বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনি পরিবর্তন

মোট প্রশ্ন৮৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনি পরিবর্তন

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৮৪৬

.
‘লাফ > ফাল’ এ কী ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. অসমীকরণ
  2. বিষমীভবন
  3. সমীভবন
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন,
– ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক, জাপানি রিক্সা > বাংলা রিস্কা ইত্যাদি।
অনুরুপ,
পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'ভ্রূ > ভুরু' শব্দে ধ্বনির কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. আদি স্বরাগম
  2. অন্ত্য স্বরাগম
  3. মধ্য স্বরাগম
  4. স্বরসঙ্গতি 
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

.
'মিলামিশা > মেলামেশা' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  2. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  3. চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি
  4. অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
- পাঁচধরনের স্বরসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়।
যেমন:
- প্রগত,
- পরাগত,
- মধ্যগত,
- অন্যোন্য,
- চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি।

চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
- গিলা > গেলা,
- মিলামিশা > মেলামেশা,
- মিঠা > মিঠে,
- ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।
- পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়।
 যেমন:
- মুড়া > মুড়ো,
- চুলা > চুলো ইত্যাদি।
বিশেষ নিয়মে:
- উড়ুনি > উড়নি,
- এখনি > এখুনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'মুরগ > মুরোগ > মোরগ' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রুতি 
  2. বিপ্রকর্ষ 
  3. আদি স্বরাগম 
  4. সম্প্রকর্ষ 
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
• অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ; বস্তি > বসতি ইত্যাদি।
• ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
• উ- মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার > শুকুরবার ইত্যাদি।
• এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক> পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
• ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি

অন্যদিকে, 
• অভিশ্রুতি:
অপিনিহিতির প্রভাবজাত ই কিংবা উ-ধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে মিলে শব্দের পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে। বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষায় যেমন অপিনিহিতির প্রাচুর্য, পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক কথ্যভাষা ও মান্যচলিত ভাষায় তেমনি অনেক অভিশ্রুতি শব্দ লক্ষ করা যায়।
যেমন: মানিয়া > মাইন্যা > মেনে। 

• আদি স্বরাগম:
ধ্বনি পরিবর্তনের ফলে মূল শব্দের আদিতে স্বরধ্বনির আগমন ঘটাকে আদি স্বরাগম বলে।
যেমন- স্কুল > ইস্কুল, স্ত্রী > ইস্ত্রী। 

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন- বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
পূর্বধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে, তাকে কী বলে?
  1. অপিনিহিতি
  2. অন্যোন্য সমীভবন
  3. পরাগত সমীভবন
  4. প্রগত সমীভবন
ব্যাখ্যা
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।

যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক।

অন্যদিকে,
পরাগত সমীভবন:
- পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন কে পরাগত সমীভবন বলে।

যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত >তদ্ধিত।

অন্যোন্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অনন্যান্য সমীভবন।

যেমন:
- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ।
- সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

অপিনিহিতি:
- পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি মধ্যস্বরাগমের উদাহরণ?
  1. স্কুল > ইস্কুল
  2. রত্ন > রতন
  3. সত্য > সত্যি
  4. মারি > মাইর
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

যেমন -
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন স্বপন, হর্ষ > হরষ, ইত্যাদি।
ই - প্রীতি » পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক » তুরুক, > ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম, প্রেক > পেরেক, স্রেফ » সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক » শশালােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।
-------------------
আদি স্বরাগম:
শব্দের শুরুতে নতুন স্বরধ্বনির আগমন।
যেমন: স্কুল > ইস্কুল, স্টেশন > ইস্টিশন।

অন্ত্যস্বরাগম:
শব্দের শেষে নতুন স্বরধ্বনির আগমন।
যেমন: দিশ্ > দিশা, সত্য > সত্যি

অপিনিহিতি: 
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন-
- মারি > মাইর
- আজি > আইজ, 
- সাধু > সাউধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
প্রগত সমীভবন এর উদাহরণ নিম্নের কোনটি?
  1. ক) কর্তা > কত্তা
  2. খ) তুলা > তুলাে
  3. গ) রাজ্য > রাজ্জ
  4. ঘ) কুৎসিত >কুচ্ছিত
ব্যাখ্যা
সমীভবন (Assimilation) :

- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করলে, তাকে বলা হয় সমীভবন।
- যেমন- জন্ম >জম্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।
সমীভবন তিন রীতিতে হয়, যথা-
• প্রগত সমীভবন (Progressive) : পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন। যেমন- পক্ব > পক্ক, চন্দন > চন্নন, গলদা > গল্লা, পদ্ম >পদ্দ, লগ্ন >লগৃগ, চক্র> চর, রাজ্য > রাজ্জ, স্বর্ণ >সন্ন ইত্যাদি।

• পরাগত সমীভবন (Regressive) : পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হলে তাকে পরাগত সমীভবন বলে।
যেমন- কাদনা > কান্না, কর্ম >কম্ম, কর্তা > কত্তা, ধর্ম > ধম্ম, করতাল > কত্তাল, পাঁচসের >পাশূসের, ডাকঘর > ডাগৃঘর, তৎ + জন্য >তজ্জন্য, তৎ + হিত > তদ্ধিত, উৎ + মুখ >উন্মুখ ইত্যাদি।

• অন্যোন্য সমীভবন: সমীভবন (Mutual) : যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যোন্য সমীভবন,
যেমন- বৎসর > বচ্ছর, মহােৎসব >মােচ্ছব, চিকিৎসা > চিকিচ্ছা, বিশ্রি >বিচ্ছিরি, কুৎসিত >কুচ্ছিত, সত্য > সচ্চ, বিদ্যা > বিজ্জা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
লাল → নাল কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ? 
  1. বিষমীভবন
  2. ধ্বনি বিপর্যয়
  3. ব্যঞ্জনবিকৃতি
  4. অন্তর্হতি 
ব্যাখ্যা

লাল → নাল বিষমীভবন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ। 
--------------------------
• বিষমীভবন:
- শব্দের ভেতরে পাশাপাশি থাকা দুটি সমবর্ণ বা একই ব্যঞ্জনধ্বনির মধ্যে একটি ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে ভিন্ন ধ্বনিতে রূপ নিলে তাকে বিষমীভবন বলা হয়।
- এটি মূলত সমীভবন-এর বিপরীত ধ্বনিপ্রক্রিয়া।
- এখানে একই ধ্বনিকে একই রাখার বদলে উচ্চারণের সুবিধার জন্য একটি ধ্বনি ভিন্ন রূপ ধারণ করে।
- যেমন—
- শরীর → শরীল শব্দে পাশাপাশি থাকা ‘র’ ধ্বনির একটি পরিবর্তিত হয়ে ‘ল’ হয়েছে;
- লাল → নাল শব্দে একটি ‘ল’ ধ্বনি ‘ন’-এ রূপান্তরিত হয়েছে;
- আবার লাঙ্গল → নাঙ্গল শব্দে ‘ল’ ধ্বনির পরিবর্তন ঘটেছে। 
---------------------------
অন্যদিকে,
• ধ্বনি বিপর্যয়:
- ধ্বনি বিপর্যয় হলো এমন ধ্বনিগত পরিবর্তন, যেখানে উচ্চারণের সময় শব্দের আগের ধ্বনি পিছিয়ে যায় এবং পরের ধ্বনি সামনে চলে আসে। - ফলে ধ্বনির স্বাভাবিক ক্রম উল্টে যায়।
- যেমন—
- রিক্সা → রিস্কা, 
- তলোয়ার → তরোয়াল,
- নকশা → নশকা,
- লাফ → ফাল।

• ব্যঞ্জনবিকৃতি: 
- ব্যঞ্জনবিকৃতি বলতে বোঝায়—শব্দের ভেতরে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি রূপান্তরিত হয়ে ভিন্ন ব্যঞ্জনে পরিণত হওয়া।
- এতে ধ্বনিটি লোপ পায় না, বরং তার ধ্বনিগত রূপ বদলে যায়।
- যেমন—
- কবাট → কপাট,
- ধাইমা → দাইমা।

• অন্তর্হতি:
- অন্তর্হতি বলতে বোঝায়—শব্দের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি সম্পূর্ণভাবে লোপ পাওয়া।
- এই প্রক্রিয়ায় শব্দটি সংক্ষিপ্ত ও সহজ উচ্চারণযোগ্য হয়ে ওঠে।
- যেমন—
- আলাহিদা → আলাদা,  
- ফাল্গুন → ফাগুন,
- ফলাহার → ফলার। 

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; 
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

.
নিচের কোনটি অপিনিহিতির উদাহরণ?
  1. জন্ম > জম্ম
  2. আজি > আইজ
  3. ডেস্ক > ডেক্স
  4. অলাবু > লাবু > লাউ
ব্যাখ্যা

