ব্যাখ্যা
এর ফলে বায়ুর উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে সেই নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ু দ্রুতগতিতে ছুটে আসে যা বায়ু প্রবাহ নামে পরিচিত।
অর্থাৎ বায়ু সর্বদা উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২ / ১১ · ১০১–২০০ / ১,০৯৬
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান নয় পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র।
• আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান :
- বায়ুর তাপ,
- বায়ুর চাপ,
- বায়ু প্রবাহ,
- বায়ুর আর্দ্রতা,
- পানিচক্র ও বৃষ্টিপাত।
• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ:
- অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ,
- সমুদ্রস্রোত,
- বায়ু প্রবাহ,
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
- বনভূমির অবস্থান,
- ভূমির বন্ধুরতা, ভূমির ঢাল কিংবা পর্বতের অবস্থান (বায়ুপ্রবাহ বাধা পায়)।
- মৃত্তিকার গঠন,
- ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা (উপরের দিকে বায়ুর চাপ/তাপ পরিবর্তিত হয়)।
উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
চা শিল্প:
- ১৮০০ শতাব্দীর প্রথম ভাগে ভারতবর্ষের আসাম ও তৎসংলগ্ন এলাকায় চা চাষ শুরু হয়।
- তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী নদীর তীরে চা আবাদের জন্য ১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দে জমি বরাদ্দ হয়।
- ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম শহরের বর্তমান চট্টগ্রাম ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় একটি চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যা কুন্ডদের বাগান নামে পরিচিত।
- সিলেটের মালনীছড়ায় প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু হয় ১৮৫৭ সালে।
- বর্তমানে দেশে চা বাগানের সংখ্যা ১৭০টি।[আগস্ট - ২০২৫]
উল্লেখ্য,
- দেশে সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়। মৌলভীবাজার জেলায় ৯০টি চা বাগান রয়েছে।
সূত্র: বাংলাদেশ চা বোর্ড ওয়েবসাইট।
আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক:
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ সর্বত্র সমানভাবে কাজ করে না।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর মূল নিয়ামকগুলো প্রধানত আবহাওয়া ও জলবায়ুর ধরনের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে।
• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ-
১। অক্ষাংশ
২। উচ্চতা
৩। সমুদ্র থেকে দূরত্ব
৪। স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান
৫। সমুদ্রস্রোত
৬। ভূমির ঢাল
৭। ভূ-প্রকৃতি
৮। বায়ুপ্রবাহ
৯। বায়ুর চাপ এবং
১০। বনভূমির অবস্থান।
উল্লেখ্য,
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহ যথা-বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রস্রোত, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বনভূমির অবস্থান, ভূ- প্রাকৃতিক অবস্থা, উচ্চতা, অক্ষাংশ, স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান, ভূমির ঢাল ইত্যাদির প্রভাবে বিশ্বের একেক অঞ্চলে একেক ধরনের আবহাওয়া ও জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়।
উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫০ অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০০ অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা,
- মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।
উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- বর্তমানে বাংলাদেশে আবহাওয়া স্টেশন ৩৫টি।
- সাইক্লোন শেল্টার ১৮৪১টি।
- কৃষি আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র ১২টি।
- আবহাওয়া কেন্দ্র ৪টি।
- রাডার স্টেশন ৫টি।
উৎস: আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
• জলবায়ু পরিবর্তন ও মৎস্যখাত:
- জলবায়ু পরিবর্তন মৎস্যখাতে স্থানীয়ভাবে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
- বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মৎস্য সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রধান কারণ:
• তাপমাত্রা বৃদ্ধি,
• বন্যা,
• লবনাক্ততা।
∗ তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে:
• মাছের প্রজনন ও বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
• ডিম ফোটা ও লার্ভা বিকাশে সমস্যা হয়।
• পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়।
• এবং হ্যাচারিতে pH এর ওঠানামা রোগ সৃষ্টি করে।
∗ অনিয়মিত বৃষ্টি ও খরার কারণে নদীর পানির গভীরতা কমে যায়।
- মাছের আবাসস্থল সংকুচিত হয় এবং বন্যা ও খরা পোনা ধুয়ে নিয়ে যায়।
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কিছু প্রজাতি বিলুপ্ত হচ্ছে, নতুন প্রজাতি আসছে এবং মাছের প্রাকৃতিক মাইগ্রেশন পথ পরিবর্তিত হচ্ছে।
