বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনি পরিবর্তন

মোট প্রশ্ন৮৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনি পরিবর্তন

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৮৪৬

২০১.
"গ্রাম থেকে গেরাম" - এখানে কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. অভিশ্রুতি
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. অন্ত্যস্বরাগম 
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

• বিপ্রকর্ষ, মধ্যস্বরাগম বা স্বরভক্তি:
মাঝে মাঝে উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি এলে তাকে মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি বলে।
যেমন:
- রত্ন > রতন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- গ্রাম > গেরাম,
- শ্লোক > শোলোক।

-------------------
অন্যদিকে, 
• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে। 
যেমন:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা। 

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে।
যেমন:
- শাক > শাগ,
- ধোবা > ধোপা,
- কবাট > কপাট,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন -
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২০২.
কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনে পূর্বে উচ্চারিত হওয়া ‘ ই/ উ ’ আগে উচ্চারিত হয়?
  1. ক) বিষমীভবন
  2. খ) অপিনিহিতি
  3. গ) অসমীকরণ
  4. ঘ) ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
ভাষার পরিবর্তন ধ্বনির পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত। ধ্বনি পরিবর্তন নানা প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমনঃ
- সত্য > সইত্য,
- আজি > আইজ,
- চারি > চাইর,
- সাধু > সাউধ,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• বিষমীভবন (Dissimilation) : দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন – শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।
• অসমীকরণ (Dissimilation) : একই ঘরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন – ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি। 

• ধ্বনি বিপর্যয়: শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। যেমন – ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক, জাপানি রিক্সা » বাংলা রিস্কা ইত্যাদি। অনুরুপ – পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০৩.
পরাগত সমীভবনের উদাহরণ কোনটি?
  1.  পক্ব > পক্ক
  2.  সত্য > সচ্চ
  3. তৎ + হিত  > তদ্ধিত
  4. মারি > মাইর
সঠিক উত্তর:
তৎ + হিত  > তদ্ধিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎ + হিত  > তদ্ধিত
ব্যাখ্যা

• পরাগত সমীভবন:
পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন কে পরাগত সমীভবন বলে।
যেমন:
তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
তৎ + হিত  > তদ্ধিত।

অন্যদিকে:
------------------
• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
-  পক্ব > পক্ক।

• অন্যোন্য সমীভবন:
যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অনন্যান্য সমীভবন।
যেমন:
সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ।
সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

• অপিনিহিতি:
পরে উচ্চারিত হওয়া 'ই/উ' আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
চারি > চাইর,
মারি > মাইর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২০৪.
ধ্বনি-পরিবর্তনের নিয়মে কোনটি বর্ণ-বিপর্যয়-এর দৃষ্টান্ত?
  1. রতন
  2. কবাট
  3. পিচাশ
  4. মুলুক
সঠিক উত্তর:
পিচাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিচাশ
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়: 
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। এতে দুটি বর্ণের মধ্যে জায়গা পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- পিশাচ ˃ পিচাশ,
- লাফ ˃ ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা ইত্যাদি।

--------
অন্যদিকে,
• রত্ন > রতন এবং মুল্‌ক > মুলুক; মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তির উদাহরণ।
• কবাট > কপাট;ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০৫.
যে রীতিতে ‘ভ্রু’ শব্দটি ‘ভুরু’ শব্দে পরিণত হয়, তাকে কী বলে?
  1. অভিশ্রুতি
  2. মধ্য স্বরাগম
  3. অপিনিহিতি
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্বরাগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্বরাগম
ব্যাখ্যা
• 'ভ্রু > ভুরু' মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তির উদাহরণ। 

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি: 
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন -
• অ স্বরধ্বনির আগমন- রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
• ই স্বরধ্বনির আগমন- প্রীতি > পিরীতি, স্নান > সিনান, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি। 
• উ স্বরধ্বনির আগমন- মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রু > ভুরু ইত্যাদি।
• এ স্বরধ্বনির আগমন- গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
• ও স্বরধ্বনির আগমন- শ্লোক > শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
২০৬.
নিচের কোনটি ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ?
  1. পাকা > পাক্কা
  2. শুনিয়া > শুনে
  3. ধাইমা > দাইমা
  4. মাছুয়া > মেছাে
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ধাইমা > দাইমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাইমা > দাইমা
ব্যাখ্যা
• 'ধাইমা > দাইমা' — ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ। 

• ব্যঞ্জন বিকৃতি : 
- শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন-
কবাট > কপাট,
ধােবা > ধােপা, 
ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।
--------------- 
অন্যদিকে, 
• দ্বিত্ব ব্যঞ্জন (Long Consonant) বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা :
- কখনাে কখনাে জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা।
- যেমন – পাকা > পাক্কা, সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

• অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
- যেমন: করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা’ থেকে অভিশ্রুতিজাত করে। 
এরূপ: 
শুনিয়া > শুনে, বলিয়া > বলে, হাটুয়া > হাউটা > হেটো, মাছুয়া > মেছাে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০৭.
ধ্বনি পরিবর্তনে 'মধ্য স্বরাগম' এর অপর নাম কী?
  1. বিপ্রকর্ষ
  2. স্বরভক্তি
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. ক+খ
সঠিক উত্তর:
ক+খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক+খ
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- 'মধ্য স্বরাগম' এর অপর নাম বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি। 
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন- ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে।
- একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

যেমন-
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্ৰূ > ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম, প্রেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।  
২০৮.
’রাখিয়া > রাইখ্যা’- কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি
  2. অন্ত্যস্বরাগম
  3. অসমীকরণ
  4. স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন- আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য> সইত্য, চারি >চাইর, মারি >মাইর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অন্ত্যস্বরাগম :
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন- দিশ্ > দিশা, পোখত্ >পোক্ত, বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য সত্যি ইত্যাদি।

অসমীকরণ:
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন ধপ ধপ > ধপাধপ, টপ টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন দেশি>দিশি, বিলাতি>বিলিতি, মুলা> মুলো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২০৯.
নিচের কোনটি সম্প্রকর্ষ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. জানালা ˃ জান্লা
  2. আলাহিদা > আলাদা
  3. বলিয়া > বলে
  4. চাহিল > চাইল
সঠিক উত্তর:
জানালা ˃ জান্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জানালা ˃ জান্লা
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

যেমন:
- আটমেসে ˃ আটাসে,
- কুটুম্ব ˃ কুটুম,
- জানালা ˃ জান্লা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অভিশ্রুতি  - বলিয়া > বলে।
অন্তর্হতি - আলাহিদা > আলাদা।
হ-কার লোপ - চাহিল > চাইল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
২১০.
পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে কোন ধ্বনি পরিবর্তন বলে?
  1. অভিশ্রুতি
  2. অপিনিহিতি
  3. অন্তর্হতি
  4. পরাগত সমীভবন
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা

অপিনিহিতি:
- পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে। 

যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।

অন্যদিকে,
পরাগত সমীভবন - পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন কে পরাগত সমীভবন বলে।
অভিশ্রুতি - বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
অন্তর্হতি - পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২১১.
কোন শব্দে অপিনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. আইজ
  2. মুলো
  3. বিলিতি
  4. দিশি
সঠিক উত্তর:
আইজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইজ
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতি: 
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন: 
- সত্য  > সইত্য,
- আজি > আইজ,
- চারি > চাইর,
- সাধু > সাউধ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
স্বরসঙ্গতি ধ্বনি পরিবর্তন - দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১২.
'মধ্যস্বরাগম' এর অপর নাম কী?
  1. সম্প্রকর্ষ
  2. অভিশ্রুতি
  3. বিপ্রকর্ষ
  4. অপিনিহিতি
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগমের অপর নাম - বিপ্রকর্ষ/স্বরভক্তি।

• বিপ্রকর্ষ, মধ্যস্বরাগম বা স্বরভক্তি:

মাঝে মাঝে উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি এলে তাকে মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি বলে।
যেমন:
- রত্ন > রতন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- গ্রাম > গেরাম,
- শ্লোক > শোলোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২১৩.
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে কোন ধরনের স্বরসঙ্গতি হয়?
  1. পরাগত স্বরসঙ্গতি 
  2. অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি
  3. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  4. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি 
সঠিক উত্তর:
পরাগত স্বরসঙ্গতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাগত স্বরসঙ্গতি 
ব্যাখ্যা

অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে তাকে পরাগত স্বরসঙ্গতি বলা হয়। 
------------------------------
• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
- স্বরসঙ্গতি বলতে বোঝায়—একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দের ভেতরের অন্য স্বরধ্বনি বদলে যাওয়া।
- এতে শব্দের উচ্চারণে মিল বা সামঞ্জস্য তৈরি হয়।
- সহজভাবে বলা যায়, স্বরসঙ্গতি হলো স্বরধ্বনির পারস্পরিক প্রভাবের ফল।
- বাংলার কথ্য ভাষায় এ ধরনের পরিবর্তন বেশি দেখা যায়।
- যেমন:
- দেশি → দিশি,
- বিলাতি → বিলিতি,
- মুলা → মুলো।