- আজি > আইজ অপিনিহিতির উদাহরণ।

অপিনিহিতি:
- অপিনিহিতি ঘটে তখন, যখন শব্দে থাকা ‘ই-কার’ বা ‘উ-কার’ তার মূল অবস্থানের আগে উচ্চারিত হয়।
- উদাহরণস্বরূপ:
• সত্য → সইত্য,
• চারি → চাইর,
• রাখিয়া → রাইখ্যা।
- এখানে ‘ই’ বা ‘উ’ ধ্বনির অগ্রসরণ লক্ষ্য করা যায়।

অন্যদিকে,
• জন্ম → জম্ম - সমীভবন এর উদাহরণ।
- সমীভবন – শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমান হয়ে যায়।
- উদাহরণ: কাদনা → কান্না।

• ডেস্ক → ডেক্স - ধ্বনি বিপর্যয় এর উদাহরণ।
- ধ্বনি বিপর্যয় – শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন।
- উদাহরণ: পিশাচ → পিচাশ,
- বাক্স → বাসক,
- লাফ → ফাল,
- রিক্সা → রিসকা,
- লোকসান → লোসকান।

• অলাবু → লাবু → লাউ - আদিস্বরলোপ এর উদাহরণ।

উল্লেখ্য, 
- আদিস্বরলোপ সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ এর প্রকার।
- সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ - যা মূলত দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, মধ্য বা অন্ত্যবর্তী স্বরধ্বনি বাদ দেওয়া।
- সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ ৩ প্রকার :
আদিস্বরলোপ :  উদ্ধার → উধার → ধার।
• মধ্যবর লোপ : অগুরু → অণু, সুবর্ণ → স্বর্ণ।
• অন্ত্যস্বর লোপ :
- আশা → আশ,
- আজি → আজ,
- চারি → চার। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১);
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।

১০.
'বলিয়া > বলে' - এটি কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিচ্যুতি
  2. অভিশ্রুতি
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. অন্তর্হতি
ব্যাখ্যা

অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।

যেমন:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- মাছুুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১১.
'জরুরি > জরুলি' - শব্দটিতে ধ্বনি পরিবর্তনের কোন ধরনের নিয়ম প্রযোজ্য?
  1. স্বরলোপ
  2. বিষমীভবন
  3. অতিশ্রুতি
  4. সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
বিষমীভবন:
- দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল,
- জরুরি > জরুলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।
যেমন:
- আটমেসে ˃ আটাসে, কুটুম্ব ˃ কুটুম, জানালা ˃ জান্লা ইত্যাদি।

অভিশ্রতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রতি।
যেমন:
- করিয়া > কইর‌্যা > করে, দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে, গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২.
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে-
  1. অসমীকরণ 
  2. স্বরসঙ্গতি
  3. বিষমীভবন 
  4. অপিনিহিতি 
ব্যাখ্যা

• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন- দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।

• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি, জিলাপি > জিলিপি।

• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মোজা > মুজো।

• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
- গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

- পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন- মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি।
- বিশেষ নিয়মে - উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৩.
প্রগত সমীভবনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. চক্র > চক্ক
  2. লগ্ন > লগ্গ
  3. পক্ব   > পক্ক
  4. সত্য > সচ্চ
ব্যাখ্যা
• সমীভবন (Assimilation):
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন। যেমন- জন্ম > জন্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব   > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ  ইত্যাদি।

• পরাগত সমীভবন:
পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত > তদ্ধিত,
- উৎ + মুখ > উন্মুখ ইত্যাদি।

• অন্যোন্য সমীভবন:
যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যোন্য সমীভবন।
যেমন:
- সত্য > সচ্চ,
- বিদ্যা > বিজ্জা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৪.
অন্তর্হতি'র উদাহরণ কোনটি?
  1. মাছুয়া > মেছাে
  2. আলাহিদা > আলাদা
  3. বড়দাদা > বড়দা
  4. বউদিদি> বউদি
ব্যাখ্যা
অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলা,
- আলাহিদা > আলাদা

অন্যদিকে,
- অভিশ্রুতির উদাহরণ - মাছুয়া > মেছাে।
- ব্যঞ্জনচ্যুতির উদাহরণ - বউদিদি> বউদি,  বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫.
বিষমীভবন কোনটি?
  1. দুটি স্বরধ্বনি একই রকম হওয়া
  2. স্বরধ্বনির প্রভাবে পরিবর্তন
  3. দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হওয়া
  4. দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
শরীর > শরীল, 
লাল > নাল, 
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

অন্য অপশনগুলো:
• সমীভবন:
উচ্চারণের সময় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হয়ে যাওয়াকে বলে সমীভবন।
যেমন- 
জন্ম > জম্ম,
কাঁদনা > কান্না,
স্বর্ণ > সন্ন ইত্যাদি।

স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন,
– দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
উদাহরণ: কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬.
নিম্নের কোনটি অভিশ্রুতি এর উদাহরণ?
  1. ক) পাকা > পাক্কা
  2. খ) ধাইমা > দাইমা
  3. গ) মাছুয়া > মেছাে
  4. ঘ) বড় দাদা > বড়দা
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি (Umlaut) : বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
- যেমন— করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা’ থেকে অভিশ্রুতিজাত করে।
- এরূপ – শুনিয়া > শুনে, বলিয়া > বলে, হাটুয়া > হাউটা > হেটো, মাছুয়া > মেছাে ইত্যাদি।

 ব্যঞ্জন বিকৃতি : শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
- যেমন- কবাট > কপাট, ধােবা > ধােপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

দ্বিত্ব ব্যঞ্জন (Long Consonant) বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা : কখনাে কখনাে জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা।
- যেমন – পাকা > পাক্কা, সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

ব্যঞ্জনচ্যুতি : পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়। এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
- যেমন- বউদিদি > বউদি, বড় দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭.
"জানালা ˃ জান্‌লা " - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রতি
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

যেমন:
- আটমেসে > আটাসে,
- কুটুম্ব > কুটুম,
- জানালা > জান্‌লা  ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮.
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে তা কোন ধরণের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. ক) অপনিহিত
  2. খ) অন্ত্যস্বরাগম
  3. গ) অসমীকরণ
  4. ঘ) স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony): একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর ঘরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন – দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

⇒ প্রগত (Progressive) : আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়
যেমন- মুলা » মুলাে, শিকা » শিকে, তুলা > তুলল।
⇒ পরাগত (Regressive) : অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে রাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- আখাে> আখুয়া > এখাে, দেশি > দিশি।
⇒ মধ্যগত (Mutual) : আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি।
⇒ অনন্যান্য (Reciprocal) ; আদ্য ও অন্ত্য দুই সরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অনন্যান্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন – মােজা > মুজো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯.
"স্পর্ধা > আস্পর্ধা" - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. আদি স্বরলোপ
  2. অপিনিহিতি
  3. আদি স্বরাগম
  4. অন্তর্হতি
ব্যাখ্যা
আদি স্বরাগম:
- উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে আদি স্বরাগম বলে।

যেমন:
- স্কুল > ইস্কুল,
- স্টেশন > ইস্টিশন,
- স্পর্ধা > আস্পর্ধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০.
অভিশ্রুতির উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. হাটুয়া > হাউটা > হেটো
  2. সাধু > সাহু > সাউ
  3. মাছুয়া > মেছো
  4. শুনিয়া > শুনে
ব্যাখ্যা

• হ-কার লোপ: 
আধুনিক চলিত ভাষায় অনেক সময় দুই স্বরের মাঝামাঝি হ-কারের লোপ হয়।
যেমন:
- পুরোহিত > পুরুত,
- গাহিল > গাইল,
- চাহে > চায়,
- সাধু > সাহু > সাউ,
- আরবি আল্লাহ্ > বাংলা আল্লা,
- ফারসি শাহ্ > বাংলা শা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
-----------------
• অভিশ্রুতি (Umlaut):
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি। যেমন - করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিংবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা’ থেকে অভিশ্রুতিজাত ‘করে’।
এরূপ-
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২১.
ব্যঞ্জনদ্বিত্ব ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. চক্র > চক্ক
  2. চাকা > চাক্কা
  3. লগ্ন > লগ্গ
  4. পক্ব > পক্ক
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, তাকে ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বতা বলে।
যেমন:
- সকাল > সক্কাল; 
- চাকা > চাক্কা;
- পাকা > পাক্কা ইত্যাদি।

