উত্তর
ব্যাখ্যা
------------------------
• আরবি উপসর্গ: ৬টি।
যথা:
- আম, খাস, লা, গর, খয়ের, বাজে।
অন্যদিকে,
• ’আব’, ’নি’ বাংলা উপসর্গ।
• ইংরেজি উপসর্গ: সাব।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৯৭ / ১০০ · ৯,৬০১–৯,৭০০ / ১০,০৪৫
[বাগান্] (বিশেষ্য) উদ্যান; যেখানে ফুল-ফলাদি উৎপন্ন হয়; উপবন।
বাগানবাড়ি, বাগানবাড়ী (বিশেষ্য) বাগানঘেরা বাড়ি; বাগান পরিশোভিত প্রমোদভবন।
{(ফারসি) বাগা (উদ্যানপাল)}
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে;
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে;
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে;
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
• ‘মাধব’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয়: মধু + ইমন্।
- ‘মাধব’ শব্দটি 'মধু’ বিশেষণের সাথে সংস্কৃত তদ্ধিত ‘ইমন’ প্রত্যয়ের সংযুক্তিতে গঠিত।
- এখানে ‘মধু’ হলো মূল শব্দ বা প্রকৃতি।
---------------------------
• সংস্কৃত ‘ইমন’ (ইমন্) তদ্ধিত প্রত্যয়:
- সংস্কৃত ‘ইমন’ (ইমন্) তদ্ধিত প্রত্যয় হলো এমন একটি সংস্কৃত প্রত্যয় যা মূল শব্দের পরে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- এটি মূলত ‘ইমন্’ শব্দাংশের রূপান্তর।
- এই প্রত্যয় শব্দের মাধ্যমে ‘অন্তরঙ্গতা’, ‘নিকটবর্তীতা’ বোঝাতে সাহায্য করে।
- এই প্রত্যয় মূল শব্দকে বিশেষ্য বা বিশেষণ হিসেবে রূপান্তরিত করে এবং গুণ বা ভাব প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- উদাহরণস্বরূপ:
• মধু + ইমন্ = মাধব (মধুর বা মধুময়),
• গুরু + ইমন্ = গৌরব (গুরুত্ব),
• লঘু + ইমন্ = লাঘব (হালকা বা লঘুতা),
• মহৎ + ইমন্ = মহিমা (মহত্ত্ব)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
⇔ দশ ভুজ (হাত) যার = দশভুজা সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো তৃতীয় অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন - নদীমাতৃক (নদী মাতা যার) ,
- সবান্ধব: বান্ধবসহ বর্তমান,
- বিপত্নীক: বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার,
- নীলবসনা: নীল বসন যার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস - যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য, সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
- যেমন:
- দশ ভুজ (হাত) যার = দশভুজা;
- বহু ব্রীহি যার = বহুব্রীহি;
- ত্রিনয়ন যার = ত্রিনয়ন;
- দশানন যার = দশানন।
অন্যদিকে,
∗ বিরানব্বই নিত্য সমাসের উদাহরণ।
- যে সমাসের সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্য করা যায় না বা করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে।
- নিত্য সমাসের কিছু উদাহরণ হলো: কালসাপ, আমরা, দেশান্তর, গ্রামান্তর, দর্শনমাত্র, কেবল জল, এবং বিরানব্বই।
∗ নীলকণ্ঠ: নীল (নীল) কণ্ঠ (গলা) যার (এখানে 'নীল' বিশেষণ এবং 'কণ্ঠ' বিশেষ্য) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ।
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
- এই সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ একই পদকে বিশেষিত করে এবং সমাস নিষ্পন্ন পদটি একটি তৃতীয় পদের অর্থ প্রকাশ করে।
- যেমন: হত হয়েছে শ্রী যার = হতশ্রী, ("হত" (বিশেষণ) এবং "শ্রী" (বিশেষ্য) একসাথে মিলিত হয়ে "হতশ্রী" শব্দটি তৈরি করেছে),
- পীতাম্বর: পীত অম্বরা যার (এখানে 'পীত' বিশেষণ এবং 'অম্বর' বিশেষ্য)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে 'ইনী' প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক করা হয়।
যেমন:
- তেজস্বী - তেজস্বিনী,
- যশস্বী - যশস্বিনী,
- পয়স্বী - পয়স্বিনী,
- বিজয়ী - বিজয়িনী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
• 'কাঁচি' শব্দটি 'তুর্কি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- কাপড় কাগজ প্রভৃতি কাটার জন্য ব্যবহৃত দুটি হাতলযুক্ত ইস্পাতের ফলা একত্রে জুড়ে তৈরি ধারালো অস্ত্রবিশেষ।
আরো কিছু তুর্কি শব্দ:
- কুলি, কোর্মা, খাতুন, তোপ, বেগম, লাশ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- ছায়া দ্বারা শীতল = ছায়াশীতল ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ বই অনুসারে,
