোটকথা, প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা (Accountability), বৈধতা (Legilimacy), স্বচ্ছতা (Transparency) থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাকস্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন (Rule of law), আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা বা দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর থাকে তাহলে সে শাসনকে ‘সুশাসন' (Good Governance) বলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৭৭.
বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত গ্রন্থ-
  1. The Philosophy of Logical Atomism
  2. Power: A New Social Analysis
  3. The Analysis of Mind
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
- ১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন, যা ছিল তার 'মানবতার আদর্শ ও চিন্তার মুক্তি'কে ওপরে তুলে ধরা তার বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ।
- বার্ট্রান্ড রাসেলের অনেক দার্শনিক রচনার মধ্যে রয়েছে-
- "The Principles of Mathematics",
- "The Philosophy of Logical Atomism",
- "The Analysis of Mind",
- "The Analysis of Matter",
- "A Free Man's Worship", 
- "Why I Am Not a Christian", 
- "Power: A New Social Analysis"।

উৎস: ব্রিটানিকা ও শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮.
'Principles of Social Reconstruction' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. টমাস পেইন
  2. জন ডিউই
  3. জেরেমি বেন্থাম
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
• 'Principles of Social Reconstruction' গ্রন্থটির রচয়িতা ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল।

• বার্ট্রান্ড রাসেল:
- বার্ট্রান্ড রাসেল ছিলেন একজন বিখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক, গণিতবিদ, যুক্তিবিদ এবং লেখক। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৮৭২ সালের ১৮ মে। রাসেল তার গভীর দার্শনিক চিন্তাভাবনা এবং মানবতার প্রতি অবদানের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। ১৯৫০ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এই পুরস্কার তাকে দেওয়া হয় তার লেখার মাধ্যমে মানবিক আদর্শ এবং চিন্তার মুক্তিকে জোরালোভাবে প্রকাশ করার জন্য। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য জীবনের পর তিনি ১৯৭০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

তার অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- The Principles of Mathematics,
- The Problem of Philosophy,
- Religion and Science,
- The Analysis of Mind,
- Marriage and Morals,
- Political Ideals,
- Logic and knowledge,
- Power: A New Social Analysis,
- Human Society in Ethics and Politics etc.

সূত্র: ব্রিটানিকা।
৭৯.
'The Principles of Morals and Legislation' গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. পিটার সিঙ্গার
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা
জেরেমি বেন্থাম:
- জেরেমি বেন্থাম একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, এবং তাত্ত্বিক আইনবিদ।
- তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্যের অধিবাসী।
- তিনি ছিলেন উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা।
- জেরেমি বেস্থাম যে সুখবাদ প্রচার করেন তা 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Utilitarianism) নামে পরিচিত।
- বেন্থাম মনস্তাত্ত্বিক সুখবাদ (Psychlogical Hedonism) ও আত্মসুখবাদ (Egoism) সমর্থন করেও ঐ প্রকার সুখবাদ থেকে পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ অনুমান করেন।
- বিভিন্ন সুখের মধ্যে গুণগত পার্থক্য স্বীকার না করার জন্যই বেস্থামের সুখবাদকে 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Altruism or Ulititarianism) বলা হয়।
- বেন্থাম বলেন, 'Quantity of pleasures being equal, pushpin is as good as poetry' অর্থাৎ 'পরিমাণের তারতম্য না ঘটলে, খেলার সুখ (দৈহিক সুখ) ও কবিতা পাঠের সুখ (মানসিক সুখ) তুল্যমূল্য'।
- সুখের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য বেস্থাম সুখের সাতটি দিকের বা মানের উল্লেখ করেছেন।
- যথা: তীব্রতা, স্থায়িত্ব, নৈকট্য, নিশ্চয়তা, বিশুদ্ধি, উর্বরতা ও বিস্তৃতি।

⇒ জেরেমি বেন্থাম Greatest Happiness Principle নীতির (১৭৮৯) প্রবক্তা।
- এই নীতির অর্থ হলো কোন কিছু বা কোন কাজকে উদ্দেশ্য নয়, বরং ফলাফল দ্বারা মূল্যায়ন করতে হবে।

⇒ তাঁর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Principles of Morals and Legislation.