-----------------
• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক;
- পক্ব > পক্ক;
- লগ্ন > লগ্গ;  
- পদ্ম > পদ্দ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২২.
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে কী বলে?
  1. সমীভবন
  2. অপিনিহিতি
  3. অসমীকরণ
  4. বিষমীভবন
ব্যাখ্যা
• অসমীকরণ (Dissimilation):
- একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন: ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বিষমীভবন (Dissimilation):
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন- শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।
• সমীভবন (Assimilation):
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন জন্ম >জম্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।
• অপিনিহিতি (Apenthesis):
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন: আজি >আইজ, সাধু >সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য >সইত্য, চারি> চাইর, মারি >মাইর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৩.
শালা > হালা - ধ্বনি পরিবর্তনের কোন নিয়মে হয়েছে?
  1. ক) ঘোষীভবন
  2. খ) অঘোষীভবন
  3. গ) মহাপ্রাণীভবন
  4. ঘ) অল্পপ্রাণীভবন
ব্যাখ্যা
অঘোষধ্বনি ঘোষধ্বনি হিসেবে উচ্চারিত হলে তাকে ঘোষীভবন বলে। 
যেমন : 
কাক > কাগ
শাক > শাগ 
শালা > হালা।
এটি পরাগত সমীভবন বা স্বরসঙ্গতির উদাহরণ নয়। কারণ, সমীভবনে এক ধ্বনিতে রূপ লাভ করে। এগুলো বরং এক ধরনের ব্যঞ্জন বিকৃতি। যে কারণে অনেক গ্রন্থে আলাদা করে এগুলো দেওয়া নেই। 

উৎস : ড. হায়াৎ মামুদ, ভাষা-শিক্ষা
২৪.
'ফট + ফট > ফটাফট' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত? 
  1. অসমীকরণ
  2. য়-শ্রুতি
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. অন্ত্যস্বরাগম
ব্যাখ্যা

• অসমীকরণ:
একই স্বরধ্বনির পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন:
- টপ + টপ > টপাটপ,
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- ফট + ফট > ফটাফট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• য়-শ্রুতি ও ব-শ্রুতি: 
শব্দের মধ্যে পাশাপাশি দুটো স্বরধ্বনি থাকলে যদি এ দুটো স্বর মিলে একটি দ্বি-স্বর (যৌগিক স্বর) না হয়, তবে এ স্বর দুটোর মধ্যে উচ্চারণের সুবিধার জন্য একটি ব্যঞ্জনধ্বনির মতো অন্তঃস্থ 'য়' (Y) বা অন্তঃস্থ 'ব' (W) উচ্চারিত হয়। এই অপ্রধান ব্যঞ্জনধ্বনিটিকে বলা হয় য়-শ্রুতি ও ব-শ্রুতি। যেমন-  মা + আমার = মা (য়) আমার > মায়ামার। যা + আ = যা (ও) য়া = যাওয়া। এরূপ নাওয়া, খাওয়া, দেওয়া ইত্যাদি।

• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন: দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন: দিশ্  > দিশা, পোখত্  > পোক্ত, বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য  > সত্যি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৫.
নিচের কোনটিতে ধ্বনি বিপর্যয় ঘটেছে?
  1. ফাল্গুন > ফাগুন
  2. পিশাচ > পিচাশ
  3. পাকা > পাক্কা
  4. লাল > নাল
ব্যাখ্যা

ধ্বনি বিপর্যয়: 
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন: পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

---------------------- 
অন্য অপশনে, 
অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন: ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাদিয়া > আলাদা ইত্যাদি। 

দ্বিত্ব ব্যঞ্জন:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বলে। 
যেমন: পাকা > পাক্কা। 

বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন- লাল > নাল, শরীর > শরীল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

২৬.
"ক্লিপ > কিলিপ" - শব্দে ধ্বনির কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. আদি স্বরাগম
  2. অন্ত্য স্বরাগম
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. মধ্য স্বরাগম
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৭.
'অভিশ্রুতি' ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) শুনিয়া > শুনে
  2. খ) বলিয়া > বলে
  3. গ) ধাইমা > দাইমা
  4. ঘ) মাছুয়া > মেছাে
ব্যাখ্যা
• 'ধাইমা > দাইমা' ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ। 

অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
- যেমন: করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা’ থেকে অভিশ্রুতিজাত করে।
- এরূপ: শুনিয়া > শুনে, বলিয়া > বলে, হাটুয়া > হাউটা > হেটো, মাছুয়া > মেছাে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮.
কোনটি বাগযন্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে সচল অঙ্গ?
  1. ক) তালু
  2. খ) জিভ
  3. গ) মূর্ধা
  4. ঘ) আলজিভ
ব্যাখ্যা
- বাগযন্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে সচল অঙ্গ 'জিভ'

• জিভ
- মুখগহ্বরের নিচের অংশে জিভের অবস্থান।
- বাগযন্ত্রের মধ্যে জিভ সবচেয়ে সচল ও সক্রিয় প্রত্যঙ্গ।
- জিভের উচ্চতা, সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান এবং মুখগহ্বরের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে জিভের স্পর্শের প্রকৃতি অনুযায়ী ধ্বনির বৈচিত্র্য তৈরি হয়।

• প্রদত্ত প্রশ্নের অন্যান্য অপশন:
• আলজিভ
- মুখগহ্বরের কোমল তালুর পিছনে ঝুলন্ত মাংসপিণ্ডের নাম আলজিভ।
- ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে কোমল তালুর সঙ্গে আলজিভ নিচে নেমে এলে বাতাস মুখ দিয়ে পুরোপুরি বের না হয়ে খানিকটা নাক দিয়ে বের হয়। এর ফলে নাসিক্য ধ্বনি তৈরি হয় ।

• তালু
- মুখবিবরের ছাদকে বলা হয় তালু।
- তালুর দুটি অংশ - কোমল তালু ও শক্ত তালু।
- অনুনাসিক স্বরধ্বনি উচ্চারণে কোমল তালু নিচে নামে।
- কোমল তালু ও জিভমূলের স্পর্শে কণ্ঠ্যধ্বনি উচ্চারিত হয়।
- দন্তমূলের শুরু থেকে কোমল তালু পর্যন্ত বিস্তৃত অংশকে বলা হয় শক্ততালু।

• মূর্ধা
- শক্ত তালু ও উপরের পাটির দাঁতের মধ্যবর্তী উত্তল মূর্ধা বলে।
- কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ মূর্ধাকে স্পর্শ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
২৯.
পূর্ববর্তী ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনিটির পরিবর্তন ঘটলে, তাকে কী বলে?
  1. প্রগত সমীভবন
  2. পরাগত সমীভবন
  3. অন্যোন্য সমীভবন
  4. অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা

• প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।

যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক।

অন্যদিকে,
পরাগত সমীভবন:
- পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন কে পরাগত সমীভবন বলে।

যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত >তদ্ধিত।

অন্যোন্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অনন্যান্য সমীভবন।

যেমন:
- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ।
- সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

অপিনিহিতি:
- পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩০.
‘গ্রাম > গেরাম’ কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অসমীকরণ
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে, একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন,
- হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।

ই:
- প্রীতি > পিরীতি,
- ক্লিপ > কিলিপ,
- ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।

উ:
- মুক্তা > মুকুতা,
- তুর্ক > তুরুক,
- ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি। 

এ:
- গ্রাম > গেরাম,
- প্ৰেক > পেরেক,
- স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।

ও:
- শ্লোক > শােলােক,
- মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১.
ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) মাছুয়া > মেছাে
  2. খ) আজি > আইজ
  3. গ) কবাট > কপাট
  4. ঘ) সকাল > সক্কাল
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জন বিকৃতি : শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
- যেমন-
কবাট > কপাট,
ধােবা > ধােপা,
ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
সকাল > সক্কাল = দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
আজি > আইজ = অপিনিহিতি
মাছুয়া > মেছাে = অভিশ্রুতি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২.
’ফাল্গুন > ফাগুন’-এখানে কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. অভিশ্রুতি
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি:
  3. অন্তর্হতি
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
• অন্তর্হতি:
- অন্তর্হতি পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন-
- ফাল্গুন>ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা >আলাদা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন- কবাট>কপাট, ধোবা>ধোপা, ধাইমা> দাইমা ইত্যাদি।
 
• ব্যঞ্জনচ্যুতি:
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন: বউদিদি >বউদি, বড় দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

• অভিশ্রুতি :
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন-  বলিয়া>বলে, হাটুয়া > হাউটা > হেটো, মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৩৩.
কোনটি ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ?
  1. লাফ > ফাল
  2. বড় দাদা > বড়দা
  3. জানালা > জান্লা
  4. মুক্তা > মুকুতা
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ: লাফ > ফাল।
---------------------
ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন
- ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক,
- জাপানি রিক্সা বাংলা রিস্কা 
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল।