- হঠাৎ বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় পোনা ও খামার ধ্বংস করে, যা অর্থনৈতিক ক্ষতি বৃদ্ধি করে।
∗ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদীতে মা মাছের ডিম কমে যায়, লবণাক্ততা বেড়ে যায়।
- ফলে পানির স্তর ও গুণমান হ্রাস পায় যা প্রজনন ক্ষেত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
উল্লেখ্য,
- জলবায়ুর কারণে পানির গুণগত মান পরিবর্তিত হয়।
- প্ল্যাঙ্কটন উৎপাদন কমে যায়।
- অ্যাসিডিটি বৃদ্ধি পায়।
- এবং পলি জমাট বাঁধার কারণে মাছের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- ফলে মাছের উৎপাদন হ্রাস পায়, মৎস্যজীবীর আয় কমে যায় এবং স্থানীয় খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।
- এই প্রভাব মোকাবেলায় জলবায়ু-সহনশীল মৎস্যচাষ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য, যার জন্য গবেষণা ও বিনিয়োগ প্রয়োজন।
উৎস:
১.বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
২. প্রথম আলো।
অনিয়মিত বায়ু:
- কোনো স্থানে অধিক উত্তাপের জন্য বায়ুচাপ কমে নিম্নচাপের অথবা অত্যাধিক শীতের জন্য কোনো স্থানীয় বায়ু শীতল জলে উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়। এভাবে সৃষ্টি যে বায়ুপ্রবাহ তাকে বলা হয় অনিয়মিত বায়ু প্রবাহ।
- এই অনিয়মিত বায়ু মূলত দুই প্রকার যথা:
- ঘূর্ণিবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।
অন্যদিকে,
- নিয়ত বায়ু: নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু।
- সাময়িক বায়ু: কোনো নির্দিষ্ট দিক, বা বছরের কোনো নির্দিষ্ট ঋতুতে যে বায়ুপ্রবাহ জল ও স্থলভাগের তাপের তারতম্য সৃষ্টি করে তাকেই বলা হয় সাময়িক বায়।
- সাময়িক বায় দুই ধরনের যথা মৌসুমি বায়ু এবং স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচ এসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• স্বাস্থ্যখাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তন স্বাস্থ্যখাতে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
- স্বাস্থ্যসেবা খাতে অবকাঠামোর ক্ষতি এবং চাহিদা বৃদ্ধির কারণে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দুর্বল দেশগুলোতে চাপের মুখে পড়ছে।
- তাপপ্রবাহ, বন্যা ও দাবানলের কারণে হিটস্ট্রোক, কিডনি ও হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- খরা ও বন্যায় ফসলহানি, অপুষ্টি, এবং নিরাপদ পানির অভাবে ডায়রিয়া ও অন্যান্য রোগের বিস্তার বাড়ছে।
- তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিবর্তনে মশা (ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া), মাছি ও অন্যান্য রোগবাহকের বিস্তার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুমান করছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অপুষ্টি, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া ও তাপজনিত কারণে প্রতি বছর প্রায় ২.৫ লক্ষ অতিরিক্ত মৃত্যু ঘটতে পারে।
উল্লেখ্য,
- উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে বায়ুদূষণকারী কণারমাত্রা বৃদ্ধি শ্বাসতন্ত্র ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
- বন্যা ও ঝড়ের কারনে ডুবে যাওয়া, জলবাহিত রোগের বিস্তার (কলেরা) ঘটছে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্বেগ, হতাশা, PTSD এবং অন্যান্য মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- খাতভিত্তিক প্রভাবে কৃষি ও খাদ্য খাতে ফসলের ফলন হ্রাস ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়।
- জল ও স্যানিটেশন খাতে নিরাপদ পানির অভাব এবং জলবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।
উৎস:
1. World Health Organization Website;
2. The Daily Ittefaq;
3. কালের কন্ঠ।
- এল নিনো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক আবহাওয়ায় বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে।
• এল নিনো:
• এল-নিনো:
- এল নিনো (El Nino) একটি স্প্যানিশ শব্দ।
- এর আক্ষরিক অর্থ হলো ছোট ছেলে।
- এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলীয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার একটি জলবায়ু ঘটনা।
- যা বিশ্বব্যাপী এবং আঞ্চলিক আবহাওয়ার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।
- ‘এল-নিনো’ মূলত উষ্ণ প্রকৃতির জলবায়ুর একটি ধরণ যা মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চ তাপমাত্রার জন্য দায়ী।
- এর স্থায়িত্ব সাধারণত ৯-১৮ মাস।
- বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আবহাওয়ার ক্ষেত্রে এল নিনোর প্রভাব নিম্নরূপে বিশ্লেষণ করা যায়:
- এল-নিনো’র সময়ে অন্যান্য সময়ের চেয়ে কম বৃষ্টি হয় এবং বন্যাও কম হয়।
- এ সময় তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়।
- এল-নিনো সাধারণত প্রতি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর ঘটে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং National Oceanic and Atmospheric Administration ও BBC.