অন্যদিকে,
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill)-এর বিখ্যাত গ্রন্থ 'Eassay on Liberty'।
- পিটার সিঙ্গারএর বিখ্যাত গ্রন্থ Animal Liberation।
- বার্ট্রান্ড রাসেলএর বিখ্যাত গ্রন্থ Power : A New Social Analysis।

উৎস: i) Britannica.
ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০.
'সত্যের সন্ধান' ও 'সৃষ্টি রহস্য' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আবুল কালাম আজাদ
  2. আরজ আলী মাতুব্বর
  3. গোবিন্দ চন্দ্র দেব
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

আরজ আলী মাতুব্বর:
- বাংলাদেশে 'নব-নৈতিকতা'র প্রবর্তক হলেন আরজ আলী মাতুব্বর।
- আরজ আলী মাতুব্বর বিশিষ্ট চিন্তাবিদ।
- ১৩০৭ বঙ্গাব্দের ৩ পৌষ  বরিশাল জেলার লামচরি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- গ্রামের মক্তবে মাত্র কয়েক মাস লেখাপড়া করার পর তিনি নিজের চেষ্টায় নানা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। 

উল্লেখ্য, 
- আরজ আলী মূলত বস্তুবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন।
- মানবজীবন, প্রকৃতি-পরিবেশ, জড়জগৎ ও বিশ্ব-সংসার থেকে পাঠ নিয়ে তিনি নিজস্ব মতবাদ গড়ে তোলেন।
- তিনি দৃঢ় মনোবল ও বিশ্বাস নিয়ে সকল অন্ধতা, অজ্ঞানতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
- তাঁর বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি একাধিক গ্রন্থে প্রকাশ করেন।
- আরজ আলীর রচনায় মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদী দার্শনিক প্রজ্ঞার ছাপ রয়েছে। 
- ১৩৯২ বঙ্গাব্দের ১ চৈত্র বরিশালে তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সত্যের সন্ধান (১৯৭৩),
- সৃষ্টিরহস্য (১৯৭৭),
- অনুমান (১৯৮৩),
- মুক্তমন (১৯৮৮) ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৮১.
’Human Society in Ethics and Politics' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. টমাস হবস
  2. জন স্টুয়াটৃ মিল
  3. বার্টান্ড রাসেল
  4. প্লোটো
ব্যাখ্যা

- 'Human Society in Ethics and Politics' গ্রন্থের লেখক বার্ট্রান্ড রাসেল।
- বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা ব্রিটিশ দার্শনিক বাট্রান্ড রাসেল।

• তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো-
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস: ব্রিটানিকা।

৮২.
'সৃষ্টিরহস্য' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আরজ আলী মাতুব্বর
  2. আহমদ শরীফ
  3. হুমায়ূন আজাদ
  4. ড. আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা

আরজ আলী মাতুব্বর:
- আরজ আলী মাতুব্বর ছিলেন একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও স্বশিক্ষিত দার্শনিক।
- তিনি ১৩০৭ বঙ্গাব্দের ৩ পৌষ বরিশাল জেলার লামচরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- গ্রামের মক্তবে মাত্র কয়েক মাস লেখাপড়া করার পর, তিনি নিজ প্রচেষ্টায় নানা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন।
- আরজ আলী মূলত বস্তুবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। মানবজীবন, প্রকৃতি-পরিবেশ, জড়জগৎ ও বিশ্ব-সংসার থেকে পাঠ নিয়ে তিনি একটি নিজস্ব মতবাদ গড়ে তোলেন। তাঁর বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি একাধিক গ্রন্থে প্রকাশ করেন।
- তাঁর রচনায় মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদী দার্শনিক প্রজ্ঞার ছাপ স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। ১৩৯২ বঙ্গাব্দের ১ চৈত্র বরিশালেই তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সৃষ্টিরহস্য (১৯৭৭),
- সত্যের সন্ধান (১৯৭৩),
- মুক্তমন (১৯৮৮) ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৮৩.
'Greatest Happiness Principle' নীতির প্রবক্তা কে?
  1. জন মিল
  2. রুশো
  3. জেরেমি বেন্থাম
  4. কার্ল মার্কস
ব্যাখ্যা
জেরেমি বেন্থাম:
- জেরেমি বেন্থাম একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, এবং তাত্ত্বিক আইনবিদ।
- তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্যের অধিবাসী।
- তিনি ছিলেন উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা।
- জেরেমি বেস্থাম যে সুখবাদ প্রচার করেন তা 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Utilitarianism) নামে পরিচিত।
- বেন্থাম মনস্তাত্ত্বিক সুখবাদ (Psychlogical Hedonism) ও আত্মসুখবাদ (Egoism) সমর্থন করেও ঐ প্রকার সুখবাদ থেকে পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ অনুমান করেন।
- বিভিন্ন সুখের মধ্যে গুণগত পার্থক্য স্বীকার না করার জন্যই বেস্থামের সুখবাদকে 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Altruism or Ulititarianism) বলা হয়।
- বেন্থাম বলেন, 'Quantity of pleasures being equal, pushpin is as good as poetry' অর্থাৎ 'পরিমাণের তারতম্য না ঘটলে, খেলার সুখ (দৈহিক সুখ) ও কবিতা পাঠের সুখ (মানসিক সুখ) তুল্যমূল্য'।
- সুখের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য বেস্থাম সুখের সাতটি দিকের বা মানের উল্লেখ করেছেন।
- যথা: তীব্রতা, স্থায়িত্ব, নৈকট্য, নিশ্চয়তা, বিশুদ্ধি, উর্বরতা ও বিস্তৃতি।