অন্যদিকে,
. সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ এর উদাহরণ: জানালা > জান্লা ।
. ব্যঞ্জনচ্যুতি এর উদাহরণ: বউদিদি> বউদি, বড় দাদা >বড়দা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই (২০১৮ সালের সংস্কারণ)।
৩৪.
ধ্বনি বিপর্যয় এর উদাহরণ কোনটি?
  1. বাক্‌স > বাস্‌ক
  2. মুড়া > মুড়ো
  3. মোজা > মুজো
  4. দেশি > দিশি
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়: শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
- এতে দুটি বর্ণের মধ্যে জায়গা পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- পিশাচ ˃ পিচাশ,
- লাফ ˃ ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫.
"ধাইমা > দাইমা" - এটি কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অন্তর্হতি
  2. ব্যঞ্জনবিকৃতি
  3. অভিশ্রুতি
  4. বিষমীভবন
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনবিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।

যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধােবা > ধােপা,
- ধাইমা > দাইমা,
- শাক > শাগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৬.
কোনটি অপিনিহিতির উদাহরণ?
  1. মারি > মাইর
  2. বিলাতি > বিলিতি
  3. বলিয়া > বলে
  4. হাটুয়া > হেটো
ব্যাখ্যা

অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন -
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন-
করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে 'কইরিয়া' কিংবা বিপর্যয়ের ফলে 'কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত 'করে'।
এরূপ -
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৭.
কোনটি সম্প্রকর্ষ এর উদাহরণ?
  1. আজি > আইজ
  2. দি্‌শ > দিশা
  3. আজি > আজ
  4. বউদিদি > বউদি
ব্যাখ্যা
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন - বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।
- অন্ত্যস্বর লোপ: আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

• স্বরলোপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।

অন্যদিকে, 
- আজি > আইজ = অপিনিহিতির উদাহরণ।
- দি্‌শ > দিশা = অন্ত্যস্বরাগমের উদাহরণ।
- বউদিদি > বউদি = ব্যঞ্জনচ্যুতির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮.
অন্ত্যস্বর লোপ পেয়েছে নিচের কোন উদাহরণে?
  1. অগুরু > অগ্রু
  2. সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
  3. সুবর্ণ > স্বৰ্ণ
  4. অলাবু > লাবু > লাউ
ব্যাখ্যা

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ: 
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ। যেমন- বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি ।
ক. আদিস্বরলোপ (Aphesis ): যেমন- অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।
খ. মধ্যস্বর লোপ (Syncope): অগুরু > অগ্রু, সুবর্ণ > স্বৰ্ণ।
গ. অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ। (স্বরলোপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৯.
অপিনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. সাধু > সাউধ
  2. বিলাতি > বিলিতি
  3. সত্য > সইত্য
  4. রাখিয়া > রাইখ্যা
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি (Apenthesis):
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- সত্য > সইত্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪০.
নিচের কোনটি মধ্য স্বরাগম পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. সত্য > সত্যি
  2. দিশ্ > দিশা
  3. গ্রাম > গেরাম
  4. স্কুল > ইস্কুল
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে।
- একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
- অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার >শুক্কুরবার ইত্যাদি।
- এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক > পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
- ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'স্কুল > ইস্কুল' আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
- 'দিশ্ > দিশা' অন্ত্যস্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
- 'সত্য > সত্যি' অন্ত্যস্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪১.
বিষমীভবন হলো - 
  1. দুটি স্বরধ্বনি একই রকম হওয়া
  2. স্বরধ্বনির প্রভাবে ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তন
  3. দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তন
  4. দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হওয়া
ব্যাখ্যা

• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন - 
শরীর > শরীল, 
লাল > নাল, 
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সমীভবন:
উচ্চারণের সময় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হয়ে যাওয়াকে বলে সমীভবন।
যেমন- 
জন্ম > জম্ম,
কাঁদনা > কান্না,
স্বর্ণ > সন্ন ইত্যাদি।

স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন,
– দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
উদাহরণ: কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪২.
যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে কী বলে?
  1. প্রগত সমীভবন
  2. পরাগত সমীভবন
  3. অন্যোন্য সমীভবন
  4. বিষমীভবন 
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• সমীভবন (Assimilation):
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন। যেমন- জন্ম > জন্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব   > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ  ইত্যাদি।

• পরাগত সমীভবন:
পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত > তদ্ধিত,
- উৎ + মুখ > উন্মুখ ইত্যাদি।

• অন্যোন্য সমীভবন:
যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যোন্য সমীভবন।
যেমন:
- সত্য > সচ্চ,
- বিদ্যা > বিজ্জা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪৩.
'মাছুয়া > মেছো' - এটি কিসের উদাহরণ?
  1. স্বরসঙ্গতি
  2. সম্প্রকর্ষ
  3. অভিশ্রুতি
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
 যেমন:
- করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিংবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত ‘করে'।
এরূপ –
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪৪.
নিচের কোনটি বিষমীভবন (Dissimilation) ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ক) ধপ + ধপ > ধপাধপ
  2. খ) পিশাচ > পিচাশ
  3. গ) শরীর > শরীল
  4. ঘ) কাঁদনা > কান্না
ব্যাখ্যা
• বিষমীভবন (Dissimilation): দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন – শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• অসমীকরণ (Dissimilation): একই ঘরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন – ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি। 

• ধ্বনি বিপর্যয়: শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। যেমন – ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক, জাপানি রিক্সা » বাংলা রিস্কা ইত্যাদি। অনুরুপ – পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

• সমীভবন: শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন: জন্ম > জম্ম, কাঁদনা > কান্না

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৫.
'আটমেসে > আটাসে' কোন ধরনের পরিবর্তন?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. বিষমীভবন
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।
যেমন:
- আটমেসে > আটাসে,
- কুটুম্ব > কুটুম,
- জানালা > জান্না ইত্যাদি।

 স্বরলোপ তিন প্রকার:
যেমন
ক. আদিস্বরলোপ (Aphesis): অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।
খ. মধ্যস্বর লোপ (Syncope): অগুরু > অশ্রু, সুবর্ণ > স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৬.
'আরমারি > আলমারি' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অন্তর্হতি
  2. সমীভবন
  3. অভিশ্রুতি
  4. বিষমীভবন
ব্যাখ্যা
বিষমীভবন:
- দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- তরবার > তরোয়াল;
- লাঙ্গল > নাঙ্গল;
- শরীর > শরীল;
- লাল > নাল,
- আরমারি > আলমারি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সমীভবন:
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন:
- জন্ম > জম্ম,
- কাঁদনা > কান্না।

অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন:
- করিয়া > কইর‌্যা > করে ইত্যাদি।

অন্তর্হতি:

- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৭.
নিচের কোনটি 'মধ্য সম্প্রকর্ষ' এর উদাহরণ?
  1. কুটুম্ব > কুটুম
  2. আশা > আশ
  3. চারি > চাইর 
  4. চাউল > চাল
ব্যাখ্যা

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

যেমন:
- কুটুম্ব > কুটুম, জানালা > জান্লা ইত্যাদি।

মধ্যস্বরলোপ:
- সুবর্ণ > স্বর্ণ,
- চাউল > চাল,
- গাইল > গাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- হ-কার লোপ - গাহিল > গাইল।
- অন্ত্যস্বরলোপ - আশা > আশ।
- অন্তর্হতি - ফাল্গুন > ফাগুন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৮.
বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা-
  1. ৪৩টি
  2. ২৫টি
  3. ৩২টি
  4. ২৬টি
ব্যাখ্যা
একাধিক স্বরধ্বনি মিলে যে ধ্বনি সৃষ্টি হয় তাকে যৌগিক স্বরধ্বনি বলে।
বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনি মোট ২৫ টি।।
যার মাত্র ২টি যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব বর্ণ আছে।
যেমন- ঐ (অ+ই), ঔ (অ+উ)।।
বাকি ২৩ টি যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব বর্ণ বা প্রতীক নেই।।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯.
‘হাটুয়া > হাউটা > হেটো’ কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1.  স্বরসঙ্গতি
  2. অসমীকরণ
  3. অপিনিহিতি
  4. অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা
• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন-
করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে 'কইরিয়া' কিংবা বিপর্যয়ের ফলে 'কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত 'করে'।
এরূপ-
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন -
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• অসমীকরণ:
একই স্বরধ্বনির পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন -
- টপ + টপ > টপাটপ,
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- ফট + ফট > ফটাফট ইত্যাদি।

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন-
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫০.
'প্রীতি > পিরীতি' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ধ্বনি বিপর্যয়
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. অন্তর্হতি
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্যস্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ।
যেমন:
- গ্রাম > গেরাম।

