বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

চর্যাপদ

মোট প্রশ্ন৫৭৪এই পাতা৭০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

চর্যাপদ

PrepBank · পাতা / · ৫০১৫৭০ / ৫৭৪

৫০১.
চর্যাপদ কোন ভাষায় রচিত?
  1. সংস্কৃত
  2. ব্রজবুলি
  3. বাংলা
  4. হিন্দি
সঠিক উত্তর:
বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত কাব্য।

• চর্যাপদ:

- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫০২.
নিচের কে চর্যাপদের কবি নন?
  1. ক) চাটিল্লপা
  2. খ) আর্যদেবপা
  3. গ) কম্বলামম্বরপা
  4. ঘ) নন্দীপা
সঠিক উত্তর:
ঘ) নন্দীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নন্দীপা
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
চর্যাপদের কবির সংখ্যা ২৩ জন, মতান্তরে ২৪ জন।
- নন্দীপা নামে কোনো কবি নেই।
- কিন্তু জয়নন্দীপা নামে কবি আছে।তিনি ৪৬ নং পদটি রচনা করেছেন।
উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫০৩.
চর্যাপদের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) চর্যাপদের কবিরা ছিলেন বৌদ্ধ সাধক
  2. খ) চর্যাপদ মূলত গানের/কবিতার/পদের সংকলন
  3. গ) চর্যাপদ অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত
  4. ঘ) এর ভাষা ‘সান্ধ্য বা আলো-আধাঁরি’ ভাষা নামে পরিচিত
সঠিক উত্তর:
গ) চর্যাপদ অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চর্যাপদ অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। এটি প্রাচীন বাংলার কথ্য ভাষায় লিখিত। সূত্রঃ Livemcq লেকচার পিডিএফ।
৫০৪.
'আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী' - কোন পদকর্তার রচনা?
  1. ক) কাহ্নপা
  2. খ) শান্তিদেব
  3. গ) সরহপা
  4. ঘ) শবরপা
সঠিক উত্তর:
খ) শান্তিদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শান্তিদেব
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

- চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যের দ্বিতীয় স্থান অধিকারী হলেন ভুসুকুপা। 
- তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তির বিচারে ভুসুকু নামটি ছদ্মনাম বলে মনে করা হয়। 
- তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব। 
- তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৫০৫.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন চর্যাপদের সংখ্যা-
  1. ৪৮ টি
  2. ৫০ টি
  3. ৫২ টি
  4. ৫৪ টি
সঠিক উত্তর:
৫০ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০ টি
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদে ৫০ টি পদ ছিল। 

• চর্যাপদের পদসংখ্যা নিয়ে মতামত: 
- চর্যাপদ শুধু প্রাচীন বাংলা সাহিত্যেরই নিদর্শন নয়, প্রাচীন বাংলা গানেরও নিদর্শন। 
- সুকুমার সেন রচিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী'।
- যদিও সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন।
- টীকাকারের কাছে মূল চর্যার পুঁথিতে আরো অন্তত একটি বেশি চর্যা ছিল (১১ ও ১২ তম চর্যার মাঝখানে)। এই চর্যাটির ব্যাখ্যা না থাকায় লিপিকার উদ্ধৃত করেন নি, শুধু 'টীকা নাই' এই মন্তব্যটুকু করিয়াছেন।
- আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
উল্লেখ্য, চর্যাপদের একটি পদ ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে, সেখান থেকেই এই মত বিরোধের সৃষ্টি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫০৬.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের সময়কাল কোনটি?
  1. ৮৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৯৫০ - ১১৫০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ৯৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ৬৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
৯৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা -
১. প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তি ছিল (৯৫০ - ১২০০) সুতরাং ২৫০ বছর।
এবং বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ব্যপ্তি ছিল (১২০১-১৮০০) সুতরাং ৫৯৯ বা ৬০০ বছর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫০৭.
‘আপণা মাংসে হরিণা বৈরী’ প্রবাদ বাক্যের অর্থ কী?
  1. অপরের সম্পদে নজর দিলে নিজেরই ক্ষতি হয়। 
  2. নিজের লোভই নিজের ক্ষতি করে।
  3. ধনই জীবনের লক্ষ্য।
  4. নিজে নিজে প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করা যায় না। 
সঠিক উত্তর:
নিজের লোভই নিজের ক্ষতি করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিজের লোভই নিজের ক্ষতি করে।
ব্যাখ্যা

নিজের লোভই নিজের ক্ষতি করে। 
- প্রবাদ বাক্যটি নিজস্ব লোভ ও অসতর্কতার ফলাফলকে নির্দেশ করে।
------------------------------------- 
প্রবাদ বাক্য:
- চর্যাপদ বৌদ্ধ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম, যা নৈতিক শিক্ষা এবং জীবনমুখী বার্তা সমৃদ্ধ।
- এতে মোট ৬টি প্রবাদ বাক্য রয়েছে, যা সহজবোধ্য ভাষায় জ্ঞানগর্ভ উপদেশ প্রদান করে।
- এই প্রবাদগুলো হলো:
আপণা মাংসে হরিণা বৈরী – নিজের লোভই নিজের ক্ষতি করে।
• দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় – একবার যা হয়েছে, তা ফেরানো যায় না।
• হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন – যা স্পষ্ট, তা দেখার জন্য আলাদা প্রমাণের দরকার নেই।
• হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী – যা নেই, তা আশা করা অর্থহীন।
• বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ – আমার দোষ নয়, অপরের; নিজেকে নির্দোষ ধরা।
• আন চাহন্তে আন বিনধা – অন্য কিছু চাইতে গিয়ে অন্য কিছু অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া বা ঘটে যাওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৫০৮.
চর্যাপদ রচনার উদ্দেশ্য ছিল -
  1. অনুবাদ চর্চা
  2. ধর্ম চর্চা
  3. নীতি চর্চা
  4. সাহিত্য চর্চা
সঠিক উত্তর:
ধর্ম চর্চা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্ম চর্চা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ রচনার উদ্দেশ্য ছিল - ধর্ম চর্চা

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়' বা 'চর্যাগীতিকোষ' বা 'চর্যাগীতি' বা 'চর্যাপদ'।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ (ধর্ম চর্চা)
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫০৯.
চর্যাপদের টীকাকার মুনিদত্ত মোট কতটি চর্যার ব্যাখ্যা করেছেন?
  1. ৪৬টি
  2. ৫০টি
  3. ৫১টি
  4. ৫২টি
সঠিক উত্তর:
৫০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০টি
ব্যাখ্যা
- সুকুমার সেন রচিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী'।
- যদিও সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন।
- আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
উল্লেখ্য, চর্যাপদের একটি পদ ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে, সেখান থেকেই এই মত বিরোধের সৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১০.
চর্যাপদের ভাষাকে পশ্চিম বঙ্গের উপভাষা মনে করেন কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. ডঃ মুহম্মদ শহীদল্লাহ্‌
  3. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
সঠিক উত্তর:
সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় চর্যাপদের ভাষাকে পশ্চিম বঙ্গের উপভাষা মনে করেন।

