ব্যাখ্যা
• একটি শব্দকে ইকো বা প্রতিধ্বনি হিসেবে অনুভব করার জন্য মূল শব্দ এবং তার প্রতিফলনের মধ্যে সময় ব্যবধান একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মানুষের কানের মাধ্যাকর্ষণ অনুযায়ী, যদি শব্দ এবং তার প্রতিফলনের মধ্যে সময় ব্যবধান খুব ছোট হয়, তখন আমরা এটি আলাদা শব্দ হিসেবে শোনার পরিবর্তে কেবল শব্দের প্রতিধ্বনি বা দীর্ঘস্থায়ী শব্দ হিসেবে অনুভব করি। সাধারণভাবে, একটি শব্দকে আলাদাভাবে ইকো হিসেবে শনাক্ত করার জন্য প্রায় 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় ব্যবধান প্রয়োজন। অর্থাৎ, শব্দের উৎস থেকে প্রতিফলিত শব্দ আমাদের কানে পৌঁছাতে কমপক্ষে 0.1 সেকেন্ড সময় লাগতে হবে। অতএব, প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে সঠিক উত্তর হলো খ) 0.1 s। এটি বোঝায় যে শব্দ এবং তার প্রতিফলনের মধ্যে যথেষ্ট সময় থাকলে আমরা এটি স্বতন্ত্র ইকো হিসেবে শুনতে পারি।
• শব্দ:
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে।
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে।
সুতরাং, প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে।
- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়।
- ০°C বা ২৭৩K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি ৩৩২ms-1।
- ০°C বা ২৭৩ K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m হতে হবে।
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব ০.৩ m বেশি হতে হবে।
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো- শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m (০°C বা ২৭৩ K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।