আরো কয়েকটি উদাহরণ:
- রত্ন > রতন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫১.
নিচের কোনটি অন্ত্যস্বরাগমের উদাহরণ নয়?
  1. পোখত্ > পোক্ত
  2. ক্লিপ > কিলিপ
  3. সত্য > সত্যি
  4. বেঞ্চ > বেঞ্চি
ব্যাখ্যা
'ক্লিপ > কিলিপ' - হচ্ছে মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তির উদাহরণ।

অন্ত্যস্বরাগম:
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে।
- এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
 যেমন:
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫২.
"মুকুট > মুটুক" - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. বিষমীভবন 
  2. সমীভবন
  3. ধ্বনি বিপর্যয়
  4. অন্তর্হতি 
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি বিপর্যয়:
উচ্চারণের সময় আগের ধ্বনি পরে গেলে ও পরের ধ্বনি আগে চলে আসলে ধ্বনি বিপর্যয় ঘটে।
যেমন:
- তলোয়ার > তরোয়াল;
- নকশা > নশকা;
- রিক্সা > রিস্কা;
- লাফ > ফাল;
- তুলতুলা > লুতলুতা ইত্যাদি।

এরূপ- 
- মুকুট > মুটুক; ধ্বনি পরিবর্তটি ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩.
কোনটি ব্যঞ্জনবিকৃতি এর উদাহরণ নয়?
  1. ক) কবাট > কপাট 
  2. খ) শাক > শাগ
  3. গ) নকশা > নশকা
  4. ঘ) ধোবা > ধোপা
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'নকশা > নশকা' হচ্ছে ধ্বনি বিপর্যয় এর উদাহরণ।
- অন্যান্য অপশন ব্যঞ্জনবিকৃতি এর উদাহরণ।

• ব্যঞ্জনবিকৃতি
শব্দের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যদি নতুন কোন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জনবিকৃতি বলে।
- ধোবা > ধোপা
- শাক > শাগ
- কবাট > কপাট 
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ধ্বনি বিপর্যয়:
উচ্চারণের সময় আগের ধ্বনি পরে গেলে ও পরের ধ্বনি আগে চলে আসলে ধ্বনি বিপর্যয় ঘটে।
- তলোয়ার > তরোয়াল
- নকশা > নশকা
- রিক্সা > রিস্কা
- লাফ > ফাল
- তুলতুলা > লুতলুতা
- এক্সিডেন্ট > এস্কিডেন্ট ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,সৌমিত্র শেখর।
৫৪.
শব্দের মধ্যবর্তী দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি পরষ্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে কী বলে?
  1. অন্যোন্য সমীভবন
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. মধ্য স্বরাগম
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের মধ্যবর্তী দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি পরষ্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।

যেমন:
- পিশাচ ˃ পিচাশ,
- লাফ ˃ ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা,
- এক্সিডেন্ট > এস্কিডেন্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫.
'জিলাপি > জিলিপি' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. বিষমীভবন
  2. অন্ত্যস্বরাগম
  3. অপিনিহিতি
  4. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
পূর্ববর্তী ও পরবর্তী স্বরের প্রভাবে মধ্যে অবস্থিত স্বর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী স্বরের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করে। যথা-আগের ও পরের ই স্বরের প্রভাবে মাঝের আ-স্বর ই-স্বরে পরিণত হয়। 
যেমন:
- বিলাতি > বিলিতি,
- ভিখারি > ভিখিরি,
- জিলাপি> জিলিপি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
----------------
• অপিনিহিতি:
শব্দের মধ্যে ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত 'ই' বা 'উ' উচ্চারণের সময় স্বস্থানে উচ্চারিত না হয়ে যে ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত তার অব্যবহিত পূর্বে উচ্চারিত হলে ওই রীতিকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন- আজি > আইজ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি > চাইর, মারি > মাইর ইত্যাদি।  

• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এ রূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন- দিশ > দিশা, পোখত্ > পোক্ত (উচ্চারণ: পোক্তো), বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

• বিষমীভবন:
সমীভবনের বিপরীত রীতি বিষমীভবন। শব্দের মধ্যে পাশাপাশি অবস্থিত সমান দুই ব্যঞ্জনের মধ্যে যেকোনো একটি বদলে গেলে, ধ্বনি-পরিবর্তনের এই রীতিকে বলা হয় বিষমীভবন।
যথা- শরীর > শরীল, নাঙ্গল > লাঙ্গল, লেবু > নেবু, লাল > নাল, তরবার > তরোয়াল ইত্যাদি। বিষমীভবনের ব্যবহার লেখ্য ভাষায় বিরল। প্রধানত মৌখিকে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।
৫৬.
কোনটি ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ?
  1. কাঁদনা > কান্না
  2. মারি > মাইর
  3. বাক্‌স > বাস্‌ক
  4. চারি > চাইর
ব্যাখ্যা
ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের শধ্যে দুটো ব্যঞ্জনের পরস্পর স্থান পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।

যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সমীভবন - কাঁদনা > কান্না।
অপিনিহিতি - চারি > চাইর, মারি > মাইর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৭.
কোনটি ‘পরাগত স্বরসঙ্গতি’ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. মুলা > মুলো
  2. বিলাতি > বিলিতি
  3. আখো > আখুয়া > এখো
  4. মোজা > মুজো
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন- দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মুলা > মুলো; শিকা > শিকে; তুলা > তুলো।

• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন: আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন: বিলাতি > বিলিতি।

• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন: মোজা > মুজো।

• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
- গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।
- পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন: মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি।
- বিশেষ নিয়মে- উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৮.
'আলাহিদা > আলাদা' কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  3. অভিশ্রুতি
  4. অন্তর্হতি
ব্যাখ্যা
• 'আলাহিদা > আলাদা' অন্তর্হতির উদাহরণ।

অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন -
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন -
- কবাট > কপাট, 
- ধোবা > ধোপা, 
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

ব্যঞ্জনচ্যুতি:
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন -
- বউদিদি > বউদি,
- বড় দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন -
করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে 'কইরিয়া' কিংবা বিপর্যয়ের ফলে 'কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত 'করে'।
এরূপ - 
- শুনিয়া > শুনে, 
- বলিয়া > বলে, 
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো, 
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৯.
যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটি ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তাকে কী বলে?
  1. অপিনিহিতি
  2. অন্যোন্য সমীভবন
  3. পরাগত সমীভবন
  4. প্রগত সমীভবন
ব্যাখ্যা
অন্যোন্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যোন্য সমীভবন।
যেমন:
- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ,
- সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
পরাগত সমীভবন:
- পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত > তদ্ধিত,
- উৎ + মুখ >উন্মুখ ইত্যাদি।

প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে।
- অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

অপিনিহিতি:
- পূর্বে উচ্চারিত হওয়া ‘ ই/ উ ’ আগে উচ্চারিত হওয়া।
যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬০.
অন্তর্হতির উদাহরণ কোনটি?
  1. ধাইমা > দাইমা
  2. বিলাতি > বিলিতি
  3. লাঙ্গল > নাঙ্গল
  4. ফাল্গুন > ফাগুন
ব্যাখ্যা
• অন্তর্হতি: পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
- ফলাহার > ফলার;
- আলাহিদা > আলাদা;
- ফাল্গুন > ফাগুন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• স্বরসঙ্গতি: একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• বিষমীভবন: দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
শরীর > শরীল,
লাল > নাল,
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে
যেমন:
শাক > শাগ;
ধোবা > ধোপা;
কবাট > কপাট;
ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬১.
নিচের কোনটি ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ নয়?
  1. বাস্‌ক
  2. রিস্‌কা
  3. পিচাশ
  4. শরীল
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
- যেমন:
• বাক্‌স > বাস্‌ক;
• রিক্‌সা > রিস্‌কা;
• পিশাচ > পিচাশ;
• লাফ > ফাল

অন্যদিকে,
বিষমীভবন:
- দুটো সমবর্নের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬২.
হংস > হাঁস, কঙ্কণ > কাঁকন কিসের উদাহরণ?
  1. ক) অসমীকরণ
  2. খ) নাসিক্যভবন
  3. গ) বর্ণদ্বিতা
  4. ঘ) অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা
অনুনাসিক বা নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি ঙ (ং), ঞ, ণ, ন, ম লোপ পাওয়ার ফলে পূর্ববর্তী স্বরধনি সানুনাসিক হলে, পরিবর্তনজনিত এই প্রক্রিয়ার নাম নাসিক্যভবন।
যেমনঃ ভণ্ড > ভাঁড়, গুম্ফ > গোঁফ, পঙ্ক > পাঁক, হংস > হাঁস, কঙ্কণ > কাঁকন ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ
৬৩.
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জন ধ্বনি লোপ পেলে কোন ধরণের ধ্বনি পরিবর্তন ঘটে?
  1. অভিশ্রুতি
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  3. অন্তর্হতি
  4. বিষমীভবন
ব্যাখ্যা