• মৌসুমি বায়ুঃ
- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে বলা হয় মৌসুমি বায়।
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি ভাষায় "মওসুম" শব্দ থেকে যার অর্থ হলো ঋতু।
- এটি একটি আঞ্চলিক বায়ু।
- সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে শীত ও গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য হয় বলেই মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়।
- প্রধানত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ দেখা যায়।
- এছাড়াও কর্কটক্রান্তী অঞ্চলে যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার কিছু অংশ, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত ইত্যাদি অঞ্চলে এই বায়ু প্রবাহের অন্তর্গত।
- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হওয়ার জন্য কর্কটক্রান্তির বায়ুর চাপ কমে যায় ও সুবৃহৎ নিম্নচাপ কেন্দ্র সৃষ্টি হয়। - এ অবস্থায় দক্ষিণ গোলার্ধের ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে আগত দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে।
- এশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যাওয়া এই বায়ুকে তাই বলা হয় উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের মৌসুমি বায়ু।
- মধ্য এশিয়ায় নিম্নচাপের দ্বারা দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু উৎপন্ন হয়।
- ফলে চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, জাপান, কম্বোডিয়া, লাওস ইত্যাদি দেশে বৃষ্টিপাত ঘটে।
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পাকিস্তান, মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত হয়।
- অপরদিকে শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে এবং মকরক্রান্তিতে তখন নিম্নচাপ সৃষ্ট হয়।
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ শীতল হয় বলে তখন ঐ স্থানে উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হয়।
- এই সময় বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বলে এবং এই বায়ু শুষ্ক থাকে।
- মৌসুমি বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বাম দিকে বেঁকে যায় এবং উত্তর-পশ্চিমে মৌসুমি বায়ুরূপে উত্তর অস্ট্রেলিয়ার দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।
• বর্তমানে বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি। যথাঃ
- রাঙ্গামাটি (বেতবুনিয়া)
- গাজীপুর (তালিবাবাদ)
- মহাখালী ও
- সিলেট
• বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উদ্বোধন করেন।
• এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।
উৎস: আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
সমুদ্র থেকে দূরত্ব (Distance from the sea):
- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে।
- যেমন- কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ার কারণে এখানকার জলবায়ু রাজশাহীর তুলনায় বেশ মৃদুভাবাপন্ন।
- সমুদ্র নিকটবর্তী এলাকার তাপমাত্রায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য হয় না। এ ধরনের জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।
- কিন্তু সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম উভয়ই চরম হয়। কারণ স্থলভাগ জলভাগ অপেক্ষা যেমন দ্রুত উষ্ণ হয়, আবার দ্রুত ঠান্ডাও হয়।
- এজন্য গ্রীষ্মকালে মহাদেশের অভ্যন্তরভাগের এলাকা অত্যন্ত উত্তপ্ত থাকে, আবার শীতকালে প্রচন্ড শীত অনুভূত হয়।
- এ ধরনের জলবায়ুকে মহাদেশীয় বা চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ট্রপোমণ্ডল (Troposphere):
- এই স্তরটি বায়ুমন্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর, ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে লেগে আছে।
- মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষারপাত, শিশির ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমণ্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি (Tropopause)।
- এই স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার।
- মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
উল্লেখ্য,
- বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
- যথা- ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল, তাপমণ্ডল ও এক্সোমন্ডল।
- স্তরগুলোর প্রথম তিনটি সমমণ্ডল (Homosphere) এবং পরবর্তী দুটি বিষমমণ্ডল (Hetrosphere)-এর অন্তর্ভুক্ত।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
• উঁচু উচ্চতার মেঘ:
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ।
উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস
- সিরোকিউম্যুলাস
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।
• মাঝারি উচ্চতার মেঘ:
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস
- নিম্বোস্ট্রেটাস
• নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
- কিউম্যুলাস
- কিউম্যুলোনিম্বাস।
সূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।
• লালপুর:
- নাটোর জেলা গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ু এলাকায় অবস্থিত।
- বাংলাদেশের চরমভাবাপন্ন এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
- আয়তনের দিক থেকে নাটোর জেলার ৩য় বৃহত্তম উপজেলা।
- এটি ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত।
- লালপুর বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান।
- গ্রীষ্মকালে মাঝে মাঝে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড ও শীতকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড রেকর্ড হয়ে থাকে।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
∗ খরা (Drought):
- খরা একটি প্রধান কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Agricultural Hazard).