- স্বরসঙ্গতি ৪ প্রকারে বিভক্ত-
- প্রগত; 
- পরাগত; 
- মধ্যগত; 
- অন্যোন্য। 
------------------------------------
পরাগত স্বরসঙ্গতি (Regressive):
- যখন শব্দের শেষের স্বরধ্বনির কারণে শুরু বা আগের স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়, তখন তাকে পরাগত স্বরসঙ্গতি বলা হয়।
- এখানে পরের স্বর আগের স্বরকে প্রভাবিত করে।
- উদাহরণ:
- দেশি > দিশি,
- আখো > এখো, 
- মিশে > মেশে।
---------------------------- 
অন্যদিকে, 

প্রগত স্বরসঙ্গতি (Progressive)-
- যখন শব্দের প্রথম স্বরধ্বনির প্রভাবে শেষের স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়, তখন তাকে প্রগত স্বরসঙ্গতি বলা হয়।
- অর্থাৎ আগের স্বর পরে থাকা স্বরকে বদলে দেয়।
- উদাহরণ:
- মুলা > মুলো,
- শিকা > শিকে,
- তুলা > তুলো।

মধ্যগত স্বরসঙ্গতি- 
- মধ্যগত স্বরসঙ্গতি বলতে এমন স্বরসঙ্গতিকে বোঝায়, যেখানে শব্দের প্রথম স্বরধ্বনি বা শেষের স্বরধ্বনির প্রভাবে মাঝখানে থাকা স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়।
- এর ফলে শব্দের ভেতরের স্বরধ্বনিগুলোর মধ্যে ধ্বনিগত মিল বা সামঞ্জস্য তৈরি হয়।
- যেমন—
- বিলাতি থেকে বিলিতি-তে প্রথম ‘ই’ স্বরের প্রভাবে মাঝের ‘আ’ বদলে ‘ই’ হয়েছে।
- আবার জিলাপি থেকে জিলিপি -তে আদি ‘ই’ স্বরের কারণে মধ্যবর্তী ‘আ’ পরিবর্তিত হয়েছে।

অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি-
- একটি শব্দে থাকা দুটি ভিন্ন স্বরধ্বনি যখন পরস্পরের প্রভাবে বদলে গিয়ে নতুন ধ্বনিগত রূপ সৃষ্টি করে, তখন তাকে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি বলে।
- এখানে কোনো একটি স্বর এককভাবে প্রভাব ফেলে না;
- বরং আগের ও পরের স্বরধ্বনি একে অপরকে প্রভাবিত করেই ধ্বনি পরিবর্তন ঘটে; 
- এজন্য একে পারস্পরিক বা অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি বলা হয়।
- উদাহরণ:
- মোজা > মুজো, 
- ঝোলা > ঝুলি, 
- পূজা >পুজো
- খেলা > খেলো
- মেলা > মেলো। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলা ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 

২১৪.
স্বরাগমের উদাহরণ কোনটি?
  1. মাছুয়া-মেছো
  2. স্পর্ধা-আস্পর্ধা
  3. নিবানো-নিভান
  4. ধোবা-ধোপা
সঠিক উত্তর:
স্পর্ধা-আস্পর্ধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পর্ধা-আস্পর্ধা
ব্যাখ্যা
• 'স্পর্ধা-আস্পর্ধা'- আদি স্বরাগম এর উদাহরণ। 

অন্যদিকে,
মাছুয়া-মেছো = অভিশ্রুতি এর উদাহরণ।
নিবানো-নিভান = সম্প্রকর্ষ এর উদাহরণ।
ধোবা-ধোপা = ব্যঞ্জন বিকৃতি এর উদাহরণ। 
------------------- 
আদি স্বরাগম:

ধ্বনি পরিবর্তনের ফলে মূল শব্দের আদিতে স্বরধ্বনির আগমন ঘটাকে আদি স্বরাগম বলে। যেমন -
স্কুল > ইস্কুল
স্ত্রী > ইস্ত্রী
স্টেশন > ইস্টেশন
স্টিমার > ইস্টিমার ইত্যাদি।

মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে।
- একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
- অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার >শুক্কুরবার ইত্যাদি।
- এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক > পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
- ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্ত্যস্বরাগম:
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে।
- এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১৫.
"জানালা > জান্‌লা" কোন ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অভিশ্রতি
  2. বিষমীভবন
  3. অপিনিহিতি
  4. সম্প্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

যেমন:
- আটমেসে ˃ আটাসে,
- কুটুম্ব ˃ কুটুম,
- জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২১৬.
স্বরসঙ্গতি ধ্বনি পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. আজি > আইজ
  2. বাক্য > বাইক্য
  3. বিলাতি > বিলিতি
  4. সত্য > সইত্য
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- সত্য > সইত্য,
- আজি > আইজ,
- চারি > চাইর,
- সাধু > সাউধ,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২১৭.
কোনটি সমীভবনের উদাহরণ?
  1. জন্ম > জম্ম
  2. বাক্স > বাস্ক
  3. রিক্সা > রিস্কা
  4. ডেস্ক > ডেক্স
সঠিক উত্তর:
জন্ম > জম্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন্ম > জম্ম
ব্যাখ্যা
• সমীভবন:
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভকরে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন:
- জন্ম > জম্ম,
- কাদনা > কান্না ইত্যাদি।

--------------
ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটো ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ,
- বাক্স > বাস্ক,
- লাফ > ফাল,
- রিক্সা > রিস্কা,
- পিঁপড়া > পিঁড়পা,
- মগজ > মজগ,
- লোকসান > লোসকান,
- ডেস্ক > ডেক্স।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২১৮.
'উৎ + মুখ > উন্মুখ' কোন ধরনের সমীভবন?
  1. প্রগত সমীভবন
  2. পরাগত সমীভবন
  3. অন্যোন্য সমীভবন 
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পরাগত সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাগত সমীভবন
ব্যাখ্যা

• পরাগত সমীভবন:
পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন কে পরাগত সমীভবন বলে।
যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত >তদ্ধিত,
- উৎ + মুখ > উন্মুখ।

অন্যদিকে:
------------------
• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক।

• অন্যোন্য সমীভবন:
যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অনন্যান্য সমীভবন।
যেমন:
- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ।
- সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২১৯.
কোনটি স্বরলোপ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. আলাহিদা > আলাদা
  2. দেখিয়া > দেখে
  3. জানালা > জান্লা
  4. লাল > নাল
সঠিক উত্তর:
জানালা > জান্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জানালা > জান্লা
ব্যাখ্যা

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ: 
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো  স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

যেমন:
- আটমেসে > আটাসে, 
- কুটুম্ব > কুটুম, 
- জানালা ˃ জান্লা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- বিষমীভবন - লাল > নাল।
- অভিশ্রতি - দেখিয়া > দেখে।
- অন্তর্হতি - আলাহিদা > আলাদা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

২২০.
অন্ত্যস্বরলোপের উদাহারণ কোনটি?
  1. সুবর্ণ > স্বর্ণ
  2. উপরে > উপ্রে
  3. আশা > আশ
  4. অলাবু > লাবু > লাউ
সঠিক উত্তর:
আশা > আশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশা > আশ
ব্যাখ্যা
• অন্ত্যস্বরলোপ: শব্দের অন্তে বা শেষে স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্ত্যস্বরলোপ বলে।
যেমন:
- আকাশ (অ-লোপ) > আকাশ্;
- জল (অ-লোপ) > জল্;
- পোকা (অ-লোপ) > পোক্;
- থোকা (অ-লোপ) > থোক্;
- আশা (আ-লোপ) > আশ;
- আজি (ই-লোপ) > আজ;
- চারি (ই-লোপ) > চার ইত্যাদি।

-----------
• ধ্বনিলোপ:
- অনেক উচ্চারণের সময় শব্দস্থিত কিছু ধ্বনি উচ্চারিত হয় না। এই প্রক্রিয়াকে ধ্বনিলোপ বলে। স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি উভয়ই লোপ পেতে পারে। স্বরধ্বনি হলে স্বরধ্বনিলোপ, ব্যঞ্জনধ্বনি হলে ব্যঞ্জনধ্বনিলোপ বলে।

• আদিস্বরলোপ: শব্দের আদি বা প্রথমে স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে আদিস্বরলোপ বলে।
যেমন:
- অলাবু > লাবু > লাউ;
- উদ্ধার > উধার > ধার ইত্যাদি।