অন্তর্হতি: পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জন ধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন -
ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।

অভিশ্রুতি: বিপর্যস্ত স্বরধ্বনির পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন - 
মাছুয়া > মেছো, শুনিয়া > শুনে ইত্যাদি।
ব্যঞ্জনচ্যুতি: পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে একটি লোপ পায় এবং এই লোপ পাওয়াকে ব্যঞ্জনচ্যুতি বলে।
যেমন -
বউদিদি > বউদি, বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।
বিষমীভবন: দুটো সমবর্ণের একটি পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন -
শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৪.
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে কী বলে?
  1. সম্প্রকর্ষ
  2. অসমীকরণ
  3. অপিনিহিতি
  4. প্রগত সমীভবন
ব্যাখ্যা
অসমীকরণ:
- একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন:
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোন ধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে।
- অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।

অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৫.
'রত্ন থেকে রতন' হলে কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন হয়?
  1. আদি স্বরাগম
  2. মধ্যস্বরাগম
  3. অপনিহিতি
  4. স্বরসংগতি
ব্যাখ্যা

• ''রত্ন থেকে রতন" হলে- মধ্যস্বরাগম এর উদাহরণ।

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি: 
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্যস্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ।
যেমন : গ্রাম > গেরাম।

আরো কয়েকটি উদাহরণ
- রত্ন > রতন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৬.
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে কী বলে?
  1. সমীভবন
  2. অভিশ্রুতি
  3. ব্যঞ্জনদ্বিত্ব
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা
• অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
যেমন
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা,
- মাছুুয়া > মেছো ইত্যাদি

------------------------ 
অন্যদিকে,
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল,
তেমনিভাবে,
- বড় > বড্ড,
- কিছু > কিচ্ছু ইত্যাদি।

সমীভবন:
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন:
- জন্ম > জম্ম।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়।
- একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
- কবাট > কপাট।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৭.
'উড়ুনি > উড়নি' কোন ধরনের স্বরসঙ্গতির উদাহরণ?
  1. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  2. চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি
  3. অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি
  4. প্রগত স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা

• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন- দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

প্রগত স্বরসঙ্গতি:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।

পরাগত স্বরসঙ্গতি:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি।

মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি, জিলাপি > জিলিপি।

অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মোজা > মুজো।

চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
- গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

- পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন- মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি।
- বিশেষ নিয়মে - উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৬৮.
পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে, কী বলে?
  1. অন্তর্হতি
  2. অপিনিহিতি
  3. অভিশ্রুতি
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতি:
- পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন: চারি > চাইর, মারি > মাইর।

অন্যদিকে,
ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়। এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন: বউদিদি> বউদি, বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন:
- করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে 'কইরিয়া' কিংবা বিপর্যয়ের ফলে 'কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত 'করে'।
• এরূপ শুনিয়া শুনে, বলিয়া বলে, হাটুয়া > হাউটা > হেটো, মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন: ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৯.
স্পর্ধা˃ আস্পর্ধা- এখানে কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. ক) আদি স্বরাগম
  2. খ) মধ্য স্বরাগম
  3. গ) বিপ্রকর্ষ
  4. ঘ) অন্ত্য স্বরাগম
ব্যাখ্যা
শব্দের আদিতে বা শুরচতে স্বরধ্বনি এলে তাকে বলা হয় আদি স্বরাগম। যেমন, ‘স্কুল’ শব্দটি উচ্চারণের সুবিধার জন্য শুরচতে ‘ই’ স্বরধ্বনি যুক্ত হয়ে ‘ইস্কুল’ হয়ে গেছে। এটি আদি স্বরাগম। এরকম- স্টেশন˃ ইস্টিশন, স্ট্যাবল˃ আস্তাবল, স্পর্ধা˃ আস্পর্ধা।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৭০.
কোনটি মধ্য স্বরাগমের উদাহরণ?
  1. অগুরু > অগ্রু
  2. শ্লোক > শােলােক
  3. সুবর্ণ > স্বর্ণ
  4. সাধু > সাউধ
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন -
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই  - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রু > ভুরু ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক > শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সম্প্রকর্ষ - অগুরু > অগ্রু, সুবর্ণ > স্বর্ণ।
• অপিনিহিতি - সাধু > সাউধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭১.
প্রগত সমীভবনের উদাহরণ কোনটি?
  1. লাল > নাল
  2. বিদ্যা > বিজ্জা 
  3. লগ্ন > লগ্গ
  4. রত্ন > রতন
ব্যাখ্যা
• সমীভবন (Assimilation):
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন- জন্ম > জম্ম; কাদনা > কান্না ইত্যাদি।

• প্রগত সমীভবন: পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন। যেমন: চক্র > চক্ক; পক্ব > পক্ক; পদ্ম > পদ্দ; লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

• পরাগত সমীভবন: পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন: তৎ + জন্য > তজ্জন্য; তৎ + হিত > তদ্ধিত; উৎ + মুখ > উন্মুখ ইত্যাদি।

• অন্যান্য সমীভবন: যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যান্য সমীভবন।
যেমন: সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ; সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
- শরীর > শরীল, 
- লাল > নাল,
- লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

• মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- প্রীতি > পিরীতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭২.
কোনটি বিপ্রকর্ষনের উদাহরণ?
  1. ক) পেরেক
  2. খ) জানালা
  3. গ) বসতি
  4. ঘ) বিলিতি
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা মুকুতা, তুর্ক » তুরুক, ক্রু » ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও – শ্লোক » শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৩.
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে কী বলে?
  1. অন্তর্হতি 
  2. স্বরসঙ্গতি
  3. অভিশ্রুতি
  4. সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

• অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
 যেমন:
- করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিংবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত ‘করে'।
এরূপ –
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭৪.
নিচের কোনটি অসমীকরণ (Dissimilation) ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ক) ধপ + ধপ > ধপাধপ
  2. খ) রাখিয়া > রাইখ্যা
  3. গ) পোখত্ > পোক্ত
  4. ঘ) বিলাতি > বিলিতি
ব্যাখ্যা
• অসমীকরণ (Dissimilation):
- একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
- যেমন: ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

• অন্যদিকে:
• অপিনিহিতি (Apenthesis):
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
- যেমন: আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি > চাইর, মারি > মাইর ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরাগম (Apothesis):
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে।
- এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
- যেমন: দিশ্ > দিশা, পোখত্ > পোক্ত, বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
-যেমন: দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৫.
'লগ্ন > লগ্গ' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. প্রগত সমীভবন
  2. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  3. বিষমীভবন
  4. মধ্যস্বর লোপ
ব্যাখ্যা
• প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে।
- অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক, 
- পক্ব > পক্ক, 
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
- আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন-
- বিলাতি > বিলিতি।

• মধ্যস্বর লোপ:
- অগুরু > অগ্নু,
- সুবর্ণ > স্বর্ণ।

• বিষমীভবন:
- দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- তরবার > তরোয়াল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৬.
অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ফাল্গুন > ফাগুন
  2. ফলাহার > ফলার
  3. আজ > আজি
  4. গাহিল > গাইল
ব্যাখ্যা

• অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয়-   আজ > আজি। 

• অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তন:

শব্দের মধ্যস্থ কোনো স্বরহীন বা স্বরযুক্ত ব্যঞ্জনের লোপ ঘটলে তাকে অন্তর্হতি বলা হয়।
যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- পূর্ব > পুব,
- আলাহিদা > আলাদা,
- ফলাহার > ফলার,
- গাহিল > গাইল, 
- চাহিল > চাইল।

অন্যদিকে, 
-------------------
• অন্ত্যস্বরাগম: উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের শেষে স্বরধ্বনির আগমন ঘটলে তাকে স্বরাগম বলে।
যেমন: আজ > আজি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।

৭৭.
কোনটি মধ্য স্বরাগম পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্টেশন > ইস্টেশন
  2. দিশ্ > দিশা
  3. আজি > আজ
  4. স্রেফ > সেরেফ
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

যেমন:
- অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ; বস্‌তি > বসতি ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার >শুক্কুরবার ইত্যাদি।
- এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক > পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
- ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'স্টেশন > ইস্টেশন' আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
- 'দিশ্ > দিশা' অন্ত্যস্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
- 'আজি > আজ' অন্ত্যস্বর লোপ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৮.
'শুনিয়া > শুনে' কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ধ্বনি বিপর্যয়
  2. অপিনিহিতি
  3. অভিশ্রুতি
  4. স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।