জেরেমি বেন্থাম Greatest Happiness Principle নীতির (১৭৮৯) প্রবক্তা।
- এই নীতির অর্থ হলো কোন কিছু বা কোন কাজকে উদ্দেশ্য নয়, বরং ফলাফল দ্বারা মূল্যায়ন করতে হবে।

⇒ তাঁর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Principles of Morals and Legislation.

অন্যদিকে,
- ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ তত্ত্বের প্রবক্তা জন মিল।
- সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের প্রবক্তা রুশো।
- সাম্যবাদ নীতি তত্ত্বের প্রবক্তা কার্ল মার্কস।

উৎস: i) Britannica.
ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪.
'Philosophy for Life and Other Dangerous Situations' বইয়ের লেখক কে?
  1. কার্ল মার্ক্স
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. জুলস ইভানস
  4. ফ্রাঞ্জ কাফকা
ব্যাখ্যা
• Philosophy for Life and Other Dangerous Situations বইটির লেখক হলেন জুলস ইভানস (Jules Evans)। বইটিতে প্রাচীন দর্শনের বিভিন্ন ধারার ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং কীভাবে দর্শন আমাদের জীবনকে উন্নত করতে পারে, তা তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে,
- কার্ল মার্ক্স - বিখ্যাত সমাজতাত্ত্বিক ও দার্শনিক, The Communist Manifesto এর সহ-লেখক।
- জন স্টুয়ার্ট মিল - উদারনৈতিক দর্শনের প্রবক্তা, On Liberty সহ বহু গ্রন্থের রচয়িতা।
- ফ্রাঞ্জ কাফকা - বিখ্যাত সাহিত্যিক, The Metamorphosis ও অন্যান্য গল্পের জন্য পরিচিত।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৮৫.
টমাস হবস কোন গ্রন্থে সামাজিক চুক্তি তত্ত্ব ব্যাখ্যা করেন?
  1. Leviathan
  2. The Prince
  3. The Social Contract
  4. Element of Ethics
ব্যাখ্যা

টমাস হবস Leviathan গ্রন্থে সামাজিক চুক্তি তত্ত্ব ব্যাখ্যা করেন।

টমাস হবস:

- টমাস হবস একজন ইংরেজ দার্শনিক।
- তিনি তার রাজনৈতিক দর্শনের কারণে বিশ্বব্যাপী খ্যাত।
- ১৬৫১ সালে প্রকাশিত Leviathan গ্রন্থে তিনি সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তী সময়ে পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক দর্শনের গোড়াপত্তন করে।

⇒ হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদ:
- Leviathan গ্রন্থে ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞানী টমাস হবস সামাজিক চুক্তি মতবাদের ব্যাখ্যা দেন।
- হবস তাঁর ব্যাখ্যায় মানব চরিত্রের হতাশাবাদী ও স্বার্থপর চিত্র অঙ্কন করেন।