- 'জঙ্গল' ফারসি ভাষার শব্দ।
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'জঙ্গল' সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
• অপশন বিবেচনায়, 'জঙ্গল' ফারসি ভাষার শব্দ। উত্তর নেওয়া হলো।
কিছু ফরাসি শব্দ হলো:
- কুপন,
- রেস্তোরাঁ,
- ডিপো,
- আঁতেল।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বাংলা কৃৎ প্রত্যয় (অন):
- ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে 'অন' প্রত্যয়ের ব্যবহার হয়।
যেমন:
- √ নাচ্ + অন = নাচন,
- √ কাঁদ্ + অন = কাঁদন,
- √ বাঁধ + অন = বাঁধন,
- √ চল্ + অন = চলন,
উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
- সেসব ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
- অন্যকথায় ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওযা যায়:
(১) ধাতু বা ক্রিয়ামূল এবং
(২) ক্রিয়া বিভক্তি।
- ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়া বিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তাই ধাতু।
- যেমন 'করে' একটি ক্রিয়াপদ। এতে দুটো অংশ রয়েছে: কর্ +এ; এখানে 'কর্' ধাতু এবং 'এ' বিভক্তি।
- সুতরাং 'করে' ক্রিয়ার মূল বা ধাতু হলো 'কর্' আর ক্রিয়া বিভক্তি হলো 'এ'।
- অন্যকথায় 'কর্' ধাতু বা ক্রিয়ামূলের সঙ্গে 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়ে 'করে' ক্রিয়াপদটি গঠিত হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি। (২০১৯ সালের সংস্করণ)।
• কয়েকটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণঃ
- চাষ + ই = চাষি,
- দিন + ইক = দৈনিক,
- গ্রাম + ঈন = গ্রামীণ,
• কয়েকটি কৃৎ পত্যয়ের উদাহরণঃ
- খেল্ + অনা = খেলনা,
- দুল + অনা = দোলনা,
- পড়ু + আ = পড়া,
- শুন্ + আ = শোনা,
- পঠ্ + ইত = পঠিত ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
- বাক্যটিতে 'সকল ছেলেরা' বহুবচনে দ্বিত্ব হয়েছে।
- বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবেঃ
- বিদ্যালয়ের সকল ছেলে মাঠে ফুটবল খেলছে / বিদ্যালয়ের ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- মিশির মত কালো = মিশকালো ইত্যাদি।
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• √শ্রম্ + ক্তি = শ্রান্তি সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়।
• শুদ্ধ প্রত্যয়- √শিক্ + ক্তি = শক্তি।
• বিশেষ নিয়ম সাধিত কৃৎ-প্রত্যয়:
(ক) ক্তি-প্রত্যয় যোগ করলে কোনো কোনো ধাতুর অন্ত ব্যঞ্জনের লোপ হয়। যথা- √মন্ + ক্তি = মতি, √রম্ + ক্তি = রতি।
(খ) কোনো কোনো ধাতুর উপধা অ-কারের বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ আ-কার হয়। যেমন- √শ্রম্ + ক্তি = শ্রান্তি (সন্ধিসূত্রে ম>ন), √শম্ + ক্তি = শান্তি।
(গ) 'চ' এবং 'জ' স্থলে 'ক' হয়। যেমন- √বিচ্ + ক্তি = উক্তি, √মুচ্ + ক্তি = মুক্তি, √ভিজ্ + ক্তি = ভক্তি।
(ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ: √গৈ + ক্তি = গীতি, √সিধ্ + ক্তি = সিদ্ধি, √বুধ্ + ক্তি = বুদ্ধি, √শিক্ + ক্তি = শক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভাঙ্গা যায় না, তাদেরকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন- গোলাপ, নাক, লাল, চাঁদ ইত্যাদি।
আবার,
মৌলিক শব্দ হলো যে শব্দ অন্য কোনো শব্দ থেকে গঠিত নয় — অর্থাৎ যার কোনো উপসর্গ, প্রত্যয় বা সমাস নেই।
- “কলম” একটি মৌলিক (অব্যুত্পন্ন) শব্দ।
অন্যদিকে,
• কবিতা এসেছে- (কবি + তা) ব্যুৎপন্ন শব্দ।
• কাব্য এসেছে- (কবি + য) ব্যুৎপন্ন শব্দ।
• পদ্য এসেছে- (পদ + য) ব্যুৎপন্ন শব্দ।
অতএব মৌলিক শব্দ হলো- কলম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
সঠিক উত্তর: খ) গম্।
- √ গম্ + তব্য (গম্ + তব্য = গন্তব্য); এখানে √গম্ হলো প্রকৃতি, যা একটি ক্রিয়া প্রকৃতি (ধাতু) এবং তব্য হলো কৃৎ প্রত্যয়, যা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে 'গন্তব্য' (যাওয়া উচিত/যাবে) শব্দটি গঠন করেছে।
------------
প্রকৃতি:
যে শব্দকে বা কোনো শব্দের যে অংশকে আর কোনো ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা যায় না, তাকে প্রকৃতি বলে।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
সুতরাং, ক্রিয়া শব্দের মূল ও নামশব্দের মূল উভয়ই - প্রকৃতি।
• ক্রিয়া প্রকৃতি:
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি।
- ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
- যেমন- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়)= চলন (বিশেষ্য পদ)।
‘গন্তব্য’ শব্দটি ব্যাখ্যা:
‘গন্তব্য’ শব্দটি এসেছে গম্ ধাতু (অর্থাৎ “যাওয়া”) থেকে। এখানে, 'গম' হলো- ধাতু/প্রকৃতি এবং 'তব্য' হলো - প্রত্যয়।
এখানে গম্ + তব্য = গন্তব্য, অর্থাৎ যেখানে যাওয়া উচিত বা যেখানে গমন করা কর্তব্য।
অর্থাৎ,
গন্তব্য = গম্ (যাওয়া) + তব্য (যোগ্য) → যেখানে যাওয়া উচিত।
উল্লেখ্য,
• 'গন্তব্য'- এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় - √ গম্ + তব্য।
উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'পাউরুটি'- পর্তুগিজ শব্দ।
'পাউরুটি' বলতে বোঝায়- বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি রুটিবিশেষ।
অন্য অপশনে,
'দারোগা'- ( ফারসি) অর্থ- থানার ভারপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর বা সাব-ইন্সপেক্টর।
'ওলন্দাজ'- ফরাসি শব্দ।
'কার্তুজ'- পর্তুগিজ শব্দ (বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে)।
তবে, মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই অনুসারে 'কার্তুজ' ফরাসি শব্দ দেয়া আছে।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
• ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি:
- বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি।
যথা:
- আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- বীণা পানিতে যার = বীণাপাণি।
• পরপদ কৃদন্ত বিশেষণ হলেও ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন -
- দুই কান কাটা যার = দু কানকাটা,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা।
অনুরূপভাবে - ছা-পোষা, পা-চাটা, পাতা-চাটা, পাতাছেঁড়া, ধামাধরা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি:
পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়। যেমন: হত হয়েছে শ্রী যার = হতশ্রী, খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ। এরকম: হৃতসর্বস্ব, উচ্চশির, পীতাম্বর, নীলকণ্ঠ, জবরদস্তি, সুশীল, সুশ্রী, বদবস্তু, কমবস্তু ইত্যাদি।
• ব্যতিহার বহুব্রীহি:
ক্রিয়ার পারস্পরিক অর্থে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়। এ সমাসে পূর্বপদে 'আ' এবং উত্তরপদে 'ই' যুক্ত হয়।
যথা: হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি, কানে কানে যে কথা = কানাকানি। এমনি ভাবে -চুলাচুলি, কাড়াকাড়ি, গালাগালি, দেখাদেখি, কোলাকুলি, লাঠালাঠি, হাসাহাসি, গুঁতাগুঁতি, ঘুষাঘুষি ইত্যাদি।
• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি:
বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে। যেমন: বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী, হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি। এমনি ভাবে গায়ে হলুদ, মেনিমুখো ইত্যদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
কিন্ হলো বাংলা ধাতুর উদাহরণ।
অর্থঃ কেনা, কেনাকাটা।
বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
যথা - সংস্কৃত, বাংলা ও বিদেশি ধাতু৷
সংস্কৃত ধাতু - কৃ, গম্, ধৃ, গঠ্, স্থা ইত্যাদি।
বাংলা ধাতু - কিন্, আঁক্, কাঁদ্, নাচ্, কর্ ইত্যাদি৷
বিদেশি ধাতু - ঢাক্, টান্, ঝুল্, খাট্ ইত্যাদি৷
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বই।
• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।
• 'কহ্' ধাতু যোগে সাধিত শব্দ- কওয়া, কহন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• কিছু সংস্কৃত শব্দ:
সূর্য, চন্দ্র, জল, গৃহ, মৃত্তিকা, রাম, রাবণ, পুত্র, পিতা, জননী, দেব, দেবী, দর্শন, বয়ন, গমন, রাত্রি, দিবা, সৌর্য, কৃতিত্ব, আদিত্য, নারায়ণ, বৃক্ষ, পশু, লতা, নর, নারী, বেদ, বেদান্ত, উপনিষদ।