• ডঃ মুহম্মদ শহীদল্লাহ্‌ , এ কথার প্রতিবাদ ক'রে প্রমাণ করতে চেষ্টা করেন যে, এই ভাষাকে সঠিক ভাবে বলতে গেলে বাংলাদেশের কোনো এক অঞ্চলের উপভাষ মনে করা যায় না। একে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রাচীন বঙ্গ-কাম- রূপী ভাষ৷ বলাই সঙ্গত" ব'লে তিনি মনে করেছেন।

 • আমরা ডঃ শহীদল্লাহ্‌র সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। একটি কথা মনে রাখতে হবে যে, কেবল শব্দ বিচার করে এই ভাষাকে কোনো একটি বিশেষ অঞ্চলের উপভাষা স্থির করতে গেলে ভ্রান্তির সম্ভাবনা খুবই বেশী। 

উৎস: 'চর্যাগীতিকা' সম্পাদনায় মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনোয়ার পাশা। 

৫১১.
অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ কে রচনা করেন?
  1. ক) শান্তি পা 
  2. খ) সরহ পা
  3. গ) ভাদ্র পা
  4. ঘ) কুক্করী পা 
সঠিক উত্তর:
খ) সরহ পা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সরহ পা
ব্যাখ্যা
সরহ পা অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেন।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ। তাঁর জন্মস্থান রাজ্ঞীদেশ সম্ভবত উওরবঙ্গ-কামরূপ।
- কামরুপের রাজা রত্নপাল ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- তিনি এগার শতকের প্রথমার্ধে জীবিত ছিলেন।
- তাঁর পদাবলীর ভাষা বঙ্গ- কামরুপী।
- তিনি ছিলেন ভিক্ষু ও সিদ্ধা এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা।

অন্যদিকে,
- শান্তি পাদ বিক্রম শিলা বিহারের দ্বার পণ্ডিত ছিলেন।
- দীপঙ্কর শ্রী জ্ঞান আতীশ তাঁর শিষ্য।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, কুক্করী পা বাংলাদেশের লোক। তিনি ইন্দ্রভূতির অন্যতম গুরু।
- তিনি আট শতকের প্রথম পাদে বর্তমান ছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম।
৫১২.
চর্যাপদকে কোন ধর্মের সাধনাসংগীত মনে করা হয়?
  1. ক) ব্রাহ্মধর্ম
  2. খ) হিন্দুধর্ম
  3. গ) বৌদ্ধধর্ম
  4. ঘ) খ্রিষ্টানধর্ম
সঠিক উত্তর:
গ) বৌদ্ধধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বৌদ্ধধর্ম
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ মূলত মহাজ্ঞান ধর্মশাখার অন্তর্গত সহজযান ধর্মশাখার সাধনাসংগীত। চর্যাপদ বৌদ্ধধর্মের ভাবনার অনুসারী হলেও এটা স্পষ্ট যে তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মই এখানে প্রাধান্য লাভ করেছে।

৫১৩.
চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. তন্ত্রীপা
  2. আর্যদেবপা
  3. চাটিল্লপা
  4. ঢগুরীপা
সঠিক উত্তর:
ঢগুরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢগুরীপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন - ঢগুরীপা।

⇒ চর্যাপদ:

- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)।
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

⇒ চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিদের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

এরা হলেন-
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫১৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদে মোট কতটি পদ পাওয়া গেছে? 
  1. সাড়ে ৪৭টি
  2. সাড়ে ৪৪টি
  3. সাড়ে ৪৬টি
  4. সাড়ে ৪৮টি
সঠিক উত্তর:
সাড়ে ৪৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাড়ে ৪৬টি
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদে মোট - সাড়ে ৪৬টি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।

-----------------
• 'চর্যাপদ' সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
• চর্যাপদে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদে ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা - কাহ্নপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (১৩টি)।
- চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা - ভুসুকুপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (৮টি)।
- চর্যাপদের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা - সরহপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (৪টি)।
- চর্যাপদের চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা - কুক্কুরীপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (৩টি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৫১৫.
চর্যাপদ কী?
  1. দেবী বন্দনা
  2. উপন্যাস সমগ্র
  3. গানের সংকলন
  4. প্রবন্ধ সংকলন
সঠিক উত্তর:
গানের সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গানের সংকলন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫১৬.
কীর্তিচন্দ্রের তিব্বতি অনুবাদের নাম কী?
  1. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
  2. আশ্চর্যচর্যাচয়
  3. চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
  4. চর্যাগীতি
সঠিক উত্তর:
চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
ব্যাখ্যা
• চর্যার তিব্বতি অনুবাদ:
- কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

- ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'। নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন। সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫১৭.
চর্যাপদের ভাষাকে 'সন্ধ্যা ভাষা' বলেছেন কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যা ভাষা বলেছেন - হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

• সন্ধ্যাভাষা:
- চর্যাপদের ভাষাকে কেউ কেউ সন্ধ্যাভাষা বা সন্ধাভাষা বলেছেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।'
- এ কারণে চর্যার ভাষা সন্ধ্যাভাষা।

অন্যদিকে,
• ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন - ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
• ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত - ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
• ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন - বিজয়চন্দ্র মজুমদার। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫১৮.
'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল'- পদটির রচয়িতা কোন পদকর্তা?
  1. লুইপা
  2. ভুসুকুপা
  3. কাহ্নপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
লুইপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা
লুইপা:
- তিনি প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি ছিলেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- 'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল''- পদটির রচয়িতা- 'লুইপা'। 
- এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন।
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।

• এই পদের প্রথম দুইটি চরণ -
কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা কাহ্নাপা তিনি মোট ১৩ টি পদ রচনা করেন। তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা হচ্ছেন ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫১৯.
প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের-
  1.  ২৩নং পদটি খণ্ডিত পদটি আবিষ্কার করেন
  2. তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন
  3. তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেছেন
  4. মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলে
সঠিক উত্তর:
তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
• ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
• চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 
 
• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
• এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি। 