• হবসের মতে, মানুষ জড় পদার্থের বেশি কিছু নয়। স্বার্থপরতা দ্বারা সে পরিচালিত হয়। আকাঙ্ক্ষা ও বিতৃষ্ণা মানুষের সমস্ত কর্মকাণ্ডের মূল। মানুষ মাত্রই লোভী এবং আত্মকেন্দ্রিক।
• প্রকৃতির রাজ্য সম্পর্কে তার অভিমত, প্রকৃতির রাজ্যে সর্বক্ষণ যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করত। প্রকৃতির রাজ্যে মানুষের জীবন ছিল- নিঃসঙ্গ, হতভাগ্য, জঘন্য, পাশবিক ও সংক্ষিপ্ত। আদিম নৃশংসতা ছাড়া প্রকৃতির রাজ্যে কোন আইন ও ন্যায়বিচার ছিল না। এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য প্রকৃতি রাজ্যের মানুষেরা নিজেদের অধিকার পরিত্যাগ করে শাসক কর্তৃপক্ষের কাছে (রাজার কাছে) তা হস্তান্তর করে। চুক্তি হয় জনগণের মধ্যে। রাজা বা শাসক চুক্তির অংশ নয়। যে কারণে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ রাজার বিরুদ্ধে করা যাবে না।

⇒ এভাবে হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদ সর্বাত্মকবাদী রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। যেখানে রাজা বা শাসকের একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। কেননা চুক্তির ফলে জনগণের কোন অধিকার থাকে না রাজাকে নিয়ন্ত্রণ বা জবাবদিহি করার। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদ অনৈতিহাসিক, অযৌক্তিক এবং সর্বাত্মকবাদী রাষ্ট্রের নীল নকশা।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৮৬.
'লেভিয়াথান' (Leviathan) গ্রন্থের রচয়িতা কে? 
  1. থমাস হবস
  2. সেমুর মার্টিন লিপসেট
  3. রিচার্ড এইচ. থেলার
  4. টিমোথি স্নাইডার
ব্যাখ্যা

- 'লেভিয়াথান' (Leviathan) গ্রন্থের রচয়িতা থমাস হবস (Thomas Hobbes).

অন্যদিকে,
-  Political Man : সেমুর মার্টিন লিপসেট (Seymour Martin Lipset).
-  Misbehaving: রিচার্ড এইচ. থেলার (Richard H. Thaler).
- Political Order and Political Decay: লেখক: ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা (Francis Fukuyama).
- On Tyranny লেখক: টিমোথি স্নাইডার (Timothy Snyder).

উৎস: পৌরনীতি, ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭.
‘Know Thyself’ উক্তিটি কার?
  1. প্লেটো 
  2. অ্যারিস্টটল
  3. সক্রেটিস
  4. পিথাগোরাস
ব্যাখ্যা

‘Know Thyself’ উক্তি:
- পৃথিবীর সভ্যতার ইতিহাসে গ্রীক দর্শন বিশ্বব্যাপী দর্শন ও সভ্যতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও চিন্তাধারা জ্ঞান ও নীতিবিদ্যা জগতকে সমৃদ্ধ করেছে।
- তাদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ও বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষাগুরু হলেন সক্রেটিস (Socrates)।
- তিনি প্রাচ্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা হিসেবে খ্যাত।

- সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি ‘Know Thyself’ বা ‘নিজেকে জানো’।
- তিনি প্রায়ই এই উক্তি নিজের নীতিবিদ্যা ও জীবন দর্শনের প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করতেন।
- সক্রেটিসের দর্শনে “Know Thyself” হলো আত্মপরিচয় এবং নিজের সীমাবদ্ধতা, জ্ঞান ও নৈতিক দায়িত্ব বোঝার মাধ্যমে নৈতিক ও যুক্তিসম্মত জীবনযাপন করার নির্দেশ।
- এর মূল লক্ষ্য হলো আত্ম-জ্ঞান ও নৈতিক সচেতনতা অর্জন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮.
'মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড' -উক্তিটি কার?
  1. শেফার
  2. ফ্রাঙ্কেল
  3. উইলিয়াম
  4. মেরিল
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
⇒ সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম এর মতে,
- "মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।"

⇒ ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
- "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

⇒ মেরিল এর মতে,
- ''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরন, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।''

⇒ শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।''

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৯.
'দি প্যারাবুলস অব দি ইস্ট & মাই আমেরিকান এক্সপিরিয়েন্স' গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. এরিস্টটল
  2. গোবিন্দ চন্দ্র দেব 
  3. প্লেটো
  4. নোয়াম চমস্কি
ব্যাখ্যা