যেমন:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭৯.
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করাকে বলা হয়-
  1. সমীভবন
  2. বিষমীভবন 
  3. অন্তর্হতি
  4. অভিশ্রুতি 
ব্যাখ্যা

• সমীভবন (Assimilation):
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন- জন্ম > জন্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বিষমীভবন (Dissimilation): দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমন-শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

• অন্তর্হতি পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি। যেমন- ফাল্গুন ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা আলাদা ইত্যাদি।

• অভিশ্রুতি (Umlaut): বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি। যেমন করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে 'কইরিয়া' কিংবা বিপর্যয়ের ফলে 'কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত 'করে'। এরূপ > হেটো, মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি। -শুনিয়া শুনে, বলিয়া বলে, হাটুয়া > হাউটা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮০.
"সুবর্ণ > স্বৰ্ণ" - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্বরাগম
  2. স্বরলোপ
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. খ এবং গ উভয়ই 
ব্যাখ্যা

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন - বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

ক. আদিস্বরলোপ (Aphesis): যেমন - অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।
খ. মধ্যস্বর লোপ (Syncope): অগুরু > অগ্রু, সুবর্ণ > স্বৰ্ণ ।
গ. অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

উল্লেখ্য,
- স্বরলোপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮১.
"মুলা > মুলো" কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি
  2. অসমীকরণ
  3. ধ্বনি বিপর্যয়
  4. স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন-
দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।
------------------
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন- আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য> সইত্য, চারি >চাইর, মারি >মাইর ইত্যাদি।

• অন্তর্হতি: 
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন: ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।

অসমীকরণ:
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন:
ধপ + ধপ > ধপাধপ,
টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ
৮২.
”ফিল্ম > ফিলিম” কী ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অপিনিহিতি
  2. অন্ত্যস্বরাগম
  3. বিপ্রকর্ষ
  4. অসমীকরণ
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি। যেমন-
অ = রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই = প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ = মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভূ > ভুরু ইত্যাদি।
এ = গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও = শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ >মোরগ ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরাগম :
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিশ্ > দিশা, পোখত্ > পোক্ত, বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি > চাইর, মারি > মাইর ইত্যাদি।

অসমীকরণ:
- একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন
- ধপ ধপ > ধপাধপ, টপ টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।

৮৩.
কোনটি অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. গাছুয়া > গেছো
  2. কবাট > কপাট
  3. ধাইমা > দাইমা
  4. ফাল্গুন > ফাগুন
ব্যাখ্যা

অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।

যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা > আলাদা।

অন্যদিকে,
ব্যঞ্জন বিকৃতি - কবাট > কপাট, ধাইমা > দাইমা।
অভিশ্রতি - গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮৪.
‘কন্যা > কইন্যা’ এটি কীসের উদাহরণ?
  1. ক) অভিশ্রুতি
  2. খ) অপিনিহিতি
  3. গ) স্বরসংগতি
  4. ঘ) ধ্বন্যাগম
ব্যাখ্যা
অপনিহিতিি শব্দরে র্অথ আগে স্থাপন। শব্দে ই/উ থাকলে তা আগইে উচ্চারতি হওয়ার প্রবণতাই হলো অপনিহিতি।ি র্অথাৎ পররে ই-কার এবং উ-কার আগে উচ্চারতি হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনরি আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারতি হলে তাকে অপনিহিতিি বল।ে
অপনিহিতিি হওয়ার র্শত ২টি।  র্অথাৎ দুইভাবে অপনিহিতিি হয়।
সংযুক্ত ধ্বনি ছাড়া
সংযুক্ত ধ্বনসিহ

সংযুক্ত ধ্বনি ছাড়া
ই-ধ্বনির অপিনিহিতি :
আজি >আইজ, রাতি > রাইত, চারি > চাইর, গাঁতি > গাঁইত
উ-ধ্বনির অপিনিহিতি :
সাধু > সাউধ, মাছুয়া > মাউছ্যা

সংযুক্ত ধ্বনিসহ
সংযুক্ত ধ্বনির আগে নতুন করে ই/উ আসবে।
সত্য > সইত্য, কন্যা > কইন্যা, খাদ্য > খাইদ্য, কাব্য > কাইব্য, গদ্য > গইদ্য, বাক্য > বাইক্য।
৮৫.
মধ্যস্বরলোপ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. অলাবু > লাবু > লাউ
  2. উপরে > উপ্রে
  3. আজি > আজ
  4. পোকা > পোক্
ব্যাখ্যা
• মধ্যস্বরলোপ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ- উপরে > উপ্রে। 

------------------
• ধ্বনিলোপ:

অনেক উচ্চারণের সময় শব্দস্থিত কিছু ধ্বনি উচ্চারিত হয় না। এই প্রক্রিয়াকে ধ্বনিলোপ বলে। স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি উভয়ই লোপ পেতে পারে। স্বরধ্বনি হলে স্বরধ্বনিলোপ, ব্যঞ্জনধ্বনি হলে ব্যঞ্জনধ্বনিলোপ বলে।

আদিস্বরলোপ: শব্দের আদি বা প্রথমে স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে আদিস্বরলোপ বলে।
যেমন:
- অলাবু > লাবু > লাউ;
- উদ্ধার > উধার > ধার ইত্যাদি।

• মধ্যস্বরলোপ: শব্দের মধ্যে স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে মধ্যস্বরলোপ বলে।
যেমন:
- বসতি > বস্তি;
- গামোছা > গাম্‌ছা;
- তৈআরি > তৈরি;
- সুবর্ণ > স্বর্ণ;
- উপরে > উপ্রে;
- অগুরু > অর্গ্রু ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরলোপ: শব্দের অন্তে বা শেষে স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্ত্যস্বরলোপ বলে।
যেমন:
- আকাশ (অ-লোপ) > আকাশ্;
- জল (অ-লোপ) > জল্;
- পোকা (অ-লোপ) > পোক্;
- থোকা (অ-লোপ) > থোক্;
- আশা (আ-লোপ) > আশ;
- আজি (ই-লোপ) > আজ;
- চারি (ই-লোপ) > চার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৬.
অভিশ্রুতির দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. আজি > আজ
  2. আলাহিদা > আলাদা
  3. বলিয়া > বলে
  4. রাখিয়া > রাইখ্যা
ব্যাখ্যা
• অভিশ্রুতির দৃষ্টান্ত - বলিয়া > বলে

অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন -
করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে 'কইরিয়া' কিংবা বিপর্যয়ের ফলে 'কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত 'করে'।
এরূপ -
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• স্বরলোপের দৃষ্টান্ত - আজি > আজ।
• অন্তর্হতির দৃষ্টান্ত - আলাহিদা > আলাদা।
• অপিনিহিতির দৃষ্টান্ত - রাখিয়া > রাইখ্যা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৭.
নিচের কোনটি আদিস্বরলোপের উদাহরণ?
  1. অলাবু > লাবু > লাউ
  2. সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
  3. করিয়া > কইর‌্যা > করে
  4. মুরগ > মুরােগ > মােরগ
ব্যাখ্যা

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ। যেমন বসতি বস্তি, জানালা জাল্লা ইত্যাদি।

ক. আদিস্বরলোপ (Aphesis): যেমন- অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।
খ. মধ্যস্বর লোপ (Syncope): অগুরু > অগ্নু, সুবর্ণ > স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ। (স্বরলোপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।)

অন্যদিকে, 
• 'করিয়া > কইর‌্যা > করে' অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ। 
• 'মুরগ > মুরােগ > মােরগ' মধ্য স্বরাগমের উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৮৮.
'মধ্য স্বরাগম' এর অপর নাম কী?
  1. অসমীকরণ
  2. স্বরসঙ্গতি
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. স্বরভক্তি
ব্যাখ্যা

• 'মধ্য স্বরাগম' এর সমার্থক শব বা অপর নাম - বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

---------------------
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

যেমন:
- অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার >শুক্কুরবার ইত্যাদি।
- এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক > পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
- ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'স্বরলোপ' এর সমার্থক - সম্প্রকর্ষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৮৯.
লাফ > ফাল কীসের উদাহরণ?
  1. ক) অপিনিহিতি
  2. খ) মধ্য স্বরাগম
  3. গ) ধ্বনি বিপর্যয়
  4. ঘ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমনঃ বাক্‌স > বাস্‌ক, রিক্‌সা > রিস্‌কা।
এরূপ- পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৯০.
'বিষমীভবন' ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. লাঙ্গল > নাঙ্গল
  2. লাল > নাল
  3. শরীর > শরীল
  4. লাফ ˃ ফাল
ব্যাখ্যা
• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- তরবার > তরোয়াল;
- লাঙ্গল > নাঙ্গল;
- শরীর > শরীল;
- লাল > নাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের শধ্যে দুটো ব্যঞ্জনের পরস্পর স্থান পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
:যেমন:
- পিশাচ ˃ পিচাশ,
- লাফ ˃ ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯১.
চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতির উদাহরণ কোনটি?
  1. শিকা > শিকে
  2. দেশি > দিশি
  3. জিলাপি > জিলিপি
  4. মিঠা > মিঠে
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন- দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।

• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি, জিলাপি > জিলিপি।

• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মোজা > মুজো।

• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
- গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

- পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন- মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি।
- বিশেষ নিয়মে - উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৯২.
কোনটি মধ্য স্বরাগমের দৃষ্টান্ত?
  1. মিলামিশা > মেলামেশা
  2. বিলাতি > বিলিতি
  3. তুলা > তুলো
  4. মুক্তা > মুকুতা
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম:
সময় সময় উচ্চারণের জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একেই বলা হয় মধ্য স্বরাগম। মধ্য স্বরাগমের অপর নাম বিপ্রকর্ষ/স্বরভক্তি।
যেমন:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- মুক্তা > মুকুতা,
- গ্রাম > গেরাম ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• প্রগত স্বরসঙ্গতি: আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন- তুলা > তুলো।
• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি: আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন: বিলাতি > বিলিতি।
• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি: মিলামিশা > মেলামেশা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯৩.
"আশা > আশ" - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্বরলোপ
  2. সম্প্রকর্ষ
  3. স্বরাগম
  4. ক এবং খ উভয়ই 
ব্যাখ্যা

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন - বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

ক. আদিস্বরলোপ (Aphesis): যেমন - অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।
খ. মধ্যস্বর লোপ (Syncope): অগুরু > অগ্রু, সুবর্ণ > স্বৰ্ণ ।
গ. অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

উল্লেখ্য,
- স্বরলোপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯৪.
'স্পর্ধা > আস্পর্ধা' কোন ধরনের ধ্বনির পরিবর্তন?
  1. অভিশ্রুতি
  2. র- কারের লোপ
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. আদি স্বরাগম
ব্যাখ্যা
আদি স্বরাগম:
- উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে আদি স্বরাগম বলে।

যেমন:
- স্কুল > ইস্কুল,
- স্টেশন > ইস্টিশন,
- স্পর্ধা > আস্পর্ধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৫.
মোজা > মুজো কোন ধরনের স্বরসঙ্গতির উদাহরণ?
  1. পরাগত স্বরসঙ্গতি
  2. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  3. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি 
  4. অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা

মোজা > মুজো অন্যোন্য স্বরসঙ্গতির উদাহরণ। 
-------------------------
• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি-
- একটি শব্দে থাকা দুটি ভিন্ন স্বরধ্বনি যখন পরস্পরের প্রভাবে বদলে গিয়ে নতুন ধ্বনিগত রূপ সৃষ্টি করে, তখন তাকে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি বলে।
- এখানে কোনো একটি স্বর এককভাবে প্রভাব ফেলে না;
- বরং আগের ও পরের স্বরধ্বনি একে অপরকে প্রভাবিত করেই ধ্বনি পরিবর্তন ঘটে; 
- এজন্য একে পারস্পরিক বা অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি বলা হয়।
- উদাহরণ:
- মোজা > মুজো, 
- ঝোলা > ঝুলি, 
- পূজা > পুজো, 
- খেলা > খেলো, 
- মেলা > মেলো। 
-------------------------
• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
- স্বরসঙ্গতি বলতে বোঝায়—একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দের ভেতরের অন্য স্বরধ্বনি বদলে যাওয়া।
- এতে শব্দের উচ্চারণে মিল বা সামঞ্জস্য তৈরি হয়।
- সহজভাবে বলা যায়, স্বরসঙ্গতি হলো স্বরধ্বনির পারস্পরিক প্রভাবের ফল।
- বাংলার কথ্য ভাষায় এ ধরনের পরিবর্তন বেশি দেখা যায়।
- যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো।

- স্বরসঙ্গতি ৪ প্রকারে বিভক্ত-
- প্রগত; 
- পরাগত; 
- মধ্যগত; 
- অন্যোন্য। 
------------------------------------
অন্যদিকে,
• পরাগত স্বরসঙ্গতি (Regressive):
- যখন শব্দের শেষের স্বরধ্বনির কারণে শুরু বা আগের স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়, তখন তাকে পরাগত স্বরসঙ্গতি বলা হয়।
- এখানে পরের স্বর আগের স্বরকে প্রভাবিত করে।
- উদাহরণ:
- দেশি > দিশি,
- আখো > এখো, 
- মিশে > মেশে।

• প্রগত স্বরসঙ্গতি (Progressive)-
- যখন শব্দের প্রথম স্বরধ্বনির প্রভাবে শেষের স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়, তখন তাকে প্রগত স্বরসঙ্গতি বলা হয়।
- অর্থাৎ আগের স্বর পরে থাকা স্বরকে বদলে দেয়।
- উদাহরণ:
- মুলা > মুলো,
- শিকা > শিকে,
- তুলা > তুলো।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি- 
- মধ্যগত স্বরসঙ্গতি বলতে এমন স্বরসঙ্গতিকে বোঝায়, যেখানে শব্দের প্রথম স্বরধ্বনি বা শেষের স্বরধ্বনির প্রভাবে মাঝখানে থাকা স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়।
- এর ফলে শব্দের ভেতরের স্বরধ্বনিগুলোর মধ্যে ধ্বনিগত মিল বা সামঞ্জস্য তৈরি হয়।
- যেমন—
- বিলাতি থেকে বিলিতি-তে প্রথম ‘ই’ স্বরের প্রভাবে মাঝের ‘আ’ বদলে ‘ই’ হয়েছে।
- আবার জিলাপি থেকে জিলিপি -তে আদি ‘ই’ স্বরের কারণে মধ্যবর্তী ‘আ’ পরিবর্তিত হয়েছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলা ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 

৯৬.
"বাবু > বাপু" কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. বিষমীভবন
  2. অঘোষীভবন
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. স্বরভক্তি
ব্যাখ্যা

অঘোষীভবন:
- ঘোষধ্বনি অঘোষধ্বনি হিসেবে উচ্চারিত হলে তাকে অঘোষীভবন বলে।

যেমন,
- বাগ > বাক,
- বাবু > বাপু,
- কাজকাম > কাচকাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯৭.
নিচের কোনটি বিষমীভবনের উদাহরণ?
  1. ধোবা > ধোপা
  2. পক্ব > পক্ক 
  3. ফাল্গুন > ফাগুন
  4. লাল> নাল
ব্যাখ্যা
বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন - শরীর > শরীল, লাল> নাল। 

অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন - ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি। 

সমীভবন:
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন - জন্ম > জম্ম, পক্ব > পক্ক ।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন - কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৮.
'মাছুয়া > মাউছুয়া >মেছাে' কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ক) অসমীকরণ
  2. খ) সমীভবন
  3. গ) অভিশ্রুতি
  4. ঘ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি (Umlaut):
- অভিশ্রুতি অপিনিহিতির পরবর্তী পর্যায়।
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন-
- করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া কিংবা বিপর্যয়ের ফলে কইরা থেকে অভিশ্রুতিজাত করে।
এরূপ- রাখিয়া > রাইখা,
- করিয়া >কইরা,
- শুনিয়া >শুইনা > শুনে,
- বলিয়া > বইলা > বলে,
- হাটুয়া >হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মাউছুয়া >মেছাে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯.
সমীভবন ঘটিত পরিবর্তন যদি প্রথম ধ্বনির ক্ষেত্রে হয় এবং প্রথম ধ্বনি পরের ধ্বনির মতো হয় তবে তাকে _____বলে।
  1. প্রগত সমীভবন
  2. পরাগত সমীভবন
  3. অন্যোন্য সমীভবন
  4. বিষমীভবন
ব্যাখ্যা
সমীভবন ঘটিত পরিবর্তন যদি প্রথম ধ্বনির ক্ষেত্রে হয় এবং প্রথম ধ্বনি পরের ধ্বনির মতো হয় তবে তাকে পরাগত সমীভবন বলে। যেমনঃ গল্প>গপ্প, বদ্‌ + জাত> বজ্জাত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১০০.
কোন শব্দটি অপিনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. তুলো
  2. সাউধ
  3. শিকে
  4. মুলো
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতি: 
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন: 
- আজি > আইজ,
- চারি > চাইর,
- সাধু > সাউধ,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
প্রগত স্বরসঙ্গতি:
- আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- মুলা > মুলো;
- শিকা > শিকে;
- তুলা > তুলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।