অন্যদিকে,
--------------
• দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
যথা: পেট, ডাব, টোপর, ঘাঁটি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়। পূরণবাচক শব্দ তিন ধরনের হয়।
যেমন:
- সাধারণ পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় , চতুর্থ ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক: পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আধ, সাড়ে পোয়া, দেড় আড়াই, তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।
- 'তিন' ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
অলুক তৎপুরুষ:
- কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন:
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা,
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি,
- খেলার মাঠ = খেলারমাঠ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• কিছু শব্দ 'ইনী' প্রত্যয় যুক্ত করে স্ত্রীবাচক করা হয়।
যথা:
কাঙাল - কাঙালিনী/কাঙালিনি,
গোয়ালা - গোয়ালিনী,
বাঘ - বাঘিনী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• রূপক কর্মধারয় সমাস:
- উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে তাকে বলা হয় রূপক কর্মধারয় সমাস।
- এ সমাসে উপমেয় পদ পূর্বে এবং উপমান পদ পরে বসে এবং সমস্যমান পদে ‘রূপ’ অথবা ‘ই’ যোগ করে ব্যাসবাক্য গঠন করা হয়।
- যেমন:
- মন রূপ মাঝি= মনমাঝি,
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু,
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল,
- মন রূপ বাউল = মনবাউল,
- দিল রূপ দরিয়া= দিলদরিয়া,
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল ইত্যাদি।
• উপমিত কর্মধারয়:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ;
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।
[এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।]
• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে;
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত;
- কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল।
[এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।]
উৎস: বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
• 'মিথ্যুক = মিথ্যা + উক; এখানে, 'মিথ্যুক' শব্দটি - বাংলা তদ্ধিতপ্রত্যয় 'উক' যোগে গঠিত হয়েছে।
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
- বাংলা নাম প্রকৃতির সাথে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
• উক-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে:
- লাজ + উক = লাজুক,
- মিথ্যুক = মিথ্যা + উক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- বাকে পটু = বাকপটু; সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
- খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া, পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
- ত্রি লোকের সমাহার = ত্রিলোক; দ্বিগু সমাস।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে।
যেমন-
- পঙ্কজ ( যা পঙ্কে বা কাদায় জন্মে); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ- পদ্ম।
- মহাযাত্রা ( মহাসমারোহে যাত্রা); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ- 'মৃত্যু'
- রাজপুত ( রাজার পুত); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ জাতি বিশেষ।
- সুহৃদ (সুন্দর হৃদয় যার); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ - বন্ধু, সখা।
- জলধি (জল ধারণ কর এমন); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ 'সমুদ্র' ইত্যাদি।
• সুহৃদ মানে 'সুন্দর হৃদয় যার' না বুঝিয়ে 'বন্ধু' অর্থ নির্দেশ করলে এটা - যোগরূঢ় শব্দ হবে।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
সঠিক উত্তরটি হলো: খ) জ্ঞান, জ্যেষ্ঠ, জ্যোতি।
• বাংলা অভিধানিক ক্রমানুসারে অক্ষর-অক্ষর যাচাই:
অপশন,
ক) বোতাম, ব্রত, ব্যথা এর সঠিক ক্রম: বোতাম, ব্যথা, ব্রত।
খ) জ্ঞান, জ্যেষ্ঠ, জ্যোতি→ ভুল। এর সঠিক ক্রম: জ্ঞান → জ্যেষ্ঠ → জ্যোতিজ্ঞ → সঠিক।
