বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনি পরিবর্তন

মোট প্রশ্ন৮৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনি পরিবর্তন

PrepBank · পাতা / · ৫০১৬০০ / ৮৪৬

৫০১.
প্রগত সমীভবনের উদাহরণ কোনটি?
  1. পাকা > পাক্কা
  2. সকাল > সক্কাল
  3. পক্ব > পক্ক
  4. বড় > বড্ড
সঠিক উত্তর:
পক্ব > পক্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পক্ব > পক্ক
ব্যাখ্যা

• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

-----------------------
• দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল,
- বড় > বড্ড,
- কিছু > কিচ্ছু ইত্যাদি।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫০২.
পরাগত সমীভবন সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. উন্মুখ
  2. জন্ম
  3. বড়দা
  4. পদ্দ
সঠিক উত্তর:
উন্মুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উন্মুখ
ব্যাখ্যা
পরাগত সমীভবন:
- পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন-
কাঁদ+না > কান্না,
তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
তৎ + হিত > তদ্ধিত,
উৎ + মুখ > উন্মুখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সমীভবন:
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন - জন্ম > জম্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
চক্র > চক্ক; পক্ব > পক্ক;
পদ্ম > পদ্দ;
লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫০৩.
"প্রীতি > পিরীতি" - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. আদি স্বরাগম
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. স্বরসংগতি
  4. অপনিহিতি
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

• 'প্রীতি > পিরীতি'- মধ্যস্বরাগম, 'বিপ্রকর্ষ' বা স্বরভক্তি এর উদাহরণ।

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি: 
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্যস্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ।
যেমন : গ্রাম > গেরাম।

আরো কয়েকটি উদাহরণ
- রত্ন > রতন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫০৪.
কোনটি ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ?
  1. ছোট > ছোট্ট
  2. ধোবা > ধোপা
  3. বউদিদি > বউদি
  4. ফাল্গুন > ফাগুন
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ধোবা > ধোপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধোবা > ধোপা
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে।

যেমন-
- শাক > শাগ,
- ধোবা > ধোপা,
- কবাট > কপাট,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা। যেমন- সকাল > সক্কাল, পাকা > পাক্কা, মুলুক > মুল্লুক, বড় > বড্ড, ছোট > ছোট্ট, কিছু > কিচ্ছু ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জনচ্যুতি:
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন- বড়দাদা > বড়দা, বউদিদি > বউদি ইত্যাদি।

• অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি। যেমন- ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা, ফাল্গুন > ফাগুন ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৫.
নিচের কোনটি অপিনিহিতি’র উদাহরণ?
  1. গ্লাস > গেলাস
  2. স্কুল> ইস্কুল
  3. চারি > চাইর
  4. সত্য > সত্যি
সঠিক উত্তর:
চারি > চাইর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারি > চাইর
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতি: 
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন: 
- সত্য  > সইত্য,
- আজি > আইজ,
- চারি > চাইর,
- সাধু > সাউধ,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'গ্লাস > গেলাস' - মধ্য স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তন।
- 'স্কুল> ইস্কুল' - আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তন।
- 'সত্য > সত্যি'- এটি একটি অন্ত্যস্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫০৬.
কোনটি দ্বিত্ব ব্যঞ্জন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. পাকা > পাক্কা
  2. পদ্ম > পদ্দ
  3. পক্ব > পক্ক
  4. ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
পাকা > পাক্কা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকা > পাক্কা
ব্যাখ্যা
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দুই বার উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যাঞ্জন বা ব্যাঞ্জনদ্বিত্বা।

যেমন:
- পাকা > পাক্কা;
- সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।

যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫০৭.
কোনটি ‘ব্যঞ্জন বিকৃতি’র উদাহরণ?
  1. লাফ > ফাল
  2. পিশাচ > পিচাশ
  3. শাক > শাগ
  4. সত্য > সত্যি
সঠিক উত্তর:
শাক > শাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাক > শাগ
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে।

যেমন:
- শাক > শাগ,
- ধোবা > ধোপা,
- কবাট > কপাট,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ - লাফ > ফাল, পিশাচ > পিচাশ।
অন্ত্যস্বরাগমের উদাহরণ - সত্য > সত্যি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫০৮.
মধ্য স্বরাগমের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. চারি > চাইর
  2. প্রীতি > পিরীতি
  3. বিলাতি > বিলিতি
  4. রাখিয়া > রাইখ্যা
সঠিক উত্তর:
প্রীতি > পিরীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রীতি > পিরীতি
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
- অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার >শুক্কুরবার ইত্যাদি।
- এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক > পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
- ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'চারি > চাইর' 'রাখিয়া > রাইখ্যা' অপিনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
• 'বিলাতি > বিলিতি' মধ্য স্বরসঙ্গতির উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫০৯.
কোনটি সম্প্রকর্ষ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. আলাহিদা > আলাদা
  2. জানালা ˃ জান্লা
  3. দেখিয়া > দেখে
  4. লাল > নাল
সঠিক উত্তর:
জানালা ˃ জান্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জানালা ˃ জান্লা
ব্যাখ্যা

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো  স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

যেমন:
- আটমেসে > আটাসে, 
- কুটুম্ব > কুটুম, 
- জানালা ˃ জান্লা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিষমীভবন - লাল > নাল।
অভিশ্রতি - দেখিয়া > দেখে।
অন্তর্হতি - আলাহিদা > আলাদা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৫১০.
"করতে > কত্তে" - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  3. ব্যঞ্জনদ্বিত্ব
  4. র-কার লোপ
সঠিক উত্তর:
র-কার লোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
র-কার লোপ
ব্যাখ্যা
র-কার লোপ:
- আধুনিক চলিত বাংলায় অনেক ক্ষেত্রে র-কার লোপ পায় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হয়।

যেমন –
তর্ক > তক্ক,
করতে > কত্তে,
মারল > মাল্ল,
করলাম > কল্লাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫১১.
নিচের কোনটি মধ্য স্বরাগমের উদাহরণ?
  1. মানিয়া > মাইন্যা > মেনে
  2. স্কুল > ইস্কুল
  3. শ্লোক > শোলক
  4. বসতি > বস্‌তি
সঠিক উত্তর:
শ্লোক > শোলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্লোক > শোলক
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
• অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ; বস্তি > বসতি ইত্যাদি।
• ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
• উ- মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার > শুকুরবার ইত্যাদি।
• এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক> পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
• ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• অভিশ্রুতি:
অপিনিহিতির প্রভাবজাত ই কিংবা উ-ধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে মিলে শব্দের পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে। বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষায় যেমন অপিনিহিতির প্রাচুর্য, পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক কথ্যভাষা ও মান্যচলিত ভাষায় তেমনি অনেক অভিশ্রুতি শব্দ লক্ষ করা যায়।
যেমন: মানিয়া > মাইন্যা > মেনে। 

• আদি স্বরাগম:
ধ্বনি পরিবর্তনের ফলে মূল শব্দের আদিতে স্বরধ্বনির আগমন ঘটাকে আদি স্বরাগম বলে।
যেমন- স্কুল > ইস্কুল, স্ত্রী > ইস্ত্রী। 

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন- বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫১২.
‘পিশাচ > পিচাশ’ কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ? 
  1. ধ্বনি বিপর্যয়
  2. অন্তর্হতি
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি 
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা

‘পিশাচ > পিচাশ’ ধ্বনি বিপর্যয় এর উদাহরণ।
----------------------------
• ধ্বনি বিপর্যয়:
- উচ্চারণকে সহজ করা বা কথ্য ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য আনার জন্য কখনো কখনো একটি শব্দের ভেতরে পাশাপাশি থাকা দুইটি ব্যঞ্জনধ্বনি নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলে।
- এই অবস্থান-বদলের ঘটনাকেই ধ্বনি বিপর্যয় (Metathesis) বলা হয়।
- এটি ধ্বনি পরিবর্তনের একটি ধরন।
- যেমন- ‘পিশাচ > পিচাশ’। 
- ‘পিশাচ’ শব্দে শ ও চ ধ্বনি স্থান অদলবদল করে ‘পিচাশ’ হয়েছে।