• চর্যাপদের টীকা ও অনুবাদ:
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের পুথিটি যে রুপে পাওয়া যা তাতে বোঝা যায় এটি বিভিন্ন সময়ে আবর্তিত বিভিন্ন কবির রচিত কবিতার সমষ্টি সংকলন।
- কবিতাগুলোর বক্তব্য ও প্রকাশভঙ্গিতে যে দুর্বোধ্যতা ছিলো তা দূর করার জন্য মুনিদত্ত পদগুলোকে একত্রিত করে সংস্কৃত ভাষায় পদগুলোর সহজবোধ্য টিকা রচনা করেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর আবিষ্কৃত পুঁথিতে মূল চর্যাপদ ও মুনিদত্তের সংস্কৃত টিকা যুক্ত আছে।
- ড. প্রবোধচন্দ্র এর তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- তিব্বতি ভাষায় চর্যাপদের অনুবাদ করেছেন কীর্তিচন্দ্র।
- কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫২০.
চর্যাকাররা কোন ধর্মমতে দীক্ষিত ও সিদ্ধাচার্য নামে পরিচিত ছিলেন?
  1. সহজযান ধর্মমতে
  2. হিন্দু
  3. মুসলিম
  4. খ্রিষ্টান
সঠিক উত্তর:
সহজযান ধর্মমতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহজযান ধর্মমতে
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়। তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়। তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- তেইশজন পদকর্তার ৪৭টি পদ আছে।
- চর্যার কবিদের কাল খ্রিস্টীয় নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে ধরা হয়। অবশ্য মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতে চর্যার কোনো কোনো পদকর্তার আবির্ভাবকাল সপ্তম অথবা অষ্টম শতক। চর্যাকাররা সহজযান ধর্মমতে দীক্ষিত ও সিদ্ধাচার্য নামে পরিচিত ছিলেন।
- তান্ত্রিক যোগসাধনা তাঁদের ধর্মমতের বৈশিষ্ট্য। চর্যাপদে এ সাধনার কথা হেঁয়ালিপূর্ণ ভাষায় ব্যক্ত হয়েছে। ফলে দেশজ ভাষায় রচিত হলেও চর্যাপদের মূল ভাবের মর্মোদ্ঘাটন দুরূহ ব্যাপার। এ কারণে পন্ডিতগণ এ ভাষাকে ‘আলো-আধারি’ বা সন্ধ্যা ভাষা নামে অভিহিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৫২১.
চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ে কতজন পদকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়?
  1. ক) ২৪ জন
  2. খ) ২৩ জন
  3. গ) ২১ জন
  4. ঘ) ২০ জন
সঠিক উত্তর:
ক) ২৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২৪ জন
ব্যাখ্যা
চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ে ২৪ জন  পদকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়।  
নামের শেষে গৌরব সূচক 'পা'  যোগ করা আছে। 
চর্যাপদের পদকর্তারা হলে: 
- সরহপা,
- শবরপা,
- লুইপা,
- ডোম্বীপা,
- ভুসুকুপা,
 - কাহ্নপা,
- কুক্কুরীপা,
- মীনপা,
- আর্যদেব,
- ঢেণ্ঢনপা
- চাটিলপা 
- দারিকপা
- ধামপা
প্রমুখ 

[উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম]
৫২২.
"সপ্তম শতাব্দীতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।" - এ ধারণাটি কার?
  1. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ার্সন
  2. সুকুমার সেন
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের রচনা কাল:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে, ৬৫০ - ১২০০ সালের মধ্যে রচিত,
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০ - ১২০০ সালের মধ্যে।

অর্থ্যাৎ,
• বাংলা ভাষার উৎপত্তির সময়:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বলেছেন - সপ্তম শতাব্দীতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।
- স্যার জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ার্সন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ অধিকাংশ পণ্ডিত বলেছেন - দশম শতাব্দীতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।
---------------

• চর্যাপদ: 
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৫২৩.
কোনজন চর্যাপদের পদকর্তা?
  1. ভারতচন্দ্র
  2. শবরপা
  3. বিদ্যাপতি
  4. চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবরপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের পদকর্তা - শবরপা
- চর্যাপদে তাঁর পদসংখ্যা - ২টি (২৮, ৫০)।

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।

চর্যাপদে কবির সংখ্যা:
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত 'বুড্ডিস্ট মিস্টিক সঙ্‌স' গ্রন্থে ২৩জন কবির নাম আছে।
- সুকুমার সেন 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (১ম খণ্ড) গ্রন্থে ২৪ জন কবির কথা বলেছেন।
- রাহুল সাংকৃত্যায়ন নেপাল-তিব্বতে প্রাপ্ত তালপাতার পুথিতে আরো কয়েকজন নতুন কবির চর্যাগীতি পেয়ে 'দোহা-কোশ' (১৯৫৭) গ্রন্থে সংযোজন করেছেন।
- সে বিচারে এক কথায় বলা চলে, চর্যাপদের কবির সংখ্যা ২৩, মতান্তরে ২৪।
- কিছু প্রধান কবির নাম: কাহ্নপা, ভুসুকুপা, কুক্কুরীপা, সরহপা, লুইপা, শবরপা, শান্তিপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২৪.
কোন চর্যাকার সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন?
  1. ভুসুকুপা
  2. কাহ্নপা
  3. লুইপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচিয়তা ভুসুকুপা। 
- তিনি আটটি পদ রচনা করেন।
- তিনি ৬, ২১, ২৩, ২৭, ৩০, ৪১, ৪৩, ৪৯ নং পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা তাঁর ছদ্মনাম, প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন।
- সেজন্য ভুক্তির ভু, সুপ্তির সু এবং কুটিরের কু এই তিন আদ্যক্ষর যোগে তাঁকে ভুসুকু বলা হত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২৫.
চর্যাপদের ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রথম আলোচনা করেন কে?
  1. ক) ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. খ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
  4. ঘ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
খ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘Origin and Development of Bengali Language (ODBL)' নামক বিখ্যাত গ্রন্থে ১৯২৬ সালে চর্যাপদের ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রথম আলোচনা করেন। 
- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেন। 
- ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৫২৬.
চর্যাপদে বর্ণিত ডোম, চণ্ডাল, শবররা কোথায় বাস করত?
  1. নগরের কেন্দ্রে
  2. রাজপ্রাসাদের আশেপাশে
  3. নগরের বাইরে পাহাড়ে বা টিলায়
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নগরের বাইরে পাহাড়ে বা টিলায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নগরের বাইরে পাহাড়ে বা টিলায়
ব্যাখ্যা