- খরা হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিপাতের অভাব যা জলস্বল্পতার কারণে ঘটে।
- এটি কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এর তীব্রতা, পুনরাবৃত্তি ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কৃষির জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
- খরার কারণে মাটিতে এবং ভূ-পৃষ্ঠে জলের ঘাটতি দেখা দেয়, ফলে ফসল ও পশুপালন ব্যাহত হয়।
- মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় শস্য উৎপাদন কমে যায়, খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এবং কৃষকের আয় হ্রাস পায়।
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলায় খরার প্রকোপ বেশি দেখা যায়।
- দীর্ঘ অনাবৃষ্টি বা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে:
• মাটি ফেটে যায়,
• ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যায়,
• এবং ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- উপকূলীয় অঞ্চলেও খাদ্যদ্রব্যের অভাব প্রকট হয়।
- এছাড়া, তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় মানুষের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উৎস:
১. ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
২. প্রথম আলো।
বায়ুমণ্ডল:
- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান।
- সবচেয়ে বেশী রয়েছে নাইট্রোজেন। যার পরিমাণ প্রায় ৭৮.০২%।
- দ্বিতীয় প্রধান উপাদান হিসাবে সবচেয়ে বেশী রয়েছে অক্সিজেন। যার পরিমাণ প্রায় ২০.৭১ শতাংশ।
- এ দুটি গ্যাসবায়ুমন্ডলে আয়তনের দিক থেকে একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ।
- সবচেয়ে কম ধূলিকণা ও কনিকা। যার পরিমাণ প্রায় ০.০১%।
- বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ০.০৩%।
- জলীয় বাষ্প রয়েছে- ০.৪১%।
উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• জলবায়ু:
- জলবায়ু হলো কোনো স্থানের দীর্ঘমেয়াদী (৩০–৪০ বছর) আবহাওয়ার গড় অবস্থা।
∗ জলবায়ুর উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- তাপমাত্রা,
- বায়ু চাপ,
- বায়ুপ্রবাহ,
- আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত।
- বাংলাদেশের জলবায়ু প্রধানত ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত।
- এতে উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল লক্ষ্য করা যায়।
- ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের জলবায়ু সমভাবাপন্ন, অর্থাৎ শীত বা গ্রীষ্ম চরম নয়।
• এর কারণ হলো:
- ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র মৌসুমি বায়ু এখানকার জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে,
- এই আর্দ্র মৌসুমি বায়ু উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাতও নিয়ন্ত্রণ করে।
- অক্ষাংশের ক্রান্তীয় অঞ্চলের অবস্থিতি, এবং
- সমুদ্রের নৈকট্যবর্তী হওয়ায় তাপমাত্রার চরমভাবাপন্নতা হ্রাস পায়।
উল্লেখ্য,
- বর্তমানে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে।
- ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও খরার প্রকোপ বেড়েছে।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কৃষি ও জনজীবনে ঝুঁকি তৈরি করছে।
- বাংলাদেশের জলবায়ুতে মৌসুমী বায়ুর প্রভাব অত্যধিক হওয়ায় এটি ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু নামেও পরিচিত।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানসমূহ:
- নাইট্রোজেন : ৭৮.০২ শতাংশ
- অক্সিজেন : ২০.৭১ শতাংশ
- আরগন : ০.৮০ শতাংশ
- জলীয়বাষ্প ০.৪১ শতাংশ
- কার্বন ডাই-অক্সাইড: ০.০৩ শতাংশ
- অন্যান্য গ্যাস : ০.০২ শতাংশ
- ধূলিকণা ও কণিকা : ০.০১ শতাংশ।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
- SMOG হচ্ছে এক ধরণের দূষিত বাতাস।
• SMOG:
- ধোঁয়া ও কুয়াশা মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- ‘SMOG’ শব্দটি SMOKE ও FOG শব্দ দুটো থেকে এসেছে।
- মোটরগাড়ি, কলকারখানার ধোঁয়া, কলকারখানার বর্জ্য, ধূলিকণা ইত্যাদি মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- SMOG অবস্থায় বেশিক্ষণ বিরাজ করলে ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেয়।
- এই ধোঁয়ায় অবস্থিত বিভিন্ন গ্যাস বৃষ্টির পানির সাথে মিশে এসিড বৃষ্টি ঘটায় এবং মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি করে। মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি পেলে তাতে উদ্ভিদ সহজে জন্মে না।
- SMOG শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং মানবদেহে ক্যান্সার, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস প্রভৃতি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে।
তথ্যসূত্র: National Geographic Society
বায়ু প্রবাহের প্রভাবসমূহ:
- বায়ুমন্ডলে নানা রকম গ্যাসীয় উপাদান ও অন্যান্য উপাাদনসমূহের ঘনত্বের সমন্বয়ে বায়ু একটি অনন্য প্রাকৃতিক শক্তি।
- বায়ুপ্রবাহের নানা গতি ও প্রকৃতির জন্য প্রবল বাতাস, ঝড়, হারিকেন, টাইফুন, হাওয়া, বজ্রঝড় ইত্যাদি আবহাওয়ার অবস্থা দৃশ্যমান হয়।
- বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, ঘনত্ব ইত্যাদির কারণে বায়ুপ্রবাহ প্রভাবিত হয়।
- ক্ষমতাকেও এই বায়ুপ্রবাহ প্রভাবিত করে। যেমন- উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্র হাওয়া ও ভূমির তাপ শোষণ ক্ষমতায় বায়ু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের কাজ করে।
- বায়ুপ্রবাহের কারণে নানারকম নৌযান, আকাশযান, যুদ্ধবিমান, মহাকাশযান পরিবহনের গতি নির্ধারিত হয়।
- বায়ুপ্রবাহের শক্তি দ্বারাই বায়ু ঘূর্ণনযন্ত্র চালিত হয়, ফলে পৃথিবীব্যাপি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।
- বায়ুপ্রবাহের কারণেই বেশ কিছু জনপ্রিয় খেলা যেমন-ঘুড়ি ওড়ানো, স্নোকাইটিং, ঘুড়ি সাফিং ইত্যাদি সারা পৃথিবীতে প্রচলিত রয়েছে।
- এছাড়াও শুষ্ক আবহাওয়ায় ভূমিক্ষয়ের একটি বড় কারণ হলো বায়ুপ্রবাহ। বায়ুপ্রবাহের প্রভাবেই ছোট বালুকণা ও ধূলিকণা বায়ুসঞ্চালন দ্বারা একস্থান থেকে আরেক স্থানে প্রবাহিত হয়।
তথ্যসূত্র - ভুগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র (SPARRSO- Space Research and Remote Sensing Organisation) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮০ সালে।
- এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- এটি ঢাকা শহরের আগারগাঁও এ অবস্থিত।
- এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
উৎস: স্পারসোর ওয়েবসাইট।
সমুদ্রস্রোত:
- শীতল বা উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে উপকূল সংলগ্ন এলাকার বায়ু ঠান্ডা বা উষ্ণ হয়।
- যেমন- উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকার উষ্ণতা বেড়ে যায়।
- অর্থাৎ সমুদ্রস্রোত বায়ুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায় উত্তর আমেরিকার উত্তর-পূর্ব উপকূলকে শীতল রাখে শীতল ল্যাব্রাডার স্রোত, এ কারণে শীতল ইউরোপীয় স্রোত ও উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল ও পশ্চিম ইউরোপীয় উপকূলের তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
⇒ সমুদ্রস্রোতের কারণ:
- বায়ুপ্রবাহ,
- পৃথিবীর আবর্তন,
- উষ্ণতার তারতম্য,
- লবণাক্ততার তারতম্য,
- স্থলভাগের অবস্থান,
- শৈলশিরার অবস্থান,
- বাষ্পীভবনের তারতম্য,
- সমুদ্রের গভীরতা।
উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- বৈশিষ্ট্য: ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল।
ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল:
- ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের ৩০০-৪৫০ অক্ষাংশের মধ্যে যে সকল মহাদেশসমূহের অবস্থান তাদের পশ্চিমাংশ জুড়েই ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত।
- উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া, তিউনিশিয়া, মিশরের উত্তরাংশ, মরক্কোর উত্তরাংশ, ভূ-মধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহ এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।
- এছাড়াও তুরস্ক, স্পেন, গ্রীস, দক্ষিণ ফ্রান্স, ইতালি, ইসরাইল, সিরিয়া, দক্ষিণ ও পশ্চিম যুগোশ্লাভিয়া এই জলবায়ুর অর্ন্তভুক্ত।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে আরও যে দেশসমূহ রয়েছে সেগুলো হলো- লেবানন, পর্তুগাল, আলবেনিয়া এবং দ্বীপসমূহ হলো কর্ষিকা, মাল্টা, সাইপ্রাস ইত্যাদি।
- এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, দক্ষিণ আমেরিকার চিলির মধ্যভাগ এবং উত্তর আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এই জলবায়ুর অর্ন্তগত।
• এর বৈশিষ্ট্য:
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল।
উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
লবণাক্ততা (Salinity):
- লবণাক্ততা বলতে মাটি ও পানিতে লবণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে বুঝায়।
- সাধারণত লবণাক্ততার মাত্রা পরিমাপ করা হয় Parts Per Thousand বা পিপিটি (PPT) দ্বারা।
- সমুদ্রের পানিতে লবণাক্ততার গড় মাত্রা ৩৫পিপিটি অর্থাৎ ১ কিলোগ্রাম পানিতে প্রায় ৩৫ গ্রাম লবণ থাকে।
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মাটি ও পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- বঙ্গোপসাগরের পানি জোয়ারের সময় নদীর মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমিতে প্রবেশ করে লবণাক্ততা সৃষ্টি করে।
- সাধারণত আগস্ট মাস থেকে লবণাক্ততা শুরু হয় এবং ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে।
- উপকূলীয় ১৬টি জেলার ৬৪টি উপজেলায় লবণাক্ততা দেখা যায়।
- এর মধ্যে সর্বাধিক লবণাক্ততায় আক্রান্ত খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা জেলা।
- এছাড়া বরিশাল, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার, ফেনী প্রভৃতি জেলা লবণাক্ততায় আক্রান্ত।
লবণাক্ততার কারণ:
- সাধারণত উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমি ও পানিতে লবণাক্ততার জন্য জোয়ার-ভাটা ও সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিকে দায়ী করা হয়।
- আর সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য মানুষের বহুমুখী কর্মকাণ্ডকেই দায়ী করা হয়।
⇒ লবণাক্ততার প্রভাব -