- একইভাবে কথ্য বা আঞ্চলিক ব্যবহারে কিছু উদাহরণে দেখা যায়, উচ্চারণ সহজ করতে ধ্বনির স্থান বদলে শব্দের রূপ পাল্টে গেছে।
- যেমন- 
- বাকস > বাস্ক,
- রিকশা > রিস্কা,
- লাফ > ফাল,
- তর্ক > তক্ক,
- মুকুট > মুটুক ইত্যাদি। 
------------------------------------------------ 
অন্যদিকে,
• অন্তর্হতি:
- অন্তর্হতি হলো ধ্বনি পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া।
- এখানে কোনো শব্দের মাঝখানে থাকা একটি ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সুবিধার জন্য লোপ পায় বা বাদ পড়ে যায়।
- ফলে শব্দটি সহজ ও সংক্ষিপ্তভাবে উচ্চারিত হয়।
- যেমন-
- ফাল্গুন > ফাগুন (এখানে মাঝখানের ‘ল’ ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেয়েছে)।
- ফলাহার > ফলার (এখানে ‘হা’ ধ্বনি অংশটি লোপ পেয়েছে)।
- আলাহিদা > আলাদা (এখানে মধ্যবর্তী ‘হি’ ধ্বনি লোপ পেয়েছে)।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
-  ব্যঞ্জন বিকৃতি হলো ধ্বনি পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া।
- এখানে কোনো শব্দের ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ না পেয়ে অন্য একটি ব্যঞ্জনধ্বনিতে রূপান্তরিত হয়।
- সাধারণত পাশের ধ্বনির প্রভাব বা উচ্চারণের সুবিধার কারণে এই পরিবর্তন ঘটে।
- ফলে শব্দটির গঠন বদলে গেলেও মূল শব্দটি টিকে থাকে, শুধু ব্যঞ্জনধ্বনিটি বিকৃত রূপ ধারণ করে।
- যেমন- 
- কবাট > কপাট (এখানে ব → প ব্যঞ্জন পরিবর্তন হয়েছে)।
- ধোবা > ধোপা (এখানে ব → প ব্যঞ্জন পরিবর্তন হয়েছে)।

• ব্যঞ্জনচ্যুতি: 
- ব্যঞ্জনচ্যুতি বা সমাক্ষর লোপ হলো ধ্বনি পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া।
- এই প্রক্রিয়ায় শব্দের ভেতরে পাশাপাশি উচ্চারিত একই বা সমজাতীয় দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তাদের মধ্যে একটি ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাদ পড়ে যায়।
- সাধারণত দ্রুত কথা বলা বা উচ্চারণ সহজ করার জন্য এই পরিবর্তন ঘটে।
- ফলে শব্দটি সংক্ষিপ্ত হয়, কিন্তু অর্থ অপরিবর্তিত থাকে।
- যেমন-
- বড়দাদা > বড়দা,
- ছোটকাকা > ছোটকা,
- বউদিদি > বউদি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 

৫১৩.
‘লাফ > ফাল’ কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ? 
  1. অন্তর্হতি
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. ব্যঞ্জনচ্যুতি 
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা

‘লাফ > ফাল’ ধ্বনি বিপর্যয় এর উদাহরণ। 
---------------------------- 
• ধ্বনি বিপর্যয়:
- উচ্চারণকে সহজ করা বা কথ্য ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য আনার জন্য কখনো কখনো একটি শব্দের ভেতরে পাশাপাশি থাকা দুইটি ব্যঞ্জনধ্বনি নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলে।
- এই অবস্থান-বদলের ঘটনাকেই ধ্বনি বিপর্যয় (Metathesis) বলা হয়।
- এটি ধ্বনি পরিবর্তনের একটি ধরন।
- যেমন-
- ‘পিশাচ’ শব্দে শ ও চ ধ্বনি স্থান অদলবদল করে ‘পিচাশ’ হয়েছে।
- একইভাবে কথ্য বা আঞ্চলিক ব্যবহারে কিছু উদাহরণে দেখা যায়, উচ্চারণ সহজ করতে ধ্বনির স্থান বদলে শব্দের রূপ পাল্টে গেছে।
- যেমন- 
- বাকস → বাস্ক,
- রিকশা → রিস্কা,
- লাফ → ফাল,
- তর্ক → তক্ক,
- মুকুট → মুটুক ইত্যাদি। 
------------------------------------------------ 
অন্যদিকে, 

• অন্তর্হতি:
- অন্তর্হতি হলো ধ্বনি পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া।
- এখানে কোনো শব্দের মাঝখানে থাকা একটি ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সুবিধার জন্য লোপ পায় বা বাদ পড়ে যায়।
- ফলে শব্দটি সহজ ও সংক্ষিপ্তভাবে উচ্চারিত হয়।
- যেমন-
- ফাল্গুন → ফাগুন (এখানে মাঝখানের ‘ল’ ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেয়েছে)।
- ফলাহার → ফলার (এখানে ‘হা’ ধ্বনি অংশটি লোপ পেয়েছে)।
- আলাহিদা → আলাদা (এখানে মধ্যবর্তী ‘হি’ ধ্বনি লোপ পেয়েছে)।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
-  ব্যঞ্জন বিকৃতি হলো ধ্বনি পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া।
- এখানে কোনো শব্দের ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ না পেয়ে অন্য একটি ব্যঞ্জনধ্বনিতে রূপান্তরিত হয়।
- সাধারণত পাশের ধ্বনির প্রভাব বা উচ্চারণের সুবিধার কারণে এই পরিবর্তন ঘটে।
- ফলে শব্দটির গঠন বদলে গেলেও মূল শব্দটি টিকে থাকে, শুধু ব্যঞ্জনধ্বনিটি বিকৃত রূপ ধারণ করে।
- যেমন- 
- কবাট → কপাট (এখানে ব → প ব্যঞ্জন পরিবর্তন হয়েছে)।
- ধোবা → ধোপা (এখানে ব → প ব্যঞ্জন পরিবর্তন হয়েছে)।

ব্যঞ্জনচ্যুতি: 
- ব্যঞ্জনচ্যুতি বা সমাক্ষর লোপ হলো ধ্বনি পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া।
- এই প্রক্রিয়ায় শব্দের ভেতরে পাশাপাশি উচ্চারিত একই বা সমজাতীয় দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তাদের মধ্যে একটি ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাদ পড়ে যায়।
- সাধারণত দ্রুত কথা বলা বা উচ্চারণ সহজ করার জন্য এই পরিবর্তন ঘটে।
- ফলে শব্দটি সংক্ষিপ্ত হয়, কিন্তু অর্থ অপরিবর্তিত থাকে।
- যেমন-
- বড়দাদা → বড়দা,
- ছোটকাকা → ছোটকা,
- বউদিদি → বউদি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 

৫১৪.
ধ্বনি-পরিবর্তনের নিয়মে ধ্বনি-বিপর্যয়ের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. ফলাহার > ফলার
  2. ধোবা > ধোপা
  3. ফাল্গুন > ফাগুন
  4. লাফ > ফাল
সঠিক উত্তর:
লাফ > ফাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাফ > ফাল
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। এতে দুটি বর্ণের মধ্যে জায়গা পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্স > বাস্ক,
- রিক্সা > রিস্কা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ধোবা > ধোপা; ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ। 
• ফলাহার > ফলার; ফাল্গুন > ফাগুন; অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫১৫.
'স্রেফ > সেরেফ' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রুতি
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. অন্তর্হতি
  4. স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
• অ- রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
• ই- প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
• উ- মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক ইত্যাদি।
• এ- গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
• ও- শ্লোক > শোলোক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫১৬.
‘আজি’ শব্দটি ‘আইজ’ হিসেবে উচ্চারিত হলে তাকে কীসের উদাহরণ বলা হয়?
  1. অপিনিহিতি
  2. অন্তর্হতি
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. বিপ্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা

অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগ উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিত বলে।

যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫১৭.
"ভ্রু > ভুরু" কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  2. সম্প্রকর্ষ
  3. সমীভবন
  4. বিপ্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন- ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রু > ভুরু ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫১৮.
"সকাল > সক্কাল" কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি
  2. সমীভবন
  3. ব্যঞ্জনদ্বিত্বা
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনদ্বিত্বা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনদ্বিত্বা
ব্যাখ্যা
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা বলে।

যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫১৯.
পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে কী বলে?
  1. অন্তর্হতি
  2. অপিনিহিতি
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. অভিশ্রতি
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা

অপিনিহিতি:
- পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে

যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫২০.
ধ্বনি পরিবর্তনের নিয়মে কোনটি মধ্য স্বরাগমের উদাহরণ?
  1. পোষ্য > পুষ্যি
  2. বেঞ্চ > বেঞ্চি
  3. স্তাবল > আস্তাবল
  4. ধর্ম > ধরম
সঠিক উত্তর:
ধর্ম > ধরম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্ম > ধরম
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম:
- সময় সময় উচ্চারণের জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একেই বলা হয় মধ্য স্বরাগম।
- মধ্য স্বরাগমের অপর নাম বিপ্রকর্ষ/স্বরভক্তি।
যেমন:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- মুক্তা > মুকুতা,
- গ্রাম > গেরাম ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- 'স্তাবল > আস্তাবল' হচ্ছে আদি স্বরাগমের উদাহরণ।
- 'বেঞ্চ > বেঞ্চি' হচ্ছে অন্ত্যস্বরাগমের উদাহরণ।
- 'পোষ্য > পুষ্যি' হচ্ছে স্বরসঙ্গতির উদাহরণ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২১.
"দেশি > দিশি" - কোন ধরনের ধ্বনি পরবর্তনের উদাহরণ?
  1. অন্তর্হতি 
  2. স্বরসঙ্গতি
  3. বিষমীভবন 
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি 
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা

• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বরের প্রভাবে শব্দের মধ্যে অপর  স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে প্রভাবকারী স্বরের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করলে , এই রীতিকে বলা হয় স্বরসঙ্গতি। প্রধানত চারটি পদ্ধতিতে স্বরসঙ্গতি হয়ে থাকে। যথা:

প্রগত স্বরসঙ্গতি (Progressive):
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন,
- মুলা > মুলাে, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো, মিথ্যা > মিথ্যে, পুত্র > পুত্তুর ।

পরাগত স্বরসঙ্গতি (Regressive):
অন্ত্যস্বরের কারণে আদিস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন-
আখাে > আখুয়া > এখাে, দেশি > দিশি।

মধ্যগত স্বরসঙ্গতি (Mutual):
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি।

অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি (Reciprocal):
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যান্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন – মােজা > মুজো, ধোঁকা > ধুঁকো, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২২.
"ধপ + ধপ > ধপাধপ" কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অসমীকরণ
  2. স্বরসঙ্গতি
  3. অন্তর্হতি
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
অসমীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমীকরণ
ব্যাখ্যা

অসমীকরণ:
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন:
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫২৩.
নিচের কোনটি বিপ্রকর্ষ-র উদহরণ?
  1. স্টেশন> ইস্টিশন
  2. পোখত্ >পোক্ত
  3. শ্লোক> শোলোক
  4. রাখিয়া > রাইখ্যা
সঠিক উত্তর:
শ্লোক> শোলোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্লোক> শোলোক
ব্যাখ্যা
• আদি স্বরাগম :
- উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে বলে আদি স্বরাগম (Prothesis)।
যেমন:
- স্কুল> ইস্কুল, স্টেশন> ইস্টিশন। 

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন-
অ — রত্ন> রতন, ধর্ম >ধরম, স্বপ্ন> স্বপন, হর্ষ >হরষ ইত্যাদি।
ই — প্রীতি> পিরীতি, ক্লিপ> কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ — মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক> তুরুক, ভূ >ভুরু ইত্যাদি।
এ — গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ >সেরেফ ইত্যাদি।
ও — শ্লোক> শোলোক, মুরগ >মুরোগ> মোরগ ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরাগম :
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে, এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন
দিশ্> দিশা, পোখত্ >পোক্ত, বেঞ্চ >বেঞ্চি, সত্য >সত্যি ইত্যাদি।

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন
আজি >আইজ, সাধু> সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি> চাইর, মারি >মাইর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ।
৫২৪.
'চক্র > চক্ক' কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি
  2. অন্যোন্য সমীভবন
  3. পরাগত সমীভবন
  4. প্রগত সমীভবন
সঠিক উত্তর:
প্রগত সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রগত সমীভবন
ব্যাখ্যা
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক।

অন্যদিকে:
পরাগত সমীভবন:
- পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন কে পরাগত সমীভবন বলে।
যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত >তদ্ধিত।

অন্যোন্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অনন্যান্য সমীভবন।
যেমন:
- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ।
- সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

অপিনিহিতি:
- পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫২৫.
কোনটি অসমীকরণ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ধপ + ধপ > ধপাধপ
  2. তৎ + জন্য > তজ্জন্য
  3. উৎ + মুখ > উন্মুখ
  4. তৎ + হিত > তদ্ধিত
সঠিক উত্তর:
ধপ + ধপ > ধপাধপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধপ + ধপ > ধপাধপ
ব্যাখ্যা

• অসমীকরণ (Dissimilation): 
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন-
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
পরাগত (Regressive) সমীভবন:
পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন- তৎ + জন্য > তজ্জন্য, তৎ + হিত > তদ্ধিত, উৎ + মুখ > উন্মুখ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫২৬.
"শিকা > শিকে" কোন ধরনের স্বরসঙ্গতির উদাহরণ?
  1. প্রগত
  2. পরাগত 
  3. মধ্যগত 
  4. অন্যোন্য 
সঠিক উত্তর:
প্রগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রগত
ব্যাখ্যা

• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
 যেমন→ দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• প্রগত (Progressive):
- আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন→ মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।

• পরাগত (Regressive):
- অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন→ আখো > আখুয়া এখো, দেশি > দিশি।

• মধ্যগত (Mutual):
- আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন→ বিলাতি > বিলিতি।

• অন্যোন্য (Reciprocal):
- আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন→ মোজা > মুজো।

• বিশেষ নিয়মে উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫২৭.
বাংলা বানানের নিয়মানুসারে, বাংলা ভাষায় ধ্বনি পরিবর্তনকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
ধ্বনি পরিবর্তন:
ভাষা সর্বদা পরিবর্তনশীল। কোন ভাষার পরিবর্তন নিয়ম বা ব্যাকরণ দিয়ে বন্ধ করে দিলে সে ভাষা আস্তে আস্তে মরে যায়। যেমন মরে গেছে - সংস্কৃত ভাষা।
মানুষের মুখে মুখে উচ্চারণের সুবিধার্থে ভাষার শব্দ, মূলত শব্দের অন্তর্গত ধ্বনি নানাভাবে পরিবর্তিত হয়। তবে এই পরিবর্তনও কিছু নিয়ম মেনে হয়ে থাকে।
ধ্বনির এই পরিবর্তনই মূলত ভাষার পরিবর্তন ঘটায়। অর্থ্যাৎ, ভাষার পরিবর্তন ধ্বনি পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত।

ধ্বনি পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কোন প্রকার নেই। ধ্বনি পরিবর্তন নানান প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।

তবে, বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে,
বাংলা ভাষায় ধ্বনি পরিবর্তনের ৪টি শ্রেণী লক্ষ্য করা যায়:
যথা:
১. ধ্বনির লোপ
২. ধ্বনির যোগ
৩. ধ্বনির রূপান্তর
৪. ধ্বনির স্থানবিনিময়


উৎস: বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
৫২৮.
অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. রাখিয়া > রাইখ্যা
  2. সাধু > সাউধ
  3. আজি > আইজ
  4. হাটুয়া > হাউটা > হেটো
সঠিক উত্তর:
হাটুয়া > হাউটা > হেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাটুয়া > হাউটা > হেটো
ব্যাখ্যা
• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
যেমন:
এরূপ-
- রাখিয়া > রাইখা,
- করিয়া > কইরা,
- শুনিয়া >শুইনা > শুনে,
- বলিয়া > বইলা > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মাউছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
----------------
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগ উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিত বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫২৯.
ধ্বনি-পরিবর্তনের নিয়মে বর্ণ-বিপর্যয়ের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. ফাল্গুন > ফাগুন
  2. ধোবা > ধোপা
  3. ফলাহার > ফলার
  4. রিক্সা > রিস্কা
সঠিক উত্তর:
রিক্সা > রিস্কা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিক্সা > রিস্কা
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। এতে দুটি বর্ণের মধ্যে জায়গা পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্স > বাস্ক,
- রিক্সা > রিস্কা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ধোবা > ধোপা; ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ। 
• ফলাহার > ফলার; ফাল্গুন > ফাগুন; অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫৩০.
নিচের কোনটি সম্প্রকর্ষের উদাহরণ?
  1. সত্য > সইত্য
  2. আজি > আজ
  3. দিশ্ > দিশা
  4. বেঞ্চ > বেঞ্চি
সঠিক উত্তর:
আজি > আজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজি > আজ
ব্যাখ্যা

• স্বরলোপ বা সম্প্রকর্ষ:
দ্রুত উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের শুরুতে বা মাঝে বা শেষে স্বরধ্বনি লোপ ঘটলে তাকে স্বরলোপ বা সম্প্রকর্ষ বলে।
স্বরলোপ তিন প্রকার। যথা :
ক. আদি স্বরলোপ: অলাবু > লাবু > লাউ।
খ. মধ্যস্বর লোপ: অগুরু > অগ্রু; সুবর্ণ > স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বলোপ: আজি > আজ; চারি > চার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জধব্বনির আগে ই -কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- চারি > চাইর,
- আজি > আইজ,
- সত্য > সইত্য,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য।

• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৩১.
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে কী বলে?
  1. অসমীকরণ
  2. অভিশ্রুতি
  3. অন্তর্হতি
  4.  ব্যঞ্জন বিকৃতি
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা

অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।

যেমন
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা,
- মাছুুয়া > মেছো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অসমীকরণ:
একই স্বরধ্বনির পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন -
- টপ + টপ > টপাটপ,
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- ফট + ফট > ফটাফট। 

অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
- ফলাহার > ফলার;
- আলাহিদা > আলাদা;
- ফাল্গুন > ফাগুন ইত্যাদি।

 ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
- যেমন- কবাট > কপাট, ধােবা > ধােপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৩২.
পরের 'ই' কার এবং 'উ' কার আগেই উচ্চারিত হওয়ার রীতিকে কী বলে?
  1. স্বরাগম
  2. অভিশ্রুতি
  3. অপিনিহিতি
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি (Apenthesis) :
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
কক্ষ > বইক্ষ/কইক্খ
আজি > আইজ,
সাধু > সাউধ,
রাখিয়া > রাইখ্যা,
বাক্য > বাইক্য,
সত্য > সইত্য,
চারি > চাইর,
মারি > মাইর ইত্যাদি।
------------------------------ 
অন্যদিকে,
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ – রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই – প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা  > মুকুতা; তুর্ক > তুরুক; ক্রু > ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম; প্ৰেক > পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও – শ্লোক » শােলােক; মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন:
ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক,
জাপানি রিক্সা > বাংলা রিস্কা ইত্যাদি।
অনুরূপ- পিশাচ > পিচাশ; লাফ > ফাল।

• অভিশ্রুতি (Umlaut):
- অভিশ্রুতি অপিনিহিতির পরবর্তী পর্যায়।
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন-
- করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া কিংবা বিপর্যয়ের ফলে কইরা থেকে অভিশ্রুতিজাত করে।
এরূপ-
- রাখিয়া > রাইখা,
- করিয়া >কইরা,
- শুনিয়া >শুইনা > শুনে,
- মাছুয়া > মাউছুয়া >মেছাে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
৫৩৩.
বউদিদি > বউদি— কীসের উদাহরণ?
  1. ক) অন্তর্হতি
  2. খ) ধ্বনিচ্যুতি
  3. গ) মধ্য স্বরাগম
  4. ঘ) প্রগত
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বনিচ্যুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বনিচ্যুতি
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনচ্যুতি : পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়। এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন- বউদিদি > বউদি, বড় দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

অন্তর্হতি : পদের মধ্যে কোনাে ব্যঞ্জনধ্বনি লােপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন – ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

৫৩৪.
'বিলাতি > বিলিতি' কী ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  2. পরাগত স্বরসঙ্গতি
  3. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  4. অন্যান্য স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। যেমন দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• প্রগত (Progressive):
- আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন - মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।
• পরাগত (Regressive):
- অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন- আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি।
• মধ্যগত (Mutual):
- আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন- বিলাতি > বিলিতি।
• অন্যোন্য (Reciprocal):
- আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন- মোজা > মুজো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫৩৫.
যে রীতিতে 'প্রীতি' শব্দটি পিরীতি শব্দে পরিণত হয়, তার নাম-
  1. সম্প্রকর্ষ
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. অভিশ্রুতি
  4. অপিনিহিতি
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

• 'প্রীতি > পিরীতি' হলো - বিপ্রকর্ষের উদাহরণ।

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি: 
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন -
• অ স্বরধ্বনির আগমন- রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
• ই স্বরধ্বনির আগমন- প্রীতি > পিরীতি, স্নান > সিনান, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি। 
• উ স্বরধ্বনির আগমন- মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রু > ভুরু ইত্যাদি।
• এ স্বরধ্বনির আগমন- গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
• ও স্বরধ্বনির আগমন- শ্লোক > শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৩৬.
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে- 
  1. অসমীকরণ 
  2. অপিনিহিতি
  3. অন্ত্যস্বরাগম
  4. স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
অসমীকরণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমীকরণ 
ব্যাখ্যা

• অসমীকরণ (Dissimilation):
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন:
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
অন্ত্যস্বরাগম (Apothesis):
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম। 
যেমন-  দিশ্ > দিশা, পোখত্ > পোক্ত, বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

অপিনিহিতি (Apenthesis):
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে। যেমন- আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি > চাইর, মারি > মাইর ইত্যাদি।

স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
 যেমন- দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫৩৭.
নিচের কোনটি মধ্যগত স্বরসঙ্গতির উদাহরণ?
  1. শিকা > শিকে
  2. দেশি > দিশি
  3. তুলা > তুলো।
  4. বিলাতি > বিলিতি
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
ব্যাখ্যা
• বিলাতি > বিলিতি-  মধ্যগত স্বরসঙ্গতি।

• স্বরসঙ্গতি:

- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।

• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
- আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- মুলা > মুলো;
- শিকা > শিকে;
- তুলা > তুলো।

• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
- অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- আখো > আখুয়া > এখো;
- দেশি > দিশি।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
- আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- বিলাতি > বিলিতি

• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- মোজা > মুজো।

• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
যেমন:
- গিলা > গেলা;
- মিলামিশা > মেলামেশা;
- মিঠা > মিঠে;
- ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫৩৮.
মধ্যগত স্বরসঙ্গতির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) জিলিপি
  2. খ) মুজো
  3. গ) মেলামেশা
  4. ঘ) তুলো
সঠিক উত্তর:
ক) জিলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জিলিপি
ব্যাখ্যা
মধ্যগত স্বরসঙ্গতিঃ
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি, জিলাপি > জিলিপি।

মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তিঃ
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি এলে তাকে মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি বলে।
যেমনঃ রত্ন > রতন, গ্রাম > গেরাম ইত্যাদি।

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপঃ
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, মধ্য বা অন্তে কোন স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।
যেমনঃ বসতি > বস্‌তি।

অপিনিহিতিঃ
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন- আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, মারি > মাইর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩৯.
"ক্লিপ থেকে কিলিপ" - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. আদি স্বরাগম
  4. অন্তর্হতি
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

যেমন:
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি। 
ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫৪০.
'ক্লিপ > কিলিপ' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্বরভক্তি
  2. অসমীকরণ
  3. অভিশ্রুতি
  4. সম্প্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
স্বরভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরভক্তি
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে, একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন,
- হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।

ই:
- প্রীতি > পিরীতি,
- ক্লিপ > কিলিপ,
- ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।

উ:
- মুক্তা > মুকুতা,
- তুর্ক > তুরুক,
- ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।

এ:
- গ্রাম > গেরাম,
- প্ৰেক > পেরেক,
- স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।

ও:
- শ্লোক > শােলােক,
- মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।


অন্যদিকে,
-----------------
• অসমীকরণ:
একই বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন: ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

• অভিশ্রুতি:
অপিনিহিতির প্রভাবজাত ই কিংবা উ-ধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে মিলে শব্দের পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
অন্যভাবে বলা যায়, বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
যেমন:
- মানিয়া > মাইন্যা > মেনে;
- করিয়া > কইর‍্যা > করে;
- বাছিয়া > বাইছ্যা > বেছে।

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন:
ক. আদি স্বরলোপ: অলাবু > লাবু > লাউ।
খ. মধ্যস্বর লোপ: অগুরু > অগ্রু; সুবর্ণ > স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বলোপ: আজি > আজ; চারি > চার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৪১.
ধ্বনি বিপর্যয় এর উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) শরীল 
  2. খ) তরোয়াল
  3. গ) কান্না 
  4. ঘ) নেবু
সঠিক উত্তর:
খ) তরোয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তরোয়াল
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সময় শব্দস্থিত ধ্বনি স্থান পরিবর্তন করলে, তাকে ধ্বনিবিপর্যয় বলে ।
উচ্চারনের সময় কিছু কিছু শব্দস্থিত ধ্বনির স্থান অপরিবর্তন ঘটে । আগের ধ্বনি পরে যায় ও পরের ধ্বনি আগে আসে - এরকম অবস্থানগত বিপর্যয় দেখা যায় । যেমন - পিশাচ > পিচাশ । ‘শাচ’ ধ্বনি দুটি ( শ + চ ) স্থান বদলে হয়েছে ‘চাশ’ ( চা + শ ) ।
এরূপ - 
বাক্স > বাস্ক ,তলোয়ার > তরোয়াল , মগজ > মজগ , রিকশা > রিশকা ।
শরীল হলো বিষমীভবন এর উদাহরণ - শরীর > শরীল 
                                                         লেবু > নেবু 
‘কান্না’ সমীভবন এর উদাহরণ - কাঁদনা > কান্না 
                                               জন্ম > জম্ম