• 'চর্যাপদ' এর জনগোষ্ঠী ও জীবনচিত্র: 
- ডোম, চণ্ডাল, শবর ইত্যাদি অন্ত্যজ শ্রেণির লোকেরা নগরের বাইরে পাহাড়ে বা টিলায় বাস করত।
- ব্রাহ্মণরা এদের স্পর্শ এড়িয়ে চলতেন এবং নিজেদের সমাজকে নিষ্কলুষ রাখতে সচেষ্ট থাকতেন।

- এ বৈষম্য ও বিভেদের ভাবটি একটি চর্যাগানে অভিব্যক্তি পেয়েছে:
'নগর বাহিরি রে ডোম্বি তোহোরি কুড়িআ।
ছোই ছোই জাসি বাম্‌হণ নাড়িআ ॥' [চর্যা ১০]।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ- ড. মাহবুবুল হক; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম।

৫২৭.
চর্যাপদের উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা কয়টি?
  1. সাড়ে ৫০টি
  2. সাড়ে ৪৫টি
  3. সাড়ে ৪৬টি
  4. সাড়ে ৫১টি
সঠিক উত্তর:
সাড়ে ৪৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাড়ে ৪৬টি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।

- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।

- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫২৮.
চর্যাপদের পঞ্চাশতম পদ রচনা করেন কে?
  1. ডোম্বীপা
  2. লুইপা
  3. কাহ্নপা
  4. শবরপা
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবরপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের পঞ্চাশতম পদ রচনা করেন - শবরপা।
--------------- 
• শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

- শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি -
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, চর্যাগীতিকা- মুহম্মদ আবদুল হাই।
৫২৯.
সংস্কৃত ভাষায় চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন -
  1. কীর্তিচন্দ্র
  2. মুনিদত্ত
  3. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
মুনিদত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনিদত্ত
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম শাখা কাব্য। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন। 'চর্যাপদ' বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। যা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' শিরোনামে প্রকাশ করে।
- চর্যাপদে মোট পদ সংখ্যা সাড়ে ৪৬টি। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৩০.
চর্যাপদ কারা রচনা করেন?
  1. তান্ত্রিক জৈন সাধকগণ
  2. আর্য কবিগণ
  3. বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
  4. বৈষ্ণব সাধকগণ
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩১.
চর্যাপদের কবি কারা?
  1. চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতি, জ্ঞানদাস
  2. লুইপা, ভুসুকুপা, শবরপা
  3. কৃত্তিবাস, কাশীরাম, আলাওল
  4. বিজয়গুপ্ত, মালাধর বসু, বিজমাধব
সঠিক উত্তর:
লুইপা, ভুসুকুপা, শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা, ভুসুকুপা, শবরপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। 
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদের পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্যাভাষায় রচিত।
- চর্যাপদ গ্রন্থে সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া।
৫৩২.
কুক্কুরীপা চর্যাপদের কয়টি পদ রচনা করেন?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা
চর্যাপদে কুক্কুরীপার ২ নং ও ২০ নং পদ পাওয়া যায়। মনে করা হয়, খোঁজ না পাওয়া ৪৮ নং পদটিও তাঁর রচনা। সে হিসেবে তিনটি পদ রচনা করেন কুক্কুরীপা। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩৩.
কোন রাজবংশের আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়?
  1. পাল
  2. সেন
  3. তুর্কি
  4. মোগল
সঠিক উত্তর:
পাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
-  ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে  বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি  সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- এতে তেইশজন/চব্বিশ পদকর্তার ৫০টি মতান্তরে ৫১টি পদ আছে।
- পাল আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৩৪.
১৮৮২ সালে নেপালের বৌদ্ধ তান্ত্রিক সাহিত্যের পরিচয় প্রথম প্রকাশ করেন- 
  1. রাজকীয় নেপাল লাইব্রেরি
  2. মুনিদত্ত
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র
সঠিক উত্তর:
রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র
ব্যাখ্যা

- ১৮৮২ সালে নেপালের বৌদ্ধ তান্ত্রিক সাহিত্যের পরিচয় প্রথম প্রকাশ করেন- রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র।

নেপালের বৌদ্ধ তান্ত্রিক সাহিত্য:
- ১৮৮২ সালে প্রকাশিত Sanskrit Buddhist Literature in Nepal গ্রন্থে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র সর্বপ্রথম নেপালের বৌদ্ধ তান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন।
- এরপর রাজেন্দ্রলালের আমন্ত্রণে নেপালে পুঁথি সংগ্রহের জন্য যান হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৮৯৭ ও ১৮৯৮ সালেও নেপালে গিয়েছিলেন পুঁথি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে।
- কিন্তু ১৯০৭ সালে তিনি পুঁথি সংগ্রহের জন্য নেপালে গিয়ে এই ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ নামে এই পুঁথিটি খুঁজে পান, যা বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শনগুলির মধ্যে অন্যতম।
---------------------------
অন্যদিকে,
• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের আবিষ্কারক ও সম্পাদক ছিলেন।
- এটি ১৯১৬ সালে তাঁর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশিত গ্রন্থটির নাম ছিল — ‘হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’।

• চর্যাপদের পদগুলো টীকার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন — মুনিদত্ত।

• ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে ‘চর্যাপদ’ আবিষ্কার করেন। 
----------------------------------

চর্যাপদ:
-  চর্যাপদ মানে হলো প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের লিখিত প্রথম নিদর্শন।
- এটি বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের দ্বারা রচিত এক প্রকার সাধনমূলক গীতিকবিতা।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আদি ও শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হলো চর্যাপদ।
- এটি গানের সংকলন এবং একে সাধন-সংগীতও বলা হয়।
- চর্যাপদ মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত এবং একে চর্চাগীতিকোষ বলা হয়।
- পাল শাসন আমলে এটি রচিত হয়।
- চর্যাপদকে বলা হয় সহজিয়া বা বৌদ্ধ ধর্ম অবলম্বনকারীদের সাহিত্য।
- এর ভাষা রীতি হলো কথ্য ভাষারীতি।
- ড. সুনীতিকুমারের মতে চর্যাপদের ভাষা পশ্চিম বঙ্গের উপভাষা।
- এবং ড. শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের ভাষা প্রাচীন বঙ্গকামরূপী অথবা প্রাচীন বাংলা ভাষা।
- চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যাভাষা ও বলা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস — মাহবুবুল আলম।