গোবিন্দ চন্দ্র দেব:
- গোবিন্দ চন্দ্র দেব একজন দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ।
- চিন্তাচেতনায় দেব ছিলেন সক্রেটিসের ভাবশিষ্য।
- তাঁর চিন্তাধারায় একদিকে যেমন স্থান পেয়েছে গভীর ও সূক্ষ্ম দার্শনিক তত্ত্বালোচনা, অন্যদিকে সমাজ, জীবন, সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও ধর্মবিষয়ক ভাবনা।
- অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী দার্শনিক দেব সব ধর্মকে দেখেছেন উদার ও সর্বজনীন দৃষ্টিকোণ থেকে।
- তাই তাঁর দর্শন সমন্বয়ী ভাববাদ বা সিনথেটিক আইডিয়ালিজম নামে সমধিক পরিচিত।

⇒ তিনি উগ্র ভাববাদ এবং উগ্র জড়বাদ উভয়কেই তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এ দুটি মতবাদই একদেশদর্শী; এদের দ্বারা মানবজীবনের কল্যাণসাধন ও প্রগতি সম্ভব নয়।
- তিনি তাঁর সমন্বয়ী দর্শনে বস্ত্তবাদকে অধ্যাত্মবাদে এবং অধ্যাত্মবাদকে বস্ত্তবাদে রূপান্তরিত করে এরই ভিত্তিতে একটি সার্থক জীবনদর্শন গড়ে তুলেছেন।
- তাঁর মতে, সার্থক দর্শন মাত্রই জীবনদর্শন।
- তিনি তাঁর প্রায় সব গ্রন্থেই এই দার্শনিক তত্ত্বই প্রকাশ করেছেন।

⇔ দেবের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা মোট নয়টি। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আইডিয়ালিজম অ্যান্ড প্রগ্রেস (১৯৫২),
- আইডিয়ালিজম: এ নিউ ডিফেন্স অ্যান্ড এ নিউ এ্যাপলিকেশন (১৯৫৮),
- আমার জীবনদর্শন (১৩৬৭),
- এ্যাসপিরেশন অব দি কমন ম্যান (১৯৬৩),
- দি ফিলোসফি অব বিবেকানন্দ অ্যান্ড দি ফিউচার অব ম্যান (১৯৬৩),
- তত্ত্ববিদ্যাসার (১৯৬৬),
- বুদ্ধ: দি হিউম্যানিস্ট (১৯৬৯)।
- দি প্যারাবুলস অব দি ইস্ট (১৯৮৪)।
- মাই আমেরিকান এক্সপিরিয়েন্স (১৯৯৩)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৯০.
Sociology is the science of society or of social phenomena.” উক্তিটি করেছেন কে?
  1. আলেকজান্ডার
  2. লর্ড ব্রাইস
  3. জুলিয়াস সিজার
  4. এল এফ ওয়ার্ড
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- পৌরনীতি ও সুশাসন সমাজবিজ্ঞানের একটি শাখা হিসেবে নাগরিকের আচার-আচরণ, রীতি- নীতি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, রাষ্ট্রের শাসন প্রণালীসহ নাগরিকের সামগ্রিক বিষয়াবলি সম্বন্ধে আলোচনা করে।
- সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কে এল এফ ওয়ার্ড (L.F. Ward) বলেন, "Sociology is the science of society or of social phenomena.”

অন্যদিকে,
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লর্ড ব্রাইস সুনাগরিকের ৩টি গুণাবলির উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো: বুদ্ধি, বিবেক এবং আত্মসংযম।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা  এসএসসি প্রোগ্রাম, ও পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১.
জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন বা সনদের নাম কী?
  1. UNCAC 
  2. CEDAW
  3. UNCTAD
  4. UNCLOS
ব্যাখ্যা

• মেরিডা কনভেনশন:
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী একমাত্র বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক সংস্থা।
- UNCAC-এর লক্ষ্য: দুর্নীতি প্রতিরোধ, অপরাধীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং কারিগরি সহায়তা।
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরকাল: ৯-১১ ডিসেম্বর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, ইউকাটান, মেক্সিকো।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫ সালে।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৯২টি দেশ।
- বাংলাদেশের স্বাক্ষর: ২০০৭ সালে, এবং পরবর্তীতে অনুমোদনও দিয়েছে।

অন্যদিকে, 
- CEDAW : নারীর বিরুদ্ধে সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত কনভেনশন।
- UNCTAD : জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা। যা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বিশ্ব অর্থনীতিতে সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে এবং টেকসই উন্নয়নের সুবিধা পেতে সাহায্য করে; এটি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থ এবং প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলোতে নীতি বিশ্লেষণ, ঐকমত্য গঠন এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করে।
- UNCLOS: জাতিসংঘের একটি সনদ, যা সমুদ্রের আইন (Law of the Sea) বিষয়ক আন্তর্জাতিক কাঠামো।