• মধ্যস্বরলোপ: শব্দের মধ্যে স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে মধ্যস্বরলোপ বলে।
যেমন:
- গামোছা > গামছা;
- তৈআরি > তৈরি;
- সুবর্ণ > স্বর্ণ;
- উপরে > উপ্রে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২১.
'সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ' কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি
  2. স্বরলোপ
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. স্বরাগম
সঠিক উত্তর:
স্বরলোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরলোপ
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন -
বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

ক. আদিস্বরলোপ (Aphesis): যেমন - অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।
খ. মধ্যস্বর লোপ (Syncope): অগুরু > অগ্রু, সুবর্ণ > স্বৰ্ণ ।
গ. অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ

- স্বরলোপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২২.
সম্প্রকর্ষের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. উদ্ধার > উধার > ধার
  2. মুলা > মুলো
  3. সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
  4. আজি > আজ
সঠিক উত্তর:
মুলা > মুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুলা > মুলো
ব্যাখ্যা
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন:
ক. আদি স্বরলোপ: অলাবু > লাবু > লাউ; উদ্ধার > উধার > ধার।
খ. মধ্যস্বর লোপ: অগুরু > অগ্রু; সুবর্ণ > স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বলোপ: আজি > আজ; চারি > চার; সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ  ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন -
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২৩.
ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. বিলিতি
  2. জান্‌লা
  3. রিসকা
  4. জম্ম
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রিসকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিসকা
ব্যাখ্যা
ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের মধ্যবর্তী দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি পরষ্পর পরিবর্তন ঘটলে হলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন,
পিশাচ ˃ পিচাশ, লাফ ˃ ফাল, বাক্‌স > বাস্‌ক, রিকসা্‌ > রিস্‌কা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• "বিলাতি > বিলিতি" - স্বরসঙ্গতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
• "জানালা > জান্‌লা" - সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ এর উদাহরণ।
• "জন্ম > জম্ম" - সমীভবনের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২৪.
'ফাল্গুন > ফাগুন' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রুতি
  2. বিষমীভবন
  3. অন্তর্হতি
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
সঠিক উত্তর:
অন্তর্হতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তর্হতি
ব্যাখ্যা
• অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন -
ফাল্গুন > ফাগুন,
ফলাহার > ফলার,
আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২৫.
কোনটি পরাগত সমীভবনের উদাহরণ?
  1. চক্র > চক্ক
  2. পদ্ম > পদ্দ
  3. লগ্ন > লগ্‌গ
  4. কাঁদনা > কান্না
সঠিক উত্তর:
কাঁদনা > কান্না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁদনা > কান্না
ব্যাখ্যা

• কাঁদনা > কান্না হলো পরাগত সমীভবনের উদাহরণ।

এখনে পরবর্তী ব্যঞ্জনধানির প্রভাবে পূর্ববর্তী অসম ব্যঞ্জনধ্বনি পরবর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সমতা লাভ করে। যেমন- কাঁদনা > কান্না। পরবর্তী 'ন'-এর প্রভাবে পূর্ববর্তী 'দ' 'ন'-তে রূপান্তরিত হয়ে সাম্য লাভ করেছে।

--------------------------
• সমীভবন (Assimilation): 
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন। যেমন- জন্ম > জম্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

ক. প্রগত (Progressive) সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন। যেমন- চক্র > চক্ক, পক্ব > পক্ক, পদ্ম > পদ্দ, লগ্ন > লগ্‌গ ইত্যাদি।

খ. পরাগত (Regressive) সমীভবন:
ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন। যেমন- কর্ম > কম, কর্তা > কত্তা, যতদূর > যদ্দুর, করতাল > কত্তাল, ধর্ম > ধম্ম , তৎ + জন্য = তজ্জন্য, তৎ + হিত = তদ্ধিত, উৎ + মুখ = উন্মুখ ইত্যাদি।

গ. অন্যোন্য (Mutual) সমীভবন:
যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যোন্য সমীভবন। যেমন- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ; সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

২২৬.
'লাফ > ফাল' - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. বিপ্রকর্ষ
  2. অন্তর্হতি
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
ধ্বনি বিপর্যয়:
- যদি শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটে, তখন তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।

যেমন-
- পিশাচ > পিচাশ,
- বাক্স > বাসক,
- রিক্সা > রিসকা,
- লাফ > ফাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২৭.
নিচের কোনটি বিষমীভবনের উদাহরণ?
  1. কবাট > কপাট
  2. লাল > নাল
  3. ধোবা > ধোপা
  4. পাকা > পাক্কা
সঠিক উত্তর:
লাল > নাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল > নাল
ব্যাখ্যা
• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন – শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বাঞ্জনদ্বিত্ব:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, তাকে বাঞ্জনদ্বিত্ব বা বাঞ্জনদ্বিত্বতা বলে।
- যেমন:
- বড় > বড্ড,
- পাঞ্চা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কল ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:  
শব্দের মধ্যে যদি কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে অন্য কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি হয় তখন তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলো।
- যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধোবা > ধোপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
২২৮.
সমীভবনের উদাহরণ কোনটি?
  1. শুনিয়া > শুনে
  2. কর্ম > কম্ম
  3. ফাল্গুন > ফাগুন
  4. চাল > চাউল
সঠিক উত্তর:
কর্ম > কম্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম > কম্ম
ব্যাখ্যা
সমীভবনের উদাহরণ- কর্ম > কম্ম।

অন্যদিকে,
’শুনিয়া > শুনে’ অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
’ফাল্গুন > ফাগুন’ অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

উল্লেখ্য
 চাউল > চাল’ মধ্যস্বরলোপ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২২৯.
'সকাল > সক্কাল' — এটি কীসের উদাহরণ?
  1. সমীভবন
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. অভিশ্রুতি
  4. দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা

দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল,
- বড় > বড্ড,
- কিছু > কিচ্ছু  ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৩০.
অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. কবাট > কপাট
  2. ফাল্গুন > ফাগুন
  3. লাঙ্গল > নাঙ্গল
  4. বিলাতি > বিলিতি
সঠিক উত্তর:
ফাল্গুন > ফাগুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাল্গুন > ফাগুন
ব্যাখ্যা
• অন্তর্হতি: পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
- ফলাহার > ফলার;
- আলাহিদা > আলাদা;
- ফাল্গুন > ফাগুন ইত্যাদি।


অন্যদিকে,
• স্বরসঙ্গতি: একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• বিষমীভবন: দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল,
- লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে
যেমন:
- শাক > শাগ;
- ধোবা > ধোপা;
- কবাট > কপাট;
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩১.
'লাল > নাল' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অতিশ্রুতি
  2. সম্প্রকর্ষ
  3. অসমীকরণ 
  4. বিষমীভবন
সঠিক উত্তর:
বিষমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষমীভবন
ব্যাখ্যা

• বিষমীভবন:
- দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।
যেমন:
- আটমেসে ˃ আটাসে, কুটুম্ব ˃ কুটুম, জানালা ˃ জান্লা ইত্যাদি।

• অসমীকরণ:
- একই ঘরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন:
- ধপ + ধপ ধপাধপ;
- টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

• অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রতি।
যেমন:
- করিয়া > কইর‌্যা > করে, দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে, গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৩২.
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে, তাকে কী বলে?
  1. স্বরসঙ্গতি
  2. স্বরভক্তি
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. স্বরলোপ
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন: দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন: রত্ন > রতন।

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।
যেমন: আটমেসে ˃ আটাসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩৩.
"ছোটদাদা > ছোটদা" কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অন্তর্হতি
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  3. ধ্বনি বিপর্যয়
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনচ্যুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়, এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি ।

যেমন:
- বউদিদি > বউদি,
- বড়দাদা > বড়দা,
- ছোটদাদা > ছোটদা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩৪.
কোনটি অন্ত্যস্বর লোপ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. সুবর্ণ > স্বর্ণ
  2. পোকা > পোক্‌
  3. অগুরু > অগ্রু
  4. অলাবু > লাবু > লাউ
সঠিক উত্তর:
পোকা > পোক্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোকা > পোক্‌
ব্যাখ্যা
অন্ত্যস্বর লোপ:
যেমন:
- আশা > আশ,
- আজি > আজ,
- চারি > চার (বাংলা),
- পোকা > পোক্‌ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মধ্যস্বর লোপ - অগুরু > অগ্রু, সুবর্ণ > স্বর্ণ।
আদিস্বরলোপ - অলাবু > লাবু > লাউ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩৫.
'শহরিয়া > শহইর‍্যা > শহুরে' কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রুতি
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  3. স্বরলোপ
  4. অন্তর্হতি
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি: 
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
 যেমন:
- করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা’ থেকে অভিশ্রুতিজাত করে।
এরূপ:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মেছাে,
- শহরিয়া > শহইর‍্যা > শহুরে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়।
- এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন:
- বউদিদি> বউদি,
- বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোন স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
- সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ তিন ধরনের হয়ে থাকে।

অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি। 
যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলা,
- আলাহিদা > আলাদা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩৬.
"শুনিয়া > শুনে" - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. অভিশ্রুতি
  3. বিপ্রকর্ষ
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা
• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে। 
যেমন:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৩৭.
কোনটি ব্যঞ্জনচ্যুতির উদাহরণ?
  1. ধাইমা > দাইমা 
  2. বড়দাদা > বড়দা 
  3. নকশা > নশকা
  4. শাক > শাগ
সঠিক উত্তর:
বড়দাদা > বড়দা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড়দাদা > বড়দা 
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন:
- বড়দাদা > বড়দা;
- বউদিদি > বউদি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ব্যঞ্জনবিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোন ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যদি নতুন কোন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জনবিকৃতি বলে।
যেমন:
- শাক > শাগ,
- কবাট > কপাট,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

ধ্বনি বিপর্যয়:
উচ্চারণের সময় আগের ধ্বনি পরে গেলে ও পরের ধ্বনি আগে চলে আসলে ধ্বনি বিপর্যয় ঘটে।
যেমন:
- নকশা > নশকা,
- রিক্সা > রিস্কা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৩৮.
নিচের কোনটিতে ধ্বনি বিপর্যয় ঘটেছে?
  1. ক) নকশা > নশকা
  2. খ) জন্ম > জম্ম
  3. গ) শরীর > শরীল 
  4. ঘ) ধোবা > ধোপা
সঠিক উত্তর:
ক) নকশা > নশকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নকশা > নশকা
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'নকশা > নশকা' এর ধ্বনি বিপর্যয় ঘটেছে।

• ধ্বনি বিপর্যয়:
উচ্চারণের সময় আগের ধ্বনি পরে গেলে ও পরের ধ্বনি আগে চলে আসলে ধ্বনি বিপর্যয় ঘটে।
তলোয়ার > তরোয়াল
নকশা > নশকা
রিক্সা > রিস্কা
লাফ > ফাল
তুলতুলা > লুতলুতা
এক্সিডেন্ট > এস্কিডেন্ট ইত্যাদি।

অন্য অপশনগুলো:

 • বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
শরীর > শরীল
লাল > নাল
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

• সমীভবন:
উচ্চারণের সময় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হয়ে যাওয়াকে বলে সমীভবন।
জন্ম > জম্ম
দুর্গা > দুগগা
রাজ্য > রাজ্জ
স্বর্ণ > সন্ন ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জনবিকৃতি
শব্দের মধ্যে কোন ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যদি নতুন কোন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জনবিকৃতি বলে।
ধোবা > ধোপা
শাক > শাগ
কবাট > কপাট 
ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,সৌমিত্র শেখর)।
২৩৯.
অন্ত্যস্বর লোপ পেয়েছে কোন উদাহরণে?
  1. উদ্ধার > উধার > ধার
  2. অলাবু> লাবু > লাউ
  3. সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
  4. সুবর্ণ > স্বর্ণ
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
ব্যাখ্যা
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন- বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

• আদি স্বরলোপ:
প্রথম স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে আদি স্বরলোপ বলে।
যেমন:
- অলাবু> লাবু > লাউ,
- উদ্ধার > উধার > ধার।

• মধ্যস্বর লোপ:
শব্দের মধ্যে অবস্থিত স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে মধ্যস্বর লোপ বলে।
যেমন:
- অগুরু > অগ্র,
- সুবর্ণ > স্বর্ণ

• অন্ত্যস্বর লোপ:
শব্দের শেষে অবস্থিত স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্ত্যস্বর লোপ বলে।
যেমন:
- আশা > আশ,
- আজি > আজ,
- চারি > চার,
- সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 
২৪০.
"সাধু > সাউধ" কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্বরসঙ্গতি
  2. অপিনিহিতি
  3. বিপ্রকর্ষ
  4. অসমীকরণ
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি (Apenthesis):
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
• আজি > আইজ,
• সাধু > সাউধ,
• রাখিয়া > রাইখ্যা,
• বাক্য > বাইক্য,
• সত্য > সইত্য,
• চারি > চাইর,
• মারি > মাইর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪১.
কোনটি অপনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. সত্য > সত্যি
  2. সত্য > সইত্য
  3. সত্য > সচ্চ
  4. সত্য > সত্ত
সঠিক উত্তর:
সত্য > সইত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্য > সইত্য
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি (Apenthesis):
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ;
- সাধু > সাউধ;
- রাখিয়া > রাইখ্যা;
- বাক্য > বাইক্য;
- সত্য > সইত্য;
- চারি > চাইর;
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অন্ত্যস্বরাগম - সত্য > সত্যি।
• অন্যোন্য সমীভবন -  সত্য > সচ্চ।
• প্রগত সমীভবন - সত্য > সত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪২.
'জানালা > জান্‌লা' - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রতি
  2. সম্প্রকর্ষ
  3. বিপ্রকর্ষ
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

যেমন:
- আটমেসে > আটাসে, 
- কুটুম্ব > কুটুম, 
- জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৪৩.
কোনটি অপনিহিতির উদাহরণ?
  1. ক) শুনিয়া
  2. খ) রাইত
  3. গ) জলো
  4. ঘ) চলতি
সঠিক উত্তর:
খ) রাইত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাইত
ব্যাখ্যা
ভাষার পরিবর্তন ধ্বনির পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত। ধ্বনি পরিবর্তন নানা প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। অপিনিহিতি তার মধ্যে অন্যতম।

অপিনিহিতি (Apenthesis):
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন – আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া » রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি > চাইর, মারি > মাইর ইত্যাদি
অনুরূপভাবে, রাতি > রাইত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪৪.
"ধােবা > ধােপা" কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অন্তর্হতি
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  3. অভিশ্রুতি
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন বিকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধােবা > ধােপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন:
- করিয়া > কইর‌্যা > করে,
- দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে,
- গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়। এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন:
- বউদিদি> বউদি,
- বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলা,
- আলাহিদা > আলাদা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪৫.
কোনটিতে ব্যঞ্জন বিকৃতি ঘটেছে?
  1. ক) ফাল্গুন > ফাগুন
  2. খ) বড়দাদা > বড়দা
  3. গ) শাক > শাগ
  4. ঘ) নকশা > নশকা
সঠিক উত্তর:
গ) শাক > শাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শাক > শাগ
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিতি হয়ে যদি কোনো নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়, তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে।
যেমন:
ধোবা > ধোপা, শাক > শাগ ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জনচ্যুতি: শব্দের শেষে পাশাপাশি সমউচ্চরণ সম্পন্ন দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি থেকে একটি লোপ পাওয়াকে ব্যঞ্জনচ্যুতি বা ধ্বনিচ্যুতি বলে।
যেমন: 
বড়দিদি > বড়দি, বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

• ধ্বনিবিপর্যয়: উচ্চারণের সময় শব্দের কোনো কোনো ধ্বনি স্থান পরিবর্তন হলে ধ্বনিবিপর্যয় ঘটে।
যেমন:
পিশাচ > পিচাশ, রিক্সা > রিস্কা, নকশা > নশকা ইত্যাদি।

• অন্তর্হতি: শব্দের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন:
ফলাহার > ফলার, ফাল্গুন > ফাগুন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪৬.
মধ্যগত স্বরসঙ্গতির উদাহরণ কোনটি?
  1. মুলা > মুলো
  2. আখো > আখুয়া > এখো
  3. বিলাতি > বিলিতি
  4. মোজা > মুজো
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
ব্যাখ্যা
• ‘বিলাতি > বিলিতি’ পরাগত স্বরসঙ্গতির উদাহরণ।
---------------------
স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন - দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- মুলা > মুলো;
- শিকা > শিকে;
- তুলা > তুলো।

• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- আখো > আখুয়া > এখো;
- দেশি > দিশি।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন: বিলাতি > বিলিতি।

• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন: মোজা > মুজো।

• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
- গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।
- পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন: মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি।
- বিশেষ নিয়মে- উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪৭.
'ফিল্ম > ফিলিম' কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্বরভক্তি
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. মধ্য স্বরাগম
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

যেমন:
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন স্বপন, হর্ষ > হরষ, ইত্যাদি।

ই - প্রীতি >পিরীতি, ক্লিপ> কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।

উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক> তুরুক, ইত্যাদি।

এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ >সেরেফ ইত্যাদি।

ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ> মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৪৮.
প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতু বা শব্দের মধ্যে কোন কোন ক্ষেত্রে স্বরগত অল্প-বিস্তর পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনকে বলা হয় -
  1. ক) অভিশ্রুতি
  2. খ) অপশ্রুতি
  3. গ) সম্প্রসারণ
  4. ঘ) বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
খ) অপশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অপশ্রুতি
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতু বা শব্দের মধ্যে কোন কোন ক্ষেত্রে স্বরগত অল্প-বিস্তর পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনকে অপশ্রুতি বলে।
অপশ্রুতি তিনভাবে প্রকাশ পায়। যথা: গুণ, বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪৯.
নিচের কোনটি বর্ণ বিপর্যয়ের উদাহরণ?
  1. ধাইমা > দাইমা 
  2. রিকসা্‌ > রিস্‌কা
  3. বউদিদি > বউদি
  4. ফাল্গুন > ফাগুন
সঠিক উত্তর:
রিকসা্‌ > রিস্‌কা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিকসা্‌ > রিস্‌কা
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি বিপর্যয় বা বর্ণ বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যবর্তী দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে হলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন: 
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা,
- তলোয়ার > তরোয়াল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ব্যঞ্জন বিকৃতি: 
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন- কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জনচ্যুতি: 
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
 যেমন- বউদিদি > বউদি, বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

• অন্তর্হতি: 
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন- ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।

২৫০.
'তৎ+হিত >তদ্ধিত' কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অন্যোন্য সমীভবন
  2. প্রগত সমীভবন
  3. পরাগত সমীভবন
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
পরাগত সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাগত সমীভবন
ব্যাখ্যা
পরাগত সমীভবন:
- পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন কে পরাগত সমীভবন বলে।
যেমন:
- তৎ+জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ+হিত >তদ্ধিত,
- উৎ+মুখ > উন্মুখ।

অন্যদিকে:
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।
যেমন: চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক।

অন্যোন্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অনন্যান্য সমীভবন।
যেমন:
- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ।
- সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫১.
ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ কোনটি?
  1. শরীর > শরীল
  2. লাল > নাল
  3. লালাট > নালাট
  4. ধাইমা > দাইমা
সঠিক উত্তর:
ধাইমা > দাইমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাইমা > দাইমা
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন-
- কবাট > কপাট,
- ধোবা > ধোপা, 
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন-
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল,
- লালাট>নালাট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।

২৫২.
কোনটি ব্যঞ্জন বিকৃতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ধোবা > ধোপা
  2. ফাল্গুন > ফাগুন
  3. বউদিদি > বউদি
  4. বড় দাদা > বড়দা
সঠিক উত্তর:
ধোবা > ধোপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধোবা > ধোপা
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।

যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধোবা > ধোপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অন্তর্হতি - ফাল্গুন > ফাগুন।
ব্যঞ্জনচ্যুতি - বউদিদি > বউদি, বড় দাদা > বড়দা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
২৫৩.
নিচের কোনটি স্বরভক্তির উদাহরণ?
  1. তুর্ক > তুরুক
  2. আজি > আইজ
  3. জানালা > জান্লা‌
  4. সুবর্ণ > স্বর্ণ
সঠিক উত্তর:
তুর্ক > তুরুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুর্ক > তুরুক
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রু > ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও – শ্লোক > শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- সুবর্ণ > স্বর্ণ = মধ্য স্বরালোপ।
- আজি > আইজ = অপিনিহিতি।
- জানালা > জান্লা‌ = সম্প্রকর্ষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৫৪.
কোনটি পরাগত স্বরসঙ্গতির উদাহরণ?
  1. মোজা > মুজো
  2. এখনি > এখুনি
  3. মিঠা > মিঠে
  4. আখো > আখুয়া > এখো
সঠিক উত্তর:
আখো > আখুয়া > এখো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখো > আখুয়া > এখো
ব্যাখ্যা

• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন- দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।

• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি, জিলাপি > জিলিপি।

অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মোজা > মুজো

• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
- গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

- পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন- মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি।
- বিশেষ নিয়মে - উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৫৫.
"বউদি ফাগুন মাসের সক্কাল বেলা অযথাই বড়দার সঙ্গে তক্ক কত্তে লাগল।" এই বাক্যে যে কয়টি শব্দে ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. ক) ৬টি
  2. খ) ৮টি
  3. গ) ৭টি
  4. ঘ) ৯টি
সঠিক উত্তর:
ক) ৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৬টি
ব্যাখ্যা
প্রশ্নের বাক্যে ৬ টি শব্দের ধ্বনি পরিবর্তন হয়েছে ।
ধ্বনি পরিবর্তনের নামঃ
• ব্যঞ্জনচ্যুতিঃ
পাশাপাশি সম উচ্চারণের দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায় ।
যেমনঃ বউদিদি > বউদি ।
বড়দাদা > বড়দা ।
• অন্তর্হতিঃ
পদের মধ্যে কোন ব্যঞ্জন ধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে ।
যেমনঃ ফাল্গুন > ফাগুন ।.
• দ্বিত্ব ব্যঞ্জনঃ
কখনো কখনো জোর দেওয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয় ।
যেমনঃ সকাল > সক্কাল
• র - কার লোপঃ
আধুনিক চলিত বাংলায় অনেক ক্ষেত্রে র-কার লোপ পায় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হয় ,
• যেমনঃ তর্ক > তক্ক
করতে > কত্তে ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২৫৬.
'মুরগ > মুরোগ > মোরগ' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রুতি
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. অন্ত্যস্বরাগম
  4. সম্প্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
• অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ; বস্তি > বসতি ইত্যাদি।
• ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
• উ- মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার > শুকুরবার ইত্যাদি।
• এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক> পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
• ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• অভিশ্রুতি:
অপিনিহিতির প্রভাবজাত ই কিংবা উ-ধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে মিলে শব্দের পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে। বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষায় যেমন অপিনিহিতির প্রাচুর্য, পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক কথ্যভাষা ও মান্যচলিত ভাষায় তেমনি অনেক অভিশ্রুতি শব্দ লক্ষ করা যায়।
যেমন: মানিয়া > মাইন্যা > মেনে। 

• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম। যেমন-
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন- বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৫৭.
'মুলা > মুলো' - কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্বরসঙ্গতি
  2. অপিনিহিতি
  3. অন্ত্যস্বরাগম
  4. সম্প্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা

স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৫৮.
বিপ্রকর্ষ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. স্বপ্ন > স্বপন
  2. ধাইমা > দাইমা
  3. স্কুল > ইস্কুল
  4. ফাল্গুন > ফাগুন
সঠিক উত্তর:
স্বপ্ন > স্বপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বপ্ন > স্বপন
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

যেমন:
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ> কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি। 
ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।
• 'স্কুল> ইস্কুল' আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তন।
• অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ-  ফাল্গুন > ফাগুন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৫৯.
ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ কোনটি?
  1. শরীর > শরীল
  2. চক্র > চক্ক
  3. ধোবা > ধোপা
  4. পদ্ম > পদ্দ
সঠিক উত্তর:
ধোবা > ধোপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধোবা > ধোপা
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে যদি কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে অন্য কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি হয় তখন তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলো।
যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধোবা > ধোপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-------------------
• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল ইত্যাদি।

• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক;
- পক্ব > পক্ক;
- পদ্ম > পদ্দ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৬০.
বাংলা ব্যঞ্জন সন্ধি নিচের কোন নিয়মটি মেনে গঠিত হয়?
  1. সমীভবন
  2. অপিনিহিতি
  3. আদি-স্বরাগম
  4. অসমীকরণ
  5. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমীভবন
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যঞ্জন সন্ধিঃ
স্বরে আর ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে আর ব্যঞ্জনে এবং ব্যঞ্জনে আর স্বরে মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
প্রকৃত বাংলা ব্যঞ্জন সন্ধি সমীভবন (Assimilation) - এর নিয়মেই হয়ে থাকে। আর তাও মূলত কথ্যরীতিতে সীমাবদ্ধ।
যেমন -
ছোট + দা = ছোড়দা।
বদ্‌ + জাত = বজ্জাদ।
পাঁচ + শ = পাঁশ্‌শ।
উৎসঃ নবম দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বই।
২৬১.
ঘোষীভবনের উদাহরণ কোনটি?
  1. শাক > শাগ
  2. পুকুর >পুখুর
  3. কাঠ > কাট
  4. বাবু > বাপু
সঠিক উত্তর:
শাক > শাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাক > শাগ
ব্যাখ্যা
• ঘোষীভবন: 
অঘোষধ্বনি ঘোষধ্বনি হিসেবে উচ্চারিত হলে তাকে ঘোষীভবন বলে। 
যেমন : 
কাক > কাগ, 
শাক > শাগ,  
শালা > হালা।

উল্লেখ্য, 
এটি পরাগত সমীভবন বা স্বরসঙ্গতির উদাহরণ নয়। কারণ, সমীভবনে এক ধ্বনিতে রূপ লাভ করে। এগুলো বরং এক ধরনের ব্যঞ্জন বিকৃতি। যে কারণে অনেক গ্রন্থে আলাদা করে এগুলো দেওয়া নেই। 