৫৩৫.
চর্যাপদের সাথেই আবিষ্কৃত হয় কোনটি ?
  1. ক) ডাকার্ণব
  2. খ) বৈষ্ণব পদাবলী
  3. গ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. ঘ) খনার বচন
সঠিক উত্তর:
ক) ডাকার্ণব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ডাকার্ণব
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ   বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে সেসব পদ ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে)  চর্যাচর্যবিনশ্চয়, সরহপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডাকার্ণব- এ চারটি পুঁথি একত্রে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে প্রকাশিত হয়। 
- এগুলোর মধ্যে একমাত্র চর্যাচর্যবিনশ্চয়ই প্রাচীন বাংলা ভাষায় রচিত।
- বাকি তিনটি বাংলায় নয় অপভ্রংশ ভাষায় রচিত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৫৩৬.
চর্যাপদের ২৫নং পদটি রচনা করেন কে?
  1. কাহ্নপা
  2. তন্ত্রীপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর:
তন্ত্রীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তন্ত্রীপা
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
• চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 

• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নাপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায় নি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩৭.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যার আদি পদকর্তা হিসেবে কার নাম উল্লেখ করেছেন?
  1. লুইপা
  2. শবরপা
  3. সরহপা
  4. দারিকপা
  5. কাহ্নপা
সঠিক উত্তর:
লুইপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা
• চর্যার আদি পদকর্তা বিষয়ক আলোচনা:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আদি পদকর্তা হিসেবে লুইপার নাম উল্লেখ করেছেন। চর্যাপদের প্রথম চর্যাটি লুইপার। এতে মনে হতে পারে চর্যাগীতিকাগুলির সংগ্রাহক লুইয়ের প্রাচীনত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন।

সুকুমার সেন মনে করেন- লুই অভিসময়ের বই লিখেছিলেন। আর কোন চর্যাকর্তা বা বৌদ্ধ তান্ত্রিক সিদ্ধাচার্য বিশুদ্ধ বৌদ্ধ দর্শনের বই লিখেননি। এখানেও লুইয়ের প্রাচীনত্বের প্রমাণ।

লুইপার প্রাচীনত্ব সম্পর্কে কেউই সন্দেহ প্রকাশ করেন না। তবে অন্যবিধ প্রমাণের সাহাযো- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, দেখিয়েছেন শবরপা ছিলেন লুইপার গুরু, এবং কিঞ্চিৎ পূর্ববর্তী। তাই শবরপাকেই প্রথম রচয়িতা মনে করা যেতে পারে। তারপরই অবশ্য লুইপা।

উৎস: ‘চর্যাগীতিকা’ মুহম্মদ আবদুল হাই।
৫৩৮.
সংস্কৃত ভাষায় চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  3. কীর্তিচন্দ্র
  4. মুনিদত্ত
সঠিক উত্তর:
মুনিদত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনিদত্ত
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম গ্রন্থ চর্যাপদ।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' শিরোনামে প্রকাশ করে।
- চর্যাপদে মোট পদ সংখ্যা সাড়ে ৪৬টি। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম।

৫৩৯.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় কত সালে চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত বলে স্বীকৃতি দেন?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯২৭ সালে
  4. ১৯৪৬ সালে
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
১৯২৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৬ সালে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।

• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৪০.
সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' গ্রন্থে মুনিদত্ত চর্যার কয়টি পদের ব্যাখ্যা করেছিলেন বলে উল্লেখ্য আছে?
  1. ৫১টি
  2. ৫০টি
  3. ৪৯টি
  4. ৪৬টি
সঠিক উত্তর:
৫০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০টি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে। আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৪১.
চর্যাপদ রচনাটি বাংলা সাহিত্যের কোন যুগের কাব্য নিদর্শন?
  1. ক) আদিযুগ
  2. খ) মধ্যযুগ
  3. গ) আধুনিক যুগ
  4. ঘ) অতি আধুনিক
সঠিক উত্তর:
ক) আদিযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আদিযুগ
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন/আদি যুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাপদ
- চর্যাপদ হচ্ছে গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদ রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। সহজিয়াগণ হচেছ বৌদ্ধ সহজযান পন্থি।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা নিয়ে মতাবিরোধ আছে। সুকুমার সেনের হিসাবে ৫১টি পদ এবং মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ বলেছেন ৫০টি পদ। চর্যাপদ ছিন্নবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় এই মতান্তরের সৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪২.
চর্যাপদে কোন ধর্মমতের কথা আছে?
  1. বৈষ্ণব
  2. বৌদ্ধধর্ম
  3. জৈনধর্ম
  4. হিন্দু
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধধর্ম
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপডিয়া।
৫৪৩.
চর্যাপদের ৪৮ নং পদের রচয়িতা কে?
  1. ক) কুক্কুরীপা
  2. খ) তন্ত্রীপা
  3. গ) কাহ্নপা
  4. ঘ) ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
ক) কুক্কুরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের ২৩ আংশিক, ২৪, ২৫ ও ৪৮ নং পদ পাওয়া যায় নি। ২৩ নং পদের রচয়িতা ভুসুকুপা। ২৪ নং পদের রচয়িতা কাহ্নপা। ২৫ নং পদের রচয়িতা তন্ত্রীপা এবং ৪৮ নং পদের রচয়িতা কুক্কুরীপা। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
৫৪৪.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর প্রাপ্ত সংস্কৃত শ্লোক থেকে চর্যার কোন নামের ইঙ্গিত পাওয়া যায়?
  1. চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
  2. চর্যাগীতিকোষ
  3. চর্যাগীতিকা
  4. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
সঠিক উত্তর:
চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামেও পরিচিত হয়। তবে সংক্ষেপে এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হওয়ার পর এর বিষয়, ভাষা ও কাল সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা হয়। এতে তেইশজন পদকর্তার ৪৭টি পদ আছে। চর্যার কবিদের কাল খ্রিস্টীয় নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে ধরা হয়। অবশ্য মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে চর্যার কোনো কোনো পদকর্তার আবির্ভাবকাল সপ্তম অথবা অষ্টম শতক।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন। আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- চর্যাকাররা সহজযান ধর্মমতে দীক্ষিত ও সিদ্ধাচার্য নামে পরিচিত ছিলেন। তান্ত্রিক যোগসাধনা তাঁদের ধর্মমতের বৈশিষ্ট্য।

অন্যদিকে, 
- কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪৫.
‘খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না’ - চর্যাপদের ভাষা সম্পর্কে এই মন্তব্যটি কার?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. ড. সুকুমার সেন
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।'
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন। ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫৪৬.
'কাআ তরুবর পঞ্চ বি ডাল'____ এখানে 'ডাল' শব্দটি কোন বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. গাছের শাখা
  2. বংশ
  3. ইন্দ্রিয়
  4. মৃত্যু
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্রিয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্রিয়
ব্যাখ্যা
• কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।- পদটির রচয়িতা 'লুইপা'।
- এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
 