 উৎস : ভাষা শিক্ষা -ড. হায়াৎ মামুদ ,বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ।
৫৪২.
"বাক্স > বাস্ক" কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. ধ্বনি বিপর্যয়
  4. অভিশ্রুতি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যবর্তী দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে হলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্স > বাস্ক,
- রিকসা > রিস্কা,
- তলোয়ার > তরোয়াল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন- কবাট কপাট, ধোবা ধোপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জনচ্যুতি:
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন- বউদিদি > বউদি, বড় দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি। যেমন- করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে 'কইরিয়া' কিংবা বিপর্যয়ের ফলে 'কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত 'করে'।

এরূপ শুনিয়া > শুনে, বলিয়া > বলে, হাটুয়া > হাউটা > হেটো, মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৪৩.
'দেশি > দিশি; মুলা > মুলো' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অপিনিহিতি
  2. অন্ত্যস্বরাগম
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. অসমীকরণ
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

-------------------------
• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- সত্য > সইত্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

• অসমীকরণ:
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন:
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫৪৪.
নিচের কোনটি বিপ্রকর্ষ এর উদাহরণ?
  1. স্বপ্ন > স্বপন
  2. রিক্সা > রিস্কা
  3. বিলাতি > বিলিতি
  4. সুবর্ণ > স্বর্ণ
সঠিক উত্তর:
স্বপ্ন > স্বপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বপ্ন > স্বপন
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
- অ- রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন >স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
- ই- প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ> কিলিপ, ফিল্ম> ফিলিম ইত্যাদি।
- উ- মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ব্রু > ভুরু, শুক্রবার > শুক্কুরবার ইত্যাদি।
- এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ> সেরেফ ইত্যাদি।
- ও – শ্লোক >শোলোক, মুরগ> মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- রিক্সা > রিস্কা; ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ।
- সুবর্ণ > স্বর্ণ; মধ্যস্বর লোপের উদাহরণ।
- বিলাতি > বিলিতি; মধ্যগত স্বরসঙ্গতির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫৪৫.
'সুবর্ণ > স্বৰ্ণ' - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. সম্প্রকর্ষ
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. অপিনিহিতি
  4. স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন - বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

ক. আদিস্বরলোপ (Aphesis): অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।
খ. মধ্যস্বর লোপ (Syncope): অগুরু > অগ্রু, সুবর্ণ > স্বৰ্ণ ।
গ. অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫৪৬.
"তুলতুলা > লুতলুতা" - কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. স্বরসঙ্গতি
  3. ধ্বনি বিপর্যয়
  4. অভিশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
ধ্বনি বিপর্যয়:
- উচ্চারণের সময় আগের ধ্বনি পরে গেলে ও পরের ধ্বনি আগে চলে আসলে ধ্বনি বিপর্যয় ঘটে।

যেমন:
- তলোয়ার > তরোয়াল, 
- নকশা > নশকা, 
- রিক্সা > রিস্কা, 
- লাফ > ফাল, 
- তুলতুলা > লুতলুতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৭.
ছোট > ছোট্ট ______ এটি কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. সমীভবন
  2. অভিশ্রুতি
  3. ব্যঞ্জনদ্বিত্ব
  4. বর্ণ-বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনদ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনদ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল,
- ছোট > ছোট্ট,
- বড় > বড্ড,
- কিছু > কিচ্ছু  ইত্যাদি।
---------------
অন্যদিকে,
সমীভবন:
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন:
- জন্ম > জম্ম।

অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
যেমন
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা,
- মাছুুয়া > মেছো ইত্যাদি।

ধ্বনি বিপর্যয় বা বর্ণ বিপর্যয়:
- শব্দের মধ্যবর্তী দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি পরষ্পর পরিবর্তন ঘটলে হলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন:
- পিশাচ ˃ পিচাশ,
- লাফ˃ ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৮.
স্বরভক্তির উদাহরণ-
  1. ক) লাল > নাল
  2. খ) গ্রাম > গেরাম
  3. গ) জন্ম > জম্ম
  4. ঘ) চারি > চাইর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রাম > গেরাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রাম > গেরাম
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে।
একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি। অনুরূপভাবে, প্রথম >পরথম
ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি। 
এ – গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও – শ্লোক > শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি। 

• অন্যদিকে, 
অপিনিহিতি: চারি > চাইর
সমীভবন: জন্ম > জম্ম
বিষমীভবন: লাল > নাল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৪৯.
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে, কী বলে?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. অভিশ্রুতি
  3. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।

যেমন:
করিয়া > কইর‌্যা > করে,
দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে,
গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

অন্যদিকে,
ধ্বনি বিপর্যয়: শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
ব্যঞ্জনচ্যুতি: পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়। এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনি।
ব্যঞ্জন বিকৃতি: শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫০.
"কবাট > কপাট" — এখানে কী ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. বিষমীভবন
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. সমীভবন
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন বিকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোন কোন সময় ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
- কবাট > কপাট;
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বিষমীভবন (Dissimilation):
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন-
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল,
- লালাট>নালাট ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জনচ্যুতি :
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন-
- বউদিদি >বউদি।

সমীভবন:
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন-
- জন্ম > জম্ম;
- কাদনা > কান্না ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫১.
‘প্রথম > পরথম‘ কী ধরণের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. ক) অসমীকরণ
  2. খ) অপিনিহিতি
  3. গ) বিপ্রকর্ষ
  4. ঘ) স্বরসার্ম
সঠিক উত্তর:
গ) বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে।
একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি। অনুরূপভাবে, প্রথম >পরথম
ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি। 
এ – গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও – শ্লোক > শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫২.
সমীভবনের উদাহরণ কোনটি?
  1. কবাট > কপাট
  2. কাঁদনা > কান্না
  3. স্কুল > ইস্কুল
  4. শরীর > শরীল
সঠিক উত্তর:
কাঁদনা > কান্না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁদনা > কান্না
ব্যাখ্যা

• সমীভবন:
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন -
- জন্ম > জম্ম,
- পক্ব > পক্ক, 
- কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ - কবাট > কপাট।
• আদি স্বরাগমের উদাহরণ - স্কুল > ইস্কুল।
• বিষমীভবনের উদাহরণ - শরীর > শরীল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৫৩.
বাংলা স্বরবর্ণে কার বর্ণ কয়টি?
  1. ক) ৮
  2. খ) ৯
  3. গ) ১০
  4. ঘ) ১১
সঠিক উত্তর:
গ) ১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০
ব্যাখ্যা
কারবর্ণ: স্বরবর্ণের মােট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলাের নাম কারবর্ণ: া,্ি,ী.ু,ূ,ৃ,্ে,াে,ৌ। কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই। এগুলাে ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়। কোনাে ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হসৃচিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি অ আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৫৫৪.
'কুটুম্ব > কুটুম' শব্দে কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন সাধিত হয়েছে?
  1. সম্প্রকর্ষ
  2. বিষমীভবন
  3. অভিশ্রুতি
  4. সমীকরণ
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।
যেমন:
আটমেসে > আটাসে, কুটুম্ব > কুটুম, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
--------------------
• বিষমীভবন: দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল,
- জরুরি > জরুলি ইত্যাদি।

• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন:
করিয়া > কইর‍্যা > করে, দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে, গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

• সমীভবন বা সমীকরণ:
শব্দের মধ্যে পাশাপাশি অবস্থিত অসম ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সুবিধার্থে একে অপরের প্রভাবে সঙ্গতি বা সাম্য লাভকরলে, তাকে বলা হয় সমীভবন বা সমীকরণ।
যেমন:
জন্ম > জন্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫৫৫.
নিচের কোনটিকে মধ্যস্বরাগমের বিকল্প বলা যায়?
  1. ক) অপনিহিতি
  2. খ) অভিশ্রুতি
  3. গ) বিপ্রকর্ষ
  4. ঘ) স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
গ) বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
মাঝখানে অথবা সংযুক্ত বর্ণের ঠিক মাঝখানে স্বরধ্বনি আসবে।

১. সংযুক্তি ধ্বনি ছাড়া :
চার >চাইর
মার > মাইর
আজ > আইজ

২. সংযুক্ত ধ্বনিসহ :
প্রীতি > পিরিতি
ক্লিপ > কিলিপ
ফ্লিম > ফিলিম
ত্রিশ > তিরিশ
গ্রাম > গেরাম
স্রেফ > সেরেফ
ভ্রু > ভুরু
শ্লোক > শোলোক

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
৫৫৬.
জানালা > জান্‌লা ধ্বনি পরিবর্তনের কোন নিয়মে হয়েছে?
  1. অপিনিহিতি
  2. সমীভবন
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
  5. সম্প্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ :
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনাে স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন– বসতি > বস্‌তি, জানালা > জানলা ইত্যাদি।
ক. আদিস্বরলােপ (Aphesis) : যেমন— অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার » উধার » ধার।
খ. মধ্যস্বর শােপ (Syncope) : অগুরু > অগ্রু, সুবর্ণ » স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বর লােপ (Apocope) : আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা) , সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ। ( স্বরলােপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।)