উৎস: UNCAC ওয়েবসাইট।

৯২.
জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশনের নাম- 
  1. UNCTAD
  2. UNCLOS
  3. CEDAW
  4. UNCAC
ব্যাখ্যা

- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশনের নাম- (UNCAC)।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে : ২০০৭ সালে। 

মেরিডা কনভেনশন:
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী একমাত্র বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক সংস্থা।
- UNCAC-এর লক্ষ্য: দুর্নীতি প্রতিরোধ, অপরাধীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং কারিগরি সহায়তা।
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরকাল: ৯-১১ ডিসেম্বর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, ইউকাটান, মেক্সিকো।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫সালে।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৯৫টি দেশ।
- বাংলাদেশের স্বাক্ষর: ২০০৭ সালে, এবং পরবর্তীতে অনুমোদনও দিয়েছে।

উৎস: UNCAC ওয়েবসাইট।

৯৩.
‘সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদণ্ড’ উক্তিটি কার?
  1. ফ্রাঙ্কেল
  2. এইচ এম জনসন
  3. পল সাত্রে
  4. জন লক
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, যেমন -

• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।

⇒ ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
- "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৪.
'মানুষ হও এবং মরে বাঁচ' - এটি কার উক্তি?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. জি. ই. ম্যূর
  3. প্লেটো
  4. হেগেল
ব্যাখ্যা
জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেল:
- আধুনিক কালের পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদের প্রসিদ্ধ চিন্তাবিদ হলেন হেগেল।
- তার ভাববাদের উপর ভিত্তি করেই তার নীতিদর্শন স্থাপিত।
- তিনি মনে করেন যে, পরমাত্মা বা পরমসত্তাই একমাত্র স্বনির্ভর সত্তা এবং জীবাত্মাও, জড়বস্তু পরমাত্মারই খণ্ড প্রকাশ মাত্র।
- হেগেলের দর্শন অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও জটিল। তাঁর নীতিদর্শনও তাই জটিলতামুক্ত নয়। তবে কয়েকটা বিষয় বেশ স্পষ্ট আর তা হচ্ছে ⎯

⇒ হেগেলের পূর্ণতাবাদের ব্যাখ্যা প্রদান করে তেমন দুটি উক্তি খুবই প্রসিদ্ধ। এগুলো হচ্ছে:
i) Be a person ⎯ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও।
ii) Die to live ⎯ বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ।
- এই মতবাদ ও উক্তি দুটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে তার - The Phenomenology of Spirit (1807) গ্রন্থে।

i) ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও (Be a person):
- আত্ম-সচেতনতাই যদি মানুষের লক্ষ্য হয় এ তার মধ্যে এমন একটি বোধের সষ্টি করে যাকে আমরা তার ব্যক্তিত্ববোধ বলতে পারি। এ ব্যক্তিত্ববোধ নিছক অন্যান্য প্রাণীদের স্বাতন্ত্র্যবোধের মত নয়। মানুষ ব্যতীত অন্যান্য প্রাণীরা তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বুঝতে পারে এই অর্থে যে, তারা অন্যের বিরুদ্ধে ভিন্ন সত্তা হিসেবে নিজেকে জাহির করে, অন্যকে তার জীবন থেকে স্বতন্ত্র করে দেখে এবং সময়ে নিজে পরিতপ্তির জন্য তাদের সংগে মারামারি করে। কিন্তু মানুষ এর ঊর্ধ্বেও নিজ অস্তিত্ব সম্পর্কে চিন্তা করতে পারে। তার স্বাতন্ত্র্যবোধ তাকে যেখানে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখে, তার ব্যক্তিত্ববোধের কল্যাণে তাদের সংগে সে নিজেকে জড়িত করে ফেলে। আর এর ফলে সময়ে সে অপরের জন্য আত্মোৎসর্গও করে। হেগেলের মতে ব্যক্তিত্ব বলতে তাই নৈতিক ব্যক্তিত্বকে বুঝায়। ইন্দ্রিয়বৃত্তি নির্মূল করে বৌদ্ধিক জীবন লাভ করাতেই মানুষের পূর্ণতা নিহিত।