• পদটির আধুনিক বাংলায় রূপান্তর এরকম - 
''কায়া তরুর মত, পাঁচটি তার ডাল
চঞ্চল চিত্তে কাল প্রবেশ করেছে।।''

অন্তর্নিহিত ভাব :
শরীরের পাঁচ ইন্দ্ৰিয় পাঁচটি ডাল স্বরূপ। এই পঞ্চেন্দ্রিয় দ্বারা বাইরের বস্তুজগতের সঙ্গে মানুষের নিত্য জানাশোনার পালা চলেছে-জানাশোন যতোই বাড়ে ততই বেশী করে প্রীতির সঞ্চার হয় এবং বস্তুজগৎকেই চরম ও পরম জ্ঞান করে মানুষের তার প্রতি আকৃষ্ট হয়। কিন্তু বস্তুজগতের মায়ামোহ-বন্ধন মানুষের জন্য ধ্বংসের পথ। বাঁচার পথ দেখাতে পারেন গুর।

সুতরাং,
অন্তর্নিহিত ভাব অনুসারে
''কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।''- এখানে 'ডাল' শব্দটি দ্বারা ইন্দ্রিয় বোঝানো হয়েছে।

• 'লুইপা' সম্পর্কিত তথ্য: 
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- মুহম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইফা জীবিত ছিলেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইফা রাঢ় অঞ্চলের লোক।
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯নং পদ রচনা করেন। 
---------------------- 
• 'চর্যাপদ' সম্পর্কিত তথ্য: 
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা কাহ্নাপা তিনি মোট ১৩টি পদ রচনা করেন। তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা হচ্ছেন ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, চর্যাগীতিকা- মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনোয়ার পাশা।
৫৪৭.
চর্যাপদের মহিলা কবি হিসেবে ধারণা করা হয় - 
  1. বীণাপা কে
  2. কুক্কুরীপা কে
  3. ধর্মপা কে
  4. বিরুপা কে
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা কে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা কে
ব্যাখ্যা
কুক্কুরীপা:
- ড. সুকুমার সেন মনে করেন, কুক্কুরীপার ভাষার সঙ্গে নারীদের ভাষার মিল আছে।
- তাই কুক্কুরীপাকে চর্যাপদের মহিলা কবি হিসেবে অনুমান/ধারণা করা হয়।
- কুক্কুরীপা ৩টি পদ রচনা করেন।
- ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
- পদ গুলো হচ্ছে, ২ ও ২০ নং পদ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪৮.
চর্যাপদ নেপালের রাজদরবার থেকে কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৯০০ সালে
  2. ১৯০৭ সালে
  3. ১৯০৫ সালে
  4. ১৯১১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯০৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৭ সালে
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৪৯.
শবরপা কোন সময়ের কবি ছিলেন?
  1. ক) ৬৫০-৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. খ) ৬৮০-৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. গ) ৬৭০-৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ঘ) ৬৮০-৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
খ) ৬৮০-৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৬৮০-৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ থেকে ৭৬০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে।
- সেই সূত্রে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর মতে, শবরপা চর্যার কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন। 
• মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে তিনি 'বাংলা দেশে'র লোক ।  
- তিনি সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে মোট ১৬টি গ্রন্থ লিখেছেন।

• শবরপা রচিত দুটি উল্লেখযোগ্য পঙ্‌ক্তি হলো– উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী। মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সরবী গীবত গুঞ্জরী মালী ॥ (পদ : ২৮)
(অর্থাৎ উঁচু পর্বতে শবরী বালিকা বাস করে। তার পরিধানে ময়ূরের পুচ্ছ, গলায় গুঞ্জার মালা।)

- শহীদুল্লাহ্ শবরপাকে লুইপার গুরু বলে উল্লেখ করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫০.
চর্যাপদের শেষ পদটির রচয়িতা কে?
  1. ক) লুইপা
  2. খ) শরবপা
  3. গ) শবরপা
  4. ঘ) শরহপা
সঠিক উত্তর:
গ) শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শবরপা
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, চর্যাপদের সর্বশেষ পদের রচয়িতা শবরপা (৫০ নং পদ)। লুইপা চর্যাপদের প্রথম পদটির রচয়িতা। শবরপা ছিলেন লুইপার গুরু।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৫৫১.
চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে ভুসুকুপা কততম?
  1. প্রথম
  2. তৃতীয়
  3. দ্বিতীয়
  4. চতুর্থ
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয়
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৫২.
কার মতে চর্যাপদের রচনাকাল ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে?
  1. গোপাল হালদার
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. সুকুমার সেন
  4. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে চর্যাপদের রচনাকাল ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে।

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।

চর্যাপদের রচনাকাল:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে পদগুলো রচিত।
- সুকুমার সেন সহ বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব পণ্ডিতই সুনীতিকুমারকে সমর্থন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫৩.
প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন কত শতাব্দীতে?
  1. বিংশ শতাব্দী
  2. অষ্টাদশ শতাব্দী
  3. ঊনবিংশ শতাব্দী
  4. সপ্তদশ শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
বিংশ শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিংশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
 
সালের ভিত্তিতে শতাব্দী হলো:
• ১৯০১-২০০০ সাল পর্যন্ত সময় হচ্ছে বিংশ শতাব্দী।
• ১৮০১-১৯০০ সাল পর্যন্ত সময়কে ঊনবিংশ শতাব্দী বলে।
• ১৭০১-১৮০০ সাল পর্যন্ত সময়কে অষ্টাদশ শতাব্দী বলে।
• ১৬০১-১৭০০ সাল পর্যন্ত সময়কে সপ্তদশ শতাব্দী বলে।
 
• অতএব, ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কতৃক চর্যাপদ উদ্ধারের এবং প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কারের সময়কাল হচ্ছে বিংশ শতাব্দী। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৫৪.
‘দোহাকোষ’ প্রকাশ করেন-
  1. রামাই পণ্ডিত
  2. হলায়ুধ মিশ্র
  3. বসন্তরঞ্জন রায়
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 'চর্যাপদ'কে দোহাকোষ নামে প্রকাশ করেন। চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