১. উপকূলীয় অঞ্চলের জমি কৃষিকাজের অনুপযোগী হয়ে উৎপাদন হ্রাস পাওয়া;
২. সুপেয় পানির অভাব দেখা দেওয়া;
৩. উদ্বাস্তু লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি;
৪. সম্পদহানি ও দারিদ্রতা বৃদ্ধি;
৫. বিভিন্ন রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া;
৬. ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি;
৭. মিঠা পানির মাছের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস;
৮. গাছপালায় মড়ক লাগা ও ফসলের গোড়া পচে যাওয়া;
৯. সামাজিক বন্ধনে শিথিল হওয়া প্রভৃতি।
উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি।
- রাঙামাটির বেতবুনিয়া (১৯৭৫),
- গাজীপুরের তালিবাবাগ (১৯৮২),
- ঢাকার মহাখালী (১৯৯৫),
- সিলেট (১৯৯৭)।
দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ: রাঙামাটির বেতবুনিয়া উপগ্রহ:
- ১৯৭০ সনের ০৩ জানুয়ারী তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান, এইচপিকে, বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
- পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৪ জুন ১৯৭৫ সনে বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।
উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাসস।
• কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখা:
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫০ উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা
- দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলে।
- আমাদের বাংলাদেশের উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- এই দুটি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে সূর্যের আলো লম্বভাবে পৃথিবীতে পড়ে।
• অক্ষ, অক্ষরেখা ও নিরক্ষরেখা:
- পৃথিবীর কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে অক্ষ (Axis) বলে।
- এ অক্ষের উত্তর-প্রান্ত বিন্দুকে উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ-প্রান্ত বিন্দুকে দক্ষিণ মেরু বলা হয়।
- পৃথিবীর মানচিত্রে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য পূর্ব-পশ্চিমে যে কতকগুলো কাল্পনিক রেখা অঙ্কন করা হয় তাকে অক্ষরেখা বলে।
- দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে যে রেখা কল্পনা করা হয় তাকে বলা হয় নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা।
- পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির জন্য এ রেখা বৃত্তাকার, তাই এ রেখাকে নিরক্ষবৃত্তও বলা হয়।
- নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুই ভাগে ভাগ করেছে।
- নিরক্ষরেখার উত্তর দিকের পৃথিবীর অর্ধেককে উত্তর গোলার্ধ এবং দক্ষিণ দিকের অর্ধেককে দক্ষিণ গোলার্ধ বলা হয়।
তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ হলো এমন একটি আকস্মিক এবং গুরুতর ঘটনা, যা প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কারণে ঘটে এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র হলো একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
- এর ছয়টি ধাপ রয়েছে: প্রতিরোধ, প্রশমন, প্রস্তুতি, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, এবং উন্নয়ন।
- এই চক্রে ঝুঁকি হ্রাস থেকে শুরু করে দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্গঠন পর্যন্ত সব কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত।
- সাড়াদান ধাপে দুর্যোগ চলাকালীন খাদ্য, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
উল্লেখ্য,
• প্রতিরোধ (Prevention): দুর্যোগ ঘটতেই না পারে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ, যেমন: বন্যাপ্রতিরোধী বাঁধ নির্মাণ।
• প্রশমন (Mitigation): দুর্যোগের প্রভাব কমানোর দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ, যেমন: ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন তৈরি।
• প্রস্তুতি (Preparedness): দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি নেওয়া, যেমন: মহড়া, ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রাখা, পরিকল্পনা তৈরি।
• সাড়াদান (Response): দুর্যোগ চলাকালীন বা সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সাহায্য প্রদান, যেমন: উদ্ধার, খাদ্য, আশ্রয় ও স্বাস্থ্যসেবা।
• পুনরুদ্ধার (Recovery): দুর্যোগের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা, যেমন: অবকাঠামো ও অর্থনীতি পুনর্গঠন।
• উন্নয়ন (Development): ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকি হ্রাস ও শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরি, যা পরবর্তী চক্রের প্রস্তুতি ও প্রশমনে সাহায্য করে।
- এই ধাপগুলো চক্রাকারে চলতে থাকে, যার মূল লক্ষ্য মানুষের জীবন, সম্পদ রক্ষা এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদীর অববাহিকা নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল।
• নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল উষ্ণ জলবায়ু।
- এই অঞ্চলের জলবায়ু সবসময় জলবায়ু একই রকম থাকে।
- দিন রাত্রির মধ্যে তেমন পার্থক্য নাই।