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৫৫৭.
'আটমেসে ˃ আটাসে' - এটি কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. বিষমীভবন
  2. সম্প্রকর্ষ
  3. বিপ্রকর্ষ
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি 
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ: 
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো  স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

যেমন:
- আটমেসে > আটাসে,
- কুটুম্ব > কুটুম,
- জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৫৮.
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পাওয়াকে কি বলে?
  1. ক) অপনিহিতি
  2. খ) স্বরসঙ্গতি
  3. গ) অসমীকরণ
  4. ঘ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
⇒ পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়, এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি ।
যেমন:
- বউদিদি > বউদি 
- বড়দাদা > বড়দা
- ছোটদাদা > ছোটদা ইত্যাদি।

⇒ একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্যে মাঝখানে স্বরধ্বনি যুক্ত হওয়াকে অসমীকরণ (Dissimilation) বলে। 
যেমন: 
- ধপ + ধপ = ধপাধপ।
- টপ + টপ = টপাটপ। 

⇒ পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপনিহিতি বলে।
যেমন: 
- আজি > আইজ।
- সত্য  > সইত্য। 
- সাধু  > সাউধ। 
⇒ একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে অন্য স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন: 
- দেশি > দিশি।
- বিলাতি  > বিলিতি। 
- মুলা > মুলো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫৯.
এক্সিডেন্ট > এস্কিডেন্ট কোন ধরণের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. ক) অভিশ্রুতি
  2. খ) ধ্বনিবিপর্যয়
  3. গ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. ঘ) ব্যঞ্জন বিকৃতি
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বনিবিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বনিবিপর্যয়
ব্যাখ্যা
• শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে
যেমন:
- এক্সিডেন্ট > এস্কিডেন্ট
- বাক্স > বাস্ক
- রিক্সা > রিস্কা
- পিশাচ > পিচাশ

এছাড়া,
ব্যঞ্জনচ্যুতি: পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়। এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
 যেমন:
- বউদিদি> বউদি,
- বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি। 

ব্যঞ্জন বিকৃতি: শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
কবাট > কপাট,
ধােবা > ধােপা,
ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অভিশ্রুতি: বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি। 
যেমন:
- করিয়া > কইর‌্যা > করে,
- দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে,
- গাছুয়া > গাউছা > গেছো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৬০.
'শুক্রবার > শুক্কুরবার' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি
  2. মধ্য স্বরাগম
  3. পরাগত সমীভবন
  4. সম্প্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্বরাগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্বরাগম
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম:
ধ্বনি পরিবর্তনের ফলে মূল শব্দের মধ্যে স্বরধ্বনির আগমন ঘটাকে মধ্য স্বরাগম বলে।
যেমন:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- শুক্রবার > শুক্কুরবার, 
- স্বপ্ন > স্বপন,
- নয়ন > নয়ান,
- প্রীতি > পীরিতি,
- ফিল্ম > ফিলিম,
- মুক্তা > মুকুতা,
- ভ্রু > ভুরু,
- গ্রাম > গেরাম,
- শ্লোক > শোলোক,
- মুরগ > মুরোগ > মোরগ,
- ক্লিপ > কিলিপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬১.
স্বরসঙ্গতির উদাহরণ কোনটি?
  1. বাক্য>বাইক্য
  2. জালিয়া > জাইল্যা > জেলে
  3. মুলা > মুলো
  4. রাত্রি > রাইত
সঠিক উত্তর:
মুলা > মুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুলা > মুলো
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতির উদাহরণ: মুলা > মুলো।
------------------------
• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony) :
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন –
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ‘রাত্রি > রাইত’,’বাক্য>বাইক্য’ ধ্বনি পরিবর্তন অপিনিহিতির উদাহরণ।
- অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তন এর উদাহরণ: জালিয়া > জাইল্যা > জেলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই (২০১৮ সালের সংস্কারণ)।
৫৬২.
'জানালা > জান্‌লা' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্বরলোপ
  2. ধ্বনি বিপর্যয় 
  3. অভিশ্রুতি
  4. বিষমীভবন
সঠিক উত্তর:
স্বরলোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরলোপ
ব্যাখ্যা

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।
যেমন:
- আটমেসে > আটাসে,
- কুটুম্ব > কুটুম,
- জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫৬৩.
কাঁদনা > কান্না কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. বিষমীভবন
  2. সমীভবন
  3. ব্যঞ্জনদ্বিত্বা
  4. ব্যঞ্জন-বিকৃতি
সঠিক উত্তর:
সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমীভবন
ব্যাখ্যা
• সমীভবন (Assimilation):
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে।
- এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন-
- জন্ম > জন্ম,
- কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫৬৪.
কোনটি ভিন্নার্থ প্রকাশ করে?
  1. মধ্য স্বরাগম
  2. স্বরভক্তি
  3. বিপ্রকর্ষ
  4. সম্প্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন-
- অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন >স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম> ফিলিম ইত্যাদি।
- উ - তুর্ক > তুরুক, ভূ > ভুরু ইত্যাদি।
- এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক ইত্যাদি।
- ও -  শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন: বসতি > বস্তি, জানালা > জানলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫৬৫.
নিচের কোনটি মৌলিক স্বরধ্বনি?
  1. ক) ঐ
  2. খ) ঔ
  3. গ) অ্যা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যা
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি৷ যথাঃ অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা৷
বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনি মোট ২৫টি। এর মধ্যে মাত্র ২টি যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব বর্ণ আছে।
যথাঃ (অ+ই) ঐ, (অ+উ) ঔ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫৬৬.
কোনটি  বিষমীভবনের উদাহরণ?
  1. স্কুল > ইস্কুল
  2. বিলাতি > বিলিতি
  3. শরীর > শরীল
  4. কবাট > কপাট
সঠিক উত্তর:
শরীর > শরীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরীর > শরীল
ব্যাখ্যা

বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- লাল > নাল,
- শরীর > শরীল

অন্যদিকে,
স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর ঘরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন – দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

আদি স্বরাগম:
উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে বলে আদি স্বরাগম।
যেমন: স্কুল > ইস্কুল।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোন কোন সময় ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন: কবাট > কপাট।

​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫৬৭.
স্বরভক্তি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. শুনিয়া > শুনে
  2. হাটুয়া > হাউটা
  3. বলিয়া > বলে
  4. গ্রাম > গেরাম
সঠিক উত্তর:
গ্রাম > গেরাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রাম > গেরাম
ব্যাখ্যা
• বিপ্রকর্ষ, মধ্যস্বরাগম বা স্বরভক্তি:
মাঝে মাঝে উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি এলে তাকে মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি বলে।
যেমন:
- রত্ন > রতন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- গ্রাম > গেরাম,
- শ্লোক > শোলোক।

অন্যদিকে, 
-------------------
• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে। 
যেমন:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা। 

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।
যেমন:
- জানালা > জান্‌লা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 
৫৬৮.
'মুরগ > মুরোগ > মোরগ' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রুতি
  2. স্বরভক্তি
  3. অপনিহিতি
  4. সমীভবন
সঠিক উত্তর:
স্বরভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরভক্তি
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ: রত্ন > রতন, ধর্ম ধরম, স্বপ্ন স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই: প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ> কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ: মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক ইত্যাদি।
এ: গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও: শ্লোক > শোলোক, মুরগ> মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৬৯.
'আটমেসে > আটাসে' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. অভিশ্রুতি
  3. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. সম্প্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।
যেমন:
- আটমেসে > আটাসে,
- কুটুম্ব > কুটুম,
- জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। যেমন- কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জনচ্যুতি:
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি। যেমন- বউদিদি > বউদি, বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

• অভিশ্রুতি:
 বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি। যেমন- করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে 'কইরিয়া' কিংবা বিপর্যয়ের ফলে 'কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত 'করে'। এরূপ- হাটুয়া > হাউটা > হেটো, মাছুয়া > মেছো, শুনিয়া > শুনে, বলিয়া > বলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৭০.
মুক্তা > মুকুতা কিসের উদাহরণ?
  1. ক) স্বরসঙ্গতি
  2. খ) বিপ্রকর্ষ
  3. গ) সম্প্রকর্ষ
  4. ঘ) অভিশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
খ) বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি৷ যেমন- মুক্তা > মুকুতা, ক্লিপ > কিলিপ, স্রেফ > সেরেফ, হর্ষ > হরষ, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫৭১.
কোনটি মধ্যস্বরলোপ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. গাহিল > গাইল
  2. আইজ > আজ
  3. চাহিল > চাইল
  4. আজি > আজ
সঠিক উত্তর:
আইজ > আজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইজ > আজ
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন: বসতি বস্তি, জানালা > জাল্লা ইত্যাদি।