উৎস : ড. হায়াৎ মামুদ, ভাষা-শিক্ষা। 
২৬২.
"মগজ > মজগ" কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি
  2. প্রগত সমীভবন
  3. ধ্বনি-বিপর্যয়
  4. বিষমীভন
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি-বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি-বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি-বিপর্যয়:
উচ্চারণের সময় কিছু কিছু শব্দস্থিত ধ্বনির স্থানপরিবর্তন ঘটে। আগের ধ্বনি পরে যায় ও পরের ধ্বনি আগে আসে-এরকম অবস্থানগত বিপর্যয় দেখা যায়। যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ। ['শাচ' ধ্বনি দুটি (শা + চ) স্থান বদলে হয়েছে 'চাশ' (চা+শ)।]

• উচ্চারণের সময় শব্দস্থিত ধ্বনি স্থান পরিবর্তন করলে, তাকে ধ্বনিবিপর্যয় বা বর্ণবিপর্যয় বলে।
যেমন:
- করেণু > কণেরু,
- বাক্স > বাস্ক,
- তলোয়ার > তরোয়াল,
- মগজ > মজগ,
- রিকশা > রিশকা,
- লাফ > ফাল,
- ডেস্ক > ডেক্স ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬৩.
পদের মধ্যে কোন ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে কী বলে?
  1. অভিশ্রুতি
  2. অপিনিহিতি
  3. অন্তর্হতি
  4. অসমীকরণ
সঠিক উত্তর:
অন্তর্হতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তর্হতি
ব্যাখ্যা
- পদের মধ্যে কোন ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন - 
- ফাল্গুন >ফাগুন।
- ফলাহার > ফলার।
- আলাহিদা > আলাদা।

• অপিনিহিতি:
-পরের ই-কার আগ উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিত বলে।
- আজি> আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- চারি> চাইর,
- মারি> মাইর,

• অসমীকরণ :
-একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্যে মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত করা হয় তখন তাকে অসমীকরণ বলে।
যেমন -
- ধপ + ধপ = ধপাধপ,
- টপ + টপ = টপাটপ,

• অভিশ্রুতি :
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে ।
যেমন-
শুনিয়া > শুনে,
বলিয়া > বলে,
হাটুয়া >  হাউটা,

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত,  নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)
২৬৪.
অপিনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. সত্য > সত্যি
  2. আজি > আইজ
  3. ধাইমা > দাইমা
  4. আলাহিদা > আলাদা
সঠিক উত্তর:
আজি > আইজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজি > আইজ
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি পরিবর্তন:
উচ্চারণের সময় সহজীকরণের প্রবণতায় শব্দের মূল ধ্বনির যেসব পরিবর্তন ঘটে তাকে বলা হয় ধ্বনি পরিবর্তন।

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন -
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি । অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে ।
যেমন:
- শাক > শাগ;
- ধোবা > ধোপা;
- কবাট > কপাট;
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
- ফলাহার > ফলার;
- আলাহিদা > আলাদা
- ফাল্গুন > ফাগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৫.
'রাখিয়া > রাইখ্যা' এটি কিসের উদাহরণ?
  1. ক) স্বরসঙ্গতি
  2. খ) অপিনিহিতি
  3. গ) অপশ্রুতি
  4. ঘ) অভিশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
খ) অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতি:
শব্দের মধ্যস্থিত বা অন্তস্থিত ই-কার বা উ-কার ধ্বনি থাকলে এটিকে আগে থেকেই উচ্চারণ করার নীতিকে অপিনিহিতি বলে। যেমন-

• ই-কারের অপিনিহিতি: যেমন- রাখিয়া > রাইখ্যা, জালিয়া > জাইল্যা, রাতি > রাইত, কালি > কাইল, আজি > আইজ, সত্য >সইত্য, চারি > চাইর ইত্যাদি। এখানে খ-এর পরে অবস্থিত ই-কার খ-এর আগেই উচ্চারিত হয়েছে। অনুরূপ অন্যান্য।

• উ-কারের অপিনিহিতি: সাধারণত উ-কার ই-কারে পরিবর্তিত হয়। যেমন- সাধু > লাউধ, মাছুয়া > মাউছ্যা, গাছুয়া > গাউছ্যা।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২৬৬.
অন্ত্যস্বর লোপ পেয়েছে নিচের কোন উদাহরণে?
  1. অলাবু > লাবু > লাউ
  2. সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
  3. উদ্ধার > উধার > ধার
  4. সুবর্ণ > স্বর্ণ
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
ব্যাখ্যা

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন- বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

• আদি স্বরলোপ:
প্রথম স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে আদি স্বরলোপ বলে।
যেমন:
- অলাবু > লাবু > লাউ,
- উদ্ধার > উধার > ধার।

• মধ্যস্বর লোপ:
শব্দের মধ্যে অবস্থিত স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে মধ্যস্বর লোপ বলে।
যেমন:
- অগুরু > অগ্রু,
- সুবর্ণ > স্বর্ণ।

• অন্ত্যস্বর লোপ:
শব্দের শেষে অবস্থিত স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্ত্যস্বর লোপ বলে।
যেমন:
- আশা > আশ,
- আজি > আজ,
- চারি > চার,
- সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

২৬৭.
'মুক্তা > মুকুতা' কোন ধরনের পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত?
  1. অসমীকরণ
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. স্বরসার্ম
  4. বিষমীভবন
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

যেমন:
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি। 
ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ> মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৬৮.
নিচের কোনটি পরাগত সমীভবনের উদাহরণ?
  1. ক) লগ্ন > লগ্গ
  2. খ) কর্ম > কম্ম
  3. গ) পক্ব > পক্ক
  4. ঘ) চক্র > চক্ক
সঠিক উত্তর:
খ) কর্ম > কম্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্ম > কম্ম
ব্যাখ্যা
• সমীভবন (Assimilation): শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন। যেমন- জন্ম > জম্ম; কাদনা > কান্না ইত্যাদি।

⇒ প্রগত (Progressive) সমীভবন : পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন। যেমন: চক্র > চক্ক;  পক্ব > পক্ক; পদ্ম > পদ্দ; লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

⇒ পরাগত (Regressive) সমীভবন : পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন: কাঁদনা > কান্না; কর্ম > কম্ম; কর্তা > কত্তা; তৎ + জন্য > তজ্জন্য; তৎ + হিত > তদ্ধিত; উৎ + মুখ >উন্মুখ ইত্যাদি।

⇒ অন্যান্য সমীভবন : যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যান্য সমীভবন।
যেমন: সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ; সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬৯.
'চারি > চাইর' - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. ক) স্বরসঙ্গতি
  2. খ) মধ্য স্বরাগম
  3. গ) অপিনিহিতি
  4. ঘ) সম্প্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
গ) অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
• ভাষার পরিবর্তন ধ্বনির পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত। ধ্বনি পরিবর্তন নানা প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। অপিনিহিতি তার মধ্যে অন্যতম।

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
আজি > আইজ,
সাধু > সাউধ,
রাখিয়া » রাইখ্যা,
বাক্য > বাইক্য,
সত্য > সইত্য,
চারি > চাইর,
মারি > মাইর,
রাতি > রাইত ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭০.
মধ্য স্বরাগমের উদাহরণ না নিচের কোনটি?
  1. গ্রাম > গেরাম
  2. ভ্রূ > ভুরু
  3. মুলা > মুলো
  4. রত্ন > রতন
সঠিক উত্তর:
মুলা > মুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুলা > মুলো
ব্যাখ্যা
মুলা > মুলো স্বরসঙ্গতির উদাহরণ। রত্ন > রতন, স্বপ্ন > স্বপন, ফিল্ম > ফিলিম, গ্রাম > গেরাম, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষের উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২৭১.
'ফাল্গুন > ফাগুন' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. স্বরসঙ্গতি
  3. অন্তর্হতি
  4. বিষমীভবন
সঠিক উত্তর:
অন্তর্হতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তর্হতি
ব্যাখ্যা

• অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
- ফলাহার > ফলার;
- আলাহিদা > আলাদা;
- ফাল্গুন > ফাগুন ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
----------------
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন- কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বরের প্রভাবে শব্দের মধ্যে অপর স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে প্রভাবকারী স্বরের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করলে, এই রীতিকে বলা হয় স্বরসঙ্গতি। প্রধানত চারটি পদ্ধতিতে স্বরসঙ্গতি হয়ে থাকে। যথা: প্রগত স্বরসঙ্গতি, পরাগত স্বরসঙ্গতি, মধ্যগত স্বরসঙ্গতি এবং অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি। 

• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমন- শরীর > শরীল, লাল > নাল, লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৭২.
'বলিয়া > বলে' - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রুতি
  2. অপিনিহিতি
  3. ধ্বনি বিপর্যয়
  4. অন্তর্হতি
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা

অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।

যেমন
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- মাছুুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৭৩.
"ক্লিপ >কিলিপ" - এখানে কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. সম্প্রকর্ষ
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. সমীভবন
  4. বিষমীভবন
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
• "ক্লিপ >কিলিপ" - বিপ্রকর্ষ/মধ্য স্বরাগম এর উদাহরণ।
--------------------
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে, একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন-
- অ- রত্ন > রতন, ধর্ম >ধরম, স্বপ্ন >স্বপন, হর্ষ >হরষ ইত্যাদি।
- ই- প্রীতি >পিরীতি, ক্লিপ >কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ- মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক> তুরুক, ভূ >ভুরু ইত্যাদি।
- এ গ্রাম >গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ >সেরেফ ইত্যাদি।
- ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ >মুরোগ >মোরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৭৪.
জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দুই বার উচ্চারণ হয় তাকে কী বলে?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
  3. বিষমীভবন
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
সঠিক উত্তর:
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
দ্বিত্ব ব্যাঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দুই বার উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যাঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা;
- সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিষমীভবন:
- দুটি সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলা হয়।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল ইত্যাদি।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:

- শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়।
- একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধােবা > ধােপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়।
- এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন:
- বউদিদি> বউদি,
- বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭৫.
মধ্যস্বর লোপের উদাহরণ কোনটি?
  1. আজি > আজ
  2. গামোছা > গামছা
  3. সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
  4. আশা > আশ
সঠিক উত্তর:
গামোছা > গামছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গামোছা > গামছা
ব্যাখ্যা
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন:
- বসতি > বস্‌তি,
- জানালা > জন্‌লা ইত্যাদি।

• আদিস্বরলোপ (Aphesis): অলাবু > লাবু > লাউ; উদ্ধার > উধার > ধার।
• মধ্যস্বর লোপ (Syncope): অগুরু > অগ্ৰু; সুবর্ণ > স্বর্ণ, গামোছা > গামছা।
•  অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা > আশ; আজি > আজ; চারি > চার (বাংলা); সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭৬.
'ভ্রু > ভুরু' কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. বিষমীভবন
  2. ধ্বনি বিপর্যয়
  3. সমীভবন
  4. স্বরভক্তি
সঠিক উত্তর:
স্বরভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরভক্তি
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন -
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই  - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রু > ভুরু ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক > শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭৭.
কোনটি স্বরসঙ্গতির উদাহরণ?
  1. ফলাহার > ফলার
  2. রিক্সা > রিসকা
  3. রত্ন > রতন
  4. মুলা > মুলাে
সঠিক উত্তর:
মুলা > মুলাে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুলা > মুলাে
ব্যাখ্যা

স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন: 
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অন্তর্হতি - ফলাহার > ফলার।
ধ্বনি বিপর্যয় - রিক্সা > রিসকা।
স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি - রত্ন > রতন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৭৮.
'রত্ন > রতন' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপনিহিতি
  2. আদি স্বরাগম
  3. মধ্যস্বরাগম
  4. অন্ত্যস্বরাগম
সঠিক উত্তর:
মধ্যস্বরাগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যস্বরাগম
ব্যাখ্যা
• 'রত্ন > রতন'- মধ্যস্বরাগম বা 'বিপ্রকর্ষ' এর উদাহরণ।

মধ্যস্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ: 
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্যস্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ।
যেমন : গ্রাম > গেরাম।
আরো কয়েকটি উদাহরণ
- রত্ন > রতন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন ইত্যাদি।
-------------------- 
আদি স্বরাগম:
শব্দের শুরুতে নতুন স্বরধ্বনির আগমন।
যেমন: স্কুল > ইস্কুল, স্টেশন > ইস্টিশন।

অন্ত্যস্বরাগম:
শব্দের শেষে নতুন স্বরধ্বনির আগমন।
যেমন: দিশ্ > দিশা, সত্য > সত্যি।

অপিনিহিতি: 
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন-
- মারি > মাইর, 
- আজি > আইজ, 
- সাধু > সাউধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২৭৯.
উৎ+মুখ > উন্মুখ কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ক) বিষমীভবন
  2. খ) ধ্বনি বিপর্যয়
  3. গ) সমীভবন
  4. ঘ) অপিনিহিতি
সঠিক উত্তর:
গ) সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সমীভবন
ব্যাখ্যা
সমীভবন (Assimilation) : শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন। যেমন- জন্ম > জম্ম; কাদনা > কান্না ইত্যাদি।

⇒ প্রগত (Progressive) সমীভবন : পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন। যেমন: চক্র > চক্ক;  পক্ব > পক্ক; পদ্ম > পদ্দ; লগ্ন » লগ্গ ইত্যাদি।

⇒ পরাগত (Regressive) সমীভবন : পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন: তৎ + জন্য > তজ্জন্য; তৎ + হিত > তদ্ধিত; উৎ + মুখ >উন্মুখ ইত্যাদি।

⇒ অন্যান্য সমীভবন : যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যান্য সমীভবন।
যেমন: সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ; সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮০.
'কবাট' শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে 'কপাট' হওয়া — এটি ব্যাকরণের কোন নিয়মের অন্তর্ভুক্ত?
  1. স্বরভক্তি
  2. অপিনিহিতি
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. অভিশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন বিকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।

যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধােবা > ধােপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৮১.
অন্ত্যস্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. বেঞ্চ > বেঞ্চি
  2. ধোবা > ধোপা
  3. কবাট > কপাট
  4. সত্য > সইত্য
সঠিক উত্তর:
বেঞ্চ > বেঞ্চি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেঞ্চ > বেঞ্চি
ব্যাখ্যা

অন্ত্যস্বরাগম:
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিস্ > দিশা;
- পোখত্ > পোক্ত;
- বেঞ্চ > বেঞ্চি;
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ব্যঞ্জন বিকৃতি: - ধোবা > ধোপা; কবাট > কপাট।
অপিনিহিতি - সত্য > সইত্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৮২.
স্বর সংগতির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) দেশী > দিশী
  2. খ) রাত্রি > রাইত
  3. গ) হইবে > হবে
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক) দেশী > দিশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দেশী > দিশী
ব্যাখ্যা
• দেশী > দিশী- স্বরসংগতির উদাহরণ।

• স্বরসংগতি ধ্বনি পরিবর্তন: 
- একটি স্বরধনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসংগতি বলে।
যেমন- 
• দেশি > দিশি 
• বিলাতি > বিলিতি 
• মুলা > মুলো ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮৩.
'কুটুম্ব ˃ কুটুম' কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রতি
  2. স্বরলোপ
  3. বিষমীভবন
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
সঠিক উত্তর:
স্বরলোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরলোপ
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

যেমন:
- আটমেসে ˃ আটাসে,
- কুটুম্ব ˃ কুটুম,
- জানালা ˃ জান্লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮৪.
নিচের কোনটি ব্যঞ্জনদ্বিত্বের উদাহরণ?
  1.  চক্র > চক্ক
  2. পাকা > পাক্কা
  3. পদ্ম > পদ্দ
  4. লগ্ন > লগ্গ
সঠিক উত্তর:
পাকা > পাক্কা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকা > পাক্কা
ব্যাখ্যা

• দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বলে।

যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল,
- বড় > বড্ড,
- কিছু > কিচ্ছু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৮৫.
কোনটি পরাগত স্বরসঙ্গতির উদাহরণ?
  1. মোজা > মুজো
  2. মুলা > মুলো
  3. আখো > আখুয়া > এখো
  4. বিলাতি > বিলিতি
সঠিক উত্তর:
আখো > আখুয়া > এখো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখো > আখুয়া > এখো
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বরের প্রভাবে শব্দের মধ্যে অপর স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে প্রভাবকারী স্বরের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করলে, এই রীতিকে বলা হয় স্বরসঙ্গতি। প্রধানত চারটি পদ্ধতিতে স্বরসঙ্গতি হয়ে থাকে।

যথা:
• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন: মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো, মিথ্যা > মিথ্যে, পুত্র > পুত্তুর।

• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদিস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন: আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন: বিলাতি > বিলিতি।

• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যান্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন: মোজা > মুজো, ধোঁকা > ধুঁকো, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৬.
"মহোৎসব > মোচ্ছব" - এটি কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অপিনিহিতি
  2. সমীভবন
  3. অন্তর্হতি
  4. ব্যঞ্জনদ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমীভবন
ব্যাখ্যা

অন্যোন্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অনন্যান্য সমীভবন।
যেমন:
- সত্য > সচ্চ,
- বিদ্যা > বিজ্জা,
- মহোৎসব > মোচ্ছব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৮৭.
স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া কোনটি?
  1. সম্প্রকর্ষ
  2. স্বরলোপ
  3. ক এবং খ উভয়ই
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন -
• অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
• ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
• উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।
• এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
• ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, সম্প্রকর্ষ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।