- ঋতুর পরিবর্তন এই অঞ্চলে দেখা যায় না। ফলে সবসময় গ্রীষ্মঋতু পরিলক্ষিত হয়।
- দিনের প্রথমদিকে জলবায়ু আরামদায়ক।
বিশ্বের নিম্নোক্ত অঞ্চলের দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল:
• দক্ষিণ আমেরিকা:
- দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর পূর্ব উপকূল। আমাজান নদীর অববাহিকা, ইকুয়েডর, কলম্বিয়ার দক্ষিণাংশ এবং পেরুর উত্তর পশ্চিমাঞ্চল।
• মধ্য আমেরিকা:
- মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, নিকারাগুয়া, হুগুরাস, কোষ্টারিকা।
• আফ্রিকা:
- কঙ্গো নদীর অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় অঞ্চল।
• দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া:
- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইনের দক্ষিণ দ্বীপ পুঞ্জাঞ্চল।
উৎস: প্রাকৃতিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• পৃথিবীর দিন রাত:
- উত্তর গোলার্ধে ২১ জুন দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত হয়।
- ২২ ডিসেম্বর সূর্য এমনভাবে কোণ করে থাকে তাতে দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন এবং উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন হয়।
- ২২ এডিসেম্বর সূর্য দক্ষিণায়নের শেষ সীমায় পৌঁছায়, একে মকরসংক্রান্তি বলে।
- এ সময় সূর্যের রশ্মি ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ অর্থাৎ মকরক্রান্তির উপর লম্বভাবে পতিত হয়।
- ২৩ সেপ্টেম্বর পুনরায় ২১ মার্চের মতো সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। সেদিন সর্বত্র দিবারাত্রি সমান থাকে।
- ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে আবার সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে কিরণ বেশি দিতে থাকে।
- ২১ মার্চ এবং ২৩ সেপ্টেম্বর এই দুদিন পৃথিবীর সর্বত্র দিবারাত্রি সমান হয়। সেদিনকে বিষুব (Equinox) বলে।
- ২১ মার্চ উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল তাই একে বাসন্ত বিষুব (Vernal equinox) বলে।
- ২৩ সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল। তাই ঐ দিনকে শারদ বিষুব (Autumnal equinox) বলে।
তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
স্ট্রাটোমন্ডল:
- বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তর হলো স্ট্রাটোমন্ডল বা স্ট্রাটোস্ফিয়ার যা উর্ধ্বে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি এমনই একটি স্তর যা জলীয়বাষ্পবিহীন।
- স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে বলা হয় স্ট্রাটোবিরতি বা স্ট্রাটোপস।
- স্ট্রাটোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ অনেক কম।
- এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকায় সূর্য হতে আগত অতিবেগুনী রশ্মি এই ওজোন স্তর শুষে নেয়।
- এই স্তরের নিম্নে উষ্ণতার তেমন পরিবর্তন না হলেও ১০ কিলোমিটার থেকে ধীরে ধীরে উষ্ণতা বাড়তে বা ওজোনোস্ফিয়ার থাকে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধি উচ্চ স্ট্রাটোমন্ডলে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
- পৃথিবীতে প্রাণিজগতের বসবাসের উপকারী পরিবেশ তৈরিতে এই স্তরের ভূমিকা রয়েছে। এই স্তরেই সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি শোষণ করে নেয়া হয়।
- স্ট্রাটোমন্ডলে ধূলিকণার পরিমাণ নগন্য এবং মেঘ দেখাই যায় না।
- এই স্তরে আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে। সাধারণত জেট বিমানগুলো এই স্তর দিয়ে চলাফেরা করতে পারে কারণ ঝড়-বৃষ্টি থাকে না।
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে এবং তা স্ট্রাটোমন্ডলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌছায়।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• তাপমন্ডল: বায়ুমন্ডলের তাপবলয়কে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। উষ্ণমন্ডল
২। উত্তর নাতিশীতোষ্ণ মন্ডল
৩। দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণ মন্ডল
৪। উত্তর হিমমন্ডল এবং
৫। দক্ষিণ হিমমন্ডল।
• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ সর্বত্র সমানভাবে কাজ করে না।
- নিম্নে আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ আলোচনা করা হলো-
১। অক্ষাংশ
২। উচ্চতা
৩। সমুদ্র থেকে দূরত্ব
৪। স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান
৫। সমুদ্রস্রোত
৬। ভূমির ঢাল
৭। ভূ-প্রকৃতি
৮। বায়ুপ্রবাহ
৯। বায়ুর চাপ এবং
১০। বনভূমির অবস্থান।
উৎস: ভুগোল ১ম পত্র,এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান করে।
⇒ অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত। সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়। কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত। বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত। এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।
⇒ নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:
- নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী দেশগুলোতে সূর্য প্রায় সারাবছরই লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এখানে গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। অত্যধিক সূর্য তাপ ও আর্দ্রতা এবং সামান্য মেঘাচ্ছন্নতার জন্য তাপমাত্রার পার্থক্য কম। এই অঞ্চলে উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য দিন-রাতের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে। শীতের প্রকোপ একদম নেই বললেই চলে।
১. সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়ার জন্য এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশি থাকে।
২. অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি। দৈনিক প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, বিশেষ করে পরিচলন বৃষ্টি।
৩. অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।
৪. অধিক উত্তাপ এ অঞ্চলে স্থায়ী নিম্নচাপ তৈরি করে এবং উপক্রান্তীয় উষ্ণ চাপ বলয়ের অয়ন বায়ু এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়।
৫. এ অঞ্চলের মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য খুব উপকারী হলেও এখানে মাটি ক্ষয় হয়।
উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- আইসোহেলাইন : সমুদ্রের সম লবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানের সংযোগকারী রেখা।
- আইসোথার্ম : ভূপৃষ্ঠের সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোবার : ভূপৃষ্ঠের সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোহাইট : ভূপৃষ্ঠের সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখা।
(তথ্যসূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
- কার্বন মনোঅক্সাইড (CO) এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী নয়।
• এসিড বৃষ্টি:
- বায়ুমণ্ডলে অধঃক্ষেপণ বৃষ্টিতে pH এর মান 5.6 এর কম হলেই ঐ অধঃক্ষেপণকে এসিড বৃষ্টি বলে।
- এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ি দাবানল, বজ্রপাত, গাছপালার পচন, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
- এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং সালফার ডাই অক্সাইড বের হয়, যা পরে বাতাসের অক্সিজেন ও বৃষ্টির পানির সাথে বিক্রিয়া করে নাইট্রিক এসিড ও সালফিউরিক এসিড উৎপন্ন করে।
- একইভাবে বিভিন্ন শিল্প কারখানা বিশেষ করে কয়লা বা গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, ইট ভাটা, যানবাহন, চুলা ইত্যাদি উৎস থেকে সালফার ডাই অক্সাইড বের হয়, যা এসিডে পরিনত হয় এবং বৃষ্টির পানির সাথে মিশে এসিড বৃষ্টি তৈরি করে।
- সাধারণত কলকারখানা অঞ্চলের এসিড বৃষ্টির পানির pH এর মান 5.6 থেকে 3.5 এর মধ্যে থাকে।
• এসিড বৃষ্টির কারণ:
- এই এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস বা এসিড বৃষ্টির কারণ মূলত সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (যেমন- NO, NO2).
- এর মূলে তিনটি এসিডের (H2SO3, H2SO4, HNO3 এর) ভূমিকা রয়েছে; যা প্রাইমারি বায়ুদূষক SO2 গ্যাস ও নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (NOx) হতে উৎপন্ন হয়।
- কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), কার্বন মনোঅক্সাইড (CO) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) এসিড বৃষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় বা এসিড বৃষ্টির কারণ নয়।
তথ্যসূত্র: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
সমুদ্রস্রোত:
- শীতল বা উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে উপকূল সংলগ্ন এলাকার বায়ু ঠান্ডা বা উষ্ণ হয়।
- যেমন- উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকার উষ্ণতা বেড়ে যায়।
- অর্থাৎ সমুদ্রস্রোত বায়ুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায় উত্তর আমেরিকার উত্তর-পূর্ব উপকূলকে শীতল রাখে শীতল ল্যাব্রাডার স্রোত, এ কারণে শীতল ইউরোপীয় স্রোত ও উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল ও পশ্চিম ইউরোপীয় উপকূলের তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
⇒ 'সমুদ্রস্রোত' সৃষ্টির প্রধান কারণ:
- বায়ুপ্রবাহ,
- পৃথিবীর আবর্তন,
- উষ্ণতার তারতম্য,
- লবণাক্ততার তারতম্য,
- স্থলভাগের অবস্থান,
- শৈলশিরার অবস্থান,
- বাষ্পীভবনের তারতম্য,
- সমুদ্রের গভীরতা।
উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• দ্রাঘিমারেখা জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক নয়।
জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক:
- যে সব উপাদান আবহাওয়া এবং জলবায়ুর নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তন সাধন করে তাদেরকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।
⇒ জলবায়ুর নিয়ামক:
১. অক্ষাংশ,
২. সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা,
৩. জল ও স্থলভাগের অবস্থান,
৪. পাহাড়-পর্বতের অবস্থান,
৫. বনভূমির অবস্থান,
৬. সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
৭. সমুদ্র স্রোত,
৮. বায়ুপ্রবাহ,
৯. বৃষ্টিপাত,
১০. ভূমির ঢাল,
১১. জলীয়বাষ্প:
১২. দিবাভাগের দৈর্ঘ্য,
১৩. বায়ুর আর্দ্রতা,
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।