অন্যদিকে,
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ হচ্ছে অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- রামাই পণ্ডিত রচিত শূন্যপুরাণ’ হচ্ছে অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৫৫.
বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ কোন ধারার সাহিত্য?
  1. ক) গল্প
  2. খ) পুঁথি
  3. গ) গান
  4. ঘ) দিনপঞ্জি
সঠিক উত্তর:
গ) গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গান
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় সাড়ে ৪৬টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে  বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি  সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৫৬.
চর্যাগীতিকাগুলোর বিকাশ ঘটেছিল কোন রাজ বংশের আমলে?
  1. বর্মণ
  2. পাল 
  3. সেন 
  4. গুপ্ত 
সঠিক উত্তর:
পাল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ ও রাজ বংশ:
বাংলার পাল বংশের রাজারা বৌদ্ধ ছিলেন। তাঁদের আমলে চর্যাগীতিকাগুলোর বিকাশ ঘটেছিল। পাল বংশের পরে বাংলাদেশে সেন, বর্মণ রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতার পৌরাণিক হিন্দুধর্ম ও ব্রাহ্মণ্যসংস্কার রাজধর্ম হিসেবে গৃহীত হয় এবং দেশি ভাষা বাংলার স্বয়ংকৃত ভাষা প্রাধান্য লাভ করে।
পাল রাজাদের উদারপন্থী বৌদ্ধ মতবাদের পরিবর্তে সেন রাজাদের ব্রাহ্মণ্য ধর্মমতের প্রাধান্যের ফলে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যেরা এদেশ থেকে বিতাড়িত হয়। সেন রাজাদের প্রতাপের জন্যই বাংলাদেশের বাইরে গিয়ে তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হয়েছিল। তাই বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন বাংলাদেশের বাইরে নেপালে পাওয়া গেছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৫৫৭.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা কোন অঞ্চলের লোক ছিলেন?
  1. কামরূপ
  2. গৌড়
  3. রাঢ়
  4. মিথিলা
সঠিক উত্তর:
রাঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঢ়
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ ও লুইপা:
- চর্যাপদ মানে হলো প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের লিখিত প্রথম নিদর্শন। 
- এটি বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের দ্বারা রচিত এক প্রকার সাধনমূলক গীতিকবিতা।
- এর ভাষা রীতি হলো কথ্য ভাষারীতি।
- ড. সুনীতিকুমারের মতে চর্যাপদের ভাষা পশ্চিম বঙ্গের উপভাষা।
- এবং ড. শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের ভাষা প্রাচীন বঙ্গকামরূপী অথবা প্রাচীন বাংলা ভাষা।
- চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যাভাষা ও বলা হয়।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।


- চর্যাপদের প্রথম পদ রচয়িতা লুইপা।
- অনেক পণ্ডিত লুইপাকেই প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন।
- তাঁর জীবিতকাল ছিল ৭৩০–৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে।
- সে সময় বিহার রাজ্যের ধর্মপালের রাজত্বকাল চলছিল।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী লুইপাকে চর্যাপদর প্রাথমিক কবি হিসেবে অভিহিত করেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, তিনি ছিলেন রাঢ় অঞ্চলের লোক।
- চর্যার ১ম ও ২৯তম পদ তাঁর রচিত বলে মনে করা হয়।
- এছাড়া তার ৫টি সংস্কৃত গ্রন্থের নাম পাওয়া যায়।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস – মাহবুবুল আলম; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর। 

৫৫৮.
চর্যাপদের যে পদকর্তা কৃষ্ণাচার্য নামে পরিচিত ছিলেন-
  1. চাটিল
  2. ভুসুকুপা
  3. কাহ্নপা
  4. মহিজ্ঞ
  5. বিরুআ
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• কাহ্নপা- কৃষ্ণাচার্য নামে পরিচিত ছিলেন।

• কাহ্নপা:
- চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন- কাহ্নপা।
- তিনি ছিলেন শজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- কাহ্নপা ১৩ টি পদ রচনা করেন।  
- কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- চর্যাপদে তাঁর কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণাচার্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নাম পাওয়া যায়।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫৯.
চর্যাপদের ভাষাতাত্ত্বিক প্রমান পাওয়া যায় কোন গ্রন্থে?
  1. ক) Buddhist Mystic Songs
  2. খ) Sanskrit Buddhist Literature in Nepal
  3. গ) হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা
  4. ঘ) Origin and Development of Bengali Language
সঠিক উত্তর:
ঘ) Origin and Development of Bengali Language
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Origin and Development of Bengali Language
ব্যাখ্যা
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘Origin and Development of Bengali Language’ (ODBL)  নামক বিখ্যাত গ্রন্থে চর্যাপদের ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রথম আলোচনা করেন। 
- তিনি তাঁর Origin and Development of Bengali Language’ (ODBL)  গ্রন্থে বিস্তারিত ভাবে ধ্বনিতত্ত্ব ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার করে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে চর্যার পদসংকলনটি আদিতম বাংলা ভাষায় রচিত।
- এটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তাঁর খ্যাতি দেশবিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ‘ভাষাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

- চর্যাপদ সম্পর্কিত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত গ্রন্থের নাম - Buddhist Mystic Songs।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত গ্রন্থ- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা গ্রন্থে চর্যাপদের পরিচয় পাওয়া যায়।
- ১৮৮২ সালে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র তাঁর ‘Sanskrit Buddhist Literature in Nepal’ গ্রন্থে নেপালে বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৫৬০.
চর্যাপদের ভাষা যে বাংলা তা কে প্রমাণ করেন কে?
  1. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  2. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  3. শশিভূষণ দাশগুপ্ত
  4. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদের ভাষা যে বাংলা তা কে প্রমাণ করেন: ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় চর্যাপদের ভাষাতাত্ত্বিক ও ছন্দগত আলোচনা করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ।
- তিনি Origin and Development of the Bengali Language গ্রন্থে প্রমাণ করেন।
- গ্রন্থটি সংক্ষেপে ODBL নামে পরিচিত। এটি ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- চর্যাগীতির বৈয়াকরণ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে দেখালেন চর্যাপদ ‘বাংলা নিশ্চয়ই, বাংলার প্রায় মূর্তি
অবহটঠের সদ্যোনির্মোক মুক্ত রূপ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৬১.
'The Origin and Development of the Bengali Language' গ্রন্থে চর্যাপদের ভাষা বিশ্লেষণ করেন কে?
  1. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  4. ড. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
- ১৯২৬ সালে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'The Origin and Development of the Bengali Language' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।
- ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
- ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
- বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৬২.
চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের কোন ধরনের নিদর্শন?
  1. প্রাচীন নাটক
  2. প্রাচীন উপন্যাস
  3. গানের সংকলন
  4. ইতিহাসগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গানের সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গানের সংকলন
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৬৩.
কার মতে প্রাচীন যুগের সময়সীমা ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. সুকুমার সেন
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. দীনেশ্চন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
- বাংলার শ্রেষ্ঠ ভাষাতাত্ত্বিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে -
- প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
- মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
- আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