গ) কানন, কালান্তর, কাঁকন→ ভুল। এর সঠিক ক্রম: কাঁকন, কানন, কালান্তর।
ঘ) ধ্বনি, স্বাদিত, ষষ্ঠ→ ভুল। এর সঠিক ক্রম: ধ্বনি, ষষ্ঠ, স্বাদিত।
তথ্যসূত্র: বাংলা একাডেমি অভিধান।
• 'আমদরবার' শব্দে 'আম' — আরবি ভাষার উপসর্গ।
আরবি উপসর্গ:
আম - সাধারণ অর্থে - আমদরবার, আমমােক্তার।
খাস - বিশেষ অর্থে - খাসমহল, খাসদখল, খাসকামরা, খাসদরবার।
লা - না অর্থে - লাজওয়াব, লাখেরাজ, লাওয়ারিশ, লাপাত্তা।
গর - অভাব অর্থে - গরমিল, গরহাজির, গররাজি।
----------------------------
উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।।
- এদের প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়।
- উপসর্গ অব্যয়সূচক শব্দাংশ।
- যেমন: 'কাজ' একটি শব্দ। এর আগে 'অ' অব্যয়টি যুক্ত হলে হয় ‘অকাজ’ – যার অর্থ নিন্দনীয় কাজ। এখানে অর্থের সংকোচন হয়েছে।
বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে: বাংলা, তৎসম (সংস্কৃত) এবং বিদেশি উপসর্গ।
১. বাংলা উপসর্গ:
• বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি:
• অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
২. তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
• তৎসম উপসর্গ বিশটি:
• প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।
৩. বিদেশি উপসর্গ:
• ফারসি উপসর্গ: কার্, দর্, না, নিম্, ফি, বদ্, বে, বর্, ব্, কম্।
• আরবি উপসর্গ: আম্, খাস, লা, গর্।
• ইংরেজি উপসর্গ: ফুল, হাফ, হেড, সাব।
• উর্দু-হিন্দি উপসর্গ: হর।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
- এই সমাসের দুটো পদই বিশেষ্য হয়।
যেমন:
- পুরুষ সিংহের ন্যায়= সিংহপুরুষ।
- আঁখি পদ্মের ন্যায়= পদ্মআঁখি।
- মুখ চন্দ্রের ন্যায়= চন্দ্রমুখ।
- অধর পল্লবের ন্যায় = অধরপল্লব।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী - হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা।
- প্রবীণ - শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন • বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ - শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে 'সংবাদ'। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে 'মিষ্টান্ন বিশেষ'।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।
যেমন:
- 'অসুখ' ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-'সুখের অভাব'। ব্যবহারিক অর্থ-'রোগ'। তাই 'অসুখ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- শাখার ন্যায় মৃগ শাখামৃগ সমাসবদ্ধ শব্দটি ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে বিচরণ করে এবং লম্বা লেজ ও লোমাবৃত দেহবিশিষ্ট মাঝারি আকৃতির স্তন্যপায়ী বৃক্ষচর প্রাণীকে বোঝায়। তবে ব্যবহারীক অর্থে শাখামৃগ শব্দটি শুধু 'বানর'কে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই 'শাখামৃগ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অন (<অনট) প্রত্যয়:
• √নন্দ + ই + অন = নন্দন,
- √সাধ + অন = সাধন,
- √তপ্ + অন = তপন,
- √বৃধ্ + অন = বর্ধন
- √গম + অন = গমন,
- √শী + অন = শয়ন,
- √কৃ + অন = করণ,
- √নী + অন = নয়ন,
- √চর্ + অন = চরণ
- √শী + অন = শয়ন,
- √স্থা + অন = স্থান,
- √ভূ + অন = ভুবন,
- √গণ+ অন আ-গণনা,
- √উপ + আস্+অন+আ=উপাসনা, এরূপ-এষণা, বেদনা।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
• তারিখ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যথা:
পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), ছয়ই (৬ই), সাতই (৭ই), আটই (৮ই), নয়ই (৯ই), দশই (১০ই), এগারোই (১১ই), বারোই (১২ই), তেরোই (১৩ই), চোদ্দই (১৪ই), পনেরোই (১৫ই), ষোলোই (১৬ই), সতেরোই (১৭ই), আঠারোই (১৮ই), উনিশে (১৯শে), বিশে (২০শে), একুশে (২১শে), বাইশে (২২শে), তেইশে (২৩শে), চব্বিশে (২৪শে), পঁচিশে (২৫শে), ছাব্বিশে (২৬শে), সাতাশে (২৭শে), আটাশে (২৮শে), উনত্রিশে (২৯শে), ত্রিশে (৩০শে), একত্রিশে (৩১শে)।
অন্যদিকে,
- প্রথম ও ৭ম সাধারণ পূরণবাচক শব্দ।
- চার ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, (২০২৫ সংস্করণ)