ii) বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ (Die to live):
- মানুষ যেহেতু আত্মসচেতন জীব এবং যেহেতু তার ব্যক্তিত্ব রয়েছে, সেহেতু সে অপরাপর জীব থেকে পৃথক। কিন্তু একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, তাদের সংগে তার কিছু মিলও রয়েছে। যেমন তার রয়েছে কিছু ইন্দ্রিয়বত্তি। এগুলোকে দমন করতে না পারলে প্রকত আত্ম-সচেতনতা তথা বৌদ্ধিক জীবন লাভ হয় না। অথচ ঐ জীবনেই রয়েছে মানুষের মুক্তি তথা সমস্ত ক্ষুদ্রতা, তুচ্ছতা ও স্বার্থপরতা থেকে মুক্তি। এ কারণে মানুষকে তার প্রবৃত্তিগুলোকে দমন করতে হবে; অন্যকথায় তার জীববত্তিমূলক জীবনকে হত্যা করতে হবে। এতে করে প্রকতপক্ষে সে বেঁচে যাবে।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৯৫.
কর্তব্যের জন্য কর্তব্য ধারণাটির প্রবর্তক কে?
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. হার্বার্ট স্পেনসার
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’ ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট
– ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
– ইমানুয়েল কান্টকে কর্তব্যমুখী নৈতিকতার প্রবর্তক বলা হয়।

উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬.
‘সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা অর্থহীন’- কে বলেছেন?
  1. আব্রাহাম লিংকন
  2. রুশো
  3. জন লক
  4. ম্যাকাইভার 
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা ও সাম্যের সম্পর্ক:
- স্বাধীনতা ও সাম্যের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
- কেউ কেউ স্বাধীনতা ও সাম্যের মধ্যে বিরোধ খুঁজে পান।
- লর্ড এ্যাক্টন, টকভিল স্বাধীনতা ও সাম্যকে পরস্পর বিরোধী আদর্শ বলে মনে করেন। 
- লর্ড এ্যাকটন বলেন, “সাম্যের নেশা স্বাধীনতার আশাকে ব্যর্থ করেছে।”
- কিন্তু তাঁদের ধারণা সঠিক নয়, কেননা স্বাধীনতা ও সাম্যের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
- স্বাধীনতা বলতে যা খুশি তা করা বুঝায় না।
- স্বাধীনতা বলতে নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতা বোঝায়।

• সাম্য ও স্বাধীনতার সম্পর্ক নিম্নরূপ-
১। সাম্যের মাঝে স্বাধীনতার মূল্য নিহিত। সাম্য নিয়ন্ত্রণের নিশ্চয়তা বিধান করে। সাম্য সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্র সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার সমবণ্টনের ব্যবস্থা করে।
২। সাম্য ও স্বাধীনতার মধ্যে কোন বিরোধ নেই। পরস্পর পরস্পরের সহায়ক ও পরিপূরক। স্বাধীনতা উপভোগের জন্য সাম্যের প্রয়োজন। অধ্যাপক টনি বলেন, “সাম্য স্বাধীনতার জন্য অপরিহার্য। সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতাকে কল্পনা করা যায় না।”
৩। দার্শনিক রুশো বলেন, “সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা অর্থহীন।” সাম্য না থাকলে স্বাধীনতা থাকতে পারেনা। অধ্যাপক লাস্কি বলেন, “রাষ্ট্র যত বেশি সমতা বিধান করবে, স্বাধীনতার উপভোগ তত বেশি নিশ্চিত হবে।” সাম্য সকলকে পর্যাপ্ত সুবিধা দান করে সম্পদের সমবণ্টনকে নিশ্চিত করে। 

উৎস: পৌরনীতি, (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭.
প্রাচীনকালে এথেন্স ও স্পার্টায় কোন ধরনের রাষ্ট্র প্রচলিত ছিল?
  1. বিশ্ব রাষ্ট্র
  2. জাতীয় রাষ্ট্র
  3. নগর রাষ্ট্র
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
• নগর রাষ্ট্র:
- প্রাচীন গ্রিসে এক একটি নগর ছিল এক একটি রাষ্ট্র।
- রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল এথেন্স এবং স্পার্টা।
- এ নগর রাষ্ট্রগুলোর আয়তন ও জনসংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম।
- নগর রাষ্ট্রের সকল জনগণকে নাগরিক বলা হতো না।
- কেবল নগর রাষ্ট্রের যারা রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতো।
- অর্থাৎ রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালনায় যারা অংশগ্রহণ করতো তাদেরকেই 'নাগরিক' হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো।
- উল্লেখ্য নারী, দাস ও বিদেশীরা এসব নগর রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে বিবেচ্য হতো না।