আদিস্বরলোপ:
যেমন: অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।

মধ্যস্বর লোপ:
যেমন: অগুরু > অগ্নু, সুবর্ণ > স্বর্ণ, চাউল > চাল, আইজ > আজ

অন্ত্যস্বর লোপ:
যেমন: আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার।

অন্যদিকে,
হ-কার লোপ - চাহিল > চাইল, গাহিল > গাইল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৭২.
কোনটি স্বরসঙ্গতির উদাহরণ?
  1. বাক্স > বাসক
  2. মুলা > মুলাে
  3. পিশাচ > পিচাশ
  4. ফাল্গুন > ফাগুন
সঠিক উত্তর:
মুলা > মুলাে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুলা > মুলাে
ব্যাখ্যা
স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।

যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
অন্তর্হতি - ফাল্গুন > ফাগুন।
ধ্বনি বিপর্যয় - পিশাচ > পিচাশ, বাক্স > বাসক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৭৩.
'মুরগ > মুরোগ > মোরগ' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অন্তর্হতি
  2. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  3. পরাগত সমীভবন
  4. মধ্য স্বরাগম
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্বরাগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্বরাগম
ব্যাখ্যা

মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন- ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি। যেমন-
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্ৰূ > ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম, প্রেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও – শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫৭৪.
'বুনা > বোনা' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. পরাগত স্বরসঙ্গতি
  2. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  3. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  4. অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
পরাগত স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাগত স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা

• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি> বিলিতি।

প্রগত স্বরসঙ্গতি: আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- মুলা > মুলো,
- শিকা > শিকে,
- তুলা > তুলো।

পরাগত স্বরসঙ্গতি: অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- বুনা > বোনা;
- দেশি> দিশি।

মধ্যগত স্বরসঙ্গতি: আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- বিলাতি > বিলিতি,
- ভিখারি > ভিখিরি।

অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি: আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- মোজা > মুজো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৭৫.
অপিনিহিতির উদাহরণ কোনটি?
  1. পোখত্ > পোক্ত
  2. চারি > চাইর
  3. শিকা > শিকে
  4. বেঞ্চ > বেঞ্চি
সঠিক উত্তর:
চারি > চাইর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারি > চাইর
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন: 
- সত্য  > সইত্য,
- আজি > আইজ,
- চারি > চাইর,
- সাধু > সাউধ,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন: দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, শিকা > শিকে, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

অন্ত্যস্বরাগম:
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন: দিশ্ > দিশা, পোখত্ > পোক্তবেঞ্চ > বেঞ্চি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫৭৬.
নিচের কোন ধ্বনিটি ঘোষ ব্যঞ্জন নয়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• ঘোষ ব্যঞ্জন নয় - থ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, , ঢ, ড়, ঢ়, জ, , গ, , ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, , স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫৭৭.
অন্ত্য সম্প্রকর্ষ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. অগুরু > অগ্রু
  2. আশা > আশ
  3. সুবর্ণ > স্বর্ণ
  4. উদ্ধার > উধার > ধার
সঠিক উত্তর:
আশা > আশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশা > আশ
ব্যাখ্যা
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন: বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

ক. আদিস্বরলোপ (Aphesis):  অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।
খ. মধ্যস্বর লোপ (Syncope): অগুরু > অগ্রু, সুবর্ণ > স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।
[স্বরলোপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৭৮.
কোনটি মধ্য স্বরাগম পরিবর্তনের উদাহরণ নয়?
  1. মুক্তা > মুকুতা
  2. ফিল্ম > ফিলিম
  3. স্রেফ > সেরেফ
  4. স্কুল > ইস্কুল
সঠিক উত্তর:
স্কুল > ইস্কুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্কুল > ইস্কুল
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

যেমন:
- অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ; বস্‌তি > বসতি ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার >শুক্কুরবার ইত্যাদি।
- এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক > পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
- ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'স্কুল > ইস্কুল' আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৭৯.
উচ্চারণের রীতি অনুযায়ী, নিচের কোনটি উচ্চমধ্য-পশ্চাৎ স্বরধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনির উচ্চারণ:
উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।

উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - এ, ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।

আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি - ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৮০.
নিচের কোনটি স্বরলোপের উদাহরণ?
  1. বসতি>বস্‌তি
  2. শুনিয়া > শুনে
  3. গ্রাম > গেরাম
  4. স্বপ্ন > স্বপন
সঠিক উত্তর:
বসতি>বস্‌তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসতি>বস্‌তি
ব্যাখ্যা
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোন ধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী
৫৮১.
স্পর্ধা > আস্পর্ধা কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ? 
  1. আদি স্বরাগম
  2. মধ্য স্বরাগম
  3. অন্ত্য স্বরাগম
  4. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
আদি স্বরাগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদি স্বরাগম
ব্যাখ্যা

• স্পর্ধা > আস্পর্ধা আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ। 
---------------------------
• স্বরাগম: 
- স্বরাগম হলো ধ্বনি পরিবর্তনের এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে স্বরধ্বনি শব্দের কোনো স্থানে যুক্ত হয়ে উচ্চারণকে সহজ বা স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করে। - নতুন করে স্বরবর্ণের আগমন হচ্ছে স্বরাগম। 

- স্বরাগমের তিনটি প্রধান ধরণ রয়েছে:
• আদি স্বরাগম (Prosthesis):
- উচ্চারণের সুবিধা বা অন্যান্য কারণে যখন কোনো শব্দের শুরুতে একটি স্বরধ্বনি (সাধারণত 'ই' বা 'উ') যুক্ত করা হয়, তখন তাকে আদি স্বরাগম বা Prothesis বলা হয়।
- এই প্রক্রিয়ায় মূল শব্দের শুরুতে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি যোগ হয়ে নতুন উচ্চারণ বা রূপ তৈরি হয়।
- উদাহরণস্বরূপ—
- স্কুল > ইস্কুল,
- স্টেশন > ইস্টিশন,
- স্পর্ধা > আস্পর্ধা

মধ্য স্বরাগম / বিপ্রকর্ষ / স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- উচ্চারণের সুবিধা বা ছন্দ রক্ষার জন্য কখনো কখনো সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মধ্যে একটি স্বরধ্বনি প্রবেশ করে, যাকে মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি বলা হয়।
- এই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে আলাদা উচ্চারণে প্রকাশ পায়।
- উদাহরণস্বরূপ—
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন,
- হর্ষ > হরষ,
- প্রীতি > পিরীতি,
- ক্লিপ > কিলিপ,
- ফিল্ম > ফিলিম।

অন্ত্যস্বরাগম (Apotheosis):
- কোনো শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি যুক্ত হলে তাকে অন্ত্যস্বরাগম বলা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ—
- দিশ > দিশা,
- সত্য > সত্যি, 
- বেঞ্চ > বেঞ্চি।

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৮২.
কোনটি আদি স্বরাগমের উদাহরণ?
  1. লাল > নাল
  2. কবাট > কপাট
  3. স্টেশন > ইস্টিশন
  4. লাঙ্গল > নাঙ্গল
সঠিক উত্তর:
স্টেশন > ইস্টিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টেশন > ইস্টিশন
ব্যাখ্যা

• আদি স্বরাগম:
উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে আদি স্বরাগম বলে।
যেমন:
স্কুল > ইস্কুল,
স্টেশন > ইস্টিশন,
স্পর্ধা > আস্পর্ধা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-----------------
• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
শরীর > শরীল,
লাল > নাল,
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
উদাহরণ: কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৮৩.
কোন ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ?
  1. চারি > চাইর
  2. রিকসা্‌ > রিস্‌কা
  3. মারি > মাইর
  4. কাঁদনা > কান্না
সঠিক উত্তর:
রিকসা্‌ > রিস্‌কা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিকসা্‌ > রিস্‌কা
ব্যাখ্যা
ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের শধ্যে দুটো ব্যঞ্জনের পরস্পর স্থান পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।

যেমন:
- পিশাচ ˃ পিচাশ,
- লাফ ˃ ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সমীভবন:
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন:
- জন্ম > জম্ম,
- কাঁদনা > কান্না

অপিনিহিতি:
- পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৮৪.
'বেঞ্চ > বেঞ্চি' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. অন্তর্হতি
  3. অপিনিহিতি
  4. অন্ত্যস্বরাগম
  5. খ + ঘ
সঠিক উত্তর:
অন্ত্যস্বরাগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্ত্যস্বরাগম
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি পরিবর্তন:
উচ্চারণের সময় সহজীকরণের প্রবণতায় শব্দের মূল ধ্বনির যেসব পরিবর্তন ঘটে তাকে বলা হয় ধ্বনি পরিবর্তন।

• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন -
- দিশ্ > দিশা;
- পোখত্ > পোক্ত;
- বেঞ্চ > বেঞ্চি;
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি । অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে ।
যেমন:
- শাক > শাগ;
- ধোবা > ধোপা;
- কবাট > কপাট;
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন: ফলাহার > ফলার; আলাহিদা > আলাদা; ফাল্গুন > ফাগুন ইত্যাদি।

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৫.
"বাক্‌স > বাস্‌ক" কোন ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. ধ্বনি বিপর্যয়
  2. ব্যঞ্জনবিকৃতি
  3. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. অসমীকরণ
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। এতে দুটি বর্ণের মধ্যে জায়গা পরিবর্তন হয়।

যেমন:
- পিশাচ ˃ পিচাশ,
- লাফ ˃ ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৮৬.
প্রগত সমীভবনের ক্ষেত্রে কোন ধ্বনিটি অপরিবর্তিত থাকে?
  1. পরবর্তী ধ্বনি
  2. পূর্ববর্তী ধ্বনি
  3. উভয় ধ্বনি
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পূর্ববর্তী ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ববর্তী ধ্বনি
ব্যাখ্যা

প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎপরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।

যেমন:
- চক্র > চক্ক, 
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৮৭.
নিচের কোনটি 'দ্বিত্ব ব্যঞ্জন' এর উদাহরণ?
  1. স্কুল > ইস্কুল
  2. রিক্সা > রিসকা
  3. সত্য > সইত্য
  4. বড় > বড্ড
সঠিক উত্তর:
বড় > বড্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড় > বড্ড
ব্যাখ্যা

দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল,
- বড় > বড্ড,
- কিছু > কিচ্ছু  ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
আদি স্বরাগম - স্কুল > ইস্কুল।
ধ্বনি বিপর্যয় - রিক্সা > রিসকা
অপিনিহিতি - 'সত্য > সইত্য'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৮৮.
ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. লাল > নাল
  2. পিশাচ > পিচাশ
  3.  কবাট > কপাট
  4. শরীর > শরীল
সঠিক উত্তর:
পিশাচ > পিচাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিশাচ > পিচাশ
ব্যাখ্যা

ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। 
যেমন-
- ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক,
- জাপানি রিক্সা বাংলা রিস্কা 
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল।

অন্যদিকে,
- ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ: কবাট> কপাট, ধোবা> ধোপা, ধাইমা> দাইমা ইত্যাদি।
- বিষমীভবনে উদাহরণ: শরীর> শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫৮৯.
অন্ত্যস্বরাগমের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. চুলা > চুলো
  2. পোখত্ > পোক্ত
  3. রাখিয়া > রাইখ্যা
  4. স্রেফ > সেরেফ
সঠিক উত্তর:
পোখত্ > পোক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোখত্ > পোক্ত
ব্যাখ্যা
• অন্ত্যস্বরাগমের দৃষ্টান্ত - পোখত্ > পোক্ত

অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন -
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• চলিত বাংলা স্বরসঙ্গতি - চুলা > চুলো।
• অপিনিহিতি -  রাখিয়া > রাইখ্যা।
• মধ্যস্বরাগম - স্রেফ > সেরেফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৯০.
‘স্পর্ধা ˃ আস্পর্ধা’ কিসের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি
  2. আদি স্বরাগম
  3. মধ্যস্বরাগম
  4. মধগত স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
আদি স্বরাগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদি স্বরাগম
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে আদি স্বরাগম বলে।
যেমন- স্কুল > ইস্কুল, স্টেশন > ইস্টিশন, স্পর্ধা > আস্পর্ধা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫৯১.
'রত্ন> রতন' হওয়ার সন্ধি সূত্র -
  1. স্বরভক্তি
  2. স্বরসংগতি
  3. অভিশ্রুতি
  4. অপিনিহিতি
সঠিক উত্তর:
স্বরভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরভক্তি
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা মুকুতা, তুর্ক » তুরুক, ক্রু » ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও – শ্লোক » শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৯২.
'তর্ক > তক্ক' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. মধ্যস্বর লোপ 
  2. পরাগত সমীভবন 
  3. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. র-কার লোপ
সঠিক উত্তর:
র-কার লোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
র-কার লোপ
ব্যাখ্যা

• র-কার লোপ:
আধুনিক চলিত বাংলায় অনেক ক্ষেত্রে র-কার লোপ পায় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হয়।
যেমন:
- তর্ক > তক্ক,
- করতে > কত্তে,
- মারল > মাল্ল,
- করলাম > কল্লাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৯৩.
‘পাকা > পাক্কা’ কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. স্বরভক্তি
  2. দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. অসমীকরণ
সঠিক উত্তর:
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা বলে।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৯৪.
"কবাট > কপাট" কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. সমীভবন
  2. অন্তর্হতি
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন বিকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
উদাহরণ: 
- কবাট > কপাট,
- ধোবা > ধোপা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৯৫.
'প্রগত সমীভবন' এর উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. পক্ব > পক্ক
  2. চক্র > চক্ক
  3. পদ্ম > পদ্দ
  4. লাল > নাল
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
লাল > নাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল > নাল
ব্যাখ্যা
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'লাল > নাল' হচ্ছে বিষমীভবন এর উদাহরণ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯৬.
'হর্ষ > হরষ' - এটি কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. আদিস্বরাগম
  2. অন্ত্যস্বরাগম
  3. মধ্য স্বরাগম
  4. অপিনিহিতি
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্বরাগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্বরাগম
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন- ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি। যেমন:
- অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
- ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ – মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রু > ভুরু ইত্যাদি।
- এ – গ্রাম > গেরাম, প্রেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ, ব্যাকুল > বেয়াকুল ইত্যাদি।
- ও – শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৯৭.
অপিনিহিতির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) দেশি > দিশি
  2. খ) বেঞ্চ > বেঞ্চি
  3. গ) টপ+টপ > টপাটপ
  4. ঘ) মারি > মাইর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মারি > মাইর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মারি > মাইর
ব্যাখ্যা
- মারি>মাইর হচ্ছে অপিনিহিতির উদাহরণ।

 • অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন: আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, মারি > মাইর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন: দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, শিকা > শিকে, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• অসমীকরণ:
- একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন: ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরাগম:
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন: দিশ্ > দিশা, পোখত্ > পোক্ত, বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য > সত্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৯৮.
’শরীর > শরীল’ কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. বিষমীভবন
  3. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
বিষমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষমীভবন
ব্যাখ্যা

’শরীর > শরীল’ বিষমীভবন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

বিষমীভবন (Dissimilation):
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন-
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল,
- লালাট > নালাট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন-
- কবাট > কপাট,

• ব্যঞ্জনচ্যুতি :
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন-
- বউদিদি > বউদি।

• ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন
- বাক্স > বাস্ক,
- রিক্সা > রিস্কা 
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই (২০১৮ সালের সংস্কারণ)।

৫৯৯.
হর্ষ > হরষ কিসের উদাহরণ?
  1. আদিস্বরলোপ
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. অভিশ্রুতি
  4. অসমীকরণ
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি৷ যেমন- মুক্তা > মুকুতা, ক্লিপ > কিলিপ, স্রেফ > সেরেফ, হর্ষ > হরষ, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৬০০.
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে কী বলে?
  1. সমীভবন
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. বিষমীভবন
  4. সম্প্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
বিষমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষমীভবন
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি পরিবর্তন:
উচ্চারণের সময় সহজীকরণের প্রবণতায় শব্দের মূল ধ্বনির যেসব পরিবর্তন ঘটে তাকে বলা হয় ধ্বনি পরিবর্তন।

• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
শরীর > শরীল
লাল > নাল
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।
----------------
সমীভবন:
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন-
- জন্ম > জম্ম;
- কাদনা > কান্না ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি । অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে ।
যেমন:
- শাক > শাগ;
- ধোবা > ধোপা;
- কবাট > কপাট;
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• স্বরলোপ বা সম্প্রকর্ষ:
দ্রুত উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের শুরুতে বা মাঝে বা শেষে স্বরধ্বনি লোপ ঘটলে তাকে স্বরলোপ বা সম্প্রকর্ষ বলে।
স্বরলোপ তিন প্রকার। যথা :
ক. আদি স্বরলোপ: অলাবু > লাবু > লাউ।
খ. মধ্যস্বর লোপ: অগুরু > অগ্রু; সুবর্ণ > স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বলোপ: আজি > আজ; চারি > চার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।