- দীনেশ্চন্দ্র সেন, সুকুমার সেন, গোপাল হালদার, মুহম্মদ এনামুল হক প্রমুখের যুগ-সম্পর্কিত অভিমত উল্লিখিত যুগবিভাগকে সমর্থন করে।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মধ্য ও আধুনিক যুগের এই সময় মেনে নিলেও, তাঁর মতে, প্রাচীন যুগের সময়সীমা - ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ।

• যুগের এই তিনটি ভাগের মধ্যে আবার ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে অন্ধকার যুগ বলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬৪.
'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯০৩ সালে
  2. ১৯০৭ সালে
  3. ১৯০৯ সালে
  4. ১৯১৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' শিরোনামে প্রকাশ করে।

• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়,
- সরোজবজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণচার্য পাদের দোহাকোষ, 
- ডাকার্ণব। 

• এগুলোর মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় পুঁথিটি বাংলা, অন্য তিনটি বাংলা নয়, অপভ্রংশে রচিত। 
• তবে চর্যাপদের মতই সেগুলোর সংস্কৃত টিকা সংযোজিত আছে। 
• চারটি গ্রন্থ একত্রে ১৯১৬ সালে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫৬৫.
চর্যাপদ কোন ছন্দে লেখা ?
  1. অক্ষরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. স্বরবৃত্ত
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রপথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৬৬.
চর্যাপদের কোন কবিকে বাঙালি বলে মনে করা হয়?
  1. ক) আর্যদেবপা
  2. খ) তাড়কপা
  3. গ) লুইপা
  4. ঘ) ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের পদ কর্তারা হলেন বৌদ্ধ সহজিয়া সম্প্রদায়ের।  
- পদকর্তারা একত্রে বসে এই চর্যা সমূহ রচনা করেননি।
- এই পদকর্তারা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করতেন , কেউ কেউ আজকের বাংলাদেশেও ছিলেন।  
- ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চর্যাপদের কবি ভুসুকুপাকে বাংলাদেশের মানুষ বলে মনে করেন।
-  ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- ভুসুকুপা রচিত উল্লেখযোগ্য পংক্তি  'অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬৭.
চর্যাপদের ভাষাকে কী বলা হয়?
  1. সংস্কৃত
  2. প্রাকৃত
  3. সন্ধ্যাভাষা
  4. ব্রজবুলি
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যাভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যাভাষা
ব্যাখ্যা
• সন্ধ্যাভাষা:
- চর্যাপদের ভাষাকে কেউ কেউ সন্ধ্যাভাষা বা সন্ধাভাষা বলেছেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।' এ কারণে চর্যার ভাষা সন্ধ্যাভাষা।

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৬৮.
চর্যাপদের ভাষাকে ‘সান্ধ্য ভাষা’ বলেছেন কে? 
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ–এ সান্ধ্যভাষা (বা সন্ধ্যা ভাষা) ব্যবহৃত হয়েছে। 
- চর্যাপদের প্রথম আবিষ্কারক হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের ভাষাকে সান্ধ্য ভাষা বলেছেন। 
------------------------
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম সাহিত্যিক নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত।
-  চর্যাপদ মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের সাধনা–ভজনমূলক গান।
- এটি যে ভাষায় রচিত, তাকে সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষা বলা হয়।
- কারণ এই ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট; তাই একে ‘আলো–আঁধারি ভাষা’ও বলা হয়।
- এই ভাষা ইচ্ছাকৃতভাবে রহস্যময় ও দ্ব্যর্থক, যাতে বাহ্যিক অর্থের আড়ালে গূঢ় সাধনাতত্ত্ব প্রকাশ পায়।

- চর্যাপদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই তর্ক চলে আসছে।
- কারণ হিন্দি, ওড়িয়া ও অসমিয়া ভাষার গবেষকরাও একে তাঁদের ভাষার প্রাচীন নিদর্শন বলে দাবি করেছেন।
- তবে শব্দের ব্যুৎপত্তি, ব্যাকরণ, ধ্বনিগত বৈশিষ্ট্য ও ভাষাবিবর্তনের ধারাবাহিক বিশ্লেষণে দেখা যায়—অন্য ভাষার তুলনায় চর্যাপদের সঙ্গে বাংলা ভাষার সাদৃশ্যই সবচেয়ে বেশি।

- বিজয়চন্দ্র মজুমদারের মতে চর্যাপদের ভাষায় বাংলা, ওড়িয়া ও মৈথিলী ভাষার প্রভাব থাকলেও তা মূলত হিন্দি ভাষা।
- ভাষাতাত্ত্বিক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ব্যাকরণ ও ক্রিয়াপদের রূপ বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন যে চর্যাপদের ভাষা না মৈথিলী, না হিন্দি, না ওড়িয়া, না অসমিয়া—বরং এটি প্রাচীন বাংলা। 
- একই সিদ্ধান্তে উপনীত হন ভাষাবিজ্ঞানী সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
- তিনি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চর্যাপদের ধ্বনি, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিশ্লেষণ করে একে বাংলা ভাষার সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
- গবেষক রাহুল সাংকৃত্যায়ন ভিন্ন মত দিলেও, অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী শহীদুল্লাহ ও সুনীতিকুমারের সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করেছেন। 

- ছন্দের দিক থেকে চর্যাপদের পদগুলো আধুনিক বিচারে মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অন্তর্ভুক্ত বলে ধরা হয়। 
- বিষয়বস্তু ও তত্ত্বগত বিশ্লেষণে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. সুকুমার সেন ও ড. শশীভূষণ দাশগুপ্তসহ বহু গবেষক একমত যে চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস — মাহবুবুল আলম; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৫৬৯.
নিচের কোন জন চর্যাপদের কবি নন?
  1. ক) ভুসুকুপা
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) কুক্কুরীপা
  4. ঘ) লাড়ীডোম্বীপা
সঠিক উত্তর:
খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ। ভুসুকুপা, কুক্কুরীপা ও লাড়ীডোম্বীপা চর্যাপদের কবি কিন্তু হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের কবি নন তিনি চর্যাপদ সম্পাদনা করেন।
৫৭০.
বাংলা সাহিত্যের (চর্যাপদের) আদি কবি কে?
  1. কাহ্ন পা
  2. চেগুন পা
  3. লুই পা
  4. ভুসুকু পা
সঠিক উত্তর:
লুই পা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুই পা
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদের প্রথম পদটি লুইপার। সে হিসেবে বাংলা সাহিত্যের আদি কবি লুই পা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।