উল্লেখ্য,
- বর্তমান আধুনিক রাষ্ট্রগুলো গ্রিসের নগররাষ্ট্র (City State) এর মতো নয়।
- বরং এগুলো এখন জাতি রাষ্ট্র (Nation State) হিসেবেই পরিগণিত।
- প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্রগুলোর অপেক্ষা বর্তমান আধুনিক জাতি রাষ্ট্রগুলো আয়তনে বড় এবং জনসংখ্যাও বেশি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮.
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে নিম্নের কোনটি হিসেবে অভিহিত করা হয়?
  1. গণতন্ত্রের জনক
  2. জাতীয় রাষ্ট্রের প্রবক্তা
  3. সমাজতন্ত্রের প্রবক্তা
  4. ধর্মীয় রাষ্ট্রের প্রবক্তা
ব্যাখ্যা

নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- তিনি আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য নির্ণয় করেন।

উল্লেখ্য,
- নিকোলো মেকিয়াভেলি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, উপদেষ্টা, নাট্যকার, কবি, দার্শনিক, ঐতিহাসিক, সামরিকবিদ ও আরও অনেক কিছু। তাকে আধুনিক রাজনীতি ও দর্শনের জনক বলা হয়ে থাকে।
- তিনি প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিজ্ঞানেরও প্রতিষ্ঠাতা।

⇒ তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম:
- The Prince,
- Discourses on Livy,
- The Life of Castruccio Castracani of Lucca,
- Florentine Histories,
- Lettera to Francesco Vettori,
- The Portable Machiavelli,
- The Complete Art of War ইত্যাদি।

উৎস: i) Britannica.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৯৯.
'Marriage and Morals' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ম্যাক্স ওয়েবার
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. ম্যাকিয়াভেলি
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা
বার্ট্রান্ড রাসেল: 
- বার্ট্রান্ড রাসেল (১৮ মে, ১৮৭২ – ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০) ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্রিটিশ দার্শনিক, গণিতবিদ, এবং সমাজ চিন্তাবিদ।
- তাঁর সমাজসচেতন লেখনী এবং কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৫০ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পান। 

তার গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- The Problem of Philosophy,
- The Conquest of Happiness,
- Religion and Science,
- The Principles of Mathematics,
- The Analysis of Mind,
- Marriage and Morals,
- Philosophical Essays,
- Political Ideals,
- Principles of Social Reconstruction,
- The Analysis of Matter and
- Logic and knowledge.

সূত্র: ব্রিটানিকা।
১০০.
'The Conquest of Happiness' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. ইমানুয়েল কান্ট 
  3. টমাস হবস 
  4. টি এইচ গ্রিন
ব্যাখ্যা

Conquest of Happiness:
- 'The Conquest of Happiness' গ্রন্থের রচয়িতা হলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল।
- এটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
- বিষয়বস্তু: বার্ট্রান্ড রাসেল এই বইতে আধুনিক মানুষের অসুখের কারণ বিশ্লেষণ করেছেন এবং একটি সুখী জীবনের জন্য যুক্তিভিত্তিক পথ দেখিয়েছেন, যেমন নিজের বাইরের আগ্রহ তৈরি করা এবং নিষ্ক্রিয় আনন্দের বিপদ সম্পর্কে সচেতন থাকা। 

• বার্ট্রান্ড রাসেল:
- বার্ট্রান্ড রাসেল একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, প্রভূত গ্রন্থ ও প্রবন্ধের রচয়িতা, শান্তিবাদী ‘অ্যাকটিভিস্ট’, গণবক্তা, গণবুদ্ধিজীবী, শিক্ষক ও নোবেল পুরস্কারে ভূষিত সাহিত্যিক হিসেবে বিশ্ব পরিচিত। 
- তিনি ছিলেন বিশ্লেষণী দর্শনের একজন প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর দর্শন, গণিত, যুক্তি, সেট তত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞানতত্ত্ব ও অধিবিদ্যায় মৌলিক অবদান রেখেছে।
- তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। 
- তিনি যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ‘বিশ্ব সরকার’ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

উৎস: i) শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.