অন্যদিকে,
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন - বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।
ক. আদিস্বরলোপ (Aphesis):  অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।
খ. মধ্যস্বর লোপ (Syncope): অগুরু > অগ্রু, সুবর্ণ > স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।
- স্বরলোপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮৮.
'ট্যাক্স > ট্যাকসো’ কোন ধরনের ধ্বনির পরিবর্তন?
  1. অন্ত্যস্বরাগম
  2. অসমীকরণ
  3. অপিনিহিতি
  4. স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
অন্ত্যস্বরাগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্ত্যস্বরাগম
ব্যাখ্যা
অন্ত্যস্বরাগম:
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
 যেমন:
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি,
- ট্যাক্স > ট্যাকসো ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
 যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

অসমীকরণ:
- একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
 যেমন:
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
 যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮৯.
'ধ্বনি বিপর্যয়' এর উদাহরণ কোনটি?
  1. জন্ম > জম্ম
  2. শরীর > শরীল
  3. পিশাচ > পিচাশ
  4. বড়দাদা > বড়দা
সঠিক উত্তর:
পিশাচ > পিচাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিশাচ > পিচাশ
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন - ইংরেজি বাক্‌স > বাংলা বাস্‌ক, জাপানি রিক্‌সা > বাংলা রিস্‌কা ইত্যাদি।
অনুরূপ -
পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

অন্যদিকে,
- জন্ম > জম্ম - সমীভবনের উদাহরণ।
- শরীর > শরীল - বিষমীভবনের উদাহরণ।
- বড়দাদা > বড়দা - ব্যঞ্জনচ্যুতির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯০.
'স্কুল > ইস্কুল'- এখানে কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন হয়েছে? 
  1. অসমীকরণ
  2. আদি স্বরাগম
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. মধ্য স্বরাগম
সঠিক উত্তর:
আদি স্বরাগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদি স্বরাগম
ব্যাখ্যা
• আদি স্বরাগম:
- উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে বলে আদি স্বরাগম।
যেমন- স্কুল > ইস্কুল। 

• অন্যদিকে: 
• অসমীকরণ:
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন – ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

• স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন – দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

• মধ্য স্বরাগম:
- শব্দের মাঝে নতুন স্বরধ্বনির আগমন ঘটলে তাকে মধ্য স্বরাগম বলে। 
যেমন: রত্ন > রতন, গ্রাম > গেরাম। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।  
২৯১.
কোনটি অভিশ্রুতির ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয়?
  1. মাছুুয়া > মেছো
  2. বলিয়া > বলে
  3. শুনিয়া > শুনে
  4. আলাহিদা > আলাদা
সঠিক উত্তর:
আলাহিদা > আলাদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাহিদা > আলাদা
ব্যাখ্যা

অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।

যেমন:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- মাছুুয়া > মেছো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'আলাহিদা > আলাদা' অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৯২.
কোনটি পরাগত সমীভবনের উদাহরণ?
  1. তৎ + হিত > তদ্ধিত
  2. পদ্ম > পদ্দ
  3. চক্র > চক্ক
  4. সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা
সঠিক উত্তর:
তৎ + হিত > তদ্ধিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎ + হিত > তদ্ধিত
ব্যাখ্যা
• পরাগত সমীভবনের উদাহরণ হচ্ছে - তৎ + হিত > তদ্ধিত।

সমীভবন:

- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন:
- জন্ম > জম্ম,
- কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
 যেমন:
- চক্র > চক্ক, 
 - পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

পরাগত সমীভবন:
- পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত > তদ্ধিত,
- উৎ + মুখ >উন্মুখ ইত্যাদি।

অন্যান্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যান্য সমীভবন।
যেমন:
- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ,
- সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯৩.
কোনটি সম্প্রকর্ষ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. শরীর > শরীল
  2. আটমেসে > আটাসে
  3. করিয়া > করে
  4. গাছুয়া > গেছো
সঠিক উত্তর:
আটমেসে > আটাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আটমেসে > আটাসে
ব্যাখ্যা

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

যেমন:
- আটমেসে > আটাসে,
- কুটুম্ব > কুটুম,
- জানালা > জান্‌ লা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিষমীভবন: শরীর > শরীল। 
অভিশ্রতি: করিয়া > কইর‌্যা > করে, দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে, গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৯৪.
কোন শব্দের স্বরটি দীর্ঘ?
  1. ক) কলা
  2. খ) পাতা
  3. গ) পুলিশ
  4. ঘ) ইট
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইট
ব্যাখ্যা

সাধারণ নিয়ম -
- এক সিলেবলের শব্দ বা শব্দশেষের সিলেবলে স্বরধ্বনি অনেক সময় দীর্ঘ হয়।
যেমন,
• কল, জল, তল, জাম, ইট, কুল - ইত্যাদি দীর্ঘ উচ্চারণ৷

- কিছুক্ষেত্রে হ্রস্ব বর্ণের উচ্চারণ দীর্ঘ ও দীর্ঘ বর্ণের উচ্চারণ হ্রস্ব হয়।
যেমন,
• তিরিশ, উচিত, পুলিশ, নতুন - ইত্যাদি শব্দ লিখিত হয়েছে হ্রস্ব কার দিয়ে; কিন্তু উচ্চারণ দীর্ঘ হয়।
• দীন, ঈদ, ভূমি - ইত্যাদি লিখিত হয়েছে দীর্ঘ কার দিয়ে; কিন্তু উচ্চারণ হ্রস্ব হয়।

উৎসঃ মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই, বাংলা একাডেমী অভিধান ও ভাষা শিক্ষা বই।

২৯৫.
"সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ" ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. রত্ন > রতন
  2. বসতি > বস্‌তি
  3. বউদিদি > বউদি
  4. শরীর > শরীল
সঠিক উত্তর:
বসতি > বস্‌তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসতি > বস্‌তি
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন - বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।
ক. আদি স্বরলোপ: অলাবু > লাবু > লাউ।
খ. মধ্যস্বর লোপ: অগুরু > অগ্রু; সুবর্ণ > স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বলোপ: আজি > আজ; চারি > চার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি  - অ - রত্ন > রতন।
- বউদিদি > বউদি = ব্যঞ্জনচ্যুতির উদাহরণ।
- বিষমীভবনের উদাহরণ - শরীর > শরীল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯৬.
কোনটি মধ্য স্বরাগম-এর উদাহরণ?
  1. ক) রত্ন > রতন
  2. খ) স্কুল > ইস্কুল
  3. গ) সত্য > সত্যি
  4. ঘ) আজি > আইজ
সঠিক উত্তর:
ক) রত্ন > রতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রত্ন > রতন
ব্যাখ্যা
আদি স্বরাগম - স্কুল > ইস্কুল, স্ত্রী > ইস্ত্রী, স্টেশন > ইস্টেশন।
মধ্য স্বরাগম - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন।
অন্ত্য স্বরাগম - সত্য > সত্যি, দিশ্ > দিশা।
আজি > আইজ হলো অপিনিহিতির উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২৯৭.
'লগ্ন থেকে 'লগ্গ' কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি
  2. প্রগত সমীভবন
  3. দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
  4. পরাগত সমীভবন
সঠিক উত্তর:
প্রগত সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রগত সমীভবন
ব্যাখ্যা

প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
 
যেমন:
- চক্র > চক্ক, 
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৯৮.
'গাহিল > গাইল' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি 
  3. হ-কার লোপ
  4. অভিশ্রুতি 
সঠিক উত্তর:
হ-কার লোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ-কার লোপ
ব্যাখ্যা

• হ-কার লোপ:
আধুনিক চলিত ভাষায় অনেক সময় দুই স্বরের মাঝামাঝি হ-কারের লোপ হয়।
যেমন:
- পুরোহিত > পুরুত,
- গাহিল > গাইল,
- চাহে > চায়,
- সাধু > সাহু > সাউ,
- আরবি আল্লাহ্ > বাংলা আল্লা,
- ফারসি শাহ্ > বাংলা শা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

২৯৯.
ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. কবাট > কপাট
  2. ধোবা > ধোপা
  3. ধাইমা > দাইমা
  4. মাছুয়া > মেছো
সঠিক উত্তর:
মাছুয়া > মেছো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাছুয়া > মেছো
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধোবা > ধোপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
----------------
• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
যেমন:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩০০.
লাফ > ফাল- এটি কিসের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি
  2. বর্ণ বিপর্যয়
  3. সমীভবন
  4. বিপ্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
বর্ণ বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণ বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের মধ্যবর্তী দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি পরষ্পর পরিবর্তন ঘটলে হলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন:
- পিশাচ ˃ পিচাশ,
- লাফ˃ ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা ইত্যাদি।

• উল্লেখ্য অপশন 'বর্ণ বিপর্যয়' পরিবর্তে 'ধ্বনি বিপর্যয়' হওয়া উচিত ছিলো, তাই সম্ভাব্য উত্তর হিসাবে অপশন খ নেওয়া হলো।  

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।